জানুয়ারী 2021


খুঁজে ফিরি
- বুলু পাল

তুমি মাগো চলে গেলে সবারে ছেড়ে,
আমি একা বসে আছি মরমে মরে।
দশমাস দশদিন গর্ভে ধরে,
রেখেছিলে তুমি মাগো কষ্ট করে।
বুকের সুধা দিয়ে মেটাতে খুদা,
নিজে না খেয়ে মাগো খাওয়াতে সদা।
চলার পথের দিশা তুমি দেখাতে,
ভুল ঠিক যা কিছু তুমি বোঝাতে।
বন্ধু তুমি সখা তুমি, তুমিই সবার সব,
রক্তের জোরে ভুলে যাই তুমিই গৌরব।
কত রাত কেটেছে মা না ঘুমিয়ে,
আমার মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে।
সন্তানের মুখ চেয়ে ভুলেছো ব‍্যাথা,
শুনিয়েছো তুমি কত গল্প গাঁথা।
কথা বলানো থেকে চলার নিয়ম,
দুঃখকষ্টের কেবল মাত্র তুমি উপশম।
স্বর্ণ যদি ছিল মাগো ছিল তোমার কোল,
ছায়া দিয়েছিল মাগো তোমারই আঁচল।
উৎসাহ তুমি ছিলে, ছিলে প্রেরণা,
সংসার সন্তানই ছিল, শুধু ভাবনা।
বুঝবেনা কেউ মাগো বুকের এ ব‍্যাথা,
শুনবেনা কেউ মাগো, মনের এই কথা।
যেখানেই থাকো মাগো ভালো থেকো,
অধম এই সন্তানে মনে রেখো।

২৯/০১/২০২১



নিয়ম মেনে,প্রকৃতির গতি

কলমে - উদয় চাঁদ হাজরা


চিরন্তন প্রেম,মানুষের মনে

সাগরেতে থাকে ঢেউ

শৌখিনতায়,ডুবে থাকে ধনী

কুকুরেরা ডাকে ঘেউ।


শুকনো পাতা,বৃক্ষ হতে

এমনি পড়ে খসে

কবির মাথায়,ভাবনা জাগে

ঘরে বসে বসে।


মেঘ জমে,বৃষ্টি নামে

মাটি হয় ঋতুমতী

চাষীরা তখন,চাষের কাজে

মহানন্দে,হয় ব্রতী।


নদীর বুকে, জলের ধারা

এমনি আসে নেমে

তখন নদীর ধারে পাশে

থাকে না কেউ থেমে।


হিংস্র যত,নামধারী পশু

এক অরণ‍্যে থাকে

তবুও তারা,নিরীহ প্রাণীদের

খাদ‍্য শৃঙ্খলে রাখে।


তাং---২২শে পৌষ '১৪২৭(ইং-07.01.2021)

 


বিধবা

- প্রদীপ দে


রিক্তা বয়ে চলে একা একটি খেয়ায়। নিজেই দাঁড় টানে। এ টানা সে শিখিয়েছিল যে সে আজ বহুদূর এক অনন্ত টানে। রিক্তা সদ্য বিধবা। বয়সে খুব অল্প মাত্র ৩২ বছর। তার মধ্যেই তার জীবন শেষ। যদিও সবাই বলছে তাকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। কারণ। জীবন কারোর জন্য থেমে থাকে না। সে একাই আপন বৃত্তের মধ্যে ঘুরবে। পৃথিবী যেমন ভাবে ঘুরে চলে।


ভালোবেসে বিয়ে। বড় ভালো মানুষ ছিল সুহৃদ। একেবারেই মনের মানুষ। বড় ভালোবাসা ছিল দুজনের মধ্যে। রিক্তা কে সে সাইকেল থেকে গাড়ি চালানো শিখিয়েছিল নিজের হাতে ধরে। বন্দুক চালানো, পাহাড়ে চড়া সব কিছুই। একেবারে সাবলম্বী করে দিয়েছিল সে। এই খেয়া চালানো তারই কৃতিত্বের। সব শেষ হল।

বিয়ে হল। সানাই থেমে গেল হঠাৎই। হয়তো আনন্দে নয়তো উত্তেজনায় সুহৃদের জীবন সানাই থেমে গেল হার্ট এট্যাকে। আবার সেটা কবে?

একেবারে ফুলশয্যার রাতেই। মধুর মিলনে খেদ পড়ে গেল।


রিক্তা ঘুরে দাঁড়ানোর পথই বেছে নিল। সমাজ প্রতিবেশী এবং অল্পসংখ্যক আত্মীয়দের গ্লানি অতিক্রম করে কিছু ভালো মানুষের আহবানে সে সাড়া দিতেই জেগে উঠতে মনুস্থির করে ফেললো।


একটি বেসরকারি বয়স্ক নারী বিদ্যালয়ে সামান্য বেতনের একটি চাকরিতে রাজি হয়ে গেল।

এযেন সুহৃদেরই আর এক ইচ্ছা!


আমার দেশ

- বুলু পাল


ভারতবর্ষে জন্ম আমার

আমি ভারতবাসী।

সুজলা সুফলা শষ‍্যশ‍্যামলা

দেশকে ভালবাসি।

সাভারকরের দেশ আমাদের

নেতাজীর ছিল প্রান,

ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে ওঠা

ক্ষুদিরামের গান।

কতশত প্রান বলিদান দিয়ে

এসেছে স্বাধীনতা,

হিন্দু মুসলিম শিক ঈসাইয়ের

সত্য গল্প গাঁথা।

কালাপানিতে কারাবাস আর,

রক্তক্ষরণের কাহিনী,

ইতিহাস পড়ে সকল কথা

জেনেছি তুমি আমি।

আত্মত্যাগ দেশের জন্য,

দেশকে ভালোবেসে,

বন্দেমাতরম গানের স্রোতে

চলেছিল সব ভেসে।

আন্দোলনে সামিল সবাই,

দেশের জন্য সংগ্ৰাম,

ভারতমাতার পায়ের বেড়ি

পাষান ভেদির গান।

নতজানু তাদের প্রতি,

সশ্রদ্ধ প্রণাম,

চিরস্মরণীয় থাকবে তারা

হৃদয়ে থাকবে নাম।


তারিখঃ২৬/০১/২০২১


আজানুলম্বিত হও আজানুলম্বিত

- অসীম দাস 


আসছে কমে প্রীতির ক্ষিদে 

ফিরছে না সম্বিতও ,

ফিরিয়ে এনে ব্যাপ্ত করো 

আজানুলম্বিত ।


যাচ্ছে বেড়ে দূরত্ব ফাঁক

হচ্ছে না বিম্বিত ,

পা বাড়ালেই পড়শীনগর 

আজানুলম্বিত ।


স্রোতের মিছিল পরস্পরে

আনন্দে ছন্দিত ,

বামন হৃদি দৈর্ঘ্যে বাড়াও 

আজানুলম্বিত ।


বহুকোষীর আত্মঘাতে 

অ্যামিবা স্তম্ভিত ,

জড়িয়ে জড়াও কোষের বাঁধন 

আজানুলম্বিত ।


বীজের ভিতর বৃক্ষ ছায়া 

সৃজণে নন্দিত ,

বিশ্বাসী বুক ফুটুক ফুলে 

আজানুলম্বিত ।


কুঁকড়ে থাকার কষ্ট বড় 

অখন্ড খন্ডিত ,

আজানুলম্বিত হও 

আজানুলম্বিত !


লগ্নভ্রষ্টা
কলমে - শ্রীকন্যা সেনগুপ্ত

কপালে সাদা চন্দনের ফোঁটা, লাল টিপ,
দুচোখে কালো কাজলের মোহময়ী টান,
ঠোঁটে গাঢ় লালের আলতো ছোঁয়া,
খোঁপায় জুঁই ফুলের মালা জড়ানো,
সারা গায়ে ফুলের সাজের গয়না,
পরনে লালরঙা বেনারসী শাড়ী,
তার আঁচল ধূলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে,
সারা শরীর জুড়ে মিষ্টি সুগন্ধির ঘ্রাণ,
তোমাকে আমার করে পাওয়ার অছিলায়,
আজ আমি বধূবেশে সেজেছি....
দেখো তো, আমাকে কেমন লাগছে?
কত পরপুরুষ ছুঁয়েছে আমায়!!
মনটা শুধু ছুঁতে পারেনি কেউই...
কিন্তু তুমি যেদিন এসে ছুঁয়েছিলে,
আমার এই এঁটো শরীরটাকে,
মনে হয়েছিল আমি পবিত্র হলাম!!!
স্বপ্ন ছিল কারুর ঘরণী হবো,
সুখ-দুঃখ সব ভাগ করে নেবো।
এই পেলব মনের পরতে পরতে,
ভালোবাসার ছোট্ট একটা বাসা হবে....
ভেবেছিলাম, সুখী হয়ে বাঁচব আজীবন।
কিন্তু স্বপ্ন যে সত্যি হয় না কখনো!!
কিংবা হয়তো সত্যি হয়....!!
আমি তো দেখিনি কখনো....
আমি শুধু দেখেছি তোমায়,
কল্পনায় ভেবেছি তোমায়, 
আমার একাকিত্বে খুঁজেছি তোমায়,
ভালোবাসাটুকু দিয়েছি উজাড় করে,
পড়তে চেয়েছি তোমার দুচোখ,
পড়েওছি অনেকবার তোমার অজান্তে,
সে চোখে ভালোবাসা ছিল আমি জানি....
তোমার নিঃশ্বাসটুকুও যে আমার চেনা!!!
তোমার কন্ঠস্বর, তোমার মুখ,
তোমার উষ্ণতা ভরা সোহাগ,
তোমার শরীরের স্পর্শ, গন্ধ,
সবকিছু নিয়েছি আজ আঁচলে বেঁধে....
আজ আমায় যেতেই হবে তোমার কাছে!!
আজ আর কোনো দূরত্ব থাকবে না,
সমাজের কোনো বাধা থাকবে না,
কোনো মিথ্যে অবগুণ্ঠন থাকবে না,
সব কলঙ্ক মুছে যাবে আজ, দেখো!!! 
আজ আমি বধূবেশে সেজেছি,
শুধু তোমার জন্য....
দাঁড়িয়ে আছি অনেক অনেক উঁচুতে, 
একটা উঁচু ছাদের একেবারে কিনারায়।
উপর থেকে মানুষগুলোকে পিঁপড়ের মত লাগছে।
একা একা কিসব যেন শুধু ভেবে চলেছি,
কত স্মৃতি, কত কথা, কত সুখের মুহূর্ত,
কত আনন্দের সময় তোমার সাথে, একসাথে....
আর একটু পরেই সূর্যাস্ত হবে।
আকাশের দিকে তাকিয়ে তোমায় দেখলাম!!
তোমার সাথে শুভদৃষ্টিটা হয়ে গেছে তখনি....
ইস্! পানপাতায় মুখটা আর ঢাকা হলোনা তো!
গোলাপ আর রজনীগন্ধার মালা সঙ্গে আছে,
তোমার সাথে মালাবদলটা যে সারতে হবে,
অগ্নিসাক্ষী করে সাত পাকে বাঁধা পড়বো আজ।
নাহ্! আর দেরী করা যাবে না!!
হাতে আর একটুও সময় নেই....
পশ্চিমের মেঘ আকাশে আবির রাঙিয়েছে।
জানান দিচ্ছে - বহু প্রতীক্ষিত সেই ক্ষণের।
গুটি গুটি পায়ে শুভলগ্ন এবার আসন্ন।
অপেক্ষা শুধু তোমার হাতে সিঁদুর পড়ার....
আজ আমায় তুমি ফিরিয়ে দিও না!!
তোমার কাছে যেতেই হবে আজ।
হাতটা বাড়াও, আমি ঠিক নাগাল পাবো।
চেয়ে দেখো, আমি আসছি তোমার কাছে।
আজ সব যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি পাবো,
মনটা যেন হঠাৎ খুব হালকা লাগছে,
শরীরটাকেও হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলাম,
দেখো, আমাকে আর কেউ ছুঁতে পারবে না!!
এই অধিকার আর কারুর নয় তো!!
আমার যা কিছু সব শুধুই তোমার হবে....
আজ আমাদের মধুর মিলন হবে,
আজ স্বপ্নটা বোধহয় সত্যি হবে!!
আমি লগ্নভ্রষ্টা হবো না আর কোনোদিন.....

@মনভোমরা


নেতাজী স্মরণে

কলমে - উদয় চাঁদ হাজরা


গর্বে মোদের ভরে ওঠে বুক,ভারত নেতাজীর দেশ

শত্রু,হিংসা ছিল না কখনো,ছিলো না ভয়ের লেশ।


শিকড়গুলো মাটির ভিতরে,চলে গেছে বহুদূরে

তবুও তো দেখতে তোমায়,পাই নাকো আর ফিরে।


স্বপ্নগুলো উঠতো জেগে,তোমার  স্নেহ স্পর্শে

এখন দেখি বিভীষিকা, বিবেক মরেছে ধ্বংসে।


লেহ‍্য ন‍্যায়ের দাবীদার হয়ে,দেখানো তোমার পথ

সে পথ আজ ধ্বংসের মুখে,শেষ হয়েছে শপথ।


সুখীরাই শুধু সুখ ভোগ করে,অভুক্তরা  মরে দুখে

অন‍্যায় এখন,ন‍্যায়ের পথ,নেতারা খাচ্ছে লুটে।


সারা ভারতের শীর্ষ কাণ্ডারী, হে-মহামানব নেতাজী

তোমার স্মরণে বিবেকহীনরা,যদি বিবেক পেতে হয় রাজী।


স্বাধীনতা আজ ভূ-লুণ্ঠিত, সন্ত্রাস-খুন-জখম

সম্মুখে যদি থাকতে মহামানব, দেখতো তোমার বেশ।


আজি ভারতের কোণায় কোণায়, ধুঁকছে মানুষ ত্রাসে

তোমার অতীত স্মরণ করলে,সময়-টা বয় হেসে।


তাং---৯ই মাঘ '১৪২৭(23.01.2021)


আমি প্রতিবাদী কৃষ্ণকলি

- কিরণময় নন্দী


আমি কৃষ্ণকলি নয় অন্ধগলি

মাথা উঁচু করে প্রতিবাদ

আমার চোখে পুরুষ মানে

স্বপ্ন দেখা নারীর হঠাৎ আর্তনাদ।


ওই যে পাশের পাড়ার বকুল বৌদি

সারাদিন সংসারে কঠিন পরিশ্রম

দিনের শেষে মদিরা আবেশে

স্বামীর অত্যাচার, বৌদির সেকি সংযম।


মাতাল স্বামীর মার, ছেলেমেয়ে চার

ছোটটা বুকের দুধ খায়

পুরুষের কিবা পাপ,প্রতিবেশী চুপচাপ

বকুল বৌদি ভীষণ অসহায়।


আমি কৃষ্ণকলি,সোজা কথা সোজা বলি

মাথা উঁচু করে প্রতিবাদ

বকুল বৌদি কয়, তুমি বোন বাড়ি যাও

মাতালের সেকি তাণ্ডব।


সেদিন ভোরে দেখি উঠে

সারা গাঁ বকুল বাড়ির দিকে

লেলিহান আগুনে পুড়ে ছাই

বৌদির শান্তি মাঘের কঠিন শীতে।


আমি কৃষ্ণকলি, ঘৃণায় অশ্রু ফেলি

প্রতিদিন কেন মরবে বকুল বৌদিরা

এই সমাজ, এতো নীরব আজ

লাঞ্ছিত শুধু নারীরা।


আজ মনে পড়ে বান্ধবী শিউলির কথা

হাসিখুশি ছটপটে সারাদিন

বয়ঃসন্ধি শেষে,চুপিচুপি ভালোবেসে

মনে স্বপ্ন তার ভীষণ রঙ্গীন।


সেই তো পনেরোর কিশোরী

বোঝে নি ভালোবাসা কারে কয়

একদিন পাটক্ষেতে নগ্ন দেহ তার

ভালোবেসে কি পরিণতি হয়!


আমি কৃষ্ণকলি, চিৎকার করে বলি

সজল দা সব জানে

কাল বিকেলে ওরা শহরে গিয়েছিলো

টিফিন বেলায় শিউলি বলেছিলো আমার কানে।


কেউ দেয়নি আমার কথার দাম

বকুল বৌদির মতো শিউলি পায়নি বিচার

মেয়েদের জীবনে বারেবারে পরাজয়

তবুও নির্বাক সমাজ, ঘটছে অনাচার।


আমি কৃষ্ণকলি,নিজেই আজ অন্ধগলি

মুখ ঢাকা সাদা চাদরে

দিইনি সারা মেকি ভালোবাসায় 

লাশঘরে পড়ে আছি অনাদরে।


বন্দীদশা

কলমে - শ্রীকন্যা সেনগুপ্ত


চারিদিকে উঁচু উঁচু লোহার পাঁচিল,

রেলিং এর ফাঁকে দৃষ্টি আটকে যায়।

কখনো বা উঁচু কংক্রিটের দেওয়াল,

যেন নিঃশ্বাসটুকুও নেওয়া বড় দায়...


যেদিকে দুচোখ যায় শুধু "আম জনতা",

সেই ভিড়ে তোমার আর আমার চোখ,

একে অন্যকে খুঁজে চলেছে প্রাণপণে,

মনে মনে প্রার্থনা - এই বিরহ সাঙ্গ হোক!!


তুমি আর আমি আজ সত্যিই দিশাহারা,

এ অবাঞ্ছিত দূরত্ব অসহ্য লাগছে ভীষণ!!

শুধু একটু ছুঁয়ে দেখার অবাধ্য অজুহাত,

চোখের ক্ষিদেতে মনটা ভরা যে বারণ...


চারিদিকে শুধু নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল,

সে বেড়াজালে ভালোবাসাও যেন বন্দী!!

এত কাছে এসেও কি দেখা হবে না আজ?

সময় আর ভাগ্যের এ কেমনতর ফন্দি?


মুঠোফোনে শুধু একরাশ উৎকন্ঠার প্রহর,

অবশেষে চার চোখ মিললো এক নিশানায়,

তবুও বন্দীদশাটা আর ঘুচলো না কিছুতেই,

ভালোবেসেও বুঝি ঘোর আসামী হওয়া যায়!!!


সন্দিগ্ধ চোখের মিছিল শুধু আমাদের দিকে, 

এপার ওপার থেকে চিন্তার বিনিময়, আবেগ,

এই বিভেদের প্রাচীর ভাঙ্গার এক্তিয়ার নেই,

সিক্ত দুচোখ, মন জুড়ে আজ বিষাদঘন মেঘ।


যেতে হবে তবু কেন যাবো? ভাবছে শুধু মন।

তোমার আমার এই বিরহ শেষ হওয়ার নয়।

তোমার মনের ঘরে আছি আর থাকবো জানি,

ভালোবাসায় এই কথাটুকুও কম তো নয়!!


হাতে হাত রাখা, উষ্ণতার আবেশ মাখা,

মনের ইচ্ছেগুলো পূর্ণ হলো না যে আজ।

না চাইতেও ঘরে ফিরে এলাম শূন্য হাতে,

হৃদয় জুড়ে শুধু অপূর্ণ ইচ্ছেদের কোলাজ...


এই বন্দীদশা ঠিকই ঘুচে যাবে - তুমি দেখো!!

আবার দেখা হবে একদিন নিভৃতে, গোপনে,

সেদিন মিলিয়ে নেবো সব না-পাওয়ার হিসেব, 

সব অভিমান গলে যাবে সেই উষ্ণতার ক্ষণে....


@মনভোমরা


তোমার কথা ভেবেছি

কলমে - শ্রীকন্যা সেনগুপ্ত


আমি ঘুমের সাথে করেছি আজ আড়ি,

তোমার কথা, শুধুই তোমার কথা ভেবেছি...

কখনো মেঘ জমা অভিমানের বাড়াবাড়ি,

কখনো বৃষ্টি হয়ে অঝোর ধারায় ঝরেছি!!


জানি, দূরত্ব একরকম থাকেনা চিরকাল,

বাড়ে অথবা কমে, পরিস্থিতিটা হয় যেমন,

তবুও মনের ঘরের আবহাওয়াটা বেসামাল,

তোমায় কাছে না পেয়ে ভীষণ মনকেমন...


আবেগের ধারাপাতে শব্দের খুব আকাল,

চোখ পড়ে বুঝে নেওয়া সহজ বোধহয়!!

বিরহে মনের ছত্রে ছত্রের অবস্থা বেহাল,

প্রেমে পড়া সহজ, বয়ে বেড়ানো সহজ নয়... 


আমি উজান স্রোতে দিয়েছি সাগর পাড়ি,

তোমার সাথে কত স্বপ্নের ঘর বেঁধেছি!!

আমি ঘুমের সাথে করেছি আজ আড়ি,

তোমার কথা, শুধুই তোমার কথা ভেবেছি...


@মনভোমরা

 


একটুই হোক বিদায়ের আগে

- রোজী নাথ



ছেলেটি কাছে ছুঁয়ে থাকার কথাই বলেছিল, তবে কেন উড়ো পাখির মতো সুদূর মেখে চলে গেল?


আজ সকল কথারাই শীতের শেষের ঝরাপাতা।


বিবর্ণতায় মলিন চারপাশে পুরোনো প্রতিশ্রুতি প্রতিধ্বনিত হয়।


কোথাও কেউ হাত ধরে নেই , শুধু একটা প্রশ্নের‌ই আসা-যাওয়া ,' তবে কি সে মিথ্যেবাদী প্রবঞ্চক ছিল?"


হয়তো সে অন্য কোনো মনের গলিতে আলোপথ রচনা করে নিয়েছে।


ভীষন রকম সুখে কিংবা কারো হৃদয়ের বাহির ঘরেই থাকুক না কেনো, সে আমার ভিতর ঘরের‌ই বিগ্রহ ।


কত বসন্তপথ পেরিয়েও সে আমার ঝরা সন্ধ্যার ধ্রুবতারা; বার বার অনুভবে খুঁজে পাওয়া প্রিয় প্রান্তর।


সকল সুদুরতার সীমানা পেরিয়ে সে আবারও ফিরে আসুক আমার এই শেষ বেলার বালিয়াড়িতে ; আমার চিরবিদায়ের পথে শেষ স্পর্শটা এঁকে দিতে।


সত্য ক্ষণের হয় না মরণ

- অসীম দাস 


আজ যা পেলাম কালকে পাব ? থাক অজানা ,

ফিরতে পারি যে দিন গেল সেই ঠিকানায়? 

বৃষ্টি বাদল হতেই পারে মেঘ জমেছে 

সত্য এ ক্ষণ স্নিগ্ধ থেকো বৃষ্টি কণায় ।


বাড়ছে স্মৃতি দুঃখ শোকের যোগ বিয়োগে

শুকনো ডোবায় ভাসছে আষাঢ় শালুকপাতায় ,

ঝড় থেমে যায় একটু প্রীতির গন্ধ পেলে 

চোখের গ্রহণ দিব্যি ছাড়ে সিন্ধুনদের নির্জনতায় !


জমাট আসর গায় দু'কলি রেওয়াজ-হারা 

মনের মতন মন ছড়িয়ে পা বাড়ালেই ,

বৃথায় খোঁজা নীল যমুনায় বাঁশিওয়ালা 

সত্য ক্ষণের হয় না মরণ অতীত হলেই ।


সদ্য শোকের নিথর স্মৃতি কাল কমে যায় 

মহান সময় দেন মুছিয়ে আঁখির বিষাদ ,

এক বিকেলে হঠাৎ দেখি ডাকছে ডানা 

সর্বনাশী জীবন আহা বাঁচতে কি স্বাদ !

 


জীবন

- মহম্মদ ওয়াশিম


গ্রীষ্মের প্রখর তাপ পেরিয়ে

সুদূর প্রান্তরে দাড়িয়ে সূর্য !

কুয়াশার আড়ালে আসছে প্রভাত

লুকিয়ে দাড়িয়ে খেলছে খেলা,

সম্পর্ক যেনো কলা পাতার ভেলা !

মিছে মায়ায় কতই খেলা খেলি,

জীবন যেন মরুভূমির ভেজা বালি ।


শতদল

কলমে - সুতপা ব্যানার্জ্জী

দীঘির বুকে উঠলো ফুটে
       ছোট্টশতদল,
ভোরের বাতাস দোলা লাগায়
     নিবিড় কালো জল,
  পাপড়ি গুলি থরে থরে ,
   ছড়ালো হাসি দিগন্তরে,
   কোথা হতে আসে ভ্রমর
         দীঘির শতদলে,
গান গেয়ে  ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে
     তারা ফুল মাঝে  ,    
পরস্পরে শতদলে লুকোচুরি খেলে,
    দক্ষিণা বাতাস বইছে ধীরে ,
         আমার ভোলা প্রাণে ।

তারিখ -10.1.2021


জোনাকি

কলমে - ঝুমা মল্লিক


দুচোখ জুড়ে অন্ধকার ।

অন্ধকার আরো অন্ধকার হয় যখন।

দেখবে এক জোনাকি আসবে তখন।

তোমার বুক কিংবা ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে,

ক্ষত জায়গা জমিতে আলো ছড়িয়ে দিয়েছে।

শীতনিদ্রা এলে বরং ঘুমিয়ে থাকাই ভালো।

কালো রাতে দিয়েছে আলো,শুধু  আলো।

এই রাতে ভুল করে ওকে বন্দী করোনা।

ওকে দূরে  রেখো না।জড়িয়ে ধরো না।


জোনাকি থাকবে সুখে,জ্বলবে তোমার দুঃখে।

 কালোরাতে তাকে যদি একটু ভালোবাসো।

তবে আলো তোমার সুখের বাসায়।

যারা অন্ধকার দিয়েছিল ঢেলে।

তারা একমুঠো জোনাকি পেলে।

ভুলে যাবে শেষের ঠিকানা।


তাই চুপ করে থাকো।চুপ করে থাকো যদি।

তবে তোমায় ভালোবাসি।ভালোবাসি।

ক্ষুদ্র বুকে কতো সুখ স্বপ্ন দেখেছি।

অন্ধকারে আলোক বিন্দু খুঁজেছি।


৮।১।২০২১


আকাঙ্খা

কলমে - জয়া গোস্বামী

এক ফালি চাঁদ আকাশে আজ উদ্ভাসিত,
প্রথম দেখার মূহুর্ত আজ আগত....
অনেক আকাঙ্খিত বাসনা আজ পূর্ণ হবে....
গ্রহণ গিয়েছে আজ সরে, রাহুগ্রাস করেনি চন্দ্রিমাকে আজ,
অপলক দৃষ্টি দিয়ে দেখবে আজ সকলে!
মোহিত হবে প্রিয়তম  প্রথম তার প্রিয়াকে দেখে,
রুদ্ধশ্বাস কেবলই আজ পড়ে বিলম্ব আর না সয়
আদম স্পৃহা আজ পেয়ে বসেছে!
প্রিয়ার কোমল হৃদয় জলের মত টল মল করে,
নীরব আকাঙ্খা কেবলই ভালোবাসার অঙ্গীকার করে।
বেলা ওঠা প্রত্যক্ষ করে পাশে অনতিদূরে প্রিয়াও
এসে অপেক্ষায় থাকে.....
সকালের আকাশে তখনও একফালি চন্দ্রিমা হাসে
জ্যোৎছনার ক্ষীণ আলোটুকু সূর্য দেবের আতিথ্য নিজেকে উৎসর্গ করে আজিকে।
অনন্তে দাঁড়িয়ে আমাদের ভালোবাসার সন্মান জানাবে  সব ভেদা ভেদভুলে...
আগামী সন্ধ্যার গোধূলিতে সে আবার আসবে আলোকোজ্জ্বল হয়ে আকাশে উদিত হবে।
অন্ততপ্রেম নিরবে অপেক্ষার প্রহর গুনবে
আসবে সব বাঁধা ফেলে প্রিয়তম তার প্রিয়ার কাছে
একটি সুন্দর আগামীদিনে ডুবে যাবো দুজনে।
এক সুন্দর অবগাহন একটি নূতন কাব্য গ্রন্থ রচনা হবে।

১১/০১/২০২১


মারীচ অতঃপর

- অসীম দাস


শামুক খোলায় কাটছে হৃদয় 

অপাপবিদ্ধ নই ,

খুঁজছি সুধার অমল প্রীতি 

কোথায় আছো সই !


খুঁজতে খুঁজতে কমতে থাকে 

সাঁকোর শ্বাসে বায়ু ,

একটি জীবন যথেষ্ট নয় 

কৃপণ পরমায়ু ।


পেতে পেতেই হয় পুরাতন 

আনন্দ উচ্ছ্বাস ,

নতুন চাওয়ার অভীপ্সাতে

পুড়ছি বারোমাস ।


জানতে জানতে জানতে পারি 

অজানা বিস্তর ,

অধরা সুখ খাচ্ছে গিলে 

মারীচ অতঃপর !


আমার কবিতা

- উদয় চাঁদ হাজরা


আমার কবিতা, অনাদরে মরে

স্নেহ নেইকো সেথায়

অবহেলায় তার হৃদয় অসাড়

শবে-রা রয়েছে যেথায়।


আমার কবিতা, ডুক্ রে কাঁদে

পায় না যোগ‍্য স্থান

বদ্ধ ডাঙ্গায় আছাড় খেয়ে

ভাঙে তার অভিমান।


আমার কবিতা, ব‍্যথায় স্থবির

আঁখি ভরে আসে জল

শীর্ণ দেহ,উদার অন্তর

মনে তার নেই খল।


আমার কবিতা, হৃদয়হীন

স্পর্শে,তাই মনে হয়

সঠিক যাচাইয়ে,পাঠকের মন

হবে-ই  হবে জয়।


আমার কবিতা, নীরবে নিভৃতে

চিৎকার করে,রবে

অন‍্যায় যখন শীর্ষে ওঠে

সোচ্চার হয় সবে।


তাং---২১শে পৌষ '১৪২৭(ইং-06.01.2021)


কুশায়া ঘেরা

- কিরণময় নন্দী


মাতৃজঠরে তখন নবম মাস

বাঙালি লোকাচারে "ইচ্ছেপূরণ"

সেদিনও মায়ের কোলে বসলো পাশের বাড়ির ছেলে-শিশু

কন্যা সন্তানের নেই প্রয়োজন।


না, ভ্রূণ নিরীক্ষণ করেনি কেউ

মনে সাধ ফুটফুটে পুত্র সন্তান

হাজার হাড় ভাঙা কষ্টে মায়ের মা হবার ইচ্ছে

একান্নবর্তী পরিবারে শুধু পুরুষের আবাহন।


সদ্যোজাত হয়ে মায়ের উষ্ণকোলে

সহজাত প্রতিবর্ত নিয়মে মাতৃদুগ্ধে চুমুক

একরাশ প্রত্যাশায় নীরব শীতলতা

এ যে মেয়ে, সবার খুশিহীন মুখ।


সময়ের স্রোতে কেটেছে সময়

দিন-মাস শেষে কেটেছে বছর

দ্বিতীয়বার মায়ের মাতৃত্বের সাধ

মায়ের কোলে আমার ভাই-খুশির সে কি বহর!


বয়ঃসন্ধি বুঝিয়ে দিয়েছিল আমি মেয়ে

আগামীর পথে নানা বাধা

ছন্দা গায়েন যতই উঠুক পাহাড় চূড়ায়

আজও মেয়ে মানে রাঁধা আর চুল বাঁধা।


টিভির পর্দায় দেখেছি অরুণিমার লড়াই

দেখেছি মহিলা রাষ্ট্রপতির ভাষণ

তবুও মাছের ছোটো টুকরো মায়ের জন্য

ঠাকুমার নির্দেশ মেয়েদের এটাই জীবনধারণ।


মা ভীষণ ভালো গান গাইতো

ছোটবেলায় শুনেছি কয়েক কলি

সময়ের স্রোতে সেও জলাঞ্জলি

সংসারের প্রতি মেয়েদের শখের বলি।


আমিও বুঝেছি কিছুকাল পর

উঁচু ক্লাসে ওঠা মানে বিয়ের কাছাকাছি

হঠাৎ করেই একদিন ঘরবদল

নতুন পরিবেশে কোনো এক অষ্টাদশী।


ইচ্ছে ছিলো পড়াশোনা করবো অনেকদূর

দাঁড়াবো নিজের পায়ে

মায়ের মতো বন্দী থাকবো না রান্নাঘরে

মেয়ে মানে শুধু থাকবে না অফিসমুখী স্বামীর পথ চেয়ে।


কিন্তু হায়! মেয়ে আমি নিরুপায়

শুধু শিখেছি মানিয়ে নিতে

উচ্চশিক্ষিত স্বামী- বড়ই অভিমানী

গররাজি আমায় চাকুরীরতা দেখে।


বাবার নিস্তব্ধতা,মায়ের নীরবে অশ্রুবিসর্জন

আশির ঠাকুমার সেই মেয়ের মানে বুঝিয়ে দেওয়া

আমার হৃদয়ে তখন অকাল কালবৈশাখী

একরাশ স্বপ্নের মৃত্যুদেশে পাড়ি দেওয়া।


আজও আমি স্বামীরঘরে একা

স্বামীহারা ঝাপসা স্মৃতি খুশি চশমা পড়ে

আমার খোকা বিদেশে থাকে

ফোনে বলে,"মা চলে এসো আমার ঘরে"।


মেয়ে আমি, আজও ঘর খুঁজে যাই

কোনটা আমার নিজের ঘর!

কুয়াশা ঢাকা "মেয়ে" জীবন

দাঁড়িপাল্লায় মাপা হয়,কে আপন কে পর!


মুজিব তোমার জন্য 

- জাকিরুল চৌধুরী 


মুজিব তোমার জন্য কাঁদে 

আদো দিন রজনী, 

তোমার জন্য কাঁদে বাংলা র 

শত মা জননী। 

তোমার কর্মের জন্য কাঁদে 

বাংলার ভাই বোন, 

গগন পবন কাঁদে যেন 

কান পেতে ঐ শোন। 

মুজিব তোমার কর্মে জন্য 

দিয়েছে বঙ্গবন্ধু খেতাব, 

হায়েনারা তোমায় হত্যা করে

দেখালো ভীষণ প্রতাব। 

হায়েনারা আজ কোথা 

নেইতো কারো মনে, 

তুমি আজ ঠিকই আছো

বাংলার জনগনে।

তোমার কর্ম দিয়েছে তোমায় 

হাজারো উপাধি, 

সেই জন্য মুজিব তোমায় 

করি শতো ভক্তি।


মমতার সান্নিধ্যে,2021

কলমে - উদয় চাঁদ হাজরা


ভালো থাকো,সবাই এখন

বিশ সাল,গেছে কেটে

নূতন বছর, শুরু আজি

বিষের কলস ফেটে।


আশা জাগে মনে,নূতন বার্তা

আসছে,শুভ নববর্ষে

পৃথিবী আবার, আগের মতো

প্রাণ ফিরে পাবে,হর্ষে।


আমরা সবাই, সুখ নিদ্রায়

মায়ের আঁচলে তলে

যেখানে থাকলে,আপদ-বিপদ

সবাই পালায়,ভয়ে।


গোটা পৃথিবীটা, দক্ দকে ঘায়ে

ভরেছিলো,বিশ সাল

সে ক্ষতের, নিরাময় লাগি

এসেছে একুশ, দিকপাল।


যার মমতায়, সমস্ত জীব

আনন্দ ফিরে পাবে

এই আশায়,সকল মানুষ

বুক বেঁধে, বসে আছে।


তাং---১৬ই পৌষ '১৪২৭(ইং-01.01.2021)

 


জেগে থাকে জ্যোৎস্নার ঘ্রাণ

- অসীম দাস 


তোমাকে দেখার পরে 

আর কবিতা লিখতে পারি না ।


কিভাবে শব্দের বীজ পুঁতলে 

তোমার ঝিলমিল হাসি 

ফুটে উঠবে রঙ্গন-ভোরে ,

ভাবতে ভাবতেই কলমের কালি শুকিয়ে যায় !

রিমঝিম রূপকথা বয়ে চলে 

মিশমিশে মেঘনার রাতে ,

এ পঙক্তি কখনও তোমার 

ঝিরিঝিরি কেশ-লতার উপমা হতে পারে ?

শুকতারা-চিবুকের কাছে 

যতই গঙ্গা- প্রদীপ তুলে ধরি না কেন 

তোমার চোখের তারার চিত্রকল্প হয় না ।

দীর্ঘদেহী চন্দনের অগুরু শাখায় 

জেগে আছে জ্যোৎস্নার ঘ্রাণ ,

সেকি তোমার সহাস্য প্রশ্বাস হতে পারে ?


তোমাকে সম্যক ধরার প্রচেষ্টায় 

মুহুর্মুহু শব্দ চয়নের পরিশ্রম ,

কেবলই ভস্ম হয় 

কবিতার বর্ম-হোমানলে !

 


শুভঙ্করের পাশে

- কিরণময় নন্দী


প্রায় এগারো বছর পর

সায়নী,তোর সাথে হঠাৎ দেখা

সবকিছুই এলোমেলো-ভাটার স্রোত

তুই ভীষণ শান্ত, শুভ্র শাড়ি পরিহিতা।


চশমা খুলে ঝাপসা অতীত

হলুদ ফ্রকে প্রথম দেখা মেলার মাঠে

কত দিন-কত মাস-পাঁচটা বছর ভীষণ কাছে

স্মৃতি আজও জাবর কাটে।


নীল শাড়িতে লুকিয়ে সিনেমা দেখা

নদীর পাড়ে অলস বিকেল, তোর লাল চুড়িদার

রঙ্গিন সাজে রঙ্গিন কত স্বপ্ন দেখা

তোর গলায় কমদামি ইমিটেশনের হার।


তোকে ভালোবাসি সায়নী

 মুখ ফুটে বলিনি তোকে

ছুটির দিনে তোকে একবার দেখবো বলে

ছুটে আসতাম ওই অশোক গাছের নীচে।


তোর সাথে কাটানো সময়

আজও উজ্জ্বল আমার স্মৃতিপটে

দুই উপত্যকার মাঝে গভীর গিরিখাত

দুই পথ বিভাজিত দুই মরীচিকা পথে।


আমার তখন ভীষণ চাপ

লক্ষ্য একটা ভালো পদে চাকরী

তুই তখন লাল বেনারসী, বউয়ের সাজ

বাবার ভার কমিয়ে সোজা শ্বশুরবাড়ি।


মাত্র উনিশ বছর, কত আর বয়স তোর

এই বয়েসেই শ্বশুরবাড়ি!

আমি তখন চব্বিশের বেকার যুবক

ভালোবাসার ছন্দপতন, বামদিক ভীষণ ভারি।


এই সায়নী বেকার জীবন ঘুচে গেছে

স্মৃতির ভিড়ে আজও তুই রঙ্গিন সাজে 

কি যে হলো তোর জীবনে

অশ্রু লুকিয়ে রাখিস সাদা শাড়ির ভাঁজে।


তোর শুভ সেই আগের মতোই

তোকেই শুধু ভালোবাসে

ভুলে যা ওই বেরঙ্গীন অতীত

চলে আয় এই শুভঙ্করের পাশে।

 


রোদ্দুর

- সুভদ্রা রায় 


নিজের নিজেকে দেখা  হয়নি কখনও আগে - 

  ভ্রমণ পিয়াসী মন আজ তোমার আঙিনা জুড়ে

    শিশির কনা হারিয়ে গেছে- পাই না খুঁজে আর

      ঝড়ের দাপটে ওলোটপালোট চারদিক একাকার! 


 দেখি সোনালী জড়ি আঁকা- তোমার আকাশ আলোয়

   নতুন করে লিখবো কবিতা ভাবি তোমার প্রেমের রংএ-

    যত অভিমান তোমাকে ঘিরে - হয়নি বলা আজও, 

      আকাশ জুড়ে বিরহ আজকে আঁকছে আবির সূর্য! 

    

 মুক্ত  আকাশ পানে রইল চিঠি  -  সাদা খামে মোড়া, 

   নাইবা হলো আজও তোমায় বলা যত পুরনো অভ্যেস - 

     নাহয় রইল গাঁথা এলোমেলো সব - হৃদয় বীনার তারে

      ফেলে রাখা- মেঘের ভাঁজে ভাঁজে অভিমানী রোদ্দুর!


৩০/০৩/২০২০


ষড়রিপুর বলি

কলমে - উদয় চাঁদ হাজরা

ভুলিয়ে দাও না,ষড়রিপু
দাও শুধু কামহীন দেহ
করে দাও না,রামকৃষ্ণ
মুক্ত করে,যাবতীয় মোহ।

নিষ্কাম প্রেম থাকবে শুধু
শরীর, দেহ-মনে
স্বার্থপর মানুষ জাতি সব
রবে পৃথিবীর সনে।

প্রেম শুধু নয়,শরীরের লাগি
ভালোবাসায় জীব সেবা
কামহীনতায় স্বৈরাচারীরা
বুঝবে মানুষ কে-বা।

ফসিল হয়ে,মানুষ রূপে
চাই না থাকতে বেঁচে
এই শ্বাসে,নেই কোনো স্বাদ
শবদেহ তা বোঝে।

প্রভু দয়াময়,এ জীবন যেন
সেবায় থাকে মাতি
বিনিময়ে যেন অসংখ‍্য মানুষের
হ ই দুঃখের সাথি।

তাং---২রা পৌষ '১৪২৭(ইং-18.12.2020)

 


অপরূপ পরমাদ

- অসীম দাস 


হারালে হারাবে বুড়ো আঙুলের ভাব 

কোটি কোটি পল ভেবেছি তোমারই কথা ,

হলুদ বৃক্ষে দেখেছি সবুজ পাতা 

সে তোমারই দানে কজ্জল কথকতা ।


ভুলে যাও যদি আমার সৃজন- স্মৃতি 

ফসলের গোলা নির্ধন হবে রাতে ,

পদ্মের কুঁড়ি ফুটবে না অভিমানে 

রূপকথা সব ঝরে যাবে শিলাপাতে !


তবুও ফেরাতে পারি কি তোমার গতি ?

যতই পাতি না শব্দের বেড়াজাল ,

সময়-শেকড়ে বেড়ে যায় ডালপালা 

নিরুপায় তুমি বুঝেও ছাড়ি না হাল ।


একি বিস্ময় জ্ঞানপাপী বুকে আশা 

জিয়োনো যাপনে ধরি ধরি সুধা স্বাদ ,

ফিরে পাবো ঠিক আগামীর কোনও ভোরে 

পুষে চলি এই অপরূপ পরমাদ !

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget