মার্চ 2018

বনমালী.. ক্ষমা করিস..
- অনন্যা দেবরায়

সেই ছোট্ট থাকতেই অন্তু আমার খুব নেওটা ছিল।সে ছিল আমার থেকে বয়সে বেশ একটু ছোটোই, আমার ছোটো কাকুর একমাত্র ছেলে অন্তু...তবে সতিই কি ও ছেলে ছিল?...ভেবে দেখিনি সেই সময় ..হয়ত বিচক্ষণতার অভাব ছিল আর নয়ত ঘাটতি ছিল আমার মানসিক পরিণতিতে।আসলে সেই বয়স বারোর অবিবেচক আমি'র কাছে অন্তু ছিল শুধুই খেলার সাথী, একান্ত অনুগত এক সাথী.. সেই সাথী অন্তর থেকে সখী না সখা তা অনুধাবন করার মত ধৈর্য ক্লাস সিক্সে পড়া আমার ছিল না।

বিকেল বেলা স্কুল থেকে ফিরে আমাদের বাড়ির চৌকো উঠানে যখন আমি,মানু,বুলি,রিনি মিলে রান্নাবাটির সংসার পাততাম, তখন হাফপ্যান্ট পড়া অন্তু এসে দাঁড়াত আমাদের পাশটিতে।সেই কল্পনার সংসারে অন্তুকে ভাই বা বরের রোল দিলেই, ও গা মুচড়ে,ওর ছোট্টছোট্ট গোলাপি ঠোঁট গুলো ফোলাত।অসহায় দুটো বড় বড় পলক ভর্তি চোখ নিয়ে তাকাত ওর অন্তিম ভরসা আমার দিকে।খুব মায়া হত তখন আমার ওর মুখটা দেখে,আদর করে বলতাম,

-"তুই আমার বোন হবি কেমন..?আমি ইস্কুলে চাকরি করতে যাবো আর তুই রান্না করে রাখবি।"

খুব খুশি হয়ে ছোটোছোটো দাঁত বের করে হাসত অন্তু।তারপর সুরকির গুঁড়ো, কৃষ্ণকলিরর বীজ,টগর গাছের পাতা আর ঝড়ে পড়া ছোটো সুপুরি দিয়ে সাজিয়ে ফেলত আমাদের খেলাঘরের রান্নাঘর।আমাদের খেলার দলে অন্তুই যে একমাত্র ছেলে ছিল তা কিন্তু না..বরং অনি,ডোডো,বুম্বা এরাও ছিল..কিন্তু কিছুদিন পর এরা একে একে আমাদের উঠোন ছেড়ে ভীড় জমাত চাটুজ্জে দের মাঠে..ব্যাট বল হাতে নিয়ে..শুধু অন্তু এক ভাবে রান্না করে যেত আমাদের অলীক সংসারে।

বৃষ্টির দিনে, যখন অঝোর বারিধারা এসে দখল করে নিত আমাদের উঠোনের অধিকার,সেই সব বিকেলগুলোতে নিছক দুষ্টুমি করে অন্তুকে আমার ফ্রক পরিয়ে গামছার চুলে খোঁপা বেঁধে, লিপস্টিক কাজলে সাজাতাম..শান্ত হয়ে সাজত সে,চোখ মুখে ফুটে উঠত ওর খুশির আভাস। সাজ শেষ হলে যখন বলতাম..

-"চল, তোকে কাকিমণিকে দেখিয়ে আনি.."..তখন সে পিছুডেকে আমায় বলত..

-"দাঁড়া দিভাই..আগে ওড়নাটা ঠিক করে নিই..তবে তো যাবো।

ছোটো থেকে এই রকমই চলে আসলেও প্রথম ধাক্কাটা খেয়েছিল, তখন অন্তু ক্লাস ফোরে।একমাথা ঘন চুল ছিল ওর।ছোটোবেলায় আমাকে আর অন্তুকে একই পার্লারে নিয়ে যেত চুল কাটাতে কাকিমণি।পার্লারের আন্টি অন্তুর মিষ্টি মেয়েলি মুখটার সাথে মিলিয়ে একটু বড় বড় করেই ওর চুলটা কেটেদিত বরাবর.. অনেকটা মেয়েদের ববকাটের মতন।সেইদিনটা ছিল রবিবার।আর পাঁচটা রবিবারের মত ছুটির আমেজে বাবা কাকাদের চা-জলখাবার পর্ব তখনো চলছিল।আর অন্তু নিজের বড়বড় চুলে পরিপাটি করে ক্লিপ লাগিয়ে আমার ছোটো হয়ে যাওয়া একটা সালোয়ারকামিজ পরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজেকে জরিপ করছিল আয়নায় সবার অলক্ষ্যে,বারবার ওড়না টেনে ঢাকছিল নিজের কাল্পনিক বুক..চোখে পড়ে গেছিল কাকুর।পরদিনই পাড়ার সেলুনে নিয়ে গিয়ে ছোটোছোটো করে ছাঁটিয়ে নিয়ে এসেছিল অন্তুর চুল...ওইদিন আমি প্রথম শুনেছিলাম অন্তুর সেই বুক ফাটা কান্না,হয়ত সেইদিনই প্রথম নিজের সত্ত্বা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল দশ বছরের অন্তু।

অন্তু বাচ্চা বেলা থেকেই মেয়েদের মত দেখতে ছিল।মোমের মত ত্বক,দীঘল দুটো চোখ,পেলব ঠোঁট।বেশ মনে আছে ওর দুইবছরের জন্মদিনে দুই ঝুঁটি বাঁধা অন্তুকে দেখে সব আত্মীয়পরিজনরা যখন বলছিল

, "অন্তু আমাদের মেয়ে হলে,বড় হয়ে বাবলির থেকে অনেক সুন্দর হত,বাবলির রংটাত চাপাই..অন্তুর পাশে তো কালো ভুত। "

তখন ছয় বছরের আমার মনটা কেমন যেন টনটন করে উঠছিল,এখন বুঝি ওটা ঈর্ষা ছিল।তারপর যত দিন এগোতে লাগলো,তখন আর শুধু রূপেই না, অন্তুর মধ্যে প্রকট হয়ে উঠতে লাগল ওর ভিতরের সত্ত্বাটা।অন্তু ছিল এক্কেবারে আমার মত.. লাজুক,চপল, অভিমানী এক মেয়ে..অন্তর থেকে।প্রথমদিকে অন্তুর প্রতি আমার যে সহজাত মায়া মমতা,টান বা ভালোবাসাটা ছিল..বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেগুলো আমার মনের কোনোএক অজানা কোনে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল,তার জায়গায় আমার অন্তরে স্থায়ী ভাবে আস্তানা গাড়ল অন্তুর প্রতি অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য, উপহাস, ব্যঙ্গ..!চারপাশের সমাজ সম্পর্কে সচেতনতা,বাঁধা গতে জীবন চালাবার অলিখিত কড়া অনুশাসন..আমার মনের সহজাত আবেগ গুলো কেড়ে নিলো।... আজ মনে হয়.. হয়ত সেই বারো বছরের অবিবেচক সরল আমিটা, এই আটাশ বছরের অতি বিবেচক,সংস্কারের জালে আবদ্ধ, সমাজের বাকি মানুষদের অনুসরণ করা আবেগহীন আমি'র থেকে অনেক বেশি মানবিক ছিলাম।

আমি আর অন্তু একই স্কুলে পড়তাম।পুঁচকে বেলায় পুতুল পুতুল ভাই'য়ের হাত ধরে স্কুল যেতে খুব মজা লাগতো, অকারণ শাসন,অযথা বকুনি দেওয়ার সুযোগ.. মোটকথা জীবনে প্রথম গার্জেনগিরি ফলানোর সুযোগটা আমি দারুন এনজয় করতাম।অদ্ভুত ব্যাপার ছিল,অন্তু কিন্তু আমার শাসন দিব্যি মেনে নিত।কোনোদিন বাড়ি ফিরে, আমার দেওয়া কিল চড়ের কোনো অভিযোগ শুনি নি আমি কোনোদিনও।আগেই বলেছি,অন্তু ছিল আমার একান্ত অনুগত,আর সে তার আদরের দিভাইয়ের আনুগত্য বজায় রেখেছিল শেষ পর্যন্ত.. কিন্তু আমিই ব্যর্থ হয়েছিলাম অন্তুর দিদির কর্তব্যটা যথাযথ ভাবে পালন করতে।
একটু বড় হওয়ার সাথে সাথেই, মানে যেই আমার বোধবুদ্ধিগুলোতে পাক ধরল,আর আমি বুঝতে শুরু করলাম যে অন্তু ঠিক আর পাঁচ জনের মত না..অন্তু অন্যরকম.. আমি কিন্তু তখন নিজে অন্যরকম হতে পারলাম না, গিয়ে নাম লেখালাম আর পাঁচ জনের দলে।স্কুলে যখন ছেলেরা অন্তুকে 'লেডিস' বলে চিৎকার করতো কিংবা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করত,আমি তখন বড় দিদি হিসাবে কক্ষনো প্রতিবাদ করতাম না বরং ঠোঁট মুচড়ে বাঁকা হাসি হাসতাম।স্কুলে সারাদিন নানা ভাবে অপমানে আহত অন্তু যখন বিধ্বস্ত হয়ে স্কুলবাসে আমার কাছে বসতে আসতো, আমি তখন তাচ্ছিল্য ভরে তাকে সরিয়ে দিতাম।আমার দুখী ভাইকে সামান্য সহানুভূতি দেখালে,যদি বন্ধুদের চোখে খাটো হয়ে যাই.. সেই ভয়ে।অন্তু একা একা বাসের লাস্ট সিটে জানলার পাশে বসে শুকনো মুখে বাড়ি আসত।মাঝেসাঝে স্কুলবাসেও যে ওকে টোন টিটকিরির সম্মুখীন হতে হত না,তা কিন্তু নয়।সেই সময় ও নিজের স্কুল ব্যাগটাকে জড়িয়ে কাঠ হয়ে বসে থাকতো।যেন স্কুলব্যাগটাই ওর একমাত্র ভরসা,কারণ ও তো জানতই ওর পাষাণ হৃদয় দিভাই ওর পাশে দাঁড়াবেনা।স্কুল বাস থেকে নেমে,আমি ওর আহত দৃষ্টিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই বাড়ির পথে পা বাড়াতাম, পিছন পিছন নিজের ভারী ব্যাগ,আর অপমানে ভারী মন নিয়ে শুকনো মুখে বাড়ি আসত আমার ভাই অন্তু।সেই ক্লাস টুয়েলভে পড়া আমি'র কাছে তখন আপন-পরের সংজ্ঞাটা ছিল অন্ধ সংস্কারের ধোঁয়ার আবঝা।

অন্তুকে নিয়ে কাকা-কাকিমণির চিন্তার শেষ ছিল না।যখন থেকে তারা বুঝতে পারলো যে তাদের একমাত্র ছেলে ভগবানের পরিহাসে অন্তর থেকে মেয়ে,তখন থেকেই কাকুদের রসায়ন অন্তুর সাথে বদলে যেতে লাগল।মারধোর করে ওকে 'সিধা' করার চেষ্টাও কম হয় নি।অন্তু বরাবর হাসবার সময় মুখে হাতচাপা দিত।বারবার বারণ করলেও একই ভুল করত সে,রাগে একদিন কাকু ওর হাত মুচড়ে দিয়েছিলো।ফর্সা হাতে নীলচে কালশিটে নিয়ে অন্তু সেদিন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল,অবিকল মেয়েদের মত দুহাতে মুখ ঢেকে!!

সুযোগ পেলেই আমার নাচের ঘুঙুরগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করতো অন্তু।আমিও সুযোগ পেলেই কাকিমণির কান বাঁচিয়ে ওকে পরিহাস করে বলতাম...

-"আর নেড়েচেড়ে কি করবি,এইবার পরেই নে.."

আমার পরিহাস বুঝত না আমার সহজ সরল ভাইটা...শুকনো মুখে উদাস স্বরে বলতো

-"আমারও তোর মত নাচ শেখার খুব ইচ্ছে রে দিভাই..কিন্তু বাপি কিছুতেই শিখতে দেবে না..!! "

সাথে সাথে লোভ সামলাতে না পেরে আর পাঁচজনের মত আমিও বলতাম..

-"ছেলেদের নাচ না শেখাই ভালো.. "..অথচ আমারই নাচের শিক্ষক তাবড় এক নৃত্যশিল্পী।

আহত চোখে তাকাত অন্তু..আমি অন্তত ওকে সাপোর্ট করি..এটা ও মন প্রাণ থেকে চাইত।কিন্তু আমি কি কিরে ওকে সাপোর্ট করব??..আমি যে তখন জোর কদমে আম জনতা হওয়ার পথে এগোচ্ছি।একটু আলাদা হয়ে নিজের ভাইটাকে বোঝার মত বিবেক কোথায় তখন আমার কাছে..?

বয়স বাড়ার সাথে সাথে অন্তুর রূপ ফেটে পড়তে লাগল।ফর্সা,লম্বা দোহারা চেহাড়া, গালে নরম সবুজ দাড়ি..যেন গ্রীক ভাস্কর্য একটা।কিন্তু ওর মেয়েলী চালচলনও বাড়তে লাগলো পাল্লা দিয়ে।কান বেঁধানো, ভ্রু প্লাক করা,নখ বাড়ানো।বাড়ির মানুষদের সাথে অন্তুর দূরত্ব বাড়তে বাড়তে একসময় আমরা সবাই আর অন্তু দুটো একই বাড়িতে দুটি ভিন্ন গোলার্ধের বাসিন্দা হয়ে উঠেছিলাম।কাকু আর অন্তুকে বকাঝকা করত না,হাল ছেড়ে দিয়েছিল এক প্রকার।কাকিমণিও প্রথমে ডাক্তার,সাইক্রিয়াটিস্ট তারপর ক্রমেক্রমে জ্যোতিষী, পীর- ফকির, মাদুলি,তাবিজ কবজ জলপোড়া করে শেষমেশ ক্লান্ত হয়ে বাড়ির ঠাকুর ঘরটাকেই নিজের অবসাদ মেটানোর উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিল।আমার বাবাও অন্তুকে অল্প এড়িয়ে চলত,শুধু আমার মা অকুলকরা ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখত অভাগাকে।মা, ওকে বুঝত না শুধুই অন্ধ অপত্য স্নেহ ছিল তা আমি অন্তত বুঝতাম না।তবে মায়ের অন্তুকে নিয়ে বাড়াবাড়ি আমি খুব সুনজরে দেখতাম তা ও নয়।আজ ভাবি..আমি শুধু অন্তুর অপদার্থ দিভাই ছিলাম তা ই নয়..আমি আমার মায়েরও অযোগ্য সন্তান ছিলাম।

আমি ইংরাজি সাহিত্য নিয়ে লেখাপড়া শেষ করে,এক সরকারি স্কুলে মাস্টারি জোটাতেই সাতাশ পার করে ফেললাম।অন্তুও মাস্টার্স শেষ করেছে এ বছরই,ইংরাজিতেই।তবে ও আমার থেকে লেখাপড়ায় তিনগুণ ভালো,আর অল্প খাটলেই যে ও, যে কোনো কলেজে শিক্ষকতার সুযোগ পাবে, এ আমি ভালোই জানতাম,কিন্তু স্বীকার করতাম না।তবে শুনেছিলাম অন্তু লেখক হতে চায়।মনে মনে স্বস্তির শ্বাস ফেলেছিলাম শুনে,খানিক ব্যঙ্গ মেশানো তাচ্ছিল্যও ভর করেছিল মনে..ভেবেছিলাম অলীক স্বপ্ন দেখছে উন্মাদটা।খুব ভালো ছবি আঁকত অন্তু,কবিতাও লিখত মনকাড়া,একবার এক আঁকা প্রতিযোগিতায় রাজ্যস্তরে জিতে সোনার মেডেল এনেছিল।ওর লেখা বেশ কয়েকটা কবিতা কিছু বিলিতি ম্যাগাজিনে প্রকাশও হত নিয়ম করে। সবই জানতাম আমরা কিন্তু কোনদিন আমল দিতাম না প্রতিভাবানটাকে।কারণ গাধার পালের মত জনস্রোতে তলিয়ে যাওয়া আমরা, তথাকথিত স্বাভাবিক মানুষরা,সামাজিক গোঁড়ামির নজর নিয়ে ,অন্তুর মধ্যে শুধু ব্যতিক্রমটাই দেখতে পেতাম,বিশেষত্ব গুলো না..!বলা ভালো আমরা দেখতে চাইতামও না।

রাস্তা ঘাটে হঠাৎ অন্তুর মুখোমুখি হয়ে গেলে ওকে এড়িয়ে চলতাম।ও কিন্তু কক্ষনো আমায় এড়িয়ে যেত না,যেখানেই দেখতে পেত, সেখানেই ওর সুঠাম ছয় ফুটের শরীরটা নিয়ে মেয়েলি ছন্দে হেলতে দুলতে এসে কখনো আমার গাল টিপে বা কখনো আমায় জড়িয়ে ধরে আবেগ প্রকাশ করতো। ওর আলিঙ্গনের আন্তরিক উষ্ণতাটা আমি বুঝতেই পারতাম না উল্টে হাসপাস করতাম ওর সাহ্নিধ্যকে এড়িয়ে চলার।বন্ধুবান্ধবদের সামনে বেইজ্জত লাগত আমার, ও সামনে এসে গেলে।যখন আমার ক্লাসমেট ইন্দ্র ওকে দেখে চোখ টিপে নোংরা ভঙ্গিতে বলত..

-"তোর ভাইটা তো মাল একটা রে..তা ওর বিয়ের জন্য পাত্র দেখছিস তো না কি..?"লজ্জায় আমার মাথা কাটা যেত।

স্কুলের কলিগদের সাথে নন্দনে সিনেমা দেখতে গিয়ে আচমকা অন্তুর মুখোমুখি হয়ে গেছিলাম একবার।ও, ওর এক বন্ধুর সাথে একই সিনেমা দেখতে এসেছিল।কোনো বাঁধাবাঁধি রোজকার না থাকলেও আমার আট রোজগেরে কলিগকে আইসক্রিমের ট্রিট দিয়েছিল অন্তু ভীষণ আন্তরিক ভাবেই।ও চলে যাওয়ার পর,ওরই কিনে দেওয়া আইসক্রিম চাটতে চাটতে আমার,ঠোঁট কাটা,বাচাল কলিগ শীর্ষ নির্দ্বিধায় বলেছিল..

-"তোমার ওটা ভাই না বোন তা নিয়ে মাইরি আমি এখনো কনফিউশনে আছি।বাট মালটা সলিড। সাথে আবার ছেলে নিয়ে ঘোরে দেখছি।তা ওকে বোলো.. স্বাদ বদলাতে ইচ্ছে হলে.. আমার দ্বার সবসময় খোলা.."...কথাটা শেষ করে অশ্লীল ইঙ্গিতে হ্যা হ্যা করে হেসেছিল শীর্ষ।

অন্তুর 'দিভাই ' হিসাবে আমার তখন উচিত ছিল শীর্ষকে এক ঠাটিয়ে চড় মারা।ওর এতো সাহস হয় কি করে..?...আসলে ওর সাহসটাতো আমি ই যুগিয়েছিলাম। অন্তুকে নন্দক চত্তরে দেখে..যে পালাই পালাই ভাবটা প্রকট হয়ে উঠেছিল আমার শরীরের প্রতিটা রেখায়..সেটা সহজেই পড়ে ফেলেছিল শীর্ষ।ও বুঝে গেছিল অন্তুকে যা ইচ্ছে বলে কটূক্তি করলেও আমি প্রতিবাদ করব না।কারণ অন্তু আমার দুর্বলতা.. অন্তু আমার গ্লানি..!অন্তুর মধ্যে এমন অনেক গুণ ছিল যা শীর্ষ এজন্মে আয়ত্বে আনতে পারবে না। খুব সহজেই শীর্ষর নোংরা মুখ বন্ধ করাবার জন্য অন্তু হতে পারতো সেদিন আমার শক্তিশালী অস্ত্র..কিন্তু অন্তুর মত শক্তিশালী ব্যতিক্রমী অস্ত্রকে ব্যবহার করার মত শক্তিশালী আমি নিজেই ছিলাম না..আমি ছিলাম লোকের পিছনে কথাবলা,সমালোচনাকারী এক দুর্বলচিত্তের 'দিভাই'।

তারপর এসেছিল সেই বিশেষ দিনটা।বাড়িতেও আমি ইদানীং অন্তুর সাথে কথাবার্তা কমিয়ে দিয়েছিলাম।সরকারি চাকরি,বিয়ের তোরজোড় আর সর্বোপরি ব্যতিক্রম হীন সাধারণ হওয়ার অহংকার আমার চোখে ঠুলি পরিয়ে রেখেছিল।সেদিন সন্ধ্যায় আমাদের বাড়ির ঝুল বারান্দায় বসে পুটপুট করে চ্যাটেই ব্যস্ত ছিলাম ঋদ্ধিমানের সাথে..ঋদ্ধি আমার হবু বর..আমার ক্লাস নাইন থেকে বন্ধু..বর্তমানে ডাক্তার।শীঘ্রই বিয়ে আমাদের।বেশ রোমান্টিক মুডেই ছিলাম,বাধ সাধল অন্তু।এসে হাজির হল আমার কাছে।মিষ্টি হেসে আমার পাশে বসে বলল

-"দিভাই..তুই চলে যাবি বল...?...খুব মিস করবরে তোকে।"....পাত্তা দিলাম না অন্তুর কথায়..আমার আর ঋদ্ধির চ্যাটের মাঝখানে এসে, নিজের ভাট বকা শুরু করেছে বলে আমি তখন যারপরনাই বিরক্ত।কিন্তু সে কথা সরল সিধা অন্তু বুঝলে তবে না..আমি উত্তর দিচ্ছি না দেখে আমার পায়ে চিমটি কেটে চোখ উলটে মেয়েলি ঢং-এ বলে ওঠে..

-"আর কত কথা বলবি বরের সাথে..এখনই সব বলে নিলে পরে কি শুধু ঝগড়া করবি না কি..?"..খিলখিল করে অবিকল মেয়েদের মত হেসে ওঠে অন্তু।বিরক্ত হয়ে ফোনটা রেখে আমি কাঠ কাঠ গলায় বলি..

-"কি বলতে এসেছিস ওটাই বল.."

-"কিছু না তো..এমনিই গল্প করতে এসেছি।আর কদিন পর থেকে তো তোকে দেখতেও পাবো না রোজ রোজ।"..শেষের দিকে অন্তুর গলাটা উদাস হয়ে আসে।কি মনে হতে ওর লম্বা লম্বা চুলগুলো বহু বছর পর এলোমেলো করেদি হাত দিয়ে।কি সুন্দর পশমের মত চুল অন্তুর!!..একটু ভালোবাসার কাঙ্গাল ছিল ছেলেটা..আমার অল্প আদরের উষ্ণ ছোঁয়ায় আহ্লাদে গলে গেলো যেন।আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে নিজের আঙুল নিয়ে খেলতে শুরু করে দিল।আমি তখন অপলক দৃষ্টিতে দেখছি অন্তুকে অনেকদিন পর।কি সুন্দর দেখতে ওকে..!!একটা সাধারণ টি-শার্ট আর পাজামতে প্রকট ওর বলিষ্ঠ পুরুষালী গড়ন।কেন যে এমন হল ও..?এক চাপা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে আমার বুক থেকে।খানিক আনমনা হয়ে গেছিলাম, টনক নড়ে অন্তুর গলার স্বরে..

-"দিভাই..সায়ন্তনদা আর আসে না কেন রে..?"

সায়ন্তন আমার কলেজ ফ্রেন্ড। খুব হ্যান্ডসাম।ওর জন্য আমাদের কলেজের অনেক মেয়েই লাট্টু ছিল।অগে আগে খুব আসতো ও, আমাদের বাড়ি।আমার বিয়ের ঠিক হবার পর আসাটা তলানিতে ঠেকেছে।আসলে সায়ন্তন মনে মনে চাইতো আমায়।কিন্তু আমি পছন্দ করেছিলাম ঋদ্ধিকে,তাই হয়ত অভিমান ওর।কিন্তু সায়ন্তনের ক্রাশ হওয়ার জন্য মনে মনে প্রচ্ছন্ন দম্ভ ছিল আমার।সেদিন হঠাৎ অন্তুর মুখে সায়ন্তনের কথা শুনে বেশ অবাক হয়েছিলাম আমি।মনে এসেছিল,আমার সব বন্ধুদের মধ্যে একমাত্র সায়ন্তন কনোদিনও অন্তুকে নিয়ে মশকারা করে নি।অন্তুর প্রশ্নেত উত্তরে বলেছিলাম

-"হঠাৎ সায়ন্তনের খোঁজ..?"

-"না এমনিই.."খানিক চুপ করে অন্তু বলেছিল..

-"সায়ন্তনদা তোকে খুব ভালোবাসে রে দিভাই..তুই বুঝলি না"'..বিরক্ত হয়েছিলাম আমি,বলেছিলাম

-"ঋদ্ধি, সায়ন্তনের থেকে অনেক বেটার.."

হালকা করে শ্বাস ছেড়ে অন্তু বলেছিল..

-" হুম শুধুই বেটার..বেস্ট না।সায়ন্তনদা মানুষ হিসাবে অনেক ভালো।"

-"তোকে কেউ সায়ন্তনের হয়ে খবরদারি করতে বলে নি।"

-"কেউ না বললেও আমি করব।সায়ন্তনদার কষ্টটা আমার সহ্য হয় না।কারণ আমি..আমি সায়ন্তনদাকে ভালোবাসি। "..কি বলছে টা কি ছেলেটা..?..ধাক্কা দিয়ে কোল থেকে তুলে দিয়েছিলাম ওকে।কর্কশ গলায় বলেছিলাম.

-"মাথাটা কি তোর এক্কেবারেই গেছে না কি..?কি বলছিস তা বুঝিস তুই..?এইসব আবোলতাবোল কথা আমার সামনে বলবি না আর.."

সেই প্রথমবার আমার সাথে তর্ক করেছিল অন্তু।বলেছিল

-"তুই খুব হিংসুটে রে দিভাই..তুই তো ওকে ভালোবাসিস না..অথচ আমি ভালোবাসলেও তোর কি অসুবিধা..?.. "

প্রকৃতই হিংসার এক চিড়চিড়ানি গ্রাস করছিল আমার মনটাকে।অন্তু একটা ছেলে, এটা জানার পরও,ও সায়ন্তনকে ভালোবাসে কথাটা আমার পছন্দ হচ্ছিল না। মাথায় আগুন জ্বলে গেছিল আমার। রাগে হিসহিস করে বলেছিলাম..

-"তুই কি সায়ন্তনকেও নিজের মত মনে করিস না কি..?"আমার কথার শ্লেষটা হয়ত বুঝতেই পারেনি অন্তু।উদাস গলায় বলেছিল..

-"জানি রে..আমার ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই।তবুও ভালোবাসি।খুব ভালোবাসি। সারা জীবন বেসে যাবো, কোনো দাবি ছাড়াই।"..আর সহ্য করতে পারিনি আমি। চিৎকার করে বলেছিলাম..

-"আর কত নোংরামো করবি অন্তু..?ভালোবাসা থেকে ঠিক কি চাস তুই তা সবাই বোঝে..আর সেটা খুব সহজে পাওয়াও যায়।খুঁজে নে..খামোখা সায়ন্তনকে নিজের নোংরামোর জ্বালে জড়াস না।"

-"তুই আমার ভালো বাসার এই মানে বার করলি দিভাই..?"..কয়েক পল স্তব্ধ থেকে বলেছিল অন্তু।
-"তুই ঋদ্ধিদাকে ভালোবাসলে সে ভালোবাসা পবিত্র আর আমি সায়ন্তনদা কে ভালোবাসলে তা নোংরামো..? এ কেমন বিচার রে তোদের..?"

-"চুপ কর তুই প্লিজ।"রগে তখন অন্ধ আমি..-"আমার আর ঋদ্ধির সাথে নিজের ভালোবাসার তুলনা করিস না তুই।তোর ভালোবাসাটা কেবল একটা বিকৃত কাম ছাড়া আর কিছুই না..তা বুঝিস না তুই..?সেই ছোটো থেকেই নিজেকে মেয়ে প্রমাণ করার নাটকটা এইবার বন্ধ কর অন্তু। আর কত জ্বালাবি তুই আমাদের।তুই মেয়ে নয় অন্তু..ভগবান তোকে যে ভাবে বানিয়েছে, সেই ভাবে নিজেকে একসেপ্ট করতে তোর কি এত অসুবিধা..?লোক হাসিয়ে হাসিয়ে কিছুতেই তুই ক্লান্ত হোস না..না রে..?"

অবাক মুখে আমার দিকে চেয়েছিল আমার সুপুরুষ ভাই অন্তু।চোখ দিয়ে অঝোরে ঝরছিল ওর না বলা বেদনাগুলো।ব্যাথার ভারে গোলাপি হয়ে উঠেছিল ওর নরম দাড়ির ফর্সা মুখটা।সব দেখেও উপেক্ষা করেছিলাম আমি।কন্না ভেজা কাঁপা কাঁপা গলায় বলেছিল অন্তু..

-"আমায় ভগবান যা করে পাঠিয়েছেন আমি নিজেকে সেই ভাবেই মেনে নিয়েছি রে।কিন্তু তোরা পারিস নি।তোরা চাস আমি নিজেকে সেই ভাবে মানিয়ে নিই,যা আমি নয়।তোরা কেন বুঝতে পারিস না..বহিরাঙ্গে আমি পুরুষ হলেও অন্তরের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে আমি নারী।আমার নিজেরও খুব কষ্ট হয় আমার এই দ্বিমুখী সত্ত্বায়..কিন্তু শুধু লোকলজ্জার ভয়ে আমি আমার সত্ত্বাটাকে কেন অস্বীকার করব তা বলতে পারিস..? সেটা কি নিজের বিবেকের সাথে বেইমানি নয়..?..একজন নারী হিসাবে আমি কেমন করে আর এক নারীকে ভালোবাসবো..?সেটা তার সাথে বেইমানি নয়..?দিভাই আমি তোদের ভাষায় লেডিস হতে পারি..মাল হতে পারি..কিন্তু আমি বেইমান নয়।"..

চোখ মুছতে মুছতে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়িয়েছিল অন্তু।তারপর থেমে গিয়ে থমথমে গলায় বলেছিল..

-"বড়মা ছাড়া আর কেউ বুঝল না রে আমায়..তুইও না।বাড়ির সবার কাছেই আমি একটা জ্বালাতন।আমিও আর পারছি না রে।.. চিন্তা করিস না দিভাই..তোর বিয়েতে আমি লোক হাসাবো না।"..চলে গেছিলো অন্তু।

তার পর দিন সকাল থেকে অন্তুকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি বাড়িতে।থানা পুলিশ অনেককিছু করেও নাগাল পাইনি আমারা ছেলেটার।দিন দুই পর পাওয়া গেছিলো ছেলেটাকে।বাড়ি থেকে বেশ কিছুদূরে এক লেকের জলে উপুড় হয়ে ভাসছিল অন্তু...!!!পুলিশ যখন ওকে জল থেকে তোলে আমি তখন দেখছিলাম ওকে।দুইদিন জলে ডুবে থাকে ফুলোফুলো ফ্যাকাসে অন্তু..ওর প্রিয় হলুদ পাঞ্জাবি আর সাদা পালাজোটা পরে আছে আর ওর নাক, কান,গলা,হাত সব জায়গা জাংক জুয়েলারিতে ভর্তি।চোখে মুখে ধুয়ে যাওয়া কাজল লিপস্টিকের ছোপ।বেচারা অন্তু মনেহয় আত্মহত্যা করার সময় আর রিস্ক নিতে চায়নি।পারাপারে যাওয়ার সময় যদি বিধাতা আবার ওকে পুরুষ বলে ভুল করে ফেলেন তাই সারা শরীরে প্রকট করে নিয়ে গেছে ওর অন্তর থেকে নারী হবার চিহ্ন।

চলে গেছে অন্তু..আমার ভাই অন্তর সেন।ওর ভালো নাম অন্তর হলেও ওর অন্তরটাকে আমরা কেউ বুঝিনি।নারী-পুরুষের কনফিউশিনে, শুধু একটা মানুষ হিসাবে কোনোদিনও আমরা অন্তুর দিকে তাকিয়ে দেখিনি।স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক, নারী-পুরুষ,সাধারণ -ব্যতিক্রমী.. এই সব বিভাগের সাথে অন্তুকে মেলাতে মেলাতে 'সবার ওপরে মানুষ সত্য'..এই কথাটা আমাদের কারো মনে থাকেনি।সত্যিই তো.. শুধু একটা মানুষ হিসাবে তো অন্তু একদম স্বাভাবিক ছিলো..রাগ, অভিমান, অপমান বোধ,ভালোবাসা.. সব ছিল ওর মধ্যে...কিন্তু আমাদের মত অতিরিক্ত স্পেসিফিক অমানুষগুলো তা দেখতে পেলো না।ওর মানুষ সত্ত্বাটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে, ও মেয়ে না ছেলে..এইটা নিয়েই আমরা কাটাছেঁড়া করে গেলাম ওর পুরো জীবদ্দশাটায়। এখন মনে প্রশ্ন তোলে সেই বিখ্যাত গানের লাইনটা..

" বনমালী তুমি পরজন্মে হইয়ো রাধা"..

অন্তুর মত বনমালীদের রাধা হবার জন্য কেন পরজন্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে..?কেন এই জন্মেই তারা রাধা হতে পারে না..কেন আমরা তাদের হতে দিই না..?..

জানা নেই উত্তর।শুধু বলার আছে একটাই কথা.."বনমালী.. পারলে ক্ষমা করিস।"

ধর্ষিত হচ্ছে দেশ
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

ধর্ষিতার নীরব চিৎকারে আজ প্রকম্পিত বাতাস ,
আর কতো তনু বিউটিদের হতে হবে এমন লাশ ?
অসহায় পিতামাতার সম্বল আজ শুধুই দীর্ঘশ্বাস ৷

ধর্ষকের কাঁধেই কাঁধ মিলিয়ে দিব্যি আছে সমাজ ,
সাধের গণতন্ত্রে আজ চলছে শুধু ধর্ষকেরই রাজ
আর অসহায় ধর্ষিতার মাথায় শুধু কলঙ্কের বাজ ৷

স্বাধীনতা, স্বাধীনতা, স্বাধীনতা সে আজ কোথায়?
নীতিকথা সেও আজ মোটা মানিব্যাগে মুখ লুকায়
আইন সেতো বন্দী আছে ঐ ক্ষমতাধরের জিম্মায় ৷

গণতন্ত্র ? তাকেতো দেখি আজ সংবিধানে আটকা ,
আর স্বাধীনতা ? সেও আজ একটা বাক্সবন্দী প্রথা ,
মনুষ্যত্ব আজ মুখ থুবরে পড়ে থাকা এক নীতিকথা ৷

প্রতিনিয়তই ধর্ষণ হচ্ছে আমার সোনার বাংলাদেশ ,
এ যেনো সেই একাত্তরের পাকিস্থানী হায়েনার বেশ
জাতি তুমি কতো লুকাবে প্রিয় পতাকায় তব ক্লেশ ?

"স্বাধীনতা"
***রহমান মাসুদ***

অত্যাচার শোষন,‌নি‌পীড়ন,‌বৈষ্যমতার বি‌ভেদ
প্র‌তি‌টি ক্ষে‌ত্রে হরণ ন্যা‌য্য প্রাপ্য অধিকার,
প‌শ্চিমা শাষ‌কের কুচক্রা‌ন্তের রোষান‌লে
শা‌ন্তি প্রিয় নি‌রীহ বাঙা‌লির লু‌ন্ঠিত আহার।

এদে‌শের সম্পদ নি‌র্বিচা‌রে স্হানান্তর
যোগা‌তে সাম‌রিক জান্তার আমোদ প্রমোদ,
মে‌হেন‌তি জনগ‌নের ভা‌গ্য নি‌য়ে ছি‌নি‌মি‌নি
নিজ অং‌শের সমৃ‌দ্ধের হীন‌চেতনা বোধ।

পথহারা বাঙা‌লির পরাধীনতার মর্ম‌বেদনায়
পা‌য়ের শিকল বেড়ী ছিন্ন‌ ভি‌ন্নের আকুলতা,
সন্ধান চে গু‌য়েভা‌রা,‌ কা‌স্ত্রোর‌ প্র‌তিচ্ছায়া
সবার ক‌ন্ঠে,প্র‌য়োজন একজন ব‌লিষ্ঠ নেতা।

জা‌তির সে ঘোর অমা‌নিশার অন্ধকা‌রে
বাংলার আকা‌শে উদিত উজ্জল এক নক্ষত্র
নক্ষ‌ত্রের ছায়াত‌লে সা‌রে সাত কো‌টি প্রাণ
সুদৃঢ় বন্ধ‌নে মু‌ক্তিকামী বীর জা‌তি আবদ্ধ।

সেই প্রিয় মুখ সবার হৃদ‌য়ের অঙ্কিত নাম
মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবর রহমান,
সর্ব‌শ্রেষ্ঠ বাঙা‌লির সিংহ হৃদয়ের সংস্প‌র্শে
পরাধীনতার ভাঙ্গ‌তে শিকল স্বাধীনতার গান।

বঙ্গবন্ধুর মু‌ষ্টিবদ্ধ হা‌তে হাত রে‌খে প্র‌তিজ্ঞা
প্র‌তি‌টি বাঙা‌লিই একেকজন মু‌জিব সেনা,
প্র‌তিবাদী ক‌ন্ঠের সুর আর নয় পিছু হাটা
জয় বাংলার ম‌ন্ত্রেই শেষ গন্ত‌ব্যের ঠিকানা।

বিপ্লবী নেতার জ্বালাময়ী ব‌লিষ্ঠ নেতৃ‌ত্বে
সাম‌রিক জান্তা চিন্তায় চি‌ন্তিত,ভ্র কু‌ন্ঞ্চিত,
৭০ সাল‌ে নির্বাচন আহবা‌নের গৃ‌হীত সিদ্ধান্ত
নির্বাচ‌নে জা‌তি বঙ্গবন্ধু‌কে করে‌নি ব‌ঞ্চিত।

নির্বাচ‌নে নিরংঙ্কুস সংখ্যা গ‌রিষ্ঠতা দে‌খে
ক্ষমতা হস্তান্ত‌রে কত নীল নকশার পায়তারা,
গোল টে‌বিল আলোচনার ফ‌ন্দি ফি‌কি‌রে
গোপ‌নে সাম‌রিক শ‌ক্তি বৃ‌দ্ধিতে মা‌তোয়ারা।

টাল বাহানায় মু‌ক্তিকামী বাঙা‌লির ক্রুদ্ধতা
বঙ্গবন্ধুর ডা‌কে রেস‌কোর্স ময়দা‌নে আগমন,
৭ই মার্চ সৃ‌ষ্টি অভুতপূর্ব মু‌ক্তির মহা‌মিলন
সভাস্হল প‌রিপূর্ন স্হান নেই তিল ধারন।

বজ্রক‌ন্ঠের বজ্র হুঙ্কা‌রে র‌চিত শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য
"এবা‌রের সংগ্রাম মু‌ক্তির সংগ্রাম" প্রিয় বানী,
"এবা‌রের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" কথা‌টি
বাংলা‌দে‌শের স্বাধীনতা ঘোষনারই প্র‌তিধ্ব‌নি।

"প্র‌ত্যেক ঘ‌রে ঘ‌রে দূর্গ গ‌ড়ে তু‌লো" নির্দে‌শে
টেকনাফ হ‌তে তেঁতু‌লিয়া,সুরমা হ‌তে পাথু‌রিয়া,
বঙ্গবন্ধুর বজ্রক‌ন্ঠের আহবা‌নের স্পন্দ‌ন
প্রবা‌হিত মু‌ক্তিকামীর প্র‌তি‌টি শিরা উপ‌শিরা।

বাঙা‌লির গনজাগর‌নে বেসামাল স্বৈরাচার
ঘটলো ন‌জিরবিহীন বর্বর ঘটনার সূত্রপাত,
২৫শে মার্চ  নিস্তব্ধ কা‌লো রা‌তের আধা‌রে
হায়নার নিষ্ঠুর ছোবল চায় বাঙা‌লির নিপাত।

অমান‌বিক হত্যায‌জ্ঞের চিহ্ন সারা দেশময়
অলি‌তে গ‌লি‌তে পুরুষ নারী শিশুর মৃত দেহ,
বিনা অপরা‌ধে শা‌ন্তিকামী নি‌রিহ মানু‌ষের বু‌কে
অগ‌নিত বু‌লে‌টের আঘা‌তে রক্ত প্রবা‌হিত।

প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শক্রর হা‌তে গ্র‌েফতার
অস্ত্রের মু‌খে বাঙা‌লি‌কে ব‌শের পায়তারা,
"দাবায়া রাখ‌তে পারবা না" সেই হু‌শিয়ারী
অন্ত‌রে গাঁথা বাঙা‌লি তাই লড়‌তে ঘরছাড়া।

মু‌জিব নগ‌রে গ‌ঠিত রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলার
লাল সবু‌জের পতাকা সগ‌র্বে উড্ডীয়মান
"আমি য‌দি হুকুম দেবার নাও পা‌রি" ম‌ন্ত্রে
বিউগ‌লের সু‌রে বা‌জে স্বাধীনতার গান।

"রক্ত যখন দি‌য়ে‌ছি আরো রক্ত দেব"উ‌ক্তি‌টি
সংক্রামন প্র‌তি‌টি মু‌ক্তি‌যোদ্ধার চেতনায়,
নির্ভ‌য়ে বী‌রেরা মু‌ক্তির সন্মুখ সম‌রে রত
মাতৃভূ‌মি রক্ষায় ‌প্রিয় জীবন তুচ্ছ নির্দ্বিধায়।

সকল পেশার জনগন মু‌ক্তি‌যুদ্ধে সা‌মিল
পাক সেনা‌দের প্র‌তি‌রো‌ধে নির্ভিক দূর্বার,
স্ব‌দে‌শের কিছু দুষ্টক্ষত মা‌য়ের ইজ্জত লুন্ঠ‌নে
শক্রর সহ‌যোগীতায় আল বদর রাজাকার।

সা‌রে নয় মাস বি‌ভী‌ষিকা রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম
দুই লক্ষ বীরঙ্গনার লু‌ন্ঠিত অমূল্য ইজ্জত,
ত্রিশ লক্ষ শহী‌দের চির মহান আত্নত্যা‌গে
১৬ই ডি‌সেম্বর শক্রর আত্নসমর্প‌ণের শপথ।

স্বাধীন দে‌শের সর্বত্র যু‌দ্ধকালীন ধ্বংসযজ্ঞ
তারই মা‌ঝে নতুন ক‌রে দেশ গড়ার পণ,
পা‌কিস্তা‌নের কারাগার হ‌তে মুক্ত স্বাধীন দে‌শে
১০ই জানুয়ারী সর্ব‌শ্রেষ্ঠ বাঙা‌লির প্রত্যাবর্তণ।

যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রিয় মাতৃভু‌মি‌কে ক‌রে অবলোকন
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প‌রিকল্পনা,
জা‌তি‌কে আপন ভে‌বে অর‌ক্ষিত জীবন যাপন ‌
দে‌শের মানু‌ষের মু‌খে হা‌সি ফুটা‌নোর সাধনা।

দেশ স্বাধীন হ‌লেও স্ব‌দেশী শক্র হয়‌নি শেষ
গোপ‌নে চ‌লমান হীনচক্রা‌ন্তের বীজ বপন,
১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫এ সৃ‌ষ্টি কলঙ্কিত অধ্যায়
সপ‌রিবা‌রে মহান নেতার জীবন প্র‌দীপ হরণ।

পরবর্তী‌তে কত ঘটনা অব‌লোকন নির্দ্বিধায়
ব্যথিত জা‌তীয় পতাকা কলঙ্কিতর ব্যথায়,
পতাকার চির বি‌রোধী চির শক্রর বাহ‌নেও
স্বাধীন দে‌শের পতাকা উড়ে‌ছে ম‌রি লজ্জায়।

রক্তের সাগর পে‌রি‌য়ে যে স্বাধীনতার অর্জন
আজ প্রজ‌ন্মের হা‌তেই সে পতাকার দন্ড,
প্রজন্ম‌কে জান‌তে হ‌বে স্বাধীনতার ইতিহাস
যা ব‌ক্ষে ধারন ক‌রে নে‌বে সকল সিদ্ধান্ত।

স্বাধীনতা নয় ছে‌লে খেলার ঠুন‌কো দ্রব্যা‌দি
সে তো মা‌য়ের কা‌ছে শপথ করা রক্ত গ্রহন
কত শহী‌দের দেহ ঘুমায় মা‌টি‌কে ভে‌বে আপন,‌
সে মা‌টির সম্মান রাখবই দি‌য়ে হ‌লেও জীবন।

"ছ‌কেবাঁধা শিশুকাল"
***রহমান মাসুদ ***

নতুন প্রজন্ম   আদ‌রের সন্তান
বানা‌বো বিদ্বান,
জন্মলগ্ন হ‌তেই   গ্রহন প্রস্তু‌তি
সন্ধান শিক্ষাপ্র‌তিষ্ঠান।

বয়স হ‌লো  তিন বা চার
নেই নিস্তার,
করুক কান্নাকা‌টি   খেলার আবদার
অগ্রা‌ধিকার পরীক্ষার।

নামকরা স্কুল   ভ‌র্তি যুদ্ধ
লি‌খিত প‌রীক্ষা,
ভাল ফলাফল   সা‌থে অনুদান
সমাপ্ত প্র‌তীক্ষা।

কাকা ডাকা  ভোর বেলা
শয্যা ছাড়া,
পোষাক প‌রিধান  নাস্তায় অনিহা
স্কু‌লের তাড়া।

চলমান যানবাহন  তৃ‌প্তির দোলন
ঘু‌মি‌য়ে পড়া,
স্কু‌লের ফটক  এ্যাসে‌ম্বলীর ঘন্টা
শুরু তাড়াহুড়া।

চেয়া‌রের সা‌রি   দেওয়া‌লে বোর্ড
শ্রেনী কক্ষ,
ঢুলুঢুলু চোখ  ঘু‌মে কাতর
নয় গ্রহন‌যোগ্য।

অক্ষর পাঠদান  খেলাধুলা গান
শিক্ষা প্র‌তিষ্ঠান,
শিক্ষক শি‌ক্ষিকা  হৃদ‌য়ে মমতা
ভা‌বে সন্তান।

অভিভাব‌কের চাপ   সমা‌জের স্বভাব
এক‌দি‌নেই শি‌ক্ষিত,
স্কুল ক‌তৃপক্ষ  অভি‌যো‌গে ক্ষিপ্ত
সি‌লেবাস অতি‌রিক্ত।

পড়ার প‌রিমান  পাহাড় সমান
শিশু‌দের জন্য,
প্র‌তি‌দিন একগাদা   বা‌ড়ির কাজ
সর্বা‌গ্রে অগ্রগন্য।

ছু‌টির ঘন্টা   ভীষন যান‌যট
সময় বেহাত,
অব‌শে‌ষে এলো   বা‌ড়ির দ্বোর
ক্লা‌ন্তির অবসাদ।

নেই বিশ্রাস  দুপু‌রের ঘুম
কো‌চিং গমন,
রা‌তে বাসায়  হোমওয়ার্কে বসা
এইতো জীবন।

এভা‌বে শিশুকাল‌   হয় অতিবাহিত
প্র‌াতিষ্ঠা‌নিক শিক্ষায়,
আচার আচরন‌ে   মানবতার শিক্ষ‌নে
শুধুই অবজ্ঞায়।

ঘ‌রের শিক্ষা     মুরুব্বী‌দের দীক্ষা
অতি প্র‌য়োজন,
পুঁ‌থিগত বিদ্যা   হ‌লেই কি অর্জন
প‌রিপূর্ণ শিক্ষাগ্রহন ? ?

সাধ আছে সাধ্য নেই
- শাহিনা কাজল

সাধ আছেতো সাধ্য নাই
সাধ্যে এবার দাও,
কষ্টে রেখে আমায় তুমি
কি সুখ বলো পাও?

চোখ দিয়েছো দেখতে তুমি
কাজের জন্য হাত
কষ্টের ভেতর তবুও যেন
নামে আঁধার রাত।

পা দিয়েছো চলার জন্য
মন দিয়েছো বুঝতে,
তবে কেন মন্দির কাবা
যেতে হবে খুজতে?

সাধ যা আছে সাধ্যেতো নেই
আছি হয়তো সুখে,
না পাওয়ারই তৃষ্ণা তবু
জমে থাকে বুকে।

পুর্ন ভালবাসা
- মো: তারেক আনোয়ার

আমি পুর্ন ভালবাসা পাই আমার মায়ের
ঐ মুখের হাসির মাঝে,
হাসি মুখে  আমার আবদার হাজারও
যথা সাধ্য পুরনের মাঝে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই বাবার বোকা
আর ভিন্ন ভিন্ন রকম শাসনে,
পড়া লেখা করবি না তো করবিটা কি
এসব রকম ভাষনে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই দেনা আমাকে দে
ভাই বলে বোনের ডাকে,
যা আর বলবো না কথা বলে যখন
বোন  আমার ক্ষনীকের রাগে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই ভাই আমার
যখন ডাকে ভাই বলে,
থাকবে না ভালবাসা কেন থেকেছি
একই মায়ের আচলে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই অবুঝ শিশুর
কাছে আসার মাঝে,
থাকেনা কৃত্রিম অভিনয় কোন তাদের
নিষ্পাপ ভালবাসার মাঝে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই মৃদু বাতাসের
মাঝে নিজেকে অর্পন করে,
বৃষ্টির প্রতিটি ফোটার কাছে নিজেকে
নত শির সমর্পন করে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই আকাশ ভরা
তারা আর চাঁদ দেখে,
জ্যোৎস্নায় পাগল করে দেয়া আলোয়
ভেজা ভেজা রাত দেখে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই খুব ভোরের আযানে
উঠে যাওয়া নামাযির নামাযে,
আমার আল্লাহ্'র আমার নবীর সাথে হওয়া
ইসলামের ঐত্যিহাসিক মেরাজে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই প্রতিবেশীর আর্তনাদে
কম্পিত মনের সাথে সিক্ত চোখ দেখ,
অক্লান্ত সেবায় সুস্থ হয়ে যাওয়া রুগির কৃতজ্ঞতায়
ভোরা মন আর আনন্দিত চোখ দেখে।
আমি পুর্ন ভালবাসা পাই শিক্ষকের শিক্ষা
শাসন আর লাঠির আঘাতে,
নিজের জীবনের সুখ ত্যাগ  করে সকল
শিক্ষারতদের মঙ্গল চাওয়াতে।

কবিতা ক্যু
– সাকিব জামাল

পৃথিবীটি বদলে গেছে !
আদিম জনগন, কতো কষ্ট করে –
একজন আরেকজনের ঘর বাধতেন ।
মিলেমিশে পশু শিকার করতেন ।
আত্মরক্ষার উপকরণ বানাতেন ।
আগুন জ্বালিয়ে আলোকিত করতেন ।

এভাবে চললো বয়ে সময় এগিয়ে. রেখাচিত্র পাহাড়ের মত –
শুণ্য থেকে শিখরে, শিখর থেকে বোধহয় আবার শুণ্যের দিকে যাত্রা ভালোবাসার ।

আমরা এখন অন্যের  ঘর ভাঙতে শিখেছি !
আমরা অন্ধকার ভালোবাসতে শিখেছি !
আমরা ধ্বংস যজ্ঞের খেলা জানি !
অন্যকে ঠকিয়ে নিজে জেতার ধর্ম মানি !
আরো, আরো অধ:পতনের যাত্রী, বিবেক নি:শ্বেষ ।

শানে নুযুল শেষ ।

ঘুরে দাড়ানোর এখনই সময় ।

একটি ক্যু হবে !
অচিরে, বিশ্বজুড়ে !
সেনাবাহিনী অসংখ্য, কাতারে কাতারে সৈন্য !
শতকরা নিরানব্বইভাগই একাত্মতা জানাবে !
আমি নিশ্চিত – তুমিও সহযোদ্ধা হবে !
তবে !!!

প্রস্তুতি অসম্পন্ন !
অস্ত্র শানাতে হবে আরো !

নিখুঁত তীরন্দাজ হতে হবে !
আঘাত লক্ষ্য-নিশানা মোতাবেক চালাতে হবে ।
কোন ছাড় দেয়া হবেনা ।
পিছপা হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা ।

ঢংকা বাজাও !
রটিয়ে দাও-
আকাশে, বাতাসে,
প্রান্তরে, প্রান্তরে,
প্রতিধ্বনিত কন্ঠ থেকে কন্ঠের ঝংকারে !

একটি ক্যু হবে !
অচিরে, বিশ্বজুড়ে !
ক্যু হবে !
ক্যু!

ভয় নাই !

এই যুদ্ধে একমাত্র যুদ্ধ উপকরণ – তীর !

ভালোবাসার তীর !
প্রেমের তীর !
কবিতার তীর !
কবি’র কোমল হাতের স্পর্শের তীর !

লক্ষ্য বস্তু –
মানবের বিবর্তীত হৃদয়-
যেথায় ভালোবাসার শক্তি হয়েছে ক্ষয় !

প্রতি তীরের সাথে বেঁধে দেয়া হবে চিরকুট –
ভালোবাসার চিরকুট ।
সাম্যের চিরকুট ।
মানবাধিকারের চিরকুট ।

মানব প্রেমের কবিতায়, কবিতায় –
স্বপ্নের পৃথিবী গড়ার প্রত্যাশায় –
একটি ক্যু হবে !
কবিতা ক্যু !

(কবিতাটি “কবিতা ক্যু” বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।)

মনুষ্যত্ব
- অনন্যা দেবরায়
(১)
"ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা কর মাহি..প্লিজ।এখন তো আমরা দুইজনে ই যথেষ্ট পরিণত। ছোটোবেলার আবেগ কি আর এখন চলে বল??...আর..আর সেই সিলি সেন্টিমেন্ট কে পাত্তা দিতে গিয়ে আমি তো আমার ফ্যামিলি কে হারাতে পারি না...আফটার অল দে আর মাই ওন ব্লাড।..আই কান্ট ইগনোর মাই ব্লাল রিলেশনস ফর ইউ "...এতো গুলো কথা একটানা বলার পর যেন অল্প হাঁফিয়ে গেছিলো আনুপম।পকেট থেকে রুমাল বেড় করে ওই মধ্য অক্টোবর মাসেও কপাল মুছেছিল সে।একটু দম নিয়ে আবার বলেছিল,কিছুটা সাফাই গাইবার সুরেই-"আর দেখো আমাদের দু-জনের ফ্যামিলিই তো মারাত্মক কনজারভেটিভ,মানবে না তারা আমাদের রিলেশন...তোমাকে,আমাদের ঘরের বউ হিসাবে তো জাস্ট ভাবাই যায় না.. তো কি লাভ বল তাদের ফালতু কষ্ট দিয়ে?..আফটার অল আমি ব্রাহ্মণ সন্তান।আমার ঠাকুমা এসব মেনে নেবেন না কিছুতেই। সো ইট'স বেটার টু লিভ।"......চলে গেছিলো অনুপম, হয়তো ভুলেও গেছিলো সব।কিন্তু  মাহির মনে আজও  সেই সন্ধ্যের স্মৃতি অমলিন।
মাহি আর অনুপমের ভালোবাসা প্রায় ৬ বছরের পুরনো ছিলো।বোধহয় অনুপমের কাছে একটু বেশীই পুরনো হয়ে গেছিলো।আর তাই তা ঝেড়ে ফেলার তাগিদ অনুপমের যেন একটু বেশীই ছিলো। মাহিকে বলা সে সন্ধ্যেবেলা অনুপমের কথাগুলো ছিল একটা জোর করে টেনে চলা নাটকের ইতি টানার চেষ্টা।অনুপমের সেই আপ্রাণ চেষ্টাকে সেদিন বিফলে যেতে দেয়নি মাহি।সরে এসেছিল অনুপমের জীবন থেকে।
মাহির সাথে অনুপমের আলাপ মেডিকেল কলেজে,অনুপম মাহির থেকে এক বছরের জুনিয়ার ছিলো।ধনীর দুলাল উপরন্তু মেধাবী অনুপমের স্তাবক এবং অনুরাগিণীর সংখ্যা খুব একটা কম ছিলোনা কলেজে।তবুও মাহির চোখ জ্বালানো রূপই পাগল করে তুলেছিল অনুপমকে।প্রমের আবেগে সব কিছুকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে মাহির কাছে আসে সে।পরিবার,আত্মীয়, সমাজ,বয়স,সংস্কার সবকিছু কেই গৌণ করে তখন আনুপমের কাছে মূখ্য তখন মাহি।মাহির বাস্তববাদী যুক্তি ও টলাতে পারেনি মাহির প্রতি অনুপমের দুর্নিবার  প্রেমকে।প্রথম প্রথম মাহি একটু রাশ টানার চেষ্টা করলেও শেষ অবধি সেও ভেসে গেছিলো। পাগলের মত ভালোবেসেছিল অনুপমকে।শুধু অনুপম,...৬টা বছর মাহির জগৎ যেন ভরেছিল ওই একটা মানুষ কে নিয়ে।..কিন্তু এর পরও সব শেষ হয়ে গেলো!!!মিথ্যে প্রমান হয়ে গেলো মাহির পাগলপারা ভালোবাসা। তাকে একা করে চলে গেলো অনুপম।যাবার আগে অনুপম যে যুক্তি গুলো মাহিকে দিয়েছিল তা নিয়ে আর মাহি তর্ক-বিতর্ক করেনি।মাহি বুঝেছিল অনুপম ভিতু, সে একজন সফল ডাক্তার হলেও উপযুক্ত মানুষ হতে পারেনি।সংস্কারের বেড়াজাল সে নিজেই টপকাতে পারবে না,শুধু শুধুই ঠাকুমার দোহাই দিয়ে নিজের চোখে নিজেই ধুলো দিচ্ছে অনুপম।... সরে এসেছিল মাহি অনুপমের জীবন থেকে।আর বিচ্ছেদের মাত্র তিন মাসের মাথায় অনুপমের  বিয়ের খবর পেয়ে শহর ও ছেড়েছিল চিরতরে।
আসামের সবুজ স্নিগ্ধ পরিবেশে একটু একটু করে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিল মাহি।অনুপমের কাছ থেকে পালানোর জন্য আসামের এক প্রতন্ত জেলা হসপিটালের চাকরির অফারটা নিয়ে আর দু-বার ভাবেনি মাহি।মোটামুটি চলছিল মাহির জীবন। নিজের জীবনের সাথে আর কারোকে জড়াতে  মন চায়নি মাহির।তার মা যে দু-এক বার বিয়ের কথা বলেননি তা নয়।কিন্তু মাহি চায়নি অন্যকারো কে বিয়ে করে তার জীবনটা নষ্ট করার।আসলে মাহি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতো যে আর একফোঁটাও ভালোবাসাও অবশিষ্ট নেই তার মনে অন্যকারোকে দেবার মত।তাই মাহি নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিয়েছিল।ভেবেছিল মাহি,এমন করেই হয়তো বাকি জীবনটা কেটে যাবে কাজের মধ্যদিয়ে। কিন্তু বিধাতা যে অন্য কিছুই লিখেছিলেন মাহির ভাগ্যে!!
আর পাঁচটা দিনের মত সে দিনও সন্ধ্যাবেলা হসপিটালে নিজের কাজ সারছিল মাহি।হঠ্যাৎ হসপিটালে এক চাঞ্চল্য খেয়াল করে।ছোট্ট হসপিটাল তো,তাই অল্প চাঞ্চল্যও বড় আলোড়ন সৃষ্টি করে।এক ওয়ার্ডবয় কে জিজ্ঞাস করায় জানতে পারে,এক মর্মান্তিক এক্সিডেন্ট কেস এসেছে।কার ক্রাশ, স্বামী -স্ত্রী দুইজনই মৃত।স্ট্রেচারে শোয়ানো সাদা চাদরে জড়ানো মৃত অনুপমকে প্রায় সাতবছর পর দেখেও চিনতে একটুও সময় লাগেনি মাহির।পুরো দুনিয়াটা চোখের সামনে দুলে উঠেছিল।বুকের ভিতরটা ব্যাথায় মুচড়ে উঠেছিল মাহির।চোখ দিয়ে স্রোতের মত গড়িয়ে এসেছিল সাত বছরের জমানো ব্যাথা।চোখের সামনে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিলো।এতো!!...এতো ভালোবাসে সে অনুপম কে!!!!!এখনো???
(২)
......"মনি...ও মনি, আমি রেডি।...চলো এইবার...."অনুর ডাকে বাস্তবে ফিরে আসে মাহি।আজ মাহি প্রায় মধ্য চল্লিশ। চুলে রূপালী রেখা,চোখে হালকা চশমা,অল্প ভারিক্কি শরীর।
..না জানি আজ এতো কেন মনে পড়ছে অনুপমের কথা...নাঃ..আর ভেবে লাভ নেই।..চোখ মুছে মন শক্ত করে উঠে দাঁড়য় মাহি।ঘর থেকে বেড় হতেই মাহি মুখোমুখি অনুর।অনু..অনুরূপা ব্যানার্জী...মৃত অনুপম ব্যানার্জীর সন্তান!!..সে দিনের কার এক্সিডেন্টে আশ্চর্য ভাবে বেঁচে গেছিলো বছর তিনেকের অনু।কিন্তু অনুপমের প্রবাসী ভাই ওই 'অপয়া মেয়ের' দায়ভার নিতে অস্বীকার করে,ওকে অনাথালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন পুলিশকে।শোকে আতংকে প্রায় বধির ওই এক রত্তি শিশুর ফ্যালফ্যালে অসহায় চাউনিকে উপেক্ষা করতে পারেনি মাহি সে দিন।নিজের মনের সাথে মারাত্মক যুদ্ধ করে নিয়েছিল কঠিন সিধান্ত।রেখে দিয়েছিল অনুকে নিজের কাছে।অবিকল অনুপমের মত মুখশ্রী হওয়ার জন্য মাহি ওর নাম রেখেছিল  অনুরূপা। না নিজের পরিচয়ে বড় করেনি মাহি অনুকে..বড় করে তুলেছে অনুপমের মেয়ে হিসাবেই।অনুপমের উপর তীব্র অভিমান থেকেই কোনদিন মাহি নিজেকে অনুর মা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাও করেনি।আফটার অল অনুও তো ব্রাহ্মণ সন্তান.. আর মাহি যে....।অনুও যদি কোনদিন তার বাবার মত মাহির দিকে আঙুল তোলে?...আরও একবার.. তা হলে,..তা হলে পারবে না মাহি তা আর সহ্য করতে।
আজ মাহির বড় আনন্দের দিন।
অনু ক্লাস টেনের বোর্ড এক্সামে সারা রাজ্যের মধ্যে সেকেন্ড হয়েছে।আর সেই উপলক্ষে আজ সরকার থেকে সংবর্ধনা দেবে।আর সেইখানে যাবার জন্যই আনুর অমন হাঁকডাক মাহি কে।
যথাসময়ে মাহি অনুর সাথে উপস্থিত হয় অনুষ্ঠানে।একসময়ে অনুর ডাক পড়ে মঞ্চে।রাজ্যের বড় বড় মন্ত্রীদের সামনে,প্রেসের সামনে প্রাইজ নেবে অনু।গর্বে মাহির বুক ভরে ওঠে।অনুর মা না হতে পারে কিন্তু একরত্তি বয়স থেকে মাহিই তো ওকে বড় করে তুলেছে।জীবন উজার করে ভালোবেসেছে অনু কে।সব সময় মনে হয়েছে,যদি সব ঠিক থাকতো, তাহলে হতেও তো পারতো অনু তার নিজের সন্তান।অনুকে বড় করে তুলতে তুলতে মাহি অবাক হয়েছে এটা দেখেই,যে তার মধ্যে এতো ভালোবাসা অবশিষ্ট ছিলো!হয়তো বা অনু,অনুপমের মেয়ে বলেই সে এতো স্পেশাল মাহির কাছে।মাহির প্রাণ সে। আকুল করা পাগলপারা ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে অনুকে মাহি।অনু কিন্তু সেই ছোটো থেকেই সবটা জানে,জানে যে মাহি আইনত তার রক্ষাকত্রী হলেও,তার সাথে মাহির কোন রক্তের যোগ নেই।আর আশ্চর্য মেয়ে এই অনু!কি ভীষণ চাপা,একটু বড় হতেই নিজের চারপাশে এক অদৃশ্য পাঁচিল গড়ে নিয়েছে।নিজের মত ব্যস্ত থাকে নিজের জগতে।ভয় হয় মাহির,কি জানি.. হয়তো বা সে মাহিকে ঠিক মন থেকে মেনে নেয়নি।...ঠিক তার বাবা মত হয়তো...!!!

অনুর গলার আওয়াজে অন্যমনস্কতা কাটে মাহির।...সংবর্ধনা নেবার আগে অনু কিছু বলছে মঞ্চে দাঁড়িয়ে।মাহি শোনে অনু বলছে,"-আমার সাফল্যর জন্য আমি বিশেষ কারো কে থ্যাংকস দিতে চাই না।এ আমার রাত দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের রেজাল্ট।"... ব্যাথায় মাহির বুকটা চৌচির হয়ে যাচ্ছে যেন।..ওদিকে বলে চলেছে অনু..."আমার ওয়ার্ল্ডে বিশেষ কেউ নেই,বেসিকালই আমি একাই,কিন্তু শুধু এক জন আছে...আর সে থাকায় আমি আমার ওয়ার্ল্ডে আর করো অভাব বুঝতেই পারি না,সে সূর্যের মত আলো দিয়ে ভরিয়ে রাখে আমার জগত কে...সে আমার..মা!!...হ্যাঁ..সবাই জানে যে আমি অনাথ।কোন ছোটবেলায় আমার বায়োলজিক্যাল প্যারেন্টসের ডেথ হয়ে গেছে।..কিন্তু আমি জানি আমার মা আছে,বাবাও আছে...আর তাদের দুই জনকেই আমি দেখতে পাই আমার মনির মধ্যে!!!..আমার মনি,শুধু আমার জন্য সব করতে পারে,আমার খুশীর জন্য আমার ভালোর জন্য নিজের সবটুকু দিয়ে দেয় সব সময়।রাতে যতক্ষন আমি স্টাডি করতাম,মনি বই পড়ার অজুহাতে পাশের ঘরে ঠায় জেগে থাকতো।আমি ঘুমিয়ে থাকলে চুপি চুপি আমার ঘরে এসে আমার পা টিপে দিত।ভোরের রৌদ্র এসে যাতে আমার ঘুম না ভাঙায় তাই সূর্য ওঠার আগে মনি উঠে আমার ঘরের জানলা বন্ধ করে দিতো। আমার শরীর খারাপ হলে, আমার ডাক্তার মনির চোখও ছলছল করত ভয়ে।আমার এক্সামের দিন সকালে আমার অমন রাশভারী মনির মুখেও ফুটে উঠত টেনশনের ছাপ।আমার নিজের মা থাকলে আর এর থেকে কি ই বা বেশী করতো?... আমি কোনো দিন তোমায় বলি নি মনি..সেই ছোট্ট থেকেই আমি তোমায় মা বলেই মানি।আমি তোমায় খুব খুব ভালোবাসি মনি।...ব্লাড রিলেশনই সব হয় না মনি..ভালোবাসাটাই সব।আর সেই ভালোবাসা তোমার মত আমায় আর কেউ দিতে পারত না।..আমি চাই আমার মনি আজ আমার সাথে একসাথে পুরস্কারটা নিক...এটাতে আমার থেকেও বেশী আমার মায়ের অধিকার।.. তাই আমি চাই আমার মনি...ডাঃ মাহিরা ইয়াসমিন কে স্টেজে ডেকে নেওয়া হোক।"...
অডিটোরিয়ামের প্রতিটা মানুষের দৃষ্টি তখন মাহির দিকে।আর মাহি তখন অশ্রুপ্লাবিত, বাকরূদ্ধ।ভেসে চলেছে আবেগে সে...মনে মনে বলছে..."শোন অনুপম..শুনছো তুমি,..যে ব্লাড রিলেশনের দোহাই দিয়ে তুমি চলে গেছিলে,তোমার একরত্তি মেয়ে এক লহমায় তা অস্বীকার করলো। তুমি যা পারোনি ও তা পারলো।আমার ভালোবাসা একবার হারলেও এই বার আর হারেনি।জিতে গেছি আমি...আমার ভালোবাসা।হয়তো সে ভালোবাসার ধরণটা আলাদা,কিন্তু আবেগটা তো এক ই।না অনুপম এই অনু তোমার মত মেরুদণ্ডহীন মানুষের মেয়ে হতে পারে না।ও আমার মেয়ে।প্রকৃত মানুষ করে গড়ে তুলেছি আমার মেয়ে কে।"

"অর্জিত স্বাধীনতা"
***রহমান মাসুদ***

চার অক্ষ‌রের স্বাধীনতা শব্দ‌টি
অতি সহ‌জেই ক‌ন্ঠে উচ্চারণ,
কত রক্তস্র‌োত প্রবা‌হের বি‌নিম‌য়ে
বীর বাঙা‌লি যা ক‌রে‌ছে অর্জন।

ব্রি‌টিশ-পশ্চিম পা‌কিস্তা‌নের শোষন
যা হ‌তে মু‌ক্তি লাভ হয়‌নি মসৃণ,
সে কন্টকময় দীর্ঘ পথ অতিক্র‌মে
অগ‌নিত শহী‌দের র‌য়ে‌ছে রক্ত ঋণ।

বিপ্লবী‌দের বীরগাঁথা কত ইতিহাস
সূর্য‌সেন,‌তিতুমীর,প্রী‌তিলতা,ক্ষুদিরাম,
মাতৃভ‌ক্তি‌তে অকাত‌রে ‌বিসর্জনে প্রাণ
ব্রি‌টিশ বি‌রোধী আন্দ‌োলন বেগবান।

মা‌য়ের ভাষা লুন্ঠ‌নের ষড়যন্ত্র‌ে
সন্তা‌নের ক‌ন্ঠে প্র‌তিবা‌দের ঝড়,
প‌শ্চিমা বর্ব‌রের বু‌লে‌টে রাজপ‌থে
সালাম,জব্বার,বরকত,র‌ফিক নিথর।

শোষ‌নের কালগ্রা‌সে পুন্ঞ্জীভূত ক্ষোভ
একাত্ত‌রে চেতনায় জাগ্রত স্বাধীনতা, ‌
ত্রিশ লক্ষ শহী‌দের র‌ক্তের বি‌নিম‌য়ে
বঙ্গবন্ধুর নেতৃ‌ত্বে অর্জন ‌সে সফলতা।

আজ স্বাধীন দে‌শের স্বাধীন নাগ‌রিক
প্র‌তি‌নিয়ত ভোগ কত সু‌যোগ সু‌বিধা,
যা‌দের মহান ত্যা‌গেই এই প্রাপ্যতা
বেঈমানরাই কেবল ভু‌লে সে কথা।

বীর বাঙা‌লি জা‌তি নয়‌তো বেঈমান
কোন প্র‌রোচনায় দেয়না কভু সাড়া,
প্র‌য়োজনীয় মুহূ‌র্তে বারবার জ্ব‌লে উঠে
তাই সকল চক্রান্ত যায় মা‌ঠেমারা।

অসুস্থ শহরে
- শাহিনা কাজল

তোমার দারুচিনি দ্বীপে
উড়ে নি দোয়েল কতদিন গাঢ় শব্দে
মুখরিত হয়নি কোলাহলে
দূর্বার নিঃশ্বাসে ঘনীভূত হয়নি চোখের জ্যোতি
বৃক্ষ শাখায় নামেনি শিরশিরে হাওয়া
ঢেউ উঠেনি যাযাবর পাখির ককাঁনিতে
শব্দেরা শব্দ বেয়ে কবিতা হয় নি
বাড়েনি কম্পন সেলসিয়াস ভরা জ্বরে

অসুস্থতার মিহিন ঘ্রাণে ভাসে কষ্টের গাঢ় রাত
যান্ত্রিক জীবনের কর্কশ শব্দে
একাকিত্বের দীর্ঘ পথ, অসহায় চোখ
কম্পমান ঘড়ির কাঁটা'রা গভীর অন্ধকারে ডুবে
বাড়াতে থাকে হাহাকার
তোমার প্রিয় শহরে।

আমার বাবার খবর
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

আমি এতো অপদার্থ সন্তান , যে রাজশাহী তে যেয়ে আমার পিতার কবর খুঁজে পাচ্ছিলাম না । দীর্ঘ ছয় বছর পর রাজশাহীর টিকাপাড়া কবরস্থানে গেলাম ।

চারিদিকে রাস্তাঘাট বাড়ীঘর সব বদলে গেছে । পুরো কবরস্থানে অনেক পরিবর্তন । আমার বুক ফেটে কান্না আসলো । আমি অঝোর ধারায় কাঁদতে শুরু করলাম ।

কবর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । আমি একা কবরস্থানে । নিজেকে আমার খুব অসহায় মনে হচ্ছিল । এতো কবরের ভীড়ে আমি কোথায় সেই কবর খুঁজে পাবো ? চোখের পানি আমার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে শুরু করলো । মনে হচ্ছিল , আমার পিতা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল ,
" মা , এতো বছর পরে আমাকে দেখতে আসলা , আমার কবর খুঁজে পাচ্ছো না কেন ??? এই যে আমি তোমার পাশে । "

হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে , আমি অঝোর ধারায় কাঁদতে শুরু করলাম । বুক ভরা হাহাকার আমার চোখের পানি হয়ে ঝরতে শুরু করলো ।

হঠাৎ এক অপরিচিত বৃদ্ধ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন , " মা তুমি কি এই শহরে নতুন এসেছো ? "

আমি বললাম , " দীর্ঘ ছয় বছর পরে এই শহরে এসেছি । "

তিনি বললেন , " মা তাড়াতাড়ি এই কবরস্থান থেকে চলে যাও । আর কিছু সময় পরে সন্ধ্যা হয়ে যাবে । নেশাখোর ছেলেদের অনেকেই আশেপাশে থাকে । তুমি মেয়ে মানুষ । আর কোনদিন কবরস্থানে একা আসবা না । "

তিনি চলে গেলেন । আমি কবর খুঁজে পেলাম না ।
সব মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া করলাম । মন মানছিল না । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে সন্ধ্যা হতে শুরু করলো , আমি ভুলেই গিয়েছিলাম । কবর খুঁজে পেলাম না । পুরো কবরস্থানে অনেক পরিবর্তন ।

চোখের পানি মুছতে মুছতে কবরস্থান থেকে চলে আসলাম ।

" সুস্থ থাকুক আপনার Heart "
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

পানির tank বিশাল একটা building এর ground floor থেকে সবচেয়ে উপরের floor এ পানি সরবরাহ করে । আমাদের দেহে heart নামের জরুরী অংগ টি ঠিক সেই কাজটিই করে । পায়ের আঙ্গুল থেকে মাথা পর্যন্ত রক্ত পৌঁছে দেয় ।

পানির পাইপ লাইনে পানির ময়লা জমলে , পানি সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না । ঠিক তেমনি আমাদের শরীরের শিরা উপশিরা তে ময়লা জমলে , রক্ত সঠিকভাবে চলতে পারে না । রক্তের ময়লার নাম atherosclerosis ।

এই Atherosclerosis ( রক্ত নালী তে জমে থাকা চর্বি বা fat ) তৈরী হয় দেহের তুলনায় অধিক পরিমাণে চর্বি জাতীয় খাবার , মাদক দ্রব্য , ধূমপান থেকে ।

বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে , heart এর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরী হয় । তখন heart সারা দেহে সঠিকভাবে রক্ত সরবরাহ করতে পারে না ।

পরিণামে তৈরী হয় heart এর নানাবিধ অসুখ । যা কখনোই কাম্য নয় ।

Heart এর অসুখের জন্য দায়ী বিষয় গুলো হলো :

১) অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অক্লান্ত পরিশ্রম ,

২) ভয়ানক দুশ্চিন্তা,

৩) বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশী ,

৪) দীর্ঘ বছর সঠিকভাবে ঘুমের অভাব ,

৫) কোন ওষুধের দীর্ঘ বছরের side effects,

৬) অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ,

৭) কিডনী failur,

৮) মাদক দ্রব্য সেবন ও অতিরিক্ত ধূমপান ,

৯) পারিবারিক ইতিহাস ,

১০) কোন জটিল রোগের side effects,

Heart কে ভালো রাখার জন্য আমাদের করণীয় :

১) বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।

২) অতিরিক্ত মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার , মাদক দ্রব্য , ধূমপান পরিহার করতে হবে ।

৩) ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।

৪) জীবন মানেই একটার পর একটা যুদ্ধ । মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত নিজেকে খুশী রাখা উচিত ।

৫) ধর্মের কাজ , মেডিটেশন মানসিক প্রশান্তি দেয় । Heart ভালো রাখার জন্য মানসিক প্রশান্তি ভীষণ জরুরী ।

৬) পারিবারিক ইতিহাসে heart এর অসুখ থাকলে , আগে থেকেই সচেতন হোন ।

৭) Heart এর অসুখ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । নিয়মিত follow up এ থাকা টা ভীষণ জরুরী ।

৮) প্রতি বছর পুরো দেহের চেকআপ করান । আমাদের দেহ বিশাল এক কারখানা । একটা মেশিন দূর্বল হলে, আশেপাশের মেশিনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে । তাই সময় থাকতে সচেতন হোন ।

৯) অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খাবেন । নিয়মিত দুই লিটার পানি ভীষণ জরুরী । অতিরিক্ত তেল , মশলা , চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিলেই ভালো ।

১০) সুযোগ হলেই হাটবেন । খোলা আকাশ এর নীচে হাঁটতে পারলে , খুব ভালো হয় । সুযোগ না থাকলে ঘরের কাজ গুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করবেন ( ঘর পরিষ্কার করা , কাপড় ধোয়া ............) । এতে ঘামের মাধ্যমে শরীরের বাড়তি calorie গুলো ঝরে যায় । যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ।

১১) সঠিক সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন ।

১২) সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা , heart এর জন্য ভালো । তবে হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করবেন ।

১৩) হতাশা দূর করতে নিজেকে সৃষ্টিশীলতা ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত রাখবেন । ভালো কাজ আমাদের কে দেয় আত্মতৃপ্তি । মন ভালো থাকলে , heart ভালো থাকবে ।

Heart ভীষণ জরুরী organ । আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি , তখনও আমাদের হৃদস্পন্দন ( heart beat ) সচল থাকে । Heart beat থেমে গেলে , আমাদের জীবন টাও থেমে যাবে ।

আমার সবার উচিত heart ভালো রাখার উপায় গুলো মেনে চলা এবং অন্যদের সচেতন করা ।

ডাঃ ফারহানা মোবিন ,
১৫.১১.১৭

কবি আর কবিতা
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আর বাঙালের পিতা
পাঁচ ফুট এগারো ইঞ্চি ছিলো তার দৈহিক উচ্চতা

আমি বলছি ১৯৭১ এর ৭-ই মার্চের সেই কবির কথা
আবৃত্তি করেছিলো সে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতা ৷

রেসকোর্স ময়দানে উন্মুখ হয়ে আছে দর্শক শ্রোতা
শুনবে কবির মুখেই দরাজ কণ্ঠের বিদ্রোহী কবিতা ৷

একজন কবি সব বাধাকে পায়ে ঠেলে মঞ্চে উঠলো
স্ব-কণ্ঠে আঠারো মিনিটের একটা আবৃত্তি করলো ৷

আমি বলছি এই বাঙালের শ্রেষ্ঠ সেই কবির কথা
যার তর্জনীতেই ছিলো এ জাতির স্বাধীনতা আঁকা

তর্জনীটা উঁচিয়ে দরাজ কন্ঠে একটা কবিতা পাঠ
লক্ষ জনতায় ভরপুর সেদিনের সে রেসকোর্স মাঠ ৷

দ্রোহের আগুনে ভরা ছিলো তার বিদ্রোহী কবিতা
সে এক রক্তে আগুন জ্বালানো জ্বালাময়ী কবিতা ৷

লক্ষ জনতাকে একাত্ব করার এক বিদ্রোহী কবিতা
মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখানো সে এক কবিতা ৷

আমি বলছি সেই কবি আর বিদ্রোহী কবিতার কথা
নাম তার শেখ মুজিবুর রহমান এ বাঙালদের পিতা ৷

এসি আই ফান কেক আনন্দ আলো শিশু সাহিত্য পুরস্কার পেলেন লেখক দন্ত‍্যস রওশন
- ফারহানা মোবিন

"পরিদের নাচের টিচার" বইটির জন্যে 'এসি আই ফান কেক আনন্দ আলো শিশু সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮' পেলেন দৈনিক প্রথম আলো বন্ধুসভার অভিভাবক ও সভাপতি লেখক দন্ত‍্যস রওশন । তিনি অণুকাব্যের জনক হিসেবে পরিচিত ।

এসি আই গ্রুপ ও আনন্দ আলো পরিবারের পক্ষ থেকে এই পুরস্কারের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে ।

আগামী ২০ মার্চ ২০১৮ বেলা ১২.৩০ মিনিটে চ‍্যানেল আই ভবনে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে ।

" পরিদের নাচের টিচার " বই টি এই বছর অমর একুশে বইমেলায় adorn প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে । বইটির প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন , প্রচ্ছদ শিল্পী সৈয়দ লুৎফুল হক । বই টি তে শিশু কিশোরদের জন্য ষোল টি গল্প রয়েছে । তবে সব বয়সের পাঠকের জন্য উপযোগী ।

ছোট বড়ো সব বয়সের পাঠকের জন্য তিনি লেখেন । অণু কাব্য, গল্প, উপন্যাস, নিবন্ধ মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত বই মোট ৭৫ টি । তিনি এই বছরে " নোটুর সেভেনটি ওয়ান " বই টির জন্য " অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমী শিশু সাহিত্য পুরস্কার " পেয়েছেন । মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা এই বই । বই টি ২০১২ সালে অমর একুশে বইমেলায় বিদ্যা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল । তিনি স্কুল জীবন থেকে লেখালেখি করেন ।

"বঙ্গবন্ধুর শুভ জন্ম‌দিন"
***রহমান মাসুদ***

১৯২০ সা‌লের ১৭ই মার্চ
বাংলার আকা‌শে নক্ষ‌ত্রের আগমন,
গোপালগ‌ন্ঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়
শেখ মু‌জিবুর রহমা‌নের শুভ জন্মগ্রহন।

সে শুভক্ষন‌টির আগত বার্তায়
ঋতুরাজ বসন্তের মা‌ঝে সাজসাজ রব,
লাল-সবু‌জের সার্ব‌‌ভৌমত্ব‌ে
সবার হৃদ‌য়ে অঙ্কিত বঙ্গবন্ধুর অবয়ব।

ভাগ্যাকা‌শে বঙ্গবন্ধু জ‌ন্মে‌ছিল
তাই ললা‌টে অর্জন কা‌ঙ্খিত স্বাধীনতা,
অবাক নয়নে বিশ্ব দে‌খে‌ছে
বজ্রক‌ন্ঠে এক‌টি উত্থিত তর্জ‌নীর সফলতা।

স্বাধীন ‌দে‌শের স্বাধীন বাঙা‌লি
বীরদ‌র্পে বুক উচি‌য়ে সারা বি‌শ্বে পথচলা,
দেশ গড়ার সফল সংগ্রা‌মে
"সোনার বাংলা"বাস্তবায়‌নেরই হালধরা।

জন্ম‌দি‌নে হৃদ‌য়ের স্পন্দ‌নে
বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবর রহমা‌নের গুনগান,
তি‌নি জ‌ন্মে ছি‌লেন ব‌লে
আজ বাঙা‌লির মর্যাদা এত সুউ‌চ্চে স্হান।

হৃ‌র্দিকতার বিনম্র শ্রদ্ধায়
জা‌তির জনক বঙ্গবন্ধু‌কে সহস্র অভিনন্দন,
সার্থক জা‌তি সার্থক দেশ
শুভ হওক প্রাণ‌প্রিয় নেতার শুভ জন্মগ্রহন।

"প্রজন্ম‌ ও স্বাধীনতা"
***রহমান মাসুদ***

প্রজন্ম,হা‌তের দন্ড‌টি ধ‌রো দৃঢ়তায়
যে দ‌ন্ডের শোভা বর্ধণ জাতীয় পতাকায়,
লাল সবু‌জের পা‌লে লাগাও দ‌ক্ষিনা হাওয়া
তোমা‌দের হা‌তেই মাতৃভূ‌মির কা‌ঙ্খিত সফলতা।

প্রজন্ম,য‌দিও দেখ‌নি স্বাধীনতা সংগ্রাম
তবুও মাতৃভ্রূ‌ণেই অনুভব ভূ‌মিমাতার টান,
ভুমিষ্ঠ হ‌য়েই উচ্চস্ব‌রে ক‌রে‌ছি‌লে যে ক্রন্দন
সেতো লক্ষ শহী‌দের প্র‌তি ভালবাসা নি‌বেদন।

প্রজন্ম,‌শিশুকা‌লে হামাগু‌ড়ির ছ‌লে
মা‌টিতে নে‌মে মা‌টির খন্ড নাগা‌লে পে‌লে,
দি‌য়ে‌ছো পবিত্র ওষ্ঠের হৃ‌র্দিকতার যে চুম্বন,
তা‌তো  ছি‌লো মাতৃভূ‌মির প্রে‌মে নি‌জকে অর্পণ।

প্রজন্ম,‌ক্ষ‌ণেক্ষ‌ণে কত অব‌লোকন
স্বৈরাচা‌রী শাসন,নি‌পীড়ন,মা‌য়ের লুন্ঠন,
দুর্নী‌তি,ইতিহাসের বিকৃতি, হরণ অধিকার
স্বাধীনতার বি‌রোধী শ‌ক্তি মদদপু‌ষ্টে সোচ্চার।

প্রজন্ম, প্র‌য়োজ‌নে উঠে ছি‌লে জ্ব‌লে
যার জবাব দি‌য়ে‌ছি‌লে নির্বাচ‌নের ব্যাল‌টে,
শহী‌দদের র‌ক্তের ঋণ ফাঁ‌সির দ‌ড়ি‌তে শোধ
যা সম্ভব হ‌লো, জাগায় তোমা‌দের চেতনা বোধ।

প্রজন্ম,কর‌ছি উদার্ত আহবান
দেশ গড়ায় সদা নি‌বে‌দিত ক‌র প্রাণ,
তোমরাই দে‌শের চা‌লিকা শ‌ক্তির মূল বাহন
১৬ কো‌টি সম্মা‌নিত জনশ‌ক্তির সেথা আরোহন।

প্রজন্ম, কর্তব্যপরায়নতার প্রতীক
সততার মন্ত্রগু‌নে দে‌শের প্রাণপ্র‌দীপ,
তোমা‌দের হা‌তেই অঙ্কিত উন্নয়‌নের ছবি
বঙ্গবন্ধুর"‌সোনার বাংলা" বাস্তবায়‌নের চা‌বি।

ভাঁটফুল আবার কাঁদো
- ইরাবতী মণ্ডল

ভাঁটফুল,শুনেছিলাম তুমি একবার
কেঁদেছিলে।যখন বেহুলা 'ছিন্ন খঞ্জনার'
মত নেচেছিলো স্বর্গের ইন্দ্রের সভায়।
তাঁর ঘুঙুরের তালে তালে তুমি কেঁদেছিলে।

মৃত স্বামীর প্রাণ ফিরে পেতে,
দেবতাদের সন্তুষ্ট করতে ছেয়েছিলো
সে।তাই ইন্দ্রের সভায়,হাজার দেবতার
কামুক দৃষ্টির সামনে নেচেছিলো ।

বেহুলার সে অপমান তুমি সহ্য করতে
পারোনি।তাই নৃত্যের তালে তালে তার
চরণ যখন ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্ত ঝরেছিলো; তোমার দুচোখ দিয়েও
দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়েছিলো।বেহুলার সাথে তুমিও
কেঁদেছিলে।

ভাঁটফুল, তোমার কান্নার সময় যে
আবার এসেছে। এখনযে শুধু একা বেহুলা নয়।প্রতিদিন হাজার হাজার বেহুলা পুরুষের নগ্ন
দৃষ্টিতে ধর্ষিতা হচ্ছে। তাদের দেহ ছিন্ন
ভিন্নকরে ধর্ষকের দল ছুড়ে ফেলছে
নর্দমায়।তাই আবার এইসব অসহায়াদের জন্য, তুমি দু-ফোঁটা চোখের জলফেলো।তুমি কাঁদো ভাঁটফুল,তুমি আবার কাঁদো।

12.03.2018

"দেহ ও আত্না"
***রহমান মাসুদ***

দেহ তোমার আছে কি কোন মূল্যায়ন
আত্নাকে য‌দি না কর‌তে দে‌হে ধারন,
তু‌মি‌তে‌া শুধু আত্নাকে ধার‌নের খাঁচা
বি‌নিম‌য়ে দু‌নিয়া‌তে ক্ষনকা‌লের বাঁচা।

সে কভু নয়‌তো তোমার আপন
কিছু সময় একসা‌থে জীবন যাপন,
অচি‌রেই ‌এই কাল ছে‌ড়ে যা‌বে চ‌লে
দেহ টা‌কে রে‌খে যা‌বে মা‌টির ‌কো‌লে।

দেহ এত অহংকার করো কেন ত‌বে
সাদা-কা‌লোর বৈষম্য ঘটাও এই ভ‌বে,
অপক‌র্মে আস্ফালন সর্বদা চ‌রিত্র হনন
দে‌হের সন্তু‌ষ্টি‌তে নর্দমায় ক‌রো গমন।

নি‌জের উপর নেই ‌বিন্দু মাত্র নিয়ন্ত্রন
লোভ লালসা চ‌রিতা‌র্থের আয়োজন,
ন্যায়-‌নী‌তি-সুস্হ বি‌বে‌কের বিসজর্ন
ইন্দ্রের সব খারাপ প্র‌রোচনা‌কে গ্রহন।

হ‌ায়‌রে ম‌া‌টির দেহ,রক্ত-হাড়-মাংস সহ
মা‌টির কী‌টের খা‌দ্যে প‌রিনত অহরহ,
কত গেল কত এলো নাই‌রে হিসাব তার
খন্ডা‌নের উপায় নাই বি‌ধির লিখা স্রষ্টার।

তাই‌তো ব‌লি শোন‌ রে শোন অবুঝ মন
দে‌হের বড়াই‌য়ের এত ‌কিবা প্র‌য়োজন,
স্রষ্টার প্রে‌মে নি‌বে‌দিত হউক এ জীবন
বিশ্ব কর্মার মধুনাম দ‌মে দ‌মে উচ্চারন।

"‌দিবাকর"
***রহমান মাসুদ***

দিবাক‌রের উদয় হ‌লে পূব আকা‌শে
তি‌মিরের ঘোর কে‌টে আলোর খেলা,
প্রা‌ণের স্পন্দ‌নে শোনা যায় কলরব
জীব‌নের তা‌গি‌দে নীড় ছে‌ড়ে পথচলা।

র‌বির কির‌নে সকল প্রা‌ণের কল্যাণ
বৃ‌ক্ষের পাতায় ঘ‌টে সালোক-সং‌শ্লেষন
বাঁচার প্র‌য়োজ‌নে প্রাণ‌ি-উ‌দ্ভিদ সক‌লের
দি‌নের আলোয় চ‌লে খা‌দ্যের আহরন।

আদিত্য তোমার উত্তা‌পের স্প‌র্শে ঘ‌টে
নদী-নালা-সমু‌দ্রের পা‌নির বা‌‌ষ্পীয়করণ,
তা মেঘমালার সৃ‌ষ্টি‌তে গগ‌নে বিচরন
যার বৃ‌ষ্টিধারা পৃ‌থিবীর অতি প্র‌য়োজন।

বৃ‌ষ্টিস্না‌নে সিক্ত হ‌য়ে ধরিত্রী হয় উর্বর
চাষাবা‌দে জ‌মি‌তে চ‌লে লাঙ্গ‌লের আঁচর,
অগ‌নিত ফু‌লে-ফ‌লে ভ‌রে উঠে প্রিয় ভূ‌মি
জগৎ কল্যা‌ণেই সর্বদা নি‌য়ো‌জিত তু‌মি।

প্রভাক‌র তব বিদায় ঘন্টা ঈষাণ‌ কো‌নে
তমস্রতার প্র‌লে‌পে বিরানভূমি-লোকালয়,
নিস্তব্ধতায় আচ্ছা‌দিত স্হলভূমি-জলাশয়
মানব-‌পশু-প‌া‌খির ম‌নে নিশাচর‌দের ভয়।

আধা‌রের প্রা‌প্তি‌তে জা‌গ্রত দানবীয় শ‌ক্তি
নরব‌লির পূজা-অর্চনায় শয়তানেরই ভ‌ক্তি,
কা‌লে‌া যাদুর সাধনায় মন‌ে যা‌দের তৃ‌প্তি।
সূর্যের আগমনেই ঘ‌টে অপশ‌ক্তি হ‌তে  মু‌ক্তি।

নাগরিক বসন্ত
- মো. এনামুল হক

রোদের একটা ঘ্রাণ আছে
বাতাসের আছে সুবাস
তপ্ত রোদে দগ্ধ শরীরেও
এক লহমা আম্র মুকুলের ঘ্রাণ মিশ্রিত বাতাস
ছুঁয়ে যায় হৃদয় পাশ।
মুছে যায় শ্রান্তি ক্লান্তি
ঔজ্জ্বল্যে কেটে যায় মোহ ভ্রান্তি
ফাগুন বসন্তের সকাল দুপুর
আর ওই পড়ন্ত বিকেলে দালানগুলো  ছুঁয়ে
যাওয়া রোদ -
সাথে অন্ততকাল ধরে বয়ে চলা বাতাস
অশান্ত হৃদয়েরও মিটিয়ে দেয় ক্ষোভ ক্রোধ।
সন্ধ্যা নামে, কেটে যায় গোধূলি
আরেকটি ভোরের প্রতীক্ষায়,
রোদ্দুরে অবগাহনের আশায়,
বাতাসে হৃদয় ভাসানোর আকুলতায়,
রাত্রির বুকে হেঁটে চলি ।।

৮ মার্চ, ২০১৮
বাসাবো, ঢাকা ।

"হৃদ‌য়ে ৭ই মার্চ"
***রহমান মাসুদ***

৭ই মার্চ ১৯৭১ মু‌ক্তিকাম‌ী জা‌তির
অভূতপূর্ব এক তীর্থযাত্রার ঢল,
সারা‌দেশ হ‌তে নি‌র্দিষ্ট গন্ত‌ব্যের প‌থে
ক‌ন্ঠের স্লোগান চল চল "ঢাকা" চল।

ঢাকার বিখ্যাত রেস‌কোর্স ময়দান
সে‌জে‌ছে স্বাধীনতার ম‌ন্ত্রের সা‌জে,
কা‌লের সাক্ষী হ‌তেই হ‌বে তা‌কে
নি‌য়ো‌জিত বক্ষ সম্প্রসার‌নের কাজ‌ে।

কাঁনায় কাঁনায় প‌রিপূর্ণ সভাস্হল
মহান এক‌টি কন্ঠ শ্রব‌ণের প্র‌তীক্ষায়,
সভাম‌ন্ঞ্চে আগত প্রাণপ্রিয় সেই মুখ
যার স্হান সা‌রে সাত কো‌টি চেতনায়।

ভাষন নয়‌তো তা অগ্নিস্ফু‌লঙ্গের হুক্কার
বজ্রক‌ন্ঠের সুধা বানী‌তে মু‌ক্তির আশ্বাস,
"এবা‌রের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"
সৃ‌ষ্টি বাঙা‌লির কালজয়ী মহা উপন্যাস।

৭ই মার্চ তু‌মি এসে ছি‌লে ব‌লে
আমরা পে‌য়ে‌ছি কা‌ঙ্খিত স্বাধীনতা,
বঙ্গবন্ধুর বজ্রক‌ন্ঠের সে ভাষন
আজ প্র‌তি‌টি বাঙা‌লির হৃদ‌য়ের মর্মকথা।

প্রজন্ম থে‌কে প্রজ‌ন্মের বু‌কের স্পন্দন‌
দেশ‌কে ভাল‌বে‌সে সোনার বাংলা গড়া,
সেই স্ব‌প্নের স্হপ‌তির সব দিক‌নি‌র্দেশনা
৭ই মা‌র্চের ভাষ‌নে সীলম‌োহর মারা।

এখ‌নো উদাস চৈ‌ত্রের দ‌ক্ষিনা হাওয়ায়
মন‌োযো‌গে কান পাত‌লে যা‌বে শোনা,
বঙ্গবন্ধুর ক‌ন্ঠের সেই মহান উক্তি‌টি
বাঙা‌লি‌কে"দাবায়া রাখ‌তে পারবা না"।

ভালোবাসি তুমায়
- সাজ্জাদ সাকিব

তুমি কী আমায় বলতে পার,
পৃথিবীতে কেন মানুষ ভালোবাসে?
তুমি কী আমায় বলতে পার,
চাঁদ কেন রাতে হাসে?
তুমি কী আমায় বলতে পার,
কবিরা কেন কবিতা লিখে?
তুমি কী আমায় বলতে পার,
সাগরে কেন ঝর বহে?
তুমি কী আমায় বলতে পার,
আমি কেন বারবার তুমার কাছেতে আসি?
তুমি কী আমায় বলতে পার,
পাখিরা কেন গান করে?
তুমি কী আমায় বলতে পার,
কেন তুমায় দেখে আমার হৃদয় হাসে?
সবগুলো প্রশ্নের উওরে বলব,
এসবই ঘটে আমার ভালোবাসার টানে।

তুমি কী আমার হবে
- সাজ্জাদ সাকিব

তুমি কী আমার বন্ধু হবে?
হাতে হাত রেখে চলব।
তুমি কী আমার ঘুড়ি হবে?
মুক্ত আকাশে উড়াব।
তুমি কী আমার নদী হবে?
ডি্ঙি নৌকা ভাসাব।
তুমি কী আমার বাগান হবে?
বুকেতে গোলাপ ফুটাব।
তুমি কী আমার খাতা হবে?
তুমার বুকে লিখব।
তুমি কী পথিক হবে?
রোদে ছায়া হয়ে দাড়ব।
তুমি কী আমায় ভালোবাসবে?
সারা জনম বুকের গভীরে রাখব।

বিদায়
- সাজ্জাদ সাকিব

আজ বিদায় দিবসে,
কি দিয়ে যাব তুমায়
কি বলে জানাই বিদায়,
বলিবার কোন ভাষা,
নাহি খোজে পাই।
রেখে যাই মোর স্মৃতি
বাংলার পকৃতিতে,আকাসে।
রেখে যাই মোর কথা,
পাখিদের ঠোটেতে।
লয়ে যাই তুমার ভাষা
মোর কন্ঠতে বহে।
বেধে নিলাম তুমার মুখ
আমার হৃদয়ের গভিরে।
আবার আসিব কবে,
জানা নাহি আছে।
জানি অ্পেক্ষা নাহি করিবে,
তবুও প্রেম গভির হবে।
কখনও ভুলে যেও না মোরে,
ধরিয়া রাখিও মোরে,
তুমার চরণ তলে।

সাইকোলজি
- শাহিনা কাজল

তোমার ঘাড়ে ঝুলবো বলেই-
সাইকোলজি পড়েছি বাইশ বছর!
প্রথম যেদিন তোমাকে ছুঁইয়েছিলাম
তুমি ভাব এমন দেখালে যেন উত্তম কুমার নয়
হিটলারের প্রধান সেনাপতি।

সেদিন লজ্জায় নাক চেপে দিব্বি কেটে
বলেছিলাম বান্ধবীদের
--" এই বাঁধলাম বেণী ওর অহংকারী চোখের মোহনায়,
ঘাড় মটকাবোই"

ভাগ্য ভালো ত্রিকোণমিতিটাও রপ্ত ছিলো,
না হলে স্নানঘরে ডুবাতে পারতাম না
উল্টো বেলতলাতেই যেতে হতো।
দীর্ঘ লাইন ছিলো সুদর্শন, কুদর্শন আর হ্যাংলাদের--
আবশ্যিক বিষয়ের মতোই পড়েছি প্রেমপত্র---
আহা-- সুখের ঝর্ণাধারা!

তুমি কোমরে যার আঁচল বেঁধে যাও পার্ক, সিনেমা কিংবা ফাগুনের দেশে
ঘুমোও যার হৃদপিণ্ড মুঠোয় ভরে
সুখের নিঃশ্বাস ভরো কবিতায়
নিষিক্ত শিশিরে ভেজাও দূর্বাদল
সে কী আসলেই সাইকোলজিতে পটু?
হবে হয়তো! ল্যুভরের মিউজিয়াম।

আমিও দেখে এসেছি দজ্জালের নগরী থেকে
কী করে হিংস্রতার ছোবল আয়ত্ব করে
ভাঙা পায়ে কষ্ট চেপে চলতে হয়
জ্যোতিষ্কমণ্ডলের এ গলি থেকে ও-গলি।
তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্য
আমি ক্যারাতে প্রাকটি্স করিনি কখনোই,
জামদানি শাড়ীর আঁচল ভরে
লিপিস্টিক, আই'ব্রু কিংবা মোনালিসা হাসির
মন্ত্রটা শিখেছি গাঢ় সবুজের মত।
আর আমার সাইকোলজি!!

সংগ্রামী নেতা
- সাজ্জাদ সাকিব

আসবে কী ফিরে?
শিরাজের মতন শাষক,
আসবে কী ফিরে ?
মীর জাফরের মত ঘাতক
আসবে কী আবার ?
তীতুমীরের মত সংগ্রামী হয়ে
ধরবে কী অসএ,
শত্রুর বিরুদ্ধে।
আসবে কী কভু আর?
মুজিবের মত নেতা।
দিবে কী কেহ আর?
৭ই র্মাচের ভাষণ টা।
ধ্বনিত হবে কী আর
জয় বাংলার ধ্বনি।
পাব কী ফিরে আর
তীতুমীরের অত্রু খানি।
যদি ফিরে পেতাম তোমাদের
তবে ধন্য হতো
আমার জন্ম খানি ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতি-চট্টগ্রাম এর দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা গত ০৩ মার্চ শনিবার চট্টগ্রামস্থ সিটি হল কনভনেশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহমুদ আলী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় ভূমি প্রতমিন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন লায়ন্স জেলা ৩১৫ বি-৪ এর সদ্য প্রাক্তন জেলা গভর্ণর লায়ন শাহ আলম বাবুল পিএমজেএফ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, হাতিয়ার ইতিহাস সমৃদ্ধ। হাতিয়ার ৬০ হাজার লোক চট্টগ্রামে বসবাস করে। এরা চট্টগ্রামের উন্নয়নের সহায়ক শক্তি। দ্বীপের অনেক অধিবাসী চট্টগ্রামে তাদের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের শিল্পখাতে ব্যাপক অবদান রাখছে। শিক্ষা মানুষের উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার ও পরিপূর্ণ জীবন গঠনের সহায়ক উল্লেখ করে হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতির শিক্ষাখাতের অবদানকে তিনি সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি জনকল্যাণের লক্ষে। জনকল্যাণের জন্য রাজনীতির বিকল্প কিছু নেই। বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুখে যে হাসি ফুটিয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সার্বিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে বাঙালির সেই হাসির ধারা আব্যাহত রেখে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি চট্টগ্রামস্থ হাতিয়াবাসীকে বিপদে-আপদে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন সমিতির (২০১৬-২০১৭) সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ খলিল উল্যাহ চৌধুরী সাকিব।
অনুষ্ঠান শেষে হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতির ২০১৮-২০১৯ সালের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামশুদ্দোহা সওগাত জনাব মাহমুদ আলীকে সভাপতি ও জনাব মোহাম্মদ খলিল উল্যাহ চৌধুরীকে সাধারন সম্পাদক করে একুশ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।
কার্যকরী পরিষদ: সভাপতি মাহমুদ আলী, সহ সভাপতি লায়ন বদিউজ্জামান, নাছির উল্যাহ, অধ্যক্ষ শামসুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিল উল্যাহ চৌধুরী সাকিব, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আবুল হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মনির উদ্দিন, ছাত্র ও ক্রীড়া সম্পাদক ড. লায়লা খালেদা আঁখি, অর্থ সম্পাদক এডভোকেট আক্তার হোসেন, সহ-অর্থ সম্পাদক খায়রুল ইনাম তছলিম, সাহিত্য ও কৃষ্টি সম্পাদক মোঃ হাসান নুরী, সহ-সাহিত্য সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম সুজন, সমাজ সেবা ও স্বাস্থ্য সম্পাদক অধ্যাপক ইব্রাহীম খলিল, দপ্তর সম্পাদক মদিনুল হক। কার্যকরী পরিষদ সম্মানিত সদস্য মোঃ নাজিম উদ্দিন, এডভোকেট আবুল খায়ের, মোঃ হানিফ, আলহাজ মোঃ জসিম উদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, মোঃ আবদুর রহমান।
বার্তা প্রেরণে
তরিকুল আলম সুজন
দপ্তর সম্পাদক
হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতি-চট্টগ্রাম
তারিখ: ০৩-০৩-২০১৮

"দাদুর স্মৃ‌তি‌তে মার্চ"
***রহমান মাসুদ***

উত্তাল,দূর্বার,অ‌গ্নিগর্ভা,
পূর্ব বাংলার প্রান্তর হ‌তে তেপান্তর।
সা‌ড়ে-সাত কো‌টি বাঙা‌লি,
শয়‌ন‌ে-জাগর‌নে এক‌টি স্বপ্ন‌ে ‌বি‌ভোর।
প্রিয় ভূ -খ‌ন্ডের স্বাধীনতায়,
বাংলার মা‌টি‌তে পা‌কিস্তান নাম‌টির কবর।

ফাগু‌নের মি‌ষ্টি হি‌মেল হাওয়ায়,
শ্লোগা‌নে শ্লোগা‌নে ক‌ম্পিত অলিগ‌লি।
নারী,‌শিশু আবাল বৃ‌দ্ধের মু‌খে,
পরাধীনতার জি‌ন্ঞ্জির ভাঙ্গার বু‌লি।
স্বৈরশাষক প‌শ্চিমা‌দের গ‌দি‌তে,
জ্বালাও আগুন,মু‌খে মাখ‌ চুনকা‌লি।

চৈত্রের প্রখরতায় নিস্তব্ধ জাতি,
হঠাৎ শুরু পাক হায়না‌দের রক্ত হ‌ো‌লি।
শা‌ন্তিকামী মানু‌ষের ব‌ক্ষে,
বে‌য়ো‌নে‌টের আঘাত,বন্দু‌কের গু‌লি।
বো‌নের ধর্ষণ,ভা‌ইয়ের মরন দে‌খে,
মু‌ক্তি‌যু‌দ্ধের খাতায় নাম লিখা‌তে চ‌লি।

মার্চ এলেই দাদুর,
নব যৌবন ৭১ এর স্মৃ‌তির বর্ণনায়।
নতুন প্রজন্ম যা শু‌নে ভা‌বে,
এ ইতিহাস রূপকথা‌কেও হার মানায়।
দাদুর ত্য‌াগের  মূল্য ত‌বেই প‌রি‌শোধ,
নিব‌েদিত হলে দূর্নী‌তি মুক্ত দেশ গড়ায়।

***এতিমের দোয়া***
লেখক-কিরণ সিদ্দিক

জানিনা আমি মায়ের আদর কাকে বলে
মনে নেই কবে ছিলাম আমি মায়ের কোলে,

বুঝ আমার হয়েছে যে দিন থেকে
অভাবে কেঁদেছি শুধু মায়ের কথা ভেবে।

সুখে আছে কি সে ? আমায় একা রেখে
মুখ ফিরায় নেয় সবাই আমায় দেখে,

আমার কস্ট আমি বুঝি কেউতো বুঝেনা
খোকা আমার কোই বলে কেউতো খুজেনা।

রাত জেগে খুঁজি আকাশ পানে আমার মায়ের তারা,
সকল স্বর্গ সুখ তাদের জানি মায়ের কোলে যারা।

আমার মায়ের তারা দেখে ডাকি আমি মা বলে
শত মিনতি করি আকাশ ছেড়ে মা আমার আয় চলে,

চাই না কিছু আমি রাখবি শুধু তর আঁচলে
স্বর্গ সুখ পাব আমি ডাকবি যখন খোকা বলে।

জান্তে চাই মা কেমন হয় তোর হাতের ছোঁয়া?
কবুল করো বিধি! ফিরাও না তুমি নাকি এতিমের দোয়া?

তুমিতো জানো বিধি কতো কস্ট বুকে আমার আছে?
মা'কে ফিরাও না হয় আমাকেই নাও মায়ের কাছে।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget