অক্টোবর 2020

 


সখা

- চন্দনা দাস 


তখন কতই বা আর বয়স,তোর কুড়ি,

আমার দোরে কড়ানাড়ে সবে যোড়ষী।।


মনে পড়ে নিরালায় কতো কথা,

প্রহর কাটিয়েও, যেন শেষ হতো না।।


উষ্ণ অধরে শপথ, হবো একান্ত সঙ্গী, 

অজান্তে ধোকা দিয়ে, সখা হারিয়ে গেলি।


শুনি মজেছিস দূরদেশ ঘরণী নিয়ে,

কৈশোরের সাথীকে লাগে আজ মিছে।


সেই নাদানির ফসলে, আজও কাটে দুখ,

অবাঞ্ছিত হলেও, তোর খবরে পাই সুখ।।


বর্তমানে পড়ন্ত বেলায় ভীষণ ক্লান্ত,

তবুও ক্ষণেক অতীত হাতড়ে হই শান্ত।


একবার দেখতে, ঐ ভুল বলতে,

আনচান হৃদয় ব্যাকুলতায় ঝড় তোলে।।


কি করি?? এখনো বেহায়ার তোর দিকেই ঝোঁক!

যদিও এব্যাথা লুকিয়ে রাখি, শোনে যদি লোক!!!

 


আশ্বাস

- রত্না দত্ত


পথের সাথী হয় যে দুভাগ

মন হারানোর অন্তরালে,

আকাশ পাথার আকুল দিশা

দুখদিশাহীন মাকড় জালে।

দৃপ্ত হৃদয়, দীপ্ত শিখা

সব নিমেষে ধূসর কালো,

মন দরিয়ায় নেই যে নোঙর

রিক্ত হাতে প্রশ্ন তোলো?

মা আসছেন,সেই আশাতেই

কঠিন সময় পার হতে হয়,

বাসন্তী রাঙা মুখর সকাল

তিনিই ত্রিশূল, তিনিই বরাভয়।

মন শাখারই মৃদুবাতাস

মনের মাঝেই সুখের বিলাপ,

হোক না সবার কষ্টে প্রলেপ

শারদীয়ায় মধুর মিলাপ।

 


এবার পুজোয়

- আমীর আলম


এবার পুজোয় ঠিক করেছি

অঞ্জলি টা দেবো তোমার সাথে,

আমি চালাবো স্কুটি আর

তুমি বসবে ব্যাক সিটে। 


পুজোর কদিন আড়াল করে

হাতটা চেপে ধরা,

পুজোর কদিন সকাল বিকেল

চুটিয়ে প্রেম করা।


পুজোর সাজে লাগবে তোমায়

মন মাতানো  সুন্দরী,

থাকবে তুমি হৃদয় জুড়ে

কাটবে পূজো ফাটাফাটি।


এই পূজোটা অনেক স্পেশাল

হোক না যতই অতিমারী,

বোধন টু বিসর্জন 

তুমিই ভীষন দরকারি।।

 


জোৎস্না রাত

- শঙ্কর দাস


রজনীতে আজি চাঁদ সজনী

হাসিছে মুক্ত মনে।

রাশি, রাশি আলো ছড়িয়ে পড়েছে

পৃথিবীর  কোণে, কোণে।


বেলি, শিউলী, হাসনুহানা

মিশেছে আজ রজনীগন্ধার গন্ধে।

ঝিঁঝিঁ পোকা  আজ গান ধরেছে

ঝাউ পাতাদের সঙ্গে।


মন চায় এমন মায়াবী জোৎস্না রাতে

ওই নীলপরীর সাথে।

মেঘেদের দলে ভেসে, ভেসে যাই

দিক হতে দিগন্তে।

 


গিরগিটি

- প্রদীপ দে


আজ শুক্রবার


উইকএন্ড ----


আকাশ একেবারে নীল। হাল্কা হাওয়া বইছে। একটু আগে যে বৃষ্টি হয়ে গেছে কে বলবে? কালো হয়ে যাওয়া মেঘগুলো রং বদল করে নিয়েছে। বেশ ভাল, গিরগিটির মতো। 



বিকালবেলা। আকাশ নীল জিন্সের প্যান্ট পায়ে গলিয়ে নিল। হাল্কা হলুদ টপ সার্ট প্যান্টের ভিতর ঢুকিয়ে বেল্ট টেনে নিল। ব্রাশ করে নিল চুল । কালো গগলস কানে বসিয়ে দিলো। বডিস্প্রে ছড়িয়ে নিলো, শরীরের গন্ধ ঘরময় সুবাসিত হয়ে গেল।



প্রিন্সেফ ঘাঠ, পাশে বাঁধানো গঙ্গা, বাঁধানো বাগান চত্বর। ছিমছাম কাজ করা লম্বা চেয়ারে বসে আকাশ , ওকে লতার মত জড়িয়ে আছে মেঘা। আকাশ মেঘার চুলে পিঠে আঙুল দিয়ে আঁকিবুঁকি কেটে চলেছে।


সন্ধা নামছে যতো, অন্ধকার বাড়ছে, দুজনার ওষ্ঠ ততো দুজনাকে স্বাদ দিচ্ছে। কথা কম কাজ বেশি।



অন্ধকার হলো।ঝুপঝাপ বিবর্ণ পাতারা ঝরে পড়লো। নিস্তব্ধতার মধ্যেই চুপিসার কিছু কথা ছড়িয়ে পড়ছে।


-- আর কতদিন এরকম ভাবে চলবে?


-- না সোনা আর অপেক্ষা করতে হবে না, এবার আমরা বিয়ে করে নেব।


-- তুমিতো একবছর ধরে একই কথা বলে আসছো।


-- উহু! একটু সবুর করো --আহা-- 


~~~~~~~~~~~~~~~~~~~



শনিবারের নাইট ক্লাব। 


আলো আঁধারি ডিস্কোথেক। আকাশ হারিয়ে গেল। লাস্যময়ীদের উদ্দাম নৃত্যের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের আবেদনে কালো রাত জোৎস্না মুখরিত যেন। শরীরের চাহিদামতো আকাশ এক


ধনী যুবতীর সঙ্গে রমনীয় খেলা খেলে - যার নাম নীলা। দুজনেই আকন্ঠ পান করেছে। তার মধ্যেই চলছে হিসাবের কথাবার্তা :-



-- উহু!  কবে বিয়েটা করছো ডার্লিং?


-- এই যে এবার হয়ে যাবে মাই সুইটি।


-- শরীরে আর কত প্রোটেকশন নেব? বিপদতো দুবার হয়েও গেল।


-- না, না আর বাঁধা দিয়ে লাভ নেই। যে আসে আসুক --- আমারা লাইসেন্সধারী হচ্ছি।



জোরে গান বাজছে এখন, সবাই গলা মিলিয়েছে, সঙ্গে ধকাধক নাচ, কথা সব হারিয়ে যাচ্ছে৷


~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~



রবিবার। 


ছুটির বড় পাওয়ার দিন। সকলেই খুশি। 


ভোর হতেই নিজেকে সাজিয়ে তোলে আকাশ।মেঘলা দিনে বসন্তের বাতাস -অকল্পনীয় ব্যাপার সব। গাড়ি নিয়ে ছুটে চলে, মাঝপথে মিনি স্ক্রাট পরে, শাম্পু করা বব্ চুলে, যুবতী ছন্দা আঙুল তুলে ইশারা করতেই বড় কালো মার্সিডিজ দাঁড়িয়ে পড়ে, হাত বাড়িয়ে তুলে নেয় আকাশ। সীটে আধবসা অবস্থায় কিস দেয় প্রেমিকা,  প্রেমিকার সদ্য সেভ করা গালে, কপাৎ করে আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে যুগলের মিষ্টি হাসিতে। ছন্দা সীট বেল্ট বাঁধতে থাকে,  গাড়ি ছুটিয়ে দেয় আকাশ, কালো মেঘ ভেদ করে দূর ড্রাইভের উদ্দেশ্যে।



অনেক দূর চলে এসেছে। চারদিকে ছোট ছোট টিলা, নদ -নদী, সবুজের দেশ। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে,  আকাশ একহাতে স্ট্রীয়ারিং ধরে, অন্যহাতে ছন্দার শরীর মাপে, ছন্দাও সুযোগ দেয়, সুযোগ নেয়, এ যে বড়ই আনন্দের সফর, শরীর মনের যথেচ্ছ ব্যবহারে বাঁধা কোথায়?  জীবন তো আনন্দের, আর তা যখন অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে, তারা প্রাক বিবাহিত দুজনেই । গাড়ি থেমে যায়, কিছু কথা ছড়ায় :-



-- আর পারছি না তোমায় ছেড়ে থাকতে -আকাশ


-- এইতো পরের মাসেই দিন ঠিক করে নেব।


-- সত্যি আমিও খুব খুশি ---


-- আমি ও সোনা ---



চুম্বনের আওয়াজ ,শরীরী মিলনের মূহুর্তে দুজনায় আনন্দের শিহরণ, নানান আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে।



কিছু পরে গাড়ি ঘুরিয়ে নেয়। এবার ফেরার পালা। সব পাওয়া হয়ে গেছে। প্রায় ১০০ কিমি বেগে গাড়ি ছোঁটে। চোখ বুঁজে আসে,রাত অনেক হয়, অন্ধকার পথে হঠাৎই তীব্র আলোর ঝলকানি আকাশের ঝিমুনিকে জাগিয়ে তোলে, স্ট্রীয়ারিং ঘুরিয়ে ব্রেক চাপার চেষ্টা করে, দেরি করে ফেলে সে, ততোক্ষণে বিশাল ট্রাকটি বিকট আওয়াজ তুলে, তাদের মার্সডিজের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গগনভেদী আওয়াজে চারদিক কেঁপে ওঠে।



উপড়ে নিলাকাশ ততক্ষণে কালো মেঘ সরিয়ে  চাঁদের স্ত্রী, সাতাশটি নক্ষত্রকে নিয়ে আলোর মালায় সেজে উঠেছে। সে যে তার নিজের রং বদল করতে সময় নেয় না, সে যে ওস্তাদ,  আসলে সেতো গিরগিটি!


 


মাউথ অর্গ্যান

- ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী


বিশাল হাভেলীর পেছনের দিকটায় নীলচে বেগুনি ফুলের শোভা, দুধ সাদা হাভেলীর অনন্য মাত্রাকে অসামান্য করে তুলেছে। নয়নাভিরাম দৃশ্য, দৃষ্টিত হলেই মনটা খুশিতে ভরে ওঠে। বেশুমার ভরে ওঠে।


লখনউ।

প্রতিটা কারুকার্য করা বাড়িতেই লুকানো আছে অজানা তথ্য। বাড়ির সামনে সাজানো বাগান। বেড়া পরিবৃত। চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, ডালিয়া, গ্ল্যাডিওলাস খেলছে। নৈসর্গিক দৃশ্য।


হাভেলির বাগানের ছায়া মূর্তিটা এদিক ওদিক করে ইতিউতি চাইছে। কাজটা আজই....


জাহানারা বেগম।

সর্বক্ষণ এতিমখানায় কড়া নজর।

নতুন পায়রা এলেই, খাঁচায় বন্দি।


লখনউ আসা ইস্তক, পরিবর্তিত জীবনকে মেনে নিয়েছিল। সবকিছুর মাঝেও নিজের স্বপ্নকে একটু একটু করে প্রলেপ লাগিয়ে বাস্তবায়ন করার চেষ্টায় কসুর কম করেনি। 


জিল্লতের জীবনের ইতি ঘটেনি।


সঙ্গীতের মূর্ছনায়, গজলের অমোঘ মিশ্রণে অনিবর্চনীয়, অপার্থিব মুহুর্তের সাক্ষী থাকে লখনউ এর, থালার মতো গোলাকাকৃতি উজ্জ্বল চাঁদ। 


-"কি লিখিস ডায়েরিতে?"


-"রেখতি।"


-"কি হবে?"


-" লখনউ এর প্রতিটা ইঁট নামটা চিনবে।"


উপর থেকে নেমে এসেছে বিশাল ঝাড় লন্ঠন।

দেওয়াল জুড়ে অবিশ্বাস্য সুন্দর ওয়েল পেন্টিং।

বেলজিয়াম গ্লাসের আয়না, দেওয়ালটাকে সযত্নে দখল করে রেখেছে।


মহার্ঘ্য চেয়ার থেকে কমনীয়তা ঠিকরে পড়ছে।

খানিরা-খুশবু-বিশেষ তামাক মেশানো গড়গড়া থেকে মৃদু আওয়াজ ভেসে আসছে।


সামনে রাখা মাউথ অর্গ্যান।

জাহানারা বেগমের প্রতিটা সুরের, সুরা মেশানো নেশা।


-"তৈয়ার কিয়া?"


-"এক লেড়কি...."


-"সমঝাও উসকো। ইয়ে উসকি জিন্দেগী।"


-"জবান মতলব জবান।"


বেশুমার ছেয়ে গেছে নীলচে-বেগুনি ফুলে।

অ্যাকোনিটাম ন্যাপেলাস।

মূলটা উপড়ে, চুপিচুপি নিজের কোঠরে ঢুকে গেল।


নাচ-গানের আসর।

টিনেজ মেয়েগুলো স্ট্যান্ডিং লাইন বানিয়েছে।

নির্লিপ্ত ভাবে চিত্রার্পিতের মতো দাঁড়িয়ে আছে একজন।

সময়ের অপেক্ষা।


পাশে রাখা গড়গড়ায় মৃদু আওয়াজ উঠল।

মাউথ অর্গ্যান গোলাপী ঠোঁটের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হ'ল। 


স্নায়ু-রক্ত-গ্রন্থী।

যুগে যুগে সাক্ষী।


গজলের শহর।

সাক্ষী থাকল শুধু।


-"যো গুজারি না যায়ে হামসে, 

হামনে ওহ জিন্দেগী গুজারি হ্যায়।"


-"মওত কা ইলাজ হো শায়েদ..."

 


রিইউনিয়ন

- তনিমা সেনগুপ্ত চৌধুরী


রিইউনিয়নের জন্য দেখি

সবার দাবি একটাই,

যেভাবেই হোক ছোটবেলার 

কাকুর হাতের ফুচকা চাই।


মসলামাখা ফুচকাখানার মধ্যে 

তেঁতুল জল ভরে ...

দিচ্ছে কাকু,সবাই দেখো 

খাচ্ছে কেমন টপ করে।


খেতে খেতে ঝালের চোটে 

নন্দিনী হয় নাজেহাল,

সৌগত সেই আগের মতোই 

এগিয়ে ধরে তার রুমাল।


এই ভাবেই কত স্মৃতি 

হয়ে ওঠে টাটকা,

প্রেম রসায়ন একই থাকে 

অনুঘটক ফুচকা।

 


ওরাও বাঁচে

- বুলু


চায়না ওরা দালানকোঠা

মাথার উপর ছাদ,

পেট ভরাতে চায়গো কেবল,

দুবেলা দুমুঠো ভাত।

সুন্দর সুন্দর জামাকাপড়

চায়না ওরা মোটে,

তোমাদের দয়ায় যদি ওদের

পুরোনো জামা জোটে।

দু-চোখ ভরা স্বপ্ন নেইকো,

শুধু বাঁচার লড়াই,

কেউ যদি ভালবাসে

ওটাই ওদের বড়াই।

কাটে জীবন এমন ভাবে

অভিযোগ নেই কোন,

পৃথিবীকে ওরা স্বর্গ ভাবে

প্রকৃতিই মা যেন।

 


আর যেনো না কাঁদে সমাজের জননী

- কিরণময় নন্দী


কাশের দোলা নদীর তীরে

 আকাশ গাঙে শুভ্র কাদম্বিনী

শিউলি গন্ধে মন ভরে যায়

আগমনী সুরে মর্ত্যে  দূর্গা-জননী।


খুশির গাঙে পাল তুলেছে

হাজার রঙীন প্রজাপতি

আজও নারী মুখ লুকিয়ে

শত বাধায় নীরবে  সতী।


আজও নারীর শাড়ি খোলে

মাংসলোভী "সভ্য পিশাচ"

আজও নারীর শরীর জ্বলে

চুপিসাড়ে সভ্য সমাজ।


মাটির মায়ে শ্রদ্ধা-ভক্তি

সহস্র রকম সংস্কার

আপন মা কাঁদছে পথে

বৃদ্ধাশ্রমে চাপা চিৎকার।


ঢাকের বাদ্যি-অলোক সজ্জা

চাকচিক্যের হাজার বাহার

তবুও কাঁদে জ্যান্ত দূর্গা

বন্ধ দরজা বন্ধ আহার।


উপবাসে পুষ্পাঞ্জলি

 বিজয়াতে শুভেচ্ছার ঢল

আজও নারী পুত্র আশায়

খেয়েই চলে প্রসাদী ফল।


"মায়ের ছেলে" বর্তমানের পিতা

বংশরক্ষায় পুত্র চায়

"চার কন্যার" পিতা আজও

পেট চিরে ভবিষ্যৎ খোঁজে তাই।


কাশের দোলা নদীর তীরে

আকাশ গাঙে শুভ্র কাদম্বিনী

তুমি আবারও এসো মা

আর যেনো না কাঁদে সমাজের জননী।

 


জীবন

- শুভ্রা হালদার মন্ডল 


 জীবনের রঙ দেখেছ কখনো, জীবন সাদা না কালো?

 সাতটি রঙের রামধনু সে,কখনো আঁধার ,কখনো আলো। 

জীবনের পথ বড়ই কঠিন , কখনো সে তো মায়া;

জীবন মানে চাঁদের আলোক,'জীবন মানেই রৌদ্রছায়া'। 

হৃদমাঝারে বসত যে তার, কভু সাহারার মরীচিকা, 

কলকল্লোলে মুখরিত ধরা, নিবিড় নিশায় সে যে একা। 

হর্ষ- গীত ভরা এ জীবন, নিমেষে অশ্রু ধারা, 

 শৃঙ্খল মাঝে বদ্ধ জীবন, পলকে বাঁধনহারা।

জীবন - সাগর গভীর অগাধ,কখনো শুষ্ক উষর মরু,

খাঁ খা প্রান্তর, তপ্ত দুপুর, ছায়াদানকারি জীবন তরু। 

ভাষাহীন  ঐ উচ্চ শিখর, কখনো শব্দ রাশি রাশি,

জীবন আপেক্ষিক, মৃত্যু নিশ্চিত, 

জীবন, তবুও তোমায় আমি বড় ভালোবাসি।

 


শূন্য মন 

- সুতপা ব্যানার্জ্জী


প্রতিদিন চলি ছুটে কালের সাথে সাথে ,

ক্লান্ত হয় দেহ খানি অবসাদের ভাড়ে,

সময় যায় মহাকালের নীরবের পথে,

হেঁটে যাই সেই দিকে একমনে আমি ,

শূন্য ঘর রেখে যায় শূন্যমনে চলি।

পদচিহ্ন রেখে যায় জগতের মাঝে ,

জগৎ দেখে শুধু অবাক বিস্ময়ে ,

কত আশা স্বপ্ন দেখে স্বপ্ন থাকে ,

দীর্ঘশ্বাস পড়ে মাটিরবুকে চূয়ে।

গভীর ক্ষত হয় ভালোবাসা মুছে ,

স্মৃতি গুলো নিয়ে শুধু স্বপ্ন দেখে,

না পাওয়া চোখের জলে ভাসে,

কত সুখ আছে কত দুঃখ আছে ।

কত দিন যায় ধীর পায়ে হেঁটে ,

কত রাত একাকী যায় কেটে,

সকাল হতে সন্ধ্যা পেরিয়ে আসে।

 


সংঘাত

- দিলীপ রাউত 


অত্যাচার-লুন্ঠন-ধর্ষণ নত মস্তকে 

মেনে নেয়-নি ভারত ভূমি 

পদে পদে-সংঘাত 

হাজার -হাজার বছর ।।


অবশেষে ছলনার আশ্রয়-!


হে ছলনা ময়ী তুমি কে-?

গনিকা কন্যা মেনকা 

যৌবন মদে মত্ত তেজস্বিনী-দূর্গা-!


তোমারই রূপে বশীভূত অনার্য পুত্র ।।


নারী তুমি সত্যি ছলনাময়ী 

যুগ-যুগান্তে তার-ই বন্দনা 

এ আর কিছু নয় -----------

আর্য-অনার্য সংঘাত 

আবহমান কালেও ছিল 

আজো আছে - কেন থাকবে 

সমাজ দর্পনে ।।

 


আশার আলো

- সুজাতা ঘোষ


মনে পড়ে প্রাণের  ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের  সেই প্রার্থনা  ,"আমায়  রসে বশে রাখিস  মা "!

আর তাই বুঝি প্রকৃতিদেবীর  এই ঋতুরঙ্গের  বৈচিত্র্য!

ঋতুরা আজ যেন বড় বিব্রত  ,বিমর্ষ  !

প্রকৃতির খামখেয়ালীপনায় শরৎ বসন্তে শ্রাবনের  ধারা  !

পৃথিবী  আজ অসুস্থ,অগণিত  মানুষের  হাহাকার শুনে  নীরবে  কাঁদছে  নাকি  হাসছে ?

দিনের পরে রাতের  মতো ,সুখদুঃখের আলোআঁধারিতে  জীবনপথে চলা !

বুকে আছে অসীম প্রত্যয়,

আঁধারের  শেষে জানি ঠিক , জয় হবে  নিশ্চয়!

হাসবে  ধরণী ,আবার রঙিন বসন্ত আসবে !

কর্মচঞ্চল  মানুষ ছুটবে  আর ছুটবে !

নূতন সূর্যোদয়ের  সোনালী  আলোয়  ,বাউলের  গানে ,বিহগের কলতানে  ,মানবতার জয়গানে হাসিমুখে বলবো  সবাই ,"ভালো আছি ,আবার রঙিন বসন্ত এসেছে দুয়ারে  "!

 


তাল

- সায়ক দাশগুপ্ত


তাল পুকুরের গাছে   

অনেক তাল, পেকে আছে।

সেই তাল খায় কাক,   

বিরাট তাদের ঝাঁক। 

এলো বুড়ি মাসি

লোপাট কাকের হাসি। 

বুড়ি নিল সব তাল,

কাকেরা বেহাল।

 


ফিনিক্স

- সুকান্ত দাস 


ঝনঝন করে ভেঙ্গে পড়লো আমার রোগা শুকনো পাঁজরে   লুকানো মন 

আমার সাজানো স্বপ্নগুলো বাচ্চাদের মতো কান্নাকাটি করে 

তোমার কাছে 

দুরুদুরু বুক 


একদিন তোমার কোঁকড়ানো এলোকেশে বেঁধেছি ঘর 

কমলালেবুর ভেতরে করেছি বাস 

রক্তকরবী না অন্য কিছু ? 


এখন হোঁচট খেতে খেতে থেমেছি পথের শেষে 

নদীর মতো হেঁটে এসে আমায় নিয়ে যায় সাগরে


যোগবিয়োগ জানি না 

তাই ভালোবাসার অঙ্কের হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হয়েছি


ভেতরে এতটাই প্রেমের আগুন পুষেছি 

যে মুখ দিয়ে ফিনিক্স নির্গত হয় ॥ 

 


বর্ষা কাঁদুক

- সমীর ভাওয়াল


দু'মুঠো মেঘ পাঠিয়ে দিলাম দূর শহর থেকে

জানলা দিয়ে একটিবার তোর কাছে ডাকিস

আলতো ছোঁয়ায় উষ্ণ চুমু নাহয় দিস এঁকে

বৃষ্টি হয়ে এলেই তবে একটু ভালোবাসিস !!


ধুর্ পাগলি, তোর চোখেও ঝরছে জল ?

ওটা শুধুই আমার ভাগের বরাত ছিল জানি,

ভালোবাসি কথাটা নাহয় আকাশটাকেই বল

মেঘ বৃষ্টি দুজন মিলেই করুক কানাকানি !!


ভাবছিস যদি এই শ্রাবণে রইতাম তোর কাছে

পরতিস বিজলী আঁকা রুপোলি জরির শাড়ী,

নাকছাবিটা জল চিকচিক হয়তো হবে পাছে

নীলিমার সাথে হোলোই দিন কয়েকের আড়ি !!


মুষলধারায় মুছুক নাহয় ললাট রঞ্জিত সিঁদুর

সন্ধ্যে গুলো ভিজিয়ে দিক অঝোর ফল্গুধারায়,

আছড়ে পড়ে বর্ষা কাঁদুক মল্লারে বিরহ বিধূর

তখন নাহয় ভেবে নিস আছি বৃষ্টিস্নাত আঙিনায় !!!


(১ম ও ৩য়, ২য় এবং ৪র্থ অন্ত্যমিল)

 


ঝাপসা ভালোবাসা

- কিরণময় নন্দী


যত্ন করে রেখেছি তুলে

তোমার দেওয়া কষ্টের উপহার

আজও বাজে কিনিকিনি মোর বুকে

আমার লক্ষ্যহীন ব্যর্থতার ঝঙ্কার।


খোলা জানালায় বসে লিখেছি কত

এঁকেছি সুরঞ্জনা, সবিতা, বনলতা

মেকি ভালোবাসার আগুনে দহেছি

আজ শুধু একরাশ হতাশা।


তুমি গাইতে,"আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা"

আমি হারিয়ে যেতাম আলোকবর্ষ দূরে

স্বপ্নীল বিলাসিতায় ছুটেছি ছায়াপথ থেকে ছায়াপথে

আজ তুমি বাস্তবতায় শত যোজন দূরে।


সেই ফাগুন মাসের আগুনে পলাশ

মাথা উঁচু করে কৃষ্ণচূড়ার বাহার

হলুদ শাড়িতে তুমি পিতাম্বরী

দুই মন খুঁজে চলে অজানার।


বর্ষার সেই রাশি রাশি কালো মেঘ

এলোচুলে নীল সালোয়ারে তুমি নীলাম্বরী

প্রবল বৃষ্টিধারা ঝাপসা চারিপাশ

তুমি আমি নিভৃতে স্বপ্নের পথে পাড়ি।


তারপর কেটে গেছে বহু দিন বহু মাস 

চলে গেছে কয়েকটা বছর

তুমি আজ অন্য কারও ভীষণ কাছের

আমি এত গভীরে থেকেও হয়েছি পর।


ধূলো জমে গেছে ডায়েরীতে

আবছা হয়েছে "ভালোবাসি" লেখা শব্দগুলো

ঝাপসা হয়েছে চোখের চশমা

তবুও আঁকড়ে রয়েছি সেই স্মৃতিগুলো।

 


শরৎ

- মহুয়া হাজরা 


বারো মাসে ছয় ঋতু আসে ঘুরে ফিরে, 

শরৎ তৃতীয় ঋতু জানে ঘরে ঘরে ।

শরতের আগমনে সোনা রোদ ঝরে, 

বাতাসের ছোঁওয়ায় পারিজাত পড়ে। 

গাছের ডালে লেগেছে সবুজের ছোঁয়া, 

আনন্দে মেতেছে প্রাণ দুঃখ গেছে খোয়া ।

শরৎ-শশীর হাসি ঝলমল করে, 

বনপ্রান্তরে জ্যোৎস্না ঝিকিমিকিয়ে ঝরে ।

শরতের শুভ্রতায় এই ধরণীর কোলে, 

আগমনীর সুরে, দেখ কাশফুল দোলে ।

সূর্য্য ওঠে ভোরের বেলা, নিয়ে নতুন সাজ,

দিচ্ছে উঁকি চন্দ্র-তারা, সাঁঝ আকাশে আজ ।

নতুন আশা জাগছে মনে আগমনীর সুরে, 

প্রভাত পাখি গাইছে গান, শুনে মন চলে যায় দুরে।

কাশের বনে লেগেছে দোলা শিউলি ঝরা ভোরে, 

মা এসেছেন ধরার মাঝে নে রে বরণ করে।।

 


রণহুংকারে

- সুচন্দ্রা বসু


নারী তুমি থেকো না আর নিশ্চুপ 

দামামা বাজিয়ে ধরো চন্ডিকা রূপ 

শোন কান পেতে  মায়ের চরণধ্বনি

অস্ত্রের আঘাতে বাঁচাও শ্লীলতাহানি।


শিউলি  সুবাস ছড়িয়ে  সকালে

 শিশিরাসিক্ত দুর্বায় আর্ত শুনি

 রুধিরে স্নাত প্রাণ নিল অকালে

 কামাসক্ত দুরাশক্তি অসুর খুনি।


এসেছে দুর্দিন জগৎ  ভরেছে অসুরে

 বাজাও ডঙ্কা ঘুচাও শঙ্কা দুর্গতিনাশিনী 

 এসে নিজে দেখ ত্রিনয়নে মর্ত্যপুরী ঘুরে 

 কত ধর্ষিতা লাঞ্ছিতা বঞ্চিতা নন্দিনী। 


মৃন্ময়ী রূপে আজ আবদ্ধ কেন আর

সমাজে তোল রণহুংকারে প্রতিধ্বনি 

নারী সুরক্ষা কবচে সাজিয়ে সংসার 

পৃথিবীতে নিশ্চিন্তে রাখ চরণ দু'খানি।

 


দিনশেষে

- মৌমিতা ভট্টাচার্য্য


উজ্জ্বলতা হারায় প্রগাঢ় আঁধারে,

চোখ ধাঁধানো শুভ্রতায়

ক্লান্তির আভাস।

জীর্ণ বন্ধন ছিন্ন হতে চায়, 

ন্যুব্জতার ভারে।

উচ্ছ্বলতার অবসাদে মন খুঁজে ফেরে,

নীরবতার আশ্রয়।

মিথ্যা অভিনয় শ্বাসবায়ু চায়,

সত্যের সন্ধানে।

সম্মুখের প্রতিবিম্বের স্থির দৃষ্টি,

সহস্র প্রশ্নে তাকায়।

আলোকরাশির চঞ্চলতা ছায়া খোঁজে,

তমসার কোলে।

দিনশেষে ফিরে আসা,

সেই একান্ত আপনার আমিতেই।

 


আগমনীর সুর

- যুবরাজ পাল রাজু


ধূপ-ধুনো, বেলপাতা, ফুল আর

        আনন্দ রঙে আজ হৃদয় সাজে,

বছর ঘুরে আবার শোনো ঐ---

        মায়ের আগমনী সুর বাজে !


নয় শুধু প্রতিমা, পূজা মন্ডপে

        সবেতে "মা" চির বিরাজে,

মন থেকে স্মরি মা তোমায়

        মন্ত্র, শ্রদ্ধা ও ভক্তি ভজে।


ঢ্যাং কুড়া কুড় ঢাকের সুর

        দোলা দেয় আজ হৃদয় মাঝে,

দূর্গতীনাশিনীকে আজ করি আহবান

        হৃদে শারদীয়ার সুর বাজে।


পদ্ম, শিউলী, কাশের সমাহার

         শ্রদ্ধাঞ্জলী নিও মাগো আমার,

সুখের তালে আলোর বেনু

         মন্দিরেতে বাজলো তোমার।

 


প্রতীক্ষায়

- কিরণময় নন্দী


পাতাঝরা শাখী উঁকি দেয় বসন্তের খোঁজে

ক্লান্ত শৈবালিনী খোঁজে মোহনার সঙ্গম

ঝড়ের শেষে বিহঙ্গ খোঁজে রবির কিরণ

আমি আজও চাই তোমার গভীর আলিঙ্গন।


ঝর্ণা খোঁজে পাথুরে সমতলের ডাক

সৈকত অপেক্ষায় লহরীর শেষে লহরীর

আকাশ উদাস অন্তহীন ছায়াপথে

আমি আজও উপাধানে খুঁজি তোমার শরীর।


শুভ্র-তুহিন ধেয়ে চলে হিমবাহের ডাকে

গুঞ্জরিয়া ভ্রমর মাতাল পুষ্পমধুর টানে

প্রতিপদের চাঁদ চায় পূর্ণিমার শশী

আমি আজও তোমার প্রতীক্ষায় চেয়ে আকাশ পানে!

 


মা

- মেঘনা বৃষ্টি


জন্ম দিলে মাগো আমার

দেখি জগৎ আলো

তোমার মতো কেইবা আছে

জগৎ মাঝে ভালো।


ছোট থেকে করেছো বড়

তোমার সুখ চাই

তোমার গায়ের গন্ধে আমি

স্বস্তি যে পাই।


তোমার মুখে মিষ্টি হাসি

হৃদয় ভরে সুখে

তুমি যে থাকো দু'চোখ জুড়ে

থাকো আমার বুকে।


চুপটি করে তুমি যে কাঁদো

দেখবে বলে মোরে

সুযোগ পেলে ছুটে যে যাই

কপাট খুলে দোরে।

 


হালকা কথা 

- সোনালি মণ্ডল আইচ


সুষমামণ্ডিত বেলাভূমি ছাড়িয়ে আরও উপরে

গুঁড়ো-গুঁড়ো বালি পা জড়িয়ে কিছু বুঝি বলে


দীর্ঘ সময় ধরে তিলতিল অনড় অপেক্ষার পর

একটা প্রজাপতির গল্প শুরুর এই মলাট


লম্বা শ্বাস টানলে আত্মগত ও ধীশক্তি ভরা

চারদিকের বাতাসে এক অনন্য সুবাস ।


কাল রাতে গির্জার কলে অনেক ইঁদুর পড়েছে

ওরা সারারাত জীবনের শেষ গান গাইল।


সকালে দেখলাম একজন খাঁচাটা নিয়ে যাচ্ছে।

মানুষ বেড়ে যাচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে--


তেমনি চলেও যাচ্ছে না বলে না কয়ে

এসব উল্টোপাল্টা ভাবছি,কী করব--


কল্পনা করতেও তো কিছু কারণ লাগে

আমার কাছে কিচ্ছু নেই, প্রার্থনা ঘরে ঢুকে


কাগজের গোলাপটা রেখে দিলাম

জীবনের উপর মুঠি আলগা করতে ...


 


আঁচল

- সুচন্দ্রা চক্রবর্তী


ঝকঝকে শাড়ি পড়ে হাঁটছিল সে মেয়ে,

খেয়ালই নেই তার লম্বা আঁচল পড়েছে রাস্তায় লুটিয়ে,

মলিন শরীর থেকেও ফুটে বেরোচ্ছে ঔজ্জ্বল্য, তেজ,

অথচ গায়ে কোথাও একমুঠো গয়নাও নেই,নেই কোনো সাজ,

মেয়ে হয়েছিল বলে বাপের বাড়িতে তার ছিল অনাদর,

কিন্তু বিয়ে দিয়েছিল তার ধুমধাম করে,ভেবেছিল ওরা করবে মেয়ের সমাদর,

কিন্তু বাসর রাতেই বর-শাশুড়ি চেয়ে বসল পণ,

মেয়ে বুঝেছিল সেদিনই,স্বামী তার শুধুই চেনে টাকা,পড়বে না তার মন,

'কোনো টাকা দেবেনা বাবা,'চেঁচিয়ে বলল মেয়ে,'নইকো আমি পণ্য,'

গলার জোরে খাপ্পা হয়ে পুড়িয়ে মারল ওরা সেদিনই ওকে,'গলার জোর দেখাস তুই হয়ে এক নগণ্য?'

সেদিন ওরা দিয়েছিল ওকে পুড়িয়ে,

আজ ওর প্রতিশোধের পালা,ওরা আজ দিতে পারবে না ওকে ফিরিয়ে।


 


আগমনি গানে তুমি

- নিবেদিতা সিংহ


শরৎ এর গন্ধে শিউলি ও কাশফুলের সমাহারে,

তুমি খুব ব‍্যাকুল হও।

পূজো পূজো গানে মা উমার আগমনী গানেও,

তুমি খুব ব‍্যাকুল  হও।

শামুক, পুঁটি,আরশোলা ও কাঁকড়াদের সাথে তোমার,

 বুক জুড়ে থাকে গভীর স্নেহ।

হঠাৎ এক সন্ধ‍্যার বাতাস তোমায় আঘাত করে,

তুমি যন্ত্রনায় ছটফট কর,উল্কাপাত,বজ্রপাত,

বিদ‍্যুৎ এর ঝিলিকে তুমি ভেঙে যাও।

তুমি অঘ্রানের রাত্রির কোলে ভেসে যাও।

আকাশভরা গ্রহনক্ষত্রের সাথে গান বাঁধ।

তুমি খন্ড খন্ড মেঘের মতো বৃষ্টি,ঝড়ে ভেঙে যাও।

তুমি বুক ভরে মৃত‍‍্যুর সমাধি,কবর দেখো।

তুমি মৃত‍্যু ডাকো,গভীর ঘুমে তুমি ম‍ৃত‍্যু ডাকো।

কিন্তু তুমি মৃত‍্যুকে স্পর্শ করো না তোমার পায়ে শিকল,

শামুক,পুঁটি,কাকড়ারা তোমায় আঁকড়ে ধরে।

 


আগমন

- কুহেলী রায়


কাশবনে ভরে গেছে চতুর্দিক, 

আকাশে মেঘের ভেলা, 

নবরূপে সাজছে পৃথিবী, 

মায়ের আসার সময় হলো এই বেলা। 


সর্বদিকে প্রদীপ প্রজ্জলিত, 

আলোকমালায় সজ্জিত। 


নতুন কিরণে আলোকিত ধরা, 

মা আসছেন সাথে শিশু কন্যা।


যত রাবনের বিনাশ হোক শেষে, 

প্রত্যেক নারী দূর্গা হোক  তবে। 


মা আসছেন শিউলি পায়ে, 

নবরূপে নবদেহে। 


প্রতি ক্ষনে জেগে আছি, 

মায়ের পদধ্বনি  শুনবো বলে, 

সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে উঠি, 

শুধু মা আসবে বলে।

 


শরতের সকাল

- কবি অনিল


আমি অধীর আগ্রহে চেয়ে থাকি,

ভাদ্র-আশ্বিনের সন্ধিক্ষনের  গতিবিধি।

বাতাসে হেলে দুলে ওঠে কাশফুল,

খাল বিলে ভরে যায় শাপলা ফুল।

শরতের নীলাকাশে ভেসে থাকে ,

ছেঁড়া ছেঁড়া শুভ্র মেঘের ঢেউ।

শরত তার সৌন্দর্য বিলিয়ে যায় প্রকৃতির বুকে,

বর্ষাকে বিদায় জানিয়ে শরতের আগমন ঘটে।শরতের আকাশে পেঁজা তুলার মতো স্বপ্ন রা ঘুরে বেড়াক,

কাশফুল তার চিরচেনা পরশ বুলিয়ে যাক।

শিউলী টগর ফুটে ডালে ডালে,

মালতিলতায় খোঁজ নিয়ে যায় ভোমোরেরা দলে দলে।

ঘাসে রা ঢাকা থাকে শিশির ভেজা জলে,

বলকা উড়ে যায় ডানা মেলে।

পড়াশোনা নেই বালা নেই কোন জারিজুরি,

আগমনীর গান সবার মনে মনে পোশাকের রকমারি।

 


শিউলির মহিমা

- মায়া সাহা


শরতের প্রভাতে আজও মনে পরে  

শীতের ভোরে সখীসবে মিলে 

ফুল কুড়ানোর কথা।

 শিউলি সুবাসে যখন মাতোয়াড়া আমার পাড়া!

সেই মধুর সুবাসে পাগল আমি!

আমায় যায়না ঘরেতে রাখা।

হাতে নিয়ে ফুলের সাজি 

আনন্দেতে সখীসবে মিলে শিউলিতলায় চলি!


সবুজ ঘাসেতে  আছে পড়ে,

সাদা পাপড়ির আর কমলা বোঁটায় শিউলি- সুন্দরী।

সহস্র মাইল দূর থেকেও তোমায় অনুভব করি।

তাইতো তুমি শতফুলের মধ‍্যেও হয়েছ ফুলের রাণী।

মায়ের আগমনী বার্তায় মহানন্দে তোমায় বরণ করি।

বিদায়লগ্নে রেখে যাও তুমি,

মানবের প্রাণে- ঘ্রাণে -নয়নে 

তোমার অপূর্ব মাধুরী।

 


সুখু দুখুর গপ্প

- সঙ্গীতা মিশ্র (দোলা)


দুখ বলে,ওরে ও সুখ

তোকেই খুঁজে বেড়ায় লোকে,

আমি গেলেই, কেন এমন

পাথর চাপে বুকে?


সুখ ডেকে কয়, ওলো ও দুখ

তোর যে থাকা বারণ,

তোকে তো কেউ চায় না হেথায়

তুই যে ভয়ের কারণ!


দুখ বলে, আমি আছি ,তাই তো সুখে

জুড়ায় সবার প্রাণ,

রাগের শেষে,ঠোঁটটি ফোলায়

মান আর অভিমান...


সুখ বলে,ঠিক রে তো ভাই

তোর হাহাকার ছাড়া,

হতো কি আর আমায় পেয়ে

সবাই আত্মহারা!

 


বাবা

- পার্থ মন্ডল


মায়ের জন্য অনেক বলা হয়,

কিছু হয়না বাবার জন্য।

জীবন যুদ্ধে সঙ্গে থাকার,

বাবার ভুমিকা যে এক অন্য।


সারা জীবন মাথার মধ্যে,

ধরে রাখে যে বাবা।

সুখ হোক কিংবা দুঃখ ই হোক,

পাশে থাকবেই বাবা।


ভালবাসা গোপন করা,

সেটা যে তার শিল্প।

লখ্য করলে দেখতে পাবে,

বাবার ভালবাসা নয় অল্প।


বট বৃক্ষের মত থাকে,

সব সন্তানের জন্য ।

যে পেয়েছে বাবার সাথ,

সে যে বড়ই ধন্য।


আজ যে খুব কালিমাখা হাত,

এ হাত কর্তব্যের জন্য। 

বাবার হাত কালিমখা শুধু,

সন্তানের জীবন গড়ার জন্য।



আমিই সেই নারী

- শ্রীকন্যা সেনগুপ্ত


আমি এক নারী, আমিই জীবনযুদ্ধের কান্ডারী।

দিবানিশি ক্ষয়ে ক্ষয়ে, জঠরে দুঃসহ জ্বালা সয়ে,

তবুও তো হাসিমুখে, মেতেছি দেখো সৃষ্টি-সুখে,

অস্থিমজ্জায় টানছে যে নাড়ী, আমিই সেই নারী।

আমি সেই নারী, আমি সবকিছু মেনে নিতে পারি।

তবুও আত্মসম্মানে লাগে যদি, বানভাসি হয় নদী,

কখনো রণচন্ডীরূপে, কখনো বা যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপে,

তবু ফতোয়া করেছি যে জারি, আমিই সেই নারী।

আমি সেই নারী, আমি ভ্রমণপিপাসু, অভিসারী।

কখনো দশভূজা সতী, কখনো অনুশীলনে ব্রতী,

কখনো আকাশে উড্ডীন, কখনো ত্যাগে বিলীন,

প্রতিষেধক যুগ-যুগান্তকারী, আমিই সেই নারী।

আমি সেই নারী, রাগ-অভিমানে চোখে বৃষ্টি ভারী।

আজ তো জরায়ুর ছাঁচে, প্রেম-ভালোবাসা বাঁচে,

তবুও মনের জানলা খুলে, পুরোনো সবকিছু ভুলে,

জিতে যাওয়া বাজী আমি হারি, আমিই সেই নারী।।


শরীর, মন

- পলি রহমান 


শরীর ছোঁয়ার মধ্যে বাহাদুরির কিছু নেই 

মন অবধি ক'জন আসতে পারে,, 

ক'জন পারে দিন রাতের ঘুম কেড়ে নিতে 

ক'জন পারে কাঁচের চুরির মতো 

মনের ভেতর জমে থাকা ঠুনকো নিয়মের 

দেয়ালকে ভেঙে দিতে, 

কেউ তো আসে না কপালের বাঁকা টিপটাকে

সোজা করে দিতে, 

সবাই আসে টিপের অস্তিত্ব বিলীন করে 

কপাল জুড়ে কলঙ্কের দাগ দিতে,, 


 


নিজের ঘর

- জাকিরুল চৌধুরী  


নিজের ঘরে যাহা শান্তি 

নেইতো পরের ঘরে,

একটু পয়সার জন্য মোর 

জীবন বিসজন করে। 

নিজের ঘরের মতো যদি 

পেতাম আমি শান্তি, 

সেই কথা কি তুই

কি সবে জানতি। 


কেন?

- জাকিরুল চৌধুরী 


কেন আমার দেশে বইছে রক্ত হয়নি কি স্বাধীন, 

স্বাধীন দেশ হয়ে কেন আমরা পরাধীন। 

রক্ত কেন ঝরছে মেজর সেনা সিনহা থেকে, 

দেশে কি নেই ন্যায় বিচার নেই কোনো আচার। 

দেশে কি আর হবে না মেজর সিনহা র বিচার, 

কাক কোকিলে খেতে পারে আম যদি পাকে। 


ইচ্ছে করে

- জাকিরুল চৌধুরী


ইচ্ছে করে উড়ে যায় 

মঙ্গল ঐ গ্রহে, 

তরি বেয়ে যাব আমি 

দিবা রাত অহে। 

সেখানে রয়েছে কতো না

টিলা আর পাহাড়, 

সেই দেশে হবে একদিন 

খাদ্য পানীয় আহার। 


চেয়ে দেখো

- জাকিরুল চৌধুরী 



চেয়ে দেখো আবার এসেছে কাল বন্যার পানি, 

সেই পানিতে ডুবে ডুবে খাচ্ছে কতই ঘর খানি। 

চেয়ে দেখো চেয়ে দেখো এসেছে আবার, 

আমার দেশের খাদ্যের অভাব দিবে সবার।

২০০৪ সনের বন্যা এসেছে ঘাটে পাটে নিবে সব, 

চেয়ে দেখো আবার এসেছে জল পৃথিবী তব। 

চারদিকে শুনা যায় পানির কলরব, 

মানুষ গুলো এখন হয়ে গেছে নিস্তব। 


রঙের মেলা 

- জাকিরুল চৌধুরী 


রংদুনিয়া রঙের মেলা 

করছো কত খেলা, 

কেউ হবেনা সাথী তোমার 

তোমার মৃত্যু বেলা। 

একদিন তুমি হবে ধ্বংস 

তোমার মৃত্যু দিয়ে, 

তুমি আজ ভীষণ খুশি 

দুনিয়া হস্তে পেয়ে।

একদিন তুমি হবে ধ্বংস 

পাবেনা নদী তীর, 

একদিন তুমি বাঁধবে যেন 

নিজ আপন নীড়।


বুঝবে সেদিন

- জাকিরুল চৌধুরী 


বুঝবে সেদিন যেদিন আমি থাকবো না ভুবনে, 

কত ভালোবাসিতাম কাঁদবে তুমি বসে সদনে। 

একদিন ঠিকেই খুঁজবে আমায় যেদিন হবো লাশ, 

সেদিন আমি জানি গো তোমার হবে সর্বনাশ। 

খুঁজে সেদিন হবে না তোমার কোনো লাভ, 

তুমি বলতে প্রেম করা মহা পাপ। 

জানি তুমি খুঁজবে আমায় গগন বায়ু গ্রহে, 

যখন পাবে না আমায় কাঁদবে রজনী অহে। 

তোমার প্রেম থাকোক তোমার কাছে মোর প্রয়োজন নেই, 

মোর যৌবন যে আমি সবার মাঝে বিলিয়ে  বিলিয়ে দেই। 


আসো মা ফিরে

- জাকিরুল চৌধুরী


আসো মা ফিরে দেখো কেমন আছে তোমার সন্তান, 

তুমি না আসলে কেমন করে দেখাবে যে প্রমাণ। 

মাগো তুমি নিতে আমার সকাল সন্ধ্যা রোজ, 

এখন তো আর নেই না কেহ লও না খোঁজ।  

মাগো তুমি ফিরে এসো দেখো তোমার সন্তানের কাজ, 

কেমন করে করচ্ছে কাজ যে নিত্য দিনের সাঝ। 

মাগো তুমি যখন আমার মাথায় বুলাতে হাত, 

এখন তো আর বুলাই না কেহ কেমনে কাটাই রাত। 

যখন তুমি ঘুম পারানি মাসি পিসি শুনাতে গান, 

সেই গান শুনে মাগো জুরাইত আমার সারা প্রাণ। 


জীবন তরী

- জাকিরুল চৌধুরী 


জীবন নামে তরী দিলে 

সুখ তো দিলে না, 

জলের উপর চলছে তরী 

খুঁজে কিছু পাই না। 

সোনার জীবন হলো ধ্বংস 

কি জানি র ছলে, 

জীবন তরী গেলো ভেঙে 

পাই না জীবন তলে। 

জীবন তরী চলছে যেথায় 

দাওনা সেথায় চলতে, 

সেই তরী ধ্বংস হবে 

মোমের মতো গলতে। 

জীবন তরী যাও যে বেয়ে 

পাবেনা কোনো কূল, 

এই তরী দিয়ে তুমি 

হবে না পার পুল। 


ভবের তরী

- জাকিরুল চৌধুরী


ভবের তরী যাই বাইয়া 

পাইনা নদী কিনার,

এই দুনিয়া হবে ধ্বংস 

থাকবে না কেউ আর। 

ভবের তরীতে ভাসছো তুমি 

জলে হবে তল, 

আর কতদিন দেখাবে তুমি 

তোমার গায়ের বল। 

ভব সিংহাসনে বসে তুমি 

করছো কতো মজা, 

এই মজার কারণে তুমি 

একদিন পাবে সাজা।


মায়ের সুখ

- জাকিরুল চৌধুরী

  

জননী তোমার কিছু চাই না

চাই যে আমি সুখ, 

সেই সুখেতে মাগো যেন 

বরে থাকে মোর বুক। 

সারা জীবন মাগো তোমার 

চাই যে আমি দোয়া, 

তাই যেন মাগো আমার 

পথ চলার সহজ তোয়া।


বৃষ্টির দিন

- জাকিরুল চৌধুরী 


বৃষ্টির দিন ছাতা নিয়ে 

থাকতাম দাড়িয়ে,

কখন আসবে বন্ধু আমার 

যাবো তাকে নিয়ে। 

বৃষ্টির দিনে হবেনা খেলা 

হবেনা কি দেখা, 

তার ছাড়া আমি হয়ে 

যাবো বড়ো একা। 


কিশোর কবি

- জাকিরুল  চৌধুরী 


আমি কিশোর কবি আমি নবীন কবি, 

এই সমাজের ন্যায় অন্যায় আঁকবো প্রতিচ্ছবি। 

বুক ফুলিয়ে দেখাব খেলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, 

যারা এই সমাজকে খাচ্ছে যে চুসে। 

আজ দেখাব কবির খেলা দেখাব কবির বল, 

ওরা সমাজের হিংস্র পশুর দল। 

সমাজকে চুষে আজ হয়েছিস প্রখর, 

এই কথা আজ ছড়িয়ে দিবো আমি হয়ে খেচর।

 


শ্রী দূর্গা উবাচ

- শাশ্বতী চট্টোপাধ্যায়


কি হবে এবছর মর্ত্যে গিয়ে,

আর কি সেথা সুরক্ষিত আছে!

কাজ নেই বাব্বা আর ওখানে গিয়ে,

চিন্তা যে একটাই প্রাণটাই চলে যায় পাছে!


বাপের বাড়ির খবর পড়ে,

নিদ্রাহীন হয়েছে এই দুই চোখ,

দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেথায় কোভিদ ঊনিশ,

মনে পড়লেই ভয়ে দুরুদুরু করছে এই বুক!


পারদর্শী সে বেজায় রঙরুপ বদলাতে,

বহু তরুণ তুর্কির জীবন দিয়েছে তারে হারাতে!

অনেক দিন মেরেছি বাবা অসুর,

আর যাচ্ছি নাঃ বাবা ওই মর্ত্যে!


দুত্তোরি ছাই, ওই ফোন করছে আবার কে?

বুঝি মর্ত্য থেকেই কোন ভক্ত!

বাপের বাড়ির লোক বলে কথা,

"না " বলাটা যে খুবই শক্ত!!


শরৎ এলে

- কাকলী সেনগুপ্ত 


শরৎ এলে কাশ, শিউলির সমারোহ

শরৎ এলে পড়া ফেলে নতুন জামার গন্ধ।

শরৎ এলে ঢাকের বাদ্যি আসে কানে,

শরৎ এলে আগমনীর সুর লাগে প্রাণে। 

শরৎ বয়ে শারদীয়ার বার্তা আনে, 

শরৎ এলে শিশিরবিন্দু ঘাসের পরে। 

শরৎ এলে আকাশে ভাসে সাদা মেঘের দল 

শরৎ এলে ঠাকুর গড়া দেখবি নাকি চল! 

শরৎ কালে আকাশ জুড়ে নানা রঙের ঘুড়ি ওড়ে, 

শরৎ কালে সন্ধ্যাবেলা পুজোর গন্ধ সবার ঘরে। 

শরৎ কালে সিঁদুরখেলার মহান প্রয়াস

শরৎ কালে বিসর্জনের ঢাকের আওয়াজ। 

শরৎ আনে আনন্দধারা, আবেগী মন, 

শরৎ কালে বাড়ি ভর্তি আত্মীয় পরিজন।

শরৎ তোমার, শরৎ আমার, শরৎ সবারই প্রিয়

শরৎ কালেই মনে প্রাণে লাগে ভালোবাসার আলো।।

 


শোচনীয় বর্তমান

- সোমা ঘোষ


বন্ধ যতো কলকারখানা....

শিকেয় উঠেছে শিল্প ,

বর্তমনে সমাজের মাথায় বসে তারাই ,

যাদের জ্ঞ্যান যতো অল্প।


এটাই নাকি উন্নতি....

এটাই নাকি আচ্ছে দিন...

এর থেকে বুঝি ভালোই ছিলো..

ইংরেজদের অধীন ।


 আগমনীর শুরু যেই বেজেছে.....

নেতা থেকে মন্ত্রী ফিতে কাটতে ছুটেছে..

এমন করেই কাটবে দিন কাটছে প্রহর...

ভারতবর্ষে এখন শুধুই উন্নয়ন আর ..  

আচ্ছেদিনের বহর।।


ভালোবাসার অনুভূতি

- রিন্টু পাল


ভাবছি আজ ভাবছি বসে 

আমার ঘরের পুরনো জানালাটার পাশে বসে 

আমাদের হল প্রথম পরিচয় সেই বৃষ্টি ভেজা রাতে 

আমার হাতে একটা গোলাপ দিয়ে 

তুমি বলেছিলে আমি ভালোবাসি তোমাকে । 

মনটা আমার আনন্দে মেতে উঠেছিল সেদিন 

আমি যাকে ভালোবাসি, সেও নাকি ভালোবাসে আমাকে।

ভালবাসার প্রথম ছোঁয়া পেলাম আমি তোমার থেকে, 

তোমার ওই ঠোট দুটি প্রথম

 স্নেহের চুম্বন দিয়েছিল আমার এই কপালে। 

তোমার ঐ বিশ্বাসযোগ্য হাত দুটি রেখেছিল আমার হাতে 

তোমার ঐ কাজল কালো চোখ দুটি দেখে 

ভালোবাসার অথৈই সমুদ্রে ডুবে ছিলাম আমি। 

       ভালোবাসা যে কত মধুর 

                     তা তুমি বুঝালে আমাকে । 

তোমার ভালোবাসা যদি আমি জনম জনম পাই 

তবে তোমার ভালোবাসা ছেড়ে কে স্বর্গে যেতে চায় ।

 


আনন্দময়ী

- সুভদ্রা রায় 


মেঘ বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা আকাশ এখন 

অপরূপ তোর রূপের বন্যা প্রকৃতি কন্যা 

কখনও  তুই  রূপসী রানী, 

কখনও আবার যুদ্ধং দেহী ভবতারিনী - 

বাতাসে যেন আগমনী সুর মনের খুশি -

তোর অপেক্ষার সাদা মেঘের তুলোর ভেলা

নতুন সুরে জাগরণী গান বাঁধা..! 

তুই এলে যে জাগবে ভূবন - প্রাণ পাবে.. 

তোর আসাতে বাড়বে বুকে হাজার শক্তি মনের আশা ! 

শূন্য হাতে পথ চেয়ে তোর, মাটির তালে  মূর্তি গড়ি -

মা যে তুই ঐ মাটিতেই উঠবি জেগে - 

অনেক ব্যথা যন্ত্রণা সব লুকিয়ে রাখা, 

চোখের জল তোর আঁচলে মুছবে বলে - 

আঁধার ঘরে পাগলী মেয়ে কান্না ঢাকে - পাথর চাপা 

তোর আলোর বন্যা ধুইয়ে দেবে হাসবে ভূবন - 

হালকা হৃদয় জড়িয়ে ধরে কাঁদবে সুখে সহস্র মন..!

 


নেই কাজে ছুটি

- বিজয়েশ নিয়োগী


প্রতিদিন সকালে একই নিয়মে

দৌড়, উৎকন্ঠা নিয়ে সাথে,

খবরের কাগজ সাইকেলে বেঁধে

কয়েক ঘন্টা ভিন্ন পথে।


হিসেবের কাগজ সাবধানে বিতরণ 

কত গোলক ধাঁধাঁর বাঁকে,

প্রতীক্ষিত কারো হাতে কখনো

কখনো বা নিক্ষেপ দরজার ফাঁকে।


দেশ বিদেশের খবরে মগ্ন সবাই

খবর বিলিয়ে সে বাড়ীর পথে,

সে তার খবরে মত্ত বুঝি

রোজগারের উপায় এইটুকু সাথে।


ঘাম ঝরিয়ে স্নান, হাড়ে কাঁপন

বর্ষার জলে ভিজে লুটোপুটি,

শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব কালেই

অবিরত নেই কাজে ছুটি।

 


প্রাক্তন 

- গোপা দত্ত


যে ছিল একান্ত আপনজন 

সমাজের অজানা কোন রোষে,

নিয়তির করুণ - নিষ্ঠুর পরিহাসে 

আজ সে হয়েছে "প্রাক্তন"!


থেমে গেছে একসাথে পথচলা,

নিভৃতে মনের কথা বলা;

ভেঙ্গে গেছে স্বপ্ন যত,

রয়ে গেছে গভীর ক্ষত!


তবু চলে গিয়ে দূরে --

ভুলতে কি পেরেছে পরস্পরে?

জড়ায়ে রয়েছে প্রাণের গভীরে 

স্মৃতিমেদুর দিনগুলি বেদনার সুরে!

 


ভবিষ্যৎ 

- কৌশিক দাস


জীর্ণ বাংলাকে আঁকড়ে ধরেই 

মুখ থুপড়ে পড়ে আছি ।

দারিদ্র আর নীতিহীনতাই আজ আমাদের পারিবারিক সম্বল।

জীবনের কবিতাকেই ,

কবিতার আকারে লিখে চলেছি।

নিজের অস্তিত্ব, অতীত, ভবিষ্যৎ 

ঢেকে দিয়েছি মুখোশের আড়ালে ।

ভাবছি শুধুই ,

এটাই বোধহয় নিয়তি ।

এটাই হয়তো ভবিষ্যৎ ।

হয়তো বা ,

খুউব ......... প্রয়োজনীয় ।

ভগ্নপ্রায় বাড়ি , ইচ্ছামতির তীর 

অপলকে তাকিয়ে আছে ।

অবিশ্বাস্য লাগছে !!

তাই  না ?

 


হারিয়ে যাচ্ছি

- শিবানী সাহা


তিল তিল করে হারিয়ে যাচ্ছি,

বয়ে চলা সময়ের স্রোতে।

ফেলে এসেছি কত স্বপ্ন,কত আনন্দ,

শিশির ভেজানো ঘাসের দলে।


পথ আমাকে ব্যঙ্গ করে চলতে পারি না বলে।

পিছন ফিরে তাকালেই দেখি,

আজ আর আমি নেই কোথাও

নেই সেই পথে, নেই সেই ঘাটে,

নেই সেই রেস্তোরাঁতে, দুটি হাত

বাঁধা রইতো যেথায় হৃদয় বন্ধনে।


স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে মন,

হারিয়ে যেত স্বপ্নের আঙিনাতে।

ধূসর হয়েছে সব  গোধূলিতে,

আঁধার আমায় ডাকে হাতছানি দিয়ে।

নেই.. নেই প্রতিধ্বনিত চার দেওয়ালে

শুন্যতা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে শুন্যতে।

 


জীবনকে করো উপভোগ

- নূপুর আঢ‍্য


জীবনকে করো উপভোগ

থেকো না গোমড়া মুখে,

হাসতে হাসতে কষ্ট ভুলো

রেখো না নিজেকে দুখে।


আমরা সবাই করি অভিনয়

জীবনের রঙ্গমঞ্চে

কখনও কাঁদি কখনও হাসি

সেজে রঙিন সাজে


ঝরার আগে যেওনা ঝরে

মনকে রাখো সবুজ

মনের বয়স বাড়তে দিওনা

ভাবো আপনে অনুজ


হাসির মাঝে আছে আনন্দ

জীবনকে পাবে খুঁজে,

রসে বসে থেকো আজীবন

আপন জনের মাঝে।


কিছুটা ঝরে যাওয়া

- সুমন প্রামাণিক 


মেঘ কাঁদে বৃষ্টি একটু হালকা হলে, 

ছোপ ধরা আকাশে চাঁদের নিক্কন... 

ফোঁটা ফোঁটা ঘাম জমা কপালে

এক গোছা জোছনাগন্ধা রেখেছি। 

সুতোর সংকেতে ভাড়া বসিয়েছে শর্বরী! 

পালকের মতো কিছু প্রশ্ন

উত্তর খোঁজে বিষাদ বিক্রি করে, 

আঁজলা ভরা কিছুটা ডুব

এক চিলতে ছাই চাপা রেখেছে আগুনে।

বুকছাদে জমা জলে চড়া সুদ

সিঁড়ি ভেঙেছে দগদগে ছ্যাঁকায়, 

নীল শিরা পার হয়েছে কাঁটাপথ।

ফেলে দেওয়া মোমে জমেছে মন খারাপ... 

ধুলো জমা বেহালায় সুর আর একটু করুণ, 

ছিঁড়ে যাওয়া ইমনে 'ভালো আছি, ভালো থেকো'।

 


আলোর দিশারী 

- প্রতিমা দাস


ভালো থাকাটা এখন নেশায় পরিণত_একটা অদ্ভূত মাদকতা আছে ওতে, 

অভ্যাসের ঘুণপোকারা দিনরাত নক্সা আঁকে ব্যস্ততায়... 

যে কোন মূল্যে তাকে চাই।

ভালোবাসি কথাটা পর্ণমোচী;

আমাকে আগলে রেখো বরং পাঁজরের দেরাজে চিরহরিতের ভীষণ অ-সুখে।

এ অন্ধকার আলোর দোসর হয়তো_ 

আলোর উৎস এরই অপ্রকাশিত অগ্নি জঠোরে।

আমাকে তোমার পবিত্র অন্ধকারেই জড়িয়ে রেখো হামেশা,

ভালোবাসার আপেক্ষিক আলোতে নয়।

সাময়িক উৎসবে সামিল হবার অবকাশ হয়নি কোনদিন।

আমি রোদ্দুর পিয়াসী, 

ওর নরম আঁচে তোমার পালক স্পর্শ ছুঁয়েছি অগুণনবার।

গনগনে আতিথেয়তা চাইনি তো, 

হৃদয়ের ওমে তোমার অনুচক্রিকায় ডুবে যেতে চাই।

ভালোবাসায় ক্ষয়িষ্ণু রোশনিতে নয়_

চিরন্তন অন্ধকারের নিঃশ্বাসে মিশেছি তাই।

 


বৃষ্টি ভেজা বারণ

- সন্তু কর্মকার


শত বৃষ্টিতেও আধভেজা আমার শহর

সামনে এলে থমকে যাওয়া সেই প্রহর


আমার কাছে ফেলে যাওয়া গল্প

চাইলে আরো লিখতে পারো অল্প


রোজ সকালে তোমায় খুঁজি বারবার

তোমার আঙ্গুলে রং সাজানোর আবদার


তোমার কপালের ছোট্ট টিপের ইচ্ছে

অচিন দেশে মন পাঠিয়ে দিচ্ছে


ধরণী যদিও বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে চাই

আমি শুধু তোমার চোখের কালো চাই


আধভেজা তুমি আধভেজা এই শহর

আধভেজা আমি আর আমার সফর।


যদিও তোমার বৃষ্টি ভেজা বারণ

তবু মনে মেঘ জমে শুধুই অকারণ।

 


আর যাবো না ফিরে

- কিরণময় নন্দী


হাতেগোনা আর কয়টা দিন

আবার একটা পুজোর ছুটি

 বেগণকোদাও উঠবে মেতে

খুশির গাঙে দেবে লুটি।


লাল পলাশে ফাগুন মাসে

শীতের শেষে আগুন বাহার

আশ্বিনের ওই শিউলি গন্ধে

নব খুশি বেগণকোদার।


সেই ছোটবেলার তাজা স্মৃতি

আজও হৃদয়কানন জুড়ে

পুজোর আগেই মন চঞ্চল

যতই থাকি  যোজন দূরে।


সত্যি বলছি, কষ্ট পাই

যাই ছুটে ওই অযোধ্যার কোলে

পুজোর কটা দিন কাটিয়ে আসি

সব অভিমান ভুলে।


অভিমান-- সে কি আর আমার মানায়

সে তো অভিজাত শব্দ

পনেরো বছরেই সেই যে ভুল

আজ আমি জীবন্ত কিন্তু নিস্তব্ধ।


সপ্তমীর রাতে শুভদার সাথে

এলাম রঙীন কলকাতায়

আলোর সাজে এত বাহার

ভুলে গেছি আমার পুরুলিয়াটায়।


দশমীর ওই সিঁদুরখেলায়

আমার সিঁথিতে উঠলো সিঁদুর

পনেরোর মেয়ে আমি-শুধু আবেগ বুঝি

তখন আগামী অনেক দূর।


চারিদিকে ব্যস্ততা কোলাহল

ভীষণ শান্ত আমার ভাড়াবাড়ি

প্রতিরাতে নতুন পুরুষ

শুভদা প্রেমিক নয়-মেয়ে কারবারি।


আমার নাবালিকা শরীর বিলোয় 

আর ওর হাতে থোকা থোকা টাকা

ভালোবেসে কি যে পেলাম

আমি আজ বারবনিতা।


বছরখানেক পরের কথা

হাতঘুরে আমি অন্ধগলি

রাতের বেলায় প্রেমের জোয়ার

আমি রোজ হচ্ছি বলি।


জানো,বেগণকোদা খুব ইচ্ছে হয়

একছুটে যাই তোমার কাছে

আবার নতুন জীবন শুরু করি

যেমন মেঘের ডাকে ময়ূর নাচে।


ভয় হয়গো পুরুলিয়া

ফিরে পাবো কি আগের মতো

রেশমীদিদি ফিরছিলো তার গাঁয়ে

সবাই বলে,"তোর রেট কতো?"


জানি অভিমান অভিজাত শব্দ

তবুও বলি আর যাবো না তোমার কাছে

এইটুকু সুখ বুকের মাঝে

দূর্গাপ্রতিমা গড়তে নিষিদ্ধপল্লীর মাটি লাগে।

 


নদীর কথা

- রোজী নাথ


সবুজ ছবির বুকে বুকে চলতি সে এক স্রোত

শতেক মোড়ের নীরবতায় জড়িয়ে থাকা পথ।


চোখের পাতায় মনভুলানো এমন সীমানা

পাহাড়বাঁকে জড়িয়ে রাখা আপন ঠিকানা।


সমুদ্রে যায় বহতা ধারা নিয়ম করা পথে

বিচিত্র সব ভূগোল ছুঁয়েই নিজের গতিতে।


বর্ষা এলেই খরস্রোতার ভাঙনপ্রবণ মন

নদী তখন সব ভাসিয়ে নিষ্ঠুর একজন।


শরীর যে তার প্রশস্থ হয় জলের বহর নিয়ে 

অকাতরে সে  তখন‌ই এপার-ওপার ভাঙে।


বিচিত্র সব রূপের বাহার চলার পথে পথে

গ্রাম পাহাড়ের সখ্যতা হয় নীরব জলের সাথে।


জল থৈ থৈ ঢেউয়ের বুকে যৌবন‌ও গায় গান

তার গভীরেই বেঁচে থাকে হরেক রকম প্রাণ।


শহর গড়ার প্রাচীন ছড়া এই জলেতেই লেখা

নদী তুমি চিরকাল‌ই বুকের অঢেল কথা।

 


তুমিই আমার মা

- চায়না মন্ডল


তুমি আমার মা

তুমি তো আমারই মা,

রাখবো ধরে তোমার চরণ

করবো আমি সব সময তোমায় শরন

আমি কারোর কথা শুনবো না মা

করবো আমি তোমায় আদর

বাসবো গো মা তোমায় ভালো।

তোমার থেকে আপন আমার

নেইকো কেউ আর।

তুমিই আমার মা দূর্গা,

তুমিই আমার মা কালী,

তুমি তো মা আমার স্বর্গ।

তুমি ছাড়া আমার

চলবে নাকো মা,

তুমি তো আমারি মা

তুমি শুধু আমার মা।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget