মার্চ 2019

আবদার”

#শর্মিষ্ঠা মজুমদার(নূপুর)#

 

আজও খেয়ে যাইনি ছেলেটা স্কুলে।এই নিয়ে পরপর তিনদিন।বাবাকে রোজ বায়না করছে একটা দামী ফোন কিনে দেওয়ার জন্যে। সব বন্ধুদের আছে।নেই শুধু ওর কাছে।রমা ভাতের হাড়িতে জল ঢেলে রাখে। খাওয়ার ইচ্ছাটাই মরে গেছে।

ছেলেটা পড়াশোনায় ভালো।কোন আবদার করে না এমনিতে।

রমা চারটে বাড়ি রান্নার কাজ করে।মধু একটা রাস্তার পাশে খাবার দোকানে কাজ করে।ছেলেটাকে নিয়ে ওদের বড় স্বপ্ন।ছেলেটা মানুষের মতো মানুষ হবে।

কিন্তু ইদানিং কেমন হয়ে গেছে। কথায় কথায় মেজাজ।পড়াশোনাটাও কম করে।আগে তো বই ছাড়া কিছুই বুঝতো না।এখন সারাদিন বাড়িতে থাকলেই ফোন কানে গুজে বসে।বাবাকে রোজ বলে একটা নতুন ফোন কিনে দাও।এটা পুরনো হয়ে গেছে।
রমার মতো লোকেদের ঘরে কি এতো বিলাসিতা চলে। ছেলেকে অনেক বুঝিয়েছে।পড়াশোনা কর।একটা ভালো চাকরী পাস দেখবি কোন কিছুর অভাব থাকবে না।কিন্তু জয় মুখ হাড়ি করে না খেয়ে বসে।

অনেক রাতে বাড়ি ফিরল জয়।মধুর উপর ক্রমে ক্ষোভটা বাড়ছে।একটা ফোনই যদি না কিনতে পারল কিসের বাবা সে?
জন্ম দেওয়া কেন তবে?

রাগ করে না খেয়েই শুয়ে পড়ল।কিন্তু ক্ষিধের জ্বালায় ঘুম কি আসতে চায়।তবু চোখ বন্ধ করে পড়ে রইল।হঠাৎ কানে এল বাবা মা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে-
মধু ফিসফিসিয়ে বলে “আজও না খেয়ে শুয়ে পড়ল।আর কটা দিন অপেক্ষা করতে বল।ঠিক ফোনের টাকা জোগাড় হয়ে যাবে।আমার রাতের পাহারার কাজটা হয়ে গেছে।”

রমা বলল তেমনি ফিসফিসিয়ে “আজ শুধু জলঢালা ভাত।রাঁধতে ইচ্ছা করলনা।ছেলেটা খাচ্ছে না কদিন ধরে।বৌদিকে বলেছি আরো দুটো বাড়ি রান্নার কাজ দেখবে।ফোনটার কি অনেক দাম গো।আমার কাছে কিছু টাকা জমানো আছে।”

হঠাৎ জয়ের চোখের কাছটা জ্বলে ওঠে।মনে হয় কাদের কাছে ও রাগ দেখাচ্ছে। যারা তার জন্যে সব কিছু করতে রাজি আছে।কেমন নিজেকে খুব স্বার্থপর বলে মনে হয়।

বিছানা ছেড়ে উঠে বাবার পাশে গিয়ে বসে।বাবার গা ঘেঁষে বলে “তোমার আর পাহারা দিতে হবে না।মা আমায় খাইয়ে দাও আগের মতো।ভোর পাঁচটায় উঠে পড়তে বসতে হবে।শুধু আমি আবদার করলেই হবে। তোমাদের আবদারও রাখবো দেখো। রেজাল্ট খুব ভালো হবে।”

স্বত্ব সংরক্ষিত#

রচনাকাল✍ ১৫ ই জুন ২০১৮

"শিকড়"

#শর্মিষ্ঠা মজুমদার(নূপুর)#

আকাশটা আজও মেঘলা।গত কয়েকদিন ধরে অবিশ্রান্ত ধারায় চলছে বৃষ্টি।মনামী গঙ্গার ধারে ছাতা মাথায় বসে।ভিজিয়ে দিচ্ছে বৃষ্টির ছাট।কিছুটা হালকা হয়েছে মাথা।কিন্তু বেশিক্ষণ বসা যাবেনা।

ছেলেগুলো অনেকক্ষণ ধরে মন্তব্য করছে বাজে বাজে।

আজ তিনদিন ধরে সে নিজের শিকড়টা উপড়ে ফেলে নিয়েছে বাড়ি থেকে।সেই যখন থেকে জ্ঞান হয়েছে বাড়ির জন্যে যতটা পেরেছে করেছে।আজ জীবনের মাঝখানে বিধ্বস্ত।শিকড়টা উপড়ে ফেলেছে।

উঠে পড়ল সিঁড়ি বেয়ে।হঠাৎ মন্তব্যটা কানে এল.."কি মাল রে? যাবে নাকি জিজ্ঞেস কর রে?"

ঠিক এই কারণেই সে হাজার অশান্তিতেও বাড়ি ছাড়তে চাই নি।নিজেকে সবসময় বঞ্চিত করে এসছে।আজ যদি ঠুনকো স্বপ্নের প্রলোভনে পা বাড়ায়।নিজেকে নিজেই আটকাতে পারবেনা কিছুতে।নিজের থেকে নিজের আর ভালো কে চেনে?

পিছু নিয়েছে ছেলেগুলো।কি জ্বালা, শান্তি নেই কিছুতেই।যেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়েছে সে জায়গাটাও একটু নিলিবিলি।ইচ্ছা করেই নিয়েছে।গঙ্গার ধার ওর খুব ভালো লাগে।মন খারাপ হলে এসে বসবে।কিন্তু শান্তি কোথায়?

বাড়িতে মেয়ে বলে কোনদিনও কেউ সুনজরে দেখেনি।সে আশাও করেনি।কর্তব্য করেছে যতটা পেরেছে।কিন্তু বুঝেছে তাতে লাভ নেই।তাকে নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই।বরং সে বোঝা স্বরূপ।
তাই শিকড়টা উপড়ে ফেলেছে।

বৃষ্টির ছাটে অনেকটা ভিজে গেছে।এতক্ষণ না বসলেই ভালো হতো।কিন্তু গঙ্গার ধারে নিজের কথা ভাবতে ভাবতেই বড় দেরী হয়ে গেল।ক্লান্ত পায়ে হাঁটছিল।পায়ে জোর নেই। ছেলেগুলো ছোটই হবে তার চেয়ে।অথচ মন্তব্য দেখ। সে হেসে ফেলল।বড় আজব পৃথিবী।যখন তার নিজের কেউ নেই, তখন কতগুলো ছেলে দেখ তার পিছু নিয়েছে তাকে পাবার আশায়।সে যদি এই জোয়ারে গা ভাসায়?আজ তো কেউ আটকানোর নেই তাকে?

হঠাৎ ভাবলো এ সব কি ভাবছে সে! ছি!
শান্ত মুখে পিছন ফিরে দাঁড়াল।হেসে বলল-" শোন ভাই,কাল সদ‍্য নিজের শ্রাদ্ধটা করেছি।এখনও পেটে কিছু পড়েনি। পা কাঁপছে।চল আমায় একটু বাড়ি দিয়ে আসবি"

হঠাৎ ছেলেগুলো থমকে দাঁড়িয়ে এ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।যে মন্তব্য করছিল সে মাথা নিচু করে কি যেন ভাবছে।

মনামী বলল-" কই চল, মাথা ঘুরছে"
হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন বলল, " চল দিদি আমি তোমায় দিয়ে আসছি।"

অন‍্যদের দিকে চেয়ে বলল।তোরা যা আমি দিদিকে দিয়ে ঘাটে আসছি।

মনামীর বড় হালকা লাগছে নিজেকে।কোথায় যেন মন্দিরে ঘন্টা বাজছে।ছেলেটা বলল- " তুমি নতুন এসছো না আমাদের পাড়াতে। আমরা ঘাটে আড্ডা মারি।যখন খুশি এস।তোমার কথা পড়ে শুনবো সময় করে।গিয়ে শাড়িটা ছেড়ে নাও।নয় জ্বর আসবে।কোন দরকার লাগলে বোলো।তোমার ভাইরা আছে।"

মনামী বাড়ির সামনে এসে একটু হেসে বলল- " এখনও বোধহয় কিছুটা ভালোবাসা বাকি আছে। যা আর ভিজিস না রে।"

স্বত্ব সংরক্ষিত#

রচনাকাল✍ ১৪ ই জুন ২০১৮

“গল্পটা বড়ো চেনা”

#শর্মিষ্ঠা মজুমদার(নূপুর)#

 

আজ বহু বছর বাদে সোহিনী গ্রামের বাড়িতে আবার এল মেয়ে তিতলিকে নিয়ে। খুব ছটফটে তিতলি।এসেই সারা বাড়িময় দৌড়ে বেড়াচ্ছে।সোহিনী এখানে আর বকাঝকা করছে না ওকে।ওদের ছোট বেলায় কত খেলেছে,গাছে চড়েছে, ফুল তুলেছে, বৃষ্টিতে ভিজেছে।তিতলি তো কিছুই পারে না করতে। বাপ মরা মেয়ে। তার উপর সোহিনীর মতোই জেদী,অভিমানী।

বিয়ের পর এই প্রথম এল এ বাড়িতে সোহিনী।বাবা মাকে বলেছিল তোমরা বেঁচে থাকতে আর আসবো না তোমাদের বাড়িতে।চাপা আক্রশটা আজও মেটেনি ওর বাবা মার উপর থেকে।মারা গেছেন আজ ওরা দুজনেই তবু।

রাহুল বড় ভালো ছেলে।স্বামী হিসাবে নয়, মানুষ হিসাবেও।কোনদিন সোহিনীকে জোর করেনি কোনো ব‍্যাপারে।

প্রথম প্রথম দেখতে পারতো না সোহিনী রাহুলকে।বিয়ের পর কত রাগ দেখিয়েছে।কত কথা শুনিয়েছে।

“কেন আমায় পছন্দ করলেন?”, “কে আমায় বিয়ে করতে বলেছে?”
রাহুল শুনে হাসতো “বলতো আমি তো প্রস্তাব দিয়েছিলাম, জোর তো করিনি তোমাকে”।

কিন্তু সোহিনী কি করে বোঝায় তার মতামতের গুরুত্ব কেউ দেয়নি সেদিনকে।এমন কি যে বাবা কোনো দিন বকেনি সোহিনীকে সেই বাবা কতদিন কথা বলেনি তার সাথে।মা বলেছিল অনন্তকে বিয়ে করলে গলায় দড়ি দেবে।বাধ্য হয়েই সোহিনী বিয়েটা করেছিল।যাকে বিশ্বাস করেছিল সেও তো আসে নি কথা দিয়ে।
ধীরে ধীরে রাহুলের বন্ধুত্ব পূর্ণ ব‍্যবহার অনেকটা নরম করে সোহিনীকে।যখন মনে হয়েছিল সমস্ত পৃথিবী তার বিরুদ্ধে রাহুল শুধু বলেছিল “স্বামী নয় বন্ধু না হয় ভাবলে আমাকে”।

সব বলেছিল সোহিনী রাহুলকে।অনন্তের এক একটা কথা। শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গিয়েছিল হাসিখুশি মানুষটা। বলেছিল “আর তো তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারবো না, তবে তুমি ইচ্ছা হলে যেতে পারো আটকাবো না”।যেতে পারিনি সোহিনী। ছিঁড়তে পারেনি সংস্কারের বেড়াজালটা। রাহুল ধীরে ধীরে ভালোবাসা দিয়ে গ্রাস করেছিল তার সবটা।সেই রাহুলই ফাঁকি দিয়ে চলে গেল তাকে রেখে।

এখন সোহিনী চাকরী করে।গ্রামের বাড়িটা নষ্ট হচ্ছে কেউ দেখার নেই বলে।এবার বিক্রি করে তবে যাবে।কি হবে রেখে?
হঠাৎ খেয়াল হল তিতলিকে দেখছে না অনেকক্ষণ ধরে।সর্বনাশ পুকুর পাড়ে যায়নি তো মেয়ে। দৌড়ে যায় সোহিনী মেয়েকে খুঁজতে।কিন্তু পুকুর পাড়ের সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো। তিতলি কার সাথে কথা বলছে! হঠাৎ মাথাটা দুলে উঠল সোহিনীর। কদম গাছটার কান্ডটা ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল। আর কিছু মনে নেই তার। যখন জ্ঞান ফিরল দেখে সেই পরিচিত মুখ তার দিকে চেয়ে।

গভীর ঘৃণায় উঠে দাঁড়াতে গিয়ে পড়ে যায় সে। অনন্ত ধরে ফেলে তাকে। শুধু কাঁপা গলায় বলে “একবার জানতে চাইবে না কেন আসতে পারিনি সেদিনকে?
কথা বলার ক্ষমতা নেই সোহিনীর। কিন্তু ঘৃণাভরা দু চোখে আগুন জ্বলছে।

অনন্ত আস্তে আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে “বড় লোকের দেমাকী মেয়েকে বিয়ে করবো শুনে বাবা সেই যে বুকে হাত দিয়ে বসল আর উঠতে পারিনি। যমে মানুষের টানাটানি।তোমায় খবর পাঠিয়ে ছিলাম। বাবার কাজ করে ফিরে শুনি সে খবর তুমি পাওনি।তোমায় দিতে পারিনি খবরটা আমার বন্ধুরা। শুধু শুনেছিলাম তোমার বিয়ে হয়ে গেছে।পর তুমি।”

“আমি মানি নি। বিশ্বাস করো।আজও তাই তোমার প্রতিক্ষায় দিন গুনছি।”

না, সোহিনীর আর কোন রাগ নেই।কেমন যেন উষ্নতার অনুভব গাল বেয়ে বুকের ভেতর। শুধু তাকিয়ে দেখছে অনন্ত তাকে বুকে নিয়ে তিতলিকে কোলে বসিয়ে খোশ মেজাজে গল্প করছে। গল্পটা বড় চেনা। কিন্তু ঠাউর করতে পারছে না রূপকথার গল্প, না তাদের লেখা।❤

স্বত্ব সংরক্ষিত#

রচনাকাল✍ ১২ ই জুন২০১৮

"অসমাপ্ত ভালোবাসা"

#শর্মিষ্ঠা মজুমদার(নূপুর)#

খেজুর গাছটার গা বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা ভিজিয়ে দিচ্ছে দুজনকেই। কিন্তু কারোর ভ্রক্ষেপ নেই। পড়ার ব‍্যাচ থেকে এসেছে ওরা দলবেঁধে ঘুরতে।হঠাৎ বৃষ্টি আসায় সবাই দু একজন করে দলছুট এদিকে ওদিকে। অনুপ আর দিয়া আশ্রয় নিয়েছে খেজুর গাছটার নিচে ইচ্ছা করে। দিয়া বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসে।

অনেকক্ষণ দুজনেই চুপচাপ।দিয়া একটু ছটফটে, ডানপিটে, বড় চঞ্চল।চুপ করে থাকতে পারে না কিছুতেই।তাই দিয়ার চুপচাপ থাকাটা ক্রমেই অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে অনুপের কাছে।

বড় ভালো বন্ধু দিয়া আর অনুপ দুজনে।অনুপ বড় শান্ত অথচ দিয়া কেমন যেন একটু উগ্র স্বভাবে।যত ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব, মারামারি।আর ছেলেগুলোও তেমন, দিয়া ছাড়া চলে না এক মূহুর্তে।

আজ ইচ্ছা করে বৃষ্টি আসতে অনুপ দিয়াকে ডাক দেয় "ওই শোন,কথা আছে।"

এমন অনেকেই বলে।যেকোনো সমস‍্যায় দিয়াকে আগে সবার দরকার পড়ে।তাই অনুপ ডাকতেই সবাইকে ভাগিয়ে দিয়েছে।এমনিও অনুপকে খুব ভালো লাগে দিয়ার।খুব শান্ত শিষ্ট ছেলে।

সবার থেকে আলাদা হয়ে বৃষ্টির আলতো ছোঁয়া দুজনকে ছুঁতেই অনুপ দিয়ার হাতটা ধরে অনেক কষ্টে বলে "তোকে খুব ভালোবাসি রে।"

আর কিছু বলার সাহস তার নেই।অনেক সাহস সঞ্চয় করে কথাটা বলেছে সে।এখনও হাঁটু কাঁপছে,পেটের মধ্যে কেমন যেন করছে। দিয়া হয়তো রাগে চড় মেরে দেবে।কিন্তু অনুপের উপায় নেই।বড্ড ভালোবাসে ও দিয়াকে।যদি অন্য কেউ বলে দেয় ওর আগে,যদি দিয়া রাজি হয়ে যায় তার প্রস্তাবে।

কখন থেকে দিয়া চুপ করে।অনুপ মৃদু স্বরে বলে "কিরে কিছু বলবি না"

দিয়া অপলক দৃষ্টে ওর দিকে তাকিয়ে।কি করে সে বলবে সেও বড় ভালোবাসে অনুপকে।কি করে বলবে সে বেশি দিন নেই পৃথিবীতে।দূরারোগ্য ক‍্যান্সার ভেতর থেকে তাকে খেয়ে ফেলছে।জানতে দেয় নি সে কাউকে।বাড়ির লোক ছাড়া তার মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের সাক্ষী সে রাখতে চায়না কাউকে।

হঠাৎ দৃষ্টি কঠিন হয়ে আসে দিয়ার।একটা চড় তুলে নামিয়ে নেয়।কপালে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে বলে "কাল থেকে যেন তোর মুখ আমি না দেখি রে। বন্ধুত্বটা তোর সাথে আর সম্ভব নয় রে।"

অনুপ কি বলবে ভেবে পায় না।ধপ করে বসে পড়ে মাটিতে।দিয়ার উপর কথা বলার সাহস তার নেই।তবু আলগোছে ডাকে দিয়ার নাম ধরে।

দিয়া চলে যেতে যেতে থমকে দাঁড়িয়ে হেসে বলে " কিছু গল্প চিরদিন অসমাপ্তই থেকে যায় রে"❤
স্বত্ব সংরক্ষিত#
রচনাকাল✒ ১১ জুন ২০১৮

আকাশতলে রঙের খেলা

আব্দুল মান্নান মল্লিক

দৃষ্টি দিয়ে খেলবো হোলি মাখবো না রঙ গায়ে,
ফুলের রঙে মন রাঙাবো প্রকৃতির মুখ চেয়ে।
ভুবন যেন ফুলের সাজি হোলির দিনে আজ,
ফুল পাখি আর হরিৎ ঘেরা নতুন রঙের সাজ।
অখিল রঙিন ফুলে ফুলে হাজার রঙের লহরী,
কোথায় ওগো কৃষ্ণ রাধা সহচর আর সহচরী।
মাধবী রাতের পূর্ণিমা চাঁদ ওই দূর আকাশে,
কচি পাতা রঙিন ফুলে সৌরভ উড়ে বাতাসে।
পুষ্প ধুলিয় আবীর ছড়াই ভ্রমর ভ্রমরীর হোলি,
উঠান রঙিন প্রভাতকালের ঝরে পড়া শিউলি।
কৃষ্ণকলি অঙ্গে অঙ্গে উঠলো জোয়ার চিত্ত বনে,
প্রকৃতির এ-ই রঙের খেলা রঙ লাগলো মনে।
রাধাচূড়া আর কৃষ্ণচূড়া পাশাপাশি সাক্ষ্য প্রমাণ,
লাল হরিদ্রা রঙের খেলা বিধির কি অপূর্ব দান।

স্বার্থহীন কিছু সম্পর্কের যায় না কোন নাম দেয়া....
উদ্দেশ্যহীন কিছু মানুষের তীরে ভীড়ে না যে খেয়া।
ভীড়েনি তীরে বলে ব্যার্থ হয়েছে এ কথাও যাবে না বলা...
কিছু স্বার্থকতা অভিজ্ঞতাও অর্জীত হয়েছে হোক সে সামান্য পথ চলা।
হয়তো হয়নি কখোনও বলা মুখ ফুটে শুধু তোমায় ভালবাসি....
হয়তো হয়নি কখোনও পথ চলা একে অপরের হাত ধরে পাশাপাশি।
তবে জানো?তোমায় অনেকের চেয়েও অনেক,অগাধ ভালবাসি.
হয়তো পাবোও না দেখতে কভূ তোমার মায়াবী অই মুখের হাসি।
হয়তো চোখে চোখে কোন দিনও হবে না বলা মনের অব্যাক্ত কথা.
দুষ্টু মিষ্টি কথার বসবে না মেলা কোনো,আর অভিমান অযথা।
তুমি আমার হও আর না হও সর্বদা সুখেরই হোক তোমার উপর ছায়া।
মধুর বড় মধুর লাগে তোমার আমার নামহীন এই সম্পর্কের মায়া.

আমিও মানুষ হব
- টিপু সুলতান

মানুষ যুগ যুগ ওড়ে।যতদূর দিগন্ত দিঘি বৃক্ষদেয়াল
পলিমাটির খেসারী ডাল ভাত
গ্রাম্য ঘাসের পথ ধরে আসে-নগরে-
শহরে ছিটকানি লাগানো জমাট বাঁধে দালান
আঙুলের ফাঁকে আলবৎ শব্দ গুঁজে
দিন থেকে রাতের আলো;

পৃথিবী থেকে পৃথিবীর কোণায় কোণায়
অলস ক্লান্ত ন্যুজ্যধীর ঢের
ঝঞ্জাট কোলাহল অসুখবিসুখ নিরস দিক ছেঁটে
পরিস্কার পাঞ্জাবী,পরিস্কার শাড়ি
বহু নীলকণ্ঠ পাখিদের বাগানে জীবন্তিকা ফুটে থাকা
ফুলগুলোয় ভালবাসায় ভরে ওঠে উঠান
তারপর গুচ্ছ গুচ্ছ প্রাণ বলে ওঠে,নড়ে ওঠে
মানুষ,আমার একটি পাঠশালা খুলে দাও,আমিও মানুষ হব।

মিথ্যে গর্ভধারণ, অতঃপর...

- ডাঃ ফারহানা মোবিন

‘আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা’ বাক্যটি টেনে টেনে সুর করে বলতে থাকে অপরিণত বয়স্ক কিশোরী মা, তিথি। ছোট্ট আঁচলে বারবার আগলে ধরে আদরের ধনটিকে। বুকভরা মমতায় সন্তানটি আাঁচলের তলে মুখ গুঁজে।

প্রতিবেশী নীলা রহমান (ছদ্মনাম) বারান্দার গ্রিল দিয়ে তিথির সন্তানটিকে দেখে। ঐশ্বর্যের তীব্রতা সত্ত্বেও নীলার গৃহ শূন্য মরুভূমি। একটিবার ‘মা’ ডাকের অভাব তাকে ব্যাকুল করে দেয়।

প্রতিবেশী তিথির ভাঙ্গা গৃহকেই নবজাতকটির জন্য আকাশের রঙধনু মনে হয়। একদিন নীলা গর্ভে অনুভব করেন প্রাণের অস্তিত্ব।

বিয়ের দীর্ঘ ১০ বছর পর মা হওয়ার ঘটনা তাকে আনন্দে আত্মহারা করে তোলে। কিন্তু গর্ভধারণের তিন মাস পরেই জানা যায়, আদৌ ছিল না কোনো গর্ভধারণ! তবে কেন নীলা ভ্রুণের অনুভব করলেন! এত বড় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো ভুল হতে পারে না। তবে কেন এমন হলো? এমন পরিস্থিতির শিকার হন অনেক নারী। যার জন্য নীরবে, নিভৃতে সহ্য করতে হয় হাজারো কষ্ট। এটি এক ধরনের স্ত্রীরোগ। এর নাম সিউডোসায়েসিস বা স্পুরিয়াস প্রেগনেন্সি বা ফলস প্রেগনেন্সি অর্থাৎ মিথ্যে গর্ভধারণ। চলুন শুনি কয়েকজনের কথা।

কেস স্টাডি-১

ঢাকা মোহাম্মদপুর নিবাসী সালমা হক (ছদ্মনাম)। বিয়ে হয়েছে সাত বছর আগে। স্বামী ইংল্যান্ডে থাকেন। বিত্তের অভাব নেই। শ্বশুর- শাশুড়ি, ননদ, দেবর সবাই চাকরি করেন। সালমার সারাটা দিন কাটে রান্নাঘর, গৃহপরিচারিকা আর খাঁচার ময়না পাখিটার সঙ্গে কথা বলে। আশপাশের ফ্ল্যাট থেকে ছোট্ট বাচ্চারা তার সঙ্গে খেলতে আসে। কলেজ জীবনের বন্ধু হাসান আহমেদও প্রায় আসে, তবু যেন দিন কাটে না। একটা ছোট্ট সন্তানের হাহাকার তাকে কাতর করে তোলে। স্বামী দূরে থাকলেও নিত্য যোগাযোগ করে। তবু দিনকে দিন হতাশা যেন ঝাপটে ধরে। স্বামী সজীব হকের ছবি নিয়েই কামনা করেন যদি তার চেহারার মতো ফুটফুটে একটি শিশু থাকত।

হঠাৎ একদিন সালমা উপলব্ধি করেন, তিনি মা হতে চলেছেন। সজীব পাঁচ মাস আগে দেশে এসেছিলেন। এতদিন পরে কীভাবে গর্ভধারণ সম্ভব? দীর্ঘ বছর পরে গর্ভধারণের খবরটি জানতে পেরে পাঁচ মাসের বিলম্বে কেউ গুরুত্বই দেয় না। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে বয়ে যায় খুশির বন্যা। দিনে দিনে শরীর খুব খারাপ হতে থাকে, ওজন বাড়তে থাকে, বমি বমি ভাব, দুই পা ফুলে যায়। মাসিকও বন্ধ হয়ে যায়। শ্বশুর অর্ডার দিয়ে নকশাখচিত ব্যয়বহুল দোলনা নিয়ে আসেন। অধিক আনন্দে চোখের নিমিষেই কেটে যায় একটি মাস। অতঃপর চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, এটি গর্ভধারণ নয়, এক ধরনের ব্যাধি। দৈহিক হরমোনজনিত পরিবর্তনের জন্য এমন হয়। কিন্তু কেউ চিকিৎসকের কথা বিশ্বাস করে না।

সবার ধারণা, সালমা ও বন্ধু হাসানের অবৈধতার ফসল ছিল সেটি। হয়তো ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে এক মাসের মধ্যেই গোপনে গর্ভপাত করেছে। শাশুড়ির ধারণ, সারা দিন বাড়ি ফাঁকা থাকে, বউমার কোনো বন্ধু আসে, বউমা তার ঘরের দরজা সব সময় বন্ধ রাখে, না জানি কী করেছে! উচ্চশিক্ষিত শাশুড়ির এমন নিকৃষ্ট মনমানসিকতায় সালমা হতবাক হয়ে যান।

সালমা উপায়হীন হয়ে মুখ বুজে সব সহ্য করেন। তার পবিত্র দেহে ছিল না বিন্দু পরিমাণও অবৈধতার আঁচড়। তবে কেন এমন হলো? সজীব হক স্ত্রীর সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। মানসিক সাহস দেওয়া তো দূরের কথা, সালমার মা-বাবার পরিবারও তাকে ভুল বোঝে। কিছুদিনের মধ্যেই ইংল্যান্ড থেকে আসে একটা নীল খাম। কিন্তু প্রেমপত্র নয়, তালাকনামা। সবার লাঞ্ছনা ও প্রাণপ্রিয় স্বামীর নির্মমতায় সালমা হক বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন। তার স্থান পাবনার হেমায়েতপুর।

কেস স্টাডি-২

মহুয়া ইসলাম (ছদ্মনাম), চট্টগ্রাম নিবাসী। পেশায় প্রশিকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বয়স ৪৫ ছুঁইছুঁই। তার স্বামী মাহবুব আনাম ঢাকার এক কলেজের মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক। তাদের মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে আর ছেলে জাপানে অধ্যয়নরত। আর দুই বছরের মধ্যেই মাহবুব আনাম চাকরিতে অবসর পাবেন। কর্মস্থল দুই জায়গা হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীতে প্রায় পাঁচ-ছয় মাস পর দেখা হয়।

হঠাৎ একদিন অফিসের জরুরি সভাতে মহুয়ার মনে হয় পুরো কক্ষটা বৃত্তাকারে দুলছে। এত মানুষজনের সামনে কোনোমতে বমির বেগ সামলান। কিছু দিনের মধ্যেই তিনি আবিষ্কার করেন গর্ভধারণের সব উপসর্গ। প্রথম দিকে কাজের চাপে খেয়ালই করেন না। এক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। স্বামীর সঙ্গে ছয় মাস দেখা না হওয়া ও গর্ভনিরোধক সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতি জেনে স্বামী ভুল বোঝেন।

মাহবুব আনাম শিক্ষক অর্থাৎ মানুষ গড়ার কারিগর। নিত্য মনোবিজ্ঞানের চর্চা করেও স্ত্রীর মন বুঝলেন না। কীভাবে এমন হলো স্ত্রীকে প্রশ্নও করলেন না। এত বছরের বিশ্বাস, বন্ধুত্ব সব ভেঙে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঝড়ো হাওয়ায়।

বিখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞও (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তার ভুল চিকিৎসা করেন। তিনিও জানান গর্ভধারণের বার্তা। এত সচেতনতা সত্ত্বেও কেন এমন হলো? এ প্রশ্নের উত্তর তার নিজেরও অজানা।

‘দুঃসংবাদ বাতাসের আগে ধায়’ এই প্রবাদ বাক্যটি মহুয়া ইসলামের জীবনে সত্যি হল। তার সহকর্মীসহ সব আত্মীয়-স্বজনের মাঝে ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে গেল। নিজের মেয়েও মাকে বলল, ‘তোমাকে জন্মদাত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে আমার ঘৃণা হয়। তুমি এত নিচে নামতে পারো, আমি কল্পনাই করিনি। তোমার জন্য শ্বশুর বাড়িতে আমি মুখ দেখাতে পারি না। ছিঃ মা, ছিঃ!’

২৫ বছরের গড়া সংসারটি চোখের নিমিষেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। স্বামীও দোষারোপ করতে থাকেন, ‘এবার বুঝেছি, কাজের মিথ্যা অজুহাতে তুমি কী সব করে বেড়াও। তোমার মুখ দেখার আগেই যেন আমার মরণ হয়।’

নোংরা মন্তব্যগুলো সতী মহুয়া ইসলামের বুকে বজ্রপাত হানে। পুনরায় পরীক্ষা করে জানা যায়, আগের তথ্য ভুল ছিল। একই চিকিৎসক জানান, সেটা ছিল ব্যাধি। কিন্তু ততদিনে মাহবুব আনাম চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে লোকলজ্জায় ছেলের কাছে চলে যান।

২৫ বছরের সংসারে উপহার দিয়ে গেছেন তালাকনামা। চরম আত্মসম্মান বোধের কাছে মহুয়া ইসলাম তার ভাঙা মনটাকে আর জোড়া দিতে পারেন না। কষ্টে, অভিমানে গর্ভধারণের ভুল তথ্যটি তার পরিবারের কাউকে আর জানাননি। স্বামী- সন্তান থাকা সত্ত্বেও সন্তানহারা ও বিধবার মতো জীবন যাপন করছেন।

কেস স্টাডি-৩

কুড়িগ্রামের দরিদ্র কৃষকের মেয়ে জরিনা। বয়স আনুমানিক ১৯ হলেও মঙ্গা, অনাহারের জন্য সঠিক বর্ধন হয়নি। তার বয়স ১১-১২ মনে হয়। বাবার নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে যৌতুকের দায়ে তার বিয়ে হয়নি।

তার খুব ইচ্ছা করে লাল পেড়ে শাড়ি, হাতভর্তি চুড়িতে বউ সাজতে। তার সব বান্ধবীর মতো সন্তান নিয়ে স্বামীর ঘরে থাকতে। তীব্র এ ইচ্ছাটা নিজের মাঝে চেপে রাখতে রাখতেই জরিনা অনুভব করে তার দেহে ছোট্ট এক মানুষের আগমনী বার্তা। প্রতিদিন সকালে চোখ মেললেই তার প্রচণ্ড বমি পায়। সব উপসর্গ গর্ভধারণের সঙ্গে মিলে যায়। শরীরিক সম্পর্ক ব্যতীত গর্ভধারণ, জরিনার মনে হাজারো প্রশ্নের উদ্রেক করে।

বাবা, মেয়ের একটিই ঘর। ঘরের দরজাও ভাঙ্গা। তবে কি রাতের বেলা ঘুমের ঘোরে নোংরা কোনো পুরুষ তাকে ...! কিন্তু সেটা তো অসম্ভব।

গ্রামবাসী তাকে ভুল বোঝে। তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেয়। অবশেষে বাবার অপমান ও লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে জরিনা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। সে আত্মহত্যা করে।

কেস স্টাডি-৪

ঢাকার গুলশান নিবাসী নির্মিতা খান (ছদ্মনাম)। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে পড়েন। নির্মিতা খান পড়ার পাশাপাশি র‌্যাম্প মডেলিংয়ে জড়িত। পাঁচ বছরের আগে কোনোক্রমেই মা হতে চান না। হঠাৎ তিনি উপলব্ধি করেন, তিনি মা হতে চলেছেন। তার তলপেট ও দুই পা ফুলে যায়।

প্রতিদিন ক্যালেন্ডার দেখে গর্ভনিরোধক বড়ি খাওয়ার পরও কেন এমন হলো? ব্যাপারটা নির্মিতার বোধগম্য হয় না। এই পরিস্থিতির জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েই কোন ভুল খুঁজে পায় না। গর্ভসঞ্চারের জন্য বিশাল বাজেটের বিদেশী সংস্থার কাজ পেয়েও তা ফিরিয়ে দেন নির্মিতা। কারণ স্থাপত্যের কাজে শ্রমিকদের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর ছোটাছুটি করতে হয়।

পরে চিকিৎসকের কাছে অবহিত হন, এটি গর্ভধারণ নয়। গর্ভধারণ সম্পর্কে নির্মিতার অধিক ভীতির কারণে এমন হয়েছে। দুই মাসের ভুল ধারণায় দুর্ভাগ্যবশত তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে হাত ফসকে চলে যায় সুবর্ণ সুযোগ।

আমাদের দেশে এমন অগণিত নারী রয়েছে, যারা সিউডোসায়েসিসে আক্রান্ত হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিবাহিতদেরই হয়। অবিবাহিতদের হয় খুবই নগণ্য।

এই অসুখের কারণগুলো হলো-

- বন্ধ্যা, সন্তানহীন নারী যারা ভীষণ পরিমাণে সন্তান কামনা করেন তাদের চেতনায় সন্তানের জন্য সর্বদা আকাঙ্খা কাজ করে। মানুষের আকাঙ্খার সঙ্গে হরমোন জড়িত। ফলে দেহে হরমোনজনিত পরিবর্তন আসে। অনেক সময় গর্ভধারণে অধিক ভয়ের কারণেও এমন হয়। শারীরিক সম্পর্ক অনুপস্থিত থাকার জন্য ভ্রুণ জন্ম নেয় না কিন্তু প্রাথমিক লক্ষণগুলো গর্ভসঞ্চারের সঙ্গে মিলে যায়।

- যেসব নারীর বয়স ৪৫-৫৫ তাদের প্রকৃতির নিয়মে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিভিন্ন মানসিক ও হরমোনজনিত কারণে এমন হয়। এই রোগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, রোগের কারণ জানার পরই লক্ষণগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই উধাও হতে থাকে। রোগী পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।

- দেহের সব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার জড়িত। আর এটা নিয়ন্ত্রণ করে হরমোন। তাই এই ব্যাধির জন্য শারীরিক ও মানসিক দিক উভয়ই দায়ী।

যারা এর রোগের শিকার হন-

- বন্ধ্যা, সন্তানহীন নারী

- যারা গর্ভধারণকে প্রচণ্ড ভয় পায়

- যারা নিত্য বউ বা মা হতে চায়

- দাম্পত্য জীবনে যাদের স্বামী দূরে থাকেন এবং যারা প্রচণ্ড পরিমাণে একাকিত্বে ভোগেন।

সিউডোসায়েসিসের লক্ষণগুলো

- এক বা দুই মাস ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।

- তলপেট ভারী হতে থাকে

- দেহের ওজন বাড়ে

- বমি বমি লাগে, টক খেতে ইচ্ছে হয়

- কোনো কোনো রোগীর পা ফুলে যায়

- প্রতিদিন সকালে শরীর খুব খারাপ লাগে

- মাথা ঘোরায়

- নিম্ন রক্তচাপ হয়

- রক্তশূন্যতাও থাকতে পারে

- রোগী তার গর্ভে যেন প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করে।

কিন্তু রোগী তার রোগ সম্পর্কে জানার কিছুদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যায়। এই রোগ এক বা দুই মাসের বেশি স্থায়ী হয় না। রোগী ব্যতীত অনেকেই ভাবেন এটা রোগীর কু-মতলবি। অথচ এটা ব্যাধি। রোগী ও পরিবারের সবাই সচেতন হলে এ ব্যাধিটি মানবজীবনে এত ভায়বহ আকার নিত না। চিকিৎসক, পরিবার পরিকল্পনার ব্যক্তিরা ছাড়া পুরো দেশবাসীই এই বিষয়ে অজ্ঞ।

তবে, ছোট্ট এ রোগটি ক্যান্সার, এইডস বা এইচআইভির মতো ঘাতক ব্যাধি নয়।

এ রোগ সম্পর্কে বাংলাদেশের বিখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. টি এ চৌধুরী বলেন, ‘বিয়ে পরবর্তী জীবনে নারীদের ব্যাপক জটিলতার মাঝে এটি একেবারেই নগণ্য। শুধু কারণ ও প্রতিকারের অভাবে এটি জটিল হয়ে যাচ্ছে। গর্ভধারণ সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা, সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাব ও পারিবারিক অসহযোগিতা এর জন্য দায়ী। আমার দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে এমন অনেক রোগীর কাহিনী জানি। তাদের স্মৃতি আজও আমাকে কাঁদায়। এ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও মানসিক বিশ্রাম প্রয়োজন।’

শিকদার মেডিকেলের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের প্রধান ডা. জিনাত আরা বলেন, ‘সিউডোসায়েসিস সামান্য এক শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন। বিয়ে পরবর্তী জীবনে যেকোনো বয়সের নারী এই রোগের শিকার হতে পারে। এটা জরায়ু বা স্তন ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ নয়। সামান্য কিছু ভিটামিন দিয়ে রোগীকে এ রোগ সম্পর্কে জানালেই সব সমস্যা দূর হবে।’

সামান্য এক রোগে আমাদের দেশের হাজারো নির্মিতা খান, নীলা রহমান, জরিনা ভয়ানক সমস্যায় পতিত হচ্ছেন। অনেকেই অকালে ঢলে পড়েছেন মৃত্যুর কোলে।

কৃতজ্ঞচিত্ত
- গাজী হাবিব

কৃতজ্ঞতা বোধ সম্পন্ন বিবেক দেখেছি,
দেখেছি সমুদ্র, পাহাড়, নদী,
দেখিনি অকৃতজ্ঞ একটাও আমার মত।
আমি আমার জন্য, শুধু আমার জন্য
খাল কেটে কুমির পুষি, দেখভাল করি বিষবৃক্ষ
ডাকি কালবৈশাখী তাণ্ডব, তছনছ হবো জেনেও।
পার হয়েও পাথর সরাই পথের
তাচ্ছিল্যেরর থু থু মেখেও হাঁটি, হাঁটছি বারবার
মেথর, মুচি হতেও দ্বিধার দ্বিতীয় অধ্যায়ে নামিনি
খাদকের উচ্ছিষ্ট দেখেছি, ভাবিনি তা আমার হবে।
যদিও গুনি নি সব তারা;
দূর করতে এই বোধ, নিকৃষ্ট ব্যাধি
পারিনি কোনকালে; কালেভদ্রে মেপেছি হয়তো
রুচিহীন বিবেকের নিক্তিতে!
আমি অকৃতজ্ঞই রয়ে গেলাম!
আমি অকৃতজ্ঞই রয়ে গেলাম!
অর্জন করতে পারি নি পানির প্রাপ্যতা।

বসন্ত প্রত্যাশী

আব্দুল মান্নান মল্লিক

ওই যে আবার আসছে ফিরে বসন্ত মরশুম,
কোকিল বনে কুহু রবে ভাঙবে বাংলার ঘুম।
সারা অঙ্গে পুষ্পগন্ধে ব্যজন মেলেছে নভস্বান্,
এলোমেলো বাতাসে রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বসন্তের ঘ্রাণ।
গুঞ্জরণী শাখায় শাখায় খোঁজ করে যায় মধুপ,
পুষ্পকলি মেলবে ডানা মধুর নেশায় লোলুপ।
মৌপাখিরা খোঁজ নিয়ে যায় সকালে বিকালে,
মঞ্জরি সব ঘুমিয়ে আছে নাইরে মধু ফুলে।
জাগো হে বসন্ত অনন্ত ঘুম ঘুমাইও না আর,
শৈত্য প্রাচীর ভেঙে আনো ফুলের উপহার।
রঙবেরঙে সাজিয়ে ধরা পাখিদের দিও গান,
ফিরিয়ে দিও নবযৌবন বাংলা মায়ের প্রাণ।
ঐ যে বউল শাখায় শাখায় ফোটার অপেক্ষায়,
চেয়ে আছে ফুটবে কখন তোমার ভালবাসায়।
কচি পাতায় উঠবে সেজে শাখা ভরা ফুলে,
বয়ে দিও আলতো হাওয়া নাচবে দুলে-দুলে।
পুষ্প সৌরভ ছড়িয়ে দিও আকাশে বাতাসে,
শাখায় শাখায় নাচবে পাখি গাইবে উল্লাসে।
বাংলার মান বাংলার প্রাণ তুমিই অহংকার,
গৌরব তুমি সৌরভ তুমি বাংলার অলঙ্কার।

অন্য রকম
- শর্মিষ্ঠা মজুমদার (নূপুর)

মন্দিরে বিয়েটা হচ্ছে।ওদের মতো এই পৌঢ় বয়সের বিয়ে করতে আসা দম্পতিকে দেখে অনেকেই হাসাহাসি করছে।কিছু অল্প বয়সী ছেলেরা টিটকারিও দিচ্ছে।
সবাইকে ডেকে প্রশান্ত বলে "আমাদের তো কেউ নেই।তোমরা যদি আমাদের বিয়েতে থাক ভালো হয়। রাই লজ্জায় মরে যাচ্ছে।
প্রশান্ত সবাইকে উদ্দেশ্য করে হেসে বলে "ভাবছো,কি রসিক না আমরা। কত সখ বিয়ের।তাই না।"
সবাই উৎসুক নয়নে চেয়ে। প্রশান্ত হেসে বলে তোমরাই আমাদের বরযাত্রী, কনেযাত্রী। আস,আস বস মন্দিরে। তোমাদের আমাদের গল্প বলি।বিয়ে হতে এখনও কিছুটা দেরি।দুজনের বিয়ে হবে তারপর।
রাইয়ের গলায় তখনও রজনীগন্ধা থেকে ভেসে আসছে সুবাস। প্রশান্ত ধীরে ধীরে বলতে শুরু করে "রাইয়ের মুখেই শোনা।এই রকমই এক দিন ধূপকাঠির সুবাসে ভরে গেছিল উঠান। রাই তখন খুব ছোট।বাবা মারা গেছেন অ্যাকসিডেন্টে। পুরো সংসারটা একা মায়ের উপর এসে পড়ে।রাই আর দুটো ছোট ছোট ভাইকে নিয়ে অথৈ জলে রাইরা। বাধ্য হয়ে মায়ের সাথে রাইকেও যোগ দিতে হয় জীবন সংগ্রামে। কখনও মায়ের সাথে দোকানে বসে। কখনও নিজেই ফেরি করে বেড়ায়, কখনও বা কোথায় সস্তা জিনিস পাওয়া যায় তার খোঁজ আনে।এভাবেই উদয় অস্ত খেটে যখন একটু দোকানটাকে দাঁড় করিয়েছে মা আর মেয়ে।তখনই মা মারা গেলেন। সব ভার পড়ল রাইয়ের উপর। সেই রাই অনেক কষ্টে দাঁড় করায় সংসারটাকে। নিজের সব ভুলে দুই ভাইকে মানুষ করে।কোনদিন মা, বাবার কোন অভাব বুঝতে দেয়নি।
জীবনের প্রায় সমস্তটাই যে ভাইদের জন্যে ব‍্যায় করল,যাদের মা বাবার মতো আগলে রাখল, নিজের হাতে বিয়ে দিল।তারাই আজ ওকে বলে স্বার্থপর, দুঃশ্চরিত্রা।"
প্রশান্ত বলে "আসলে কি জানো। আসল দোষী আমি। একটু আলাপী,রসিক,মানুষ ভালোবাসি। ভালোবাসি মানুষের সাথে গল্প করতে। রাইয়ের দোকানে যেতে যেতে ওর সাথে পরিচয়। ওর কষ্টের কথা শুনে খারাপ লাগে।ওকে স্বান্তনা দিই।বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে আমাদের মধ্যে।"
এটাই ওর ভাইরা সুনজরে দেখে না। আগে থেকেই বলতো বিয়ে তো করো নি। কেউ নেই দোকানটা আমাদের দিয়ে দাও।আমার সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই ওদের ভয় ধরে।
অনেক কষ্টে দোকানটাকে দাঁড় করিয়েছে রাই। দুই ভাইকে দিলে দুদিনে সব ধ্বংস করবে। বিশেষ করে ওদের বৌদের যা ফোটানি।পাড়ার লোক আর অনেক খদ্দের রাইয়ের বহুদিনের পরিচিত।তারা রাইকে ভালোবাসে তাই দুভাই কিছু করার সাহস পায় না।
তখন আমার আর রাইয়ের নামে কুৎসা রটাতে থাকে। আমি বিপত্নীক।তাই যা খুশী বলতে থাকে।দোকানে যাওয়া বন্ধ করে দিই। আমি ছেলে আমার কোন ব‍্যাপার না, কে কি বলল।কিন্তু ক্রমে ব‍্যাপারটা খারাপের দিকে দাঁড়ায়।রাইকে নিয়ে লোকে হাসাহাসি করতে থাকে।রাই বরাবরই জেদী,একরোখা।একদিন রাই আমার কাছে এসে বলে "বিয়ে করবেন।বদনাম যখন দিয়েছে, এর জবাব দেওয়া দরকার।"
বিশ্বাস কর,ভালোবাসা নয়,কোন প্রত‍্যাশা নয় শুধু বন্ধুত্ব, হ‍্যাঁ শুধু বন্ধুত্বের খাতিরে হ‍্যাঁ বলি।যদি বল বন্ধুত্বে কি ভালোবাসা ছিল না। ছিল কিন্তু সে অন্য এক ভালোবাসা।বলে বোঝানোর নয়।"
সবাই নিঃশব্দে গল্প শুনছিল।রাইয়ের চোখে জল।হঠাৎ একজন বলে উঠল "আরে, বিয়ে হল না।কনে কাঁদা শুরু করে দিয়েছে। শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার তাড়া কিসের।চলো চলো আমরা সবাই মিলে হৈ হৈ করে তোমাদের বিয়ে দিই।"মূহুর্ত্তের মধ্যেই পরিবেশ বদলে গেল।সবাই হাসতে শুরু করে দিল।
সবাই ছুটোছুটি হৈচৈ লাগিয়ে দিল।কেউ কেউ প্রশান্ত আর রাইকে নিয়ে মজাও শুরু করে দিল।
সিঁদুর পরানোর আগে কয়েক ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ল।এভাবে সব হবে রাই ভাবেনি একবারও। প্রশান্ত শুধু একবার আড় চোখে দেখে বলল "সুখে রাখবো।ভালো থাকবে এটুকু বলতে পারি।"
প্রশান্ত সিঁদুরটা দিতেই চোখের সামনে সব ভেসে ওঠে মায়ের মুখটা। হাতটা চেপে ধরে রাইয়ের। যেন নিঃশব্দে বলে "আছি তো আমি।"

জীবনের নাম মধ্যবিত্ত
- মোশ্ রাফি মুকুল

জীবনের নাম মধ্যবিত্ত।
নয়তো
সুনীল জলের দেশে
জীবন এক তিক্ত ক্লেশ।
মায়ের হাতের রান্নার মতো
যদি জীবনের স্বাদ হতো!
পিছু ফেলে আসা যেতো সব
মধ্যবিত্ত সংশয়,
পরাভূত স্বপ্ন,ভয়,বরাভয়

এ স্বোপার্জিত বিস্বাদগুলো
কোথায় বিলাবো-
জীবনের কোন অলিভ রেস্তোরাঁয়?

জীবনের যে তরল-
এবং সে অসীম পেয়ালায়
যে সরল চুমুক।
জীবনের যে চূড়ান্ত সঙ্গীত
মধ্যবিত্তের সুরে বাঁধা
এইসব নির্মেদ স্লোগান-
কিছু মধ্যবিত্ত শব্দের ধাঁধাঁ

উপভোগ্যের টেবিলে সে এক
স্বাদহীন
নিস্বাদ- নিঃশ্বাস,
যা আমরা পায়ে পায়ে ফেলে আসি

জীবনের এইসব সমান্তরাল সংজ্ঞা ছাড়া
আর কোন সমার্থক বা
উচ্চারিত শব্দ নেই।

০৬/০৩/২০১৯.

মায়াবতী
- আলাউল ইসলাম

স্নিগ্ধ বিকেল ঘাসের আকুপাকু করা
শুধুই তোমার স্পর্শে,
গুধুলি রাঙা স্বপ্নের হাতছানি
সুন্দর বর্ণের আবহ শুধুই, তোমার চাহনি;
প্রেয়সি প্রেয়সী মায়াবি তুমি।
সুন্দর হিমেল হাওয়া
বাতায়নে গুনগুন,
তোমার আবহে চারদিকে, স্বপ্নেরা বুনে নকশীকাঁথা,
তুমি বসে তাই;
সন্ধা তারারা বলে, চল মায়াবতী কে দেখতে যাই।
ঘুরে দিক বেদিক;
আঁখি জুড়া তোমার বিশ্বজোড়া দুরবীন,
তোমাতে বিশ্ব দেখি
রুপের সমাহার,প্রকৃতি বলে,
আমি চললাম “রুপবতীর”
রুপের মায়ায় আমি সর্বহারা,
আজ তুমি আছো বলেই,
মনের আকুপাকু, মায়াবতীতে আত্মহারা।

মন
- অঞ্জলী দাশ গুপ্ত

আচ্ছা মন তুই এমন কেন অবুঝ সবাই কে আপন করে নিস।
তারা তো বোঝেই না তুই কি চাস... কোনটাতে তোর আনন্দ হয় আর কোনটাতে তোর অভিমান।
কখনোতো আবার তারা তোকে ভেঙ্গে বহু টুকরোতে ছড়িয়ে দেয়।
তাহলে কেন তুই সকল কে নিজের করে নিতে চাস?

মন হেসে বলে ওরে বোকা আমি হলাম সেই বৃক্ষ যার তলে এসে সকলের আবেগ গুলো মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়।অনেকের জমানো ব্যাথা যেখানে এসে স্থান পায়।আমি হলাম সেই যাকে সুখ, দুঃখ ও জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে আপন করা যায়।
বৃক্ষ যেমন মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে তার অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য।তেমনি আমি হলাম সেই যে না থাকলে জীবনই অচল হয়ে যাবে।

সার্জন
- মোশ্ রাফি মুকুল

এখানে সবকিছু রোমান্টিক।
সবখানে প্রেমের
দৈর্ঘ্যপ্রস্থের পাটিগণিত;
ঠোঁটের সার্জন ছুরিকাঁচি চালায়
ওষ্ঠের বুভুক্ষু সীমানায়

এবং সে আসে
নিরীক্ষিত হাওয়ার ভেসে
টিয়া রঙের গল্প মেখে,
গলা ভরে নিয়ে আসে
গেরস্থের মন্ত্রিণী গান

ঠোঁটের সার্জন-
উন্মোচন করে মনের দেহঘড়ি
রৌদ্রগন্ধ,আগুনের জানালা;
টুকরোটুকরো করে স্বর্গীয়
আপেলের লেলিহান পাতা

০৩/০৩/২০১৯.

ভাঙন
- মালবিকা মজুমদার

ভাঙন পেরিয়ে ইচ্ছেগুলো
দাড়িয়ে হাসে রোজ ।

চাকার তলায় পিষছে অতীত
জীবনে করে খোঁজ

মিশুকে রোদ করলে ভাব
দারুণ ওঠে জ্বর ।

জানালা দিয়ে আকাশ আনি
বুকের মাঝে চর।

পুলওমায় জঙ্গি হানায় শহীদ ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার কবিতা

আঘাত হান
- ইরাবতী মণ্ডল

হানরে আঘাত হান,
ওরে ,ভারতের বীর সন্তান।

অপমানের আজ যোগ্য জবাব দে,
হত্যার বদলে হত্যা, নে প্রতিশোধ নে।

আমরা কোটি ভারতবাসী ,আছি তোদের পাশে,
বেইমান সহ জঙ্গি যত,মাররে তাদের কষে।
ওরে ,আমরা আছি তোদের পাশে।

ঘর সংসার গৃহ ত্যাগী
তোরা যে সব ভোলানাথ যোগী।

অতন্দ্র প্রহরী তোরা ,ভারত সীমানায়
তোদের তরেই সুখে নিদ্রা ,মোদের বিছানায়।

কাপুরুষ জঙ্গির দল, আঘাতে অতর্কিতে
ছিন্ন ভিন্ন দেহ খণ্ড ছড়ায় চারিভিতে।

ওরে,নাচরে এবার প্রলয় নাচন
সন্ত্রাসী বুকে উঠুক কাঁপন।

বিশ্বমাঝে ভারতীয় সৈন্য তোলরে এবার ঝড়
ধ্বংস হোক ধ্বংস হোক ,সন্ত্রাসের আঁতুরঘর।

16.2.2019

তারাখসা
- মালবিকা মজুমদার

মোমখুশি গলে রাতের চাদরে উষ্ণতার
পারদ বাড়ে রোজ।
আজো পাইনা আমি হারিয়ে যাওয়া
দিনের কোন খোঁজ।
জ্যোৎস্না ধরে বুকের ব্যথারা চলে যায়,
না ফেরার পথ ধরে.........
ছায়াপথে নীহারিকা যত,সব খুচরো অভিমান
রয়ে যাবে অনন্ত কাল পরে ।
অভিমান সব আকাশের তারা ,জ্বলে আর
খসে পড়ে টুপটাপ।
টুকরো কথার পাথরকুচি বিঁধছে পায়,
সব যেন হারানো অনুতাপ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget