ফেব্রুয়ারী 2021


মন্দ কবির কবিতা
কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত

আচ্ছা আমি নাকি এক মন্দ কবি!
অন্যায় নাকি লিখি গদ্য সব ছবি?
কিসের অন্যায় ভেবে ভেবে আকুল
প্রেম নিবেদনে হারিয়েছি কোন কুল!
ভিত্তি কিসের কিসের এতো অহংকার
ভালো থাকিস এটাই তো অঙ্গীকার!
মন্দ যদি হবো আমি ছাড়বো সংসার
ধৃতরাষ্ট্রের ঘরে নতুন পাতিব সংসার l
প্রেম বিলাব সকল ভাতৃ বধূর সাথে
ঘরের বধূ যাক না সে ঘরের হাভাতে!
মুক হয়ে থাকতে থাকতে সয়েছি কত
এবার কান্না শুধু সংসারের সব বড়বাত
বাড়াভাতে ছাই  দিয়ে চলেছি অশোক
কাননে ফিলবে সখি হবে এবার ভোগ l
আমি নাকি মন্দ কবি ভুলেও না ভবি
ভালোবাসি যত কাল্পনিক ভরাডুবি l
মন্দ কবি আমি ভুলেছি রানী লক্ষীবাই
ভুলেছি রাজিয়া সুলতানা কিংবা বাই l
একই ইতিহাস রচিব মেরে ছুরির আঘাত
মীরজাফর হবে নাম হোক যত সংঘাত l
আমি মিথ্যে কবি রচি  আমার রচনা
জানি সংস্কারের নামে পাবো যে গঞ্জনা l

রচনা কাল : ১২-০২-২০২১


বাংলা ভাষা

কলমে - ঝুমা মল্লিক


 আমি বাংলার কথা বলেছি,

  শুধু বাংলায় গান গেয়েছি ।

        

আমি বাংলায় লিখেছি তোমার নাম।

শুধু এই বাংলাকে দিয়েছি দাম।


আমি বাংলা কবিতা পড়েছি।

শুধু বাংলা কবিতার ঘর বুনেছি।


আমি এই বাংলায় থাকি।

শুধু বাংলায় মা বলে ডাকি।


আমি এই বাংলা জন্মেছি।

বারে বারে এই বাংলায় মরণের পণ করেছি। 


আমি বাংলায় প্রতিবাদ করবো।

শুধু বাংলায় প্রতিরোধ গড়বো।


বাংলায় আমি রবিঠাকুর কে পাই।

শুধু তার সাথে আমি ততোদূর যাই।


বাংলা আমার অহংকার।

শুধু এই বাংলা ভাষার হবে জয়-জয়কার ।


২১।২।২০২১


বাসনা- বাসর এ স্মরণভূমি

- অসীম দাস 


বিনম্র প্রেমে উদাসীন একদিন ফিরে

আসতেই হবে শেষ খেয়া ঘাটে ।

তার আগে তৎসম চাতুরালি ছেড়ে 

নিশ্চিত দুরু দুরু দেখা হবে কবিতার হাটে। 

ততদিন ক্ষীয়মান খুঁজে চলি জিওল -জালিকা 

বাসনা-বাসর এ স্মরণভূমি ।  

বৈষয়িক মদ জনপদ ভুলে বেজে বেজে হয়ে যাই 

বনানী পাতার ঝুমঝুমি ।

শাশ্বত হতে চাওয়া অর্বাচীন ফের পথ হাঁটি ।

হেঁটেছেন ঋক্ কবি হাজার বছর ধরে 

পরিশেষে বনলতা সেন ,

না -ই পারি কিঞ্চিত ক্ষণজীবী প্রতিভার ছাই 

পুঁতে যাবো পাঁচালীর পায় 

পঙক্তির ফাঁকে খুঁজবেন !


যেতে হবে তাই

কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত


বন্ধু তুমি আছো কিছু প্রতীক্ষায় আমার!

যেতে হবে তো তাই l

বন্ধু তুমি কান পেতে শোনো কিছু শুনতে পাও?

আমি পাই তোমার ধুক ধুক  শব্দ l

কিছু বললে কিছু শুনছো

শুনছো কিছু ওই বাতাসে ভেসে আসে প্রেমের গান

শুনতে পাও তবে কেন গাও না সেই গান!

যেতে হবে তাই শুনে যেতে চাই গাও এই গান

আমি কান পেতে শুনছি তার পদধ্বনি থপ থপ থপ

কিছু শুনতে পাচ্ছো কি?

আমি শুনতে পাই তোমার সেই না বলা কথাগুলো

তোমার বুকের ভিতরের না পাওয়ার যন্ত্রনা

তুমি কি আজও আমার বুকে দেবে না ধরা!

নিষ্ঠুর থেকে নিঠুর ও তুমি আজও কেমন অবলা

যেতে হবে যে আর হয়ত হবে না কথা বলা l

তুমি শুনছো  নিস্তব্ধ হচ্ছে  চারিদিক চেয়ে অন্ধকার

টিক টক  টিক টক শব্দ বেজে চলেছে

ওই ওই বেজে চলেছে গির্জার ঘন্টা ঢং  ঢং  ঢং

বলা হলো না কথা আজান চলেছে চারিদিকে

যজ্ঞের আগুনের নিভু পোড়া ঘিয়ের গন্ধ ছড়িয়েছে

উলুধ্বনি শঙ্খর আওয়াজে মিশে গেছে বাতাস

বলছে  যেতে হবে যে শেষ অপেক্ষা শুধু শোনার l


রচনা কাল : ২৩-০২-২০২১


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে


বাংলা ভাষা বাংলা

- অসীম দাস 


বাংলা আমার প্রাণের আরাম আদুরে দখিনা হাওয়া ,

বাংলা আলাপে ছিপ তিন দাঁড়ে ময়ূরপঙ্খী বাওয়া ।


বাংলা ভাষায় দোল খেয়ে যায় বসন্ত দুই বেলা ,

বাংলায় কথা বললে বিষাদ হেঁটে চলে যায় মেলা ।


বাংলা হরফে লেখা হলে জ্বর আপৎকালীন ঘামে ,

বাংলা চিঠিতে শিশিরে মুক্তো মায়া মেঘেদের খামে ।


বাংলা ধ্বনিতে কোজাগরী চাঁদ কৃষ্ণপক্ষে ফোটে ,

বাংলার ঢেউ- এ রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের বোটে ।


বাংলা ভাষায় ব্যারিকেড ভাঙ্গা জনতার নজরুল 

বাংলায় কথা বললে পরাগে যেচে ফুটে যায় ফুল ।


ভাষা - সহবাসে সীমান্ত-হরা দুই দেশে এক কবি 

বাংলা-বর্ণে জীবনানন্দ আঁকেন কবিতা-ছবি ! 


বুলেটে বিদ্ধ ইতিহাস জেগে ঢাকা আর শিলচরে,

মাতৃদুগ্ধে স্বরচিত স্বাদ ফিরে এসো প্রতি  ঘরে।


হয়ত তোমার জন্য

কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত


অপেক্ষা শুধুই অপেক্ষা আগামী দিনের জন্য

মনে পরে সেই কালো সাজবেলার কথা

সারা শরীরের কালো কালো চামড়া খসে পড়া

মুগ্ধ নয়নে শুধু যন্তনা চোখে তোমার তৃপ্ততা l

তোমার রক্ত ঝরা দুটি হাত জোড় করা বলা

চললে তুমি একা কোন অজানার পথে সখা l

বলে গেলে থাকবে তুমি সেথা আমার অপেক্ষা l

রক্ত গোলাপ নিয়ে ঝরেছিল এক নিশ্চিন্তের অশ্রু

বলেছিলো সবার অজানা এক গোপন কাহিনী

হয়ত সেটা ছিল তারুন্যের গরম রক্তের খেলাl

সংসার  হতে পারতো ঘর হতে পারতো সেদিন

বেঁধেছিলে নিজের খেয়ালে অনন্তের সাথে রাগে

জীবনের প্রতিদিনের চাবুকের আঘাত সয়ে সয়ে

লুকিয়েছিলে ভদ্র সভ্য পোশাকের আড়ালে

বলেছিলে ভালো আছো বলেছিলে ভালো থেকো

ভালো কাকে বলে জানতে দাওনি ঘৃণা ছড়িয়ে

ভালোবাসা লুকিয়ে কেঁদেছে প্রতি রাতের আঁধারে

তুমি আমায় দেবতার আসনে করেছিলে দেবতা l

বিদায় নেবার সময় পারোনি আমার চরণ  ছুঁতে

হাতদুটি ধরে বলেছিলে রইলে আমার অপেক্ষা

আমিও দিনগুনি কবে আসবে ডাক হবে দেখা

আজ ভেলেনটাইনে ভাবি এসে যাবে সেই দিন

তুমি আমি মিলবো সেই ওপারের শুণ্যের দেশে

থেকো তুমি নিও না জনম আমি রই আক্ষেপে l

দেখা হবে নিশ্চই আমি রই চেয়ে ওই  মহা শুন্যে l

আঁকবো নতুন করে আমাদের এক প্রেম কাব্য l

শিল্পীর ছোঁয়ায় মহাশুণ্যে রাঙাবে ধাপে ধাপে l


রচনা কাল : ১৪-০২ -২০২১


কিছু মুহূর্ত

কলমে - অঞ্জলী দাশ গুপ্ত


কিছু মুহূর্ত থাক আড়ালে আবডালে,

কিছু মুহূর্ত থাক স্মরণে চিরকালে।


কিছু মুহূর্ত থাক নিখোঁজের খাতায়,

কিছু মুহূর্ত থাক স্বপ্নের পাতায়।


কিছু মুহূর্ত থাক একান্তে পাওয়া,

কিছু মুহূর্ত থাক নীরবে চাওয়া।


কিছু মুহূর্ত থাক স্পর্শের জাগরণে,

কিছু মুহূর্ত থাক আদরে আভরনে।


কিছু মুহূর্ত থাক অচেনা খামে,

কিছু মুহূর্ত থাক ভালোবাসার নামে।


কিছু মুহূর্ত থাক অবহেলায় যন্ত্রণা,

কিছু মুহূর্ত থাক মিথ্যা সান্তনা।


কিছু মুহূর্ত থাক  অসময়ে অনাবৃষ্টি,

কিছু মুহূর্ত থাক একপলকে সৃষ্টি।


কিছু মুহূর্ত থাক না ফেরার দেশে,

কিছু মুহূর্ত থাক সময়ের স্রোতে ভেসে।


শিরোনাম - ভ‍্যালেন্টাইন্স ডে

কলমে - মায়া সাহা


বাড়ির সামনের গোলাপ বাগান থেকে একটি সুন্দর গোলাপ তুলে এনে প্রমিলা ওর ছেলের হাতে দিয়ে বলে," বাবাই আজ এই গোলাপ টা তুই ঝুমুর কে উপহার দিবি। দেখবি ওর সমস্ত অভিমান একমুহূর্তের মধ‍্যে ধুয়ে মুছে গেছে"।


মা, আমি ঝুমুরের সাথে অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেছি মা কিন্তু ও আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। তাতে ওর অপরাধ কোথায় বল?  তুই যে তিয়াসেকে আগে থেকেই ভালোবাসতি সেটাতো ঝুমুরের জানা ছিলনা।


মা, ঝুমুর আমাকে ক্ষমা করে দেবে তো? আমি  সেদিন কেন যে ওর চাওয়াকে গুরুত্ব দিলাম না!! সেদিন যদি ওর প্রপোজাল মেনে নিতাম তাহলে হয়তো আজকের এই খারাপ দিনটা আসতো না।

মা অভয় দিয়ে বলে "ঝুমুর আজও তোকে একইভাবে  ভালোবাসে তুই সেটা উপলব্ধি করতে পারিস না"?


বাবাই জানায়, সব বুঝতে পারি মা কিন্তু আমার যে ওর কাছে দাড়ানোর সাহস হয়না। আজ ওকে পেতে চাইলে ও যদি ভাবে তিয়াসা'র  সাথে আমার ব্রেকআপ হয়েছে বলেই স্বার্থপরের মতো আজ ওকে পেতে চাইছি তাহলে ....... 

ঝুমুর বুদ্ধিমতী মেয়ে ও কখনো এমন করে ভাবতে পারেনা। তুই আর দেরি করিস না। যা,এবার ঝুমুরের কাছে গিয়ে নিজের মনের কথা বল।


বাবাই ভ‍্যালেনটাইনস ডে তে মায়ের দেওয়া গোলাপটি নিয়ে ঝুমুরের কাছে গিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানায়। 

বাবাই ঝুমুর কে বলে "আমি আসল হীরে চিনতে ভুল করেছিলাম। তাই সেদিন তোকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।  জীবনে ভীষণভাবে ঠকেও গেলাম!!!! 

তুই আজ আমাকে একটিবার ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দে প্লিজ......


 তুই আমাকে ক্ষমা করে আমার হৃদয়ের সব ক্ষত সারিয়ে দিতে পারবি না ঝুমুর? 

তুই তোর জীবনে আমাকে আবার ফিরিয়ে নে  প্লিজ!!

আমাকে একবার আপন করে নে!!


ঝুমুর চোখে আনন্দের অশ্রু বেয়ে নামল.........


ব‍্যাস! আর কিছু বলতে হবেনা তোমায়। তোমাকে আমি ফিরিয়ে দেব সে সাধ‍্য আমার কোথায়?


আমি আন্টির কাছে সব শুনেছি।

সেদিন তোমার তো কোনো দোষ ছিলনা। তুমি তো তিয়াসাকে আগে থেকেই ভালোবাসতে। তাই আমাকে সেদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলে। আমার অবশ‍্য জানা ছিলনা যে - তুমি তিয়াসাকে মনেমনে ভালোবাসতে । তাই তোমাকে আমি.........


একদিন যে ভ‍্যালেন্টাইন্স ডে তে তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলে আজ সেই  একই দিনে তুমি আমাকে গ্রহণ করলে। এই দিনটা আমাদের জীবনের স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। 

বাবাইয়ের মা ঝুমুরকে ফোন করে জানায় - হ‍্যাপি ভ‍্যালেন্টাইন্স ডে ঝুমুর......

 ঝুমুর হতবাক হয়ে যায়!!!


তারিখ- ১৪•০২•২১


শেষ প্রহর

কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত


সিদ্ধার্থ এক হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে বাবু ঘাটের একটা বাঁধানো বেঁচে বসে গঙ্গার আবহমান গতিধারা কে একমনে দেখেছে l আর ভাবছে ওই নদীর ধারার মত কত উত্থান পতন হয়েছে জীবনে l আজ জীবনের প্রায় কর্মজীবনের অন্তিম পর্বে এসে কি গতিতে বইবে তার গতি? কাল তার পরম প্ৰিয় পত্নী বুলা চলে গেলো ওকে ছেড়ে l হ্যাঁ কাল রাতে ভাটা ছিল l গঙ্গায় বুলার জ্বলন্ত নাভি ভাসিয়ে দিয়ে এক ডুবে উঠেছিলো l বলেছিলো "বুলা তুমি যেখানে গিয়েছো সেখানে সুখে থেকো, আমায় নিয়ে আর ভেবোনাl" নিজের অজান্তে চোখ থেকে জল বেরিয়ে এলো l রুমাল দিয়ে চোখ মুছে নিলো l দেখলো চারিদিকে কেউ দেখছে কিনা l বাম দিকের বেঞ্চে বসা একজন এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে l সিদ্ধার্থ চোখ সরিয়ে নেয় l আবার সেই নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে l কিছুক্ষন পরে "হ্যালো আপনি সিদ্ধার্থ সেনগুপ্ত না?"

সিদ্ধার্থ সামনে তাকিয়ে দেখে সেই মহিলা  হাতে লাঠি, অনেকটা কুঁজো হয়ে গেছে l চামড়া যেন ঝুলে পড়তে চাইছে l চিনতে না পেরে বলল "হ্যাঁ কিন্তু আপনাকে চিনতে পারলাম না তো?" ভদ্র মহিলা  হে হে করে হেঁসে বলল " চিনতে পারলে না? আমি আমি সেই তোমাদের কলেজের পারমিতা l যাকে পাবার জন্য তোমরা সবাই প্রতিযোগিতা করতে!"

সিদ্ধার্থ মনে করবার চেষ্টা করলো, হ্যাঁ মনে পড়েছে l শ্যাম বর্ণের কাজল টানা দুইটি চোখ, কি সুমধুর কণ্ঠস্বর, একটা চটুক  ছিল l ভালো লাগতো বেশ l শুনেছিলাম অনেকের সাথে ব্রেকআপ হয়ে গিয়েছিলো l সিদ্ধার্থ উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো l " আরে বসো বসো, একি চেহারা হয়েছে তোমার? তা শ্যামবাজার ছেড়ে এই বাবুঘাটে? "

----এতগুলো প্রশ্ন একসাথে? তুমি একি রকম আছো দেখছি l

পারমিতা বেঞ্চে বসলো l পাশে লাঠিটা রেখে  বলল  " সিধু  বোস l সব বলছি l"

সিদ্ধার্থ বসলো l পারমিতা বলতে লাগলো " আমি শ্যামবাজার ছেড়েছি প্রায় বছর তিনেক l থাকি  ওই যে তিন নম্বর ঘাট  ওখানে  থাকি l ভিক্ষা করি, যা পাই তাই খাই l তোমার কথা বলো l"

--- আমার আবার কি কথা?

---- তোমার বুলা, ছেলে মেয়ে সবাই কেমন আছে, কি করে?

------বুলাকে মনে আছে তোমার? সে কাল আমাকে ছেড়ে চলেগেছে l কালকে দাহ করে এসেছি l আর এক ছেলে থাকে সুদূর আমেরিকায় l মেয়ে সংসার নিয়ে ব্যস্ত l তাই এখানে বসে একটু নিঃস্বাস নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা কি করা যায় ভাবছি l

---- বুলা চলে গেলো? বড্ড ভালো মেয়ে ছিলো l কোনোদিন উঁচু স্বরে কথা  বলতে শুনিনি l

---- তা তোমার এই হাল কেন? বাড়ি ছেড়ে  এখানে?

---- আর বোলো না যতদিন  যৌবন ছিল আর অর্থ ছিল ততদিন  খুব খাতির  ছিল l আরে তোদের বাসব দা আমার শেষ পতি ছিল l বেশ ভালোই কাটছিলো আমাদের সংসার l আমার এক ছেলে l ডাক্তার l কিন্তু ডাক্তার হলে কি হবে আমার রক্ত পেয়েছে l যৌবনের নেশায় মেতে উঠেছে l তোদের বাসবদা  সাড়ে তিন বছর আগে রোড  এক্সিডেন্ট এ মারা যায় l তারপর থেকে আমার ওপর নেমে এলো অত্যাচার l ছয় মাস ও টিকতে পারলাম না l একদিন আমাকে লাঠি দিয়ে মারতে মারতে বাড়ি থেকে বের করে দিলো l আমি তারপর থেকে নতুন ঠিকানা  খুঁজে চলেছি l পায়ে বাতের ব্যথা l পিঠে স্পন্ডেলাইসিস l এই ভাবে চলছি l এই কয়েকমাস হলো  আমাকে এখানে ঠাঁই দিয়েছে l আমি যা পাই তাই খাই l

---- তুমি কোনোদিন ভেবেছিলে  এরকম দিন আসবে আমাদের? সম্পূর্ণ একা অথচ  সব থেকেও নেই l

পারমিতা দীর্ঘ নিঃস্বাস ছেড়ে বলল " তুমি এখন কি করবে "?

---- বাড়ি ফিরবো l বাড়িতে বুলার একটা কুকুর আছে, জানিনা তাকে খাওয়াতে পারব কিনা l ও বুলাকে ছাড়া খেতে চায় না l কাকেও বুলার ভিডিও দেখিয়ে খাইয়েছি l ওকে বাঁচাতে হবে l নাহলে ও মরে যাবে l

সিদ্ধার্থ কেঁদে ফেলে l বুলা ওর নাম দিয়েছিলো  টারজান l টারজান এখন আমার জন্য অপেক্ষা করবে l আমি যাবো l

---- সিধু  আমাকে কিছু টাকা দেবে? বেশি না হাজার খানেক?

সিদ্ধার্থ পকেট থেকে হাজার টাকা বার করে পারমিতার হাতে দিয়ে বলল " এটা রাখো , আজ আর নেই l আমি আসি? "

পারমিতা বলল  " সিধু যদি কোনোদিন একা মনে করিস তাহলে ওই ঘাটে এসে বলবি  ফুলমাসি কোথায়! সবাই দেখিয়ে দেবে l আমি তোর জন্য জায়গা রেখে দেবো l চলে আসিস l

সিদ্ধার্থ আর দাঁড়াতে পারে না হন হন করে হাঁটতে থাকে l কানে ভেসে আসে টারজাণের ডাক l সে খুঁজছে তাকে বুলাকে না পেয়ে l তাকে বাড়ি ফিরতেই হবে l


রচনা কাল : ১১-০২-২০২১


আটকে আছি ভীড়ে

- অসীম দাস 


তোর বৃষ্টি মাখা মুখে 

আমার শব্দ-সাঁতার সুখ ,

তোর বসন্ত- বীজ শ্বাসে 

আমার অলিন্দ উন্মুখ ।


তোর মেঘনা চুলের ধারায় 

আমার অনন্ত স্নান হারায়। 

তোর মাতলা-তালুর মায়ায় 

আমার সৌর-দুপুর ছায়ায় ।


তোর হংসধ্বনি স্বরে 

আমার বিষাদ পোড়ে জ্বরে ।

তোর মিশুক অভিমানে 

আমি আসছি নোঙর টানে ।


তোর জোনাক হাসির জোয়ার 

আমি ভেসেই যাবো এবার !

তোর বাসন্তী-চোখ তীরে 

যাবো , আটকে আছি ভীড়ে ।


পথের দাবী
কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত

বিশ্বাস চলেছে এগিয়ে অবিশ্বাসের পথে
সততা চলেছে সেই অসতের পথে।
নারী সকল চলেছে ঝাঁটা বটি লয়ে হাতে
মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি ভর্তি ফেরিতে।
লুটিয়ে পড়েছে রুগী হাসপাতালের ফ্লোরে
মোমবাতির মিছিল চলেছে অমাবস্যা রাতে।
লাল  নীল সবুজের আলোয় উত্তাল জনতা
মনোরম ফুল ফলে টুকটুকে ফর্সা রাজা।
দুই বহু তুলে বলে " আমি তোর সংস্কার। "
ভীত সংন্ত্রস্ত মন্ত্রী করে রোজ ভয়ের টুইটার
সবাকার সাকার  কিবা আছে হাহাকার
কাঁদেন হবু চন্দ্র রাজা গবু চন্দ্রের হল বেকার
নিভৃতে চলে খেলা হাতে লয়ে গরম পেয়ালা
হবু রাজার টি শার্টে কোলাহল হল গোয়ালা।
দুধের  স্বরে ক্ষীর খোঁজে হিরে আর মানিক্য
বেজায় খুশি সামনে দেখে নাকি তারই আধিক্য!
পদাবলী রচিত হয় রচিত হয় জন্ম কুন্ডলী তার
কে কবে দেখেছে  কোথায় হয়েছে জন্ম তাহার?
পদবি তে কি আসে যায় হোক না সে ঠাকুর।
বেজায় চটেন মন্ত্রী মহাশয় আর তার বহর!
মরার ওপর খাড়ার ঘা পরে হাতে যদি পোহা
কি হয় কে জানে থাকে যদি হাতে নুন পান্তা!
বিবাহের আসরে হবু রাজার হুকুম পদবিতে
সভা পরিষদ চিৎকার করে বলে সবাই অসৎ।
লালয়িত লালা ঝরে লক  লকে জিহ্বা হইতে
স্পর্শ নেই যে চামড়া আর চামড়ায় শরীরে।
গলা  কাটে ধারালো  ছুরি নিয়ে কয়েক পঁছে
ফাঁসি না কারবাস নাহি জোটে স্পর্শ নাই শেষে।
আগুনের শিখায়  জীবন্ত পুড়ছে ওই যে মেয়েটি
কি হয়েছে তাতে জাত যে সে কুমারী সহেলি!
হবু চন্দ্র রাজা গুহায় বসে ভাবে ধার্মিক আমি
পথে পথে কাঁটা বিছায় নরকের এক স্বামী।
কি হবে কেঁদে মরে ভুখা মিছিলের নগরী।
হেঁসে বলে রাজা হাতে তার মুঠো মুঠো নগদী
ছড়িয়ে  দিতে হবে অপগন্ড মূর্খের সারথী।
মিছিল চলুক মৃত্যুর ধ্যান মগ্ন ধার্মিক বারদী।

রচনা  কাল : ১১-০২-২০২১


দোলন চাঁপা 

- রোজী নাথ 


দোলন চাঁপা দোলন চাঁপা 

মিষ্টি তোমার সুবাস ।

কি মনোরম সৃষ্টি তুমি

 ধরার পারিজাত ।


বিকাল হলেই খুল আখি 

ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি ।

রূপ যে তোমার মুগ্ধ করে 

কি আর বলো থাকে বাকি? 


সন্ধ্যা বেলা ভর যৌবনে 

ধরা দাও নয়ন পটে।

রাত ঘনালে জোছনা মাখা 

চাঁদ যে খেলে তোমার বুকে ।


ভোরের আলো গায়ে মেখে 

তুমি তাকাও দূর দিগন্তে।

অবাক হয়ে ভাবি আমি 

কি জাদু যে তোমার মাঝে ।


দোলন চাঁপা দোলন চাঁপা 

একটা কথা বলি তোমায়।

নতুন নতুন বার্তা নিয়ে 

তুমি এসো রোজ সন্ধ্যায়।


খোঁপায় গুঁজে মনের সুখে 

রাখবো তোমায় আপন করে ।

তুমি যে গো অপরূপা 

আপন রঙে আপন রূপে ।


কথার কথা

কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত


শ্রীর মাথায় যেন বাজ পড়ে গেলো, সীমন্ত এ কি করলো? সে কিনা প্রেমে পড়লো শ্রীর? এটা কি করে হয়? সীমন্তর  বাবা আর শ্রীর বাবা দুজন এক অন্তরাত্মা এক প্রাণ বন্ধু l শ্রী আর সীমন্ত  এক বছরের ছোটবড়ো l দুজনেই দুজনকে তুই তুকারি করে l দুজনেই কলেজে পরে l কিন্তু সীমন্ত  এটা কি করলো? কলেজের লবি তে হাঁটু মুরে বসে এক হাত ধরে বলল " শ্রী আমি তোকে ভালোবাসি l তুই আমাকে ফেরাবি না তো? "

শ্রী হতবম্ব  হয়ে বলল " কি যা তা বলছিস! জানিস তুই যা বলছিস  তা হয় না l" তবু নাছোড় হয়ে উঠেছিলো l শ্রী সজোরে সীমন্তর  গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে বলেছিলো " আয়নায় নিজের মুখ দেখেছিস কোনোদিন? এবার দেখিস এই পাঁচ আঙুলের দাগ l" সীমন্ত  মাথা নিচু করে চলে গিয়েছিলো l

শ্রী পরে ভেবেছিলো সীমন্ত কে ডেকে সরি বলে দেবে l সেদিন রাতে সীমন্ত  শ্রীকে ফোন করে বলল " শ্রী আমি দুঃখিত l তোকে ওই কথা বলবার জন্য l তুই কিছু মনে করিস না l সত্যি আমি আমার মুখ আয়নায় দেখে আঁতকে উঠেছিলাম l দেখেছিলাম এক দানব আমার মুখে ভর  করেছিলো l আজ যা বলবো তুই শুধু শুনে যাস উত্তর দিবি না l "

শ্রী বলল " বেশ বল  l" শ্রী চারিদিকে তাকিয়ে দেখলো কেউ আসে পাশে আছে কিনা l

সীমন্ত  বলে উঠলো " শ্রী তুই বলতিস কোনোদিন মিথ্যে পছন্দ করিস না l আজ সত্যি বলছি, গতকাল আমি তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি l আর আমার মধ্যে এক অনুভূতি জাগে l সেটা তোকে খুব খুব আদর করি l কিন্তু কি করে? তাই ওই ভাবে তোকে প্রপোজ করেছিলাম l তুই মেরেছিলিস l তখন মনে হয়েছিলো তোকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আমাদের ছাদের চিলে  কোঠাতে নিয়ে রেপ করি l সত্যি বলছি এখন সেই ইচ্ছে আছে মনে l তুই কি রাজি আছিস? "

শ্রী শান্ত গলায় বলল " সীমন্ত  তুই এখন ঘুমো l তোর ঘুমের দরকার l আর শোন্ আমি ভেবেছিলাম ছোট থেকে বড় হয়েছি তুই হয়তো এটা কথার কথা  বলেছিস l কিন্তু শোন্ আমি একটা সত্যি কথা  বলি নিজের অজান্তে তোকে যেন কবে ভালোবেসে ফেলেছি l বাবা মাকে বলেওছিলাম l কিন্তু তোর এই আচরণ  আমি কল্পনা ও করতে পারিনি l তাই আমি আর তোর সাথে কোনোরকম সম্পর্ক রাখতে চাই  না l আর শোন্ রূঢ় সত্যি জীবনের পতন ঘটায় l তোকে ব্লক করলাম ফোনে আর আমার মা বাবাকে সব জানাবো ও এটাও বলবো আমার জন্য অন্য পাত্র দেখতে l"

শ্রী ফোন সুইচ অফ করে দিয়ে কান্নায় ভেসে যায় l ভোর বেলায় মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে l " শ্রী শ্রী ওঠ  ওঠ, "

-----কি হলো এখন তো ভোর হয় নি ডাকছো কেন?

----- শুনতে পাচ্ছিস না কিছু?

শ্রী কান খাড়া  করে শুনছে কান্নার রোল  ভেসে আসছে l " কি হলো কারা কাঁদছে? "

----- সীমন্ত গায়ে আগুন দিয়েছে l আর বেঁচে নেই l

শ্রী চমকে উঠে থমকে গেলো l ছুটে নেমে এলো ওদের বাড়ি l দেখে সীমন্তর দগ্ধ দেহ পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে l ওর বাবা মা বোন কান্নায় ভেসে যাচ্ছে l সীমন্ত কে চেনা যাচ্ছে না l যেন একটা মাংস পিন্ড l কোনোরকমে টলতে  টলতে বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় l কি করবে সে এখন? কাউকে তো সে কিছু বলতে পারবে না l কেন বলতে গেলো এই সব কথা l কথার কথা  বলেছিলো ফোনে ব্লক করবে l ঘরে এসে ফোনটা চালু করলো l এই তো কি যেন ম্যাসেজ করেছে সীমন্ত!

'শ্রী সত্যি যে এতো কঠোর হয় জানতাম না l তোর কথাগুলো  আমাকে ভীষণ ভাবে নাড়া দিলো l আমিও নিজেকে অনেক প্রশ্ন করেছি l উত্তর এসেছে আমি ও তোকে ভালোবাসি l কিন্তু বুঝতে পারিনি l তোকে অনেক ফোন করলাম l কিন্তু সুইচ অফ l আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম এতো কামনা কেন শরীরে? তাই ঠিক করলাম ভিতরে দানবটাকে  পুড়িয়ে যদি সেই পুরোনো সীমন্ত কে আনি তোর সামনে তখন ভালোবাসবি তো?'

শ্রীর চোখ ছাপসা  হয়ে আসে l সীমন্তর লেখাগুলো ঝাপসা হয়ে যায় l শ্রী ফোনটা বুকে নিয়ে বলে " তুই এতো বোকা! তুই কথার কথাও  বুঝিস না? তুই বুঝলি না কোনোদিন আমাকে। 


রচনা কাল : ০৯-০২-২০২১


নবদিবাকর অনলাইন পত্রিকায় কবিতা, ছড়া কবিতা, ছোটগল্প, অণুগল্প, ভৌতিক গল্প, রহস্যগল্প, প্রেমকাহিনী, কল্পবিজ্ঞান কাহিনী, ধারাবাহিক কাহিনী,
সামাজিক গল্প, অনুবাদ সাহিত্য, নারী বিষয়ক কাহিনী, প্রবন্ধ, হাস্যকৌতুক, শিশু সাহিত্য, স্মৃতি কাহিনী,
ভ্রমণ কাহিনী, সাক্ষাত্কার, শরীর স্বাস্থ্য এবং সমস্ত রকমের আধুনিক লেখা দিন...!!!
বিভাগ উল্লেখ করে লেখা দিন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে।
হোয়াটসঅ্যাপ : 9004625534

https://api.whatsapp.com/send?phone=+919004625534
Website : www.nabadibakar.in

( পোস্টটা শেয়ার করে আপনার কবি বন্ধুদের লেখা দেওয়ার সুযোগ করে দিন। )



আমি জেগে থাকি সুপ্ত ইতিহাস

- অসীম দাস 


আমি জেগে থাকি সুপ্ত ইতিহাস ।


শতাব্দীর পেট ফুঁড়ে 

হেমলক বিধান ঠোকে 

বিনিদ্র যিশুর পেরেক 

 ক্রমাগত ,  ঠক ! ঠক ! ঠক !

যুক্তি - বাক যাজ্ঞবল্ক্য পোড়ে 

অভিন্ন গেষ্টাপো ক্রোধে ।

জ্ঞানের বহ্ন্যুৎসবে 

উচ্ছিষ্ট উল্লাস , 

কালে কালান্তরে! 

 

আমি জেগে থাকি সুপ্ত ইতিহাস ।


ব্রুনোর জলন্ত শরীরে স্যাঁকে 

সদ্যকাটা কলহনের বৌদ্ধিক জিভ ! 

দেখেছি তো সাময়িকী নিরাকার

উৎসাহী জনতার দন্তবিকাশ ! 

চুপিচুপি সে বধির কানে 

বলেছি তো -- ওরে থাম থাম 

ফিরে চল গৃহে ।


আমি জেগে থাকি সুপ্ত ইতিহাস ।


তান্ত্রিক অমানিশার গর্ভপাতে 

ছিটকে পড়ে বজ্রযান 

শৃগালের সবজে নীল চোখ ! 

বখতিয়ার ক্ষুরে ছিন্ন হয়

শীলভদ্র ক্ষেতি ।

নৈরাকার নালন্দার 

করোটি আকাশ ! 

লুকিয়েছি মস্তিষ্কে কিছু

অবশিষ্ট জ্ঞান ।


আমি জেগে থাকি সুপ্ত ইতিহাস ।


ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যভিচারী 

ফ্যাসিবাদী গোলার আগুনে জ্বলে' 

লোরকার কবিতা - অঙ্গার , 

জাপ্টে ধরে হাসমির 

লুট হওয়া মুক্ত নাট্যশালা ।

ব্লগারের খুনে খুনে ভিজে যায় 

গোধূলির স্যাঁতসেঁতে ধূলি ! 

বিক্ষত কবিতা শরীরে

ক্লান্তি নামে ।


আমি বিবর্ণ তুলটে 

জেগে থাকি সুপ্ত ইতিহাস ।


বারবার ঠোকা মারি 

কালের জঠরে ! 

ফিরে এসো প্রথম বিদ্রোহী তুমি 

স্পার্টকুস, 

স্পার্টকুস লক্ষ কোটি হয়ে ।


প্রপোজ

কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত

ছুটে চলেছি দিনভর কি করে করি প্রপোজ!
ছুটে গেলাম ব্যালকোনি তে
দেখি সেথায় আরাম কেদারায় গম্ভীর মুখ
অপ্রস্তুত হয়ে এসে দাঁড়িয়ে পড়ি জানলায়
দেখি অনেক চেনা মুখ অচেনা দৃষ্টিতে
সন্দীহান দৃষ্টি কেমন করে তীর নিক্ষেপ করে।
দরজায় খিল লাগিয়ে সেল ফোনে রিং করি
সে কি গম্ভীর পুরুষ কণ্ঠ "হ্যালো কে?"
ছুঁড়ে ফেলি ফোনটা " ধুর আর দৈর্য্য থাকে? "
জানলায় দাঁড়িয়ে সিটি যেই মারি
তুমি এলে জানালার ধরে মুচকি হেসে তাকালে
পাখির সুরে সিটি মেরে বলি এসো নদীর তীরে
এলে তুমি মধুর আতর মেখে।
নৌকায়  উঠে দুজনে চলি নৌকা বিহারে।
মাঝপথে  তোমার হাতটি ধরে যেই যাবো বলতে
মাঝি কহে " রসো বাবু স্থির হয়ে জোয়ার বয়ে "
তুমি মাথা নিচু করে মুচকি হেসে দুরে সরলে
মনে মনে বলি " মাঝি তুমি দেখলে নদীর জোয়ার
আমার মনের জোয়ারে হারপা বান এসেছে
তুমি দেখোনি  দেখলো কিনা আমার ও!
ছিটকে সরে মুচকি হেসে শীতল জল ঢেলে দিলো"!
সাঁঝ বেলা যেই এলো প্রপোজ করা আর হলোনা
তুমি ধীর পায়ে চলে গেলে পিছু পানে চেয়ে।
হে ভগবান কি হবে এবার আমি  মোবাইলে চেয়ে।
দেখি যদি তুমি কোনো প্রপোজ আজ যদি করো।
সাঁঝ বেলা যায় রাত গভীর হয় তবু নাহি লেখ।
অবশেষে ট্রিং শব্দে ঘুম ভেঙে দেখি এ কি?
শুভ রাত্রি সুইট ড্রিম এটুকুতেই দিলে ফাঁকি।

রচনা কাল : ০৮-০২-২০২১


বেহায়া মন

কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত


আজ গোলাপ দিয়ে করবো তোমায় জয়। 

গোলাপের কাঁটায় রক্তাক্ত মোর হৃদয়

তোমার চোখের জল লুকিয়ে আমি দেখবো

ওই কাজল কালো ঘন সমুদ্র। 

আমি অবগাহন করবো সাঁতারে

অপেক্ষা করবো ভেলেনটাইনে

ডুব দেবো যৌবনের অন্তরালে

সাঁতার কেটে যাবো সেই তেপান্তরে

তুমি খুজবে শুধুই খুজবে অতল জলে। 

সন্ধানে আমি থাকবো রক্ত প্রবাল লয়ে

হিরে পান্না চুনির  পাহাড় কিনে আনবো কাছে। 

তুমি ধরা নাই বা দিলে বসে আনবো রাহু কেতু

প্রখর রৌদ্রে খুঁজব তোমার হৃদয়ের অন্তপুর

ওই কমলে কলম ধরে লিখবো প্রেম কাহিনী

প্রতিটি ছন্দ হারিয়ে যায় তোমার ওই পদধনী। 

উথাল  পাথাল  ঢেউ ওঠে আমার অন্তর্যামী। 

একটু ছোঁয়া একটু জড়িয়ে ধরে আদর করি

শুকনো মুখে মুখ বাড়িয়ে থাকি

যদি তুমি দাও বাড়িয়ে মুখখানি। 

বেহায়া মন মুচকি হাসে তখনি। 

আরো কিছু চাই আরো কিছু নিতে চাই আমি

লজ্জায় মুখ তাই লাল হয়ে চেয়ে থাকি আমি

চাতকের মত বহুডোর খুলে রাখি কেন কি জানি

মন বলে বহুডোর দৃঢ় হবে তোমার ভালোবাসায়। 


রচনা কাল : ০৭-০২-২০২১


একটা গোলাপ তোমার নামে

কলমে - সুমন নস্কর


একটা গোলাপ তোমার নামে,

কিনেছি আমি অনেক সাধে।

দিন গুনেছি বছর ধরে

রোস ডের প্রতীক্ষাতে...

আমি জানি সাদা বা হলুদ নয় 

লাল গোলাপ তোমার পছন্দের

তাই দোকানের সবচেয়ে বড় লাল গোলাপটা কিনেছি

তোমার তরে..

জানিনা গোলাপ নিয়ে তোমার  সামনে দাঁড়ালে তুমি কি বলবে?

জানিনা গোলাপটা তুমি নেবে কিনা?

জানিনা গোলাপ দেওয়ার পেছনে আমার ভালোবাসাটা তুমি বুঝবে কিনা?

জানিনা আজকের পর থেকে আমার সাথে তুমি ভালোভাবে কথা বলবে কিনা?

কিন্তু আমি বলবোই

আমাকে যে বলতেই হবে..

বুকের ভেতর আবেগের ঝড় আর সামলাতে পারছিনা

স্যাড সং শুনে আর মাথার বালিশ ভিজাতে পাচ্ছিনা

জানিনা করোনা ভাইরাসের প্রকোপে আমি বেঁচে থাকব না মরে যাব?

তাই বুকে সাহস যুগিয়ে আজ 

যাচ্ছি সেই পরিচিত আমাদের আড্ডা দেওয়ার স্থানে

তোমার নামে কেনা গোলাপ, 

তোমায় দিয়ে

আমার মনটাকে হালকা করবো বলে।


তারিখ-০৭/০২/২০২১


ঘর

কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত


অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে শেষে অখিলেস ও মোনালিসা বাদুড়িয়ায় বস্তিটার পাশে দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট টা কিনেছে l ফ্ল্যাটের বারান্দা টা বস্তির দিকে l বেশ ফুরফুরে হওয়া চলে l বস্তির কোলাহল ভেসে আসে l এই বিল্ডিং টার নাম ও খুব সুন্দর " ভাসমান টাইটান " ঢোকার মুখে একটা বড়  খাল, তার ওপর একটা সুন্দর ব্রিজ l সেটা ধরে পার হয়ে বিল্ডিং এ ঢুকতে হয় l বেশ লাগে রাতে বিল্ডিং টার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে l মোনালিসা বারান্দায় চেয়ারে বসে কফি খেতে খেতে বস্তির দিকে তাকিয়ে থাকে l দেখে মৃদু আলোর মধ্যে বাচ্চাগুলো নিজেদের মধ্যে খেলাধুলা  করছে l বেশ আনন্দে আছে l ভালো লাগছে দেখতে l সন্ধ্যা নেমে আসবার পরে ভেসে আসছে উচ্চ কণ্ঠে  ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সুর l কতদিন  পর  এই সুর পেলো l সেই ছোটবেলায়  মোনালিসা দাদার সাথে তাল মিলিয়ে পড়ত l মা বলত  আরো জোরে পড়তে l মা নাকি আমাদের পড়া  শুনতো l বাবা বাড়িতে ফিরে ওদের মা কে জিজ্ঞাসা করত কখন ওরা পড়তে বসেছে l বাবা রেডিও নিয়ে ছাদে চলে যেত খবর শুনবে বলে l মনে পরে গেলো সেদিনের কথাগুলো l কি ভালো ছিল দিনগুলো l এখানে যেন সেই পুরোনো দিনগুলো ফিরে এলো শুধু আজ বাবা মা দাদা নেই l মা বাবা দুজনেই আকাশে মিলিয়ে গেছেন l দাদা একটা প্রাইভেট কোম্পানি তে কাজ নিয়ে সুদূর মুম্বাই তে থাকে l ওর ও বিয়ে হয়ে গেছে l কি জানি দাদা বৌদি কেমন আছে? আজ একবার খবর নেবে l উঠতে যাবে এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো l মোনালিসা ভাবলো বোধহয় আখিলস ফিরে এলো l সে উঠে এসে দরজা খুলে দেখে একদল খুদে বাচ্চা l বলল " দিদিমনি  গো, আমার পিকনিক করবো তুমি আমাদের কিছু চাল ডাল আলু আর যা পারো দাও না গো l"

---- কতজন আছো তোমরা

---- আমরা ৩০ - ৪০ জন হবো গো! তুমি থাকবে আমাদের পিকনিক এ?

---- কোথায় করবে?

----- ওই যে আমাদের বস্তির পাশে মাথাটায় l কাল রবিবার, আমারা পিকনিক করবো l ওই আমাদের ছোটু দা আমাদের মাইক দেবে l হেব্বি গান বাজবে l

এর মধ্যে আখিলস হাজির l সে দরজার সামনে এতো গুলো বাচ্চাকে দেখে মোনালিসা কে জিজ্ঞাসা করলো " কি ব্যাপার? "

ওদের মধ্যে একটা বাচ্চা বলে উঠলো " স্যার আমরা ওই সামনের বস্তির ছেলে মেয়ে l কাল আমরা পিকনিক করবো l তাই কিছু চাইতে এলাম l তোমরাও এসো "

আখিলস হেসে ফেলে পকেট থেকে মানি ব্যাগ বার করে টাকা দিতে চায় l বাচ্চারা রে রে করে ওঠে  " টাকা নিয়ে কি করবো? দিদিমনি জানে আমরা কি চাই l টাকা আমরা নেবো না গো l ও দিদিমনি দাও না গো l"

মোনালিসা আখিলস কে বারণ করে রান্না ঘর থেকে  চাল, ডাল, সর্ষের তেল, আর আলু, পটল  একটা ফুলকপি নিয়ে দিয়ে বলল " এই নাও ভালো করে আনন্দ করl"

ওরা কি আনন্দ প্রকাশ করলো  যাবার সময় বলে গেলো " দিদিমনি তুমি আর স্যার এসো কাল l হেব্বি আনন্দ হবে l"

ওরা চলে গেলো l মোনালিসার মনটা তৃপ্তিতে ভরে গেলো l আখিলস বলল  " এতো নাও দিতে পারতে l জানতো বস্তির লোক ওদের চাহিদা আরো বেড়ে যাবে l "

মোনালিসা হেসে বলল " ওদের হাসিটাই আমাকে মুগ্ধ করেছে l পরে কি হবে পরে দেখা যাবে l"

পরেরদিন সকাল থেকে বস্তির মাঠ  থেকে হিন্দি গান তারস্বরে বেজে চলেছে l আজ যেন বাঁধন হারা আনন্দে মেতে উঠেছে শিশুর দল সাথে তাদের বাবা মা দাদু দিদিমা যেন ওদের তালে তাল মিলিয়ে আনন্দে মুখর l কোন সাংসারিক বিষয়ে যেন চিন্তা নেই l কিন্তু তাদের আনন্দের সাথে তাদের শিশুদের করা নজরে রেখেছে l বেশ লাগছে আখিলস আর মোনালিসার l আখিলস বলল " দেখো মনা, কত কথা শুনতে হয়েছে বস্তির দিকে ব্যালকনি ঠিক নয় l আমি তো জানি ওখানে বিল্ডিং উঠবে না l হওয়া খুব বইবে l কিন্তু দেখো  সাথে ওই আনন্দ কি অপরূপ l সকাল আটটা বেজে গেলো মোনালিসা রান্নাঘরে যেতেই বেল বেজে উঠলো, আখিলস  দরজা খুলে দেখে দুটো বাচ্চা ছেলে এসে দাঁড়িয়েl বলল " স্যার এই নিন আপনাদের টিফিন l"

দেখে একটা ঠোঙায় কিছু লুচি, আর একটা বাটিতে আলুর তরকারি l সাথে দুটো সিদ্ধ ডিম l আবার বলল " বাটিটা খালি করে দিন নিয়ে যাবো l ও দিদিমনি তোমাদের দুপুরের খাবার দিয়ে যাবো গো কিছু বাসন দাও l"

আখিলস তরকারি খালি করে বাটিটা ধুয়ে দিয়ে ওদের হাতে দিয়ে বলল  " কেন গো তোমরা আনন্দ করো আমাদের জন্য আবার কেন? "

----- জানি স্যার আপনারা আসবেন না l আমরা গরিব  বস্তিতে থাকি তো l আপনাদের সন্মান যাবে l তবে রান্না করছে বামন ঠাকুর l ভয় নেই l কই দাও বাসন l"

মোনালিসা কখন পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে, বলল  " সোনা তোমরা যাও আজ আমরা দুজনে ওখানেই বসে খাবো l"

---- সত্যি দিদিমনি? ওই পটকা চল দিদিমণিদের জন্য চেয়ারে টেবিল ব্যবস্থা করতে হবে l

হুস করে বেরিয়ে গেলো l মোনালিসা বলল " চল আমরা স্নান করে টিফিন করে যাই ওদের ওখানে আজ চেয়ারে নয় আজ মাটিতে ওদের সাথে খাবো l"

দুজনে তৈরী হয়ে এলো ওই মাঠে l সবাই কি খুশি l চেয়ার টেবিল এনে রেখেছিলো l মোনালিসা বলল " আমরা আজ তোমাদের সাথে মাটিতে বসে খাবো l চেয়ার টেবিল লাগবে না "l

ওরা অবাক দৃষ্টিতে দেখতে লাগলো l মোনালিসা বসে গেলো বস্তির মহিলাদের  সাথে তরকারি কাটতে l ওদের আনন্দ আর কে দেখে l অখিলেস বাচ্চাদের সাথে খেলতে লাগলো l

অবশেষে  মাটিতে বসে খেতে বসলো  ওদের সাথে l খেতে খেতে নিজের বারান্দার দিকে তাকিয়ে মোনালিসা আখিলস কে বলল  " দেখ দেখ ওই আমাদের স্বপ্নের ঘর  বাস্তবের মাটিতে নেমে এসেছে l আমি খুশি ভীষণ খুশি l"

অখিলেস মোনালিসার মুখে তাকিয়ে বলল " এতো স্বাদ এই খাবারে যেন অমৃত l ওই বারান্দায় অবসরে বসে এই বস্তির মানুষগুলো কখন যেন আপন হয়ে গেছে l


রচনা কাল :০৬-০২-২০২১


সুখ-দুঃখ-মঙ্গলের জন‍্য

কলমে - উদয় চাঁদ হাজরা


জ‍্যোৎস্নাকে ভালোবেসে

অন্ধকারকে,ঘৃণা

সুখকে,শুধু আদর করে

দুখ্কে করো হেলা।


ঐশ্বর্য্যকে আঁকড়ে ধরে

দারিদ্র্যেকে,দূরে

মনকে শেখাও,আগে থেকে

সহ‍্য করতে ঘরে।


বর্ষা,তুমি ভালোবাসো

বৃষ্টি পরার সুরে

গ্রীষ্ম,তুমি সরাও দূরে

দাবদাহে পুড়ে।


প্রেমের সঙ্গে, সাক্ষাৎ করো

যন্ত্রণাকে আড়াল

সকলকে করলে খুশি

ভালোর পাবে নাগাল।


আঘাতেতে,ঘরের নারীর

সদাই আঁখি ভাসে

পরকিয়ায়,মাত্ বে বলে

যাও,সবারই আগে।


সবকিছুকে, বাসলে ভালো

তবে বিধির মন

কৃপার ধারা,তোমার উপর

হবে যে বর্ষণ।


তাং---১৭ই পৌষ '১৪২৭(ইং-02.01.2021)


ফিরে এসো বোধ

- অসীম দাস 


জমে জমে কথা ভঙ্গুর হতে পারে 

তার আগে এসো বাতাসের কাছে যাই ,

বয়ে বয়ে শ্বাস আলো ও অন্ধকারে

মিলে মিশে হই অখন্ড শ্যাম রাই ।


বড় দূরত্ব বেড়েছে হৃদির মাঝে 

ফাঁকের ফাটলে বাসা বাঁধে সংশয় ,

পন্ডিত -মন সেজেছে যুদ্ধ সাজে 

সম্প্রীতি শুনে হেসে ওঠে নির্দয় !


ধর্মের কোনও নিরপেক্ষতা নেই 

একি ভয়ানক স্লোগানের মুখে আজ ,

বহুকোষী নেতা বহুত্ত্ব ভোলাবেই 

নকশীকাঁথা কি ভুলে যাবে কারুকাজ ?


ইতিহাস পোড়ে পূর্বের পরমাদে 

পন্ডিত পোড়ো একই ভুলে পরিবারে ?

তবে কেন ফেলো সাধারণে একই ফাঁদে 

খন্ডিত তুমি মানবিক অধিকারে !


লজ্জিত দেখে , বন্ধুরা ঘৃণা পোষে 

কথা চালাচালি বহুকাল ছিল বাকি ,

পঙক্তি পিঁড়িতে বসন্ত নির্ঘোষে 

ফিরে এসো বোধ , যৌবনে মিশে থাকি ।


একরাশ স্মৃতি পিছু পিছু

- কিরণময় নন্দী


কেমন আছো তুমি

সেই আগের মতো মাথা গরম

হঠাৎ করে আপন করে

ভোল বদলে ভীষণ নরম?


আজ প্রায় তেরো বছর পর

তুমি আজ অন্য ঘরে

আমি সেই ব্যাতিক্রমী

তবু আজও তোমায় মনে পড়ে।


কেমন আছো তুমি অপরাজিতা

আজও কি প্রিয় নীল শাড়ি 

দূরের আকাশ আজও কি ডাকে তোমায়

মেঘ আকাশের সাথে আজও কি তোমার আড়ি?


হয়তো বদলে গেছো সময় স্রোতে

বদলে গেছো সংসারের চাপে

আমি সেই আগের মতোই ব্যর্থ প্রেমিক

দু-কলম লিখেই দিন কাটে।


জানো,তুমি সেই যে গেলে বেনারসী সাজে

বামুন-পাড়ার লাল মোরামের পথে

সেই শেষবার লুকিয়ে তোমায় দেখা

এখন স্বপ্নে দেখি তোমায় প্রতিরাতে।


জানো তো অপরাজিতা

সেই চাকরিটা হয়নি আমার

পঞ্চাশ হাজার চেয়েছিলো ওরা

তুমি তো জানো,কানাকড়ি ছিল না দেবার।


মনে আছে তোমার বাউনদের সুজয়কে

স্নাতকে কোনো মতে পাশ

বাবার ছিল অনেক টাকা

সুজয়েরা যুগেযুগে বাজিমাত।


এখন আর শরীর ভালো নেই

চশমাতেও বেশ ঝাপসা

ডাক্তারবাবুর কথায় রেটিনা গেছে শুকিয়ে

অধরা রয়ে যাবে নীল অপরাজিতা দেখা।


রক্ত এখন ভীষণ মিষ্টি

মেজাজ তিক্ত ব্যস্ত-অনুপাতে 

সুখস্মৃতির ওই পাঁচটি বছর

জাবর কাটি প্রতি রাতে।


মিহিরকে মনে আছে তোমার

ভীষণ ভালো ফুটবলার

বছর দুয়েক হলো দুনিয়া ছেড়েছে

সংসারের চাপে সরাসরি হার।


তোমার সই আলোকলতা সেন

এখন সাদা থানে বিধবার সাজে

রাজনীতির বলি ওর স্বামী

সাত বছরের মেয়ে নিয়ে ও রোজ কাঁদে।


তোমায় পাইনি কাছে নিজের করে

হারিয়েছি আরও কত কিছু

শুধু বাগানের কোনে রয়ে গেছে নীল অপরাজিতা

আর একরাশ স্মৃতি পিছু পিছু।


বিনম্র জয়ের বিগলিত বর্ষা নামে

- অসীম দাস 


সুদীর্ঘ দিনলিপির অবিচ্ছিন্ন ভীড়ে 

শুয়ে আছে অশোধিত দৃশ্য মিছিল ।

আমি শুধু মৌলিক মন্থনের কালরুদ্র কোলে 

সুতীব্র হিম হলাহল জমা রেখে ,

নবনী পরিধি নীড়ে তা তা থৈ থিতু হতে চাই ।


উঠি উঠি সূর্যের চনমনে তাড়া খেয়েও 

আমার বৈষয়িক সম্বিত ফেরে না !

ডুবু ডুবু বিকেলের শেষ প্রচ্ছায়া 

পড়ন্ত পিঠ ছুঁয়ে বলে যায় 

-- ফিরে যাও থোড় বড়ি নামতা জঠরে ।

তবুও এক অজানিত দোলক- দোটানায় 

দুলতে দুলতে উত্থিত উলের ধৈর্য নিয়ে 

ক্রমাগত বুনে চলি ঝলমলে স্মৃতির ঝালর  ।


অনিন্দিত ঝালরের প্রতিটি প্রান্তদেশে 

অদম্য শব্দ ঝোলাই -- 

অতীত পরাজয়ই শেষ কথা নয় ,

বিনম্র জয়ের বিগলিত বর্ষা নামে 

অতঃপর পত পত মানবের সবুজ বিমানে !


ফিকে সব ফিকে
কলমে - দীপঙ্কর সেনগুপ্ত

তুমি শুনেছো কি আমার সেই গান?
তুমি কি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছো!
না না কোনোটাই যে মিথ্যে নয় প্রমান
মৃত্যুই যদি হবে প্রমান হৃদয়  ছুঁয়েছো!
সেদিনের প্রথম চাউনির প্রথম প্রেম
কত অনুভূতি আর স্বপ্নের জাল বোনা
প্রথম  হাতে হাত রেখে রোমাঞ্চকর প্রেম
প্রথম তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে ফেলা l
আষ্টে  প্রিষ্টে  যেদিন জড়িয়ে উন্মাদ হলে
পৃথিবীতে যেদিন হলে আমার হৃদয় রানী
ভুলে গেলে এক লহমায় এতোই রুষ্ট হলে
ঝেড়ে ফাকে দিলে আগামী দিনের কলী?
ফিরেও দেখলে না একবার আমার দিকে
বললে না কোনো কথা শুধু অর্বাচীন আমি
অনন্যা অপরূপা শেষে হলে অচিন ফিকে
দৃষ্টি খোঁজে তোমায় জানে শুধু অন্তর্যামী l
প্রতিরাতে বিনীদ্র রজনী নয়ন জলে ভাসে
দেখি তুমি বেশ আছো ওপরের যে অঙ্কিনী
তোমার গন্ধ মিটে যায়নি ফিরে ফিরে আসে
কথা যদি বলি হও  তবে যে তুমি হও রনচন্ডীl
ভেবে দেখো দেখা হবে দুজনে শব পাশাপাশি
মুচকি হেসে সেদিন বলব আজও ভালোবাসি l

রচনা কাল :০২-০২-২০২১


Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget