এপ্রিল 2019

শিক্ষা

শিক্ষার আজ ঘোর দুর্দিন

ধ্বংস সুনিশ্চিত,

সংখ্যারা আজও দর্পে বেড়ায়

বৈষম্যের হয় জিত।

 

মেধার কোনো মূল্য নেই                                              টাকায় যায় কেনা,

কাগজ খন্ড অনেক দামি

ধুলোয় গড়ায় সোনা।

“তিক্ততা”
#শর্মিষ্ঠা মজুমদার(নূপুর)#

আজ সম্পর্কটা শেষ করবে ঠিক করল তুয়া। আর ভালো লাগছে না।সবসময় সেই বা মানিয়ে নেবে কেন? সব দায় কি তার? আজকাল ঠিক করে কথা পর্যন্ত বলে না সানি।এতো কিসের অভিমান?ওই তো তুয়ার পিছনে পিছনে ঘুরতো।তুয়া তো রাজী হয়নি অনেক দিন।তিক্ততা বেড়েই যাচ্ছে ক্রমে।

ঠিক করলো আজ দেখা করে বলে দেবে তাদের সম্পর্কের কোন ভবিষ্যৎ নেই।আগে কতো উপহার নিয়ে আসতো সানি।দামি হয়তো নয় কিন্তু তুয়ার খুব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভালো লাগাগুলো খেয়াল রাখতো।মাঝে মাঝেই ঘুরতে নিয়ে যেতো।আর এখন কথা বলারই সময় নেই তার।

হাঁটতে হাঁটতে সেই পার্কটার সামনে এল তুয়া।এখানেই প্রথম সানি আর তুয়া দেখা করে।তাদের প্রথম দেখা করার কথা মনে পড়ল।তুয়া সময়ের ব‍্যাপারে খুব সচেতন।দশ মিনিট দেরী হওয়াতে খুব বকেছিল।

তখন সানি হাসতে হাসতে দশটা উপহার দিয়েছিল। গোলাপফুল, গ্রীটিংস কার্ড, টেডি বিয়ার, চকলেট, কেক আরো কত কি। শেষে আংটিটা দিয়ে ভালোবাসার প্রস্তাবটা দেয়।

তুয়া অবাক হয়ে বলছিল সবে তো দেখা।ক’ টাদিন দুজন দুজনকে চিনি। সানি জড়িয়ে ধরে বলেছিল “পারবো না তোমাকে ছাড়া বাঁচতে।”সেই সানি বদলে গেছে কত?

আজও সানি দেরি করছে। ও আর শুধরাবে না ভাবতে ভাবতে তুয়া যেই উঠে দাঁড়াল, পার্কের বাইরে তুমুল হট্টগোল। তুয়া বাইরে বেড়িয়ে দেখলো কিছু লোকের জটলা।কিছু জনতা উত্তেজিত।ওখান দিয়েই তুয়াকে যেতে হবে।একজনকে ওখান থেকে বেড়িয়ে আসতে দেখে তুয়া জানতে চাইল”কি হয়েছে?”

লোকটা জানাল “রাস্তা পাড় হতে গিয়ে অ্যাকসিডেন্ট।সুইসাইডও হতে পারে দিদি।লোকে কত ঝামেলা নিয়ে বেরোয়।”

তুয়ার মনে পড়ে গেল আজ সে সকালে সানি যখন তাকে অফিসে পৌঁছে দিয়ে গেল সেও তো ঝগড়া করেছে। কি নিয়ে যেন মনে পড়ছে না।চোখের সামনে সানির আকাশী জামাটা ভাসছে।

ওই তো ছেলেটা রাস্তায় পড়ে, আকাশী জামাই কী পরনে?

হঠাৎ মাথাটা ঘুরে গেল।আর কিছু মনে নেই তুয়ার।

যখন জ্ঞান ফিরলো তুয়া দেখলো সানির কোলে মাথা রেখে সে পার্কের একটা বেঞ্চে শুয়ে।মুখে জলের ছোঁয়া।

কি একটা বলতে গিয়েও তুয়া বলতে পারলো না।মাথাটায় ভীষণ যন্ত্রণা।
সানি মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে বললো “ঝগড়া করে সারাদিন কিছু খাওনি তো।ভাগ‍্যিস তোমায় ধরে ফেলেছিলাম নয় মাথাটাই যেতো ফেটে।কী দরকার সহ‍্য হয়না যখন ওসব দেখার। আমায় কষ্ট দিয়ে কী পাও কে জানে? তুমি কী বোঝো না আমার সব ব‍্যস্ততা তোমাকে ভালো লাগার তাগিদে।”

তুয়া শুধু বুকের কাছে মুখ রেখে বলল ” আমিআর ঝগড়া করবো না গো।কিন্তু তুমি কী বোঝো না যে শুধু তোমাকেই চাই।” হঠাৎ একটা উষ্ন অনুভবে দেখে সানির চোখের জল তার কপাল বেয়ে।তুয়া বুঝলো কতোবড়ো ভুল করতে যাচ্ছিল রাগের বশে।

সম্পর্কগুলো বুঝি এভাবেই শক্ত হয় চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে।সানির চোখটা মুছিয়ে দিতেই একটা উষ্ণতা আবার অনুভব করলো তুয়া তাঁর ঠোঁটে।

সম্পর্কগুলো এভাবেই বুঝি টিকে যায় হাজার তিক্ততায়।

স্বত্ব সংরক্ষিত#

রচনাকাল✍ ২০শে জুন ১২০১৮

 

"হতবাক"
#শর্মিষ্ঠা মজুমদার(নূপুর)#

আর পারছে না নিলয়। বিষয়টা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।অনেক কষ্টে টিউশনটা জোগাড় করেছিল।অভাবের সংসারে বিলাসিতা চলে না।তাই বন্ধুদের বলে রেখেছিল সে টিউশন পড়াবে।ভালো ছাত্র হলে কি হবে বড় মুখচোরা সে।কিন্তু এখন অনেক ছাত্রছাত্রী পড়ে তার কাছে।শিক্ষক হিসাবে ভালোই নাম হয়েছে।

রিয়াদের বাড়ি যখন প্রথম গিয়েছিল,রিয়ার মা হেসে বলেছিল "তুমি তো কথাই বলতে পারোনা,পড়াবে কি? আর রিয়ার মতো ডানপিটে মেয়েকে সামলাবেই বা কি?"

রিয়া তখন নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে প্রথম বর্ষের ছাত্র।কিন্তু রিয়া বড় ছটফটে।প্রথম দিন তাকে অতিষ্ট করে তুলেছিল।পড়ার চেয়ে বেশী নিলয়ের গল্প।

নিলয় মুখচোরা যতটা পেরেছে হু,হ‍্যাঁ তে কাজ মিটিয়েছে।কিন্তু গত তিন বছরে রিয়া নিলয়ের ছাত্রীর চেয়ে বন্ধু বেশী হয়ে গেছে।এখন তো রীতিমতো অভিভাবক।

নিলয় কিছুতেই বাগে আনতে পারে না মেয়েটাকে। অনেক বুঝিয়েছে। নিলয়ের সাথে রিয়ার কোন ভবিষ্যৎ নেই। কিন্তু বুঝতে কি চায় মেয়েটা।এক তো বড়লোকের মেয়ে তার উপর প্রচণ্ড সুন্দরী।
বাবা মার একমাত্র সন্তান ।বড় আদরের।তার সাথে কি মানায় মেয়েটাকে।কিন্তু কে শোনে কার কথা?

কয়েক দিন ধরেই রিয়া ওকে চাপ দিচ্ছে বিয়ে করার জন্যে।রিয়ার সম্বন্ধ দেখছে বাড়ি থেকে।কিন্তু নিলয় জানে কিছুতেই নিলয়কে মেনে নেবে না রিয়ার বাড়ি থেকে।
আজ ঠিক করেছে সোজা বলে আসবে রিয়াকে পড়াতে আসবে না সে। তাছাড়া রিয়াকে তার প্রাপ‍্য সুখ থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না সে।এখনো চাকরি পায়নি।

অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে কিন্তু রিয়ার মতো বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করা বোকামি।মেয়েটা কষ্ট পাবে বেশী।তাছাড়া রিয়ার বাবা মার বিশ্বাস হারাবে কি করে?
নিলয়কে ওরা খুব স্নেহ করে একথা ঠিক তাই বলে বিয়ে!কিন্তু তবুও কোথায় ওর যেন ভাবতেই বুকে ব‍্যথা করছে ওই পাগলী মেয়েটা হবে অন‍্য কারোর।সেও যে বড় ভালোবাসে পাগলীটাকে।

ঘরে ঢুকতেই হঠাৎ কেমন কান্নার দলা গলায় আটকে গেল। মেয়েটা সত্যিই ভালোবাসে নিলয়কে।কিন্তু বলতে তাকে হবেই, রিয়ার ভালোর জন্যে।

রিয়া হঠাৎ ওকে দেখে হাসছে। দেখেই কেমন মাথাটা গরম হয়ে গেল নিলয়ের। রেগে বলল "সব কিছুতেই কি তোর ছেলেমানুষী।বুঝবি কবে? কাল থেকে আমি আর আসবো না। তুই যা খুশী কর।"

রিয়া হঠাৎ হাসতে হাসতে নিলয়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আলতো করে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে "করে তো ফেলেছি।তোমার দ্বারা তো হবে না। মা বাবাকে বলতেই রাজী।"

হঠাৎ নিলয়ের বড় কান্না পেল। রিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলল "সত্যিই তুই বড় হয়ে গেছিস পাগলী"

স্বত্ব সংরক্ষিত#

 

রচনাকাল ১৭ ই জুন ২০১৮

রোদেসীয়া ফুল
- মোশ্ রাফি মুকুল

সে এক রোদেসীয়া ফুল
মোহনিয়া তার রঙ
নাসারন্ধ্র ভেদ করে উপচে যায় তার মোহন ঘ্রাণ

সে এক প্রথাভাঙা নদী
দীর্ঘপথ খুইয়েছে যে
গহিনে যার অতল আঠারোবেলা
সে স্বভাষীক বন্য সময়েও
মিলনের সূচিপত্র লেখে

সে এক স্বমুদ্রিত সমুদ্র
শিল্পাসু কবির তুলিতে আঁকা সাদাচিল
ছোঁ দিয়ে নিয়ে যায় ভবিষ্যতের পরিপত্র
লাল হৃৎপিণ্ড
নীল ফুসফুস

অথবা
সে এক সিনথেটিক আকাশ
রক্তপ্রবালে খচিত
যার এক ও একমাত্র নক্ষত্র
যেখানে করুণ অন্ধকারে
রোদেসীয়া ফুল ফোটে

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget