Breaking News

সেই চিঠিটা – রাজীব চৌধুরী

সেই চিঠিটা
– রাজীব চৌধুরী

চিঠিটা আমি সপ্তম বারের মত লিখেছি।
জানি আপনার কাছে চিঠি লেখাটা কোন ঘটনার মাঝেই পড়েনা।
কিন্তু আজকের আগে আমিও তাই মনে করতাম। অন্তত এই চিঠিটা লেখার আগে তো অবশ্যই।
প্রথমবার আমি যে সম্মোধন দিয়ে শুরু করেছিলাম সেটা তুলে নিয়েছি আমি। ওকে তুমি বা তুই কখনো বলিনি। বলেছি আপনি বলে। কিন্তু চিঠিতে কি মনে করে “তুমি” বলে ফেলেছি।
আচ্ছা ভালোবাসার মানুষকে কি আপনি বলে বলব?
কেন বলব?
আপনি বলে দুরের মানুষকে।
কাছের মানুষকে বলে তুমি।
তুমি
তুমি
তুমি
কিন্তু ওকে আমি কখনোই “আপনি” ছাড়া তুমি বলতে পারব না। অন্তত বিয়ের আগে তো নাই।ছিঃ আমার লজ্জা করে।
“তুমি ক্যামন আছ?…।”
এভাবে লিখে প্রথমবার ছিড়েছি।তারপর তুমি কেটে আপনি বসিয়ে লিখতে শুরুকরেছি…
“আপনি ক্যামন আছেন? ভাল? শরীর স্বাস্থ্য ভাল?…”
এতটুকু পর্যন্ত আয়ু ছিল চিঠিটার। এর পরেই ওয়েস্টপেপার বাক্সে। ওখানে অনেকদিনের পুরোনো কাগজের ভীড়ে হারিয়ে গেল ওটা। এভাবে প্রেমের চিঠিতে কেউ শরীরের কথা জিজ্ঞাসা করে? কি বোকা আমি? আমি তো জানিই সে ভাল আছে। মানুষ কি অসুস্থ অবস্থায় প্রেম নিবেদন করে? প্রেম নিবেদন করে যখন উভয়পক্ষ যখন সুস্থ স্বাভাবিক থাকে। আমি কি বোকা…
ভাবতে ভাবতে আবারো লিখতে শুরু করলাম…
“ক্যামন আছেন? একটা কথা বলার জন্য লিখতে বসলাম…”
ধ্যাত। কি সব লিখলাম এটা? মানুষ কি কথা বলার জন্য চিঠি লেখে? নাকি কথা জানানোর জন্য লিখতে বসে?আমি পুরো আউলা হয়ে গেছি। আমার মাথা ঠিক নেই। ও বিকেলেও বাসায় এসেছিল। ওকে বলে দিলেই সব ল্যাঠা চুকে যায়। আচ্ছা চিঠিটা…কিভাবে লিখব?…কিভাবে?…
………

মিথিলা চিঠিটা পাওয়ার পর থেকে পুরো থম মেরে গেছে। হাসিখুশি চেহারার একজন এভাবে গম্ভীর মুখে বসে থাকা মানায় না। কিন্তু মিথিলাকে দেখতে বেশ লাগছে। কিন্তু ওর বেশ রাগ ও হচ্ছে। ওর হাতে একটা খাম। সেই খামে একটা চিঠি।
মিথিলার জীবনের প্রথম প্রেমপত্র। বেশ এক্সাইটমেন্ট খেলছে ওর মনে।

কিন্তু এই প্রেমপত্রটি যে দিয়েছে সে কিছুই লিখতে পারেনি। তাই সাদা কাগজটাতে কিছু ময়লাপড়া ভাঁজ ব্যতীত কিছুই ছিলোনা লেখা…

Check Also

রবির কিরণে – নাজির হোসেন বিশ্বাস

রবির কিরণে – নাজির হোসেন বিশ্বাস পড়ন্ত বৈকাল! একটা দুধ সাদা বলাকা নিঃসঙ্গ ভাবে উড়ে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।