Breaking News

বন্ধুত্ব – মিন্টু উপাধ্যায়

বন্ধুত্ব
– মিন্টু উপাধ্যায়

রাত্রি ক্রমশ গভীর হচ্ছে । রাস্তার ল্যাম্প-পোস্টের আলোয় রাস্তা ঠিক মত দেখাই যাচ্ছে না । সেই সকাল থেকেই টিপ টিপ করে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তার এদিকে ওদিকে কাদায় ভর্তি । বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই চললাম আমি অমিতদের দোকানের উদ্দেশ্যে । অভাব অনটনের জন্য একটা ছাতা পর্যন্ত কিনতে পারিনি । দুই-দিদির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আমি বরও একা পরে গিয়েছিলাম । বাবা-মা তো অনেক দিন আগেই মারা গিয়েছিলেন । রাতে একা ঘরে থাকতে পারতাম না, তাই অমিতদের দোকানেই রাত কাটাতাম । অমিতও ওদের দোকানেই শুত । জীবনে এতটা একলা আগে কখনও মনে হয়নি । বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে যখন অমিতদের দোকানে পৌছালাম তখন পুরোই ভিজে গিয়েছি । পাখার হাওয়ায় জামা পেন্টটা শুকাতে দিয়ে গামছা পরেই গল্প করতে লাগলাম অমিতের সঙ্গে । গল্প করতে করতে অনেকটা সময় কেটে গিয়েছিল । কিছুক্ষনের মধ্যেই অমিতের দাদা রাতের খাওয়ার নিয়ে এসে হাজির । অমিতকে দেখলাম ওর ভাগের রুটি থেকে আমার জন্য তিনটা রুটি আর সব্জি আমার দিকে বারিয়ে দিয়ে মিটি মিটি হাঁসতে লাগল ।
– তুই খেয়ে নে, আমার খাওয়া হয়ে গেছে ।
– না, তোর খাওয়া হয় নি, আমি জানি ।
– তুই কি করে জানলি ?
– আমি জানি, তবেই না তোর বন্ধু ।
– না রে তুই খা ।
– এমন করলে আমিও খাবো না ।
– ধ্যাত, এমন করিস না । খেয়ে নে… ।
– তুই না খেয়ে থাকবি আর আমি সেটা দেখব, তুই না খেলে আমিও খাবো না ।
অমিতের দাদাকেও দেখলাম দুটো রুটি আমার দিকে এগিয়ে দিতে । কি করব ভাবতে লাগলাম । আমিত কি করে বুঝল যে আমি না খেয়ে আছি ।
– তারাতারি হাত ধুয়ে বসে পর ।
– না রে তোরা খা ।
– এবার কিন্তু মার খাবি তুই । তারাতারি আয় বড্ড খিদে পেয়েছে । অমিতের দাদা হাঁসতে হাঁসতে বলে উঠল ।
কি আর করা, হাত ধুয়ে বসে পরলাম ওদের সাথে খেতে । খেতে খতে এক ফোঁটা জল গরিয়ে পরল আমার চোখের কোণ দিয়ে । তৃপ্তির সাথেই খেলাম । কিছুক্ষনের মধ্যেই খাওয়া সম্পূর্ণ হল ।
বন্ধুদের মধ্যে সব থেকে ভাল লাগত আমিতকেই, আজ ওর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও কয়েকগুন বেরে গেল । নিজে কম খেয়ে হাঁসিমুখে যে আমার জন্য খাওয়ার ভাগাভাগি করে খায়, এমন বন্ধু খুব কমই পাওয়া যায় । ক্রমশ রাত্রি আরও গভীর হচ্ছিল । আমরা দুজনে গল্প করতে করতে শুয়ে পরলাম । অমিতের দাদা আগেই শুয়ে পরেছিল । কিছুক্ষনের মধ্যেই আরও জোরে বৃষ্টি এলো, অন্ধকার ঘরে শুয়ে বৃষ্টির ঝম ঝম আওয়াজ শুনতে শুনতে তলিয়ে গেলাম ঘুমের দেশে ।
কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর আমি এখনও পাইনি… আমিত কি করে বুঝল যে আমি না খেয়ে আছি ।

—– সমাপ্ত —–
© Mintu Upadhayay

Check Also

মুখেভাত – ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী

মুখেভাত – ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী ভেলভেটের কাপড়ে মোড়া লাল রঙের অ্যালবাম টা আজও একইরকম ভাবে …

3 comments

  1. অনেক ভাললাগা রইল কবি ।শুভেচ্ছা নিবেন ।

  2. সুমিতাংশু দোয়শী

    খুব ভালো লাগলো পড়ে। আরো ভালো লাগতো যদি বন্ধুত্বের মধ্যে চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারটা না ফুটে উঠত। ওই চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কত বন্ধুত্ব যে হয়ে যায় তার উদাহরণ চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। বন্ধু বন্ধু। সে দিলেও বন্ধু না দিলেও বন্ধু। এই জিনিসটি ছাড়া বাকি সব অনবদ্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।