আগস্ট 2019

ম্যালওয়্যার অন্ধকার ও বিয়োগ চিহ্নটা
- মোশ্ রাফি মুকুল

ম্যালওয়্যার
অন্ধকারের আগে
তাকেও ভাগ দাও,
সমুদ্র কামড়ে তুলে আনো
ভোগ ও
সাদা সাদা ফেনা।

যোগফলকে
আবার ভাগ করো
দ্যাখো তুমি আর আমি
দাঁড়িয়ে আছি মুখোমুখি পায়ে

চোখের সামনে ভেঙে পড়ছে গুণ
সুখের আবগারি কারুকার্য,
ভালোবাসার খয়েরী গম্বুজ!

বাকী থাকলো একটা দাগ-
তোমার বিয়োগ চিহ্নটা।

প্রতীক্ষার সফলতা
- শ্রাবণী ব্যানার্জী

অপেক্ষায় ছিলাম উপেক্ষিতা আমি,কোন এক শ্রাবণ সন্ধ্যায় কোন এক ডাকে,যেটা আমার কাছে অজানা ছিল,তাতে দিয়েছিলে সাড়া। ছিলাম তখন কিশোরী ও যুবতীর সন্ধিক্ষণে।তোমাকে হারিয়ে সদাই ভীতা সন্ত্রস্ত আমি, ধীরে ধীরে সকল ঋতু পার করে হয়েছি যুবতী। প্রতীক্ষার হয়নি অবসান। কোন স্বান্তনা আমায় প্রশমিত করতে পারেনি। আবার এসেছে এক সজল ঘন ঘোর বর্ষার দিন। আকাশ মেঘে ঢাকা,মেঘের গর্জন ছাপিয়ে বেজে উঠল মুঠোফোন। না দেখেও বলে দিতে পারি এতো তোমারই ডাক,দীর্ঘ প্রতীক্ষার হয়েছে অবসান।

যন্ত্র মানব
- পিয়ালী পাল

যন্ত্র মানুষ বলতে শুধু রোবট বোঝো?
জানবে তোমার জানার আছে অনেক বাকি।
মন ছাড়া যে মানুষ গুলো ঘুরে বেড়ায়
তাদেরও কি যন্ত্র বলা যায় না দেখো দেখি?
দিব্যি তারা হাসছে গাইছে করছে কাজ
বাইরে থেকে দেখে বোঝার
উপায় নাইকো আজ
তাদের মনেও জমে আছে
বাষ্প ভরা মন কেমনের মেঘ
তাদের মনেও স্বপ্ন ছিল
যা হয়েছে অর্ধেক
সে সব ভুলে তারাও আজ বেজায় খুশি।
আসলে তারা নাটক করে
দুঃখ টা তাদের অনেক বেশি
কেউ জানে না, কেউ বোঝে না
বোঝে শুধু রাতের আঁধার
যখন তারা খোলস খুলে
চেষ্টা করে মানুষ হওয়ার।

দোসর
- পিয়ালী পাল

চাঁদ তোমার রূপের বহর দেখে
সবাই হয় মুগ্ধ।
তোমার শীতল স্নিগ্ধ আলোয়
চারিদিক উদ্বুদ্ধ।
তোমার পূর্ণ কলায় সবাই বিমোহিত
পূর্ণিমা রাতে তোমার শোভায়
চারিদিক সুশোভিত।
কিন্তু তোমার মনেও আছে গহীন অন্ধকার
তোমার মনে রয়েছে দুঃখের জগদ্দল পাহাড়।
লোকে তাকে কলঙ্ক বলে
অবুঝ তারা জানি সকলে।
আমি জানি তা তোমার অহংকার,
তুমি নিরন্তন পথের পথিক
কোনোদিন চাও নি অধিক,
সূর্য অস্ত গেলে তোমার আবিষ্কার।
তবু তুমি নীরব থাকো
যন্ত্রনাকে আগলে রাখো,
নেই তোমার দুঃখের কোনো প্রতিকার।
হাজার তারার মাঝেও একলা তুমি
নিঃসঙ্গতার চাদর ওড়াও।
প্রতীক্ষারা অন্তহীন
তবুও তোমার খোঁজ অমলিন,
রোজই রাতে একলা হয়ে খোঁজে
তোমার অন্তর।
একদিন পাবেই তুমি তাকে
যে হবে তোমার প্রকৃত দোসর।

তোমার আমার শহর
- পিয়ালী পাল

তোমার শহর চটকতায় ভরা
আমার শহর প্রাকৃতিক।
তোমার শহর কৃত্রিমতায় মোড়া
আমার শহর আন্তরিক।
তোমার শহর জনারণ্য, সংকীর্ণ বাড়ি
আমার শহর সবুজে ঢাকা,গাছ আছে সারি সারি।
তোমার শহর কংক্রিটের চাদর, কেউ কারোর
রাখে না খেয়াল।
আমার শহর আপন ভীষণ, কারোর মনে নেই কো দেয়াল।
তোমার শহরে সূর্য ডোবে না কখনো,
বৃষ্টি ও দেয় নাকি ফাঁকি।
তোমার শহরে সবাই বড়োলোক,
গরীবদের ডাকে ছোটোলোক বলে নাকি?
আমার শহরে সূর্য চন্দ্র ভাই ভাই
বৃষ্টিও আসে, বলে না পালাই।
আমার শহরে ধনী আর দীন মিলে
কথা বলে আর হাসে মন খুলে।
তোমার শহর রূঢ় বড়ো
দম বন্ধ পরিবেশ।
আমার শহর শ্যামল কাজল
সর্বত্র প্রশান্তির আবেশ।
তোমার শহর আমার শহর একই স্থানে রয়,
তোমারটা বাস্তব আর আমারটা কল্পনায়।

মুঠোফোনের বাঁশির সমনে ঘুম ভাঙে খুব ভোরে
তেল চিটচিটে আকাশটা তাকিয়ে থাকে হা করে ;
তখনও ক্লান্তিতা থাকেই কোষ গুলো দখল করে
তবুও শ্রমিক জীবিকার তাগিদে বিছানাটা ছাড়ে ।

ঘুম জড়ানো চোখে মাথা গুঁজে হেঁটে চলে সবাই
প্রত্যেকে ওরা জীবন যোদ্ধা ; করছে শুধু লড়াই ;
ফোরম্যানের কর্কশ খিস্তি তবুও করে যায় সেলাই
ওরাই আঁধারে আলো জ্বালানোর সুপ্ত দেয়াশলাই ।

ফিরতি পথে কষ্টের গুষ্টির ষষ্ঠী করে ঘরে ফেরা
আর তামাক পাতায় ক্লান্ত শরীরটাকে চাঙা করা ;
এ যেনো ওদের দৈনন্দিন জীবনেরই বোঝা পড়া
তবুও সুন্দর আগামী গড়ার প্রত্যয়ে প্রত্যয়ী ওরা ।

সুতোর ফোঁড়ে ফোঁড়েই ওদের নতুন দিনের স্বপ্ন
তাই নতজানু হয়েও ওরা কাজ করে চলে নিমগ্ন ;
ধনীর স্বার্থে শ্রমে শ্রমে জীবনটা করে যায় বিপন্ন
তবু শ্রমিকের রক্তেই ধনীদের তৃষ্ণা মেটে আজন্ম ।

অভিশপ্ত রোদে তামাম শহর আজকে পুড়ে যায়
শ্রমিকের ঘামে তবুও এই শহর সচলই রয়ে যায় ;
গরীবের অশ্রু আর ঘামে ধুয়ে যাওয়া সেই রাস্তায়
যুগে যুগে ধনীরাই চড়ে দামী গাড়ি লাল গালিচায় ।

ধরা যাক

- পিয়ালী পাল

ধরা যাক আজ রবিবার , নেই কোনো কাজ
ধরা যাক পাশাপাশি রব তুমি আর আমি আজ।
ধরা যাক তোমার অফিস ছুটি
আমারও বন্ধ সব ঘরের কাজ।
ধরা যাক তুমি পাঞ্জাবী
আর আমি সাবেকী সাজ।
ধরা যাক দুজনে মিলে ঘুরতে যাব
আনমনে কোনখানে
যেখানে অপিরিচিতের ঢেউ
বাঁধা নিয়ম কেউ না মানে।
ধরা যাক তুমি সিগারেট দেবে বাদ
আমিও ভুলবো অবসাদ।
ধরা যাক আমি উচ্ছল নদী
তুমিও উদ্বেল হবে প্রিয়।
স্থান কাল ভুলে ধরবে গান
নাহয় একটু সময় নিও।
ধরা যাক প্রাচীন নবীন দ্বন্দ্ব সরিয়ে
রবীন্দ্রনাথে মজবো দুজন।
ধরা যাক দিনের শেষে শুনবো পাখির কুজন।
ধরা যাক থাকবে না আজ পিছুটান,
ঘড়ির কাঁটাও থাকবে হয়ে ম্লান।
ধরা তো যায় অনেক কিছুই,, যা আদতে হয় না,
তবুও আমরা ধরি তাকে, মনকে দিই সান্ত্বনা।

নিরবে ভাবি
এসকেএইচ সৌরভ হালদার

নিমিতোরচনে মনে পড়ে
তাহার কথা।
নিরবে ভাবি মোর
আশা ছিল।
সুরলতা হবে জীবনের ভালোবাসা
তাহার সাথে দেখা যেন,
সকালের সূর্য দ্বয়ের ভাগ্যে পাওয়া
উদিত আলো।
নিরবে ভাবি কেমনে করবো
তাহার সঙ্গে ভালোবাসা।

অপেক্ষা
- পিয়ালী পাল

কুয়াশার আড়ালে একটি পাহাড় ছিল,
সেখানে বসন্তের বাহার ছিল,
যেখানে দুজনার দেখা করার কথা ছিল.
আসো নি তুমি, কথা রাখো
নি
দ্বন্দ্ব আর ধন্দতে মনের কথা ভাবো নি.
যদি কোনো দিন দেখো
মনের আঁধার সরিয়ে
দেখবে আজও আছি আমি
তোমার জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে.

এ কেমন ভালোবাসা
এসকেএইচ সৌরভ হালদার

এ কেমন ভালোবাসা
যখন তুমি কান্না করো
আকাশ জুড়ে বৃষ্টি ঝরে
কথা নয় নিরবতাই প্রকাশ করো
প্রস্তর এর শিখাখন্ডন,
পরিতাপের ক্রন্দন।

ললাট জুড়ু আছে লেখা
তোমার এই নিয়তির খেলা
অম্বর জুড়ে প্রতিক্ষা করো
আসবো আমি অভিলাষ হয়ে,
শঙ্কিত এ মনে
তোমার ক্ষনে।

বটবৃক্ষ
এসকেএইচ সৌরভ হালদার
বৃহাদাকার বৃক্ষ তুমি,
জমিনের মাঝে আছো যে তুমি
সরু সরু ঝুরি বাতাসে দোলে
পরে মাটিতে প্রেরিত হলে।
স্তম্বমূলের মাটির উপারাংশ,
পরিবর্তন হয় তবে বিটপে।
কচি পাতা তামাটে,
স্থান কাল পত্রভেদে
ভিন্ন একাধারে বৈশিষ্ট তোমার
বটের পাতা হয় একান্তর
ডিম্বা কৃত মসৃন ও উজ্জ্বল।

পাংশুটে হলুদ হয় বটের কুড়ি,
তখনি পড়ে পাতার ঝুড়ি
বসন্ত,শৎরত আসে যখন।
নতুবা পাতা গজে তখন।
তিন ঋতুর পরিবর্তে,
ফল পেকে যাই মুহুর্তে।
গ্রীষ্ম,বর্ষা,শীত
তাহারিই নাম।
বহুগুনাগুন তোমার
বেচে আছো অনন্তকাল
পাঁচ-ছয় শত বছর।
এ যে তোমার আয়ুষকাল,
বটবৃক্ষ তোমারি নাম
বহুবর্ষ জীবী বেচে আছো চিরোকাল।

উন্মুক্ত ঠিকানা
- মালবিকা মজুমদার

তোমার ক্ষতি ও ক্ষতের দাগে
ভরা আছে শরীর।
তুমি জীবন যুদ্ধে যাপনের
অপরাজেয় এক বীর
তোমার সৃষ্টি চেতনা ছোঁয়ায় কথক
মেলেছে ইচ্ছে ডানা।
তোমার ভালোবাসা অবারিত দ্বার
উন্মুক্ত ঠিকানা।
তোমার ওষ্ঠে বিকেলের হাসি
চিতার মতো জ্বলে।
তোমার করপুটে বেহুঁশ বাতাস
জন্মের কথা বলে।
তোমার বুকে অনন্ত ঢেউ মৃত্যকে
বারবার ছুঁতে চায়।
তোমার চোখের পাতায় বকেয়া
ঘুম সম্বিত হারায়।
তোমার অস্তাচলে অনুপমগীত
করে রুদ্রের জয়গান।
তোমার শিয়রে অনন্তকালের জমানো
বিহ্বল অভিমান।
তোমার বুকের মাঝে ক্ষীণশ্বাস
দাহ্যলতার বিহ্বলতা।
তোমার পৃথিবী সপ্তশোকসজ্ঞাত
শূন্যতার কাব্যগাঁথা।

বন্ধুত্ব

- বিদিশা কর্মকার

 

আজ বছর পনেরো পর

শালু তোকে দেখলাম

সাথে তোর ছেলে আর বর||

আজও একবার ভাবলাম

এগিয়ে গিয়ে বলি

"মনে আছে একসাথে

স্কুলের গাছের আম

করতাম চুরি"||

পুরো স্কুল জানতো

শালু আর মিলি

এক আত্মা এক প্রাণ

প্রিয় বান্ধবী ||

সেদিন তো একদিনও

স্কুল না গেলে

ফোনের পর ফোন করে

জ্বালাতিস আমাকে||

তারপর যখন পরমের থেকে

প্রেমের নিবেদন এলো

প্রথম সেটা তোকেই

তো বলেছিলাম শালু||

তোকে দিয়েই পাঠাতাম

সব চিঠি

তোকেই বলতাম সবকিছু

রাখতাম না কিছুই বাকি||

হঠাৎ একদিন ডাক পড়ে

প্রিন্সিপালের ঘরে

প্রিন্সিপাল বলে

স্কুলে কি আসো

এসব কিছু করতে||

শুনে আমি অবাক হয়ে দেখি

টেবিলে রাখা সেইসব চিঠি

যা এতোদিন তোকে দিয়ে পাঠিয়েছি||

তারপর এসে যখন

তোর দিকে তাকাই

তুই বললি কি করবো বল

"পরমকে যে আমিও

বড্ড ভালোবাসি"||

তবুও আমি ছিলাম চুপ করে

একমাত্র পরমের মুখ চেয়ে

স্কুলের শেষদিন

সেও বললো এসে

"মিলি নয় শালুকেই

সে ভালোবাসে"||

তুইও তো পেলিনা শালু তাকে

মাঝখান থেকে বন্ধুত্ব টাই

গেলো যে হারিয়ে||

#স্বত্ব সংরক্ষিত

বণিকালয়

- মোশ্ রাফি মুকুল

 

রক্তের ভেতর জখম।কামড় দিচ্ছে মৃত্যুর পুতঃ দাঁত।দেহের নদী পাড়ি দিলে এক সাগর।তারপর দেখা মেলে এক অদ্ভুত বণিকের।

আর কতোদূর?আর কতো সুড়ঙ্গ উপড়ে ফেললে দুধভাত আকাশ?তারার বণিকালয়?রোজ বিকেলে এখানে সাধু

সন্তুের হাট বসে।বয়স বাড়লে রাতের চোখের নীচেও পড়ে কালসিটে দাগ।

অনেক হলো।এবার গম্বুজ আঁকো।সূচালো সময়ের শরীরজুড়ে সোনার ত্রিভুজ। প্রেমিকা হিসেবে মেয়েটি ভালোই ছিলো।আমি-ই তাঁকে ঘিরে স্তুপ করেছিলাম চাহিদার ম্যাপ।চারিদিকে ফেরি করেছিলাম নিত্যপণ্যের ডিঙি।নতুন বাণিজ্যপথ।

 

১৮/০৮/২০১৯.

বণিকালয়

- মোশ্ রাফি মুকুল

রক্তের ভেতর জখম।কামড় দিচ্ছে মৃত্যুর পুতঃ দাঁত।দেহের নদী পাড়ি দিলে এক সাগর।তারপর দেখা মেলে এক অদ্ভুত বণিকের।

আর কতোদূর?আর কতো সুড়ঙ্গ উপড়ে ফেললে দুধভাত আকাশ?তারার বণিকালয়?রোজ বিকেলে এখানে সাধু
সন্তুের হাট বসে।বয়স বাড়লে রাতের চোখের নীচেও পড়ে কালসিটে দাগ।

অনেক হলো।এবার গম্বুজ আঁকো।সূচালো সময়ের শরীরজুড়ে সোনার ত্রিভুজ। প্রেমিকা হিসেবে মেয়েটি ভালোই ছিলো।আমি-ই তাঁকে ঘিরে স্তুপ করেছিলাম চাহিদার ম্যাপ।চারিদিকে ফেরি করেছিলাম নিত্যপণ্যের ডিঙি।নতুন বাণিজ্যপথ।

১৮/০৮/২০১৯.

ক্ষণিকের তুমি
- মুন্সি মহম্মদ ওয়াশিম

উদাস মন জানালার ধারে বসে একা
ছুটে চলা দৃশ্য মরুভূমির ছবি আঁকা,
রুপ কথার রাজ কন্যার রাখাল ভাবছি
আমি শীকল ছাড়া বাধা হীন ছুটে চলছি,
হঠাৎ এক নীল পাখি সামনে বসলাে উড়ে
দেখছি চারপাশে লােকজন আমায় ঘিরে,
অপূর্ব তার চোখ দুটি সুন্দর ডানার পালক
মন মাতানাে রুপের ছটা অবাক করা ঝলক,
হয়তাে তার ঠোট দুটি বলছিল কোনাে কথা
মনের ভেতর সিউড়ে উঠলাে অচেনা এক ব্যাথা,
বসন্তের কোকিল ও হার মানে তার সুরে
বাঁধবে বাসা হয়তাে সে আমার বাগান জুড়ে,
দেখছি তাকে কাছে আসতে আমার মনের দিকে
এমন সময় হঠাৎ করে আমায় যেন কে ডাকে
সাড়া দিতেই পাশে আমার তখন কেউ আর নেই
বুঝলাম আমি স্বপ্ন সবই ঘুম ভাঙলাে যেই ।

“খাবার হজম না হবার ও প্রতিকার”

-- ডাঃ ফারহানা মোবিন,
জেনারেল ফিজিশিয়ান ও লেখক।

*********************************
বিভিন্ন কারণে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না। তখন অস্বস্তি থেকে নানান রকম সমস্যা হয়। আবার অনেক লুকায়িত অসুখ রয়েছে, যার জন্য সঠিকভাবে খাবার হজম হয়না।

কারণগুলি হলো ঃ-

১। খাবার সময় খুব দ্রুত খাওয়া। সঠিকভাবে চিবানোর অভাব, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক অবসাদ, নিয়মিত রাত জেগে ডিউটি করা, সঠিক সময়ে খাওয়ার অভাব, খাবারে অতিরিক্ত তেল মশলা খাওয়া, তৈলাক্ত চর্বি জাতীয় খাবার বেশী খেলে এই ধরনের সমস্যা হয়।

২। পাকস্থলীর কোন অসুখ, খাদ্যনালীর কোন গঠনগত ত্রুটি, মাত্রাতিরিক্ত এ্যাসিডিটির সমস্যা, অতিরিক্ত কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, দীর্ঘ সময় যাবৎ না খেয়ে থাকার পরে এক সাথে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা, হঠাৎ করে খুব বেশী পরিমাণে খাবার নিয়ন্ত্রণ করা, অতিরিক্ত ঝাল খাওয়া, গভীর রাতে বা খুব ভোরে একসাথে অনেক বেশী খাওয়া হলো খাবার সঠিকভাবে হজম না হওয়ার অন্যতম কারণ।

৩। প্যানক্রিয়াস (pancreas ) নামের এক ধরনে অঙ্গ রয়েছে, যাতে ইনফেকশন হলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না। রক্তে চিনির মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হজম শক্তি দূর্বল হয়ে যায়।

৪। বিভিন্ন রকম ওষুধ খেলেও হজম শক্তি কমে। বিশেষত যারা বয়স্ক বা নানান রকম অসুখে আক্রান্ত, হাটাচলা ঠিকভাবে করতে পারেন না, মানসিক রোগ বা কেমোথেরাপীর ওষুধ খান, এই সমস্যাগুলোও হজম শক্তি দূর্বল হবার জন্য দায়ী।

৫। মাদকদ্রব্য, ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি, পান, সুপারী, গুল, জর্দা প্রভৃতি হজম শক্তি দুর্বল করে।

৬। দেহের কোথাও ক্যান্সার, খাদ্যনালী থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত কোন গঠনগত ত্রুটি, খাবার হজমের সাথে সম্পৃক্ত কোন অঙ্গ বা নালীতে ইনফেকশন বা কোন অসুখ, দীর্ঘ বছর ধরে খাবারে প্রচন্ড অনিয়ম, হঠাৎ করে ওজন বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ, কৃমির আক্রমণ, দীর্ঘ বছর যাবৎ বদহজমের সমস্যা, পানি খুব অল্প পরিমাণে খাবার অভ্যাস (২৪ ঘন্টাতে ৩-৪ গ্লাস), খাবারে প্রচন্ড পরিমাণে অনিয়ম।

৭। গলব্লাডারে পাথর, কিডনীতে পাথর, খাদ্য নালীর অপারেশনের পরে হজমে সমস্যা হতে পারে।

হজমের সমস্যা প্রতিকারের জন্য আমাদের করণীয় ঃ

১। নিয়মিত দুই লিটার পানি পান করুন। তবে কিডনীর সমস্যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শে পানি পান করুন।

২। অতিরিক্ত তেল, মশলা, চর্বি জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, পরিহার করুন। একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খান।

৩। মনথেকে ঝেড়ে ফেলুন হতাশা, কষ্ট, খাবার সময় মনোযোগ দিয়ে খান। হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ ঠিক নয়। ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ কমান। আবার একবারে খুব বেশী খাওয়া ঠিক নয়।

৪। অতিরিক্ত রাত জেগে কাজ করাটা পরিহার করুন। যতোটা সম্ভব সঠিক সময়ে খাবার খান। বছরে অন্তত একবার পুরো শরীরের চেক আপ করান। এতে লুকায়িত সমস্যা থাকলে ধরা পড়বে।

৫। সব ধরনের মাদকদ্রব্য পরিহার করুন। ধুমপান থেকে বিরত থাকুন এবং খাবার সাথে সাথে ঘুমাবেন না।

৬। নিয়মিত হাটুন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৭। কোন ওষুধ খাবার পরে হজমে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৮) সব সময় হাসি খুশী থাকতে হবে।
হতাশা মানুষের খাবার হজমে সমস্যা তৈরী করে।

আঠারোটা বেওয়ারিশ বুলেটের উলঙ্গ নৃত্য
মুহূর্তেই যে শরীরকে করেছিলো ক্ষতবিক্ষত ,
সেতো তুমি নও পিতা সে বাঙালীর হৃৎপিণ্ড
খামচে ধরেছিলো তোমার স্বাধীন মানচিত্র ৷

যে বুকটাতে বাংলাদেশ ঘুমোতে চেয়েছিলো
যে বুকে সাত কোটি মানুষের বসবাস ছিলো ,
আঠারোটা বুলেট সে বুকে স্থান করে নিলো
সাথে বাঙালী আর বাংলাদেশ এতিম হলো ৷

ওরা বুঝেছিলো তুমি বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড
তাইতো তোমার বিরুদ্ধে চললো ঘৃণ্য চক্রান্ত ,
সেই হৃৎপিণ্ডতে অাঠারো বুলেট ঠুকে দিলো
আর স্বাধীনতাকে কালো কালিমায় ঢাকলো ৷

ওরা জানতোনা কীর্তিমানরা কখনো মরেনা
ওরা ভুলে গেছিলো দেশপ্রেম,আদর্শ মরেনা ,
আর বঙ্গবন্ধু সেই দেশ যে ভাঙে, মচকায়না
তাইতো ধানমন্ডির ৩২-এ দিলো জঘন্য হানা ৷

তোমার তর্জনীর শক্তি ওরা টের পেয়েছিলো
বুঝেছিলো দেশের জন্য সে তর্জনীটা অমূল্য
তাই উলঙ্গ বুলেটে সে তর্জনীই থেঁতলে দিলো
আর বাঙালির স্বপ্ন বীজ অঙ্কুরে ধ্বংস হলো ৷

আমি সেই মেয়ে ( দ্বিতীয় ভাগ )
- অঞ্জলী দাশ গুপ্ত

পরেশ আবার নতুন ফন্দি আটল।যাতে আমি আর বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতে না পারি তাই বাইরের দরজায় সব সময় তালা আটকে রাখতো।আমি যাতে কাউকে ফোন না করতে পারি তাই ফোনটাও নিয়ে নিলো।
চার দেওয়ালের দম বন্ধ করা পরিবেশে আমি হাপিয়ে উঠতাম।আর সব সময় মনে হতে লাগলো যে এই জীবন আর চাই না।ঘরে দেখলাম অনেক গুলো কিসের ওষুধ রয়েছে রাগে ঘৃণায় বেশ কয়েকটি ওষুধ খেয়ে ফেলি।তার কিছু ক্ষনের মধ্যে শরীরটার ভিতর যেন তোলপার করতে লাগলো।চোখ যেন অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে উঠলো।মনে হলে এইবার হয়তো আমার শেষ যাত্রা।
ঠিক সেই সময় পরেশ ঘরে উপস্থিত ।আমাকে বার বার জিজ্ঞাসা করতে থাকে কি খেয়েছো? বহু কষ্টে টেবিলের উপর রাখা ওষুধ গুলো তাকে দেখাই।পরেশ আমার অবস্থা সংকটজনক বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।কারণ ও জানে আমার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে ওর পুরো পরিবারকে।ডাক্তার বহু চেষ্টা করে আমার প্রাণ রক্ষা করে।তার সাথে সাথে তিনি আরো একটি খবর বলেন আমি সন্তানসম্ভবা।কথাটি শুনে আমি বুঝতে পারছিলাম না ...আমার কি করা উচিত।প্রত্যেকটি মেয়ের জীবনে এই দিনটি যখন আসে সে খুশি হয়।কিন্তু আমার ছিল শুধু দুঃশ্চিন্তা।
তবুও আমি ঠিক করলাম যে আসতে চলেছে আমার জীবনে আমি তাকে আনবো তাতে আমার যত কষ্ট হোক।পরেশ ও আমার শাশুড়ি মা এই খবর টি পাওয়া মাত্র খুশি হলো। ভাবলাম এইবার হয়তো আমার সন্তানের কথা ভেবে ওরা পরিবর্তিত হবে। পরেশ হয়তো এবার প্রকৃত বরের ভূমিকা পালন করবে ।আর আমার শাশুড়ি মা আমাকে মেয়ের মতো কাছে টেনে নেবে।
আমার এই ভাবনাটাও ছিল দুঃস্বপ্নের সমান..... তারা সবসময় ছেলে চায়।মেয়ে তাদের পছন্দ নয়।আমাকে বার বার করে একই প্রশ্ন করে ছেলে হবে তো? আমি একদিন বিরক্ত হয়ে বললাম মেয়ে হবে না ছেলে হবে সেটা কি আমার হাতে?নাকি সেটার আমার চাওয়ার উপর নির্ভর করে হবে? আমার সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক দুটোই আমার নয়নের মনি হবে।যেটাই হবে সেটাই মেনে নিয়ে তাকে মানুষের মতো মানুষ করবো।
কিন্তু কিছুদিন যাবদ আমি সবার ব্যাবহারে বুঝতে পারছিলাম আমার জীবনে ঘনিয়ে আস্তে চলেছে এক বিশাল আকৃতির ঝড়।সেই ঝোড়ো হাওয়া হয়তো সব লন্ড ভন্ড করে দেবে।হয়তো কেরে নিতে পারে আমার প্রাণ ও গর্ভে বেড়ে ওঠা আমার সন্তানের প্রাণ।
প্রতিটি দিন ও রাত আমি চিন্তায় কাটাতাম।পরেশ ও শাশুড়ি মা সব সময় তারা যা বলতেন তাই করতাম। শুধু মাত্র নিজের সন্তানের কথা ভেবে।কিন্তু তাতেও তাদের মন জয় করা যেত না।কিন্তু আস্তে আস্তে আমার কাজ করার ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে।এত ধকল আর সইতোনা।এই সময় ঠিক মতো খেতেও পারতাম না।একদিন জামাকাপড় বহু কষ্টে কেচে মেলতে যাই।আর সাবানের জলে পা পিছলে পরে যাই।আমার অসম্ভব যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়।আমি মাগো বাবাগো বলে শুধু চিৎকার করতে থাকি।শশুর বাড়ির লোকেরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেই সময় আমি জীবন ও মরোনের সাথে যুদ্ধ করছি।
অবশেষে শত লড়াই করে আমি কন্যা সন্তান জন্ম দি।তাতে আমার শশুর বাড়ির লোকেরা খুশি না হলেও আমি খুব খুশি ছিলাম।মেয়ে হয়েছে দেখে তারা আমাকে আর বাড়িতে ঢুকতে দেয় নি।কিন্তু আমি তো আমার সন্তান কে ফেলে দিতে পারি না। তাই নিজের জীবন যুদ্ধে একাই বেড়িয়ে পড়লাম মেয়ে কে মানুষ করার জন্য।জানি সে পথে প্রচুর কাটা ও বিপদ রয়েছে কিন্তু আমি ঠিক পারবো।
এই বিশ্বাস নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম নিজের নতুন পৃথিবী গড়ার খোঁজে।

নাই বা থাকলো কেউ...
নাই বা দেখলো কেউ...
নাই বা পেলাম কাউকে পাশে ...
পথে হার মেনে বসে থাকবো না
আমার কোল আলো করে এসেছে চাঁদনী
সেই আলোর রোশনাই উজ্জলিত করবে
আমার অন্ধকারময় জীবন কে আলোকিত....

ইচ্ছেনদী
- অর্পিতা ঠাকুর চ্ট্টরাজ

ইচ্ছেনদী ইচ্ছেনদী
যাচ্ছো কোথায় বলতে যদি?
আমিও যেতাম সঙ্গে তোমার
শুরু থেকে শেষ অবধি ।
ইচ্ছেনদী ইচ্ছেনদী,
থাকো কোথায় হৃদয়পুরে?
তবে হটাৎ ছুটছো কেন,
অলিগলি ফাঁক-ফোঁকরে?
ইচ্ছেনদী ইচ্ছেনদী
নকসি কাঁথা জমাট বোনা
স্বপনের রং বিবর্ণ না--
প্রজাপতির রঙিন ডানা ।
ইচ্ছেনদী ইচ্ছেনদী
ছুটছি তোমায় ছোঁবো বলে
জ্বালিয়ে মনে আশার আলো,
যেওনাকো আবার চলে।।

আমি সেই মেয়ে ( প্রথম পর্ব )
- অঞ্জলী দাশ গুপ্ত

বিয়ে নিয়ে অনেক দিন ধরে কত স্বপ্ন দেখতাম আর সেই মতো নিজের কল্পনার পৃথিবী তৈরি করে নিতাম।তার মধ্যে খুঁজে নিতাম নিজের ভালোলাগার কিছু ছন্দ।মনে হতো ভালোবাসার সেই মানুষটি সবসময় আমার কাছে আমার পাশে ছায়ার মতো চলবে।নিজেদের সুখ ও দুঃখ সবটাই নিজের মতো করে নিজেরা ভাগ করে নেব।গড়বো নতুন রঙীন স্বপ্নে ঘেরা আমাদের পৃথিবী।
কিন্তু আজ বিয়ের পর মনে হয় আমার সেই স্বপ্নে ঘেরা পৃথিবীর রঙ্গীন স্বপ্ন গুলো যেন মরুভূমির বালুরাশির মধ্যে দম আটকে পড়ে রয়েছে।পরেশের সাথে আমার বিয়ে হয়।।সেইদিন আমার জীবনের হয়তো সবচেয়ে খুশির দিন ছিল।ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পেতে কে না চায়।আমি ও তাই চেয়েছিলাম।
বিয়ের পরের দিন হতে না হতেই ধীরে ধীরে সমস্ত কিছু কেমন যেন পাল্টে গেল।সকাল হতেই দরজায় ঠক ঠক শব্দ ও তার সাথে তারস্বরে আমায় ডাকছে।শব্দটি শোনা মাত্র ঘুম ভেঙে গেল আমার শাশুড়ি মা ডাকছেন।তাড়াতাড়ি ঘুম চোখে বিছানা থেকে নেমে দরজা খুললাম।তিনি "বললেন আর কত ঘুমাবে ঘরের যে কত কাজ পরে রয়েছে সেগুলো কে করবে? ঘর মোছা ,বাসন মাজা ,কাপড় কাঁচা সব কাজ একে একে করে নাও।রান্না টাও করে নাও।আমি আর কোনো কাজ করতে পারবো না।এবার সব দায়িত্ব তোমার।" আমি মাথা নেড়ে বললাম ঠিক আছে।ঘরের একের পর এক কাজ করতে করতে খাওয়ার সময় টুকুও আর থাকতো না।নিজের যে একটু যত্ন নেব বা বিশ্রাম করবো তার অবকাশ টুকুও নেই।পরেশ ও বাড়ি ফিরে যেন ব্যাস্ত হয়ে পড়ে তার সাধের ফোনের হোয়াটস এপ আর ফেসবুক করতে।বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং এ এতটাই মোশগুল থাকে যে সময়ের চিন্তাও মাথা থেকে তার বেরিয়ে যায়।আমার সাথে কথা বলা বা আমার কথা ভাবার সময় টুকুও নেই।তাই আমি নিজেই বক্তা আবার কখনো শ্রোতার ভূমিকা পালন করি।
সারাদিন কাজের শেষে আমি যখন ক্লান্ত....যখন আর শরীর এই ধকল নিতে পারে না.... তখন অন্ধকার বারান্দায় গিয়ে চুপটি করে বসে কাঁদি।ভাবি মা কে সব জনাব ।কিন্তু ভয় হয় মায়ের শরীর নিয়ে।কারণ মা আমার হয়তো এত কষ্ট সহ্য করতে পারবে না।তাই সব কষ্ট চেপে রেখে দি।আর নিজের ভাগ্যকে দোষ দিতে থাকি।
পরেশ অফিস থেকে আসা মাত্রা আমি চা ও টিফিন বানিয়ে দি।।কিন্তু সেদিন এত কাজের চাপে আমি চা এ চিনি দিতেই ভুলে গেছিলাম।পরেশ চা একটু মুখে দিতেই থু থু করতে থাকে আর বলতে থাকে "এই গুলো কি ছাই পাস বানিয়েছো।এই গুলো মানুষে খায়।এই বলে সে চা টি আমার গায়ে ঢেলে দেয়।" আমি চিৎকার করে উঠি কারণ আমার গা তখন গরম তাপে জ্বলছে।চোখ থেকে শুধু জল বেড়াচ্ছে ।কিন্তু পরেশ বা ওর বাড়ির লোকের কোনো হুশ নেই।সেদিন আমি ওর এই ঘৃণ্যতম ব্যবহার দেখে থমকে গেছিলাম।কি করবো আর কি করবো না ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না।শুধু মনে হচ্ছিল জীবনের কাছ থেকে কি এটাই আমার প্রাপ্তি?
এরপর আস্তে আস্তে অত্যাচারের পরিমান টা বাড়তে লাগলো।পরেশ যখন জুয়া খেলায় হেরে যেত ঘরে আস্ত আমার কাছে টাকার জন্য। কিন্তু আমি দিতে না চাইলে আমার উপর চলত চরম অত্যাচার।বাবা মা বিয়ের সময় অনেক কষ্টে একটি সোনার হার, একজোড়া কানের দুল ও আর দুটো চুরি দিয়েছিল।কিন্তু আমি এটির শেষ রক্ষাও করে উঠতে পারলাম না।পরেশ জোর করে একে একে সব গয়না কেরে নেয় জুয়া খেলার তারোনায়।আমি বাধা দিতে গেলেই আমার উপর চলত চরম থেকে চরমতরো অত্যাচার ও অবমানোনা।
এত অপমান ও অবমাননা ও অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছিলাম না।একদিন এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করে উঠি। আর বলি "আমি এবার আমার বাড়ির লোকজনদের সব জনাব।তোমাদের ভালো সাজার এই মুখোশ আমি সবার সামনে টেনে খুলে দেব।" এই কথা শোনা মাত্রই পরেশ নানা রকম ভাবে আমাকে ভয় দেখাতে থাকে।আমি ওর কথা শুনে বুঝতে পারলাম আমার বাবা মার ক্ষতি সাধন করতে ও একেবারেই পিছু পা হবে না।

মন নিয়ে
- অর্পিতা ঠাকুর চ্ট্টরাজ

রান্নাঘরে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে চাইছে জয়ী।একা হাতে সংসারের যাব্তীয় কাজ সারতে সময় পেরিয়ে যায় ওর।মেয়েটা একা বিছানায় বসে খাতায় আঁকিবুকি কাটে,কখনো বা পেন্সিল ছুলে ছুলে এতটা জড়ো করে রাখে।ঐটুকু মেয়ে নিজে নিজে কি বা পড়বে,টিউটরও নেই।তাই মাঝে মাঝে রান্নাঘর থেকে হাঁক দেয় জয়ী,
-----তিথি কি করছো,পড়ছো তো মন দিয়ে?
------হ্যাঁ মা পড়ছি ।
দিনটা 24ঘণ্টার বদলে আরো ঘন্টাদুয়েক বেশি হলে ভালো হতো,মেয়েটাকে একটু দেখতে পারতো জয়ী।শ্বশুরমশাই অবসরের পরও গৃহশিক্ষকতা করেন,চায়ের নেশাও খুব।বারবার চা খান।কি জানি কেন নিজের নাতনীকে কোনদিন ডেকে পড়াতে বসাননি।সুজয় একবার বলেছিলো একথা।সুজয় বলেছিলো,
-----বাবাকে তো জানো কথাবার্তা কত খারাপ,নিজে থেকে ডাকেন না যখন বলার দরকার নেই ।
এসব ভাবতে ভাবতেই চা বানাচ্ছিলো,খেয়ালই করেনি কখন বাবা দরজার বাইরে এসে দাঁড়িয়েছেন।খাবার করার পর আবার বলবেননা তো,
---আজ রুটি খাওয়ার ইচ্ছা নেই,গরম গরম পরোটা খাবো।
যেদিন এমন করেন সেদিন আর একটুও তিথিকে পড়াতে পারেনা ও।
-----তোর রান্না হয়ে গেছে?একবার আয় তো এঘরে।
---মা,বাবা দুজনের জন্য দুকাপ চা নিয়ে বাইরের ঘরে যায় ।বাবার ক্লাস টেনের ছাত্রী জুঁই পড়ছে তখনো।ওর মা নিতে এসেছেন মেয়েকে।
---কি গো ভালো আছো,মেয়ে ভালো আছে?
---হ্যাঁ দিদি ভালো।
বাবা বলেন,----এই কাগজটা রাখ,এই রচনাটা লিখতে পারিস কিনা দেখ দেখি।
বাবা আগেকার মানুষ ইংরেজিতে খুব ভালো,অংকও দারুন।ক্লাশ টেন পর্যন্ত বাংলা,সংস্কৃত সব পড়িয়ে দেন অভ্যাসের বশে।কাগজের চিরকুটে লেখা আছে দার্শনিক প্লুটার্কের একটা বাণী,
-------'মন চাহিদা পূরণের যন্ত্র নয়,প্রজ্জ্বলিত করার আগুন' ।
---দেখ পারবি কিনা লিখতে,ওর স্কুলে লাগবে।না পারলে এখুনি বলে দে।
-----কাকিমা,লিখেদাওনা,সোমবার লাগবে।খুব কঠিন বলে কেউ জমা দিচ্ছে না,এটা আমি পারছিইনা।স্কুলের দিদিও বলেছেন,বাড়ীর বড় কারো সাহায্য নিতে।তুমি আমাকে যেমন পারো লিখে দাও।
----আচ্ছা দেখছি।
-----দেখ আবার পারবি কিনা।
বাবার কথাটা ব্যঙ্গাত্মক শোনায়।
----তিথিকে পড়াতে বসে মন সেই মনেই পড়ে থাকে ।এখুনি আবার খাবার দিতে হবে।ই,ভি,এস এর হোমওয়ার্কগুলো করাতে থাকে চটপট ।না: ,কি যে অস্বস্তি হচ্ছে,কোথা থেকে যে শুরু করবে সেটাই ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছে না।মা এক্কেবারে পঙ্গু,কিছুই করতে পারেননা,বাড়ির সব কাজ,মেয়েকে বাসস্টপে আনা নেওয়া সব ওকে একাহাতে করতে হয় জেনেও বাবা ইচ্ছা করেই ওর দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।এই মানুষটি অদ্ভুত,বিয়ের পর থেকেই দেখছে উনি নিজের ছায়াকেও ঈর্ষা করেন।সব বিষয়ে অন্যের সাথে তুলনা করবেন,এতে যে কি আনন্দ পান কে জানে?এই সাতবছরে কোনো কাজেই ওনার প্রশংসা পায়নি সে।মাঝে মাঝে মনে হয় সত্যি কি জয়ীরই সব ভুল নাকি ওনারই মন বলে কিছু নেই?মন----মন---মন---ঘুরে ফিরে সেই মনে এসে আটকে যাচ্ছে আজ।রোজ রাতে বাবাই মানে জয়ীর বাবা ফোন করেন।সেদিন বাবাইকে বলতেই উনি বললেন,
-------বিত্ত হতে চিত্ত বড় এই ভারতের মর্মবাণী ।
মনই তো সব ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখ,ঠিক পারবি।আর তুই তো স্কুল-কলেজে সবসময় এইসবে ফার্স্ট হয়েছিস,লেখা শুরু কর,ঠিক পারবি।
জয়ী যে পড়াশোনায় ভালো ছিলো,ভালো গান গাইতো,সব প্রতিযোগিতায় প্রাইজ পেতো এগুলো বাবা মেনে নিতে পারেন না,ওনার মেয়ে মানে জয়ীর ননদই শুধু সবদিক দিয়ে সেরা,বৌমা কখনোই নয়।মা বৌমার উপর পুরোপুরি নির্ভর বলে অপেক্ষাকৃত নরম।তিথিকে খাওয়াতে খাওয়াতেও সেই একই ভাবনা ।বাবাই তো বলেদিলেন কিন্তু ভাববোই বা কখন আর লিখবোই বা কখন ? সুজয়ের পুরুলিয়ায় অফিস,সারা সপ্তাহ বাড়িতে থাকেনা,থাকলে খুব ভালো হোতো,একটু সাহায্য পেত ।
----উফ্ তিথি,ফেলছো কেন খাবারটা,শুধু কার্টুনের দিকে মন।
----মন---মন ---পেয়েগেছি!!!বাবাই ঠিকই তো বললেন বিত্ত বৈভব বা ধনসম্পদ সবই তো আপেক্ষিক।উপনিষদ্ এ আছে,
মন: এবং মনুষ্যানাং কারণম বন্ধ মোক্ষয়ো ।
মনই হোলো মানুষের বন্ধন এবং মুক্তির কারণ।ভাবতে ভাবতেই রান্নাঘর গুছিয়ে নিয়ে শোবার এসে দরজা বন্ধ করে।তিথিকে শুইয়ে ওর পাশেই কাগজ কলম নিয়ে বসে জয়ী।এই যে মন---বড় জটিল বস্তু,একে বোঝা খুব মুস্কিল।লিখতে শুরু করে,মনই মানুষের বন্ধন এবং মুক্তির কারণ ।এই মনের টানেই তো 'গৌতম'রাজঐশ্বর্য ,স্ত্রী ,পুত্র পরিত্যাগ করে মানবকল্যাণে বেরিয়ে হয়ে ওঠেন 'বুদ্ধদেব'।
কবি নজরুল বলেছেন,
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা -মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি,
ত্যাজিল রাজ্য মানবের মহা- বেদনার ডাক শুনি '।
আচ্ছা,এরপর কি লেখা যায়?উমম,কি লিখি কি লিখি?------হুম,
পরাধীন ভারতমায়ের শৃংখলমোচনের জন্য যেসব বীর আত্মবিসর্জন দিয়েছিলেন,কেন অসময়ে মরতে গেলেন?ভেতরের ডাক শুনেই তো।নেতাজী সিভিল সার্ভিস পাশ করেও দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করলেন।জীবনের কতটুকুই বা দেখেছিলেন বালক ক্ষুদিরাম?মন থেকে দেশমাতৃকার জন্য নিজেদের জীব্ন উৎসর্গ করেননি বিনয়,বাদল,দিনেশ,বাঘা যতীন,ভগত সিং,মাস্টারদা সূর্যসেন ও আরো অনেক বিপ্লবী ? আরো পাঁচটা সাধারণ মহিলার মত অন্ত:পুরে সুখের জীব্ন না কাটিয়ে কেন পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার,শান্তিসুধা ঘোষ,কল্পনা দত্ত,সুনীতি চৌধুরি প্রমুখ মেয়েরা?
এই তো ঠিকঠাকই এগোচ্ছে জয়ী,অনধিক পাঁচশো শব্দ হয়েই যাবে আর স্কুলের রচনা যখন ছাত্রসমাজের ভূমিকা ও কর্তব্য তো একটু লিখতেই হবে ,আর কি চাই?মন নিয়ে এতখন যা লিখলো আবার সেটা মন দিয়ে পড়ে ।ঘড়িতে সময় যেন রু রু করে ছুটছে,তিথির স্কুল আছে,বাবা,মা ও ভোরে ই উঠে চা চান ।তবু আজই শেষ করবে ও।সকালে বাবা বাজারে বেরোনোর পর মা বলেন,
----তুই না যা পারবি লিখবি,তোর বাবা ভাবছে তুই বুঝি পারবিনা।জানিস তো ও তোর কোনো গুণ স্বীকার করতে চায়না।
-----আমার লেখা হয়ে গেছে,তুমি শুনবে?
------বেশ লিখেছিস,কি লিখেছিস শেষে?
'মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির কাবা নাই ।'
মা,মনেই ভালোবাসার জন্ম আবার ঘৃনারও ।আমার প্রতি তোমার স্নেহ,বিশ্বাসের জন্ম হয়েছে মন থেকে আবার বাবার আমার প্রতি ঈর্ষারও জন্ম হয়েছে সেই মন থেকেই।কোনো কিছু পাওয়ার ইচ্ছা মনেই জন্ম নেয়,আবার সেই ইচ্ছা মনের মধ্যেই অবদমিত হয়ে থাকে পরিস্থিতির চাপে।মন ভালো থাকলে জীব্নটা সাতরঙা রামধনু মনে হয়,নইলে সবই বিবর্ণ।মন থেকেই ত্যাগ আর আসক্তি দুইয়েরই সৃষ্টি।ও বাবা,জলখাবার বানাই না হলে দুজনেই মার খাবো বাবার কাছে ।দুপুরে মা বাবাকে বলেন,---ওগো,জয়ী কি সুন্দর লিখছে রচনাটা,পড়ে দেখো।
----বাবা রেগে বলেন,তোমার বসে থাকা কাজ তুমি শোনো,আমার সময় নেই।
দুপুরে প্রতিলিপি করে রাখে পরিস্কার করে।পরদিন জুইঁ এলে ওকে দিয়ে দেয়।
অনেকদিন পেরিয়ে গেছে,হটাৎ একদিন জুঁই ওর মায়ের সাথে সোজা জয়ীর কাছে ঢোকে,একটা টিফিন কৌটা হাতে দিয়ে বলে,
-----কাকিমা এটা তোমার ।
------ওমা পায়েস!!! কেন রে?
------ঐ যে তুমি লিখেদিয়েছিলেনা ,ফার্স্ট হয়েছে ওটাই।
জুইঁ এর মা বাবাকে বলেন,ওর স্কুলের ম্যামরা সকলেই আপনার বৌমার লেখার নাম করেছে জানেন ।
------ও কি লিখেছে,ওর অনেক কটা বই আছে,দেখে দেখে টুকে দিয়েছে ।
ঘরে তখন সুঁচ পড়ার নীরবতা ।অপমানে,লজ্জায় নিজের ঘরে ঢুকে যায় জয়ী,হে ধরিত্রী দ্বিধা হও ---অবস্থা ওর ।
জুঁইএর মা মুখ খোলেন,
------মাস্টারমশাই পঞ্চাশজনের মধ্যে ওর লেখাটা ফার্স্ট হয়েছে,বই দেখে লিখলেই কি হোতো?তাছাড়া হুবহু বইএ পেলে আমিই তো বাড়িতে লিখেদিতাম। উনি জয়ীর ঘরে ঢুকে বলেন
----এই যে তোমার আর তোমার মেয়ের জন্য চকোলেট,এক্ষুণি ভুলে যেতাম।
জলভরা চোখে তাকাতেই বলেন,বই থেকে টুকতেও যোগ্যতা লাগে।এখন থেকে আমার মেয়ের মাধ্যমিকের কয়েকটা রচনা তুমিই লিখে দিও।জয়ীর একবার মনে হয় যে ব্যকরণ বইগুলো আছে সেগুলো বাবার কাছে দিয়ে আসে,যে নাও তুমি লিখে দেখাও।পারেনা কারণ উনি বয়োঃজ্যেষ্ঠ ।জুঁইরা চলে গেলে বাবাইকে ফোন করে জয়ী।
------হ্যাঁ রে বল,এই সময় ফোন করছিস,সব ঠিক আছে তো?বাবাইএর গলায় উদ্বেগ প্রকাশ পায়।তিথি বলে,-----
------আমি পেরেছি বাবাই,আমিই ফার্স্ট হয়েছি ।
---হ্যালো কি বলছিস,হ্যালো জয়ী,হ্যালো।
জয়ীর দুচোখে বন্যা নেমে আসে,ফোনটা কেটে দেয় ,মন শান্ত করে ভাবে,ওকে এবার থেকে মেয়েকে সময় দিতে হবে,এখনো ওর ভেতরের আগুনটা ছাইচাপা আছে ,এখনো সে ফুরিয়ে যায়নি।

তোমার গৌরী ছায়া

- মোশ্ রাফি মুকুল

সম্ভবত
পাখিদের মতো
ভুল চৌবাচ্চায় আমিও ডুবিয়েছিলাম পা,
তারপর আবার জলের স্পর্শ খুঁজেছিলাম কাঞ্চনজঙ্ঘার আকাশখোলা ঘাটে,
পাথুরে কথাগুলো আটকে আছে মৃগয়াজীবীদের আঁটোসাঁটো পায়েরছাপে।

পা বাড়ালেই দিক এড়িয়ে যায় পথ,
ভালোবাসা চাইলে তোমার গৌরী ছায়াও চায় মুক্তিপণ,
দাবি আদায় না হলে তুমিও ঝলসে দাও শখের ঋতুবৈচিত্র,পৌরাণিক সুখ!
অশিল্কি কার্পেটে ঢেকে রাখো বৃষ্টিবৃক্ষ ও তোমার মুখ;

মুখোমুখি হতে হবে বলে
বিপরীত লিঙ্গের অবিশ্বাস্য শেকলে ঝুলিয়ে রাখো সোনার চাবি,
তোমার কাঠগড়ায় বারবার অগ্রাহ্য হয়
সব সৌখিন ক্রন্দন,দুঃখ ও দাবী।

১৫/০৮/২০১৯.

দ্বীপ
- সোমা গাঙ্গুলী

হে পথিক,
চেনা হয়েও তুমি রয়ে গেলে অচেনা।
জানি তুমি অনেক সুখী,
কত লোকের সমাগম তোমার সমীপে
ঘিরে থাকে তোমাকে দিবারাত্রি,
তুমি অভ্যর্থনা কর তাদের
হৃদয়ের আন্তরিকতা দিয়ে।

সম্পর্কের চাটুকারিতাতে তুমি সিদ্ধহস্ত।
আমি ছোট এক দ্বীপ
পড়ে থাকি সমুদ্রের মধ্যিখানে।
আমার গায়ে দিবারাত্র সমুদ্রের জলের আঘাত-
সহ্যের কোন সীমা হয় না।

আমাকে পদদলিত করে হাঁটে লোকজন,
তবু আমি নির্বাক।
সমুদ্রের ভয়ংকর গর্জনেও,
আমার জীবন নিশ্চুপ।

একদিন তুমি এসেছিলে আমার দ্বীপে,
একা একা, তোমার দরকারে
সাহস আমি তোমায় দিয়েছিলাম।
আমার মাটি, মিঠে বাতাস, গাছের ছায়ায়-
তুমি সতেজ হয়েছিলে, পথশ্রান্ত পথিক।

তোমাকে আমার ভারী ভাল লেগেছিল,
কোনদিন ভাবিনি, তোমার যাওয়া
নির্ভর করছে তোমার পাওয়ার পরিপূর্ণতায়।
আজ আমি নিঃস্ব, পড়ে আছি একধারে।

অপেক্ষা করে আছি, কবে ওই সমুদ্রের
অন্তহীন, ভয়াল জলরাশিতে ডুবে গিয়ে,
এই নামহীন, গোত্রহীন পরিচয়ের-
ঘটবে বিসর্জন।

অস্তিত্ব হবে চিরতরে লুপ্ত,
এক অন্তিম জলোচ্ছ্বাসে।

নাগরিক দোলা
- মোশ্ রাফি মুকুল

সচারাচর আমরা ভালোবাসার উৎসে চুম্বন দিই,
ঘন আনন্দগুলো ঠোঁটে তুলে নিই,
নিকট ভবিষ্যতে আরেকটা দোলনা আবিষ্কার করতে হবে।

বরং পরাঙ্মুখ হিম বাতাস
আরো কিছুকাল এ সলাজ হাওয়ার ভাঁজে টিকে থাকুক,
এবং প্রথাহীন নাগরিক নাগরদোলায় উঠে পড়ি,
বাজিয়ে দিই বুকের ঘন্টা;

দেউলিয়া হবার আগে আরেকবার দুলুক
এ নাগরিক দোলা,
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কগুলো হাত বাঁধুক
ইট পাথরের সবুজ কব্জিতে!

১৫/০৮/২০১৯.

ইচ্ছে
- সোমা গাঙ্গুলী

আমার রাতগুলো কাটে, দুঃখ জাগে,
তাদের কথা মনে পড়ে,
যারা এই পৃথিবীতে ভীষণ অসহায়।
তাদের 'না খাওয়া' মুখগুলো,
ভাসে মনের কোণে।
কেমন করে কাটে তাদের দিন, ভীষণ কষ্ট করে।
ঈশ্বরকে আমার একটি নিবেদন,
থাকত যদি এমন টাকা...
ওদের দিকে সাহায্যেরই হাত বাড়িয়ে...
ভরে যেত মন।
এই অসহায় মানুষগুলো
যারা পারছে না জীবন টানতে
তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতাম,
তাদের চলার পথে হাত ধরতাম
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতাম,
খাবার কিনে তাদের পেট ভরাতাম,
যাতে তারা জীবন থেকে পালাতো না
শিখে যেত মানতে।
অনাথ শিশুর মলিন মুখের একটুকরো হাসি,
আমি আমার পরাণ থেকে
দেখতে বড় ভালবাসি।
আমার যা কিছু আজ আছে সঞ্চয়,
তার কিছু ভাগ ওদের হাতে তুলে দিয়ে
হবে আমার জয়।

স্বাধীনতা
- মালবিকা মজুমদার

স্বাধীনতা আজ কুচকাওয়াজে
রেডরোডে বন্দি
স্বাধীনতা আজ নেতাদের হিমঘরে
নতুন গুপ্ত সন্ধি।
স্বাধীনতা আজ দেশ বদলের
শ্লোগানে জাগায় আশা
স্বাধীনতা আজ বিরোধী বক্তব্যে
দেশাত্মবোধ ঠাসা।
স্বাধীনতা আজ ছুটির আমেজ
অবসর ঘরে ঘরে।
স্বাধীনতা আজ রাজার রাজতন্ত্রে
আটকে মরে ।
স্বাধীনতা আজ ঘরে ঘরে ওড়ে
ক্ষমতার ফানুস
স্বাধীনতা আজ শ্রীহীন করার ,
বেদীমূলে মানুষ।
স্বাধীনতা আজ মন্ত্রণালয়ে
লাভের অঙ্ক কষে।
স্বাধীনতা আজ ভাগের আকাশে
সার্জারি বাইপাসে।
স্বাধীনতা আজ আদুল গায়ে
মুক গণনাট্য লেখে।
স্বাধীনতা আজ কতিপয় অট্টলিকায়,
উদ্বাস্তু হিমাঙ্কে চাঁদ দেখে।
স্বাধীনতা আজ রঙ হারিয়েছি সব ,
সাদাটাই লাগে কালো
স্বাধীনতা আজ আমরা বেঁচে আছি
আর কী চাই বলো!

জীবন
- সোমা গাঙ্গুলী

জীবন তো একটা ব্যালেন্সের খেলা।
সময়গুলো গভীর পাকে স্মৃতিগুলো জড়িয়ে ধরে।
ছোট ছোট সুখ দুঃখে ভরা সংসার,
গড়িয়ে চলে নদীর স্রোতের মতো।
সকৌতুকে নির্মাণ করেছেন যিনি এ জীবন,
সেই না দেখা অন্তর্যামী
ঘটনা ঘটান আড়াল থেকে
অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়।
কখনও জীবন ছায়াপথ ধরে হাঁটে
কখনও একচিলতে রোদ্দুর দেখা দেয়।
হঠাৎ অচেনা আগন্তুকের যাদুর পরশে,
স্বাদ পায় জীবন অপরিমিত আনন্দের।
নতুন অতিথির আগমনে
কখনও বেজে ওঠে শঙ্খ,
কাটে অনিশ্চয়তার জড়তা।
সুর আর অসুরের মন্থনে ওঠে জীবনমুখী অমৃত।
কখনও জীবন ভগ্নপ্রায়
বিদায় নেয় যাদুকর।
কখনও বা রাত্রির ভালবাসার স্পর্শে,
জীবনের পথ খুঁজে পাই অকপটে।

ফিরে আসা
- শ্রাবণী ব্যানার্জী

ফিরে আসা। অনুভুতিগুলো বার ফিরে আসে। তোমাকে দেখার পর যে চঞ্চল মন আলোড়িত হয়েছিল,তার স্মৃতি ভুলতে পারিনা কেন যে,তাও বুঝিনা। কখনও শ্রাবণ সন্ধ্যায় বলনি তো কোন আবেশ ছড়ানো আবেগ তাড়িত কথা।তবও কেন স্মৃতির রোমন্থন!ভালবাসার সংজ্ঞা কি এই। নাকি তোমার অব্যক্ত কথা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছ-------আমিও তোমাকে ভালবাসি। তাই কি আমার অনুভুতি গুলো বার ফিরে আসছে মনের পর্দায়। একদিন হয়তো সেই পর্দা সরে গিয়ে তুমি স্বচ্ছ রূপে প্রকাশিত হবে আমার কাছে। থাকি তবে সেই প্রতীক্ষায়।

বিশ্বাস করুন আমরা ভালো নেই আজকে এ শহরে ;
মৃত্যু যেনো প্রতিনিয়ত ওত পেতে আছে শহর জুড়ে ,
স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনই গ্যারান্টি নেই আজ শহরে ।

এ শহরের বাতাসেও আজ লাশের গন্ধ ছেয়ে গেছে ;
এ শহর আজ যেনো লাশের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে ,
মানুষগুলো এখানে নিয়মিত ঠিক অপঘাতে মরছে ।

শহরের প্রচ্ছদ জুড়ে মৃত্যুর নগ্ন উল্লাস বয়েই চলছে ;
নতুন মলাটে পুরনো শহরের সিলেবাস একই আছে ,
কখনো সড়কে কখনো আগুনে মানুষ ঠিকই মরছে ।

এ শহরে আজ মৃত্যু মানেই আগুনে পুড়ে পুড়ে মরা ;
নয়তো কোন সড়কে গাড়ি চাপা খেয়ে মরে যাওয়া ,
মৃত্যু যেনো এ শহরে আজ পানির দামে কিনে নেয়া ।

এ শহরটাই আজ যেনো এক বিশালাকার মৃত্যুপুরী ;
সড়ক আর অট্টালিকার ভাঁজেই নিজের গোর খুঁড়ি ,
সড়কে যদিবা বেঁচে ফিরি আগুনে ঠিকই পুড়ে মরি ।

ভালো নেই
- মালবিকা মজুমদার
------------------------------

তুমি নেই বলে কতদিন ভালো নেই ,
ভালো নেই ,ভোরের আলো ভোরাই সুর, পাখিদের ডাক।

ভালো নেই মনের আবেগহীন নিঃসঙ্গ খোলা মাঠ।

ভালো নেই গাঙুরের মাছরাঙা পানকৌড়ি ,পথে চেয়ে তীরের কাণ্ডারী

ভালো নেই কাশের বন, হারিয়ে যাওয়া খেলার পুতুল শূন্য পুকুর ঘাট ।

ভালো নেই পথের একলা ঝুমকো লতা চোখের জলে ভাসছে কলমী শাক।

ভালো নেই ঘাসফুলের আদর মাখা শিউলি তলা।

ভালো নেই কাশের বন হারিয়ে যাওয়া পথের বাঁক।

ভালো নেই সাঁঝের তুলসী তলা, সন্ধ্যাতারার নেই কোন সাজ।

ভালো নেই শ্রাবণ দুপুর,মেঘেদের শিরে নেই তাজ।

ভালো নেই সাঁঝের ঘরে ফেরা পাখিরা
ভালো নেই আকাশের মন , মুখ ভার করে রাতের চাঁদ।

শূণ্যতা
- প্রতিমা দাস

শূণ্যতার সহচর্যে অনুভূতির সহবাস,
কান পাতলেই শোনা যায় স্তব্ধতার ইতিহাস।
শূণ্যতার প্রতিবিম্ব ছুঁয়ে অভিজ্ঞতারা সমৃদ্ধ হয়,
শূণ্যতাও কথা বলে যদি মুগ্ধ শ্রোতা হওয়া যায়।
ঘনীভূত কিছু অভিমান নীরব অশ্রু ঝরায় শূণ্যতাকে ঘিরে,
শূণ্যতাও ভালবাসতে জানে................ তবে দীর্ঘশ্বাসে মুড়ে।

ক্ষমা করো তুমি আমায়
- শাশ্বতী চ্যাটার্জী

এক অন্যায় আবদার করেছি,
মস্ত একটা ভুল করেফেলেছি,
হয়তো যোগ্য নই কিছুই পাবার,
এটাই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ আমার,
তবু তুমি ক্ষমা কোরো আমায় !

অত্যাধিক আবেগী আমার এই মন,
শোনেই না কোনোই বারণ,
হয়তো তোমায় জ্বালায় সারাক্ষন,
তবু মনে রেখো এই ভালোবাসা চিরন্তন l

আমায় ক্ষমা কোরো মন থেকে,
যদি নাই পারো, তাহলে না হয় অভিশাপই দিও আমাকেl
তোমার জন্য ধ্বংস করতে পারি নিজেকে,
চলে যেতে পারি পৃথিবীর বুক থেকে,
লক্ষ সাপের বিষের জ্বালায় পুড়তে পারি,
সহজেই কালের গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারি,
তবুও কাউকে ভালোবাসতে পারবো না আর,
আমার এই মন শুধুই তোমার l

তুমি বোলো না কখনো ভুলতে তোমায়,
তোমায় ছাড়া বাঁচতেই যেন না হয়,
ক্ষমা কোরো, ক্ষমা কোরো তুমি আমায় !!

নীলাঞ্জনা
- মাধব জানা

সুন্দর বনের সুন্দর গ্রামের এক বালিকার বাস
নামটি তার নীলাঞ্জনা,বাবা করতো চাষ
গরিব বাড়ির মেয়ে যে সে পাতা-ছাউনি-ঘেরা বাড়ি
পাড়ার মাঝে খেলত গিয়ে করতো না কারো সাথে আড়ি।
সবার মনের মণি মিষ্টি কথার বন্ধনে সে বড় ধনী,
বাঘের মুখে পরে যে সে হলো পিতৃহীনা
সর্ব-সুখ ত্যাগ করে শুরু হবে চেতনা
মাঠে-ঘাটে মায়ের সাথে করতো কত কাজ
তারই ফাঁকে পরাশুনার সাথে করতো নিত্য সাজ। ।
কেটে যায় অনেক বছর আজ রমণীয় হয়েছে “নীলাঞ্জনা”
সমাজে আজ প্রতিষ্ঠিত উচ্চতর মনে পরিপুষ্ট
উচ্চ বংশে বিবাহ দিয়ে মায়েরও মন ভীষন তুষ্ট ।
সুখেতে ছিল,ভাগ্যের পরিহাসে বিধাতার উপহার
পাঁচ বছরের সন্তান নীলাকে নিয়ে আজ বিধবার সাজে,
কত লোকের কত কথা তবু থাকতো কাজের মাঝে।
সাতকুলেও নিত না যারা খোঁজ
তারা নিতে চাইছে আমার বোঝা
কি চাই তোমার মন না প্রাণ,
সৃষ্টিকর্তাতো আছে এতেই চলে যাবে
আটকাল বারমাস।
টাকারতো অভাব নেই তোমার ভয় নাই চাইবো না কিছু,চাইবো শুধু বিকাশ হোক তোমার মানসিকতা। আমি যে নিলাঞ্জনা কিছুটা বুজতে
পারি তোমার ওই হিংস্র চোখ-পল্লভীর ভাষা,
প্রাণ আছে আমার বাঁচার ইচ্ছাও প্রবল
জানি কষ্টহবে বেঁচে থাকার নাই সম্বল ।
পারবো না কারো হতে প্রাণেশ্বরী আমি সস্তা নয় আমি “নীলাঞ্জনা”। বিধাতা আমার কপাল
পুড়িয়েছে মেনে নিয়েছি দু:খ নেই কোনোমতে,

সেই বিধাতার আরাধনা করে শান্তি পাই।
তবুত্ত রোদে-জলে পুড়ে ভালো থাকতে পারি
সময় হলে একটু লিখা-লিখি করি ,
ভালবাসা বিক্রেতা-পল্লীর মেয়ে নয় ।

তোমরা মেয়েদের কি ভাবো হাতের মোয়া,বাগিচার ফুল না খেলার পুতুল বা টাকার থলি । আমাদেরও মন আছে আমরাও
পারি আমাদের স্বপ্নপুরোন করতে,খাটবে না
এখানে কোন তোমার ছল-চাতুরি । অন্য রাস্তা
খুঁজো আমায় মাপ করো । আমি থাকি নীল আকাশের নীচে “নীলাঞ্জনা” রূপে।

এ সমুদ্রের বুকে
- গৌতম নাথ

আমার অন্তরঙ্গ সকল বর্গফুট জুড়ে
আদি অন্তহীন এক নীল সমুদ্র ,
যে সমুদ্রের আদিগন্ত আঁচল ছুঁয়ে
আমি আজন্ম কাল আলিঙ্গনে মেতে থাকি ।

যতো দূর এই দিগন্তের সাথে আমার চোখের মাখামাখি ,
ততো দূর তোমার সাথে আমার প্রাণের কোলাকুলি।

এ আমার জানতে বাকি নেই যে আমার ইহকাল পরকাল এই সমুদ্রের সাথেই গাঁথা হয়ে গেছে ।

এ সমুদ্রের সৈকতেই তোমার সাথে আমার সম্পর্কের সকল শেকড় গুলো পরস্পরের সাথে জড়াজড়ি করে ।

এখানেই অস্তগামী সূর্য আমাকে এক একটা সন্ধ্যা
উপহার দিয়ে যায়,
যে সন্ধ্যা গুলো জীবন্ত হয়ে উঠে তোমার সাথে আমার বিবস্ত্র আলিঙ্গনে আর ঠোঁটের চুমোচুমিতে।

এ সমুদ্রের বুকেই আমার দীর্ঘ দিনের আপন সব মান অভিমান গুলো তাদের সুখের বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে পরবর্তী সকালের অপেক্ষায় ।

হাঁসের অর্থনীতি

- মোশ্ রাফি মুকুল

আবার পুষিবো হাঁস-সুনিশ্চিত,
আবার কষিবো ডিমের গণিত।
হাঁস ও ডিমের অংক,জটিল গবেষণা!
আমি আদতেই জলাভূমি প্রেমী,মুঠো ভরি জলকণা!

শৈশব থেকেই শিখেছি এই হাঁসের অর্থনীতি,
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে তাই এই হাঁস প্রীতি!

মাননীয়গণ উপহাস করবেন না,এ হলো কালের উচ্ছ্বাস!
দ্যাখেন না চারিদিকে সোনালি-সোনার হাঁস!
দিকেদিকে স্বর্ণ হাঁসের চাষি,
সোনার হাঁস ও স্বর্ণডিম্ব'র বিপুল ভালোবাসা বাসি!

০৯/০৮/২০১৯.

কৃষ্ণকলি
- যুবরাজ পাল রাজু
.
কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি

কাজল বর্ণা চোখ যুগল তার
পটল চেরা আঁখি,
আহা যাই মরে আমি
এ কারে আমি দেখি !!!
কালো বরণ মুখটিতে তার
ফুটলো মনের কলি ।

স্রোতস্বিনী নদী যেন
ও সে দুরন্তপনা স্বভাবে,
প্রকৃতিও মলিন হয়
তার চঞ্চলতার অভাবে।
যতই দেখি কালো বর্ণা রে
সব যেন যাই ভুলি !!

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি।

নয়নে নয়ন পড়ে যদি তার
সামনে আসে যেন এক ফাঁদ,
তারেই দেখি কেবল আমি
যেন আঁধার ছোঁয়া চাঁদ।
শত আলো রেখেও তাই
আমি কালোর পিছে চলি !!

নয়ন টানে অস্থির এই মন
দুলে ছিলো বারে বার,
সর্বনেশে নয়ন দেখেই
মন সঁপিলাম তার।
ভালো লাগা থেকে ভালোবাসিলাম
মনের দুয়ার খানি খুলি ।

মন থেকেই তাই বারেবারে
কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি ।।
.
(রচনাকালঃ ২৪শে আগষ্ট, ২০১৮ ইং)

শ্রাবণ
- মৌসুমী বৈদ্য দাস

আমার শ্রাবণ বৃষ্টি ভেজা আনন্দের দিন।
তোমার শ্রাবণ ভাসায় ঘর যন্ত্রণার দিন।।
আমার শ্রাবণ খিচুড়ি খাব, খাব ইলিশ মাছ।
তোমার শ্রাবণ ভাত ফোটাতে, বন্ধ হয় আঁচ।।
আমার শ্রাবণ ভীষন প্রিয়, সঙ্গে প্রিয় গান।
তোমার শ্রাবণ রাত্রি জাগা, মাথায় বৃষ্টির বান।।
আমার শ্রাবণ সন্ধ্যা কাটে, নিয়ন আলো দিয়ে।
তোমার শ্রাবণ নেভায় আলো, ভীষন একঘেঁয়ে।।

আমার শ্রাবণ
- সঞ্জয় চক্রবর্তী

ওগো নীল অঞ্জনা পাগল পবন
দু -চোখে তোর আকুল শ্রাবণ,
আজ মেঘ মল্লারে হোক বরিষন
তোর লাগি মন ব্যাকুল ভীষণ ।

মন উচাটন হয় চোখের শ্রাবণে
স্মৃতি ভেসে যায় অশ্রু প্লাবনে,
শ্যাম প্রতীক্ষায় রাই আজও নিধু বনে
শ্যামও খোঁজে রাধা কদমের বনে ।

আজ কেন এলি ভরা এ আষাঢ়ে
কি সাধ মেটালি মন টুকু কেড়ে,
তবে তোর চোরা স্রোতে আমাকে ভাসারে
মেঘদূত হয়ে আজ আয় অভিসারে ।

জানি এ ভালোবাসা ক্ষণিকের
চোখের এ শ্রাবণও পালকের ,
মিথ্যা এই মরু মায়া পথিকের
বিরহ তো শুধু প্রাণ নেয় চাতকের।

(স্বত্ব সংরক্ষিত)

ওদের বলে দিও
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

ওরা জানেইনা যে আমার মৃত্যু নেই ;
ওদের বলে দাও ;
ওদের লাঠির আঘাতে আমি ইতিহাস হবো ।

ওরা জানেইনা আমার শক্তির উৎস ;
ওদের বলে দাও ;
ওদের প্রতিটি আঘাতে যে আমি শক্তি পাই ।

ওরা জানেইনা আমিও আগ্নেয়গিরি ;
ওদের বলে দাও ;
একবার জ্বলে উঠলে ওরা ধ্বংস হয়ে যাবে ।

ওরা জানেইনা আমি যে বেঁচে আছি ;
ওদের বলে দাও ;
প্রতিটি নব প্রজন্ম মাঝে আমি বেঁচে থাকি ।

ওরা জানেইনা আমার কি পরিচয় ;
ওদের বলে দাও ;
প্রতিটি নির্যাতিত মানুষই আমার আত্মীয় ।

ওরা জানেইনা আমার দেশ নেই ;
ওদের বলে দাও ;
শান্তি ও বিজয়ের পতাকায় আমি থাকবো ।

একাকী
- ইন্দ্রানী দে

আকাশ জুড়ে ঝলমলে রোদ ,স্নিগ্ধ মেঘের মায়া ,,
আমার মনে কেনো বলো কালো মেঘের ছায়া ,,
প্রকৃতি আজ সেজেছে যেনো সবুজ রঙের মেলায় ,,
আমার মনে লাগেনি কেনো সেই রঙেরই ছোঁয়া ,,
চারিদিকে বাজ্জেই যেনো আনন্দেরই গান,,
আমার মনে কে বাজলো বিষাদ ভরা তান ,,
বুঝেছি আমি কেনো এমন হচ্ছে আমার মনে ,,
আমার সকল আলো তোমার পরে দিয়েছি যে সোপে ,,
সেই আলোয় ভরে নিলে তোমার জীবন খানি ,,
কাঙাল হয়ে অন্ধকারে রয়ে গেছি আমি ,,
দুহাত ধরে বলেছিলে আসবে তুমি ফিরে ,,
ফিরেছিলে তুমি কথা রেখে কিন্তু অন্য হাত ধরে ।

লেখার ঝোঁকে মানবিকতায়
- সৌরভ রায় গুপ্ত

খুন হওয়া মানবিকতা থেকে কতগুলো
স্বপ্ন কুড়িয়ে এনেছি,
তারা ফেলে গিয়েছিলো কোনো সিগন্যাল এ
অথবা দামি গাড়ির চকচকে কাঁচে,
আটকানো ছিল সেটা।
কতদিন কলম ধরতে পারিনি,
তাই মিথ্যা ভালোবেসেছিলাম জীবনকে
জানতাম ছেড়ে যাবে,
তবেই তো কবিতা তৈরী করতে পারবো।
নোবেল লেখার সাহসিকতা নেই
ভালো ভাষা বোঝার ঝক্কি নেয় কে।
আবোল তাবোল এলোমেলো কবিতায়,
তার নাম আসে বার বার, লেখার ক্ষমতা নেই।
তবুও লিখে যাবো এলোমেলো ভাষা দিয়ে,
বড়ো হবে সেও, নিজস্ব আশা নিয়ে....
শেষ হয়ে যাওয়ার দুলাইনের বিকৃত কবিতায়
হবে শুরু লেখার ঝোঁকে মানবিকতায়।

সেদিন ওরা বাঁচবে বলে চারিদিকে আগুন
জ্বেলেছিল ;
অস্ত্র আর গোলা-বারুদের পশরা সাজিয়ে
বসেছিল ;
মানুষকে কোন ঠাসা করে নিজেকে প্রচার
করেছিল ।

সেদিন ওরা ভুলেছিল সেখানেই ওদেরও
ঘর ছিল ;
সেই অস্ত্র যে তাদের দিকে তাক হতে পারে
ভুলেছিল ;
একদিন ওরাও সংখ্যালঘু হতে পারে ভুলে
গিয়েছিল ।

সেদিন ওরা অস্ত্র হিসেবে ধর্মকেও ব্যবহার
করেছিল ;
ধর্মের অমোঘ বাণী ভুলিয়ে রক্তাক্ত করতে
শিখিয়েছিল ;
কিন্তু প্রতিটি ধর্মের অহিংসটা বাণী ঠিকই
গোপন করেছিল ।

সেদিন গোলাবারুদের মিছিলে নিজেকেও
হারিয়েছিল ;
হিংসা বিদ্বেষে ছড়িয়ে বিশ্বটার দখল নিতে
চেয়েছিল ;
ভালোবাসার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র হয়না
ভুলে গিয়েছিল ।

সেদিন ওরা গণতন্ত্র নামে আধুনিক দাসত্বে
বন্দী হয়েছিল ;
ভেবেছিল গণতন্ত্রটা দাসত্বর মুক্তির জন্যই
এসেছিল ;
কিন্তু ওরা জানতোনা এই গণতন্ত্র দাসত্বকে
বৈধ হয়েছিল ।

সেদিন আর বেশি দুরে নাই যেদিন সবারই
ঘুম ভাঙবে ;
হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি ভুলে এক হয়ে পথ
চলবে ;
একটাই মানচিত্রেই সেদিন একটা পৃথিবীও
ঠিক হবে ।

আমি ঋণী
- মুন্সি মহম্মদ ওয়াশিম

হঠাৎ নেমে আসা অন্ধকার চোখে ।
কিছু চমকে ওঠা মানুষের ভিড় ।
থমকে দাঁড়ানো আলো বাতাসে ।
শ্বাস-প্রশ্বাসের আড়ালের জগত ।

চারিদিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে লোকজন ।
শুষ্ক গলায় হালকা কান্নার আওয়াজে ।
ভিজে গালের উপর বিন্দুমাত্র অশ্রু ।
ভেঙে যাওয়া একটা ভালবাসার মনে ।

কিছু আপন জনের হারানোর ভয় ।
অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া কিছু স্বপ্নে ।
চোখের পাতায় নতুন ভোরের আলোয় ।
তোমার কাছে আজ আমি চির ঋণী ।

গিয়েছিলাম একটুকরো মানবতার খোঁজে
তোমাদের ঐ ঘুণে ধরা ভংগুর জনপদে,
ওলিগোলি ঘুরেছি,শহর থেকে শহরে ছুটেছি
আর বিপন্ন মানবতাকে পথে প্রান্তরে দেখেছি ৷

কখনো শ্বেতাঙ্গে রুপে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা করেছি ,
Isis এর দায়ে সিরিয়াকে জ্বলতে দেখেছি ,
বোমা মজুদের দায়ে ইরাক জ্বলতে দেখেছি
লাদেনের খোঁজে সারা আফগান পুড়িয়েছি ৷

নিজ ঘরে পরবাসী ফিলিস্তিনের যুদ্ধ দেখেছি
কোহিনুর স্বার্থে ভারত পাকিস্তান দ্বন্দ দেখেছি ,
মায়ানমারের বিভৎস রুপ দেখে প্রশ্ন জাগে মনে
জাতিসংঘ,মানবাধিকার সংস্থা কেনো মুখ লুকিয়ে ?

কাঁটাতারে ফেলানিকে দেখে প্রেস ব্রিফিং করেছো
আর কাঁটাতারের এপার ওপার মানবতা খুঁজেছো ,
মানবতার মুখোশে প্রতিনিয়ত মানবদরদী সাজো ৷

তনু হত্যার দায়ে অন্য দিখে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছি
আর নষ্টা,কুলোটা অপবাদ দিয়ে অাত্মরক্ষা করেছি ৷
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাদিজাকে রক্তাক্ত হতে দেখেছি ,
বিবেক,মনুষত্বের চোখে কালো কাপর বেঁধেছি
আর মুখে কুলুপ এঁটে নিজে বেঁচে চুপ থেকেছি ৷

বিবেক,মনুষ্যত্ব,মানবতা আজ icu তে বন্দী
অথচ ব্যানার ফেস্টুন আমরা প্রতিবাদী সাজি
আর প্রতিনিয়ত সমব্যাথীর অভিনয় করে চলি
আসলে আমরা মানুষত্বহীন মানুষের অবয়ব চলি ৷

মৃত্যুঞ্জয়
- মুন্সি মহম্মদ ওয়াশিম

আমি মৃত্যুঞ্জয় ,
মৃত্যুকে দেখেছি কাছ থেকে ।
দেখেছি তার মায়াহীন ভয়াবহ রূপ ।
দেখেছি তার নিষ্ঠুর হয়ে দেওয়া বজ্রাঘাত ।
দেখেছি যন্ত্রনা কাতর মনকে কষ্ট দিতে ।
দেখেছি বন্ধ চোখে নেমে আসা অন্ধকার ।
দেখেছি অহংকারে পরিপূর্ণ তার মন ।
দেখেছি আপন জনের অশ্রু ঝরা চোখ ।
দেখেছি হারাতে ভালবাসার মানুষ ।
আমি মৃত্যুঞ্জয় ,
দেখেছি মৃত্যুকে কাছ থেকে ।
এসেছি ফিরে মৃত্যুর দু'হাত বেঁধে ।
এসেছি ফিরে সূর্য ওঠা ভোরের সাথে ।
এসেছি ফিরে তোমাদের মাঝে নতুন করে ।
আমি মৃত্যুঞ্জয় ,
এসেছি মৃত্যুকে জয় করে ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget