ডিসেম্বর 2019

লোকটি প্রতিবাদী হতে চেয়েছিলো
কলমে - মন্টু হালদার

আমরা সবাই ছোটবেলায় ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার
বা শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম ...

ওই লোকটি কিন্তু ছেলে বেলা থেকেই ....
প্রতিবাদী হতে চেয়েছিল
ঠিক নেতাজী সুভাষ এর মতো ,ঠিক নেলসন মেণ্ডেলার মতো ,ঠিক শেখ মুজিবরের মতো
বিপ্লবী হতে চেয়েছিলো ।

লোকটি আজীবন
রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে , অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেলেন

তবু নেতাজী হতে পারলেন না

কারণ নেতাজী সুভাষএর পরাধীন ভারতবর্ষে
আমরা সকলে ছিলাম ভারতীয়
আর স্বাধীনতার পরে
এখন আমরা দুই ভাবে বিভক্ত একভাগ হিন্দু আর এক ভাগ মুসলিম

....আর লোকটি হিন্দু বা মুসলিম কোনটাই হতে পারেন নি, সে শুধু একজন ভারতবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন । ।
-------
লোকটি কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা হতে পারে নি

যদিও কালোকুঠুরির ভিতর তাকেও অত্যাচার করা হয়েছিলো
২৭ বছর না হোক ২৭ বার তাকে , রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে জেল খাটতে হয়েছে
আসলে
পরাধীন দক্ষিণ আফ্রিকায়
আমরা নেটিভরা ছিলাম ছোট লোক, কালো মানুষ।
আজ স্বাধীনতার পরেও আমরা কালোই রয়েছি কিন্তু আমাদের ভিতর আজ পা চাটা কুকুরের বড় উত্পাৎ

আর নেটিভ লোকটি শত প্রলোভনেও
কুকুর হতে পারেনি ....।
--------
যদিও তাকেও হত্যা করা হয়েছে ঘরে ঢুকে..
তবুও সে শেখ মুজিবর হতে পারেনি ।
পরাধীন বাঙলা দেশে মা বলতে সকলে বাঙলা ভাষা কে বুঝতো কিন্তু
আজ মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাঙলাদেশে
মার চেয়ে মাসির কদর বেশি

আর গোঁয়ার লোকটি মায়ের স্থানে মাসিকে বসাতে পারে নি ।
--------
আমরাও বেকার হয়েই রইলাম
ডাক্তার বা শিক্ষক বা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারিনি...

২৬/১২/২০১৯

পোড়া মানুষ
এসকেএইচ সৌরভ হালদার
একটি কঙ্কাল এই শরীর
শুধু ঢেকে থাকা কাপড়চোপড়
বুঝিয়ে দেয় ,ওহো ভালোই আছি।
মুখে মাখা মেকআপ বক্স
সুন্দরে আহা কার
মনের ভিতরে কঙ্কালের সাফ
এইতো হল গোছগাছ।
সেতো পোড়া মানুষ
কেউ জানে না,
তাতে কি হয়েছে
জীবনটা তো
লুকিয়ে আছে একটি বিন্দুর উপার,
ঘুরে দেখা এই পৃথিবীটা
হবেনা কখনো সুন্দর।
সেতো পোড়া মানুষ নয়
উপর থেকে ভালোবেসে
মুগ্ধতা প্রকাশ পায়
ওরা মানুষ বোঝে না কেন?
বন্ধুসভায় লুকিয়ে থাকে
হাসাহাসি করে সমাজ
এসিড ঢেলে দিলো তাকে
পোড়া মানুষ ,পোড়ামনে
সেতো পোড়া মানুষ নয়
লুকিয়ে আছে মনের ভিতর
ভালোবাসার সরলতায়।

রবিবাসরীয়
কলমে - ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী

ওয়াশিং মেশিনে সপ্তাহ ভর পাহাড়ের মত জমা জামা-কাপড় গুলো দিতে দিতে রুমকি ভাবছিল আজ তাড়াতাড়ি কাজ গুছিয়ে স্নান টা সেরে ছেলেকে স্নান টা করিয়ে দিয়েই একটু উপন্যাসে মজবে। আর দু'টো আখ্যান শেষ করতে পারলেই সুচিত্রা ভট্টাচার্য এর উপন্যাস থেকে মোটামুটি মুক্তি। তারপর নয় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখাটা ধরবে। নয়তো সেরম হ'লে একটা সিনেমা দেখতে যাবার কথা ভাবা যেতে পারে। ভাবনায় ছেদ পড়ল তার রাজপুত্র মানে তার একমাত্র ছেলে পিকলু এর কান্না শুনে।

এই এক ছেলে হয়েছে। ঘুম থেকে উঠে মা কে না দেখতে পেলেই এমন কান্না জুড়বে! তাকে ভোলাবার সাধ্যি ভগবানেরও নেই। অগত্যা জামা-কাপড় ওই অবস্থায় রেখেই ছেলেকে ঠান্ডা করতে যেতে হল। তারপর ছেলের পেছনে তার আধ ঘন্টা সময় দিতে হল। আধ ঘন্টাটাক পর আবার রুমকি তার কাজে ফিরল।

ওদিকে অর্ক ব্যাগ ভর্তি বাজার নিয়ে ফিরল। কাঁকড়া,চিংড়ি;রুই মিলিয়ে তিনরকম মাছ। ওফ্ এই রবিবার টা এলে এত রকম রান্না হয় না! তারওপর সকালের খাবার লুচি-আলুর দম। যদিও রাঁধুনি আছে। তাও রুমকি কে একটু দেখতে হয় ই। রান্না খারাপ হ'লে খাবার টেবিলে বড্ড অশান্তি হয়। সপ্তাহান্তে সবাই ই একটু আয়েস করতে চায়। কিন্তু রুমকি? তার কি সে জো আছে? রবিবার তার মেলা কাজ। কাচাকুচি,ঘর পরিষ্কার ইত্যাদি ইত্যাদি।

আজ আবার রাঁধুনি টা আসতে দেরি করছে কেন রে বাবা! ডুব দেবে নাকি আজ? তাহলে তো রুমকি চোখের জল-নাকের জলে হবে। এত রান্না! এদিকে দশটা বাজতে চলল। ওদিকে অর্ক আর তার বাবা জলখাবারের জন্য ছটফট করছে। স্বাভাবিক ব্যাপার। এখনও খালি পেটে আছে। খিদে পাওয়াটাই স্বাভাবিক। ফোনে ধরবে নাকি একবার? না মনে হচ্ছে রুমকি কেই খুন্তি চালাতে হবে আজ। আজও রবিবার টার দফারফা হল। ধুর ছাতার মাথা ভালো লাগে না। মাথার ঘিলু টা গরম হবার আগেই ডোরবেল বেজে উঠল। বোধহয় রান্নার দিদি এল।

রান্নার দিদি কে সকালের জল খাবার থেকে শুরু ক'রে দুপুরের মেনু-তেল কাঁকড়া, চিংড়ির মালাইকারী;রুই কালিয়া আর অল্প করে একটু আলু পোস্ত, ব্যাস..... বুঝিয়ে দিয়ে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ঘর-দোর পরিষ্কারে রুমকি চলে গেল। কাজ শেষ হবার আগেই রান্নাঘর থেকে ডাক এল রুমকির। বোধহয় জলখাবার হয়ে গেছে।

জলখাবারের পর্ব মিটলে পর রুমকি, অর্ক এর কাছে সিনেমা দেখতে যাবার প্রস্তাব টা তুলল। অর্ক দেখছি বলে টিভির ঘরে চলে গেল। রুমকিও মেলা কাজ গুলো সারতে গেল। মাঝে মাঝে রান্না ঘরে উঁকি মারতে থাকল। রান্না ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখাটাও জরুরি। নইলে তো খাবার টেবিলে তীর্যক বাণ গুলো রুমকির দিকেই নিক্ষিপ্ত হবে। শুনতে হতেও পারে, "সারাদিন তুমি কর টা কী"? তাই ওদিক টাও লক্ষ্য রাখতে হয়। মেলা কাজ সারতে সারতে রুমকি তার খুব প্রিয় একটা গান গুনগুন করতে থাকে------
"না তুম হামে জানো
না হাম তুমহে জানে.....
মগর লাগতা হ্যা কুছ আ্যায়সা!
মেরা হামদম, মিল গয়া"

ওদিকে রান্না প্রায় শেষের দিকে। এবার ছেলেকে স্নান করিয়ে......এদিকে বেলা বারোটা বাজতে চলল খুকু দি তো এখনও কাজে এল না। পাহাড় প্রমান বাসন জমে আছে। চারিদিকে ঝুলে ঝুলময়। এবার ফোন না করলেই নয়। অনেকবার রিং হবার পর ফোন ধরল খুকু দি। বলে কি? অ্যাঁ! আসেনি? রবিবারও ওকে কামাই করতে হল না বলে কয়ে! না এবার সত্যিই মাথা গরম হবার উপক্রম। পিকলু বাবুর স্নান হয় নি। খাবেই বা কখন? না রুমকি পাগল হয়ে যাবে এবার।

ছেলেকে স্নান করিয়ে রোবোটের মত বাড়ির কাজগুলো সেরে নিল রুমকি। কাজ সারতে সারতে মনে একটা উৎফুল্ল ছিল আজ সিনেমা দেখতে যাবার। অর্ককে আরও একবার রুমকি জিজ্ঞেস করল, "কি গো যাবে তো"? অর্ক তখনও সেই আগের মত একই উত্তর "দেখছি" ব'লেই বিছানা নিল। রুমকি চুপচাপ কাজ করে নিয়ে স্নানে গেল।

এখনকার সব বাচ্চা গুলো এমন হয়েছে না! খাওয়া নিয়ে বড্ড নখরাবাজি ক'রে। ভাত দেখলে তো কথাই নেই। পালাই পালাই। হাতে মোবাইল দিয়ে দাও টপাটপ গিলে নেবে। নইলে দৌড় করিয়ে পাগল ক'রে দেবে। খাওয়ানো নয়তো। যেন কুরুক্ষেত্র। পিকলু কে খাওয়ানো শেষ ক'রে সিঙ্কে থালা টা রাখতে রাখতে রুমকির চোখ ছলছলিয়ে এল। এটা অর্ক বলতে পারল? সে তো এই রবিবার টাই অর্ক কে একটু কাছে পায়। রুমকির কি একটু ইচ্ছা করেনা কোথাও একটু ঘুরতে যেতে? অর্ক যদি একদিন যায় তো কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়? সিনেমা দেখতে যাওয়ার কথা বলাটা অর্কের কাছে ফূর্তি মনে হল? টাকা ওড়ানো মনে হল? আর অর্ক যখন বন্ধু দের সাথেই এগুলো ক'রে তখন তো রুমকি একটাও রা কাড়ে না। তবে কেন অর্ক একটা দিন তাকে দেবে না? তাকে খালি শুনে যেতেই হবে উঁচু-নীচু কথা?

সেদিনের সেই রবিবার টা ভালোই কেটেছিল রুমকির। সিনেমায় গিয়ে "ফূর্তি" ও করা হয় নি। সুচিত্রা ভট্টাচার্য বা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় কেউ তাকে সেদিন টানেনি। সারাটা দুপুর কেটেছিল বালিশ ভিজিয়ে। তারপর সন্ধ্যাবেলা রুটিন মাফিক ছেলেকে নিয়ে বাইরে ঘুরে বেড়িয়ে, গান শুনে নিজেকে ঠিক করেছিল রুমকি।

রবিবার গুলো নিয়ম করেই আসে। আবার চলেও যায়। নিয়ম মাফিক রুমকি তার সাপ্তাহিক জমা কাজ গুলোও সারে। কিন্তু আর সে অর্ককে কোথাও "ফূর্তি" করতে নিয়ে যাবার কথা ভুলেও বলেনা। মুখ গুঁজে পড়ে থাকে গল্প বা উপন্যাসের পাতায়। নয়তো বা পিকলুর সাথে চলে খুনসুটি। অর্ক তার ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছিল। কিন্তু রুমকি আমল দেয় নি। ঠিক আছে বলে রুমকিও ব্যাপার টা ওই জায়গাতেই থামিয়ে দিয়েছিল। রবিবার গুলো আসবে রবি বারের অবসর নিয়ে। কিন্তু রুমকির আর অবসর কোথায়? সে সারাদিন সারা সপ্তাহ কিছু না করেও করে অনেক কিছুই। তাই রবিবারের অবসরের ভাগী সে নয়। তার কাছে রবিবারও সপ্তাহের আর ছ'টা দিনের মতই সমান। কোন ফারাক নেই।

#সমাপ্ত

ওড়ান
এসকেএইচ সৌরভ হালদার

বসে আছি হাওড়া নদীর পাড়ে ।পাশ দিয়ে যাচ্ছে লঞ্চ ,নৌকা ইত্যাদি যানবাহন। নদীর জলের ছল ছল শব্দ বয়ে আসছে। দক্ষিন দিক থেকে ঝড় বাতাস বয়ে আসছে। এই নদীর সুমধুর জলস্রোত এর শব্দের তাল নিয়ে আর প্রাকৃতিক বাতাসে বসে তৈরি করছে একটি গল্প। জানি না গল্পটা কত সুন্দর তবে গল্পটা রহস্যময় ও আনন্দময় ।

গল্পের প্রথমে বলেছিলাম আমি বসে আছি হাওড়া নদীর পাড়ে। আমার বসার উপস্থিতি দেখে আমার পাশে এসে বসলো রুপসার মাঝি মঞ্জিল সে আমাকে বলছে
-বাবু দেখেছেন, ঐ আমাদের গাঁ
-আমি ওখানে বাস করি।
আমি তখন বলে উঠলাম "দেখেছি"

আর আমি,
শাওন চৌধুরী । চৌধুরী বাবুর ছোট ছেলের ছেলে
হ্যাঁ আমি আপনাকে চিনি। চৌধুরী বাড়ির পরিবার কে কে না চেনে। আপনি বিদেশে শুনেছিলাম পড়ালেখা করতে গিয়েছিলেন।
-হ্যাঁ ওই আর কি!
তবে চৌধুরী বলে আমাদের অত বড় করে দেখার কিছু নাই ।আমি মনে করি সবাই সবার কাছে ভালোবাসার একটি পাত্র, যেখানে সকলে একসাথে ভালোবাসার অধিকার আছে।

হুম তবে কি আর সবাই বুঝবে আপনার মত
আমি মুখ্য সুখ্য মানুষ অত কিছু বুঝি না।

এইভাবে মঞ্জিল এর সাথে গল্প করতে করতে দেখলাম কাঁধে কলসি আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকা পায়ে আবার আলতা পড়া। নুপুরের ঝনঝনি শব্দের জন্য চোখটা একটু ওদিকে চলে গেল।

আমি জিজ্ঞেস করলাম
মঞ্জিল কে হে রুপসী কন্যা?

মঞ্জিল বললো সে এক বিশাল বড় কাহিনী খুবই । বেচারী মেয়েটারই বা কি দোষ। সে এখন এক অভাগী মেয়ে।
-কেন মঞ্জিল কি হয়েছিল তার সাথে।
হয়েছিল যা তা বলা যায় না মুখে না উপলব্ধি করা যায় মনে ।খুবই দুঃখজনক। ছোট বাবু আপনি যখন শুনতে চাইছেন তাহলে শুনুন কি হয়েছিল?

কয়েক মাস আগের কথা,
এই মেয়ের নাম উড়িয়া। ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আরেকটি বিয়ে করে। এরপর তার সৎ মা তাকে শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করে। ছোট একটি মেয়ে কতইবা কাজ করে পারে। কখনো না খাইয়ে রাখে আবার কখনো সারাদিন কাজ করে আবার খেতে দেয় না ।ওর বাবা মায়ের অত্যাচারে ওকে আর কিছু বলতে পারেনা। কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনা। মেয়েটি কখনো এ জীবনে শান্তি পেল না। হয়তো ওর ভাগ্যে লেখা ছিল এরকম। তার জন্য এইভাবে দুখিনী হতে হলো।

মঞ্জিল আমার পাশে এসে ফিসফিস করে বললো।গ্রাম পঞ্চায়েতের ছেলে ,হ্যাঁ গো গ্রাম পঞ্চায়েতের ছেলে উড়িয়ার সাথে ভাব ছিল।

কিন্তু ছেলেটি ভালো ছিল তার কথা সুমধুর, কালো কালো দুটি চোখের মনি যেন দেখতে রাজপুত্তুর হ্যাঁ গো রাজপুত্তুর।
ছেলেটি নাম ছিল ওড়ান। তাদের ভালোবাসার একটা কাহিনী, হয়তো এই ঘটনা সবাই জানে আপনি বিদেশে থাকার কারণে হয়তো আপনার জানা হয়নি তবে শুনুন কি হলো

ওহ , আরেকটি কথা বলা হয়নি ছেলেটি ছিল মুসলিম আপনি তো জানেনই, আর মেয়েটি হিন্দু। কিন্তু ওদের কাছে এই ধর্ম টা বড় ছিল না। আসল ধর্ম ছিল ভালোবাসা। যা দিয়ে এই পৃথিবীটাকে বদলানো যায়। যার জন্য হতে হয় মানুষকে অপমানিত আবার কখনো মানুষকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। শুধু একটু ভালোবাসার জন্য।

-তারপর !তারপর কি হল মঞ্জিল?
তারপর ছেলেটি আর মেয়েটি ওই মন্দির আছে না ।বড় মন্দির, মন্দিরের পিছনে যে বটগাছ ।বট গাছের পিছনে লুকিয়ে প্রেম করতো, ভালোবাসা করত।

তবে একদিন দেখে ফেলল পঞ্চায়েতের একটি ছেলে।এইদেকে গোপনে খবর দিল পঞ্চায়েত কে ।আর পঞ্চায়েত গ্রামবাসী এবং লোকজন নিয়ে চলে এলো।

হাজির হলো ওই বটগাছের পিছনে। তারপর মেয়েটিকে বিভিন্নভাবে অপবাদ দিল আর ছেলেটির কোন দোষ না দিয়েই বাড়ি ফিরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্থান করলো। এমন সময় ছেলেটি বলে উঠলো আব্বা,
- ওর কোন দোষ না। আমি ওকে ভালোবেসেছি আমি ওর জন্য মরতেও পারি ।ভালোবাসায় কি দোষ আব্বা?
আমি কোন চুরি করে নি, ডাকাতি করিনি। না কারোর নামে কলঙ্ক করেছি ।শুধু একটুইনা ভালোবেসেছি ,এটাই কি আমার দোষ।
পঞ্চায়েত বলে উঠল
-তুই চুপ কর ।
ভালোবাসারে তুই কি বুঝবি ?
ছোট মানুষ এই বয়সে এরকম হয় ।
তবে এতদূর!
আমি আগেই বুঝতে পারিনি আর ওত হিন্দু। এর জন্য কি আমাদের বংশের মান সম্মান হানি করব ।এটা হতে পারে না ।
-অসম্ভব!

ওড়ান চিৎকার করে বলে উঠলো আব্বা, কোন ধর্মে লেখা আছে যে এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মকে ভালবাসতে পারবে না ,কোন ধর্ম এ লেখা যে একজনকে ভালোবাসা একটি অপরাধ।
ধর্ম! ধর্ম !ধর্ম
এই ধর্ম মানুষকে বেঁধে রেখেছে একটি সীমাহীন গণ্ডির ভেতর। কিন্তু কজনই বা মেনে চলছে ধর্মকে। ধর্ম যদি মেনে চলতো তাহলে, এই পৃথিবীতে খুন, হয়রানি,ভালো - মানুষ খারাপ মানুষ থাকত না। শুধু ভালোবাসা দিয়েই মানুষকে ধর্মের পথে আনতে পারে ।একজন খারাপ মানুষ ভালো হতে পারে ,শুধু ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। আর এর জন্যই আমি যদি দোষী হয়ে থাকি তাহলে আমি অগ্নিস্নান করব।
চুপ কর! চুপ কর!
এখানে কোন বাংলা সিনেমার আমি ডায়লগ শুনতে আসিনি ।তুই যদি এতই বুঝিস তাহলে ভালোবেসেই পৃথিবীটাকেই কি বলতে যেতে পারিস।
আব্বা.........
চুপ ! একদম চুপ!
তোর মুখ থেকে আরেকটি কথা শুনতে চাচ্ছি না।

হারাধন তোমার মেয়ে লজ্জা হওয়া উচিত। এই সমাজের কলঙ্ক ।ওকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হোক ।ও একটা সমাজের কীট, বিষাক্ত কীট ।
গায়ে লাগলে যেন জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
উড়িয়া চোখে জল থামছিল না যেন ওর প্রতিটা রক্তবিন্দু একটু, একটু করে জলছিল অগ্নিদাহের মত।

সমাজপতি, পঞ্চায়েত ,গ্রামবাসী এরা আর ভালোবাসার কি বুঝবে, এরা তো শুধু দোষারোপ করেই চলছিল ,ওই ছেলে মেয়েদের উপর ।আমি দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ কিন্তু মানুষের মানবতা ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পারি। সামান্য গরিব মানুষ বলে কোন প্রতিবাদ করতে পারিনি। এই বোঝাটা যেন আমাকে খুবই কষ্টদায়ক করে ,ছোট বাবু খুবই কষ্টদায়ক করে ওঠে মনের ভেতর।

এরপর ছেলেটিকে পঞ্চায়েত নিয়ে গেল ।আর মেয়েটিকে তো টানতে টানতে নিয়ে গেল ওর সৎ মা ।আর চিৎকার করে বলতে লাগল তোর জন্যই গ্রামের লোকেদের কাছে ছোট হতে যাব কেন। তোর মার সাথে তুইও চলে যেতে পারলিনা।

এক, দুই,তিন এইভাবে পাঁচ ঘণ্টা পর পঞ্চায়েতের বাড়িতে চিৎকার-চেচামেচি শোনা গেল। একটা হট্টগোল হয়ে উঠলো পরিবেশটা।
আমি শুনতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখলাম ওড়ান গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আর চিৎকার করে বলছে ।মৃত্যুর আগেও চিৎকার করে বলছে
"উড়িয়া আমি তোমাকে ভালোবাসি "
"উড়িয়া আমি তোমাকে ভালোবাসি "
শুধু তোমাকে

এই দেখে তো মানুষ হতবাগ হয়ে গেল। গায়ে জল ঢালছে ওড়ানের। কিন্তু পোড়া মানুষ যার গায়ে আগুন নেভাতে না লাগে জলের ফোঁটা, তারপরেও ছিটিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে একটি কঙ্কাল শুয়ে পড়লো এই বধ্যভূমিতে। এই খবর পেয়ে উড়িয়া বাড়ি থেকে ছুটতে ছুটতে এলো, কিন্তু তার পরেও তাকে আসতে দেওয়া হলো না ওড়ানের কাছে। ছুঁতে দেওয়া হলো না। দূর থেকে সে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।

সেই রক্ত মাখা লাল আলতা পায়ে ছুটে যাওয়া ঘাসের উপর দিয়ে কয়েক বার মরতে গিয়েছিল উড়িয়া কিন্তু মরতে মরতেও আবার বেঁচে উঠলো এই দুনিয়ার মাঝে। এখন এই অভাগী রক্তমাংসের সারাক্ষণ পুড়ে থাকা একটি মানুষ।
সত্যি মঞ্জিল মানুষ শব্দটা কিভাবে একজন মানুষকে দেওয়া যায় জানিনা ।তবে যদি দুই ভাগ করা যেত পৃথিবীটাকে ,তবে ওরা হয়তো অমানুষের তালিকায় পড়তো। এদের মধ্যে থাকলে জীবনটা কখন‌ সুখ অতিক্রম করতে পারে না কোথাও যেন বাঁধা পড়ে। কিন্তু জ্বলজ্বল করা অগ্নি যেমন কখনো থামে না ঠিক তেমনি ঝরনা থেকে ঝরে পড়া জল কখনো থামে না এই ভাবেই ভালোবাসার শুরু এবং শেষ হয়।আর যারা ভালবাসা দিয়ে পৃথিবীটাকে বদলাতে চেয়েছি তাদেরই এভাবে মৃত্যু হয় এটাই বাস্তবতা। খুবই দুঃখজনক ওড়ানের ভালোবাসা।

নাস্তিক নই আস্তিক নই
কলমে - ববি ব্যানার্জি

যারা বেশী ঠাকুর দেবতার ভক্ত
দিবারাত্র ঠাকুরকে ডাক দেন
তারা সত্যিই ঠাকুর কে খুব ভালবাসেন হয়তে।কিন্তু সত্যিই কি ভালবাসেন!?

ঠাকুর ঘরে আরম্বরের শেষ নেই।
নিত্য পুজা পাঠ ভালো ভালো খাবার খেতে দেয়া ফুল মালা ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে নৈবেদ্য খানি ঠাকুরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা,কত কিছু।

কিন্তু তারা প্রকৃত জীব কে কতটুকু ভালোবাসেন!! মানুষ কে কতটুকু ভালবাসা দিতে পারেন! কতটুকু সহানুভূতিশীল হন তাদের প্রতি!

অথচ যে মানুষ টি তোমার দুঃখে দুঃখী হয়,তোমার চোখে জল পরলে তারও অশ্রু ঝরে,যে তোমার অশ্রু কে মুছিয়ে দেয়,যে তোমার দুঃখকে ভুলিয়ে দেবার আপ্রান চেষ্টা করে,যে তোমার সুখে সুখী হয়, যে তোমার হাসিতে হেসে ওঠে, যে দিবারাত্র চিন্তা করে তোমার কথা, তোমার ব্যাথায় ব্যাথিত হয়... তাকে সে ভালবাসতে পারেনা।

আসলে এইসব মানুষ স্বার্থপর হয় বেশীরভাগ।
অথচ ঠাকুর কিন্তু তোমার দুঃখে দুঃখী হবেনা,কারন পৃথিবীতে দুঃখীর শেষ নেই। কার দুঃখ তিনি শুনবেন বা নিবারন করবেন।কার সুখে তিনি সুখী হবেন। কার চোখের জলে তার চোখের জল পরবে।
আসল মোদ্দা কথা ঠাকুর ভাগ্যিস কথা বলতে পারেন না,বা কিছু শুনতেও পাননা,বা হাসেন না কাঁদেন না,কিছু চায়ও না, কিছু নেয় ও না।তাইতো ঠাকুরের কদর বেশী মানুষের চাইতে।।
হায়রে মানুষ।

আজ ঠাকুর যদি সব খেতো তাহলে কি ঠাকুরকে এতো ঘটা করে এতো খরচ করে কেউ কি খেতে দিতো!!!
দিতো না।
কই ক্ষুধার্ত কে কেউ দেয়না।কারন জানে যে তারা সব খেয়ে নেবে।তাই দেয়া হয়না।আর দিলেও হয়তো কদাচিৎ। তাও ভালো টা মন্দটা নয়।হয় খিচুড়ি তরকারি না হয় ডাল ভাত।তাও জীবনে এক থেকে দুবার হয়তো বা।

ঠাকুর বলেননা কালাকাঁদ খাবো বা আপেল খাবো।মানুষ নিজের খাবারের পছন্দের তালীকা খেতে দেন ঠাকুরকে।কারন তিনিই তো খাবেন, বা পরিবারের মানুষ জন খাবেন।
আমার জীবনের নিজের আত্মীয় পরিবার পরিজন বন্ধুবান্ধব চেনাঅচেনা মানুষ জন দেখেছি প্রকৃত অর্থে যাঁরা বেশী ঠাকুর ভক্ত তারাই মানুষ কে ঠকায় বেশী।তারাই মানুষের সাথে দুর্ব্যাবহার করে বেশী। সে শিক্ষিত বা অশিক্ষিত যেই হোক না কেনো। তার লক্ষ লক্ষ প্রমান আমার কাছেই আছে।।
ঈশ্বর আছে বা নেই সে কথা বলছি না বলবো না,তবে জীবের মধ্যে যে ঈশ্বর বিরাজ করেন এইটুকু নিশ্চিত।।
তাইতো স্বামীজি বলে গিয়েছিলেন..
জীবে প্রেম করে যেইজন
সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।।

21.12.19

শিরোনাম
কলমে – ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য

"বৃষ্টি "
বৃষ্টি আমি শুধু প্রকৃতির দাস
আষাঢ় ,শ্রাবণ আমার প্রিয় ,♥
যেখানে আমি ঝরি আমি তার |
কখনো বন্যায় ভাসিয়ে দি সব ¡😥
কত যে সর্বনাশ হয় ---হাঁ সব দায় আমার
কখনো একদম রুক্ষ ---সে দায় ও আমার |
কখনো আমি পাগল প্রেমিক 💕
আবার কখনো ভীষণ অসহ্য |
কোন কোন সময় লোকের আকুতি আমার জন্য
কেউ কেউ আমায় নিয়ে কবিতা লেখে
আমায় নিয়ে গানের শেষ নেই ----
অসহায় লোকের চোখে আমি অভিশাপ !😥

আমি ঝিলমিল -----
বৃষ্টি তুই কি আমার একটুও নয়
বলনা ---সত্যি বল
বৃষ্টি বলে চুপিচুপি ----
তোর বারান্দায় যখন ঝিরিঝিরি আমি পরি
সেটা তোর একদম নিজের |
তোর বারান্দায় যখন আমি অঝোর ধারায় ঝরি
তুই হাত দিয়ে আমায় আদর করিস ,
তখন আমি তোর একান্ত |
যখন আমার শব্দের আওয়াজ শুনে
তুই গান ধরিস -----
সেটা তোর অনুভব |
যখন আমি আসি তোর বারান্দায়
তোর হাত দিয়ে তখন কবিতা বেরোয় ,
সেটাই তোর আমি একদম বুকের হৃদপিন্ড |

আবার আমার শব্দ শুনলেই তোর চোখের
জলের বন্যা বয় 😥
সেই বৃষ্টি তোর মিতা ♥

আমি বহু রূপে তোর কাছে আসি ঝিমলি
আমি তোর বৃষ্টি সই একদম
মনে রাখিস আমায় কিন্তু ভুলে যাসনা |

কলমে ইন্দু (22.12.2019)

বিশ্বাসঘাতক
কলমে - কিরণময় নন্দী

পৌনে দশটা বেজে গেছে এখনো সুমি ঘুম থেকে ওঠেনি। মা কতবার দরজায় টোকা দিয়ে উঠতে বলে গেছে তবুও ওঠেনি। বাবা তো সাড়ে আটটায় অফিসে বেড়িয়ে গেছে।
বেশ কয়েকদিন হলো সুচরিতা দেবী ও দেবদত্ত ভৌমিকের একমাত্র মেয়ে সুস্মিতা ভীষণ আনমনা-পড়াশোনায় মন নেই-খাওয়াদাওয়া নামমাত্র-গভীর রাত পর্যন্ত রুমে লাইট জ্বলে-সকালে ঘুম থেকে ওঠেনা। বাবা-মায়ের আদুরে একমাত্র মেয়ে সুমিকে ছোটো থেকেই স্বাধীন ভাবেই চলতে দিয়েছে। যখন যা চেয়েছে তাই পেয়েছে,সেই ক্লাস ওয়ানে সাইকেল চাইলো-ব্যস দিন পনেরোতেই সাইকেল চালানো শিখে দুনিয়া জয় করবার প্রচেষ্টা সুমির। বাবা মার কি আনন্দ।
কিন্তু এখন তো সুমি কিছুই চায় না -ভালো করে কথাই বলে না-শুধু ভাবে। সুচরিতা দেবী অন প্রসঙ্গ টেনে মনের গভীরে ঢোকার চেষ্টা করেছেন সুস্মিতা। কিন্তু সুমি সেই সুযোগ দেয়নি। মায়ের কাছ থেকে সরে নিজের রুমে চলে গেছে।
আজ দশটা বেজে গেলো কিন্তু সুমি দরজা খুললো না। সুচরিতা দেবী ভীষণ ভয় পেয়ে সুমির বাবাকে ফোন করলেন। দেবদত্তবাবু অফিস থেকে বেরিয়ে সেক্টর ফাইভের সামনে থেকে একটা ওলায় চেপে সোদপুরের বাড়ির দিকে রওনা দিলেন।দেবদত্তবাবুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুব্রত ইন্টেলিজেন্স এ চাকরী করেন।সুব্রত পানিহাটিতে থাকে। আজ ও ডিউটিতে যাবে না। মোবাইলটা হাতে নিয়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে দেবদত্ত কখন টালার ব্রীজ রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটি সিঁথির মোড় পেড়িয়ে সাগর দত্ত মেডিক্যালের কাছে চলে এসেছে বুঝতে পারেনি। কি হলো সুমির? কেন এমন করছে ও? সুচরিতার কিছু শারীরিক সমস্যা ও সুমিকে প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় ভীষণ ভালো করে মানুষ করার জন্য দ্বিতীয় ইস্যুর কথায় চিন্তা করেনি। লেখাপড়ার জন্য অকাতরে খরচ করে গেছে। কলকাতার নামি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং লাস্ট ইয়ার। পুনের একটি সংস্থাতে চাকরির কথাবার্তা পাকা। ফাইনাল ইয়ারের রেজাল্ট বেরোলেই পুনে চলে যাবে সুমি।
১২/৩ বি এন সরণীর তিন নম্বর গলিতে ঢুকেই দেবদত্ত বাবুদের ফ্ল্যাট। ওলা থেকে নেমেই একপ্রকার দৌড়ে চলে গেলো দেবদত্ত। বন্ধু সুব্রত সহ দু একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় কিছুক্ষন আগেই দরজা ভেঙে সুমিকে হসপিটালে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি চলছে। দেবদত্ত আসতেই স্ট্রেচারে করে নিয়ে নামছে সকলে। সুমি বেঁচে আছে তবে ভীষণ শান্ত। কোনো কিছু বলার পরিস্থিতিতে নেই। এম্বুলেন্স দ্রুত ছুটলো সল্টলেকের বেসরকারি নার্সিংহোমে। সুমির বাম হাতটা ধরে মা কাঁদছে। বাবা মুখের দিকে চেয়ে বসেই আছে। অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে সুমি ভীষণ পরিশ্রান্ত। এক এক মুহূর্ত যেন এক এক আলোকবর্ষ। চেনা কলকাতাকে ভীষণ অচেনা লাগছে দেবদত্তর। বন্ধু সুব্রত বারবার পিঠে হাত বুলিয়ে একটু শান্ত করার চেষ্টা করছে।
চতুর্থ তলের আই সি ইউ তে সুমিকে নিয়ে গেলো ওয়ার্ড-বয় রা।ভর্তির ঝক্কি সামলে সকলেই আই সি ইউ এর সামনে এসে বসলো। বেশ কয়েকজন ডাক্তারবাবু দীর্ঘসময় নিরীক্ষণ করে বেরিয়ে এলেন। নানা টেস্ট এর জন্য প্যাথলজিস্ট ঢুকলেন ভিতরে। সুচরিতা দেবী একজন মহিলা ডক্টরের হাত ধরে ফেললেন। কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাঁর সামনে। দেবদত্তের ভিতর হু হু করে জ্বলছে কিন্তু ওই পুরুষ মানুষ। ডাক্তারের কথায় সুমি দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ওষুধ ব্যাবহার করছে। হয়তো গত রাতে পরিমান বেশি হয়ে গেছে। হৃৎপিন্ড দুর্বল তবে মানসিক ভাবে ভীষণ বিধ্বস্ত। চিকিৎসায় একটু সাড়া দিলেই মেন্টাল কাউন্সিলিং করতে হবে।

আটদিন পর সুমি বাড়ি ফিরলো। দেবদত্ত একমাসের ছুটি নিয়েছে। বাড়িতে সুমির দিদাও এসেছে। মৌলালির রিহাবে একবার কাউন্সিলিং করেছে ওরা। আবার যাবে সামনের সপ্তাহে।
মা সুমির হাত দুটো ধরে বললো- সুমি মা বল না আমায় কি হয়েছে?
সুমি ছলছল চোখে বলতে শুরু করলো ওর জীবনের ভয়ঙ্কর ব্যতিক্রান্ত ঘটনার কাহিনী।
কলেজে সায়কের সাথে প্রেম হয় সুমির। এক্সপার্ট সুমি সায়কের অভিপ্রায় বুঝতে পারে না। সুমির জীবনের প্রথম ভালোবাসা সায়ক। আবেগ প্রগাঢ়।ভিক্টরিয়ার গাছের তলা-আইনক্সের গহীন অন্ধকার বা কলেজ স্কোয়ারের সামনে বহুবার গেছে ওরা। কিন্তু সায়ক ভালোবাসা খুঁজতে চেয়েছিলো সুমির শরীরে। সুমি উপলব্ধি করতো কিন্তু বিপরীতমুখী চিরন্তন টান ও সায়ককে অন্ধের মত বিশ্বাস করে সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছিলো বিলাসী হোটেলের সুগন্ধি বিছানায়। পরিতৃপ্তি পাবার পর গভীর আবেশে জড়িয়ে ধরেছিলো সায়ককে। একটা আবিষ্কারের নেশায় বারবার ছুটে যেত সুমি। কিন্তু তাল কাটলো এক হোয়াটস আপ ভিডিও দেখে। সায়ক-সুমির অন্তরঙ্গ দৃশ্য। সুমি দ্রুত সায়ককে ফোন করে। জানতে চায় কেন সায়ক এই ভিডিও বানিয়েছে। সায়ক নির্লজ্জের মতো বলে এটা ওর অনেক বন্ধু দেখেছে এবং হোটেলের বিছানায় সুমি সায়কের বন্ধুরাও চায় অন্তরঙ্গভাবে। সুমি অস্বীকার করলে ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে আপলোড করে দেবে।
এতদিন সুমি নিউজে দেখেছে মেয়েদের প্রতারিত হবার কাহিনী। নিজের ভালোবাসার মানুষটির কাছে এভাবে প্রতারিত হবে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। ভালোবাসাকে বাজারের পণ্য করেছে সায়ক। নিজের দুরবুদ্ধিতা বাবা মায়ের সম্মান আর চরম বিশ্বাসঘাতকতার সাঁড়াশি আক্রমণে সুমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি। বারবার সায়কের হুমকি ওকে বিভ্রান্ত করে তুলেছিলো। রাতে ঘুমাতে পারতো না সুমি। কি করবে ভাবতে পারতো না। মাথার ভিতর অজস্র পোকামাকড় কুড়েকুড়ে খাচ্ছিল ওর। ঘুমের ওষুধ না খেলে ঘুম আসতো না। ঘুমিয়ে একটু শান্তি পেতো। জাগলেই সায়কের বিকৃত হাসি আর বিকৃত চাহিদা গুলো সুমিকে পাগল করে দিত। কলেজেও গোপনে টর্চার করতো সায়ক। কথাগুলো বলতে বলতে দুগাল বেয়ে জল বেরিয়ে যাচ্ছে।
সুব্রতকাকু সুমির মাথায় হাত দিয়ে বললো -তুই কিছু চিন্তা করিস না। বিশ্বাসঘাতকের পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।
লোকাল থানায় অভিযোগ জানানো হলো। সাইবার ক্রাইমে ভিডিও ফুটেজ দেওয়া হলো।সন্ধ্যের মধ্যেই সায়ক সহ পাঁচজন গ্রেপ্তার হলো। ওদের ল্যাপটপ ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হলো।
সুমি আজ একটু জড়তা কাটিয়ে উঠেছে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে চায় ও। সামনে ওর সোনালী ভবিষ্যৎ।
আজ দেবদত্ত বাবু সুচরিতা দেবীও খুশি। রাতে আজ মায়ের কাছে ঘুমিয়ে পড়লো সুমি। মা মাথায় হাত বুলিয়ে চলেছেন ----

না বলা কথারা
কলমে - ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী

একটা না বলা কথা,
আমার না বলা ব্যথা ;
তোকে বলতে চেয়েছি অনেকবার ।
পারিনি বলতে,
জানাতে চেয়েও পারিনি কখনো জানাতে!
না বলা কথারা,
অব্যক্ত ব্যথারা আজও কুরে-কুরে খায় আমাকে।
"তোকে খুব ভালোবাসি" আজও।
জানতেই পারলি না কতটা ভালোবাসি!
তাহলে আজ শোন,
যে কথা কখনো বলতে পারিনি মুখে,,
কবিতার ছলে জানিয়ে যেতে চাই তোকে।
জানিস, কতটা ভালোবাসি তোকে?
তোর চোখের দিকে তাকালে,
হারিয়ে ফেলি নিজেকে ।
এতটা ভালোবাসি তোকে।
আরও শুনবি?
কতটা ভালোবাসি তোকে?
খুব ভালোবাসি তোকে।
তোকে ভালোবেসে যতটা ভালো রাখা যায় "তোকে"-------
ঠিক ততটাই ভালোবাসি "তোকে"।।

Jhilik Mukherjee Goswami

আমাদের কোনো শাখা নেই
কলমে - মন্টু হালদার

সিরিয়ায় যারা হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর
অথবা মায়ানমারে
কিম্বা ইরাক, ইরান ধরে পুরো
পৃথিবী জুড়ে
যারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে , নির্যাতনের বিরুদ্ধে
মানবিকতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে
পথে নেমেছেন , মশাল জেলেছেন , মৃত্যু বরণ করেছেন
তাঁরা আমাদের নিজেদের লোক ।

আজ যখন বাঙলাদেশে বা
ভারতবর্ষে ধর্মীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে
রাষ্ট্রিয় শোষনের বিরুদ্ধে --
সে যদি অল্প কয়েক জনও প্রতিবাদে
পথে নামে
তবুও জানবে ,আমরা সবাই কিন্তু এক ।
পৃথিবী জুড়ে আমাদের একটাই পরিচয় ...
বর্ণ বা ধর্মের বিভেদে আমাদের কোনো তফাৎ
নেই

আসলে আমাদের কোনো শাখা নেই

প্রতিবাদীদের কোনো শাখা নেই

মানবতাবাদীদের কোনো শাখা নেই

দেশ কাল সীমানার ঊর্ধে আমরা
স...বা...ই এক ।

২৩/১২/২০১৯

তোমাকে প্রশ্ন করি সাধ্য কি আমার ?
তোমাকে প্রশ্ন করতে গিয়ে দেখি
সত্য বলার অপরাধে জিহ্বা হীন মুখটাই শুধু পড়ে আছে ৷
তোমার চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করবো ভেবেছিলাম ,
কিন্তু তোমাকে চেনার অপরাধে আমার চোখটাই তুমি নিয়ে নিয়েছো ৷
তোমার দিকে আঙুল তুলবো সে ক্ষমতা কি আমার আছে ?
আমার আঙুলতো বহু আগেই খেয়ে নিয়েছে
তোমাদের ঐ ক্ষুধার্ত নোংরা রাজনীতি ৷
তোমার দিকে পা বাড়াতে গিয়ে দেখি
সে পা টাতো কবেই হারিয়েছি তুমি বিরোধী কোন এক মিছিলে গিয়ে ৷
তবুও আমি তুমি বিরোধী মিছিলের প্রথম সিপাহসালার ,
বিদ্রোহী হয়েই জন্ম নেবো মৃত্যু হবে যতবার ৷

কবে আসবে সেইদিন
- মোঃইসমাইল হোসেন শাকিল

কবে আসবে সেইদিন এই পৃথিবীর বুকে?
ভালোবাসবে সবাই মানুষ মানুষকে মন থেকে।
ধনী গরীব বলে কোন থাকবে না ব্যবধান,
এমন ব্যবধান গড়ে যারা সবাইকে করবে সাবধান।
রাস্তা ঘাটে মেয়েরা আর হবে না কারও শিকার,
ধর্ষণকারীদের করবে সবাই অধিক কঠিন বিচার।
দেশের তরে থাকবে না কোনো দুর্নীতিবাজ,
এগিয়ে যাবে না কেউ করতে কোনো অশ্লীল কাজ।
ছেলেরা আর করবে না নেশা কষ্ট পেয়ে মনে,
কাটবে না কখনো হাত কোনো মেয়ের কারণে।
কবে আসবে সেই দিন,কবে আসবে সেই দিন
কাউকে আর থাকতে হবে না অন্য কারও অধীন।
কৃষকেরা পাবে তার চরম কষ্টের দাম,
পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়বে বাংলার নাম।
ছাএরা আর করবে না কখনো প্রশ্নফাঁসের আশা,
কলেজ ফাঁকি দিয়ে কখনো করবে না বসে নেশা।
নেতা হওয়ার জন্য কেউ করবে না কোনো দল,
সবাই মিলে এক হয়ে বলবে চলরে চল।
যুবকেরা বসে থাকবে না আর রাস্তার ধারে,
স্কুল,কলেজ আর মাদ্রাসা ছুটির পরে।
আজান দিলে চলবে সবাই মসজিদের দিকে,
বসে থাকবে না কেউ আর দোকানের বাঁকে।
দলে দলে মিলে আর হবে না ঝগড়া বিবাদ,
গান শুনে মনের মাঝে নিবে না কোন স্বাদ।
যুবকেরা পড়ে থাকবে না সারাক্ষণ ফেসবুকে,
পড়ালেখা করবে সবাই মন থেকে।
কবে আসবে সেইদিন,কবে আসবে সেইদিন,
সবার মন হবে সবার প্রতি ঘৃণাহীন।
রুখে দাঁড়াবে সবাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে,
নষ্ট হবে না দেশ কোন সংকল্পের স্তব্ধে।

ডল
কলমে - জুলফিকার আলী

হাসছে দেখ ছোট্ট সোনা
ঝুমঝুমিটা নিয়ে,
খেলনা ডল তাই অবাক চোখে
রয়েছে তাকিয়ে!

ঘুমাই না ডল খায় ও না সে
তাকিয়ে শুধু থাকে,
মজার মজার গল্প বলেও
হাসানো যায় না তাকে!

ছোট্ট সোনা নাম ধরে তার
ডাকে আয় বেবিডল,
না শুনে কথা একখানে
পড়ে রয় অবিচল!

ছোট্ট সোনা রাগ করেছে
ডলের ওপর ভীষণ,
রাগে চোটে চাঁদের দেশে
যাওয়ার নিল মিশন!

ছড়াকার, গীতিকবি।


“বিজেম অ্যাওয়ার্ডে” ভূষিত হলেন
ডা: ফারহানা মোবিন

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া (বিজেম) যাত্রা শুরু করে ২০০৩ সালে। দেশের স্বনামধন্য জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি অন্যতম।

প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে লেখালেখির কলাকৌশল, টিভি সাংবাদিকতা, মিডিয়াতে নিজেকে সফলভাবে উপস্থাপনের জন্য বহুবিধ কোর্স পরিচালিত হয় এই প্রতিষ্ঠানে।

রাজধানী ঢাকার কাটাবন ঢালে ২০০৩ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠান টি দৃঢ়তার সাথে কাজ করে চলেছে। ১৭ বছরের এই পথ চলাতে আনুমানিক ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বিজেম।

বিজেম এর ২৫০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন মিডিয়াতে (প্রিন্ট ও ভিজুয়াল) দক্ষতার সাথে কাজ করে চলেছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মির্জা তারেকুল কাদেরের নেতৃত্বে ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ দুপুর, শনিবার দুপুর ১২ টায় বিজেম এর সম্মেলন কক্ষে
‘টিভি সংবাদ উপস্থাপনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের ২টি ব্যাচের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি হিসেবে সনদ বিতরণ করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রধান অতিথি তাঁর ভাষনে বলেন, সংবাদ উপস্থাপনা কোর্সের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম তাদের উপস্থাপনা দক্ষতার এবং সৃষ্টিশীলতার উন্নয়ন সাধন করতে পারে।

বিজেম এর নির্বাহী পরিচালক মির্জা তারেকুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি’র কনসালটেন্ট ও প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. এস এম মোশেদ ও তথ্যচিত্র নির্মাতা ও উপস্থাপক মালিহা মেহনাজ শায়েরী।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও সংগঠক ডা. ফারহানা মোবিন।

তাত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাশে সমৃদ্ধ উক্ত কোর্স দু’টি পরিচালনা করেন বিভিন্ন টেলিভিশনের খ্যাতিমান সংবাদ উপস্থাপক ও উচ্চারণ বিশেষজ্ঞগণ।

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ২৪ জন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ৫২ জন শিক্ষার্থী কোর্সটিতে অংশগ্রহণ করেন।

আজকের এই আয়োজনে বিজেম এর প্রাক্তন ৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

তারা হলেন চিকিৎসক ও লেখক ফারহানা মোবিন,
ভাবনা আহমেদ (নিউজ প্রেজেন্টার চ্যানেল এ.টি.এন),
হাসান ফয়জী (মানিকগঞ্জ প্রতিনিধী, এস.এ টি.ভি)।

‘বিজেম’ তার কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে অনুপ্রাণীত করার জন্য সম্বর্ধনা দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক লেখক ও সংগঠক ফারহানা মোবিনকে “বিজেম সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড” এ ভূষিত করে।

ফারহানা মোবিন এই প্রতিষ্ঠানের নিউজ প্রেজেন্টেশন ও লেখা-লেখির কলাকৌশল বিষয়ক কোর্স-২০০৫ এর শিক্ষার্থী ছিলেন। উনার চিকিৎসা সেবা সামাজিক কাজকর্ম, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নিউজপেপারে লেখালেখি, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানের জন্য উনাকে “বিজেম এর কৃতি শিক্ষার্থী” হিসাবে ঘোষনা করা হয়।

ডা: ফারহানা মোবিন বলেন, “যে কোন কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, সেই মোতাবেক পরিশ্রম করলে সফলতা সম্ভব। ধৈর্য্য নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করতেই হবে। প্রিন্ট ও ভিজুয়াল মিডিয়াতে কাজ করার জন্য আমার জীবনে বিজেম এর অবদান অপরিসীম।
দক্ষ প্রশিক্ষকের পাশাপাশি মির্জা তারেকুল কাদের ভাই এর অক্লান্ত পরিশ্রম, বন্ধুত্বসুলভ দিকনির্দেশনা, নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা, আমার জন্য পরম এক পাওয়া। আমি বিজেম এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি। তরুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য এই ধরনের যুগপোযোগী প্রতিষ্ঠানকে সহযোগীতার জন্য আমি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করি। "

উল্লেখ্য যে, বিজেম এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফারহানা মোবিন "
স্বাধীনতা সংসদ" কতৃক চিকিৎসা সেবা, সামাজিক কাজকর্ম, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নিউজপেপারে লেখালেখি, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানের জন্য “আলোকিত নারী সম্মাননা ২০১৯ অ্যাওয়ার্ড” এ ভূষিত হন।

এবং ওম্যান ইন্টারপ্রেনিওরস অফ বাংলাদেশ ( WEBD) থেকে উনার উল্লেখিত কাজ কর্মের জন্য
‘ওম্যান ইন্টারপ্রেনিওরস অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ অর্জন করেন।

অতল জলের আহবান
কলমে - ববি ব্যানার্জি

হারিয়ে গিয়েছিলাম সেদিন
তোর হাত ধরে
তুই আকাশ চিনিয়েছিলি আমায়
তুই ঊড়তে শিখিয়েছিলি ডানা মেলে
তোর হাত ধরে ঊড়ে গিয়েছিলাম আমি।
তুই আমায় পাহাড় চিনিয়েছিলি
একসাথে চড়েছিলাম সেই পাহাড়ে
তুই শপথ করেছিলি আমায় একলা ফেলে চলে যাবিনা কখনো,
অথচ তুই আজ আমায় একলা ফেলে চলে গেলি।
তুই সমুদ্র দেখিয়েছিলি
কত জলরাশি সেখানে
উথালিপাথালি ঢেউয়ের সাথে তোর নিত্য চলাফেরা,
জাহাজে তুলে নিলি আমায়
তোর সাথে সাথে আমিও জল নিয়ে খেলা করতে শিখে গেলাম।
সমুদ্র.. চারিদিকে সমুদ্র
জনমানব নেই সেথা।
হারিয়ে ছিলাম অতলে
হারিয়ে গিয়েছিলাম নীল আকাশের সীমানায়,
ডাক দিয়েছিলো অতল জলের আহবানে।।

সারপ্রাইজ
কলমে – সম্পা মাজী

সুখেন বাবা মাকে খুব ভালোবাসে কিন্তু এখন চাকুরীর জন্য দূরে থাকতে হয় , সুখেনের স্ত্রী হিয়া ও চাকুরী করে । তাই সুখেন বাবা মাকে সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু তারা কলকাতার বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে চান না, শেষ জীবন টা এই বাড়িতেই কাটিয়ে দিতে চান। তাই সুখেনরা সময় পেলেই বাবা মায়ের কাছে চলে আসে ।

আজ ছয় মাস হল সুখেনের বাবা মারা গেছেন। ওর বাবা যখন জীবিত ছিল তখন মাকে নিয়ে কোনো অসুবিধা ছিল না কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মা রেবা দেবী কেমন যেন হয়ে গেছেন , একবারে চুপচাপ । সুখেন লক্ষ্য করছে মা সব সময় চুপচাপ বসে থাকে কিছু বললে হ্যাঁ, না উত্তর দেয় নয়তো কিছু বলে না।ওর মা আগে এমন ছিল না সব সময় হাসিখুশি থাকতো ভালো বাসতো, সবার সঙ্গে হাসি ঠাট্টা করতো । সেই হাসি খুশি মায়ের এই রকম অবস্থা দেখে সুখেনের মন খারাপ ।মাকে ঘুরতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, ভেবেছিল কয়েক দিন বেড়িয়ে আসলে মনটা হয়তো ভালো হয়ে যাবে কিন্তু রেবা দেবী যেতে চাননি শরীরের খারাপ বলে এড়িয়ে গেছেন।

শাশুড়ি মায়ের মতো সুখেনকে এই ভাবে মন খারাপ করে থাকতে দেখে,
হিয়া- মাকে কয়েক দিনের জন্য মামার বাড়ি থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে এসো না ।সবার সাথে মন খুলে কথা বললে, ভালো লাগবে।

সুখেন - মা কে আগেই বলে ছিলাম কিন্তু সে বলছে তার কোথাও যেতে ভালো লাগে না , তাই এখন কোথাও যাবে না বলছে।

হিয়া- আচ্ছা তোমার মায়ের কোনো বন্ধু বান্ধবী নেই।

সুখেন- মায়ের কাছে শুনেছিলাম, স্কুল জীবনে মায়ের অনেক বান্ধবী ছিল, বিয়ের পরেও তাদের সাথে যোগাযোগ ছিল, কিন্তু সংসারের চাপে সব হারিয়ে গেছে ,তারাও কেই আর খোঁজ নেয় না মাও আর যায় না। এখন আর কারো সাথে তেমন যোগাযোগ নেই।

হিয়া - আচ্ছা যদি মায়ের বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে এসে মাকে সারপ্রাইজ দেওয়া হয় কেমন হবে।
সুখেন- হ্যাঁ ,সেতো খুবই ভালো, কিন্তু কি ভাবে সম্ভব হবে।
হিয়া- মায়ের স্কুল জীবনের বন্ধু বান্ধবীদের খুঁজে বার করে তাদের কে মায়ের জন্মদিনে আনা হবে, কয়েক দিন থাকলে ,তাহলে সবাই মিলে একসাথে খুব আনন্দ করবে , ঠিক যেমন স্কুল জীবনের করতো।

সুখেন -খুব খারাপ হয়ে না, কিন্তু তারা কি আসতে চাইবে।

হিয়া - দেখই না একবার চেষ্টা করে তারা ও হয়তো তাদের বাড়িতে কোনো না কোনো সমস্যায় আছে।

সুখেন - ঠিক আছে মায়ের ডাইরি থেকে তাদের ঠিকানা এবং এ্যালবাম থেকে ছবি নিয়ে বন্ধু দের পাঠিয়ে দেই ।

সুখেন মায়ের ডাইরির পাতায় তিন জনের ঠিকানা পেল ,আর বাকিদের নাম পেল কিন্তু ঠিকানা পেল না, সাথে এ্যালবাম থেকে কিছু গ্রুপ ছবি পেল। ছবি , নাম, ঠিকানা বন্ধুদের দিয়ে দিল।যাতে বন্ধু রাও তার মায়ের বান্ধবীদের খুঁজতে সাহায্য করে তাহলে খুব তাড়াতাড়ি খোঁজা সম্ভব হবে। কয়েক দিন পর সুখেনে মায়ের জন্মদিন আছে তাই সেই দিন মাকে সারপ্রাইজ দিতে চায়। কয়েক দিনের চেষ্টায় সবাই কে খুঁজে পেয়ে গেল । বন্ধুকে নিয়ে সুখেন তাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের কে আসার জন্য বলল,এতো দিন পরে বান্ধবীকে আবার দেখতে পাবে , তারা খুব খুশি । কিন্তু দূঃখের খবর যাদের নাম পেয়েছিল তাদের মধ্যে দুজন জন মারা গেছে আর একজন জন বৃদ্ধাশ্রমে থাকে।

আজ রেবা দেবীর জন্ম দিন, অন্যান্য বছর গুলোতো রেবা দেবীর স্বামী তার জন্য বাজার থেকে কতরকমের মিষ্টি নিয়ে আসতো, সারাদিন কতো আনন্দ কাটতো । আজ দিনগুলোকে খুব মিস করছেন, সাথে মানুষটাকে ও। এদিকে সুখেন মাকে সারপ্রাইজ দিতে চায় তাই কিছু বলছে না , সকাল থেকে মায়ের কাছে আসেনি ,তবে হিয়া প্রনাম করে গিয়েছে। সুখেন সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য সব ব্যবস্থা করছে , খুব ব্যস্ত। আর কাজের লোকেদের মুখ থেকে যদি সত্যি কথা বেড়িয়ে এ তাই তারাও এতো ব্যস্ততা দেখাছে যে রেবা দেবীর কাছে আসতে পারছে না, ওদিকে রেবা দেবী বার বার ডাকা ডাকি করেছেন কিন্তু কেউ সারা দিচ্ছে না । এতে রেবা দেবীর মনটা আরও খারাপ হয়ে যায়। নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছে, সাথে কথা বলার জন্য আজ কেউও নেই , তাই তিনি আনমনে অ্যালবাম খুলে দেখতে থাকেন। এমন সময় হিয়া বলে,
হিয়া- মা চলুন আপনাকে একজন খুঁজছে ,বলেছে আপনার সাথে দরকার আছে, আপনার সাথে তার পুরানো হিসেব বাকি আছে।
রেবা দেবী- আমাকে আবার কে খুঁজছে।
হিয়া- চলুল না দেখবেন,দেখে মনে হয় খুব বদরাগী।সাথে কয়েক জনকে এনেছে ,বলছে পুরানো হিসেব বাকি আছে।

রেবা দেবী- আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না, আমি আবার কি করলাম।
হিয়া- আপনার ছেলে তাদের সাথে কথা বলেছে। তারা তো কিছুতেই শুনতে চাইছে না,বলছে আপনার সাথেই দেখা করবে।

রেবা দেবী একটু ভয়ে ভয়ে এসে দেখে , এরা কারা , নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।
রেবা দেবী- আমি কাদেরকে দেখছি, এতো সবাই একে বারে বুড়ি, চুল সাদা হয়ে গেছে , মুখে সব দাঁত নেই।তবে মুখ গুলো চেনা মনে হচ্ছে। এটা মৌসুমী, সন্ধ্যা,লতা,সুলেখা ,পাপিয়া ।
সবাই মিলে - শুধু আমরা না তুই ও বুড়ি হয়েছিস সেটা মনে আছেতো ।
রেবা দেবী- সত্যিই আমি কল্পনা করতে পারছিনা , আমার সেই সুন্দর বান্ধবীরা বুড়ি সেজে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তোদের কে কতদিন পরে দেখলাম , সেই কালো চুলে দেখেছিস আবার প্রায় ২০ বছর পর পাকা চুলে দেখছি।
লতা- হ্যাঁ ,এসব তোর ছেলের জন্য হয়েছে ,তোর ছেলে আমাদের কে খুঁজে বের করেছে। তাই আবার আমরা একসাথে হতে পারলাম।
রেবা দেবী- সত্যিই তোদের সাথে সে আবার দেখা হবে ,ভাবি নি।
রেবা দেবী সুখেন কে বলেন, এই জন্য সকাল থেকে আমার সাথে দেখা করিস নি, তাই না।
সুখেন- এসব হিয়ার পরিকল্পনা মা আমি শুধু কার্যকর করেছি।
রেবা দেবী- তোরা সে আমাকে এতো ভালবাসিস তা আজ প্রমান করে দিলি , তোর বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে আমি হাসতে ভুলে গিয়েছিলাম । কিন্তু আজ আমার বান্ধবী দের কাছে পেয়ে ,নিজেকে ফিরে পেলাম।
হিয়া- কেমন সারপ্রাইজ দিলাম বলুন।
রেবা দেবী- সত্যি তুমি আমার বৌমা না , আমার বন্ধু। যে আমার মনের কথা বুঝতে পারে।
এতোদিন আমার মন খারাপ কিন্তু কোনো দিন মনে হয়নি, আমার স্কুল বান্ধবীদের সাথে যোগাযোগ করি , এদের সাথে সময় কাটালে মন ভালো হবে।এসব কথা একবার ও মনে আসেনি , কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সত্যিই এদের কথা আগে কেন মনে এলো না।
এটা আমার জীবনে এক অসাধারণ সারপ্রাইজ।

হিয়া - আপনাকে খুশি দেখে আমিও খুব খুশি।মনে হচ্ছে জীবনে কিছু করতে পেরেছি।।

প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনো পরিবর্তন হয় না। বিশেষ করে স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব একে বারে অন্য রকম। মানুষ গুলো শুধু বয়স বাড়ে বাকি সব যেমন ছিল তেমনই থাকে ।

অবজ্ঞা
কলমে - রাজদীপ দাস

আমি এসেছিলাম
হ্যাঁ ঠিক শুনছো আমিই এসেছিলাম
কিন্তু,
কেউ আমার ডাকে সাড়া দিলো না
দরজা তো খুললোই না এমনকি
জানালা দিয়েও উঁকি দিয়ে দেখলো না কেউ...

এত নিষ্ঠুর কেন তোমরা ???
আমায় যখন বেসেছিলে ভালো
তখনকি মনে ছিলো না যে আমারও মন আছে..

শরীরটা খুব ভালো লেগেছিলো তাই না ???
আজ যখন টেষ্ট রিপোর্ট পজিটিভ
ঠিক সেই মুহুর্ত হতে না ধরো ফোন আর না করো দেখা.....

ধিক্ তোমাদের এই মানসিকতাকে....
তাই আজ সশরীরে চলে এলাম...
কিন্তু তাও কপালে জুটলো অবজ্ঞা...
সাড়া দিলো না কেউ .....

তাকে বলে দিও
কলমে - ঝিলিক মুখার্জী গোস্বামী

তাকে বলে দিও,
সে যেন আমার দ্বারে না আসে।
আর আমাকে ভালো না বাসে।।
তাকে বলে দিও,
তার নামে আর রাত নামে না;
আমার আকাশে!
তার মিষ্টি গন্ধ,
আর ভাসে না আমার বাতাসে।
তাকে বলে দিও,
তার নামের সকালগুলো আর আসে না!
আমার সকালের সূর্যও,
আজ আর হাসে না।
তাকে বলে দিও,
তার ডাকা নামে আজ আর কেউ ডাকে না!
আমার গোধূলির আকাশ ,
সূর্যাস্তের আভাও আর মাখে না।
তাকে বলে দিও,
আমার চোখজোড়া, তাকে আর হারায় না!
কারন সে আর আমায় ভালোবাসে না।
তাকে বলে দিও,
তার জন্য আর আমার হৃৎকম্পন বাড়ে না!
কারন? সে যে আর আমায় চায় না।
তাকে বলে দিও,
আমি হারিয়ে গিয়েছি বইয়ের তাকে।
তার হাজার ডাকেও,
ফিরবনা কোনদিনও তার কাছে।।
তাকে বলে দিও,
আর আমাকে ভয় না দেখায়------
হারিয়ে যাবার।
জানি আমি , দূর থেকেও ভালোবাসা যায়।
তাকে বলে দিও,
হেরে গেছি আমি।
এটাও জানিয়ে দিও,
হেরে গিয়ে ও জীবিত থাকা যায়।।
তাকে বলে দিও,
সে যেন আমার স্বপ্নে আসেনা!
আমার স্বপ্ন তাকে আজ আর খুঁজে না।
তাকে বলে দিও,
তার কাছ থেকে কিছুই চাই নি জীবনে;
শুধু ভালোবাসা ছাড়া।
আমিও তাদেরই দলে-------
বারবার হেরে যায় যারা।।

Jhilik Mukherjee Goswami
17/12/2019

স্বপ্ন গুলো
কলমে - মান্তু দেব রায়

আমাদের স্বপ্ন গুলো তে ধুলো জমে আছে,
হারিয়ে গেছো তুমি হারিয়ে গেছি আমি
হাজার হাজার স্বপ্নে মরিচা ধরেছে,
সেই স্বপ্ন নিয়ে কবিতা লিখে যাই
নিদ্রাবিহীন চোখে!

তুমি হয়ত নতুন করে স্বপ্ন সাজাও
নতুন মানুষের হাতে হাত রেখে!
আমি সেই পুরাতনেই আঁটকে আছি
রোজ ভালোবাসি আজও তোমায়!

দুচোখে অপেক্ষা গুণি
তুমি ফিরে আসবে আলোকবর্ষ পরে
আবার আমরা স্বপ্ন বুনবো
রাতের তারার ভীড়ে!

...✍মান্তু দেব রায়

"উপন্যাসের ছাপ্পান্ন পৃষ্ঠা"
কলমে - ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য

উপন্যাস টা শুরু তো করেছিলাম
শেষ হয়েও হলো না শেষ ,
ছাপ্পান্ন পৃষ্ঠায় এসে আটকে গেল ¡😥

সমস্যা টা ভালোবাসার ------
যে ভালোবাসা টা টিকলো না ,
সেটার পরিণতির কথা কিভাবে লিখবো ?
তাই উপন্যাস টা ছাপ্পান্ন পৃষ্ঠায় আটকে গেল |

মোড় ঘোরাতে চেয়েছিলাম পারলাম না
চোখের ওপরে সব ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে ,
নোনতা জলের স্রোত বয়ে যাচ্ছে ,
আবার ও আটকে গেলাম সেই ছাপ্পান্ন পৃষ্ঠায় |

আজও লেখার চেষ্টা করে চলেছি ,তবুও ?
শেষ হয়েও শেষ হচ্ছেনা আমার এই
একমাত্র উপন্যাস টা -------🙏🙏

নতুন করে শুরু করলে বলা হবেনা অনেক কিছু
শুধু শুধু মিথ্যের আশ্রয় নেওয়া ,
তার চেয়ে থাক এই অর্ধ সমাপ্ত উপন্যাস টি
এ পর্যন্ত যা লিখেছি *****
ছাপ্পান্ন পৃষ্ঠার পর থেমে যাক আমার উপন্যাস |

ছাপার কথা ছিল !দরকার নেই ,
লোক দেখানি ভালোবাসায় আমার অরুচি ,
তাই বন্ধ করলাম লেখা ----
পরে থাক আমার উপন্যাস ছাপ্পান্ন পৃষ্ঠায় ,
বন্ধ করলাম কলম ----
এ লেখা থাক আলমারির এক কোণায় ,
যেখানে আমি আর আমার অর্ধ সমাপ্ত উপন্যাস থাকবো একদম একাত্ম হয়ে চিরবন্ধনে |

কলমে ইন্দু (15.12.2019)

তুমি আছো বলে

কিরণময় নন্দী

তুমি আছো বলে শান্তিনিকেতন বিশ্ব দরবারে
তুমি আছো বলে 'সহজ পাঠ' সমাদৃত ঘরে ঘরে।
তুমি আছো বলে জোড়াসাঁকো আজও ঠাকুর বাড়ি
তুমি আছো বলে পঁচিশে বৈশাখ আজও হুড়োহুড়ি।
তুমি আছো বলে রাখি বন্ধন মানব বন্ধন সম
তুমি আছো বলে 'সঞ্চয়িতা' হৃদয়ে মম।
তুমি আছো বলে আষাঢ় নীল নব ঘনে
তুমি আছো বলে খোয়াই মাতে বাউল গানে।
তুমি আছো বলে পৌষমেলায় মন শান্তিনিকেতনে
তুমি আছো বলে বসন্ত উৎসবে মাতি ফাগুনে।
তুমি আছো বলে শাল বিথী বারে বারে কবিতায়
তুমি আছো বলে রাগে-অনুরাগে মাতে প্রেমিক প্রেমিকায়।
তুমি আছো বলে গীতাঞ্জলি লাইব্রেরীর টি আর পি
তুমি আছো বলে বাইশে শ্রাবন আড়ালে চোখ মুছি।
তুমি আছো বলে জনগণমন জাতীয় সংগীতে
তুমি আছো বলে জাতি গর্বিত আপন সংস্কৃতিতে।
তুমি ছিলে তুমি আছো তুমি থাকবে হৃদয় জুড়ে
তোমার সৃষ্টি পাথেয় হবে আগামী সৃষ্টির তরে।

আমি ঘন্টা ধ্বনির চিৎকার হবো ,
ইসরাফিলের বাঁশির আওয়াজে ধ্বংস-যজ্ঞ হবো ;
এ সমাজে পাপের সাম্রাজ্য ভেঙে চুরমার করবো
পুরোনো শহরের বুক চিরে আগামী হয়ে জন্মাবো ।

আমি ঘন্টা ধ্বনির চিৎকার হবো ,
নির্যাতিতের ক্রোধাগ্নি নিয়ে প্রতিবাদী হয়ে জ্বলবো ;
আমজনতার মিছিল নিয়ে রাজপথের দখল নেবো
আমি চে'র মতো শপথ নেবো মরবো নাহয় বাঁচবো ।

আমি ঘন্টা ধ্বনির চিৎকার হবো ,
মানুষ রুপী অমানুষ ধ্বংস করে তবেই ক্ষান্ত হবো ;
আমি নিয়ম করে নিয়ম ভেঙে নতুন নিয়ম গড়বো
আমি নিয়মিত হত্যা হলেও নতুন গর্ভে জন্ম নেবো ।

আমি ঘন্টা ধ্বনির চিৎকার হবো ,
আমি নির্ঘুমই থাকবো পৃথিবীর অতন্দ্র প্রহরী হবো ;
ধর্ম বর্ণ বিদ্বেষ ভুলে মানুষের কাতারেই বেঁচে রবো
এক আকাশের এ পৃথিবীতে মানুষের কথা বলবো ।

একটু দরজা টানো
কলমে - মৌমিতা হীরা

ধোয়ায় নিঃশ্বাস আটকে আসছে।
ভাবলাম বাইরে যাই,
একটু খোলা হাওয়া
বুকে ভরে নিয়ে আসি।
ওরা তাড়াতাড়ি দরজাটা আটকে দিল।
পাছে খোলা দরজা দিয়ে,
আমি বেরিয়ে যাই,
অক্সিজেন নিয়ে এসে,
নতুন করে তর্ক শুরু করি।
ওদের কথা শুনলেই,
দম আটকে আসে।
পোড়া ইটের মত,
রসকষহীন, দয়ামায়াহীন
কথাগুলো দিয়ে,
ভাবের যে ঘরটা বানিয়েছে
তার ছাদ এত নিচু যে
মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর
উপায় রাখেনি। তোমরা যারা
খোলা হাওয়ায় দাড়িয়ে আছো,
রোদ খাচ্ছ আর গল্প করছ,
তোমরা আমার এই দরজাটা
বাইরে থেকে টানো,
আমিও ভেতর থেকে ঠেলছি।
নিশ্চয়ই খুলে যাবে।

পরকীয়া
কলমে - ববি ব্যানার্জি

আমি তোমার পরকীয়া
রেস্তরা বা ভিক্টোরিয়ায়,
আমি তোমার কফিহাউসে নয়তো বা ইকোপার্কে,
আমি তোমার সারাদিনের ক্লান্তি হয়ে বাড়ি ফেরার পর এক চিলতে বারান্দা।
আমি তোমার খোলা আকাশ,
একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত বাতাস।
আমি তোমার গোপোন প্রেম,
আমি তোমার পথ চলতি চুমু।
আমি তোমার সংসারে হাপিয়ে ওঠার পর এতোটুকু সুখপাখি,
আমি তোমার নতুন করে বেঁচে থাকার রসদ,
সারা দিনে কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমায় একটা ফোনকল,
নাহলে ইনবক্সে এসে একটু খুনসুটি আমার সাথে,
আমি তোমার সুখ দুঃখ শোনার উপলব্ধি করার প্রিয় সাথি,
আমি তোমার পরকীয়া।
আমি তোমার দায় নই দায়বদ্ধতা নই চাওয়া নেই শুধুই পাওয়া।
আমি তোমার ফাগুন, আমি তোমার চিরবসন্ত।
আমি তোমার গোপোনে গভীরে লুকিয়ে রাখা ভালোবাসা,
গোপোনে প্রেম,আমি তোমার পরকীয়া।।

ওরা শ্রমিক
কলমে - সম্পা মাজী

ওরা শ্রমিক, ওরা দিন মুজুরীর কাজ করে
মাল্টি কমপ্লেক্স থেকে রাস্তা সবই তৈরি ওদের স্পর্শে।
ওরা মানষিক না শারীরিক পরিশ্রমে বিশ্বাস করে
ওদের আছে কাজেই ওদের সব কিছু।
কাজে ফাঁকি দেওয়া কাকে বলে ওরা যানে না
যে কাজই করে সেটা নিষ্ঠার সাথে সম্পূর্ণ করে।
কিন্তু তবুও সমাজে আজও ওরা অনেক নিচে
সবাই ওদের এখনও অবহেলার দৃষ্টিতে দেখে।
সময়ের সাথে সাথে কাজের পদ্ধতির পরিবর্তন হয়েছে
কিন্তু যতই আধুনিক যন্ত্রপাতি আসুক না কেন ,
ওদের হাতের স্পর্শ ছাড়া কাজ সম্পূর্ণ হয় না
ওরা সম্মান তো দূরে থাক ঠিক মতো পারিশ্রমিক পায় না।
তবুও ওরা কারো কাছে কোনো অভিযোগ করে না
ওরা অল্পতেই খুশি এবং সুখীও বটে, তাই ওরা শ্রমিক।।

জানি
কলমে - বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত( শ্রীসেন )

জানি প্রাক্তন হব একদিন
জানি জানি চিরদিন-
কে কবে নবীন!

তবু যতদিন আছি,আছি আজও মগ্নতা জুড়ে

সেই একাকার হয়ে থাকা অভ্যাসে
ভাষা-দিবসের স্মরণীয় অনুপলে
তবু কেন মনে হ'ল আজ-
এ জীবন এক অঙ্ক ভীষণ!

জানি জানি ভাষা আর অঙ্ক মিলেই জীবন!

এই অমোঘ জানা
সত্য যদি হয়-
আমিও তবে,একটা সংখ্যা ছাড়া
আর কিছু নয়!

তাহলে আমি,তুমি কিম্বা সে
এই সংখ্যাগুলো জুড়ে জুড়ে বড় হতে হতে
যে সমাজ-
তাও আসলে একটা সংখ্যা
বৃহত্তর ভীষণ!

সংখ্যা মানেই অঙ্ক- যোগ,বিয়োগ,গুণ, ভাগ!

যোগ শিখি আগে,জানি বিয়োগেরও সুখ আছে

শুধু যোগ আর গুণ ভালোবাসে যারা
ভাগের মর্ম না বুঝে,বিয়োগের অনভ্যাসে তারা

মানুষ বাড়ে
সংখ্যা বেড়ে যায়
স্থিরিকৃত সময় ফুরোলে ভাগফলে কেউ

বাকী যারা ভাগশেষে থাকে,থাকে
ভাজকের বেশে
অনিবার্যতায় সে বা তারাও
ভাগফল একদিন অবশেষে!

ফের নতুন সংখ্যা এসে,সংখ্যা বেড়ে যায়
অসমাপ্ত ভাগফল বড় হতে হতে
পড়ে থাকা ভাগশেষ
ভাজকের অপরূপ সঙ্গতে
জীবনের বর্তিকা তারা ছাড়া কে বা কারা জ্বালাবে বা বলো আগামীর প্রত্যুষে...

তুমি বলো আর না বলো,আমি জানি-
আমি এক সংখ্যা মাত্র
তুমিও ভীষণ!

শুধু ভাবি ভাগফলে যাওয়ার আগে সামান্য এই আমি-
পারবো কী গেয়ে যেতে
গেয়ে জীবনের গান???

অতীত হতে যাওয়া বর্তমান শিয়রে বসে
অনুভূত অনুভবে এই হোক পরিচয়
আমি এক সংখ্যা ভীষণ
তুমিও কী নয়!!!

@বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত ( শ্রীসেন )

অভিশপ্ত ভ্যালেন্টাইন
কলমে - কিরণময় নন্দী

১৪ই ফেব্রুয়ারীর আবছা সকাল....
ঠান্ডা হিমেল সমীরণে প্রকৃতি ভীষণ শান্ত। নীল আকাশের বুক চিরে লাল রবি উঁকি দিচ্ছে।
জমিয়ে ভ্যালেন্টাইন ডে সেলিব্রেশনের স্বপ্নজাল বুনে পাশবালিশ জড়িয়ে লেপমুড়ি দিয়ে প্রেমিক প্রেমিকারা গভীর ঘুমে মগ্ন।
সকাল সকাল স্নান সেরে রাজবীরের স্ত্রী পুজোয় বসেছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সুবেদার রাজবীরের মঙ্গল কামনায়। পাঁচ বছরের মেয়ে তিন্নি অঘোরে ঘুমাচ্ছে পাশের ঘরে। গত রাতে রাজবীরের সাথে ঘন্টাখানেক কথা বলেছে সুমনা। কিছুদিনের মধ্যেই বাড়িতে আসবে রাজবীর।তিন্নির জন্মদিনের অনুষ্ঠান হবে ঘটা করে।
দুপুরে টিভির ভয়ঙ্কর খবর দেখেই সুমনা রাজদীপের মোবাইলে কল করলো। সুইচ অফ।
রক্তাক্ত পুলওয়ামা। বি এস এফ রুটিন ডেপ্লয়মেন্ট চলাকালীন জঙ্গি হামলা। শেষ হয়ে গেল রাজবীরের মতো চল্লিশ বীরের প্রাণ।
শীতের ভ্যালেন্টাইন ডে ভ্যালেন্টাইন কেড়ে নিলো চল্লিশ প্রেমিকা-স্ত্রীর জীবন থেকে। গোলাপের লাল শুভেচ্ছা রক্তে লাল হয়ে গেলো।

স্বপ্ননীল
কলমে - সুস্মিতা কুন্ডু ভৌমিক

তোমার কথাই মনে পড়ছে বারে বারে।
তুমি হলে প্রাণখোলা।
আর আমি শান্ত।
ধরো আমি স্রোতস্বীনি।
তুমি বহমান সময়।
তুমি একটু একটু করে কাছে এসে বললে কানে কানে ..
আমি গো আমি এসেছি।
আমি বললাম এসেছো।
তবে কাছে এসো..
তুমি বললে কাছে আসবো না।
নীরব থাকবো।
আমি বলবো ..আমি সেই সময় যখন তোমার দুঃখে আনন্দের সাথী ছিলাম।
ভুলে যেওনা মোরে।
প্রিয়..

প্রতিবাদ আর নৃত্য যাত্রী
কলমে - সম্পা মাজী

প্রতিবাদ ঠিক কি ভূল আমি জানি না
কিন্তু যখন কোনো প্রতিবাদ হঠাৎ করে হয়?
আমরা যারা সাধারণ মানুষ কাজের কারনে
এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়।
যখন প্রতিবাদের পথ অবরোধ, ভাঙচুর হয়
তখন ঘন্টার পর ঘন্টা আমাদের কে পথে আটকে পরতে হয়।
কিন্তু যারা এই প্রতিবাদ করার কথা বলে এবং করায়
তারা বলে তারা নাকি এটা সাধারণ মানুষের জন্যই করছে।
অথচ তেনারা গন্ডগোল লাগিয়ে বসে থাকেন এসি রুমে
আর এর ফল ভোগ করতে হয় নৃত্য যাত্রীদের কে।
আমারা সাধারণ মানুষ যারা প্রতিবাদে অংশ না নিয়েও
কি সুন্দর প্রতিবাদের ভোগান্তির তে অংশ নিচ্ছি।।

কোথায় সেই স্বাধীনতা ?
কলমে - কিরণ মাহমুদ মান্না

আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলবো বলেই,
মাতৃভাষা আদায়ের জন্য প্রাণ সঁপে দিয়েছিল
সালাম, রফিক, শফিক, বরকত সহ অনেক সন্তান।
শুধু বাংলা ভাষাতেই কথা বলবো বলেই
ভিন দেশের ভাষাকে মেনে নিতে পারেনি
আমাদের এই বীর সন্তানেরাই।
আজ কোথায় বীরের সম্মান?

একটি লাল সবুজের পতাকা
বাংলার আকাশে পতপত করে উঠবে বলেই
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক ডাকে
সাড়া দিয়েছিলো লক্ষ কৃষক শ্রমিক জনতা।
আদেশ দিয়েছিল সেই কৃষক শ্রমিক জনতার মা,
রক্তের বিনিময়ে হলেও এ দেশ স্বাধীন দেখতে চাই।
ঝাপিয়ে পরে এ দেশকে স্বাধীন করতে
রক্ত দিয়েছিল লক্ষ বীর মায়ের বীর সন্তানেরা।
দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু-
আজ কোথায় সেই মায়ের সম্মান?
কোথায় সেই স্বাধীনতা?

একটি সোনার দেশ,একটি বসুন্ধরা গড়বো বলেই
১৭/১৮ কোটি মানুষ বারবার আমরা ভোট দিয়ে
কত রাজনৈতিক নেতাকে তাদের কাঙ্ক্ষিত সিংহাসনে বসতে দিয়েছি এই আমরা সাধারণ মানুষ।
অথচ সেই সিংহাসনে বসার পরে
ভুলে যায় তার দেয়া সব প্রতিশ্রুতি।
কেউ কেউ নানান লোভ লালসার ফাঁদে ফেলে
অনেক অসহায় মানুষের লুট করে নেয়
অর্থ থেকে শুরু করে মান মানসম্মান।
কত মা বোনের ইজ্জত, কত শিশু ধর্ষণ।
কিন্তু বিনিময়ে কি দিয়েছে তারা উপহার!
আজ কোথায় সেই জনগণের অধিকার?

দেশটাকে লেমন চুষের মত চুষতে চুষতে
কিছু অসাধু,লোভী মানুষ শেষ করে যাচ্ছে।
অসহায় মানুষের মুখের দিকে তাকাবার
বিন্দু পরিমান কারো আগ্রহ নেই।
কেন এ দেশ স্বাধীন করেছিল তাদের রক্ত দিয়ে?
আজকে এই পটভূমি দেখবে বলে?
আজ ১৬ই ডিসেম্বর, তাদেরকেই দেখা যাবে
কালো টাকায় কেনা একগুচ্ছো
পবিত্র ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছে
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙা শহীদ মিনারে।

তোমাদের বলছি শুনো,
লাখো শহীদের আত্মা ফুলের শুভেচ্ছা চায় না,
বীর মুক্তিযোদ্ধের নায়কেরা ফুল চায় না।
তারা যে আশায় জীবন বাজি রেখে
দেশের জন্য যুদ্ধ করে এ দেশে
লাল সবুজের পতাকা উড়িয়েছে,
এ দেশ স্বাধীন করে বিশ্বের বুকে
নাম লিখিয়েছে সে এই বাংলাদেশ।
তাদের আত্মাকে একটুখানি শান্তি দাও।
এ দেশটাকে মায়ের মত ভালোবাসো,
নিঃস্বার্থ ভাবে দেশের উন্নয়নে হাল ধরো।
তাহলেই বীর শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।

১৩/১২/২০১৯ ই
সিঙ্গাপুর।

টুসু
কলমে - কাকলী সেনগুপ্ত

পুরুলিয়ায় পাহাড়ে ঘেরা ছোট্ট একটা আদিবাসী গ্রাম। আট বছরের মেয়ে টুসু আর তার মা ( বুধনী)
ছোট একটা কুটিরে বসবাস করে। টুসু সারাদিন খেলে বেড়ায় গ্রামের চারিদিকে। গাছের ফল পাড়ে, ফুল পাড়ে,নদীতে ধরে মাছ-গুগলি, গরু-ছাগল তাড়িয়ে বেড়ায়। সারা গাঁয়ের লোক টুসুকে একনামে চেনে।

মিশকালো চেহারায় একমুখ হাসি, মাথাভর্তি কোঁকড়ানো চুল। মেয়ের জন্ম দেওয়ার অপরাধে বাবা বুধনীকে ছেড়ে চলে যান। বুধনী জমিদার বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে দুটো পেট চালায়। গ্রামের থেকে একটু দূরেই জমিদার বাড়ি।বুধনী টুসুকে সাথে নিয়ে ও বাড়িতে কাজে যেত। গিন্নীমা'র টুসুর উপর মায়া হয়। তাই মাঝে মধ্যেই টুসুকে এটা ওটা দেন। টুসু নাচতে নাচতে সেগুলি নিয়ে বাড়ি আসে।

জমিদার গিন্নির আশীর্বাদ ও ভালোবাসায় টুসু বড়ো হতে থাকে। বুধনীও কর্মব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছিলো দিন। মনের মধ্যে অদম্য জেদ কাজ করতো, মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করার। তবেই টুসুর বাবাকে দিতে পারবে যোগ্য জবাব।

হেমন্তকালের এক বিকেলে দলে দলে লোক এই গাঁয়ের পথ দিয়ে জমিদার বাড়ির দিকে যাচ্ছে। তা দেখে টুসু ওর মা'কে প্রশ্ন করলো....

এ... মা, উরা কুথায় যাইচ্ছে?

জমিদার বাড়িতে কালীপূজা লয়।

আমরা যাবক লাই?

হ... যাবতো বটেই, রাতে যাব কেনে।

আমি সাইজবো, লতুন জামা পইরবো.. লয়।

হা... হা তু সাজিস কেনে।

সন্ধ্যা নামতেই চারিদিকে আলোর রশনাই। জমিদার বাড়ির বাজির আলোর ছটায় আকাশ আলোকিত। বারুদের গন্ধে ভরপুর সারা গাঁ। টুসু অবাক হয়ে চেয়ে থাকে আকাশের দিকে।

এ.... মা, এতো আলো, এতো বাজি....?

আইজকে যে দীপাবলী রে.....। তাই ওতো আলো... বাজি। মোদের পয়সা লাই যে, তাই আলোও লাই, বাজিও লাই।

না রে মা ।উরা তো টাকা পুরায়। টাকা থাকলেও আমি পুরাইতাম না। আমি যখন বড় হুবো, মস্ত বড় চাকরি কইরবো, আমার বহু টাকা হবেক----তখন আমি আমার মতো মেইয়েদের ছেইলেদের নতুন নতুন জামা দিবো, খাবার দিবো। আর তোর মতো মায়েদের কাপড় দিবো, আদর দিবো, পেন্নাম দিবো। চরম শীতে গায়ের চাদর দিবো, তবেই তো হবেক দীপাবলী। ছেইলে বুড়ো সবার মুখের হাসিতে চারিদিকে ঝলমল কইরবে আলো।

ছোট্ট মেয়ের মুখের কথা শুনে বুধনী বিস্মিত হয়ে চেয়ে রইলো মেয়ের দিকে। আর দুচোখ দিয়ে বয়ে চলেছে অশ্রুধারা। মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললো, "তুই মুর ভবিষ্যতের দীপাবলীর আলো। "

জমিদার গিন্নির আর্থিক সহায়তায় টুসু কলেজ পাস করে তপশিল উপজাতি কোঠায় সরকারী দপ্তরে চাকরি পায়। মা'কে নিয়ে চলে যায় শহরে। কিন্তু প্রতি বছর দীপাবলীর আগে মা'কে সাথে নিয়ে পুরানো গাঁ-এ এসে ছোট থেকে বড় সকলকে জিনিস দিতে ভুল হয় না টুসুর। বুধনীরও আনন্দে বুকটা ভরে ওঠে। ছোট থেকে বড় সবার মুখের হাসিতে জ্বলে ওঠে দীপাবলীর আলো।

বুধনীর মতো সকল মায়ের ঘরেই যেন টুসুর মতো একটি করে মেয়ে জন্মায়। তাহলেই এই পৃথিবী দীপাবলীর আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। টুসুর ভবিষ্যতও দীপাবলীর দীপশিখার মতো উন্নত হোক---মা কালীর কাছে এটাই কামনা করি।

পরকলা (Mirror)
কলমে - রাজদীপ দাস

হ্যাঁ !!!! আমি নষ্ট মেয়ে.....
ঠিক ঠিক আমিই সেই নষ্ট মেয়ে, নীলাঞ্জনা.....
যে কয়েক বছর আগেও একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলো..... প্রশান্তচন্দ্র কলেজের ভূগোলে স্নাতক নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া নীলাঞ্জনা মুখার্জ্জী....
কিন্তু সেই নীলাঞ্জনা আজ তোদের সমাজের কাছে মৃত.....
কারণ সে ন্যূনতম সম্মান নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলো.... আর তোদের মতো কিছু পিশাচ আর নরখাদকের দল তার সেই ইচ্ছাটুকুকে গলা টিপে হত্যা করেছিলো....
মনে পড়ে সেই ১১ই ডিসেম্বরের কথা ????? যেদিন আমি অসহায় হয়ে তোদের কাছে ভিক্ষা চেয়েছিলাম আমার সম্মানটা ????
আর তোরা অট্টহাসিতে মজে আমাকে নিয়ে মজা করেছিলি আর ছিঁড়ে খেয়েছিলি এই কলেবরটাকে !!!!!!!!!!!
হ্যাঁ রে !!! আমিই সেই নীলাঞ্জনা, যাকে তোরা শেষ করে দিতে চেয়েছিলি প্রাণে, আর লোপাট করতে চেয়েছিলি সমস্ত প্রমাণ....
কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস দেখ !!!
আজ সেই নীলাঞ্জনার কাছেই আবার আসতে হলো তোকে স্বাধপূরণের জন্য কিন্তু এলি চোরের মতো লুকিয়ে......
কারণ তোরা ভয় পাস সমাজকে, ভয় পাস সময়কে.......
একটা কথা জানিস তো,
তোরা সমাজকে ভয় পাস ঠিকই কিন্তু আবার সেই সমাজেই নিজেদের পুরুষত্বের জাহির করিস এই কাজটার মাধ্যমে.....
আর তোদের হাজারটা সঙ্গেও সমস্যা হয়না জানি, কিন্তু ক্ষিদের তাড়নায় যাকে নষ্ট করিস তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিস না....
কিরে, অবাক হচ্ছিস ??????
ভাবছিস স্বপ্ন দেখছিস কিনা ????
না রে, তুই ঠিক দেখছিস....
আমিই সেই নীলাঞ্জনা, যাকে পৈশাচিক অত্যাচার করেছিলি তুই আর তোর সখারা....
এখন আর বলে কি হবে যে, তুই ভুল করেছিলি....
ফিরিয়ে দিতে পারবি আমার হারানো সম্মান ?????? নাকি আমার জীবনের অধ্যায় থেকে ছিঁড়ে দিতে পারবি সেই বিতর্কিত পৃষ্ঠা !!!
যদি পারিস তবেই এ কথা তোর মুখে শোভা পায়....
তুই জানিস, তুই আজ আমার কাছে আসবি সেটা আমি জানতাম!!! কারণ তোর আসার অপেক্ষাতেই প্রহর গুনেছি আমি.... তোর এই চোরের মতো মুখটা দেখবো বলে.....
সমাজের পরকলায় আমি আজ নষ্ট মেয়ে কিন্তু দিনের শেষে আমি নিজের মনের পরকলায় শুদ্ধ... কেন জানিস ????
আমার মতো কিছুজনের জন্য সমাজে কিয়দংশের মা-বোনের ইজ্জতটুকু বাঁচে, না হলে তোদের মতো সমাজের কীটেদের অত্যাচারের হাত থেকে কেউই রক্ষা পেতো না.....
আর যে সমাজে কোনো নারীকে ছোট পোষাকের জন্য নিচু নজরে দেখা হয় এবং বলা হয়, মেয়েদের পোষাকই ধর্ষনের জন্য দায়ী, আবার যারা বলে এসব কথা সেই তারাই রাতের অন্ধকারে পাঁচতারা হোটেলে নারীদেহ ভোগ করে পরিতৃপ্তি পায়,
সেই সমাজের অন্ততঃ আমাদের মতো মেয়েদেরকে নষ্ট বলা সাজে না.....

আমি কথা বললে
কলমে - সোনালী সাহা চৌধুরী

আমি কথা বললে তোমরা বলো,বাচাল।
চুপ করে থাকলে বল ,অহংকার।
কাঁদলে বল ছিঁচকাঁদুনে,
হাসলে বল গায়ে পড়া।
তবে তোমরাই বলো কিভাবে তোমাদের ছন্দে তাল মেলাবো ?
কিভাবে তোমাদের রঙে রাঙাবো নিজেকে?
আমি বড় অসামাজিক।
তোমাদের হাসিতে হাসতে পারি না,
তোমাদের কান্নায় বর্ষাতে পারি না কুম্ভীরাশ্রু।
বহুরূপীর মত শিখিনি রং বদলাতেও।।
আমিতো শুধু এই ধরিত্রীর,
আকাশের রামধনুর রঙে রাঙাতে পারি শুধু।
প্রভাতের সূর্যালোকের মত চিকন আলোয়
সাজতে পারি।
বর্ষার নুপুর পায়ে পড়তে জানি।
সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো হয়ে উঠি উত্তাল।
কচি পাতার সবুজ শাড়ি পড়ে লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের ক্ষত।
রক্তক্ষরণ হোক না যতই, মনের গভীরে জমা হোক যত না ঘনীভূত মেঘের অন্ধকার,
আকাশে হাত বাড়াই রামধনুর খোঁজে,
স্বপ্নদের ডানা মেলতে দিই প্রজাপতির পাখায়।
বুড়ো বয়সের কচি মনটাকে ছেড়ে দি গোল্লাছুটের মাঠে।।
এই বিশ্বাসে--
একদিন মাটি মায়ের বুক ছুঁয়ে
খুঁজে পাবো শান্তির শীতলতা।।

আমি আর ড্যাশ
কলমে - রুবি রায়

অর্থসংকোচ ঘটে গেছে " আমাদের "
উর্দ্ধক্রমে সাজে বেলা থেকে রাত।
মসলিন স্বপ্নগুলো বর্ণবিশ্লেষনে দাঁড়িয়ে --
কর্মক্ষেত্র পড়ে।

সমস্ত কিছুকে পিছনে ফেলে সামনে
এগিয়েছে ব্লাউজের হূক।

ফোনের ব্যালেন্স থেকে পেনের কালি ,
ডাইরির পাতারও শেষ তারিখ !
বিনুনি যানজট চোখে পড়ে না।

দড়ি কলসি বারান্দায় টানিয়ে --
চারা পুঁতেছি।
হঠাৎ জোড়কলমের আশায় ।

ভাড়া বাড়ীর ভাড়াটে
কলমে - মৌমিতা হীরা

আমি অফিস থেকে বাড়ি ফিরে , সন্ধ্যাবেলা বসে চা খাচ্ছি আর টিভিতে বাংলা খবর দেখছি। জী 24 ঘন্টায় মৌপিয়া একটা অনুষ্ঠান করছে। সবে কুড়ি দিন হল এই বাড়িটা আমরা ভাড়া নিয়েছি। আমরা মানে আমি, আমার মা-বাবা, আমার বউ আর আমাদের দুটো কুকুর।এই মুহূর্তে অবশ্য বাড়িতে কেউ নেই। চা টা আমি নিজেই বানিয়েছি ।

আমি সোফায় বসে আছি আর আমার সামনে ন্যাড়া চৌকির উপর কুকুর দুটো শুয়ে আছে। আমি টিভির দিকে তাকিয়ে আছি বটে তবে মাঝে মাঝে ওদের দিকে ও দেখছি। ওদের নাম সোনাই আর রূপাই। হঠাৎ চোখের কোণা দিয়ে দেখি ওরা ঘুম ভেঙে উঠে পড়েছে। দুজনের ই কান খাড়া খাড়া, পিছনদিকে বাঁকানো, যেন পিছন থেকে কোন শব্দ আসছে।

আমাদের বসারঘরে ঢোকার দরজাটা, ওদের চৌকি আর আমার সোফা, দুটোরই পিছনে । আসল কথা দরজাটা যেহেতু আমার পিছনে তাই ওরা যখন লাফিয়ে চৌকি থেকে নেমে দরজার কাছে গেল তখন আমাকেও ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতে হল। এই দরজার বাইরেই সিঁড়ি।

অবশ্য তাকানোর কোন দরকার ছিল না কারণ যদিও দোতলা র বসার ঘরের এই দরজা সারাক্ষণ খোলাই থাকে তবুও একদম নিচে একতলায় গ্রিলে তালা দেওয়া থাকে । তবে ছাদের দরজাটাও সারাক্ষণ খোলা থাকে তো, তাই ছাদ দিয়ে কোন মানুষ আসতে পারে, মানে চোর আসতে পারে। এই জায়গাটা খুব ফাঁকা ফাঁকা, গ্রামের মত, চারপাশে বড় বড় গাছ। যে কেউ গাছ বেয়ে উঠে দোতলার ছাদে নামতে পারে। সেই কথা ভেবে আমি দেখতে গেলাম সিঁড়িতে কেউ আছে কি না। আমি দোতালায় ছিলাম।‌ চার পাঁচটা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে, গলা উঁচু করে, তাকিয়ে দেখলাম ছাদের দরজা খোলা, ছাদের সিঁড়িতে কেউ নেই। আবার নেমে এসে, দোতলার সিঁড়ির অর্ধেকটা নেমে, রেলিং থেকে ঝুঁকে পড়ে দেখলাম নিচে গ্রিলের বাইরে কেউ দাঁড়িয়ে আছে কিনা। যথারীতি কোথাও কেউ নেই।

কুকুর দুটো কিন্তু আমার সাথে সিঁড়িতে যায়নি। ওরা ঠায় দোতলার দরজার সামনেই বসে ছিল আর ছোট ছোট ভুক ভুক করে ডাকছিল। আমি দোতালায় উঠে এসে, দরজা থেকে সোফা অবধি দূরত্ব সবে হেঁটে পার হয়ে সোফার কাছে পৌছেছি তখনই সোনাই রুপাই তারস্বরে ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে আরম্ভ করল। তারপর দরজার দিক থেকে চোখ না সরিয়ে, এক পা এক পা করে পিছু হেঁটে, আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি , সেখানে এসে আমার পা ঘেঁষে দাঁড়ালো কিন্তু চিৎকার থামালো না। আমি পিছন ফিরে হাঁ করে দরজার দিকে তাকিয়ে রইলাম কিন্তু প্রায় এক মিনিট অবজার্ভ করেও কিছু দেখতে পেলাম না। তবে একবার যেন মনে হল ছোট্ট কি একটা সিঁড়ি দিয়ে আস্তে আস্তে উঠে ছাদের দিকে গেল। সিঁড়ির আলোগুলো জোরালো নয় তাই খুব স্পষ্ট দেখা যায় না ।

এখানে খুব কাঠবিড়ালি আর ইঁদুরের উৎপাত। ভীতু কুকুর দুটো কাঠবিড়ালি কেও ভয় পায় ভেবে যেই না চোখটা দরজা থেকে সরিয়েছি সঙ্গে সঙ্গে ওরা আরো জোরে জোরে ডাকতে ডাকতে আবার পিছু হটতে লাগল। এবার ওরা আমাকে ছেড়ে , এক পা করে পিছোতে পিছোতে সামনে অন্ধকার বেড রুম টায় লুকালো। ওদের চোখ একবারের জন্য ও দরজা থেকে সরেনি। এখন আমার সামনে অন্ধকার বেডরুম আর পেছনে সিঁড়ির খোলা দরজা।আমি অবাক হয়ে একবার পিছনে দরজার দিকে তাকাচ্ছি আর একবার সামনে ওদের দিকে তাকাচ্ছি। পিছু হটতে হটতে যখন ওরা সামনের অন্ধকার বেডরুমটায় লুকালো তখন আমার আর সহ্য হলো না। আমি প্রথমে পিছনে তাকিয়ে ভালো করে দরজাটা দেখলাম , তারপর সামনে ফিরে ওদের বকতে গেলাম।

যেই আমি বকার জন্য ওদের দিকে তাকিয়েছি দেখি ওরা দুজনেই ভেতরের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে বেডরুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, ভয়ঙ্কর মুখ করে, সব দাঁত গুলো বার করে গরগর আওয়াজ করছে কিন্তু এবার ওরা আর দরজার দিকে তাকিয়ে নেই । এবার ওরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি ওদের নাম ধরে ডেকে ধমক দিলাম। তাতে শান্ত হওয়ার বদলে ওরা আরো দু পা সামনে এগিয়ে এলো। এবার আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। আমি সোফার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ওরা আরো এক পা এগিয়ে এলো। আমার মনে হল ওরা আমার পায়ের উপর আক্রমণ করবে । আমার পা টাই লক্ষ্য। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদেরকে বকতে লাগলাম। ওরা দাঁড়িয়ে পড়ল। অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকালো যেন আমাকে এই প্রথমবার দেখছে। তারপর তিনটি ঘটনা একসঙ্গে ঘটলো। ওরা দুজনে একসঙ্গে আমি ঠিক যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমি মাটি থেকে এক লাফে সোফার উপর উঠে দাঁড়ালাম। সোফার উপর নিরাপদে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ওদের বকতে বকতে দেখি ওরা আক্রমণ করেছে একটা ছুরি কে । ছুরিটা জ্যান্ত প্রাণীর মত ছটফট করছে আর ওরা ক্রমাগত ছুরি র আশেপাশে হাওয়াতে কামড়াচ্ছে যেন কোন অদৃশ্য প্রাণী রয়েছে। ছুরিটা আমাদের বাড়ির নয়। আমাদের কিচেনে এরকম ছুরি নেই। এক দেড় মিনিট পরে ছুরি আর হাওয়ার সাথে সোনাই রুপাই এর ধস্তাধস্তি বন্ধ হল । ততক্ষণ আমি সোফার উপরে দাঁড়িয়ে রইলাম। ধস্তাধস্তি বন্ধ হল কিন্তু ছুরি এবার মাটি থেকে প্রায় ছয় ইঞ্চি ওপর দিয়ে হাওয়ার মধ্যে, যেন খানিকটা ঘষটে ঘষটে দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে সিঁড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু সোনাই রুপাই ছাড়লো না। ওদের ভয় কেটে গেছে। আমি পাথরের মত সোফার উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম যে ছুরিটা আমার পেছনের দরজা দিয়ে সিঁড়িতে অদৃশ্য হল, তার সাথে সাথে সোনাই রুপাই ও অদৃশ্য হল। কয়েক মিনিট পরে যখন বীরের মত ফিরে এলো তখন সোনাই এর মুখে ছুরি, রুপাই এর সামনের থাবা থেকে রক্ত পড়ছে। রক্ত দেখেই আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লাম।

জ্ঞান হওয়ার পরে, ভেট কে ফোন করলাম। তারপর পাশের বাড়ির মালিককে ফোন করলাম বললাম "দাদা একটু আসবেন ?খুব বিপদে পড়েছি।" ওনার থেকেই শুনলাম , এখানেই আমাদের আগে যে ভাড়া থাকতো সে এক গুন্ডা ছিল। একটা এনকাউন্টারে পুলিশের অনেকগুলো গুলি লেগেছিল। এমনভাবে লেগেছিল যে ওর উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ছিল না। ওর সঙ্গী সাথীরা এখানেই ওকে ফেলে রেখে চলে গেছিল। যখন মরা পচা গন্ধ বেরোলো তখন আশেপাশের বাড়ির লোকেরা পুলিশে ফোন করলো। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেখে লোকটা মাটিতে ঘষটে ঘষটে সিঁড়ি দিয়ে নেমে বাইরের দরজা অব্দি এসেছিল কিন্তু উঁচু হয়ে লকটা খুলতে পারেনি। ওর সঙ্গীরা বাইরে থেকে লক করে দিয়ে গেছিল পুলিশের থেকেই পাড়ার লোকেরা জানতে পেরেছিল লোকটা গুন্ডা ছিল। পুলিশের কাছে ওর ডাকনাম ছিল ছুরি বাবলা।দাগী আসামি ছিল। যতগুলো মানুষ মেরেছিল সবকটা খুনই শুধু ছুরি দিয়ে করেছিল।
যে লোকটা সোফায় বসে চা খেতে খেতে গুন্ডার গল্প শোনাল সে যাওয়ার আগে বলে গেল “খুব বেঁচে গেলেন দাদা! আপনার এই কুকুর দুটোর জন্যই বেঁচে গেলেন!”

ভূতের গল্প শুধু মজা করার জন্য দয়া করে অলৌকিক কিছুতে বিশ্বাস করবেন না

মুক্ত আকাশ
কলমে - কাকলী সেনগুপ্ত

ছোট্ট থেকে কুড়িবছর বাবার আশ্রয়ে
ছিলাম বড়ই আদর আর স্নেহপাত্র হয়ে।
জীবনটা খুব বদ্ধ লাগে অস্থির লাগে ভারী
ভাবতাম বসে কবে যে আমি যাব শ্বশুরবাড়ি।।

সবাইমিলে দেখেশুনে দিলো যখন বিয়ে
ফুর্তিতে মন ডগমগ, গর্ব স্বামী নিয়ে।
কদিন যেতেই সংসারের চাপে পেষাই হতে থাকি
সকাল হতে রাত অবধি খাটি আর খাটি।।

পরস্পর দুটি সন্তান জন্ম দিলাম আমি
পরিবারে ওরাই আমার সবচাইতে দামি।
স্কুল, পড়া, বাজার, রান্না-- সব দায়িত্বই আমার
দিনের শেষে হিসাব কষি, কোন সময়টা আমার?

সন্তানরা সব বড় হলো, চাকরি করতে গেল
তখন আমার দায়িত্বটা বেড়ে দ্বিগুন হলো।
ভাবলাম বুঝি বৌমা এলে আমি অবসর নেব
বৌমা এসে বলে, " মা, আমি আটটায় অফিস যাব"।।

পতিদেব আজ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী
আমার অবসর কবে যে হবে বুঝতে না পারি।
মাথার চুলে পাক ধরেছে, চামড়া কুঁচকে গেছে
আর বুঝি পারলাম না কিছুই আমার জন্য করতে।।

এমনসময় হঠাৎ দেখি জানলা দিয়ে চেয়ে
নীল আকাশে সবুজ পাখি উড়ছে ডানা মেলে।
আমিও আমার খাতা -কলম নিয়ে বসে যাই
এত দিনে কবিতা লেখার সাধ পূরণ হলো তাই।।

নিহত গোলাপ
কলমে - ববি ব্যানার্জি

আঘাতের পর আঘাত..
হানো যত খুশী আঘাত,
আঘাত করতে করতে পিষে দাও আমায়।

যেমন করে ঝরে পড়ে বাগানের ফুলগুলি..
সবাই পদপিষ্ট করে চলে যায়..
ফিরেও চায়না একটি বার,
ভাবেনা... সে যখন ওই ফুল গাছের ডালে কুঁড়ি হয়ে ছিলো।
তখন তার কত কদর ছিলো,
প্রতিদিন তার মালিক কুঁড়িগুলোর কাছে আসতো
আর মনের মধ্যে তার কতশত স্বপ্ন জেগে উঠতো।
ফুলদানীতে সাজিয়ে রাখবে..তার বাগানের ফুলগুল্ম দিয়ে,
কিছু ফুল নিয়ে মালা গাঁথবে...
একটি মালা দেবতার গলায় পরাবে..
একটি মালা..তার প্রিয়ার খোঁপায় পরাবে সে নিজ হাতে।
আর তার সাধের লাল গোলাপ টি তার প্রিয়ার হাতে দিয়ে বলবে
আমি তোমায় ভালোবাসি
খুব ভালবাসি।
ভোরের আলোতে কুঁড়ি থেকে ফোটা ফুলগুলি দেখে তার মন খুশীতে ভরে উঠলো।
কিন্তু হঠাৎ করে অকালের এক ঝোড়ো হাওয়াতে বাগানের সব ফুলগুলি ঝরে পড়ে গেলো।
মালিক বাগানে ঘুরে ঘুরে দেখে.. তার সাধের ফুলগুলো আর নেই,
সব পদপিষ্ট হয়ে গেছে তারই পদতলে।
ফুল যখন গাছে থাকে,
তখন তার মুল্য থাকে,
যখন সে ঝরে যায়
তখন কেউ ফিরেও না চায়।
তার বুকের মধ্যে জমাট বাঁধা এক কষ্ট,
তীব্র যন্ত্রনায় তার বুক ফেটে যায়
তবুও সে নীরব থাকে।।

গাছেতে ছিলাম আমি যখন
একটি সদ্য কুঁড়ি হয়ে
সযতনে রেখেছিলে মোরে তুমি তখন,
কতশত স্বপ্ন দেখেছিলে সেদিন তুমি
আমায় নিয়ে,
ফুল হয়ে ফুটেছিলাম তোমারই সাধের বাগানটিতে
তুমি দুচোখ ভরে দেখলে শুধু আমায়,
আমার গায়ে আলতো পরশ বুলিয়ে দিলে তুমি,
একটি দুটি ফুল তুলে নিলে নিজের মুঠিভরে
তার সুগন্ধীতে তোমার নয়ন মুদে এলো।
হঠাৎ করে এক ঝোড়ো হাওয়ায়
আমাদের ফেলে দিলো মাটিতে।
ঝরে পড়ার সাথে সাথে
পদপিষ্ট করে দিলে আমায় তুমি,
বাজলো না ব্যাথা তব বুকে
আমি সেদিন নীরব হয়ে চেয়েছিলাম তব মুখ পানে।
দুঃখ পেয়েছিলে তুমিও!
খুব মন খারাপ করেছিলো তোমার!
কিন্তু আমার জন্য নয়,
তোমার সব স্বপ্ন..
ভেঙে চুরে চুরমার হয়ে গেলো বলে।।

11. 12.19

চির আদুরী
কলমে - রানু সরকার

"আনমনে"-পথ চলছিলাম--
পথে, ছোট এক মেয়েকে দেখলাম,

মেয়েটির হাসি হাসি মুখ মিষ্টি মাখা-আদুরী।
"প্রস্ফুটিত" গোলাপের রূপের-মাধুরী,

"সাপের" ফনার মতো দু'দিকে বেনী ঝুলিয়েছে...
"চঞ্চল" মন, সমীরনে কর্ণে দুল দুলছে,

হেটে চলে যায় নুপুর বাজে তার চরনে,
হলুদ শাড়ি পাড় সবুজ তার পরনে।

"আঁখি"দুটি-হরিণের মত সুন্দর চঞ্চল,
"বঙ্কিম ক্ষীন" অধর রক্ত-কপোল।

ছুয়ে দিনু কেশ পাশ ভালোবাসিয়া...
"নুপুর"পায়ে নেচে নেচে চলে গেল মৃদু হাসিয়া।

শিহরিয়া উঠিলাম আমি, এক ঝলকে,
কোথায় হারিয়ে গেলো কোন দ্যুলোকে।

আমার ভরে গেলো মন প্রাণ এ-কি হরষে,
কোথায় যে হারিয়ে গেল মৃদু পরশে।

পথের মাঝে কুড়িয়ে পেলাম যে মনি,
সে আমার হৃদয় মাঝে হরষ খনি।

১৯৷১০৷২০১৮

আমি কালো মেয়ে
কলমে - কিরণময় নন্দী

কালো মেয়ে আমি,মিথ্যে চুরি করলি কেন মন?
মিথ্যে স্বপ্নে বিভোর করে উন্মুক্ত করলি সব গোপন।
আমি তখন অষ্টাদশী,শরীরে উত্তাল জোয়ার যৌবন
কৃষ্ণকালো নগ্ন শরীর তোর কুসুমকানন মধুবন।
নদীর পাড়,ঝোপঝাড়,পোড়ো মন্দির এমনকি চিলেকোঠা
এক ডাকে ছুটে যেতো তোর কালি তোর তোতা।
কালো মেয়ে কৃষ্ণকলি হতো,মিষ্টি গলা তাই তোতা
নীল আকাশে ইচ্ছে ছিল ওড়ার, আমি চখি তুই চখা।
তোর গায়ে হলুদ আমি গেলাম ছুটে পুকুরপাড়ে
তুই হেসে বললি 'কালি ওসব কথা ভুলে যারে'।
কালো মেয়ে আমি,রক্ত গুলো তোর মতো লাল
শীতলা মন্দিরে কেঁদে কেঁদে ঠুকে ফাটল আমার কপাল।

আজ দু-যুগ পরে বয়েস আমার চল্লিশ কোঠায়
আমি আজ গোষ্ঠীর সেলাই দিদিমনি তুইও 'বেণীমাধব' হায়!
কালো সেতো রঙে কালো,মন ভালো মেয়ের মতো
তুই শুভদা সংসারী আজ -ধিক 'বেনীমাধব' যত।

নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়
কলমে - ঝিলিক মুখার্জি গোস্বামী

তোর এই গানটা কেমন লাগে?
তুই বললি , বেশ!
আমি বললাম, গানটা তো আমারও বেশ লাগে....
কিন্তু আর ও বেশ কি লাগে জানিস?
তুই বললি, উম্ হুঁ!
উত্তরে আমি হেসে বললাম,
"তোকে নীল রঙে"!!
জানিস? নীল রঙ আমার ভীষণ রকম প্রিয়!
তুই হেসে উত্তর করলি......
তাই???
আচ্ছা নীল রঙ নিয়ে অনেক কথা বললাম....
এবার এই ময়দান ছেড়ে উঠবি?
তোর কেন-এর উত্তরে বললাম....
চল না ওই মোড়ের মাথায় একটু ভাঁড়ে চা খাই!
আমার খুব ভালো লাগে এটা ।
হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম, তোর -আমার দেখা করার বয়স টা.....প্রায় একবছর পর হবে! তাও অনেক টানা পোড়েনের পর । আমি হঠাৎ তোকে আস্তে ক'রে বলে উঠলাম, "আরও একবার হাত টা ছুঁয়ে দেখ, আজও আমাদের ইচ্ছে গুলো এক"! মনে মনে হয়তো এটাও বলেছিলাম ........আমি জানি তুই, আবারও হারাবি নিজেকে!!!!
তুই কিছুই জবাব দিসনি, শুধু পুরোনো ভাবে নতুন ক'রে আমার হাতটা শক্ত ক'রে ধরেছিলি!

চায়ের দোকানে চা খেয়ে পয়াসা মিটিয়ে বেরোতে যাব ,তখন হঠাৎ বৃষ্টি । আমি তো আবার বৃষ্টি ভিজতে বরাবরই ভালোবাসি । তোর ভালো লাগা গুলো আজও জেনে উঠতে পারিনি! তুই সব ওই তোর বোকা বাক্স তে বন্দি করে রেখেছিস ! যাই হোক কোথাও একটা গিয়ে বসতে হবে । এই ভেবে মেট্রো তে করে চলে এলাম এসপ্লেনেড । এখানে খুব সুন্দর একটা জায়গা আছে । একটা ট্রাম । সাজানো গোছানো । উঠলাম তাতে । এরপর কত গল্প চলল আমাদের ! কত পুরোনো কথা! সেই পুরোনো দেখা হওয়া । কলেজে পড়ার দিন । তোর সাথে যদি একই স্কুল টা ও হত! তোকে শুধোলাম , তোর মনে আছে আমাদের প্রথম আলাপ? তুই মিষ্টি হাসি হেসে বলেছিলি , দিব্যি মনে আছে॥ আবার শুধোলাম , তারপর? আমিই আবার বললাম , সেই দিনের ছবিটা আজও ভাসে আমার চোখে । একটা অনবদ্য রূপে তোকে দেখেছিলাম ।
এ কথা সে কথার পর বললাম , চল এবার একটু হারিয়ে যাই আমরা । শুধোলি , কোথায়?

একটা ট্রামে চড়ে বৃষ্টি ভেজা শহর দারুন লাগে , দেখবি চল । আমি উত্তর করলাম । কথামত ট্রামে চড়লাম আমি আর তুই । জানলার ধারের সিট টা আমার খুব প্রিয় । ট্রাম চলতে শুরু করল.....আমি তোকে বললাম , এই বন্ধুত্বের বন্ধন টা আর আলগা করিস না ! গড়গড়িয়ে না চলুক , এই ট্রাম টার মতন ধীর গতি তেই চলুক তোর আমার বন্ধুত্ব টা ....কিন্তু গতি যেন থেমে না যায় । আর লাইনচ্যুত না হয় যেন । ভাগ্য আমাদের কখন কোথায় নিয়ে যাবে জানি না । আবেগে ভর করে কথা গুলো বললাম । জানি না তুই কতটুকু বুঝলি । আমি কতটা বোঝাতে পারলাম ! তারপর তোর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম , আস্ত এই দিনটা ভুলব না ! তুই আবার একটা মনখোলা হাসি হাসলি ।

এবার ফেরার পালা আমাদের । আমি চাইছিলাম আর একটু সময় কাটাতে । কিন্তু তোকে অনেকটা পথ যেতে হবে তাই আটাকালাম না । কিন্তু তুই দেখেছিলি কি আমার চোখের কোন টা চিক চিক করেছিল ? গলাটাও কেঁপেছিল, বুঝেছিলি ? তাও তোকে -আমাকে যেতেই হবে । তুই আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছিস.....নীল রং টা মিলিয়ে যাচ্ছে......আমি কি একটা বলবার জন্য দৌড়ে যাচ্ছি তোর দিকে......একি? তোর নাগাল পাচ্ছি না কেন?.......তুই মিলিয়ে গেলি মুহুর্তে.......মুহুর্তে মিলিয়ে গেল আমার ভীষণ প্রিয় নীল রং.......তোকে তো বলাই হল না যে , নীল রঙের শাড়িতে তোকে Just ফাটাফাটি লাগছিল.....বলাই হল না , নীল রঙের মত তুই ও আমার ভীষণ প্রিয়........বলাই হল না , আবার তুই নিজে হারাস না আমার থেকে । আমি ঘামছি দরদর ক'রে । তোর দিকে হাতটা বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছি......তুই আসবি বলে । না আর পারছি না আর একটু দৌড়ে এগিয়ে গেলাম.......তোকে আবছা দেখতে পাচ্ছি কিন্তু তোর নাগাল পাচ্ছি না...........ধড়মড়িয়ে উঠে বসলাম .......একটা আস্ত স্বপ্ন ছিল ।। ভাবলাম বসে কিছুক্ষন.... গল্প হলেও সত্যি যদি হয় তাহলে স্বপ্ন হলেও
সত্যি নয় কেন????????

#একটি_স্বপ্ন_নিঃসৃত_অনুগল্প
#প্রেম_নয়
#গল্পটা_বন্ধুত্বের

দুটো হাত আসে
কলমে - মৌমিতা হীরা

চোখের জল মুছে দেওয়ার হাতটা,
কল্পনায় এত সুন্দর হয়ে আসে,
যে হাতের মালিকের মুখটা,
দেখতে চাই না ।
যদি সত্যি সত্যি একটা মানুষ হতো?
হাত সুদ্ধ, একটা গোটা মানুষ!
তাহলে রক্তমাংসের যে সব দোষ, গুণ আছে,
সেগুলোকেও মেনে নিতে হতো । তার থেকে, আমার কল্পনার হাতে,
আমার লাভ। স্বার্থ, দ্বেষহীন হাতটা,
দয়া মায়ায় ভরা। প্রত্যাশাহীন ভাবে,
শুধু আমার চোখের জলটুকু মুছিয়ে দেয়।
তারপরে, আমারই কল্পনার শূন্যে
বিদায় নেয়।
আরেকটা হাত আছে।
সত্যিকারের হাত।
হাতের শিরা দপদপ করে।
লোভে, ধর্ষণ করার কামনায়।
সবকিছু ছুঁয়ে দেখতে চায়।
যা তার ছোঁয়ার নয়,
তাও।

চরিত্রহীনা
কলমে - কিরণময় নন্দী

সব পুরুষ পারে নি প্রেমিক হতে
পারে নি হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে
দুদিনের আলাপে শরীর চেয়েছে
পার্কে মাঠে ঝোপে কিংবা হোটেলের বিছানাতে।

আবিষ্কারের নেশায় মেতেছে দুজনায়
চাহিদা মেটাতে বারেবারে বিছানায়
সময়ের সাথে কমেছে আবেগ
পুরুষ মজেছে আবার অন্য প্রেমিকার ঠিকানায়।

আপোষে যদি ভুলে যাও প্রাক্তনেরে
ভালো হয় যদি সব ভুলে যেতে পারো
নইলে তুমিই "চরিত্রহীনা"
ভালোবাসার মানুষটির আটকাবে না একবারও!

হাসি
কলমে - সম্পা মাজী

এই চাঁদ তোর এতে হাসি আসে কোথা থেকে রে ?
সেই ছোট থেকেই দেখছি তোর ওই মিষ্টি হাসি।
আমিও না ছোটোবেলায় তোর দেখা -দেখি খুব হাসতাম,
তার পর বড় হতেই সব কেমন যেন পাল্টে গেল।
এখন আর তোর হাসি দেখে আমার হাসি আসে না,
চেষ্টা করলেও তোর মতো প্রান খুলে হাসতে পারি না।
তোর সিগ্ধ মোলায়েম আলো গায়েতো মেখে নেই,
তবে আগের মতো সৌন্দর্য অনুভব করতে পারি না।
তোর আর আমার বন্ধুত্বটা সেই আগের মতোই আছে,
কিন্তু আমাদের মধ্যে দূরত্ব টা অনেক বেড়ে গেছে।‌।

তিলোত্তমা
কলমে - ঝিলিক মুখার্জি গোস্বামী

আমার-তোমার-সবার....
ভালোলাগার-ভালোবাসার.....
ভিন্নরকম স্মৃতিতে মোড়ায় মোড়ানো,
তিলোত্তমা ।
আমার শহর,
আমার বৃষ্টি ভেজা শহর....
রোদের ঝিলিক মাখা শহর....
অলি-গলির বাঁকে ভুলভুলাইয়া....
আমার শহর, আমার তিলোত্তমা ।
চায়ের ঠেকে বা রকে বসে,
নিরন্তর আড্ডা...তর্কবিতর্ক এর সাক্ষী....
এই তিলোত্তমা ।
অসংখ্য ব্যানারে মুখ ঢেকে রাখা,
আমার শহর ।
আমার দুঃখ-সুখের চিরন্তন সাথী.....
আমার তিলোত্তমা!
আমার অজস্র চোখের জলের সাক্ষী....
আমার তিলোত্তমা ।
সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার খেলায় মাতোয়ারা....
আমার তিলোত্তমা ।
অসংখ্য মৃত্যু মিছিলের সাক্ষী....
আমার শহর, আমার তিলোত্তমা ।
আমার তিলোত্তমা আমায় দিয়েছ অনেক কিছুই,
দিয়েছ বুক ভরা কষ্ট ....
দিয়েছ বুক ফাটা কান্না!
ভেঙেছ অনেক সম্পর্ক ....
করেছ অনেক অপমান!
তিলোত্তমা, আমায় অনেক দিয়েছ তুমি,
"আদর-চাদর" দিয়েছ....
দিয়েছ "একলা-বালিশ"......
তোমার কাছে আর কিচ্ছু চাই না !
শুধু আর একটু দুঃখ দেবে?
প্লিস্!!!!!!!


অমাবস্যার জোনাকি
রচনা - ববি ব্যানার্জি

অমাবতের নিশুতি রাতে
এ দীপ জ্বালালে তুমি..
অন্ধকারে পথ হারিয়ে ছিলেম সেদিন,
গহীন আঁধার রাতে এলে তুমি নামি।

ও জোনাকি তুমি যে আঁধার রাতে দীপ জ্বালাতে জানো
তুমি যে ছুটে চলো গহীন আঁধার পথে,
কেমন করে তুমি পথ চেনো!

তুমি যে ক্ষুদ্র জোনাকি পোকা
কোন সুখেতে তুমি ডানা দুটি মেলো,
কোন সুখেতে উল্লাসে তুমি আঁধার রাতে আলোর দীপ জ্বালো।
তুমিও একটি ক্ষুদ্র প্রানী
নিজেকে অন্ধকারে লুকিয়ে রেখে..
অন্যের জীবনে আলো জ্বালাতে শেখালে তুমি।

অনেক কিছুই শেখার আছে
এই প্রকৃতির থেকে
মানুষ হয়েও শিখতে চাই
অনেক কিছুই তোমাদের থেকে।।

২৩.১১.১৯

তারিখের পর তারিখ আসে
কলমে - কিরণময় নন্দী

তারিখের পর তারিখ আসে
জামিন পায় ওরা অক্লেশে
প্রমান নথি হাজারো বিধান
"সাহসিনী" ব্যর্থ ফেরাতে সম্মান

তারিখের পর তারিখ আসে
হিংস্র ওরা ঘোরে আশেপাশে
বাড়ি বয়ে আসে নানা হুমকির ডালি
"সাহসিনী" ব্যর্থ ঘোচাতে অসম্মানের কালি।

তারিখের পর তারিখ আসে
থাকে ওরা ঝোপঝাড়ে ওৎ পেতে
নালিশের বদলা আবারও ধর্ষণ
"সাহসিনী"র বৃথায় অশ্রুবর্ষণ।

তারিখের পর তারিখ আসে
উন্মত্ত ওরা প্রভাবশালীর অজুহাতে
নগ্ন শরীরে শীতল দাহ্য পেট্রোল
থেমে যায়"সাহসিনী"র বিচারের কোলাহল।

তবুও তারিখ আসে নিয়ম করে
জনতা মোমবাতি হাতে রাস্তার মোড়ে
"সাহসিনী" একাকী ছাড়ে পৃথিবীর মায়া
"ওরা" ওৎ পেতে রয়,এবার অন্য কায়া।

ফিরে দেখা
কলমে - সোমনাথ গোস্বামী

আমি তোমার কাছে আসব ফিরে, কোনো এক
চন্দ্র রাতের শেষে,
আমার জন্য কিছু জল রেখো চোখে, ঠোঁটে রেখো একটু মুচকি হাসি,
মুখে রেখো একটু মিষ্টি আদর
আর বুকে রেখো বাসনা ।

আমি আবার আসব ফিরে
স্বপ্ন সারথী হয়ে শিশির ভেজা কোনো এক নিশ্চুপ রাতে ।
দক্ষিণের দরজায় দাঁড়িয়ে থেকো তুমি
আর ভুলে যেও অভিমান
ভুলে যেও সব বেদনা ।

বিভাগ - কবিতা
নাম - মধুর স্মৃতি
কলমে - রীনা মুখার্জী গাঙ্গুলী

আজ আমাদের আবেগগুলো বড়োই অবুঝ
অবুঝ মনের কিছু কথা মনে দাগ কেটে যায় ।
কিছু কথা জমে থাকে শুধু অনুভবে,,
অনুভবের মাঝে অধিকার,,শুধুই শূন্যতার নির্নিমেষ
কিছু দাগ অজান্তে কাঁদায়,কিছু ভালোলাগা আজও বাঁচিয়ে রাখে।
নদীর ওই জোয়ার ভাটার স্রোতের ন্যায়,বারবার হারিয়ে যায় চেতনার পথ।
অচেনা বিভ্রান্ত পথের সন্ধিক্ষণে চেনা পথও ভুল হয় বারংবার।
অজ্ঞানতা আর বিবেকহীন সাজ শব্দের কোলাহলে জীবনের অন্তঃপুরে স্মৃতিগুলিই অবশেষ।
একমুঠো জ্যোৎস্না মেখে সাথে উড়ে যাই সীমাহীন কল্লোলে।
দুচোখ ভরা হাজার স্বপ্নের মধুর স্মৃতি রামধনুর রঙে আঁকাবাঁকা পথে ডানা মেলে উড়ে চলে দূরে..........বহুদূরে।
নিস্তব্ধ রাতের একাকিনী চাঁদ,, নিশাচরী পাখীদের সাথে লয়ে অরক্ষিত স্বপ্নগুলিকে নিমেষে দূর করে দিয়ে নিয়ে আসে ভোরের কুয়াশা।
ভালোবাসার টানে অধিকারের মমত্ব,থেমে যায় কোন এক অজানা অভিমানে।
স্বপ্নরা চিরকাল থেকে যায় অজানা।
প্রাণ ভরা নিঃশ্বাসে,,,স্বপ্ন বাঁচুক দুচোখে ।

একাকিত্ব
কলমে - সম্পা মাজী

একা থাকতে আমি ও খুব ভালো বাসতাম
নিজের জীবন কাউকে কৈফিয়ত দিতে হবে না।
যা মনে হবে তাই করবো নিজের মালিক নিজেই হবো
এই ভাবে থাকতে থাকতে আমার অজান্তেই।
একাকিত্ব আমায় এমন ভাবে গ্রাস করে নিল
সবার থেকে অনেক দূরে নিয়ে যেতে লাগল।
আলোর থেকে অন্ধকার আমার কাছে প্রিয় মনে হতে লাগল,
আত্মীয় স্বজন আমার কাছে অসহ্য মনে হল।
কারো কথা আমার কান ভেদ করে মনে পৌঁছলো না
হারিয়ে যেতে লাগলাম আমি অন্ধকারে একাকি।।

জ্বলন্ত শরীর
কলমে - কিরণময় নন্দী

মেয়েটি আকাশ দেখতে চেয়েছিলো
মেয়েটি চেয়েছিলো রোদ্দুর ছুঁতে
মেয়েটি চেয়েছিলো জীবন, পাঁচটা মেয়ের মতো
মেয়েটি চেয়েছিলো "নারী" হয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে।

অন্ধকারে থেকেছে উন্নাও, পায়নি আলোর পরশ
শরীর ছিঁড়ে খেয়েছে হায়নার দল
জ্বলন্ত শরীরে ছুটেছে বাঁচার আর্তি নিয়ে
বিচারের আশায় মনে অদম্য মনোবল।

ভেন্টিলেশনে বেঘোরে দগ্ধ উন্নাও
জামিনে মুক্ত হিংস্র পশুর দল
"হায়দ্রাবাদ এনকাউন্টার" শিক্ষা দিক
হিংস্রতার বদলায় আসুক নয়া কৌশল।

মেয়েটি আকাশ দেখতে চেয়েছিলো....
মেয়েটি রোদ্দুর ছুঁতে চেয়েছিলো............

একলা মেয়ে
কলমে :- সুভদ্রা রায়

রাত আসে প্রতি দিন- একই ভাবে
নীরবে- নিস্তব্ধ পায়ে রেখে পা-
রাত বড় নিঃসঙ্গ - যেন একলা পথিক
অন্ধকারের হাতছানি দেয়- উঁকি,
তবু মেয়ে - তুই ভয় পাস না যেন-
পা ফেলিস না- ঐ নর পিশাচের ফাঁদে-
তোর নেই যে আপনজন,
মনে রাখিস আমি নয়-
প্রকৃতি ই তোর পাশে,
শিরদাঁড়া সোজা রেখে - মাথা উঁচু -
দিগন্ত রেখায় এসে - দিস দেখা -
বসতি উঠেছে গড়ে -
যেখানে সূর্য তার আলোক ছটায়--
ভাসিয়ে নিয়ে যাবে তোর - প্রতিটা দিন....

৩/১২/২০১৯

তোমার চঞ্চলতা
কলমে - সারস্বত দে

তোমার কোমরের চঞ্চলতা ,
পাহাড়ি রাস্তাকেও হার মানায় ,
আর আমার চোখ , সেই পাহাড়ি পথ বেয়ে ,
ক্রমশ উপরে উঠতে চায় ।

পৌঁছাতে চায় সে পাহাড়ের শীর্ষচূড়ায় ,
উত্তাল আকাবাকা পথ বেয়ে ,
আর আমার ঠোঁটটা , ক্রমাগত চঞ্চল হয় ,
ঝরনার জল খেতে চেয়ে ।

স্বচ্ছ তোমার পাহাড়ি চোখ দুটো ,
বারেবারে হাতছানি দিয়ে ডাকে ,
সবুজ যৌবন ভরা , তোমার পাহাড়ি মন ,
আমায় একলা রাতে জাগিয়ে রাখে ।

প্রেম ও রৌদ্র
কলমে - সোমনাথ গোস্বামী

যে সমাজে খুন, ধর্ষন
যে কোনো খবরের কাগজে হেড লাইন জুড়ে থাকে
সেখানে আর যাই হোক প্রেম নিয়ে লেখা আসে না ।
সাজানো ফুটপাতের ওপর দিয়ে হাতে হাত ধরে
তোমার হাঁটতে ইচ্ছা করে ঠিকই, আমার করে না,
তাই হয়তো আমি প্রেমের কবিতাটি লিখতে পারি না ।

কথার ওপর কথা হোক, তর্ক বাড়ুক
না চায় না, তাই বোধ হয় আমি প্রেমের কবিতাটাই লিখতে পারি না ।
আমি শান্ত থাকতে পারি
মেঘ লুকিয়ে বুকের ভেতর,
আমি গান গায়তে পারি মরার দেশে ।
ঠোঁট ফুলিয়েও কান্না গিলতে পারি নিজের ।
দশটা দশে লোকাল ট্রেনে
জানলা খুজে পেয়েছি হাতড়ে,
বিশ্বাস কর আমি শুধু প্রেমের কবিতাটাই লিখতে পারি না ।

ভারতবাসী

কলমে - সম্পা মাজী

আমরা ভারতবাসী এটাই আমাদের গর্ব
নিজ জীবনে আমাদের অনেক সমস্যা আছে।
কিন্তু তবুও যখন দেশে কোনো অন্যায় ঘটনা ঘটতে দেখি
আমরা ব্যথিত হই দূঃখ প্রকাশ করি।
একজোট হয়ে আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদী করি
বুঝিয়ে দেই তুমি একা নও আমরা সবাই তোমার পাশে আছি।
ঠিক তেমনই যখন কোনো আনন্দের বিষয় ঘটে
আমরা সবাই ধর্ম বর্ন ভুলে আনন্দে মেতে উঠি।
প্রতিবেশী দেশকে বুঝিয়ে দেই, যদি ভারতের কেউ ভারতবাসীর ক্ষতি করে
তাদের আমরা এমন দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেই।
যদি তোমরা ভারতবাসীর কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করো
তোমাদের কেমন শাস্তি দেওয়া হবে কল্পনাই করতে পারবে না।।

আমি আমার মতো
কলমে - ববি ব্যানার্জি

আমি ঠিক আমার মতো
আমি সুন্দরী নই
তবে সুন্দরের পূজারী আমি।

আমি ধর্ম কি! তা জানিনা, মানিও না,
তবে কারুর ধর্মকে আমি নিচু চোখে দেখিনা।

আমি ঈশ্বরে পূজার্চনা উপবাসে খুব একটা বিশ্বাসী নই
তবে অন্যের বিশ্বাসে আঘাত হানিনা।

আমি মিথ্যে কথা বলা পছন্দ করিনা
তবে আমি যুধিষ্ঠির হতে পারবো না।

আমি অর্থের ধনী মানুষদের দলে পরিনা ঠিকই
কিন্তু আমি মনের দিক দিয়ে একটুও গরীব নই।

আমি লেখাপড়া জানিনা একটুও
তবে কাউকে অসন্মান করতে পারিনা।
তবে প্রকৃতিগত শিক্ষা আমার আছে
তাই সকলকেই সন্মান দিতে জানি।

প্রকৃত মানুষ হয়তো পুরো টা হতে পারিনি
তবে মানুষ হওয়ার শিক্ষা আমি পেয়েছি।

আমি গরীব দরীদ্র হতে পারি
তবে কারুর কাছে হাত পাততে পারিনা।

আমি শক্তিমান শক্তিশালী নই ঠিকই
তবে লড়াকু আমি চিরকাল চিরদিন।

জীবনে অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দিইনা
তবে নিজেও যে অন্যায় করিনা তাও নয়।

শুধু এইটুকুই চাইবো
যেনো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত
মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি,
সবাইকে ভালবেসে যেনো মরতে পারি।।

6.12.19

‘অব্যক্ত ভালোবাসা’
– সঞ্জীব ঘোষ

সেই প্রথম অপলক চোখে তাকিয়ে থাকা
সেই ছবি রয়ে গেছে মনের ক‍্যানভাসে আঁকা,
সেই মুখ সেই হাসি আজও মায়া জড়ায়
আমার অশান্ত শরীরের আনাচে কানাচে
কত কথা এসে বসেছিল চুপিসারে নরম ঠোঁটে
ফিরিয়ে নিয়েছি তাদের হৃদয়ের ধক ধক শব্দে
তারা এখন হৃদয়ের গভীরে স্মৃতি হয়ে বাঁচে,
শূন্য হৃদয়ে কোলাহল করে ছটফটানির ধাঁচে।

একাকিত্বের বন্ধ চোখের অন্ধকারে
আজও দেখি তোর ডাগর দুটি চোখ,
দেখি তোর চিকন মুখের উজ্জ্বল হাসি
সে হাসিতে আজও আমি বেহুঁশ হয়ে ভাসি।
বুকের মাঝে হাত রেখে চুপিসারে বলি....
"গোপনে তোমারে সখী, কত ভালোবাসি।"

#অণুগল্প - বিনুর ভূত দেখা
#কলমে - দিয়া ঘোষ

বিনু আর বিনুর দাদা একই স্কুলে পড়ে। বৃষ্টিবাদলার দিনগুলোতে ক্লাস ওয়ানের বিনু ওর দাদার কোলে চেপেই স্কুলে যায়। সেদিনও খুব বৃষ্টি পড়ছে। কিন্তু তবুও বিনু বায়না ধরেছে সে স্কুলে যাবেই। শেষমেশ বিনুর দাদা রেগে-মেগে বলল, “থাক তুই। আজ আমি তোকে কিছুতেই স্কুলে নিয়ে যাব না। ক্ষমতা থাকলে একা একা যা।” এই বলে বিনুর দাদা স্কুলের পথে রওনা দিল। সঙ্গে সঙ্গে বিনুর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সত্যিই তো, দাদার পিছু পিছু গেলে কেমন হয় ? দাদা তাকে দেখতেও পাবে না আর ভয় লাগলে দাদাকে ডেকেও নেওয়া যাবে। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। সঙ্গে সঙ্গে বিনু হাঁটা দিল ওর দাদার পিছনে।

মাথায় ধরেছে এক ইয়া বড় দাদুর ছাতা। ছাতাটা এতই বড় আর বিনু এতই ছোট যে দেখে মনে হচ্ছে ছাতাটাই দু’পা দিয়ে হাঁটছে ! বিনু দেখল, দাদা বেশ জোরে জোরে হাঁটছে। এবং এরমধ্যেই অনেকদূর চলে গেছে। একমাত্র মাঠের আল ধরে গেলেই সে তার দাদাকে ধরতে পারবে। এই ভেবে বিনু আল দিয়ে যেতে শুরু করল। খানিকটা যাবার পর বিনু দেখল, কেউ একজন একবার উঠছে আর একবার নামছে। এটা আবার কে ? বিনু আরো খানিকটা এগিয়ে যেতেই দেখল, একজন ধবধবে সাদা লোক, মাথার চুলগুলো সাদা, চোখগুলো হলুদ হলুদ, একবার মুখ তুলে উঠছে আর একবার বসছে। বিনুর মনে পড়ে গেল, দাদা বলেছিল, ভূতেরা সাদা হয়, হলুদ হলুদ চোখ দিয়ে আলো বেরোয়। বিনুর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। দাদাকেও আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। রইলো পড়ে বিনুর স্কুল যাওয়া। “ভুউউউ-ত…ভুউউউউ-ত…” বিনু কাঁপতে কাঁপতে দিল প্রাণপণে বাড়ির দিকে দৌড়।

ছুটতে ছুটতে বাড়ি পৌঁছে বিনু দরজা থেকেই চেঁচাতে শুরু করল, “ও মা, মা গো, মাআআআআ...।” বিনুর মা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বললেন, “কি হল রে ? কি হয়েছে ? স্কুল যাসনি ? হাপাচ্ছিস কেনো ?” বিনু হাঁপাতে হাঁপাতে চোখ বড় বড় করে বলল, “ভুউউউউত...” বিনুর মা অবাক হয়ে বলল, “ভূত কোথায় পেলি দিনের বেলা ?”
- “মাঠে।”
- “তোকে ভয় দেখিয়েছে ?”
- “না। শুধু একবার উঠছিল আর একবার বসছিল।”
- “কেমন দেখতে ভূতটা ? সারা গা সাদা ?” বিনুর মা হেসে বললেন।
- “হ্যাঁ আআআা।”
- “চুলগুলোও সাদা ? চোখগুলো হলুদ ?”
- “হ্যাঁ গো মা।”
- “ওরে ওটা তিনকড়ি রে। ধান বুনছিল বোধহয়। ওর গায়ে ফুল হয়েছে, তাই ওরকম সাদা।”
- “না মা, ওটা ভূতই ছিল।” বিনুর বিশ্বাস অটল।

তারপর থেকে বিনু আর একা একা স্কুল যায় না। মাস কয়েক পর বিনু একদিন ওপরের ঘরে বসে পড়া করছে। বিনুর মা নিচে থেকে ডাক দিলেন, “কই রে বিনু, এক বার নিচে আয় তো।” বিনু নিচে নামতেই ওর মা তিনকড়ি কে দেখিয়ে বললেন, “দেখ তো, এই তোর সেই ভূত কিনা ?” বিনু অবাক হয়ে দেখছে আর ভাবছে, ওমা, ভূত কই ? এতো মানুষ ! তিনকড়ি বিনুকে কোলে তুলে নিল। এবার বিনুর মুখে হাসি ফুটেছে। এতদিনে বিনু বিশ্বাস করল, ভূত বলে কিচ্ছু নেই।

যদি পাখি হতে বলি,
তবে কি উড়বি আমার সাথে,
নীলচে আকাশ ছুঁয়ে
মিশবী পেঁজা মেঘে?
যদি একদিন ঝড়ের মাঝে
তোকে ডাকি আমার খোঁজে,
খুব কি অশান্ত হবে তোর মন?
সেই পুরনো কানামাছি
যদি বলি, খেলবি কি তবে....
নাকি বয়সের সাথে তারাও ঝাপসা আজ?
তোর মনে নেই জানি,
তবু জলছবি হয়ে আছে মনের গভীরে ।
বৃষ্টি ছুঁইনি আজ কত দিন
শুধু তোকে নিয়ে ভিজব ভেবে।
আজ পাখিদের মত যদি পালক ভেজাতে বলি ,
বসবি তো ভিজে যাওয়া ডালে?
বুকের কয়লা গুলো পুড়ে গেছে
অনেক আগেই,
তাই আজ আগুন পাবি না বুকে .....
ভিজে ঠোঁট ছোঁয়াস যদি,
পাবি আজ ঝড়ে ভেজা বৃষ্টির ঘ্রাণ ।
যদি আজ বলি তোকে,
ডানা ঝাপটাবি বুকে?

ডায়েরির পাতায় যদি একদিন,
কালপুরুষের দেখা মেলে ।
মনের আকাশে সপ্তর্ষি ,
কথা বলে আবেগ ঢেলে ।
চোরা মনের আবেগ ,
রাতের তারাদের মাঝে আজ।
মহাশূন্য কত অনন্ত,
দেখি মুক্ত আলোয় তার সাজ।
ডায়েরির ভাঁজে যদি একদিন,
শুকতারা ঝলসে ওঠে ।
আকাশের বুক চিরে হঠাত্ ,
তারা খসা ঔদ্ধত্যতায় ছোটে।
ধূমকেতু একবার ,
ছুঁয়ে যাবে সবার জীবন ।
তবু জীবনের বেলা শেষে,
তারাদের মাঝে পাবে সবার গ্রহন।

শিরোনাম- স্বপ্ন
কলমে- সোমা গাঙ্গুলী
তারিখ- ০২|১২|২০১৯

আমার চোখের ভাষা দিয়ে,
তোমায় অভ্যর্থনা করতে পারিনা।
চোখের ভাষা দিয়ে,
বোঝাতে পারিনা তোমায় কতটা চাই।
তোমার সঙ্গে তো আমার দেখাই হয় না।
দুটো ঠোঁটের ফাঁকে দেখতে পাই,
আটকানো তোমার ধোঁয়া ওঠা নেশা।
তোমায় বারণ করার অধিকার নেই আমার,
শুধু তোমার মনের ওকালতি করাই যে পেশা।
আমাদের দুজনের এত অহংকার;
চূর্ণ হবে, আবার কোন নিষ্ঠুর
অমীমাংসিত আঘাতে।
ঘরে শুয়ে ছবি আঁকি,
তোমার না দেখা রাজপ্রাসাদের।
অনুভব করি সেই না পাওয়া স্পর্শ...
তোমার রাজপ্রাসাদের ঘরে, সেই দুগ্ধ
ফেনিল বিছানায় শুয়ে আছি আমি।
মন পুড়ে তার আহত সুবাস,
মিশছে ওই চন্দন ধূপের গন্ধে।
অশ্রুত কোন গান ধাক্কা মারছে অলিন্দে,
দুজনের মিলনের কোন একটা,
নিটোল ছবি বারবার জাগছে।
ও ঘরে পিয়ানো বাজছে।
সুর উঠছে, "তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম"...

উদাস খানিক
- প্রতাপ মণ্ডল

হয়তো তুমি ভাবছো এখন
ভালোবাসায় টান পড়েছে !
আরে, ভালোবাসায় টান পড়েনি
ও যে এখন মান করেছে...

মান-অভিমান থাকতেই পারে
ও তো একটা মন গো, শুধুই মন ;
ওকে যে ধরা যায়না,
ছোঁয়াও যায়না
তবে তুমি বসতে পারো কিছুক্ষণ !

কখনো সে উড়ে বেড়ায় --
কখনো সে লতার মতো নুইয়ে পড়ে !
তাকে ধরতে চাইলে যায়না ধরা
ভাবো তখন গেছে সরে.... !

কোথায় আর সে সরে যাবে !
এই দেহতেই আসতে হবে...
খুঁজছো তখন "ভালোবাসা "
মন ছাড়া কি তাকে পাবে...?

মনে করো --
আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে
তখন তাকে খুঁজতে এলে..!
পাবে বলো, তাকে তুমি...!!
কোথায় পাবে জানো তাকে?
মেঘের সাথে সঙ্গী হলে....

ভাবনা জুড়ে তুমিই থাকো
মনটা এখন উদাস খানিক,
টান পড়েনি ভালোবাসায়
সবটা আমি তোমার প্রেমিক l

তাই সাহিত্যে মনোনিবেশ আমার
আনিছুর রহমান
________________________________________
কী অবিশ্বাস্য তাড়না
ব্যক্তিসত্তা থেকে
এক জোরালো অনুভূতি
আবেগ আর জীবন থেকে নেওয়া।

এই মুক্তির চোখ মিলেই না
কেউ ভাবেই-না,
জীবন সংগ্রামী মানুষের কথা।
কেউ দেখে না ঘর ভাঙ্গা,
শোনেনা নদী ভাঙনের আওয়াজ,
শহরের বস্তি বাসির ইতিহাস।

সেই ইতিহাস ভাঙ্গাগড়া আর
স্বপ্ন-বঞ্চনার কথা,
সেই মানুষগুলোর গল্প কথা
শোনাবার মানুষটিও যেন নেই।

সবাই লিখতে পারে না
কম-বেশি পুরস্কারের আশা মনে,
নিজেকে চেনাতে ব্যাস্ত
কেউ ব্যাস্ত রুপের গরমে।

সেই স্বপ্নের মানচিত্র আর
ভাঙা সুখের কথা,
বলবার আগ্রহ প্রকাশ বা ইচ্ছে
তাই সাহিত্যে মনোনিবেশ আমার।

অগ্নিশিখা
কলমে : সুপর্ণা ব্রহ্ম চক্রবর্তী

শিরদাঁড়ার ভার ঝুঁকিয়ে নতজানু হওয়া গেল না,
চাইলে শহীদ হতে পারি ফাঁসির মঞ্চে|

তখনো ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে বলব, বেশ করেছি যা করেছি.....

জিন্সের বোতামে, পিঠ খোলা ব্লাউজে, শাড়িতে, বোরখায় আপাদমস্তক শরীরী মানচিত্র আমি.......

চামড়ার দামে রাতের বালিশ ভেজাও আমায় মনে করে,
আমি ভালোবেসে কান্নায়....

ক্লিভেজের ভাঁজে শিখর দর্শন, স্তন্য সুধার ঋণ বাড়তে থাকে ক্রমশঃ....

নিকোটিন হাতে বারুদের ঢের জমা করি,
বাম অলিন্দে.....
বিস্ফোরণ ঘটাবোই জেনো
একটু সময়ের অপেক্ষা.....

চামড়ার ফাঁকে আপোষহীন হৃদয় ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করি...
কলমের শিশেই করব শিশ্নের কর্তন, বেঁচে থাকি যদি.....

জ্বালিয়ে দিতেই পারো আমায়....
লেলিহান শিখায়, আমারই নাভিকুন্ড থেকে জন্ম হোক হাজার হাজার অগ্নিশিখা'র ......

#সুপর্ণা 04/12/2019

বিষয়:-কবিতা।
শিরোনাম:-প্রকৃতি ত্রিগুণ।
কলম:-নরেন্দ্র নাথ রায়।
তারিখ(০১--১২--১৯)

অষ্টাদশ শব্দ তত্ত্ব,পিতা মাতা--- গুরুসত্ত্ব,
ত্রিগুণে গুণান্বিত মানব ঘর।
দেখিবে পরিক্ষা করে,নিজহাতে মাপধরে,
পিতা মাতা গুরু তিন কারিগর।।

উঁচা সাড়ে তিন হাত,দিয়ে দেখো দৃষ্টি পাত,
চোরাশি আঙ্গুল চোরাশিক্রোশহয়।
আধ্যাত্বিক ওভৌতিক,ত্রিগুণ অষ্ট --সাত্ত্বিক,
নয়টি দ্বার মানব ঘরে রয়।।

সাধিষ্ঠানে ত্রিবেণী,পঞ্চ তত্ত্ব ঘর ------খানি,
মানব ঘর হয় পূর্ণ সাত তালা।
ষড় ঋপু দশ ইন্দ্রিয়,সাড়ে চব্বিশ -----চন্দ্র,
সহস্রে হয় বিন্দুর -------মেলা।।

আটটি কুঠুরি আটা,পঞ্চ কোষ পঞ্চ --কাটা,
ঘরের মাঝে অমূল্য ছয়টি রতি।
নবরসে জন্মে রতি,ঝিয়ের পেটে মার স্মৃতি,
রসিক জানে নবরসের ---প্রিতি।।

ইড়া পিঙ্গলা সুষম্না,সাধিষ্ঠানে হয় ত্রিমোহনা,
কুল কুন্ডলী তে তিন নদীর মিলন।
ব্রহ্মা দেব সৃষ্টি কর্তা,শেষ করি তত্ত্ব ----বার্তা,
ক্ষর রূপী হয় মানুষের ----জীবন।।

প্রকৃতির রঙে তুমি
- সুস্মিতা কুন্ডু ভৌমিক

এসেছে বসন্তকাল।
আকাশে নীল মেঘের সারি।
প্রকৃতি কত কিছুই না বলছে ।
সুন্দর এ প্রকৃতি।
পাতা ঝরিয়ে এসেছে প্রকৃতি।
মনে লেগেছে রঙ।
সে রঙে রয়েছো তুমি।
তুমি এসেছো।
সূর্য উদিত হচ্ছে গগনে।
প্রকৃতি বড় সুন্দর।
তোমায় প্রকৃতিতে দেখছি ।
রামধনু উঠেছে ।
তোমাকে খুঁজি রামধনুতে ।

সূর্যতেজে সমাপতন
কলমে - কিরণময় নন্দী

শুষ্ক মেদিনী কর্দম,একপশলা বারিপাত
অসহায়!যোদ্ধা কর্ণ, বিধাতার নিষ্ঠুর হাত।
ভ্রমে গাভী হত্যা তবুও ভয়ঙ্কর অভিশাপ
বসুসেন শুধুই অপমান! নয় মাফ;

ধনুর্বিদ তুমি পরাক্রমশালী তুমি অঙ্গরাজ
ভার্গবাস্ত্র, গান্ডীব সম বিজয়-ধনু তোমার রণসাজ।
সারথী শল‍্যের অভিনয়, পরশুরামের শাপ
কুরুক্ষেত্র রণাঙ্গনে অসহায় কর্ণ কুপোকাত।

যোদ্ধার করুণ আর্তি,ভিক্ষা ক্ষনিকের তরে
বীর অর্জুন যুদ্ধমত্ত, কে শোনে কাহারে!
কৌতূহলে জন্ম তোমার কুমারী মাতৃজঠরে
সূর্যতেজেই সমাপতন,আসবে কি নতুন ভোরে?

মন মাতোয়ারা
কলমে - শর্মিষ্ঠা দে

পলাশ ফুলের গন্ধে যখন যৌবন মাতোয়ারা,
শিব মন্দির তলাতে আমার
হৃদয় গেলো হারা।

লাল শাড়িতে সবে
বছর তেইশ হবে,
মায়ের সাথে মন্দিরে তেঁই
হৃদয় ঝরেছে কবে।

প্রথম দেখেই হৃদয় মাঝে
উঠল দারুন ঝড়,
মুক্ত ঝরা হাসির ছাঁচে
পাওয়ার নেশায় তৎপর।

রোজই ভাবি মেয়েটিকে বলবো আমি কেমনে,
হে ভগবান! ওকে আমায় দাও
অহল্যা জেগেছে যেমনে।

বিধাতা দেয় যে সাড়া
ঠিক সময় মতো,
শিবরাত্রির সন্ধ্যায় নাড়া
পেয়েছি হৃদয়ে প্রেম যত।
চিঠির বিনিময়ে প্রেমের সুচনা
পুকুরপাড়ে লুকিয়ে দেখা দুটি মনে জাগে ভালবাসা।

সময় যায় দিন গড়ায়
চাকরির তাগিদ হয়
প্রয়োজনে বিদেশ যাত্রা
প্রেয়সীর সঙ্গে মাঝে মাঝে
ল্যান্ড ফোনে প্রেমের বার্তা।

সময়ের ক্লান্তি কাটে
খুঁজে ফেরি শুভদিন,
দুটি হাত এক হয়
ভালবাসার হয় মিল।

আজপার হয়েছে চল্লিশ বছর
চুলের রঙ ধেরেছে সাদা
বুড়োবুড়ি আছে খুশ মেজাজে
নিয়ে তাদের ভরা সংসারের বোঝা।

কপিরাইট রিজার্ভড @শর্মিষ্ঠা দে
৫.১২.২০১৯

বিভাগ :- কবিতা
কবিতার নাম :- নবজাতক
কলমে :- সুভদ্রা রায়
৫/১২/২০১৯

ছিলি মাতৃগর্ভে দশ মাস দশ দিন
শূন্য থেকে যাত্রা তোর হয়েছে শুরু-
কোন সে শুভ ক্ষন করেছে রচনা তোকে
তুই ছাড়া সে খবর জানা নেই!

কি তোর বাসনা তোর অভিলাষ
প্রবঞ্চনা প্রতারণা কত-
ব্যথিত করেছে অন্তর তোর
নেই তার খবর কোনও খোঁজ,

বিনা আমন্ত্রণে বিকৃত হৃদয় উৎসারিত
নবজাতক - তবু তো আমন্ত্রিত ভালোবাসার নির্যাস,
যুগে যুগে আবির্ভূত নতুন বার্তা বাহক-
প্রতিধ্বনি তার শোনে মাতৃত্বের অনুরনন- প্রতিক্ষন

কত সে স্বপ্ন ছবি কত অঙ্গীকার
মাতৃ অন্তর সাজায় তোর চোখ ঘিরে -
মায়ের জঠোরে নিয়ে সৃষ্টি
ভ্রুণ থেকে অজানার বহ পথ ঠেলে
ভূমিষ্ট হলি দেশমায়ের কোলেই!

কান্নার সুতীব্র চিৎকার দেয় প্রথম বার্তা
জন্ম ক্ষন আনে খুশির হাওয়া আগমনের
শঙ্খ ধ্বনি বেজে ওঠে ঘরেতে - পৌঁছয় জন্মকথা
মাতৃদুগ্ধে তোর প্রথম যত্ন পরিচর্যা
বুকের উষ্ণতায় তুই খুঁজিস আশ্রয়।

নিয়ে জন্ম এক - নতুন জীবন
অবোধ অস্ফুট অপরিনত সদ্যোজাত
আনবে নতুন দিশা নব নব রূপে - ভাবি !!
সৃষ্টি কর্তা তার জানে সবটুকু - তবে -

অবতীর্ণ হলি আজ কোন সে অবতার!
মায়ের বুক চিঁড়ে করিস উল্লাস অট্টহাসি
লোভের আগুনে পোড়ে মাতা কন্যা জায়া
অযথা অন্যায় আর বাঁচার আর্তনাদ -

উঠছে ঝড় আগামীর - বন্ধ হবে জন্মকথা
রক্ত মাংস ঠেলে জেগে উঠছে মানবী
ত্রিশূলের ফলায় ছিন্নভিন্ন হবে তোর লোলুপ শরীর!!

বিভাগ - কবিতা
নাম - সুখ পাখি
কলমে - রীনা মুখার্জী গাঙ্গুলী
তারিখ - ৫/১২/২০১৯

পড়ন্ত বিকালের ঐ দিগন্ত বিস্তৃত লাল অভাগুলি এক স্নিগ্ধ শান্ত দিনান্তের অবসান।
চিরসবুজ বনানীর গা ঘেঁষে লাল আঁকা বাঁকা পথ চলেছে দূরে বহুদূরে ,,,আছে শুধু সারি সারি গাছের সমাহার ।
নব প্রভাতের রঙীন ছটায় ভেসে আসা ঐ পাখিদের কলতানে চতুর্দিক মুখরিত
জানিস পাখি?? তোদের ওই রঙীন একজোড়া পালকভরা ডানায় ভর করে,,যখন এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত,,গাছের এক ডাল থেকে আর এক ডালে,,শুন্য বুকে কিচির মিচির শব্দ করে ভেসে বেড়াস মনে যেন তোদের খুশির জোয়ার বয়ে যায়। তোদের ওই বুকচেরা অভিমান দূর করে চলে যাস বহুদূরে । তোদের না বলা কথা বুঝিয়ে দিস তোদের সুখের পরিধি ।
গাছের ডালে বাসা বেঁধে ,,থাকিস সারাক্ষণ,,
মাতৃস্নেহে বড় করিস ,,চারিদিকের খাবার জোগাড় করে ।
বলতে পারিস সুখ পাখি? কোথায় গেলে শান্তিনীড়ের চাবি কাঠি টা পাব? যেখানে গেলে না বলা কথাগুলো বলতে পারব । যেখানে থাকবে না দাপাদাপি ,,থাকবে না কোন কোলাহল,,থাকবে না জনস্রোতের মিছিলে পিষ্ট হওয়া জনতার মৃত্যু মিছিল ।
সেই সুখের চাবি কাঠি আমি যে হাতড়ে মরি।
যদি আসে কোনোদিন সেই সুখ পাখি
বাঁধব আমি তারে নিয়ে ভালোবাসার কুটির।
গাছের ওই শীতল দানে হব পরশিত
শুকতারারা আসুক নেমে করুক আলোকিত।

"বদসুরত"
রচনাঃ কিরণ মাহমুদ মান্না

সে দিন রাতে মেয়েটা দখিনা জানালাটা খুলে পড়ার টেবিলে পড়তেছিল। রাত তখন ১১ টার বেশি।
পড়া শেষে মেয়েটা বিছানাতে শুয়ে গড়াগড়ি করতেছিল।এমন সময় ইলেক্ট্রিসিটি চলে যায়।
আর সে জন্যই জানালা খোলা রেখে ছিল সে। ভেবেছিল কিছুক্ষণ পরে জানালাটা বন্ধ করে ঘুমাবে। কিন্তু, কখন যে তার চোখ দুটো তন্দ্রাছন্য হয়ে  পড়েছিল টের পায়নি।

হঠাৎ,
মেয়েটা চিৎকার করে উঠে! হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বাবা মাকে ডাকছে।

পাশের ঘর থেকে বাবা মা বের হয়ে মেয়েকে ডাকছে,  কি হয়েছে শীলা? কি হয়েছে মা? দরজার খুল?
দরজাটা খোলে দিলো কোন মতে।
মুখটা দুই হাতে চেপে বলছে, আমার মুখ পুড়ে গেলো, জ্বলে গেলো। কে যেন এসিড মেরেছে আমাকে।
শীলা'র মা মুখের অবস্থা দেখে, চিৎকার করে উঠলো।
(আল্লাহ গো আমার মেয়ের এতবড় সর্বনাশ কে করলো গো আল্লাহ)
এ সময়ের মধ্যে মেয়েটা মুখের চামড়া পুড়ে ঝলসে গিয়ে মুখে একরকম লাল সাদা হয়ে গেছে।

মা মেয়ের চিৎকারে বাড়ির এবং আশেপাশের অনেক মানুষ চলে আসে।
সবাই জিজ্ঞেসা করতে লাগলো কি হয়েছে? কি হয়েছে?
শীলার মা, তোমরা খোঁজে দেখো কে আমার এতবড় সর্বনাশ করলো। কে আমার মেয়েটারে এসিড মারলো? কি উপায় হবে গো।

শীলা,র বাবা তাড়াতাড়ি একজন সিএনজি চালক কে ফোন করে, করিম তুই কই? তাড়াতাড়ি সিএনজি নিয়ে আমার বাড়িতে চলে আয়।আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে।
সিএনজি চালক কাছের ছিল বলেই খুব দ্রুত চলে এলো।
শীলাকে নিয়ে খুব দ্রুত ছুটে চলে মধুপুর জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে বার্ণ বিভাগে ভর্তি করা হয় তাকে।হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শীলাকে চিকিৎসা প্রদান করতে থাকে।
চলে রাতভর চিকিৎসা।

শীলার বাবা বাদী হয়ে মধুপর থানায় একটি ইভটিজিং মামলা দায়র করে।
মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনাটির তদন্তের জন্য হাসপাতালে আসে পরদিন সকালে।

শীলা জবানবন্দিতে বলে -
বেশ কিছু দিন আগে থেকে একটা ছেলে আমাকে প্রায়ই ফলো করতো। দেখা হলে সে এটা সেটা জিজ্ঞেসা করতো।আমি তার কথা শুনেও উত্তর না দিয়ে চলে আসতাম। এভাবে অনেক দিন সে আমাকে এক রকম বিরক্তই করতো।
পুলিশ- কি নাম তার বলতে পারো? বাড়ি কোথায়?
- তার নাম সিরাজ। বাড়ি কোথায় জানি না। শুনেছি সে ঐ ইট ভাটার মালিকের ছেলে। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইট ভাটার ওখানে আমার রাস্তা রুখে দাঁড়ায়। বলে, দাঁড়াও তোমার সাথে কথা আছে।আচ্ছা,আমি তোমার সাথে কথা বললে কথার উত্তর না দিয়েই চলে যাও। কিন্তু কেন?
আজ তোমাকে বলতেই হবে।

-- আমি কার সাথে কথা বলবো না বলবো সেটা একান্তই আমার ব্যাপার।
তাছাড়া আপনি যে সব কথা বলেছেন তা শুনতেও চাই না। উত্তর দেবো কি। আপনি আমাকে আর কোন দিন রাস্তা ঘাটে বিরক্ত করবেন না বলে দিলাম।

সিরাজ- হেই কি করবি তুই, হেহ কি করবি শুনি।
তোর এত দেমাগ কিসের? রুপের? তোর দেমাগ আজ ভেঙে দেবো।আয়...
এই আমার হাত ধরে টেনে ইট ভাটার ওদিক নিতে চেষ্টা করে। আমি কোন দিশ কুল না পেয়ে ওর গালে থাপ্পড় মারি।এবং দৌড়ে চলে আসি। আর শুনতে পেলাম, ওর সাথে এক ছেলে ছিল সে বলছে, সিরাজ ভাই, এই মেয়ে তোমার গায়ে হাত তুলেছে। এই অপমানের শোধ নিতে হবে ভাই।

বাড়ি এসে কারো কাছে কিছু বলি নাই মানসম্মানের ভয়ে। আর ভাবলাম আবার যদি কোন দিন এমন করে  তখন বাড়িতে বলবো। কিন্তু, সে সুযোগ আর হইলো না।
গত রাতে কারেন্ট চলে যাওয়াতে অনেক গরম লাগছিল তাই জানালাটা খুলে পড়তে ছিলাম। এবং পড়া শেষে জানালা খোলা রেখেই শুয়ে থাকি ভাবলাম একটু পরে বন্ধ করে ঘুমাবো। কিন্তু, কখন যে আমি ঘুমিয়ে গেছি জানি না। হঠাৎ আমার মুখে পানির ছিটা লাগলো এবং যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠি।
তারপর তো এই অবস্থা আমার।

পুলিশ শীলার বাবাকে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবে এই আশ্বাস দিয়ে চলে যায়।

পুলিশ সিরাজের বাড়ি তল্লাশি চলায়। কিন্তু,তার বাবাকে বলে গেছে ব্যবসার কাজে কয়েকদিনের জন্য  ঢাকায় গেছে। সিরাজের বাবা জানায়।
পুলিশ ঘটনাটি সিরাজের বাবাকে বললে সে প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি।পরে পুলিশ ঘটনা খুলে বলে এবং সিরাজের অবস্থান জেনে চলে যায়।

দুই দিন পর ঢাকা কলাবাগান এলাকা থেমে স্থানীয় থানা পুলিশের সাহায্যে সিরাজ গ্রেফতার হয়। শীলাকে   এসিড নিক্ষেপ করাতে আদালত সিরাজকে যাবত জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করে।

কিছু বখাটে ছেলেদের কারণে শীলাদের মত নিষ্পাপ মেয়ে সারাজীবন "বদসুরত" অপবাদ নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।কাঁদতে হয় গোপনে অবিরত। যে যন্ত্রণার কোন সীমা থাকে না।

০৭/০৫/২০১৯ইং

আমি বাঁচতে চাই
✒রাজদীপ দাস

ভুলে গেছিস হয়তো !!
হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! তোরা ভুলেই গেছিস ....
বিজয়া তো আজ বা কাল হয়নি !!!
তারপর আমি আবারও দুইরূপে মর্ত্য ঘুরে গেলাম....
কিন্তু তোদের কি আক্কেল দেখ !!!
একবারও আমার প্রতি খেয়াল আছে তোদের ???
শুধু চারটে দিন এমন ভাবখানা করিস যেন আমি ছাড়া তোরা অন্ধ...
আর এখন তো আমার থেকে আমার চারদিনের থাকার জায়গাটা দেখতেই তোরা বেশি ব্যস্ত থাকিস....
ওরে আমিও যে এসেছি, আমারও যে একটা নিজস্বতা আছে, সেটা তোরা গুলে খেয়েছিস...
ভারী সংখ্যার মূল্য আর কটা ধাতব পাতের টুকরো পাওয়ার জন্য তোরা আমাকে তোদের পণ্য করে তুলেছিস...
কি যে লাভ পাস তোরা ওই পাতের টুকরোগুলো দিয়ে কে জানে !!!
তোদের তো আবার আমার চিন্ময়ীরূপ পোষায় না, কারিগরকে বলে আমার হাত-পা এমন করাস যে, চারদিন পর খুব ব্যথা অনুভব করি...
তোদের বাবা কিন্তু খুব রাগ করেন এসব দেখলে জানিস তো....
তাই একটু কি নজর দিতে পারিস না আমার দিকে ?????
আজ দেখ তো আমার বিকৃত মূর্তিগুলো অনেকাংশে বিসর্জনও দিতে পারিস না... কারণ তোদের শিল্পের ইঁদুরদৌড়ে সামিল হয়ে সৌখিনপন্থীরা আমাকে কার্যত নিলামে তোলে... আমি কি তোদের পণ্য রে ????
বলে দে না পরিষ্কার করে !!! তাহলে আর আসবো না.....
তোরা অর্থ আর ধাতব পাত নিয়েই বাঁচ...
আমাকে একটু শান্তি দে....
আর অন্ততঃ যদি আমার চিন্ময়ীরূপী মৃন্ময়মূর্তির আরাধনাও করিস তাহলেও এভাবে আমাকে অবহেলা করিস না...
যেমন আজ করছিস..... তোদের সামনেই আমার কাঠামোটা পথের ধারে পড়ে আছে....
যে যা পারছে করছে......
কেউ তো অজান্তে অপরিষ্কার অবস্থাতেও আমাকে স্পর্শ করছে....
আমি এভাবে থাকতে পারছি না রে....
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে...
আ...আ...আমাকে বাঁচা তোরা.......
আমি বাঁচতে চাই.......
আমি বাঁচতে চাই.......
আমি বাঁচতে চাই.......

কবিতা -ধর্ষিতা কন্যা
কলমে- মায়া সাহা

ছোটবেলা থেকে মা দিদিমার কাছে শুনেছি
লজ্জা নাকি নারীর ভূষণ।
শুনেছি নারীর নরম শরীরটা নাকি
পুরুষের কাছে অতি মূল্যবান।

যৌবনের চিহ্ন যখন আমার শরীরে
স্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগল,
মা,ঠাম্মির সাবধান বাণী
বেসামাল হোসনে মেয়ে,
গোপন অঙ্গের দিসনা যেন কোনো পুরুষকে দর্শন।
আপনারা বিশ্বাস করুন চারিদিকের সাবধান বাণী
শুনতে শুনতে আমার কানে ধরেছিল পচন।
চলতে ফিরতে আমার
সর্বদাই ছিল যেন ভীতির স্পন্দন!

আপনারা বিশ্বাস করুন
সকল উপদেষ্টার কথামত এতদিন,
আমি আমার গোপন অঙ্গের করেছিলাম যতন।
বলতে পারেন আপনারা?
তবুও ওই নৃশংস পশুরদল
কেন করল আমায় ধর্ষন?
কেন বারে বারে আমার নারীত্বকে
দিতে হবে হবে বলিদান?
নারীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মানোটাই কি ছিল
আমার সব থেকে বড় অপরাধ?

ধিক্কার আমার প্রশাসন !
ধিক্কার আমার দেশের আইন!
আর চাইনা পলিটিকস,
বাঁচাও এবার নারীর মান।
দাও বইয়ে রক্তবন্যা,
মনে রেখো আমি তোমাদেরই ধর্ষিতা কন্যা!

মাগো আমি যে আর সইতে পারছিনা
তোমার ক্রন্দন!
তুমি আমার রক্তাত্ব শরীর করোনা যেন দর্শন !
কথা দিলাম মাগো,
আমি আবার আসব ফিরে তোমারই কোলে।
তবে এবার কোনো সাধারণ নারী হয়ে নয়,
আমি জন্মাবো হয়ে প্রতিশোধিনী,
আমি জন্মাবো হয়ে চামুন্ডা তেজস্বিনী,
আমি জন্মাবো হয়ে মানবরূপী মহিষাসুর মর্দিনী !

মায়ের আঁচল,
জীবন বিশ্বাস

ওমা তোর বুকেতে জন্ম আমার
মরি যেন তোমার কোলে,
ভাল বাসো আদর করো
চরণ তোমার ধুয়ে দেব
ওমা,তোমায়
আমার চোখের জলে।।
ওমা আমার নয়ন জলে।।

আমি তোমার চোখের মণি
তোমার বুকের ধন।
এমনি করে ভালবাসো
তোমার বুকের মাঝে রাখো
আমায় শারাটি জীবন।

সুখের স্বর্গ দেখি ওমা
তোমার আঁচলে।।

স্বর্গ নরক তুমি আমার
চাই না সুখের ঘর।
মন্দির মর্জিদ গির্জা দেখি,,
ওমা,
তোমার ঐ পায়ের উপর।।

তুমি আমার স্বপ্ন চোখে
হাজার ছড়ালে।।

আকাশ বাতাস চাইনা আমি
নেই তো কোন আশা।
মরার আগে পাই যেন
ওমা তোমার ভালবাসা।।

তোমার কোলে শিতল হবে
আমার ছোট্ট প্রাণ,
একটু আদর পেলে ।।
ওমা আমার নয়ন জলে।।

প্রেম
কলমে - শান্তনু পাত্র

জলের মতো সরল তরল দিনে
ভালোলাগে ভিড়ের মাঝে
প্রেমের আঙুল ছুঁয়ে হাঁটতে।

রূপকথা স্মৃতির ছোঁয়ায়
তোমায় নিয়ে সিনেমায়
ভালোবাসার আর এক নাম
উষ্ণতা।

কুয়াশা শরীরে মেখে
প্রেমের দেশে পৌঁছানো যায়।
হাসি হাসি সীমারেখায়
নগ্ন সৈকতে ভিজতে ইচ্ছে হয়।

পাখিদের কূজন ধারাভাষ্যে
হারিয়ে ফেলি বোবাদের ভাষা
কৃষ্ণচূড়ার সাথে রাধাচূড়ার
সম্পর্ক জানা নেই
তবে ওদের দেখলেই
প্রেম পায় আমার।

কাস্তে টা হাতে তুলতেই হবে বন্ধু
কলমে : মান্তু দেব রায়

কিছু কি বদলেছে,
বারবার এমন ঘটনা কতবার ই না ঘটেছে,
মোমবাতি মিছিল ছাড়া আর কি প্রতিবাদ হয়েছে!
কবি'র কলমের নীল রক্তে ডায়েরির পাতা ভরেছে!
সোস্যাল মিডিয়া'য় বুদ্ধি জীবিদের হাট বসেছে!
তাতে কি হয়েছে! যে নারী ধর্ষিতা হয়েছে,
যে মায়ের শুন্য হৃদয় জুড়ে হাহাকার চলছে
সে মা'ই বুঝেছে,
যার কেটেছে সে বুঝেছে হাড়ে হাড়ে শিরায় শিরায়! সে যন্ত্রণা 'র গভীরতা মাপা ভীষণ কঠিন!
তাই নারী কে আরও শক্তিশালী হতে হবে
বদলে দিতে হবে পরিস্থিতি,
কাস্তে টা হাতে তুলতেই হবে বন্ধু!

মান্তু✍

কবিতা
দান
যে বেদনাটা কাঁদায় তোমায় আজও,
সেটা বরং আমার কাছেই রাখো;
আমার সকল আনন্দ তুমি নাও,
তাই দিয়ে তুমি ভগ্ন হৃদয় ঢাকো!!

হৃদয় ভাঙার শব্দ হয় না জানি,
কিন্তু আমি শুনতে পেলাম ঠিক;
হৃদয় জোড়ার সাধ্য যদিও নেই,
তবুও চেষ্টা করে যাবো নির্ভীক!

তোমার কান্না আমাকেই যদি দাও,
আমি তাকে নীল-সাগরে মিশিয়ে দেবো;
আমার হাসির অবিরাম ধারাস্রোতে,
তোমার দুঃখ সযতনে ধুয়ে নেবো!

দুঃখ তোমার অতল সাগরসম,
ভালোবাসা মোর সেও কিছু কম নয়;
সবটুকু প্রেম নিঃশেষে করি দান,
তিল তিল করে,করেছি যা সঞ্চয়!

সেই প্রেম যদি জুড়ায় হৃদয় তোমার,
একবারও যদি আরাম কিছুটা পাও;
তাহলে সে প্রেম তোমাকে দিলাম সপে,
যাওয়ার আগে বিরহটা দিয়ে যাও!

সেই বিরহেই হয়ে যাবো আমি ধনী,
তার গর্বেতে হবো আমি উত্তাল;
অতন্দ্র আমি থাকবো অপেক্ষাতে,
ঠিক যেরকম রয়ে গেছি এতকাল!!!!
............................................প্রদীপ্ত

মানদন্ড
কলমে : বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত

পরীক্ষা -সে কী চিনে ওঠা মানদন্ড!

যদি এসে থাকে সেই কাঙ্খিত ক্ষণ
থাকো নিরুত্তাপ

এটাও একটা খেলা মনে রেখো।

হাসতে হাসতে পেরিয়ে যেও
পরীক্ষার যেটুকু যা প্রহর...

পাঠ্যের তবু সিলেবাস আছে-
যেটা মানে না জীবন!

বুঝবে ঠিক যাবে বুঝে
হাড়পাকা মানুষের মতন-
সিলেবাসহীন পরীক্ষা
আগামীতে দিতে হবে যখন...

কেউ ছাড়ে না
কেউ পায় না তো ছাড়-
ইচ্ছা বা ইচ্ছাহীন পরীক্ষায়
ডুবে থাকে মহার্ঘ জীবন...

মানদন্ডের বাইরেও কিছু থাকে
সেটুকুই মস্ত এক
পূর্ণতা ভীষণ!!

@বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত৪০এ

চিতা
কলমে - সম্পা মাজী

সেই দিন বুঝলাম তোমার আসল ক্ষমা।
যে দিন সেই আত্ম- অহংকারী মানুষটাকে ,
দেখলাম তোমার আগুনের শিখায় জ্বলতে।
যে সারা জীবন ধরে সঞ্চয় করেছিল ,
নিজের জন্য অর্থ আর অহংকার।
কিন্তু হায় কিছুতো সঙ্গে নিয়ে যেতে পারলো না,
শরীরটাকে ও তুমি পুরিয়ে ছাই করে দিলে।
সে কি কোনো দিন ভাবেছিল,
তার সাথেও এমনটা হতে পারে।
তবুও তার আত্মীয় স্বজনরাই তাকে ,
দেখিয়ে গেল এটাই তার আসল ঠিকানা।।