অক্টোবর 2019

ইভেন্ট নবদিবাকর পত্রিকা
বিভাগ➗ অনু গল্প।
শিরোনাম:-পকেট মার।
কলম:-নরেন্দ্র নাথ রায়।
তারিখ:-(২১--১০--১৯)

এক ব্যবসায়ী কোলকাতা শহরে বাড়ি, বিভিন্ন ধরনের কাপড় কিনে,
ট্রেনে মাল গুলো নিয়ে আসতেন --
দিল্লি, সেই মাল দিল্লির মার্কেটে বিক্রি করে আবার ট্রেন ধরে বাড়ি
আসতেন।
একদিন এক পকেট মার ঐ ব্যবসায়ী ক্যাশ নেওয়ার সময় দেখে ফেলেছেন,এখন পকেট মার
ব্যবসায়ীর পেছনে লেগেছে। ঐ
ক্যাশ নেওয়ার জন্য। ব্যবসায়ী ও
চালাক কম না, ট্রেনে গিয়ে বসে
পড়েছে, তার সামনের সিটে ঐ
পকেট মার, ব্যবসায়ী সতর্ক। পকেট মার যখন বাথ রুমে গেছে,
ব্যবসায়ী ক্যাশ নিয়ে পকেট মার
লোকটার বেডের তলাতে ব্যবসায়ী ক্যাশ ভালো করে রেখে দিলেন।
ব্যবসায়ী এর মধ্যে বাথরুমে গেছে,
পকেট মার ব্যবসায়ীর সমস্ত কিছু
চেক করে সে ক্যাশ পেলোনা, পকেট মার মনে মনে ভাবছেন, ক্যাশ কি করলো কোথায় রেখেছেন, ব্যবসায়ী নিজের সিটে
এসে বসেছেন, পকেট মার আবার
বাথরুমে গেছে।
ব্যবসায়ী একবার দেখে নিলো
আমার ক্যাশ ঠিক আছে কিনা।
দেখে ঠিক ঠাক আছে, সারা রাস্তা
দুই জন এই করতে করতে এসছেন। ব্যবসায়ী দেখলো কোলকাতা আসতে দুটো প্লাটফর্ম
বাকি, পকেট মার আর একবার
বাথরুমে গেছে, ব্যবসায়ী ক্যাশ নিয়ে নিজের কোমরে ভালো করে
রেখে দিলেন, কোলকাতায় যখন
ব্যবসায়ী নেমে যাওয়ার সময় পকেট মার কে ব্যবসায়ী বলছেন
সারা জীবন পরের পকেট মেরে
গেলে, কিন্তু একবার নিজের পকেটে হাত দিয়ে দেখলে না, টাকা টা কোথায় থাকে।

রুমুর রবিঠাকুর
অনিন্দিতা মুখার্জী সাহা

"রবি ঠাকুর কেমন ঠাকুর - মাটির নাকি কাঠের?
নেই লেখা নেই সেই কথাটা রুমুর সহজ পাঠে"

আমি রুমু ,কিন্তু এই রুমুর আর তৃতীয় শ্রেণীর সহজ পাঠ পড়া হয়নি ।এখন আমি ছাপ্পান্ন , আর পড়া হবে বলেও মনে হয় না ।খুব বড় পরিবারের মেয়ে ছিলাম , তৎকালীন সময়কার রবীন্দ্রনাথ চর্চার অন্যতম পীঠস্থান ছিল আমাদের বাড়িটি ।

জ্ঞান হওয়া থেকে দেখে আসছি মা ঐ পরিবারের সর্বময়ী কর্তী। আর বাড়িতে থাকা বলতে বাবা আর ঠাকুরদা। তাঁরা সারাদিন নিজের জগত নিয়েই ব্যস্ত থাকতো ,তাই হয়তো জন্মের পর কয়েকটা বছর ওদের চোখ এঁড়িয়ে মা নিজের কাছে রেখে দিতে পেরেছিল আমাকে ।কিন্তু শেষ রক্ষা হলো কই!
মনে পড়ে, দিনটা ছিল ২৫ শে বৈশাখ,অনুষ্ঠানের তোড়জোড় চলছিল বাড়িতে । আমিও খুব খুশি । আমি আজ প্রথমবার সবার সামনে গান গাইবো ,হঠাৎ বাইরে খুব হৈ চৈ আর হাততালির আওয়াজ ।জানিনা সেদিন আমি কিসের টানে এক ছুটে বেড়িয়ে গেছিলাম ।বাড়ির অতো ভিড়েও এটা বাবার চোখ এড়ায়নি সেদিন । আমাকে টান মেরে ঘরে ঢুকিয়ে আটকে দিয়েছিল । পাশের ঘরে বেশ জোরে চিৎকার শুনেছিলাম মাকে বলছে বাবা "অনেকদিন তোমায় জিজ্ঞাসা করেছি রুমুর চেহারাটা ছেলেদের মতো কেন ?" বদ্ধ ঘরে বসেই শুনেছিলাম মায়ের কান্না গলার গান
"এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলো"

সত্যি এরপর কয়েকজন এসে আমায় মুক্তি দিয়ে নিয়ে চলে গেছিলো । ওখানে গিয়ে বুঝলাম ওখানকার সবাই একদম আমার মত , ওখানেই বেড়ে ওঠা শুরু আমার । মাকে খুব মনে পড়তো ,মনে পড়তো ঠাকুরদার ঘরের সামনে বড় রবি ঠাকুরকে ।

একটু বেশি বয়সের এক পঁচিশে বৈশাখ -হঠাৎ পাশের কোনো এক এলাকা থেকে গান ভেসে আসছে,ঠিক যেন মায়ের গলা । জানিনা মার টানে নাকি রবিঠাকুরের টানে গেছিলাম সেদিন ওখানে । ঢুকতে দেয়নি , অঝোরে কেঁদেছিলাম ।সরস্বতী ঠাকুরের মতো রবিঠাকুরও আমায় ক্ষমা করেনি । একটু দূরে দাঁড়িয়েই গান শুনছিলাম হঠাৎ নতুন একটা গান কানে আসলো
"যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে ।"
সেদিন ফিরে এসে ভেবেছিলাম রবি ঠাকুর কাওর একার না । সেই থেকে আমার গানের শুরু ।

আজ আমার ছাপ্পান্ন বছরের রবীন্দ্রজয়ন্তী ,শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজ আমার প্রতিস্থাপনা "চণ্ডালিকা"। সমাজ বিতাড়িত মানুষগুলোর মধ্যে দিয়ে আমার জন্ম সার্থক , সার্থক আমার ঠাকুরের উপাসনা ।
আমার একমাত্র পরিচয় আমি রুমু, আমি হিজড়া ।
"যে মানব তুমি সে মানব আমি কন্যা "।

নতুন জামা
শেলী নন্দী

ফুলির একটাও নতুন জামা হয়নি এবার। মনখারাপের বিষাদে পুজোর গন্ধ শিউলি বিহীন।

মা ভাঙা পা নিয়ে বিছানায়—প্রায় একমাস হ’ল ঠিকে কাজ গুলো আর নেই। বাবার জগতে পুজো আসে না। সে দিনে ভ্যান চালায় আর রাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকে এদিক ওদিক।

ইস্কুল যাওয়ার রাস্তায় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বাসন মাজে ফুলি। এই সময়ে বাচ্চাগুলোকে দেখে হিংসে হয় তার।
মাঝে মাঝে কয়লার পোড়া অংশ কে চক বানিয়ে উঠোনের কোণে নামতা লেখে সে। ছেঁড়া বই দেখে মিলিয়ে নেয় নিজেই। ৯ এর ঘরের নামতায় এসে হোঁচট খায় আজকাল।

স্টোভে ভাত বসিয়ে আলু ধুচ্ছিল ফুলি। মা বসে বসেই কচুর লতি কাটছিল। সব মায়ের কাছে গুছিয়ে দিলে কেটেকুটে দেয়। ফুলি ই রান্না করে। রেশন আনে। মায়ের ওষুধ।

——তোমার পা ঠিক হলে আবার আমি ইস্কুল যাবো মা?

—দাঁড়া আগে ঠিক তো হোক। কাজগুলো তো আর পাবো না। নতুন কিছু ধরি আগে।

——জানো মা,ইস্কুল গেলে অনেক কিছু পেতাম। তুলি আর ললিতারা নতুন ড্রেস পয়েছে, নতুন ব্যাগ আর দুপুরে প্রায় ই সোয়াবিন নয়তো ডিম ভাত।

হুমমমম———

দীর্ঘশ্বাসে চাপা পড়ে থাকে দারিদ্র্যের কদর্যতা। স্বপ্নেরা হারায় রঙ। বাস্তবতের কড়া রোদে বিলীন হয়ে যায় পাণিপথের যুদ্ধ,মোঘল সাম্রাজ্যের পতন।

রান্নাঘরের পেছন দিকটায় দু তিনটে সুপারী গাছ আর সবেদা গাছ। লোক এসে সুপারী নিয়ে যায় আর মা কে টাকা দিয়ে যায়। এবারে কোনো লোক আসে নি। পাতা কুড়োতে গিয়ে ফুলি তাকিয়ে থাকে সুপারী গুলোর দিকে। অনেকক্ষণ——

---ফুলিইইইই
—যাই মা।

দৌড়ে এসে দেখে দাওয়ায় বসে আছে রহমত কাকা। আসিফার বাবা। আসিফা ফুলির স্কুলের বন্ধু। আসিফার বাবার শহরের দিকটায় একটা দোকানে কাজ করে। লটারীতে তিরিশ হাজার টাকা জিতেছে।

খুব খুশী রহমত কাকার হাতে রামপ্রসাদ বস্ত্রালয়ের একটা প্যাকেট।
ফুলি এসে প্রণাম করলে প্যাকেট টা হাতে দেয় রহমত কাকা।

——খুলে দেখ তো মা।

চোখদুটো চকচকে হয়ে ওঠে ফুলির। কি সুন্দর লাল সাদা ফুলের ছোপ ছোপ একটা ফ্রক! সাথে লাল কিলিপ আর ফিতে। আসিফার দেওয়া।

পুজোর আর কটা দিন এখনো বাকী। হঠাৎ ই
ঢাকের বাদ্যির আওয়াজে ভেসে যায় ফুলির মাটির দাওয়া। শরত আকাশের পেঁজা তুলোয় ফুলি পষ্ট দেখে দুগ্গা ঠাকুর আর তার ছেলেপুলেরা।

লক্ষীর মুখটা আসিফার মতো।

কলমে——#শেলী নন্দী।

মায়ের আর্তনাদ
শ্লোকচক্র

আমরা বড়ই গরীব বাবু, আমরা বড়ই গরীব।
"দিন আনতে পান্তা ফুরায়" আমরা বড়ই গরীব।
বড় মেয়েটা গানের দিদি। পাড়ার দাদার ছেলে,
তুলে নিয়ে গেল যেদিন; ধর্ষণ করবে বলে।
সবার কাছে গেলাম সেদিন, করলাম মেয়ের ভিক্ষা,
অর্ধনগ্ন; নদীর ধারে। মেয়েটা পেলো শিক্ষা।
তখন সবে ভোটের বাজার; কেউ করেনি কিছু।
মেজ মেয়েটাও পালালো; সাথে পাড়ার দাদা বিচ্ছু।
মেজ এখন পতিতালয়ে। সকাল বিকাল খাটায়,
ছোটটাকে করছি মানুষ, দেব পুরুষ ভোগের চিতায়।
একটা কথাই জিজ্ঞাসা গো; ধর্ষককারী দাদা…
তোমার ঘরের মেয়েটা শুনি পড়ছে গাদা গাদা?
তোমার মেয়ে বাইরে গেলে; থাকে যেন সে সুস্থ,
নগ্ন আমার মেয়েই থাকুক। সে যে গরীব অসুস্থ।
"যেমন কর্ম তেমন ফল" ভুল বলেছো তুমি -
নারী জাতি নগ্ন ফসল, পুরুষ বড্ড দামি।।

-শ্লোকচক্র-

অষ্টাদশী মেয়ে বেলা
মিতা দত্ত ঘোষ দস্তিদার

যদিও কোকিল বর্ণা তবুও
একটা অষ্টদশীর যা থাকে-যে টুকু চাওয়ার থাকে
সব ই তো ছিল আমার।
আসলে তুমি তাকিয়েই দেখনি---
লজ্জাবনত চোখে কাঙ্খিত তৃষ্ণায় লজ্জাবতী-
যেখানে হাত বাড়ালেই নুয়ে পড়তাম,
হায় রে ভীরুতা, কপোট ভালোবাসা!
আমার জমি উর্বরতা হারিয়েছে আজ
সজীব ফসলের আশায়-নিষ্ফল কান্নায়
নুয়ে যেতে যেতে বলেছি বারবার....
আমার মেয়ে বেলায়।
.......তখন যা বলতে পারিনি বলব এবার
হাঁপধরা রাতে ক্লান্ত মেয়ে বেলা বলবে এবার....
একটু উষ্ণতা-আবেশ ঘন মদিরতা
কি খুব বেশী চাওয়া???

জ্যোৎস্না মাখা রাতে চকা চকির ভালোবাসায়
কৃষ্ণচুড়ার শাখে বসন্তে পিক কুহুরতায়
অষ্টাদশী মেয়ে বেলা বয়ে গেল নীরবতায়।
একটি একটি করে পাতা খসে যায়.......
গতিহারা ক্ষীণ নদী সাগরে মিশে যায়......
এ পাড়ে কিশরী মেয়ে বেলা
ওপারে হিসাব মেটানোর খেলা
মাঝখানে বৈতরণী শুধু বহে যায়।
.......অষ্টাদশী মেয়েবেলা নি:স্ব নিস্তব্ধতায়।

ক্ষনিকের পাওয়া
মায়া সাহা

ফাগুন তুমি ক্ষনিকের লাগি আবার
কেন ফিরে এসেছ মোর দ্বারে?
জানি সময় হলে তুমি যাবেই আবার ফিরে!
আমি তখন যমুনাতে,
বিরহিনী কলঙ্কিনী একলা বসে ঘাটে।

ফাগুন তুমি কি জান?
তোমার আগমনে আমার বাগানের
শুকিয়ে আসা কুঁড়িতেও ফুটেছিল ফুল।

ফাগুন তুমি কি জান?
তোমার শান্ত মৃদু আগমন
আমায় করেছিল অশান্ত ঝোড়ো হাওয়া।
আমি তখন মেঘময় আকাশের ধ্রুবতারা।
আমি তখন শান্ত নদীতে অশান্ত জোয়ার ।
আমি তখন আবেগের শীর্ষ সীমায়।
দিবারাত্র শয়নে স্বপনে আমাতে জেগেছিল
তোমাকে স্পর্শ করার প্রবল আকাঙ্খা।
আমি তখন বেসামাল পাগলিনী।
সেকথা তোমায় লজ্জায় কখনো
বলতে পারিনি !

অবশেষে তোমার ফিরে যাওয়ার পালা!
আমি তখন ভীষণ অভিমানী।
প্রচণ্ড অভিমানে আমি তখন বাঁধভাঙা বন্যা।
তখন আমার রূপান্তর
চৈত্রের অদম্য ঝোড়োহাওয়া।।

#প্রেম
#অমিতাভ_রায়

শেষ বিকেলের আলো গায়ে মেখে ওরা পরস্পরের হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলো। ওরা মানে তৃষা আর অর্ক। ঝকঝকে তৃষার পাশে যেন অর্ক একটু বেমানান। আসলে তৃষা অভিজাত পরিবারের মেয়ে। অর্ক একেবারেই সাধারণ ঘরের। তাই চেহারায়, পোশাকে দুজন যেন ভিন্ন দুই গ্রহের। তাই অনেকেই ওদের দিকে বিস্মিত চোখে তাকিয়ে দেখে। এটা অবশ্য অর্কের ধারণা। তৃষা অবশ্য এসব নিয়ে ভাবেই না। পাত্তাই দেয় না। কলেজের প্রথম বর্ষেই ওদের আলাপ। ধীরে ধীরে তা প্রেমের রূপ নিয়েছে। সহপাঠীরাও সেটা এতদিনে বুঝে নিয়েছে। পড়াশুনার ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। অর্ক বেশ মেধাবী। প্রথম বর্ষে আর দ্বিতীয় বর্ষে ভালো রেজাল্টও হয়েছে। অন্যদিকে তৃষা পড়াশুনা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয়। ও সবসময়ই হাসিখুশি থাকে। সিনেমা দেখে, বই পড়ে, নিজে স্বপ্ন দেখে-আর অর্ককেও স্বপ্ন দেখায়।

এর মধ্যে তৃষা অর্কর বাড়িতে গেছে। ওর ব্যবহারে দরিদ্র অর্কর মায়ের মন জয় করে নিয়েছে। যদিও অর্কর মা এ চিন্তাও করেছে, ওদের মতো সাধারণ ঘরে এ মেয়ে কি বৌ হয়ে সত্যিই আসবে। না কি, ছেলেকে আঘাত দিয়ে ওর জীবন থেকে কোনো একদিন হারিয়ে যাবে। তৃষার বাড়িতেও গিয়েছে অর্ক। বিরাট অট্টালিকাসম বাড়ি। তৃষার বাবা-মার ব্যবহারে কিছুই বোঝা সম্ভব নয়। তৃষা বন্ধুদের নিয়ে নিজের ঘরে বসে আড্ডা দেয়। তা নিয়ে ওর বাবা-মার মনে কোনো কৌতূহল আছে বলে মনে হয় না।

সেদিন ক্লাস নিতে নিতে স্যার বোঝাচ্ছিলেন, সাহিত্যের জগতে মিলনের মূল্য অনেক কম। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সব সাহিত্যেই বিরহের জয়গাথা প্রাধান্য পেয়েছে। মেঘদূত, বৈষ্ণব পদাবলী থেকে শেষের কবিতা- কোথাও মিলন নেই। ট্র‍্যাজেডি কমেডির থেকে অনেক জনপ্রিয়। আসলে দুঃখের মধ্যেই আনন্দ লুকিয়ে আছে। স্যার বললেন- " গীতিকার লিখেছেন,

" প্রেমে কি সুখ হত।
আমি যারে ভালবাসি
সে যদি ভালবাসিত। "
আবার সেই একই গীতিকার লিখেছেন,

" তবু কেন যে ভালবাসি,
তাহা নিজেই জানি নে।
আমার স্বভাব এই,
তোমা বই আর জানি নে।"

অর্ক বেঞ্চে দু হাত দিয়ে চোখ ঢেকে মাথা গুঁজে আছে। প্রাণপণে চোখের জল আটকাবার চেষ্টা করছে। তৃষা পাশেই বসেছিলো। ও অর্কর পিঠে হাত রাখে। স্যার এদিকে খেয়ালই করেন না। কিংবা, খেয়াল করেও ইচ্ছে করেই অন্যদিকে তাকিয়ে পড়াতে থাকেন। " কবি বলেছেন, ' মিলনে যাহাকে একান্তভাবে কাছে পাই, বিরহে তাহাকে, নিখিল ভুবনে ব্যাপ্ত করিয়া দিই।'"

ক্লাসের পরে এখন ওরা দুজনে শেষ বিকেলের আলোয় পরস্পরের হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। ওরা এমনভাবে হাঁটছে যেন অনন্তকাল ধরে ওরা হেঁটেই যাবে একসাথে। কলেজে ছুটি পড়ে গেলো আজ থেকে। কলেজ খুলেই পরীক্ষা। তারপর এই কলেজের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ। হয়তো বন্ধুদের সঙ্গেও। কেউ যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে - কেউ বা খুঁজবে চাকরি। কিন্তু, তৃষাকে কোনমতেই হারাতে পারবে না অর্ক। " কাঁদছিলি কেন তুই?" তৃষা বলে। " আমি জানি না।" " আমি জানি- তুই আমায় খুব ভালবাসিস না রে?" অর্ক তৃষার হাত আরো শক্ত করে চেপে ধরে। হঠাৎই তখন যেন অকারণ বৃষ্টির ধারা নামলো আকাশ থেকে। ওরা দুজন ভিজতে ভিজতে এগিয়ে যায়। সন্ধ্যার হাত ধরেছে তখন বিকেল। অন্ধকার নামছে।

সংকল্প
- বিদিশা কর্মকার

সুশান্ত বাবু রাশভারী মানুষ |পাড়ায় তার খুবই নাম ডাক,এক দিকে তার আর্থিক প্রতিপত্তি,অন্যদিকে সমাজসেবক হিসাবেও খুব নাম পাড়ায় |সে একটি এন .জি.ওর কর্ণধার |সে এই এন.জি.ওর মাধ্যমে প্রচুর সমাজসেবা মূলক কাজ করে থাকে |কতো দরিদ্র কন্যাকে তিনি পাত্রস্হ করেছেন | কতো দুঃস্হ বিধবা মেয়ের দ্বিতীয় বার বিয়ে দিয়েছেন |কতো পণপ্রথার বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়িয়েছেন,তা গুনে বলা যাবে না | অন্যদিকে স্ত্রী আর একমাত্র ছেলে নিয়ে সুখের সংসার |ছেলেও সরকারী স্কুলে শিক্ষকতা করে |ছেলের বিয়ের জন্যে দুএকটা পাত্রী দেখেছেন ,খুব একটা পছন্দ হয়নি কাউকে |আজ সকালে সুশান্ত বাবু বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন,তখন তার স্ত্রী এসে বললেন "সায়নের(তাদের ছেলে) বন্ধু অরিনের বোনের বিয়ে ,রাতে সবার নিমন্ত্রণ ,যাবে তো"?সুশান্ত বাবু বললেন "নিশ্চয় যাবো" |সায়ন সকাল থেকেই ছিলো বন্ধুর বোনের বিয়েতে |সন্ধ্যা বেলায় সুশান্ত বাবু স্ত্রীকে নিয়ে এলেন বিয়ে বাড়িতে |এসে দেখলেন দারুন গোলোযোগ বিয়ে বাড়িতে,বর আনতে যে গেছিলো সে খালি গাড়ি নিয়ে ফেরৎ এসেছে |ছেলের বাবা বলেছে "মেয়ের বাবা যে এক লাক্ষ টাকা পণ দেবে বলেছিলো সেটা আজ সন্ধ্যা অবধিও দিতে পারেনি তাই এই বিয়ে হবে না" |এদিকে মেয়ে লগ্নভ্রষ্টা হবে এই নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হইহই পড়ে গেলো | মেয়ের বাবা বিয়ে বাড়িতে উপস্হিত দুজনকে বললো যদি তারা তার মেয়েকে বিয়ে করে উদ্ধার করে |তখন সায়ন এগিয়ে বললো কাকু আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করবো |সুশান্ত বাবু চেঁচিয়ে উঠলেন "কি যাতা বলছিস সায়ন তুই"?সায়ন বললো"আমি তোমার সমাজসেবা দেখে নিজে নিজে সংকল্প করেছিলাম সুযোগ পেলে আমি কোনোদিন নিজে এরম কোনো কাজ করবো যাতে তোমার মাথা উঁচু হয় "|শুনে সবাই সুশান্তবাবুর প্রশংসা করতে লাগলো |ইচ্ছা না থাকলেও সুশান্ত বাবুকে নিজের জীবনের সাথে সমাজসেবা টাও মানতে হলো |
#বিদিশা#
#স্বত্ব সংরক্ষিত

#বিভাগ_কবিতা
#আলোর_উৎসব
#সুমন_প্রামাণিক
২৭.১০.২০১৯

ছায়ারা মিশে যায় রাতের অন্ধকারে,
তুমি আমি গা ভাসাই স্রোতে ।
ফুটপাত জুড়ে সাজানো দোকান,
চড়া দামে বিক্রি হয় বিদেশী বাতি ।
আঁধার গলির মাঝেও উৎসব আসে,
জোনাকিরা লুকিয়ে দেখে নগর জীবন ;
হিসাবের খাতা জুড়ে শুধু ক্ষয় ক্ষতি-
ক্রোধের আগুন খুঁজে নেয় প্রশ্রয়!
শেকলে বাঁধা ক্ষত গুলো
নীরবে আর্তনাদ করে চলে,
তবু মন্দির দালানে রঙমশাল জ্বলে!
আকাশে ভেসে চলে সুখের ফানুস।
শেষ বিকেলের আলোটুকু,
এখনো কোনো আঁচলে লেপটে আছে!
দূরে কোন এক গুহায় জ্বলছে জ্ঞানের মশাল।
মন খারাপের ডাকবাক্সে জমা আছে চিঠি ।
সযত্নে লেখা আছে - "দীপ জ্বেলে যাই"।
হার না মানা পথিক
দগ্ধ হয় বেঁচে থাকার প্রয়োজনে,
উৎসব পালিত হয় নিঃশব্দ দহনে।

ভাইফোঁটা
- মায়া সাহা

ভাইফোঁটার এই শুভক্ষণে
ফোঁটা নেয় ভাই দিদির হাতে।
ঘর মাতোয়ারা আনন্দেতে।
পরবে ফোঁটা ভাই কপালেতে,
চন্দন,দই আর কাজলেতে।
পাঁচ রকমের মিষ্টি পাতে।
দিদি দেয় ফোঁটা
ভাইয়ের মঙ্গল কামনাতে।
ভায়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,
যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
ভাই যেন পায় দীর্ঘ জীবন,
মঙ্গল কামনায় ব্রতী প্রতিটি বোন।

মায়াস্বপ্ন

- শেলী নন্দী

এই নিয়ে চারবার স্নান করছে মায়া। আর পারা যাচ্ছে না গরমে। সংসারের কাজ আর নতুন হোম ডেলিভারির ব্যবসাটা দাঁড় করাতে গিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত।
সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে অর্ডার গুলো পেয়ে যায় তাই সুবিধা। মেনু আগেরদিন ই হোয়াট্সাপে পোষ্ট করে দেওয়া হয়। বাজার টাজার করা আর যাবতীয় সাহায্য করে মায়ার স্বামী সমর।

জুটমিলের কাজটা দুম করে চলে গেছিল সমরের। গেলো বছর পুজোর ঠিক আগে আগে। বাড়ী ভাড়া,সংসার খরচ মাসোহারা মাইনের গোনা টাকা থেকেই যেতো। গচ্ছিতের চেহারাও বেশ মলিন।

মায়ার দুগাছা চুড়ি আর বিয়ের হাত কান গলার গয়না ছাড়া আর কিছুই তেমন ছিল না। বাপের বাড়ীর অবস্থাও টলমল। নিম্ন মধ্যবিত্তের সংসারে আকাশ ভেঙে মাটিতে তখন।

রাতের পর রাত কাটতো ঘুমহীন অবস্থায়। বিয়ের চারবছর গড়াতে না গড়াতেই মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়া।
—কিছু একটা ভাবতেই হবে। বাড়ীওয়ালা এই নিয়ে তিনদিন এসে ফিরে গেলো।
—হুমমম। কাল একবার বেলেঘাটা যাবো রথীন দার ওখানে যদি একটা কাজ টাজ পাওয়া যায় বলে কয়ে।
—আমিও কিছু শুরু করবো দাঁড়াও। আচ্ছা মাধ্যমিকে ইংলিশ এ ব্যাকেরা কোনো চাকরী পায়?
—এল এ এম এ হয়ে চাকরী জুটছেনা আর!
---পুঁজিও তো তেমন নেই যে একটা ব্যবসা শুরু করবো?
—একটা মাস কোনো রকমে চালাও এর মধ্যে একটা কিছু হয়ে যাবে আমার।

নাঃ দুমাসে একটাও নতুন কাজ জোগাড় করতে পেরেছিল না সমর। বাড়ীওয়ালা ভদ্রলোক ভদ্রভাবেই থাকতে দিয়েছিল ভাড়া চায়নি আর।

শুধু একদিন কলপাড়ে অন্ধকারে মায়ার হাত ধরে একটু অন্যায় আবদার করে ফেলেছিল। প্রস্তাবটি ছিল খারাপ না। অভাবকে বুকে চেপে মায়ার পা পিছলায়নি সেদিন। সারারাত কাটিয়েছিল দাঁতে দাঁত চেপে। সমরকে বলে নি কিচ্ছুটি।

সকাল হতেই মাসতুতো দিদির বাড়ী রওনা দিল মায়া। কেষ্টপুরে একটা টেলারিং এর দোকানে কাজ করে তার দিদি। ধরে টরে একটা কাজ পেয়ে যায়। হেম সেলাই আর আয়রণ করার। দিন রাত এক করে পনের দিনেই জোগাড় করে ফেলে একমাসের ভাড়ার টাকা।

সমর ও একটা মুদীখানার দোকানে ঢুকে যায় অল্প টাকার মাইনেতে।
সংসারের পালে হাওয়া লাগে। বাড়ীওয়ালার যাতায়াত পাতলা হতে থাকে। অন্ধকার কলপাড়কে ভয় পায় না মায়া তবুও ওরা চলে আসে অপেক্ষাকৃত সস্তার নতুন ভাড়াবাড়ীতে।

একটু ভেতরের দিক বলে কম ভাড়া। দোতলায় দুটো ঘর। একফালি বারান্দা আর পাশে একটুকরো ছাদ। নীচটায় বিধবা বাড়ীওয়ালি জেঠিমা।বেশ পরিপাটি আর নিরিবিলি পাড়া।

সকাল বেলায় জেঠিমার ঘর থেকে একটা মিষ্টি ধূপকাঠির গন্ধ বেয়ে আসে দোতলায়। রান্নাঘরের কাজ সকাল সকাল সেরে মায়া সেলাই নিয়ে বসে। গন্ধটায় মা এর কথা মনে পড়ে যায়। বিয়ের অনেক আগেই মা মারা গিয়েছেন। সন্ধ্যাবেলা তুলসীতলায় মা এমনই একটা ধূপ জ্বালতেন। নকুলদানা নিয়ে কাড়াকাড়ি করতো মায়া তার বোনের সাথে।

দুপুর গড়িয়ে যায়। মায়ার হাত শিথিল হয়ে আসে। দুটো খেয়ে নিয়ে চোখটা বোজে সামান্য। তারপর আবার বিকেল বেলা মাল দিতে যেতে হয়।
—মায়া আছো?
—জেঠিমা আসুন আসুন।
—আরে আর বোলো না আমার গ্যাস ফুরিয়ে গিয়েছে হঠাৎ। পায়ের ব্যথাটাও খুব বেড়েছে। তোমার এখানে এই আধ সেদ্ধ ভাতটা ফুটিয়ে নিতাম।
—হ্যাঁ জেঠিমা আমায় দিন হাঁড়িটা। আমি হয়ে গেলে নীচে নিয়ে যাচ্ছি।

দুপুরের আগেই মায়া একটা বাটিতে কচুর শাক,লাউ এর ডাল আর সোয়াবিনের তরকারী নিয়ে জেঠিমাকে দেয়।
—ওমা একি কান্ড। আমি এত কিছু চেয়েছি মায়া?
—তো কি আমি একদিন খাওয়াতে পারি না আপনাকে?

সেদিনের পর থেকে জেঠিমা আর রান্না করেনি। মায়ার রান্নার জাদুতে এক্কেবারে মুগ্ধ তিনি।
—সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা তো! একটা কথা রাখবে আমার?
—বলুন না।
—আজ থেকে আমার খাবার দায়িত্ব তোমার। মানে তুমি আমায় রেঁধে খাওয়াবে আর আমি বসে বসে খাবো।
—জেঠিমার রসিকতায় মায়ারো ভারি ভালো লাগে। মাসে জেঠিমা একটা থোক টাকা দিয়ে দেয় মায়ার সংসারে। বিনিময়ে দুবেলা তৃপ্তি করে খায় সে।

সমর-মায়ার নড়বড়ে সংসারে এক চিলতে রোদ এসে আলো ফেলে। সময়ের স্রোতে জীবন আবার ভাসতে থাকে সুখ দুঃখ নিয়ে। একলা জেঠিমার জীবনের অনেকটা জুড়ে এখন মায়া। মায়ার ও জেঠিমার সংসর্গ ভাললাগে। ভাললাগে বুড়ী মানুষটা যখন চেটেপুটে খায় তার তৈরী রান্নাগুলো। মাসোহারা টাকাটা খরচের তুলনায় যথেষ্ট বেশী দেয় জেঠিমা।
পরিতৃপ্তি চুঁইয়ে পড়ে দুই সংসারেই।

জেঠিমার সাথে এদিক ওদিক মাঝে মাঝে যায় মায়া। বাড়ীর সামনেই টোটৌ এসে দাঁড়ায়। ব্যাংক বা পোষ্ট অফিসের কাজ থাকলে মায়ার ডাক পড়ে। সেদিনগুলো খুব ভাল কাটে মায়ার। ফেরার পথে এটা সেটা কেনেন জেঠিমা। মায়াকেও দিয়ে থাকেন এটা সেটা। পাড়ার মোড়ে সদ্যোজাত মোর এ যেতে মায়ার খুব ভাল লাগে।

থরেথরে সাজানো জিনিস ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভেতরটা। যা ইচ্ছে খুশীমতো সব কেনা যায়। জেঠিমা ওখান থেকেই আজকাল বাজার করে। মায়ার ঘরেও জমতে থাকে অনেক কিছু। জমতে থাকে স্বপ্ন আর সুন্দর একটা নির্ভেজাল সুখ সুখ আবহ।

—আচ্ছা শোন রান্না করে কোন ব্যবসা করা যায় না?
সমরকে খেতে দিয়ে ঘরদোর পরিষ্কার করছিল মায়া।
—ব্যাবসা বলতে?
—মানে আরেকটু বড় কিছু। জেঠিমা যেমন টাকা দিয়ে খাচ্ছে তেমন যদি আরো কেউ খেতো আর কি।
—হুমম হোম ডেলিভারি টাইপ করাই যায়। কিন্তু এপাড়ায় আমরা নতুন। কেমন চলবে কে জানে?

এরপর মায়ার ছোট্ট স্বপ্ন-কুঁড়ি ফুটতে থাকে। জেঠিমাও তার ইচ্ছের সাথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আশেপাশের আবাসনগুলো থেকে ফোন নাম্বার জোগাড় করে অধিবাসীদের আর টুকটাক শুরু হয় হোম ডেলিভারির ব্যবসাটা।

গুটিগুটি পায়ে পথ চলা শুরু হয়। ভেজ থালি ফিশ থালি বেশ রেসপন্স পায় ইতিমধ্যেই। সেলাই এর কাজটা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসাটাকেই শক্তপোক্ত করতে পরিশ্রম ঢালে মায়া। প্রচার বাড়তে থাকে বাড়তে থাকে এক অল্প-শিক্ষিত গৃহবধূর নিষ্ঠা মেশানো অদম্য লক্ষ্য।

আধুনিকতার হাত ধরে রঙীন স্বপ্ন ডানা মেলে আকাশে। কয়েক মাসের মধ্যেই জন্ম নেয় মায়াজ্ কিচেন।

এরমধ্যে মায়া একটা স্মার্টফোন কিনেছে। সমর মুদির দোকানের কাজটা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। মায়াকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে জেঠিমাও। নীচের বড় রান্নাঘরটায় মায়া রান্না করে। দিনে ভাত মাছ তরকারী। এক একদিন এক এক রকম।রাতের দিকে রুটি আর তরকা। রমরমিয়ে ব্যবসাটা বাড়ছে। স্নান সেরে ফ্যানের তলায় চুল শুকোচ্ছে মায়া।
—কি গো আর দু তিন জনের জোগাড় হল?
—হ্যাঁ হ্যাঁ কাল আসবে। কথা বলে নিও। মাইনে টাইনেও।
—হুমম। ছোট খাটো পার্টির অর্ডার নেবো এরপর থেকে। আজই হোয়াট্সাপে পোষ্ট করে দিও।
গরমেও ঘরটায় একটা মৃদু হাওয়া বইছে। দক্ষিনের খোলা জানলা বেয়ে গন্ধরাজ ফুলগুলো গন্ধ বিলিয়ে দিচ্ছে ফ্রি তে।

#শেলী_নন্দী

#আঁধারে_আলো
#সুচন্দ্রা_চক্রবর্তী

কৃষ্ণার মাঝেমাঝেই মনে হয়,
সে জন্মে ক্ষমাহীন অপরাধ করে ফেলেছে,
একে মেয়ে,তায় কৃষ্ণবর্ণা!
তার দিদি অবশ্য এমনটি নয়,
দিদির চামড়া ধবধবে,তাই ঠাকুমা ভালোবেসে নাম দিল গৌরী,
যতই ফর্সা সুন্দরী হোক গৌরী,তবু মেয়ে তো?
একটা ছেলে না হলে এত সম্পত্তি সামলাবে কে?
দ্বিতীয়বার যখন গৌরীর মা গর্ভবতী হল,
সকলে ভাবল এবার গোপাল আসবে বুঝি,
কিন্তু সকলকে হতাশ করে জন্ম নিল কৃষ্ণা,
একে মেয়ে,তায় কালো!মাথায় হাত পড়ল বাপ-ঠাকুর্দা-ঠাকুমার,
এমনকি অভাগীর মাও ভ্রূ কুঁচকালো,
বাড়িতে বড় মাছের টুকরোটা,পার্বণের সময় দামী জামাটা গৌরীর ভাগে পড়ল,
বাড়ির এহেন বৈষম্যে গৌরীও তাচ্ছিল্যের নজরে দেখতে লাগল বোনকে,
বয়স যতই বাড়তে লাগল,কৃষ্ণার মেধার কুঁড়ি ততই ফুল হয়ে ফুটতে লাগল,
গৌরী কোনোরকমে কলেজ পাশ করে পালিয়ে বিয়ে করল,
অন্যদিকে কৃষ্ণা পা বাড়াল উচ্চশিক্ষার পথে,
মেয়ের মেধা দেখে বাপ-ঠাকুর্দার মন কিছুটা গলল বটে,
তবু মহিলামহল তাকে তাচ্ছিল্যের চোখেই দেখতে লাগল,
কি হবে মেয়েমানুষের অত পড়ে?অমন মেয়েকে বিয়ে করবে কোন্ পাত্র শুনি?
গৌরীর প্রতি সদয় মা-ঠাকুমার অনুরোধে বাপ ফিরিয়ে আনল মেয়ে আর নেশাখোর জামাইকে,
ঘর জামাই করে রাখা হল তাকে,
কৃষ্ণা এক নামকরা কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ পেল,
ততদিনে তার জন্য পাত্র খোঁজা শুরু হয়েছে,
তাদের বাবা এক পাত্র খুঁজে নিয়ে এলেন,সেও বড় চাকুরে,নাম রণিত,
রণিতের আগে এক প্রেমিকা ছিল প্রমিতা,
সে রণিতকে ভালোবাসি ভালোবাসি বলেও বিয়ের আগের দিন অন্য একজনের সাথে পালিয়েছিল,
কৃষ্ণাকে পেয়ে আগেরবারের ক্ষত অনেকটাই সেরে উঠেছিল তার,
তবু সন্দেহবাতিক মানসিকতা বড় ভয়ঙ্কর,
কৃষ্ণাকে ভালোবাসলেও সন্দেহ হত মাঝে মাঝেই তার ওপর,
ভাবত যদি প্রমিতার মতো সেও ঠকায় কোনোদিন তাকে!
কোনো দিন কাজের চাপে অফিস থেকে ফিরতে রাত হলেই রণিত শুরু করত চিৎকার চেঁচামেচি,
মাঝেমাঝেই রণিতের এমন অত্যাচারে পাগল হয়ে উঠত সে,
তবু বাপেরবাড়িতে তো মুখ খোলার যো নেই,
কারণ কৃষ্ণার বাপেরবাড়ির মতে,যে অমন কালো মেয়েকে বিয়ে করে সে অনেক বড় মনের,
তাই রণিতের কোনো দোষই থাকতে পারেনা বলে ভাবেন তারা,
দোষ যদি হয়ও তা হল কৃষ্ণার মানিয়ে নেওয়ার অক্ষমতা,
তবে অফিসে এক কলিগ কুনাল ছিল কৃষ্ণার খুব ভালো বন্ধু,
তাই দুঃখের কথা সে রণিতের চেয়ে বেশি কুনালের সাথে শেয়ার করত,
দিনটা ছিল দীপাবলির আগের দিন,
কাজের চাপে অফিস থেকে বেরোতে প্রায় সাড়ে দশটা বেজে গেল কৃষ্ণার,
হঠাৎই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হল,
অটোও পাচ্ছিল না সে বৃষ্টির মধ্যে,
হঠাৎ কুনাল তার গাড়িটা নিয়ে এসে বলল,চলো আমি তোমায় পৌঁছে দিই,
কৃষ্ণা প্রথমে আপত্তি করলেও পরে সে রাজি হয়,
কৃষ্ণাকে অন্য একটি ছেলের সাথে ফিরতে দেখে রণিতের সন্দেহ চরমে পৌঁছায়,
কুনাল চলে যাওয়ার পরেই রণিত কৃষ্ণাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে,
— 'এত রাতে আমি কোথায় যাব রণিত?আর কি অন্যায় করেছি যে তুমি এমন ব্যবহার করছ?'
— 'কেন জানো না?কুনালের সাথে যে পরকীয়া চলছে তা কি আমি জানিনা ভাবো?'
— 'রণিত!'চরম ঘৃণায় তার গালে চড় মারে কৃষ্ণা,
কোনোরকমে ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে রওনা দেয় সে বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে,
কিন্তু পৃথিবীর বুকে সে সন্তান বড় অভাগা যে তার মা বাবাকে পাশে পায়না সংকট কালে,
তাই বাড়ির সকলের কাছে কথার শরে বিদ্ধ হল সে,
রণিতের সন্দেহকে সত্যি বিশ্বাস করে তাঁরা কাদা ছুড়লেন কৃষ্ণার দিকেই,
লজ্জায় ঘেন্নায় কালো মেয়ে ছুটে চলল গঙ্গার ঘাটের দিকে,
এমন কলঙ্কিত জীবন সে আর রাখবে না,
এক পা এক পা করে নামতে লাগল সিঁড়ি বেয়ে,
আস্তে আস্তে জল তার হাঁটু,কোমর,শেষে গলা পর্যন্ত গ্রাস করে নিল,
মুখ,নাক,চোখও আস্তে আস্তে জলের নীচে চলে গেল,
এরপর আর কিছু মনে নেই তার,
হঠাৎ এক আলো আঁধার ঘরে জ্ঞান ফিরল তার,
ঘরটা অন্ধকার, আর চারিদিকে প্রদীপ জ্বলছে,
তাড়াতাড়ি বিছানায় উঠে বসল সে,
তবে কি মৃত্যুর পরের জগতটা এমনই?
শান্ত,স্নিগ্ধ,নিবিড়?
হঠাৎ কুনালের প্রবেশ ঘরে,
— 'তুমি এখানে?'
— 'আত্মহত্যা করা কি অতই সোজা ম্যাডাম?'
— 'তুমি আমায়...'
— 'হ্যাঁ আমি তোমায় বাঁচিয়েছি,তোমার জীবনের যত অন্ধকার সবটা গঙ্গায় বিসর্জন হয়ে গেছে।'
— 'কিন্তু....'
— 'দীপাবলি কাল,প্রদীপের আলোর মতো তুমিও আলো নিয়ে এসো আমার ঘরে কৃষ্ণা,আসবে তো?'
কৃষ্ণার হাসিমুখ সায় দেয় কুনালকে।

চিরন্তন
-শ্রাবণী ব্যানার্জী

জীবনের বহমান ধারার মত
চলছিল আমার প্রেমের ধারা
কিন্তু বাড়ানো হাত প্রত্যাখাত হয়ে
বিচ্ছিন্ন জীবনের আঘাত
দিচ্ছে আমায় নাড়া।
তবুও ফল্গুধারার মত প্রেমের স্রোত
বইছে মোর মনে।
আজ সন্ধ্যায় কার্তিকের অসময় বারিষে
হঠাৎ বেজে উঠল মুঠোফোন
ধরে দেখি
সেই প্রত্যাশিত আহ্বানের ডাক
বুঝে গেলাম তুই চিরন্তন
আছিস আমার সনে।

27/10/2019

অপেক্ষায় রইলাম
কলমে - সুকান্ত দাস

দেহের গ্লানি মিশিয়ে দিয়েছি মূর্তি গড়ার ছাঁচে
আকাশের বুকে মানুষের অকাল মৃত্যুর রেষারেষি
উপাসনা চলছে

আমি গাছের ডালে পৃথিবী নাড়িয়ে দিলাম
হাঁটুর নীচে ঘর বেঁধেছি

একটা ফাঁকা চিঠি পাঠিয়ে দাও নিরুদ্দেশে
আমার ঠিকানা পেয়ে যাবে
দেখবে একটা মূর্তি ধ্যানমগ্ন তোমারই অপেক্ষায় অনন্তকাল

আমি হাঁসের মতো গা ঝাঁকাই গভীর সমুদ্রে
একটা দিনের অপেক্ষা
একটা জোনাকি রাতের অপেক্ষা

হিংসার জ্বালানী জ্বলছে
অন্ধকার , ভীষণ অন্ধকার
তোমার আমার যোগযোগের ব্রিজটা ঝনঝন করে ভেঙ্গে গেলো
আমার মাথার উপর দিয়ে একটা দিন ছুটে গেলো কয়েক সেকেন্ডে

বহুযুগ আগে ঘাসগুলো শিশিরের জ্বলে স্নান সেরে খেতে বসেছে
চোখের কোনে পড়েছে কালের দাগ

অনেকদিন গুমোই নি
টেলি ফোনের বুথের ভিতরে একটা পাহাড় অটল
বুকের ভেতর টা আকাশচুম্বী ফানুস

তোমার ব্যর্থ তীর টা আমার বগলের ফাঁক দিয়ে গিয়ে
একটা যুদ্ধের সৃষ্টি করেছে
কেউ থামায়নি
কেউ থামতে পারবেও না

নীল মদের গ্লাসটা ভাড়াক্রান্ত
আমি অপেক্ষায় রইলাম ..॥
---------------------------------------
26/10/19(০৮কার্তিক ১৪২৬)

নারী মানে
- জুলফিকার আলী

নারী মানে রাঁধুনি নয়
নারী মানে শক্তি ,
আর নয় নারীকে অবহেলা
করতে শিখুন ভক্তি।

নারীরা শুধু ঘরে নয়
কর্ম ক্ষেত্রে দক্ষ,
পুরুষের চেয়ে এগিয়ে নারী
সবকাজেই পরিপক্ক ‌।

নারী মাতা নারী ভগ্নি
নারী সবার উপরে ,
নারী জোগায় পুরুষের শক্তি
নানান স্বরূপ ধরে।

নারী নির্যাতন চাইনা আর
চাইনা অবহেলা,
নারী দেবী নারী কন্যা
পূজা সারাবেলা।

ছড়াকার,গীতিকবি।

বৃষ্টি মুখর শহর
-পিয়ালী পাল

বৃষ্টি মুখর, জলছবির শহর
মনখারাপিয়া ঝড়ে,
আমিও রোজ একলা ভীষণ
পুড়ে মরি তোর জ্বরে.
সুখ গুলো হয় সস্তা বড়োই
বিকোই জলের দরে.
এমনই এক বিষণ্ন দিনে
আমায় কি মনে পড়ে?
তুই ছাড়া মন শূন্য যখন
আবেগ গুলো সাজিয়ে তখন
এক এক করে ছন্নছাড়া,
কবিতা সৃষ্টি করে।
অনিচ্ছাতেও বুকের ভিতর,
তুফানে যায় ভরে।।

শুঁটকি মাছের পুষ্টিগুণ,

--- ডাঃ ফারহানা মোবিন,
বারডেম হসপিটাল

রুচিবর্ধক খাবারগুলোর মধ্যে শুঁটকি মাছ অন্যতম।

এই মাছ গুলোকে কাঁচা অবস্থায় লবণ মাখিয়ে কড়া রোদে শুকানো হয় (বড় ও অধিকাংশ মাছের বর্জ্য অংশগুলো ফেলে দেওয়া হয়)। তাই মাছের দেহের পানি বা তরল অংশ শুকিয়ে যায়। ফলে এই মাছে কোনো জীবাণু জন্মাতে পারে না। তবে শুঁটকি মাছ কৌটায় বন্দী বা স্যাঁতসেঁতে স্থানে রাখলে ফাঙাস পড়ে যায়।

প্রচুর পরিমাণে রৌদ্রে শুকানো হয় এই মাছ। তাই এতে ভিটামিন ‘ডি’র (সূর্যের আলোতে থাকে ভিটামিন ‘ডি’) পরিমাণ রয়েছে পর্যাপ্ত অনুপাতে।

ভিটামিন ‘ডি’ হাড়, দাঁত, নখের গঠন মজবুত করার জন্য যথেষ্ট জরুরি।

শরীরে ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে ছোটদের রিকেটস নামের হাড়ের অসুখ হয়। রিকেটস হলে শিশুদের লম্বা হাড়ের গঠনে দুর্বলতা ও সমস্যা থাকে। হাড় হয়ে যায় ভঙ্গুর।

এই একই সমস্যা বড়দেরও হয়। বড়দের ক্ষেত্রে একে আমরা বলি অস্টিও ম্যালাসিয়া।

এই অসুখগুলো দূর করতে শুঁটকি মাছের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরের জন্য উপকারী অনেক রকম খনিজ লবণ রয়েছে এই মাছে। খনিজ লবণ আমাদের রক্তশূন্যতা দূর করে, দাঁতের মাড়িকে করে দৃঢ়। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার আমিষ বা প্রোটিন ও কোলেস্টেরল। যাঁরা কঠোর দৈহিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের জন্য এটি যোগ্য খাবার। আর যাঁরা বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত মোটা, রক্তে লিপিড বা কোলেস্টেরলের ( fat) মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, তাঁরা শুঁটকি মাছ কম খাবেন।

বাড়ন্ত শিশুদের জন্য ভীষণ উপকারী। তবে সবাই হজম করতে পারে না। আপনার শিশুর হজমশক্তি বুঝে, প্রথমে অল্প করে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন।

সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত শুঁটকি মাছ খায় এমন ব্যক্তিদের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর, যক্ষ্মা এই অসুখগুলো সহজে হয় না।

তবে অতিরিক্ত ধূমপান বা যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য যক্ষ্মার জন্য সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

কিডনি, পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর, ইনফেকশনসহ যেকোনো জটিলতার জন্য শুঁটকি মাছ বাদ দিন।

কারণ, এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন।

লিভার, কিডনি, পিত্তথলিতে সমস্যা থাকলে শুঁটকি মাছের উচ্চমাত্রার প্রোটিন হয়ে যাবে দেহের জন্য হুমকিস্বরূপ।

কারণ এই অঙ্গগুলো দুর্বল হলে এরা উচ্চমাত্রার প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে না।

জন্ডিস, লিভার সিরোসিস, ফ্যাটি লিভারের রোগীরাও এই মাছ বাদ দিন। গর্ভস্থ ও মাতৃদুগ্ধদানকারী মা, বাড়ন্ত শিশু, খেলোয়াড়, নৃত্যশিল্পী, ব্যায়ামবিদ, সাঁতারু এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য শুঁটকি মাছ যথেষ্ট উপকারী।
এতে আয়রন, আয়োডিনের মাত্রা বেশি থাকার জন্য দেহে রক্ত বাড়ায়, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে শক্তিশালী, শরীরের হরমোনজনিত সমস্যাকে রাখে দূরে।

শুঁটকি মাছ দেহে লবণের ঘাটতিও পূরণ করে। তাই দূর হয় দুর্বলতা। কিন্তু এই মাছ উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ার জন্য হৃদরোগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বর্জনীয়।

তবে এই অসুখ গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে, অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

শুঁটকি মাছে অনেক ধরনের খনিজ লবণ থাকে। তাই কিডনির জটিলতায় ভুগছেন, এই ধরনের রোগীরা চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া এই মাছ খাবেন না।

পড়ন্ত বিকেলে
- প্রতাপ মণ্ডল

বারান্দায় বসে আছো তুমি পড়ন্ত বিকেলে--
বেলাশেষে একলা বসে বসে ভেবেই চলেছো
কি চেয়েছিলে আর আজ কি ফিরে পেলে !
মনে হয় এইতো সেদিনের কথা---
সেই পুতুল খেলা, সেই চু... কিত্... কিত্...
হার মানা হার পড়তে চাই'না গলায়
সবেতেই চাই তোমার শুধু জিৎ আর জিৎ..

তারপর বিয়ে করে সমাজ সংসার
ভাবলে সব পেয়েছি, কি চাই আর?
তারপর দেখলে চাওয়াটা আসলে দশাননের মতো,
একটাকে বাদ দিলে আর একটা গজায় অবিরত।
সবার চাওয়ার কাছে চাপা পড়ে গেলো নিজের চাওয়া
সবার চাহিদার কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে যাওয়া,
আজ সবাই রণপা পড়ে দৌড়ে দৌড়ে যায়
তুমিই শুধু রইলে একা পিছনে হায়.... !

সবাই ব্যস্ত, খুব ব্যস্ত, কে আর কথা বলে !
যে যার ইচ্ছেমতো নিজের পথে চলে...
তুমি থাকলেও ভালো, না থাকলেই বা কি যায় আসে
খাতায় কলমে তোমাকে সবাই খুব ভালোবাসে !
ভাবছো, অনেক হয়েছে এবার অস্ত গেলেই হয় !
সবাই থাক বেঁচে বর্তে, সবার হোক জয়....।

কিন্তু না, অস্ত যাবে না, তুমি আজও জ্বলন্ত রবি
সূর্য আসলে অস্ত যায় না, অস্ত যায় জগতের জলছবি।
তুমি আজও আছো মধ্যগগনে, আজও সদা অনির্বাণ
নশ্বর দেহ হয়তো চলে যায়, বেঁচে থাকে মহাপ্রাণ.....

গণ সমুদ্রচোখ
আমাকে পাহারা দেয়
- টিপু সুলতান

এখানে মোটা জীবিতকাল জং ধরতে ধরতে
পৃথিবীর সুন্দর থেকে বেদনার গল্প জমে-
মস্তিষ্ক ভরা মুঠোমুঠো নরম জলে গড়ায় আমার চোখ

জলাঞ্জলি গাঁথুনির ভেত
 সদ্যভাষায় ছোপছোপ কথা বলে
সহস্রাধিক গভীর নিয়ম,কচ্ছপ গতির নাগরিক প্রেম;
আমি দেখি,প্রজাপতির মতো রাজনন্দিনী
নীল অপরাজিতার পরিভ্রমণ-ঋতুবনে,
ধূসরপথে শতছিন্ন জমযের নাম
সমস্ত কবরস্থান হয়ে ঘাসেরা স্কুলে যায়।
নিষিদ্ধ দরজার উপেক্ষা শেষে
ঠাণ্ডা বাতাস,অখণ্ড অবসর,জলপাই রঙের উদ্ভিদ উঠান,
বলো এ সাক্ষীতে কী চুপ থাক যায়?
গণভোট বিস্ময়ের;এ গণভোট নিষিদ্ধ প্রেম ভাঙার
কমলা লেবু রঙ ধানেধানে,
গণ সমুদ্রচোখ আমাকে পাহারা দেয়।

মুখস্ত ভালো থাকা
- অনিতা পান্ডে

মুখস্ত উপাদেয় "ভালো আছি"
আপন ঘরে আমি একাকী।
দিনান্তে হিসাব মিলিয়ে দেখি-
অবশিষ্ট ঘরে শূন্য আঁকি।
ভালো থাকার ব্যাঞ্জন রাঁধতে রাঁধতে মুখরোচক না হলেও করলা তিতা মুখে আঁটি।
জীবন সংবিধান জগদ্দল পাথরে মত ঠাঁয় দাঁড়িয়ে সময়ের নাড়ে কাঠি।
দুঃখেরা বয়সী হতে হতে জীবন হয় মাটি।
বাস্তবতার পরাকাষ্ঠে কষ্টগুলো হয়ে ভাবনাগুলো হয় নিরেট খাঁটি।
এই তো বেঁচে থাকা।
সহজ কথা টেনে এনে ভালো না থাকলেও মুখস্ত ভালো থাকা।

নগন্য
-পিয়ালী পাল

গালিভারের মতো পাহাড় প্রমান
অস্তিত্ব তোমার।
আমি নেহাতই সেখানে লিলিপুট !
তুমি বাজিমাত করো ছক্কা দানে
আমার সম্বল শুধু পুট !
তুমি আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে
তাই হয়তো পিছনে তাকাতে পাও ভয়
থামতে গেলে যদি, পিছিয়ে পড়তে হয়?
ভয় নেই তোমায় পিছু ডাকবোনা
লড়াই টা আমার একার ;
তোমায় আটকে রাখবোনা।
শুধু যদি ক্লান্ত দিনে কখনো মনে পড়ে যায়,
দেখবে আমি আছি শুধু তোমারই অপেক্ষায়।

বন্ধ কর করতেই হবে দূর্নীতিকে রুখতেই হবে

আনিছুর রহমান

নবজাতকের রন্দে-রন্দে
দূর্নীতি ডুকছে শিক্ষা অঙন থেকে
বন্ধ কর করতেই হবে দূর্নীতিকে রুখতেই হবে..//

একটি শিশু হয় কাঁদা মাটির সমান
যেমন পাত্রে রাখি
ঠিক অনুরুপ হয় অবিকল
তা-ই আসুন সকলে ভেদাভেদ ভুলে
আগামী দিনের সম্পদ গড়বো এক সাথে
বন্ধ কর করতেই হবে দূর্নীতিকে রুখতেই হবে.....

নিশপাপ শিশু জন্ম নিলে
এ-ই ব্যাস্ত শহরে যায় হারিয়ে
দূর্নীতি অনিয়ম যত আছে দেখে শিখে
এভাবেই একদিন দূর্নীতি করে
বন্ধ কর করতেই হবে দূর্নীতিকে রুখতেই হবে.....

তা-ই দূর্নীতি বনধের সমাধান হবে
বাংলা সকল শিশুকে ফেরাতে
আসুন শিশুদের সুশিক্ষিত করি
সবাই মিলে সোনার বাংলা গড়ি
বন্ধ কর করতেই হবে দূর্নীতিকে রুখতেই হবে..//

নবজাতকের রন্দে-রন্দে
দূর্নীতি ডুকছে শিক্ষা অঙন থেকে
বন্ধ কর করতেই হবে দূর্নীতিকে রুখতেই হবে..//

নিঃসঙ্গতা
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

নিয়ন আলোয় ভরা এই শহরে ;
হাজারো বাতির আলোক ঝলকানিতে আঁধার মুছে গেছে ,
অথচ আমি আঁধারে হেঁটে চলি একাকী নীরবে ।
লোকসমাগমে পূর্ণ এই শহরে ;
কত শত মানুষ হেঁটে চলে যায় আমার শরীরের পাশ দিয়ে ,
অথচ আমি একাই হাটছি শহরের কোল ঘেঁষে ।
সময়ও নিয়ম করেই চলে যায় ;
কতো শত শতাব্দীকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায় ,
তবু আমি আজ একাই হাঁটি শহরের বারান্দায়।
একা বেরে ওঠা মায়ের জঠরে ;
একাই ভূমিষ্ট হয়ে একাই কর্তব্য পালন সারা পৃথিবী জুড়ে ,
আবার একাই চলে যাওয়া পৃথিবীটাকে ছেড়ে ।

জীবন তরী

কিরণ দাশগুপ্ত

বাইতে বাইতে জীবন তরী পৌছে গেল পারাপারের ঘাটে ।
দিনের শেষের সুর্য্য এবার অস্ত হবে পশ্চিমেরই পাটে ।।
বাইতে তরী নদীর বুকে সইতে হল হরেক রকম ঝড় তুফানের ঢেউ।
তীরে নেমে যাত্রীরা আর এসব কথা রাখবেনা মনে দুদিন বইতো কেউ ।।
গহন আধাঁর আসবে নেমে কেটেও যাবে সুর্য্য আবার দেখা দেবে ভোরে ।
আমার তরী স্মৃতি হয়ে থাকবে পড়ে নদীর তীরে একটা ছোট খুটোঁ বাধা ডোরে ।।

জীবনের পান্ডুলিপি
- কিরণ দাশগুপ্ত

যেদিন ভুমিষ্ঠ হোলাম এই ধরাধামে ,
সেদিনই বিধাতা মোর ঠিক করে রেখেছিল আমার ভবিষ্যগাথা আমারই নামে ।
বৈশাখের কিশলয় ধিরে ধিরে
চৈত্রের জীর্ন আর শুষ্ক পত্রে পরিনত হয় ।
এরই মাঝে বেড়ে ওঠা ভাল মন্দ সাথে নিয়ে তৈরী নিজ পরিচয় ।।
কভু শান্ত নদী তীরে জলরাশির কলতানে শীতল পবন ষ্পর্শ লাগে ।
আবার কখনও যেন উত্তাল সমুদ্র ঢেউ বজ্রকন্ঠে নাম ধরে ডাকে।।
অতল সমুদ্র থেকে নানা রত্ন খুজে খুজে গেঁথেছিনু আপনার পরিচয় হার ।
একটি একটি করে সেই গাঁথা জড় করে তৈরি হল পান্ডুলিপির আকার ।।
নদীর তরঙ্গের ন্যায় গল্প গাঁথা অভিনয় একে একে হল সারিবদ্ধ।
সুখদুখঃ কান্না হাসি আনন্দ বেদনা রাশি সবই এতে হল লিপিবদ্ধ ।।


দুর্গা পূজার সেলফি প্রতিযোগিতায় শাশ্বতী চ্যাটার্জীর ছবিটি মনোনীত হয়েছে আমাদের নবদিবাকর পত্রিকার জন্য।আপনার জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল।আগামীদিনেও আপনাকে এই ভাবে পাশে চাই।

গল্প
সম্পর্কের বেড়াজালে
এ কেমন সম্পর্ক ??? রিন্টু পাল

মালবিকা অনিন্দ্যের দেখাশোনা করেই বিয়ে হয়েছিল তাদের । মালবিকা তখন সবেমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে, ভালো ছেলে পেয়ে মালবিকার পরিবার অনিন্দ্য সাথে বিয়ে ঠিক করে মালবিকার। অনিন্দ্য ছিল বড়লোক , একজন সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর ছেলে । মালবিকা ছিল মধ্যবিত্ত , মালবিকা বাবা ছিল একজন ছোট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী । কোনরকম ভাবে তাদের দিন কাটতো । বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল তারা , সালটা ছিল 27 নভেম্বর 2006......,,। বাঙালির সব নিয়ম নীতি মেনেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় ,,,,পরের দিন বৌভাতের অনুষ্ঠান প্রায় শেষের পথে আর হবে নাই বা কেন, অথিতি আনাগোনার সাথে ঘড়ির কাঁটা তো আর চুপ করে বসে নেই, সে নিজের গতিতে চলছে, বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষ করে অনিন্দ্য আর মালবিকা রাতের খাবার শেষ করে নিজের ঘরে চলে গেলো ,,,
অনিন্দ্য বৌভাতের ড্রেস পাল্টে নিজের খাটের উপর বসে মোবাইল নিয়ে কিছু একটা করছিল , মালবিকাও তার ড্রেস পাল্টে আসলো, অনিন্দ্য মালবিকা কে একটি সোনার আংটি দিলো , কিন্তু সেই আংটিটা মালবিকার অনামিকা আঙ্গুলে বড় হল ,,অনিন্দ্য বললাম আন্টি বড় হয়েছে তো কি হয়েছে যেই আঙ্গুলের আংটিটি পড়তে পারে সেই আগুনেই যেন পড়ে নেয় । আংটিটি পড়ে নিতে বলল এবং অনিন্দ্য গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে এসেই সে মালবিকার ওপর চড়াও হয়, নিজের পুরুষত্ব দেখানোর জন্য সারারাত মালবিকার ওপর শারীরিক এবং মানসিকভাবে অত্যাচার চালায় । ব্যথায় যন্ত্রনায় ছটফট করে কোনরকম মালবিকার সেই রাতটি কাটে ।
আজ তাদের বিবাহিত জীবন 13 বছরের, আজ তাদের একটি ছেলে সন্তান ও আছে ,,, আজও মালবিকা আর অনিন্দ্যের মধ্যে কোনো ভালোবাসার সম্পর্ক নেই আছে শুধুই ঘৃণা সম্পর্ক,,,, কারণ কারণ মালবিকার কাছে আজও সেই দিনটি স্পষ্ট কাঁচের মতো স্পষ্ট চোখের সামনে ভাসে ।।।
মালবিকা শুধু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সেই সম্পর্কের বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারেনি ।
মালবিকা আজ রাতের অন্ধকারে কান্না করে আর ভগবানকে বলে শুধু তার সাথেই কেন এটা হল ,,, তাদের মধ্যে সুস্থ স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক তৈরি হলো না কেন ? কি অপরাধ ছিল তার ?
মালবিকা এখন শুধু এটুকুই বিশ্বাস করে যে তার হারানোর সবকিছু একসময় সে ফেরত পাবে সম্মানের সাথে ।
সমাপ্ত

জীবন তরী
- কিরণ দাশগুপ্ত

বাইতে বাইতে জীবন তরী পৌছে গেল পারাপারের ঘাটে ।
দিনের শেষের সুর্য্য এবার অস্ত হবে পশ্চিমেরই পাটে ।।
বাইতে তরী নদীর বুকে সইতে হল হরেক রকম ঝড় তুফানের ঢেউ।
তীরে নেমে যাত্রীরা আর এসব কথা রাখবেনা মনে দুদিন বইতো কেউ ।।
গহন আধাঁর আসবে নেমে কেটেও যাবে সুর্য্য আবার দেখা দেবে ভোরে ।
আমার তরী স্মৃতি হয়ে থাকবে পড়ে নদীর তীরে একটা ছোট খুটোঁ বাধা ডোরে ।।

এই শহরে
মাহদী হাসান

ধুলোবালির এই শহরে ভাল্লাগে না কিছু,
পেটের দায়ে এই শহরের চলছি পিছু পিছু।
এই শহরের আকাশ ধূসর— মন ওড়ে না মোটে,
যান্ত্রিকতায় কাটলে জীবন, হাসি কি আর ফোটে!

এই শহরের মানুষগুলোর মুখোশ পরা মুখে,
ইট পাথরে হৃদয় গড়া যায় না থাকা সুখে।
অমানবিক, ন্যায় নীতিহীন হিংস্র অবয়বে—
ছন্নছাড়া এই পাখি মন কেমন করে রবে!

মাটির গন্ধ নেই এখানে নেই তো পুকুর ডোবা,
সবুজ শ্যামল গাঁয়ের মতো নেই এখানে শোভা।
মাঠ মেলে না ঘাট মেলে না গাছপালা নেই মোটে,
দালানকোঠার ভীড়ে আমার মন বিষিয়ে ওঠে।

মুখ ভেঙানো হয় না এখন কোকিল পাখির সুরে,
এই শহরের কষ্ট আমায়— খাচ্ছে কুড়ে কুড়ে।
সময় কেবল যায় ফুরিয়ে এই শহরের জ্যামে,
উড়তে চাওয়া এই পাখি মন— যাচ্ছে বুঝি থেমে।

সকাল সন্ধ্যা হয় যে কখন এই শহরের বুকে!
বশ না মানা মনপাখিটা মরছে ধুকে ধুকে।
ভাবতে থাকি মানুষগুলো কেমন করে বাঁচে!
শহর ছেড়ে মন ছুটে যায় ফুল পাখিদের কাছে।

স্বাধীনতার শরীর জুড়ে আজ পরাধীনতার শেকল
রক্তখেকো হায়েনার দল দেখতেও মানুষ অবিকল ;
প্রতিবাদ প্রতিরোধের মহড়ায় হয় রাজপথটা দখল
কাঙ্খিত চাওয়া পাওয়ারাই শুধু থেকে যায় বিফল ।

মাদক সন্ত্রাস আর দূর্নীতি নিচ্ছে মানচিত্রের দখল
ওদিকে রাষ্ট্র যন্ত্র গল্প শোনায় তারাও নাকি সফল ;
শহরের ভেতরের শহর রোজই হয়ে যাচ্ছে বেদখল
অথচ রাষ্ট্রের বিহ্বলে সুর ওঠে চল চল চলরে চল ।

প্রিয় পতাকার শরীরটা জুড়ে আজও রক্তের ছাপ
ব্যানার ফেস্টুন আর ফেসবুক টুইটারে সব উত্তাপ ;
ওদিকে রোজ কতো খুন হয় অথচ খুনি পায় মাফ
হায় অভাগা রাষ্ট্র প্রতিনিয়তই তোমাকে অভিশাপ ।

এ সমাজটা আজ বুদ হয়ে থাকে মাদকের নেশায়
অথচ সুশীলরা টাকা পেলেই দেখি টকশো মাতায় ;
রাজনীতিকে আজ দেখি ব্যবসার প্রধান অন্তরায়
এ দিকে আহাম্মক আমজনতা মরে রোজ রাস্তায়।

আদালত সে নিজেই আজ বিবেকের কাঠগড়াতে
আর আইন সেতো বন্দী আজ ক্ষমতাধরের হাতে ;
অপরাধীরাই মুক্তি পায় নিরপরাধী মরে অপঘাতে
আমার স্বাধীনতা বন্দী আজকে আমার মানচিত্রে ।

গোধূলির আলোয়

কৃদন্তী ঘটক
কলকাতার উপকণ্ঠে বাস করেন দেব নারায়ণ রায় চৌধুরী । প্রপিতামহ জমিদার ছিলেন ।তবে জমিদারি প্রথা বাতিল হওয়ায় দেব নারায়ণ এর একটি বিরাট ব্যবসা আছে । বাবার আমলের ব্যবসা দেব নারায়ণের আমলে আরো উন্নতির শিখরে উঠেছে । দেব নারায়ণ যথেষ্ট শিক্ষিত ।তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন ।সেই সঙ্গে তিনি ভীষণ সংগীত রসিক । বহু বড় বড় ওস্তাদের গান শুনেছেন ।তাই তার অন্তরজগতে সুর বিরাজমান । দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান লাইব্রেরিতে । সেখানে সারাদিন বিভিন্ন পত্র পত্রিকা , বই পাঠ করে জ্ঞান লিপ্সা মেটান । আর ধ্রুপদী গান শোনা তার শখ । তাই দিনের বেশির ভাগ সময় বই ঘরে অতিবাহিত করেন । অত্যন্ত মিতভাষী , নম্র এবং গম্ভীর ব্যক্তিত্ব ।সব মিলিয়ে নিপাট ভদ্রলোক ।
গায়ত্রী রায় চৌধুরী এই বাড়ির কর্তী দেব নারায়ণ বাবুর স্ত্রী । মূলত চৌধুরী বাড়ির সর্বময় কর্তী গায়ত্রী দেবী । পাল্টি ঘর কিন্তু আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল পরিবার দেখেই দেব নারায়ণের বাবা তাকে পছন্দ করেন । চৌধুরী বাড়ির বিলাস বৈভব গায়ত্রীকে অহংকারী দাম্ভিক চরিত্রে পরিণত করেছিল । হটাৎ বিত্তশালী হওয়ায় গায়ত্রী নিজের মধ্যবিত্ত মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে উচ্চ বিত্তের আবর্তে ঢুকে পড়ার অদম্য প্রয়াস চালিয়ে যান । ফল স্বরূপ তিনি ক্লাব পার্টি মদ্যপান , বন্ধু বান্ধবী এবং পাশ্চাত্য সংষ্কৃতির অন্ধ অনুকরণ করতে থাকেন। বিত্তশালী হওয়ায় তার স্তাবকের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান । দেব নারায়ণ আর গায়েত্রীর মানসিক দূরত্ব ও ক্রমশ বাড়তে থাকে ।
দেব নারায়ণ গায়েত্রীর একমাত্র পুত্র সন্তান দেবর্ষি প্রায় মায়ের ধারায় তৈরি হয়েছে । শিক্ষা দীক্ষা যথেষ্ট করেছে কিন্তু মায়ের মতো ক্লাব , পার্টি , বন্ধু বান্ধব এসব নিয়ে থাকে । ব্যবসার দায়িত্ব অবশ্য দেব নারায়ণ তার উপর ছেড়ে দিয়েছেন । আর একটি কন্যা সন্তান আছে তাদের ঐন্দ্রিলা । তার বিয়ে হয়ে গেছে ।মাঝে মধ্যে বাপের বাড়ি আসে ।
রায় চৌধুরী পরিবারে আর একজন সদস্য হলেন সর্বক্ষণের কাজের লোক চাঁপা ।সবাই তাকে চাপি দি বলে ডাকে । বাড়ির রান্না বান্না এবং অন্যান্য সাংসারিক কাজ করে চাঁপা ।
গায়ত্রী শুধু মাত্র পারিবারিক দেবতা মদন মোহনের পুজোর কাজ টা করেন । যদিও গায়ত্রী পুজো আচ্চা একদম পছন্দ করেন না কিন্তু দেব নারায়ণের কঠোর নির্দেশে করতেই হয় ।

দেবর্ষির বয়স আঠাশ এ পড়তেই দেব নারায়ণ পাত্রী দেখতে শুরু করলেন ।পাত্রী পাওয়া গেলো গ্রামে । পাল্টিঘর ।অপরূপ সুন্দরী পৃথা । বাবা অক্ষয় চ্যাটার্জি পুজোপাঠ করেন ।অবস্থা ভালো না ।পৃথার বিয়ে নিয়ে অক্ষয় বাবু চিন্তিত ছিলেন । এরকম বড় ঘরে সম্বন্ধ আসায় তিনি যুগপৎ আনন্দিত এবং চিন্তিত হয়ে পড়লেন । পৃথার গায়ের রং মুসুর ডালের মতো । বড় বড় গভীর চোখ আর প্রতিমার মতো মুখ দেখে দেব নারায়ণ , দেবর্ষি এমনকি গায়ত্রী পৃথক নাকচ করতে পারলেন না । সহ্য ধৈর্যের প্রতিমূর্তি মা মরা পৃথাকে নিয়ে অক্ষয় বাবু চিন্তিত ছিলেন । একদিকে গ্রাজুয়েট অন্যদিকে সুকণ্ঠী পৃথার গান দেব নারায়ণ কে মুগ্ধ করেছিল । যদিও পৃথা গায়েত্রীর মন ভরাতে পারে নি । গায়েত্রীর পৃথাকে গ্রাম্য বলে মনে হয়েছে তবে তিনি দেব নারায়ণের জেদের কাছে হার মেনে এই বিয়েতে মত দিতে বাধ্য হয়েছেন । তাই শুভ লগ্নে ফাল্গুন মাসে এক গোধূলি লগ্নে তাদের বিয়ে হয়ে গেল ।
বিয়ের পর পৃথা চৌধুরী বাড়ির বিলাস বৈভব দেখে যতটা অবাক হয়েছিল তার থেকে বেশি আশ্চর্য হলো গায়ত্রী আর দেবর্ষির ব্যবহার দেখে । পৃথা সারাদিন গঞ্জনা সহ্য করতো । সারাদিন প্রতি পদক্ষেপে তাকে গেঁয়ো বলে সম্বোধনে তার মন ভেঙে পড়তে লাগলো । দেবর্ষির সঙ্গে তার সেরকম মানসিক সম্পর্ক তৈরি হলো না ।যদিও শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মনের স্থান গুরুত্বপূর্ণ না হওয়ায় সেখানে যতি চিহ্ন পড়লো না ।গায়ত্রীদেবী মানসিক নির্যাতন করার ফাঁকে কুলদেবতার পুজোর দায়িত্ব পৃথার উপর দিয়ে দিলেন । পৃথা সসম্মানে দায়িত্ব মাথায় তুলে নিলো । প্রতিদিন ভোরবেলা উঠে ফুল তুলতো , ঠাকুর দালান মুছে স্নান করে পুজো করতে বসতো । পুজোর সময় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তার কণ্ঠ থেকে সুর বেরিয়ে আসতো । কোনদিন কবীর এর ভজন " মন লাগো ইয়ার ফকিরি মে " বা কোনোদিন " রাম নাম জপন কিউ ছোড় দিয়া " গান গুলি গাইত । যেহেতু মনের কথা বিনিময় করার কেউ ছিল না তাই হয়তো সুরের মাধ্যমে নিজের ব্যাথা দেবতার পায়ে সমর্পণ করে ভারমুক্ত হতো । এই ভাবে পৃথার আলাদা জগৎ তৈরি হয়ে গেল । সেই জগতের হদিস পেতেন কেবলমাত্র দেব নারায়ণ আর চাঁপি দি । দেব নারায়ণ সবচেয়ে খুশি হতেন ভোরবেলা পৃথার গান শুনে ।ভজনের সুর চৌধুরী বাড়ির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়তো ।যদিও দেবর্ষি আর গায়ত্রী খুব বিরক্ত হতেন কারণ তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতো । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পৃথার প্রতি অপমান অবজ্ঞা বাড়তে থাকলো ।
এই সময়ে চৌধুরী বাড়িতে অঘটন ঘটলো । দেব নারায়ণ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেলেন।কদিন যমে মানুষে টানাটানি চললো । এর পর দেব নারায়ণ একদিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত পঙ্গু হয়ে বাড়ি ফিরে এলেন । তার দেখাশোনার জন্য একটি আয়া নিযুক্ত হলো যদিও মূলত সেবা করতো পৃথা । এদিকে দেবর্ষি আর গায়ত্রী লাগামছাড়া জীবন চালাতে শুরু করলেন । স্ত্রী পৃথাকে যেন দেবর্ষি ভুলেই গেল তার ক্লাব পার্টির জগৎ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় । যার সভ্য সমাজে মেশার মতো এটিকেট নেই , সহবত শিক্ষা নেই স্মার্টনেস নেই সেই মেয়ে দেবর্ষির যোগ্য নয় তারা সেটা প্রতি পদক্ষেপে বুঝিয়ে দিতে লাগলো । তাই পৃথা ধীরে ধীরে সংসারের রান্না , ঘর সাজানো গোছানো পুজো দেব নারায়ণের সেবা এসব কাজে নিজেকে একেবারে বন্দি করে ফেললো । তবে দেবর্ষির দিকে পৃথার সতর্ক দৃষ্টি থাকতো তাই সময় মতো সব কিছুই হাতের কাছে পাওয়া সম্ভব হতো । যদিও দেবর্ষির কাজ গুলি পৃথা করতো দেবর্ষির অলক্ষে ।
ক্লাব এ যাতায়াতের সুযোগে দেবর্ষির মনে ধরে গেল ক্লাব এ আসা একটি স্মার্ট মেয়ে অনন্যার দিকে ।ধীরে ধীরে পরিচয় গাঢ় হতে লাগলো । অনন্য চোখ ধাঁধানো সুন্দরী নয় কিন্তু লেখা পড়া , গাড়ি চালানো , খেলাধুলা বিশেষ করে সবার সঙ্গে মিশতে পারার ক্ষমতা দেবর্ষির দৃষ্টি আকর্ষণ করলো ।গায়ত্রী সব লক্ষ করেন ।তাই তিনি তার ভুলসুধরে নিতে চান । দেবর্ষি অনন্যাকে নিয়ে।
দেবর্ষি গায়ত্রী আলোচনা করে স্থির করে পৃথাকে ডিভোর্স দিয়ে অনন্যাকে এই বাড়ির বউ করে আনা হবে । অনন্যার ও কোনো অসম্মতি ছিল না এই বিবাহে । যথাসময়ে একটি কাগজ ধরিয়ে পৃথাকে স্বাক্ষর করতে বলা হয় ।পৃথা চাঁপিদি র কাছে সব শুনেছিল তাই সে নীরবে স্বাক্ষর করে দেয় বিনিময়ে ডিভোর্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এই বাড়িতে থাকার অনুমতি আদায় করে নেয় যদিও সে বলেযে সে থাকবে চাপি দির ঘরে । নিজেদের সুবিধার জন্য গায়ত্রী এই প্রস্তাব নাকচ করলেন না । দিন যায় মাস যায় দেবর্ষির সময় কাটে অনন্যার বন্ধু বৃত্তে । পৃথা ঠাকুর পুজো সংসারের কাজ নিয়ে দিন অতিবাহিত করে । পৃথার দুর্ভাগ্যে কেবলমাত্র চাঁপা ব্যথিত হয় ।
অবশেষে ডিভোর্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায় । পৃথা পরের দিন বাবার কাছে ফিরে যাবে । শুধু রাতটুকু থাকার অনুমতি নিয়ে ভোর হলে নিঃশব্দে চাঁপা দির ঠিক করে দেওয়া গাড়িতে করে বেরিয়ে যায় ।
দেবর্ষি গায়ত্রী ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন পৃথা চলে গেছে ।এত সহজে সব কিছু মিটে যাওয়ায় তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন । দেবর্ষি তাড়াতাড়ি অফিস এ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে ।দেরাজ থেকে কলম ঘড়ি নেবার সময় দেখে দেখে ফুলশয্যার রাতে পৃথাকে দেওয়া নুপুর আর হীরের আংটি পৃথা রেখে গেছে । এসব দেখে দেবর্ষির একটু অবাক লাগে আবার একটা অস্বস্তির কাঁটা মনে খচখচ করতে থাকে ।
ইতিমধ্যে গায়ত্রী দেবর্ষির বিয়ে ঠিক করেন অনন্যার সঙ্গে ।দেব নারায়ণ কদিন আছেন কেউ জানে না । পরের সপ্তাহে গায়ত্রী অনন্যাকে আশীর্বাদ করবেন জানিয়ে দিলেন ।
এদিকে দেবর্ষি গায়ত্রী আর ভজনের সুর শুনতে হয় না তাই তাদের ঘুমের ব্যাঘাত হয় না । গায়ত্রী অনিচ্ছাসূত্রে পুজো করেন ।চাপিদির রান্নার হাত খুব খারাপ হয়ে গেছে ।কোনো রান্না মুখে তোলা যায়না । দেবর্ষি কোনো জিনিস ঠিক মতো খুঁজে পায় না । সব মিলিয়ে দেবর্ষির মধ্যে কি যেন একটা অনুপস্থিতির অনুভূতি হয় । এর মধ্যে একদিন অনন্যার সঙ্গে লং ডাইভ এ যাওয়ার পরিকল্পনা হয় । সেদিন বিকেল এ একটা মিটিং এ থাকার জন্য দেবর্ষির দেরি হয়ে যায়।ক্লাব এ গিয়ে জানতে পারে তার দেরির জন্য অনন্যা নিজে গাড়ি চালিয়ে কিছু পুরুষ বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে গেছে ।এতে দেবর্ষি কষ্ট পেলেও চুপ থাকে ।

যথারীতি আশীর্বাদ হয়ে যায় ।বিবাহ স্থির হয় একমাস পর ফাল্গুনের একগোধূলি লগ্নে ।
এই একমাসে দেবর্ষি প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে পৃথার অনুপস্থিতি অনুভব করেছে । পৃথার সুরেলা কণ্ঠে চৌধুরীবাড়ি হয়ে উঠেছিল সুরময় তা আজ নিষ্প্রাণ নিঝুম । দেবর্ষি নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে ক্লান্ত । দেবর্ষি প্রথমে ভেবেছিল তার অহংকারে আঘাত করেছে পৃথা ।কিন্তু ধীরে ধীরে তার সব পরিষ্কার হয়েযায় । পৃথা তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতো তাই তার অপমান , অবজ্ঞা , অবহেলা নীরবে সহ্য করেছে দেবর্ষির নিজের হয়ে ওঠার জন্য । কিন্তু ডিভোর্স দিয়ে দেওয়ায় নীরবে দেবর্ষির কাছ থেকে সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না ।
বিবাহ লগ্ন সমাসন্ন ।দেবর্ষির মনের মেঘ কেটে গেছে । তাই সে মা বাবাকে প্রণাম করে মা কে দৃঢ় কণ্ঠে বললো ● মা আমি পৃথাকে অপমান করেছি সেই সঙ্গে নিজেকে অপমান করেছি ।আমি কারুর স্বামী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছি ।● আমি চললাম আমার ভুল শোধরাতে ।অন্তত চেষ্টা করি । আকস্মিক আঘাতে গায়ত্রী স্তম্ভিত হয়ে ধপ করে বসে পড়লেন ।শুধু দেব নারায়ণের চোখ থেকে জল পড়তে থাকলো ।
দেবর্ষি তিন বন্ধুকে নিয়ে গ্রামে পৌছালো । তাদের বসতে দিয়ে অসুস্থ অক্ষয়বাবু পৃথাকে ডেকে আনতে গেলেন । পৃথা এলে দেবর্ষি পৃথার দুহাত ধরে বলল " আমার অন্যায় সীমাহীন , আমি যে ভুল করেছি তা ক্ষমাহীন অপরাধ" । তবু তোমার মহত্ব দিয়ে আমায় ক্ষমা করো ।আমি তোমার সঙ্গে সারাজীবন কাটাতে চাই । নির্বাক নিরুত্তর পৃথাকে বাবা অক্ষয় বাবু বললেন " তুই ওকে একটা সুযোগ দে ।ও ওর ভুল বুঝতে পেরেছে " ।
পৃথা বাবার দিকে চেয়ে কঠিন স্বরে বললো নিজের ভালো থাকার দায় কি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া যায় ? অক্ষয় বাবু স্মিত হেসে বললেন " তুই ওকে ক্ষমা না করলে নিজেই যে কষ্ট পাবি " ।নিজের ভালো থাকার জন্য ক্ষমা করে দে । বাঁধভাঙা জল পৃথার চোখ ছাপিয়ে নেমে এলো । দেবর্ষি অক্ষয়বাবুর কাছে অনুমতি নিয়ে এবং তাকে প্রণাম করে পৃথাকে নিয়ে বাইরে অপেক্ষমান গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো ।তার অনেক কাজ বাকি ।
গোধূলির আলোয় আকাশ তখন রঙিন আর কনে দেখা আলোয় পৃথার মুখ উদ্ভাসিত ।

তোমাকে ফিরে আসতেই হবে
গাজী হাবিব
.
তোমাকে ফিরে আসতেই হবে-
নির্জনরাত তোমার অপেক্ষার বীজ বুনে
নামায় ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস,
একা একা আর কত গুনবো, কত দেখবো
জেগে থাকা তারার মিছিল?

তোমাকে ফিরে আসতেই হবে!
তোমার মধ্যরাত।। একলা অন্ধকার
ভরা উঠোনের পথ
নদীতীর, মেঠোপথ সব আমার ছিল
হাহাকার সব তোমার
তোমাকে ফিরে আসতেই হবে!!
পাক্ষিক কবিতা, পণের গল্প, বিচ্ছিন্ন জলের
ঘ্রাণ মাড়িয়ে তোমাকে আসতেই হবে।

ইতি উতি জোনাকি ভেজা দূর্বায়
উত্তেজনায় ভারি নির্মল শিশির
দোদ্যুল পাড়, পুকুরের জল
কতশত ঢেউ, ঝিরি বাতাস
অপেক্ষায় তোমার।।
বিষাদের ঘ্রান পিষে ফিরে আসতেই হবে
ছায়াপথ ধরে এই পথে---
এপথ- ওপথ সব শপথের ঘন নিঃশ্বাস ভেঙে
ধীরে, অতি ধীরে ফিরে আসতেই হবে
যা ছিল সব আছে। আছে শাপলার দল
তোমার গোছানো রাত
সহস্র ছন্দের গোপন ছত্র।
তোমার জন্য এপথে
তোমাকে ফিরে আসতেই হবে।
তোমাকে ফিরে আসতেই হবে।
তোমাকে ফিরে আসতেই হবে।

" হৃদপিণ্ড রোগমুক্ত রাখতে আমাদের করণীয় "


- ডাঃ ফারহানা মোবিন

হৃদপিণ্ড আমাদের দেহের ভীষণ জরুরী একটি অংগ। আমাদের সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করে হৃদপিণ্ড।

আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখনও কাজ করতে থাকে। এক সেকেন্ড এর জন্য তার কাজ বন্ধ হয় না।

মায়ের পেটে থাকাকালীন সময় থেকেই আমাদের হৃদপিণ্ড তৈরী হওয়া শুরু হয়।

বাম পাশের বগলের গোড়া থেকে তিন বা চার ইঞ্চি দূরে আমাদের হৃদপিণ্ড এর অবস্থান।

হৃদপিণ্ডের কাজ অনেকটা পানির পাম্প এর মতো।

পানির পাম্প বিশাল একটা দালান এর নীচে থেকে সবচেয়ে উপরের অংশে পানি সরবরাহ করে ।

আমাদের দেহে হৃদপিণ্ড নামের জরুরী অংগ টি ঠিক সেই কাজটিই করে । পায়ের আঙ্গুল থেকে মাথা পর্যন্ত রক্ত পৌঁছে দেয় ।

পানির পাইপ লাইনে পানির ময়লা জমলে , পানি সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না । ঠিক তেমনি আমাদের শরীরের শিরা উপশিরা তে ময়লা জমলে , রক্ত সঠিকভাবে চলতে পারে না ।

রক্তের ময়লার নাম Atherosclerosis.

এই Atherosclerosis ( রক্ত নালী তে জমে থাকা চর্বি বা fat ) তৈরী হয় দেহের তুলনায় অধিক পরিমাণে চর্বি জাতীয় খাবার , মাদক দ্রব্য , ধূমপান থেকে ।

বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে , হৃদপিণ্ডর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরী হয় ।

তখন heart সারা দেহে সঠিকভাবে রক্ত সরবরাহ করতে পারে না ।

পরিণামে তৈরী হয় heart এর নানাবিধ অসুখ । যা কখনোই কাম্য নয় ।

Heart এর অসুখের জন্য দায়ী বিষয় গুলো হলো :
*********************************************

১) অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অক্লান্ত পরিশ্রম ,

২) ভয়ানক দুশ্চিন্তা, হতাশা।

৩) বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশী ,

৪) দীর্ঘ বছর সঠিকভাবে ঘুমের অভাব ,

৫) কোন ওষুধের দীর্ঘ বছরের side effects,

৬) অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ,

৭) কিডনী failure

৮) মাদক দ্রব্য সেবন ও অতিরিক্ত ধূমপান।

সিগারেট এর নিকোটিন
রক্তনালীর সংকোচন করে। ফলে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে যায়।

৯) পারিবারিক ইতিহাস অর্থাৎ রক্তের আত্মীয় স্বজনদের হৃদরোগ থাকলে, আপনার হৃদরোগ হতে পারে।

যদি আপনি সঠিকভাবে নিজের যত্ন না নেন।

১০) কোন জটিল রোগের side effects.

১১) হৃদপিণ্ডের অপারেশন বা কোন অসুখের পরে চিকিৎসক এর পরামর্শ মেনে না চলা।

হৃদপিণ্ড ভালো রাখার জন্য আমাদের করণীয় :
*********************************

১) বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।

২) অতিরিক্ত মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার , মাদক দ্রব্য , ধূমপান পরিহার করতে হবে ।

৩) ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে
হবে ।

৪) জীবন মানেই একটার পর একটা যুদ্ধ । মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত নিজেকে খুশী রাখা উচিত ।

৫) ধর্মের কাজ , মেডিটেশন মানসিক প্রশান্তি দেয় ।
Heart ভালো রাখার জন্য মানসিক প্রশান্তি ভীষণ জরুরী ।

৬) পারিবারিক ইতিহাসে heart এর অসুখ থাকলে , আগে থেকেই সচেতন হোন ।

৭) Heart এর অসুখ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । নিয়মিত follow up এ থাকা টা ভীষণ জরুরী ।

৮) প্রতি বছর পুরো দেহের চেকআপ করান । আমাদের দেহ বিশাল এক কারখানা । একটা মেশিন দূর্বল হলে,
আশেপাশের মেশিনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে । তাই সময় থাকতে সচেতন হোন ।

৯) অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খাবেন । নিয়মিত দুই লিটার পানি ভীষণ জরুরী । অতিরিক্ত তেল , মশলা , চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিলেই ভালো ।

১০) সুযোগ হলেই হাটবেন । খোলা আকাশ এর নীচে হাঁটতে পারলে , খুব ভালো হয় ।
সুযোগ না থাকলে ঘরের কাজ গুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করবেন ( ঘর পরিষ্কার করা , কাপড় ধোয়া ............) ।
এতে ঘামের মাধ্যমে শরীরের বাড়তি calorie গুলো
ঝরে যায় । যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ।

১১) সঠিক সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন ।

১২) সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা , heart এর জন্য ভালো । তবে হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করবেন ।

১৩) হতাশা দূর করতে নিজেকে সৃষ্টিশীলতা ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত রাখবেন । ভালো কাজ আমাদের কে দেয় আত্মতৃপ্তি । মন ভালো থাকলে , heart ভালো থাকবে ।

Heart ভীষণ জরুরী organ । আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি , তখনও আমাদের হৃদস্পন্দন ( heart beat ) সচল থাকে । Heart beat থেমে গেলে , আমাদের জীবন টাও থেমে যাবে ।

আমার সবার উচিত heart ভালো রাখার উপায় গুলো মেনে চলা এবং অন্যদের সচেতন করা ।

ডাঃ ফারহানা মোবিন ,

তোমার বিপন্ন শহরে
 - গাজী হাবিব

তোমার শহর রৌদ্র ভেজা
বৃষ্টি দিলাম ছুঁড়ে,
কানা- কড়ির বন-বাদাড়ে
বৃক্ষ উঠুক ফুড়ে।

তোমার শহর বদ্ধ আঁধার
আলোক দিলাম জ্বেলে,
একটু হেসো হাসা'র মতন
আমার আলোক পেলে।

তোমার শহর ইট-পাথরের
শুকনো পাতার ধ্বনি,
সবুজ সতেজ সরল কথায়
তুমিই চোখের মনি।

তোমার শহর কান্না ভেজা
আদিম যুগের খেলা,
একমুঠো প্রেম দিলাম ছুঁড়ে
ভাসুক শান্তির ভেলা।

তোমার শহর তোমার কাছে
সমুদ্র সুখের বাসা,
চন্দ্র সুরুজ তারার ভেলায়
ফুটুক শান্তির ভাষা।

সমাজ চিত্র
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

ঐ যে ওখানে অজ্ঞাত যে লাশটা পড়ে আছে ;
লাশটা আমার ভাইয়ের তাকে কাল খুন করা হয়েছে ,
তার অপরাধ সৎ এবং আদর্শ নিয়েই বাঁচতে চেয়েছে
সন্ত্রাস;মাদক আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ।

ঐ যে একটু দূরে ধর্ষিতা যুবতীটা পড়ে আছে ;
সে আমার বোন ধর্ষণ করে তাকে খুনও করা হয়েছে ,
তার অপরাধ সে ঘুণ ধরা সমাজেও স্বাবলম্বী হয়েছে
সমাজের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করেই মাথা উঁচু করেছে ।

ঐ যে একটু দূরে যে বৃদ্ধের লাশ দেখা যাচ্ছে ;
সে আমার পিতা গতরাতেই তাকে খুন করা হয়েছে ,
তার অপরাধ টাকা নিয়ে রাস্তা দিয়ে একাই ফিরছে
টাকার সাথে তাই তার প্রাণটাই ছিনতাই হয়ে গেছে ।

ঐ যে একটু দূরে শিশুটার লাশ পড়ে আছে ;
সে আমার সন্তান স্কুল ফিরতে দূর্ঘটনায় মারা গেছে ,
তার কি অপরাধ? সেতো নিয়ম মেনে রাস্তায় চলছে
অথচ বেপরোয়া গাড়ি তার জীবন গতিই থামিয়েছে ।

লাশগুলো হাসপাতালের মর্গে চলে এসেছে ;
পোষ্ট মর্টেম করার আগে ডোম ব্যাটাও মদ গিলছে ,
মদ গিলে শরীরগুলো আবার কেটে চৌচির করেছে
ডাক্তার সাহেবও দূরে দাঁড়িয়ে খুঁটিনাটি সব দেখছে ।

রাস্তার মোড়েমোড়ে আজ মানববন্ধন হচ্ছে ;
মামলা হয়েছে খুনিদের ফাঁসির জন্য সবাই ফুঁসছে ,
অথচ আইনের চোখ কালো কাপড়েই বাঁধা থাকছে
বিচারকও নিক্তিতে ক্ষমতার ওজনটাই মেপে যাচ্ছে ।

পরাধীন স্বাধীনতা
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

অনেক পেয়েছি অনেক দিয়েছো স্বাধীনতা ;
অনেক শিখেছি আর শিখিয়েছো স্বাধীনতা
এবার আমাকেই মুক্তি দাও প্রিয় স্বাধীনতা।

চোখ মেললেই দেখি স্বাধীনতার মহোৎসব ;
স্বাধীনতার নামে চলে কতো রঙিন উৎসব
তবু শেষকৃত্যের অপেক্ষায় পরে থাকে শব।

রাষ্ট্রযন্ত্র সে স্বাধীনতা নামক শিকলেই বন্দী ;
আর স্বাধীনতাও নেতাদের মানিব্যাগে বন্দী
বেচারা আমজনতার ভাগ্যের সাথেই সন্ধি।

স্বাধীনতা সেও আজ পরাধীনতায় আটকা ;
স্বাধীনতার স্বাধীন সত্তাটারই চাই স্বাধীনতা
যে স্বাধীনতা হবেনা কোনই বাক্সবন্দী প্রথা।

স্বাধীনতা আজ শুধুই ক্ষমতা ভোগের প্রথা ;
যে যার মতো ভাঙছে গড়ছে সেই স্বাধীনতা
স্বাধীনতা ভেঙে ফেলো সব বাক্সবন্দী প্রথা।

মৃত্যুঞ্জয়
মুন্সি মহম্মদ ওয়াশিম

আমি মৃত্যুঞ্জয় ,
মৃত্যুকে দেখেছি কাছ থেকে ।
দেখেছি তার মায়াহীন ভয়াবহ রূপ ।
দেখেছি তার নিষ্ঠুর হয়ে দেওয়া বজ্রাঘাত ।
দেখেছি যন্ত্রনা কাতর মনকে কষ্ট দিতে ।
দেখেছি বন্ধ চোখে নেমে আসা অন্ধকার ।
দেখেছি অহংকারে পরিপূর্ণ তার মন ।
দেখেছি আপন জনের অশ্রু ঝরা চোখ ।
দেখেছি হারাতে ভালবাসার মানুষ ।
আমি মৃত্যুঞ্জয় ,
দেখেছি মৃত্যুকে কাছ থেকে ।
এসেছি ফিরে মৃত্যুর দু'হাত বেঁধে ।
এসেছি ফিরে সূর্য ওঠা ভোরের সাথে ।
এসেছি ফিরে তোমাদের মাঝে নতুন করে ।
আমি মৃত্যুঞ্জয় ,
এসেছি মৃত্যুকে জয় করে ।

অ-প্রেম


-মাজহার লালন


তবে সে চলে যাক
রেখে যাক অনাবৃত প্রেম।
পাখা মেলে উড়ে যাক প্রিয় নীল,
                                 শঙ্খচিল!

কি তারে ডাকিনি আমি?
কি ভালোবাসিনি আমি?

ভুলে গ্যাছি কবে কি ছিলাম না তার!
কতো বীভৎস্যতায় রেখেছি আবৃত ভোর
ভালোবেসে একফোটা শরীর ডেকেছি কতোবার।

আমি ছুঁয়েছি আকাশ,দেখিনি নীল
                          আহা শঙ্খচিল!

কতোবার রেখেছি প্রনাম জননের ভাজে,
নারী বলে ছুঁয়ে দেবী বলে পূজেছি তারে।
কতো যুগ হাতের মুঠোই রেখেছি জঠর
কতো নিষ্ঠুরতায় ভেঙেছি নিতম্ভ পাহাড়!

কবে যেন তার চোখ হয়েছে শ্মশান,
কবে যেন প্রেম ঝরে হয়েছিলো ম্লান।
বিষন্ন মেঘ দেখে মনজুড়ে তারে পাওয়া ঝড়,
সমকামী নারীদের ঋতুস্রাবে ঢেকেছে শহর!

কি তবে পাইনি আমি?
কি তবে চাইনি আমি?

টগবগে রক্তনীলে আজন্ম অনাহারে আমি-
অন্যরূপ মৃত্যু এঁকে তারে উরুময় চুমি!
ভালোবাসা ছুঁয়ে কতো ভাসি স্বপ্নীল
                           আমি গাঙচিল!

আহা প্রেম!
অবীভৎস ভালোবাসায়-
কোনখানে রাখিনি তারে?
কি মায়ায় বাঁধিনি তারে?


২৪.৩.১৯

সহবাস
- গাজী হাবিব

মৃদু কম্পণ স্বরে স্তুুপীকৃত ঘৃণার বা'হাত ছুড়ে দিয়ে
অবশেষে বিশ্রামের স্বাদ নিলাম এবেলায়
গালভরা রাশি রাশি ঘৃণার পাহাড় সাঁতরে
অবলীলায় তুমিও দেখালে তোমার বাহাদুরী।
উর্বর দো-আঁশ মাটির ভেতর সত্য পুঁতে
উত্থিত সত্যকে যদি মিথ্যার পয়গাম করি
যদি নিজেই নিজের পাপ পুঁতে সভ্যতাকে বলি
দৈব বাতাসে ভেঙেছে প্রগতির বাঁধ
যদিও তলানীতে ভাসে রুদ্ধশ্বাস, অনু হেসে
প্রেমিক হবো আমি তার।
তোমার বসন বন্দনায় ঠকে যাচ্ছে মানবতা
ধরিত্রী হচ্ছে দুষিত, তুমি প্রেমিকা হয়ে ওঠার আগে
ঢেকে রাখো উচ্চ হাত, তোমার বসবাস
অগোছালো সংসার।
সভ্যতা ঠকিয়ে তুমি গড়ো বিষাক্ত নিঃশ্বাস
আর হাজার বছর ধরে আমি করি সহবাস।
রঙিণ ফুলের ঘ্রাণ ক্ষীণ হলেও
আগামী রোদের তেজে তা শুদ্ধ করো
আহুত দিনগুলো সত্যে করুক সহবাস।
জেগে উঠুক আলোর মিছিল।

সীমান্ত কেন নেই ?
- হৃদিরাজ

জীবন বদলেছে আবশ্যিক নিয়মে,
তবে কিছুটা আকস্মিক।
জীবন বদলেছে প্রতিনিয়ত,
এভাবে বদলাতে বদলাতে আজ আমি এক অপরিচিত জীবনপাড়ে।
এখানে সবকিছু ভীষণ রকম অচেনা লাগে
চেনা পথ-ঘাট,খোলা মাঠ,বিস্তীর্ণ অঞ্চল কিচ্ছু নেই,
চেনা মুখ নেই।
এখানে আমার কিচ্ছু নেই কিচ্ছু না।

জীবন বদলেছে
ছেলেবেলার দুষ্টুমি নেই,
দুরন্তর দৃষ্টি নেই,
দিগন্ত ছোঁয়া আকাশ নেই,
মেঘ নেই,বৃষ্টি নেই,
নদীনালা খালবিল কিচ্ছু নেই।
শুধু নেই আর নেই-এখানে আমার কিচ্ছুটি নেই।
চায়ের কাপে মাটির গন্ধ নেই,
উড়ন্ত দুপুর কিংবা পড়ন্ত বিকেল
 কিচ্ছু নেই।
আছে শুধু চারপাশে চার দেয়াল।
জীবন বদলেছে অবিরাম,অবিরত
আমাকে একা করে দিয়ে,
জীবন বদলেছে বয়সের ছাপেও,
এখন আর আমার কিচ্ছু নেই।
জনতার মানচিত্রে আমাকে কোথাও খোঁজে পাওয়া যাবে না।
আমি পৃথিবীর ভেতর আরেক পৃথিবীতে বন্দী,
হাড় ভাঙা এক প্রবীণ বালক।


নেই নেই নেই,আরে কিচ্ছু নেই এখানে,
ভোরের কুয়াশা নেই,
রাতের আকাশে উত্তল চাঁদ নেই।
গাছ নেই,স্নিগ্ধ মলয় নেই,
ঝিঁঝিঁপোকার ডাক নেই,
শেয়ালের হাঁক নেই,
কিচ্ছু নেই কিচ্ছু না।
এখন আমার কিচ্ছুটি নেই।
হাসি নেই,গাল ভরা ডাক নেই,
ভালোবাসার মানুষ নেই,
কেউ নেই....কেউ নেই।
আমার কোন কিছুর আশা নেই,
স্বপ্ন নেই,নিত্য নতুন কল্পনা নেই,
কবির খাতা এখন চকচক করে সাদা,
সেখানে কোনো কবিতা নেই।
হারানো যা কিছু ফিরে পাওয়ার লোভ নেই।
সংসারের মায়া নেই,
প্রাণনাশের ভয় নেই,
দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার মিথ্যে প্রয়াস আমি করি না।

হ্যা-হ্যা-হ্যা, জীবন বদলেছে,
আর এভাবেই প্রতিটি বদলে সবকিছু ফুরিয়েছে।
দুঃখ নেই,
না- না- না,আমার দুঃখ নেই,
অভিযোগ নেই, অভিশাপ নেই,
আমার কেবল একটি প্রশ্ন আছে,
আমার বন্ধু সীমান্ত কেন নেই?

ভোর এনে দে
- মাহদী হাসান

ঘর ছেড়ে আজ বাইরে এসে আকাশ চেয়ে দেখ্,
ঠিক অবিকল তুলোর মতো উড়ছে শাদা মেঘ।
মেঘগুলোকে সুতোয় বেঁধে ঘুরতে পারিস গাঁয়,
ইচ্ছে মতো উড়তে পারিস- মন যেখানে যায়।

লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে খেলতে পারিস ঢের,
নাটাই হাতে আকাশটাকে শাসন করিস ফের।
মেঘগুলোকে দৈত্য ভেবে পাস'নে কোনো ভয়,
কালোর পিছে আলোর খেলায় দেখছি তোরই জয়।

মেঘের খামে বন্দী ভেবে করিসনে তুই- ভুল,
মহাকাশের পাতায় হবি— তুই যে চক্ষুশূল।
ওসব ভেবে করিসনে পার সময়টাকে— তুই,
তোকে দেখেই একটা সময়- এক হবেরে দুই।

মাঝে মাঝে ইচ্ছেঘুড়ির সূতোয় মারিস ঢিল,
প্রাণ খোলা তোর মনের আকাশ ছেয়ে যাবে নীল।
সঙ্গে পাবি দখিন হাওয়া বাড়বে দীর্ঘশ্বাস,
ধৈর্য ধরে হেসে কেঁদে করিস বসবাস।

মেঘের সুরে ডাকতে পারিস করতে অশুর নাশ,
কালের দোহাই আবর্জনা তোর হবেরে দাস।
মহাকাশটা ভাবতে পারিস মেঘের বাড়ি— তোর,
মুকুট বিহীন রাজারে তুই— তুই এনে দে ভোর।

একটাই পৃথিবী

কাজী জুবেরী মোস্তাক

সেদিন ওরা বাঁচবে বলে চারিদিকে আগুন
জ্বেলেছিল ;
অস্ত্র আর গোলা-বারুদের পশরা সাজিয়ে
বসেছিল ;
মানুষকে কোণঠাসা করে নিজেকে প্রচার
করেছিল ।

সেদিন ওরা ভুলেছিল সেখানেই ওদেরও
ঘর ছিল ;
সেই অস্ত্র যে তাদের দিকে তাক হতে পারে
ভুলেছিল ;
একদিন ওরাও সংখ্যালঘু হতে পারে ভুলে
গিয়েছিল ।

সেদিন ওরা অস্ত্র হিসেবে ধর্মকেও ব্যবহার
করেছিল ;
ধর্মের অমোঘ বাণী ভুলিয়ে রক্তাক্ত করতে
শিখিয়েছিল ;
কিন্তু প্রতিটি ধর্মের অহিংসটা বাণী ঠিকই
গোপন করেছিল ।

সেদিন গোলা-বারুদের মিছিলে নিজেকেও
হারিয়েছিল ;
হিংসা বিদ্বেষে ছড়িয়ে বিশ্বটার দখল নিতে
চেয়েছিল ;
ভালোবাসার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র হয় না
ভুলে গিয়েছিল ।

সেদিন ওরা গণতন্ত্র নামে আধুনিক দাসত্বে
বন্দী হয়েছিল ;
ভেবেছিল গণতন্ত্রটা দাসত্বর মুক্তির জন্যই
এসেছিল ;
কিন্তু ওরা জানতোনা এই গণতন্ত্র দাসত্বকে
বৈধ হয়েছিল ।

সেদিন আর বেশি দুরে নাই যেদিন সবারই
ঘুম ভাঙবে ;
হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি ভুলে এক হয়ে পথ
চলবে ;
একটাই মানচিত্রেই সেদিন একটা পৃথিবীও
ঠিক হবে ।

সেরা সম্পদ
- জুলফিকার আলী

এই দুনিয়ার সেরা সম্পদ
খোদার সেরা দান
"মা"জননী সবার তাকে
করো গো সম্মান।

কত কষ্ট সয়ে মোদের
করেছে যে লালন,
মাকে যেন না ভুলি তার
আদেশ করি পালন।

মায়ের খুশি খোদার খুশি
জান্নাত দরজা খোলে,
মায়ের মনে কষ্ট দিলে
হাজার কষ্ট মেলে।

দুনিয়ার সবাই হলে পর
"মা" যে থাকেন আপন,
স্বার্থহীন ভালবাসে "মা"
সন্তানকে সারাক্ষণ।

এখন আমি ভীষণ রকম ভালো আছি
এখন আমার বাড়ি ফেরার জন্য কোনই তারা নেই ,
বাবা নেই;মা নেই;ভালোবাসার মতো মানুষও নেই
তবুও এখানে আমি নির্লজ্জের মতো বেঁচে আছি ৷

বাস্তবতা বহু কিছু শিখিয়েছে আমাকে
এখন আমি গেঞ্জী রুমাল ধুতে পারি;রাঁধতেও পারি , এঁটো বাসন ধোয়া;দুয়ার খোলা;বন্ধ করা সব পারি
একা থাকাও পুরোপুরি শিখে গেছি আমি আজকে ৷

বিছানা বালিশও আর টানেনা আমাকে
মুঠোফোনে চার্জ থাকেনা;দিয়াশলাই খুঁজে পাইনা ,
তোমাকে নিয়ে যে কবিতা লিখি তা কেউ জানেনা
তামাক পাতার মতো প্রতিনিয়ত পুড়াচ্ছি নিজেকে ৷

এখন আমি আঁধারেও হাঁটতে থাকি
ঘরে যে বাল্ব নষ্ট তাও জানিনা;ডিমলাইটও জ্বলেনা ,
তাতে কি; এই ঘরের প্রতি ইঞ্চি আমারও বেশ চেনা
আঁধারে আজ একা জন্য ভয় করেনা দিব্বি থাকি ৷

এখন আর ঘুম ভাঙেনা প্রেমময় ঢাকে
রোজ চা এর সাথে বিস্কুট ডুবিয়ে নাস্তাটা শেষ করি ,
এখন আমার পোশাকেও আর নেই কোন বাবুগিরি
চাওয়া পাওয়া ভুলে এ শহরে আজ কষ্ট বিক্রি করি ৷

শুক্রবার
- গাজী হাবিব

দূরের নরম পথে নদীতে নেমে যায় মাটির ছায়া
গা ঘেঁষেই দু’জনে বসে দেখছি অনেকক্ষণ,
ক্লান্ত শুক্রবার আজ। সূর্যের ঝিমুনী শেষে
সওদাপাতিসহ গোটা রাস্তা হাঁপাতে হাঁপাতে
গাছের আড়ালে চারখানা পা
নিমেষে মিলোয় চোখের চাহনী। শুকনো আওয়াজে
তারারা ধীরে ধীরে জলপথে জমায় খেলা
ঠাণ্ডার রাতে কুঁকড়ে থাকা কুকুরের মতো
আগুনের ফুলকিতে জমে ওঠে চাঁদের দেহ।
হাতের পাতা, পায়ের আঙুল, ধুলোমাখা মুখ
রক্তাক্ত ঠোঁটের আগুন মুছে
শুকনো রুটির মতো মচমচে স্বাদ কুড়োয়,
হাটুরের হাতিবৌ হাঁপায় অন্ধকারে
তাইতো, শুক্রবারে বিছানার ঘুম বিছিয়ে পথে
শুভ্র শরবত নোনতার জলে চুবিয়ে
বছরের পর বছর বিক্রি করে শুক্রবার।
কামনার সন্ধ্যায় জ্বলে পোকার পাহাড়
নিয়তির কথা বালিশে গুঁজে আগুন কেনে
অনেকে অনেকবার। কেউ কেউ একবার
তারপর--
চলে যায় তারা পৈতৃক ভিটায়।
ঝিঁমুনী শেষে একমাত্র মিথ্যের নদী বেয়ে
গলা জলে হাত বোলাতে বোলাতে শেষ করে
অবিচ্ছেদ্য শুক্রানুর সদিচ্ছা।
কাগজের দর্শক কথা বলেনি কোনোদিন!
গাছের পাতার মত
কেবল শেষ লাইনে একটা বাক্য ছুঁড়ে
সত্যের অভিধান গড়ে;
কেউ কেউ শুক্রবারের দর্শক মাত্র।

ফুলের বনে
- জুলফিকার আলী

গাছে গাছে কলি জাগে
ফোটে রঙিন ফুল,
খুকুমণি ছিঁড়ে গুজে
কানে বানায় দুল।

ফুলগুলোতে প্রজাপতি
বসছে মনের সুখে,
তাই না দেখে খুকুমণির
ফুটছে হাসি মুখে।

ফুলের রাজ্যে খুকুমণির
রোজ আসা যাওয়া,
ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা
চারপাশের হাওয়া।

ফুল দিয়ে সে বানায় মালা
বানায় কানের দুল,
তাই দেখিয়া ফুলের বনে
লাগলো হুলুস্থুল।

মনটা তোমার উড়ালপাখি
মাহদী হাসান

প্রেম কি তোমার খেলনাপাতি, ইচ্ছে মতো খেলো!
ইচ্ছে হলেই বিঁধতে পারো কোমল বুকে শেলও!
প্রেম কি তোমার কাঁচের চুড়ি, ইচ্ছে হলেই ভাঙো!
ঠাণ্ডা হলে আবার তুমি, ভালোবাসা— মাঙো!

প্রেম কি তোমার হাতের নাটাই ঘুড়ির সুতো ছাড়ো!
সময় হলে— মন টেনে নাও, ধার ধারো না কারো।
প্রেম কি তোমার বাঁধনহারা— শেকল খোলা ডানা,
ইচ্ছে মতো উড়তে পারা, নেই যেখানে মানা!
ইচ্ছে হলে রানী সাজো, ইচ্ছে হলেই ডাইনী,
দুঃখ পুষে লাভ কী বলো- সুখ যেখানে পাইনি!

প্রেম কি তোমার সময় ক্ষেপণ মন ভোলানো হাসি!
পাশে থাকার সময়টুকুই— স্বপ্ন রাশি রাশি!
কালো মায়ের কালো ছায়া ধরতো যখন ঘিরে,
মনের ঘরে আগুন জ্বেলে, ফিরতে আপন নীড়ে।
প্রেম কি তবে অবুঝ সময়— ছেলেবেলার খেলা!
দীর্ঘশ্বাসে বদ্ধ ঘড়ি। কাটছে আমার বেলা।

প্রেমটা তোমার আম পাকা রোদ, যায় না ছাড়া তাকে,
বুকের ভেতর পাথর বেঁধে— ঘ্রাণ শুঁকি এই নাকে।
মনটা তোমার ইচ্ছে ঘুড়ি— ইচ্ছে পাখির দলে,
এই ক্ষণিকের জীবন আমার অংক কষেই চলে।

প্রেম কি তোমার টলমলানো কচু পাতার পানি!
উনিশ-বিশের দোহাই দিয়ে কঠিন অভিমানী।
সেই অভিমান কে ভাঙাবে, বুঝতে পারো তুমি!
ছদ্মবেশে ফিরবে আবার— ওমর, হাফিজ, রুমি।
হয়তো তখন বুঝবে তুমি, জিঁইয়ে রাখি আশা,
দীর্ঘশ্বাসে জমছে এখন— নিখাদ ভালোবাসা।

তোমার শহরে
প্রতাপ মণ্ডল

জীবনটা কেমন যেনো থমকে থমকে যায়
চারিদিকে কত ভয়ার্ত চোখ--
আমারও নিজেকে লাগে বড় অসহায় l
শুনছি নাকি, বরফ কি জানবে না-
দু-এক পুরুষ পর,
ধীরে ধীরে তলানিতে ঠেকেছে জলস্তর l
ওদিকে সমুদ্র ফুঁসছে রাগে-
গ্রাস করছে একে একে বন-জঙ্গল আবাদী জমি
তোমারো ওই এক হাল হবে,
হও না তুমি যতই কেউকেটা নামি-দামী l
গাছ কেটে রোজ, তৈরী হচ্ছে প্রাসাদ
অনাহারে কত, পায়না তারা জগদ্ধাত্রীর প্রসাদ !
মরে কত অনাহারে, তেষ্টায় ফাটে ছাতি
অগত্যা অনাহার,
নোংরা জল অগতির গতি
বর্ষায় ছাদ নেই-
শেডের তলায় কুন্ডলী পাকিয়ে যত
কুকুর-বিড়ালও আছে তাদের পাশেই কত !
এখনো এ শহরে শীত নামে
এখনো কনকনে উত্তুরে বায়
খোলা মাঠে বুড়িটা কত অসহায় l
টাকা চাই আরও,
ছেলেটা বিদেশ দিয়েছে পাড়ি
বুড়িটা হারিয়েছে তার শেষ সম্বল, বাড়ি l
বুড়িটা কালও তো বেঁচে ছিলো
আজ বোধহয় তবে লাশকাটা ঘরে !
এখনো বর্ষা হয়? উত্তুরে বায়, তোমার শহরে?

তোমার শহরে
প্রতাপ মণ্ডল

জীবনটা কেমন যেনো থমকে থমকে যায়
চারিদিকে কত ভয়ার্ত চোখ--
আমারও নিজেকে লাগে বড় অসহায় l
শুনছি নাকি, বরফ কি জানবে না-
দু-এক পুরুষ পর,
ধীরে ধীরে তলানিতে ঠেকেছে জলস্তর l
ওদিকে সমুদ্র ফুঁসছে রাগে-
গ্রাস করছে একে একে বন-জঙ্গল আবাদী জমি
তোমারো ওই এক হাল হবে,
হও না তুমি যতই কেউকেটা নামি-দামী l
গাছ কেটে রোজ, তৈরী হচ্ছে প্রাসাদ
অনাহারে কত, পায়না তারা জগদ্ধাত্রীর প্রসাদ !
মরে কত অনাহারে, তেষ্টায় ফাটে ছাতি
অগত্যা অনাহার,
নোংরা জল অগতির গতি
বর্ষায় ছাদ নেই-
শেডের তলায় কুন্ডলী পাকিয়ে যত
কুকুর-বিড়ালও আছে তাদের পাশেই কত !
এখনো এ শহরে শীত নামে
এখনো কনকনে উত্তুরে বায়
খোলা মাঠে বুড়িটা কত অসহায় l
টাকা চাই আরও,
ছেলেটা বিদেশ দিয়েছে পাড়ি
বুড়িটা হারিয়েছে তার শেষ সম্বল, বাড়ি l
বুড়িটা কালও তো বেঁচে ছিলো
আজ বোধহয় তবে লাশকাটা ঘরে !
এখনো বর্ষা হয়? উত্তুরে বায়, তোমার শহরে?

দাগ থাকুক
সুপর্ণা ব্রহ্ম চক্রবর্তী

দাগ থাকুক

---------আমার সীমানা তুমি মাপবে..!!

এতো বড়ো ফিতে তোমার আছে... !!

তোমায় ভালোবাসা দিতে চেয়েছিলাম, যত্ন করে...
তুমি অ-যত্নের বেড়ে ওঠা বুনো ফুল !

গন্ধ না থাক, রূপের মোহ'তে আটকে ছিলাম ক্ষণিক....

তীব্র পৌরুষ, উফফফ, আফিং নেশা....
মাঝে মাঝে পাশ বালিশে দাঁত বসাতাম তোমায় ভেবে...
তুলো উড়লো অকারণ!

গলার আওয়াজ! আহ রে ষড়রিপু আক্রান্ত আমি....

সারা শরীর উন্মাদনায় নীলচে হয়ে আসত....
তুমি আসতে কই...??

গলা অবধি জলে ডুবে--
তবুও ডুব দিতে পারলাম কই?
শরীর ভিজলো, জ্বালা মিটলো কই?

কে আছো ওকে বন্দী করো... ওকে চাবুক লাগাও, সপাং-সপ..!
দাগ থাকুক সারা শরীর জুড়ে....

যেমন আমার রয়ে গেলো আজন্মকাল....

 

প্ৰাৰ্থী
বাপ্পা দিত্য মণ্ডল

শ্ৰদ্ধাৰ্ঘ্য নেই গো আমাৱ
দেবাৱ মত আজ,
সমুখ পানে দাঁড়াই তবু
ভুলে দিধা লাজ।

ভাবেৱ প্ৰদীপ নিয়ে হাতে
আবেগ ভৱা মনে,
জ্বালায়ে দেবে প্ৰদীপ মম
এমন মানুষ খুঁজি ভ্ৰমে।

আশাৱ প্ৰদীপ জ্বেলে যদি
ভাষা দীপ্তি হয়,
হৃদয়েৱ কোলি পাৱিজাত ফুল
সৌৱভিবে নিশ্চয়।

গৌৱভিবে স্বদেশ ভূমি
সূৰ্য্য সম কীৱন দানে,
বিস্মিত হবে স্তব্ধ সমাজ
এ অঙ্কুৱ কেহনা যদি হানে।

ধন্য হবে মানব জীবন
পুৰ্ন হবে আশা,
সবাৱ চৱন ধুলিৱ আবীৱ যদি
দেখায় পথেৱ দীশা।

আমার ঈশ্বর
পিয়ালী পাল

খুঁজেছি তোমায় মক্কা মদিনায়,
কখনো কালীঘাটে কখনো গীর্জায়.
পাইনি কোথাও একচুল
তবুও যদি করে ফেলি ভুল,
ক্ষমা করো দাসে,
অতীতের অভ্যাসে,
খুঁজতে যাই না আর.
তুমি সাকার না নিরাকার,
সে প্রশ্নও হয়েছে নির্বিকার.
জানি তুমি নেই কোথাও
তবুও তোমার উপস্থিতি হয়নি উধাও.
জানো কোথায় পেয়েছি তোমারে?
আমার ক্ষুদ্র জীর্ণ কুটিরে.
যেখানে বসে আছে পথ চেয়ে
আমার বৃদ্ধ অশক্ত মা.
যে গেলেই আগে জিজ্ঞেস করে
কেমন আছিস রে?
যার কাছে আমি শ্রেষ্ঠ যতই হই নগন্য,
যার কাছে আমার ভালো থাকাটাই পায় প্রাধান্য.
আমার শত ভুল যে নিমেষে করে ক্ষমা
তিনিই আমার চিন্ময়ী রূপ প্রতিমা.
তারই মধ্যে খুঁজে পাই পৃথিবীর
রূপ, রস, গন্ধ সকল উপাদান
তিনিই আমার মা, আমার কাছে জগৎ শ্রেষ্ঠ অভিধান.

মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জড়-জড়িত
আনিছুর রহমান
মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জড়-জড়িত আমি
বলতেও পারিনা হাজারো আপত্তি__
কালো আবরণে সীমাবদ্ধ মানুষ
যেন আলাদা হচ্ছে খোদার দুনিয়াও||

অন্ধকার ঘরে সাপের আনাগোনা
তার মনের অস্থিরতাও কাটে না__
সে ঝুঁকে-ঝুঁকে পা ফেলে টেপে-টেপে
যেন কেউই আর বুঝতেই না পারে||

এই মুহূর্তে অন্ধকার আকাশের তলে
অসীম ক্ষমতা তার,হারিয়ে গেছে__
সে কাউকে কিছুই বলতেও পাচ্ছেনা
তাই অন্য পন্থার সন্ধানে অধীর মগ্নে||

আজ এই কথা গুলো'ই জানাতে বুঝাতে চেয়েছিলাম,গিয়েছি বারে-বারে__
কিন্তু পথে হাজারো বাঁধার দেয়াল
সে নিজেও চায়নি বুঝতে কখনোই||

আমরা শুধুই কি বঞ্চিত!সুশীত নির্যাতিতও বটে
সমাজের চোখে খাটো করেছো তুমি আমার মাথা কেটে__
আজ এই সত্যটাই তো বলেছি তোরে
তবে কেন তার শরীরে ঘাঁ লাগে !! কেন-রে !!

“মাদক নারীদের জন্যও ভয়ানক”

( সত্য ঘটনা অবলম্বনে মাদকসেবী নারীদের নিয়ে প্রতিবেদন),

.... ফারহানা মোবিন,
চিকিৎসক ও লেখক

*********************************************

মাদকের ভয়ানক ছোবলে শুধু পুরষেরা নয়, নারীরাও আসক্ত। মাদকাসক্ত নারীরা পুরুষের সমপর্যায়ের চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

জাতির স্বার্থে সবার উচিত এই সব নারীদের কে পুরুষদের মতোই সাহায্য করা। আমাদের চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মা, বোন, প্রেমিকা ও স্ত্রী। অথচ আমাদের অনেকেরই ধারণা মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র শুধু পুরষদের জন্য, নারীদের জন্য নয়। অনেক নারীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবারের আত্মসম্মানবোধ হয়ে ওঠে পর্বতসমান।

লোক জানাজানির ভয়ে আসক্ত নারীটি হয় চার দেয়ালে গৃহবন্দী। প্রিয় পাঠক, আজ আমরা শুনব, চারজন নারীর জীবনবার্তা- যাঁরা অকপটে স্বীকার করেছেন তাঁদের মাদকাসক্তির সূচনা, পারিবারিক বেদনার মারাত্মক পরিণতি।

কেস স্টাডি: ০১
*********************
প্রবাসে চাকরিরত বাবা-মায়ের অতি আদরের কন্যা সীমা (ছদ্মনাম) বলেন,‘কলেজের একাদম শ্রেণীতে নেশাগ্রস্ত এক ক্যাডারের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়। সে তার অন্য বন্ধুদের সঙ্গে ফেনসিডিল-মদ খেত। কৌতুহলবশত আমিও তার সঙ্গে খেতাম।

কৌতুহলের মাত্রা নেশাতে রূপ নিল। ফেনসিডিলের গন্ডি পেরিয়ে আমি হোরোইন ও ইয়াবাতে আসক্ত হয়ে পড়লাম। বাবা-মায়ের লাখ লাখ টাকা আমি নেশার জন্য নষ্ট করে দিয়েছি।

প্রবাসী টাকা আমার এ্যাকাউন্টে আসত আর পুরোটা আমি নেশার জন্য খরচ করতাম। ইন্টার পাসের পর আমার নেশাগ্রস্ত প্রেমিককে আমি বিয়ে করলাম, সন্তানও হলো। সন্তান কোলে নিয়েই আমি মাদকের আস্তানায় যেতাম। জানাজানি হবার পর আত্মীয়-স্বজনেরা সম্পর্ক ছিন্ন করল।

প্রবাস থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ হলো। নেশার জন্য টাকার প্রয়োজনে স্বামী আমাকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করল। আমার সন্তানটা বড় হতে লাগল। সেও বুঝতে পারল। আমাকে প্রায়ই বলত, মা তুমি ভালো হয়ে যাও, নেশা ছেড়ে দাও, আমি স্কুলে গেলে সবাই আমাকে বলবে তোমার মা নেশা করে। সন্তানের এই ব্যাকুলতা আমার মনে দাগ কেটে দিত। তার ভবিষ্যতের জন্যই আমি নিরাময় কেন্দ্রে এলাম। আজ উনিশ বছর পর নেশার জগত থেকে আমি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। "

কেস স্টাডি: ০২
*******************************************
দারিদ্রতা আর বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহে কণা (ছদ্মনাম) মানসিক হতাশায় ভুগতেন। তিনি বলেন, ‘সংসারের অভাব মেটানোর জন্য আমি ইট ভাঙা, বালু টানার কাজ করতাম।
সেখানে দালাল মহিলা কৌশলে আমাকে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয়। সেই পল্লীর মেয়েরা শারীরিক, মানসিক কষ্ট নিরসনের জন্য হেরোইন খেত। তাদের দ্বারা আমিও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। প্রথমে খেতাম সিগারেট ভেবে, পরে দালাল মাসিরা দিত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বলে। ১৫ বছর যাবৎ হেরোইন-গাঁজা খেতাম; পতিতালয় থেকে বের হয়ে বিবেকের তাড়নায় আমি নেশা ছেড়ে দিলাম।

নেশা ছাড়ার জন্য অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। সবকিছু বলে বোঝানো যায়না। "

কেসস্টাডি-০৩
************************
১৩ বছর ধরে ফেনসিডিল-গাঁজা, হেরোইনে আসক্ত ছিলেন মিতা (ছদ্মনাম)। মাদকের ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে ক্ষুদ্র মনোমালিন্যে আমি বাবার বাসায় যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে বাসস্ট্যান্ডে দালালের পাল্লায় পড়লাম। গর্ভস্থ সাত মাসের শিশুসহ আমি বিক্রি হয়ে গেলাম যৌনপল্লীতে।

সেটা ছিল মাদকের আখড়া। যৌনপল্লীতে আসা খদ্দেরদের দ্বারা আমি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ি। হেরোইন নিলে প্রথমে বমি হতো, পরে তিন বেলায়ই নিতে হতো। এভাবে আমি প্রায় মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে যাচ্ছিলাম। প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে আমি পথেঘাটে পড়ে থাকতাম। নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা আমাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে ভালো করেছে। এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। নেশার জন্য আমার আর খিঁচুনি ওঠে না। "

কেসস্টাডি-৪:
**********************************

‘মাদকাসক্ত স্বামীর প্রভাবে কৌতুহলবশত আমিও আসক্ত হয়ে যাই, বলেন তৃষা (ছদ্মনাম)। এই পাঁচ বছর মাদকে আসক্ত হয়ে আমি আমার সব আত্মীস্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। তারা আমাকে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে।

আমার দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য আমি মাদকের ভয়াল জগৎ থেকে মুক্ত। মাদকের সুচ আমার দেহে আর ফুটাতে হয় না।’

এই চারজন নারীই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসারত ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ। নড়বড়ে জীবনে শক্ত অবলম্বনের জন্য তাঁরা সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ব্যস্ত।

ভালো হওয়ার জন্য নিজেদের তাগিদ এবং নিরাময় কেন্দ্রের জন্যই তাঁরা ফিরে পেয়েছেন নতুন জীবন। তাঁরা চান তাঁদের মতো কেউ যেন কষ্টের শিকার না হয়। কৌতুহলেও যেন একবিন্দু মাদক না নেয়।

এ দেশে পুরুষদের সঙ্গে আসক্ত নারীদের সংখ্যাও বেড়ে চলছে। অথচ তাদের চিকিৎসার জন্য এখনও পরিবার সমাজ বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি, বেসরকারিভাবে রয়েছে মাদক নিরাময় হসপিটাল। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। ফলে প্রতিষ্ঠানের অভাব আর সামাজিক সম্মানহানির জন্য নারীদের চিকিৎসা হচ্ছে চার দেয়ালের বৃত্তে। যা একজন মাদকাসক্ত নারীর জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

এ প্রসঙ্গে মনোচিকিৎসকেরা বলেন,
" মাদকাসক্তি একটি মানসিক রোগ। তাই সঠিকভাবে চিকিৎসা করালে এই রোগ অবশ্যই ভালো হবে। কখনোই আশা ছাড়বেন না।

মাদক নিরাময় কেন্দ্র ‘আপন’-এর পরিচালক প্রয়াত ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল বলতেন,‘মাদকাসক্ত নারীদের প্রতি কখনোই বরূপ আচরণ করবেন না। তাঁরা পরিস্থিতির শিকার।

এমন অনেক ইতিহাস আছে যাঁরা ৩০ বছর যাবৎ মাদক নেওয়ার পরও ভালো হয়ে গেছেন। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ। মিডিয়া ও পরিবারকে আরো সচেতন হতে হবে।

আমরা মাদকাসক্ত নারীদের চিকিৎসা দেই তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপর্যাপ্ত।’

মাদকাসক্ত নারী-পুরুষ কারও প্রতিই অবহেলার দৃষ্টি দেবেন না। আমাদের সমাজে নারীরা তুলনামূলকভাবে আরও বঞ্ছনার শিকার। তাই মাদকাসক্ত নারীরা হচ্ছে ভয়াবহ পরিণতির পাএী।

সীমা, কণা, মিতা, তৃষা এতো বছর পরে মাদক ছেড়ে দিলে অন্যরাও পারবেন।

এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক ও মানসিক সহযোগিতা। প্রতিটি মাদকাসক্ত নারীর আকাশ থেকে কেটে যাক নেশার মেঘ। মাদকমুক্ত সুস্থ জীবনের আলোয় আলোকিত হোক তার চলার পথ।

ভালোবাসা হলো সবচেয়ে রোমাঞ্চকর একটা যাত্রা
সূর্যোদয়ের প্রণয়ী চুম্বনে শুরু হয় নতুন দিনের যাত্রা ,
ভালোবাসাতো এ পৃথিবীতে সবচেয়ে সংবেদনশীল
ভালোবাসায় থাকা অভিজ্ঞতাই একে করে যত্নশীল ।

ভালোবাসাতো হলো আনন্দ ও দুঃখের যৌথ ফসল
ভালোবাসায় থাকে হাসি অশ্রুধারার যৌথ ফলাফল ,
ভালোবাসায় দুটি আত্মা হয়ে যায় একত্মার সামিল
এখানে থাকেনা কোন দ্বিধা-দ্বন্দ আর মতের অমিল ।

ভালোবাসাতে থাকেনা কোনই একাকীত্বে অনুভূতি
এখানে থাকে শুধুই ভালোবাসা আর সুখময় স্মৃতি ,
ভালোবাসা ঝড়ে যাওয়া বৃষ্টি ফোঁটার মতো পবিত্র
ভালোবাসা গোলাপ পাপড়ির চেয়ে মারাত্মক অস্ত্র ।

ভালোবাসাতো হলো প্রতিদিনেরই গৌরবময় ভ্রমণ
কখনো ময়লা রাস্তায় কখনো রিক্সায় সময় ক্ষেপন ,
ভালোবাসাময় স্পর্শতে থাকে অপরিমেয় উদারতা
থাকে তৃষ্ণার্তের শিরায় উপশিরায় ভ্রমণের ক্ষমতা ।

মধ্যরাতে ভালোবাসার মিলনে আগামী খেলে যায়
ভোরের সূর্য ওঠার পূর্বে তাই অঙ্গগুলো নিদ্রা যায় ,
ভালোবাসাতো কোমল তুলার মতোই স্পর্শ কাতর
ভালোবাসায় ভরে উঠুক প্রতিটি গ্রামাঞ্চল ও শহর ।

নেশামুক্ত

জুলফিকার আলী

পাখিরা সব মিটিং করে,

যদিও কেউ চিটিং করে|

পাখিরা রাজা দেবেন সাজা,

খেলে হেরোইন খেলে গাঁজা|

নষ্ট আরাম নেশা হারাম!

নেশা থেকে মুক্তি চাই

সমাধান আর যুক্তি চাই

আইন সে হোক আরো কঠোর

এই নিয়ে আজ চুক্তি চাই|

নেশা টানে মৃত্যু আনে,

সংসারে অশান্তি দানে-

অভাব এবং মন্দ স্বভাব

বদলিয়ে দেয় পেশা
কুপথ আনে নেশা,

একথাটা সবাই জানে|

#কৃষ্ণকলি_তুই
#দিপালী_দে_সামন্ত

একলা ঘরে চুপটি করে
থাকিস কেন মন মরা?
পাত্তা তাদের দিস না মোটেই
তোর মূল্য বোঝে না যারা।

বিষণ্ণতাকে ঝেড়ে ফেলে
আয় না কাছে আমার,
ভালোবেসে তোর জন্য
এনেছি উপহার।

একমুঠো শিউলি এনেছি,
মন ভরে তার সুবাস নিস।
আর কিছু শিউলি দিয়ে
মনের মতো গয়না গড়িস।

কৃষ্ণকলি তোর রূপ দেখে
আমার আঁখিতে একরাশ মুগ্ধতা,
তুই যে আমার মনের ঘরে
দেবী রূপেন সংস্থিতা।

#গল্প
#পূরণের_দুর্গা
#অমিতাভ_রায়
-

বিকেলের ঘাড়ে তখন নিঃশ্বাস ফেলছে সন্ধ্যা। আকাশ রাঙিয়ে উঠেছে অন্ধকারের বুকে তলিয়ে যাওয়ার আগে। ঘরে ফিরছে পাখির দল। পূরণের কাজ তবু শেষ হয় না। শেষ হবেই বা কি করে? এবারে বর্ষা দেরি করে এসেছে বটে, কিন্তু বিদায় নিতে আর চায় না। জন্মাষ্টমীতে পাটাপুজোর পর প্রতিমা বানানো শুরু করেছে পূরণ। বাবুদের পুজোবাড়ির দালানে বসে কাজ করে ও। দিন আসে দিন যায়। ধীরে ধীরে প্রতিমা রূপ পায়। প্রতিবছর এই কাজ ওর। এবারে ঘন ঘন বৃষ্টির জন্য কাজ আর শেষ হচ্ছে না। প্রতিমা শুকোতে সময় লাগছে। রঙ দেবে কি করে প্রতিমা না শুকোলে। বয়সও হয়েছে৷ এই বয়সে আর এতো খাটুনি শরীর নিতে পারে না। আগে আরো কয়েকটা প্রতিমা গড়তো ও । এখন ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু, বাবুদের প্রতিমা গড়া ও ছাড়তে পারবে না। সেই বাবা কবে থেকে ওকে নিয়ে আসতো এই পুজোদালানে! বাবাকে ও সাহায্য করতো৷ বাবা বুড়ো হয়ে গেলে বসে দেখতো, আর পরামর্শ দিতো। তারপর বাবা চলে যাওয়ার পরে ওর হাতেই পুরো দায়িত্ব। প্রতিবার বিসর্জনের সময় ওর মন ভেঙে যায়। আবার জন্মাষ্টমীর দিন মুখে হাসি ফিরে আসে।ছেলে পরম শহরে চাকরি পেয়ে চলে গিয়েছে। বাবাকেও নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু পূরণ পারবে না এই গ্রাম ছেড়ে যেতে। " দাদু, চা খেয়ে নাও। " পূরণ তাকিয়ে দেখে বাবুর নাতনি চায়ের প্লেট হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই নাতনিটা বড়ো দুঃখী তা পূরণ জানে। শ্বশুর বাড়িতে অত্যাচার করতো। এক দিন রুখে দাঁড়িয়েছিলো। প্রতিবাদ জানিয়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছে। ওরা বৌকে আবার ফেরত চেয়েছিলো। কিন্তু, তনয়া যায় নি। বাবুও নাতনিকে আর পাঠাতে চান নি। মেয়েটার ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে এখন ও পড়ায়। পূরণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। বলে, " আজকের মতো কাজ শেষ। কাল মা যদি চান তাহলে রোদ্দুর উঠলে পরশু থেকে রঙ করা ধরবো। " " এতো খাটো কেন তুমি? " তনয়ার দিকে তাকিয়ে ম্লান হেসে পূরণ বলে," পুজো যে এসে গেলো দিদিভাই। এবারে তো কাজ শেষ করতে পারবো বলে মনে হচ্ছে না। " " তুমি তোমার মাকে বিশ্বাস করো না? " আলো- আঁধারিতে তনয়ার দিকে তাকিয়ে পূরণ বিস্মিত হয়ে যায়। বাবুর নাতনি কোথায়- মা দুর্গা যে স্বয়ং দাঁড়িয়ে রয়েছে। পূরণ দু হাত তুলে কপালে ঠেকায়। " কি হলো দাদু? " বিস্মিত তনয়া জিজ্ঞেস করে। বুড়োর চোখে তখন জল। তনয়া কিছুই বুঝতে পারেনা। চারদিক তখন অন্ধকারে মুছে যাচ্ছে। তনয়া পুজো দালানের আলোটা জ্বালিয়ে দিলো।

ভাগ্য ভালো। পরপর দুদিন সোনালি রোদে ভেসে গেলো পৃথিবী। প্রতিমাগুলির দেহের উপর রঙের প্রলেপ লাগাতে শুরু করেছে পূরণ। কিন্তু শরীরটা যেন আর দিতে চাইছে না। হাত চলতে চাইছে না। পূরণ বুঝতে পারে সময় ঘনিয়ে এসেছে। সন্ধেবেলায় তনয়া চা দিতে এলে বলে," দিদিভাই ঠাকুরের গায়ে রঙ না দিয়ে যেন চলে না যাই চিরকালের জন্য। " তনয়া মায়াভরা চোখে তাকিয়ে থাকে বুড়োর দিকে। সেই কবে থেকে ও দেখছে পূরণকে। " না- না, তুমি আরো অনেকদিন বেঁচে থাকবে। " দুজনেই নীরব।অন্ধকারে ঢেকে গেছে চারদিক। একটা প্যাঁচার কর্কশ কণ্ঠ যে নির্জনতার বুক চিরে দিয়ে যায়। তনয়া প্লেট নিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।

তনয়া আজকে দুপুর থেকেই পুজোদালানে বসে আছে। পরশু বোধন। আজকের মধ্যে রঙ করা শেষ হবে। কাল মা দুর্গাকে সাজানো হবে। পূরণ একটুও বিশ্রাম না নিয়ে কাজ করেই চলেছে। প্রায় শেষ হয়ে এসেছে রঙ করা। পুজোবাড়ি পরিষ্কার করছে লোকজন। বিভিন্ন জায়গা থেকে আত্মীয় স্বজনেরা আসতে শুরু করেছে। পূরণ বুঝতে পারছে ওর হাত আর চলছে না। কিন্তু, তনয়ার দিকে তাকালেই ওর মনে হচ্ছে মা দুর্গা স্বয়ং ওর পাশে বসে আছেন। ভিতরে ভিতরে একটা অদ্ভুত গোঁ আর শক্তি যেন অনুভব করছে ও। কাজ শেষ করতেই হবে। তাই হলো। দেবীর চোখ আঁকা যখন শেষ করলো- তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। তনয়া বাড়িতে ফিরে গিয়ে চা নিয়ে এসেছে। বুড়ো তুলির শেষ টানটা দিয়ে তনয়ার দিকে তাকিয়ে হাসতে গেলো। কিন্তু চোখের সামনে সব যেন অন্ধকার হয়ে গেলো। তনয়া বুড়োকে পড়ে যেতে দেখে চোখে জল দিয়ে জ্ঞান ফেরাতে চেষ্টা করে। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। চোখ মেলে পূরণ বুঝতে পারে ও আর উঠতে পারবে না। ওকে ঘিরে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। আর ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে স্বয়ং মা দুর্গা। একবার প্রতিমার মুখের দিকে তাকায় বুড়ো- একবার তনয়ার দিকে। বিড়বিড় করে বলে," মা, তুমি শক্তি দিয়েছিলে বলেই কাজ শেষ করতে পারলাম। এবার দশমীতে তুমি চলে যাওয়ার সময় এই বুড়োকেও নিয়ে যেও। " পূরণের চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।

ভাবনায় ভেসে
দিবাকর মণ্ডল

শরৎএলো - মনের কোণে ফুটলো খুশির রেনু ,

আলোক ধারায় ভুবন জুড়ে বাজলো পুজোর বেনু ।
নদীর তীরে, পথের ধারে - দিচ্ছে কাশে দোলা ,
ইচ্ছে ডানা পাখনা মেলে - দুয়ার আজি খোলা ।
সুখের স্রোতে দু-কূল ভাসে -
শিউলি জাগে ভোর বাতাসে -
শিশির কণার শান্ত ছোঁয়া গুনগুনিয়ে গায় ।
মেঘ বালিকা বলল - মা আজ এসেছে ধরায় ।

হৃদয় নাচে কি উল্লাসে - বছর পরে এলো শেষে ,
চারিধারে বাজল সুরে আগমনী গান -
ছুটির সুখে অশ্রু ঝরে , মাতাল সুখী প্রাণ ।
বসন পরে সাজলো বুঝি - ফুটলো মায়ের চোখ ,
পড়বে মায়ের দৃষ্টি কৃপার - সবার ভালো হোক ।
সাজছে যত অন্ধ গলি -
আলোর রঙে খেলছে হোলি -
ঢাকের বোলে মায়ের গৃহে হচ্ছে আগমন ।
পথে ঘাটে জনস্রোতে পূজার আয়োজন ।

প্রতীক্ষা ক্ষণ হঠাৎ যেন আলগা দিল ধরা ,
শূন্য ঘরে একলা বসে , বিদিক খুশি ভরা ।
দু-দিন পরেই ফিরবে গৃহে , সকল অবসান ,
স্মৃতিটুকুই রইবে ধরা - বাকি সকল ম্লান ।।

 

অজানাতে

সোমা গাঙ্গুলী

নিজের আত্মসম্মানকে রক্ষা করতে গিয়ে,
অন্যদের উপেক্ষা, অভিমান আর অবমাননাকে,
গ্রহণ করেছি হৃদয়ের অন্তঃপুরে।
এত অজানা, হঠাৎ ধাক্কায়,
হৃদয় আজ উদ্বেল হয়ে উঠেছে।
হৃদয়ের প্রতিবাদ মুখের ডগায়,
তবু কথাতেই আছে, বোবার কোন শত্রু নেই।
চুপ করে মেনে নিতে নিতে,
হৃদয় চিরে তৈরি হচ্ছে রক্তের উৎস,
অনুভূতিগুলো বোবা হয়ে ভুগছে
ভীষণ ক্ষতর যন্ত্রণায়।
মন আজ জাগতিক নিয়ম কানুনের ঊর্দ্ধে,
প্রকৃতির শোভা বিহ্বল করতে পারছে না মনকে।
হয়ত বোধগুলো ঢাকা পড়ে গেছে,
পৃথিবীর মানুষদের সৃষ্ট,
এক ময়লার আস্তরণে।
প্রাচুর্যে মন আর ভরে না-
মন দুঃখে কাঁদে তাদের জন্য,
যারা আমার মতোই দুঃখের সাগরে নিমজ্জিত।
মনের কোণে দারিদ্র্যের ক্লেশে
হয়ত কষ্ট হয় জীবনধারণে,
কিন্তু মানসিক সংঘাত আর
সম্পর্কের মৃত্যুযন্ত্রণায়,
একটু একটু করে গরল পান করে-
যেন চলে যেতে চায় না ফেরার দেশে।

 

অজানাতে

সোমা গাঙ্গুলী

নিজের আত্মসম্মানকে রক্ষা করতে গিয়ে,
অন্যদের উপেক্ষা, অভিমান আর অবমাননাকে,
গ্রহণ করেছি হৃদয়ের অন্তঃপুরে।
এত অজানা, হঠাৎ ধাক্কায়,
হৃদয় আজ উদ্বেল হয়ে উঠেছে।
হৃদয়ের প্রতিবাদ মুখের ডগায়,
তবু কথাতেই আছে, বোবার কোন শত্রু নেই।
চুপ করে মেনে নিতে নিতে,
হৃদয় চিরে তৈরি হচ্ছে রক্তের উৎস,
অনুভূতিগুলো বোবা হয়ে ভুগছে
ভীষণ ক্ষতর যন্ত্রণায়।
মন আজ জাগতিক নিয়ম কানুনের ঊর্দ্ধে,
প্রকৃতির শোভা বিহ্বল করতে পারছে না মনকে।
হয়ত বোধগুলো ঢাকা পড়ে গেছে,
পৃথিবীর মানুষদের সৃষ্ট,
এক ময়লার আস্তরণে।
প্রাচুর্যে মন আর ভরে না-
মন দুঃখে কাঁদে তাদের জন্য,
যারা আমার মতোই দুঃখের সাগরে নিমজ্জিত।
মনের কোণে দারিদ্র্যের ক্লেশে
হয়ত কষ্ট হয় জীবনধারণে,
কিন্তু মানসিক সংঘাত আর
সম্পর্কের মৃত্যুযন্ত্রণায়,
একটু একটু করে গরল পান করে-
যেন চলে যেতে চায় না ফেরার দেশে।

 

গল্পকথা_কাঁসর
সুশান্ত নাথ
আজ মিনু ভোর ৪ টে বিছানা থেকে উঠলো, সারারাত ঘুম নেই স্বামী সন্তান কে নিয়ে তিন জনের সংসার মিনুর ,মিনুর বাপের বাড়ির কেউ নেই, সবাই গত হয়েছেন। বিলে একমাত্র সন্তান ,বয়েস ১০ বছর । ছেলের স্কুল ছুটি পরবে আজ, সরকারী স্কুল থেকে একটা নতুন জামা পাওয়ার কথা, সব বন্ধুদের খুব আনন্দ নতুন জামা পাবে , বিলেও খুব খুশি ছিলো মনে মনে নতুন জামা পাবে, কিন্তু বিলের নতুন জামা আর পাওয়া হলো না, কারণ আজ সে স্কুলে যেতে পারবে না । বাবার সাথে কলকাতা যাবে, বাবা পুজো মণ্ডপে ঢাক বাজায় আর ছোট্টো বিলে ঢাকের তালে তালে কাঁসর বাজাবে কলকাতার পুজো মণ্ডপে প্রথমবার । মিনুর স্বামী মানিক প্রামাণিক এই দিনটার অপেক্ষায় থাকে সারাবছর ,পুজোর কদিন রোজগারের এই অর্থ দিয়ে ছেলের সারা বছরের পড়াশোনার খরচ আর কিছু সংসার খরচ মেটায় মানিক। মিনুও স্কুলের নতুন দিদিমণির বাড়ীতে রান্নার কাজ করে। নমিতা কলকাতা থেকে এই গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করতে এসেছে শহরে নিজের বাড়ী থেকে একশো কিলোমিটার দূরে। বিলে এই বছর প্রথমবার কলকাতা আসছে কাঁসর বাজাতে বাবার সাথে। সবাই যখন পুজোর কদিন বাড়ীতে একসাথে খাওয়া দাওয়া করবে, ঠাকুর দেখবে , তখন মিনুকে একা থাকতে হবে ; ছেলের থেকে অনেক দূরে .., তার ছোট্ট ছেলে বাবার সাথে থাকবে শহরের পুজো মণ্ডপে । নিজের পরিবার আর সন্তান কে আগলে দিন কাটায় মিনু , বিলেতে এক মুহূর্তের জন্যও আলাদা রাখেনি মিনু কখনো। স্বামী সন্তান কে ছেড়ে পুজোর দিন কিভাবে কাটাবে মিনু ... ! খুব, খুব মন খারাপ মিনুর সকাল ৬টায় ট্রেন, স্টেশনে পৌঁছানো ওরা তিনজন। ছেলের চোখে জল দেখে নিজেকে সামলাতে পারলো না মিনু।
স্টেশনে বিদায় বেলায় মা ছেলের কান্না দেখে বিলের বাবার কষ্ট হয় খুব, তবে সে নিরুপায়, জুট মিল বন্ধ হয়ে গেছে ।সংসারে অভাব অনেক। তাই নিরুপায় মানিক তার বাবার ঢাক বাজানোর কাজটাই বেছে নিতে বাধ্য হলো, তিন বছর এভাবেই চলছে সংসার । স্টেশনে বিদায় বেলায় মিনু ছেলের চোখের জল মুছে দিয়ে ছেলেকে মন শক্ত করতে বলে । ট্রেন ছেড়ে দিলো, জানলা দিয়ে হাত নাড়তে থাকে বিলে। মিনু একা ফিরে এলো ওদের বিদায় জানিয়ে। সকাল বেলা মিনু দিদিমণির বাড়ীতে রান্না করতে গিয়ে চোখের জল আর থামতে পারে না। নমিতা দেখলো মিনুর চোখে জল, সব কিছু শুনে মিনুর কাছে জানতে পারলো তার ছেলে কলকাতার বাদুরবাগানের মাঠে ঢাক বাজাতে গেছে তার বাবার সাথে। একথা শুনেই নমিতা, মিনুকে বললো তুমি আর কেঁদো না মিনুদি, তোমাকে আমি আমার বাড়ী নিয়ে যাবো, আমার বাড়ী কলকাতার বাদুরবাগানে আর তুমি কী জানো ঐ মাঠে যে পুজো হয় , সেখানেই বিলে আছে । তুমি তাড়াতাড়ি জামা কাপড় গুছিয়ে নাও। আমার সঙ্গে আজই যাবে তুমি কলকাতা, ছুটিতে আমি ও বাড়ী ফিরবো আজ। আজ দুপুরের ট্রেনে আমি তোমাকে কোলকাতায় আমাদের বাড়ীতে নিয়ে যাবো । কথা গুলো শুনে মিনু নমিতা কে জড়িয়ে ধরে আনন্দে, মুহুর্তের মধ্যেই মিনু যেন স্বর্গ পেলো, আনন্দে চোখের কোল ভিজে উঠলো মিনুর ।
নমিতা স্কুল থেকে বিলের নতুন জামাটা নিয়ে বাড়ী ফিরে ,মিনু কে নিয়ে কলকাতার ট্রেনে ওঠে। নমিতা কলকাতায় এসেই মিনুর পরিবারের সবার জন্য নতুন বস্ত্র কেনে ।বাড়ীতে নমিতার বোন আর মা থাকে, তাদের জন্য নতুন বস্ত্র কিনে বাড়ী ঢোকার আগেই বাদুরবাগান মাঠে গিয়ে বিলে আর ওর বাবার সাথে দেখা করে। বিলে আনন্দে আত্মহারা প্রিয় দিদিমণি, মা কে পেয়ে বিলের মন শান্ত হলো, খুব কষ্ট পাচ্ছি বিলে। নমিতার মা ,বোন সবাই খুশি বিলে কে পেয়ে। ফাঁকা দুতলা বাড়ী মুহুর্তের মধ্যেই জমজমাট। নমিতার মা সরলা দেবী কে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলো সবাই । মিনুকে সরলা দেবী বললেন, "তুই আমার ধআর এক মেয়ে, নিজের মতো করে থাকবি আর এটা তোর নিজের বাড়ী এমন ভাব টা মনে রাখবি, তাহলে খুব খুশি হবো আর বুঝবো তুই মন থেকে আমাদের আপন করেছিস। "
নমিতা বিলের হাতে স্কুলের জামাটা দিলো। বিলে খুব খুশি। নমিতার বোন প্রিয়া ,মিনু আর বিলে সবাই মিলে আবার পুজোর বাজার করতে বেড়োলো। বিলে মাকে কানে কানে বললো মা এবার খুব খিদে পেয়েছে।
নমিতা ওদের সবাই কে নিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলো। নমিতা বিলের হাতটা ধরে নিজের পাশে ভালো। বিলে, মিনু কে নমিতা বললো প্রতিবছর ই পুজোতে কলকাতায় এভাবেই একসাথে কাটাবো।

 

মর্ত্যের দুগ্গা

প্রতিমা দাস

স্নিগ্ধ শারদীয়া উত্তরীয় শোভিত,
বাতাসের সুগন্ধী আতর স্নাত প্রকৃতি পুরুষ সন্তর্পণে নববধূ ঊষার ঘোমটা উন্মোচন করে;
লাজ রাঙা বালিকা বধূর ধীর আঁখি উন্মিলীত।
নীলাভ আকাশে সজ্জিত টুকরো সফেন মেঘের মোজাইক।
নরম ঘাসে শিউলি কাশের নকশি বুননে বিন্দু বিন্দু মুক্তো গাঁথা।
পদ্মনাভে কৃষ্ণ ভ্রমরের গোপন অভিসার।
বৃষ্টি রৌদ্রের মিলন ঋতু শরৎ রাজার
বাতাসে সেই চির চেনা "আলোর বেণু"।
সংসার ত্যাগী গৃহী কৈলাসপতির গৃহিনী ঘরের মেয়ে উমার
পিত্রালয়ে প্রত্যাবর্তন।
ডাকের সাজ, অভিনব বস্ত্র গহনার রকম ফেরে মৃন্ময়ী মেয়েকে প্রাণভরে সাজায় মর্ত্যবাসী।
দক্ষ স্পর্শে জীবন্ত পটচিত্র অথবা প্রতিমা।
মন্ডপে দেবালয়ে রোশনাই, আড়ম্বর
মাতৃ বন্দনার আগমনী সুরে মুখরা প্রকৃতির উল্টো পিঠে অভুক্ত, লাঞ্ছিত, ভিক্ষাপাত্র হাতে হাহাকার করছে মর্ত্যের দুগ্গারা।
মন্ডপে যে হাতে "কলা বধূর" লজ্জাবস্ত্র ব্যাপৃত;
সেই হাতে জীর্ণ লজ্জাবস্ত্র ভূলুন্ঠিত;
আচঁলে জীবন্ত অসুরের কামনার ক্লেদ।
বিবস্ত্র উমারা কাঁদছে, বরাভয় দাও চিন্ময়ী রূপে ধূলায়িত আঁচলের শক্তি হয়ে।

রাধা কৃষ্ণ
আশরাফুল ইসলাম

ভোর বিহানে রঙিন স্বপ্ন গুলো
দূর দিগন্তে চোখ মেলে আনমনে
নীল কষ্টের জোনাকিদের সনে
সুখ দুঃখ পোড়ায় সারাক্ষণে।
পাহাড় বনের মিষ্টি সুরের বাঁশি
কন্ঠে যে মোর ক্লান্ত মধুর হাসি
রাধারাণী আর চৈতালী মধুবালা
হয়ে গেছে মোর হৃদয় পল্লী বালা।
কৃষ্ণ সাধনে ডুব দিয়েছে রাধা
জীবন থেকে মুক্তি নেবার ছলে
নিয়তি তারে করেছে অনেক দূর
সুখ বাসনা ভাসলো চোখের জলে।
পরাণ যে মোর পুড়ছে তাহার লাগি
প্রেমের এ ঋণ শোধ দেব তারে কবে
কাব্য গাঁয়ের পথ যতদিন রবে
সারা নিশি দিন পোড়া বাঁশি যেন
তারই কথা কবে।
ধন্য হবে কৃষ্ণের ভালবাসা
পবিত্রতার ধুপ কাঠির ই ঘ্রাণে
শূন্যতা সব পূণর্তা পাবে যেন
গাইবে সবাই প্রেমের জয়গান
রাধা- কৃষ্ণের শানে!

দুঃস্বপ্ন
রিন্টু পাল
ছোট্ট সৌম্য এবং তার বোন ছোট্ট সুমি । তারা দুজনেই এক ধনী পরিবারের মা ও বাবার চোখের মণি ছিল । গরমের ছুটিতে তারা দার্জিলিং বেড়াতে যাবে বলে বেরিয়ে পরল তারা চারজন মিলে, রাতের বেলায় রাস্তার একা রেস্তোরায় তারা খাওয়া-দাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়লো দার্জিলিং এর উদ্দেশ্য । নিউ জলপাইগুড়ির কাছে বাইপাস রেড ক্রসিংয়ে হঠাৎ তাদের গাড়িটির এক্সিডেন্ট হল । সৌম্য তখন তার মায়ের কোলে ঘুমাচ্ছিল। কিন্তু সুমি রাস্তা দেখতে দেখতে যাচ্ছিল, তাই সে তাদের গাড়ির অ্যাক্সিডেন্ট চোখের সামনে দেখতে পেয়েছিল । তার মা বাবাকে হারিয়ে সুমি আজ বাকরুদ্ধ । সৌম্য আজ তার সম্পূর্ণ দেখভাল করে। পাছে ছোট বোন কষ্ট না পায়, সেই ভেবে সৌম্য তার মা-বাবার মত সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে আজ । বোনকে মা-বাবা হারানোর কষ্টটা বুঝতে দেয় না সে । সৌমো শুধু একটা কথা বিশ্বাস করে ভগবান আছেন ।
ভগবান একদিন সময় মত তার বোনের গলার আওয়াজ ঠিক ফিরিয়ে দেবেন । সৌম্য শুধু সেই দিনটার অপেক্ষা করে। কখন তার বোন তাকে দাদা বলে ডাকবে ।

সমাপ্ত

#আগমনীর সুর
#করুণাময়ী
#অঞ্জলী দাশ গুপ্ত
ঘরে বড্ড অভাব দুমুঠো যে খেতে দেবে বাচ্চাদের তার উপায় নেই মলিনা দেবীর।তিনি বলেন এত কষ্ট আর সহ্য হয় না।ভগবান কেন যে তাদের প্রতি সহৃদয় হন না জানেন না তিনি।সামনেই পুজো বাচ্চাদের যে জামাকাপড় কিনে দেবেন তার কোনো উপায় নেই।
পুজো কাছে আসতেই মোহন বাবু তার দুই ছেলেকে নিয়েও বেরিয়ে পড়লেন কলকাতায়।পুজো মানে ঢাক না হলে পুজো জমে না।কলকাতার এক নামি পুজোর প্যান্ডেলে তাদের ডাক পড়েছে।সেখানে পাড়ার ক্লাবে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হলো।পুজোর দিন গুলো মোহন বাবু আর তার দুই ছেলে ঢাক ও কাসর বাজিয়ে সারা পুজো মাতিয়ে তুলেছে।তাদের বাজনার তালে সকলে নেচে ওঠে।সবাই মুগ্ধ হয়ে তাদের বাজানো দেখে।বাবা ও ছেলের যুগলবন্দি সত্যি মনকাড়া।এ কয় দিনে মোহন বাবুর দুই ছেলে নেপু ও হিরু সকলের প্রিয় হয়ে ওঠে।
দেখতে দেখতে চোখের নিমিষে যেন পুজোর শেষ লগ্নে উপস্থিত।তাদের আবার বাড়ি ফেরার পালা।পুজোর শেষে মোহন বাবু তার দুই ছেলেকে নিয়ে পাড়ায় বেড়িয়ে পড়েন কিছু সাহায্যের জন্য।কেউ বা চাল ,ডাল ও সব্জি দিচ্ছে।কেউবা টাকা ও জামাকাপড়।এইসব পেয়ে তারা খুব আনন্দিত।তারাও এবার জামাকাপড় পরে আনন্দ করবে।এই দৃশ্য দেখে মোহন বাবুর দুই চোখের কোনে জল ভেসে ওঠে।
হিরু ও নেপুর পড়াশোনায় খুব আগহ।তারা চায় পড়াশোনা শিখে চাকরি করবে ও বাবাকে সাহায্য করবে।এমন সময় অরুণা ঘর থেকে বেড়ান আর দেখেন রাস্তায় একটা কাগজের মধ্যে কিছু লেখা আছে সেটা নিয়ে হিরু ও নেপু ভেঙে ভেঙে পড়ছে।এই দেখে তিনি ভীষণ খুশি হলেন।আর তাদের আগ্রহ পড়াশোনার প্রতি তাকে অবাক করে।তিনি মোহন বাবুকে বলেন ওদের এই মিষ্টি মুখ দেখে আজ মনে হলো সব যেন তিনি ফিরে পেলেন।মাতৃ স্নেহে তিনি ওদের কাছে টেনে নিয়ে বললেন- আজ থেকে ওদের পড়াশোনা ও যাবতীয় যা খরচা হবে সব তিনি বহন করবেন।তিনি ওদের মানুষের মত মানুষ করতে চান। যাতে তারা মাথা উঁচু করে বাঁচে।মোহন বাবু এর উত্তরে কি বলবেন বুঝতে পারছিলেন না ....তিনি চোখ ভরা কান্না নিয়ে হাত জড়ো করে মাটিতে বসে তাকে প্রনাম করলেন।
মা দুর্গা হয়ত আজ ওনার মধ্যে সায়িত হয়েছেন।তাই তিনি তাদের মনের সব কষ্ট অনুভব করতে পেরেছেন।মা যেমন তার সন্তানদের না বলা দুঃখ বুঝে নেন। তেমনই অরুণা দেবীও আজ " মা " হয়ে তাদের জীবনে আশীর্বাদ রূপে বর প্রদান করলেন।এই ভাবেই "মা " আসুক যুগে যুগে ভিন্ন ভিন্ন রূপে।

#ইভেন্ট_আগমনীর_সুর
#প্রার্থনা
#সঞ্জয়_চক্রবর্ত্তী

হে দেবী-
কখনও তুমি দশভূজা দূর্গা রূপে দুর্গতি নাশিনী,
আবার দশ মহাবিদ্যায় তুমিই অসুরকূল বিনাশিনী|
তুমিই বাগ্ দেবী সরস্বতী, তুমি নারায়ণী ,
মাতৃরূপিনী সেই অন্নদারই আমি গাই আগমনী |
দেবীর সে আগমনী ভেসে যায় দুরে ,
নাড়ীর টানে প্রিয়জন ঘরে আসে ফিরে |
তবু কেন যে মন ব্যকুল তার তরে ,
মোদের সুভাষ তো আজও ফেরে নাই ঘরে |
যেখানে মাটির প্রতিমা পায় দেবী আসন ,
সেখানে নারীর সম্মান নিয়ে কেন চলে প্রহসন ?
ফুটপাতে কত উমা ধুলায় লুটায় ,
অসুর-ধর্ষিতা উমা লজ্জায় মুখ টি লুকায় |
পূনর্বাসন পাবে কি আর অনাহারি বানভাসি,
পারবে কি ঢাকতে ব্যথা হতভাগ্য চাষী ?
বৃদ্ধাশ্রমে মা কি হাসবে তার প্রাণখোলা হাসি ?
ঐক্যের আগমনী গাইবে কি আর প্রতিবেশী সন্ত্রাসী
বাড়াতে চাই না অভিযোগ আর ব্যথিত মনের ভার ,
মায়ের কাছেই চাইব না হয় এই অন্যায়ের সুবিচার ,
অন্নদা-বরদা মাতা বিপদ নাশিনী ,
যেন শুদ্ধচিত্তে গাইতে পারি আমি তোমার আগমনী

#ইভেন্ট_আগমনীর_সুর
#কবিতা_চক্ষুদান
#নাম_প্রতিমা দাস
#তারিখ_২৫-০৯-১৯

উদাস বাউল সফেন মেঘের দল
নিরুদ্বেগে ভাসছে কেমন নীলাকাশের দেশে,
শিশিরস্নাত শিউলি রাঙা ভোরে
নতুন ঊষা সলজ্জ পাট ভাঙে।
ঢাকিরা সব পথ ধরেছে "ইষ্টিশনের পানে"
শহরে জুড়ে বায়না আছে ওদের।
দুকূল ছাপিয়ে ছলাৎ ছলাৎ নদী
ভাটিয়ালী সুর ভেসে আসে ঐ পার হতে।
রৌদ্র খানিক লুকোচুরি খেলে মেঘবালিকার সাথে,
কখনো বৃষ্টি খিলখিলিয়ে হাসে
মুক্তো ঝরে ওর হাসির দমকে,
কখনো অভিমানে রৌদ্র চমকে,
শরতের সোনালী প্রভাতে......
এভাবেই বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যে নামে
গাঁয়ের মাঠে ঘাটে;
খুশির বাতায়ন.....
আগমনীর সুর ভাসে বাতাসে পদ্মগন্ধ মেখে।
ও মাঝি ভাই একটুখানি ঠাঁই দিও খেয়া পারে,
পারের কড়ি দেব ঠিক ফেরার কালে......
একমুঠো শিউলিও দেব আঁজলা ভরে,
যেতে হবে ঐ যে কাশের বনে,
তোমার নাওয়ে সাজিয়ে দেব কাশের গোছা,
বল বন্ধু নিয়ে যাবে ঐ পারে?
পটুয়া পাড়ায় ব্যস্ত ভারী ওরা
তুলির টানের শেষপর্বে চক্ষুদানে।
আজি সোনালী শারদ প্রাতে
ঢাকের বাদ্যি মুখরিত
আকাশে বাতাসে আগমনী সুর ভাসে,
নব কল্লোলে শিহরিত ধরাধামে
মা আসছেন একটি বছর পরে।

#ইভেন্ট আগমনীর সুর
#কবিতা

#নারীরূপেণ সংস্থিতা
#শান্তা চ্যাটার্জী

তোমায় প্রথম দেখেছিলাম শিউলি তলায়,
তোমায় প্রথম দেখেছিলাম আগমনীর সুরে,
তোমার চোখে চোখ রেখে ভাসতে চাই
দূর আকাশের মেঘের ভেলার ওই নিঃসীম তেপান্তরে |

তোমায় প্রথম খুঁজেছিলাম আগমনীর সুরে,
অনেকখানি ভালোবাসা আর আবেগভরা বুকে,
তোমাকে যে খুঁজে বেড়াই প্ৰতি নারীর মাঝে,
হোক বা তার মলিন বসন, অযতনে ধূলিমাখা,
হোক না সে কাঙাল,দরিদ্র,আতুর বা নিঃস্বতায় ভরা !

তুমি যে আছো সকল নারীর সকল কিছুর মাঝে,
তুমি যে থাকো জন্মদাত্রীর নাড়ি -কাটা যন্ত্রণার আনন্দ -উপাখ্যানে,
তুমি আছো অন্তলীলার আদিম নতুন ঘ্রানে |

তোমার দীঘল চোখ,
এলোচুলে তোমার শত্রু -নিধন,
তোমার হাতিয়ার,
কনে -দেখা আলোয় রাঙা, কখনো অভিমানী অশ্রু মাখা রক্তিমতায় মিশে যাওয়া দিগ্বিজয়ী নারীর পুরুষকার !

কখনো মা, কখনো বোন, কখনো বা সহধর্মিনী,
কখনো বা স্নেহমাখা দুহিতা,
কখনো সে নিপীড়িতা,
তার আকুল নিঃস্বাসে মাখা অবহেলা আর অত্যাচারের আঁধার ঘনানো স্তব্ধ নীরবতা!

তাইতো বলি, তুমি আছো সকল নারীর মনের গহীন অন্তরালে,
সুপ্ত চেতনাকে তুমি জাগাও তোমার জাদুবলে,
তোমার পায়ের তলে হয়ে নতজানু,
উদিত হোক
জাতি -ধর্ম -রূপ নির্বিশেষে নারীর কর্মযজ্ঞের রঙিন রামধনু |
তোমার নিত্যলীলায় মাতোয়ারা সুরে বাজুক আলোর বেনু |

#ইভেন্ট =আগমনীর সুর
#কবিতার নাম =অসুর সংহারী
#কবির নাম =পিয়ালী পাল
আকাশে আজ খুশির দোলা
বাতাসে আগমনীর সুর.
কাশ আর শিউলির ছবি
জানায় শারদীয়া নয়কো দূর.
প্রকৃতি আজ সাজিয়েছে ডালি
করতে তোমায় বরণ.
কিন্তু মাগো মর্তে যে আজ
হচ্ছে না পাপস্খলন.
লোভাতুর নর পিশাচের দল
পাপাচারে নিমগ্ন.
মানবতা, উদারতা ভুলে
হয়েছে আজ তারা নগ্ন.
নির্বিচারে মানুষ মেরে
করছে যে উল্লাস.
তারাই এখন সাধু সাজে
কি নিষ্ঠুর পরিহাস!
দু বছরের শিশু দেখেও
জাগে এদের কাম
কলুষিত হয়েছে মাগো
আজ এ ধরাধাম.
বিশ্ব জননী তুমি
অসুর সংহারী.
দাও মা শক্তি
যেন তোমার মতো
তেজস্বীনী হয়ে উঠুক
আজকের নারী.

#ইভেন্ট_আগমনীর_সুর
#বিভাগ_কবিতা
#আমিই_দূর্গা
#মৈত্রেয়ী_চক্রবর্তী
১৯/০৯/২০১৯

আমিই দূর্গা,
বিশ্বাস করুন আমিই দূর্গা।
কিন্তু আমার তো দশহাত নেই,
তবে আমি দূর্গা হলাম কি করে!

আসলে সেদিন পড়ন্ত বিকেলে,
বুকের কাছে বইখাতাগুলো ধরে,
ইস্কুল থেকে ফিরছিলাম বাড়ি ।
আর সেই উস্কোখুস্কো চুলের ছেলেটি,
ফিসফিসিয়ে বলেছিল,
"বেশ ডাগরটি তো হয়েছিস,
তোকে আমি মন দিয়েছি,
ভালোবাসি তোকে।"
কিন্তু আমি যে মন দিয়েছিলাম বইখাতাকে,
দিদিমণি হবার স্বপ্ন দু'চোখে,
তাই দৃঢ়ভাবে "না" বলেছিলাম ।
আর সেই "না" এর জবাবে কি পেলাম জানেন,
আঃ,
এক মুখ দগদগে ঘা,
হ্যাঁ, অ্যাসিড বাল্ব,
আমি কিন্তু মরিনি,
ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্করতম মুখ নিয়ে,
বেঁচে উঠেছিলাম আমি।
সবাই বলেছিল, "মা দূর্গার পূণর্জন্ম হলো",
এইভাবেই আমি বেঁচে উঠে দূর্গা হয়েছিলাম ।

আর ওই যে বড় বাড়িটা দেখছেন,
জমিদার বাড়ির মত,
ওই বাড়িতে আজ খুশির কলরোল,
আলোর রোশনাই,
ছোটবউ যে গর্ভবতী ,
স্বয়ং বাল গোপাল আসছেন বাড়িতে,
তিন মাসের মাথায় সবাই চলল চিকিৎসকের কাছে।
না না, চিকিৎসা করাতে নয়,
গর্ভস্থ ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করাতে,
আর নির্ধারণের সাথে সাথেই ভ্রূণেরও সমাপ্তি ।
পরবর্তীতে সমস্ত ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর,
সবাই বলেছিল,
"মা দূর্গা চলে গেল বংশ থেকে "
------- সেদিন আমি মরে গিয়ে দূর্গা হয়েছিলাম ।

দিনটা ছিল মহাপঞ্চমী,
আমি তখন আসন্নপ্রসবা,
যন্ত্রনায় ছটফট করছি,
চারিদিকে ঢাকের আওয়াজ,
মায়ের বোধন চলছে।
তারপর সব আওয়াজ ম্লান করে শুনলাম,
সেই অপেক্ষার কান্না,
ডাক্তার দিদি আস্তে করে বললেন,
"তোমার কোলে মা দূর্গা এসেছেন"।
আমি সেদিন দু'চোখ ভরে দেখেছিলাম,
সেই ছোট্ট দূর্গাকে।

তারপর সারারাত বসে থেকেছি,
চোখের সামনে এক পৃথিবী দূর্গা,
আমরা কি পারিনা তাদের দশ আঙুলকে ,
দশহাত বানিয়ে দিতে ।
আর সেই দশহাতে,
শ্রদ্ধা, ভক্তি, শিক্ষা, রক্ষা,
সাহস, দৃঢ়তা, চেতনা, মমতা,
সততা আর প্রতিবাদের অস্ত্র তুলে দিয়ে,
তাদের দশভূজা করে তুলতে।
ঘরে ঘরে হোক দূর্গার বোধন,
ঘরে ঘরে থাকুক,
মহিষাসুরমর্দিনী মা দূর্গা ।।
Maitrayee Chakraborty

কবিতা :- ওদের দূর্গাপূজা
@ ------ দিবাকর মণ্ডল ------ @
তাং :- 30/09/2019

ভোরের আলোয় উঠান দেখি শিউলি ফুলের মেলা -
শরৎ বুঝি এলো ফিরে ? ভাসলো মেঘের ভেলা !
গাঁথবো মালা , বাঁধবো খোঁপা , তুলবো কাশের ফুল -
বুনো ফুলে গড়বো কাঁকন , পড়বো কানে দুল ।

এই মেয়েটা , পাগলী নাকি - এমনি তে সাজ হয় ?
পূজো এলো , সাজবি - খাবি , কিসে মনে ভয় ?
সাজ কিনে দে - মা'রে সুধা , ও সব কি আজ চলে ?
বড় লোকের বৌ টা আমায় চোখ পাকিয়ে বলে ।

তাকিয়ে ছিলাম অবাক পানে - চোখ ভেজা মা'র হাসি ,
কাল সারাদিন পাইনি কিছুই , শুয়ে - উপবাসি ।
পেটের ব্যাথায় জলভরা মা'র - মুখ দু-চোখে‌ ভাসে ,
ছেঁড়া শাড়িই কাটল বছর লজ্জাতে মুখ ঢেকে ।

এলোই না হয় দূর্গাপূজো আমার কি সাজ সাজে ?
দূর্গা আসেন ওদের ধরায় , পোশাক - মনের মাঝে ।
শালুক বিকে , ফুল কুড়িয়ে , একটু সুখের আশা -
কাটবে বছর এমনি সুখেই , মিথ্যে অভিলাষা ।

মা দূর্গা ওদের দেখেন - আমরা ওদের হাসি ,
তাই তো বলি মা গো - যেন এমনি ভালো থাকি ।।

রচনা কাল :- ১০ই আশ্বিন , ১৪২৬

:::::- সমাপ্ত -:::::

কবিতা :দুর্গা মায়ের প্রতি
কবি :মন্টু হালদার
২৮/০৯/২০১৯

🙏 🙏🙏 🙏 🙏 🙏 🙏 🙏 🙏

একটা অসুর বধ করতে, তোমার শুধু আগমন ?
হাজার অসুর ঘুরছে দেখো ঘরে বাইরে সর্বক্ষণ
চিতায় ওঠা সব লাশের কি স্বাভাবিক মৃত্যু হয় ?
হত্যায় যারা হাত পাকালো সে অসুররাই সর্বময় ।

একটাই শর্ত ছিলো তোমার? একটা অসুরই লক্ষ্য ?
তাই বুঝি মা আর দেখোনা কাটাচ্ছে কিকরে দিন ভক্ত
তাই বুঝি আজ এড়িয়ে চলো ঝুটঝামেলায় কাজ নেই
মর্তে আসো ঘুরতে শুধুই , খবর নেওয়ার দায় নেই ?

মাঠে-ঘাটে-স্কুল-বাড়িতে দানব-অসুর" ইজ্জত" লোটে
চিন্ময়ী মা দড়িতে ঝোলে রেল লাইনে মাথা রাখে

চিন্ময়ী মা স্টেশনে শুয়ে তাঁর শিশুটি ভিক্ষা করে

জানতে চাও না তাদের কথা ?
অতর্কিতে যাদের ভাঙলো শাঁখা
শুনতে চাও না তাদের ব্যথা ?
শরীর বেঁচে যারা মেটায় ক্ষুধা
জানতে চাওনা তারা কোথা ?
মণ্ডপে যাদের পাওনি দেখা.....

এবার এসো তৈরি হয়ে , সমর সজ্জায় জমাট বেঁধে
আবার এবার লড়তে হবে হাজার অসুর সম্মুখেতে
ত্রিশূল না পাও ঝ্যাটাই সই শক্তি রূপে ণ আবির্ভূতা
মাগো তোমার চরণ তলে স্থান যেনো পায় নির্যাতিতা

************ সমাপ্ত *****************

@মন্টু

কবিতা:--ফুল সজ্জা।
কলম:--নরেন্দ্র নাথ রায়।
তারিখ-(-২৮--০৯--১৯)

তোমাকে ভালো বেসেছি কত,
জানতে যদি সে কথা।
ছড়ানো রয়েছে সমীরণ মাঝে,
হৃদয়ের সকল ব্যথা।।

আমি যে তোমার কত হিতৈষী,
তুমি যদি তা জানতে।
সদাচারী হয়ে আমার ----কথা,
প্রতি নিয়ত ---মানতে।।

সরোবরে ফুঁটা পদ্মের -------মত,
তোমার ঐ দুটি আঁখি।
পটল চেরা রমনীয় ---------আঁখি,
জলরানী ---মিনাক্ষী।।

ভীরু তোমার বাঁকা দুটি ----ঠোঁট,
যেন রূপের আহ্লাদ।
উছ্লে পড়ে রবির --------কিরণ,
নীল আকাশের চাঁদ।।

কোন বিধাতা গড়েছে ---তোমায়,
করে রসের ----রসনা।
হাসলে মুখে ঝরে --------------পড়ে,
কোটি তারার জ্যোৎস্না।।

ঘনকাল কেশ দেখে ------তোমার,
আকাশ পেল ঐ লজ্জা।
বাসর সাজাল আকাশের ---তারা,
মধুময় 💐ফুল --সজ্জা।।

গয়নার বাক্স
- বিদিশা কর্মকার

রামপুরহাটে একটা কাজে গেছিলো সায়ন,কিন্তু কাজ সারতে সারতে অনেকটাই দেরী হয়ে গেলো |যখন স্টেশন পৌছালো তখন প্রায় রাত এগারোটা ,স্টেশনে এসে দেখলো শেষ ট্রেনের আগের ট্রেন স্টেশন ছেড়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে ,তার শেষ বগিটা তখনো দেখা যাচ্ছে,এরপর আধঘন্টা পরে শেষ ট্রেন,অগত্যা সায়ন বেঞ্চে বসে পড়ে | নভেম্বরের শেষ বেশ শীত শীত করছে,যদিও কলকাতায় এখনো তেমন শীত পড়েনি | যথা সময়ে শেষ ট্রেন আসে,সায়ন দেখে কম্পারমেন্টে সে ছাড়া আর একজন লোক জানলার সামনে বসে জানলায় হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে | সায়ন তার উল্টোদিকের জানলায় বসে,ট্রেন ছাড়তেই বেশ শীত শীত করে, সে দেখে তার সামনে বসা ভদ্রলোকের কোনো হেলদোল নেই যেন কতো জন্ম ঘুমায় নি,যাই হোক সে জানলা বন্ধ করে ,কানে হেডফোন গুজে গান শুনতে থাকে,গান শুনতে শুনতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলো খেয়াল থাকে না, হঠাৎ একটা বরফের মতো ঠান্ডা স্পর্শে সায়নের ঘুম ভেঙে যায় |সামনে তাকিয়ে দেখে সেই ঘুমন্ত ভদ্রলোক ,তার হাত ধরে তার দিকেই চেয়ে আছে,সায়ন বিরক্ত হয়ে বলে কিছু বলবেন,লোকটি তখন প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে "বলে,আমার একটা উপকার করবে ভাই......এক সপ্তাহ বাদে আমার একমাত্র মেয়ের বিয়ে,গয়নাগুলো সময় মতো না পৌছালে ওর বিয়ে ভেঙে যাবে "|সায়ন আশ্চর্য হয়ে বলে"তো আমি কি করতে পারি "?লোকটি তখন বলে"তুমি এই গয়নার বাক্সটা এই ঠিকানায় পৌচ্ছে দেবে"?সায়ন যারপর নাই অবাক হয়ে বলে "আশ্চর্য আপনার মেয়ের বিয়ের গয়না আপনি নিয়ে যান |মজা হচ্ছে নাকি"?লোকটি তখন বলে "ধরুণ আমার কাছে আপনি ভগবানের দূত |সায়ন তখন রেগে গিয়ে বলে "আশ্চর্য আপনি না গেলে তো আপনার মেয়ের কন্যাদানই হবে না ,বিয়ে তো অনেক দূর "|লোকটি তখন বলে "কন্যাদান হয়তো ওর মামা করবে,আর সবার ভাগ্যে ভগবান সব সুখ লেখে না "|সায়ন এবার লক্ষ্য করে লোকটির চোখে জল,আর মুখটা অতিরিক্ত সাদা |লোকটি আবার বলে "দয়া করে এটা পৌচ্ছে দেবেন",বলে চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে যায় |সায়ন ভয়ে চিৎকার করে ওঠে |আর তখনই সায়নের ঘুম ভেঙে যায় |সায়ন তাকিয়ে দেখে ভোর হচ্ছে আর ট্রেন স্টেশনে ঢুকছে |সায়ন ভাবে সে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলো ,কিন্তু উঠতে গিয়ে দেখে তার কোলের উপর একটা ছোট বাক্স আর একটা চিরকুটে একটা ঠিকানা,সায়ন বাক্স খুলে দেখে তাতে মেয়েদের কিছু গয়না |
সায়ন চিরকুটের ঠিকানায় পৌচ্ছে সব কথা খুলে বলায় কান্নায় ভেঙে পড়ে সবাই ,সায়ন জানতে পারে ভদ্রলোক তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে রামপুরহাট থাকতেন,বিয়ে উপলক্ষে তারা মেয়েটির মামাবাড়ি এসছে ভদ্রলোকের পরেরদিন মেয়ের গয়না নিয়ে আসার কথা ছিলো ,কিন্তু আসার পথে ট্রেনের মধ্যে স্ট্রোক হয়ে ভদ্রলোক মারা যায় | পুলিশস্টেশন থেকে তার জিনিসপত্র ফেরৎ পাওয়া গেলেও পাওয়া যায় না গয়নার বাক্স ,সবাই ভেবেছিলো সেটা চুরি গেছে কিন্তু আজ বুঝলো চুরি যেতে পারে ভেবেই পিতা মারা গিয়েও তার দায়িত্ব পালন করেছে |
#বিদিশা#
#স্বত্ব সংরক্ষিত