আগস্ট 2018

কাব‍্যমালা লিখতে গিয়ে টের পেলাম জ্বালা,
আইন কানুনের ঘেড়াকলে যায়না কথা বলা।
কুম্ভকর্ণ মানব হৃদয় সদয় হবেন কখন,
ক্ষণে ক্ষণে চাবুক দেখি লিখবো যে কেমন?
ঠান্ডা ঘরে আরাম করে অফিসারের দল-
প্রহসন‌ই করছে তারা আইন কোথায় বল?
সম্রাটের ঐ তরবারি ঝুলছে জাদুঘরে-
ভুলে গেছি সেনানী যারা যুদ্ধে গেল মরে।
ঘুমিয়ে গেছে প্রাচীন কথা ইতিহাসের পাতায়,
খুলবে যদি মুখটা আজ পড়বে লাঠি মাথায়।
শর্ষে ভরা গোলাঘরে লুকিয়ে আছে ভূত,
আনন্দেতে সবাই নাচে ভগবানের দূত।
বিচার চাই! বিচার চাই! বললে কি আর হবে,
সেই বিচারের দাঁড়িপাল্লা চোখ বেঁধে রবে।
প্রমোশনে চাই যে বন্ধু বড়ো বড়ো আসন,
অন‍্যায়েরে তাইতো বলে আসুন আসুন বসুন!
বাধ্য হয়ে সবাই নামায় কাঁধের নিচে মাথা,
অত‍্যাচারির বিরুদ্ধে যে কে বলবে কথা?


***********
তাং: ‌৩০/০৮/২০১৮ ইং
১৩ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৯.০৯
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

অশ্রু কান্নাহীন আর্তনাদ নিয়ে বুকে,
কাটছে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি যে হাসি মাখা মুখে।
প্রতিটি পদে প্রতিটি মানুষের কাছে,
ঠকেছি প্রতিনিয়ত দেখেছি প্রতারণা যতো আছে।
নেই কোন আপন পরের কোন ভেদাভেদ,
কখনো কষ্ট কখনো মিষ্টি মাখা অস্ত্রে করেছে শিরচ্ছেদ।
কেউ করেছে আপন সেজে অসাধারণ অভিনয়,
কেউ আবার দিয়েছে অগাধ অন্ধবিশ্বাসের বিনিময়।
কষ্ট দেয়াই হয়তো লক্ষ্য তাদের কি আছে আর বলার?
ভালবাসার বিনিময়ে পাবে ভালবাসা হয় কি সৌভাগ্য সবার?
আমিও নাহয় না পাওয়া হতভাগার দলেই থাকলাম,
নিজ কষ্ট আবেগ আছে যতো মনের সিন্দুকে ভরে রাখলাম।
না বলা ব্যাথা গুলো কেউ যদি বুঝতো কোনদিন,
চির কৃতজ্ঞ চির ঋণী হয়ে থাকতাম চিরদিন।
জানি মরণ কালেও মিটবে না এ সাধ আমার,
আমি তো অন্ধ হবে কি সকাল? প্রতিটি মুহুর্ত যে রাত আমার।

তুমি নূপুর পায়ে হেটো কুয়াশা ভেঁজা ভোরে,
আমি না হয় সংগ দিবো ভোরের কাক হয়ে।

কুয়াশার বুকে ভেসে আসবে কস্তূরী ফুলের গন্ধ,
কান পেতে শুনবে তুমি ডাহুক দলের ধন্ধ।

কনকনে ঠান্ডা পরবে,পাখিরা সব আড্ডা দিবে,
আমার উষ্ণ ছোয়াতে,হৃদ্বয়ে তোমার কাপন দিবে।

শান্ত বকের ডাক, কুয়াশা মাখা কবিতার তাক,
যেনো বলছে,বলে চলছে,থাক সংগ দিতেই থাক।

আমাদের কথা হয় সন্ধ‍্যার সময়,
মালতিরা ভরে উঠে সঞ্চিত হৃদয়।
নীল শাড়ি উড়ে তার পাগলা হাওয়ায়,
পলকেতে প্রাণ জাগে সৃষ্টির আশায়।
চাঁদখানি হেঁসে উঠে আকাশেতে ভেসে,
ঝঙ্ গুলো ছাড়িয়ে দিই বারেবারে ঘসে।
ঝিঁনুকেরা বুক খুলে সাগরের তটে,
আঙ্গুলের ছোঁয়াতে মুখ বুঝে বটে।
রূপে গুনে ভরে উঠে যৌবনের আলো,
লাজেতে মরি যেন আমি বড়ো কালো।
শিহরণ জেগে উঠে প্রতিকূপে তার,
মৃত‍্যুতেও মনে হয় আমরা অমর।
হৃদয়ের মূরচ্ছনা শুনি সুরের সাগর,
আঁখি ভরি চাহি আমি হিমালয় ডাগর।
কবিতার কতো কথা স্বপ্নের ছবি,
উদিবে আমার নিশ্চয় ভাগ‍্যের রবি।
জোনাকির ডানা ভরা ক্ষনিকের আলো,
অন্ধকারে যায় দেখা তাওতো ভালো।
মৃত‍্যুঞ্জয়ী নারী সে সঙ্গমের ত্রিবেণী,
ঘোলা জল বহিলেও সেই মন্দাকিনী।
পঙক্তির আড়ালে জাগে রঙধনু মালা,
সুখ শুধু নয় আছে গোপন জ্বালা।
স্বার্থপর ভ্রমরা চুষে নিল রেণু,
হৃদিমা বলে যেন-"আমি কামধেনু"।

***********
তাং: ‌২৯/০৮/২০১৮ ইং
১২ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:১০.১৩
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

উদ্দালক
- সোনালী মন্ডল আইচ

পোড়ামুখী জ্যোৎস্নার ভিতর এসে দাঁড়ায়
আমানির বানে পান্তা ফুরায় নুন আনতে
মশা মাছি ম্যালেরিয়ায় দিব্যি জীবন
শেষমেষ অব্যাহত মৃত্যুঞ্জয় আখ্যা
আড়ালে বিব্রত আহাম্মক মেঘদূত

টগবগে পক্ষীরাজ ঘোড়া আসেনা
তবু জেদ খুঁড়িয়ে গন্তব্যের খোঁজ
ওই যে কপ্টারে কপ্টারে উড়ছে দেবদূত

কাদা মাটি পোকা মাকড়
সাপখোপ খুব ভয় করে
তারপর আরুণি পাশে শুয়ে
বলে একটু ঘুমিয়ে নাও
এবার আমি জেগে আছি...

©Sonali Mandal Aich

আবছায়া পাখি
- মোশ্ রাফি মুকুল

তিতির
আবছায়া পাখি।
ভুল ডানায় শীতল অন্ধকার

লুডমিলা পাহাড়ে রৌদ্র আঁকে
রক্তিম ক্ষুধার ডালপালা ছড়িয়ে পড়ে-
নীলগাই সন্ধ্যায় এবং
পারিজাতগদ্যের সুগন্ধি ভাতশালায়।

মাঝে মাঝে রাস্তারা বাষ্পীয় পথ ভুলে যায়
হলুদ হ্যাজার্ড ও ক্রিমসন হাওয়া
হলহলিয়ে নেমে আসে আমাদের আকাশগঙ্গায়

লাল ঝিঁঝিঁপোকা
রেডিয়াম পাখনায় উড়িয়ে নিয়ে যায়
জুওলজিকাল প্রপেলার ও
মিরিঞ্জার গমগমে ওয়াচ টাওয়ার।

আবছায়া পাখিদের গ্লু'তে আটকে থাকে
টরেটক্কর চাঁদের নেকাব!

২৭/০৮/২০১৮.

বালুকায় গাঁথি আমি সুখ স্মৃতি মালা,
সাগরেতে ভাসে মোর দুঃখ বিরহ জ্বালা।
মুঠো মুঠো স্বপ্নগুলো দুঃখ কণা হলো,
অনুরাগে বিরাগ গুলো নিমেষে মিশিলো।
অশ্রু ভেজা আঁখি মোর সাগরেতে জল,
বিবর্ণ বালুকায় আজি স্মৃতির কোলাহল।

********

তাং: ‌০৩/০৬/২০১৮ ইং
১৮ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল‌:৬.১৬

কুহু নহে বিকট বংশীধ্বনী,
ডাকিছে ট্রেন আমায় আগরতলাগামী।
আধ-ভাঙা ঘুমে স্নানটি সেরে,
বেরিয়েছি রাজ পথে-
কেউ যেন দিয়েছে আমাকেই তেড়ে!
বৈদ্যুতিক রিক্সায় চেপে স্টেশনে আসা,
টিকিট দুটি কেটেছিল আমার ভালবাসা।
দূরেতে হাতছানি ডাকিল মোরে,
দ্রুত বেগে চলে যাই ট্রেনে চড়িবারে।
বধূ মোর বড়ো ভালো-ব‍্যাগ টেনে নিল,
স্বস্থির নিঃশ্বাস এবার ট্রেন ছেড়ে দিল।
গরম চা হাতে আর ফেসবুকের পাতা,
খুলে মোরা দেখেনিই কার কি কথা।
ভারতের প্রতিচ্ছবি ট্রেনেতে দেখি,
ভোগীদের মাঝে মাঝে জনা দুয়েক রোগী।
টানেলের মাঝে এলো হিজড়া ডাকাত,
টাকা না দিলে হবে সন্মানের কাত।
ভিক্ষারী এলো এক দশ টাকা নিল,
হিজড়া লোকটি তার অর্ধেক পেল।
সুন্দর মেয়ে এক চশমা পড়া চোখ,
হিজড়ার বাক‍্যবানে কাঁপে তার বুক।
পাঞ্জাবী বিহারী চাকমা বাঙালি,
কারো ভদ্র কথাতে কারো হয় গালি।
অভিজ্ঞতায় ভরে যায় কতো শূন্য থলি-
বৈচিত্র্যের এই দেশ ভারত যারে বলি।

***********
তাং: ‌২৮/০৮/২০১৮ ইং
১১ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৯.২৬
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

আমাদের কথা হয় - এ. এইচ. হৃদয়
আমাদের কথা হয় হাওয়ার তরঙ্গে
অনাবাদী শাড়ির আঁচল ওড়ে বাতাসে তোমার,
পলকে বিদ্যুৎ চমকায় অকস্মাৎ,
চাঁদের মাঠে মুঠো ভরে চন্দ্রজ্যোতি উড়াও
ঝিঁনুক কুড়ানো পড়ন্ত সময়ে আমাদের কথা হয়।

হাতের আঙ্গুলের ফাঁক গলে তোমার
নৈঃসর্গীক রূপ বেয়ে বেয়ে পড়ে ঠাওর করি।
উস্মুখর চুম্বনে ছড়িয়ে দাও দুরন্ত শিহরণ ওষ্ঠে ওষ্ঠে
আমাদের কথায় হয় বহুবিদ সুরের মূর্ছনায়,
কবিতার কথামালায়,
নিভে যাওয়া রাত্রির চকিত জোনাকির পাখায়
শালিকের মৃত্যুঞ্জয়ী সঙ্গমের তৃপ্তিময়তায়
সাহিত্যের নিগূঢ় পঙক্তির মনোভেদ্যতায়।

আমাদের কথা হয় সত্যান্যেষি সিনেমায়-
যেখানে সব চরিত্রই আমাদের ঘিরে বর্তায়,
আমাদের কথা হয় টেলিভিশনের মিথ্যা
অলিক ধারাবাহিক চরিত্রের বিন্যাষিত কল্পনায়
আমাদের কথা হয় ছোট ছোট শিশুদের স্কুলের বেঞ্চে।
শিক্ষকের টেবিলে রাখা চক-ডাস্টারের সাথে
অফিসে দুপুরের খাবার শেষে
সময়ে-অসময়ে আমাদের কথা হয়।

প্রাণে-প্রাণে ছুঁয়ে যাওয়া শত শত কবিতার
শব্দাবলীর আক্ষরিক নিরবিত মনের
কথা হয় অনুভবে তোমাতে-আমাতে।

'প্রহসন' বলে যদি কিছু থাকে-
মৃত‍্যুঞ্জয়ীর দল কেন লুকিয়ে হাসে?
দাসত্বের শেকলে বাঁধা সংসারী মানুষ,
ভবঘুরে যারা বলো তাদের কিবা দোষ!
বিবেকের সুতোয় গ্ৰন্থিত কালো ছায়া,
আঁধারও হেসে বলে আলোতেই মায়া।
মঞ্চায়িত জীবনে পরাধীনতাই সুখ;
দর্শকেরা বলে ভালো-ভালো হয়েছে খুব!

***********
তাং: ‌২৭/০৮/২০১৮ ইং
১০ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৬.২৮

আজি এ পূন‍্য লগনে-
বাধিব রাখী তোমারে সযতনে।
রাখীর এই রাঙা সুতো গুলো,
মুছে দেবে সব আধাঁরের কালি।
পুষ্পাঞ্জলি পরশে মন্ত্র গাহিয়া,
বাধিব রাখী আজি আনন্দে নাচিয়া।
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বাধিবো জগৎ,
আনন্দ জোয়ারে প্লাবিত পথ।

***********
তাং: ‌২৬/০৮/২০১৮ ইং
০৯ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
রাত:১০.৪৫

যত মত তত পথ

আব্দুল মান্নান মল্লিক

কার প্রেমে পাগল মোরা দিন যে গেল বয়ে,
পদ্ম কুসুম দগ্ধ হাতে তবুও পথ চেয়ে।
কারো আহ্বান গৃহত্যাগী বৃক্ষ ছায়াতলে,
আসন পেতে ডাকছে কেহ কাঁদছে অশ্রুজলে।
কারো বিশ্বাস অনড় পথে বৃথাই অনশন,
সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলিয় পাইনি দর্শন।
একটু ছোঁয়া একটু সাড়ায় আসতো পাশাপাশি,
দগ্ধ কুসুম হাতে হাতে থাকতো না আর বাসি।
নতুন করে উঠতো জেগে প্রভুর কৃপায়,
চিত্ত বনে নিত্য লীলা বিফল অভিপ্রায়।
জন্ম যেথা বিলীন সেথা সাগর জলের ঢেউ,
চিত্ত বনের অগ্নি জোয়ার নিভায় নাতো কেউ।
বলতো দেখি কুসুম রে তুই করব সমর্পণ,
কার লাগিয়া হাতে ধরি বয়ে যায় দিনক্ষণ।
হেথা হোথা নাইরে কোথা এই কথাটি সার,
সবার ঘরেই বসত বাড়ি সে যে নিরাকার।
যেমন খুশি শুভ্র কালো হোকনা জ্যোতি আলো,
ভালোবাসার কাঙাল আমি সবই আমার ভালো।
যেথায় জবা গুল কুসুমের এক বাগিচায় বাস,
সেথায় ভ্রমর মধু পানে একই চাষীর চাষ।
একই স্রষ্টার সৃষ্টি মোরা তবুও জাতপাতে,
বিবশ মানুষ ভ্রান্ত পথে দাঁড়িয়ে সংঘাতে।

পথ
- মোশ্ রাফি মুকুল

দ্যাখো কি নিটোল জল ছুটে যাচ্ছে
পাষাণের ঋদ্ধতা কেটে কেটে-
সাদা ফেনিলগুলো যেন হ্যাঙ্গারে টানানো মাখন।

ঝর্ণারা পাড়ি দিচ্ছে অচেনা পথ,
যেমন আমি আজও চিনিনি সুগন্ধি প্রেমোদ্গম নারীকে,
মেষ পালকের মতো এগিয়ে চলেছি
দূর্বাঘাসের দেশে।

দূরের দূরবীনে খুঁজে ফিরছি সম্পর্কের
শুভ্র সফেদ পেখম,
পলকহীন ডোরাকাটা দাগ।

২৬/০৮/২০১৮.

ভোঁ-কাট্টা
- সোনালী মন্ডল আইচ

ঘুম ঘুম চোখে
রাকা রাত শুয়ে
মৃত্যুশীল সুপ্তির ঘুমপাড়ানি
সুর আসে ভেসে

কুব পাখির ডাক
নিশাচর পেঁচা মনে
যুক্তি সব ব্যর্থ
আর মূল্য নিরুপায়

বাতিস্তম্ভের এই মধ্যরাতে
গৃহ না পালিত
ঘুড়ি শরীর ওড়ে
মাধ্যাকর্শনের মায়া জড়িয়ে...

©Sonali Mandal Aich

বাংলার শরৎকাল
- আব্দুল মান্নান মল্লিক

ছিন্ন মেঘের ভিন্ন পথ নীল গগনের গায়ে,
চাতক উড়ে মত্ত হয়ে শিশির কোণা খেয়ে।
রোদের উপর সাঁতার দিয়ে ছায়ার ঘুরাঘুরি,
শরৎকালে রোদ ছায়াতে খেলছে লুকোচুরি।
দূর দিগন্তে মাঠের পরে ফুল ভরা কাশবন,
মেঘের ফাঁকে রোদের চমক শীর্ষে চনমন।
বিহগগীতি শিউলি শাখায় উড়ছে মধুকর,
শরৎ কালের রূপের ঝলক হতাশ মনোহর।
ডাহুক ডাকে বৃক্ষ শাখে ডাহুকী খাত পাড়ে,
কুঞ্জবনে পাপিয়ার পিউ ভেকেরা জলাধারে।
ধোঁয়া ধোঁয়া নীহার ওড়ে ঐ যে দূরের পানে,
সুরের ছন্দে মত্ত বাতাস রাখালীয়ার গানে।
মাছরাঙাটি বসলো ডালে দৃষ্টি পুকুর জলে,
রং-বাহারি দেহের গড়ন অধর বাহার লালে।
ছাতিম জারুল চাঁপা ফুটে আরও ফুটে বেলি,
প্রজাপতির পাখনা ঘাতে ঝরে পড়ে শিউলি।
সন্ধ্যাতারা ফুল ঝরে যায় শরৎ প্রাত কালে,
নয়নতারা ফুলগুলো সব শীর্ষ গাছে দোলে।
গুনগুন সুরে ফুল ফুটিয়ে ভ্রমর যায় উড়ে,
মোদের গৌরব ঋতুকন্যা সারা বাংলা জুড়ে।

নিষ্ঠুর

তানবিন

 

আমি একটা কেমন যেন!

তাই না গো?

তোমার দুঃখে কাঁদিনি কোনোদিন,

আমার কষ্টে ছিঁচকাঁদুনে হয়ে গেছি, তবুও না।

খেয়াল করেছিলে গো?

তোমার অভিমানে কেমন যেন পাত্তা দিই না!

কষ্টগুলো খড় বানিয়ে খেয়ে জাবর কেটে ফেলে দিলেও,

আমার যেন টনক নড়েই না!

নিজের বেলায় ষোলোটা আনা তো বটেই,

মাঝে মাঝে যেন উপরি আরো বারোটি আনা তুলে নিই।

তোমার কষ্ট হয়, তাই না গো?

জানো, তুমি চোখের পানি চেপে গেলে না আমার কেমন যেন কিছুই মনে হয় না।

তুমি যদি সেটা বর্ণনা দাও, তবে নাহয় কিছু মনে হয়।

সেটাও যদি একটু ব্যথা দিত, তবু তো বুঝতাম,

তোমার জন্য হয়তো আমার কিচ্ছুটি হলেও আছে বটে!

আমি না বড় নিষ্ঠুর, জানো গো?

নতুন খেলনাটা যে ভীষণ আগলে রাখার কথা ছিল, সেটাকে উলটো ছিঁড়েখুঁড়ে তুলো বের না করলে যেন আমার শান্তি নেই!

তোমায় কি আমি খেলনা পেয়ে গেছি, যে যাচ্ছেতাই খেলব?

যাচ্ছেতাই ব্যবহার করব?

আর তুমি চুপ করে থাকবে?

এত্ত সোজা?

আচ্ছা, তুমি চুপ করে থাকো কেন বলোতো?

ভয় পাও?

ছেড়ে যাই যদি, এই ভয়?

ছাড়বোনা গো।

ভয় নেই।

তুমি আমায় আদর দিয়ে শাসন না করলে আমি যে বড্ড বেয়াড়া হয়ে যাব গো!

তখন যদি কেউ মার দেয়?

তোমার তাই সহ্য হবে?

তুমি ছাড়া অন্য কেউ মারলে তো তোমার সহ্য হবে না!

আর তখন যদি তার সাথে তুমি আরেক দফা বসিয়ে দিয়ে মারামারি করে একটা কাণ্ড বাঁধিয়ে রাখো, তখন কী হবে বলো দেখি?

আমি ছোট মানুষ, এতসব সামাল দিতে পারব না বাপু।

তারচেয়ে বরং তুমি আমায় একটু শক্ত করে শাসিয়ে দাও না?

বড্ড করে চাচ্ছি!

আমার না বড্ড ভয় করে।

যেভাবে তুমি সিলিন্ডারের মতো একের পর এক চেপে যাচ্ছ, তাতে না আবার হঠাৎ সব ফেটে বেরোয়!

তখন আমি কোথায় যাব বলো দেখি?

অসহায় দিশেহারার মতো এদিক সেদিক ছুটব না বলো?
তোমার সাথে যাচ্ছেতাই করি, তবু তুমি ছাড়া পৃথিবীর আর আছেটা কে বলো?

পদাবলী হয়ে তুমি আসিলে অন্তরে,
বিরহ বেদনা এবার জাগিল মন্তরে।
ফুল মালা গেঁথেছিনু বকুল চামেলী,
এলেনা তুমি প্রিয়ে বিরহে চৈতালি।
মলিন বদনে চেয়েছিনু তবো-পানে,
রাখিলো যে ধরি মিছে অভিমানে!
চিরদুখী করো মোরে সুখের লাগি,
বিনত হৃদয়ে শতরাত একা জাগি।
কামনা বাসনা সব‌ই রহিল দূরে,
তুমি আসো প্রিয়ে আবার‌ও ফিরে।

********

তাং: ‌০৪/০৬/২০১৮ ইং
১৯ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল‌: ৬.২৮
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

আর নেই ভালোবাসা
- ইন্দ্রাণী রাহা

একবারই ভালোবেসেছিলাম,
দ্বিতীয়বার আর পারলাম কই-----
এখন অনেক রাত,
বাইরের অন্ধকারে জানি না কী খুঁজি,
চেনা আঁধারের আঁচলে অজস্র তারারা জাগে,
ওদের প্রশ্ন করি--
বলো তো তোমরা,
কোথায় রেখেছ আমার ভালোবাসাকে,
একবার আরো একবার ফিরিয়ে দাও না,
ভালোবাসাকে শেষ বারের মত বুঝি।
তারারা জানতে চায়-
কেমন ছিল সে ভালোবাসা--
বোঝাও যদি খুঁজে দেখি, পাই কি না তার পথের দিশা।
আমার তখন সকালবেলা,আপন মনে খেলা,হঠাৎ সে এসে কোন জাদুর ছোঁয়ায় মনের আধফোটা কুঁড়িদের ফুটিয়ে দিল মায়াবী
ভালোবাসায়।
পুলকে রোমাঞ্চে শিহরণে--
সে এক নতুন আমি,
দিনে রাতে আমার চারপাশে ভ্রমরের গুঞ্জন,শতসহস্র পদ্ম-কোরকের চোখ মেলে চাওয়া,
মেঘ বালিকার হাত ধরে ভেসে চলেছি,
ঝরে পড়ছি শিশির মাখা ঘাসে,অব্যক্ত সে মনের ভাব শুধু
জানেন অন্তরযামী।
মনে মনে তাকে বেঁধেছি দুই হাতে,
কণ্ঠলগ্না হয়ে ভুলেছি নিজেকে,
দুচোখে জ্বেলেছি দীপ নিতি রাতে।
ছিলো না অবশিষ্ট কিছু চাওয়ার,
পূর্ণ আনন্দে বিভোর প্রাণ আমার।
হঠাৎ একদিন,
দিয়েছিল যা,সর্বস্ব তার নিয়ে চলে গেল,
নিঃস্ব হল প্রত্যাশা,
আরতো পেলাম না জীবনভর আঁচলে আমার,
এক বিন্দু ভালোবাসা.... ।

21.8.18.
Copy right@indrani raha.

'সোরি' বললে করবেন মাপ,
কমান সবাই মনের তাপ।
শব্দ এটা বড়ই ভালো-
ক্ষমা চাওয়া হয়ে গেল।
ভদ্র মানুষ ভদ্র কথা,
কি করবেন নিয়ে ব‍্যথা।
ঢাকতে কালি শব্দ খালি,
ফুল বাগানে যেমন মালী।
কেউ বলেছে রক্ষা নাই-
ভুল করেছ শাস্তি চাই!
আবার যারা ব‍্যস্ত তারা,
এড়িয়ে চলেন জুট-ঝামেলা।

***********
তাং: ‌২৫/০৮/২০১৮ ইং
০৮ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৫.০৮
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

অসমাপ্ত
- সোনালী মন্ডল আইচ

আগামীতে যেতে যেতে
রাত বা দিন
যে কোনো সময়ের
ইচ্ছে ও অপেক্ষা
একটু একটু করে
শিলা হতে থাকে

শেষে প্রস্তর যুগের
এক ভাস্কর্য মুখে
জীবন ও মরনের
শিল্প আর খাঁজে
জমা কথার ঝুল...

©Sonali Mandal Aich

দগ্ধতার বিপরীতে
- মোশ্ রাফি মুকুল

এবং-
চিরন্তন দগ্ধতা ছাড়াও কিছু সান্ত্বনা বাক্য আছে।
অথচ বোধগম্য নয় কতকিছু!
ইলিশ গন্ধ,
তুলোপেঁজা মেঘ-
চোখের প্যাপিরাসে ভাসা নৈঃশব্দ!

তোমার প্রতি ইস্পাত বিশ্বাস-
নক্ষত্রের রোদ মাখা পাখিদের ডানা,
ভেঙে পড়া সমুদ্র ফেনিল
অলিখিত যতো চুক্তি,
আমার নিঃশ্বাস-
কোনকিছুই বোধগম্য নয়।

অবশেষে-
সব দাহ্যতাকে পাশ কাটিয়ে
আমরা মানুষ ও প্রকৃতিকে বিশ্বাস করতে শিখেছি বলেই
পৃথিবীর কেন্দ্রেকে
স্বর্গাংশ মনে হয়,
যদিও গতানুগতিক বৃত্ত ভাঙা সহজ কথা নয়।

জন্ম আর মৃত‍্যুর ঘড়ি চলে টিক্ টিক্,
জন্ম আছে বলেই মৃত্যু রয়েছে সঠিক।
আবার কে ডাকিল ঐ চলিবার পথে-
সাধ রয়েছে যে আরো বাঁচিবারে।
অন্ধকার গহ্বরে জোঁনাকীর আনা গোনা,
চাঁদের আলো তাতে পৌঁছনো মানা।
মাংসল স্তম্ভ শিথিল দেহের বাঁধন,
কি ছিল এ দেহ- 'স্নেহের রতন!'
ভাঙেছে নদী চর ভেঙেছে যৌবন,
বয়সে খোঁজিছে আজি ধ‍্যানের তপোবন।
ঈশ্বরের ছবি আঁকা মনের পর্দায়,
অনাচার অবিচার সব দূরতে তাড়ায়।
খুলে বাঁধন ঐ প্রীতি কন্টক লতার,
মোক্ষের আহবানে পরশ দেবতার।
রাশি রাশি ধন দৌলত অবহেলা তাতে,
গতর শূণ্য আজ চলে কোন মতে।
উরুতে নাই জোর আস্ফালন করার,
হয়েছে বুঝি সময় এবার ফিরিবার।
বুকেতে বহ্নিশিখা প্রেমাগ্নি মনে,
রাখিয়া যাইবে সব‌ই এই লোকারণ‍্যে।
কোমল সরস দেহ লৌহ খন্ড হ‌লো,
ঘাটেতে নিয়ে চলো-'বলো হরি বলো।'

***********
তাং: ‌২৪/০৮/২০১৮ ইং
০৭ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৯.৫৫
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

"অপেক্ষার প্রহর"
***রহমান মাসুদ***
মা‌টির বাড়ী ভাঙ্গা দোর
"বন্যার টে‌ক"এর বসত ঘর,
নুন আন্তে পান্তা ফুরায়
প্রিয়া অধরাই থে‌কে যায়।
প‌রের জ‌মির বর্গাদারী ক‌রি
অর্ধেক ফস‌লের প্রাপ্য তারই,
ফসল তু‌লে বাজা‌বো সানাই
ম‌নে ছিল সে মধুর আশাটাই।
খরা-বন্যায় আশায় গু‌রেব‌া‌লি
ফস‌লের গোলা একদম খালি,
বাবা-মা-ভাই-বোন অনাহারী
সহ্য হয়না তা‌দের আহাজা‌রী।
বিত্তবানরা সু‌যো‌গের সন্ধা‌নী
চড়া সু‌দেই টাকার হাতছা‌নি,
সুদের প‌রিমান দিন‌দিন বা‌ড়ে
সে মহা যন্ত্রনা গ্রাম ছাড়া ক‌রে।
জী‌বিকার প্র‌য়োজ‌নে দেশান্তর
ঘু‌রেঘু‌রে অব‌শে‌ষে ঢাকা শহর,
রিকসার প্যা‌ডে‌লে সময় কা‌টে
রা‌তে নিদ্রা পা‌র্কে বা ফুটপা‌তে।
স্ব‌প্নে দে‌খি প্রিয়ার হা‌সি মুখ
আমায় পে‌তে দা‌ড়ি‌য়ে নিশ্চুপ,
বা‌ড়ির আঙ্গিনাতে অপেক্ষায়
চাতক নয়‌নের দৃ‌ষ্টি সীমানায়।।

অর্ধাঙ্গিনী বলি আমি তারে-
'যে নির্দিধায় সপেছিল নিজেরে।'
মায়াময় পৃথিবীতে প্রেমময় স্বভাব,
ভালোবাসি তারে যে ঘুচালো অভাব।
নতুনের ডাকে জাগে আশা কতো,
পাহাড়ের বনে ফোঁটা ফুলের মতো।
আপনারে খোঁজে চলি যে পথে,
আঁখি মেলে দেখি প্রিয়ে তাতে।
সুদূর পথে ফিরিবে কখন ঘরে,
সেই প্রিয়তি যে জাগে অন্তরে।

********

তাং: ‌০৫/০৬/২০১৮ ইং
২০ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল‌: ৬.৪৬
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

রণক্ষেত্রে আমাকে দেখবে তুমি
হাতে রঞ্জিত রক্তিম তলোয়ার,
দেখবে রক্ত-সাগরে তরবারি উঁচিয়ে
রণবীনা বাজাব বারংবার।।

এপারে পাবে আমায় উন্নতশির
অকুতোভয়া মহাবীর কাতারে,
ওপারে পাবে, খুঁজে দেখিও
ফেরদৌস পাখির ভিড়ে।।

রচনা: ২৩আগস্ট ২০১৫
খিরাম, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

দংশন
- টিঙ্কু মুখার্জী

অন্ধকার নামলেই পৃথিবীটা নগ্ন হয়ে উঠে
জোরালো নিয়ন, মোমের আলো
সবকিছু ছাড়িয়ে সাঁড়াশির মতো
পেচিয়ে ধরে নগ্নতা ।

বন্ধ চোখের আলপথে ঈশ্বর আলোর চাষ করেন,
মানুষ সভ্যতা মাখে প্রতিদিন অন্ধকারের নিয়মে ।

আলো আঁধারির বিভাজনরেখা বরাবর চলে
বিষাক্ত সরীসৃপের সন্দিহান পদচারণা,
সময়ের অগোচরে নীল হয়ে উঠে মুহুর্তরা ।

যে মেয়েটি পদপিষ্ট হয়েছিল বারাণসীর মেলায়,
কটমট করে হাড়গুলো ভেঙেছিল জোড়ায় জোড়ায়।
কোনক্রমেই তার নিঃশ্বাস বেঁচেছিল সেই দিন।
পুণ‍্যার্থীদের পদচারণায় তার জীবন হলো সঙ্গীন।

সেদিনের লাথির ঘাগুলো শুকায়নি তার আজ‌ও,
হাতপেতে আজ‌ও বলে-"বাবা! হামকো পেসা দিও।"
শুনেছিলাম-"ক্ষুধার রাজ‍্যে পৃথিবী গদ‍্যময় চাঁদ।"
সেই ক্ষুধাই সেজেছিল- সেইদিন মেয়েটির মৃত‍্যুফাঁদ।

শকুনেরা কি উড়ে আজও- যারা শবদেহ খাবে?
তবে হায়! কেউ আছে মহাসুখে কেউ বড়‌ অভাবে।
গনতন্ত্র অথবা সমাজতন্ত্র সব‌ই মিথ‍্যার বেড়াজাল।
বঞ্চিত গরীবেরা আজ‌ও মানবিকতার বড়ই আকাল।

********

তাং: ‌০৬/০৬/২০১৮ ইং
২১ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল‌: ৭.০৯
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

পাগলী
- শুভদীপ চক্রবর্তী

আলোআধাঁরি হাসপাতালের বেড। ধীরেধীরে চোখ খুলল বিধবা রমা।
কালরাতে শক ট্রিটমেন্টের পর, অনেক দেরী হয়ে গেলো, ঘুম ভাঙতে।
হাতে জং ধরা শেকল বাঁধা, নাকে এল খুব পরিচিত মাংসপোড়া গন্ধ। নাক কুঁচকাল, রমা।
ঝলসানো এক অবয়ব হঠাৎ যেন বলে উঠল-- "আমি খারাপ মেয়েমানুষ নই "।
বিস্ফারিত চোখে রমা বলল, "ক্ক..কে শ্রী...শ্রীমা..? "
বছর দশেক আগে, একমাত্র ভাই, রাজ, স্ত্রৈণ্য হয়ে যাচ্ছে, এই ভয়ে ভাইয়ের বউ, শ্রীমার নামে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে ওদের সংসার ভেঙেছিল, রমা।
আর তার জন্যই আত্মঘাতী হয়েছিল শ্রীমা।
আজকাল রমা মানসিকভারসাম্যহীনা। প্রায়ই সে অবচেতন মনে দেখে শ্রীমাকে।
রমা যেনো আজও শুনতে পায়....
শ্রীমার ঝলসানো অবয়ব তাকে বলছে - -
-"আমি খারাপ মেয়েমানুষ নই, বিশ্বাস করুন.."

- 'এই পাগলী, ডাক্তার বাবু আসছেন '।।

চলছে চলবে
- স্থিতা রায়

ঠিক কি চাইছ তুমি ঈশ্বর!
চিন্তারা আমার এলোমেলো হয়ে গেছে!
চিন্তার জটে জড়িয়ে দম বন্ধ প্রায়!
আমার মতই তোমারও কি একই অবস্থা!
তুমিও কি আমারই মত এত নিরুপায়!
হুজুগে মানুষের ভিড়ে পথভ্রষ্ট আমি!
কদিন আগেই দেখছিলাম জেনারেশন গ্যাপ নিয়ে হাজার আতলামী!
কদিন আগেই ছিল ছাত্ররা অনাহারে!
শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থা আজও অন্ধকারে।
কদিন আগেই কাগজের প্রথম পাতায় ছিল
অপুষ্টি জনিত মৃত্যুর খবর।
আজ তবে কি ভাত মিলেছে তাদের দিনভোর!
বন্যায় সর্বশান্ত কেরল রাজ্য।
"বিদেশি"খেলোয়ার রোনাল্ড করছে দান ৭৭ কোটি!
নিতে নেই বাধা!
"বিদেশ" আরবের আমিরশাহীর ৭০০ কোটি দান নিতে তবে কেন বাধা!
কোটি কোটি টাকা ত্রাণ তহবিলে বরাদ্দ এখন।
অপুষ্টি ১০০% কেন ভুগছে আজও বল সব গুণীজন!
বলিউডের বিনোদনকারীরাও আজ দূর্ভোগে।
সব তো অভিনেতা ঘরে ঘরেই মেলে।
রাজনীতিবিদরা অটল বিহারী বাজপেয়ী মহাশয়ের ভস্ম কলস যাত্রায় ব্যস্ত!
দেশ তো চলছেই যেমন চলে রাজ অসুখে।
ক'দিন আগেই স্বাধীনতার ৭২ বছর পালিত হল মহা সমারোহে!
"চলছে চলবে" স্লোগান তোমারই দান।
কোথায় তোমার বেদন ব্যথা বল এবার ঈশ্বর!
ভাল থেকো, ভাল আছি।
ঈশ্বর তোমার সাথে তাসের জীবন বেশ কাটাচ্ছি।।

ব্যক্তিগত একতারা
- মোশ্ রাফি মুকুল

ব্যক্তিগত দৃশ্যগুলো পড়ে ফেলি-
উৎসবের অনুবাদে,
মেহজাবিন মোহে বাজিয়ে যাই নিজস্ব একতারা।
এক একটা সংখ্যাঙ্ক,
আমার মতো একটা স্বত্বা-শূন্যের অধিক
যে পেরুতে চায় বহুতার গণ্ডি
অতিক্রম করতে চায় সাঁতার,
নদী
ব্যক্তিগত সমুদ্র।

তোমরা যারা একা-
উঠে দাঁড়িয়েছো শূন্যতার প্যারালাল শূন্যে
মেগালিথ পাথরে ভর করে
বাজিয়ে যাচ্ছো দুঃখ,সময় ও
সমসাময়িক মহাকাল
তারপর তোমাদের নিজস্ব ওষ্ঠগুলো উচ্চারণ করবে
বহুমাত্রিক প্রেম ও ধূসর স্থিরচিত্র।
একদিন দেখবে তোমরা তোমাদের ব্যক্তিগত নেই।

২২/০৮/২০১৮.

মনে আমার রঙ লেগেছে,
সাত রঙেতে আকাশ সাজে।
একটু করে হাসে আকাশ,
ধীরে ধীরে ব‌ইছে বাতাস।
দিনের শেষে চাঁদের আলো,
বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলো।
একটা পাখি মনের ভেতর,
ঝাপটে ডানা মারে ঠোকর।
মনের গলি চোরা বালি,
প্রাণ বাঁচাতে কিনা বলি।
হাঁসি খুশী জীবন পথে,
মৃত্যু যদি আমায় ডাকে।
বলব আমি একটু পরে,
দেখা হবে তোমার ঘরে।
মায়ার মায়ায় আলোর ছায়ায়,
জীবন রাখুক ব‍্যস্ত আমায়।

***********
তাং: ‌২২/০৮/২০১৮ ইং
০৫ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
রাত:৯.৪০
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

"প্রা‌ণের প্রিয়তমা"
***রহমান মাসুদ***
প্রিয়ার নির্লিপ্ততায়
দিন‌দিন বাড়‌ছে অভিমান,
হঠাৎ এক‌দিন দেশান্তর
শত খুঁ‌জেও পা‌বেনা সন্ধান।
প্রেয়‌সীর সা‌থে ভেলায় চ‌ড়ে
আহরন গুচ্ছ গুচ্ছ পদ্নফুল,
যা‌কে ভে‌বে‌ছি চির আপন
তা‌কে হা‌রি‌য়ে,হা‌রি‌য়ে‌ছি কূল।
সাত সকা‌লে চু‌পিচু‌পি পা‌য়ে
দু'জনা আগত বকুল তলা,
কুড়া‌নো ফুল গেঁ‌থে গেঁ‌থে
তারই গলায় দিতাম মালা।
হায়‌রে! সে সু‌খের দিন
ঢাকা আজ কা‌লো মে‌ঘে,
আখি ঝরায় নোনা জল
প্রিয়া‌কে হারা‌নোর শো‌কে।
সাথীর বির‌হে হৃদয় শুন্য
সমগ্র ভুবন অন্ধকার,
কি নি‌য়ে বাচ‌বো আমি
প্রে‌ম দংশন দি‌চ্ছেনা নিস্তার।
কোন পা‌পের অপরা‌ধে
কর‌ছো না আমায় ক্ষমা,
এক‌টি বার জান‌তে চাই
হে আমার প্রা‌ণের প্রিয়তমা।

সুখের খোঁজে কেউ যদি বের হয় রাজপথে,
আমার দেশের মানচিত্রখানি তুলে দিও তার হাতে।
সবুজ শ‍্যামল গাছে বাঁশে সাজানো জন্মভূমি,
রামধনু রঙ মাখা অপরূপ রূপে দিগন্তের বেস্তামি।
সন্মান বহু পায় আমার দেশের নর নারী,
কেউ তো ভুলে নাই ফিরতে নিজ দেশের বাড়ি।
তারা হাসে কথা কয় চাঁদ বুড়ির দেশে,
মা-মাটির ভালোবাসায় আপ্লুত সবাই যেন পরিশেষে।
তোমার হৃদয় যদি সদয় হয় ভালোবেসে মানুষ,
কালবৈশাখীর দুর্বিসহ রাতেও নিভিবেনা ফানুস।

********

তাং: ‌০৭/০৬/২০১৮ ইং
২২ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সন্ধ‍্যা: ৬.০৪
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

প্যারাফিন সন্ধ্যা ও আমার নিজস্ব সুখতারা
- মোশ্ রাফি মুকুল

সেখানে আকাশ গলতে থাকে
সম্পৃক্ত দ্বিধায়-
সন্নিকটস্থ মোম ও আগুনের কোমল আঁচে;
আর সেখানে অবশিষ্ট থাকে একগুচ্ছ নিনাদ।

জীবনের এই যে প্রতিস্রোত-
জল ডুবো ডুবো নলখাগড়ার মতো বেঁচে থাকা,
পরিপার্শ্বিক নদীর বাঁকে বাঁকে
ঘুরপাক খাওয়া ইহকালের নৌকা,
সেখানেও তোমার অবয়বে
অবশিষ্ট থাকে শুধু
প্যারাফিন সন্ধ্যার মেঘসমাকুল আকাশ ও
আমার নিজস্ব সুখতারা!

আসলে এইসব সানন্দ উৎসবের দিনে
নিনাদিত লিরিক আর
ফিলসফিক শব্দাবলী বড্ডই বেমানান।

২১/০৮/২০১৮.

পাহাড় যদি ডাকে তোমায়,
কাছে এসো বলে।
দাঁড়াও কেন অচিন পথিক,
পথ হারাবার ছলে।
নীল নিলীমায় আকাশ দ‍্যাখ,
সাগর তীরে ছোঁয়া।
ভ্রমর পাখির গানে পাহাড়,
ঝর্ণা জলে ধুয়া।
মুহু-মুহু ডাকে ঝিঝি-
হৃদয় ভরা সুরে।
সকাল বেলার কোমল আলো,
নীল আকাশের তরে।
পাহাড় বলে,"সোনা বন্ধু-
এসো নাকো কাছে।"
স্মৃতির পাতায় লিখে দেবে,
মনে যাহা আছে।
সন্ধ্যা বেলা জাগবে তারা-
শান্তি খোঁজে তাতে।
সবুজ বনে আপন মনে,
পাহাড় জাগে রাতে।
গভীর রাতে নীরব শীতে-
সৃষ্টি নিঝুম পথে।
সাগর ডাকে আয় মোহনায়,
মিশে থাকি সুখে।

***********
তাং: ‌২১/০৮/২০১৮ ইং
০৪ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৯.৪৩
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

মনের পশু বনের পশু
- মাহদী হাসান

একটা পশু বসত করে আমার মনের ঘরে,
সেই পশুটা হচ্ছে বড়- একটু একটু করে।
দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে অহংকারীর বেশে,
আমার ভেতর একটা পশু খাচ্ছে হেসে হেসে।

কী যে করি লাজে মরি ভাল্লাগে না কিছু,
যেইখানে যাই সেই পশুটা চলছে পিছু পিছু।
মন মানে না তর সয় না কেমন করে বলি-
পশু ছাড়া নেইতো ফাঁকা মনের অলি গলি।

ভুবনজয়ী হাসি রেখে পাশ ফিরে শুই আমি
ছন্নছাড়া এই পশু মন আমার কাছে দামী!
একলা একা চলছি হেটে আমার ভুবন ঘরে
সঙ্গে কেবল একটা পশু পুষছি যতন করে!

মনের পশু বনের পশু এক হয়ে যায় রোজ,
কেউ দেখে না কেউ রাখে না এই পশুটার খোঁজ।
ত্যাগের মায়ায় ভরবো হৃদয় করবো জবাই তাকে
এই অভাগার আমলনামা- শুদ্ধ যেনো থাকে।

মাহদী হাসানন, চট্টগ্রাম ।

তোমার কথা ভাবলেও-মাঝে ফাঁক খুঁজি না আমি,
অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরা রাতে পাশে ছিলেনা তুমি।
স্মৃতির রোমন্থন করি আজ আমি একলা নিরালায়,
কেমন বিভোর থাকি মাদক বিহীন মাদকতার নেশায়।
অবেলা সহসা কানে যেন শুনি তোমার পদক্ষেপ,
পাশে তো কেউ নেই-তুমি নেই তাতে জাগে আক্ষেপ।
নির্জনতার নিঝুম রাতে রজনীগন্ধা কেন কাঁদে,
জানিনা সেও কি পড়েছিল আমার মতো প্রেমের ফাঁদে?
সাদা কালো জীবনে ভালোবাসার একখানা রঙিন ছবি,
এঁকেছিলে সেদিন তুমি বন্ধু-তুমি মোর প্রিয় কবি।

********

তাং: ‌০৮/০৬/২০১৮ ইং
২৩আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল: ৬.০১
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

"পাহা‌ড়ের আকুলতা"
***রহমান মাসুদ***
পাহাড় আমায় বল‌ছে ডে‌কে
একটু দাঁড়াও অচেনা প‌থিক,
দূর দিগ‌ন্তের নীল সীমানায়
সাগর আছে নয়‌ কি স‌ঠিক ?
প্র‌তি মুহূ‌র্তে বাজ‌ছে কা‌নে
সাগ‌রের হৃদয় ভাঙ্গা ক্রন্দন,
দীর্ঘকা‌লের বি‌চ্ছেদ বেদনা
আবার হ‌বে কি দু'জনার দর্শণ ?
আ‌মি ব‌লি, হে পাহাড়,
শোনাও তোমার করুন ই‌তিহাস,
যে স্মৃ‌তি রোমন্থ‌নে
তোমার বু‌কে গভীর দীর্ঘস্বাস।
ব্যথাতুর ভাষায় শু‌নি বর্ননা,
আমার পাদ‌দে‌শে ছি‌লো সে,
এ‌কে অপ‌রের রূপ দে‌খে
প্রেমলীলায় ব্যস্ত  ভাল‌বে‌সে।
এক‌দিন কি হ‌তে কি হ‌লো,
সারাদে‌হে অনুভব তীব্র কম্পন,
প্রলয়ংকারী সে প্রাকৃ‌তিক খেলায়,
সৃ‌ষ্টি বি‌চ্ছে‌দের এই দীর্ঘ যোজন।
তাই আবার চাই  ভূ‌মিকম্প
আছ‌ড়ে পড়‌বো সাগ‌রের গা‌য়ে,
কাঙ্খিত সঙ্গ‌মের তীব্র সুখ রতি‌তে,
মি‌শে একাকার দানবীয় ঢেউ‌য়ে।

তবুও আছে অন্তঃপুরে
- অনিতা পান্ডে

মনের অলিন্দে পুষে রেখেছি যারে,
প্রাণস্পর্শি ভালোবাসার শ্রদ্ধার্ঘ জানাই তারে।
সে যতই থাকুক দূরে,
তবুও আছে অন্তঃপুরে।
তার ভালোবাসার অসীম শূন্যতায়,
বিরহ বিরাগ রসে জীবন মরুময়।
সুপ্ত ভালোবাসা আজও কাঁদে নিরবে,
চোখের কোনে জমে থাকা বেদনার অনুভবে।
তার অবর্তমানে জীবন হয়ে গেছে পাংশুটে।
সব আশা ভেঙে চূরমার, শান্তি নেই আর এ তল্লাটে।
হাহাকার- ক্রন্দন আজও শুনি অন্তর জমিনে।
জীবন একটা -মন একটা তবে আশাগুলো কেনে ভেঙে হয় খান খান!
কেনো অপূর্ণতার গ্লানি নিয়ে, কেনো আশাহত হয় মন।
বয়সী কষ্টের পুষে রাখা চাপা দীর্ঘশ্বাস!
রোসানলে পুড়ে পুড়ে তা -বাড়ায়, হা-হুতাস!
চোখের পাতা আজও ভারী হয়।
তপ্তজল গড়িয়ে -পরিনত করে বিশাল নীল জলাশয়।
তুমি ছিলে, তুমি আছো এই মনোজগতের গভীরে।
সুপ্ত নিখাঁত ভালোবাসাকে আজন্ম কুর্নিশ করি প্রাণভরে।

শ্রী নাথ চ্যাটার্জি লেন।
বরিশাল।
১৭-০৮-১৮।

আমার জন্মদাত্রী "মা" তুমি কেমন আছো?
অযুত তারার মাঝে চাঁদ হয়ে জেগে রয়েছো।
পথো চেয়ে দাঁড়িয়ে র‌ইলে তুমি অপত‍্য স্নেহে,
খুলে দিও দু'আঁখি নিমিলীত সংসার মোহে।
হৃদয়ে ভালোবাসা জেগে মহীরুহ যেন আজ,
আঙিনায় পারিজাত ফুলেদের কিবা কাজ।
তোমার মুখের মধুময়ী স্নেহমাখা হাসি খানি,
হারিয়ে না যায় যেন হয়ে আমাতে অভিমানী।
চলার পথে সুখ-দুঃখ আর কান্নাহাসির মাঝে,
হৃদয় জগতে থাকিও তুমি রাজেশ্বরী সেজে।
খুলে দিও তুমি মাগো নতুন আশার বীজপত্র,
সোনার ফুলে পূজিব তুমায় যদিও একা মাত্র।

********

তাং: ‌০৯/০৬/২০১৮ ইং
২৪ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল: ৮.০২
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

দিশাহারা

আব্দুল মান্নান মল্লিক

কেউ বোঝে কেউ বোঝেনারে
জীবন বড় বিষময়!
ভ্রান্ত পথের পথিক মানুষ
করতে চাই পাপের ক্ষয়।
সারিতে মানুষ চলছে আশে
গড়বে জীবন পবিত্র।
লোহিত জলে সাঁতরে চলে
ধুয়ে যাবে পাপ চরিত্র।
লোলুপ নেশায় দিশাহারা
ঘুরছে মানুষ বেপরোয়া।
গুরুর কাছে আইন জারি
স্বার্থান্বেষী ফতোয়া!

বন্যা
- শুভদীপ চক্রবর্তী

জলে থৈথৈ চারিদিক--
দুই কূলের মিলন হওয়া ভার,
জলের উপর পশু, তার উপর
মানুষ, ভাসছে আরপার।

পচা মাংস, আবর্জনার দুর্গন্ধ,
জীবন আজ নরক গুলজার,
জলের এত আয়োজনেও....
মানুষ, জল না পেয়ে মানছে হার।

বুক জলে ডুবেছে ঘর বাড়ি,
খাবারের খোঁজে, 'আদিম', আজ মানুষ,
রোগের প্রকোপ বাড়ছে ধীরে ধীরে--
চুপসেছে আজ প্রত্যাশার ফানুস।

দোকান-পাঠ, হাঠ - বাজার বন্ধ,
খাবারের জন্য মানুষ আজ হন্যে,
দুধের শিশু কেঁদেই মরে--
শুধু একটু দুধের জন্যে।

শিশির, আজ সকাল সকাল,
সূর্যের তেজ কমাচ্ছে,
রাত্রি আজ আঁধার থেকে--
কান্নার জল জমাচ্ছে।

জলে সব দিয়ে, শুধু প্রাণ নিয়ে--
পেল আলোর দেখা,
মানুষের শেলটার আজ,
একটুও নেই ফাঁকা।

অগত্যা পথের ধারেই,
পাতিয়েছে তাঁরা তাঁবু।
থাকবার ঠাঁই যদিওবা মিলেছে,
ক্ষুধায় হয়েছে তাঁরা কাবু।

বন্যা এলেই বুঝি আমরা--
বদন্যতার মানে,
মানবতার মূল্য বাজে--
দলবাজদের কানে।।

ভালোবাসার গোপন কথা বলে দিলে তুমি,
তাই তোমাকে ভালোবাসি অবেলাতে আমি।
বৃষ্টি ঝরা সন্ধ্যা রাতে,
হৃদয় আমার তোমায় ডাকে।
গরম শ্বাসে প্রেমের স্রোতে ভাসে কতো ছবি,
মাথা তুলে তোমায় দেখি আমার শ্রীদেবী।
সুরে গানে ভাসিয়ে তালে,
বুকে দিলে প্রদীপ জ্বেলে।
আপন ক‍রে নেব তোমায় আলোক ভরা ঘরে,
সাজবে তুমি- ফুলে ফলে মনে মতো করে।
লুডোর খেলায় ছক্কা-কানা,
প্রেমের বাজি হারতে মানা।
মেঘের মতো উড়বে তুমি গগনেতে মেলে ডানা,
বৃষ্টি হয়ে পড়বে ঝরে মিটিয়ে বুকের যন্ত্রণা।
রিমি-ঝিমি গহন চুলে,
হারিয়ে যাব জগৎ ভুলে।


***********
তাং: ‌২০/০৮/২০১৮ ইং
০৩ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:১০.২৪
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

প্রবল বান
- সোনালী মন্ডল আইচ

তুমি এলে তাই গ্রাম একলা
জলে জলময় ভেজা ছবি যত
খসে পড়লো সব কিছুর পলেস্তারা
খরায় তোমার প্রতি চুমুতে পুড়েছি
মাটিফাটা মাঠ ছুঁতে গেছি যতবার

যেন চুল্লির আগুনে দাউদাউ
কত না অপমৃত্যু ! হার মেনেছে
মত্ততার ধ্বংসাবশেষে নিরুপায় দর্শক
এতো স্বাধীনতা ভালো ? বলে যাও--

এমন বুকের উপর দিয়ে বইছো
এবার নোঙর বাঁধো শরীর অবশ
একটু আগুন বা অনেকটা আগুন
দিয়ে শরীর শুকিয়ে দিও ভালোবেসে ...

অভিযাত্রী আমি আজ দিগন্তের পথে,
শৃঙ্খলার শৃঙ্খলে বাঁধা তার‌ই মতে।
সাজানো মাঠ আর সাজানো আকাশ,
জন্মান্তরেও ভুলিবনা এই সুগন্ধি বাতাস।
আবেগে খুঁজি আমি ভালোবাসি যারে,
সজাগ নিশিকাটে পাই যদি তারে!
প্রহরে প্রহরে বাড়ে বিরহ ব‍্যথা,
ফিরিবার কালে কি হবেনা দেখা?
সুজনের আনাগোনা কথা বলা মানা,
কে কাকে ভালোবাসে তাওছিল জানা!
মালা গাঁথি আমি মনোমালতীর বনে,
আসিবে প্রিয়ে মোর হৃদয় অঙ্গনে।

********

তাং: ‌১০/০৬/২০১৮ ইং
২৫ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল: ৬.১৬
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

নদী ও রবি
- আল্পনা মিত্র

সেদিন বিকেলে দীঘির জলে...
যখন অস্ত গেল রবি!
শ্রাবণঘন জলে নদীর অন্তরে.....
ব্যথায় হৃদয় ওঠে কাঁপি!
ঢেউয়ে ঢেউয়ে উঠে এলো ছায়া...
এলো চুলে রইলো পড়ে জলসিঁড়িটি।

ডুব দেবেনা আর কেউ আমার আবির চুলে..
কেউ পরাবেনা আর প্রাণবসন্তের
গোলাপের কুঁড়ি!
আমার ধূসর নীল স্থির চোখের জলে...
দ্বিপ্রহরের তীব্র রবি চিরতরে হলো অস্তগামী।

যে রক্তিম সূর্যের আলোতে.......
প্রত্যহ রোমাঞ্চিত হতো যে নদীর শরীর...
আজও শব্দের জাল বুনি,
করুণ আলোতে লিখি কতকথা উজ্জ্বল রবির।

তবু তোমার গূঢ় অক্ষয় অমর বানী...
অসহ্য নরক জীবনে জয়ের গান মানি,
যত জীবন যন্ত্রণা অক্লেশে যাক ভেসে যাক...
তুমি আছো বঙ্গের অন্তরে বিশ্বকবি আমার রবীন্দ্রনাথ।

দূরে বড্ড ব‍্যতিক্রমী আওয়াজ শুনা গেল,
হে গো গুলির আওয়াজ-
সঙ্গে হয়তো বা ল‍্যান্ড মাইনের মতো কিছু!
সালেহার বাস‍র ঘরের ঝিলমিলে-
ঝাড়বাতি গুলো নিভে গেল মুহূর্তে।
কান্নার গোঙানি-সঙ্গে আল্লাহু,আল্লাহ!
মনে হলো বিশ্ব শান্তির পরিমাপ চলছে-
দাঁড়িপাল্লার একদিকে পৃথিবীর সকল
শান্তিকামী মেহনতি মানুষ;
অন‍্যদিকে জঙ্গি, বিচ্ছিন্নতাবাদী কায়েমী স্বার্থপর-
নরপিশাচের দল।
দাঁড়িপাল্লা টলমল ক‍রে কাদের ভর বেশি!
ভূত প্রেতেরা পা ঝুলিয়ে বসে আছে স্বর্গের রাজপথে।
ভয় হয়,কারো যাবার সুযোগ নেই-
নরকে মানবিকতা বিহীন উত্তপ্ত অগ্নিপিন্ড।
মর্ত‍্যে খুন, ধর্ষণ আর বারুদের গন্ধ,
পাহাড়ে শান্তি নেই, সাগরে শান্তি নেই-
আছে শুধু ভীরুতা, হিংসা আর হতাশা।
শুধুমাত্র মঞ্চকে ঘিরে জনসমাগম-
কেউ দেখে আবার কেউ দেখায়,
অভিনয়ে-সবাই খুশী!
মদের বোতল ভাঙা হয়-অট্টহাসি চলে
আসলে নকলে।
কেউই ভাঙা টুকরো গুলো কুড়ায়না-
আস্ত বোতল সকলের চাই!
দর্শকের মাঝ থেকে কেউ কি আসবেন
কখনো-মঞ্চে ভাঙা বোতলের কাঁচের টুকরো
গুলো সযতনে কুড়িয়ে নিতে?

********

তাং: ‌১১/০৬/২০১৮ ইং
২৬ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
সকাল: ৬.৫২
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

পুনর্লিখন
তানবিন

 

এই রোদে পোড়া দিনগুলো মেঘে ছেয়ে গেলে ক্ষতি নেই,

এই ব্যস্ত সময়টুকু নির্বাক হয়ে গেলে ক্ষতি নেই,

এই সবটুকু কৌতুক নীরস হয়ে গেলেও ক্ষতি নেই,

এই সবগুলো মুহূর্ত নির্বাক হয়ে গেলেও,

ক্ষতি নেই!

শুধু তুমি রয়ে যাও;

আমি আবার ইতিহাস ভেঙে গড়ে দিতে পারব!

যদি তুমি চাও,

আমি প্রতিটি পাতায় তোমার নামের স্বর্ণাক্ষর গড়ে দিতে পারব!

মগ্ন বাসনায় উলঙ্গ মন্দাকিনী,
দেওয়ানেরা করে কতো হাসাহাসি।
কিন্তু-সেই হাসিতে আছে প্রতিবন্ধকতা,
চোখাচোখি হলে ফাঁসির মঞ্চ হবেনা ফাঁকা।
মদিরা মত্ত আনন্দ ধারায়-
ডাকে যেন কৃষ্ণ কানাইয়া।
নূপুরের রিনিঝিনি ডাকে-
'ফিরে এসো,
কাছে এসো তুমি প্রিয়ে বকুলের তলে।'

স্মরণের মণিকোঠরে সুমধুর প্রবচন,
দুটি তনু একাকার তাতেই আস্ফালন।
লজ্জা ঘৃণা ভয় ভিতি-
নেই কিছু আজ অপেক্ষায় শুধু কালোরাত্রি;
দিশেহারা যৌবন পাখি-উড়ে চলে দূর বনে,
পেরিয়েছে কতো বৃক্ষলতা আপন মনে।

ধ্রুবতারা জেগে উঠে অমানিশা চিরে,
উলুধ্বনি শুনি কানে লক্ষী ফিরে ঘ‍রে।
অকুল পাথারের ব‍্যাকুল মাঝি,
নিঃস্ব চাঁদ সদাগর হারিয়াছে বাজি।
পারো যদি জাগো লক্ষীন্দর,
ডাকে যে তোমার বেহুলা জাগো সত্বর।

***********
তাং: ‌১৯/০৮/২০১৮ ইং
০২ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:১০.২৯
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

"পুণ্যবা‌নের  মহাপ্রস্হান"
    ***রহমান মাসুদ***

মানব জা‌তির আয়ুকাল
একা‌লেই নয়‌তো সীমাবদ্ধ,
ইহকাল পরকাল দুইটি স্ত‌রে
জীবনচ‌ক্রের সীমা স‌োপার্দ।

মানু‌ষের হায়াৎ অনন্তকাল
মৃত্যু হয় কথাট‌া নয় স‌ঠিক,
মা‌টির দে‌হের খোলস বদ‌লে
পরকা‌লের প‌থে যাত্রা প‌থিক।

অনন্তকা‌লের জীবন রেখায়
এই জীবন বিন্দু‌তে অঙ্ক‌িত,
অ‌তিসূক্ষ্ণ এই বিন্দু কা‌লেই
অসীম রেখার ভাগ্য নির্ধা‌রিত।

স্বল্প সুখ না চির সুখ
কোনটা গ্রহন অতিউত্তম,
সে‌ জ্ঞান মহামূ‌র্খেরও আছে
হায়! তবুও তারই বিষর্জন।

বিন্দুর ক্ষনকা‌লেই গড় সিন্ধু
যাগাও পু‌ণ্যের উত্তাল ঠেউ,
স্রষ্টার মধুনাম জ‌পেজ‌পে
পা‌রি দাও একা‌লের নাও।

তা‌তেই জন্মগ্রহন সার্থক
দু‌নিয়ায় অভূতপূর্ব সম্মান,
মৃত্ হ‌লেও বল‌বে সবাই
হ‌লো পুণ্যবা‌নের মহাপ্রস্হান।






 

১ ) প্রথমে আপনি আমাদের পত্রিকায় লগইন করে “লেখা জমা দিন” পেজ খুলুন । তারপর ( এখানে শিরোনাম যুক্ত করুন… ) বক্সে আপনার লেখার শিরোনাম দিন এবং আপনার সম্পূর্ণ নাম লিখুন । উদাহরণ : একটুকরো স্বপ্ন – মিন্টু উপাধ্যায় ।
২ ) এরপর পরবর্তী ফাঁকা বক্সে আপনার লেখার শিরোনাম, আপনার সম্পূর্ণ নাম এবং আপনার লেখা লিখুন । উদাহরণ :
একটুকরো স্বপ্ন
– মিন্টু উপাধ্যায়
* * *
জানতাম তুমি আসবে ফিরে
রইবে আমার হৃদয় ঘিরে,
হাজার তারার আলোয় তোমায়
বরণ করে নেবো নতুন করে ।
* * *
স্নিগ্ধ কুয়াশার সকালে যখন
শিউলি ফুল ফোটে,
সেই ফুলেরই পরিয়ে মালা,
দেখব হাঁসি তোমার ঠোঁটে ।
* * *
তোমার এক চিলতে হাঁসির ছটায়,
হয়েছিলাম আমি পাগল,
জ্যোৎস্নার আলোয় ভরিয়ে দেবো
তোমার আঁখি জুগল ।
* * *
নিছিদ্র অন্ধকার রাতে
আলোর প্রদীপ শিখা তুমি
তোমার ভালবাসার ছোঁয়ায়
হয়েছি মুক্ত আমি…।
৩ ) আপনার লেখার “বিভাগ” দিন এবং (প্রকাশ করুন) বক্সে ক্লিক করুন । আপনার লেখা তৎক্ষণাৎ অনলাইন হয়ে যাবে । এবার আপনি সেই লেখার লিংক আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন ।

 

[button color="green" size="medium" link="https://www.nabadibakar.com/faq/" icon="পত্রিকা সংক্রান্ত সাহায্য ও সাধারণ প্রশ্নোত্তর" target="true"]পত্রিকা সংক্রান্ত সাহায্য ও সাধারণ প্রশ্নোত্তর[/button]

১ ) আপনি রেজিস্ট্রেশন করার সময় (  স্পেস না দিয়ে আপনার সম্পূর্ণ নাম লিখুন ইংরাজিতে । উদাহরণ : MINTU, MINTUUPADHAYAY ।
২ ) ( ই-মেইল ) বক্সে আপনার ই-মেইল আইডি দিন ইংরাজিতে ।
৩ ) পাসওয়ার্ড এর ইঙ্গিতঃ পাসওয়ার্ড অন্তত সাত অক্ষর দীর্ঘ হতে হবে । এটিকে আরো শক্তিশালী করতে, ছোটহাতের এবং বড়হাতের অক্ষর, নাম্বার এবং চিহ্ন যেমনঃ ! ” ? $ % ^ & ) ব্যবহার করুন ।
৪ ) আমাদের “নিয়মাবলী” পড়ে নিন তারপর “আমি নিয়মাবলী পড়েছি এবং সম্মত হয়েছি” ফাঁকা বক্সে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করুন ।
৫ ) রেজিস্ট্রেশন শেষে আপনার ই-মেইলের ইনবক্স চেক করুন । ইনবক্সে না পেলে স্প্যাম, জাঙ্ক ফোল্ডার চেক করুন । নবদিবাকর পত্রিকা থেকে একটা কনফার্মেশন মেইল পাবেন । সেখানে একটি লিংক আছে, লিংক এ ক্লিক করে আপনার রেজিস্ট্রেশন যাচাই করুন । এরপর আপনার ই-মেইল আইডি অথবা লগইন নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন ।
৬ ) অথবা রেজিস্ট্রেশন পেজের ডান দিকে ( গুগল আইকন ) বক্সে ক্লিক করুন এবং আপনি আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করুন ।

বেলাভূমি
- মোশ্ রাফি মুকুল

অতঃপর-
নগর নিয়ে গবেষণারত একদল গ্রাম্য বালিকার নাকাল হৃৎপিণ্ড স্ক্যানিং করে পাওয়া গেল
কিছু মাংসল পেরেক,কণ্টক বনের পাখি;
সনির্বদ্ধ মন্ত্রপাঠের সমকালিক অক্ষর...
আর সমসাময়িক প্রেমের আকৃতি-
গতিপ্রকৃতি নিয়ে কিছু রহস্যঘন কথাও ছিলো সেখানে।

যে বালিকারা কখনো যায়নি দেবদারু বনে,
কুমারীব্রতে;
রাজহংস সাঁতার কিংবা
ব্ল্যাকহোল নক্ষত্রে;
কেন জানি তাদের আকাশগঙ্গায়
আজ ঢেউ খেলে যাচ্ছে ম ম ঘ্রাণশ্বাস,
সেইসব তৃষিতা বালিকাদের মতোই
পোস্ট মডার্ন কবিতারা পাড়ি দিচ্ছে নীলনদী ব্যথা,
ব্ল্যাককার্পেট পথ-
সময়ের কর্কশ রথ,উচ্চ প্রযুক্তি।
তবুও যেতে হয় বিরান মনোভূমির সূর্যমুখী
মাঠে।
যেতে যেতে কতো ক্ষয়!

কতো প্রলয় বয়ে যায়
সরষে ফুলের উদ্দ্যানে,
এখানে হরহামেশাই হলুদাভ প্রেম ওড়ে,
টইটুম্বুর প্রজাপতির গল্পরা জমে ওঠে রোজ;
সম্ভাবনাময় মগজের কোষগুলো ঢেকে যায়
ভিনগ্রহি ছাতিম ফুলের পরিপত্রে...
আকাশঘেঁষা বাতাসে হতাশার সিনথেটিক বেলুন ফোটায় শব্দের সহাস্য বীজ,সুফলা মনোপোজ
চিরহরিৎ ঋতু আর
উৎপাদনশীল বীর্যের
তীব্র পরিহাসে
ভেসে যায় শৈলহিম প্লানেট-
বালিকার বেলাভূমি,
শব্দহীন পাপ ও দৃষ্টিগত পাপেট।
মনে রেখো বালিকা এ বেলাভূমিতেই
তোমাকে উর্বর করবে পরমব্রত সালোকসংশ্লেষণ।
----------------------
১৯/০৮/২০১৮.

আমি যদি মানুষ না হতাম-
তখনো কি তোমাকে ভালবাসতাম?
ধরি যদি আমি নদী তুমি সাগর,
জলে ভরে দিতাম তোমার বুকখানা ডাগর।
বলোনা পৃথিবীতে কতো আলো হতো,
দুটি চাঁদ যদি রাতে জ্বলতো?

********

তাং: ‌১২/০৬/২০১৮ ইং
২৭ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
রাত:৯.২৭

সুন্দরপুর
- আলাউল ইসলাম

একটা সুন্দর ছোট্ট গ্রাম
সবুজের সমারোহ চারপাশ,
পাশ দিয়ে না আঁকাবাঁকা এক নদী
নদীর নামটা ভারী সুন্দর কলমি,
নদীতে মাঝি নৌকা বায়
এপার ওপার দৃশ্যপট অবলোকন করে,
গ্রামটির এক প্রান্তরেখায় একটি বাড়ি,
কুঁড়েঘর বললে ভুল বলা হবে,
ঘরটি সুনিপুণার কারুকাজ
দূর থেকে দেখলে বলা যায়
একটু টুকরো সুন্দরের উপাখ্যান,
ছনের চালা দেওয়া ঘর
বাশঁ বেষ্টন ঘেরা,
দরজা খানা বড়ই সুন্দর
এই সুন্দর কুটিরে বাস,
এক মিষ্টি শালিক পাখির
পিঞ্জিরায় সারাদিন কিচিরমিচির
ধ্বনির মুহুর্মুহু তৈরির কারিগর,
পাখির সাথে কথা বলার
একজন মানুষ আছে,
সে এক পরীদের পাড়ার নাগরিক
ভুলে নয়,সে পরী নয়,
কিন্তু রুপে গুনে তার চেয়ে
কম নয়,
চোখে তার ধরণী আবৃত
তাকালে গহীনের আহবান,
ঠুটে তার মাখা মাখা ভাব
মনে তাই চুম্মনের আহবান,
কপালের ছোট্ট কালো টিপ
মানচিত্র খানা আঁকড়ে
নিয়ে আছে,
নাকে নথের ঝলক
ছোট্ট বেলায় মেলায় কেনা
সাধের ম্যাজিক কে হার মানায়,
গায়ের রঙের তার তুলনা নাই
শ্যামলা বরন, ছিপছিপে কোমর,
টুলটুলে গাল,হাসিতে টুলের সমাহার,
হাসলে যেন মুক্ত ঝড়ে,
পায়ে আলতা, নুপুরের ঝনঝন,
মনে হয় কেউ নৃত্য তালে
মাতিয়াছে ইহাতে,
প্রথম দেখেই মাতোয়ারা আমি
দেখেছি আমি এত মায়াবতী
স্বর্গ থেকে নাম এক পরী,
কেন জানি হলনা বলা
ভালোবাসি, একটু স্পর্শের আহবান,
সেতো আষাঢ়ের ঘড়ি,
দিন শেষে রাতের শুরু
মধ্যরাতের আধারে হারিয়ে গেছে,
এই মায়াবিনী পরী,
গ্রামটির অস্তিত্ব নেই
সব ভেসে গেছে,
মধ্যেরাতের ঝড়ে
দেখা আর হলো না
হলো না মিলন ক্ষণিকের,
গ্রামের সাথে ভাসিয়ে নিয়ে গেল
আমার দেশের পরী,
নদীর নামটি অনেক সুন্দর কলমি,
যার বুকে আমার আকুতি,
আমার স্পন্দন, আমার মন বিরহ,
আমার প্রাণের সখিনার
গ্রামের নাম ছিলো সুন্দরপুর,
ভালবাসার সমাহার,
রুপের বাহার গ্রাম আমার
সুন্দরপুর নাম তার,
সুন্দরপুর,সুন্দরপুর, সুন্দরপুর।

মোঃ আলাল মিয়া।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

## ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো ##
গল্প - বেশ্যা মা
- অন্তরা রায়

পুলিশের জিপটা ওদের উঠোনের ওপরে এসে দাঁড়ালো | রসালো খবরটা পাঁচকান হতে খুব বেশি সময় লাগেনি | আশেপাশের উৎসুক চোখগুলো বেশ্যা পল্লীর এফোঁড়ওফোঁড় করে ফেলছিলো একে অন্যের অলক্ষ্যে | নষ্টামোর শব্দবানের ঝড় বয়ে যাচ্ছে ওদের লক্ষ্য করে চারদিকে | তথাকথিত দিনের সূর্য্যের মতো ঝকঝকে চরিত্রবান লোকজন ওদের গায়ের পাঁক নিয়ে রসের আলোচনা জমিয়ে ফেলেছে এই মাঝ রাতে | মনীশ মালহোত্রাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নার্সিংহোমের গাড়িতেই | লোকটা মনে হয়না বাঁচবে |তখনও ঘরের অন্যপ্রান্তে একা দাঁড়িয়ে আছে বেশ্যা পার্বতী | বুকের কাছে ঘুমন্ত মেয়েটা | মেঝে জুড়ে রক্তের স্রোত প্রায় শুকিয়ে এসেছে |

ঘন্টাখানেক আগেও কিন্তু ঘরটা এমন ছিলনা |পার্বতীর খোঁপা জুড়ে ছিল বেলফুলের মালা | লালের ওপর রোলেক্সের কাজ করা শাড়ীটা কিছুতেই ঢাকতে পারছিলো না ওর নিশি ডাকের মতো আধখোলা শরীরটাকে | ভুরভুর করছিলো উগ্র আতরের ইশারা | ঘরে নীল সিন্থেটিক কাগজ ছিঁড়ে বেড়িয়ে এসেছিলো লিলি ধূপের শোকের গন্ধ | প্রতিটা সন্ধ্যে ওদের নিত্যনতুন মৃত্যু শরীরে মাখিয়ে দেয় পরম যত্নে |

ঊর্মি নিজের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে খেলছে এঘরওঘর জুড়ে | ওর মা নেই | কোনো এক শীতের রাতে বস্তা জড়িয়ে মৃত্যুর কোলে পাপটাকে কেউ রেখে গেছিলো | অবৈধ অথবা কন্যাসন্তান হওয়ার অপরাধেই হয়তো মায়ের কোলের পরিবর্তে কুকুরের দাঁতের ফাঁকে ঠাঁই জুটেছিল সদ্যোজাতটার | কুকুরটার দাঁতের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসেছিলো কিছুআগে মায়ের সাথে থেকে যাওয়া শেষ চিহ্নটা | কুকুরের মুখ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল পার্বতী | কারুর মেরে ফেলতে চাওয়া বাড়তিটা পার্বতীর বুকে ঠাঁই পেলো | সবার বারণ উপেক্ষা করে ঊর্মি আজ পার্বতীর একমাত্র অবলম্বন |

পার্বতীর আগেও একটা অবলম্বন ছিল , সে রামু | মন্ডলপাড়ার এক দর্জির স্যানাত | টুকটাক কিছু করতো | হেব্বি নাকি লাগতো পার্বতীকে | দু চোখ জুড়ে স্বপ্ন এঁকেছিল পার্বতীর | সেদিন যখন রামুর সাথে বেরিয়ে পড়েছিল স্বপ্নের মতো ভবিষ্যতের খোঁজে | কি সুন্দর না লাগছিলো পার্বতীকে | না না , সেদিন ও পার্বতী ছিল না | ওর নাম ছিল টিয়া | টিয়া সরখেল | বাপটা সৎমায়ের চাপে কিছু বলতেই পারতো না | ধুর , পরে পরে মার খাওয়া শুধু | তারচেয়ে বরং একটা নতুন সংসার হোক | পার্বতী হলুদ নীল ছাপা শাড়ী , লাল ব্লাউস , লালফিতে দিয়ে সুন্দর করে নিজেকে সাজিয়েছিল | রামু শাঁখা,সিঁদুরও কিনেছিলো | ওকে নিয়ে শুধু মন্দিরের জায়গায় এসেছিলো বেশ্যা পল্লীতে | ওই শেষ তারপরে আর কখনো দেখেনি লোকটাকে | মালটা ক'হাজার টাকায় পার্বতীর ভালোবাসাকে বেচে দিয়েছিলো | আজ আর সেসব কথা ও মনে করতে চায়না | বুকের ভেতরে যে হাতুড়ির ঘা পরে একটার পর একটা | চোখটায় যেন অজস্র কাঁচের গুঁড়ো কিড়মিড় করে |

বড়বাজারের লোহা ব্যবসায়ী গণেশ মালহোত্রার বড়ো ছেলে মনীশ পার্বতীর পার্মানেন্ট খদ্দের | লোকটার বৌ মারা গেছে মাস সাতেক আগে | তারপর থেকেই পার্বতী | বিদেশী মদ ছাড়া লোকটার মুখে রোচে না | ছিঁড়ে খায় পার্বতীকে প্রতি রাতে | অসুরের মতো শক্তি লোকটার গায়ে | পুরো পয়সা উসুল করে তবেই ছাড়ে ওকে | রাগ হলেও পার্বতী মিহি গলায় বলে ...

-- ও বাবু ছিঁড়ে ফেলবে বুঝি আমাকে ? আমি কি পালিয়ে যাচ্ছি নাকি ?

বুনোশুয়োরের মতো ভোঁসভোঁস করতে থাকে লোকটা |

-- দুঃশালী , বড়া নাখড়িওয়ালী হ্যায় তু | দিমাগ মাত চাট ইয়ার | লেটে রাহে চুপ সে |

সারাশরীরে কালশিটে আর দাঁত নখের দাগ | মুখ জুড়ে লাল কালো লিপস্টিক আর কাজল মেখে যায় | ঠিক জোকারের মতো লাগে ওকে | ঘরের চারিদিকে ফুলের মালা , ব্লাউস , শাড়ী , অন্তর্বাস ছড়িয়ে থাকে | শরীরখেকো হিংস্র পশু একটা | হাঁপিয়ে ওঠে পার্বতী তবু কিছু প্রকাশ হতে দেয়না | সামলে নেয় নিজেকে | লোকটা মুখের ওপর ছুঁড়ে দেয় পাঁচশো টাকার বেশ কয়েকটা নোট্ |

সেদিনও লোকটা এসেছিলো অন্য দিনের মতোই | ঘরে ঢুকেই পার্বতীকে বললো ...

-- মোড় কি উস দুকান সে যারা চিকেন কাবাব লে আনা | বহত খুসবু আ রাহি হ্যায় | আজ কুচ অর সে কাম নেহি চলেগা |

পার্বতী ব্লাউজের হুকগুলো আটকে হাসতে হাসতে দোকানের উদ্দ্যেশে রওনা দিলো | বলে গেলো ..

-- বাবু , তুমি ভেতর থেকে বন্ধ করে দাও | যা সব ছিঁচকে মাতালগুলোর উৎপাত | যকনতকন যার তার ঘরে ঢুকে পোচ্চে গো | দাও দিকি বন্ধ করে | ও দোকানে গেলে এক ঘন্টা , যা লম্বা লাইন ..!

কুড়ি মিনিটের মধ্যে ও ফিরে আসে | খুব বেশি ভিড় ছিলোনা |

ঘরের দরজা খোলা , বাবু নেই | চলে গেলো নাকি ? নাঃ ...| শার্ট , পার্স , আধ খাওয়া মদের বোতল সবই তো রয়েছে | এদিকওদিক তাকাতেই পাশের ঘর থেকে টেবিলল্যাম্পটার ভাঙার আওয়াজ পায় | ঊর্মি গোঙাচ্ছে | জানলা থেকে নিবুনিবু আলোয় ঘরের ভেতরটা অস্পষ্ট | খাটের ওপর চিৎ করে শুইয়ে ফেলেছে পাঁচ বছরের মেয়েটাকে | এক হাতে চেপে ধরেছে ওর মুখটা অন্য হাতে ছিঁড়ে খুলছে ওর ফ্রকটা | চিৎকার করে ওঠে পার্বতী | এক লাথিতে খুলে ফেলে দরজাটা | বাচ্চাটা ভয়ে চিৎকার করে কাঁদছে | হিড়হিড় করে টেনে মাটিতে ফেলে শয়তানটাকে | লোকটার বুকের ওপর পার্বতীর একটা পা | ভয় পেয়ে গেছে জানোয়ারটা | গায়ে ঢলে পরা মেয়েটার এই রূপ হতে পারে তা শয়তানটা ভাবতেও পারেনি | পার্বতীর হাতে পায়ে ধরছিল লোকটা |

-- হারামির বাচ্চা , আমার মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস তোকে কে দিয়েছে | চিরদিনের মতো তোর শখ আমি শেষ করে দেবো |

হাতের কাছে গোলটেবিলের ওপর ছিলো ধারালো জাতিটা |পার্বতী জানে ধর্ষকের ঠিক শাস্তিটা কি |
আর্তনাদে কেঁপে উঠেছে সমস্ত বেশ্যাপল্লী | পার্বতীর গায়ে ছিটকে এসেছে অসুরের রক্ত |

ততক্ষনে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে নাজনীন , শিউলি , নয়না , মাতন |বাবুরা যে যার মতো পলায়ন ততক্ষনে | ওরাই ফোন করেছে হাসপাতাল , থানায় | থানার বড়বাবুকে দেখে এগিয়ে আসে নাজনীন |

-- বাবু , বেঁচে থাকার জন্য শরীর বেচি | তা বলে আমাদের মেয়েগুলোর ইজ্জত নিয়ে খেলা ? অত আইনকানুন জানিনা বাবু | কোনো শুয়োরের বাচ্চা ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছুঁতে এলে পুঁতে রেখে দেবো |
এগিয়ে আসে শিউলি | ফুলের মতো মেয়েটা বাবু | মেরে ফেলছিলো লোকটা ইচ্ছে করে | যদি ওর মা ঠিক সময়ে না আসতো ? কি হতো মেয়েটার ? যদি আপনার ঘরের মেয়েটার সাথে ঠিক এমনটাই হতো বাবু ? চুপ করে থাকতে পারতেন ?

থানার বড়োবাবু ওদের আশ্বস্ত করেন উনি নিজে পুরো ব্যাপারটা দেখবেন কথা দিয়েছেন | পার্বতীকে জিপে তোলে পুলিশ | ঊর্মিকে আজ ঘিরে রেখেছে ওর মায়েরা | হ্যাঁ , বেশ্যা মায়েরা | কারণ ওরা একটা পক্ষই জানে ..... মাতৃপক্ষ ||

"সুস্হ জীবন"
***রহমান মাসুদ***
ক্ষুদ্র পত‌ঙ্গের প্রেম দংশনে
বে‌ড়ে যায় দে‌হের উত্তাপ,
সুস্হ শরী‌র রো‌গে আক্রান্ত
র‌ন্ধে-র‌ন্ধে তীব্র যন্ত্রনার প্রতাপ।
যে দেহ-মন সর্বদা প্রাণচন্ঞ্চল
মশার এক‌টি দংশ‌নে কুপকাত,
বিড়া‌জিত সকল সুখ-স্বাচ্ছন্দ
দে‌হের অসুস্হতায় মুহূর্তেই বিস্বাদ।
দীর্ঘ‌দিন অসু‌খের ধকল যাতনা
ভুক্ত‌ভোগী‌দের ম‌র্মেম‌র্মে উপল‌ব্ধি,
দ্রুত সুস্হতা প্রা‌প্তির কামনায়
বিধাতার কা‌ছে প্রার্থনার স্তু‌তি।
আগত নিত্য-নতুন রোগ বালাই
স্রষ্টার হুকু‌ম পাল‌নেরই দাস,
বিপথগামী সর্ব‌শ্রেষ্ঠ প্রজা‌তি‌কে
হু‌শিয়ারী সতর্কতার পূর্বাভাষ।
দেহ নি‌য়ে সর্বদা মি‌ছে বড়াই
যা অতি নাজুক ভঙ্গুর,
সবাই‌কেই এক‌দিন যে‌তে হ‌বে
মৃত্যু গহব‌রের অচিনপুর।
সুস্হতা স্রষ্টার প্রধান নেয়ামত
তাঁরই প্রাপ্যতা সর্বা‌গ্রে কামনা,
চ‌াই সুস্হ সবল সুন্দর জীবন
হে রব,‌মিটাও মো‌দের মনবাসনা।

বিপন্ন বলিনা বন্ধু স্বর্ণলতিকা তুমি,
এলোকেশে বসে আছো কেন বিরহিনী?
অভাগীনি বলে কেহ দুর্ভাগা দেশে,
ভালোবাসি আমি তোরে দিন পরিশেষে।
শঙ্খধ্বনি শোনো ওগো মন্দিরের দ্ধারে,
আঁখি মুছে আসো তুমি আলোকিত করে।
বিষন্নতার হিমশৈলে বিগলিত অশ্রু নদী,
আঁধারেতে ফোঁটা চাঁদে প্রণয়ের ছবি।
কোথা যাবে একা তুমি অগনিত ভীড়ে,
নিরুত্তর থেকো না বন্ধু অপবাদ ডরে।
উঁকি মারি চাহে কতো জানালার ফাঁকে,
ভালোবাসি বলি আমি তারা যেন দেখে।

***********
তাং: ‌১৮/০৮/২০১৮ ইং
০১ ভাদ্র,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৯.৩৬
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

হাসু জমিদার যেনো আস্ত একটা শয়তানের ডিব্বা,
বাজখাঁই গলায় কৃষকদের ঝেড়ে হাম্বা হাম্বা।

ব্যক্কই তারে সোয়াগাত করে তির্যক ভঙ্গিতে,
খাজনা হবে নতুন করে,কহিল হাসু ঋজু ভঙ্গিতে।

রসনা প্রক্ষিপ্ত হয়েছে,পরিশ্রমী প্রজাদের,
টেংঙা লোকটি প্রতিবাদী হয়েছে,শক্তি বেড়েছে মজলুমদের।

শূন্য আকাশ বিশাল নগ্নতায় নীল হয়ে জ্বলে পুরে মরে,
জমিদার মশাই টোল-সোহরতে মাজে,খাজনা তোলার ভিড়ে।

বাতরস স্ফীত পদযুগলে ভরসা উঠিবে চন্দ্র,
ক্ষেপে গিয়ে প্রজারা গড়ে তুলে কালো মাথার সমুদ্র।

পথ তুই কিন্তু বড্ড বেহিসাবী,
কি যেন একা ভাবিছ হিজিবিজি।
শবযাত্রা হলো কতোটা তোমার বুকে,
হিসাব কেমনে দিবে তুমি তাঁকে?

********

তাং: ‌১৪/০৬/২০১৮ ইং

অন্যায়
- আলাউল ইসলাম

আমি না অন্যায় আবহে আবৃত তোমাতে
করুনার মায়ায় আমি অপরাধী,
স্বপ্ন সাজানো আঙিনায় আমি প্রতারক

রঙিন কুঁড়েঘর
তাতে মেহেদী রাঙা হাতে তুমি,
কিন্তু
আমি দিশাহীন পথিক
যন্রনামক যাযাবর।

মিষ্টিমুখ সাথে মধুময় কন্ঠ
গানের আবহ ছড়িয়ে চারপাশ,
আমি শব্দহীন হয়ে চলছি
অদূরে কারো খুঁজে
তাই আমি অপরাধী।

নৃত্যে যার ছমছম কবিতা
আঁকে যে তাতে ধরনীর ছবিটা,
কল কাকলিধ্বনি
যাতে খুঁজে পাই খেচরের সুর স্বাদ
এ ফেলে আমি চলছি,
কিসের খুঁজে?

আকুল করা আবেদন
সবটুকু জুড়ে ভালবাসার জুয়ার,
সাড়া পেতে বেপরোয়া
ধন্য হবে জীবন জৌবন,
শুধু চায় সে আমার ছোঁয়া
পায়নি সে কিছু,
আমার কি যে নেশা
তাই আমি অপরাধী।

নিষ্পাপ ভালবাসা
কিছু অনুপম আচরণ,
কিছু নব্য প্রকরণ ভালবাসার
যা দিতে প্রস্তুত বিলিয়ে,
আমার মাঝে
আমি পারিনি নিতে,
কেন পারিনি জানি না
তবে পারিনি আমি
অপরাধী আমি তাই।

অন্যায় যত করেছি
জানি ক্ষমা নাই তার,
বুকে জড়ায়ে রাখার যা দিয়েছি প্রতিদান
প্রকৃতির প্রকট নিয়মের মেলায়
আমিও ছিলাম বলি,
যা করেছি, যা দিয়েছি,যা পেয়েছি সব মিলিয়ে এ নেহাতি অন্যায়,
অপরাধী আমি অপরাধী
তোমার দুয়ারে খুঁজো না আমায়,
অপরাধী আমি নিয়েছি ওপার থেকে বিদায়।

মোঃ আলাল মিয়া।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকৃতির খেয়ালেতে আসা ও যাওয়া,
তার মাঝেই সাধে সব চাওয়া পাওয়া।
অমাবস‍্যার চাঁদে যেন গোমটা দেওয়া,
আঁধারেতে কোন কিছু যায় না দেখা।
কখনো হৃদয়েতে অসহ্য দহন জ্বালা,
আবার কখনো আনন্দতে আত্মহারা।
জীবনের দাবদাহের ঘৃতাহুতির মাঝে,
এই টুকু ভালোবাসা শেষ পূঁজি তাতে।

***********
তাং: ‌১৬/০৮/২০১৮ ইং
৩০ শ্রাবণ,১৪২৫ বাংলা

"ম‌ানু‌ষের হক"
***রহমান মাসুদ***
বয়সের ভা‌রে নয়‌তো কুঁ‌জো
কাঁ‌ধে যে পা‌পের বোঝা,
সায়ন্ত জীব‌নের শেষ বি‌কে‌লে
ফে‌লে আশা স্মৃ‌তি খোঁজা।
বারবার পিছ‌নে ফি‌রে
ম‌নে প‌রে কত ঘটনা,
মানবতার লুন্ঠ‌নে সিদ্ধহস্ত
বু‌ঝি‌নি মজলু‌মের যাতনা।
মানু‌ষের হ‌কের ছি‌লনা মূল্য
জীবের প্র‌তি অসদাচারন,
ক্ষমতার জো‌রে,বাহু ব‌লে
প‌রের সম্পদ ক‌রে‌ছি হরণ।
ফ‌রিয়াদীর করুন নোনা জ‌লে
হৃদ‌য়ে ঘ‌টে‌নি বিগলন,
আ‌রো চাই , আরো চাই
অপ‌রের ধন লুটার আস্ফ‌লন।
স্রষ্টার ও মানু‌ষের প্রাপ্য হক
না পাল‌নে আজ অনু‌শোচনা,
স্রষ্টার কা‌ছে ক্ষমার আশাবাদী,
মানু‌ষের হ‌কের কে দে‌বে ক্ষমা?
কিভা‌বে মু‌ক্তির আশা ক‌রি
কত হক ন‌ষ্টের বোঁঝা কাঁ‌ধে,
এত মানু‌ষের ক্ষমার দূরাশায়
কাট‌ছে সময় চরম অবসাদে।

ভেজা ভেজা চোখে কান্না জড়ানো ছিল তোমার প্রতিটি ভাষা,
নির্বোধের মতো ভেবে ছিলাম নির্ভেজাল হবে তোমার ভালবাসা।
জানতাম না মধু মাখা অস্ত্র দিয়ে জর্জরিত আমায় করে,
সুখের গন্তব্যের মাঝ পথে এভাবে যাবে তুমি সরে।
স্বপ্নের মায়া জালে জড়িয়ে আমায় করে দেবে পুর্ণ মাতাল,
তোমার যাওয়ায় যেন অন্ধ হয়ে না দেখি কিছু আর চিরকাল।
দারুন ছিল কৌশল তোমার দারুন তোমার সকল অভিনয়,
ছোট অনুরোধ করছি তোমায় করে হাত জোড় আর অতি বিনয়।
এসো না আর কোন দিন আমার এ জীবনে ফিরে,
ভাল আছি সুখেই আছি স্মৃতি মাখা একাকিত্বের এই নীড়ে।
হয়তো আমার ভালবাসার রংধনু পড়েছে কালো মেঘে ঢাকা,
তাই ভালবাসার পূর্ণতা থেকেও আজ পুরো জগৎ টাই ফাকা।

উপকারী ফল পেয়ারা
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

পেয়ারা সারা পৃথিবী তে ভীষণ পরিচিত একটি ফল।

পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে এই ফল পাওয়া যায়। আমাদের দেশে ( বাংলাদেশে) এখন শহর এলাকা গুলোতে দেশী পেয়ারার তুলনায় চাষ করা পেয়ারা পাওয়া যায় সারা বছর।

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি। ভিটামিন এ চোখ, চুলের জন্য ভীষণ উপকারী। শিশু বয়স থেকে এই ফল খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

ভিটামিন সি পুরো দেহের চামড়ার পুষ্টি যোগায়, বহুবিধ ছোঁয়াচে অসুখ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। গরম ঠানডা জনিত অসুখ গুলো থেকে রক্ষা করে এই ফল।

পেয়ারা তে রয়েছে কারটিনয়েড নামক এক উপাদান, যা ভাইরাসজনিত ইনফেকশন কে প্রতিহত করে। ডায়রিয়ার জীবাণু কে করে দূরবল।

তারুণ্য বজায় রাখতে যুদ্ধ করে দেহের বিষাক্ত উপাদান গুলোর বিরুদ্ধে।

পেয়ারা তে আরো আছে উপকারী বন্ধু ভিটামিন বি। এই ভিটামিন বেরিবেরি অসুখ দূর করে, রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। মুখ ও ঠোটের কোণায় ঘা,স্নায়ু দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে।

পেয়ারার খোসা তে রয়েছে ফাইবার, যা খাবার হজমে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ফাইবার জাতীয় খাবার ও ফল খুব দরকারি।

তবে ডায়াবেটিক রোগী ও মোটা মানুষেরা মিষ্টি পেয়ারা কম খাবেন। কিছুটা কাচা পেয়ারা তাদের জন্য বয়ে আনবে সুফল।

পেয়ারা শরীরে ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমায়। বেড়ে যাওয়া ইউরিক এসিড দেহে বাত অসুখ তৈরী করে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খান। তবে কিডনীর জটিলতায় আক্রান্ত হলে, চিকিৎসক এর পরামর্শ মেনে যে কোন ফল বা খাবার খাওয়া উচিৎ ।

অনেকেই পেয়ারার বীজ হজম করতে পারেননা। তাই হজমে সমস্যা থাকলে বীজ ফেলে পেয়ারা খান। এই ফলের পুষ্টিগুণ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। তাই ফ্রিজ এ সংরক্ষন না করাই ভালো।

পৃথিবীর একেক দেশে একেক প্রজাতির পেয়ারা পাওয়া যায়। সব পেয়ারাই উপকারী।

দিন মজুর
- শাহরিয়ার ফেরদৌস

তুমি যে দিন মজুর।
সারাদিন খেটে পাও কিছু সুখ।
তাতেই ভাসাও সুখের বুক।
ধনীরা তোমার সাথেই করে দাম দর,
অার বোঝে তারা বড় বড় সপিং মলের নকল জীনিসের কদর!
পাখি, ময়না, টিয়া কিনে অানে চড়াই দামে!
তারপরও লস হয় না কোনো কালে!
শুধু তোমার সাথেই চলে দরকষাকষী।
কর্তরা বানায় বড় বড় অট্রলিকা তোমারই দ্বারা।
তুমি তাহাতে পাও না কোনো কালে একবারও ঠিকানা।
তুমি বানাও এই অট্রলিকা অন্নের জন্য,
তারা সেখানে থাকবে সুরক্ষায় ও নির্ভাবনায়।
তাহারা যদিও থাকে দালানে,
মনে হয় না সুখ অাছে সবার মনে।
তোমারও তো অট্রলিকা অাছে তাহাতেই চলে যায় দিনকাল বরং অনেক সুখেই।

ত্রিশাল
১৮-০৭-২০১৮

পিপাসায় কাতর কৃষক কৃষানী,এখনো ধানক্ষেতে,
স্বল্প সময়ে ফসল তোলতে হবে,ধংস হবে বজ্রপাতে।

দক্ষিণ আকাশের কোণে খাড়া,অভিশপ্ত ছায়া,
কঠোর পরিশ্রমের পণে গড়া,ছায়া কি বুজে ফসলের মায়া।

মগরা মগরা ধান তবে,তুলতে হবে ভিটার ঘাটে,
ঠাটাপড়া আযাব শুরু হবে, বেওয়ারিশ মাঠে।

আজকের স্বাধীনতা
- শ্রীমন্ত দে

সাতচল্লিশে আশা নিয়ে বুকে
এসেছিল ফিরে প্রিয় স্বাধীনতা
বন্ধন খুলে খুশি ডানা মেলে
ভুলেছিল তার যত অধীনতা।
যত দিন গেছে গুটি গুটি পায়ে
কলুষ হয়েছে স্বাধীনতা দেহ
সারা তনু জুড়ে বিষের পাথার
ভালোবাসা নেই,নেই কোনও স্নেহ।
ছটফট করে তিতির পাখিটা
এক আকাশ ভয় অন্তরে নিয়ে
ঘুমহীন চোখে কাটে ভরা শোকে
কণ্টক পাতা শয্যায় শুয়ে।
অভিমানী হয়ে নিভৃতে বসে
কাঁদে অহরহ সীমাহীন দুখে
শৃঙ্খল গিয়ে অনাচার এল
জমা কত ব্যথা স্বাধীনতা বুকে।
শহীদেরা কত প্রাণ বাজি রেখে
করেছিল হেসে মৃত্যু বরণ
আজ নেই তারা এই দুর্দিনে
দেখত কিভাবে জয়ের মরণ!
মহা ধূম ধামে উৎসব হয়
আগস্ট মাসের পনের তারিখে
স্বাধীনতা মানে উৎসব শুধু
বুঝে নেয় কত তাদের নিরিখে।
দেশভক্তির বিজয় পতাকা
এই শুভ দিনে ওড়ে আশমানে
দেশ হতবাক ভালোবাসা দেখে
স্বাধীনতা বুঝি হাসে মনে মনে।

15.08.2018

তুমি একটা 'বিষয়'
- মোশ্ রাফি মুকুল

মনে করো তুমি সৃষ্টির কৌশল
ধংসরের নটি।
মনে করো তুমি একটা 'বিষয়'-
ভালোবাসার পাঠ্যসূচী,
মনে করো তুমি এক
সুগভীর 'অকারণ'।

মনে করো তুমি এক
ইচ্ছেমতী।
কালোশাদা মেঘ-
পার্পল আকাশ,
ইহলৌকিক মুখোশে
পরিবর্তনশীল জলবায়ু।
তোমার জীবাশ্ম জ্বালানীতে
পোড়াচ্ছ জোৎস্না পালক-
সন্দিগ্ধ আকাশ।

তোমার যুগপৎ
প্রেম নিঃসরণে
বেড়ে যাচ্ছে বৈশ্বিক স্পন্দন,
আমার বালকতা উষ্ণতা।

মনে করো তুমি কোন
অনাবিষ্কৃত 'ভাষা'র ব্যাকরণ-
দুর্বোধ্য এক সাবজেক্ট,
এবং এ অরুণাচলে
অজস্র যাতনা ও উত্তেজনার
নেপথ্য কারণ।

১৬/০৮/২০১৮.

খসে পড়া পালকের মতো,
ঘুরে ঘুরে আসিব তবো পদতলে।
ঘৃণা করে ফেলে দিও না তুমি-
তুচ্ছ ঝরা পালক বলে।
আমি আসিব‌ই তবো আচল সুরভিতে,
প্রশান্তির নিদ্রালয়ের খোঁজে।

********

তাং: ‌১৫/০৬/২০১৮ ইং
৩০ আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা
রাত:১০.২০

"প্রকৃ‌তির খেলা"
***রহমান মাসুদ***
র‌বির প্রখরতায় তীব্র দাবদাহ
দহন জ্বালায় দগ্ধ ধর‌নী,
একটু শীতল পর‌সের ছোঁয়ায়
তৃষ্ণিত হৃদয়ে দিবস রজনী।
প্রা‌ণের স্পন্দ‌নে স্হ‌বিরতা
ঝলসায় গাছপালা তরুলতা,
প্রকৃ‌তি‌তে বিরাজ তপ্ত লু-হাওয়া
ক‌ঠিন হ‌তে ক‌ঠিনতর প্রা‌ণে বাঁচা।
ফস‌লের জ‌মি রুক্ষ মরুভুমি
জীব‌নের তাড়নায় ক‌ন্ঠে হায়হায়,
তীব্রতা আরো বে‌ড়ে গে‌লে
প্রানীকূ‌লের বেঁ‌চে থাকা দায়।
তখনই দিগ‌ন্তে উদ্ভাসিত মেঘমালা
অঝর ধারায় না‌মে বৃ‌ষ্টি,
প্রানী উদ্ভিদ সবার মা‌ঝে স‌জীবতা
বিপদ মু‌ক্তির নিদারুন সন্তু‌ষ্টি।
ভা‌বে কি একবারও মন
দু‌র্যোগ বা প্রশা‌ন্তি কার দান?
কার উপর প্র‌তিমুহূর্ত নির্ভরশীল
কে প্রভু ? কে সর্বত্র বিরাজমান?
যে স্রষ্টা, সৃ‌ষ্টির একমাত্র রব
তার আরাধনা নয় ‌কি প্র‌য়োজন?
ত‌বে আর দেরী কেন
আজ থে‌কেই শুরু সে আয়োজন।

ফিরবো না আর, জাগবো না আর;
শঙ্খধ্বনি বা করতালির ঝঙ্কারে।
মিটবে মোর চির অহঙ্কার-
তবো ছায়াতলে অদৃশ্য আলোকে।
********

তাং: ‌১৬/০৬/২০১৮ ইং
৩১আষাঢ়,১৪২৫ বাংলা

রঙিন কুঁড়েঘর
- আলাউল ইসলাম

শত শত বছর পথ পাড়ি দিয়ে খুঁজে পাওয়া, হাজার খুনসুটি ঠিকানা সহস্র কষ্টের আনাগোনা, তিলে তিলে দিনে দিনে বুনা কিছু কল্পিত স্বপ্ন গাঁথা, ঝর,বৃষ্টি, প্রকৃতির প্রতিকূলতা পেড়িয়ে দাদার দেওয়া রহস্যের খরমের ক্ষয়,
কপালে নির্বাক সূর্যের প্রতিচ্ছবি মুসাফির হয়ে কাঁধে ঝুলি চাপিয়ে সেই চিলের ন্যায়।
আকাশটা সাথে নিয়ে বাজপাখির ন্যায় লক্ষভেদ করে,
মাঝির গান ঐ পাল তোলা নায়ে বাতাসে ভেসে আসে।
সাথে মাঠঘাট নাচে কৃষকের ঘাম ঝড়ানো উদ্ভাসিত ফসল,
অমুল্য রতন কৃষাণির মুখের হাসি এত সব কিছু অতিক্রম করে,
আমি পেয়েছিলাম তারে সাথে ছিলো তার গায়ের এলোমেলো বসন,
পোশাকে ছিল তার ভরা বসন্তের ছাপ হালকা লাল, সোনালি গোলাপে আঁকা এক সুন্দরের প্রতীমা আবৃত এক শাড়ি,
কপালে তার বড় লাল টিপ যেন নতুন স্বপ্নের হাতছানি হাতে তাহার চুড়ি বাজে,
পায়ে কথা কয় নুপুর নাকের নলক মন্ত্রনা দেয় কানের দুল সৃষ্টি করে অমায়িক এক সুর,
সে দাড়িয়ে ছিলো উঠোনে গাঢ় কালো তার গায়ের রং, বসন, গঠন,বাহুদ্বয় সবে মিলে সে এক অপরূপা তুলনা নেই যার,
চোখ জুড়ানো মায়াভরা সে মুখ লজ্জায় লাজুক লজ্জাবতী, সে দাড়িয়ে ছিলো আমার ভাঙা এক ঘরের আঙিনায়।
যাতে ছিল না কোন চাল ছিলনা কোন ভরসা সম্বল খুঁটি,
ছিলনা কোন সুন্দর আবেশ যেখানে ছিল শুধু বেদনা ভরা,
সব হতাশার বসবাস ছনের চালা সর্বনাশা ঝড়ে বুকে জড়ায়ে নিয়েছে বাড়ির,
আঙিনায় লাউয়ের মাঁচা ঘরের উপরে আজ যা হয়েছিল তার কোমল হাতের ছোয়ায় নেই চাল নেই,
অন্ন নেই সবই বেদনাময়, তবু সে অটল দাড়িয়ে সাথে নিয়ে আত্মবিশ্বাস সাথে,
নিয়ে গ্রহন করার ক্ষমতা সাথে নিয়ে চোখের জল মুছে দেবার উপাখ্যান চোখে নিয়ে স্বপ্ন হাজার,
তার সাহসে সাহসী আমি নেই ঘর নেই কিছু তবু সে আমার তাতে আমি পায় ভরসা,
তাতে দেখি সবটুকু সুখ তাইতো সব হারায়ে আমি বেচেঁ আজ সাথে, মোর রঙিন কুঁড়েঘর।

এক পলকে একটু দেখা,
তোমার সঙ্গে তার...
সেই দেখাতেই বিদায় আমি;
কেমন প্রেম তোমার?

********

তাং: ‌১৮/০৭/২০১৮ ইং
০১শ্রাবণ,১৪২৫ বাংলা

"স্রষ্টার গুণগান"
***রহমান মাসুদ***
রূ‌পের ভান্ডার উজাড় ক‌রে
সৃ‌জিল বিশ্ব কোন কা‌রিগর‌ে,
প্রা‌ণের স্পন্দন ধরার প্র‌তিস্ত‌রে
মায়াবী রূ‌পের ছটা ভুবন জু‌ড়ে।
ভূ‌মি,অম্বর,স‌রোবর,ক্ষি‌তিধর
কে সাজা‌লো এত সুন্দর,
ধরনী‌কে আলিঙ্গ‌নে যে পবন
বিনা হিসা‌বে বাঁচায় জীবন।
দিবাকর কার হুকু‌মের দাস
তমসার বু‌কে প্রভার আভাষ,
শশীধ‌রের ক্রমবর্ধ‌নের খেলা
ঘটায় অমাবশ্যা, পূ‌র্ণিমার মেলা।
বসুম‌তি‌কে কে কর‌ছে উর্বর
খাদ্য ভান্ডা‌রের অফুরন্ত বহর,
চার‌দি‌কে প্রবা‌হিত সু‌পেয় নহর
তৃষ্ণা মেটা‌তে প্রানীকূল বিভোর।
তাই ভা‌ব কোন র‌বের সৃ‌ষ্টি‌তে
অগ‌নিত নেয়াম‌তেরই বৃ‌ষ্টি,
দু'হাত ভ‌রে কে ক‌রে‌ছে দান
পর‌তে পর‌তে রে‌খে‌ছে কল্যাণ।
স্রষ্টা যি‌নি তি‌নি নয় কি মহান?
তবুও কর‌ছি কি তাঁর গুণগান?
হায়! আমরা‌তো শুধুই নাফরমান
সময় থাক‌তেই তওবার আহবান।

আমার ভালো লাগবেনা নিশ্চয়,
তাতে নেই তোমার কোন সংশয়।
এটা সত্যি তুমি পরোয়া করোনা,
অবশ্য কারণটাও আমার জানা।
আমারদের দেখা হবে সেই কাল,
তার‌ই মধ্যে মেতে উঠবে 'বাচাল'।
বদন বিবর্ন হবে গোপন রঙেতে,
পদ্মকলি দোলবে বিনা জলেতে।
জ্বালিয়েছ তুমি হৃদয়ের টুকরো,
পেয়েছ বুঝি খোঁজে ভালো পাত্র।
রক্তজবার পরশে ঐ প্রথম দেখা,
তাতেই হয়েছে বুঝি ভালোবাসা।
বিরক্ত তুমি আজ ধুতরার ফুলে,
ভালো লাগে তাই সুগন্ধি বকুলে।
অভ‍্যাস আমার তাই ভালোবাসি,
পাঁচবিকি খাওয়া ঐপুরানো ছবি।
অন্তরে সে লাথি মারে বারেবারে,
রেগে উঠি তবু ভালোবাসি তারে।
অবাক নয়নে ফিরে দেখি এঘরে,
আদিমতার সমাপ্তি বালুময় চড়ে।
দিগন্তে বসে মালা গাঁথে সারারাত,
ডেকে আমি বলি হয়েছে প্রভাত।


***********
তাং: ‌১৪/০৮/২০১৮ ইং
২৮ শ্রাবণ,১৪২৫ বাংলা
সকাল:১১.৩৩
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

বন্ধুত্ব
- মিন্টু উপাধ্যায়

রাত্রি ক্রমশ গভীর হচ্ছে । রাস্তার ল্যাম্প-পোস্টের আলোয় রাস্তা ঠিক মত দেখাই যাচ্ছে না । সেই সকাল থেকেই টিপ টিপ করে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তার এদিকে ওদিকে কাদায় ভর্তি । বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই চললাম আমি অমিতদের দোকানের উদ্দেশ্যে । অভাব অনটনের জন্য একটা ছাতা পর্যন্ত কিনতে পারিনি । দুই-দিদির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আমি বরও একা পরে গিয়েছিলাম । বাবা-মা তো অনেক দিন আগেই মারা গিয়েছিলেন । রাতে একা ঘরে থাকতে পারতাম না, তাই অমিতদের দোকানেই রাত কাটাতাম । অমিতও ওদের দোকানেই শুত । জীবনে এতটা একলা আগে কখনও মনে হয়নি । বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে যখন অমিতদের দোকানে পৌছালাম তখন পুরোই ভিজে গিয়েছি । পাখার হাওয়ায় জামা পেন্টটা শুকাতে দিয়ে গামছা পরেই গল্প করতে লাগলাম অমিতের সঙ্গে । গল্প করতে করতে অনেকটা সময় কেটে গিয়েছিল । কিছুক্ষনের মধ্যেই অমিতের দাদা রাতের খাওয়ার নিয়ে এসে হাজির । অমিতকে দেখলাম ওর ভাগের রুটি থেকে আমার জন্য তিনটা রুটি আর সব্জি আমার দিকে বারিয়ে দিয়ে মিটি মিটি হাঁসতে লাগল ।
- তুই খেয়ে নে, আমার খাওয়া হয়ে গেছে ।
- না, তোর খাওয়া হয় নি, আমি জানি ।
- তুই কি করে জানলি ?
- আমি জানি, তবেই না তোর বন্ধু ।
- না রে তুই খা ।
- এমন করলে আমিও খাবো না ।
- ধ্যাত, এমন করিস না । খেয়ে নে... ।
- তুই না খেয়ে থাকবি আর আমি সেটা দেখব, তুই না খেলে আমিও খাবো না ।
অমিতের দাদাকেও দেখলাম দুটো রুটি আমার দিকে এগিয়ে দিতে । কি করব ভাবতে লাগলাম । আমিত কি করে বুঝল যে আমি না খেয়ে আছি ।
- তারাতারি হাত ধুয়ে বসে পর ।
- না রে তোরা খা ।
- এবার কিন্তু মার খাবি তুই । তারাতারি আয় বড্ড খিদে পেয়েছে । অমিতের দাদা হাঁসতে হাঁসতে বলে উঠল ।
কি আর করা, হাত ধুয়ে বসে পরলাম ওদের সাথে খেতে । খেতে খতে এক ফোঁটা জল গরিয়ে পরল আমার চোখের কোণ দিয়ে । তৃপ্তির সাথেই খেলাম । কিছুক্ষনের মধ্যেই খাওয়া সম্পূর্ণ হল ।
বন্ধুদের মধ্যে সব থেকে ভাল লাগত আমিতকেই, আজ ওর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও কয়েকগুন বেরে গেল । নিজে কম খেয়ে হাঁসিমুখে যে আমার জন্য খাওয়ার ভাগাভাগি করে খায়, এমন বন্ধু খুব কমই পাওয়া যায় । ক্রমশ রাত্রি আরও গভীর হচ্ছিল । আমরা দুজনে গল্প করতে করতে শুয়ে পরলাম । অমিতের দাদা আগেই শুয়ে পরেছিল । কিছুক্ষনের মধ্যেই আরও জোরে বৃষ্টি এলো, অন্ধকার ঘরে শুয়ে বৃষ্টির ঝম ঝম আওয়াজ শুনতে শুনতে তলিয়ে গেলাম ঘুমের দেশে ।
কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর আমি এখনও পাইনি... আমিত কি করে বুঝল যে আমি না খেয়ে আছি ।

----- সমাপ্ত -----
© Mintu Upadhayay

আমার গ্রাম, সজীব , শ্যামল, প্রাণবন্ত
- ইরাবতী মণ্ডল

আমার গ্রাম,সোনার গ্রাম,অতি প্রিয় গ্রাম।শ্রাবণের এই দিনে আধামেঘ আধা রদ্দুর।বর্ষার জলে চাষের মাঠ এখন নদী।মাঠের পাট কাটা শুরু হয়েছে।সেই কাটাপাট জমির জমা জলেই পঁচতে দিয়েছে চাষীরা। কোথাও কোথাও সেই পাট পচেগেছে।চাষীরা পাটের আশ কাঠের পিটানি দিয়ে ছাড়িয়ে রাখছে।চাষীবৌ এক হাঁটু জল ঠেলে মাথায় করে নিয়ে চলেছে সেই পাটের বিট।ঘরে ফিরে সেই পাট শুকাবে রদ্দুরে। কেউ কেউ পাট ধুয়ে আবার ফিরছে বাড়ির পথে।
চারিদিকে কর্ম চঞ্চলতা।ছোটো ছোটো বাচ্চারা চলেছে স্কুলের পথে।রাজমিস্ত্রি একমনে মশলা মাখিয়ে ইটের পর ইট গেঁথে পাকা বাড়ি তৈরি করছে।ঘরের বধূ পুকুর ঘাটে চলেছে ঝুড়ি হাতে।মাঠের কাজেও নেই কোনো অলসতা ।কাস্তে হাতে তাই কেউ চলেছে মাঠের পথে।
কর্মচঞ্চল প্রকৃতি,কর্মচঞ্চল দিন। আর এমনি প্রতিটি দিনে প্রাণবন্ত আমার গ্রাম,আমার স্বপ্ন পুরী।
শেষ করি কবির কথা দিয়ে--
আমার এই দেশেতে জন্মযেন
এই দেশেতে মরি।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের সেরা সেযে
আমার জন্ম ভূমি।
#প্রবন্ধ (14.08.2018 )

মনে রেখো আমায় তুমি একথা বলিনা,
যদি তোমার নিশ্বাসে আমায় খোঁজে পাওনা!
সুন্দর পরিবেশ তবু ঘর্মাক্ত শরীর আজ,
টেনিসের মাঠে শুনি মগ্ন ক্রীড়ার আওয়াজ।
সুগন্ধ ভাসে আজ‌ও বিকালের হৃদয় অঙ্গনে,
প্রমাণতো নাই কি হয়েছিল গত ফাগুনে!

********

তাং: ‌১৯/০৭/২০১৮ ইং
০২ শ্রাবণ,১৪২৫ বাংলা
বিকাল়ঃ ৬.০২
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

ওরা
- ইন্দ্রাণী রাহা

বড় রাস্তার মস্ত পাড়ায়
আছে আমার ঘর,
ওরা থাকে দুঃখী পাড়ায়
অচেনা সব পর।
আমার ঘরে জ্বলে আলো
কিবা দিনে রাতে,
অন্ধকারে থাকে ওরা
কী আসে যায় তাতে।
বাগানে আমার ফোটে ফুল
সব ঋতুতেই সমান,
কাদায় ভরা ওদের বাগান
গড়ায় অভিমান।
আমার ঘরে মহাভোজ
কারণ অকারণে,
খিদের জ্বালায় ওরা কাঁদে
বল, কান্না কে আর শোনে।
ওদের থেকে সুখ সুবিধে
পাওনা আদায় করি,
কথায় কথায় ওদের শাসন
হুকুম খানা ভরি,
নিজের গুণ নিজেই গাই
কেউ শুনুক বা না শুনুক,
ওদের বলা স্তব্ধ করি
মরে যদি মরুক।
আমার কোনো পাপ হয় না
যতই কেন করি,
চাবুক চালাই ওদের গায়
হাসিতে মুখ ভরি।
মানুষ আমি চালাক অতি
ওরা ভিষণ বোকা,
ওদের ঘাড়ে পা রেখে তাই
সুখের মারি টোকা।
আমার ঘরে একটি দুটি,
বংশবৃদ্ধি ওদের রোজ,
পায়ের নিচে দাবিয়ে রাখি
কাজের বেলায় খোঁজ।
নিজের ঘর বাঁচিয়ে রাখি
ওদের শ্রমে-ঘামে,
ওদের রক্তে আপনি বাঁচি,
মালা পড়ি নিজের নামে।
এমন ধারা হচ্ছে হবে
হয়তো চিরকাল,
যদি না জাগে মানুষ,
আর জাগে মহাকাল।

Copy right@indrani raha.
13.8.18.

ফেলে আসা সেই পুরাতন দিন গুলো,
শুনেছি কতো গল্প আর ঠাকুমার ঝুলি।
এক দৌড়ে বেরিয়ে পড়তাম দূরের পথে,
আবার ভয়‌ও ছিল পথ হারানোর তাতে।

********

তাং: ‌২০/০৭/২০১৮ ইং

সহস্র  তারার মতো ঝিলিমিলে স্বপ্ন দেখেও মনের ঘরে নাকি বাধতে হয় না, আসলে বড় ছেলেদের নাকি কাদঁতে হয় না।

অন্তর ভরা কষ্ট আর ব্যাথা নিয়ে বুকে, ভাল আছি বলতে হয় তাও আবার হাসি মুখে।

কিছু মানুষের সুখের কথা ভেবে চলতে হয়,তাদের সুখের জন্যেই মাঝে সাজে ছোট খাটো মিথ্যেও বলতে হয়।

আছে দ্বায়িত্ব বাবা মা ভাই আর ছোট বোনের,পরিবারের সুখেই সুখ এদের খুজে নিতে হয় জীবনের।

বাবার সকল ভরসা মায়ের করা অহংকার,ভাই বোনের শ্রদ্ধা,ভালবাসা,ছোট খাটো কিছু আবদার।

কষ্ট গুলো হারিয়ে যায় সকলের সুখের ভিড়ে,পাল বৈঠা ছাড়া নৌকা যেন ভীড়ে যায় সুখের তীরে।

ধন্যবাদ জানাই বিধি তোমায় কৃতজ্ঞতার সাথে,বড় ছেলে করেই দিও জন্ম মোরে বাকি আরও যদি কোন জনম থাকে।

ভাল তোকে আমি বিসিনি কভু
আপন আমায় তুই করবি তবু?
চাই না আমি ভালবাসতে তোরে
বাঁচতে কি দিবি আমায় দয়া করে?
ইচ্ছে নেই আমার,তোর বুকে মাথা রাখার,
শখ হয় অনন্তকাল মায়ের কোলে থাকার।
মায়ের কোলেই সকল স্বর্গ আমার
সাধ নেই অপারের স্বর্গে যাবার।
আমার মায়ের কোল শুন্য করে
নিয়ে যাবি আমায় অচিন পুরে।
মুহুর্তেই পর হয়ে যাবে আত্মীয় স্বজন,
নাম ধরে আমায় আর ডাকবে ক'জন?
সুখ্যাত-বিখ্যাত সকল কেই করেছিস লাস,
এতো বিরহ মেলা করে বল তুই কি পাস?
দুঃখ নেই রে পাগল আমার মরণে,
শুধু কিছু স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে গোপনে।
আমার ভাবনা আমার বাবা-মা কে নিয়ে,
ভেবেছিস তুই তাদের খোকাকে নিচ্ছিস ছিনিয়ে।
শত স্বপ্ন নিয়ে বসে থাকা বাবা-মা আমার,
নিমিষেই ভেঙ্গে যাবে তাদের স্বপ্নের পাহাড়।
চোখের জলে কতো কষ্টই যাবে যে ঝড়ে,
ভাবেনি তারা খোকা এভাবে তাদের যাবে মরে।
তবু,অপেক্ষায় আছি আমি আয় তুই আয়,
সবাই কে জানাই আমার অন্তিম বিদায়

দেখতে তোমায় ভালোলাগে,
লাল গোলাপের মতো।
রাত জেগে আজ গল্প ক‍রি,
প্রথম দিনের মতো।
দূর্বা ঘাসে কোমল পায়ে,,
হাটলে তুমি সুদূর গায়ে।
ঝলমলে রোদ সোনার মুখে,
মিষ্টি আলো তোমার চোখে।
আঁকা বাঁকা গ্ৰামের পথে,
সুবাস তোমার ভাসে মাঠে।
পুকুর ভরা শাপলা কমল,
কেন তুমি অশ্রু সজল?
নেচে গেয়ে হেসে খেলে,
ডুবে থেকো খুশির জলে।

*********
নিজ বাসভবন, ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত
তাং: ২১/১১/২০১৭
সকাল:১০.২১

"পা‌পে বিলীন সভ্যতা"
***রহমান মাসুদ***
মহাকা‌লের অন্তিমল‌গ্নের রেখা
উদ্ভাসিত দিগ‌ন্তের সুদূরতায়,
পৃ‌থিব‌ী‌তে আশা যাওয়ার খেলা
হয়তো বা আজ শেষ সীমানায়।
সে জামানার আমরা প‌থিক
বিশ্ব‌ের উন্নয়ন চরম শিখরে,
ই‌তিহাস ব‌লে অতিউচ্চ হ‌তেই
সভ্যতা ধ্বংসলীলায় হঠাৎ ঝ‌রে।
যু‌গে যু‌গে কতই না সভ্যতা
স্রষ্টার হুকু‌মে মুহূর্তেই ধূ‌লিসাৎ,
ভু‌লেও তারা কি ভে‌বে‌ছিল
এভা‌বে ভা‌গ্যে বরণ ধ্বং‌সের মহানাদ।
লদ্ধ উন্নয়ন প্রাচুর্য্যের গ‌রিমায়
নিজ সত্ত্বাও ডু‌বে অন্ধত্বতায়,
সবই যে আল্লাহর কুদর‌তের দান
সে জ্ঞা‌নে কা‌লিমা লেপন নির্দ্বিধায়।
পৃ‌থিবীর মো‌হে পরকাল হাতছাড়া
অন্যায় অবিচার আর দ্ব‌ন্দ্বের লড়াই,
স্রষ্টার নি‌র্দেশনা পা‌য়ে ঠে‌লে
শুধু আমি আমি আমি‌ত্বের বড়াই।
তখনই সৃ‌ষ্টি ঈষান‌কো‌নে কাল‌মেঘ‌
পা‌পের আযা‌বে দূর্যোগের ঘনঘটা,
প্রাণপ্রিয় সেরা সৃ‌ষ্টির করুন প‌রি‌নতি
উদাস নয়‌নে দর্শণ ক‌রেন বিধাতা।

তবু তুমি দেখিবে মোরে নয়ন মুদিলে,
সেই হাসি মোর স্বাগত জানাবে তুমারে।
আবার কোন নতুন জনমের পথে-
ঘাস ফরিঙ কিংবা শ্বেত কবুতর হয়ে।

********

তাং: ‌২২/০৭/২০১৮ ইং
০৫ শ্রাবণ,১৪২৫ বাংলা

"রোগাক্রান্ত আত্না"
*** রহমান মাসুদ***

দেহ মন উভ‌য়েরই প্র‌য়োজন
প‌রিচালনায় স্রষ্টা প্রদত্ত জীবন,
দে‌হের মা‌ঝেই আত্নার বসবাস
কথাটা একবা‌ক্যে সবার বিশ্বাস।

দে‌হের স্হা‌য়িত্বকাল ক‌য়েক যুগ
মৃত্যুর আগম‌নে চির নিশ্চুপ,
আত্নার মৃত্যু নয় স্হানান্তর
অনন্ত জীব‌নের লম্বা সফর।

একা‌লের সম‌য়ের যাত্রাপ‌থে
সাক্ষাত কত অসু‌খের সা‌থে,
রো‌গের সন্মুখীন দেহ ও মন
ম‌নে নি‌য়ে জীবন‌কেই বরণ।

দেহ‌কে রোগাক্রান্ত দর্শ‌ণে
চি‌কিৎসার চিন্তা শয়‌নে স্বপ‌নে,
সন্ধান অভিজ্ঞ ডাক্তার ক‌বিরাজ
শরীর‌কে বাঁচা‌নোই প্রধান কাজ।

আত্না হ‌লেও রো‌গে জর্জ‌রিত
নেই অনুভূ‌তি,নয় উৎক‌ন্ঠিত,
অপ্র‌য়োজন চি‌কিৎস‌কের শরনাপন্ন
দে‌হের তুলনায় আত্না‌ নগণ্য।

এই ভু‌লের মাসু‌লের ফলাফল
সমাজ সই‌ছে চরম বর্বরতার ধকল,
ধুঁ‌কে ধুঁ‌কে বিলী‌নের প‌থে মানবতা
মহামা‌রী‌তে আক্রান্ত সুসভ্য আত্না।

দেহের রূপে পাগল সবাই,
মনের রূপ কেউ দেখেনা।
পুষ্ট দেহ গৌর যাদের-
তাদের স্বভাব খোঁজে না!
চর্ম-চোখে লাগলে ভালো,
খোরাক বুঝি মন্দ না।
দেহের গুনে ধনী তারা,
অপর পাড়ে সব যন্ত্রণা।
তবু মানুষ আমরা সবাই,
এই জীবন গানের মুর্চ্ছনা।
মাটির মানুষ মহান মোরা,
নেই তাতে আর ভাবনা।
বাঁচা মোদের যেমন তেমন,
পুণ্য কাজে জীবন মরণ।
সে আলোকে থাকলে মোরা,
ধন‍্য হবে সবার জীবন।
দেহের খাদ্য লয়না হৃদয়,
মনের প্রতি অধিক টান।
স্মরণ করলে লাগবে ভালো,
শীর্ণ দেহের গভীর টান।
বঞ্চিত সব সুযোগ পাবো,
ভুলে যাবো ঐ প্রবঞ্চন।
দেহের রূপে নয়তো কথা,
এবার গুণী জনের সম্বোধন।

***********
তাং: ‌১২/০৮/২০১৮ ইং
২৬ শ্রাবণ,১৪২৫ বাংলা
দুপুর :১২.৫৮
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

অপেক্ষা
- শাহরিয়ার ফেরদৌস

এ শুভক্ষণে তোমায় যে পরে মনে!
তবুও রাখতে পারিনি তোমায় এভুবনে।
দিন অাসে দিন যায়, রাত কাটে ভাবনায়,
তবুও চেয়ে থাকি তোমার ঐ পথও পানে।

তুমি এসেছিলে, সে এসেছে, অন্য কেউও হয়তোবা অাসবে তোমার অবর্তমানে।
তারপরেও অপেক্ষায় রবো, জানি শেষ হবে না এই অপেক্ষার।
তবুও চেয়ে থাকি তোমার ঐ পথও পানে,
যে পানে ঘটেছিল তোমার অাগমন, সেই পানেই প্রস্থান!

ত্রিশাল
১০-০৮-২০১৮

ঠিকানার খোঁজে পৌঁছেছিলাম পৃথিবীর বুকে-
বৃষ্টি ভেজা কোমল ঘাস আর সবুজ বনোশ্রী।
বিস্তার পৃথিবী সাজানো যেন রঙিন কোন ছবি,
তাতে একা একা বসে লিখে কল্পনার কবি।
জীর্ণ শীর্ণ দেহতে কতো বৃক্ষ মস্তকে পাহাড়,
ফলে ফুলে শাখা সহ কাধে আছে কতো ভার।

তাং: ‌২৫/০৭/২০১৮ ইং
০৭ শ্রাবণ,১৪২৫ বাংলা
রাত: ০৯.২৪
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

সাগরনামা-৫১৬
==============
বাঘটা ছিলো কার কাছে
জায়গা পেলো মার কাছে,


ওরে সবুজ আয়রে ত্বরা-
তাড়া ওকে সার্কাসে।
-
সাগরনামা-৫১৭
==============
লাল দালানের চড়কাতে
কর্জ বাড়ে কর খাতে,

ভ্যাটের শরীর হচ্ছে ফ্যাট
তসবী পাঠের বরকাতে !
-
সাগরনামা-৫১৮
==========
পীর কামেলের বংশে
নাম লেখালো কংসে,

ভক্তজনের মন্দ কপাল-
যায় এগিয়ে ধ্বংসে !
-
সাগরনামা-৫১৯
==========
সুহাসিনীর গর্বে
সন্তানেরা মরবে,

যাবে সে-ও মর্গে
ঘন্টা যখন পড়বে।
-
সাগরনামা-৫২০
==========
শ্বাস কষ্টের রোগী
ক্যামনে হবে যোগী,

দম বন্ধের খেলা-
জানে ভূক্তভোগী !
-
সাগরনামা-৫২১
==========
হৃদয় কাঁদলেই কাঁদে চোখ
অন্তরে লাগে যদি শোক,

চোখের কান্নাতো সবাই দ্যাখে-
হৃদয় কি দ্যাখে কোনো লোক !
-
সাগর আল হেলাল
১২.০৮.২০১৮

সিঁদুর বিহীন পরস্ত্রী বান্ধবী আমার,
বলে যদি পিছু কেহ মন্দ তাহার।
আকাশের তারা গুলো রাত জেগে জ্বলে,
মনেতে আশা যেন লোকে ভালো বলে।
সাবালকের আসা যাওয়া দূরেতে শিক্ষা,
দু'জনেই নিয়েছিলাম কবিতায় দীক্ষা।
ঘরেতে কেহ নাই শুধু টাঙানো স্মৃতি,
কখনো মনে হয় বেশ করি প্রীতি।
বয়সের দোলাচলে স্রোত কতো বয়,
সুশ্রী মুখচ্ছবি তাঁর সঞ্চিত হৃদয়।


***********
তাং: ‌১১/০৮/২০১৮ ইং
২৫ শ্রাবণ,১৪২৫ বাংলা
সকাল:৯.৩৯
নিজ বাসভবন,ধ‍র্মনগর
উত্তর ত্রিপুরা, ভারত

"দে‌হের জীর্ণ শীর্ণতা"
***রহমান মাসুদ***
দেহ কেন জীর্ণ শীর্ণ
সে প্র‌শ্নের সন্মুখীন প্র‌তিক্ষ‌ণে,
রিষ্ট-পুষ্ট দেহবল্লভের অধিকারী
তাদের সুস্হ ভা‌বে সর্বজ‌নে।
আত্নার দর্শণ চর্ম‌চো‌খে অধরা
সে নয়‌তো ভাবনার খোরাক,
প্রশ্ন রা‌খেনা তার সুস্হতা নিয়‌ে
ভা‌বে নিস্প্রয়োজন সে জবাব।
দে‌হের মরন অবশ্যম্ভাবী
তবু তারই চ‌লে পু‌ষ্টিবর্ধণ,
অ‌চি‌রেই এত সা‌ধের দেহটা
মা‌টির কী‌টের মহা‌ভোজন।
আত্না চিরস্হায়ী নেই মরন
তারও আছে খা‌দ্যে বিভাজন,
পাপ ও পুণ্য যার উপকরন
সেই অর্জ‌ন ল‌দ্ধেই আগমন।
দে‌হের খাদ্য না আত্নার খাদ্য
কোনটার প্র‌তি হব যত্নবান,
সর্বদা স্মর‌ণে মৃত্যুর কথা
তাই‌তো দে‌হের শীর্ণ অবস্হান।
মা‌টির কীট হয়‌তোবা ব‌ঞ্চিত
আত্নার স্বা‌র্থেই দ‌েহ‌কে প্রবন্ঞ্চনা,
দে‌হের শীর্ণতায় কিবা যায় আসে
সুস্হ আত্নাই জ‌ন্মের সার্থকতা।