এপ্রিল 2021


তোমার আঁখির কোণে

- কিরণময় নন্দী


ইচ্ছে করে কাব্যি করে তোমায় বলি

জানো, তোমায় আজ পড়িছে মনে

সেই কলেজ শেষে একটু দেরী হলে

কপট রাগে দুষ্টু হাসি তোমার আঁখির কোণে।


অতীত স্মৃতির অবতলে

জানো,আজ তোমায় খুঁজি বারেবারে

ফেলে আসা সেই সতেরো বছর

আজও শুধু তোমায় মনে পড়ে।


কলেজ কেটে শহর ঘুরে

হয়তো আবার প্রেক্ষাগৃহের অন্ধকারে

ভীষণ কাছের সেই তুমি খুব কাছে

চুপিচুপি ভালোবেসে,আমার ভীষণ নিজের করে।


সেই তুমি আজ যোজন দূরে পরবাসী

ভীষণ ব্যস্ত নিজের সংসারে

আমি সেই কাব্যি লিখে দিন কাটাই

কলম চলে শুধু তোমায় মনে করে।


হয়তো বা তুমিও সুখস্মৃতি রোমন্থনে

অতীত স্মৃতিতে যাও ডুবে  মাঝরাতে

হয়তো বা কাঁচঘেরা স্নানঘরে বারিধারা

তোমায় জড়িয়ে ধরে ভীষণ আবেশে।


হয়তো বা এলোচুলে স্নান সেরে

আরশির কাছাকাছি খুব গোপনে

হয়তো বা কবিগুরু হাতে নিয়ে

আমায় একটু ভাবো ওই জানালার পানে চেয়ে।


জানো আজ ভীষণ ইচ্ছে করে

কাব্যি করে বলি তোমায় পড়িছে মনে

তোমায় চায় একটিবার ভীষণ কাছে

কপটরাগে দুষ্টু হাসি তোমার আঁখির কোণে।


ছবি

কলমে - ঝুমা মল্লিক


কপাল মেপে দেখেছিল সেই পুরুষ।

লাল রঙে বেঁধেছিল।

তারপর ভুলে যায়,ভুলে যায়, একদিন বসন্ত ফুরায়।

চৈত্রের দুপুরে মন পুড়ে যায়।

কে জানিয়ে যায়,

               আর কিছুক্ষণ ।

সন্ধ্যায় কলঘরে

জলেরা শব্দ করে।

মন ধুয়ে দেয়।

ফড়িং ডাক দিয়ে যায়।


বহুদিন লাল আদরে আসোনি বুকের গভীরে।

পলাশ ছুঁয়ে দেখেছি সেই আগের মতো আছে সুখে।

এক আকাশে আমিও আছি  ভালো।

শুধু কাজল হয়েছে কালো।

সন্ধ্যার বাতাসে নিভে যায় প্রদীপ।

সব পথ একদিন শেষের দাবি রাখে।

প্রেমিক হারিয়ে যায় ,তুমি বেঁচে থাকো।

লাল টিপের মায়াতে বাঁচো।

একবার বেঁচে ওঠো দেখি।


৩০।৩।২০২১


হে নিষাদ, বিদ্ধ করো গতায়ু বিন্যাস

- অসীম দাস 


সৃজন মঞ্চে এসো অনাদি নিষাদ 

বিষাদ দিয়েছো শোকে ,

তোমার ক্ষুধার্ত দানে কবিত্ত্ব পেয়েছি ।

বহুকাল বদ্ধ ছিলো বাধিত সম্মান 

এই নাও সুবর্ণ শায়ক !


নবরস গুপ্ত ছিলো সুপ্ত হৃদিমূলে 

জেনেছি জারিত যজ্ঞে বহু গুহ্য কথা ।

প্রতি রাত কোজাগরী হলে 

বন্ধ্যা হতো কল্প- লতিকা ,

মৃত সাগরের নুনে পুড়ে যেতো অপুর বিস্ময় ,

প্রতি ভোরে নবজন্ম বাসনা হারাতো ।

সমস্ত ফুলের রঙ একান্নবর্তী হলে 

শুষ্ক হতো অনন্ত অনুভূতির কর্নিয়া আয়ু ।


জ্বেলেছো কবির বোধে অবধ্য জোনাকি ।

হে নিষাদ , বারংবার বিদ্ধ করো গতায়ু বিন্যাস ।

প্রতিটি কবিতা জন্মের আগে যেন 

প্রতিবার জন্মাতে পারি !


অমর কবি শ্রদ্ধেয় শঙ্ঘ ঘোষ স্মরণে

এপিটাফে মেলে দিও ছায়া

- অসীম দাস 


শেষ শব্দ লিখে যাব একদিন 

লক্ষ শব্দ পিছুটান ছেড়ে , 

বয়সী আঙুলের থরো থরো জলজ কম্পন 

শব্দাতুর কলমের বর্ণ নেবে কেড়ে ! 


কল্প - শালা ফাঁকা , তবু নাড়ী ধুকপুক 

স্মৃতি - ভূক কাল - সর্প কোমা 

ভুলে- যাওয়া মালিনীর পলাতক ফুল 

লোলগর্ভে হবে জানি একে একে জমা ! 


জানি হবো উদ্দিষ্ট গোধূলির ভুল 

তারই আগে এসো প্রাণে ধ্যানের মুকুল , 

ভরে নিই যত পারি 

শব্দে শব্দ পরাগের মিলনের কুল । 


অজানিত ফেলে যাওয়া হে অনন্ত ক্ষমা , 

নীলকণ্ঠে গেঁথে রেখো মায়া , 

যেও ভুলে ব্যস্ত এই শব্দ অন্বেষণ 

প্রাক নিত্য এপিটাফে মেলে দিও ছায়া !

 


অনুগল্প- নীল ষষ্ঠী

 কলমে- পাপড়ি দাস


বৌমা ও বৌমা প্রতিমা দেবী ডাকছে পারমিতাকে। পারমিতা প্রতিমা দেবীর একমাত্র পুত্র রজতের স্ত্রী। শ্বাশুড়ির ডাক শুনে ডাইনিং হল থেকে ছুটে এল পারমিতা। এমনিতে বৌ শ্বাশুড়ির বনিবনা ভাল। শ্বাশুড়ি যদিও খোঁচা দেয় পারমিতা গায়ে মাখেনা ভাবে পিজের মায়ের সঙ্গে কত কথা কাটাকাটি হয়েছে। পারমিতা বলল ডাকছো কেন মা। প্রতিমা দেবী বললেন কাল নীল ষষ্ঠী করবে তো। পারমিতা বলল হ্যাঁ করব তাহলে একটা ফর্দ লিখে দি তোমার শ্বশুড় কে।


আঁখি সেই সময় ঠাম্মির ঘরে ঢুকতে ঢুকতে শুনতে পেল নীল ষষ্ঠীর কথা। আঁখিপারমিতার একমাত্র মেয়ে প্রতিমা দেবীর নাতনি। আঁখি জিগেস করল নীল ষষ্ঠী কি ঠাম্মি। প্রতিমা দেবী বললেন এই  যাদের পুত্রসন্তান আছে তারা শিবের মাথায় জল ঢেলে সন্তানের মঙ্গল কামনা করে। শুনিস নি কথায় বলে ' নীলের ঘরে দিয়ে বাতি জল খাও হে পুত্রবতী' ও তাহলে তুমি বাবার মঙ্গলের জন্য পৃজো করছ। আমার জন্য নয়। মা ভাইয়ের জন্য কাল পূজো করবে প্রতিমা দেবী বললেন হ্যাঁ।


আঁখির মনটা খারাপ হয়ে গেল। ভাবল মা ভাইকে বেশী ভালোবাসে ভাইয়ের জন্য মা উপোস করছে ভাবতে ভাবতে নিজের ঘরে গিয়ে  বিছানার ওপর গিয়ে শুয়ে পড়ল। সন্ধ্যে হয়ে গেল পড়তে বসলনা। পারমিতা দেখছে সন্ধ্যে হয়ে গেল এখনো মেয়ে পড়তৈ বসল না কেন। আঁখি আঁখি বলে মেয়ের ঘরে ঢুকলো দেখছে মেয়ে চুপচাপ শুয়ে আছে। আঁখির গায়ে হাত দিয়ে ডাকল কি হয়েছে আঁখি সন্ধ্যে হয়ে গেল তুমি পড়তে বসলেনা। আঁখি নিজেকে আর সামলাতে পারলোনা। মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। পারমিতা বলল কি হয়েছে রে আঁখি  বলল তুমি আমাকে একটু ও ভালোবাসনা। পারমিতা বলল কেন তুমি শুধু ভাইকে ভালোবাস ভাইয়ের জন্য নীল ষষ্ঠী করছ। পারমিতা বলল কে বলেছে তোকে কেন ঠাম্মি বলেছে।


 এমন সময় প্রতিমা দেবী নাতনির ঘরে ঢুকে দেখল মাকে জড়িয়ে ধরে আঁখি কাঁদছে।প্রতিমা দেবী কারণ জানতে চাইল পারমিতা সব খুলে বলল প্রতিমা দেবী হেসে বললেন দূর বোকা মা সব সন্তানদের জন্য ঈশ্বরের কাছে মঙ্গল কামনা। ওটা তো একটা প্রবাদ মানুষের নিজের সৃষ্টি । আঁখি তখন বলে উঠল তাহলে আজ থেকে এই প্রবাদ পাল্টে ফেলি।


"নীলের ঘরে দিয়ে বাতি জল খাও হে সন্তানবতী"  বলে সবাই হো হো করে হেসে উঠল।


বছর ঘুরে

- কিরণময় নন্দী


কেমন আছো বছর ঘুরে

জানি একটুও নেই ভালো

আমায় ছেড়ে মনকেমনের দেশে

মন জুড়ে শুধু বিষাদময় কালো।


তুমি বেশ দাঁড়িয়ে আছো

সেই নদীর পাড়ে শাখীদলের মাঝে

মাঝ দুপুরে চরম বিষণ্ণতা

তোমার মনও কি আমার মতো কাঁদে?


কি জানি আজ, উত্তর না পাই

জানো, বিশুদাদা সোজা মুম্বাই

নবমশ্রেণীর গণিত বইয়ে নতুনের গন্ধ

তবুও ওর থাকার উপায় নেই।


বিশুদাদার বাবা, রমেশ জ্যেঠু

কারখানার কাজ গেছে চলে

শুনেছি, ওদের বাড়ির হাঁড়ি চড়ায় বেশ দায়

পড়াশোনা বিলাসিতা, ওসব বিশুদাদা গেছে ভুলে।


আমারও জানো ভীষণ ভয় হয়

কবে যাবো তোমার কাছে দলবেঁধে

তোমার কাছেই তো নতুন নতুন শেখা

তোমার কাছে সেই প্রথমদিন মায়ের হাত ধরে ভীষণ কেঁদে।


জানো তুমি মিষ্টি দিদির কথা

ভীষণ ভালো গাইতো গান

মিষ্টি দিদির কণ্ঠে নাকি সরস্বতীর বাস

সুরের তালে ভরা শ্রাবণের বান।


মিষ্টি দিদি আজ শ্বশুরবাড়ি

সতেরোতেই স্কুলজীবন শেষ

অতিমারীর থাবায় ওর বাবার ব্যবসা গেলো লাটে

হাসিখুশি মিষ্টি দিদির লাজুকে বধূর বেশ।


বিশুদাদা,মিষ্টিদিদি আরও কতজন

একেএকে তোমায় ছেড়ে অন্যপথে

তুমি ঠিক দাঁড়িয়ে আছো নদীর পাড়ে

তুমিও কি ভীষণ ক্লান্ত চরম একাকীত্বে?


রাশিরাশি ধুলোয় ভরা তোমার বারান্দা

মাঠভরা রাশিরাশি ঘাস

লাল আগুনে ভরে গেছে কৃষ্ণচূড়া

বছর ঘুরে আরও কি বাকি সর্বনাশ!


নীল দিগন্তের ওপারে
- দীপঙ্কর সেনগুপ্ত

সকাল সকাল বিকাশ এসে দরজায় নক করতে লাগলো। ঘুম চোখে দরজা খুলে পার্থ বলে “ কি হোল সকাল সকাল এতো জোরে জোরে দরজাইয় টোকা মারছিস কেন? কি হয়েছে?”
বিকাশ বলে উঠলো “ পার্থ সর্বনাশ হয়ে গেছে।“
------ কি সর্বনাশ হয়েছে?
----- শম্পাকে মনে আছে?
----- কে শম্পা?
---- আরে প্রকাশের বোন।
---- মনে পরেছে , কি হয়েছে ?
----- শম্পা কাল রাতে গলায় দড়ি দিয়েছে।  তুই আয় , আমি কমল, শ্যমল সবাইকে খবর দিয়ে আসি। তুই আয়।
পার্থ দরজা বন্ধ করে ভাবছে এটা কি হোল? স্বপ্নে  শম্পা  এসে বলেছিল “ পার্থ তুমি কি কোনদিন আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না? আমার থেকে চিরদিন মুখ ঘুরিয়ে রাখবে? দেখবে যেদিন আমি তোমার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেব, তখন তুমি চেস্টা করেও আমাকে আর পাবে না। “ মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল । ঢক ঢক করে জল খেয়ছিলো। আর সকালে এই খবর? কিছুই মেলাতে পারছে না। বার বার শম্পার কথাগুলো কানে বাজছে।
পার্থ তৈরি হয়ে প্রকাশের বাড়ীতে গিয়ে হাজির হোল। পাড়ার প্রায় প্রতিটি মানুষ এসেছে। সবাই আলোচনা করছে , “ মেয়েটা এটা কেন করলো ?” প্রকাশ বেড়িয়ে আসতেই সবাই ওকে ঘিরে নানা রকম প্রস্ন করতে লাগলো। প্রকাশ পার্থ কে দেখে অর কাছে এসে বলল , “ চল তোর সাথে দরকার আছে”। বলে হাত ধরে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে এসে বলল “ পার্থ বনু এই চিঠি তোকে লিখে গেছে। আমি ওর হাতে পেয়েছি। লুকিয়ে রেখেছিলাম। পুলিশের হাতে পড়লে কি হবে জানিনা। বনু তোকে খুব ভালোবাসতো রে। “ প্রকাশ কেঁদে ফেলে আর চলে যায়।
পার্থ চিঠিটা হাতে নিয়ে কি করবে বুঝতে পারে না । আবার প্রকাশ ছুটে এসে বলে “ পরে পড়িস , লুকিয়ে ফেল । চল বনুর শেষ ইচ্ছে পূর্ণ  করি। “ পার্থ চিঠিটা পকেটে নিয়ে প্রকাশের সাথে যায়। ওই তো শম্পার বডি পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ অফিসার বললেন “ আপনারা সন্ধ্যে সাত টা নাগাদ মর্গে আসবেন বডি পেয়ে যাবেন। পোস্ট মরটেম হবে। “
প্রকাশ বলল “ তুই বাড়ী যা । বিকেল পাঁচ টার মধ্যে চলে আসিস। কথা আছে।“
প্রকাশ বাড়ীতে এসে , জামা কাপড় ছেড়ে মাকে বলে “ মা ও মা প্রকাশের বোন শম্পা সুইসাইড করেছে জানো তো!”
---- হ্যাঁ শুনেছি , মেয়েটার দোষ ছিল শুনেছিলাম ।
----জানি না । তবে আমাকে যেতে হবে প্রকাশের সাথে।
স্নান করে এসে দেখে শম্পার চিঠিটা মাটিতে পরে আছে। পকেট থেকে কখন যেন পরে গেছে। চিঠিটা নিয়ে বিছানার ওপর রেখে দরজা বন্ধ করে মাথা আঁচরে জামা কাপড় পরে বলল “ মা আমি এখন একটু ঘুমাব, দেক না যেন।“
মা কি বলল কে জানে। পার্থ দরজা জানলা বন্ধ করে চিঠিটা খুলে পড়তে লাগলো ।
পরম প্রিয় পার্থ
জানি তোমার মনে আজ আমার জন্য কোন জায়গা নেই । তবুও পরম প্রিয় আমার কাছে আজও। আমাকে ঘৃণা করো সেটাও জানি। আমাকে বিশ্বাস করতে বলেছিলাম, করনি সেটাও জানি।
জানো পার্থ শ্রাবণের  মেলায় তোমার সাথে গিয়েছিলাম। মনে পরে? তুমি আমাকে নানা রঙের কাঁচের চুড়ি কিনে দিয়ে বলেছিলে যখন তোমার সামনে দাঁড়াব এই কাঁচের চুড়ির ঝঙ্কার শুনবে, ওই আওয়াজ বলে দেবে নাকি আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি আজও রেখে দিয়েছি আমার বইয়ের তাকে। কারন তুমি আর শুনতে চাওনি। ওই মেলায় সতী মায়ের সিঁথিতে সিঁদুর আর পায়ে শাঁখা পলা দিচ্ছিল অনেকে। তুমি আমাকে কিনে এনে বলেছিলে তোমার জন্য মঙ্গল কামনায় আমি ওই কাজ কারি। আমি করেছিলাম, কয়েকজন বউ আমাকে সিঁদুর পড়িয়ে বলেছিল “তোমার সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় হোক।“ ভীষণ লজ্জা পেয়েছিলাম । তুমি বলেছিলে “ আমার বউটাকে কি সুন্দর লাগছে”। আমি বলেছিলাম আমাদের বিয়ে হয়নি কেন বলছ এই কথা? উত্তরে তুমি বলেছিলে তুমিই আমার আজকের, ভবিষ্যতের ও চিরদিনের  বউ। সেদিন তুমি আমাকে পাগলের মত আদর করেছিলে। আমিও নিজেকে সঁপে দিয়েছিলাম তোমার কাছে। সেদিন থেকে তুমি আমার স্বামী হয়েছিলে। আমি তোমার মঙ্গল কামনায় লুকিয়ে সিঁদুর পড়তাম , বিপদতারিনীর পুজো করতাম, শিব রাত্রি করতাম । রাতে যখন আমার ঘরে ঘুমতে যেতাম শাঁখা পলা নোয়া পরে ঘুমতাম। নিজেকে আয়নার সামনে দেখতাম। তোমার বউ হবার যোগ্য কিনা।
কিন্তু এই সেদিন তুমি আমাকে আদর করতে গিয়ে মাথায় সিঁদুর দেখে খেপে গিয়ে বলেছিলে “ তুমি পরকীয়া  করছ? ছিঃ আমি তোমাকে ছিঃ”। তুমি আমার কোন কথাই সুন্তে চাও নি। বলেছিলে আমি সেদিন থেকে নাকি আমি মৃত। বলেছিলে বিয়ে যদি করেই থাকি তাহলে তোমাকে কেন ঠকালাম ? ইত্যাদি ইত্যাদি, আমাকে নোংরা বেশ্যা মেয়েছেলে ও বলেছিলে। আরো অনেক কথা যা আমি লিখতে চাই না। সেদিন তোমার মা আমাকে বলেছিলেন  আমি নাকি বংশের কলঙ্ক, আমি নাকি তোমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছি, আমি কেন বাপের বাড়ী পরে আছি, শ্বশুর বাড়ী কেন যাই না? ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাই আমি তোমার কাছে বার বার চেষ্টা করেছি সব কথা বল্বার জন্য, কিন্তু তুমি ঘৃণায় আমাকে  সরিয়ে দিয়েছো। আমি একদিন তোমার বাড়ী গিয়েছিলাম তুমি আমাকে কুৎসিত ভাষায় কথা বলে মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে বলেছিলে ঃ নাং ধরতে আর কোন ঘর পেলে না আমাকেই দরকার হোল? ভাগো। নাহলে লোক জর করে তোমাকে অপদস্ত করব।
না টা তুমি করতে পারনি। যত পেরেছ আমাকে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে ফেলেছো। হয়ত সতী মায়ের কোলে মৃত সত্যবান ছিল, আমি মৃত সত্যবান সহ্য করতে পারব না। তোমাকে বলেছিলাম আমাকে ক্ষমা করো যদি কোন অপরাধ করে থাকি। একটি বার আমাকে বলতে দাও। বলতে দাও নি।  জানতে চাও নি আমার স্বামী কে? তুমি আমাদের শিব তলার ঠাকুরমশাই কে জিগ্যস করো আমি কার নাম বলতাম আমার স্বামী হিসাবে ? উনি বলতেন বিয়ে না করে মা তার নাম নাও কেন ? আমি বলেছিলাম “ ঠাকুরমশাই মনের সিঁদুর আর মাথার সিঁদুর দুটো এক? আমি তো মনের সিঁদুর পরেছি। “ ঠাকুরমশাই বলতেন “ মা তুমি সতী পার্বতীর মত তপস্যা করে যাও। তুমি পরে তোমার শিব কে সাথে করে নিয়ে এসো পূজো দিয়ে যেও। জানো কালকে পূজো দিয়ে ঠাকুরমশাই কে বলেছিলাম “ আমার আর শিব দর্শন হবে না। সে পাথর হয়ে গেছে।“ ঠাকুরমশাই বলেছিলেন “ শোন মা সতী পরজন্মে পার্বতী রুপে জন্ম গ্রহন করে কঠোর তপস্যা করে শিব কে পেয়েছিলেন, তুমি এরক্ম বল না।“ গতকাল তোমার বাড়ী গিয়েছিলাম তোমার মা আমাকে বলেছিলেন “ আর একদিন দেখি তয়ামকে এই বাড়ী আসতে একেবারে মুড়ো ঝাঁটা দিয়ে ভুত তাড়াব। “ আমি কি সত্যি ভুত ? কিছু বলতে পারিনি। আমার চোখের জল যেন শুকিয়ে গেছে।
জানো আজ রাতে আমি তোমার বউ সেজেছি । কাঁচের চুরিগুল পড়েছিলাম। ঝঙ্কার তুলেছিলাম, যদি ভেঙে যায় তাই খুলে রেখেছি। দুটো চুড়ি ভেঙে গিয়েছিলো সব একসাথে রেখেছি। ফেলতে পারিনি। যদি পার্বতী হয়ে ফিরে আসি তোমার কাছে তখন তুমি আবার আমায় পড়িয়ে দেবে। আজ সবাই জানবে আমি বিবাহিত। বেশ চওরা করে সিঁথিতে সিঁদুর দিয়েছি হাতে শাঁখা, পলা, নোয়া পড়েছি। জানি তুমি দেখতে আসবে আমাকে। আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিও। এটাই আমার শেষ অনুরোধ।
ইতি
সতী শম্পা
চিঠিটা পড়েই কেঁদে ফেলে পার্থ, দরজা খুলে ছুটে যায় মায়ের কাছে, “মা মা আমি অপরাধী, আমি শম্পার মৃত্যুর কারণ। আমি প্রায়চিত্ত করতে চাই। “ পার্থ সব মাকে খুলে বলে, পার্থর মার চোখ থেকে জল পড়তে থাকে । বলেন “ বাবা চল বউমাকে ঘরে নিয়ে আসি। আমি বাজারে যাই বউমার বানারসি আর যা যা লাগবে নিয়ে আসি।“
পার্থর মা চলে যায়। যথা সময়ে মর্গে গিয়ে পার্থর মা দাবি করে “ আমার বউমাকে আমরা আমাদের বাড়ী নিয়ে যাব।“
প্রকাশরা কোন প্রতিবাদ করে না। পাড়ার সবাই অবাক হয়ে যায় । শম্পার পার্থিব শরীর পার্থ দের বাড়িতে এনে পার্থকে দিয়ে শম্পার সিঁথি রাঙিয়ে দেয়। পায়ে আলতা পড়িয়ে দেয়। প্রকাশ কাঁচের চুরিগুলো পার্থের হাতে দিয়ে বলল “ প্রিয়ে দে বনুর হাতে।“ পার্থ পড়িয়ে দেয়। ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো নিজের পকেটে রেখে দিয়ে বলল “ তোমার অপেখায় রইলাম।“ মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল “ তুমি বল আমি শুনব সব শুনবো কথা বল , প্লিস কথা বল।“
মা এসে পার্থর মাথায় হাত দিয়ে বলল “ বাবা বউমা ওই নিল নীলিমায় বিলীন হয়েগেছে। ওকে মুখাগ্নি তুই করবি। চল।“ আজ পার্থ যেন পাথর। জানিনা এই পাথরে আর প্রানের জোয়ার আসবে কিনা। আমার জানা নেই ।

রচনাকালঃ ০৪-০৪-২০২১


দশের সেবা করো
- বুলু পাল

মরে গিয়ে ভূত হয়েছি
চাকরি গিয়েছে চলে।
এখন আমি শাকচূন্নি
বাসা গাছের ডালে।
কে কোথায় যাচ্ছে কখন
দেখাই আমার কাজ,
পুটুর মা খেন্তি পিসি
সাজছে কেমন সাজ।
টুনির মা সুনির মা
পুকুর ঘাটে বসে
নিন্দার ঝুড়ি করছে খালি
যেমন মাংস কষে।
একটু সরে কানপাতি
বলছে কাদের কথা!
আমার কথা বলছে নাতো!
নাড়ছে কেমন মাথা!
পণের বলি হয়েছি আমি
হয়েছি নির্যাতিতা।
তাইতো দেহ ছাড়লাম আমি
ছিঁড়লো ঘুড়ির সুতা।
শোন মানুষ শোন নারী
শোন কাজের কথা।
মনুষ্যত্ব না বিকিয়ে
ঘুচাও দুঃখ ব‍্যাথা।
জীবের সেবা সমাজসেবা
দশের সেবা করো,
সচেতনতার প্রদীপ জ্বেলো
মুক্তসমাজ গড়ো।

তারিখঃ-৩০/০৩/২০২১



রুদ্রানী

- কিরণময় নন্দী


কি গো নীরব কেনো

কেন এত উদাসীনতা

কালবৈশাখীর রুদ্র-তাণ্ডবে

ভীষণ ত্রস্ত সাধের মাধবীলতা।


না জানি কিসের তরে

এত ক্ষোভ জমা আছে বুকে

তুমিও তো জানো কত মলিনতা

তবুও শৈবালিনী আপন স্রোতে।


তুমি নারী, আপন গুণে অহংকারী

তুমি আগামীর অগ্রগতি

তুমি চপলা,তুমি বুদ্ধিমতী

ওরা বারেবারে পরাজিত,হোক না মহারথী।


তুমি থেকো না স্তব্ধ হয়ে

কক্ষপথে পৃথিবী থমকে যাবে

কৃষ্ণচূড়া আসবে না বসন্তে

প্রভাত মুখরিত হবে না বিহঙ্গের রবে।


জাগো তুমি মাতঙ্গিনী হয়ে

নইলে রুদ্রানী রূপী ঝাঁসি

তোমার লড়াইয়ে মুখরিত হোক

প্রিয় ধরিত্রীর মাটি।


ডারউইন অপেক্ষা করছেন

- অসীম দাস


পচন ধরেছে জিহ্বায় , শম্বুক- শুশ্রূষা নাও ।

আপৎকালীন ত্রাণে 

জয়ের লালার নালে উজাগর উকুন গজাক !

সহস্র মমির চোখে নিরামিষ -নীরবতা 

শুঁকে শুঁকে পুনরায় আকরিক হও ।

অহংকারী , তড়িঘড়ি যৌগের ফল খেতে গিয়ে 

অখন্ড মৌলের আকুতি ভুলেছো ।


উই এর আয়ুতে পুড়ে শব্দবোধ পরিশুদ্ধ করো ।

এ চারণ ডাইনোসর- ভোর , 

ক্রুর কূট তন্ত্রের গেস্টাপো লোভে 

অহেতুক অশুচি করো না ।

সুদীর্ঘ দ্রাঘিমার গণতান্ত্রিক ন্যায়ালয়ে 

তোমার নৈতিক বিবর্তন এখনো সম্পূর্ণ নয় !


বিশুদ্ধ বনানীর নিরপেক্ষ মানবতা 

বুকে নিয়ে ফিরে এসো ,

ডারউইন অপেক্ষা করছেন ।


ডাঃ ফারহানা মোবিন এর লেখা 

স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক বই  


"   সুস্থ থাকতে চাই "


***************************


ফারহানা মোবিন পেশায় চিকিৎসক হলেও লেখালেখি করেন শৈশব থেকেই। 

    

এইবারে বাংলাদেশের ২০২১ এর অমর একুশে গ্রন্থমেলায়  ফারহানা মোবিন এর লেখা 

স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক বই 

" সুস্থ থাকতে চাই "। 


কিভাবে কিছু স্বাস্থ্য সচেতনতা অবলম্বন করে আমরা নিজেকে সুস্থ রাখতে পারবো, আমাদের চারিপাশের সারা বছরের পরিচিত কিছু অসুখ নিয়ে সচেতনতাবোধ এই বই এর মূল বিষয়বস্তু। 



  বইটি প্রকাশিত হয়েছে বিদ্যা   প্রকাশনা থেকে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলা একাডেমি তে 

স্টল নং --- ৩২৭,৩২৮,৩২৯,৩৩০। 

 


ফারহানা মোবিন  লেখালেখি শুরু করেন  চতুর্থ  শ্রেণী থেকে। 

তাঁর লেখালেখির শুরু ছড়া দিয়ে।  প্রথম ছড়াটির নাম ছিল 

" শেয়াল মামা "। 

আর ছড়াটি ছাপা হয়েছিল রাজশাহীতে চুইংগাম নামের একটি শিশুতোষ পএিকাতে। 


পঞ্চম শ্রেণী থেকে উনার লেখা ছাপা শুরু হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। 


তিনি শৈশব  থেকেই শিল্প  সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত।


নারী ও শিশু উন্নয়ন, সামাজিক  সমস্যা, স্বাস্থ্য সচেতনতা,জীবনযাপন,  সাহিত্য বিষয়ক লেখেন নিয়মিত 

দেশ বিদেশের অগণিত  সংবাদপত্র,  ম্যাগাজিন  এ 

 ( অনলাইন, হার্ড কপি)। 


   

উনার লেখা স্বাস্থ্য বিষয়ক অন্য  বই গুলোও পাওয়া যাবে বিদ্যা প্রকাশনীতে। 


বই গুলো হলো ---

 

  ১) শরীর স্বাস্থ ও পুষ্টি, 

   ২) সবার আগে স্বাস্থ্য, 

    ৩) আসুন সুস্থ থাকি, 


২০২০ সালে বিদ্যা প্রকাশনা থেকে সামাজিক সমস্যা ও তার প্রতিকার বিষয়ক বই  

 আমিও " মানুষ " প্রকাশিত হয়েছে।


 উনার লেখা ছোটদের বই গুলো 

 সব বয়সের পাঠকের  পড়ার উপযোগী। 

শিশুতোষ তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে ছোটদের বই প্রকাশনা থেকে। 


শিশুতোষ বইগুলো হলো -- 


১) উড়ে যায় মুনিয়া পাখি, 

২) গোলাপি রং পেন্সিল, 

৩) ভালো ছেলে। 


বই মেলা শেষ হলেও সব বই সংগ্রহ করা  যাবে রকমারি ডট কম থেকে । 


তিনি ছোট বড়ো সব বয়সের পাঠকের জন্য খুব সহজ ভাষায় লেখেন। 



ফারহানা মোবিনের জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজশাহী বিভাগে। 


 এমবিবিএস এর পরে তিনি এমএস করেন

 পাবলিক হেলথ এ। 


 বারডেম হাসপাতাল থেকে ডায়াবেটিস  এবং হার্ট  ফাউন্ডেশন হসপিটাল থেকে হৃদ রোগের উপর সার্টিফিকেট কোর্স  সম্পন্ন  করেন। 


তিনি বর্তমানে জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। 


মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নগরীর গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল এবং স্কয়ার হসপিটালে। 



অসহায় মানুষের ফ্রী চিকিৎসা, সমাজ সচেতনতা মূলক লেখা, টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান এবং বহুবিধ সামাজিক কাজের জন্য তিনি অর্জন করেন, 


" বিজেম সম্মাননা এওয়ার্ড  ২০১৯", 


" উইবিডি সম্মাননা এওয়ার্ড ২০১৮ ", 


" স্বাধীনতা সংসদ আলোকিত নারী সম্মাননা এওয়ার্ড ২০১৯ "।


সমুদ্র সফেন বনলতা

- কিরণময় নন্দী


কেন তোর চোখের জল

কেন ভাবিস অতীত কথা

তোর পথ চেয়ে আজও আমি

তুই তো আমার সমুদ্র সফেন বনলতা।


যেদিন তুই বাঁধলি ঘর

বহু দূরে ঠেলে আমায়

ধমনীর রঙ বদলে গেলো

লাল পলাশও ভয়ে মুখ লোকায়।


কি জানি তুই কিসের তরে

বাঁধলি ঘর অন্য ঘরে

তোর জন্যই কবিতা লেখা

সেই তুই কাহিনী থেকেই সরে!


সত্যি বলছি এইভাবে 

চাইনি তোকে আমার কাছে

দূর থেকেই চেয়েছি বারেবারে

অকাল বসন্তে যেন কৃষ্ণচূড়া ফোটে।


হঠাৎ করে তোর গায়ে সাদা শাড়ি

সিঁথির সিঁদুর গেলো মুছে

তোর জীবনে ঘোর তমসা

সেই তুই আবার ঝরা পলাশের নীচে।


এই সুমি,তুই কি আজও অভিমানী

যা না ভুলে অতীত কথা

তোর সাথেই রচি নব ফাগের গান

তুই তো আমার সমুদ্র সফেন বনলতা।


আমার বাড়ি

- জাকিরুল চৌধুরী


আমার বাড়ি এসো ঝুমা

বসতে দিবো পিঁড়ে,

কদর যে করতে দিবো

আটাশ ধানের চিড়ে।

আটাশ ধানের চিড়ে দিবো

বত্রিশ ধানে খই

খইয়ের সাথে আরো দিবো

পাত্রে বরার দই।

আমার বাড়ি এসো লিমা

বসতে দিবো পিঁড়ে,

আদর যে করবো তোমা

নাতি ধানের চিড়ে।

সাথে দিবো আর-ও খেতে

কলা আর দই,

তার সঙ্গে আরও দিবো

গামলা বরা খই।

আমার বাড়ি এসো সেলিনা

বসতে দিবো খাটে,

সোহাগ যে করতে দিবো

উনত্রিশ ধানে সাথে।

উনত্রিশ ধানের খই দিবো

পোলাও ধানের খির,

তার সঙ্গে আরও দিবো

শেষে খাওয়া নীর।

আমার বাড়ি আইসো জুঁই

বসতে দিবো পিঁড়ে,

আদর যে করতে দিবো

উনত্রিশ ধানে চিড়ে।

আমার বাড়ি নতুন ঘরে

আসবে আবার কবে,

আমার বাড়ি নতুন ঘরে

আমার বিয়ে হবে।


জীবন সন্ন্যাস
কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত

মহাকাল আর মহাকালীর মহাসঙ্গমের রুদ্ররূপ
তীব্র চিৎকারে ভেসে আসে আর্তনাদ
আগুনের ঝলকানি যেন অগ্নিকুন্ড রুদ্রানী রূপ l
অগ্নি কন্যার নয়নের অগ্নিপাতের তপ্ততা
হুম শীতল হিমালয়ের প্রাণ বায়ুর আবহমান প্রবাহ
নেমে আসে এক অনন্য সাধারণ প্রতিধ্বনি l
ওঁম শব্দের সাথে ভেসে আসে  বেঁচে থাকার আর্তি
নেমে আসে একাকীত্বের বিষাদের সমাপ্তি l
গর্ভ গৃহ হতে সে বিচিত্র হিস্ হিস্ এর গুরু গর্জন
যেন মন্দদড়ির  শত পুত্রের প্রসবের আর্তনাদ l
ধৃতিরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিহুগল বাদ্য
আর পাণ্ডুর অপারগতার অসহায় দৃষ্টির দর্শন l
কিংবা কংসের কারাগারে বাসুকির ক্রন্দন
মদিনায় বিষাক্ত নদীর জলে অর্ধ মৃত ফকির কান্না
মহাম্মদের আজাণের সেই তীব্র প্রার্থনার সুর l
গির্জার ভিতর থেকে বারে বারে ভেসে আসে সুর
ওরা জানে না ওরা কি করছে ক্ষমা করো প্রভু l
পথের ধারে  বসে অন্ধের ডাক" কিছু দাও গো বাবু"
কিংবা " আল্লাহ কে নাম মে কুছ দে দো বাবু l"
ওই যে ঘরের  এক কোনায় বসে কাঁদছে যে বধূ
সেও জপে চলেছে একটু আহারের আশায়
মাথায় মোট, পিঠে বোঝা নিয়ে চলে রোজগারে
মাথা ঠেকায়  হাতে যেই পায় দুই এক করি নিয়ে l
চোখে ভেসে ওঠে ঘরের অভুক্ত মা ছেলে মেয়ে
রেখে দেয় নিজের গ্যাটে অভুক্তির তৃপ্ততা নিয়ে l
পথের ধারের ওই যে সুন্দর মেয়েটি গান করে
ভিক্ষা যাছে  তারই স্বামীর চিকিৎসার সাহায্যে!
ওই যে পয়সা আলা বাবু অত পেতে থাকে শিকারে
আধার হলেই ভোগের আশায় নিয়ে যাবে তুলে l
শিকারী যদি নেয় সব মুখুব বুজে মেনে অত্যাচার
ভালো হবে মুক্তি পাবে না হলে বেওয়ারিশ পাচার l
সবেতেই  খুঁজে ফিরি কিসের লাভ কিসের ক্ষতি
এরই নাম বোধহয় জীবন  সন্যাসী শেষ অবধি l

রচনাকাল : ০৭-০৩-২০২১


নয়ন জলে

- জাকিরুল চৌধুরী


নয়ন জলে ভাসছি আমি

নদীর মতো ঢেউ,

নয়ন জল হলো শুকনো

জানে নাতো কেউ।

চোখে এখন নেইতো পানি

আসে নাতো জল,

এই যে তুমি আমার সনে

করলে কেন ছল।

নয়ন জলে হচ্ছে শুধু

বিশাল বড়ো লহর,

আমায় ছেড়ে তুমি এখন

গড়লে নব শহর।

দুচোখ আমার কেঁদে কেঁদে

হয় যে দিশে হারা,

আজ তোমায় কে কাঁদাল

দেই নি কেহ সারা।

 


সখার প্রতি বন্ধু

- জাকিরুল চৌধুরী


বন্ধু কাকে জানি না? তখন কনকনে শীত। ২০১৯ সাল রোজ সোমবার অনেক রাত হল। সখার নাম পলিন, আমার বন্ধু।

আমি ভাত খেয়ে শুয়ে পড়েছি।

মোবাইলে ছবি দেখতেছি। তখন রাত ১০ টা বাজে। হঠাৎ করে আমার বন্ধুর মা, বোন ও মামি আসলেন। এসে বলেন, তোর সাথে পলিন এসেছে। আমি বলাম যে না তো। আমার সাথে তার দেখা নেই। তখন আমাকে বলল একটা ফোন দে। তারপর আমি ফোন দিলাম।

কিন্তু কোনো ফোন ঢুকছে না। তখন রজনী বাজে ১২টা। আমার গতরে কোনো কাপড় চোপড় নেই। গেলাম আরেক নিকতনে। সেখানে ডাকলাম, সেখানে বন্ধু নাই। তারপর তার বোন বলল, আবার ফোন দাও। আমি দিলাম কিন্তু কোনো ফোন ধরছে না।

তখন আমি ফিরে এলাম ঘরে। তার বোন ও মামি চলে গেলেন। তারপর রাত্রি নিশি বাজে ১টা ১০ মিনিট। হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠল।

তখন দেখলাম পলিনের ফোন। আমি ধরলাম। সে বলল, তুই কই? তারাতাড়ি আমাদের বাড়িতে আয়। আমি গেলাম, গিয়ে দেখি। তাকে নিয়ে যন্ত্রণা। তখন আমি তাকে মোর সাথে নিয়ে আসলাম। আমরা দুজন একসাথে ঘুমিয়ে গেলাম। এতে করে সখার প্রতি বন্ধুর এমন টান। এটা আমার বাস্তব জীবন থেকে লেখা। এজন্য দুই চরণে বলি :

"বন্ধুর প্রেম "

👬👬সখার জন্য হিয়া কাঁদে,

কাঁদে জলধি লহর,

মোর জন্য স্বজন কাঁদে,

কাঁদে বিশাল শহর। 😭😭😭


বিয়াল্লিশে আপনজন

- কিরণময় নন্দী


বাবা-মার মতে সামাজিক নিয়মে তোমার সাথে সাতপাকে

ইচ্ছে ছিলো  তিতলি আর তুতানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা

ইচ্ছে ছিলো এলো চুলে দিনের শেষে তোমার পাশে বসা

ইচ্ছে ছিলো চাঁদনী রাতে হাজার তারার হিসেব রাখা।


কিন্তু তুমি তো পলাশ উনিশ বসন্তে বদলে গেলে

ভুলে গেলে আমার ভালোবাসার টান

তেইশ বসন্তের আধুনিকা অনন্যা তোমার নতুন জীবন

আর আমার বিয়াল্লিশের গুমড়ানো হৃদয় খানখান।


জানো পলাশ তেমন সুযোগ পাইনি

আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখারও

সংসারের চাপে কখন তুমি ঋতু পরিবর্তনে ঝরে গেছো

বিশ্বাস করো, একবারও ভাবিনি তুমি অন্য কারোও।


গুঞ্জন টা উঠেছিলো তুতানের জন্মদিনে

তোমার বোন বারবার বলেছিলো দাদাকে আগলাও বৌদি

দাদা তো হাঁটুর বয়েসী মেয়েটার জন্য পাগল

আমি বলেছিলাম ও কি শিশু আগলে রাখবো ছোড়দি!


আমি গুঞ্জনে কান দিইনি পলাশ

একবারও লুকিয়ে দেখিনি তোমার স্মার্টফোন

আমি তো মেয়ে, সে বিয়াল্লিশই হোক না

চেয়েছিলাম একটু ভালোবাসা আর একটু উষ্ণ আলিঙ্গন।


জানো তিতলি লজ্জায় ঘর বন্ধ করেছে

তোমার মা ঠাকুরঘরে কান্নাকাটিতে ত্রস্ত

শ্বশুর মশাই আরামকেদারায় একরাশ অস্বস্তিতে

আর তুমি পলাশ ভরা সংসার ফেলে অনন্যায় ব্যস্ত।


জানি না কি পেলে পলাশ তুমি

শুধু মরশুমী সুখের উষ্ণ আলিঙ্গন

তিতলি-তুতান আজ ভীষণ অসহায়

আর আমি অতীত হাতড়ে খুঁজছি আপনজন।


একা সে অথবা আমি

- মোহন দাস


তার সাথে দেখা হয় মাঝে মধ্যে

বিকেল ফুরিয়ে যাবার আগে চৌরাস্তার মোড়ে

সে দাঁড়িয়ে থাকে একা বাসস্টপে

কখনও নদী তীরে কখনও কাকভোরে ।


মাঝে মধ্যে হয় তার সাথে দেখা

একা নির্জনে বিষন্ন শহরের খোঁজ নিতে এলে

দেখি ট্রাম রোড ব্যাস্ত ভীষণ

সে তুলসি তলায় রয়েছে প্রদীপ জ্বেলে ।


মাঝে মধ্যে দেখা হয় তার সাথে

বকুল তলায়, নিস্তব্ধ মধ্যাহ্নে লেকের ধারে

সে আমায় দেখেনি কখনও

অথচ আমি ভালোমতো চিনি শুধুই তারে ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget