ফেব্রুয়ারী 2020

হাসি
সুমিতাংশু দোয়শী

হাসির মতন কিছু নাই,
অমৃতেরই সমান ভাই
সরল হাসি হাসে শিশু,
সত্য ঘোরে আগু পিছু।
মর্ম কইলো প্রতিম দে,
সব দুঃখ ঘুচিয়ে দে।
দুঃখকে তুই কাছে টান
আগুন জ্বলুক মন ও প্রাণ।
হেসে দুঃখ জড়িয়ে নিবি
সদায় সোজা কথা ক’বি।
হাসি যে ভাই বড়ই মধুর
দুঃখী হাসে হাসে চতুর।
হাসি-আনন্দে নাই ভেদাভেদ
কোরআন হাদিস পুরাণ ও বেদ।
হাসলে পরে শান্তি পাবি
সৎ চিৎ আনন্দ হবি।
হাসবো হাসি সহজ-সরল
মনের ভিতর নাইকো গরল।
থাকলে গরল মগজ ঘরে
অহংকার এ জড়িয়ে ধরে।
জ্ঞানের বড়াই করিস না
মিথ্যে হাসি হাসিস না।
সবাইকে তুই ভালোবাস
সবার মাঝে সত্য বাস।
ঈর্ষা কে তুই ঘুরিয়ে দে
হাসির আলো ছড়িয়ে দে।
অংশু হাসি হাসতে জানে
সবার সনে মিশতে জানে।
দুঃখে হাসি হেসেই যাই
আমার কোন চিন্তা নাই।

হে গন্ধমরেখা সরে যাও
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমরা বড়জোর
অবিস্ফোরিত জানালায় এঁকে যেতে পারি
দৃষ্টিনন্দন চোখের বালিকা
অনুবাদ করতে পারি
সঙ্গম ও সুদৃশ্য দূরত্বের পুরাকীর্তি।

যে বা যাহার কাছে গিয়ে
নত করে দিতে চাই প্রেম
ফুল বা বিহঙ্গ দিতে চাই
যাহার দ্বিভুজে,
এখানে মূলত তার কোনোও আপত্তি নেই
শান বাঁধানো ভূমিতেইতো দাঁড়িয়ে আছো
'তুমি' ও তার পরিনত কঙ্কাল।

হে গন্ধমরেখা
আপাততঃ সরে যাও
সঙ্গতকারণেই
আমাকে ছুঁতে দাও
বিমূর্ত দরজা;
আঁকা বাঁকা দ্বীপের আদুল ক্যানেল।

২৮/০২/২০২০.

আমি বাইপোলার
- সুমিতাংশু দোয়শী

আমি লিখি। যখন যেমন হয়, যা মনে হয় লিখে যায়। লিখে যাই এই কারণে যে না লিখলে বাঁচতে পারব না। সত্যি কথাটা মিথ্যা নয়। আমি একজন বাইপোলার টাইপ 2 সমস্যায় সমস্যিত ব্যক্তি। মনের চিন্তাভাবনাকে প্রকাশ করতে না পারলে সেগুলো আমাদের মধ্যে জমেথেকে পুজ বেরিয়ে আসবে।
মজার ব্যাপার হলো বাইপোলার টাইপ টুরা সব সময় আশাবাদী। সব সময় আমরা মনে করি যে সমাজ বদলানোর ভার কেউ না নিল তো না নিল। আমাদেরকে নিতেই হবে। আরেকটি সমস্যা হল যে আমরা মনে করি ঈশ্বর আমাদের পাঠিয়েছেন কোন একটি ভালো কাজ করার জন্য। এর ফলে আমরা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।
যেহেতু উপরে দুটি ভাবনা আচরণগত সমস্যা হলেও ভালো ভাবনা তাই অনেক মানুষকে পাশে পেয়েও যায়। এইবার এই পাশে পাওয়া মানুষদের মধ্যে 99% মানুষ হল তারা -যারা আমাকে বা আমাদেরকে কোনদিন দেখেনি। আমি বা আমাদের কোন ক্ষতি হলে অরিজিনালি তাদের কিছু যায় আসবে না। এভাবে পাশে থাকাটাও ভালো। আমরা হাত ধরার মানুষ পায়।
কিন্তু দূরে সরে যায় তারা যারা কাছের মানুষ।
আমাদের কন্ট্রোল করতে না পারা বিহেভিয়ার এরজন্য তাদের রাগ হয়। সেটাও হয় আমাদের তর্কাতর্কির অভ্যাসের জন্য। আমাদের সমস্যা আছে বলে সে কেন বা তারা কেন আমাদের সমস্যা নিয়ে ভাববে? কেন আমাদের হাতে হাত রাখবে আমাদের দুর্ব্যবহার সত্বেও?
সেজন্য আমাদেরকে stocism এর মুখোশ পড়তে হয়। না পড়ে উপায় থাকেনা।মুখে বলতেই হয় কে কি ভাবলো কেয়ার করি না। অনেক সময় হয়তো সত্যি করেই করিনা।
কিন্তু যারা কাছের তারা যখন সরে যেতে চায় বা সরে যায় তখন ব্রেন টা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ফিরে আয় ফিরে আয় বলে ডাকার ইচ্ছা থাকলেও পারিনা। ব্রেনের কারিগরিতে আমরা যে যাচ্ছে তাকে আরও দূরে ঠেলে দিই। একসময় মুখে বালিশ চাপা দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছা করে। কিন্তু কাদিনা কারন আমি টাইপ-টু বাইপোলার। বেশিরভাগ সময় আমরা অতি উৎসাহ ও অপটিমিস্ম এবং নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকার ফলে কষ্টটা কেউ ছুড়ে দি।
এখানেই বৈপরীত্য। কষ্ট ছুড়ে ফেলা যায় না। ওটি মস্তিষ্কের কোন এক স্থানে ঘর করে নেয় যা পরে রাগ, দুর্ব্যবহার ও WESSTERN STOICISM রূপে বেরিয়ে আসে। আসার সময় এত জমানো বিষ সাথে করে নিয়ে আসে যে সামনের জন ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
একা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে একা হতে হতে নিজেকে বোঝায় যে কেউ কারো নয়। সেই কথায় লিখে ফেলি। কিন্তু লেখা আর বাস্তব জীবন আলাদা। একা হয়ে গেলে সত্যি কষ্ট হয়।
কষ্ট হয় যখন সমাজ আমাদের পাগল বলে চিহ্নিত করতে উঠেপড়ে লাগে। তাদের অত্যাচারের হাত থেকে বাচার জন্য সবাইকে হাতজোড় করে বলেছি যে এই জিনিসটা যে রোগ নয় একটা ব্যবহারিক সমস্যা সেটা দেখে শুনে পড়ে একটু বোঝো। বেশি না! গুগলে সার্চ করলেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। ওখানে পাশ করা ডাক্তার রা আমাদের মত বাইপোলার কে পাগল বলে না। কিন্তু যারা জিনিসটা জানেন না তারা পাগল ছাড়া আর কিছু বলেন না।
আমাদের কাজকর্ম সাজানো নয়। ওই ক্ষমতাটা ঈশ্বর আমাদের দেননি। দিয়েছেন এমন একটি জিনিস যার জন্য অনেক বাই পোলার নিজেকে প্রাণে মেরে ফেলতে বাধ্য হয়।
আর আমার মত কয়েকটা হাতে গোনা সাহস করে বেরিয়ে আসে ও মানুষের সঙ্গে মেশে। যাদের সঙ্গে মেশে তাদের মধ্যে অচেনারা লক্ষ্য বা তত্ত্বের কথা শুনে ভালোবেসে ফেলে, আর নিজের কাছের বন্ধুরা illusive, জ্ঞানী ইত্যাদি বলে আমাকে রাগিয়ে নিজেও রেগে ঘেঁটে ঘ করে দিয়ে সম্পর্ক শেষ করে দেয়।
এবার তারা সব সুস্থ মানুষ তাদের পক্ষে জিনিসটা ভোলা সহজ। আমরা তো সমাজের কথায় আবার অসুস্থ। যদিও ডাক্তাররা অন্য কথা বলে। যাই হোক। আমাদের এই লজ্জাকর অসুস্থতার জন্য আমরা ভুলতে পারিনা। রাতে ঘুমাতে পারি না। ওষুধ খেয়েও ওষুধ কাজ করে না। জেগে থাকি। গান করি কবিতা লিখি যা খুশি করি। যাতে মাথাতে চাপ না পড়ে।
এতকিছু করেও এড়ানো যায়না। যে সমাজে আমরা বাস করি সেই সমাজ যখন আমাদের পাগল বলে তাকমা দিয়ে যেতে চাই, তখন হাতড়ে বেড়াই একটা ধরার হাত। আমার হাতটা ধরে রেখেছে কেবলমাত্র মা, বাবা আর শতাব্দি। ওদের ভরসাতেই থাকবো। এগিয়ে যাব এগিয়ে যাব এগিয়ে যাব।

আমরা
- সুমিতাংশু দোয়শী

আমরা স্বপ্ন দেখি।
কালামের বলা পথে দেখি।
জেগে থাকি অষ্টপ্রহর।
দেশ এগোনোর বিশ্বাসে বিভোর।
আমরা বিবেকদা কে মানি।
হৃদয়ে আগুন লাগাতে জানি।
ঘুণ পচা যত মিথ্যাকে করি ছাই।
মোরা সত্য পূজারি ভাই।
ঢালিনাকো দুধ পাথর বেদিতে
পিনাক কে পাই মানুষ মাঝেতে।
ভুল খোঁজে যারা পাইনাকো তারা
পেয়েছি! দেখেছি! যাবে নাকো ছাড়া।
আমরা রুদ্র দমন তাই।
আনন্দ গান গাই।
পরের দুখেতে বাক্যি ঝাড়িনা
দুঃখকে দূরে তাড়াতে ছাড়িনা।
কাজ করি মোরা কর্মি হয়েছি।
ভারতের রং বুকেতে মেখেছি।
ভয় ডর কিছু নাই।
সত্য চিনেছি।
তাণ্ডব করি, মোরা বৈরাগী
প্রেমের পূজারি তাই।
মানুষ হয়েছি ভাই।
স্বপ্ন দেখাবো আয়।
মানুষ হবি আয়।

সোজা হ
- সুমিতাংশু দোয়শী

ধর্ম করিস তোরা এমন
দ্বন্দ্বে পড়েই থাকিস।
পঞ্চাশ না দেবো পাঁচশো
ভেবেই মরে থাকিস।
দিলে পরে সব দিয়ে দে
নইলে দিস না কিছু।
শিরদাঁড়া রাখ সোজা রে ভাই
ঘাড় করিস নে নিচু।
করবি যা কর একমনে তে
বেশি ভাবিস না।
ভাবনা অতি নাশ করে সব
জেনেও জানিস ন?
পকেট ভরে রেখে ও ভাই
নাইকো বলিস না।
ভিখিরি ভিখ চাইলে রে বল
আছে দেবো না।
সত্যি কে ভাই ধর দেখি তুই
মিথ্যা যত ছাড়।
মিথ্যা কথার ঘূর্ণিপাকে
পাপের ই বাহার।
শোন শোন ভাই বলি তবে
এই কাজটি কর।
টাকাকে তুই ধর ভগবান
নয় ভগায় টাকা ধর।
এসপার নয় ওসপার যা
ছেড়ে দুই নৌকায় পা।
কাজটি নয়কো মোটেই কঠিন।
হেসে এগিয়ে যা।

লাল রঙের
- কিরণময় নন্দী

রক্ত সে লাল রঙের
কিসের তফাৎ বাবু?
ধোঁয়া সে তো বীভৎস
আমরা কষ্টে সবাই কাবু!

রক্ত সে লাল রঙের
কিসের তফাৎ ভাই?
রণহুঙ্কার-হাহাকার
আমরা কষ্টে আছি হায়!

রক্ত সে লাল রঙের
কিসের তফাৎ মা?
আগুন নিভাও একসাথে
দুর্বৃত্ত তুই অন্ধকারে যা।

নীহারিকা বহু আলোকবর্ষ দূরে
- কিরণময় নন্দী

নীহারিকা কত দূর গেলে পর হওয়া যায়
কত মাইল,কত আলোকবর্ষ, কত শুন্য লাগবে বাস্তব সংখ্যার পাশে
বলো নীহারিকা দূরত্বটা কি খুবই প্রয়োজন ছিল
নাকি মেকি বুননে ঠাসা সম্পর্ক বিচ্ছেদ অনায়াসে।

মহাশুন্যে ভেসে স্বপ্নজাল বুনেছি বারেবারে
দেখেছি নাট্যরূপের নানা বিয়োগান্তক চরিত্র
বিস্মৃতির অতলে ছুঁড়ে দিয়েছি তারে
আমার নীহারিকা নিতান্তই সাধারণ,সে পবিত্র।

অবচেতনে ছুটেছি বারেবারে অন্য গ্যালাক্সি ছাড়িয়ে
জ্যোতিষ্ক তেজে ধূমকেতু ভয়ে ফিরেছে চেতন
উষ্ণ বুকে তীব্র হাতের ছোঁয়ায় খুঁজেছি তোমায়
কোথায় নীহারিকা কোথায় তুমি মোর স্বজন।

ধরার শুস্ক মৃত্তিকা কালের অভিব্যক্তির নিদর্শন
শুধু ব্যার্থতার হাহাকার
নীহারিকা দূরত্ব বাড়াতে অন্য গ্যালাক্সির শোভা
রিক্ত হৃদয়ে অবিশ্বাসী মোর চিৎকার।

কী লিখেছে ভাইটা!
সত্যি কী দারুণ লিখেছে।
কতই বা বয়স!
সমাজের উঁচু-নিচু
সমাজের চিল চিৎকার
এগুলো কিছুই তাকে বিব্রত করতে পারেনি এখনো।
এখনো মনের আনন্দে বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড় করে
খেলা করে
গল্প করে
পড়াও করে।
মাঝখানে দৈবাৎ আমার সাথে পরিচয়!
কেইবা আমি?
না দাদা না ভাই
আছে না রক্তের সম্পর্ক।
আমি তো কেউ নয়।
তাও কেন জানিনা বললো
আমি নাকি ভালো মানুষ।
বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয়।
বয়সের ভেদাভেদ নয়।
সামান্য সত্যি কথা বলার পুরস্কার।
আজ আবার ওর কাছ থেকেও লেখা চাইলেম।
দিলে একখানা গান।
চোখ আটকে গেল একটি লাইনে।
এত কম বয়সে বুঝবো কি করে?
এত সহজ সত্য আপনি জানল কি করে?
কি করে জানল,
ভালোবাসা মরে নাকো চিতাতে বা কবরে!!

অন্তরা
কলমে - রাজদীপ দাস

ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ আলসেমি ঝেড়ে নিদ্রা ত্যাগ করে তড়িঘড়ি তৈরি হতে লাগলাম... কারণ সকালের ট্রেনে নন্দাইগাজন যাত্রার কথা...
তাই কাধে চিত্রগ্রহণের যন্ত্রখানি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম হাওড়া জংশনের উদ্দেশ্যে.....
শীতের ভোরে কুয়াশা ভেদ করে বাস ধরলাম.... শীতের আমেজে বাসটা বেশ জনশূণ্য বললেই চলে.... জানালার সিটে বসে চললাম হাওড়া....
স্টেশনে যখন পৌঁছোলাম একটু ভোরের আলো ফুটেছে.... অসংরক্ষরিত টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে ছুটলাম ১৪নং প্ল্যাটফর্মে.....
ট্রেনে উঠে রওনা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে....

বেশ ঘন্টাখানেক পর নামলাম ট্রেন থেকে.... স্টেশনের পাশের দোকান থেকে একটা সিগারেট ধরিয়ে হেঁটে চললাম একটু ভিতরের দিকে....
গ্রাম্য সৌন্দর্য্য বেশ মন কাড়লো.... ব্যাগ থেকে বের করলাম আমার যন্ত্রখানি...
কিছু প্রাকৃতিক দৃশ্য ফ্রেমবন্দী করলাম.....
বেশ বেলা গড়ালো এই করতে করতে....
খানিক পর একজনকে নজরে এলো... এক শীর্ণকায় নারী ... মুখটা কেমন যেন চেনা চেনা ঠেকলো.. কিন্তু সাহস হলো না এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করবার... অথচ সে আমাকে বারবার দেখছে...
কাজ সেরে আমাকে ঈশারা করলো আর তার পিছু নিয়ে হাঁটতে থাকলাম.... বেশ অনেক ক্রোশ হাঁটার পর একটা বৃক্ষের ছায়ায় স্থির হয়ে দাঁড়ালাম....
আমাকে পাশের কুঁড়ে ঘর থেকে এক ঘটি জল এনে আমার তৃষ্ণা নিবারন করলো.. তারপর শুরু করলো কথা....
বললো,
' আমাকে চিনতে পাইরছেন দাদা ?'

আমি : না, মানে !! চেনা তো লাগছে... কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছি না...

সে : আরে, আপনাদের কলকেতা শহরের 'সবলা মেলা'তে আপনি আমার ছবি তুইলেছিলেন..... তারপর একখান ঝুড়ি কিইনেসিলেন.....

আমি : হ্যাঁ !!! হ্যাঁ !!!! মনে পড়েছে... তুমি সেই অন্তরা বিবি.....

সে : হ্যাঁ দাদা....

আমি : তা বলো কেমন আছো ? কাছ কেমন চলছে ???

সে : মোটের উপর ঠিকঠাক.... সবই তো বোঝেন দাদা....

আমি : হম্ ....

সে : এই গেরামের মাঠে কাজ কইরে যা পাই, কোনো রকমে সংসার চলে... সোয়ামীটা অসুখ বাঁইনধে পইড়ে আসে.... একার উপর কি যে করি দাদা.....

আমি : এক কাজ করো, আমার নম্বরটা নিয়ে রাখো, আমি চেষ্টা করছি যদি কিছু করা যায়....
তুমি যা যা নিজের হাতে বানাও তার একটা তালিকা আমাকে দাও, আমি সেগুলোর ছবি তুলে আমার নিজের Website -এ দেবো..... আর তোমার স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, তুমি কালই কলকাতা আসো, সেখানে আমার পরিচিত চিকিৎসক আছেন..... আর হ্যাঁ !!! আমাকে অবশ্যই ফোন করে আসবে, আসার আগে..... আজ আমি উঠি..

সে : সাবধানে যাবেন দাদা.....

আমি : হ্যাঁ, চিন্তা করো না.....

বেশ আবেগতাড়িত হয়ে পড়লাম সব শুনে.... বাড়ী ফিরেই ভাবতে বসলাম কি করা যায়....
ভদ্রমহিলার অবস্থা যা শুনলাম, তাতে তার জন্য কিছু একটা করা উচিত... এই বিকাশ বসু থাকতে একজন এভাবে অসহায়তায় ভুগবে তা হতে পারে না...
তাই কথামতো কাজ শুরু করলাম, পরদিন সকালে তার স্বামীর চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করে দিলাম... তারপর তার ব্যবসার উন্নতির জন্য হাতে তৈরি সব জিনিস বিক্রির ব্যবস্থা করে তাকে একটা রোজগারের পথ খুঁজে দিলাম....

আজ অন্তরা আর জমিতে কাজ করে না... হস্তশিল্পের মাধ্যমে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে সে.... তার স্বামী ইকবাল ঘরে বসে তাকে কাজে সাহায্য করে..... ব্যবসা করে পাকা বাড়ীও করেছে.....

৬ মাস পর যখন ওদের গ্রামে গেলাম, দেখলাম কত বদলে গেছে ওদের জীবনযাত্রা, তবে বদলায়নি মন... আমাকে দেখে ছুঁটে এলো, আতিথেয়তায় ভরিয়ে দিলো....
সত্যিই এমনও মানুষ আছেন যারা বেইমানি শব্দটাকে তাদের জীবনের অভিধানে স্থান দেন না....
আজীবন স্মৃতিতে অমর থাকবে অন্তরা বিবির আন্তরিকতা.....

এমন তো কথা ছিলো না
কলমে - মিন্টু উপাধ্যায়

বিছানায় শুয়ে জানালা দিয়ে খোলা আকাশের দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। ফুর ফুরে বাতাস আমার চুল এলোমেলো করে দিয়ে যাচ্ছিলো।
এমন সময় দরজায় ঠকঠক আওয়াজ...
চমকে উঠে তাকিয়ে দেখি মৌমিতা দাড়িয়ে।

- আয়, ভেতরে আয়।
- কিরে কেমন আছিস...?
- ঠিক যেমনটা ছিলাম দশ বছর আগে।
- নিজেকে বদলাসনি কেন...?
- চাইনি বদলাতে...।
- ঘরটাও তো পরিস্কার করতে পারিস... নাকি...
- না, তোর গায়ের গন্ধ, তোর স্মৃতি গুলো হারিয়ে যাবে, তাই সেটাও করি নি।
- এতো ভালোবাসিস আমায়।
- জানিনা, আমার ভালোবাসাটা কোন দিনও বুঝিয়ে বলতে পারিনি তোকে, তাই তো তুই আমায় ছেড়ে চলে গেলি..।

মৌমিতা চুপ করে রইলো।

- তা কি মনে করে হঠাৎ এলি।
- কেন, আসতে নাই...। তাহলে বল আমি এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।
- সেটা তোর একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। কোন প্রয়োজন থাকলে বলতে পারিস। আমি যে মৌমিতাকে ভালোবেসে ছিলাম, সে তুই নয়। সেতো হারিয়ে গেছে অনেক দিন আগেই। তুই আমার মৌমিতা হতে পারিস না।
- ক্ষমা করতে পারবি আমায়, সেদিন তোকে না জানিয়েই চলে যাওয়ার জন্য।
- তোকে ক্ষমা করার যোগ্যতাও আমার নাই রে। আমি তো ভিখারি।
মৌমিতার চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো।
- তাহলে আমি আসছি...
আমি কোন উত্তর না দিয়েই মুখ ফিরিয়ে নিলাম। দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পেলাম।
জানালা দিয়ে খোলা আকাশ দেখতে লাগলাম।অতীতের অনেক স্মৃতিই ঝাপসা হয়ে গেছে। তবুও কিছু স্মৃতিকে বুকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে।

বালিশের তলা থেকে দশবছর আগে কার মৌমিতার ফটোটা বার করে দেখলাম । ওর মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে দুচোখ জলে ভরে উঠলো।
আমি চোখ বুঝলাম।

চাই চানাচুর কলাই ভাজা?
মিষ্টি ফিস্টি শক্ত গজা?
টাঙুর আঙুর ঝুমুর ঝুমুর
সন্দেশ চাই, চাই চুরমুর।
মসলা মুড়ি পাঁচ টাকা ভাই
আউশ চালের নাম করে তাই।
পেয়ারা তে‌ নাই পোকা ভাই
দেখে শুনে চাই কেনা চাই।
চা হবে চা গরম গরম
কমলালেবু নরম নরম।
আমলকী খাই প্যাকেট ভরে
ছোলা ভাজা ঘোরে ফেরে।
কলা বালা ডজন বেচে
ঝালমুড়ি তে খিদে ঘোচে।
ডালিম নিয়ে বেদনা বেচে
শশা দিয়ে পাপড় খেচে।
সবাই মিলে কাব্য করি,
দিলখুস কে দিলে ভরি।
সনপাপ্রী স্বাদে ভরা
মিলে মিশে কাজ জে করা।
যে করে কাজ হেসে হেসে
অংশু তাদের সাথেই মেশে।

স্বত্বাধিকারী
- মোশ্ রাফি মুকুল

পরিবেশবান্ধব
কিছু কর্তব্য ছাড়া
খুব একটা অ্যালাও করিনা নিষাদ,কোনোকিছুরই চিহ্ন থাক এই শব্দের জলপাই পাতার উপর-তাও চাইনি কেউ কোনদিন।

চাইনি বলেই-

শিলালিপি ধার দিতে দিতে তৃতীয়লিঙ্গের লোকটি বলে ওঠেন-
আকাশযাপন ছাড়া কবির আবার সংসার থাকে নাকি?আমিষ প্রবণ সময়কে মান্যতা দেয়নি কে বা কারা কবে?সবাই দিয়েছে, সবাই মেনেছে শরীরও একটা দোতারা,একসাথে তার দু'টো তার বেজে ওঠে।

পাখ-পাখালিরাও অবকাশে যায় শূন্যের পরের শূন্যের নির্জনে,ঘর তোলে

শুধু কবিই তোলেননা গোপন প্রাচীর, অনায়াসে এক করে নেন ব্যবহারিক ভালোবাসা ও প্রণয়ের সমস্ত তথ্যবহুল সত্যগুলো!
শুধু কবি,এবং কবিই এককভাবে সমস্ত প্রেম ও বিষাদের গর্বিত স্বত্বাধিকারী।

বড়ই আনাড়ি
কলমে- সোমা গাঙ্গুলী

দেওয়ালে ঠেকেছে পিঠ।
তবু আড্ডায় উপস্থিত।
চপ আর লালপানা চা
যত খুশি, আজ তোরা খা।

জোট বাঁধলে সবাই জয়ী
একা একা বসে থেকে হয়োনা প্রণয়ী।
এক ফুঁয়ে দাও উড়িয়ে যা কিছু ফালতু, উদাস
প্রেমের বার্তা নিরুদ্দেশ, এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস।

প্রেমের ছাড়পত্র আছে প্রতিটি ঘাসেতে লেখা
এই জন্মে, তোমাকেই চাই
ঝগড়াতে,কান্নাতে, হাসিতে,
হয়েছে প্রেম শেখা।

আরে কষ্ট কে দাও হালকা ধমক,
বরং আদর মাখানো চানাচুরের প্যাকেট,
খুললেই, লাগবে অনুভূতির চমক।
জানো তো প্রেমে পড়া বড় বালাই
সময়ের অপেক্ষাতে শুধু স্মৃতিগুলো ঝালাই।

ডায়েরির কিছু পাতায়,
শুকনো গোলাপ ফুল।
বাবার পছন্দ পাত্রকে বিয়ে করে
করেছি কি কোন ভুল।

আলোয় সেজেছে রাস্তা,
পরনে পাট ভাঙা শাড়ি,
মাঠে বসে জোর আলোচনা
আসলে আমি ভীষণ আনাড়ি।

তারিখ- ২৬|০২|২০২০

পুলকার
-কিরণময় নন্দী

জানুয়ারী মাসের ভোর পাঁচটা। জানুয়ারী মাসের সকাল পাঁচটা ভোর বলেই পরিচিত। তীব্র উত্তুরে হাওয়ার দাপটে লেপমুড়ি দিয়ে আলসে ঘুমে ব্যস্ত সব। রিষরার মল্লিকবাগান এলাকায় শহুরে সকাল শুরু হয় সাড়ে সাতটার পর। এতকিছুর মাঝে একরত্তি শিশুগুলোর শান্তি নেই। উন্নত সভ্যতার অকৃপণ দানে ওদের শৈশবগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। ব্যাগের ভারে স্পাইনাল কর্ড দৃঢ় থাকতে ভয় পায়। ইংরিজি মাধ্যম স্কুলে পড়া শিশুগুলো সপ্তাহে দুদিন ছুটি পেলে কি হবে , এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটির নামে আ্যবাকাস থেকে শুরু করে এককাঁড়ি টাকা গুনে নীল জলে সাঁতার কাটা-কিংবা ক্যারাটের প্যাঁচ থেকে বিহু সহ নানা ফোকনৃত্যের ছন্দ তোলা সবেতেই ওদের ছুটতে হবে। আঁকা,গান,কবিতা শেখার কথা বাদ দিলেও ওরা ছুটেই চলেছে। মা-বাবারা রীতিমত সাংঘাতিক দৌড়ে অবতীর্ণ।
রিষরার ঋজু এর ব্যতিক্রম নয়। মা-বাবার একমাত্র বছর সাতের ঋজু প্রায় পনেরো কিলোমিটার দূরে শহরতলির নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মেধাবী ছাত্র। সেই সাড়ে তিন বছর বয়স থেকেই 'প্লে' ক্লাসের নাম করে স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সেই নিরিখে ও বেশ সিনিয়ার। প্রতিদিন সকাল পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে শুরু হয় ওর দৌড়ঝাঁপ। প্রাত্যহিক পরিচ্ছন্নতা সেরে কিছু মুখে গুঁজে সাহেবসুবোদের মতো ড্রেসকোড মেনে মেনরাস্তায় মায়ের হাত ধরে পুলকারের অপেক্ষা। দ্রুতগতির খাঁচাবন্দী শৈশবযান পুলকার কয়েক মুহূর্তে ঋজুকে নিয়েই আবার ছোটা। সাতটায় পৌঁছতে হবে স্কুলে। একটু দেরি হলেই নানা কৈফিয়ৎ।
পুলকারেই ঋজুদের একটুকরো পৃথিবী। সমু-সায়ন্তিকা-অঙ্কুশ-মৌমি-সুরজের সাথে গল্প-হাসি-খুনসুঁটি। এই সাতাশ মিনিটের ট্রাফিক ও রেল সিগন্যাল সহ দ্রুত-ধীর গতির সমন্বয়ে স্কুলে পৌঁছে ওদের অন্য জগৎ। বিরাট ক্যাম্পাস-শতশত ছাত্রছাত্রী-নানা বিভাগ-লাইব্রেরি-স্পোর্ট জোন-ক্যান্টিন এরিয়া-গার্ডেন-অডিটোরিয়াম কত কি! সাবেক পশ্চিম মেদিনীপুরের রাঙামাটি গ্রামের ঋজুর বাংলা বলা নিষেধ স্কুল ক্যাম্পাসে। টয়লেটে গিয়ে বন্ধুদের সাথে বাংলা বললেও বিপদ। নানাধরণের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি। সকলের মতো ঋজু গুডবয় সেজে শুধু ডিসিপ্লিন মানতে ব্যস্ত।তীব্র অনুশাসনে আর পাঁচজনের মতো ঋজুও তটস্থ। একরাশ হোমটাক্স নিয়ে আবার সাতাশ মিনিটের পনেরো কিলোমিটার সফর শেষে ঋজু ঘরে পৌঁছয় সাড়ে এগোটায়।
স্নান সেরে প্রাইভেট টিউটর। দুপুরে খেয়ে একটু ঘুম। তারপর বিকেলে হয় মায়ের সাথে পার্কে একটু স্বস্তি নাহয় করপোরেশনের সুইমিং ক্লাবে সাঁতার শেখা।
মেদিনীপুরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঋজুর জলে নামা বারণ। গ্রামের পুকুরে ইনফেকসন হয়ে যাবার ভয়। দূরে দাঁড়িয়ে গ্রামের ছেলেদের সাঁতার কাটা দেখে হাত-পা সুরসুর করে, কিন্তু মায়ের বারণে সাহস কুলোয় না।
সন্ধ্যে বেলা আবার মোটা মোটা ইংরিজিতে লেখা বই নিয়ে বসা। প্রশ্ন-উত্তর, হাতের লেখা-ব্যাগ গোছানো সেরে ঋজু সাড়ে ন-টায় একটু স্বাধীন। কিন্তু পরের দিনের ভোরে উঠতে হবে এই অজুহাতে সাড়ে দশটায় ডিনার সেরে ঘুমিয়ে পড়ে। চোখের চশমা খুলে ক্লান্ত ঋজু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আবার উঠে পুলকারের জন্য লড়াই।

স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে ঋজু ও তার সমবয়সী বন্ধু-বান্ধবেরা।ঠাকুমার ঝুলি নেই ওদের শৈশবে। দাদু-ঠাকুমা সেই সুদূর মেদিনীপুরে। তাই তাদের মুখে গল্প শোনার সৌভাগ্য হয়নি ঋজুর। দূষণে ভরা ব্যস্ত শহরে নিয়মের জালে ও বড়োই একা। সামনে শুধু স্কুল-ভালো রেজাল্ট আর উন্নত কেরিয়ার গঠনের হাতছানি।

ফেব্রুয়ারি মাসের মৃদু ঠান্ডায় আলসে শহর ঘুমে আচ্ছন্ন। প্রতিদিনের মতো পুলকারে উঠলো ঋজু। বন্ধুদের সাথে গল্প হাসিতে মেতে উঠলো ও। বেশ কয়েকদিন ওদের পুলকার সময়ে পৌঁছতে পারছে না স্কুলে। লেট পানিশমেন্ট হিসেবে একদিন বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে স্কুলে ক্লাস না করেই। তাই পুলকার চালক দ্রুত ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ওদের গাড়ি। পাঁচ কিলোমিটার হাইওয়ে দিয়ে যায় ওদের শৈশবযান। ফাঁকা ওয়ান ওয়ে রাস্তায় গতি সপ্তমে চড়িয়ে ছুটছে পুলকার। পুলকারের মধ্যে ওরা সমস্বরে শুরু করেছে," দি হুইলস অফ দি বাস গো রাউন্ড এন্ড রাউন্ড" রাইমটি।
হঠাৎ তীব্র শব্দ। রাস্তার ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে পুলকার পাশের নয়নজুলির জলে। সাময়িক ঘোর কাটিয়ে সকলে ছুটে এসেছে উদ্ধারের জন্য। প্রানপন চেষ্টা করে একেএকে বের করা হলো ফুলের মত নরম শিশুগুলোকে। ঋজু বামদিকের ধারের সিটে আটকে গেছে। অনেক চেষ্টা করে বেরিয়ে এলো ঋজু। কিন্তু সময় লাগলো অনেকটা। দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল হয়ে কলকাতার সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো ঋজু সহ তিনজনকে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসাতেই সুস্থ। ঋজুর বাবা-মা ছুটলো হাসপাতালে। আইসিইউ তে সংজ্ঞাহীন একরত্তি ঋজু। নানা যন্ত্র চলছে। কৃত্রিম ভাবে অক্সিজেনে শ্বাসকার্য চলছে। ঘনঘন পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। ফুসফুসে কাদাজল ঢুকে ইনফেকশন। থানা পুলিশ মিডিয়া প্রশাসন সবাই সক্রিয়। দোষগুণের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। জ্ঞানহারা ঋজু কবেই ভারী ব্যাগের বোঝা আর শৈশব আনন্দহীনতার শিকার হয়ে মানসিক অসুস্থ কেউ জানে না। আটদিন লড়াই করে ঋজু জীবনসংগ্রামের রণপ্রান্তর থেকে বিদায় নিল।
চোখের জলে ভেঙে পড়লো রিষরা সহ গোটা বাংলা। মা-বাবা শোকে জ্ঞান হারাচ্ছে বারেবারে। নিয়ম শৃঙ্খলের শক্ত বাঁধনে পুলকারের অসম্ভব গতি থামিয়ে দিলো ঋজুর চঞ্চল গতি। খালি কোলে বদ্ধ ফ্ল্যাটে মা কেঁদেই চলেছে.....

রঞ্জিত মন
- সুমিতাংশু দোয়শী

সময় সকাল ৭ বেজে ৪৫ মিনিট। স্থান গাড়ি ঘোড়ার অফিসের সামনে। গাড়ি রয়েছে প্রচুর। মানুষ ও প্রচুর। কেউ চা পান করছে, কেউ জাপান এর গল্প করছে। সবাই ব্যস্ত। অকাজ হলেও সবাই ব্যস্ত।
তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে আমি নিজের অকর্ম করছি। ক্ষেপে গেছি নিঃসন্দেহে। নইলে পড়াতে গিয়ে 'পড়াবো না এখন' বলে বেরিয়ে পড়লেম কেনে?
তা যাই হোক। অকাজ করতে করতে চোখ পড়ল একটি সত্তিকারের কর্মীর দিকে। সবার হাজারো বকবক, হাজার হাজার সিগারেট ফুঁকে চলা জ্ঞান ঝাড়ীদের মাঝে সেই কর্মযোগী চুপচাপ নিজের কাজ করে চলেছে। পথের একপাশে সেই কর্মযোগী আর এক পাশে আমি অকর্মা।

ঝাড়া ৫ মিনিট তাকিয়ে রইলেম। তার কিন্তু কোন দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ধ্যানে মগ্ন যোগী আপন মনে কার যেন জুতো পালিশ করে চলেছে। হবে হয়তো আমার মত কোন এক অল্প শিক্ষিত সবজান্তা সর্বজ্ঞানীর।
ওই অল্প বয়সী যোগী যখন ধ্যান করেই চলেছে, করেই চলেছে- তখন আমি দেখেই চলেছি। শেষে পাশের একজনা তাকে একটু সরতে বলায় যোগী হেসে তার সাথে কথা কইলে।
হাসি দেখে আমিও টুক করে কাছে গিয়ে নামটি জিজ্ঞেস করলেম।
আমাদের মতন পুঁথি পড়া জ্ঞানে জর্জরিত মন নয় বলেই সে আর ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলে নেকো যে সকালবেলায় তার নাম নিয়ে কি করব।
হেসে জানালে তার নাম মনোরঞ্জন দাস। নামে আর কাজে মিল আছে বাপু।

হয়তো সেদিন
- কিরণময় নন্দী

হয়তো সেদিন পেয়েছি আঘাত
মিথ্যে কথা বলে
হয়তো সেদিন পেয়েছি শাস্তি
যোগ-বিয়োগের একটু ভুলে।

হয়তো সেদিন খেয়েছি বকা
টিফিনে বাড়ি গিয়ে
হয়তো সেদিন খেয়েছি কানমলা
হাতেলেখা জমা না দিয়ে।

শাস্তি পেয়েছি-পেয়েছি ভালোবাসা
পেয়েছি আদর-যত্ন
তাইতো ওনারা মনিকোঠায়
ওনারা আসল রত্ন।

আজকে পেয়েছি ডাক্তারবাবু
অসুখে ভীত নই
আজকে পেয়েছি ইঞ্জিনিয়ার
সেতু ভাঙে নাই।

আজকে পেয়েছি মাস্টারমশাই
সমাজ গড়ার কারিগর
আজকে পেয়েছি আসল মানুষ
আপন রয়েছি পরের তর।

তোমার নামের শব্দ বাজে
কলমে - রাজু মণ্ডল

কতবার তোমায় ভালোবেসেছি ।
এই সহজ মনে। একাকি, আনমনে।
হয়ত এসব সাজানোই ছিল আগের জন্মে।

আমি বলি কল্পতরু তুমি।
না হলে কি আর এমন দুর্লভ হৃদয়।
কত সহজ আকর্ষনে টানো আমায়। নির্দ্বিধায়।

ভালোবাসি । তাই ছুটে আসি বারবার।
তোমার দীঘল মাঠের প্রাঙ্গণে। বাড়ন্ত উঠোনে।
আমার পৃথিবী দেখি সেখানে। গভীর গহীনে।

নদীর কত অভ্যাস! স্রোতের ভরে।
সে নীতি তোমারও আছে ।
তোমার চোখের আয়নায় আমার ছবি নাচে । ভুরুর নিচে।

আমি কলমিলতা হয়েছি বলে,
তুমি আদর নাও ভাঁজে ভাঁজে । মৃদু লাজে।
তোমার নামের শব্দ বাজে। এ হৃদয়ে ; সকাল - সাঁঝে।

২৬-০২-২০২০

যত দিন যাচ্ছে আমার বিশ্বাস তত দৃঢ় হচ্ছে। আজকে আমি যাচ্ছি রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন।

কেন যাচ্ছি?

যাচ্ছি কারণ যে দুটি ভাইকে আমি ভালবাসি ,যাদের সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই কিন্তু ভালোবাসার সম্পর্ক আছে, তাদেরকে যেন রামকৃষ্ণ মিশনে ভর্তি করতে পারি সেইজন্য রামকৃষ্ণ মিশন এর কোশ্চেন যেনতেন প্রকারেণ আদায় করার জন্য ।তবে অবশ্যই পুরনো বছরের কোশ্চেন। এই বছরের নয়।

বাদলের দিনে যেতে মানা করেছিল শতাব্দী। কিন্তু তার কথা আমি শুনিনি।
শুনিনি তার কারণ ও ওর দিক থেকে সম্পূর্ণ ঠিক, আবার আমাকেও আমার কর্তব্য করে যেতেই হবে। কর্তব্য বললে ভুল হবে।
কোনো টিউশন টিচারের দায় কাঁদেনি তার ছাত্রদেরকে রামকৃষ্ণ মিশনে ভর্তি করার জন্য 100 কিলোমিটারের বেশি সফর করে গিয়ে নিজের পকেট থেকে টাকা খসিয়ে টিকিট কেটে কোশ্চেন গুলো নিয়ে আসার।
কিন্তু আমি যাচ্ছি কেন?
যাচ্ছিকারন আমি ওদেরকে ভালোবাসি আর ভালোবাসায় কর্তব্য টর্তব্য হ্যান ত্যান ভ্যানতেড়া নেই। ভালোবাসায় মন যেমন চাইবে তেমন করতে হবে।আমার মন বলেছে ওদের জন্য কোশ্চেন আনতে হবে তো আনতেই হবে। পাব কিনা জানিনা।
চেষ্টা করো তো দেখতে হবে যে কি করে পাওয়া যায়।এদিকে তো পাওয়া যাচ্ছে না।
এবার লিখি কেমন করে বিশ্বাস দৃঢ় হলো। আমিএখন বিশ্বাস করি যে মানুষ কখনো খারাপ হতে পারে না।
তার কর্ম খারাপ হতে পারে, চরিত্র খারাপ হতে পারে সে নিজে খারাপ হতে পারে না। তার বিশ্বাসের কারণে তার কর্মের ধারা পাল্টে যেতে পারে কিন্তু সে নিজে খারাপ হয়ে যায় না। সবথেকে বড় খুনি ও একজন ভালো মানুষ যদি তার মধ্যে থাকা ভালো টাকে টেনে বের করে আনা যায়। যেটা আমি করি ।
আমি তাদের সঙ্গে মিশি যাদের সঙ্গে সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত ভদ্র এবং নিঃসন্দেহে মহাজ্ঞানী,অহংকারী মানুষেরা মেশে না।
আজ মিশলাম স্টেশনে ফল বিক্রি করা কয়েকজন কম বয়সী বাচ্চাদের সাথে ।দেখলাম নিজেদের মধ্যে আনন্দ করছে। আমি আনন্দ করতে গিয়ে মিশে গেলাম।
তাদেরকে গিয়ে ধরলাম আমার বানানো ধাঁধা।প্রথমে খুব হাসলো ।তারপর বলতে পারল না। তারপর আমি বলে দিলাম।
এইভাবে চলতে থাকলো ।একবার ওরা ধরে একবার আমি ধরি ,একবার ওরা ধরে একবার আমি ধরি ,শেষে যখন সবাই ক্লান্ত হলাম তখন কথা বলে দেখলাম প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ভালো জিনিস ভাবছে।
আমার একটি বানানো দুলাইনের পংক্তি ওদেরকে শোনালাম। শুনে ওরা কেউ বলল না যে ভুল লিখেছি ।আর ওরা হলো প্রাণ খোলা সহজ মনের ছেলে।ওদের বিচার ই আসল বিচার।
ওরা মনের কষ্টিপাথরে ফেলে কোন জিনিসকে সোনা বুঝতে পারলেই নিজের পকেটে পুরে নেয়। করলোও তাই।
ধীরে ধীরে ওদেরকে আমার আর আশ্রমিক বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যের কথা বললাম।
আমার পয়সা নিয়ে কাজ করার মানসিকতা ত্যাগের কথা বললাম।
সব শুনে ওরা আমাকে এগিয়ে যাওয়ার কথাই বলল ।আমি ওদেরকে এও জানালাম যে আমার মাথার সমস্যার জন্য আমি ওষুধ খাই। সেটা ওরা কিছু মনেই করল না।
আমি দেখেছি সমাজের অনেক শিক্ষিত ভদ্র বেশ ধারী মানুষ আমাদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন কিন্তু ওরা নিজের দাদার মতো ভালোবাসা দিলো ।এই ভালবাসা নামক সত্যটিই তো আমি চাই।
কই?
একবারও তো আমার নাম জিজ্ঞেস করল না।জিজ্ঞেস করল না আমার ধর্ম ।দেখলাম আপন মনে কখন ধর্মের ভেদাভেদ থেকে ওর উপরে উঠে গেছে।আবার বিশ্বাস হলো মানুষ জন্মগতভাবে ভালো ।
সমাজের কিছু বিপথগামী সত্বা ভুল পথে চালনা করে ওদের মাথায়, তথা আমাদের মাথায়, সাথে সাথে আমার মাথায় নকল ধর্মের ভূত ঢুকিয়ে ভেদাভেদ করে নেয়।
জানেন ওদেরকে যখন আমি কথার মাঝে বললাম যে নামাজ পড়া বা পুজো করার থেকে আর্ত মানুষের সেবা করা ভালো। এককথায় মেনে নিলে গো!!
আর সাথে সাথে আমারও বিশ্বাস হয়ে গেল আমি যেটা করছি সেটা একদম ঠিক ।আমি পুজো করার বা নামাজ পড়ার সময় পাইনা।
কিন্তু মজা,আনন্দ,সেবা এগুলো করি বেশি। আমার বিশ্বাস মানুষেই আমার মুক্তি হবে। আমার বিশ্বাস মানুষই সেই সমাজকে আবার গড়ে তুলবে যেটাকে তারা নিজের হাতে নষ্ট করেছে ।আমার বিশ্বাস দৃঢ় হল যে ভালোবাসা আর সত্যর থেকে বড় কিছু নেই ।মানুষের থেকে বড় কেউ নেই।

#বিধাতা
#অঞ্জলী দাশ গুপ্ত

বিধাতা এ কেমন তোমার বিধান ?
ক্ষুধার জ্বালায় মরছে শুধু প্রাণ !
হাহাকার রূপে খেলছে ধ্বংসের খেলা
হাসির আড়ালে রয়েছে কান্নার জ্বালা।

জ্বলেনি দীপ কেটেছে বহু রাত
অন্নের অভাব তবু পাতিনি হাত,
স্বপ্ন গুলো হারিয়ে গেল যে তখন
বাস্তবতার চিত্র দেখতে পেলাম যখন।

অবুঝ মনকে মিথ্যা সান্তনায় ঢাকি
চোখ বুঝলেই উড়ে যাবে পাখি,
মিথ্যার খেলায় রচিত পৃথিবীর মান
প্রাণ দিয়ে বোঝাবো দিলাম বলিদান।

রক্ষা করো প্রভু তাকাও মুখটি তুলে
নইলে আসবো না এপথ ভুলে,
রচিত হবে নতুন এক মৃত্যুর কবর
সময় হলে পাবে সর্বনাশের খবর।

নেই তো কোন আশা
- সায়মা টুনি

কবিতা পড়ে নাকি
ভালোবাসা হয়
কী করে বলি ...
মেনে নেওয়াটা কিন্তু
বড্ড বেশী দায় !

গল্প পড়ে নাকি
প্রেমে পড়া যায়
ভাববো কী বল ...
যুগের দোষ নাকি
সময়ের পরিহাস !

নেশার বশে যদি
ফেলো ভালোবেসে
তবে বুঝবে কী করে
আসক্তির মাঝে নেই
তো কোন আশা ।

আমরা সবাই বুদ্ধের নাম শুনেছি। আর সবাই মোটামুটি ওনাকে ভগবান বুদ্ধ বলে ডাকি। মজার ব্যাপার হলো উনি নিজে কোনোদিন নিজেকে ভগবান বলে ডাকেন নি। তাই আমিও বলিনা। আমি মানুষ বলেই ডাকবো। আপত্তি করতে পারেন। সমালোচনা তো আলোচনার একটা অঙ্গ।
আবার দেখুন মজা, যার সাথে বেশি ঝগড়া ঝাটি হয় পরে সেই ভালো বন্ধু বা বান্ধবী হয়ে যায়। বুদ্ধেকে মানুষ বলেই যদি আমার আরো কয়েকটা friend জুটে যায় তার থেকে আর কি ভালো হতে পারে বলেন?
যাই হোক। ওই মানুষটি ছিলেন বেশ শান্ত ও মোটামুটি বুদ্ধিমান আর একজন বিরাট প্রেমিক। ওনার ওই শান্ত ও প্রেমিক সত্তাটি ওনাকে প্রকৃত মানুষ করে তুলেছিল।
এবার আমার মতন যারা বুদ্ধের কথা, তার শিক্ষার কথা কেবলমাত্র দশম শ্রেণীর বইতে পড়েছি তারা অন্তত এটা জানি যে তিনি “মধ্যমপন্থা” অবলম্বন এর কথা প্রচার করেছেন। ওটি ছিল ওনার মত। ওতেও বিতর্ক করতেই পারেন।
আমি যেটা কাল দেখলাম তাতে ওনার মত এর সার্থকতা দেখতে পেলাম।
যাচ্ছিলাম মামার কাছে সর্দি কাশির ওষুধ নিতে। বাইক নিয়ে যেই না ব্রিজ পেরিয়েছি অমনি অনেক দিনের এক পুরনো বন্ধুর সাথে দেখে। দেখা তো থামা।
থেমে দুজনে গল্প করতে লাগলাম। ও জিজ্ঞেস করলো কি করছিস। স্বাভাবিক।
আমিও আমার উত্তর দিলাম। বল্লাম কিছু না করে মানুষের সাথে ঘুরে বেড়াই। গান গাই, বাসে,ট্রেন এ বসে বসে গল্প কবিতা লিখি। স্কুল খোলার ইচ্ছাটাও বল্লাম ওকে। সব শুনে টুনে ঔ অন্যদের মতো ভালোই বললো।
ইতিমধ্যে আমার নজর চলে গেছে ঠিক পাশে থাকা সেলুন এর দিকে।
নজর করে দেখলাম দুটি চেয়ার ই খালি। তার মানে আমি যদি এখন চুল টা কাটিয়ে নি তবে খুব বেশিক্ষণ লাগবে না।
কমন ভাবা তেমন কাজ। তুরান্ত সেলুন এই ভাই টিকে বল্লাম কেটে দেবে চুল?
ও তো রাজি হতই। বললো বসো। আমিও আমার থেকে অনেক বেশি স্মার্ট একটি ফোন এ গান চালিয়ে বসলাম আরাম করে।
চলছে কাঁচি কচা কচ, কাটছে যে চুল ঘচা ঘচ। কচ আর ঘচ চলার মাঝে একজন ভদ্রোকক এসে বসলেন দোকান এর বেঞ্চ এ। ভাই আর ভদ্রলোকের চোখের দৃষ্টি বিনিম এ বুঝলাম উনি অনেক বার ই এসছেন আগেও।
আরো লক্ষ্য করলাম উনি বেঞ্চ এ বসলেও বডি ওনার চাইছে চেয়ার টিতে বসতে। আমার এমন ভাবানার সমর্থন করলো ভাই এর কাঁচি চালানোর গতি হট করে বেড়ে যাওয়ায়। বুঝলাম ভাই নিজেই ডেকেছে উনাকে।
কিছুক্ষণ পর ভাই উনাকে বলল“ ও দাদা, কাল এসে কেটে যাওনা গো। আজ আমাকে বেরিয়ে যেতে হবে। কাটবে কাল?”
নাকচ। শোনার সাথে সাথে নাকচ করলেন ভদ্রলোক। উনাকে দাড়ি এবং চুল কাটাতেই হবে আজ। কাল উনি থাকবেন না, পরশু ও না। এতদিন দেরি করা যাবে না। ওনাকে আজি বিসর্জন দিতে হবে।
ভাইয়ের কাকুতি মিনতি “আমি মানছি তোমাকে ফোন করে ডাকা আমার ঠিক হয়নি, কিন্তু বিশ্বাস করো আজ ছেড়ে দিলে খুব ভালো হয়। দাদার অষ্টমঙ্গলা আজ। না গেলে কথা শোনাবে। বলবে তোর কিসের এত কাজ? ”
ইতিমধ্যে আমার চুল কাটা শেষ করে আমার থেকে ওর পারিশ্রমিক নিয়ে নিয়েছে। আমি কিন্তু বসেই আছি যে শেষ অব্দি কি হয়।
হল। যা মানুষ বুদ্ধ চাইতো তাই হল। রফা হল, আজ উনি দাড়িটা কেটে চলে যাবেন পরে চুলটা কেটে নেবেন। ছেলেটিও মহানন্দে রাজি হয়ে গেল।
আমারও আর দেখার কিছু ছিল না। দেখলাম মধ্যমপন্থা সেই পন্থা যা আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। আর বুদ্ধ এই পন্থার সন্ধান পেয়েছিলেন একটাই কারণে সেটি হলো তিনি মিশতে শুরু করেছিলেন। মিশতে শুরু করেছিলেন সাধারণ মানুষের সাথে। এই মেশা তাকে বোধি দান করেছিল। আমিও মিশতে শুরু করেছি। যার সাথে যেখানে পাচ্ছি মিশে যাচ্ছি। বুদ্ধ ভগবান হয়েছিলেন, আমি মানুষ হতে চাইছি।

খরের চালে আগুন লাগলে পরে
তুই কেন‌ ভাই অমনি ছুটে যাস?
পুড়ছে পড়ুক অন্য লোকের ঘর
তুই কেন‌ যাস?
যা কেটে যা কাব্যি ঘোড়ার ঘাস।
মরছে ওরা মরতে দে না ভাই,
তাতে তোর বা আমার কী বা এসে যায়?
পুড়ছে যখন পুড়তে দে না ওদের,
মরতে দে না।
ওদের মরণ বড় সাধের।
ওদের কেউ যখন নাই তুই গিয়ে কী করিস?
কেন সবার জন্যে কর্ম করিস?
তার থেকে আয় আমার সাথে আয়।
কবি টবি বলবে তোকে, জ্ঞানের সীমা নাই।
তুই আর আমি চল অন্য ঘরে যাই।
কেউ কিছু করছে না কেন
এসব আলোচনা চালাই।
ঠাণ্ডা হাওয়া মন প্রাণেতে পড়ুক
ওরা যেমন‌ মরছে তেমন মরুক।

ভালোবাসি তোমাকে
– সুস্মিতা কুন্ডু ভৌমিক

ভালোবাসি তোমাকে
এই প্রকৃতির স্নিগ্ধতায়...এই আলোতে..এই বাতাসে...
হৃদয়ের গভীরতায় তোমাকে প্রিয়।
জীবনের এই সময় যখন প্রেম চলে গিয়েছিলো তখন তুমি পথিক এলে...
বললে এসো
আমি তোমার হাত ধরে বললাম ....
যত দূরে চোখ যায় চলো....
তখন হাত ধরে বেরোলাম পথে..
সেই ভালোবাসার গভীরতায়।
তুমি স্পর্শে ছুঁয়ে দিলে আমায়।
বললে স্পর্শ দিয়ে গেলাম।
আমি দূর পানে চেয়ে রইলাম।
তোমার অপেক্ষাতে....

মাতৃভাষা
কলমে – সম্পা মাজী

তোমার মতো অন্যদেরও জানতে চেয়েছি,
অনেক প্রচেষ্টায় তাদের বুঝতেও পরেছি।
কিন্তু তাদের এতো মনে ধরে না,
কারন তোমার মতো অন্য কেউ হলে না।
তোমায় বলতে ভালো লাগে
তোমায় শুনতে মধুর লাগে।
তোমায় লিখতে সরল লাগে,
তোমায় পড়তে সহজ লাগে।
তুমি আমার প্রাণের মাতৃ ভাষা
তুমি আমার প্রিয় বাংলা ভাষা।

বাংলাভাষা মাতৃভাষা
কলমে - ববি ব্যানার্জি

বাংলা আমার মাতৃভাষা বাংলা আমার প্রান
বাংলা আমার চন্দ্র সুর্য প্রভাত ফেরির গান।
বাংলা আমার প্রথম বুলি নাড়ি ছেঁড়া টান
জয়পতাকা ঊড়িয়ে সেথায় বাংলায় গাই গান।।
বাংলা আমার কিশলয় আর বর্ণপরিচয়
বাংলায় পড়ি সহজপাঠ আর রবীন্দ্র সঞ্চয়।
বাংলায় আমার প্রথম নোবেল বিশ্বকবির জয়
বাংলায় আমার কবিগুরুর রবীন্দ্রনাথের হোক জয়।
বাংলায় আমার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল
আমি যে তোমার বিশ্ববাংলার চেনা তোমার বুলবুল।
বাংলা আমার জীবনানন্দ আবার আসিব ফিরে
বাংলায় আমার বিদ্যাসাগর বর্ণপরিচয় পড়ে।
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমার বাংলার মাঠ
সোনার ফসল লুঠ করে তারা ধূসর ধূলিসাৎ।
ভালবাসার বসন্ত নীল দিগন্ত একুশে ফেব্রুয়ারি
লাল পলাশের আগুনে খেলেছে রক্তহোলি।
জোব্বার, বকতর, সালাম, আবদুল
শহীদ হয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ
রক্ত দিয়ে লিখে গেছে তারা বাংলা ভাষার নাম।
আমার ভাষা তোমার ভাষা হোক বাংলার নাম
এসো আর্য এসো অনার্য
একসাথে মিলেমিশে গাইবো মোরা বাংলার জয়গান।।

২০২০

আজ আমার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হলো। মানুষকে ভালবাসলে সে যে তুমি তার ভালো চাইছ সেটা বুঝবেই তার প্রমাণ পেলাম। আর যদি নাইবা বুঝে, তাই বলে কি ভালোবাসা ছেড়ে দেওয়া যায়?

আজ ফেব্রুয়ারির 21 তারিখ। 8 টা 45 এ ট্রেন ধরে যাচ্ছিলাম। কাঁধে ছিল আমার ব্যাগ আর আমার গত কয়েক মাসের প্রিয় সঙ্গী গিটার। ও দুটি কে যাতে বাগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সেজন্য সিট থাকা সত্ত্বেও বসলাম দরজার ফাঁকা জায়গায়।
ট্রেন দু'নম্বর স্টেশনে আসতেই কয়েকটি ছেলে কামরাতে উঠলো। কলেজ পড়ুয়া যুবক। প্রাণের আনন্দে ভরপুর। তাদের মধ্যে একজনকে বললাম আমার গিটারটা একবার ধরতে। কোন সমস্যা হলো না তার ধরতে। বরঞ্চ আমি একটু গুছিয়ে গাছিয়ে বেশ আরাম করে বসলাম।
সে গিটারটা ফেরত দেবার পর তাকে আমার একটা লেখা দেখালাম।
কিছুক্ষণ দেখলো। দেখে ভালো লাগুক বা খারাপ লাগুক, বললে “দাদা ভালো হয়েছে”।
এরপরে শুরু হলো আসল মজা।
সে নিজের একটা লেখা দেখালো। আমি দু লাইন পড়েই বললাম আর পড়বো না। পড়বো না কারণ ও নিকোটিনের নেশা করার সমর্থনে লিখেছে।
সে লিখেছে নিজের মত। তার অধিকার আছে লেখার। কিন্তু আমি দেখিনি এই কারণে যে ওটা মিথ্যা। কোন এক সময়ে আবেগের বশে অনেকেই নেশা কে সমর্থন করে। প্রাণোচ্ছল যুবকটিও তাই করেছে।
কিন্তু ওটা মিথ্যা। নেশা কখনোই ভালো নয়। কোনরকম আসক্তি ভালো হতে পারে না। যারা নেশা করে তারাও কোনো এক সময় বলতে বাধ্য হয় যে নেশা করা ঠিক নয়। আমি নিজেও নিকোটিনের নেশা করি। করি বলে বলেও দি।
তাই বলে কখনোই সমর্থন করিনা। তত্ব ফত্ব গুলি মেরেছে। ওটা শরীরের জন্য খারাপ। নিজের তো বটেই অন্যের ক্ষতি করে। নিজের ক্ষতি করে নিজের বাবা-মাকে দুঃখ দেবার অধিকার তোমাকে কে দিয়েছে?!
তাই নেশা যে খারাপ সেটাই সত্যি। সত্যি বলেই একবার বলাতেই মেনে নিল।
এবার দেখাতে শুরু করলো তার অন্য কবিতাগুলি।
দারুন দারুন দারুন।
আমি অত প্যাঁচ-পূঁচ বুঝিনা। পড়ে আমার দারুণ আনন্দ হল। খুব ভালো লাগলো।
বললাম লেখা চারিদিকে ছড়িয়ে দাও। ছড়ানোর কাজটা তোমার। লাজ লজ্জা ভেঙে ছড়িয়ে দাও। বলেছে ছড়াবে। আশায় আছি হয়তো সামনে আরো একজন সত্যের পূজারী কে দেখতে পাবো। দুজনে যদি একই পথের পথিক হয়ে যায় তাহলে গড়ে উঠবে হৃদয়ের সম্পর্ক।
আমি সর্বদা আশাবাদী। ভালো করার চেষ্টা করা আমার রক্তে, আমার বিশ্বাসে, আমার আদর্শে। আমি আমার কাজ করে এসেছি তার কোনো ফল হবে কিনা সে নিয়ে ভাবতে বসবো না। আবার যাবো নতুন কাজে। এগিয়ে যাব। সাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাব।
যতদিন না লক্ষ্যে পৌঁছাচ্ছি ততদিন থামার কোনও প্রশ্নই নেই। আর তুমিও দেখলে তো যে সত্যের চামচা, ভালোবাসার চামচা হলে কত আনন্দ লাভ করা যায়। নেতা তো সবাই, চলনা চামচা হয়ে যাই।

তুমি আমার বাংলা ভাষা
- কিরণময় নন্দী

আধো আধো কথায় তোমায় শেখা
কবি রবির ছড়ায় তোমার আবেগ
সহজ পাঠেই পেয়েছি সহজে তোমায়
আমৃত্যু তুমিই স্বরযন্ত্রে, নেই তো ছেদ।

পেয়েছি তোমায় বারেবারে কলম-পেন্সিলে
পেয়েছি আবোল-তাবোল কথামালায়
শুনেছি তোমায় সুরমাতানো গানে
শুনেছি তোমায় কফি-হাউসের আড্ডায়।

তোমায় দিয়ে লিখেছি কত
অপ্রকাশিত গোপন চিঠি
তোমায় দিয়ে গেয়েছি কত
প্রেমের গান সুর মিঠি মিঠি।

তুমি রাগ-অনুরাগ-প্রেম
তুমি আমার ভালোবাসা
তুমি আমার হৃদয় জুড়ে
তুমি আমার প্রিয় বাংলা ভাষা।

একুশ আমার অহংকার
- কিরণ মাহমুদ মান্না

একুশ তুমি আমার অহংকার,
তুমি বায়ান্নের রাজপথে জনতার মিছিল,
সুনিপুণ গড়া এক স্মৃতির ভাস্কর।
একুশ তুমি বাংলা ভাষা চাই শ্লোগানে
ছুটে আসা এক ঝাঁক তরুণের বাহুবল।

একুশ তুমি লাখো শহীদের প্রাণে,
আমার সোনার বাংলায় মাতৃভাষাকে
চিরস্থায়ী রুপ এনে দেবার তুমি বলিষ্ঠ নায়ক।
বাংলা ভাষা রাষ্ট্র চাই বলে রাজপথে নেমে আসা
ছালাম রফিক শফিক জব্বার
তুমি তাদের চোখে জ্বলে উঠা অগ্নিশিখা।

একুশ তুমি মিশে আছো বর্ণমালার অ আ ক খ গ ঙ'র
প্রতিটি কবিতায়,প্রতিটি গল্প রচনায়।
একুশ তুমি আছো দুখিনী মায়ের আঁচলে,
নাড়ি ছেঁড়া রক্তের বাঁধনে।
আমার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত রাজপথে,
সোনার বাংলায় সবুজ পটভূমিতে ভোরের সূর্য হয়ে,
একুশ তুমি বাঙালির আরেক সন্তান হয়ে।

একুশ তুমি প্রভাত ফেরীতে,
শহরে ও গায়ের মেঠো পথে ছুটে চলা সেই
কিশোর কিশোরীর কচি হাতের শ্রদ্ধাঞ্জলী।
একুশ তুমি প্রতিটি মায়ের ভালোবাসার আঁচলে,
তুমি আমার ভাইয়ের রক্তের স্মৃতির শহীদ মিনারে।
একুশ তুমি আছো বাঙালি জাতির সম্মানে।

জীবনের মায়া ত্যাগ করে যারা এনেছে বাংলা,
যাদের বলিদানে মুখে ফোটেছে বাংলা ভাষা,
তোমাদের এই ঋণ কভূ শোধ হবার নয় আর হবেনা।
আমার ভাইয়ের রক্তে কেনা সে যে মাতৃভাষা
মোদের গর্ব মোদের আশা আমারই বাংলা ভাষা।

২০/০২/২০২০ ইং
সিঙ্গাপুর

মাতৃভাষা
কলমে - ববি ব্যানার্জি

বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা মোদের আশা
মোদের গরব মোদের ভাষা
মোদের বাংলা ভালোবাসা।

সোনার বাংলার এই মাটিতে
জন্ম দিও বারেবার,
একবার নয় দুবার নয়
শতবার জন্মাতে চাই এই বাংলায়।

বাংলা ভাষার দাবী নিয়ে
শহিদ হয়েছেন যাঁরা
প্রনাম জানাই তাঁদের চরণে
ফিরে ফিরে আসুক তাঁরা।

বাংলা জাগুক বাংলা বাঁচুক
বাংলা নিয়ে লড়াই চলুক
বাংলা ভাষার হোক জয়কার
আমার সোনার বাংলার।

বাংলা আমার জন্মভূমি
বাংলা বঙ্গভূমি,
এই বাংলায় হোক জাগরণ
নবদিগন্ত হোক উন্মোচন
আকাশ জাগুক বাতাস জাগুক
জাগুক মানব হৃদয়,
জাগুক আমার বাংলা মায়ের
জাগুক বাংলার হৃদয়।

জাতপাত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে
হিন্দু নয় মুসলিম নয় নয়তো বিষচক্র
সবাই মিলে হাতে হাত রেখে
শপথ করি চলো।

বাংলা আমার জাত
বাংলা আমার ধর্ম
বাংলা আমার আল্লাহ
বাংলা আমার ভগবান
আমার পরিচয়, আমি বাঙালি
বাংলা আমার জাতির শ্রেষ্ঠ।

কাটাকাটি নয় হানাহানি নয়
হিংসা বিদ্বেষ ভুলে
বাংলা হোক একটা জাতি
বাংলা হোক একটা ধর্ম
বাংলা আমার সর্বশ্রেষ্ঠ
বলবো আমরা উচ্চ শির তুলে।

বাঙালী ছিলো বিশ্বের দরবারে
বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষ বীর
রবি ঠাকুর, নজরুল।
রামমোহন আর বিদ্যাসাগর
করেছিলেন বাংলার নবজাগরণ।

আজও আছে সারা পৃথিবীতে
বাঙালি -শ্রেষ্ঠ ও স্রষ্টায়
আমরা বাঙালি এটাই গর্ব
বাংলার মান চাই।

একুশে যাঁরা শহীদ হয়েছেন
দিয়েছেন যাঁরা প্রান
আজ একুশে গাইবো শুধু
তাঁদের জয়গান।।

সমুদ্রসংকট
কলমে - মোশ্ রাফি মুকুল

অতএব
তাকাইয়োনা সমুদ্রের দিকে।
ওদিকেইতো যতো কৌতূহল- যতো জলবৎ মিথ!
ওখানেইতো যতো রহস্যময় বুদ্বুদ।ওখানেই বাস মাৎসন্যায়!
ওখানেইতো থাকে মৎস্যকন্যারা।
তার,সে সমুদ্রের-
আর্দ্ররুক্ষ শরীর ভাসিয়ে রাখে কারো,
কারো করে ঢের ভর্ৎসনা,
কারো ডোবায় সে সর্বোচ্চ অতলে।

কতো স্পর্শকাতর সেসব জলের সিম্ফনি,
তার সর্বত্র ফিঙেরঙা অন্ধকারে-
ঘনায় শব্দভাঙা মেঘ।
যেখানে গোঙায় শত সহস্র
অদ্ভুত জলের ড্রাগন,
ইতিহাস ও অক্টোপাস!

কতো উত্তাল সে জলের সংসার,
কতো তারল্য সংকট তার!
কতো উথাল পাথাল করে দেয় সে
কূল উপকূল,
তার কিউবিক কিউবিক ঢেউয়ের অট্টহাসি-
তার জলের খাঁজে খাঁজে কতো জীবনকণার বিস্ফোরণ,
বিস্ফোরণোত্তর কতো বিমূর্ত গোঙানি
জুওলজি ভাঁজে ভাঁজে।
তবু মানুষ ফেরেনা নিজের দিকে-
তাকায়না আপন চোখে;
কোনোও নিষেধ শোনেনা,
অভীষ্ট অভিভূতে সাগরসঙ্গম দ্যাখে।
এবং
শোনেনা তাদের বারণ
যারা ফিরে আসেনি
সমুদ্রসংকট থেকে কোনোদিন!

২১/০২/২০২০.

আমি নির্লজ্জ।
আমি নির্লজ্জ, আমি নির্লজ্জ, আমি নির্লজ্জ।
লক্ষ্য কে পেতে,
সত্যকে পেতে,
আমার নির্লজ্জ হতে দ্বিধা নাই।
আমি দ্বিধাহীন আমি অজ্ঞ।
তোরা বিদ্যা বেচে পয়সা নিস,
বিদ্যা বিলাস লক্ষ্মী আনিস।
তবুও সমাজ তোদের মানে
তাই তোরা ডুবে অহংকারী মানে।
তোদের তবু লজ্জার শেষ নাই।
কুণ্ঠার সিমা নাই।
আমি সব ছেড়েছি
ছেড়ে সব পেয়েছি।
ভিক্ষা চাইতে লজ্জা নাই
আমি গর্বিত!
আমি নির্লজ্জ হতে পেরেছি ভাই।

আয় দেখি ভাই মানুষ হবি।
সত্য মতে দিন কাটাবি।
বাঁচবি রে ভাই নিজের মতন
শুদ্ধ ধরে করবি যতন।
শুদ্ধ হলে মন ক্ষ্যাপা তুই
সত্য স্বরূপ দরশ পাবি।
নকল যেসব যাবে ঘুচে
আসল যারা তাদের পাবি।
ক্রোধ অহংকার সব পালাবে
প্রেমানন্দ রং চালাবে।
প্রেমানন্দে ভাসবি যখন
মহানন্দ পাবি তখন।
দুঃখ যা সব যাবে দূরে
সত্যানন্দ ঘোরে ফেরে।
সত্য বিনা আর কিছু নাই
বিনা জ্ঞানে সত্য দেখায়।
সত্য দেখো সমুখে আছে
সবাই নিজের সুখ বুঝেছে।
সুখের লোভে সত্য গেলে
ভুলেও কি ভাই শান্তি মেলে?
অংশু বলে, “সত্য খোঁজো?”
মন প্রাণেতে আসল ভজো।
সত্য বিনে যুক্তি নাই
সত্য ছাড়া মুক্তি নাই।
সহজ অতি এই কথা সব
নাইকো ভড়ং নাই বকবক।
আসল কথা এটাই ভাই
সদা সত্যে বাঁচা চাই।

অভিমানের অর্থ
কলমে - সুচন্দ্রা চক্রবর্তী

ভালোবাসলেই খুব অভিমান করতে ইচ্ছা হয়,খুব,
আমার আর স্বচ্ছরও সেটাই হয়েছিল,
অভিমানের পাহাড়টা কখন যে রাগে পরিণত হয়ে গিয়েছিল বুঝতেই পারিনি,
কাছাকাছি থেকেও মনের দূরত্বটা বাড়িয়েছিলাম কয়েক মাইল,
বুঝতাম না স্বচ্ছকে,
আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল অন্য পুরুষের কাছে,
হয়ত সুখও খুঁজে পেয়েছিল,
ডিভোর্স দিয়েছিলাম,ও বলেছিল,'দ্বিতীয় বিয়ে করিস!'
'হ্যাঁ রে,এবার তোর থেকে দ্বিগুণ ভালো মেয়ে আনব দেখিস,'বলে সই করে দিয়েছিলাম চরম ঘৃণায়,
হেসেছিল ও,বলেছিল,'সুখী হোস!'
কাল আবার গড়ের মাঠে হঠাৎ দেখা দুটো রাস্তা আলাদা হয়ে যাওয়া মানুষের,
'কি রে,বরকে বাড়িতে একা ফেলে এলি?আবার অন্য পুরুষ জোটালি নাকি?'
এক চোখ জল নিয়ে চড় মারল স্বচ্ছ আমার গালে,
'সাহস কিভাবে হয় আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলিস?'
খুব অসম্মানিত হয়ে আমিও চলে এলাম সেদিন,
হঠাৎ একদিন রাস্তায় দেখলাম স্বচ্ছর জীবনের দ্বিতীয় পুরুষ অন্য নারীর হাতে হাত রেখে রাস্তা পার হচ্ছে,
বুকটা ধক করে উঠল,ছুটলাম সেই পুরুষের কাছে,
'স্বচ্ছ?ও তো আমার বন্ধু,প্রেমিকা হল কবে?' একমুখ হাসল সে।
'তবে যে স্বচ্ছ আমায় বলল ও তোমাকেই বিয়ে করবে?'
'জয়,অভিমানের অর্থ আজও বুঝলে না?'
আমার মতো স্বচ্ছও যে বড্ড অভিমানী,
আমার অবিশ্বাস না জানি কত কষ্ট দিয়েছে মেয়েটাকে,
তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে নিলাম,নম্বরটা আনব্লক করলাম,
আমার স্বচ্ছতোয়ার অভিমান ভাঙাতে হবে তো!'

বুইলে‌ দিদি, কোনোরকম তন করে ওই পাঁচখান মত নদী তরে গেলেই একটো তিনতলা ঘর পাবে।ঘরে একটো বামুন থাকে। ওর নাম হল বিইনু শম্মা
বামুন হলে কি হবে, বামন‌ নয়কো মোটেই।বেইশ লম্বা চওড়া বটে। তবে ব্যাটাচ্ছেলে বিরাট বদমাশ। লোককে জলানো ওর ধান্দা। আর পুজো আইচ্চা কত্তে পারে বলে পয়সার ও নাই মন্দা।
তা ওর ওই লোক খেপানো কাণ্ড দেখে শুনে ওর বৌ ওকে হুকুম করলে যে একখান বই লিকতে হবে।
শুনেই বিইনু বলে দিলে‌ যে ওর দ্বারা ওসব হবে না।
বলেই ফ্যার কল্লে। বৌ এর আদেশ বলে কতা।
না বল্লে হবে?
বৌ এমন হুঙ্কার ছাড়লে যে বিইনু টিকির গিঁট খুলে, কোমরে‌ গামচা বেঁদে বসলে গপ্প ফাঁদতে।
লোকটি তো ছিল চতুর। বুদ্ধি খাটিয়ে বেশ কয়েকটা গপ্প লিকেও ফেল্লে। লিকে ফেলে সেইগুলা নিয়ে গালো বৌ কে শোনাতে।
দেকো কপাল। বৌ তখন দুপুরে ঘুমোবে বলে সবে শুয়েচে বুইলে তো। বিইনু মিন মিন করে গল্প শোনানোর ইচ্ছা জানাতেই বৌ ওর রেগে আগুন হয়ে বল্লে “পালা!!! পালা বলচি!! নইলে আঁশ বুঁটি দিয়ে কেটে ফালা ফালা করে দেবো! পালা বলচি, পালা!”
তা নিজের বৌ এর ওই মা চণ্ডী রূপ দেকে সে সেই যে ছুট লাগালে, ছয় জনা মিলে বহু চেস্টা করেও‌ নাগাল পেলে নে কো।
তুমি দিদি ওকে দেকতে পেলে বোলো তো যে ওর বৌ ও যাতে শান্ত হয় তার লেগে ঘরে মনসা পালা করাবে।
আমি একন আসি তবে বেশ?
পেলে বোলো যেন...

এই ভাই।

গান করবো আই।

মানুষ এর গান গাইবো।
আপন মনে পূর্ণ ছন্দে গেয়ে যাব।
আর আমি নিজেকে পাগল বলবনা।
আর কভু আমি মুষড়ে পড়ব না রে ভাই।
তবে বলবো।
নিজেকে কর্মী বলব।
নিজের বিশ্বাসের কথা বলবো।
যা সত্যি তা চিৎকার করে হুঙ্কার দেবো।
আর পাগল বলে ডাকলে ধৃতরাষ্ট্র আলিঙ্গন।
চোখ রাঙালে চোখ তুলে নেব।
আমি মানুষকে সত্য মানি।
সত্যকে ঈশ্বর মানি।
ভালোবেসে যাব।
প্রেম বিলাব।
ও ভাই
জানো প্রেরণা সাথ দিচ্ছে।
তাহলে ভাই তোমরাই বলো
আমি ভয় কেন‌ পাব?

জানালার ওপাড়ে
কলমে - কিরণময় নন্দী

কেমন আছিস তুই সুমি
আজও শেষ রাতে তোকেই ভাবি
তুই কি সেই আগের মতই ছেলেমানুষ
নাকি একটু বুদ্ধিমতী নাকি একটু রাগি!

আমার কথা বাদ দে তুই
আমি তো সেই আগের মতো
সেই ইস্ত্রি বিহীন বিবর্ণ পাঞ্জাবী
নীরস হৃদয় কবিতা বিহীন কবি যত।

মাঝরাতে কলম কাগজে কাটাকুটি খেলা
তোকে নিয়েই লিখি কয়েকটা লাইন
পংক্তি কয়েক চলে নির্দ্বিধায়
তারপর ঝাপসা চশমা কল্পজালে বিলীন।

জানিস সুমি চোখের জল বেজায় দুষ্টু
নিষেধ মানে না
যতই ভাবি ভুলবো তোরে
কোনো কথাই শোনে না।

আরে তোর এখন জমিয়ে সংসার
ছেলে-মেয়ে-পরিবার নানান ঝক্কি
তোর কি আর সময় আছে
কবিতাগুলো শুধুই ডায়েরী ভর্তি।

বন্ধ ঘরে ধোঁয়ার জাল
মেঝেই সিগারেট ছাই পড়ে
নিষেধ করার কেই বা আছে
কেই বা আসে আমার ঘরে?

দিনেদিনে হচ্ছি ক্ষীণ
কাশিতে বড্ড কষ্ট বুকে
তুই আজ বেশ দূরে
ইচ্ছেহীন বাঁচা শুধু অনেক কষ্ট চেপে।

আর কয়েকটা পাতা লিখতে বাকি
হয়তো চলেই যাবো দুনিয়া ছেড়ে
"জানালার ওপাড়ে" উপন্যাস
হয়তো পৌঁছে যাবে তোর ঘরে।

বন্ধু
কলমে – সম্পা মাজী

আজ সকাল থেকে খুব বৃষ্টি হচ্ছে  , নিজেকে খুব একা লাগছে কিছুই ভালো লাগছে না।অনেক দিন বাড়ি যাওয়া হয়নি,কেন জানি না এখন আগের মতো বাড়ি যেতেও খুব একটা ভালো লাগে না।  ছেলেবেলার বন্ধুদের পাওয়া যায় না  সবাই যেন কেমন হারিয়ে গেছে, অয়ন আর প্রলয় বছরের একবার আসে তাও দেখা হয় না,আর একজন ,সে যে কোথায় জানি না।আজ এই মেঘলা দিনে তাকে খুব মনে পড়ছে, জানি না সে এখন কি করছে আদেও বেঁচে আছে  কিনা কে জানে। যাকে ছাড়া ছেলে বেলার একটা দিনও কাটতো না , সে আমার জীবন থেকে এই ভাবে হারিয়ে যাবে স্বপ্নে ও ভাবিনি। সে ছিল আমাদের ইন্দ্র , যদিও আসল নাম শুভজিৎ । কিন্তু ওকে কেউ ওর আসল নামে ডাকতো না, ইন্দ্র নামটা বাংলা স্যারের দেওয়া ।ও চরিত্র টা  ছিল "শরৎচন্দ্রের"  সেই  ইন্দ্রনাথের মতো ।অদম্য সাহসের ভরা গ্রাম বাংলার এক  দূরন্ত ছেলে।বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো ,গাছ থেকে মৌচাক ভাঙ্গা,পাখির বাসা থেকে পাখির ছানা চুরি করা নয়তো নৌকো নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ,এই সব করতো খুব ভালো বাসতো , প্রকৃতি ছিল ওর প্রান।এর জন্য ওর বাবার হাতে খুব মারও খেয়েছে , তবুও কারো কথা শুনতো না ।সব সময় নিজের মনে মতো চলতে ভালো বাসতো।

একটা দিনের ঘটনা আমার খুব মনে পড়ে,তখন স্কুলে গরমের ছুটি চলছে। ওই সময় আমরা প্রায় দিন নদীতে স্নান করতে যেতাম । একদিন শুভ , আমি,অয়ন নদীতে স্নান করতে গিয়েছি হঠাৎ  শুভ বলে , আমরা  কালকে নৌকো নিয়ে ঘুরে যাবি। এখন নদীতে জল খুব কম , খুব মজা হবে , তাছাড়া বাকিরা নেই তারা মামা বাড়ি গিয়েছে,সবাই থাকলে যেতেও পারতাম না। আসলে আমার বাবা দুদিন বাড়িতে থাকবে না, নৌকো নিয়ে গেলে কিছু বলবে না। আমাদের ওর ইচ্ছে ছিল, তাছাড়া এখন স্কুল ছুটি সারাদিন বাড়িতে থেকে কি করব তাই ঠিক হল সকাল ১০ টার সময় নদীর ঘাটে আসতে হবে , ওখানে শুভ ডিঙি  নিয়ে অপেক্ষা করবে  । আসলে শুভ ছিল   খেয়ালি ছেলে যখন যেটা ভাবতো সেটাই করত । আমরা যদি ওর সাথে নাও যাই  ও যখন যাবে ঠিক করেছে  একাই চলে যাবে , এই জন্য আমরাও রাজি হয়ে গেলাম ।

পরের দিন টিউশনি থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি কিছু খেয়ে, কিছু  খাবার পকেটে নিয়ে নিলাম।আগের দিন বাড়িতে বলে ছিলাম,তাই মা যাওয়ার সময় বলল, সাবধানে যাবি , বেশি দেরি করবি না যেন ।

নদীর ঘাটে এসে দেখি,শুভ

আগেই এসে গেছে  আমাদের জন্য   অপেক্ষা করছে।  অয়ন আর  প্রলয়  এই মাত্র এসেছে। প্রলয়কে দেখে শুভ একটু রেগে গেল।

শুভ-- অয়ন , প্রলয় কি করে জানলো আমরা যাবো।

অয়ন-- প্রলয় আমাদের বাড়ি এসেছি, যখন শুনলো আমরা যাবো, ও বেড়িয়ে চলে এসেছে,আমি কিন্তু ওকে যাওয়ার জন্য বলিনি।

শুভ-- প্রলয় কে কিন্তু নিয়ে যেতে পারি একটা শর্তে, ওকে  আমাদের সঙ্গে নৌকা চালাতে হবে আর ভয় লাগছে বললে হবে না।

অয়ন -- হ্যাঁ আমি নৌকো চালাতে পারি, আমি আর আগের মতো  ভয় করি না।

শুভ-- ঠিক আছে তাহলে চল।

চারজনে নৌকো নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম।  খুব মজা লাগছে, এই ভাবে নৌকা নিয়ে নিজেরা কখনো যায়নি,   যতবার গিয়েছে প্রতি বারেই বড়রা সঙ্গে ছিল। কিন্তু আজকে আমরাই একাই যাবো ,  শুভ থাকলে আমাদের কোনো ভয় নেই ওর নিজের যেমন সাহস আমাদের কেও সাহস যোগান দেয় ।  আমি আর প্রলয়  বাড়িতে বলে এসেছি কিন্তু অয়ন বলে আসেনি , শুধু  বলেছে শুভদের বাড়িতে থাকবে আসতে দেরী হবে।

সে যাই হোক, বদলা বদলি করে নৌকা দাঁড় বাইছি  , আর চারি দিক দেখছি, খুব আনন্দ হচ্ছে।

প্রলয়-- এই নদীতে কুমীর আছে।

অয়ন- নদীতে আবার কুমীর থাকবে না তা কখনো হয়।

প্রলয়--  ওরে বাবা! যদি চলে আসে।

শুভ - তোকে খেয়ে নেবে। বিরক্ত হয়ে, এই জন্যই তোকে আনতে চাই ছিলাম না।

প্রলয়- তোদের ভয় করছে না।

অয়ন- কেন ভয় করবে, খেতে আসলে তোকে দিয়ে দেব ,বলব এর মাংস খেয়ে খুব সুস্বাদু আর খুব নরম ,একে খেলেই পেট ভরে যাবে, আমাদের কে আর খেতে হবে না।

প্রলয়- তুই আমাকে সব সময় ভয় দেখাস ,এই জন্য ভালো লাগে না।

অয়ন -  তোকে কে আসতে বলেছিল।

আমি - কুমিরে কি  খাবার কম পরেছে যে  , তোর মতো চর্বি ওলা মানুষ   খায়ে শরীর খারাপ করবে ।

এই রকম হাসি ঠাট্টা করতে করতে  নৌকা নিয়ে যেতে লাগলাম, নদীর স্রোত ছিল তাই খুব কষ্ট হলো না নৌকা এমনি চলতে লাগলাম। নদীর দুই পারে  গাছ  , অ‌নেক গাছ  উল্টে গেছে,  আবার কয়েকটা গাছ নদীতে ঝুঁকে পরেছে, দেখে মনে হচ্ছে বর্ষার সময় জলের তোরে শিকড় সমেত উপড়ে গেছে। কিছুটা যাওয়ার পর অয়ন কয়েকটা নারিকেল গাছ দেখতে পেল।

অয়ন -- শুভ দেখ কেমন ডাব হয়ে আছে গাছে, চল পারবি , আমার কাছে ছুরি আছে।

প্রলয়--  গাছের মালিক  যদি জানতে পারে তাহলে বকবে।

শুভ -- তুই একটা ভিতুর ডিম, তোকে খেতে হবে না, আমরা খাবো ।

প্রলয়--  তোরা গেলে আমিও যাবো , তবে আমি গাছে উঠতে পারবো না।

অয়ন-- তুই গাছে উঠলে গাছ ভেঙ্গে যাবে , তার শব্দে মালিক চলে আসবে তার থেকে তুই বয়ে আনার কাজ করবি।

নৌকাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে আমরা  নারকেল গাছে কাছে যাই  গাছ গুলো খুব বড় নয়, একটা গাছে শুভ আর একটা গাছে অয়ন ওঠে। আর আমি চারিদিক দেখতে থাকি ,কেউ আসছে কিনা।১২-১৪ টার মতো  ডাব নাড়িকেল পারে   , প্রলয় দৌড়ে তাড়াতাড়ি নৌকোতে রেখে আসে।

আমরা  নৌকা নিয়ে আবার চালাতে লাগলাম, মনের আনন্দে গান  নৌকা চলেছে, কিন্তু আমার  অসাবধানতা বসত নৌকা চড়া বালিতে আটকে যায়। কিছুতেই আর সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি না।

অয়ন- আমি নেমে নৌকাটাকে ঠেলার চেষ্টা করছি।

শুভ - না নামিস না, তুইও ওখানে ওই চড়া বালিতে আটকে যাবি,আর উঠতে পারবি না।

প্রলয়- তাহলে এখন কি হবে।

শুভ - দুটো ডাবকে বড় করে ফুটো করতো। তারপর দেখছি কি করা যায়।

দুটো বড় ডাবের জল খেয়ে ডাব টার উপরের দিকটা বড় করে ফুটো করে, যাতে করে  দাঁরের লম্বা দিকটা ডাবের ভেতর পুরে ওই চড়া বালিতে চাপ দিলেও ডাবের খোলাটা   বালির ভেতরে সহজে বসে যাবে না।কিছু ক্ষন ওই ভাবে জোর করে ঠেলা ঠেলি করতেই নৌকোটা এগতে লাগল। সবাই আনন্দে হো হো  করতে লাগলাম, আমরা  বিপদ থেকে বেড়াতে পেরেছি, খুব ভালো লাগছে ,এই জন্যই শুভ কে এতো ভালো লাগে ,সব সমস্যার সমাধান ওর কাছে থাকে ।আসলে ভূলটা আমার ছিল , কিন্তু শুভ আমাকে কিছুই বলেনি,শুভ আমাকে সব সময় প্রোটেক্ট করতে চায়।

আমাদের পাস দিয়ে একটা নৌকো যাচ্ছিল , আমাদের কে দেখে থেমে যায় , নৌকোয় একটা লোক শুভকে ডাকে ।শুভ ওদের নৌকোয় চলে যায় ,কি সব কথা বলে আমাদের নৌকোয় ফিরে আসে। আমাদের  খিদেও পাছে না, তাই বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভুলেই গেয়েছিলাম। শুভ আর অয়ন নৌকা বাইছে আর  আমি ও প্রলয় চারিদিক দেখছি , হঠাৎ শুভ বলে - চল বাড়ি ফিরে যাই।

অয়ন- এতে তাড়াতাড়ি,এইতো এলাম ।

শুভ - না আজকে আর যাবো না , অন্য আর এক দিন আসবো।

আমরা কেউ কথা বাড়ালাম না ,কারন শুভ যখন বলেছে তখন ফিরতেই হবে ও কারো কথা শুনবে না।তবে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না ,শুভ এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চাইছে কেন , নিশ্চয়ই অন্য কারণ আছে। যাইহোক আমরা খুব তাড়াতাড়ি নদীর ঘাটে ফিরে এলাম সবে দুপুর হয়েছে ।অয়ন আর প্রলয় একটু এগিয়ে যেতেই শুভ আমায় বলল, এই অভি , আজকে রাত্রিতে আমাদের বাড়িতে থাকবি ।

- দেখি মাকে বলবো।

শুভ- দেখি বললে হবে না ,তোর মাকে আমাদের বাড়িতে থাকার কথা বললে কাকিমা   বারন করবে না ,আর তুই যদি না বলতে পারিস  ,তাহলে আমি তোর বাড়িতে গিয়ে বলব তোর মাকে ।

- না তোকে যেতে হবেনা , আমি মাকে রাজি করিয়ে, সন্ধ্যেবেলা চলে আসবো।

সন্ধ্যেবেলা শুভদের  বাড়িতে গিয়ে দেখি শুভ বসে বসে কি যেন ভাবছে , জিজ্ঞাসা করতে ,

শুভ-  তেমন কিছু না,   তুই আসবি  শুনে মা তোর জন্য রান্না করছে  , আমরা আজকে তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়বো। আচ্ছা তুই ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠতে পারবি।

- কেন বলতো।

শুভ- তোকে একটা জায়গায় নিয়ে যাবো।

- কোথায়।

শুভ- এখন বলবো না , নিয়ে গেলেই দেখতে পাবি।

- আরকে যাবে আমাদের সাথে ।

শুভ- তুই আর আমি। এই ব্যাপারে মাকে কিছু বলবি না কিন্তু‌।

- আচ্ছা, কাউকে কিছু বলবো না।

 

ঘুমছি এমন সময় শুভ আমাকে  ঘুম থেকে উঠিয়ে চুপিচুপি বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে ।

শুভ ফিস ফিস করে বলে, জোরো কথা বলবি না মা উঠে পরবে ,আমরা এখন যেই জায়গাটায় যাবো।

- এখন তো গভীর রাত্রি , এখন কি করে যাবি ।

শুভ- এখন না গেলে কিছুই দেখতে পাবো না।

- কিন্তু এই অন্ধকারে চারিদিকেকিছু দেখা যাচ্ছেনা ,কি করে নৌকা নিয়ে যাবি ।

শুভ-আমরা নৌকো নিয়ে যাবো না।

- তাহলে কিসে যাবি।

শুভ - হেঁটে হেঁটে যাবো,নদী ঘাটের পাস দিয়ে যে বনটা আছে আমরা  ওই  বনের পথ দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবো।

- এই অন্ধকারে এই বনের মধ্যে দিয়ে যাবি , রাস্তা জানিস।

শুভ - হ্যাঁ আমি রাস্তা জানি , বাবার সাথে একবার এসেছিলাম, মনে আছে পথটা।

ঘুম জরানো চোখে শুভ সাথে হাঁটতে লাগলাম বনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছি সঙ্গে একটা টিম টিমে লাইট ,তাতে কোনো রকমে পথ দেখা যাচ্ছে । ঘন জঙ্গল কোথায় কি আছে দেখা যাচ্ছে না,শুনেছি এই বনে ভূত থাকে , আমার খুব ভয় লাগছে কিন্তু বলতে পারছি না ,ভয়ে মনে মনে ভগবানকে ডেকে যাচ্ছি । শুভর ভয় ডর নেই সে দিব্যি আগে আগে চলছে ,এই জন্যই ওকে সবাই নিশাচর বলে । আমার ভয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ার জোগাড় , বিরক্ত হয়ে, কোথায় চলেছিস বলতে।

শুভ- সকালে হাবু কাকুর সাথে দেখা হয়ে ছিল ,সেই বলেছে  ভোর বেলায় মোহনায় যাবে মাছ আনতে   আমাকে ও নিয়ে যাবে বলেছে  ।

- আসার সময় কাকিমাকে বলে আসা হল না , চিন্তা করবে ।

শুভ- মাকে বললে আসতে দিত না। তুই এসব ভাবিস না , সকালে ঠিক বাড়ি পৌঁছে যাবো ।আর মা জিজ্ঞেস করলে বলবি সকালে হাঁটতে গিয়ে ছিলাম।

কোনো রকমে ঘাটে এলাম ,দেখি সেখানে একটা  লোক নৌকো নিয়ে অপেক্ষা করছে  , যার সাথে  কালকে শুভর  কথা বলেছিল।আমরা তাড়াতাড়ি ওদের নৌকায়  গিয়ে উঠলাম । ইঞ্জিনের নৌকো তাই খুব তাড়াতাড়ি চলতে লাগলো  , ভোর হওয়ার আগেই আমরা মোহনায় পৌঁছে গেলাম , তখন ও সূর্য ওঠেনি,চারিদিক শুধু জল আর সামনের আকাশে  লাল সূর্য ,কি ভাবে না লাগছে আমার , আমাকে এতো আনন্দ দেখে ,শুভ বলে , কিরে কেমন লাগছে ।

- খুব ভালো , তোকে বোঝাতে পারবো না।

আসলে নৌকাতে মাছ তোলার জন্য  ওদের লোক কমছিল তাই শুভ  আসবে বলতেই রাজী হয়ে যায় আমরা সঙ্গে আসলে ওদের সাহায্য হবে ,আর শুভ এইসব কাজে খুব পটু  , তাই ওরা না করে নি।এই প্রথম আমি মোহনা দেখলাম সত্যি খুব সুন্দর লাগছে ।  শুভ যে এই পরিকল্পনা করছে আমি বুঝতেও পারিনি ,ভেবেছি ওর বাবা বাড়িতে নেই তাই আমাকে রাত্রিতে থাকতে বলেছে  ,এবার বুঝলাম কেন শুভ কালকে তাড়াতাড়ি নদী থেকে ফিরে এসেছিল ,যাতে করে আজকে আসতে পারে ,তাই ভাবছিলাম হঠাৎ কেন শুভ নৌকো ঘুরিয়ে বাড়ি চালে এল।  যাই হোক আমার কিন্তু খুব আনন্দ হচ্ছে।শুভ কিন্তু আমাকে কাজে হাত লাগাতে দেয়নি ,ও একাই কাজ করেছে ,আর আমি মনের আনন্দে প্রকৃতি সৌন্দর্য দেখেছি।এটা ছিল আমার জীবনের সব থেকে আনন্দের দিন,বাবা মায়ের সাথে ঘুরতে আসলে এতোটা আনন্দ হতো না ,যতোটা আনন্দ বন্ধু সাথে লুকিয়ে আসায়  হয়েছে ।

আজ এতো বছর পরও আমি ওই দিন টা কিছুতেই ভুলতে পারি না, চোখ বন্ধ করলেই আমি সেদিনের সেই সকালের  পৌঁছে যাই।  ওর পরেও কয়েক বার গিয়েছিলাম কিন্তু প্রথম দিনটা একে বারে অন্য রকম ছিল।শুভ ছড়া আমার ছোট বেলার একটা দিনও কাটতো না , প্রায় দিনই হয় ও আমাদের বাড়ি চলে আসতো নয় তো আমি ওদের বাড়িতে চলে যেতাম দেখা করতে ।  কিন্তু আজ ৫ বছর হল ওর সাথে দেখা হয়নি । শ্রীকান্তের

ইন্দ্র নাথের মতোই হারিয়ে গেছে। ও যে হঠাৎ করে এই ভাবে হারিয়ে যাবে আমি ভাবিনি।

মাধ্যমিক দেওয়ার পর আমি কলকাতায় মামার বাড়িতে চলে যাই , ওখানে থেকে পড়াশুনা করব বলে।আর শুভ পড়া ছেড়ে দিয়ে কাজে লেগে যায় , নদী ছিল ওর প্রান তাই ট্রলারে কাজ নেয় । দিন গুলো ভালোই কেটে চলে যাচ্ছিল , আমি গ্রামে গেলেই আমি ওর সাথে ঘুরতাম , যতদিন   থাকতাম ততদিন শুভ কাজের ছুটি নিয়ে নিতো  আমার সাথে ঘুরবে বলে । একবার পরীক্ষার জন্য অনেক দিন গ্রামের যাওয়া হয়নি, তখন হঠাৎ একদিন বাবা এসে খবর দেয় , শুভ সমুদ্রে হারিয়ে গেছে।শুভ যেই ট্রলারে থাকতো সেই ট্রলার মাঝ সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে , সেই ঝড়ে ওদের ট্রলার নিখোঁজ হয়ে যায় , কাউকে উদ্ধার করা যায়নি,আর কারও দেহ পাওয়া যায়নি । শুভ যে কোথায় হারিয়ে গেল কেউ খুঁজে পেল না।ওর মা এখনো ওর ফেরার আসায় দিন গুনছে , আমি বাড়িতে গেলেই বলে শুভ কে খুঁজে আনার জন্য , তখন আমি কি উত্তর দেব খুঁজে পাই না ।  হয়তো আর কোনো দিন ও আসবে না ফিরে তবুও ফিরে আসবে ভেবে মনকে সান্তনা দেই । কিছু মানুষ অল্প দিনের মধ্যে মনের এমন জায়গা করে নেয় যে তাকে কোনো দিন ভোলা যায় না, শুধু তার কথা ভেবে মন ভালো করে তে হয়।তবে আমার বিশ্বাস শুভ বেঁচে আছে, শুভ মতো মানুষ মরতে পারে না, হয়তো সমুদ্রে ভেসে ভেসে অন্য কোনো দেশে পৌঁছে গেছে , সেখান থেকে , আমাদের কথা মন করেছে  আর  বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে।

ছায়াপথে
কলমে - ব্রততী

নিশীথিনীর দেহপটে জ্যোৎস্নার চারুকাজ
অজস্র বিরহের রঙে রঙিন ক্যানভাস
প্রজাপতির রঙিন পাখায় সোহাগের সোনালী পরাগ
বিচ্ছেদের ধূ ধূ ধূসরতায় আমি দূরত্ব মাপি নিজস্ব ছায়াপথের
আলো-আঁধারিতে জল-দাগে পদচিহ্ন রেখে যে পথের পথিক আমার ঈশ্বর।

ইসকুলে তে গিয়ে গো ভাই
দেখে এলেম কাণ্ড খানা।
আজব রঙ্গ হচ্ছে গো ভাই
বাংলার পাঁচ চিড়িয়াখানা।

হোঁৎকা হুঁৎকি গোমড়া গুমড়ি
ইরিং বিড়িং ভাষণ ঝাড়ে,
সদ্য ফোটা ফুলের কলি
শিলনোড়াতে পিষিয়ে মারে।

ঠক ঠকা ঠক টকর টকর,
কি যে করে বকর বকর।
নাই হাসি ভাই নাইকো খবর
চোখ রাঙাতে পারে জবর।।

গণ্ডি ভাঙ্গার মন্দিরে ভাই
গণ্ডি টানাই আসল কাজ।
বিদ্যা দেবী খেদিয়ে দিয়ে
নাচছে দেখো ভূতের নাচ।

মরছে যত ফুলের কলি
তাদের কথা কেই বা ভাবে?
ভাবলে পরে তাদের কথা
না হেসে কি থাকা যাবে?

কে আছো গো কেউ কি নাই?
হাসি মজার কদর চাই।
এসো গো ভাই, হাসাও হাসি
জ্ঞান না দিয়ে ভালোবাসি।।

>>>>>>>>>>>দোশী<<<<<<<<<<<

রাত এখন বারোটা বেজে একান্ন মিনিট। সেটা বড় কথা নয়। কথা হল মন চাইছে গল্প লিখতে হবে। লিখতে যখন হবে তখন দেরি করে লাভ নেই।
চামচা শব্দটি বড়ই মজাদার। এতে চাওয়ার কথাও আছে আবার চামচ কথাটিও আছে। চাইলে ভিখারির মত চাইবো। যেমন চাইতো বিবেকানন্দ, চাইতো নিতাই গৌড়, চাইতো রামকৃষ্ণ।
আবার চাইলে চামচ ও ভাবা যায়। সেই চামচ দিয়ে অমৃতের ভাণ্ড থেকে অমৃত তুলে আনা যায়।তাতেও লাভ।
আমি নিজেই চামচা। সোহম ও সোহান এর চামচা। একটি পেরাই ভেট ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। স্কুলটিতে 6 মাস আগে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এই সুমিত নামক মহা মূর্খ। শেখাতেম হাসি হাসানোর মাধ্যমে। হাসাতে গিয়ে কখন যে কাটুস কুটুস এর মনে দাগ কেটে ফেলেছি বুঝতে পারিনি।
এইবার মজা হল এই যে ব্যবসায়িক বিদ্যালয় গুলিতে স্কুল শেষ হবার পর বাচ্চাদের সাথে কোনরকম যোগাযোগ নিষেধ। আমি কিন্তু যোগাযোগ রাখতাম। বিনে পয়সায় বাড়ি বাড়ি যেচে গিয়ে বাচ্চাদের সমস্যা মেটাতাম। বিশ্বাস না হলে খবর নিও এসে।
স্কুল সেটি মালেনা না। ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে ভাবল হয়ত। বললে ওটি বন্ধ করতে হবে। করলুম। স্কুল ই ছাড়লুম।
ছাড়ার কদিন আগে ওই বাচ্চা দুটির মা ঈশ্বরের কাছে চলে যান। বাচ্চা দুটি মা হারিয়ে কেন জানিনা আমাকে জড়িয়ে ধরলে।
এখন ওদেরকেই পড়ায়। পনেরশো টাকা মাস মাইনে ঠিক হয়েছে সপ্তাহে আট বার যাবার বিনিময় এ। আমি এখন কাজ ছেড়ে মহাসুখে অকর্মা। তাই সময় পেলেই আর ওদের সময় হলেই ছুটে যায়।ওদেরকেই হাসায়। ওদের সাথেই শিখি। ওদের ভালোবাসার টানে ওদের চামচে হয়ে গেছি। যতদিন ওরা ভালবাসবে ততদিন ওদের এই চামচে ওদের ঢাল হয়ে রক্ষা করবে।
কেন চামচা হলেম? চামচা হলেম সেই কারণে যে কারণে হনুমান রামের চামচে হয়েছিলেন। ভালোবাসা গো ভালোবাসা। যতদিন বাঁচবো ততদিন যেন এই রকম চামচে হয়েই থেকে যায়। জ্ঞানে অন্ধ হয়ে গান যেন বন্ধ না হয়ে যায়। সত্য জনার কাছে এই প্রার্থনায় জানাই। জগাই মাধাই চামচা ছিল গো। ভিক্ষে করত। ভিক্ষে বিনা হরিনাম পূর্ণ হয়না। ভালোবাসার চামচা গিরি ছাড়লে সুমিত আর সুমিত থাকবেনা। আর ভিক্ষে? শোনো তবে।

।।ভিখ মাগিলে মান কমেনা, এই কথাটি মেনো
নিতাই গৌর নিজেই মাগেন, তুমিও তা জানো।।

আমার শ্রাবণ
কলমে - সঞ্জয় চক্রবর্তী

ওগো নীল অঞ্জনা পাগল পবন
দু -চোখে তোর আকুল শ্রাবণ,
আজ মেঘ মল্লারে হোক বরিষন
তোর লাগি মন ব্যাকুল ভীষণ ।

মন উচাটন হয় চোখের শ্রাবণে
স্মৃতি ভেসে যায় অশ্রু প্লাবনে,
শ্যাম প্রতীক্ষায় রাই আজও নিধু বনে
শ্যামও খোঁজে রাধা কদমের বনে ।

আজ কেন এলি ভরা এ আষাঢ়ে
কি সাধ মেটালি মন টুকু কেড়ে,
তবে তোর চোরা স্রোতে আমাকে ভাসারে
মেঘদূত হয়ে আজ আয় অভিসারে ।

জানি এ ভালোবাসা ক্ষণিকের
চোখের এ শ্রাবণও পালকের ,
মিথ্যা এই মরু মায়া পথিকের
বিরহ তো শুধু প্রাণ নেয় চাতকের।

(স্বত্ব সংরক্ষিত)

বসন্ত
কলমে - পিয়ালী সিদ্দিকা

মাঝে মাঝে বড় ভুল হয়, মনে হয় বসন্ত'ই তো!
না কি খুন! কৃষ্ণচূড়া আবীরের রঙে লাল,
শোণিতে ডুবেছে ফাগুনের এই কাল...
রক্ত পলাশে হোলির আবেশে মন ভাসবে তো!

কোকিলের গান ভেসে আসে ওই নিথর দুপুরে।
স্বজন হারানো করুণ রোদন কেন মনে হয়!
কেন কিছু মুখ বারবার মনে উঁকি দিয়ে যায়!!
বসন্ত বাতাসে ভেসে আসে কারো কান্না আর্ত সুরে।

পৃথিবীতে এত রঙের বাহার আরো কত রং চাই!
কত আর লাল রক্তের রঙ নির্দোষ প্রাণ বিনিময়,
শান্তির রং যথেষ্ট নয় মানবতা নেই চেতনায়....
যেদিকে তাকাই শুধু খুন দেখি,বসন্ত কোথাও নাই।

বিপরীত
কলমে - সুমিতাংশু দোশী

করবি যদি প্রেমের সাধন
কর দেখি অহংকার মোচন।
করেদে হৃদয় উন্মোচন
ভুলে লজ্জা ভয় ভাবনা,
দেখ চেয়ে মন পর কেহনা।।

রাত বিনে দিন হয় কি ক্ষ্যাপা
আবার দিনরাত দেখো দুটোই ফাঁকা।
যা দেখিস তুই সকল মিথ্যা,
আবার এরচেয়ে সত্যিই কিছু না।
তন্ত্র মন্ত্র শাস্ত্র ঘেঁটনা।।

সহজ সত্য মাটির কথা
নাই দুঃখ ভাই নাই গো ব্যথা।
সেই জনা আনন্দের আধার
সহজ সরল এই মূল কথা।
ছন্দে সুরে আছে গাঁথা।।

চন্দ্র-সূর্য ব্রহ্মাণ্ড ধরে
দেখ তুচ্ছ তুই এদের পরে।
আবার তোর মাঝে ব্রহ্মাণ্ড সিঁধিয়ে
তুই আমি সে একই কথা।
বৈপরীত্যে মিলন যথা।

দোশী বলে শোনো শোনো ভাই
চিন্তা চিতায় চড়ে লাভ নাই।
আনন্দে তার চরণ ধরো
নাচো স্বাধীন ধিন তা ধিতা।
সত্য কভু নয়কো তিতা।।

উত্থান
কলমে - সুমন প্রামাণিক

আর কত দিন তোমার ছবি আগলে রাখবো বুকে ?
কেন এত সজ্জা তোমার চোখে, মুখে ?
অদম্য ইচ্ছেয় তোমার সারা শরীর জুড়ে জমেছে ঘাম,
ওরাও স্বপ্ন দেখে সাগরের বুকে মেশার।
দৃষ্টি সুখে মন ভরে গেলে
কতো কিছুর মৃত্যু ঘটে বাম পাশে মোহের বেশে।
পিছুটানের ডাকগুলো এসে দাঁড়ায়
কোন এক অদৃশ্য সরলরেখায়।
আদিম ভালোবাসা বন্ধক পরে আছে
উর্বর ফসলী জমির কাছে ।
প্রাচীন গুহার দুর্বোধ্য অন্ধকারে
ধিকি ধিকি করে জ্বলছে পরাজয়ের আগুন!
আধ বোজা চোখে আলতো চুম্বন
গোপনে রেখে গেছে অভিসারের চিহ্ন!
মগ্নতার ঢেউ এসে ছুঁয়ে যায় মাঝে মাঝে।
প্রজাপতির ধূসর ডানায়
ইট কাঠ পাথরের কবিতা লেখা আছে।
তুমি উঠে এসো ধ্বংসস্তূপ থেকে...
ঘাসের আগায় জমা শিশির বিন্দু
ভিজিয়ে দিক তোমার নূপুর ;
হৃদয়ের খোলা জানালায় অতল স্পর্শে
জন্ম নিক নবজাতক।
ফেরারী বাতাসে জংলী ফুলের গন্ধে
ভালো থাকুক প্রিয় বসন্ত।

১৪.০২.২০২০

ভ্যালেন্টাইন ডে
কলমে - উৎপল রাউত

প্রাচীন রোমের সম্রাট সৈন্যদের বিবাহ রদ করে,
বিবাহিত যোদ্ধার নাকি যুদ্ধে উৎসাহের ভাটা পড়ে।
সাধু ভ্যালেন্টাইন বিরোধী এই প্রথার,
গোপনে তিনি বিয়ে দিলেন অনেক যোদ্ধার।

রাজার কানে গেল সাধুর কার্যকলাপের বিবরণ,
রাগান্বিত সম্রাট মুনির মৃত্যুদণ্ড দেন,
ঐ দিনটিকে ভালবাসার দিন করে স্মরণ
চোদ্দোই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন দিবসের প্রচলন ।

ঘৃণা,হিংসা, অবিশ্বাস, পরশ্রীকাতরতা,
মানুষ করে চলেছে অবিরত মানবিকতার হত্যা,
হৃদয়ে দূষণ, দূষণে পরিপূর্ণ পৃথিবীটা,
বিতরণ করি এসো ভালোবাসার উদারতা ।

কবি জেফ্রি চশার রোমান্টিকতার কাব্যে
ভালবাসার ডাক দেন প্রেমিক প্রেমিকার উদ্দেশ্যে,
তাইতো এতো উৎসব ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে,
এই দিনে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবে ভালবাসো প্রকাশ্যে ।

১৪/০২/২০

মাই ভ্যালেনটাইন
কলমে - প্রেরণা দাস

ঘুম ঘুম চোখে fb টা খুলতেই মনে পড়ে গেল আজ ভ্যালেন্টাইন্স ডে ।আবার চোখ টা জ্বালা করে উঠলো সৌম্যর ।গতবছর ও এই দিন
টা কত অন্যরকম ছিল ।ও আর স্নিগ্ধা নন্দনে গেছিল ।ওটাই ছিল ওদের প্রথম কাছে আসা ।প্রথম ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ানো।কথা গুলো মনে পড়তেই আবার দুফোটা জল গড়িয়ে পড়ল চোখ থেকে ।

কিযানি, হয়ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্নিগ্ধা ওর ব্যবসায়ী বন্ধু রাহুলের সাথে ভালোই আছে ।আবার ডুকরে কেঁদে উঠলো ও।হঠাত্ মাথায় একটা স্নেহমাখা স্পর্শে তাকিয়ে দেখে ওর ঠাম্মি ।বিরক্ত হল ও।কিছু একটা বলতে যাওয়ার আগেই ঠাম্মি বলে উঠলো "হ্যাঁরে দাদুভাই, তোর মনে আছে ছোটোবেলায় তোকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করত তোর বৌ কে ...তুই আমার বুকে কেমন মুখ লুকোতিস আমাকে জড়িয়ে ধরে? "
আর কিছু বলতে হলনা তাকে ।ছোটোবেলার স্মৃতি গুলো ছবির মতো সব ভেসে উঠলো মনের পাতাতে ।
সত্যিইতো ।ভালোবাসার দিন আজ।ভালোবাসার মানুষ নিয়ে সময় কাটানোর দিন ।আবার সেই ছোট্ট বেলার মতো জড়িয়ে ধরল ও ওর ঠাম্মিকে ।সমাজ রচিত রীতি ভেঙে আজ নাহয় ও ওর এই ভালোবাসার মানুষের সাথেই সময় কাটাবে যারা ওর ভালো থাকাতেই ভালোথাকে ।

প্রেম দিবস
কলমে : সুমন মন্ডল

জল দিবস বায়ু দিবস
শিশু দিবস হয় ।
তবে কেন প্রেম দিবস
চুপি চুপি রয় ।।
এক এক করে সাতদিনের
সাত অনুষ্ঠানের পালা ।
১৪ই ফ্রেবুয়ারী শেষ দিনে
প্রেম অর্পণ ডালা ।।
পার্ক সিনেমায় ঢল লাগবে
আজ ,প্রেমিক - প্রমিকার ।
হাজার কথায় প্রেম নিবেদন
চলবে দেখো সবার ।।
সোনা মোনা আরো কিছু
কথার মাঝে মাঝে ।
কারুর আবার চরিত্রে দাগ
কেবল শরীর খোঁজে ।।
প্রেম বেঁচে থাক চিরটাকাল
চলুক, তারি নিবেদন ।
পৃথিবীজুড়ে প্রেমে ভরুক
করি তারি আহ্বান ।।।

তারিখ : 14/02/2020

ভ্যালেন্টাইন দিবস
কলমে :- সুভদ্রা রায়

ভালবাসা কথা বলে যায় চিরদিনের
একই কথা একই সুরে হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে
- ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি..

পাশ্চাত্যে এসেছিল প্রথম ফেব্রুয়ারি ১৪ই, সতেরো শ
প্রথম জন্মদিন ফাগুন লেগেছে যেন আকাশে বাতাসে
তারই মোহে সেকালে মোহিত হয়েছে সবাই!

প্রাচীন রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজক সন্তো
পেশায় তার ছিল যে- চিকিৎসা গবেষণা
ভালোবাসা নিবিড় করে পাওয়ার - মোহ

পন্থা তিনি করেছিলেন - ঘোষনা শতাব্দীর শুরুতেই
রাজা উজির সবার সাথে ভাগ করে নিতে
উৎসব ছিল বর্ণাঢ্য আর আড়ম্বরে সজ্জিত সেভাবেই

ছিল পত্র লেখা আমন্ত্রণ নিমন্ত্রণে আহ্বান ভালোবাসার
আপ্যায়নে বিলাসে ব্যসনে জমজমাট ছিল সময়
চোখের তারায় ভরে ভালোবাসা - নিশ্চয়!

যেন অবোধ অবুঝ প্রগাঢ় বন্ধনে বাঁধা হৃদয়!

বড় বেশি ব্যস্ততায় ভালোবাসা এখন সপ্তাহ ব্যাপী
বড নির্দিষ্ট শুরু তাই প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর নেওয়া!
বেড়েছে বিড়ম্বনা সহজ কথা তাই সহজেই যায়না বোঝা

শুধু তোমাকেই ভালোবাসি তারই স্মৃতি আঁকি এ হৃদয়ে
সারারাত জেগে সারাটা দিন রেখে যাওয়া শতগুন করে
ঢকলেট মোড়কে গুঁজে স্মৃতির পলকে ছেঁড়া গোলাপের!

ভীষণ ভালো লাগা এখন ফেলে রাখা এখানে সেখানে পাপড়ি অথবা মুঠোফোনে রাখা হাজার নিজস্বী তে
ভালোবাসা হয়েছে বড় উদাসীন - মন বড় উচাটন

বড় গভীর গোপন পকেটের ভাঁজে নিয়মিত যায় আসে!

১৪/০২/২০২০

ফরেস্ট স্টোরি
কলমে - মোশ্ রাফি মুকুল

নিজেদের কাছে নিজেরা মুগ্ধ-
বনবালিকারা একটার পর একটা গল্প বলেই যাচ্ছিলো,নীচে ছিলো নোনা নদী,ঊর্ধ্বে ছিলো ভ্যাপসা সূর্যের লু লু রোদ।

বাইন বৃক্ষের ডালে ডালে তারা ঘুমিয়ে রাখতো নিজস্ব শেকড় ও নৌকা,ইচ্ছে হলো তা চড়ে যেতো শীর্ষ স্বপ্নের সারকথায়,মাঝে মাঝে বুনো নিস্তব্ধতায় বেজে ওঠতো ঘুঘুদের জৈবিক নূপুর!

ধানের গল্প,ফলের গল্প,
ফুলের গল্প করতে করতে তাদের বুক ফসকে যেতো শরীর জাতীয় নোনাবিষাদ,আট পা ছুঁয়ে যেতো মহাসাগরীয় প্রশান্ত মহিমা।

বন বালিকারা পালন করতো দ্বিধা ও জল,
লালন করতো যমজ দ্বন্দ্ব,তৈরি করতো দ্রুতগামী মেঘ;
আঁকতো প্রিয় ময়ূর ও ভালোবাসার দোলনা ভর্তি দোতারা।জীবনের গোলপাতা ভরে তুলে আনতো দীর্ঘ ধ্যান,তারপর বেগুনি কত্থকনাচের মুদ্রাগুলো
একে একে বিনিময় করতো সুগন্ধি বিকেলের সাথে,যে মেয়েটি ভীষণ সুন্দর করে কথায় কথায় বুনোশব্দদের নাম বলে যেতো-সেও কখনো দ্যাখেনি স্বচ্ছ বুনোফুলের স্বচ্ছ পাপড়ি,বনমোরগের ঝাপসা রঙ;
অথবা কখনো শোনেনি সুন্দরী উদ্ভিদের লোকগাথা ও অবিস্ফোরিত বনমালী আখ্যান!

এবং তা-ই;তাইতো একজন বালিকা যে ক্লাইমেক্স ও বুনো ক্লু ধরে দিতো,তা দিয়েই অন্য বনবালিকারা শুরু করতো পরবর্তী ফরেস্ট স্টোরি!

১৪/০২/২০২০.

ভালোবাসা
কলমে - রীনা মুখার্জী গাঙ্গুলী

অনন্ত নীল জলোচ্ছ্বাসের আহ্বানে
বারবার থমকে যাওয়া মোহনা উপকূলে
আনমনে দিয়েছ ধরা এসে বারেবারে
কিছু বলতে চেয়েও পারনি ,, না বলা কথা
"ভালোবাসি, ভালোবাসি!"
বিষন্নতা সিক্ত বিশীর্ণ আশা নিরাশার মাঝে
জীবন ভরে ওঠে হাসি আর গানে রাগ- অনুরাগে।
স্মৃতির বাগিচায় অনুভূতিগুলি চাপা পড়ে যায় ভালোবাসার পেলবতায়
অনুভবের বিচ্ছুরণে এলোমেলো শব্দগুলো ঝরে পড়ে অঝোরে বিনম্র হৃদয়ে
ফিরে আসে দুটি হৃদয়ের সততার বিশ্বাস।

তারিখ - ১৪/২/২০২০

প্রেম দিবস
কলমে - স্বর্ণালী লাহা

আজকে দিবস প্রেম জানাবার
পথে প্রেমিকের ঢল
ব্যস্ত শহর, চাই পথ সুরক্ষাও
দ্রুত পড়বেই সিগনাল।

জিতে নিতে হবে প্রেমিকার মন
চাই গোলাপ উপহার
ভিখিরি ছেলেটা নিয়েছে সুযোগ
আজ করবেই রোজগার।

একদিন তো ভরপেট খাক
ওর ভালোবাসা ভাত
দু'টাকার ফুল আজকে যে বিশ
শুধু গোলাপেই বাজিমাত।

ভোর ছ'টাতেই খুলেছে দোকান
ভিড় সামলানো যায়না
অনাথ শিশু কোলের খোঁজে
ধেড়ে মেয়ের টেডির বায়না।

পথঘাট আজ মজে গেছে প্রেমে
কারটা সত্যি কারটা প্রলাপ
জিতে নেবে সে দিয়েছে যে
সবচেয়ে দামি গোলাপ।

পথশিশুটা নিয়ে বুকে আশা
বেচবে গোলাপ সারাদিন
প্রেমের অর্থ বোঝেনি এখনও
শুধু দেখছে প্রেমের জন্মদিন।

একটু সময় জুড়ে থাকি
কলমে - রোজী নাথ

এই সময় আমার কল্পনায় ছিল ছোট এক পরিপাটি সংসার।

কারো অপেক্ষায় দোরগোড়ায় লুটোপুটি খাবে বাসন্তী সন্ধ্যা।

বেলা শেষে সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে তুলসী তলায় ঘর ফিরতি পাখিদের অবুঝ কথার সবুজ গল্পে হার মানা হার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো

রাতারাতি সবকিছু বদলে যাওয়া সন্ধ্যা বেলায় আমি যত‌ই বেমানান সেকেলে হ‌ই না কেন , মন'টা তো সেই তুমি ময় সবুজ পাতা।

একটু সময় শুধু তোমার নদীতে জল হয়ে থৈ থৈ করবো বলে সারা'টা দিন চাতক হয়ে বসে থাকতাম।

পুরোটা স্বপ্ন‌ই যেন আজ ঘোলাটে ঘষা কাঁচের জানালা হয়ে গেছে।

জাগতিক সকল বৈভবেই কি জীবনের ষোলকলা সুখ?

এ প্রশ্নটাই বারবার আমাকে বিদ্ধ করে বুকের ভিতর ঈশান মেঘের আকাশ এঁকে দেয় ।

জানি ভালোবাসা বহুমূল্য উপহার।

আমার‌ও তো বুকের ভিতর বুক'টা জুড়ে ইচ্ছে জাগে একটুখানি জুড়ে থাকি তোমার আকাশ।

ও ফেনীল ও ভ্যালেন্টাইন
কলমে - মোশ্ রাফি মুকুল

ও ফেনীল
জাগো,
ছুঁয়ে দাও সমুদ্র ও শিমুল গম্বুজ।
স্পর্শ ও উদ্ভিদ এক ধরনের সত্য।

ও প্রেম,ও ভ্যালেন্টাইন
কেনো গোনো স্বাভাবিক আয়ু-
ফেটে পড়ো বেদানা ত্বকের মতো?
শোনো;
এমনটা করলে বেরিয়ে
আসবে
কমনীয় শিস ও
বিচিত্র বিষের ক্ষরণ!

১৪/০২/২০২০.

ছুঁতে চেয়েছিলাম
কলমে - ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য

ছুঁতে চেয়েছিলাম দিগন্ত কে

উড়তে চেয়েছিলাম পাখিদের মতো ,
দু হাত মেলে ভাসতে চেয়েছিলাম আকাশের বুকে ,
পারলাম না !কোনটাই ----
হটাৎ একটা ঘুড়ি পেলাম ,আর লাটাই মাঞ্জা

ছুট্টে ছাদে গেলাম -------
চেষ্টা করে আকাশে পাঠালাম ঘুড়িটাকে |

কি আনন্দ আরও আরও দূরে ওড়ালাম ঘুড়িটাকে ,
বুকে বল নিয়ে আরও দূরে ওড়ালাম ঘুড়ি ,
যেখানে থেকে ঘুড়িটাকে একটা ছোট্ট দেশলাই বাক্সোর মতো লাগছে |
মনে হলো আমিই ভেসে বেড়াচ্ছি দিগন্তের বুকে ,
এবার আস্তে আস্তে নামিয়ে আনলাম ঘুড়িটাকে |

বুকে জড়িয়ে ধরলাম ,মনে হলো আকাশ টা আমার বুকে |
চুমু দিলাম ,যেন আমি জয় করলাম আকাশ কে |

চিৎকার করে বললাম হে মহাকাশ ----
এই ছোট্ট ঘুড়ি গায়ে লেগে থাকা গন্ধে আছে তোমার স্পর্শ |

এই ঘুড়ি আজ আমায় তোমাকে একটু ছোঁয়ার স্বাদ পূরণ করলো |

গলা জড়িয়ে এলো কান্নায় !

আস্তে আস্তে ছাদ থেকে নেবে ,আলমারির ওপরে
একটা ওড়না দিয়ে জড়িয়ে রাখলাম ,
দিগন্ত ছোঁয়া আমার ঘুড়ি কে |

কলমে ইন্দু (12.2.2020)

প্রেম প্রস্তাব রেখে,
এ দুটি হাত চেপে দিয়েছিলে কত শত প্রতিশ্রুতির মালা
সেদিন রাতে চোখ বুজে এ পৃথিবী আর তোমাকে সহজ ভেবে
একটি সুখের সংসার পেতে চেয়েছিলাম ।
তুমি চাইলে
তোমায় দিয়ে দিলাম হৃদয় উজাড়ে পৃথিবীর সবটুকু প্রেম
তুমি ধীরে ধীরে শুশুকের মতো সর্বস্ব লুটে নিচ্ছ
দিনে রাতে অক্টোপাসের মতো জরিয়ে,
আমি দেখছি ।
আমি বিলীন হয়ে যাচ্ছি
তুমি পূর্ণ মহাশক্তি বান দানব হয়ে
আমাকে ক্রীতদাসের মতো গ্রাস করে নিচ্ছ
কখন ঘুম ভেঙে হঠাৎ দেখি তুমি ভ্রমর সেজেছো
অন্য ফুলে ফুলে ।।
11.02.2020  11:19 AM

তুলি, কোনো অচেনা যুবকের পাশে তুমি
আর দাঁড়িও না সন্ধ্যার আবছা অন্ধকারে রাস্তার মোড়ে
কোনো অজানা অশান্ত প্রেমের অনুভূতি হঠাৎ
তোমার শরীর মন ছুঁয়ে দিলে
সে বালক তোমাকে নয়, তোমার রাত্রি নামা অস্তিত্বে চুমু দেবে ।
তুলি, অবিশ্বাস্য নয় ভালোবাসা
কাছাকাছি আসাও নয় প্রেম, কেবল মুখচোরা ওই
যৌবনের উত্তেজনা "ভালোবাসি" নামে
স্বাদ মিটিয়ে নেয় তোমাতে তাঁর একি সাথে ।
হে আত্মঘাতী বিষাক্ত প্রেমিক
মুখ ঢেকে কেন চুমু খাও প্রেমিকার দেহে ?
প্রাণের নেশাতুর প্রলেপ মুছে ---- তাঁর পদতলে চুমু খাও ।।
13.02.2020  9:12 AM

দুই টাকার আর্তনাদ প্রার্থনা
লেখক - আহসান হাবীব

একদা এক ছেলে ছিলো, ছেলেটির বয়স ছিলো বিশ বছর। কলেজে পড়ে ছাএ হিসেবে ভালো হলে ও কখনো তার মেধা প্রকাশ করতে পারেনি, কেননা কখনোই সে পড়াশোনা করেনি। সব সময় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ক্লাসে দুষ্টোমি আর অসৎ পথে পা বাড়িয়ে পার করেছে বছরের পর বছর। আর এভাবে চলতে চলতেই তার জীবনে আঁধার নেমে আসে। পরিস্থিতি আর বাস্তবতা তাকে এমন অনুশোচনায় এনে দাঁড় কড়িয়ে দেয় যে, দুই টাকার জন্য তাকে আর্তনাদ প্রার্থনা করতে হয়েছে। কারণ সে তিন টাকা পকেটে নিয়ে শত টাকার ও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে পায়ে হেটে কর্মের সন্ধানে। এমনকি এক পর্যায়ে সে অধীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর সেখান থেকে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে মাএ পাঁচ টাকার প্রয়োজন, কিন্তু তবু ও সে নিরুপায় ছিলো। ঠিক তখনই সে দুই টাকার অনুশোচনা নিয়ে গুটি গুটি পায়ে মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করতে করতে এগুতে থাকে। এমতাবস্থায় হঠাৎ চোখ ঘুরাতেই দেখতে পাই রাস্তার পাশে কাঁদার উপরে একটি পাঁচ টাকার কয়েন পড়ে আছে। তখন ছেলেটি বাস্তবতা থেকে শেখা দুইটি উক্তি বলেছিলো।--

"সৎ অনুশোচনা কখনো বৃথা হয় না"
"টাকা ছাড়া নেই গতি টাকাই চালায় জীবনের গতি"

হোক সেটা এক টাকা অথবা দুট টাকা। টাকার মূল্য দিতে শিখুন, সৎ পথে উর্পাজন করুন, সৎ কাজে ব্যবহার করুন নয়তো আপনাকে ও একসময় এমন অনুশোচনায় পড়তে হবে।

বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর, আর এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার অনুশোচনায় ছেলেটি তার জীবনের সব থেকে কষ্টের অধ্যায়টি বলে গেছেন।

""আগে স্বপ্ন দেখতাম
কিন্তু বাস্তবতা বুঝতাম না

আর এখন বাস্তবতা বুঝি
কিন্তু স্বপ্ন দেখি না""

""Night still comes
I sleep the same as before

But not with dreams
Sleep by pressing the ground""

(গল্পটির একটি অক্ষর ও মিথ্যে নয় সম্পন্ন বাস্তবতা থেকে সংগৃহীত)

মানব
- সানজিদা ইসলাম ছাফা

পৃথিবীতে আছে পৃথক ধর্মগ্রন্থ
আছে গোত্র,ধর্ম,বর্ণ।
আছে জীবন বাজি রাখার মতো
কিছু মহিয়ান মানব।

কিন্তু সত্যিকার অর্থে তারা কি মানব?
যারা ভূখারী পাস্তকে দূরে রাখে
মন্দির মসজিদে মাথা ঠুকে।
তাদের হাত থেকে অন্ন যায় না
নিরন্ন অসহায় পাস্থের পানে।

তারা কি সত্যিকার অর্থে মানব ?
যারা ভূখারী দেখলে মন্দির, মসজিদ
এবং নিজ পকেটে তালা ঝুলায়।

কি করে দাবি করে,তারা মানব ?
একটি বারও ফিরে চায়না তাদের পানে
যাদের ক্ষুধায় মানিক জ্বলে।

তারা হতে পারে না মানব,
যারা ধর্ম দিয়ে মানুষ ভেদ করে
ধর্ষক হয়ে সবার মাঝে বেঁচে থাকে।

তারা হতে পারে না মানব
যারা ধর্ম ফুকারি নিয়ে হৃদয়হীন
কাজ করে।

মানব তো তারাই
যাদের ধর্ম সমাজ ধর্ম,
যাদের ধর্ম মানব ধর্ম।

২১.০৩.২০১৯

মা'য়ের পালা
- সানজিদা ইসলাম ছাফা

পাড়ার ছোট্ট বোনকে খেয়েছ চেটে কারদানি জীণ স্বভাবে,
রেখেছ দ্রব গতামু লাশের বরনীয় স্থান নিকটে।
পাড়ার দিদিকে কথার ইন্দ্রজালে নিয়ে,নিয়েছো আপন স্থানে,
দরজার খিল লাগাতে সময় নেও নি করেছ ছিদ্র ঘায়েল।

পাড়ার বউকে টেনে হিচড়ে নিয়ে দলভুক্ত সভাতে,
শান্তি নিয়েছ দিয়েছ তাদের ভোগ করেছ আপন শোভাতে।
করজোড়ে মেয়ে হাতটি ধরে বলছে বাবা শান্তি চাই,
শরীর গরম শান্ত করতে আপাতত মেয়ে তোকে চাই।

একা পেয়ে নিগড় জুড়ে নিয়ে যাও বন বিছুটি,
ওখানে খেয়ে ছিটকে ফেলো জীবসত্তার অধিনে।
পরিবারে শেষ ভরসার কর্মরত মেয়েটিকে নাও তুলে,
তিমির ছায়ায় জাপটে ধরে খেয় রসালো ছুয়ায়।

বিচার নেই তোমার সমাজ মাঠে, খেতেই পারো
ইচ্ছে যাকে।তবে খাচ্ছ না কেন মাকে?

07.02.2020
10.37 pm

ওপাড়ের ডাক
কলমে - কিরণময় নন্দী

মাগো আজ ঝড়ের রাত
ভীষণ বজ্র-বৃষ্টিপাত
শহরতলির ফ্ল্যাটের ঘরে
আমি একা-শুনছি ওপাড়ের ডাক।

আজ মনে পড়ে মাগো তোমার কথা
মনে পড়ে ছোটবেলার গ্রাম
অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী
জীবন মানে লড়াই সংগ্রাম।

বাবার মৃত্যু বুকে চেপে মা
সেলাইমেশিনে তোমার কাজ
মানুষ আমায় হতেই হবে
যতই থাকুক কষ্ট-অভাব।

গাঁয়ের স্কুলে আমি প্রাইজ হাতে
চারিদিকে সেকি হাততালি
দূরে দেখি তোমার স্নিগ্ধ রূপ
যেন স্নেহময়ী চাঁদ একফালি।

সেবার আমার ভীষণ অসুখ
উত্তাপে গা যাচ্ছে পুড়ে
পাঁচদিন ঠায় বসে তুমি
সুস্থ হলাম তোমার যত্ন-আদরে।

দুটো শাড়ি শতেক ছিন্ন
তোমার নির্লিপ্ত মুখ
তোমার ছেলে মানুষ হবেই
এটাই নাকি আসল সুখ।

শনিবার রাতের শেষ বাস
সারা গাঁ স্তব্ধ-নিঝুম
আমার মা একলা জেগে রয়
চোখে নেই ঘুম।

আমার চোখে চাকরীর স্বপ্ন
তোমার পায়ে ঘুরছে সেলাইমেশিন
দিনরাত কাজ আর কাজ
শ্রান্ত শরীরে হাসি অমলিন।

নভেম্বরের শেষের দিকে
ডাকে এলো চাকরীর খবর
তুমি মা ভীষণ খুশি
আনন্দে চোখে অশ্রু ঝরঝর।

বছর খানেক কাটলো বেশ
ছিন্ন হলো গাঁয়ের টান
শহরতলির সাজানো ফ্ল্যাট
শুরু হলো নব জীবনের জয়গান।

খোকা তোমার বড়ো হয়েছে
মস্ত বড়ো অফিসার
বনেদী বাড়ির বৌমা এলো
ধীরে ধীরে সংসার হলো তার।

তোমার খোকার খোকা হলো
আনন্দ ফ্ল্যাট জুড়ে
বয়েস ভারে তোমার দেহ
রোগ যাতনা সারা শরীর জুড়ে।

আমরা তখন কর্মব্যস্ত
উচ্চপদে লালায়িত
ভুলেই গেছি তোমার কথা
আমার মায়ের নানা কষ্ট।

হয়নি সময় একটিবার
তোমার পাশে বসে
সুখ-দুঃখের জমানো ব্যাথা
তোমার কথা শুনতে।

বলতে চেয়েছো হাজার কথা
একরাশ একাকিত্ব
ব্যস্ততায় গিয়েছি ভুলে
তুমি রয়েছো নির্লিপ্ত।

মাগো সেদিন আমরা ভীষণ স্বার্থপর
ভুললাম তোমার কষ্ট তোমার শ্রম
আমার ছেলে মানুষ হবে
তোমার ঠিকানা হলো বৃদ্ধাশ্রম।

জানালার ধারে দাঁড়িয়ে তুমি
চশমা খুলে মুছলে চোখ
হাজার কষ্ট বুকে চেপে
বললে তুমি-তোদের ভালো হোক।

জানো মা,জন্মদিনে কত মানুষ
শুধুই মেকি শুভেচ্ছার ঢল
দামি উপহারে ভর্তি ঘর
মুহূর্তেই স্তব্ধ জনকোলাহল।

তোমার মৃত্যুর খবর এলো
সময় বড়োই কম
শেষকৃত্যের ব্যবস্থা হলো
মিটিয়ে দিলাম দাম।

দেশ বিদেশ ঘুরলাম অনেক
অনেক অনেক টাকা
বাহান্নতেই পত্নীবিয়োগ
সাজানো ফ্ল্যাট একেবারে ফাঁকা।

তোমার নাতি ইতালিতে আজ
পৃথিবী সেরা বিজ্ঞানী
নিজের দেশ পর হয়েছে
আমিও তাই নই দামী।

মাঝে মাঝে ফোনে কথা
হয়তো বেঁচে আছি কিনা
মাগো ভুলের মাশুল গুনছি আমি
সাজানো ফ্ল্যাট-নতুন বৃদ্ধাশ্রমের ঠিকানা।

মাগো আজ ঝড়ের রাত
ভীষণ বজ্র-বৃষ্টিপাত
শহরতলির ফ্ল্যাটের ঘরে
আমি একা-শুনছি ওপাড়ের ডাক।

লাল গোলাপ
কলমে - কিরণময় নন্দী

কম উষ্ণতায় মৃদু শীতে গড়েরমাঠে হালকা প্রাতঃভ্রমন
বিলুপ্তপ্রায় মাটির ভাঁড়ে হালকা চায়ের চুমুক---
বাঙালীর ট্রাডিশন মেনে হয়তো মিঠে রোদ গায়ে মেখে বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আড্ডা- নয়তো প্রেমিকার সাথে ঘনিষ্টতা বাড়িয়ে আগামী স্বপ্নের জাল বোনা-নয়তো ছোটো পরিবারকে সাথে নিয়ে উইক এন্ড কাটানোর এক বিরল মুহূর্ত।
পথেরধারে ফুলওয়ালার থেকে লাল গোলাপ কিনে প্রিয়জনকে উপহার- সত্যিই অনাবিল খুশির বেহেশত সুখ।
এই লাল গোলাপের মরশুমে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে আমার ভূস্বর্গ শুভ্র নীহারে আবৃত। লে-লাদাখ-সিয়াচেন তুষারে নিমজ্জিত।
পুলওয়ামার রাস্তায় এখনো ওদের লাল গাঢ় চাপচাপ রক্ত লেগে রয়েছে....
সাড়ে তিনশো দিন কেটে গেলো, আর তো কটা দিন...বছর ঘুরলো বলে,
সীমান্ত পাহারাদার তোমার রক্তে আমি আজও নিরাপদে, আমরা এখনো আমার আমার করে চিৎকার করছি।
ভালো না লাগলে লাল গোলাপ ছিঁড়ে ফেলছি অনাদরে।
শহীদ তুমি ভালো থেকো অমৃতলোকে। তোমার আত্মবলিদান কটি হৃদয়ে সিস্টলিক-ডায়াস্টলিক চাপ অতিক্রম করবে জানি না। তবুও তুমি ভালো থেকো। লাল গোলাপে তোমায় মেকি ভালোবাসা দিবসের প্রাক্কালে হাজারো স্যালুট।

তুমি যদি হও আমার
কলমে - কিরণ মাহমুদ মান্না

তুমি যদি হও আমার,
বুকের বাম পাশেটায় তোমার জন্য
একটা ঠিকানা গড়েবো।
সেই ঠিকানার চারপাশে প্রেমের দেয়াল।
দেয়াল জুড়ে ভালোবাসার হাজার রঙে,
মনের মাধুরী মিশিয়ে শুধু তোমার ছবি আঁকা।
ভিতরে ছোট্ট একটা চিলেকোঠা, সেখানে-
আদর মায়া মমতা দিয়ে সাঁজিয়েছি শুধু তোমার জন্য।
সেই চিলেকোঠায় হৃদ পালঙ্কে
তোমাকে ভালোবাসার গান শুনিয়ে
ভরিয়ে দেবো তোমার প্রতিটি দিবস নিশিত রাত।

তুমি যদি হও আমার....
আমার দুটি চোখের একদম গভীর প্রান্তে
তোমাকে লুকিয়ে রাখবো।
যেন আমি ছাড়া আর কেউ তোমার দিকে
নজর না দিতে পারে।
তুমি শুধু একান্তই আমার জন্য সৃষ্টি।
আমার যখন মন চায় তোমাকে মন ভরে দেখবো,
কারণে অকারণে তুমি যদি মান অভিমান করো,
আমি হাসি মুখে আদর মেখে সেই মান ভাঙাবো।
তুমি যদি হও আমার....

আমার এই ছোট্ট জীবনে তোমাকে
ভালোবাসার ছায়া দিবো।
কোন দুঃখের ঝড় ছুঁতে দেবো না তোমায়,
এক সঙ্গে পথ চলবো সারাজীবন।
দু'জন দুজনাকে আপন করে নেবো,
দুটি দেহ এক আত্মা হয়ে বেঁচে রবো অনন্তকাল।

তুমি যদি হও আমার....
আমি, আমি এই ভূমণ্ডলের সমস্ত সুখ
তোমার হাতের মুঠোয় এনে দেবো,
শুধু এই দুটি হাত ধরে পাশে থেকো আজীবন।

ডাকবাক্স ( তিন )
কলমে - ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী
"সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের ধারায়"
অনেক গুলো সময়, ক্রমে দিন; মাস অতিক্রম করে অনেক বছর গড়িয়েছে। আস্তে আস্তে। সময় কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা করে না। তার নিজের ইচ্ছায় যা করার করিয়ে নেবে। সময় এর সাথে সাথে মুখার্জী পরিবারের ও অনেক রকম পরিবর্তন হয়েছে। টুপ্পু-টুবলু-নন্দিনী আজ অনেক পরিনত। রমেন বাবু শান্তা দেবীর বয়স অনেকটাই বেড়েছে। রমা দেবী তো কবেই চোখ বুজেছেন। সৌমেন বাবু আর সুকন্যার কথায় পরে আসব। একটু ধৈর্য্য ধরুন পাঠকগন। অনেক ঝড় বয়ে গেছে এই পরিবার টার ওপর দিয়ে। শুধুমাত্র ওই অপয়া ডাকবাক্স টার জন্য।
-হ্যাঁ হ্যাঁ ওটা অপয়াই আমাদের জন্য।
-ওটা না থাকলে মুখার্জী ম্যানসন এইভাবে ধ্বংস হত না।
-ডাকবাক্সে আসা চিঠি গুলো এই ভাবে সব শেষ করে দিত না।
রমেন বাবু এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে থামলেন।
শান্তা দেবী তাঁকে আশ্বস্ত করতে ব্যস্ত হলেন।
এখন এই বাড়িতে শুধু রমেন বাবুর পরিবার।
রমেন বাবু আর শান্তা দেবীর চোখে কালো মোটা ফ্রেমের চশমা উঠেছে। জামাকাপড় এর ধরন খুব একটা খারাপ না হলেও কস্মিনকালেও তাঁর পরিবার এই ধরনের জামাকাপড় এ অভ্যস্ত ছিল কিনা তা প্রশ্নাতীত। নন্দিনী আগের থেকে অনেক পাল্টে গেছে। সেই চার্মিং ভাব টা নেই। সারাক্ষন জানালায় তাকিয়ে কী যে ভাবে! হয়তো ভাবে মা এর কথা শুনলে তার এই অবস্থা হত না।

মুখার্জী বাড়িতে ধূমধাম করে দুর্গা পূজা হয় প্রতি বছর। অনেক দিন পর আনন্দে মেতে ছিল সবাই। সেবার ই তো টুবলু বি বি এ করে ফিরল বিদেশ থেকে। সবাই কত খুশি তার সাফল্যে। রমেন বাবু পার্টি ও দিলেন। সেবার শুধুই খুশিতে ঝুলি ভরে ছিল মুখার্জী পরিবার। নন্দিনী কলেজে প্রথম হল। টুপ্পু হঠাৎ বানিজ্য বিভাগের পড়া শেষ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে ক্রাইম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করল। প্রথম টা বাবা, রমেন বাবু রেগেও গিয়েছিলেন। তাঁর ভাই সৌমেন বাবু বোঝানোর পর শান্ত হলেন। বললেন,
-ছেলের খুশিতেই তিনি খুশি।
শুধু খুশির হাওয়া বইছিল মুখার্জী পরিবারে।
যইহোক আজ দুর্গা পূজার দিন উপস্থিত। পরিবারের সবাই ব্যস্ত।আবার আগের মত সবাই স্বাভাবিক। দাদুনের মৃত্যুর পর।সবাই আস্তে আস্তে সব ভুলতে পেরেছিল। পূজার প্রস্তুতি তুঙ্গে। এরকম করে কয়েকটি দিন খুব আনন্দে কাটাল সবাই। খুব মজা করে। পূজো শেষে বাড়ি পুরো ফাঁকা হল। আবার যে যার নিত্য জীবনে ফিরল।
টুবলু ও নিজেদের পারিবারিক বিজনেসে যোগ দিল। এইরূপে ই চলল সবার নিত্যকর্ম।

নন্দিনী কোনো দিন ডাকবাক্স খোলে না। কিন্তু আজ কাল কি একটা নেশায় যেন ও বারবার ডাকবাক্স এর দিকে ছুটে যায়। কোন কিছুর সন্ধানে। কারুর চিঠির আশায় সে বারবার ডাকবাক্স এর দিকে ছুটে যায়। ঠিক ধরেছেন। চিঠি অভিসার। একমাত্র মাধ্যম এই ডাকবাক্স। আজ একটা চিঠি এসেছে। অনেক প্রতীক্ষার অবসান।
বিশেষ কিছু লেখা ছিল না, শুধু লেখা ছিল__
-আজ বিকেলে দেখা কর, ময়দানে।
-আসিস কিন্তু।
ইতি
ঋ।
বিকেলে মা কে মিথ্যে বলে নন্দিনী বেরোল বাড়ি থেকে। লোকানো প্রেমিক এর ডাকে। বাড়িতে কেউ জানতে ও পারল না।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল। সবাই একে একে বাড়ি ফিরল। নন্দিনী ছাড়া। সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ। শান্তা দেবী আর রমা দেবী কেঁদেই চলেছেন। যখন ঘড়ি রাত আটটা ছুঁই ছুঁই, টুবলু বলল আর দেরী না করে চলো পুলিশের কাছে যাই। সামনেই ভবানিপুর থানায় তারা মিসিং কমপ্লেন করল। দিন যায়, রাত যায়, নন্দিনী র খোঁজ মেলে না। তবে কী পরিবারের রাজকন্যা র সাথে অঘটন কিছু ঘটল!

সবাই একত্রিত হয়ে ড্রয়িং রুমে বসে আছে চিন্তিত মুখে। এমন সময় বাড়ির টেলিফোন বেজে উঠল। টুপ্পু ফোন টা ধরল।
-হ্যালো, হ্যাঁ
-কি বলছেন?
-অসম্ভব!
-আপনারা ভালো করে দেখুন।
এই প্রন্তের কথাই সবাই শুনতে পেল।
ও প্রান্ত কি বলল কেউ বুঝে উঠতেই পারল না।
কেউ কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই টুপ্পু বলল,
পুলিশ স্টেশান থেকে---
এখুনি হসপিটালে যেতে বলেছে।
বলেই সবাই বেরিয়ে গেল। রমা দেবী আর সুকন্যা ছাড়া। গিয়ে যা দেখল, আর যা শুনল তা কল্পনাতীত। আকাশ থেকে পড়ল সবাই।
-কী?!
-রেপ?!
-কারা, কেন?
আবারও একগুচ্ছ প্রশ্ন।
যতদিন না নন্দিনী সুস্থ হয়ে উঠছে কিছুই জানা সম্ভব নয়। ডাক্তার বাবুর সাথে কথা বলে জানা গেল নন্দিনী কে ড্রাগ দিয়ে বারবার রেপ করা হয়েছে, গত তিন দিন ধরে। শুধু প্রানেই বেঁচেছে সে। সুস্থ হতে সময় লাগবে। তারা এও সিদ্ধান্ত নিল, ভালো নার্সিং হোমে নন্দিনীকে তারা স্থানান্তরিত করবে।

বাড়ি তো ফিরল সবাই। একরাশ কালো মুখ নিয়ে। রমা দেবী সব শুনে শুধু আর্তনাদ করলেন--
-এ কার অভিশাপ!
টুপ্পু ক্রাইম নিয়ে পড়ছে আগেই বলেছি। তাই তার মন এখানে সেটাই খুঁজছে। খুঁজতে খুঁজতে সে ঠাম্মির ঘরে চলে গেল। তাকে অনুসরণ করল টুবলু। ঠাম্মির ঘরেই তাদের বোন থাকে। আবার ফেলুদা আর তোপসে একসাথে। ঘরে গিয়ে অনেক খোঁজার পর তারা দুটি চিঠি হাতে পেল।
একটা দাদুন কে লেখা।
আর একটা তাদের বোন কে লেখা।
সব চিঠি গুলোই কাগজ থেকে শব্দ কেটে লাগানো। কোনো হাতের লেখা নয়।
দাদুনের চিঠির ভাষা এই রকম_
-আপনার পরিবারে কালো ঝড় নামতে চলেছে।
-কালকের মধ্যেই আপনি খুন হবেন। কিন্তু কেউ টেরও পাবে না। সাধারন মৃত্যু ভাববে সবাই।
-কাল আপনার শেষ দিন।
-এই চিঠিতেই আপনার মৃত্যু।
-এটাই ডাকবাক্সে থাকা আপনার নামের শেষ চিঠি।

অবিশ্বাস্য ভাবে পরদিন ই কিন্তু দাদুন মারা যায়।
দাদা তোর মনে আছে?
তারিখ টা দেখ।
টুপ্পু বলল।
টুবলু তারিখ মেলাল।
হ্যাঁ এটাই ডাকবাক্স এ আসা দাদুনের শেষ চিঠি।
তাদের অতীত স্মৃতি তাজা হল।
নন্দিনী র চিঠির উল্লেখ আগেই করেছি।
তারা চিঠি দুটো পকেটে রেখে ড্রয়িং রুমে সবার মাঝে এল।

#চলবে

তিন ঋতুর সংঘাত
কলমে - সম্পা মাজী

বর্ষা বৃষ্টিকে বিদায় জানানোর পরে ,
নাছোড়বান্দা বৃষ্টি এসেছিল বারে বারে ।
যদিও বৃষ্টিই পারে যখন খুশি আসতে,
অন্যের পথে ঝামেলা সৃষ্টি করতে ।
বৃষ্টিকে দেখে শীত ও ভেবেছে ,
যদি বৃষ্টি করেতে পারে আমি কেন করবো না।
বৃষ্টি 'আসছি' বলেও না গিয়ে এসেছিল ফিরে,
আমিই বা তাড়াতাড়ি ফিরে যাই কেমন করে ।
অনেকেই চায় আরও ঠান্ডা হোক এই শীতে,
তাই আমি ও চাইছি আর ও কিছু দিন থাকতে।
ওদের দেখে গরম ভাবছে মনে মনে,
তোমাদের যত দিন মন চায় থাক না ওখানে।
কিন্তু আমি যদি একবার আসতে পারি ,
এতো সহজে কিছুতেই যাবো না তাড়াতাড়ি।
তা ওই বৃষ্টি যতোই বাঁধা সৃষ্টি করুক আমার পথে ,
আমি যাবো না এখান থেকে কোনো মতে ।
তোমরা দুই জনে থেকে ছিলে যত দিন,
আমি একাই থাকবো তার থেকে বেশি দিন।

ট্রাজেডি
কলমে - ননীগোপাল মিশ্র

অগত্যা মহা প্রস্থানের পথে----
জানা-অজানা, অদম্য কৌতুহল,
চেতনার নতুন কুঁড়ি এসেছে,
জীবন রুপী বৃক্ষ শাখে।।

নিঃশ্চুপ পাতাল পুরীর রহস্য---
আড়ালে ডাকে অহরহঃ,
শুনি ঐ অমৃত বাণী,
জীবন নদীর ঘূর্ণিপাকে।।

অমলিন হৃদয়ের রক্ত জবা----
সাধনার মহা সিদ্ধ পীঠ,
বাক্যবাণে বিদ্ধ সময়ের নগরী,
রহস্য ঘেরা জীবন মরু প্রান্তর।।

অভিমানে রঞ্জিত রাগিনী-----
নির্গুণ ব্রক্ষ্ম নিষ্কাম মতি,
জগৎ সত্য সৃষ্টি রুপী জ্যোতি,
যেন সেই অনুরাগে ভরে অন্তর।।

খুকির ভালোবাসা
কলমে - জুলফিকার আলী

ছোট খুকি দৌড়ে গিয়ে
প্রশ্ন করে মাকে,
ভালবাসা দিবস এলো
ফুল দেই মা কাকে?

মা বলল-সবচে' বেশি
ভালবাসো যাকে,
ভালবাসা দিবসে আজ
ফুল দিয়ে দাও তাকে|

অমনি হেসে ছোট খুকি
ফুল যে দিল মাকে,
কারণ খুকি ভালবাসে
সবচে' বেশি তাকে|

মা ও মেয়ের অটুট বাঁধন
সারাজীবন থাকে,
ভালবাসা দিবসে তাই
মাকেই কাছে ডাকে|

একটা মন খারাপী বিকেল বেলায়, নিবির সংযোগের ব্যবধান
অতল স্পর্শী প্রেমের বিচ্ছেদ
আজ জীবনের মানে বদলে গেছে, পৃথিবীর  জংজালে
ফিরতি ট্রেনের হুইসেলে কতটা ব্যাথা বাজে
নব গঠিত হৃদয়ে পাতা ট্রেন লাইন হয়তো বা জানে
সিক্ত সন্ধ্যার হাওয়া স্তম্ভিত চোখের ইশারায় কি যেন বলে যায়
আবছা হয়ে আসে দীগন্তের লাল
শরীর চলে যায় বহুদূর
বেড়া ভেঙে ধুলো মাখা পথ পেড়িয়ে বাস স্টপে, নদী তীরে
অদৃশ্য বন্ধন ক্রমে অদৃশ্যে হারিয়ে যায় -----
মনটি পড়ে থাকে তবু তোমার নীল ছায়া ঘেড়া
মনের বারান্দায় ।
- মোহন দাস

02.02.2020  9:43 PM (কোলকাতা)

একটা মিষ্টি গোলাপ এর মিষ্টি গন্ধের মত তোমার চুল
গোলাপ ছুঁলে যেন তোমাকেই ছুঁয়ে দিই -------
তোমার কাঁধ, পিঠ আর ঘারের দু'পাশ
আমার শানিত তীর্যক আঙুলে ।
প্রাণ বলে তোমার ওই রক্তিম জেলির মতো ঠোঁটে
একটা বিষাক্ত ভ্রমর হয়ে ছুটে যেতে
একটা উষ্ণ স্পর্শ দিতে
একটা গভীর আলিঙ্গনে হৃদয়ে তোমাকে মিশিয়ে দিতে ।
হায় !
নেশাতুর আমি তোমায় না পেয়ে,
একটা লাল গোলাপে আলতো চুম্বন রাখি ।।
- মোহন দাস

(উড়িষ্যা)
07.02.2020  9:56 AM

ঈর্ষা
কলমে – মল্লিকা গুহ ঠাকুরতা

তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকে সুমনা | একটি মন্টেসরি স্কুলে ভর্তি করেছে তার মেয়েকে| মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসা – নিয়ে আসার সময় সে দেখে ওই স্কুলের অন্যান্য বাচ্চাদের মায়েরা একসাথে দল বেঁধে গল্প করে | হাসি – ঠাট্টায় মেতে ওঠে নিজেদের মধ্যে | এমনকি তারা পরস্পর পরস্পরকে তুই বলে সম্বোধন করে | সুমনা একটু তফাৎ এ থেকেই তাদের দেখে | তার নজরে এলো এদের মধ্যে একজন মা স্কুল এর ঠিক উল্টো দিকের একটি বাড়ি থেকে তার ছোট্ট ছেলেকে স্কুল এ নিয়ে আসে | ছোট্ট ছেলেটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয় | খুব হাসিখুশি আর ছটফটে|  বাচ্চাটিকে খুব ভালো লাগে সুমনার | বাচ্চাটির মতোই তার মা ও খুব হাসিখুশি আর মিশুকে | এমন মজা করে কথা বলে যে শুনে সবাই হাসতে  হাসতে  কুটিপাটি হয় | তার কথা গুলো যখন সুমনার কানে আসে,তফাতে থেকেও হাসি  ছড়িয়ে পরে তার মুখে | সুমনা জানতে পারে তার নাম অপু | ধীরে ধীরে সুমনাও পা বাড়ায় অপুর দিকে,যোগ দেয় হাসিতে,তারও বলতে ইচ্ছে করে অনেক মজার কথা | একদিন গল্পগুজব শেষে সব মায়েরা যখন ফিরে যাচ্ছে,সেইসময় সুমনা আরেকটু বেশি আলাপ জমায় অপুর সাথে | মোবাইল নম্বর ও আদান – প্রদান হয় নিজেদের মধ্যে | প্রায়ই সুমনা ফোন করে অপুকে | বন্ধুত্ত্ব বেড়ে ওঠে তাদের মধ্যে | একদিন ছেলেকে নিয়ে স্কুল এ আসে না অপু | সেইদিন অপুর খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যায় সুমনা | অপুর সাজানো ঘর দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় তার | জানতে পারে অপু’রা এখানে ভাড়া থাকে | কিছুদিন এর মধ্যেই তারা চলে যাবে তাদের নতুন বাড়িতে | ফোনেই সুমনা অপুকে জানায় – তার স্বামীর অত্যাচার ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই স্বামীর সাথে তার বিচ্ছেদ এর সিদ্ধান্ত নেবার কথা|সব শুনে তাকে ভরসা দিয়েছে অপু | বলেছে – আমি তোর পাশে আছি , যখনই দরকার মনে হবে আমাকে জানাতে সংকোচ করবিনা কখনো |

সুমনা অপুর বাড়ি চিনলেও,অপু কিন্তু চেনেনা সুমনার বাড়ি | একসময় অপুরা তাদের পুরোনো বাড়ি পরিবর্তন করে চলে যায় নতুন বাড়িতে | তারা যে নতুন বাড়িতে যাবে সেকথা জানতো সুমনা | একদিন রান্না করতে করতে তার কানে ভেসে আসে খুব পরিচিত গলার স্বর | রান্নাঘরের জানালা দিয়ে পাশের বাড়ির একটি ফ্ল্যাট এর বারান্দায় চোখ পড়তেই আনন্দে ফোন করে অপুকে | অপু ফোন ধরতেই তাকে বারান্দায় আসতে বলে | অপু বারান্দায় বেরিয়ে এলে,সে হাত নাড়ায় তার রান্নাঘরের জানালা থেকে | দুজনে দুজনকে দেখতে পায় | খুব আনন্দ হচ্ছে তাদের | এখন থেকে দুই বান্ধবী একে অপরের প্রতিবেশী | অপু,সুমনা কে বলেছিলো এখন থেকে তারা তাদের ছেলে – মেয়েদের নিয়ে একসাথেই স্কুল এ যাতায়াত করবে , কিন্তু নানান কাজে সঠিক সময় কখনোই দিতে পারে না সুমনা , তাই স্কুল এই দেখা হবে | অপু যে এখন সুমনার প্রতিবেশী সেই খবরটা আগেই স্কুল এর অন্য বান্ধবীদের আনন্দের সাথেই জানিয়ে দিয়েছিলো সুমনা|সেই খবরটা তাদের কাছ থেকেই জানলো অপু |
ইদানিং অপু তার ছেলেকে আর স্কুল এ নিয়ে আসে না | অপুর স্বামীই ছেলেকে স্কুল এ দিতে আসে,অপু নিতে আসে | খুব রাগ হয় সুমনার, বাবাঃ কী এমন ঘরের কাজ থাকে অপুর যে ছেলেকে স্কুল এও নিয়ে আসতে পারে না সে! আরো বেশি রাগ হয় যখন নিজের মেয়েকে স্কুল এ নিয়ে যাবার জন্যে তৈরী হতে হতে সে তার ঘর থেকে শুনতে পায় – ফোনে অপু তার স্বামীকে বলছে ছেলেকে স্কুল এ দিয়ে আসার সময় কি কি নিয়ে আসতে হবে | মাথাটা গরম হয়ে যায় সুমনার | সে তো তার সব কাজ একাই করে আর অপু কেমন ফোনে তার স্বামীকে আদেশ করে | সুমনা দেখেছে অপু বাড়িতে না থাকলেও তার স্বামী দিব্যি কাঁচা জামাকাপড় মেলে দেয় বারান্দায় | বাপরে! অপুর কতো কাজ করে দেয় তার স্বামী |অপুর স্বামী যে ঘরের কতো কাজ করে সেই খবরটা স্কুলের অন্যান্য মা এ দেরও তো জানা উচিৎ | তাই সকালে যখন ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে চলে যায় অপুর স্বামী , তখন দায়িত্ব নিয়ে সুমনা সবাইকে জানায় যে অপু কিভাবে তার স্বামীকে খাটায় |

প্রতিদিন কতো রাত করে অফিস থেকে বাড়িতে ফেরে অপুর স্বামী | তবুও ছুটির দিনে স্বামীর সাথে ছেলেকে নিয়ে কোথাও না কোথাও যেতেই হবে অপুকে| সুমনা জানে, অপু মাঝে মাঝেই ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতে যায় | সেইসময় সারাদিন অফিস করার পর-ও কত রাতে ছেলে,বৌকে নিয়ে বাড়ি ফেরে অপুর স্বামী | সুমনা মনে মনে ভাবে – ‘ কেন রে অপু?ছেলেকে নিয়ে একা একা বাপের বাড়ি যেতে পারিস, আর ফেরার সময় সাথে বর না হলে চলে না তোর,না ? যত্তসব ন্যাকামী!
একদিন ঠিক বাচ্চাদের স্কুল ছুটির সময় ঝিরঝিরে  বৃষ্টি শুরু হয় | ছাতা মাথায় দিয়ে বাচ্চাদের ছুটির অপেক্ষা করছিলো তাদের মায়েরা | ছুটির সময় অপুর ছেলের ঠিক আগেই স্কুল থেকে বেরোলো সুমনার মেয়ে | ঠিক তক্ষুনি একটা ফাঁকা রিক্সা পেয়ে,মেয়েকে নিয়ে বাড়ি চলে এলো সুমনা| পরে অপুকে ফোন কোরে হাসতে  হাসতে  বললো – ‘ কিরে কেমন চমক দিলাম ? নিশ্চই খুজঁছিলি আমাকে |’
প্রতিদিনের মতো আজও অপুর স্বামী তার ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছে | ছুটির সময় মেয়েকে আনতে যাবে বলে তৈরি হচ্ছিলো সুমনা |হঠাৎ তার মোবাইল টা বেজে উঠতেই বড্ড বিরক্ত হোলো সে – এইসময়ে আবার কে ফোন করলো ? মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখলো,অপু ফোন করেছে | ফোন ধরে বললো – হ্যা বল | ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ধরা গলায় অপু জানালো তার শরীরটা খুব খারাপ, অনুরোধ এর স্বরে জানতে চাইলো সুমনা আজ তার মেয়ের সাথে অপুর ছেলেকেও স্কুল থেকে নিয়ে আসতে পারবে কিনা ? প্রথমে বিরক্ত হোলো সুমনা | তারপরেই মনে  হলো এইতো অপুকে একটু শায়েস্তা করার একটা সুযোগ পাওয়া গেছে | ধীর স্বরে বললো এখনো তো সময় আছে ,আস্তে আস্তে তৈরি হয়ে চলে যা না | একটু যদি দেরি হয়ে যায় কিছু হবে না তাতে | সুমনা স্কুল এ পৌঁছে দেখলো অপু তার আগেই স্কুল এ পৌঁছে গেছে | এই অবস্থাতেও অপু ছেলেকে নিতে এসেছে দেখে অন্য মায়েদের কতো আহা – উঁহু | অপু ছেলেকে নিয়ে চলে যাবার সময় সুমনা তার সাথে কথা বলতে এগিয়ে গেলো, কিন্তু অপু বললো, ‘ শরীরটা আজ ঠিক নেই পরে কথা হবে ‘ বাড়ি ফিরে সুমনার মনে হলো আজ স্কুলে অপুকে নিয়ে যা আদিখ্যেতা দেখলাম তার উপরে অপু যদি তার কথা সবাইকে বলে থাকে তবে তো না জানি অন্যরা তার সম্পর্কে কি ভাববে ? তাই আর একটুও সময় নষ্ট না করে তার কাছে যতজনের ফোন নম্বর ছিল একে একে সবাইকে ফোন করে জানালো আজকে ঘটে যাওয়া মজার কথা মানে অপুর মামাবাড়ির আব্দারের কথা| সাথে একথাও বললো যে এতোই যদি অসুস্থ থাকে তবে কি দরকার ছিলো ছেলেকে স্কুলে পাঠাবার |কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হতো একদিন ছেলেকে স্কুলে না পাঠালে ? তার উপরে অপুর ছেলে যা দস্যি, তাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসা অন্তত তার পক্ষে সম্ভব ছিলো না মোটেই | স্কুল থেকে আনতে যখন বললো, তখন তো অন্তত বলতে পারতো তুই দুটো বাচ্চা কে রিক্সা করে নিয়ে আয়,ভাড়া আমি দিয়ে দেবো ইত্যাদি ইত্যাদি… | কথাগুলো জানাতে পেরে এখন অনেকটাই শান্তি বোধ হচ্ছে তার | স্কুল থেকে ফিরে খুব ক্ষিদে পেয়ে গিয়েছিলো তার মেয়ের,মাকে অনেকবার সেকথা বলেছেও সে | এবার শান্তি মনে  মেয়েকে খেতে দিলো সে |

কয়েকদিন পরেই সুমনার মেয়ের জন্মদিন, কিন্তু কাল থেকে কয়েকটা দিন স্কুলে পড়াশুনা বন্ধ| কাছেই একটা মাঠে বাচ্চাদের স্পোর্টস এর জন্যে তৈরি করতে ব্যাস্ত থাকবেন শিক্ষিকারা | তাই আজই মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাচ্চাদের উপহার দেবার ব্যবস্থা করেছে সুমনা | স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মনে মনে  ভাবলো, এর আগে স্কুলে যখনি কোনো বাচ্চার জন্মদিন পালিত হয়েছে ঠিক তার পরেরদিনই নিজের ছেলের হাত দিয়ে সেই বাচ্চাটিকে কোনো না কোনো উপহার দিয়েছে অপু | তার মেয়েকে নিশ্চই কোনো উপহার অপু দেবে না | আরে বাবা বড়োদের মধ্যে যাই হোক না কেনো এতে বাচ্চার কি দোষ ? তার ভাবনায় বিরতি পড়লো যখন সে শুনতে পেলো অপু তার নাম ধরে ডাকছে,ঠিক শুনছে তো সে! হ্যা, ঠিকই শুনছে | অপু তার নাম ধরেই ডাকছে | রান্নাঘরের জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে উত্তর দিলো সে | অপু জানতে চাইলো কবে তার মেয়ের জন্মদিন ? সে জানালো, সাথে আজ কেন জন্মদিনের উপহার বিতরণ করেছে সেকথাটাও জানিয়ে দিলো | প্রথমে একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলো ,পরে ভাবলো অপু যদি সবার সামনে তার মেয়েকে কোনো উপহার দেয় তবে কেমন হবে ব্যাপারটা |তাড়াতাড়ি মোবাইল থেকে ফোন করে স্কুল এর কয়েকজন মা বান্ধবীদের জানিয়ে দিলো তার মেয়ের জন্মদিন কবে,এই ব্যাপারে অপুর কতটা কৌতুহল| সব ব্যাপারে অপুর এতো বাড়াবাড়ির কথা সবাইকে জানাতে পেরে স্বস্তি পেলো সে |
পরের দিন থেকে শুরু হোলো বাচ্চাদের স্পোর্টস এর অনুশীলন | একে একে মায়েরা যে যার বাচ্চাকে নিয়ে পৌঁছচ্ছে মাঠে | অপু তার ছেলেকে নিয়ে আসতেই সুমনা কয়েকজন বান্ধবীর সাথে কিছুটা তফাতে গিয়ে জমিয়ে শুরু করলো গল্প | সাথে সাথেই সে নজর রাখছে অপুর ওপর | অনুশীলন শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত অপু তার ছেলেকে নিয়েই ব্যাস্ত আর শুরু হতেই কয়েকজন বান্ধবীর ডাকে মাঠের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলো | মনে  মনে  যেন অপুর জন্যেই অপেক্ষা করছিলো সুমনা | অপু কিন্তু এল না, এদিকে ক্রমশ অন্য বান্ধবীরাও একে একে তাকে ছেড়ে যোগ দিচ্ছে অপুর পাশে | অনুশীলনের দিন গুলি পেরিয়ে স্পোর্টস এর দিন টাও কেটে গেলো | স্কুলে আবার শুরু হোলো পড়াশুনো |

সেই মাসটা ছিলো স্কুলের কয়েকজন বাচ্চার ওই স্কুল-এ শেষ মাস | তারা এবার মন্টেসরি স্কুল ছেড়ে ভর্তি হচ্ছে নতুন স্কুলে | সুমনা জানতে পারলো সেই দলে অপুর ছেলেও আছে | বাচ্চাগুলোর ওই স্কুলের শেষ দিন কাটলো ভালোভাবেই | তারা সবাই উপহার বিতরণ করলো স্কুলের বাকি বাচ্চাদের,কিন্তু কয়েকজন মা নিজেদের মধ্যেই শুরু করে দিলো চোখের জল ফেলা| অবশ্যই সেই দলে অপুও আছে | এসব দেখলে পিত্তি জ্বলে সুমনার |
কদিন হলো এই পাড়ায় এসেছে , এর মধ্যেই পাড়ার লোকজনের সাথে কেমন ভাব জমিয়ে ফেলেছে অপু’রা | ঘর থেকেই সুমনা শুনতে পায় ছেলের সাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অন্য ফ্ল্যাটের লোকজনদের সাথে অপু কেমন গল্প করছে জোরে জোরে | স্বামীর সাথে যখন ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে যায় তখন অন্যদের সাথে এতো হাসাহাসির  কী আছে ? পাড়ার ছোটোখাটো অনুষ্ঠানে অপুর ছেলে যেন মধ্যমনি | এখনো অনেক রাত পর্যন্ত কান পাতলেই শুনতে পায় অপুদের ফ্ল্যাট থেকে ভেসে আসা মৃদু হাসির  শব্দ, আর মনে মনে  ভাবে স্কুলের মতোই কবে এই পাড়া ছেড়ে যাবে অপুরা ?

ভুল
কলমে – সম্পা মাজী

তিয়াসা চাঁইপাট কলেজে ভর্তি হয়েছে বাংলা অনার্স নিয়ে ।কলেজ যাওয়া জন্য ওর বাবা স্কুটি কিনে দিয়েছে। কলেজ টা রাস্তার ধারে কিন্তু ওদের বাড়িটা গ্রামের ভেতরে। তিয়াসা কয়েক টা বান্ধবী ঘাটাল কলেজে ভর্তি হয়েছে, তিয়াসা ও চেয়েছিল ওই কলেজে ভর্তি হতে। কিন্তু যখন ওর বাবা বলল চাঁইপাট কলেজে ভর্তি হলে স্কুটি কিনে দেবে তখন ও আর না বলল না।

তিয়াসারা এক বোন এক ভাই, তিয়াসা বড়। ওর ভাই এই বছর মাধ্যমিক দেবে। ওরা দাদু, ঠাকুমার কাছে থাকে। তিয়াসা যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত তখন ওর মা ওর বাবা কাছে গুজরাট চলে যায়, বাবার কাজে সাহায্য করতে। ওই বয়সে ওখানে গিয়ে পড়াশোনা করাটা খুব চাপের ,তাই ওরা পড়ার জন্য এখানে রয়ে যায়  দাদু ঠাকুমা কাছে। স্কুল ছুটি থাকলে কিছু দিন ঘুরে আসে বাবা মা এর কাছ থেকে।

তিয়াসা ছোট থেকেই খুব আদরের ,যখন ই যেটা চেয়েছে সেটাই পেয়েছে। ওর বাবা পড়ার এবং হাত খরচের টাকা মাসে মাসে পাঠিয়ে দেয়। তাছাড়া কাকা বা দাদু তো আছেই।এখানে থাকতে ওদের কোনো অসুবিধা হয় না।

তিয়াসা স্কুটি নিয়ে কলেজে যায়, ওর সাথে থাকে বান্ধবী নেহা। প্রথম প্রথম কলেজ খুব ভালো লাগলো। কলেজে কোনো ধরাবাঁধা টাইম নেই, যখন ক্লাস থাকবে তখন আসলেই হবে। স্কুল এর মতো সারাদিন বসে থাকতে হবেনা ,আর কলেজে ক্লাস না থাকলে কমন রুমে গিয়ে আড্ডা দেওয়া ।এই ভাবেই চলতে থাকে তিয়াসার কলেজ লাইফ।

তিয়াসা কিছু দিন ধরে দেখছে একটা ছেলে কলেজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে এবং ওরা কলেজ থেকে বেরলেই ওদের পিছু পিছু বাইক নিয়ে আসে। একদিন ছেলেটা ওর কাছে এসে ওর নাম আর ফোন নাম্বার জানতে চাইল, ওরা কোনো পাত্তাই দিল না। তিয়াসা নিয়মিত কলেজে আসে তবে পড়াশোনা কতটা হয় সেটা ভগবানই জানেন ।কয়েক দিন হল ছেলেটাকে আর দেখা যায় না। এক দিন রং নাম্বারে  তিয়াসার একটা ফোন আসে,

তিয়াসা : হ্যালো, কে বলছেন?

ছেলে : আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি শুভ বলছি।

তিয়াসা : জানেন যদি চিনবো না, তবে ফোন করেছেন কেন?

ছেলে : এতো রেগে যাচ্ছেন কেন।

তিয়াসা : আপনার যদি কিছু বলার থাকে বলুন, তা না হলে ফোন টা রাখুন।

ছেলে : বলব বলেই তো ফোন করেছি।

তিয়াসা : কি বলবেন?

ছেলে : একটা ছেলে আপনার কলেজের সামনে আপনার জন্য দাড়িয়ে থাকত, মনে পরেছে।

তিয়াসা : কেন বলুন তো?

ছেলে : আমি সেই ছেলে।

তিয়াসা : আপনি আমার নাম্বার পেলেন কিভাবে?

ছেলে : নাম্বার টা আমি জোগার করেছি অনেক কষ্টে।

তিয়াসা :কেন ফোন করেছেন বলুন?

ছেলে :  আপনাকে আমার ভালো লাগে।

তিয়াসা : কিন্তু, আপনাকে তো আমার ভালো লাগেনা।

ছেলে : ভালো লাগে না তো কি হয়েছে, ভাল লাগবে।

তিয়াসা :  আমাকে আর ফোন করবেন না,  আমি ফোনটা রাখছি।

বলে তিয়াসা ফোন টা কেটে দেয়।

ছেলে টা বার বার ফোন করে, কিন্তু তিয়াসা রিসিভ করে না, ফোন কেটে দেয় ।কয়েক দিন এভাবে চলে, কিন্তু বেশি দিন  তিয়াসা তার মনকে ধরে রাখতে পারলাম না, এক দিন তিয়াসা ও শুভর প্রেমে পরে যায়।এ ভাবেই চলতে থাকে ওদের প্রেম। এর মাঝে 1st years exam চলে আসে,কিন্ত তিয়াসার কিছুই পড়া হয়নি ,সারা বছর শুধু নোট নিয়ে রেখেছে, পড়া আর হয় নি। পরে পড়ব পরে পড়ব করে সারাটা বছর কাটিয়ে দিয়েছে। যাই হোক করে পরীক্ষা টা দিয়েছে।

রেজাল্ট এর আগেই ভর্তি হতে হয়, তাই তিয়াসা ও সেকেন্ড ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। তিয়াসা যে ফোনে সব সময় কথা বলে ,এটা ওর ভাই ,ওর মা বাবা কে বলেদিয়েছে । তিয়াসার মা বার বার জিজ্ঞাসা করাতে মাকে সব বলেছে শুভর ব্যপারে। ওর মা ওকে অনেক বুঝিয়ে বলছে,যে এই সময় টা খুব ভালো করে পড়াশোনা করতে আর এসব ব্যাপারে না জরাতে।কিন্তু কে শোনে কার কথা। সব কথা এক কান দিয়ে শুনেছে আর এক কান দিয়ে বের করে দিয়েছে।তিয়াসা এখন ডানা মেলে উড়ছে, সে কার ও কথা পরোয়া করে না। এটাই হয়তো বয়সের দোষ ।

পরীক্ষার রেজাল্ট তিয়াসাকে আকাশ থেকে মাটিতে ছুরে ফেলেছে।  একটা সাবজেক্টে তিয়াসা ফেল করেছে।তবুও তিয়াসার মনে কোন ভয় নেই, হয়তো প্রেমের জন্যইএত বেশি সাহস মনে।

তিয়াসা এখন কলেজে যাওয়া বন্ধ করেদিয়েছে। কিন্তু প্রেম লাইফে কোনো ভাটা পড়েনি।শুভ দেশে আসলেই ,বান্ধবীর বাড়ীর নাম করে দেখা করতে যায়। তিয়াসা যে শুভর সাথে মাঝে মাঝে দেখা করতে যায়, এটা ওর কাকুর কানে পৌঁছে যায় এবং কাকু ওদের কে এক সাথে দেখে ফেলে। এই ঘটনা কাকু বাড়ীতে এসে বলে। সব শুনে বাড়ীর লোক তিয়াসার বাড়ী থেকে বেরোনো বন্ধ করে দেয়। এতে তিয়াসা মন ভেঙে যায়,তখন ওর বাবা মা ওকে গুজরাট নিয়ে চলে যায়। বাড়ীর লোক ভেবেছে কিছু দিন পরে সব ভুলে যাবে, তখন ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দেবে। কিন্ত এতেও কিছু হয় না, তিয়াসা লুকিয়ে লুকিয়ে শুভর সাথে যোগাযোগ রেখেছে।

 

তিয়াসা এক আত্মীয় বিয়ে জন্য দেশের বাড়ীতে এসেছে। বাড়ীর সবাই ভেবেছে তিয়াসা সব ভুলে গিয়েছে, তাই আর ওকে চোখে চোখে রাখেনা। তিয়াসা কিন্তু অন্য কথা ভেবেছে,ওরা পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছে। দেশের বাড়িতে  আসার সময় শুভ কে ও আসতে বলেছে। এক দিন বাজারে কিছু কেনাকাটার নাম করে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে গিয়ে ওরা মন্দিরে বিয়ে করে ফেলে।

এ দিকে সন্ধ্যার সময় তিয়াসা বাড়ি না  ফেরায় বাড়ীতে হইচই পরে যায়। সব আত্মীয় দের ফোন করে যখন কোন খবর পায় না তখন ভেবে নেয়, ও পালিয়েছে।

তিয়াসা যে এভাবে পালিয়ে যাবে কেউ ভাবতেই পারছিল না। সবার একটাই কথা, তিয়াসা এই কাজটা করতে পারল।সবার কাছে পরিবারের মান সন্মান এই ভাবে ডুবিয়ে দিন ।গ্রামের ওর দাদুর ভালই নাম ডাক আছে। গ্রামের যদি কোনো মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করে, সেটা গ্রামের লোকের কাছে বড় অপরাধ এবং মজার বিষয়। কোনো ছবি বা  ভিডিও যেমন ফোনে ফোনে ভাইরাল হয়, এ সব কথা মুখে মুখে ভাইরাল হয়ে যায়।

বিয়ের কিছু দিন পর তিয়াসা ওর ভুল বুঝতে পারে,ওর এই ভাবে পালিয়ে বিয়ে করাটা ঠিক হয়নি। তিয়াসা ভাবল যদি সবার কাছে ক্ষমা চায় হয়তো তারা ক্ষমা করে দেবে। তাই তিয়াসা রা ক্ষমা চাইতে বাপের বাড়ীতে আসে। কিন্তু এ বাড়ীতে তিয়াসার  চলে যাওয়া এখনও মেনে নিতে পারেনি। ওদের ক্ষমা চাইতে আসাটা বাড়ীর মেয়েরা মেনে নিলেও ছেলেরা মেনে নেয়নি। বাবা, দাদু ওদের সাথে কথা বলল না। তিয়াসা ওদের রাগ ভাঙাতে পারল না, তাই ফিরে গেল। তিয়াসা দাদু ঠাকুমা ওকে খুব ভালো বাসত, তাই ওর এই ভাবে বিয়ে করাতে, দাদুর খুব অভিমানে লেগেছে। তিয়াসা আর এ বাড়ীতে আসে না, তবে ফোনেই যোগাযোগ রেখেছে।

তিয়াসা 2 বছরের সংসার জীবনের ইতি ঘটিয়ে বাপের বাড়ী ফিরে এসেছে। শুভ তিয়াসাকে ঠকিয়েছে। তিয়াসা শুভর সমন্ধে যা ভেবেছিল, শুভ ঠিক তার উল্টো। বিয়ের ৬ মাস পর থেকেই তিয়াসার ওপর অত্যাচার শুরু করে, তিয়াসা কে সব সময় সন্দেহ করে। সব সময় শুভর কথা মত চলতে হবে। কোথাও গেলে, শুভ কে আগে থেকে ফোনে জানিয়ে দিতে হবে। কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে, কার সাথে যাচ্ছে, ইত্যাদি। দেশে থাকলে  প্রতি দিন মদ খেয়ে আসত, তিয়াসার বাপের বাড়ি লোকেদের  গালিগালাজ করত, কিছু বলতে গেলেই তিয়াসাকে মার ধর করত। তিয়াসা এ সব সহ্য করতে পারত না, মন চাইত সব ছেড়ে পালিয়ে যেতে। কিন্তু যাওয়া পথ ছিল না, সে নিজেই সব পথ বন্ধ করে এসেছে। অনেক বার ভেবেছে মরার কথা, কিন্ত মরার মতো সাহস নেই। মা কে  ফোন করলে  এ সব কথা বলেনা ,সব সময় বলে ভালো আছি।

এক দিন কথা বলতে বলতে ওর মা কিছু আন্দাজ করতে পারে, তখন ওকে চেপে ধরলে সব বলেফেলে। সব শুনে বাড়ীর সবার মন খারাপ হয়ে যায়। সবাই ওকেই দোষারোপ করে, ও নিজেই এর জন্য দায়ী ।এতদিন  বাপের বাড়িতে আসে নি ঠিক কথা,তবে  ফোনে ,তিয়াসা ভালো আছে শুনে সবাই খুশি ছিল। আজ এ সব কথা শুনে  দাদুই  বলল তিয়াসা কে ফিরিয়ে আনার জন্য ।

তিয়াসা ফিরে আসার জন্য দাদু বুঝিয়ে বলেছে তিয়াসা কে, "তুই  প্রথম ভুল করেছিলি পালিয়ে বিয়ে করে আর আমি ভুল করেছিলাম তোকে  ক্ষমা না করে, তাই চাই না তুই বা আমি দ্বিতীয় ভুল টা করি। তুই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে আবার নতুন করে জীবন শুরু কর ,আমি তোর পাসে আছি। জীবনে শেষ বলে কিছু হয় না, যেখান থেকে আরম্ভ করবি, সেখান থেকেই হবে শুরু "।

তিয়াসা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে চলেছে। তিয়াসা ওপেন কলেজে ভর্তি হয়েছে ,পড়াটা কমপ্লিট করতে চায়। পড়ার পাসাপাসি হাতের কাজ ও শিখছে। তিয়াসা নিজের পায়ে দাড়াতে চায়।সে বুঝতে পরেছে নিজের পায়ে দাড়ানোটা ,একটা মেয়ের জীবনে কতটা জোরুরি।তাই সে জীবনটা নতুন করে গড়তে চায়।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *