সেপ্টেম্বর 2017

শুন্যেতা
- ফাল্গূনী রুনু

তোমাকে পেয়েও হারিয়েছি আমি,
তোমাকে হারিয়েও পাওয়া হয়ে গেছে.
যেন এক অদ্ভুত সমীকরন না যোগ না বিয়োগ !
পুরণ না হয়ে ভাগ হয়ে গেছে !
ফলাফল যাই হোক শুন্যতায় ভরে যাক
ভুল করা ভুল গুলো ভুল হয়েই থাক
মন আবেগী এক নদী কাঁটিয়ে অবাধ সাতাঁর
কেউ নেই কাছাকাছি ভাবনারা মিছেমিছি
স্বপ্নেরা জাল বুনে ভুল করে আবার ।

কেমন বিজয়া...?
- অপু কর্মকার

এক-এক করে চলে গেল খুশির চার দিন,
শুভ বিজয়ার দিনে তাই মন হয় উদাসীন;
পুজো এলো, পুজো এলো খুশি ছিল মনটা,
বলো কেন এলো এই মন খারাপের দিনটা?

অনেকে দেখি হাসে তবু মায়ের বিদায় কালে-
উদাস মনে বাম হাতটা থাকে আমার গালে;
মা! মর্তে তুমি এসেছিলে করতে অসুর নিধন,
দুষ্টরা কি সবে শেষ হয়েছে? শেষ হল চিন্তন?

কেন তোমায় বলি- 'মাগো! আবার তুমি এসো'?
যাচ্ছো কেন? যদি মোদের এতোই ভালোবাসো!
সংসারের টানা-পোড়ানে যখন নিজেই আছো দন্দে,
কেমনে প্রকৃতি ফিরবে বলো জীবনেরই ছন্দে?

বলছি তবু নিয়মের কাছে মেনে নিয়ে হার...
এসো মাগো তুমি আবার সামনে বছর....

সবকিছুতে শর্ত থাকতে নেই
- মোশ্ রাফি মুকুল

সব কিছুতে শর্ত থাকতে নেই।

জানি সব কিছু শর্তসাপেক্ষে ছোঁয়া যায়না।
জানি কোন কিছুই পাওয়া যায়নি সহজ মিথিস্ক্রিয়ায়-
এখানে পূর্বাপর কিছু শর্ত থাকে।
তবে সব কিছুতেই শর্ত থাকতে নেই।

আমরা বড়জোড় স্বপ্নের উঠোনে হাঁটতে পারি,যদিও তার ছায়াটাকে ধরতে পারিনা,
আমরা বড়জোর বিলাসী ঘুমের ভেতর স্বপ্নজাল খনন করতে পারি- তাকে ছুঁতে পারিনা।

যেমন পারেনি কখনো কেওড়া বৃক্ষের মূল-
সোনার হরিণ ছুঁতে।
যেমন আমিও ধরতে পারিনি তোমার কাঁকন-
মুঠোভরে ধরেছি শুধু ভুল আর ভুল।

সূর্যের জ্বালানি ছাড়া যেমন চলেনি পৃথিবীর রন্ধন,
এবং পূর্বাপর শর্তারোপ করে ভূমিষ্ঠ হয়নি আমিও;

কেননা নদী চলে নিরবধি সমুদ্রযোনির গভীরতা মেপে। হয়তো সেখানে সখ্যতা ছাড়া অন্য কোন গোপন কারুকাজ নেই।

শুধু আমি একবার জম্মেছিলাম মাতৃগর্ভ থেকে -তোমাকে প্রগাঢ় চুম্বন করবো বলে।জানি ভালোবাসায় পূর্বাপর শর্ত থাকেনা। ভালোবাসায় কোন শর্ত থাকতে নেই।

এই হলো মানব জীবন
- রণজিৎ মাইতি

জানি বোধনেই লেখা হয় বিজয়ার বিষাদ গজল
তবু মহাষ্টমীর পূজোয় সবাই হই আনন্দে উচ্ছল

কল্লোলিনী বহমান মাঝে আছে আনন্দ বেদনা
বেদনাকে দূরে রেখে ছুটে যাই যেখানে মোহনা

সঙ্গম মাধুরী অঙ্গে বয়ে চলি স্মৃতিময় অন্তিম লগন
পূজো আসে পূজো যায় এই হলো মানব জীবন

উতল হাওয়া
- শ্রীমন্ত সেন

উতল হাওয়া মানে
প্রজাপতিদের এক ছুটে
হাওয়ায় ভেসে এসে কোনও কিশোরীর
অবিন্যস্ত বেণীটি ছুঁয়ে যাওয়া,
উতল হাওয়া মানে
মন ভার করা আকাশের মেঘগুলোর ঝুঁটি
হঠাৎ নেড়েই নিরাপদ দূরত্বে লুকিয়ে পড়া,
যাতে কিছুতেই টের না পায়
দুলে ওঠা মেঘেদের মন,
তারপর গুমোটটাই যায় কেটে,
চারদিকে ঝিলিক দিয়ে ওঠে রোদ,
ঠিক যেমন মনখারাপের পর
হেসে ওঠে অভিমানী মন।

উতল হাওয়া মানে
বুকের মাঝে বওয়া ফল্গুনদীতে
অকারণে আলগোছে ঢেউ তুলে যাওয়া,
যা হঠাৎ হঠাৎই হয়।

উতল হাওয়া মানে
কার যেন বিনা খবরে হঠাৎ আগমন,
তার জন্য অপেক্ষারত কার চোখে যেন
অকারণ উচ্ছল জল এনে দেওয়া,
যা মুছতেও ইচ্ছা করে না
আবার রাখতেও ভয় হয়,
পাছে কেউ বেহায়াপনা ভাবে।

উতল হাওয়া উতল হাওয়াই,
যার আসা যাওয়ার ঠিক নেই,
আগলছাড়া পাগলপারা,
হঠাৎ আসা হড়পা বানের মত যা
বলা নেই, কওয়া নেই,
সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে নিয়ে যায়,
মন-প্রাণ-লজ্জা-ভয়
মায় পিছুটান--- সব সব।

তাই বুকের খুব কাছের কাউকে
যে কথা ‘বলব বলব’ করেও
বলা হয়ে ওঠেনি জড়তায়,
তা অনায়াসে উতল হাওয়া বুক থেকে
বের করে হঠাৎ পৌঁছে দেয়
কাঙ্ক্ষিত জনের কাছে,
তারপর দু’টি মন মেলে অবশেষে।

নতুন যুগের নতুন কাহিনির হয় সৃষ্টি,
যে কাহিনি আবহমান কাল থেকে চলে আসছে,
তারই নবতর অভিরূপ--- অপরূপ।

উতল হাওয়া,
তুমি চিরকাল বহমান থেকো---
বাইরেও থেকো
আর বুকে বুকেও।

বাঁ-পাঁজর
- মাহদী হাসান

বাঁ-পাঁজরের হাঁড়খানাতে ভীষণ ব্যথা!
মিথ্যে সুখের অভিনয়ের আদিখ্যেতা।
ফাল্গুনে সে ভীষণ পোড়ায় ভীষণ জ্বালায়,
অথই সাগর মরছি ডুবে হাতটি বাড়ায়।
বসন্তে সে বাসন্তী সাজ ভালোই সাজে,
কথায় পাকা মনটা কাঁচা অলস কাজে।
বৈশাখে সে উথাল ঝড়ে হৃদয় নাড়ে,
চলছে জীবন নৌকোবিহীন অস্তপাড়ে।
সাঁতার জানি একাই আমি নামছি হেসে,
দেহের অংশ দেহেই আছে চলছি ভেসে।
অথই সাগর খড়কুটো নেই আঁকড়ে ধরার,
ভ্রুণের দায়ে সুযোগতো নেই সটকে পড়ার।
শীতের সময় হাঁড় কাঁপিয়ে ঘামে নাওয়ায়,
তাল হারা সুর, মুগ্ধ শ্রোতা আমার গাওয়ায়।
স্বপ্নগুলো দিক হারিয়ে ছুটতে থাকে,
মায়ার বাঁধন ফুলের মতো ফুটতে থাকে।
সুখের সময় হাসতে থাকে অট্টহাসি,
কান্না এলে মেকি ভাবে সুখপিয়াসী।
হুলের মতো ফুটতে থাকে গোলাপ তলে,
সুবাস আছে, আঘাত ছাড়া জীবন চলে!
তারপরও সেই বাঁ-পাঁজরের হাঁড়খানাতেই—
সন্যাসী মন সুখ খুঁজে পাই এক নিমিষেই।

কবির চাহনি হৃদয়ে হৃদয়ে কাব্য লিখে দেয়
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমি একথা বলিনি যে-আমিও বিশুদ্ধ বলতে পারি,
যেমন ভাত শালিকের স্বরযন্ত্র টেনে আনে বিস্মিত মধুরতা,
যে শব্দে ইন্দ্রিয়ে জেগে ওঠে একমুঠো-একরাশ মুগ্ধতা।
আমি কখনো একথাও বলিনি যে
সুবিখ্যাত শব্দচাষীর মতো আমিও বিনম্র কবিতার কৃষক,
আমিও লিখতে পারি কালজয়ী মন্ত্রমুগ্ধ কবিতা!
তবে আমি কথা বলেছি যে-কবিতার মানুষেরা দারুণ দুঃখবোধক,
বুকের গহিন খাঁচায় অয়োময় কষ্ট পোষে;
হৃৎপিন্ডের কোষে কোষে করে যায় যাতনা লালন-
এবং-
আমি একথা বলেছি যে -প্রতিটা কাব্যমনন নিশ্চিত পরিশীলিত -নির্মোহ,
সভ্যতার প্রথম লগ্ন হতে সাহসী শব্দশ্রমিকেরাই সব অসঙ্গতির বিরুদ্ধে লড়েছে, মরেছে- করেছে দ্রোহ।
আমি কখনো বলিনি যে আমি কবি হতে এসেছি-এ কঠিন সময়ের;
আমি একথা বলেছি যে- কবিরাই হতে পারে অনায়াসী প্রেমিক,
কবির নিটোল চাহনিই হৃদয়ে হৃদয়ে নৈঃশব্দিক কাব্য লিখে দেয়।

হে জীবন, তুমি হেরে গেছ
- শ্রীমন্ত সেন

তুমি আমাকে নষ্ট করতে চেয়েছিলে,
আমাকে সবার থেকে আলাদা করে
চেয়েছিলে অনন্য করতে ঘৃণা ও লজ্জায়,
আমার ঘর কেড়ে নিয়ে
আমাকে আনতে চেয়েছিলে পথের ধূলায়,
কাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক সত্ত্বেও
দিতে চেয়েছিলে আমায় বিতৃষ্ণা,
আর চেয়েছিলে দিতে এক বুক নীল যন্ত্রণা।
মানুষ থেকে অমানুষ চেয়েছিলে করতে।
হে জীবন,
পারোনি,
তুমি যা যা করতে চেয়েছিলে,
তার প্রত্যেকটিতেই তুমি নেহাতই অসফল।
কারণ তুমি হারাতে চাইলেও,
আমি হারতে চাইনি।
কারণ আমি হাল ছাড়িনি।
আমার আমিকে কখনই দিইনি
গ্লানির স্পর্শ।
যেখানে যে অবস্থায় রেখেছ হে জীবন,
তাকেই আমি আমার প্রাণের মহিমা দিয়ে
বানিয়েছি নন্দন কানন, শান্তিনিকেতন।
ধূলিশয্যা থেকেই ধূলিমুঠি সোনা করেছি
আমার চাওয়ার ঐকান্তিকতায়,
তোমার দেওয়া সমস্ত প্রতিকূলতাকে আমি
তুচ্ছ করে দিয়েছি আমার লড়ার উদগ্রতায়।
আজ দ্যাখো
আমার মাথা তেমনই ঋজু,
আমার অহমিকা তেমনই অভ্রংলিহ,
আমার আমিত্বে নেই আর কারও
কোনও সত্ত্ব, স্বামীত্ব,
ছেঁড়া তমসুকের মত পড়ে আছে
তোমার তথাকথিত অধিকার।
হে জীবন,
তুমি সত্যই হেরে গেছ।
এবার
‘আমাকে আমার মতই থাকতে দাও।’

তাং—২৭-০৯-২০১৭

টেডিবেয়ার
- রণজিৎ মাইতি

সো-পিসের সাথে--
এখনও রেখেছি সো-কেসে,

টেডিবেয়ার ।

জন্ম দিনে উপহার পাওয়া,

মুন্নির ।

অনেকই জানতে চায় কেন রেখেছি
উত্তরে বলতে ইচ্ছে করে,কিন্তু চেপে যাই

সবকিছু সবার সাথে শেয়ার করা যায়না,তাই---

মুন্নি এখন মুনমুন
ঘর আলো করে গাঁথছে,-----

মালা আর মালা ।
মালাকার ।

যেদিন আলো চলে গেল অন্য ঘরে,
সো-কেসের টেডিবেয়ার হল জীবন্ত ।

মাতৃরূপিনী
- স্বপন সমাদ্দার

জাগো মা দুর্গা, শুভচেতনার
আলো জ্বালো অন্তরে!
জীবন আঁধার কাটেনি যাদের
মা তোমার মন্তরে!!

মোছো দশ হাতে, তোমাকে নিয়ে মা
যার যত সন্দেহ;
তাদের ডাকে মা সাড়া দাও, যারা
পায়নি তোমার স্নেহ!

তারা ভাল থাক, মনে খুশি নিয়ে,
উৎসব প্রাঙ্গণে;
সবার খুশিতে আরও ঝলমলে
হয়ে ওঠো, প্রতিক্ষণে!!

তুমি হীনা
- সুকুমার সিনহা

মনের আকাশ ঢেকেছে গাঢ় অন্ধকারে ,
কেউ প্রদীপ হাতে এসে দাঁড়ালো না
সশরীরে বা নিরাকারে ।

উত্তাল ঝোড়ো হাওয়ায় বিদীর্ণ সমুদ্রের বুক ,
বিষাক্ত কীটেরা সুযোগে বসিয়েছে কামড়
শরীরের শিরা উপশিরায় ,
কেঁড়ে নিয়েছে জীবনের সমস্ত সুখ ।

মনের সুনীল আকাশের সূর্যও অস্তাচলগামী ,
নেই আজ বেঁচে থাকার মতো অবশিষ্ট
বিন্দুমাত্রও উপকরণ - উন্মাদ এ জীবন ,
জীবন স্রোতে হয়েছে পশ্চাৎগামী ।

ভেঙে গেছে মন - শূন্য এ জীবন ,
বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সুযোগ - সন্ধানী তুমি
কেন বলো ডেকে আনলে মরণ ।

হয়তো বা তোমার বিলাসিতা দেখে যাবো না আমি ,
তবুও থাকবো এই প্রকৃতির শিরায় উপশিরায় -
থাকবে না সাথে শুধু তুমি ।

যেদিন তোমার ভেঙে যাবে সব ভুল ,
দেখবো আমি সজল চোখে তোমার পরিণতি -
যখন খুঁজে পাবে না তুমি খুঁজে কূল ।

ডেকে নেবো তোমায় আমার কাছে ,
রয়েছি প্রতীক্ষায় - হবো না আমি আজ অন্তরায় ,
তুমি দুঃখ পাও পাছে ।

থাকবো আমিই না হয় হয়ে ছিন্ন বীণা ,
তুমি এসে জুড়ে দিও তার জীবন মন্ত্রে -
আমি তো কখনোই আমি নই - তুমি হীনা ।

বিনিসুতোর মালা

- জয়া বিশ্বাস


জেনে বুঝে মানুষ গুলো যখন করে ভুল

যত্নে করা বাগান আমার দেয়গোঁ অনেক ফুল।


রোজ ভোরেতে আসি আমি আমার ভাঙা ছাদে

হাত বুলিয়ে জলটি দিয়ে যাই যে নিজের কাজে।


গাছের সাথে অনেক কথা বলি আপনমনে

একটা পাতা ঝরলে আমার বুকটা কেমন করে।


আমার সাড়ায় পাখির দল হয় যে জড়ো ছাদে

দাঁড়িয়ে থেকে যত্ন করে খাওয়াই তাদের আগে।


কুকুরবিড়াল  অনেক হলো দিনা কাউকে ফেলে

লুকিয়ে আঁধারে সবাই যখন যায়গোঁ ছেড়ে চলে।


মাথায় আমার কবিতার ভুত সদাই নড়েনচড়েন

থামতে বলে চোখ পাকিয়ে সবাই বকেন ঝকেন।


সবাই আমায় দেয়ও ঠেস বন্ধু আমার ছোট্ট বেশ

তবুও আমার এরাই জগৎ এদের নিয়েই খুশির রেষ।


বড়দের দলে ঠাই হয়না নেইকো আমার মূল্য

এরাই সব আমার কাছে আমার সন্তান তুল্য।


পশুপাখি গাছ বন্ধু ছন্দ সুরে বাঁধা

এদের নিয়েই গেঁথেছি আমি বিনিসুতোর মালা।

দুটি মন
- উত্তম বিশ্বাস

এ কোন সুখ. ....
যে সুখে এত খুশি এত উচ্ছ্বাস. ;
জানো কি তার নাম. ,
মিষ্টি নামটি তার "ভালোবাসা ".....

লেগেছে হৃদয়ে দাবানল.,
যার আগুনে
পুড়ছে হৃদয়,, পুড়ছে দুটি মন. ;
ওরে মন পাগল এখনো বুঝলি না ....

মনের আগুন মনে রেখে পুড়ছে সারাবেলা
এ আগুনে যায় না জ্বালা !!!
লেগে যায় আপন মনে
এরই নাম ভালোবাসা "....

তোমার আকাশ বাতাসে
নিশ্বাসে রয়ে যাবো আমি
আমার রঙে রাঙাবো তোমায় ....

আঁখি কাজলে রইবো আমি.
খুশিতে দেবো আঁচল ভরে ....

নারী
- মো: তারেক আনোয়ার কিরন সিদ্দিক

বাবাই জন্মের পর প্রথম নিয়েছিল কোলে
বাবা হওয়ার সুখের মাঝেও ছিল অভাব
তার মেয়ে হয়েছে বলে

নারী রুপে জন্মেছি তাতে দোষ কি আমার?
শত সাধনার পরেও এজগতে পাইনা মন সবার

মা আমার সকল সুখের সমাহার,বিন্দু মাত্র দোষ
নেইতো তার
সবাই জানে সবাই মানে সকল সৃষ্টির লীলা
সেই বিধাতার

তবু নারী বলে অবহেলায় তুচ্ছ করে রাখো
আমাদের
নারী বিনা একটু ভেবে বল কে পালিত
তোমাদের?

আমরাই পারি তোমাদের মা রুপে ভালবাসতে
তবে কেন আজো বাধা দাও নারীদের পৃথিবীতে
আসতে।

আমরাই বোন হয়ে অমুল্য স্নেহ দেই পাবে না
যা বিশ্ব জুড়ে
তবে আবার কেন এই নারীদের করতে চাও
সমাজ থেকে দূরে?

আবার আমরাই স্ত্রী রুপে তোমাদের করি ভক্তি
সেবা
নারী ছাড়া তোমাদের সকল শাসন বারণ এভাবে
সইতো কেবা?

আমরাই প্রেরণা দেই জীবন যুদ্ধ জয় করে হাসতে
বল তবে কি ক্ষতি তোমাদের নারীকে ভালবাসতে?

সুন্দর সুষ্ঠ গোছালো একটি সুশীল বাড়ির মধ্যে,
তাকিয়ে দেখো
সকল সাংসারিক গুন আছে কেবল নারীর মধ্যে।

নিজের জন্ম দাতা পিতামাতা,ভাই,আর আদরের
ছোট বোন
ত্যাগকরে জন্মস্থান প্রিয় অপ্রিয় আত্মিয় স্বজন

তোমার সংসার তোমার সন্তান তোমার সবই করে
নিয়ে তারই আপন
একমাত্র নারীই পারে পিতৃঘর ছেড়ে তোমার সাথে
করতে জীবন যাপন

হতভাগা তবু তোমরা তাদের মুল্য দিতে জানলে না
নারীরাই তোমাদের অর্ধাংগীনি কেন আজো মেনেও
মানলে না ??????

ঋণ
- পরিচয় প্রধান

জীবনের কাছে কত ঋণ !
তোকে বলেছিলাম আয়, নক্ষত্রের মতো পুড়ি
ভস্ম হয়ে ছড়িয়ে পড়ি জোয়ারের জলে ।
তুই ভয় পেলি, বললি__
‘আমার জীবন’ !
জীবন কি কারো হয় ?
এক প্রলয়ের রাতে চরাচর জুড়ে অন্ধকার জোয়ার
কোথায় যে তার শুরু, কোথায় যে তার শেষ !
জোয়ারের স্রোতে ভেসে আসে আলোর ফুলকি
জোনাকীর মালা, কতো খড়কুটো, নিয়তির তালে তালে ঢেউ ।
ভয়ঙ্কর নিঃশব্দে ঢেউ ভাঙে ।
নীল জ্যোৎস্না জড়িয়ে জীবন শিয়রে দাঁড়ায় । হাসে শূণ্যতা ।
তুই, আমি অন্ধকারে হাঁটু মুড়ে বসি
তোকে ছুঁয়ে শূণ্যতায় নিবিড় হই ।
জীবন দাঁড়িয়ে থাকে শূণ্যের চেয়ে বহু দূরে ।
@পরিচয় ২৪-০৯-২০১৭

মধ্যবিত্ত যন্ত্রনা
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমাকে ভালোবাসতে চাইলে তাকে দিতে চাইলাম কিছু মধ্যবিত্ত দুঃখ-
সে নিতে চাইলোনা।
আমার চোখে চোখ রাখলে তাকে পড়তে বললাম আমাদের মধ্যবিত্ত কষ্টগুলো-
সে পড়তে চাইলোনা।
আমার হাতে হাত রাখলে তাকে দিতে চাইলাম কিছু মধ্যবিত্ত স্পর্শ-
সে কিছুতেই নিতে চাইলোনা।
তারপরও শুধু আমাকেই চাইলে বুকের গহিন অতল থেকে ডুবুরীর বেশে তুলে আনলাম কিছু সদ্য প্রসবিত মধ্যবিত্ত যন্ত্রনা-
সে নিতে চাইলোনা,কিছুতেই নিতে চাইলোনা।

পাঠকের প্রতি
- শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ কবিতার হাত ধরে
আমি যাব নির্বাসনে,
জানিনা কোথায়,
শুধু জানি- মনের কোন এক গহনে
সাহিত্যের হাত ধরে
যাব আমি স্বেচ্ছা- নির্বাসনে।

যাব আমি সেই তপোবনে,
যেখানে বাতাসের ছোঁয়া
মায়ের মত স্নিগ্ধ- শীতল,
জুড়াবে সকল অবসাদ,
যেখানে আকাশে- বাতাসে
মধু- বসন্তের চির উদ্ভাস—
উদাত্ত প্রেমের হাতছানি,
যাব আমি সেইখানে চির নির্বাসনে
সাহিত্যের হাত ধরে।

ভালো লাগে না দেখতে আর
মানুষের দৃষ্টিতে বিষ,
মানবিকতার চূড়ান্ত অবক্ষয়,
জাতিভেদ বা দলাদলি,
তাই, আমি এই তপোবনে নেব
স্বেচ্ছা- নির্বাসন,
রচিত হবে সাহিত্য আমার,
সেই সাহিত্য উপভোগ করব নিবিড়ভাবে,
তবে, তাকে আর আনব না পাঠকের দরবারে,
তা থাকবে কেবল আমার চেতনে।
আমি যাব চির- নির্বাসনে সাহিত্যের হাত ধরে।

যাপিত জীবন
- লোকমান হ‌া‌কিম

এমন টেলিস্কোপ যদি হতো
যা দিয়ে আমি আমার
ভবিষ্যত দেখতে পেতাম!
অথবা টাইম মেশিনে চড়ে
যদি ভ্রমণ করা যেত
ভবিষ্যতের উপত্যকা, তাহলে
ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া চা'য়ে
হঠাত চুমুক দিয়ে কী
এমন বিরক্তি প্রকাশ করতাম!
হাজার বছরের ভুলগুলো
শুধরে নিয়ে তোমাকেই সাজাতাম
হে প্রিয়তম জীবন আমার।
পুঁজিবাদী প্রেমের কাছে
ঠুনকো হয়ে যায়
মধ্যবৃত্যের বাসনা, এ জীবন
নির্মোহ কাটে না।
যদিও এভাবে হাঁটতে পারি না আমি
তবুও ভবিষ্যতের ভাবনায়
দু'পয়সা রাখি।
দেখি, ভাঙ্গা ভেন্টিলেটরে
খড়-কুটো দিয়ে বাসা বানিয়ে
রাত্রির বারান্দায় চোখ বুঝে
ছোট্ট চড়ুই পাখিটা

পেরিয়ে যাচ্ছে তার যাপিত জীবন!

শুধু তাকে চাই
- ইরাবতী মণ্ডল

দেখেছিলেম তাকে
ইছামতীর বাঁকে
কলসী নিয়ে কাঁখে।

দাঁড়িয়ে ছিলো একা
চোখে কাজল আঁকা
ভুরুর ধনুক বাঁকা।

নীলাম্বরী পরা
চটুল চোখের তারা
পায়ে নুপূর ছড়া ।

অস্তরাগের আলো
রপ তার ছড়ালো
ভোলালো মন ভোলালো ।

কোথায় গেলে পাই
সে যে আমার স্বজন ভাই
চাই যে, তাকেই শুধু চাই ।

21.09.17

প্রশ্ন-অতীত
- আবির সাহানা

একলা রাতের নিস্তব্ধতায়
নির্ঘুম চোখে জেগে থাকা স্বপ্নের ভিড় ।
অব্যক্ত ভাবনারা বুকে পাহাড়-প্রমাণ ;
অবচেতনের ধোঁয়াশায় চেতনারা ডুবে যায় অহর্নিশ ।
ফেলে আসা মুহূর্তের ফিরে দেখায়
চাওয়া পাওয়ার টানাপোড়েনে দগ্ধ হৃদয়--
তবু সেই দহনেই শান্তি অপার, নিঃসীমতায় ।
মুক্ত মনের খেয়ালি শাম্পান কোন অজানায়
কার কূলে যে নোঙর ফেলে
কেউ জানে না...
রাতের ক্রমশ বেড়ে চলা--ঘড়ির কাঁটায় সময় গুনে ।
আমার সময় স্তব্ধ তবু অতীত ঘিরেই ।
কীসের আবেশ শূন্যতাতেও পূর্ণতা দেয় !!
প্রশ্নবোধক দ্বন্দ্ব হাজার---
তবুও আমার চাই না জবাব ।
কৌতূহলী প্রতিটা ক্ষণ আরও যতেক ভাবনা আনুক,
পাহাড় জমাক হৃদয় জুড়ে ।
যার ঠিকানায় নৌকো থামে
জল থইথই ছলাৎ ছলাৎ কূলের আকুল আলিঙ্গনে---
সেই ঠিকানার ডাকবাক্সেই রামধনু রঙ রঙীন খামে
আমায় বরণ করার আশায় উত্তরেরা প্রতীক্ষাতে---
রাত পেরিয়ে পাখির ডাকে শ্রাবণ ধারায় নবীন প্রাতে ।

তারিখ - ১১.০৯.২০১৭

মরণের কথা
- মো: তারেক আনোয়ার কিরণ সিদ্দিক

জীবন মানে জানে সবাই
মরনের কথা আজ বলতে চাই
জীবন চাকা ঘুরবে যত ক্ষন
পাসে রবে আত্তিয় সজন
ডাক যেদিন আসবে অপারের
পর হবে প্রত্তেকেই পরিবারের
তোমারি ঘর থেকে আনবে টেনে
চিরসত্য কথা নাও জেনে
গোসল করাবে সবাই বড়ই পাতা দিয়ে
বিদায় জানাবে সবাই মাটি চাপা দিয়ে
কবরের মাঝে তুমি একা নিষঙ্গ হবে
পোকা মাকরের খাবার তোমার প্রতিটি অঙ্গ হবে
বেচে থাকতে সবাই ছিল পাগল তোমার
আজ জেনে নাও সংগী শুধু আমল তোমার
আমলের ভিত্তিতেই তোমাকে জানা হবে
তুমি ভাল কি মন্দ আমলের দ্বারা মানা হবে
ফেরেস্তাদের নানা প্রস্নের উত্তর দিতে হবে তোমায়
পাপ যদি হয় বেশি ফেলবে নরকের কোণায়
পূন্নের পাল্লা ভারি তোমার হয় যদি
পারবেনা করতে আর কেউ তোমার ক্ষতি
চির জান্নাতি হয়ে সুখে রবে আজীবন
আজও সময় আসে বদলে নাও নিজের জীবন
সত্তের সত্য কথা চিরদিন রেখো স্মরন
যেখানেই রোও যেভাবে ই রও আসবেই মরণ

সভ‍্যতার মাপকাঠি
- সংঘমিত্রা আইচ

পূজোর মরশুম আনন্দ ছটপট…
নতুন পোশাকে সকলেই ঝকমক…

নাড়কেল নাড়ু মিষ্টি রকমারি…
রসনা তৃপ্ত রান্না বাহারী…

পথের ধারে বস্তির ঘরে…
বাচ্চারা সব বায়না করে।

নতুন খাবার নতুন পোশাক,…
পেলে জীবনটা চলতো ঠিকঠাক।

আশায় থাকে পথশিশুদের মাতা…
বাবুদের বাড়িতে মিলবে ভাতা..!

পেটভরে খাবে পান্তাভাত…
বাসি খাবারেই হবে সুপ্রভাত।

নতুন দিনের পূজোর সকালে…
ঢাকের বাজনা তালে তালে।

হাসবে আকাশ হাসবে বাতাস…
রোহিঙ্গাদের জীবনে কালো আকাশ…!

মায়ের মুখে বিদায়ী মিষ্টি…
রোহিঙ্গার বুকেই মৃতের বৃষ্টি।

সিঁদুর খেলায় রাঙাবে মাকে…
রোঙ্গিগার রক্ত রাঙায় মাটিকে।

বিজয়ার শুভেচ্ছা আনন্দ বিতরন…
রোহিঙ্গার তখন অপদস্থ জীবন।

পথশিশু,রোহিঙ্গা ভালো আছ…
অবক্ষয়ে ভুগছে সভ‍্যতা আজও ??

এসবের প্রতিকার আছে কোথাও…
কেউ জানো, তাহলে জানাও ??

[tie_slideshow]

[tie_slide]

একটুকরো স্বপ্ন
– মিন্টু উপাধ্যায়
* * *
জানতাম তুমি আসবে ফিরে
রইবে আমার হৃদয় ঘিরে,
হাজার তারার আলোয় তোমায়
বরণ করে নেবো নতুন করে ।
* * *
স্নিগ্ধ কুয়াশার সকালে যখন
শিউলি ফুল ফোটে,
সেই ফুলেরই পরিয়ে মালা,
দেখব হাঁসি তোমার ঠোঁটে ।
* * *
তোমার এক চিলতে হাঁসির ছটায়,
হয়েছিলাম আমি পাগল,
জ্যোৎস্নার আলোয় ভরিয়ে দেবো
তোমার আঁখি জুগল ।
* * *
নিছিদ্র অন্ধকার রাতে
আলোর প্রদীপ শিখা তুমি
তোমার ভালবাসার ছোঁয়ায়
হয়েছি মুক্ত আমি…।

[/tie_slide]

[tie_slide]

অনুভবে তুমি
– মিন্টু উপাধ্যায়

তুমি আর নাই আগেরমত,
একটু একটু করে,
দূরে সরিয়ে দিচ্ছ আমায়…।
তোমার হৃদয় থেকে,
তুমি কি ভাবো আমি…
আমি বুঝতে পারিনা… ।
অনুভব করতে পারি,
তোমার ঐ না বলা কথা ।
বুঝতে পারি…।
তোমার ঐ এড়িয়ে যাওয়া,
ভুলতে পারবো না…তোমায়,
তুমি কি জানো…
তোমাকে অনুভব করি,
হৃদয়ের গভীরে ।
মনেহয় যেন…
ধাবমান রক্তের সাথেই মিশে আছো তুমি ।
শরীরের প্রতিটি,
শিরায় শিরায়…
তোমায় উপলব্ধি করি… ।
তুমি কি জানো…
তুমিই আমার শ্বাস-প্রশ্বাস
তুমি ছাড়া বাঁচবো কেমনে ।
তোমাকে ভোলার চেষ্টায়…
আমি নিজেকে নিজেই ভুলেছি… ।

[/tie_slide]

[tie_slide]

অভিমান
-মিন্টু উপাধ্যায়

অভিমান করেছি,
করেছি আমি তোমার ওপর… ।
বুঝলে না তুমি আমায়,
আমায়… কোনদিনও… ।
বলবো না তোমায়,
তোমার ভুলটা কি ছিল… ।
নিজেই নিজে খুঁজে নাও,
এই অভিমানের উৎস কোথায়… ।

ছোট ছোট আভিমানেই তো,
ভালবাসা সম্পূর্ণ হয় ।
তা কি তুমি জানো না,
না কি জেনেও বোঝো না… ।
অভিমান যখন ছোট থেকে
বড় হয়ে যায়, তখনই…
তখনই সেটা আর ভালবাসা থাকে না ।
সম্পর্কের মায়াজাল কাটিয়ে মুক্ত হতে চায়… ।

অপেক্ষায় আছি তোমার,
জানি তুমি আসবে,
অভিমান ভাঙাবে আমার… ।
নাহলে সেই,
শূন্যতা থেকে শুরু করে,
সেই শূন্যতাতেই ফিরে যাব… ।

[/tie_slide]

[/tie_slideshow]

নিজের কথা
- মরিয়ম আক্তার

যাদের আমি আপন ভাবি,
তারাই ভাবে পর...
পর মানুষই আপন করে
তোলে আমায় ঘর।
জীবন নামের এ দুনিয়ায়
কেবা আপন -পর,
কেবা তোমায় বাসে ভালো
কেবা সার্থপর।
এমন সকল উত্তর যে আজ
নেইতো আমার জানা,
যতই আসুখ বাধা বিপদ
যাবে নাতো থামা।
জানি শুধু এতটুকুই
চলতে হবে আগে.....
পাছে যদি হাজারও বিপদ
থাকে তোমার সাথে।
দেখবে নাতো তুমি কভু
কে বাসলো তোমায় ভালো....
নিজের ভালোবাসা দিয়ে
জগৎ করো আলো।
দেখবে নাতো কভু তুমি
কেবা আপন পর,
সবাইকে নিয়ে গড়বে তুমি
নতুন সুখের ঘর।
করবে তুমি সঠিক বিচার
কেবা ভালো মন্দ
শান্তি দিবে সকল মনে
করবে না কোন দন্দ।
ভাববেনা তুমি কোন মতে
সবাই সার্থপর.....
সার্থের উপর গড়ে ওঠে
বিশ্বাসেরই ঘর।
এমন কথা তুমি যদি
রাখ তোমার মনে...
সবাই তোমায় বাসবে ভালো
রাখবে মনের কোনে।।

অভিমান
- স্বপন গায়েন

বুকের আলপথে আস্ত একটা জ্যান্ত নদী
নিজের প্রতিবিম্ব দেখা যায় সেই নদীতে
শরীরের মোহনায় দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণ ...
ফেলে আসা দিন কুয়াশার মতো লাগে।
.
হৃদয়ের উঠোনে উড়ছে ধূলো ঝড় -
পৃথিবীর সমস্ত গরল শরীরের শাখা প্রশাখায়
সবুজ ঘাস শুকিয়ে কাঁটার মতো বিঁধছে পায়ে
রক্তাক্ত হয়েও ক্লান্ত পায়ে হেঁটেছি অবিরাম।
.
পাখির পালকের মতো হাওয়ায় ভাসতে গিয়ে
মুখ থুবড়ে পড়েছি দুর্বিষহ যন্ত্রণায় ...
জ্যান্ত নদীতে ক্রমশ পলি জমতে জমতে
খরস্রোতা নদীও রুদ্ধ হয়েছে বারে বার।
.
দিগন্তে ডুবছে গলিত সূর্যের শেষ আলোক রশ্মি
কৃষ্ণা চতুর্দশীর চাঁদ আলো ছড়ায় বালুচরে
শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মৃত নদীর স্রোত ...
সমস্ত অভিমান রাত জেগে বসে প্রহর গোনে।।

আমি মুগ্ধ হই
- মো: তারেক আনোয়ার কিরণ

আমি মুগ্ধ হই দিনে রাতে
আমার সম্পর্ক আছে বাংলার সাথে
আমি মুগ্ধ হই শস্য ভরা ক্ষেত দেখে
শান্তির ছোঁয়া পাই বাংলার বুকে মাথা রেখে
আমি মুগ্ধ হই বাংলায় গেয়ে গান
বাংলার বাতাসে জুড়ায় আমার মন ও প্রান

আমি মুগ্ধ হই অমর একুশের স্মরণে
তারা ধন্য হয়েছে শুধু বাংলার জন্য মরনে
আমি মুগ্ধ হই জাতীয় সংগীত শুনে
আজও রক্তে আগুন ধরে মুজিব ভাষণ শুনে
আমি মুগ্ধ হই আমার সোনার বাংলা বলে
আমি মরতে চাই শুধু বাংলা মায়ের কোলে

আমি মুগ্ধ হই নদীতে সাতার কেটে
প্রভাতের সু্র্য দেখি সকাল হয় যখন আধার কেটে
আমি মুগ্ধ হই নজরুলের সংগীতে
ভক্ত করে দেয় বাংলা আমায় অপরুপ ভংগীতে
আমি মুগ্ধ হই নদী ভরা নৌকর পাল দেখে
রুই কাতলা ইলিশে ভরা জেলের জাল দেখে

আমি মুগ্ধ হই কবি গুরুর জন্য
আজ আমি বাংলার ছেলে বলে ধন্য
আমি মুগ্ধ হই বৃষ্টি দেখে আষাঢ় শ্রাবনে
আছে বাংলারই গান পাখিদের প্রতিটি গুঞ্জনে
আমি মুগ্ধ হই পতাকা দেখে সবুজের মাঝে লাল
আমার বাংলা আমাদের বাংলা জয় হোক
অমর হোক চিরকাল


ভালবাসার মানে
- মো: তারেক আনোয়ার

আমি ভালবাসার মানে জানি না
শুধু জানি
তোমার সুখই আমার সকল চাওয়ার আগে
তোমারই ভাল থাকার তাগিদে কষ্ট দিয়ে
বলি অনেক কিছুই আমি রাগে

আমি ভালবাসার মানে জানি না
শুধু জানি
তোমার মুখের হাসির জন্য সব করতে পারি
অপলক নয়নে তাকিয়ে তোমার দিকে মরতে পারি

আমি ভালবাসার মানে জানি না
শুধু জানি
তোমাকে ছাড়া জীবন আমার অর্থহীন
পারিনা সইতে নাম কারও তোমার সাথে আমি বিহীন

আমি ভালবাসার মানে জানি না
শুধু জানি
লাগেনা আমায় এই ভুবনে ভাল কোন মুখ
সব কিছুর বিনিময় হলেও তোমারই হোক
এ জীবনে পৃথিবীর সকল সুখ

আমি ভালবাসার মানে জানি না
শুধু জানি
তুমি আমার আর কারও হতে তুমি পারবেনা
আমাকে কষ্ট দাও,যন্ত্রণা দাও,দাও যা মন
চায় তোমার,তবু আমায় ছাড়তে পারবেনা

আমি ভালবাসার মানে জানি না
শুধু জানি
তোমাকে অনেক আদর সোহাগে রাঙাতে চাই
আমার জীবন সংগী তোমায় আমার বৌ বানাতে চাই

আমি ভালবাসার মানে জানি না
শুধু জানি
জীবনের শেষ মুহু্রতেও তোমার পাশে থাকতে চাই
মনের সোহাগ মাখানো কন্ঠে কইগো শুনছো বলে
ডাকতে চাই

রুখো
- মোহাম্মদ সফিউল হক

অনেক হয়েছে কাব্য কলা
ছোটা ডানে বামে,
এখনই সময় পাশে দাঁড়াবার
ভাই মরে আরাকানে।

কত নারী হলো বেআব্রু
কত শিশু ভাসলো নাফে,
এত পাষাণী হলো সু চি
হৃদয় একটুও নাহি কাঁপে।

নহে আর বসে থাকা
ফেলা নোনা চোখের পানি,
রুখো হও এটম বোমা
ইহাতেই সমাধান জানি।

অ-শরীরী
- আবির সাহানা

পড়ন্ত বিকেল....
গলে যাওয়া রোদ মেখে ও পাড়ার কালো বৌ
স্নানের পরে ঘরে ফেরে ।
অবিন্যস্ত আঁচলে আধখোলা বুক,
শরীর জুড়ে ক্লান্তির ঝরে পড়া আমোছা দিঘীর জলে ।
লেপ্টে থাকা কাপড় তার অধিকারী আদরে
ভোগের গন্ধ ছড়ায়--
শরীরী ভাঁজে হারায় সর্বস্বতা মন ভু্লে ।
দিগন্ত চুম্বন আশায় সূর্যের ঢলে পড়া....
কামাতুর রাত খোঁজে ক্ষুধার্ত নেকড়ে শরীর ।

পারবেনা ফেরাতে
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

যে ধুলোমাখা পথ তুমি মারাবে
সে পথে ধুলি হয়ে থাকবো পরে
গোপনে জড়াবো তোমার চরণে
পারবেনা তুমি আমায় ফেরাতে ৷
যে মেঠোপথটা মারিয়ে চলেছো
সে পথেও চোরাকাঁটা হয়ে রবো
চুপিসারে তোমার আঁচলে জড়াবো
আমায় ফেরাবে কি করে বলো ?
যে পথে তুমি ক্লান্ত হয়ে ফিরবে
সে পথে দাঁড়িয়ে রবো অশথ হয়ে
শীতলতায় জুড়িয়ে নিবে নিজেকে
তবে এড়িয়ে যাবে কেমনে আমাকে ?
আমিতো তোমার শহরে রবো পরে
কখনো বাতাস,কখনোবা বৃষ্টি হয়ে
ইচ্ছে হলেই তুমি পারবেনা বাঁচতে
আমার ভালোবাসার স্পর্শ হতে ৷

#সবার_উপরে_মানুষ_সত্য
#স্বাতী_সামন্ত

লেবার রুম থেকে বেরিয়ে এসে সিস্টার বললেন
-"ও দিদি, আপনার নাতনি হয়েছে"।
খবরটা শুনে আনন্দে মেতে উঠল কৃষ্ণা।
-"যাক বাবা, ভগবান আমার ডাক শুনেছে" সিস্টারের কোলে একটা তোয়ালের মধ্যে জড়ানো ফুটফুটে বাচ্চা।নাতনিকে দেখে এক অপার প্রশান্তি চোখে মুখে।ভগবানের কাছে একটাই কামনা
-"নাতনিটা যেন সুস্থ থাকে,ওর মায়ের মতো যেন কষ্ট না পায়.."....



(দুই)

আজ থেকে প্রায় ২৬ বছর আগের ঘটনা....

রোজকার মতো সেদিনও স্কুলে যাবে বলে স্টেশনে পৌঁছে দিদিমণি কৃষ্ণা দেখে প্ল্যাটফর্মে একটা জটলা।
কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করে জানতে পারে ট্রেনের সিটের তলায় কেউ একটা বাচ্চা ফেলে রেখে গেছে.. খুব বেশি হলে ২ দিন বয়স, শরীরে ক্ষতর দাগ, তবে বাচ্চাটা বেঁচে আছে।
পুলিশ এসে বাচ্চাটাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবরটা শুনে খুব মুষড়ে পড়েছিল কৃষ্ণা....
"মানুষ এত নিষ্ঠুর কেন!!" ভাবতে ভাবতে মন ভারী হয়ে উঠেছিল।

সেদিন কাজে কিছুতেই মন বসছিলনা।কৃষ্ণা ভাবল যে বাড়ি ফেরার পথে একবার বাচ্চাটার খোঁজ নেবে হাসপাতাল থেকে।এইভাবে রোজ খোঁজ নিতে নিতে বাচ্চাটির প্রতি একটা টান অনুভব করে।হাসপাতালে ডাক্তার, সিস্টারদের সেবা যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
অবশেষে কৃষ্ণা সিদ্ধান্ত নেয় দত্তক নেবে বাচ্চাটাকে।

নিজের সিদ্ধান্তের কথা বাড়িতে জানায়।কিন্তু ধাক্কা খাওয়া বাকি ছিল।কৃষ্ণার মা, বাবা রাজি হলেও হবু শাশুড়ি মা বলে
-"দেখো মা, কোন জাত, বাপ মা কে, চোর, ডাকাত না খুনীর বাচ্চা, কিছুই তো জানোনা! তাই শুধু শুধু এসব অজাত, কুজাতের বাচ্চাকে ঘরে ঢোকানো বিপদ। তাছাড়া আমাদের বাড়িতে নিত্য সত্যনারায়ণ পুজো হয়, এসব অনাচার আমি কিছুতেই মেনে নেব না।এটাই আমার শেষ সিদ্ধান্ত"
দুধের শিশুটা যে সবার আগে মানুষ সেটাই শাশুড়িমার চিন্তাভাবনার ত্রিসীমানাতেও আসেনি।কৃষ্ণার কোনো যুক্তিই তিনি মানতে চাননি..অশোক, কৃষ্ণার হবু স্বামী, সেও বলল -"আমি কোনো অশান্তি চাই না।মায়ের কথাই শেষ কথা।তোমার কথা রাখার জন্য আমি মায়ের অবাধ্য হতে পারব না"....

অতঃপর বিয়েটা ভাঙতেই হল।অবশ্য যার সাথে ঘর বাঁধতে যাচ্ছিল সেই মানুষটাকে তো চেনা গেল!সে কতটা মেরুদন্ডহীন! ঠিক ভুলের বিচারের ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কতখানি!
যে বাড়িতে একটা শিশুর অসহায়তার থেকে তার জাতপাত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই বাড়ির বউ না হওয়াতে তাই কৃষ্ণা খুব একটা কষ্ট পায়নি....
অবশেষে আইনি জটিলতা কাটিয়ে দত্তক নিল মেয়েটাকে।
মেয়ে মৌ এর যখন ৫ বছর বয়স তখন নিলয়কে পাশে পেয়েছিল নিজের জীবনসঙ্গী,বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে......

(তিন)

দেখতে দেখতে সময় কিরকম পার হয়ে যায়.. আজ তার পুচকিটা নিজেই আর একটা পুচকির মা.....

-সমাপ্ত-

জীবন পথে
- অনাদি চক্রবর্তী

অগোছালো দিন এলোমেলো রাত
গোছানো হয়না কিছু
যত করি জড়ো  উড়ে যায় সব
অজানা ঝড়ের পিছু।

যখনি যা কিছু    হয় রে গভীর
নিবিড় নিকটে রাখা,
কে যেন বাজায়  বেহাগী সে রাগ
মধুর বিরহে মাখা।

সে সুরের তানে জাগে দেহে মনে
পথ হারানোর নেশা,
ছেঁড়া ছেঁড়া ভুল জড়ো করা ফুল
ভগ্ন স্বপ্নে মেশা।

বয়ে চলে যায়  থামেনা তো তার
দ্বান্দিক পথ চলা,
যা কিছু হারায়  সব করে জড়ো
গাঁথে নতুনের মালা।

শিক্ষাগুরু
- ইরাবতী মণ্ডল

প্রথম গুরু মা যে আমার
প্রণাম জানাই তাকে
যার দয়াতে এই ধরণীর
আলোক পেলাম চোখে।

মাযে আমার হাতটি ধরে
শেখালো হাঁটা চলা,
মা  বাবা সহ শব্দখনি
তার কাছে শিখে বলা।

বাবা যে গো গুরুর গুরু
তার তুলনা নাই,
মানবতার ধর্ম শিক্ষা
তার ই কাছে পাই।

এই ধরণীর আকাশ-বাতাস
বিশ্ব চরাচর,
সবাই আমার শিক্ষা গুরু
নয় কো কেহ পর।

বিদ্যালয়ের শিক্ষা গুরু
প্রণাম তাদের করি,
জ্ঞানের ভাণ্ড উজাড় করি
দিলেন আমায় ভরি।

যাদের  শিক্ষায় শিক্ষা পেয়ে
মানুষ হলাম আমি,
প্রণাম করি সেই শিক্ষকদের
সদাই দিবস-যামি।

05.09.2017

সমাজ
- রিয়া চক্রবর্তী

কেন রাতের পর রাত গণ ভক্ষণের স্বীকার,
মেয়েটির মুন্ডুহীন দেহ থাকে ঝোপের আড়ালে?
কিংবা মেয়েটির যৌনাঙ্গে বুটের লাথি মেরে
কেন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো পাথর?
নিজের জাতের পুরুষকে বিয়ে না করার
অপরাধে কেন অন্তসত্তা মেয়েটিকে
জীবন্ত পুড়িয়ে মারে, সবার সামনে?
কেন ছয়মাসের বাচ্চার মাথা ডিভাইডারে
থেতলে দিয়ে তার মা কে ভক্ষণ করা হল?
খবরদার, এইসব প্রশ্ন করো না নারী তুমি।
কারণ জন্ম দেওয়া অধিকার একমাত্র তোমার।
আর তুমি এই পিশাচদের জন্মদাত্রীও যে।

শিক্ষাগুরু

- দেবযানী গাঙ্গুলী


জীবনের বাঁকে বাঁকে ধূলিকণা জমে থাকে

দু'একটা তারই মাঝে মুক্তো,

শিক্ষার খোলা খামে উড়ো চিঠি চেনা নামে

শৈশব আজও মনে সুপ্ত ।

আধো বুলি ছড়া শেখা কচি হাতে অ-আ লেখা

মা-বাবার অবদান শিক্ষায়--

স্কুলপাঠ অবিরত দুষ্টুমি কতশত

কান ধ'রে উঠ বোস শেষটায় ।

শৃঙ্খলা শিক্ষা মার্জনা ভিক্ষা

স্কুলজীবনের রোজনামচা --

ভালোবাসা প্রতিদিন রেখে যেত অমলিন

স্মৃতিপটে অক্ষয় আজও যা ।

শাশ্বত শিক্ষায় জীবনের প্রেক্ষায়

ভেসে ওঠে জ্ঞানী মানী কত মুখ --

আপ্লুত শ্রদ্ধায় অধীত সে বিদ্যায়

পথ চলি প্রত্যয়ে উন্মুখ ।

মাথায় রূপোলি জরি তবু প্রতিপদে স্মরি

অমৃতবাণী কত মনীষীর ...

তাঁরাও শিক্ষাগুরু চেতনা কল্পতরু

জাতির প্রণেতা তথা দানবীর ।

সমাজে অবনত ,দেহে মনে বিক্ষত

খাটে যারা সারাদিন প্রাণপণ,

তারাও শিক্ষা দিল জীবনের পাঠ নিল

শ্রমের মূল্যবোধ সনাতন ।

চৈতি খরার দিনে তপ্ত সে পথ চিনে

চোখ জ্বলে তবু পার হতে হয় --

সে পাঠ সবচে' দামী আঘাতের সাথে মিশে

জীবনের জলছবি এঁকে যায় ।

------------------------

৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মা দুর্গা
- সংঘমিত্রা আইচ

মাগো তুমি আমাদের শক্তি অভয়া…
তোমার আদর্শে চলি কর দয়া…।
যুগে যুগে রক্ষা করেছ তুমি…
মাগো তোমার চরন দুটি চুমি।
এতবড় দুনিয়ায় তুমিই দেখিয়ে দিলে…
ধরাধামেই মাতার আবির্ভাব তুমি চাইলে।
ছোট নও তুমি অপার শক্তদায়িনী।
তোমার নামই মাগো অসুর বিনাশিনী!
এসো মাগো নব নব রূপে…
জয়মা দুর্গা রব উঠুক চতুর্দিকে।
সন্তান আমরা ক্ষমিও মাগো অপরাধ…
নিজগুনে ভালোবেসে দিও মাগো সাথ ।।

রমণীরা ভালো থেকো ২
- মোশ্ রাফি মুকুল

সূর্য'র আদিম অভ্যাস আগুন নিয়ে খেলা,
আগুনের ভেতর সুরভিত ফাগুন-
এবং ধূসর রোদ্দুর ছায়া।
জন্মান্তরবাদে গন্ধম থেকে ফোটে অহল্যা সুঘ্রাণ-
রমণাভিলাষী গুপ্তকথা প্রতিটা পুরুষের প্রথমপাঠ।
রমণীরা ভালো থেকো,
ফুল ও ফসলে ভরে দিও এ অপূষ্পক শস্য শূন্য মাঠ।
ভালো থেকে রমণীরা-
রমণীরা ভালো থেকো।

বসন্তেরা ফেরে না
- শ্রীমন্ত সেন

কার কতো যে বসন্ত নিরুদ্দেশ হল,
তার নেই ইয়ত্তা। উলটো পালটা হাওয়া
এসে আলগোছে তুলে নিয়ে গেল সেই সব
বসন্তের অনাঘ্রাত চুম্বনগুলি, মায় আদর,
সোহাগ, শৃঙ্গার, অসংবৃত বসন, অগোছাল টিপ
ও বাসকসজ্জা। এবং অবশ্যই কিছু কিছু
গোপন দীর্ঘশ্বাস, দেওয়ালে কাটা দিনের পর
দিন যাওয়ার অশিক্ষিত দাগ, চেরা চেরা বুক চেরা
হাহাকারের মতো। 'কেউ' কথা দিয়ে 'কথা রাখেনি'।
ম্লান কদমের ফুল দিন যাপনের গ্লানি
অস্ফুটে গেয়ে যায় বেহাগে বুকের নিরালায়,
আগমনীতেও তাই লাগে বিষণ্ণ সুর,
আশাগুলি মরুটে গাছের মতো কেবলই
লুটায়, ক্ষয়াটে জোছনায় আকুলি বিকুলি করে
অশরীরী ছায়া ছায়া ব্যর্থ কামনার দল।
'কেউ' কথা দিয়ে 'কথা রাখেনি'।
কখনও বা মনে হয় প্রতীক্ষার দিন বুঝি শেষ,
আবার নতুন করে জীবনকে যাবে বুঝি পাওয়া,
যতো কিছু হারানো উৎসব চেটেপুটে নেবে
যতো অপূর্ণ আহ্লাদ, শেওলাগুলি অলঙ্কার হয়ে
শুভদৃষ্টির শুষে নেবে ওম, প্রকট বলিরেখাগুলি
ছেড়ে দেবে নিজেদের দাবি, নবরাগের আড়ালে
স্বেচ্ছায় পথ হারাবে তারা।
কিন্তু যা হবার নয়, তা হয় না কখনও।
যা হবার, তাই হয় অবশেষে।
কারণ 'কেউ' দিয়ে 'কথা রাখেনি'।

জলজ
- অনন্যা বন্দোপাধ্যায়

শেষ মেষ জল ছোঁয়া অন্ধকারে ডুবতে ডুবতে আতিপাতি খুঁজে নেই  আলাপচারিতার শেষতম অংশ । হালকা হালকা  কথোপকথন কখন যে লিখে রাখে নিমগ্নতা -

হুম আসলে কথা হচ্ছিলো সেই সময়ের যখন খোলা চুলে এক গুচ্ছ বোগেনভেলিয়া আর মায়ের ক্রীম শিফন , তোমার হাত ধরে কলেজ সোশ্যাল ।  বেশ কিছুটা হেমন্তের রেশ ছিলো সেই সময় ,বেশ কিছুটা দহনবেলা ,কিছুটা লুকোচুরি ।

নদীর পাড় ধরে এগোতে থাকলেই ভাঙন নিশ্চিৎ । ক্রমাগত জলের আঘাতে মাটির পাড় ভাঙতে ভাঙতে একসময় মিশে যায় বাধ্য পুরুষের মত ,কিম্বা সমর্পিত নারীর মত ।

হ্যাঁ বলছিলাম কি এক একটা দিন হঠাৎ করেই কেমন বিশেষ হয়ে যায় ,অজান্তে মেঘ ভাঙার মত জলে ভাসে । বন্যা বন্যা ,আচম্বিতে তেমনই বাঁধ ভেঙেছিলো নতুন ছাদের আশায় । লিপস্টিকহীন ঠোঁট কিভাবে আগুন হয় বোঝার খেলাটা চলেছিলো সেদিন দীর্ঘ সময় ধরে ,অবুঝে অনিয়মে ।

বছরে শুধু কি একটা বিশেষ সময় ফল সিজন ? না বরং সারবছর এক পা একপা করে এগোও অবিনাশ জলের বুকে দেখবে কত শত পাতা ঝরে গেছে শুধু মোহনার টানে ।

থেকে যায়
- মৌসুমী শূর রয়

সবই তো থেকে যায়
ঘন নীলাকাশ,ঝলসানো রোদ,
গাছ,পাখি,নদীর স্রোত ।
সন্ধ্যার গাঢ় রঙে বিষণ্ণতার দীপ জ্বালা,
গহীনতম সুরের বাঁধন বিক্ষিপ্ততায় ছড়িয়ে পড়া।
সব থেকে যায়
ডায়রি ভরা ছেড়া পাতা
হেলা ফেলায় বলা কথা,
দুঃখে-সুখে,অনুরাগে হাতের মুঠোয় ধরে থাকা
অর্থ খুঁজতে গিয়ে শেষে অর্থহীন হারিয়ে যাওয়া।

কৃষ্ণকলিরা কাঁদতেও জানে

- অর্পিতা সরকার


আমি সেই সময়কার কথা বলছি , যখন ব্রাহ্মণ আর শূদ্রদের মধ্যে জল ছোঁয়া ছুঁয়ি চলতো না। যখন শুদ্রদের আলাদা পুকুর আর ব্রাহ্মণদের পৃথক পুকুর ব্যবহার করা হত। ভুলেও যদি অন্য জাতের কোনো বাচ্ছা ব্রাহ্মণদের পুকুরে নেমে পড়তো বা মন্দিরে উঠে পড়তো তাহলে সেই বাচ্চাটির পরিবারকে তিনদিন গ্রামের প্রধান রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেওয়া হত না।

গোয়ালা বাড়ির একটি বাচ্ছা কালী পুজোর সময় প্রসাদের লোভে পরে মন্দিরের চাতালে উঠেছিল বলেই ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ ব্রজনাথ বাঁড়ুজ্যের নির্দেশে সেই গোয়ালা পরিবারকে তিনদিন গ্রামের মুদির দোকানে চাল ডাল বিক্রি করা হয়নি।

সুতরাং বাচ্চাদের সামলানোটাও ছিল তাদেরই মায়ের একান্ত কর্তব্য।

ব্রজনাথ বাঁড়ুজ্যের ছোট পুত্রটি আবার ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে, তাই বাবার এমন গোঁড়ামি দেখে সে প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল। ব্রজনাথ ছেলে রমেশকে কঠিন ভাষায় ত্যাজ্যপুত্র করার ভয় দেখিয়েছে। তাই আপাতত রমেশ চুপচাপ।

বাবার সাথে ঝামেলায় গিয়ে সমাজ সংস্কার করার থেকে বাবার জমিদারিতে বসে বিদেশী নভেলের পাতায় রোম্যান্টিকতা খোঁজা বেশি শ্রেয় মনে করেছে।

রমেশ কোনোদিনই গ্রামের আর পাঁচটা ছেলের মত ওই আট হাত ধুতি পরেনি। সে সাহেবদের মত সুট প্যান্টেই অভ্যস্ত।

তবে হালে কালে রবীন্দ্র ভাবনায় ভাবিত হয়ে চিকনের কাজ করা পাঞ্জাবী পরে নিজেকে সনাতন বাঙালি বলে পরিচয় দেয়।

মধুপুর গ্রামের প্রথম দোতলা বাড়ির ছেলে রমেশের গ্রামে একটু বেশিই খাতির হয়ে থাকে। তারপর আবার কলকাতার হোস্টেলে থেকে পাশ করে এসেছে বলেই হয়তো কথায় কথায় ইংরেজী বলা রমেশকে পাড়ার ছেলে থেকে বুড়ো পর্যন্ত বেশ সমঝে চলে। রমেশের বড় দাদা নেহাতই বাবার ছায়া। ব্রজনাথের অবর্তমানে তার প্রচলিত সমস্ত সংস্কার ভূপেশ একাই বহন করতে পারবে।

ভুপেশের বউ নয়নতারা নেহাতই ভীতু একটি মেয়ে। এক গা গহনা পরে , বাড়ির আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানো,পরগাছা ছাড়া আর কিছুই নয়। তুলনামূলক ভাবে ব্রজনাথের স্ত্রী কমলাসুন্দরীর দাপট বেশি। তার কথাতেই বাড়ির ঠাকুর চাকররা ভয়ে তটস্থ।

মাধব ঘোষের গোয়ালে গরু মোষের প্রাচুর্যদেখে সন্ধ্যেবেলা চন্ডীমণ্ডপে আলোচনা হচ্ছিল, কালে কালে হয়তো এও দেখতে হবে যে ব্রাহ্মনদের সিধে পাঠাচ্ছে গোয়ালারা। ব্রজনাথ বেশ গম্ভীর ভাবেই বললো, মাধব গোয়ালার মেজ মেয়েটির বয়েস প্রায় পনেরো-ষোল হলো। এখনো যখন বিয়ে দিচ্ছে না তখন বোধহয় ওদের কাছে দুধ নেওয়া বন্ধ করাই যায়। অরক্ষণীয়া মেয়ে আছে যাদের ঘরে তাদের বয়কট করাই যায়। ব্রজনাথের এ হেন কূটবুদ্ধিতে আরো বেশ কয়েকজন স্বজাতি সায় দিলো।

মাধবের মেজ মেয়ে কৃষ্ণকলি।নামতেই যা রাবীন্দ্রিক ছন্দ আসলে কিন্তু কৃষ্ণকলি বেশ গাছ চড়ানো মেয়ে। এত বড় মেয়ে ভরা গঙ্গায় এপার ওপার করা থেকে শুরু করে , লোকের গাছ মুড়িয়ে ফুল তোলা কোনোটিতেই সে অপটু নয়।

লোকে বলে, ওই কালো মেয়ের আর বিয়ে হয়েছে!

ধেরে মেয়ের কোনো লাজ লজ্জা নেই, গাছ কোমর করে শাড়ি পরে দিনরাত নেচে বেড়াচ্ছে।

কৃষ্ণকলি মোটা চামড়ায় এসব বদনাম তেমন লাগে না। তাকে কেউ কালো বললেই, সে বলে সামনে বছর কালী পুজোয় খরচা করে আর মূর্তি এননা। আমিই এক খানা খাড়া হাতে জিভ বের করে দাঁড়িয়ে যাবো।

লোকে বলে , মাধব ঘোষের মেজ মেয়ের মাথায় একটু ছিট আছে।

সেই কৃষ্ণকলি এখন তিনটে জারে গরুর দুধ নিয়ে বামুন বাড়িতে দিতে চলেছে। নিজের মনেই গজড়াচ্ছে। বামুনদের সাথে নাকি তাদের জল ছোঁয়া নেই, তাহলে দুধটা কি? সেটা ছুঁলে বুঝি দোষ নেই?

ব্রজনাথ দের বাড়িতে ঢোকার আগেই সদর দরজার কাছে খুব জোরে ধাক্কা লাগলো রমেশের সাথে।

কৃষ্ণকলি টাল সামলাতে না পেরে দুধের জার সমেত মাটিতে পড়লো। কাঁচের জার ভেঙে মাটিতে গড়াগড়ি।

কোথায় অপরিচিত পুরুষের সাথে এমন ভাবে ধাক্কা লেগেছে বলে লজ্জিত হবে, তা নয় কৃষ্ণকলি রুখে দাঁড়ালো।

শুনুন শুনুন...আমার জার ভেঙে ,দুধ রাস্তায় ফেলে দিয়ে আপনি হটপট করে পালাচ্ছেন যে বড়?

ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

কলকাতার হোস্টেল থেকে সাত মাস হলো বাড়ি ফিরেছে রমেশ,এখনো অবধি গ্রামের কোনো বউ মেয়েকে এমন ভাষায় কথা বলতে সে শোনেনি। অবাক হয়ে ওই বাচাল মেয়ের দিকে তাকিয়েই বললো, আপনি কে? আমার সাথে এইভাবে কথাই বা বলছেন কেন?

কৃষ্ণকলি, ধুলো থেকে উঠে হাত পা ঝেড়ে ঝুরে আরেকদফা চেঁচিয়ে বললো, তবে আপনি বামুনদের ছেলে বলে কি আপনার মাথায় বেলপাতা ছেটাবো?

আশ্চর্য হয়ে ওই মুখরা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকলো রমেশ। মধুপুর গ্রামে এমন স্পষ্টবাদী মেয়ে আছে বলে তো জানা ছিল না রমেশের।

পরনের কাপড়, কানের, হাতের সোনার জিনিস দেখে খুব নিম্নবিত্ত বলেও তো মনে হয় না।

আজ মাধবের শরীরটা খারাপ ছিল বলেই, গোটা চারেক বামুন বাড়িতে দুধ পৌঁছে দেবার দায়িত্বটা নিজেই যেচে কৃষ্ণকলি নিয়েছিল।

এখন এই বিপত্তি। একদফা বাবার কাছে বকুনি, আরেকদফা কমলাসুন্দরীর গালমন্দ। সঠিক সময়ে দুধ পৌঁছাতে পারেনি বলে হয়তো মাধবকেই দু চার কথা শুনিয়ে দেবে।

রমেশের দিকে তাকিয়ে ও বললো, অমন হা করে তাকিয়ে আছেন কেন? কলকাতা শহরে মেম সাহেবদের দেখে দেখে গাঁয়ের কালো মেয়ে দেখে সকালে পেত্নী বেরিয়েছে মনে করেছেন নাকি?

ওরেবাবা! এ মেয়ের তো মুখে খই ফুটছে।

রমেশ আমতা আমতা করে বললো, আমাকে তাহলে এখন কি করতে হবে?

গণেশ মুদির দোকান থেকে একখানা কাঁচের জার কিনে সোজা দক্ষিণ পাড়ার মাধব গোয়ালার বাড়ি পৌঁছাবেন।

বলেই মেয়েটি হনহন করে হাঁটা লাগলো।

আবার পিছন ফিরে রমেশকে বলল, দেখি আপনি আগে পৌঁছাতে পারেন না আমি!

প্রতিযোগিতা তা সে যতই প্রাইজ বিহীন হোক, তাতে উত্তেজনা থাকতে বাধ্য।

রমেশও অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে প্রায় ছুটতে লাগলো।

গণেশ মুদির দোকান তার চেনা। কাঁচের জার হাতে নিয়ে সমস্যাটা বাঁধলো। মাধব গোয়ালার বাড়িটা তার পরিচিত নয়। পাড়ার দু চারজনকে জিজ্ঞেস করে করে যখন পৌছালো তখন সে অগ্নিমূর্তি আগেই সেখানে পৌঁছে গেছে।

জারটা তার হাতে দিতেই মাধব ঘোষ বেরিয়ে এসে প্রায় হাতে পায়ে ধরে আরকি। তার মেয়ে অবুঝ, কলির বড্ড ভুল হয়ে গেছে। ব্রজনাথ বাবুর ছেলেকে দিয়ে জার কিনিয়েছে জেনে লজ্জিত হলেন মাধব ঘোষ। রমেশের সামনেই মেয়েকে বকলেন উনি।

ঘাড় নিচু করেই বাবাকে আড়াল করে কৃষ্ণকলি রমেশকে জিভ ভেঙালো।

স্পষ্টবাদী শ্যামলা মেয়েটি রমেশের সন্ধ্যের পড়া ইংরেজী নভেলের নায়িকা লিজার মতই। শুধু লিজা পুরুষের স্পর্শে লজ্জা পায় আর কৃষ্ণকলির এত বয়সেও সে জ্ঞান হয়নি।

আজও ওপরের ঘর থেকেই রমেশ খেয়াল করলো, কৃষ্ণকলি স্নান করে একপিঠ এলো চুল খুলে, একটা শরতের মেঘের রঙের শাড়ি পরে হাতে দুধ নিয়ে বাঁড়ুজ্যে বাড়ির দিকেই আসছে। এক মুহূর্ত দেরি না করে, পায়জামার ওপর পাঞ্জাবীটা গলিয়ে রমেশ দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো।

দরজার মুখেই কলি মুখ তুলে তাকিয়ে বলল, এ বাড়িতে আবার একটা অন্ধ মানুষ আছে। না দেখেই মানুষকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

রমেশ হেসে বলে, অন্ধ হলেও সে আরো অনেক কিছুই দেখতে পায়।

দুটো দীঘল চোখ মেলে কলি তাকালো রমেশের দিকে!

অস্ফুটে বললো, কি দেখতে পায়?

এই যে একটা মেয়ে, যার আকাশ বরণ শাড়ি, কুচ বরণ চুল...

কথা না বলেই, একটু বোধহয় লজ্জা পেয়েই কলি ঢুকে গেলো বাড়ির ভিতরে।

রমেশ আর কলি সেদিন নদীর ধারে তাল গাছের সারির আড়ালে দাঁড়িয়ে নদী দিয়ে বয়ে চলা নৌকা দেখছিল।

কলি দুচোখে জল ভরে বললো, কিন্তু রমেশদা তুমি তো আমাদের এই মধুপুর গ্রামকে চেনো। গোয়ালার মেয়ের সাথে ব্রাহ্মণএর ছেলের বিয়ে হলে, আমাদের বাড়ি ঘর সব পুড়িয়ে দেবে লোকজন।

রমেশ একটা পালতোলা নৌকার দিকে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, তাহলে আমাদের ভালোবাসার কি হবে কলি? ©অর্পিতা সরকার

শেষ বিকেলের এক মুঠো আবির মুহূর্তে ছড়িয়ে গেল কলির দুটো গালে।

রমেশ আর কলি হয়তো ভাবছে ওদের এই আবেশ বিভোর মুহূর্তকে কেউই লক্ষ্য করছে না। কিন্তু অলক্ষ্য থেকে ওদের দেখলো রমেশের দাদা ভূপেশ। ব্রজনাথের সনাতনী রক্ত বইছে তার গায়ে। ঠান্ডা মাথায় ভাবনা চিন্তা করেই এগোতে হবে ওকে। হুটপাটি করলেই গাঁয়ের লোক জানাজানি হয়ে রমেশের সাথে সাথে তাদের পরিবারেরও দুর্নাম হবে।

কলির ইদানিং চুল বাঁধতেও ভালো লাগে না। আয়নার সামনে গেলেই সে শুধু রমেশের মুখটাই দেখে।

আয়নার রমেশ যেন বারবার প্রশ্ন করে, কৃষ্ণকলি তুমি শুধুই আমার তো? মনপ্রাণ দিয়ে শুধুই আমাকে ভালোবাসো তো?

কলি অস্ফুটে বলে, আমি শুধুই তোমার রমেশদা। এই শরীরের এই মনের অধিকার শুধুই তোমার।

সেদিন রাতে কলি অকাতরে ঘুমুচ্ছে। হঠাৎ ই একটা অচেনা হাতের ছোঁয়ায় চমকে উঠলো সে। এই ছোঁয়া তো ওর মা বা ছোট বোনের নয়। এই ছোঁয়া রমেশেরও নয়। বার দুই রমেশ ওর হাত ছুঁয়েছিল তার স্পর্শ কলি চেনে। ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখল, বিকাশ গোয়ালার ছোট ছেলেটা তার গায়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

ছেলেটা কলির থেকে বছর কয়েকের বড়ই হবে। তবে ছেলেটাকে লোকে পাগল বলে। বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় আর মাছ ধরে।

সে হঠাৎ এত রাতে কলির ঘরে ঢুকলো কি করে?

কলির ঘরের পিছনের জানালার দুটো শিক ভাঙা রয়েছে। নিশ্চয় ওখান দিয়েই ঢুকেছে।

চমকে উঠে কলি বললো, তুই এখানে কি করছিস রে গোবিন্দ?

গোবিন্দ বোকা বোকা হেসে বললো, আমি তো তোকে বিয়ে করতে এলুম রে।

দু দিন আগেই কলিকে দেখতে এসেছিল এক পাত্রপক্ষ। কালো বলে তারা বাতিল করে গেছে। কলিও হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে। রমেশদা ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করার থেকে জলে ডুবে মরা অনেক ভালো।

কিছু বোঝার আগেই কলিদের বাড়ির সামনে একটা সোরগোল।

বেশ কিছু লোকের চিৎকার, তারপরেই দরজা ভাঙার আওয়াজ।

কলির সাথে গোবিন্দও অবাক হয়ে শুনছিল সেই আওয়াজ ।

ভূপেশ বাবুর গলাই বেশি শোনা যাচ্ছে।

হ্যাচাকের আলোয় কৃষ্ণকলি দেখলো, পাড়ার সকলের সাথে রমেশও দাঁড়িয়ে আছে ওর দরজার সামনে। কলির বাবা লোকের কাছে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে। মা কাঁদছে...

রমেশের দু চোখে তীব্র ঘৃণা।

গোবিন্দর দিকে তাকিয়ে বলল, তুইই ওই নষ্ট মেয়ের উপযুক্ত বর। নিজের পা দুটো মাটিতে গেঁথে গেছে কলির। অত কথা বলা মেয়েটা যেন একেবারে চুপ।

ভূপেশ বাবুর মুখে একটা অভিসন্ধি জয় করার বিকৃত হাসি।

দূরের কোনো গ্রান্ডফাদার ক্লকে মধ্যরাতের ঘন্টা বাজলো।

মাধব ঘোষের মেজ মেয়ে এতদিন ধরে বিয়ে না করে ঘরে বসেই নোংরা ব্যবসা চালাচ্ছিল বলেই দাবি করলো, ব্রজনাথ বাঁড়ুজ্যের ছেলে ভূপেশ। তার সাথে পাড়ার প্রায় সব ব্রাহ্মণদের দাবী, এমন নষ্ট মেয়েকে তারা কি ভাবে ক্ষমা করবে। মাধব ঘোষ ভুপেশের পায়ে পড়েছে।

নিজের চোখের জলে পা ধুইয়ে দিয়ে মেয়ের কলঙ্ক মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছে। একঘরে হয়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত কলির মা।

রমেশ আস্তে আস্তে বললো, তুমি স্পষ্টবাদী, সরল বলেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম কৃষ্ণকলি। তুমি যে এত নোংরা তা তো কখনো বুঝিনি। আজও যখন দাদা গিয়ে বলল, মাধব ঘোষের মেয়ে ঘরে লোক ঢোকায়, তখনও বিশ্বাস করিনি। নিজের চোখে দেখে তবেই ...

কৃষ্ণকলির দুচোখে আগুন ছুটছে। রমেশের ওই ঘৃণাভরে কথায় যেন সেই আগুনের আভা এসে পুড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে কাছে দাঁড়িয়ে থাকা রমেশের শরীর।

কলি বললো, মাঝরাতে যখন এতটা নাটক দেখলেই, তখন আরেকটু দেখে যাও রমেশদা।

সকলকে অবাক করে দিয়ে ওই মুখরা বাচল মেয়ে বললো, আমি গোবিন্দকে ভালোবাসি। ওকেই আমি বিয়ে করতে চাই।

মাধব ঘোষ কান্না ভুলে মেয়ের কাছে ছুটে এসেছে।

তুই পাগলের মত ওসব কি বলছিস কলি??

ওই পাগলা গোবিন্দকে তুই বিয়ে করবি?

তুই আমার বড় আদরের মেয়ে কলি। অমন পাগলের সাথে আমি তোর বিয়ে দেব না।

বিকাশ গোয়ালাও রেগে বললো, শোনো মাধব , আমার ছেলে পাগলা নয়, একটু ভোলেভালা। তোমার ঐ মুখরা মেয়েই বলেছে, সে তাকে ভালোবাসে, বিয়ে করতে চায়।

বিকাশের তখন একমাত্র লক্ষ্য মাধব ঘোষের হঠাৎ হওয়া কাঁচা পয়সার দিকে।

ব্রজনাথ বাঁড়ুজ্যে ততক্ষনে বিধান শোনাতে এসে গেছেন।

আগামীকালের সন্ধ্যের লগ্নতেই গোবিন্দর সাথে কৃষ্ণকলির বিয়ে দিতে হবে, তবেই মাধব এক ঘরে হওয়া থেকে বাঁচবে।

রমেশের ঠোঁটের কোণের ঘৃণা মিশ্রিত হাসিটার দিকে তাকিয়ে কৃষ্ণকলি বললো, ভালোবাসতে গেলে বিশ্বাস থাকতে হয়। দাদার সাথে কূট পরামর্শে মেতে নিজেকে আমার চোখে আর ছোট নাইবা করলেন।

ধীর পায়ে বেরিয়ে গেছে রমেশ।

যে আয়নাটাতে মুখ দেখতে গেলেই রমেশের মুখ দেখতে পেতো, সেই আয়নাটা নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে এসেছে কৃষ্ণকলি। রমেশের দেওয়া লাল ফিতে জোড়া কাঠের জ্বলন্ত উনুনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে ও।

সন্ধ্যের লগ্নে গোবিন্দর সাথে বিয়ে হয়ে গেল কৃষ্ণকলির। এ খুব সুখের বিয়ে নয়, তাই পাত পেড়ে বসে খাওয়ার লোকও তেমন নেই।

বাসরঘরে গোবিন্দকে একা পেয়ে কৃষ্ণকলি বললো, সেদিন তুমি কার কথায় কোথা দিয়ে ঢুকেছিলে আমার ঘরে। আগে তুই বললেও বিয়ের পর স্বামীকে তুমিই বললো কলি।

গোবিন্দ ভীত চোখে বললো, না না কলি তোমায় বলবো না। বললেই ভূপেশ বাবু আমাকে নদীতে ডুবিয়ে মারবে বলেছে।

বিকাশ গোয়ালার অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ নয়। ছেলের বিয়ে দিয়ে মাধবের কাছেও যথেষ্ট যৌতুক লাভ করেছে সে।

গোবিন্দর মা মারা গিয়েছিল সেই দশ বছর আগে। গৃহিণীহীন বিকাশের সংসার ছিল ছন্নছাড়া। কৃষ্ণকলি এসে সেই সংসারের হাল ধরলো।

এক সপ্তাহেই গোবিন্দ আর গোবিন্দর বাবার কলির হাতের রান্না খেয়ে মুখের স্বাদ পাল্টে গেল। গোবিন্দও আর বনে জঙ্গলে ঘোরে না। সে কলিকে বেশ ভয়ই পায়। কলি চোখ পাকালে সে ছিপ আর চার রেখে চুপটি করে গোয়ালের কাজে লাগে।

বিয়ের দিন পনেরো পর, কলি একমনে সুতো দিয়ে আসন বুনছে। পাশের পাড়ায় কীর্তন শুনতে গেছে গোবিন্দ। তার আবার গান বাজনায় বড় লোভ। বিকাশ গেছে তাসের আড্ডায়।

হঠাৎ হ্যারিকেনের আলোয় কলি দেখলো, একটি অতি পরিচিত ছায়া মূর্তি তার সামনে দাঁড়িয়ে।

হ্যারিকেনটা উঁচু করতেই মুখটা পরিষ্কার হলো।

মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে রমেশ।

কলি, আমাকে তুমি ক্ষমা কর। আমি বুঝতে পারিনি এটা আমার বাবা আর দাদার চক্রান্ত ছিল। গত কালই ওরা বাড়ির বৈঠকখানায় নিজেদের বুদ্ধির বড়াই করে আলোচনা করছিল। আমি আড়াল থেকে সবটা শুনেছি।

আমার সাথে তোমার সম্পর্কের কথা জেনে গিয়েই দাদা এই অপকর্মটি করেছে।

কৃষ্ণকলি আবার সেই অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো রমেশের দিকে।

রমেশ বাবু আমি যদি এখন পাড়ার লোককে ডেকে দেখাই, যে আপনার মত সজ্জন ব্যক্তি গোবিন্দ গোয়ালার বউএর সাথে আঁধারে কথা বলতে এসেছেন তাহলে হয়তো আপনি ত্যাজ্যপুত্র হবেন!!

কৃষ্ণকলির তীক্ষ্ণ কথায় আর স্পষ্ট চাহনিতে দগ্ধ হচ্ছে রমেশ।

কি চান আপনি? আমি ব্রজনাথ বাঁড়ুজ্যেকে ডেকে দেখাবো, যে কৃষ্ণকলির মত নষ্ট মেয়ে মানুষের কাছে তার শিক্ষিত ছেলে এসে ক্ষমা চাইছে? নাকি চুপচাপ বেরিয়ে যাবেন এখান থেকে?

রমেশ কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু কৃষ্ণকলির ওই আগুন চোখের দিকে তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে বেরিয়ে এলো।

রমেশ বেরিয়ে গেলে, কেউ জানলো না কৃষ্ণকলির আগুন চোখে নোনতা জলের ধারারা অঝোরে ঝরে পড়তে শুরু করেছে। কৃষ্ণকলিদের এই কান্নাটা কোনোদিনই রমেশদের কানে পৌঁছাবে না।

© এক চিলতে রোদ্দুর- কলমে- অর্পিতা সরকার

সমাপ্ত

শেষ তারিখ
- সুদীপ ঘোষাল

প্রকৃতি গীর্জা হলেই ভালোবাসা সবুজ ধর্ম  হয়ে যায়
ওপাড়ে যে ডাকে তার একটাই ঈশারা
শুধু ক্লেদাক্ত ভূমি আরও অভিজ্ঞ হয় পায়ে পায়ে

ঘোরা পৃথিবীর তালে তারিখ ভেসে ওঠে পঞ্জিকা হিসাব
দুদিন সময় তারপর কথা ফুরোয় মোমবাতি গলন

মানুষ ভুলে যায় শেষ তারিখ ছবি, একি ছলনা

প্রেমের সুখ
- মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

চোখে চোখ, গালে হাত
ঠোঁটে ঠোঁট, মনে লিপস্টিক চুমু
মনের ভিতরে লাল প্রেম ঝরে
ঠোঁটের উষ্ণতায় প্রেমিকা মনে পড়ে
উল্টো স্রোতে প্রেম ভেসে যায়
লাল মনে প্রেমের সুখ পাই ।

ভালোবাসতে ভালোলাগে
- মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

তোমার লাল গালের হাসি ভালো লাগে
তোমার কানের ফুল-দুল ভালো লাগে
তোমার লিপস্টিক রাঙা ঠোঁট ভালো লাগে
তোমার হাতে হাত রাখতে ভালো লাগে
তোমার দামী চুমু পেতে ভালো লাগে
তোমার উঁচু হিল জুতা ভালো লাগে
সত্যি বলছি --
তোমাকে ভালোবাসতে ভালোলাগে ।

জাগো জীবন
- শর্মিষ্ঠা মুখার্জি

মেঘ জমেছে আকাশ পথে রাস্তাজুড়ে জ্যাম
আলস্যের ভোরবেলাতে হাজির অবক্ষয়ের প্রেম।
আমরা সকাল দুপুর বুদ্ধি বাড়াই হাতে শক্ত লাগাম
বিহ্বলতায় ঢেউ তুলেছে ঘর বাঁধার গান।
স্পষ্ট থেকেও সত্যি থেকো, যদি আমি মৃত্যুকামী,
তোমার কাছে যা রূপ আস্বাদন, আমার কাছে তা আমিই।
তর্ক বিবাদ ঝগড়াঝাঁটি আর একটুখানি আদর
দু-বেলার এই আলতো জীবন, মেঘ পরতে চাদর।
অন্ধকারেও জেগে থাকে ঘুমের জাতিস্মর,
শুল্কবিহীন অপার জীবন করেছে তাকে ভর।
হৃদয় থেকে মগজপথে অনেক জটিল চলা,
জীবনবোধে পুড়ছে প্রেমিক, অভিধানের বলা;
রজ্জুকে ভেবে সাপের দেহ, উল্কি আঁকা প্যাঁচে
পরিযায়ী প্রেমের বুকে ইতিহাস বোনা আছে।

আত্মপ্রত্যয়
- শর্মিষ্ঠা মুখার্জ্জী

মেঘ আটকে রেখেছিল যারা
কানাকানি তাদের আকাশের সাথে
তুমি দুহাত ভ'রে জল ধরে রেখো
কাঁধ ছুঁয়েছে মেঘনা জলজ রাতে।

টিমটিম আঁকাবাঁকা বিদ্যুৎ রেখা
আকাশ পেরোতে পেরোতে বাতাসের ধোয়া
মনে মনে ভেসে চলি রূপকথা আলোকে
দূর থেকে দূরে সেই ভালোবাসা ছোঁয়া।

সময় বিশেষে যদি ক্লান্তির কানাকানি
খড়কুটো ভাসা ডুবোজলে ভেসে,
বিপন্ন রাতে অন্ধকার পুড়িয়ে দেয়
দরিয়ায় সিঁদুরে মেঘ ভেসে এসে।

এক জীবনে মেটাতে না পারা দাম
তোমাকে মানায় শুধু বুকের বাঁ ধারে,
একটা পাগল হাওয়ায় মনমাতাল
উদাস করে দেয় আজও বারে বারে।

আমি যদি বসন্তে না বাঁচি
ফিরে যাই যদি, রোদচশমা পিছে ফেলে,
একদিন বলেছিলে,আমি চোখের পাতা মেললে
তুমি অকূল বরষায় ভিজবে বিনামূল্যে।

অলীক বর্ষণ
- শর্মিষ্ঠা মুখার্জ্জী

বৃথাই তোমাকে ডেকেছি ঘুমঘোরে
ইতিহাস মাপে আলোড়ন
সাথে যদি যাও লং ড্রাইভে
স্টিয়ারিং এ থাকে কি মন!

হাইওয়ে ঝেঁপে বৃষ্টি পাঁজরে
ইচ্ছেটা মাপে বয়সের বর্ষাতি,
স্বপ্ন ডিঙার গায়ে গোধুলি বাহারে
জেগে ওঠে ধূসর মায়াবী স্মৃতি।

মুগ্ধতাবোধ বদলাতে পারিনা, চাইনা
হাজার বন্ধুত্ব
প্রেমিক কবি তুমি কর্পোরেট রবি, কব্জা তোমাতে;
আর কিছু চাইনা তো!

ব্রম্ভচারী নাকি সব্যসাচী তুমি
হেমন্ত ফুরোলে ভাঁড়ার থেকে,
তুমি ফাগুন পেরোবেনা এক বসন্তে
পথ হাটতে রাজী আমি তোমার পথে,

কমজোরি আমি, একদিন নদী, বয়েছিল
ধীরে, স্রোত অনুকূলে--
তোমার মধ্যে পেয়েছি যাকিছু, আমার
মধ্যে চলি পথভুলে।

দোষের মধ্যে পথহীনতায় অনিশ্চিত এক
উত্তুরে ডাকে,
পাঞ্চালীকে যেদিন বাঁধনে বেধেছিল
কালীদহের ঝড়ে বাঁধা কি সে থাকে!

সমঝোতাকুচি নিয়ে বেঁচে থাকি
রোজ রোজ ডাকে রূপোলী ভোর,
সাক্ষী উপহার,  নতুন মোমবাতি আর
চোখে লাগা পুরোনো ঘুমঘোর।

ভালোবাসা আর আকাশগঙ্গা
-শ্রী নারায়ন চক্রবর্তী

ভালোবাসি তো অনেক হলো বলা।
তোমায় নিয়ে আজ আকাশগঙ্গায় যাবো!
আমি হবো ১৩.২ বিলিয়ন বছর ধরে তোমার অপেক্ষায় থাকা প্রাচীন নক্ষত্র!
তুমি হবে লুকোচুরি খেলায় ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের মাঝে লুকানো আমার ভালোবাসা।
ভাবছো তোমায় খুঁজবো কেমন করে!
এই আকাশগঙ্গা তোমার-আমার প্রেমের সাক্ষী।
মনে পড়ে রাতের আকাশের কত উজজ্বল তারকা তোমার জন্য জ্বলতো,
যে তারকারাজি কে সাক্ষী রেখেই শুরু হয়েছিলো আমাদের পথ চলা।
আজ তারা তোমায় পেয়ে আনন্দে আত্মহারা, তুমি তখন লজ্জ্বায় মুখ লুকানোর বৃথা চেষ্টায়!
তুমি তো জানো তোমার জন্য চোখের পলকে ১০০০০০ আলোকবর্ষ কিলোমিটার ব্যাসের আকাশ গঙ্গা আমি ঘুরে আসতে পারি...
তোমার চোখে আমার জন্য ভালোবাসা লুকাবে কি করে... !
এমনি করে তোমায় প্রতিবার খুঁজে নেবো। চলো আজ আর নয় ফিরে চলি আমাদের ভালোবাসার পৃথিবীতে।
কথা দিলাম আগামীতে তোমায় নিয়ে যাবো অ্যান্ড্রোমিডা কিংবা অন্য ছায়াপথে... ভালো থেকো আকাশগঙ্গা

একটি চিঠি
- বৈশালী গাঙ্গুলী

খাম বাদামিতে ভরে, পাঠিয়েছিলাম মনের কাথা-
নাম ছিল তোমার, পদবী জানা ছিল না।

গ্রাম পেরিয়ে পৌঁছে গেল চিঠি, শহরতলি;
ঘাম ঝরিয়ে খুঁজে পেলে তোমার ঘরের গলি।

প্রণাম জানিয়ে লিখেছিলাম, প্রথম দুটো পংক্তি-
বদনাম হলো, তৃতীয়টি- যাতে লিখেছিলাম 'ভালোবাসি' !

নিলাম হল অনুভূতি, ফিরিয়ে দিলে চিঠি।
ঐ ফেরানো চিঠি, তোমার স্পর্শের প্রাপ্তি!

দেখলাম বিশ্বাস গেল ভেসে; চিঠিতে লিখেছিলে-
"দাম চাইছো কত, যে সময়গুলো সাথে কাটিয়েছিল।"

অমৃত পথযাত্রী
- সংঘমিত্রা আইচ

আমরা অমৃতস‍্য পুত্রী ও পুত্র…
অবাঞ্ছিত বা অবাঞ্ছিতা নই গো…
সূর্য ওঠে সকাল হয় …
মন্দিরে ,মসজিদে হয় হৈ হৈ…
কত ভক্ত,পূজার্চনা,উপাসনা…
আমাদের জায়গা কোথায় গো…
ভালোবাসি আমরাও এই জীবন…
খিদে পায় অবাধ‍্য ভাবেই…
ব‍্যাথা পেলে আমরাও কাঁদি…
কেটে গেলে শরীরে একই লালরক্ত…!!
রাতে তোমাদের মতই ঘুম পায়…
নরম বিছানা নয়, চাই শুধু একটু আশ্রয়…!
যদি বাঁচে একটু খাবার তবে জোটে আমাদের…
দয়া হলে একটি টাকা বার হয় বাবুদের…!
দয়া নয় ,ভিক্ষাও নয়…
এই দেশের সম্পদ আমরাও…
অধিকার দাও ভালভাবে বাঁচার।
জোর করে নয়গো বাবু…
শান্তিতে বাঁচবো আমরা…
তোমাদের সাথে…
পাশে পাশে…!
আমারও অমৃত পথযাত্রী
অমৃতস‍্য পুত্র অথবা পুত্রী।।

মৃত্যুঞ্জয়
- দেবযানী গাঙ্গুলী

মেঘেদের ঘাট ছুঁয়ে ছুঁয়ে মায়াবী চাঁদ
যখন রাজকন্যা ভানুমতীর শিয়রে
রূপোর কাঠি ছোঁয়ায়, তখন ঠিক তখনই
চেতনার দুয়ার খুলে তুমি আসো "মৃত্যুঞ্জয়!"
নিশ্চিন্দিপুরের সোঁদা গন্ধ মাখা শৈশবে
মেঘমল্লারের সুরে অভিভূত আমরা
তোমারই কথনে চিনেছি মৌরীফুল।
অপরাজিত কৈশোরে আরণ্যক ঘ্রাণ
তুমিই চেনালে ...যখন মরণের ডঙ্কা বেজেছে
অশনি সঙ্কেতে --বনে পাহাড়ে তৃণাঙ্কুর যখন
উৎকর্ণ, তখনই ঊর্মিমুখর অথৈ জলে
শুনেছি তোমার বরাভয় ।
আজ যখন জ্যোৎস্নার আলোকপ্রপাতে
পরিযায়ী চাঁদ শরতের কাশকে স্নেহাশিস দেয় --
মনে পড়ে কাশস্রোত ভেঙে অপু -দুর্গার
দুর্বার উচ্ছ্বাস! শিশুর চোখে চাঁদের পাহাড়ের
স্বপ্ন তুমিই এঁকেছ ...দেবযানের রথে তোমার
জীবন মরণের তীর্থ দর্শন ।স্রষ্টার বিভূতিস্নাত
তোমার জন্মদিনে তাই আজও ইছামতীর
চঞ্চল উপলখন্ড পুলকিত ।
"মা আসছেন "--আগমনীর খেয়া বেয়ে
তুমি কি আরো একবার আসবে না?

আমরা শিশুর দল

- নন্দ দুলাল রায়


আমরা শিশুর দল ফুলের মত মন,

লেখা পড়া শিখে গড়ি সুখের জীবন।

আমরা শিশুর দল লেখা পড়া করি

খেলাধুলার মাঝে শরীরটাও গড়ি।

আমরা শিশর দল শিক্ষকের কথা শুনি

মান্যবর যাঁরা সমাজে তাঁরেও মানি।

আমরা শিশুর দল মনে স্বপ্ন ধরি,

বড় হয়ে আমরা এ দেশটা গড়ি।

আমরা শিশুর দল সরল সহজ মন,

সহায়তা দাও যদি গড়ি এ জীবন।

আমরা শিশুর দল মান অভিমানহীন

হাসি মুখে সবে মিলে বাজাই সুখের বীণ।

আমরা শিশুর দল বুকে আছে বল

দু'নয়নে স্বপ্ন ঝরে জোছনা উজ্জ্বল।

এসো প্রভাত
- সংঘমিত্রা আইচ

সকাল বেলায় এসো সূর্য…
তোমার অগ্নি শিখা জ্বেলে…
আমরা আছি তোমার আশায়…
রাত্রি শেষ হলে…
ফুলের সাথে শিশির রাগিনী…
পরাগ ,রেনু মাখামাখি…
ফিসফিসিয়ে শিউলি মেলা…
প্রিয়ার সাথে রোজ চলে সে…
অভিসারে…
সকাল হলে অভিসার শেষে শিউলি…
পরিপূর্ণতা পায়।
সুগন্ধি আতর মেখে হলুদ গায়ে…
সাদা শাড়ীতে শিউলি সাজে…
মনোরমা…!
সখী আছে তার মালতি লতা…
পদ্ম,বেলী ,জুই আর গন্ধরাজ।
বন্ধুদের সাথে হেসে হেসে এসেছে…
আমার তোমার মন ভরাতে…!!
হে আনন্দ বজায় থেকো…
সংসার মাঝে সবার জন্য…
ধনী, দরীদ্র, ভালো, মন্দ…
নারী-পুরুষ সবার ভালোয়…
সমান ভাবে থেকো তুমি…!
যারা পেলনা সুখ,দেখতে পেলনা আলো…
যে ধর্ষিতা সুযোগ খোঁজে…
নতুন ভাবে বাঁচার…
সূর্যশিখা…এসো তুমি মঙ্গল-মূর্তিতে…!
প্রনতি তোমার পায়ে…
লক্ষাধিক বছর ধরে সবার তরে…
এসো প্রভাত শুভ বার্তা…
নিয়ে।।

সেই সাঁঝ
-বৈশালী গাঙ্গুলী

এসো প্রিয়, হাত ধরাধরি করে স্পর্শসুখের বিলি কাটি,
না হয়, মিঠে রোদে গা এলিয়ে মশালিশের নামতা পড়ি।

সেদিন এমন শরতের পেজা মেঘ ছিল, দুটো শালিক নিজেদের খুঁজে পেয়েছিল!

কিছু আবেশ, নিজের মত করে,
পাঁচ আঙুলের ফাঁকে গলে পড়েছিল।

আজও মনে আসে,
কি ভাবে একই বারান্দার ব্যবধানে দুটো প্রাণের শিখা,
নিয়ে সাঁঝে প্রদীপ যায় দেখা!
শত জন্মের আবেগ, শিশির বিন্দু সবুজ মাঠের ঘাসে হয়েছিল আঁকা!

আজও বাতাসে আছে, তোমার গন্ধ-
বাকি সব কিছু কালো,
তাই নিঃশেষ হল দ্বন্দ্ব!
নিজেকে না পেয়ে, হারিয়ে হয়েছি অন্ধ।

এখন আছে শুধু তোমার স্পর্শ,
বুকের ডানপাশে তিল খুঁজে চলছে
সেই, অস্ফুট অভিকর্ষ।

জানি বন্ধ চোখে একদিন হবে
অপেক্ষার অন্ত।
হারিয়ে পাবো ভালোবাসার দিগন্ত!!!!!!

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget