Breaking News

শিউলি – নাজির হোসেন বিশ্বাস

গল্প – শিউলি
– নাজির হোসেন বিশ্বাস

অনুপ, আমি নিজে মেয়ে দেখেছি! তোর ভাবনার কিচ্ছু নেই! তুই শুধু একবার যা, মেয়েটিকে দেখে আয়!
আমি কেন মা? তুমি তো দেখেছো, নিজে পছন্দ করেছো, যেতে হলে তুমি আর একবার যাও! আমার ইচ্ছে নেই!
তবুও মেয়ের তো একটা ইচ্ছে থাকতে পারে, উচ্চ শিক্ষিতা মেয়ে, সে ছেলে না দেখে, ছেলের সঙ্গে কথা না বলে বিয়েতে রাজি হবে এটা হয়না!
ঠিক আছে যাবো, তবে তুমিও চলো! আমি একা যাবো না!
সে কিরে? তুই শিক্ষিত চাকুরি করা একটা ছেলে, দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছিস, আর একা যেতে পারবি না?
মা, এটা পারা না পারা নয়! আমি আর কতক্ষন বাড়ি থাকি? তুমি তোমার বৌমার সঙ্গে বাড়িতে থাকবে! সেখানে তোমরা দুজনে বোঝাপড়া করে নেবে এটাই আমার ইচ্ছে!
মা, অনুপমা দেবী বলে উঠলেন – তা বেশ! তবে চল, কাল রবিবার বিকেলে!
তাই চলো মা, ওদের ফোন করে জানিয়ে দাও!
******************
এই যে আমার ছেলে অনুপ! তোমরা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে নাও ঐশি!
যূথিকা দেবী ঐশির মা বলে উঠলেন, যা ঐশি ওদিক থেকে ঘুরে আয় দুজনে!
চলুন ঐশি আমরা ওই গার্ডেনে যাই!
আসুন!
বাহ্‌ খুব সুন্দর বাগান তো! কত রকমের ফুল ফুটে রয়েছে বাগানে!
হ্যাঁ, বাবার খুব শখ! ফুল বাগান বাবার নিজের হাতে তৈরী! এই গোলাপ গাছটা বাবা জয়পুর থেকে এনে লাগিয়েছেন!
খুব সুন্দর!
কি সুন্দর?
ফুলের বাগান, আবার কি!
আচ্ছা, আর আমি?
সবটাই বলে দিয়েছি!
তাই বুঝি!
অনুপ বলে উঠল – হ্যাঁ, আসল কথায় আসি! আমাকে আপনার কেমন লাগছে, বলুন?
এমনিতে খারাপ না!
মানে? কিছুটা ভালো?
না মশাই, কিছুটা নয়, পুরোটাই খারাপ!
তাহলে তো হয়েই গেলে –
এই মা, কি হয়ে গেল? ঠাট্টাও বঝেন না?
বুঝি বলেই তো, হাঁসছি ম্যাডাম!
আচ্ছা আপনি যৌথ নাকি একান্নবর্তী পরিবার পছন্দ করেন?
যৌথ পরিবার ভালো লাগে!
কেন ভালো বলে মনে হয়?
সেখানে সবার সঙ্গে হেসে খেলে আনন্দে কাটানো যায়! বাড়িতে রোজ পিকনিক পিকনিক পরিবেশ, খাওয়া দাওয়া, বেড়ানো, খুব মজা হয়!
আমার পরিবারে কিন্তু মা ছাড়া কেউ নেই! বাবা ছোট বেলায় আমাদের রেখে কার এক্সিডেন্টে চলে গেছেন! আমি বাড়িতে খুব কম থাকি! পারবেন তো মাকে মানিয়ে নিয়ে থাকতে? একাকিত্ব মনে হবে না?
সে অভ্যাস হয়ে যাবে! মানুষ অভ্যাসের দাস!
মা কিন্তু খুব স্বাধীনচেতা মানুষ! খুব কষ্ট করে আমাকে মানুষ করেছেন! তাই আমি মা অন্ত প্রাণ! কোন আপত্তি আছে?
আমিও তাই, স্বাধীনচেতা! তবে মানিয়ে চলার মতো সহবত শিক্ষা আছে!
বেশ, তবে আসি আমরা?
আচ্ছা চলুন!
মা চলো যাওয়া যাক!
তাহলে দাদা আমরা উঠছি আজ, বাকী কথা ফোনে সেরে নেব কেমন?
আচ্ছা দিদি আসুন!
*****************
আজ তিন মাস হোল, অনুপ বিদেশে! এই ভাবে একা একা বড্ড বোরিং লাগে, একটা কিছু করলে তো সময়টাও কাটে, একটু ব্যস্ততার মধ্যে মনটাও ভালো থাকে! মাকে প্রস্তাব দিয়ে দেখি কি হয়!
নে পায়েসটা খেয়ে নে!
কেন মা? তুমি পায়েস করতে গেলে কেন?
আজ তোর জন্মদিন না?
হ্যাঁ মা কিন্তু, তুমি জানলে কি করে?
কেন ফেসবুক শিখলাম না? ওখানেই তো নোটিফিকেশন দেখলাম! এটা আমার সারপ্রাইজ!
তুমি সত্যিই আমার মা, তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ! ঐশি মনে মনে ভেবে নিলো তার প্ল্যানটা এখনি শাশুড়ির সঙ্গে শেয়ার করে নিতে, একটা কথা বলবো মা?
না! এখন কোন কথা নয়! পায়েসটা খাও, যা কথা আছে রাতে হবে! বলে অনুপমা দেবী গটগট করে তাঁর ঘরে চলে গেলেন!
*****************
বিকেল বেলা ঐশি রেকর্ড প্লেয়ারে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনছেন নিবিষ্ট মনে! “কতবারও ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া, তোমারও চরণে দেব হৃদয়ও খুলিয়া….”
এমন সময় শাশুড়ি অনুপমা দেবী ডেকে উঠলেন, ঐশি চলো একটু বাইরে যাবো আমরা!
এখন কোথায় যাবো মা? কেন?
আমি নিচে বসছি, তুমি পাঁচ মিনিটে তৈরী হয়ে এসো!
বলা নেই, কওয়া নেই, কোথায় যেতে হবে এখন আবার! মা, কি পরবো শাড়ি? নাকি চুড়িদার?
তোমার যা খুশি, তবে একটু সেজে নিও ভালো করে, আমি অপেক্ষা করছি!
ঐশির চেহারাটা বেশ সুন্দর, স্মার্ট! একটা আভিজাত্যের মোড়কে আবৃত! দেখলে সমীহ জাগে!
****************
এই যে উনারা এসে গেছেন, আসুন আমরা ফিতে কেটে উদ্বোধনিটা সেরে নিই আগে! তারপর ভেতরে যাবো! আসুন!
অনুপমা দেবী বলে উঠলেন, ঐশি এদিকে এসো, তুমি ফিতে কাটো! ঐশি ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না, এটা তো সাজানো গোছানো একটি কাপড়ের নতুন দোকান!
গ্লো সাইন বোর্ডে লেখা “ঐশি ব্লাউজ মিউজিয়াম!” ফুল দিয়ে সাজানো, লাইটিং জ্বলছে! গুনগুন করে রবীন্দ্র সঙ্গীত চলছে! কাচের শো কেস, ক্যাশ টেবিল, কাঠের পলিস করা আসবাবপত্রে সাজানো দোকান, নয়নাভিরাম পরিবেশ! ঐশির মনে ধরেছে ব্যপারটা!

এসো ঐশি!
হ্যাঁ মা আসি!
বাহ্ খুব সুন্দর হয়েছে!
আসুন আসুন ম্যাডাম!
এই যে কাঁচিটা দিয়ে ফিতেটা কেটে দিন!
ফিতে কাটার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের পাপড়ি ঝরে ঝরে মাথায় গায়ে পড়লোঐশির! এই ব্যবস্থাপনায় বিমোহিত ঐশি! কিন্তু তার বিস্ময় কাটছে না!

অনুপমা দেবী বলে উঠলেন- ঐশি, তুমি ক্যাশে বসো!
মা, এত সুন্দর সাজানো দোকান, নতুন ঝকঝক করছে! কার এ দোকান?
কেন? সাইন বোর্ড দেখোনি? এটা তোমার দোকান! বাড়িতে একা একা বোর ফিল করছো, তাই এটা তোমার জন্য, তোমার জন্মদিনে অনুপের দেওয়া সারপ্রাইজ! পছন্দ হয়েছে?
ভীষন পছন্দ কিন্তু অনুপ এই সব করেছে?
হ্যাঁ, অনুপ করেছে ম্যাডাম, বলে মিটমিট করে অনুপ অদূরে ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে হাঁসছে!
এ কি অনুপ তুমি? কখন এসেছো?
আমি সেই সকালে ল্যান্ড করেছি ম্যাডাম! সরাসরি দোকানে এসে, দোকান সাজিয়েছি মনের মত করে! সবটা তোমার জন্য! টাকা আয় মুখ্য নয়, তোমার সময়টা সুন্দর কাটবে, পাঁচজন ছেলেকে নিয়োগ করেছি এই কাজে! তুমি শুধু ইচ্ছে হলে, বিকেলটা এসে একটু দেখবে, ব্যাস! সব কম্পিউটারাইজ সিস্টেম! কোন ঝামেলা নেই! হিসাব রাখার মাথা ব্যথা নেই! ভেরি সিম্পল!
বাহ্ দারুণ ব্যাপার! আমি এই ধরনেরই একটা কিছু ভাবছিলাম, এ যে মেঘ না চাইতেই জল! আমি ভীষন খুশি অনুপ! অনেক ধন্যবাদ! তোমাকে পাওয়াটাও আমার কাছে অহংকারের!

অনুপ বলে উঠলো, মা, এবার আমরা উঠবো! চলো বাড়ি যাই! খুব টায়ার্ড লাগছে! চলো ঐশি! তিনজনে একসঙ্গে বাড়ি ফিরলো!
******************
অনুপ জানতে চাই, একা থাকতে খুব কষ্ট হয় ঐশি? আমারও তোমার জন্য, মায়ের জন্য খুব মন খারাপ করে! থেকে থেকে মনে হয় চাকরী ছেড়ে চলে আসি! দীর্ঘদিন ধরে বাইরে পড়ে থাকা ভালো লাগে না!
ঐশি বলে, মন খারাপ তো করেই, কিন্তু চাকরি ছেড়ে বাড়ি বসে থাকলে হবে? মায়ের সঙ্গে গল্প আড্ডা দিয়ে আমার আনন্দেই কেটে যায়, শুধু রাতের বেলা তোমাকে খুব মিস করি! এই শোন না, তোমরা মা-ছেলে মিলে আমাকে সারপ্রাইজ দিলে, মনটা ভরিয়ে দিলে; আমারও তো একটা সারপ্রাইজ দেওয়ার আছে, নেবে না?
সে কি! বলো কি ব্যাপার? কি দেবে দাও বলে- ঐশীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে হাত পাতলো অনুপ!
আরে সব জিনিস কি হাতে দেওয়া যায়? উঠে বস! তারপর বলছি!
হ্যাঁ, এই বসলাম এবার বলো!
এখানে কান পেতে শোন দেখি, তোমার সন্তানের স্পন্দন টের পাচ্ছো কিনা?
আরে কি আনন্দ! আমি বাবা হতে চলেছি? বলে ঐশিকে কোলে তুলে এক পাক ঘুরিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে , মা মা শুনছো? তাড়াতাড়ি এই ঘরে এসো, তাড়াতাড়ি মা!
হ্যাঁ, কি হোল এত ডাকাডাকি কেন?
মা তুমি ঠাম্মা হতে চলেছো, ঠাম্মা!
সে কিরে আমাকে তো বলিস নি?
এটা আমার দেওয়া সারপ্রাইজ মা!
অনুপমা দেবী বললেন, তোরটা বেস্ট! আই লাভ ইউ ঐশী! বলে মাথায় স্নেহ চুম্বন এঁকে দিলেন! আজ থেকে তুমি আমার হেপাজতে থাকবে, তোমার চব্বিশ ঘণ্টা যত্ন নেবার জন্য আমি আছি, ঐশি!
অনুপ বলে, মা তুমি সব পারবে? বরং একজন আয়া রেখে দাও! আমি থাকবো না, তুমি কি করে সবদিক সামলাবে?
তোর মা, সব পারবে, তুই ভাবিস না! ঐশি অনুপ চল খাবার টেবিলে, আর দেরি নয়! খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড় সব তাড়াতাড়ি! আজ তোর খুব পরিশ্রম গেছে!
চলো মা খিদেই পেট চোঁ চোঁ করছে!
******************
দশটা মাস ঐশির সেবা যত্নে অনুপমা দেবী কোন ত্রুটি রাখেন নি! তার খাওয়া দাওয়া, রুটিন মাফিক চেক আপ সবটা নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন করেছেন! অপারেশন থিয়েটারের বাইরে তবুও উদ্বিগ্ন চিত্তে অনুপমা দেবী পায়চারী করছেন! অনুপও অল্প সময়ের মধ্যে চলে আসবে! ঐশির মা বাবা বারবার অনুপমা দেবীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, সব ঠিক হয়ে যাবে দিদি, আপনি ব্যস্ত হবেন না, টেনশেন নিবেন না, তবুও অনুপমা দেবীকে বড্ড অস্থির লাগছে!
১২ নং বেডের রুগীর বাড়ির লোক কে আছেন?
ঐশির বাবা এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলেন, হ্যাঁ, সিস্টার আমরা আছি, কেন বলুন তো? রুগী কেমন আছে সিস্টার?
এই মেডিসিনটা এক্ষুনি এনে দিন! আর ব্লাড লাগবে বি (+), রেডি রাখুন!
ব্লাড? দেখি ব্লাড ব্যাঙ্কে পাই কিনা?
না স্যার, ব্লাড ব্যাঙ্কে নেই! আপনারা অন্য কোথাও দেখুন!
আচ্ছা আমি যদি দিই হবে না, সিস্টার? আমার বি(+)!
নিশ্চয়ই হবে! কোথাও যাবেন না, প্রয়োজন হলেই ডাকবো!
অনুপমা দেবী জানতে চাইলেন, ওর রক্ত লাগবে কেন? ঐশি কি ভালো নেই? সিস্টার? প্লিজ বলুন?
আপনারা শান্ত হোন, ডাক্তার বাবু দেখছেন তো, কোন ভয় নেই!
ডাক্তার বাবু, সিস্টার সবাই এক সঙ্গে ও.টি থেকে বেরিয়ে এলেন, এবং সিস্টার ডাক দিলেন, ঐশির আত্মীয় স্বজন কে আছেন?
অনুপমা দেবী, যূথিকা দেবী এক সঙ্গে বলে উঠলেন আমরা আছি সিস্টার, কি খবর বলুন প্লিজ!
আরে মিষ্টি আনুন, আপনাদের মেয়ের মেয়ে সন্তান হয়েছে, দুজনে ভালো আছেন, একটু পরেই বেডে দেবে, আপনারা যেতে পারেন!
অনুপমা দেবী হাসি মুখে বলে উঠলেন, মিষ্টি অবশ্যই খাওয়াবো, সিস্টার, আগে আমাদের দিদি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে দিন, ওর মিষ্টি মুখটা আগে দেখি আমরা!
অবশ্যই অবশ্যই এবারে যান ৩ নং রুমের ১২নং বেডে!
মা, মা ঐশী কেমন আছে মা? আমি এসে গেছি মা, আর ভয় নেই তোমাদের!
অনুপমা দেবী বলে উঠলো, অনুপ এসেছিস, আয় আয় তোর মেয়ে হয়েছে, তুই আজ থেকে মেয়ের বাবা! ওরা সবাই মিষ্টি খেতে চেয়েছে, মুখটা দেখে যা মিষ্টি নিয়ে আয়!
হ্যাঁ যাবো মা, আগে ঐশিকে একবার দেখে যায়, কেমন আছো ঐশি? ঐশীর হাতটা অনুপ হাতের মধ্যে নিয়ে জানতে চাইলো! আমি ভালো আছি, তুমি কেমন আছো? তোমার মেয়ে ঠিক ওর টাম্মার মত হয়েছে দেখতে! না অনুপ?
অনুপমা দেবী বলে উঠলো, কেন রে আমার দিদি ভাই আমার মত হবে নাতো কার মতো হবে শুনি? ওটাতো আমার আত্মজা আমিই ওকে আমার মতো করে গড়ে নেব, দেখিস তোরা!
অনুপ বলে উঠলো, সে তুমিই তো ওকে বড় করবে, মানুষ করবে; কিন্তু মা মেয়ের একটা নাম দাও!
নাম আমি দেব বলছিস? মেয়ের দিদা, দাদু আছেন উনারাই নামকরণ করুন! আমি সেই নামেই ডাকবো!
না, দিদি তা হয় না, আপনি নামকরণ করুন! যূথিকা দেবী অনুপমা দেবীর মুখের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে কথাটা বললেন!
বেশ তবে তাই হোক, ওর নাম এখন আমি ঠিক করছি, তবে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নামকরণ হবে! ওর নাম হোক শিউলি! শরৎ এলে শিউলি ফুল, আর মা দূর্গার আগমন দুইয়ের মেলবন্ধন করবে আমার দিদিভাই!
বাহ্ খুব সুন্দর নাম দিলে মা, আমার খুব পছন্দ হয়েছে নামটা!
দিদি সত্যিই খুব সুন্দর নাম বাছলেন, আমাদের দিদি ভাইয়ের নাম সার্থক হোক!
আর বকবক করিস না যা অনুপ, মিষ্টি এনে সিস্টারকে দিয়ে দে আগে, তারপর আমরা সবাই বাড়ি যাবো, দিদি ভাইয়ের জন্য ঘর সাজাতে হবে, এখন আমার অনেক কাজ, বুঝলে বাবা?
*********************
অনুপ গাড়ি একেবারে গেটের কাছে লাগাতে বল, ঐশির পক্ষে বেশি হাটাহাটি করা ঠিক হবে না!
তাই আছে মা, বড় গাড়ি এনেছি আমরা সবাই একই গাড়িতে যেতে পারবো মা!
মা, আমার একটি কথা বলার আছে, তোমরা সবাই আছো তাই আমি এখানেই বলছি, আমি আর বিদেশে যাচ্ছি না, এখানেই থাকবো শিউলিকে ছেড়ে আমি থাকতে পারবো না! আমার যা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তাতে এখানেই একটি ভালো চাকরি পেয়ে যাবো, কোন অসুবিধা হবে না!
ঐশি বলে উঠলো মেয়ের জন্য তোমার সত্যিই আর বাইরে যাওয়া হবে না, তাছাড়া ব্যবসাটাও তো দেখতে হবে, খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছো অনুপ, কি বলো মা?

বেশ তাই হবে তুই যা ভালো বুঝবি করবি, আমরা এবার যাবো সব গুছিয়ে গাড়িতে তুলে নাও! দিদি ভাইকে আমাকে দাও, কি হোল দিদি ভাই? কিরে অনুপ তোর মেয়েতো আমার হাতের মধ্যে আছে তো মনে হচ্ছে আঁজল ভরা শিউলি ফুল!
জানিস ঐশি, মেয়ে জন্মালে অনেকে মুখভার করে, আমার মনে হয় মেয়েরা পৃথিবীর সৃষ্টিকে অবিনশ্বর করে, অমর করে, উজ্জ্বল করে! তাই কন্যা সন্তান আমার অন্ধকার ঘরে আলোর রোশনাই হবে!
সকলে রওনা দিলেন বাড়ির উদ্দেশ্যে খুশির বার্তা ছড়াতে ছড়াতে ………!

Check Also

রবির কিরণে – নাজির হোসেন বিশ্বাস

রবির কিরণে – নাজির হোসেন বিশ্বাস পড়ন্ত বৈকাল! একটা দুধ সাদা বলাকা নিঃসঙ্গ ভাবে উড়ে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।