ডিসেম্বর 2018

মা
- মিন্টু উপাধ্যায়

রাত ১১টা,
হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে কাজ থেকে বাড়ি ফিরলাম ।
রাতের খাওয়ার হোটেলেই সেরে এসেছি । হাত পা ধুয়েই সোজা বিছানায় লেপের নিচে । ঘরের এক কোণে রাখা কালিধরা হ্যারিকেনটা জ্বলছিল টিমটিম করে । পাশের ঝোপ-জঙ্গল থেকে ভেসে আসছিলো একটানা ঝিঁঝিঁ পোকার আর্তনাদ ।
দুচোখ ঘুমে জরিয়ে আসছিলো, এমন সময় দরজাটা মৃদু শব্দ করে ধীরে ধীরে খুলে গেলো ।
আলো আঁধারিতে চোখের সামনে মাকে দেখে ভয়ে কেঁপে উঠলাম । এত কুলাঙ্গার ছেলে আমি যে আজ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী সেটাও ভুলে গিয়েছিলাম কাজের চাপে । কিছুক্ষনেই অন্ধকারে মাকে বিলীন হয়ে যেতে দেখলাম । ততক্ষনে ভয় কেটে গিয়ে আমার দুচোখ বেয়ে জলের ধারা বইতে লাগলো ।

( লেখা ভালো লাগলে লাইক শেয়ার করবেন। কপি করবেন না। ধন্যবাদ। )


মনিকা
- মিন্টু উপাধ্যায়

আজ অফিস থেকে ফিরতে অন্য দিনের থেকে একটু বেশিই দেরি হয়ে গিয়েছিলো । ঘরের মাটিতে পা রাখতে না রাখতেই কাজের মেয়ে মণি গজগজ করে উঠলো । সে সমস্ত কাজ সেরে তৈরি হয়েই বসে ছিল নিজের ঘরে যাবে বলে । প্রায় সারাটা দিন সে এখানেই থাকে । ঘরের সমস্ত কাজ, ছেলের দেখাশোনা সে একাই করে ।
- বাবুকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি ... এই বলে মণি বেরিয়ে গেলো ।
আমি ওর কথায় কান দিলাম না । দরজা বন্ধ করে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেলাম ।
স্নান সেরে বাবুর কাছে গেলাম, সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন । আমি বাবুর মাথায় স্নেহভরা হাত বুলিয়ে ওর গালে একটা চুমু খেয়ে পাশে শুয়ে পরলাম ।
খেতে ইচ্ছা হল না, তাই খেলাম না । রাতের খাওয়ার টেবিলেই পরে রইলো চাপা দেওয়া ।
ডিমলাইটের আলো জ্বলতে থাকলো ।
আজ পূর্ণিমা, জানালা দিয়ে এক ছিটে চাঁদের আলো ঘরের মেঝেতে পরে লেপটে আছে । সেই আলোতে ঘরটায় এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে ।
ঘুম আসছিলো না, ঘড়ির টিক টিক আওয়াজ ক্রমশ নিস্তব্ধতাকে ভেঙে খান খান করে দিচ্ছিল । বিছানায় শুয়ে আমি উসখুস করতে লাগলাম । গলাটা যেন শুকিয়ে আসতে লাগলো । দেওয়ালে ঝোলান মনিকার মালা দেওয়া ফ্রেমের দিকে তাকালাম । প্রায় তিনমাস হয়ে গেছে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে মৃত্যুর ওপারে । বাবুর বয়স পাঁচ বছর হল । আজও সে মাঝে মধ্যে ঘুমের ঘোরে মা, মা করে ওঠে ।
আমিও তার মাকে খুব মিস করি । অনেকে আবার বিয়ে করে নেওয়ার কথাও বলেছেন । কিন্তু আমি সোজা না করে দিয়েছি । মনিকার কিছু স্মৃতি বুকের এক কোণে রয়ে গেছে । সেটা নিয়েই আমি বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারবো । বাবুকে তার মায়ের অভাবটা যতটা পারি বুঝতে দেবো না...।
***
ঘড়ির টিক টিক আওয়াজ শুনতে শুনতে ঘুম ধরে আসছিলো ।
- তুমি আজ খাওনি কেন ?
হটাৎ কানের কাছে ফিস ফিস আওয়াজ শুনে ঘুমটা ভেঙে গেলো । চোখ খুলতেই দেখলাম এক ছায়ামূর্তিকে দ্রুত সরে যেতে । আমি চমকে বিছানায় উঠে বসেছি ততক্ষনে ।
দেখি ছায়ামূর্তি বিছানার একপাশে দারিয়ে বাবুর মাথায় হাত বোলাচ্ছে ।
- আজ এতো দেরি করে এলে যে... বাবু সেই কখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পরল । - ছায়ামূর্তি বলে উঠলো ।
"মনিকা" - আমি অস্ফুটে বলে উঠলাম ।
- হ্যাঁ, তোমারই মনিকা । অনেকবার চেষ্টা করেছি এখানে আসার জন্য, কিন্তু অনুমতি হয়নি । কিছু নিয়মের ঘেরাটোপে বন্দি ছিলাম । আজ অনুমতি পেলাম আসার ।
আমি কিছুই বলতে পারলাম না, মুখ থেকে কথা বের হচ্ছিল না ।
মনিকা বলে চলল - জানি তুমি আমায় ভুলতে পারবে না, তবুও তুমি বিয়ে করে নাও । এখন বাবুর মায়ের খুব দরকার । মায়ের ভালোবাসা থেকে ওকে বঞ্চিত রেখো না । আর তুমিও নতুন করে জীবন শুরু করো । আমিতো এখন অতীত হয়েই গিয়েছি । পারলে আমায় ভুলে যাও । আমি চললাম, হাতে আর সময় নাই ।
- আবার করে দেখা হবে ? আমি মৃদু স্বরে বলে উঠলাম ।
- জানিনা, ভালো থেকো । বাবুকে খুব ভালোবাসা দিও । বলতে বলতে মনিকা অন্ধকারে মিশে গেলো ।
- তুমিও ভালো থেকো... । আমি চোখ মুছতে মুছতে বললাম । কখন যে চোখ জলে ভরে গেছে খেয়াল করি নি ।
এমন সময় বাবু ঘুমের ঘোরে মা মা বলে ডেকে উঠলো ।

*** সমাপ্ত ***

বোনের সাথে খুনসুটি
- আসাদুজ্জামান রানা

টুন টুনা টুন টুনটুনি
বোনটি আমার মুনমুনি
রাগ করেনা লক্ষ্মী মণি
কিনে দেবো ঝুনঝুনি।।

গাল ফোলালে লাগে যেনো
আস্ত একটা ভূতের ডিম,
ওমা একি! চোখ রাঙ্গালে!!
ভয়ে আমার রক্ত হীম।।

আচ্ছা বাবা কান ধরেছি
করবোনা আর টিটকারি,
বিয়ে দেবো মিয়ে বাড়ি
জামাই চালায় রেলগাড়ি!

ভালোবাসার নিমন্ত্রণ
- শীবু শীল শুভ্র

কাজের মধ্যে ডুবে ভালোবাসা নেই চোখে
ক্লান্তিতে মোর দেহ আবছায়া স্পষ্টত মুখে!
ভালোবাসার নিমন্ত্রণ হোক বাক্য বিনিময়ে
কিসের প্রয়োজন রং-বেরঙের কার্ডের?

সরকারী ছুটি উপভোগ উৎসবে আনন্দে একদিন
নিমন্ত্রণ রক্ষায় হয়নি ত্রুটি, সেদিন ছিলো বড়দিন!
প্রার্থনা, আনন্দ আর হৈহুল্লোরে বয়ে গেলো সারাদিন
উৎসবে আনন্দে বন্ধন হোক দৃঢ়, কুসংস্কার করো হে বিলীণ।

ছোট-বড় সকলে নতুনত্বে বড়দিনের ঘুরাঘুরি
হাসি আনন্দে জগৎময় হোক আলোয় ঝুঁড়ি-ঝুঁড়ি!
প্রতি বছর ফিরে আবার আসবে হে বড়দিন
বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট সর্বদা রবে চিরদিন।

সময়ের পরিবর্তনে হোক মানবতার জাগরন
সকলের জন্য শুভ কামনা, ভালোবাসা বাচুঁক আমরণ।
পেশির শক্তি নেই মোর, কলমের শক্তিতে জানালাম স্বদিচ্ছা!
ভালোবাসা রইলো নিরন্তর সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা।

দু কলম কবিতা
- মন্দিরা পাল

আমার দু কলম কবিতা
তোমার ভালোবাসার
খোরাক হতে পারেনি |

আমি কত বার
চেয়েছি জানো?
তোমাকে বাঁধতে
আমার ভাবনার শৃঙ্খলে,
কল্পনার আলিঙ্গনে |
তোমার নিরুত্তাপ ঠোঁটে
আঁকতে চেয়েছি
কাব্যময় চুম্বন |

কিন্তু না,
আমার কবিতা তোমায়
ছুঁতেই পারেনি |
তোমার ভালোবাসা
গোগ্রাসে গিলে খেয়েছে
আমার ছন্দবদ্ধ
শব্দের অভিধান |

আমার ভঙ্গুর
কলমে
লেগে আছে
অনুভূতির
শেষ নির্যাস |

না,
আমার দু কলম কবিতা
তোমার ভালোবাসার
খোরাক হতে পারেনি |

এখন বাংলাদেশ
- গাজী হাবিব

প্রথম বিজয় আমার নিত্য বাংলাদেশ
প্রথম বিজয় আমার নিত্য বাংলাদেশ
প্রথম বাংলাদেশ আমার নিত্য শোক
প্রথম বাংলাদেশ আমার নিত্য শোক।

নিযুত কোটি উপত্যকার ভেতর দিয়ে
যে সূর্য প্রথম উঠেছিল
সহস্র কোটি সবুজ বৃক্ষের বক্ষ চুঁইয়ে
লক্ষ নিযুত সম্ভ্রম ছিঁড়ে গলিত রক্তস্রোতে ভেসে
প্রিয়র প্রথম কান্না প্রত্যুষে, ফেরারী আর্তনাদ
সে আমার মেধাবী রক্তের ফসল। বাংলাদেশ--
সত্যের সবুজ ক্ষেতে ধর্ষিতা মায়ের বৈকালিক শরীর
মৃত্যুর সম্মুখে প্রিয়ার তৃষ্ণার্ত ঠোঁট,
রক্ত মেঘ ওড়ে আকাশে
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সুর থেকে সুরেলা
পলাতক হানাদারের তীক্ষ্ণ ছোবল।
বিশ্বাসী জঙ্গলের মতো
স্লোগান ভেঙে জেগে ওঠে মৃত্যুঞ্জয়ী কন্ঠস্বর
মহান আত্মত্যাগের সুউচ্চ ঢেউ।

উদ্ভাসিতের তীক্ষ্ম চোখে বিস্মিত বিশ্ব
নিবিড় ছায়ায় একটি উর্বর মানচিত্র
উন্মত্ত কামনার রক্তাক্ত বক্ষে
আমার বাংলাদেশ।
নেতৃত্বের উদ্ধত সংলাপ শেষে
ভূমিষ্ঠ হয় একটি তাজা গোলাপ
আমার বাংলাদেশ।

একটি শীর্ষস্থানীয় কম্পণ
- গাজী হাবিব

শহরের প্রবেশদ্বারে পৌঁছুলেই
ঘুমন্ত লতাগুল্ম জেগে ওঠে নিমেষে
এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় পদ্মার ঢেউ
হাঁটতে হাঁটতে আলোর মিছিল চলে
সোনালী ধানের ক্ষেত, বালুর পাহাড় আর ইতিহাস
ডিঙিয়ে কবিতার শহরে। মাটির দীর্ঘশ্বাস ফুরোলে
জন্ম নেবে একটি শীর্ষস্থানীয় রাত।
আজগুবি কান্নায় ডুবে পাখির চোখ
শরবত শরীরে জাগে মিথ্যের গহ্বর
প্রতিবেশী কষ্ট গুলো তখন হাসে, কাঁদে
পরকীয়ার নিবিড় আলিঙ্গনে।
আততায়ী বাতাস মেঘের মৃদু কম্পণ
বুনো দর্শক ধর্ষকই হয় -- অর্বাচীন সময়ের
নাবালক রোদ গাঢ় শিশিরে হাসে
নতুন বউয়ের লাল বেনারসি।

অ্যাকসিডেন্ট
- মিন্টু উপাধ্যায়

হটাৎ ভীষণ যন্ত্রণায় আমার শরীরটা থরথর করে কেঁপে উঠলো । শীত শীত ও করতে শুরু করলো মুহূর্তেই । অসহ্য যন্ত্রণা ছড়িয়ে পরতে লাগলো পুরো শরীরে । সমস্ত শরীর প্রায় অবশ হয়ে গেছে । নড়াচড়া পর্যন্ত করতে পারছি না । ধীরেধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো ।
উঠে দাঁড়ালাম কিছুক্ষনেই । যন্ত্রণাটা আর নাই । বেশ ফুরফুরে লাগলো নিজেকে ।
অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে... চলন্ত বাসের ধাক্কায় এক জন মারা গিয়েছে ।
রাস্তার এক কোণে আমার শরীরটা রক্তাক্ত অবস্থায় দুমরে মুচরে পরে থাকতে দেখলাম ।

সময়ের স্রোতে
- গাজী হাবিব
.
আজ এখনো যারা জেগে আছে মাঠে
বলছি শুনুন ঘুরে মনোযোগ দাও পাঠে
সাপ আছে পোকা-মাকড় চারপাশে ঘেরা
যতোই বাড়াও হাত হবে না ওখানে ফেরা।
আলো নেই ভালো আছে জোনাকির রং
পার পাবে না কেউ যতোই সাজুক না সং।
মেঠো পথ গেছো রাত করলার ক্ষেতে শুয়ে
দু'চোখে আঁধার নামে আকাশের মত নুঁয়ে।
তবু ভালো আলো জ্বালো দূর করো কালো
আলোহীন হবে না কেউ রবে সবাই ভালো।
যতো বড় হও হুজুর করো বাড়াবাড়ি
নড়ে যাবে সব ভিত খুবই তাড়াতাড়ি।
বুঝেও বোঝে না যে বোঝায় সে কারে
আসুক ঝড় দেখবো তারপরে কে মারে।


মাতৃত্ব
- অন্তরা রায়





অতসীর বিয়ে হয়েছে বছর চারেক হলো | গুবলুর বয়েস প্রায় আড়াই | অতসী স্বপনের লাভের বিয়ে কিন্তু বর্তমানে পুরোটাই লোকসানে চলছে | স্বপনের পুরোপুরি হাতের বাইরে ও | বিয়ের পরেই স্বপন টের পেয়েছিলো এ বউ কন্ট্রোল করা ওর কম্মো নয় | ফলত গালাগাল মারামারির ওপরেই সম্পর্কটা যতটুকু টিকে থাকা আর কি |





অতসীর মুখের ঠেলায় শ্বশুর শাশুড়ি আলাদা হয়ে গেছে ও এবাড়িতে আসার পরপরই | অতসীর নাইটি থাকে হাঁটুর ওপর , ভুঁড়ির ওপর গিট্টু বাধা | দুটো ছমছমে নুপুরপরা লোমশ পা ভীষণভাবে কুচ পরোয়া নেহি | রাস্তার কলের জলের লাইন বা পাশের বাড়ির বৌদির রান্নার খবর নিতে যাওয়ায় পোশাক ও পোশাকের স্টাইলের কোনোরূপ পরিবর্তন হয়না |
অতসীর আর এক সাংঘাতিক গুন্ | সারাক্ষন হ্যা হ্যা | ওটা ঠিক হ্যা হ্যা নয় | ওর স্বাভাবিক গলার স্বরে সারা পাড়া চমকানোর ক্ষমতা রাখে একাই | কাছে গেলে তিরঙ্গার গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে | ওই লালকালো দাঁত বের করে যখন আলটাগরা বের করে হাসে তখন যে কোনো অর্ধ অসুস্থ মানুষ নিশ্চিন্তে দুম করে সগ্গ গমন ঘটা অনিশ্চিত নাও হতে পারে |





এই অতসীর একটা ছেলে হলো , গুবলু | গুবলু হওয়াতে অতসীর সাংঘাতিক বিপদ | আগে তবু পেটের ভেতর নিয়ে এদিকওদিক চরে বেড়ানোতে অসুবিধে হচ্ছিলো না কিন্তু এখন ? ওটাকে রেখে বেরোনো সমস্যা আবার নিয়ে বেরোনো আর এক ঝামেলা | শ্বশুর শাশুড়ির সাথে একটু মাখোমাখো হওয়ার চেষ্টা যে করেনি তেমনটা নয় | কিন্তু পাত্তা পায়নি তেমন একটা | অতএব ছোট্টো গুবলুকে একা ঘরে তালা দিয়ে রেখে অতসী বেরিয়ে যেত এদিক ওদিক | দোকান লন্ড্রি থেকে এখন শপিং মল সিনেমায় এসে দাঁড়িয়েছে | এর কিছুই টের পায়না স্বপন | রাতে ফিরে টকঝাল খাবার পেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুম দেয় লোকটা | অতসী নো কম্প্রোমাইজ | বিয়ে বাচ্চার পরেও ওর কোনোরূপ পরিবর্তন হয়নি |





অতসীর বড়ো জা অপর্ণা | এই অপর্ণার কোনো ছেলেপুলে হলোনা | শ্বশুর শাশুড়ি বাঁজা বৌয়ের মুখ দেখা বন্ধ করেছেন অনেককাল আগেই | সবজায়গায় প্রবেশ ওর জন্য নেই | অপয়া মুখ , পেটের খোলটাতেই পচন | এধরণের নিত্য বাক্য ওর প্রতিদিনকার | মুখটা অপয়ার হলেও ওকে দিয়েই সবটা করানো হয় | মুখ ঝামটা খায় তবুও মুখ বুজেই থাকে |
গোপালকে অনেকবারই অপর্ণা বলেছিলো একটা ডাক্তার দেখানোর জন্য | পাত্তা পায়নি | পরিষ্কার গোপালের বক্তব্য ..





-- মা তো বলেইছে বাচ্চা বিয়োনো তোমার দ্বারা হবে না | ফালতু ডাক্তারের পিছনে পয়সা দিয়ে লাভ কি | আর তুমি তো এবাড়ি থেকে যাবেও না | আমারই বুকের ওপর বসে আমারই দাড়ি ওপড়াবে | আজব এক মাল মাইরি জুটেছে আমার কপাল গুনে |





অপর্ণা ঠাকুরবাড়ি , শিকরবাকর , তাবিজ কবজ এই সব আজগুবি বিশেষণেই নিজেকে জড়িয়ে নিয়ে বাঁচছিলো |
ওদিকে দিনদিন একলা হচ্ছিলো ছোট্ট গুবলু | অপর্ণা দেখছিলো মুড়ি বিস্কুটের বাটিটা উল্টে কিভাবে তারস্বরে কাঁদে ছেলেটা | জানলায় উঁকি দেয় অপর্ণা | কথা বলে গুবলুর সাথে ঘণ্টার পর ঘন্টা | মায়া লাগতো বড়ো ওর | কিভাবে মা তার সন্তানকে ছেড়ে এভাবে আমোদ আল্লাদ করতে পারে |





নিজে থেকেই একদিন সাহস করে কথা বললো অতসীর সাথে |





-- তোমার যদি আপত্তি না থাকে তাহলে তুমি না থাকলে গুবলুকে আমার কাছে রেখে যাবে ? আমি ওকে দেখে রাখবো !





মিটি মিটি হাসে অতসী |এ যে মেঘ না চাইতেই জল |





-- সে তো ভালোই তবে | থাকুক তোমার কাছে |





দিনদিন নিশ্চিন্ত হতে থাকে অতসী ওদিকে নীরবে মা হয়ে উঠতে থাকে অপর্ণা | স্কুলে ভর্তি হলো গুবলু | অপর্ণা ভোরে উঠে রান্না সেরে ছেলেকে খাইয়ে স্কুলে দিয়ে আসে | স্কুল থেকে ওরা মা ছেলে ফেরে কোনোদিন গেরুয়া কোনোদিন সবুজ জিব নিয়ে আইসক্রিম চাটতে চাটতে |গুবলু মা বলেই ডাকে জ্যেঠিমাকে |
গুবলু আসার পর থেকে সন্তানের মঙ্গলের জন্য সব উপোষ থাপোস করে ওর এই মা |





…….. আজকাল গুবলু খুব বকে অপর্ণা কে | সরকারি এক অফিসের বড়ো বাবু এখন সে | শাসন বেড়েছে ছেলের |
-- বয়েস বাড়ছে মা , বন্ধ করো এখন এসব | রাজ্যের উপোষ মেনে শরীরটা খারাপ হচ্ছে | তোমার কিছু হলে আমার কি হবে ভেবেছো ?





চোখে জল আসে অপর্ণার | এর পরেও কেউ বলবে গুবলু ওর নিজের সন্তান নয় | নিজের ভাবনার শব্দগুলোকে কৌটো বন্দি করে ফেলে চুপটি করে | অফিস থেকে ফিরে মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকে অনেক্ষন | অপর্ণা আজ খুব সুখী | ঈশ্বর বোধহয় কাউকেই কাঙাল হতে দেননা |





ওদিকে অতসীরও বয়েস বেড়েছে | হাঁটুর ব্যাথায় আজকাল ঘর থেকে খুব একটা বেড়োতে পারে না | সারাদিন বিছানায় পরেই থাকে | গুবলু অফিস ফেরত একবার দেখা করে যায় | মাসে মাসে টাকার এক অংশ মার হাতে তুলেও দেয় | ডাক্তার ওষুধ সবটাই করে তবু যা নেই তা পুরো জুড়েই নেই |
মা বলতে জানে অপর্ণাকেই | দুহাত দিয়ে আগলে রাখে অপর্ণাকে ওর আদুরে ছেলে গুবলু | মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছে অপর্ণা যা থেকে আজ বঞ্চিত গুবলুর একনাড়ির সম্পর্কও |





জন্ম দিলেই শুধু মাতৃত্ব লাভ হয় এমনটা নয় | মাতৃত্ব হলো ভেতর ঘরের সে এক কোমল স্পর্শ ||


Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget