জানুয়ারী 2019

অঝোর ধারা
মো: আলমাছ উদ্দিন ভূইয়া

নদী চলে স্রোতের টানে
আমি চলি পায়ে,
নদী বলে আমি জোরে
তুই কেন ধীরে?

আমি বলি নাইরে ভাই
চলার কোনো ইচ্ছে,
নদী বলে তাই বলে কি
থাকবি সবার পিছে?

নদী বলে দেখনারে ভাই
কেউ কি আমার আছে?
তবু আমার বুকের মাঝে
শত ঢেউ এসে ভাঙ্গে ।

শতশত মানুষ এসে
দেখে ঢেউয়ের খেলা ,
তবু কেহ জানতে চায় না
নদীর বুকের জালা ।

তাই বলি ভাই, ভাবিস নে আর
চলনা একটু জোরে,
সবাই যে আজ উর্ধমুখী
চলছে আপন টানে ।

ভাবছি তাই আজ, থামবো না আর
যতই আসুক ঝড়,
জীবন যে এক অঝোর ধারা
ঝরতে থাকুক জল ।

দুঃখবাজ
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

আমার চারপাশে অজস্র দুঃখ লুটোপুটি খেলছে
সাগরের বালুচরে যেমন নূড়িপাথররা পড়ে থাকে ,
কেউ আনমনে হেঁটেও চলে যায় দু'পায়ে মারিয়ে
কেউবা আবার তা কুরিয়েও নেয় অতি যত্ন করে ।

চাতক পাখি যেমন নদীর তীরে মরে পড়ে থাকে
বৃষ্টি জলের আশায় আকাশপানেই চেয়ে থেকে ,
আমার চারপাশেও অজস্র স্বপ্ন মরে পড়ে আছে
একটা চাকরী না পাওয়ার দুঃখ আর হতাশাতে ।

তোমাদের মুঠোফোনে যেমন খুঁদে বার্তারা জমে
আমার মনপাড়াতে তেমন দুঃখ আর কষ্ট জমে ,
খুঁদেবার্তার মতো করেই তা অনাদরে পড়ে থাকে
অযত্ন অবহেলায় কেউ পড়েও দেখেনা আমাকে ।

আমিও কেমন যেন দুঃখজীবি হয়েই বেঁচে আছি
দুঃখগুলো যে ঘরের ছাদও ছুঁয়েছে তবুও আছি ,
কোন একদিন দুঃখচাপা পড়ে মারা যাবো আমি
কেউ তা জানবে না ; যে জানবে সেতো শুধু তুমি ।

এই যে আজও আমি বেঁচে আছি ;
ঠিক যেনো এক লাশের মতো বেঁচে আছি
চারপাশে শকুনেরা ঘুড়ছে তবুও বেঁচে আছি ৷

এই যে আমি আজ যা কিছু বলছি
সেতো শুধু মাত্র মুকাভিনয় করে চলেছি
অন্যের দেয়া খুৎবা নিয়ে আলোচনাটা করছি ৷

এই যে আজও হেঁটে বেড়াই যে শহরে
জীবন্ত লাশের মর্গ আজ সেই শহর জুড়ে
রক্তপঁচা লাশের গন্ধ শহরের অলিগলি জুড়ে ৷

মৃত শরীরেরা ছড়িয়ে আছে চতুর্দিকে
আমার দু'পা দাপিয়ে বেড়ায় লাশের বুকে
তবু স্বার্থপরের মতো বেঁচে থাকা শহরের বুকে ৷

অনুগমন
– রাজীব চৌধুরী

চোখ অনুগমন।।
চোখ সর্বস্ব অভিমান চোখের জলে মিশে যাচ্ছে
তাকিয়ে থাকা দুঃখের জলগমনে
আমি চোখের আকাল অনুভব করতে গিয়ে টের পেলাম
আমার চোখেও জল আছে ।

ঠোট অনুগমন।।
নরম আকুতি মিশে থাকে বেদনায়
মিশে যেতে চায় অস্থির কোলাহলে
একটু ছায়া পেলে কেঁপে ওঠে
মনে হয় যাক না মিশে তার ঠোঁটে
এই আমার ঠোঁট।।

চুল অনুগমন।।
সামনে থেকে কিনবা পেছনে
যেদিকের খোপা লুকিয়ে রাখো
মনে রেখো এই চুলে আমার হাত কিলবিল করেছিল
কোণ এক ঘুম ভাঙ্গা রাতে।।

আমরা শ্রমজীবী
শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়
কোন এক শীতার্ত দিনে
সূর্যের কাছে চেয়েছিলাম উষ্ণতা,
গাছের কাছে চেয়েছিলাম কচি সবুজ পাতা,
মানুষের কাছে চেয়েছিলাম
শ্রমের মুল্য, আহার, বাসস্থান ও পোশাক;
শুধু ঈশ্বরের কাছে চাইনি কৃপাদৃষ্টি,
চেয়েছিলাম প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করার ক্ষমতা।
 
সূর্য দেয়নি পর্যাপ্ত উত্তাপ,
গাছ দেয়নি কচিপাতা,
যাতে লেগে থাকে জীবনের স্পন্দন।
মানুষ দিয়েছে শ্রমের অধিকার,
তবে, দেয়নি শ্রমের পর্যাপ্ত মুল্য;
তাই জোটেনি জঠরজ্বালা নিবৃত্তির
পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য,
এমনকি পাওয়া যায়নি মাথা গোঁজার ঠাঁইও।
লজ্জা নিবারনের জন্য
বুদ্ধি খাটিয়ে ফন্দি
বার করতে হয়েছে।
শুধু ঈশ্বর দিয়েছেন চাহিদামত
প্রতিকূল পরিবেশে সংগ্রাম করার অফুরান শক্তি। 
তাই, আমরা আজও টিকে আছি,
শীত, গ্রীষ্ম,বর্ষাকে উপেক্ষা করে-
কঠোর থেকে কঠোরতর
সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।
তাই, আমাদের জীবনে অধরা মধু-বসন্ত।
তবু, আমরা খুঁজে পাই আনন্দের খোরাক,  
জীবন সংগ্রামের অস্ত্বিত্বে টিকে থাকার মধ্যে।
 

বেলাশেষের ক্যানভাস
- আল মামুন

বেলাশেষের ক্যানভাসে পৌরাণিক ঘুম
শেকড়ের সুতোয় মরা ফাইবার,
মৃত্যুফুলের ঘ্রাণ আনে অদৃশ্য দীপাবলি।

পথের পদচিহ্নে গজিয়ে ওঠে ডালপালা
জ্যামিতির বরজে ঝরে পড়ে--
ভিনগ্রহের প্রকাণ্ড ললাট।

মানচিত্রের কার্নিশ বেয়ে হাঁটে
জোনাকিজবার চোখ
গ্লিসারিনচোখে কাঁদে শালুকপাতা;
আক্ষেপ গুটিয়ে বাউন্স করে প্রেমানুভব।

পাথর ঘষে গড়া ভালোবাসা, তীর্থজলে
স্নান করে মেঘের ককপিট
রোদ্রের ডানায় মেঘ উড়ে গেলে
মানসপটে উঁকি দেয় গোলটেবিল বৈঠক।

লেখাকাল : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, গাজীপুর।

স্রষ্টার সেরা উপহার
- আব্দুল মান্নান মল্লিক

তুই যে আমার দিনের সাথী,
তুই যে বেহেশতের দ্বার।
তুই আছিস তাই জগৎ আলো,
নইলে অন্ধকার।
তুই যে আমার গর্ভধারিণী,
বিশ্বের অহঙ্কার।
তুই যে আমার খেলার সাথী,
বিধাতার উপহার।
তোর তুলনা হয়না মাগো,
এই জগতে আর।
দুধের ঋণ শোধ করিতে,
সাধ্য আছে কার?
চরণতলে বেহেশত্ মায়ের,
এই বুঝেছি সার।
মা আছে তাই সব পেয়েছি,
চাইনা কিছু আর।
আকার দিয়ে জীবন দিলেন,
স্রষ্টা নিরাকার।
ইচ্ছা যেটা ভাঙেন গড়েন,
করেন শ্রেষ্ঠ বিচার।

“মাদক নারীদের জন্যও ভয়ানক” - ডাঃ ফারহানা মোবিন
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে মাদকসেবী নারীদের নিয়ে প্রতিবেদন)

মাদকের ভয়ানক ছোবলে শুধু পুরষেরা নয়, নারীরাও আসক্ত। মাদকাসক্ত নারীরা পুরুষের সমপর্যায়ের চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

জাতির স্বার্থে সবার উচিত এই সব নারীদের কে পুরুষদের মতোই সাহায্য করা। আমাদের চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মা, বোন, প্রেমিকা ও স্ত্রী। অথচ আমাদের অনেকেরই ধারণা মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র শুধু পুরষদের জন্য, নারীদের জন্য নয়। অনেক নারীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবারের আত্মসম্মানবোধ হয়ে ওঠে পর্বতসমান।

লোক জানাজানির ভয়ে আসক্ত নারীটি হয় চার দেয়ালে গৃহবন্দী। প্রিয় পাঠক, আজ আমরা শুনব, চারজন নারীর জীবনবার্তা- যাঁরা অকপটে স্বীকার করেছেন তাঁদের মাদকাসক্তির সূচনা, পারিবারিক বেদনার মারাত্মক পরিণতি।

কেস স্টাডি: ০১
*******************
প্রবাসে চাকরিরত বাবা-মায়ের অতি আদরের কন্যা সীমা (ছদ্মনাম) বলেন,‘কলেজের একাদম শ্রেণীতে নেশাগ্রস্ত এক ক্যাডারের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়। সে তার অন্য বন্ধুদের সঙ্গে ফেনসিডিল-মদ খেত। কৌতুহলবশত আমিও তার সঙ্গে খেতাম।

কৌতুহলের মাত্রা নেশাতে রূপ নিল। ফেনসিডিলের গন্ডি পেরিয়ে আমি হোরোইন ও ইয়াবাতে আসক্ত হয়ে পড়লাম। বাবা-মায়ের লাখ লাখ টাকা আমি নেশার জন্য নষ্ট করে দিয়েছি।

প্রবাসী টাকা আমার এ্যাকাউন্টে আসত আর পুরোটা আমি নেশার জন্য খরচ করতাম। ইন্টার পাসের পর আমার নেশাগ্রস্ত প্রেমিককে আমি বিয়ে করলাম, সন্তানও হলো। সন্তান কোলে নিয়েই আমি মাদকের আস্তানায় যেতাম। জানাজানি হবার পর আত্মীয়-স্বজনেরা সম্পর্ক ছিন্ন করল।

প্রবাস থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ হলো। নেশার জন্য টাকার প্রয়োজনে স্বামী আমাকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করল। আমার সন্তানটা বড় হতে লাগল। সেও বুঝতে পারল। আমাকে প্রায়ই বলত, মা তুমি ভালো হয়ে যাও, নেশা ছেড়ে দাও, আমি স্কুলে গেলে সবাই আমাকে বলবে তোমার মা নেশা করে। সন্তানের এই ব্যাকুলতা আমার মনে দাগ কেটে দিত। তার ভবিষ্যতের জন্যই আমি নিরাময় কেন্দ্রে এলাম। আজ উনিশ বছর পর নেশার জগত থেকে আমি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। "

কেস স্টাডি: ০২
**************
দারিদ্রতা আর বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহে কণা (ছদ্মনাম) মানসিক হতাশায় ভুগতেন। তিনি বলেন, ‘সংসারের অভাব মেটানোর জন্য আমি ইট ভাঙা, বালু টানার কাজ করতাম।
সেখানে দালাল মহিলা কৌশলে আমাকে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয়। সেই পল্লীর মেয়েরা শারীরিক, মানসিক কষ্ট নিরসনের জন্য হেরোইন খেত। তাদের দ্বারা আমিও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। প্রথমে খেতাম সিগারেট ভেবে, পরে দালাল মাসিরা দিত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বলে। ১৫ বছর যাবৎ হেরোইন-গাঁজা খেতাম; পতিতালয় থেকে বের হয়ে বিবেকের তাড়নায় আমি নেশা ছেড়ে দিলাম।

নেশা ছাড়ার জন্য অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। সবকিছু বলে বোঝানো যায়না। "

কেসস্টাডি-০৩
**************
১৩ বছর ধরে ফেনসিডিল-গাঁজা, হেরোইনে আসক্ত ছিলেন মিতা (ছদ্মনাম)। মাদকের ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে ক্ষুদ্র মনোমালিন্যে আমি বাবার বাসায় যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে বাসস্ট্যান্ডে দালালের পাল্লায় পড়লাম। গর্ভস্থ সাত মাসের শিশুসহ আমি বিক্রি হয়ে গেলাম যৌনপল্লীতে।

সেটা ছিল মাদকের আখড়া। যৌনপল্লীতে আসা খদ্দেরদের দ্বারা আমি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ি। হেরোইন নিলে প্রথমে বমি হতো, পরে তিন বেলায়ই নিতে হতো। এভাবে আমি প্রায় মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে যাচ্ছিলাম। প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে আমি পথেঘাটে পড়ে থাকতাম। নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা আমাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে ভালো করেছে। এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। নেশার জন্য আমার আর খিঁচুনি ওঠে না। "

কেসস্টাডি-৪:
**************
‘মাদকাসক্ত স্বামীর প্রভাবে কৌতুহলবশত আমিও আসক্ত হয়ে যাই, বলেন তৃষা (ছদ্মনাম)। এই পাঁচ বছর মাদকে আসক্ত হয়ে আমি আমার সব আত্মীস্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। তারা আমাকে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে।

আমার দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য আমি মাদকের ভয়াল জগৎ থেকে মুক্ত। মাদকের সুচ আমার দেহে আর ফুটাতে হয় না।’

এই চারজন নারীই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসারত ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ। নড়বড়ে জীবনে শক্ত অবলম্বনের জন্য তাঁরা সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ব্যস্ত।

ভালো হওয়ার জন্য নিজেদের তাগিদ এবং নিরাময় কেন্দ্রের জন্যই তাঁরা ফিরে পেয়েছেন নতুন জীবন। তাঁরা চান তাঁদের মতো কেউ যেন কষ্টের শিকার না হয়। কৌতুহলেও যেন একবিন্দু মাদক না নেয়।

এ দেশে পুরুষদের সঙ্গে আসক্ত নারীদের সংখ্যাও বেড়ে চলছে। অথচ তাদের চিকিৎসার জন্য এখনও পরিবার সমাজ বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি, বেসরকারিভাবে রয়েছে মাদক নিরাময় হসপিটাল। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। ফলে প্রতিষ্ঠানের অভাব আর সামাজিক সম্মানহানির জন্য নারীদের চিকিৎসা হচ্ছে চার দেয়ালের বৃত্তে। যা একজন মাদকাসক্ত নারীর জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

এ প্রসঙ্গে মনোচিকিৎসকেরা বলেন,
" মাদকাসক্তি একটি মানসিক রোগ। তাই সঠিকভাবে চিকিৎসা করালে এই রোগ অবশ্যই ভালো হবে। কখনোই আশা ছাড়বেন না।

মাদক নিরাময় কেন্দ্র ‘আপন’-এর পরিচালক প্রয়াত ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল বলতেন,‘মাদকাসক্ত নারীদের প্রতি কখনোই বরূপ আচরণ করবেন না। তাঁরা পরিস্থিতির শিকার।

এমন অনেক ইতিহাস আছে যাঁরা ৩০ বছর যাবৎ মাদক নেওয়ার পরও ভালো হয়ে গেছেন। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ। মিডিয়া ও পরিবারকে আরো সচেতন হতে হবে।

আমরা মাদকাসক্ত নারীদের চিকিৎসা দেই তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপর্যাপ্ত।’

মাদকাসক্ত নারী-পুরুষ কারও প্রতিই অবহেলার দৃষ্টি দেবেন না। আমাদের সমাজে নারীরা তুলনামূলকভাবে আরও বঞ্ছনার শিকার। তাই মাদকাসক্ত নারীরা হচ্ছে ভয়াবহ পরিণতির পাএী।

সীমা, কণা, মিতা, তৃষা এতো বছর পরে মাদক ছেড়ে দিলে অন্যরাও পারবেন।

এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক ও মানসিক সহযোগিতা। প্রতিটি মাদকাসক্ত নারীর আকাশ থেকে কেটে যাক নেশার মেঘ। মাদকমুক্ত সুস্থ জীবনের আলোয় আলোকিত হোক তার চলার ।

ডাঃ ফারহানা মোবিন,
স্কয়ার হসপিটাল,
ঢাকা, বাংলাদেশ।

চ্যুতি
- আব্দুল মান্নান মল্লিক

যেদিন তোমার বক্ষ ছাড়ি হলাম অধোগামী,
প্রাতের রবি হেসেছিল কেঁদেছিলাম আমি।
ক্ষণিক সুখের স্বপ্নঘোরে নিরব যখন হাসি,
চমকে দেখি কোথায় আমি অসহায় প্রবাসী।
যখন যেটা চাইতাম কাছে ধরা দিত হাতে,
নুরের বাতি দিবা-নিশি জ্বলত অবিরতে।
গুলবাগিচায় খেলার আসর মুখে শুধু হাসি,
অজ্ঞাত কোন ভুলের বসে হলাম শ্রমবাসী।
কি জানি কি হারিয়ে খুজি করি হায় হায়,
সব হারিয়ে নিস্ব আমি আজ আর কিছু নাই।
বদলে গেছে সময় যত মনে পড়েনা হায়,
ছিনিয়ে নিয়ে স্মৃতিকথা বাক্য দিলে তাই।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget