ফেব্রুয়ারী 2018

সমুদ্রবিজ্ঞান ও বাংলাদেশের অর্থনীতি
– মোঃ আলমগীর হোসেন

সময়ের সাথে বদলে যায় একটি দেশের অর্থনীতি,রাজনীতি ও সামাজিক রীতিনীতি।পরিবর্তন এসেছে আমাদের জীবন মানে তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। বদলে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির ভিত্তি।এখন বিশ্বের সকল দেশই নীল অর্থনীতির দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছে।আর এই নীল অর্থনীতির অপার আধার লুকিয়ে আছে সমুদ্রের অথই নীল জল রাশিতে।

বাংলাদেশও অন্যান্য দেশের থেকে ব্যতিক্রম নয়।আমরাও নীল অর্থনীতির দিকে বেশ অগ্রগামী। আমাদের বর্তমান সরকার নীল অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পেরেছে।আর এই বিষয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তুলার লক্ষে বর্তমানে দেশের ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ওশানোগ্রাফি বা সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ক ৪ বছর মেয়াদি অনার্ষ(সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে।

সমুদ্রবিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম  বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য ভর্তি হওয়া ১ম বর্ষের ছাত্রী তাসমিরা হামিদ জানায়, “সমুদ্র আমাকে বরাবরই টানে।আর এই্ বিষয়ে ভর্তি হয়ে আকর্ষন তো আরো বেড়ে গেছে।এই অল্প সময়ে যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে আমি খুব আশাবাদি যে,এই বিষয়ে পড়ালেখা করে দেশকে অন্তত ভালো কিছু দিতে পারবো”।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত বিশেষায়িত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

যেহেতু আমি সমুদ্রবিজ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা করছি তাই প্রথমে সমুদ্রবিজ্ঞান কি তা জানা দরকার। সমুদ্রবিজ্ঞান বা ওশানোগ্রাফি হলো সমুদ্র সম্পর্কিত জ্ঞান যা মূলত সমুদ্রের ভৌতবিজ্ঞান,জীববৈচিত্র, রসায়ন,খনিজ এবং সকল জবৈ-অজবৈ উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।এছাড়াও পৃথিবীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করে।

সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়টা মহাসমুদ্রের মতই বিস্তর। এই বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য আপনাকে পদার্থ, রসায়ন,গনিত,জীববিজ্ঞান,জীবপ্রযুক্তি,মৎসবিজ্ঞান,ভূ-বিজ্ঞান,অর্থনীতি,আইন,প্রোগ্রামিং আরো অনেকগুলো বিষয়ের সম্মুখিন হতে হবে।সমুদ্রের পরতে পরতে  অজস্র রহস্য বিদ্যমান। সেই রহস্যভেদ করে তা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোই এই বিষয়ে অধ্যয়নের মূল ভিত্তি।শুধুমাত্র সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বহু দেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে পৌছেছে। বিশাল সমুদ্র সীমা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জনবল ও দক্ষতার অভাবে আমরা এর কোন সুফল পাচ্ছি না।

আমাদেরও সমুদ্র রয়েছে।আমরাও সমুদ্র নিয়ে ভাবি।কিন্তু তাদের মত করে না। আমরা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যাই।উপভোগ করি সাগরের ঢেউ,মৃদু হাওয়া,আর বালুকাময় সৈকতে ঘুরাঘুরির আনন্দ। দেখি দূর নীল দিগন্তে নীল জলরাশি। সমুদ্র শুধু অকূল অথৈ জলের ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ নয়, এই জলের তলে রয়েছে তেল-গ্যাসসহ মূল্যবান সম্পদের ভাণ্ডার, প্রাণীজ-অপ্রাণীজ ও নবায়নযোগ্য-অনবায়নযোগ্য অজস্র প্রাকৃতিক সম্পদের সমাহার। রয়েছে এর নানাবিধ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য।

১/বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ৪৭৫ ধরনের মাছ পাওয়া যায়,বর্তমানে সমুদ্র থেকে প্রায় ৬ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১৮ শতাংশ। এপর্যন্ত বিক্ষিপ্ত কিছু জরিপে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে মাছ ছাড়াও সামুদ্রিক শৈবাল, ৩৫ প্রজাতির চিংড়ি, ৩ প্রজাতির লবস্টার, ২০ প্রজাতির কাঁকড়া এবং প্রায় ৩০০ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক পাওয়া যায় ।

২/নবায়নযোগ্য সম্পদের মধ্যে কম খরচে আমরা টাইডাল এনার্জি বা সামুদ্রিক ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ পেতে পারি। সারাবিশ্বে এখন বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ চীন ও ভারতের কথা উল্লেখ করা যায়। ভারত তার উৎপাদিত ২ লাখ ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এই বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন করে, যা আমাদের জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ২ গুণেরও বেশি। চীন বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ১৫০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। একইভাবে সামুদ্রিক স্রোত এবং সমুদ্রের পানির তাপমাত্রাকে কাজে লাগিয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।

৩/সমুদ্রের বুকে প্রাপ্ত অনবায়নযোগ্য সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ্য তেল-গ্যাসসহ নানাবিধ খনিজ পদার্থ, যেমন—প্লেসার ডিপোজিট, ফসফরাইট ডিপোজিট, পলিমেটালিক ডিপোজিট, সালফাইড, ম্যাগানিজ নডিউলস ও ক্রাস্ট, গ্যাস হাইড্রেট, ইভাপোরাইট ইত্যাদি।

৪/আমাদের সমুদ্রসীমায় কী পরিমাণ প্রাকৃতিক তেল,গ্যাস বা খনিজ মজুদ রয়েছে আমরা তার  সঠিক পরিসংখ্যান জানি না। প্রায় ১২
হাজার কোটি টাকার ন্যূনতম ১.৭৪ মিলিয়ন টন খনিজ বালুর সমাহার রয়েছে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে। এখানে মোট ১৭ প্রকারের খনিজ বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে।এদের মধ্যে ৮টি অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।যেমন—ইলমেনাইট, জিরকন, রুটাইল, ম্যাগনেটাইট, লিউকোক্সিন, কিয়ানাইট, মোনাজাইট।
৫/ আমরা এই বৃহৎ প্রাকৃতিক উৎস থেকে জীবন রক্ষাকারী নানাবিধ ওষুধ পেতে পারি। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ঔষধী উপাদান সমুদ্র
থেকে পাওয়া গেছে।পরবর্তী প্রজন্মের ওষুধ এই সমুদ্র থেকেই পাওয়া যাবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন।
আমাদের বর্তমান সরকার সমুদ্র সম্পদের ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী। আমরা ভারত ও মিয়ানমারের সাথে দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে
যে বিশাল সমুদ্রসীমানা পেয়েছি এটি তারই প্রমান।বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও টেকসই সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য সরকার কর্তৃক গঠিত ব্লু-ইকোনমি সেল(বিইসি),দেশে পাবলিক মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ খোলা এবং তার পরিসর বৃদ্ধি করা, কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব ওশানোগ্রাফিক রিসার্স জাহাজ ক্রয়ের সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যা আমাদেরকে আশান্বিত করেছে।এক্ষেত্রে সরকারের একটি বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।সরকার যে মহৎ উদ্দ্যেগ নিয়েছে সে গুলো বাস্তবায়িত হলেই দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

লিখেছেন———
মোঃআলমগীর হোসেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়
৩য় সেমিস্টার,
সমুদ্রবিজ্ঞান ও হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ
ইমেইল: alamgir.bsmrmu@gmail.com

গোধূলি চোখে
- শাহিনা কাজল

সমস্ত বাগান ঘুরে দেখেছি
ও-চোখের মরুভূমি কাঁটাতারে ঘেরা
গহীনে আঁকা সেসব বসন্ত অটল
রোদেলা ভাবনায় দুপুরের নূপুরে
মেঠো পূর্ণিমার সমস্ত রাত ভেজানো দরজায়
বসে থাকি, অগোছালো শব্দের কবিতায়
অবিরত, তবুও ফোটেনা সে ফুল
আমার মূর্তিমান বসন্ত চোখে।

যতবার ভিজেছি ও-চোখের বৃষ্টিতে
চুপ কথার আঙিনায় কিংবা রাতের ছায়ায়
ভেসে গেছে ততোবার আমার বৃষ্টি বিকেল,
মেঠোপথ -তারায় তারায়
তুমি লিখো না আমার চোখে ।

তোমার বৃষ্টিতে অপেক্ষার রং আর
জৈব রক্তের দাগে অস্ফুট অভিমানের
জীর্ণ চিৎকার, প্রতিবিম্বে
দেখেছি দোল খেতে চৈতে হাওয়া
রাগ না অনুরাগ বুঝিনি আজও
ও চোখে - তবুও চেয়ে থাকি। বারোমাস।
মনপোড়া শব্দের গোঙানিতে লিখবোনা
আগুনের কবিতা। অথৈ সাগরে
আমি হবোনা বেনারসি সুখ তোমার।

অনাবাদী স্মৃতির পৃষ্ঠায় ভরে ওঠে
তোমার বৃষ্টির ছন্দ। পোড়া জানালা তাই
এখনো খুলে রাখি, যদি একমুঠো রোদ আসে
অজৈব চোখের কার্নিশ জুড়ে--- গোধূলি বেলায়
আমি ভেসে যাবো। ডুবতে ডুবতে
আমি ভেসে যাবো। হারাতে হারাতে
আমি ভিজে যাবো। ওই মহাপথে।
তোমার গোধূলি চোখের কান্নায়।

“একুশ হোক সকলের চেতনায়”
– মোঃ আলমগীর হোসেন

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি”।আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আজকের দিনটি বাঙ্গালি জাতির জীবনে অবিস্মরণীয় ও চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।এই দিবস আজ শুধু বাঙ্গালীর প্রাণের দিবস না, এটি সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি জাতির, প্রতিটি জাতিসত্তার প্রাণের দিবস।

আজকের এই দিবসে যেমন ব্যাপক তাৎপর্য  বিদ্যমান তেমনি আজকের দিনের রয়েছে সুবিশাল ইতিহাস।সেই ইতিহাস কম বেশি আমাদের সকলেরই জানা। খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হবে, পাকিস্তান-ভারত স্বাধীনতার সূচনা লগ্ন থেকেই তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানিদের মধ্যে নিজেদেরকে শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রবনতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। নিজেদের মধ্যে কেউ যখন একে অপরের উপর কতৃত্ব পরায়ন হয়ে উঠে আর তখনি শুরু হয় বিভেদ-বৈষ্যম্য। আমাদের ভাগ্যেও তাই হয়েছিল।

পাকিস্তানিরা তাদের নিজেদের মুখের ভাষাকে এক তরফা ভাবে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে গিয়ে, সম্পূর্ণ জাতির মধ্যে ভেঙ্গে পরে ছিল আমাদের ঐক্য, তৈরী করেছিল অবিশ্বাস।আর সেই অবিশ্বাস থেকে জন্ম নিয়ে ছিল এক একটি কালো অধ্যয়। ২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ তেমনি একটি ইতিহাসের ভয়ংকরতম একটি কালো অধ্যায় জন্ম দিয়ে ছিলো। আর সেই কালো অধ্যায়ের স্বীকার হয়েছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল রফিক, সালাম, বরকত, সফিউর জব্বাররা।

তাঁদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিল দুঃখিনী বর্ণমালা, মায়ের ভাষা। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা সেদিন ঘটেছিল, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাঙালির কাছে চির প্রেরণার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই জাতি কৃতজ্ঞ চিত্তে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে। সকলের কণ্ঠে বাজছে একুশের অমর শোকসঙ্গীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…।’

একুশের চেতনা আমাদের আত্মমর্যাদাশীল করেছে। ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ চিরকালের এ শ্লোগান তাই আজও সমহিমায় ভাস্বর। একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যাবতীয় গোঁড়ামি আর সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে শুভবোধের অঙ্গীকার। বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারি বসন্তের বাতাস ও পলাশ রঙে রাঙানো প্রভাতের সূর্য অমিত সম্ভাবনার যে স্বপ্ন, যে প্রত্যয় জাতির হূদয়ে বপন হয়েছিল, সেই তেজোদীপ্ত বিদ্রোহের সুর আজো প্রতিটি ক্রান্তিকালে ধ্বনিত হয় বাঙালির হূদয়ে। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে, খালি পায়ে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই শামিল হতে শুরু করেছেন শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। শুধু ঢাকাতেই নয়, সারাদেশের স্কুল-কলেজ, জেলা ও থানা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ।

শোকবিহ্বলতা, বেদনা আর আত্মত্যাগের অহংকারে দেদীপ্যমান ভাষা আন্দোলনের সেই শপথ যুগে যুগে বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আলোকবর্তিকার মতো মূর্ত হয়ে ওঠে। এখনো জাতির যে কোন ক্রান্তিকালে ভাষা আন্দোলন আমাদের প্রেরণা যোগায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা আন্দোলন জাতির বীরত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের পরিচয় তুলে ধরে। যখন স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ এগিয়ে চলেছে, ধর্মান্ধ মৌলবাদী মানবতাবিরোধী অপশক্তি যখন দেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডল অস্থির অশান্ত করে তোলার চক্রান্তে লিপ্ত তখন চির প্রেরণার প্রতীক অমর একুশে নতুন তাৎপর্য নিয়ে জাতির সামনে হাজির হয়েছে। তাই আজ শুধু শোক নয়, শোককে শক্তিতে পরিণত করার দিন।

১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেসকো ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। আমাদের ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতাকারী পাকিস্তানসহ জাতিসংঘের সবগুলো দেশ ওই প্রস্তাবকে সমর্থন করে। এরপর থেকে সারা বিশ্বে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

শুধু কি তাই ? আমাদের আরো গৌরব ও মর্যাদার কথা হলো আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিয়নে বাংলাকে ২য় সরকারী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সেদেশের জনগণ বাংলাভাষা শিক্ষা করছে। জাপান ও অষ্ট্রেলিয়ায় নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। জাতিসংঘের অনেক সংস্থার কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা ভাষা শিখতে হচ্ছে।

বর্তমান প্রচার মাধ্যম রেডিও, টেলিভিশন, ও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে বাংলা ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, জার্মানী, চীন, রাশিয়া, ইরান, সৌদিআরব, পাকিস্তান, ফিলিপাইন,জাপান প্রভৃতি দেশ থেকে প্রতিদিনই বাংলা ভাষায় রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়ে থাকে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সেদিন খুব দুরে নয়, যেদিন বাংলা একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ভাষার রূপ পাবে। তাই এ ভাষার মর্যাদা আরো উচ্চকিত করতে হলে আমাদের সবাইকে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে হবে এবং বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রয়োজনে সর্বস্তরে বাংলাভাষার ব্যবহার করতে হবে। আর তাহলেই ৫২-র ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

আমরা সবাই শুদ্ধ ভাষায় কথা বলবো এবং অন্তত একজন নিরক্ষর লোককে বাংলা ভাষার অক্ষর জ্ঞান দান করবো – এই হোক এবারের মাতৃভাষা দিবসের শপথ হোক ।

মোঃ আলমগীর হোসেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়

"রাষ্ট্রভাষা বাংলা"
- শেখ সজীব আহমেদ

রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে ওরে ও ভাই
উর্দুভাষা হবে না,
ভাষার জন্যে জীবন দিতে প্রস্তুত ওরে
উর্দুভাষা রবে না।
আন্দোলন যে শুরু হলো- ক্ষ্যাপে গেলো
বাংলার দামাল ছাত্রগণ,
হবেই যে হবে ও ভাই রাষ্ট্রভাষা
বাংলা, করছে কঠিন পণ।
সালাম বরকত রফিক জব্বার জীবন দিয়ে
উর্দুভাষা করলো বর্জন,
কি সুমধুর আমাদের এই বাংলাভাষা
রক্ত দিয়ে করলো অর্জন।
উর্দু যদি হতোরে ভাই রাষ্ট্রভাষা
বাংলার হতো অপমান,
তাইতো বাংলার ছাত্রগণে নাম অজানা
অনেকেই দিছে জান।
শ্রদ্ধা জানাই,করি দোয়া ভাষার জন্যে
ওরে জীবন দিছে যারা,
ওগো আল্লাহ্ জানি না যে কেমন আছে-
জান্নাতি হয় যেনো তারা।

"আমা‌কেই ভালবা‌সি"
***রহমান মাসুদ***

ফাগু‌নের ম‌নোরম হিল্ল‌োল
শী‌তের আড় ভে‌ঙ্গে চন্ঞ্চল,
কো‌কি‌লের সুমধুর গুন্ঞ্জন
জন্ম‌ তিথী‌তে উদাস মন।

তৃ‌ষ্ণিত হৃদ‌য়ে শুষ্কতা
অতীত স্মৃ‌তির ব্যথা,
হা‌রি‌য়ে‌ গেল কতকাল
দি‌য়ে যন্ত্রনার জন্ঞ্জাল।

খোলস বদ‌লের খেলাঘ‌রে
দ‌মেদ‌মে বয়স বা‌ড়ে,
কত আপন হ‌ল পর
চার‌দি‌কে বি‌চ্ছে‌দের সাগর।

যা বিগত যাক চ‌লে
জীবন‌তো একবারই মি‌লে,
উদাসীনতার ভে‌ঙ্গে জি‌ন্ঞ্জির
মুক্ত আকা‌শে বাঁধো নীড়।

যা পে‌য়ে‌ছো কিবা কম
অ‌নেক দি‌য়ে‌ছে ধরাধাম,
ত‌বে কেন আর বিষন্নতা
ভূ‌লে যাও না পাওয়ার ব্যথা।

আজ জন্ম‌দি‌নে কা‌টি‌য়ে ক্লেশ
ভাবো স্রষ্টা সু‌খে রে‌খে‌ছে বেশ,
প্রাণ খু‌লে হাস অট্টহা‌সি
বল আমা‌কেই ভা-ল-বা-সি !!

তিনি সবার মালিক
- শাহিনা কাজল

গাড়ির মালিক বাড়ির মালিক
মালিক দেখি ভূমির,
টাটার মালিক ভাটার মালিক
পাই'নি মালিক তুমি'র।
.
কে দিয়েছে গাছের মাথায়
ডাবের ভেতর জল?
মানুষ কেন পায়না খুজে
কার'যে এত বল?
.
খালিক যিনি মালিক তিনি
পাহাড় নদী পর্বত,
পুকুর ছাড়া গাছের মাথায়
সৃষ্টি করেন সরবত।
.
মাটির ভেতর সাগর তলে
সহস্র জীবন চলে,
বৃহৎ কিংবা ক্ষুদ্র হলেও
তাঁর ইশারা ফলে।
.
যতই গড়ি ধন-সম্পদ আর
টাকা পয়সা জমি,
মরার পরে সকল কিছুই
করতে হবে বমি।
.
সূর্য উঠে ফের ডুবে যায়
রাতের চাঁদও তাই
শিশির সিক্ত গাছের পাতায়
রবের দেখা পাই।
.
প্রাণী-জীবের এই জগতে
যিনি সবার খালিক,
রঙ্গ ব্যাঙ্গের এই দুনিয়ায়
তিনি সবার মালিক।

স্বপ্ন
– মোঃ আলমগীর হোসেন

আলো হাতে মশাল নিয়ে
আসছে তেড়ে কিশোর ছেলে,
কিশোর ছেলে কি বুঝে সে
দৌড়ে আসছে পতাকা হাতে।
মানচিত্রটা অাঁকিয়ে রক্তে
এনেছে হাতে পতাকা নিয়ে,
টলমল করা মুখ খানাতে
ছাপ ছিল যেন বাংলাদেশের।
সবুজের মাঝে রক্ত দিয়ে,
এঁকেছে সে পতাকাটাকে।
হারিয়ে যেতে দিবে না সে,
এই লাল সবুজের পতাকাটাকে।
বুকে থেকে রক্ত ঝড়িয়ে
প্রাণ দিবে সে প্রয়োজন হলে।
জ্বলমল করা তার আঁখি দুটিতে
স্বপ্ন আঁকা দেখেছি তাতে,
হারিয়ে যেত দিবে না সে
কোন মূল্যেই মোদের স্বপ্নটাকে।

বুলেট রাখো
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

আমার জন্য কোন ফুলের দরকার নেই
তারচেয়ে বরং একটা বুলেট রেখে দাও ,
আমার কণ্ঠে প্রতিবাদ উচ্চারিত হবেই
আমি বলতে পারবোনা তোমরা যা চাও ৷

আমার কোন সংবর্ধনারও দরকার নেই
তারচেয়ে বরং একটা বুলেট রেখে দাও ,
এ মাথা যে নোয়াবার না কোন কিছুতেই
যদি বুলেট রাখো কাজে লাগবে তবুও ৷

আমিতো আমার জন্য কভু বাঁচতে চাইনা
আমি মানুষের জন্যই আজও বেঁচে আছি ,
তুমি শোষক আমি শোষিত ভুলে যেওনা
আমি নিশ্চুপ রবোনা আমি যে বিদ্রোহী ৷

যত্ন করে একটা বুলেট রেখো আমার জন্য
সে বুলেট শরীরে ব্লাড ফায়ার হয়ে জ্বলবে ,
অধীর আগ্রহে আছে রাজপথ আমার জন্য
আমার রক্ত বুকে ধারণ করে রাখবে যে সে ৷

আমার রক্তে কোন সমাধি বা সৌধ চাইনা
আমি চাই রক্ত লেগে থাক পিচঢালা পথে ,
এ রক্তই হবে কিছু যুবকের অদম্য প্রেরণা
আর কিছু পথিক না হয় যাবে নাক সিঁটকে ৷

"শী‌তের বুড়ি দাদু"
***রহমান মাসুদ***

শী‌তের বুড়ি র‌থে চ‌ড়ে
যা‌চ্ছে তেপান্তর,
আবার তার দেখা পাব
পাচঁ‌টি ঋতুর পর।

খোকন সোনা বেজার মু‌খে
দাদুর কথা ভা‌বে,
শীত দাদু চ‌লে গে‌লে
সূর্য পা‌বে বা‌গে।

সূর্য তু‌মি দুষ্ট ভীষন
দেখাও শুধু তেজ,
খোকার মু‌খের কথা শু‌নে
কুকুর নাড়ায় লেজ।

খোকন ব‌লে কুকুর ভায়া
আমার সাথী হ‌বে,
তোমার পি‌ঠে নি‌য়ে আমায়
শী‌তের দে‌শে যা‌বে।

যেই কথা সেই কাজ
যাত্রা হ‌লো শুরু,
হিমাল‌য়ে দাদু অপেক্ষায়
হা‌তে মি‌ষ্টি মন্ডা নাড়ু !!

"বাংলা আমার ভাষা"
***রহমান মাসুদ***

শ্রু‌তি মধুর শ্রেষ্ঠ ভাষা
স্বর-ব্যন্জ্ঞন বর্ণে ঠাসা,
আকার-একার নানা পদ
সৃ‌ষ্টি হ‌রেক ভাব‌বোধ।

হসন্ত-চন্দ্র‌বিন্দু-দা‌ড়ি-কমা
ভাষা ভান্ডা‌রে কত‌কিছু জমা,
মুক্ত অক্ষর-যুক্ত অক্ষর
রং ছড়া‌তে সর্বদা বি‌ভোর।

ঠোট-তালু-‌জিবের বাকযন্ত্র
শুদ্ধ উচ্চার‌নের মূলমন্ত্র,
স‌ঠিক হ‌লে প‌রি‌বেশন
কর্ণকূহ‌রে সুধা বর্ষণ।

গান-আবৃ‌ত্তি-পুথীপাঠ
জয় জয়কার বিশ্ব তল্লাট,
ক‌বিতা-গল্প-উপন্যাস
কালজয়ী জীবন্ত নিশ্বাস।

যে ভাষা রক্ত দা‌মে ক্রয়
১৯৫২ সা‌লের স্মৃ‌তি অক্ষয়,
সালাম-র‌ফিক-জব্বার
শ্রেষ্ঠ সন্তান প্রিয় ভাষার।

ভাষার নাম‌টি বাংলা ভাষা
বাঙ্গালী‌দের আশা ভরসা,
বাঙ্গাল‌ী হওয়ায় আমি গ‌র্বিত
স‌ে অংকা‌রে বক্ষ স্ফীত !!

প্রিয় বর্ণমালা
- শাহিনা কাজল

জীবন থেকে শুরু বাঙালীর বর্ণ পরিচয়
ভরা ভাষার ডালা,
আঁচলে ভরা মুঠো মুঠো তাজা ফুল
গাঁথা পূজারী মালা।
আগুনের দীপ্ত মন্ত্রে উজ্জিবিত বাঙালী
জ্বালিয়ে অগ্নিজ্বালা,
ছিনিয়ে এনেছে প্রিয় বর্ণ, ভেঙে কাপুরুষ
শাসকের বন্দিশালা।
বাঙালী নয়- ভীরু কাপুরুষ, ইতিহাসখ্যাত
অদম্য সাহসী এক জাতি,
ফিরিয়ে এনেছে মায়ের ভাষা ঝরিয়ে রক্ত
খুলে অর্গল ছাতি।
তাজা তাজা প্রাণ কতো গেছে ঝরে
প্রিয় বর্ণমালার জন্য,
আজ তাই প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেই
গর্বিত মোরা, ধন্য।
আমার প্রিয় বর্ণমালা মায়ের মুখে
প্রথম শেখা সুর,
কবিতায় আঁকা আগুনের চিত্র, চেতনা
জাগানো গান মৃত্যুর।
লাল রক্তের বীজ বায়ান্নোয় বুনেছে যে জীবন
এই সবুজে ভরা বাংলায়,
সহস্র বিলিয়ন সালাম নিবেদন করি
রক্তে কেনা প্রিয় বর্ণমালায়।

একুশের ভোরে
- শাহিনা কাজল

একুশের ভোরে রাজপথ জুড়ে
গাই আলোর গান,
বিভেদ ভুলে তাজা ফুলে ফুলে
রাখতে ভাষার মান।
প্রভাত ফেরি নাই দেরি
জনতার জোয়ার ওঠে,
পাখিরা গায় হীমেল হাওয়ায়
বাগানে ফুল ফোটে।
সবুজ ঘাসে শিশির হাসে
ভাসে কৃষ্ণচূড়া ঘ্রাণ,
শহীদ বেদীতে ফুল দিতে এসে
আবেগে কাঁদে প্রাণ।
তাজা রক্ত নামাজের ওয়াক্ত
বাঙালি ভালো বাসে,
একুশের ভোরে শহীদ মিনারে
ফুল দিতে আসে।

একুশ মানে–
– শাহিনা কাজল

একুশ মানে,
দীপ্ত শপথ, জেগে ওঠা সুর
মায়ের ভাষা, প্রিয় ডাক সুমধুর।
একুশ মানে,
জাগ্রত চেতনা, কাঁধে রেখে কাঁধ
কালো রাত্রি, দিতে পারে বাঁধ।
একুশ মানে,
রণ হুঙ্কার, ভেজা রক্তের রাজপথ
গুড়িয়ে শোষন, শাসকের মনোরথ।
একুশ মানে,
তুষের আগুন, কেড়ে নেওয়া অধিকার
মিছিল স্লোগান, গড়ে নেওয়া স্বাধীকার।
একুশ মানে,
দূর্দমনীয় শক্তি, তাজা রক্তের দাগ
দূর্বার বাঙালী, ফণা তোলা বিষাক্ত নাগ।
একুশ মানে,
শ্রদ্ধায় নত, তাজা ফুল তুলে
জ্বলন্ত প্রদীপ, মিনার ভরা ফুলে।
একুশ মানে,
প্রভাত ফেরি, নতুন আলোর ভোরে
মায়ের বুকে, বাঁধা প্রীতি ডোরে।

একুশ মানে--
- শাহিনা কাজল

একুশ মানে,
দীপ্ত শপথ, জেগে ওঠা সুর
মায়ের ভাষা, প্রিয় ডাক সুমধুর।
একুশ মানে,
জাগ্রত চেতনা, কাঁধে রেখে কাঁধ
কালো রাত্রি, দিতে পারে বাঁধ।
একুশ মানে,
রণ হুঙ্কার, ভেজা রক্তের রাজপথ
গুড়িয়ে শোষন, শাসকের মনোরথ।
একুশ মানে,
তুষের আগুন, কেড়ে নেওয়া অধিকার
মিছিল স্লোগান, গড়ে নেওয়া স্বাধীকার।
একুশ মানে,
দূর্দমনীয় শক্তি, তাজা রক্তের দাগ
দূর্বার বাঙালী, ফণা তোলা বিষাক্ত নাগ।
একুশ মানে,
শ্রদ্ধায় নত, তাজা ফুল তুলে
জ্বলন্ত প্রদীপ, মিনার ভরা ফুলে।
একুশ মানে,
প্রভাত ফেরি, নতুন আলোর ভোরে
মায়ের বুকে, বাঁধা প্রীতি ডোরে।

***********************
***********************

একুশের ভোরে
- শাহিনা কাজল

একুশের ভোরে রাজপথ জুড়ে
গাই আলোর গান,
বিভেদ ভুলে তাজা ফুলে ফুলে
রাখতে ভাষার মান।
প্রভাত ফেরি নাই দেরি
জনতার জোয়ার ওঠে,
পাখিরা গায় হীমেল হাওয়ায়
বাগানে ফুল ফোটে।
সবুজ ঘাসে শিশির হাসে
ভাসে কৃষ্ণচূড়া ঘ্রাণ,
শহীদ বেদীতে ফুল দিতে এসে
আবেগে কাঁদে প্রাণ।
তাজা রক্ত নামাজের ওয়াক্ত
বাঙালি ভালো বাসে,
একুশের ভোরে শহীদ মিনারে
ফুল দিতে আসে।

***********************
***********************

প্রিয় বর্ণমালা
- শাহিনা কাজল

জীবন থেকে শুরু বাঙালীর বর্ণ পরিচয়
ভরা ভাষার ডালা,
আঁচলে ভরা মুঠো মুঠো তাজা ফুল
গাঁথা পূজারী মালা।
আগুনের দীপ্ত মন্ত্রে উজ্জিবিত বাঙালী
জ্বালিয়ে অগ্নিজ্বালা,
ছিনিয়ে এনেছে প্রিয় বর্ণ, ভেঙে কাপুরুষ
শাসকের বন্দিশালা।
বাঙালী নয়- ভীরু কাপুরুষ, ইতিহাসখ্যাত
অদম্য সাহসী এক জাতি,
ফিরিয়ে এনেছে মায়ের ভাষা ঝরিয়ে রক্ত
খুলে অর্গল ছাতি।
তাজা তাজা প্রাণ কতো গেছে ঝরে
প্রিয় বর্ণমালার জন্য,
আজ তাই প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেই
গর্বিত মোরা, ধন্য।
আমার প্রিয় বর্ণমালা মায়ের মুখে
প্রথম শেখা সুর,
কবিতায় আঁকা আগুনের চিত্র, চেতনা
জাগানো গান মৃত্যুর।
লাল রক্তের বীজ বায়ান্নোয় বুনেছে যে জীবন
এই সবুজে ভরা বাংলায়,
সহস্র বিলিয়ন সালাম নিবেদন করি
রক্তে কেনা প্রিয় বর্ণমালায়।

শহীদ মিনারের গল্প
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

আমি আছি নিথর দাড়িয়ে
এক খন্ড জমি দখল করে
সালাম,বরকতের রক্ত যেখানে
স্তরে স্তরে গিয়েছিল জমে,
রক্ত স্নানিত সেই পিচ ঢালা পথে ৷
এই আমাকে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে
ভাষা আন্দোলনের নীরব স্বাক্ষী করে,
ইতিহাসের স্বাক্ষী করে৷
আমি দাড়িয়ে আছি সেই খানটাতে
যেখানে আমাকে গড়া হয়েছে ,
অথচ , আজ মনে হয় ______
বুঝি আমার নির্মাণ ব্যার্থ হয়েছে !
কালের বিবর্তনে আমাকে ভুলে যাচেছ,
শুধু একবারই আমি উদ্ভাসিত হই
এই বাংলার বক্ষস্হলে
ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টায়ে
যখন ফেব্রুয়ারির "২১" আসে,
এগার মাস পড়ে যখন "২১" আসে
ফুলে ফুলে আমায় ভরিয়ে তোলে ৷
তবুও আমার প্রশ্ন রইলো
চুরি করা ছাড়া ক'টা ফুল দিয়েছো আমারে ?
আমি "২১"
আমি শহীদের রক্তে রাঙ্গানো মিনার
আমি এই বাঙ্গালী জাতীর উৎস
আমিই এই স্বাধীনতার উৎস
গৌরব ভরে স্মরণ করো আমারে
নয়তো !!!!
তোমাদের ঘরে যে আগামী প্রজন্ম আছে
তারা ভুলে যাবে একুশ,
ভুলে যাবে ভাষা আন্দোলন,
ভুলে যাবে শহীদদের,
ভুলে যাবে শহীদ মিনারের ইতিহাস ৷

"একু‌শের রক্ত ঋণ"
***রহমান মাসুদ***

১৯৫২ সা‌লের ২১শে ফেব্রুয়ারীর উদিত সূর্য
ভা‌বে ‌নি দেখ‌বে শহী‌দের র‌ক্তে র‌ন্ঞ্জিত রাজপথ,
সে‌ দি‌ন ভো‌রের আকা‌শে কত পা‌খির কলরব
নি‌র্বি‌ঘ্নে প্রবাহ ফাগুন হাওয়ার মি‌ষ্টি শীতল পরস,
প্রকৃ‌তি কত ফু‌লে ফু‌লে সে‌জে‌ছে নববধুর সাজ
ঋতুরাজ বস‌ন্তের ম‌নোরম সৌন্দর্য্য সর্বত্র বিরাজ।
এরই মা‌ঝে বাংলার টগব‌গে প্রাণ সাহ‌সী ক‌তিপয়
মাতৃভাষা অবমাননার প্র‌তিবা‌দে রাজপ‌থে নির্ভয়,
পূ‌র্বের সারারাত ভে‌বে ভে‌বে হৃদ‌য়ে ক‌ঠিন সংকল্প
১৪৪ ধারা মা‌ঝেও মি‌ছিল থাক‌বেই থাক‌বে অব্যাহত।
তা‌দের জন্যও উদয় হ‌য়ে‌ছিল দিবাকর সুস্বাগত ব‌লে
ভা‌বে‌নি অস্তগম‌নের আগে তারা চিরত‌রে যা‌বে চ‌ল,
কাপুরুষ‌দের বু‌লে‌টে নে‌মে এলো নিস্তব্ধতার চাদর
হায়না‌দের শত ধিক্কার তা‌রা নিষ্ঠুর অমানুষ বর্বর।

সালাম,বরকত,জব্বার,র‌ফি‌কের ক্ষত‌বিক্ষত দেহ
বু‌লে‌টের আঘা‌তে মা‌য়ের বু‌কে রক্ত লে‌পে নিস্প্রাণ,
বাংলার মা‌টি প্রিয় সন্তা‌নের প‌তিত দে‌হের ভা‌রে
বুকফাঁটা ক‌ষ্টের নিদারুন ব্যাথায় ক‌ম্পিত বা‌রেবা‌রে।
আকাশ,বাতাস,নীল দিগ‌ন্তে চাপা কান্নার হাহকার
সে কান্নার ধ্ব‌নি প্র‌তি‌টি অলি‌তে গ‌লি‌তে একাকার,
ঘুম থে‌কে জে‌গে ব‌াংলার আপামর জনগন স্তব্ধ
ভা‌বে মা‌য়ের ভাষায় উচ্চারন করা যা‌বে কি শব্দ,
অগ্নি স্ফু‌লি‌ঙ্গের মত শহী‌দের ঝরানো পবিত্র রক্ত
প্র‌তি‌টি বাঙা‌লির দেহ‌কোষ,র‌ন্ধের‌ন্ধে সংক্রামন,
প্র‌তিবাদী ক‌ন্ঠের সুর শোধা‌তে হ‌বে রক্ত ঋণের পণ।
প্র‌তিজ্ঞাবদ্ধ জা‌তি সব ভু‌লে একে অপ‌রের আপন
উর্দূ নয় বাংলায় হ‌বে মা‌য়ের ভাষায় ক‌থোপকথন,
প্র‌য়োজ‌নে মাতৃভাষা রক্ষায় সর্বদা তুচ্ছ এ জীবন।

নারী শিশু আবাল বৃদ্ধ ঘুম থে‌কে উঠ‌লো জে‌গে
সবার হৃদ‌য়ের ম‌নি‌-কোঠ‌রে সৃ‌ষ্টি শহীদ মিনার,
দ‌মেদ‌মে স্মরণ প্রিয় নাম সালাম,বরকত,জব্বার
র‌ক্তের স্পন্দ‌নের আওয়াজ দরকার স্বাধীনতার।
দৃশ্যমান সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙা‌লি বঙ্গবন্ধুর উ‌ত্থিত তর্জ‌নী
"দাবায়া রাখ‌তে পারবা না" বজ্রক‌ন্ঠের সেই ধ্বনী,
টেকনাফ হ‌তে তেঁতু‌লিয়া ঘ‌রে ঘ‌রে দূর্গ গড়ার বানী,
সে আহবা‌নে সারে নয় মা‌সে মান‌চি‌ত্রের হাতছা‌নি।
স্বাধীনতা অর্জ‌নে ভাষা শহী‌দের মহত্বপূর্ন অবদান
প্রজন্ম থে‌কে প্রজ‌ন্মের মু‌খে সে ত্যা‌গের গুনগান,
যায়‌নি বৃথা স্বর্ন অক্ষ‌রে অং‌ঙ্কিত মহান আত্নত্যাগ
বাঙা‌লি আজ তৃ‌প্তি‌তে ঘুমায় শু‌নে একু‌শের গান,
স্বাধীনতা বি‌রোধী‌‌দের চক্রান্ত রুখায় নি‌বে‌দিত প্রাণ,
সর্বা‌গ্রে চেতনায় জাগ্রত প্রিয় মাতৃভু‌মির অবস্হান।

১৯৫২ সা‌লের ভাষা শহী‌দের অর্পিত রক্ত ঋণ
জা‌তি‌কে দি‌য়ে‌ছে প্রেরণা দেশ হ‌য়ে‌ছে মুক্ত স্বাধীন,
র‌ফিক,বরকত,সালাম,জব্বা‌রের স্মৃ‌তি চির অম্লান
তোমরাই মৃত্যু‌ঞ্জয়ী,কালপুরুষ,চেতনায় চিরমহান
"আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিব‌সে"এর মি‌লে‌ছে সম্মান
সারা বি‌শ্বে পালিত ২১‌শে ফেব্রুয়ারী আজ বেগবান,
শা‌ন্তির ঘুম ঘুমাও ‌হে প্রিয় সারা বাংলার মা‌টি জু‌ড়ে
স্বর্গের বাতাস বই‌ছে ভাষা শহী‌দ তোমা‌দেরই গো‌রে,
"আম‌রি বাংলা ভাষা"গা‌নের সুমধুর মনকারা সু‌রে
ভাববে আজো বেঁ‌চে আছো গহীন এ মা‌টির নী‌ড়ে।।

লাল বৃত্তে
- এম, এস, বাশার

একুশের লাল ফুল
একটি লাল বৃত্ত,
কয়েকটি চেনা নাম- সালাম বরকত
মৃত্যুপথে এগিয়ে যাওয়া প্রাণ, দুর্দান্ত দামাল
বুকে লেপে লাল বর্ণ অ আ!

ঝাঁঝালো মিছিলে কেঁপেছিল পথ
রাজ সিংহাসন,
আর অত্যাচারীর অন্তরাত্মা!
বুলেট আর বারুদের লেপে থাকা গন্ধ
দুয়ারে দাঁড়িয়ে মা- উৎকণ্ঠিত,
ফিরবে কি বাছা!
অন্তরের ধন, গুঞ্জন।

ওরা ফিরে এলো, লাল বৃত্তে!
হাসি মুখ,
বাংলা নিয়ে সাথে, বর্ণমালা
আর ধরণীর দেয়া সনদপত্র
ভাইয়ের বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর
বোনের চোখের করুণ অশ্রু!
উপমায়, বর্ণমালায়।

ওরা এখনো আসে, একুশের ভোরে
পুষ্পিত পথ ধরে, অগণন
সেই রক্তাক্ত বুক, অম্লান
হাসি মুখ, রক্তাক্ত।
আমি আকাশে তুলি মুখ, খুঁজি
বারবার,
সালাম বরকত জব্বার
তোমাদের তরে সালাম, অজস্র অগণন
সেথায় উদ্যানে থেকো,
সুখি হও,
শান্তি'তে থেকো।

প্রেমের দরখাস্ত
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

প্রেমের দরখাস্ত হাতে তোমার দুয়ারে আমি
বন্ধু তুমি মঞ্জুর করো আমার দরখাস্ত খানি ,
রোদ্দুরে নিজেকে ধুয়ে নিয়ে আজ এসেছি
যোগ্যতা বলতে যা আছে ভালোবাসার খনি ৷

কথা দিলাম একবার যদি ভালোবাস তুমি
হৃদয়ে বইয়ে দেবো ভালোবাসার মহাসুনামী ,
মহাপ্রলয়ে ভাসিয়ে দেবো তাবুত নিয়মনীতি
অবশিষ্ট যা থাকবে তা শুধু ভালোবাসাবাসি ৷

সুদীর্ঘ পথ পারি দিয়ে যে বসন্ত আজ দুয়ারে
হেলায় হারিয়ে দিওনাকো আজ সে বসন্তরে ,
অনুমোদন দিয়েই দেখো দরখাস্ত মঞ্জুর করে
ফুলে ফুলে সাজিয়ে দেবো তোমায় এ বসন্তে ৷

কখনো বলবোনা তোমার জন্য মরতে পারি
জীবনের জন্যই যে তোমাকে প্রয়োজন ভারী ,
বিশ্বাস করো প্রিয়তমা তুমিই সেই প্রথম নারী
যার তরে নিবেদন এই প্রেমের দরখাস্ত খানি  ৷

প্রিয়তমা ওগো মঞ্জুর করো এ দরখাস্ত খানি
ভালোবাসার ভূমিতে বর্গা দাও একখন্ড জমি ,
জমবে সেথায় দু'জনের ভালোবাসার কিস্তি
আর হবো দু'জনে ভালোবাসার যৌথ খামারি ৷

চলছে দর্শকবাজী
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

চোখের সামনে দেখছি অত্যাচারীর দম্ভ
এ যেন ঠিক চোখ আছে তবুও সে অন্ধ ,
শুনছি নির্যাতিতদের বুকফাটা আর্তনাদ ,
তবু আমার কন্ঠনালীর ভাঙেনিকো বাঁধ ৷

হুহু করে বাতাসে ভাসছে লাশ পঁচা গন্ধ
পারিনা নিঃশ্বাস নিতে বুক হয়ে যায় বন্ধ
ধর্ষিতার চিৎকার কানে হচ্ছে প্রকম্পিত
তবুও কি আজও নিজেই বেঁচে থাকবো ?

অলিগলিতে আজ মৃত্যুর নগ্ন নৃত্য চলছে
আমিও দর্শক আজ ব্যাস্ত হাততালি দিতে ,
পাছে নিজে যদি পড়ে থাকি কোন গলিতে
জানিনা এই দর্শকবাজী কতোদিন চলবে ?

চোখের সামনেই ওরা ওড়না নিয়ে নিলো
আমার ভাইটাকে রক্তাক্ত ফেলে রাখলো ,
আমাদের চোখ নির্বিকার চেয়েই দেখলো
আমাদেরও হাত দুটো তো উন্মুক্তই ছিলো ৷

মনুষ্যত্ব বিবেক আজও দর্শকই গ্যালারীতে
জানিনা এ আজব খেলা আর কতো চলবে ,
মনুষ্যত্ব বিবেক আর কতো দর্শক হয়ে রবে
নাকি মেরুদণ্ডটা সোজা করে ঘুরে দাঁড়াবে ?

বাজেয়াপ্ত
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

তোমার বাজেয়াপ্ত'র তালিকায় ,
শুধু আমার লেখা চিঠি গুলোই আজ দেখা যায় ৷
আমাকে নাকি ভালোই বাসনি ,
তবে কেনো যত্ন করে চিঠিগুলো রেখেছো শুনি?
শুকনো গোলাপ,পুরোনো চিঠি ,
কতোটা যত্নে তুলে রেখেছো আমি তা জেনে গেছি ,
আমার স্থান কাউকেই দাওনি ,
তাইতো সুকৌশলে আজও তুমি রয়ে গেলে চিরকুমারী ৷
পিতামাতার অবাধ্য হতে পারনি ,
পারনি আমার মতো বাউন্ডেলের সাথে জীবন জড়াতে ৷
তবুও আজও আমার ছবি ফ্রেমবন্দি
আজতো জেনে গেছি সেদিন জীবনের সাথে তুমি করেছিলে সন্ধি ৷
আধুনিকতার এই নব্যযুগে ,
যখন মানুষ চিঠি লেখাই ভুলে গেছে আর আমি চিঠিগুলো কিনছি ৷
শেষ একটা অনুরোধ তোমাকে
বার্ধক্যের করাল ছোবলে আমরা দুজনেইতো বন্দি আজকে ৷
কটা দিনই আর বাঁচবো?
জীবনের যে কটাদিন অবশিষ্ট আছে তুমি কি থাকবে আমার সাথে?
আজ নিজেকেই বাজেয়াপ্ত করলাম ,
তুমি কি আমাকে নিবে বার্ধক্যে ভরা জীবনের শেষ অবলম্বন করে?

শিকারি রংতুলি
- শাহিনা কাজল

মৃত্যুর রঙ মেখেছো?
আততায়ী মনের দরজায় তাজা স্বরপুঁটির রক্ত
চকচকে সাদা কিংবা হরিণের বাঁকা শিং
ভাবিনিতো কখনো, তবে আঁকতে পারি
অহংকারের চিত্র
বাঁধতেও নেই দোষ জল্লাদ শিকারি চিত্ত।

একপেশে স্রোতের তন্দ্রা সহজে কাটে না
কাটলেও জলজ সত্যের ঘোমটা পরে
ধূর্ত শিকারী একের পর এক তুঘলকি ছবি আঁকে
জিঘাংসার জলস্রাবে।

চতুর কাঠবিড়ালি বুঝতে পারেনি
জীবনানন্দ কেনো প্রেমের কবিতা লিখেছে।
মাইকেল আজো কপোতাক্ষের তীরে
চির জাগ্রত পেটুক পাঠকের চিত্তে।
জানি, জানে কবিতা শিকারী হৃদয়।

মৃত্যুর বামপাশে ঠিক স্কন্ধ বরাবর
মিথ্যা শুয়ে থাকে সত্যের পাঁজর ছুঁয়ে
ডোরাকাটা বিড়াল চোখা ক্যামেরায় বন্দি হয়
কালের কাকতাড়ুয়া
সবুজ ভুঁইয়ের বিপরীত পৃষ্ঠে
চোখবুজে নগ্ন হয় সময়ের বৈরী বাতাস
আমি দেখেছি
অনেক নীচ থেকে শিকার করতে
তবুও ভাব শিকারী এঁকে দেয় আস্ত রহস্য।

নিখাদ আদরের ঢঙে ফুসকা লোভও সংবরণ
করতে পারে না শিকারী শকুন।

বিধ্বস্ত সাদা শাড়ীর আঁচল ছিঁড়ে
উত্তাল ঢেউ আঁকে মৃত নদীর বুকে
প্রত্যূষের অবাঞ্ছিত জিন্দা লাশের কফিনে

ওপারে কেউ বাজায় খঞ্জনি
আর্তনাদের মহা সুর ভেঙে
ঢেউয়ের উপরে ঢেউ গড়েন তিনি
শিকারীর শিকারী, মহাশিকারী।

ব্যস্ততার তুফানে ঘননিঃশ্বাস ফেলে
তরী ছেড়ে পাড়ে ওঠে
মিশে যায় পাঠক শিকারী দলে।

কুয়াশার মৃদু হাসি হোক না যতোই তীব্র
ঝাঁঝাল আর দূর্বার বিজলি চমকানো,
সলতে পোড়া গন্ধ একই,
ও-শিকারী বোঝে না, বুঝতেও চায় না
শিকার করবেই।
মহাকাব্যিক রসায়নে গড়ে ভাঙা মাঠের চিত্র।

ধিক্, সহস্রবার সব শিকারী চিত্তে-
সবখানে সমভূমির সব বৃত্তে-
নোংরা মন, কলুষিত তরবারি
পাপী পদবী, শিয়াল শকুনের সংসারে।
সংগোপনে শিকার করলেও বৃক্ষরাও বুঝে
পাতা ঝরে গেছে
হিংস্র শিকারী শিৎকারের বুকে পা রেখে
রংতুলিতে আঁকে আত্মচিৎকার।

ফাগুন বাতাসে
- শাহিনা কাজল

শুষ্ক- শীর্ণ শীতে খরস্রোতা নদীর বুক বেয়ে
প্রমত্ততার চোখে এখনো ঝরে শিশির
প্রকৃতি তেমনই আছে---কেবল বদলে গেছে
আমাদের চিরচেনা সুখ, পাখিদের ঠোঁট
পুষ্প-পল্লবে ভরা সবুজের মানচিত্র।

অক্ষত প্রজন্ম জানে কী? ফাল্গুনে অহংকার
আমার ইতিহাস একুশের
সালাম, বরকত, রফিক, শফিক আর
জব্বারের রক্তে রাঙানো
ঝরা জোছনার বুকে নিভে যাওয়া সুখতারারা
জ্বলে মিটিমিটি সারারাত, সারাক্ষণ।

ফাগুনে চাষাবাদ হাওয়ায় হাওয়ায়
কপোলের ঘাম ছুঁয়ে মাতাল, মুকুলে মুকুলে
আমি পড়ি আমার অহং-- অ, আ, ক, খ।

সুদীর্ঘ গৌরবের পথ হেঁটে এসেছে ; ওকি তবে অহংকার!
নাকি গুনগুন ফাল্গুনে।
চুপিচুপি পাতায় পাতায়
আমি বেঁচে থাকি ফাগুন হাওয়ায়
প্রাণে বাঁধা চির জাগ্রত আমার মা
মাতৃভাষা আমার বাংলা।

পুতুল পুতুল প্রেম
– শীবু শীল শুভ্র

দুজনে বসে কলেজের প্রাঙ্গণে গল্পে ব্যস্ত
জীবনের গল্পে মিশে একাকার, সবাই তা দেখতো!
নরম ঘাসের উপর রোদের ঝিলিক স্বাক্ষী
ভালো-বাসা সীমাহীন অবুঝ মন যন্ত্রণায় অপদস্থ।

তোমার আস্কারায় স্বপ্নে বিভোর
জীবনের গল্পের বই-পড়তেছি “কুড়িয়ে পাওয়া নূপুর ”
হাত ধরে কাছাকাছি হেঁটেছিলাম, কত যে সকাল- দুপুর
মনের সাথে মন মিলে গেছে অরণ্য-রাজরাণীর।

দুজনের অল্পতে ঝগড়া,শুধুই ছিলো মনগড়া
জীবনের গল্পের পাতায়, আজ কেন অধরা?
কখনো নিলুদার রেস্টুরেন্ট নয়তো কখনো প্রকৃতি প্রেম
এভাবেই মিশ্রণ ছিলো ভালোবাসায় ভরা দিন-গুলি।

আড্ডা মলিন ভেঙ্গে গেলো পুতুল পুতুল প্রেম
জীবনের গল্পগুলো মিশ্রিত রং তুলির চিত্রতে!
সময়ের স্রোতে হাঁরিয়েছে তোমার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি
তোমার কথায় বাধ্য পরিধান করেছি শ্বেত ধুতি।

পুতুল পুতুল প্রেম ভেঙ্গেছে অরণ্যর স্বপ্ন
রাজরানীর প্রেমের বিষাক্ততা হায় শুধুই দু:স্বপ্ন!
এতো সুন্দর উপহার স্মৃতি-তে  স্মরণীয় রবে
অভিনয় আর না রাজরানী, কারো জীবন নিয়ে।

কানামাছি
- সোনালী মন্ডল আইচ

প্রতি ঘন মিটারে
মশার ঘনত্ত্ব কতো
অঙ্কটা বেশ কঠিন
উত্তর মিলবে না

কালের কুটিল নর্দমায়
থিকথিকে ঘোলা জল
অনাবশ্যক আঁতুর ঘর
অনেক কাদা ছোড়াছুড়ি
নির্বিচারে ইচ্ছে মত।

একটা জীবনমুখী গানে
মন শান্ত হয় ?
সিঁড়িটার শেষ ধাপে
গুটিসুটি ঘুমঘুম ক্লান্তি
তোমাদের ঠোঁটের বিষে

বারোটা গোলাপ কুড়ি
স্ট্যাটিসটিক্যাল ডাটায় পেলাম
সারহীন হলেও উজ্জ্বল
ভালোবাসায় নেই বাস
থার্মোমিটারে তিতকুটে জিভ

স্বপ্নে সুকুমারের ব-কচ্ছপ
বিশাল হাট্টিমা টিম মাঠ
চিলটার সবুজ ক্ষিধে
এসব ছিল জরুরি
এখন গলিত শব ।

হাড়হাভাতে জটিল জীবন
দাড়িপাল্লায় ওজন তার
বৈষম্যে সব বিষণ্ণ
খামতি গন্ধ , ঠিক
তুষ-তুষ , মন পোড়ানো ...

মা,আবার জন্ম নিলে
- ইরাবতী মণ্ডল

মাগো,
অনেক দিন হলো
তুমি চলেগেছো।তবু তোমার
স্মৃতি প্রতিমুহূর্তে মনকে করে
ভারাক্রান্ত, ......উদাসীন।

আমার মনে
পড়ে তোমার সেই একাগ্র ভাবে,
আমাদের পড়া শোনার মুহুর্তগুলি।
খুব ইচ্ছা ছিল তোমার লেখাপড়া
শেখার। কিন্তু মাতৃহীনা,বাপ ও দুইদাদার স্নেহের ছায়ায় মানুষ
হওয়া ছোট মেয়েটি,নদীবেষ্টিত ছোট্ট গ্রামে কোন
স্কুল না থাকায়,তুমি লেখাপড়া শিখতে
পারোনি।কারণ লেখাপড়া শিখতে গেলে যে নদী পার হয়ে পাশের গ্রামে
যেতে হবে;তাই বাবা দাদা স্কুল যেতে
দেয় নি।

তারপর,ছোটবেলাতেই তো
বিয়ে হয়ে চলে এসেছিলে স্বামীর ঘরে,
শ্বশুর ভিটে। লেখাপড়া শেখার
ইচ্ছেটা মনের মধ্যে চাপাই থেকে গিয়েছিল।

তাই আমরা, মানে ভাইবোনেরা যখন
বাড়িতে পড়াশোনা করতাম,তোমার
মনের সেই ছাইচাপা ইচ্ছেটা আবার
জেগে ওঠে।আমাদের পড়া শুনে শুনে
তুমি মুখস্থ করে ফেলেছিলে।মুখস্থ করেছিলে রবি ঠাকুরের কবিতা। তাছাড়া লক্ষ্মীর
পাঁচালী, সূর্যমন্ত্র,গুরুমন্ত্র এ সব তো ছিলই
তোমার কণ্ঠস্থ। আর সেই সঙ্গে ছিল
ছোটবেলায় লেখাপড়া শিখতে না
পারার যন্ত্রণাটা।

মাগো আবার যদি তুমি জন্ম নাও,
হয়তো স্কুলে যেতে পারবে।কিন্ত
পাবে কি স্কুলে পড়ার পরিবেশ?
এখন যে ছোট শিশুরাও স্কুলে নিরাপদ
নয়।মানুষ রূপী হায়েনার দল, যে ছোট
শিশুকেও ছাড়েনা ছিড়ে খেতে,তার
যৌন হয়রানি করতে।আর পথেঘাটে?
আর একটা কামদুনি, পার্কস্ট্রীট কিম্বা
দিল্লির নির্ভয়া ....।

তারপর, লেখাপড়া শিখে হয়তো বড়ো
হলে।ইচ্ছা স্কুল শিক্ষিকা হওয়ার। চাকরি পেয়ে বিয়ে করার ।কিন্তু
চাকরির পরীক্ষায় পাশ করলেই কি
চাকরি?সেখানেও যে চাই টাকা,লাখ
লাখ টাকা, ......ঘুষ।

ছাড়ো চাকরি।এবার ভাবো বিয়ের কথা। বাবা মা উচ্চবংশ ,শিক্ষিত
ছেলেদেখে ভিটেমাটি বিক্রি করে
বিয়ে দিলো তোমায়।ভাবলো মেয়ের
জন্য সুখ কিনলাম।কিন্তু সুখ?সে তো
আকাশ কুসুম কল্পনা।তাই শ্বশুর বাড়ীর সবাইকে আপন ভাবলেও,
তারা কিন্তু তোমায় আপন ভাববে না।
হয়তো পণের জন্য চাপ দেবে।বলবে
বাপের বাড়ি থেকে আরো টাকা নিয়ে
আসতে।আর না আনলে,মেরে গলায়
দড়ি দিয়ে ফ্যানে ঝুলিয়ে দেবে।কিম্বা
গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করবে।তারপর
সবাইকে জানাবে তুমি আত্মহত্যা করেছ।

ধরো স্বামী পুত্র নিয়ে বৃদ্ধা হলে।ভাবলে
ছেলে বিয়ে দিয়ে নাতি নাতনি নিয়ে,
শেষ জীবনটা সুখে কাটাবে।কিন্ত মাগো, ছেলেযদি তোমার শহরের
দু-কামরার ছোট ফ্লাটে থাকে;তোমার
তো সেখানে ঠাঁই হবে না।তুমি যে
নচিকেতার গানের বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই পাবে!
নাতি-নাতনি নিয়ে ,সুখের বার্ধক্য যে
তোমার কাটবে না।

মা,এসব জেনেও কি তুমি আবার জন্ম
নেবে ?তবু মা,যে সমাজে আমরা এখন
বাস করছি,তুমি যখন জন্ম নেবে;
সেই সমাজের হয়তো পরিবর্তন হবে।
শিশু ,নারী, বৃদ্ধা নিরাপদ হবে।সুন্দর
সমাজ,দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠবে।
আকাশ-বাতাস খুশীতে হাসবে।মাগো সেই সমাজে তুমি জন্ম নিও। আমি সেই
নতুন পৃথিবীতে তোমায় স্বাগত জানাই।

10.2.2018

'ঊনিশ-কুড়ি'
- ইমাম হোসেন মুবিন (না রু দা)

বয়েসটা ঠিক কেমন যেনো!

কিছু ভালোলাগা বোধ হয়ে আসে;
কৌতূহলের আঙিনা জুড়ে স্বপ্নবৎ,
ওরা ঝাক বেঁধে ওড়ে-
নদে ভাসানো তরীর পালের হাওয়ায়।

কিছু দূরে সরে যাওয়া
বিস্তৃতির আড়ালে থেকে যায়
একাকী ঘরের কোণে
দু'ফোটা জল গড়ানোর চাপা আর্তনাদে।

কত কাছে আসা,
কত দূরে সরে যাওয়া;
কত স্বপ্নিল দুঃস্বপ্নের রাত
ভেঙে ভুল জড়ানো সন্ধ্যাসব!

বয়েস টা ঠিক কেমন যেনো!

কিছু ভয় জেগে থাকে
তুমুল দুঃসাহসের ছেড়া মানচিত্রের ভাজে।

কতো ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে
যুদ্ধ চলে অবিরাম-
আত্মার সাথে সত্তার,
মনের বিরুদ্ধে মগজের!

কেউ উবে যায়
ধোঁয়ায় ওড়ানো নিঃশ্বাসে;
কেউ থেমে যায়
অন্ধকারের মিথ্যে আশ্বাসে;
কেউ রয়ে যায়
অচেনা কিছু বিশ্বাসে।

গল্প তবু শেষ হয় না,
বয়েসটা ঠিক কেমন যেনো!

আমার প্রত্যয়
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

কোটি কোটি স্পাম কে পেছনে ফেলে আজকের এই আমি ,
এতো সহজে দমে যাবার জন্যে আমার জন্ম হয়নি ,
আমি আবার উড়তে শিখবো মেলবো ডানা আকাশই হবে ঠিকানা ৷

এই যে এই আমাকে দেখছো মরা গাংয়ের মতো শুকিয়ে গেছি ,
জোয়ার এলে ঠিক আবারও টইটুম্বুর হবো আমি ,
পুরোনো আমার আমিকে ঠিকঠাক আবার ফিরে পাবো আমি ৷

শতো বাধা পেরিয়ে যেমন বিজয়ী হয়ে এই পৃথিবীতে জন্মেছি ,
ঠিক আবারও আমার আসন পোক্ত করবো জানি ,
সব হারানোর বেদনা থেকে সমবেদনা খুঁজে নিয়ে জেগে উঠবো আমি ৷

এ পৃথিবীতে আসার জন্যও প্রতিযোগীতার যুদ্ধে নেমেছিলাম আমি ,
তবে এখন কেনো আমি করবো অনর্থক পাগলামি,
জীবন আর বাস্তবতাকে সামনাসামনি দেখে অনেক কিছু শিখেছি ৷

এবার আমি আবার গর্জে উঠবো ,নতুন করে পূনর্জন্ম হবে আমার ,
ভুলিনি ভুলে যাবোনা অন্যায় ,অত্যাচার ,অবিচার ,
আবারও শূন্য থেকেই পূনর্জন্ম নিয়ে বেঁচে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় আমার ৷

“চাই সুস্থ্য সবল মা”
ডাঃ ফারহানা মোবিন
এমবিবিএস (ডি.ইউ), এমপিএইচ (ইপিডেমিওলজি-থিসিস পার্ট),
পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ট্রেনিং ইন গাইনী এন্ড অবস্ (স্কয়ার হাসপাতাল),
রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (গাইনী এন্ড অবস্),
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ,
ডায়াবেটোলোজি, বারডেম হসপিটাল (অনগোয়িং)।
ই-মেইল : farhanamobin31@yahoo.com

মা হওয়াটা জীবনের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। আমাদের সকল মায়েদের জন্য চাই নিরাপদ মাতৃত্ব। নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি মায়ের অধিকার। কিন্তু সব মা এই সুযোগ পান না। “নিরাপদ মাতৃত্ব” বলতে সন্তান জন্ম হবার আগে ও পরে সার্বিক যত্ন,পরামর্শ ও সুযোগ সুবিধাকে বোঝায়।
আমাদের দেশের দরিদ্র মাযেরা নিরাপদ মাতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয় অভাব আর অশিক্ষার জন্য। আর অর্থ সম্পদশালী অনেক পরিবারের মায়েরা বঞ্চিত হয় সামান্য কিছু সচেতনতার অভাবে। যেমন: দীর্ঘদিন থেকে হয়তো দুই পা ফুলে গেছে। বাসার সবাই মনে করছেন, যে গর্ভাবস্থায় পা ফুলতেই পারে। এটা দুশ্চিন্তার কিছু না। কিন্তু পা ফুলে যাবার সাথে উচ্চ রক্তচাপ, দেহ থেকে প্রোটিন বের হয়ে যাওয়া, কিডনীর অসুখ (কোন কোন ক্ষেত্রে), বা কিছু ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। আবার অধিকাংশ মায়ের রক্তে এই সময়ে চিনির মাত্রা বেড়ে যায়। অনেকের ধারণা, গর্ভাবস্থায় রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়াটা তেমন ভয়ের কিছুই না। তাই অবহেলা করে চিকিৎকের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। কিন্তু এমন ধারণা ভীষণ হুমকিস্বরুপ। গর্ভাবস্থায় পা ফুলে যাওয়া, রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়া (গর্ভধারণের আগে ও পরে), পেসাবে ইনফেকশন, অতিরিক্ত বমি হওয়া, গলগন্ডের সমস্যা, থ্যালাসেমিয়া- নামে রক্তের অসুখ, জন্ডিস এই অসুখগুলো কখনোই অবহেলার নয়। এছাড়া ঔষদের মাত্রা ও পরিমাণ গর্ভধারণের পূর্বে ও পরে একেক রকম লাগে। গর্ভধারণের পূর্বে মুখে খাবার অনেকের ডায়াবেটিসের ঔষধ লাগে। আবার একই মায়ের গর্ভধারণের পরে ইনসুলিন লাগতে পারে। যা চিকিৎসক ছাড়া অন্যরা বুঝতে পারবে না। নিজের অজান্তেই একজন মানুষের দেহে নানা রকম রোগের জীবাণু বাসা বাধতে পারে। আর গর্ভাবস্থার পূর্বে ও পরে একজন নারীর সাথে জড়িয়ে থাকে একটি শিশুর জীবন। তাই প্রয়োজন ধনী-দরিদ্র প্রতিটি মায়ের জন্য নিরাপদ মাতৃত্ব। সুস্থ্য সবল মা ও শিশুর জন্য চাই গর্ভধারণের পূর্বে ও পরে বাড়তি সচেতনতা ও যত্ন।
অনেক মায়ের হাঁপানি, হরমোন এর সমস্যা, অতিরিক্ত রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা থাকে। আবার অনেকের রক্তপাত হয়, অতিরিক্ত বমির জন্য শরীরে লবণ পানির পরিমাণ কমে আসে।
দেহে লবণ পানি অতিরিক্ত কমে গেলে, একজন সন্তান বহনকারী মাকে শিরায় স্যালাইন দিতে হয়। অনেকেই মনে করেন, বমি হতেই পারে। কিন্তু রক্তে লবণ পানি ও অন্যান্য জরুরী উপাদান এর পরিমান জানার জন্য রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরী। এতে শরীরের জন্য উপকারী উপাদানগুলো কতোটুকু কমে গেছে বা বেড়ে গেছে, তা জানা যাবে।
অনেকের সন্তান পেটে আসার আগেই দেহে রক্তের পরিমাণ (Hemoglobin) কম থাকে, এই ধরনের মাদেরকে অনেক বেশী সচেতন হতে হবে। যেসব মা এর রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হরমোন জনিত সমস্যা, ডায়বেটিস ও হাপানি রয়েছে, সেসব মায়েদের এই ধরনের সমস্যাগুলো হবার সম্ভাবনা খুব বেশী ।
অনেক মা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খান। সব রকম ওষুধ সন্তান বহন কারী মা এর জন্য নিরাপদ নয়। অনেক সময় হয়তো অনেকেই চিকিৎসক এর কাছে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখেন বা মনে করেন, এই ধরনের সমস্যা তো হতেই পারে। অনেকে রাতে ঘুমাতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে ঘুম ঠিক মতো না হলে উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। যার কোনোটাই একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য নিরাপদ নয় ।
তাই এই বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হতে হবে ।
সন্তান জন্ম নেওয়ার আগে ও পরে একটু অবহেলা ও অসচেতনতা আনতে পারে অনেক বিপদ ।

এই জন্য পরিবারের সবার সাথে গণমাধ্যম গুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

কৃত্রিম খেলা
- মিন্টু উপাধ্যায়

শরীরী খেলায় মেতেছে সবাই...
হারিয়ে গেছে ভালোবাসা...।
খুঁজলে তুমিও পেতে পারো...
ঐ আস্তাকুঁড়ের এক কোণে...।
কৃত্রিম ভালোবাসায় মগ্ন সবাই...
ভুলেই গেছে হৃদয়টাকে...।
তাই, ভালোবাসাকে রেখেছি তুলে...
হৃদয়ের ঐ অন্তঃস্থলে...।

প্রতিশ্রুতি
- নীলকণ্ঠ পদাতিক

একটা দিন, একটা রাত-
জ্যামিতিক ছকে আঁকা ক্যালেন্ডারে কতটুকু আঁটে তার!
চাঁদ মুছে যায়, ফুল ঝরে যায়..

একটা বসন্তরঙিন দিন থাকবে শুধু তোমার জন্য।
একটি বিশুদ্ধ প্রাগৈতিক রাত শুধু তোমার জন্য তোলা থাকবে।

আমি থাকবো কিনা জানিনা।
তুমি থাকবে কিনা জানিনা।
আমাদের জন্য সেই দিন-রাত অপলক প্রতীক্ষার প্রহর,
একটি দিন, একটি রাতের প্রতিশ্রুতি বন্দী থাক।

সময়ের বুকের সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা,
নয়তো অন্য কোন যুগল তাতে হাঁটবে, ভালোবাসবে।
আর এভাবেই টিকে থাকবে প্রেম- বর্ষা-বসন্তে,
আমাদের আঙিনায়, অথবা ভিন্ন চৌকাঠে।

বসন্ত চলে গেছে
- নীলকণ্ঠ পদাতিক

পৃথিবীর রাতের আকাশে একা
অসহায় ফালগুনী চাঁদ, আর আমি
জেগে আছি মাটির গভীর থেকে জাগা
প্রাগৈতিক সোঁদা গন্ধ বুকে নিয়ে।

বসন্তের উদভ্রান্ত বৃষ্টির পর
মৃতের চোখের মতো হিম,
কোমল-কঠিন সব ইচ্ছেরা
জেগে উঠছে আবার।

স্তব্ধতার নিঃসঙ্গ সঙ্গীতের সুর
বিমুগ্ধ পায়রার মতো
আমাকে উড়িয়ে নিয়ে চলেছে
কত গত ভোরের আকাশে!

অথচ এখন গভীর রাত!
পলাতক সময়কে কাধে করে
অতীতেরা বারবার আড়চোখে চেয়ে দেখে,
ফেরার উপায় আর নেই- "বসন্ত চলে গেছে।"

হিম সকালে
- শাহিনা কাজল

হিম সকালের মিষ্টি রোদে
খেজুর রসের ক্ষীর,
দেখছি যেনো দু'চোখ জুড়ে
মেঘনা নদীর তীর।

চাষীরা সব ব্যস্ত এখন
আলু পটল চাষে,
চকচক চক করছে শিশির
হাসছে সবুজ ঘাসে।

আগুন পোহায় দলবেঁধে সব
গাঁয়ের ছেলে মেয়ে,
নদীর জলে উঠছে ধোঁয়া
রবির কিরণ পেয়ে।

ঘুম ভেঙেছে হীম সকালে
শীতল পরশ মাখা
মুগ মসুরে ক্ষেত ভরেছে
সোনা'য় সবুজ আঁকা।

রাত্রি
- শাহিনা কাজল

সূর্যি মামা ক্লান্ত হলে
মেঘের কালো মেয়ে,
শেষ গোধূলীর সবটুকু রোদ
নিঃশেষে নেয় খেয়ে।

রোদ পেরুতেই ঘরের খোঁজে
পশু পাখির দল,
রাখাল সুরে শালিক চড়াই
চলরে ঘরে চল।

সুখ অসুখের নানান কথা
ঠোঁটের পরে ঠোঁট,
বাগ বাগিচার ফুল কলিরা
ফোটরে এবার ফোট।

ফুলের মতই সুবাস দিয়ে
রাত্রির আঁধার ঠেলে,
জগৎ জীবন ধন্য করো
জ্ঞানের প্রদীপ জ্বেলে।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget