জুন 2018

জেগে ওঠো পাথরের বুকে
- শাহিনা কাজল

জ্যামিতিক কোষের মত ডুবে যাক
তোমার অগ্নিবৎ ঠোঁট আমার চোখের ভেতর
বাগ্বিন্যাসে বিস্তৃত স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ুক
শিরা উপশিরায়, মুক্তির গান অথবা
আমার মৃত্যুর উপস্থিতিতে
অধিকৃত হোক অহংকার আর উম্মাদনা
গভীর অন্ধকার থেকে আলোর পথে।
আমি চেয়েছি বৃক্ষের গানে কম্পিত হোক
বিক্ষিপ্ত স্ফুরণ। থোক থোক রক্ত।

ভাগ্যভার পাখির ডানায় লেখা থাকে
ফিরবে কি ফিরবে না ওনীড়ে,
স্ফটিক জলের খবর আকাশ জানে
মেঘের কি যায় আসে?
অভিনয় সব অভিনয়
তুমি আমি চিরন্তন অভিনেতা।

উপযুক্ত মন্ত্রে পতঙ্গবৃন্ত হতে ঝরে যাক সবপাতা
আগুনের মুকুট পরে জীবন্ত হোক জন্মদিন
বজ্রপাতের গর্জন হতে চেয়ে নাও
আলোর মশাল, দীপ্যমান হোক নতুন রেখা।

আমি চেয়ে আছি সূর্যের পানে
ঝুরঝুরে রোদের ভেতরেও
ঝমঝমিয়ে নামবে বৃষ্টি
ভিজে যাবে অচেনা পৃথিবীর অবাঞ্ছিত জন্ম
জেগে উঠবে, জেগে উঠবে অঙ্কুরিত বীজ
আগে তুমি জেগে দেখো।

তোমার দুঃখ বাড়বে এবং ধীরে ধীরে তা
তোমার ভোরের সাক্ষী হবে
তবুও ভয় করো না। গেয়ে যাও
জাগিয়ে যাও গানে গানে,
পাথরের বুকে জেগে উঠুক
প্রশান্তির হীমেল সুর।

মিথ্যে অভিনয় নিস্তেজ হয়ে এলে
জন্ম চিহ্ন মুছে যায়।
মৃত্যু! সেতো একদিন আসবেই
তুমি না হয় হেঁটে হেঁটে পার হও ইতিহাস
আমি তোমার বুকে এঁকে দেবো সুখের মানচিত্র
জঞ্জালমুক্ত নাসারন্ধ্র শান্তির গন্ধ মেখে
আলোর মশাল হবে যুগে যুগে।
আমি বংশীবাদক কিংবা গিটারিস্ট নই
হেঁসেলের সব দরজা খুলে যাবে একসময়
তুমি ভুলে যাবে মৃত্যুর হুলিয়া।

দেখা দাও প্রভু
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

প্রতিনিয়ত তোমাকে আমি পান করি
গ্লাসে গ্লাসে প্রতি ওয়াক্তেই পান করি
তোমার প্রতিটা ভাঁজেই আনন্দ দেখি ৷

প্রতিনিয়ত তোমাকে নতুনভাবে দেখি
অার বারবারই তোমার প্রেমেতে মজি
বুঝিনা কি তোমার প্রেমের কারসাজি ৷

ধীরে মৃত্যুর ভিতরে ঢুকে যাচ্ছি আমি
তবুও তোমাকে অনবরত চেয়ে যাচ্ছি
তুমিই একমাত্র ভরসা তুমি অন্তর্জামি ৷

প্রতিটি চরণেই তোমার প্রেমেতে মজি
যের,জবর,পেশে তোমার তসবি জপি
তুমিই আমার আরাধ্য তুমিই শুধু তুমি ৷

এ জগতে এক বেগানা মুছাফির আমি
এ মানব বনে তোমার তালাশেই ঘুরছি
এই দিল কাবাতে প্রভু দেখা দাও তুমি ৷

আমি শ্রাবণের গান গাই
- শাহিনা কাজল

ফিজিক্স কেমিস্ট্রির যুগল সুত্রের ছত্র ছায়ায়
পৃথিবী হারায় দ্বেষ খুনোখুনি বেশ
আমি শুধু দেখি আর বারবার মাখি
হেঁটে পায়ে পার করি ইতিহাস
শকুন শুধু চারপাশে নেই বালিহাঁস।
চৈতে জলে খাবি খায় শ্রাবণ, সুলেমানী ঠোঁট
চিত হয়ে আকাশ, পান করে মেঘ, রাজ্য কোর্ট
চোখ বুজে অমীয় সুধা, দেখে সব
আমি শ্রাবণের গান গাই।

কুমারী মায়ের প্রথম কান্নায় ঝরে
ঝুরঝুরে রোদ্দুর তুলতুলে ব্যথা
বাতিঘরে ফোঁটে কদম, কলির কথা
নেই মন মানুষের চোখ শুধু শকুনের
সুযোগ পেয়ে ওরা লেখে অভিধান আর
আমি শ্রাবণের গান গাই।

ওই যে আষাঢ়ে মেঘের কুমারী মেয়ে
খিলখিলিয়ে হাসে ওই হৃদ আকাশে
ঝরাবে যৌবন খোয়াবে মৌ বন
তারপর কেটে যাবে ভরা মধু ফাল্গুন
কাঁদি নি আর কাঁদবে না কেউ, তাই
আমি শ্রাবণের গান গাই।

মানকচু খেয়ে মাসি সুন্দরী দাসী
বসন্ত হারায় ঘুমে
ধুকে ধুকে পার করে দিন, কাটে রাত
চলমান চাতকের আকুল আবেদন
দিনশেষে ফিরে আসে চেনা শহরে আর
আমি শ্রাবণের গান গাই।

প্রেম থাকলেই হলো
- মোশ্ রাফি মুকুল

সে পোড়ামাটির ফলক আঁকড়ে থাকে থাকুক;
শেকড় গজাও তার ঠোঁটে।
ভ্রুর করিডোর খুলে গেলে যাক
আকাশও বেআব্রু হবে তখন।
মসৃণ যুগল দেখলে
রাতের নগ্ন মাংসপেশী বাজাবে
ঈর্শ্বার ভায়োলিন!
যদিও লক্ষ্য সেটা না- ধ্বংস কিংবা ক্ষতি,
যুদ্ধের প্রয়োজনে পোড়ামাটি নীতি
হাতে তুলে নেন সেনাপতি।

তোমার এসবের প্রয়োজন নেই।
তুমি কি সেনাপতি?
তুমি কি রাজা?
তুমি কি ভালোবাসার অস্ত্রবিদ?

যদি তাই হও
যার যার ধনুকে ধার দাও তুমুল বরষায়,
চিরেফেঁড়ে দাও বিপরীত হৃৎপিন্ড,
দ্যাখোনা অসম চুম্বক টানে
নিক জোনাস ভেসে আসে!

মেষের পালকেরা উদাসীন হলে
রক্ষণশীল হয়ে ওঠে সবজীর ক্ষেত,
সংবিধান মেনে যেমন যুদ্ধে যায়না রাজা
দাবার চালেও তেমন ভুল হতে পারে।হোক-

ভুল করো তুমিও।
তোমার কাছে চাবিটাবি কিচ্ছু থাকার দরকার নেই-
প্রেম থাকলেই হলো,
বৃষ্টিককদম হাতে পেলেই দেখো
ভালোবাসার রাজকোষ খুলে দিচ্ছে রাণী!
কি বৃষ্টিকদম ফোটাতে পারবে তো
তোমার রহস্যঘন হাতের তালু'য়
এই বর্ষায়?

২৭/০৬/২০১৮.

এতো এতো ভিক্ষুক, বিরক্তি লাগছে বড়!
ভিক্ষুক না ছাই- খুবকরে দেখা হয়েছে।
একজন বোরখা পড়া ষাটোর্ধ মহিলার কথাই বলি- মসজিদের পাশে বসে থাকে, কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা। খুব মায়া হয়, আহা আমার মায়ের মতো! পাঁচটি টাকা হাতে গুঁজে দিলাম।

এভাবে রোজরোজ, একদিন দাঁড়িয়ে থাকলাম পিছু নিতে। মসজিদ হতে বের হওয়ার আর কেউ নেই।
মহিলা উঠে দাঁড়িয়ে সামনে চলে, বেশ চনমনা মনে হল! ওষুধের দোকানে যেতে যেতে মুখের আবৃতি খুলে, হয়তো ব্যথার বড়ি কেনার জন্য দাঁড়িয়েছে, গাঁট থেকে টাকা বের করে দাম মিটিয়ে দিয়ে আবার পথ ধরে।

আমি নাছোড়বান্দা, পিছু ছাড়ছি না!
একটি ফ্লাট বাড়ীর পথ ধরে চলল, মাথার আবৃতি খুলে ফেলে চুল মুক্ত করে, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায়।
তারপর রোজরোজ একই পথে বসে থাকা, ভিক্ষে দিতে ইচ্ছে হয়না আর!

বলতে বলতে ছয়জন বিদার হয়েছে, সপ্তম এসে হাজির।
দুটি ভিক্ষা দিন স্যার,
মুখের দিকে চেয়ে রইলাম,
চল্লিশ পেরুনো মহিলা! বেশভূষায় হিন্দু বলে মনে হল।
মেজাজ টা অনেকক্ষণ যাবত খিটখিটে হয়ে আছে।
আচ্ছা বলুন তো হে, এই বয়সে কেন ভিক্ষা করতে নেমে পড়েছেন, দেশে কাজকর্মের আকাল পড়েছে খুব!
মহিলা ইতস্তত করল, তারপর দু ফোঁটা জল ঢেলে চোখ মুছল।
একটা নিশ্বাস ফেলে- সে কাহিনী শোনবার মতো সময় পৃথিবীতে কারও হয়না স্যার।

হিঁদুর ঘরে জন্ম বলে না জোটে কাজ না জোটে ভিক্ষা!
কথা টা কোথায় যেন আমাকে আঘাত করলো!
আমি একটু সরে গিয়ে টুলের উপরে বসতে দিলাম।
কোথায় বাড়ি আপনার?
বাড়ীর কথা আর কি বলবো, বাড়ী তো নেই স্যার, ভগবান হিঁদুর ঘরে পাঠিয়েছেন, বাড়ি কোথায় পাবো, রেলের বস্তি তে থাকি।
নিকটাত্মীয় বলতে কেউ নেই?
আছে স্যার, একটি ভাই, খবর নেয়না!
কি করে নিবে স্যার, ভগবান যাকে পিতার সম্পত্তি হতে মুক্ত করেছে, তার দায় নিতে কার ঠেকা পড়েছে!
স্বামী সংসার?
সে অনেক কথা স্যার, আপনার সময় নষ্ট হবে, অত সময় কি আপনার হবে!
আমি ব্যস্ত হয়ে বললাম-
আমার হাতে বেশ সময় আছে, আপনি বলুন।

মহিলা উদাশ নয়নে দূরে কোথাও চেয়ে থাকলো খানিককাল,
আর একবার চোখ মুছল।
দশ বছর বয়সে মা মরেছে, ছোটভাই রতন তখন চার বছরের শিশু।
রাঁধাবাড়া ঘর গোছানো বাবার দেখভাল করা ভায়ের যত্ন নেয়া সবকিছু আমার কাঁধে চেপে বসলো।
কিন্তু এ ভারও বেশিদিন ভাগ্যে সইলনা, একদিন বাবার সাথে এক মধ্যবয়সী মহিলা এসে বাড়িতে জুড়ল, বাবা প্রণাম করতে বলল,
এ তোর মা!
অবাক হলাম খুব, এটা কি আমাদের সেই বাবা,
নাকি অন্যকোন মানুষ!
হাঁটু গেড়ে প্রণাম করে সংসারের বড়াই ত্যাগ করলাম!
রতনের জন্য আর আমার ফুরসত হয়না।
তবুও ওর ভাগ্য টা যদি প্রসন্ন হয়!
বয়স ত্রিশ পেরুল, স্বামী সংসার আর হলনা।

বাবা স্বর্গবাসী হলেন, সৎ মা তার ছেলে কে নিয়ে বেশ চলছে, রতন বিয়ে করে সংসার করেছে।
আমার আর জায়গা হলনা স্যার।
ঝিয়ের কাজের জন্য কদিন ঘুরলাম, হিঁদুর মেয়ে বলে তাও জুটেনি, পেটের জ্বালায় রাস্তায় নেমে হাত পেতেছি। ভিন জাত বলে কেউ দু টাকা দেয় কেউ অবজ্ঞায় ফিরিয়ে দেয়।

মহিলা আর একবার চোখ মুছল।

আমার কণ্ঠ বন্ধ হয়ে এলো, ইচ্ছে করছিল ঘরে এনে ঠাঁই দেই, ভিন জাতি তাতে হয়েছে কি, মানুষ তো!
আমার যে একটি বোন নেই, বড় বোন হতিস যদি, তবে অবহেলা করতাম কি করে!

সে আর হলনা, পকেট হতে একটি নোট বের করে হাতে গুঁজে দিলাম, ফোন নাম্বার দিলাম।
কি নাম আপনার?
তমালিনী!
কোন দরকার হলে আমাকে ফোন দিবেন, আমি চলে আসবো।

তারপর অনেকদিন চলে যায়, একটি ফোন কলের অপেক্ষায় ছিলাম, মন টা খুব আনচান করছিল।
একদিন দুপুরবেলা অফিস শেষে বস্তি তে গিয়ে নিজেই হাজির হলাম।
খুঁজলাম, কেউ বলতে পারেনা।
একজন বৃদ্ধা এসে বলল আপনি কি হিঁদু মহিলাকে খুঁজছেন? আমার ঘরের পাশেই থাকতো, সেদিন রাতে ওর ঘরে বৃষ্টি পড়ছিল, কত করে ডাকলাম, এলো না।
সকালে গায়ে জ্বর নিয়ে ভিক্ষের জন্য বের হল, সপ্তাহ খানেক হয় আর আসেনা, হয়তো অন্য কোথাও চলে গেছে।

কাছ থেকে দাঁড়িয়ে দেখলাম ওর ঘর, একটি ফুটো পলি'র ডেরা বৈ আর কিছুনা!
দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।

আমি এখনো ফোন কলের অপেক্ষা করি, হয়তো ও ফোন দিয়ে ওপার থেকে বলবে-
স্যার, আমি তমালিনী, ভালো আছি,
অনেক অনেক ভালো,
খুব দরকার হলে চলে আসবো।
আপনি ভালো থাকবেন।

মন্ত্র
- মোশ্ রাফি মুকুল

সমুদ্ররেখা বরাবর অথবা খাড়াভাবে একটা মাংসল রেখা আঁকলাম-
মনে করো সেটা তুমি,এবং মনে করো তুমি পাখি,তোমার মাথায় গুজে দিলাম ফুল লতাপাতা,ময়ূরঝুটি।শুধু অনিবার্য ডানা নেই।ডানা নেই বলে তুমি আকাশ চেনোনা,জানোনা সমুদ্র পাড়ি দিতে।

শোনো পাখি,বরং মনে করো আমি এক
অজ্ঞাত পৃথিবী,আমাকে আবিষ্কার করতে হবে তোমাকে,
পৃথিবীকে আবিষ্কার করার আগে তোমাকে শিখতে হবে ভালোবাসা ও উত্থানের মন্ত্র।
এবং যখন তুমি বুঝতে পারবে ভালোবাসার আশ্চর্যরকম শক্তি আছে-

তারপর একদিন দেখবে তোমার মাংসপেশী ফুঁড়ে বের হয়েছে কিছু স্বয়ম্ভু পালক!তোমার অগোচরে-
তুমি পাড়ি দিচ্ছো কোমল নুড়িপাথর,
খরস্রোতা সমতল ও প্রিয়তম নাম ও শব্দকে।

২৫/০৬/২০১৮.

খুব জানতে ইচ্ছে হয়,
কেন কিছু শব্দ কোন দিনই হয়না বলা?
কিছু পথে কোন দিনই হয়না চলা।
কেন এক বুক ভালবাসা নিয়েও হারিয়ে যেতে হয়?
আলোকিত স্বপ্ন দেখেও আধারে দাঁড়িয়ে যেতে হয়?
কেন অনুভূতি গুলোর অনুভূতি সবাই বুঝে না?
মুখের কৃত্রিম হাসির মাঝে কষ্ট খুজে না?
কেন ভালবাসার মানুষ গুলো ভালবাসতে জানে না?
এতো কষ্টের সমাহার বুকে তাই কি কাছে টানে না?
কষ্টের কঠিন আঘাত কি তাদের কাদায় না?
হাসি মুখে যারা চোখের জলে বুক ভাসায় না।
অনেক ভালবেসেও যারা বিনিময়ে ভালবাসা পায় না।
তারা কি নিঃসংগ রাতে তারার মাঝে হারিয়ে রাত কাটায় না?
বাবা মা-কে ভালবেসে মনের গভীরে একটি প্রাসাদ কোনও সন্তান কি বানায় না?
মা-বাবা তোমাদের অনেক ভালবাসি কেন মুখ ফুটে জানায় না?
যদি বাবা মার জন্য ভালবাসার প্রাসাদই থাকে তোমার মনের স্তরে.
কেন আজোও হাজারো পিতামাতা পড়ে আছে বৃদ্ধাশ্রম ঘরে?
কেন কিছু ভুল কে কোন দিন ক্ষমা করা যায় না?
চোখের সামনে ভেসে থাকে সে ভুলের কোন তুলনা হয়না।
কর্ম বড় না ভাগ্য? ভাগ্যই সর্বদা জয়ী হয়ে যায়।
ভাগ্যই যদি বড় হয় কর্মের মুল্য কেন বৃথায়?
কর্মেই যদি সাফল্য হতো জয়ী আমারও হওয়ার কথা।
ভাগ্যের দোষেই আজ আমার ব্যার্থতার ব্যাথা।

জীবনের গল্প
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

উর্ধমুখে বয়ে চলা যান্ত্রিক নগরীতে
সবকিছু আজ ছুটে চলে উর্ধে মুখে ,
একই স্বপ্ন রোজ উল্টেপাল্টে দেখি
আর হতাশা মেকি হাসি দিয়ে ঢাঁকি ৷

কিছু স্বপ্ন জানি কভু পুরণ হবার না
তবুও এ'মন কখনো বারণ শোনেনা ,
খরচাপাতির ফর্দ বড় থেকে হয় বড়
আর স্নায়ুচাপে আমিও জড়োসড়ো ৷

রোজগারও তাই আছে যেমন ছিলো
সাধের প্রেমটাও অন্যের হয়ে গেলো ,
গায়ে আমার জমা মর্ত্যের সব ধুলো
আর সুখের ভাঁজে যন্ত্রণাও লুকোনো ৷

ভরসা আর আস্থার এই চেনা শহরে
ডাক পিয়নও ভুলেছে সু-খবর দিতে ,
হাহুতাশ নিয়মিত দুয়ারে কড়া নাড়ে
বাস্তবতাও রোজ'ই চপেটাঘাত করে ৷

সঞ্চয়ের খাতায় শুধুই দীর্ঘশ্বাস জমা
ব্যর্থতা যেনো আজ এক বিষ ফোঁড়া ,
সবল যারা তারাই এসমাজে উর্ধমুখী
আর দূর্বলরা সমাজে মূল্যহীন প্রাণী ৷

অস্তিত্ব
- সাগর আল হেলাল
=========================

একই বৃক্ষে ফোটে নারী ও পুরুষ ফুল
ফুল ফুটতে পুরুষ লাগে না,
বাতাসের শরীর অথবা মধুচোরের অসাবধনতায়
দৃশ্যমান হয় পুরুষের অস্তিত্ব;


রাষ্ট্র একটি সোমত্তবান পুরুষতন্ত্র-
এমন সাধ্য কার আঁচড় কাটে ক্ষমতার শরীরে !
-
২৪.০৬.২০১৮

প্রেসক্রিপশন
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমার বুকের শহরে এ্যালোভেরা দিন,
মনের অগোচরে তুমি লিখে যাচ্ছো নিবিড়
প্রেসক্রিপশন-
জীবনযাপনের যাবতীয় বিকল্প।
কেমন হবে-
মনোঃসংযোগ থেকে শরীরচর্চা
সামাজিক ঘষামাজা,সম্পর্কের সাদা ফড়িঙ!

প্রিয় শরীর,তুমি এক অদ্ভুত প্রপেলার
যখন তখন আকাশে উড়তে চাও।

২৪/০৬/২০১৮.

মগজে শব্দের ঊর্বর ম্যাপ
- মোশ্ রাফি মুকুল

অগ্রন্থিত মিথ্যাচার চতুর্দিকে
কবিতার কঙ্কালে ছেয়ে গেছে বিবর্তন,
মগজে শব্দের ঊর্বর ম্যাপ-
ক্যানভাসে শেলী কীটস বায়রন!

এখন দারুণ সময় কবিতার!
কবিতার নামে কবির বিজ্ঞাপন,
সোনালী শেকলে বাঁধা শব্দরা
মুক্তির গান গাইতে পারেনা এখন।

একাগ্রে করে যায় কেউ কেউ
শাসকের জৌলুস বর্ণনা,
শোষকের চেলাচামুণ্ডারা কোনদিন-
কবিতা বান্ধব ছিলোনা;

লুটেরাদের নেই কোন ধর্মশালা-
মসজিদ মন্দির গির্জা,
পৃথিবীতে হানা দিয়ে তারা
বারবার লুটেছে ভাগের পিৎজা!

সময় বন্দি কবিতার মায়াজালে-
গনগনে রূপের রোমান্টিকতায়,
প্রেমার্দ্র ভোগে আত্মকাতর-
শব্দের টগবগে শক্তি উছ্বলায়!

২১/০৬/২০১৮.

আষাঢ় প্রণোদনা ও তোমার মতো নদীটির কথা
- মোশ্ রাফি মুকুল

মেঘ এলেই-
কলাপাতা মুড়ি দিয়ে
বর্ষার গন্ধ থেকে দূরে থাকি তুমি আমি,
অথচ ময়ূরেরা নেচে নেচে বৃষ্টির সারমর্ম পড়তে চায়।
প্রসূতি মাছ,ঘাসফড়িঙ আর সবুজ ব্যাঙেরা
আষাঢ় প্রণোদনায় ভীষণ ব্যস্ত থাকে-
তোমাকে যে কথা বলার ছিলো
তার সারগর্ভ পাঠিয়ে দিয়েছি হলুদ কদমের খোলা খামে।

অবিকল তোমার মতো যে নদীটি-
সে গতকাল সমুদ্র সঙ্গমে গিয়েছিলো;
তার যুগল স্তন জুড়ে এখন বেড়ে উঠছে
সাদা কাশবন আর উজান জলের ঢেউ।

২১/০৬/২০১৮.

কাপুরুষের ভালোবাসা
- সাগর আল হেলাল
======================

স্পর্শের পাপ চোখ রাঙায়
তোমায় ছুঁয়ে দেখা হলো না আমার,
ভালোবাসি বলেই-
এখনো অনুগত আমি
করে যাই তোমার অনুমতির অপেক্ষা...


তোমার বিনয়ী মন
আমায় রেখেছে কাপুরুষ করে;

রাতের শরীরে ভেসে যায় কাঁঠালি চাঁপা
হাসে হাসনাহেনা,
আমি লুকিয়ে থাকি তোমার প্রজ্ঞায়-
ভালোবাসা কেড়েছে সাহস
স্বপ্নজলে সাঁতরায় হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা যতো...

তুমি একবার চেয়ে দেখো
আমার মন চাতক কাতরায় তীব্র পিপাসায়,
তোমার আকাশে জমা পবিত্র মেঘের
শুদ্ধতম প্রথম জলকণা দাও
আমাকে করে নাও তোমার বিশ্বস্ত ক্রীতদাস...

হাত বাড়ালেই তুমি
তবু ছুঁয়ে দেখতে পারি না তোমায়
চোখ রাঙায় স্পর্শের পাপ-
আমি কাপুরুষ তা কেবল তোমার ভালোবাসাতেই...
-
২০.০৬.২০১৮

প্রেমিকের হাতে থাকে আশ্চর্য ক্ষমতা
- মোশ্ রাফি মুকুল

শহরের ছাদ চুঁইয়ে ঝরছে আদিম জোৎস্না-
তুমুল শিলাবৃষ্টিতে ভিজছে অথৈ শহর,
জোড়া কবুতর যাবে চন্দ্রস্নানে;
বেশ আবেগঘন সে রাত্রিচর রোমান্টিকতার।

প্রেম ছাড়া তুমিও বাঁচবেনা
আমি এক বাক্যে লিখে দিতে পারি।

তোমার সকাল
জানালার কাঁচে আঁকে পরিযায়ী প্রেম,
জেনে রেখো প্রিয়দর্শিনী
মানুষ বাঁচেনা প্রিয় দুঃখ ছাড়া।

হংসমিথুনে ভেজা রোদেলা দুপুর,
বিকেলের দেয়ালে যমজ অবয়ব-
আজ হতে তুমিও বিশ্বাস করতে শেখো,
যারা বিজ্ঞাপন দেয় ভালোবাসা ভালো নয়
তারা পারেনা তারায় আকাশ ফোটাতে-
দুর্ভগা তারা সব ব্যর্থ প্রেমিক।

তারপর আবার রাত এলে
তুমি আমি খুব ডুবে যাবো জোৎস্নাপুকুরে,
আহ্লাদে সাঁতারাবো প্রেমহ্রদে-

হোক তা রমণীর কিংবা দেশপ্রেম-
প্রেমিকের হাতে কিছু আশ্চর্য ক্ষমতা থাকে,
চোখে থাকে অদ্ভুত দূত্যি-
যার ইশারায় ঈশ্বরও প্রেমে পড়ে যায়।

১৮/০৬/২০১৮.

তোমার চাই থলথলে আকাশ
- মোশ্ রাফি মুকুল

দৃশ্যগুলোর নিকটবর্তী কোন ব্যাখ্যা নেই।তাই ভুলতে পারিনা।
জীবাশ্ম জ্বালানীর মতো ফুরিয়ে যেতে
থাকা স্মৃতিগুলো ডানা মেলে উড়ে যায়,
তাকে ধরতে পারিনা।
নিয়ন্ত্রিত অনুভূতিরা আত্মহননের পথ বেছে নেয় বারবার,
তাকে থামাতে পারিনা,শোনেনা সে গতানুগতিক নিষেধ,
তারপরও আমরা মুগ্ধ হই নিজস্ব শব মোহনে।রাত্রিকে পুড়িয়ে বানাই ইচ্ছা কাবাব।

আর আমি অপ্রেমিক!
আমি আগুন পোড়াতে ভালোবাসি,
আর তোমার চাই থলথলে আকাশ-
যাতে কব্জি ডুবিয়ে তুমি তুলে আনতে পারো
প্রেমিকের মেরুদণ্ড।

একটি পরিত্যক্ত রেলগাড়ি
এম,এস, বাশার
----------------------------------
মরচেধরা লোহার জানালায় বাতাস এসে দুলিয়ে যায় সবুজ লতাপাতা
সন্ধ্যাকাল যায়যায় এখন,
একটি পরিত্যক্ত রেলগাড়ি কথা বলছি,
দখলিস্বত্ব কীটপতঙ্গের পৈত্রিক বসবাস এটা।
পায়রা এক্সপ্রেস টি জয়দেবপুর হতে ফিরবে কমলাপুর,
আমি অপেক্ষা করি।
একজন বাদাম বিক্রেতা বাদাম-বাদাম বলে হেঁকে ওঠে
অবেলায় বাদাম, না না! একটু চা হলে বেশ হত।
রেলগাড়িটি চার নাম্বার প্লাটফরমে এসে থামল,
খুব তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে উঠলাম
আজ বেশ সিট খালি আছে, প্রতিদিন এসময় সিট পাওয়া মুশকিল
আরাম করে যাওয়া যাবে দেখছি।

সিটগুলো কেমন মরচেধরা মনেহচ্ছে গারিটির
কতকাল কেউ স্পর্শ করেনি!
আমাকে একটু জলপান চাই
এইতো পানিওয়ালা, দাও দাও, খুব তেষ্টা পেয়েছে
বিশটাকার নোট বাড়িয়ে দেই
লোকটা মুখ ঘুরিয়ে নেয়, কি সব কাগজের আঁকিবুঁকি, এসব চলেনা এখানে!
আমি পিছু ডাকলাম- তবে পানি ফিরিয়ে নাও!
লোকটা চলে গেলো।
আশ্চর্য হলাম, কি বলে গেলো লোকটি, টাকা টা উল্টেপাল্টে আর একবার দেখলাম, সবকিছু ঠিক আছে।
যাকগে, গাড়িটা ছাড়ছে না কেন- একটু সম্মুখে এগিয়ে যাই

সাদা আলখাল্লা পরিহিত রেলগাড়ির প্রবীণ এই পরিদর্শক কে এর আগে একবার দেখেছি বলে মনে হয়না। কতদিনের আসাযাওয়া আমার-
আচ্ছা বলুন তো সাহেব, ট্রেন টা ছাড়ছেনা কেন?
লোকটি আমার দিকে তাকিয়েছিল কিনা মনে নেই, তবে শান্ত মেজাজে বলল-
কি করে ছাড়বে বলুন, ওই যে সামনে একটি বৃদ্ধ লোক ট্রেনে কেটে মরে পড়ে আছে, দেখুন একবার, এই নাহয় আমাদের রেলের চাকরি!
বুকের ভেতর টা মোচড় দিয়ে উঠলো,
এইতো মানুষের স্থায়িত্ব, মরে পড়ে থাকা টা এমন করে বলল যে..
যাকগে,আমি এগিয়ে যাই,
যাত্রিগুলো কেমন উদাসীন হয়ে আছে, কেউ মোবাইল টিপে গেমস খেলছে আর কেউ বই নিয়ে মজে!
রাগ হল খুব, দায়িত্বজ্ঞান বলতে যে কিছুই নেই,
হায়, এমন মানবতা বাপের জনমে দেখিনি!

এইযে শুনছেন আপনারা! একটি লোক ট্রেনে কেটে মরে পড়ে আছে, এগিয়ে যান সবাই, লোকটাকে ছাড়াতে হবে তো...
সাড়া দিচ্ছেনা কেউ!
এগিয়ে যাচ্ছি আমি, আর দুটি বগি বাকি
আমাকে ভির ঠেলতে হলনা
লাশ টি উপুড় হয়ে প্লাটফর্মে পড়ে আছে, রক্ত ঝরছে
মাথায় গুরুতর আঘাত
আহা বেচারা, কে হে হতভাগা!
আমি তার মুখ ঘুরালাম
বিস্ময় তাকালাম লাশের পানে
এযে আমারই বাবা!
বাবা বলে চিৎকার দিলাম।

দুজন পথচারী এগিয়ে এলো,
এতো রাতে স্টেশনে কি করছেন বোন,
একজন মেয়েমানুষ বলে কথা, সঙ্গী কেউ আছে? কোথায় যাবেন?
আমি এদিকওদিক তাকাই
রেলগাড়ি টা..

রেলগাড়ি? না না আজ আর গাড়ি নেই,
পথে ঝড়ের কবলে গাছ পড়ে লাইন বন্ধ হয়ে আছে!
আপনাকে হেঁটে যেতে হবে বাকি পথ,
স্টেশন টা ভালো নয়, একা থাকবেন না।

প্রবাস জীবন
– মো: তারেক আনোয়ার

মা আমি বড় যন্ত্রনায় আছি
মরে গেছি একা হয়ে নিশ্বাস বলে বেচে আছি
প্রবাস জীবন মা হয়তো অর্থ প্রাচুযে ভরা; তবু
আছে সুখের অভাব আর তোর স্নেহের খরা।
রোজ সকালে মা তোর ডাকে ঘুম ভাংগে না
ভাংবে কি মা? তোকে ভেবে ঘুমই আসে না
মনে পড়ে শুধু তোর কোলে মাথা রাখার কথা
কে আপন হয় তোর মতো বলবো মনের ব্যথা।
তোর কথা মনে হলে আমার নয়ন ভিজে যায়
ভাত দে মা বলি কারে যখন খিদে পায়?
নিজেই রান্না করতে শিখে গেছি প্রায়; হয়তো
কখনো লবন কখনো মরিচ বেশি হয়ে যায়।
মুখটা দেখে কেউ বলেনা চেহারা দেখেছিস
না খেয়ে না দেয়ে কেমন শুকিয়ে গেছিস
ওই মন মরা হয়ে বসে আছিস কেনো?
হঠাত মনে হয় পেছন থেকে বললে যেন!
পেছন ফিরে দেখি একা আমি রয়ে যাই
না পেয়ে তোকে মা শুধু কেঁদে যাই
কাদিস না বলে কেউ চোখেরজল মুছেনা
এখানে মা কেউ কাউ কে বুঝেনা
নিজের হাতেই চোখেরজল মুছতে থাকে
একবিন্দু সুখের জন্য মা সবাই ছুটতে থাকে
বড় অভাগা জীবন তাদের যারা প্রবাসে থাকে
তোর আচলে যারা তারাই স্বর্গ সুখে থাকে।
মা আমি আবার তোর আচলে আসতে চাই
যতোদিন বাচি বাচার মতো বাচতে চাই
দিয়েছেন খোদা শ্রেঠতা প্রতিটি মায়ের হাতে
দোয়া করিস মা প্রবাসি সবাই যেন থাকতে পারে
তাদের মায়ের সাথে…………..

নীল জোনাকি, প্রেমময়ী প্রজাপতি-
- মোশ্ রাফি মুকুল

এখানে নীল জোনাকিরা প্রিয় প্রেমময়ীর জন্য রেখে যায় কিছু কিছু সবুজ অন্ধকার-
সারিসারি ফুল,নিকটতম প্রজাপতির সাথে মাখে আদিম ভুল;
পাপড়ির ভাজে ভাজে জমায় প্রজনন গন্ধ!
নদী চাইলেই আকাশ খসে নেমে আসে জল।রুপালি আগ্নেয়গিরি থেকে ঠিকরে পড়ে গরম লাভার স্রোত-

জল বৃষ্টি,ময়ূরের পায়ে নূপুরধ্বনি,
এখানে ঘনজঙ্গল,হারিয়ে যাওয়া দুর্গম শহর,ধুসর পাহাড়।
এখানে আছে নীলকন্ঠি প্রেমময়ী,
হলুদ বুনোফুল,চতুর প্রজাপতি-
আরও আছে প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসরদের ছাঁইচাপা ফসিল
এবং কতোক প্রকৃতিগত গল্পের টান টান উত্তেজনা।

কথাবৃক্ষ-
- মোশ্ রাফি মুকুল

নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে বুনো বৃক্ষ-
সাবলীল মাছ হয়ে জলে ভেসে গেছে বিকলাঙ্গ সরীসৃপগুলো,
আমজনতা,তথাকথিত মানুষ- পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাভাতে স্বপ্নরা,
কফির বাগান জুড়ে ছড়িয়ে আছে নীলনকশার মগ।

এখানে কেউই কবিতার সমর্থক নয়,
তারপরও মঞ্চের আবক্ষ বুকে শব্দের কি নান্দনিক কারুকাজ,
কথার বৃক্ষ রুয়ে রুয়ে কেটে যাচ্ছে বিলাসী জীবন।

১৫/০৬/২০১৮.

জোড়াদিঘী-
- মোশ্ রাফি মুকুল

মাথার ভেতর ঘুম;পথভোলা কবুতর,
কিংশুক বেগুনিফুল
চোখের পাপড়িতে নিশুতি পাখির আপ্লুত ক্লেশ,
নীল জানালায় খোলা আকাশ,
না চাইলেই সমুদ্র উপচে পড়ে তোমার জন্য।

আমিও যথেষ্ট সংশয় বাদী-
চাইলেই কি পাওয়া যায় প্রেম,
আমি চাইলেই কি হবে 'চিচিং ফাক'
আরব্য রজনীর গল্পকার ঘুরিয়ে দেবে গল্পের মোড়?
না দেবেনা,কেননা তুমি বলেছিলে ভালোবাসার কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

কোন এক উচ্ছ্বসিত রাতে 'মানিকজোড়' হয়ে এসেছিলো স্বপ্ন ও ঘুম,
তারপর দেখলাম তোমার জোড়াদীঘি-
সেখানে তুমি রঙতুলি দিয়ে এঁকে রেখেছো আঠারোটি চশমা পরা সকাল।

১৫/০৬/২০১৮.

আজ ঈদ এলো-
- মোশ্ রাফি মুকুল

চাঁদের গান গাইবো বলে দূর নীহারিকা থেকে আলো খুটে আনি-
এইসব শ্যামল অন্ধকারে ডানায় সুখ উড়ায় শঙ্খচিল;
আর তৃপ্তির মানচিত্র আঁকে আশাবাদী মানুষ,
এখানে চাঁদের দরাজ দেশ থেকে ভেসে ভেসে আসে আনন্দিত সেইসব শব্দসমুহের প্রাপ্তিস্বীকার।

আমাদের রক্তমাংসের ভেতর ফুঁড়ে জন্ম নিচ্ছে মহাকাব্যিক পরিবর্তন,
যাকে আমরা বলছি 'সুখ' ও 'আনন্দ'
অবারিত দিনের বিস্তীর্ণ যাত্রা শেষে সপ্রতিভ সুখদানি থেকে বাতাসে ম ম করছে আনন্দঘন ঘ্রাণ।

কাঁধে ঝুলে ঝুলে সময়ের দীর্ঘতায় তুলে রাখা সুখাবেশগুলো পাড়ি দিচ্ছে ঐতিহ্যের সাঁকো,
'প্রেম' 'ভালোবাসা' আর 'মানুষ' নাড়ির টানে' বাড়ী ফিরছে।

আকাশে বাতাসে জলে স্থলে আজ ঈদ,
মন ও মস্তিষ্ককের চতুর্দিকেই আজ সর্বাঙ্গীন ঈদ,
ব্যস্ত মানুষ,ব্যস্ত স্রোত-

এবার চাঁদের গান গাইবো না একসাথে আমরা?
তমসার তামাটে পিঙ্গল বর্ণছ্বটা ছুড়ে ফেলে আলো ও ভালোর গান গাইবো না পূর্ণ গলায়?

শিল্পশীর মননে তুলে রাখা সব ভালো দেশ মাতৃকায় ছড়িয়ে দি,
ভেতরের অহং আতস পুড়িয়ে ফেলি আজ আয়-
আজ ঈদ এলো এইসব ধবল অন্ধকারের বসুন্ধরায়।

১৫/০৬/২০১৮.

ধর্মের সেবা 
- সাগর আল হেলাল
============================

ঈদের জামাত চলছে দেখো জল কাদা জমা মাঠে,

নামাজির মনে নেই আক্ষেপ চমকায় নূর ললাটে।

 

তিরিশ দিনের রোযার শেষে প্রাণ-মন পবিত্র বটে,

চরণ যুগল এগিয়ে রয়েছে বেহেশতের সন্নিকটে।

 

সুরমা আতর মাখানো দেহে ফুটছে নূরানী হাসি,

উঠছে মুখে তাক্ববির ধ্বনি আনন্দ রাশি রাশি।

এরা হলেন রোযাকারী আবার অন্য ছবিও আছে,

ঈদগাহ মাঠের আয় আর ব্যয় রয়েছে তাদের কাছে।

ধার্য করা সমাজের চাঁদা কতোটা হয়েছে জমা,

কড়ায় গণ্ডায় চলছে হিসাব কেউ পাবে না ক্ষমা।

কার আয় কম, কে আছে বেকার বোঝে না ওরা কিছু,

দাবী একটাই দিতে হবে সব ধরা আছে যা মাথা পিছু।

ঈদগা’র চাঁদা চা-পানে খরচ ঈদগাহে জল-কাদা,

এমন নিয়ম চলছে, চলবেই কে দেবে তাতে বাধা।

ধর্ম এসেছে মানব সেবায়, সেবা নেয় সমাজপতি,

হে মহান প্রভু- তুমি পাওনা দেখতে মানুষের দুর্গতি !

-

ঈদুল ফিতর,

১৬.০৬.২০১৮

পশু পাখির কড়চা
- ইরাবতী মণ্ডল

রাম বাবুদের রামছাগলের
মাথায় মস্ত শিং,
কাছে গেলেই দুপা তুলে
নাচে তাধিন ধিন।

ভোলাবাবুর ভেলু কুকুর
চোখদুটো তার লাল,
গায়ে মাথায় হাত বুলালেই
আদরে চাটে গাল।

কালুদাদার কাকাতুয়ার
মাথায় লাল ঝুঁটি,
টকটকে লাল লঙ্কা মেখে
খায় যে একখান রুটি।

টুটুল সোনার টিয়াপাখির
লেজটি বড়ই ঝোলা,
সকাল সন্ধ্যা দিতেই হবে
তাকে যে গুঁড় ছোলা।

খগেনবাবুর খরগোশ টি
লাফায় বাগান জুড়ে,
সেই বাগানের ঘেসো ফড়িং
বেড়ায় উড়ে উড়ে।

26.04.2018

একবার শুধু কড়া নাড়তে দাও
- সাগর আল হেলাল
=========================

নক্ষত্রের চেয়েও দীপ্তিময় তোমার অধরের হাসি,
চেয়ে থাকি অপলক বেজে ওঠে হৃদয়ের বাঁশি।


সমুদ্র স্নানে চাঁদের জোছনা যেমন খায় হাবুডুবু,
বুকের স্বপ্নেরা পাড়ি দেয় তেমন বিরহের মরু।

অপ্সরা পড়েছি কবিতায় তোমাতে গিয়েছে মিলে,
হতবাক আমি প্রেমের কাব্যে সে কি তুমিই ছিলে !

গোলাপী দ্বীপের সোনালি মাছ ঐ চোখেতে নাচে,
বর্ণিল হয় জীবনের ঘর-বাড়ি তোমার দৃষ্টির কাঁচে।

আমার অসময়গুলো তোমার কারণেই সাজতে বসে,
থাকতে চায় না আর জীবন মুহূর্তকাল বেদনার বশে।

আত্মার ভেতরে যেনো অবিরাম খননের কাজ চলে,
তোমাকে সাঁতরাতে দেখার ইচ্ছে মনে আনন্দ জলে।

প্রিয় দর্শিনী, তোমার মুখ দেখেই আমার অবসর কাটে,
একবার শুধু কড়া নাড়তে দাও তোমার মনের কপাটে।


-

১৫.০৬.২০১৮

কালীপদ চোরের কীর্তি
– শীবু শীল শুভ্র

নিশী রাতে দুর্গম পথে
কালিপদ ছুটেছে চাকু নিয়ে,
চুরি তার অদম্য নেশা
মানুষ ঠকানো-যে, কালির পেশা।

মধ্য পথে হলো দেখা
গুরুচরণ যায়, নিয়ে টাকা!
পুলিশ কাকুর গাড়ির চাকা
দ্বিধায় পড়লো গুরুচরণ দাদা।

ঝোঁপের পাশে-ই আত্মরক্ষা
গুরুচরণের মাথা, যাচ্ছে দেখা!
চুপি-চুপি কালি মারছে ঊঁকি
চোরের উপরে, করবে চুরি!

আঁধার আলোয়, কালির টানে
গুরুচরণ পড়লো, মাটির মাঝে!
টাকার ব্যাগ-ই, গুরুচরণের জান
হাতা-হাতি-কিল-যে, চলছে অবিরাম।

টাকার ব্যাগ নিয়ে টানা-টানি
চলছে কালি-গুরুর মারা-মারি!
পুলিশ কাকুর ধরা-ধরি খেলাতে
কালি-গুরু গেলো, শ্বশুর বাড়িতে।

বি.দ্র: [দুই চোর কালিপদ আর গুরুচরণ, দুজনেই চুরি
করে থাকে রাতের বেলায়….! এজন্য-ই তাঁদের
নিয়ে লিখলাম, আশা করি ভালো লাগবে!
চরিত্র গুলো কাল্পনিক]

♦♦অনাথের ঈদ♦♦
-- আবু নাঈম
____________________
গায়ে আমার ছেঁড়া বস্র
নেই যে কোন গৃহ
পকেটে আমার টাকা শূন্য
কেউ করেনা স্নেহ
প্রভাত হলেই ঈদের খুশি
জাগবে সবার মনে
আমি অনাথ ছুটে বেড়াই
ঈদের খুশির টানে
পাইনা কোথাও খুশি খুঁজে
পাই যে চোখের জল
হারিয়েছি  মাতাপিতা
এখন পাইনা বল
কষ্টে আমার বক্ষ ফাটে
দেখে এমন দৃশ্য
বাবা ছেলে ঈদগাহে যায়
আমি কেন নিঃস্ব
কেউ দেখেনা কেউ খুঁজেনা
আমার কেহ নাই
পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর তুমি
তোমার বিচার চাই

ধরে রাখা আবেগগুলোর আমন্ত্রণে
নিয়ম ভাঙ্গার সন্ধ্যাবেলায়
তোর হাত ছুঁয়ে দেয়ার শখ
অনেকদিনের বারণগুলো
মেঘের সাথে উড়িয়ে দেয়া

মুমিন বান্দার ঈদ
- শাহিনা কাজল

অন্যের দুঃখে হয় যে কাতর
সাহায্যের হাত বাড়ায়,
দুঃখ কষ্ট ভাগ করে নেয়
গরীবের পাশে দাঁড়ায়।
.
ফিতরা যাকাত আদায় করে
সময় মত নামাজ,
সকল কাজে সবার আগে
নেতা মানে সমাজ।
.
সাধ্য মত সহযোগীতার হাত
দেয় সে বাড়িয়ে,
বুক পেতে নেয় সকল কষ্ট
সবার সামনে দাঁড়িয়ে।
.
রমজান মাসের শিক্ষা নিয়ে
সারা বছর চলে,
তাই তো দেখি সবাই তারে
মুমিন বান্দা বলে।
.
ঈদের দিনে দুঃখীর ঘরে
জ্বালে খুশির আলো,
অল্প পেয়েই তুষ্ট থাকে
বলে সবাই ভালো।

ভৌতিক যান
মোঃ এনামুল হক

শফিক মফস্বল শহরে একটি কোম্পানির শাখা অফিসে চাকরি করে। সপ্তাহান্তে বাড়ি যায়। বাড়ি বেশি দূর নয়, কিন্তু অফিসে দৈনন্দিন আসা যাওয়ার বড় বিড়ম্বনা। বিশেষ করে দুর্বল যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে প্রথম ক’দিন বাড়ি থেকে এসে অফিস করলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই মেসে উঠে পরে। মেস ভাড়া, বাড়িতে মা-বাবার জন্য টাকা পাঠানো ইত্যাদির পর সামান্য যা কিছু বাঁচে তার মধ্যেই আবার সঞ্চয়ের চেষ্টা করে শফিক। এখানেরই এক কলেজে ডিগ্রী পাশ করে সৌভাগ্যবশত মাস তিনেকের মধ্যেই চাকরিটা জুটিয়ে ফেলে সে। অল্প বেতনের চাকরির মধ্যে সুবিধা এই যে নিজের জেলায়ই পোস্টিং পেয়েছে। চাকরি পাবার পর থেকেই শফিকের বাবা জালাল সাহেব ছেলেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া শুরু করেছেন। শফিকের বাবা জালাল সাহেব কৃষিকাজই করতেন। তবে তার পড়াশোনা ছিল ম্যাট্রিকুলেশন পর্যন্ত। সম্ভ্রান্ত কৃষক বলা যায়। এবং লেখাপড়া ছেড়ে দিলেও গ্রামের পুরনো লাইব্রেরীর জনপ্রিয় একজন সভ্য তিনি। তরুণ বৃদ্ধ সবাই খুব সম্মান করে। আর্থিক স্বচ্ছলতা আছে শফিকের পরিবারে। তবুও এই বাজারে এত শীঘ্রই শফিক বিয়ে করতে যেন কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে পরে। এমন না যে তার বিয়ের ইচ্ছে নেই কিন্তু সে চায় পরিবারটা আরেকটু স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠুক। নতুন ঘর উঠুক, বাড়ির চারপাশটা একটু নতুন করে আগে সাজিয়ে তোলা হোক। জালাল সাহেব আর সময় দিতে চাইলেন না। ছেলেকে জরুরী তলব করে ডেকে পাঠালেন, বৃহস্পতিবার রাতেই যেন অফিস সেরে বাড়ি চলে যায়। শুক্রবার মেয়ে দেখতে যাবেন। গ্রীষ্মের সবে শুরু হয়েছে। বৈশাখের তান্ডব যখন তখন ঝড় বৃষ্টি বজ্রপাত ইত্যাদি নিয়ে জনসম্মুখে হাজির হচ্ছে। সেদিন অফিসের কাজ সারতে সারতে রাত সাড়ে আটটা বেজে গেল। ব্যাগ পত্র গুছিয়েই নিয়ে এসেছিল যাতে আবার মেসে ফিরতে না হয়। আর ব্যাগে তেমন কিছু নেইও। সপ্তাহান্তে তো বাড়ি যেতেই হয় তাকে। অফিস থেকে বেরুতেই দেখে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। আকাশে কালো মেঘ। চারিদিকে অন্ধকার। কাজের চাপে বাইরে নজরই দেয়া হয়নি তার। বাহন বলতে এখন রিকশা যা কিনা নদীর ঘাট পর্যন্ত নিয়ে যাবে। নদীতে পানি আসেনি এখনো। হেঁটেই পার হতে পারবে। কিন্তু রিকশায় যে প্রায় পাঁচ কিলো রাস্তা যেতে হবে সেটা নিয়েই সে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। আকাশে বিদ্যুতের মুহুর্মুহু ঝলকানিতে ঝড়ের ভালোরকমের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, সেই সাথে বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজে যেন ব্যাপারটাকে নতুন তাল এবং লয় এনে দিয়েছে। মিনিট তিনেক হেঁটে বটতলার রিকশা স্ট্যান্ডে চলে এল শফিক। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাত্র দু’টি রিকশা সেখানে দেখা গেল। এককাপ চায়ের তৃষ্ণা পেলেও আকাশের দিকে তাকিয়ে আর দেরী না করে রিকশা ডাকল। একটু বেশী ভাড়া হলেও দ্বিমত না করে রিকশায় চড়ে বসল শফিক।
রিকশা চলছে। পথঘাট জনশূন্য। ঝিঁ ঝিঁ ডাকের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আর মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানিতে বিশ্ব চরাচর যেন আলোকিত হয়ে উঠছে। রিকশার হারিকেনের আলো যেন অন্ধকারকেই আরো ঘনীভূত করে দিচ্ছে। নীরবতা ভেঙে শফিক রিকশাওয়ালার সাথে কথা বলা শুরু করল।
তোমাকে তো আগে দেখি নাই এলাকায়। নতুন?
- জে স্যার, আগে ট্রলি টানতাম। লোক টানা লাগতো বেশি। রিকশায় লোক কম টানলেও ভাড়া গড়ে সমান। হেই লেইগ্যা ট্রলি বেইচ্যা রিকশা কিনসি। বটতলা স্ট্যান্ডে রিকশা লাগাইসি তিনদিন হইল। পয়লাই টেকা নিসে দুই হাজার।
রাত বিরেতে রিকশা চালাতে ভয় করে না? তাও আবার নতুন জায়গায়! আজকের অবস্থা তো আরো খারাপ।
- কি করমু স্যার? টেকা না থাকলে ভয় ডরও কিছু থাকে না। আর কিই বা লগে আছে চোর ডাকাতরে দেওনের?
চোর ডাকাত ছাড়া পথে অন্য কিছুর ভয়ও তো থাকতে পারে।
- হেই ডর তো স্যার আছেই। তয় আমরা গরীব মূর্খ মানুষ। আমাগো ক্ষতি কইরা কার কি লাভ? ভয় করবো যাগো মনে লোভ আছে পাপ আছে হেরা।
কথায় কথায় বাইরে বাতাসের ঝাপটা বাড়তে থাকে। শফিক বলে, পথে কোনদিন দেখেছ সেরকম কিছু? এবার রিকশাচালক একটু অন্য স্বরে বলে ওঠে,
- এত আগ্রহ কেন আপনার? খুব দেখনের শখ নাকি? নিজ চোখে দেখলে বেহুশ হয়া যাবেন কইলাম।
বলে খিক খিক করে হেসে ওঠে রিকশাচালক। ঘাবড়ে যায় শফিক। প্রসঙ্গ পাল্টাতে রিকশাওয়ালাকে তার নাম জিজ্ঞেস করে।
- গরীবের আর নাম স্যার? সারাদিন তো সবাই ‘ওই খালি’ বইলাই ডাকে।
আবার হাসে সে। এরপর বলে, ‘প্রদীপ, স্যার।’ বাপ মায় ছোটবেলায় প্রদীপ নাম রাখসিলো। শফিক কৌতুহল দমন করতে না পেরে ফের প্রদীপকে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা, তখন যে বললে নিজ চোখে দেখলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবো; তুমিও কি প্রথম দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলে নাকি? প্রদীপ এবারে গম্ভীর স্বরে জবাব দেয়,
- এত আগ্রহ ভালো না স্যার। রিকশায় উঠসেন, ভালোয় ভালোয় নামায় দিতে পারলে বাঁচেন।
‘বাঁচেন’ শব্দটা একটু ক্ষীণ স্বরে বলে সে। শফিক ভালোমত শুনতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করে, কি বললে?
- একটা বিষয় খেয়াল করসেন স্যার?
কি?
- বাইরে কি বাতাসের জোড়, কিন্তু রিকশায় আপনে বাতাসের দাপট টের পাইতেসেন?
বাইরে সত্যিই তীব্র বেগে বায়ুপ্রবাহিত হচ্ছে, সাথে বিদ্যুতের তর্জন গর্জন তো আছেই। রাস্তার ধারের গাছপালা থেকে শোঁ শোঁ শব্দ আসছে। বসে বসে খুব আরামেই এই দৃশ্য অবলোকন করতে করতে যাচ্ছিল শফিক। কিন্তু যখন সে অনুধাবন করল ঝড়ের প্রকোপ রিকশার উপর তেমন পড়ছে না তখন সে যতটা না বিস্মিত হল, তারচেয়ে বেশি ভয় পেল। অ্যাই, তুমি কে বলো তো? তোমাকে তো আগে দেখি নাই কখনো। ভীত শফিক ক্যাঁকিয়ে ওঠে।
- ওই তো স্যার, নদীর ঘাট দেখা যায়। চলেন নামায়া দিয়া আসি আপনারে।
ও হ্যা, তাই চলো। নদীর ঘাটে একটা ছাপড়া মতন চায়ের দোকান ছিল। রিকশা থেকে না নেমেই শফিক দেখলো দোকানে হারিকেনের আলো টিমটিম করে জ্বলছে। প্রদীপকে বললো, এত রাস্তা চালিয়ে এসেছো এই দূর্যোগের রাতে। এককাপ চা খাবে চলো। প্রদীপ রাজি হয়ে গেল।
- ভালো কইসেন স্যার। জুতসই এককাপ চা না হইলে ফিরা যাইতে অসুবিধা হয়া যাইতো। চা খাইলে শরীরে বল পাওয়া যায়। মাথাও চাঙ্গা থাকে।
আচ্ছা, দোকানের পাশেই রাখো। রিকশা থেকে নেমে ছাপড়া দোকানে ঢুকলো শফিক। দোকানদার পরিচিত। ঘাটে এসে সেলিমের দোকানের এককাপ চা শফিক যেতে আসতে খেতে ভুল করে না। দোকানে ঢুকতেই শফিককে দেখে সেলিম বলে উঠলো, আরে, শফিক ভাই যে! বসেন বসেন। এই ঝড় বাদলের রাতে না আসলেও তো পারতেন!
কি আর করবো বল? বাবা জরুরী তলব করেছেন। না এসেও তো উপায় নেই।
- ও বুঝছি। আগের বার কইসিলেন। তা মেয়ে কি আপনাগো গ্রামেরই?
অত কিছু তো আর ফোনে শুনি নাই। বাড়ি পৌঁছুতে পারলে আগামীকাল বোঝা যাবে। ফেরার পথে না হয় তোমাকে সব খুলে বলবো। এখন চা বানাও তো দুই কাপ! ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি যেন। এতক্ষণ রিকশায় তেমন কিছুই টের পাইনি। এখন দেখছি ভালোই বৃষ্টি নামছে। তা তুমি এত রাতে দোকান খোল রেখেছ কেন?
- দোকান তো একরকম বন্ধই। শেষ খেয়া পার হইসে আধাঘন্টা হইল। দুই চারজন কাস্টমার আছিলো। এরপর বৃষ্টির বেগ বাড়লে আমিও আর বের হইতে পারি নাই।
চুলা জ্বালিয়ে রেখেছ যে?
- ও! চুলা জ্বালায় রাখছি ভয় কাটানোর জন্য। কাঁচা আগুন থাকলে মনে দম পাওয়া যায়। একা মানুষ। ভালো কথা, আপনে যাইবেন ক্যামনে? নদীতে তো পানি। হারুণ মাঝিও তো নৌকা নিয়া ফিরবো না আর। যে ঝড়, শেষ ট্রিপ দিয়া নৌকা বাইন্দা বাড়ি গেসে মনে হয়।
বলো কি? নদীতে পানি এসেছে নাকি?
চায়ের কাপ শফিকের হাতে এগিয়ে দেয় সেলিম। এতক্ষণ প্রদীপের কথা যেন ভুলেই গিয়েছিল শফিক। সেলিম মনে করেছে, দুই কাপ চা হয়ত তাদের দু’জনের জন্যই। তৃতীয় কোন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশই করেনি। শফিক ভীষণ চমকে যায়, আরে, লোকটা কোথায় তাহলে? সেলিমকে আর বুঝতে দিলো না। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সেলিম বললো, রবিবার থিকা পানি আসা শুরু করলো। পায়ের পাতা, হাটু, কোমর, এখন গলা পানি। নৌকা ছাড়া যাওয়ার উপায় নাই। আমার বাড়িতে যে নিয়া যামু আমি নিজেও তো আটকা পড়ছি!
- না, না, উপায় একটা বের হবেই। চা শেষ করে দেখি বাইরে কি ব্যবস্থা করা যায়। বৃষ্টিটাও একটু কমুক।
চা খেতে খেতে শফিক বাইরের ঝড় দেখতে থাকে, আসলে শুধু দেখতেই থাকে না রীতিমত আবহাওয়াটাকে উপভোগ করতে শুরু করেছে শফিক। মনে নানা রঙিন স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে এখন। খুব রোমান্টিক মনে হচ্ছে পরিবেশটাকে। চা শেষ হতে তাকিয়ে দেখে সেলিম আগুন নিভিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। চা খেয়ে সাথে সাথেই কিভাবে ঘুমিয়ে পড়লো সেলিম সেই চিন্তা করতে করতে হঠাৎ গলা খাঁকাড়ির শব্দে চমকে উঠলো সে।
- স্যার, বৃষ্টি কইমা আসছে। চলেন আপনারে নদী পার কইরা দিয়া আসি।
প্রদীপকে দেখে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে আধো কন্ঠে জিজ্ঞেস করে, তুমি ছিলে কোথায় এতক্ষণ?
- কেন স্যার, চুক চুক কইরা চা খাইলাম। সেলিম মামায় তো চা দিয়াই ঘুমায়া গেল। আর আপনে বাইরে ঝড় বৃষ্টি দেখতে লাগলেন এক দৃষ্টিতে। মনে মনে ফরিদা বু’র কথা চিন্তা করতাসিলেন, ঠিক না স্যার?
- এ্যাই, ফরিদা কে? আর আমি কি চিন্তা করছিলাম তুমি জানলে কি করে? আর কি যেন বলছিলে, নদী পার করে দিবে? নদীতে তো পানি!
- সমস্যা নাই স্যার। ঝড়টা আর নাই, বৃষ্টিও কমতাসে। আন্ধারে আর কতক্ষণ বইসা থাকেন। তারপর ঘুরপথে আপনারে নামায়া দিয়া আসবো। সময় বিশ মিনিট বেশি লাগবো। আপনে সুন্দর কইরা বইসা থাকবেন, নাইলে ঘুমায়া যাইবেন, পারে নামায়া ডাইকা দিবো।
- আমি ঘুমাতে যাবো কেন?
- না ঘুমাইলে বইসা থাইকেন। আর এক কাপ চা খাবেন?
- না, সেলিমকে আর ডেকে তোলার দরকার নেই। যাওয়ার সময় একবারে ডেকে দিলেই হবে।
- হেরে ডাকবো কেন? ফ্লাস্কে বাড়তি লিকার ভইরা রাখসে তো। কাস্টমার নাই। বইসা রইসেন, বানায়া দেই।
শফিকের আবার চায়ের বাতিক। আধোভৌতিক পরিবেশে মনের আবেগটাকে উস্কে দিয়েই বললো, আচ্ছা, দাও এক কাপ। তুমি চা বানানো শিখলে কোথায়?
- দেখতে দেখতে শিখা ফেলসি!
বলে খিকখিক করে হাসতে থাকে প্রদীপ। বলে, দেখেন স্যার, বৃষ্টিও আর বেশিক্ষণ নাই। তাড়াতাড়ি খান। রওনা দিমু। বলে চায়ের কাপ এগিয়ে দেয় শফিকের হাতে।
চা শেষ হতে হতে বৃষ্টিটা সত্যিই বন্ধ হয়ে গেল। মেঘ কেটে গিয়ে সুন্দর একটা জোৎস্না উঠেছে আকাশে। শফিক প্রস্রাব করতে দোকানের বাইরে আসে। ফিরে এসে দেখে প্রদীপ তার রিকশা নিয়ে দাড়িয়ে আছে। প্রদীপকে বলে, তুমি দাড়াও, আমি সেলিমকে বলে আসি। চায়ের দামটাও তো দেয়া হয়নি।
- দাম পরে দিয়েন। মামারে বইলা আসছি। হেয় ঝাঁপি বন্ধ কইরা বাড়ি চইলা গেসে।
এত জলদি ঝাঁপ ফেলে চলেও গেল সেলিম! চিন্তার রেশ কাটে প্রদীপের ডাকে, বসেন স্যার, রাত অর্ধেকের বেশি হয়া গেল। হ্যা হ্যা, তাই চলো। রিকশায় উঠে বসে শফিক। নদীর পার ধরে ব্রেক কষে রিকশা নামিয়ে আনে প্রদীপ। কোথায় পানি! কি সুন্দর বালি চিকচিক করছে। সদ্য বৃষ্টিস্নাত চরে ভেজা বালি চাঁদের আলোয় ঝকঝক করছে যেন! তবে, সেলিম যে বললো, নদীতে পানি এসেছে। নৌকা ছাড়া পার হওয়া যাবে না! মশকরা করেছে নাকি তার সাথে? না, সেলিম তো সেরকম ছেলে নয়। আবার বলাও যায় না, বিয়ের পাত্র! মজা করে বলতে পারে! দিব্যি তো রিকশা টেনে নিয়ে যাচ্ছে প্রদীপ। তবে প্রদীপও যে একটু আগে বললো, ঘুরপথে নিয়ে যাবে! এটা তো ঘুরপথ নয়। ঘাট থেকে সোজা ওপারের রাস্তা। শীতের মৌসুমে যেখান দিয়ে সকাল সন্ধ্যা ঘোড়ার গাড়ি চলে! প্রদীপ গুণগুণ করে কি যেন গায়। সারাদিন অফিস করা ক্লান্ত শফিকের চোখে ঘুম নেমে আসে।
আচমকা কিসের যেন গর্জনের শব্দে সজাগ হয়ে ওঠে শফিক। কিন্তু চোখ খোলে না। গর্ গর্ র র র শব্দে মৃদু চোখ খোলে সে। দেখে রিকশা চালকের স্থান শূন্য। রিকশা চলছে পানির উপর দিয়ে। দূরে অদৃশ্য কারা যেন পানিতে আলোড়ন তুলে গর্জন করছে। পাশবিক সে গর্জন, পানিতে চালকশূন্য রিকশা এতসব অলৌকিকতার মাঝে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। শফিকের বাবা জালাল সাহেবের ডাকে ঘুম ভাঙে তার। অনেক রাতেও ছেলে ফিরছে না দেখে বৃষ্টি কমে এলে জালাল সাহেব সাইকেল চালিয়ে ছয় কিলো রাস্তা ভেঙ্গে নদীর পারে চলে আসেন। এসে দেখেন ছেলে তার অজ্ঞান হয়ে পরে আছে পারের কাছে। নদীর পানিতে উজ্জ্বল জোৎস্নার আলো খেলা করছে কেবল। ত্রীসীমানায় কোন জনমানবের চিহ্ন নেই। ডেকেও যখন শফিকের জ্ঞান ফিরছিলো না তখন পারে নেমে আজলা ভরে নদী থেকে পানি নিয়ে এসে চোখে মুখে দিতেই ছেলের জ্ঞান ফিরেছে।
- কিরে বাবা! কি হইসে তোর?
ধাতস্থ হয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলে শফিক। সব শুনে আঁৎকে ওঠে জালাল সাহেব। গম্ভীর স্বরে বলেন, হুম, ছেলেটা খুব ভালো আর পরোপকারী ছিল।
- কে, বাবা?
- আর কে! যার রিকশায় তুমি এলে! উত্তরের হিন্দু পাড়ার নগেনের ছেলে। তুমি চিনবা না। বাপ মরা ছেলেটা, অভাবের সংসারে পড়ালখা করবে কিভাবে? আমরাই সাহায্য সহযোগিতা করে আয় রোজগারের ব্যবস্থা হিসেবে রিকশা কিনে দিসিলাম একটা। রাত বিরেতেও টাকার জন্য রিকশা টানতো। আর রাতের প্যাসেঞ্জারের কাছে ভাড়াও বেশি পাওয়া যায়। একদিন সকালে নদীর পারে লাশ পরে থাকতে দেখা গেল। রিকশাটা নেই। কারা যেন ডাকাতি করে রিকশা নিয়ে ওর লাশ ফেলে চলে গেছে। কতবার ওর রিকশায় চরলাম; ভাড়া দিতে খুব বেগ পেতে হত। নিতেই চাইতো না আমাদের কাছ থেকে। চলো বাড়ি চলো। যা হইসে, হইসে। তোমার মাকে বলার দরকার নাই। খামোখা ভয় পেয়ে বসবে। ব্যাপারটা ভয়েরই যদিও!
- প্রদীপ যে বললো, আগে ট্রলি চালাত!
- ও হ্যাঁ, শীর্ণ দেহ! জমি বন্ধক রেখে ট্রলি নিসিলো একটা। এত প্যাসেঞ্জার না টানতে পেরে বিক্রি করে দেয়। জমিটাও হাতছাড়া হয় দেখে আমরা সাহায্য করে ওই রিকশা কেনার ব্যবস্থা করে দেই।
- আচ্ছা বাবা, আর একটা প্রশ্ন করি। কাল যে মেয়ে দেখতে যাবে, ওই মেয়ের নাম কি জানো?
- হা হা হা! না জানার কি হল! আবদুল হাই মাস্টারের মেয়ে ফরিদা! চল চল ...

বিষয় রাশির দুনিয়া
- আলী আজমেরিয়া
==================

বাড়ির কাছে আরশি নগর
লালন সাঁইয়ের বাণী,
আরশি হাতে খুঁজি সে ঘর
চক্ষু ভরা পানি।



স্বরূপ দেখার খুব বাসনা
ডুব দেবো কোন খানে,
কতোদিনে মিটবে আশা
গুরু সেটা জানে।




জয়গুরু জয় বলে ডাকি
পাবো যে তার দেখা,
বিষয় রাশির দুনিয়াতে
ভাল্লাগে না একা।
-
১৩.০৬.২০১৮

শ্রম সাধক
- সাগর আল হেলাল
============================

ঘামেই এসেছে সভ্যতা তবু কেন এতো ঘৃণা ঘামে,
ক্ষুধার যম ধরা শ্রমিকের দম তুচ্ছ তাই ধরা ধামে ?

তোমার ঘরের কাঁচের দেয়াল ধরে আছে যার স্মৃতি,
ন্যায্য মজুরী দিতে কেন তারে দেখাচ্ছো ভয় ভীতি !

বসার ঘরের মজবুত খুঁটি পোতা হলো যার হাতে,
দেখা দিতে এলে কওনা কথা তুমি আজ তার সাথে।

শ্রমিকেরা যদি শ্রম না-ই দিতো আয়েশ কোথায় পেতে,
খালি গায়ে থাকা শ্রমিক দেখে মেজাজ ওঠে তেতে !

মেজাজ খানা ঠাণ্ডা করতে বসো যেই ফ্যানের তলে,
ভেবে দেখো তুমি ঐ ফ্যানটাও গড়েছে শ্রমিক দলে।

অর্থের বলে পেয়েছো বলেই করছো যে বাহাদুরি,
ভাবছো নিজেকে সভ্য তুমি সভ্যতা করে চুরি।

পৃথিবীতে যেই সভ্যতা- তা শ্রমিকের ঘামে আসা,
শ্রম সাধকের চরণে রাখি তাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
-
১৩.০৬.২০১৮

ননসেন্স গর্জন শুনতে শুনতে
- মণি জুয়েল(Moni Jewel)

যাচ্ছি...প্রচণ্ড রকমের বিভৎস সময়ের মধ্য দিয়ে।
নাহ্ আগুনে রোদ নয়
মাঝে মাঝে আকাশ ঘন করে
ঝরে পড়ছে, বৃষ্টি, কয়েক ফোঁটা' করে!
সুতরাং..জ্বালা বাড়ছে বৈ কমেছে না
মুক্ত ফোঁটা'র পতনে গুম গুম গর্জন
ছেড়ে, হাওয়ায় গতর ভাসিয়ে দিয়ে
কেটে পড়ছে, অযথা...
পক্ষে বা বিপক্ষে বলা যেতে পারে

বললে বলুক গে, বলতেই থাকুন২

কিন্তু, ঝমঝমিয়ে ঝরে না_পড়লে
কিই দরকার! অযথা!
যাই হোক... ঝরে পড়া ফোঁটাগুলো
শুষে গেলো, যায়, যাবেও চির, চির
যেমন- ফলে নি' ফসল, ফলবেও না
এভাবেই কতবার আকাশ ছেয়ে দিয়ে!
তর্জনে-গর্জনে ভেসে গেছে।
আহ্ ভাসাবো কোথায়
হাওয়া ছাড়া!এগোচ্ছি গুমোট সময়ের মধ্য দিয়ে।

××××12.06.2018-ধুলিয়ান-01:05PM××××

আমাকে একটা তোমাকে দেবে
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমাকে একটা সকাল দেবে?
একটা সকাল,তোমার মতো?
আমাকে একটা রাত্রি দেবে?
একটা রাত, তোমার মতো?
আমাকে একটা তোমাকে দেবে
ঠিক যতোটা তোমার মতো?

আমাকে একটা পুতুল দেবে?
পুতুল খেলার সাথী হবো,
আমাকে একটা তোমাকে দেবে
স্বপ্নগঙ্গায় ভাসিয়ে নেবো।

আমাক একটা তোমাকে দেবে-
তোমার মতো খুশবু চুলের?
আমাকে একটা তোমাকে দেবে-
তোমার নামের গন্ধ ফুলের?

আমাকে একটা তোমাকে দেবে
অন্যরকম রক্তজবার?
আমাকে একটা বিকেল দেবে-
হাতের মুঠোয় হাতটি রেখে
সূর্যডোবার দৃশ্যদেখার?
আমিও দেবো তুমিও দেবে-
সারাটারাত দেবার নেবার,
আমাকে একটা তোমাকে দেবে
তোমার মতো-
তোমার মতো-
তোমার মতো।

১০/০৬/২০১৮.

জলের যৌবন
- সাগর আল হেলাল
=====================

জলের যৌবন গেলে সে জলে শুদ্ধ হয় না স্নান
আকাশ রাখে না সেই মেঘের খবর,
ঋতুবদলের বাতাস লাগে না সকলের গায়
তৃণমূলে অঙ্কুরিত বিষবৃক্ষ
উড়ে বেড়ালেই তাকে সবাই বলে না পাখি…



নামের গুণগানে প্রকম্পিত আকাশ বাতাস
মমতাহীনার নাম ছিলো মমতা,
পাখিরা সীমান্ত না মানলেও-
সীমান্ত মানা পাখির কণ্ঠে কি জমে প্রকৃতির গান !
আগুনেরও প্রাণ আছে, তার সামনেও দস্তরখানা...

জলের সামনে দাঁড়ায় অবনত জল
বটবৃক্ষ দাঁড়িয়ে থাকে তৃণমূলে নতজানু
পিতারা যখন সন্তানের প্রজা
ঠিক তখুনি বুঝা যায় অনায়াসে
নদীরা বহন করে কেনো এতোটা স্রোত…

সন্তানের সামনে দাঁড়ানো মাকে যদি অপরাধি মনে হয়
আমার জেলবাসে লাগে না অজুহাত,
হে প্রাণ ভক্ষণকারী আগুন-
আমি জানি, জলে তোমার যায় না পিপাসা
দৃষ্টি তোমার কেবলই কথা বলা পাখি…




প্রতিদিন ডুব খাই অসংখ্য জলে
ঘ্রাণ পাই না পবিত্রতার,
কবি, এ কেমন কবিতা লেখো তুমি-
জলের যৌবন গেলে সে জলে শুদ্ধ হয় না স্নান...
-
১০.০৬.২০১৮

ভাগ্য লিপি
- সাগর আল হেলাল
==================

ও মা ! দেখো, ঐ শিশুটা
হাতে নিয়ে থালা,
বলছে- দাও না দুটি টাকা
পেটে খিদার জ্বালা।

রুগ্ন দেহের পাঁজর ভেঙে
হাড় দিয়েছে উঁকি,
বলো না মা, ঐ শিশুটা
কেনো এতো দুখী ?

খোদা তাকে ক্যান্ পাঠালো
এমন ভাগ্য দিয়ে ?
পথে পথে ঘুরছে সে আজ
মৃত্যু হাতে নিয়ে !
-
০৯.০৬.২০১৮

নীতিকথার নীতি
- সাগর আল হেলাল
================

নীতি কথার রীতি-নীতি
পাল্টে গেছে ভাই,
সহনীয় দুর্নীতিতে
আজ আর বাধা নাই।

একটা দুইটা মিথ্যা কথা
যদি কেহ কয়,
বলছে সমাজ এমন মানুষ
মিথ্যাবাদী নয় !

ঘুষের টাকা খেতেই পারো
কলমে দাও জোর,
বুক চিতিয়ে বলা যাবে
আমি নই ঘুষখোর !

নীতির জন্যই নীতি বদল
বাড়ছে নীতির দাম,
সকল নীতির বাবা নীতি
রাজনীতি যার নাম !
-
০৯.০৬.২০১৮

তোমার কথা ভেবে
- Md Anik

তোমার কথা ভেবে রক্তে ঢেউ ওঠে—
তোমাকে সর্বদা ভাবতে ভালো লাগে,
আমার পথজুড়ে তোমারই আনাগোনা—
তোমাকে মনে এলে রক্তে আজও ওঠে
তুমুল তোলপাড় হূদয়ে সর্বদা…
হলো না পাশাপাশি বিপুল পথ-হাঁটা,
এমন কথা ছিল চলব দুজনেই
জীবন-জোড়া পথ যে-পথ দিকহীন
মিশেছে সম্মুখে আলোর গহ্বরে…।

এই সময়ের দাবী
- শাহিনা কাজল

তামাক মুক্ত সমাজ চাই
মাদক মুক্ত দেশ,
ঘুষ মুক্ত চাকরী চাই
দেশ হবেনা শেষ।

বাঁধন মুক্ত নদী চাই
স্রোত সমেত ঢেউ,
ভেজাল মুক্ত খাবার চাই
বিষ খাবেনা কেউ।

যানজট মুক্ত সড়ক চাই
ফিটনেস সহ গাড়ী,
প্রশিক্ষিত ড্রাইভার হলে
নির্ভয়ে যাবো বাড়ি।

বাল্য বিবাহ বন্ধ চাই
সবল দেহে নারী
অত্যাচারের নিপাত হলে
সুস্থ থাকতে পারি।

রাধার আকুতি
- ইরাবতী মণ্ডল

মাধব,যমুনা পুলিনে বাঁশরী বাজাও,না বোঝ নারীর মন,
একা কুলবধূ থাকি গো কেমনে ,হৃদি সদা উচাটন।
তোমার বাঁশরী রাধা রাধা বোলে ফুকারিয়া যায় ,
সে বাঁশরী শুনি আকুল পরাণ তোমারই পানে ধায়।
বোঝো না শ্যাম কুলবধূআমি ,কেমনে রাখিবো মান,
লোকলাজ ভুলে তোমারই চরণে, সঁপিনু মনোপ্রাণ।
ভবের কাণ্ডারী ত্রিলোকের নাথ, ওগো ব্রজের কানাই।
আমারে তোমার করিয়া লহোগো লভিনু চরণে ঠাঁই।

7.06.2018

স্বর্গ দান
- এম, এ, বাবু

হারিয়ে যাবো নশ্বর ভুবন থেকে
আসিব না ফিরে সবার মাঝে।
রেখে যাবো কিছু স্মৃতি
মধুময় সু-স্বভাব নীতি।
ক্ষনিকের ধরায় কত হল পরিচয়
রং বেরং এর চেনা জানায়,
গড়ে উঠলো নরকের পাহাড়।
এখন সবাই প্রিতি ও সোহাগ করে
চলে গেলে দুদিন পরে শখ করেও জালাইবেনা সুগন্ধ বাতি
মোর সমাধিস্থলে।
পূন্যের কাজ করিনি অতিত জীবনে
যৌবন নিঃশেষ হাসি,খুশি,রং,বিলাশিতাতে।
এখন হৃদয় শুধু ক্রন্দন করে
পর পারে চলে যাওয়ার কথা স্বরণে।
দগ্ধ জীবনের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে নীজ পাপের জন্য
ক্ষমা চাই সৃষ্টিকর্তার কাছে বিধাতা যেন স্বর্গ দান করে
নিঃস্বার্থ ভাবে।

শুদ্ধ কুঁড়েঘর
এম,এস, বাশার
---------------------------
যেখানে মহুয়া উড়ায়
এখান টায় বস
এটা ঝুপড়ি ঘরের মতো
শুকনো লতায় শুদ্ধ কুঁড়েঘর
ছায়াঘন, ছায়াতল।

এখানে প্রবেশ কর- বাঁধা নেই
কথাবলা বারণ আছে খুবকরে
পাখি গুলো গান গাইছে,
গাইতে দাও।

এখানে আছে অসংখ্য বাসগৃহ
তুমি দেখতে পাওনি
আমি জানি
কার বারান্দায় মাকাল ধরেছে লাল
যেথায় শস্যখেত, নীল পোকা,
আমি জানি কোথায় আছে জল
পুকুর ঘাট, নীলপদ্ম!
তুমি যদি অপেক্ষা কর তবে
মোটে দুটি রাখাল বালক এসে এখানে থামবে নীড়ে
গামছাবাঁধা পানতা- পেয়াজ
আর পোড়া লংকা,
ঘট ভর্তি জল আছে বেশ
যদি পান করবে
তবে নিতে পারো একঢোক
শীতল জল।

 

নিঃস্ব চাতক
- সাগর আল হেলাল
=============================

তোমার স্বপ্নচিতায় পোড়ে হৃদয়মন
চোখের কান্নায় হয়ে যাই আমি শ্রাবন নদী,
বুকের নিঃশ্বাসে বাতাস বিমর্ষ
আনন্দ ঢেউ ডুব দেয় বুক ছেড়ে পাতালে-
হলদে পাখিটা ছাড়ে কষ্টপালক...

নিভু নিভু অন্তরদীপ
রাত্রি ঘিরে ধরে জীবনের চারপাশ,
আমার জ্যোৎস্নায় কালোমেঘ-
তোমার আকাশে জ্বলজ্বল করে নক্ষত্র যুবক
মুখ থুবড়ে আমি মৃতগ্রহ...

আমার শরীরে লেগে থাকা তোমার স্পর্শ
দেখায় কেবলই যন্ত্রণার ইঙ্গিত,
অপমৃত্যু দেখিনি আগে-
তোমার জন্য দেখছি যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু
কেড়ে নিয়েছো তুমি আমার স্বত্ত্বার আয়ুষ্কাল...

দূর থেকে ভেসে আসে এক অচেনা কান্না
ভেঙে দিয়েছে কেউ বিহঙ্গের বাসা,
মনে হয় সে-ও আমারই মতো নিঃসঙ্গ একা
ছুটি পায় না তোমার অবসর
পথ চেয়ে থাকি আমি নিঃস্ব চাতক...
-
০৬.০৬.২০১৮

মেয়ে ঘাস
- সাগর আল হেলাল
================

আমি একটি মেয়ে ঘাস
দুবলা চরে আমার বাস।

চরের জমি পলি পায়
ভূমি দস্যু খুবলে খায়।

কাশে লুকাই ডাকি জল
ডুব দিতে চাই সাগর তল !
-

রাষ্ট্র
- মোশ্ রাফি মুকুল

ভুখা শিশুর কাছে রাষ্ট্র মানে রুটি,
মুদী আর মাড়োয়াড়ির কাছে রাষ্ট্র মানে লাভের পণ্য,
গণতন্ত্রহীন মানুষের কাছে রাষ্ট্র হলো কারাগার-
সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা ভেবে থাকেন পৃথিবীতে রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই-
সে এক নিতান্ত'ই কারিশমা
রাষ্ট্র হলো দাবাড়ু'র হাতের গুটি।

জুম্বি
- রিঙ্কু মন্ডল

রূপান্তরিত সভ্যতার বিস্ফোরণে
জুম্বি বাবুর আগমন ভুবনে।
বিখ্যাত কবরস্থানের লাশ
প্রবেশ হল জুম্বি ভাইরাস।
বৃদ্ধি পেল লাশের ক্ষমতা
চলমান কলেবরে নেই মমতা।
বুদ্ধিদীপ্ত জীবিত মানুষেরা
আক্রান্ত হল জুম্বির দ্বারা।
লোহু তৃষ্ণায় আকুল মাথা
বিনাস হল মানব সভ্যতা।

জুম্বি তো কল্পনা মাত্র
উদ্ভবের নেই কোনো সূত্র।
কিন্তু পরিস্ফুট, চিন্তার গভীরে
জুম্বির মতো বেকারত্ব বাড়ে।
অভাব হলে খাদ্য বস্তুর
জীবিতদের রূপ হবে মৃত্যুর।
হয়ে জীবিত শবের অনুরূপ
বিচরণ করবে লক্ষাধিক স্তূপ।
ক্ষুধার্ত প্রাণের উৎকন্ঠিত লিপ্সা
রক্ত-মাংস আহারের বীপ্সা।
চলতে থাকলে নিত্যদিন
পৃথিবী হবে পবনে লীন।

শিরোনামহীন
- হাসান ইমতি

দারুচিনি দ্বীপে ভোর নেমে আসার আগেই
মৃত্যু ছুঁয়ে দিতে চায় আমার উষ্ণ করতল,
তুমি পর হতে হতে অচেনা পরবাস হয়ে যাও,
আমি দুর হতে হতে ক্রমশ দুরারোগ্য হয়ে যাই,
শুধু বয়স বেড়ে চলে কিছু পুরনো ভুলের ।

ফসিলের কাছে মানবিক দাবী চলে না,
তবু মুক্তি নেই তার,
প্রত্নতাত্ত্বিক নিপিড়নে উন্নতি কেনে সভ্যতা।

আমাদের গল্পের শিরোনাম থাকে না বলে
চেয়েও আমি কখনো তোমাকে ছুঁতে পাই না,
পরিনতিহীন পথে আমাকে খুঁজে খুঁজে
তুমিও কোনদিন অরুণাচল হতে পারো না।

আমার প্রথম সেজদা
- সাগর আল হেলাল
===========================

কবিতা আমার প্রার্থনার গুরুমন্ত্র
ঈশ্বরে অর্পন করি সৃজনশীল বাক্য অবনত,
আকাশ এড়িয়ে-
গহীনে রাখি বিনম্র সেজদা
আমি একজন ধর্মপ্রাণ এবাদতকারী...

মসৃণ ঘাসের বুকে জায়নামাজ পেতে
দাঁড়াই কেবলার মুখোমুখি
চুমু খাই পাথর অমৃত,
আমার প্রথম সেজদা জমিনের প্রথম স্তরে
অতঃপর অগ্রসর ঊর্দ্ধ পথে...

আমি ক্রমাগত সেজদায় এগিয়ে যাই
এগিয়ে যাই বিশ্বস্ত পদক্ষেপে,
মন্ত্র উচ্চারণের দ্রুততায়
কাঁপতে থাকে জমিনের মাটি
ঈশ্বর ! শুনছো কি তুমি অন্তরের ফরিয়াদ...

কবিতা আমার প্রথম এবাদত
আমার প্রথম সেজদা,
ঈশ্বর হে-
আমি সারাক্ষণই প্রার্থনায় মশগুল
শরীরে জড়িয়ে রাখা পবিত্র জায়নামাজ...
-
০৪.০৬.২০১৮

ওরা ভুলে গেছে
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

মাঝে মাঝে ওরা বেমালুম ভুলে যায়
এ বাংলা কোন ব্রিটিশ কলোনী নয় ,
নয়কো জারজ পাকিস্থানী কলোনী ৷

মাঝে মাঝে ওরা বেমালুম ভুলে যায়
যে,আমার টাকাতে ওরা বেতন পায় ,
খেতে পায় আমার ফলানো ফসলে ৷

মাঝে মাঝে ওরা বেমালুম ভুলে যায়
যে,আমার ভোটে ওরা ক্ষমতায় যায় ,
অথচ আমার উপরেই ছড়ি ঘোরায় ৷

মাঝে মাঝে ওরা বেমালুম ভুলে যায়
এই দেশ কোন স্বৈরতান্ত্রিক দেশ নয় ,
এদেশ স্বাধীন সার্বভৌম একটা দেশ ৷

মাঝে মাঝে ওরা হাতে হাতও মেলায়
আবার বুকে জড়িয়ে নেয় অবলীলায় ,
আহ্ কি সুনিপুন ওদের সে অভিনয় ৷

আমার মাথাতেই কাঁঠাল ভেঙে খায়
তাকেও আবার শূলে চরায় নির্দিধায় ,
হাতে মেলানো হাতটা সাতবার ধোয় ৷

মাঝে মাঝে ওরা অতীতটা ভুলে যায়
শেকড়কে ভুলেই শিখড়ে উঠতে চায় ,
দেশকেও বাঁশের খাঁচা বানিয়ে ছাড়ে ৷

অভিশপ্ত গ্রাম ও বহুরূপী ভ্যাম্পায়ার
- সাইফুল্লাহ ঠাকুর উচ্ছ্বাস

অনেক দিন ধরে কোনো গ্রাম এলাকায় ঘুরতে যাওয়া হয়না।এবার ঠিক করলাম সুনামগঞ্জ এ গিয়ে হাদীদের গ্রামের বাড়ি থেকে হায়দারপুর থেকে একবার ঘুরে আসব।আমরা ৩ জন(রাব্বি, আমি,সাব্বির) মিলে মিলে রবিবার সকাল ১০ টায় রওনা দিলাম মোহনগঞ্জ থেকে।প্রায় ৬/৭ ঘন্টা জার্নিরর পর আমরা সুনামগঞ্জ পৌছলাম।কিন্তু সমস্যা হল এখান থেকে গ্রামে কোনো গাড়ি যায় না।তাই কোনো উপায় না পেয়ে আমরা হাটতে থাকলাম।দূর থেকে দেখা যায় একটা রিক্সা আসছে।সাব্বির রিক্সাটাকে দাড় করানোর চেষ্টা করল।রিক্সাটি থামানোর পর ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলাম যে,হায়দারপুর যাবে কি না?তারপর রিক্সার ড্রাইভার বলল আপনারা ৪ জন।ভাড়া কিন্তু বেশি দিতে হবে।রাব্বি জিজ্ঞাসা করল-আমরা ৪ জন কোথায়?আমরা ত তিন জন।রিক্সা ওয়ালা তখন আয়নাতে নিজের চেহারা দেখিয়ে বলে এই যে দেখুন আপনাদের আরেকজন সঙ্গী রিক্সায় উঠে বসে আছে।আমি রিক্সা ওয়ালার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে দেখলাম বেটার চোখ লাল হয়ে আছে।(তার মানে নিশ্চই মদ খেয়ে মাতাল হয়ে আছে)।রিক্সা ওয়ালার সাথে রাব্বি তখনি ভাড়া নিয়ে ঝগড়া শুরু করে দিল।(আমরা কিন্তু আগে থেকেই জানি যে,রাব্বি একটা হাড় কিপটা।তাই ঝগড়া করাটা স্বাভাবিক।)তারপর আমি রিক্সা ওয়ালার দিকে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলাম যে সে মাতাল।রাব্বি তখন একটু শান্ত হল।তারপর আমরা রিক্সা ওয়ালার নাম জিজ্ঞাসা করলাম।তার নাম জিসান।
এভাবে কথা বলার মাধ্যমে জানতে পারলাম সে হাদীদের গ্রামেরই লোক।
প্রায় ২০/২৫ মিনিট পর আমরা হাদীর বাড়ির সামনে এসে নামলাম।তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে।তারপর জিসান(রিক্সা ওয়ালা)আমাদের সাবধানে থাকতে বলব।কেন বলল সেটা জানি না।সাব্বির কিছুটা দূরে লক্ষ্য করল ঝুপের আড়াল থেকে কে যেন আমাদের দেখছে।সাব্বির সে দিকে ভাল করে দেখতে গেলে অমনি ওখান থেকে কিছু একটা সরে গেল।এখন অনেক ক্লান্ত লাগছে আমি আর সাব্বিরের কথায় কান দিলাম না।তখনি দেখলাম হাদী বাড়ির ভিতর থেকে আসছে, সে এসে আমাদের ব্যাগ গুলো ঘরে নিয়ে গেল।আমরা ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।কিন্তু সাব্বিরকে কেন জানি চিন্তিত দেখাচ্ছে।সে এখনো বুঝতে পারছেনা যে,ঝুপের আড়ালে কি ছিল.?সে এত টুকুই বলল যে,ওটা নাকি মানুষের মত আবার মানুষের মতও নয়।তারপর আমরা চিন্তা করতে থাকলাম চিন্তা করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে গেলাম।
.
.
.
.
.
.
আসলে কি ছিল ঝুপের আড়ালে.....?
সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা ফ্রেশ হয়ে নিলাম।তখনি দেখতে পেলাম হাদীর আম্মু আমাদের জন্য নাস্তা নিয়ে আসছে।আমরা সবাই নাস্তা করে গ্রামে ঘুরতে বের হলাম।
অনেক সুন্দর গ্রাম। যা বলার মত না।এভাবে গ্রাম দেখতে দেখতে কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে নিলাম।সেখানে আবার নতুন কিছু বন্ধুও জুটিয়ে ফেললাম।আকির এবং দদেবরাজ তাদের দুজনকেই আমাদের সাথে নিলাম।দেখতে দেখতে গ্রামের একেবারে শেষ মাথায় চলে আসলাম।আর এখন প্রায় দুপুর হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি বাড়ী ফিরতে হবে।মনে হয় আঙ্কেল,আন্টি (হাদীর বাবা-মা) খুব চিন্তা করছে।তাই আমরা আকির এবং দেবরাজকে বিদায় দিয়ে বাড়ি ফিরার জন্য পা বাড়ালাম।তখনি দেখলাম জিসান(রিক্সা ওয়ালা)আমাদের দিকেই আসছে।
এসে বলল -
--স্যার আপনারা কি গ্রাম দেখতে আইছেন.?(জিসান)
আমরা সবাই জবাব দিলাম হুম।
-তা কেমন দেখলেন আমাদের গ্রাম?(জিসান)
-খুব ভাল।(আমি)
-স্যার আপনাদের একটু সাবধান করতে চাই। আপনারা ভুলেও সন্ধ্যায় ঘর থেকে বের হবেন না।(জিসান)
-রাব্বি সাথে সাথে জবাব দিল।কেন?
-কারন গ্রামটা ভাল না।এই গ্রামে প্রতি অমাবস্যায় একটা করে যুবক ছেলে হারিয়ে যায় এবং তার পরে দিন সকালে সেই ছেলেটির লাশ পাওয়া যায়।
হাদী এবং রাব্বি জিসান(রিক্সা ওয়ালা)এর কথা শুনে খুব ভয় পেয়ে গেল।আমি আর সাব্বির এত কিছু পাত্তা না দিয়ে চলে আসতে চাইছিলাম।তখনি পিছন থেকে জিসান ডাক দিল।বলল-স্যার আপনারা রিক্সায় উঠে পড়ুন। আমি আপনাদের পৌছে দিচ্ছি।আমরা সবাই রিক্সায় উঠে পড়লাম।প্রায় ১০ মিনিট পর আমরা বাড়ীর সামনে এসে পড়লাম।আমরা দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটু ঘুমিয়ে গেলাম।প্রায় বিকাল ৫ টা বাজে আমরা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।তারপর একটু ঘুরার জন্য বের হলাম। পথেই আকির এবং দেবরাজকে পেয়ে গেলাম।তাদেরকেও আমাদের সাথে নিলাম।ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।প্রায় ৭ টা বাজে।তাই আমরা ফেরার জন্য প্রস্তুত হলাম।যখনি আমরা ঘুরে দাড়ালাম তখন সামনে কিছু একটা দেখলাম।
কিন্তু যা দেখলাম তা দেখে মনে হল
এক হুজুরের মত লোক আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে।আমরা তাকে দেখে খুব অভাক হলাম।তিনি তিনি আমাদের সবাইকে সাবধান করে দিলেন যে,এই গ্রামে নাকি অশুভ শক্তি আছে।আর আমরা যেন খুব সাবধানে থাকি।এই কথা বলে উনি যেন কোথায় মিলিয়ে গেলেন।আমরা আর ওসব পাত্তা না দিয়ে চলে আসলাম।বাড়ীতে এসে দেখি খাবারের খুব আয়োজন চলছে।আমরা সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে চলে গেলাম।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাইরে হৈচৈ আওয়াজ হচ্ছে।কেন হচ্ছে তা দেখার জন্য বাইরে গেলাম।গিয়ে দেখি একটা লাশ পড়ে আছে।লাশটাকে ঘিরে আছে অনেক মানুষ।সাব্বির লক্ষ্য করল যে,লাশের ঘাড়ে দুটো ফোটো দেখা যায়।যে রকম কোনো প্রাণী কামড় দিলে হয়।রাব্বি হঠাৎ বলে উঠল এটা নিশ্চই কোনো ভ্যাম্পায়ারের কাজ।আমরা তাকে বাধা দিয়ে ঘরে চলে আসলাম।সারাদিন এই বিষয় নিয়ে অনেক চিন্তা করলাম।তাই খুব মাথা ধরে গেছে।বিকালে চিন্তা করলাম গ্রামের ভিতর একটু ঘুরতে যাব।এর মধ্যে হাদী আমাদের রুমে প্রবেশ করল।সে নাকি আজ আমাদের একটি মেয়ের সাথে দেখা করাতে নিয়ে যাবে।তাই আমরা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম।আকির এবং দেবরাজকেও আমাদের সাথে নিলাম।পথে হাটতে হাটতে জিসানের (রিক্সাওয়ালা) সাথে দেখা। তারপর আমরা গ্রামের উত্তরের দিকে রওনা দিলাম।কিন্তু এ ত দেখা যায় রাস্তাই শেষ হচ্ছে না।একসময় আমরা গ্রামের শেষ প্রান্তে চলে আসলাম।দেখলাম এখানে একটা ছোট কুঁড়েঘর রয়েছে।সেখানে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।হাদী আমাদের ইশারায় বুঝিয়ে দিল এটাই সেই মেয়ে।আমরাত মেয়েটিকে দেখে খুব অভাক।কারন গ্রামে এত সুন্দর মেয়ে থাকতে পারে.? তার উপর আমার খুব স্মার্ট। কিছুক্ষন পর মেয়েটি আমদের দিকে ফিরে তাকাল।কিন্তু না,জিসানের দিকে তাকিয়ে আছে।দেবরাজ মনে মনে খুব রাগান্বিত হল।কারন সে ভেবেছিল যে,সে মেয়েটিকে প্রপোজ করবে।কিন্তু মেয়েটি শুধু জিসানের (রিক্সা ওয়াল) দিকে তাকিয়ে আছে।তারপর আমরা চলে আসলাম।বিকালের দিকে জিসান আমদের সাথে দেখা করতে এল।সে বলল-মেয়েটি নাকি তাকে দেখা করার জন্য ডেকেছে।আমরাও তাকে দেখা করার জন্য পাঠিয়ে দিলাম।কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেল জিসানের কোনো খবর নেই।তাই আমরাও ঘর থেকে বের হলাম তাকে খুজার জন্য।পথে আমার সেই হুজুরকে দেখতে পেলাম তিনি আমাদের থামিয়ে দিয়ে বললেন আজ অমাবস্যার রাত।তোমাদের ঘর থেকে বেরোনো ঠিক হয় নি।তখনি আমি বলে উঠলাম।কে আপনি?আর কেনই বা আমাদের বিরক্ত করছেন.?তখন তিনি বলতে লাগলেন.........
.
আমার নাম অলি পাগলা।আমি তোমাদের বারবার বিরক্ত করি কারন তোমরা যেন সাবধানে থাক।কারন তোমাদের উপর এই গ্রামের অনেক কিছু নির্ভর করছে।আজ থেকে চার বছর আগে এই গ্রামটি একটি আভিশপ্ত গ্রামে পরিনত হয়েছে।আর তখন থেকেই প্রতি অমাবস্যার রাতে একটি করে যুবক ছেলে নিখোজ হয়ে যায় এবং তাদের লাশ কয়েক দিন পর কারো কারো বাড়ির সামনে দেখা যায়।আমি জিজ্ঞাসা করলাম এই গ্রামটি অভিশপ্ত হল কি করে..?(আমি)সেটা ত আমি জানি না।এটা এখন তোমাদের খুজে বের করতে হবে।আমি তোমাদের প্রথমেই দেখে বুঝেছিলাম তোমরা অনেক সাহসী ছেলে।তোমরাই পারবে এই গ্রামকে অভিশাপ মুক্ত করতে।এখন তোমরা ঘরে ফিরে যাও।এই অমাবস্যার রাতে তোমাদের বাইরে থাকা ঠিক হবে না।কারন কোন দিক দিয়ে কোন বিপদ আসে কেউ বলতে পারে না।তখন অলি পাগলা আমাকে একটা ছুড়ি দিলেন।আর বললেন এটা তোমাদের কাজে লাগবে।আমি আর কোনো কথা না বলে ছুড়িটা নিয়ে নিলাম।তারপর আমরা বাড়িতে ফিরে এলাম।এসে হাদীর বাবা-মা কে সব কিছু খুলে বললাম।কিন্তু আমাদের কথা শুনে তিনি যেন চমকে উঠলেন।তখন আমি বলে উঠলাম-আপনারা যখন জানেন গ্রামে এরকম সমস্যা হচ্ছে তাহলে আপনারা এই গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছেন না কেন.?তখন হাদীর বাবা- মা বলে উঠল যে-গ্রামের সব মানুষই নাকি এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিল।কিন্তু গ্রামের এক তান্ত্রিক বলে যে-কেউ যদি গ্রাম ছাড়তে চায় তাহলে তারা সবাই নির্বংশ হয়ে যাবে।এই কথা শুনে কেউ আর গ্রাম ছাড়তে রাজি হয় নি।আর বললেন-তোমরা অলি পাগলাকে কিভাবে চিন।সে ত আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে মারা গেছে।কিন্তু হাদীর বাবা- মায়ের কাছে অলি পাগলার কথা শুনে ত মনে হল আমরা আকাশ থেকে পড়লাম।তার মানে আমরা এতক্ষন মৃত মানুষের সাথে কথা বলছিলাম।কথা গুলো চিন্তা করলেই যেন শরীরের ভিতর অন্য রকম এক অনুভূতি হয়।আমরা আর এসব কথা না বাড়িয়ে খেতে চলে গেলাম।তারপর সারা রাত আমরা এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম।কারন শুধু শুধু একটা মৃত মানুষ আমদের সাথে কেন দেখা করবে বারবার।আর আমরাই বা কিভবে এই গ্রামকে অভিশাপ মুক্ত করব.?এসব কথা চিন্তা করতে করতে মনে হল জিসানত (রিক্সাওয়ালা)এখ
নো আমাদের সাথে দেখা করল না।তাহলে কি সে তার বাড়িতে চলে গেছে.?এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতে পারলাম না।
পরের দিন সকালে হৈচৈ শব্দে ঘুম ভাঙ্গল।আমি সাব্বির আর রাব্বিকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম।তারপর আমরা সবাই ফ্রেশ হয়ে বাইরে গেলাম।কিসের হৈচৈ শব্দ হচ্ছে দেখার জন্য।গিয়ে দেখি জিসানের (রিক্সাওয়ালা) লাশ পড়ে আছে।আমরা কিছুটা অভাক হলাম।কারন সে ত গতকাল পপীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিল।তাহলে আজ তার এই অবস্থা কেন.?তারপর আমরা সবাই মিলে পপীর সাথে দেখা করতে গেলাম।তাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম।কাল রাতে জিসান(রিক্সাওয়ালা) তার সাথে দেখা করতে এসেছিল কিনা।পপী সাথে সাথে জবাব দিল -এসেছিল কিন্তু পরে চলে গেছে।আমরা আর কিছু জিজ্ঞাসা করলাম না।আমরাও সেখান থেকে চলে আসলাম।আমার কেন জানি মেয়েটার উপর সন্দেহ হচ্ছে।যাওয়ার সময় পিছন ফিরে দেখি মেয়েটা আমদের দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে আমাদের যেন তার চোখের আগুনে শেষ করে দিবে।তারপর আমরা বাড়িতে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম যে,ঐ তান্ত্রিকের সাথে একবার দেখা করা উচিৎ।পরের দিন আমরা গ্রামের দক্ষিনের দিকে প্রায় শেষ প্রান্তে তান্ত্রিকের সাথে দেখা করার জন্য গেলাম। গিয়ে দেখলাম তান্ত্রিক নেই।আমরা তান্ত্রিকের ঘরটা ভালোভাবে দেখলাম।তান্ত্রিকের পুজো করার জায়গায় কিছু চুল দেখতে পেলাম।মনে হল কোনো মেয়ের চুল।এখন তান্রিকের উপরও কিছুটা সন্দেহ হল।পরে আমরা বাড়িতে ফিরে আসলাম।আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে- আমি আর সাব্বির তান্রিকের উপর নজর রাখব। আর হাদী আর রাব্বি মেয়েটির উপর নজর রাখবে।পরের দিন সকালে আবার দেখলাম সেখানে দেবরাজের লাশ পড়ে আছে।ব্যপারটা যেন দিন দিন রহস্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
তাই পরের দিন আমরা যে যার মত বেড়িয়ে পড়লাম।আমি আর সাব্বির গেলাম তান্রিকের উপর নজর রাখতে। আর রাব্বি আর হাদীকে পাঠিয়ে দিলাম মেয়েটির উপর নজর রাখতে।
রাব্বি আর হাদী গ্রামের উত্তরের একেবারে শেষ মাথায় চলে গেল পপির উপর নিজর রাখতে।আর আমি আর সাব্বির চলে গেলাম গ্রামের দক্ষিন দিকে তান্ত্রিকের উপর নজর রাখতে।কিন্তু সাব্বির আর আমি তান্রিকের কুড়েঘরে গিয়ে দেখলাম যে,তান্ত্রিক ঘরে নেই।আর ঐ দিকে রাব্বি আর হাদী গিয়ে দেখে পপি বাড়িতে নেই।হাদী আর রাব্বি আমাদের এই ব্যাপারটি জানানোর জন্য আমাদের সামনে আসল।হাদী কিছু বলতে যাবে অমনি আকির সামনে এসে আমাদের বলল-আমি যখন বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম তখন পপীকে দেখলাম তান্ত্রিকের রূপ নিতে।এই কথা শুনে আমি নিশ্চিত হলাম তান্ত্রিক আর পপী দুজনই একই ব্যক্তি।আর পপিই হল সেই ভ্যাম্পায়ার।আমরা আবার সেই তান্ত্রিকের কুঁড়েঘরে গেলাম। গিয়ে দেখলাম তান্ত্রিকের পাশে একটি ছেলের দেহ অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে।আর সেই দেহটিকে নিয়ে তান্রিক যজ্ঞ করছে।আমরা দেখতে লাগলাম তান্ত্রিকের কাণ্ডকারখানা। এক সময় দেখলাম তান্ত্রিকের শরীরে রঙ ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে।কিছুক্ষন পর সে আমাদের চোখের সামনেই ভ্যাম্পায়ারের রূপ নিল।আর আমরা তা লুকিয়ে দেখছি।তখনি নিজেদের উপর ঘৃণা চলে আসল।কারন আমাদের চোখের সামনে একজন মরতে বসেছে আর আমরা তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি।তাই আর কোনো কথা না ভেবে আমি ভ্যাম্পায়ারের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম।সেই সময় সাব্বির,হাদী আর রাব্বি মিলে ছেলেটির শরীর অন্য একটা সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে গেল।এদিকে আমাকে সাহায্য করার জন্য আকির এগিয়ে আসল।ভ্যাম্পায়ারটি আমাকে ছেড়ে আকিরের উপর ঝাপিয়ে পড়ল।কিন্তু ভ্যাম্পায়ারকে কিভাবে মারব তার কোনো উপায় পাচ্ছিনা।যা দিয়েই আঘাত করছি সেটা আর তার শরীরে লাগছে না।মনে হচ্ছে ভ্যাম্পায়ারের উপর আমি পানি ছিটাচ্ছি।তখন আমিও আকিরকে বাচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লাম।ভ্যাম্পায়
ারটি আমার দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত হাসি হাসতে লাগল।তখন সে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়ল।ভ্যাম্পায়ারটি আসতে আসতে আমার ঘাড়ের কাছাকাছি তার মুখটি আনতে লাগল তার দুটো দাত নিমেষে বড় হয়ে গেল।আমি আমার মৃত্যুর কথা চিন্তা করতেছি।চোখের সামনে সবার চেহারা ভেসে উঠছে।আল্লাহকে স্মরন করতে লাগলাম আর বলতে লাগলাম-আল্লাহ তুমি আমার মৃত্যুটা এভাবে দিলে।তখনি মনে হল একটা কন্ঠ শুনতে পেলাম।মনে মনে ভাবতে লাগলাম আমার মৃত্যুটা এমন ভাবে হয়ে গেল যে বুঝতেই পারলাম না।
কিন্তু না চোখ খুলে দেখি আমি বেচে আছি।আর আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অলি পাগলা।সে বলল আমি কিছুক্ষনের জন্য ভ্যাম্পায়ারকে আটকে রাখতে পারব এরপর আবার সে আমার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে।তখনি ভ্যাম্পায়ারটি অলি পাগলাকে দূরে ছুড়ে ফেলে দিল।যখন ভ্যাম্পায়েরটি আবার আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল তখন ওপাশ থেকে অলি পাগলা বলে উঠল-আমি যে তোমাকে ছুড়িটা দিয়েছিলাম ওটা ভ্যাম্পায়ারের কপালের মাঝে আগাত কর।অমনি আমি আমার প্যান্টের পকেট থেকে ছুড়িটা বেড় করে ভ্যাম্পায়েরর কপালে ঢুকিয়ে দিলাম।তখনি দেখলাম ভ্যাম্পারটি আমাকে দূরে ফেলে দিয়ে নিজে চটপট করছে।নিমেষে আমাদের চোখের সামনে ভ্যাম্পায়ারটি পুড়ে ছাই হয়ে গেল।আর অলি পাগলা তখন আমাদের সবাইকে একসাথে ডেকে বলল-আজ তোমাদের জন্যই এই গ্রামটি অভিশাপ থেকে এবং ঐ বহুরূপী ভ্যাম্পায়ারের হাত থেকে মুক্তি পেল।তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম-আপনি যখন সব কিছুই জানতেন তখন আপনি কেন ভ্যাম্পায়ারটিকে মারেন নি.?
অলি পাগলা মাথা নিচু করে বলতে লাগল -আমি একজন অশরীরী। তাকে কোনো কিছু করার মত ক্ষমতা আমাদের মত অশরীর কাছে নেই।ভ্যাম্পায়ারটিকে যদি কেউ কেউ মারতে পারে তারা হল তোমাদের মত সাহসী ছেলেরা।আমরা আরো কিছুক্ষন কথা বলার পর অলি পাগলা আমাদের চোখের সামনে অদৃশ্য হয়ে গেল।তারপর আমরা বাড়িতে এসে আরামের একটা ঘুম দিলাম।আর চিন্তা করতে লাগলাম আবারো হয়ত নতুন কোনো কিছু অপেক্ষা করছে আমার জন্য।সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা হাদীর বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম আমাদের প্রিয় মোহনগঞ্জে।
----সমাপ্ত----

অপ্রেমিক তুমি খুনি তুমি !
- মোশ্ রাফি মুকুল

যেখানে তুমি নিজেই প্রেমের প্রতিপক্ষ
সেখানে ভালোবাসা মানে রক্তনদী
প্রেমিক মানে খুনি।
রাষ্ট্রের সাথে রাষ্টের সম্পর্ককে যারা ভালোবাসা বলে তারা পেশাদার-
গল্প ফাঁদাই প্রথম ও শেষ কাজ তাদের।

যেখানে আমার ধূসর মৃত্যুতে
তোমার চোখ কাঁদাতে পারেনা তোমায়-
কে বলেছে প্রেমিক তুমি
তুমি প্রেমিক নামের কলঙ্ক!
তুমি খুনি!খোলা তলোয়ারে খুন করো নিষ্পাপ হৃৎপিন্ড
তুমি ঘাতক-মীর জাফরের দুধভাই।
অপ্রেমিক তুমি খুনি তুমি।

ঝড় এলো বলে
- মো. এনামুল হক

শেষ বিকেলে ঝড়ের আকাশ
করছে খেলা বায়ু
উড়ছে পাখি, দুলছে গাছ
শীতল হচ্ছে স্নায়ু।

কালো কালো মেঘের ভেলা
জমছে আকাশ কোণে
তপ্ত বায়ু শীতল হবে
আনন্দ তাই মনে।

দালানগুলো ভিজবে সব
দেখতে নতুন হবে
গ্রীষ্মের এই গরম দিনের
অবসান বুঝি হবে।।

জুন ০৬, ২০১৮
বাসাবো, ঢাকা

তোমায় ছুঁয়ে স্বপ্ন সেই স্বপ্নে ভেজা রঙ
- অন্তরা বিশ্বাস

এখন সবে সন্ধ্যা নেমেছে। রায়া গড়িয়াহাটের মুখে রাস্তা পার হচ্ছিলো। হঠাৎ দূরে শুভ্রনীলকে দেখে অবাক হলো। বহু বছর পর। প্রায় দশ বারো বছর পর। একই ইউনিভার্সিটিতে ওরা একসাথে ইজ্ঞিনিয়ারিং পড়তো। এক লহমায় সেই ইউনিভার্সিটির দিন গুলো মনে পড়ে গেলো। কিন্তু চোখের পলক পড়তে না পড়তেই শুভ্রনীল কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। রায়ার চোখ উদ্ ভ্রান্তের মতো শুভ্রনীলকে খুঁজছে। আবার দেখতে পেলো একটা ছোট্ট চার বছরের ছেলেকে হাত ধরে বালিগঞ্জের দিকে যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। রায়া ছুটে গিয়ে বললো,
- "কিরে শুভ্র!! তুই কলকাতায় কবে এলি?? এই বাচ্চাটা কে? কি ফুট ফুটে দেখতে!! কেমন আছিস?? কত দিন পর!!"
শুভ্রনীল বলে উঠলো,
-" ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?? ও আমার ছেলে অর্ক। হ্যাঁ, ইউ.এস.এ থেকে ফিরেছি বহু দিন। আজ একটু তাড়া আছে। এই নে আমার কার্ড । ফোন নম্বর আছে এতে। ফোনে কথা হবে। "
একটা হুন্ডাই আই টেন এলো। তাতে উঠে শুভ্রনীল বললো,
-" একদিন দেখা করা যাবে। কবে দেখা করবি জানাস।"
রায়ার চোখের পলকেই দেখলো, শুভ্রর গাড়ি বেরিয়ে গেলো।
রায়া কলেজ থেকে ফিরছিলো। রায়ার বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে। রায়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ইজ্ঞিনিয়ারিং এ এম.টেক পাশ করে। তারপর থেকে ইজ্ঞিনিয়ারিং কলেজে অধ্যাপনা করে চলেছে । তাই আজও গড়িয়াহাট হয়ে বাড়ি ফিরছিলো।
বাড়িতে ফিরে রায়া ফ্রেস হয়ে এক কাপ কফি নিয়ে বারান্দায় বসলো। শুভ্রনীলকে দেখে আজ রায়ার অনেক পুরোনো কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আর পাশের ঘরে রেডিওর এফ.এম চ্যানেলে একটা গান ভেসে আসছিলো।

"দেখেছ কি তাকে ঐ নীল নদীর ধারে
বৃষ্টি পায়ে পায়ে তার কি যেন কি নাম?
জলে ভেজা মাঠে, আকাশে হাত বাড়ায়
মেঘের আড়ালে ভেসে থাকা সেই রঙধনুকে চায়।
দেখেছ কি তাকে ঐ নীল নদীর ধারে..."

রায়ার চোখের কোণ জলে চিক চিক করে উঠলো।
************************************আজ থেকে বারো তেরো বছর আগের কথা। তখন রায়া আর শুভ্রনীল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে ইজ্ঞিনিয়ারিং পড়তো।
ওদের একটা দশ বারো জনের বিশাল গ্রুপ ছিলো।ওরা হাসি ঠাট্টা, গানে ক্যান্টিন মাতিয়ে রাখতো।
বাবা, মা , ভাই নিয়েই রায়ার ছোট্ট সুখী পরিবার । বাবা ছিলেন ডাক্তার আর মা গৃহবধূ। ভাই ছিলো উচ্চমাধ্যামিক পাঠরত।
আর শুভ্রনীল ছিলো বাবা মায়ের এক ছেলে। বাবা সরকারী কর্মচারী আর মা ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী। ওর বাড়ি ছিলো এন্টালিতে।

যাদবপুরে ভর্তির পরই রায়া বা শুভ্রনীলের বন্ধুত্ব হয়নি। শুভ্রনীল দারুণ গিটার বাজাতো।
আর রায়ার গলাটা ছিলো অসাধারণ। নিজে বিখ্যাত সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী ছিলো। নবীবরণ অনুষ্ঠানে রায়া গেয়েছিলো,

"দেখেছ কি তাকে ঐ নীল নদীর ধারে
বৃষ্টি পায়ে পায়ে তার কি যেন কি নাম?
জলে ভেজা মাঠে, আকাশে হাত বাড়ায়
মেঘের আড়ালে ভেসে থাকা সেই রঙধনুকে চায়।
দেখেছ কি তাকে ঐ নীল নদীর ধারে..."

রায়ার গান শুনেই শুভ্রনীল মুগ্ধ হয়ে গেছিলো। তাই নিজেই এগিয়ে এসে আলাপ করেছিলো,
-" তোর তো দারুণ গলা। পরে কিন্তু আরও গান শুনবো। "
এরপর একটু একটু করে সেদিনের আলাপ এগিয়ে চলে বন্ধুত্ব , হাসি ঠাট্টা পিছনে লাগা, গান বাজনার হাত ধরে।
রায়ার মনে শুভ্রনীল একটা জায়গা করে নিয়েছিলো ওর ব্যক্তিত্ব আর বুদ্ধিমত্তার জন্য।
রায়া নিজের মনের কথা শুভ্রনীলকে কোনদিনই ঠিক বলে উঠতে পারেনি। শুভ্রনীল রায়ার মনের কথা হয়তো বুঝতো কিংবা বুঝেও বিশেষ আমল দিতে চায়নি।
ইউনিভার্সিটির দিনগুলো স্বপ্নের মতো কাটছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরের অনুষ্ঠানে রায়া গেয়েছিলো,

".আমি তোমার সাথে একলা হতে চাই (২)
......আমি তোমার সাথে একলা হতে চাই
......তোমায় ছুঁয়ে স্বপ্ন সেই স্বপ্নে ভেজা রঙ
......রঙের নেশা গন্ধে ভালোবাসায় নতুন হতে চাই
......আলো আর নির্জনতায় তোমার সাথে একলা হতে চাই
......আমি তোমার সাথে একলা হতে চাই...."
করতালিতে হল ঘর ফেটে পড়েছিলো। শুভ্রনীল অনুষ্ঠান শেষে হেসে এগিয়ে এসে রায়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলো,
-" গানটার কার জন্য গাইলি??!!"
রায়া স্মিত হেসে চুপ করেছিলো। মুখ ফুটে কিছু বলতেই পারেনি । মনে মনে বলে ছিলো,
'তোর জন্য।'
এরপর ওদের পঠন পাঠন শেষ হলে ক্যাম্পাসিং মারফত এক বিদেশী কোম্পানিতে শুভ্রনীল ব্যাঙ্গালোরে চাকরি পায়। আর রায়া কলকাতায় একটা কোম্পানীতে চাকরি পায়।
কাজের চাপ আর দূরত্বর জন্য ওদের মধ্যে যোগাযোগ বেশ কমেই গেছিলো।
রায়া আশা করেছিলো শুভ্রনীল ঠিক কলকাতায় আবার ফিরবে। আর ও নিজের ভালবাসার অনুভূতির কথাটা শুভ্রকে বলেই দেবে।
কিন্তু শুভ্রনীল কলকাতায় ফেরেনি। বরং কর্মসূত্রে ইউ. এস.এর ওয়াশিংটনে চলে যায়। ফলে ওদের সেই যোগাযোগটাই কোথায় হারিয়ে যায়।

সময় এগিয়ে চলে। রায়া এম.টেকে ভর্তি হয়। আর রায়া এম.টেকের শেষ পরীক্ষা যে দিন দেয়, সেদিন এক বন্ধু মারফত জানতে পারে শুভ্রনীলের আগামী মাসে শুভ পরিণয়।
বন্ধু হিসাবে রায়ার আনন্দ হওয়ার কথা।
কিন্তু রায়ার মনের গহনে লালিত ভাবনা গুলো ভেঙ্গে যেতে দেখে কষ্ট পেয়েছিলো।
মেইলে নিমন্ত্রণ পত্র পেলেও শুভ্রর বিয়েতে যাওয়া হয়ে ওঠে নি।
রায়া পরে জেনেছিলো, শুভ্রনীল ওর নিজের মায়ের পছন্দ করা পাত্রী দোলনকে বিয়ে করে নিয়ে বাইরে চলে গেছে।
এরপর দুজনেই একে ওপরের জীবন থেকে কোথায় হারিয়ে যায়।
রায়া এরপর কেন জানি কাউকে আর বন্ধু হিসাবে বা মনের মানুষ হিসাবে খুঁজে পায় নি।
বাড়ি থেকে চাপ দিলেও বিয়ে আর করে উঠতে পারেনি।
সময় এগিয়ে চলে। রায়া অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত হয়। শুভনীলের সঙ্গে আর যোগাযোগও হয়নি।
******************************
আর আজ ঠিক বারো বছর বাদে বিকেলে শুভ্রনীলকে কলকাতার বুকে দেখে চমকে উঠলো।
এতক্ষণ এই সব পুরোনো কথা গুলো ভাবছিলো।

হঠাৎ কি মনে হলো, ফেসবুকে গিয়ে শুভ্রনীল দাশগুপ্ত বলে খোঁজাতে ওর ছবিটা ভেসে উঠলো। ছবি দেখে মনে মনে ভাবলো,
- " শুভ্রর সেই একই রকম সুপুরুষ চৌকস ব্যক্তিত্বই আছে।"
শুভ্রর দেওয়া কার্ডের মোবাইল নম্বরে নিজের ভাবনার অজান্তে রিং করে কেটে দিলো।
খানিক পর শুভ্র রিং করে বললো,
- " ফোন করেছিলি? ছেলেকে খাওয়াচ্ছি। তোর ফোন নম্বরটা একই আছে দেখছি। তোর সঙ্গে ঠিক মতো কথাই বলা হলো না। সামনের রবিবার কি করছিস? চল, আয় দেখা করি সেদিন বিকেলে।"
রায়া চুপ করে শুনছিলো। মনে মনে ভাবলো,
-' সেই একই রকম ভরাট গলা'!
খানিক বাদে রায়া বললো,
-" বেশ তাই হবে।"
দুই দিন পর রবিবার রায়া রবীন্দ্রসদনের চত্বরে বিকেল বেলা দেখা করলো শুভ্রনীলের সঙ্গে।
কত কথা যেন দুজনের মনে জমে রয়েছে। কিন্তু প্রথমে কেউই কিছু বলে উঠতে পারলো না। ওরা এক জায়গায় বসলো।
রায়াই প্রথম বলে উঠলো,
-" তুই একা এলি। তোর মিসেস্ কেমন আছে? ভাবলাম তাকে নিয়েই আসবি।"
শুভ্রনীল বলে উঠলো,
-" না রে সে আর আসবে না। থাকলে তো আসবে!"
রায়া বলে উঠলো,
- "মানে? কি বলছিস?? কিছুই বুঝতে পারছি না।"
শুভ্রনীল বললো,
- " গত পাঁচ বছর আগে অর্কর জন্মের সময় দোলন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। ডাক্তার আগেই বলে ছিলো, প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত কম্পলিকেশান আছে। আমি দোলনের প্রাণের স্বার্থে কিছু চাইনি। অ্যাবরশনের কথা বলেছিলাম। দোলন জোড় করেই মানা করে। ডাক্তার শেষ মুহুর্তে অনেক চেষ্টা করেছিলো। প্রচুর ব্লিডিং হয় আর রক্তের চাপ কমে যায়। ফলে শেষ রক্ষা আর হয়নি। একাকী জীবনই এখন অভ্যাস। দোলনের জন্য খুব খারাপ লাগে।
তারপর থেকে এই পাঁচ বছরে অর্কই জীবনের ধ্যান জ্ঞান। ওর মা'ও আমি। বাবাও আমি। "
রায়া এতক্ষণ চুপ করে সব শুনলো। কেমন একটা ব্যাথা গলার কাছে এসে আটকে আছে। চোখের কোণে জল আটকে রইলো। শুধু কাঁপা গলায় বলে উঠলো,
-" অর্ককে কোথায় রেখে এলি আজ?"
শুভ্রনীল বললো,
- " আমার নিজের মায়ের কাছে। একজন আয়া আছে। অর্ক বড়ই ছোট। তাই আর বাইরে গেলাম না। কলকাতায় ফিরে এখানেই রয়ে গেলাম।
তারপর তুই বল এখন কি করছিস? বিয়ে করেছিস?"
রায়া বললো,
-" বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি। কলেজে পড়াই।"
এই ভাবে খানিক কথা বার্তার পর ওরা নিজের বাড়ি ফিরে এলো। রায়ার আজ দোলনের কথাটা শোনার পর শুভ্রনীলের জন্য বড্ড খারাপ লাগলো। বাড়ি ফিরে ভাবলো,
-' শুভ্রনীলের জন্য আজও আমার খারাপ লাগলো কেন !! আজও কি আমার মধ্যে সেই একই অনুভূতি রয়েছে!!'
এরপর মাঝে মধ্যেই ওদের দেখা সাক্ষাৎ হয়। ইউনিভার্সিটির সময়ের নানা গল্পে ওরা মেতে ওঠে। দুই- চার জন পুরোনো ব্যাচমেটের সঙ্গে দেখা করে পিকনিক করে। অর্ককে এক দুবার শুভ্রনীল নিয়েও আসে। নতুন আন্টির সঙ্গে অর্কর বেশ ভাব জমে যায়। রায়ারও কেমন অর্কর সঙ্গে আত্মিক বন্ধন গড়ে ওঠে।
বেশ কয়েক মাস পর একদিন বিকেলের দিকে শুভ্রনীল আর রায়া ঢাকুরিয়ার লেকের ধারে বেড়াতে যায়।
কথা প্রসঙ্গে শুভ্রনীল রায়াকে বলে ওঠে,
-" একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি। তুই আজও বিয়েটা করলি না কেন?? সত্যি কারণ টা বল দেখি। কারুর অপেক্ষায় আছিস!!"
রায়া চমকে ওঠে। কিন্তু নীরব থাকে।
খানিক পরে শুভ্রনীল বলে উঠলো ,
- " একটা অডিও ছাড়ছি। শোন। তারপর আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো। তার উত্তর আমার চোখের দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে বলবি।"
শুভ্রনীল সেই ইউনিভার্সিটির অনুষ্ঠানে রায়ার গলায় গাওয়া গানটা মোবাইলে ছাড়লো।
"আমি তোমার সাথে একলা হতে চাই (২)
......আমি তোমার সাথে একলা হতে চাই
......তোমায় ছুঁয়ে স্বপ্ন সেই স্বপ্নে ভেজা রঙ
......রঙের নেশা গন্ধে ভালোবাসায় নতুন হতে চাই
......আলো আর নির্জনতায় তোমার সাথে একলা হতে চাই
......আমি তোমার সাথে একলা হতে চাই..."

গান শেষ হতেই শুভ্রনীল বলে উঠলো,
-" এই গানটা কি সেইদিন আমার জন্যই গাওয়া হয়েছিলো??"
রায়া নিজের গান আর শুভ্রর প্রশ্নে চমকে উঠলো। শুভ্রর চোখে চোখ রেখেও চোখ নামিয়ে চুপ করে রইলো।
খানিক পর শুভ্রনীল রায়ার হাতটা নিজের হাতে রেখে বলে উঠলো,
- " তোর নীরবতায় উত্তরটা আমি পেয়ে গেছি। "
শুভ্রনীল নিজেই রায়াকে জড়িয়ে ধরলো। রায়া প্রথম বার শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো। শুভ্রনীল জড়িয়ে বললো,
- " ধুর পাগলী!! কাঁদছিস কেনো!!"
শুভ্র নিজেই খালি গলায় দুকলি গেয়ে উঠলো।
"আমি তোমার সাথে একলা হতে চাই
......তোমায় ছুঁয়ে স্বপ্ন সেই স্বপ্নে ভেজা রঙ...."

....সমাপ্ত....
(সব ঘটনা চরিত্র কাল্পনিক)

লক্ষ্যহীন
- রিঙ্কু মণ্ডল

ধ্বনিত হয়ে থাকে প্রতিনিয়ত
লক্ষ ছাড়া জীবন ব্যর্থ।
তুলনা হয় মাতালের মতো
থাকেনা জীবনের কোন অর্থ।

লক্ষিত বস্তুর সান্নিধ্য অর্জনে
কর্মচাঁচল্য আসে অতীত উদাহরণে।
সম্প্রতি কালের অতীত দর্শনে
সার্থকতায় বিফলতা আসে মননে।

কলাবিভাগের ছাত্র-ছাত্রী সকল
হাত-পা গুলো হয়ে যায় অচল।
লক্ষ্য বলতে শিক্ষকতাই মূল
গন্তব্যে পৌঁছাতে, শূন্য মাথার চুল।

হৃদয়ে থাকা সকল প্রবণতা
হয়ে থাকে নীরবে একতা।
লক্ষ্য-হীন চিত্তের সততা
কল্পিত মনে উদ্ভাসিত ব্যর্থতা।

রুদ্র কবি
- ইরাবতী মণ্ডল

হে রুদ্র কবি,অগ্নিবীণায় তোলোগো ঝঙ্কার,
দিকে দিকে ধর্ষিত মানবত্ব, কিছু নাহি প্রতিকার।
দিশাহারা আজ কাণ্ডারি ,টালমাটাল নৌকা,
দিকভ্রান্ত হয়ে ছুটে চলে কোথা ,বিক্ষিপ্ত উল্কা।
হে কাণ্ডারি, শক্ত মুঠিতে ধরো আবার হাল
প্রতিকূল বায়ু সামলে নিয়ে, উড়িয়ে দাও পাল।
হে হাবিলদার কবি,পরশুরামের কুঠার আনো
লোভের কারা প্রাচীর গাত্রে ,দারুণ আঘাত হানো।
অগ্নিবীণায় সুর তোলোগো, অগ্নি যেন ঝরে,
বিষাক্ত সব পাপের পোকা ,কিলবিলিয়ে মরে।
বাজুক তোমার প্রলয় বিষাণ
তাথৈয়া তাথৈয়া নাচুক ঈশাণ
মহাপ্রলয়ে হউক ধ্বংস ,ধর্মহীন ধরাতল,
জন্ম লভুক নতুন বিশ্ব ,সুন্দর শ্যামল।

28.5.2018

অপেক্ষাদিন
- আলী আজমেরিয়া
=================

জীবন পথের বাঁকে তুমি
ছিলে যাত্রী ছাওনী,
স্মরণ করো- আমার মতো
যাত্রী এমন পাও নি !

বাক্য হয়ে পাশে ছিলাম
ছন্দে ভালোবেসে গেলাম-

অপেক্ষাতেই র’য়ে গেলো
আবেগ ভরা চাউনি।
-
০৩.০৬.২০১৮

যন্ত্রণার জ্যোৎস্না
- সাগর আল হেলাল
================================

আমার নিঃসঙ্গতার সাথে দেখা হয় না তোমার
দেখতে পাও না হাহাকারের ভঙ্গিমা হৃদয়ের,
কষ্টের ডালে বসা দুঃখপাখি-
অশ্রুজলে স্নান করে রাখো না তার কোনই খবর;

তোমার নক্ষত্রমনে কালরাশি-
চাঁদের বুকে ছড়াবেইতো যন্ত্রণার জ্যোৎস্না !
-
০২.০৬.২০১৮

মন বিবাদের খেলা
- সাগর আল হেলাল
========================

দুঃখগুলোর বয়স বেড়ে গেলেও
বাড়ে নি আক্কেল
ঘুম ভাঙে তার মধ্যরাতেই,
শরীরেরা আধোঘুমে কাতরায়-
দুঃখের সাথী হয়ে জাগতে হয় চোখেদের...

সুখের নির্মল ঘাস বিলি কেটে
ডালপালা মেলে কষ্টের আগাছা
বাতাস-রোদ-জল ছাড়াই,
বন্ধ করে দেয় মনের কপাটগুলো
প্রবেশ করতে দেয় না সুখজ্যোৎস্না...

পৃথিবীর চোখে প্রশান্তির ঘুম
ঘুমায় শেষ রাতের তারা,
চোখদুটো দুঃখের অনুগত দাসের মতো
পলকহীন সেবায় নিয়োজিত-
সতেজ দুঃখ বসে থাকে চোখের বরান্দায়...

আমি এক দুঃখমানুষ
প্রশান্তিরা রেখেছে পর করে সারাক্ষণ,
হে ক্লান্তি, হে অবসাদেরা
আমায় নিস্তেজ করো- করো অনুভূতিহীন
মন বিবাদের খেলায় আমি খুব ক্লান্ত...
-
০২.০৬.২০১৮

বিজয়িনী
- অন্তরা বিশ্বাস

আজ অনুপমা দেবীর চোখে বড্ড জল। নিজের আচরণের জন্য খুবই লজ্জিত । মল্লিকার কাছে নিজের ব্যবহারের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। অনুপমাদেবী আজ হাসপাতাল থেকে থেকে বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়েছিলেন। সন্ধ্যা নাগাদ, মল্লিকা ঘরে এসে ওনার ঔষুধটা খাইয়ে দিয়ে গেলো, তা খেয়ে চোখ বুঝে শুয়ে আছেন। দু চোখের কোণ দিয়ে জল পড়ছে। ওনার মনের কোণে পুরোনো বেশ কিছু কথা এবং ঘটনা মনে পড়ছে। আর অনুতাপে দগ্ধ হচ্ছেন।

***********************
বছর চারেক আগের কথা। মল্লিকা, ঋতমের সাথে শুভ পরিণয়ে আবদ্ধ হয়েছিলো।ঋতম , অনুপমা দেবীর বড়ো ছেলে। কৈশোর বয়সে ইংরেজি কোচিং ক্লাসে মল্লিকার সাথে ঋতমের পরিচয় , তারপর বন্ধুত্ব, খুনসুটি, কলেজ জীবনেও এগিয়ে চলে।
মল্লিকা দক্ষিণ কলকাতার মেয়ে। বাবা মা মল্লিকা আর ছোট ভাই নিয়েই ওর পরিবার। বাবার ছাপখানার ব্যাবসা ছিলো।মা গৃহবধু। আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিলো না। কোনোক্রমে চলে যেতো। তাই লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকরি করে বাবার পাশে দাঁড়াবার একটা ভাবনা মল্লিকার মনে ছিলো।
মল্লিকা নিজের মাকে বলতো
-"কর্মাস নিয়ে গ্র্যাজুয়েশানটা শেষ করতে দাও, ঠিক চাকরি জোগাড় করে নেবো। এখন টিউশনটা তো করি।"

মল্লিকাদের অবস্থা ঋতম ভালোই বুঝতো। ঋতম বন্ধু হিসাবে কোনো ভাবে মল্লিকাকে সাহায্য করতে পারলে খুশি হতো, কিন্তু মল্লিকা কোনো সাহায্য নিতো না।
ঋতম ছিলো বাড়ির বড় ছেলে।অনুপমা দেবীর প্রথম সন্তান। ঋতম পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইজ্ঞিনিয়ারিং এ পড়াশুনা করে একটা ছোট কোম্পানীতে কাজ করে। অনুপমা দেবীর ছোট ছেলে গ্র্যাজুয়েট ইজ্ঞিনিয়ারিং নিয়ে ব্যাঙ্গালোরে পড়াশোনা করতো। ওনার স্বামী শ্যামলবাবু ছিলেন হোমিওপ্যাথির ডাক্তার। মোটামুটি স্বচ্ছল সংসার। অনুপমা দেবী কিছুটা সংস্কারী, সাবেকিয়েনায় বিশ্বাসী মানুষ।
অনুপমা দেবীর বড় ছেলে ঋতমের সাথে মল্লিকার বন্ধুত্বটা কখনোই পছন্দ ছিলো না। আসলে ওনারা ছিলেন ব্রাক্ষণ। মল্লিকারা ছিলো অন্য কাস্টের। ঋতম কোনো দিন কাস্ট বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়নি। মল্লিকার সাথে বন্ধুত্বটা ঋতম শুভ পরিণয়ের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। অনুপমা দেবীর আপত্তি ছিলো, উনি বলেছিলেন ছেলেকে,

-"দেখ অন্য কাস্টের মেয়েকে ঘরে বউ হিসাবে তোলা যায় না। তার উপর মেয়ে চাকরি করবে। ঘর সংসার কে সামলাবে? আমরা সংদবশীয় ব্রাক্ষণ। বিনা চাকুরীজীবী ঘরোয়া মেয়েই ঘরের বউ হতে পারে। চাকরি করবে আর ড্যাং ড্যাং করে ঘুরে বেড়াবে ,তা হয় না। অল্প শিক্ষিত মেয়ে এর চেয়ে ঢের ভালো। দেখতে ও ভালো না। তুই মল্লিকার সাথে বন্ধুত্ব টার একটা সীমা রাখ।"

ঋতম মায়ের কথা বিশেষ আমল দেয় নি। ঋতম স্পষ্ট ভাষায় নিজের মাকে বলে
-"কাস্ট বলে কিছু হয় না। সব মানুষই সমান। আর মল্লিকার মন খুব পরিষ্কার, যার জন্য আমি ওকে ভালোবাসি। কাজেই বিয়ে করলে ওকেই করবো।"

সময় এগিয়ে যায়। ততদিনে মল্লিকা কমার্সে মাস্টার্স শেষ করে একটা বেসরকারী সংস্থায় কাজ করে।
আর ঋতমের ছোট ভাই ব্যাঙ্গালোরে কাজ পেয়ে যায়। তবে কলকাতা মুখো হবে না ,তা বাড়িতে জানিয়েও দেয়। ব্যাঙ্গালোরে চাকরি নিয়ে সেখানেই পাকাপাকি থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। মাকে কিছু টাকা মনি অর্ডার করতো।

ঐদিকে ঋতমের সাথে মল্লিকার সম্পর্কটা অনুপমা দেবী না মানতে পারলেও মল্লিকার বাড়ি থেকে কিন্তু কোনো আপত্তি ছিলো না। কারণ সম্বন্ধ করে আজ কাল ছেলে পাওয়া চাপ। ঋতমের জেদ আর ভালোবাসার সম্পর্কের জন্য ওর বাড়ি থেকে মল্লিকাকে এক প্রকার মেনে নেয়।
এক ফাল্গুনের সন্ধ্যায় ওদের শুভ পরিণয় সম্পন্ন হয়। শুরু হয় দুজনের এক সাথে পাশা পাশি পথ চলা।
বিয়ের পর থেকেই মল্লিকার এই চাকরির জন্য ,সকাল সকাল বেরোনো নিয়ে অনুপমাদেবী আপত্তি তুলতে লাগলেন

-"সংসারের কাজ কি আমি একাই করবো!! ঠিকে কাজের লোক দিয়ে সংসারের কাজ হয় না। তুমি বাপু সংসারে মন দাও।"

কখনও নিজের ছেলে ঋতমকে বলতে লাগলেন
-"দেখ বিয়ে করেছিস, সংসার পেতেছিস। সেটা দেখবে কে? এই বুড়ি মা!! তোর বউের টাকার মুখ দেখতে চাই না। একটা কথা মনে রাখবি , 'সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে!!"

নিত্যই মল্লিকার চাকরি করা নিয়ে অশান্তি লেগে থাকতো।দেখতে দেখতে বছর দুই কেটেও যায়। বেসকরকারী সংস্থায় কাজ, তাই মল্লিকা তাড়াতাড়ি সব সময় ছুটিও পেতো না।
একদিন মল্লিকা দেরী করে বাড়ি ফেরে। অশান্তি চরমে ওঠে। ঋতম পর্যন্ত বলে
-"কি এমন চাকরি!ওই তো বেতনের নমুনা!কি জন্য দেরী হয় বলতো? কারুর সাথে অ্যাফেয়ার চলছে নাকি ? দেখো এই ভাবে চলতে পারে না। আমি যা পাই , তা কি কম!! নাকি পুরো সংসারটাই কি তোমার পয়সায় চলে!! এমন চাকরির দরকার নেই। কাল থেকে কাজে গিয়ে লাভ নেই।সংসার দেখো।"

মল্লিকা প্রায় তর্ক বির্তকে পরাস্ত হয়ে সম্পর্কের প্রতি যত্ন শীল হতে এক প্রকার বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিয়ের দুবছরের মাথায় মল্লিকা চাকরি ছাড়লো। তারপর দীর্ঘ এক মানসিক অবসাদ মল্লিকাকে ঘিরে ধরে।

মাঝখানে হঠাৎই মল্লিকার শ্বশুর মশাই শ্যামলবাবু মারা যান। সংসারের সব দায়িত্ব ঋতমের ঘাড়ে এসে পড়ে। অনুপমা দেবীর কাছে শ্যামল বাবুর জমানো পুঁজি ছিলো সামান্য সম্বল মাত্র। কারণ ছোট ছেলে প্রীতম টাকা পাঠানো প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলো।
সংসারের নানা চাপে মল্লিকা জর্জ্জরিত হয়ে উঠেছিলো।নিজের হাত খরচার টাকাও ঋতমের কাছে চাইতে কুন্ঠাবোধ করতো। কারণ ঋতম তার কৈফিয়ত যেমন নিতো, তেমনি প্রয়োজনে কথাও শোনাতো,

-"যা দরকার তা তো দেওয়াই হয়। ভাত, কাপড় !! তারপর আবার কিসের খরচা!!"

এই ভাবেই সময় এগিয়ে চলে। সংসারের যাঁতাকলে নানা টানাপোড়েন, আর্থিক সংকট মল্লিকা আর ঋতমের নিত্য সঙ্গী। মল্লিকার নিজের চুলের তেল, শ্যাম্পু, সাবান বা সামান্য শখ আহ্লাদের বশে ঋতমের আড়ালে পকেট থেকে ২০০ কিংবা ৫০০ টাকাও নিলেও 'চোর কোথাকার' শুনতে হতো। সাথে অনুপমা দেবী ও বলতেন
-"মেয়ে মানুষের এতো টাকা কিসের দরকার শুনি বাপু!! দিব্যি তো বরের ঘাড়ে বসে খাচ্ছো!! সংসারে কত অভাব সে দিকে খেয়াল আছে!! আর ঘরে তো বসেই আছো , তখন ঠিকে কাজের লোকের তো দরকার নেই!"
এই অপমান গুলো মল্লিকা ঠিক মেনে নিতে পারেনি। মুখে কিছু না বললেও মনে মনে ভাবতো
-"আমি তো নিজের ইচ্ছায় চাকরি ছেড়ে ঘরে বসে নেই!! সেটা তো ওনারই ইচ্ছা। আর স্বামীর কি কোনো দায় নেই স্ত্রীকে টাকা দিক!!প্রয়োজনে সামান্য টাকা নিলেই চোর হয়ে গেলাম!! চাকরি যদি করতাম তাহলে সংসারে কিছু দিতেও পারতাম। মেয়েদের কোনো টাকার দরকার হয় না, এ কেমন কথা!! আমাকে প্রমাণ করতেই হবে আমিও সংসারের হাল ধরতে পারি!!"

মল্লিকার মন বিদ্রোহ করে ওঠে, ঋতমের সাথে তর্ক- বির্তকে জড়ায়।
এক প্রকার জেদ ধরে ব্যাঙ্কের চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সংসারের হাড় ভাঙ্গা খাটুনির পর রাত জেগে পড়া। বেশ কিছু মাস পর ব্যাঙ্কের পরীক্ষায় বসে মল্লিকা। আশ্চর্যভাবে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়।

*******************************
গত একবছরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয় এক পথ দুর্ঘটনা।পরীক্ষায় পাশের পর বাড়ির সকলের অমতে জোর করে, জেদ ধরে মল্লিকা, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার চাকরিতে যোগ দান করে। ঠিক দশ মাস আগে এক সন্ধ্যাবেলা ঋতম গুরুতর বাইক অ্যাক্সিডেন্টের সম্মুখীন হয়। হাসপাতাল, ডাক্তার, বদ্যি কোনো কিছুই বাদ যায়নি। ঋতমের পা দুটো প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে। হাতের ব্যালেন্স রাখার জোর কমে যায়। ঘাড়ের কাছে হাড়ে চিড় ধরায় মাথাও নাড়াতেও সমস্যা হয়। মুখের থুতনিতে চোট পাওয়ায় কথা পরিষ্কার বেরোতো না। সারা দিন হুইলচেয়ারে এদিক ওদিক করে ঘরের ভিতর বন্দি জীবন। আর চাকরিও নেই। অগত্যা মল্লিকাই সংসারের হাল ধরলো। মেয়েরা কিনা পারে!! মল্লিকা সকাল থেকে ঘরের কাজ সামলে, ঋতমকে খাইয়ে চাকরিতে যায়।নাহ টাকার জন্য আর মল্লিকাকে কারুর কাছে হাত পাততে হয়নি।

********************************
এখন আর অনুপমা দেবীর দাপট আর নেই। গত দুই মাস আগে ওনার অন্ত্রে টিউমার ধরা পড়েছে। ডাক্তাররা যেটা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানিয়েছে যে
-"এটা কার্সিনোমার দিকে টার্ন নিয়েছে।দ্রুত অপরেশান দরকার।"

এরপর গত দেড়মাসে মল্লিকা একাই অফিস সামলে, স্বামীকে দেখে, অসুস্থ শ্বাশুড়িকে নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য দৌড় ঝাঁপ করেছে।
দেওরের কাছে একটুও সাহায্য পায়নি। শ্বশুরের জমানো পুঁজিও শেষ।
মল্লিকা অফিসে ছুটি নিয়ে একাই গত দশ দিন আগে শ্বাশুড়িমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে অপারেশন করার ব্যবস্থা করে। কারুর কাছে কোনো আর্থিক বা কোনো সাহায্য নেয়নি।
আজ সকালে মল্লিকা হাসপাতাল থেকে অনুপমা দেবীকে বাড়ি নিয়ে এসেছে।
অনুপমা দেবী মনে মনে এতক্ষণ ধরে এই সব ঘটনা গুলোই ভাবছিলেন। নিজের আচরণে নিজেকেই ক্ষমা করতে পারছিলেন না।

সন্ধ্যা অনেক হয়েছে। বিছানায় শুয়ে উনি মল্লিকাকে ডাকলেন
-"মলি একবার এদিকে আয়। তোর সাথে একটু কথা বলি।"

মল্লিকা পাশের ঘরে ঋতমকে খাইয়ে দিচ্ছিলো।শ্বাশুড়ি মায়ের ডাক শুনে ,হাতের কাজ শেষ করে ওনার কাছে এসে বিছানার পাশে বসলো। অনুপমা দেবীর চোখে জলে ঝাঁপসা হয়ে আছে। শুধু মল্লিকার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলতে লাগলেন
-"মলি তুই অনেক বড় মনের মানুষ। আমি অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি। তুই তো আমার ছেলেও। কেন এতো দিনে বুঝিনি!! ছোট তো আমায় দেখলো না!! মেয়েদের সত্যিই চাকরি করা দরকার। আমি তো চাকরি করি নি। তাই হয়তো বুঝিনি। মেয়েরা নিজেদের প্রয়োজনেই টাকা রোজগার করে না। পরিবারের জন্য তারা পাশে থাকে। আমি কি মূর্খ ছিলাম। তুই না থাকলে ঋতমেরও চিকিৎসা হতো না। আমি ভুল ছিলাম, কাস্ট দিয়ে সত্যিই কিছু হয় না। এই বুড়িটাকে পারলে ক্ষমা করিস। দেখ নিজের কেমন স্বার্থ পূরণ হওয়াতে তোর কাছে ক্ষমা চাইছি। আমায় ক্ষমা কর।"

মল্লিকা বিশেষ কিছু আর বলতে পারেনি। চুপ করে ছিলো।
রাত অনেক হলো। মল্লিকা, অনুপমা দেবীর হাতের উপর মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে। ততক্ষণে নতুন ভোর, নতুন দিন প্রায় আগত।

-সমাপ্ত-

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget