Breaking News

ইন্টারভিউ – রাজীব চৌধুরী

ইন্টারভিউ
– রাজীব চৌধুরী

আবুল গেছে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। বিশাল লাইন। আবুলের হাতে এক গাদা সার্টিফিকেট। সে বড় আশাবাদী। তার চাকরিটা আজকে হয়েই যাবে বলে মনে হচ্ছে। কারন সে যেখানে বসে আছে ওখানে ওয়েটিং এ সব বাতিল টাইপের লোকজন বসে আছে। একজনের ও স্মার্টনেস আবুলের কাছাকাছি নেই। দুইতিনবার শার্টের কলার টেনে নিজেকে হিরোর ভুমিকায় কল্পনা করে সুখ সাগরে ভাসতে শুরু করল সে। গুনগুন করে গাইতে শুরু করল-
“নাচ আমার ময়না তুই পয়সা পাবি রে এ এ এ এ এ”
যদিও গানের তালে তালে সে মৃদু দুলছে তবে সেটা পাশে বসা মেয়েটা ছাড়া কেউ দেখছেনা।
মেয়েটার কোণ ভাবগতি নেই দেখে আবুল বেশ মনক্ষুন্ন হল।
এর মাঝে দুজন দুজন করে ডাকা হচ্ছে। খানিক আগে দুজনকে ডাকা হল।
আবুল আর সেই মেয়েটা।
মেয়েটার নাম মনিকা। এই মনিকা সেই মনিকা না। এই মনিকা বাংলাদেশী বার্বিডল। সে আজকে চাকরি পাবেই। কারন ওপরমহলে মনিকা ঘুষ দিয়ে সলিড বানিয়ে রেখেছে।তাকেই চাকরি দেয়া হবে। বাকি সব ফাউ।
দুজন দুটো চেয়ারে বসল।
প্রশ্নকর্তা বললঃ নাম কি?
আবুলঃ আআবুল
মনিকাঃ মনিকা
প্রশ্নকর্তাঃ মনিকা বলতো-বাংলাদেশ বানান ইংরেজিতে কি হবে?
মনিকাঃ Bangladesh
প্রশ্নকর্তা কোনভাবেই আবুলের স্মার্টনেস মেনে নেবেনা। মনিকাকেই চাকরি দেবে।
তাই আবুলের জন্য বরাদ্ধ প্রশ্ন করা হলঃ
প্রশ্নকর্তাঃ আবুল বলতো লেফট্যানেন্ট বানান কি?
আবুল গেল গাড্ডায় পড়ে। এই বানান এর মাঝে ক্যাচাল আছে। বানান টার মাঝে লিও এর পর ট্যালেন্ট না ট্যানেন্ট বলে একটা টান আছে। আবুলের কোনভাবেই মনে পড়ছেনা। ওর টানটান মুখমন্ডল ঝুলে পড়েছে।
প্রশ্নকর্তাঃ আবুল দরজা ওদিকে। বেড়িয়ে পড়। আর মনিকা- তোমার চাকরিটা হয়ে গেছে।
আবুল সাথে সাথে বিদ্রোহ করল- “আমাকে কঠিন বানান জিজ্ঞাসা করা হইসে। মানিনা। মাইনতামনা।
প্রশ্নকর্তাঃ ঠিক আছে। মনিকা বলতো- বাংলাদেশ স্বাধীন হতে কতজন শহীদ হইসে?
মনিকাঃ স্যার ত্রিশ লক্ষ।
প্রশ্নকর্তাঃ আবুল- ত্রিশ লক্ষ শহীদের নাম বল…
ঝড়াত করে শব্দ হল। আবুল পড়ে গেল চেয়ার থেকে। পড়েই অজ্ঞান। আর মনিকার চাকরি তখন ঠেকায় কে ?

Check Also

মুখেভাত – ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী

মুখেভাত – ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী ভেলভেটের কাপড়ে মোড়া লাল রঙের অ্যালবাম টা আজও একইরকম ভাবে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।