জুন 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক: এশিয়া মহাদেশের শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসায়” ইলমে দ্বীন অর্জন করার সুযোগ পেল খাগড়াছড়ি জেলার চার মেধাবি শিক্ষার্থী।

প্রথম তিনজন খাগড়াছড়ি জেলা সদরস্ত “খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা” হতে কৃতিত্বের সাথে দাখিল পাশ করে এবং আকরামুল হক  হালিশহর মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী)’ হতে দাখিল  সম্পূর্ণ  করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলিয়ায় ভর্তি হয়।

শিক্ষার্থীরা খাগড়াছড়ি জেলারই সন্তান, তাদের মধ্যে একজন হল খাগড়াছড়ি সদরের ‘মাওলানা জাহেদুল ইসলামের সন্তান হাফেজ মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, অপরজন খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তৃতীয়জন খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের মোবারক হোসেন, চতুর্থজন রামগড় উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আকরামুল হক।

শিক্ষার্থীরা দেশের এবং দেশের বাইরের প্রত্যেক মুসলিম উম্মাহর নিকট দো’আ প্রার্থী।

চারিদিকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে
আর ওরা গোলাবারুদের উপরে দাঁড়িয়ে,
আর ছায়াগুলো মিলেমিশে একত্র হচ্ছে ।

এ জনপদ আজকে জনশুন্য হয়ে যাচ্ছে
শহর বন্দরগুলোও ঢেকে যাচ্ছে মুখোশে,
মানবতা সেও যেন ‍নির্বাসনে চলে যাচ্ছে ।

আজ পৃথিবীর সমস্ত অলিগলিতে জুড়ে
আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে,
উশৃঙ্খল ; সুদীর্ঘ তপ্ত দুপুরের মতো করে।

মনুষ্যত্বহীনতা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ শহরে
অলিতগলিতে মাদকের আড্ডাও বসছে,
মশা মাছির মতোই সন্ত্রাসী বাড়ছে শহরে ।

নির্জাতিত ধুলোর মতো দু'পায়ে জড়িয়ে
পড়ে থাকা নিথর সেই দেহগুলো ডিঙিয়ে,
একদিন প্রত্যাশিত বিজয় ঠিক ধরা দিবে ।

রক্তগুলো পিচঢালা পথে শিকড় ছড়াচ্ছে
সারিবদ্ধ লাশগুলো পথ রোধ করে থেকে,
মৃত্যুকে অস্বীকার জয়বার্তা বয়ে আনছে ।

মমতাময়ী মা; প্রিয়তমা স্ত্রী ;আদরের পুত্র
তোমরা আজ শোকবস্ত্র খুলে ফেলে দাও,
প্রতিটি অশ্রু দিয়ে তৈরি করো ক্ষীপ্র অস্ত্র ।

অদিতি স্টেশনে বসে আছে। ট্রেনটি আজ একঘণ্টা লেট। আজ বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যাবে। এই সময় হঠাৎ তার প্রাক্তন স্বামী সার্থক এর সাথে দেখা বছর তিনেক পর।
_অদিতি কেমন আছো?
_হ্যাঁ, ভালো আছি। বেশি কিছু না বলেই অদিতি ট্রেনের দিকে এগিয়ে গেল।
_অদিতি তুমি এড়িয়ে যাচ্ছ?
_না আমার সময় হয়ে গেছে এবার যাব।
_ওহ্ ভালো।
_আর এড়িয়ে যাবারই কি আছে সব তো শেষ হয়ে গিয়েছিল কয়েক বছর আগে। তুমি তোমার রাস্তায় আর আমি আমার। সুতরাং এসব কথা বলে তো আর লাভ নেই।
_না তা ঠিক নয়। আসলে আমারই ভুল ছিল। আমি বুঝতে পারিনি আমার জীবনে তোমার গুরুত্ব কতটা ছিল। আমরা ভালোবেসে বিয়ে করলেও সেই সম্পর্কের মান আমি রাখতে পারিনি।
_থাক না। আমি আসি।
_ ঝড়বৃষ্টির জন্য ট্রেন টা আরও আধঘণ্টা দেরিতে আসবে। প্লিজ বসো জাস্ট একবার বলতে দাও।
_আর কি বলবে তুমি? তোমার অনেক গুলো সম্পর্ক ছিল। সেগুলো নিয়ে তুমি সবসময় ব্যস্ত থাকতে।
_ তখন নেশায় মত্ত হয়ে থাকতাম। আবেগের বশে অনেক ভুল কাজ করেছি।
_আমার কথা একবার ও ভাবনি তুমি সার্থক?
আমি কি অবস্থায় ছিলাম। কতবার বলেছি তোমায় তুমি তা ও শোননি আমার কথা। আমার বিশ্বাস ভেঙে ছিলে। আর তোমার মনে আছে আমি তখন মা হতে চলে ছিলাম। তুমি জানতে তো আমাদের বেবি নিয়ে আমার কত স্বপ্ন ছিল।সেই সময় তুমি আমার সাথে ঝগড়া করছিলে আর আমায় ঠিলে দিয়ে বেড়িয়ে যাও। আমি চিৎকার করছিলাম ব্যথায়। আমায় হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে ও তুমি আসনি। আমাদের বাচ্চা টা নষ্ট হয়ে যায়।
এর পরেও এসে তুমি কি করে আমায় তোমার কথা শুনতে বলছো?

_বোকা ছিলাম ক্ষণিকের মজাটা কে সুখ ভেবেছিলাম। আসলে আমায় যেই মানুষ টা সবথেকে বেশি ভালোবাসতো, বিশ্বাস করতো তার আমি কদর করিনি। আর আমি সত্যিই তোমায় ইচ্ছা করে ফেলিনি। আজ আমি খুব একা। তুমি ফিরে আসো অদিতি।
_না তা আর সম্ভব না। তোমার ভুল সিদ্ধান্ত গুলোর কারণে আমাদের সম্পর্ক টা ভেঙে যায়।আর যে জিনিস একবার হারিয়ে যায় তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। তুমি তোমার জীবনে সুখী হও।
_আর একটি বার আমায় সুযোগ দাও অদিতি, আমি সত্যিই তোমায় ভালোবাসি। আমায় ক্ষমা করে দাও প্লিজ।
_ অনেক কষ্ট পেয়েছি। সেগুলো ভুলে আজ আমি অনেক দূরে এগিয়ে এসেছি আর পিছনে ফিরে যেতে চাই না। এখন ভালো আছি নিজের মতো করে।
আর দুমাস পর আমার বিয়ে হতে চলেছে। স্বাগত ছাড়া আর এখন আমার জীবনে কেউ নেই। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। ও খুব ভালো মানুষ হয়। সবসময় বন্ধুর মতো আমার পাশে থাকে। ও আমার কিছু বলার আগেই সব বুঝে যায়, আর শান্ত ভাবে আমার কাছে এসে দাঁড়ায় আর বলে ওঠে আমি আছি তো। আর স্বাগতর সাথে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবো না। ও আমার জীবনে সন্ধ্যা প্রদীপের মতো আলো করে আছে। আসি তুমি ভালো থাকো।
_ পরক্ষণে স্বাগতর ফোন আসলো কোথায় আছো তুমি অদিতি?
_এই যে আমি আসছি।

অনুগল্প : মা
কলমে : পল্লবী দে

অমর বাবু দেখলেন পার্কে একটি মেয়ে বসে আছে বছর দশেক বয়স হবে। হাতে একটা আঁকার খাতা সে কিছু আঁকছিল। কিন্তু ওর কাছে আসতেই বন্ধ করে দিল। এই তুমি কি করছো সোনা এখানে একা বসে আছো? হ্যাঁ । কেন? না আমার মায়ের শরীর ভালো না। সারাদিন কত কাজ করে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে। ওহ। তাহলে তুমি আমার সাথে চল আমি ডাক্তার নিয়ে যাব। এখন কি হচ্ছে তোমার মায়ের তুমি জানো? হ্যাঁ জানি তো, আমার মায়ের শরীর গরম হয়ে গেছে খুব। ওহ জ্বর হয়ছে তাহলে নাকি? না না শরীর টা তো শুষ্ক, জল তেষ্টা পাচ্ছে খুব। ওহ তাহলে ড্রি-হাইডেশন হয়ে গেছে, সারাদিন কাজ করে বললে তো তাই। সেটা কি কাকু। ও তুমি বুঝবে না চল আমি ORS নিয়ে যাচ্ছি খাইয়ে দিলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবেন তোমার মা। আচ্ছা, তোমার বাড়ি টা কোথায়? ওই যে ওই দিকে। এটা তোমার বাড়ি! হ্যাঁ এটাই আমার বাড়ি। শিখা দি ডাকলেন এই সৃষ্টি এখানে আয় কখন থেকে বাইরে ঘুরছিলিস। কিন্তু এটা তো একটা অনাথ আশ্রম তাহলে তোমার মা কে? আমার মা এই যে এটা কাকু। আমি তখন ছবি আঁকছিলাম 'প্রকৃতি'। ওই শিখা দি তো বলে প্রকৃতি আমাদের মা ওই সবকিছু দেয় আমাদের কিন্তু ওর শরীর ভালো না ও এখন কষ্টে আছে। তুমি কি দেবে বললে, খেলে মা ঠিক হয়ে যাবে দাও না তাহলে?

আহলে সুন্নাত ওলামা কমিটির আলোচনা সভা ও হজ্ব কাফেলার প্রশিক্ষণ কর্মশালা৷



২১শে জুন, ২০১৯
গোলাম ইয়াসিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি



খাগড়াছড়িতে আহলে সুন্নাত ওলামা কমিটির আলোচনা সভা এবং দুয়ূফুর রহমান হজ্ব কাফেলার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়৷

শুক্রবার (২১ জুন) রাত ৮টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি পৌরসভা মিলনায়তনে এ হজ্ব প্রশিক্ষণ ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


হজ্ব প্রশিক্ষণ ও আহলে সুন্নাত ওলামা কমিটির অনুুুুষ্ঠান খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের সভাপতি মো. জাহেদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শানে আলম, হজ্ব প্রশিক্ষক ও খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি আব্দুন্নবী হক্কানী, জেলা আহলে সুন্নাত ওলামা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবু তাহের আনছারী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত খাগড়াছড়ি জেলার সদস্য সচিব এড. আক্তার উদ্দীন মামুন, কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা সালাহউদ্দীন আল ক্বাদেরী, আহলে সুন্নাত ওলামা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জসিমউদ্দীন আল ক্বাদেরী, কেন্দ্রীয় শাহীী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান কোম্পানি প্রমুখ।

হজ্ব প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন আহলে সুন্নাত ওলামা কমিটির সভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুন্নবী হক্কানী, হজ্ব যাত্রীসহ প্রায় শতাধিক শ্রোতাদের উপস্হিতে অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়৷

৬২ দেশকে পেছনে ফেলে বিশ্বসেরা বাংলাদেশের হাফেজ সাইফুর
যায়েদ হোসেন.......

জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের প্রতিযোগী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী।

আন্তর্জাতিক এই আসরে ৬২ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম হনে তিনি। এছাড়া প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে কাতারের প্রতিযোগী, তৃতীয় স্থান বাহরাইন, চতুর্থ পাকিস্তান ও পঞ্চম স্থান অর্জন করে সৌদিআরবের প্রতিযোগী।

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য ১৩ জুন ২০১৯ সালে জর্ডানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হাফেজ ক্বারী সাইফুর রহমান ত্বকী। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় চলে ১৫ জুন থেকে২০ জুন পর্যন্ত।

তার বাবা মাওলানা বদিউল আলম ধলপুর লিচুবাগান নাদিয়াতুল কোরআন হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং রামপুরার বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব।

উল্লেখ্য, হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী ২০১৪ সালে এনটিভি আয়োজিত পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিভার সন্ধানে প্রতিযোগিতায় প্রায় ত্রিশ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৫ সালে জেদ্দায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান, ২০১৬ সালে বাহরাইনে তৃতীয় স্থান ও ২০১৭ সালে কুয়েত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

প্রতিটি বর্ণমালাতে উঠে আসুক প্রতিবাদের ঝড়
বিদ্রোহী শ্লোগান প্রকাশিত হোক প্রতি পঙতিতে ,
প্রতিটি কলম যেনো হয়ে ওঠে সাহসী ও দূর্ণীবার
এ ফরিয়াদ হোক আজ প্রতি ওয়াক্তে প্রার্থনাতে।

প্রতিটি শোক হোক আজ রুখে দাঁড়ানোর শক্তি
মহাপ্রলয় হয়ে আজকে আছড়ে পড়ুক প্রতিবাদ ,
দূর্বলতাও আজ বলীয়ান হয়ে ছড়িয়ে দিক দ্যুতি
ঘুঁচে যাক আজ আছে যতো গ্লানি আর অপবাদ।

প্রতিটি পঙতিতে বেঁচে থাক নির্জাতিতের কান্না
সে কান্নাই হোক আজকে সমবেত এক কোরাস ,
সব হারানো বেদনা থেকে খুঁজে নিয়ে সমবেদনা
ভুলে যাও আজ বুকে জমানো সকল হা-হুতাস ।

প্রতিটি শব্দ আজ একেকটা টর্ণেডো হয়ে উঠুক
লন্ডভন্ড করে দিক আজ পরিত্যাক্ত এই সমাজ ,
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়েই জেগে উঠুক সবার বুক
মানুষ এবং মনুষ্যত্ব হয়ে যাক পুনরুদ্যমে সজাগ।

পৃথিবীর দেয়ালে ঝলসে উঠুক জীবন্ত গ্রাফিতি
পালিয়ে যাক সমাজ থেকে সন্ত্রাসী;দূর্নীতিবাজ ,
ব্যথাতুর মনও আজ ভুলে যাক দূঃসহ সব স্মৃতি
প্রতিটা কলমের আঁচরে বদলে যাক এই সমাজ।

চট্টগ্রামে “গীটার” ভাস্কর্য স্থাপন, ঈমানদার ভাইয়েরা প্রতিবাদে করুন….

মুহিবুল্লাহ্ সিদ্দিকী….

মদীনাতুল আওলিয়া ও ১২ আওলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রাম প্রবর্তক মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিশালাকারের বাদ্যযন্ত্র “গীটার” ভাস্কর্য স্থাপন ও আইয়ুব বাচ্চু চত্ত্বর নামকরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ দেশের ৯২% মানুষ মুসলমান। তাই কুরআনের ভাস্কর্য হবে, মিনারের ভাস্কর্য হবে, মসজিদের ভাস্কর্য হবে, ইসলামী ক্যালিগ্রাফির ভাস্কর্য হবে, কিন্তু হারাম বাদ্যযন্ত্র গীটারের ভাস্কর্য হতে দেয়া হবে না।

সকলে আপন আপন জায়গা থেকে প্রতিবাদ করুন। এহেন পরিস্থিতিতে ইসলামী সংগঠনসমূহ নতুন কর্মসূচির অপেক্ষায় জাতি….

#সময়ের_স্রোত

#তনিমা_সেনগুপ্ত_চৌধুরী

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করে
রিণি যখন খবরের শিরোনামে ;
তখন রজতের ভার মুখ দেখে
মন কেঁদেছিল অভিমানে।

এরপর রজত বললো একদিন
তার মায়ের মনের কথা ;
লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে না হলে নাকি
বিয়ের চেষ্টা করাই বৃথা।

সময়ের নিয়মে পেরিয়ে যে গেছে
হয়তো বছর কুড়ি আরো ;
কে যে কোথায় সে খবর তো
রাখেনি কেউ কারো।

বসন্ত উৎসবের দিনে আজ
রজত এসেছে থানায় ;
তার কিশোরী মেয়েকে প্রায়শই
কিছু মস্তান জ্বালায়।

"শায়েস্তা ওদের করতেই হবে"-
একান্ত অনুরোধ তার ;
কঠিন মুখে লিখেছে নালিশ
মহিলা অফিসার।

নতমুখে রজত বলে -
" আমায় তুমি করে দিও ক্ষমা ;
পুরোনো কোনো কথা যেন
মনে রেখো না জমা।

সমস‍্যার সমাধানে থাকবো
তোমার কাছে ঋণী " :-
"লক্ষ্মীমন্ত না হলেও প্রতিবাদে আজও
একই আছি "- হেসে বললো রিণি।

#জয়_পরাজয়
#স্বাগতা_পাল

পাশাপাশি চলা রেললাইন
যায়না কখনও মিলে,
ট্রেনের জন্য ওই ফাঁক টুকুই
জীবনের কথা বলে।

পাশাপাশি বসে পুতুল খেলা
সবুজ দুটি মন,
সংসারে আজ বাঁধা পড়েছে,
ব্যস্ততা প্রতিক্ষণ।

দুটো পাখি থাকবে বলে
বাঁধে স্বপ্নের বাসা,
জীবন যুদ্ধে পরাজিত তারা,
পাল্টে গেছে পাশা।

জয়ের পাশে এভাবেই থাকে
জীবনের পরাজয়,
ধরণীর বুকে পাশাপাশি সবাই,
তবু কেউ কারো নয়।।

উলঙ্গ সমাজ
- মৌসুমী বৈদ্য দাস

উলঙ্গ সমাজ তোমরা দেখেছ কি?
শুনছো কি চার বছরের ধর্ষিতা মেয়ের বোবা কান্না?
যন্ত্রনা হয়ত পাই, কিন্তু কদিন????
এসব দেখি! দুদিন মনে রাখি,
আবার ফিরে যাই নিজের কাজে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় তুলি,
হয়ত বা মোমবাতির মিছিল!
জানি এসবের নেই কোনো শেষ।
তবুও চাই একটা নতুন সূর্য উঠুক।
ভোর হোক,
যে আলোতে মুছে যাক সব অন্ধকার।
প্রতিটা শিশু পাক বাঁচার অধিকার।।

অবুঝ শৈশব
- মৌসুমী বৈদ্য দাস

দারিদ্রতার হারিয়ে যায়, কত অবুঝ শৈশব।
তবুও আমরা সবাই থাকি, শুধুই নীরব।।
সেই ছেলেটা ফুল বেচে, পড়াশোনা ফেলে।
বাড়িতে তার অসুস্হ মা, বাবা গেছে চলে।।
যেই মেয়েটা বাসন মাজে, খেলাধুলা ছেড়ে।
পড়াশোনার ইচ্ছে জাগে, তারও মনের ঘরে।।
এদের থেকে শৈশবটা, যাচ্ছে দূরে সরে।
বেঁচে থাকার লড়াই টা থাক, ওদেরকেই ঘিরে।।

কুনি আর বুনি
- শাশ্বতী চ্যাটার্জী
এক গ্রামে এক বুড়ো বামুন তার বামনীকে নিয়ে বাস করতো।তাদের কোনো ছেলে-মেয়ে ছিলো না।বামুন পুজো করেই জীবন চালাতো।একদিন এইরকমই পুজো করতে বামুন গেছে পাশের গ্রামে, এবং পুজো করে ফিরতে ফিরতে তার বেশ রাত হয়ে গেছে। ওদিকে দুটো গ্রামের মাঝখানে একটা বড়ো বন আছে। তো পুজো করে আসার সময় বনের মধ্যে হটাৎ কে যেন বামুনকে বললো "বামুনঠাকুর কুনিকে বোলো বুনির পুত হয়েছে".. বামুন তো চারপাশে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলোনা। আর ওতো রাতে ওখানে কারুর থাকারও কথা নয়। তাই বামুন বেশ ভয়ই পেলো এবং জোরে জোরে পা চালিয়ে বাড়ি ফিরে এলো। বাড়ি ফিরেই বামুন খেতে বসে বামনীকে পথে ঘটা ঘটনার কথা বলছে, তখনই হটাৎ ঘরের কোণ থেকে কে যেন জিজ্ঞেস করলো"কয় দিবসের বামুন ঠাকুর.. কয় দিবসের?"বলেই হুস করে একটা ঠান্ডা হাওয়া জানলা দিয়ে বেরিয়ে গেলো। এইসব কান্ড দেখে তো বামুন-বামনী খুব ভয় পেয়ে গেলো আর আমার কথাটিও ফুরিয়ে গেলো ।😂

বাবা
- মৌসুমী বৈদ্য দাস

আজ নাকি বাবাদের দিন।
বাবা কে নিয়ে লেখা যে,বড়ই কঠিন।।
বাবা মানে ত গাছের ছায়া।
রোদ্দুরেও সুস্থ রাখে মোদের কায়া।।
বাবা মানে ত সেই জন।
যে পৃথিবীর সব থেকে আপন।।
যদি জীবনে আসে কোনো ঝড়।
বাবা এসে বলে, আমি ত আছি হাতটা ধর।।
বাবা মানে ত সেই লোক টা।
যে শত কষ্টের মধ্যেও দেখাতে পারে হাসি মুখটা।।

বন্ধন
- গৌতম নাথ

আমি যে প্রতিটি সন্ধ্যায় তোমাকে হারাই
আটপৌরে কোনো খোলা প্রান্তরে,
যেখানে সূর্য অস্তাচলে যায়
তোমার আমার সহস্র বছরের নিশ্বাসে প্রশ্বাসে।

আমার বুকের ভিতর কেমন এক শূন্যতা
সমুদ্র হয়ে যায়,
যে সমুদ্রের অতল স্পর্শ করে থেকে যাও
শুধু তুমি হীন তুমি ।

তুমি না গিয়েও ভীষণ ভাবে
আমাকে ছেড়ে চলে যাও,
আবার চলে গিয়েও ভীষণ ভাবে
থেকে যাও।

এই না যাওয়া আর যাওয়ার মাঝেই
চলে যায় কতো দিন আর কতো যৌবন।

আমাদের জন্ম না নেওয়া কোনো সন্তান
আজও তোমার আমার মাঝে অদৃশ্য বন্ধন ।

আমার প্রতিটি রাত শুধু দীর্ঘশ্বাস,
তোমার সাথে পরকিয়া সহবাস ।

মৈত্রী
- প্রতিমা দাস

শাখার পাতার প্রেম শাশ্বত,
কুঁড়ি আসে ফুলও ধরে
রোজ নয়তো।।

ফুল সুন্দর, রঙের বাহারে,
গন্ধ ছড়ায়
দু'দিনেই ঝরে।।

জড়িয়ে রাখে পরম মায়ায়,
নরম পাতা সবুজ শাখে
স্নেহের ছায়ায়।।

প্রবীণ পাতার মৃত্যু হলে,
বিদায় বেলায় শাখার বুকও
খাঁ খাঁ জ্বলে।।

শাখার পাতার প্রেম অনন্ত
সবুজে-পিঙ্গলে মৈত্রী শিরোস্পর্শে
নীল দিগন্ত।।

এবং তোমার আমার সারাটাদিন
- মোশ্ রাফি মুকুল

সময় গাড়ীর ভাঙা চাকা-ভেঙ্গে গেছে কালের কলস
সময় গাড়ীর ভাঙা চাকা- য্যাচ্ছে তাই এদিক ওদিক,
সময় গাড়ীর ভাঙা চাকা-নাঙা পায়ে হাঁটছি বিদিক।
সময় গাড়ীর ভাঙা চাকা-এবং চারিদিকে কালোর ফিনিক।

এবং তোমার আমার সারাটাদিন-সুখের ফেনায় উঠছে ফেনিল,
এবং তোমার আমার সারাটাদিন- মেরুন দুঃখ বহে অহরহ।
এবং তোমার আমার সারাটাদিন-সব মানুষের এই পৃথিবীর,
এবং তোমার আমার সারাটাদিন-যাচ্ছে কেটে,কেটে কুটে!

নীলাদ্রির নীলজলেতে করুণ বিষাদ-যাচ্ছে ধুয়ে,যাচ্ছে ধুয়ে,
নীলাদ্রির নীলজলেতে করুণ বিষাদ-নিষাদ রাঙায় বুকের কুঠি,
নীলাদ্রির নীলজলেতে করুণ বিষাদ-ধরছি টেনে সুখেরই লেজ,
নীলাদ্রির নীলজলেতে করুণ বিষাদ-বেআনন্দে খাচ্ছি ভীষণ লুটোপুটি!
খাচ্ছি অবাক লুটোপুটি!খাচ্ছি বেবাক লুটোপুটি!

১৪/০৬/২০১৯.

ভালোবাসার মানে
- বিদিশা কর্মকার

মেয়েটি ছিল শান্ত ধীর স্হির,তথাকথিত সমাজের সাথে কোনোরকম চলনসই |
সরলমেয়েটা বুঝতো না যে ইন্টারনেটের যুগে ভলোবাসাটাও সিমের মতো বদলে ফেলা যায় |
প্রথম ভালোবাসা পাওয়ার আনন্দে যখন সে পাগল ,যখন সে তার ভালোবাসার মানুষটার সাথে তার সুখ দুঃখ সব ভাগ করে নিতে চাইল.....তখন সে অবাক হয়ে দেখতো অপরজন শুধু শরীরের ভাষা নিয়ে কথা বলতে চায়..... মেয়েটা রেগে যেত,অভিমান দেখাতো,আবার নিজেই মানাতো....
কিন্তু মেয়েটি শরীরের ভাষায় সাড়া না দেওয়ায় ছেলেটি রেগে বলল .....তুমি আমার কাছে বাকি সবার মতোই, স্পেশাল কেউ নও.......
মেয়েটি সেদিন অবাক হয়ে বলেছিল "আমার কাছেতো ভালোবাসা মানে গভীর বন্ধুত্ব ছিল......বুঝিনি ভালোবাসাতে যে শরীরটাই অগ্রভাগে ছিল......"

সংস্কার
- কৃদন্তী ঘটক
Kridanti Ghatak
*********

শরদিন্দু চ্যাটার্জি পূর্ব বঙ্গের মানুষ । দেশ ভাগের সময় সপরিবারে কলকাতায় চলে আসেন এবং কলকাতায় ই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন । তিনি ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত সেই সঙ্গে ধার্মিক মানুষ । বাড়িতে পূজার্চনার পরিবেশ বজায় রেখেছেন আর যোগ্য সঙ্গী পেয়েছেন স্ত্রী বিনতাকে ।স্ত্রী বিনতা পুজোআচচা নিয়েই থাকেন ।তাদের দুই ছেলে শীর্ষেন্দু আর শাশ্বত । শীর্ষেন্দু মেধাবী এবং যোগ্যতার সঙ্গে সে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত । শাশ্বত পড়াশোনায় তত মেধাবী না হলেও সেও একটা কোম্পানিতে কর্মরত ।
শরদিন্দুবাবু সবকিছু যুক্তি , আবেগ দিয়ে বিচার করেন ।তা সত্ত্বেও তাঁর যুক্তি বিচার বিবেচনার সঙ্গে আধ্যাত্মিক চেতনার বিরোধ হয় নি । বিনতাদেবী স্বামী অন্তপ্রাণ ।তাই স্বামীর কথাই তার কাছে বেদবাক্য । ছেলে দুটিও মা বাবার শিক্ষায় আধুনিক এবং আধ্যাত্মিক চেতনার সঙ্গে মেলবন্ধন রেখেই জীবন অতিবাহিত করছিল ।
শীর্ষেন্দু চাকরি পাওয়ার পর নিজে পছন্দ করে অসবর্ণ শকুন্তলাকে বিয়ে করে । এই নিয়ে শরদিন্দু বাবু এবং বিনতাদেবীর সঙ্গে কোনো মত বিরোধ হয় নি ।তারা এই বিয়ে সানন্দেই মেনে নিয়েছিলেন ।
শকুন্তলা আধুনিক মনস্ক ।সে নিজেকে নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় । একটি পরিবারে যে দশবিধ সংস্কার সম্পন্ন হয় শকুন্তলা সেগুলোকে বাতিল করেছে কারণ এর কোনো যৌক্তিকতা নেই । বিজ্ঞানমনস্ক শকুন্তলা মনে করে অন্নপ্রাসন , উপনয়ন , শ্রাদ্ধকর্ম এগুলির কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক যৌক্তিকতা নেই । শকুন্তলার বাপের বাড়িতে এগুলো অনেক আগেই বাতিল করা হয়েছে ।শরদিন্দুবাবু ও বিনতাদেবী এই নিয়ে কিছু বলেন না ।এভাবেই চলছিল । শীর্ষেন্দুর দুই ছেলে মেয়ে ।
শরদিন্দুবাবু এর পর ছোটছেলে শাশ্বতর বিয়ে দেন । ছোট বউ তিথি আটপৌরে । সে পড়াশোনা যথেষ্ট করেছে ।তবে শশুর শাশুড়ির সঙ্গে তার যুক্তি , পুজো বা সংস্কার কোনটি নিয়েই মতবিরোধ হয় নি । এই ভাবেই দিন বেশ আনন্দে কাটছিল শরদিন্দু বাবুর ।এর মধ্যে শাশ্বত একটি পুত্র সন্তানের পিতা হয় ।
শকুন্তলা ও তিথি এক বাড়িতে থাকলেও তাদের মধ্যে খুব মিলমিস নেই ।শকুন্তলা শিক্ষিকা সেদিক থেকে দেখতে গেলে তিথি খুব ই আটপৌরে ।তিথি রান্না বান্না ঘর সংসার এসব নিয়েই আছে ।তিথি ভীষন ভালো গান গাইতে পারে ।তাই গান ই তিথির খোলা আকাশ ।শকুন্তলার ধারণা সে শিক্ষা দীক্ষা। , যুক্তি , বিজ্ঞান মনস্কতা নিয়ে সে সবার চাইতে স্বতন্ত্র । এই ভাবনায় চালিত হয়ে সে নিজের চারিদিকে একটি দুর্ভেদ্য পাঁচিল গড়ে তুলেছে । তিথি সেই পাঁচিল ডিঙিয়ে কোনোদিন ই শকুন্তলার মনের কাছাকাছি যেতে পারে নি ।
এর মধ্যে হটাৎ শরদিন্দু বাবু মারা যান । বিনতাদেবী অনেকটা নিঃসঙ্গ হয়ে যান । শীর্ষেন্দুর পুত্র সন্তানটি অনেক বড় হয়ে গেছে ।সে একটি নামি বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ে । পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী সরদিন্দুবাবু বড় নাতি প্রবালের উপনয়ন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু শকুন্তলার বাধায় উপনয়ন হয় নি । বিনতাদেবী আবার চেষ্টা করেও বিফল হলেন ।
এদিকে শাশ্বতর ছেলে শৈবালের এগারো বছর বয়স হয়ে গেছে । নিতান্ত নিরুপায় হয়ে ছোট নাতি শৈবালের উপনয়ন দেওয়ার জন্য তিনি উঠেপড়ে লাগেন । দিন স্থির হয় । পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী বিনতাদেবী বড়নাতি প্রবাল ও ছোট নাতি শৈবালের জন্য গলায় সোনার চেন দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন ।
বিনতাদেবীর দুই ছেলেই এই ব্যাপারটা সামলানোর দায়িত্ব দেয় বাড়ির বড় বউ শকুন্তলার উপর । সময়মতো শকুন্তলা দুটি চেন এনে বিনতাদেবীর হাতে দেয় । বিনতাদেবী দেখেন দুটি চেনেই দুই নাতির আদ্যক্ষর " প" এবং "শ " খচিত লকেট রয়েছে । কিন্তু "শ " লকেট সমেত চেনটি অনেক হালকা আর খেলো আর একটির তুলনায় ।অন্যটি বেশ ভারী আর জমকালো ।
বিনতাদেবীর মুখে ক্ষনিকের জন্য দুঃখের ছায়া এসেও মিলিয়ে গেল । তিনি ছেলেদের কে কষ্ট দিতে বা ভাই ভাইয়ের মধ্যে বৈরিতা সৃস্টি করতে চান না ।কেবলমাত্র ছোট নাতির জন্য তার মনে ভীষণ কষ্ট হয় ।
রাতে শুয়ে বিনতাদেবী ভাবতে থাকেন যুক্তিবাদী আধুনিকা বউমার এ কেমন সংস্কার যা তার মাথা নত করে দিতেও পিছপা হয় না । এ কেমন সংস্কার , কোন বোধ , আর কত আধুনিক হলে এমন মন হয় ? কতটা আধুনিক হলে মন থেকে উদারতা , মায়া , মমতা আত্মসম্মান ও লজ্জা সব তিরোহিত হয়ে যায় । আধুনিকতা মানে মনের উদারতা যুক্তির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে অসীম খোলা আকাশ । কত আধুনিক হলে পারিবারিক প্রথাকে যুক্তিহীন বলে ত্যাগ করা যায় কিন্তু জাগতিক লোভ কে ত্যাগ করা যায় না । কেমন আধুনিকতায় আজকের পৃথিবী আধুনিক তা নিয়ে আজ তিনি সন্দিহান ।।

কথা
- মোশ্ রাফি মুকুল

কথার গুচ্ছগুলো তোমার হাতে দিচ্ছি তুলে
লাল কথা নীল কথা বেগুনি এবং ম্যাগপাই রঙের কথা।

আমাদের মাঝে যে কথা হয়
আমাদের মাঝে যে কথার কবিতা
তার সবগুলো পাণ্ডুলিপি সেলাই করে
এবার বানাবো
কথার অন্তর্বাস।

১৪/০৬/২০১৯.

#স্ফটিক মালা
#প্রতিমা দাস

দুর্বিনীত বাদলা ছোঁড়ায়
এক ঝলকা তড়িৎ তোড়ায়
মেঘ বালিকার স্ফটিক মালা
যেই দিয়েছে ছিঁড়ে,
এক পশলা দমকা হাওয়া
ওমনি এল তেড়ে।
ঝিনুক ভাঙা রত্ন গুলো বেপরোয়া
হাওয়ার ডানায়,
হাজার হাজার মুক্তো দানা মেঘলা
মনের কানায় কানায়,
লজ্জা ভুলে খিলখিলিয়ে ঝাঁপ দিল ঐ
পাহাড় চূড়ায়, নদীর বুকে
ভিজল মাটি, গাছ গাছালি, হলুদ পাখি সবাই মনের সুখে।

বিভাগ-অণুগল্প
#Mom's_Magic
#তমন্না

"এই কুকুরছানাগুলো কি কিউট মাম্মা! আমি একটা পুষবো প্লিজ!" পুচকে টুবাই আবদার করে ওর মায়ের কাছে।
"সত্যিই খুব মিষ্টি বাচ্ছাগুলো! আচ্ছা দাঁড়াও! সাবধানে নেবে কিন্তু!"
"গররররর!"
"ও মা!! হ্যাট হ্যাট! এ কি আপদ রে বাবা! কামড়াবে নাকি!" টুবাইকে নিয়ে সভয়ে পিছিয়ে আসে ওর মা। তারপর হাতের কাছে একটা ইট পেয়ে সেটা ছুঁড়ে মারে মা-কুকুরটাকে।
"টুবাই সোনা! তুমি এইখানে দাঁড়াও চুপটি করে! কোথাও যাবেনা! আমি একটা বাচ্ছা নিয়ে আসতে পারি কিনা দেখি!"
"আয় আয় এদিকে আয়! বিস্কুট দেব আয়!" বিস্কুটের টুকরো গুলো ছড়াতে ছড়াতে বলতে বলতে কুকুরছানাগুলোর দিকে এগোতে থাকে ওর মা।
ওদিকে টুবাইয়ের মা আড়াল হতেই,
"আরে! তুমি কে সোনা? তোমার মা কোথায়? মা যাবে?"
"হ্যাঁ। মা ওইখানে আমার জন্যে কুকুরছানা আনতে গেছে!" আঙুল দিয়ে ইশারা করে দেখায় টুবাই, টুপিপড়া রোগা লম্বা লোকটাকে।
"চল আমি তোমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছি! তুমি চকলেট খাও? এ নাও!" আশপাশটা ভালো করে দেখে নিয়ে ছোট্ট টুবাইকে কোলে নিয়ে এগোতে থাকে লোকটা। তক্ষনি,
"এই এই কে আপনি? কে আছো বাঁচাও! ছেলেধরা! আমার বাচ্ছা চুরি করে পালাচ্ছে!" উর্দ্ধশ্বাসে লোকটাকে ধাওয়া করে টুবাইয়ের মাম্মা, কোলে একটা কুকুরছানা নিয়ে। চেঁচামেচিতে বেগতিক দেখে টুবাইকে ফেলে উল্টোদিকের গলিতে উধাও হয়ে যায় লোকটা।
"টুবাই! সোনাটা আমার! কোথাও লেগেছে বাবা! যতসব শয়তান লোক!" টুবাইকে জড়িয়ে ধরে ওর গায়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলতে থাকে ওর মা।
"মাম্মা দেখ!"
টুবাইয়ের কথায় পিছন ফিরে ওর মা দেখে, ইটের গায়ে রক্তাক্ত মা-কুকুরটা ওর বাচ্ছাটাকে কি পরম মমতায় সারা গা চেটে দিচ্ছে। অনেকটা যেন ঠিক টুবাই আর ওর মাম্মার মতই!
***(সমাপ্ত)***

আজ ১৪ই জুন, রোজ শুক্রবার৷

আহলে সুন্নাত ওলামা কমিটি খাগড়াছড়ি জেলার ওলামাগন আজ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অতি আনন্দের সাথে সম্পাদন করেন৷ উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আব্দুন্নবী হক্কানী(মু.জি.আ) আরো উপস্হিত ছিলেন মাওলানা আবু তাহের আনছারী, মাওলানা সালাহউদ্দীন আল ক্বাদেরী, মাওঃ সালাহউদ্দী সাহেব(টাঃমসজিদ), মাওঃ জসিমদ্দীন আলকাদেরী, মাঃ ফয়েজবারী প্রমুখ৷
পরিশেষে উলামাগনের একটিদল খাগড়াছড়ি জেলার পৌর মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল আলমের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাত করেন৷

 

দুপুর বেলা রাস্তার পাশে প্রথম দেখা রাই আমার
কলেজ পড়ুয়া ভাইয়ের সাথে গল্পে যেন ধুন্ধুমার ,
টানটান চোখে রাই তোমার লম্বা চুলের বাহার
অতঃপর পিছু-পিছু বাদ দিয়ে দুপুরের যে আহার ।

অনেক কথা যা ছিলো তা বহু সময় সাপেক্ষ
কলেজে গিয়ে রাই মন খুব বেশি আকৃষ্ট ,
হিসাববিজ্ঞান নিয়ে পন্ডিতি যুক্তিসঙ্গত নয় যতটুকু
তিনজনের মধ্যে চারজন ঠাঁই ,আমার জন্য অনেকটুকু।

অপলক দৃষ্টিতে  দেখি রাই তোমায় চুপি-চুপি
পড়ার অজুহাতে কথা বলা বিভিন্ন রকম যুক্তি
অযথা বেতনের খড়্গ রশিদে হলেম অন্তর্ভুক্তি
কাছ থেকে উপলব্ধি লিখে রাখা কয়েক লাইন পংক্তি ।

অহেতুক কথাবার্তায় রাই সংযমের নেই বালাই
লাইনের পরে লাইন হয়ে যায় কবিতারা ঢালাই,
লুকোচুরি করে করে রাই সময় যে যায় চলে?
হিসাব কেন মেলে না আজ সময়ের বিবর্তনে ।

প্রেম তরঙ্গের খেলায় তুমি তো নও অভিশপ্ত
এই রাই তুমি কি আজ ও আগের মত শান্ত ?
তোমাকে আঘাত করে কথাগুলো ও আজ নয় শান্তিতে,
সম্পর্কের ক্রান্তিলগ্নের বহু পরে রাই, তোমাকে জানাই কুর্নিশ ।

নিতাই মালাকার

ঈদ মোবারক ! ঈদ মোবারক !

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর —
জগৎ ও জীবনের ভিতর
অন্যতম এক উৎসবের মাত্রা ৷
ভারসাম্যের জয়যাত্রা ৷
সভ্যতার বিশেষ দিক্-চিহ্ন ৷
মানবতার মহিমা উৎকীর্ণ
দেশে দেশে ৷

ভুললে চলবে না ৷
ভুললে বিবেক দীপ্ত জ্বলবে না ৷
আজ 5-জুন —
বিশ্ব-পরিবেশ দিবস —
মানবেব দ্বার প্রান্তে —
নীরবে .....
প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় তো দিতে হবেই ৷ দিতে হবে ৷৷

--------------------------------------

মঙ্গলবার (৪ জুন) বিকেলে “নির্মল বাংলাদেশ” কর্তৃক আয়োজিত “ঈদ ফেস্টিভেল-২০১৯” -এ  অর্ধশত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ঈদের সেমাই,চিনি,দুধ বিতরণ করেছে এইচকে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি

রাজধানীর উত্তরার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে  এইচকে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান “সকালের আলো”-র সম্পাদক এস. এম. আজাদ হোসেন এসব সামগ্রী বিতরণ করেন। বিতরণের সময় তিনি তার মরহুম বাবা-মা এর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলের দোয়া কামনা করেন।

ঈদ সামগ্রী সুষ্ঠভাবে বিতরণ সম্পন্ন করতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'নির্মল বাংলাদেশ' এর একঝাক তরুণ সার্বিক সহায়তা করেছেন। এইচকে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এজন্য নির্মল বাংলাদেশ এর সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে একত্রে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

নিতাই মালাকার

বন্ধু তুমি আত্মসুখ
ঝম্ ঝম্ দিন
রাত্রিমুখ
সাহসী
বৃষ্টিরতি
চরৈবেতির
ছত্রপতি
তুমি যে !

অপূর্ব স্নাত ভূমি যে .......

সুদূর স্মৃতির
বোলান গীতি .....
বৃষ্টিছন্দ .......
অরূপগন্ধ চরাচর .....

বন্ধু তুমি হাঁটতে আছো —
হাঁটতে আছো —
হাটতে আছো —
ইচ্ছাস্বদেশ
বরাবর .....

-----------------------------------

নিতাই মালাকার

……সত্যিই তাই ৷
অতিরঞ্জিত নয় —
এ-বিষয় ৷

বিশ্বজাতি
রাতারাতি
মুক্তি পাবে কি ?
না ৷
অনেক অনেক কাল কেটে যাবে সভ্যতার —
তবুও তমসাঘোর কাটবে না হয়তো !

জ্বর-ঘোরে অস্তিত্বের ভুল বকা ……
এ বড় কঠিন ব্যাপার ৷
শান্তির
নিরঞ্জন ফিরবে কখন !
আমাদের জানা নেই ৷

তা যাই হোক ৷
বাস্তবের নিহিত উত্তাপ
আমাতেও এসে গেছে কখন যে , ঠিক যেন বুঝতে পারিনি ৷

অনুভব এইভাবে থাকুক জেগে ৷
দিনরাত সার্থক হোক গভীর আবেগে ……

জানি না !
সুদিন আসবে কবে !
প্রকৃত সুদিন !
মানব সভ্যতার বুকে ৷

আত্মপ্রবঞ্চনা প্রতিনিয়ত
আত্মবিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷

আমাদের ভেদবুদ্ধি , আমাদের সঙ্কীর্ণ মানসিকতা আমাদের অগ্রগতির শত্রু ৷

আত্মসংস্কৃতির ধারণা থেকে আমরা পিছিয়ে পড়েছি ঢের ৷

জানি না !
যথার্থ জাগরণ পর্বে পদার্পন করবো কবে আমরা ৷

হা-হুতাশ বাড়ছে !
আলো কমছে !
ভয় বাড়ছে !
গ্লানি জমছে ! …….

জেগেছে —
দুর্দশা-পর্ব !
হায় দুর্দশা পর্ব …..
বলা বাহুল্য
এর মধ্যে গর্ব করার কিছু নেই ৷

দুর্দশা+দুর্দশা+দুর্দশা+দুর্দশা …..
কে জানে হায়
এর শেষ কোথায় …..

আহা !
জাগে প্রাণ !
জাগে অন্তর !

আপন বোধের গভীর থেকে কবিতার রসদ আমি পাই ৷
সংসারের খুব ভেতরের জীবনের মৌলিক ছন্দগুলি ধায় …..
অনেক নষ্ট হয় …
তবুও কষ্ট কিছু কবিতার মতো মাথা তোলে …..
নৈঃশব্দে
কলরোলে ……

মাথা তোলে ঝংকার …..
23-মে 2019-এর টংকার ……
প্রশ্নচিহ্নগুলি নড়ে ওঠে …..
বিস্ময় চিহ্নগুলি নড়ে ওঠে ….
আত্মপ্রসাদ নড়ে ওঠে …..

আমাদের করণীয়গুলি নড়ে উঠলো …..
আমাদের স্বপ্নগুলি নড়ে উঠলো ……
সম্ভাবনাময় চিন্তাশরীর নড়ে উঠলো ….

বিহ্বলতা —
মুহ্যমানতা —
কুণ্ঠা-সংকোচ —
বিজয়ী উত্তেজনা —
ইত্যাদি এ-সবগুলিকে সদর্থক ইতিবাচকতায় রূপান্তরিত করার —
আদর্শ মানবিক মেজাজ —
আমাদের পথ দেখাবে না কি ?

‘মসনদ’-এর দুরন্ত বাস্তবতা —
জনগনের স্বার্থে —
শান্তি-সুস্থিতি-সৌভ্রাতৃত্ব তথা সর্বাঙ্গিন নিরাপত্তার

সার্থক দ্যোতক হয়ে উঠুক …….

————————————-

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget