ডিসেম্বর 2020


বাঁধনহীন সুখপরিধি

- রোজী নাথ


তাঁর সাথে আমি বা‍ঁধনহীন একটা পরিধি হয়েই গভীরতায় ছুঁয়ে আছি।

এমন‌ই এক গোধূলীবেলার আন্তরিকতার কী নাম হতে পারে খুঁজে পাই না।

নির্জনের নীলগঙ্গায় ডুবে থাকা একাকীত্বের জানালায় একটা অদৃশ্য পরম হাত আমাকে সাঁঝবেলায় জড়িয়ে রাখে।

এ সম্পর্কের কোনো পোশাকী নাম হয় না জানি।

চরম ক্লান্তি আর অবসাদের প্রহরে এই প্রিয় হাতটা স্বমহিমায় এগিয়ে আসে সজল আবর্তে।

এমন‌ই একটা ভরসা জোগানো হাত‌ , যার অতুল স্পর্শে আমার মনেপ্রাণে সঞ্জীবনী শক্তির প্লাবন আনে।

তাঁর অধরে অধরে ফোটে থাকা সুললিত হাসি আর

বন্ধুসুলভ বুকের ভাষা আমাকে অহর্নিশি বাঁচার প্রেরণা যোগায়।

চরম দুঃসময়েও যে ফেরারী হয় না ; শুধু পার্শ্ববর্তী প্রাচীর হয়ে অভয়বাণীর প্রদীপ জ্বালায় , সে-ই তো আমার উৎকর্ষের উৎসাহ।

একটা শরীরের হৃদস্পন্দন চলে গেলে কী আর অবশিষ্ট থাকে বলো।

ভালোবাসার স্বপ্ন‌ও তো জেগে থাকে শুধু ভালোবাসার জন্য , শুধু প্রাণের স্পন্দনের জন্য।

এ ভালোবাসার পরিমাপ হয় না জানি , তবুও হৃদয়ের অলিন্দে প্রগাঢ় ছায়া রেখে যায়।


2020

কলমে - মধু পাল


2020 এখন তোমার

বিদায় নেওয়ার পালা 

বরণ করে ডেকেছিলাম 

ভয়ঙ্কর মৃত্যু জ্বালা।


তোমার আগমণে সবাই অতৃপ্ত 

তছনছ করে দিলে সবকিছু 

দিলে লক্ষ লক্ষ প্রাণের অন্ত ।


কত ঘর হলো স্বজনহারা 

কত হৃদয় পাগলপারা 

শুধু তোমার শুধু তোমারই জন্য 

কত শত ঘর শূন্য ।


পৃথিবী হয়ে গেল ভীতো নিরাশ

ছিল যত মনের আশ 

পাল্টে গেল পৃথিবীর চালচিত্র 

পাল্টে গেল জীবনের মানচিত্র।


এখন মোরা হয়ে গেছি একঘেয়ে 

হাফিয়ে উঠেছে জীবনের শ্বাস 

তোমার বিদায় অন্তে 

আবার নতুনের আশ্বাস।


তারিখ-২৯|১২|২০২০


নারী 

কলমে - মধুপাল


নারী তুমি বাঁচো উন্নত শিরে 

অপরাজিতা হয়ে 

নিজেকে মনে কোরো না হেলা 

ভাসাতে চাও যদি সুখের ভেলা 

তবে অপরের জন্য নয় 

নিজের জন্য বাঁচো 

শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে 

সুখের নীরালয়ে ।

থমকে যাওয়াটাই জীবন নয় 

এগিয়ে চলাই জীবন 

দ্যাখো চেয়ে নতুন কিছু অপেক্ষারত 

শুধু তোমার পদার্পণ।

হেসে খেলে করো পার 

দুদিনের জীবনখানি 

সুখ দুঃখ,হাসি কান্না 

গড়ে সবার নিত্য কাহিনী ।


তারিখ-২৯|১২|২০২০


প্রলাপ

কলমে - শ্রীকন্যা সেনগুপ্ত


টুকরো টুকরো আজ আমি!!

নিত্য শুধু ভাঙছি আর গড়ছি,

জোড়াতাপ্পি দিচ্ছি মনটাকে....

ভীষণ আন্দোলন হৃৎপিণ্ডে!!

মাথার মধ্যে শতাধিক পোকা,

কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আমার চিন্তা...

অ্যাসপিরিন আর কাজে আসেনা।

অভিমন্যুর চক্রব্যূহ চারিদিকে,

ভবিষ্যৎ ঢেকে আছে কুয়াশায়।

আমি আজ শূন্য হৃদয় হাতে,

দাঁড়িয়ে আছি একা অন্ধকারে,

প্ল্যাটফর্মে শেষ ট্রেনটার অপেক্ষা...

তুমি কি আসবে একটিবার?

প্রাণভরে শুধু দেখবো তোমায়!!

স্বপ্নটা ভেঙে যাবে জানি, তবুও...

চোখের কোলে কালি জমেছে,

নিশাচর হয়ে বেঁচে আছে জীবন,

মাকড়সার জালে ভাবনারা বন্দী,

আয়না দেখে বিদ্রুপ করে যৌবন!!

জানি তুমি হয়তো আসবে না...

উপেক্ষিত চিরকাল আমি, তবুও,

যদি পারো তো "সান্টা" হয়ে এসো।

ইচ্ছের ঝুলিতে একটু শান্তি নিয়ে,

এই বছরটায় যেন নজর লেগেছে,

জরাগ্রস্ত হয়েছে পৃথিবীর নিঃশ্বাস!!

ভালো বাসায় ভরে গেছে শহরটা,

কিন্তু ভালোবাসাটা লুপ্তপ্রায় ফসিল!!

তাইতো তা চাইতেও আর মন নেই...

যদি আজও একাই ফিরে যেতে হয়?

প্রত্যাখ্যানের ভয় শুধু, সাহস নেই।

বিষাক্ত হয়েছে ছেঁড়া গোলাপের নির্যাস,

এলোমেলো চুলে আজও অপেক্ষা তবু,

তুমি কি আজও কথার খেলাপ করবে?

আর কোনোদিনও বুঝি আসবে না?


তারিখ - ২৭/১২/২০২০


প্রেমহীন প্রকৃতি

কলমে - উদয় চাঁদ হাজরা


প্রকৃতি এখন কুয়াশায় ঘেরা

রামধনু রঙ হারিয়ে

বিষন্ন মনে ঘেরা পৃথিবী

ভালোবাসা গেছে ছাড়িয়ে।


হৃদয়হীন মানুষের মন

হৃদয় রেখেছে লুকিয়ে

দানবিক মন সামনে এসেছে

সরসিত প্রেম শুকিয়ে।


এই পৃথিবীর কানায় কানায়

জোয়ার ছিল পূর্ণ

হীন আবেগে শুষ্ক হয়েছে

ভাটায় হয়েছে শূন‍্য।


অনেক আগে খোলা হাওয়ায়

প্রকৃতি ছিল যে পূর্ণ

আজকে তাহা রুদ্ধশ্বাসে

মানুষ হয়েছে ঘৃণ্য।


পৃথিবীর সাথে পৃথক হয়ে

প্রকৃতি হয়েছে ভিন্ন

নেই প্রেম,নেই অনুভূতি

সব কিছু যেন অন‍্য।


তাং---১লা পৌষ'১৪২৭(ইং-17.12.2020)


তথাগত অপেক্ষায় আছি

- অসীম দাস 


তোমাকে ফিরতেই হবে গ্রহণ ছাউনি 

ছেড়ে নির্মেঘ নীলাভ অন্তরে ।

যাক না যাক একটার পরে একটা 

বরেণ্য বসন্ত ছেড়ে !

আমি আশালতা ভরসার নির্লিপ্ত অপেক্ষায় আছি ।

তোমাকে পাওয়া না -পাওয়ার দোলাচল দূরত্বে 

এক প্রশ্নহীন পৌষশীতল পাহাড়ের নিরুদ্বেগ বাসিন্দা আমি ।

তোমাকে ফিরতেই হবে একদিন ,

শুধু এই বিশ্বস্ত বিশ্বাসের প্রণয়ী আলোকে

নিজেকে বিমুক্ত রেখেছি ।


এইতো আমি পেতেছি স্পর্শহীন বিমুগ্ধ হাত 

তোমার শান্ত সমাহিত হিমাদ্রি স্পর্শ পাবো বলে ।

শত শত অভিজ্ঞ ব্যর্থতার নোনা স্রোতে

বানভাসি হতে হতে 

আমি এখন প্রাজ্ঞ কবিতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে !

আনন্দ শোকের বিপ্রতীপ ঝাপটায় 

আমি মহান মৃত্যুর মতো অকাতর অবিচল আছি ।


আমার কোনো আহ্নিক তাড়া নেই ।

শুধু "তোমাকে ফিরতেই হবে " 

এই বর্ণ প্রবাহের নিমগ্ন ধ্যানে 

আমি তথাগত অপেক্ষায় আছি ।

 


বীর শহীদ ভোলা

- কিরণময় নন্দী


সেই ছেলেটা গাঁয়ের পথে

পিছে  হাজার জনস্রোত

দুরন্ত সে আজ ভীষণ চুপ

হাঁটছে মানুষ চোখেমুখে ভীষণ শোক।


ওই ছেলেটা শান্ত নদীর বুকের ভিতর

আনতো নতুন স্রোতের টান

ওই ছেলেটা মাঝ আকাশে উড়িয়ে ঘুড়ি

খোলা মাঠে গাইতো গান।


বোশেখ মাসের ক্লান্ত দুপুর

ক্লান্তি শেষে সবাই তখন আবছা নিদে

ওই ছেলেটা চুপি চুপি আমবাগানে

নুন মাখিয়ে কাঁচা আমে মেটায় খিদে।


ওই ছেলেটা সন্ধ্যে হলেই

লুটিয়ে যেতো ঘুমের দেশে

ওই ছেলেটা দুষ্টু ভারী মিষ্টি ভীষণ

দিবারাত্রি সদাই হেসে।


মেলার মাঠে,খেলার মাঠে কিংবা ইস্কুলেতে

সবার আগে ওই ছেলেটা হাসি মুখে

যাত্রাদলের মহড়াতে চট পেতে থাকতো বসে

ছোটো থেকেই ভীষণ সুখে।


উনিশ বছরের যুবক ছেলে

কাঁদছে মা -দৃঢ় লক্ষ্যে ও সীমান্তের পথে

চাকরী নিয়ে ও দেশের সেবায়

দামাল ছেলের আজ দ্বায়িত্ব কাঁধে।


ভুলে গেছে সবাই ওর দস্যিপনা

বছর শেষে আসতো গাঁয়

দিনকয়েকের চেনা মাটির গন্ধ মেখে

আবার রওনা সেই কাঁটাতারের সীমানায়।


ওই ছেলেটা পাইনি ভয়

শত্রু শিবির ভাঙলো পরপর

দেশের মাটিতে শত্রুঘাঁটি- একদমই না

দেশের মাটি ওর চোখে যে নিজের ঘর।


ভীষণ যুদ্ধ প্রচুর বোমাগুলি

ধোঁয়ায় ঢাকা শীতল ভূমি

শুভ্র তুহিন ভূমিই লুটিয়ে ও

বিদায়বেলায় দেশমায়ের চরণ চুমি।


সেই ছেলেটা গাঁয়ের পথে

পিছে হাজার জনস্রোত

দামাল সে আজ ভীষণ চুপ

হাঁটছে মানুষ চোখেমুখে ভীষণ শোক।


তেরেঙ্গা পতাকা বুকের মাঝে

রাশি রাশি ফুলের মালা

দেশের জন্য বীর শহীদ

গাঁয়ের দামাল ছেলে ভোলা।

 


উলট-পুরাণ

- শ্রীকন্যা সেনগুপ্ত


আজকাল কবিতাটা ঠিক আগের মত আর আসে না,

ছন্দগুলো যত্রতত্র যাযাবর হয়ে বেড়ায় হিম রাতে,

কুয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা পড়ে যায় ইচ্ছেগুলো,

চাঁদটা মাঝে মাঝে মাদুর পেতে বসে আমার সাথে।


নিয়নের আলোয় চাপা পড়ে যায় সব দুর্বোধ্য যন্ত্রণা,

হিমেল হাওয়ায় শিরায় শিরায় মাদকতার ঘোর,

লুকোনো আবেগগুলো আজও কান্না ফেরি করে!

অপেক্ষার বিনিদ্র রাত কাটে না, হয় না নতুন ভোর।


মনের গোপন অসুখটা বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত,

অবসরের ফাঁকে ক্লান্তি'রা যেন বাসা বাঁধতে চায়,

পালাবার পথ খুঁজে না পেয়ে টালবাহানা করে মন,

উদ্বায়ী স্বপ্নগুলোকে জোর করে কি ধরে রাখা যায়?


ভাবনা আর শব্দদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকবে চিরকাল, 

শরীরটাও আজকাল জবাব দিয়ে দেয় মাঝেসাঝে,

শুধু কলমটাতেই মরচে ধরে না যে কোনোদিনই,

নিঃশব্দ বিদ্রোহ জানিয়ে যায় রোজ কথার ভাজে!


চরম বাস্তবতার মুখোশে ঢাকা আজ এই মায়াবী শহর,

ভালোবাসার ভাইরাস আর মনের আকাশে ভাসে না,

কংক্রিটে কংক্রিটে লাগামছাড়া রেষারেষির জের,

আজকাল কবিতাটা ঠিক আগের মত আর আসে না..


মানুষের পরিবর্তন

- উদয় চাঁদ হাজরা


বদলেছে জল,বদলেছে মাটি

বদলেছে শুধু মন

বদলায়নি প্রকৃতির, আকাশ বাতাস

শুনি তার বিবরণ।


প্রভাতের ফেরি,পাখির কাকলি

এখনও সূর্য ওঠে

ঝরঝর করে,ঝরণা ঝরে

পাহাড়ের বুক কেটে।


চাঁদ এখনও অমাবস‍্যায়

আড়াল করে আলো

পূর্নিমার সন্ধিক্ষনে

দূর হয় সব কালো।


বিভৎস আর অপরূপ নিয়ে

প্রকৃতি আনন্দে মত্ত

অথচ মানুষ বিষন্ন সদাই

রুগ্ন মনের সত্ত্ব।


ফল ফুল,আছে প্রকৃতিতে

ঝড় ঝঞ্ঝার আগমন

জগতে কেবল মানুষ শুধু

করেছে  মনের বিবর্তন।


তাং---১৮ই অগ্রহায়ণ '১৪২৭(04.12.2020)


স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প ( ভিডিও ) 

রাজ্যের সমস্ত পরিবারকে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে ৷ ভিডিও দেখলেই বুঝতে পারবেন।

[youtube src="9QfrCXYPuAw"][/youtube]

[youtube src="TnJ8L8ZM6Dg"][/youtube]

[youtube src="pI0VWedqmxA"][/youtube]

[youtube src="PAZLJZ9LcoQ"][/youtube]


Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget