সেপ্টেম্বর 2018

ঘুম আসেনা
- সোনালী মন্ডল আইচ

স্বাদকোরকে ভরা জীবন
শরীর জুড়ে এক তরাস
জলের পাখি বক তপস্বী
এক পাহাড় ঝরণা ঝিলে
বাঘ কুমির হাঙর আসে
ডাঙায় লাগে রক্তের দাগ

কান পাতলে ভ্রূণ নড়ে
বেতাল দিনে জোয়ান মরে
গদি পায়ের খুনি বলছে
"জাগতে রহ"রাত পাহারা
চেতন হারা ঘুমায় করা
এই মিছিল এই সাহারা...

©Sonali Mandal Aich

মন্থন
- মোশ্ রাফি মুকুল

ধরে নিলাম আমি এক সংবেদনশীল ঘোড়া
অতিদ্রুতগামী আলোক সংকেত
ইলোক্ট্রন প্রোটনের মধ্যবর্তী সংঘাত

ধরে নিলাম আমি বুকে ধরে রাখি অযাচিত সমুদ্র ফেনিল
বিপ্রতীপ রাত

আর ধরে নাও কোন এক সমুদ্র মোরগ
অহরহ দিয়ে যাচ্ছে
অচেনা সাগর মন্থনের পুনঃপুনঃ ডাক।

নতুনত্ব
- মোশ্ রাফি মুকুল

নকশায় এসেছে নতুনত্ব
পোশাকে,চুলে-
সহজ সম্পর্কগুলো কাটাময়-
ভুলে-বেভুলে
আটপৌরে জীবনের বৈচিত্রতায়
শীত গ্রীষ্মে ভিন্ন ভিন্ন চাওয়া-পাওয়া

নয়নাভিরাম উলকিতে রঙময়
সাদাকালো সময়,ক্যাজুয়াল দিন-
লাল-নীল নকশায়
হরেক রকম যোগ-বিয়োগ।

২৬/০৯/২০১৮.

সিরিয়াল এক কথা
- দেবস্মিতা দাশ

"ও বৌদি আটাটা পরে মাখবোখন,একটু দ‍্যাখিনা ঐ মেয়ে পুলিশ টা তালঢ‍্যাঙা টাকে ক‍্যাতটা বাঁশ দিল।" মালতী বললো রসালো ভঙ্গিতে। বিরক্ত হয়েই সোফাটা একটু ছেড়ে দিলেন বৌদি‌ । জ্বালা বটে! আজকাল ভালো জিনিসেও ভাগ বসাতে চায় সবাই।

"আরে এক মিনিট দাও না স্টার স্পোর্টস এ।দেখি ব‍্যাটাচ্ছেলে গুলোকে কতটা ঠ‍্যাঙালো কোহলি। "
বারবার অনু্রোধে কাজ না হতে গিন্নীর হাত থেকে রিমোটটা নিতে যেতেই চিল চিৎকার ,"উফফ দাঁড়াওনা! দেখতে দাও আগুনমালা কি ভাবে তার বরকে শায়েস্তা করে!"
"সে জিনিস টা তো তুমি ভালো করেই জানো,আর নতুন করে শেখার কি দরকার",বলে গিন্নীর তেড়ে আসার আগেই মানে মানে কেটে পড়েন ভদ্রলোক।

"আরে না দাদা এটাও না। আপনি বুঝতে ই পারছেন না! ঐযে 'জলজ প্রেমকন‍্যা' তে হাসনুহানা যেমন শাড়ী পরে।চারটে পাড়, গঙ্গা তিস্তা ডিজাইন, আঁচল টা একটু মানে কি বলবো আরে বুঝুন।না! কি বলেন হাসনুহানাকে চেনেন না? ধুর মশাই দোকানি ছেড়ে দিন গে!" হনহনিয়ে চলে গেল দুই কলেজ ছাত্রী‌ বেচারা দোকানদারকে হাঁ করিয়ে রেখে।

"সোনা তুমি দেখেছো 'ভালোবেসে আগুনে ঝাঁপ' এর নায়ক কেমন তার বৌকে বাজে শাশুড়ির হাত থেকে মুক্ত করে আলাদা সংসার পাতলো। তুমিও তো আমার হিরো, তাহলে...." আদরে আদরে বরটিকে ফাঁসাতে চাইলো কোনো ছলনাময়ী।

"এটা কি প্রিপারেশন বানিয়েছো বৌমা? চিকেন না খাসি?" উদ্বিগ্ন মুখে জানতে চাইলেন শ্বশুর।
"আরে বাবা সেদিন দেখলেন না 'তিন সতীন' এ শ্বশুরের সেকেন্ড ম‍্যারেজ অ্য।নিভারসারিতে কি সুন্দর একটা আইটেম করলো বৌমা খাসি আর মাশরুম দিয়ে। ভালো হয়নি?"

"কাল থেকে কিন্তু আমি আধঘন্টা আগে চলে যাব।"
"কেন ?" হতভম্ব প্রেমিক।
"জানি তো তুমি একটা অসামাজিক ভালো জিনিসের কি বোঝো? 'হাজার প্রেমের পর এক বিয়ে'র টাইম এগোচ্ছে যে আধঘন্টা!"

"শোনোনা তুমি মাঝে মাঝে অফিস না গিয়ে একটু বাড়িতে থাকতে পারো তো। " ঘোষবাবুকে আবদার করলেন গিন্নী।
"আর মাইনেটা তবে কে আনবে?"
"আরে তুমি না একদম আনরোমান্টিক। আর সব ঝামেলায় আমায় একা ঠেলে দাও‌। আরে দেখো তো 'অফিসার স্বামী কেন চাকর' এ বরগুলো কি সুন্দর অফিস না গিয়ে বৌকে জড়িয়ে ধরে থাকে, ঘরের ঝামেলায় মাথা ঘামায়।"

কি দাদা বৌদি‌রা(বিশেষতঃ বৌদিরা),বুঝেছেন নিশ্চয়ই কি নিয়ে আমি এতক্ষণ হাত ব‍্যথা করে লিখছি। যদি না বুঝে থাকেন, না না আপনাদের নয় একান্তই আমার দোষ, লেখিকা হিসেবে আমি অতি অক্ষম।
এইরে! কি বললেন? সিরিয়াল নিয়ে দুচার কথা লেখার অপরাধে লোকে আমায় চাঁদা তুলে মারার প্ল্যান করছে? শুধু মার নয়,আবার 'বিয়েপাগলী কন‍্যে'র মত আমার পাঁচটা বিয়েও দিতে চাইছে!
না না এইবেলা পালাই মশাইরা,বুঝলেন তো। ছাপোষা মানুষ, দুচার কলম লিখতে গিয়ে বহুবিবাহ বা গণধোলাই কোনোটাই আমার সইবেনা। আর আমায় যাঁরা মারতে ইচ্ছুক তাঁদের বলি ঐ 'মাকড়সার জালে ফাঁসলো হনু' শুরু হলো বলে, মিস করবেন না যেন!

নিপবিথী
- সোনালী মন্ডল আইচ

কদম্ব গাছের তলে
ঢেউয়ে কাজল পরে গলে
ভুলে যাও নীল যমুনা
মিথ্যে এ সংকীর্তনের নমুনা

বাঁশির সুরে পাগলা ঘন্টি
বেড়ালের সে ভিজে মনটি
চিকন কালার বখাটে ছলা
মথুরার রোগ বিরহে জ্বলা

ধরা দেবে না তো রাই
জল আনিতে কোথা যাই
ওয়াটার পিউরিফায়ার খুলে বোতল ভরে
প্রচ্ছন্ন উপহাসে কানুযুগ মুছে ফেলার তরে....

©Sonali Mandal Aich

ঝুঁকি দেয় উঁকি
- সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

উত্থান-পতনে মানুষ আর শেয়ার-দর
মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ|
ঝুঁকি-ই যেন নিজ-সখী দুজনার যোগাযোগে,
উচ্ছ্বাসে সুসময়ে গালভরা হাসি পড়ে ঠিকরে
ঊর্দ্ধাকাশে শ্রীচরণ দুটি রেখে!
উত্থিত আবহাওয়ায় ধরাকে সরা জ্ঞানে
নাক-উঁচুদের লাগে ভালো গর্বের দাস হতে|
ঝুঁকিগুলো শেয়ার-রাজ্যে অনিশ্চিতে কিলবিল,
যেমন জীবন-পথে ওদের বাড়ন তিল তিল!
দুঃখ-কষ্ট-শোকের আবহে ঘটমান দিনে
আতঙ্কিত তাদের চোখে জ্বলজ্বল এক ঘাঁটি-
সেখানে ঝুঁকির বস্তিতে মানুষের অনেক গিঁট!
উত্থান-পতনে জীবন আর শেয়ার-দর
তাই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ|

তারিখঃ ২১/০৯/২০১৮|

আমরা মধ্যবিত্ত
- কাকলী শ

কাড়ছে ওরা মুখের ভাত
কাড়ছে বাঁচার শ্বাস ,
কেড়ে নিচ্ছে জীবনের
সবটুকু বিশ্বাস ।

এরপরেও চুপ আমরা
তুলতে শিখিনি হাত ,
চোখের দিকে তাকিয়ে করিনা
অন্যায়ের প্রতিবাদ ।

এমন করেই বাঁচব ভেবেছি
খুঁটে খাব দুয়েক দানা ,
এমন করেই বেঁচে থাকব
বেশি পেতে মোদের মানা ।

এতেই খুশি , তবু বেঁচে আছি
ভরে আছে মোদের চিত্ত ,
দরকার কি ঝামেলা বাড়ানোর !
আমরা যে মধ্যবিত্ত !

অসম্ভব
- সন্দীপ মুখার্জী

বিন্দু বিন্দু গড়ে তোলা
অকস্মাত্ যে হাওয়া দেয় দোলা
তার অনুরণনের স্বপ্ন শুনেছি গহনে

আজ যদি আমি অ-বলা
ভুল পথের সেই স্বপ্ন বলা পথ চলা
তার গভীর গভীরে শিহরণ রণ মননে

আজ বাতাস বাউল পাগল
উদাস উদার ভাঙছে গড়ার আগল
বাস্তব কঠোর তাসের ঘর বিহ্বল লজ্জা

কখন কিভাবে ফাটা মাস্তুল
অভিমানী জাহাজ তাও এই ভুল
সাগর ঝুঁকি ঝড়ের বুকে দান করুণার সজ্জা

কবি কি নিদারুণ লজ্জা কি নিদারুণ লজ্জা ।

আমি জীব তবে অনেকটা জড়ের মতো হয়ে গেছি,
আমি আমার আপন জনদের কাছে পরের মতো হয়ে গেছি।

নিজের নিঃস্বাস কে অনুভব করছি,মনে হয় অযথাই চলছে,
প্রকৃতির সুন্দর মনোরম পরিবেশ গুলো,যেন হারিয়ে যেতে বলছে।
অনুভব করছি নিজের অস্তিত্ব কে,যা কেবল লবনের মতো হয়ে গেছে,
যার যতো টুকু দরকার ব্যাবহার করে,বাকিটা অবশিষ্ট রয়ে গেছে।
আমি ক্লান্ত বড়ই ক্লান্ত ক্ষত বিক্ষত হয়ে আপনের দেয়া আঘাতে,
করেনি তো কেউই দয়া আমায় কিংবা আমার এ জীবন বাচাতে।
আত্মহত্যা মহা পাপ বলে অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছি মরণের দ্বারে,
মনে চায় বার বার কষ্টের গ্লানি ফেলে চলে যাই শান্তির অপারে।
আমি আর আমার আমি কে খুজে পাই না,
কি করি কথায় রাখি মনের বোঝা কষ্ট গুলো বুঝে পাই না।
চোখের জল গুলো শুধু ঝড়ে যায় মন কে হালকা আর করে না, 

পুরোনো কষ্টেই পুর্ণ এ মন নতুন কষ্ট গুলো যে আর ধরে না। 

আমি আমার বন্ধ চোখে দেখে যেতে চাই আপন দের সেই মুখ,
জীবনের শেষ,কাফনের সাজে সজ্জিত হয়েও দিয়ে যেতে চাই পুর্ণ সুখ।

প্রত্যানয়ন
- শাহিনা কাজল

বৈরিতার শূণ্য পথে হাঁটতে গিয়ে
বেমানান উষ্ণতা ফেরত চেয়ে
ভিজেছি তরতাজা রোদ্দুরে।
চৈত্রের দুপুরে বাড়ী ফেরার পথে যে চোখ দু'টো
রোজ রোজ তার আবদার পুঁতে রাখতো
আমিই তার চাহনীটা ঘামের দরে বেচে দিয়েছি
বেলেঠোঁট, ড্যাপসানো নাক আজও তার
সযত্নে গুছিয়ে রেখেছি আলমিরাতে।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিঃশ্বাসে আগুন সে সর্বদা ঝরায়
আমার বিষন্নতার ভেজা উঠোনে।

রাত ভারী হলে যে কান্না ভেসে আসে
হিংস্র হায়েনার পদভারে, পুকুরপাড়ে
সে ছবিও এঁকে রেখেছি , আদরে-
অবহেলায় চিলেকোঠার ডান পাশে।
স্রোতস্বিনী চলা ওর নিতম্বিনী মেঘ
এলোমেলো কাব্য ওর নিঃশব্দের তুষারপাত
পাহাড়ী ঝর্নার জলে ভেজানো চোখ
বিস্তীর্ণ আঁধারে মেশানো সুখ
রাত্রিহীন ঘুমের দেশে জ্বালায় জোনাকির আলো
অথচ ওটুকুই আমার সম্বল!!
পথভ্রমে কেটে যাবে হয়তো এজীবন
ভাবিনি এমন কথা কোন অবেলায়,
দূরের জানালায় বিকেল নেমে এলে
বাতাসের ডাকবাক্সে জমতে থাকে
শেষের রাত্রে লেখা মুঠোমুঠো কবিতা।
জোনাকিরা হাসি মসকরায় ব্যস্ত এখন
নারিকেল ছায়ায় আজ তার গল্প শুনেছি।

বিরহ কথা
- মন্দিরা পাল

আমার সাথে কৃষ্ণর সম্পর্ক প্রায় তিরিশ বছরের | এতগুলো দিন যে কি করে স্বপ্নের মতো চলে গেলো তা ভাবলে এখনো অবাক লাগে | কিন্তু এটাই বা মানি কি করে যে আমার কৃষ্ণ আর নেই | এখন থেকে ভোরের প্রথম আলোয় আমি আর কৃষ্ণকে দেখতে পাবো না |

এই পাকুড়তলা বালিকা বিদ্যালয়ের গেটের গা ঘেসে আমি দাঁড়াতাম আর ঠিক রাস্তার ঐপাশটায় কৃষ্ণ আমার জন্য একগাদা লাল ফুল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো | না ফুলগুলো কোনোদিনই ওর থেকে আমার নেওয়া হয়নি, সেই সুযোগই হয়নি কিন্তু ভালোবাসাটা আমরা দুজনেই বিনিময় করে নিয়েছিলাম |আজ বিকেলের এই পড়ন্ত রোদে আমি একই জায়গায় যতই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকিনা কেন কৃষ্ণকে আর দেখতে পাবো না |

গতকাল বিকেলে ওরা এসেছিলো | ধারালো যন্ত্র দিয়ে শেকড় শুদ্ধ উপড়ে নিয়েছে আমার কৃষ্ণকে | রাস্তা নাকি বড়ো হবে, অনেক অনেক গাড়ি চলবে | আমি সবটাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম | আমি যে নির্বাক | নিজের ভালোবাসাকে বাঁচানোর যে আমার শক্তি নেই | আমার গায়েও দাগ দিয়ে গেছে ওরা | হয়তো কাল বা পরশু আমিও আর থাকবো না | আচ্ছা পুরাণের রাধা কৃষ্ণের তো কোনোদিন মিলন হলো না, তবে কি রাধাচূড়া আর কৃষ্ণচূড়ারাও ভালোবাসতে পারবে না?

প্রেম তো সবাই করে,তোমার মতো করে কে মা বল না?
তোমার প্রেমে প্রেমই আছে,নেই কো ছলনা,বুকে জড়িয়ে দূরে সরাতে জানে সবাই তুমি শুধু জানো না।

তোমার সোহাগ সমান থাকে,দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত,
পড়ে না কো মরিচা কভু সদাই থাকে জীবন্ত।
এতো প্রেম দিয়ে মা'গো দূরে যদি যাও,বলোনা মা এ প্রেম পাবো কি কোথাও?
পারবো না দিতে প্রতিদান সারা জীবন ধরে,বল মা বাঁচবো কেমনে যদি যাও মরে?
তোমারই দেয়া আছে মা আমার এই জান,
বলো মা কেমনে দিবো তোমার প্রতিদান?
প্রার্থনা করি মা খোদার তরে,জীবন দিয়ে তোমায় যেন মরণ দেয় মোরে....

শান্তির অভিযান
- দেবযানী গাঙ্গুলী

বর্ষা শেষের বৃষ্টিবিকেল টাপুর টুপুর উজানকথা --
অস্তরাগের আবেশে লুটায় লালিমার সুখ প্রসন্নতা ।

ধারায় ধারায় মনভরানোর আসমানী অভিসন্ধি,
শান্তির খোঁজে পারাবত ফেরে, উড়ো মন ফ্রেমে বন্দি ।

মনে মন ছুঁয়ে দূরত্ব মাপে চৌরাসিয়ার বাঁশি,
জমানো আবেগ নির্ঝর হয়ে বলে যায় 'ভালবাসি'।

ভালবাসি তবু ঘর হারানোর ভয় কেন তোর যায় না !
শতাব্দী জুড়ে সাদা পায়রার ঘুম কাড়ে ক্রুর হায়না ।

যজ্ঞ সমিধে মিলে মিশে গেছে শান্তির স্তবপাঠ,
প্রতিশ্রুতির ঘুমপাড়ানিতে জীবন্ত বিভ্রাট ।

নারীও যখন নাগিনী রূপিনী সাক্ষাত নাগকন্যা,
ধ্বস্ত হয়েছে শান্তির নীড়,বানভাসি ঘরকন্না ।

স্বপ্নের ডাকে ঘর ছেড়ে ছুট নবজীবনের আশা --
লাশকাটা ঘরে শান্তি খুঁজেছে প্রেমহীন ভালবাসা ।

বস্তি পুড়িয়ে আলো ঝলমলে উন্নত আবাসন ,
ধামাচাপা পড়া ফাইলেরা জানে শান্তির প্রহসন ।

যৎসামান্য সরকারী দান সাগরে শিশির যথা,
কঙ্কালসার পাঁজরের খাঁজে শান্তির কথকতা ।

সীমান্ত জুড়ে শান্তি ফিরিয়ে কফিনেরা প্রাণহীন,
বিবর্ণ সিঁথি, কে মেটাবে তার স্বপ্নসাধের ঋণ!

শরীর ছুঁয়েছে কালো নিঃশ্বাস ঘনঘোর অমাবস্যা,
নুন ভাত শোনে আগুন নেভানো শান্তির বারোমাস্যা ।

শান্তি বাণীতে হিংসা ধুয়েছে মহামানবের সুর --
মূক ইতিহাস কালো অক্ষরে তবু আজও ব্যথাতুর ।

ভাঙা সেতু জানে অন্তরে তার দুঃখগোপন চুক্তি,
ঘুণের গভীরে মানবতা কাঁদে, শান্তির অবলুপ্তি ।

বন্ধু! হয়ত এসেছে সন্ধ্যা-- ক্লান্ত ডানার গান,
শ্মশানের সুখে স্মিত হাসি মুখ, শান্তির অভিযান ।
আজ বিশ্ব শান্তি দিবসে আমার অনুভব ..........

বড় অদ্ভুত নিয়ম মানুষের জীবনের,,
অতিথি হয়ে যখন কেউ আসে এ মনের,,,
সহস্র স্বপ্ন,আকাংখা,আনন্দ নিয়ে আসে,,,
আর যখন যায়,কাদেঁ একজন আর একজন হাসে,,,,
যে যাবার সে তো যায় নতুন স্বপ্ন সাজাতে কারো মনে,,,
একটুও ভাবে না,যার স্বপ্ন ভেঙে এলাম কি রবে তার জীবনে???
সে কি পারবে? আবার কোন নতুন স্বপ্ন সাজাতে,?
না কি ভেঙ্গে যায় স্বপ্ন গুলো স্বপ্নহীন রাত জাগাতে?
একটুও মায়া কি হয় না এভাবে কারো স্বপ্ন ভাঙতে?
তবে কেন আসে নিহৃদয় মানুষ গুলো মিথ্যে জীবন রাঙতে???
জীবন রাঙানো হলো না,হলো না কোন স্বপ্নের তাজমহল গড়া।
মিথ্যে মানুষের মিথ্যে মায়ায় আজ স্বপ্ন গুলো যেন পড়েছে হাত কড়া,,,
চাইলেও আর পারিনা দেখতে নতুন স্বপ্নের দেখা,,,
হয়তো এই আমার ভাগ্যের লিখন,আর হাতের রেখা,,,,
তবে ভাগ্যের কাছে হার মানা মানুষ আমি নই,,,,
পরাজয় আমায় দেয় প্রেরণা,যতো বারই পরাজিত হই,,,
আমি আবারো দেখবো স্বপ্ন, উড়বোই মুক্ত গগনে,,,,
আবারো বিভোর হয়ে হাসবো আমি নতুন কোন স্বপনে,,,,
পারবে না কারও চলে যাওয়া ব্যার্থ করতে আমার জীবন,,,,
অভাব নেই ভালবাসার,কারন পুর্ণ ভালবাসায় পুর্ণ আছে আমারই মন....

সালামিন ইসলাম সালমান

গোঙানির বারান্দায় বসে বিতিকিচ্ছিরি আশাগুলো আবার জ্যান্ত হয়
কবে ব্যথার আঁচলা আলোর শরীরে জড়িয়ে প্রত্যাশার ভাপ ছড়াবে,
পুতুলের পায়ে কতখানি আলতা ছিটালে হেসে উঠবে ওপাড়ার জামিরন
কতটুকুন আজগুবি সাঁজলে শুকোতে থাকবে বাসুদেবের ছেলের মান।
মুচিপাড়ার সরবানুরা আজও চুষে খাওয়া শরীরে আঁতর মাখে
চুলের বিনুনিতে গুজে রাখে গাদাগাদা স্বপ্ন আর যৌবন পোড়া গন্ধ;
এখনও চুমুর ছোবলে নীল হওয়া অনাবৃত গতরে কাপড় টানে ওরা-
কেবলি জীবনের সায়রে জেগে ওঠা ঢিবির প্রত্যাশায় !!
.
ফোসকা পড়া বিছানায় শুয়ে কতবার দম ছাড়লে মুক্তি পাবে স্বপ্নেরা
হাটখোলায় পড়ে থাকা গুড়ের হাঁড়ির লাল খোসা কতবার চাটলে-
স্বাদ পাবে আমাদের জিভ, উবে যাবে তৃপ্তির সমুদয় ঢেকুর।
বেদনার খড়ম পরে কতদূর হাঁটলে শেষ হবে ঝলসানো বৈকেল;
আঢাকা আঁতুড় ঘরের চৌকাঠ ভিজে গড়িয়ে যায় প্রসাব করা আগুন !!
.
আর কতদূর তাকালে দেখা পাব সিথিতে সিঁদুর পরা স্বাধীনতার উল্লাস
সেলাই বিহীন আহ্লাদে সিদ্ধ করা প্রেমের তাবিজ ঝুলিয়ে রাখলেই-
তবে কি ভেসে উঠবে পাজরের ফাঁক গলে সধবা কম্পন;
পিপাসার ঠোঁটে আর কত বিলি কাটলে জেগে যাবে বিবেকের উঠোন !!
.
গোটা গোটা যন্ত্রণার দানা গিলে দু’হাতে পেট চেপে বসে আছি আশায়-
আমি আলতা ছিটাবো নুপুর পরা পায়, আমি হয়তোবা হয়ে যাবো-
বাসুদেবের ছেলের ভুতুড়ে সাঁজ নয়তো সরবানুদের শরীরের আঁতর;
ওদের মতন ন্যাতানো ভাবনায় জেগে ওঠে প্রত্যাশার চর,
আমারও ইচ্ছে জাগে ওদের সাধ্যের সানকিতে টাটকা পান্তা হতে !!

প্রতিস্থাপন
- মন্দিরা পাল

চোখটা লেগে গেছিলো | আচমকা মাছ ভাজার গন্ধে গা টা গুলিয়ে উঠল | অথচ একটা সময় এই গন্ধটাই আমার কত প্রিয় ছিল | যাক সে কথা, যেটা বলবার ছিলো, আর ঠিক আটটা মাস,আাগামী ফাল্গুনেই মিঠির বিয়ে | ভাবতেই অবাক লাগে| আমার সেই রান্নাবাটি খেলা মিঠি | ভরদুপুরে লুকিয়ে আচার খাওয়া মিঠি | দেখতে দেখতে সত্যি কত বড় হয়ে উঠল | মিঠি আমার ছোট বোন কম,মেয়ে বেশী | সেই যে মা মারা গেল দশ বছর আগে,সেই থেকে আমিই ওকে মানুষ করেছি | তখন আমারই বা কত বয়স,স্কুলে পড়ি | অপটু হাতে রান্নাঘর সামলাতে হল | সময় বয়ে গেলো,কলেজে উঠলাম | digitalization এর স্রোতে বাবার ফোটো স্টুডিও এর ব্যবসাটা লাটে উঠল | বাড়ির computer টা নিয়ে studio টে বসলাম | বাবার studio হয়ে উঠল আমার cyber cafe | প্রথম প্রথম half college করে cafe তে বসতাম | তারপর সপ্তাহে দুদিনের বেশী college যেতে পারতাম না| সংসারের খরচ আর customer এর সংখ্যা দুইই বাড়তে লাগল | বাবার একটা mild attack হলো| computer চালাতে না পারলেও যেটুকু সময় দোকানে বসত সেটাও বন্ধ হয়ে গেলো | আর যা হওয়ার,second year এ fail করলাম | বাকি পড়াশুনোটা কোনোভাবে distance এ শেষ করলাম | এখন আামাদের cafe এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিতানের | বাবা সেটা ওর নামেই করে দিয়েছে | বিতানকে আমার বোন মিঠির হবু স্বামী বললেই বেশী ভালো হয় | ওদের সম্পর্কের কথাটা শুরুতে মিঠি আমাকে বলেনি | এখন আমি সবটাই জানি | আমাদের দুইবোনের একটাই ঘর | এখন রাতে আমার পাশে শুয়েই বিতানের সাথে কথা বলে | তিতিরের তাতে বিশেষ অসুবিধা হয়না | তিতির আমার এক বছরের মেয়ে | বড্ড ঘুমকাতুরে | এই দেখো আমার পায়ের কাছে কিভাবে ঘুমোচ্ছে | শোয়ার ঢং বড় অদ্ভুত | দিল্লীতে শোয়ালে বোম্বেতে গিয়ে উঠবে | সেই salt lake এর বাড়িতে আমরা তিনজন যখন একসাথে ঘুমোতাম তখন তিতিরের একটা পা আামার বুকে থাকত আর মাথাটা বিতানের বুকে | আমার cafeতেই বিতানের সাথে আমার আলাপ | চাকরির form fillup করতে আসত| অবশেষে ভালোবাসা আর আমার সাথে বিয়ে | বিতান চাকরী জোটাতে পারেনি | অবশেষে আমাদের cafe টা ওর নামে করে দেওয়া হয় | অন্য কোনো ব্যবসা শুরু করার মত অর্থবল ওর ছিলোনা | দুমাস হলো আমার blood cancer ধরা পড়েছে |last stage , doctor বলেছে বড়জোড় আর ছমাস | এখন বাপের বাড়িতে আছি | বিতানের আসা যাওয়া ছিল | সেদিন আমাকে দেখতে পিসিরা এল | মাঝরাতে দেখি বসার ঘরে আলো জ্বলছে | মিঠি পাশে নেই | ভাবলাম কেউ হয়তো আলো নেভাতে ভুলে গেছে | গিয়ে দেখি বড়দের মিটিং | মিঠি আর বিতানের বিয়ে | আমি মারা গেলে কিভাবে কাল অশৌচ,বার্ষিক শ্রাদ্ধ মিটিয়ে বিয়েটা সারা হবে সবটাই শুনে ফেলেছিলাম আড়াল থেকে | পালাতে চেয়েছিলাম | ছোটপিসি দেখে ফেলে | আমাকে বোঝানো হয় তিতিরের কথা ভেবেই নাকি এই বিয়ে | তিতির কথাবলতে শিখছে | সবাই চায় ও মিঠিকেই মা বলে চিনুক | তাতে নাকি ওর ই ভালো | আর বাবারও বয়স হয়েছে | মিঠির বিয়েটা দিতে পারলেই নাকি বাবা খুশি | কিন্তু এত ব্যাখ্যা আমাকে দেওয়া কেন? আমিতো কিছু জানতে চাইনি | মিঠি বিয়ের কেনাকাটা নিয়েই ব্যস্ত | তিতির বেশী কান্নাকাটি করলে ও রেগে যায় | তাই বোধহয় জীবনের শেষ কটা দিন তিতিরকে কাছে পাচ্ছি | তবে ওতো একদিন আমাকে ভুলেই যাবে | ভুলতেই হবে | শুধু ওর নরম স্পর্শগুলো লেগে থাকবে আমার মনে | এখন আর দেওয়ালে টাঙানো মায়ের ফোটো দেখে কষ্ট হয়না | মনে হয় আরতো কটা দিন,তারপর তো মায়ের কাছেই চলে যাব | তিতিরের থেকেও ছোট্ট হয়ে আবার জড়িয়ে ধরব মায়ের গলা | সব দায় দায়িত্বের শিকল ছিড়ে আবার মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমোব | মনের ভুল কিনা জানিনা | তবে ছবিতে মায়ের হাসিটা যেন দিন দিন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে | মা যেন আমাকে ডাকছে, "আয় খুকু আয়......"

শুভ ভোর
- রাণা চ্যাটার্জী

সব বাধা এড়িয়ে ,
কাঁটা পথ পেরিয়ে
হোক রোজ"শুভ ভোর"
চলারই তোড় জোড় ।।

দিন রাত শুধু বাধা ,
লাগে যেনো চোখে ধাঁধা!
হয়েছি কি অমানুষ !
মোট বওয়া চলা গাধা?

জীবন তো সস্তা ,
পিচ্ছিল রাস্তা ।
পড়লেই কুপোকাত,
নেপোদের বাজিমাত!

সাহায্যের নেই হাত,
মুখে শুধু অজুহাত ,
তবু এই আছি বেশ ,
অশান্তির হোক শেষ ।।

ছোটো ফ্লাট ,ব্যালকনি
খোকা-খুকু ,আমি তুমি ,
বাকিদের কম চিনি !
হতাশার ছিনি মিনি ।
যান্ত্রিক জীবনে
এটা কিনি,সেটা কিনি!

চাই শুধু সুখ ভোগ ,
হোক যারই দুর্ভোগ!
আধুনিক জীবন তো
টেনশন বড়ো রোগ ।

কে যে কার কাড়ছে ,
শুধু ল্যাঙ মারছে ,
মানবতা হারছে !
বড়ো বাবু ,মেজো বাবু
টু পাইস ঝাড়ছে!

তবু আমি চেয়ে থাকি,
নীল আকাশ আঁকি বুঁকি।
বারো ঘর ,এক উঠান
স্বপ্নেও আসে যদি ।

শিকড়
- রাণা চ্যাটার্জী

মায়ের গর্ভে কন্যা এলে,
সব দোষ কি মায়ের ?
এ টুকুও কি বোঝেনা মানুষ ,
সমাজ ,শহর গাঁয়ের !

কন্যা যদি এতই ঘৃণার ,
হায়রে পুরুষ কূল ,
কেনই এতো দেবীর পুজো ,
পকেটে মা কালির পুজোর ফুল !

আয়রে পুরুষ প্রশ্ন করি ,
তোদের জন্ম কিসে ?
যদি থাকতো না " মা ",!
জন্ম কালে কন্যা হওয়ায়,
দিতো কেউ মেরে পিষে !

তাই তো বলি ,নারী-পুরুষ
ঠিক যেনো মেঘ -বৃষ্টি ।
উভয়েরই পরিপূরক ,
দোষ নয় মায়ের,সন্তান তো
বিধাতার ই সৃষ্টি ।।

নারী এক নদী
- রাণা চ্যাটার্জী

নারী হলো নদীরূপ এক বুক ভরা ঢেউ
অনুভবে টের পাবে গভীরে গেলে কেউ।
ছোট থেকে বড় হওয়া মেয়ে হয় নারী,
সমাজের নিয়ম-নীতি,বড় কড়া কড়ি।
নদী চলে আঁকে বাঁকে, কত নুড়ি বাধা
নারীর জীবনে পুরুষ ঠিক যেন ধাঁধা।।
কত ভার বোঝা নিয়ে নদী চলে বয়ে ,
প্রেম প্রীতি হাতছানি নারী যায় ক্ষয়ে ।।
নারী হলো সম্পদ,বড় অভিমানী নদী ,
ফুলে ফলে পল্লবিত,সাথ দাও যদি।।

বুঝলে কি বৎস, নারী হলো উৎস ,
নারী হল যেন গতিধারা সুন্দরী মৎস্য।
নারী হলো প্রগতি রূপ ,নারী বসুন্ধরা,
স্রোতস্বিনী নদী হয়ে কাটায় যে খরা ।
নারী জলে ভরা ডুব আহা কি পুণ্য,
নারী এক প্রকৃতি তাতে পুরুষ সম্পূর্ণ।
গতিপথে ভিড় বাড়ে,কত নুড়ি পাথরে
নারী হল মা, যেন সংসার গা গতরে ।।

তবু আজ নারী যেন কাঠপুতলি খেলনা,
দিকে দিকে লোলুপতা এতই কি ফেলনা!
সংকটে মুখ বুজে যদি নারী ওঠে ফুঁপিয়ে
কিবা লাভ সভ্যতার নদী গেলে শুকিয়ে!।
তাই নদী হলো নারী রুপ, চঞ্চলা ভরসা,
সমাজের জলতরঙ্গ বাজে রিমঝিম বর্ষা।

যাবি ?
- মোশ্ রাফি মুকুল

চল হেঁটে আসি
হেঁটে আসি দিগন্তবিস্তৃত ছায়া ধরে দীঘল 'না পাওয়ায়'-
তারপর কুটিকুটি করি পরমায়ু,
চল হেঁটে আসি আজ
ব্রডগেজ পথে
তুলে আনি পৃথিবীর দীর্ঘতম চোরাকাঁটা।
চল বুনে আসি পাইনের শেকড়
এখানে ওখানে ভেসে উঠুক প্রেমকায়া।
চল আমরাও দাঁড়িয়ে যাই নিভৃতচারী বৃক্ষের সারিতে-
আমাদের করে তুলি প্রাসঙ্গিক।

চল দাড় টানি,দাড় টানি সমসাময়িক ক্লেশ ভুলে
ফেনিল দুঃখগুলো কলম্বাসের মতো
অনায়াসে করি ফেলি অতিক্রম...

তারপর
এক না পাওয়ার দেশ আছে
মানচিত্রে,
ধুমায়িত সড়ক ধরে
যেখানে অহরহ চলে
স্বপ্নের স্টিম ট্রেন

যাবি?বুকের বাস্কেটে তুলে আনবি
জাহ্নবী শিশির?

ধ্রুপদী কোরাস
- রিয়েল আবদুল্লাহ

নদীর মতো রাতভর তুমিও নদী ছিলে
দুটো নিশিপাখি একসাথে গেয়েছিলো কোরাস
ভোর হতেই নদী আর নেই–তুমিও রুক্ষ মরুভূমি
পলাতক পাখি দুটোও সেই যে গেছে আর ফেরেনি।

বুঝি নদীর মতো শুকিয়ে যায় প্রেম–ক্ষয়ে যায়
মৃত নদীর বুকে জেগে উঠা চর যেন নতুন আকাশ
ওখানে ওই দিগন্তে উড়ে যত নীল প্রজাপতি
তাদের সাথে একদিন মেলবো ডানা– ইচ্ছে দারুন।

আহা তোমার বুকেও যদি নেমে আসতো জল!
তুমি আমি আগের মতোই গেয়ে যেতাম গান
বিষন্ন কাঁচভাঙা প্রহর দূরে ফেলে একান্নমনে
খেলে যেতাম ধূলিখেলা–
ছেঁড়া দিগন্তে উড়িয়ে দিতাম ফের ধ্রুপদী কোরাস।

হয়তো আর ফিরবে না
এই সাওতালি রাতে দহনে পুড়াবে বুক
সন্ধ্যাবকুল স্নিগ্ধ গন্ধ ছড়াবে
দূরে চাঁদ একা একা জেগে পাহাড়া দেবে।

যদি ফিরে আসো
পোয়াতি ধানের বেলা
রেনূময় ধ্রুপদী সকালে
দেখবে শিশিরে সূর্যের খেলা
পুলকিত প্রাণে প্রবল উচ্ছ্বাস ।

আমি ছিলাম আছি থাকবো
ভালোবেসে তোমায় কাছে ডাকবো
সাওতালি রাতে চাঁদের মতো জেগে একা।

বেপরোয়া
- মোশ্ রাফি মুকুল

নিশিন্দা রাত-
স্নিগ্ধ প্যারাবন,
কেয়া কাটায় গেঁথে আছে বালিয়াড়ি।

তাহাদের সাথে সমুদ্র সঙ্গম
ছদ্মবেশী আলোকসজ্জায়
ঢেকে গেছে যাহাদের পথ-
জীবনের বাঁকখালী নদীতে
ডুবে গেছে যাহাদের সব জোৎস্না

বেপরোয়া তুমি
মেতে আছো তুমুল স্নায়বিক রক্তপাতে
দীর্ঘমেয়াদী হলিস্টিক উত্তেজনায়।

দোজখে পড়ছি ঝুঁকে
- সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

দোজখের হাঁ-য়ের নেইকো কোনো জুড়ি!
সেথায় সুবাসের জমাটি সংলাপে
মাতলামো যেন প্রাণ-সখা, মহামারী|
কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা সুরা ও সাকিতে মজে
আঁতিপাঁতি খোঁজে বিনোদন-রামধনূ |
বুড়ো আঙুল প্রর্দশনে সামাজিক তমসায়
কত না আহ্লাদে সময়টা ভারী মাতাল !
ম ম ম-কারন্তক পিচ্ছিল সড়কে
পৃথিবীটা তখন আমুদে এবং আনাড়ি!
নামতে নামতে রসাতলের ঘন আলিঙ্গনে
অভাজনের চোখের পাতা নেশায় রঙ্-বাহারী|

নামে তীব্র ধস ঢাল বেয়ে অতলতলে,
তলে তলে জহান্নমের খোলা সিংহদ্বার,
চেটেপুটে রসাস্বাদনে দিল খুস্ দিলবাহার!
নরকের অত্ত বড় হাঁ-য়ের লালার মোহে
চমৎকারে ভালবাসি অশ্লীল অনাচার,
বিলাস-বজরায় পাপের সম্ভারে অমৃতের ছড়াছড়ি
হাঁ জনাব, বাঁচবার জন্য ওটাই জীবন-সওয়ারী!

তারিখঃ ১৪/০৯/২০১৮|

ঘটনাটি মামুলি নয়
- সোনালী মন্ডল আইচ

উল্টো পথে হাঁটতে হাঁটতে
পিছু ফিরলে তার খিলখিল হাসি
আর মেরুদন্ড পর্যন্ত আবেগ

এসব সিনড্রম বড্ড অবাধ্য জেদি
উদার দরাজ ও তীক্ষ্ণ কর্ষনের পর
ঝুরঝুরে মাটিতে বীজের অহংকার
তাতে আয়নাও কেঁপে ওঠে...

©Sonali Mandal Aich

পুরোনো শহরের স্মৃতি
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

একদিন আমিও ছিলাম তোমার পুরোনো শহরে
আমারও বসতভিটা ছিলো তোমার পুরোনো সে
শহর জুড়ে ৷

ভালোবাসাময় এক যৌথ খামার ছিলো সেখানে ,
দুয়ার ছিলো ; ছিলো জানালা ভরা প্রিয় আকাশ
আর তুমি ছিলে ৷

আমার অপেক্ষাতেই বন্দী থাকতে ভেতর দুয়ারে
কখন ফিরবো আর কড়া নাড়বো খামারের সেই
বন্ধ দুয়ারে জোড়ে ৷

আজও স্বপ্ন দেখার স্বপ্নেরা আছে তোমার শহরে ,
শূন্যতা আর হতাশার যৌথ গ্রহণ চলছেই আজও
আমার শহর জুড়ে ৷

যে শহরে একদিন ছিলো ভালোবাসার মাদকতা
সে শহর আজকে ভালোবাসাহীন ; আছে শূন্যতা
আর ব্যার্থতা ৷

তোমার শহরে আজ জানালা ভরা প্রিয় আকাশ ,
আর আমার শহরে আজও পাওয়া না পাওয়ার
যন্ত্রনার বসবাস ৷

তোমার শহরে তুমি তোমার মতো ভালো থেকো ,
অামিও ভালো থাকার অভিনয়টা আমার মতো
শিখে নেবো ৷

১১/০৯/১৮খ্রীঃ

এক ফালি চাঁদ
- রানা চ্যাটার্জী

পোড়া রুটি এক ফালি,চাঁদ ওই আকাশে,
ওরে ছেলে খাস নি কো,মুখ বড়ো ফ্যাকাসে!
পিঠে দেখি বোঝা ভারী , কাগজের বস্তা ,
হাড়ে হাড়ে বুঝেছিস জীবন নয় সস্তা !

চাঁদ দেখে বড়ো হওয়া,ছোটো বড়ো সকলে,
চাঁদ মামা দেয় হামা ,টিপ ও দেয় কপালে ।
এক ফালি চাঁদ দেখে,শূন্যতা আসে ওই ,
জোছনার আলোতে চল খেলি ওরে সই ।

কবিদের মনে কতো ,লেখা ভাসে শত শত ,
চাঁদ পানা মুখ দেখে, খুশি হওয়া অবিরত ।
তবু দেখি খিদে পেলে,পোড়া রুটি চাঁদ টা ,
জীবন টা ক্ষতে ভরে,খাবি খায় প্রাণ টা !

চাঁদ দেখে আসে ঈদ, পূর্ণিমা পূজাও,
পঞ্জিকা চাঁদ দেখে ,রমজান রোজাও I
এই চাঁদ ভালোবাসি,তুমি,আমি,রোমিও,
চাঁদ মামা রাত জাগে,ভালো করে ঘুমিও।

শব্দের শক্তিতে
- মোশ্ রাফি মুকুল

কোন পথে এসময়
কোন পথে সবিতা,
কোন পথে কবিগণ
ছড়া আর কবিতা।

ছড়া কি কথা কয়
দেশ আর জনতার,
হুনুলুলু শব্দ'তে
জান যায় কবিতার।

কোন পথে প্রেমিক আর
কোন পথে জুলেখা,
হার্টবিট বাড়িয়ে
হেঁটে যায় সুলেখা।

কোন পথে যুবগণ-
কিশোরেরা কোথা যায়,
ভবিষ্যৎ ভুলে সব
ডাইল আর বাবা খায়।

কোন পথে মানবতা
কোন পথে দর্শন,
কোন পথে ঘুচবে
পথে ঘাটে ধর্ষণ।

শব্দের শক্তিটা ভুলে গেছো?
বাগ্মী আর ছড়াকার,
ওৎপেতে বসে আছো
পেতে ক্রেস্ট বাহাবার?

ছড়া আর কবিতায়
শুরু হোক যুদ্ধ,
শব্দের অবিনাশ শক্তিতে
সমাজ হোক শুদ্ধ।

০৭/০৯/২০১৮.

কানের ঠিক কিছুটা উপরে একটা পিস্তল তাক করা ,
সামনে সাজানো রয়েছে বিশাল এক পেটোয়া বাহিনী ,
পিছনেও পড়ে আছে রাজ্যের তামাম রক্ষি বাহিনী ;
কারনতো একটাই জনতাকে ওদের মতো
করতে না পারা ৷

গণতন্ত্র নামক এক দিল্লিকা লাড্ডু ঝুলিয়ে রাখা সামনে ,
একনায়কতন্ত্রকেও বৈধতা দিয়ে;নাম তার অাজ গণতন্ত্র ,
স্বার্বভৌমত্ব ভেবে ছিনিয়ে নিয়ে দেখি সেও এক ষড়যন্ত্র ,
সব তন্ত্রেরই ঠিক একই মন্ত্র যা জনতার
কাপর খোলে ৷

স্বৈরাতন্ত্রের নিয়মিত চলাচল আজকে আমার রন্ধ্রে-রন্ধ্রে ,
স্বাধীনতা'তো হলো এক ট্রাম কার্ড তার জুয়ার টেবিলে বসে ,
সব তন্ত্রকেই দেখি দিনের শেষে স্বার্থতন্ত্রেই
গিয়ে মিশে ,
বাম ঘরামী স্বভাব আমার সেতো শুধুই আপন দম্ভে ৷

পত্রময় জ্বালাতন চঞ্চল মনে করিয়া স্মরণ
অহনা লিখেছে চিঠি তার মনের মতন!
পড়েছি চিঠি যাহা, ছন্দময় লেখার ভাষা
বনমালী হয়ে বুঝেছি, তোমার সুপ্ত লেখা।

চোখের কোনের জলে, পুরোনো সেই দিন-গুলি
ঘূণে ধরেছে মোর, অসমাপ্ত কথার বুলি!
অহনা তোমার কথা, ভাবিয়া আপন মনে
ফেলে আসা দিন-গুলি, মনে পড়ে নির্জনে?

সময়ের কাছে হারিয়েছি, চোখের কিছুটা দৃষ্টি
অহনা তোমার চিঠিগুলো, সাদা-কালো জীবনের সৃষ্টি!
সময়ের কাছে অসহায়, থেকে ও যেন-নেই
তুমিই সুখি অহনা, পরপারে গিয়েছো যেই।

তোমার শ্বশানের পাশে, অনেকক্ষণ রয়েছি বসে
স্মৃতি-তে তুমি অহনা, সারাক্ষন থাকো পাশে!
তুমি নেই অহনা, হয়তো আর বাঁচবো-না?
আমি ও আসতেছি, ধরাধামে আর থাকবো-না।

বি.দ্র: [ এখানে কবি, একজন প্রিয় মানুষের মৃত্যুর পর
তার প্রিয় মানুষটির প্রতি, ভালোবাসার কেমন
আর্তনাদ?
নি:সঙ্গ জীবনে কবির চোখে ভেসে উঠা,
কল্পনার কিছুটা প্রয়াস এই কবিতা। ]

খিদে-টিদে
- সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

খাই খাই আপাদমস্তকে জিরান-আয়োজন
ঢিল ছোঁড়া দূরে যায় থমকে!
মেটার পরও মিটল না চাহিদার আদ্যোপান্ত,
বিশাল হাঁ-টাও যেন তথৈবচ!
নয় জঠরের, নয় মনের, নয় দেহের-
অশরীরী কিছুর ভর ও ভারে নিজেরাই
বেসামাল-বেআক্কেল পথের চমকে!
চমকানির এমন বৈভবে স্থান-কাল-পাত্রেও
সার সার গলদের শুনি তুমুল হর্ষধ্বনি!
চাহিদার সরোবরে তখন দিন-রাত্তির সব
একাকার একাসনে|
রসনা-কামনার পরেও আরো কত শত
কিউ-য়ে দাঁড়িয়ে !
খাওয়ার নানা কৌশলে দুর্বলতার ভূমিকা
বেশ বেশ স্পষ্ট শিরা-উপশিরায়,
সাথে হাজার কলহ ডুগডুগি-ঝুমঝুমি হাতে
ব্যস্ত নাকি আপ্যায়নে !
খাই খাই মাথা থেকে পা দজ্জাল প্রেমে
মানুষকে রাখে বশে খুব ধমকে!

শ্রীরামপুর, হুগলী, বাংলা,
পিন-৭১২২০১, ভারতবর্ষ |

তানপুরা টায় জমেছে ধুলা
পড়ে আছে ছিন্নভিন্ন শেক্সপিয়ার
কেউ আসে না সেই ঘরে
কেউ ধরেনা সা রে গা ম খুব ভোরে।
নক্ষত্র মেঘের ওপারে দাঁড়িয়ে
মনের জানালা খুলে
দেখে বিনোদিনী,
কি ভুলে হারিয়েছে তার কুল?
ভালবাসা! সে কি মিছে, সব ভূল।
প্রজাপতির রঙে রাঙানো দিনগুলি
বকুলের ফুলশয্যা,সেই আশ্বাস
সে কি মিছে,সব ভূল!
কারো প্রতারণা, মিথ্যের মায়াজাল
ক্ষনিকের মোহে হয়েছে কি সে কলঙ্কীনি?
আজও বিনোদিনী
ভালবাসা খুঁজে ফিরে মহাকালের কাছে
তারায় তারায় মেঘের ভেলায় ভেসে
মিলন, বিরহ আর সঙ্গমের মাঝে।
ভালবাসা সেকি মিলনের নয়!
সঙ্গমে কেন কলঙ্কিনী হয়?
দেহ-মন কখনো কি ভিন্ন হয়,
তবে লোকে কেন কলঙ্কিনী কয়?
আঁধারে ঢেকেছে তার মান
তবুও প্রেম উজ্জ্বল তার নাম।
আজও জানা হয়নি বিনোদিনীর
নির্মল প্রেমের কেন এই করুণ কাহিনী?

সাগরনামা-৬০
=============

তোমার পুঁজো আমার ঈদ
মন খুশিতে হারায় নিদ্,


খুশির মাঝে কষ্ট ছড়ায়-
বস্তুবাদী চিন্তাবিদ।
-
সাগর আল হেলাল

বৈষম‍্যটা কাটবে যে দিন,
সবার সেদিন হবেই সুদিন।
সুখ-দুঃখেরা আসবে যাবে,
ভালো-বাসা ঘরেই রবে।
সুখের খোঁজে ছুটে বেড়ায়,
দুঃখ তাতেই পিছু তাড়ায়।
মনের কোনে লোভের বাতাস,
মেঘলা হলো হৃদয় আকাশ।
ঘৃণা আসে ভালো কথায়,
মিষ্টি কথা মানুষ ফাঁসায়।
দায়টুকু যে আমার শুধু,
সত্যি কথায় তেঁতো মধু।
মন্দ হলেও লাগবে ভালো,
থাকলে ছোঁয়া আশার আলো।
প্রশংসা কেউ করলে তারে,
ভুলে কেমন সত্যি যারে!

********

তাং: ‌২৪/০৬/২০১৮ ইং
৯ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
বিকাল:৫.৪৪
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

ভ-এ ভিনিগার
- সোনালী মন্ডল আইচ

প্রলাপ হল সব
শ্যাওলাপরা পিছল ছিল ঘাট
ভাসিয়ে নিল বহু দূরে

একটা কবিতার জন্ম
রাত ফুরিয়ে গদ্যকথা একঘর
টালমাটাল রোডেনবাখের সুরে সেদিন

কে মন নিল
কারো জানা হোলোনা
আর কোনোদিন জানা হবেনা

কবিতার শেষটুকু থাক
ত্রিকোণ বা চৌখুপির
ফলন্ত কোনও যবের ক্ষেতে...

©Sonali Mandal Aich

রেনেসাঁস
- মোশ্ রাফি মুকুল

যখনি আনো তুমি
ভালো লাগা রেনেসাঁস,
দিনগুলি হয়ে যায়-
ঈদ পূজা ক্রিসমাস
জাগ্রত করো তুমি অনাবিল মৌতাতে।

এইখানে আনো তুমি
ত্রি আলো সন্ধি,
লাল নীল উচ্ছ্বাসে
কারো করো বন্দি-
কেউ কাঁদে দিনরাত,রাখো কারো দুধভাতে।

এইখানে আনো তুমি
স্বপ্নালু মায়া ঘোর,
আলেয়ার ছায়া তুমি
সোজা পথ ইগনোর-
ভুল জাল বুনে যাও,গড়ো কালো ইতিহাস-
কবে হবে রেনেসাঁ,প্রেমময় রেনেসাঁস?

১০/০৯/২০১৮.

অসমাপিকা প্রিয়া
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমার হাতেই লেপটে আছে কষ্টের লোবান
সুগন্ধি বরষা
জামদানি দুঃখের কাজ,ক্রিমসন ক্রিয়া-

দৃষ্টির সমরেখা এঁকে যায় মন
এগিয়ে যায় দশ আঙ্গুল সময়।

এখন ফিরবোবা কি করে
ফেরারি পানশালায়?
আমার কাছে কোন টাইম মেশিন নাই।

প্যাপিরাসে আঁকছি কতো মনোলোভা সেতু-
পার হবো দুঃখ,বিষাদিত নদী
জামদানি দুঃখগুলো গলে যাবে
থেমে যাবে সব ক্রিয়া,
হয়তো পাবোনা দেখা,হয়তো দেবেনা দেখা-
আমার অসমাপিকা প্রিয়া।

১১/০৯/২০১৮.

হে গো বন্ধু!
আমিও হেঁটেছি সেই পথে,
পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে-
তবো পদচিহ্ন খোঁজে।
চোখে ঝরে ছিল নোনা জল,
তাই যেন ফুটেছিল-
হৃদয়েতে হয়ে শতদল।
মনের আকাশে ছিল না সূর্য,
ছিল না চাঁদ-তারা;
তুমিই ফুটেছিলে হয়ে ধ্রুবতারা।
প্রহরে প্রহরে হৃদয় কন্দরে,
তুমি করেছিলে মোরে দিশেহারা।
পাখি ডাকে কথা কয়,
রাত ধীরে নিঝুম হয়!
এসো বন্ধু, এসো তুমি-
আঁকি মিলে জীবনের ছবি।

********

তাং: ‌২৫/০৬/২০১৮ ইং
১০ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৮.৪৬
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

পিছু-টান
- শৈলেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

আট আটটে আটাশ বলা
আসুক না ফিরে ফের।
শোলোক বলা কাজলা দিদি
কোথায় যে পাবো ফের?

কাঁচের গুলি খেলতে ভুলি
লেখাপড়ার বাহার,
উদোম গায়ে বাদল দিনে
কাটছি সুখে সাঁতার।

ছিপ ফেলে ঐ মাছগুলোকে
ধরেই ফেলি যখন
তাল-ফুলুরি মনটা কাড়ে
আজো যখন তখন।

ঝড় বাদলে থাকে না মনে
বয়স বাড়লো কতো,
আম-বাগানে ছুটেই যদি
শৈশব ধরা যেতো।

কোন্নগর, হুগলি ।

পায়ের তলায় চোরাবালি
- মোশ্ রাফি মুকুল

নদীগুলো সব ভরাট হয়ে যাচ্ছে
তবে কোথায় যাবে ছোটমাছ-
নাচুনে বাটাং,গাঙচিল?
স্পাই নখরের সোনালী ঈগল
গুপ্তচরে বসে এঁকে যায় বহুতল সমুদ্র...

একিলিস দুঃখগুলো জমাট বাঁধে পাঁজরে
অচিরেই শুনতে পাবো
মর্মরিত সুখাসুখগুলো
উচ্ছ্বাসী ঝর্ণার মতো ভেসে গেছে প্রেমবতী উপসাগরে,
হৃৎপিণ্ডটা হয়ে যাবে ভীষণ খালি...

গলাগলি করে এইসব ধুধু বালুকায়
পড়ে থাকবে
অজাচিত প্রেমের কিছু বিমূর্ত ইলেক্ট্রন প্রোটন;
আমিও এখন ভরাট নদী-
পায়ের তলায় হৃষ্টপুষ্ট চোরাবালি,
পরিযায়ী পাখিরা কি কারণে
কিসের মোহে
আবার আসবে
আমার নিত্য নাতিশীতোষ্ণে?
ডানাভাঙা পাখি,মৃত নদী,আর
পরিত্যক্ত মানুষের দুঃখ থাকতে নেই
কষ্ট থাকতে নেই।
--------------------
০৮/০৯/২০১৮.

(১)ধরুন আপনি বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মশগুল।ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু মেয়েকে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখে এক পর্যায়ে মেয়েদের 'মাল' বলে ডাকলেন।আপনি বলার সাথে সাথে মেয়েদের মধ্যে একজন মুখ ওড়না দিয়ে ঢেকে হাঁটা শুরু করলো।আপনি বন্ধুদের নিয়ে সে মেয়েগুলোর পিছু নিলেন।সন্ধ্যে ঘনিয়ে আসছে তখন।আপনাদের ভয়ে মেয়েগুলোকে খুব দ্রুত হাঁটছে হচ্ছে।কিন্তু হঠাৎ মেয়েদের মধ্যে একজন মেয়ে মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যায়।সেই যে সেই মেয়েটা,যে ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁটছিলো।আপনি কাছে গেলেন।সকল লোভ আপনার ধপাস করে মাটিতে মিশলো।এক পর্যায়ে জল ছলছল করছে আপনার চোখে।কারণ যে মেয়েটিকে পেছন থেকে আপনি মাল বলেছিলেন ওটা আপনার ছোটবোন ঐশী।
.
(২)আপনি পেছন দিক থেকে বাই সাইকেল করে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছেন।রাস্তায় দেখতে পেলেন রিক্সায় বসা এক যুবক অন্যপাশে বসা এক মহিলার কোমর জড়িয়ে আছে।আপনি রিক্সা ক্রস করার মুহূর্তে মুখে বিচ্ছিরি শব্দ করে ক্রস করলেন।কিন্তু খানিকটা দূর যাবার পর দেখলেন প্রচন্ড জ্যাম রাস্তায়।থামতে হচ্ছে আপনাকে।হঠাৎ দেখলেন সেই রিক্সা।রিক্সায় থাকা যুবকের হাতে বড় বড় ফাইল।পাশে বসা মেয়েটি যুবকের কাঁধে মাথা রেখেছে।মনে হচ্ছে ভীষণ অসুস্থতা।এক পর্যায়ে ওই মেয়েটির মুখে বলতেও শুনলেন,বাবা রে আমি মারা গেলে ছোটবোনকে দেখিস কিন্তু।
.
(৩)আপনি বন্ধুর বিয়েতে গেলেন।খুউব মাস্তি করে বন্ধুর বিয়ে সম্পন্ন।আপনাকে রাত দেড়টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে।কারণ আপনার মা অসুস্থ।বাসায় কেউ নেই।রাত দেড়টায় মাকে ওষুধ খাওয়াতে হবে।কিন্তু সেদিন রাতে আপনার আরেক বন্ধু সুমন আপনাকে পতিতালয়ে যাবার প্রস্তাব দিলো।আপনি নিজেকে সামলে নিতে পারলেন না।আপনি গেলেন।পতিতালয়ে যাবার পর খুব সুন্দর কিছু মুহূর্তের কাছে আপনি বাড়ি ফিরার তাগাদা ভুলে বসলেন।সকালে বাড়ি ফিরে দেখলেন বাড়ির সামনে অনেক লোকজন।আপনি দৌড়ে ঘরে ঢুকলেন।দুই-তিন ইঞ্চি দূরে গ্লাসে জল,তার ঠিক পেছনে আপনার মায়ের রক্তমাখা শরীর।একটু পেছনে বঁটি।আপনার মা চোখের পলক ফেলছেন না।হয়তো একটু জল খেতে চেয়েছিলেন অথবা ওষুধ।কিন্তু তা আর হয়নি।চলে গেলেন আপনার মা...

স্বল্পদৈর্ঘ্য রোদ
- মোশ্ রাফি মুকুল

এই যে স্বল্পদৈর্ঘ্য পরাগায়ন
ফুল ও ফসল-
নির্বাচিত দুঃখ বীজ

এই যে অল্পকিছু প্রেম
সুখোষ্ণ স্বল্পগল্প
জানালার কাছাকাছি অল্পাংশ রোদ

এই যে নিটোল 'কিংকর্তব্যবিমুড়'
দোআঁশ স্বপ্নঘোরে
জীবনের প্রমিতি মাপা
আঁকড়ে ধরা সুফলা বিষাদ
একার উঠোনে
ভিন্ন ব্যাকরণে কিছুটা বাঁচা

০৪/০৯/২০১৮.

রাষ্ট্রের সামান্তরিক আরেক রাষ্ট্র
- মোশ্ রাফি মুকুল

যে মানুষটা নিতান্তই সাদাকালো
সাদাকালো আঁচড়ানো যার
চুলের পরিপাটি ভাঁজ-
কালো চশমার ফ্রেমে যার সার্বভৌম কারুকাজ;
হৃদয়ে যার ষোলআনা বাঙালীয়ানা
গ্রাম বাংলার গণমানুষের স্বরগুলো বেজে উঠতো
যার কন্ঠে ধরে
সে মুজিব
সে বঙ্গবন্ধু সে আমাদের খোকা।

খোকা বড় হয়েছিলো অনেক বড়,
মানচিত্রের মতো ঈষানে অগ্নিতে চতুর্দিকে-
ছড়িয়ে পড়েছিল তার সহাস্য বিস্তার
মানুষ মানস জেগে উঠতো
যার মুগ্ধ কথার স্পন্দনে;
খোকা ভালেবেসে দিয়ে গেলো দেশ- স্বাধীনতা,
খোকাই হলো রাষ্ট্রের সমান বিশাল বড়
খোকাই হলো দীর্ঘকায়ার দীর্ঘছায়া-গণমানুষের
দীর্ঘকালের।
যাকে স্মরে- বাংলায় ওড়ে
লাল সবুজের পতপত
অম্লান পতাকা।
মুজিব সেতো রাষ্ট্রের সামান্তরিক আরেক রাষ্ট্র।

চাঁদের বুড়ি
- সোনালী মন্ডল আইচ

ওদিকে মাথা নাড়ে কাশ
এদিকে সারি সারি শাল
আঁকা যেন পথ

বাঁক নিলে ধুলো ওড়ে
লালমাটির ঘূর্ণি ঝড়ে টুপটুপ
পাতা ঝরা মনখারাপ

হাট বসে হাঁক পারে
কিছু খুচরোর বদলে
মণ মন নিলাম

হেঁটে হেঁটে পথ শেষে
পাতা পোড়ে ভাত ফোটে
তারাদের সন্ধ্যা নামে

ঝিঁ-ঝিঁ ডাকে ঝিল জুড়ে
চোঁয়া ঢেঁকুর ফেরি মনে
ঘরঘর চরকা কাটে

বাগদি পাড়ার গানের সুর
চুমুর মতো দুচোখ ছুঁলে
গভীর ঘুমে রাতভোর...

©Sonali Mandal Aich

হেরে গিয়েও জিতার মানে আজ, আমি জেনেছি,,,,,
জেতা নয় হারায় আছে প্রকৃত শান্তি, তা আজ মেনেছি....
আমি আজও হারিনি, ভালবাসাতে না জানার কারনে,,,,,,,
হেরেছি শুধু কিছু অদ্ভুত অভিনয়ে, ভুল হওয়া ব্যাকারনে,,,,
আসলে কি আছে এমন এই, অভিনয়ের মাঝে?.....
তাই তো সাজালাম কিছু অভিনয়, নতুন সাজে,,,,
আমি দক্ষ নই, তবু পেরেছি করতে অভিনয়,,,,,
তোমার অই আসল রুপ পেরেছি জানতে, এইতো বিনিময়,,,
কষ্ট কিছুটা অনুভব করছি আমি মনের এক আবরনে,,,
আচ্ছা কেন দিলে এই কষ্ট আমায় বলোতো অকারনে....
চাই নি ব্যাখ্যা আমি যে,কখনো তোমার কাছে,,,
বলেছি বার বারই আমাকে ছেড়ে যাবার, অধিকার তোমার আছে,,,,
চাইলেই পারবে যেতে তুমি, যদি গো মন চায়...
তবে শর্ত যাবার আগে বলে দিও, যাচ্ছি গো বিদায়,,,,,
সেই শেষ কথা টাও রাখলে না,মনের ও ঘরে,,,,

ভাবিও না! তবু আমি দিবো না অভিশাপ কোন, কেঁদে অঝড়ে,,,

আমি আজো দোয়া করি, তুমি সুখে থেকো গো চিরোকাল,,,
কারন,,, আমি তোমায় ভালবেসেছি,বাসি,আর,বাসবো অনন্ত্য কাল,,

অণুগল্প -১ চশমা
বহুদিন আগের কথা। দেশে তখন সাদা কাপড়ের প্রচুর ব্যবহার ছিল।তাই প্রজারা সবসময়ই সাদা পোশাক ব্যবহার করতো। কিন্তু সমস্যা হয় রাজার। কারণ প্রজারা যে পোশাক পরে তা তো আর রাজা পরতে পারেন না।তাই রাজা পোশাক শ্রমিকদের বাহারী রঙের পোশাক বানানোর হুকুম দিলেন । কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ রাজ্যের পোশাক শ্রমিকেরা সাদা পোশাক ছাড়া অন্য পোশাক তৈরী করতে পারলো না,ঐ দিকে আবার রাজার হুকুম না মানতে পারলে জীবন থাকবে না।তাই জীবন বাঁচনোর জন্য শ্রমিকেরা চালাকি করে সাদা কাপড়ের সাথে কিছু বিভিন্ন কালারের চশমা রাজার রাজ্যে পাঠালেন।ওরা চশমাকে পোশাকের একটা অংশ হিসেবে প্রচার করলো এবং রটনা রটালো যে রাজা যখন পোশাক পরবে তখন আশেপাশের সবাইকে চশমা পরতে হবে নয়তো রাজা মরে যাবে। এই ভয়ে রাজার সাথে যারা থাকতো তারা সারাক্ষন চোখে চশমা লাগিয়ে রাজার পোশাকের সোন্দর্য বর্ণনা করতে থাকতো।রাজা খুব খুশি হতেন।কিন্তু রাজ্যের যারা চশমা পরতো না তারা রাজার পোশাকের গুনগান করতো না।এতে রাজা দুঃখ পেতো খুব,তাই যারা চশমা পরে না তাদের তিনি রাজ্যছাড়া করলেন।এবং রাজ্যে তারাই বসবাস করতে থাকলো যাদের চোখে চশমা ছিল। এভাবে চলতে চলতে একদা তারা আবিষ্কার করলো রঙিন চশমা চোখে লাগিয়ে উলঙ্গ শরীরও সুন্দর দেখায়।রাজা তাই তখনি সবাইকে চশমা পরে পোশাক ছেড়ে দিতে হুকুম করলেন।রাজ্যের সবাই সাথে সাথে রাজার হুকুম মানলেন।অতঃপর তারা একে অপরকে বলতে লাগলো পোশাক পরার কি দরকার? চোখে চশমা লাগালেই তো হয়!
অণুগল্প -২ প্রণয়
নীলার মৃতপ্রায় স্বামীর ইচ্ছে মরার অাগে তার কাপনের কাপড় একবার দু হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখবে।তাই সে লোক দিয়ে বাজার থেকে কাপড় কিনিয়ে এনে বউকে বললেন আমার শরীরের মাপ নিয়ে কাপড়টি কাটাবে এবং তোমার কাছে রেখে দিবে।খুব শীগ্রই তোমাদের এই কাপড় আমাকে পরাতে হবে।একথা শুনে স্ত্রী স্বাভাবিক ভঙ্গিতে স্বামীর হাত থেকে কাপড়টি নিয়ে অন্য কক্ষে চলে চলে গেলেন। এবং স্বামীর কথা মতো কাজ করলেন, তার শরীরের মাপ নিলেন,কাপড়ে পবিত্র জল মিশালেন।সামান্য পরিমাণ বিচলিত না হয়ে স্ত্রী কর্তৃক বহুদিনের অসুস্থ স্বামীর শেষ বিদায়ের এই অানুষ্ঠানিকতা প্রতিবেশিদের একটু বিচলিত করলো।তারা ভাবলো বহুদিন অসুস্থ স্বামীর সেবা করতে করতে হয়তো বউটি ক্লান্ত এখন তার ছুটি চাই।হয়তো সে কারণে স্বামীর চলে যাওয়ায় তার দুঃখ নাই,সে বাঁচতে চায় একটু আরাম করে দম নিতে চায়।
পরদিন ঐ বাড়িতে একজন লোক মারা গেলো।মানুষ অবাক হলো এই দেখে যে,যার মারা যাওয়ার কথা,সে মারা গেলো না! বিশেষ করে অবাক হলো অসুস্থ স্বামীটি।যখন তিনি দেখলেন তার জন্য কিনে আনা কাপনের কাপড় তার শরীরের মাপের ছিল না।বউ তার সাথে ছলনা করছে!
লেখক
জুয়েল মিয়াজি।

বাউল চলেছে
- ভোলাদা

উন্মুক্ত কন্ঠে গান গেয়ে
পল্লীর পথ ধরে পরমের সন্ধানে
ওরা সহজ কথা সহজ ভাবেই বলতে পারে
চাকচিক্যের মোড়কে জটিল জীবন আমাদের!

পাখপাখালি চুপ করে শোনে
সেই সুর বুকে বয়ে বাতাসও হয় উদাস
নদীর ঢেউ নিমেষে খুঁজে পায় আপন তাল
মাথা নেড়ে দোল খায় সবুজ ধানের শীষ...

ছন্দে ছন্দে মাতে প্রকৃতি
আনন্দে নেচে ওঠে পথের বুনোলতা
বন্দনায় বিভোর হয়ে সাজতে বসে ষড়ঋতু
চন্দ্র সূর্য একমনে রাঙায় গোধূলি ঊষা।

আহা রে প্রাণ জুড়োয়
একতারার টিং টিং তার ছুঁয়ে যায় অন্তর
ব্যস্ততার তাগিদে হঠাৎ ঘটে ছন্দপতন
অনায়াসে বলি.... ওরা তো উন্মাদ!

রাগ করতেও শেখেনি ওরা
জবাব লুকোনো চিলতে হাসির আড়ালেই
তবু নির্লিপ্ত ভাবেই পৌঁছাতে চায় সাধন মার্গে
উদারতা আর ত্যাগের প্রতীক গায়ের বসন।

বাউল চলেছে..... মেঠো পথে
বড্ড সাধ মনে, যদি মিলতে পারতাম?
যৌবনের মত্ততা ফুরিয়ে ক্লান্ত বেলার শেষে
থেমে যাওয়ার ঠিক আগের মুহুর্তে!

বাউল চলেছে..... আনমনে
আগবাড়িয়ে হৃদয় ভরিয়ে বার্তা ছড়িয়ে...
"আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে..."
ওর গানে জীবনের সম্পূর্ণ অন্য মানে!

৭ই সেপ্টেম্বর,২০১৮

ক্রন্দনের শব্দ শুনি দূরে কোন গ্ৰামে,
বিবশ মন জেগে উঠে গভীর স্বপনে।
খোঁজে চলি একা আমি আঁধারের পথে,
বিরহ বিধুর রাতে শুধু জোনাকিরা সাথে।
সুরের ঝঙ্কারে যেন কেউ করে তাড়া,
আমি বুঝিতে নাপেরে কিছু হ‌ই দিশেহারা।
অশান্ত হৃদয়ে শুনি বজ্রের নির্ঘোষ নাদ,
বুঝি এবার কাদম্বি রাক্ষসী পেতেছে ফাঁদ।
ঢেউএ ঢেউএ ভেসে আসে অশান্ত বাতাস,
কালো আরো কালো হলো মেঘলা আকাশ।
ছুয়ে-খেয়ে দেখে সে কার কিবা স্বাদ,
অগ্নিময়ী রূপ তার পড়ে যদি কেহ বাদ।

********

তাং: ‌২৬/০৬/২০১৮ ইং
১১ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৫.১৫
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

ফিরে আয় শুভ্র
- মোশ্ রাফি মুকুল

শুভ্র।ভীষণ হ্যান্ডসাম ছিলো।
ঘরে না ফেরা লিথিয়াম পাখি
কিংবা
বাষ্পীয়ভূত শব্দদের মতো সেও আর
মগজে ফিরবেনা বলে প্রতিজ্ঞা করেছে-
ভুলে গেছে লিঙ্গ।
প্রজাপতি হাওয়ায় উড়িয়ে দেবে তার মায়াবী দুপুর...
কবিতাভূমিতে একে একে
এঁকে যাবে পলায়নপর নন্দনগাছ।

এমন বন্ধ্যাকাল আর আসেনি আগে,
শীতল কবুতরগুলো থেকে হিমবাহ নেমে আসে...
অন্ধকারের ভেতরেও অবয়বহীন পুরুষ আছে
তাকে নিংড়ে নিলোনা কেউ,
প্রতিটা টেবিলে আলোচনারত নপুংসক বাঁচতে চাওয়া-
শুভ্র তুইওতো পুরুষ ছিলি!
ফিরে আয় শুভ্র-
একসাথে শব্দহীন কবিতা আঁকি।
পাতাহীন সমুদ্রে আঁকি সমবাহু জলবায়ু।

সর্বনাশের সমীকরণে
- সোনালী মন্ডল আইচ

হতাশ কাঠঠোকড়া মন
শব্দের জন্যে হন্যে হয়ে ওঠে
চায় শক্তপোক্ত একটা গাছে
মগ্ন ঠোঁট গর্তরত

অবিকল আমাদের মতো
আড়মোড়া ভাঙে চন্দ্র মল্লিকা
আর ঝিনুক গন্ধে যমুনা
ভাঙছে তো ভাঙছেই পাড়

ঘাসের উপর পা
পায়ের সাথে লেপ্টে বৈভব
সেসব বৈভব তাজা সবুজের
যাবতীয় ভালো লাগায়
পঙ্গপালের আগুন ছোঁয়ার টানে
নড়বড়ে সাঁকোটা আরো দুলতে থাকে
বীথিবন ওঠে কেঁপে

এমন মৌনতা সয়না
এসো ঠক-ঠক শব্দে বৃক্ষের
অস্তিত্ব প্রমাণ করি...

©Sonali Mandal Aich

প্রেম ভালবাসার প্রতারণায় জর্জরিত হয়ে,
ক্লান্ত আমি বার বার প্রতারণা সয়ে সয়ে।
এ জগতে নেই কোন প্রকৃত ভালবাসার মানুষ,
স্বার্থপর সবাই সকলের মাঝে আছে লুকায়িত অমানুষ।
করবো না বিশ্বাস আর কারোও ভালবাসা,
এই প্রতিজ্ঞা আর মনকে বারণ করছিলাম করতে নতুন আশা।
ভালবেসে ঠকতেই কি হয় শুধু? ভাবছিলাম মনে মনে,
হঠাৎ কখোন জানি অকৃত্রিম ভালবাসা এসে গেলো জীবনে।
নেই কোন প্রতারনা,ছলনা,আর কোন মিথ্যে অভিনয়,
কিছু কমদামী চকলেট কি হতে পারে এর বিনিময়???
আসলে এগুলো তো শুধু তার মুখের হাসি দেখার জন্য,
তার মুখের হাসি দেখে কষ্ট ভুলে যাই এ স্বার্থ পাওয়ার জন্য।
এখন স্বার্থ আমার মনে আছে, বিন্দুমাত্র তার মনে নেই,,,
স্বার্থপর হবে সেও হয়তো আমার মতো বড় হবে যেই।
দোয়া করি আর দোয়া চাই সকলের কাছে রাশি রাশি,,
আজীবন অক্ষুন্ন থাক তার মুখের অই অকৃত্রিম হাসি।

হায়রে মানুষ! প্রচার চায় সুনাম চায়,
একটা ছবি তার ফেসবুকে আপলোড চায়।
সে আবার বন‍্যা দুর্গতদের সাথেই হোক,
পাহাড়ের ঈশ্বর স্বপন দেববর্মার সাথে হোক।
জাহির করার মনোভাব-'আমি সমাজ-সেবী',
অন্তরে লোপাট-বাজী, বাহিরে দেব-দেবী।
আমরা দেখেছি প্রচার বিমুখ সমাজ-কর্মী,
আবার এদের দেখেছি-যারা শুধু প্রচারধর্মী।
মুখোশের আড়ালে যখন মুখ হারিয়ে যায়,
ভালো কাজে স্বপ্রচারের কি প্রয়োজন ভাই?
শ' টাকার দান - তাতে হাজারের প্রচার,
দাদন দিতে গিয়ে বন্ধু লাগায় দরবার।
অনাদরে পড়ে আছে মা-তার দূরে,
সন্তান তার আক্রান্ত আজ সেলফির জ্বরে।

********

তাং: ‌২৭/০৬/২০১৮ ইং
১২ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৭.৪৭
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

নাম লিপাং চিং। ডাকনাম মুরে। জাপানের হিরোশিমা শহরে তার জন্ম। বাবা কিলান পা চিং একজন রাজমিস্ত্রি। মা গৃহিণী।.খুব বেশি সচ্ছল ছিলোনা মুরের পরিবার। পড়াশোনার পাশাপাশি মুরে ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করতো।রঙিন কাগজে খুব সুন্দর করে জাপানের পতাকা এঁকে দিতো মুরে।যার ফলে তার ক্ষুদে কাস্টমারও ছিলো ব্যাপক।.ঘুড়ি বিক্রি করে যা পাওয়া যেতো তার অর্ধেকের বেশি মুরে পরিবারকে দিতো।আর বাকিটুকু সঞ্চয় করতো।.একদিন দুপুরবেলা মুরে তার বাবার সঙ্গে বাজারে যায়।জাপানিজদের পছন্দের খাবারের মধ্যে সামুদ্রিক মাছ,শামুক,শাকসবজি ইত্যাদি অন্যতম।সেদিন মুরে তার বাবাকে শামুক কিনতে বলে।যখন শামুক নিয়ে মুরে আর তার বাবা বাসায় ফিরছিলো পথিমধ্যে এক ভয়াবহ রোড এক্সিডেন্ট চোখে পড়ে।ঘটনাস্থলেই মাইক্রো গাড়ির চার যাত্রী মারা যায়।মুরে ভীষণ কষ্ট পায়।.মুরে তার বাবাকে বারবার বলছিলো বাবা,এই এক্সিডেন্টের পেছনে যাদের হাত তাদের বিচার হবে তো?.মুরের বাবা জবাব দিলো,নিশ্চয়ই হবে!.কিন্তু বিচার হলো কিনা তা কি করে জানবে মুরে?সেই চিন্তা থেকে মুরে তার জমানো টাকা দিয়ে একটি রেডিও কিনে আনে।.সবশেষে রেডিও সংবাদে মুরে জানতে পারে,এক্সিডেন্টের পেছনে যাদের হাত তাদের প্রত্যেকেই শাস্তি পেয়েছে।মুরে সেদিন ভীষণ খুশি হয়।.১৯৪৫ সালের ৫ আগস্ট রাতে মুরে তার মাকে জড়িয়ে ঘুমোচ্ছে।বাবা কিলান ডানপাশে,মা বাঁপাশে।মধ্যখানে মুরে।মুরে যে খুববেশি বড় তখন,এমনটা না।কমবেশি দুনিয়া বুঝে মুরে।.মুরে ৬ আগস্ট সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। উদ্দেশ্য ৮ আগস্ট বাবার জন্মদিনে সে তার বাবাকে খুব ভালোকিছু গিফট করবে।হাঁটতে হাঁটতে হিরোশিমা শহর থেকে অনেকদূরে আসে মুরে।ঘুড়ি বিক্রি শেষে যখন বাড়ি ফিরবার জন্য মুরে পা বাড়ায় তখন সে লক্ষ্য করে অনেক মানুষ তার অবস্থান করা এলাকার দিকে ছুটে আসছে। সেই মানুষগুলোর চোখেমুখে আতংকের ছাপ।কেউকেউ আবার কাঁদছেও।.মুরে তাদের একজন কে জিগ্যেস করে আসল ঘটনা সম্পর্কে।মুরে জানতে পায় স্থানীয় সময় ৮টা ১৫ মিনিটে হিরোশিমা শহরে মার্কিন যুদ্ধবিমান 'এনোলা গ্লোর' থেকে নেমে আসে 'লিটল বয়' নামে পারমানবিক বোমা।যে বোমায় ক্ষতবিক্ষত হয় হিরোশিমার বুক।কেঁপে উঠে জাপান।লক্ষাধিক মানুষের রচিত হয় সলিল সমাধি।বিস্ফোরণের আগে লিফলেট ফেলে সতর্ক করা হয়েছিলো হিরোশিমার মানুষকে।যারা এই ভোরে সতর্কতা বার্তা জানতে পেড়েছিল তারাই মুরের সাথে এখন বেঁচে আছে।মুরে তন্নতন্ন করে তার মা-বাবাকে খুঁজে।কিন্তু কিছুই হদিস করতে পারেনি।মুরের পা থেকে মাটি সরে যাচ্ছিলো।বুকটা হাহাকার করছিলো তার মা-বাবার জন্যে।লিটল বয় নামের প্রাণঘাতী বোমা ৫০০ মিটার উঁচুতে বিস্ফোরিত হয়ে কেড়ে নেয় মুরের বাবা-মাসহ আরো হাজারো প্রাণকে।বাবার জন্মদিন আর পালন করা হয়নি মুরের।তবে সে শোকগাথা আজও বুকে নিয়ে মুরে বেঁচে আছে।১৯৪৫-২০১৮,এর মধ্যে কেটে গেছে বহু বছর।সবচেয়ে বেশি গড় আয়ুর দেশে মুরে এখনো বাবা-মাকে প্রচন্ড মিস করে।এখনো মুরে নিজেকে দোষী দাবি করে,হয়তো সেদিন যদি মুরে ঘুড়ি বিক্রি করতে না যেতো তবে সতর্ক বার্তা পেলেও পেতে পারতো।[গল্পটির চারিত্রিক বিষয়াদি লেখকের একান্তই কাল্পনিক।তবে দিন,তারিখ,সময়,১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমার পারমাণবিক বিস্ফোরণ অবলম্বনে রচিত]

একটি উদ্যানের গল্প
- শাহরিয়ার ফেরদৌসি

হঠাৎ গোঙানির শব্দ। হয় তো বা কোনো প্রাণির; নয় তো বা কুকুরের, গতদিন করিম মন্ডলের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান হইছিল তারই হাড্ডি খেয়ে মনে হয় গলাতে বাঁধছে। না কিছুক্ষণ পর পর থামে অাবার শুরু হয়। এবার চিন্তাটা প্রকট অাকার ধারণ করছে। বিষয়টা অন্য কিছুর। এদিকে সন্ধা নামবে নামবে ভাব। দিঘির পাশেই সরকারি উদ্যান। মানুষের অানাগোনাও হয় অনেক দিনে বেদিনে। বিপরীত পাশেই জনবসতির বাস। অাগে ছিল না। তবে অাধুনিকতার ছোঁয়ায় জংঙ্গলও এখন বসবাসের মঙ্গলে রুপদান করেছে। এরি এক পাশে বিবেক অালীর বসতবাড়ি। তার দু সন্তান। দুজনি বড় স্কুলে পরে। তারা বড় স্কুল মানে কলেজকেই বোঝে। গ্রামের লোকজন সশিক্ষায় শিক্ষিত। গ্রামের পাশেই সরকারি উদ্যান। অনেক দূর দূর থেকেই জনমানুষের অাগমন ঘটে এখানে। উৎসবের দিন গুলোতে মানুষের অাগমন ঘটে ভালোয়। তাছাড়া অন্যদিনেও খারাপ হয় না। নানা লোকের সমাগমে অার তাদের বিচিত্র ব্যাবহারে গ্রামের লোকজনও বলা যায় কিছুটা সশিক্ষিত। গ্রামের অনেকেই এখানে ছোটখাটো দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

তার মধ্যেই বিবেক অালীর ছোট একটা পানের দোকান। তাতেই তার টানাপরনের মধ্যে দিয়ে তিনজনের সংসার চলে। কয়েকদিন হল অারও একজন নতুন সদস্যের অাগমন ঘটেছে তার পরিবারে। বিবেক অালীর অনেক ইচ্ছে ছিল একটা মেয়ে সন্তানের। অনেক অারাধনা করার পর অবশেষে। এমনি থেকেই তার সংসার চলে না এর মধ্যেই নতুন সদস্য, তাই কিছুটা সে চিন্তিতও বটে। তাতে কি গরীব বলে কি তার ইচ্ছা সখ কিছুই থাকতে পারে না। এদিকে জয় অার দূর্জয় সবে মাত্র বড় স্কুলে ভর্তি হয়েছে। পড়াশুনা শেষ হতে অনেক দেরি। বিবেক অালী কিছু শিক্ষিত মানুষের কাছে একদিন শুনেছে ছেলেরা যখন কলেজে ভর্তি হইছে তোমার অার চিন্তা নাই। তারা কিছু না কিছু করেই তাদের পড়াশুনা চালিয়ে যাবে। সেদিন থেকে তার কিছুটা চিন্তার অবসান হইছে। তবে কথা কি অার বাস্তবতার সাথে মিলে। বাস্তবে যা হবার তা তো হবেই। কেউ চাইলেও তা ঘটবে, না চাইলেও। তবে এটা ঠিক কিছুটা ভরসা করা যায় নিজের উপর।

রাতে একদিন বিবেক অালীর বউ তাকে বলল, শুধু কি অার পান বেচে সংসার চলে অারও কিছু কর না। এভাবে অার কত দিন। তাই ক দিন হল সে বিড়ি সিগারেট বেচা শুরু করেছে। একদিন সে নিজেও বলেছিল সন্তানদের এসব খাওয়া ঠিক না। ইসলামে কোনো রকম মাদক বা ধুমপান জাতীয় জীনিস খাওয়া যেমন পাপ তেমনি বেচাও যে পাপ। এমনকি সে নিজেও খেত না। অার নিয়ত করেছিল কখনো সে বেচবেও না। কেন না এটাও তো বলতে গেলে মাদক বেচার সমতুল্য। এখন জীবিকার তাগিদে করতে হচ্ছে। তাছাড়া যে না খেয়ে মরতে হবে। তাই বিবেক অালীর হাতে অার অন্য কোনো উপায় নাই। একদিন সে শুনেছিল পাশের গ্রামের কসম অালীর কিছুই ছিল না এখন সে অাংগুল ফুলে কলা গাছ। বিবেক অালী জানে সৎ ভাবে কেউ এতো তারাতারি বড় হতে পারে না। তারও মাথায় নানা কথা ঘুরে বেড়াই অামিও কী! না, বড় বড় মানুষেরা অপরাধ করলে কোনো সমস্যা নাই। তাদের দুনিয়ায় পাপ মোচন করারও খেমতা অাছে। অামি তো সামান্য দোকানি। এতো বেশি চিন্তা করার কিছুই নাই। সবাই তো বেচে অার কিছু হুজুরও খায় পানের সাথে। তাহলে অামি বেচলে দোষের কী? অার ইচ্ছে করে তো কেউ মরতে চায় না। তেমনি ভাবে ইচ্ছে করেও তো কেউ অপরাধ করতে চায় না। তাই বিবেক অালী সেদিন থেকেই পানের সাথে বিড়িও বেচা শুরু করল।

এখন অবশ্য অনেকটা ভালো ভাবেই তার সংসার চলছে। এভাবেই কয়েক বছর কেটে গেল। ছেলেরা ও মেয়েটা অনেকটায় বড় হইছে একয়েক বছরে। ছেলেরা এখন নিজে উপার্জন করে পড়াশুনা চালায় তাদের। এদিকে মেয়েও স্কুলে সবে ভর্তি হইছে। উদ্যানে মানুষের অানাগোনাও ভালোই হয় অাজকাল। অাবার কয়েক বছরে দোকানপাটও বাড়ছে। তাই অাগে যেমন বিক্রি হতো এখন তারচেয়ে একটু বেশিই হয়। এদিকে বিবেক অালীর বউও বাড়িতে গরু ছাগল লালপালন করে। তাতে অনেকটা সংসারে সচ্ছলতা বলা যায়। একদিন তার এক ছাগল হারিয়ে গিয়েছে। বিবেক অালীর বউ অনেক খোঁজাখুজির পরও যখন পেল না তখন বিবেক অালীকে সংবাদ দিল। তারপর বিবেক অালী উদ্যানের জংগলের মধ্যে ছাগল খুঁজতে গেল কিন্তুু সে ভিন্ন রকম কিছু দেখতে পেল। কিছুতেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে। মনে হয় স্বপ্ন দেখছে। একি কয়েকটা ছেলে মিলে একটি মেয়েকে জোরপূর্বক! একজনকে সে চিনেও বটে চেয়ারম্যানের ছেলে। অনেক খারাপও ছেলেটা অাগে থেকেই; তার হিংস্রতার জন্য গ্রামের মেয়ে বউয়েরা অতিষ্ঠ। কোনোদিন কারও মেয়েকে রাস্তায় বিরক্ত করে কোনোদিন কারও বউকে। তারপরও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। কেননা সে চেয়ারম্যানের ছেলে। একদিন অবশ্য বিবেক অালীর ছেলেরা চেয়ারম্যানের নিকট বিচার দিয়েছিল এক মেয়েকে কটু কথা বলার জন্য। চেয়ারম্যান অবশ্য রায় দিয়েছিল যে ছেলে মানুষ একটুআধটু এসব করেই থাকে এবয়সে। পরে ঠিক হয়ে যাবে। সেইদিন থেকে বিবেক অালীর পরিবারের উপর খেপা হয়ে অাছে চেয়ারম্যানের ছেলে। তা যাইহোক কিন্তুু এখন এই ছেলেমানুষ এবয়সে এসব করতে পারে তা যেনো বিবেক অালী চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছে না।

বিবেক অালী যদিও সবাইকে এঘটনা বলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তুু চেয়ারম্যানের ছেলে ভয় দেখায় একথা বলে যে তোমার মেয়ে যেনো এখন কিসে পড়ছে। তাই তার পরিবারের কথা চিন্তা করে কাউকে সে কিছুই বলার সাহস পায়নি। পরবর্তীতে মানুষ জানা জানি হওয়ার ফলে মেয়েটাকে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তুু একদিন পর মেয়েটা মারা যায়। মেয়েটা পাশের গ্রাম থেকে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসেছিল এই উদ্যানে। তার সঙ্গে থাকা সবাই উদ্যান ঘুরে দেখছে। কিন্তুু তার ভালো লাগছে না হাটতে তাই দিঘির উত্তর পাশে একটা বসার জায়গার উপর বসে ছিল। যদিও তাদের এখানে অাসার প্রথম থেকেই বখাটেরা অনুসরণ করতেছিল এই মেয়েকে। এখন একা পেয়ে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায় এবং ধর্ষন করে!

এদিকে পুলিশ বিবেক অালীকে ধর্ষনের দায়ে ধরে নিয়ে গিয়েছে দোকান থেকে। যদিও বিবেক অালী বলেছিল অামি কিছু করি নাই এবং জানিও না। কিন্তুু অাইন তো কারও কথা শোনে না। অাইন চলে নিজ গতিতেই। অার পুলিশের কাছে প্রমাণও অাছে; যে সেই জায়গা থেকে একটা চাবি পাওয়া গিয়েছে। ঐটা বিবেক অালীর দোকানের চাবি। তাই পুলিশ তো এখন তাকে অাইনের অাওতায় নিয়ে অাসবেই এটাই স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক তো কিছু নয়।

বিবেক অালী যদিও বলেছিল অামি কিছু করি নাই,
অামি কিছু জানি না,
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলে যে,
সব অাসামিই বলে অামি নিঃদোষ, নিঃপাপ নানা কথা। ওসব জানা অাছে পরে যখন ডলানি দেওয়া হয়
বাপ বাপ করে সব স্বীকার করে।
অাপনার যা বলার কোটে গিয়ে বলবেন।
এদিকে তো গ্রামে হলুস্থুর কারবার বেঁধেছে। সবাই এখন ছি ছি করছে! বিবেক অালীর মেয়েও এখন অার স্কুলে যেতে পারে না। সহপাঠীরা নানা কথা বলে তার বাবার নামে। কিছুদিন পর ডিএনএ রিপোর্ট প্রকাশ হল। তখন সে নিঅপরাধ সাবস্ত হয়। পরবর্তীতে সে চেয়ারম্যানের ছেলের নাম বলে দেয় ও বিবেক অালী ছাড়া পায় জেল থেকে। যদিও অাইনের চোখে সে এখন নিঅপরাধী কিন্তুু সমাজের চোখে সে যে এখনও অপরাধী। যাইহোক পরবর্তীতে পুলিশ চেয়ারম্যানের ছেলেকে ধরার চেষ্টা করে কিন্তুু সে তো সেইদিন থেকেই পালিয়েছে। হয় তো বা কোনো একদিন ধরতে পারবে।

পুনরায় বিবেক অালী তার দোকান খুলেছে। যদিও গ্রামের নানা মানুষ নানা কথা বলে তার মুখে বা অাড়ালে এখনও। কি করার বসে থাকলে তো অার চলে না। কে বা তাকে দুটাকা দিয়ে সাহায্য করবে। তাই সে দোকান অাবারও খুলেছে। যদিও চেয়ারম্যানের ছেলে হুমকী দিয়েছিল। অাবার চেয়ারম্যানও একদিন তার বাড়ি এসে তার বউকে টাকা দিতে চেয়েছিল যেনো বিবেক অালী পুলিশকে তার ছেলের নাম যেনো না বলে। কিন্তুু সত্যি কথা তো কখনো চাপা থাকে না। একদিন তো একদিন প্রকাশ পাবেই। এখন দিনকাল ভালোই যাচ্ছে বিবেক অালীর বলতে গেলে। সন্ধা নামবে নামবে ভাব এখনও মেয়ে স্কুল থেকে ফিরেনি। প্রত্যেক দিন চারটায় স্কুল ছুটি হয়। অাজ সকালে স্কুলে গিয়েছে এখনও ফিরেনি। তাই বিবেক অালী স্কুলের দিকে খুঁজতে যায় মেয়েকে। পথিমধ্যে এক ভাঙ্গা বাড়িতে জঙ্গলের পাশে গোঙগানির শব্দ শুনতে পেল। প্রথমে সে মনে করেছিল হয়তো বা কুকুর হাড্ডি খাইছে তা গলায় বাঁধছে।। কেন না গতদিন করিম মন্ডলের মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। বিপরীত পাশেয় করিম মন্ডলের বাড়ি। সেই হাড্ডি খেয়েই মনে হয় কুকুরের গলায় বাঁধছে। কিন্তুু বিষয়টা কেমন জানি লাগছে। শব্দ টা প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। অাচ্ছা যাই তো ভিতরে গিয়ে দেখি। একি এতো তার নিজেরই মেয়ে পরি। বিবেক অালীকে তখন ঐ মেয়েটার স্মৃতি গুলো তারণা দিল।

---------সমাপ্ত----------------------

শাহরিয়ার ফেরদৌস
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

তোদের কোম্পানির যেমন বাপের ঠিক নেই,তোদেরও নেই!
ভুলিয়ে ভালিয়ে যতো ফালতু জিনিস দোকানে দিয়ে যাস!!
.
নবীন দা!আর না,ইনাফ!আমার বাবা তুলে কেন বলছ?কোম্পানি কি আমার নবীন দা?
.
গেট লস্ট!বলেছি বেশ করেছি।ক'দিন ধরে রিপ্রেজেন্টেটিভ এর কাজ করিস?দুই মাস?তিন মাস??আমার দোকান এই বিভাগের সেরা দোকান।তোদের মতো মুখ মধু ছেলে আমার পায়ের নীচে থাকে!
.
জানিস কনক,শুধুমাত্র ছোটো বোনটার পড়াশোনা,মায়ের ওষুধ,খাবার জুটানোর জন্যই বেঁচে থাকা।নয়তো আমার মতো মাস্টার্স কমপ্লিট করা ছেলেকে আজ এতকিছু শুনতে হতো?বল তুই?আমি কি স্টুডেন্ট খারাপ কনক?আমি কি শুধু সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজের যোগ্য?আমি কি ভালো পজিশনে যাবার মতো কেউ নই?
.
দুঃখ পাস না অনিক।জীবনপথ বড্ড কণ্টকময় রে।এখন আবার যোগ্য লোকের কদর হয় নাকি!অযোগ্যরা'ই লুটে খাচ্ছে সব....
.
বুকপকেটে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে অনিকদের ঘরে ফিরতে হয়।অকথ্য গালি শুনেও অনিকদের কাজ করতে হয়।কারণ অনিকদের চাকরি চাই,বাঁচার জন্য টাকা চাই।যোগ্যতার হিসেব নাহয় দীর্ঘশ্বাসের নেপথ্যেই মারা গেলো.....

শুধু কেন চাঁদের কথা বলি-
দিয়েছে আঁধার রাতে আলোক অঞ্জুলী।
আকাশের গায়ে মেঘ কতো ভাসে,
তবুও স্নিগ্ধতা আছে চাঁদের বাতাসে।
ছড়িয়ে পড়েছে চাঁদ দূরের পাড়াগায়,
যৌবন হাসে তাতে মিষ্ট কথায়।
ভুলে সবে হিংসা-দ্ধেষ আলোর ছায়ায়,
হাতছানি দেখি আমি পাতায় পাতায়।
উঁচু উঁচু পাহাড়েতে ঝর্ণার ধারা,
চাঁদ বিহীন রাত লাগে যৌবনহারা।

********

তাং: ‌২৮/০৬/২০১৮ ইং
১৩ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৬.৩৮
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর

নোটে গাছটি
- সোনালী মন্ডল আইচ

শেষ পর্বে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে
বাউল তুমি অন্তিম সুর শুনিও

চোখ ও আশপাশের শিরা উপশিরা
ফুলে উঠছে ভিজে ছোলার মতো
আর চাঙর চাপা ঘন নাভিশ্বাস

ধুঁকছে অশ্বমেধের ঘোড়া
মরতে কে বা চায়

পুড়তে পুড়ত উড়ছে বহুব্রীহি প্রাণ
আরব্য রজনীর কফিন মুক্ত ফিনিক্স
আবার শাখায় শাখায় ফুলে ফলে
সত্যি কি তা আর হয়

এই এতো শব বাতাসে
এতো নিরঞ্জনী সুর এতো একতারার নেশা
এসো মরে যাই এসো দুঃখ শ্যাম সম ...

©Sonali Mandal Aich

বিস্তারিত অথৈ
- মোশ্ রাফি মুকুল

তোমাকেও বলা যায় মহানদী-
বিস্তারিত অথৈ।
আকাশের উপকূলে থৈ থৈ পর্যটক-
দেরিদা কিংবা আলথুসারের অধুনান্তিক
যৌগিক গদ্যাংশ।
মাংসের টবে গজিয়ে ওঠা
হরর হাড়ের ফুল।

আমার জলের লাঙল-
মুঠো ভর্তি দোতারা।
আমার অ্যামাজন দাঁড় টানে
বিলুপ্ত মৃত্যু ও উদ্ভাসিত চিরহরিৎ এ।
তারপর-
নদী নারী রাত্রির ত্রিভুজে
আমি রুয়ে আসি স্মৃতিভ্রম
কোটি কোটি বুনোহাঁস।
অবশেষে-
আপেল কাটার কাঁটাচামচ আর আমার
বহুকাল চলে দোমনা আত্মহনন।

০৩/০৯/২০১৮.

চাঁদের তন্ময় জ্যোৎস্নায় 
…………এ. এইচ. হৃদয়
অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখেছি, একদিন আমার হৃদয়ে
হাসি মুখে সূর্য্যমুখির মত, নিশান্ত
বনানীর অন্ধকার সরিয়ে প্রভুত সুদুর আকাশ
থেকে উজ্জ্বল আলো নিয়ে সদর্পণে
তুমি এক সন্ধ্যায় এসেছ,
বহু প্রার্থীত প্রেমানন্দ আমার মনোরাণ্যে
তুমি বিছায়েছো,স্থাপন করে স্থীতি মন্দির
অভিভুত করেছ ব্যকুল।

মনে পড়ে অবিভক্ত অভিলাষ
বহুকাল অদেখায় বিতৃষ্ণা বাড়ায়,
তুমি-আমি বিভোর, শুকিয়ে যাওয়া নদীর মত
বর্ষার ভরা যৌবন ফিরে পাবার আশায়,
কোন একদিন শিয়রে দুলবে শঙ্খের মালা,
জড়িয়ে হাত, নিস্পলক চেয়ে থাকব মুখোমুখি।

মনে পড়ে শত জন্মান্তরে সুপরিচিত
তোমার নিঃশ্বাস, কোলাহল ও ভালবাসা,
কোনোদিন অসান্ত বুকে রেখেছিলে সহাস্যে মাথা
প্রশান্তির সহস্র রঙে, টের পাই
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের ভেতরের কলরব,
যেখানে ভোরের মলিন সূর্য্য হাসে
প্রখর দুপুর পেরিয়ে কুসুম-কুসুম বিকেলের
কিনারায় বিলিন হয়।

তারপর চাঁদের তন্ময় জ্যোৎস্নায়
জ্বলজ্বল করে তোমার নাকের নোলক
চুলের বর্ণিলজলতরঙ্গময়তা, অবগাহনে ডুবি
তার সবটুকু আভায়, অনাবিল আবিস্কারে
মত্ত হই ভাললাগার প্রতিটি মূহুর্ত।

হে মোর শিক্ষাগুরু!
তুমি আজও,
বরষণ মুখর দিনে-
ছাতি হাতে পথে চলো,
প্রণামী আমি লক্ষ্য কোটিবার তবো পদে।
তোমারই দেখানো পথে-
চলি পথ আমি আজও।
করেছি কতো আবদার-
ন‍্যায় অন‍্যায় ভুলে,
গাঙ চিলের মতো-
উড়েছে মন শতবার,
বিষয় ছেড়ে বিষয়ান্তরে।
আকাশের সাদা মেঘে-
দেখেছি কতোবার তোমার প্রতিচ্ছবি।
মেনে নিয়েছো শত দোষ ত্রুটি,
সংশোধনের পথে-
হ‌ওনি কখনো তুমি তাতে অভিমানী।
কর্তব‍্যের কঠোরতা-
দিয়েছে কতো না ব‍্যথা,
সহিলে সব‌ই নিরবে তুমি সন্তানের প্রেমে।
ধন‍্য তুমি শিক্ষাগুরু!
আর্শীবাদ করো যেন-
তোমারে প্রণামীয়া-
করিতে পারি মোর প্রতিদিন শুরু।

***********
তাং: ‌৫/০৯/২০১৮ ইং
১৯ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল: ৯.৪৬ ঘটিকা
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

মাগো তোমার জন্য আমার এই কবিতা লিখলাম
কবিতা আমি বাংলাদেশে নামে উৎসর্গ করলাম।
মাগো তোমার জন্য যারা জীবন করেছে কুরবান
তাদের জন্য আমি আমার এই কবিতা লিখলাম ।

মাগো তোমার কোলে জন্ম নিয়েছি আমি ধন্য
এই কবিতা আমি লিখলাম শুধু তোমারই জন্য
একাত্তরে বুক থেকে ঝরিয়েছে যারা রক্ত ,
আমার এই গান শুধু তাদের জন্য ।

মাগো স্বাধীনতার যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছে পাকহানাদারদের গুলিতে
ঝরিয়েছে যারা বুক থেকে তাজা লাল রক্ত,
নদীতে যারা ভাসিয়েছে রক্তগঙ্গা,
তাদের জন্য লিখলাম মাগো এই একখানা কবিতা ।

কখনো পারব না ভুলে যেতে আমি একাত্তরের কথা
আমি হয়েছি এতিম, হারিয়েছি বাবা মা
ছোট্ট ভাই এটা কেও হারিয়েছি আমি এই যুদ্ধে
বোনের উলঙ্গ দৃশ্যও আমাকে হয়েছিল দেখতে ।

মাগো তুমিই বল্, কি করে ভুলে থাকি ঐদিন গুলোকে ?

মাগো তোমার এক লক্ষ ৪৭ হাজার বর্গমাইল জুড়ে
ত্রিশ লক্ষ শহীদ বীর বাঙালি আছে গো শুয়ে ।
ত্রিশ লক্ষ শহীদের তাজা রক্তে মোরা লিখেছি তোমার নাম
তাই তো হৃদয়ে শুধুই বাজে বাংলাদেশী গান।






















Type a message...

উফ বাবা এত কাজ এত কাজ!
বলো সুজয়নীল,এত কাজ করে মুখে মধু সুরে শব্দ আসে?তার উপর তোমার মা,সারাক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকেন।তোমাকে বলিনি,বিছানায় সেকি দুর্গন্ধ সুজয়নীল!
.
মা তো হাঁটতে পারেন না।কী আর করা বলো।আমার অফিস করতে না হলে আমিই করতাম পরিষ্কার।
.
সেকি গো?তুমি রাগ করলে নাকি?দেখো না,তুমি অফিসার মানুষ।এলাকায় আমাদের একটা মানসম্মান তোঁ আছেই।এখন কেউ যদি হঠাৎ করে এসে প্রস্রাব, পায়খানার গন্ধ পায়,তাকি ভালো দেখায় সুজয়নীল?তাই বলি কি,তুমি তারচেয়ে মাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে আসো?ওখানে তোঁ সুবলবাবু আছেন।উনি বড্ড ভালোমানুষ।কেয়ারটেকার হয়েছে বলে তাতে কী!খুব ভালো দেখাশোনা করবে।
.
আমার সোনাবাবু,আমার পাখি...। দেখো দেখো সুজয়নীল,বাবুর পায়খানার রঙ সবুজ।তেমন গন্ধও নেই।প্রস্রাবও পরিষ্কার।
আজ চারবার পায়খানা করলো বাবু।হাহাহা,আমার লক্ষীটা.....
.
জানও নির্মা,আমি তুমি যখন এমন ছিলাম আমাদের মাও তোঁ এমনি করতো?তাই না বলো?অথচ পরে কিনা সে মায়ের বিছানায় পড়ে থাকাটাকে আমাদের বড্ড বেশি বেমানান মনে হয়।তখন প্রস্রাবের গন্ধটাও বড় বেশি নাকে লাগে...
.
পশ্চিমের দেয়ালে টাঙানো বেলাদেবীর ছবি জড়িয়ে নির্মা কাঁদছে।মা গো মা,ক্ষমা করো মা।সঙ্গে সুজয়নীলও লুকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো,জোরে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।কিন্তু কথা হচ্ছে বেলাদেবী কি নির্মা আর সুজয়নীলের কান্না দেখলো?
_______ সঞ্জয় দত্ত

মরা মন- মননের মেরামতে মনোরমতার মিলন মিলবেনা মিছেমিছি!

মরুভূমির মরীচিকার মতো, মসীময় মেঘের মতো, মায়াছিন্ন মলাটে মুড়ানো মরচে মোর মর্ত্যভূমি।

মনোকষ্টে মলিন, মতিচ্ছন্নে মূল্যহীন, মানুষের মাঝে মোর মেলামেশা।

মর্মব্যথায় মিশানো মলম মোর মস্তিস্কে মাখা।

 

বাহির থেকে সব‌ই ভালো,
মুছে দেব গোপন কালো।
বেরিয়ে পড়ো বন্ধু সবাই,
দেশের উপর কিছুই নাই।
জেগে আমি স্বপ্ন দেখি,
দেশের কথা মথায় রাখি।
ঘরের ভেতর মন্ত্রণা নয়,
বেরিয়ে এসো ছেড়ে ভয়।
উঠবে রবি পূব আকাশে,
সুখী সবাই ভারত দেশে।

***********
তাং: ‌৪/০৯/২০১৮ ইং
১৮ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল: ৮.৫৮ ঘটিকা
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর

এসবের মানে কী সুজয়নীল? আমি বিশ্বাস করে ছবি দিলাম,আর তুমি কিনা?!ছিঃ!.বিশ্বাস?হাহাহা,লজ্জা লাগেনা?লাগে কি?রাত হলে আমাকে বলিস কাজ,পড়াশোনা ব্লা ব্লা ব্লা!!তা, কৌশিকটা কে গো?রাতে ওর সঙ্গে ফোনে বিশেষ কাজ থাকে বুঝি?.দেখো সুজয়নীল।কৌশিক ভালো ছেলে।ওর সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা হয় আমার।রোজ তোঁ না।.তা এতো ভালো লাগলে,আমাকে কিজন্যে রাখা?কৌশিক ব্যস্ত থাকলে,আমার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যে??.ধুর ছাই,ফোন রাখলাম।.রাখো রাখো।ছবিগুলো ভাইরাল হলে এমনি কল আসবে।.অর্পা,অর্পা!এসব তোর ছবি?.বাবা,বিশ্বাস করও আমার দোষ নেই।সুজয়নীল ছবিগুলো দিয়ে আমায় ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে...সুজয়নীল?হু দ্যা বাস্টার্ড!!মল্লিকার ছেলে সুজয়নীল??ইডিয়ট!!তোর ওর সাথে কী সম্পর্ক??.তেমন কিছু না বাবা।শুধু বন্ধুত্ব।.এই ছবিগুলো বন্ধুত্ব???ছিঃ।আমার মানসম্মান সব ধূলোয় গেলো.....হ্যালো,আর ইয়ু সুজয়নীল??আমি সুদীপ,এড সুদীপ।চিনতে পেরেছিস?.কে??ও আংকেল নমস্কার।কোনও বিশেষ দরকার?.তুই একটু বাসায় আসিস।মল্লিকাকে নিয়ে আসিস।.সুজয়নীল,অর্পা তোরা বোস।আমি মল্লিকার সঙ্গে পারসোনাল কিছু কথা বলবো।.দ্যাখ মল্লিকা,আমি মানছি তোর আমার মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক ছিলো।তার বিনিময়ে আমি যথেষ্ট সাপোর্ট করেছি তোকে?!এখন কিজন্যে তোর ছেলে সুজয়নীল আমার মেয়ের সাথে....সুজয়নীল শুধু আমার ছেলে?তোমার না সুদীপ?!আমি সব কথা আড়াল করে রাখলাম শুধু তোমার মানসম্মান চিন্তা করে।তুমিঐন্দ্রিলা মারা যাবার পর আর কত নারীর সঙ্গে শুলে তার হিসেব রেখেছ?আমি কিন্তু তুমি ছাড়া আর কাউকে...।তুমিই আমাকে রাতের অন্ধকারে ফেলে ঐন্দ্রিলাকে বিয়ে করলে....পুরনো কথা থাক!!একসময় তোর আমার কিছু একটা ছিলো।আজ নেই!সুজয়নীল কার ছেলে তা আমার জেনে কাজ নেই!তুই শুধু ওকে সামলে রাখিস মল্লিকা।.সুদীপ,তুমি শুধু আমাকে বলছ যে?তা,তোমার মেয়েকেও বলো,দোষ কি শুধু সুজয়নীলের?অর্পার দোষ নেই?.উফ,মল্লিকা!!এত বেশি যুক্তি শোনে আমার কাজ নেই।যা বলেছি তা-ই যেন হয়। তোর ছেলে আমার মেয়ের উল্টাপাল্টা ছবি অনলাইনে...।চাইলে আমিও পারি তোর ছবি অনলাইনে..।আমার কাছে যা আছে তাতে আশা করি তুই সারা বিশ্বে প্রচার পাবি...আমাকে থ্রেড করছো সুদীপ?করো।দিন আজ তোমার।তুমি নষ্টামি করে জীবন কাটাতে পারো,আমি কিন্তু নই সুদীপ!আমি কিন্তু তোমাকে ভালোবেসে'ই কাছে রাখতাম।.তোর সতীপনা দ্যাখে আমার ভাত জুটবেনা মল্লিকা।যা বলেছি তা-ই যেন হয়।.সুজয়নীল,বাসায় চলো!.মা সুদীপ আঙ্কল কী বললো?দেখো মা আমি কিচ্ছু করিনি!অর্পাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি মা।কিন্তু ও আমার সাথে....।তাই ঝোঁকের বশে দুইটা ছবি....।তবু যদি ও আমার হয়।.ছিঃ সুজয়নীল!অর্পা করলো,তাই বলে তুমিও?তোমার মা তোমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি!.মা,স্যরি।প্লিজ তুমি কষ্ট পেয়োনা।আমি এখুনি সব ডিলিট করে দিচ্ছি।.অর্পা,কি অবস্থা?বয়ফ্রেন্ড কে বাশ ঢুকিয়ে দিলি নাকি?.কার কথা বলছিস?সুজয়নীল?.হ্যাঁ গো,হ্যাঁ।যা-ই বল,ছেলে ভালো সুজয়নীল।রাগ বেশি,তবে ভেতর ভালো।তোর ছবি অনলাইনে দিয়ে যদিও ভালো করেনি,কিন্তু তাও....হাহাহা,বাঃ নাইশা!আমার ছবি ছাড়লো,তাও সুজয়নীল ভালো??আমার তাকে এখন আর ভালো লাগেনা,প্রেমট্রেম এমন বুকপকেটে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বাড়ি ফেরা ছেলেফেলেদের দিবো কিজন্য?!.তার মানে তুই এখন অন্য কারো....হ্যাঁ আমার কৌশিক কে ভালো লাগে।সুজয়নীলের চেয়ে ঢের ভালো।প্রতিষ্ঠিত।গুড লুকিং।.কোন কৌশিক?হারিয়ানার কৌশিক?এইতো কিছুদিন আগে যার বাবা নারী কেলেঙ্কারি জনিত মামলায় জেলে গেলো,সে কৌশিক?.দোষ বাবা করেছে,ছেলে নয়।কৌশিক ভালো নাইশা,খুব ভালো।জানিস,রাতে হোটেলে থাকার পরও কৌশিক আমাকে স্পর্শ পর্যন্ত করেনি।উল্টো বারবার বলছিলো,অর্পা এইভাবে দুজনের হোটেলে থাকা ঠিক হচ্ছে কি?.ইমা,তুই হোটেলেও.....আরে ধুর,হোটেলেও মানে কী?গেলো বছর,কোলকাতা টু বাংলাদেশ স্পেশাল ট্যুর ছিলোনা?ওই যে,কনক দার আমেরিকাতে স্কলারশিপ হওয়ার সুবাদে আমাদের ট্রিট হিসেবে বাংলাদেশ ভ্রমণ...।আমি তোঁ বাবা ঘুরতে ঘুরতে রাত বারোটায় ফিরলুম।সবাই যার যার মতো করে রুম নিয়ে ঘুম...।তখন কৌশিক'ই আমাকে সাহায্য করেছিলো।ভাগ্যিস সেদিন কৌশিকটা ছিলো!.তবু একটু বুদ্ধি করে চলিস অর্পা।আজ আর ক্লাস হচ্ছেনা।আতাউর স্যার পিএজডি করতে জার্মানি....দ্যাটস গুড!!বাই,নাইশা।ভালো থাকিস।.কৌশিক,আজ ফ্রী তুমি?বেরোবে একটু?.তুমি কোথায়?ভার্সিটি?.হ্যাঁ।এই শোনো,সাদা টি-শার্ট পড়ে আসবে কিন্তু।.অর্পা,তোমার কোনো বিশেষ জায়গা আছে কি?খুব সুন্দর।যেখানে গেলে মন ভালো হয় খুব।.আছে।অবশ্যই আছে।কাশফুলের মাঠটা খুব পছন্দ আমার।ইশ জানোকৌশিক,কাশফুলের মাঝে হাঁটতে ভীষণ ভালো লাগে।.এই কৌশিক ছাড়ো,ছাড়ো বলছি।উফ,ছাড়োনা।এই খোলা আকাশের নীচে,কাশফুলের মাঝে কেউ এসব করে?ছাড়ো না....সি ইয়ু অর্পা।টেইক কেয়ার।.কৌশিক শোনো,থ্যাংক ইয়ু।আর কাল বিকেলে চা খাওয়াবে কিন্তু?.খাওয়াবো,খাওয়াবো।.সুজয়নীল,এই সুজয়নীল।বাবা একটু তোঁ বাইরে বেরোবি।সারাদিন পড়াশোনা করলে একটু রিফ্রেশমেন্ট লাগে বাবা।আচ্ছা রে,কোনও কারণে তোর মন খারাপ?মাকে বল?.মা,আমি কী খুব খারাপ মা?আমি কি প্রতিষ্ঠিত হবোনা?.পাগল ছেলে,কাঁদছিস কেন!তুই আমার ছেলে।মল্লিকা চৌধুরীর ছেলে।আর অবশ্যই মল্লিকার ছেলে সুজয়নীল একদিন সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে!.আজ রাতে থেকে যাও অর্পা?আমার বার্থডেতে এরচেয়ে স্পেশাল গিফট আর কি হতে পারে।.কৌশিক রাতটা থাকলে বাবা রাগ করবে।আর আমার ইচ্ছে থাকলেও মেয়ে হয়ে বাবাকে কী করে বলি?.আমিই আঙ্কল কে ফোন করি।উনি আমাকে না করবেন না।আমাকে সুদীপ আঙ্কল খুউব পছন্দ করেন,স্যরি আঙ্কল না ঠিক!বাবা..হাহাহা।.যাক বাবা আঙ্কল রাজি।দেখেছো তোমার বাবা আমাকে কতটা বিশ্বাস করে।আচ্ছা,যাকগে।পরিচয় করিয়ে দেই।এই হচ্ছে সুজয়নীল দা।আমার ছোটো ভাইয়ের টিউশান টিচার।.সুজয়নীল তখন হা করে দেখছিলো।যে অর্পা চার বছরের ভালোবাসায় সুজয়নীলকে হাত ছুঁতে না করতো সে কিনা আজ রাতে?!পৃথিবীটা সত্যি অদ্ভুত।খুউব অদ্ভুত।.প্লিজ ছাড়ো কৌশিক,প্লিজ ছাড়ো।কৌশিক!প্লিজ প্লিজ আর না,প্লিজ কৌশিক....কৌশিক ছেলেটা খুব ভালো,তাই নারে অর্পা।.হ্যাঁ বাবা ভালো।.তা তুই ভালোবাসিস?.বুঝেছি,বুঝেছি।আমি তবে সব বন্দবস্ত করেই ফেরি।.সুজয়নীল দা,ও সুজয়নীল দা,ভেতরে এসো।এসো না,এসো বলছি।.সে কি গো,তুমি কাঁদছ যে?গার্লফ্রেন্ড বিয়ে করছে বুঝি?.আচ্ছা ঝর্ণা তুই বল,আমি কি খুব খারাপ রে?.না গো সুজয়নীল দা।আমার মতো বেশ্যার মায়ের লাশ যে ছেলে একাই দাফন করে,সে কি করে খারাপ হয়?অসুখ দেখলে ওষুধপাতির পয়সা দিয়ে যাও,অথচ একদিনও কাজ করলেনা।তুমি মানুষ নও দাদা,ফেরেশতা...চলি রে ঝর্ণা।আচ্ছা শোন,আমি রোজ আসলে বসতে দিবি?.তুমি এসো সুজয়নীল দা।.বাচ্চার শখ ছিলো,দিয়েছি।চার বছরে অনেক শান্তি দিয়েছি।এইবার আবার ফ্রান্স ফিরতে হবে।আমার নীলার কাছে।.বাঃ রে কৌশিক।ভালোবাসার এই প্রতিদান?বিয়ের পর যখন জানলাম তুমি আগে বিয়ে করেছিলে,কষ্ট পেয়েছি কিন্তু মেনে নিয়েছি।আমাকে আগে বলতে পারতে?আজ বাবা থাকলে হয়তো তোমাকে দেখে ছাড়তো।বেশ,বাবারসবকিছু তোঁ আজ তোমার দখলে।ভালো থেকো তুমি।আমি কিছু একটা করে কাটিয়ে দিবো জীবন।.স্যার,ও স্যার,প্লিজ একটা কাজ দিন।আমি পারবো স্যার।.সুজয়নীল তুমি???.তুমি কাজ খুঁজছ অর্পা??কৌশিক কোথায়!.হাহাহাহা।থাক সুজয়নীল।ওসব কথা থাক।.বলো??.ও মাই গড!!পুলিশকে জানাতে পারতে?জানাওনি কেন??.মামলা করে ফিরিয়ে পাওয়া সংসার কি আর সংসার থাকে সুজয়নীল।.বাসায় চলো অর্পা।.বৌদি কোথায় সুজয়নীল?নিশ্চয়ই খুব সুন্দর কাউকে পেয়েছ?.হাহাহা। বাসায় চলো অর্পা,গেলেই দেখতে পাবে।.সুজয়নীল তুমি আজও?মা কবে কিভাবে??.একদিন অফিস থেকে ফিরে দেখলাম মায়ের শ্বাসকষ্ট।হসপিটাল নিলাম।দুদিন পর মায়ো আমাকে ছেড়ে গেলো....আচ্ছা,সুজয়নীল তুমি জানতে তো তোমার বাবা কে?.সব জানি অর্পা।থাক ওসব।.স্যরি সুজয়নীল,এক্সটিমলি স্যরি।.বালিশের পাশে ওটা কি সুজয়নীল?কি সুন্দর ফ্রেম।.আমার ছবি!ওই যে কাশফুলের রাস্তাটায়,এখনো রেখেছ তুমি?আজও?.হ্যাঁ রেখেছি।.আজও ভালোবাসো সুজয়নীল?.চোখ দেখে কি বুঝা যায়না?.সুজয়নীল,ক্ষমা করে দিও গো....না,অর্পা।এমনটা হয়তো নিয়তির খেলা।নয়তো আজ আমি তুমি এইভাবে..।কে জানতো?.এই ছেলেটা কিন্তু আমার।আমার ছেলে।নাম তার টুটুন,আমাদের টুটুন.....

ঘুলঘুলি [][][] আল্-মাম্যূণ
স্রোতের প্রতিকূলে ইলিশজীবন
চালচুলো নেই ককপিটের
ফেরারি ঢেউয়ে পানকৌড়ি, ফেনিল বরজ

স্রোতের চোরা টানে ছুঁড়ে ফেলা
খলিন বড়শি এবং বর্ষা
নিমজ্জিত জলে সন্ত্রাসিত মঁচশিল্প
কুড়িয়ে আনে কারূর জিভেজল

পিউরিট্যান নৌবাহ আনমনে সেচে
চুইয়ে উঠা হাবুডুবু পানি
সেচনীর ঘর্ষণে প্রাণ ফিরে পায়----
ওতপেতে থাকা অভিনব ঘুলঘুলি

নোঙর ছিঁড়ে ভেসে আসা জলজ দ্যাখে
নাবিকের চোখে স্বপ্নের ভরাডুবি,
হালহীন দৌড়বাজ চলে--- পাতাশ্রয়ের বালুচরে
নদীজ কচ্ছপ তেড়ে আসে হাঙ্গর রুপে

একেকটা প্রাণ, নদীর সমান
হাটুজলে হাটে নাব্যতা
নিভু নিভু আলোয় চরকী বাজি
চতুর্দিকে চনমনে মেঘ।

 লেখাকাল: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
                              গাজীপুর।

এক‌ই কথা বারে বারে,
বলিনা যে আর।
লাগলে ভালো ব‍্যথা দিতে,
করিও তা আবার।
অচল আঁখি নিথর দেহ,
দেখবে শুধু আর।
মিষ্টি সুরে সৃষ্টি কথা,
বলবো না এবার।
ক্ষণের লাগি চোখ মুদিলে,
ভালো লাগে যার।
জীবন দিয়ে পুতুল খেলা,
চাইনা তো আমার।
স্নেহ ভরা কোলে তোমার,
মাথা বলো কার?

********

তাং: ‌২৯/০৬/২০১৮ ইং
১৪ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
রাত:১০.২৭
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

ব্যস্ত শহর
সোহেল আহমেদ ইবনে ছাদ

সারাদিন যানজট ভীষণ ব্যস্ত শহর
একা একা পথ চলা পথ চেনে ঘর
সারাদিন ট্রাম-বাস মেট্রো চলাফেরা
সকলি ব্যস্ত সকলের সময়ের তাড়া
এই ব্যস্ততা তাড়াহুড়া জীবন করেছে ক্ষীন
মনে পড়ে আমার সে সোনালি দিন ।

ব্যস্ত শহরে দেখিনু মায়া মমতা
স্নেহ-প্রীতি ভালবাসা সোহার্দতা
এ যেন বন্ধরে ইটের ছাপায় কবরস্ত
শান্তির সূর্যটা ধীরে ধীরে গিয়েছে অস্থ
এরকম যদি হয় মানুষের জীবন সময়
একদিন প্রেম প্রীতি তিলে তিলে হবে ক্ষয়।

উঁচু উঁচু দালানে বসে থাকা লোক
স্বপ্নটা দেখে যায় দূলোক-ভূলোক
রাতের শহরে ঝলমলে আলোকিত বন্দর
কেউ যায় কাজে কেউ আবার ফিরে ঘর
সময়ের কাছে বন্ধি যেন সবাই কারাগারে
মুক্তগগনে ঘুরতে চাইলে কেও নাহি পারে ।
শহরে-বন্দরে যদি এরকম হয় জীবন
তবে মাঝে মাঝে মনে হয় জীবিত না মরন।

সূর্যালোক সবার গায়ে সমান ভাবে পড়ে না,
জানিনা আগের দিনে পড়তো কিনা?
চারিদিকে শুধু সূর্য আরো উজ্বল সূর্য,
তারকারা হিমশিম খায় রাতের অপেক্ষায়!
সূর্যমুখী ফুলেরা আজ বিভ্রান্ত-
আসল সূর্য কে বা কোন দিকে আছে বুঝেনা।
সে তো আসল সূর্যের দিকে মাথা তুলতে চায়,
কিন্তু বারবার দিশেহারা আজ সূর্যের খোঁজে।
এখন সে মাথা নুইয়ে মাটি তাঁকায়;সে আর
ফুটতে চাই না, চাই না তাকাতে আকাশে!

********

তাং: ‌০২/০৬/২০১৮ ইং
১৭ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল‌:৬.১৮
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

কেশব চক্রবর্তীর বাড়ি জৈন্তাপুর গ্রামে।ভালোবেসে 
২০০৩ সালে নির্মাকে বিয়ে করে কেশব।তবে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মানুষ নিয়ে খুব বেশিদিন ঘর করা হয়নি।জাফলং এর পিয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে ডুবে যাবার তিনদিন পর নির্মা'র লাশ ভেসে উঠে।
.
হিন্দুধর্মের বিধানানুযায়ী মৃতদেহ কাষ্ঠে তুলতে হয়।নির্মার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।কিন্তু সেদিন প্রচন্ড বৃষ্টিপাত হওয়ায় এক পর্যায়ে নির্মার লাশের আগুন নিভে যায়।বলে রাখা ভালো,নির্মা একজন বেদেনী।নির্মার মা-বাবা আসলেই কে নির্মা ঠিক জানতো না।
.
লাশ অর্ধেক পুড়ার পর ভিজে গেলে নাকি অমঙ্গল হয়।বিষয়টিকে
কুসংস্কার বলে চালিয়ে দিলেও কেশব বাবুর জীবনে এমনকিছু হয়েছিলো তাকে ঠিক অমঙ্গল না বলে ভয়ানক বললে যথাযথ হবে।নির্মার লাশে আর আগুন ধরানো সম্ভব হয়নি।অর্ধ পুড়া লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয় কেশব।
.
কেশবের মা নেই।বাবা হামদর্দ হারবাল কোম্পানিতে চাকুরী করতেন।তবে ঠিক কি কারণে হঠাৎ একদিন রাতে কেশবের বাবা আর ঘরে ফেরেনি।ঘটনার মূল রহস্য আজও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।কেশব তবু ভাবে বাবা ফিরবেন।কিন্তু সেটা কবে,তাঁ কেশব জানেনা।
.
কেশব তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।সুতরাং বাবা-মা ছাড়া কেশবকে একাই জীবন কাটাতে হয়।কেশব জৈন্তাপুরের অদূরে একটি পত্রিকা অফিসে কাজ করত।ইচ্ছে করেই অনেকদিন কেশব রাত করে ঘরে ফিরতো।ফাঁকা ঘরে থাকতে কারই'বা ভালো লাগে?
.
রাত তখন ন'টা।মফস্বলে রাত ন'টা অনেক বেশিকিছু।কেশব সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছে।বলে রাখা ভালো রাতের খাবারটা কেশব জৈন্তাপুরের এক ছোট রেস্টুরেন্টে খেয়ে বাড়ি আসে।
.
প্রতিদিনের মতো সেদিনও কেশব রেস্টুরেন্টে যায়।খাওয়া শেষে কেশব আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে সাইকেল চালানো শুরু করে।এক পর্যায়ে কেশব লক্ষ্য করে তার সামনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে।অন্ধকারে ঠিক বুঝা যাচ্ছিল না।কেশব জিগ্যেস করে,কে?কে আপনি?মৃদুহাসি শোনা যায়।কিন্তু পুরোপুরিভাবে মুখ দেখা যাচ্ছিল না।এক পর্যায়ে কেশব লক্ষ্য করে তার সামনে দাঁড়ানো লোকটির শরীরের অর্ধেক নেই।লাল কাপড় পড়া।কেশব আগাগোড়া ভয় পায়।আবারো কেশব জিগ্যেস করে কি চাই?হঠাৎ এই ভয়ংকর প্রাণীটি উধাও হয়ে যায়।
.
কেশব বুকে এক দলা থুঃথুঃ দিয়ে আবারো সাইকেল চেপে বসে।সেই রাতে কেশব ঠিকমতো ঘুমোতে পারেনি।কেশব ভয়ে বারবার ঘামছিলো।
.
রাত তখন তিনটে।কেশবের বালিশের পাশে রাখা টর্চলাইট আপনা আপনি জ্বলে উঠে।রীতিমতো কেশব ভড়কে যায়!এ কি করে সম্ভব??!শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটি ভেবে বিষয়টিকে কেশব মাথা থেকে সরানোর চেষ্টা করে।তার কিছুক্ষণ পর কেশব লক্ষ্য করে জানলার ওপাশে থাকা বাশ ঝাড়ের উপর দিয়ে কিছু একটার শব্দ।মনে হচ্ছিল কেউ একজন কাঁদছে।কেশব টর্চলাইটের আলো দিয়ে বিষয়টিকে পরখ করার চেষ্টা করে।কিন্তু কেশবের সাথে তখন
অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে ।টর্চলাইটের আলো বাঁশঝাড়ের উপর ফেলা মাত্র কেশব লক্ষ্য করে তার ঘরে কিছু একটার উপস্থিতি।কেশব তার রুমের দরজা আটকে দিতে গেলে অদৃশ্য কিছু একটা তাকে বাধা দেয়।ঝড়বাদলের দিন হওয়ায় মফস্বলে তখন ইলেক্ট্রিসিটি নেই।কেশবের শেষ ভরসা টর্চলাইট তখন মিটমিট করছে।চার্জ প্রায় শেষ।কেশব হাত বাড়িয়ে তার মোবাইলের আলো জ্বালাতে চায়।ঠিক সে মুহূর্তে কেশব লক্ষ্য করে তার মোবাইল রক্তে ভেজা।বালিশের উপর উদ্ভট গন্ধ।কেশব ভয়ে কুঁকড়ানো খাচ্ছে।দৌড়ে বাইরে যাবার চেষ্টা করে কেশব।কিন্তু দরজার পাশে যেতেই কেশব অজ্ঞান হয়।পরদিন সকালে কেশবকে তার এক বন্ধু সুমন্ত হসপিটালে নিয়ে যায়।কেশব সে বাড়িতে আর ফেরেনি।বন্ধু সুমন্তের সাথে সুমন্তদের বাড়িতেই থাকতো কেশব।তবে সে ঘটনার পর থেকে কেশবের সাথে আরও ভয়ংকর কিছু প্রায়ই ঘটতো।কেশব বাথরুমে গেলে আপনা আপনি লাইট নিভে যেতো।বেসিন থেকে আপনা আপনি জল পরতো।বালিশের পাশে প্রায়ই কেশব ছেঁড়া লোম পেতো।কিন্তু কেন এমন ভয়ংকর রহস্যময় বিষয় কেশবকে'ই খুঁজে নিতো??!তার পেছনে কি তবে নির্মার লাশের কোনো সম্পর্ক?নাকি অন্যকিছু!!তা আজও জানা সম্ভব হয়নি।
. . . সঞ্জয় দত্ত।

ধৈর্য্যশীল তেজ কটাল
- সাগর আল হেলাল
======================

কৃষ্ণচূড়ায় চুমু খায় কামনার ঠোঁট
জায়গা ছেড়ে দেয় পাপড়ি,
জ্যোৎস্নায় স্নান করে চাঁদের শরীর
ঘুরে বেড়ায় ঘামের বাতাস-
মাটি আর আকাশের আজ বিনোদন দিন...



কুহু কুহু ডাকে না কোকিলারা অন্ধকারে
চিনে নিতে হয় রাতের গান,
ছলাৎ শব্দে বহে ঝর্ণা চিরকাল
চোখ মেলে নাই বা হলো চোখের প্রশান্তি
জলের অনুভব চিনে নেয় জল...

চাঁদেরা ঘিরে রাখে পৃথিবী
অন্ধকার ঘিরে রাখে জ্যোৎস্নাময় চাঁদ,
চাঁদের কলঙ্ক ছুঁয়ে দিলে
বেড়ে যায় বিম্বিত আলোকমালা
ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসে কাশফুল মেঘ...

হৃদয়ের অবাক স্বরলিপি
ঝুলে থাকে কৃষ্ণচূড়ার ডালে প্রশস্ত সময়,
ফুল ফুটলেই বসন্ত আসে না
না বাড়ে যদি নদীর বয়স-




চুমু খায় কৃষ্ণচূড়ায় কামনার ঠোঁট
জেগে থাকে সারারাত ধৈর্য্যশীল তেজ কটাল...
-
০১.০৯.২০১৮

আর্তনাদ শুনেছি সেদিন গভীর রাতে,
অশ্রু বৃষ্টি ঝরেছিল চোখ বেয়ে বুকে।
জীবনদীপ নিভেছিল মাঝ পথে এসে,
দোষ কি ছিল সেই তারে ভালোবেসে।
মানব মানবী এখন চলে যে যার মতো,
আত্ম যন্ত্রনায় সে হলো নিজেই নিহত।
প্রতিপদে পেয়েছিল প্রতারণার জ্বালা,
ভুল ছিল সে পড়েছিল বন্ধনের মালা।
ভেদাভেদ নাই যার আপন আর পরে,
সেই মানুষ রয়েছে আজ‌ অমর হয়ে।
মিষ্টি মাখা কথা কতো পথিকের তরে,
ঘরে এলে কেঁপে মরে গুরুতর জ্বরে।
অভিনয়ে ব‍্যস্ত ছিল অলক্ষ্যে মিলন,
প্রাণ কাড়ি নিল যে সে কেমন সুজন!
অগাধ বিশ্বাস থাকুক আগামী জীবন,
সত‍্য পথে চলে দেখো লাগে কেমন!

***********
তাং: ‌১/০৯/২০১৮ ইং
১৫ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল: ১০.৪৭
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

বিধি আমার হাতের রেখা নতুন করে এঁকে দাও,
পারিনা সইতে আর কষ্ট কিছু পরের জন্মের জন্যে রেখে দাও।
বিধি কি আছে আমার হস্তরেখা আর কপালের লিখন?
তুমি তো জানোই বিধি আমার এই কষ্টের জীবন।
রক্ত মাংসে গড়া মানব হয়ে সই কি করে এতো কষ্টের প্রহার?
দাও না বিধি বদলে দিয়ে হস্ত রেখা, সুখ কিছু উপহার।
বলছি না কোন জোর আবদার, করছি মিনতি বিনয়ের সাথে....
বিধি দুঃখ সুখ বদলের ক্ষমতা যে শুধু তোমারই আছে।
ভোরের উড়ে যাওয়া পাখি গুলো তোমারই কৃপায় ফিরে যায় নীড়ে,
তবে কেন করবো না আশা ? ভীড়বে আমারও নৌকা সুখেরই তীরে?
পুর্ণ বিশ্বাস নিয়ে করি প্রার্থনা আমি তোমার কাছে,
কবুল করো বিধি, ক্ষমা করে পাপ যতো আমার আছে।

ডেজার্টেশন করতে হবে হতে হলে এম.এ,
শেষ দিনটা এসে গেল তাই মরেছি ঘেমে।
স্কুলে ছুটি নিয়ে বসি আরেক বন্ধুর সাথে,
তথ্য আমি খোঁজে মরি নেই কিছুই নেটে।
খুশি মনেই সোনা আমার রান্না বান্না করে,
পেট ভরেছি তাতেই বুঝি বড্ড ঘুমে ধরে।
মধ্য রাতে ব‍্যাগ ভরেছি জমা দিতে যাবো,
ভুলে শুদ্ধে যাই ক‍রেছি তার‌ই ফল পাবো।
হাসি খুশী পৌঁছেগেছি এম বি বি কলেজে,
মনে মনে ভয় ছিল পরীক্ষা হবেই নলেজ।

***********
তাং: ‌৩১/০৮/২০১৮ ইং
১৪ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
রাত:১১.০৭
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

গল্পটা এক থমথমে রাতের। পাশের বিল্ডিং এ কমান্ডো অভিযান চলছে। টেলিভিশন চ্যানেল সূত্রে জানতে পারি জঙ্গি আস্থানার সন্ধান পাওয়া গেছে। রুমে আমি একা। মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ আমার ভেতরকার হৃদপিন্ড কে ভয়ে শিউরে তুলছে। আজকে আবার অর্পার জন্মদিন। প্রতি জন্মদিনেই ১১.৫৯ মিনিটে আমরা ভিডিও কলে যাই। কিন্তু আজ আর তা হয়ে উঠবে কিনা কে জানে। তখন সময় নটা বেজে কুড়ি মিনিট। এক গ্লাস জল নিই। প্রচণ্ড ঘামছে শরীরটা। একপাশে গুলির শব্দ অন্যপাশে অর্পার জন্মদিনের অপেক্ষা উপেক্ষিত। কতো ভালোবাসে অর্পা। প্রতিবেল...া ম্যাসেজ করা। অবশ্য খাওয়া নাওয়ার জন্য না। যেনও সময়মতো পড়াশোনাটা করি। একটু বিরক্ত লাগতো! রাত বারোটায় জন্য প্রেমিকাকে পার্টস অফ স্পিচ এর শর্ট কুয়েশন এর উত্তর দিতে হয়,তখন অবশ্য ভালো লাগার কথা না। তবুও অনেক ভালো না লাগার মাঝেও কতো ভালোবাসা। দশটা সাত মিনিটে মোবাইলটা বেজে উঠে। আমি তখন জানলায় নীচে কমান্ডো অভিযানটা দেখছি তখন। কয়েকটা লাশ টেনে নিচ্ছে দুজন সেনাবাহিনী। প্রচন্ড ভয়ে তখন ফোনটা ধরার সাহস হয়ে উঠেনি। ফোনটা মায়ের ছিলো। বেক করি। মা কাঁদছেন। বাবা তুই বাড়ি কখন আসবি? ক্লাস কবে ছুটি তর। বাসায় টিভি নেই। তাই মা হয়তো জানেই না আমি কি এক অসহায় অবস্থায় তখন। হাসি মুখেই বলি মা এইতো কাল/পরসু। ঘুমাও মা। আমি আসবো। মা ফোনটা রাখে। দেখতে দেখতে তখন রাত এগারোটা পঞ্চান্ন। ফোন দিই অর্পাকে। সেকি মোবাইলটা সুইচ অফ। একশো পঁয়তাল্লিশ বার কল করি। উমুম না। ফোনটা সুইচ অফ। শেষে রেকর্ডিং বাটংটা চেপে কয়েকলাইন রেকর্ড করি-






অঘুমা রাত্রিতে তোমায় জেগেজেগে ভালোবাসি,
সে কথা তারারাও জেনে গেছে,
জেনে গেছে পাড়ার পাগলটাও,
শুভ জন্মদিন প্রেয়সী।
আস্তে আস্তে ঘড়ির কাটা ঘুরছে। রাত হচ্ছে। আর আমার শ্বাসের আর্তিটা যেন ধপধপ করে বাড়ছেই। ইশ অর্পাটা যে কি!আজকে ফোনটা সুইচ অফ। ধুর। ঘুমোতে যাই। সকাল বেলা উঠে দেখি আমি হসপিটালের সাদা একটা ফ্লোরে। পাশে দুজন লোক। শব্দে বুঝা গেলো পরিচিত তবে দেখতে পাচ্ছিলাম না। কমান্ডোদের ছুড়া বুলেটে আমার চোখটা আর বাম হাতটা ঝাঝরে যায়। ওদের দোষ নেই। দোষ নিয়তির। কেননা আমি সেদিন জানলা লাগিয়ে ঘুমোতে যাইনি। ইচ্ছে ছিলো রাতের তারা গুনেগুনে অর্পার সাথে একচুট প্রেমালাপ করবো। তা আর হলো কই। সাতদিন পর যখন বাসায় ফিরি ফোনটা জয়কে দিই। দেখতো ভাই লাস্ট শূন্য শূন্য সাত নাম্বারটা থেকে কোনো ম্যাসেজ/ কল আসলো কিনা। জয় দেখে উত্তর দেয়, হ্যা ভাই একটাই ম্যাসেজ। তাতে লিখা। ভাই আমি সিএনজি চালাই। এই নাম্বারের মেয়েটি এবং তার মা শপিং থেকে ফিরার পথে রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। আমি চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি। আপনার নাম্বারটা ডায়াল লিস্টে প্রথমেই ছিলো। জয়কে থামতে বলি। সঙ্গে সঙ্গে জয়কে অর্পাদের বাসায় নিয়ে যেতে বলি। আমি যাই। কল্লোল নামের তার কাকাতো ভাই জানতো আমাদের রিলেশনের কথা। কল্লোল আমাকে জড়িয়ে ধরে। আমার জন্য অর্পা একটা মানিব্যাগ শেষদিনের শপিং এ কিনে যায়। মানিব্যাগটা কল্লোল আমাকে দেয়। উপরের সাদা আস্তরণটায় লাল রঙ। অটা আমার অর্পার রক্তের রঙ। একটা ছবিও। সেটা আবার অর্পার না। আমার মায়ের ছবি। এতো প্লেন করে মেয়েটা চলে গেলো? আচ্ছা ওকি সত্যি জানতো যে এইভাবে শেষটা হবে। যাক ভালোই হলো চোখে সে শক্তিটা নেই আর, নয়তো কি করে দেখতাম এই দৃশ্য? আজ তেইশ বছর হতে চললো,বিয়ে আর করা হয়নি। আজ আবার সেই দিনটা। মানিব্যাগ বুকে জড়িয়ে আস্তে করে বললাম শুভ জন্মদিন অর্পা। আচ্ছা ওকি এখন শুনতে পাচ্ছে আমার শ্বাসের আর্তিটুকো?কে জানে!

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget