Breaking News

বলৎকার – লাজ্বাতুল কাওনাইন

বলৎকার
– লাজ্বাতুল কাওনাইন

ঢাকা থেকে নরসিংদী এর দূরত্ব আসলে ট্রেনে তেমন কিছুই না। ইচ্ছে করলেই পৌঁছে যাওয়া চলে প্রায় ঘণ্টা খানেকের ভিতরেই। তবে আমার বাসা থেকে রেলস্টেশন  পৌঁছানোর জ্যাম ঠেলা রাস্তা এরপর টিকেট এর ভ্যাজাল এরপর ট্রেনের দেড় থেকে দু’ঘণ্টা লেট সব মিলিয়ে এই এক ঘণ্টা হয়ে যাবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ভ্রমণ। তবু কিছু করার নেই। অফিসের কাজে হঠাৎই যেতে হল আমাকে নরসিংদী। অবশ্য দিনটি ছুটিরই ছিল। প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে নিজের নির্দিষ্ট সিটে বসতে আমার প্রায় বিশ মিনিট লেগে গেলো। আমি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। একজন বয়স্ক লোক বুঝতে পারলেন। খানিক হেসে বললেন,

-আপা আজ প্রায় ইদ ইদ ভাব।

-কেন ভাই?

-আরে বোন, আজ তো কোনো ভিড়ই না।

আমার পুরাই য়্যা মার্কা অবস্থা আর কি! ভিড়ই নাই। জানালার পাশে সিট পেয়েছি, মনে হচ্ছিল আহা মরুভূমিতে এটা যেন লোনা পানি হলে কিছুটা খেয়ে বাঁচতে পারবো। ভুল ছুটল খানিক বাদেই। যখন স্টেশন গুলোতে থামছিল ট্রেন। হুড়মুড় করে লোকজন জানালা গলে চলে উঠছিল ছাদে। লাথি গুঁতো লাগছিলো আমার গায়ে। আমি সরবোটা কই। হা করে দেখছিলাম। সেই ভদ্রলোক বললেন,

-আপা ব্যাগটা সাবধানে রাখুন। এক টানে দৌড় দিবে।

হঠাৎ কেমন অস্থির অসহায় লাগছিলো। এই বয়সে এসে বলতে মোটামুটি লজ্জাই লাগছে যে জ্ঞান হবার পর এটাই আমার প্রথম ট্রেন জার্নি। খুব ছোটবেলাতে বাবার সাথে পাকশি গিয়েছি ট্রেনে। সেটা কি মনে আছে না গল্প শুনে কল্পনা করি ঠিক বুঝি না, কেমন আঁধার আঁধার স্মৃতি। বাবা আমাকে কোলে নিয়ে দৌড়ে ট্রেন ধরতে যাচ্ছেন। আমি আহ্লাদী বাবার কাঁধ জোরে করে ধরে রেখেছি। আম্মা সাথে আছেন কিন্তু মনে করতে পারি না। এইটুকুই! আর দরকার হয়নি আসলে ট্রেনে উঠবার। আসলে আমার অদ্ভুত ব্যস্ত নিরস জীবনে শখের ভ্রমণ বলে কিছু নেই। প্রয়োজনের খাতিরে যতোটা যেভাবে চলতে হয় তাতেই হাঁপিয়ে উঠি। বাকিটা সময় আর নিজের বলে কিছু নেই। হঠাৎ অফিসের কাজ পড়াতে আর একা যাবার কারণে, একটু অকারণ আনন্দ লাগছিলো। মনে হচ্ছিল পথটুকুর সময় হবে একান্ত নিজের। আহা আজকাল আর একান্ত সময় তো পাইই না। কিন্তু এই মানব পেষণ আমাকে একান্তই বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা দিলো।

পৌঁছতে প্রায় দুপুর হল। সরাসরি অফিসেই গেলাম। ছুটির দিন হলেও অফিস খোলা। যা যা দরকারি কাজ সারতে প্রায় চারটা হল। পরিচিত একজন সহকর্মীকেও পেয়ে গেলাম। তার নিজের গ্রাম বটেশ্বর। বললেন,

-চলুন না হয় ঘুরে আসি। দারুণ শান্ত গ্রাম আমাদের।

-আজ আর হবে না। ছয়টার ট্রেন ধরতে হবে ঢাকার।

-চলুন আমরা ঘুরে এসে আপনাকে সাতটার ট্রেন ধরে দিবো।

-সাতটায় ট্রেন আছে নাকি?

-কি যে বলেন? আছে আছে….চলুন তো। আর তো আসা হবে কবে। প্রত্নতাত্ত্বিক অনেক ব্যাপার স্যাপার আছে আমাদের প্রাচীন গ্রামটায়। হাজার বছর আগের…দেখে যান। আপনি তো হালকা পাতলা লিখেন, উপকরণ পেয়ে যেতে পারেন!

এই এক লোভ সামলানো আমার জন্য দায়। পুরাতন জায়গা জিনিস আমাকে আজব আকর্ষণ করে। চলে গেলাম সেই প্রাচীন গ্রামে। এতো নিরিবিলি এতো অদ্ভুত সুন্দর গ্রাম আমি কমই দেখেছি। সারাটা মেঠো পথের দুই ধারে শুধুই লেবু বাগান। বাতাসে কেমন প্রাচীন অজানা ঘ্রাণ। মনে হচ্ছিল শত বছর আগের এই গ্রামের যে ঘ্রাণ সেটা আটকে আছে এখনো। কেমন আবেশ তৈরি করে রেখেছে। ফাঁকে গ্রামের একটা হোটেলেই ভাত মাছে পেট পুরে নিলাম। নরসিংদী শহর থেকে বেশ দ‚রেই বটেশ্বর। ফিরবার সময় একটা বন মাড়িয়ে আসছিলাম। চারিদিকে কেউ কোথাও নেই। ঝিরঝির বাতাস।বিপুল গাছ ঘেঁষাঘেঁষি করে বাতাসে কি দারুণ সুর তুলছে। শুকনো পাতার চাদরে সারাটা পথ মুড়ানো। আমি হাঁটছিলাম আর মড়মড় করে পাতাগুলো ভাঙ্গার শব্দ আসছিলো। আরও খানিকটা সময় আমার থাকবার ইচ্ছে হচ্ছিলো। কিন্তু সহকর্মী আপার তাগিদে তাড়া করেই ফিরলাম। সাতটার আগেই ইস্টিশন থাকা দরকার। হঠাৎ একটু চমকে গেলাম। বড় একটা জাম গাছের আড়ালে একটা বাচ্চা ছেলে সাদা ছাগল বাচ্চাকে কোলে নিয়ে যে বসে আছে চোখেই পড়েনি। ঘাড় ঘুরিয়ে আমায় দেখল। আমি হেসে দিলাম। সেও ঠিক হাসল কিনা বুঝলাম না। তবে আবার বাচ্চাটিকে আদর করাতে ব্যস্ত হয়ে গেলো।

সাতটার দশ মিনিট আগে এসেই স্টেশনে ঢুকলাম। সাথে আপাটাও ছিলেন। তিনি বললেন আমাকে ট্রেনে তুলে তবেই যাবেন। কিন্তু হঠাৎই বাসা থেকে কল এলো তার ছোট মেয়েটা পড়ে দারুণ ব্যথা পেয়েছে। অগত্যা আমি তাকে চলে যেতে বাধ্য করলাম। এবার ট্রেনের পালা। কি হল ঢাকার ট্রেন আজ তো আর আসেই না। কেন তা কেউ বলতে পারছে না। তবে রাত দশটায় শেষ একটা ট্রেন তো আসবেই। এটা জানতে পারলাম। কেমন আজব লাগছিলো। বাসা থেকে উদ্বিগ্ন সব। আপাও বললেন থাক আজ চলে আসেন, কাল ভোরে যাবেন। আমার না একদম কারো কথাই শুনতে মন চাইলো না। মনে হল না আমি যাবো যতো রাতই হোক। এই ট্রেনেই ফিরবো। মোবাইল অফ করে দিয়ে স্টেশনের ওভার ব্রিজে বসে রইলাম। ব্রিজ ঘেঁষে একটা বিশাল নিম গাছ। বাতাসে ঝিরঝির করে শব্দ করে নুয়ে আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। কি যে ভাল লাগছিলো। মার্চ মাসের ভ্যাপসা গরমটা আরামদায়ক মনে হল। নিচে নারকেল চেরি খেজুর মোরব্বা হাবিজাবি দিয়ে ভাপা পিঠা বিক্রি হচ্ছে। কিনে খাওয়া শুরু করলাম। রাত প্রায় দশ। চা খেতে চাইছিলাম। স্টেশনের চা এর দোকানটা প্রায় বন্ধ হবার পথে। তবু বললাম,

-একটা পান দিন..

-আফা দুকান অপ দিসি!

-তো কি ভাই। ঢাকা যাবো। চা নাই ভাল পান ও যদি না খাইতে পারি আপনাদের দেশে এসে। আফসোস নিয়ে ফিরবো!

ছেলেটা হেসে দিলো,

-আফা এক কুটি টাকা দিলেও আবার পসরা বার করি না একবার গুছায় ফেললে। যান তাও দিলাম আপনারে।

খুব যতœ নিয়ে ছেলেটা পান বানিয়ে দিয়ে শুধু একটা কথাই বলল,

-আফা ফিরা যান। রাইতের এই ট্রেনটা ভালা না। খুন খারাবি থেকে নিয়্যা এরাম কুনুই খ্রাপ কাজ নাই যে এইটাতে হয় না। ভদ্রলোকের জন্য এই ট্রেন না। কাল খুব ভোরে ট্রেন আছে, যাইবেন গা। আইজকা কারো বাড়িত পরিচিত থাকলে চলে যান!

-হুম! আচ্ছা!

একটু ভয় ভয় পেলাম  স্বাভাবিক। কিন্তু কারো বাসাতে রাত কাটাবার মতো পরিচিত আমার কেউ এখানে নেই। আর নিজের বাসায় যে কাউকে বলবো, লাভ কি। দুর্ভাবনা বাড়িয়ে। আমাকে ঢাকা নিজেরই যেতে হবে। তবে রাত প্রায় সাড়ে দশ। চুপচাপ বসে আছি পা ঝুলিয়ে স্টেশনের বারান্দায় ! দূরে বাতির অপেক্ষায়। ট্রেন আসছে তবে সবই অন্য রুটের। ঢাকার ট্রেনের খবর নেই। রাত প্রায় পৌনে এগারো! হঠাৎ স্টেশনে কারেন্ট চলে গেলো। কেমন আলো আঁধার একটা পরিবেশ। স্টেশনে কি হঠাৎই মানুষ কমে গিয়েছে। কই খেয়াল করিনি তো। অবাক লাগছে। ঠিক ভয় না অস্বস্তি হচ্ছে। অস্থির হয়ে ঘড়ি দেখছি। মোবাইল চালু করতে চাইলাম কিন্তু চালু হয়েই বন্ধ হয়ে গেলো মানে চার্জ শেষ হয়তো। মোবাইলটা নষ্ট হল কিনা। অফ করার সময় কিন্তু অনেকখানি চার্জই ছিল। দ‚রে ট্রেনের আলো দেখা যাচ্ছে, সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছি এবার যেন হতাশ না করেন। টুপ করে কারেন্ট এসে পড়লো আর হ্যা এইতো ঢাকার ট্রেন। অমা! হুড়মুড় করে দৌড়ে এতো লোক জমে গেলো কোথা থেকে ট্রেনে উঠবার জন্য। কেমন যেন অজানা একটা প্রশান্তি বোধ করলাম।

ট্রেনে উঠেই বুঝলাম চা এর দোকানের ছেলেটা খুব একটা ভুল বলে নি! কেমন একটু উড়া ধুরা টাইপ সব যাত্রী। একটা বোরকা পড়া গ্রাম্য নারী পুরোটা সিট জুড়ে ঘুমুচ্ছিলো। অপর পাশের সিটটা মনে হয় খালি পুরোটাই। মনে হয় বলছি কারণ মহা ঝামেলা! ট্রেনের বগিটার ভিতরে কোনোই আলো নেই। এই সময়ের লাস্ট ট্রেনটাতে কোনোই আলো নাকি জ্বলানো হয় না। গা ছমছমে অবস্থা। অঘটন যে ঘটে এটা নিশ্চিত হলাম। কিছু করার নেই, যেতে তো হবেই। ট্রেনও ছেড়ে দিয়েছে। মোবাইলের আলো জ্বালানোরও উপায় নেই, তবে পাশের সীটে ভাল হৈ চৈ! মাদ্রাসার কিছু কিশোর উঠেছে। সব সাদা ধবধবে আচকান আর টুপি। দারুণ দুষ্টুমি করছে। গল্প করছে। একজনের কাছে বোধহয় লুকানো মোবাইল ছিল। মাঝে মাঝে আলো  দেখা যাচ্ছে। বিদঘুটে ট্রেনের ভিতরটা তাতেই উজ্জ্বল হয়ে যাচ্ছে। আমার ভাল লাগছিলো, সাহস ও পাচ্ছিলাম বাচ্চাগুলোকে দেখে। আর ট্রেনে ভিড়ও নেই একদম। সবাই মনে হয় সীটে বসে যাচ্ছে কাউকে দাঁড়ানো দেখছি না।

সারাদিনের ক্লান্তিতে একটু তন্দ্রা মতো এলো কিনা! কোনো স্টেশনে থেমেছে। জানালা গলে বাইরের আঁধার ঘুমন্ত গ্রাম পথ দেখতে দারুণ লাগছিলো। আবছায়া সব তবু কেমন অদ্ভুত মায়াময় অনুভব হচ্ছে। বাতাসটা এতো দারুণ। হুট করেই খেয়াল করলাম আমার পাশের সীটে কেউ বসেছে। দেখে চমকে গেলাম। একটা বাচ্চা ছেলে হাতে একটা ছাগল শাবক! আঁধারে আমি বাচ্চাটিকে দেখতে পাচ্ছি না। তবে বুঝতে পারছি। সাদা আচকান আর টুপি পড়া ছেলেটা। মাথা নিচু করে ছাগল শাবককে আদর করছে আর চুপ করে বসে আছে। ও পাশে খেয়াল করলাম, কিশোর গুলো চুপচাপ। বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেনটা খুব বেশী ধীর গতিতে যাচ্ছে। বাচ্চাটার সাথে কথা বলতে মন চাইছে। কেমন অদ্ভুতুড়ে পরিবেশে একটু কথা বলতে চাওয়াটা বোধহয় অ¯^স্তি কাটানোর জন্য অজানা মনের ছটফটানি।

-তোমার সাথে কে আছেন বাবু?

বাবু ডাক দেওয়া বাচ্চাটা আমার দিকে তাকালো না। বা কথাও বলল না! বিরক্ত হলাম খানিকটা। আজকাল বাচ্চাগুলো জানি কেমন। কথা বলে না, উত্তর দেয় না। আদরের মানে বুঝে না। নিজ মতো থাকে। হঠাৎ দুপুর কালের সেই বাচ্চাটার কথা মনে এলো। ঘাড় ঘুরিয়ে আমাকে দেখছিল অদ্ভুত ভঙ্গিতে। এবার আরও উৎসাহে বললাম,

-তুমি একা?

-না!

এতো মিষ্টি কোনো বাচ্চার গলার স্বর হতে পারে ধারণা ছিল না। আরও কথা শুনতে ইচ্ছে করলো,

-তাহলে কে আছেন?

-ছাগল

-হুম! কোথায় যাবে তুমি?

-কোথাও না।

-তাহলে ট্রেনে যে…

-জানি না!

আজব তো! কথার মাথামুন্ডু বুঝতেই পারছি না। বাচ্চাটা বোধহয় কথা কম বলে নাকি হারিয়ে গিয়েছে নাকি জিদ্দি ধরনের কিছু বোঝার উপায় নেই। একটু হালকা করতে বললাম,

-যাবে আমার সাথে?

-না।

-কোথায় থাকো তুমি?

-জানি না!

-কিসে পড়ো?

-পড়ি না!

-হুম।

বুঝলাম কথা চালিয়ে যাওয়া আর চলবে না। সে বিরক্ত। আমিও চুপচাপ আবার জানালা গলে বাইরে তাকিয়ে রইলাম। কিন্তু কেন জানি বাচ্চাটার দিকেই মন পড়ে রইলো। হঠাৎ রিনরিনে মিষ্টি গলায় বাচ্চাটার গান শুনতে পাচ্ছি…

হায় রে! আমার একটা ময়না আছিল

ও সখী, আমার একটা ময়না আছিলো…

খাঁচাত তারে বাইন্দ্যা ছিলাম গো ওওঅঅ

অনেক কইর্যান আদর দিলাম গোওও..

শ্যাষের কালে, ও সখী! শ্যাষের কালে,

খাঁচা ভাইঙ্গা, ছুটেএএ চলে অচিনপুরে

এতো কাইন্দ্যা পাইলাম না আর তারে

সখী! আইন্যা দিবা কি তারে!

আমার জানের ময়নাটারে, গো সখী……

মায়ামোহ সুরে গান গাইছিল বাচ্চাটা। আমি তাকাচ্ছি না, ওর দিকে পাছে লজ্জা পেয়ে না থেমে যায়। চুপ করে শুনছিলাম। প্রায় ঢাকা এসে গিয়েছি বোধহয়। গান বন্ধ হয়ে গিয়েছি। তাকিয়ে দেখি বাচ্চা ছেলেটা পাশে নেই। আজব তো উঠে চলে গেলো নাকি। নামার তো কথা না। ট্রেন কোথাও থামেনি। বাচ্চা মানুষ চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে নামার কথা না। অন্য কোনো সীটে গেলো কিনা। মনটা খারাপ লাগছিলো। কেন জানি না। আসলে অজানা আমরা। বিদায় নেবারও কথা না। আমিও আর বিরক্ত করিনি ওকে। তবু কি বিরক্ত হয়ে অন্য সীটে চলে গেলো। আঁধারে খুঁজে বের করাও যাবে না! যাক, পথের ক্ষণিকের ভাল লাগা কত কি তো আমরা হারিয়ে ফেলি অহরহ। যখন হারাই অস্থির হই। এরপর মানব চির স্বভাবগত কারণে সেটা ভুলে, নতুন পথে চলি। মাঝে সাঝে স্মৃতি হাতরাই। উদাস হই এই তো!

অনেক মাস পর, পত্রিকা অফিসে বসে পুরাতন পত্রিকা কিছু ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম। একটা নিউজ তৈরির জন্য খুব দরকার। দেশের খবর অংশে চোখ আটকে গেলো। একটা বাচ্চা ছেলে খুন হয়েছিলো…বছর চারেক আগে। ঢাকা নরসিংদী ট্রেনে ছেলেটা খুন হয়। খবরটা এমন যে, তার শিক্ষক তাকে বলৎকার করে, খুন করে চলন্ত ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। সবুজ ক্ষেতে একটা বাচ্চার লাশের ছবি দিয়ে খবর কভার করা হয়েছে। ইনসেটে বাচ্চাটার ছবি দেওয়া আছে। সেটাও খুব স্পষ্ট না। তবে বুকের ভিতর কেমন ধক করে উঠলো। সেই দুপুরের ঘাড় ঘুরিয়ে তাকানো বাচ্চাটার সাথে কি মিল আছে ছেলেটা। এটা একদম অসম্ভব। তবু মন মানছে না। আবার ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম পুরো ছবিটা! আজব তো বাচ্চাটার লাশের চারিদিকে প্রচুর মানুষের ভিড়। এক কোণা দিয়ে একটুখানি একটা ছাগলের বাচ্চা দেখা যাচ্ছে ছবিতে। অস্থির লাগছে খুব অস্থির! সেদিন আর অফিসে থাকতে ইচ্ছে হল না আমার।

Check Also

রুমমেট – সৌমেন ঠাকুর

রুমমেট – সৌমেন ঠাকুর প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম সম্পূর্ণটাই আমার মনের ভুল । বন্ধুদের বলতে ওরা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।