Breaking News

আমি বাইপোলার – সুমিতাংশু দোয়শী

আমি বাইপোলার
– সুমিতাংশু দোয়শী

আমি লিখি। যখন যেমন হয়, যা মনে হয় লিখে যায়। লিখে যাই এই কারণে যে না লিখলে বাঁচতে পারব না। সত্যি কথাটা মিথ্যা নয়। আমি একজন বাইপোলার টাইপ 2 সমস্যায় সমস্যিত ব্যক্তি। মনের চিন্তাভাবনাকে প্রকাশ করতে না পারলে সেগুলো আমাদের মধ্যে জমেথেকে পুজ বেরিয়ে আসবে।
মজার ব্যাপার হলো বাইপোলার টাইপ টুরা সব সময় আশাবাদী। সব সময় আমরা মনে করি যে সমাজ বদলানোর ভার কেউ না নিল তো না নিল। আমাদেরকে নিতেই হবে। আরেকটি সমস্যা হল যে আমরা মনে করি ঈশ্বর আমাদের পাঠিয়েছেন কোন একটি ভালো কাজ করার জন্য। এর ফলে আমরা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।
যেহেতু উপরে দুটি ভাবনা আচরণগত সমস্যা হলেও ভালো ভাবনা তাই অনেক মানুষকে পাশে পেয়েও যায়। এইবার এই পাশে পাওয়া মানুষদের মধ্যে 99% মানুষ হল তারা -যারা আমাকে বা আমাদেরকে কোনদিন দেখেনি। আমি বা আমাদের কোন ক্ষতি হলে অরিজিনালি তাদের কিছু যায় আসবে না। এভাবে পাশে থাকাটাও ভালো। আমরা হাত ধরার মানুষ পায়।
কিন্তু দূরে সরে যায় তারা যারা কাছের মানুষ।
আমাদের কন্ট্রোল করতে না পারা বিহেভিয়ার এরজন্য তাদের রাগ হয়। সেটাও হয় আমাদের তর্কাতর্কির অভ্যাসের জন্য। আমাদের সমস্যা আছে বলে সে কেন বা তারা কেন আমাদের সমস্যা নিয়ে ভাববে? কেন আমাদের হাতে হাত রাখবে আমাদের দুর্ব্যবহার সত্বেও?
সেজন্য আমাদেরকে stocism এর মুখোশ পড়তে হয়। না পড়ে উপায় থাকেনা।মুখে বলতেই হয় কে কি ভাবলো কেয়ার করি না। অনেক সময় হয়তো সত্যি করেই করিনা।
কিন্তু যারা কাছের তারা যখন সরে যেতে চায় বা সরে যায় তখন ব্রেন টা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ফিরে আয় ফিরে আয় বলে ডাকার ইচ্ছা থাকলেও পারিনা। ব্রেনের কারিগরিতে আমরা যে যাচ্ছে তাকে আরও দূরে ঠেলে দিই। একসময় মুখে বালিশ চাপা দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছা করে। কিন্তু কাদিনা কারন আমি টাইপ-টু বাইপোলার। বেশিরভাগ সময় আমরা অতি উৎসাহ ও অপটিমিস্ম এবং নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকার ফলে কষ্টটা কেউ ছুড়ে দি।
এখানেই বৈপরীত্য। কষ্ট ছুড়ে ফেলা যায় না। ওটি মস্তিষ্কের কোন এক স্থানে ঘর করে নেয় যা পরে রাগ, দুর্ব্যবহার ও WESSTERN STOICISM রূপে বেরিয়ে আসে। আসার সময় এত জমানো বিষ সাথে করে নিয়ে আসে যে সামনের জন ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
একা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে একা হতে হতে নিজেকে বোঝায় যে কেউ কারো নয়। সেই কথায় লিখে ফেলি। কিন্তু লেখা আর বাস্তব জীবন আলাদা। একা হয়ে গেলে সত্যি কষ্ট হয়।
কষ্ট হয় যখন সমাজ আমাদের পাগল বলে চিহ্নিত করতে উঠেপড়ে লাগে। তাদের অত্যাচারের হাত থেকে বাচার জন্য সবাইকে হাতজোড় করে বলেছি যে এই জিনিসটা যে রোগ নয় একটা ব্যবহারিক সমস্যা সেটা দেখে শুনে পড়ে একটু বোঝো। বেশি না! গুগলে সার্চ করলেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। ওখানে পাশ করা ডাক্তার রা আমাদের মত বাইপোলার কে পাগল বলে না। কিন্তু যারা জিনিসটা জানেন না তারা পাগল ছাড়া আর কিছু বলেন না।
আমাদের কাজকর্ম সাজানো নয়। ওই ক্ষমতাটা ঈশ্বর আমাদের দেননি। দিয়েছেন এমন একটি জিনিস যার জন্য অনেক বাই পোলার নিজেকে প্রাণে মেরে ফেলতে বাধ্য হয়।
আর আমার মত কয়েকটা হাতে গোনা সাহস করে বেরিয়ে আসে ও মানুষের সঙ্গে মেশে। যাদের সঙ্গে মেশে তাদের মধ্যে অচেনারা লক্ষ্য বা তত্ত্বের কথা শুনে ভালোবেসে ফেলে, আর নিজের কাছের বন্ধুরা illusive, জ্ঞানী ইত্যাদি বলে আমাকে রাগিয়ে নিজেও রেগে ঘেঁটে ঘ করে দিয়ে সম্পর্ক শেষ করে দেয়।
এবার তারা সব সুস্থ মানুষ তাদের পক্ষে জিনিসটা ভোলা সহজ। আমরা তো সমাজের কথায় আবার অসুস্থ। যদিও ডাক্তাররা অন্য কথা বলে। যাই হোক। আমাদের এই লজ্জাকর অসুস্থতার জন্য আমরা ভুলতে পারিনা। রাতে ঘুমাতে পারি না। ওষুধ খেয়েও ওষুধ কাজ করে না। জেগে থাকি। গান করি কবিতা লিখি যা খুশি করি। যাতে মাথাতে চাপ না পড়ে।
এতকিছু করেও এড়ানো যায়না। যে সমাজে আমরা বাস করি সেই সমাজ যখন আমাদের পাগল বলে তাকমা দিয়ে যেতে চাই, তখন হাতড়ে বেড়াই একটা ধরার হাত। আমার হাতটা ধরে রেখেছে কেবলমাত্র মা, বাবা আর শতাব্দি। ওদের ভরসাতেই থাকবো। এগিয়ে যাব এগিয়ে যাব এগিয়ে যাব।

Check Also

দৃঢ় – সুমিতাংশু দোয়শী

যত দিন যাচ্ছে আমার বিশ্বাস তত দৃঢ় হচ্ছে। আজকে আমি যাচ্ছি রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন। কেন …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।