জুন 2017

******* বৃদ্ধাশ্রম *******
মো তারেক আনোয়ার কিরন সিদ্দিক

মাগো ও মা বলে কাটাতো সারাটি বেলা আচল
ছেড়ে আমার যেতো না সে খেলতে কোনো খেলা
কখনো জেদ করে বলতো নিজ হাতে খাইয়ে দে আমায়
কখনো বলতো দে মা ক'টা টাকা লাগবে আমায়
চুপি স্বারে বলতাম দেখ গিয়ে টাকা আছে ও ঘরে
আরও আছে হাজার কথা মানুষ করেছি কতো আদরে
শত রাত জেগেছি খোকা আমার ভুগেছে যখন জ্বরে
আজও জেগে জেগে কাদি এই বৃদ্ধাশ্রম ঘরে
শীতের রাতে গিয়ে দেখতাম তার গায়ে কম্বল আছে কিনা?
জানার আজ নেই সময় তার মায়ের কোন সম্বল আছে কিনা?
না খেয়ে ঘুমানোর কারন জানতে শুনেছি কতো ঝারী
কখনো আসেনি বলতে মা খেয়েছো? ছেড়া কেন শাড়ী?
আমি খুশী
ছেলে আমার এক কাপড় দুবার পড়ে না
আমার না হয় বাদ তার বাবার কথাও মনে পড়ে না?
মাঝে মাঝে বলতাম ছেলেকে তুমি মাথায় তুলছো
উত্তরে বলতো আমার এক ছেলে হাজার ছেলের সমান ছেলেই তো সম্পদ তুমি কেন ভুলছো?
সেই বাবাই কথা বলতে শিখিয়েছে; শিখিয়েছে পথ চলা হাত ধরে
আমাদের স্বার্থ হীন ভালবাসা ভুল নাকি ভুল ছিল আদরে?
আমি মা বোকা হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে হাস্তে জানি
নয়ন আমার ভিজে যায় দেখি যখন তোর বাবার চোখে পানি
ছেলে আমার সুখে আছে জেনে সুখ পাই; তবু একটা ভয় থেকে যায়
পারবে কি খোকা সইতে সন্তানো যদি তার বৃদ্ধাশ্রমে রেখে জায়
আমরা তোর জন্মদাতা অভিশ্বাপ দিবনা কোনদিন
আজ ও দোয়া করি খোকা আমার সুখি থাক চিরদিন

সত্যি বলছি
- মো: তারেক আনোয়ার
কিরন সিদ্দিক

সত্যি বলছি ভালবাসার কোন ইচ্ছে ছিলনা
চেয়েছিলাম তোমার চোখের গভীরতা জানতে
বুঝতে পারিনি হারিয়ে গেল মন,মনেরই অজান্তে

সত্যি বলছি রাত জাগার কোন ইচ্ছে ছিলনা
চেয়েছিলাম কিছু সুখের স্বপ্ন সাজাতে
বুঝতে পারিনি পড়ে গেলাম শ্যাম বালিকার মায়াতে

সত্যি বলছি পাগল হওয়ার কোন ইচ্ছে ছিলনা
চেয়েছিলাম তোমায় ভেবে কিছু সময় কাটাতে
বুঝতে পারিনি আসবে জোয়ার মনের ভাটাতে

সত্যি বলছি বাগান করার কোনইচ্ছে ছিলনা
চেয়েছিলাম ঘ্রান নিতে একটি গোলাপের
বুঝতে পারিনি বাগান করে নিব অসংখ্য গোলাপের

সত্যি বলছি আপন করার কোন ইচ্ছে ছিলনা
চেয়েছিলাম তোমায় নিয়ে কিছু পথ হাটতে
বুঝতে পারিনি মন চাবে তোমার বুকে মাথা রাখতে

সত্যি বলছি কবিতা লেখার কোন ইচ্ছে ছিলনা
চেয়েছিলাম কিছু শব্দ তোমার জন্য লিখতে
বুঝতে পারিনি সময়ই লাগলো না ভালবাসা শিখত

জুলুম
- কাঞ্চন চক্রবর্তী

বর্জ্র কন্ঠে আওয়াজ তোলো
ভাঙো জুলুমের হাত,
মজলুমের রক্ত চোষে যারা
হোক তাদের নিপাত।
.
গরীবের রক্তে পাঁচতারা হোটেলে
সকালে করে নাস্তা,
মজলুম জনতার সকালের খাবারে
মরিচ ভাঙা পান্তা।
.
শ্রমিকের ঘাম পায়না দাম
নেই উচিৎ মূল্য,
তবু মনে ভাবে মনিব
সেতো দেবতা তুল্য।
.
ন্যায্য অধিকার থেকে আমরা
প্রতিদিন হচ্ছি বলি,
ফোটার আগে যাচ্ছে ঝরে
নাফোটা কতনা কলি।
.
সভ্য সমাজ ফিরিয়ে দাও
আছে যত পাওনা,
আমাদের গায়ে ছেড়া জামা
তোমাদের শরীরে গহনা।
.
বিচার যদি করো প্রভু
ন্যায্য কেন করোনা,
যতটুকু মোর পাওনা হক
তাওকি দিতে পারোনা।

কাঞ্চন চক্রবর্তী
সময় দপুর ১টা
তারিখ ২৭/০৬/২০১৭ইং
রোজ মঙ্গলবার

চেনা স্বর খুঁজি
- রণজিৎ মাইতি

হাজারো কলরবে--
কানে আসে একটাই রব
অনেক দিনের চেনা
অশ্লীলও ভেসে ভেসে আসে
ইথার সমুদ্র বেয়ে কর্ণবিবরে
সে শব্দ ছুঁড়ে ফেলি জঞ্জালের স্তূপে
চেনা স্বর জাগায় রোমাঞ্চ
আছে স্নেহ,আছে শ্রদ্ধা
ভালোবাসা ছাড়া কি এসব মানায়?
জানি বাকি সব অনুসঙ্গ আপনাতে আসে
তাই হাজারো কলরবে--
চেনা স্বর খুঁজি

(21-06-2017)

অচীনপুর
- যুথিকা চক্রবর্তী

কবে কার এক খেয়াল
যেন আজ চেতনায় সামিল,
বসতি আমার বাস্তবেতে
রোজ একই মেহেফিল,
.
ঈদের চাঁদ দেয় না দেখা
ঘিরে থাকে কালিমা
সন্ধিক্ষণ বিবেচিত হয়
ক্ষনিকের দ্রাঘিমা।
.
অপেক্ষা আজ গর্ভবতী
আশা হীনতায় ভাষা----
চঞ্চল হল মনের বাসর
অচেতন ভালোবাসা,
.
তোমার-আমার সম্পর্ক
সদ্যজাত প্রাণ,
বয়ে বেড়াক জীবন জুড়ে
সমবেদনার ঘ্রান------
.
একই ভাবনা বসতি সাজাক
সহানুভূতি জুড়ে-----
সুখ--দুঃখ গড়ুক না হয়
বলয় অচীনপুরে।

(25/6/17)

অস্ফুট
- দেবযানী গাঙ্গুলী

দীর্ঘশ্বাস দিগন্ত ছুঁয়ে যাক
অপেক্ষা যেন প্রহর গোনে না রোজ,
মুখাবয়বের পরিচিত সব রেখা
স্মৃতির গভীরে কুঞ্চিত হয়ে থাক ।
না বলা কথার উৎসমুখেরা চুপ
নিদাঘে চাতক খুঁজে মরে তৃষাজল,
দূর বহুদূরে মুছে গেল কোলাহল
ছদ্মজীবন একাকী গদ্যরূপ ।

ভালোবাসা ও ভিন্ন প্রসঙ্গ
- মোশ্ রাফি মুকুল

যদি-
তোমাকেই দিতে হয় আবগারি শুল্ক-কর
তোমাতেই যদি হতে না পারি নির্ভার-
যদি তোমাতেই না করি সীমাহীন প্রত্যাশা,
সখি সে কেমন ভালোবাসা?
নিপা মোনালিসা
হয়ত'বা তুমি জানোনা-
ভালোবাসা নয় রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের কোন লোভাতুর ব্যবসা!
একাবিংশের আগেও এই উপ মহাদেশে চলেছে স্বাধীনতা নিয়ে ছিনিমিনি-
আদর্শের বিকিকিনি,
নীলকরী শোষণ,বেঈমানি তোষণ-
তারপর লাল রক্তগঙ্গা বেয়ে এই বদ্বীপে নেমে আসে স্বাধীনতা
আমাদের প্রেমময় এইসব সবুজ চরে।
তবু ভালোবাসা আসেনি
আমাদের সম্পর্কের এ লৌকিক ঘরে!
তাইতো আজও অনেকে সেই পুরনো প্রশ্নটাই বারবার করে-নতুন করে,
সখি 'ভালোবাসা কাকে বলে'।

উৎসের সন্ধান
- রণজিৎ মাইতি

আলোর পথ ধরে--
এখন উৎসকে খুঁজি
উৎসও পথে পথে বাঁকে বাঁকে--
রেখে যায় ছায়া
সে ছায়া কেমন ছায়া !
তাকে ছোঁয়া যায় ?
তবে রেখে যায় কিছু রং--
যে রঙে সবুজই তো বেশী
কখনো কি হলদে দেখিনা !
জানি কিছু রং চিরন্তন--
তাই দেখেও দেখিনা

(15-06-2017)

স্মৃতি মেদুর
- শংকর ব্রহ্ম

পুরনো সেই দিনের কথা
কজন রাখে মনে
যখন ছিল ভালবাসা গোপনে নির্জনে
ছুটতো তখন ফাগুন হাওয়া নিঃস্ব বনে বনে
পুরনো সেই দিনের কথা কজন রাখে মনে ?
আনন্দে এই জীবনটাকে কাটাতে যদি চাও
ভালবাসার কাঁটার মুকুট মাথায় পরে নাও |
পুরনো সেই দিনের কথা ভুলতে পারা যায় ?
মনের মধ্যে স্বপ্ন সে সব এখনও গান গায়
হয় তো তা আর কোনকালেই হবে না পুরন হায়
তবুও তার আবেগ যেন , দুকূল ছাপিয়ে যায় |
পুরনো সব দিনের কথা ভুলতে যারা চায়
তারা না হয় ভুলেই থাকুক , তোমার কিবা দায় ?
সে সব দিন মণিকোঠায় স্মৃতি হয়ে আছে
পুরনো সেই দিনের আবেশ মনের মধ্যে নাচে |
সে সব নিয়ে নাড়াচাড়ায় আজকাল যে কাটে
হয় তো হৃদয় স্মৃতি মেদুর আপনা থেকে ফাটে |

23 / 06 / 2017
কলকাতা ,ভারত

রাজী-অরাজী
- সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

ভালবাসা ঝড়-জল-বর্ষায় বহু গঞ্জনা সয়ে
এখন নাকি রাজী অগস্ত্য-যাত্রায় !
এমন যাত্রার সম্ভাবনায় হৃদয়ের তোলপাড় কি
থামবে খুব সহজে ?
থামে না, থামে না—নিঃশ্বাসে জানি অক্সিজেনের
রসদও ক্রমহ্রাসমান !এতকাল পরে কুশীলবরা
নাম-না-জানা বোধের ভেতর থাকে দোদুল্যমান !
জরুরী তাপ-উত্তাপে ঔরসের দিলখোলা আয়োজন
তখন রয়েছে হিমাঙ্কের নীচে মেরুর দুনিয়ায়—
সেখানে ভালো লাগার ওম হারায় ইন্দ্রজাল,
সেখানে পেলব অন্তরের আকুতিও বড় মূল্যহীন |
ফিরে এসো ভালো মনটির ভালো বাসা
তুড়ি মেরে জঞ্জাল-ভ্রূকুটি,
নুয়ে পড়া জীবনের পাশে বেঁচে থাকার শপথ নিলে
দিনগুলোও হয় দ্যুতিময় পড়ন্ত মানসে |
ভালবাসা ঝড়-জল-বর্ষায় নানা গঞ্জনা সয়েও
এবার অরাজী অগস্ত্য-যাত্রায় !

বাগানের ফুল
- শংকর ব্রহ্ম

দেখেছি বাগানে ফুটেছে ফুল কত
মানুষের মতো ,
সব ফুল লাগে না তো দেবতা-পূজায়
কিছু ফুল অকারণ ঝরে যায় ,
পড়ে থাকে গাছের তলায়
হেলায়-ফেলায় |
মানুষ , দেবতা ভেবে যে সব মানুষ
একান্তে নিজেকে বিলায় মানব-সেবায় ,
নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়
তাদের আমরা বলি মহান পুরুষ |
আমাদের অনেকেরই নেই কোন মান
নেই কোন হুঁশ ,
কবে যে সকলে হব সফল মানুষ
পৃথিবীর কাটে আজও তার প্রতীক্ষায় |
বাগানে ফুটেছে ফুল কত , মানুষের মতো |

19 / 06 / 2017
কলকাতা , ভারত

প্রেম ও গেম
- গোলাম রব্বানী রাশেদ

মানুষ হলো মনের রাজা
ভালোবাসার কল,
এক তো জিনিস তবু শুনিস
ভিন্ন তাদের দল ।
কারও আশা ভালোবাসা
ধারন করে প্রেম,
কেউ বা করে স্বার্থনেশা
নাম দিয়ে যায় গেম ।
বলি তো ভাই ভালোবেসে
আমার আপন জন,
পায় কি রে ভাই সেই প্রিয়জন
তোমার প্রেমের বন ?
ভালোবাসি বললে যদি
ভালোবাসা হয়,
হতেই পারে স্বার্থনেশা
প্রেম কদাপি নয় ।
প্রেমের ত্বরে মরে মানুষ
গেমের ত্বরে নয়,
তাই তো শুনি চিরকালেই
প্রেমের গানের জয়।

ঈদের শেষে
- সাকিব জামাল

ঈদের শেষে খানিক পরে
ভুলিস নারে মন
জেগেছিল সবার তরে
যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ।
ভালোবেসে রাখিস ধরে
আজকের দিনের ভাব
ধনী গরিব ভেদাভেদ হীন
এ সময়টুকুর ছাপ ।
ঈদের শেষেও থাকুক মম
এ আত্মার বন্ধন চিরদিন
পুরো বর্ষ থাকুক হর্ষ
দু:খ করে লীন ।
ভালোবেসে থাকরে মন
সদা আজকের ন্যায়
বয়ে যাক শান্তির বাতাস
তব তামাম দুনিয়ায় ।

ঈদের সাজ
- সাকিব জামাল

নতুন পোশাকে সাজাবে দেহ
মন সাজাবে কেমন করে ?
সাজাবে কি তারে ভালোবাসায়
তব বিশ্ব মানবতার তরে ?
.
এক দিন নয় সাজাও প্রতি দিন
শুভ কামনায় তোমার মন ।
মনের সাজে অশুভ হবে দূর
তবেই সফল ঈদ কল্যান চিরন্তন ।

ঈদ
- সাকিব জামাল

ঈদ এলো খুশি নিয়ে, মন আজ মাতলো
আনন্দ আলোয় বিষাদ গেলো, হৃদয় সুখে ভাসলো ।
.
ভুলেছে সবাই আজ ভেদাভেদ, হলো সবাই আপনজন
মানুষে মানুষ ভালোবেসে যেন স্বর্গ রচেছে এ ভুবন ।
.
অহমিকা দুরে ঠেলে ধনী-গরীব আজ এক কাতার
রবকে খুশি করতে- করছে সবাই হৃদয় উজার ।
.
সারা বছর এমন আনন্দে যেন কাটে সবার জীবন
এই আশাতে মুসলীম উম্মাহ করছে ঈদ উদযাপন ।
.
ঈদ মোবারক ধ্বনিতে বাজুক সদা সুখের সুরের ব্যঞ্জনা
সফল হোক মানব সকল, কেবল আল্লাহর রহমতই আজ কামনা ।

অসংগতি

- কাজী জুবেরী মোস্তাক


সমাজের এই অসংগতির  সাথে

ছুটে চলেছি আদিম কাল থেকে ,

সিন্ধু যুগ পেরিয়ে আজ বর্তমানে

তবুও অসংগতি ভরা এ সমাজে ৷

বিবেক মনুষ্যত্ব সব হারিয়ে যাচ্ছে

আর হাহাকার সবেতে পুর্ণতা পাচ্ছে,

কেউবা উঁচু অট্টালিকায় বাস করে

কেউ ফুটপাতেও জায়গা খোঁজে ৷

স্বল্প বসনে ওরা অত্যাধুনিক হয়েছে

কেউ জোড়াতালিতে শরীর ঢাঁকছে ,

ডাস্টবিনে কেউ আহার খুঁজে মরছে

কেউ ভাব দেখিয়ে অন্ন ফেলে দিচ্ছে ৷

সতীত্ব বিক্রি করে অন্ন যোগান দিচ্ছে

কেউ শখের বসে সবই বিকিয়ে দিচ্ছে ৷

হা!!!আমরা নাকি সভ্য আজ সমাজে

কতো রুপ আজ  অসংগতির সমাজে

দেখি সব চোখ মেলে বলতে মানা মুখে ৷

*কঠিন অঙ্ক * (নন্দা মুখার্জী ) 22.6.16
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
সন্ধ্যা তুমি এসেছো দ্বারে ,
তোমায় প্রদীপ জ্বেলে ;
বরণ কোরে নিলাম ,
নুতন সূর্য উঠবে যখন ,
হাসি মুখে বোলবো তোমায় ;
এবার তবে বিদায় জানালাম /

এমনি কোরেই সকলের জীবনে ,
আসে সন্ধ্যা ও সকাল ;
অন্ধকারেই ভীত যে মোরা ,
আলোর যে বড়ই আকাল /

যেমন কোরে সূর্য হাসে ,
ঐ পূব আকাশে ;
তেমন কোরেই যায় সে চলে ,
থাকি ভোরের আশে /

এমনি কোরেই জীবনের সব ,
করিনাতো হিসাব- আলো আর আঁধারের ;
আঁধার দেখেই ভয়ে মোরা ,
মিলাতে পারিনা অঙ্ক জীবনের /

জীবনটা বড়োই জটিল মোদের ,
কঠিন অঙ্কের মতো ;
একটুখানি ভুলের মাশুল ,
সারাজীবনে কোরে দেয় গভীর ক্ষত /

কেউবা সে আঘাত সারাতে পারে ,
ভালোবাসার বিনিময়ে ;
কারওবা চলতে হয় -
সারাজীবন অভিনয়ে /

হয়তোবা কেউ আঘাত পেয়ে ,
ধর্য্য ফেলে হারিয়ে ;
জীবনটাকেই শেষ কোরে দেয় ,
আঘাতের বিনিময়ে /

কিছু মানুষ আছে ,
প্রতিহিংসা পরায়ণ ;
আঘাতের বিনিময়ে-আঘাত দিয়ে ,
কোরে নেয় লিপ্সা সাধন /

আলো আর আঁধারের ,
প্রভেদ মোরা বুঝতে পারিনা আজও ;
তাই বুঝি মোরা-জীবনকে কোরে ফেলি ,
জটিল অঙ্কের মত /
(নন্দা ) 22.6.16
7PM.

বাবা


সুশান্ত হালদার


বাবা শব্দটি আসলে শব্দ হিসেবেই শিখেছি ছোটবেলা থেকে,
বাবা আমার গত হন, ৫ বছর বয়সে রেখে
পাইনি বাবার আদর, স্নেহ-ভালোবাসা,মায়া, মমতা
বুঝিনি কখন বাবা-সন্তানকে বুকে নিয়ে
কাকে বলে স্বর্গীয় সেই আদ্রতা,
বাবা তুমি ভালো আছো?
তোমার চেহারা নেই মনে আমার,
তবুও পুরাতণ জামাকাপড় শুকে,
তোমার উপস্থিতি উপলব্ধি বোঝার অপচেষ্টা করেছি কতবার।
হয়ত বাবা তুমি বেঁচে থাকলে আমি হতাম তোমার আদরের,
বাবা তোমাকে বড়ই মিস করি, পাশে দাঁড়িয়ে থাকি তোমার কবরের
বাবা তোমার স্বরণে দেখতে দেখতে কত বছর গেল উড়ে,
সত্যি বাবা বলছি তোমার শত অভিযোগ থাকার পরেও
তুমি আছো আমার সমস্তু হৃদয় জুড়ে।
”পিতা হিসেবে তোমার বাবা ছিলেন আদর্শ”
বলে সকল লোকে;
বাবা তোমারই আদর্শ বুকে নিয়ে চলতে চাই,
তোমারই দেখানো পথে।

কপাল যাদের মন্দ

নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

আষাঢ়ের গগনে জমেছে মেঘ ,
কালো শাড়িতে ঢেকেছে নগর ,
বাদলের ধারা আনবে স্বস্তি,
ফুটপাতবাসীর হবে কঠোর শাস্তি !

ছোট্ট ত্রীপলের ভিতরে যাদের ,
সাজানো গুছানো সংসার !
বৃষ্টির ধারা আর হাওয়ার তাণ্ডবে ,
হবে বুঝি সব ছাড়খাড় !

আদিকাল থেকে প্রকৃতিও যেন -
গরীবের প্রতি কড়া !
সৃষ্টিটাই যেন হয়েছে এমন ,
ধনীর সুখ-গরীবের দুখের থেকেও বারা !

@ নন্দা 20-6-17 9-45PM

 

সোনামনিদের ঈদের খুশি
- গোলাম রব্বানী রাশেদ

চাঁদ উঠেছে চাঁদ উঠেছে
কালকে হবে ঈদ,
খোকা খুকু মুখ খুলেছে
নতুন জামার গীত ।
নামাজ মাঠে যাবে তারা
সেজে নতুন বেশ,
মনে তাদের আজকে থেকেই
লেগেছে তার রেশ।
সেমাই খাবে পায়েশ খাবে
আরও কত কি-
ঘুরতে যাবে ভিন্নজগত
মুখে হি হি হি !
খোকা খুকুর চোখে মুখে
নেইকো খুশির শেষ,
খোকা খুকুর সেই খুশিতে
উঠুক ভরে দেশ।

বাংলার মা
- প্রবীর কুমার চৌধুরী

বাংলার মাটিতে জন্ম আমার ,বাংলা আমার মা ,
বাংলার বায়ু ,বাংলা ভাষার হয়না তুলনা ।
ভোরের হাওয়া ,মায়ের আশিষ ,কোথায় গেলে পাই?
এমন ভাবে মায়ার বাঁধন ,কোন দেশেই নাই ।
এমন আবেগ ,মানবতা ,উদার মনোভাব -
আয়গো তোরা দেখবি যদি স্নেহের উদ্ভাব।
আমার মায়ের দুই চোখে দুই জলের ধারা -
গঙ্গা -পদ্মা ,আছে কোথায় উজ্জ্বল ধারা ,এ্ই দেশ ছাড়া ।
জানিস কি ভাই ,শত্রু এসে কত আঘাত করে ,
ভুল বুঝে সে কখন আবার মোদের প্রেমেই পরে ।
ইতিহাসের পাতায় লেখা কতই না কথা ,
দেখ না খুলে পাতা জুড়ে পাবি অনেক সেথা ।
ভালবাসার মহান মন্ত্র ,বিবেক দিয়ে গেছেন
দেশনেতা সুভাষ চন্দ্র নেতা হয়েই আছেন ।
" সবার বুকেই রবীন্দ্রনাথ ,চেতনাতে নজরুল "
দিয়ে গেছেন প্রেম ,বিবেক ,ভালবাসা ,করিস নারে ভুল ।
এ দেশ তোমার ,এ দেশ আমার ,আমরা ভাই ,ভাই
সবার প্রতি এমন প্রীতি ,আর যে কোথাও নাই ।
একই মায়ের বহু ছেলে ভিন্ন তাদের নাম ,
এক মাটিতে জন্ম মোদের ,মা আন্ত প্রান ।
একই ভাষা ,একই আকাশ ,একই মাটির টান ,
শত্রু এলে এক হয়ে যাস ওরে বঙ্গ সন্তান ।
মা আমার ,মাটি আমার ,আমার মানুষ রে ,
যেন মায়ের কোলেই মরণ আসে স্নেহের অলংকারে ।

04-06-2017


                               ~ ব্লেশ ইউ ~



                            - প্ৰদীপ মাইতি -



 



চাকরি সূত্রে আমেরিকাতে আছি। একা একা থাকি। ছুটির দিনগুলো খুবই বিরক্তিকর। এখনকার মানুষদের সঙ্গে আমারা মিশতে ও পারিনা, আবার ভারতীয় যে সমস্ত বন্ধু বান্ধব আছে, ডলার খরচের ভয়ে নিজেদের গৃহবন্দি করে রাখে। আর বাড়িতে চুপচাপ বসে মুভি দেখা আমার কর্ম নয়। বিশেষত সেই কুকুরের ভয়ে যবে থেকে ছুটতে শুরুকরেছি, আর বাড়িতে বসে থাকতে পারিনা। বসলেই পেছনে ছারপোকা কাটে।



 



তাই শনি - রবিবার হলেই বাগে একটা জলের বোতল, এক প্যাকেট কুকিজ নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। মেট্রো পাশ নিয়ে নিই, ডেইলি পাশ ৭.৫ ডলার। সারাদিন যতখুশি যেখানে খুশি যাও, কোনো বাধা নেই।



 



তেমনি আজ ও বেরিয়েছি। স্টেশনের কাছাকাছি এসেছি, দেখছি ট্রেন ও আসছে। দেখে ফটাফট ডে-পাস করে নিয়ে উঠে পরলাম। এখানে ট্রেন একদম টাইম মেপে চলে, কারো জন্য এক সেকেন্ড ও দাঁড়াবে না। ট্রেন ছাড়ার পর মনে হলো, এইরে তাড়াতাড়ি ট্রেনে উঠে পড়েছি, ট্যাপ করা হয়নি। এখানে টিকিট করার পর, সেটা ট্রেন এ ওঠার আগে ট্যাপ করেনিতে হয়। নইলে নইলে সে টিকিট বৈধ নয়। কি করা যায়? পরের স্টেশনে নেমে ট্যাপ করে নেবো, আর কি বা করার আছে! এখানে তো চেকিং এখনো পর্যন্ত হতে দেখিনি। তবে সবাই বৈধ টিকিটেই যায়। কারণ যদি চেকিং করে, টিকিট না থাকলে ১৫০-২০০ ডলার ফাইন দিতে হয়।



পরের স্টেশনে নামব কি, তার আগেই দেখি চেকিং হচ্ছে। কথায় বলে, "যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়"। এতো দেখি "যখন টিটির ভয় তখনই চেকিং হয়"! কি করা যায়? এখন যদি নামতে যাই, আগে আমাকে ধরবে।



এটা ভারত নয়, যে ৫০ - ১০০ টাকা ধরিয়ে উৎরে যাব। ঠাণ্ডা মাথায় কাজ সারতে হবে।



 



হঠাৎ মনে পড়লো, অফিসে বব্ নামে এক ক্লায়েন্ট আছে, ক্যাফেটেরিয়া বা রাস্তায় দেখা হলে, ৩০-৪০ মিনিট বক বক না করে ছাড়েনা। সে রকমই একবার রাস্তায় দেখা হয়েছিল, কথা বলতে বলতে, তার সামনে একবার হেঁচে ছিলাম। তৎখনাৎ সে "ব্লেশ ইউ" বলে কেটে পড়েছিল। তখন জেনেছি এরা হাঁচি কে খুব ভয় পায়। প্রচুর নাকি জীবাণু ছড়ায়।



 



বাস আর কি! নাকে খড়কে দিয়ে হাঁচা আমার একটা প্ৰিয় কাজ। হাঁচলে মাথাটা বেশ হালকা হালকা লাগে। খুব ছোটবেলা থেকে প্রাকটিস করছি। এব্যাপারে আমি এত পারদর্শী, যে যারা আগে আমার হাঁচির শব্দ শুনেছে তারা জানে। বাড়িতে হাঁচলে, জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে, আর অফিস এ হাঁচলে অফিসের পুরো ফ্লোরের লোক দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করে "প্রদীপ, আর ইউ ওকে?" একবার মাইশোর জূ দেখতে গিয়ে হেঁচে ছিলাম। ওখানকার বাঘগুলো ভয় পেয়ে খাঁচা ভেঙ্গে হরিণের খাঁচায় ঢোকার উপক্রম করছিল। সিকিউরিটি গার্ড তখন আমায় ধরে নিয়ে যায়, পুলিশে দেবে বলে। ভাগ্যিস সঙ্গে দেবাশীষ নামে এক বন্ধু ছিল, কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে সে যাত্রায় মিটমাট করে নেয় । দেবাশীষ এর আশীসে কিভাবে ফিরেছি সে গল্প অন্যদিন শোনাব ।



 



এবার টিটি আমার দিকে আসছেন দেখে, জিন্সের পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ নিয়ে, পাকিয়ে সুঁচ এর মতো বানালাম । ওটা নিয়ে নাকে খড়কে দিয়ে হেঁচে নিলাম। টিটি কাছাকাছি আসতে, টিকিট টা মুখের সামনে নিয়ে আর একবার হেঁচে নিলাম। তারপর টিকিটটা টিটির দিকে এগিয়ে দিলাম। টিটি ডান হাতটা বুকের কাছে তুলে বললেন "ব্লেশ ইউ"।




















                   ~ টয়লেট ~
- প্ৰদীপ মাইতি -


সফটওয়ার কোম্পানির দাক্ষিন্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি। কোম্পানির পয়সায় এরোপ্লেনে যাচ্ছি, নিজের টাকায় টিকেট কিনতে হলে হেঁটেই চলে যেতাম। দুবাই থেকে ফ্লাইট পরিবর্তন করতে হয়েছে। দুবাই থেকে লস্ এন্জেলেস ১৪ ঘন্টার জার্নি। প্লেন এর ওয়েলকাম ড্রিংস আর সুস্বাদু খাওয়ার খেয়ে লোকজন দিব্যি ঘুম মারছে। আমার আবার ঘুম কম। তাই মুভি দেখছি আর প্লেন এ রাখা ফ্রী চিপস আর কুলড্ৰিংস হরদম খেয়ে চলেছি । কেলো হলো ঘণ্টা ৩ পর, যখন নিম্নচাপ এলো। সেই দুবাই থেকে টয়লেট করে উঠেছি। কি আর করি, উঠে এদিক ওদিক টয়লেট খুজতে লাগলাম। এক বিমানসেবিকা জিজ্ঞাসা করলেন "May I help you?"
আমার তো হাওয়া বেরিয়ে গেলো, ইংরেজীতে বলতে গিয়ে যদি গ্রামের ইংরাজি বেরিয়ে পড়ে। কোম্পানি থেকে অবশ্য শিখিয়ে দিয়েছে, কিভাবে ঠোঁট বাঁকিয়ে, জিভ উল্টে আমেরিকান ইংরেজীতে কথা বলতে হয়। আজ থেকেই তার প্ৰ্যাকটিক্যাল শুরু।
আমিও ঠোঁট বাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম "where is the gents restroom?'।
টয়লেট কে রেস্টরুম বলতে হবে। প্ৰথম অফিসে রেস্টরুম লেখা দেখে খুব ভাল লেগেছিল। ভেবেছিলাম, শরীর খারাপ লাগলে ওখানে একটু বিশ্রাম নিতে পারব। পরে সে ভুল ভেঙে গেছিলো। প্রাইভেটে কোম্পানি বিশ্রাম নেওয়ার পয়সা দেয়না।
যাইহোক, মহিলাটি উত্তর দিলেন "there is no gents restroom sir"। তারপর কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু আর কোনো কথা বলার সুযোগ দিলাম না। কি জানি, কি ভাবছেন। সত্যি, আমি কি বোকা! এরোপ্লেনে যদি টয়লেট থাকে, নিচে মানুষের মাথায় তো থপাথপ মলবৃষ্টি হবে। তাইবুঝি যে সব লোকজন ফ্ৰীতে বিষ পেলে ও ছাড়েনা, এতো ফ্রির খাওয়ার সামনে সাজানো থাকতেও ছুয়ে দেখছেনা।অগত্যা কি আর করা যায়! নিজের জায়গায় এসে চুপচাপ বসে রইলাম, আর পা নাচতে লাগলাম। তারপর স্বামী বিবেকানন্দের কথা মনে পড়লো। মনটাকে শরীরের থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারলে, ক্ষুধা-তৃষ্ণা-যন্ত্রণা সব ভুলে থাকা যায়। আমি ও তাই চেষ্টা করতে লাগলাম। পরে আবার খাওয়ার দিতে এসেছিল। আর নিইনি। পাগল নাকি! নিজের ভেতর যেগুলো আছে সেগুলো খালি করার জায়গা পাচ্ছিনা, উনি আবার ঢং করে খাওয়ার নিয়ে লোভ দেখাচ্ছেন। যা দিকি।

কোনভাবে বাকি ৭-৮ ঘণ্টা কাটিয়ে লস্ এন্জেলেস নেমে, আগে বাথরুমে গিয়ে তবে শান্তি।

এবার ঠিক করে নিয়েছি, যখনই প্লেনে যাবো, দুটো খালি জলের বোতল সঙ্গে নিয়ে উঠবো। ভরা বোতল নিয়ে উঠতে দেবেনা। সবাই যখন ঘুমোবে, চাদরের নিচে বোতল ঢুকিয়ে টুক করে কাজ সেরে নেবো। আমিও বাঙালি চাঁদু, আমার সঙ্গে পাঙ্গা!


বি:দ্র: - প্লেন এ কমন টয়লেট থাকে, পুরুষ - মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেট হয়না. গল্পের কথকের সেটা জানা নেই, কিন্তু পাঠক বর্গ জেনে নিন.



















~ পরচুলা ~
- প্ৰদীপ মাইতি -

সফটওয়ার কোম্পানির কৃপায় আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছি, ভারতীয় মুদ্রার পরিবর্তে আমেরিকান ডলার উপার্জন করছি। কিন্তু কোনোকিছু কিনতে গেলেই আমাদের মাথার মধ্যে বসে থাকা কারেন্সি কনভার্টর, ততখনাৎ দ্ৰব্যমুল্য যাচাই করে দেখে নেয়, ভারতের থেকে কত বেশি দাম দিতে হচ্ছে। তার পর আমরা ঠিক করি জিনিসটা কিনবো কি কিনবনা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তো কিনতেই হয়! কিন্তু যেগুলো না কিনলে ও কাজ চলেযায় আমরা দেশিরা, সেগুলো এড়িয়ে চলি, যাতে দুটো টাকা বেশি দেশে পাঠাতে পারি। যেমন ধরাজাক চুল, একমাস দেরিতে কাটলে ও চলে। আর ওই চুল কাটতে খরচ ১৫ ডলার, যা কিনা ১০০০ টাকার সমান। ওই টাকায় দেশে তিন বছর চুল কাটতে পারবে, তাই দেশিরা এখানে এলেই একটু চুল ভক্ত হয়ে পড়ে। অনেকে তো চুল কাটেই না, আবার অনেকে ট্রিমার কিনে বাড়িতে ইঁদুর ছাঁট মারে।

যেমন, আমার এক তেলেগু রুমমেট, ৬ মাস আমার এপার্টমেন্টে ছিল, একটাই গল্প শোনাতো । তার নাকি তিরুপতির মান্যত ছিল, তিরুপতিতে গিয়ে নেড়া হবে। আর এক বন্ধু ছিল, সে একবার চুল কাটলে, পরের ৬ মাস, একটা পুরনো ছবি দেখিয়ে যেত, আর বলতো আমার বড় বড় চুল ভাল লাগে। ৬-৭ মাস পরে একদিন হতাৎ চুল কেটে এসে বলত, "বিবি নে ডান্ট দি"। এটা তার রুটিনে দাড়িয়েছিল। এই রকম হাজার কাহিনী আছে। প্রত্যেকে পয়সা বাঁচানোর নানা উপায় বের করে রেখেছে।

আজ কয়েক যুগ হলো, আমি চিরুনী ব্যবহার করিনা। আমার মাথায় কবে চুলছিল মনে পড়েনা। তাও কিন্তু নিয়মিত চুল কাটতে যাই। তার দুটো কারণ , প্রথমত এখানকার নাপিত গুলো খুব সুন্দরী, দ্বিতীয়ত কুঁজোর ও পিঠ ফিরে শুতে ইচ্ছে করে।

সব ঠিক ঠাক চলছিল। গতবার চুল কাটতে গিয়ে বিপত্তিটা হলো। মেয়েটি সরাসরি বলেই দিয়েছে, "আপনি আর চুল কাটতে আসবেন না। মানুষের নাকে আপনার মাথার থেকে বেশি চুল থাকে। আর নাকের চুল কাটতে কেউ সেলুনে আসে না।"
এবার বোঝো ঠ্যালা। চুল কাটার অজুহাতে তা ও একটু সুন্দরী মেয়েদের ধরে কাছে যাওয়া যায়, তাও বন্ধ করেদিল!

তাই অনেক ভেবেচিন্তে এই পরাচুলা কিনেছি। এটা পরে গেলে সেলুনের মেয়েগুলো বুঝতেই পারবেনা, যে ওরা চুল নয়, পরচুলা কাটছে। ক্যামন দিলাম! শালা, বাঙালির সঙ্গে পাঙ্গা!

~ রেসিপি ~
- প্ৰদীপ মাইতি -

কর্মসূত্ৰে ভারতের বিভিন্ন শহরে একা থাকতে হলেও কোনোদিন রান্না করে খেতে হয়নি। কারন ভারতের সব জায়গাতেই নিজের পছন্দের খাওয়ার পেয়েগেছি। কিন্তু বিপত্তিটা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্ৰে এসে। এখানে অতিবড় রাঘব বোয়ালকে ও নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। তাই পিৎজা বার্গারে মন না ভরায় নিজের রান্না নিজেকেই করতে হয়।

আমার আবার ভোলা মন। তাই কোনদিন দুবার নুন, কোনদিন দু-তিন বার লঙ্কা হলুদ দিয়ে দিই, মনে থাকে না। তাই শেষে সেগুলো কে ঠিক ঠাক খাদ্যে পরিণত করতে কোনদিন স্ট্রবেরি চিকেন, কোনদিন আপেল-মাটন আরো আজব আজব কম্বিনেশন বানিয়েছি, রুম্ মেটের গালি খাওয়া থেকে বাঁচতে। আর নতুন নতুন সব খাওয়ার দাওয়ার অবাঙালী রুমমেট, বাঙ্গালী খাওয়ার ভেবে বেস মজায় খেত। সেই সব অতি সুস্বাদু রেসিপিগুলো অন্যদিন শেয়ার করব।

আজ বলবো এক জনের কথা। যে কিনা, ক্লাস এইট এ ফুটবল খেলতে গিয়ে তার সব চাইতে সেনসিটিভ জায়গায় আঘাত খেয়ে মাঠ ছেড়ে ছিল। আবার ২৪-২৫ বছর পর, মাত্ৰ ৭ মাসের প্ৰ্যাক্টিসে কিভাবে ৪২ কিমি দৌড়ল, তার রেসিপিটা আজ পেশ করব।

নিজের রান্না সেই অসাধারন সুস্বাদু খাওয়ার গুলো খেয়ে খেয়ে পেটের তখন বারো ছাপিয়ে তেরটা বেজে গেছে। অগত্যা বাঙ্গালী, প্ৰাতভ্ৰমন শুরু করেছি। একদিন মর্নিং ওয়াক করার সময় দেখলাম এক সুন্দরী যুবতী কিছু একটা খুঁজছে। এই সুবর্ন সুযোগ কে ছাড়ে! ছোট বেলা থেকে যতো ভুল করেছি, আজ এক সঙ্গে সব সুধরে নোবো। যা ভাবি তাই কাজ। বললাম "what happened? What are you looking for?"
"I dropped my cellphone"
"Oh, Ok, let me try". দেখলাম পাথরের ফাঁক থেকে গলে আইফোনটা অনেকটা ভেতরে চলে গেছে। উপরের পাথরটা বেশ বড়সড়। তাকে সরানো আমার মতো ফড়িং এর কর্ম নয়। কিন্তু নিজে আগ বাড়িয়ে গেছি, আত্মসম্মানের ব্যাপার। যতই হোক, বাংলার বাঘ বলে কথা। তাই তালপাতার সেপাই এ বাহুবলীর জোর নিয়ে কোনরকমে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে ফোনটা বের করলাম। এবার এখানকার রীতি অনুসারে, একটা থ্যাঙ্কিউ হাগ পাওনা হয়। কিন্তু কাল করল মেয়েটার কুকুরটা। ভেবেছে হয়তো, তার মালকিন অন্য একটা কুকুর দত্তক নিচ্ছে, নাকি কি জানি! ঘেউ ঘেউ করে মেরেছে তাড়া। আর ওই একটা প্ৰাণীকে আমি ছোটবেলা থেকে ভীষন ভয় পাই। তাই আমিও মারলাম প্ৰান পনে দৌড়। আমার পেছনে কুকুর, আর তার পেছনে তার মালকিন দৌড়াচ্ছে। দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ি পৌঁছে দেখলাম ৮ মিনিটে এক মাইল চলে এসেছি। জানিনা কুকুরটা কি মজা পেয়েছিল, আমায় দেখলেই তাড়া করত। আর এভাবেই আমি মাত্ৰ ৭ মাসেই ফুল ম্যারাথন(৪২ কিমি) মাত্ৰ ৩.৫ ঘন্টায় পুরো করলাম।
বিশ্বাস নাহলে বাড়িতে  আসবেন,  ৫ খানা মেডেল রাখা আছে, দেখে নেবেন।

সৈনিকদের গল্পগুলি শুরু হয়
মাঝ রাতে কনকনে ঠান্ডায়,
কুয়াশার আবরণে দাঁড়িয়ে
ডিউটি রত অবস্থায়।
একজন সৈনিক প্রিয় মুখগুলিকে
বহন করে চোখের পাতায়,
ইউনিফর্মের জৌলুশে মুগ্ধ হবেন না
কারন তার নিচে যে প্রানটা আছে
সে প্রানটা বড় বেশী অসহায়!
কখনো দেখেছো মাসের পর মাস
নির্ঘুম সৈনিকদের রক্তলাল চোখ,
কত অজস্র মাইল হেঁটে চলেছে
বিসর্জন দিয়ে তার সুখ।
তার জীবনের গল্প গুলি ধূসর অন্ধকার
বাস্তবতার কষাঘাতে,
দূরত্ব কখনো বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনা
ভালোবাসার পথে।
আত্মদহন,একাকিত্ব,শারীরিক যন্ত্রনা,লাঞ্চনা
সৈনিকদদের নৈত্য দিনের সঙ্গ,
কতটা ক্ষুদ্র সংকীর্ণতা নিয়ে তাকে বাঁচতে হয়
শরীরের ক্লান্তিতে মিশে থাকে হাজারটা স্বপ্নভঙ্গ।
কখনো দেখেননি তপ্ত রোদে বুট পরে
শরীরে শুকায় তার ইউনিফর্মের ঘাম,
সময় দেয় দেশকে আর অর্থ দেয় পরিবারকে
এদের নিজের আছে কতটুকু দাম।
শোনেননি কখোনোই সৈনিকের মত
কানের পাশ দিয়ে যাওয়া বুলেটের শব্দ,
সৈনিকদের গল্পগুলি কেউ লিখেনা
প্রত্যেকটা সৈনিক জীবন এক একটা মহাকাব্য!
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার হতে উঠে আসা
এই সৈনিকেরা স্বাধীনতার জন্য লড়ে যায়,
জীবনটা গন্ডিটা সীমাবদ্ধ কাটাতারে
আঘাত খেতে খেতেই শেষ হয়।
এত সীমাবদ্ধতাও সৈনিকদের গৌরব
মলিন করতে পারেনি,
আমরা যোদ্ধা, আমরাই সৈনিক
শত বাধাতেও কভু হারিনি।

পুরোনো গল্পটা

-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন

আজও একখন্ড মেঘ করেছে আকাশের বুকে,
কখনো বা গর্জ উঠেছে কালো মেঘে ভয়ংকর রুপে।
প্রকৃতি আজ মেতেছে ধ্বংসের উল্লাসে,
স্মৃতিগুলো আজ মনের কোনে উঠেছে ভেসে।
আজ রাতের আকাশ আর দিনের আকাশের পার্থক্য মেলেনা
আকাশটা রুপ বদলে নিজেকে আনন্দিত বলে মনে হয় না।
কারন তোমার আমার গল্পটা বিশাল আকাশের মতই!
কখনও দেখেছি আকাশটা হালকা নীল রং এ পরিপূর্ন
কখনো ঝাপসা সাদা মেঘের প্রলেপ কিংবা মেঘশূন্য।
কখনো কালো মেঘে গর্জন আর বৃষ্টির বেদনার সুর বাজানো,
কখনো দেখেছি বৃষ্টির শেষে আনন্দে সাত রঙে রংধনু সাজানো।
তবুও চিরচেনা আকাশটার প্রিয়রুপের প্রতীক্ষার প্রহর গুনে যায়
আর আমিও সেই পুরোনো গল্পটাকে খুঁজে যাই।

আপনকে বলছি
- সুমন্ত্র পাল

তুমি তো তোমাকে জাননা
তবে মিছেই কেন ভাবনা,
ছেড়ে দাও কল্পনা
বাস্তবে মিলাও।
আমাতেই তুমি যে জন
সেই-তুমি তো আমারই আপন,
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যে জন
সেই জন চিনতে পাও।
ভাবিসনে মন মিছা যে ধন
আপনি কেমন সে-ই চিনে নাও,
লোভের বসে মরিচিকার পিছে
সুমন্ত্রর মন কেন ছুটে যাও।

পোষ্টঃ১৪/৬/২০১৭১ইং।

দমকা হাওয়া
- রণজিৎ মাইতি

দমকা হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে খড়কুটো
আর মান্ধাতা আমলের কিছু বিশ্বাস
চিরস্হায়ী বন্দোবস্তের মতো যা ছিল অনড়
আসলে পয়ঃপ্রণালী ঠিক ঠিক নাহলে যাহয়
ক্লেদ জমে জমে আবর্জনার স্তূপ-পাহাড়-পর্বত
মগজ আর একটা পথ
সেখানেও নানান টিউনিং ফর্কে করেছি আঘাত
শুনিনি কখনো শব্দ অনুরণনের
বুঝেছি সবচেয়ে কঠিন পথ আত্মসংশোধন
কখন কে কোন নাগরদোলায় ঘুরছে
ঘুরছে বৃত্তাকার পথে চূড়ান্ত গতিতে
গতিশীল কিন্তু সরণ শূন্য শূন্য শূন্য
তখনই আসুক এমন দমকা হাওয়া
উড়ে যাক সমস্ত খড়কুটো

(14-06-2017)

বিপথ
- যুথিকা চক্রবর্তী

নিঃশব্দে ধরা দিল এক হাহাকার
বাণী তার দুর্বোধ্য
গ্লানি তার দুর্ভেদ্য
মননে-চেতনে যেন সংক্রামক ব্যাধি,
ঘুমের ঘোরে আঁতকে উঠে বসি
শুনি সেই বাণী বার বার,
ফিরে ফিরে আসে মহামারী হয়ে
জাপ্টে ধরে বুকে,আর কানে কানে বলে।
অক্লান্ত এক প্রচেষ্টা আমার
নিজেই থেকে নিজেকে লুকাবার
অনুভূতি আজ সুখ-দুঃখ একাকার
পলায়ন রত আমি ফিরে আসি,আর বার,
সুখের তাচ্ছিল্য যেন এক নীহারিকা
যা হজম করা দায়--------
সমাধি ছেড়ে উঠে আসে অতৃপ্ত আত্মা
নিয়ে যেতে চায় সঙ্গে করে।
অবয়বের অস্তিত্ব রক্ষা করা
আজ কঠিন কাজ-----
জীবাশ্ম খুঁজে ফেরে
তার জীবন আবার,
বাঁচার অঙ্গীকার যেন
ভাবায় আমায়-----
এ পথ ছেড়ে সে পথে এসে
বিপথ গামী জীবন আজ শুধু কাঁদায়।

(15/6/17)

"দু ইউ ওয়ান্ত তেক্সতিং?"

- প্রদীপ মাইতি

গ্রাম-এর বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করেছি। ওখানকার ইংলিশ টিচার ও বাংলায় ইংরাজি পড়ান। সফটওয়্যার কোম্পানির দৌলতে কাটা ছেঁড়া ইংরাজী বলেও আমেরিকা এসে পৌচেগেছি। লস এন্জেলেস এ পোস্টিং। কাজের প্রয়োজনে যতটুকু দরকার তার বাইরে বলতে হলে পেটে ছুচোর কির্তন শুরুহয়। তাই সোশ্যাল লাইফে ভাগ নিতে সাহস হয়না। এখানে বিকাল ৫ তার পর কেউ অফিসে থাকেনা। সন্ধ্যা হয় ৮:৩০ র পর। প্রতিদিন অফিস শেষে একা একা পার্ক-এ গিয়ে বসে বসে বাচ্চাদের খেলা দেখি।

একদিন সেরকম ই বসে আছি, হটাৎ এক বছর ১৬ -১৭ র মেক্সিকান মেয়ে সেলফোনে হাতে নিয়ে এগিয়ে এসে বলল "দু ইউ ওয়ান্ত তেক্সতিং?" এমনিতেই আমার উপস্থিত বুদ্ধি একটু কম। সুন্দরী মেয়েদের সামনে সেটা শুন্য তে গিয়ে দাড়ায়। বালাই বাহুল্য, মেক্সিকান মেয়েরা মার্কিন মেয়েদের থেকে সুন্দরী আর গঠন ও সুন্দর। আর এদের কুত্সিততম মেয়েরা ও যদি কলকাতার রাস্তায় হেঁটে যায়, ছেলেছোকরা রা পেছনে রেশনের লাইন লাগাবে।

যাইহোক, মেয়েটার প্রশ্ন শুনে আমার বুদ্ধি তো লোপ পেয়েছেই, সঙ্গে শরীর ও রাক্তশন্যা হয়েগেছে। আমার সেই মরা মাছের চোখ দেখে মেয়েটা সুরুৎ করে সরে পড়েছে। কিছুক্ষণ পর যখন বুদ্ধি ফিরে পেলাম, তখন মেয়েটা আর ধারে কাছে নেই।

যথারীতি সব loosers রা যা করে, আমি ও দিন রাত প্রস্তুত হতে থাকি, পরে আবার কেউ যদি একি রকম প্রশ্ন করে কি উত্তর দেব। এখনো রোজ বিকেলে পার্ক এ গিয়ে বসে থাকি, আবার যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে "দু ইউ ওয়ান্ত তেক্সতিং" ।

প্রশ্ন রেখেছিলাম স্বাধীনতা তোমার কাছে
তুমি কি নিজে থেকে এসেছ হে স্বাধীনতা-
নাকি আমরা তোমাকে অর্জন করেছি?
যতবার তোমাকে এই প্রশ্ন টা করেছি
তুমি চুপ থেকেছ,উত্তর দাওনি তুমি।
কিভাবেই বা তুমি উত্তর দিবে
তুমিতো নির্বাক।

যতবার প্রশ্নটা করেছি
তুমি অবাক করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছো আমার দিকে
কারন তুমিতো দেখনি সেই একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধ।
সে সময়ে তোমার পিছু ছুটে ত্রিস লক্ষ বীর বিসর্জন দিয়েছে তাদের প্রাণ,
দুই লাখ মা-বোন হারিয়েছে তাদের সভ্রম।

তুমি যদি এই নির্মম দৃশ্য দেখতে তাহলে আজ থাকতে না চুপ
মাথা তুলে দাঁড়িয়ে বলতে আমি নিজে থেকে আসিনি
তোমরা আমাকে অর্জন করেছ।

মাঝেমাঝে তোমাকে আমি প্রশ্ন করি,"আমরা কি স্বাধীন জাতি? "
তুমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাক আমাদের দিকে।
তখন তুমি মনে মনে ভাবো,কি করে তোমরা স্বাধীন জাতি?
তোমাদেরতো নেই স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার-
তাহলে কিভাবে আমি তোমাদেরকে স্বাধীন জাতি বলি?

মাঝেমাঝে তুমি চিৎকার করে বলো
তোমাদের রয়েছে একটি পতাকা ও ভুখন্ড
তোমরা শুধু আমাকে অর্জন করেছ
কিন্তু রক্ষা করতে পারোনি আমার সম্মান,আমার মর্যাদা।

যখন তুমি এ কথা আমাকে বলো তখন আমি চুপ হয়ে যাই
পারিনা আর লজ্জায় কথা বলতে
কারন তোমার একথার পরে কথা বলার দুঃসাহস আমার যে নেই।

এক পশলা বৃষ্টি চাই

নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

আমি বড় ক্লান্ত -
চাই এক পশলা বৃষ্টি ,
একটুখানি ভিজতে চাই ,
আমার একাকিত্ব ,নিঃসঙ্গতাকে -
ধুয়ে ,মুছে সাফ করে ফেলতে চাই !
ভুলে যেতে চাই -
অতীতের সুখস্মৃতিগুলি !
সামনে এগিয়ে যেতে চাই ,
নুতন করে কাউকে দিতে চাই ,
আমার সাঁজানো পুষ্পাঞ্জলি |

নন্দা 17-2-17 1-30AM

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর,
বাংলাদেশে সেদিন জন্মেছিল এক সাহসী ক্রিকেটার।
তুমি মাশরাফি,শত বাঙালীর কোটি গৌরব,
তুমি বাঙালির স্বপ্নের মহা নায়ক।
মাশরাফি তুমি ষোলকোটি প্রাণের আশা,
তুমি লাল-সবুজের ভালোবাসা।
মাশরা‌ফি মা‌নেই সকল প্রতিকূলতাকে জয়,
যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট গিয়েছে নতুন উচ্চতায়।
এখনও তোমার বল হাতে ২২গজে দৌড়ানো
মেডিকেল সায়েন্সের বিস্ময়!
ক্রিকেটকে ভালবাসা ছাড়া এ সম্ভব নয়।
ডেভিড ইয়াংয়ের ছুরির নিচে
পা রাখতে হয়েছে সাতবার,
তবু দেশের জন্য বল হাতে
ছোঁটে এই নির্ভিক ক্রিকেটার।
ইনজুরি কিংবা শত বাধাতে মাননি কখোনো হার,
তুমি বীর, তুমি যোদ্ধা, বাঙালির অহংকার।
মাশরা‌ফি মা‌নেই চ্যা‌লেঞ্জ
মাশরা‌ফি মা‌নেই অর্জন,
বাংলা মায়ের জন্য তুমি
দিয়েছো অনেক বিসর্জন।

হিসাব মেলেনি
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

পাঁচ বছরের ছেলের দুষ্টুমিতে অতিষ্ট হয়ে দীপা একটু বেশ জোরেই ছেলেকে বকা দেয় । একে রথীনের কলেজের সময় হয়ে গেছে ,সে এসে টেবিলে বসে পড়েছে ;অন্যদিকে ছেলে গৌতম রান্নাঘরে ঢুকে একজগ জল ফেলে দিয়ে পালাতে যেয়ে নিজেই মেঝেতে পরে যায় ।দীপা ছেলেকে তুলতে তুলতেই তাকে বকতে শুরু করে ।প্রচন্ড অভিমানী গৌতম ;চোখের থেকে তার সহজে জল পরেনা , খুব জেদীও ।মা তাকে মেঝের থেকে তুলে প্যান্টটা খুলতে গেলে সে বলে ওঠে ,"আমি আমার কাজ নিজেই পারবো ।" দীপা ওকে ছেড়ে দিয়ে রথীনের ভাতের থালা সামনে দিয়ে ওকে খুঁজতে যায় রাগ করে কোথাও বসে আছে কিনা দেখতে । ততক্ষণে গৌতম ভিজে প্যাণ্ট ছেড়ে অন্য একটি প্যাণ্ট পরে দোতলা থেকে নেমে আসছে দেখে । এসেই সে টুক করে বাবার কোলে বসে পরে । দুহাতে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলে ,"বাবা ,মা খুব দুষ্টু হয়েছে ।এবার যখন আমরা বাইরে ঘুরতে যাব মাকে নেবোনা ।আমি ,তুমি আর কাকু যাবো ।" রথীন হেসে পরে বলে ,"ঠিক বলেছো ; আমিও কদিন ধরে দেখছি মা খুব দুষ্টুমী করছে । এটাই হবে মার শাস্তি ।" বাবা ,ছেলে দুজনেই খুব হাসতে লাগে । দীপা চুপ করে বসে চেয়ারে । রথীনকে ইশারায় বলে মাঝে মাঝে ভাতমাখা গৌতমের মুখে তুলে দিতে ।কারণ গৌতমকে খাওয়ানো খুব কষ্টদায়ক ।যদি তার অন্যমনস্কতায় পেতে কয়েকদলা দেওয়া যায় । রথীনও সুযোগের সদ্ব্যবহারটা করে । কলেজে বেরোনোর সময় হাসতে হাসতে বলে যায় ,"তোমার সবথেকে বড় কাজটি আমি করে দিয়ে গেলাম ; বাড়িতে ফিরলে আমার গিফ্টটা দিও ।" দীপা ছেলের সামনে চোখ পাকিয়ে রথীনের মুখের দিকে তাকায় ।
সোনার সংসার রথীন দাসের ।রসায়নের অধ্যাপক , ছাত্রছাত্রীদের প্রিয় আর.ডি.,ছোট ভাইয়ের কাছে পিতৃতুল্য দাদা , দীপার কাছে দায়িত্ববান ও প্রেমিক স্বামী , আর ছোট্ট আদরের গৌতমের কাছে ? বায়না করার জায়গা আর খেলার সাথী ।

ছাত্রছাত্রীদের কাউকেই কখনও বকেছেন বলে কেউই মনে করতে পারবেনা কেউ পড়া না বুঝতে পারলে তাকে পাঁচবার বোঝাবেন অথচ কখনই তিনি বিরক্ত হননা ।

স্ত্রী ,পুত্র আর ভাইকে নিয়ে তার সংসার ।ভাই সবেমাত্র একাদশ শ্রেণীতে পরে ।মায়ের মৃত্যুর সময় সে মাধ্যমিক পরীক্ষা ও দিয়ে পারেনি ।বৌদিই এখন তার মা ,বৌদিই তার বন্ধু ।দীপাও তার দেওরকে খুব স্নেহ করে ।শ্বশুড়কে দীপা দেখেনি ।বিয়ের দু'বছরের মাথায় শ্বাশুড়ীও মারা যান ।মৃত্যুর সময় ছোট ছেলে রমেন খুবই ছোট ।অষ্টম শ্রেণীতে পরে । তিনি দীপার হাতদুটি ধরে বলেছিলেন ,'বৌমা আমার রমেনকে তোমাদের কাছে রেখে গেলাম ,মায়ের আদর ,শাসন আর বৌদির ভালবাসা দিয়ে তুমি ওকে তোমার মনের মত করে মানুষ কোর ।"রমেনও বৌদির খুব বাধ্য ।পড়াশুনাতেও মন্দ নয় ।দীপা আপ্রাণ চেষ্টা করে রমেন মনে কষ্ট পায় এমন কিছু না করতে । মায়ের অভাব সে রমেনকে বুঝতে দেয় না ।অন্তত তার দিক থেকে সে চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেনা ।

কিণ্তু দীপার কপালে বিধাতা বেশিদিন সুখ লেখেননি । কালবৈশাখী ঝড় হঠাৎই দীপার সোনার সংসারটাকে ধূলিসাৎ করে দিলো । তার জীবনটাকে ওলটপালট করে দেয় একটি অ্যাকসিডেন্ট এর খবরে ।গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পুরীর সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাওয়ার বন্দোবস্ত সব পাকা । টিকিট কাটা ,ঘর বুক করা ,ব্যাগ গুছানো সব প্রস্তুত । যেদিন কলেজ ছুটি পরে সেদিনই বাড়ি ফেরার পথে রথীন একক্সিডেন্ট করে । সঙ্গে সঙ্গেই সব শেষ । সারারাত কোন খবর
মেলেনা ! দুশ্চিন্তা আর উত্কণ্ঠা নিয়ে সারারাত কাটে ।সকাল হতেই থানা ,পুলিশ অবশেষে মর্গে দেহ মেলে । মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পরে দীপার । দুদিন বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারেনা । রমেনই তার আদরের ভাইপোকে সামলায় । দু'দিন পর দীপা যখন বিছানা ছেড়ে ওঠে তখন সে অন্য দীপা ! মনের জোর ,আত্মবিশ্বাস তার যেন অনেকটাই বেড়ে গেছে ।

শুরু হয় দীপার জীবনে নূতন করে বাঁচার লড়াই । রথীনের কলেজ থেকে যেটুকু টাকা পেয়েছে আর তার গয়না । একেই সম্বল করে সে এগিয়ে চলে । কারণ তার ক্যাশ কিছু ছিলনা । বহু বছরের পুরান বাড়ি সংস্কার আর ভাই রমেনের কথা ভেবে দোতলাটা করতে যেয়ে সমস্ত জমানো টাকায় শেষ হয়ে গেছিল ।তারপর প্রতিবছর রথীনের ছিল বাইরে বেড়ানোর এক হিড়িক ।

রথীনের অবর্তমানে খুব কষ্ট করে সংসার চালিয়ে সে রমেনকে উকালতি পাশ করায় । গৌতমও যে স্কুলে পড়ত সেখানেই পড়া শুরু করে ।বুদ্ধিমতী দীপা দেওর ও ছেলেকে নিয়ে দোতলায় উঠে যেয়ে নীচুটা ভাড়া দিয়ে দেয় । আশা রমেন যখন অর্থ উপার্জন করবে তখন তাদের আর্থিক কষ্ট দুর হবে ।
মাত্র কয়েক মাস ! রোমেনের পসারটা যখন একটু জমে উঠেছে ,দীপারাও একটু সুখের মুখ দেখেছে ; ঠিক তখনই দীপা একটা মারত্মক ভুল করে বসে । সে নিজে পছন্দ করে রমেনের বৌকে বরণ করে ঘরে তোলে । শুরু হয় দীপার জীবনে কষ্টের নূতন এক অধ্যায় ।

যে রমেন কে সে সন্তান স্নেহে মানুষ করেছে ,রথীনের অবর্তমানে চরম অর্থ কষ্টের মধ্য দিয়ে নিজে না খেয়ে রমেন ও তার সন্তানকে খাইয়েছে সেই রমেনই বিয়ের পর অন্য মানুষ ।বড্ড অচেনা মনেহয় রমেনকে দীপার ।ভগবান তার জীবন থেকে একটু একটু করে সব কেড়ে নিলেও ধর্য্য ও সহিষ্ণুতা যেন দিনকে দিন বাড়িয়েই চলেছেন ।মুখে কুলুপ এঁটে সকল অপবাদ, অপমান সে হজম করতে লাগলো । কিণ্তু যেদিন রমেনের বৌ তাকে চোর অপবাদ দিয়ে অকথ্য ,কূকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে লাগলো রমেনের সামনেই ,রমেন কোন প্রতিবাদ করলো না ; সেদিনই সে সিদ্ধান্ত নেয় এই বাড়িতে সে আর থাকবেনা । এক কাপড়ে দশবছরের ছেলেকে নিয়ে মাত্র কয়েক দিনের জন্য সে তার ভায়ের সংসারে চলে আসে ।

টেলারিং টা দীপা বেশ ভালই জানতো ।কয়েকটা দোকানে ঘুরে সে একটা বড় দোকানে কাটিং ও সেলাই এর কাজ পেয়ে যায় ।কিছু টিউশন ও শুরু করে । বস্তির ভিতরে সামান্য টাকায় একটা ঘর ভাড়া করে সে ছেলেকে নিয়ে সেখানে ওঠে । ছেলেকে পুনরায় স্কুলে ভর্তিও করে দেয় । মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে মা ও ছেলের ছোট্ট সংসারটি সুনিপুণ হাতে গুছিয়ে ফেলে যেখানে অভাব থাকলেও সস্তি ছিলো ।

দিনগুলি বেশ কেটে যাচ্ছিলো । কিণ্তু এ সুখও দীপার কপালে সহ্য হলোনা । দীর্ঘ দিনের অনাহার ,পরিশ্রম ,মানষিক অবসাদে রাতের আঁধারে ঘুমের মধ্যেই সে তার আদরের গৌতমকে ছেড়ে চির বিদায় নিল ।

এত বড় পৃথিবীতে গৌতম সম্পূর্ণ একা হয়ে পরে ।বেড়িয়ে আসতে বাধ্য হয় খোলা আকাশের নীচে ।কচি মনে আত্মীয়দের সম্পর্কে একটা ঘৃনা জমাট বাঁধে ।শেষ পর্যন্ত সে এসে স্টেশনে আশ্রয় নেয় ।এই অল্প বয়সে সে অনেককিছু দেখেছে ও শিখেছে । গুমড়ে গুমড়ে জমাট বাঁধা অভিমানে সে কোন আত্মীয় বাড়িতে আর ফিরে যায়না । স্টেশানে চায়ের দোকানে দোকানে ঘুরে ঘুরে সে কাজের সন্ধান করতে থাকে ।ফর্সা ,মায়াভরা দু'টি চোখ ,কোকড়ানো মাথা ভর্তি চুল -চোখ দুটির মধ্য দিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত চাহুনী ; সহজেই সকলের মায়া কাড়ে । অনেকে অনেক কথায় জিগ্গেস করেন , কিণ্তু সে শুধু মাথা নীচু করেই দাঁড়িয়ে থাকে ।একটা ছোট চা স্টলে সে কাপপ্লেট ধোয়া ,চা জলখাবার এগিয়ে দেওয়ার কাজও পেয়ে যায় । অনভ্যস্ত হাতে কাজ করতে যেয়ে ভুলত্রুটি হলেও তার সুন্দর ব্যবহারের কারণে মালিক তাকে কিছুই বলতে পারেন না বা বলেন না । আর শীত ,ঝড় বৃষ্টিতে স্টেশনের বেঞ্চিতে রাত কাটানো ।

পৃথিবীতে অগনিত মানুষের মধ্যে ভালোর থেকে খারাপ সংখ্যাটাই বেশী । হাতে গোনা ভাল মানুষের সংখ্যা হলেও কিছু তো আছে । হতভাগ্য কিছু মানুষের লাঠি হয়ে তাদের জীবনে উন্নতির সিঁড়ির দোরগোড়ায় পর্যন্ত পৌঁছেও দেন । এই হতভাগ্যদের মধ্যে যাদের বুদ্ধি আছে তারা কিভাবে সিঁড়িগুলো টপকাবে তারা নিজেরাই ঠিক করে নেয় ।

একদিন ঝড় জলের মধ্যে একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর ওই স্টলে চা খেতে আসেন । গৌতম ইন্সপেক্টরকে চা দেয় । বাচ্চাটিকে দেখে তার খুব ভাল লাগে । তিনি বুঝতে পারেন যে কাজ সে করছে এটা করার মত ঘরে তার জম্ম নয় । তিনি গৌতমকে কাছে ডেকে গল্প করতে শুরু করেন ।জানতে চান তার সম্পর্কে সবকিছুই । কিণ্তু গৌতম এই ব্যপারে চুপ করেই থাকে ।শেষে ইন্সপেক্টর তাকে বলেন ,"তুমি যদি আমাকে সব না বলো ,আমি তো পুলিশ আমি সব খুঁজে বের করে নেবো কিণ্তু"। শিশু গৌতম এই কথায় ভয় পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার জীবনের করুন পরিণতির কথা বলতে থাকে ! বাইরের বৃষ্টির জল আর গৌতমের চোখের জল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় । বজ্রপাতের মত গৌতমের দুখের কাহিনী পুলিশ ইন্সপেক্টরের বুকে আঘাত হানে । এক কন্যা সন্তানের পিতার হৃদয়ে ছোট্ট ছেলেটির জন্য পিতৃত্ব মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে । তিনি গৌতমকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে নিজ হাতে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলেন ,"আজ থেকে আমি তোর মামা , তুই এখন থেকে আমার কাছেই থাকবি , আবার তোকে নূতন করে পড়াশুনা করতে হবে , তোকে অনেক বড় মানুষ হতে হবে । তোর আত্মীয়স্বজন এমনকি সারা পৃথিবীকে তুই দেখিয়ে দিবি তোর নিজের তৈরী করা পরিচয়ে কেমন মাথা উঁচু করে বেঁচে আছিস । আমি জানি -তুই সেটা পারবি । তোর চোখ সে কথা আমায় জানান দিচ্ছে । শুধু তোর চাই একটা সুযোগ । চল বাবা , তুই আমার সাথে ।

এর পরের ঘটনা ইতিহাস । হৃদয় মুখার্জী গৌতমকে নিয়ে এসে একটা ভাল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন ।নরম কাদার উপরে ছাপ ফেললে তা যেমন চিরস্থায়ী রূপ ধারণ করে ঠিক তেমনই শিশু গৌতমের মনের উপরও আত্মীয়স্বজন সম্পর্কে একটি বিশাল বিরূপ মনোভাব তৈরী হয় । এই টুকুন বয়সেই সে পৃথিবীর মানুষগুলো সম্পর্কে বিশাল এক সত্যের মুখোমুখি হয়ে তাদের সম্পর্কে ধারণা করতে শিখে গেছে । সে বুঝতে পেরেছে - হৃদয় মুখার্জী যাকে সে মামা বলে ডাকে ,তিনি যে সুযোগ তাকে দিয়েছেন এটাই তার জীবনের শেষ সুযোগ । যেভাবেই হোক তাকে মামার সাহায্যেই তার জীবনের আলোর দিশা খুঁজে পেতে হবে । তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হওয়া । এই বয়সে যেটা স্বাভাবিক খেলাধুলা ,দুষ্টুমী ,হাসিগল্প -সব সবকিছু বিসর্জন দিয়ে সে শুধু বই এই মুখ গুঁজে থাকে ।

সময় এগিয়ে চলে । গৌতমের জীবনেরও চাকা ঘুরতে থাকে । মামা হৃদয় মুখার্জী তার নিজ সন্তানের থেকে তাকে কখনই আলাদা করে দেখেন না । তার বাড়ির লোকজনেরও গৌতম তার সুন্দর ব্যবহার ও মিষ্টি চেহারা দিয়ে সকলের মন জয় করে নিয়েছে । সে বাড়ির সকলের কাছেই ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছে ।

সময়ের সাথে সাথে গৌতম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্টার নম্বর নিয়ে পাশ করে একটা ভাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সুযোগ পায় ।স্কলারশিপ পাওয়ার ফলে সে তার মামা হৃদয় মুখার্জীর কাছ থেকে পড়ার জন্য পুরো টাকা হাত পেতে নিতনা ।এইভাবেই সে বি-টেক্ পাশ করে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে সুচাকুরীও পায় । তার অমায়িক ব্যবহার ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে কোম্পানীই তাদের বিদেশের ওফিসের কাজের অফার তাকে দেয় ।চলে যায় গৌতম UK ; পিছনে ফেলে যায় তার দুঃখে গাথা জীবনের কাহিনী , সাথে করে নিয়ে যায় শুধু দুঃখের স্মৃতিগুলি ;যেগুলি এখনো তার জীবনে দগদগে ঘায়ের মত ।

টাকা,ধনদৌলত ,গাড়ি,বাড়ি -সব আছে আজ গৌতমের জীবনে ।আছে সম্মান আছে তাকে ঘিরে থাকা মানুষগুলির ভালবাসা ।তবুও সে নিঃস্ব !তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি নিয়ে সে যখন একা একাই পর্যলোচনা করতে বসে তখন তার একমাত্র সম্বল দু'চোখের কোল বেয়ে গড়িয়ে পরা অশ্রু । হাজার চেষ্টা করেও যাকে সে বাঁধ দিতে পারেনা । বাবার ভালবাসা ,মায়ের আদর বুঝতে শেখার আগেই সে সর্বহারা ! গৌতম ভেবে কোন কূল পায়না ,বিধাতা কি অপরাধে তার জীবনের স্বর্ণালী সময়টা কেড়ে নিলেন !পৃথিবীতে শুধুমাত্র কি টাকাটাই সব ? ভালবাসা ,স্নেহ ,শ্রদ্ধা - এ সবের কি কোন মূল্যই নেই ? আজ আমার অনেক টাকা ; কিণ্তু জীবনে সব থেকে যেটা দরকার - নেই মায়ের আদর ,স্নেহ মিশ্রিত শাসন নেই বাবার ভালবাসা !যারা আজ আমায় দেখে সব থেকে খুশী হবেন -তাঁরা আজ কেউ নেই আমার পাশে । টাকায় যদি জীবনের সব সুখ আনে আমি তবে কেন সুখী নই ? এতো ধণ ,সম্পদ ,বিষয় সম্পত্তি না থেকে শুধু যদি ওই মানুষ দু'টি আমার পাশে থাকতো তাহলে আমি হয়তো সুখী মানুষ হতাম । পেলাম জীবনে আমি অনেককিছুই কিণ্তু জীবন থেকে শিশু বয়সেই আমার যা হারিয়ে গেলো তাতো কোনদিনও পূরন হবেনা ! ওই হারানোর কাছে এই পাওয়া যে কিছুই নয় !

নন্দা 28-04-17 9PM.

চাইনা পরাজয়
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

আকাশের মত উদার হবো ,
পাখিদের মত মুক্ত ;
সমুদ্রের মত গভীর হবো ,
বাতাসে উড়বো যেন মুক্তবিহঙ্গ ।

মনের কোণে দেবোনা ঠাঁই ,
কোন হিংসা ,বিদ্বেষ, অপমান -
মনের স্রোতে ভাসাবো সব ,
সুখ তাতে একটুও হবেনা কম ।

আঘাতের বিনিময়ে দেবোনা আঘাত ,
ভালবেসে টেনে নেবো বুকে ,
হাসি মুখটি সর্বদা রেখে -
আনন্দে ভাসবো শতশোকে !

বিপদ আসলে হটবো না পিছু ,
করবো তাকেই জয় ;
ছোট্ট জীবনে এটুকুই দাও শক্তি প্রভু -
জীবনে আমি চাইনা পরাজয় ।

@ নন্দা 10-6-17 8-40PM

ঈদ শুধু সুথ আনন্দের নামই নয়,
ঈদ আমাদের ভাতৃত্বের ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।
ঈদের দিন এক কাতারে দাঁড়িয়ে
ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে,
বিভেদের দেয়ালকে ছাড়িয়ে
ঐক্যের পাহাড় গড়ি তুলে।
এক মাস কঠোর সিয়াম সাধনার পর
আবার এসেছে খুশির ঈদুল ফিতর,
ঈদের দিনটি খুবই তাৎপর্য ও মহিমার দাবিদার।
শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ নিয়ে এসেছে খুশির ঈদ,
ঈদের খুশিতে কারো চোখে থাকেনা কোন নিদ।
ঈদ হবে সত্যিকার আনন্দের দিন
ধনী-গরীব বৈষম্য দুর হলে,
ঈদ মানুষের সৌহার্দ্যের বন্ধনকে
আরো সুদৃঢ় করে তোলে।
কোলাকুলি করব সবাই ভালোবাসার টানে
ধনী-গরিব ভুলে যাব ঈদের খুশির গানে।
বুকে বুকে আলিঙ্গনে হৃদয় থেকে হৃদয়ে
সুদৃঢ় বন্ধন সৃষ্টি হোক,
সবাইকে জানাই এই খুশির দিনে
ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক।

তোমার হাসি-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন

প্রিয়তমা তোমাকেই বলছি
তোমার মিষ্টি ঠোঁটের হাসি
অনেক বেশি ভালোবাসি।
তোমার হাসি যেন রহস্য ঘেরা
তোমার হাসি দেখেই গড়বো জীবন ধারা
জীবনে চাইনি কিছুই তোমাকে ছাড়া।
হাসি শুধু আনন্দ বা সুখের প্রকাশ নয়
হাসি দ্বারা অসম্ভবকে জয় করা সম্ভব হয়।
হাসি সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ দান
তোমার ঐ হাসি দেখে জুড়ে যায় প্রাণ,
তোমার ওই রহস্যময় হাসি
ভেঙে দেয় সকল অভিমান।
প্রিয়তমা তোমাকেই বলছি প্রাণ খুলে হাস
তোমার হাসি মুখটাই বারবার দেখতে চাই,
তোমার এ তোমার হাসি সব বাধা ভেঙে দেয়
তোমার মিষ্টি হাসি দেখে মনটা উদাস হয়।
বুঝি না মাঝে মাঝে তোমার হাসির ভাষা
ঐ হাসিতেই পেয়েছি খুঁজে বাচার নতুন আশা।

আমি কিন্তু বদলাই নি এখনো,
তেমনই আছি যেমন ছিলাম তখনো।
এখনও বৃষ্টি হলে ভিজি
বৃষ্টি শেষে ভেজা আকাশ দেখি,
নরম ঘাসের উপর জেগে থাকা
চিকচিক করে উঠা শিশির পায়ে মাখি।
আর সেই কাদামাটির মেঠোপথে
একাকি খালি গায়ে ঘুরে চলি,
এখনো নিঃসঙ্গ কোন নির্ঘুম রাতে
কল্পনায় তোর সাথে কথা বলি।
প্রিয় বন্ধু আজো তোর অপেক্ষায়
দক্ষিণের ঐ খোলা মাঠটায়,
দাড়িয়ে থাকা খেজুর গাছের পাতায়
চেয়ে থাকি আমার স্মৃতির জানালায়।
জীবনের ক্লান্ত পথে
হয়তো হাজারও সুখের ভিড়ে,
এখনো কি আমার মতো করে
পুরোনো কথাগুলো মনে পড়ে।
হয়তো বদলে গেছে তোর স্বপ্ন
হয়তো বদলে গেছিস তুই,
বদলে গেছে তোর বন্ধু মহল
কিন্তু আমার প্রিয় বন্ধুটি আজো তুই।

আজো কেন নারীরা ধর্ষিত হয়?
পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে নারীরা এতই অসহায়!
কত শত প্রতিবন্ধকতা করে জয়,
এগিয়ে যাচ্ছে তারা আপন মহিমায়।
এখনো নারীরা মেনে নিচ্ছে শত শত নির্যাতন,
নারীদের ছাড়া কিভাবে হবে এই সমাজের বিবর্তন।
আজো নারী পায়নি তার সমান অধিকার,
সমাজের কাছে আজো পায়না কোন সুবিচার।
এখনো সমাজে নারীর স্বাধীনতা একেবারে তলানিতে,
আমরা আজ ভুলেই গেছি নারীদের সন্মান দিতে।
একজন মানুষ হিসেবে নারীর মর্যাদা খুব বেশি
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দর্শনীয় একটি নারীর মুখের হাসি।
নারী-পুরুষ সমতায় এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের যাত্রা
বদলে যাচ্ছে পৃথিবী পেয়েছে নতুন মাত্রা।
আমার পুরুষ হওয়ার পেছনে নারীর অবদান
নারীর সৌন্দর্য অনন্ত, শ্বাসত এবং চিরন্তন।

আমার একটাই দোষ তোমাকে মিস করা,
জীবনের বাকি দিন গুলো হয়তো কাঁটবে তুমিছাড়া।
প্রতি মূহুর্তে তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যাই কল্পনাতে,
পারবে কি তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিতে ?
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার মানে এই নয় আমি কাঁদছি,
আমার কান্না মানায় না কারন আমি তো হেরে গেছি।
আমার সব থেকে বড় দোষ তোমাকে বেশী চাওয়াটা,
আমার এই একই ভূল হবে জীবনের বাকি সময়টা।
তোমার কথা মনে পড়তেই চোখ দিয়ে পানি পড়ে
আমার অপরাধ ছিল এটিও,
তোমাকে মিস করাটাইতো আমার দোষ
পারলে আমার এই দোষগুলো ক্ষমা করে দিও।

জানালার পাশে বসে আছি,
রেখেছি অপলক দৃষ্টি,
আকাশটা আজ কাঁদছে ভীষন
নেমেছে তাই বৃষ্টি।
আজ সারাদিন বৃষ্টিতে
ভিজে হলাম সারা,
থামছে না এই মধুর বৃষ্টি
বইছে অবিরাম বারি ধারা।
বৃষ্টির জলে মুছে যায়
আমার সকল অভিমান,
এমন দিনে শোনাবো তোমায়
বৃষ্টির সুরে গান।
মনটা আজ হারিয়ে যায়
রিম ঝিম বৃষ্টির গানে,
আজ এই বর্ষায় ভিজবো একা
মাতাল হয়ে তোমার স্বরণে।
বৃষ্টির দিনে মনে পড়ে
তোমার সেই অপরূপ সাঁজ,
বৃষ্টির শব্দে শুনতে পাই
তোমার পায়ের আওয়াজ।
তুমি যদি থাকতে পাশে
ভিজতাম বৃষ্টি জলে,
তোমাকে আমি ছুঁয়ে দিতাম
বৃষ্টি ভেজার ছলে।
আজো কল্পনাতে আঁকি
তোমার বৃষ্টি ভেজা চুল,
এমন দিনে তোমায় দেবো
একটি কদম ফুল।

(১)
কুমোরটুলির শুভর সাথে আমার আলাপ হয়েছিল যখন আমি কমার্স নিয়ে পড়তাম ক্লাস ইলেভেনে তখন। সল্টলেকের সেক্টর ১ এ এক টিচারের কাছে আমরা সেইসময়ে প্রাইভেট টিউশন পড়তে যেতাম। শুভ বেশ লম্বা, শ্যামলা গায়ের রঙ, টিকালো নাক, চোখ দুটো খুব তীক্ষ্ণ। অত্যন্ত পরোপকারী ছেলে শুভ, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের মধ্যে খুব বন্ধুত্ব হয়ে গেল। ওহ আমার নামটাই বলিনি এখনও, আমি শুভ্র, ওরফে শুভ্রনীল দাশ।
আমি, রুদ্র, শৌভিক, আমন, কৌশিক, অরূপ, নীল আর শুভ, এই কয়জনে মিলে পড়াশোনার ফাঁকে মাঝে মধ্যেই খুব আড্ডা হোত, আড্ডা দিতে দিতে কোথায় কোথায় চলে যেতাম। কখনো ময়দান, কখনো শোভাবাজারের গঙ্গার ধারে, আরও অনেক জায়গায় কত বলবো। উত্তর কোলকাতার শোভাবাজারের গঙ্গায় শুভ যখন সাঁতার কেটে গঙ্গার জল উথালপাথাল করতো আমরা পাড়ে বসে দেখতাম ওর সাঁতার কাটা। শুভকে ঘিরে আমাদের সেই আড্ডার মুহূর্তগুলো আরও জমজমাট হয়ে উঠত। শুভর কথা বলে শেষ করা যাবেনা।
সময়টা ছিল ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস। কোলকাতায় সেভাবে খুব একটা ঠাণ্ডা পড়েনি। সবার মনেই উঁকি দিচ্ছে যদি কোথাও একটু বেড়াতে যেতে পারতাম তাহলে খুব ভালো হত। কিন্তু কোথায় যাব ঠিক করতে পারছিনা। বয়সও আমাদের কম বাড়ি থেকে একা ছাড়বে কিনা, সেসব নিয়েও অনেক চিন্তা ভাবনা করছি। এমন সময়ে শুভ এসে হাজির হোল সে আড্ডায়, বলল, আমি একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারি যদি তোরা রাজি হোস।
আমারা সবাই সমস্বরে চিৎকার করে উঠলাম আনন্দে! বললাম, কোথায় কোথায়? শুভ বলল, শিমুলতলায় যাবি? আমরা একটু অবাক হয়ে বললাম, সেটা আবার কোথায়? শুভ একটু ভেবে নিয়ে বলল, আগে ঠিক কর যাবি কি যাবিনা। তারপর জায়গাটা কোথায়, কিভাবে যেতে হবে সব বলবো। আমি বললাম, কাল তোকে জানাবো। মাকে বলি, কি বলে শুনি। আমার কথা শুনে সবাই বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ কাল ঠিক করবো। শুনে শুভ বলল, তাহলে আমাকে কাল বলিস, ওখানে তো থাকতে হলে আগে থেকে সব ব্যবস্থা করতে হবে। মনে মনে আনন্দে উত্তেজনায় বেশ সবাই একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলাম।

পরেরদিন যথারীতি শুভকে আমরা জানালাম, আমরা সবাই যাচ্ছি, তুই সব ব্যবস্থা কর। শুভ ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো। তারপর বলল, তাহলে আর কি ব্যাগপত্র গুছিয়ে নে, আগামী শনিবার বের হবো। ওই সময়ে পূর্ণিমা, চাঁদের আলোয় দেখিস খুব ভালো লাগবে জায়গাটা। শৌভিক বলল, তুই গেছিস ওখানে? শুভ চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, কোথাও ঘুরতে গেলে কি সেখানে আগে যেতে হয়? সব খবর নিয়ে নিয়েছি। কোন চিন্তা নেই, আমি আছি তো নাকি? শুভর এই আত্মবিশ্বাস আমাদের শুধু নয় অনেকেরই ভরসা যোগাতো।
.............................................
হাওড়া থেকে ট্রেন ছাড়ে শিমুলতলা যেতে। ঝাড়খণ্ড বর্ডারের কাছাকাছি জায়গাটা। প্রায় এগারো ঘণ্টা লাগে। রাতের ট্রেন। রিজার্ভেশন টিকিট কাটা হোল। সবাই আমরা খুব খুশী! জীবনে এই প্রথম আমরা বন্ধুরা মিলে ঘুরতে যাচ্ছি। যে যার নির্দিষ্ট বার্থ চিনে নিয়ে ব্যাগপত্র রেখে নীচের বার্থে এসে বসলাম। মনে মনে খুব আনন্দ হচ্ছে। ট্রেন ছাড়তে এখনও একটু দেরি আছে। ট্রেনের কিছু যাত্রী আমাদের দিকে মাঝে মধ্যে তাকাচ্ছে। ওনাদের মধ্যে বয়স্ক একজন ভদ্রলোক বললেন, কোথায় যাবে তোমরা? আমি বললাম, শিমুলতলা। ভদ্রলোক একটু তাকিয়ে বললেন, কাদের বাড়ি? শুভ আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে বলল, আমরা ঘুরতে যাচ্ছি, কারোর বাড়িতে নয়।
আমরা সিটে এসে বসলাম। ট্রেন ছেড়ে দিল। সবার মনে খুব উত্তেজনা। হৈ হৈ করে চলেছি আমরা। সন্ধ্যে ছয়টা বাজে ঘড়িতে ট্রেন ছাড়ল। মনের ভেতর আনন্দের ঝড় বইছে। এই প্রথম আমরা কয়জন চলেছি অজানা এক জায়গায় ঘুরতে , শুধুমাত্র কয়জন বন্ধু আমরা।
অনেক্ষণ হয়ে গেল ঝড়ের গতিতে ট্রেন এগিয়ে চলেছে হুইসেল দিতে দিতে। বাইরেটা ঘুটঘুটে অন্ধকার, কিছু দেখা যায়না। রাত বাড়ছে...... এই ঘুরতে যাওয়ার বিষয়ে শুভ আমাদের টিম লিডার। ওর ওপর আমরা ভরসা করি আগেই বলেছি। বাড়ি থেকে খাবার নিয়েই ট্রেনে উঠেছিলাম, রাত হয়ে যাচ্ছে ঘড়িতে প্রায় নয়টা বাজে দেখে কৌশিক বলল, চল এবার খেয়ে নেওয়া যাক। সবাই যে যার ব্যাগ থেকে খাবার বের করে খেতে বসলাম তারপর আর বেশিক্ষণ দেরি না করে যে যার বার্থে গিয়ে শুয়ে পড়লাম, কাল আবার অনেক সকাল সকাল উঠতে হবে। ভোর পাঁচটায় পৌঁছাবে শিমুলতলা। শোবার সাথে সাথেই আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম।
কখন যে ভোর হয়ে আসছে বুঝতে পারিনি, এমন সময় দেখি শুভ সবাইকে ডেকে তুলে দিল, ঘড়িতে সাড়ে চারটে বাজে, উঠে পড়, আর বেশি দেরি নেই। আমাদের নামতে হবে, চাদর, বালিশ সব গুছিয়ে নে। আমরা সবাই ধড়্‌ফড়্‌ করে উঠে পড়লাম। বাথরুমে গিয়ে চোখ – মুখ ধুয়ে নিয়ে সবাই গোছাতে শুরু করলাম। ট্রেন চলেছে দ্রুত গতিতে। একদম সঠিক সময়ে ট্রেন এসে থামল শিমুলতলা স্টেশনে। আমরা আটজন আর কিছু প্যাসেঞ্জার নামলাম। কুয়াশায় কিছু দেখা যায়না। চারদিক ফাঁকা। বেশ ঠাণ্ডা আছে এখানে। একটু একটু ভোরের আলো সবে দেখা দিচ্ছে কিন্তু কুয়াশায় সূর্য্যিমামার মুখ ভালো করে দেখা যায়না। আমন বলল, জায়গাটা একেবারে সুনসান। কাউকে দেখা যাচ্ছেনা। শুনে শুভ বলল, এই ভোরবেলায় কে থাকবে? সবাই ঘুমচ্ছে বুঝলি...... আমি যেদিকে বলেছি সেদিকে চল...... ষ্টেশনের পাশ দিয়ে একটা মেঠো রাস্তা চলে গেছে...... আমরা সেই পথ ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। অনেকটা রাস্তা---- হাঁটছি তো হাঁটছি, এমন সময় শৌভিক বলল, আরও কতক্ষণ লাগবে রে শুভ? শুভ বলল, দাঁড়া ঐ দ্যাখ একটা ভ্যানরিকশা এদিকে আসছে, দেখি লোকটা আমাদের নিয়ে যায় কিনা। ও কাকু যাবে? রোগা , মাঝবয়সী লোকটা একটু চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাবেন গো আপনারা? শুভ বলল, রমনীকান্তর বাড়ি, চেনো? নিয়ে যেতে পারবে? শুনে লোকটি বলল, হ্যাঁ, কেন পারবো না? তবে এখানে থেকে আরও দু মাইল রাস্তা তার বাড়ি। যাবে শুনে আমরা সবাই ব্যাগগুলোকে ভ্যানের মাঝখানে রেখে চারপাশে সবাই বসলাম পা ঝুলিয়ে। ভ্যানরিকশা এগিয়ে চলল ......


(২)
গিয়ে পৌঁছলাম সেই ভদ্রলোকের বাড়ি। বাড়িটা পুরনো আমলের। শুভ দরজার কড়া নাড়তে লাগলো। ভেতর থেকে একজন বয়স্ক মানুষের গলার আওয়াজ পেলাম, খুলছি...... আমাদের দেখে বললেন, তোমরা এসে গেছো, যাক ভালো দাঁড়াও বাড়ির চাবিটা এনে দি, বলে বাড়ির ভেতরে গেলেন। আমরা বাইরেই দাঁড়িয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ পর এসে একটা চাবি ধরিয়ে দিলেন শুভর হাতে, তারপর বললেন, ওখানে কাছেই একটা ডেকরেটরের দোকান আছে। ওখান থেকে সব পেয়ে যাবে। শুভ চাবিটা ওনার হাত থেকে নিয়ে নিল তারপর আমরা আবার ভ্যানরিকশায় গিয়ে উঠে বসলাম, ভ্যানটা চলতে থাকলো। শুভকে জিজ্ঞেস করলাম, কে রে ভদ্রলোক? শুভ বলল, উনি হলেন ওই বাড়ির কেয়ারটেকার।
.............................................

বেশ অনেকটা রাস্তা চলার পর একটা জঙ্গলঘেরা বাড়ির সামনে এসে ভ্যান দাঁড়ালো। আমরা সবাই একটু অবাক হয়ে একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছি এটা আবার কোথায় এলাম! একটু ভয় ভয়ও করছে। দিনের বেলাতেই এতো নিস্তব্ধ! শুধু পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে কোন বাড়ি নেই। জঙ্গলের মধ্যে শুধু পোড়ো বাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে। শুভ এগিয়ে গিয়ে চাবি খুলল। ঢুকলাম বাড়ির ভেতরে। অনেক পুরনো একটা বাড়ি। পঁচিশ কাঠা জায়গা নিয়ে বাড়ি এবং বাড়ি ঘিরে জঙ্গল। বিভিন্ন জায়গায় বাড়ির ভেঙে ভেঙে পড়েছে। বাড়িটাতে তিনটে শোবার ঘর। সারাবাড়িটা তারকাঁটা দিয়ে ঘেরা। বাড়ির পেছনদিকে একটা প্রায় ঘর সমান ইঁদারা। শুভ বলল, তোরা এখানে স্নান কর আমি আসছি বলে বেড়িয়ে গেল। বেশ কিছুক্ষণ পর একটা অটোয় করে বিছানাপত্র আর কিছু বাজার করে আর রান্না জন্য একটা গ্যাস নিয়ে এসে হাজির করলো। ওকে দেখে আমরা একটু শান্তি পেলাম। বাড়িতে কিছুই নেই, ঘরগুলো ফাঁকা, একটা করে চৌকি পাতা আছে। অটোটা ছাড়ার সময় শুভ বলল, কাকু আমাদের রান্না, খাওয়া হয়ে গেলে আমরা কিন্তু ঘুরতে বের হবো। তুমি আসবে আমাদের নিয়ে যাবে। লোকটা মাথা নেড়ে চলে গেল। শুভ খুব ভালো রান্না করতে পারে সেদিন ওইই রান্না করল। আমরা খেয়ে দেয়ে সবাই বিছানায় গড়িয়ে পড়লাম।
কখন যে বিকেল হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। শুভ এসে সবাইকে ডেকে তুলল, এই চল রেডি হয়ে নে, অটো এসে গেছে। আমরা সবাই বেরিয়ে পড়লাম ঘুরতে। জায়গাটা খুব সুন্দর। বেশ ভালো লাগছিল। শীতটাও খুব জাঁকিয়ে পড়েছে। বেশ কিছুটা যাবার পর শুভ অটো ড্রাইভারকে বলল, কাকু তুমি পেছনে গিয়ে বসো, আমি চালাই। বলে নিজে অটো চালাতে লাগলো। চলতে চলতে হাজির হলাম একটা ভাঙাচোরা বাড়ির সামনে...... অটোটা দাঁড় করিয়ে শুভ ঢুকে গেল বাড়িটার ভেতরে। আমরা সবাই অপেক্ষা করছি ওর জন্য। হঠাৎ ওখানে কি আছে বুঝলাম না। কিছুক্ষণ পর একটা পাখি ধরে নিয়ে এসে আমাদের দেখালো, কি পাখি ছিল সেটা আমার মনে নেই, কারণ আমি অত পাখি চিনিনা। তারপর পাখিটা উড়িয়ে দিয়ে আবার অটো চালাতে লাগলো। শুভ এত পশুপাখি, জন্তু-জানোয়ার ভালবাসে কি বলবো! যেমন মানুষের প্রতি ওর ভালবাসা ঠিক তেমন তাদের প্রতিও ওর দরদ। গঙ্গার ঘাটে যখন বসে আমরা আড্ডা দিতাম তখন দেখতাম খাবার খাওয়ার জন্য কাকগুলো ওর পাশে এসে বসতো। আবার কোনটা ওর কোলে উঠে পড়তো। যেমন কাককে বশ করতে পারতো তেমন পারতো কোকিলকে বশ করতে। গঙ্গার ঘাটে একটা কোকিল প্রায়ই আসতো ওর কাছে, না দেখলে আপনারা বিশ্বাস করবেন না। আমরা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতাম ওর দিকে!! কিভাবে পারতো জানিনা!!

যাইহোক ঘুরে ফিরে আসতে বেশ দেরি হয়ে গেল। অনেকটা রাত হয়ে গেছে। এসে পৌঁছলাম সেই বাড়িটার সামনে...... দেখেই গা টা ছমছম করে উঠলো, বাড়িতে কারেন্ট নেই। এখন কি হবে! ভয়ে আমরা এক জায়গায় জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এমন সময় শুভ বলল, তোরা দাঁড়া আমি এখনি আসছি, বলে সে অন্ধকারে দূরে মিলিয়ে গেল। আমরা সাতজনে একে অপরের হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে আছি। আকাশে চাঁদের আলোয় অল্প কিছু দেখা যাচ্ছে। বেশ কিছুক্ষণ পর একটা হ্যজাক জ্বালিয়ে হাতে করে নিয়ে দেখি বাবু আসছেন! ওকে দেখে বুকে একটু বল পেলাম। সবাই মিলে বাড়ির ভেতর ঢুকে গেলাম। মনে মনে খুব রাগ হচ্ছিল শুভর ওপর...... এইরকম জায়গায় কেউ ঘুরতে আসে?! এমন ভুতুড়ে জায়গা! বাড়ির ভেতরে ঢুকে দরজায় তালা দিয়ে দিল শুভ। জায়গাটায় নাকি চোর, ছিনতাইবাজদের খুব উৎপাত। রাতের অন্ধকারে বাড়িটা দেখলে হাড় হিম হয়ে যায়!! ওখানকার লোকের বিশ্বাস বাড়িটায় ভুত আছে। মাঝে মাঝে নাকি কাদের কথা বলার আওয়াজ পাওয়া যায়! অটো ড্রাইভার কাকু আমাদের এইসব নানা গল্প করতে করতে আমাদের সাথে ঘুরছিল। যত শুনছিলাম ততই চিন্তা বাড়ছিল!

যাইহোক নিজেরাই রান্না করতাম, মূলত শুভ রান্না করতো আর আমরা ওকে সাহায্য করতাম। রাতের খাওয়া সেরে সবাই শুয়ে পড়লাম। সেই রাতে গভীর ঘুমে ডুবে গেলাম, একেবারে এক ঘুমেই ভোর। যখন ঘুম ভাঙল দেখি বাইরে অনেকগুলো পাখি ডাকাডাকি করছে, ঘুম ভেঙে যেতেই ঘরের বাইরে এসে দাঁড়ালাম। খুব সুন্দর লাগছিল ...... তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম কত রকমের পাখি! মেন দরজার দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম তালা খোলা, বুঝলাম শুভ নিশ্চয়ই বাইরে গেছে। সবাই একে একে উঠে পড়লো। দিনেরবেলায় জায়গাটা সত্যিই খুব সুন্দর লাগে। বাজার করা, রান্নাবান্না হয়ে গেলেই আমরা বেরিয়ে পড়তাম ঘুরতে। বেশ লাগতো। হাসি ঠাট্টার মধ্যে সময়টা বেশ কেটে যাচ্ছে। রাতে সবাই একসাথে থাকতাম, কেন জানিনা! রাত হলেই বুকের ভেতর কাঁপুনি ধরত! সেই রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছি।

রাত তখন কটা হবে কে জানে...... ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল, জঙ্গলের দিক থেকে গাছের পাতা পোড়ার গন্ধ আসছে, দেখার জন্য জানলার একটা পাল্লা খুলে দেখার চেষ্টা করলাম। গাছের ফাঁক দিয়ে শুধু আগুনের শিখা কিছুটা দেখতে পেলাম। ওদেরকে ডেকে তুললাম, বললাম এতো রাতে জঙ্গলে কারা যেন আগুন জ্বালিয়েছে। শুনে শৌভিক বলল, ভুতে আগুন জ্বালাতে পারেনা, দিলি তো ঘুমটা ভাঙিয়ে? আমনের চোখে পড়লো শুভ ঘরে নেই।

শুভ নেই ঘরে...... আমনের কথা শুনে সবাই তাড়াতাড়ি উঠে ঘরের বাইরে এসে বোঝার চেষ্টা করছে শুভ কোথায়? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত দেড়টা বাজে। কিছুটা এগোতেই দেখি শুভ আগুনের সামনে একটা উঁচু ঢিপিতে বসে বসে পা নাড়াচ্ছে আর চিপস্‌ খাচ্ছে। আমি বেশ কিছুটা রাগত সুরেই বললাম, এই রাতে এখানে বসে আছিস? চিপস্‌ খাবার সময় পেলিনা, তাও আবার এখানে এই ভুতুড়ে জায়গায় বসে বসে...... শুনে শুভ বলল, ভুত আসবে? আমি বললাম হ্যাঁ আসতেও পারে! শুনে আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলল, আসতে দেনা, কে আসে দেখি, ছেলে ভুত এলে পায়ের জুতো খুলে মারবো আর মেয়ে ভুত এলে রোমান্স করবো ......... ওর কথা শুনে আমরা হো হো করে হাসতে লাগলাম, তারপর সবাই শুভকে নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম।


(৩)
শুভ খুব ভালো গীটার বাজাতে পারতো। সন্ধ্যে হলেই চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে যেত। আমরা সবাই ঘরে থাকতাম ভয়ে।
শুভ জঙ্গল থেকে কাঠ কুড়িয়ে নিয়ে এসে ক্যাম্প ফায়ার করতো। সেই আগুনে মুরগী ঝলসে খাওয়া হতো। সাথে ও গীটার বাজাতো আর আমরা সকলে গান গাইতাম। দিনগুলো খুব মজায় কাটছিল। সারাদিন জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতাম। শুভ, বেল, বাতাবি লেবু, পেয়ারা গাছ থেকে পেড়ে এনে নিজে খেতো আর আমাদেরও খাওয়াতো। খুব মজা হোত।
পরদিন সকালে আমরা বাজার করে ফিরে এসে রান্না শেষ করে সবে বসে আছি এমন সময় শুভ বলে চল একটু ঘুরে আসি তারপর এসে খাব, তো আমরা সবাই বেড়িয়ে পড়লাম। চলেছি মেঠো পথ ধরে দুধারে পুকুর বেশ কিছুটা যাবার পর হঠাৎ ঝপাং করে কি একটা আওয়াজ হোল, সবাই আমরা চমকে গিয়ে ফিরে দেখি শুভ শার্ট, প্যান্ট পরেই পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটা শুরু করেছে, ওকে বললাম , কি রে জলে নামলি যে? বলে জলটা দেখে ভালো লাগলো, তোরাও নেমে আয়, সাথে সাথে আমরাও নেমে পড়লাম। সে কি মজা হোল! ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। সারাদিন এতো আনন্দ হোত, কিন্তু সন্ধ্যে হলেই আমাদের ভয়ে বুক দুড়দুড় করতো।
একদিন রাতে সাদা মতো কি একটা দেখে নীল ভয়ে ছুটে ঘরে ঢুকে পড়লো। ওকে দেখে আমরাও ভয়ে ঘরের মধ্যে চলে এলাম। শুভ কে জিজ্ঞেস করলাম এখানে ভুত আছে নাকি রে? শুনে শুভ হাসতে হাসতে বলল, আমার চেয়ে বড় ভুত এখানে পাবিনা কোথাও। আমরা সবাই হেসে উঠলাম, কিন্তু ভয় যেন মন থেকে যাচ্ছে না, শুভ বুঝতে পারলো আমরা ভয় পাচ্ছি। বাড়িতে একটা ক্যাম্প খাট ছিল, শুভ সেটা নিয়ে গিয়ে পেতে বসে পড়লো আর আগুন জ্বালিয়ে গীটার বাজিয়ে গান করতে থাকলো। কত রাত অব্ধি গান গাইছিল মনে নেই। সেই রাতে গীটারটা পাশে রেখে শুভ ওই ক্যাম্প খাটেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। আমরা বুঝতেও পারিনি যে শুভ সারারাত ওখানে ছিল।
....................................
নীল আমাদের চেয়ে বেশ কিছুটা বড়, ও আমাদের সাথে পড়তো না। আমাদের এলাকার ছেলে আমার বন্ধু সেই সুত্রে সবার সাথে নীলের বন্ধুত্ব হয়ে গিয়ে ছিল। বয়সেই বড় শুধু, শুভ আমাদের মধ্যে বয়সে সবার ছোট। কিন্তু ছোট হলে কি হবে খুব সপ্রতিভ। যে কোন বিষয়ে এগিয়ে যেতে এতটুকু ভাবার সময় নেয়না। শুভর মতো ছেলে আছে বলেই আমরা হয়ত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে পেরেছি। কেউ শাসন করার নেই, কেউ কিছু বলার নেই তাই কটা দিন মুক্তির আনন্দে আমরা নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছি।
পরেরদিন সকালে বাজার থেকে শুয়োরের মাংস আনা হোল, শুভ বলল, আজ এখন আর কোথাও বের হবো না বুঝলি, খুব ভালো করে কষিয়ে রান্না করবো। তারপর খেয়েদেয়ে গীটার নিয়ে গান শুরু হোল, বিকেলের দিকে শুভ বলল, চল এখন একটু বের হই, কাছেই একটা হাট বসে, ওখানে বকের মাংস, হরিণের মাংস পাওয়া যায়, রাতে যখন ফিরবো কিনে নিয়ে আসবো।
বেরিয়ে পড়লাম সদলবলে। ঘুরতে ঘুরতে হাজির হলাম সেই হাটে। তাও প্রায় বাড়িটা থেকে তিন কিলোমিটার হবে। ওখানে বকের মাংস পেলাম। কিনে নিয়ে ফিরতে ফিরতে বেশ অনেকটা রাত হয়ে গেল। চাঁদের আলোয় রাস্তা দেখতে দেখতে এগিয়ে চলেছি। আমার কাছে একটা টর্চ ছিল। শুভ বলল, ওটা জ্বালাস না, দ্যাখ না চাঁদের আলো কি সুন্দর! প্রকৃতির প্রতিও ওর অপার টান সেটা বুঝতাম। এগিয়ে চলেছি সেই রাস্তা ধরে বাড়ির দিকে। বেশ কিছুটা এগিয়ে গেছে শুভ আমরা সবাই কিছুটা পেছন দিকে। হঠাৎ দেখি মুখে কাপড় জড়ানো পাঁচ, ছয় জন লোক আমাদের ঘিরে ধরেছে, একজন নীলের মাথায় একটা রিভালবার ঠেকিয়ে বলল, যা আছে বের কর, আমাদের তো গলা একেবারে শুকিয়ে কাঠ! কি করি এখন, চেঁচিয়ে শুভকেও ডাকতে পারছিনা। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না, এমন সময়ে দেখি শুভ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে বিষয়টা লক্ষ্য করছে। মুখে কোন কথা বলছে না। মনে মনে বেশ রাগ হচ্ছে শুভর ওপর। কেন যে আসতে গেলাম এমন জায়গায়! লোকটা নীলের কপালের পাশে রগের ওপর রিভালবারটা ঠেকিয়ে গালগালাজ করছে আর বলেছে যা আছে বের কর নাহলে আর ফিরতে পারবিনা এখানে থেকে। মুহূর্তের মধ্যে শুভ নিজের গায়ের গেঞ্জিটা খুলে মারল লোকটার মুখে। লোকটা মুহূর্তের মধ্যে কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেল। শুভ ওর হাত থেকে সেই মুহূর্তে রিভালবারটা কেড়ে নিয়ে সুট করলো লোকটার পায়ের দিকে, লোকটা মাটিতে পড়ে গেল, বুঝলাম পায়ে লেগেছে। আর একজন এগিয়ে আসতেই তার কানের দিকে লক্ষ্য করে আবার সুট করলো, লাগলো কিনা বুঝতে পারলাম না, ওরা যে কয়জন ছিল, সবাই মিলে পড়ে যাওয়া লোকটাকে তুলে নিয়ে দৌড় দিতে থাকলো। লোকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড়াতে লাগলো। রিভালবার থেকে বাকি গুলিগুলো বের করে ওদের দিকে তাক করে ছুঁড়ে মারল শুভ, আর বলে থাকলো, এসব খেলনা নিয়ে আসবিনা বুঝলি......... আমরা তো হতবাক ওকে দেখে। মুখে আমাদের কথা সরেনা! সবাই আমরা বিস্ময়ে তাকিয়ে আছি ওর দিকে! এমন সময় শুভ আমাদের ওই অবস্থা দেখে বলল, কি দেখছিস অমন করে, আমার তখনো হাত,পা কাঁপছে। আমরা সবাই থ ! সবাই বাড়ির দিকে আবার হাঁটা শুরু করলাম কিন্তু শরীর যেন চলতে চাইছেনা। আমাদের দেখে শুভ বলল, শালারা মাংস খাওয়ার আনন্দটাই ভেস্তে দিল। দেখা হোক আবার লোকগুলোর সাথে পয়সা উসুল করে ছাড়বো।
বাড়ি পৌঁছে গেলাম, সবাই আমরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে আছি তখনো। ঘটনার রেশ যেন কাটতেই চায়না। শুভ আমার হাত থেকে বকের মাংসর ব্যাগটা নিয়ে রান্না করতে চলে গেল। সেই রাতে নীলের ধুম জ্বর এলো। বুঝলাম ভয়ে ওর জ্বর এসে গেছে। শুভর কাছে ওষুধ ছিল। ব্যাগ থেকে বের করে খাইয়ে দিয়ে বলল শুয়ে থাক। কমে যাবে চিন্তা করিসনা। আমাদের তখন মাংস খাওয়া মাথায় উঠেছে। আমরা বললাম, কাল ভোর হলেই আমরা চলে যাবো। আর একদিনও এখানে থাকবো না। শুভ বলল, না যেদিন ফেরার কথা সেদিনই ফিরবো। আমি আছি তো চিন্তা কি তোদের? ওই পাঁচ, ছয়জন কে দেখে ভয় পেয়ে গেলি? আমি তো চাই আমার আসুক, পনেরো- বিশ যত জন ইচ্ছে আসুক। মজা দেখাব এবার। সেই রাতে কোনমতে খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসছেনা চোখে। কিছুক্ষণ পর শুভ বাইরে থেকে বাড়িটায় তালা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল। প্রায় আধ ঘণ্টা পর ফিরে এসে বলল, চিন্তা করিসনা, সব ব্যবস্থা করে এসেছি, শুয়ে ঘুম দে।
কি ব্যবস্থা করে ফিরে এলো জানিনা। আমি গুটিসুটি পাকিয়ে শুয়ে রইলাম, আর ভাবতে থাকলাম সন্ধ্যেবেলার সেই ঘটনাটা।


(৪)
রাতে ভালো করে কারোর ঘুম হোলনা। উঠে পড়লাম তাড়াতাড়ি। কৌশিক বলল, আর এক মুহূর্ত আমি এখানে থাকবো না। শুনে শৌভিক বলল, ঠিক বলেছিস এই জায়গায় কেউ ঘুরতে আসে?!! একটা পোড়ো বাড়ি, ধারে পাশে একটা বাড়ি নেই, জনমানবের বসতি নেই, ব্যাগ গুছিয়ে ফ্যাল ও শালা একা থাকুক এখানে আমরা আর থাকবো না, চলে যাবো। শুনে আমি বললাম, তা হয়না শুভকে একা রেখে আমরা চলে যাবো, ওটা হবেনা। আমন বলল, তাহলে তুই থাক আমরা যা ট্রেন পাবো তাতেই চলে যাবো। সকাল থেকেই শুভ ঘরে নেই, জঙ্গলের দিকে কিছুটা এগিয়ে গেলাম শুভ আছে কিনা দেখার জন্য। কিন্তু যা দেখলাম শরীর শিউরে উঠলো ! জঙ্গলে বিশাল বড় বড় সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সব জাত সাপ। ফনা তুলে কোনটা দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে ছুটে ঘরের ভেতর চলে এসে জানলা দরজা বন্ধ করে দিলাম। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সাপগুলো বাড়ির ত্রিসীমানায় আসছে না। জঙ্গলেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাও প্রায় দশ, বারোটা সাপ তো হবেই।
আমাকে দৌড়ে ঘরে ঢুকতে দেখে আমন জিজ্ঞেস করলো, কি হয়েছে? আমি বললাম, কত সাপ জঙ্গলে! শুনে আমন বলল, ধুস সাপ কথা থেকে আসবে? কত রাত অব্ধি শুভ ওখানে থাকে, গীটার বাজায়, আমরা থাকি, এই কয়দিন একটাও সাপ দেখিনি আর আজ তুই সাপ পেলি কোথা থেকে?
আমি ওর হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে দেখাতেই ভয়ে ও এক দৌড়ে ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দিয়ে হাঁপাতে থাকলো। আমি বললাম কি হোল? আমার কোথা বিশ্বাস হোল তো? আমন বলে আমি জল খাব, ওকে জলের বোতলটা এগিয়ে দিয়ে বললাম, না আর থাকাটা ঠিক হবেনা। নীল বিছানার একপাশে শুয়ে আছে, জ্বর নেই আর। সকাল থেকে আমরা কিছু খাইনি। শুভটাও সেই সকালে বের হয়েছে আসার নাম করে না।
প্রায় দশটা বাজে ঘড়িতে এমন সময়ে দরজার কড়া নাড়ার শব্দে বুঝলাম শুভ এসে গেছে। আমি গিয়ে দরজা খুললাম। আমাকে দেখে বলল, আজ একটা দারুণ জিনিস খাবো আমরা, যা কোনদিন খাসনি। আমি বললাম, কি? শুভ ব্যাগটা অল্প খুলে দেখাতে দেখাতে বলল, আজ হরিণের মাংস খাবো, ওইজন্য তো তাড়াতাড়ি গেছি। ভোরবেলায় পাওয়া যায়। আমি ওর কথা শুনে মাথায় হাত দিয়ে বসলাম, বললাম, তোর এখনো খেতে ইচ্ছে করছে? আমরা আজই চলে যাবো। ওরা ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছে। জঙ্গলটায় গিয়ে দেখে আয় কত সাপ বেরিয়েছে। ওরা যদি বাড়ির ভেতর ঢুকে আসে কি হবে তখন?!
শুভ বলল, আসবেনা। আমরা শুনে অবাক! বলে কি! বাড়ির ভেতর আসবে না!!
কৌতূহল যেন বেড়েই চলেছে, শুভর এক একটা কীর্তি দেখি আর ভাবি এতো সাহস ওর হয় কোথা থেকে!
শুভ বলল, আগামীকাল ফেরার কথা, আগামীকালই ফিরবো, আজ নয়। আজ ভালো করে হরিণের মাংস দিয়ে ভাত খাবো বুঝলি? আমি ওর হাতটা ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে দেখালাম, সেই সাপগুলোকে তখনো দু তিনটে ওখানে ছিল। বাকি গুলো হয়তো এদিকওদিক চলে গেছে।
সাপগুলোকে দেখে শুভ হাসতে হাসতে বলল, জানি তো, এখানে অনেক সাপ আছে। আমি কয়দিন ঘুরে ঘুরে ওদের গর্তগুলোও দেখে এসেছি। আজ কেন বের হয়েছে জানিস? আমি বললাম কেন? বলে কাল রাতে বাড়িরটার চারপাশ ঘিরে কার্বলিক অ্যাসিড ছড়িয়ে দিয়েছি। এই যে কোদালটা দেখছিস এটা দিয়ে বাড়ির চার পাশ ঘিরে একটা পরিখা মতো কেটে দিয়েছি। কুমোরটুলির ছেলে তো, মাটি কাটার অভ্যাস আছে। শুভর এই কঠিন ইয়ার্কিগুলো আমরা কেন জানিনা সহ্য হয়না। কিছুটা রেগে গিয়ে বললাম, কখন করলি এসব? বলে, কেন কাল রাতেই, তোরা যখন একে একে ঘুমিয়ে পড়লি আমি তখন আস্তে করে বেরিয়ে গিয়ে এটা করে এলাম, তুই তখন মনে হয় জেগে উঠেছিলি, আমি বললাম নে এবার ঘুমিয়ে পড় আর ভয় নেই। মনে আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ মনে পড়েছে।
এখানে সাপ আছে জেনেই তো কার্বলিক অ্যাসিডের ড্রাম কিনে এনেছিলাম। সাপগুলো ওই অ্যাসিডের গন্ধে ঘরে ঢুকবেনা কিন্তু উত্তেজিত হয়ে নিজেদের গর্ত থেকে বের হয়ে আসবে। ওদের কাল রাতে বের করার খুব দরকার ছিল। আমার শরীর যেন হিম হয়ে আসছে! গলা থেকে আওয়াজ বের হতে চাইছেনা, তাও একটু জোরেই জিজ্ঞেস করলাম, কেন বলবি তো? শুভর মুখে সেই নির্মল হাসি...... কিছুক্ষণ পর বলল, ওরা যদি কাল রাতে আসতো তাহলে নির্ঘাত কয়েকটা কে সাপে কাটতো। সেইজন্যই ওদের কাল বের করেছিলাম এইভাবে। ওদের গর্তগুলোর সামনেও অ্যাসিড দিয়ে এসেছিলাম। আমার মাথায় হাত! কি ছেলেরে বাবা! উফ্‌ ভাবলেও গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে আমার।
ঘরে ঢুকে শুভ সবাইকে বলল, কাল ফিরে যাবো। আজ নয়। বলে রান্না করতে চলে গেল। আমন, শৌভিক, কৌশিক, যারা এতক্ষণ ফিরে যাবো বলে ব্যাগ গুছিয়ে ফেলল, তাদের মুখে আর কোন রা নেই, সবাই চুপ করে মেনে নিল ওর কথা।
সারাদিন আর কোথাও সেদিন বের হলাম না আমরা। বাড়িতেই রইলাম। নীলের শরীর এখন ভালো আছে। আর জ্বর আসেনি। হরিণের মাংস যে এতো ভালো খেতে সত্যি না খেলে বুঝতে পারতাম না। চিরদিন মনে থাকবে এই দিনগুলোর কথা।
একটা কথা তো বলতেই ভুলে গেছি, নীল উচ্চবিত্ত পরিবারের একমাত্র ছেলে। আমাদের সাথে বন্ধুত্ব ছিল ঠিকি, কিন্তু অনেক বিষয়ে আমাদের সঙ্গে ওর পার্থক্য ছিল। ওর ড্রিঙ্ক করার অভ্যাস ছিল। লুকিয়ে ব্যাগের ভেতর করে বেশ কয়েকটা দামি মদের বোতল নিয়ে গিয়েছিল। শুভ যখন থাকতো না, তখন ব্যাগ থেকে বের করে সবাই মিলে খাওয়া হত। আমিও অল্প সল্প খেতাম নীলের পাল্লায় পড়ে। শুভ এগুলো নিজেও খায়না, আর খাওয়া পছন্দও করেনা।
সেইদিন রাতে হ্যাজাকটা নিভে যেতে একটা হ্যরিকেন ছিল সেটা জ্বালানো হোল। আমরা সবাই মিলে গল্প করছি। আবার সেই শুরু হয়েছে আবার গীটার বাজিয়ে গান, অফুরন্ত উৎসাহে ভরা, কোন ভয় ডর বলে কিছু নেই। শুভকে দেখে বুঝতাম অনেক কিছু শেখার আছে ওর থেকে। এমন ছেলে সত্যিই বিরল। এমন সময়ে হঠাৎ হ্যারিকেনটাও নিভে গেল। সারা বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকার। খুব ভয় পাচ্ছিলাম আমরা সবাই। শুভ শুভ করে সবাই মিলে ওকে ডাকা শুরু করেছি। শুভ বলে আরে দাঁড়া নারে আলো জ্বালাচ্ছি। আমরা ভাবলাম কোথা থেকে আবার কি জ্বালাবে! মোমবাতিও তো নেই। তারপর দেখলাম ঘরের এককোণে একটা বোতলের ওপর আগুন জ্বলছে। আমি ভাবলাম, শিশিতে বুঝি কিছুটা কেরোসিন ছিল, তাতে ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো দিয়ে সলতে করে জ্বালাল শুভ। আগুনটা জ্বলছে, আমরা একে একে ঘুমিয়ে পড়লাম। শুভও সেদিন ঘুমিয়ে পড়ল।
পরেরদিন ব্যাগ গোছাতে গিয়ে নীল বলল, আরে আমার মালের বোতলটা কোথায় গেল? শুভ বলল, কেন কাল রাতে তো ওতেই আগুন পোহাতে পোহাতে ঘুমিয়ে পড়লি। নীল বিস্ফোরিত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল, মানে? তুই কাল মদ দিয়ে আগুন জ্বালিয়েছিলি?
শুভ বলল, হ্যাঁ, বলেই দে ছুট......
সবাই ওকে পিটানোর জন্য পিছন পিছন ছুটেছে, আমি হেসে হেসে বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছি। আজও মনে পড়লে হাসি পায়। কি বুদ্ধি রে বাবা!


(৫ )
আজ আমাদের ফিরে যাবার দিন। সকাল থেকেই উঠে পড়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ব্যাগপত্র গোছাতে। দেখে শুভ বলল, আরে যাবি তো রাতের ট্রেনে এখন কি? চল আর একটু ঘুরে আসি। সবাই মিলে পাউরুটি আর ডিমভাজা খেয়ে ওর সাথে বেরিয়ে পড়লাম। বুকের মধ্যে থেকে ধুকপুকুনি যাচ্ছে না! শুধু মনে হচ্ছে যদি আসে ওই ছিনতাইবাজ লোকগুলো! কি হবে তাহলে! শুভ একা কি করবে! আমরা আরও সাতজন আছি ঠিকই কিন্তু বলতে লজ্জা নেই আমরা কেউই ওর মতো সাহসী নয়। ঘুরতে ঘুরতে অনেকদূর চলে গেছি, জায়গাটা সত্যিই খুব সুন্দর। প্রকৃতি যেন অপরূপ সাজে নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে। নীল, শুভকে জিজ্ঞেস করলো, তুই এখানে আসার কোথা ভাবলি কেন? আর কি জায়গা পেলি না? শুভ বলল, ট্রেনে উঠে বলবো, এখন না।

তারপর আমরা প্রায় বাজারের কাছাকাছি চলে গেছি, ওখান থেকে কিছু বাজার করা হোল দুপুরের রান্না করে খেতে হবে তো।
ফিরে এসে একসাথে সেই বিশাল ইঁদারায় স্নান করলাম। খুব আনন্দ হচ্ছিল তখন হৈ হৈ করে স্নান করলাম। শুভ রান্না শেষ করে বলল, খেয়ে নিতে হবে তাড়াতাড়ি। জিনিসগুলো ফেরত দিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই খাওয়া দাওয়া সেরে নিলাম। শুভ বলল, চল ডেকরেটরের কাছে মালগুলো ফিরিয়ে দিয়ে আসি। আমরা বিছানাপত্র গুছিয়ে, রান্নার বাসনপত্র গুছিয়ে গ্যাসের ওভেন, সিলিন্ডার সব এক জায়গায় রেখে দিলাম। শুভ সেই অটো চালানোর কাকুকে ফোন করতে, সে এসে দাঁড়ালো দরজার সামনে। আমরা হাতে হাতে মাল সব অটোয় তুলে দিলাম। শুভ আর কৌশিক চলে গেল ফেরত দিতে। এই কয়দিন ধরে একটা চাপা ভয় কাজ করছিল, যদিও ভয়টা মন থেকে এখনো যায়নি। যতক্ষণ না এই বাড়ি থেকে বের হতে পারছি ভয় আমাদের পিচু তাড়া করছে। আবার আনন্দও হয়েছে খুব!
ফিরে এসে শুভ কাকুকে বলল, আজ রাতের ট্রেনে ফিরে যাবো। তুমি আমাদের ষ্টেশনে পৌঁছে দেবে। কাকু বলল, কখন বের হবে? শুভ বলল, ছয়টায় বের হবো। বাড়ির চাবিটা ওনাকে দিয়ে আমরা ষ্টেশনে চলে যাবো। কাকু মাথা নেড়ে চলে গেল।
এইসব করতে করতে বিকেল গড়িয়ে গেল। আমরা সবাই রেডি হয়ে নিলাম যেতে হবে ষ্টেশনে। নির্দিষ্ট সময়ে অটো এসে হাজির হোল। আমরা একে একে ব্যাগপত্র তুলে অটোয় গিয়ে বসলাম। মনে যেন শান্তি এলো। যাক এবার কলকাতা ফেরার পালা। অটোটা গিয়ে সেই কেয়ার টেকারের বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়ালো। শুভ নেমে গিয়ে ভদ্রলোককে ডেকে চাবিটা হাতে দিতে দিতে বলল, খুব ভালো কাটালাম কয়দিন। আবার যদি পারি তো আসবো। ভদ্রলোক একটু হেসে বলল, আচ্ছা এসো।
অটো গিয়ে থামল ষ্টেশনে। ষ্টেশনে গিয়ে যেন বুকের ধড়ফড় ভাবটা কমলো। শুভকে বললাম, তুই কোন সাহসে আরও দুদিন থাকার কোথা ভাবলি? লোকগুলো আসলে বুঝতিস। শুভ বলল, আসতো, দেখে নিতাম তাদের। আরে ওরা রাতের অন্ধকারে রাস্তায় আমাদের ধরেছিল। ওরা কি জানে, যে আমরা কোথায় আছি? আর যদি জানতোও বা তাহলে আরওই আসতো না। আমি বুঝলাম, এখন ও কিছুই ভালো করে বলবেনা, এমনিতেই ভীষণ কম কথা বলে, স্বভাবেও খুব শান্ত। আগে ট্রেনে উঠি তারপর জানতে চাইবো। রাত আটটায় ট্রেন ছাড়ল। উফ্‌ কি যে শান্তি পেলাম বোঝাতে পারবো না আপনাদের!!
ট্রেনে উঠে গীটার বের করে শুভ বাজানো শুরু করলো। সেই আবার গান, হৈ চৈ, হাসি ঠাট্টায় জমে উঠেছে পরিবেশটা ট্রেন চলেছে দ্রুত গতিতে তার সাথে এমন পরিবেশ! সত্যিই এতো ভালো লাগছে কি বলবো। শুভর গীটারের শব্দে একটা মেয়েদের গ্রুপ পাশের কুপ থেকে উঠে এসে আমাদের সাথে বসে আনন্দ করে কথা বলা শুরু করলো। মেয়েগুলোকে পেয়ে আমাদেরও বেশ ভালই লাগছিল। আমাদের সাথে গল্পে মজে গেছে। কিছুক্ষণ পর শুভ গীটার বাজানো বন্ধ করে দিয়ে বলল, আমার ঘুম পাচ্ছে...... ঘুমাই। বলে ওপরে উঠে গেল। অগত্যা মেয়েগুলো আমাদের শুভরাত্রি জানিয়ে চলে গেল। আমরা একে অপরের মুখের দিকে তাকালাম। মনে মনে বললাম, দিল আড্ডাটায় জল ঢেলে! উফ্‌ এমন ছেলে না !! বেশ ভাব জমেছিল, অমনি ওনার ঘুম পেয়ে গেল!
মেয়েগুলো চলে যাবার কিছুক্ষণ পর নেমে এসে বলল, কিছু খেতে দে তো...... আমি বললাম, তোর না ঘুম পেয়েছিল, আবার খিদে পেল কি করে? শুনে হাসতে হাসতে বলে, আরে ঘুমটা খিদেটাকে ডেকে নিয়ে এলো তো। ব্যাগের ভেতর থেকে বিস্কুট, আর কেক বের করে দিলাম।
অনেক রাত হয়ে গেছে আমরা সবাই এবার ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়লাম। শোবার সাথে সাথে এক নিমেষে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঝড়ের গতিতে ট্রেন চলেছে। মাঝ রাতে ঘুম ভাঙতে দেখি ট্রেনটা দাঁড়িয়ে আছে কোন একটা অজানা ষ্টেশনে। রাত প্রায় তখন দুটো। ওপর দিকে তাকিয়ে দেখি শুভ নেই। তাড়াতাড়ি উঠে এদিক ওদিক দেখলাম। ভাবলাম বাথরুমে গেছে নিশ্চয়ই। অনেকক্ষণ ধরে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। ক্রসিং আছে হয়তো...... শুভকে এতক্ষণ দেখতে না পেয়ে ওদের ডেকে তুললাম। বললাম শুভ গাড়িতে নেই। সবাই মিলে দরজার দিকে ছুটে গেলাম, শৌভিক দরজা থেকে মুখ বাড়িয়ে দ্যাখে শুভ ষ্টেশনের একটা দোকানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুগনি খাচ্ছে। আর পাউরুটি, আলুরদমের অর্ডার করছে। ওকে দেখে আমি বললাম কিরে, তুই এই রাতে ট্রেন থেকে নেমেছিস কেন? বলে, খিদে পেয়ে গেছে তো কি করবো? দোকানিটা ঘুমচ্ছিল, ডেকে তুললাম......... এমন সময় ট্রেন ছাড়ার হুইসেল বাজছে, আমরা প্রায় কিছুটা টেনেই তুললাম ওকে। বললাম, ট্রেনে খাবি নে চল ওঠ।
প্রায় ভোর হয়ে এসেছে। দুরন্ত গতিতে ট্রেনটা ছুটছে। কোলকাতা আর বেশী দূর নেই। এমন সময় নীল বলল, কিরে বললি না তো ওই বাড়িতে যাবার কথা ভাবলি কেন?
শুনে মুখে একটা মৃদু হাসি রেখে শুভ বলল, শুনেছি ওই বাড়িতে চারজন সদস্য ছিল, যারা একসাথে সুইসাইড করেছিল। তারপর থেকে ওই বাড়ির ত্রিসীমানায় কেউ যায়না। বাড়িটা ঝোপঝাড়, জঙ্গলে ভ’রে গেছে। ওই লোকগুলো যদি জানতে পারতো যে আমরা ওখানে আছি তাহলে তো আরওই আসতো না। শুনে আমাদের রক্ত হিম হয়ে গেল!! শুভ বলতে থাকলো, বাড়িটা এখন ভুতের বাড়ি বলে সবাই চেনে, কেউ ওই বাড়ির ধারেপাশে যায়না। কেউ কেউ রাতেরবেলায় কথা বলার আওয়াজ পায়।
মাথা ঝিম্‌ ঝিম্‌ করছে। কোন কথা আর কানে ঢুকছেনা......
ফিরে এলাম কোলকাতা।
শুভর কথা বলে শেষ করা যাবেনা। যদি আবার কোনদিন সময় সুযোগ হয় তাহলে আবার আসবো শুভর অন্য কীর্তি শোনাতে। আমার জীবনে শুভর অবদান অনেক। আমার থেকে কয়েক মাসের ছোট ঠিকই কিন্তু মনেপ্রাণে আমি ওকে শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। এক বিরল চরিত্রের ছেলে শুভ। ওর কথা বলতে গেলে মনের ভেতর থেকে একরাশ ভালবাসা নেমে আসে।
-: সমাপ্ত :-

কোটি প্রানের আশা হবে নাকো শেষ
জেগে ওঠো আমার বাংলাদেশ;
আমরা আছি পাশে করো নাকো ভয়
লাল সবুজের হবেই হবে জয়।
ক্রিকেট আমাদের স্বপ্ন
ক্রিকেট আমাদের প্রাণ,
ক্রিকেট বিশ্বের কাছে
রাখবে দেশের মান।
মাশরাফি,সাকিব,তামিম,মুশফিক
লড়ছে দেশের জন্য,
এমন সোনার ছেলে পেয়ে
বাংলাদেশ আজ ধন্য।
মোস্তাফিজ,রিয়াদ,মেহেদি,সাব্বির
এমন সব দামাল ছেলে,
বিশ্ব ক্রিকেটে দেশের নাম
ধরছে তুলে সবাই মিলে।
ক্রিকেট দুনিয়ায় বাঘের রাজত্ব
ব্যাট বলের লড়াইয়ে,
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
বিশ্বকে দাও জানিয়ে।

আজ হঠাৎ করেই মনে পড়লো তোমার কথা,
বুকের মাঝে অনুভব করি এক অজানা ব্যাথা।
মনে সবসময়ই পড়ে কিন্তু আজ একটু বেশি,
কিভাবে আমি ভুলে যাব তোমার মুখের হাসি।
আজ তোমার স্মৃতিগুলো নাড়া দিচ্ছে মনে,
তোমাকে ভালোবেসেছি কতটা সেকথা বিধাতাই জানে।
তোমার কি সেই জোছনা মাখা রাতের কথা মনে পড়ে,
তুমি আর আমি হেটে যাচ্ছিলাম পাশাপাশি হাতটা ধরে।
তোমাকে কথা দিয়েছিলাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত,
ভালোবেসে কখনোই দুজন হবোনা ক্লান্ত।
তুমিও বলেছিলে সারা জনম পাশে থাকবে,
বিশ্বাস দিয়ে সারাজীবন জড়িয়ে ধরে রাখবে।
কিন্তু সবাই কি কথা রাখতে পারে,
ভালোবাসার পরীক্ষাতে গিয়েছো তুমি হেরে।
আচ্ছা আমি কি তোমার এতোটাই অযোগ্য ছিলাম
তোমাকে আর দোষ দিয়ে কি হবে নিয়তিকেই মেনে নিলাম।

লেখার কিছু নেই
খাতা এখনও শূন্য রয়ে গেছে
ডাইরিটার উপর ধূলি জমা হয়ে গেছে
কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সেখানে লাখা হয়নি আজও
কত পরীক্ষায় তুমি পাস করলে জেএসি,এস এস সি
এক এক করে সব পাস করলে
কিন্তু অভিনন্দন জানাতে যাই নি
একে একে অনেকগুলা জন্মদিন তুমি পালন করলে
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আমি কখন যাইনি
মনে ছিলনা তা না,
ওসব ভ্রান্তসামাজিকতা দেখানো আমার দ্বারা হয় না
তাই আজও আমি অসামাজিক।
০৭/০৫/২০১৭ রাত ২:০০

হৃদয়টাতে আজ খুব শূন্যতা অনুভব করি
আজ জীবনের এই সুন্দরলগ্নে ইচ্ছা করে
কারো হাতে হাত রেখে
সবুজ ঘাসের মাঝে হারাতে,
কারো চোখে চোখ রেখে
অসীম শূন্যতায় ভেসে বেড়াতে।
ভালোবাসার পূর্ন বিশ্বাসে
কাউকে বুকে জড়িয়ে নিতে।
হৃদয়ের তাগিদেই আজ খুঁজে যাই
সেই অচেনা মানসীর,
যাকে খুব কাছে থেকে
চোখে চোখ রেখে হাতটা ছুঁয়ে,
বলব আমার হৃদয়ের না বলা কথাটি
'তোমায় পেয়ে হয়েছি ধন্য ওগো সাথী।'
জীবনের টানাপোড়েন আর সময়ের প্রয়োজনে
পাবোতো সেই মানসীর নাগাল?
যে আমার একুশটি বসন্তের নীরব সঙ্গিনী।

অস্তিত্ব
- সাদিয়া আফরিন

একদিন দেহ হবে নিঃশ্বেষ
অস্থিও মিশে যাবে মাটিতে,
মেদিনীর ফুলঝরা রাস্তায়
আজীবন পারবো না হাঁটিতে।

আনাগোনা থাকবে না আর গো
ধরণীর কাশফোটা কিনারে,
মহা পৃথিবীর এই হাটেতে
শেষ হবে হায় বেচা কেনা রে।

তবু আমি বেঁচে রবো ধরাতে
ডানামেলা পাখি হবো আকাশে,
প্রজাপতি হবো ফুল কাননে
শিরশিরে হিম হবো বাতাসে।

আশা হবো মানবের হৃদয়ে
ফুল হয়ে ফুটে রবো বাগানে,
রং হবো কমলের পরাগে
সমীরণ হবো কাল ফাগুনে।

মিটমিটে তারা হবো আঁধারে
অরুণের আলো হবো ঊষাতে,
বাদলের রিমঝিম সলিলে
সুখ হবো দুঃখ-ব্যথা ঘুঁচাতে।

পালতোলা তরী হবো নদীতে
নীল নীল জল হবো পাথারে,
যুগ যুগ ধরে আমি এভাবে
বেঁচে রবো হংসীর সাঁতারে।

রস আমি হবো ওগো নিরসে
বিস্ময় হবো গিরি পাহাড়ে,
শুরু হবো সব নাশ বিনাশে
হেসে রবো গোলাপের বাহারে।

ঝরনার জল হবো নির্ঝর
চাঁদ হবো দূর নীল গগনে,
কাক হবো উদাসীন দুপুরে
ঝিঁঝিঁ হবো গোধূলির লগনে।

ছবি হবো শিল্পীর কাগজে
মিল হবো কবিতার চরণে,
সুর হবো গায়কের গীতিতে
প্রাণ হবো জীবনের মরণে।

অজানায় দূর হতে সুদূরে
মেঘমালা ভেসে যায় যেখানে,
গাঙচিল উড়ে চলে ডানাতে
আমারে খুঁজে নিও সেখানে।

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি,
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস,
গোটা বিশ্ব অবাক হয়ে
দেখেছে বীর বাঙালির সাহস।
মহান একুশে ফেব্রুয়ারী,
বুলেটের মুখে বুক পেতে
প্রমাণ দিয়েছ আমরাকি হারতে পারি।
ভাষার জন্য ঢেলে দিয়েছ
তোমাদের বুকের তাজা রক্ত,
সেদিন জীবন দিয়ে দেখিয়েছ
বাঙালির দেশপ্রেম কত শক্ত।
আমরা আজ কথা বলি
তোমাদের মহিমান্বিত ত্যাগে,
অমর একুশে শহীদ মিনারে
তোমাদের স্মৃতি সদা জাগ্রত রবে।
কোনদিন ভুলবনা তোমাদের আত্মবিসর্জন,
স্বীকৃত 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'
সব ভাষা শহীদের অর্জন।
সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, সফিউল;
অমর একুশের প্রথম প্রহরে
তোমাদের স্বরণে শহীদ মিনারে দেই ফুল।
তোমাদের কারনে আজকে আমরা
মাথা উচু করে চলি,
বাঙ্গালি বলে দেই পরিচয়
বাংলায় কথা বলি।

কুহকে কুহকে ছেয়ে জীবন জলের কোলে
হাজার পালক-পাখা বিছিয়ে রেখেছে কেন?

শত শর্তের ভিতের ওপরে আঁকা স্বর্গের
দুয়ার ধরে কাঁদে বসুমতী- অমৃত অধরা।

তারপরও আশার সলিলে জাগা ঢেউয়ে
ওলট-পালট ঘটে বুকের জমিতে কত-

পলি জমে, ভেঙ্গে যায়, গলাজলে দাঁড়িয়ে
থাকা প্রার্থনারা ডুবে যায়, উঠোন-আকাশ-
বাড়ি পুড়ে যায়....
এক পৃথিবী স্বপ্ন শুধু ওড়ে তোমাতে-আমাতে;

আর কিছু ভাঙ্গা-গড়া জীবনের বেলাভূমি
ভাসিয়ে নিয়ে যায় লাগাতার।

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা,
তোমাদের প্রতি রইল বাঙালির শ্রদ্ধা।
তোমাদের তাজা রক্ত দিয়ে
এনেছো এ স্বাধীনতা,
স্বাধীন দেশে উড়ছে তাই
লাল সবুজের পতাকা।
ভাষার জন্যে জীবন দিলে
বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি,
সেদিন জেনেছে এ পৃথিবী
আমরাও রক্ত দিতে পারি।
আমাদের প্রিয় দেশের মাটি
বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন,
নয় মাসের অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা
ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিসর্জন।
একাত্তর কোনো রূপকথা নয়
ইতিহাসের বাস্তব চিত্র,
বুকের তাজা রক্ত দিয়ে
পেয়েছি একটি মানচিত্র।
তোমাদের ত্যাগে আজ আমরা
স্বাধীন দেশের জনতা,
থাকবে বেঁচে লাল-সবুজের মাঝে
কভু ভুলবোনা তোমাদের কথা।

মাকে ঘিরেই আমার সপ্ন যতো
মা যে আমার চির আশির্বাদ,
মায়ের মুখটি যতই দেখি
মেটেনা আমার সাধ।
ফেলে আসা সব স্মৃতিতে
মিশে আছে মায়ের ঋন,
মায়ের জন্য এ ভালোবাসা
শেষ হবে না কোন দিন।
আমার সকল দুষ্টুমিতে তুমি এতই অতিষ্ঠ ছিলে,
তবু তোমার হাসিমাখা মুখে টেনে নিতে কোলে।
সুন্দর এ পৃথিবীতে সবচেয়ে শ্রুতিমধুর শব্দ
একটি অক্ষরেই একটি শব্দ 'মা',
এ হৃদয়স্পর্শী শব্দের সাথে কোনকিছুর তুলনা হয় না।
আমরা সবাই কোন না কোন মায়ের সন্তান
পৃথিবীতে মা সবচেয়ে আপনজন,
মাকে নিয়ে কত কবি সাহিত্যিক
লিখেছেন হাজারো গল্প, কবিতা ও গান।
মায়ের ভালবাসায় ভরে উঠুক পৃথিবী
রংতুলির পরশ ছাড়াই সবার মনে
আঁকা হয়ে যায় মায়ের ছবি।
মাগো তোমার সন্তান হয়েই
জন্ম নিতে চাই আমি হাজারবার,
তুমি আল্লাহর দেয়া সেরা উপহার।
আমাদের সব যন্ত্রণা রাখি তোমার কাছে জমা
মা এক জীবনের শেষ না হওয়া এক রচনা।

জামাইষষ্ঠী
- উমা শংকর দাস

বৈশাখে বর্ষ শুরু
জৈষ্ঠে জামাইষষ্ঠী,
জামাই চলেন শ্বশুরবাড়ি
নিয়ে ফল মিষ্টি ।
জামাই বরণে আজ
ভারি ধূম পড়ে,
হাসিখুশির আনন্দেতে
ঘর ওঠে ভরে।
জামাই আসিলে ঘরে
পড়ে যায় সাড়া,
ষষ্ঠীর জন্যে আজ
মেতেছে সারা পাড়া ।
শ্বশুরে বলেন ডাকি
মিষ্টি দই এনো আর
সাথে পাকা আম,
বড় দেখে ইলিশ এনো
হোক যত দাম।
শাশুড়ি ব্যাঞ্জনাদি রাঁধে
করিয়া যতন
জামাইবাবাজীবন
বসে করিবে ভোজন।
জামাইবাবুরে ডাকি শালি
আসনে বসায়,
ফল মিষ্টি অন্ন পায়েস সবি
জামাই চেটে পুটে খায়।
পাশেই শাশুড়ি বসে
হাতে নিয়ে তালপাখা ,
শ্বশুর দাঁড়িয়ে দেখে
মুখ হাসিমাখা।
খাওয়া সেরে হাসিমুখে
বলেন জামাই বসে
জামাইষষ্ঠী যেন বছরে
বার পাঁচেক আসে।

যে নদী শুকিয়ে মরদেহ
- অভীক কুমার দে
.
চিতা জ্বালো কেউ,
ডোমের বাড়ি খুঁজতে যেও না ভরসন্ধ্যায়,
যে নদী শুকিয়ে মরদেহ
দিনের তেজ বেরিয়ে গেলে
পাথর হবে নিথর কালগল্প,
চিতা জ্বালো।
.
সবাই জানে, কালিজ্বরেই কবির মৃত্যু,
ফুলমালা আর কবিতাকান্নার শবস্নানে
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হতে দিও না;
কবির মরায় জীবনের অনেক রাত
বাকী থাকে,
চিতা জ্বালো,
ধোঁয়া- বকের ডানায় উড়ে যাক কবি।
.
সূর্যের সোনা- রোদ ছুঁয়ে একদিন
মানুষের 'তুমি' বলা একলা ঘরে
দেখা হবে কবিতায়...

তিথি নক্ষত্র
- রণজিৎ মাইতি

ঘুনসির দড়িটা আজ আঁটোসাঁটো
আদরে আদরে পেট ফেঁপে ঢাক


সমাজ সংসার সহায় হলে সব কেল্লাফতে
তখন বেরসিকও অমৃতলাল

মা ষষ্ঠীর কৃপায়
পচাদাও তখন ভি আই পি

হোক অবমাননা
তবু এ সংসার পোষে দুধ কলা দিয়ে

নটীবিনোদিনী চিরকাল বিনোদিনী দাসী

যে হাতে নিয়ন্ত্রিত
জন্ম ক্ষুধা বেড়েওঠা
সেখানে পঞ্চমীও অসহায়

জেগে থাকে কারাগার চিরন্তর
আর প্রগাঢ় অন্ধকার

তাই চিন্তারা উঁকি দিয়ে
শীতঘুমে অমরত্ব খোঁজে

নেতা তুমি কি শুনছো ?

-কাজী জুবেরী মোস্তাক


নেতা আমাকে চিন্তে কষ্ট হচ্ছে তোমার ?

আমি বাংলাদেশ জনগন নাম আমার

পাঁচটা বছর আগে গিয়েছিলে সেবার

ধবধবে সাদা পাঞ্জাবী ছিলো পরনে

হ্যামিলিয়নের বাশিওয়ালার মতো করে

পিছনে একঝাঁক তরুন তরুনীদের নিয়ে

ছুটে চলেছিলে তুমি শহরের প্রতি ঘরে

আর আশার বাণী শুনিয়েছিলে কানে

বলেছিলে অন্যায়ের প্রতিবাদী কন্ঠ হবে ৷

গরীব অসহায়রা স্বপ্ন দেখেছিলো বাঁচবে

তুমিই দেখিয়েছিলে সে স্বপ্ন ওদেরকে ,

একদিন কাঙ্খিত সে ক্ষণ এলো অবশেষে

বিজয়ের বাণী ধ্বণীত আকাশে বাতাসে

তখনও তুমি আশার বাণী শুনিয়েছিলে ৷

অথচ !

সময়ের সাথে সব নেতাদের মতো করে

তুমিও দেখি তোমার স্বভাব পাল্টে নিলে ,

কাঁধে হাত রেখে কানে কানে এসে বললে

ভয় পেওনা আমি আছি তোমাদের পাশে ,

এটাকেই এখন ক্ষমতার রাজনীতি বলে

ইস্পাতের কি যেন কোমরে গুঁজে দিলে

বললে এটা কাছে রাখ কাজে লাগবে ,

আর আমার সাথে সাথে সবসময় থাকবে

আমার যা কিছু আছে সব নিয়ন্ত্রণ করবে ৷

কিন্তু বেইমানি করলে তোমার জীবন যাবে

অসহায় আমি ভয়ে কাতরতায় আরষ্ঠ হয়ে

তোমার কথা মেনে নিলাম মাথা নিচু করে ,

পথচলা শুরু হলো আমার ঘোর অন্ধকারে

শুনেছি সে ইস্পাত অনেককেই দিয়েছিলে ৷

অতঃপর একদিন তুমি সময় সুযোগ বুঝে

আমাকে দিয়ে জ্বলজ্যান্ত মানুষ হত্যা করালে ,

যেই আমার হাত কাঁপে একটা পিপরা মারতে ৷

আর বললে কেউ জানলে তোকেও মরতে হবে

নেতা তুমি কি জানো সেই রাতের পর থেকে

এতটুকু নিঃশ্ছিদ্র নিদ্রা আসেনি এ দু'চোখে ৷

শুভংকরের ফাঁকি

- কাজী জুবেরী মোস্তাক


একটা বদ হাওয়া লেগেছে এ জীবনে

জীবনটা তাই বিষে বিষেই গেলো ভরে

এতো যন্ত্রণা আর এতো যে কাতরতা

কোন কিছুই যে কারো নজরে পরেনা ৷

প্রতিটি নিঃশ্বাসে মৃত্যুর পদধ্বনি শুনি

কষ্টে যন্ত্রণায় জীবনের উন্মাদনা দেখি

অভাবের যন্ত্রণায় ঔষধ কি ভুলে গেছি

পাশের আপনরাও আজ দিয়েছে ফাঁকি ৷

দেনা-পাওনার হিসাব মিলাতে বসে দেখি

জীবন ভরা শুধু আজ শুভংকরের ফাঁকি

দেনা-পাওনার হিসেবে সব কিছুই যে বাঁকি

জীবনটা ভরা আজ শুধু মিথ্যা আর মেকি ৷

প্রিয় বাংলাদেশ
এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার
রূপসী বাংলার অনাবিল সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর।
প্রিয় বাংলাদেশ
তুমি এগিয়ে চলো আসীম সম্ভাবনাতে
লাল সবুজের পতাকা হাতে।
প্রিয় বাংলাদেশ
একমুঠো স্বপ্ন আগামির প্রজন্ম
মাতৃভূমিকে ভালোবেসে বাংলাকে সাঁজানো।
প্রিয় বাংলাদেশ
তুমি শেখ মুজিবের কন্ঠে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা
একাত্তরে যুদ্ধ করে অর্জিত সোনার বাংলা রচনা।
প্রিয় বাংলাদেশ
তুমি বাঙালির সহজ-সরল জীবন যাপন,
হিন্দু-মুসলিম-বুদ্ধ-খৃষ্টান
যেখানে সবাই সবার আপনজন।
চলো যাই স্বপ্নের দেশে
অবারিত সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে
বীর দেশপ্রেমীকের বেশে।
প্রিয় বাংলাদেশ
ত্রিশ লাখ শহীদের প্রাণ,
জীবনের বিনিময়ে রাখবাে তার সম্মান।

"নির্বাসন"
-অনিতা পান্ডে

তুই আসবি বলে
চলে এলাম বহু ক্রোশ অতিক্রম করে।
হন্যে হয়ে বাতাসের গতিবেগে।
দর্শণের তীব্র আবেগে।
সমস্ত বাঁধাকে উপেক্ষা করে।
কি আনমনাই হয়েছিলাম ।
তোর আগমনির আনন্দ ধ্বনিতে !
প্রত্যাশার গুঞ্জনে ,কি এক অমিও সুধা বর্ষণ করে - আমায় ক্ষনে ক্ষনে পুলকিত করছিল।
মানবতার মানদণ্ডে তুই বুঝি লৌহমানব!
তাই- তোর চাটুকতা এক আধটুকুও মনে আসেনি।
দূরদিগন্ত থেকে চলে আসবি ,
শুধু আমার জন্য।
এটা ভাবতেই যত সুখ !
এক পলক দেখবি বলে।
কতটা পথ এগুলি, বার বার করে ফোন কলে জানালি।
বিশ্বাসের শিখন্ডে, পরিমাপের তোড়ে, তোর জন্য ব্যকুলতার অভাব ছিলোনা।
ভাবলাম এত্তটা পথ পাড় করে তুই আসতে পারবি।
আর এত কাছে থেকেও আমি আসতে পারবনা গন্তব্যে ?
এটা কি হয়?
মাত্রতো দু'নজর --দেখার তীব্রতা !!
তারপর- যে যার পথে।
তোর ভীতরে একটা ধার ছিলো।
একটা অনুভূতির সবুজ বাগান ছিলো।
সেখানে সবুজ -সবুজে খেলা হতো প্রতিনিয়ত।
তোর বর্নীল আভায় হৃদয় ডোবাতো,অহরনীশি।
সবুজ ঘাসের সখ্যতায়
প্রকৃতি মিটিমিটি হাসতো।
প্রজাপতি উড়ে উড়ে ঘুড়তো- সারা বন জুড়ে।
প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার অবিচ্ছিন্ন সুখে।
কিন্তু হায়!
পথের ক্লান্তি ,নানা সমস্যার জট, সব ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে,
বিবেকের আহাজারিতে আবেগের দৌড়াত্বে নিঃছিদ্র সাবলীল চিন্তার গুঞ্জন চলছিলো।
হৃদয়ের গহীনে,আত্মার নৈবিদ্য প্রকাশে অন্ধ ছিলো মনোজমিন।
অকস্মাৎ-বিশ্বাসের ঘরে সিঁদ কটলি,
সারাজীবনের জন্য বরাদ্ধ হলো
নির্বাসন।

২৭-০৫-১৭,

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget