জানুয়ারী 2020

আমার শহর
- মোহন দাস (বিষাক্ত কবি)

শহর জুড়ে মাঘের আদর
ক্লান্ত সিক্ত গায়ে ট্রামে বাসে ট্যক্সিতে উঠে পড়ে
মানুষের ভিড় ঠেলে ছুঁচো বাজির মতো,
আমি জীর্ণ সাদা শরীরে ওকে মেখে নিতে গিয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগি
রাস্তার নিয়নের আলোও জরসর -------
দূরবর্তী ফ্ল্যাট বাড়ি দাড়িয়ে ডাকে, সে আদরের প্রতিক্ষারত ।
দৌড়ে চলে যাওয়া ট্রেনের শব্দ ঝংঝং ঝংঝং ঝংঝং....
হৌস্ ------ করে পালিয়ে যাওয়া গাড়ির মিছিল নিস্তব্ধ ।
ফাঁকা পার্কস্ট্রীটের গলিতে
একটা দুটো গনিকা সিগারেটের আবছা ধোঁয়ায়
শীতার্ত কামুক পুরুষ খোঁজে ।
শহর জুড়ে মাঘের আদর ছেলে খেলায় ছিঁড়ে দেয় মোটা চাদর
আমার একটু উষ্ণতা প্রয়োজন
চলে যায় পার্কস্ট্রীটের গলিতে পায়ে পায়ে
বৈশাখের আদর নিতে হবে ।
কালো ঠান্ডা মাখা আকাশে এক ফালি জ্যোৎস্না
বাড়ি খুঁজে ফেরে নির্বাক চোখে,
শহরের বাস ভবনে জায়গা নেই এক ফোঁটা
ও আমার শহর তুমি রাত্রি জাগো নিয়নের জলসা ঘরে
চাঁদের বিছানায় ।


19.01.2020 09:40 PM

হে দেবী বীনাপানী
নাহি দিলাম তব চরনে দুটি ফুল, অঞ্জলি দিবার ছলে
নাহি ডাকিলাম বক্ষে জুড়ে হাত খানি
তবু কিছুই কি বোঝো নায় ------ এ বালক কি বলে !
নাহি জপিলাম মন্ত্র তন্ত্র,
নাহি মাতিলাম তোমায় নিয়ে গানে গানে শব্দে কিবা আলোকে
মন মাঝে সাজায়েছি যে মন্দির খানি ------
তবু দ্যাখো কি নায় কি রঙের পাতিছে আসন, এ বালকে !
না বুঝিলে না দেখিলে, নাই বা ভালো বাসিলে মোরে
তবু যেনো এ দাসে ভালোবাসিবে চিরদিন তব কল্পনা করে ।।

29.01.2020 7:33 PM

'অভিশপ্ত বাংলোর সেই রাত'
কলমে - মৌ চক্রবর্তী

আমাদের মামাবাড়ি কোচবিহার জেলার পুন্ডিবাড়িতে।পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শিলতোর্ষা নদী,মামাবাড়ি থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে।সেখানে ছোটোবেলায় আমরা সাঁতার শিখতাম।কত যে স্মৃতি জড়িয়ে আছে সেখানে।সেসব বলতে গিয়ে মনকে আর স্মৃতিমেদুর করে তুলতে চাইনা।

প্রায় পাঁচ বছর আগের কথা।আমার তখনও চাকরি হয়নি। চাকরি পাওয়ার আগে আমি আর হিমেশ (আমার ছোটোভাই) ঘন- ঘন মামারবাড়ি যেতাম।আমরা যদিও মালদায় থাকি।তবুও আমাদের মন পড়ে থাকে মামার বাড়িতে।

তখন বর্ষাকাল।শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি।অঝোরধারে বৃষ্টি পড়ছিল।কারেন্ট চলে যাওয়ায় আমরা সবাই এসে ছোটোদাদুর ঘরে বসেছি।টেবিলের উপর রাখা কাঁচের মোমদানিতে মোমবাতি জ্বলছিল।ঘরময় মোমবাতির ক্ষীণ আলো ছড়িয়ে ছিল।বাইরে বৃষ্টির আওয়াজ।ঘরের পাশের ডোবা থেকে অনবরত ব্যাঙের ঘ্যাঁতঘোঁত আওয়াজ।কেমন যেন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল,ঠিক গল্প শোনার মতো।

ঘরে হিমেশ,আমি,ছোটোদাদু আর আমাদের মাসতুতো ভাই অতীশ,যদিও তাকে আমরা পটলা বলেই ডাকি।ছোটোদাদুও আমাদের সাথে বন্ধুর মতো মেশেন।তিনি মানুষটা ভীষণ অদ্ভূত।দেখতেও খানিকটা তেমনই।ভীষণ লম্বা,পাতলা আর নাকটা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ লম্বা।তাঁর মুখের পানে একবার চাইলেও নাকটা কারো নজর এড়িয়ে যাবে না।চোখে পড়বেই পড়বে।

সে যাইহোক,তিনি পড়াশুনাতেও ভীষণ আগ্রহী।সংস্কৃত ভাষাতেও অগাধ পান্ডিত্য তাঁর।রেলে চাকরি করতেন।কাজের তাগিদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়ালেও শখেও ঘুরেছেন দেশ-বিদেশ।সবকিছুতেই তাঁর আগ্রহ বেশি।তবুও তাঁর স্বভাবের গাম্ভীর্যের পাশাপাশি শিশুর মতো সারল্যই তাঁকে বাচ্চাদের সাথে সহজে মিশে যেতে সাহায্য করে।তাই যখন আমরা ছোটোবেলায় বড়দের এড়িয়ে চলতাম,তখনও ছোটোদাদুর সাথে আমাদের বেশ বন্ধুত্ব ছিল।তিনি বেশ জমিয়ে গল্প বলতেন আর আমরা হা করে শুনতাম।

-'ছোটোদাদু,গল্প বলো না গো,খুব শুনতে ইচ্ছে করছে',বলে উঠল হিমেশ।

সাথে - সাথেই পটলাও সুর ধরল,'ও ছোটোদাদু, বলো না গো...।'

আমি হিমেশ আর পটলার থেকে বয়সে অনেকটাই বড়।তাই ওদের সাথে তাল মিলিয়ে গল্প শুনতে চাওয়াটা আমার কাছে একটু কেমনতর লাগল।যদিও মনে - মনে আমিও ওদের দলেই ছিলাম।

এরই ফাঁকে ছোটোদিদা একপ্লেট বড়াভাজা,মুড়িমাখা আর চার কাপ ধোঁয়া ওঠা চা এনে রাখতেই ছোটোদাদুর মেজাজটা বেশ চনমনে দেখাল।

-'আচ্ছা,তা বেশ,কি গল্প শুনতে চাস তোরা বল দেখি দাদুরা?'

তখন আমি  আর মুখ বুজে থাকতে না পেরে বললাম,'ভূতের গল্পেরই পরিবেশ এখন,ভূতের গল্পতেই জমত বেশ।'

সেই শুনে পটলার মুখটা হঠাৎ ফ্যাকাশে দেখাল।

-'কিরে পটলা,ভয় পেলি বুঝি?'

-'কই না তো।মোটেও নয় রীতেশ দাদা।তুমি যে কি বল না।আমি ভূতের গল্প শুনতেই বড্ড আগ্রহী',বলেই হিমেশের পাশে চেপে বসল।

আলুর মুচমুচে বড়ায় কামড় বসিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিল ছোটোদাদু।।তারপর বেশ আরাম করে করে বসে বলতে শুরু করল।

-'শোন তবে,গল্প নয়,সত্যি একটা ঘটনা বলছি।'

**********

সালটা 1980 - 82 হবে।আমি আসামে কর্মরত।তখন শীতকাল।পিকনিকের মরশুম চলছিল।আমি আর শশীদা (শশীভূষণ সামন্ত) কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে গেলাম ঝাড়খন্ড বেড়াতে।শশীদাও বেশ হৈ - হুল্লোড় করতে ভালোবাসে।ভ্রমণ করাটা নেশা ছিল তাঁর।আমরা দু'জনে মিলে চললাম ঝাড়খন্ডের হাজারিবাগ।সেখানে একটি বন বাংলোও উঠলাম।বেশ পুরোনো আমলের।পিকনিকের মরশুম হলেও বাংলো ফাঁকাই ছিল।সেখানে আমরা দুপুর নাগাদ পৌঁছলাম।বাংলোর কেয়ারটেকারই আমাদের খাবারের বন্দোবস্ত করে দিল।ভাত খেয়ে গায়ে কম্বলটা জড়িয়ে একটু টানটান হয়ে শুতেই দু'চোখের পাতা কখন যে বুজে এসেছিল,বুঝিনি।গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছিলাম।

ঘুম যখন ভাঙ্গল তখন বেলা পড়ে এসেছে।জানালার শিকের ফাঁক দিয়ে বাইরের গাছের পাতার ফাঁক গলে পড়ন্ত রোদের আলোছায়ার লুকোচুরি এসে  আলপনা এঁকে দিচ্ছে আমার মাথার বালিশের সাদা খোলের উপর।হালকা হলুদ আলো ঘরময় ছড়িয়ে পড়েছে।বাইরে তখন টুপটাপ পাতা ঝরার আওয়াজ।দূরে শোনা যাচ্ছে পাখিদের ঘরে ফেরবার সময়কার ডানার শব্দ।আমি তড়াক করে লাফিয়ে উঠি।মনে ভীষণ আফশোষ হচ্ছে।ইস্ এত সুন্দর বিকেলটা ঘুমিয়ে মাটি করলাম।

চোখে - মুখে জল দিয়ে এসে বসতেই বেশ শীত করতে লাগল।শালটা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে ভাবছি এইসময় এককাপ গরম চা হলে মন্দ হত না।হঠাৎ চোখ পড়ল ঘরের দেওয়ালে টাঙ্গানো একটি তেল রঙ করা চিত্রের দিকে।জানিনা,ছবিটার মধ্যে আকর্ষণ করার কি ছিল!আমি ছবিটাকে খুঁটিয়ে দেখতে - দেখতে  মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেওয়ালের পাশে ছবিটার একেবারে কাছে এসে দাঁড়ালাম।

কোনো এক ইংরেজ সাহেবের ছবি।বলিষ্ঠ চেহারা,পুরু গোঁফ,মুখে চুরুট,হাতে বন্দুক,ঘোড়ার পিঠে চেপে আছেন তিনি।দেখে মনে হচ্ছে যেন হাসছেন।চিত্রকরের দক্ষ তুলির ছোঁয়ায় যেন মুখভরা হাসি লুকিয়ে ছিল চিত্রটির মধ্যে!

-'Taraknath...Taraknath...how do ye do?'

আমার সামনে সেই সাহেবটি দাঁড়িয়ে।একহাতে ঘোড়ার লাগাম ধরা,অন্য হাতে বন্দুক।সামন দিয়ে পথ চলে গেছে আরও গভীর অরণ্যের ভিতর।ঠান্ডা হাওয়া বইছে।

প্রত্যুত্তর না করে আমি একইভাবে দাঁড়িয়ে রইলাম সাহেবের মুখপানে চেয়ে।যেন ঘোরে রয়েছি।বিস্ময়ের আরও অবধি রইল না যখন দেখলাম আমার পড়নের পোশাকগুলোও  সব বদলে গেছে।ধুতি,পাঞ্জাবী আর জহরকোট পড়ে আছি।গলায় আমার মাফলার জড়ানো।

-'I'm extremely sorry...extremely sorry Taraknath',মাথা ঝুঁকিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছে সাহেবটি।

আরে বাবা,একি কান্ড !কেনই বা সরি,কে এই লোকটি,কিছুই তো বুঝতে পারছি না।তবে লোকটি যে মর্মাহত আর তার চোখগুলো আর্দ্র,এ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।কিন্তু আমায় তারকনাথ বলে সম্বোধন করছে কেন!আমি বাপু পুলিনবিহারী পুরকাইত।আমি হঠাৎ সাহেবের তারকনাথ হতে যাব কেন...

আমায় ভাববার অবকাশ না দিয়ে সাহেবটি বাংলা,হিন্দি আর ইংরেজি মিশিয়ে বললেন,
'সেডিন টুমি যডি হামাকে রেসকিউ করটে না আসতে,তবে টুমি মরতে না।ইউ সেভ মাই লাইভ,মাই ফ্রেন্ড,ইউ রিয়ালি সেভ মি...বাট...ইউ লস্ট ইওর প্রেসাস লাইভ...ওহ্ নো...হামিও নিজেকে কখনও ফরগিভ করতে পারি নাই।'

আমি বিস্ময়মাখা দৃষ্টি নিয়ে শুনে চলেছি।

হামার হান্টিং এর hobby ছিল।তাই টুমায় ফোর্স করেই আনি...I thought...টুমি এনজয় করবে...তারপর...

তারপর দেখলাম সহসা অন্ধকার চারিদিক।ওই বুঝি নড় উঠল ঝোপটা! একটা বাল্বের মতো আলো ঝোপের ফাঁকে...একটা ভয়ানক গর্জন,বাঘের...হালুম...কেঁপে উঠল ভিতরটা...মুহূর্তে শুনলাম গুলির আওয়াজ...পরক্ষণেই নিঃস্তব্ধ চারিদিক।বন্দুক নিয়ে সাহেব ছুটছে ঝোপের দিকে কিন্তু পরক্ষণেই ঝোপ থেকে ভেসে এল মানুষের গলার আর্তনাদ...Save me...save...

সাহেবের গলা।আহত বাঘটা থাবা বসিয়েছে সাহেবের কাঁধে।মুর্হূতে সম্বিৎ ফিরল আমার।সেই তীব্র আর্তনাদ আমার বুকের ভিতর বিঁধতে লাগল।ক্ষণিকের জন্য চিন্তারা গেল থেমে।বাহ্যজ্ঞান শূন্য হয়ে ছুটলাম ঝোপের দিকে।কিন্তু কিভাবে বাঁচাব আমি? পাশে পড়ে থাকা বন্দুকটা উঠিয়ে নিলাম হাতে,সজোরে মারলাম বাঘের মাথায়।তখন বাঘ আর মানুষে টানাটানি চলছিল।তৎক্ষণাৎ তীব্র গগনভেদী হুঙ্কারে আমার উপর লাফিয়ে পড়ল বাঘটি।কিছুক্ষণের মধ্যেই অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলাম।ততক্ষণে গায়ের সমস্ত কাপড় রক্তে ভিজে চটচটে।দূর থেকে বন্দুকের গুলির শব্দ পেলাম আর সাথে - সাথেই মানুষের আর্ত - চিৎকার আর গোঙানির মধ্যেই সব নিশ্চুপ হয়ে পড়ল।আর বলতে পারিনা।

********************

মাথাটা ঘুরছে।দেখি দাঁড়িয়ে রয়েছি সেই ফটোটির সামনে।চায়ের প্লেট হাতে এক বৃদ্ধ হাসছে আমার দিকে তাকিয়ে।গালে কাঁচাপাকা দাড়ি,উশকোখুশকো চুল,কাঁধে একটা ময়লা মতন গামছা।কিন্তু চোখে যেন চেনা হাসির আভাস দেখতে পাচ্ছি।

-'তারকবাবু,চায়ে লিজিয়ে,'চমকে উঠলাম আবারও।
বাবুসাব,ইতনা দিন বাদ ইঁয়াদ আয়া সবকুছ...আপ ইধার চলে আয়ে...কাঁহা থে বাবুসাব...' বলছে সে।

-'আপ কৌন?'

-'মুঝে নেহি পহঁচানতে আপ?ম্যায় ভীম সিং হু...আপকা ভীম...উসদিন আপ কে মঔত হোনে কে বাদ ফরেস্ট আফসারকে গোলি গলতি সে ডেভিড সাবকো ভি খতম কর দিয়া।ঔর ম্যায় উসদিন সে লে কর আজ তক ইধার রহ্তা হু।আপ দোনো কা সামান দেখভাল করতা রহ্তা হু।ইয়ে তো মেরা ফর্জ হ্যায়।ম্যায় ক্যায়সে ইস্ সে ছুটকারা লে সকতা হু',বলেই চায়ের প্লেট টেবিলে রেখেই ঘরের দেওয়াল ভেদ করে অন্য ঘরে চলে গেল।

সহ্য করতে পারলাম না আর।হচ্ছে কি এসব! আমি কি কল্পনায় চলে যাচ্ছি?নাকি চলে যাচ্ছি কোনো সুদূর অতীতে,আমার ফেলে রেখে আসা দিনে।কে আমি?তারকনাথ না পুলিনবিহারি! জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলাম মেঝেতে।

*****************

চোখ মেলে দেখি শশীদা জল ছিটিয়ে দিচ্ছে আমার চোখে-মুখে।পুলিন...পুলিন...

-'কোথায় আমরা?'

-বনবাংলোয়।আমি তোকে ঘুমাতে দেখে বাইরেটা একটু ঘুরে দেখি ভেবে বেরিয়েছিলাম।পথেই এক বিট অফিসারের সাথে দেখা।তাঁর সাথে অনেক গল্প হ'ল।তাঁর বাংলোতেও গেছিলাম।কিন্তু কথায় -কথায় তিনি যখন শুনলেন আমরা এই বাংলোয় উঠেছি তেমনি তিনি ভীষণ ঘাবড়ে গেলেন।বললেন,'এক্ষুণি গিয়ে বন্ধুকে বাঁচান,নইলে বড্ড দেরী হয়ে যাবে।'তার কাছেই শুনতে পেলাম অনেক বছর আগে এই বাংলোতে থাকতেন এই ইংরেজ সাহেব।বাংলোটি তিনিই বানিয়েছিলেন।শিকাড়ের বড় শখ ছিল।তারই বন্ধু ছিলেন তারকনাথ,উচ্চ- শিক্ষিত বাঙালি,ভ্রমণপিপাসুও ছিলেন তিনি।বন্ধুত্বের সুবাদেই এখানে আসতেন,থাকতেন।সাহেব বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে বেঘোরে বাঘের পেটে প্রাণ হারান।সেইসময় তখনকার ফরেস্ট অফিসার টহল দিতে গিয়ে এই ঘটনা দেখতে পেয়ে সাহেবকে বাঁচাতে গুলি ছোঁড়েন।কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সেই গুলিটি এসে সাহেবের বুকে বেঁধে।সেই গুলির আঘাতেই প্রাণ হারান ডেভিড সাহেব।তিনি আমায় যে ফটো দেখালেন তার চেহারার সাথে তোর চেহারার হুবহু মিল খুঁজে পেলাম।

এইসব কথা শুনে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল।শশীদা বলে চলল,উনিই আমায় বাংলোর কাছে নামিয়ে দিলেন।এখন বড় রাস্তায় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।পথে আসবার সময়ে সব বিস্তারিত বললেন।তিনি বললেন এই বাংলোটি বর্তমানে 'অভিশপ্ত বাংলো' হিসেবেই হাজারিবাগে পরিচিত।কালেভদ্রেও কেউ আসেনা।পূর্বে বহু লোকের প্রাণ গেছিল এই বাংলোয় এসে।সবাই বলাবলি করে যে সেই সাহেব আর তার চাকর শুধুমাত্র তারকনাথের পথ চেয়ে থাকে। তাদের হয়তো বিশ্বাস আত্মার টানে ফিরে আসবে তারকনাথ।শশীদা আরও বললেন,'ওরা জেনে গেছে যে তুই ই তারকনাথ।তাই তোকে কিছুতেই যেতে দিতে চাইবে না।কিন্তু পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমাদের এখান থেকে পালাতে হবে।নইলে রাত যত বাড়বে ততই বাড়বে ওদের শক্তি।মনে শক্তি আর সাহস নিয়ে আয়,উঠে দাঁড়া।'

ততক্ষণে এই শীতেও পুরো ঘেমে নেয়ে গেছি আমি।শ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে ভয়ে।বুঝলাম,প্রাণের মায়া ত্যাগ করেই শশীদা এখানে আমায় বাঁচাতে এসেছে।মনের জোরে উঠে দাঁড়ালাম।পা কাঁপছে।তবুও ভাবছি বের হতেই হবে।

শশীদা আমার হাত ধরে আছে।আমরা দরজার দিকে এগোতেই প্রবল হাওয়া শুরু হল।সেই বাংলোর চেহারা যেন বদলে গেল নিমেষে।যত্রতত্র পড়ে থাকা শুকনো পাতাগুলো উড়ে এসে চোখেমুখে পড়তে লাগল।পুরো বাড়ির দরজা,জানালা দুমদাম্ আওয়াজে বন্ধ হয়ে যেতে লাগল।এমনকি আমাদের সামনের দরজাটিও।।সারা বাড়িতে ভ্যাপসা গন্ধ বের হচ্ছে।ঝুল জমে আছে চারিদিকে।তখন অসীম সাহস এসে যেন ভর করল শশীদার ভেতরে।এক হাতে আমায় ধরে ছিল আর পা দিয়ে সজোরে আঘাত হানল সামনের ভাঙ্গাচোরা,জীর্ণ কঠের দরজাটিতে।মুহূর্তে ক্যাড়ক্যাড় শব্দে খুলে গেল দরজাটি।বাইরে তখন ঘুট্ঘুটে আঁধার নেমেছে।ইতিউতি উড়ে বেড়াচ্ছে জোনাকিরা।সাথে ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা মাথা যন্ত্রণা সৃষ্টিকারী আওয়াজ।দৌড়ে বের হলাম আমরা দরজা দিয়ে।

পিছন থেকে আর্ত - চিৎকার শুনতে পেলাম,'please don't go Taraknath...Taraknath,please come back...we're friend...I've been waiting for you for a long time...Taraknath...'

চারপাশে সব জিনিসপত্র পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনতে -শুনতে আমরা সেই অন্ধকারেই পথ হাতড়ে রুদ্ধশ্বাসে বাংলোর গেট খুঁজে পেতে চলেছি।।কিছুদূর এগিয়ে শশীদা পকেট হাতড়ে টর্চ বের করে জ্বালাতেই দেখলাম আমরা গেটের কাছে পৌঁছে গেছি।আর একমুহূর্ত সময় নষ্ট না করে আমরা আবার সবকিছুকে পিছনে ফেলে,সেই অভিশপ্ত বাংলোকে পিছনে ফেলে এগিয়ে চললাম।প্রায় দশ মিনিটের মতো পথ দৌড়ে গিয়ে  আমরা বিট অফিসারের জিপে উঠলাম।বাংলোয় প্রবেশের পথ সংকীর্ণ হওয়ায় জিপ নিয়ে বিট অফিসার সাহেব এখানেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।আমরা জিপে উঠতেই গাড়ি স্টার্ট দিলেন তিনি।তখন আমার বুকের ভিতরে যেন হাজার হাতুড়ির আঘাত অনুভব করছিলাম।অবশেষে সেই রাত বিট অফিসারের বাংলোয় থেকে আমরা আমাদের রুদ্ধশ্বাস সফর শেষ করে আসামে ফিরলাম।

এতক্ষণ আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলাম।গল্প থামাবার পর আমার চেনা ছোটোদাদুকেই ভীষণ অচেনা মনে হতে লাগল।কৌতূহলী হয়ে বললাম,'ছোটোদাদু,তবে কি তারকনাথ তোমার আগের জন্ম ছিল?'

কিছুক্ষণ বেশ চিন্তিত দেখাল তাকে।শেষে বললেন,'জানিনা ভাই,হয়তো তাই।তবে আমি আর সেইসব দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে কষ্ট পেতে চাইনা।এই ঘটনা আমি আজ পযর্ন্ত কাউকেই বলিনি।'

বেশ ভারাক্রান্ত দেখাল ছোটোদাদুর মুখ।

ছোটোদিদা এসে বললেন,'তোমাদের চা যে ঠান্ডা হয়ে জল হয়ে গেল।আবার চা করে আনছি তাহলে।খাবারগুলো কতক্ষণ পড়ে রয়েছে, সবাইমিলে খেয়ে নাওতো এখন ঝটপট।'

হিমেশ বলল,'ছোটোদিদা,জানো ছোটোদাদু আগের জন্মে তারকনাথ ছিল।'

ছোটোদিদা হেসে বললেন,'ছাড় তো ভাই...তোর দাদু তো বানিয়ে কম গল্প বলে না।'

'ও তারমানে তুমিও এতক্ষণ ধরে গল্প শুনলে তো?',বলল হিমেশ।

'না রে,এইমাত্র এলাম আমি।তোরা খাবার খাচ্ছিস কিনা দেখতে।এসে দেখি সবই পড়ে রয়েছে।ছাড় ওসব',বলেই চায়ের কাপগুলো নিয়ে রান্নাঘরে গেল।

কিন্তু আমি ওই আলোতেও খেয়াল করেছি চোখের কোনটা জলে ভিজে চিকচিক করছিল ছোটোদিদার।বুঝলাম সব শুনেছে।কেন যেন এড়িয়ে যেতে চাইছে! নিজের স্বামীকে তারকনাথবাবু ভেবে অচেনা করে তুলতে হয়তো দিদার ভালো লাগছে না মোটেও কিংবা দাদুকেও আর চিন্তার গভীরে গিয়ে মন খারাপ করতে দিতে চান না তিনি।

পরিস্থিতি বুঝে আমি বললাম,'হিমু(হিমেশ),পটলা নে তো রে ভাই,খেয়ে নেতো।ও ছোটোদাদু,খাও।দেখো বড়াগুলোও ঠান্ডা হয়ে কেমন নেতিয়ে পড়েছে।'

-'খাচ্ছি।(ধরা গলায় বললেন ছোটোদাদু)

সমাপ্ত~

#বিভাগ_কবিতা
#হাতে_খড়ি
#সুমন_প্রামাণিক

আমার ছাদের টবে তখন ইনকারগুলো পূর্ণতা পেয়েছে ...
উত্তুরে হাওয়ার ডানায় ভর করে
একটু একটু করে নেমে এসেছিল বসন্ত -
চপলতায় নয়, স্নিগ্ধ সুন্দরীর মাধুর্য্য মেখে !
প্রথম অনুরাগে বাঁধা পড়ে গিয়েছিল
আমার দুর্বার একাদশ শ্রেণী।
মুগ্ধতা বলতে তখন জানি
ঘাড়ের বাঁকে এলো চুলে ঝর্ণা নামা, ছোট্ট টিপ !
ফাগুনের বুক চিরে
এই ভাবেই এসেছিল উৎসবের দিন।
ঘুম ক্লাসরুমে রোদ্দুর এসেছিল ফুলের সাজে,
মনের পুলকিত চিলেকোঠায় তুমিও এসেছিলে মূর্তির সাথে।
পুজোর সজ্জিত অর্ঘ্য নিবেদন করেছিলাম বিধৌত আগুনে,
কালি কলম মন সঁপে দিয়েছিলাম
ধূমায়িত ধূপকে সাক্ষী রেখে।
তোমার আঁচলের সর্ষে ক্ষেতের গালিচায়
আমি নিজেকে দিয়েছি উজাড় করে ...
প্রেমের গলনাঙ্কে পুড়ে হয়েছি ছাড়খাড় !
হাতে হাত রেখে প্রণয়ধারায় দিয়েছি হাতেখড়ি।
পাতাঝরার সাথে এখন মনে উচাটন,
এসো হাত ধরি আবার শক্ত করে
ছুটে যাই সেই রাস্তার ধারে, যেখানে
প্রতিদিন সরস্বতী নিয়ম করে হারে _ ক্ষুধার দায়ে !
আমাদের প্রেম অক্ষয় হোক ওদের বর্ণপরিচয়ে।

অপেক্ষা??
কলমে - কিরণময় নন্দী

দুটি ভূখণ্ড;
কাঁটাতারের বেড়ায় আলাদা পরিচয়-আলাদা ভাষা-আলাদা মুদ্রা-আলাদা সংস্কৃতি আরও কত কি অমিল!!
কিন্তু দেখো সাদা বরফে ঢাকা মহীধর দুই ভূখণ্ডকে দিয়েছে অপার সৌন্দর্য্য-তুহিনশুভ্র হিমবাহ-শীতল ঝর্ণা-গতিময় শৈবালিনী।
বিজনপ্রদেশের কাঁটাতার বিভেদ সৃষ্টি করতে পারেনি সাগুয়ারো, মেশকুইট সহ নানা ক্যাকটাসদের।
এপ্রান্তের একটি জারবিল ছোট্ট গর্ত করে নিয়মের বেড়াজাল উপেক্ষা করে নিঃশব্দে চলে যায় ওপারে।
তবুও বিভেদ দুই দেশের। রক্তাক্ত দুই দেশ বারেবারে। রক্তচক্ষু-হুঁশিয়ারি-ধর্মজিগিরে শেষ হচ্ছে তোমার আমার যুবা।
একবারও কি উপলব্ধি করেছো একুশের মানবিকা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বসে আছে প্রিয়ের অপেক্ষায়.....
ছানি অপারেশন করে চৌষট্টির মা অপেক্ষা করে আছে খোকার জন্য......
রিটায়ার্ড স্কুল মাস্টারমশাই দীর্ঘ প্রতীক্ষায় বসে আছে একদা 'অকর্মন্য' বলা ছেলেটির জন্য......
তোমাদের "তেলের শিশি" ভাঙা লড়াই ময়দানে আর কত অপেক্ষা করবে ??

জননী
কলমে – সম্পা মাজী

মৌসুমী  আজ বাড়ী ছেড়ে চলে এসেছে। এই ভাবে অত্যাচার সহ্য করে  সংসার করতে  আর ভালো লাগছে না। স্বামী, শাশুড়ি এত গঞ্জনা আর সইতে পারছে না। সে বাপের বাড়িতে ও আর ফিরে যেতে চায় না।  তার মা বাবা কে এসব কথা জানিয়ে ছিল অনেক আগেই  কিন্তু তাদের একটাই কথা  ,একটু মানিয়ে চল ,  সব ঠিক হয়ে যাবে। তার যে কী অপরাধ  সে নিজেও জানেনা।
মৌসুমীর  বিয়ে হয়েছে আজ ৭ বছর। এখন ও ওদের কোনো  সন্তান হয় নি। অনেক ডাক্তার,বৈদ্যি, দেখিয়েছে কিন্তু কোন কিছুতেই কিছু ফল হয় না। এই নিয়েই সংসারে নেমে আসে চরম অশান্তি। শাশুড়ি  প্রতি নিয়মিত মৌসুমীকেই দোষারোপ করেন ,ছেলেকে কিছুই বলে না । এত দিন সব সহ্য করে এসেছে, কিন্তু আজ অশান্তি এক চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে , শাশুড়ি  মৌসুমীর গায়ে হাত তুলেছেন। স্বামী ও বাড়িতে ছিলনা, যদিও সে তার মাকেই সমর্থন করে ,বৌ এর প্রতি তার কোনো দায়িত্ব নেই, মা যেটা বলবে সেটাই ঠিক মনে করে।
এমন ঘটনা মৌসুমী  একেবারেই মেনে নিতে পারছে না। তাই সে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার আগে শাশুড়ি কে বলে এসেছে , আজ  সন্তান হয় নি বলে আমাকে  এত অপমান করছেন তো, একদিন আমি শত সন্তানের জননী হবো। এ কথা শুনে শাশুড়ি বললেন , একটা সন্তান জন্ম দিতে পারছে না, সে আবার শত সন্তানের জননী হতে চায়  কত শখ দেখোনা , ওসব গল্পেই হয় বাস্তবে হয়‌ না ।

মৌসুমী বাড়ী থেকে বেরিয়ে তো এসেছে  কিন্তু কি করবে, কোথায় যাবে কিছুই বুঝতে  পরছে না। বাপের বাড়িতে ফিরে গেলে মা বাবা বুঝিয়ে সুঝিয়ে আবার ওই বাড়িতে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু  মৌসুমী কিছুতেই আর ওই বাড়িতে ফিরে যাবে না, যে বাড়িতে তার কোনো সম্মান নেই, সেই বাড়িতে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে থাকতে আর  পারবে না। এখন মৌসুমীর মাথায় একটাই কথা ভেসে আসছে কি করে ওদের এই অপমানে জবাব দেওয়া যায়, তার জন্য নিজেকে এমন  কিছু করতে হবে, যাতে ওদের অপমানের যোগ্য জবাব দেওয়া যায়।   তখন মনে আসলো সায়নের এর কথা। সায়ন বর্তমানে একজন ডাক্তার এবং অনাথ আশ্রমের সাথে যুক্ত। সায়ন, মৌসুমীর school friend. School সামনেই সায়নের বাড়ি, কিন্তু  অনেক দিন কোনো যোগাযোগ ছিল না। এই বারে দুর্গা পূজোর সময় মৌসুমী  বাপের বাড়িতে গিয়েছিল, তখনই  সায়নের সাথে দেখা, সায়ন দেশের বাড়ীতে এসেছিল পুজো কাটাতে।সায়ন বলেছিল ও ডাক্তারের পাসাপাসি   NGO দেখা শোনা করে। মৌসুমী  ভাবল যদি ওর নাম্বার টা  নিয়ে রাখতাম,তাহলে খুব সুবিধা হত। তখন ওর বান্ধবী সুমনাকে ফোন করল যদি কোনো ভাবে নাম্বার টা জোগাড় করতে পারে।

মৌসুমী - হ্যালো সুমনা।
সুমনা- হ্যাঁ, বল কেমন আছিস।
মৌসুমী - আমি ভালো আছি, তুমি আমাকে সায়নের ফোন নাম্বার জোগাড় করে দিতে পারবি।
সুমনা-  কোনো ,তুই সায়নের নাম্বার নিয়ে কি করবি।

মৌসুমী - আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই, ওর NGO ব্যাপারে।
সুমনা- আমার কাছে তো নেই, তবে আমার দাদা কাছে আছে।
মৌসুমী - তুই তোর দাদা কাছ থেকে নাম্বার  নিয়ে আমাকে এখনই  দে, আমার খুব দরকার।
সুমনা- কার ও কি কিছু হয়েছে।
মৌসুমী - তোকে আমি পরে ফোন করে সব বলব, এখন তুই শুধু  সায়নের নাম্বার জোগাড় কর।
সুমনা- আচ্ছা দাদাকে ফোন  করে নাম্বার  নিয়ে, তোকে জানাচ্ছি।

সুমনা ওর থেকে সায়নের ফোন নাম্বার নিয়ে মৌসুমীকে দেয়। মৌসুমী নাম্বার টা পাওয়া মাত্রই ফোন করে , কিন্তু ফোনটা রিং হয়ে কেটে যায় ।
মৌসুমী  আবার ফোনটা লাগায় , এবার ফোন টা রিসিভ করেছে,
সায়ন:-হ্যাল, কে বলছেন?
মৌসুমী -আমি মৌসুমী বলছি। তোর মনে পরেছে, তোর সাথে   পূজোর সময় স্কুল মাঠে দেখা হয়েছিল।
সয়ান:- আরে মৌসুমী তো,  হ্যাঁ বল, কি হয়েছে? হঠাৎ আমাকে মনে পড়ল ।
মৌসুমী:- তুই বলেছিলি না ,তুই একটা আশ্রমের দেখা শোনা করিস।
সায়ন:- হ্যাঁ,  তো  কি  হয়েছে।
মৌসুমী - তুই কি  ওখানে আমাকে একটা কাজ জুটিয়ে দিতে পারিস। আমার পড়াশোনা তো জানিস, উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়ার আগেই বাবা মা  আমার বিয়ে দিয়ে দিলো,  উচ্চ মাধ্যমিক টা ও দিতে দিল না।
সায়ন:-  কেন? তোর শোশুড়  বাড়ীর অবস্থা শুনেছি  খারাপ না। তাহলে তুই কাজ করবি কেন?
মৌসুমী -সব কথা পরে বলবো, তুই কি কাজটা দিতে পারবি বল?
সায়ন:-হ্যাঁ। কিন্তু তোর Husband !সে কিছু  বলবে না।
মৌসুমী - বললাম তো সব বলব। কাজটা আমার এখনই দরকার।
সায়ন:-ঠিক আছে, তাহলে তুই চলে আয়। তোকে ঠিকানাটা Send করছি।
মৌসুমী -Ok,  ঠিক আছে।
সায়ন: OK, Bye.

মৌসুমী আশ্রম এবং আশ্রমের বাচ্চাদের  আপন করে নিয়েছে। মৌসুমী  এখন আশ্রমের নয়নের মনি। সায়ন   প্রতি সপ্তাহে আসে, সায়নের বাচ্চাদের  Health দিকটা দেখে।
মৌসুমী চলে আসার পর ওর  বাবা মা  ওকে অনেক বুঝিয়েছে, ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য  ,কিন্তু মৌসুমী ফিরে  যায়নি তাদের কে  ফিরেয়ে দিয়েছে । শোশুড় বাড়ীর সাথেও কোনো যোগাযোগ রাখেনি আর বাবাকে বলেছে মৌসুমী কোথায় আছে সে কথা যেন ওই বাড়ির কাউকে বলে।

এদিকে মৌসুমীর শাশুড়ি অনুপমা দেবী ছেলের আবার বিয়ে দিয়েছেন। বংশের প্রদীপ জ্বালানোর জন্য  কেউ না থাকলে হয়, তাই নিজের পছন্দের মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিয়েছেন।  বিয়ের পাঁচ বছর হয়ে গেল কিন্তু এখনও কোনো সন্তান হল না। খুব চিন্তা বিষয়, অনেক তুকতাক করেছেন তাতেও কিছু হয়নি। ডাক্তার দেখিয়ে ও কাজ হল না, ডাক্তার বলেই দিয়েছে, কিছু করা যাবে না, ছেলেরই  সমস্যা আছে।
তখন নতুন বৌ  বলল, আর কত বার ছেলের বিয়ে দেবেন, আগের বৌমাকে তো দোষ দিয়ে অত্যাচার করে তাড়িয়ে দিয়েছেন, এখন কি আমাকে ও তাড়াতে চান। তার থেকে বরং আশ্রয় থেকে একটা বাচ্চা দত্তক নিয়ে নেই তাকেই মানুষ করব। কিন্তু অনুপমা দেবী আশ্রয় থেকে দত্তক নিতে চান না। কোন বংশের সন্তান কে জানে, যার জাতের কোনো  ঠিক নেই, সে হবে রায় বংশের প্রদীপ,কখনই না।
কিন্তু অনুপমা দেবী ভুলে গেছেন, তিনি যার সাথে ঝগড়া করছেন, সে মৌসুমী নয়, যে সব মুখ বুজে শুনে নেবে। তাই শেষে বাধ্য হয়ে নতুন বৌমার কথা মানতে হল।

অনুপমা দেবী ছেলে এবং নতুন বৌমার সাথে এল আশ্রমে বাচ্চা দত্তক নিতে। ঘটনা চক্রে ওরা মৌসুমীর আশ্রমে  আসে। মৌসুমী ওদের কে দেখে নিজেকে আড়াল করে নেয়, মৌসুমী যানে অনুপমা দেবী সামনে গেলে তিনি হয়তো এই আশ্রম  থেকে আর  বাচ্চা দত্তক দিতে দেবে না, অন্য আশ্রমে চলে যাবেন। অনুপমা দেবীর মতো মানুষ ভাঙবে তবু ঝুঁকবে না।
মৌসুমী তাই অন্য একজনকে দিয়ে দত্তক নেয়ার  সব অফিসের কাজ করিয়ে নেয়। মনে মনে ঠিক করল সময় মতো অনুপমা দেবীর অপমানের জবাব দেবে।

এই আশ্রমে মৌসুমী  ১০ বছর হল এসেছে।এখন প্রায় ১০০ বেশি ছেলে মেয়ে তার সন্তান ।আশ্রমের নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে । এই আশ্রম সুন্দর ভাবে পরিচালনা করার জন্য, একটি নামী সংস্থা ওদের আশ্রমকে অর্থ প্রদান করতে চায় এবং মৌসুমী কে তার কাজের জন্য প্রশংসা পত্র দিতে চায়।
এই অনুষ্ঠানে মৌসুমী  একজনকে ব্যক্তিগত  ভাবে আমন্ত্রন জানিয়েছে। মৌসুমী  তার হাত থেকেই প্রশংসা পত্র নিতে চায়।
অনুষ্ঠান মঞ্চে  সবাই কে  প্রনাম জানিয়ে মৌসুমী  বলতে শুরু করল - প্রথমে ধন্যবাদ জানাই সায়ন বসু কে, যিনি আমায় এখানে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে ছিলেন। ধন্যবাদ আর ও একজনকে, যার জন্য আমি এখানে এসেছি। তিনি হলেন অনুপমা রায়, আর আমি ওনার হাত থেকে এই পত্র টা  নিতে চাই। আমি অনুরোধ করব উনি যেন এটা করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মৌসুমী   অনুপমা দেবী কে  প্রনাম করে বলল, আপনার জন্যই আমি এখানে পৌঁছাতে পেরেছি,আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।  আপনি বলেছিলেন না ওসব কাহিনীতে মানায় বাস্তবে নয় । আজ দেখুন বাস্তবেই হয়েছে, আপনি আমার সন্তানকেই দত্তক নিয়েছেন, সন্তানের  জন্ম না দিয়ে  এভাবে ও মা হওয়া যায়।আজ আমি একশো  বেশী সন্তানের জননী হয়েছি।

বানীবন্দনা
কলমে :- সুভদ্রা রায়

মাতা - তবু নও মাতা জিভের অগ্রে আসো
লক্ষ্মী মেধা ধরা তুষ্টিগৌরি পুষ্টি প্রভা ধৃতি -
এ আট শক্তিতে আবিষ্ট আলোকিত উজ্জ্বল
দেবীর আসন খানি রাখি পেতে তোমার!

কন্যার আদলে তুমি অপরূপা,
হংসবলাকার মুক্ত ডানা দুটি মেলে -
শুভ্র বসনে অনাবিল অনাস্বাদিত বসন্তের
রূপ যেন রূপ নয় - প্রভাতী উপাসনা!

পলাশের রক্তে রাঙা হৃদয় গোলাপ
মূক সবে তোমা ছাড়া নির্বাক জিহ্বা -
দিও জ্ঞান বিদ্যা বুদ্ধি তব কৃপায়
জনে জনে এ ধরনীর বিজ্ঞানী বিদূষীর

হলে আবির্ভাব ঘটে যদি পরমাদ
জীবেরে জীবন দিও ঈর্ষা দ্বেষ ভুলে -
প্রেম প্রীতি আত্মত্যাগ রচনাকালে
দৃষ্টির সৃষ্টিতে ভাসে যদি অপাপবিদ্ধ -

হাসিমুখ পেলব শিশুর সরলতা
প্রনমী তোমাতে প্রাণ তব পায়ে রাখি
জীবনের ক্যানভাসে আঁকা জীবনগাঁথা
ফিরে ফিরে এসো - শুনিয়ে বীনার তূন..

জীবনের ভুল ত্রুটি কোরো মার্জনা -
রেখেছি আসন তব কুন্দ ফুলের মালা
শুভ্র বসনে রেখে হৃদয়ের অনুরাগ সাথে,
রক্ত চন্দন আর শ্বেত চন্দনে মাখা টগর যুঁথি

বেলপাতা খাগের কলম গুঁজে দুধের দোয়াত
ধান দূর্বা সহ কলা কদমা বাতাস শাকালু সন্দেশ
নারকেল কুল নতুন চালের পরমান্ন যোগে
লিখে নাম গোত্র পরিবারের করি নিবেদন -

ভূজ্যি সাথে বইপত্র কলম কাগজ পায়ে তব
অঞ্জলী প্রার্থনায় বন্দনা - তব করি অন্তরের -
স্বরবর্ন থেকে শুরু দিও শব্দ মাধুরী আজীবন!

কন্ঠে যেন ওঠে হুংকার অন্যায় প্রতি বাদে -
দিব্যজ্ঞানে ছড়ায় আলোকদ্যূতি যশ বিদ্যা বুদ্ধি
সর্বত্র সর্বজনে হোক পূজনীয় তোমার আরাধনা
সদ্যোজাত শিশুর অস্ফুট উচ্চারণে - হোক তব বন্দনা..

২৯/০১/২০২০

নিশ্চুপ পাথরের কান্না
- আয়েশা আক্তার মমতা

বেলা শেষে,
দিনের সমাপ্তি নিয়ে সন্ধ্যা তারার উজ্জ্বল
তারাটি খসে পড়েছে বারান্দায়।
অগোছালো পৃথিবীর দূষিত নর্দমার মুহুমুহু দুর্গন্ধে
ছড়িয়ে গেছে বিমর্ষ হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু
ছিন্নভিন্ন করে।
এই শহরের বাতাসে মৃতের গন্ধ ভেসে আসে,
জীবন্ত মানুষের দেহঘড়ি ক্রমশ রক্তমাখা
আঘাতে আঘাতে!
রক্তের দূষণ মনের পাঁজরে গলিত হচ্ছে
বুকফাটা আর্তনাদে।
জীর্ণ-শীর্ণ অবয়বে নিঃশব্দ পাথরের কান্না,
আকাশের শূন্যে প্রতিধ্বনি হয়ে মিশে যায়
বোবা হাহাকারে।
রঙ্গিন স্বপ্নগুলো মেঘাচ্ছন্নতার প্রলেপ মেখে,
দাফন হয় নিত্য নতুন কষ্টের স্তুপে।
খুব সংগোপনে একাকী দুঃখের যাতনে
শতাব্দীর পর শতাব্দী নীল কষ্ট বুকের জমিনে রেখে!
নিরালায় ডুবে যায় বিষাদময় রাত্রির বুকে।
সুখের আঙ্গিনার দূর্বা ঘাস মরে গেছে
আষ্টেপিষ্টে পদদলিত হয়ে,
জীবনের নিশ্চুপ যন্ত্রণার ঘাত প্রতিঘাতে।

রাত
কলমে - আহসান হাবীব

রাতের ও আকাশ
স্তব্ধে ঘুমে আছে বহুদিন,
এ নিশির নীরব বেদনা
কেউ জানেনা।

এমন কি জানেনা
নিভৃত রাত্রির অথিরা
কি আকাশ সম দুঃখ তার!
অন্ধ অটুট পাথর বুকে
কেউ জানেনা-
কেউ জানেনা।

সূর্যের অগ্নি-দহনে
কখনো কেন রাতের চিতা জ্বলেনা?
চাঁদ-আঁধারে মিলনে
সেতো কেবল তমসারই জন্ম।

ঘন সে আঁধার বুকে
আলোর অনন্ত আপেক্ষা,
তার আঁখি জুরে ঝরে নীর!
তার এ নীরব বেদনা
কেউ জানেনা-
কেউ জানেনা!

#শিরোনাম_প্রতিবাদ
#বিভাগ_সাহিত্য_গল্প
#কলমে_কাকলী_সেনগুপ্ত

রিতা আর মলয় স্কুল জীবন থেকেই দুজন দুজনকে ভালোবাসে। আজ তারা প্রাপ্তবয়স্ক। মলয় চাকরি পেলেও রিতা এখনও কোন চাকরি পায়নি। রিতার বরাবরই ভীষন ইচ্ছা যে, ও শিক্ষিকা হবে। রিতার ইচ্ছার কথা মলয় জানতো। তাই ওরা অপেক্ষা করেছিল। অবশেষে রিতা সরকারী স্কুলে চাকরি পেল। কিছুদিন বাদে বিয়ের দিন ঠিক হল। রিতা মলয়কে বললো,
--কি গো, আমার চাকরি নিয়ে তোমাদের বাড়িতে কোন সমস্যা হবে না তো?

--না..... না। কি যে বলো না তুমি। একে সরকারী চাকরি ,তারপর আবার শিক্ষিকা! ওসব নিয়ে তুমি কোন চিন্তা করোনা।

মহাধূমধাম করে বিবাহ সমাপন হল। অষ্টমঙ্গলার পর চাকরিতে যোগ দেওয়ার দিন উপস্থিত। সকাল থেকেই বাড়ির পরিবেশটা একটু অন্যরকম লাগছিল রিতার। মাঝেমধ্যে একটু কানাফুসিও শুনতে পাচ্ছিল সে। যাক্ সময় মতো রওনা দিলো, রাতে বাড়ি ফিরে সেই একই অবস্থা। যাবতীয় সংসারের সমস্ত কাজ করলেও সবাই খুশি নন। রাতে শুতে গিয়ে রিতা সব কথাগুলো মলয়কে বললো, কোন উত্তর না পেয়ে তাকিয়ে দেখে মলয় ঘুমিয়ে পরেছে। একরাশ দুঃখ বুকে চেপে রেখে রিতাও শুয়ে পরলো। পরদিন যথারীতি একই গল্প।

এইভাবে চলতে চলতে বছর পার হয়ে গেল। শ্বশুর বাড়ি থেকে সন্তান ধারনের জন্য চাপ দিতে শুরু করলে রিতা মলয়কে বললো,
---তুমি কিছু বলো! এখনই এসব সম্ভব নয়।

--- মা যা বলেছে ঠিকই তো।

---তুমি অনেক বদলে গেছো।তোমাকে খুউউউব অপরিচিত লাগছে। আমি তো বিয়ের আগেই তোমায় সব বলে নিয়েছিলাম, তবে আজ কেন এসব সমস্যা তৈরি হলো? সবাই যাই করুক না কেন, তুমি কেন আমার সাথে এরকম করলে? এরই নাম প্রতারণা আর তুমি হলে আমার কাছে প্রতারক! ----এই বলে কাঁদতে কাঁদতে রিতা বালিশে মাথা রাখল।
পরদিন সকালে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিয়ে রিতা ওই বাড়ি, ওই সংসার ,এমনকি ওর ভালোবাসার মানুষটাকেও ছেড়ে চলে যায় বাপেরবাড়ি। এটাই ছিল মলয়ের প্রচারণার বিরুদ্ধে রিতার প্রতিবাদ।

অতীত গন্ধ
কলমে - ব্রততী দাস

সময়ের জীর্ণ ডাকবাক্সে
আজও জমে আছে দেখো
থমকে যাওয়া রাত, বিবর্ণ হলদেটে সোহাগ আর আদুরে বিশ্বাস
সুরসিক আর কৌতুকপ্রিয় ঈশ্বর কৌতুহলে ভাঙা-গড়া খেলেছিল নেহাতই খেয়ালের বশে
অবসর বিনোদনে জলরঙে এঁকেছিল স্বপ্নিল যাপন কথা
পৃথিবীর তুচ্ছ শিশির ভেজা অনুরাগে সিঞ্চিত করেছে রোজ বিগত অতীত
তবুও শুকিয়ে গেছে সবুজের নেশা
ঈশ্বর ফিরে শুলে ব্রাত্য হয় পৃথিবীর দান

বিশ্বাস!
কলমে – কিরণ মাহমুদ মান্না

একটা ভুল মানুষকে শিক্ষা দেয়,
আবার একটা ভুল মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।
সেই ভুলের কারণে তিলে তিলে
ফাটল ধরে যায় বিশ্বাসের ঘরে।
শেষ হতে থাকে সুন্দর জীবন,সুন্দর ভবিষ্যৎ।

বিশ্বাসের ঘর নাকি বাতাসে নড়ে,
যার হারিয়েছে সেই তো কেবল জানে বিশ্বাস কি।
মনের মাঝে যদি কোন মতে একটা সন্দেহ ঢুকে পড়ে,
সন্দেহের তীব্র অগ্নি হাওয়ায় ছাড়খাঁড় হতে থাকে মনের ভিতর বাহির।
ধীরে ধীরে মনের বিশ্বাসটাও পালাতে থাকে,
ঘুণপোকা ধরে যায় বিশ্বাসের খুঁটিতে।

বিশ্বাস এমনই একটা জিনিস
যদি একবার হারিয়ে যায় তা ফিরে আসে না,
কেউ ফিরে পেলেও টিকিয়ে রাখা বড়ই দুষ্কর।
যখনই কোন কারণে দ্বিতীয় বার ভুল হবে
সেই বিশ্বাসের দরজায় আঘাত হানবে।
মনে করিয়ে দেবে তোমার পুরোনো ব্যর্থতার স্মৃতি।

অফিসের বসের কাছে বিশ্বাস হারালে
তবে তোমার কপাল পোড়া,
পিতা মাতার কাছে হারালে অবাধ্য সন্তান,
ছোট ভাই বোনের কাছে দায়িত্বহীনতা,
প্রানের প্রিয় স্ত্রী বা প্রেমিকার চোখে ব্যর্থ পুরুষ।
যেদিকে যাবে সেদিকই অন্ধকার,
যদি না থাকে তোমার বিশ্বাসী সার্টিফিকেটের মূলদার।

বিশ্বাস বড়ই অমূল্য এক সম্পদ
যায় না পাওয়া কোন দামে,
হুঁশ থাকিতে হারিও না ও ভাই
পড়িও না কেউ মিছে বদনামে।
বিশ্বাসে মন বাঁধিলে ভালোবাসা রয়
অবিশ্বাসে খোঁজে পাবে কেউ কারো নয়।

০৪/০১/২০২০ ইং
সিঙ্গাপুর।

ফিরে যেতে চাই
হারানো সে দিনের তোমার কাছে নয়, তোমার ভালোবাসার কাছে
প্রিয় সে সুযোগের রাস্তা কোথায়
সেদিন দেওয়া চিরকূটে কোই তুমি লেখনি তো
কেন !
বলো... বলো... বলো...
আজ পথ ভুলে বোকামির পরিচয় নিয়ে
কি অদ্ভুত ভাবে পরাজিত,
তুমি আমায় নিশ্চিন্তে কি ছুটি দিয়ে ছিলে সেদিন একেবারে
"বিদায় বালক ভালো থেকো" কোই তুমি বলো নি তো
কেন !
বলো... বলো... বলো...
তবে কি আমাদের ভেস্তে যাওয়া না হওয়া প্রেম
মুছে গেছে চিরতরে, অজানা ঝড়ের মতো
তোমার আমার পায়ে হাঁটা পথের আঁকে বাঁকে কোথাও কি নেই
স্মৃতি চিহ্ন টুকুও,
সেদিন প্রেমের দুই টুকরো ফুল কোই তুমি ছড়াওনি তো
কেন !
বলো... বলো... বলো...
ফিরে যেতে চাই তবু কেন জীবন চলে সম্মুখে, তোমার নয় আমার
হায়, আজ কি তবে আমি ফিরবো না
তোমার অবিবাহিত অতিবাহিত ভালোবাসার মূল্য দিতে
সেদিন অস্ফুট ঠোঁটেও আনমনে "ফিরে এসো" কোই তুমি বলোনি তো
কেন !
বলো... বলো... বলো...

25.01.2020  01:40 AM

জানালায় রোদের ছাট
হালকা হাওয়াতে খেলা করা চকচকে গাছের ছায়া
কিছুটা বসন্তের মতো
আমি শুনি কোকিলের ডাক
শিমূল ফুলে ।
গোধূলি বিকেলের ধুলো মাখা পথ নির্জন বারান্দায়
এক পায়ে দাঁড়িয়ে বোবা শালিক
একাকী বসে চিলেকোঠায়
আমি দেখি
দূর দিগন্তে নীল আকাশ মেলেছে ডানা ।

25.01.2020  3:17 PM

রাস্তা ঘাটে ধর্ষন আজ
নারীর সম্মান নেই,
শ্লীলতা হানী ঘরে ঘরে
গনতন্ত্র কি এই ?

উদ্বাস্তু লোক পথে পথে
দেখার নেই কেও,
ভুক্ত পেটে ভিক্ষা মাগে
প্রজাতন্ত্র কি এও ?

চিট ফান্ডের টাকা খেয়ে
মন্ত্রী লুকোয় গিয়ে,
গরিব লোকের টাক ফাটে
সমাজতন্ত্র কি এ ?

রাজনীতির কবলে পড়ে
জেহাদী সব দেখি,
হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা করাই
ধর্ম নিরপেক্ষ একি ?

খুন খারাপি লেগেই আছে
পথ চলতে করে ভয়,
মূর্খ মন্ত্রী দেশ নাচালেই
এও সাধারণতন্ত্র হয় ?

দেশদ্রোহী এ দেশের রাজা
নেতা ঘুস খোর,
ওরে পাগলা প্রধান মন্ত্রীই
দেশ লুটছে তোর ।

26.01.2020 1:47 AM

মাটি
কলমে - উম্মে রায়হানা

মাটি -
তুমিতো অপ্রন্চ্যকর খাটি।
তোমার বুকে চালায় কোদাল
ঐ যে ওই নিষ্ঠুর রাখাল,
তোমার বুকে খুদাই করে
ফসল ফলায় ওরা,
তাতে তোমার লাভ কি করে?
খাজনা দেয়না তো তারা।
তোমার ভেতর করে গর্ত
থাকে না তাদের কোনো শর্ত,
নানা রকম গাছ লাগায়
তা দিয়ে চাহিদা মেটায়।
তাতে তোমার লাভ কি ভাই?
বলনা একটু শুনতে চাই! সবাই তোমায় যা দেয়
দু হাত পেতে নাও,
আকাশ থেকে ঢিল ছুড়লে
বুকে টেনে নাও।
এতো কিছু কর সহ্য তুলনা হয় না তোমার কার্য,
তোমার বুকে উঠে গড়ে দালান, স্কুল, প্রতিষ্ঠান,
তোমার বুক উজার করে
দু হাতে করো দান।
শুধু তুমি সবাইকে দাও তার বিনিময় কি নাও?
তোমাকে ঘিরে মনুষ্যকুলে করে অট্রালিকা,
বেদনা না পেয়ে দাও তুমি আলোর শিখা।
তোমার তুলনা হয় না ভাই
মনুষ্যকুলের চাওয়ার শেষ নাই।

শিরোনাম - অন্তঃসলিলা
কলমে - মৌমিতা মৌ

ওই যে ওই নদীটা!

কি যেন কি বেশ নাম?

শুনেছি বর্ষার প্লাবন ধরে রাখতে না পেরে,
হয়েছে অন্তঃসলিলা...

সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
একটা বন্ধ্যা বট গাছ!

আচ্ছা! বলতে পারো বটগাছ টা বন্ধ্যা কি করে?
শুধুই ওর কুঁড়ি আসেনি, ফুল ফোটেনি,
আর ফল ধরেনি বলে?

কিন্তু,জানো! ওর কত্তো ঝুরি নেমেছে।
ওগুলো তো ওর ই সৃষ্টি বলো?
কতো কষ্ট আর কতোইনা যন্ত্রণা সহ্য করেছে।
নিজের খাদ্যরস আর জীবন রসের
ভাগ দিয়ে তবেই বাঁচিয়ে রেখেছে।

আর কতো প্রাণী ও পাখি,
কতো পরিযায়ী সংসার পেতেছে..
পথচলতি ক্লান্ত পথিক, ভবঘুরে, ফেরিওয়ালারা
ওর শান্ত স্নিগ্ধ আঁচলের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে।

দেখো! ঈশ্বর ও যে ওর বুকে আশ্রয় নিয়েছেন..
সবাই কেমন মাথা ঠুকছে, প্রণাম করছে,
দিনেরাতে ধূপ,প্রদীপ জ্বলছে; মন্ত্র উচ্চারণ আর
ঘন্টা ধ্বনিতে মুখরিত আকাশ, বাতাস কম্পিত!
এখনও তোমরা ওকে বন্ধ্যা বলবে??

সহ্য করতে পারেনি নদীটা..
সভ্যতার নিদর্শনের সাক্ষী যে দু'জনেই।
তাই তো আজ ভরা শ্রাবণের উপচে পড়া প্লাবনে,
সে যে কেবলই অন্তঃসলিলা নদী এক!!

#@মৌ©

এমন একটা তুমি চাই আমার
কলমে - কিরণ মাহমুদ মান্না

এমনও কুয়াশার চাদর জড়ানো শীতের ভোরে,
বিছানার উষ্ণতা ছেড়ে বারান্দায় ফ্রেশ মুডে,
স্নানটি সেরে গামছা মুড়ানো ভেজা চুলে,
নরম হাতে গরম এক কাপ ধোঁয়া উঠা চা
সামনে বাড়িয়ে দেবার মত,
এমন একটা তুমি চাই আমার।

আধো কুয়াশা আধো রোদ্দুরে
অলসে শরীর যখন ঝিমে ঘাপটি মেরে বসে রবো,
অলসে কোথাকার,তিন দিন হলো স্নানের নাম নেই।
চুলোয় এক বালতি পানি গরম করে এসে,
কান মুড়িয়ে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে
জল সাবানে স্নান করিয়ে দেবার মত,
এমন একটা তুমি চাই আমার।

শীতের অলস বিকেলের মিষ্টি রোদে
বাড়ির ছাদের এক কোণে বসে,
শরীরে উষ্ণ চাদর জড়িয়ে যখন কবিতার বইয়ে মগ্ন,
পিছনে দাঁড়িয়ে, হাতে এককাপ কফি আর
এক বাটি মরিচ পেঁয়াজে মুড়ি চানাচুর মাখিয়ে
আদরে খেয়ে নাও বলার মত,
এমন একটা তুমি চাই আমার।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে রাতের ডিনার শেষে
সারাদিনের আদর জমানো নরম বিছানায়,
এক বালিশে মুখোমুখি,চোখাচোখি ভালোবাসার
সোহাগ মাখা কিছু না বলা প্রেমময় কথপোকথনে
সারারাত জেগে পাড়ি দেবার মত,
এমন একটা তুমি চাই আমার।

প্রতিদিনের এমন রুটিন মতানুসারে পাশে থাকার মত,
এমন একটা তুমি চাই আমার।

১৮/০১/২০২০ ইং
সিঙ্গাপুর।

মেঘ বলাকা
কলমে - শীতল আচার্য

দূরের আকাশখানা, ছোপানো ঘোলা ছাই রঙে
উল্টানো সমুদ্র যেন মাপা গেলে বিস্তারের ঢঙে |
হারিয়েছে কত কিছু - মেঘেদের ঢেউ মাপা যান,
জীবনও হারিয়েছে তার বাঁচার রসদ, অনুপান|

চাহিদার মুখে চাবি, এখন তো নিতান্ত প্রহর
পাড়ি দেয় আলসেমি, মুখবন্ধ তাজাও খবর|
জীবন বন্ধনী ঘেঁসে শুভদৃষ্টি প্রণয়েরও কাছে -
'যেতে পারি, কেন যাব' এই বার্তা আজও জারি আছে|

জলোচ্ছ্বাসে ভরে যায় আকাশ আর পৃথিবীর কোণও -
শরীরে শুধুই বালি, কুয়াশার চাদর বিছানো |
ঘুমের অতলে দেখি ভেসে যায় ছাই রঙা শোক,
লোকানো মেঘেতে খোঁজা হারাণো সে অপলক চোখ !

হে সুভাষ কোথায় তুমি বীর
আরেকটি বার ফিরে এসো
দেখে যাও সেদিনের মতোই
কাঁদছে মানুষ এই দেশও ।
হে সুভাষ দেশ নায়ক যোদ্ধা
সেদিন ব্রিটিশ চুষেছে রক্ত
তুমি বাঁচালে, এবার কোথা যাই
এ সরকারও ব্রিটিশ ভক্ত ।
হে সুভাষ ভারত মাতার সন্তান
দেখো P.M এর হাতে ডুগডুগি
ইচ্ছে মতো বাজায় মন্ত্রী মিনিস্টার
আমরা স্বাধীনতা হীনতায় ভুগি ।

23.01.2020 09:22 AM

কৃষ্ণকলির দীপাবলি
কলমে - কিরণময় নন্দী

আমি কৃষ্ণকলি রায়চৌধুরী,লন্ডনের সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিনসের প্রশিক্ষিতা ফ্যাশন ডিজাইনার ...
.....কর্মসূত্রে মুম্বাইবাসী- আমি হৃদয় দিয়ে বাংলাকে ভালোবাসি।
আর পাঁচজন বাঙালীর মতো সুযোগে তর্ক করি আবার নিঃসঙ্গ মুহূর্তে ডায়েরীতে আঁচড় কাটি।
আমি বেশ সুন্দরী-তবুও আমি কৃষ্ণকলি.... কার্তিকের কালিকা অমাবস্যায় মায়ের কোল আলো করে রায়চৌধুরী পরিবারের একমাত্র মেয়ে.....দাদুর আদুরে নামে আমি কৃষ্ণকলি।
আমার গ্রাম পলাসনে সেবারে ঘটা করে মা কালীর আরাধনা-আলোয় সেজেছে সারা গ্রাম-হেমন্তের হালকা শিশিরে চারদিক চিকচিক করছে।
পাড়ার বৌদি-কাকিমা-ঠাকুমাদের সাথে প্যান্ডেলে গল্প করলাম।একসাথে পুজো দিলাম।দু-একটা ফুলঝুরি জ্বালালাম।
প্যান্ডেল থেকে আমাদের বাড়ির সাড়ে ছশো মিটারের দূরত্বে লোলুপ হায়নাগুলো আমায় মুখ চেপে টেনে নিয়ে যাবে আমি কল্পনা করতে পারিনি।
কৃষ্ণকলি আপ্রাণ চেষ্টা করল নখর জানোয়ারের সাথে-চিৎকার করতে চাইলো- লড়াই করতে চাইলো-একা কৃষ্ণকলি তাবিজ-মাদুলি পরা পাঁচজনের সাথে পেরে উঠলো না। লাল জামদানী পরিহিতা কৃষ্ণকলির হিংস্রতার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।
মাইকে তখন পুজোর মন্ত্র,"কালিকায়ৈ স্বাহা, কালিকায়ৈ বিদ্মহে শ্মশানবাসি ন‍্যৈ ধীমহি, তন্ন ঘোরে প্রোচোদয়াৎ........."
শক্তিবিনাশিনীর আরাধনা-বাজি ফাটানো-অন্নকূট বিতরণ-আলোর রোশনাই।ফাঁকা মাঠে অন্ধকারে সমাজ স্বাহার দহনে কৃষ্ণকলি পরাজিত।

পৌষপার্বণ
কলমে – ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী

-- বালিগঞ্জ সারকুলার রোডের কাছের "মা মিষ্টান্ন ভান্ডার" আজ ভিড়ে উপচে পড়ছে। প্রতি বছরই এরকম ই ভিড় হয় এখানে। কানাই এর হাতের তৈরী মিষ্টির সাথে পিঠের ও প্রচুর চাহিদা থাকে এই দিনে। ঠিক ধরেছেন, আজ পৌষপার্বণ। দূর দূরান্ত থেকে লোক আসে পিঠে কিনতে। এরকম ঘরোয়া স্বাদ কোথাও খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। কানাই নিজে হাতে সব বানায়। খরিদ্দার হল লক্ষী। তাই তাদের তুষ্ট না করলে চলে কি করে? কানাই ভীষন যত্ন মাখা হাতে পিঠে বানায়। আজও সেই একইরকমের ভীড়। কানাই মুখ নিচু করে পিঠে বানিয়ে চলে। আজ তার থামার সময় কোথা? হাত চলে বিদ্যুৎ গতিতে। হরেকরকমের পিঠে। পিঠে পুলি, সিদ্ধ পিঠে; পায়েস; মালপোয়া আরও কত কি। কানাই কে সাথ দেয় তার ছোট বোন পুঁটি। দুজনেই কাজে মগ্ন। এরকম অবস্থায় একটা গাড়ির আওয়াজে ওরা দুজন মুখ তুলে দেখে, একটা দুধ সাদা ফিটন গাড়ি ওদের দোকানের কাছে এসে দাঁড়াল। গাড়ি দেখেই কানাই কাজ থামিয়ে দৌড় দিল গাড়ির দিকে।

-আসুন বাবু আসুন।
-আজ আপনি বড্ড দেরি করে এলেন যে বড়ো !
-আপনার শরীর ঠিক আছে বাবু?
-আপনার পছন্দের সব পিঠে সেই কখন থেকে তৈরি করা। সব নিজে হাতে করেছি। যেমন আমার মা করত।

দাঁড়া বাবা, দাঁড়া। একটু জিরিয়ে নিই। তারপর তোর সব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছি।
বাবুর কথায় কানাই জিভ কাটল।
-দেখেছেন বাবু, আপনাকে বসতে না দিয়েই কত কথা কইছি তখন থেকে।
-বসুন বাবু বসুন।
বলে কানাই একটা চেয়ার টেনে আনল।
-বাবু একটু খাবার ব্যবস্থা করি?
-অনেকখানি পথ এয়েছেন।
-শ্যমসুন্দর পুর।
অনেক দূরের রাস্তা। তাও প্রতি বছর পৌষ পার্বণে হরিহর চাটুজ্যে কলকাতায় আসেন। কানাই এর কাছে। ওকে দেখতে আসেন। ওর হাতের পিঠে নিয়ে যেতে আসেন। হয়তো প্রায়াশ্চিত্ত করতেও আসেন। কানাই এর মায়ের সাথে সেদিন যা হয়েছিল সেটা অঘটন ই ছিল। কিন্তু এর জন্য হরিহর চাটুজ্যে নিজেকেই দায়ি করেন। ওঁর জন্যই হয়তো এই দুই ভাইবোন অনাথ হয়ে গেছিলো।

শ্যামসুন্দর পুর গ্রাম। এখানে বনেদি চাটুজ্যে পরিবার। গ্রামের সবাই খুব ভক্তি শ্রদ্ধা করে এই পরিবার কে। ত্রিশ-চল্লিশ টা ঘর নিয়ে এদের একটা ছোট্ট গ্রাম। হরিহর বাবু গ্রামের লোকেদের কাছে ভগবান। আর হরিহর চাটুজ্যের বাড়ির কোন উৎসব মানে পুরো গ্রামের উৎসব। সবাই মিলে মিশে থাকে। এই গ্রামেরই ছেলে কানাই। তার বোন পুঁটি। আর তাদের মা। বাপ তো তাদের কবেই মরেছে, পরিবার টা কে পথে বসিয়ে। হরিহর বাবু না থাকলে হয়তো সেদিন ওদের তিনজনকেই মরতে হত অকালে। হরিহর বাবু কানাই এর মা কে তাঁর বাড়িতে রান্নার কাজে নিয়োগ করেছিলেন। কানাই আর পুঁটি বাবুর বাড়িতেই বেশি সময় থাকত। এরকম সময় যেতে থাকল। কানাই আর পুঁটি বড় হতে থাকল। হরিহর কর্তা ই ওদের কে গ্রামের স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। কেমন যেন ওদের উপর স্নেহের একটা লেপ তেরি হল। ভীষন ভালো মানুষ হরিহর বাবু কানাই কে বলতেন,
- বুঝলি কানু, লেখা পড়া করে যে।
গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে।
-তুই পড়াশোনা কর। শহরে পাঠাব তোকে। ওখানে গিয়ে আরও পড়াশোনা করবি। বড় হবি। মা কে দেখবি।
এই সব শুনে কত রঙিন স্বপ্ন দেখত কানাই।

কিন্তু কে জানত? এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। কে জানত? এরকম করে একটা স্বপ্নের মৃত্যু ঘটবে। একটু একটু করে, কানাই আর পুঁটি আরও একটু বড় হল। ওরা রোজ স্কুল থেকে এসে মা কে কত রকম গল্প করত। শহরে যাবার গল্প। বড়ো হবার গল্প।
কানাই একদিন মা কে বলল,
-জানো মা আমি বড় হয়ে শেফ হব!
-মা বলে, "চেফ" আবার কি রে খোকা?
কানাই আর বোন পুঁটি মার কথা শুনে কি হাসি নাই হাসত। বলত, ওটা শেফ গো মা। তুমি যেমন বাবুর বাড়ি রান্না কর ওরকম। কিন্তু আমি বড়ো বড়ো হোটেলে রান্না করব। তোমার থেকে তো অনেক শিখে নিয়েছি। আর পুঁটি কে আরও পড়াশোনা করাব। ডাক্তার করাব।
ওদের মা শুনে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলত,
-গরীবের আবার স্বপন দেখা !
কেন মা? আমরা গরিব বলে স্বপন কি শুধু বড়োলোকেরই? বাবু যে বলেন, "কানাই স্বপ্ন না দেখলে বড় হতে পারবি না কোনদিন"।
-তুমি দেখো মা, আমি খুব বড় হব!
মা বলে উঠল, নে অনেক হয়েছে।
- হাত চালা।
-চাল গুলো গুঁড়া কর।
-অ পুঁটি নারকেল কোরা হল?
পরে সব স্বপ্নের গল্প করিস। এগুলো করে বাবুর বাড়ি যাব পিঠে বানাতে। তারপর রাতে এসে তোদের জন্য পিঠে বানাব।
-আর শুন, তোরাও যাবি আমার সনে বাবুর বাড়ি।
-আজ কে পৌষপার্বণ।

এরপর ওরা তিনজন হরিহর চাটুজ্যের বাড়ি চলে যায়। ওখানে গিয়েও তিনজনে হাত চালায়। বাবুর বাড়ি করে ওরা নিজেদের বাড়ি গিয়ে পিঠে বানাবে।
হামান দিস্তা তে কানাই চাল পিষে গুঁড়ি করছে।
পুঁটি নারকেল কুরছে।
ওদের মা উনুনে তীব্র বেগে আগুন জ্বালিয়ে ডাল সিদ্ধ করছে। এরপর বাঁধাকপির তরকারি হবে।
বাবুর নির্দেশে হরেকরকম পিঠের আয়োজন আজ। পুর পিঠে, পিঠে পুলি, মালপোয়া সব হবে। তিনজনেই হাত চালায়।
-অ কানাই আমি চাল আর গুড় ফেঁটিয়ে দিয়েছি। তুই মালপোয়া গুলো ভাজ না বাবা।
-পুঁটি তোর হয়ে গেলে যা খেলবি।
-কানাই আর মা মিলে বাকি পিঠে করাতে মন লাগায়। পিঠে তৈরী শেষের মুখে এলে কানাই ও সেখান থেকে চলে যায়।
-অনেকক্ষন হয়ে গেল তো কানাই, কর্তা বলে ওঠে।
-তোর মা'র পিঠে হয়নি?
কানাই বলল, আর একটু বাকি। আমি দেখে এসেছি। তারপর আমরা বাড়ি গিয়ে পিটে বানাব। হরিহর বাবুর সাথে কানাই গল্পে মত্ত। পুঁটিও খেলায় মত্ত। হঠাৎ বিকট আওয়াজে সবার টনক নড়ল। রান্না ঘরে গিয়ে সবাই দেখল, কানাই আর পুঁটির মা আগুনে জ্বলছে। বোধহয় শাড়ির আঁচল এ আগুন লেগে এই বিপত্তি। সারা বাড়ি হুলুস্হুলুস পড়ে গেল। সারা গ্রামের লোক হাজির। জল দিয়ে আগুন নেভানোর কাঁহাতক চেষ্টা করা যায়? সারা রান্না ঘর জ্বলছে। কানাই-পুঁটি কেঁদেই চলেছে।

এ তাদের কি হল? এ কেমন পৌষপার্বণ? অনেক চেষ্টার পর যখন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল তখন কানাই এর মা মৃত। দুটো ভাই বোন আবার অনাথ হল। সেদিন গ্রামে আর পৌষপার্বণ উৎসব হয়নি। সেদিন হয়েছিল কানাই এর মায়ের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া। গোটা গ্রাম স্তব্ধ। এই পৌষপার্বণ কেউ ভুলতে পারবে কি? সেদিনের পর আরও অনেক পৌষপার্বণ এসেছে-গেছে। হরিহর চাটুজ্যের নির্দেশে তাঁর বাড়িতে পৌষপার্বণ বন্ধ হয়েছে। তিনি নিজেকে দায়ী করেন এইসবের কারন হিসেবে। এরপর আরও কয়েকবছর কেটে গেছে। কানাই আর পুঁটির পুরো দায়িত্ব হরিহর বাবু নিয়ে নিয়েছিলেন। কানাই আজ সত্যিই খুব বড় শেফ।

আজ আবার একটা পৌষপার্বণ। আবার কানাই এর মায়ের মৃত্যু দিন ও। মায়ের স্মরনে কিছু করার তাগিদে এই পদক্ষেপ।দোকান টার নাম রেখেছে "মা মিষ্টান্ন ভান্ডার "। প্রতিদিন হোটেলের কাজ সেরে রাতে এসে মার কাছ থেকে শেখা নানান মিষ্টি বানায়। আর আজ তো পৌষপার্বণ! আজ পুরো ছুটি নিয়েছে। এই দিন টা কানাই এর নিজের। হরিহর চাটুজ্যে প্রতি পৌষপার্বণে কানাই এর কাছে আসেন। গ্রামের সবার জন্য মিষ্টি আর পিঠে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে পৌষপার্বণ পালন করেন সবার সাথে, একটু অন্যরকম ভাবে। কানাই আর গ্রামে ফিরতে চায় না। ওই দৃশ্য কানাই আজও ভুলতে পারে না।হরিহর বাবু নিজেকে আজও দোষী ভাবেন। আর কানাই, তার জীবনে পৌষপার্বণের মানে অন্য। মায়ের মৃত্যু দিন। কানাই আজ অবধি একটা পিঠেও দাঁতে কাটেনি। কারন এই পৌষপার্বণ ই তার শেষ সম্বল, তার মা কে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। অনাথ করে দিয়েছে। মায়ের আঁচল পুড়িয়ে মায়ের আঁচলের ছায়া শুষে নিয়েছে।

#Jhilik_Mukherjee_Goswami

পুতুলের বিয়ে
কলমে - কিরণময় নন্দী

সৃজা আশুর বেজায় জুটি
খেলার মাঠে,স্কুলের রুমে
আমবাগানে লুকোচুরি
সবসময় খুনসুটি।

মা বকে , বাবা বকে
রবিস্যারও দেয় বকা
'এই বয়েসেই তোরা
বড্ড বেশি পাকা'।

ঠাকুমার বলা গল্পগুলো
যতই শোনে বারেবারে
ওদের মন ছুটে যায়
পুতুল খেলার ঘরে।

সিঁড়ির কোনে ছোট্টো ঘরে
বিয়েবাড়ির বিরাট আয়োজন
মেম পুতুলের বিয়ে হবে
মিছিমিছি কতো লোকজন।

পুতুলের বিয়ের শেষে
সৃজার চোখে কান্না আসে
চোখ মুছিয়ে আশু বলে
'ও আসবে পরের মাসে'।

কাদামাটির লুচিমিষ্টি
মিছিমিছি একাই আশু খেলো
জড়িয়ে মাকে সৃজা বলে
'মেম কেন অন্য ঘরে গেল?'

মা বলে,'মেমের এখন অনেক কাজ
বরের বাড়ি গোছাতে হবে
রান্নাবান্না অনেক কিছু
বাড়িসুদ্ধু লোক খাবে'।

চারিদিকে রঙিন আলো
গান বাজছে মিষ্টি সুরে
আশু আজ ভীষণ ব্যস্ত
সৃজা যাবে অনেক দূরে।

বিয়ের সাজে লাজে রাঙা
গায়ে লাল বেনারসী
'খুকি' সৃজা সুন্দরী বেশ
এখন অষ্টাদশী।

পান সরিয়ে ছাতনাতলায়
শুভদৃষ্টি চলে
হৈ-হুল্লোড়ের মাঝে আশু
মোবাইলে ফটো তোলে।

চেঁচিয়ে বলে বোস-বাবু
'আশু খাবার দিকটা দেখো
শহর থেকে কুটুমজন
একটু নজর রাখো'।

ভালোই ভালোই মিটলো সব
খেটেখুটে অনেক রাত
কাছাকাছি অচেনা দুজন
মাঝে সাজানো বাসর খাট।

খেলার ঘরে পুতুল বিয়ে
আশুর সাথে খেলা
চুপিসারে বয়স এখন
সকাল গড়িয়ে বেলা।

পরেরদিনে সকালবেলা
আশীর্বাদের পরে
সত্যিই সৃজা চলে গেল
বরের সাথে নিজের ঘরে।

গাড়ি থেকে মুখ বাড়িয়ে
সৃজা আশুকে ডাক দেয়
'প্রতিদিন যেন
তোর ফোন পাই'।

হাসিমুখে হাত নেড়ে
বিদায় জানায় আশু
বুকের ভিতর চাপা কষ্টটা
টের পায় বন্ধু বিশু।

সময় ছোটে আপন বেগে
কেউ মানে না হার
সফল স্বামীর হাত ধরে
সৃজা পাড়ি দেয় কাতার।

বন্ধু তুমি থাকলে কাছে বীর আমি মহান শক্তিশালী
বন্ধু তুমি ডাকলে কাছে মনের ব্যথা হয়ে যায় খালি,
বন্ধু তুমি হাত বাড়ালে ব্যাকুল প্রান খুশিতে ঢলে পড়ে
বন্ধু তুমি দূরে গেলে একাকী আমার মৃত্যু ভড় করে ।।
বন্ধু তুমি হৃদয় ছুঁলে আনন্দের জোয়ারে বাণ ভাসি
বন্ধু তুমি চললে সাথে পূর্ণ আমি ঝড়ে মুখের হাসি,
বন্ধু তুমি ভাবলে আমায় প্রানে লাগে সুখের দোলা
বন্ধু তুমি না ডাকলে আমায় এ জীবনের রং ঘোলা ।।
বন্ধু তুমি দুঃখের দিনে ব্যথা পেলে আমার চোখে জল
বন্ধু তুমি কাঁদলে পারে হৃদয় পোড়ায় রাগের অনল,
বন্ধু তুমি সুখ পেলে আমিও সুখে কাটায় নিত্য দিন
বন্ধু তুমি এ দেহের ভিটে মাটি এ শার্টেরও আলপিন ।।


19.01.2020 10:27 PM

শহর জুড়ে মাঘের আদর
ক্লান্ত সিক্ত গায়ে ট্রামে বাসে ট্যক্সিতে উঠে পড়ে
মানুষের ভিড় ঠেলে ছুঁচো বাজির মতো,
আমি জীর্ণ সাদা শরীরে ওকে মেখে নিতে গিয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগি
রাস্তার নিয়নের আলোও জরসর -------
দূরবর্তী ফ্ল্যাট বাড়ি দাড়িয়ে ডাকে, সে আদরের প্রতিক্ষারত ।
দৌড়ে চলে যাওয়া ট্রেনের শব্দ ঝংঝং ঝংঝং ঝংঝং....
হৌস্ ------ করে পালিয়ে যাওয়া গাড়ির মিছিল নিস্তব্ধ ।
ফাঁকা পার্কস্ট্রীটের গলিতে
একটা দুটো গনিকা সিগারেটের আবছা ধোঁয়ায়
শীতার্ত কামুক পুরুষ খোঁজে ।
শহর জুড়ে মাঘের আদর ছেলে খেলায় ছিঁড়ে দেয় মোটা চাদর
আমার একটু উষ্ণতা প্রয়োজন
চলে যায় পার্কস্ট্রীটের গলিতে পায়ে পায়ে
বৈশাখের আদর নিতে হবে ।
কালো ঠান্ডা মাখা আকাশে এক ফালি জ্যোৎস্না
বাড়ি খুঁজে ফেরে নির্বাক চোখে,
শহরের বাস ভবনে জায়গা নেই এক ফোঁটা
ও আমার শহর তুমি রাত্রি জাগো নিয়নের জলসা ঘরে
চাঁদের বিছানায় ।
19.01.2020 09:40 PM

কর্ম জোটেনি আজও...
সাঁঝ সকাল কত মধ্যাহ্ন দুপুর পথে পথে ক্লান্ত গায়ে মেখেছি রোদের ছায়া
চুঁচুড়া ব্যান্ডের বালি ব্রিজে উপবাসে কেটে গেছে বেলা,
শুকনো পেটের তাগিদে ছুটেছি কেবল ছুটেছি
তবু কাজের মাসীর দেখা নেই !
কর্মখালি কর্মসংস্থান ঝাল মুড়ির ঠোঙা কুড়িয়ে কুড়িয়ে
আমার বাড়ি করেছি আবর্জনা,
কাজের বিজ্ঞাপন খুঁজে দাড়ি গোঁফ চেঁচে শহরে গিয়ে দেখি সরষে খেত, তাসের ঘর আর বালির বাঁধে কর্মচারীর সন্ধানী লোক
ডাকে হাত নেড়ে ।
দশ লক্ষ বায়োডাটা আর পাসপোর্ট সাইজ ফটো
শূন্য বাতাসে উড়িয়েছি কেবল, বিনিময়ে আমার ডকুমেন্টের মুখে এসে পড়েছে
এক ঝাঁক হতাশা -------
চারদিক দেখি বেনামী বন্দর অচেনা কত শত কম্পানি
ওরা কাজ দেয় না ডোনেশন নিয়ে, কাজ ওদের কাজ দেয় প্রতিদিন,
ইন্টারভিও তো বুকের পাঁজরে পাঁজরে হামা গুড়ি কাটে নিশীরাতে আমাদের !
কলকাতায় মুখোশ পড়ে বস্তিখানার চোরের দল -------
কোট ব্লেজার মেখে স্যার ম্যাম হয়েছে, নামী দামী ভিখিরির আড়ালে ।
শুধু আমরাই কুলি মুটে মজুর হচ্ছি এম.এ বি.এ পাশ করে.....
হায় ! রাজ্যের বেকার ভবঘুরে জনগণের পকেট চেটে
বিল্ডিং হাকছে দেখি এজেন্সি পরিবার ।
20.01.2020 2:56 PM

বাউন্ডুলে
কলমে - ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য

তোর এই বাউন্ডুলে স্বভাব টা আমায় বড্ডো টানে
উস্তখুস্ক চুল ,হাফ সেভ করা দাড়ি
বেশ একটা মাচোম্যান ব্যাপার |
সিগারেট টা ধরিয়ে টান মারিস যখন ব্যাপক লাগে |
জিনস প্যান্ট সাথে কখনো হাফ স্লিভ গেঞ্জি
আবার কখনো পাঞ্জাবী |
তবে বড্ডো ঘ্যাম তোর --------
অবশ্য আমিও পাত্তা দি না তোকে 😃😃
তবে তু্ই যে আমাকে নোটিস করিস সেটা বেশ
বুঝতে পারি |
আমিও তোর এই দেখা না দেখা ব্যাপার টা
তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করি |
আমার লেখায় কখনো কখনো তুই জায়গা পাস
আবার আমিও তোর লেখা গানে জায়গা পাই
সেটা বেশ বুঝতে পারি ,তু্ই ও নিশ্চই পারিস
এই লুকোচুরি খেলা টা ,আমরা মানে তুই আরআমি
আমি কি তোর প্রেমে পড়েছি ??
তু্ই ও কি ????
আমি কিছুতেই বলবোনা তোকে
আমার মনের কথা ,ইসসসস বয়েই গেছে |
যদি মুখের ওপরে না বলেদিস |
তু্ই যা বাউন্ডুলে ----------

কলমে ইন্দু (21.1.2020)

যদি
কলমে - শীতল আচার্য্য

যদি সারাদিনটা পাওয়া যেত
নিজের মত করে -
সরীসৃপের মত সেঁধিয়ে থাকতাম
দেওয়ালের ফাটলে বা নিজেরই
বাগানের মাটির গর্তে ।
চিন্তা ভাবনাগুলো ডিপ ফ্রিজে
ঢুকিয়ে নিরপরাধ লম্বা
ঘুম কয়েক যুগের জন্য ।
কোন মনঃকষ্ট বুকে থাকবে না ।
সারাদিনের ব্যস্ততা নেই -
আমি যেন নিস্তব্ধ প্রকৃতিরই
একটা অবয়ব ।
যেন অনেকদিন পরে জেগে ওঠার
একটা ঘুমন্ত প্রস্তুতি ।
সংসারের ধোয়া মোছা, গোছানো
পরিপাটি আয়োজন ছেড়ে
আমার হিমায়িত সত্ত্বার
দীর্ঘ শীতঘুমের আয়োজন ।
যদি সত্যি এমন হত!

সামলে রাখিস
কলমে - পাপড়ি চ্যাটার্জ্জী

সামলে রাখিস আলতো ছোঁয়ার একফালি ইতিহাস
সামলে রাখিস মাখন রঙা মনের ক্যানভাস
সামলে রাখিস তাসের ঘরে টেক্কা সাহেব বিবি
রামধনুর ঐ সাতরঙেতে হঠাৎ আঁকা ছবি৷

সামলে রাখিস ফেরারী মনে মেঠোপথের ধুলো
ময়ূরাক্ষীর বুকে জমা গভীর ক্ষতগুলো
সামলে রাখিস প্রথম প্রেমের প্রথম শিহরণ
দুটো ঠোঁটের নিভৃত কোণে প্রথম চুম্বন৷

সামলে রাখিস হাসনুহানার বুকের রূপকথা
ইকিড়মিকিড় ছেলেবেলার দামাল চুপকথা৷
সামলে রাখিস একফালি চাঁদ বুকের গভীরে
মনখারাপী রাতগুলোতে জ্যোৎস্না মাখিস সুখে৷

সামলে রাখিস ভোরের আভোগ মনুষ্যত্বের আঁচলে
হাতটি ধরে হাঁটিস না হয় নিজের অহং ভুলে৷

১৯.১.২০২০

শ্রদ্ধায় স্বামীজি
কলমে - রীনা মুখার্জী গাঙ্গুলী

স্বা - স্বাধীনতা আজ পেয়েছি মোরা মূল্যহীন মূল্যবোধ
আজন্ম বাঙালীর হৃদয়ে ,,আছো তুমি চিরন্তন।

মী- মীমাংসিত হয়নি আজও হানাহানির গৌরব
পথের মাঝে পড়ে থাকা যত নারীদের আর্তনাদ।

বি - বিভেদ,, হিংসা,, দ্বেষ,, উচ্চ যত প্রাচীর
বীনার তারে বাঁধা যে সুর ধর্মের মহাবানী।

বে - বেলা শেষে পড়ন্তবেলায় বিবেক হয়েছে বিসর্জন
দুর্নীতিতে দেশ ছেয়েছে ,, বেড়েছে শুধুই ক্রোধ।

কা - কালের গহ্বরে ছুটছে সমাজ শব্দের কোলাহলে
টাকার দরিয়ায় ডুব দিয়েছে আজ , হীনতার মনুষ্যত্বে।

নন্দ - নন্দনে নন্দিত হোক,,স্পন্দিত যত বানী
চিত্রাঙ্গণে হোক সজ্জিত ,,তোমার যত অমর বানী।

প্রেমভিখারি
কলমে - সুজাতা দে

যদি দিয়ে থাকো সোনালী সন্তাপ
ফিরিয়ে দেব না জেনো।
যদি দিয়ে থাকো উন্মাদ উপেক্ষা
পরিপাটি সাজাবো না তাকে।

প্রতিবর্ত ক্রিয়াতে সব মাপা হলেও
কিছু খড়কুটো উড়ে গিয়ে পড়ে পথে।
বুকে তুলে নিলে তাকে ভালোবেসে
নাম দিও প্রেম।

নাহলে ভালোবাসা যে অচ্ছুৎ হয়ে যাবে
বুনো চোখ মেলে দেখবে না মাধবী রাত।
ভালোবাসা পারস্পরিক গভীর হলে
তা অতলান্তিক টানে হয়ে ওঠে সমর্পণ।

ভালোবাসা চর জাগানিয়া এক দ্বীপ
কখনো সেই দ্বীপ ডোবে কখনো ভাসে
ডোবার আগে আর একটু ডুবে মরো
নিখাদ ভালোবাসায় থাকেনা কোনো উচ্ছাস।

যদি দিয়ে থাকো সোনালী সন্তাপ
মুঠো খুলে ঝুলিতে ভরে নেব;-
যদি দিয়ে থাকো উন্মাদ উপেক্ষা
তবু প্রেমে ভিখারি হতে কি লাজ!

"মন কবিতা"
কলমে - কিরণ মাহমুদ মান্না

মন কবিতার প্রতিটি লাইনে
তোমারই বিচরণ,
ভালোবাসার শুদ্ধ বর্ণে গড়া
নির্ভুল উচ্চারণ।

মন জমিনের নরম মাটিতে
স্বপ্ন করে যাও চাষ,
তোমারই স্পর্শ চাইছে মন
দিনে রাতে বারমাস।

মন আকাশে সাদা মেঘের
ভাসাও সুখের ভেলা,
আমি রাতের তারকা হয়ে
দুষ্টুমিতে করি খেলা।

মন বাগানে সুরভি ছড়াও
হরেক ফুলের শোভাতে,
প্রজাপতি হয়ে মন আমার
চাইছে তোমায় ছুঁতে।

মন অঙ্গনে জোছনা জ্বেলে
শুনাও প্রেমের কাব্য,
আমি অপলক তোমায় দেখি
অবুঝ প্রেমিক সভ্য।

মন সীমানার চারিপাশ ঘিরে
তোমারই শাসন চোখ,
অন্য কোথাও যাইতে মানা
তোমাতেই খোঁজি সুখ।

১০/০১/২০২০ ইং
সিঙ্গাপুর

বন্ধু মানে
কলমে - কিরণময় নন্দী

বন্ধু মানে মেঠো পথে একসাথে স্কুলে যাওয়া
বন্ধু মানে অল্প বারোভাজা একসাথে খাওয়া।
বন্ধু মানে বন্ধুর হয়ে স্যারকে মিথ্যে বলা
বন্ধু মানে ছুটির পরে একসাথে ফুটবল খেলা।
বন্ধু মানে ছুটির দিনে পাশের পাড়ায় ক্রিকেটের আসর
বন্ধু মানে হঠাৎ করে সবার আঠারো বছর।
বন্ধু মানে আসতে আসতে কর্মমুখী আলোচনা
বন্ধু মানে এক বন্ধুর প্রেম অন্যদের শক্তি জোগানো।
বন্ধু মানে বিচ্ছেদ হয়েও সপ্তাহে একদিন দেখা
বন্ধু মানে হাজারো সমস্যার মুখোমুখি কথা।
বন্ধু মানে প্রথম স্যালারি একসাথে ভুরিভোজ।
বন্ধু মানে বউ বাপের বাড়ি জমিয়ে ফিস্ট হোক।
বন্ধু মানে ধীরে ধীরে ঘোর সংসারে
বন্ধু মানে ফোনে খোঁজ নেওয়া শুধুই দরকারে।
বন্ধু মানে কললিস্টে ফ্রেন্ডলিস্টের বোঝা
বন্ধু মানে হৃদয় ফাঁকা আসল বন্ধু খোঁজা।

তবু বেঁচে থাকা
কলমে - বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত

সাতগাছি বাসস্ট্যান্ড।বাসস্ট্যান্ডের ঠিক পেছনে চিত্তর চায়ের দোকান।ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই চা পিপাসু মানুষেরা সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করে।সকালের প্রথম চায়ের নেশা,আমাকেও প্রতিদিন নিয়ে যায় চায়ের আড্ডায়।

চায়ের আড্ডায় মশগুল থাকলেও,কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি- ঐ বাসস্ট্যান্ডে এক বৃদ্ধার আবির্ভাব ঘটেছে।বয়স মোটামুটি সত্তর ছুঁইছুঁই। বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীরা আসেন আবার চলেও যান।এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু,বৃদ্ধা এসে,ওখানেই ঘাঁটি গেড়ে বসলেন।সঙ্গে একটা পুটুলি আর একটা জলের বোতল।ঐ পুটুলিতে হয়ত বেঁচে থাকার জন্য,ক'দিনের রসদ মজুত করা ছিল।

সেগুলো শেষ হতেই,বৃদ্ধার শরীর ধীরেধীরে ভাঙতে শুরু করে।অথচ,মানুষের কাছে হাত পাতার স্বভাব তাঁর নেই।শুধু মাঝেমাঝে জলশূন্য বোতলটা নিয়ে, অশক্ত দেহে,চিত্তর দোকানে এসে জল চায়।শুধু জল কেন,চিত্তকে দেখেছি,কখনও নিজের হাতে গড়া চায়ের সাথে কিছু খাবারও ওকে দিয়েছে।কিন্তু,তাতে করে তো একটা মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে না।আমাদের চোখের সামনে উঁনি ক্রমশ শীর্ণ থেকে শীর্ণতর হয়ে পড়ছেন।হাঁটার ক্ষমতাও তাঁর নেই বললেই চলে।

এলাকার উদ্যোগে তাঁকে নিয়ে যাবার জন্য,কোন এক সামাজিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ যে করা হয়নি, তা নয়।কিন্তু,কোনমতেই তাঁকে সেখান থেকে সরানো যায়নি।উঁনি কিছুতেই অন্য কোথাও আর যাবেন না।জোর করে হয়ত তাঁকে নিয়ে যাওয়া যেত।কিন্তু সেটা করা হয়নি।
হতে পারে,কারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়াটা,সংস্থার নিয়ম-বিরুদ্ধ।

যাই হোক,গড়িয়ে যায় আরও কিছু সময়।বাসস্ট্যান্ডের এককোনে, চেয়ারে বসা মানুষটিকে দেখলে মনে হয়,বিধাতার দেওয়া প্রাণটুকু বিধাতাকেই ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য,ধ্যানমগ্ন হয়ে উঁনি বসে আছেন।নাহলে, একটানা ওভাবে ক'জন বসে থাকতে পারে!

ওভাবে বসে থাকতে দেখে,একদিন এগিয়ে গেলাম ওঁর কাছে।কিছু টাকা ওঁর হাতে গুঁজে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম-আপনার কেউ নেই?ক্ষীণ-কন্ঠে উত্তর ভেসে এল ওঁর কন্ঠ থেকে-আমার মা আছেন।আপনার মা-বিস্ময় ঝরে পড়ল আমার গলায়।এই মা কী ওঁর নিজের মা।নাকি উঁনি ঈশ্বররের কথা বলছেন।আবার ভাবলাম,উঁনি কী অবিবাহিতা।নাকি ওঁর কোন ছেলেপুলে নেই।নাহলে শুধু মায়ের কথা বললেন কেন।নাকি,ছেলেপুলে থাকলেও,আজ ওঁর এই অবস্থার জন্য,তারাই দায়ী। এর উত্তর পেতে,আরও দু'একটা প্রশ্ন ওঁকে করেছিলাম।যদিও,সেসব প্রশ্নের উত্তর উঁনি দেননি।প্রশ্ন করা থেকে বিরত হয়ে,গুটিগুটি পায়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে মনে হল- সব কেনর হয়ত উত্তর দেওয়া যায় না।

গড়িয়ে যাওয়া সময়ের সাথে,তাঁর এই আস্তানাটুকুও একদিন পাল্টে গেল।বলা ভাল-পাল্টে দিতে হল।বাসস্ট্যান্ড তো আরও দশ জনের সুবিধার্থেই করা হয়ে থাকে।তা যদি কারও জন্য নোংরা,অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে,সেটাও তো হতে পারে না।তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল একটা 'সেফ' জায়গায়।

সময় পেরিয়ে মাস,মাস পেরিয়ে বছর এসে গেল।তাঁকে দেওয়া খাবারগুলোর বেশিরভাগ আজ পড়ে থাকে পাশে।দরদি রমেন এসে মাঝেমাঝে তাঁকে খাইয়ে যায়।পরনের নাইটিটাও এক-আধদিন পাল্টে দেয়।পাশে পড়ে থাকা খাবারে পচন ধরে।উঁনি চাইলেও,পচনে জন্মানো পোকারা এখনও আসেনি তাঁর কাছে।

বিষাক্ত
কলমে - ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী

--- " গুড মর্নিং! কলকাতা। হাই! আমি মিরচি মীর। আপনারা শুনছেন 98.3 FM, it's very hot. আজ থাকবে আপনাদের অনুরোধের আসর। অর্থাৎ আপনার পছন্দের গান আমাকে Request করুন, dedicate করুন আপনার ভালোবাসার মানুষকে। আর তাকে উপহার দিন একটা সুন্দর মিষ্টি সকাল। চটপট call করুন 9839839839 নাম্বারে। শুনছেন 'Hi kolkata' with Mir. Stay tuned 98.3. I will be right back with our first caller. ততক্ষন শুনুন আমার পছন্দের একটা গান। " চায়ের দোকানে সকাল বেলা তীব্র স্বরে রেডিও বাজছে। উনুনে কেটলি তে চা ফুটছে। ওদিকে মেথর রাস্তা পরিষ্কার করছে। এখনো গাড়ির প্যাঁ পুঁ শুরু হয়নি। রাস্তা রাও ব্যস্ত হয়নি। হ্যাঁ। এটাই সকালের কলকাতা।

কলকাতার ই এক পরিবারের সাথে আপনাদের পরিচয় করাব। এখন সবাই ঘুমিয়ে। শীতের সকাল।

-এই সোমক, ওঠ। অফিস যাবি না? মানে তোর রেডিও station. মীর দা তো already শুরু রে। কত ভালো ভালো গান বাজাছে আজ। সোমকের জান এই Radio station. আর গান? সে যে ওর জীবনের কত ঘটনার সাক্ষী ! সে সোমক ই ভালো জানে। আজ সে Normal life এ ফিরতেই পারত না, যদি গান আর তার মা'র support না থাকত। মা-সোমক। এই তাদের ছোট্ট পরিবার। কলেজ এর অধ্যাপিকা, সুবর্নলতা সেন এর একমাত্র ছেলে সোমক সেন। কলকাতার নামী Radio station এর RJ. The famous RJ সোমক সেন।

কলকাতা আস্তে আস্তে ব্যস্ত হচ্ছে। ছোট্ট সেন পরিবার ও তৈরী হচ্ছে তাদের কর্ম ব্যস্ত দিনের মুখোমুখি হতে। bathroom থেকেই সোমকের ডাক,
-- মা... ও মা...
--তোয়ালে দাও।
--order ও হল breakfastএর।
ফুলকো লুচি, সাদা আলুর তরকারি আর নলেন গুড়ের রসগোল্লা।
মা, তোয়ালে দিতে এসে ছেলেকে আদর করে বললেন, রসগোল্লো খা আর নিজেকে আরও গোলগাল বানা।
--আমাকে কে আর ঘাস দেবে মা? সোমকের মুখ ফসকে কথাটা বেরিয়ে গেল।
সুবর্নলতা সেন কিছু না বলে, মাথা নীচু করে kitchen এর দিকে চলে গেলেন।

সোমক আয় রে চটপট। breakfast তৈরী। তোর পছন্দের। অমাকে আজ তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে। কলেজে একটা মিটিং আছে।

আসছি মা... সোমক চেঁচিয়ে জবাব দিল।
খাওয়া শেষে, সুবর্নলতা সেন তাঁর ছেলেকে জরুরী কিছু সাবধান বানী দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। সোমক ঘরে তালা লাগিয়ে গ্যারাজ থেকে Royal Enfield টা বরিয়ে গেল।

এই বাইকে করেই সে আর তার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা, চন্দ্রা কত ঘুরে বেড়িয়েছে। সাথে দুজনের স কী গান....
সোমক ধরত,
" এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত বলোতো "?
গান তাদের দুজনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছিল।
কিন্তু হঠাৎ....

ও দাদা! কোন জগতে আছেন মশাই। সিগন্যাল তো সবুজ হয়ে গেছে। না গেলে আমাদের যেতে দিন। কখন থেকে horn বাজাচ্ছি। শুনতে পান না?
সোমক Sorry বলে চলে গেল সেখান থেকে। অফিসে ঢুকল। ঢুকেই এক কাপ গরম কফি নিয়ে নিজের কেবিনে চলে গেল। অফিসে বিশেষ কারুর সাথে কথা বলে না। আসলে ওর ইচ্ছে করে না কারুর sympathy পেতে। তাই হাসিখুশি সোমক আজ নিজের একটা জগৎ বানিয়েছে। যেখানে সে আর মা।

এই গানের request কে করেছে? এত পুরোনো গান! ওদিকে রেডিও তে বাজছে...

"নিশি রাত বাঁকা চাঁদ আকাশে
কানে কানে বাঁশি বাজে বাতাসে.. বাতাসে"
এই গান টা করেই চন্দ্রা কে রাগান্বিত করত সোমক। গান টা সুন্দর। তাও কেন চন্দ্রা রেগে যেত কে জানে? সোমক আবার মজা করে "চাঁদ" বলে ডাকত চন্দ্রা কে। যেদিন চন্দ্রার সাথে দেখা হত না ফোন করে "চাঁদ কেন আসে না আমার ঘরে" গান টা করত কৃত্রিম দুঃখ দেখিয়ে। সেটা চন্দ্রা ভালোই বুঝত। সোমকের আজও মনে আজে একদিন ওরা ময়দানে দেখা করবে কথা ছিল। সোমক এসেছিল। চন্দ্রা আসতে পারেনি। সেদিন সোমক ছিল কলেজ ছাত্র। রেডিও তে সেদিন ও এরকম অনুরোধের আসর চলছিল। ও একটা গান অনুরোধ করেছিল। dedicate করেছিল চন্দ্রা কে। চন্দ্রা শুনেছিল কিনা সেটা তর্কাতীত। মান্না দের একটা গান ছিল,
"বর্ষা তুমি ঝোরো না গো অমন করে"

ও সোমক দা....
ও সোমক দা...
শুনছ? বস ডাকছে।
মোহর ডেকেই চলেছে। যখন কাঁধে ঝাঁকানি দিল তখন সোমক ইহ জগতে ফিরল।
সোমক দা, তুমি ঠিক আছ?
হুম। হ্যাঁ। কি বলছিলি?
মোহর বলল, বস ডাকছে তোমায়।
তুই চল, আমি যাচ্ছি।
সোমক কেন অন্যমনা হয়ে যাচ্ছে?
এখন তো আর কিছুই নেই।

"May I come in"?
সোমকেকে ফোনে ব্যস্ত থাকা boss ইশারায় ডাকল।
বস- তোমাকে আজ দুটো show করতে হবে। বাড়ি যেতে রাত হবে। মা কে জানিয়ে দিও।
সোমকের উত্তরের অপেক্ষা না করে বস আরও বললেন, তুমি অনেক পুরোনো RJ। তোমার কাজ চলে যাক চাইনা।মানুষের জীবনে অনেক ভালো খারাপ ঘটনাই ঘটে। তুমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছ। নষ্ট কোরো না নিজেকে। You are so talented. don't spoil your life like this.
কাজে ডুবে যাও। সব ভুলে যাবে।

সোমক "okay boss" বলে বসের থেকে বিদায় নিল। সে জানে সবটা খুবই কঠিন। সময় লাগবে আরও।
মীর দার শো শেষ। এবার সোমক এর শো শুরু হবে। মীর দা এক কাপ কফি হাতে নিয়ে সোমকের কাছে এল। একমাত্র এই লোকটার সাথেই ওর কথা বলতে ভালো লাগে। ভীষণ motivation করে। তখনও পাশে ছিল। আজ ও আছে। বড় দাদার মত। সোমককে ভীষণভাবে support করে।

--মীর দা আজ বস হেব্বি চাপে ফেলে দিয়েছে।
--দুটো শো করতে হবে।
মীর বলল, মাকে জানিয়েছিস?
--হুম। কিন্তু মা চিন্তা করবে। জানোই তো আমি মাঝে মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি। তুমি একটু যাবে? মায়ের কাছে?
অবশ্যই যাব। তুই চিন্তা করিস না। আর শো শেষে আমাকে ফোন করবি। আমি নিতে আসব। বুঝলি? যা দিকিনি। ফাটিয়ে শো দুটো কর। অনেক দিন সেই আগের সোমক কে শুনিনি। আজ পুরো ফাটিয়ে দে। আমার আজকের মত ছুটি।
আমি চললাম। তোকে নিতে আসব।
আরে গাধা বাড়ির চাবি টা দে।
আমি এখন ই তোর বাড়ি চলে যাব।
কাকীমা এর সাথে কথা বলে নেব।
চল। all the best.
আমি বেরোলাম....
বলতে বলতে মীর চলে গেল।

সোমকের শো শুরু হবে। তার আগে নিজেকে গুছিয়ে নিল।
" very good afternoon. আমি মিরচি সোমক। আর আপনারা আমাকে শুনছেন, 98.3 fm এ it's very hot"
কলেজ শেষ করে radio station এ কাজ টা পেয়েছিল সোমক। সোমক- চন্দ্রা দুজনেই খুশি ছিল। কিন্তু বাধ সাধল, চন্দ্রার বাবা। যেদিন আলাপ করাতে নিয়ে গিয়েছিল সোমককে, চন্দ্রার বাবা বলেছিলেন, রেডিও জকি?
এতে কী এমন ভবিষ্যৎ আছে?
গান আর ওই বাজে বকবক।
বিশ্রী। এচলবে না। অন্য চাকরি দেখ। নইলে চন্দ্রা কে ভুলে যাও।
সোমক অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। কাজ টা সে ভালোবেসে করে। তার মা ও support করে। চন্দ্রা কেও সে ভালোবাসে।
না! বোঝেনি চন্দ্রার বাবা। তাও চন্দ্রা সোমককে বলেছিল, সে তার বাবা কে বোঝাবে। এরপর লুকিয়ে দেখাও করত তারা।

একদিন হঠাৎই চন্দ্রার সাথে দেখা তার বন্ধই হয়ে গেল। বাড়ি গিয়ে দেখল বড় তালা ঝুলছে। অনেক খোঁজার পরও চন্দ্রা কে সে পায়নি। পাগল পাগল লাগছিল সোমকের। মনে হচ্ছিল পাগল হয়ে যাবে সে। এরকম ভাবেই চলছিল। রেডিও অফিস.. বাড়ি আর বার। এই ছিল তার জীবন। মনে মনে সোমক বলেছে বোধহয় "তোমাকে বুঝিনা প্রিয়"।
এও হয়তো বলেছে, "কোথায় তোকে পাব বল"?
আরও অনেক গান সেদিন ওর জীবনের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল।
"তোর প্রেমে তে অন্ধ হলাম কী দোষ দিবি তাতে?
বন্ধু তোকে খুঁজে বেড়াই সকাল-দুপুর-রাতে"
পায়নি সে চন্দ্রা কে খুঁজে। তবে পাগল হতে শুরু করেছিল একটু একটু করে। মা আর মীর দা বুঝতে পারছিল সেটা। একদিন মীরের show এ একজন অজানা caller এ request এ একটা বাজা গান সোমকে প্রায় পাগল করে তুলেছিল।
অনুপমের একটা গান,
"তুমি অন্য কারুর সঙ্গে বেঁধো ঘর"।
সোমক গান টা শুনে বুঝতেই পারে এটা চন্দ্রা ই। কারন? সোমকের radio station এ চাকরি যেদিন হল ওরা celebrate করতে গিয়েছিল CCDতে। তখন চন্দ্রা মজে করে সোমককে বলেছিল,
তোর সাথে আমার breakup হলে তোকে তোদের radio station এ একটা গান dedicate করব। আজ যে গান টা বাজছে, এটা সেটাই। সোমকের কাছে আজ অনুপম বিষাক্ত। অনুপমের গান বিষাক্ত লাগছে। সে রাগে উত্তেজনায় লাল হয়ে উঠল। তাহলে সোমক কে চন্দ্রা ল্যাং মারল? কথা দিয়ে কথা রাখল না? আজ সব বিষাক্ত লাগছে তার। গান-প্রেম-চন্দ্রা-ভালোবাসা-সম্পর্ক সব সব বিষাক্ত। রাগে বাড়ির কিছু জিনিস সোমক ভাঙতে শুরু করেছে। মা এসে দেখলেন সোমক উন্মাদ প্রায়। এর পর মীর কে ফোন করে ডেকেছে। প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় তাকে নার্সিং হোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে। সোমক বাড়ি ফিরেছে। কিন্তু আগের মত সে আর নেই। গান পাগল ছেলের কাছে গানই আজ বিষাক্ত। এরকমভাবে অনেক দিন অতিবাহিত হয়েছিল। একদিন একটা সকাল সোমক কে সাধারণ জীবনে ফিরিয়ে ছিল। সেদিন এরকমই একটা সকালে মীরের শো হচ্ছিল।

"কিচ্ছু চাইনি আমি, আজীবন ভালোবাসা ছাড়া।
আমিও তাদেরই দলে, বারবার মরে যায় যারা"।।

মা মা করে চিৎকারে বাড়ি মাথায় উঠিয়েছিল। সুবর্নলতা সেন ছেলের কাছে আসার পর মা কে জড়িয়ে খুব কেঁদেছিল সোমক।
-মা আমি হেরে গেছি।
-আমি মরে গেছি।
-সব বিষাক্ত,মা।
-অনুপম বিষাক্ত।
-ওর গান বিষাক্ত।

একটু একটু করে normal হচ্ছিল সোমক। মীর দা একদিন ওর বাড়ি এসে বলল,
-তুই radio station আবার join কর।
-ওটাই তোর জীবন।
-বস আর বাকিরা সবাই সব জানে।
-তোকে সবাই ভালোবাসে খুব।
-কেউ তোকে এ নিয়ে একটা কথাও বলবে না।
-ফিরে আয় ভাই।

সব বিষাক্ত লাগে,মীর দা।
গান টাই যে বিষাক্ত লাগে।

মায়ের অনেক কান্নাকাটি, মীরদার support, সোমক রেডিও station এ এসেছে। কোন শো করেনি।এর পর আরও অনেক দিন পর সোমক এসছে গেছে। আজ সেই দিন। সোমকের দুটো শো। দুটো শো এর নামকরন সোমকের মতেই হয়েছে। বস আপত্তি করেনি। আজ অনেক বছর পর সে নিজের মত ফিরছে। ফিরেই double century. শো শেষে মীর দা নিতে এল সোমক কে।
পিঠ চাপড়ে বলল,
-ফাটিয়ে দিয়েছিস পুরো।
-তুই ঘুরে দাঁড়াবি আমি আর কাকীমা জানতাম।
-চল বাড়ি। আজ celebration.
-তোর শো "বিষাক্ত" আজ superhit.

এরপর থেকে 98.3 fm এ সোমকের সাথে "বিষাক্ত" চলে প্রতিদিন দুবার। সব ধোঁকা খাওয়া প্রেমিক-প্রেমিকার ভিড় থাকে এই শোয়ে। সোমকের "বিষাক্ত" শো আর বিষাক্ত গানের দৌলতে এই শো এর TRP চূড়ায়। একটা গানের request এ রেডিও তে তখন বাজছে.. নচিকেতার কালজয়ী গান---
"শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও।
অমৃত চাই না!"

#Jhilik_Mukherjee_Goswami
#শেষ

পরকীয়া
✒ রাজদীপ দাস

শেষমেষ সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললো শ্রেয়া...
এবার মা-বাবার কথামতো বিয়েটা করে ফেলবে..
বড়লোকের ছেলে, দুই ভাইয়ের কনিষ্ঠ ভাই আর পারিবারিক ব্যবসা...
তাই একপ্রকার রাজি হয়ে গেল...
পাকা কথাও হয়ে গেলো দুই পরিবারের মধ্যে...
সেই বছরই ফাল্গুনে বিবাহ স্থির হলো শ্রেয়া আর শুভময়ের.. আর সেইমতো চারহাত এক হয়ে গেলো.....
বেশ চলছিলো....
শ্বশুরবাড়ী খুবই ভালো ও যত্নশীল..
যেহেতু ছোটো বউ তাই খুব আদরেই থাকতো....
অল্পবয়স, দেখতে সুন্দর, গুনেও নজরকাড়া...
জা'য়ের ভাই অনিন্দ মাঝেমধ্যে ওদের বাড়ী আসতো কিছু কাজে, আবার চলেও যেতো... পারিবারিক সম্পর্ক এমনই যে দুই বাড়ীর লোকই দুই বাড়ীতে হরদম যাতায়াত করতো...
একবার হলো কি, বাড়ীতে বড় বৌ নেই....
শ্বশুর-শাশুড়ী ঘুমোচ্ছে.. সেই সময় অনিন্দ আসে.. অগত্যা শ্রেয়া খাতির যত্ন করে, তারপর খানিক গল্পগুজবে মশগুল হয়ে ওঠে.....
যেহেতু দুজনেই সমবয়সী তাই একপ্রকার বন্ধুত্ব হয়ে যায় তাদের মধ্যে... ফোন নং আদানপ্রদানও হয়.... এদিকে দিনের পর দিন রাত করে বাড়ী ফেরায় শ্রেয়াকে বিশেষ সময় দিতে পারতো না শুভময় তাই একাকীত্বেই কাটতো তার সারাদিন.... মাঝেমধ্যে এ নিয়ে কথা কাটাকাটিও হতো দুজনের মধ্যে, কিন্তু নিষ্ফলা....
আর সেই একাকীত্বকে অন্যদিকে পূরণ করতে থাকে অনিন্দ্য.... সুযোগ পেলেই ফোনে কথা থেকে শুরু করে টেক্সট মেসেজ সবই চলতো... শুধু বাড়ীর বাইরে দেখা করাটাই হতো না তাদের...
এমন চলতে চলতে দুজনে দুজনের প্রতি কোথাও অধিকমাত্রায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ে....
অন্যদিকে অনিন্দ্যর বাড়ী থেকে বিবাহ ঠিক হলে, অনিন্দ্যও আগ্রহ দেখাতো না বিশেষ...
বিভিন্নরকম ঘনিষ্ট মুহুর্তের বার্তালাপ হতো দুজনের.... শুধু সুযোগটাই যা হতো না...
মাসখানেক পরে একদিন অনিন্দ্য কাজ থেকে ফেরার পথে ওদের বাড়ী আসে আর সেইবার অনিন্দ্যকে রাত্রিবাস করতে হয় তার দিদির আবদার রাখতে গিয়ে.....
এদিকে সেইদিনই সকালে কলকাতার বাইরে একটা কাজে গেছে শুভময়....
রাতের খাওয়া সেরে ১০টা নাগাদ সকলে শুয়ে পড়ে .... আর ওদের দুজনের মন পড়েছিলো অন্যদিকে....
হঠাৎ শ্রেয়ার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ....
দৌঁড়ে উঠে দরজা খুলেই দেখে অনিন্দ্য.... ভেতরে নিয়ে দরজায় ছিটকিনি দিলো শ্রেয়া...
তারপর ভেসে গেল এক অমোঘ প্রশান্তির কামণাসাগরে.....
একাকীত্বকে কোথাও যেন বিসর্জন দিলো সেই স্রোতে, আর জীবনের অপার সুখ অনুভব করলো, যা শুভময় তাকে দিতে পারেনি....
অনিন্দ্য, শ্রেয়াকে এক অপরূপা সুখ উপহার দিলো...
ভোর হওয়ার আগে ঘর থেকে বেড়িয়ে নিজের জায়গায় ফিরলো অনিন্দ্য, শ্রেয়া তখনও সুভ্র চাদরবেষ্টিত হয়ে অনিন্দ্যতে মজে....
সেদিনের পর থেকে মাঝেমধ্যেই তাদের এই মুহুর্ত চলতে থাকে....
আজ আর একা নয় শ্রেয়া... তার একটা প্রেমিক আছে যাকে সঁপেছে মন-প্রাণ-দেহ....
কিন্তু কিছু মাস পর জানতে পারলো অনিন্দ্যর বিয়ে ঠিক হয়েছে...
ভাবলো তাহলে কি আবার একা হয়ে যাবে সে ???
তার মধ্যে অনিন্দ্যর সাথে দেখা বা কথাও আজকাল কম হচ্ছে তার...
সংশয়ে ডুবেছে মন...
কি করবে সে ??? একটা প্রেমিককেও হারাবে ???? স্বামীর ভালোবাসা তো তার কপালে জোটেনি....
ভাবনায় ইতি টানলো অনিন্দ্য স্বয়ং...
সে কথা দিলো, বিয়ের পরেও এমনই সম্পর্ক থাকবে তাদের মধ্যে... শুনতে অবাক লাগলেও এটাই আজ বাস্তব....
সব কাহিনীর উপসংহার সমান হয় না.... শুভময়ের জন্য এখন শ্রেয়া মা হয়েছে একবছর হলো কিন্তু শ্রেয়া ও অনিন্দ্য আজও একইভাবে পরকীয়ায় আবদ্ধ....
আর সেই পরকীয়া শ্রেয়াকে একজন সত্যিকারের প্রেমিকের সন্ধান দিয়েছে.....
সকলের অজান্তে আজও তারা একসঙ্গে সাগরাভিযান করে.......

---------xxxxxxx---------

"অন্তারম্ভ "
"আমি যে ভালোবাসি "
কলমে – ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য

আমি আমার মতো করে তোকে ভালোবাসি
ভালোবাসি তাই তো তোর অবজ্ঞা সহ্য করি ,
সহ্য করি তোর অনাদর তোর বিরক্তি !
বিরক্তি গুলো ও আমি ভালোবাসি | ♥♥

ভালোবাসি তোর ব্যাতিক্রমী চিন্তা
চিন্তাগুলো কে বোঝার চেষ্টা করি
চেষ্টা করি আর কবিতায় সে গুলো কে রূপ দি ,
রূপ দি আমার মতো করে সরলতা মাখিয়ে
সরলতা দিয়ে তোর চিন্তার প্রকাশ ঘটাই |

প্রকাশগুলো কে তুই মাঝেমাঝে পড়িস
পড়িস আর ভাবিস কার লেখা ?
লেখা গুলো যে আমার তা তুই বুঝতেই পারিস না
পারিসনা কারণ আমি যে ছদ্দনামে লিখি
লিখি আমার সরল ভাষা দিয়ে ,যা তোর কাছে অগোচর ,
অগোচরে থাকাই ভালো না হলে তোর সৃষ্টি থেমে যাবে|😥

সৃষ্টি থেমে গেলে তু্ই আরও অবহেলা করবি আমায়
আমায় নিয়েই তো তোর যত জ্বালা ¡
জ্বালাবো না আর তোকে ,
তোর সৃষ্টির নির্যাস টুকু নিয়েই আমি লিখবো কবিতা ,
কবিতা আমায় ছাড়বেনা কোন দিন
কোন দিন বলবেনা তুই একটা আস্তবোকা
আস্তবোকা আর কবিতা থাক পাশাপাশি
পাশাপাশি থাক তোর অবজ্ঞা |,🙏🙏

কলমে ইন্দু (চেষ্টা করলাম ত্রুটি ক্ষমা করবেন বন্ধুরা ) (10.1.2020)

ডাকবাক্স ( পার্ট - ০২ )
কলমে - ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী

ভবানীপুরের গিরিশ মুখার্জী রোডের বাড়ি, মুখার্জী ম্যানসনে আজ ও লোকের থিক থিকে ভিড়। না! আজ কোন আনন্দ উৎসব নয়। আজ রমেন আর সৌমেন বাবুর বাবার শ্রাদ্ধ উপাচারের হেতু এত ভীড়। কেউ বিশ্বাস ই করতে পারছে না! মেনে নিতে পারছে না এই রাশভারী ভদ্রলোক হরদেব মুখার্জীর আকস্মিক মৃত্যু। সবার মনে একটাই প্রশ্ন,
-কি করে?
-কি ভাবে?
-কেনই বা?
উত্তর বিহীন সব প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে।
কেউ জানে না এর উত্তর কে দেবে।
সবার মুখ ভার। টুপ্পু আর টুবলু আজ রহস্য সন্ধান ত্যাগ করে স্থির হয়ে বসে আছে। আর নন্দিনী? কয়েকটি বছর পার করে স্কুলের গন্ডিতে তার পদাঙ্ক পড়েছিল। সে কলকাতার নামী স্কুলে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ছে। সে শুধু বুঝতে পারছে, দাদুন আর নেই। কি হয়েছে তার ও বোধগম্য নয়। আর রমা দেবী?
তিনি বিশ্বাস করতেই পারছেন না!
আজ মুখার্জী ম্যানসনে অন্ধকারের ঘনঘটা।

হরদেব বাবুর মৃত্যুর বেশ কিছু দিন অতিক্রান্ত। আস্তে আস্তে সব কিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। দুই ভাই রমেন আর সৌমেন বাবু বিজনেস এ মন লাগানোর চেষ্টা করছেন। নন্দিনী আবার স্কুল এর পথে। টুপ্পু আর টুবলু এখন কলেজে। দাদুন এর ইচ্ছে তে দুই ভাই ই বানিজ্য বিভাগের ছাত্র। টুবলুর ফাইনাল ইয়ার। বাড়ির বিজনেস ভবিষ্যতে দুই ভাইকেই সামলাতে হবে। সবাই নিজের নিজের জগতে নিয়ে আবার ব্যস্ত। শুধু রমা দেবী এখনো স্বাভাবিক হতে পারেন নি। তাঁর একটু সময় লাগবে, এটাই স্বাভাবিক। তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না একটা সুস্থ মানুষ হার্ট এট্যাকে কিভাবে মারা যেতে পারেন! পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে তাই উল্লেখ আছে। অনেক চিন্তা করতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করলেন,
হরদেব বাবুর মৃত্যুর ঠিক আগে একটা চিঠি তিনি পড়ার পর থেকেই কিরকম অস্থির ছিলেন।
ডাকবাক্স এ রোজ ই কিছু না কিছু চিঠি আসেই। সবই ব্যবসা সংক্রান্ত।
সেদিন কি এমন ছিল চিঠিতে?
যার কারন হরদেব বাবুর মৃত্যু।
হয়তো তিনি একটু বেশি ই ভাবছেন।
হঠাৎ মৃত্যুর শিকার অনেকেই হয়।
বৌমা শান্তা দেবীর ডাকে, রমা দেবীর সম্বিৎ ফিরল।
-কি ভাবছেন এত? মা.
-কখন থেকে ডাকছি, জলখাবার এর জন্য।
-অনেক বেলা হল।
রমা দেবীর খাবার ইচ্ছে তেমন ছিল না, একপ্রকার বৌমার জোরেই তিনি খেতে গেলেন।

টুবলু কলেজ থেকে বেরোতে যাবে হঠাৎই অঝোরে বৃষ্টি। ছাতাও ছিল না সঙ্গে। টুপ্পু র খোঁজে গেল।
-ওর কাছে ছাতা থাকলে একসাথে যেতে পারবে।
অনেক খুঁজে টুপ্পু কে যখন পেল বৃষ্টি ধরে এসেছে।
-কি রে বাড়ি যাবি তো?
টুপ্পু হুম বলে দাদার সাথে কলেজ ছাড়ল।
নানান গল্প করার পর দাদুনের প্রসঙ্গ এসেই গেল।
-তুই বিশ্বাস করিস, দাদুনের মৃত্যু স্বাভাবিক?
-টুবলু বলল।
-একটা লোক হঠাৎই মারা গেল?
-কোন কারন ছাড়াই?
-টুবলুই বকে যাচ্ছে।
-টুপ্পু চুপ করে শুনছে।
কথার মাঝেই টুপ্পু চিৎকার করে ওঠে।
-দাদা দেখ, ওটা কাকীমনি না?!
টবলু দেখার চেষ্টা করল।
হ্যাঁ, কাকীমনি ই তো!
কিন্তু সাথে লোকটা কে?
কাকাই তো নয়।
চল একটু সামনে যাওয়া যাক।
দুই ভাই এমন ভাবে দাঁড়াল যাতে কাকীমনি ওদের দেখতে না পায়।
এ তো অন্য লোকরে টুপ্পু।
চিনি না তো!
কি কথা বলছে এত?
হাতে ওটা প্যাকেট করা কি?
অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে দুই ভাই লক্ষ্য করল,
সুকন্যা ওই লোকটাকে প্যাকেট টা দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে চলে গেল।
ওরাও বাড়ির রাস্তা ধরল, মনে অনেকরকম খটকা নিয়েই।

#চলবে

অশ্রু
কলমে - সুস্মিতা কুন্ডু ভৌমিক

চোখের জলের মূল্য কজন বোঝে।
কেউ বোঝে না।
এই পৃথিবীটা বড়োই কঠিন।
আপনরা পর হয়ে যায়।
আকাশের দিকে যখন তাকাই বাবা কে দেখতে পাই।
মনে হয় বাবা আছে ওই তারার মাঝে।
আশীর্বাদ করছে কিন্তু অনেক দূরে চলে গেছে।
আর ফিরবেনা কোনোদিনও।
তাই অশ্রু ঝরে।
সেই অশ্রু আড়াল করি।
সবার থেকে।
তোমার থেকেও।

মানুষের চেতনা জাগ্রত হোক
এ তো নয় গো আমার প্রার্থনা,
অচেতন তুমি জাগ্রত হয়ে যাও
পৃথিবী করুক তোমার অভ্যর্থনা ।
মানুষের চেতনা জাগ্রত হোক
এ তো নয় গো আমার তপস্যা,
মৃতপ্রায় সমাজ জাগ্রত হয়ে যাক
বাস্তব ঢেকেছে মিথ্যার অমাবস্যা ।
মানুষের চেতনা জাগ্রত হোক
এ তো নয় তবু আমার অভিপ্রায়
জাগ্রত হোক বিপ্লবীদের সমাধি -
অমানুষের বিবেক যারা জাগায় ।।

12.01.2020 7:23 PM

শিক্ষার্থী তোমরা তোমাদের বই বুকসেল্ফে রেখে দাও ;

চাকরীজীবিরা তোমরা আজ স্ব কর্মস্থলে ইস্তফা দাও ,

ব্যবসায়ীগণ তোমাদের ব্যবসা আপাতত গুছিয়ে নাও ;

হারানো গণতন্ত্র আর স্বাধীনতা ফেরাবার প্রস্তুতি

নাও ।

 

স্বাধীনতা সেতো আজ শুধুই নেতাদের ঘরের বনসাই ;

এই শহরের রাস্তায় আজ কোন স্বাধীনতার দেখা

নাই ,

গণতন্ত্র আছে লাল এর বুকে, সবুজ সেতো বেঁচে নাই ;

স্বৈরশাসকের ইচ্ছায় চলছে শহর গণতন্ত্রের মূল্য

নাই ।

 

এই শহরে স্বাধীনতা নেই গণতন্ত্র নেই কোন কিচ্ছু নেই ;

ক্ষমতা টাকাকড়ি যার সবকিছু আজ বরাদ্দ তার জন্যেই ,

ঘুষখোড় দূর্নীতিবাজদেরও আজকে অসৎ বলতে নেই  ;

এখানে সাদা কে সাদা কালো কে কালোও বলতে নেই।

 

পুলিশকে সৎ ও সততার কথা বলাই আজ যেন পাপ ;

আর স্বাধীনতা চাওয়াটা এযেন আজ আজন্মের মহাপাপ,

স্বপ্ন সাধের গণতন্ত্র আমজনতার জন্য আজকে অভিশাপ ;

পরিবারতন্ত্রর অভিশাপ থেকে গণতন্ত্রও পায়নি মাফ।

 

শহরটা আজ প্রতিবাদ প্রতিরোধের অপেক্ষায় আছে ;

ভীত মুখগুলো গর্জে ওঠার জন্যই আজ প্রহর গুনছে ,

রাজপথটা নির্যাতিতের মিছিলের জন্যই উন্মুখ আছে ;

গণতন্ত্রর দেশে স্বাধীনতাই আজ পরাধীন হয়ে

আছে ।

"স্বপ্নেরা বন্দী"
কলমে - সিক্তা পাল

স্বপ্নেরা ভিড় করে, পাখা মেলে
উড়তে চায়, ঐ নীল আকাশে
সপ্তডিঙা ভাসিয়ে! স্নিগ্ধ শান্তির
সেই পথে ছড়িয়ে আছে চারিপাশে
থোকা থোকা দুধ সাদা ফুল!
নেই কোন কোলাহল, নেই কোন
হানাহানি। অযথা রক্তের বন্যা
বা আগুনের লেলিহান শিখা, আর কালো ধোঁয়ায় আবৃত বাতাস-মন্ডল!
অশিক্ষার আঢ়ম্বর আর মিথ্যাচারের
হুঙ্কারে প্রাণ হয়ে ওঠে ওষ্ঠাগত।
চারিপাশে অশান্তির বাতাবরণে
অকালে ঝড়ে যায় কত-শত
তাজা তাজা প্রাণ! নির্বুদ্ধিতার
বাগাড়ম্বর, অর্থহীন কুরুচিকর
মন্তব্যের বণ্যায় ভেসে যায়
শালীনতার বাঁধ। ক্রমে ক্রমে
মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরে মানবিকতা!
মূল্য আছে কি এই বিবেকহীন সমাজের?
প্রকৃতিও আজ বাকরুদ্ধ,
মনুষ্যত্বহীনকতগুলো কিম্ভুত-
কিমাকার জীবের তাণ্ডবে!
স্বপ্নেরা বন্দী আজ বদ্ধ খাঁচায়!

রং
কলমে - রাজদীপ দাস

তোকে কতবার বারন করেছি আমাকে বটতলার কথা বলবিনা...
তবুও দেখ তুই বারংবার আমাকে একই কথা বলিস....
অবাধ্যের মতো আচরন করিস আমার সাথে...
তোকে শেষবারের মতো বলছি আমাকে প্লিজ রেহাই দে ওই জায়গার নামটা থেকে....

'কত টাকা চাও তোমরা ?'
এই আর্তি করেছিলাম ওদের কাছে....
কিন্তু, ও..ওরা শুনলোনা বিশ্বাস করো তনুময়...
আ...আমার সত্যি কোনো দোষ ছিল না....
আমি তো শুধু অমিতাভকে একটু ভালোবেসেছিলাম.....

আজও মনে আছে আমার...
ফাল্গুনের দুপুরে রং খেলার পর আমার জীবনের রং বদলে দিয়েছিলো ওরা...
আমি সত্যি জানিনা কেন অমিতাভ আমার সাথে এমনটা করলো.....

এই তনুময় শোনো না,
প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না বাবু....
তুমি না থাকলে কা..কার পরিচয়ে পৃথিবীতে আনবো আমার গর্ভের বীজকে ????
এই তনু কেন এমন করছো বাবু ???
কি হয়েছে তোমার ????

প্লিজ যেওনা তুমি.....
প্লিজ.........

আমি জানতে পেরেছি আজ সব সত্যিটা....
কেন তনু আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো....

পিশাচ অমিতাভ তনুকে ভুল বুঝিয়েছিলো আমার ব্যাপারে....
মনে মনে ধিক্কার তোমাকে অমিতাভ, ছিঃ!!!! অমিতাভ, ছিঃ!!!!!!
এই তুমি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র !!!!!!

বাজিতে হেরে সেদিন আমাকে ভোগ করিয়েছিলে তোমার নরখাদক বন্ধুদের...
আমার বিশ্বাসের বইয়ের পৃষ্ঠাগুলোকে পুড়িয়ে ছাঁই করেছিলে.....
অনেক যন্ত্রণা হয়েছিলো সেদিন আমার..
সেদিন ভেঙেছিলে মন আর আজ তুমি ভাঙলে আমার সংসারটাও..

জানিস অনির্বান এই অমিতাভই বটতলার বাড়ীতে আমার ইজ্জতটাকে ধূলোয় মিশিয়েছিলো আর পরে কেড়েছিলো তোর বাবাকে.....

সেইজন্যই তোকে বারবার বলি,
প্লিজ আমাকে বটতলার কথা বলিস না.....

সংঘাত
কলমে – সম্পা মাজী

শীতের মাঝে ঘুরে ফিরে বৃষ্টি আসায়,
মানুষ গেল ভীষণ রেগে।
চলল তারা সবাই মিলে করতে নালিশ,
শীত দিদি ভাইয়ের কাছে।।
শীত দিদি ভাই বাড়িতে আছো?
হ্যাঁ ভাই, বৃষ্টি আমার পথের মাঝে আসায়,
আমি আসতে গিয়েও পরছি বাঁধায়।
আমরা তো সেই জন্যই এসেছিল,
তোমার কাছে সমাধান চাইতে।
ঠিক আছে , আমি এখনি যাচ্ছি
করতে সমাধান ঋতু জজের কোটো।
খুলল কোট আসলেন ঋতু জজ সাহেব,
বসল বিচার সভা।
জজ বললেন ,বল কি তোমার সমস্যা,
আমার পথে বৃষ্টি করছে দারুন বাঁধা।
শীতের কথা শুনে বাকি চার বলল চেঁচিয়ে,
হ্যাঁ হ্যাঁ এটাতো আমাদের ও বড় সমস্যা।
বৃষ্টি কে তোলা হল কাঠগড়ায়,
বৃষ্টি,আমি ছিলাম বলেই তোমরা আসতে পারো।
আমিই পথ দেখাই , তাই আমিই পথে বাঁধা হয়ই,
এটা এমন কি বড় অপরাধ।
শীত দেখল এ আমার একার সমস্যা না,
তাই সমাধান ও কখনো হবে না।
রেগে শীত বলল, আমি কিছুই জানি না,
আমি যত দিন আছি , বৃষ্টি জেনো না আসে।
বৃষ্টি শেষে বলল হেসে শুনলাম তোমার কথা ,
তবে আমি কথা দিতে পারছি না।।

Sampa Maji

"৪৭" - এর কবিতা
কলমে - মন্টু হালদার

আমি আমার স্পর্ধা দিয়ে তোমায় আবার করবো বরণ
আমার রক্তের সকল ফোটা তোমার বীজকে করবে বপন
চতুরদিকে ছড়িয়ে দেবো আনন্দরব ৪৭এর
দুহাজার ২০তেও উড়বে নিশান, লালকেল্লায় ৪৭- এর

৪৭এর সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত স্ফুলিঙ্গরা
ফাঁসির দড়ি গলায় নিলো নির্ভীক সেই দেশ প্রেমিরা
৪৭এর সূর্য হতে ছিটকে আসা রোদ্দুরেরা
দেশের জন্য প্রাণটা দিলো । বিনিময়ে স্বাধীনতা।

আমি আমার শ্রদ্ধা দিয়ে তোমায় আবার করছি স্মরণ
আমার প্রাণের স্নিগ্ধ ছায়ায় তোমার আসন করছি স্থাপন ।
আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে দেবো ত্রিরঞ্জিত রঙের বাহার
রঙের ভিতর অশোক চক্র ৪৭এর গর্ব সবার ।

ইতিহাসের পৃষ্ঠা জুড়ে তোমার কথাই আছে লেখা
গান্ধী বুড়ি গুলি খেলো বিপ্লবীদের জ্বললো চিতা
মৃত্যু মিছিল ৪৭ এ , মরতে চাইছে তখন সবাই
আজকে সে সব কথার কথা,এখন তো সে ৪৭ নাই ।

এখন নেতা টাকার খোঁজে ,দেশ প্রেম তাঁর লক্ষ্য নয়
তুমি ব্যস্ত নিজের কাজে , অন্যের খোঁজ কাম্য নয়
অনেকটা পথ পেরিয়ে গেলাম তবু আজও মুক্ত নই
২০২০তেও হিন্দু মুসলিম ।আমরা স্বাধীন হলাম কই?

আমি আমার শ্রদ্ধা দিয়ে ৪৭কে করছি স্মরণ ।
আমি আমার স্পর্ধা নিয়ে ৪৭কে করছি বরণ ।

২এর পরে সংখ্যা বাড়বে , ৪৭আর ফিরবে না
জিজ্ঞাসাটা থেকেই গেলো সুভাষ কেনো ফিরলো না !

০১/০১/২০২০

তোমার চোখেই
কলমে - কিরণময় নন্দী

চোখের কাজলে নয়,চোখের মণিতে তোমার বাস
তোমার চোখেই হৃদয়-হারা সদাই ফাগুন মাস।
তোমার চোখেই কাঞ্চনজঙ্ঘা, হিমানী মাখা ভোর
তোমার চোখেই নীলাম্বরে গভীর চুমু আরবসাগর।
তোমার চোখেই ক্লান্ত পথিক হয়ে দেখেছি মরীচিকা
তোমার চোখেই ভীষণ দাবানল আমাজন বিভীষিকা।
তোমার চোখেই নায়াগ্রার ভয়ঙ্কর জলপ্রপাত
তোমার চোখেই তপ্ত লাভা অগ্নিকুন্ড ভিসুভিয়াস।
তোমার চোখেই ত্রিলোকের যত বেহেশত সুখ
তোমার চোখেই হয়তো মোর মৃত্যুর অভিমুখ।

দিন বদলের কবিতা
কলমে - মন্টু হালদার

তোমার সাথে তেমনতর আমার চেনা জানা নেই
তবুও তুমি আমায় চেনো আমিতো নই অপর কেউ
তোমার মতো দুঃখ সেতো আমারওতো বইতে হয়
গল্প করি এমন ভাগ্য আমাদের তো প্রাপ্য নয় !

দুনিয়াটা লুঠছে ওরা সমস্ত সুখ ওদের চাই
আমরা শুধু গরীব বলেই উপেক্ষাতো, কোথায় যাই ?
দেশ থেকে দেশ দেশান্তরে সমগ্র এই বিশ্বটাই
মজুর মুটে খাটছে যারা ওরাই আমার মিত্র ভাই ।

প্রেমের কথা বলতে গিয়েই জানতে পারলুম সত্যটাই
বাইরে ওরা শিক্ষিত হয় অন্তর জুড়ে শিক্ষা ছাই !
জাতপাতহীন সমাজ হলো নিছক একটা গল্প কথা
শিক্ষিতরাই সবার আগে জাত বিচারে ঘামায় মাথা

দরজা ঠেলে টোকা দিলো দু একজন মনীষীরা
জ্ঞানের আলো জ্বললো তবে ক্ষণিক টিকল মানবতা
সবাই কিন্তু পোশাক পরে তার নিচেতেই আছে রাখা
অসভ্য এক আদিম রিপু টানছে পিছন...গড্ডালিকা

তোমার সাথে তেমনতর আমার চেনা জানা নেই
তবুও আমরা চিনি মোদের খিদের কোনো তফাৎ নেই
রান্না করতে আগুন লাগে চালের নাগাল কোথায় পাই
সেই বেদনার হাতটি ধরে আমরা হলাম ভাই ভাই ।

তোমার এমন দিন ছিলো এক। চতুর্দিকে সর্বনাশা
নিঃস্ব গরীব তোমার থেকে মুখ ফিরালো আত্মীয়রা
এখন তারাই খাতির করে কি অভিনয় আদিখ্যেতা !
জয় করলে বিশ্বটাকে (তবেই) প্রতিবেশী বলবে কথা ?

কথা যদি উঠেই থাকে দাবানলের সঙ্গে যাবো
কিন্তু আমি যাই নি কোথাও তবুও আমায় নিয়ে গেলো
প্রতিবাদ যেই করেছ পুলিশ দিয়ে লকআপ ভড়ায়
করতে পারলে বেশি খরচ বিচারটাও কেনা যায়

স্বভাব আমার বড্ড খারাপ পারিনাকো থাকতে চুপ
কেমন করে মানবো বলো বঞ্চনার জমলে স্তূপ !
তাও ভালো গারদ ঘরে বন্দী আমি শান্তি পাই
আপোষ করে যারা বাঁচে তাদের সমান শত্রু নাই ।

আপোষ করছো বলেই না, ওরা এমন শোষণ করে
আমাদের দিয়ে তৈরি করে আমাদেরকেই বিক্রি করে
যন্ত্রণা থাক একদিকেতে আরেক দিকে চল না ছুটি
যুদ্ধ একটা লাগুক এবার তৈরি থেকো, চাই আহুতি ।

প্রেমের কথা নাই বলি আজ,ভুলতে হবে অলস বিকেল
গামছা দিয়ে কোমর বেঁধে আসতে হবে দৌড়ে ছুটে
এখন কদিন জাগতে হবে কদিন হয়তো থাকবে ভুখা
দিন বদলের জন্য এখন সইতে হবে নিজের ব্যথা ।

জানি তোমার ভয় রয়েছে সহজ তো নয় পাঙ্গা নেওয়া
ওদের হাতে আছে কামান টাকার কুমির সবাই ওরা
কিন্তু যদি জোট বেঁধে যাই মিছিল করে স্লোগান দিয়ে
সবাইকে কি মারতে পারবে , ক্ষমতার আস্ফালনে ?

যদিওবা মরি কজন তাও ভালো মুক্তি পাবো
অগ্রপথিক হয়ে না হয় প্রজন্মকে এগিয়ে দেবো
দিনবদলের হাঁড়ি-কাঠে আমাদেরই রক্ত ঝরুক
সেই রক্তের বিনিময়ে মাথাতুলে "দলিত"বাঁচুক

আমাদেরই রক্ত ঘামে তৈরি হচ্ছে ইমারত
আমাদেরই বলদ করে , মুর্গী করে রাখছে রোজ
ওদের হচ্ছে বাড়ি গাড়ি আরাম বিলাস ওদের চাই
খেটেই শুধু আমরা মরি। সঙ্গী মোদের সর্বনাশ

দিন বদলের স্বপ্ন দেখি হোক যদি বা মিথ্যে হোক
সব কথা কি সত্যি লেখা তাও পড়ি গীতার শ্লোক
স্বপ্ন দেখি রাজমহলে সবাই বসে খাচ্চি ভাত
সবার পোশাক এক রকমি সবার মাথায় একই তাজ ।

এমন সকাল আসবে সেদিন থাকবেনা আরকোনো ভেদ
বস্তির মেয়ে রাধা তবে আম্বানির মেয়ে জোত্ষ্ণা বেশ
মন্ত্রীর ছেলের পাশে বসে অংক করবে অনাথ শিশু
টাটার পাশেই আইসিইউতে ঠাঁই পাবে গরীব বিশু ।

জাতপাতহীন সমাজ হবে থাকবেনা আর রঙের তফাৎ
শোষণবিহীন আকাশ হবে সবার মতের স্বাধীন প্রকাশ
সবাই চিনবে একই ডাকে" মানুষ" নামে হোক পরিচয়
দিন বদলের পরের রাতে। দুঃস্বপ্ন আসবে না আর

প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখি সকাল হলেই স্বাধীন আমি
সকাল হলে খবর দেখি দেনার দায়ে মরলো চাষী ।

টুকরো কথা
কলমে - কৃষ্ণা অধিকারী

কিছু কথা কুড়োয় নুড়ি পাথর
কিছু হাসি বকুল ফুলের মালা
কিছু কান্না গহীন গাঙের স্রোত
জীবন জুড়ে পোষ ফাগুনের পালা।

ভালবাসার পাত্র সুধায় ভরা
অরুন আলোয় উপচে পরে মন
ঝিলিক দিয়ে ঐ যে পাতার ফাঁকে
আল্পনা যেন আঁকছে সারাক্ষন।

মন্দমধুর মেদুর বাতাস চারধারে,
স্মৃতির পথে নূতন আলোর ঝলক।
ঐ যে দেখো, সামনে রঙীন দিন
মেলবে ডানা প্রেমের স্বপ্ন কোরক।

নতুন বছর
কলমে - সম্পা মাজী

নতুন বছর শুধু আনন্দ বিরহ ই নিয়ে আসে না,
সাথে অনেক নতুন নতুন অভিজ্ঞতা ও নিয়ে আসে।
কমে যায় জীবন থেকে আর ও একটা করে বছর,
এগিয়ে যাই মৃত্যুর আর ও একটু কাছাকাছি।
বেড়ে যায় জীবনে আগের থেকে বেশি অভিজ্ঞতা ,
হারিয়ে যায় জীবন থেকে অনেক অনেক কিছুই।।
আর যাদের ছাড়া এই জীব কুল অচল,
চন্দ্র ,সূর্য ,পৃথিবী এদের ও বেড়ে যায় একটা বছর।
নতুন বছরে এই পৃথিবী পেতে চলেছে অনেক নতুন সৃষ্টি,
আবার পৃথিবীকেই হতে হবে আরও কঠিন প্রকৃতির দূর্যোগর মুখোমুখি।।

প্রতীক্ষায়
কলমে - কিরণময় নন্দী

গেঁথেছি মালা যতনে তোমারই লয়ে প্রিয়
উদাসী অন্তঃকরণে জনমে জনমে রহিয়।

বুঝি না সমাজ মানি না বাধা
মোর তৃষিত হৃদে তুমি কৃষ্ণ আমি রাধা।

রহিব প্রতীক্ষায় সাত জনম ধরি
বাঁধিব তোমায় মোর বাহুডরি
পূজিব তোমায় প্রেমের কাননতলে
উন্মনা যৌবনা আজি তোমারি চরণতলে।

#ডাকবাক্স

#ঝিলিক_মুখার্জী_গোস্বামী

(এক)

দুই ছেলে টুবলু আর টুপ্পু এর পর অনেক বছর পার হয়ে, শান্তা দেবীর কোল আলো করে এসেছিল... পরীর মত দেখতে টুকটুকে ফর্সা একটা মেয়ে। রমেন বাবু আর শান্তা দেবীর মেয়ে... নন্দিনী। খুব মেয়ের সখ ছিল তাঁদের। তাই রিস্ক নিয়েও কনসিভ করেছিলেন শান্তা দেবী। অবেশেষে আজ সেই খুশির দিন হাজির দোরগোড়ায়। কারন রমেন বাবু আর শান্তা দেবী আজ আবার বাবা-মা হয়েছেন...এক ফুটফুটে রাজকন্যার। দুই ভাই ও খুব খুশি বোন কে পেয়ে। চার পাঁচ দিন পর নার্সিং হোম থেকে বাড়ি ফিরবে তাদের রাজকন্যা। আজ তারিখ টাও অসম্ভব ভালো। 25শে ডিসেম্বর। তাই ডাক্তার বাবুর অনুমতি নিয়ে নার্সিং হোমেই এক প্রস্থ কেক কাটা হয়ে গেল। ডাক্তার, নার্স, ওয়াডবয় যেখানে যারা ছিল সবাইকে কেক আর মিষ্টি দিয়ে রাজকন্যা আগমনের সেলিব্রেশন করা হল। তাই আজ পুরো মুখার্জী পরিবার হাজির। দাদুমনি _ঠাম্মী, কাকাই_কাকীমনি সবাই। তাদের পরিবারে এই প্রথম মেয়ে হেয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই সবাই খুব খুশি। কিন্তু.....

আজ গোটা মুখার্জী ম্যানসন সেজেছে আলো দিয়ে। কত রকমের আলোর রোশনাই। বাড়িতেই চলছে মিষ্টান্ন বানানোর কাজ। অতি পরিচিত ভোলা ময়রা তার দলবল সহযোগে হাজির সকাল থেকেই। অনেক রকম মিষ্টি বানানো চাই। আজ নন্দিনী আসছে বাড়ি। সকাল বেলায় রমেন বাবু গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছেন ওদেরকে নিতে। এদিকে বাড়িতে রিলেটিভস এরও ঢল নেমেছে। সবাই এসেছে নন্দিনী কে আশীর্বাদ জানাতে। দাদুন আর ঠাম্মী অস্থির হয়ে পড়েছেন, নাতনীর জন্য। টুবলু আর টুপ্পু ওদেরকে সামাল দিচ্ছে। এদিকে রমেন বাবুর ভাই, সৌমেন বাবু বার দশেক ফোন করার পর জানতে পারলেন রমেন বাবু বেলা এগারো টায় নার্সিং হোম থেকে তাঁর স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে রওনা দিয়েছেন। এক ঘন্টার মধ্যেই বাড়ি আসছেন। সবাই মেতেছে আজ খুশি তে। সবাই ব্যস্ত নন্দিনী কে স্বাগত জানানোর জন্য। টুবলু দেখল কাকীমনি কোথাও নেই। কাকাই কে জিজ্ঞেস করলে কাকাই উত্তর করল জানেনা। এই সব হতে হতে শান্তা দেবী আর রমেন বাবু মেয়ে কে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। নন্দিনী কে ঠাম্মী প্রদীপ জ্বালিয়ে বরনের থালা দিয়ে বরন করে ঘরে তুললেন। শুধুমাত্র বৌ এলেই বরন করার রীতি এই বাড়িতে নেই। যে কোন সন্তান জন্মালে তাকে এইভাবে ই বরন করে ঘরে তোলে মুখার্জী বাড়ি। আজও তার অন্যথা হয়নি। এরপর রিলেটিভ রা একে একে সবাই নন্দিনী কে আশীষ দিয়ে মিষ্টি মুখ করে যখন বাড়ি ফিরল তখন অনেক বেলা হয়ে গেছে। শান্তা দেবীর শাশুড়ি, রমা দেবী তাকে ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে বললেন। কাজের মেয়ে পুঁটি কে নির্দেশ দিলেন, "বৌমার খাবার টা শোবার ঘরে দিয়ে আয়"। কথা মত কাজ। শান্তা দেবী দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমোতে গেলেন, নন্দিনী কে খাইয়ে দিয়ে। এখন কদিন মা-মেয়ের আরাম আর আয়েশ করার পালা।

টুপ্পুর তুলনায় টুবলু একটু বড়। টুবলু এখন একাদশ শ্রেনীতে। আর টুপ্পু নবম শ্রেনী। দুই ভায়ে খুব মিল। সময় পেলেই দুজন হয় গোয়েন্দা গল্প বা সিনেমা নিয়ে মেতে থাকে। এখন আর একটা জিনিসেও মেতে আছে। ওদের বোনকে নিয়ে। পরে আসছি সেকথা তে। দুই ভাই হয় ফেলুদা নয় ব্যোমকেশ এ বুঁদ থাকে। তাই রহস্য এর গন্ধ পেলেই দুজন ঝাঁপিয়ে পড়ে। যেদিন নন্দিনী বাড়ি এল, সবাই বাড়ি ছিল। শুধু কাকীমনি, সুকন্যা ছাড়া। এরপর যথারীতি দুই ভাই গোয়েন্দা গীরি চালায়। কিন্তু কোথাও সেদিন কাকীমনির হদিশ পায়নি। এই নিয়ে দুই ভাই এর আজ আলোচনা। পড়াশোনা মাথায় উঠিয়ে।
টুপ্পু:- আচ্ছা দাদা কাকীমনি সেদিন কোথায় ছিল বলতো? বাড়িতে তো ছিল না। বোনকে দেখতেও আসেনি।

টুবলু:- আমিও জানিনা। তবে সেদিন আমি দেখেছিলাম কাকীমনি ভিড়ের মধ্য দিয়ে সবার অলক্ষ্যে সোজা উপরে নিজের ঘরে চলে যায়। কেমন একটু অস্থির লাগছিল।
তবে কি বোন হয়েছে বলে কাকীমনি খুশি হয়নি? টুপ্পু প্রশ্ন করে। টুবলু বিজ্ঞের মত বলে হতে পারে। কিন্তু খুশি না হওয়ার কারন টা ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না রে। কেন অখুশি হবে কাকীমনি?

এরপর অনেক দিন, অনেক মাস কেটে গেছে। আজ নন্দিনীর প্রথম জন্মদিন। আজ আবার ও আলোয় সেজেছে গোটা মুখার্জী বাড়ি। আজ আরও বেশি লোকজনের ভিড়। রমেন আর সৌমেন বাবুর বিজনেস কলিগস আর তাদের পরিবার ও এই খুশিতে সামিল হতে এসেছেন। এর ওপর চেনাশোনা তো কত লোক আছেই। বাড়ি ভর্তি লোক। একটু পরেই কেক কাটার পর্বও মিটে গেল। বেয়ারারা সফট ড্রিংস দিচ্ছে সবাই কে। বাচ্চাদের কোলাহল। পুরো বাড়ি মেতে উঠেছে আনন্দে। নন্দিনির দাদুন, হরদেব মুখার্জী নাতনী কে নিয়ে বসে আছেন। আর মাঝে মাঝে গলা চড়িয়ে তদারকি করছেন সবকিছু। এত ভিড়ের মাঝেও দুই ভাই এর নজর কিন্তু তাদের কাকীমনি, সুকন্যার উপর। ঠিকই আছে সবকিছু আজ তাহলে। ওরাই তাহলে ভুল ভাবে সন্দেহ করছিল। মনেমনে হয়তো দুজনেই ভাবল, ওদের কাকীমনি কখনো কোন খারাপ কিছু করতেই পারে না। ওরাই ভুল। এইসব ভাবনায় ছেদ পড়ল দুই ভাইয়ের, শান্তা দেবী ওদের মায়ের ডাকে।
-কিরে তোরা খাবি না?
-সবার খাওয়া হয়ে গেল তো।
-সবাই বাড়িও চলে গেল।
হঠাৎই টুবলু জিজ্ঞেস করল,
কাকীমনি? কাকীমনি কোথায় মা?
শান্তা দেবীর অবাক চোখে প্রশ্ন -
-কাকীমনি কোথায় মানে?
-বাড়িতেই তো।
টুবলু ধাতস্থ হয়ে বলল, এমনি গো মা।
- চলো খেয়ে নিই।
-চল, টুপ্পু।
----------------------------
#চলবে

উপহারে পাওয়া ফুলে
কম্পিত ঠোঁটের "ভালোবাসি তোমায়" শুকনো
ডায়রির পাতা ভালোবেসে জাপটে ধরে !
কখনো প্রেমের স্বাদ নিতে
গোলাপ ছুঁলে, তোমার হাতের স্পর্শ
আলিঙ্গন করে ।
আজ শত প্রেমিক মৃত প্রেমিকার হৃদয় মাঝেই
তবু অজানা অনুভূতির কোলে
অযুত প্রেমিক-প্রেমিকা অজান্তে যায় ঢলে ।

07.01.2020 09:59

■■পালক■■
●● ০১ ●●
রূপাঞ্জনা
✒রাজদীপ দাস

৪বি, সূর্য্য সেন স্ট্রীট...
উত্তর কলকাতার নামকরা ছাপাখানা পাড়া....
সেদিন হঠাৎই পাড়ি দিয়েছিলাম দুপুরে....
কালীঘাট থেকে মেট্রো ধরে সোজা সেন্ট্রালে নামলাম, তারপর হাঁটা শুরু করলাম বইপাড়ার দিকে..... মেডিকেল কলেজের মধ্য দিয়ে হেঁটে উঠলাম মেইন রাস্তায়....
ইতিহাস ঘাটলে উত্তর ও মধ্য কলকাতার জুড়ি মেলা ভার.... তবে কলকাতা এখনও তার চাকচিক্য ধরে রেখেছে হাতে টানা রিক্সা আর ট্রামের কাঁধে ভর করে... হাঁটতে হাঁটতে কলেজ স্কোয়ারের একটা চায়ের দোকানে দাড়ালাম, পকেটের খুচরো দিয়ে চা নিলাম তাও আবার মাটির ভাড়ে.... শীতের দুপুরে চায়ে চুমুক আর ঠং ঠং ট্রামের শব্দ মনটা জুড়িয়ে গেলো....
এমনই আয়েশের মাঝে খানিক তাল কাটলো এক মহিলা কন্ঠের চিৎকারে... চায়ের দোকানের পাশের রাস্তায় খুব ক্ষেপে গিয়ে কথা বলছেন একটি ছেলের সাথে....
অবাক হলাম আর জিজ্ঞাসা করলাম চা দোকানিকে সেই মহিলার ব্যাপারে... চা দোকানি বললেন, মহিলার নাকি প্রায়ই সেই ছেলেটির সাথে বচসা হয়ে থাকে.... বাকি কথা আর এগোলেন না, আমিও বিশেষ আর্জি করলাম না...
চায়ের টাকা মিটিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম গলির মুখে তারপর এগোলাম সেই গলির দিকে.....
ইতিমধ্যে সন্ধ্যে নামছে...
এগোতে এগোতে হঠাৎ থমকে গেলাম,
সামনের বাড়ীর দরজায় সেই মহিলাটি দাঁড়িয়ে....
আমি চোখ সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ভান করলাম হঠাৎ মহিলা কন্ঠে,

'শুনুন,
আরে আপনাকেই বলছি.... '

আমি : হ্যাঁ, বলুন....

মহিলা : 'বলছি, আপনি সেই যে চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন আর আমাকে আড়চোখে দেখছিলেন ?

আমি : না, মানে, হ্যাঁ.... মানে ঠিক সেরম কিছু নয়, আসলে ----- ...

মহিলা : অত ঘাবড়ানোর কিছু হয়নি, আপনি তো কিছু ভুল করেন নি, সবাই এই শরীরটা দেখে, আপনি তো মুখ দেখেছেন, তাতে এত ভয় পাচ্ছেন কেন ??

আমি : না না ঠিক তা নয়.... আমিতো এমনিই আপনার গলা শুনে ------

মহিলা : (একটু হেসে) জানি, আপনি পাপী নন, আপনার মনটাও পাপী নয়... তাইজন্যই তো আপনাকে পিছু ডাকলাম.... আসলে কি জানেন তো আপনার মতো মানুষ যদি পৃথিবীতে সকলে হতো তাহলে হয়তো আমাদেরকে এইভাবে বাঁচতে হতো না....

বেশ অন্যরকম ভাবে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম মহিলার কথা শুনে... কৌতূহলও জাগ্রত হলো মনে..... তাই শুনতে লাগলাম মন দিয়ে ....

আমি : এইভাবে মানে কিভাবে ???

মহিলা : শুনবেন ?? শুনুন তবে -----
২০১৭ সালের জানুয়ারী মাস, পারিবারিক সম্বন্ধ দেখা এক ছেলের সাথে বিবাহ হয় আমার... ছেলেটি ভালো ছিলো, নিজেদের ব্যবসা ছিলো... বিবাহের পর আমরা হানিমুনেও যাই...
৭ মাস পর হঠাৎ একদিন নেশা করে বাড়ী ঢোকে, এর আগে কোনোদিন এমন করেনি ও... তাই এক প্রস্থ অশান্তি হয়..... দিন দিন নেশা বাড়তে থাকে আর ব্যবসার লাভের পয়সা শেষ করে দিতে থাকে ও..... অগত্যা আমি বাপের বাড়ী চলে যাই.....
আমি কোনোদিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিলাম না, কিন্তু বাপের বাড়ী এসে সেটাতে মুখ গুঁজেছিলাম..... একদিন একটি সমবয়সী ছেলের সাথে আলাপ হয়... সেখান থেকে দেখা, ঘোরা, মনের কথা আদানপ্রদান আর হঠাৎ করে প্রেম.....
এদিকে শ্বশুরবাড়ী ত্যাগের পর বর খোঁজ নিতো না, একপ্রকার পর করে দিয়েছিলো আমাকে...
তাই নিজেকে অন্যজগতে নিয়ে গিয়েছিলাম... এই করতে করতে ছেলেটির সাথে এতটাই প্রেম জমে যে দেড় বছর পর আমি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ি...
বাড়ীতে তো সেকথা বলা যায় না, তাই ছেলেটিকে বলি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে ?? আমরা তো দুজন দুজনকে ভালোবাসি তাই না ....
ছেলেটি বলে, সে নাকি বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয়... আমি বলি, আমাদের সন্তানকে তাহলে কি পরিচয়ে ভূমিষ্ঠ করবো ??? আমারই বা কি হবে ??? ছেলেটি আমাকে অবজ্ঞা করতে থাকে, আর আমার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে... আমি আসতে আসতে ওকেও হারিয়ে ফেললাম কিন্তু হারাতে দিইনি আমার গর্ভের সন্তানকে.... তাকে জন্ম দিই আর এখন তাকে বোর্ডিংয়ে দিয়েছি... আমার বাপেরবাড়ী আজও জানে না এই সন্তানের বিষয়ে, মাতৃত্বকালীন অবস্থায় এক বান্ধবীর বাড়ী থেকেছি মাসের পর মাস আর বাড়ীতে বলেছিলাম চাকরির ট্রেনিংয়ে আছি...

আমি : তুমি খরচ চালাও কিভাবে ??

মহিলা : মাঝে এক পাঁচতারা হোটেলে চাকরি করতাম রিসেপসনিস্ট হিসেবে কিন্তু একদিন মালিক আমাকে নৈশভোজে ডেকে ম্যানেজার হওয়ার প্রস্তাব দেয়, শুধু তার বদলে তাকে শরীর দিতে হবে আমার..
কাজটা ছেড়ে দিলাম...
এখন একটা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হয়েছি... এখন বেশ আছি আমি....
আর আজ যার সাথে তর্ক করতে দেখলে সে হলো সেই মহান ছেলেটি যে আমাকে প্রেমের পালকের ছোঁয়া দিয়েছিলো আর শরীরটা নিংড়ে নিয়ে সেই পালকটাই পায়ে পিষেছে....
তাই যখনই ছেলেটিকে দেখি, নিজের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাই, আর সে নীরব শ্রোতা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে...

যাক আপনার অনেক সময় নষ্ট করলাম....
আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি ফর দ্যাট...

আমি : না না, আসলে কি জানেন তো আপনার মতো মানুষের সাথে সময় কাটানোটাও জীবনে অনেকসময় মূল্যবান হয়ে দাঁড়ায়....
বাই দ্য ওয়ে আপনার নামটা !!!

মহিলা : রূপাঞ্জনা বসু.... সময় পেলে চলে আসবেন এই গরীবের ঘরে, না হয় একটু চায়ের আড্ডা দেবো....
আমার নম্বরটা নিয়ে রাখুন ৯৮৩০******

আমি : অবশ্যই, আজ তাহলে আসি....

মহিলা : ভালো থাকবেন.....

স্মৃতিপথ জুড়ে
কত চিত্রে আমার ছায়া নড়ে চড়ে ওঠে হঠাৎ
চলতে পারি না জীবন পথে দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নেয়
সেই গোধূলীর দিন ।
অশ্রু সিক্ত চোখে কেঁদে কেঁদে বলে কত জন ফিরে আয়
অলিখিত প্রেমের গল্প তোর স্পর্শ চাই
আমি দীর্ঘশ্বাসে ওদের চোখের জল মুছি
আমার দু'চোখে প্লাবন নদী ।

যদি ফিরে পেতাম হারানো বিকেলের রোদের সেই ছটা
একে একে আলিঙ্গনে চুমিতাম স্মৃতি মুখ গুলি ।

"অবসান"
- কিরণ মাহমুদ মান্না
sorry,
আজ আমি চলে যাচ্ছি।
তোমাকে ছেড়ে চিরদিনের মত,
বহুদূরে,অনেক দূরে।
আর কোন দিন দেখা হবে না,
আর কোন দিন ভালোবাসার দাবী নিয়ে
তোমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলবো না
আমাকে ভালোবাসা দাও।
যাবার আগে হাত জোর করে বলে যাই,
আমি যদি মনে এতটুকু আঘাত দিয়ে থাকি,
তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিও প্লীজ।
আমার পরিবর্তনে যাকে পাবে,
তাকে নিয়ে সুখী হইও।
বিলিয়ে দিও একে অন্যের ভালোবাসা।
তার সাথে খুব ভালো আচরণ করো,
ভালো ব্যবহার করো, দেখবে-
সে তোমার সমস্ত চাওয়া পাওয়া
পূরণে পাশে রবে।
তুমি ভালো থেকো,
এই আমার একান্ত কাম্য।
ইতি,
তোমার বন্ধু ৩১/১২/২০১৯

" দূর হোক চোখের নীচের কালি "

- ডাঃ ফারহানা মোবিন

*********************************

সুন্দর এক জোড়া চোখ সবারই কাম্য। চোখকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে তোলার জন্যই এতো প্রসাধনী আর প্রচেষ্টা। চোখকে সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য প্রয়োজন চোখ সহ চোখের পাপড়ি ও চোখের উপরিভাগ এবং নীচের মাংসপেশীর যত্ন।

বিভিন্ন কারণে চোখের নীচে কালি জমতে পারে বা চোখের পাপড়িতে ময়লা জমে অসুখ হয়। সামান্য কিছু স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিচর্যা আপনার চোখকে করবে আরো বেশী আকর্ষণীয়।

চোখের নীচে কালি জমে যাবার কারণ
-----------------------------------------------------
১। অতিরিক্ত রাত জেগে পড়া, টিভি দেখা বা কম্পিউটারে কাজ করা এবং দিনে সঠিক ভাবে বিশ্রাম না নেয়া। বিশ্রাম নেয়া মানে ঘুমানো নয়।

অরিক্তি কাজের পরে বিশেষত চোখ ও চোখের পাতা বন্ধ করে রাখলে চোখের বিশ্রাম হয়।

অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্যও চোখের নীচে কালি জমতে পারে। যদি সঠিক সময়ে খাওয়া না হয় দীর্ঘদিন যাবৎ এমন অনিয়ম হলে এই সমস্যা হয়।

২। অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির সমস্যাতেও এমন হয়। দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড (দেহের জন্য জরুরী উপাদান) বের হয়ে গেলে রক্তে অম্ল ক্ষারের সাম্যাবস্থাতে বিঘ্ন ঘটে।

তখন প্রচুর পরিমাণে লবণ পানি বা পানি খেতে হয়। এই সমস্যাতে চোখের নীচে বসে যায়। অতিরিক্ত ঘেমে যাবার পরেও এই সমস্যা হতে পারে (খেয়াল রাখতে হবে, উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা রান্না ব্যতীত লবণ খাবেন না। কাঁচা লবণ দ্রুত রক্তচাপ বাড়ায়)।

৩। টাকা বাঁচানোর জন্য যেন তেন কোম্পানির তেল, প্রসাধনীর বিরুপ প্রতিক্রিয়ার জন্য চোখের নীচে কালি জমনে পারে।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক অবসাদ, পারিবারিক ভাবে চোখের নীচের গঠন, দীর্ঘ বছর যাবৎ উচ্চ রক্তচাপ বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার জন্যও এমন হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল (ট্যাবলেট) বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের জন্য চোখের নীচে কালি জমে না।

৪। সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার না করলে দিনের পর দিন ময়লা জমে চোখের নীচে কালি, চোখের পাতাতে ইনফেকশানও হতে পারে।

চোখের মেকআপ সঠিকভাবে নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও চোখের পাপড়িতে রোগ জীবাণু আক্রমণ করে, হতে পারে ইনফেকশান বা এ্যালার্জি জাতীয় যাবতীয় সমস্যা।

৫। মেয়াদ উত্তীর্ণ কম দামী, অখ্যাত কোম্পানীর প্রসাধনীও তৈরী করতে পারে চোখের নীচে কালি।

মারাত্বক ডায়রিয়া, বড় কোন অপারেশন, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্ম দানের পরে, অতিরিক্ত বমি বা ডায়রিয়া।

৬। ফেসিয়াল করার সময় চোখের নরম মাংসপেশীতে অসাবধানতা বশত ঘষাঘষির জন্যও দাগ হতে পারে।

প্রথর রোদের তাপে দীর্ঘক্ষণ থাকলে চোখের ও উপরে কালি জমে। দীর্ঘদিন কড়া রোদে থাকলে দাগ স্থায়ী হয়ে যায়।

রক্ত শূন্যতা, হঠাৎ করে প্রচুর ব্যায়াম, আবহাওয়ার পরিবর্তনও এই অবস্থার জন্য দায়ী।

চোখের নীচে কালি প্রতিরোধে করণীয়ঃ
--------------------------------------------------
১। নিয়মিত মুখ, মাথা সহ পুরো শরীর পরিষ্কার রাখতে হবে। সৌন্দর্যের আশাতে প্রসাধনী ব্যবহারের পূর্বে যাচাই, বাছাই না করে ব্যবহার করবেননা।

সানস্ক্রীন ক্রীম চোখের নীচে ও পাতার উপরে লাগাবেন না। পরিহার করুন মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী, খাবার, অতিরিক্ত রৌদ্রের তাপ, দীর্ঘ দিন যাবৎ রাত জেগে পড়া বা ল্যাপটপে কাজ করা, হঠাৎ করে কঠোর ভাবে ব্যায়াম বা ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।

ধীরে ধীরে খাবার নিয়ন্ত্রণ করুন। হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম ও খাবার নিয়ন্ত্রণে বিরূপ প্রভাব পড়ে ত্বক, চুল, নখ, চোখের নীচের মাংসপেশী ও হাড়ের উপর।

২। একই প্রসাধনী দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহারের পরিবর্তে ভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত রাত জাগা, দুশ্চিন্তা, দীর্ঘ বছর যাবৎ জন্ম নিয়মন্ত্রণ বড়ি পরিহার করুন।

পান করুন প্রচুর পরিমাণে পানি। এতে অ্যাসিডিটি বা গ্যাসট্রিকের পরিমাণও কমবে। আর পানি দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌছে দেয়। নিয়মিত ও প্রচুর পানি পান করলে এবং তৈলাক্ত খাবার তুলনামূলক ভাবে কম খেলে চোখের নীচে কালি পড়বে কম।

৩। অতিরিক্ত ঘেমে যাবার পরে ওরস্যালাইন বা লবণ পানি খান। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লবণ পানির পরিবর্তে লেবুর শরবতন খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস থাকলে অনুচিৎ, খুব বেশি ঘেমে গেলে রক্তের চিনির মাত্রাও অনেক সময় কমতে পারে। এক্ষেত্রে খেতে পারেন। তবে পরিমাণে সামান্য চিনি খাওয়াই ভালো।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও ব্লাড প্রেসার মাপাবেন। দীর্ঘ বছর যাবৎ একই রকম ডায়াবেটিস বা প্রেশারের ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অনেক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চোখের নীচে কালি জমতে পারে।

৪। দৈনিক রাতে ৬-৭ ঘন্টা ঘুম ভীষণ জরুরী। বাহির থেকে এসে সঠিক ভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মেকআপ থাকলে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

অতিরিক্ত প্রসাধনীর পরিবর্তে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পাশ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকে।

রোদে বের হলে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করবেন।

খুব ক্লান্তিতে কাজের ফাঁকে ১৫-২০ মিনিট চোখের পাতা বন্ধ করে রাখুন। একটা তুলা হালকা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ময়লা পরিষ্কার হয় আর সেই সাথে চোখের মাংসপেশীর বিশ্রাম হবে।

৫। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম এর মাত্রা অল্প থেকে ধীরে ধীরে বাড়ান। মৌসুমী ফল, শাক সব্জি দেহের প্রতিটি অঙ্গের জন্য ভীষণ জরুরী। বিশেষত শাক, ছোট মাছ চোখের পাতা ও মাংসপেশীর পুষ্টির জন্য অপরিহার্য্য। আর দূর করতে হবে বিষন্নতা বিষন্নতাতেও চোখের নিচে কালি জমে।

আমি নারী
কলমে - সুস্মিতা কুন্ডু ভৌমিক

একটি মেয়ে অ্যাসিড হামলার শিকার .
মুখ নষ্ট হয়েছে ..
কোথাও নাক ..কোথায় বা চোখ বোঝা যায় না..
সুন্দর মুখ খানি নেই.
সবটাই একজন নষ্ট করেছে..
অন্য দিকে আর এক সুন্দর মনের অধিকারী মানুষ সেই রূপহীন কে নতুন জীবন দিয়েছে .
ভালবেসে বিয়ে করেছে ..
আবার তাদের কোলজুড়ে ছোট একটা গোলাপ ফুটেছে..
যদিও সমাজে কিছু কাঁটা আছে..
কিন্তুকিছু হিরে আছে..
যারা মেয়েদের সর্ব ক্ষেত্রে পথ দেখাচ্ছে..
তাদের কুর্নিশ জানাই ..
এবং সেই যুগলদের প্রেম কে অনেক শুভকামনা ..
প্রেম ফিরে ফিরে আসুক যুগ যুগ ..
তাদের হাত ধরে..
যেখানে মেয়েটির রূপ নয় ...মনকে ভালোবেসেছে ..
তাই তাদের প্রেম দীর্ঘজীবী হোক..

সুস্মিতা..
একটু অন্য ধারার লেখনী..
পারিপার্শ্বিকতা প্রসঙ্গে ..

অণুগল্পঃ গরীবের শীত।
রচনাঃ কিরণ মাহমুদ মান্না।

এই তো এক সপ্তাহ্ আগে দেশে আসলাম।
বাহিরে প্রচন্ড শীত, সে কারণে প্রয়োজন ছাড়া বাজার কিংবা দূরে কোথাও যাওয়া হয় না।
ঘরে কম্বল মুড়িয়ে মুবাইলে টাইপ করে একটা কবিতা লিখতে ছিলাম।
হঠাৎ, একটা ফোনটা বেজে উঠল,মেসেঞ্জারে।
রিসিভ করতেই সালাম দিলো, বললো, ভাইয়া কেমন আছেন? পরিচয় দিলো ওনি একজন মধ্যেবৃত্ত কন্ঠশিল্পী।
ওনি বলছে- ভাইয়া,কিছুদিন আগে আপনার ফেসবুক ওয়ালে একটা গান পোস্ট করেছিলেন, মনে পড়ে।
আমি বললাম- গান কতই পোস্ট করা হয়। আপনি কোন গানের কথা বলছেন?
ওনি বললো- "কিছু কথা ঠোঁটের কোণে" শিরোনামের গানটা।গানটা খুব ভাল লাগলো আমার।
বললাম- ও আচ্ছা ঐটা! মনে আছে তো।
ওনি বলছেন- গানটার সুরটা কি আপনার করা আছে?
বললাম- হ্যাঁ, আছে তো।
ওনি বলেছেন- তাহলে ভাইয়া আপনার যদি কোন আপত্তি না থাকে, যদি আমাকে দিতেন তাহলে গানটা আমি করতে চাই।
বললাম- আমার তো কোন আপত্তি নেই। গানতো শিল্পের জন্যই লিখি।
ওনি বলেছেন- তাহলে ভাইয়া,আমি আমার এড্রেসটা আপনার ইনবক্সে টেক্স করে দিচ্ছে। কালই চলে আসেন ঢাকায়।

কন কনে শীতকে সঙ্গী করে রওনা হলাম ঢাকার উদেশ্যে।
সিঙ্গাপুর থেকে নিয়ে আসা জ্যাকেট টা পড়ে নাক মুখ বেঁধে বের হলাম। তার উপর বাবার শাল চাদরটা জড়িয়ে দিলেন মা।
তবুও কাঁপতে কাঁপতে ভোর ৫:৩০ বাস ধরলাম।
বাসের জানালা বন্ধ তবুও হিম হিম শীতল হাওয়ায় বাসের ভিতটা একেবারে ঠান্ডা হয়ে আছে।
সকাল ৯ টায় দিকে ঢাকায় গিয়ে পৌঁছাই।
বাস থেকে নেমে ওনাকে কল করি।
ঢাকার শহর পুরো কুয়াশার চাদরে ঢাকা, অন্ধকার। রাস্তা ঘাট, বিল্ডিং সব কিছু অস্পষ্ট। এই এক বছরে ঢাকার শহর অনেক পরিবর্তন হয়েছে মনে হচ্ছে।
রাস্তার পাশে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছি একটা ক্যাব বা সিএনজি জন্য। এদিকে কাঁপতে কাঁপতে শীতে কাহিল।
একটা ক্যাবে করে রওনা হলাম মগবাজার।
রাস্তা ঘাট কুয়াশায় ঘোর অন্ধকার।
ড্রাইভার কিভাবে রাস্তা দেখছে সেই জানে।
আধা ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম একটা স্টুডিওতে।
সকালে চা নাস্তা হলো, আলাপ আলোচনা হলো।
কাজটা সারতে সারতে ঘড়ির কাঁটা দুপুর গড়িয়ে ৩ টা।
তবুও মনে হচ্ছে  গ্রামের ভোর বেলা।
সবাই হোটেলে চারট্টে খেয়ে আমি বিদায় নিয়ে
চলে গেলাম সিএনজি করে কমলাপুর রেলস্টেশনে। টিকিট কেটে বসে আছি ট্রেনে অপেক্ষায়।ট্রেন আসতে অনেক সময় বাকি।
আল্লাহ্, কি শীত রে বাবা, চারপাশটা খোলা।
আসছে ঠান্ডা বাতাস।
কথা বলতে গেলে তোতলামি হয়ে যায়।
এমন সময় বৃদ্ধ বয়সী একটা লোক কাঁপতে কাঁপতে এসে বলছে-বাবা, কয়ডা টেহা দেন,খামু।
গায়ে শুধু মাত্র একটা জীর্ণ শার্ট, লুঙ্গী,আর ময়লা ওয়াল একটা ছেঁড়া চাদর। অনুভব করলাম, আমার গায়ে এত মোটা জ্যাকেট, তার উপর শাল। এই শীতে আমি হিমসিম খাচ্ছি। মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না।আর এই লোকটা কিভাবে পাতলা একটা শার্ট আর লুঙ্গি পড়ে আছে!
বললাম- চাচা,চলেন কি খাবেন?
লোকটা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো-ভাত খামু বাজান।
একটা হোটেলে নিয়ে গিয়ে বললাম-
কি খাবেন চাচা?
লোকটা মাছ ভাত খেতে চাইলো, সাথে আমি আর মাংস অর্ডার দিয়ে খাওয়ালাম।
খাওয়ার শেষে আমার গায়ের শাল চাদরটা লোকটার গায়ে জড়িয়ে দিলাম।
চাচা যান, কোথাও গিয়ে আরাম করেন,
লোকটা দোয়া করতে করতে খুব খুশি মনে চলে গেলো। আর আমি রাতে ১০ টায় ট্রেন থেকে নেমে
বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনুভব করলাম শীত কাকে বলে।
গরীব মানুষগুলো কেমন করে এই শীত সহ্য করে।  আল্লাহ্....

অণুগল্পঃ গরীবের শীত।
লেখাঃ কিরণ মাহমুদ মান্না
২৫/১২/২০১৯ইং

বিদায়
- সম্পা মাজী

চলে যেতে হবে জেনেও এসেছিলাম তোমাদের কাছে,
আনন্দে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম তোমাদের সাথে।
আমার আগমনে অনেকেই হয়েছে আনন্দিত , কেউবা সুখী ,
তারা করতে পেরেছে তাদের একান্ত স্বপ্ন পূরণ।
কিন্তু যাদের হল না মনের ইচ্ছে পূরণ,
তারা এর জন্য করল আমায় দোষী , বলল আমায় অপয়া।
আমার উপস্থিতি যেটা পারল না ঠিক মতো করতে,
যে আসছে সে হয়তো পারবে সবার ইচ্ছে পূরণ করতে।
এই পৃথিবীতে এক জন বিদায় নিবে আবার একজন আসবে,
আসা -যাওয়া এটাই তো প্রাকৃতির নিয়ম এবং চিরন্তন সত্য।
এই সত্যকে মেনে নিয়ে চলাম পৃথিবী ছেড়ে অনেক দূরে,
শুধু বলে যাবো এই সুন্দর পৃথিবীতে তোমরা থেকো আনন্দে।

২০১৯

ট্রলির চাকায় দোয়েল
- নাজমা সুলতানা

প্রাত্যহিক-দেয়ালে কোনো না কোনো একজিবিশন,
কয়েক ঘণ্টার দর্শক সমাগমে কিছুটা সরবতা।
কদিন বাদে বদলে যাবে ছবিগুলোর রঙ-ছোপ,
হেলাফেলা আঁচড় থেকে কেতাদুরস্ত লাইভভার্সন!

নাকছাবিজ্বলা জোড়াঠোঁটের সাবলীল দুঃখ
শুনতে শুনতে জলফোঁটায় কাহিনীর সারাংশ,
বিহ্বলতা কাটাতে বেশিক্ষণ না। পরিকল্পিত পঞ্জিকা,
অটো-স্লাইডিং আপনা আপনি খুলে ডেকে নেবে।

ফাটাগোড়ালির ময়লা-কষ্টের কয়েকটা রেখা
কিছুক্ষণ পরে ভ্যাজলিন-ই-ক্রিমমাখা তুলতুলে।
দেয়ালের ছবি বদলে যাবে ট্রলির সাথে সাথে
হুইলসাবানধোয়া কাপড় ওয়েস্টিং ওয়াশিঙে ঘুরবে।

আবহাওয়ার টানাপোড়েনে অস্ফুট ডিপ্রেশনে
চেনা-অচেনাপাখি মাঝে মাঝে দেখতে আসবে,
দোয়েলের শ্যাওলাদেয়ালটা বদলে যাবে তখন
সে আসবে তবে তার মুখটা চিনতে কষ্ট হবে।
৩০.১২.১৯

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget