এপ্রিল 2020

অপেক্ষা
- সুমিতা সরকার ঘোষ

ফুলের শয্যায় অপেক্ষা আর অপেক্ষা,
শ্বাসরোধে উপহার দিয়েছিলে মৃত্যু।

ভালবাসার বদলে নামকরণে হলাম লাশ।

পরকীয়ায় পেলে বিশ্বাস-ঘাতকতা
কৃতকর্মের অনুশোচনায় আজও পড়ে তোমার দীর্ঘশ্বাস।

এখনও বিরহিণী অতৃপ্ত আত্মা পৃথিবীর বুকে খুঁজে বেড়ায় ভালবাসার বাস।

কেউ জেগে আছো শুনেছো কি তার পায়ের আওয়াজ.........

আসছে সে আসছে........

রাতের আঁধারে ঘুমের গভীরে.......
আসছে সে আসছে........

অনামিকা কবিতা
কলমে - শৈলেন মন্ডল

শব্দ জুড়ে কবিতা হয়ে যায় আর ঠাঁই পায় কাব্যগ্রন্হের পাতায়,
আবার নতুন করে শব্দ মেখে তোমায় গড়েছি নতুন কবিতায়।

তোমার নামেই কবিতা হোক আগন্তুক অনামিকা।

বসন্ত বিলাপে এই ফাগুনে তোমায় কতোই না এঁকেছি সাঁঝবেলায়,

অলস বিকেল তন্দ্রা হারায় সন্ধ্যার আঁচলে দিবালোক মুখ লুকায়।

গভীর নিশীথ আজও তাই ডাকে কতোশত যন্ত্রনা নিয়ে বুকে,
তোমায় আজও খুঁজে বেড়াই ভালোবাসার উৎস সন্ধানে।

হাতড়িয়ে বেড়াই তোমার মনের গহীনে অসীম অতলে,
তুমি সেই নামহীনা ফাগুন পলাশের অনামিকা কবিতা।

বসন্তের বাউন্ডুলে দখিনা বাতাসে অস্হির দোতারা মন হয় আনমনা।

২৪.০৪.২০

কবিতার মত
- মানিক দাস

ইচ্ছে আমার তোকে নিয়ে একটা কবিতা লিখি,
কিন্তু পথ পাইনা খুঁজে,
অনুভূতিতে দেখি তোকে, আবেশে চোখ বুজে।
দেখি তোর দীঘল হরিণ সম চোখ,
বার বার যা টেনে নিয়ে যায় সম্মোহিনী জাদুতে।
কি করে উপেক্ষা করি সে টান ?
তারপর দেখি তোর শ্যাম ঘন কেশ কে,
যে খরস্রোতা নদীর মত বয়ে চলেছে আগল বিহীন,
কটিদেশও ছাড়িয়েছে যার বিস্তার।
তখনও ভাবি তোকে নিয়ে একটা কবিতা লিখবো,
কিন্তু কি যে লিখবো ভেবেই পাই না।
তারপর দেখি তোর সুচিস্মিতার মত হাসি,
যা বিদ্যুতের মত ঝলক দিয়ে,
আমার জমিয়ে রাখা সব আঁধার কেই,
আলোকিত করে দেয় এক লহমায়।
তার পর চোখে পড়ে তোর ওষ্ঠ যুগল,
যার গোলাপি অভার মাধুর্য,
কোন অংশে কম যায়না,ভৈরব রাগিনীর থেকে।
তবুও কবিতা লেখাটা হয়ে ওঠে না জানিস!
তারপর অনুভব করি তোর স্পর্শের,
যা অহল‍্যার মত পাথর সম আমার দেহতে,
প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে এক নিমিষেই।
এর পর ঘ্রাণে আসে চন্দন সম তোর সুবাস,
যা উন্মত্ত করে আমার অনুভূতিদের।
এই ভাবে তোকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে,
কখন যে বেলা গড়িয়ে সন্ধে হয়ে যায় টের পাইনা।
তখনও ভাবি তোকে নিয়ে একটা কবিতা লিখবো,
কিন্তু লেখা হয়ে ওঠা না আর।

বীজ
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

বনে লালিত বীজ
সবার অগচরে অঙ্কুরিত হলাম যেদিন ,
ভেবে ছিলাম মাথার উপরের
নীল আকাশ ছুঁয়ে দেবো একদিন!
কিছু বসন্ত পরে সকলকে ছাড়িয়ে আজ আমি বনস্পতি
আমি সেই বন‍্য লালিত বীজ !
শাখা প্রশাখায়
মৌমাছির গুঞ্জন
পাখির কলোতান
মাতিয়েছি আমি !
আজও এক বসন্ত
কালবৈশাখীর ঝড়ে ঝরে গেছে ফুল
ভেঙ্গে গেছে আশা যতো ভালোবাসা ,
ভেঙ্গে গেছে বাসা উড়ে গেছে পাখি ,
নিভে গেছে আলো
আমি সেই বনের লালিত বীজ !

তুমি
- সুমিতা সরকার ঘোষ

হৃদয় তোলপাড় করা শব্দে আমি শুধু তুমিময়,

নিষ্ঠুর হলেও নির্ভরতার, নির্জনতার ছায়ায় কেন তুমিতেই আচ্ছন্ন?

নীরব অভিমানে তুমি।
কলঙ্কিত হতে চাওয়া শুধু তোমাতেই।

আজ ফির জিনে কি তমন্না হ্যায়

আমার সমস্ত বোবা কান্না জুড়ে তুমি,
বহু কাঙ্খিত যত্নের রাংতায় মুড়িয়ে রাখা সেই শব্দ তুমি।

শেষ যাত্রায় রজনীগন্ধা খাটের পাশে চাই শুধু তুমি।

আজ ফির মরনে কা ইরাদা হ্যায়

অবকাশে, অভ্যাসে,প্রয়োজনে, প্রিয়জনে, সবেতেই তুমি.......

মন খারাপ করোনা ভাই
- নূপুর আঢ‍্য

ছেলে আমার গেলো চলে বিদেশে,
ভাবলো না আমাদের ভালোলাগা কিসে।
যাবার সময় একটু মুচকি হেসে,
প্রণাম করে কর্তব্য সারলো শেষে।
দিন যায় মাস যায় যথাক্রমে,
ফোনে যোগাযোগ গেছে চলে ক্রমেক্রমে।
বসে থাকি তবুও মুঠোফোন ধরে,
এই বোধহয় করবে ফোন আমারে।
আশায় চাষা মরে মুখ পুড়ে,
শূন্য অন্তর ব‍্যাথায় হাহাকার করে।
একদিন এলো ফোন গভীর রাতে,
বললো পারবো না দেশে ফিরতে।
এই বুঝি ছিলো আমার ভাগ‍্যতে,
হবেনা কোনদিনও দেখা ছেলের সাথে।
চোখের জল ভরে গেলো দু'চোখেতে,
কুশল জানালাম করলাম আশীর্বাদ ফোনেতে।
পাশে থাকে দিবারাত - বন্ধু কানাই,
সুখে দুখে কাছ ছাড়া করেনাই
বলে মন খারাপ করো না ভাই।
আমিতো আছি তোমাদের পাশে সদাই,
থাকো সুখে চিন্তার কিছু নাই।

২৬/০৪/২০২০

মিস্ করা
কলমে - লিপিকা ব্যানার্জী

এখন হল মিস্ করার সময়
কেউ মিস্ করছে একলা দুপুর কে।
কেউ বা প্রেমিকের হাতে হাত রাখা কে।
কিটি পার্টি ও মিস্ করছেন অনেকে।
অফিস ফেরত বন্ধুদের সাথে আড্ডা, কলেজ ফেরত ফুচকা খাওয়া, স্কুল ছুটির দিনে সকাল-বিকেল পাড়ায় ক্রিকেট খেলা, নতুন বছরের কেনাকাটা, ছুটির বিকেলের ঘুরতে যাওয়া,
অগুন্তি আছে এই তালিকায়
কিন্তু যে মানুষটা, সারাটা দিন ট্রেনে চপ সিঙ্গারা বিক্রি করে বাড়িতে অন্য জোগাতো,
সে আজ শুনশান রেললাইনের দিকে তাকিয়ে,
মিস্ করছে সেই ট্রেনকে,
যা মেটাতে পারতো ঘরের ছোট ছেলেটার বায়না কে।
আনতো যা ঘরনীর মুখে হাসি।
সেই একসাথে রাতে বসে
গরম ভাত তরকারি খাওয়া কে মিস করছে সে। পডছে দীর্ঘশ্বাস।
এমন কতই দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে আছে শহরের বুকে-
কে -ইবা তার খবর রাখে।

ভূষণহীন
- রাণু সরকার

যাবে নাকি?
কিছু মর্মযন্তণাকে ফুঁ দিয়ে উড়াতে,
দলিত মথিত করি অতৃপ্ততাকে,
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে মিথ্যের মায়া জালে ভরা,
এসো দেই খুলে!
লজ্জাহীন হই-নিরাভরণ করে দেই ধুলো পড়া লজ্জার খোলস!
এসো এ বৈশাখে!
কিছু কিছু সুখকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করে নিষ্ঠুর হতে পারবে?
চলো-নিয়ম ভেঙ্গে দু'জনে প্রণয়ের স্রোতে ভেসে যাই!
লজ্জা গুলো তাকে সাঁজনো ছিলো সে গুলোকে ছুড়ে ফেলে দেই!
লজ্জাহীন হয়ে দু'জনে খুব করে আলিঙ্গন করি!
কিভাবে প্রণয় করতে হয় আমরা দেখাই!!

বসন্তের দিন চলে যায়
- সাইদীপা বসু

পলাশ রঙে রাঙা লাজুক
কনে দেখা বিকেলে,
আঙিনাতে ফাগুন মেখে
চৈতী হাওয়ায় মন দুলে ।

মন দুলেছে রঙ লেগেছে
ওরে ফাগুন কোন কাননে,
এমন ফাগুন কেন এলি
নেই যে প্রেম কারো মনে ।

বসন্ত যায় ঋতুচক্র যানে
হায় সকলে নিরুপায় ,
গ্রীষ্ম আসে নিয়ম মেনে
বন্দি মানব নিজ আলয়।

হাসল পলাশ, ডাকল শিমুল
কৃষ্ণচূড়া দোদুল দোলে,
স্বেচ্ছা বন্দি জীবন ত্রাসে
মনখারাপের খবর মেলে ।

একলা আকাশ থমকে গেছে
খিল দিয়েছে ঘরে,
মুখোশ ঢাকা পৃথিবীটা আজ
বড়ই অচেনা যে ।

বছর ভরে প্রতীক্ষাটুকু
ঋতরাজের সনে ,
দুঃস্বপ্নে ভাবে নি কেউ
এই বসন্ত মনে মনে ।

উৎসব আজ বন্ধ সবই
আতঙ্কে দিন যাপন,
বদ্ধ ঘরে একলা বসি
মরণ কিংবা বাঁচন।

বসন্ত তুই আসবি জানি
ঋতু চক্রের টানে,
আনন্দ আনিস সবার ঘরে
বার্তা তোর সনে।

মুঠো ভরে আনিস ফাগ
ছড়াবো দিকে দিগন্তে,
রঙীন হবে পৃথ্বী আবার
হাসবে মানুষ বসন্তে ।।

ভাঙ্গা গড়া
- হৈমন্তী ব্যানার্জী পাঁজা

কেউ কথা রাখেনি,
চলে গেছে বয়ে যাওয়া সময়ের মত করে,
একসময়ের জোর গলায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি গুলোর রঙ ফিকে হয়ে গেছে!
যত্নের অভাবে ছিঁড়ে পড়েছে পুরোনো সুতোর মত,
ভেঙ্গেচুরে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়ার পর আবার সেটাকে জোড়া লাগানোর ব্যার্থ প্রচেষ্টায় ক্লান্ত হয়েছে,
তবুও!!
ওই হারতে না দেওয়া ইচ্ছে গুলো হাতে হাত দিয়ে একবারের ঝড়টাকে সামলে নিয়েছে, কিন্তু...
ঘা সারলেও যে দাগ থেকেই যায়!
খরস্রোতা নদীর মত সময় বয়ে চলে গেছে ....
পুরোনো গতে জীবন ফিরেছে ,
আবারও!আবারও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে সে। ভাঙ্গা জিনিস হাল্কা টোকাতেই ভেঙ্গে যায় ও জানতো।
তাও...
আবারও নিজেকে ভেঙেছে, জুড়েছে শতবার,
আসলে এই প্রতিশ্রুতি গুলো তৈরীই হয় বুঝি ভাঙার জন্য___
তাইতো আবারও ভাসিয়েছে গা সময়ের জোয়ারে!
আসলে এই ভাঙ্গা গড়ার খেলাটাই তো বাঁচার ইচ্ছেটাকে চাগাড় দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে।।

প্রেমময় সৌন্দর্য্য
কলমে - শৈলেন মন্ডল

তোমার শরীরের ঘ্রান নেওয়া গন্ধটায় এক অপরূপ মাদকতা আসে ফিরে ফিরে।

চলে যাই সুখের সাম্রাজ্যে অমৃতলোকের পরশ নৈসর্গিক সুখ আহরনে।
সব মাদকতাকে ছাপিয়ে হৃদয়ে আনে পরম অতলান্তিক সুখের নান্দনিক পেলবতাময় আশাতীত ভালোবাসাময় সমৃদ্ধি।

ভিজে মাটির যেমন এক মাধুর্যতাময় সোঁদা গন্ধ আছে যার দ্বারা প্রকৃতি তার নিজস্ব সৌন্দর্যের ধারক হয়ে আবহমান কাল বিরাজ করে, ঠিক তেমনি।

প্রকৃতির মতো তোমার সৌন্দর্যটাও অপরূপ সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো, ঠিক যেমন ঘাসের আগায় এক অপূর্ব শোভা বর্দ্ধনকারী বিন্দু বিন্দু জলের ফোঁটা দেখতে পাই যেমন আমরা।

প্রকৃতি যেমন অম্লান বদনে তার অপরূপ শোভা দান করে,ঠিক তেমনি তুমিময় তুমিটাও যেন এক শুভ মুহূর্তের ঈশ্বরিক দান।

তোমার শোভায় আজ ভালোবাসাময় ভালোবাসাটাও এই ফাগুনের আগুন রাঙা পলাশের মতো সৌন্দর্য্য মন্ডিত করে।

প্রকৃতির মতো ঈশ্বরও যেন তোমায় সবকিছু দিয়ে সু -সজ্জিত করে পাঠিয়েছেন মর্তলোকের মোহর কুঞ্জে।
অতলান্তিক মনের অতলে এক প্রশান্তিময় অবয়ব খুঁজে পেয়েছি।

শরীরের স্পর্শতায় নয় মনের যত্নতায়,সোহাগে শাসনে তোমার মধ্যেই আজীবন বিলীন হয়ে থাকতে চাই।

২৩.০৪.২০২০

তুমহারে বিন
- পিয়ালী পাল

শিল্পী চোখ আঁকছে তোমায় ক্যানভাসে,
স্বেচ্ছাসেবক হাওয়ার গায়েও গন্ধ তোমার.
রঙের সাথে রঙ মিলিয়ে অভ্যাসে,
দিন কেটে যায় যায় অবশ ভাবে আমার.

ধারের খাতায় বাড়ছে রোজই হিসাব -নিকেষ,
একটু করে রোজই তোমায় ছিনিয়ে নেওয়া.
চায়ের কাপে অল্প চিনি দিনের শেষে,
অন্ধকারে ডাউন লোকাল মিলিয়ে যাওয়া.

প্ল্যাটফর্মে রইলো পরে কিছু চেনা মুখ,
ব্লু ডেনিমে তুমিও হয়তো বসন্ত দিন.
আড়চোখে চাই, এই আছিলায় সময় কাটুক,
প্লে লিস্ট খুঁজে বাছাই করি "তুমহারে বিন ".

তোমার অনেক শুভাকাঙ্খী ডাইনে বাঁয়ে,
লালবাতিতে আটকে গেছি, ট্রাফিক জ্যাম.
অনন্যপায় হয়ে গান পাঠালাম তোমার নামে,
ইচ্ছে হলে শুনতে পারো রাতের এফ. এম.

আর একবার
- প্রতাপ মণ্ডল

কি করছিস বলতো এখন?
তোর খবর নেওয়া আমার স্বভাব ছিলো সারাক্ষণ।
তুইতো নেই, তাই নিজের মনকেই প্রশ্ন করি।
হয়তো তুই বিশ্বাসই করবি না !
আমি তোকে স্পষ্ট দেখতে পাই.....
তুই ডাকলেই আমি সাড়া দিই, এইতো... যাই।
ও কি! জল কেন তোর চোখের কোণে?
আমার কথা ভাবছিস তো তুই আনমনে !
ভাবতেই হবে ! কে আর পারে এমন করে দূরে ঠেলে দিতে সযত্নে !
তবে একটা সত্যি কথা কি জানিস,
এমন করে আমি কাউকে ভালোবাসিনি জীবনে।
তবে, এবার তোর মনে প্রশ্ন আসতেই পারে !
"এতোই যদি ভালোবাসো, তবে কেন দিলে দূরে ঠেলে?
কেন তুমি আমাকে এভাবে ফেলে চলে গেলে?"
ভালোবাসা কিছুটা শরীরী হলেও বাকিটা মন
তাইতো তুই আমার মনেই থাকিস সারাক্ষণ।
আমিও যে তোর ভালোবাসায় বুঁদ হয়ে থাকি
যেমন তুই আছিস এখন -----
বলতেই পারিস আমি দক্ষ অভিনেতা, ভাবতেই পারিস চরিত্রহীন
কিন্তু বিশ্বাস কর, আমার চোখেও জল আসে ---
শুধু তোর ভাবনায় আমার প্রতিটা পল কাটে, কাটে প্রতিটাদিন।
আমি বারবার আহত হই আমার বিবেকের দংশনে
ফেরা যায় না, না রে? আর একবার..... !!
শুধু আর একবার আসতে পারবি না এই মনে?

মেঘ কাহিনী
কলমে - অপরাজিতা বিশ্বাস

শোনো,
কখনো দেখেছো, ওই দূর পাহাড়ের আবির-মাখা চূড়া,
পড়ন্ত বিকেলে সোনার রঙের রশ্মি দিয়ে মোড়া?
কখনো দেখেছো, পাহাড় চূড়ার শান্ত শিথিল মেঘ,
উজাড় করে দেয় সে যখন সকল ভাবাবেগ?

দেখোনি তো?
দেখেছি আমি, ওই দূরের শান্ত চূড়া
আগলে তাকে রাখে যখন কালো মেঘের জোড়া,
দিব‍্যি লাগে!
মেঘ পাহাড়ে কেমন করে কানাকানি জাগে।
ভালো তাকে বাসে আকাশ এতই উজাড় করে,
মেঘ শুধু তার আতপই পায় পড়ন্ত রোদ্দুরে।
ওই দূরের চূড়ার ঝরনা কেমন প্রবল ধারায় নেয়ে
ঘোচায় মনের সব অভিমান-ওই একরত্তি মেয়ে!
খরস্রোতা নদী কেমন প্রতি বাঁকে ঘুরে,
পরশ রেখে যায় তার প্রিয় পাহাড়ের তরে!
তাদের অমন প্রেমের কথা বেনামী ফুলেরা বলে,
শান্ত নিবিড় আশ্রয় যারা পায় পাহাড়ের কোলে।

মেঘ-পাহাড়ের মাঝখানে যেই বৃষ্টির উপস্থিতি
সবার অলক্ষ্যেতে যেন ত্রিকোণ প্রেমের সৃষ্টি।
ঝগড়া-বিবাদ সব ছাপিয়ে এ এক অন্য ভালোবাসা
বৃষ্টি হয়ে ঝরেই মেঘ মেটায় মনের তৃষা!
ঝরার যাকে, ঝরতে হবেই, মেঘ সে কথা জানে
ঝরা পাতার আবেশ সে তাই আঁকে পাহাড়-মনে।।

অভিমানের পত্র
- বিদিশা কর্মকার

প্রিয় টাপুর

আজ প্রায় বারো বছর পর তোকে আবার চিঠি লিখতে বসলাম ।জানিস টাপুর আজকে আমার বিয়ে । আমার যার সাথে বিয়ে হবে তার নাম নন্দিনী । হয়তো তুই বলবি," শেষ অব্দি তাহলে তুই বিয়ের পিঁড়িতে বসলি বল"?

আমি জানি আমার বিয়ের কথা শুনে অভিমানে তোর দুই চোখ জলে ভরে যাচ্ছে । কিন্তু বিশ্বাস কর মায়ের শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করতেই এই বিয়েতে রাজি হয়েছি আমি ।

সেই ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর মা অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছে । সেই মা আজ দু বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছে, তাই তার শেষ ইচ্ছা রক্ষা করতে আমার বিয়েতে রাজি হতেই হল ।

কিন্তু বিশ্বাস কর আমি নন্দিনীকে আমাদের সব কথা বলেছি । এমনকি অভিমান করে তোর আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও । শুনে নন্দিনীর ও দুচোখ জলে ভরে গেছিল জানিস ।

জানিস টাপুর আমার আজও মনে আছে সেই দিনের কথা, যেদিন বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ফেরার পথে, তোর এম .এল .এ বাবা আমাদের একসাথে দেখে নিল । আমি প্রথম থেকেই জানতাম আমার মত একটা নিম্নবিত্ত ছেলের তোকে ভালোবাসাটা সাজেনা।

কিন্তু শাস্তিটা পেলি তুই । তোর বাবা তোর কলেজ আসা বন্ধ করে দিলো ।তাও একদিন তুই ছুটে এসেছিলি আমার কাছে ।এসে বললি "আমায় বিয়ে করবি।নাহলে বাবা আমায় বিয়ে দিয়ে দেবে "।

কিন্তু আমার তো তখন নিজেরই খাওয়ার পয়সা নেই তোর দায়িত্ব কি করে নিতাম বল?কিন্তু তুই বুঝলি না । বিয়ের কার্ড টা আমার হাতে দিয়ে বললি" কাল সন্ধ্যা ছটায় আমার বিয়ের লগ্ন তোর কিন্তু আসা চাই"।

বিয়ের দিন শেষবারের মতো তোকে দেখবো বলে রেডি হয়ে তোর বাড়ি গেলাম ।

কিন্তু শেষবারের মতো দেখলাম তোর দগ্ধ শরীরটাকে । তোর অভিমানটা যে এতটা তীব্র আমি সেদিন বুঝিনিরে টাপুর । যে আমার উপর অভিমান করে তুই পৃথিবী ছেড়েই চলে যাবি ।

আজ আমার বিয়ের দিনে তাই তোকে না জানিয়ে কি করে বিয়ে করতে যাই বল । আমি জানি আমার চিঠির কথাগুলো তোর কাছে ঠিক পৌঁছাবে ।

আর আমার উপর অভিমান করে থাকিস না । সেদিন সত্যিই আমার কোনো উপায় ছিল না রে টাপুর ।
ইতি
তোর বিতান

#স্বত্ব সংরক্ষিত

সন্ধ্যাপ্রদীপ
- কিরণময় নন্দী

পূবদিকের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো বিছানায় পড়েছে।প্রদীপ এখনো শুয়ে বিছানায়। আট ফুট বাই সাড়ে ন ফুট ঘরে প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। বিবর্ণ ঘরে প্রদীপ এক বিবর্ণ চরিত্র।
চারিদিকে পাখির কোলাহল ভেসে আসছে। নতুন দিনের সূচনাকালে বাইরে যাবার প্রস্তুতি সেরে ফেলছে ওরা। দল বেঁধে চলে যাবে অনেকদূরে...সারাদিন পরিশ্রম করে খাবার সংগ্রহ,খুনসুঁটি, কাকস্নান সেরে গোধূলিবেলায় আপন নীড়ে ফেরা।
পূবদিকের আলো গায়ে পড়লে প্রদীপ বুঝতে পারে সকাল হয়েছে। কয়েকটা কাঁথা বিছানো শক্ত তক্তাতেই ওর দিনলিপি। শুয়ে শুয়ে পিঠে অসম্ভব ব্যথা। তবুও বেঁচে থাকার জন্য শুয়ে থাকা।
চার বছর আগে শ্রমিক-মালিক মতান্তরে কারখানা লকআউট। শ্রমিকনেতা মালিকের গোপনচুক্তিতে ভালো কামিয়ে আজ জননেতা। প্রদীপের মতো নেতার অন্ধ-অনুচর মানসিক অবসাদে-শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে সংকুচিত পৃথিবীর নীরস মানুষ।
মানসিক অবসাদে প্রদীপের আলো ক্ষীণ হতে হতে একদিন অন্ধকার। সবাই ভাবলো মরে গেছে। দু-চারজন বউয়ের কান্না শুনে হসপিটালে নিয়ে গেলো। না এতো সহজে প্রদীপের দুনিয়া দেখা সম্পূর্ণ হয়নি। ফিরে এলো প্রদীপ। কিন্তু বামদিকের সম্পূর্ণ কর্মদক্ষতা নষ্ট হলো। ও বোঝা হয়ে গেলো সংসারের। উপার্জনহীন মানুষটা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলো। তিনটে বাড়ি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হয় প্রদীপের বউ সন্ধ্যাকে। ভোর থেকে সন্ধ্যার যুদ্ধ। বাবুদের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে গিয়ে বাসনমাজা-ঘর পরিষ্কার-কাপড়কাচা। পান থেকে চুন খসার উপায় নেই। মাইনে কেটে নেবার হুমকি....কাজ ছাড়িয়ে দেবার চোখরাঙানি। প্রত্যুত্তর দেবার ক্ষমতা নেই সন্ধ্যার। রুগ্ন মানুষটার ওষুধের খরচ-ইস্কুলে পড়া ছেলেটার নানা খরচ আর সংসারের যাবতীয় চাহিদা মেটাতে সন্ধ্যা সব কথা মুখবুজে শুনে নেয়।
এদিকে প্রদীপের সংকুচিত বে-রঙীন জীবনে শুধুই হতাশা। মাঝেমাঝে পুরোনো স্মৃতি ভেসে ওঠে । দলবেঁধে কারখানায় কাজ... সুজয়,অসীম,মনসুরদের সাথে ঠাট্টা ইয়ার্কি...ট্রেনে একসাথে যাওয়া...বাড়ির বানানো টিফিন একসাথে ভাগ করে খাওয়া...কত কি!
প্রদীপ ভাবে আর প্রদীপের তেল চুঁয়ে পড়ার মতো শুস্ক চোখ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল বের হয়।
কদিন সন্ধ্যা কাজে যাচ্ছে না। ছেলেটাও ইস্কুলে যাচ্ছে না।সবাই বাড়ির ভিতরেই। দুপুরে সন্ধ্যা প্রদীপকে খাইয়ে দিতে দিতে বলল-"জানো একটা রোগ এসেছে, বড্ড ছোঁয়াচে, তাই লক-ডাউন চলছে দেশে। কেউ কারও বাড়ি যেতে পারবে না। কারও সাথে মেশা যাবে না। তাই আমি কাজে যাইনি। বাবুরা বারণ করে দিয়েছে।"

প্রদীপ লক-ডাউন কি জানেনা। লকআউটের তিক্ততায় ওর শরীর-মন বিষিয়ে গেছে। আবার লক-ডাউন।সন্ধ্যার কাজও বন্ধ। সংসার চলবে কিভাবে। ময়লা বিছানার চাদর ডানহাতে চেপে ধরে উঠতে চেষ্টা করে। মন চাইছে ছুটে যেতে বাইরে। কিছু কাজ করে কয়টা টাকা আয় করে সন্ধ্যার জন্য একটা শাড়ি কিনতে। বাবনের জন্য একটা ফুলহাতা জামা কিনতে। লকআউটের তীব্রতায় প্রদীপ ইচ্ছেহীন জড়পদার্থ। লক-ডাউনের সক্রিয়তায় সন্ধ্যার জীবনে কি গভীর রাত অপেক্ষা করছে? প্রদীপ কিছুই ভেবে পায়না।
রাত হয়ে এলো। মশার কামড় চলছে প্রতিনিয়ত। ছেলেটা দুলেদুলে পড়ছে। সন্ধ্যা ছেঁড়া জামাকাপড় সেলাই করছে। সেলাই এর উপরে সেলাই। প্রদীপ শুয়ে শুয়ে ভাবছে আকাশ-পাতাল। জানালা দিয়ে চোখে পড়লো গোল চাঁদ। ও আজ পূর্ণিমা। গোল রুটির মতো লাগছে আজ চাঁদটাকে.......

কৃষ্ণ
- সুমিতা সরকার ঘোষ

ফাস্টফুড এর দোকানে বেশ ভীড়, সবাই প্রাণ ভরে পছন্দ অনুযায়ী খাবার খাচ্ছে। একটি ছেলে পাশে অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছে। কিন্তু কেউ তাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। তিনদিন কিছু খাওয়া হয়নি তার, শরীর আর ঠিক ভুলের হিসেব মানতে চাইছে না। কিছু দূরে মঞ্চ তৈরী করে রাজনীতির বক্তৃতা চলছে, অসংখ্য লোক সেখানে জমায়েত। ছেলেটি চুপচাপ দাঁড়িয়ে, ভীষণ ক্ষিধে পেয়েছে। হঠাৎ সেখান থেকে একটি সুদীর্ঘ সুদর্শন লোক বেরিয়ে এলো, জিজ্ঞেস করল বাবা তোমার নাম কি? ছেলেটি বলল কৃষ্ণ। ভদ্রলোক বলল আমার সঙ্গে আমার বাড়ি যাবে?? আমি নিঃসন্তান।

চলো আগে তোমাকে কিছু খাবার খাইয়ে আনি। দুজনে এলো সেই ফাস্টফুডের দোকানে। লোকটি দোকানদারের পরিচিত। জিজ্ঞেস করল এই বাচ্চাটি কে? ভদ্রলোক উত্তর দিলেন আমার ছেলে কৃষ্ণ। সবচেয়ে দামী আর ভাল কি খাবার আছে দাও। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দোকানদার বিস্ফারিত নেত্রে তাকিয়ে রইল ছেলেটির দিকে।

ছেলেটি সীমাহীন আনন্দে ভেবে পেল না কি করবে? নতুন পরিচয়ে সে দুবেলা অন্তত পেট ভরে খেতে পারবে, বাবুদের ছেলে মেয়েদের মত বই ভর্তি ব্যাগ নিয়ে স্কুল যেতে পারবে, আরও কত কত লিস্ট তৈরী করে ফেলল মূহুর্তে। ভাবল এতদিনে একটা নতুন পরিচয় মিলল তার।

২৭.০৪.২০২০

নির্জনতায় ভাবনা
- শৈলেন মন্ডল

রাতের নির্জনতায় তোমার আমার হৃদয়ের আলিঙ্গনের নির্ঘুম সংগোপনের ছাপ।

শুন্যতা শুধুই শুন্যতায় আবার নিকষ কালো অন্ধকারের উজানে বোবা পোড়ামন হাতড়ায় তোমাকে।

মেকি আলো প্রদর্শিত করে তার টিমটিমে জ্বলতে থাকা সলতে অত্যন্ত নির্দয় নির্মমভাবে।

প্রিয়তমার মন বুঝে ওঠার আগেই প্রতিনিয়ত অমোঘ বাণী শুনে শুনে জীবন ওষ্ঠাগত।

ভালোবাসার বাসাটা বোধ হয় লাঞ্ছনার দড়িতে জাল বোনায় মত্ত।

নীরব নিথর মনটা শুধু থমথমিয়ে গুমরিয়ে মরছে আর অশ্রুফোঁটা গড়িয়ে দুগালে প্রলেপময় করে তুলেছে।

প্রতি ফোঁটার জলে যেন একটি একটি দুঃস্বপ্নের নিরভিমান কষ্টগুলো উগরিয়ে পড়ছে।

ভাঙ্গা জানালার মাঝখান দিয়ে দমকা বাতাস ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দে বেহুঁশ।

ঐদিকে বাইরে চিক্ চিক্ করে আলো নিয়ে খেলে বেড়াচ্ছে ঝিঁ ঝিঁ পোকারা আপন মনে ঝিঁঝিঁ কোলাহলে মগ্ন।

হঠাৎ সম্বিৎ ফিরে দেখি একাকী বিছানায় শত কোলাহলের যন্ত্রনার মাঝে শুধু প্রিয়তমা নেই কাছে।

শতরূপে তোমায় চাই আর ভালবেসে ভালবেসে যাই।

২৩.০৪.২০২০

গ্রীষ্মের দুপুর
কলমে: সম্পা মাজী

একটা কম্পানিতে চাকুরীর Interview জন্য SMS পেলাম, আমার বন্ধু তন্ময় কয়েক দিন আগে পেপারের বিঞ্জাপন দেখে ফ্রম ফিলাপ করেছিল সেটারই। দেওয়া আছে interview তে পাস করলেই চাকরি পাকা , স্যালারি ভালো , কিন্তু সমস্যা টা হল কোম্পানির যে অফিসের জন্য দিয়েছে সেটা অনেক দূরে নারায়নগড় , এখন যেতে প্রায় ৩থেকে ৪ ঘন্টা সময় লাগবে । এর আগেও অনেক চাকরির পরীক্ষা দিয়েছি কিন্তু কোনোটাতেই হয়নি হয় রেজাল্ট আসেনি নয়তো Interviewতে কেটে গিয়েছি। এখন আমার চাকরির খুব দরকার, যে কোনো সম্মান জনক কাজ হলেই হবে, তাই ঠিক করেছি এই interview টা দিতে যাবো।

যদি ট্রেন মিস করি তাহলে March এর এই গরমে সমস্ত রাস্তা বাসে করে যাওয়া সেটা খুব কষ্টকর তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম। রবিবারে এমনিতেই বাস ট্রেন কম থাকে তারপর এতোটা রাস্তা, প্রথমে বাস তারপর দুটো ট্রেন চেঞ্জ করে আবার গাড়িতে তবেই পৌঁছব। এই গ্রীষ্মের দাবদাহে মধ্যে ও আমাকে যেতে হবে আর কিছু করার নেই তাই এটাই করতেই হবে চাকরির জন্য। ট্রেন গুলো ঠিক সময়ে পাওয়ার জন্য সময়ের আগেই ওদের অফিসে পৌঁছে গেলাম, তবে ট্রেন থেকে নেমে ছুটে বাসটা ধরেছিলাম না হলে পরের বাস ১ ঘন্টা পরে,এই রাস্তায় গাড়ি খুব কম। যাইহোক ঠিক সময়ে পৌঁছে গিয়েছি এটাই ভালো।

Interview জন্য খুব বেশি জনকে ডাকেনি কোয়ালিফিকেশন দেখে ১০ জনকে ডেকেছে , আমার interview হাওয়ার পর কিছু খাওয়ার কেনার জন্য দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করতে সে বলল , কারখানার ভেতরে নিজস্ব ক্যান্টিন আছে কিন্তু রবিবার বন্ধ থাকে, বাইরে দুএকটা দোকান আছে । আমি বাইরে এসে দেখলাম দুপুরের জন্য সব দোকান বন্ধ হয়েগিয়েছে । তবে এখানে একটা কল দেখতে পেলাম সেখান‌ থেকে জল খেলাম আর নিয়ে নিলাম । তবে আমার মতো আর জারা এসেছে তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তার হয়তো এখানে সমন্ধে আগে থেকেই জানে।কিন্তু আমি , বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মা ব্যাগে বেশি করে খাওয়ার নিয়ে আসতে বলেছিল যদি কিছু না পাওয়া যায় তাহলে কিছু অন্তত খেতে পারবো কিন্তু আমি ভারি ব্যাগ বওয়ার ভয়ে কিছুই রাখিনি ভেবেছিলাম যখন খিদে পাবে কিছু কিনে নেব। কিছু কিনে খেয়ে নেব।ট্রেন থেকে নেমে তাড়াহুড়োর জন্য কিছু খাওয়া হয়নি ভেবেছিলাম কাজ হয়ে গেলে সেখানেই খেয়ে নেব , কিন্তু এখান দেখছি কিছু খাবার নেই, শুধু জল পেলাম তাকেই পেট ভরে খেয়ে নিলাম। ট্রেশন প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে, তার ওপর রাস্তায় কোনো গাড়ি দেখতে পারছি না। কিছু সময় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করে কিছু না পেয়ে হাঁটা দিতে লাগলাম , আজকে তাপমাত্রা সবথেকে বেশি , আগেই খবরে শুনেছিলাম দুপুরে বাইরে বেরতে বারন করেছে বাতাসে লু বইবে কিন্তু আমার কোনো উপায় ছিল না তাই বেড়িয়েছি । এখানের কাজ শেষ বাড়ি ফিরতে হবে , আজ আবার ছাতা আনতে ভুলে গিয়েছি , তাই বাধ্য হয়ে এই গ্রীষ্মের দাবদাহে মধ্যে কোনো ক্রমে পথ চলতে লাগলাম মাথার ওপর সূর্যের তাপ আর রাস্তার ওপর গরম লাভা ,এক কিলোমিটার হাঁটার পর মনে হচ্ছে এই রোদের তাপে সানস্টোক হয়ে যাবে,এই ভর দুপুরে রাস্তা তেমন কোনো লোক জনকে দেখতে দেখা যাচ্ছে না সমস্ত রাস্তা ঘাট খাঁ খাঁ করছে, মনে হচ্ছে এই গরমে বেশি ক্ষন থাকলে মারাই যাবো আর বোতলে ও জল ও শেষের পথে সেরকম কোনো জায়গায় ও দেখতে পাচ্ছি না যে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটবো ।এমন সময় একজন লোক সাইকেল থেকে নেমে বলে ,
- তোমাকে তো লোকাল মনে হচ্ছে না , তাই এই ভরদুপুরে কোথায় গিয়েছিলে তোমার কাছে তো ছাতা নেই , আমার ছাতাটা নাও।
এমনিতেই হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে তার ওপর অচেনা লোকের বকবকানি , বিরক্ত সঙ্গেই বললাম,
- না লাগবে না,এই সামনের কারখানাতে গিয়েছিলাম, তা আপনার কি কিছু অসুবিধা আছে।
- তা নয়, তুমি একা হাঁটছো তাই ভাবলাম এই ফাঁকা রাস্তায় একা কেন হাঁটবে ,তাই তোমার সাথে সঙ্গ দিতে এলাম , এই রৌদ্রে আমার ছাতা নিয়ে কিছু টা পথ যেতে পারে তার পর ফিরিয়ে দেবে, তবে আমি তোমাকে একে বারে দিতে পারবো না।
- আমি কি আপনাকে চেয়েছি ছাতা।
- না , আমার কাছে একটা গামছা আছে ,তাই তোমাকে ছাতাটা দিচ্ছিলাম। বলছি তোমার নাম টা তো বললে না।
- না জেনে কি করবেন।
- অসুবিধা থাকলে বলতে হবে না।
- না কোনো অসুবিধা নেই , আমার নাম সুমন , বাড়ি ঘাটালের ওই দিকে।
- বাড়ি কিন্তু জিজ্ঞেস করিনি ,তবে তুমি আগেই বলেদিলে।সে তো অনেক দূর, তা একাই এসেছো ।
- আচ্ছা আপনি গায়ে পরে এতো কথা জিজ্ঞেস করছেন কেন বলুন তো।
- না মানে , তোমার শুকনো মুখ দেখে মনে হচ্ছে অনেক ক্ষন কিছুই খাওয়া হয়নি, তোমার চলা দেখে মনে হচ্ছে তুমি ক্লান্ত।
- আচ্ছা আপনি কি মন বিজ্ঞানী , দেখে সব কিছু বলে দেন।
- না আমি চাষি বাসি মানুষ ওতো কিছু জানি না , আসলে তোমাকে দূর থেকে লক্ষ্য করছি দেখে মনে হল ক্লান্ত তাই জিজ্ঞেস করছিলাম।
- হ্যাঁ অনেক দূর , বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে।
- বলছি যদি কিছু মনে না করো তাহলে আমার বাড়ি যাবে , ওই সামনেই আর কিছু টা গেলই আমার বাড়ি , এই দুপুরে একটু জল বাতাসা খেয়ে যেতে ।
লোকটার কথা শুনে আমি দাঁড়িয়ে পরলাম , ভাবছিলাম লোকটা আমার সাথে ইয়ার্কি করছে তাই ও তার সাথে উত্তর দিচ্ছিলাম , কিন্তু একজন অচেনা ছেলে কে প্রথম পরিচয়ে বাড়িতে খাওয়ার জন্য ডাকবে ভাবি নি , কিন্তু যতো খিদে পেলেও হ্যাঁ বলতে পারবনা তাই এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বললাম,
- না ,আমার ট্রেন মিস হয়ে যাবে।
- আরে পরের ট্রেনে চলে যাবে ,আমিও তো একটু পরে ট্রেশনে যাবে আমার এক আত্মীয় কে আনতে , তোমাকে না হয় আমিই সাইকেল করে পৌঁছে দেব।
আমি আর না জিজ্ঞেস করে থাকতে পারলাম না,
- আচ্ছা আপনি যে , চেনা নেই জানা নেই অচেনা একজন ছেলেকে বাড়িতে খাওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে যাবেন বাড়ির লোক কিছু বলবে না।
- চিনি না তো কি হয়েছে তোমার নাম তো জানি ,তাছাড়া এই ভরদুপুরে অতিথিকে না খাইয়ে ছাড়লে বাড়ির অমঙ্গল হয় , আর তুমি তো আমার ছেলের বয়সী মানে আমার ছেলের মতো।

গ্রীষ্মের চরা গরমে ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত অবস্থায় এই আগন্তুকের কথা ফেলে দিতে পারলাম না ,তার সঙ্গে তাদের বাড়িতে চলে গেলাম সেখানে গিয়ে দেখলাম গরিব গ্রাম্য মানুষের আতিথেয়তা,হয়তে মেনুতে তেমন আহামরি কিছু ছিল না কিন্তু নিজের খাবারের ভাগ থেকে অচেনা এক ছেলে কে এমন ভালো বেসে দেবে ভাবা যায় না ।রাস্তায় যখন হাঁটছিলাম তখন মনে হচ্ছিল এই গরমের দাবদাহের হয়তো মারাই যাবো আর বাড়ি ফিরতে পারবো না কিন্তু আমার সাথে হল অন্য রকম।

ঠিক একবছর আগে সব থেকে গরমের সেই সেদিনের ঘটনা টা মনে পরে গেল , অন্যান্য বছরের মতো এই বছর ও গ্রীষ্ম এসেছে তবে মানুষের ভালো কর্মের জন্য এখনো আসেনি গ্রীষ্মের দাবদাহের দুপুর।

জড়ের পাখি
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

আজ শ্রাবণে মেঘ জমেছে ঈশান কোনে ,
বৃষ্টি বুঝি নামবে এখন
ঝড় উঠেছে আপন তালে
ভাঙবে বুঝি পাখির বাসা!
যেই পাখিটা গাইছিলো গান
হরবলিয়ে নানান সুরে,
থমকে যাবে কন্ঠ যে তার
বন্ধ হবে আনাগোনা,
আজ শ্রাবণে মেঘ জমেছে
ঈশান কোনে ,
বৃষ্টি বুঝি নামবে এখন!
দিনের শেষে সূয‍্যি যাবে মুছে
নীড় হারা আজ
ঝড়ের পাখির আপন নয়ন হতে!

একি বিস্ময় আজু আনন্দ
- অসীম দাস

যতই কেননা উপচে পড়ুক
পঙ্ক্তির ডালি কবিতার হাটে বাটে ,
কবিতার সেই প্রথম পঙক্তি
আজও বাঁধা আছে পদ্মদীঘির ঘাটে ।

যেদিন তোমাকে প্রথম দেখেছি
পুনর্জন্ম সেদিনই আমার কাছে ,
প্রথম সে মুখ অবিকল ফোটে
আমি দেখি শুধু প্রতিদিন জুঁই গাছে ।

যতবার আমি ক্রোধের আগুনে
কলম ধরেছি বিদ্রোহে প্রতিবাদে ,
আমি পুড়ে যাই এই সংশয়ে
শীতল করেছো স্বপ্নের সংবাদে ।

তুমি আছো তাই আজও রাত জাগে
পদ্মদীঘিতে কৃষ্ণপক্ষে চাঁদ ,
শোকে বিচ্ছেদে ভ্রমরের ভেলা
বেয়ে এসে তুমি ধুয়ে দাও অবসাদ ।

একি বিস্ময় জাগিয়ে রেখেছো
আজু আনন্দ ধমনী শিরাতে বান ,
ভুলতে দিও না যদি আমি ভুলি
তোমারই জন্য ফিরে পেতে চাই প্রাণ ।

কিবা এসে যায় ভাবী নাম ডাকে
অতৃপ্তি মুছে তুমি থেকো অম্লান ,
প্রথম পাওয়াই শেষ পাওয়া হোক
জাগরূক ঘ্রাণে পদ্মদীঘিতে স্নান ।

নরম আদরের স্পর্শতা
- শৈলেন মন্ডল

নরম মেঘের মিষ্টিমন ছুঁয়ে যায় আদরের ভেলা শত অভিলাষ ভরা চিরন্তনী সারাক্ষন।

মেঘলা মনের আদর ছোঁয়ানো বৃষ্টিতে মন ছুঁয়ে যায় সারাক্ষন প্রতিক্ষন।

তোমার আমার আদুরে ক্যানভাসে আঁকা আকাংখায় ভরা উষ্ণতায় আলিঙ্গনের সুপ্ত অমোঘ হাতছানি।

স্বপ্নসুখের নরম বিছানায় দুজনের সহাবস্হানের নৈসর্গিক আনন্দ যাপনের উদ্দীপনাময় কামনার আগুন নেভানোর বাঁধভাঙ্গা প্রয়াস।

কালবৈশাখীর কালের গর্জনে প্রকৃতি যেন কালসিটে চাবুক মারা দাগের মতো স্তব্ধ হয়ে আছে।

এই নির্জলা বেলায় মেঘবৃষ্টির ছোঁয়ায় তোমার উষ্ণতা মাখানো আদর পেতে এ মন ভেঙ্গে যায় পল পল অনুপলে আকাংখার অবগুন্ঠনে।

আমার কামনার আগুনে পুড়িয়ে নেব অাদর মাখানো ভালোবাসার নির্যাস।

কতোদিন আমার প্রিয় মানুষকে চোখে দেখিনি,তার বুকেতে মাথা রেখে স্বপ্নবিলাসে অবগাহন করা হয় নি।

সে আমার একমাত্র প্রানের প্রিয়মানুষ যার আদরে আবেগের অনুভূতিগুলো কেমন যেন লেপ্টে থাকে পরম আবেশ নিয়ে।

প্রিয় মানুষের সাথে আমার আত্মিক ও শারীরিক ছন্দময় মেলবন্ধন যার বুকে মাথা রেখে পরম সুখে কেঁদে নিজেকে হালকা হওয়া যায় ও আদরের স্পর্শতা ও সুখানুভূতির সামিল হওয়া যায়।

২১.০৪.২০২০

বনে আগুন
- কিরণময় নন্দী

জ্বলছে 'মাঠা' জ্বলছে 'শুশুনিয়া'
জ্বলছে পশ্চিমের বনাঞ্চল
চাতক হয়ে চেয়ে থাকি
আসবে কখন বৃষ্টি-জল।

পুড়ছে 'মানকালানির' গাছগাছালি
লেলিহান আগুনগোলায়
পুড়ছে আমার 'মুকুটমণিপুর'
শুধু একটু বৃষ্টি চাই।

বনের পর বন পুড়ে যায়
কালো ধোঁয়ার সার
প্রকৃতি আজ রণং দেহি
সব পুড়ে ছারখাড়।

বনের পশু অসহায় আজ
প্রাণের ভয়ে ছোটে
অস্ট্রেলিয়া থেকে আমাজন
অরণ্য আজ সাহার রোষে।

লীনার জন্মদিন
কলমে – ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য

লীনার জন্মদিনটা দেখতে দেখতে এসেই গেল |
এই পরিস্থিতিতে জন্মদিন ***** লীনাও পরিস্থিতিতে একদম চুপচাপ | ও ওর বাবার কাছে আবদার করে বললো বাবা আমাকে দুহাজার টাকা দেবে ??
ওর বাবা অবাক মেয়ের কথা শুনে , লীনা বলে বাবা ঝুমাদির মেয়ে হয়েছে আজ বাড়িতে আসার কথা ,কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স ডিস্টেন্স অনুযায়ী ওই টাকাটা চাইছে ,আর তিমিরদা মানে ঝুমাদির বর এই মাসের মাইনে এখনো পাইনি ,তাই যদি
বাবা তুমি এই টাকাটা দাও তাহলে ওই ছোট্ট পুচকু
তাকে বাড়িতে আনতে পারবে ,ঝুমাদি আজ হোয়াটস্যাপে ওর এই অবস্থার কথা আমাকে বলছিলো |
বাবা ওই ছোট্ট শিশুটার জন্য পারিনা ??
প্রত্যেক বছর ওরা আমার জন্মদিন ভুলে যায়না ,এবার ও যায়নি গো বাবা |
দেবেগো বাবা দুহাজার টাকা |

শত শব্দের গল্প, কলমে ইন্দু (21.4.2020)

তাই ওরা কাজ করে চলে
- কিরণময় নন্দী

ইস্কুল মুখী ছিলো ওরা
ছিলো নতুন শেখার ইচ্ছে
অভাব দাঁড়িয়ে বাড়ির দরজায়
কি হবে আর লেখাপড়া শিখে?

নামসই টুকু শুধু নয়
শিখেছিল যোগ-গুন-ভাগ
কাজ করে খেতে হবে
বাড়িতে দাঁড়িয়ে অভাব।

দূরপাল্লার ট্রেনে ভীড়ে ঠাসাঠাসি
চোখ দুটো দিয়ে গড়ায় জল
কাজ করে খেতে হবে
কোনোকিছু নেই সম্বল।

ভিনরাজ্যের ছোট্টঘরে ওদের
নতুনকরে মানিয়ে নেবার পালা
ওরা কাজ করে চলে
মুখবুজে সারাদিন চারবেলা।

মাসের শেষে বাড়িতে হাসি
ডাকযোগে আসবে কিছু টাকা
বর্ষায় টিন চাপবে ঘরের-চালে
বোনের বিয়ের জন্য কিছু জমিয়ে রাখা।

বছর ঘুরে আসে নতুন বছর
পুজোর শেষে পুজোর তাড়া
ওরা কাজ করে চলে
ওরা পেটের টানে নিজ ঘরছাড়া।

ওদের খবর রাখে না কেউ
ওরা নয়তো বিদেশবাসী
ওরা পেটের টানে কাজ করে চলে
ওরা নিজ-দেশেই পরবাসী।

বিশ্বজুড়ে বিষের ভয়ে
সবাই যখন বন্দী ঘরে
ফিরলো ওরা আপন গাঁয়ে
সেই ঠেসাঠেসি ট্রেনে চড়ে।

ওরা বিদেশফেরত দুলাল নয়
ওরা খেটেখাওয়া মানুষ
নিয়মমেনে স্কুলঘরেই চোদ্দোদিন
বন্দী থেকেও ওরা দিলখুশ।

সেই স্কুলঘর আজ বেশ বড়
চারদিক পাঁচিল ঘেরা
কতকিছুই বদলে গেছে
বাগান ফুলে-ফলে ভরা।

পিছনের বেঞ্চে বসতো ওরা
লেখাপড়ায় ওরা নয় মন্দ
অভাব ওদের দূরে ঠেলেছে
আজ সেই স্কুলেই ওরা-কত আনন্দ।

পরেরদিনে দলবেঁধে ওরা
নতুন কাজে উঠলো মেতে
নতুন করে রাঙলো স্কুল
ওরা খুশি,কাজকরে একসাথে।

ওরা দামালছেলে,ভীষণ ভালো
ওরা কাজ করে অবহেলে
ওরা ভালোবাসে গ্রাম-স্কুল
তাই ওরা কাজ করে চলে।

রাজকীয় ঝাড়বাতি
- সুমিতা সরকার ঘোষ

ঝাড়বাতির প্রতিটি কাচের স্ফটিকে ইতিহাসের প্রতিবিম্ব চলে,

গভীর রাতের অজানা গল্প নীরবে কথা বলে।

কত নারীর সুপ্ত বাসনা আর চোখের জলে রাজবাড়ীর প্রতিটি বর্ণ রঞ্জিত,

সুড়ঙ্গে গুম হয়ে যাওয়ার কাহিনী একের পর এক পরিকল্পিত।

অনাচারী রাজাদের ব্যাভিচারের চক্রান্ত বাতাসে কানাকানি হয়,

রাজমহলে হঠাৎ জ্বলে ওঠা রাজকীয় ঝাড়বাতি সন্ধ্যে থেকে রাতের প্রতীক্ষায় রয়।

রঙ্গীন আঁচল এক নিমেষে সাদা আলেয়ায় হয় পরিনত,

মহলের কোণায় কোণায় ভয়-রহস্য- আলো- আঁধারির, মিলমিশ যোগদানে রাজমহল অস্তমিত...

২২.০৪.২০২০

জানিনা শেষ কবে
- শৈলেন মন্ডল

জানি না শেষ কবে আমাদের দেখা হয়েছিল দুজনের।
ঠিক জানি না কবে আমরা চাঁদের জোছনায় মিস্টি সোহাগ মেখেছিলাম।

শেষ কবে ছুঁয়েছিল তোমার ভালবাসার অহংকারের মাটি।
শেষ কবে হারিয়ে গিয়েছিলাম উষ্ণতার চুম্বনে আঁকা ভালবাসার স্বর্ণালী সবুজ দ্বীপে।

মিটি মিটি করে তারারা জ্বলে যায় ভালবাসার অনুভূতিগুলো পার্বনী সুখের আঙিনায় আল্পনা আঁকে প্রতি ক্ষনে ক্ষনে।

প্রতিটি রাতের রক্তক্ষরণের জেহাদী অপেক্ষারা কতো নিষ্পলক হয়ে প্রতি মুহূর্তগুলো আক্ষেপে বিমূঢ় বিপ্লবী হয়ে যায় খোঁজ রাখেনি তো কেউ।

শেষ দেখার শেষ পলকটাও কতো শত আক্ষেপ বিলাপ ও বিহ্বলতা ভেঙ্গে চোখ থেকে চোখটা সরিয়ে নিতে হয়েছিল তা বোঝাবার ও ভাষা নেই।

তৃষ্ণার্ত ভরা চাতক পাখীটাও কিন্তু প্রতি মুহুর্তে বৃষ্টির জলের আকাংখায় উদাস হয়ে প্রহর গুনতো তখন মনে রাখেনি কেউ।

ভালবাসার বালুকা বেলায় উষ্ণ মরুভূমিটাও অসহায় মরুদ্যানের কাছে হার মেনে মরিচিকার পেছনে ছুটেছিল শেষবার।

এখন তো বসে বসে ভাবি ভালবাসা কতো অসহায় ও জরাজীর্ণ বিমূর্ত ক্যানভাস হয়ে সুখানুভূতির ছোঁয়ায় রঙিন অধরা স্বপ্ন এঁকে দিয়ে হঠাৎ করে বিদায় নেয় বেদনা ভরা অলস ঘুমের দেশে।

শেষ বিকেলের ডাকে তোমায় নিয়ে দিগন্ত রেখার সীমানা ছাড়িয়ে মনের আকাশে হারিয়ে গিয়েছিলাম উদাসী বাউল বাতাসে ভেসে তার হিসাব রাখে কি কেউ?

২০.০৪.২০২০

অশ্রু আর বিষাদে ভরা আজ সারা পৃথিবী ;
পৃথিবীর বারান্দা জুড়ে শুধু ভয় আর ভীতি
জাতি ধর্ম বর্ণ মিলে মিশে গড়েছে সম্প্রীতি ।
সারা পৃথিবীটাই আজ হয়ে আছে গৃহবন্দী ;
ভুলে গেছে সবাই আজ কে কার প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রত্যেকে নিজের ঘরের কন্ডেম সেলে বন্দী ।
সাহস আর ক্ষমতার নেই কোনই বাহাদুরী ;
মৃত্যুর ভয়ে ভীত আজ পৃথিবীর সব নগরী
প্রতিটি ঘরই আজ একটা করে জেলবাড়ি ।
পৃথিবীর প্রচ্ছদ জুড়ে আজ মৃত্যুর উল্লাস ;
নতুন মলাটে পুরনো পৃথিবীটার সিলেবাস
প্রতিটি সিলিং এ বন্দী অনাহারী দীর্ঘশ্বাস ।
আজ নেই পরিবেশ দূষণ ; নেই শব্দ দূষণ ;
নেই কোন বিশ্বনেতা ;নেত্রীর বেহুদা ভাষণ
নেই মোড়ল দেশের শাসন কিম্বা নির্যাতন ।
লাগামহীন ঘোরার মতো ছুটে চলার বিশ্বে ;
আজ সবাই ভুলে গেছে কার ব্যস্ততা কিসে
তবুও স্বপ্ন এ বিশ্ব ফিরবেই চিরচেনা দৃশ্যে ।

আখরী খোয়াহিঁশে
- সুমিতা সরকার ঘোষ

আমি ষখন বাক্সবন্দী কফিনে লাশ হয়ে রজনীগন্ধার শেষ শয্যায়,

তুমি দূরে দাঁড়িয়ে তখন অঝোর শ্রাবনে কৃতকর্মের অনুশোচনায়।

এ্যায়সে জীবন ভি হ্যায় যো জিয়েহি নেহী,
যিনকো জিনেসে প্যহেলে হি মত আগেয়ী।

রেখে গেলাম শেষ রক্তমাখা গোলাপ
অনুচ্চারিত শব্দের শেষ কামনায়।

হাজার খোয়াঁহিশে পূর্ণ হোক আমার অন্তিম ছোঁয়ার প্রতীক্ষায়।

ফুল এ্যায়সে ভি হ্যায় যো খিলেহি নেহী,
যিনকো খিলনেসে প্যাহেলে ফিজা ছাগেয়ী।

তেরে প্যার মে পাগল হু ম্যায় শুভ হো শাম,
হর ধড়কনমে প্যাস হ্যায় তেরী
পরজন্মে জাতিস্মরের অপেক্ষায়........

আগুন ও বরফ

মূলঃ রবার্ট ফ্রস্ট

অনুবাদঃ মো. এনামুল হক

কেউ বলে আগুনেই পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে,

কেউ বলে বরফে।

আকাঙ্ক্ষার যে স্বাদ আমি পেয়েছি

আগুনের পক্ষে যারা তাদেরই পক্ষ নিয়েছি।

কিন্তু যদি দ্বিতীয়বার ধ্বংস হতে হয়,

মনে হয় ঘৃণার অনেকটুকুই আমি জানি

যদি বলি বরফেই হবে শেষ

এটা বলাও বেশ

এবং তাও যথার্থ হবে।

ক্ষুধার্ত
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

প্রখর রৌদ‍্য দিন
জনশূন্য এ রাজপথে
জীর্ণশীর্ণ মলিন বসনে
দুটি ভাতের সন্ধানে
ঘুরেছি নগরের দ্ধারে দ্ধারে
রুদ্ধদ্বার খোলেনি কেহো!
শুধু দুটি ভাত মেলেনি আজও !
অবসন্ন এ দেহে টলমল ভাবে
চলেছি ভাতের সন্ধানে --
মেলেনি!
মিলেছে আস্তাকুড়
তোমাদের ফেলে দেওয়া খাবার প্রচুর !
গোটা দুই সারমেয়ো আর আমি ,
কি করুণ চোখে দেখিলো মোরে !
তারা অবশেষে চলে যায় সেথা হতে ,
মাথার'পরে আকাশের পানে চাহি
চোখে এলো জল ভরে
যেথা মানুষ করিলো তিরস্কার
সেথা সারোমিয় নিলো নারায়ণের অধিকার!
আঃ! মিঠিলো ক্ষুধা
কতো দিন পর মিলেছে তোমাদের ফেলে দিয়া শুধু দুটি ভাত !
প্রখর রৌদ‍্য দিনে
জনশূন্য এ রাজ পথে
দুটি ভাতের সন্ধানে
ঘুরেছি নগরের দ্ধারে দ্ধারে!

একলা পয়লা বৈশাখ
- কিরণময় নন্দী

একলা এলে পয়লা বৈশাখ
দেখো, চারিদিকে উৎকণ্ঠার ছাপ
দেখো,বৃষ্টিহীন প্রখর গ্রীষ্ম শুস্ক উষ্ণ বাতাস।
তুমি একলা হয়ে এলে পয়লা বৈশাখ।

নিলেম তোমায় আপন করে ভালোবেসেই
ছড়িয়ে দিলেম শুভেচ্ছা একরাশ
বলো না কবে মুক্ত হবো
ওগো,একলা পয়লা বৈশাখ।

মাঠ ভরা পাকা ধান রাশি রাশি
অজানা ভয়ে ভীত চাষি
শুস্ক নদী,খাল,ডোবা যত
জলসঙ্কটে ভয়ে ভীত
চাপা মুখে ভয়ে ভয়ে ফেলি শ্বাস
ওগো,একলা পয়লা বৈশাখ।

দূরে দূরে রহি সবে
রহি আপন গৃহের মাঝে
অদ্ভুত নীরবতা চারিপাশে
একি আমার ধরা,নাকি নতুন গ্যালাক্সি মাঝে।
চাই না দেখিতে এমন সর্বনাশ
ওগো,তুমি একলা এলে পয়লা বৈশাখ।

পেয়েছি ভয় শিখেছি অনেক অনেক কিছু
ব্যর্থ ছুটেছি সময় পিছু
ধরেছে টেনে গতির রাশ
তুমি একলা এলে হে প্রিয় পয়লা বৈশাখ?

এখন এই সময়ে
প্রতিটি শস্য দানা
সাদা মুক্তার মতো
মূল্য যোগ্য পদার্থ।
ক্ষুধা বিষাক্ত তীর
যে যন্ত্রণায় কাতর
সে ছাড়া বুঝবেনা
বুভুক্ষু মানুষের কষ্ট।


আর ওরা কারা
লুট করে শস্য
ওদের ধরে দাও
লাকড়ি মত ছুড়ে
দাও সব দোজখে।

নইলে হে রাজনীতি
চোখ তুলে নেবে
পাথরের মত ভাঙবে
তোমার বাধানো দাঁত।

এই মহা সংকটে
অসৎ লুটেরা যত
সাবধান কারো তত
মানবতা হোক ধর্ম।

রিটার্ন সারপ্রাইজ গিফট
- সম্পা মাজী

প্রথম প্রথম আমার কলেজ যেতে খুব বিরক্ত লাগতো ভালো লাগতো না, কারন আমার স্কুলের বান্ধবীরা যে কলেজের ভর্তি হয়েছিল আমি ও সেই কলেজে ভর্তি হতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওই কলেজে আমার প্রিয় বিষয়ে অনার্স না পাওয়ায় আমাকে এই কলেজে আমার অপছন্দের বিষয় নিয়ে ভর্তি হতে হয়েছিল । তবে কিছু দিন কলেজ যেতে যেতে কলেজ আর পড়ার বিষয় আমার ভালো লেগে যায়। কলেজে আমি,তৃষা, মৌমি আর অনিতা আমরা ঠেলায় পরে কথা বলতাম একই বিষয় হওয়ার জন্য একে অপরের সাথে কথা বলতাম কিন্তু কয়েক মাসের আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে যাই। যদিও আমাদের চার জনের বাড়ি একদিকে দিকে ছিল না । আমাদের মধ্যে তৃষা ছিল একটু অন্য রকমের সব সময় হাসি খুশি থাকতো ,নিজেও হাসতো এবং আমাদের ও হাসাতো ।ওর জন্য আমরা স্যারের কাছে কয়েক বার বকুনিও খেয়েছি ।সাধারণ কথা মধ্যে ও মজার কথা টেনে এনে এমন ভাব ভঙ্গিতে বলতো যে আমরা না হেসে থাকে পারতাম না, কয়েক বার স্যার ও ওর কথায় নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেনি । শুধু কি তাই এপ্রিল ফুল বানানো কিংবা সারপ্রাইজ দেওয়া ,এই কাজ গুলো তৃষা খুব ওস্তাদ।তবে কারো কোনদিন কিছু ক্ষতি অথবা মনে আঘাত দিয়ে কথা বলতো না। তৃষা সবাইকে সারপ্রাইজ দিতে ভালো বাসতো , আমাদের কেও কয়েকবার সারপ্রাইজ দিয়েছে কিন্তু আমরা কোন দিন ওকে সারপ্রাইজ দিতে পারতাম না, কোনো না কোনো ভাবে আগেই যেনে যেত আমাদের প্লান , তবে আমরা যে চেষ্টা করিনি এমন না, দু একবার চেষ্টা ও করেছিলাম ।

পরীক্ষার ছুটি, বাড়িতে একা একা খুব বিরক্ত লাগছিল। কতো দিন কলেজ যাওয়া হয়নি সবাই মিলে আড্ডা দেওয়া হয় নি ,এটা ওটা খাওয়া হয়নি , তাই ভাবলাম কি করা যায় , কোথায় যাওয়া যায় , তখন মৌমি বলল, সামনে তৃষার জন্ম দিন আছে ওকে সামনে থেকে জন্ম দিনের শুভেচ্ছা ও জানানো হবে একটু ঘোরাও হবে। তাহলে চল ওকে না জানিয়ে ওদের বাড়ি যাই সাথে ওকে সারপ্রাইজ টা দেব আমরা তিন জনে। মৌমির কথায় আমরা রাজি হয়ে গেলাম ঠিক করলাম ১৫ তারিখে আমরা তৃষাদের বাড়ি যাবো কিন্তু তৃষাকে আগে থেকে কিছুই জানাবো না।

তৃষা কাছে শুনেছিলাম, প্রতি বছরই ওর জন্ম দিনটা বাড়িতে পালন করে ওর মা বাবা ভাইয়ের সাথে। তাই তৃষা বাড়িতে থাকবে কিনা কোনো ভাবেই জিজ্ঞেস করলাম না। পরিকল্পনা মতো আমরা ওর বাড়ি যাওয়ার জন্য সবাই সকাল সকাল থেকে বেড়িয়ে পরলাম। আমি কেক মৌমি গিফট এবং অনিতা ক্যান্ডেল ও বাকি জিনিস নিয়ে আসবে আর আমরা সময় মতো ট্রেশনে পৌছবো এবং যে আগে পৌঁছবে সে টিকিট কেটে রাখবে।

ট্রেন থেকে নেমে আমরা একা মোটর ভ্যান উঠি ,আমরা দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে পারতাম কিন্তু যাতে কেক নষ্ট না হয়ে যায় তার জন্য গাড়িতে ওঠা ,আমরা প্রথম বার তৃষা কে সারপ্রাইজ দেব তাই আমাদের মনে এতো আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না, আর আমাদের দেখে তৃষা ও খুব খুশি হয়ে , মনে মনে খুব উত্তেজিত ,কতোদিন পরে আমরা একসাথে বসে আড্ডা দেব , আমরা একদিন ওদের বাড়িতে থাকবো বাড়িতে বলে এসেছি। ভ্যান থেকে নেমে ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখি আমাদের কেক গিফট সব ঠিকঠাক আছে কিন্তু যার জন্য এসব এনেছিলাম তাদের বাড়ির গেটে তালা ঝুলছে।আমরা হাসবো না কাঁদবো ঠিক করতে পারছি না , তিন জনে ভ্যাবাচেকা হয়ে তাড়িয়ে রইলাম । আমাদেরকে দেখে ওর পাসের বাড়ির একটা কাকিমা আমাদের কে সরবত করেদিল এবং সাথে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে বলল, তৃষারা সকালে মামা বাড়ি গিয়েছে আজকে ফিরবে না বলেগিয়েছে ।সে আরো বলল, তৃষার জন্মদিন প্রতি বছর বাড়িতে করে কিন্তু এই বছর একটু অন্য ভাবে কাটাতে চায় তাই মামা বাড়িতে দাদু দিদার কাছে গিয়েছে। শুনে আমাদের আনন্দ বেলুনের মতো চুপসে গেল, আমাদের এতো পরিকল্পনা এতো কিছু সব বৃথা হয়ে গেল। আমরা যাকে সারপ্রাইজ দিতে এসেছিলাম তার কারনে আমরাই নিজেরাই সারপ্রাইজ হয়ে গেলাম , এখন এই এতো রৌদ্রে বাড়ি ফিরে যেতে হবে , এই সময় ট্রেশন পর্যন্ত গাড়ি পাওয়া যাবে না হেঁটেই যেতে ।আমরা সেই সকালে বাড়ি থেকে খেয়ে বেড়িয়ে ছিলাম রাস্তায় তেমন কিছু খাওয়া ও হয়নি ভেবেছিলাম তৃষাদের বাড়িতে গিয়ে খাবো , তৃষার মা খুব ভালো রান্না করে ওমায়ের রান্না আমরা আগেও খেয়েছি। কিন্তু এ কি হলো এখন আমরা সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেরাই এপ্রিল মাসের মাঝে এসে নিজেদের অজান্তে এপ্রিল ফুল বেনে গেলাম। এতো সুন্দর লজ্জার কথা টা আর তৃষাকে জানালাম না কিন্তু খিদের জন্য আমরা আর হাঁটতে পারছিলাম না তাই বন্ধুর জন্মদিনের কেক আমরা নিজেরাই একটা গাছ তলায় বসে বার্থডে গার্ল কে বাদ দিয়ে নিজেরাই মনে মনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে কেক টা খেয়ে নিলাম আর বাড়িতে এসে বসলাম ট্রেন মিস করেছি তাই যাইনি।

তার পর থেকে আর আমরা কেউ তৃষাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা মুখেও আনিনি ,নিজেরাই এমন সারপ্রাইজ হয়েছি যে ভাবলেই না হেসে থাকতে পারিনি । অন্যকে সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে তাকে সারপ্রাইজ না দিয়ে নিজেরাই রিটার্ন সারপ্রাইজ গিফট নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।

মিথ্যে কাঁদিস কেন?
- কিরণময় নন্দী

সেই দুপুরে খেয়েছি একটু ভাত
সাথে ভরপেট জল
একটুও খিদে পাইনি মাগো
মিথ্যে কাঁদিস কেন বল?

তুই যদি কাঁদিস মাগো
আমারও তো কান্না আসে
সামনে মাসে অনেক খাবার নিয়ে
বাবা আসবে রেলগাড়ি চেপে।

ভয়ঙ্কর এক অসুখ মাগো
বন্ধ বাস-রেল,পথ-ঘাট
বাবা আটকে অনেক দূরে
বুঝি মা, তাই এতো অভাব।

এই তো মা দেখনা সন্ধ্যে হলো
ঘুমিয়ে গেলেই সকাল
কালকের দিনটা ঠিক চলেই যাবে
আছে তো কিছু চাল।

বলবো না মাগো পেয়েছে খিদে
যেমন বলে পাশের ঘরের অমল
দুপুরে খেয়েছি কিছু ভাত
সঙ্গে ভরপেট জল।

মুছে নে মা চোখের জল
বুলিয়ে দে একটু মাথায় হাত
সকালে উঠেই ছুটতে হবে
পাশের গাঁয়ের মাঠ।

জানিস মা কাল সকালে
আসবে অনেক বাবুলোক
চাল,ডাল, নুন,তেল সবই দেবে
যারা গরীবলোক।

নে মা ঘুমিয়ে পড়
কাঁদিস না আর তুই একটিবার
আমরা মা গরীব মানুষ
তাই তো এতো অভাব-হাহাকার।

বিদায়
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

তোমার দ্ধারে শেষ বেলাতে
বিদায় নিতে যখন এলাম আমি
অশ্রু জলে ছল ছলিয়ে
উঠল কতো হাজার রকম স্মৃতি!
স্নানের ঘাটে সাঁতার কাটা
গাজন মেলায় ছুট ,
দুগ্গা পুজায় নূতন জামায়
যেতাম মোরা কতো দূর দূর--
মাঘের দিনে হরি মেলায়
আসতে যখন তুমি
কতো খুশি হতাম আমি!
যখন যেতে চলে
মোর বুকের পাঞ্জর ভেঙে!
বুঝতে তুমি তাই করতে মাথা নত!
আজ সব হারিয়ে গেছে রাজপথের মাঝে!
তোমার দ্ধারে শেষ বেলাতে
বিদায় নিতে যখন এলাম আমি ,
অশ্রু জলে ছল ছলিয়ে উঠলো হাজার স্মৃতি !
আম কাঁঠালের শারি
শর্ষে ক্ষেতের ভেরী !
উঠেছে আজি ছল ছলিয়ে
বিদায় বেলার শেষ প্রহরে
হারিয়ে গেলাম আমি!

তোর মৃত্যুটা
- কিরণময় নন্দী

তোর মৃত্যুটা মেনে নিতে পারিনি আমি
মানেনি বিশ্বজুড়ে লক্ষ-কোটি লোকজন
হাজারে হাজারে মোমবাতি জ্বলেছে ঋদ্ধতায়
তুই কি শুধুই একজন সিরিয়ান....

তুই শুধুই এক শিশু
তুই আগুন্তুক
তুই সমাজ নাড়িয়ে দেওয়া এক অমর প্রাণসত্ত্বা
তুই হিংসার শিকার অহেতুক।

ভয় হয় আজও
ভয় হয় শুনে তোর কান্না মেশানো কষ্টের কথা
"আমি বলে দেবো গড কে"
কি অদ্ভুত নীরবতা!!

হয়তো তোর আর্তি শুনেছে পরমেশ্বর
আজ হিংসা গেছে ঘুচে
ওরা আজ গৃহবন্দী
করাল বিষের সম্মুখে।

যুদ্ধে মত্ত ছিলো ওরা
ওরা ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ
ওরা শোনেনি শিশুর কান্না
খুঁজছে ওরা আজ জীবনের গন্ধ।

তোর মৃত্যুটা মেনে নিতে পারিনি আমি
মানেনি বিশ্বজুড়ে লক্ষ-কোটি লোকজন.....

পাষানের ভগবান
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

হে ! পাষানের ভগবান
তুমি তো হওনি জননী
দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধরনি
বরণ করোনি শত যন্ত্রণা সে দিন!
তুমি তো লালন করোনি,
সন্তান শীরে ধরনি আঁচল খানি !
শত ঝড় বৃষ্টির দিনে
তুমি তো গাওনি ঘুমপাড়ানিয়া গান গেয়ে
বুকে করে তুলে লয়ে
ললাটে করোনি চুম্বন দান !
আধো আধো সুরে
ঘুম পাড়ানিয়া গান গেয়ে
জননীরে সেই বুক ভরা স্নেহ দিতে!
তুমি তো দাওনি আলো
তুমি তো দাওনি মুখেতে ভাষা!
ক্ষুধা তে দাওনি অন্ন
পরনে দাওনি বসন!তবে কেন আজ কাড়িলে ভাষা?
কাড়িলে কেন আলো ?
কাড়িলে কেন জননীরে সেই স্নিগ্ধ ছাওয়া খানি ?
যে ছাওয়াতে থাকতো না ভয়
বিপদ যেতো দূরে!
হে!পাষানের ভগবান
তুমি তো হওনি জননী
দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধরনি
তবে কেমনি বুঝিবে
সন্তান হারা জননীরে !!

এ নববর্ষের প্রার্থনা
– রোজী নাথ

চারপাশের নীরবতার প্রাচীর ভেদ করে ফিরে আসুক সেই নদী সুখের জন কোলাহল , আর রৌদ্রস্নাত অনন্ত সোনালী সকাল।

নিস্তব্ধতার অতলে আজ হালখাতার‌ও দেখো কী বেহাল দশা ; ঘরবন্দি আজ আমাদের পারস্পরিক শুভ কামনা জানানোর ঐতিহ্যবাহী সেই সমাদৃত নববর্ষ।

দূরবর্তী কোনো এক দীপের প্রান্তে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে জীবনের বাঁধাধরা যা কিছু ছিল তার সবটুকুই যেনো অশরীরী হয়ে গেছে ।

কোথায় আর কীচ্ছুটি বাকি রইল?

বাঙালির বর্ষবরণ মানেই তো আত্মিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার এক প্রাচীন উৎসব।

এই ধূসরতার প্রান্তরে বৈশাখী মেলা এবার না হয় নাই বা হলো।

সহাভোজের দিনটাও না হয় মহাকালের অতুল চরণে অঞ্জলি দিলাম।

মুখোশে মুখোশে চেনা মূখগুলোর অচেনা চেহারায় নিজেকে খুঁজে নেওয়ার ব্যার্থ প্রচেষ্টাকে ছাড় দিয়ে এবার না হয় র‌ইলাম আপাদমস্তক ঘরেই।

জীবন যে জীবনের নদীতেই পরিতৃপ্ত হয়; তাইতো সকল স্বার্থপরতা ছেড়ে আজ বাঙালি বিশ্বমাতার সুবোধ সন্তান।

সার্বজনীন লোক উৎসবের লাগামহীন আয়োজন ভুলে আজ আমাদের একটাই প্রার্থনা —- পৃথিবী আবার তাঁর পরিচিত ছন্দে ফিরে আসূক , আগামী নববর্ষে আবার আনন্দমূখরিত হবে পল্লীসুখের এই বালিয়াড়ি।

মোহ
- অর্পিতা ঠাকুর চ্ট্টরাজ

----মা পিসি এসেছে ডাকছে তোমাকে ।
----দীপা বোঝে মাইনে নিতে এসেছে রীনাদি।
---শোনো দীপা ,গেলো মাসে পুরো বেতন দিয়ে বন্ধ করেছিলে ,এমাসে তো কদিন হোলো এখন টাকা চাইলে দিওনা।কাজ না করলে মাইনে কিসের?
----শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে বাইরে যায় দীপা।
----মুখে একটা রংচটা স্টোল বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে গ্রিলের বাইরে।
-----কি হোলো রিনাদি?
------গাছে লাউ আর পিপা হইছে বৌদি,দিতে এলম,দাদা বাজার জেত্যে পেরিছে না পেরিছে ।
---তোমরা কি খাবে?
----আছে গো আছে।
----একটু দাঁড়াও তোমার---
----কাজ না করেই পয়সা দিবে?
----হুম,নিজেদের স্বার্থেই তোমাকে আসতে মানা করেছি,তোমার কি দোষ?
---দীপা মাইনের সাথে কিছু চাল,ডাল,আলু আর একটা সাবানও দেয়।
---কবে থিকে আসবো?
----জানিয়ে দেবো।
---দীপা তুমি কি পেয়েছো কি,এত জিনিস----
----চুপ করুন মা,আপনাকে পরে হিসাব দেবো।কাজ তো আমি করছি,আমারও তো কিছু পাওনা আছে।আপনার কাচা,ইস্ত্রি করা,ঠাকুরের জিনিস পরিস্কার করা,বোতলে জল ভরা যত এক্সট্রা কাজ আমি করছি সব কিছুর টাকা আপনি নিজের পেনশন থেকে দেবেন।খাওয়ানো,ওষুধ দেওয়া এগুলো না হয় আমার কর্তব্য ছেলের বৌ হিসাবে।এত কাজ তো করার কথা নয়।যা চলছে তা তে বাঁচার ঠিক নেই আপনি হিসাব করে যাচ্ছেন?
হাঁ করে বৌমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে শোভাদেবী।যত দিন এগিয়ে আসে,ততই বুঝি মোহ বাড়ে ।

বৈশাখী আজ আসেনি
আসবে না সন্ধ্যা মালতী ফুলের মতো দুলে দুলে
এই বসন্তের সুনীল আকাশে,
তাই শঙ্খ উলুতে গৃহিনী সাজায়নিকো আর মিষ্টান্নের থালা ।

বৈশাখী এলে বাতাস ভরে যেতো
নব্য দিনের খুশিতে,
কোকিলের কল-কাকলিতে মিশে যেতো আরেকবার
আমাদের বৈশাখী রাত্রি-দিন ।

বৈশাখী আজ আসেনি
আসবে না সন্ধ্যা মালতী ফুলের মতো দুলে দুলে ।।

14 April, 2020

#ব্যক্তিগত_কলম
#ছাই
#সুমিতা সরকার ঘোষ

ছোটবেলা থেকেই বাবা মানে একটা নিরাপত্তা, একটা আশ্রয়, একটা আব্দার, দুটাে হাত দিয়ে আগলে রাখা,
বাবা মানে একটা অন্য রকম অনুভব।

সেই বাবাকে বড় হয়ে খুব কমই পেলাম, নেভিতে সার্ভিস করার জন্য বেশীরভাগ সময়ই বিদেশে থাকতেন, জীবন থেকে আস্তে আস্তে কোথাও সম্পর্কের বাঁধন আলগা হতে লাগল।

ক্রমে ক্রমে কোথাও যেন আরও একটু দূরত্ব স্থাপন হলো। বৈবাহিক সূত্রে চলে এলাম শ্বশুর বাড়ি, শাস্ত্র অনুযায়ী এটাই নাকি মেয়েদের আসল বাড়ি, নিজস্ব জায়গা। জন্ম- সম্পর্কের ভিত উপড়ে অনেকটা নিরীহ পাখিকে খাঁচায় এনে বন্দী করা। সংসার সংসার করে আর সময় দেওয়া হলো না বাবাকে।

শেষের দিন এত তাড়াতাড়ি কাছে চলে আসবে বুঝতেই পারিনি। পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে না বলে চলে যাবে বাবা এ যেন স্বপ্নের অতীত। ছোটবেলা থেকেই মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল সবার বাবার বয়স হবে, আমার বাবা বুড়ো হবে না, আমার বাবা কোনোদিন মারা যাবে না, মারা যাওয়ার কথা কখনও মনে পড়লে ওদিকটা আর চিন্তা করতাম না। হঠাৎ করেই বাবার জীবনে #শেষের_সে_দিন_ভয়ংকর চলে এলো।

যে বাবা গরম সহ্য করতে পারতনা, তাকে লাল গনগনে আঁচের মধ্যেই ইচ্ছে করে যেন শুতে পাঠালাম, বাবা যেন ব্যঙ্গ করে বলল, কি রে? তোকে এত যত্ন করে আগলে রাখলাম আর তুই আমাকে এত কষ্টের মধ্যে ঠেলে দিলি? আগুনের লেলিহান শিখা যেন আগুন নয় এক একটা প্রশ্ন চিহ্ন?? আমার দিকে বিদ্রুপ হয়ে এগিয়ে আসছে।
উত্তর কিছুই দিতে পারলাম না, নির্বাক - বাকরুদ্ধ হয়ে চিতার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

সামনে শোয়ানো মানুষটা কি করে ৪৫ মিনিটের মধ্যে এক ট্রে ছাই ( দেড় সের) আর কতগুলো লম্বা লম্বা সাদা হাড়ের সমন্বয় হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। কতবার আমি আর আমার মেয়ে চিৎকার করে ডাকলাম বাবা দেখ আমরা এসেছি, একবার তো কথা বলো? হাজার ডাক সত্বেও বাবা উঠে এলো না। কেন?? একবার তো বাবা আমার কথার উত্তর দিয়ে যেতে পারত।
না দিলো না।

ইচ্ছে করছিল দুধের মত সাদা ঐ হাড়কটা গঙ্গার জলে ধুয়ে এনে আমার কাছে রেখে দিই, তাও তো কষ্ট হলে ওগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবব #বাবা_আমার_কাছেই_আছে।

নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল আমার বাবা আমার কাছ থেকে, এখনও চোখ বন্ধ করলে প্রতিটা মূহুর্তে, প্রতিটা ক্ষনে বাবাকে ছবির মত দেখতে পাই। ছাইয়ের দিকে নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রইলাম কি করে একটা গোটা দেহ মূহুর্তে ছাইয়ে পরিনত হয়। ছাইয়ের প্রতিটা কনা যেন এক একটা বিস্ময়। আজ আর পৃথিবীর কোনো কোণাতে টর্চ দিয়ে খুঁজলেও বাবাকে পাওয়া যাবে না, কেমন অদ্ভুত ব্যাপার?? যে মানুষটা কয়েক দিন আগেও আমার সামনে ছিল , আজ আর কোথাও নেই। শেষ মূহুর্তে কিছু বলতে চেয়েছিল বাবা, দূর্ভাগ্যবশতঃ শোনা হয়নি আমার।

চলে গেল আমার #বাপি, ছোটবেলা থেকেই ঐ নামে ডাকতাম বাবাকে।
#সুদর্শন_বাপি আজ শুধু #ছাই

#আজ_শুধু_আমার_বাপি_নেই

কোথায় গেলে? বাপি? সারা দুনিয়া তন্ন তন্ন করে শুধু তোমায় খুঁজি। বিষাক্ত পৃথিবীতে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে আমার,
আজ যে বড্ড একা, #১০/১২ ফুটে একাকীত্বই আমার সঙ্গী,

#থেমে_গেছে_আজ_কলম_শুধুই_রক্তক্ষরণ.........

আমার #বন্ধু
আমার #ভালবাসা
আমার #সবকিছু
আমার #সত্তা
আমার #প্রাণ
আমার #পৃথিবী

সবকিছুর সমন্বয়ে আমার #বাপি, তাকেই উৎসর্গ করলাম এই লেখা.........

বর্ষবরণ
- গৌতম নাথ

চৈত্রের শেষ রাত্রিটা এ বছরের সকল জৌলুসকে হার মানিয়ে সুমহান মৌন মিছিলের যাত্রী হয়েছে।

পাড়ায় পাড়ায় নিস্তব্ধতার যে মহাযজ্ঞ চলছে তার সবটুকুই এ শতাব্দীর নুয়ে পড়া সূর্যের বেনামী কারিগরি।

রাতের গভীরতা মেপে মেপে যেসব তারারা আজ অন্তিম প্রস্থানেকে চির আলিঙ্গন করছে তাঁরাই বুঝি অতলগামী নববর্ষের সেরা আয়োজক?

দু‍ঃসময়ের সকল প্রাপ্তির কাছে নতজানু রাত দু পা বাড়িয়ে কী ভীষন ভাবে অনুপ্রবেশের মুহূর্ত গুনছে।

একটা নিঃশর্ত ঘুমের পর আর কী থাকে জানা নেই, কিন্তু একটা রাতের পর তো একটা সকাল থেকেই যায়।

সেই নিয়মেই কাল সূর্য উঠবে বর্ষবরণের আলপনা সাজিয়ে।

প্রাচীন নীরবতা ভেদ করে আমারাও লঘু প্রাণে নতুন রামধনু ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখব।

যারা অন্য নদী পথে চলে গেছে তাঁরাও আমাদের প্রিয় মুখ ছিল।

সকল বিয়োগ ব্যাথার মাঝেও যোগ হবে একটি সংখ্যা , খুলবে একটি সিংহদ্বার , জানি না বিসর্জনের না অবগাহনের।

দুর্যোগের এই বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে দুচোখে মেখে নিতে চাই একটা স্বস্তিকা সূর্যের জ্যোতির্ময় দরদ।

সূর্য তুমি আলো দাও ; জীবন দাও ; নববর্ষের বিশালাক্ষী ভরসা দাও।

কবিতা - পথ
কলমে - নাজমাতুল লায়লা

জানি না এই চলার পথ কবে শেষ হবে
খরাস্রোতের প্রবাহিত মোহনার গতিপথ
হয়তো একদিন থেমে যাবে,,,
হয়তো এই অগোছালো জীবনটা খড় কুটোর মত
ভেসে যাবে ঐ বহমান নদীর স্রোতে l
অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা, হারিয়ে আজ অন্ধকার গহ্বরে,
কোন একদিন হঠাৎ করে কোন এক শূন্যতায় ঢাকা পড়বে এই মন l
কালের নিয়মে হারিয়ে যাবো এই পৃথিবী ছেড়ে
সেই দিন আর আমার ইচ্ছে অনিচ্ছা গুলোর
কোনো প্রয়োজন পড়বে না তোমার কাছে,,,
সেই অকাঙ্খিত না ফেরার দেশ থেকে
সেই নাম না জানার দেশ থেকে - আর কোনোদিন
ফিরে আসা হবে না এই শস্য শ্যামলা সবুজের কোলে,,,
আর কখনো কোনোদিন এসে দাঁড়াবো না
কোনো আবদার অভিযোগ নিয়ে ll

তারিখ - ১৩.০৪.২০২০

কবিতা - শ্রেষ্ঠ বসন্ত কন‍্যা
কলমে - মায়া সাহা

আজ না হয় -
তোমার অভিমান ভাঙতেই হোক,
আমার অভিমানের পরাজয়!
আজ না হয় বসন্তের পরশ পেতে
সমস্ত দুঃখ কস্ট গুলোকে বাক্সবন্দি করে,
ভালোবাসারে করবো জয়।
আজ তোমার দেওয়া রঙে রাঙিয়ে উঠতে
মৃতপ্রায় নদীটিও দীর্ঘ অপেক্ষায়!
দেখো,অমাবস‍্যার অন্ধকার ঘুচিয়ে
পূর্ণিমার চাঁদটিও সেজে উঠেছে
বসন্তেকে বরণের শুভেচ্ছায়।
বসন্তের সবুজ রঙে রাঙানো
তোমার যে মুখখানি সর্বক্ষণ আমায়
পাগল করে দিতো,
যাক পৌঁছে এ বার্তা তোমার সেই ঠিকানায়।
আজ আমি সমস্ত অভিমান ভেঙেছি -
শুধু তোমার রঙে নিজেরে রাঙিয়ে
শ্রেষ্ঠ বসন্ত কন‍্যা হওয়ার অপেক্ষায়।

সেই ছেলেটা
- কিরণময় নন্দী

সেই ছেলেটা বড় হয়েছে
কালের নিয়ম মেনে
সেই ছেলেটা পোশাক গায়ে
সবাই তাকে চেনে।

সেই ছেলেটা বড় হয়েছে
ধূলো মাখে না আর
সেই ছেলেটা শিক্ষিত আজ
ঝকঝকে পরিষ্কার।

সেই ছেলেটা বড় হয়েছে
ভেবেচিন্তে কথা বলে
সেই ছেলেটা সমাজমুখী
সত্য চাপে অবহেলে।

সেই ছেলেটা বড় হয়েছে
আজও "উলঙ্গ রাজা" দেখে
সেই ছেলেটা পথ বদলায়
রঙ্গীন চশমা চোখে।

উত্তমর্ণ তোমার জন্য
- অসীম দাস

উত্তমর্ণ তোমারই জন্য কবিতাকে কাছে পাওয়া
শচীনের ডাকে প্রেমে পড়ে যায় শোনো গো দখিন হাওয়া ।

সচ্ছল পথ নিজে হেঁটে আসে ফিরে যায় দুর্বাশা
তোমারই জন্য হামাগুড়ি ঘরে ফলে আছে ভালবাসা ।

উত্তমর্ণ তোমারই জন্য বনলতা অবকাশ
অমলকিশোর চিরায়ত হৃদে আশিতেও উচ্ছ্বাস ।

আগমনী গানে চাঁদ নেমে আসে আউশ হাসিতে বান
শাওনের শীষে আলপনা আঁকে নবান্নে অঘ্রাণ ।

উত্তমর্ণ তোমারই জন্য হিসেবের ভুল চুক
ভোরের পলিতে শুয়ে আছে দেখি ভরা কোটালের সুখ ।

গাঢ়তম শোক গলে গলে জল সময়ের উত্তাপে
মনমাতানীর দূরভাষ শ্বাসে প্রবাসেও বুক কাঁপে !

নব বধু বেশে
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

আজ নিশিতে শ্বপ্নে দেখেছি পিয়ারে !
নববধূ রূপে সাজি বসে আছে আসনে!
স্বর্ণে ভূষিত দেহ
পরনে তারি লাল শাড়ি !
তনু তে বহিছে সুষমারি আলো !
প্রাঙ্গণে বাদ‍্যকেরা বাজাইছে সানাই !
জ্বলিছে কতো বিজুলী বাতি
কতো লোক করে হাঁকাহাঁকি
শিশুরা দেয় কর তালি ,
আসিছে মানিক রাজা মানিকের দেশ হতে,
রাজারে আছে কতো নাম-ডাক দেশ ছাড়ি বিদেশের পারে ,
প্রিয়া লাল চেলি পড়ে
ভুলিছে আমারে !
মোর অশ্রু জলে ধৌত হয়েছে ভূমিরে !
মোর অশ্রু জল দেখে কাঁদে পশু-পাখি !
হায়রে জীবন! মোর শিশু কাল হতে
রেখেছি যারে হৃদয় স্বর্ণাগারে !
তারে বিদায় জানাবো কেমন করে!
মোর পুতুলের সাথী, মোর জীবনের গতি!
আজ নববধূ রূপে সাজি বসে আছে আসনে!
আজ ফাগুনের দিনে ফাগুন যাবে মোর জীবন ছাড়ি !
আজ নিশিতে শ্বপ্ন দেখেছি প্রিয়ারে ,
নববধূ রূপে বসে আছে আসনে!

ভোর বেলা
- শারমিন বিনতে শাহজাহান

রক্তস্নাত ভোরের হাওয়ায়
শিশির ভেজা ঘাসের উপর
সূর্যের এক চিলতে হাসি
হেসে খেলে ঘুরে বেড়ায়
কে দিবে বাধা?
কারো বাঁধাই কানে তুলে না
ইচ্ছাধীন মেতে উঠে
সে যে স্বাধীন
ভেটো দিতে কোনো লোক দেখলে
আলতো হাতের ডগায় চেপে ধরে
চুমোয় ভরিয়ে ঠেকিয়ে ফেরত পাঠায়
পাখির কিচির মিচির শব্দে
রিকশার টুং টাং আওয়াজে
দৌড়ে জানালা ঘেঁষে দৃষ্টি রাখি
নন্দিত পরিবেশের গচ্ছিত সৌন্দর্যে
আহ!কি অপরুপ লাবণ্যময়
কী চমৎকার?উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল
আশ্চর্যান্বিত প্রতীক নদী-খাল এর ঢেউ গুলো
মাতিয়ে রেখেছে আমায়
কল্পনার জগতে স্বপ্ন দেখছিলাম
হঠাৎ আম্মুর চেঁচামেচি
আর কত ঘুমাবি?এবার তো একটু জেগে উঠ
খুলে দে তোর দুটো চোখ
তাকিয়ে দেখ হয়েছে ভোর
নামায পড়তে জলদি ছুট
বলতে বলতে আম্মু চলে গেলো
আবার দিলাম চাঙ্গা ঘুম
চলছে আবার শীতকাল
ঠান্ডা পানি ধরলে লেগে যায়
জ্বর সর্দি কাশি
আমি বড় ফাঁকিবাজ
আজ আবার শুক্রবার
করতে হবে আম্মুর কাজ
তাই তো আবার দিলাম ঘুম।

তাকে বলে দিও
- দীপাঞ্জলি চৌধুরী

তাকে বলে দিও ভালো আছি আমি,
এখন আর বায়না করিনা কোনো কিছুতেই!
গাজনের মেলা দেখতেও যাই না,
কারণ এখন তো আর কেউ বলে না "সাবধানে যাস"!
তাকে এটাও বলে দিও সে'বার ঘুড়িটা আমি নিজেই ভোকাট্টা করেছিলাম,
যাতে সে জেতে!
আমি এখন বৃষ্টিতেও ভিজি না,
সোদাগন্ধে তার কথা যে খুব বেশি মনে পড়ে!
বলে দিও তাকে এটাও - এখন আমি না-বলা কথা বুঝতে পারি,
হাসি দিয়ে কষ্ট কি করে আড়াল করতে হয় -
তা ও জানি!
তাকে বলো আমি আর অপেক্ষা করি না,
অপেক্ষারাও আজকাল ফাঁকি দেয় তার মতো;
নিঃস্তব্ধ রাতের তারাগুলোই আপন এখন!
তাকে বলে দিওওও - ভালো আছি আমি,
খুব ভালো,খুউব ভালো.....!!!

পশ্চিমী রথ
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

খুঁজবে যখন বুজবে
সূয‍্যি যখন অস্তাচলে
যখন দিনের আলো মুজবে
বুজবে তখন বুজবে
সারা দিনের খেলনা যখন অশ্রু জলে ভাসবে।
ফাটবে যখন মাটি ঐ চরণতলে,
বুজবে তখন বুজবে!
যখন দিনের আলো মুছবে
সন্ধ্যা যখন মোর চোখের পাতায় ,
জানি আসবে তুমি বসবে কাছে
সোহাগ দেবে অশ্রু জলে!
আলতো চোখে দেখবো আমি
ভাসছো তুমি অশ্রু জলে!
হাঁসবো আমি পশ্চিমী রথ আসবে যখন! ভাঙবে তোমার বুকের পাঁঞ্জর!
সাত রাঙা ঐ দিনের কথা
ভাসবে তোমার অশ্রু জলে!
বুজবে সে দিন বুজবে
মেঘের সাথে হারিয়ে যবো !
খুঁজবে যখন বুজবে
বুজবে তখন বুজবে!

অভ্যেস
- অভিজিৎ দাস

অভ্যেস হয়ে গেছিলো তোমাকে ভুলে থাকার।
পড়ন্ত বিকেলে আবার তোমার সঙ্গে পরিচয়,
বেদনার গালে চুমু খেয়ে বলেছিলে..
এইতো অনন্ত প্রেম, ভালোবাসা।

তোমার দু'চোখে এক অস্পষ্ট স্বপ্নের ছায়া,
তুমি আসলে কি চাও সোনালী ?
ভালোবাসা, নাকি ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা!
ভালবাসা মানে কি তোমার কাছে
কেবল-ই শরীরের উত্তেজনা?

এটা কি তোমার অভ্যেস, নাকি অভিনয়?

ধ্বংসের শ্মশান ডিঙিয়ে পাঁজরে পুষ্পের ঘ্রান নিয়ে
আজও অভ্যেসবশতঃ গরুরহাটা অটো স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করি
তুমি আসবে বলে...।

অন্ধকার নামলে আশ্রয় খুঁজি লুকোনো খাঁচায়
দ্বিধার অনলে জেগে থাকি একা -
জানিনা কখন বাজবে এই খেলার শেষ বাঁশি
তোমাকে জয়ী করে হেরে যাবো আমি,
হেরে যাওয়াটাই আমার অভ্যেস।।

তারিখ : ০৭/০৪/২০২০

মিলন
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

শত রূপ নিয়ে
আবার মিলিবো হাজার বসন্ত পরে,
যেথা পল্লীর পথ বেয়ে
রাখাল চলে গাভী দল লয়ে,
যেথা গান গায় মাঝি ভাঁঠিয়ালী সুরে,
যেথা সাঁঝের বেলায় বাউল
গেয়ে ওঠে গান ,
যেথা তুলসী তলায়
সাঁঝের প্রদীপ লয়ে আসে বধূ!
যেথা প্রভাতী বেলায়
কোকিলের সুরে ভাঙে ঘুম ,
যেথা শত ব‍্যাথা ফুল হয়ে ফোটে !
যেথা শত রূপে
তোমারে পাবো
হাজার বছর পরে!!

শ্রদ্ধা
- সুমিতা সরকার ঘোষ

প্রিয় কোল থেকে প্রিয় কলম,
মাঝে ব্যবধান অনেক সময়ের,
ভালবাসা অবশেষে মানল হার
লাল বহ্নিশিখার সর্বগ্রাসী ধারণের

আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রানে,
এ জীবন পূর্ণ করো, এ জীবন পুন্য করো দহন দানে............

০৯.০৪.২০২০

"ছোট্ট চিঠি পারো তো ??? ইচ্ছে হলে !"
কলমে - ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য

ভেবেছিলাম লিখবো না ,কখনো লিখিনি এ ভাবে ,তবুও একটা চেষ্টা |
শুরুর দিকে বেশ ছিলাম হটাৎ এলে তুমি আমার জীবনে উজান তুমি ---আমি শান্ত শবরী |তবুও ছিল প্রেম ,আনন্দ আর হয়তো ভালোবাসা ,প্রথম প্রথম ছিল লাগা ,ভালো ---তারপর নিয়মমত বাসা ভালো |
উজান ছিল উচ্চাকাঙ্খী আমি ধীরে ধীরে আমার মত ,মিলের থেকে অমিল ই বেশী |
তবুও ভালোবাসায় এ গুলো তুচ্ছ ****
দিন যায় ,মাস যায় ,এমন কি বছর ও |
এখন ভীষণ গুমোট ---নেই প্রেম ,নেই কোন ভালোবাসা আছে শুধু জটপাকানো ভাবনা |
কোন কথা নেই ওদের ,আছে শুধু না আর সম্ভব নয় , ছন্দপতন ----হঠাৎ !!
উজানের ভাবনা সাথে শবরী আজ ক্লান্ত !!
শবরীর ছোট্ট ছোট্ট খুশি ,উজানের মনে হয় এটা নিছক ছেলেমানুষি |শবরীর উচ্ছলতা কে উজান স্বাভাবিক ভাবে না ,ওর মনে হয় তার চেয়ে এরিষ্টটল পড়লে ,শিখতে পারবো ,
প্রেম কি ???এটাই উজানের কাছে এক বড়ো প্রশ্ন ??
ছোট্ট ছোট্ট খুশি উজানের কাছে আড়ম্বর ,
সারপ্রাইস উপহার উজানের কাছে আড়ম্বর ,জন্মদিনের উপহার আড়ম্বর ----
তবে শুধু বই পেলে দারুনননন খুশি |
শবরীর কাছে সারপ্রাইস মানে এক অপ্রত্যাশিত অনাবিল আনন্দ ,ও যে নিজের হাতে উপহার তৈরী করে ,কার জন্য -----উজানের |
আজ দুই মেরু তে ভালোবাসা মাপদণ্ডে দুলছে ! শুধু অনুযোগ আর দূরত্ব মানসিকতার
কিভাবে থাকবে ওরা একসাথে বাকি জীবন
সংসার জীবন ,আর প্রেম জীবন একদম আলাদা
দায়িত্ব ,কর্তব্য ,সন্মান সংসার আর প্রেম !
সেটাও আর হলো কই ¡
আচ্ছা অসম মানসিকতার দু জন ভালো স্বামী স্ত্রী হতে কি পারে না ,তাহলে সব যেখানে ঠিক সেখানে বিচ্ছেদ কেন হয় |
ফাঁক টা কোথায় -----
উজান আর শবরী কি আর একবার সময় নিয়ে নিজে দের সময় দেবে ,নাকি ইতি ---
একটু একটু করে দুজনেই ছাড়লে হয়তো আবার সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে ,কিন্তু সমঝোতা নয় ,
সত্যি যদি ভালোবাসা হয়ে থাকে ওদের কার সাধ্যি ওদের বিচ্ছেদ ঘটাবে ,আর যদি অন্তঃসার শূন্য
তবে তো গল্প ও শেষ |
চাই উজান আর শবরীর মিল
এতো সহজে ভালোবাসার হার ,
দুজনেই কি মেনে নেবে যদি সত্যি সত্যি
ভালোবাসে দুজন দুজনকেই তাহলে পারবে না ছেড়ে থাকতে |
এখন শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা
উজান আর শবরী ও কি তাই ভাবছে |
দেখা যাক কি আছে ওদের ভাগ্যে |

কলমে ইন্দু (6.4.2020)

কলম
- সঙ্গীতা সিনহা্

হাজার কষ্ট জন্ম নিলে কলম কথা বলে
মুখে যখন ভাষা আসে না,কলম প্রকাশ করে
আলো আধারির খেলায় যখন,মন করে টলমল
কলম তখন প্রকাশ করে,মনের অভিমান।
বলতে না পারা কথা যখন মনকে করে ছারখার
কলম তখন তার আচঁড়ে,
বুঝিয়ে দেয় মনের আরপার।
সুখের বন্ধু অনেক পেলাম,
পেলাম না দুখের ভাগী কাউকে,
নিভৃতে নিরালায় বসে একাকী যখন
মনের সাথে চলে বোঝাপড়া,
"কলম তখন খাতার পাতায় আচড় কেটে বলে
দুখের বন্ধু আমি হলাম
তোর দুখের ভাগ আমি নিলাম
মনের ব্যাথা প্রকাশ হবে
আমার কালির আচঁড়ে
তোর মনের সঙ্গী হয়ে
থাকবো আমি তোর সাথে
তোর লেখনীতে"।

প্রশ্ন
- সুমিতা সরকার ঘোষ

বাবা নাকি মরে গেলেও পাশে পাশে থাকে,
অলক্ষ্যের আড়ালে থেকে ভালবাসার
হিসেব রাখে?

কৈ?? কোথায়?? সামনে যখনই বাবা বলে ডাকি,
শূন্য ছায়া যায় দূরে সরে,
মেলায় রেখা শুধু অন্তরে,
কৃষ্ণতারায় অঝোর শ্রাবণ,
বাকরুদ্ধতায় চেয়ে থাকি।

বাবাগো!! কোথায় গেলে?? আজও তোমার ফিরে আসার প্রতীক্ষায়...........
একবার তো আমায় দেখা দাও.......

০৭.০৪.২০২০

'আমি' অর্থ
- প্রসেনজিৎ ঘোষ

আমি ছোট্ট একটি শব্দ
তবু আমি আপনকে করেছি পর ,
মানুষ কে নামিয়েছি পথের পরে,
আমি মানুষের রক্তে মাটিকে করেছি লাল।
আমি নিয়েছি কেড়ে গরীবের শিক্ষা
আমি দিয়েছি ওদের অমানুষ করে।
আমি নিজে হাতে দিয়েছি ওদের অমানুষ করে।
আমি নিজে হাতে দিয়েছি
শত নিরুপমার শরশয‍্যা ।
আমি কতো শতো মাকে আনিয়াছি অন্ধকারে,
আমি নিজে হাতে করেছি অবিচার
দিয়েছি ওদের ফাঁসি।
আমি দিইনি ওদের চিকিৎসা
ঝরিয়েছি লক্ষ মায়ের চোখের জল‌।
আমি নিয়েছি চাষির মুখের অন্ন
দিয়েছি ওদের বিষ।
আমি হাঁসি গরিবের মৃত্যুতে,
কাঁদি গরিবের সুখে।
হায় ! আমি যে বন্দি
অট্টলিকার বিশাল সিন্ধুকে ।
আমার অহংকার দিয়ে মারিয়েছি ওদের
এখনো মারিবো শত লক্ষ বছর ধরে!
আমি জানি,
করিবে না কেউ প্রতিবাদ আমার উপরে।।

অজানা ঠিকানা
- সুমিতা সরকার ঘোষ
আমার বাবা জীবন্ত ঈশ্বর কাউকে না বলে চলে গেলেন  না ফেরার দেশে.........
আমার দুনিয়াটাই স্তব্ধ হয়ে গেল.......
২১শে মার্চ শনিবার রাত ৯ টা ৩৫ মিনিটে বাবা আমাকে ছেড়ে চিরকালের মত না ফেরার দেশে চলে গেলেন। জীবনে শ্মশানের যাওয়ার অভিজ্ঞতা কোনোদিন হয়নি, আজ ভোর হতে না হতেই বাবাকে নিয়ে চললাম এক অজানা ঠিকানায়, যেখানে গেলে মানুষ আর কখনও ফিরে আসে না, জানিনা  অত উষ্ণতায়, গরমে, ঐ লাল গনগনে আঁচের মধ্যে কি করে বাবা তোমাকে শুতে পাঠালাম, রোগজর্জর দেহে কত কষ্ট পেয়েছ তুমি। কখন যে আমাকে ছেড়ে চলে গেলে বুঝতেই পারলাম না। ৪৫ মিনিট পর বেরিয়ে এল এক মুঠো সাদা ছাই। ছোট বেলা কোলে ওঠা থেকে বড় হয়ে সংসার জীবনে প্রবেশ, হাতে কলম তুলে নেওয়া, আজ যা কিছু,  যতটুকু সব তোমার জন্য চাকরী সূত্রে তুমি থাকতে বিদেশে,  সেরকম করে আর পাঁচজনের মতো কাছে পাওয়া আমাদের দুই ভাই বোনের ভাগ্যে ছিলনা। শেষ সময়ে তোমাকে আর দেখা হলো না, কখন যে না ফেরার দেশে চলে গেলে জানতেও পারলাম না, এত অভিমান করে চলে গেলে বাবা?? আমার অসম্পূর্ণ বৃত্তের মাঝে আরও এক অসম্পূর্ণ বৃত্ত রেখে গেলে তুমি। কি করে মেলাবো এ গল্প।
এই বিষাক্ত পৃথিবীতে আমাকে একা রেখে যেওনা বাবা, খুব তাড়াতাড়ি তোমার কাছে ডেকে নাও বাবা,
আবার যদি জন্মগ্রহণ করি, তো তোমার কোলেই যেন ফিরে আসি। বাবা গো? তোমায় যে বড্ড ভালবাসি। আজ কোথায় চলে গেলে? আমি যে আজ বড্ড একা এই পৃথিবীতে।  থেমে গেছে আমার কলম। ভালো থেকো বাবা।
#প্রনাম / ০৬.০৪.২০২০

সংকট
কলমে - সঞ্জয় চক্রবর্ত্তী

টিভি র পর্দা জুড়ে দরদী বিজ্ঞাপন ,
গরিব দু-মুঠো অন্ন পাবে সস্তায় ।
বাস্তবে দেখি ,ভিখারি ছদ্মবেশে কত ,
আমীর- ওমরাহ নেমেছে রাস্তায় ।
আমি পিছু ধাই, বাবু কে শুধাই ,
"দেশের এ দুর্দিনে ,ঘরে কি চাল বাড়ন্ত?"
বাবু কন রোষে,"বস্তা গুনেও পাবে কি তাহার
অন্ত ?"
বিনীত কণ্ঠে বাবু কে শুধাই,"কেন এ সঞ্চয়-লড়াই?
বাবু হেসে কন ,"ওহে, মাথামোটা-
সুযোগ টা তো নেওয়া চাই ।"

06.04.2020

করবী তুমিই কি সে ?
- উৎপল রাউত

করবী গাছটা কিছু না হলে পাঁচ বছর
আমার ঘরের পাশে হাওয়ায় দোলে,
সময় হলে দায়সারা পুষ্প প্রসব করে,
কখন করে আর কখন ঝরে
সে হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খ বলতে পারি না।
কিন্তু শেষ চার পাঁচ দিন
অলৌকিক মায়াজাল ছড়ালো করবী,
থরে বথরে গোলাপী ফুলে নিজেকে সাজালো ।
স্বচ্ছ, সজীব প্রতিটি সুন্দরী বোনেরা,
এ বলে আমাকে তো ও বলে আমাকে দেখ !

করবী , তুমি আজ অযত্নে বেড়ে ওঠা
মধ্যবিত্তের কন্যা !
হেলায় ফেলায় মানুষ,
একটু বাড়লেই বিয়ে দিয়ে দায় শেষ !
এ যেন অযত্নযাত পুষ্পের স্বচ্ছন্দ বিকাশ !

করবী, নির্মল শ্বাস নিয়ে জলদকে
বহিস্কার করা তুমি পূর্ণ শশী!
স্বস্তির প্রতিবিম্ব তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ;
বিহঙ্গেরা স্বাগতম তোমার রূপের বন্যায়,
পাখী তোমরা অমৃত সমীরণে বিস্মিত !
কলকাকলিতে ভরা করবীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ !

করবী তোমার সুন্দর প্রকাশ দেখলাম,
বিহঙ্গ ,তোমার অন্তর উৎসারিত কূজন শুনলাম।
মানব, মৃত্যুভয়ে দূষণ পবন স্তব্ধ করেছো !
দেবতা ,মানবের সুমতি দাও,
প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ দাও,
ওরাও করবীর মতো হাসুক,
ধরণীর সকলকে হাসার সুযোগ দিক।

০৪/০৪/২০

সূর্যতেজে সমাপতন
- কিরণময় নন্দী

শুষ্ক মেদিনী কর্দম,একপশলা বারিপাত
অসহায়!যোদ্ধা কর্ণ, বিধাতার নিষ্ঠুর হাত।
ভ্রমে গাভী হত্যা তবুও ভয়ঙ্কর অভিশাপ
বসুসেন শুধুই অপমান! নয় মাফ;

ধনুর্বিদ তুমি পরাক্রমশালী তুমি অঙ্গরাজ
ভার্গবাস্ত্র, গান্ডীব সম বিজয়-ধনু তোমার রণসাজ।
সারথী শল‍্যের অভিনয়, পরশুরামের শাপ
কুরুক্ষেত্র রণাঙ্গনে অসহায় কর্ণ কুপোকাত।

যোদ্ধার করুণ আর্তি,ভিক্ষা ক্ষনিকের তরে
বীর অর্জুন যুদ্ধমত্ত, কে শোনে কাহারে!
কৌতূহলে জন্ম তোমার কুমারী মাতৃজঠরে
সূর্যতেজেই সমাপতন,আসবে কি নতুন ভোরে?

বাবার চিঠি
- সুমিতা সরকার ঘোষ

লিখতে বসেছি অনেক দিন পর কি লিখব জানিনা, কলম আজ আঘাতে আঘাতে রক্তক্ষরণে ক্ষতবিক্ষত। শ্রদ্ধাঞ্জলি কোথায় যেন স্মরনাঞ্জলিতে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে............

বাবা মানে প্রথম কোল, বাবা মানে হাসি,
বাবা মানে ছায়ার স্থান, তোমাকেই ভালবাসি।

বাবা মানে স্কুল প্রাঙ্গণ, হাঁটি হাঁটি পা,
বাবা মানে খিদে পেয়েছে খাবি কিছু? খা?

বাবা মানে স্কুল ছাড়িয়ে কলেজ দেখার রেশ,
বাবা মানে আমি আছিতো? আশ্বাসবানী পেশ।

সব সীমা পার করে ছাদনাতলায় বসা,
নতুন জীবনের প্রবেশ মূহুর্তে রঙ্গীন স্বপ্নে ভাসা।

বাবা মানে লগ্নে সম্প্রদান, ধুতি বেনারসিতে গিট বাঁধা
বাবা মানে বটের ছায়ায় মন বিশ্বাসে সাধা।

বাবা মানে কনকাঞ্জলি শেষে চোখে অঝোর শ্রাবনধারা,
বিদায় বেলায় গৌরী দানে অন্তর দিশেহারা........

কোলের উষ্ণতায় আনন্দে থেকে সংসার জীবনের মাঝ,
মাথার ওপরে সবই আছে শুধু,
স্নেহের বাবা নেই কাছে আজ।

বাসনা-বাসর এ স্মরণভূমি
- অসীম দাস

বিনম্র প্রেমে উদাসীন একদিন ফিরে
আসতেই হবে শেষ খেয়া ঘাটে ।
তার আগে তৎসম চাতুরালি ছেড়ে
নিশ্চিত দুরু দুরু দেখা হবে কবিতার হাটে।
ততদিন ক্ষীয়মান খুঁজে চলি জিওল -জালিকা
বাসনা-বাসর এ স্মরণভূমি ।
বৈষয়িক মদ জনপদ ভুলে বেজে বেজে হয়ে যাই
বনানী পাতার ঝুমঝুমি ।
শাশ্বত হতে চাওয়া অর্বাচীন ফের পথ হাঁটি ।
হেঁটেছেন ঋক্ কবি হাজার বছর ধরে
পরিশেষে বনলতা সেন ,
না -ই পারি কিঞ্চিত ক্ষণজীবী প্রতিভার ছাই
পুঁতে যাবো পাঁচালীর পায়
পঙক্তির ফাঁকে খুঁজবেন !

আদরের বৌমা
কলমে - মায়া সাহা

শীতের সকাল থেকেই অসুস্থ স্বামীর পিঠে খাওয়ার ইচ্ছা পূরণ করার জন্য পায়ে ব্যথা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে চাল বেটেছেন সীতা দেবী।
সন্ধ্যা হতে আদরের বৌমা'কে পিঠে তৈরি করতে দেখে শ্বশুর মশাই খুব আনন্দ পেলেন !মনে মনে ভাবলেন, বৌমা পিঠে বানানোর দায়িত্বটা নিলে স্ত্রীর কষ্টটা একটু কমে।আর বৌমা'র হাতে বানানো পিঠে খাওয়া সে পরম আনন্দের কথা!

সীতা দেবী স্বামীর জন্য রান্না ঘরে পিঠে নিতে ঢুকেই দেখলেন,বৌমা টিফিন বক্সে করে বাপের বাড়ির জন্য সব পিঠে গুছিয়ে নিয়েছে। সীতা দেবী স্বামীর জন্য পিঠে চাইতেই বৌমা বলল," মা,আমার বাবা পিঠে খেতে খুব ভালোবাসে,তাই আমি নিজের হাতে বাবার জন্য কয়েকটা পিঠে আর একটু পায়েস বানিয়ে নিলাম।
বাকি চালবাটা দিয়ে আপনি এবার পিঠে গুলো বানিয়ে নিন।"
সীতা দেবীর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল।

তারিখ -26/12 /19

আজও চমত্কার
- অসীম দাস

কতদূরে তুমি নিয়ে যেতে পারো , রাজী
প্রীতি- পরিধান করেছে অকুতোভয় ,
সময়ের হাতে রেখেছি এ শ্বাস বাজি
সুপ্ত বীজের অঙ্কুরে বরাভয় ।

যতবার ছায়া মিশেছে অন্ধকারে
রাতের গর্ভে জন্ম নিয়েছে ভোর ,
সাহসী আলোয় আশা ফোটে চরাচরে
সিসিফাস দম টেনে যায় প্রস্তর ।

যতবার ভয় নিদান দিয়েছে নাড়ি
ছাড়ো এইবার পৃথিবী হয়েছে ভারী ,
স্মৃতি-পাল তুলে ময়ূরপঙ্খী সারি
ভিড়েছে আবার নোঙরের টানে বাড়ি ।

শব্দের ঘ্রাণে আদিম ফিনিক্স পাখি
জীবনানন্দে আজও চমত্কার !
পর্ণমোচীতে সবুজের ডাকাডাকি
শ্বাস নদী দাঁড়ে দেনা শোধবার ভার ।

বাদল
- রাণু সরকার

তুই তো সেই দুষ্টু মেয়ে হাত বাড়িয়ে বসেই আছি, 'দু'হাত জুরে ধরবো বলে সাঁঝ- সকালে বসেই আছি।

কোথায় গেলে এইযে তুমি,
ও প্রিয়, আমি তো বেশ তাল্- বেতালে নেচে যাচ্ছি পড়ে হলুদ শাড়ি, তোমার জন্য ভিজতে পারি এই অবেলায়!

একটু এসে দাও না ছোঁয়া!
তোমার চোখের পড়ে চোখ চলে যায়!
দেখা তো হলো তার বেশি নয়!
হলুদ শাড়ি খোঁপায় ফুল, ঝ্ম-ঝমিয়ে আসলো বৃষ্টি দুলছে আমার দোদুল - ফিতে, মোটেও নও ছোট্ট খুকি?

এখন যে তুমি দিব্য বড়!
তোমার মধ্যে তুমি তুমি গন্ধ ওড়ে, চতুর্দিকে!
আমি খুঁজি তোমাকেই আমার প্রেমিক- কবি, সে-তো লাজুক বড়, 'বর্ষার' জল দিয়ে সে পদ্য লেখ!

কথা গুলো কী তোমার মতো?কথা যদি দাও বলতে পারি? তোমার সঙ্গে সমস্ত দিন হাঁটবো বলে বসেই থাকি!

তোমার দিকে তাকিয়ে থেকে মন যে করে উথাল পাথাল, চোখের কোণে, স্বপ্ন গুলো লুকিয়ে রাখি! রোদ্দুরও সব গোপন থাকে, বজ্র-মেঘের হৃদয় জুড়ে,

প্রভাত কালে, পরী হয়ে, তুমি কি হও উড়াল
পাখি? আমি সমস্ত দিন আরাল খুঁজি?
আমার জন্য রেখো আসন পেতে,

আমার জন্য উঠনেতে আলপনা দাও, সাঁঝবাতিতে ধুনু জ্বালাও, আমার দিকে তাকিয়ে থাক আকাশ প্রাণে, আমার জন্য,

আমি তো সেই ঘোড়সওয়ারি বজ্রমনি, তোমার জন্য সাজিয়ে রাখি আলোর-লতা, চোখের কোনটি গোপন করি বজ্র হয়েও শান্ত থাকি।

ঝ্ম-ঝমিয়ে বৃষ্টি এলো, 'দু'মুঠো ফুল উরিয়ে দিয়ে, বসে থাকি বর্ষার পাখি হয়ে, তাকিয়ে থাকো পথের দিকে, বাজলে নূপুর ছলকে ওঠো!

গাছের পরে জলের ফোঁটায় সমস্ত দিন বর্ষার পাখি,লুকিয়ে তোমায় খুঁজতে থাকি, শুধু তোমার জন্য ভিজতে পারি দেখবে এসো তাড়াতাড়ি!

০১৷০৯৷২০১৮

নিয়ন আলোয় ভরা এই শহরে ;
হাজারো বাতির আলোক ঝলকানিতে আঁধার মুছে গেছে ,
অথচ আমি আঁধারে হেঁটে চলি একাকী নীরবে ।
লোকসমাগমে পূর্ণ এই শহরে ;
কত শত মানুষ হেঁটে চলে যায় আমার শরীরের পাশ দিয়ে ,
অথচ আমি একাই হাটছি শহরের কোল ঘেঁষে ।
সময়ও নিয়ম করেই চলে যায় ;
কতো শত শতাব্দীকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায় ,
তবু আমি আজ একাই হাঁটি শহরের বারান্দায়।
একা বেরে ওঠা মায়ের জঠরে ;
একাই ভূমিষ্ট হয়ে একাই কর্তব্য পালন সারা পৃথিবী জুড়ে ,
আবার একাই চলে যাওয়া পৃথিবীটাকে ছেড়ে ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget