জানুয়ারী 2018

নিচের দেওয়া এই লিংকে শুরু হয়ে গেল আমার ৪০০ পাতার গল্প সংকলন ঝিঁ ঝিঁ পোকার মালা-র প্রি বুকিং। গোটা পশ্চিমবঙ্গে ক্যাশ অন ডেলিভারি, প্রি বুক চলবে আর ৪ দিন।
'ঝিঁ ঝিঁ পোকার মালা' আমার গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, পুজোসংখ্যায় প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত প্রায় চল্লিশটি ছোট বড় গল্পের সংকলন। সংখ্যার বিচারে এটি আমার মাত্র দেড় বছরের লেখক জীবনের চতুর্থ প্রকাশিত একক গ্রন্থ হলেও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে এটি স্বতন্ত্র, কারণ প্রচলিত রীতি অনুযায়ী একই ধরণের, একই মননের গল্প অর্থাৎ প্রেমের গল্প, ভৌতিক গল্প ইত্যাদি আলাদা করে এক ঘরানার সংকলন প্রকাশের যে চল রয়েছে, এই গ্রন্থের প্রকাশক সেই চিরাচরিত পথে হাঁটেননি। নানা স্বাদের, নানা ধরণের বৈচিত্র্যময় গল্পের এই সংকলনকে সম্ভবত তিনি করতে চেয়েছেন সর্বোমনোগ্রাহী।

এই সংকলনে আপাতদৃষ্টিতে শিশুতোষ অথচ শিক্ষণীয় গল্পের পাশাপাশি যেমন রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক থ্রিলার, তেমনই মিষ্টি অনুভূতির গল্পের সাথে স্থান পেয়েছে ট্র‍্যাজিক গল্প। ভৌতিক কাহিনীর সাথে জায়গা করে নিয়েছে টিন এজ প্রেম।

প্রতিটি গল্পেই আমি বিষয়ের নতুনত্বের কথা এবং উপস্থাপনার দিকে দৃষ্টি রেখেছি এবং অধিকাংশ গল্পই প্রকাশের সাথে সাথে ইতিমধ্যেই প্রচুর পাঠকের প্রশংসা পেয়েছে। গ্রামবাংলা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বারংবার অনুরোধ এসেছে অমুক গল্পটির নাম তারা অনেক শুনেছেন, কিভাবে পড়বেন জানতে। তাই সব ক্ষেত্রের পাঠকের কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ।

শুভেচ্ছায়
দেবারতি মুখোপাধ্যায়

[button color="pink" size="medium" link="https://www.ebongin.com/shop/book-store/jhin-jhin-pokar-mala/" icon="" target="true"]BUY NOW[/button]

বন্ধুত্বের বন্ধন
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

অভিন্ন হৃদয় দুই বন্ধু । আনন্দ ও জসীম । সাতচলিশ সালের দেশভাগের পর আনন্দ চলে আসে তার পরিবারের সাথে ভারতবর্ষে আর জসীম পূর্বপাকিস্তানেই থেকে যায় । ছেলেবেলার থেকে দুই বন্ধুরই স্বপ্ন ছিলো দেশের হয়ে কাজ করার জন্য সেনাবাহিনীতে তারা যোগদান করবে ।    .                  চৌদ্দ ,পনের বছরের দুই কিশোর যারা গঠনগতভাবে আলাদা হলেও মননে ছিলো এক ও অভিন্ন । সময় এগিয়ে চলেছে তার নিয়ম মেনেই ; কিন্তু তাদের হৃদয়ে জমে থাকা ভালোবাসা ,দুস্টুমির স্মৃতিগুলি বিন্দুমাত্র মলিনতার ছাপ ফেলতে পারেনি । ১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় জসীম তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের মুক্তি আন্দোলনের জন্য জীবন পণ করে ঝাঁপিয়ে পরে । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সে প্রতিরক্ষা বাহিনীর উচ্চপদে কর্মরত হয় ।

এদিকে আনন্দ তার বাবা, মায়ের সাথে পশ্চিমবঙ্গে এসে অজানা ,অচেনা দেশে চরম দুর্বিসহ জীবন-যাপন শুরু করে । মাথার উপর ছাদ নেই ,দু'বেলা দু'মুঠো খাবার কোনো সংস্থান নেই ! কখনো রেলষ্টেশনে কখনোবা খোলা আকাশের নীচে মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমানো । বাবার কাজে সহায়তা করার জন্য ষ্টেশনের ছোটছোট চায়ের দোকানে বাবার সাথে কাপ ,প্লেট ,কেটলি ধোয়ার কাজ করে ।  সময়ের সাথে সাথে জীবনেরও কিছু পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী ।

আনন্দ বাবা ফ্যান কোম্পানীতে সামান্য মজুরীর বিনিময়ে একটি কাজ পান । আনন্দর পড়াশুনা তখন আবার শুরু হয় । অতি দারিদ্রের মধ্য দিয়ে হলেও শিক্ষিত বাবার সহায়তায় প্রাইভেট শিক্ষক ছাড়াই আনন্দ বেশ ভালোভাবেই বি.এ . পাশ করে । শুরু হয় তার জীবনের স্বপ্ন পূরণের জন্য দেশের হয়ে কাজ করার জন্য লড়াই । নানান জায়গায় সেনাবাহিনীর চাকরীর জন্য ইন্টারভিউ দিতে আরম্ভ করে । ঈশ্বরের অপার কৃপায় তার স্বপ্ন পূরণও হয় । সে সেনাবাহিনীতে চাকরী পেয়ে যায় ।

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে গরু পাচারকে কেন্দ্র করে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চরম আকার নেয় । আটচলিশ ঘন্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হতে থাকে । পরিস্থিতি সামাল দিতে উচ্চপদস্থ দুইপক্ষের সেনাবাহিনীর অফিসারেরা দফায় দফায় মিটিং করতে থাকেন । শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় দুই দেশের অফিসারেরা মুখোমুখি একবার মিটিং এ বসবেন ।   .

রাত তিনটে । মিটিং শেষ হয় । তারা এবারের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটা সিদ্ধান্তে আসেন । মিটিং কক্ষ থেকে যখন যে যার মত বেড়িয়ে যাচ্ছেন ,হঠাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অফিসার বাংলাদেশের এক সেনা অফিসারকে বলেন ," মিস্টার জসীম উদ্দিন ,যদি কিছু মনে না করেন আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতাম ।" অফিসার দাঁড়িয়ে যান । ভারতীয় সেনা অফিসার জানতে চান ." আপনার ভ্রুতে যে কাটা দাগটা আছে ,ওটা কি পেয়ারা গাছ থেকে পড়ে যেয়ে হয়েছিল ? "  অফিসের হক্চকিয়ে যান ! তিনি একদৃষ্টে ভারতীয় সেনাঅফিসারের মুখের দিকে তাঁকিয়ে বলেন ,"আপনি কি করে জানলেন ?"  ভারতীয় অফিসার তখন মুচকি ,মুচকি হাসছেন ।  " পিঠের তিনটি সেলাইয়ের দাগ নিশ্চয় এখনো আছে ?"  "কে আপনি ?"  "একটু চিন্তা করে দেখুন তো কারপক্ষে এগুলি জানা সম্ভব ?"

জসীম সাহেবের হঠাৎ মনে পড়লো মিটিং শুরু হওয়ার আগে যখন পরিচয় পর্ব চলছিল তখন এই সেনাঅফিসারের নাম শুনেছিলেন - আনন্দ মজুমদার । হো ,হো করে জসীমসাহেব হেসে উঠে দু'হাত বাড়িয়ে ছেলেবেলার বন্ধু আনন্দকে জড়িয়ে ধরলেন ।   "কি অদ্ভুত দেখ ,কোনোদিনও স্বপ্নেও ভাবিনি তোর সাথে আমার আবার দেখা হবে ।"  জসীম কথাগুলি যখন বলছেন তখন তার চোখের কোলদু'টি জলে ভিজে গেছে ।

পনের থেকে কুড়ি মিনিটের মত দুই বন্ধু একসাথে ছিলেন । কিন্তু এই সামান্য সময়ের মধ্যেই উভয়েই তিনযুগ আগের দিনগুলি ওলোটপালট করে গল্পে মেতে ছিলেন । সময় ,দেশভাগ ,দীর্ঘদিন দেখা না হওয়া ,সীমান্তরক্ষার সামান্য খুঁটিনাটি ব্যাপারে গোলাগুলি - কোনো কিছুই দুই বন্ধুর বন্ধুত্বকে চিড় ধরাতে পারেনি ।

বৈশাখ ,জৈষ্ঠ্য মাসে দুপুরের ঝড়ে সেই আম কুড়ানো, ঈদ , দূর্গাপূজাতে দুজনের ঘুরে বেড়ানো ,  সরস্বতী পূজাতে দু'জনে একসাথে অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু ওই সামান্য সময়ে দুই বন্ধুর চোখের সামনে ভেসে ওঠে । সময় বড় অল্প ,কর্তব্যের নাগপাশে দুজনেই বাঁধা । তাই মুহূর্তেই দুজনেই সজাগ হয়ে ওঠে । পুনরায় দু'জন দুজনকে জড়িয়ে ধরেন । দু'জনেরই চোখ জলে ভিজে যায় । ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা আদানপ্রদান করতে কেউই ভোলেননা । বিদায়কালে তারা দু'জনেই হয়তো ভাবছিলেন, সেই ঈশ্বর বা আল্লা যেই হোননা কেন তাদের বন্ধুত্বটাকে নিয়ে তিনি ছিনিমিনি খেলেছেন । তার যদি এটাই মনের ইচ্ছা ছিল তাহলে তাদের বন্ধুত্বটাকে হরিহর আত্মা তৈরী করেছিলেন কেন ? অপরাধ তো তাদের কিছু ছিলোনা !

একজনের গমন পথের দিকে আর একজন অপলক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকেন । দেশের কর্তব্যের কাছে বন্ধুত্বের ভালোবাসার পরাজয় হয় । সেই ভালোবাসার স্থান হয় - কাঁটাতারের বেড়ার দু'পারের দু'দেশে বসবাসকারী দুই বন্ধুর অভিন্ন হৃদয়ে ।

নীল রক্ত
- এম,এস, বাশার

শিকায় তোলা এক গ্লাস দুধ,
এটা মিরা বাড়ীর ঢেঁকি'র শব্দ
এখন নির্দয় বাতাস বইছে দিকভ্রান্ত
কুঁড়িগুলো ঝরে পড়ছে
ধুলায় লীন।

মুক্তো টা আটকে আছে খোলসে
আলো চাই, আর দ্যুতি
মেঘ ছুটছে;
পুকুরপাড়ে হাসনাহেনা গন্ধ ছড়ায়
প্রাণ নেই,
পাতা পড়ে, ডাল ভাঙ্গে!

একটি ডাল হতে ছুটে যায় নীল প্রজাপতি
ক্ষত ডানা, নীল রক্ত ঝরে
নীল হৃদয়টা উড়ে যায় দূরে
রক্তের ফোঁটা পড়ে থাকে পথে পথে;
নীল রক্ত, রক্ত নীল।

সুখে থেকো
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

বেকার অসীমের জীবনে ভালোবাসার পরিনতি বিয়ে পর্যন্ত গড়ালোনা ! কুড়িতেই তা ঝরে গেলো । বিয়ে হয়ে গেলো তার প্রেমিকা বনানীর । বনানী তার প্রেমিককে অনেক বুঝিয়েছিলো -আজ না হোক কাল সে তো চাকরী পাবেই ;সে অপেক্ষায় থাকবে । কিণ্তু চাকরীর বাজারের আকালের কারনে কবে সে চাকরী পাবে সেই কারনে বনানীর জন্য আসা এতো সুন্দর সম্মন্ধ সে ভেঙ্গে দিতে পারেনি ; পারেনি তার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সাথে বনানীর জীবনকে বেঁধে রাখতে । আপ্রান চেষ্টায় নিজের চোখের জলকে বাঁধ দিয়ে বনানীর চোখের জল নিজ হাতে মুছিয়ে বলেছিলো ,"ভাগ্যকে কেউ খন্ডন করতে পারেনা ! তোমার জীবনে এতো সুখ লেখা রয়েছে , তুমি কেনো আমার মত বেকার , গরীব এক মানুষের জীবনের সাথে নিজেকে জড়াবে ? আমাকে ভুলে যেও এ কথা আমি বলবোনা তবে ভুলে থাকার চেষ্টা কোরো ।"

সময়ের সাথে সাথে দিন , মাস , বছর গড়িয়ে গেছে । বনানীর সাথে অসীম আর কোনোই যোগাযোগ রাখেনি । অসীম ভেবেছে সংসার জীবনে বনানী তার কথা আস্তে আস্তে ভুলে যাবে বা স্মৃতির পাতায় একটা আস্তরণ পড়বে যা বনানীকে সামনের দিনগুলিতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে । বনানীর বিয়ের তিন বছর পরে অসীম এক সরকারী হাসপাতালে আউটডোর ডিপার্টমেন্টে ক্লারিক্যাল পদে ছোট একটি চাকরী পায় । মাইনে সামান্য হলেও ভরসা একটিই সেটি সরকারী চাকরী ।

হাসপাতালের বহিঃবিভাগে টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন । একে একে রোগীরা আসছেন নাম , বয়স , ঠিকানা ডিপার্টমেন্ট লিখে টিকিট অসীম রোগীর হাতে দিয়ে দিচ্ছে । হঠাৎ একটি মেয়ের গলা ও নাম শুনেই অসীম মেয়েটির দিকে তাকায় । সেকি ভুল দেখছে ? বনানী না ? হ্যাঁ বনানীই তো ! গাইনী ডিপার্টমেন্টে দেখাতে এসছে । কিণ্তু এ কি চেহারা হয়েছে বনানীর ? বনানী আমার সাথে কথা বললনা কেনো ? নাকি ভুলেই গেছে !

বনানীর টিকিটের ঠিকানা ছিলো ওর বাপের বাড়ির । সন্ধ্যাতেই অসীম হাজির হলো সেখানে । হাসপাতালে একটা রঙ্গীন শাড়ি পড়ে গেলেও বাড়িতে এসে বনানী একটা সাদা ছাপা শাড়ি পড়েছে যা অসীমের নজর এড়ায়না ।

অসীম বনানীর মায়ের কাছ থেকে যা জানতে পারলো তার সারমর্ম করলে দাঁড়ায় -তিন মাসের সন্তান পেটে থাকতে তার জামাই অরূপ স্ট্রোকে মারা যায় । শ্বশুর,  শ্বাশুড়ী বনানীর ছিলোনা । পৈতৃক ব্যবসাতেই অরূপ ও তার ভাই নিয়োজিত । অরূপের মৃত্যুর দু'মাসের মধ্যে চরিত্রের বদনাম দিয়ে তারা বনানীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় । কিণ্তু সেই থেকেই বনানী চুপচাপ হয়ে যায় । প্রয়োজন না হলে সে কারও সাথেই কথা বলেনা ।

অসীমকে বনানীর মা আগে থাকতেই চিনতেন । আর এটাও জানতেন অসীম তার বনানীকে পছন্দ করে ।  কিণ্তু বেকার ছেলের সাথে তো আর মেয়ের বিয়ে দিতে পারেননা ;তাই জেনেশুনেও মুখ বন্ধ রেখেছিলেন । এখন ঘটনা জানানোর সময় কিছুটা ক্ষীণ আশা নিয়েই অসীমকে প্রাণ খুলে বনানীর বিবাহিত জীবনের তিন বছরের সব কথা খুলে বলেন । আর তার যে এই ক্ষীণ আশা যে অমূলক ছিলোনা সেটা তিনি সাতদিনের মধ্যেই টের পেয়েছিলেন ।

বনানী , অসীম , তাদের তিন বছরের ছেলে আর দু'বছরের মেয়েকে নিয়ে আজ ভরা সুখের সংসার ।

শেষ
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

এক পৃথিবী স্বপ্ন
- নীলকণ্ঠ পদাতিক

কুহকে কুহকে ছেয়ে জীবন জলের কোলে
হাজার পালক-পাখা বিছিয়ে রেখেছে কেন?

শত শর্তের ভিতের ওপরে আঁকা
স্বর্গের দুয়ার ধরে কাঁদে বসুমতী;-
অমৃত অধরা।

তারপরও আশার সলিলে জাগা ঢেউয়ে
ওলট-পালট ঘটে বুকের জমিতে কত-

পলি জমে, ভেঙ্গে যায়,
গলাজলে দাঁড়িয়ে থাকা প্রার্থনারা ডুবে যায়,
উঠোন-আকাশ-বাড়ি পুড়ে যায়..

এক পৃথিবী স্বপ্ন শুধু ওড়ে
তোমাতে, আমাতে;

আর কিছু ভাঙ্গা-গড়া
জীবনের বেলাভূমি
ভাসিয়ে নিয়ে যায় লাগাতার।

হিংস্রতা নয় সৌহার্দ্য
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

মানুষ যে এক সামাজিক জীব
এ কথা আজকে বড়ই নির্জীব ,
মানুষ সে আজকে হিংস্র প্রাণী
এটাই যেনো আজ অমোঘবাণী ৷

সামাজিকতা সবাই ভুলে গিয়ে
হিংস্রতাকে আজ লালন করে ,
কোথায় মানুষ?কেইবা মানুষ ?
মানুষ পরিচয়েই দেখি অমানুষ ৷

যতোটা হিংস্রতা থাকে পশুতে
তারচেয়ে ঢের বেশি মানবন্তরে ,
হিংস্রতা যদি পশুত্বকে ছাপায়
মানুষ নামটা তাকে কি মানায় ?

মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন
জানিনা একথা মানে কয়জন ,
মানুষ যেনো আজ সমাজচ্যুত
সৌহার্দ্যের নেই কোনই গুরুত্ব ৷

যে সমাজে তুমি বসবাস করো
সে সমাজকেই আপনার করো ,
হিংস্রতার বিষ ছড়িয়ে না দিয়ে
সৌহার্দ্যের বীজ ছড়াও সেখানে  ৷

“আসুন দাঁতের যত্ন নিই”
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস,
স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা।

দাঁত দেহের জরুরী একটি অংশ। ছোট বেলা থেকেই দাঁতের যত্ন নেয়া উচিৎ। সঠিক পরিচর্যার অভাবে দাঁত অকালেই নষ্ট হয়ে যায়। তখন দেহেরও ক্ষতি হয়। আর সেই সাথে নষ্ট হয় সৌন্দর্য। তাই ছোট বড় সবাইকে দাঁতের যত্ন নিতে হবে। দাঁতের যত্নে মেনে চলুন নিম্নে নিয়মগুলো।

পরিচর্যাসমূহ
১। প্রতিদিন সকাল ও রাতে (ঘুমানোর আগে) ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।
২। খাবারে চর্বি, পনির বা ক্রিম থাকলে অবশ্যই ব্রাশ করে কয়েকবার কুলি করা উচত। কারণ চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার দাঁতের ফাঁকে জমে দাঁতকে দ্রুত ক্ষয় করে। দাঁতের উপরিভাগে খাদ্যকণা মিশ্রিত তেল জমে দাঁতের মসৃণতা নষ্ট করে।
৩। খাবার পানি ফুটিয়ে পান করা উচিত। ফুটানো সম্ভব না-হলে নলকূপের পানি সংগ্রহ করুন।
৪। একটা বস্তুকে মুক্ত বাতাসে যেভাবে ব্রাশ করা সম্ভব সেভাবে ব্রাশ দিয়ে জিকজ্যাক পদ্ধতিতে (উপরে, নিচে, ভেতরে, বাইরে) পরিষ্কার করতে হবে।
৫। ব্রাশের সমান্তরাল স্টিকের পরিবর্তে বাঁকা হওয়া দরকার। এতের মুখের ভেতরের দাঁতগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার হবে।
৬। বাঁকা দাঁতে ময়লা জমে বেশি, তাই দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাশ করা উচিত। অনেক সময় একই স্থান থেকে দুটো দাঁত গজায়। অপারেশনের মাধ্যমে একটা দাঁত তুলে ফেলা যায় বা সমান্তরালহীন দাঁতগুলোকে সারিবদ্ধতায় আনা যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৭। দাঁতের ফাঁকের ময়লাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমে ক্ষুদ্র পাথর কণায় পরিণত হয়। তখন দাঁতের উপরিভাগে কালো দাগ পড়ে। এটা ভীষণ দৃষ্টিকটু দেখায়। এ জন্য প্রতি ছয় মাস পরপর দাঁতের স্কেলিং করানো উচিত। বয়স ৪০-এর উর্ধ্বে হলে এক বছর পরপর করাতে হবে। নতুবা স্কেলিংয়ে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক যন্ত্রের ফলে দাঁতের গোড়া দূর্বল হয়ে যাবে। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের মাড়িও ক্ষয় হতে থাকে।
৮। প্রতি পাঁচ মাস পর ব্রাশ পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে একই সঙ্গে সমান্তরাল ও বাঁকা দন্ডের ব্রাশ ব্যবহার করুন। প্রতি মাসে দুটো ব্রাশকে এক ফোঁটা স্যাভলন বা ডেটল মিশ্রিত এক বাটি কুসুম গরম পানিতে ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পরে ব্রাশ দুটোকে স্বাভাবিক পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন, যেন ডেটলের গন্ধ না থাকে। প্রয়োজনে টুথপিক দিয়ে ব্রাশের গোড়া পরিষ্কার করুন। ধুলোবালি, পোকা-মাকড় থেকে রক্ষার জন্য ঢাকনাযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করুন।
৯। অনেকের সারিবদ্ধ দাঁতের মধ্যে যেকোনো একটি বা দুটি দাঁত থাকে ত্রুটিযুক্ত হলুদ। এ জন্য কোনো প্রসাধনীর পরিবর্তে দ্রুত চিকিৎসের শরণাপন্ন হোন।
১০। দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য অনেকেই খাবার সোডা ব্যবহার করেন। পারতপক্ষ সোডা পরিহার করুন। সোডায় ক্ষার থাকে। সেটা দাঁতের কোমল মাড়ির জন্য ক্ষতিকর। অনেক সময় দাঁতের অতি সংবেদনশীল মাড়ি পুড়ে লাল হয়ে যায়। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে যা দেখতে জমাটবদ্ধ রক্তের মতো দেখায়।
১১। দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য মাঝেমধ্যেই মাউথ ওয়াশ দিয়ে কুলি করুন। মাউথ ওয়াশ না-থাকলে হাফ চা চামচ খাবার লবণ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন। প্রতিদিন লেবু বা কোনো টক ফল খান। ক্যালসিয়ামের অভাবেও দাঁতের ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়। এ জন্য ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ শাক-সবজি খান।
১২। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানীয় দাঁতের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। দুটো পানীয় একই সঙ্গে গ্রহণ করা অনুচিত। খুব গরম চা বা কফি পানের অন্তত ১ ঘন্টা পরে স্বাভাবিক পানি পান করুন।
১৩। অনেকেই বিভিন্ন গাছের দাঁতন ব্যবহার করে থাকেন। এতে মনোযোগী হতে হবে যেন দাঁতনের আঁশ দাঁতের দাঁতের গোড়ায় আটকে না থাকে। টুথপিক ব্যবহারে মাড়িতে ফুটো হলে ইনফেকশন হয়। তাই সতর্কতার সঙ্গে টুথপিক ব্যবহার করুন।
১৪। প্রতিষ্ঠিত ব্রান্ডের টুথপেস্ট ব্যবহার করাই ভালো। টুথপেস্টেও মাঝেমধ্যে পরিবর্তন আনুন। কয়লা, ছাই, মাটি বা বালু দিয়ে দাঁত মাজা অনুচিত। টুথ পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। হারবাল বা নিম জাতীয় টুথ পাউডার ব্যবহার করুন। টুথ পাউডার মিহি হওয়ার জন্য প্রতিটি দাঁতের ফাঁকে পৌঁছায়, যা দাঁতের পুষ্টি জোগায়। মাঝেমধ্যে আঙুল দিয়ে টুথ পাউডার ব্যবহারে মাড়ির বিশ্রাম হয়।
১৫। গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। ফলে দাঁতের হলুদাভ আবরণ আসে। নিয়মিত গ্যাসট্রিকে ঠোঁটের দুই কোণে কালো হয়ে যায়। এ জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।
১৬। অ্যালকোহল ও ধূমপানে দাঁত কালো হয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দাঁতের মাড়িও কালো হয়ে ফুলে যায়। মাড়ির রক্তবাহী শিরাগুলো মোটা দেখায়, যা সুন্দর হাসির জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অ্যালকোহল ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
১৭। অনেকের দুটো দাঁতের মাঝে ফাঁকা স্থান বা ভাঙা দাঁত থাকে। কৃত্রিম উপায়ে চিকিৎসা সম্ভব, এ জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটা ভিটামিন-সি ট্যাবলেট খান।
১৮। পান, সুপারি, জর্দা বা গুল পরিহার করুন। এসবে আসক্তি থাকলে খাবার পরে দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন। পানে চুনের পরিমাণ যত কম হয় ততই ভালো। মাত্রাতিরিক্ত চুন দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে।
১৯। বাঁধানো দাঁত বা কৃত্রিম দাঁতের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। প্রায়ই (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) সেগুলো খুলে পরিষ্কার করুন।

[button color="green" size="medium" link="https://www.nabadibakar.com/nabadibakar/wp-content/uploads/2018/01/Asun-Dater-Jotno-Nei.pdf" icon="" target="true"]ডাউনলোড[/button]

যখন আশি হবো
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

বয়স যখন আশি হবে,
থাকবেনা আর যৌবন,
রূপের জৌলুস যাবে কমে,
কোরবো না আর রূপটান! 😂

চুলগুলি সব হবে সাদা,
দাঁতগুলি সব নড়বড়ে,
কিংবা মুখে থাকবেনা আর,
একটিও আর দাঁত পরে! 😀

চামড়া হবে কাঁচুমাচু,
আঙ্গুল সব কঞ্চি,
চোক্ষু দুটি গহ্বরে,
অপেক্ষায়, শশ্মানের বেঞ্চি! 😁

রাগলে পরে বলবেনা কেউ ,
দেখতে লাগছে খাসা,
হাসবে যুবক যুবতীরা,
মুখটা যেন চিংড়ীমাছের খোসা! 😂

আয়না আমায় বলবে শুধু-
দুঃখ এত কিসের?
বাইরে তোমার আশি হলেও,
মনটা রয়েছে আঠারোতেই! 😀

# নন্দা   16-1-18

গণতন্ত্র সে কোথায়
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

স্বপ্ন সাধের গণতন্ত্র আজ ঝুলে আছে
কখনো ফেলানী সীমান্তের কাঁটাতারে ,
কখনো আদরের ছোট বোন তনু হয়ে
নির্জন জঙ্গলে রক্তাক্ত পড়ে থাকছে ৷

গণতন্ত্রের আজ দেখা মেলাটাই ভার
গণতন্ত্র নামে চলে গলাবাজি নেতার ,
গণতন্ত্র স্লোগানে গঠিত হয় সরকার
ক্ষমতা পেলেই শুরু হয় অপব্যবহার ৷

সাধের গণতন্ত্রের আজ দেখা মেলে
শুধুই নেতা-নেত্রীর ঝড়ো স্লোগানে ,
নয়তো সংবিধানের পাতা উল্টিয়ে
বাস্তবেতো সে কবে পালিয়ে গেছে ৷

গণতন্ত্র ঝলসানো শরীরে পড়ে থাকে
কোন এক বার্ণ ইউনিটের বারান্দাতে ,
নয়তো নিরপরাধ এক বিশ্বজিত হয়ে
পড়ে থাকছে পথের ধারে রক্তাক্ত হয়ে ৷

গণতন্ত্র সেতো আজ শুধুই ফাঁকা মন্ত্র
গণতন্ত্রের মুখোশে চলে শুধুই ষড়যন্ত্র ,
আর মনে-মনে বাসনা একনায়কতন্ত্র
গণতন্ত্র আজ চাবি দেওয়া একটা যন্ত্র ৷

সতন্ত্রতা হারিয়ে গেছে সাধের গণতন্ত্রে
মুখ থুবড়ে পরেছে সে গভীর ষড়যন্ত্রে ,
গণতন্ত্র সেতো পরিণত একনায়কতন্ত্রে
রুপ নিয়েছে সে আজ এক শাসনতন্ত্রে ৷

এমন তো কথা ছিলোনা
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

চলে যাওয়ার কথা তো ছিলোনা,
দু'জনে এক সাথে হাঁটার কথা ছিলো,
কিছু না বলেই চলে গেলে কেন ?
হাতটা তো শক্ত করেই ধরা ছিলো,
কোন সে ঝড়ে বাঁধন আলগা হোলো?
বুঝতে পারিনি তো!

চলে গেছো ঠিকই!
জীবন কিণ্তু থেমে নেই!
সময়কে যে ধরে রাখা যায়না!
অভিযোজন ক্ষমতায় মানুষকে চলতে শেখায়;
আমিও তার ব্যতিক্রম নই!
কিণ্তু এমন তো কথা ছিলোনা!

@ নন্দা  15-1-17

শীতকম্প
- অস্মিতা গাঙ্গুলী

ওরে মাগো একি শীত! থাম্! থাম্! বাপরে!
কচি বুড়ো সবে মিলে একসাথে কাঁপ রে!
আসবার ঠিক নেই, নেই বাঁধা দিনক্ষণ
তবে যদি আসে তেড়ে , হাড় কাঁপে কনকন ।
খোকা শীত, বোকা শীত ছিল তবু ঠিকঠাক
কেন দাদু তেড়ে এল, খেয়ে কাজ নাই থাক !

পারদের পারা বলে সাড়ে পাঁচ ছুঁই ছুঁই
আমি বলি, "আসি তবে, হিটারেতে গিয়ে শুই "।
ধূমায়িত কফি কাপ নিমেষেই ঠান্ডা --
মনে হয় এ শীতের মুখে মারি ডান্ডা ।
গ্যাস ওভেন রেখেছি তো বিছানার পাশেতে,
মাঝরাতে জমে গেলে সেঁকে নিই আঁচেতে ।
কলঘরে ইস্তফা, হাত ধোয়া বয়কট --
ভয়ে ভয়ে ছুটে তাই লেপে দিই চম্পট ।
দূর থেকে উড়ে আসে পরিযায়ী পাখিরা
এ সময় থাকে বুঝি উননেতে বাকিরা ।
লেপে শীত মানে না যে, তোষকের তলে শুই
ভাবি মনে ভালো হত, হলে আরো গোটা দুই ।

মননের পাখা মেলে উড়ে যাই সাহারায় --
তবু দেহ বোঝে না তো, সেখানেও টেকা দায় !
যদি এনে দিতে পারো একখানা যন্তর --
যাতে শীত তাড়ানোর আছে ফুসমন্তর ।
কথা দিই, লিখে দেব পৃথিবীটা তোমাকে
তবে যদি সেই দিন খুঁজে পাও আমাকে ।

বৃন্তের ফুল
- এম এস বাশার

নিঃসঙ্গ বৃন্তে হলুদ গাদা
উড়ন্ত শীতে
সাথি'রা কলি'তে লুকিয়ে মুখ
অস্ফুট।

তোমাকে ফেলে যেতে মন কাঁদে
ছিঁড়তে পারিনা
পরশ করে দেই, মন ভরেনা
যাতনা
কোথায় রাখলে তবে সুখি হই,
জানিনা।

তুমি জীবন্ত চেয়ে হাসি মুখ
বৃন্তের গায়
আমি চলন্ত চঞ্চল
তোমার নেই দুঃখসুখ
আর অঞ্চল,
মোহনীয়া বায়।

"গ‌রি‌বের শীতকষ্ট"


***রহমান মাসুদ***


কুয়াশায় ঢাকা দিগন্ত
কনক‌নে হাওয়ার পরস,
কর্ম সংস্হা‌নের পথ রুদ্ধ
আয় রোজগা‌রে চরম ধ্বস।


দি‌নের কামাই দি‌নে খাওয়া
তীব্র শী‌তে হ‌চ্ছেনা সম্ভব,
নিস্তব্ধ লোকাল‌য়ে কাজ নেই
থে‌মে গে‌ছে জীব‌নের কল‌োরব।


অর্ধ অনা‌বৃত দেহ জু‌ড়ে
শীতল বাতা‌সের মরন হুল,
নেই অন্ন, বস্ত্র,‌ বাসস্হান
দু'‌চো‌খে ভা‌সে স‌র্ষেফুল।


জীর্ণ- শী‌র্ণ অনাহা‌রী দেহ‌ে
নেই নূন্যতম চ‌র্বির আস্তরন,
হা‌ড়ে হা‌ড়ে খিল ধ‌রে‌ছে
দ্রুত প‌া‌য়ে আস‌ছে মরন।


গরিব হ‌য়ে জন্ম নেওয়া
যেন জন্ম জন্মান্ত‌রের পাপ,
নিষ্ঠুর প্রকৃ‌তি ক‌রেনা দয়া
কর‌তে চায় জন্ঞ্জাল সাফ।


বিত্তবানের শীত‌কে উপ‌ভোগ
চিত্ত সু‌খে পিক‌নিক,ঘোরা‌ফেরা,
গরিব প্র‌তিপ‌দে ভা‌বে
তীব্র শী‌তে যাব না‌তো মারা?






স্বপ্ন সফর
- দেবযানী গাঙ্গুলী

চোখ খুলে ঝলমলে সকালটা দেখে হঠাৎই
ইচ্ছা হ'ল স্বপ্ন মেলায় যাই ।
যথা ইচ্ছা তথা কর্ম ...মেলায় গিয়ে দেখি,
স্বপ্নের সওদাগর তো কম জোটেনি!
বর্ণাঢ্য স্বপ্নবাহারে ঝলমলে মেলাপ্রাঙ্গণ।

প্রবেশ পথের সামনে ডানা মেলে উড়ছিল
টুকটুকে লাল স্বপ্নের দল ।
আমাকে ওরা ঘিরে ধরে কানে কানে বলল --
"আশেপাশে যত্ত মাথা দেখছিস ,সকলকে ছাড়িয়ে
বড় হতে চাইলে মানুষ ঠকাতে শেখ ....না হলে
কিন্তু অসম্ভব! "...বলে খিলখিল করে উড়ে গেল ।
হাঁ করে তাকিয়ে ওদের উন্মাদনা দেখছি,
ছুট্টে এল ঘন নীল স্বপ্নেরা ।
বলল, "চল্, সাগরজলে ডুব দিয়ে মানিক খুঁজে
আনি । সাতমহলায় থাকবি রাণী হয়ে ।"
উলসে উঠল মন!! নীল স্বপ্ন বুকে নিয়ে
সাগরের বুকে ভাসব ---হঠাৎ দেখি ঝলমলে সবুজ
স্বপ্নগুলো মাঠময় লুটোপুটি ...আমার হাত ধরে
দিল টান! গলা জড়িয়ে বলল,
"ওরে, খোলস ছেড়ে মাঠে নাম ! ভেবে বলত
কতদিন খেলিনি গোল্লাছুট ..."।
সবুজ স্বপ্নের হাত ধরে মাঠে ছুটছি ...ছুটছি ...
দেখি প্রজাপতির পাখায় ভর করে উড়ে চলেছে
সোনালী স্বপ্নেরা । সকলকে ডেকে বলছে ,
"আমাদের সাথে এসো -- মুঠো মুঠো খুশি রোদ
পৃথিবীর সবার চোখে মুখে মাখাই !!"
চিকচিক করে উঠল আমার চোখ --
পাখা মেললাম ওদের দলেই ।
আনন্দ উড়ান! !
হঠাৎ মন টানল আনমনা এক গোলাপী ।
স্বপ্নময় চোখে চাইতেই ভাষা পেল নীরবতা ।
"তোমাকে দেখার জন্য আমি একটি মাত্র জন্ম
পেয়েছিলাম.. অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাসে কেঁপে কেঁপে
এই অবেলায় তবু একটু আবীর তোমার জন্য
বুকে করে রেখেছি....তুমি ফাগুন দিনে আমার
নামে আকাশে উড়িয়ে দেবে তো! "

অপূর্ব আবেশে ভরে গেল তনুমন --
জ্বলে উঠল লক্ষ তারার আলো আমার
পূবে - পশ্চিমে! ধন্য হ'ল মনের মাটি সরসতার
উচ্ছ্বাসে-- পূর্ণ হ'ল আমার সুরের দীক্ষা ।
তখন --ঠিক তখনই গোলাপী স্বপ্ন আমার
মন ছুঁয়ে বলল --
"কবি! তোমায় কাব্যসুধা দেব
ছুঁয়ে যাব বুকের বাঁ দিক ঘেঁষে--
পাঠক যত বসবে তোমার দ্বারে
তৃপ্তি যেন পায় গো ভালবেসে ।"

"প্রকৃ‌তির প্র‌তি‌শোধ"


***রহমান মাসুদ***


নায়াগ্রা জল প্রপা‌তের জলকনা
ধবল তুষা‌রে রূপান্তর,
পত‌নের প্রচন্ড গতিশীলতা
নিস্তব্ধতার করুন কান্নায় নিথর।


তাপমাত্রার নিম্ন গ‌তিধারায়
বি‌শ্বের নানা অন্ঞ্চল বিপর্যস্ত,
ঘন কুয়াশার বাধ‌নে জ‌ড়ি‌য়ে
বাধাগ্রস্হ সূর্যের উদয় বা অস্ত।


যা দিগন্ত রেখায় উদ্ভা‌সিত
হিমবাহ আদিম যু‌গের ইঙ্গিত,
অচি‌রেই  প্রকৃ‌তির ক‌ন্ঠে
ধ্বং‌সলীলার প্রলঙ্কা‌রী সং‌গীত।


জ্ঞান বিজ্ঞা‌নের অন্ধ গ‌রিমায়
সবাই আমিত্বের অহংকা‌রে ব্যস্ত,
ধ‌রিত্রী মা‌য়ের নিশ্বাস প্রশ্বা‌সে
প্রকৃ‌তি‌কে চরম বাধাগ্রস্হ।


আমা‌দের অবি‌বেচক কর্মফলে
ধরার দিন‌দিন বাড়‌ছে অভিমান,
লঘু প্রা‌কৃ‌তিক বিপর্যয় ডে‌কে
বল‌ছে সাবধান,কুলাঙ্গার সন্তান।


অসহনীয় গরম,তীব্র শীত
উত্তর উত্তর বৃ‌দ্ধির প‌থে,
তাই অস্তিত্ব বিলীন‌ রো‌ধে
প‌রি‌বেশ রক্ষায় হাত রা‌খো হ‌তে।






"ধ‌রিত্রীর অভিমান"


**রহমান মাসুদ***


হে ধ‌রিত্রী,
তোমার বু‌কেই বিচরণ
ছোট বড় অগ‌নিত প্রাণীকূল,
তোমার দে‌হে শিকড় গে‌ড়ে‌ছে,
নানা প্রজা‌তির অজস্র বৃক্ষমূল।
জ‌লের অন্তরালে য‌দিও তিনভাগ,
সেথাও বসবাস তা সংখ্যায় বিপুল।


হে বসুধা,
তু‌মি কোথাও সমতল উর্বর,
কোথাও প্রস্হর-বালুময় প্রান্তর।
তোমার মা‌ঝেই সুউচ্চ পর্বতমালা,
প্রবা‌হিত জলধারার নয়নকারা নহর।
মানব শি‌ল্পের সুনিপুন হা‌তের ছোঁয়ায়,
ধারন ক‌রে‌ছো অগ‌নিত সু‌বিশাল শহর।


হে মহী,
দীর্ঘ‌দিন মাতৃ‌স্নেহ দি‌য়ে
সজীব রে‌খে‌ছো প্রাণসঞ্চার।
প্র‌কৃতির মা‌ঝে ভারসাম্য রক্ষার্থে,
সদা সর্বদা নি‌য়েছো গুরুদ‌া‌য়িত্বভার।
আজ সভ্য শতা‌ব্দি‌তে তু‌মি হ‌লে অবলা,
উন্নয়‌নের না‌মে প্র‌তি‌নিয়ত চল‌ছে অত্যাচার।


হে ক্ষি‌তি,
হ‌চ্ছে পারমান‌বিক বি‌কিরন,
গাছপালা উজাড় হ‌চ্ছে হরদম।
প্র‌তি‌দিন ভরাট নদী-নালা-জলাশয়
অপচন‌যোগ্য মারাত্নক বর্জ্যও নয় কম।
তোমার নজরকারা রূ‌পের লুন্ঠন অহরহ,
মাতৃতুল্য ‌তু‌মি,‌তোমা‌কে রক্ষার্থেও ম‌তিভ্রম।


হে পৃথ্বী,
তু‌মি ক‌রে‌ছো অভিমান,
বাড়া‌চ্ছো তোমার উষ্ণতা।
অত্যাচার আর সই‌বে না তু‌মি,
স্বরূ‌পে আবির্ভাব ভু‌লে সরলতা।
হে প্রাণ‌প্রিয়,তোমার উপমা নীলগ্রহ,
প‌রি‌বে‌শের বি‌ষেই আজ নী‌লে বিষাক্ততা।
অ‌বি‌বেচক এই মানব জাতির কর্মফ‌লের জন্য,
তা‌দের ভ‌বিষ্যত প্রজন্ম দেখ‌বে তোমার তিক্ততা।




বনভোজন
- দেবযানী গাঙ্গুলী

মনের গাঙে খুশির হাওয়া বনফুলের গন্ধ,
শীত এসেছে হাওয়ায় কাঁপন নৃত্যপাগল ছন্দ ।
চল্ বনভোজনে যাই --
নদীর ধারে যেথায় আকুল শাল পিয়ালের বন,
বাতাস ভাসায় খুশির খেয়া, যেথায় অনুক্ষণ ...
চল্ সেই সুদূরে যাই --
নিত্যদিনের হিসাব-জীবন থাক না পিছে পড়ে,
একটা দিনে হাউই হব আহ্লাদে মন ভরে ...
আয় মিষ্টি সে গান গাই ---
বাঁশির সুরে সুর মেলাবে মেঠো পথের ফুল,
অচিন পাখি লেজ ঝুলিয়ে দুলবে দোদুল দুল।
চল্ বন্ধুরা সব যাই --
চেনা পথের পাশ কাটিয়ে একটা দিনের তরে,
রান্না -খাওয়া -গল্প -গানে খুশি উজার করে ...

আয় সপ্তমে সুর গাই ---
চল্ উজান স্রোতে বাই --
সবাই বনভোজনে যাই --

মাঠের সীমায় সূর্য যখন ছড়ায় আবীর আলো ,
শ্রান্ত রাখাল মিষ্টি হেসে 'বিদায়' বলে গেল --
মাঠের পাশে ভীড় জমালো কচি মুখের দল,
ভরিয়ে দিয়ে তাদের মুঠি, মন ভরানোর ছল ...
চল্ আসব ফিরে বল্ ---
পা ধ'রে ঐ কাড়বে মায়া রাঙা পথের ধুলো,
বাসন -পত্র গুছিয়ে ফিরি সূর্য পাটে গেলো ...
এবার ঘরে ফেরার পালা --
ব্যস্ত জীবন--রুটিন জীবন আপোষ কথামালা
শেষ বনভোজনের পালা ।

মনে মনে চিঠি পাঠাই নিরুদ্দেশের খামে --
আসছে বছর আসব ফিরে শহরতলি গ্রামে,
আবার বনভোজনের নামে ।

০৪/০১/১৮

"ক্ষ‌ণিকের ‌খেলাঘর" 


***রহমান মাসুদ***


ক্ষ‌ণিকের ‌খেলাঘর,
ভ‌বে বেঁ‌ধে‌ছি তা‌সের ঘর
আত্না যতকাল দে‌হ‌ে নির্ভর,
কতই না রঙ্গ‌লীলায় বি‌ভোর
ভা‌বিনা মুহূ‌র্তে সব হ‌বে পর,
অর্জিত ধন ভা‌বি আমার
যা নেওয়ার নেই অধিকার,
সাথে যা‌বে কি প্রিয় সংসার
কে বা সঙ্গী হ‌বে এ দু‌নিয়ার।


ক্ষ‌ণিকের ‌খেলাঘর,
এই আবাস পরীক্ষার স্হান
মা‌টির দে‌হে যত ‌দিন প্রাণ,
স্বর্গ হ‌তেই রু‌হের আগমন
পুনঃগম‌নে পু‌র্ণ্যের প্র‌য়োজন,
সংগ্রহে ক্ষনস্হায়ী দেহধারন
আবার স্ব‌র্গ প্রা‌প্তির মহা পণ,
শয়তানের ফাঁদ পে‌তে বিচরণ
বাঁধা আদ‌মের পুর্ণ্য অর্জন।


ক্ষ‌ণিকের ‌খেলাঘর,
মায়াময় ভুব‌নে নি‌র্লিপ্ত মন
কোন প্র‌রোচনা ক‌রে না গ্রহন,
স্রষ্টা‌কেই ভা‌বে চির আপন,
তাঁকেই গুনগানে সর্বদা স্মরণ
সে জন বি‌শ্বে মহা ভাগ্যবান
বিধাতার ছায়াত‌লে অবস্হান,
ক্ষ‌নি‌কের খেলাঘ‌রেও সম্মান
পরকা‌লেও স্ব‌র্গে আহবান।






আমিই সেই বাসিন্দা
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

এই নষ্ট শহরের আমিই একমাত্র নষ্ট বাসিন্দা ,
নষ্ট এই শহর জুড়ে শুধুই ভেলকি আর ধান্দা
নষ্ট এ সমাজের জন্য দায়ী আমিই সেই বান্দা ৷

দিনের কপাল বেয়ে গড়িয়ে পরে ব্যস্ততার ঘাম ,
কেউ চাকরি খোঁজে হন্যে অথচ বিধি তার বাম
কেউবা আবার সফল করে দুই আঙ্গুলের কাম ৷

আজ এ সমাজ নষ্ট হয়েছে নষ্ট হয়েছে এ শহর ,
এখানে অন্যায় করেও অন্যায়কারীই পায় পার
অথচ নিরপরাধীর কাঁধে মিথ্যে যতো দায়ভার ৷

আজ এই শহর নষ্ট,নষ্ট সমাজ,নষ্ট এ জনপদ ,
রুখে দেওয়ার শপথ নিয়েও ভেঙেছি সে শপথ
নিজেই আজকে বন্ধ করেছি নিজের চলার পথ ৷

রাতের শরীর বেয়ে হামাগুড়ি খেলে নষ্ট নারীরা ,
নষ্ট নারীই ঢেঁকে রেখেছে আমার নষ্ট চরিত্রটাও
অথচ দিনের আলোয় অপবাদ দেই নষ্টা কুলটা ৷

নষ্ট এই শহরের বুকে আমি'ই সেই নষ্ট বাসিন্দা ,
যে সব সু-পথ ই আটকেছি সফল করতে ধান্দা
নষ্ট সে শহরের জন্য আমি'ই কাঁদি মিছে কান্না ৷

"মনু‌ষ্য‌ত্বের ম‌তিভ্রম"
***রহমান মাসুদ***

আঙ্গুল কে‌টে সৃ‌ষ্টি কলম
রক্তক্ষরণ তারই কা‌লি,
প্র‌তি‌নিয়ত কতই আঁচড়
হৃদ‌য়ের ক্যানভাস তবু খালি।

দূষিত প‌রি‌বেশে হায়‌রে হৃদ‌য়‌ে
জ‌মা ম‌রিচার পুরু আস্তরন,
দে‌হের প্র‌তি অঙ্গে ধ‌রে‌ছে পঁচন ‌
কবিতায় তারই কিছু বিবরন।

মস্তক প্র‌তিবন্ধকতায় আবদ্ধ
ভাল ম‌ন্দের নেই অবকাশ
বিদারক ঘটনা অবল‌োক‌নেও
অনুভূ‌তিহীন চি‌ত্তসু‌খে বসবাস।

নয়‌নে আছে য‌দিও অশ্রুধারা
ক্ষা‌রের তীব্রতা ভীষণ হ্রাস,
সে অশ্রু‌তে নয়‌তো বিগ‌লিত
বু‌কে পাষান হৃদ‌পি‌ন্ডের বাস।

না‌সিকার আজ কিবা প্র‌য়োজন
মুক্ত সুরভিত বুক ভরা নিশ্বাস,
চার‌দি‌কে বিষাক্ততার ছড়াছ‌ড়ি
অকুতভ‌য়ে গ্রহন শ্বাস প্রশ্বাস।

কর্ণকুহর আপনা‌তে বি‌ভোর
শো‌নেনা ধর্ষ‌কের শীৎকার ধ্বনি
কত অবলার লু‌ন্ঠিত ইজ্জত
তবু ব‌ধিরতার মন্ত্র গু‌নে জ্ঞানী।

বাকস্বাধীনতার মু‌খে তালা
জ্বিবাহর পুরু‌ত্বে কন্ঠ‌ে আবিষ্টতা,
প্র‌তিবা‌দের শব্দ আওয়াজহীন
বোবার অভিন‌য় সেরা সার্থকতা।

হস্তযুগল বিপরীত বগ‌লে আবদ্ধ
নি‌র্লিপ্ত ভ‌ঙ্গি‌তে ‌নি‌স্ক্রিয় অবস্হান
হৃর্দিক ভালবাসায় বু‌কে জড়া‌নো
সুদূর প‌রাহত কা‌ঙ্খিত আহবান।

চর‌ণে আবদ্ধ লোহার বেড়ী
ন্যা‌য়ের কদ‌মে গ‌তি মন্থর,
অন্যা‌য়ের পি‌ছে সদা ধা‌বিত
তা‌কে ভা‌বে বাঁচার প্রাণ ভ্রমর।

পন্ঞ্চই‌ন্দ্রিয় উষ্ণ ভাবাপূর্ণ
জাগ‌তিক কামনা বাসনায় ব্রত,
লালসা ভো‌গের দৈ‌হিক সু‌খে
নর্দমার অতল গহব‌রে নিম‌জ্জিত।

আবেগ না‌মের যন্ত্র‌টি আজ
বি‌বেক‌কে দেয় না তাড়না,
"বি‌বে‌কের দংশ‌ণে দগ্ধ" উক্তি‌টি
আর যা‌বে কি কোন ‌দিন শোনা?

অবস্হা দৃ‌ষ্টে হৃদ‌য়ে উপল‌দ্ধি
নিক‌টবর্তী ধ্বং‌সের ঝড়ো হাওয়া,
দেহ-ম‌নের করুন মতিভ্র‌মেই
সভ্যতা নি‌শ্চ‌িহ্নের রা‌গিনী গাওয়া।

ললা‌টে অঙ্কিত খেতাব শ্রেষ্ঠত্বতা
এখ‌নো বহন করা কি স‌ঠিক,
কৃত কার্য্যকলা‌পের নিষ্ঠুরতায়
নি‌জে‌কে নি‌জেই দেই শতধিক্!!!

প্রার্থিত
- দেবযানী গাঙ্গুলী

দেবে যদি একান্ত কিছুই --তবে কথা দিও,
যে কথা কবিতা হয়ে জ্বেলে দেবে আলো
শতবর্ষ পরে আমি নিভে গেলে ।
আশা নয় গীতালির সুরে ভরে দিও
অনাগত আগামীর হেমন্ত সকাল ।
অস্ফুট মঞ্জরী ঝরে গেলে, নিশীথের
মিশকালো এলো চুলে যতনে সাজিও
জুঁই, কেতকীর ফুল ।

দেবে যদি একমুঠো আশ্বাস দিও --
অলিন্দে ঢেউ তুলে যে আবেগ মহাকাশে ধায় ,
ছায়াপথে পথ খুঁজে নক্ষত্রে সাজায়
ভীরু জীবনের রূপ ।

চাইতে পারি না মুখে, দেবে যদি একান্ত কিছুই --
তবে ধন নয়, কাম নয়, মাণিক্য নয় কোনো
অতল খনির --শুধু মন দিও ...
আলোর আকাশ ভরা এককণা নিকষিত হেম !
প্রার্থিত ছিল না কিছুই --তবু হাজার বছর পরে
কোন এক বিদায়ী গোধূলির, সব আলো
মিশে গেলে নিশীথের বুকে --
চিনে নিও লাজ ভীরু দুটি চোখ,
ব্যাকরণবিরুদ্ধ কোন অব্যক্ত নিয়মে ।

২/১/১৮

দু'পাতা প্রাপ্তির সাথে ক'পাতা বিচ্ছেদের গান
- নীলকণ্ঠ পদাতিক

১.
চলে গেল!
নিছক একটা ভাঙ্গা হারমোনিয়ামের মতো, একটানা,
দু'টো কথা বাজিয়ে চলে গেল।
দিন শেষে দীর্ঘশ্বাসে শুধু একতাল বিস্ময় ;-
"আরো একটা বছর মরে গেল!"
সময় কত দ্রুত ছুটে চলে!

২.
তীর্থকের মতো, কখনো শুধু কাক হয়ে, একা,
উদভ্রান্তের মতো,
থেমে থেমে আমিও ছুটেছি কিছুটা।
দু'পাতা প্রাপ্তির সাথে, ক'পাতা বিচ্ছেদের গান
লেখা হয়ে গেছে। নতুন একটা তকমা লেগেছে গায়ে,
দু'টো গালিও জুটেছে..

বছর জুরে বসন্ত নেচেছে এবার।
কিছু পাখি গাইতে গাইতে ফিরে গেছে।
আর কিছু শর্করা স্মৃতির পরশ,
ভালো কিছু ছবিও এঁকেছে।

তবে-
আমার শাদা ক্যানভাস,
তাতে রঙের থেকে কালিটাই বেশি।

৩.
একটা কথা, এবছরে বহুবার শুনতে হয়েছে-
বদলে যাওয়ার বারোমাসি গান।
খুব বেশি বদলেছি কি আমি!
কই? এখনো তো আগের আমিই আছি।
জীবন শুধু একটু ভিন্ন পথে..

প্রয়োজন পরিজন ছাড়ে- কোথায় যেন শুনেছিলাম!
অথবা তা এরকমই হবে।
সময়ের প্রয়োজন! সময়ের দাবী!
হু, হয়তো তা হবে!
দু'চারজনকে ছেড়েই হয়তো হেঁটেছি কিছু পথ।
কতজন আমাকে ছেড়েছে!

মনের কোন রূপ যে কেন নেই!
বদলে যাওয়ার ব্যাখ্যা যারা চাও,
খুব ইচ্ছে করে, তাদের বলি-
একটা আয়না নিজের দিকেও ধরোনা কেন?

থাক। শুধু শুধু লজ্জা পাবে।

৪.
শুদ্ধতম মায়াবতীরা,
অনেক আগেই সংসারী হয়েছেন যারা,
তাঁদের অনেক দুঃসম্পর্কের আত্মীয়াগণ
চোখের মায়ায় এখনো ডাকেন।

আমি তবু নিরন্তর, নিরুদ্দেশ কুহেলিকা'কেই চাই।
বারে বারে ব্যর্থ প্রতিমার সন্ধান
আমাকে আরো বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে।
নিজেকে এক কমলালেবুর মতো মনে হয়,
মনে হয় নিরঙ্কুশ শিমুলের মতো-
ভুল বাগানে জন্ম হয়েছে যার।

তবু আমার কুহেলিকা'ই আরাধ্য আজীবন।
অধূনা মায়বতীদের হাতের পরশ আমি চিনি।


"বেচা-কেনা কেমন চলে" শোনার সময়টা হয়তো
এখনো পেরোয়নি আমার! তবে, চুক্তি বেড়েছে।
ভক্তিতো ঈশ্বরেরও জোটেনা থেকে থেকে।
আমি আর কোন ছাড়!

মেলা শেষে কিছুই থাকেনা, বেলা শেষেও তাই।
তারপরও পুরনো ঘর- অন্ধকারও চেনা মনে হয়।
নতুন কিছু মানেই উৎপাত।

৬.
নিমকাকা বলেন- "নিদারুণ দৈবিপাকে শুদ্ধ হতে হতে,
একদিন স্বচ্ছ হবি তুই। তখন তোকে বুঝবে সবাই।"

আমি বলি, "ছাড়ো কাকা। কাকের আবার শুদ্ধ হওয়া!"
নানারকম তর্ক করে ভাগিয়ে দিই।
কাকার তবু ভীষণ আস্থা আমার ওপর!
ঘুরে ফিরে ফিরে আসেন স্নেহভরে।

যতোটা পারা যায়, আমি খুব সহজ হতে সচেষ্ট হই।
তারপরও সারি সারি আপেলের ভিড়ে,
নিজেকে শুধু বৃন্ত ছেঁড়া কমলালেবুই মনে হয়।

স্বস্তিটা এই যে, আমিও কোনদিন আপেল হতে চাইনি।

৭.
ফেলে আসা স্মৃতির মুকুরে আর কোনদিন ফুল ফুটবেনা।
জেগে থাকা অগণন চাঁদের রাতের কথা মনে পড়বে শুধু,
মনে থাকবে পাশাপাশি হাঁটা পথ, হঠাৎ একটু চোখাচোখি..

এক পেয়ালার ভাগের চায়ের কথা ভুলে যায় সবাই।
নিজের ওপরও এতো বিশ্বাস আমার এ ব্যাপারে নেই।

তারপরও বিদায় বলে কথা!
ভালো থাকুক ছেঁড়া কবিতারা। গল্পগুলো মুছে যায় যাক,
জলপাই পাতা-পায়রার সুখ সবার ভাগেই যেন জোটে কিছু করে।

ধন্যবাদ।
ভালো হোক সবার শুরুটা।

এই বছর সেই বছর
- আব্দুল মান্নান মল্লিক

এইতো সাথী বেশ করেছ এসেই গেছ।
নতুন সাজে আজকে তুমি কেমন আছ?
রাত জাগরণ বসে সারাক্ষণ তোমার অপেক্ষায়,
রাত বারোটা কখন হবে চেয়ে ঘড়ির কাঁটায়।
চেনা মুখ তবুও তুমি অচেনা পরিচয়ে,
পিছন চেয়ে আসছ ফিরে ঠিক সেই সময়ে।
পুরানো দিনের গ্লানি যত শিশিরে ধুয়ে নিয়ে,
শর্ষে ফুলের পাপড়ি মেখে অচেনা মুখ হয়ে।
গানে-গানে সুর মিলিয়ে পাখিদের কলতানে,
নিজেকে যতোই গোপন কর তবুও নিয়েছি চিনে।
পারলে কি আর লুকাতে আদল নিজের পরিচয়,
চিনেছি গো চিনেছি খুব চাঁদনি রাতের আলোই।
তোমার আমার আগের মত একত্রে বসবাস,
উঠছে ডুবছে চন্দ্রসূর্য তারাই ভরা আকাশ।

এ শহর পরিত্যাক্ত
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

এই শহর এখন পরিত্যক্ত হয়ে গেছে ,
পচন ধরেছে ওর সারা শরীর জুড়ে
কংক্রিটের ভীড়ে স্বপ্নরা পড়ে আছে ৷

জীবনের মতো জীবন হেঁটে চলেছে ,
আঁধারের পাশ দিয়ে রাত্রির গহীনে
দম লাগানো মেশিনের মতো করে ৷

এই শহর এখন বসবাসের অযোগ্য ,
যেমন বাতাসে বেড়েছে শিশার ঘনত্ব
তেমনি মানুষের মনে বেড়েছে পুরুত্ব ৷

মিথ্যে কথার এ মেকি শহরের পথে ,
মুখোশের ভীড়েও কিছু মানুষ থাকে
নিয়ে যাবো তাদের শহর থেকে দুরে ৷

ফিরতে চাইনা আর এ শহরের ঘরে ,
নীরব কান্না যেখানে ঝরে ঝরে পরে
উঁচু উঁচু অট্টালিকার শিশার ওপারে ৷

এ শহর এখন পরিত্যক্ত হয়ে গেছে ,
আশাগুলো বন্দী শহরের চৌকাঠে
আর স্বপ্নগুলো বন্ধ ঘরের সিলিংয়ে ৷

ভালোবাসার অক্সিজেন শূন্য শহরে ,
ভালো মনের বড়'ই অভাব পড়েছে
মন সেও মন খোঁজে শরীরের ভাঁজে ৷

"২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ সুস্বাগতম"


***রহমান মাসুদ***


শত ফু‌লের ডালা ভ‌রে
জানাই সাদর সম্ভাষন,
শুভ হউক,শুভ হউক
হে ২০১৮, তোমার আগমন।


রা‌তের নিস্তব্ধতা ভে‌ঙ্গে
অন্ধকা‌রে আলোর ঝলক,
যা তোমারই আগত বার্তা
নতুন‌কে পাওয়ার প্রথম ফলক।


অতী‌তের সব গ্লানি ধুয়ে মু‌ছে
ধূপকা‌ঠি জ্বে‌লে তব বন্দনা,
কল্যাণকর পদ‌ক্ষে‌পে অমর হ‌বে
দু'হাত তু‌লে বিধাতার ত‌রে প্রার্থনা।


চরম নৈ‌তিকঙ্খল‌নের আগ্রাসন‌ে
অ‌স্হির বিশ্বের বু‌কে রন-স‌ঙ্গ‌ীত,
ধর্ম-বর্ন-জাতিগত হানাহা‌নি‌তে
দৃশ্যমান তৃতীয় বিশ্বযু‌দ্ধের ই‌ঙ্গিত।


প্রাণ‌প্রিয় পৃ‌থিবীর বু‌কে
বিলু‌প্তির প‌থে শান্তির বানী,
হে আগন্তক,তোমার সময়কা‌লে
বিশ্ব ক‌ন্ঠে চাই মানবতার ধ্ব‌নি।


২০১৮ বর্ষ পন্ঞ্জিকায় চাই না
অযা‌চিত হানাহা‌নি মারামা‌রি,
এসো ভ্রাতৃ‌ত্বের বাধ‌নে জ‌ড়ি‌য়ে
হৃ‌র্দিকতায় পৃ‌থিবী‌তে স্বর্গ গ‌ড়ি।






Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget