জুলাই 2017

আসতেই হবে ফিরে
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

প্রিয়তমা
তোমাকে যে আসতেই হবে ফিরে
আজ না হোক অন্য ছুটির দিনে ৷
তোমার ছুটির দিন ব্যাস্ত থাকে
তোমার পরিবার আর সন্তানে ,
আর আমার ছুটির দিন কাটে
তোমায় ভেবে আর স্বপ্ন দেখে ৷
তোমাকে যে আসতেই হবে ফিরে
আজ নাহোক অন্য ছুটির দিনে ৷
বিয়ের প্রস্তুতি বিছানায় উপরে
একটু দুরেই আমার দেহটা পরে ,
পুরোহিতও আজ বাহিরেই বসে
আমার শবএর শেষকৃত্য করবে ৷
তোমাকে যে আসতেই হবে ফিরে
কফিনে যখন আমাকে রাখা হবে ৷
কফিনে বিদায়ী ফুলগুলো থেকে
তুমি সাদা গোলাপটা নিও তুলে ,
জেনো লাল ফুলটাই সাদা হয়েছে
আমার চোখের জলে ধুয়ে ধুয়ে ৷
নতুন মুকুল আসবে গাছে গাছে
আবার ঠিকই ঝড়েও পড়ে যাবে,
তবু আমি বসেই থাকবো সেখানে
তোমাকে না নিয়ে ফিরবো কি করে ,
আমার হাতছানি পারবেনা এড়াতে
আমার সাথেই যাবে শেষ গন্তব্যে ৷

বিশ্ব মচ্ঞ
- সাগর অরণ্য

বিশ্ব মচ্ঞে বক্তা আমি
বিশ্ব নির্বাক শ্রোতা,
বকে যাচ্ছি প্রলাপ
নিজের মত ইচ্ছে স্বাধীন
আগ জন্মের সাধনা
আ আমার সফল।
বক্তার ভুমিকায় অবতীর্ন
আজ আমার সত্ত্বা।
ঠোঁট দুটো নড়ে যাচ্ছে
বর্ণ ধলা পাকাচ্ছে শব্দে-
শব্দ গুলো বাক্যে…..
আর বাক্য অসার মহা কাব্যে…..।

পর পুরুষ
- সাগর অরণ্য

অজানা অচেনা দেখিনি যারে
কোন দিন দুচোখের তরে,
মুহূর্তে ক্ষণিকের ব্যাবধানে
কোন এক অচেনা বন্ধনে
হলো পর এ ধরা বিশ্ব
বড় অদ্ভুত অচানক দৃশ্য।
পর আপন মাতা-পিতা
পর আপন ভাই-ভ্রাতা,
পর আপন বাড়ি ঘর
সকল পুরুষ,সকল নর।
জন্য যার এতো কলোরব
কতটুকু চিনি তার সব?
কতটুকু জানি তাঁরে শুনি,
কতটুকু বুঝি তাঁরে শুনি?
অজানা অচেনা এক নর
মুহূর্তে করে দিলো পর।
সকল স্নেহ মায়া-মমতা
সকল বন্ধন আত্নীয়তা।
তিলে তিলে গড়া সম্পর্ক
নিমেষেই তোলে ঝড় তর্ক।
পৃথিবীর সকল পুরুষ নর
পর পুরুষ,পর সকল ঘর।
পরতো সে ই চিনিনা যারে
অজানা আর অচেনা ওরে।
যে ক্ষুদ্র সত্ত্বার ক্ষুদ্র মানুষ
সেই তো বড় পর পুরুষ।

কিছু মেঘ,
কিছুটা আবেগ-
সাথে নিয়ে এই শেষ দুপুরে;
হাটছি একা,
দেখছি ফাকা-
স্তব্ধ এই শহরটারে।

শূন্যতারে সাথে করে
রৌদ্রের ঝাঁজ গায়ে মাখি
আজ; রঙধনুরে ক্যানভাসে এনে
ইচ্ছে- নতুন শহর আঁকি।

কিছু রঙ,
কিছুটা ঢঙ-
ঢেলে দিয়ে এই চিত্রপটে;
কিনবো আমি,
অনেক দামী-
শহরতলি, খবর রটে!

হেটে হেটে আমি ভাবছি
শেষে শহর কি মোর হবে
আঁকা? নাকি, কিনতে গেলে-
বাঁধ সাধবে সময়, দেবে ফাঁকি??

নীল টিঁপ

সাগর অরণ্য

 

সেদিন সকলে

তোমার কপালে

উঠে নীল টিঁপ

জ্বেলে নব  দ্বীপ।

কপোটো চূড়ায়

নীলাভ ছোঁয়ায়

ছড়ালে কিরন

হারালো এ মন

গভীর তৃষায়

অহর নিশায়

কপালের ভাঁজে

নীল কারুকাজে

অপার নৈস্বর্গ

গড়েছে যে দূর্গ

ঐশ্যর্য প্রাচুর্য

অষ্টম আচার্য

মানিক রতন

হীরক কাচ্ঞন

ছড়ালো আলোক

এ বিশ্ব ভূলোক

তোমার জ্যোতিকা

বাঁধল গীতিকা

হ্রদয় বীণায়

গোপন কোনায়

উঠলো যে সুর

অতিবো মধুর।

 

এখানে চলার পথে যবে থেমে যায়,
খুব ভোরে অদূর দূরে 'স্বপ্ন' নামের রথ!
অশরীরীর উল্লাস জাগে বুকের ভেতর,
অতৃপ্ত আত্মারা সব দিশেহারা চোখে
খুঁজে চলে তৃপ্তি পাবার পথ!

দুটি শব্দ
সাগর অরণ্য

দুটি শব্দ অতি ব্যপ্ত
মনে মনে হয় রপ্ত,
অজান্তে এ মনো প্রান্তে
বাঁধে বাসা প্রাণো গ্রান্থে।
নব সুখ নব ডর
ক্ষনে ক্ষনে করে ভর,
নব দিক নব প্রান্ত
নব সুখ নব বসন্ত।
নব দ্বার নব জগৎ
নব নীড় নব বসত।
লাগে নেশা জাগে তৃষা
কিছু ভাষা মৃদু আশা,
দোলা দেয় ভোলা মনে
সুর হয়ে ক্ষনে ক্ষনে।
কাছে কিবা দূরে থাকা
তার ছবি তারে দেখা।

তৃষিতের বুকে
মেঘের ছন্দিত স্পর্শে,
নিমেষে জেগে ওঠে হৃদস্পন্দন!
ভুলে ফের শতকের চিরচেনা ক্রন্দন,
মিলে মিশে গড়ে তোলে অটুট এক বন্ধন!

প্রাণ ফিরে পায় চাতকের দল,
নদীতে উতলা হয়,
ঝরণার জল।
নাবিকেরা ফিরে আসে,
হাসি ছলছল!

মাতে সবে, মহুয়ার মিলন বনে;
হাসি হাসি ভাব রহে প্রতিটিক্ষণে।
শুধু মাতোয়ারা হইনা আমি;
আড়ি দিয়েছি যবে, বরষার সনে!

ভেজা ফ্রেম
সাগর অরণ্য


ভেজা ফ্রেম
লোনা জল,
করে প্রেম
টলমল।
সব হাসি
হলো বাসি
ঘোরে মগ্ন
মিছে স্বপ্ন,
সব বৃথা
গুনে ধরা
স্নৃতি পাতা
ভুলে ভরা।
লোনা অশ্রু
মিছে শুশ্রূ
ছিন্ন মন
ভিন্ন পণ।


 

চাঁদ আজও জ্যোৎস্না দিচ্ছে
পাহাড় থেকে জল ঝড়ছে
কত সময় কেটে গেল!
সমাজও আজ বদলে গেছে
বদলে গেছি আমরা।
কুঁজো হয়ে গেছে বুড়ো তালগাছ
বাবুই পাখি চলে গেছে বাসা ছেড়ে
আজও বদলায়নি শুধু নিয়ম-
জন্ম,বেড়ে ওঠা,কুঁজো হওয়া,
অতঃপর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া
ফের আবার পুনঃজনম
আর এভাবেই চলছে যে মোদের অবরোহক্রম।

প্রেম,

তুমি আমার সপ্ন বও

আমি বরং তোমার বাস্তবকে দেখি

দেখি কতদূর গেছে তোমার সুর আকন্ঠ ঢালা বান

দেখি কোন্ চোখে তুমি মানুষ দ্যাখো কোথায় কার অবস্থান।

শূণ্য থেকে শূণ্যে

আমি তোমার পথ ধরে হেঁটেছি

লক্ষ আলোকবর্ষ দূর থেকে তোমার আল ধরে হাঁটতে হাঁটতে এসেছি

হাজার বছর ধরে অন্তর থেকে অন্তরে হেঁটেছি তোমার হাতে হাত রেখে

আজও চলছি তোমার পথেই উদ্দেশ্য তুলে রেখে।

প্রেম,

তুমি জানো?

আজও ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকি সেই গাছের নীচে, যেখানে

কচি পাতার গাল বেয়ে এক-ফোঁটা জীবন পড়বে মাটির বুকে

আমি ওর নাম দেবো এক যুগের তৃপ্তি।

প্রেম,

তোমার শুধু তোমারই রূপ দেখি

এক বিন্দু থেকে উজানে বাদলে

দেখি আমার পোড়ামাটির দেশের আঁচলে

দেখি কালো মেয়ের অভিসারী কাজলে

দেখি বিরসা মুন্ডার মাদলে

দেখি কিশোরীর দাপিয়ে চলা হিল্লোলে

দেখি গ্রাম থেকে গাঙে

দেখি শহর থেকে সদরে

দেখি অন্দর থেকে বন্দরে।

দেখি আর দেখি

দেখি বারবার ফিরে আসে আমার কলমে তোমার

ঢাল বেয়ে ক্লান্ত ঝরনা হয়ে আকুল তৃষ্ণায় নেমে আসা

যুদ্ধ’বিরতী ছুটি পাওয়া সেই প্রেমিক সৈনিক, যার

অপেক্ষায় দু’হাত বাড়িয়ে একলা দাঁড়িয়ে সমতলে তার প্রেমিকা, যার

ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে সামলে রাখা যোনি থেকে সমস্ত শরীর

অগুন্তি বিদেশী সৈনিকের আগ্রাসনে!

প্রেম,

সে এখনও বেঁচে আছে তোমারই অন্বেষণে।

দেখি আজও সেই রাজবন্দীদের মরণাপন্ন চোখে

তোমারই নেশা বেঁচে আছে অমাবস্যার আকাশে-মোড়া কারাগারের আলোকে

আলোছায়া খেলা ছায়াপথ জুরে তোমার পলকে পলকে!

আমিও আছি দ্যাখো

আমিও রাজবন্দী

আমার দেশ আমার দুনিয়া আমার গলি থেকে রাজপথ

আজও যুদ্ধপরিস্থিতিতে কড়া নাড়ে সেই তোমারই বিজয়রথ।

ছেড়ে যেও না

জানি যাবে না

তবু ভয় হয়, দেখে অবক্ষয়, তারপর মনে হয়,-

তুমি আছো তাই আছি আমি

তুমিই আমার জন্মভূমি।

___________

সে কাহিণী এখনও এগোয়নি বলেই

এক আঙটি’র তফাতে এখনও

দুষ্মন্ত শকুন্তলা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে

একে-অপরকে খুঁজছে।

ওরা দুজনেই আজ ক্লান্ত পথিক, বৃ্দ্ধ!

তবু এখনও মরূপ্রায় তপোবনের পাতাঝরা ডালে

একটি করে পাতা দেখি, ওরা মুখোমুখি হলে

পরক্ষণেই শুকিয়ে পড়ে যায়!

সেদিনও দুষ্মন্ত জরুরী কাজ সেড়ে

ফিরতি পথে শিয়ালদাহ-বজবজ লোকালে উঠে

ঘুমিয়ে পড়লো ক্লান্ত হয়ে, যদিও

যাওয়ার কথা ছিল অশোকনগর!

রাত সাড়ে এগারোটায় বজবজ স্টেশানে

একা প্রায় দুষ্মন্ত, হাড় কাঁপানো শীতে।

কোথা থেকে একটি সুন্দরী সমবয়স্কা এসে

হাত ধরে টেনে

তুলে নিল হতভম্ব দুষ্মন্ত’কে শেষ ট্রেনে।

শিয়ালদাহ পৌঁছাতে পৌঁছাতে কোন কথা নেই

শুধু অপলক দৃষ্টিতে একে-অপরকে একইভাবে

দেখে গেল, যেভাবে দেখছে

হাজার বছর ধরে, যখন

বসন্তের তপোবনে হাওয়া দিত ফুরফুরে

আবারও দুটো পাতা গজালো মুখোমুখি দুই গাছে!

শিয়ালদাহ আসতেই বৃ্দ্ধ দুষ্মন্ত বলে,

‘কে তুমি?’

‘হাজার বছর কেটে গেল রাজা

এখনও শুধুই ‘কে তুমি’!

আঙটি’টা নয় হারিয়েই গেছে, যদিও

সে আঙটি’র ফাঁক দিয়ে বয়ে গেছে

অনেক দখিনা হাওয়া

অনেক কোকিলের গান গাওয়া

অনেকবার অনেকভাবে তোমার, আমার পরিচয় পাওয়া

এখনও চিনলে না রাজা!

অপেক্ষা করতে করতে বুড়ো হয়েছি দুজনেই

তবু দেখো,-

আমার প্রেম হয়নি আজও বুড়ো!

সে প্রেম বাঁচিয়ে রেখে আজও বলি,

আসি রাজা, দেখা হবে কোথাও আবার

দেখা হতে থাকবে, যতদিন না চিনবে তুমি রাজা,-

আমি কে তোমার’।

শকুন্তলা আবারও গেল চলে,

শিয়ালদাহ স্টেশান পেরিয়ে তপোবনের ঢালে

আবার খসলো পাতা

আবার দুষ্মন্ত সেখানেই, যেখানে

থমকে আছে তার মাথা।

শেষ অশোকনগর লোকাল’টাও বোধ হয় বেরিয়ে গেল।

এবার রাজা,

দেখো ঘুরে কোথায় কাটাবে সুবিশাল এই রাত

তোমার অচেনা প্রেম-মরা শহরে!

আমিও আসি।

_________________

সত্ত্বার শেষ চিঠি
- অলিক চক্রবর্তী

বন্ধু;
আমি জ্যোৎস্না’র উপত্যকা দেখেছি।
আমার মরা মা’য়ের কোলে তার,-
গন্ধ আমি পেয়েছি!
আমার রবি-নজরুল-সুকান্ত যখন ঘুরে এসেছিলো
জালালাবাদ থেকে জালিয়ানওয়ালা হয়ে ধর্মতলা;
আমি কাশ্মীর চষে সব আখরোট ভেঙে,-
হিমালয়ের কথকতা পেয়েছি!
নম্র যে নিঃশ্বাসে মা’য়ের আলতা-স্রোত ছিলো,
সেখানেই আলতো সুরে কখনো
কন্যাকুমারিকা হেয়েছিলো নির্ভ্যাজাল সত্যি।
তারপর, হাম্বা’রা সব সাম্বা করেছে!
ভুলেছে সিন্ধু’র জলসা।
আমি তার মাঝেও খুঁজেছিলাম,-
নীলে ভরা এক মালসা;
তিস্তা’র গোধূলি দিয়ে ছুঁয়েছিলাম বাগদাদ!
আমায় এড়িয়ে গা ঢাকা দিলো
আমার চাহিদা’রা, একসাথে!
আমার মা’য়ের কি দোষ ছিলো তাতে?
আমি জানতাম বন্ধু,
একফোঁটা গঙ্গা’য় এক পৃথিবী ভলগা’রা আঁটেনা!
চাইওনি! শুধু চেয়েছিলাম একটা স্বপ্ন দেখতে
আমার পোষা সাদা পায়রা’র পাখনা,-
কাঞ্চনজঙ্ঘা’র ঢালে রাখতে।
আমার আবেগের স্রোতেরা খুঁজে নিলো
নায়াগ্রা’র পতন!
আমি চাইনি হতে জটলা’র বারাবারি
আমার হাতেই ছিলো ধাড়ালো তরোবারি
আমি ভাবতে পারিনি তাতেও ধরবে জঙ্
আমি বুঝতে পারিনি বেরঙীন হবে রঙ!
এখনও চেষ্টা করি,-
দগদগে ঘা ঢাকতে!
বিশ্বাস করো এখনও চেষ্টা করি,-
নিজের কাছেই থাকতে!
কিন্তু, সব পচে-গলে গেছে
এখন শুধু কেটে কেটে বাদ দেওয়ার যুগবাণী!
আমিই টুকরো-টুকরো হয়েছি, তাও আমি জানি!
আজ অসহায়;-
ফুটপাথের নগ্ন যীশু হয়ে আমি
কাঁদতে কাঁদতে খুঁজছি সেই,-
জ্যোৎস্না’র উপত্যকা, ফেলে আসা দোল;
কোথায় অতলে থিতিয়ে আছে আমার,-
মরা মা’য়ের কোল!
ইতি,
আমার আমি’র শেষ

প্রেম, আমি তোমার হৃদয়ের বেদুইন

অস্তাচলে হয়তো চলেছি ভেবেও ছুটছি অশেষ মরূর গাঙ বেয়ে

নিশীদিন আমার রক্ত করে প্রশস্ত তোমার ভালোবাসার যাত্রাপথ

কৃষ্ণকলি আমি তোমাকেই বলি, আর

তুমিই কাঁটাঝোপের দেশে দিশে অক্লান্ত বিজয়রথ

প্রেম শুধু প্রেম দাও, প্রেমের ঘুম বড্ড পল্কা

পানামার পাড়ে ঠোঁটের গহীনে আঁকলে অভিসারী উল্কা

বর্ষা দৌড়ে আসে অজ্ঞানীর সন্ত্রাসে

গঙ্গা থেকে ভোলগা ডাকে প্রেম

গারদে বাঁধা গরীবের গানে

প্রেম উঁকি দেয় কালো মেয়ের নূপুরের টানে

বলে যায়,-

‘নাড়িয়ে দেবো বিশ্ব তোমায় প্রেমের সম্মানে!’

উজানী যৌবন বলে,-

‘একটু প্রেম দাও, ঘটাবো এক হাজার বিপ্লব!’

জালালাবাদের রক্তচক্ষু বলে,-

‘এক চিলতে প্রেম দাও, আবার তুলবো কলরব!’

কিশোরের বিনিদ্র চোখ বলে,-

‘এক ফোঁটা প্রেম দাও, ভাঙবো আছে যতো বাধ!’

কিশোরীর কোমল আঁচল বলে,-

‘প্রেম, আছি তোমারই অপেক্ষায়, একটু ছুঁতে তোমায় বড্ড সাধ!’

এই শেষ এই শুরু

এইতো বুঝি প্রেম

রক্তরাঙা গোলাপ প্রনয়ীর খোঁপায়

এইতো বুঝি প্রেম

বিপ্লবীর স্বপ্নচূড়ায়

ঐতো দেখি প্রেম

ইতিহাস থেকে বর্তমান দেখি তোমার চোখে

এইতো বুঝি প্রেম।

____________

বেখেয়াল
- ফারজিনা আক্তার

এতদিনে যা বেখেয়ালি ছিল হটাৎ খেয়াল হলো
আমার সাথে একটি জীবন অচিরেই জড়িয়েছিলো..
ক্ষনিক কিছু গল্প হলো ফেসবুকে টুংটাং
তুমিওতো বেশ আমার মতোই করতে পারো ঢং..
যা ছিল তা হারিয়ে গেল নেক্সট এসএমএস
খেয়াল আমায় টোকা মেরে ধোকা দিল বেশ..
ক্ষনিকের সে গল্পগুলি ক্ষনে ক্ষনে মনে পড়ে
বেখায়ালি মন হটাৎ আমার সেদিকে খেয়াল করে।
সেদিন যা লাগেনি ভালো আজ কেন ভালো লাগে..
কেন খেয়াল হলো আমার নয়তো সে কল্পনায় জেগে থাকে..?

তোমাকে কেমনে ভুলি
- রণজিৎকুমার মুখোপাধ্যায়

কোজাগরী পূর্ণিমায় তুমি চলে গেলে
তোমার মধুমাখা স্মৃতি কেমনে ভুলি
এই আলমারি ভর্তি কাপড় -চোপড়
তোমার বাবার দেওয়া বেলজিয়াম কাঁচের আয়না
লিপস্টিকের কৌটো , হেয়ার পিন ,ফিতে ,
রঙিন চশমা,বাটার এক জোড়া চটি ,
আটপৌরে শাড়ী,হাওয়ায় চপ্পল
এখন সবই সেই রকম আছে
ওগুলো যখন দেখি
বুকের ভেতরটা হু হু মোচড় দিয়ে ওঠে
রাতে বিছানায় শুয়ে মনে পড়ে তোমার মুখটা
যত ভাবি মনের মুকুরে ভাসাবো না ঐ মুখটা
ততই আবছা থেকে আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠো তুমি
একটা চাপা কান্না তখন কণ্ঠরোধ করে আমার
নিরুপায় ,নিরালম্ব ছটফট করি তখন
এই সব সাত - পাঁচ ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি
ঘুম ভাঙে পাট কুরানির কড়া নাড়ায় ।

।।রচনাকাল।।
২০ জুলাই,২০১৭
৪ শ্রাবন, ১৪২৪
বৃহস্পতিবার।

কেন এতো ব্যথা
- নিলুফার জাহান

কবি, মনে কষ্ট, কেন এতো ব্যথা?
দেখেছো কি মেহেদী পাতা?
যার বাইরে সবুজ
কিন্তু ভিতরে রক্ত মাখা?
নাকি তুলতে গিয়ে গোলাপ
আনমনে হাতে ফুটেছে কাঁটা?
দেখেছো ঢাকার রাস্তা
একদিন বৃষ্টি এলে
হয়ে বিশাল নর্দমা?
দেখেছো রাস্তার পাশে
দুটো অবোধ বালকের
মিষ্টি খাওয়ার জন্য কান্না?
তাদের দুঃখিনী মা
পূর্ণ করতে পারছিলনা,
একটু মিষ্টি খাওয়ার বায়ানা!
তুমি কি দেখেছো মানুষের
মাঝে বিভেদ ও হিংসা?
না, মনে হয়েছে
আরেক মায়ের কথা
নিজের জীবন দিয়ে করে চেষ্টা
যে তার অসুস্থ ছেলের পাশে সারা
দিন রাত সেবা?
না, শুনেছো তোমার এক
বন্ধুর অসুস্থতার কথা?
নাকি কাছের মানুষ যায় যে
দূরে, তার জন্য কি তবে
মনে এতো কষ্ট, এতো ব্যথা?

21/07/17

বৃষ্টি
- মাহমুদুল হাসান সাফিন


আকাশ জুড়ে মেঘ জমেছে

নামবে বুঝি এই

পথিক বেটা দৌড় দিয়েছে

টের পেয়েছে যেই


রিম ঝিমা ঝিম নামলো হঠাৎ

বুঝে ওঠার আগে

মনের মাঝে পরম সুখের

অনুভূতি জাগে


মেঘের গর্জন আর তর্জনে

ভয় জাগে যে মনে

বৃষ্টি থেকে গা বাঁচাতে

ছুটি আশ্রয় পানে


সাপের ভয়ে অন্ধকারে

হাটছি চুপি চুপি

দমকা হাওয়া ঝাপ্টা দিলো

নিভে গেল কুপি।

আসা-যাওয়া
- সমরেশ হালদার

আকাশে আজ গভীর নিম্নচাপ
বসে আছি খোলা জানালার পাশে
বুকের মাঝে তোমার-ই জলছাপ
বরষা নামে ভরা শ্রাবণ মাসে
.
হঠাৎ কোনো জ্যোৎস্না ভরা রাতে
অঘোর ঘুমে এদিক ওদিক চায়
বুকের মাঝে একতারাটা হাতে
মিলন গানের সুরটা সে বাজায়
.
মিষ্টি মধুর কথয় আকুল করে
রাগ-রাগিনী ভালোই জানা আছে
রোজ বিকেলে এসে গাছের পরে
মোহনবাঁশি বাঁজায় কানের কাছে
.
চারিদিকে সত্য মিথ্যের ঢিবি
অদ্ভুত এক মায়ার শীতল ছায়া
কেমন করে আমাকে তুই নিবি
জীবনে তার নিত্য আসা যাওয়া
.
সত্যি কথা কেমন করে বলি
মনের মধ্যে আছে সমাজভয়
হৃদয়ে আজ সকাল থেকে হোলি
জীবন সাঁঝে তোমারই হোক জয় ।

20/07/2017

অনুভব
- মনিরা ফেরদৌসি

নদীর বাঁকে পূর্ণিমার চাঁদ
আকুল পিয়াসে উথালপাতাল
চরের বুকে তুফান আসে
কত না মধুর মায়াবী রাতে।।



অাদর সো‌হা‌গে‌তে মেতে
শু‌ন্ধি শালুুক তুলছি হাতে
অসীমের এক যাত্রী আমি
কৈ‌শোর এখন পাওয়া দায়।।

সময় গে‌ছে চ‌লে প্রায়
অনুভব করি ডাইরির পাতায়
শিল্পসত্তা গি‌য়ে‌ছে হারায়
জীর্ণ বীণার সুর ভাঙা হায়।।

দিগন্ত ঢেকেছে শ্রাবণ মেঘে
প্রচন্ড নীরবতা হৃদয় কুঞ্জবনে।
বিমুগ্ধ স্থির নক্ষত্রের মতো
চেয়ে থাকি অপলক নয়নে।।

কখনো পাথর মূর্তির মতো,
কখনো বা চাতকের মত
হারিয়ে যাই নন্দিত নীলিমায়।।

যুদ্ধপরিস্থিতি প্রেমেই অন্তমিলে
-অলিক চক্রবর্তী

তখনও তোমার উপত্যকায় রোদ পৌঁছায়নি;
তখনও নিশুতি রাতে
অবচেতন বন্দরের নাবিক’রা
মাতাল হয়ে নিষিদ্ধ পল্লীতে যেতে শুরু করেনি;
তখনও গুয়াতেমালা’য় সক্ষম ছিল গুজমান
তখনও চিলি’র আওয়াজে ভাসছে সালভাদোর;
আমি;-
দেখেছিলাম, আমার মধ্যেও ছিলো এক
নিষ্কলঙ্ক ইউঙ্কার
যে ঘোড়া ছোটাতে শুরু করেছিলো
শীতের অন্ধকারে ককেশাসের রাজপথে;
গীর্জা’র ঘন্টারা তখন সবে
অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে শুরু করেছে!
যুদ্ধ শুরু হবে
যুদ্ধ শুরু হবে দৌলতাবাদ থেকে
ভিয়েতনামের ময়দানে
যুদ্ধ শুরু হবে জালালাবাদ থেকে
জালিয়ানওয়ালা’র উঠানে
যুদ্ধ শুরু হবে মনগুজ থেকে
রাজপুতানা’র বাগানে;
কি আশ্চর্য্য!
তুমি বিধবা’র আঁচল উড়িয়ে
কত সহজে দেখিয়ে দিয়েছিলে তখনই
আমাদের ভবিষ্যত!
অসৎ সততা’র বিস্ফোরণে
নীলচে রক্তে ভেসে গেলো সেদিন
কানাগলি থেকে রাজপথ; তারপর
আজও সেখানে না-বোঝা বাঁধানো
লালমাটি আর,
বাদামী ধানের ক্ষেত।
হলদে স্রোত সেদিনও ছিলো না
আবছায়া বাতাস সেদিনও ছিলো না
অসমাপ্ত ইতিহাস সেদিনও ছিলো না, যেদিন
তোমার অন্তহীণ আঁচল
ছড়িয়ে দিয়েছিলে মায়াপ্রদীপের আবহে;
আমি দাঁড়িয়েছিলাম অদূর বার্তা’য়
অভিসারের বিশ্রামে অপরূপের পর্দা’য়;
মেঘেরা তখন সদ্য কাটতে শুরু করেছে
তোমার একলা বেখেয়ালি সুরে!
অন্ধকারেরা অস্তিত্ব খুঁজছে তোমার উপত্যকা’য়
আমি,
একই নদীর পাড়ে একই গাছতলা’য়
আছি তবুও,
তিন ভুবনের পাড়ে, এইতো আছি!
একটা’য় শুধু তুমি আর,
তোমায় ভিজিয়ে মেঠো বাউলের জলসা;
একটা’য় শুধু তুমি আর,
তোমায় ঘিরে ভাঙতে থাকা ভরসা;
শেষেরটা শুরুতেই শেষ
যেখানে তোমার জন্য পাহাড়ের
ঢাল দিয়ে নেমে আসছি আমি
যুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে শেষ
অপেক্ষারাও হয়তো নিরুদ্দেশ।

গোধূলি  


(প্রদীপ মাইতি )



বাণী কদিন থেকে ভাবছে কথাটা প্রভাতকে বলবে কিনা। আর বললে প্রভাত কিভাবে নেবে। মানুষটা সেই সকালে দুটো মুখে দিয়ে বেরিয়ে যায়। দুপুরের খাওয়ারটাও বানিয়ে দেওয়ার সময় হয়না। সকাল থেকেই ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে নিজে ও। দুপুরে ছেলে স্কুলে বেরিয়েগেলে নিজের কাজ নিয়ে পড়ে সে। অনলাইন ডাটা এন্ট্রির কাজ করে সে। দু পয়সা সংসারে আসে। গতবার রিসেশানের সময় থেকে তাদের সংসারে টান পড়েছে। পরে অবস্য প্রভাত একটা কাজ পেয়েগেছে । কিন্তু খুব বেশি মাইনে পায়না। কতটা পায় বাণী জানতে ও চায়নি, স্বামীর আত্ম সম্মানে লাগবে হয়ত। তাই নিজের ডাটা এন্ট্রির কাজ ছাড়েনি সে। এখন তো আবার তার নিজের চিকিৎসার জন্য ও টাকা লাগছে। তাদের এই টানাপোড়েনের সংসার। অর্ধেকদিন প্রভাত রাতে ফিরতেই পারেনা। ওভারটাইম করতে হয়। তার মধ্যে আবার যদি সে তার অসুখের কথা বলে, প্রভাত তো পাগল হয়েযাবে । যন্ত্রনা হলে পেন-কিলার নিয়ে চেপে রেখেছে। কিন্তু আর বেশিদিন নেই। ডাক্তার বলেছে অপারেশন না করতে পারলে তার ব্রেন টিউমার যেকোনো সময় ফেটে ক্যান্সারের রুপ নিতে পারে।

বাণী ভাবছে, একদিন না বলে চলে যাবে কথাও একটা। কিন্তু কোথায় যাবে? বাবা মা গত হয়েছেন অনেকদিন হলো। আর সে তার বাবামায়ের একমাত্র সন্তান। বাবার ছেড়ে যাওয়া ঘরটা-ও বিক্রি করে তারা রিসেশানের সময় নিজেদের ফ্ল্যাটের লোন শোধ করেছে।

অনেক ভেবেচিন্তে ঠিক করলো, আজ সে প্রভাতকে বলেই দেবে। কিন্তু কি বলবে "তুমি অন্য একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করেনাও, আমার হাতে আর বেশি সময় নেই?"। কিন্তু তাহলে তাদের ছেলেটার কি হবে? নতুন মা এসে তার ছেলেকে কিভাবে রাখবে? ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে পরছে কিন্তু নিজের হাতে জল নিয়ে ও খেতে পারেনা, মাছ ছাড়িয়ে না দিলে অর্ধেকদিন গলায় কাঁটা লাগিয়ে কান্ড বাধায়।

এতকিছু ভাবতে গেলে তার আবার মাথাব্যথা করে। ডাক্তার বলেদিয়েছে বেশি চিন্তা না করতে। কিন্তু এক এই নাবালক-বালক ছেলে আর কাজপাগল স্বামী কে ছেড়ে মরেও সে শান্তি পাবেনা। অনেক ভেবেচিন্তে বাণী ভাবলো, তার মাসতুতো বোন টুসির কথা বোলে দেখবে, প্রভাত কি বলে। টুসি ওদের ছেলেকে খুব ভালোও বাসে। আর শালী জামাইবাবুর ও খুব সৎভাব ।

আজ অফিস থেকে ফিরলে যেকরেই হোক কথাটা বোলতেই হবে।

প্রভাত বাড়িতে ফিরে জুতো-জামা ছেড়ে পায়চারী করছে। বাণী বলল "ফ্রেস হয়ে আস, ভাত বাড়ছি, নাকি চা খাবে? খুব টেন্সড দেখাচ্ছে। অফিসে আবার কিছু হয়েছে নাকি?"

প্রভাত বলল "একটা কথা বলার ছিল।"
বাণী একটু অবাক হল। প্রভাত এমনিতেই কথা কম বলে। তার উপর রিসেশানের সময় থেকে প্রায় কথা বলা ছেড়েই দিয়েছে। বলল "কি বলবে?"
প্রভাত: "না থাক পরে বলব, ছেলে ঘুমিয়ে যাক"
বাণী: "ঠিক আছে আগে ফ্রেশ হয়ে এসো, ভাত বাড়ি। বাবু বই গুছো, খাওয়ার বাড়ছি"।

খাওয়ার পর ছেলের বিছানা রেডি করে সুইয়ে দিয়ে নিজেদের রুমে এল।
বাণী: "বল কি বলবে?"
প্রভাত: "কয়েকদিন থেকে একটা কথা বোলবো বোলবো করে বলা হচ্ছেনা"
বাণী: "বলনা"
প্রভাত: "বলছি, আমাদের সম্পর্কটা কেমন একটা এক ঘেয়েমি হয়েগেছে"
বাণী: "সে আর কি করবে, তোমার দুদণ্ড বসার সময় হয়না"
প্রভাত: "তাই বলছি, আমরা যদি ডিভোর্স নেই"
বাণী: মুখে কথা খুজে পেলনা, এটা আবার কি বলছে! "তোমার কি আন্য কাউকে ভাল লেগেছে?"
প্রভাত: "প্রীতিকে মনে আছে?"
বাণী: "ওই যে ডিভোর্সি, যে তোমাকে কাজ পেতে সাহাজ্য করেছে?"
প্রভাত: "হ্যাঁ, আমরা বেশ কয়েক বছর হোল রিলেশানে আছি।"
বাণী: "হুম, কিন্তু আমাদের ছেলের"
মুখের কথা ছিনিয়েনিয়ে প্রভাত বলল "ছেলের ছিন্তা করোনা, ওর পড়ার সমস্ত খরচা আমি দেব। আর বাড়িটা তোমারই থাকবে। আর সংসার খরচ ও আমি দিয়ে দেবো। আন্য কোন সর্ত থাকলে বল। শুধু কোর্ট-কাচারির ঝামেলায় যেতে ছাইছিনা"
বাণী কি বলবে খুজে পেলনা। কদিন ধরে যেকথা নিজে বলবে ভাবছিল, সেই কথাটা এইভাবে তার কাছে ঘুরে আসবে ভাবতে পারেনি। ওর চোখের কোন ভিজে উঠল।
প্রভাত "ঠিক আছে, তুমি ভেবে বোলো, কি চাও। কোর্টে গেলে আননেসেসারি উকিল কে পয়সা দিতে হবে, তার থেকে নিজেদের সেটেল করে নেওয়া ভাল "

 ২ 



বাণীর দুনিয়াটাই যেন রাতারাতি বদলে গেছে। নিজের কথা না ভেবে যে সংসারের জন্য কাজ করছিল, সেই সংসারটাই যেন আর নিজের নেই। তার মাথা ব্যাথা, দুর্বলতা, সব যেন একসঙ্গে এসে চেপে বসছে। সেদিন প্রভাত ফিরতে রোবটের মত তাকে খেতে দিল। ছেলের বিছানা করে সুইয়ে দিল। রাতে বেডরুমে আসতেই প্রভাত আবার জিগ্যেস করল "কিছু ভাবলে?"
বাণী: "জানতো, ছেলে রাম কৃষ্ণ মিশনএ চান্স পেয়েছে। আসছে মাসে এডমিশান। এক মাস পর হোস্টেলে চলে যাবে।"
প্রভাত: "বা, খুব ভাল খবর। কিন্তু আগে বলনি তো?"
বাণী: "তুমি কি জানতে চেয়েছ, ছেলে কেমন রেজাল্ট করেছে, কোন স্কুলে ভর্তি হবে?"
প্রভাত: "আচ্ছা, ভুল হয়েছে। আমাদের বেপারে কি ভাবলে?"
বাণী: "ভাবার আর কি আছে! তুমি তো কনদিন কিছু চাওনি, প্রথম কিছু চেয়েছ। তবে দুটো সর্ত আছে।"
প্রভাত: "কি কি?"
বাণী: "ছেলে হোস্টেলে যখন থাকবে, মাসে করে একবার ওকে, দেখতে যাবে। ভাল পিতার মত।"
প্রভাত: "সে তো বললাম, ছেলের সব খরচ আমি টানব। দ্বিতীয়টা?"
বাণী: "ছেলের হোস্টেলে ভর্তি হওয়ার পর তিন মাস আমায় সময় দিতে হবে, যেমন বিয়ের পর দিতে। রোজ বিকেলে আমায় গঙ্গা, ভিক্টরিয়া, পার্কে নিয়ে যেতে হবে, আর আগের মত ফুচকা, চানা, এগরল, কাটলেট কিনে খাওয়াতে হবে। আমি চাই ১৬ বাছরের সম্পর্ক যেভাবে সুরু হয়েছিল, সেভাবেই শেষ হোক।"
প্রভাত:"তথাস্তু"
পরেরদিন অফিসে গিয়ে প্রীতিকে বলতে প্রীতি হেসে লুটোপুটি। "কি বোকা গো। কোর্টে গেলে, যে তুমি ছুপি ছুপি আর একটা যে ফ্ল্যাট কিনেছ, সেটা ও যেত, আর তোমার মাইনের অর্ধেক টাকাও ওকে দিতে হত। এখন মিউচুয়াল ডিভোর্স হয়েগেলেই ভাল। এই তিন চার মাস নাহয় আমরা একে অপরকে সময় দিতে পারবনা।"


 ৩



পরের দিন থেকে প্রভাত প্রতিদিন তারাতাড়ি ফেরে। ছেলের সঙ্গে কিছুক্ষন খেলে। ছেলেকে নিজের কাজ নিজে করা সেখায়।
বানীর দেখে ভাল লাগে। ছেলে বাবাকে কাছে পেয়ে খুব খুশি। অনেকদিন পর যেন ঘরে আবার প্রান ফিরে এসেছে। সেই ছোট বেলায় বাবা-ছেলে যেমন মাকে কাছে ঘেঁসতে দিতনা। ঠিক তেমনটা। বানীর চোখের কোন ভিজে ওঠে। সব কিছু স্বপ্ন মনেহয়। একটা মাস কিভাবে অতিবাহিত হোল কারও হুঁশ নেই। ছেলেকে দুজন মিলে হোস্টেলে ছাড়তে গেলো। ফিরে আসার সময় দুজনের চোখে জল। সেরাতে দুজনের খাওয়া হলনা।
সর্ত অনুসারে পরের দিন থেকে দুজন শুধু দুজনের। প্রভাত তাড়াতাড়ি ফিরল বানীকে নিয়ে গঙ্গার ধারে নিয়ে যাবে। দেখল বানীর একটা ও ভাল সালয়ার নেই। এতদিন খেয়াল করেনি বাণী কি পরছে, না পরছে। প্রথমদিন তারা দকানে গিয়ে ২-৩ সেট সালয়ার কিনেদিল।
পরের দিন ঘুরতে নিয়ে গেলো। সেখানে গঙ্গার ধারে দুজন দুজনের হাতে হাত রেখে বসলো। আস্তে আস্তে মনে পড়ল, নতুন বিয়ে হয়ে এসে যখন এখানে বসেছিল, একটা পুলিস ওদের প্রেমিক প্রেমিকা ভেবে বিরক্ত করছিল। প্রভাত ইংরাজিতে গালাগালি দিতে পালিয়েছিল। সেটা মনে পড়তে দুজনের খুব হাসি পেল।
সেই সব হারানো কথা বলতে বলতে সন্ধ্যা হোল। সর্ত আনুসারে সেদিন তারা বাইরে ডিনার করল। এই ভাবে এক একদিন করে ওরা পরশপরের আবার কাছে আস্তে লাগল। প্রভাত এতদিন পরে লক্ষ করল, বানীর সেই সুন্দর মুখটাতে কেমন বয়সের ছাপ পড়তে সুরু করেছে। জুলপির কাছের ছুলগুলো ধুসর হয়েগেছে। সত্যি, ১৬টি বছরে কিই বা চেয়েছে ওর কাছে। সেই যেদিন হাতের চেটোর থেকে একটু বড় একটা জীবন্ত পুতুল, নার্স প্রভাতের হাতে তুলেদিয়ে বলেছিল, মিষ্টি খাওয়ান, প্রভাত বাণীর কপালে একটা চুমু খেয়ে বলেছিল "তুমি আমার হাতে স্বর্গ তুলেদিলে"। সেই স্বর্গ থেকে ধিরে ধিরে কতটা দূরে চোলে গেছিল প্রভাত।
এক একদিন করে আবার বাণীর প্রতি যেন দুর্বল হয়ে যেতে লাগল। দেড় মাস কিভাবে কেটে গেলো বুঝতে পারেনি। আজ ছেলের সামার ভেকেশান পড়ছে। ছেলেকে আনতে গেছে প্রভাত একা। বাণী ছেলের পছন্দের সব খাওয়ার রান্ধবে বলে বাড়িতে থাকল। ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে কলিং বেল টিপেই চলেছে, কোন রেসপন্স নেই। শেষে গার্ডকে ডেকে ব্যাল্কনির গ্রিল্ডের গেট খুলিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখল, বাণী মেঝেতে পডে আছে। ছেলেকে পাসের ফ্ল্যাটে রেখে, ট্যাক্সি ডেকে বানীকে নার্সিং হোমে নিয়েগেল। সেখানে ডক্টর বানীকে ইমারজেন্সিতে নিয়ে গেলো। ডাক্তার এসে বলল এ যাত্রা বেঁচে গেছে, কিন্তু আর একমাসের মধ্যে অপারেশান না করলে, আপনার স্ত্রীকে বাঁচানো যাবেনা।



প্রভাত তার এক সহকরমির সঙ্গে আলোচনা করছিল যদি ফ্ল্যাট কেনার কেউ থাকে। প্রীতি অন্য কার মুখে খাবর পেয়ে, এসে বলল, "তুমি ফ্ল্যাট বেচে দিচ্ছ শুনলাম, বানী কি ফ্ল্যাটও চায়না?"
প্রভাত: "ও ফ্ল্যাট নয়, যেটা নতুন কিনেছি, সেটা বেচে দিচ্ছি।"
প্রীতি:"কেন, এত টাকা কি হবে? শয়তানি বেশি টাকা চাইছে নাকি? আর আমরা থাকব কথায়?"
প্রভাত: "বাণীর ব্রেন টিউমর, অপারেশান না করলে বাঁচানো যাবেনা"
প্রীতি: "ভাল তো, আপদ যাবে, আন্য ফ্ল্যাট ও আমাদের হয়ে যাবে। যাকে ডিভোর্স দিচ্ছ তার পেছনে এত খরছ কেউ করে নাকি? মাথাটা একেবারে গেছে!"
প্রভাত: "আমরা ডিভোর্স দিচ্ছিনা"

এক বিধ্বস্ত নীহারিকাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম

‘তুমি কতটা পথ পেরিয়েছো?’

সে আমায় আমার বাড়ির উঠান দেখিয়ে দিলে।

______________

~ কাকতাড়ুয়ার নতুন পোশাক ~

-- ( প্ৰদীপ মাইতি) -

আমার উচ্চতা এভারেজ বাঙালির মতোই ৫'৭''। আমার থেকে কম উচ্চতার বন্ধুদের আমি বেঁড়ে, নাটু আর লম্বাদের লম্বু, তালগাছ বলে ডেকে এসেছি। কিন্তু এই আমেরিকা তে এসে সমস্যা দেখাদিল।এখানকার লোকজন এত ছোটখাটো চেহারার যে, কোথাও নিজের মানানসই মাপের জামা-কাপড় কিনতে পারিনা । সব থেকে যেটা ছোট মাপের সেটা কিনে পরলেও রাস্তা ঘটের কাক-পক্ষি নিমেশে কর্পুরের মত উড়ে যায়। সে যায় যাক, আমার আপত্তি নেই। কিন্তু কুকুরগুলো তাড়াকরে, আর আমি দ্বিতীয় ম্যারাথন করতে রাজি নই। অগত্যা সেই পুরান জামা-কাপর পরে চালাতে হচ্ছে ।

ছুটির দিনে বাড়িতে বসে ইউটিউব বা নেটফ্লিক্স দেখা আমার পোষায় না। তাই যেখানে যত স্বেচ্ছাসেবক (বাংলায় যাকে ভলান্টিয়ার বলে আর কি) দরকার পড়ে সব জায়গায় নাম লিখিয়ে বসে থাকি ।

গত সপ্তায় ওয়ার্ল্ড কাপ বিচ ভলিবল চলছিল । তাতে ও ভলান্টিয়ার হয়েছি। আমার দায়িত্য পড়েছে বল উঠিয়ে আনা আর খেলোয়াড়ের হাতে সময়ে বল তুলে দেওয়া।

সকাল ৯:৩০ থেকে ম্যাচ চলছে। জুলাই এর কাঠ ফাটান রোদ। কয়েকটা ম্যাচের পর দর্শকদের মধ্যে থেকে কেউ আমায় কিছু একটা বলল। কাছে যেতে বলল "ওয়াটার", আমি ভাবলাম জল চাইছে হয়ত । জিগ্যেস করলাম জল চায় কিনা। কোন দর্শক জল চায়না, আমাদের শুধু প্লেয়ার দের জল দেওয়ার অনুমতি আছে। কিন্তু উলটে আমায় সে জিগ্যেস করছে আমার জল লাগবে কিনা। একটু, অবাক লাগলে ও ভালই লাগল। কিন্তু পরের রেফারি এসে আমায় বলল ছায়ায় যেতে। আমি বললাম, আমার কোন আসুবিধা নেই। তাও ভেতরে পাঠিয়ে দিল।বাথরুম গিয়ে বুঝলাম, কেন আমায় পাঠিয়েছে।সাদা সাদা ভলান্টিয়ার গুলোর মধ্যে আমি একাই দেশি ছিলাম। তার উপর রোদে আমার মুখখানা আর উজ্জ্বল হয়ে ঠিক পোড়া বেগুনের মত লাগছে। তাখন বুঝলাম, কেন সেই দর্শক আমায় জল অফার করছিল।

ভালই হল, স্টেডিয়ামের বাইরে কিছু ইভেন্ট চলছে, ভাগ নেওয়া যাবে, জিতলে অনেক গিফট পাওয়া যায়। ছোটবড় সবার জন্য ইভেন্ট আছে। আমি গেলাম আর্মিদের জন্য যে ইভেন্ট হচ্ছে সেখানে। সেখানে ঢুকতে দিলনা। বলল ২১ বছরের কমে এটাতে যোগ দেওয়া যাবেনা। তখন আইডেন্টি-কার্ড দেখালাম, যথারীতি চিন্তে পারলনা। বিগত কয়েক বাছরে আমার মুখের অবয়ব যা পাল্টেছে, গত বছর বাড়ি যেতে আমার বাবাই আমায় দেখে চিন্তে পারেনি। জন্মগত আইডেন্টিটি মার্ক দেখিয়ে বাড়ি ঢুকেছি। এদের কি দোষ দিই!
তখন আমি মাথার টুপিটা খুলে টাক দেখাতে গেলাম, দেখলাম, লোকটা অনেকক্ষণ চোখ ঝাপটেই চলেছে। ভাবলাম এই রে, ভদ্রলোকের চোখটা মনেহয় গেলো। খেয়াল করিনি, এতো রোদ্দুর। লোকটা একটু ধাতস্ত হয়ে বলল "মাথায় কি লাগিয়েছ, ভেরি ফানি!" । যাক, তাহলে চোখটা ঝলসে যায়নি। নইলে, চোখ খারাপ করে দেওয়ার অপরাধে, কি জানি কি ফাইন দিতে হত। আর বেশি কথা না বাড়িয়ে, সরে পড়লাম। আর মনে মনে ঠিক করলাম, এই রোদে টুপি আর খুলছিনা। তবে কোনো প্লেয়ার যদি বিপক্ষ দলের প্লায়ারের চোখ ঝলসে দেওয়ার কন্ট্রাক্ট দেয়, ভেবে দেখা যাবে । কত টাকা দেবে তার উপর নির্ভর করছে।

আবার মাঠের কাছে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছি। এমন সময় পেছন থেকে কেউ আমার কাঁধ ধরে টানল। ভাবলাম, আমার উচ্চতার জন্য পেছনের কেউ দেখতে পাচ্ছেনা হয়ত। পেছন ফিরে একটা শুধু টিশার্ট আর গলা পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তার উপরের অংশ আমার মাথার টুপির ব্যালকনি তে আটকা পড়েছে। কলকাতার রাস্তায় যেমন আকাশ দখতে হয়, তেমন ঘাড় তুলে দেখলাম আমার বয়সি, কিংবা একটু কম বয়সি মহিলা বলছেন "সরি, আই থট মাই সন"। আমার থেকে অল্পবয়সী মহিলা আমায় নিজের ছেলে ভেবেছে । এমন সময় পেছন থেকে এক বছর দশেকের ছেলে, আমার মত সবুজ টিশার্ট আর গ্রে টুপি পরা, আমার মত কি সামান্য লম্বা হবে বলল "মামা, আই এম হেয়ার"।
ভদ্রমহিলার থেকে ছেলের জামাপ্যান্ট এর সঠিক সাইজ জেনে নিয়েছি। আশাকরি দোকানের কিডস সেকশনে আমার মানানসই পোশাক পেয়ে যাব। এর পর আর কুকুর দেখে তাড়া করবেন৷।

অলিক বেদনার নীল কাব্য

সাগর অরণ্য

কোথায় যেন শুনেছিলাম

কাউকে মন থেকে চাইলে

তাকে নাকি পাওয়া যায়!

তাহলে আমি কেন পেলাম না?

আমি তো প্রতি রাতে আকাশের চাঁদটাকে চাই

একদম মন থেকে।

অবাস্তব কোন কিছু চাওয়া একদম ঠিকনা,

তাতে কষ্ট পেতে হয়

তুমি যে চাঁদ

বুঝতামনা, না বাড়ালে হাত।

বিশ্বাস এবং বাস্তবের

বিস্তর ফারাক!

কল্পনার আল্পনায় কল্পিত

সহস্র রংধণু,একশ..এক নীল পদ্ম

সোনার কাঠি,রূপোর কাঠি

এবং তার রাজকণ্যা!

এসব ছেলে বেলার গল্প,রূপকথা

সোনামণির বইতে ঠাসা।

চোখ মেলতেই…..

চরিত্র,প্রেক্ষাপট অদৃশ্য।

তুমি তো তেমনটা নও,

ডায়েরীর ছেঁড়া পৃষ্ঠা

তার বাক্য বিন্যাস,কোমল আবেগ

শুঁকনো গোলাপ পাঁপড়ি,এক গুচ্ছ কেশ!

ডায়েরীর পশ্চাদ পৃষ্ঠে

একেঁ যাওয়া পান পতার শেষ চিহ্ন!

এ সবি তোমার সরব অস্তিত্বের জানান?

রূপকথা আর বাস্তবের দিদ্বা-দন্ধে

তুমি আরো বেশি জীবন্ত।

অবশেষে বাস্তব আমায় ছুঁয়ে গেলো

বেদনার নীল কাব্যে!

~ একটি মানবিকতার হত্যা ~
- প্ৰদীপ মাইতি -

 

প্রবীর বাবুর স্ত্রী গত হয়েছেন অনেক দিন। ঠিক কতদিন মনে পড়ে না। বড় ভোলা মন। সব কিছু লিখে রাখতে হয়। কাজের মেয়েটা কাজ করে চলেগেছে। হঠাৎ মনে হলো ছেলেটা এখনও ফেরেনি। যাই দেখি কোথায় বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমিয়েছে হয়ত। গলি পেরিয়ে রাস্তায় গিয়ে পড়তেই মুদি দোকানের ছেলেটি বলল "কাকু এই সন্ধ্যার মুখে কোথায় যাবেন?" উনি বললেন "ছেলেটি এখন ও ফেরেনি।"
"কে, দীপু? আসছে আজ? আর এলে ত এয়ারপর্ট থেকে গাড়ি নিয়ে আসবে, আপনি বেরোলেন কেন?"
"ও হ্যাঁ, না মানে, আমি বাড়ি যাই".
"একা যেতে পারবেন? এই পঞ্চা, কাকুকে বাড়িতে ছেড়ে আয়।"
"না না, আমি চলে যাবো বাবা, আস্তে হবেনা" এই বলে প্রবির বাবু পিছপা নিলেন। কিন্তু কিছুটা আসার পর ঠিক করতে পারছেনা, কোন গলিটা নিজের। অনেকক্ষন ঘুরতে ঘুরতে একটা চেনা চেনা গলির মধ্যে, ঢুকে পড়লেন। একটা বাড়ি চেনা মত লাগলো।
পকেট থেকে চাবি বের করে দরজার কি -হোলে ঢুকিয়ে ঘোরাতেই একটা ছোকরা "কেরে কেরে" বলে ছুটে এলো। "কাকে চাই?"
প্রবীর বাবু থত মত খেয়ে কি বলবেন বুঝতে পারছেন না। ইতি মধ্যে ছেলেটি "চোর চোর " চিৎকার ফেলেদিল। পাশের বস্তির কতকগুলো পাকানো বিড়ির মত ছেলে-ছোকরা ছুটে এসেই রাজ্য জয়ের উন্মত্ততায় প্রবির বাবুর উপর ঝাপিয়ে পড়ে, লাথি,কিল, ঘুসি নিজের নিজের সামর্থ্য মত মারতে লাগলো। প্রবীর বাবু চিৎকার করে বললেন "ওরে আমি চোর নোই"' কিন্তু তাঁর গলার আওয়াজ ওই ভিড়ে হারিয়ে গেলো। কাতারে কাতারে আবাল বৃদ্ধ বনিতা ভিড় জমাতে লাগল। এমন ফ্রী তে লাইভ শো দেখার সুযোগ কেউ মিস করেনা। এমন সময় ওই ভিড়ের মধ্যে থেকে কোনো এক মানুষ বলে উঠলো,"লোকটা কে দেখে পাগল মনে হচ্ছে, ছেড়ে দে।" সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ের মধ্যে কে একজন বলে উঠলো " শুয়োরের বা* সাগরেদ ও চলে এসেছে, ধর ওটাকে"।
ঐ অমানুষের ভিড়ের মধ্যেই মানুষ টা গা ঢাকা দিল। একটা কলার উচানো উৎপটাং এসে বললো, "আরে এই হারামির বা* আমাকে চোতা করার জন্য খাতা নিয়ে নিয়েছিল, আজ শালা নিজে চুরি করতে এসেছে, মার শালাকে" বলে দুটো ফুটবলের মত কিক মেরে চলে গেলো। প্রবীর বাবুর মনে পড়লো সত্যি উনি একসময় স্কুল টিচার ছিলেন। এক মেয়ের বয়সি মহিলা এসে চপ্পল খুলে চোটাং পোটাং মেরে চলে গেলো।
এমন সময় শন্ডা মার্কা একটা ছেলে ভিড় থেকে এসে বলে "তোরা কি এটা মারছিস না আদর করছিস, বলেই মুঠো বাগিয়ে প্রবির বাবুর মুখে দুটো ঘুসি মেরে, পিঠের শিরদাঁড়ায় একটা জোরে কনুই কষিয়ে দিল। হয়ত সে তার মার্শাল আর্টের প্রাকটিস করেনিল। প্রবীর বাবুর শিরদাঁড়া চড় চড় করে ভেঙে পড়লো। প্রবীর বাবু কঁকিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। এক অফিস ফিরতি বাবু গোছের লোক উঁকি মেরে দেখে, বললো "বোকাচো*দের কাজ কর্ম নেই একটা বুড়োকে পেটাচ্ছে"। বলে হন্ত দন্ত হয়ে চলে গেলো। এই ভাবে যেই যাচ্ছে, দুচার্ঘা মেরে যাচ্ছে। প্রবীর বাবুর আর খুব একটা লাগছেনা। গোটা শরীর অবশ হয়েগেছে। কে একজন ভিড় থেকে বলে উঠলো পুলিশ ডাক। আর একজন নুন আনতে পান্তা ফুরায় গোছের লোক বলে উঠলো, "পুলিশ? শালারা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় ফুর্তি করছে, আবার একে সাইডে নিয়ে গে পয়সা গিলবে"। আর একজন মূর্খ মতো লোক, বিজ্ঞের মত বললো " ঠিক বলেছিস, তার থেকে চল গায়ের ব্যাথা মেরেনে।" বলে কয়েক ঘা বসিয়ে বেরিয়ে গেলো। একজন অফিস ফিরত লোক অফিসের বসের কাছে বকুনি খেয়ে ফিরছিল হয়ত, সে প্রবির বাবুর পেটে কয়েকটা ফুটবল কিক মেরে পাশের লোকটাকে জিজ্ঞেস করলো "কি করেছে", পাশের লোকটা বললো "বস্তির একটা মেয়েকে রেপ করতে গেছিলো বলে শুনেছি" এই বলে সে ও কয়েকটা কিক মেরে সরে পড়ল। একটা মাতাল কোথাথেকে একটা আধলা ইঁট নিয়ে মাথায় বসিয়ে দিল।
কয়েক ফোঁটা রক্ত গিয়ে একজনের প্যান্টে পড়তে সে বললো, " যাঃ আমার ধোয়া প্যান্ট গেলো" বলে লাফিয়ে সরে পরল। প্রবীর বাবুর আধমরা মাংসপিণ্ড থেকে বেরোনো রক্ত, কারো জুতো কারো প্যান্ট নষ্ট করতে থাকলো।
এমন সময় একটা নেতা গোছের লোক এসে বললো "এ তো আমাদের দলের লোক। এই কে আছিস, একটা গাড়ি ডাক, একে হসপিটলে নিয়ে যাওয়া যাক" । অন্যদিক থেকে গলায় সোনার চেন, হাতে গোল্ডেন কালারের ঘড়ি, একটা সদ্য ইস্ত্রি করা জামা টাইপের লোক বলে উঠলো " কে একে নিয়ে যাবি, হাত লাগিয়ে দেখা। আমাদের দলিতদের মা বোনেদের ইজ্জতে হাত দেবে আর আমরা চুপ চাপ ছেড়ে দেবো? উচু জাতির এ অত্যাচার আর চলবে না"। এই বলে দুই পক্ষের মধ্যের তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হলো।
খবর পে দুজন পুলিশ কনস্টেল এলেন। প্রবীর বাবুর মনে শেষবারের মত বাঁচার ক্ষীণ আশা জেগে উঠল, হয়ত শেষবারের মতো একবার ছেলের মুখ দেখতে পাবেন। কিন্তু পর মুহূর্তেই ঠিক ঝড়ের মুখে কেরোসিন বাতি যেমন দপ করে জ্বলে নিভে যায়, তেমনি নিভে গেলো। যখন দেখলেন, পুলিশ দুজন এসে রানৈতিক দাদাদের সামনে বৃষ্টিতে ভেজা বেড়ালের মত, নিজেদের হাতেই এক অদৃশ্য হাতকড়া পরে দর্শকের দলে নাম লেখালো।

ঝগড়াটা, চিৎকার চেঁচামেচি প্রবির বাবুর কানে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে লাগলো। এক সময় চোখে অন্ধকার নেমে এলো।

চামচা
- সাগর অরণ্য

অমর অক্ষয় চির অবিনশ্বর
সমহিমায় প্রিয় চির ভাষ্মর।
কত কালে কত তারা নিভে গেছে
নিভে গেছে কত কুপি তেল শেষে!
খসে গেছে যে গ্রহ,নক্ষত্র
পান থেকে চুন দেয়াল হতে আস্তর।
তবু নেভেনি,নেভেনি তার আলো
কভু খসেনি চামচার এতটুকু ভালো।

ডুবে গেছে কত দেশ মহাদেশ
অলি-গলি,চর-ডিবি ডুবে শেষ,
শুকিয়েছে কত যে মহা সাগর
ডোবা,নর্দমা,খাল,বিল হাওর!
তবু ডোবেনি ডোবেনি তার মান
তবু শুকাঁয়নি তার প্রাণ।
মুছে গেছে কত মহা ইতিহাস
দেয়াল লিখন,পোষ্টার,ক্যানবাস।
ভুলে গেছে কত মহা কাহিনী
খোকার বইয়ের পড়া ছড়া খানি!
তবু মোছেনি মোছেনি তাঁর নাম
কভু ভোলেনি চামচার মহা কাম।

হলো ধ্বংস কত রাজা মহা রাজ্য
কত বস্তি,কুঁড়ে ঘর ভিখেরী পর্য!
মিশে গেছে কত জাতি মহা খ্যাতি
কত পিঁপড়ে,কীটপতঙ্গ জ্ঞাতি।
তবু হয়নি সে ধ্বংস আজো অক্ষয়
যায়নি মিশে আছে চামচা সমহিমায়।

কালে কালে ভেঙ্গেছে কত বিশ্বাস
মাথার শিং,এক থাপ্পর রেয়াজ!
হারিয়েছে কত ধর্ম,দেব,দেবতা
ডলি,মন্টি খুখির প্রিয় পুতুলটা।
তবু ভাঙ্গেনি এখনো সে ব্যাবস্থা
চামচার প্রতি অঢ়েল আস্থা।

বেলা-অবেলা

সাগর অরণ্য

কোন অধিকারে চাইব তারে?

না চাইতে হারিয়েছি যারে,

কোন অধিকারে পাবো তারে?

না পাইতে হারিয়েছি যারে।

চাওয়া পাওয়ার অগোচরে হারিয়েছি যে,

আজ বেলা শেষে ফিরবে কি সে?

আমার কাছে আমার পাশে

হিয়ার মাঝে প্রিয়ার আবেশে।

ভালোবেসে শুধু একবার

ক্ষনিকের জন্য হতে আমার।

এই হ্রদয়ের উষ্ঞ স্রোতে

মুছে দিতে সব তৃষ্ঞা প্রাতে।

আসবেনা আর চাই যদি কভু

ফিরবেনা আর ডাকি যদি তবু,

আমার স্বপ্ন আমার আশায়

আমার সুখ ভালোবাসায়।

যে নদীর বয়ে গেছে স্রোত

যে সময় হয়েছে অতীত।

যে মন ভেঙ্গেছে একবার,

মরেছে যে ফিরেছে কী সে আবার?

যে পাখি মুক্ত আকাশ চিনেছে

সে কি আর আমার ডাকে ফিরছে!

ফিরবেনা ফিরবেনা আসবেনা সে

এখন যে বেলা বয়ে গেছে।

চব্বিশ বছরে ছাব্বিশ ফাগুন


----সাগর অরণ্য


চব্বিশ বছরে ছাব্বিশ ফাগুন যায় বয়ে


তবু তুমি দেখলেনা,দেখলেনা মোরে চেয়ে,


আজ চব্বিশ ফাগুনের ছাব্বিশ লক্ষ জ্বালা


ধমেতে শ্বাঃস চেপে গলা,হয়ে আছে মালা


না তারে ফেলে দেয়া যায়,না ঝুলে রাখা যায়


তাই ভবঘুরে মন ভেবে হয় নিরুপায়


প্রথম ফাগুন যে গেছে বয়ে,আহ-ওয়া ধ্বনিতে


দ্বিতীয়-তৃতিয়ও গেছ পর ধিক শুনিতে


এর মাঝে কত ফাগুন যে হয়েছে উদাও


মনে নাই তার মনে এক চুল একটাও



চব্বিশ বছরে ছাব্বিশ ফাগুন যায় বয়ে


তবু তুমি দেখলেনা,দেখলেনা মোরে চেয়ে


মনে পড়ে শুধু সেই চৈত্রের চৈতালি ফাগুন


ধরেছে যেদিন প্রথম এ মনেতে আগুন


কতবার মেনেছি হার করেছি কত পন


দেবনা কভু দেবনা তোমায় আমার মন


মিছে হয় সব কথা,মিছে হয় সব বাঁধা


ওরে ঐ ফাগুন কালে দেখলে তোমায় রাধা


ঘুম আসেনা আমার চোখে ঐ না হাসি দেখে


তাইতো সখি জেগে থাকি তোমার ছবি এঁকে


 

চব্বিশ বছরে ছাব্বিশ ফাগুন যায় বয়ে


তবু তুমি দেখলেনা,দেখলেনা মোরে চেয়ে


কি ব্যাথা দুঃসহ যায় বয়ে অবিরহ মনে


তবু তুমি ফিরলেনা,ফিরলেনা এ ফাগুনে


কত বার সাঝিঁয়েছি নিজেরে কত না ফুলে


তবু তুমি তাকালেনা একবারো দৃষ্টি মেলে


শূণ্য হস্ত অশ্রু সিক্ত আখিঁ বেদনায় ঢাকি


নব ফাগুনে তোমার পথ পানে চেয়ে থাকি



চব্বিশ বছরে ছাব্বিশ ফাগুন যায় বয়ে


তবু তুমি দেখলেনা,দেখলেনা মোরে চেয়ে


কভু তুমি বোঝনা তোমায় কত ভালোবাসি


তোমার জন্য হাসি মুখে পড়তে পারি ফাঁসি


জানি তুমি হাসবে ওগো,হাসবে শুনে কথা


একবারো তো বুঝবেনা কিসে আমর ব্যাথা,


বুঝতে যদি তুমি ব্যাথা,এই মনের জ্বালা


দিতে সখি পুষ্প মালা,দিতেনা এ দহন জ্বালা


তোমার মনে যা ধরেছে তাই করেছো তাই


শুধু সখি আমার বেলায় বলেছ তা নাই


চব্বিশ বছরে ছাব্বিশ ফাগুন যায় বয়ে


তবু তুমি দেখলেনা,দেখলেনা মোরে চেয়ে

বিকাশ


সাগর অরণ্য


বিকশিত হতে দাও তারে


পরিপূর্ণ বিকাশের তরে।


বিকাশ হোক নব মনের


বিকাশ হোক নব জ্ঞানের,


নব নব চিন্তা চেতনার


মুক্ত বুদ্ধি সুপ্ত ভাবনার।


বিকাশ হোক ঐ মানবতা


ন্যায়,নীতি,আদর্শ,সততা।


প্রেম-প্রীতি,সত্য,সুন্দর


ক্ষমা,মহানুভবতা,উদার।


বিকাশ হোক ত্যাগ,তিতীক্ষা


সৎ সাহস,ধৈর্য,প্রতিজ্ঞা


দৃঢ় মনোবল আস্থা অটল


ভক্তি বিশ্বাস ভ্রাতৃত্ব বল।


বিকাশ হোক শান্তি,শৃংখলা


যুক্তি-মুক্তি প্রগতির চলা,


বিকাশ হোক সাম্য,মৈত্রের


ভক্তি,শ্রদ্ধা,আস্থা,বিবেকের।


বিকাশ হোক কালে কালে


দেশে দেশে বিশ্ব মণ্ডলে,


সব খানে সব মনে প্রাণে


সব সুর সব গীত গানে।


বিকাশ হোক বিকশিত


দিকে দকে ধেয়ে অবিরত।

বর্ষা প্রকৃতি


সাগর অরণ্য


চারদিকে ঘন আধাঁর মাঠ ঘাট বন বাদার


ধমকে চমকে গরজে বরজে ডাকে বারবার।


ঝরে জল শ্রাবণ ধারা


করে তুলে বাঁধণ হারা,


মাঠ ঘাট থই থই


জলে উঠে চিতল,কৈ।


তাই দেখে দল বেঁধে ছোটে ছোট ছোট ছাওয়াল


মনের আনন্দে হাঁক ছেড়ে যাপড়ে ধরে বৈয়াল।



ধান ক্ষেতে বান উঠে নুয়ে পড়ে ভিঁজে শন ক্ষেত


কাদা জমে মাঠে ঘাটে,কর্দমাক্ত গ্রাম্য মেঠো পথ।


তাই বুঝি শেয়াল পাজী


ডাকে হুকা হুয়া আজি!


গোয়াল ঘরে গরু গুলো


কাটে যাবর এলোমেলো।


গাছে গাছে পাতা নড়ে থরে থরে রাত-দিন ভরে


কি শোভা! চারিধারে বর্ষা প্রকৃতির দুচোখ জুড়ে।



ধেয়ে আসে ভেঁজা মাসে বর্ষা কেয়া কদমের ঘ্রাণ


তাই দেখে আজ মনে জাগে যেন কার পানে টান?


বৃষ্টির রিমঝিম সুর


যেন তার পায়ের নুপূর,


আজ ছম ছমিয়ে বাঁজে


ব্যাকুল হিয়ার মাঝে।


এক ঘেয়ে মনে যেন জাগে কোন শূণ্য হারা ভাব


ক্ষনে ক্ষনে তুলে মনে অচেনা সে অপূর্ণ অভাব।

অজানা গল্পের ব্যাপ্তি!


সাগর অরণ্য


ভালো বাসলে ছেলেরা-


হয়ে যায় বোকা!


আর মেয়েরা বুদ্ধিমতী।


বলনা তুমি কি আর আমি কি?


আঘাত পেলে ছেলেরা দেবদাস


আর মেয়েরা পার্বতী,


বলনা তুমি কি আর আমি কি?


জানা নেই সম্পর্ক,


সীমা-পরিসীমা!


শুধু জানি তোমার চোখে চোখ পড়তে


আমি হারিয়ে যাই অন্য ভুবনে।


তোমার কথা ভাবতে


সিউরে ওঠে গা, হা-হা-হা…….!


আমি তোমাকে ভালোবাসি


এই জীবনের চেয়ে বেশি।


নাই সূচনা,নাই সমাপ্তি


অজানা গল্পের ব্যাপ্তি!

সৈনিক


সাগর অরণ্য


আমি সৈনিক আমি সিপাহী


গাহি আমি মৃত্যুর গান গাহি।


জন্ম আমার বর্ম ধরে


কর্ম যে তাই মৃত্যু লড়ে,


কাটে আমার ফাগুন-চৈত্র


হয়ে আগুন যমের দৈত্য।


মৃত্যু ধরে এই মুঠি তলে


মাতি আমি যুদ্ধ ডামাডোলে।


আমি সৈনিক আমি সিপাহী


আমি সাইক্লোন,সুনামি বাহী।


ঘূর্ণিঝড়ের দূর্নীপাকে


উঠি আমি মৃত্যু থেকে,


গায়ের জোরে ক্ষুদ্ধ ঘায়াল


করি আমি হস্তে কায়াল।


ধ্বংস দিয়ে মোর দেহ গড়া


মৃত্যু ঝাঁকি দেই যে নাড়া।


সূর্য রাজের ঐ তুর্য নিয়ে


ঝাঁপিয়ে পড়ি যুদ্ধ জয়ে,


মুঠি তলে তুলে মুক্তি


উড়িয়ে বেড়াই বাহু শক্তি।


প্রতিপক্ষ করে ক্ষান্ত


উড়াই নিশান সর্ব প্রান্ত।


দীপ্ত পদে পথ চলা মোর


ক্ষীপ্র গায়ের জোর,


ধ্বংস করি মহা কংস রাজী


মৃত্যু ধরে সদা হাস্য-বাজী।


লৌহ হাতে দেয়াল গুড়ি


তীক্ষ নখে মোর বিশ্ব ফাঁড়ি,


 

আমি সৈনিক আমি সিপাহী


প্রাণেতে মোর ক্লান্তি কভু নাহি।


এই ধরা মহা বিশ্ব কাঁপে


মোর ক্রদ্ধ আগুন অগ্নি তাপে,


পাতাল খুড়ি গড়ি দূর্গ


গগন ফাঁড়ি আনি স্বর্গ।


এক হাতে মোর বিশ্ব গড়ি


অন্য হাতে তা ধ্বংস করি।



আমি সৈনিক আমি সিপাহী


আমি শত জ্বালা,শত ব্যাথা সহি।


ধমেতে মোর যম উড়ে


যুদ্ধে যে তাই মুক্তি ফেরে,


শুনি কান্না পরাজয় ঘেণ্যা


আহত লোকের শোকের ঝর্ণা।


মনে পড়ে আপন জনেরে


আপন ঘরে ফেরার টানে


আজ এই দূর পরোবাসে


প্রিয়া ছবি শুধু ভেসে আসে,


মনেপড়ে তারে ক্ষণে ক্ষণে


সুপ্ত হিয়া বাঁধনহারা টানে।


আমি সৈনিক আমি সিপাহী


আমি সাদা বলাকা শান্তির ওহী।


পুষ্প প্রাতের উষ্ঞ স্রোতে


চাই যে আমি স্বর্গ দিতে,


বাবড়ী চুলে মোর শান্তি দোলে


দরদী দিল তাই মুক্তি ডালে।


ভয় দিয়ে জয় করি মহা শান্তি


জোগাই সাহস তাড়িয়ে ভ্রান্তি।

মহা মানব



---সাগর অরণ্য

কালে কালে মহা মানবের মহা রথ যাত্রা


আনিয়াছে নব যুগ নব দিশা নব মাত্রা,


হেরি মরু,গিরি,বন,নদী অরণ্য জঙ্গল


রচেছে পথ শত জনপদ মহা মঙ্গল।


অশান্ত ধরা হয়েছে শান্ত,নব বসুন্ধরা


ঘুচে গেছে হিংসা,হানাহানি,রোগ-ব্যাধি,জরা।


আধাঁর ঘেরা ধরার বুকে জ্বালিয়েছে আলো


হিংসা,ক্রোধ ভুলে গিয়ে বেসেছে সবারে ভালো।


কালে কালে দেশে দেশে যত হিংসা হানাহানি


শোষন,বচ্ঞনা,অনিয়ম,অনাচার গ্লানি


মুছে দিয়ে ঘুচে দিয়ে শত আক্রোশ বৈরুতা


মহা জ্ঞানী দিয়ে গেছে বাণী,"ক্ষমা,উদারতা"


সাদা-কালো ভেদাভেদ,উচু-নীচু ব্যাবধান


জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে নিবেদিত প্রাণ।


পেল তারা পেল স্থান মহা মানবের দলে


সুন্দর এ ধরনীর বুকে,মহা কালে কালে।



তোমার জন্য


------সাগর অরণ্য


প্রভাতের প্রথম রবির কিরন


তোমার চোখে দিয়েছে শিহরন,


তুমি জন্মেছো বলে এই ধরায়


বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারে খুশির ছোঁয়ায়।


মেঘ কেঁদে ছিল তোমার কান্নাতে


চাঁদ হেসেছিল তোমার হাসিতে।


রাতের ঐ গোলাপ হয়েছিল ধণ্য


শুধু একবার ফুটে তোমার জন্য।


প্রভাতের পাখি গেয়েছিল গান


তোমার জন্য উজার করে প্রান।


হেসেছিল রোদ তোমার হাসিতে


জানিয়ে দিতে এসেছ পৃথিবীতে।


তোমার বাণী তোমার জ্ঞাণী ডালা


তোমার কথা তোমার ব্যাথা মালা।


পাকনা খুঁজে এক নতুন ধরা


থাকনা হয়ে রাতের ধ্রুবতারা।


শুভ জন্ম দিন শুভ জন্ম দিন


হোক প্রিয় চির অমলিন।



 

সূর্য নওজোয়ান


সাগর অরণ্য


বাংলা মায়ের তাগড়া ছেলে


সূর্য নওজোয়ান,


দৃপ্ত পদে ঐ দুচোখ মেলে


হওরে আগুয়ান।



আকাশ বাতাস ছেড়ে গিয়ে


ওই না পথে চল,


বাঁধার প্রাচীর উপড়ে দিয়ে


বুকেতে নিয়ে বল।






মুক্ত করো ভাই সুপ্ত আলো


ঐ সুনীল দিগন্ত,


সরিয়ে দিয়ে আধাঁর কালো


সকল মিছে ভ্রান্ত।



নব আলোয় জাগিয়ে তোরা


এই না জনপদ,


আঁধার ঝেড়ে ঐ মৃত্যু জড়া


দেখা নবীন পথ।

নীল খাম খালি!


সাগর অরণ্য


কবে আমি ভালোবাসি


কবে তার কাছে আসি


বলি বলি করে বলা


হয়নি যে মনো কলা


নাইন-টেন হায় ছিল যে ভারি লজ্জা


ছিল না জানা তাই ঐ মেয়ে বশী কজ্জা।


ফল এলো পাশ হলো,হলো তাই হলো নাম


মন খালি রলো এলো না তো নীল খাম।


কবে আমি ভালোবাসি


কবে তার দেখি হাসি।


দিন গেল দিন এলো


তবু নাহি প্রেম এলো।


তাই করে মন হর্ষ,ঐ কলেজ বর্ষ


দেখি সাজা তরতাজা নানা ফুল পর্ষ।


চোখ রেখে চোখে হলো যেই মনে ভাব


শোকে বুঝি ছ্যাঁকা দেয়া মেয়েলি স্বভাব।


কবে আমি ভালোবাসি


কবে পাব ঐ প্রেয়সি।


মনে দূর্বার ফাগুন


সাথে বিরহী আগুন।


বহু পথ পাড়ি দিয়ে প্রিয়া মন জয়ে


উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখি এক মেয়ে।


দুদিনের পরিচয়ে ওকে আমি চাই


পরদিন এসে মেয়ে ডেকে বসে ভাই।


কবে আমি ভালোবাসি


কবে পাব প্রেম রাশি


দুই যুগ গেছে চলে


শুধু বৃথা প্রেম ছলে।


যেতে রোজ ঐ অফিসে কোন এক বাসে


এক তনয়া সিট ঘেষে বসত মোর পাশে


হায়-হ্যালো পরিচয়ে হয় যেই প্রেম,


পরদিন দেখি তারে অন্য গাড়ির মেম।


কবে আমি ভালোবাসি


কবে ছোঁব ঐ শশি,


বারে বারে এই মন


দেখ সুখ সে স্বপন।


অফিসে পার্শ টেবিলে দেখি এক ললনা


জাগে মনে নব প্রেম,নব সে বাসনা।


একদিন বিকেলে হায় ছুটির পরে


দেখি তারে পার্কে অন্যের হাত ধরে ঘুরে।


 কবে আমি ভালোবাসি


কবে বাঁঝে প্রেমে বাঁশি,


ভাগ্যে মরু খাই খাই


তবে বুঝি প্রেম নাই।


মনে নিয়ে আশা চাই যার ভালোবাসা


সেই খেলে মন নিয়ে ষোলকলা পাশা,


তবে কি এ জীবনে যৌবন অধ্যায়


যাবে কি বয়ে খেলে মিছে প্রেম ঠাট্টায়!

বেকার
- সাগর অরণ্য

আকার থেকেও আকার নাইরে
চলে করে ধার,
কর্মী হয়েও কর্ম নাই রে
হয় যে বেকার৷
রাস্তা ঘাটে ফুটপাতে ব্যস্ত রুটে
মহা ভার ভয়ে,
রোজ হাঁটে রোজ ছুটে কর্ম পেতে
চাকুরি জয়ে৷
আসতে যেতে কর্মের পথে ছুটে
রাস্তার ঐ ঘায়
কর্ম মোর নাহি জোটে
ভাঙ্গা ইটে জুতো গেছে ক্ষয়৷
অর্থ দিলে ভাগ্য মিলে
তাই দেখেছি ভাই৷
আমার মেধা জানি খোদা বিফলে
ভাগ্য রেখা নাই৷
ঘরেতে অভাব চেয়ে থাকে ওরা
প্রেমেতে বিবাদ,
ভেঙ্গে বুঝি এই ভাঙ্গা জোড়া
ফলবে প্রবাদ৷
নাই নাইয়ে ভরা যার সমাহার
দেয় করে দাম?
তুলে দিয়ে এ শূন্য মুখে আহার
অভাগার নাম৷

খরচ


সাগর অরণ্য


মরচে পড়া শহরে


খরচে প্রতি প্রহরে


চুল কাটতে


দাড়ি ছাটতে


হারিতে আর গাড়িতে


দোকান কিবা বাড়িতে


ঘোরেনা চাকা


ছাড়া যে টাকা৷


খরচে চাই খরচে


ছাড়াতে জং মরচে৷


খরচে প্রেমে


খরচে গেমে,


ব্যস্ত শহরে সমস্ত


খরচে অতি প্রশস্ত৷


ঐ ফাষ্ট ফুডে


কি ব্যস্ত রুটে


শপিংয়ে আর জগিংয়ে


ডানে বায়ে লুকিংয়ে


স্মার্ট স্টাইলে


ফ্যাশন স্মাইলে৷


খরচে সকল পদে


যখন তখন বাঁধে৷


খরচে রঙ্গে


খরচ ঢঙ্গে৷


খরচে নানান কাজে


মরচে জীবন মাঝে৷

হুমায়ুন স্মরণে
- সাকিব জামাল

দূর ভুবনে - বসে গোপনে, যে বীণার তারের কাঁপনে-তোলো তুমি বিরহী সুর
তারই অনুনাদের ফল- এ হৃদয়ে কাঁপন প্রবল, তোলপাড় করে মনের সাত সমুদ্দুর ।

 

তোমার প্রয়াণে- বাংলা সাহিত্যের সুফলা অগ্রাহায়ণে-
শুণ্যতার বিষন্ন বাতাস বহমান,
তোমার বিদায় - অপুরনীয় স্থান ।
তবে, আজও দখল করে আছো অগোচরে - কোটি মানুষের প্রাণ ।
চির অমলিন তোমার সৃষ্টি সকল ।
চির বিমলিন তোমার অবদানের ফসল ।

 

হে বাংলা সাহিত্যের বাদশাহ-
“প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ”…
এই আষাঢ়ের সব ভাসা পানিই –
তোমার বিরহে আমাদের উৎসর্গকৃত চোখের জল ।
যত ফুল ফুটেছে বিশ্ব মাঝারে –
সবই তা, তোমাকে জানাতে শ্রদ্ধাঞ্জলি বিমল ।

প্রেমপত্র ফাঁস
- পদ্মজা ঘোষ

ছি ছি,এমন বেসামাল হতে আছে?
যত কথা লিখেছিলি ঐ চিঠিতে,
সবুজ পাতাকে দিবি ব'লে,
বাতাসের সাথে এত মাখামাখি,হাত ধরাধরি,
ভাঁজ খুলে গেল তোর চিঠির পাতার,
কথা সব ঝম্ ঝম্ শব্দে পড়ল পাতার বুকে,
লাখো লাখো কথা ছড়িয়ে গেল চারদিকে,
গড়িয়ে গেল পথ ঘাট বেয়ে,
মাটি পারলো না লুকিয়ে রাখতে বুকের ভেতর,
কি লজ্জা,কি লজ্জা,সবাই দেখতে পেল!
এ কি হলো,এ কি হলো ব'লে কী হাঁক-ডাক ,
আকাশের মেয়ের গোপন প্রেমপত্র হয়ে গেল ফাঁস!!

(11/7/17)

সময়
- যুথিকা চক্রবর্তী

চেনা শহর ,অলি-গলি
শপথের সে সব দিন
স্বপ্নের রং-তুলি,
.
মিলেমিশে আজ বেরং
রং চটা এক স্মৃতির পাহাড়
শুধু দীর্ঘশ্বাস আর জমাট হাহাকার।
.
গুমোট আকাশ-----
ক্ষণে ক্ষণে ছাড়ে বজ্র নিনাদ
মহাকাল নিদ্রা মগ্ন সয়ে অপবাদ,
.
হেলায় কাটে দিন-----
কাটছে প্রহর
সুখের সে দিন যায় ভেসে,যেন যাযাবর।
.
কাছে আসার পিপাসারা
হয়েছে নীরব----
সময়ের আলিঙ্গনে প্রাণ সাজে শব,
.
যায় দিন পার হয়----
বছর আর বয়স
আসক্ত শরীরের কামনা ক্লিষ্ট দোষ।
.
অবয়ব সব এক-----
মাতাল জীবন
শরীর---শরীর খুঁজে হারিয়েছে মন,

নিজের নিজের বলে
বেঁধেছিল যাকে----
সময়ের হাত ধরে,ভুলেছে আমাকে।

(12/7/17)

মুকাভিনয়
- সুমন কাঞ্জিলাল

আরাম জিহ্বায় আঙুল দেখিয়ে
লোমকূপে শিহরণ তুলল
তোমার আগুন,পৃথিবীর রঙ
গায়ে মেখে ,না দেখা হৃদয়ে
ধাক্কা মেরে ।
হাজার হাত করতালি দিয়ে
ঘুম থেকে জেগে উঠলো
মোটা গ্লাসের চশমা ভেঙে ।
আয়না বেয়ে হাঁটা মিথ্যে মানুষ ,
নদী ,পাহাড়,পাখি,গাছপালা,
সমুদ্র ...............
সত্যের আভাস পেয়ে বেরিয়ে
আসলো ;
যাদের রাতের চোখ ভুলে গিয়েছিল !

12-07-2017

মৃদুলা
- সাগর অরণ্য

মৃদুলা চচ্ঞলা
দেয় মনে হিম দোলা
গোধূলি লগনে
ঝিরিঝিরি পবনে
ক্ষনে ক্ষনে করে খেলা।
যৌবনো লগনে
ফাগুনো পবনে
পরাগো পরশে
হ্রদয়ো হরষে
মন করে উতালা
ভালো লাগে অনুরাগে
সুখ জাগে থেকে থেকে।
প্রেম এলো মজ্ঞুরী
বাঁজে সুর বাঁশরী
দেয় প্রেম দেয় দোলা।

আসার গল্প
- সাগর অরণ্য

প্রয়োজনটা দরকার
তাই প্রয়োজনের তাগিদে,
নিজেকে সঁপে দিলাম
প্রয়োজনের প্রাচীরে।
কবিতা লিখতে হয় তাই লিখি,
টি.এস.সি হতে বকুল তলা
এক দৌড়ে ফার্মগেট ব্রিজে দাঁড়িয়ে
এক লাফে চলে গেলাম বঙ্গপসাগরে।
লোনা জলে সাঁতরাতে সাঁতরাতে
ঘুমিয়ে পড়লাম আন্দামান দ্বীপে,
ঘুম ভেঙ্গে দেখি হিমালয় চূড়ায়।
শীত লাগছে রোদ পোহাতে হবে
মরু সাহারায়।
তৃষ্ঞা পেলে কাষ্পীয়ান হ্রদে
ডুবে ডুবে জল খাব গলা ভিঁজিয়ে।
মর্তে ভাল লাগছেনা
যাই ঘুরে আসি স্বর্গে।
স্বর্গ প্রাণহীন
কারন তুমি পৃথিবীতে।
তাই অবশেষে ফিরে এলাম
তুমি এবং তোমার কাছে।

সমতা
- সাগর অরণ্য

হে নারী আমি চাই না তোমায়
পন্য কিংবা অলংকারে।
যে তোমায় থাকতে হবে উন্মুুুুক্ত
কিংবা পর্দার আবরনে।
সওদা করা ব্যবসায়ির কর্ম
আর বিশ্বাস ধার্মিকের ধর্ম।
আমি মানুষ
তাই চাই তোমায়
একজন মানুষ হিসেবে,
কোন পন্য বা অলংকারে না
ঢাকা খোলার উর্ধ্বে।
একজন মমতাময়ী মা,আদরের বোন
প্রেমময়ী প্রেয়সী,জন্ম-জন্মান্তরের স্ত্রী,
স্নেহময়ী কণ্যা।
নানা নামে নানা রুপে
তারচেয়ে বড়,
একজন মানুষ ও ভালো বন্ধু হিসেবে।
অন্তঃপুর হতে রাজপথে
প্রতিটা ক্ষণ থেকো আমার সাথে,
পাশাপাশি হাতে হাত রেখে
যোগ্য সন্মান আর পূর্ণ সমতায়।
কখনো গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে
তাল পাখার শীতল পরশ দাও।
কখনো বা ভীষন্ন মনে
ভালোবাসার রঙ্গীন আবেশ জাগাও।
খুঁজে পেতে চাই তোমায় সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যে
বৈশাখে বাসন্তি শাড়িতে
হাত ভরা রেশমি চুড়িতে
কপালে নীল টিঁপ।
তারুণ্যের মাঝে
বর্ণিল সাঝেঁ।
বিপন্ন মানবতায় আলোকবর্তিকা হাতে
মাদার তেরেসা হয়ে।
কিংবা জাতীয় দূর্যোগে
৭১ এর জাহানারা ইমাম হয়ে
মানবতার ভাগ্য আকাশে।
কে ছোট? কে বড়?
এসব অর্থহীন নোংরা কূপমন্ডুকতার উর্ধ্ব উঠে
চলো কাদে কাদ রেখে চলি
হাতে হাত রেখে বলি
"মুছে যাক গুচে যাক সকল বর্বরতা
সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক নারী পুরুষের সমতা।

মুক্তিকামী

সাগর অরণ্য

মুক্তিকামী যারা মুক্তির কথা কয়

মরণে অমর তারা চির অক্ষয়,

মুক্তির নির্ভীক মহা সৈনিক তারা

সাম্যের আদর্শে সাজায় এ ধরা।

কালে কালে বয়ে আনে মহা বিপ্লব

এ ধরার বুকে সাম্য,মৈত্রী উৎসব,

ভাঙ্গ অনিয়ম গুচায় অনাচার

শোষন,বঞ্চনা ,অন্যায়-অবিচার,

হেন কুসংস্কার,কুপমন্ডুকতা

গুনে ধরা জীর্ণ সমাজ,ঘৃন্য প্রাথা।

মুছে দেয় সব জীর্ণ পুরান

উচু-নীচু,ধনী-দরিদ্র ব্যাবধান।

রাগ-ক্ষোভ,ক্রোধ-ঘৃনা,হিংসা-বিদ্বেষ

তুলে দিয়ে বয়ে আনে শান্তির রেশ।

মানুষে মানুষে ভুলে শক্র,বৈরিতা

ভক্তি,শ্রদ্ধা,প্রেমে গড়ে নব ভ্রাতৃত্বতা,

এ ধরা বিশ্বের বুকে সকল প্রান্তে

ছুটে যায় মুক্তি কামী সকল গ্রান্থে।

যেথা মানবতা ভ্রান্ত অশান্ত ধরা

হিংসা বিদ্বেষ শক্রতা বৈরিতা ঘেরা,

জ্বলে লেলিহান শিখা যুদ্ধ দামামা

নাশে-ত্রাসে-গ্রাসে মৃতু্ দেয় হামা।

মুছে শত-শতাব্দীর জীর্ণ অচলায়তন

বজ্রকণ্ঠে গায় মহা মুক্তির গান।

 

আসার গল্প

সাগর অরণ্য

 

প্রয়োজনটা দরকার

তাই প্রয়োজনের তাগিদে,

নিজেকে সঁপে দিলাম

প্রয়োজনের প্রাচীরে।

কবিতা লিখতে হয় তাই লিখি,

টি.এস.সি হতে বকুল তলা

এক দৌড়ে ফার্মগেট ব্রিজে দাঁড়িয়ে

এক লাফে চলে গেলাম বঙ্গপসাগরে।

লোনা জলে সাঁতরাতে সাঁতরাতে

ঘুমিয়ে পড়লাম আন্দামান দ্বীপে,

ঘুম ভেঙ্গে দেখি হিমালয় চূড়ায়।

শীত লাগছে রোদ পোহাতে হবে

মরু সাহারায়।

তৃষ্ঞা পেলে কাষ্পীয়ান হ্রদে

ডুবে ডুবে জল খাব গলা ভিঁজিয়ে।

মর্তে ভাল লাগছেনা

যাই ঘুরে আসি স্বর্গে।

স্বর্গ প্রাণহীন

কারন তুমি পৃথিবীতে।

তাই অবশেষে ফিরে এলাম

তুমি এবং তোমার কাছে।

 

মানুষের সন্ধানে

- কাজী জুবেরী মোস্তাক


মানুষ খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত ,

কেউ মানুষের খোঁজ দিতে পারো ?

না না মানুষ চাই,মানুষের মুখোশ নয় !

বহুকাল পার হয়ে গেছে তার খোঁজে

মানুষ কেমন হয় দেখতে কেউ বলবে ?

সেই যে মহামানবেরা হারিয়ে গেছে

তারপর থেকেই খুঁজে চলেছি মানুষকে ৷

সবাই দেখি নিজেকে মানুষ বলে

অথচ !

আমি দেখি সব মানুষের মুখোশ পরে ৷

একটা মানুষ খুঁজে দাওনা আমাকে

দু'নয়ন ভরে আমি দেখবো তাহাকে ,

আচ্ছা তোমরা কি কেউ জানো ?

মানুষ কোথায় থাকে ?

কিম্বা !

মানুষ কাকে বলে ?

ও প্রজাপতি
- রিঙ্কু মণ্ডল

ও প্রজাপতি প্রজাপতি
সুন্দর তুমি কত !
দেখলে তোমায়
ছুটি তোমার পেছনে ।

পিছু নিয়ে তোমার
হয়না লাভ আমার ।
চলে যাও তুমি
ঘুরে আসি আমি ।

তুমি তো দেখতে অনেক সুন্দর
মুগ্ধ সবাই রূপে তোমার ।
সবাই বলে ও প্রজাপতি
হয়ে যাও না আমার তুমি।

চাইতো তোমায় সকলে
হওনা তুমি কারো ।
হও তুমি তার
মধু আছে যার ।

মধু আবার ফুরিয়ে গেলে
যাও চলে অন্য কারো কোলে ।
স্বভাব তোমার ভালো না ।
ফুলে ফুলে মধু খেয়ে বেড়ানো
ছুটবে না কী কোনোদিনো ?

তোমার এই স্বভাবে
কত ফুল ঝড়ে গেছে ।
শূন্য হয়েছে কত শাখা ।
তবুও কোনোদিনো তুমি আর
করোনি তাদের সাথে দেখা ।

ওগো প্রজাপতি
করজোরে তোমায় বলি
করোনা এমন স্বভাব
তোমার জন্য
কত কারো হৃদয়ে ঘটে
ভালোবাসার অভাব ।।

অনাদর
-------সাগর অরণ্য
না চাইতে পাও যে আমায়
তাই মুল্য বুঝ না।
না ডাকতে হইযে উদয়
তাই আমায় খোঁজ না।
খুঁজবে সেদিন আমায় মোরে
ঘুরে ফিরে ঐ তেপান্তরে
বুঝবে সেদিন আমার মানে
যেদিন আমি থাকব না।

স্নৃতির মাঝে নিরব দেখে
কাঁদবে সেদিন অশ্র্রু মেখে
ডাকবে আমায় তোমার কাছে
যেদিন আমি আসব না।
আসবে সেদিন এমনো দিন
বাঁঝবে যেদিন তোমার মনেরো বিন
ডাকবে আমায় হিয়ার সুরে
যেদিন আমি শুনব না।

আমার মায়ায় ব্যাকুল হয়ে
যাবে গো তোমার দিনটি বয়ে
তোমার চাওয়া ফেলবে ছায়া
মনের শত বাসনা।
চাইবে সেদিন প্রাণটি ভরে
ডাকবে আমায় আপন করে
বুঝবে সেদিন খুঁজবে যেদিন
যেদিন আমি থাকব না।

 

 সাধারন

সাগর অরণ্য

না পারলাম হতে বিখ্যাত না কুখ্যাত

মনে শুধু রয়ে গেল একটাই ক্ষত,

বিখ্যাতদের সরণীতে নামি দামি লোক

আমি সেথায় বেমানান ভীষন অলোক।

মস্ত-মস্ত নামের পাশে মস্ত পদবী

আমার সেথায় মস্ত খালি হতাশা সবি।

 

নাপারলাম ডুবটি দিতে জ্ঞান সাগরে

হয়ে জ্ঞানী জ্ঞানীদের মধ্যমণি তরে;

নব নব জ্ঞানে মহা বিজ্ঞানে সংস্কার

আনিতে না পারলাম নব আবিষ্কার।

ঐ মৌলে-যৌগে বিকিরণ,বিষ্ফোরন

মহাকর্ষ-অভিকর্ষ,বিভব,ত্বারণ।

উদঘাট করতে না পারলাম সূএ

বিজ্ঞানের ঐ সারিতে নব কোন তত্ত্ব,

না পারলাম হতে গ্যালিলিও,নিউটন

কোর্পানিকাস,হকিংকিংবা আইনস্টাইন।

 

না পারলাম এই নিজেরে কাজে লাগাতে

জাতি,ধর্ম,সমাজ এই মহা জগতে।

দাঁতাত,আতাঁত,গ্লাসনস্ত,সংস্কার-সমন্বয়

গণতন্ত্র,সাম্যতা,অসহযোগ,ছয়

মনোপলি,এনাপলি,গ্লোবালাইজেশন,

ভেটো,সন্ধি,পেরেস্ত্রইবা,আন্দোলন।

না পারলাম হতে অশোক,আকবর

গান্ধী,রাসেল,ম্যান্ডেলা,মার্কস,ব্লেয়ার।

 

না পারলাম হতে মহান কোন ব্যক্তি

মত-পথ,দর্শন,আদর্শে বলিষ্ঠ শক্তি

ইতিহাস,ঐতিহ্য স্বর্ন যুগ রেঁনেসা

সভ্যতা-নভ্যতা,জাগরন-উন্মেষ দিশা।

মহা পথে মহা জ্ঞাণী মুছে দিয়ে গ্লানি

জাতি,ধর্ম,নির্বিশেষে মহা বাণী।

দান্তে,সক্রেটিস,ফেরদৌস,রোমা রোলা

শেক্সপীয়ার,রবীন্দ্রনাথ,মার্কো পেলা।

 

না পারলাম ঐ কুখ্যাতদের মাঝে

নিজেরে লাগাতে কোন কাজে,

ফ্যাসী,নৎস্যী,সামরাজ্যবাদ,উপনীবেসে

জয়ে-ক্ষয়ে,ভয়ে,মহা নাশে-ত্রাসে,গ্রাসে।

অনিয়ম,অনাচার,স্বৈরতা,বৈরুতা

মত-পথ নীতি হীন দম্ভর ঐদ্ব্যতা।

স্টলিন,চেঙ্গিস,মুসোলিন,হিটলার

বেঈমান বিশ্বাস ঘাতক মীর জাফর।

 

না পারলাম হতে ঐশ্বর্য সুখে সুখী

ভোগ-বিলাস,আরাম-আয়েশে শ্রীমুখী।

অবকাশ,লং ড্রাইভ,বন্ধু-আড্ডা গীটার

ঝুল বাড়ান্দা,হট কফি,রকিং চেয়ার।

সমুদ্র গর্জনে ভোরে ঘুম হতে জাগা

দশটার ব্রেড টী বারোটায় লাগা।

প্রিন্স হ্যারি,ফাহাদ,গোপাল,নন্দলাল

সাজাহান,দেবগান,বড় লাট চার্ল।

 

না পারলাম হতে মহা বিখ্যাত ধনী

ধনে ধনে ধন্যমহা শ্রোদ্ধেয় মানি।

ব্যবসায় বাণিজ্য পার্টি আড্ডা ডিনার

অভ্যর্থনা,সংবর্ধনা বিরল অনার।

ডেবিট,ক্রেডিট,এল.সি,ডলার,পাউন্ড

চেক,ব্যাংক,ব্যালেন্স,এটি এম ফাউন্ড।

টাটা,বিলগ্রেটস,লক্ষী মিত্তাল

কেনেথ,রাইখম্যান,ওয়ালটন।

 

না পারলাম দেখতে এ বিশ্ব মন্ডল-

মরু,গিড়ি,সাগর,হিমালয়,জঙ্গল।

চাঁদ-তারা, গ্রহ-নক্ষত্র,নিহারিকা

আলো-আধাঁর,বরফ,দাবানল শিখা।

হয়ে অভিযাত্রি ভ্রম্যচারী পরিব্রাজক

নভঃচারী,ডুবুড়ি ভ্রুমিয়া এ ভূলোক।

ইবনে-বতুতা,ফা-হিয়েন,হিয়েন সাং

মেগাস্থিনিস,মার্কো পোলো,নেইল আর্মস্ট্রং।

 

না পারলাম হতে বিখ্যাত ক্রীয়াবিদ

স্বদেশের গর্ব বিশ্ব রেকর্ডের ভিত।

ট্রফি হাতে হ্যাভি শোতে খাস অভ্যর্থনা

সাক্ষাত ফটোসেশন মহা উত্তেজনা।

গো্ডন বল,গোল্ডেন বুট হাতে ক্যাশ

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ গড়া নতুন ইতিহাস।

পর্দা কাপানো মাঠ ধাঁধানো খেলয়ার

প্ল,ম্যারাডোনা,সাকিব,শচীন,ফেদেরার।

 

না পারলাম হতে মহৎ না অমহৎ

কালের ভেলা ভয়ে গেল শুধু দেখলাম স্রোত।

না পারলাম সৃষ্টিতে না কৃষ্টিতে

কারো চোখে পড়লামনা কারো দৃষ্টিতে।

না শূন্য না পূর্ণ,জীবনের রং সাদা

স্বাদ গন্ধ বর্নহীন সদা।

বৃথা এই জীবনের তিতা অভিজ্ঞতা

শুধু আমি বলে যাই নাই কোন স্রোতা।।

 

 

 

 

 

 

 

 

আমর পেন্সিলে আকাঁ ফুলপরি
…….সাগর অরণ্য
আমার পেন্সিলে আকাঁ ফুলপরি
আমায় কষ্ট দেয়,
আমি ওকে ভালোবাসি
ও তা বুঝতেই চায়না।
কষ্ট হয় যতনা হয় তবু চেপে রাখি
ওকে বুঝতে দেইনা
যদি ও কষ্ট পায়,
ওকে কি কিছু বলব?
না-না তা হয়না।
কত সাধনার ফল আমার
কত নির্ঘুম রাএির সপ্ন,
কত যতনে আকাঁ
হ্রদয়ের ক্যাভাসে রাখা
তিলে তিলে গড়া শেষ কৃর্তি
হ্রদয় নিগরানো ভালোবাসার
শেষ তিলোত্তমা তুমি।
যে চোখে মায়া ভরে দিয়েছি
সে চোখে অশ্রূ,
যে ঠোঁটে হাসি ছুঁয়ে দিয়েছি
সে ঠোটে কষ্টের ছাপ।
মাঝ রাতে ভালোবেসে,
আদর করে
যে ঘালে তিল এঁকে দিয়েছি
আজ তাতে কলঙ্ক লেপে দেব?
পারবনা!আমি পারবনা!
প্রতিশোধ নিতে গিয়ে বোকা ভনে যাই,
জানিনা কেন এমন হয়?
তবে কী আমি ওকে ভা…….লো……….?
থাক বলবনা,যদি ও শুনে ফেলে।
যদি ও ভুল বোঝে,রাগ করে
পারবনা আমি পারবনা।

প্রার্থনা
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

আঘাত আমায় যতই কর ,
আমি কাতর হবোনা ;
দুখের দহনে পোড়াও আমায় ,
ছাই তবু হবোনা ।



আমায় যদি ছাড় তুমি ,
রাখবো তোমায় ঠাকুরঘরে ;
তোমার জপেই কাটাবো দিন ,
ছবিটাকেই পুঁজিবরে ।

আকুল হয়ে ডাকবো তোমায় ,
থাকো যতই মুখ ফিরিয়ে ;
দেখা তোমায় দিতেই হবে ,
ঠাঁই দেবে তোমার পায়েই ।

@নন্দা 8-7-17

কাঁটাতার
- যুথিকা চক্রবর্তী

কাঁটাতারের এপার-ওপার
ফেলে দীর্ঘশ্বাস-----
টহলদারী দেয় কেবলই
আগ্নেয়াস্ত্র দূতাবাস,
.
এপার থাকে চেয়ে ওপারে
শোনে পবিত্র আজান----
ওপার শোনে মন্ত্র ধ্বনি
আকুল করে প্রাণ।
.
চলে খালি ধর্ম-ধর্ম
কর্ম বিমুখ স্রোত----
নিজের মতন চলছে জীবন
বিবেক বিহীন বোধ,
.
একই আকাশ দুই প্রান্তে
বাতাস অমলিন-----
পাখির কূজন মানে না বিভেদ
রাত নীরব স্বাধীন।
.
রক্ত নদী লাল দুধারে
একই ভাবে বয়-----
কাঁটাতার বিভেদ টেনে
একাই জেগে রয়,
.
সকল যদি সমান
তবে মিথ্যের সংশয়
চেতনা হয় বেখেয়ালি
তাই বিবেকের পরাজয়।

(8/7/17)

সেই রাত
- কাকলী ঘোষ

সেই ওই ঘোর কাল রাত ,
বিজলী চমকে বৃষ্টি মোড়কে ,
আঁধার ছাপানো -ঘরের অন্তকোণে,
দেশলাই হাতড়ান -
সেই আমার কাঁপাকাঁপা হাত l
জলছুট কাল মেঘে শূন্য বারান্দায়-
নূপুরের রিনিঝিনি ফিসফাস ,
বৃষ্টি জলের তোড়ে সপসপে জানালায় -
অতৃপ্ত অশরীরী নিঃশ্বাস l
-
টর্চ এর আলোটা ছুঁড়ে দিই
রেলিং এর গায়ে ,
অমানিশা ছায়া এক
যেন কার চলে যায়,
সিঁড়ি ধরে ওই দিকে বাঁয়ে l
ছিটকে গলা চিরে চিত্কার ধাক্কা -
আঁধারের বুক ভেজা কান্নায় ,
কে ও -কার ও কায়া ?
বাঁয়ের কুঠরি ঘরে -
দ্রুত পদে নিশ্চুপ চলে যায় l
প্রশ্নরা ফিরে দেখি দালানের থাম ঘুরে -
রাতচরা পাখিদের নীড়ে ,
ঝড়ের মাতম জাগে -ভয়াল কান্না জলে -
ওপারের নৌকাটা ভিড়ে l
সিঁড়ি ধরে নেমে যাই -পাতাল গহ্বরে ,
টর্চের আলোটাও ম্লান ;
ফুপান কান্না কার ভাসে হিম বাতাসে ,
বুক কাঁপানিয়া কার গান l
রাতের কান্না ঘরে -মরণের খুব কাছে -
প্রাণটুকু হাতের মুঠোয় ,
গলগল রক্ত ধারাপাত হয়ে যায় -
বিদেহী শরীর সুতোয় l
কাঁপাকাঁপা ভয় চোখ -
পোর্ট্রেট রক্ত ফোঁটায় ,
এপার ওপার মিলে দুখের নয়নজলে -
ঠিক বুঝি রাত বারটায় l
হাজার বছর আটক রূপসীর আত্মা
পাতালের সেই গুমঘরে ,
সন্দেহ কাঁটা কার গলা চিপে খুন করে -
ছুঁড়ে ঠেলে মরণের ঘরে l
বিদেহী কান্না ওর জিঘাংসা শরীরে -
সব প্রাণ চুষে নিতে চায় ,
ক্লান্ত প্রেতাত্মাও শ্রান্ত বিবশ আজ -
মুক্তির পথ হাতড়ায় l
অশরীরী নির্দেশে বিমূঢ় শরীরটা ছুটে গেল ঈষাণ ওই কোণে ,
খুঁজে পেল রূপসীর হাড় কঙ্কাল
-পাতাল ঘরের বিজনে l
দেশলাই বারুদে কাগুজে আগুনটা -
জ্বাললাম কঙ্কাল বুকে ,
আলোর প্রদীপ হয়ে বিদেহী শরীর ছাড়ে -
রূপসী আত্মা বেশ সুখে l
পরমাত্মায় বুঝি বিলীন ও আত্মা -
শেষ উড়া দূর হতে দূরে ,
মল্লlর ভোর জাগে চরাচর প্রান্তে -
নিশি ডাকা কাল রাত ঘুরে l

বাতাস
- সমরেশ হালদার

বহুকষ্টে একটা
দুঃখ ধরেছি
দু’হাতের মুঠোয় ,
দু-হাত আজ দেখি
ভরছে জলে
হৃদয়ের কান্নায়
বুকের ভিতর চাঁদ
জোছনা আলো
উঁকি দিয়ে দেখে ,
আড়ালে একা বসে
কেমন করে
দুঃখের ছবি আঁকে !
খোলা হাওয়ায় বুকের
পাতায় বাতাস
দুলছে দোলায়-
তোমার আমার এই
মিলন গাঁথা
কার সাধ্য ভোলায় ।

08/07/2017

সুতোর টানে
- মনোরঞ্জন দাস

আমি আমায় করিনি হেলা,তুমি তোমার বেলা ,
দূরের থেকে আসলে কাছে কানামাছির খেলা ।
চু কিৎ-কিৎ ,বুড়ীছোঁয়া, তোমায় ধরতাম গিয়ে
লোকচুরির খেলার ছলে থাকতাম আমরা দুয়ে ।
ইচ্ছেরা সব ডানা মেলে উড়ত আকাশে
স্বপ্নেরা সব জেগে থাকত বন্ধুত্বেরই আশ্বাসে ।
রাতের অন্ধকারে মেখে জোছনার আলো
স্বিগ্ধ শীতল আবেগে ভাসছিলাম ভালো ।
হৃদয়ে ছিল যত কথা,বলতাম অবকাশে
সময়ের স্রোতে আজ তা অতলে মিশে ।
নিভিয়ে আলো ,ঘন কালো,সকলি কেবল মায়া
বৃথা তুমি অন্ধকারে খুঁজে মরো তোমারই ছায়া ।
অপেক্ষারও অপেক্ষা থাকে সুদিনের আশায়
শক্তপোক্ত বাঁধন দাও ভালোবাসার গাঁথায় ।
সম্পর্ক বাঁধা থাকে বিশ্বাসের সুতোয় ,
ভালোবাসা দৃঢ় হয় আকাঙ্খার গুতোয় ।
মালার সুতোই তো বেঁধে রাখে কুসুমরাজি,
বাতাস যেমন ধরে রাখে ভাসমান মেঘরাশি ।
বহুমূল‍্যে লভিনু সম্পর্কের এই সুতোর বন্ধন
চিরচিহ্নেরে ছিন্ন করে মিছে করো ক্রন্দন ।
বিশ্বাসের সুতোয় টানো,বাঁধন করো শক্ত
সম্পর্ককে ধরে রাখতে ঝরাও বক্ষের রক্ত ।
অতীতের কিছু সুখস্মৃতি, ছিল অতি প্রতিশ্রুতি,
ফিরে চাও একবার,রাত্রিশেষে আলোর প্রভাতী ।

08.07.17





নাম ও প্রেম
- গোলাম রব্বানী রাশেদ


বাসায় আমায় ডাকে রাশেদ
দাদু বলে রাজা,
বন্ধুরা কয় রব্বানী ভাই
কয়টা তোমার প্রজা?
পড়াই যখন হলেম টিচার
পড়তে গেলে ছাত্র,
নামতো আমার আরও অনেক
কয়েকটা এই মাত্র ।
কদিন আগে প্রেমিক ছিলাম
এখন হলাম স্বামী,
নামের বনে ভ্রমন করে
নাম হলো কম দামী।
নামটা নকল প্রেমটা আসল
এটাই গোপন কথা,
আমরা তো ভাই সবাই গলাই
এই নামেতে মাথা ।
নামে নামে প্রনাম হলো
লাগলো প্রেমে তালা,
নকল নিয়ে বিফল আওয়াজ
শব্দদূষন জ্বালা।
না চাই যদি জ্বলতে রে ভাই
আর নকলের বনে,
প্রেমের জলে গোসল করে
শান্তি মাখি প্রানে।






ঘুম_কাতুরে
#আকাশ_হাসান
.
সারা রাত ঘুম আমার
চড়ে শখের ভেলা
সকাল সকাল চলে আসে
ঘুম রাজার চ্যালা ৷
সকাল গরিয়ে দুপুর গরায়
ভাঙ্গেনা তবুও ঘুম
রঙিন রঙিন স্বপ্নের ভিড়ে
পড়ে স্বপ্ন দেখার ধুম ৷
মা ডাকে উঠরে বাবা
আর কত ঘুমাবি
মুখটি ধুয়ে বস টেবিলে
একটু ভাত মুখে দিবি ৷
কে শোনে কার কথা
স্বপ্ন ডানায় ওরে
আরো কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নেই
খাবার থাকুক পরে ৷
নিঝুম রাতে চিন্তা করি
পড়বো কার প্রেমে
ভোর হতে না হতেই
বন্ধি হই ঘুমের ফ্রেমে৷
স্বপ্ন গুলো আজগুবি হয়
দেখি যা ঘুমের ঘোরে
ঘুম ভাঙ্গে তাই সব পালিয়ে যায়
মনটা আমার পোড়ে ৷

জলকথা
-পদ্মজা ঘোষ

আকাশের কথা পড়ে পাতায় পাতায়।
যত ভার ছিল সব মাটিতে নামিয়ে ,
শ্রান্তি- অবসান বেলা ভরা মমতায়,
ধীরে যায় ওষ্ঠে সোহাগ-চুম্বন নিয়ে।
সবুজ মুখের সুখে ও পারে সাতরঙ,
ধনুবেশে হেসে হেসে করে আলিঙ্গন,
যাদুরঙে পাষাণও সাজেনি কোন সঙ,
রঙীন কথারা সব কবিতা এখন।
কার কাছে কোন্ কথা বলা হলো তার,
জানাজানি হওয়া চাই,কানাকানি তাই।
কাজ ভুলে দুলে দুলে সুখ পারাপার,
এই কটা দিন,শুধু এই পাওয়াটাই।
সব কথা গেঁথে যাবে বর্ণমালায়,
ভালবাসাবাসি হবে ঐ গান গেয়ে,
সব ব্যথা সেজে আছে মর্মডালায়,
সুখ হবে সব এই জলকথা বেয়ে।।

(5/7/17)

ক্ষমা ধর্ম
- প্ৰদীপ মাইতি

সতেরো বছর বড় দুর্বার
লাগাম ছাড়া মুখ,
বোঝেনা ধর্ম, বোঝেনা সমাজ
করে ফেলে ভুলচুক।

শিশু শরীরে যৌবনের সবে
হয়েছে পদার্পণ
শত হরমোন চঞ্চল করে
তরতাজা ওই মন।

ওরা কি বোঝে চারিপাশে আছে
চক্রবুহ যতো,
না বুঝেই তাই ধরা পড়ে যায়
অভিমন্যুর মতো।

ধর্ম তোমার এত পুরনো,
শ্রেষ্ঠ মানো যাকে,
ওই কিশোরের এত শক্তি
ছোট করে দেবে তাকে?

ওতো কিশোর, কচি মন বড়
বোঝেনা মন্দ ভালো।
ওকে মেরে কেনো করো হে মানব
আপন মুখটি কালো।

ভুল করে যদি একটি ফটো
ফেসবুকে তুলে ফেলে,
ধর্ম তোমার ছোট হতে পারে
ঐ কিশোরের ভুলে?

চঞ্চল মন, ভাবুক বড়ই
করেছে না হয় ভুল।
ছোট ভেবে ওকে ক্ষমা করে দাও
তুমিও করোনা ভুল।

ভেবে দেখো, তোমার ছেলেটি
একই ভুল যদি করে,
তুমি কি ভাই, ঠেলে দেবে তাকে
অকাল মৃত্যু ঘরে!

পশুর ধর্ম বধ করা
আর মানব ধর্ম ক্ষমা
পারলে ওকে ক্ষমা করে দাও
দেখিয়ে ধর্ম গরিমা।

একগুচ্ছ থেকে একটি গোলাপ তোমায় দিলাম
-সাকিব জামাল

 

ইলশে গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিলো তখন । মহল্লার চায়ের দোকানে সেই বিকেলে বসে গরম চায়ে চুমুক দিচ্ছিলাম আমি আর সাদিক সাহেব ।সাদিক সাহেব বেশ মজার মানুষ । পেশায় স্কুল শিক্ষক । প্রায়ই তিনি অভিনব কিছু করেন । বিকেলের আড্ডায় সেগুলো বলেন আর হো হো করে হাসেন ।গত শুক্রবারের বিকেলেও তিনি তার অভিনব একটি কাজের কথা শোনালেন - আমি তো অবাক । এমন কাজ করতে গেলে সাহসের দরকার বটে !
সাদিক সাহেবের একটি অভ্যাস হলো প্রতি বৃহস্পতি বার তিনি শাহবাগে যেয়ে জাতীয় গ্রন্থগারে বসে বই পড়েন ।গত বৃহস্পতিবারেও গিয়েছিলেন । বই পড়া শেষ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে আবার তার মাথায় অভিনব কিছু করার ভুত চাপলো । যেই চিন্তা সেই কাজ । তিনি ভাবলেন আজ পায়ে হেটেই বাসায় ফিরবেন । তার বাসা কাকরাইল মোড়ে জোনাকী হলের পিছনে ।
পাঠাগার থেকে তিনি বের হয়ে শাহবাগের এক ফুলের দোকানির কাজ থেকে একগুচ্ছ গোলাপ কিনলেন । গোলাপের গুচ্ছটি হাতে নিয়ে হেটে বাসার পানে রওনা হলেন ।কয়েক কদম হাটার পরে কিছু টিনএজ ছেলেদের আড্ডা দেখতে পেলেন । তিনি ধীরে ধীরে তাদের কাছে গিয়ে একটি ছেলেকে ডাক দিয়ে বললেন- বাবা, একটু কথা বলতে পারি ? ছেলেটি জবাব দিলো - বলেন আংকেল ।
সাদিক সাহেব বললেন- বাবা, তুমি কি ইভ টিজিং করো ?
এ কেমন প্রশ্ন ছেলেটি উত্তর দিলো । ফালতু ।
বাবা রাগ করোনা - মাথায় হাত দিয়ে বললেন সাদিক সাহেব ।
ছেলেটি রাগান্বিত সুরে বললো - না, আমি ইভ টিজিং করিনা ।
সাদিক সাহেব তার হাত থেকে একটি গোলাপ ছেলটির হাতে দিলো আর বললো এটা তোমার জন্য বাবা ।ছেলেটি কেমন যেন লজ্জা পেল । পরে কোমল সুরে বললো- আংকেল, মাঝে মাঝে আমি ইভ টিজিং করি ! সাদিক সাহেব বললেন - হ্যাঁ, আমি কিছুক্ষন খেয়াল করেই তোমার কাছে এসেছি । এখন যে সত্য কথাটি স্বীকার করলে এজন্যই তোমাকে একটি গোলাপ দিলাম ।এই বলে সাদিক সাহেব হাটা শুরু করবেন এমন সময় ছেলেটি বললো - আংকেল, আমি আর কোনদিন ইভটিজিং করবোনা । সাদিক সাহেব ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে ফের হাটতে শুরু করলেন ।
ওভার ব্রিজ পার হয়ে তিনি বারডেম এর পারে এসে দখলেন মটর সাইকেলে বসা কপালে চশমা তোলা এক পুলিশ সার্জেন্ট বসে আছেন পাশে একটি ৮ নম্বর লোকাল বাস দাড় করানো আর ট্রাফিক পুলিশ কাগজ আনছেন ড্রাইভারের কাছ থেকে । কিছুক্ষণ পরেই সার্জেন্টকে ট্রাফিক পুলিশ বললো- বস, সব ঠিক আছে ছেড়ে দিন ।সাদিক সাহেব দেখলেন গাড়িটির কন্টাক্টার আর পুলিশের হাতে একটি হ্যান্ডশেক হয়ে গেল ।ধীর পায়ে সাদিক সাহেব সার্জেন্ট এর কাছে গেলেন, বললেন, স্যার একটু কথা বলি । সার্জেন্ট বললেন - বলেন ।
সাদিক সাহেব বললেন – স্যার, আপনি কি ঘুষ খান ?
সার্জেন্ট রেগে গিয়ে বললেন- না, আপনি কে এই কথা জিজ্ঞেস করার? আপনি কে ? মিয়া, ফাইজলামী করেন !
সরি, স্যার আপনাকে বিব্রত করার জন্য ।
তবে আমার হাতের এই গোলাপগুলো ধরে আবার একটু বলবেন আপনি ঘুষ খান কিনা ।সার্জেন্ট বললেন - সময় নাই, ব্যস্ত দেখেন না ।সাদিক সাহেব বললেন- স্যার আপনাকে অনুরোধ করছি । একটু গোলাপগুলো ছঁয়ে দেখুন । গোলাপগুলো ছুঁয়ে সার্জেন্ট সাহেব বললেন- হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে ঘুষ খাই, খেতে হয় ! সাদিক সাহেব মৃদু হেসে একটি গোলাপ দিয়ে বললেন - সত্য বলার জন্য এই গোলাপটি আপনার জন্য । হাটতে শুরু করলেন সাদিক সাহেব কিছুদুর যেয়ে পিছন ফিরে তাকালেন, দেখলেন সার্জেন্ট তার দিকে তাকিয়ে আছেন - চোখে মুখে অপরাধবোধ আর অনুতাপের ছাপ ।
ধীর লয়ে হাটতে হাটতে তিনি মৎস্য ভবন মোড়ে এসে রমনা পার্কের কাছে একটি মায়ের দোয়া ফুসকার ভ্যান দেখে দাড়িয়ে গেলেন । দোকানটিতে পার্কে ঘুরতে আসা মানুষের ভির ছিলো বেশ । সবাইকে দোকানি ফুসকা, চটপটি, নুডুলস্ দিয়ে সামলাতে কষ্ট হচ্ছিলো । সাদিক সাহেব দোকানির কাছে গিয়ে বললো- একটু কথা বলতে পারি ? ছেলেটি কাজ করতে করতে জবাব দিলো - বলেন ।
সাদিক সাহেব বললেন – বাবা, তুমি যে নাস্তাগুলো লোকজনকে খাওয়াচ্ছো তা কি ভেজালমুক্ত, রাসায়নিকমুক্ত ? বাসি-পচা কিছু নেইতো ?
কাস্টমার নষ্ট কইরেন না তো মেয়া পাঁচ বছর ধরে এক জায়গাতেই বিক্রি করছি কেউ কোনদিন কিছু কয় নাই ! আমনে আইছেন কোনহান থেইকা ?- ছেলেটি বললো ।
সাদিক সাহেব ফুল এগিয়ে দিয়ে বললেন এটা ধরে তারপর বলোতো ! আবার তোমার দোকানের নাম মায়ের দোয়া সেটাও মনে রেখ !
ছেলেটি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললো- সব খাটি কই পামু ! আগের দিনের তা না মেশালেতো লস হইবো ।
সাদিক সাহেব ছেলেটিকে একটি গোলাপ দিয়ে বললো - বাবা হিসেব করে তৈরি করবে । আর স্বাস্থ্যকর খাবার মানুষকে দিবে । তাহলে ব্যবসার সাথে সওয়াবও পাবে । সত্য কথা বলার জন্য এই গোলাপটি তোমাকে দিলাম ।
হ, ঠিক আছে কাকা, আর পাপ করতাম না । ছেলেটির মুখে একথা শুনে সাদিক সাহেব আবার বাসার দিকে হাটা দিলেন ।
শিল্পকলা একাডেমীর সামনে এক অভিনেতাকে দেখে আবার থামলেন তিনি । অনেকক্ষণ আলাপ করলেন দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি নিয়ে তার সাথে । কথার শেষ পর্যায়ে অভিনেতা বললেন আপনার হাতে গোলাপ কাকে দিবেন - ভাবীকে নাকি ?
না, না, আপনাকে দিবো একটি ।
কেন?
যদি আমার একটি প্রশ্নের সত্যি উত্তর দেন !
কি যে বলেন - আমি আবার মিথ্যা বলি নাকি ?
তাহলে বলুন - আপনি কি সত্যিকার চান দেশিয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটুক ? নাকি ব্যবসাই চান শুধু !
চাই আমার দেশিয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটুক ।- অভিনেতা বললেন ।
সত্যি । তাহলে এই গোলাপগুলোকেও শুনিয়ে দেন সে কথা ।
অভিনেতা হেসে বললেন - ব্যবসা না করলে খাবো কি শুধু আবেগ দিয়ে চলে !
সাদিক সাহেবও হেসে দিয়ে বললেন সত্য বলার জন্য একটি গোলাপ আপনায় দিলাম ।
অভিনেতা বললেন- গোলাপটি হাতে নিয়ে, সাদিক সাহেব আমাকে আজ আপনি শিক্ষা দিয়ে গেলেন । আপনার প্রতি শ্রদ্ধা ।
হেসে দিয়ে- উঠি বলে হাটতে লাগলেন সাদিক সাহেব ।
খানিক পথ হাটার পরে একটি শপিং মল দেখে ঢুকে পড়লেন মাস্টার সাহেব । চলে গেলেন ম্যানেজার সাহেবের কাছে । সালাম দিয়ে বললেন - আমি কিছু কিনতে আসিনি আপনাকে একটু ডির্স্টাব করতে এসেছি ! ম্যানেজার বাকা চোখে তাকিয়ে কসটেপ মাখা হাসি দিয়ে বললেন- কি করতে পারি আপনার জন্য ? সাদিক সাহেব বললেন - আমার জন্য নয় ভাই আপনার জন্য কিছু করতে আসছি আমি ।
ও, আচ্ছা , বস, বলেন তাহলে ।
আপনারা কি ভ্যাট - টাক্স সরকারকে ঠিকমত দেন ?
অবশ্যই । কেন দিবো না । না দিলে ব্যবসা করা যায় !
তাহলে ক্রেতাদের রিসিট দিচ্ছেন না কেন ?
ও আপনি বুঝবেন না !
সাদিক সাহেব বললেন - বুঝিরে ভাই । আপনি আমার হাতের গোলাপ ছুয়ে বলুনতো- আপনারা কি ভ্যাট - টাক্স সরকারকে ঠিকমত দেন ?
ম্যানেজার সাহেব লজ্জা মাখা মুখে বললেন- ব্যবসার স্বার্থে কিছু ফাঁকি দিতে হয় ।
সাদিক সাহেব একটি গোলাপ ম্যানেজার সাহেবকে দিয়ে বললেন - এটা আপনার জন্য । সত্য স্বীকার করাতে । ম্যানেজার এবার আরও লজ্জা পেয়ে বললেন- জানেন, আমার একটি মেয়ে আছে ওকে আমি প্রায়ই গোলাপ দেই । আজ আপনি দিলেন আমাকে । আপনার কাছে আজ ওয়াদা দিলাম আর ভ্যাট বা টাক্স কখনো ফাঁকি দিব না ।
সাদিক সাহেব প্রশান্ত মনে শোরুম থেকে বের হলেন । বাসার প্রায় কাছেই চলে আসছেন । হাতেও আর গোলাপ আছে দুটি ।
হঠাৎ কাকরাইল মোড়ে তার এক গণিতের শিক্ষক বন্ধুর সাথে দেখা । দোস্ত বলে দুই বন্ধু কোলাকুলির পর্ব সেড়ে নিলো । গনিতের শিক্ষক বললো- দোস্ত, তোমার হাতে ফুল ? কাকে দিবে ?
তোকে দিবো তবে শর্ত আছে !
কী শর্ত?
আগে বলো মনে কিছু করবে না । আচ্ছা, করবো না ।
প্রাইভেট পড়ানোর আশায় তুমি ক্লাসে ফাঁকি দাও ।
না, না, ঐ কাজ আমি করি না ।
সাদিক সাহেব তার বন্ধুকে একটি গোলাপ দিয়ে বললো এবার বলো !
গণিতের বন্ধু লজ্জা পেল বেশ । বললো- দোস্ত, আর কাউকে বলো না । আমি আর কোনদিন ক্লাসে ছাত্রদের ঠকাবোনা । আচ্ছা, গোলাপটি তুমি নিয়ে যাও । অন্যদিন কথা হবে, খাওয়া হবে । আজ রাত অনেক হয়েছে । বাসায় ফিরবো ।
আর একটি গোলাপ আছে । কাকে দিবেন ভাবতে লাগলো সাদিক সাহেব । বাসার কাছেই চলে আসলেন হাটতে হাটতে । তারপর ভাবলেন- এই গোলাপটি তিনি তার ডাক্তার মেয়েকেই দিবেন ।
বাসায় গেলেন । মেয়েকে ডাকলেন । বললেন- সত্য বললে এই গোলাপটি তোমার ।
মেয়ে বললো - বলো বাবা ।
তুমি রোগীদের যত্ন সহকারে দেখ? অহেতুক টেস্ট দাও? শুধু শুধু সময় ক্ষেপণ করো ?
মেয়ে বললো- বাবা, সবাই যা করে আমিও তাই করি ।
যাহোক, মা সত্য বলছো তাই এই গোলাপটি তোমার । তবে আর কখনো এই সব কাজ করবে?
না, বাবা, এই গোলাপটি দিয়ে তুমি আমাকে যে শিক্ষা দিলে -এই গোলাপটি দিয়েই তোমার জামাইকেও আমি এই একই শিক্ষা দিবো !- এই বলে বাবার কপালে চুমু দিয়ে মেয়ে তার রুমে চলে গেলো ।

এতক্ষণে বৃষ্টি থেমে গেছে । আমি ও সাদিক সাহেব যার যার বাসার দিকে রওনা হলাম । আর আমি ভাবতে লাগলাম - সমাজের বর্তমান অবস্থায় সাদিক সাহেবের মত লোক দরকার । সাদিক সাহেবের মত লোক দীর্ঘজীবী হোক আর সবাই গোলাপকে ভালবাসুক ষৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থণাই রইলো ।

নাড়ির টান
- গোলাম রব্বানী রাশেদ

ঈদ এসেছে তাই ছুটেছে
সবাই বাড়ির পানে,
আর হলে সব বাইরে ব্যাপক
এখন নাড়ির টানে ।
পেটের দায়ে সবাই ছোটে
কাজ আছে যার যেথা,
বছর জুড়ে কাজের সুরে
থাকছে সবাই সেথা ।
ঈদ আসে যেই খুব মনে সেই
আপন দেশের কথা,
সব গুছিয়ে বন্ধ করে
রোজগারের ঐ খাতা ।
ফিরতে বাড়ি বাস বা ফেরি
যার যেটা ভাই জোটে,
জ্যাম কি বা ভীর ধীর বা অধীর
সে সেটাতেই ওঠে ।
এটাই তো টান খোঁজায় আপন
সকল মানব মনে,
তাই ছুটে যায় সবাই সেথায়
আপন নাড়ির টানে।

এমনতো প্রেম হয়
- সাকিব জামাল

তৃষ্ণার্ত চাতক উড়ন্ত বেশে পড়লো প্রেমে সাগর জলকণার
জলকণা বলে - অপেক্ষা করো আমার মেঘ বালিকা হবার ।
অত:পর প্রহর শুরু অপেক্ষায়-
চাতক ওড়ে, প্রার্থণা করে, বলে- আমি জ্বলি ক্ষতি নেই তায়!
সূর্য তুমি বাড়াও তোমার আলোক
তবুও আমার প্রেমের জলকণা দ্রুত মেঘ বালিকা হোক ।
খরতাপে জলকণা পেল মেঘবালিকার বেশ
বয়ে এসে পবন বলে চলো- দুর পাহাড়ের দেশ ।
চাতক প্রেমে মেঘ বালিকা অসহায় তাকিয়ে রয়
মনে ভাবে- নিজে হবো ক্ষয় ।
সেথায় যেয়ে বৃষ্টি হবো
চাতক যেথা রয় !
হঠাৎ করে শীতল হাওয়ার বান
মেঘ বালিকা বৃষ্টি হলো চাতক করে পান !
খুশি মনে চাতক ওড়ে,
জলকণাকে ফের মনে পড়ে,
এমন সময় কোথা থেকে ভেসে আসে দৈবিক সুরে গান-
“তোমার হল শুরু, আমার হল সারা”–শুনে চির দু:খে কাঁদে চাতকের মন প্রাণ ।

বৃষ্টি ঐ কৈশরে
- সাকিব জামাল

নদীর জলে দিয়ে ডুব, পেতে কান
ভালো লাগে শুনতে বৃষ্টির গান ।
ছোট্ট ছোট্ট ডুব আর অল্প অল্প গান
মাততো কৈশরে আনন্দে এই প্রাণ ।
হাডুডু,ফুটবল খেলে কতো কাদা মাখামাখি
বন্ধুদের হৈ হুল্লোর হৃদয়ে দিয়েছি রাখি ।

এ তো গেল দিনের কথা, রাতের কথা বলি-
টিনের চালে কি মধুর তার নৃত্য-পদাবলী !
তারই মোহে, উথালিয়া প্রেমে মোর মন -
জেগে রইতো ঐ কৈশরে, পারে যতক্ষণ ।
ঘুমের পরী নামলে চোখে- বৃষ্টি ভেজা রাতে
ঘুম পড়ানিয়া গান ছিলো সে নৃত্যের সাথে ।

এখনও বৃষ্টি হয় ! ধরার বুকে আসে রাত দিন –
ফিরতে পারিনা আর ঐ কৈশরে ! ঐ সময়-বিলীন !
ছুটেরে, মন ছুটে, আকাশ মেঘে ঢাকে যখন
ডাকে বৃষ্টি মোরে, ডাকে ঐ কৈশরও -তখন !

হয়েছে সময়
- পদ্মজা ঘোষ

আজ কিছুতেই অন্য কথা নয়!
আকাশ কাঁদছে অঝোরে,
তোমায় কথাটা বলা হয়নি ব'লে।
বলবো বলবো ভেবে বলিনি এখনো,
কতবার বাতাস করেছে আসা যাওয়া,
আলতো ছোঁওয়ায়,ঈশারায়,
চেয়েছে কতবার বোঝাতে,
"এখনি বলো,নষ্ট করো না সময়।"
না বলার ব্যথা, বাতাসের হাত ধ'রে
গেছে আকাশের কাছে, পেতে আশ্রয়।
যত্ন ক'রে ঐ ব্যথাকে রেখেছে সে,
তারই চোখের গোপন ঘরে,
সহস্র ব্যথা জ'মে ছিল মেঘ হ'য়ে যেখানে।
আজ ছাড়িয়েছে অপেক্ষার সীমা।
বাতাসের ছোটাছুটি,পাতাদের মাখামাখি
দেখে ভেঙে গেল বাঁধ,ব্যথা ঝরানোর সাধ
বাধা মানেনি আর,তাই এতো কান্না!
জানি না কেন আজ,আমারো নেই লাজ,
বলতে তোমায় সেই কথা,
আজই বুঝি বলার হয়েছে সময়।।

একদিন ভেঙে যাবে সব
- সমরেশ হালদার

ভাঙবে একদিন সব কিছু
সকল ভেদাভেদ, উচু-নিচু
কান্না-হাসি কলবর
থামবে এ চলা, কথা বলা
মুছে যাবে সব সাদা-কালা
উজ্বল অবয়ব
জীবন ভাঙা জীবন গড়া
ঘিরে ধরবে এসে ব্যাধি-জ্বরা
থেমে যাবে সব সাজ
আশা-যাওয়ার এই যে খেলা
অফুরান এ মিলন মেলা
ফুরাবে সব কাজ
একদিন থেমে যাবে উৎসব
বিরাট এই পৃথিবীর
অনুখন অনুভব
তোমার আমার সব সীমানা
ভাঙবে রেখা দাড়ি টানা
যা কিছু অসম্ভব।

03/07/2017

এলোমেলো সব
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

দু'চোখের পাতা শুধুই ভেজা ,
বাইরে পাল্লা দিয়ে বাদলের ধারা ,
ভিজে যাচেছ সমস্ত বাতাস !
কালবৈশাখী ছোট বড় গাছ উপড়ে ফেলছে ,
ক্ষতবিক্ষত মন শূন্যতায় হাহাকার ,
যে বাতাসে তোমার গায়ের গন্ধ পেতাম -
সেই বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে আজ কষ্ট হয়,
কেউ যেন গলা টিপে ধরে -
আমার শ্বাস-প্রশ্বাসে বাঁধা সৃষ্টি করছে !



@নন্দা 30-6-17 12AM

জানালার কাঁচে বৃষ্টি শালিক

হলিহক মোড়া গাছ কাঁটা হয়ে ফুটেছে ছাদের গায়ে

বৃষ্টির আদরে হলুদ পরাগ গেছে ধুয়ে

আমার পর্দা ওড়া অন্ধকার এখন ভিজে ঠাণ্ডা

কবিতার বই চায়ের কাপে সেঁক নিচ্ছে

আজ গলির ভাঁজে মুষলধারে বৃষ্টি

ঘুম ঘুম চাদর চুল ছড়িয়ে শীত নিচ্ছে দ্বৈপায়ন হ্রদের মাঝে

সাদা প্লেট চাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির এক কোণে

চুমুক ভোলা ঠোঁট বসে উদাসীন এক শহরে

নীলচে ডগা হাতের তালু ভেজাচ্ছে দাঁড়িয়ে এক শেষে

পকেট ভর্তি লাল মরসুমি গুলমোহর

অচেনা গানের খাতা আলমারির রাতে

দিগন্তহীন প্রশ্ন বর্ষা জমির মাঝে

বিবর্ণ সবুজ পাতার ভাঁজে ভাঁজে বসে

শিহরন আছে আজও রাত জাগা ঘুমে

শেষ জোটে উড়ন্ত মেঘে চির জলকণা আসে।


  1. ***** প্রবাস জীবন *****
    মো: তারেক আনোয়ার কিরন সিদ্দিক


মা আমি বড় যন্ত্রনায় আছি
মরে গেছি একা হয়ে নিশ্বাস বলে বেচে আছি
প্রবাস জীবন মা হয়তো অর্থ প্রাচুযে ভরা; তবু
আছে সুখের অভাব আর তোর স্নেহের খরা
রোজ সকালে মা তোর ডাকে ঘুম ভাংে না
ভাংবে কি মা তোকে ভেবে ঘুমই আসে না

মনে পড়ে শুধু তোর কোলে মাথা রাখার কথা
কে আপন হয় তোর মতো বলবো মনের ব্যথা
তোর কথা মনে হলে আমার নয়ন ভিজে যায়
ভাত দে মা বলি কারে যখন খিদে পায়?

নিজেই রান্না করতে শিখে গেছি প্রায়; হয়তো
কখনো লবন কখনো মরিচ বেশি হয়ে যায়
মুখটা দেখে কেউ বলেনা চেহারা দেখেছিস
না খেয়ে না দেয়ে কেমন শুকিয়ে গেছিস

ওই মন মরা হয়ে বসে আছিস কেনো?
হঠাত মনে হয় পেছন থেকে বললে যেন
পেছন ফিরে দেখি একা আমি রয়ে যাই
না পেয়ে তোকে মা শুধু কেঁদে যাই

কাদিস না বলে কেউ চোখেরজল মুছেনা
এখানে মা কেউ কাউ কে বুঝেনা
নিজের হাতেই চোখেরজল মুছতে থাকে
একবিন্দু সুখের জনমায়ে্য সবাই ছুটতে থাকে

বড় অভাগা জীবন তাদের যারা প্রবাসে থাকে
তোর আচলে যারা তারাই স্বর্গ সুখে থাকে
মা আমি আবার তোর আচলে আসতে চাই
যতোদিন বাচি বাচার মতো বাচতে চাই

দিয়েছেন খোদা শ্রেঠতা প্রতিটি মায়ের হাতে
দোয়া করিস মা প্রবাসি সবাই যেন থাকতে পারে
তাদের মায়ের সাথে..............

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget