জুন 2021


গল্প - প্রাপ্তিযোগ

কলমে -  শ্রীকন্যা সেনগুপ্ত 


চাইলেই কি কারো দেখা পাওয়া যায়? আরে না মশাই! দেখা পাওয়ার জন্যও ভাগ্যের প্রয়োজন হয়! বিশ্বাস হচ্ছে না? আচ্ছা! তবে খুলেই বলি। এই যেমন ধরুন এই দুদিন আগেকার কথা। দিনটা ছিল জামাইষষ্ঠী। আগের দিন রাত থেকেই অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছিল। উদাস করা মন আর ব্যাজার করা মুখ নিয়ে শুতে গেলাম। ভাবলাম - সকাল হলে হয়তো সব ঠিক হবে। সূয্যিমামার দেখা পাবো। কিন্তু ঐ যে বললাম - চাইলেই কারো দেখা পাওয়া যায় না! সকালেও আকাশের মুখ ভার। থেকে থেকে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। যেন মনে হল সূয্যিমামা বলছে - "আমি আজ চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমাতে গেলুম। একদম ডাকবি না আমায়"!! সক্কাল সক্কাল আজ গিন্নী বাজারের থলি হাতে ধরিয়ে দিয়েছে, আর তার সাথে একগাদা ফিরিস্তি। আজ দুবছর হলো করোনা আর লকডাউনের জেরে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে জামাইষষ্ঠী করা বন্ধ। অগত্যা নিজের "জামাই আদর"-টুকু নিজেদেরই করতে হবে! কিন্তু এরকম বৃষ্টির মধ্যে বেরোতে কার আর ভালো লাগে বলুন তো? কোথায় বারান্দায় আরামকেদারায় বসে, পায়ের ওপর পা তুলে গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে আর সাথে বৃষ্টি উপভোগ করতে করতে একটু আয়েস করবো.... তা না! এখন আবার মুখে মাস্ক পরে, পকেটে স্যানিটাইজার গুঁজে, ঘড়ির ধরাবাঁধা সময় মেপে, বাজারের থলি হাতে বাজারে দৌড়াতে হবে? শুধু কি তাই? বাজারে সব জিনিসের আজ যা আগুন দাম!! বেশী দরদাম করার জো নেই। করতে গেলেই তারা এমন কথা বলবে যেন মনে হবে ধারে কিনতে এসেছি অথবা এমনভাবে তাকাবে যেন তাদের দুটো কিডনীই আমি খুলে দিতে বলেছি!!! তাছাড়া বাজার করার পর সেই ভারী থলিগুলো বয়ে নিয়ে মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় কুকুরের মত জিভ বার করে হাঁফাতে হাঁফাতে বাড়ী ফেরাটাও তো আছে!! যদিও মাস্কের ওপর থেকে সে দৃশ্য বোঝা যায় না বলে বাঁচোয়া। তার ওপর এই হতচ্ছাড়া বৃষ্টি। উফ্!! অসহ্য.... ভেবেই মুখটা আরো ব্যাজার হয়ে গেল। গিন্নীকে বললাম - "এই বৃষ্টিতে ভিজে বাজার করলে করোনা হোক না হোক, নিউমোনিয়া অবধারিত!!" গিন্নী অনেকটা "ঘজিনী" সিনেমার "শর্ট টাইম মেমারি লস্" হওয়া আমির খানের মত কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে বলল - "তাহলে? আজ খাবে কি? আজ ভালোমন্দ রান্না করে তোমায় না খাওয়ালে মা'ও যে বকাবকি করবে আমায়! এদিকে সকাল থেকে ফেসবুক-ইনস্টা'তে বন্ধুবান্ধবদের ছবি দেওয়ার তো শেষ নেই দেখছি! লকডাউনে বাড়ীতে বসে দিন শুরু হওয়া থেকে প্রতিটা মুহূর্তের, প্রতিটা অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি দিচ্ছে! যেন মনে হচ্ছে - জামাইষষ্ঠী নয়, এ যেন এক অতি নাটকীয় সেলিব্রেটি ফোটোশুট চলছে!" মনে মনে ভাবলাম - নাহ্! আমিও বা কম যাই কিসে? বৃষ্টি কমলেই বেরোবো। চায়ের পর্ব সেরে বারান্দায় গিয়ে পায়চারি শুরু করলাম আর মাঝে মাঝে ঘড়ি দেখতে থাকলাম। সাড়ে আটটা বাজে। উঁহু, বৃষ্টি তো আর থামছেই না! দেরী হচ্ছে দেখে এবার জলখাবারটাও সেরে নিয়ে আবার চিন্তান্বিত মুখে পায়চারি শুরু করলাম। মুখচোখের ভাবখানা এমন যে দেখে মনে হবে, যেন ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ চলছে.... কখন কি যে হয়ে যায়... তাই টানটান উত্তেজনা! এরকমভাবে বেশ অনেকক্ষণ কেটে গেল। শেষে বৃষ্টিটা একটু ধরতেই দেখলাম ঘড়িতে দশটা বাজে। এগারোটায় বাজার বন্ধ হয়ে যাবে। অতএব, আর হাতে মাত্র একটি ঘন্টা সময় বাকি। একটা লম্বা নিঃশ্বাস টেনে মনে সাহস সঞ্চয় করে অনেকটা সুপারম্যানের মত লাফিয়ে বাজারের থলি হাতে দিগ্বিজয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কিন্তু ঐ যে বললাম - চাইলেই কারো দেখা পাওয়া যায় না! ভাগ্যটা আজ আমার বড়ই খারাপ। বাজারে গিয়ে দেখলাম - শিবরাত্রির সলতের মত সবই প্রায় শেষের পথে। যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই সব ঝড়তি-পড়তি। এমনকি আমার পছন্দের কচি পাঁঠাটাও আর নেই! দুটো ইয়াব্বড়ো বুড়ো খাসি চোখ বন্ধ করে নিশ্চিন্তে জাবর কেটে চলেছে। ওরা কেমন যেন জেনে গেছে এই অবেলায় ওদের আর বিরক্ত করার মত কেউ নেই। দেখে খুব রাগ হলো। এবার গেলাম ইলিশ মাছের খোঁজে। খুঁজতে খুঁজতে একজায়গায় পেয়েও গেলাম। মাছটা দেখে চোখটা জ্বলজ্বল করে উঠলো। চোখেমুখে একগাদা উত্তেজনা আর মুখে হাসি নিয়ে "সোনারকেল্লা" সিনেমার লালমোহনবাবুর মত প্রায় লাফিয়ে উঠে "এটা আমার...." বলার মত ভাবখানা দেখিয়ে যেই মাছটা হাতে নিয়ে দাম জিজ্ঞেস করতে যাবো, মাছওয়ালা বললো - "বাবু, এ মাছ বিক্কিরি হয়ে গেছে। চিংড়িও শেষ। ভালো ভেটকি আছে.... নিয়ে যান। না নিলে আজ আর কোথাও পাবেন না।" আকাশের দিকে তাকিয়ে দু-চার অক্ষরের অশোভনীয় শব্দ বিড়বিড় করে বেরিয়ে এলো প্রায় মুখ থেকে। কোনোরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে শেষমেশ কিছু সবজি, ফল, ভেটকি মাছ আর মুরগির মাংস কিনে কনস্টিপেশনের রুগীর মত পেঁচোমুখ করে বাড়ীর দিকে পা বাড়ালাম। মাঝপথে দই আর মিষ্টি কিনে শেষে বাড়ী ফিরলাম। গিন্নী দরজা খুলেই একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে জিজ্ঞেস করল - "সব পেয়েছো তো... নাকি?" আমি দরজার পাশে ধপাশ করে থলিগুলো নামিয়ে দিয়ে সোজা বাথরুমে ঢুকে গেলাম। রাগে মাথার পোকাগুলো তখন ডিসকো ডান্স করে চলেছে। বললাম - "নাহ্! বেলা দশটার সময় বাজার গেলে আর কিছু কি বেঁচে থাকে?? ব্যাটারা সব শেষ করে দিয়েছে!! জামাইষষ্ঠী না গুষ্টির ষষ্ঠী কে জানে!!" গিন্নী মিনমিন করে বলল - "তুমি আর মাথা খারাপ করো না। চটপট স্নানটা সেরে নাও। সাড়ে এগারোটা বাজে। আমি বরং বাজারগুলো ধুয়ে তুলে দেখছি কি রান্না করা যায়।" আমি অগত্যা স্নানে মনোনিবেশ করলাম। চোখ বুজে শাওয়ারের জলের তলায় দাঁড়াতেই মনে হলো হিমালয়ে আছি। সব রাগ যেন নিমেষে গলে জল হয়ে গেল। স্নান সেরে ঘরে যেতেই রান্নাঘরের সামনে থেকেই গিন্নী চেঁচিয়ে বলল - "শোনো, মায়ের সাথে কথা হয়ে গেছে। যা এনেছো ওতেই রান্না হবে।" আমি থতমত খেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে মাথা চুলকে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম - "আচ্ছা! তাহলে মেনু কি"? গিন্নী এমনভাবে তাকালো যেন আমি পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার কথা বলেছি! ঝাঁঝের সাথে বলল - "হলে দেখতেই পাবে। হাতে সময় কম। তাই এখন একদম এই রান্নাঘরের চৌহদ্দিতে আসবে না।" অগত্যা নিরুপায় হয়ে নিজের ঘরে এসে বসলাম। প্রসঙ্গত বলে রাখি - আমার শাশুড়ি মায়ের হাতের রান্না একেবারে খাসা। আর আমার গিন্নীর হাতও ইউটিউবের কল্যাণে নিত্যনতুন রান্না করে করে এখন একেবারে পরিপক্ক হয়ে গেছে। জানলা দিয়ে বাইরে চোখ গেল। আকাশ কালো করে আবার বৃষ্টি নেমেছে। মনে হচ্ছে সারাদিনই এরকম চলবে। একটু একটু ক্ষিদে পাচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই। বারোটা বাজে। এখন রান্না করতে কম করে দুই-তিন ঘন্টা সময় তো হেসে খেলে লাগবেই। তাই বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে মোবাইলে লাউডস্পিকারে এফ এম রেডিওটা চালিয়ে দিলাম। টিউন করতেই বেজে উঠলো - "তোমার দেখা নাই রে... তোমার দেখা নাই..."। মনে হলো আজ এও আমার সাথে বুঝি রসিকতা করছে! যাই হোক, গান শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। হঠাৎ গিন্নীর ডাকে ঘুম ভাঙলো। ধড়মড় করে উঠে দেখি ঘড়িতে দুপুর তিনটে বাজে। সারা ঘর খাবারের গন্ধে একেবারে ম' ম' করছে। বললাম - "এত তাড়াতাড়ি একা হাতে এত কি রাঁধলে বলো তো? ক্ষিদেতে তো পেটে একটা আস্ত চিড়িয়াখানা ডনবৈঠক দিচ্ছে!!" গিন্নী এবার হেসে শান্ত গলায় বললো - "এবার নিজেই দেখে নাও। তবে তার আগে যে নতুন পাজামা-পাঞ্জাবীটা অনলাইনে কেনা হয়েছে সেটা পরে নাও। খাবারের সামনে বসে ছবি তুলে পাঠাতে হবে মাকে।" আমি বাধ্য ছেলের মত প্রায় দৌড়ে গিয়ে সেজেগুজে চলে এলাম। এসে দেখি - গিন্নী ডাইনিং টেবিলে সব খাবারগুলো দারুণ করে সাজিয়েছে। মেনুটা দেখে জাস্ট জিভে জল এলো। সময় নষ্ট না করে রসাস্বাদনে বসে পড়লাম। শুরুতে বলেছিলাম - চাইলেই কি কারো দেখা পাওয়া যায়? দেখা পাওয়ার জন্যও ভাগ্যের প্রয়োজন হয়! আর সেটাই হলো "প্রাপ্তিযোগ"। কি? এবার বিশ্বাস হলো তো? নাকি এখনো বুঝলেন না? আরে মশাই! আসলে চেয়েছিলাম ইলিশ আর কচি পাঁঠা। তা বলে ভেটকি আর মুরগি যে আমার না-পসন্দ্ তা নয়, সেগুলোও পছন্দের তালিকাতেই রয়েছে। তবে আজ যা চেয়েছিলাম, ভাগ্যে সেগুলো ছিল না। কিন্তু শেষে যা ভাগ্যে জুটলো তা অভাবনীয়। আর সেই প্রাপ্তিটা কোনো অংশে কম নয়। বরং চাওয়ার চেয়ে বেশি হয়তো.....। সারাদিনের সমস্ত রাগ, মনখারাপ, বিরক্তি, সব এক নিমেষে স্পিরিটের মত উধাও হয়ে গেল। প্রতিটা রান্না দারুণ হয়েছিল আর সেগুলো কব্জি ডুবিয়ে চেটেপুটে খেয়ে যা তৃপ্তি পেলাম তা ভাষায় প্রকাশ করার মত ক্ষমতা আমার নেই। তবে গিন্নীর অনেক প্রশংসা করেছি... এটা তো ওর প্রাপ্তি। এমনকি আমার শাশুড়ি মাকে ফোন করেও বলেছি। 

এবার জামাইষষ্ঠীর মেনুটা শুনবেন নাকি??

স্যালাড, পিস্ পোলাও, চিকেন ফ্রাই, তাওয়া ভেটকি, আফগানি চিকেন, চাটনি, পাপড়, ম্যাঙ্গো সুফ্লে, দই, মিষ্টি। ব্যাস্! আর কি চাই!! একেবারে বাদশাহী খানাপিনা। ও হ্যাঁ, এই আয়োজন ও খানাপিনার ফোটোশুট করে ফেসবুকে দিতে আমিও ভুলিনি। কারণ, আমার গিন্নীর একক উদ্যোগ ও কৃতিত্ব বলে কথা....আর সেটাই তো আমার জামাইষষ্ঠীর প্রাপ্তিযোগ !!

More Shopping Online

 


কবিতা - একটু সময় রেখো

কবি - কিরণময় নন্দী


বন্ধু তুমি ভালো থেকো

মহামারী শেষ হবে একদিন

সেদিনের শেষে একটু সময় রেখো,

ওরা তো চলে গেলো না ফেরার দেশে

শ্বাসবায়ু টুকু পারেনি নিতে

পারেনি কথা দিয়ে শেষ কথাটুকু রাখতে।


ওরা চলে গেল স্বজন কাঁদিয়ে প্রিয়জন ছেড়ে

বুক চাপা ব্যথা জমা এই অন্তরে

ওরা চলে গেলো ফুসফুসে ক্ষত নিয়ে

প্রিয়জনে একরাশ বেদনা দিয়ে।


বন্ধু তুমি ভালো থেকো

মহামারী শেষ হবে একদিন

সেদিনের শেষে একটু সময় রেখো।


তুমি বাড়ি থেকো বন্ধু

দূর হতে নিও আমার খবর

তুমি মেনে চলো নিয়ম-বিধি

আর যেনো না শুনি বেদনার হাহাকার।


তুমিই তো যোদ্ধা

তোমাতেই শ্রদ্ধা

তুমি আগামীর জয়ের কারিগর,

তুমি বন্দী থেকো

নিজেকে মুখোশে ঢেকে রেখো

আসবে নতুন ভোরের খবর।


বন্ধু তুমি ভালো থেকো

মহামারী শেষ হবে একদিন

সেদিনের শেষে একটু সময় রেখো।


গল্পঃ আমাদের গল্প
রচয়িতাঃ দীপঙ্কর সেনগুপ্ত
রচনাকাল ঃ ০৬-০৬-২০২১
কৌশিক ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো পারমিতা কে। দুজন দুজনকে খুব ভালবাসত। কিন্তু কোথা থেকে কি হয়ে গেলো আজ পারমিতা তার বাবার বাড়ী । কোন যোগাযোগ নেই দুজনের। কৌশিক কয়েকবার ফোন করেছিলো । ফোন কেটে দিয়েছিল। কয়েকটা এসএমএস করেছিলো একবার দেখা করবার জন্য কিন্তু উত্তরে এসএমএস এসেছিলো ‘আমাকে আর ফোন বা এসএমএস করবেন না , না হলে আমি আইনের সহায়তা নেব, সেটা আপনার সুখের হবে না।“
কৌশিক আর কোন যোগাযোগ করেনি। কিন্তু মাঝে মাঝে পারমিতার বাড়ীর সামনে দিয়ে যায়, ওদের বারান্দায় তাকায়। কিন্তু দেখতে পায় না। খোঁজ রাখে। মাঝে নাকি কোথায় কিছুদিন গিয়েছিলো। পারমিতার অফিসের একজন স্বপ্না মাঝে মাঝে পারমিতার খবর দেয়। একদিন ওর ছবি তুলে কৌশিক কে পাঠিয়েছিলো।
কৌশিক ছবিটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলো ওকে ছেড়ে থাকার কোন যন্ত্রণা পারমিতার চোখে মুখে ফুটে ওঠে কিনা। না সে খুঁজে পায়নি। পারমিতার হাসিটা সেই আগের মতই আছে। এই হাসিটা ওকে মুগ্ধ করেছিলো। আর ওর চোখদুটো যেন কোন চিত্রকরের আঁকা । ওর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে বলত “ কি দেখো আমার চোখে? তোমার চোখে পোকা ঢুকে যাবে।“ কৌশিকের চোখে হাত দিয়ে বলত “ ধ্যাত কি হচ্ছে? আমার অস্বস্তি হয় ।“
আরো কত স্মৃতি ঘিরে আসছে মনে। প্রথম দেখা হবার দিনটা আজও মনে আছে। মনোজ এর বাড়ী তে গিয়েছিলো, মনোজ হল ওর সহপাঠী, এক বাল্য বন্ধু। মনোজের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ ছিল। মনোজের বোন টিনার সাথে সেদিন ওখানে এসেছিলো। টিনা আলাপ করিয়ে বলেছিলো “ কু দা এর নাম পারমিতা আমার কলেজের বন্ধু। খুব ভালো আবৃতি করতে পারে আর খুব ভালো গান ও করতে পারে। আর পারমিতা এনার নাম কৌশিক দা, খুব কম কথা বলে বলে আমি কু দা বলেই ডাকি। তাতে আপত্তি করেনি। দাদার বাল্যবন্ধু। আর চাকরী করেন একটা বেসরকারী কম্পানীতে। আর একদিকে কবি ও সাহিত্যিক । নাম শুনেছিস বোধহয় লেখক চৈতন্য । এই কু দার ছদ্মনাম।“পারমিতা  বলে উঠেছিলো “ কি সৌভাগ্য আমার এত বড় সাহিত্যিক! নমস্কার।“ঝপ করে বসে পরে পাসের চেয়ারে বলে “এই টিনা আজ আমি অনাকে ছাড়ছি না তবে অনাকে কু নামে ডাকতে পাড়ব না কৌশিক বলেই ডাকব।“
সেদিন কৌশিক কেমন বোকার মত পারমিতার দিকে তাকিয়েছিলো আর কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল, ঘোর কেটেছিল মনোজের ডাকে। মনোজ বলেছিল “কি রে কি হোল তোর? চল আমরা ছাতে যাই। জো পলায়তি বো জীবতি… হেঁসে বলেছিলো।“
সেদিন থেকে পারমিতার চোখ আর কথাগুলো বার বার ভেসে উঠছিল। পরে টিনার কাছ থেকে পারমিতা কৌশিকের ফোন নং টা নিয়েছিলো। একদিন রাতে ফোন করে বলেছিল “ কি মশাই চমকে উঠলেন তো? আমি পারমিতা টিনার বন্ধু , আজ আপনার লেখা “পৃথিবীর আলো” আমাকে অভিভূত করে তুলেছে। কি করে লেখেন বলুন তো? পৃথিবীর আলোর চরিত্র কাকুলি কি আপনার প্রেমিকা?”
উত্তরে বলেছিলো “ কি যে বল? আমার আবার প্রেমিকা?”
------কেন? দেখতে তো বেস আর রসবোধ ও আছে। কিন্তু ওই যে সারাদিন কি ভাবেন কে জানে? কথা বলতে চান না কেন?
-------ওটা আমার স্বভাব ।
------দেখা করবেন আমার সাথে? কিছু মনে করলেন না তো?
কৌশিক থতমত খেয়ে কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না শুধু বলেছিলো “ভেবে দেখি।“
----অত ভাবার কিছু নেই , আমি আপনার একজন ফ্যান। সাম্নের রবিবার আমার জন্মদিন। আমার জন্য একটা কবিতা লিখবেন ?
------ও ঠিক আছে লিখব, কোথায় দেখা করব?
-----পুস্পিতা রেস্টুরেন্ট , ওই হাজরা আর হারিশ মুখার্জি রোডের ওপরে, রবিবার সন্ধ্যে ৬ টায় আসুন আমি থাকব।
সেই রবিবার কৌশিক পৌঁছে যায় পুস্পিতা রেস্টুরেন্টে। ছোটখাটো রেস্টুরেন্ট। কিন্তু বেশ পরিস্কার পরিছন্ন । ঢুকে দেখে পারমিতা বসে আছে। ওকে দেখামাত্র বলে ওঠে “ এই যে আমি এখানে, এখানে আসুন।“
কৌশিক গিয়ে বসে টেবিলে। বলে “ মেনি মেনি রিটার্ন অফ দা ডে, হ্যাপি বার্থ ডে ।“
---- ধন্যবাদ কিন্তু আমার গিফট?
কৌশিক বলে “ এই আমাআর গিফট আমার লেখা নতুন বই প্রথমা , কয়েকদিন বাদে পাবলিস্ট হবে। এটা আমার উপহার।“
----ওয়াও দারুন এটা বোনাস , কিন্তু এটা আমার গিফট নয়।
----আছে শুনিয়ে দেব আর বইটার ভিতরে লিখে দিয়েছি । পড়ে নিও। আজকের খরচ আমার ।
----- না আমি করব খরচ। আমি এটা করতে দেব না।
কৌশিক কিছু বলে না। পারমিতা খাবারের অর্ডার দিল। ফ্রুট জূষ এসে যায় । বলল “ খান আমার খুব প্রিয়। আজ ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করে যাবেন প্লীজ। অনেক কিছু জানতে চাই। বলবেন তো?”
----বেশ বলুন
----আমাকে যেটা লিখেছেন সেটা আবৃতি করে শোনাবেন?
----আমি কোনদিন আবৃতি করিনি। বেশ চেষ্টা করছি।
আকাশের চাঁদে আঁকা বাঁকা রেখাগুলো
কিছু কথা লিখে রেখেছে বলিরেখাগুলো।
বন্ধু সকল চেয়ে থাকে চাঁদের আঁখি ভরে
মিতার সাথে মিলবো আসব পথ ধরে।
জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা প্রান ভরে
পাহাড়ের চুড়ায় নিঃশ্বাস পরে আকাশে
ভালোবেসে থাকবো তোমার আশেপাশে।

পারমিতা কেমন বিস্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল “ সত্যি? থাকবেন আপনি? আমি কি তেমন ভাগ্যবতী?”
------আচ্ছা তুমি বলে খুব ভালো গান কর । একটা শোনাবে ?
---- এখানে? ঠিক আছে ছোট্ট গান করি, জানি না ভালো লাগবে কিনা। আজ আমার জন্মদিন আমি অখুসি রাখি কি করে ? শুনুন তাহলে, গানটা রবি ঠাকুরের, আজ কেন জানিনা গানটা খুব মনে পড়ছে শুনুন তবে
আমি    তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী।
আমি    সকল দাগে হব দাগি॥
তোমার পথের কাঁটা করব চয়ন,    যেথা তোমার ধুলার শয়ন
     সেথা আঁচল পাতব আমার-- তোমার রাগে অনুরাগী॥
আমি    শুচি-আসন টেনে টেনে     বেড়াব না বিধান মেনে,
     যে পঙ্কে ওই চরণ পড়ে তাহারি ছাপ বক্ষে মাগি॥
কেমন লাগলো?
----কৌশিক কণ্ঠে ও সুরে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলো “ অপূর্ব অপূর্ব। আমি কি সেই প্রেম পাবো?”
পারমিতা হেঁসে বলেছিলো “ ঢিল ছুরছেন! “
কৌশিক লজ্জা পেয়ে বলেছিল “ কিছু মনে করো না? সরি।“
----- না না কিছু মনে করব কেন? আমি সোজা সাপটা মানুষ । আপনাকে ভালো লেগেছে এটুকু বলতে পারি। আপনি মানুষ টা ভীষণ ভালো তবে মনটা যেন কেমন ভীষণ কিপটে।
সেই দিনটা ভুলতে পারেনি । সেদিন রাতে ফিরে এসেছিলো। ভেবেছিলো ফোন করবে । একটা এসএমএস করে জানিয়ে ছিল “ দিনটা মনের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।“
উত্তর এসেছিলো ফোনে রাত সারে বারোটা র পর , “ হ্যালো মশাই শুধু এটুকুই? আপনি আর কিছু মনে রাখতে চান না?”
------ হ্যাঁ তোমাকে, আর তোমার গানে তুমি বলাটা বেশ সুন্দর।
-----তার মানে? সোজাসুজি বলতে পারেননা ? ঘুরিয়ে কেন বলেন? তুমি করে বলতে হবে?
-----অসুবিধা আছে?
------ও মা বেশ বললে তো!
----- আর একটা গান শুনতে চাই শোনাবে?
-----টিনা কে বলব? তুমি এতো রাতে আমাকে বিরক্ত করছ?
----এই না না থাক গুড নাইট কাল কথা হবে
ফোন কেটে দিয়ে চোখ বুঝে ছিল। একটা এসএমএস এলো “ বোকা হাদারাম একটা, কিছু হবে না লেখা ছাড়া, এই জন্য কেউ ধরা দেয়না। শুভ রাত্রি।“
সেই শুরু তারপর তিন বছর প্রেম, লেখার প্রেরনা পেয়েছিল অনেক , প্রতিটি লেখার সমালচক দের সমালোচনার জবাব দিত ও নিজেই।
প্রেম পর্ব কাটার পর বিবাহ পর্ব। দম্পত্য জীবন বেশ চলছিল কিন্তু মেঘ জমল এক সমালোচক কে নিয়ে, কৌশিকের লেখা “ বিবাহ বিভ্রাট” । সত্যি সেই বিভ্রাট তৈরী হোল। সেই সমালোচক লিখলেন “লেখক আপনার নাম কি শেখর? ছদ্ম নাম চৈতন্য? আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না ? আমি রুচিরা আপনি যাকে বিবাহ মণ্ডপ থেকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন?’
পারমিতা জবাব দিয়েছিলো কঠিন ভাবে “ উনি আমার প্রান আমার স্বামী অনাক আসল নাম দিয়ে আপনার কি দরকার? আর ওর নাম শেখর নয়।“
উত্তরে কিছুদিন বাদে পুলিশ এসে কৌশিক কে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিলো। অনেক উকিল ধরে তাকে মুক্তি করিয়েছিলো পারমিতা। কারণ এই সেই লেখক যে রুচিরা নামক মহিলাকে বিবাহ আসর থেকে উঠে চলে গিয়েছিলো । সেই মহিলা আত্মহত্যা করেছিলো শেখর কে দায়ী করে । কেন জানিনা সেই মহিলার পক্ষ নিয়ে অনেকে মিথ্যে সাক্ষী দিয়েছিলো। সেটাই পারমিতা কে বিশ্বাস করিয়েছিল । যেদিন চলে যায় সেদিন বলেছিল “ তুমি ঠকবাজ আর ধোঁকাবাজ, একটা মহিলার জীবন নষ্ট করে দিয়েছো। আর তোমার সাথে সংসার করা যায় না। আমি চললাম পরে ডিভোর্স এর কাগজপত্র পাঠিয়ে দেব।“ সেদিন বেড়িয়ে গিয়েছিলো। কিছু বলার সুযোগ দেয় নি।
কৌশিক অনেক চেষ্টা করেছিল। পারমিতার মা বাবা ও মুখের ওপর দড়জা বন্ধ করে দিয়েছিলো। আজ কেসের হেয়ারিং ছিলো। প্রমান অনেক দেও্যা হয়েছে। কৌশিকের উকিল জানিয়েছে কেস টা আমরা জিতব। কিন্তু এ কি হোল এত শরীর খারাপ লাগছে কেন ? বিছানা থেকে উঠতেও পারছে না। জ্বর বেরে চলেছে। ফোন বেজে চলেছে। ধরবার ক্ষমতা নেই । কখন যেন সব অন্ধকার নেমে এসেছিলো টের পায়নি।
কয়েকদিন পর হুঁশ আসে দেখে সে একটা রুমে একা শুয়ে আছে, সামনে একজন নার্স বললেন “ কেমন আছেন? একটু ভালো লাগছে?” বলেই পাল্স দেখল, বিপি মেসিন লাগিয়ে প্রেসার মাপল । বললেন “এই ওষুধ খান।“ একটু মাথাটা তুলে মুখে ওষুধ দিয়ে জল দিলেন। কৌশিক বলল “ আচ্ছা আমি কোথায় আছি বলুন তো?”
------আপনি আমাদের নার্সিং হোমে আছেন ।
----- নাম কি?
-----আপেক্স নার্সিং হোম ।
-----কতদিন ?
---আজ নিয়ে আট দিন। বেশি কথা বলবেন না, একটু ঘুমবার চেষ্টা করুন।
নার্স চলে গেলো। আট দিন ভর্তি? কি করে ও এলো? কিছুই মনে পড়ছে না। শুধু মনে পড়ছে ফোনটা বাজছিল। জ্বর হয়েছিলো , ফোনটা হাতে নিয়ে কোনরকমে হ্যালো বলেছিল তারপরে আর কোন হুঁশ ছিলো না।
কে নিয়ে এলো ? এই সব চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো। এবার ঘুম ভাঙল । মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে কে?
“ এখন কেমন লাগছে?”
----তুমি পারমিতা?
-----হ্যাঁ তুমি অসুস্থ হয়ে ঘরে পরে ছিলে, কয়েকদিন যমে মানুষে টানাটানি। এখন কেমন আছো?
-----তুমি কেন এলে?
---কি করব? এখন তো অফিশিয়ালি আমি তো তোমার স্ত্রী তাই না?
----ও
-----তুমি আগের থেকে ভালো অনুভব করছ তো/
----হুম
---- শোন তুমি এখন সুপ ছাড়া আর ফলের রস খাবে । আমি ফলের রস করে এনেছি । ওঠ খেয়ে নাও।
-----আমি খাব না
----জেদ করবে না ওঠ খাও।
----আমার গলা দিয়ে নামবে না।
-----ওঠ খেয়ে নাও …
কৌশিকের মাথা ধরে তুলে বসিয়ে জুসের গ্লাস ধরে বলল “খাও”
কৌশিক খেতে খেতে বলল “ভালো লাগছে না। মুখে স্বাদ নেই।“
“কিরে কৌশিক কেমন আছিস? “মনোজ ঢুকল , “যা খেল দেখালি। উফ, আগে থেকে আমাকে বললে আমি ডাক্তার নিয়ে আসতাম।“
---- তুই আমাকে ভর্তি করেছিস?
“ তোমরা কথা বল আমি একটু ডাক্তার এর সাথে কথা বলে আসি শোন তোমাকে সূপ খেতে হবে কিন্তু। মনোজ দা তুমি বোঝাও ওকে। ওকে সুস্থ হবে।“ পারমিতা চলে গেলো।
মনোজ কাছে এসে বলে “ তুই এখন কেমন বোধ করছিস?
--- একটু ভালো। কি হয়েছিল রে আমার?
------জ্বর আর সাথে সেরিব্রাল । কি এত চিন্তা করিস তুই ?
---- কিন্তু পারমিতা? ও কি করে জানলো?
-----ওকে আমি খবর দিয়েছিলাম। তোকে আমি ফোন করেছিলাম তুই ফোন ধরে হ্যালো বললি তারপর একটা শব্দ, ফোনটা সুইচ অফ হয়ে গেলো। আমি তারতারি তোর ফ্লাটে এসে নক করলাম কোন সব্দ পেলাম না। সিকুরিটি কে বললাম একটা চাবি বানান লোক কে ধরে আনতে। আমি পারমিতা কে ফোন করে বলি যে তোদের ঘরের চাবি বানাচ্ছি ঢুকব বলে, কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। পারমিতা বলল যে ওর কাছে ডুপ্লিকেট চাবি আছে। ও কিছুক্ষণ বাদেই চলে আসে। দড়জা খুলে দেখি তুই নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পরে আছিস।
পারমিতা আম্বুলেন্স দেকে আনে, তারপর তোকে এখানে ভর্তি করে। যমে মানুষে টানাটানি। কি দিন গেছে। সারাদিন পারমিতা তোর কাছে সারারাত আমি এখানে । মেয়েটা কি কান্নাকাটি করেছে রোজ আর প্রত্যকদিন সকালে পূজো দিয়ে তোর কপালে ফুল ঠেকিয়েছে আর চোখের জল ফেলেছে।
-------কিন্তু ও তো আমায় ডিভোর্স দেবে আমাকে তো ভালবাসে না।
“ মনোজ দা ওকে বলে দাও আমি ওকে ভালোবাসি না। কিন্তু ওকে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে যেতে হবে তারপর আমার ছুটি।“ পারমিতা ঘরে ঢুকল।
----ডাক্তার কি বলল ? কবে ছারবে?
----মনোজ দা ওকে এখন ৭২ ঘন্টা  অব্জারভেসন এ রাখবে তারপর। আমি কয়েকটা ওষুধ কিনে আনি । এই যে তুমি সূপ টা খেয়ে নিও প্লীজ।
পারমিতা বেড়িয়ে যায়। কৌশিক বলে “ এসবের মানে কি? ও কি আমাকে বাঁচতে দেবে না শান্তি তে মরতেও দেবে না?”
-----ধুর বোকা তুই বুঝবি না ওই দেখ টিনা এসেছে, টিনা কথা বল, আমি একটু আসছি।
----কেমন আছো কু দা? এ কি করলে? কি এত চিন্তা তোমার ? পারমিতা কে কাঁদালে? কি লাভ পেলে?
----টিনা আমি কিছুই করিনি । তোর বন্ধু আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমাকে অপমান করে গেছে ।
------কেন সেটা বোঝোনি?
------আমি তো কোন পরকীয়া করিনি?
----- তুমি বোঝাতে পারনি , উলটে তুমি রুচিরা কে মজা করতে গিয়েছিলে কেন?
------ আমি ? ও হ্যাঁ বলেছিলাম আমি শেখর যদি হই সে  আমাকে ছেরে চলে যাবে? সেদিন আমার সাথে কথা বলে নি। কিন্তু আমি তো শেখর নই । আর রুচিরা কে আমি তো চিনিও না।
------কিন্তু অনেকে তোমাকে শেখর বলে সাক্ষী দিয়েছিলো । তখন তুমি প্রতিবাদ করো নি কেন?
-----কি প্রতিবাদ করব? মারকুটে মানুষেরা আমাকে মেরে ফেলত।
“ ওকে বলে দে টুনি ও যে শেখর কে চিনত কেন বলেনি? মহান সেজেছিলো মহান হতে চেয়েছিল।“ পারমিতা ঘরে এলো।
“নে তোরা তোদের মান অভিমানের পালা মিটিয়ে ফেল আমরা কেউ কাবাবে হাড্ডি হতে চাই না।  পরে দাদা কে নিয়ে আসব। যা খেল দেখালি তোরা।“ টিনা বেড়িয়ে গেলো ।
---এই যে জুস খেয়েছ?
---- না ইচ্ছে করছে না
----- একটা কথা বলবে? শেখর কে তুমি চিনতে বলনি কেন?
----থাক না ওসব কথা।
-----রুচিরা কে তুমি চিনতে না?
----না কোনদিন দেখিনি তবে নাম শুনেছি শেখর এর কাছে।
-----শেখর কে বাঁচালে কেন ?
-----ও ক্যানসারে আক্রান্ত ভর্তি আছে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে, আয়ু আর মাত্র কয়েক মাস বা বছর তাই ওকে আর কষ্ট দিতে চাইনি
-----আমাকে বলনি কেন?
-----শুনতে চেয়েছ? আমি তো খারাপ
দু চোখ দিয়ে জল বেড়িয়ে আসে,বলে “ আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে কি প্রমান হয়েছিলো? আমাকে কাগজ দিও সই করে দেব, ও হ্যাঁ আমার চিকিৎসার টাকা কত খরচ হয়েছে বলে দিও তোমার আকউন্ট এ ট্রান্সফার করে দেব।“
------ হয়েছে বলা? এবার আমি বলি?
কৌশিক চুপ করে থাকে, পারমিতা ওর চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলে “ পুরুষ মানুষের চোখে জল মানায় না । তুমি না আমার একান্ত আপন!”
কৌশিক চুপ করে থাকে, পারমিতা বলে চলে
“ শেখর তোমার ফোনে ফোন করেছিলো আমি ধরে ছিলাম , সে বলেছিলো সে পুলিশের কাছে যাবে সব বলবে, তার এই কঠিন রোগের খবর পেয়ে বিয়ের আসর ছেড়ে মিথ্যে বলে চলে গিয়েছিল। তুমি ওদের কথা বিবাহ বিভ্রাটে তুলে ধরেছিলে। শেখর তোমার লেখা বই দেখিয়ে সে বলেছিল চৈতন্য নামে সে লেখে। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে সব বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু সে যে আত্মহত্যা করবে সেটা সে বঝে নি । আর তুমি একদিন ওর সাথে ওদের পাড়ায় গিয়েছিলে। তাই অন্যেরা তোমাকেই শেখর বলে পরিচয় দিয়েছে। জানো শেখর কোর্টে ওর নিজের বয়ান ও কিছু প্রমান দিয়েছে। ও এসেছিলো তোমাকে দেখতে, আর কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল “তুই আমার আগে চলে যাবি ? না তা হয় না হে ইস্বর আমার আগে ও যেন না যায় ওকে বাঁচিয়ে রাখুন।“ খুব কেঁদেছিল।
শেখর বলে “ আমার ফোনটা দাও।“
-----দেব এই নাও, সেদিন তোমার ফোনে অনেকবার ফোন করেছিলাম , সুইচ অফ বলেছিল। একদিন খুলেছিলাম ফোনটা তোমার অফিসে জানাই, সেদিন ই শেখর ফোন করেছিল।
-----আচ্ছা এবার ঘুমোব ঘুম পাচ্ছে।
-----আমাকে ক্ষমা করবে না? এত বোকা কেন তুমি? আমি যদি চলেই যেতাম তাহলে ডুপ্লিকেট চাবি কেন রাখতাম?
-------আমি ঘুমাব। তুমি এসো।
“কিরে কৌশিক আমি যে ভুল করেছি সেই ভুল তুই ও করছিস” শেখর । কেমন শীর্ণকায় চেহারা , হারের ওপর শুধু চামড়া।
পারমিতা ওকে ধরিয়ে বসায় বলে” শেখর দা আপনি কেন আবার এলেন? “
---- না বৌদি আম ওকে চিনি। ও ঘুমরে মরবে তবু মুখ ফুটে কিছু বলবে না। ও আমাকে বলেছিলো যে আপনাকে ছাড়া ওর জীবন অন্ধ। ওর অসুখের আগের দিন বলেছিলো “শেখর তোর রোগটা যদি
আমার হত কত না ভালো হত। তোর বৌদি ও শান্তি পেত। আবার নতুন করে সংসার পাবে, বিস্বাসী স্বামী পাবে। “ কি কান্না কেন্দেছিল।
কিরে কৌশিক আমি তো চললাম রুচিরার কাছে । তোর রুচিরা তোর কাছে আছে অবহেলা করিস না। …একটানা কথা বলে হাফিয়ে ওঠে।
পারমিতা থামতে বলে ওকে, শেখর বলে “ আমি আসি রে , জানিনা আর দেখা হবে কি না। “ বেড়িয়ে যায়।
পারমিতা কেবিনের দড়জা টা বন্ধ করে কৌশিকের কাছে এসে হাতে হাত রেখে বলে “ তুমি আর আমার চোখের দিকে তাকাও না কেন?”
-----তোমার চোখে কালি পড়েছে দেখেছি
-----ওমা কখন দেখলে?
---দেখেছি
----এই আমাকে ভালবাস?
----জানি না
---জানতেও হবে না আমি তো তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি, তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না।
পারমিতা কেঁদে ফেলে, কৌশিক ওর চোখের জল মুছিয়ে বলে “ তুমি ঘরে যাও, একটু ঘুমিয়ে নাও , চোখের কোনে কালি তোমায় মানায় না। “
---- আমার একা একা ঘরে ঘুম আসে না
---কেন তোমার মা বাবা আছেন তো!
----আমি আমাদের বাড়ী আমাদের ফ্লাটে থাকি বাবা মার কাছে থাকি না। তুমি বাড়ী না গেলে আমার ঘুম আসবে না। তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো। আমাকে থাকতে দেবে তো? যা বলবে সব শুনব ।
কৌশিক হেঁসে ফেলে বলে “দড়জা টা খোল টুনি মনোজ আসবে।“
পারমিতা “ এই তো আমার সোনা” বলে কৌশিকের গাল দুটো টিপে দেয় ।
মনোজ ও টিনা দুজনে এসে বলে “ আজ আসি রে । এবার তোদের ফ্ল্যটে গিয়ে একদিন জমাটি  আড্ডা দেব । আসি আমরা। “
পারমিতা বলে “ আড্ডা মাথা খারাপ? আমাদের গল্প লিখতে হবে যে। কি গো লিখবে তো?” সবাই হেঁসে ওঠে



 #শিশুসাহিত্যঃ

 " আধুলির ষোলোয়ানা "

                 প্রদীপ দে ~


নাম তার আধুলি

বালিকাটির বয়স কত হবে?

তা দশ বছরের মতোই, তবে দেখলে মনে হবে কতই না বুদ্ধিমতী আর বেশ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক নারী। মুখের আদল খুব সুন্দর তবে মনে হয় যেন ত্রিশ বছরের কোন নারী।কথা বলে একেবারে গুছিয়ে একেবারে বয়সী মহিলার মতোই সবসময়ই বড়দের সঙ্গে মিশতে চায়।এটা লোকে ভালো চোখে দেখে না। এ এক সমস্যা…। 


বাড়িতে বাপ মা বেশ চিন্তাভাবনা করে এই অকালপক্ক মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে রূপসী, মেধাবী এবং অবশ্যই নম্র স্বভাবীয়, শুধু অল্প বয়সেই তার বয়স্ক ধ্যানধারণা তাদের ভীষণ ভাবিয়ে তোলে।


দিন যায় রাত যায়। সূর্য চন্দ্র ধারাবাহিক ভাবেই তাদের পথ পরিক্রমণ করে। সময় বয়ে চলে, বয়সও বাড়ে। আধুলির বয়সের চেয়ে বুদ্ধি বেশি  বাড়ে। দিন দিন সে একেবারে পরিপূর্ণ এক নারীতে  উপলব্ধ হয়।


বাবা হরহরি রিক্সাচালক। দিন আনে দিন খায়। এমতাবস্থায় মেয়ের জন্য বড় চিন্তায় এবং স্ত্রী রুকমিনির কথায় অল্প পয়সায় ডাক্তার কবিরেজ এমনকি তন্তসাধক পর্যন্ত ছুটে যায় -কিন্তু লাভ তেমন হয় না। অবস্থা তথৈবচ!


স্ত্রী রুকমিনি কাঁদে। ভগবানের চাতালে মেয়ের অস্বাভাবিক অবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিকের জন্য প্রার্থনা করে। 

হরহরি বলে -- কি হবে এসব করে? কেউ নেই আমাদের কথা শোনার।


রুকমিনি কাঁদে -শেষ চেষ্টা করে যেতেই হবে।


রিক্সা স্ট্যান্ডে রিক্সার মধ্যে বসেও ভিজে যাচ্ছে হরিহর। আজ যে সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হয়ে চলেছে। কিছু বেশি পয়সার আশায় জল বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বেড়িয়ে পড়েছে সে।


দুহাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে অপরিচ্ছন্ন ধুতি ফতুয়া গায়ে মাঝবয়সী একজন এসে বললে --

-- কিরে?  নসীব পাড়া যাবি? কত নিবি ?


হরিহরের মনে হয় এই লোকটা কোন বাড়ির চাকর। তবুও কায়দা করে জানালে --

উরি বাবা: নসীব পাড়া সেতো অনেক দূর আছে, -ডবল ভাড়া লাগবে!


-- ঠিক আছে চল পাবি - বলেই লোকট রিক্সার চেয়ারে উঠে বসলো।


লোকটা যেখানে গিয়ে রিক্সা থেকে নামলো, সেটা এই মফস্বল শহরের একেবারে শেষ প্রান্ত। হরিহর মাথা তুলে একেবারে  ঘাবড়ে গেল -- এক পুরাতন

বিশাল বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সে।


-- খাঁড়া থাক - আমি টাকা দিয়ে পাঠাচ্ছি - নিয়ে নিস - বলেই লোকটা হন হন করে বাড়িতে ঢুকে গেল।


কিছুপরেই এক কালো বোরখায় আপাদমস্তক মুড়ে একজন একটি একশো টাকার নোট এনে ধরিয়ে দিল --- চলেগা -না -আউর দেনে হোগা?

গলার স্বর বলে দিল উনি মহিলা।


হরিহর টাকা ট্যাকে গুঁজে রিক্সা ঘুরিয়ে নিল। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে অবাক! কি কান্ড! পুরানো বাড়ি কোথায় গেল? এযে একেবারে ঝাঁ চকচকে রঙ করা নতুন বাড়ি। বোরখা পরা মহিলার বদলে একেবারে কড়কড়ে তাঁতের শাড়িতে দাঁড়িয়ে এক মহিলা। ডেকে বললে -

--  সমস্যা থাকলে ভিতরে আসুন -সমাধান আছে।


হরিহর ভয়ে ভয়ে মহিলার পথ অনুসরণ করলো। বাড়ির তিনতলার এক‌টি কক্ষে তখন জ্বলছিলো এক অগ্নিকুন্ড। হরিহর দেখলো এক শুভ্রকেশী বছর সত্তরের  মহিলা ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে আছে। যে মহিলাটি ওকে নিয়ে এসেছে সে ধ্যানস্থ মহিলার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে কিছু বলতেই ধ্যানস্থ মহিলা চোখ খুললেন, ইঙ্গিত করলেন বসতে।

হরিহর বসে পড়লো। মহিলা জানতে চাইলেন -- 

--  কি সমস্যা?

হরিহর সুযোগ বুঝে নিজের মেয়ের অল্প বয়সেই অকালপক্কতার কথা সব খুলে বললে।


ধ্যানে ডুব দিলেন মহিলা। চোখ খুলতেই অগ্নিকুন্ডের পাশে রাখা একট বড় আয়নায় আধুলির ছবি ভেসে উঠলো। হরিহর চমকে উঠলো। একি করে হলো?


শুভ্রকেশী মহিলা মুচকি হেসে তার পাশে রাখা থলি থেকে হাত ঢুকিয়ে একটা মরা কাক বার করলেন।

হরিহর ভয়ে আর বিষ্ময়ে চমকে উঠলো। আরো চমকে গেল যখন অগ্নিকুন্ডের আগুনে ধরতেই কাক জান্ত হয়ে গেল। কা -কা শব্দে তা জানানোও দিল। কাক মাথা নীচু করে প্রনাম জানালো।

মহিলা এবার কাকটিকে আয়নার ছবি দেখিয়ে ওর কানের কাছে গিয়ে কিছু মন্ত্র দিল -আর কাকটা কর্কশ স্বরে ডাকতে ডাকতে উড়ে চলে গেল।


ইশারায় হরিহর তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে বসে রইলো। কিছু  বাদেই অবাক করে দিয়ে কাক আধুলি কে পিঠে বহন করে নিয়ে এল।


তপস্বী ধ্যান করে, জল ছিটিয়ে, কিযে সব করতে লাগলো তা হরিহরের মাথায় ঢুকলো না।

--  নে বাড়ি যা, তোর মেয়ে ঠিক হয়ে গেছে। এই বদমাশটাই তোর মেয়ের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। আমি বের করে দিলাম। তোর মেয়ের অকালপক্কতা দূর হয়ে গেল। ও খুবই মেধাবী তাই এই শয়তান রূপী কাক ওকে ধরে রেখেছিল। এখন সব আগের মতোই ভালো  হয়ে গেল। এবার তোর মেয়ের গুনে তোর সব অভাব দূর হয়ে যাবে আর তোরা খুব আনন্দেই থাকবি ----

কথা গুলো বলেই ওই শুভ্রকেশী মহিলা কাকটিকে ছুঁড়ে অগ্নিকুন্ডে ফেলে দিলেন। বিকট শব্দ করে চিৎকার করে উঠলো ওই মানুষ রূপী শয়তান। সঙ্গে সঙ্গে সে পুড়ে ছাই হয়ে গেল।


হরিহর চমকে উঠলো - আরে এ যে সেই লোকটিই যে একটু আগে বাজার হাতে তার রিক্সার সওয়ারী  হয়েই এখানে এসেছিল। হরিহর ভয়ে জ্ঞান হারালো।


এরপর হরিহরের যখন জ্ঞান এল তখন সে দেখলো বিছানায় শুয়ে আছে সে, স্ত্রী আর মেয়ে মিলে তাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছে।


হরিহরের স্ত্রী রুকমিনি আনন্দে হেসে জানালো -- 

-- জানোতো একজন সাধু এসে আমাদের মেয়ের মাথায় হাত বুলাতেই মেয়ে আধুলি একেবারে দশ বছরের বালিকা হয়ে গেল। আর সেই লোকটিই তোমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গেল। 


আধুলি ফিক্ করে মুচকি হেসে ফেললে -- জানো বাবা, - মা না সারাদুপুর রূপকথার গল্পের বই পড়েছে! এতবেশি করে আর সব সময় রূপকথা আর রহস্যের গল্প পড়লে যা হয়, তাই আর কি!

----------------

কে জানে সত্যিটা কি …?


#অমাদীপ

© প্রদীপ দে ~


পল্লী জীবন

- জাকিরুল চৌধুরী 

  

তুমি যদি পল্লী জীবন

ঘটতে যদি চাও,

শহর থেকে পল্লী গায়ে

ঘুরে দেখে যাও।

পল্লী জীবন সুখের জীবন

দেখো চেয়ে তুমি,

পল্লীর মতো নয়তো শহর

নেইতো কোনো ভূমি।

পল্লী গায়ে আছে দেখো

বুকে ভরা মায়া,

শহর জীবন নেইতো কোনো

পল্লীর মতো ছায়া।

তাই তো আমি বলি

শহর থেকে দূরে,

পল্লী গায়ে দেখলে যেন

মন শুধু যে ভরে।


কবিতা - কথা
রচনাকার - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত

কথা শুধুই কথা কথার ফুলঝুরি
কথা শুধুই বলে যায় বলা কথা
না বলা কথাগুলো হারিয়ে যায় l
ভোরের শিশির বিন্দু হাতে নিয়ে
দেখা হয়ে ওঠে না সেই রামধনু
গোধূলির রঙে ধরা পরে কথারেণু
রাত জেগে থাকে ধরা দেয় মনকথা
শয়নে সপনে জমে থাকে সে কথা
হৃদয় মাঝারে রঙের ছটা লুকিয়ে
খেলা করে কত  স্মৃতির কথার কথা
কথার মাঝে হারিয়ে যায় সেই প্রেম
নীরবে রক্তে ভিজে যায় গুপ্ত প্রেম l
শারীরিক ভাষা বোঝে না যে কেউ
বোঝে না কেন চোখের জলের কথা
হাসিতে লুকায়ে থাকে কত যে কথা
প্রাণেতে খেলে যাওয়ার না বলা কথা
হারিয়ে যায় নরাধমের অসুর গল্পকথা l
জিহাদ ডেকে আনে অনাবিল রেনুব্যথা
গল্প কথার কাহিনী হারিয়ে যায় পুস্তকে
শুধু কথা হারায় অন্তর থেকে অন্তরে l
প্রেম হাসি কান্না মিলিয়ে যায় প্রান্তরে l

রচনাকাল : ২৭-০৫-২০২১



স্বাধীনতা দিবস

- জাকিরুল চৌধুরী


যাদের জন্য পেয়েছি মোরা

লাল সবুজে দেশ,

স্বাধীন দেশে স্বাধীন মনে

উড়াই নারী কেশ।

স্বাধীন দেশে স্বাধীন মানুষ

করছে দেখো খেলা,

দেশের জন্য জীবন দিতে

করে নাতো হেলা।

যাদের জন্য পেয়েছি এই

সুন্দর একটি দেশ,

আমার দেশের মতো নেই

কোথা মনোরম বেশ।

স্বাধীন দেশে স্বাধীন চেতা

জেগে উঠবে আজ,

বীরের মতো লড়ছে দেখো

নিত্য দিনের সাঁঝ।



তোর চোখে

- কিরণময় নন্দী


তোর চোখে খিদের আগুন....

 হয়তো না-বলা না-শোনা কষ্টের বহিঃপ্রকাশ

কি করে বুঝবো বল?

স্বরযন্ত্রে আজ বিপদের বাস!


তুই তো বাসযোগ্য পৃথিবীর আগামী

তোর অন্তরে ঘুমিয়ে আছে আর এক শিশু

তুই তো সেই উলঙ্গ রাজার আরশি

তুই তো সেই আস্তাবলে জন্মানো আজকের যীশু!


তোর চোখে আগুন আছে

আছে সহস্র প্রশ্ন জানার অধিকার

তুই শিরদাঁড়া সোজা কর মানুষের মতো

মুছে দে যত সব হাহাকার।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget