আগস্ট 2017

বরকত মিয়ার ঘর
-মাহাদী হাসান রিফাত

ঈদের চাদঁটা দেখতে পেয়ে খুব খুশি জয়।বা'পায়ে ভর দিয়ে বাড়ি ফিরছে জয়।ওর ডান পায়ের জুতোটার বেহালদশা। একটু ভর দিলেই জুতোর ফিতেটা ছিড়ে যাবে।তাই ডান পা'টা টেনে টেনে হাটছে।সে বাড়িতে ঢুকার সময় খালি পিঠের বাম পাশটা একবার চুলকিয়ে নিল।মনেহয় কোন পাজি মশা কামড়ে দিয়েছে।এরকম খালি গা পেলে সব মশর ই ইচ্ছে করবে একটু কামড়ে দিতে।জয় বাড়িতে ঢুকেই জুতো জোড়া খুলে হাতে নিল। খুব সর্তকতারর সাথে জুতা জোড়া নিয়ে রাখলো বারান্দার এক কোনায়।এই জুতা জোড়ার সাথে তার অন্তরঙ্গতা একটু বেশি।দীর্ঘ দু বছর জয়ের সাথে পথ পারি দিয়ে এসেছে এই জুতা জোড়া।এক ঈদে জয়ের মামা ওদের বাড়ি আসে,ওকে খালি পায়ে দেখতে পেয়ে, এ জুতা জোড়া কিনে দেন মামা। তখন জয় অনেক ছোট খুব হলে চার বছর বয়স হবে।ওর বয়সটা কাগজ কলমে সঠিক ভাবে লেখা নেয়।পাশের বাড়ির হাসান ওর তিন দিনের বড়।এই হিসেবে এখন জয় এর বয়স ছয় বছর।

জুতা রেখে বারানদায় দারিয়েই মা কে ডেকে বলছে।

-মা....মা.... আমি চান দেখবার  পারছি। কাচির লাহান চিকন চানডা  দেখতে ম্যালা সুন্দর। কাইল ঈদ অইবো।  কি মজা কি মজা।আমেনা ঘরের ভিতর থেকেই ছেলে জয় কে ডাকলো।

-ঘরে আই বাপজান তোর মুখটা দেইখ্যা আমি ঈদের চানডা দেহি।

জয় ঘরে ঢুকতেই আমেনা ওকে কোলে তুলে নিলেন। এরপর কপালে একটা চুমু একেঁ দিলেন।বুকে চেপে ধরে গভীর আবেগে বলতে থাকেন।

-আমার বাপজানের চেহারাটা চান্দের থ্যাক্কাও বেশি সুন্দর।তাই না রে জয়????

- হ মা,চানডা কত চিকন। আর দ্যাহ না আমি কত মোডা।

এই বলে জয় তার মার কোল থেকে নেমে পরে।

 

 

এতক্ষনে বেশ রাত হয়েছে।

আমেনা ছেলে কে নিয়ে শুয়ে পরেছে।ঘরের কোনে থাকা হারিকেন টা মৃদু আলো ছড়াচ্ছে। যেন স্বর্গের অকৃত্তিম শান্তি ছড়িয়ে পরছে সারা ঘরে। হারিকেনের পাশে রাতের খাবারটা ঢেকে রেখেছে যাব্বার মিয়ার জন্য।বরকত মিয়া শহরে রিক্সা চালায়। আর কাল যেহেতু ঈদ এর জন্যই হয়তো তার আজ বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে।

 

জয় ঘুমিয়ে পরেছে। আমেনা পাশে বসে কি যেন সেলায় করছে।যাব্বার মিয়ার গলা শুন্তে পেয়ে আস্তে করে ঝাঁপিটা খুলে দেয় আমেনা।বরকত মিয়ার হাতে কিসের যেন একটা পোটলা।বরকত মিয়া ঘরে ঢুকেই উবু হয়ে ছেলে জয় এর কপালে চুমু খেলেন।হাতে থাকা পোটলার কাচুমাচু শব্দে জয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেছে।ও বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলে।

-বাজান আইজ তুমি এত্ত দেরি কইরা আইলা কেন??

বরকত মিয়া ছেলের গালে চুমু দিয়ে বলতে লাগলেন

-বাপজান কাইল তো ঈদের দিন তাই আইজ একটু বেশি খ্যাপ মারছি।বরকত মিয়া আমেনার হাতে পোটলাটা দিয়ে বলল বাপজানের লাইগা ঈদের সদায় আনছি।এক জোড়া জোতা,একটা তফন,একটা পিরান আর রঙ্গিন একতা বাটি টুপি।

সকাল সকাল গোসল করিয়েদিতে বল্ল জয়কে।আমেনা মাথা নাড়িয়ে ও মুচকি হেসে সম্মতি জানায়।বরকত মিয়া জয় কে কোল থেকে নামিয়ে খেতে বসেছে।এদিকে জয়ের খুশি আর কে দেখে। ও মা এর কাছে আবদার জানায় ওর জন্য কিনে আনা ঈদের সদায় গুলো দেখানোর জন্য।আমেনা দুই হাতে ছেলের দুই গাল ধরে একবার নেড়ে দিয়ে বলতে লাগলেন।

-কাইল পইরা তোমার বাজানের লগে জামাতে যাইও।অহন গতরে দিলে পুরান হইয়া যাইব না?? জয় আদুরে গলায় বলে -ঠিক আছে গতরে দিমুনা তয় একবার দেহি।খুব দেখবার মন চাইতাছে।দেওনা মা একটু দেহি।

-ঠিক আছে বাপজান তুমি বহ আমি দিতাছি।

 

আমেনা উঠে দারান।বিছানার বালিশের নিচ থেকে সুতই বাধা একটা চাবি বের করে আনেন।এর পর খাটের নিচে থাকা ট্যাংক টা খুলে বের করলেন ঐ পোটলাটা।

 

জয় জামাগুলো হাতে নিয়ে নাকে ঠেকিয়ে লম্বা শ্বাস টেনে ঘ্রান নিলো।ঘ্রান নিয়ে আবেশে চোখ বুজে নিল।চোখ বন্ধ রেখেই নিম্ন কন্ঠে বলছে-আহ্ কি সুন্দর বাসনা! এর পর জোতা জোড়া একবার নেড়ে চেরে দেখে নিল।মার হাতে দেয়ার আগে।জয় আর একবার জামাটা হাতে নিয়ে নাকে ঠেকিয়ে ঘ্রান নিয়ে বুকে চেপে ধরে।

ছেলের এই আনন্দ দেখে আমেনার দুই চোখের রেটিনা থেকে দু ফুটা অস্রু গড়িয়ে পরলো।

সব মাতা  পিতায় নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয় সুধু মাত্র এই প্রত্যাশায় যে তার সন্তান সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠুক। মানুষের মত মানুষ হোক।বরকত মিয়া ও আমেনা এর ব্যতিক্রম নয়।

বরকত মিয়া খাওয়া শেষ করে এসে খাটে বসলেন।জয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন। -কিরে বাপজান ঈদের সদায় পছন্দ হইছে??

জয় বাবাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় এর পর বলে।-হ বাজান ম্যালা সুন্দর হইছে।

বরকত  মিয়া ক্লান্ত শরীর বিছানায় এলিয়ে দিলেন।আমেনাও বাতি নিভিয়ে এসেছেলের ডান পাশে শুয়ে পড়লেন।জয় বাম পাশ ফিরে বাবাকে জড়িয়ে ধরে আবার ঘুমিয়ে পরেছে। বরকত মিয়া চোখ বোজে ভাবছিল সামনের জানুয়ারি মাসেই জয় কে গ্রামের প্রায়মারী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেবে।ভাবত ভাবতে  এক সময় ঘুমিয়ে পড়লেন বরকত মিয়া।

কবি:  শীবু শীল শুভ্র
কবিতা:- রঙিন ঘুড়ি
——————-+——————–

নীল আকাশের হাওয়া, উড়ছে মনের ঘুড়ি
রঙিন স্বপ্নে বুনছি, আমি কথাগুলোর ঝুড়ি
ঘুড়ি হয়ে উড়ছো, তুমি ঐ আকাশের পানে
সুতা হয়ে মনটা, যাচ্ছে ভালোবাসার টানে।

ঘুড়ি তুমি গিয়েছো, ফিরে তাঁকিয়েছে কি?
সুতার বন্ধন লাটাইয়ে, তুমি জানো কি!
ঐ আকাশে মুক্ত তুমি, আমায় ভুলে গেছো
লাটাই ভাবছে তোমায়-টেনে, আনবে আমার পাশে।

ঐ আকাশের নীলাভে, খুঁজছি তোমায় আমি
তোমায় খুঁজে চলছি, কারণ তুমি সবচেয়ে দামি।
ভাবনা আমায় ভাবায়, তাইতো আমি ভাবি
ভালোবাসি আমি তোমায়, এই ছিলো যে দাবি।

এতো কাছে থেকে ও, মনে হয় দুরে
এভাবেই থাকি যেন, জনম জনম ধরে।
ছন্দে নয় তোমায়, স্বপ্নে আমি খুঁজি
দুরে নয় তুমি, থাকো খুব কাছাকাছি।

বি.দ্র:- [কবিতার ছন্দে রাই, তোমায় খুঁজে পাই]

কালপুরুষ
- সুলগ্না চৌধুরী

অসংখ্য নক্ষত্রমন্ডলীর মাঝে প্রথম তোমাকেই আবিস্কার করেছিলাম,
কোন একদিন।
অন্য কোন তারকার দিকে চোখ পড়েনি আর..
বারে বারে তোমাতেই আবর্তিত হয়ে মুগ্ধ হয়েছি,
অসীম বীরত্ব-শৌর্যের বন্দনা করে ধন্য হয়েছি,
তোমার অটল পৌরুষের অনলে দগ্ধ হয়ে নিজেকে পুড়িয়ে
অগ্নি সিঁদুরে সিঁথি রাঙিয়ে
আলোকবর্ষ দূরত্বকে অতিক্রম করেছি একা।
তুমি চেনোনি আমায়,
শুনতে পাওনি তোমাকে ছুঁতে চাওয়ার এই তীব্র হাহাকার..
পাওনি? না কি চাওনি?
জানি উত্তর নেই তবু জিজ্ঞাসা রেখে গেলাম।

কেউ জানেনা
কেউ জানতে চায়নি কোনদিন,
কি আমার মনের কথা।
কোথায় আমার সুখের মতো ব্যথা!
কালপুরুষ তবু তুমি জেনে রেখো,
আমার নিজস্ব রাতের আকাশে একমাত্র তোমাকেই আবিস্কার করেছিলাম!
কোন একদিন...
তোমাকে আবিষ্কার করেছি প্রতিদিন ।।

- ঋমা

এসো । এই শেষ বার
- মাহাদী হাসান রিফাত

চাঁদটা তখন অন্তরীক্ষে হাসে।

নোনা শলিল নয়নে মোর ভাসে,
তবুও নিরাশ না হয়ে-

নতুনকরে স্বপ্ন দেখি
বেঁচে থাকার পণ করি।

ঠিক তখন এক প্রকান্ড ঝর এসে
চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়ে যায়
মনে আঁকা স্বপ্নটাকে।

তবুও নিরব আমি নিরব
নিস্তব্দ চারিপাশ।

ঠিক তখন এক আশার আলো
নিভু নিভু করে জ্বলে উঠে।

হটাৎ এক ঢেউ এসে
প্রদীপের সেই তপ্ত শিখাটা ভাসিয়ে নেয়
সময়ের অনেক গভীরে।

যখন আর বাঁচার ইচ্ছে নেই
তখন তুমি আমার জীবনে এসে
হাতে হাত রেখে বাঁচতে শিখালে।

আজ যখন তুমি আমার পাশে নেই
হাতে হাত রেখে পথ দেখাবার কেউ নেই
মায়ার চোখ তুলে তাকাবার কেউ নেই
তখন আমি একা, শুধুই একা
চারিদিক যেন আঁধারে ঘেরা ঘন কালো।

জীবন নামের এই মশালে আজ আর আলো হাসে না।
যে আলো তুমি জ্বেলেছিলে নরম হাতে যত্নকরে।

এতদিন তুমি ছিলে, আজ নেই
তাই চারিদিকে হাহাকার।

সেদিন তুমি এসেছিলে সূর্যমুখীর হাসি নিয়ে। কেনই বা আজ চলে গেলে, শুকনো পাতার মত ঝরে গেলে।

তবুও শেষবার ডাকি তোমায়!
হাতছানি দিয়ে বারেবার,
আমি অপেক্ষায় আছি… থাকবো…
ফিরে এসো আবার।

অচিন গ্রহের পাখি
- বি.এম.আলমাছ উদ্দিন

যখন আসবে সময় ফুরাবে দিন
ডাকবে আকাশের তারা,
তখন আমি সব হারিয়ে
হবো ভুবন ছারা ৷৷

থাকবে সবাই, থাকবো না আমি
পরবে তোদের মনে,
নিয়তি বুঝি এভাবেই
সবাইকে নেয় কেড়ে ৷

যে চলে যায়, সেই শুধু যায়
যায়না কেহ সাথে,
তবু তার বিদায় বেলায়
সবার হৃদয় কাদে ৷৷

হাসবি আমার সৃতিতে
কাদবি কখনো ভুলে,
তখন আমি অনেক দূরে
অজানা পথের নীড়ে ৷

মাসের পর মাস যাবে
ধূসর হবে সৃতি,
তখন আমি তোদের কাছে
অচিন গ্রহের পাখি ৷৷

মেয়েছেলে
- জয়ন্ত মন্ডল

আজ সকালে শুনতে পেলাম ভীষণ অট্টরবে
স্বয়ং কণ্ঠে জানান দিলো সদ্যজাত ভবে।
পথচারি প্রতিবেশী উঠোন পরে ভিড়ে
আরম্ভিল ভবিষ্যতী সদ্যজাত ঘিরে_
দাদু বলে গায়ক ছেলে কণ্ঠ ভালো অতি,
গলা সাধা সাত-সকালে ওটাই ভাগ্য গতি।
আরে মশাই বলছোটাকি শোননি ওর হুংকার
বড় হয়ে হবে মল্ল, ছেলে করবে ছারখার।
আমি যে ভাই দেখছি ওকে নভোচারীর বেশে,
হাত পা ছুড়ে আকাশ পানে যাবে চাঁদের দেশে।
না না রে ভাই তোমরা সবে বকছ আজেবাজে
ছেলে হবে নায়ক আমার কথা লাগবে কাজে।

উঠোন নেমে ঠাম্মা কেশে বলল সবাই থাম;
আবোল তাবোল বকা ছাড়া নেই রে কোন কাম?
ছেলের কথা কে বলেছে দেখ না চোখে চেয়ে
চাঁদের আলো আঁচল জুড়ে চন্দ্রাবতী মেয়ে_
চুপসে গেল হাটের গরম নীরব চারিদিকে,
মুখোমুখি চোখাচোখি এদিক ওদিক ফিকে।
মুখ খুলেছে নীরব মশাই টুক্কি দিয়ে ঘটে,
ছেলে সে তো কথার কথা মেয়েছেলে বটে!

29.7.2017/১২.৪.১৪২৪©JAYANTA

হারিয়ে গেলা তুমি
- মোহাম্মদ রাইয়ান

চাঁদের আলোয় নদীর বুকের জলেরা যেমন করে ঝলমল ,
তেমনি নিশিরাতে কাজলে ছোয়া তোমার নয়ন করে ঝলমল।
যেমন মেঘের স্নেহভরা কোলে পাখিরা তুলে সুর,
তেমন তোমার হাসি এ হৃদয় জুড়ে তুলে প্রত্যাশার সুর ।
হিমেল হাওয়ার কোমল ছোয়ায় প্রকৃতি যেমন স্তব্ধ,
তেমনি তোমার মায়াভরা ছোয়ায় এ হৃদয় যেন স্তব্ধ।
রোদেলা দুপুরে লাল শাড়ি পরে যেন সাজিয়ে দিলে,
এ ভাঙ্গা হৃদয়ের ঘুমন্ত অনুভূতিদের।
রবির কিরণে তোমার উজ্জল্য হাসি,
এ মনে বাজাচ্ছে প্রেমের বাঁশি।

টিপ টিপ করে পড়ছে যেমন প্রকৃতির রূপসীকন্যার ফোটারা,
তেমনি হৃদয় থেকে পড়ে যাচ্ছে অন্তরের হারানো বেদনার বিন্দুরা । যেমন হিংস্র প্রাণীর ডরে নিরীহ প্রাণীরা লুটিয়া পড়ে প্রকৃতির চরণে ,
তেমনি তোমার অহংকারের ডরে আজ ছদ্মবেশে আছি দাঁড়িয়ে ।
যেমন ছোটবেলায় প্রকৃতির বুকে খুঁজতাম জোনাকির আলো ,
তেমনি শুন্যতার মায়াজালে খুঁজে ফিরছি তোমার স্মৃতির পিছে।
ক্ষুধার্ত হয়ে আছে আজ আমার কান্নার সাধনা,
শুধু দেও তোমার নয়নের শান্ত-কোমল ছায়া।
ভিক্ষা হিসেবে কষ্ট দিও, নিবো তা আমি হাসিমুখে বরণ করে ।
না বলা কথা গুলি জ্বলে-পুড়ে নিয়ে যাচ্ছে আমায় মৃত্যুর যাত্রায় ।

কালোতেও আলো
- জয়ন্ত মন্ডল

মুগ্ধতাকে আলগা করে ফালতু কেন করি
ক্ষুব্ধ হয়ে সুস্থ আলো কৃষ্ণ তলে ভরি,
বদ্ধ মনে মৃত্যু আনে
রুদ্ধ খোল শক্ত টানে
শুদ্ধ ক্ষণে ঠাট্টা ভুলে হাতটা তুলে ধরি।

ত্রিমাত্রিক ছন্দ/অনুছড়া।
12.8.2017 06:55 ©জয়ন্ত মন্ডল

বিশ্বাসঘাতক
- পদ্মজা ঘোষ

ওরে পাগল,আবারো ভেসে গেল তোর সব।
বুুক পেতে নীড় দিয়েছিল যে মাটি,
সে মেনেছে হার বিশ্বাসঘাতকের কাছে।
আগ্রাসীর হাতে, লুট হয়ে গেছে নিজেই।
প্রবলের বেশে জোর ক'রে করেছে প্রবেশ
ফুলশয্যার ঘরে,কেড়ে নিয়েছে চুম্বন,
যাকে তুই করেছিলি নিমন্ত্রণ!
ওরে পাগল,কতবার,আর কতবার ,
নাভী থেকে তুলে আনা পবিত্র কম্পন,
খোয়াবি এমনি ক'রে বিনাদোষে!
মাটির বাসায় মাটির মন,
অট্টালিকার শক্ত ভিতের পুঁজি!
বেঁচে থাকিস কি শুধু একটি আশায়,
যদি কোনদিন আসে ফিরে হারানো মিলনক্ষণ,
যদি জিতে যায় পায়ের তলার ধন?........!!

(12/8/17)

 

তোমায় নিয়ে নীল নদীর স্মৃতি
- মোহাম্মদ রাইয়ান

সময়টা ছিলো যেন বেশ অদ্ভুদ ! প্রকৃত ছিলো যেন বড়ই রোমাঞ্চকর !
জোছনার রাতে, মধুময় চন্দ্রের আলোয় বেয়ে উঠত নীল নদীর ঢেউ।
নীল শাড়ি পড়ে আসতে  তুমি নীল নদীর তীরে,
আমার হৃদয়ে শুয়ে গুনতে  তুমি ধ্রুবতারার মেলা।
.
মেঘ আজ বড়ই শান্ত,বাতাসের পথ যেন স্তব্ধ,
রিমঝিম করছে চারিদিক জোনাকির আলোর স্নেহে ।
আকাশ বেয়ে চাঁদ উঠেছে,মন বেয়ে উঠেছে আশার আলো,
আজ বড়ই মনে পড়ছে নীল নদীর কথা।
.
চলো এই জোছনার রাতে ঘুরতে যাই নীল নদীর তীরে,
শুন্যতা ভরা আমার এই কাধে রেখো তোমার মাথা ।
প্রকৃতির মায়াজালে ডুবতে দিও আমায়।
শিমুলের ঘ্রাণে,কাশফুলের মেলায়,চন্দ্রের কিরণে
দেখতে দিও তোমার সেই মিষ্টি হাসি।
তোমার ঘন কেশের মায়ায় বুঝি, লুটিয়া পড়িলাম প্রকৃতির কোলে।
পাখির খাঁচার মতো বুকে থেকো শুয়ে,আদর করতে দিও সারারাত ধরে,
আর বুনতে দিও আমাকে স্বপ্নের ভুবন ।
তোমার গভীর ছোঁয়ায় আলোর আশা খুঁজে পায় এ অন্ধজীবনে,
চল আমরা প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তুলি নতুন স্বপ্নের রঙে ।
মূল্য কি দিবে না এই অজস্র অপেক্ষার পথিককে ?
আছি আমি দাঁড়িয়ে নীল নদীর তীরে,
অপেক্ষায় আছি আজ তোমার ছায়া পাওয়ার  আশায় ।
ভোরের আলোয় শুরু হয়েছে যেন পাখিদের আর্তনাদ,
গত  রাতে আমি শুয়েছিলাম তোমার কবরের পাশে ।
পিছন ফিরিলাম, অভিমান দেখালাম তোমাকে,
ভেবেছি পিছনে থেকে দৌড়ে এসে ধরবে তুমি আমায় জড়িয়ে ।
ধরলে না তুমি জড়িয়ে আর, আমিও পারলাম না আর,
হাঁটু ভেঙ্গে কবরকে আকরিয়ে ধরে শুরু করলাম অশ্রুর ঝর্ণা ।

হৃদমন্দিরের বাসনা
–  শীবু শীল শুভ্র

ভালোবাসা তুমি কেনো যে এমন?
ভুল বুঝা-বুঝি হয় যখন তখন!
নিশ্চিন্তপুরের ছেলেটি আমাদের অভ্র তপন
ভালোবাসার নিকৃষ্ট  খেলায় মগ্ন তখন।

ভালোবাসার খেলায় যোগ্য কি তারা?
কথায় আর পোশাকে সুন্দরতম যারা!
দেহেতে নজর তার নিকৃষ্ট কামনা
ভালোবাসার নাম বিক্রি এই-যে বাসনা।

ভালোবাসা কি ধরনীতে এতই সস্তা?
কত পান্ডিত্যের সস্তার এই অবস্থা
এক যুগে হয়নি বলা রাই-বিনোদিনী
ভালোবাসা যে কি, আজ ও বুঝিনী!

ভালো থাকো সবসময় হৃদমন্দিরের বাসনা
স্বপ্নে ছিলে স্বপ্নে থাকো এই কামনা!
নীল আকাশে উড়ছে মনের ঘুড়ি
যতদিন তুমি বলবেনা ভালোবাসি আমি।

বি.দ্র: [ সকাল-বিকাল সবসময়ই বিনোদিনী রাই, আমাকে জ্বালাতন করে, তার জন্যে-ই আমার এই কবিতা। ]

নদীগান
- দিপংকর রায় প্রতীক

প্রতিদিন ডলফিন সমুদ্রে ডুবতে চাই না
অথবা দেখতে চাই না
মেঘতিলকের আকাশ।
এক কদম রাস্তায় লোভাতুর মনে
পিঁপড়াবিদ্যা মুখস্ত নাই বা হল
পাহাড়ি ঝর্নার স্বাদ চাই না
দূর থেকে শুনি তার সর্পিল নদীগান
কী নিষ্ঠুর সে সুর!
গৌড় মোড়লের মাঝিপাড়া নিয়ে যায়
ও পাড়ের খুন্তি-কুড়োলের সওদায়।
আর সইতে পারি না
পূর্ব-পশ্চিম তুমি আমি
এক হওয়া কঠিন জানি
এ আমার প্রতিশোধস্পৃহা নয়
প্রতিবাদ পরোপকার
তাই আজ অন্তিমযাত্রার সময় হয়েছে, তোমার।

জলকন্যা
- মুয়িদুল ইসলাম

আসগর মেম্বার পুকুরের ঘাটে বসে আছেন। জলকন্যার আশায়।

আজ পূর্নিমার রাত। বানভাসি জ্যোছনায় ছেয়ে গিয়েছে মাঠ-ঘাট। গাছের পাতাগুলো যেন সদ্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। পুকুরের পানিতে জ্যোছনার আলোয় সাদাকালো যে ছায়া-প্রতিচ্ছায়ার সৃষ্টি হচ্ছে সেদিকে আসগর মেম্বারের দৃষ্টি পড়ছেনা। ওনার দৃষ্টি শান-বাধানো ঘাটের পানিতে। আজ যে জলকন্যার ভেসে উঠার কথা।

আসগর মেম্বারের চোখে হঠাৎ পানিতে নড়াচড়ার উপস্থিতি ধরা পড়লো। ঘাটের পানিতে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়েছে। কিছু একটা উঠে আসছে। একটা অবয়ব,তরুণীর অবয়ব। হ্যাঁ,এক সুন্দরী তরুণী। সিক্ত দেহে ঘাটের সিঁড়িগুলো বেয়ে উঠে আসছে সে। তরুণীটি আসগর মেম্বারের সামনে এসে দাঁড়ালো। আসগর মেম্বার এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তরুণীর মুখপানে। অতি নিষ্পাপ একটা মুখ। চাঁদের আলোয় মুখখানা ঠিক পরীর মত লাগছে। নাহ্,পরী না। পরীরা তো আসমানে থাকে। কিন্তু যেসব পরী জলে থাকে? জলপরী? জলপরীদের মুখ কি নিষ্পাপ থাকে? এ জলপরী নয়,জলকন্যা..!!

আসগর মেম্বার মেয়েটার প্রতি অদ্ভুত এক মায়া অনুভব করলেন,নিজের অজান্তেই হাত বাড়িয়ে জলকন্যার গালে হাতটা ছোঁয়ালেন।

ভেজা গালে হাত রেখেও টের পেলেন মেয়েটা কাঁদছে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্পাপ মেয়েটা কাঁদছে..!! আসগর মেম্বারের চোখের কোণেও পানি আটকে আছে। বের হতে পারছেনা। আসগর মেম্বার কাঁদতে চাচ্ছেন,পারছেন না। দু'বার চেস্টা করলেন। পারলেন না।
.
.
.
- স্যার,ও স্যার..

আসগর মেম্বার ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তার চোখের কোণে পানি জমে আছে।

- কি অইছে? মাঝরাইতে ডাক পারোস ক্যান?

- চেয়ারম্যান সাবের ফোন।

হাত বাড়িয়ে মজিদের হাত থেকে ফোন নিলেন আসগর মেম্বার।

- সালাম চেয়ারম্যান সাব। এই মাঝরাইতে কি ব্যাপার?

- খবর তো ভালা না মিয়া। কর্ণফুলীত সবিরের লাশ পাওন গেছে। সামনে মেম্বার ইলিকশন। তোমারে নিয়া তো চিন্তায় আছি।

- আমারে এইবার ছাড়ান দ্যান চেয়ারম্যান সাব। তিরিশ বছর মেম্বারি করছি। আর কত..!! খুনাখুনি আর ভাল্লাগেনা। আমারে ছাড়ান দ্যান। সালাম।

ফোনটা কেটে দিলেন আসগর মেম্বার। তার মন একটু বেশিই বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। জানলা দিয়ে বাইরে তাকালেন। বাইরে বেশ জ্যোছনা হয়েছে। রাতপাখিদের উড়োউড়িও দেখা যাচ্ছে। টিনের চালে অজানা কোন পাখি যেন ডানা ঝাপটালো..
.
.
.
দুপুরের রোদে খা খা করছে চারদিক। নীলাকাশ থেকে আগুনতর রোদ ছিটকে এসে পড়ছে যেন। মাটি ফেঁটে ফেঁটে এখানে-সেখানে হাঁ হয়ে আছে। আসগর মেম্বার পুকুরঘাটে এসে দাঁড়ালেন। কি শান্ত টলটলে পানি..!! দূরে কাঁঠাল গাছটার নিচে একটা কুকুর জিভ বের করে বসে বসে কাঁপছে। একটা কাক বোধহয় উড়ে গেলো গনগনে আকাশ চিড়ে। আসগর মেম্বার খেয়াল করতে পারলেন না। তিনি একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন পুকুরের পানির দিকে। শান্ত টলটলে পানিতে শুধু বিশ-বাইশ বছর আগের স্মৃতিই ভাসছে যেন।

আসগর মেম্বারের চোখে সেদিন যেন গনগনে আগুন ঝরে পড়ছিলো। মরিয়মের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে হ্যাঁচকা টানে ফেলে দিয়েছিলেন।

- ওই ছিনাল,বাচ্চা অইলো ক্যামনে? তরে ট্যাকা দেইনা?

মরিয়মের পেট বাড়িয়ে প্রচন্ড এক লাথি কষিয়েছিলেন সেদিন। সাতমাসের অনাগত প্রাণীটা রক্ত নিয়ে মেঝেতে উঁকি দিয়ে তড়পিয়েছিলো খানিকক্ষণ। সাথে সাথে প্রচন্ড চিৎকারে মরিয়ম জ্ঞান হারিয়েছিলো। সে জ্ঞান আর ফিরেনি।

অনাগত যে প্রাণীটা আগত হয়ে গিয়েছে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন আসগর মেম্বার। থানা-পুলিশের ঝামেলায় যাওয়া ঠিক হতোনা। নিজের বউ এমনকি গ্রামবাসী এতদিন ধরে সবকিছু জানলেও প্রমাণ না রাখলেই পুলিশ টিকিটাও ধরতে পারবে না। অবৈধ সন্তানের মৃতদেহটা বস্তায় পুড়ে সাথে কিছু ইট বেঁধে নিজ পুকুরে ফেলে দিলেন তিনি,প্রমাণাদি খতম।

থানা-পুলিশ হলে ইলিকশনে সমস্যা হবে। তাই চেয়ারম্যান সাহেব মরিয়মের ঘটনাটা রক্তবমিতে নিয়ে গিয়ে পরপর দু'বার জিতে যাওয়া আসগর মেম্বারকে সে বারও দাঁড় করিয়ে দিলেন। ভোটে জিতে গেলেও নিজের ঘরের বউ আয়েশার ভোট পান নি। তালাক দিয়ে সে বাপের বাড়ি চলে গেলো।

পরপর ছয়বার কোন ভাগ্যগুনে মেম্বার হয়েছেন তা আজও বুঝেননি তিনি। বিয়ে থা'ও আর করেন নি।

হঠাৎ মজিদের ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেলেন যেন।

- স্যার,খাইতে চলেন। দুপুর অইয়া গেছে..

- আইতাছি,তুই যা।

ঘরে ফিরতে গিয়ে আবারও কি কারণে যেন পুকুরের পানিতে তাকালেন আসগর মেম্বার।
.
.
.
আসগর মেম্বার পুকুরঘাটে বসে আছেন। জলকন্যার আশায়।

চারদিকে মৃত্যুনিস্তব্ধতা। গাঢ় অন্ধকারে গাছের পাতা,পুকুরের পানি সব যেন মিশকালো হয়ে আছে।

হঠাৎ মেঘের পিছন হতে চাঁদ বেড়িয়ে এলো,জ্যোছনায় ছেয়ে গেলো আশেপাশের প্রান্তর। ঘাটের পানিতে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়েছে। কিছু একটা উঠে আসছে,একটা অবয়ব,তরুণীর অবয়ব। জলকন্যা..!!

জলকন্যার গায়ে বিয়ের লাল শাড়ি দেখতে পেলেন আসগর মেম্বার। মেয়েটা এসে তার সামনে দাঁড়ালো। আগের মতই নিষ্পাপিনীর গালে হাত রাখলেন। মেয়েটা কাঁদছে। তপ্ত চোখের পানি ফোঁটায় ফোঁটায় আসগর মেম্বারের হাত বেয়ে পড়তে লাগলো। নিঃশব্দে কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটা বলে উঠলো,

- আব্বা..!! আমারে বিয়ার শাড়ীতে কেমন লাগতাছে?

- আমারে বাপ কইস না মা। আমি বাপের যোগ্য না।

- বস্তায় পুইরা পানিত ফালায়া দিছো বইলা তোমারে বাপ কমু না বুঝি? কি কও আব্বা..!! তুমি না আমারে জন্ম দিছো? দেহো আব্বা দেহো,আমি বিয়ার শাড়ি পড়ছি। আমারে কেমন লাগতাছে আব্বা?

- অনেক সুন্দর রে মা। সেইদিন যদি তরে মাইরা না ফালায়া দিতাম,তাইলে আইজ তুই এইরহম শাড়ী পইড়া শ্বশুরবাড়ি যাইতি। তুই নিষ্পাপরে মা আমি ঘরে না তুইলা পানিত ফালাইছি। আমারে মাপ কইরা দে রে মা,মাপ কইরা দে..ঘরে চল..

- ছিহ্ আব্বা,কি কও? তুমি তো আমার বাপ। অবৈধ সন্তানগো বাপ থাকে,ঘর-পরিচয় থাকতে অয় না। বিশ বছর আগে এইখানে ফালায় দিছো,আমি এই পানিতে খুব ভালা আছি আব্বা। ঘরে যামু ক্যামনে? আমি না জলকইন্যা? যাই আব্বা?

- যাইস না মা,দোহাই লাগে,যাইস না..

হাত ছাড়িয়ে জলকন্যা ধীরে ধীরে ধোয়াশায় মিলিয়ে যেতে লাগলো। আসগর মেম্বার হাত বাড়ালেন,কিছু ধরতে পারলেন না।
.
.
.
ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠলেন আসগর মেম্বার। এদিক-ওদিক তাকালেন। কিছুই চোখে পড়লোনা। ঘর গাঢ় অন্ধকারে ডুবে আছে। জানলা দিয়ে বাইরে তাকালেন। চারদিক জ্যোছনায় ছেয়েছে। রাতপাখিরা আকাশে উড়োউড়ি করছে।

উদভ্রান্তের মত ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন আসগর মেম্বার। দৌড়োচ্ছেন তিনি। উর্ধ্বশ্বাসে। পুকুরঘাটে এসে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। শান্ত টলটলে পানির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলেন,

"অ মা,যাইস না। দোহাই লাগে রে মা,আমার কাছে আয়। আমারে মাপ কইরা দে রে মা,দোহাই লাগে,যাইস না..."
(শেষ)

আত্মাখোর
- মুয়িদুল ইসলাম

লোকটার সাথে দেখা হয়েছিলো দার্জিলিংয়ে। গ্রীষ্মের ছুটিতে শীতের ঝাপটা খেতে সোজা চলে গিয়েছিলাম খালার বাসায়। খালার বাড়ি দার্জিলিংয়ের কুর্সেং এ। খালাতো বোনই লোকটার কথা বলেছিলো। বিশাল বড় সন্ন্যাসী নাকি। আত্মা খেতে পারে। রীতিমতো হো হো করে হেসে কথাটা উড়িয়ে দিয়েছিলাম সেদিন।

- তা মুসকান, আত্মা খাওয়ার পদ্ধতিটা কি রকম তোর সন্ন্যাসী বাবার?

- সন্নাসী আবার আমার বাবা হলো কিভাবে? ভদ্রলোক জীবজন্তু কাঁচা খেয়ে ফেলে, ওভাবেই নাকি সাথে সাথে আত্মাও ভক্ষণ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে মৃত মানুষের মাংসও খায়।

- কি বলিস..!! এ তো পুরোপুরি জংলী টাইপের কাজ। আবার বলছিস ভদ্রলোক। নেংটি পড়ে ঘুরে বেড়ায় না?

- যাও তো, কি সব বলো না তুমি..!! পুরোদস্তুর ভদ্রলোক ব্যাটা। অনেক ক্ষমতা।

- যেমন?

- উনি নিজের বুকে শূল বিধিয়েও বেঁচে থাকতে পারেন।

- এ আর এমন কি। কোনো কৌশল আয়ত্ত করেছে হয়তো।

- শুধু তাই না, উনি মুখের রূপও বদলাতে পারেন, দেহের কোনো অংশ কেঁটে গেলে রক্তপাত হয় না ওনার। বিশ্বাস না হলে তুমি চলো, দেখবে।

কিছুটা আকর্ষণ বোধ করায় রাজি হয়ে গেলাম আমি।

- কোথায় আস্তানা ব্যাটার?

- ডাউন হিলে।

সেদিন সন্ধ্যায় মুসকান ডাউনহিলে নিয়ে গেলো আমায়। অরণ্যের মধ্যে চা বাগান, তার মধ্য দিয়ে বৃস্টিতে ভিজে থাকা রাস্তা। বিকেলে বেড়িয়েছি। সন্ধ্যা যেন টুপ করে নামলো। অন্ধকারে সন্নাসীর বাড়ি খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হলো। তার উপর সাথে রয়েছে সুন্দরী খালাতো বোন। মেয়েটার সাহস আছে বলতে হবে।

জনমানবহীন একটা কুটির ঠিক জঙ্গলের মাঝখানে। চেঁচিয়ে হ্যালো বলতেই পান্জাবী পাজামা পড়া একজন লোক বের হয়ে আসলো। ক্লিন শেভ, আর্মি কাটিং চুল, ফর্সা গায়ের রং, বয়স ত্রিশের মত হবে। বিশ্বাসই ই হতে চায় না এ লোক নাকি এত উদ্ভট কান্ডের উৎস। শিওর হয়ে গেলাম, যা যা শুনেছি সবই ভাওতাবাজি।

একগাল হাসি দিয়ে লোকটা ঘরে নিয়ে গেলো আমাদের। আমাদের খাটে বসিয়ে নিজে মেঝেতে বসলো। মুসকান আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলো তার সাথে। লোকটার নাম ত্রিভুবন রায়।

- শুনলাম, আপনি নাকি জীবজন্তু কাঁচা খান? মানুষের মাংসও নাকি খান?

“আগে খেতাম। এখন না।”, শীতল গলায় ত্রিভুবন রায় উত্তর দিলো।

- আপনার তো মনে হয় মানসিক রোগ আছে। নাহলে মৃত মানুষের মাংসও কেউ খায়? কুরু ও স্ক্রেপী রোগীরা মনোরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এসব করে।

- আমি মানসিক রোগে আক্রান্ত নই জনাব। এটা সাধনার ফল।

- তা কোথায় এই জঘন্য সাধনা করেছেন শুনি?

- মণিকর্নিকায়।

মণিকর্নিকা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আছে আমার। ভারতের সবচেয়ে খোলামেলা শশ্মান। কাশীতে অবস্থিত। অঘোরী সাধুরা চিতা থেকে মাংস তুলে খায়। অর্ধদগ্ধ মৃতদেহও তুলে আনে গঙ্গা থেকে। প্রথমে কুকুর, বিড়াল, কাক ইত্যাদির মাংস কাঁচা খায় তারপর আস্তে আস্তে মানুষের দিকে ঝুঁকতে থাকে।

- আপনি হঠাৎ এই কর্মে ঢুকলেন কেনো?

- সে অনেক ইতিহাস জনাব। সংক্ষেপে বলি। হার্ভার্ডে মনোবিদ্যার উপর পড়াশোনা করে বছর পাঁচেক আগে ছিলাম অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। জানেনই তো, সম্মোহন বিদ্যার শহর। গুরু ছিলেন ড. রবার্তো এ্যান্টন। মেজমেরিজমে রীতিমতো রাজা হয়ে উঠেছিলেন। ঠিক করলেন, এমন কিছু করবেন যা সবকিছু কাঁপিয়ে দিবে। মানব আত্মাকে আয়ত্বে আনার কৌশল। শুরু হলো একের পর এক পরীক্ষা। প্রথমে সম্মোহন তারপর তার আত্মাকে বের করে এনে নিজের আয়ত্বে রাখা। সম্মোহনের সময়ই পরপর দুজন মানুষ মারা গেলো। ভিয়েনার পুলিশ ডিপার্টমেন্ট গরাদে পুরলো স্যারকে। মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিলো। শিষ্য হিসেবে সবটুকু জ্ঞানই পেয়েছিলাম স্যারের কাছে। পালিয়ে এলাম নিজের দেশ, ইন্ডিয়ায়। ঠিক করলাম স্যারের পরীক্ষা আমি সম্পন্ন করবো।

- তা মশাই, পরীক্ষার অগ্রগতি কদ্দুর?

- এখনও পরিপূর্ণ হয় নি।

আমি টিপ্পনি কেঁটে বললাম,‌ “আপনার প্রসেসিংটাও আমার কাছে পরিপূর্ণ ব্যাখায়িত হয়নি। সম্মোহন করে আত্মা দেহ থেকে বের করে নিয়ে আসার সাথে মানুষের মাংস খাওয়ার কি সম্পর্ক?”

ত্রিভুবন রায় মেঝেতে জাঁকিয়ে বসলেন। বললেন,
- দাঁড়ান, আপনাকে বুঝাই। জানেন কি, বাইবেলে যাকোব ২:২৬ এ লেখা আছে, আত্মাবিহীন দেহ মৃত। আত্মা হলো দেহকে সজীবতা দানকারী শক্তি যা ফুসফুসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। কোনো কারণে কারো শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুক্ষণ বন্ধ থাকলে তার চেতনা ফিরিয়ে আনলে সে বেঁচে যায়। কারণ, জীবনের স্ফুলিংগ তখনও কোষগুলোতে বর্তমান থাকে। সম্মোহন করে কারো শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে তার দেহকোষ গুলোকে খেতে পারলে সেই দেহের আত্মা তখন ভক্ষণকারীর দেহে ঢুকতে থাকে, ভক্ষণকারীর প্রাণশক্তি বাড়তে থাকে। সে প্রচন্ড ক্ষমতার অধিকারী হতে থাকে।

আমি হো হো করে হেসে বললাম,
- বেশ মজার বলেছেন মশাই। যাই হোক, মড়াখেকো মানুষ আপনি। মড়া খেয়েছেন যাতে মানবমাংস খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। কিন্তু শেষ ধাপ মানে কারো আত্মাকে খেয়েছেন কি?

- না, কারণ কোনো জীবিত মানুষ পাইনি পরীক্ষার জন্য।

আমি আবার হেসে বললাম, “নিন, আমার ছোট বোনটাকে নিন। পরীক্ষা করুন।”

মুসকান চিৎকার করে উঠলো, “এসব কি বলছো ভাইয়া?”

- ধুর পাগলী, সব ভাওতাবাজি। ত্রিভুবন বাবু, দেখান আপনার পরীক্ষার ফল।

লোকটার চোখ জ্বলজ্বল করছে। যেন হাজার বছরের সাধনা করে একটা সুযোগ পেয়েছে। মুসকান কিছু বলার আগেই ত্রিভুবন রায় তুড়ি মেরে ওকে সম্মোহিত করে ফেললো। টান দিয়ে গায়ের জামা ছিড়ে হৃৎপিণ্ডের দিকের মাংস কামড়িয়ে খেতে শুরু করলো। তাকিয়ে দেখলাম, মেয়েটা সত্যিই তীব্র সুন্দরী। মুসকানের শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ কিন্তু হৃৎপিণ্ড সচল। ক্ষুধার্ত বাঘের মত মাংস খাচ্ছে ত্রিভুবন। ঘরের মেঝেতে রক্ত গড়াগড়ি খাচ্ছে। খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ঘর থেকে বেড়িয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম। থিওরি অনুযায়ী মুসকানের আত্মা ত্রিভুবনের দেহে ঢুকাতে হলে পুরো শরীরটা খেয়ে শেষ করতে হবে। ততক্ষণ অপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

অন্ধকারে জোর কদমে হাঁটছি পাহাড়ী রাস্তায়। কলমটা ধরার জন্য হাতটা নিশপিশ করছে। অভিজ্ঞতাটা গল্পে রূপ দিতে হবে। কারণ,‌ লেখক হলেও ত্রিভুবনের মত আমিও সাইকো।
(শেষ)








অসুখ
- অনিতা পান্ডে

অসুখ হয় যার- মনে সুখ থাকেনা তার।
ছোট বড় যেমনই হোক অসুখ
কষ্টে নিস্তার থাকেনা আর।
এখানে ব্যাথা ওখানে ব্যাথা ,ব্যাথা শরীরময়।
ব্যাথায় ব্যাথায় জীবন দূর্বিসহ হয়।
ঔষধ খেলেও তাড়াতাড়ি অসুখ নাহি সারে ,
অসুখের মেয়াদ গুনতে গুনতে কষ্ট কেবল বাড়ে।
অসুখের সেবা করতে-করতে-
কাজের রুটিনের পরিবর্তন হয়।
কোথাও যাবার সাধ্য থাকেনা
বিছানাতে কাটে যে সময়।
অসুখের ও আছে জন্মবৃত্তান্ত ,
তর তর করে বেড়ে উঠে।
ফুলিয়া ফাপিয়া উঠে যখন- অসুখের মুখ ফুটে।
নাছোরবান্ধা হয় তখন যেতে চায়না ছেড়ে।
এন্টিবেটিক না পেলে - যায় কেবল বেড়ে।
সৃষ্টজীবের অসুখ থেকে- রক্ষার নাই কোন উপায়।
উত্তরসূরী অসুখরা বংশগত আক্ষা পায়।



বরিশাল।
১০-০৮-১৭।








প্রিয় তরু,
অই রাগি ভাষায় প্রেম কি খুঁজে পাও তুমি?
নাকি শুধু রাগটা নিয়েই পরে থাকো?
কখনো রাতে বালিশ ভেজার কবিতা পড়েছো?
সময় হলে পড়ে নিও,
যে রাগে এলোপাথাড়ি ভাষা থাকে,
তার খানিকটা নীচে দারুণরকম মায়া থাকে জানো?
কোনো শীতের মাঝ রাতে,
কিংবা গ্রীষ্মের শেষে,
অথবা বর্ষার দুপুরে,
খেতে বসে যদি কোনো,
আত্মাহুতি প্রেমিকের গল্প শুনো,
তবে মেডিকেল রিপোর্ট জেনো,
কে জানে,সে রক্তের ফোটায় হয়তো রাগ থাকবে,
আড়ালে হয়তো বিশুদ্ধ প্রেম থাকবে,
তখন বুঝে লাভ কি?
রাগের তো অপমৃত্যু হলো,
সঙ্গে রাগি আত্মাটার।
ভালো থেকো।

মৎস্যকুমারী
- দিপংকর রায় প্রতীক

বিষণ্ণ গোধূলি উড়ে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে
ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে শব্দেরা।
বিল পেরোলেই ঠিকানা, এগোচ্ছি, মনে হয়
অন্তহীন শপথের দিনলিপি।
অবশেষে বজ্রপাতের আমন্ত্রনে পৌঁছলাম
সেই ঠিকানায়,
যেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে
সমুদ্রের তা থেকে উঠে আসা এক মৎস্যকুমারী।

পথি বিবর্জিতা
- শ্রীমন্ত সেন

সে কাজের ভাণ করে ফুলখেলায় গেল,
গেল সুখে, অন্য কারও সঙ্গে এক্কা দোক্কা
খেলতে, শুধু তোকে দাঁড় করিয়ে রেখে গেল
রাস্তার মোড়ে, ফিরে । আসবে বলে।
তুই দাঁড়িয়ে আছিস আযৌবন কাল
ফুটফুটে জোছনার আশায়, এদিকে
ঋতুরা তোর বুকে পাতে খেলনাপাতি,
খেলবে বলে।
তুই তাদের খেলায় যোগ দিতে পারিসনে
মন খুলে, পাছে সে কিছু মনে করে,
নিজের খেলায় তার ভাগ রেখেছিস
অক্ষুণ্ণ, পাছে সে হঠাৎ এসে খেলতে চায়।
এতদিনে তোর বোঝা উচিত ছিল---
সে আসবে বলে যায়নি, যাবে বলেই
গেছে। তার কিছু নাই বা গেল,
যার যাবার, তারই গেল শুধু।
তার রাতের মহিমা গেল, ভোরের শিশির গেল,
জারুল পাতায় মাখা স্বপ্ন গেল,
চোখের জল গেল, বিশ্বাস গেল,
যৌবন চলেই যাবে, জীবন যায় যায়।
ও মেয়ে, তুই আমার হাত ধরবি?
হাত ধরলে বাঁচবি তুই, হাত ধরলে বাঁচব মুই,
জোছনাতে আঁচল পাত্, প্রেমের ফুল কয়টা থুই।।

(অঞ্জলি কবিতা) তাং--১২-৮-২০১৭

বিচার
- রণজিৎ মাইতি

না,মাথায় ঘোমটা নেই ।
তুমি কি তাকে নগ্ন বলবে ?
ঘোমটার নিচে খেমটা নাচ অনেক দেখেছি।
নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ে শ্লীল-অশ্লীল,সভ্য-অসভ্য।
স্তনদায়িনীর কাছে নতজানু হই বারবার ।
মুখে স্নেহবৃন্ত ও হাতে স্নেহ নিয়ে স্নেহ করে যাই।
হে ধরণী ক্ষমা দাও ,
সুক্ষতার বিচারে বারংবার ভুল হয়ে যায় ।

(19-07-2017)

শেষ সংলাপ
- পরিচয় প্রধান

আমি শুধু এপথ ওপথ হন্যে হয়ে খুঁজেই মরি
খুঁজতে খুঁজতে ঘুমিয়ে পড়ি শুকনো ঘাসে
শুকনো ঘাসে আমার পাশে দিব্যি এসে
জিরিয়ে নেয় বিষাক্ত সাপ
সাপই জানে একটা প্রাণে
কতটা বিষ ঢাললে তবে হিল্লে হবে
নদীর জলে ভাসবে ভেলা
হাত বাড়ালেই এক বেহুলা
কিন্তু তখন মৃত দেহের হরেক রকম বিড়ম্বনা
ইচ্ছে হলেও হাত বাড়ানো ভীষণ মানা
অতএব এই ঘুমই ভালো
কে এলো কে গেল চলে নিরুদ্দেশে
আমার তাতে কি যায় আসে
কোন বেহুলা রোজ দুবেলা ভালবাসে
আমার তাতে কি যায় আসে
সুতরাং এই ঘুমই ভালো
স্বপ্নে দেখি অনেক দূরে মিটমিটে এক গ্রামের আলো
ঘুমের ঘোরে হাতল ধরে
ঝাঁকুনি দিই ঘর দূয়ারে
চলোনা এক দারুণ দেশে
যে দেশে খুব বৃষ্টি আসে দহন শেষে
স্নিগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে গেরস্হালি
সন্ধ্যে বেলায়
শান্ত নদীর ওপার থেকে ভেসে আসে ভাটিয়ালি
আমি বুঝি
এসব নেহাত ঘোরের মধ্যে স্বপ্নে দেখা
গত জম্মের প্রেম পত্তর বাতিল বইয়ে লুকিয়ে রাখা
তাই বুঝি এক ছোবল খুঁজি
খুঁজতে খুঁজতে ঘাস মেঝেতে দুচোখ বুঁজি
শুকনো ঘাসে আমার পাশে দিব্যি এসে
জিরিয়ে নেয় বিষাক্ত সাপ
ও সাপ এবার শোনাও তোমার শেষ সংলাপ

@পরিচয় ১১-০৮-২০১৭

ক্ষত
- অরিজিৎ কুন্ডু

আজ আমার সারা শরীর জুড়ে ক্ষতর দাগ.
আর সেই দাগের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছ তুমি;
পিষে পিষে রক্ত বের করে চলেছ প্রতিনিয়ত.
খোবলানো ক্ষতদাগগুলো হাঁ করে চেয়ে আছে.
গা গুলিয়ে ওঠে তাদের দিকে তাকালেই.
তোমার ঐ নরম মনখানি যে এরকম ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে;
তা সত্যিই আমার অজানা ছিল.
অজানা ছিলে তো তুমিও;
তোমার কাছে অজানা ছিলাম আমিও.
এ আমাদের কেবলমাত্র এক খেলা ছিল.
কিন্তু ক্ষতটাকেই কেন বেছে নিলে আমায় হারানোর জন্য?
আমি তো তোমার কাছে এমনিই হারতে রাজি ছিলাম ।

বৃষ্টি কাব্য
- ফাল্গূনী রুনু

বৃষ্টি নিয়ে কাব্যের নাইতো কোনো শেষ
কত কবি লিখেছে কবিতা ধরে বৃষ্টির রেশ!
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ অথবা পুকুর জলে,
বৃষ্টিরর ছন্দ নিয়ে , কবিতা লেখা চলে!
কেউ ভাবিনা বৃষ্টি হতে পারে, কতটা ভয়ঙ্কর,
পাহাড়টাকে নরম করে, ফেলে মাথার উপর!
সকাল থেকে বৃষ্টি হলে চলে হাহাকার,
দিনমজুরের দিনটা যে, চলে যায় বেকার!
উণুনে চড়েনা ভাতের হাড়ি পথের মানুষেরে!
বৃষ্টির জলে ধরেনা অনল, থাকে তারা অনাহারে
মধ্যবিত্তর ঘরে চলে খিঁচুরীর উৎসব
পাতে খাঁটি ঘি নিয়ে তারা, করে আনন্দের রব!
অভাব যাদের ছোয়না কখনো, তাদের উৎসব ভিন্ন,
সুযোগ বুঝে দিনটাকে সাঁজায় নিয়ে বৃষ্টির চিহ্ন!
শরবতী হয় তাদের ক্ষন, যখন বৃষ্টি ঝরে!
বৃষ্টির কারণে মানুষের ভেদাভেদ তাদের কি মনে পড়ে??

অবাক প্রকৃতি
- সাবরিন টুম্পা

বাঃ ! কী সুন্দর মলয়া সমীর
তাহার সহিত ভাসিয়া আসিতেছে সুবাস মল্লির ।
মলয়া সমীরে উড়িতেছে অলক ,
তারি সহিত মনে লাগে উত্তলন ঝলক ।
সুমাধব দিনে শোনা যায় পিকের ডাক
কিংশুকের সুরঙ্গে মনে জাগে ঝংকার বাক ।
যাবক পায়ে খন্জন নাচিতেছে ডালে ,
তুরিতে তরাসে শিখিনি খায় তাম্বুলে ।
.
ঝরঝর বর্ষনে অবিরল জলে
ভ্রমরের গুন্জনে কল রব তবে ।
আজি জ্যোৎস্না রাত্রিতে আছি বসিয়া ,
সুমাধবের মলয়া সমীরে অলক ছাড়িয়া ।
মন কি উচ্ছ্বাস !
স্বপ্ন চোখে আশ্বাস
আসিতেছে কল্পনা
আবেগ জড়ানো আল্পনা ।।

পণ্ডশ্রম করেছি তবে?
চিন্তা তবে শয়নরত হোক আজকেই!
যতো ব্যাকুলতা অপ্রকাশ্য ছিলো,
আজ খোলা হোক?
খামখেয়ালি যতো গল্প লিখা,
যতো মিথ্যে চাঁদ রাত,
নেশার যতো জৈবিক কর্ম,
সব মৃত্যু পাক!
মুক্তি দিক সব চাওয়া,
ফিরে যাক একে একে যা পাওয়া,
নিঃশব্দ হোক পৃথিবী,
শুধু আমার কানে!
বাকীসব ভালো থাক,
অন্য গানে!

মাশুল
- মো: তারেক আনোয়ার কিরণ

আমি নিজের চোখের জলে ভিজে গেছি
অনেক কেঁদেছি তাই একা থাকতে শিখে গেছি
রাতের একাকিত্বকে নিজের স্বাধীনতা মনে করি
ছুটবোই কেন?  পাবো না যখন অপারের তরী

ছুটেছি অনেক মরিচিকার পিছেপেয়ে যাব বলে
এসেছে অনেক শিশির আমি শুধু তোমার বলে
খেলেছে সবাই মনের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ছলে
বদলে দিয়ে বাধ্য করেছে থাকতে অমানুষের দলে

আমিতো চেয়ে ছিলাম ভালবাসার রংগে জীবন রাঙতে
জানা ছিলো না সুখ পায় সবাই গরিবের মন ভাংতে
ভাঙা মনকে বলি দেখিস না তুই স্বপ্ন আর
জোড়া দেই যতো ভাঙে মন ততো যে আমার

চাইনা আমি দিতে মনকে জোড়া আর
কারণও জানিনা অকারনে মন ভাংার
কি কারনে হোলাম আমি সবারই খেলার পুতুল?
কি দোষে দিচ্ছি আমি এতো যন্ত্রণা ভরা মাশুল?

আমার একলা রাতের তারার সাথে
কথার ঢলে, কবিতা নেমেছে
জ্যোৎস্না পটে; একেছি ভীষণ তৃষ্ণা নিয়ে
স্বপ্ন নামের ধূমকেতু, ঐ আকাশ জুড়ে!

রাত্রি ঘামে,
আকাশ নামে মাটির কাছে।
আমার কিছু উন্মাদনায় কান্না আছে,
শব্দ ছাড়া, স্বপ্নহারা রোদের কাছে।

রক্তিম ক্ষোভ শিরায় জাগে,
অপরাধের বন্যা ভীষণ কক্ষপথে;
তাই নিয়েছি শপথ এবার,
বাজবে আবার সন্ধ্যারাগে
বিজয় মিছিল, জাগবো আমি ভোরের আগে।

অস্থির নীড়
- মোশ্ রাফি মুকুল

বৃত্তের কেন্দ্রে বিন্দু
বিন্দুর মাঝে বাস ক্ষুদ্র
জলের ভেতরে সমুদ্র।

জল পেরুলেই নদী
নদী ওপার সাঁকো,
সাঁকোর ওপরে অস্থির নীড়-
জীবন মাঝির।

দিয়ে দিয়ে দাঁড়ে টান
খুব হয়রান
কতো দূরে তীর?

এতো জীবন নয়
সমুদ্র অশেষ,
সংসারের গল্পটা এতো ছোট নয়
দীর্ঘ সিনেমা বিশেষ!

ভাটিয়ালি গান শেষে অবশেষে-
ভাটিগাঙে এলো ভাটিয়ার টান,
পেরেশানে দিন গোনে
শূণ্য মাঝিয়ান।

১১/০৮/২০১৭

অস্পর্শ ভালোবাসা- শীবু শীল শুভ্র

চলার পথে ক্লান্ত দুপুরে হলো দেখা
মনের মাঝে লাবণ্য, তোমার নামটি লেখা!
ঘুমের রাজ্যে এসেছো -তুমি, কিন্তুু হয়নি-বলা
এর-ই নাম কি, বলে অস্পর্শ ভালোবাসা?

কখনো হেঁটেছি রৌদ্রে, তোমাকে দেখবো বলে
চিন্তায় মগ্ন আমি, অবেলায় তোমাকে নিয়ে!
কখনো কেঁদেছি আমি, তোমাকে দেখতে না-পেয়ে
হারানোর ভয় শুধু, না-বলা কস্টের মাঝে।

এঁকেছি তোমার ছবি, শাব্দিক ডায়রির পাতায়
রাঙ্গামাটি তুমি আমায়, নিয়ে চলো সেথায়।
দেহেতে খুঁজিনা আমি, খুঁজি তোমার আকৃতিকে
ভালোবাসি বলেই তোমাকে, হারিয়ে যাই প্রকৃতিতে।

তুমি আছো বলেই, আমি শুভ্র উন্মাদ
তোমার মাঝেই সারাক্ষন, করতে চাই বিরাজ!
ছন্দময় জীবনে তুমি, রেখেছো আমায় আনন্দে
তোমার সকল অভিযোগ, গ্রহন করবো সানন্দে।

বি.দ্র: [ এখানে কবি তার লাবণ্যকে কতটুকু ভালোবাসেন ও প্রকৃতির রুপ ও তার লাবণ্যের কাছে
হার মানে। কিন্তু কবি লাবণ্যকে ভালোবাসে-ন আবার প্রকৃতিকে ও ভালোবাসে-ন]

জানি না আমি মায়ের আদর কাকে বলে?                  মনে নেই কবে ছিলাম আমি মায়ের কোলে?                   জ্ঞান আমার হয়েছে যে দিন থেকে                                 অভাবে কেদেছি শুধু মায়ের কথা ভেবে

  সুখে আছে  কি সে আমায় একা রেখে?                    মুখ ফিরায় নেয়  যে সবাই আমায় দেখে                          আমার কস্ট আমি বুঝি কেউতো বুঝেনা                      খোকা আমার কোই বলে কেউতো খুজে না

  রাত জেগে খুজি আকাশ পানে আমার মায়ের তারা       সকল স্বর্গ সুখ তাদের জানি মায়ের কোলে যারা           শত মিনতি করি আকাশ ছেড়ে মা আমার আয় চলে      চাই না কিছুই আমি রাখবি শুধু তোর আঁচলে

স্বর্গ সুখ পাব আমি ডাকবি যখন খোকা বলে                বল মা থাকতি কেমনে আমি যদি যেতাম চলে          জানতে চাই মা কেমন হয় তোর হাতের ছোঁয়া             কবুল করো বিধি ফিরাওনা তুমি নাকি এতিমের দোয়া

তুমিতো জানো বিধি কতো কস্ট বুকে আমার আছে      মাকে ফিরাও! নাহয় আমাকেই নাও মায়ের কাছে

এ বেলায়
- শাহিনা কাজল

লিখবো না অার তোমার জন্য
নীল অাকাশের হাসি,
পাহাড় টিলায় জমলে ধুলো
জমলে রাশি রাশি।



লিখবো না অার রাতের সুরে
বকুল কেয়ার বন,
ঝরলে পলাশ চুপটি করে
অাকাশ রঙা মন।

লিখবো না অার জলের খেলা
চাঁদনী রাতের তারা
শ্রাবণ রাতের অঝোর ধারা
হৃদয় অাকুল পারা।

লিখবো শুধু অাঁধার রাতে
বৃষ্টি হয়ে পড়ো,
অাকাশ ভেঙে সাগর তলে
বিষাদ সিন্ধু গড়ো।

বৃষ্টি জলে ধুয়ে নিও তোমার কান্নাগুলি,
শতাব্দী চলে যাবে তার নাম ভূমিকায়!
জমিন জুড়ে বিস্তার পাবে প্রহসন,
রচিত হবে মহাকাব্য,
শেষ হবে উপসংহার;
সহস্র কালের!

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget