মে 2017

বাক্যহারা

-প্রদীপ মাইতি-

আজ সকালে বললো আমার ছোট্ট ছেলে
"পাপা একটা স্মার্ট ফোন দেবে?"
বললাম আমি, "এই বয়সে স্মার্ট ফোন নেবে?
আমি যখন ছোট ছিলাম ফুটবল খেলতাম,
উঠতাম গাছে, পুকুরেতে ধরতাম মাছ "
বললো ছেলে , "ওকে পাপা, আমায় ও দাও -
একটা মাঠ, একটা পুকুর, একটা গাছ,
পারলে দিও আর একটা ভাই বা বোন,
চাইবোনা আমি আর কোনোদিন স্মার্ট ফোন |
এই ছেলেটির শৈশব টি ছিনলো করা?
রইলাম আমি কয়েক মিনিট বাক্যহারা |



 

অনাকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন
-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন
আমি কোন কবি বা সাহিত্যিক নই
তাইতো বর্ণনা করতে পারিনি
তোমাকে কোন উপমাতে,
আমি কোন চিত্রশিল্পী নই
তাইতো ফুটিয়ে তুলতে পারিনি
রং তুলির আঁচড়েতে।
আমি অসাধারণ কেউ নই।
আমি কেবলই সাধারণ একজন,
আমি তো ভালোবাসি তোমায়
প্রতিটি মূহুর্ত প্রতিটি ক্ষন।
আমি স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি না।
ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘুমাই,
তারপর ও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন
মাঝ পথে আমার ঘুমকে নষ্ট করে দেয়।
তারপর জেগে থাকি
আর ঘুমাতে চেষ্টা করিনা,
কেন এসেছিলি বেদনা হয়ে
কে তুই ওরে যন্ত্রণা।

নির্ঘুম এক রজনীতে
-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন
অাবার য‌দি ফি‌রে অাসি
অাবার য‌দি দেখা হয় কোন কোন কালে,
অতৃপ্ত হা‌সি নি‌য়ে বল‌বো
হাটবে কি আমার সাথে কোন এক বিকালে।
তোমার হাত ধরে হাটতে চাই
ঐ সীমাহিন দিগন্তের পথে,
তুমি কী হাটবে
ঐ নির্জন পথে আমার সাথে?
বৃ‌ষ্টি‌‌ ভেজা এক সন্ধ্যার প‌রে
নির্ঘুম এক রজনীতে,
তোর চোখের দিকে তাকিয়ে
বল‌তে চাই ‌নিখাদ ভালবা‌সি তো‌কে।
ভালোবাসা জিনিসটা কখনও একা আসে না
থাকে আবেগ,অনুভূতি আর অভিমান,
আজকাল কেউ শুনতে চায় না আমার গল্প
বাস্তবে আমাদের গল্পটা বড্ড বেমানান।
তোমার জন্যে অপেক্ষা করতে করতে
আজ অপেক্ষাটাকেই ভালবেসে ফেলেছি,
একসময় ভালোবাসা চলে যাবে
তবু তোমায় ভালোবেসে এই রাতজাগাটা শিখেছি!

অপ্রত্যাশিত ঝড়
-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন
হঠাৎ আকাশ ঢেকে গেল ঘন কালো মেঘে,
শুরু হলো হিমেল বাতাস,
তারপর টুপটাপ বৃষ্টি
বৃষ্টির মন মাতাল করা ভালোবাসায়,
ভিজে চললাম আমি।
হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলো,
সাথে বজ্রপাত ক্ষনে ক্ষনে
অন্ধকারকে দুরে ঠেলে দিতে চাইছে,
তবু ভিজে চললাম একমনে।
কিন্তু এ কেমন বৃষ্টি?
নোনা পানির স্বাদ!
বৃষ্টির পানিতো খুব মিষ্টি
তবে কি বৃষ্টি গেছে থেমে?
আর এ কোন ঝড় বইছে আমার মাঝে?
যার ছিলনা কোন পূর্বাভাস!
ঝড়ের তান্তবলীলায় ভেঙে গেল,
আমার সমস্ত চিন্তার ডালপালা
কিন্তু পারেনি আমার অস্তিত্বকে মুছে দিতে,
শুধু রেখে গেছে একটা প্রশ্ন-
কেন এই অপ্রত্যাশিত ঝড়?

~ অর্বাচীন ~
- প্রদীপ মাইতি -

সবার মুখেতে অন্ন যোগাতে
কাজ করে রাতদিন,
ওদের জঠরে অগ্নিদহন
অভুক্ত-অর্বাচীন।



নুন-পান্তা-রোদ্দুরে ওদের
প্ৰোটিন-ভিটামিন,
রোদ-বৃষ্টি-খরায় মরেনা
হত-ভাগা ওই দীন।

আমাদের মুখে অন্ন যোগাতে
জর্জরিত ওরা ঋনে,
ঋন শোধের ওদের একটাই পথ
জহর খাবে কিনে।
বিষের পয়সা না থাকলে
আছে ছাগল বাঁধা দড়ি,
অতি সহযে শোধ করে ঋন
আপন প্ৰানটি হরি।
ওরা মরলে কি এসেযায়
ভোটার-কার্ড তো থাকছে,
সময় মতো ভোট পেলে আর
ওদের কথা কে ভাবছে!

অধিকারের লড়াই লড়তে জানেনা
দরিদ্ৰ-অশিক্ষিত-দীন
সভ্যতার রথ টেনে চলে ওরা,
ওরাই অর্বাচীন।।

সাহারা'র মান
- চিন্ময় প্রামাণিক

যখন অমার তপ্ত বালি--
দিশাহারা হয়ে, খোঁজে-- এক ফোঁটা বৃষ্টি,
তখনো বৃষ্টি, তুমি বলনি মনের ভুলে,
এক মুঠো মেঘ--দিলেম সাহারা, তোমাকে ভালোবেসে ।
আমি--তোমার জন্য, সূর্যের কাছে--
সহেছি কত-- তপ্ত অভিমান !
বাতাসের সাথে-- মিশেও আমি পাইনি-বৃষ্টি তোমার মান।
যখন আমার-- ক্লান্ত সময়,
তৃষ্ণার্ত এ মন--খুঁজেছে পাগল হয়ে, বৃষ্টি তোমায় ।
তখন তুমি-- অঝোর ধারায় ঝরে,
ভিজিয়ে দিলে-- আকাশ, বাতাস, পাহাড়ে।
কই--তখনো তুমি বলো'নি, একটু আশা দিয়ে-
সাহারা-- আমি আছি, তোমার পাশে ।
তুমি কি--আমায় ভোলোবাসো বৃষ্টি ?
আমি তো প্রকৃতির মাঝেই সৃষ্টি !
আমি তো দিয়েছি তবু-- ক্লান্ত পথিকর ত্বরে
মরুদ্যান,
আমি কি পারি না পেতে-- তোমাদের কাছে
ভালোবাসার মান ?
তবে কী আমাকে ঘৃণা কর তুমি ?
যদি কর, তবে থাক সব আজি ।
তোমার সে--পোশাকী ভালোবাসার বেশে,
আমি পারবো না পাল্টাতে --কখনো
নিজেকে ।
পথের বালিতে দেখো-- আমার শৈশব মিশে আছে,
মরুঝড় খোঁজে আমায়-- উষ্ণ বালু পথে ।
আমি মিশে আছি দেখো--সূর্যের সাত রঙে,
নিজেকে-- নিয়েছি রাঙিয়ে, ধূসর মরীচিকা হয়ে ।
যদি-- ভালোবাসো আমায়,
তবে ঝ'র তুমি বৃষ্টি-- অঝোর ধারায়,
তোমার সে পরশ--এখনো পেতে,- দিশেহারা যারা !
একটু ভালোবেসে-- দিয়ো তাদের ভরসা ।
আমি, না হয় মিশে আছি-- মরু পথে, বালি হয়ে,
ভিখারি হয়ে, তোমাকে আমি--রাজপথের সুখ, পারবো না কভু দিতে ।

উন্নত শির খুঁজি
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

একটা উন্নত শির তাই আজো খুঁজে ফিরি
বৃটিশ গিয়েছে তবু তার ছায়া আজো দেখি
তাই একটা শিকল ভাংগার গান খুঁজি
যেনো অত্যাচারের প্রাচীর ভাংতে পারি ৷
একটা উন্নত শির তাই আজো খুঁজে ফিরি
যে পায়ে দলে যাবে নিয়ম কানুন শৃঙ্খল
মানবেনা কো আইন হবে অনিয়ম উশৃঙ্খল
হবে দুর্ঝটি অকাল বৈশাখীর এলোকেশী ঝড় ৷
একটা উন্নত শীর তাই আজো খুঁজে ফিরি
দোযখের আগুনে বসে হাসবে পুষ্পের হাসি
অত্যাচারীর খরগ-কৃপা কাঁপবে দেখে সে হাসি
নতজানু হয়ে বলবে তুমিই চীর উন্নত শির ৷

শুভ্রতার দেশে যাবো
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

জীবনের এই চলমান গতিতে
ছন্দপতনে ভরা আমি আজকে ,
তাল লয়ে মেলাতে পারিনি জীবন
ছন্দের পতনে ভেংগে গেছে স্বপন ,
অন্তমিলে ভরা এই ঠুনকো জীবন
ছন্দের যাদুতে হয়নি কোন মিলন ৷
বড় কষ্টে আছি সুরহীন জীবন নিয়ে
মরনই শ্রেয় বে-সুর জীবনের চাইতে ,
সমাধিত করেছি বেঁচে থাকার ইচ্ছে
নিঃশ্বাসের অনবরত ছন্দপতন হচ্ছে ,
যেকোন সময় সে সুর থেমে যেতে পারে
তার অপেক্ষাতে আছি পাত পেতে বসে
শুভ্রতার দেশে চলে যাবো একান্ত নীরবে ৷

ক্ষতবিক্ষত যখন স্বপ্নের সংবিধান আর তখনি,
৪৫ বছরে এমন ব্যাতিক্রম নেতৃত্ব দেশবাসী দেখেনি।
তার ব্যক্তিত্বে আছে নেতৃত্বের দৃঢ়তা,
রাজনৈতিক কৌশলে দূরদর্শিতা আর সিদ্ধান্তে দৃঢ়চেতা।
দলের নেতাদের কর্মকান্ডের দায়ভার কাঁধে তুলে নেন,
আবার দৃঢ়তার সঙ্গে সকল অপশক্তিকে কঠোর বার্তা দেন।
এই হলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনায় পরিচয়,
তার দৃঢ়তাপূর্ণ কর্মযজ্ঞে নিন্দুকেরাও মোহিত হয়।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন যখন ডুবে যাচ্ছিলো মেঘকালো রাতের ডানায়,
তার আবির্ভাবে বাঙালি খুঁজে পেলো স্বপ্ন তার পথের ঠিকানায়।
তাইতো মোরা স্বপ্ন দেখি জঙ্গি-হায়েনা মুক্ত স্বদেশ,
তার সাহসী নেতৃত্বে জেগে উঠেছে বাংলাদেশ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য সুযোগ্য কন্যা
তোমার দু’চোখে স্বজন হারানো নীরব কান্না;
তবু মেহনতী মানুষের মলিন মুখে তুমি আনন্দের বন্যা।
বাঙালি জাতির আলোর দিশারী এক সাহসের প্রতীক,
পিতার পদচিহ্ন আঁকা পথে তুমি নির্ভীক সৈনিক।
তুমি ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার,
আজকের ষোল কোটি বাঙালির অহঙ্কার।

৭১ এর যুদ্ধ থেমে গেছে ,
কিন্তু মুক্তির যুদ্ধ থামেনি আজও ,
প্রতিদিন লম্বা হচ্ছে মুক্তির মিছিল ।
দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে মুক্তি ,
অশিক্ষার বেড়াজাল থেকে মুক্তি ,
মুক্তি চাই ,মুক্তি ।

ফ্রেমেবাঁধা শহীদের স্বপ্নের মুক্তি চাই ।
মুক্তি চাই শিকল পড়া জাতির ,
মুক্তি চাই খাঁচার সুখ পাখিটির ,
মুক্তি চাই , মুক্তি ।

সন্ত্রাসের বিষবাষ্প থেকে মুক্তি চাই ।
মুক্তি চাই বন্দী ভালোবাসার ,
মুক্তি চাই এই জীবন আমার ,
মুক্তি চাই , মুক্তি ।

সাম্প্রদায়িকতার ছোবল থেকে মুক্তি চাই ।
মুক্তি চাই গৃহবন্দী নারীর সক্ষমতার ,
মুক্তি চাই স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলার ,
মুক্তি চাই , মুক্তি ।

পথশিশু
-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন

এক পথশিশুর জীবন যুদ্ধ কঠিন সংগ্রামে
অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠে ফুটপাতে-রেল স্টেশনে।
কোন ভালবাসার সংস্পর্শ ছাড়াই
টোকাই কিংবা পথশিশু এই তার পরিচয়।
অবহেলিত শৈশবের এ গ্লানিময় বাস্তবতা
সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের নিয়ে নেই কারো মাথা ব্যাথা।
শুধু বাচার জন্য চাই এক মুঠো ভাত
আমরা কি পারিনা বাড়িয়ে দিতে সহযোগিতার হাত।
বঞ্চিত সকল প্রকার মৌলিক অধিকার,
তাদেরও তো আছে বাঁচার অধিকার।
কখনো বৃষ্টিতে সে-কখনো রোদ্রে হাহাকার
কখনো ধুলোয় লুটিয়ে দেহ-মাটি করে একাকার।
কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ব্যস্ত তারা কাগজ কুড়াতে
যদিও বই থাকার কথা ছিল তার হাতে
এক সময় নিয়তি তাদের ঠেলে দেয় অন্ধকার গলির পথে।
তারাতারি বিদেয় করি থাপ্পর দিয়ে গালে
গালি দেই ওদের বস্তির ছেলে বলে।
বই খাতা কলম থাকে ওদের থেকে দূরে
ওদের প্রতি নজর দিলে ওরাও কাজে লাগতে পারে।
দু’মুঠো ভাত জুটবে কি না এটা নিয়েই যাদের সংশয়
এইসব অসহায় পথশিশুের ও আছে হৃদয়
পথে পথে ঘুরে বেড়ায় তারা বড়ই অসহায়।
হায়রে পৃথিবীর নিয়তি
দেশে সমৃদ্ধশীল মানুষের অভাব নেই,
অভাব শুধুই একটু সহানুভূতি!
কেন এমন হবে এই পথ শিশুদের জীবন?
আমরাও করতে পারি ওদের একটু আপন।

শুভ্রতার দেশে যাবো

- কাজী জুবেরী মোস্তাক


জীবনের এই চলমান গতিতে

ছন্দপতনে ভরা আমি আজকে ,

তাল লয়ে মেলাতে পারিনি জীবন

ছন্দের পতনে ভেংগে গেছে স্বপন ,

অন্তমিলে ভরা এই ঠুনকো জীবন

ছন্দের যাদুতে হয়নি কোন মিলন ৷

বড় কষ্টে আছি সুরহীন জীবন নিয়ে

মরনই শ্রেয় বে-সুর জীবনের চাইতে ,

সমাধিত করেছি বেঁচে থাকার ইচ্ছে

নিঃশ্বাসের অনবরত ছন্দপতন হচ্ছে ,

যেকোন সময় সে সুর থেমে যেতে পারে

তার অপেক্ষাতে আছি পাত পেতে বসে

শুভ্রতার দেশে চলে যাবো একান্ত নীরবে ৷

ধর্ষণ
- সাইফুল ইসলাম সেতু

হিংস্র মানুষরূপী হায়নারা মেতেছে
মেতেছে ধর্ষণ নামক খেলায়,
চুপচাপ দেখি মানুষ আমরা
এড়িয়ে যাই আজ হেলায়।



মা-বোন কন্যা তোমারও আছে
ভেবে দেখাে এ বেলায়,
খেলনা তারাও হতে পারে
ঘৃণিত ধর্ষণ নামক খেলায়!

তাই বলছি সোচ্চার হও
বধ করো ঐ হায়না,
হোক ক্ষমতাশীল কিংবা ধনী
ছুড়ে ফেলো সব বায়না!

শোন ধর্ষক আছিস যারা
সমাজ তোদের চায় না,
আদৌ কি মানুষ আছিস?
ভেবে দেখ চেয়ে আয়না।

বলছি নারী এবার তোমায়
তোমার কি নাই অপরাধ?
পশুর কামনা তুমিই জাগাও
খোলামেলা আর চলে অবাধ।

নজরুল, জীবনানন্দ, জসিম উদ্দিন কিংবা রবি
যুগে যুগে এই বাংলা জন্ম দিয়েছে বহু কবি;
অপরিসীম তাদের সৃষ্টি, তাদের অবদান
তেমনি বাংলার জনগণও দিয়েছে তাদের সম্মান।
এই বাংলায় জন্ম নিয়েছে সে অন্য কবি
পৃথিবীর বুকে একে দিয়েছে বাংলাদেশেরর ছবি;
সে কবি আর কেউ নয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
এ নামের সাথে যুক্ত হয়েছে লক্ষ বীরের প্রাণ
এ দেশের মানুষের হূদয়জুড়ে তার অবস্থান।
‘বঙ্গবন্ধু’ তুমি বাঙালির প্রিয় নাম,
তোমার দু’চোখে এখনও দেখি মুক্তির সংগ্রাম।
১৫ আগস্ট এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়
বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত নিপীড়িত বাঙালির আশ্রয়;
আজো বাঙালি জাতি লজ্জা পায়
পিতা হারানোর যন্ত্রণায়!
কী নিষ্ঠুর, কী ভয়ঙ্কর ছিল সেই রাত
ভেজা বাতাসও কেঁদেছে সমগ্র বাংলায়;
এখনও লাল-সবুজ পতাকায়
স্বপ্ন দেখি 'সোনার বাংলা' বঙ্গবন্ধুর চেতনায়।

কুসুম তোমার অাম‌ার প্রেম
বাস্তবতার সমন্ব‌য়ে করুন প‌রিন‌তি,
তোমার বিষাদময় বি‌কেল, অশ্রুময় অাঁ‌খি
এ কেমন নিয়‌তি;
জীবনের আর্কাইভ থেকে তোমার সবকিছু
চেষ্টাকরি মুছে দিতে যেটুকু ছিল বাকি।
বলেছিলাম অপেক্ষায় থাকবো
বলেছিলাম তোমারই থাকবো;
কাল বৈশাখী কোন ঝড়ে
যদি লন্ডভন্ড হয় এ সভ্যতা,
যদি কোন উত্ত্বাল সমুদ্র স্রোতে
হারিয়ে যায় সমস্ত মানবতা।
তবুও আমি তোমারই থাকবো
বৃষ্টির জল অথবা অশ্রুজলে
একমাত্র তোমাকে ভালবাসি বলেই
অব্যাক্ত কান্নার সাথে গড়েছি আমি বন্ধুতা।
তোমাকে ভালবাসি বলেই
ভাল লাগে ঘুমভাঙ্গা মাঝরাত,
তোমাকে ভালবাসার জন্য
ভাল লাগে কাটাতে নির্ঘুম রাত।
তোমাকে ভালবাসি বলেই
উপভোগ করি শুন্যতা
তোমাকে ভালবাসি বলেই
নীল রঙ আমার প্রিয়!

তোমাকে ফেরানো সহজ ছিল না
কারন, তোমার অহংকার
তোমার মন উত্তপ্ত মরুভূমি
সে অহংকারী উত্তাপ ছড়িয়ে পরে মরুঝড়ের মত
এই বসন্তে একটা হলুদ ফুল ফোটাবার জন্য
তোমাকে খুব প্রয়োজন
শীতের ভোরে একটি গোলাপের হাসির জন্য
তোমার বাগানটাই প্রয়োজন
নীল আকাশে যখন সাদা মেঘেরা উড়তো
তখন তুমি শুধু আমায় একটু ছুঁতে চাইতে,
মেঘের মত টুকরো টুকরো ভালবাসায় ভিজতে
তোমার বাগানে এখন গাছ অনেক
ঝড়ে পরা ফুল ও,
শুধু শীতের ভোরে আর কেউ গোলাপের হাসির জন্য
যায় না ওই বাগানে!
তবু তুমি ভালো থেকো,
ভালো থেকো।
সব জেনেই তো তোমার ফোন কেটেছি,
দিইনি এসএমএস এর উত্তর।

শকুন্তলা আর এক বাউণ্ডুলে
-তুহেল আহমেদ

বাউন্ডুলেরা এ পৃথিবীতে কিছু করেছে কোন কালে?
ইতিহাসের দীর্ঘ পৃষ্ঠার কোন এক কোণে
লোক মুখে প্রাণ পাওয়া প্রাণোচ্ছ্বল লৌকিক কাব্যকথা বা প্রবাদ প্রতিবাদে
ট্রাফিক হর্ণ ছাড়িয়ে যাওয়া পথকলির কন্ঠ ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে
খাম খেয়ালের দেয়াল!
যেখানে মাতৃমৃত্যু শোকে জল না ঝরায়টায়
সামাজিকতার আখ্যায়িত চির অসামাজিক জীব
যে কিনা তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতির ঐতিহাসিক দাবীতে
আন্না হাজারির পথচারকও হয়ে উঠেছিল!
কিন্তু, কে সে?
তার প্রাণ, 'প্রাণ' হবে কেন?
পৃথিবী চড়ে খাওয়া বৈধ কাগজপত্ররা কি কখনো জেনেছিল তার নাম?
ঠিকানা? বাড়িঘর? পাত্তা পাত্তি?
তার নিঃশ্বাস চলা না চলা নিয়ে যেমন বাতাসের কোন ক্ষেপণ বা কাঁপন নেই
তেমনি অক্সিজেনরাও বড্ড বিরক্ত হয় যেন ইদানিং!
ভাবনা আসে, কার্বন ডাই অক্সাইডটা কেমন থাকবে? বা কার্বন মনোক্সাইড
কফি-খোর, চা-খোর, সিগারেট-খোরের মত
মনোক্সাইড খোরের তকমাটাও শোভা পাবে, ঠিক।
তবু যদি খানিক ক্ষান্ত হতো।
আহা! আমি যদি ঈশ্বর হতাম বা তাঁর খুব কাছের কেউ!
সেবার মাঝ বাজারে পতিতালয়ের স্কুল খুলতে বলায়
শূন্য শতকের সভ্যতম প্রাণীরা সভ্যতার স্বার্থকতা প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল
ছিন্ন বাগাড়টা দূর পড়ে যাওয়ায় পিছন দিককার গরু হাটটার পিছনটায়
পড়েছিলাম শুধু শেষ বিকেলের অবশেষে!
কয়েক শকুন বা শকুনী কুন্ডলী পাকিয়ে দলবলে ভিড়ছিল সে ক্ষণ
সে দিনের পর থেকে হাটের পিছন দিককার
সেই সদ্য হওয়া বধ্যভূমিকে সভ্যরা 'শকুন্তলা' বলেই বলছিল।
বাউন্ডুলেরা এ পৃথিবীতে কিছু করেছে কোন কালে?
ইতিহাসের দীর্ঘ পৃষ্ঠার কোন এক কোণে
লোক মুখে প্রাণ পাওয়া প্রাণোচ্ছ্বল লৌকিক কাব্যকথা বা প্রবাদ প্রতিবাদে
পৃথিবী চড়ে খাওয়া বৈধ কাগজপত্ররা কি কখনো জেনেছিল তার বা তাদের নাম?
ঠিকানা? বাড়িঘর? পাত্তা পাত্তি?

এই ছেলেমানুষী গল্প,
আর প্রেমেরই পদ্ম তোর জন্য।
এঁকে বুকে কত যে স্বপ্ন,
তুই বাড়ালে হাত আমি হবো যে ধন্য।
এই স্বপ্ন ভরা চোখে,
শত নিদ্রা আছে জেগে।
শুধু চিন্তা মনের মাঝে,
আমি করবো কবে আপন যে তোকে।
তোর উদাসী মনের মাঝে-
আমি চাই যদি মিশে থাকতে,
তবে রাখবি কি বল তুই আমায়?
তোর খেয়ালি মনের মেজাজ-
যদি যায় হয়ে কারো স্বভাব,
তবে বাসবি কি ভালো বল তুই আমায়?

~ মাতৃ দিবস ~
-- প্রদীপ মাইতি

একটিবার ফোন কর না বাবা
দাদুভাইয়ের কথা শুনতে চাই,
মাতৃদিবস অনেক দিন তো গেল
অন্যদিন কি ফোন করতে নাই?

যখন তুই ছিলি অনেক ছোটো
আমায় ছেড়ে কঁ৷দতি যে তুই কতো,
এখন আমি বৃদ্ধা হলাম বলে
এক্কেবারে গেলি আমায় ভুলে!

দৃষ্টি শক্তি গেছে অনেক কমে,
অল্প অল্প কানে শুনতে পাই ,
পুরোপুরি বধির হওয়ার আগে
ঠাম্মা ডাকটা ক৷নে শুনতে চাই |

মাতৃদিবস আসবে আবার ফিরে
হয়তো সেদিন মা হবে তোর গত,
পারলে করিস অন্যদিন ও ফোন
কথা বলিস মা-দিবস এর মতো |

জানি তোর আছে অনেক কাজ
কোম্পানি নাকি দেয়না ছুটি মোটে,
বাবা মরতে পেয়েছিলি ছুটি,
দেখলো না বাবা, তুই এসেছিলি বটে |

মা মারা গেলে ছুটি দেবে নিশ্চই,
সেই ছুটিটাই নিলি না হয় আজ
মারলি না হয় আমায়, মরার আগে,
মৃত্যুর পর নাই বা করলি কাজ |

মৃত্যুর পর নাই বা দিলি ফুল
সেই ফুলট৷ দেনা বাবা আজ
মাতৃ দিবস আসবে আগের বছর,
সেই দিনটা ভাবনা বাবা আজ ||




কবি গুরুর ছুটি

- প্রদীপ মাইতি
কবিগুরু, মাথায় থাকো তুমি,
চাইনা ছুটি একটি দিন ও আমি |
কার সঙ্গে করবো বল খেলা !
বাবা-মায়ের অফিসে কাজ মেলা |
টিভি-সিরিয়াল-এ ব্যস্ত কাজের মাসি,
দাদু-ঠাকুমা বৃদ্ধাশ্রম বাসী |
কার্টুন দেখে যখন হয়ে যাই বোর,
টেম্পল-রান-এ করি নতুন স্কোর |
থাকতো যদি একটা ভাই বা বোন
লাগতো ছুটি হয়তো একটু ভালো |
কিন্তু গড়তে আমার ভবিষ্যৎ,
তকে ও নাকি ভ্রূনেই মরতে হলো |
কাঁদতে কবি যেই ছুটিটার তরে,
সেই ছুটি তাই বন্দি করে মোরে |
স্কুল এ যাবো বন্ধু পাবো দুটি,
কবিগুরু, চাইনা আমি ছুটি ||





আশ্রয়
- রণজিৎ মাইতি

নামাবলী গায়ে জড়ানোই আছে
মন্দিরে এখন অবাধ প্রবেশাধিকার


মাথায় নমাজি টুপি ও খান ড্রেস
জানি মসজিদে কেউ বাধা দেবেনা

অন্য ধর্মগুলোও বহন করে
পোশাকে নিজস্ব পরিচয়

সাধারণ মার্জিত পোশাকে
গাছ তলায় বসে হাওয়া খাচ্ছি

গাছ তার আশ্রয় থেকে
সরে যেতে বলেনি

ছায়া দিয়েছে হাওয়া দিয়েছে
সম্প্রদায়গত ছুতমার্গ রাখেনি

দেখি রং-বেরঙের প্রজাপতি
ফুল হতে ফুলে বসছে
অবারিত তার যাতায়াত

বিচিত্র বর্ণময়তা--
এখানে কোন প্রশ্ন তোলেনি

জানিনা ধর্ম কবে
এই গাছতলার মতো হবে

ওরা ফিরেনি
- সাম্য

ওরা ফিরেনি,
আমি বিশ্বাস করিনা,
--ওরা ফিরেনি!
স্তব্ধ করে দাও তার কন্ঠ স্বর,
পুড়ে ছাই করে,--নাইকরে দাও,
যে বলেছে ওরা ফিরেনি।
ওরা ফিরেনি,
আমি বিশ্বাস করিনা,
--ওরা ফিরেনি!!
বোকারা জানো কি?আমি নারী বীরের সহধর্মিনী-
হৃদয় দিয়ে সব-ই- বুঝতে পারি।
প্রেমাক্ত বিশ্বাসের দুয়ারে আমার
নেড়েছে কড়া--
নিয়ে মিথ্য বাণী।
ধ্বংস করে দাও বাংলার বুক থেকে,
এই সব আলসামস-রাজাকার--আলবদরদের।
ওরা ফিরেনি,
আমি বিশ্বাস করিনা,
--ওরা ফিরেনি!
ও পথে মৃত্যুর ভয় আছে জেনেও---
যে বীর হেসে হেসে হেঁটে যায়,
আজও পাইনি খুঁজে---
মৃত্যু আছে তার -পৃৃথিবী নামক কবিতায়।
ওরা ফিরেনি,
আমি বিশ্বাস করিনা,
-ওরা ফিরেনি!
মুছবনা সিঁথির সিঁদুর--
আমি সাজবনা বিধবার বেশে।
ওরা মরেনি কোনদিন, -মরেনি!
ঐ দেখ স্বামী মোর মিশেছে লাল-সবুজে,
উদয়-অস্তে ব্যস্ত যত দিন
-প্রভাকর বাংলাকাশে।
ওরা ফিরেনি,
আমি বিশ্বাস করিনা,
ওরা ফিরেনি!

জাতিস্মর
- পৃথ্বীশ ঘোষ




আর্শীবাদের কুঁড়ি ফুঁটে ছিলো
তোমার আমার মাঝে
সেই দুজনেই ছিলো
দুটি কলিজার অন্তরালে
রবির প্রখর দীপ্ত কিরণে তারা এসেছিলো
মনের অন্তরমহলে সুখের ঝাঁড়বাতি জ্বেলে ছিলো ।।

সকলের কু-নজরের চোটে
তার সাথে দায়িত্বের বেড়াজালে
নিজেদের কথা ভুলবশত ভাবে
ভুলেই গেছিলো দুজনে
করুণ সুরে চাপা আর্তনাদের
ত্যাগের কড়াঘাত পড়েছিলো হৃদিসাগরে ।।

আজ সেই মানুষ দুটো অসহায় হয়ে
নিজের হাতে শেষের চিঠিটা লিখতে বসলো
তারা আজও পথের শেষ
ঠিকানায় তাকিয়ে থাকে
যদি তাদের ফিরে আসার
আভাষ পায় কখনও ভুল করে ।।

অবাক নজর অপেক্ষারত
কখন অন্ধকার ঘর উজ্জ্বল হবে
মনের কালকুঠিতে ভালথাকার প্রদীপখানি
একদিন তো জ্বলবেই
যাদের জন্য আজ তারা
এই পৃথিবীতে এক হতে পারে নি ।।

তারা আবার ফিরবেই কোনও এক রূপে
আসতে যে তাদের হবেই
চারটি আঁখি আর বামি
আরাধনার প্রার্থনায় আসবে
কোনও এক আঁধার ভরা সন্ধ্যায়
হাতে প্রদীপ নিয়ে বলবে -

" কোথায় সেই মুখোশধারী সমাজ
অস্থি-লজ্জাহীন কাপুরুষের দল
আজ এসেছি স্মৃতির গুঞ্জন গাইতে
এই সংসারে জীবন-যাপনের ভূমিকা হতে "

বুদ্ধিজীবী
- সুকুমার সিনহা


বুদ্ধিজীবী মানে কি-
বুদ্ধিই যার জীবিকা ,
বলোতো তাহলে এরাই কি
তবে দেশের আসল সেবিকা।

বুদ্ধিজীবী মানে কি-
বুদ্ধি নিয়ে জীবন-যাপন করেন যিনি ,
বলোতো এবার দেশের তরে
তাহলে কি করেছেন তিনি ।

বুদ্ধিজীবী যদি হয় একাংশ
তাহলে অপরেরা কি ভগ্নাংশ,
তারা কি তবে দেশের তরে
ভাষার মতো অপভ্রংশ।

যদিও আমি করছি না
কাউকে ব্যক্তিগত আঘাত ,
চেষ্টা শুধু অর্থ খোঁজা
করছি তাই প্রাণপাত।

তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা
যদিও সবাই সম্মানিত ,
বুদ্ধিজীবী নাম দিয়ে বোধহয়
করেছে তাদের অপমানিত ।

বুদ্ধি দেখুন সবার আছে
ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তারের ,
বুদ্ধি আবার বিরাজ করে
উকিল বা মোক্তারের।

বুদ্ধির কল্পনা শক্তিতে কবি
রচনা করেন কাব্যখানি,
শত চেষ্টা করে সেনানী
রাখতে আমাদের গৌরবখানি।

বুদ্ধিজীবী কথার আমি
করতে চাই তর্জমা,
যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকো
করো আমায় মার্জনা।

বিশ্বাসের রঙ লাল
- ইরাবতী মণ্ডল

উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে। রিমি ভালোভাবে সেকেণ্ড ডিভিশনে পাশ করে গেছে। বায়োলজিতে স্কুলের মধ্যে সেরা নম্বর ওর। রিমির মনে তাই খুব আনন্দ। কেষ্টপুরের বাসিন্দা রমেন স্যারের কাছে সে বায়োলজি পড়তো। তাই রেজাল্ট পাবার সঙ্গে সঙ্গে সে স্যারকে ফোন করে।
---হ্যালো স্যার।
----হ্যাঁ বলো রিমি,কিখবর। কেমন রেজাল্ট হলো তোমার।
----আমি সেকেণ্ড ডিভিশনে পাশ করেছি স্যার। আর আপনার সাবজেক্টে আমার হাইয়েস্ট মার্ক হয়েচে
----বাহ্ খুব ভালো সংবাদ তো। তা মিষ্টি খাওয়াচ্ছো কবে।
----ভাবছি স্যার,সামনের রবিবার বিকালে আপনাদের ওখানে যাবো।
----ঠিক আছে চলে এসো।
মেদিনী পুরের ছেলে রমেন।কয়েক বছর হলো কোলকাতায় এসেছে।কেষ্টপুরের কাছে এক কামরার একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকে। বি,এস,সি পাশ সে। কোলকাতায় এসে সে ,দুই তিন ব্যাচ টিউশানি ধরেছে।অবসর সময়ে নিজের চাকরির পরীক্ষার জন্য পড়াশুনা করে। বিভিন্ন কমপিটিটিভ পরীক্ষা গুলো দেয় সে। নিজেই স্টোভে হাত পুড়িয়ে রান্না বান্না করে খায়।তার জীবন নিস্তরঙ্গ রঙবিহীন। কারো প্রেম তার জীবনে এখনো ছায়া ফেলেনি। কি করেই বা সে ভাববে প্রেমের কথা। তার চাল-চুলো কিছু নেই।এইসব জেনে শুনে কোন মেয়েই বা তাকে ভালোবাসবে। তবু মাঝে মাঝেই তার মনের মধ্যে ,এক অজানা প্রেমের হাতছানি সে শুনতে পায়। তার ছাত্রীদের মধ্যে রিমিকে সে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে। রিমির অসাধারণ সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে। মনে মনে তাকে নিয়ে সে,কল্পনার সমুদ্রে পাল তুলে দেয়। কিন্তু এটা শুধু তার কল্পনাতেই চলে।বাস্তবে সেই কথা সে কখনো রিমিকে বলতে পারেনা। এভাবেই তার জীবন বয়ে যায়।
রিমি রবিবারের দিন বিকালে মা-বাবাকে বলে এক প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে স্যারের বাড়িতে চলে যায়।সে তার এক বান্ধবীকেও বলেছিলো ওর সঙ্গে যেতে। একই সঙ্গে পড়ে ওরা। বান্ধবী টিঙ্কু প্রথমে রাজীও হয়েছিলো যেতে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোনো এক কারণে সে যেতে পারে নি। ফলে একাই চলে যায় সে।
রিমি স্যারের বাড়িতে এসে কলিংবেল টেপে। রমেন দরজা খুলে রিমিকে ভেতরে ডেকে বসতে দেয়।রিমি মিষ্টির প্যাকেটটা স্যারের হাতে দিয়ে ,স্যারের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে।রিমি রমেনের পা ছুঁতেই তার শরীরের মধ্যে কেমন একটা তরঙ্গ খেলে যায়। ভিতরের আদিম রিপুগুলো কেমন সজাগ হয়ে উঠেছে।তারা যেনো কিছুতেই স্বস্তি দিচ্ছে না রমেনকে।এদিকে রিমি আপন মনেই বকবক করে চলেছে।
----জানেন স্যার,আপনি যা যা সাজেশান্ দিয়েছিলেন,সব এসে গেছে। ভাগ্যিস আমি আপনার সাজেশান্ গুলো ঠিকমতন ফলো করেছিলাম। তাইতো বায়োলজিতে একশোর মধ্যে নব্বই পেয়েছি।
রিমির কথাগুলো রমেনের কানে ঢুকছে না।সে এক পলকে তাকিয়ে আছে রিমির মুখের দিকে।তার টানা টানা চোখ আর উদ্ধত বুক অসম্ভব রকম ভাবে তাকে টানছে। সে কিছুতেই নিজেকে সংযত রাখতে পারছে না। এদিকে রিমি অনেকক্ষণ বকবক করে একসময় থেমে যায়।স্যারকে তার কথার কোনো উত্তর দিতে নাদেখে,এবং তার দিকে ঐভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে সেও অবাক হয়ে যায়।
----কি দেখছেন স্যার অমন করে।
---আমি যে আর থাকতে পারছি না রিমি।
----কি সব বলছেন আবোল-তাবোল কথা।থাকতে পারছেন না মানে টা কি।
---আমি তোমায় ভালোবাসি রিমি,আমি তোমায় কাছে পেতে চাই।
বলতে বলতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে রিমির উপরে। একটানে গায়ের ওড়নাটা দূরে ছুড়ে ফেলে তার জামাটা ছিঁড়ে দেয়।
---একি করছেন,একি করছেন,ছাড়ুন আমাকে।নাহলে আমি কিন্তু চীৎকার করবো।
কিন্তু তার মুখের কথা শেষ হবার আগেই রমেন তার মুখে ওড়না টা গুঁজে দেয়।তারপর,আদিম উল্লাসে মেতে ওঠে এক পৈশাচিক খেলায়। রিমির সাথে যে এতো দিনের তার শ্রদ্ধার সম্পর্ক, তা নিমেষে ধূলোর সঙ্গে মিশে যায়।আর অবাক বিষ্ময়ে অসহায়ার মতো রিমি দেখে তার বিশ্বাস,তার শ্রদ্ধা কিভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ধবধবে সাদা বিশ্বাসের রঙ টা, কিভাবে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে, ক্রমশঃ রক্তের মত গাঢ় লাল হয়ে উঠছে।

19.05.2017

ভালোবাসতে ভালোলাগে
- মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

তোমার লাল গালের হাসি ভালো লাগে
তোমার কানের ফুল-দুল ভালো লাগে
তোমার লিপস্টিক রাঙা ঠোঁট ভালো লাগে
তোমার হাতে হাত রাখতে ভালো লাগে
তোমার দামী চুমু পেতে ভালো লাগে
তোমার উঁচু হিল জুতা ভালো লাগে
সত্যি বলছি --
তোমাকে ভালোবাসতে ভালোলাগে ।

শুধু তোমার জন্য
মোঃ আসাদুজ্জামান লিংকন
তোমার জন্য একশো একটি নীলপদ্ম আনবো আমি
তোমাকে পেতে হাজারটা একাকী রাত কাটাবো আমি
তবু ফিরে আসবে কি তুমি?
তোমার জন্য কিনে নিব
পৃথিবীর সমস্ত ফুল;
জবা, কৃষ্ণচূড়া আর গোলাপের লালে
সাজাবো তোমার কালো চুল।
তোমার জন্য আমি বীর নাবিক হয়ে
অজানা সমুদ্র পাড়ি দিব,
শুধু তোমারি জন্য
এক অচেনা বিচ্ছিন্ন কোন দ্বীপ কিনে নিব
সেই দ্বীপ হবে তোমার আমার ভালোবাসার অভয়ারন্য।
তোমার জন্য মিটি মিটি তারাদের আলো এনে দেব
তোমার জন্য চন্দ্র থেকে সমস্ত জোসনা কিনে নেব
এখনো আমার বেঁচে থাকা
তোমায় খুঁজে পাবার আশায়
তাইতো কল্পনা গুলোকে সাজাই
কালো কলম আর সাদা পাতায়।

তোমারি সুরের কবিতা আমি
- নুরুল আলম

যে কবিতা ভালবাসে
সেই আমাকে ভালবাসে
আমি কবিতা ভালোবাসি।
আমার মরণের ঐ কবিতা রেখো মনে,
শব্দহীন ঐ কবিতা ছন্দোময় দিয়েও তুমি।
কবিতাটি নাম দিয়েও তোমারি নাম
সুরে সুরে কখনো বলোনা আমার নাম।
ভালবেসে কবিতা
দিলাম উপহার,
ভালোবাসি কবিতা
ভালোবাসি আবৃত্তি।
তোমারি মাঝে
বেঁধেছি কবিতার ঘর
তুমি আমার আবৃত্তির সুরের সমাহার।

সময়ের প্রয়োজনে
- Md.Asaduzzaman Linkon - লিংকন
জীবন টা হঠাৎ করে কেমন যেন হয়ে গেল
সব কিছুই যেন খুব এলোমেলো
অাজ নিজেকে বড় একা লাগে
জানি পাশে কেউ নেই
হয়তো সারাটা জীবন কাটাতে হবে এভাবেই ।
জানি তোমার মতো আর কেউ অাসবেনা
বসবেনা পাশে হাত দুটি ধরে
বলবেনা অামি অাছি থাকব সারা জীবন তোমার পাশে।
জীবনটা থেমে গেল !
সামনে অনেক পথ বাকি
ভাবছি কিভাবে পাড়ি দেবো।
কে নিয়ে যাবে অামায় ওপারে।
জানি কেউই নেই।
সুখের সাথী অনেকেই হয়
কিন্তু দুখের সাথী কেউ নয়।
কিছু দিনের জন্য কেউ অাসে
অাবার বুক শূন্য করে দিয়ে চলে যায়।
অামাকে অাসলে কেউ বুঝলো না ।
এখন অামি কি করব বলতে পারো
অামি বাঁচতে চাই আবার নতুন করে
জানি সেটাও আর হবেনা।
সময়ের প্রয়োজনে কাছে এসেছিলে
আবার তুমি দুরে চলে গেলে ।
ফিরে অাসো ভুলতে পারিনা তোমাকে
অামি তোমার অপেক্ষায় অাছি ।

(১) ছোট-বড়
।। রফিক উদ্দিন লস্কর।।
ভালোবাসার সুতে বোনা স্বপ্ন আছে হাজার,
কত রঙ বেরঙের চলে খেলা এ বিশ্ব মাঝার।
লাল গোলাপি কর মাঝে বোনের বাঁধা রাখি,
ইষ্টিশনের রেল ছুটেছে শরাব বিলায় সাকী।
পান্তাভাতের থালার মাঝে হাত পড়েনি আজ,
পেটের খিদায় পরাণ যায় ভাঙেনি তার লাজ।
সোনার চামচ হাতের মাঝে বাতানুকূল ঘরে,
ফলমূল আর দৈ মাখনে ভাতের পেটটা ভরে।
সোনার খাটে বসে বসে করে আরাম আয়েশ,
আস্তাবলে দিনকাটে যায় মনে কতো খায়েশ।
গায়ে নিয়ে জরির পোশাক বসে আছে মহলে,
ছিন্নবাসে ফুটপাতে রয় পরাণ কাঁপে টহলে।
রাতের বেলা দিনের প্রকাশ কুড়ি পঁচিশ বাতি,
নিকষ রাতে পথের মাঝে ভয়ে কাঁপে ছাতি।
রাজপথেতে ছুটার বেলা বসে নরম কুশনে,
খালি পায়ে রোদ মেখে যায় ঘর্ম ঝরে ভূষণে।
দিবসান্তে ক্লান্ত হয়ে ঠাণ্ডা পানীয় করে পান,
কর্ম সেরে ঘরে ফেরে জলের গ্লাসে দেয় টান।
-------------------------------
১৭/০৫/২০১৭ইং
(২)

পারিনি ভূলিতে!
।।রফিক উদ্দিন লস্কর।।
তুমি এসেছিলে মোর ঐ আঁখির আলোতে,
এক ঝলকে হারিয়ে গেলে পারিনি ভুলিতে!
তুমি জুড়িয়ে আছো মোর দু আঁখির কোণে,
আমি আগলে রেখেছি তোমায় বড় যতনে।
আমি ভালোবেসেছি তোমাকে প্রথম জীবনে
চোখের তারায় হৃদয় মাঝে থাকো প্রতিক্ষণে।
জানি ভালোবাসা তো হয়না মনের বিপরীতে,
তবু রয়েছো তুমি প্রণয় আর অনুভূতির সুতে।
কতপথ খুঁজে ফিরে পাই তব ছায়ার আহ্বান,
ভূলে গিয়ে সকল ব্যথা ভুলে গেছি পিছুটান।
এত্ত কিছু হওয়ার পরও আমি তোমায় বুঝিনা,
মনের মাঝে তোমায় ঘিরে কত অসহ বেদনা।
আলোর মাঝে এসো তুমি থেকোনা ঐ আঁধারে,
তোমায় আমি জড়িয়ে নিবো মায়ার চাদরে।
রঙধনুর রঙ দিয়ে আঁকবো নতুন আলপনা,
চুকিয়ে দেবো সকল ধার, তব পূর্ণ হবে কামনা।
৩০/০৪/২০১৭ইং

(৩)

মা
।। রফিক উদ্দিন লস্কর।।
সবার ঊর্ধ্বে আসন মাগো তোমার তুলনা নাই,
তোমার কাছে বারে বারে ফিরে আসতে চাই।
চোখে চোখে রাখার পরেও আড়াল হতাম যখন
তুমি হন্যে হয়ে দিগ্বিদিকে খুঁজে বেড়াতে তখন।
আড়াল থেকে আসার পরে কোলে তুলে নিতে,
তুমি বুকের মাঝে ধারণ করে আদর চুমু খেতে।
পড়ার জন্য সন্ধেবেলা বিছানায় বসাতেন তিনি,
বিবেক বলে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তাই সবসময়ই ঋণী।
জোর করে মা খাওয়াত খাবার গল্প কেচ্ছা বলে,
একটু খেয়ে আর খেতাম না ভেসে যেতাম জলে।
ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে মা চোখ বুজাতো জোরে,
দু’গাল ভরে চুমু খেয়ে হাত বুলাতো মাথায় মোরে।
রাতের পরে রাত জাগিতেন আমার অসুখ হলে,
ওষুধ পথ্য বৈদ্য এনেও ভাসতেন চোখের জলে।
একটু বড়ো হবার পরে পাঠিয়ে দিলেন পাঠশালে,
মা ছুটিতেন তীব্রভাবে কোথাও কেউ আটকালে।
একটু একটু করে যখন বড়ো হলাম সেই আমি,
স্বর্গ থেকে খুশির জোয়ার মায়ের মনে এলো নামি।
এই জগতে সে বড়ই ধনী, মা আছেন যার ঘরে,,
তুমি কষ্ট দিলে ভুগতে হবে, বেহেশত যাবে সরে।
******
১৪/০৫/২০১৭ইং

অপরিচিত কোন কণ্ঠস্বর
- Md.Asaduzzaman Linkon - লিংকন
মানুষ এভাবেই একা হয় একদিন ...
যেভাবে একা হয়ে আছি আমিও !!
এই তো ভালো আছি একা হয়ে আছি .
নিজের সাথে , সবার কাছে !!
কখনো কখনো এই
একা থাকা থেকে কবিতা আসে !
কখনো সুর ছড়ায় ঠোঁটে !
মাঝে মাঝে ভীষণ একলা লাগে !
মাঝে মাঝে খুঁজে বেড়াই
অপরিচিত কোন কণ্ঠস্বর
কেউ যদি এসে বলে , একা নও তুমি ,
এই যে পাশেই আছি আমি !!

ভালোবাসি তোমাকে
- Md.Asaduzzaman Linkon - কবিতার ডাইরি
দু জোড়া আঁখি আর চারটা হাত মিলে,
নরম ঘাসের উপর জেগে থাকা
মিষ্টি রোধে চিকচিক করে উঠা
ছোট্ট একটি শিশির বিন্দু ধরবে বলে
কথা দিয়েছিলে।
সে অপেক্ষায় আজও দক্ষিণের ঐ
খোলা মাঠটায় দাডিয়ে থাকা
খেজুর পাতায় চেয়ে থাকি আমি,
শিশির ভেজা কোনো এক ভোরে
নরম ঘাসে আলতো পায়ে নূপুরের শব্দ তুলে
পাশে এসে আবার বসবে কবে তুমি।
জীবনের ক্লান্ত পথে হয়তো
হাজারও সুখের ভিড়ে,
তুমি হারিয়ে ফেলতে পারো আমায়,
কিন্তু হাজারও লক্ষ-কোটি সুখ
আমায় যদি ঘিরেও রাখে,
তবুও ভুলবো না কোনদিন তোমায়।
এখনও ভালবাসি তোমায়
তুমিও কি ভালবাসো আমায়?
এখনও তোমার কথা ভেবে
দুচোখ দিয়ে জল ভাসাই
হাজারও বার চেষ্টা করেছি
ভুলে যেতে তোমাকে কিন্তু
তার চেয়েও বেশি বার মনে মনে
বলেছি ভালবাসি তোমাকে।।

লিংকন

স্বপ্নিল বসন্তে
- Md.Asaduzzaman Linkon - ০৪-০৩-১৩ ডাইরির পাতা
এই স্বপ্নিল বসন্ত তোমার জন্য
তাইতো শিমুল পলাশে তোমার ঠোঁটের রং মিশে থাকে
কতোটা বসন্ত পার করেছি দুজনা ভালোবেসে
বসন্তের মিষ্টি হাওয়ায় কতোনা স্বপ্ন বুনেছি
আর আজ বসন্তের সে মিষ্টি হাওয়া খুঁজে পাই না!
যে নয়ন দুটি ছিল স্বপ্নে ঘেরা
আজ সে নয়নে শ্রাবন দিনের বাধ ভাঙা জল
কতোটা বসন্ত আর এভাবে কাটবে আমার
এতোটা দীর্ঘ পথে সাথীহারা থাকতে হবে মোর
নাকি হৃদয়ের পাষাণ বেদীতে
প্রেমের সমাধি হবে মোর?
একি সম্ভব! কিছুতেই তা সম্ভব নয়
বসন্তের এই মিষ্টি হাওয়ায়
আজো তোমার নূপুরের শব্দ শুনতে পাই।
নিঝুম রাতে তারাদের মাঝে তোমায় খুঁজে বেড়াই
সাগরের ঢেউ এর মতো
তোমার স্মৃতি গুলো হৃদয়ে দোলা দেয়
আজো কি খুঁজে বেড়াও আমায়
বসন্তের ওই মিষ্টি হাওয়ায়?
খুব জানতে ইচ্ছা করে।

মোঃ আসাদুজ্জামান লিংকন

কষ্টের মাঝে ও তোমাকে চাই
- উমা শংকর দাস

আমাকে দুঃখ দিতে চাও ?
দিও,
আমি তোমাকে বাধা দেবো না,
দুঃখকে সঙ্গী করে সুখের মহাকাশে
নিজেকে সমর্পন করেছি, ইচ্ছে হলে
রাতের আকাশে চেয়ে দেখো ,আমি
আলোকবর্ষ দূরে তারাদের মাঝে
লুকোচুরি খেলতে গিয়ে কেমন করে
তোমার ভালোবাসায় নিজেকে নিশ্ব করেছি।
আমাকে কষ্ট দিতে চাও?
দিও,
আমি মুখ ফেরাবো না,
আমার কষ্টগুলো বিস্ফোরিত হয়ে
একদিন তোমার বাগানে গোলাপ হয়ে ফুটবে,
সেদিন আমি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে
আমার ভালোবাসাকে আলিঙ্গন করবো।
আমাকে তুমি কাঁদাতে চাও ?
কাঁদাও ,
আমি শ্রাবনী মেঘের মতো
অঝোরে কাঁদতে চাই,
প্লাবিত হতে চাই তোমার সমস্ত শরীর জুড়ে,
আর চোখের জলে সৃষ্ট লুনির হাত ধরে
ভেসে যাওয়া আমার কষ্টগুলো
তোমার উঠোনে তাথৈ নৃত্য করতে করতে
আমার প্রেমের সামিয়ানা টাঙাবে
তোমার হৃদয় ক্যানভাসে ।
আমাকে ভালোবাসার আগুনে পোড়াতে চাও?
পুড়িও,
আমি নীরবে জ্বলবো সাহারার মতো,
তোমার ভালোবাসার দহন জ্বালায়
জ্বলবো বলেইতো আমি আজ
নিজেকে নিজের মতো করে
রাঙিয়েছি কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে ।
বিশ্বাস না হয়,
আমার হৃদয় স্পর্শ করে দেখো
হৃদয়ের সঙ্গোপনে একচিলতে জমি
আজও খুঁজে পাবে,
যেখানে আমার ভালোবাসার আগুন জ্বালাবো
বলে চির সবুজ করে রেখেছি ।

তোমায় ছোঁয়ার ইচ্ছে
- বেথুন বেরা

তোমায় ছোঁয়ার ইচ্ছে আমার অনেকদিনের
তাই দেখো না তোমার দিকে চেয়েই থাকি?
তোমার ঠোঁটে ঠোঁট বসাবো রাতের ঘুমে
সকাল হলেই ফুরুৎ করে হবো পাখি...
তোমার বুকের ছোট্ট তিলে ওড়না চাপা
সেই তিলটাও উস্কে দেবো, ইচ্ছে ক'রে,
মুখে যতই বলো আমায় পাগলা-খ্যাপা
তোমার ইচ্ছে আমার কিন্তু চোখে পড়ে।
আঁচল যখন তোমার পিঠে হাতটা বোলায়
তখন আমার ইচ্ছে ক'রে আঁচল হবো,
জানলার ফাঁকে রোজ যেরকম রোদ ঢুকে যায়
তেমন করেই শরীর জুড়ে জায়গা নেবো।
আমাকে তো খোঁপায় তুমি বাঁধতে পারো
তোমার সাথেই ঘুরবো আমি সর্বসময়,
আমাকে তো ধরতে পারো জাপটে আরও
তোমার সাথে পাশবালিশে, বিছানাময়...

অনতি ক্রম্য
- রণজিৎ মাইতি

পরিখা নির্মাণ সবে শেষ হয়েছে
আনন্দে
আমি সীমার মধ্যে থেকে অসীমে--
একটা একটা করে তারা গুনছি
প্রতিপলে হিসাব ভুল হচ্ছে
পিং পং বলের মত
হাত থেকে শূন্যে
মহাশূন্য থেকে হাতে
লোফালুফি করতে করতে
বল হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে
অনুভব করি হাত দুটো মাইনাস শূন্য ডিগ্রি
হৃদয়ে হাত রাখি
তাপমাত্রা পরম শূন্যের নিচে
আমগাছে বসা কাকটা
করছে কা-কা-কা
বাড়ির পোষা কুকুর
আজ বেসুরো ডাকছে
আকাশে তাকিয়ে দেখি
কলনে আবার একটা ভুল
গয়াধাম যাক বা না যাক
নিয়তি মহাকর্ষ ছাড়াবে

দেবী
- নন্দামুখার্জি রায় চৌধুরী
চোখ ভর্তি জল নিয়ে ঝুমার ছবিতে মালা পড়াতে পড়াতে অয়ন ফিরে গেলো সাতাশ
বছর আগের দিনগুলিতে / আজ ঝুমা আর অয়নের ছেলের বিয়ে / বিসমিল্লা খানের
সানাই এর সুর বেজে চলেছে / বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন ,পাড়া প্রতিবেশী /
সাতাশ বছর আগে ঠিক এই রূপ একটি দিনে অয়ন ছিলো উদ্ভ্রান্ত ,বিয়েতে তার
মোটেই মত ছিলো না / বিয়ে করার কোনো অধিকার তার ছিলো না / মাত্র সতের বছর
বয়সে তার একটা বড় এক্সিডেন্ট হয় / কিডনির চার ইঞ্চি নীচু থেকে হাড় ভেঙ্গে
চৌচুর / বাঁচার কোনো সম্ভবনা ছিলো না /প্রায় ছয় মাস ডাক্তারদের
অক্লান্ত চেষ্টায় সে উঠে বসতে পাড়ে / ছোট একটা শিশু যে ভাবে হাটা শেখে
ঠিক সেই ভাবে সে আস্তে আসতে একটু একটু করে নুতন ভাবে হাটা শিখতে লাগলো /
যেনো নুতন জীবন সে ফিরে পেলো / কিন্তু যে যা হারিয়ে ফেললো তা একটা পুরুষ
মানুষ হয়ে বেচে থাকার অর্থ তাই হারিয়ে গেলো / জীবনের সব আশা ,আকাংখা সব
কিছু ধুলিসাৎ হয়ে গেলো / সুস্থ্য হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সে বুঝতে পারলো
কোনো নারীকে শারীরিক ভাবে খুশি করার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলেছে / অনেক
ডাক্তার সে দেখিয়েছে ; কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ঈশ্বর তার সাথে নিষ্ঠুর
পরিহাস করেছেন / অগত্যা তাকে এটা মেনে নিতেই হয়েছে / কিন্তু মা ,বাবাকে
সে তার এই দু:ভাগ্যের কথা জানাতে পারে নি ; কারণ তাদের একমাত্র সন্তান সে
/ দিন গড়িয়ে চলে / নিজের কষ্ট বুকে চেপে সে ও এগিয়ে চলে / অল্প বয়সেই সে
ব্যাঙ্কে চাকরি ও জুঠিয়ে ফেলে / এবার মা ,বাবা চেষ্টা করতে থাকেন তার
বিয়ে দেওয়ার / অয়নের মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ে / তারা নাছোরবান্দা / পাত্রী
দেখে পছন্দ ও করে ফেলেন / . (2).
অয়ন অনেকবার ঝুমার সাথে
দেখা করার চেষ্টা করে বিফল হয়েছে / রক্ষনশীল পরিবারের মেয়ে ,ঝুমার বাপের
বাড়ির লোকেরা কিছুতেই বিয়ের আগে ছেলেমেয়ের দেখা সাক্ষাত কোরতে দেবেন না /
তা হলে কি ঝুমার মা ,বাবাকে যেয়ে বুঝিয়ে বলবে ? কিন্তু তাহলে তো বাড়ির
সকলে জেনে যাবে ,সুইসাইড কোরলে তো বাবা ,মা মরে যাবেন / অন্য কোনো পথ সে
খুঁজে না পেয়ে ভিতরে ভিতরে ক্ষয় হয়ে যেতে লাগলো / তারপর সে ঠিক করলো -
ফুলশয্যার রাতে সে ঝুমাকে বুঝিয়ে বলবে - নিরুপায় হোয়ে সে বিয়ে করতে রাজি
হয়েছে / আজ থেকেই সে মুক্ত / ঝুমা ইচ্ছা করলে সেই মুহুত্তেই সে
শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করতে পারে / কেউ বাধা দিলে অয়ন নিজেই প্রাচীর হয়ে
দাড়াবে / এই ছাড়া তার আর কোনো পথ খোলা নেই /.
. ঝুমা ও অয়নের বিয়ে হয়ে গেলো /বিয়ের দিন থেকেই ঝুমা লক্ষ্য
করেছে ,অয়নের মুখে কোনো হাসি নেই /ভেবেছে হয়ত গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ সে
/ফুলশয্যার রাতে অয়ন ঝুমাকে যা বলল ,ঝুমা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি বিধাতা
তার সাথে নিষ্ঠুর খেলা খেলবেন !! ঝুমা বাকরুদ্ধ ! চোখ নীচু কোরে অয়নের সব
কথা শোনার পর চোখ ভর্তি হয়ে গেল জলে / কিন্তু অয়ন যাতে সে জল দেখতে না
পায় তার যথা সাধ্য চেষ্টা করে গেলো /অয়ন ঝুমাকে জানালো - যে সে কোনদিন
ঝুমাকে শারীরিকভাবে সুখ দিতে পারবে না ; কারণ সে শারীরিকভাবেই অক্ষম /যা
বাড়ির কেউ জানে না /আর এই কথাটিই বলার জন্য সে বার বার ঝুমার সাথে দেখা
করতে চেয়েছে /সে ঝুমাকে আরও বলে ,"আমি অনেকবার ভেবেছি সুইসাইড করি ; কারণ
একটা মেয়ের জীবন আমি নষ্ট করতে পারি না /কিন্তু পরমুহুত্তেই আমি আমার মা
,বাবার কথা ভেবেছি / আমি ছাড়া তাদের তো আর কেউ নেই / আমি তাদের কষ্ট দিতে
পারিনি /বিশ্বাস করুন ,আমি কাউকেই কষ্ট দিতে পারিনা / আপনি যখন খুশি এ
বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারেন /কেউ আপনাকে বাধা দেবে না /আপনি কেনো নিজের
জীবনটাকে নষ্ট
কোরবেন ?আপনি সুন্দরী ,শিক্ষিতা - যে কোনো পুরুষ আপনাকে পছন্দ করবে /
আপনাকে কাউকে কিছুই বলতে হবে না / যা বলার সবাইকে আমি বোলবো / আমার এই
অক্ষমতার জন্য আমি হাত জোড় কোরে আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি /" ঝুমা নিথর
,শুধুমাত্র শ্বাস-প্রশ্বাসটাই তার চলছে / তার মনে হচ্ছে যেনো সে শুন্যে
ভাসছে ?তার জীবনে এত বড় অভিশাপের কথা সে কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি / কতক্ষণ
সে এভাবে বসে রয়েছে সে নিজেও জানে না / হঠ্য়াত বাইরে থেকে কথার আওয়াজে
তার সম্বিত ফেরে /দেখে ঘরে অয়ন নেই / লাইট জ্বলছে / বুঝতে পারে ভোর হয়ে
গেছে / তাড়াতাড়ি উঠে বিছানার ফুলগুলি সরিয়ে ,সুন্দর ভাবে বিছানাটাকে
গুছিয়ে ,নিজের ফুলের সাজ খুলে ,স্নান করে ,চওড়া করে সিদুর পড়ে বাইরে
বেড়িয়ে আসে /আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বন্ধু স্থানীয়রা তাকে চেপে ধরে
ফুলশয্যার রাতের ঘটনা শোনার জন্য /এক এক জনের এক এক রকম প্রশ্নের উত্তরে
ঝুমা
লজ্জাবনত চোখে শুধু হেসে যায় আর এদিকে ওদিকে তাকিয়ে শুধু দেখে অয়ন আছে
কিনা / অয়নকে কোথাও সে দেখতে পাচ্ছে না কিন্তু কাউকে জিগ্গেস কোরতেও সাহস
পাচ্ছে না / সকাল গড়িয়ে দুপুর ,তখনও অয়নকে দেখতে না পেয়ে সে সত্যিই উতলা
হয়ে পড়লো /তাহলে কি মানুষটা ---না না ...তা কি করে হয় ?কিন্তু কোথায় গেলো
সে ? কাউকেই কিছু জিগ্গেস করতে পারছে না / নুতন বৌ - কেউ যদি কিছু মনে
করে ? সন্ধ্যায় অয়ন ঘরে ফিরলো ; ঝুমা তখন একাই ছিলো ঘরে /অয়ন ঘরে ঢোকার
সাথে সাথেই ঝুমা উঠে দরজাটা বন্ধ করে দিলো / অয়নকে বললো ," আপনার সাথে
আমার একটু কথা আছে "/ অয়ন বুঝতে পারলো ঝুমা তাকে কি বোলবে /সে চুপ কোরে
যেয়ে খাটের উপর পা ঝুলিয়ে বসলো / কিন্তু অয়নকে অবাক করে দিয়ে ঝুমা অয়নের
গা ঘেষে যেয়ে বোসে তাকে যা বললো অয়ন তার জন্য মোটেই সে প্রস্তূত ছিলো না
/ সে মুখে হাত চাপা দিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে লাগলো আর বলতে লাগলো ," না
এ কিছুতেই হোতে পারে না /আমি আপনার জীবনটাকে কিছুতেই নষ্ট কোরতে পারিনা"
/ঝুমা আরও একটু অয়নের কাছে এগিয়ে যেয়ে তার একটি হাত নিজের হাতের মধ্যে
নিয়ে বললো ," যে কথাটা এতদিন শুধু আপনি একাই জানতেন ; সেই কথাটা গতকাল
থেকে শুধু আমি জানলাম / আমায় ছুয়ে কথা দিন ,আপনি কোনদিন কোনো অবস্থাতেই
এই কথাটা আর কাউকেই বলবেন না / আর হ্যা -আমরা স্বামী ,স্ত্রী - পৃথিবীর
কাছে এটাই আমাদের পরিচয় / তাই আপনি নয় ; আজ থেকে আমরা পরস্পরকে তুমি বলে
কথা বোলবো ।
তুমি যেমন তোমার ভাগ্যটাকে মেনে নিয়েছো ; আমিও ঠিক সেইরূপ আমার ভাগ্যটাকে
মেনে নিলাম /এটা আমার ভাগ্যেই লেখা ছিলো / ভাগ্যের লেখা কি খন্ডন করা যায়
? আজ থেকে তুমি আর মুখ গোমড়া করে থাকবে না / স্বামী ,স্ত্রীর সম্পর্ক
নাইবা থাকলো আমাদের মধ্যে ; আমরা তো ভালো বন্ধু হয়ে সুখে দুঃখে এক সাথে
থাকতে পারবো সারা জীবন .." " এ হতে পারে না .." অয়নের কথা শেষ হওয়ার
আগেই ঝুমা হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে বলে ," ব্যস এই নিয়ে আর কথা হবে না
/ আমি তোমায় ছেড়ে যাবো বলে তো তোমার কাছে আসিনি / সারা জীবন আমি তোমার
কাছেই থাকবো / একমাত্র মৃত্য ছাড়া আমি তোমাকে ছেড়ে যাবো না /" অয়ন ভাবে
ঝুমা কি মানুষ ? নাকি দেবী ?ঝুমা কিছু আচ করতে পেরে বলে ,"অগ্নি স্বাক্ষী
কোরে,মন্ত্রচচারনের মাধ্যমে তোমায় স্বামী হিসাবে গ্রহণ করেছি ,সারাজীবন
একসাথে থাকার অঙ্গীকার করেছি ; আজ শুধুমাত্র নিজের সুখের জন্য দুই
পরিবারের এই বন্ধন ,আমাদের বন্ধন - আমি কিছুতেই ছিন্ন কোরতে পারবো না /
আমার শিক্ষা ,আমার মনুস্যত্বে এটা বাধা দিচ্ছে / আজ থেকে আমরা সারা জীবন
বন্ধু হয়ে সুখে ,দুখে পস্পরের পাশে থাকবো /

এ ভাবে দিন দিন গড়িয়ে যেতে থাকে / অয়ন কখনই দেখেনি ঝুমাকে মন খারাপ করে
থাকতে / সব সময় হাসি খুশি / তার যত্নের ও কোনো ত্রূটি সে রাখে না / যদিও
অয়ন সব সময়ই নিষেধ করে কিন্তু ঝুমা শোনে না / সংসারের যাবতীয় কাজ একা
হাতে সামলানো ,বৃদ্ধ শ্বশুর ,বৃদ্ধা শ্বাশুড়ির সেবা - যত্নের ও কোনো
ত্রূটি সে রাখে না /অয়ন নিজেকে নিজে ক্ষমা কোরতে পারে না / সব সময় একটা
অপরাধবোধে ভোগে / কিন্তু ঝুমাকে যখনই কিছু বলতে গেছে - ঝুমা ধমক দিয়ে চুপ
করিয়ে দিয়েছে /ঝুমা কোনদিন নিজের কষ্টের কথা কাউকেই কোনদিন বলেনি - এটা
তার ছেলেবেলার থেকেই স্বভাব / তাই জীবনের এই চরম কষ্টটাও অতি কষ্ট করে
নিজের বুকেই চেপে রাখে / ভাগ্যের পরিহাসকে অবলীলায় মেনে নেয় / নিজের
অজান্তেই চোখে জল এসে পড়লে - পাছে কেউ দেখে ফেলে তাই সঙ্গে সঙ্গেই শাড়ির
আচল দিয়ে মুছে ফেলে /
এই ভাবে দু' বছর কেটে যায় / এবার ঝুমা ঠিক করে একটা বাচ্চা দত্তক
নেবে / সে অয়নকে ডেকে এ কথা বলে / অয়ন এতে মোটেই আপত্তি করে না ; বরং
খুশি হয় / ঝুমা অয়নকে আরও বলে যে সে বাড়িতে সবাইকে বোলবে সে গর্ভবতী /
এখন থেকেই অয়ন চেষ্টা কোরবে অন্য কোথাও বদলী হওয়ার / আর এদিকে তারা
চেষ্টা কোরতে থাকবে কোনো অনাথ আশ্রম থেকে সদ্যজাত কোনো শিশুকে দত্তক
নেওয়ার জন্য / সে রকম খোজ পাওয়া গেলে তারা শিশুটিকে দত্তক নিয়ে তিন ,চার
মাস পর থেকে আবার ও চেষ্টা করে পূনরায় কলকাতাতে ফিরে আসবে / অয়ন বলে ," এ
সব কি সম্ভব ?" " তুমি এখন থেকেই চেষ্টা কর ,দেখো সব অসম্ভব ই সম্ভব হবে
"/ .যেমন ভাবা ঠিক তেমন কাজ /এবার ঝুমা ঠিক
করে একটা বাচ্চা দত্তক নেবে / সে অয়নকে ডেকে এ কথা বলে / অয়ন এতে মোটেই
আপত্তি করে না ; বরং খুশি হয় / ঝুমা অয়নকে আরও বলে যে সে বাড়িতে সবাইকে
বোলবে সে গর্ভবতী / এখন থেকেই অয়ন চেষ্টা কোরবে অন্য কোথাও বদলী হওয়ার /
আর এদিকে তারা চেষ্টা কোরতে থাকবে কোনো অনাথ আশ্রম থেকে সদ্যজাত কোনো
শিশুকে দত্তক নেওয়ার জন্য / সে রকম খোজ পাওয়া গেলে তারা শিশুটিকে দত্তক
নিয়ে তিন ,চার মাস পর থেকে আবার ও চেষ্টা করে পূনরায় কলকাতাতে ফিরে আসবে
/ অয়ন বলে ," এ সব কি সম্ভব ?" " তুমি এখন থেকেই চেষ্টা কর ,দেখো সব
অসম্ভব ই সম্ভব হবে "/ .যেমন ভাবা ঠিক তেমন
কাজ / ঝুমা দুদিনের মাথায় শ্বাশুড়ি কে জানিয়ে দেয় যে সে গর্ভবতী / খুব
খুশি হন তারা / অয়ন অনেক চেষ্টা করে তিন মাসের মাথায় বদলির অফার পায় /
এর ই মাঝে ঝুমা নানান জায়গার এতীমখানায় খোজ খবর নিতে শুরু করে ,দরখস্ত
জমা দিতে লাগে / নিজে ঘরে থেকে অয়নের মাধ্যমে সে এই কাজগুলি কোরতে থাকে /
প্রথম অবস্থায় শ্বাশুড়ি বৌমাকে অয়নের সাথে যেতে দিতে রাজী হয়নি / পরে অয়ন
ই মাকে বুঝিয়ে বলে / তখন আর তিনি কোনো আপত্তি করেন না / ব্যাঙ্ক এ
চাকুরিরত অয়ন বদলি নেয় এক অজ পাড়াগায়ে /ঈশ্বরের অপর কৃপায় তারা একটি
পুত্র সন্তানকে দত্তক ও নিয়ে নেয় /শিশুটিকে কোনো এক অরফান চাইল্ড হোমের
গেটের কাছে ফেলে দিয়ে যায় তার ই গর্ভধারিণীর হয়তো কোনো আত্মীয় / ঝুমারা
যেখানে থাকে তার থেকে বেশ কিছুটা দূর ওই চাইল্ড হোম / কিন্তু নাছোরবান্দা
ঝুমা রাতেই সেখানে পৌছে যেয়ে পরম মমতায় শিশুটিকে কোলে তুলে নেয় / আইনই
কাগজ পত্র সই সাবুদ করে শিশুটিকে নিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরে আসে / শ্বাশুড়ি
কে জানিয়েও দেয় তাদের একটি ছেলে হয়েছে / পরদিন থেকে শুরু হয় অয়নের আবার
বদলির চেষ্টা / বছর খানেক দৌড়াদৌড়ি ,ছুটাছুটির পর আবার সে কলকাতায় বদলী
হতে পারে /ঝুমা ও অয়নের ছেলে যে বছর মাধ্যমিক দেয় ; সে বছরই ঝুমার
নিউমোনিয়া হয় /মাত্র চার দিনের জ্বরে ঝুমা তার অয়নকে ছেড়ে চলে যায় /ভালো
নার্সিংহোম ,নামজাদা ডাক্তার কেউ তাকে বাঁচাতে পারে না / অয়ন মানুষ রূপি
দেবীকে হারিয়ে প্রায় উন্মাদ হয়ে যায় / মা ,বাবা মারা গেছেন আগেই / অয়ন ও
রিটায়ার করেছে / ঝুমার চোখেরমনি মিলনকে ডাক্তারি পরিয়েছে /আজ মিলনের বিয়ে
/অয়ন ভাবে ," আমার আর বেচে থাকার কোনো মানে হয়না /যাদের জন্য আমি শত
লজ্জা সহ্য় করে বেচে ছিলাম তারাই আজ কেউ নেই /ছেলের বউ ভাতটা মিটে যাক ;
এ জীবন আমি আর রাখবো না / জীবনে অনেক কিছু না পেয়েও - এমন অনেক কিছুই
পেয়েছি যা অনেকেই পায় না /

শুধুই ২১ এলে
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

১৩৫৮ এর ৮ ফাল্গুন
সেদিনও ছিলো এমনই আট-ই ফাল্গুন
প্রকৃতি আর পলাশ,শিমুল ডালে আগুন
ওদের বুকেও জ্বলছিল ক্ষোভের আগুন ৷
সেদিন ১৩৫৮ - এর ৮ - ই ফাল্গুন ছিলো
ওরা বাংলা বাদে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করলো
আর উর্দু ভাষীরা ১৪৪ ধারা জারী করলো ,
আর এখবর যখন রাষ্ট্র হলো ,
ক্যাম্পাসে ছাত্ররাও ক্ষোভে উত্তাল হলো
১৪৪ ধারা ভাংগবেই সে শপথ ওরা নিলো
ব্যানার ফেস্টুনে ক্যাম্পাসে জড়ো হলো ৷
চারিদিকে শুধু মিলিটারি আর মেশিনগান
তবু দমাতে পারেনি সেদিন সেই উত্তাল বান
এগিয়ে চলছে মিছিল সামনে বেগবান ৷
হঠাৎ-ই !
নিরস্ত্র ছাত্রদের মিছিলে কাপুরুষের হানা
সালাম,বরকতের রক্তে সেপথ হলো রাঙা
অনেকেরই সেদিন নামটাও যায়নি জানা ,
সেখানে আজ মিনার গড়েছি শহীদের রক্তে
সেই অ,আ রোজ ধ্বনিত হচ্ছে কোটি কণ্ঠে
অথচ ওদের স্মরন করি শুধুই ২১ এলে ৷

ফেব্রুয়ারী আর আমরা
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

আসছে যে মাস ফেব্রুয়ারী
সেজেছে বাংলা একাডেমী
কবিরা ব্যাস্ত কাব্য লিখতে
ছাপাখানা ব্যস্ত বই ছাপাতে
অ'কবি ব্যাস্ত তৈল মাখাতে
আর তেলুকরা তেল মাখতে ৷
কথা বেঁচি আমি এক অ'কবি
বাঙ্গাল হই এলেই ফেব্রুয়ারী
অন্তরে আছে এক দুরভিসন্ধি
এই মাসেই হবো আমি কবি
বিজ্ঞ সাজি অজ্ঞ এ আমি
জ্বী গুরু বলে মুখে ফেনা তুলি ৷
আসছে যে মাস ফেব্রুয়ারী
আমি কিগো ভুলিতে পারি
যাদের বুকে লেগেছিলো গুলি
তাদের স্মরণে ফুল,মালা দিলি
একমাস পর সবই ভুলে গেলি
একি আমরা সেই বাঙ্গালী জাতি ?
সন্তানেরা আজ ইংরেজী ভাষী
পোশাকে আমি বাঙ্গালী সাজি
বুক সেল্ফে সঞ্চিতা - গীতাঞ্জলি
অার আমি শার্লোক হোমস্ পড়ি
একি আমরা সেই বাঙ্গালী জাতি
ভাষার জন্য যারা মরতে পারি ?

হার না মানা যোদ্ধার গল্প
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

নাম তার হাকিম মোল্লা
সেই যে গন্ডগোলের বছর , হেই সুম আমার ৯ কি ১০ বয়স ৷তহনো জীবনের মানে কি বুজি নাই ,
যহন শ্যাখের ভাষন হুতনাম ট্যানজিস্টারে
তহন শইলের ব্যবাক পশম খারায় যাইতো
হ্যারে দ্যাকনের লাইগা মনে আনচান করতো
হ্যার ভাষন হুইন্যা বুক বাইন্ধা গন্ডগোলে গেছিলাম ৷
বাপে আমারে নিবোনা হ্যার পরও গেছিলাম ৷
গন্ডগোল হইতাচে ঠুসঠাস আওয়াজ হইতাছে ,
আমি ছুডু বইল্যা আমার কাম আছিলো মিলিটারিগো ক্যাম্পে গিয়া হ্যাগো খবর আনা ৷ আমি হ্যাগোরে মিলিটারিগো খবর আইন্যা দিতাম ,
হেইদিনও মিলিটারিরা কৈ আছে খবর নিয়া আইছি
আইয়া দেহি বাজানেরে কান্দে কইরা নিয়া যাইতাছে
বাজান কইয়া চিক্কুর দিয়া বাজানেরে জড়ায় ধইরা দেহি বাজানের বুকে একখান গুলি লাগছে , বাজান শুধু কইলো দ্যাশটারে মিলিটারিগো হাত থাইক্যা বাঁচা ৷
বাজানের মেসিনটা খানিক দুরে দেহি পইরা রইছে
মেশিনটা কুড়ায় লইয়া আমিও হগলের লগে ঝাঁপাইয়া পড়লাম , বাজানের না শ্যাষ করা কামডা করমু জিদ করলাম ৷হেইসুম ছোড বইল্যা মিলিটারিরা আমারে দিশ করতোনা ৷একদিন আইৎকা আমারে হ্যাগো সন্দেহ অইলো ,হ্যার পর ছুডু বইল্যা আমারে মাইরা না ফালায়
আমার পায়ে একখান গুলি করলো , আমিতো ভাবছি আমি আর বাঁচুমনা আল্লারে কইলাম, আল্লা আমার বাজানের কামডা আমারে করতে দাও আল্লায় বুজি আমার কতাখান হুনছে ক্যামনে যেনি বাইচ্যা গেলাম,
যুদ্ধ শ্যাষে খুরাইয়া খুরাইয়া দ্যাশের ভিডার দিকে গেলাম, যাইয়া হুনি মারে আর আমার বড় বইনডারে ঐ শালা শুয়রের বাচ্চা মুন্সী মিলিটারিগো হাতে তুইল্যা দিছিলো , মা হেই লজ্জা সইয্য করবার না পাইরা গলায় ফাঁস দিয়া মরছে, অনেক খুইজ্জা হ্যারপর বোইনডারে পাইলাম তয় বোইনডাও পাগল হইয়া গেছে ৷ বোইনডারে লইয়া আইজকা আমার সংসার আমি আর আমার বোইন দ্যাশটাতো স্বাধীন হইলো কিন্তু আমাগো খবর কেউ রাখলোনা ৷ আমগো গেরামের মুন্সী হ্যায় আমার মা,বোইনেরে হ্যারপর গেরামের অনেক মাইয়ারে মিলিটারিগো ক্যাম্পে পাঠাইছে আইজক্যা হ্যাই বড় মুক্তিযোদ্ধ হইছে ৷ হ্যারে আইজকা টেলিভিশনে দেহায় আর আইজকা স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও আমাগো খবর কেউ লইলোনা ৷ আইজও আমার পাগলী বোইনডারে লইয়া ভিক্ষা কইরা আমার সংসার চলে ৷ যে দ্যাশের লাইগা যুদ্ধ কইরা মা,বাপেরে হারাইলাম বোইনডা পাগল হইলো নিজের ঠ্যাং খান হারাইলাম হেই দ্যাশ আমাগো কি দিছে একটু কন হুনি , যারা হেইসুম মিলিটারিগো পক্ষের লোক আছিলো হ্যারা আইজকা অনেক বড়লোক আর আমিল? মিলিটারি গো লগে যুদ্ধ কইরা যহন জিতছি তহন জীবনের লগে যুদ্ধ কইরাও হারুম না ৷ পরাণডা থাকতে কারো কাছে বিককিরি হমুনা ৷

উপদেশ
- মেহেদি হাসান খাঁন

মানুষে মানুষে ঝগড়া করো না ভাই,
বেঁচে থাকতে মানুষই তো চাই।
.
কেহ যদি ভুল করে,
হাসি মুখে বলবে তারে।
.
জনে জনে করো না বিবাদ,
পড়বে যে আশান্তির প্রভাব।
.
সমাজে বসবাস করতে চাই
শান্তি,
সবাই মিলে মুছে দেব সব ভুলভ্রান্তি।
.
কারো সনে করিলে মিরজাফর,
সমাজে পাবে নাক কদর।
.
কারো কাজে ধরো না খুদ,
পারিলে করে দিবে কাজটি পরিশোধ।
.
কারো মনে দিও না কষ্ট,
এটাই তো ব্যাবহারে শ্রেষ্ঠ।
করিও মর্যাদা সমাজ যেসব মানুষ জেষ্ঠ।
.
বৃদ্ধকে করিও যতন,
পরকালে পাবে সোনার চেয়েও রতন।
.
মুসাফিরে যে করে দয়া,
সব লোকে করে তারে মায়া।
.
ক্ষুদার্থকে দেয় যে আহার,
মায়া-মমতায় মন স্নিগ্ধ তাহার।

মধ্যবিত্তের আসল রুপ
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

বোতাম হারানো ছেঁড়া শার্ট পড়নে
শুকতলা ক্ষয়ে যাওয়া জুতা পায়ে
এক আকাশ যন্ত্রণার পাহাড় বুকে
দম লাগানো মেশিনের মতো করে
বিরামহীন ছুঁটে চলেছি এ শহরে ।
কখনো চেনাজনের অচেনা রুপ
কখনোবা পাওনাদার দেখে চুপ
বেকার আমি হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত খুব
ক্ষুধার্ত পেটে পানি খেয়েই চুপ
এই হলো মধ্যবিত্তের আসল রুপ ।
বাবাতো মরেছে মাও অনাহারে
ক্লাসের ফাস্টবয় গিয়েছি ভুলে
ডিগ্রীর বোঝা বেকারত্বের পিঠে
চাকরির জন্যে ঘুরছি হন্যে হয়ে
চাকরি হয়না মামা,খালু নেই বলে।

আমরাই দায়ী
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

ওরা আজ বিপথগামী ,
আমরা কখনো কোনো কাজে বাঁধ সাধিনি ,
পাশে বসে ভালো - মন্দের পার্থক্য বুঝাইনি ,
বিপথগামী না হওয়ার মতো পথ দেখাইনি ,
তাই বিবেকের কাছে আসামী তুমি-আমি ৷
ওরা আজ মাদকসেবী ,
যার দায়ভার আজ সমাজ বয়ে চলেছে
বয়ে চলেছে সারা দেশ আর গোটা জাতি ,
আমরাই প্রত্যক্ষ কিম্বা পরোক্ষভাবে দায়ী
আমাদের উদাসীনতাতেই ওরা মাদকসেবী ৷
ওরা আজ সন্ত্রাসী ,
আমরাই সন্ত্রাসী হওয়ার সুযোগ দিয়েছি
ছোট অন্যায়ে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলেছি ,
নীতিহীন নেতার অসাধুতাতেই ওরা সন্ত্রাসী
এর জন্য আমাদের অপরাজনীতিই দায়ী ৷

কাঁপুনি
- জুলফিকার আলী
হাওয়ায় হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে
শিশির কণা গড়িয়ে পড়ে
সবুজ ঘাসে শীত আসে|
সর্ষে ক্ষেতে ভ্রমরা মেতে
মধুসংগ্রহে জড়িয়ে পড়ে|

অগ্রহায়ণ শেষে সোনার দেশে
দাদুর গল্প নয় তো অল্প
শীতের বুড়ি থরথরিয়ে কাঁপে
ভাল লাগে রোদের কিছু তাপে
সে কাঁপুনি সরিয়ে পড়ে|

সর্ষে ফুলে
- জুলফিকার আলী

সর্ষে ফুলে প্রজাপতি
মনটা নাচে খুকির,
হলুদ রঙের দারুণ সে ফুল
পছন্দ টুকটুকির|

ও সব ফুলে মৌমাছি ধায়
বাড়ায় শীতের শোভা,
ফুলের গন্ধে পাগল পারা
কী যে মনোলোভা|

সর্ষেরই ফুল কানে গুজে
ছোট ছেলে মেয়ে,
শীত সকালে সর্ষে বনে
যাচ্ছে নেচে গেয়ে|

চাষীর খুশি মাঠে খুশি
সর্ষে ফুলের রঙে,
ফুলেরা ছড়ায় হাসি তার
আমার সোনার বঙ্গে|

বিজয় দিবসে
- জুলফিকার আলী

বিজয় দিবসে আঁকছে খুকু
আলপনা টুকু
আঁকল ছবি মুক্তি বাহিনীর
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আর
তার কাহিনীর|

নাচছে সবাই খুশিতে
বিজয় দিনের,
পেলাম হাতে চেরাগ
যেন আলাদিনের|

বস্তিতে আগুন
- জুলফিকার আলী

গভীর রাতে ঘুমিয়ে ছিল
বস্তিবাসী বস্তিতে,
ঘুমে মগ্ন ছিল তারা
শান্তি এবং স্বস্তিতে|

লাগল বস্তিতে আগুন
বস্তিবাসী জাগুন,
ফায়ার সার্ভিসের সাথে
নেভাতে তা লাগুন|

গ্যাস এবং বিদ্যুৎ প্রবলেমে
আগুন লাগল বুঝি,
ফায়ার সার্ভিস  পেলনা তার
আসল কারণ খুঁজি!

বস্তিবাসীকে তাড়াতে কেউ
খেলল কি এই খেলা,
কারণ খতিয়ে বের করুন
না করে অবহেলা|

ফসল
- সোমা মজুমদার ব্যানার্জী

ছোট্টছোট্ট পায়ের পাতা,
কালো জুতোয় মোজা আঁটা।

নরম কোমল হাতের মুঠি,
শক্ত করতে সবাই ছুটি।

মুখে দুধের গন্ধ নিয়ে,
সকাল হতেই দে ছুটিয়ে।

ঘোড়ার মতো চাবুক মেরে,
স্কুলের পথে হাতটা ধরে।

এক্কা,দোক্কা,চৌকা করে,
শিরদাঁড়া টা দে গুড়িয়ে।

ভোরবেলাতে মায়ের আঁচল,
নসীবে নেই, কি করি বল।

শিক্ষা তোকে দিতেই হবে,
নিস, না নিস দেখা যাবে।

ডাক্তার নয় ইঞ্জিনিয়ার,
কিছু একটা হতেই হবে।

তার কমেতে উঠবে না মন,
বিদেশ যাবি যখন তখন।

বাংলা ভাষা নাই বা জানিস,
ইংরাজি টা রপ্ত করিস।

বিদেশী গাড়ি নাইট পার্টি,
বাঙালী তুই মস্ত খাঁটি।

গর্বে বাড়ে বুকের ছাতি,
রেপিষ্ট হবি, নেই তো ক্ষতি।

ভোরের সুবাস গায়ে মেখে,
চুপটি করে মনের সুখে।

নরম আঙুল মুখে পুরে,
ঘুমোস না আর স্বপ্ন ঘোরে।

মানুষ তোকে হতেই হবে,
শিরদাঁড়া টা যাক গুঁড়িয়ে।

তবে হয়তো
- সোহেল আহমেদ ইবনে ছাদ

শিক্ষাঙ্গন যদি রাজনীতি মুক্ত হতো
গানের পরিবর্তে যদি কলম ধরতো
তবে হয়তো, কেউ বের হতো
বিল গেটসের মতো ।।

সভা সেমিনার আরও যতো
না করে যদি পড়ায় মগ্ন হতো
তবে হয়তো, ইবনে সিনার মতো
কেউ হতে পারতো ।।

যদি রাজার ভুল নীতি বাদ দিতো
পরিবর্তে ন্যায়-নীতি শিখতো
তবে হয়তো, ওমর ফারুকের মতো
কেউ ন্যায় -বিচারক হইতো ।।

যদি ইভটিজিং না করতো
পরিবর্তে খেলা-ধূলায় মন দিতো
তবে কেউ আবার হয়তো
সাকিবুল হাসান হতো।।

প্রভাতফেরি ফেব্রুয়ারির নাম
- ওদুদ মণ্ডল

দলে দলে লোকের ভীড়ে
রাত বারোটার পরে,
রঙ-বেরঙের ফুল সাজিয়ে
শহীদ মিনার ভরে ৷

সকাল হলেই প্রভাত ফেরি
খালি পায়ে হাঁটা,
যখন শুনি একুশের গান
শিউরে ওঠে গা টা ৷

কেড়ে নিতে চাইলো তারা
বাংলা মায়ের বুলি,
কালো পথে রক্ত মিছিল
হানাদারের গুলি ৷

রক্তে লেখা সেই ইতিহাস
বিশ্ববাসী জানে,
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
তাই তো সবাই মানে ৷

বর্ণবিগ্রহ
- তারিকুল ইসলাম মিহির

কবিতারা আজ বলয়বদ্ধ, সংঘাত মাত্রা কারে
ভাবসংহারে রুদ্ধ চরণ, বন্দী অন্তমিলে।
বর্ণবিগ্রহ সংঘাত নয়, নহে গ্রহ ভ্রমি,
আপনালয়ে বুনছে গোলক বিষবান সঞ্চালি।

অতিরম্ভ সংকুচিয়া অন্তর করিছ ক্ষত,
উবে যাক সব গ্লানী, বিজনে দুর্মতি আহুত।
নিঃশাস দমে ধাত্রিমাতা ভিড়ছেন চন্ডীকূলে,
বর্ণেরা সব রণসজ্জায়, কর্ণেরা সংঘাতে।

চরণ পেরিয়ে পংক্তিলয়ে ভাবের দুর্মতি
ভাবান্তে নবভাবে কাঁপিয়া উঠিছে রতি।
জীবনান্তে নতুন জীবন নব-প্রাণ স্তবকে,
ঋষির প্রেষণায় ঘুরছে রবি রাহুর গ্রাসে।

কাব্যকথ্য কবিতার নিলয়, কুন্ডলার কাননে,
কাব্যখাতা আজ ভস্মিভূত স্বপ্নও তার সনে।
কাব্যমেধযজ্ঞে পত্রসংহার, কবিতাপৃষ্ঠে হূল
অপরাজিতার পুষ্পমাল্যে হত পুণ্ডরীক শূল।

স্বাধীনতা মানে
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

স্বাধীনতা
নয়কো পরাধীনতার কম্বলে গা ঢাঁকা দেওয়া ,
স্বাাধীনতা
নয়কো উশৃঙ্খলতার কাছে নত করা মাথা ,
স্বাধীনতা
নয়কো তালুবন্দী ক্ষমতা কিম্বা অক্ষমতা ,
স্বাধীনতা
জানেনা অন্যায়ের কাছে করতে নত মাথা ,
স্বাধীনতা
নয়কো মুক্ত বিহজ্ঞের ‍উড়তে কোনো বাঁধা ,
স্বাধীনতা
নয়কো পড়ে থেকে মার খাওয়া আর মরা ,
স্বাধীনতা
ন্যয়ের পথে অন্যায়ের সাথে লড়াই করা ,
স্বাধীনতা
মানে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাওয়া ,
স্বাধীনতা
আকাশের মতো আছে যার বিশাল বিশালতা ,
স্বাধীনতা
নয়কো কোন সীমানা ভেঁদ করে চলে যাওয়া ,
স্বাধীনতা
হলো কাঁধে কাঁধ রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া ৷

মে আর দিনমজুর
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

ওজন আমার ২৫ কেজি
বয়স হয়তো ১০এর বেশী
মাথায় বোঝা ৪০ কেজি ,
দিনরাত শুধু মাথায় ঝুড়ি
আমরা যে কুলি দিনমজুরি ৷
মে'র ডাকে কি লাভ শুনি
কাজ করি আর পয়সা গুনি ,
কর্ম ছাড়া খাওয়াবে কি তুমি
তোমারতো কাপজয় দামি দামি
তবু মনটা ভরা শুধু নোংরামী ৷

বেশ্যা
- চিত্তরঞ্জন গিরি

চোখেতে কাজল আলতো লিপস্টিকে ঠোঁট
পোশাক যেন চুম্বক বলরেখা
পৃথিবীর পরিভ্রমণের সাথেই তার আত্মার
দেব দর্শন !
গলির এক মোড় থেকে অন্য মোড়
সাঁকো পারাপারে দ্বীপ প্রজ্বলন
কত পরিযায়ী কত মরশুমি
পাখির ডানামেলা
তার চোখে ঘুম নেই
শুধু চিতায় চিতায়
চিতাবাঘেরই খেলা !
একটার পর একটা ক্ষত
মাটিকে পোড়ায়, বিষায়
খদ্দেরের মনস্কামনায়
শরীরের এক একটা পৃথিবী যেন
গোলাপ পলাশের বাগিচা
অথচ সেখানেই কংক্রিট শীলার
মেঘ বারি বর্ষন !
ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় তিক্ত উগ্র বিড়ম্বনায় ।
এরই ফাঁকে সাইরেনে সাইরেনে
ছয়লাপ
নিষিদ্ধ পেশার সাইনবোর্ডে
পুলিশের অগ্নিবান
মাসির রোজকার রক্তচক্ষুর
মেঘ আঁধারি লুকোচুরি খেলা
জঠরে আগুনের বিভীষিকা
পাঁপড়িতে পাঁপড়িতে
কীট দংশন
পরাগরেনু পায়
এমনিভাবেই
নীলকণ্ঠ
পরিত্রাণ !

নীল সাগরের ঢেউ
- রণজিৎ মাইতি

জানলা দিয়ে ফুরুত করে উড়ে গেল--
আমার ভেতরের চড়ুই পাখি।
বসল গিয়ে কাছের নীল পার্কে,
আমি বারান্দা থেকে সব দেখছি!



হঠাৎ বাড়ির কুকুরটা
ঘেউ ঘেউ করছে ।
পার্কে আবার ফিরে গেলাম ।
যা দেখলাম তাতে--
আমার চক্ষু ছানাবড়া।
একটা সিগারেট ধরিয়ে
জোরে দম দিলাম।
এখন মনে হচ্ছে,
চোখে ছানি পড়লেই বেশ হতো।

হার্ট থেকে গলগল রক্ত বেরোচ্ছে।
কোন ভাবে বন্ধ হচ্ছে না-
কি করি!
আমিও কি পাঁচিল ঘেষা
দেবদারু গাছ থেকে
লুকিয়ে নীল সাগরে ঝাঁপ দেব??

আমিও পুরুষ
- পৃথ্বীশ ঘোষ




আমিও ছিলাম মায়ের গর্ভে নয়টা মাসের পুরুষ হয়ে
আমি আবার রক্তে ঘামে জর্জরিত পিতার অর্থে
আমি আবার বোন দিদির রক্ষাকবজে দাদার নামে
আমিই আবার নারীর সিঁথিতে সিঁদুর রূপে ।।

আমি কখনও ভয়ঙ্কর নীলকন্ঠের রূদ্ররূপী
আমিই আবার রনে বনে জলে জঙ্গলের সাথী
আমি আবার ঘুঁটঘুটে অন্ধকারের বিনাশকারী
আমিই আবার বাসুদেবের নামে দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষাকারী

আমি আবার গভীর অরন্যের ছত্রধর মাহাতো
আমি সেই বিস্ফোরককারী আজমাল কাসব হয়তো
আমি কখনও লাদেন থেকে দাউদ হয়েছি
আমি আবার শহীদ স্মরনে আপন হয়েছি

আমি রবিঠাকুর থেকে বিদ্রোহী কবি হতে পেরেছি
আমি বিশ্বব্যাপী জুড়ে নেতাজি নামে কাঁপিয়েছি
আমি আবার শচিন থেকে সৌরভে গৌরব পেয়েছি
আমি সেই রাবণ হয়ে রামের কাছে শাস্তি পেয়েছি ।।

আমি শুধুই ধর্ষক নই রক্ষকও বটে
আমি মানেই প্রতারক নই পরীক্ষকও বটে
আমি যদি অত্যাচারী হই আগলে রাখতেও জানি
আমি শতখারাপের মাঝেও ভালোবাসতেও পারি ।।

ভয়
- রণজিৎ মাইতি

কল্পারম্ভে লেখা আছে বিসর্জনের গান--
তবু ঢেউ আজও উন্মাদিনী--পাড়ে আসে--
আসে পুরুষকে ভালবেসে--আড়ম্বরে
খামতি নেই--বেজে যায় সানাইয়ের সুর



শব্দ ঘনফলে একমাত্র পুরুষের কায়েমি অধিকার--বোরখার আড়ালে মুখ--ভয়ে
কাঁপে--কাঁপে আরও অনেকের মুখ--সম্পর্কের
সুতোয় বাঁধা--নিষ্পাপ শিশুরা--যারা আসে
ভালোবাসার অভিনয় নিঃসৃত

আধুনিক গান
- শ্রীমন্ত সেন
এ তো এক জনমের নয় কো চাওয়া, জনম জনম ধরে
তোমায় চেয়ে পথ হারালাম পথকে আপন করে—
জনম জনম ধরে।।
হয়নি দেখা পথের মাঝে, পাইনি পথের শেষ,
তবু যে হায় বুকে বাজে কোন দুরাশার রেশ,
দিন রজনী সব একাকার,
চেয়ে চেয়ে নয়ন আঁধার,
পড়বে না কি চরণ তোমার আমার পথের পরে।।
এমনি করেই হয় তো যাবে বাকী দিবসগুলো,
এমনি করেই জমবে বুকে ক্লান্ত পথের ধুলো,
শেষ বিকেলে হিসেব কষে
দেখব কখন আপনি এসে
গেছ রেখে মধুর পরশ আমার হৃদয় পরে।।
তাং—১৩-০৫-২০১৭

হীরা ফেলে কাচ
- শ্রীমন্ত সেন
হচ্ছে কী যে চারিদিকে পারছি নে কো বুঝতে,
ঘিলুটা মোর যাচ্ছে ঘেঁটে মানেটা তার খুঁজতে।
কীসের পিছে ছুটছে সবাই, নেই কো সময় মোটে,
নেইকো অভাব, স্বভাবেতে সবাই তবু ছোটে।
ভাবটা যেন যা আছে তা নয়কো মোটে কিছু,
তাই তো সবাই ছুটছে কষে আরোর পিছু পিছু।
যেথায় যেটুক আছে সেটুক জোগাড় করা চাই যে,
নইলে যেন জীবনেতে মোটেই খুশি নাই যে।
খাচ্ছে দেদার, ভাবটা যেন, এক একটা সব চার্বাক,
‘ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ’—এটাই হল সার বাক্‌।
পরের কথা ভাবছে নাকো, নিজের কথাই মর্মে,
স্বার্থপূরণ করছে সবাই কর্মে গলদ্ঘর্মে।
কেউ চেনে না কাউকে মোটে, হোক না সে বা স্বজন,
আত্মসুখই একমেব প্রিয় সাধন ভজন।



ওদিকেতে ফুলগুলি সব বৃথাই ফোটে বাগে।
জোছ্‌না হেসে হাত যে বাড়ায় বৃথাই অনুরাগে।
ভৈরবীতে ভোরের আকাশ বৃথাই ডাকে গানে,
পাখপাখালি ডেকে ডেকে স্তব্ধ অভিমানে।
কোমল ফোঁটায় বৃষ্টি এসে ধরে কোমলগান্ধার,
যেমনি ছিল তেমনি থাকে সবার মনে আন্ধার।
হতভাগা হায় রে সবাই, হারালি কী রতন,
কাচ কুড়িয়ে আঁচলেতে বাঁধলি করে যতন।
তাং—১৩-০৫-২০১৭

স্রোত
- শাহিনা কাজল

.
যদি ইচ্ছে হয় ফিরে যেও
বয়সী বটের ছায়ায়,
প্রকৃতির রূপ ঝুলে অাছে
ওখানে সত্যের খেয়ায়।



ও মাঝি তবু ও দাঁড় টেনে যায়
সময়ের মসনদ--
অামার বাংলাদেশ,
দুর্গন্ধের স্রোতে ভেসে ভেসে
নিথর হয়েছে এখানে কপোতাক্ষ নদ।

ধর্মের জোয়ারে, রাজনীতির স্রোতে
রয়ে গেছে সকল অাঁধার
অাইনের কোলে ধর্ষিত বিচার,
রয়ে যায় সকল অনাচার।
বইছে পাপের স্রোত স্বার্থের মোহ,
দুধের শিশুও ধর্ষণ হয়-
চোখ মেলে দেখেও দেখে না কেহ।

ওরা অন্ধ পেয়েই টাকার গন্ধ
তাইতো সত্যের পথ অাজ বন্ধ।

তবেই কি অরক্ষিত অাঁচলের তলে
অামার মাতৃভূমি?
বর্গী শকুনের মত রয়েছে ছেয়ে
ক্ষণে ক্ষণে তাহারেই চুমি।

জবাব চাই না চাই ফাঁসির অাদেশ
চাই বাঁধ, চিরতরে বন্ধ হোক এ স্রোত।

ফসলের ভেলা
- রণজিৎ মাইতি

সময় সারণি মেনে--চোখে নামে ঘুম
দিবানিদ্রা নয়--কায়িক শ্রমের পরে
শ্রমিকের বিশ্রামের ডাক--চোখে ঘুম হয়ে নামে--তলিয়ে যেতে যেতে--তবু উঁকি দেয় ফসলের দেহে--গায়ে রাখে সোহাগের হাত



কোনও বিপন্নতা নেই--সবুজের সাথে যার
সহবাস--ঘুম--দিনের প্রথম আলো--ডাক দিয়ে যায়--পায়রার মতো--বকম বকম

প্রযুক্তি এসে গেছে--তবু খুঁটে খায় আজও পাখি--পান করে চকোর জোৎস্না--প্রখর
গরমে চাতকের তৃষ্ণা মেটেনা

ফসলের স্বপ্নে যার--ঘুম আসে--জাগে সেই
ফসলের ডাকে--হয়না কখনো তার--স্বপ্নের সমাধি

আত্মকথা
- পৃথ্বীশ ঘোষ


মহান মানবিকতার সমাজে
আমিও একটা নচ্ছার পুরুষ
সহস্রবার বলি আবার অপরাধ করি
তবে শেষবার সুযোগ ভগবান দেবে হয়তো... দেবে তো !!

তাই তার পাদুকাতলে
নতজানু সন্তানরূপী তোমার অপরাধী

হৃদয়ের কালকোঠরি থেকে বলি অন্তিমবার
অভিযোগের সুযোগ দেবো না আর
নিজের হাতেই নিজের চিতা জ্বালাবো
অপ্রেমের রক্তবীজ রোপণ করছি ধ্যান-জ্ঞানের সন্নিগ্ধে

জেগে উঠেছি কু-ঘুম থেকে
ইতিহাস সাক্ষী আছে আমার নামে

গনতন্ত্রের আইনের কাছে আসামী সেই আমি আদালতে
হে আমার ধর্মাবতার কবিতার দিব্যি দিয়ে বলি
বদলেছি , সেটি প্রমাণ করার একটিবারও সুযোগ চাইবো না আর
শুধু বলবো না লিখবো ... লেখার উপর নেই কো কিছু সত্য

মনের আয়নাতে নিজের মুখ দেখতে চাই না
আমার আমি শুভক্ষনের জলন্ত মশালধারী

বাস্তবতার অভিষেকে লক্ষাধিক বেদনা কুঁড়িয়েছি
সবটা স্বীকার করে নিজের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছি
সাম্যবাদের রাজপথে লকলক করছে রক্তিম পতাকাখানি
আমার যাবজ্জীবন হবে নাকি সাক্ষাৎ মৃত্যুদন্ড

শোধনাগারে বসে লিখছি আমার আত্মকথা
আহ মৃত্যু একটু দাঁড়াও জীবনের ক্লাইমেক্সটা রহস্যময় করতেই হবে ...

মা
- ইরাবতী মণ্ডল

মা যে আমার চোখের মণি,
মাযে চোখের আলো,
মা শিখিয়েছে এই পৃথিবীকে,
বাসতে আমায় ভালো।



দিনের শেষে রাত্রি যখন,
প্রতিদিন ই আসে,
তোমার আঁচোল জড়িয়ে মাগো,
বসতাম কাছটি ঘেঁষে।

মাথায় মুখে হাত বুলাতে,
আদর করতে কত,
ঘুম পাড়ানি গান শোনাতে,
গল্প মনের মত।

আজকে তুমি অনেক দূরে,
নেইকো আমার কাছে,
তবু, ছড়িয়ে আছে তোমার মমতা,
আমার আশে পাশে।

।‌‌‌‌‌‌‌।শুভ মাতৃদিবস।।

মা
- রতন চক্রবর্তী

জীবনের রেটিনায় আলোটা চেনালো যে, সারালো যে আঁধারের ক্ষত,
বুকের অমৃত আর টুকরো আঁচল বুঝি আর একটা পৃথিবীর মত|
কিশলয় গুটিপা'য় শৈশব বদলায়
বৃক্ষের শক্তিতে মেলে ডালপালা;
স্রষ্টার রূপে মা
ধরিত্রী সংঞ্জা
মুঠোতে যে এনে দিলো বড় পাঠশালা |
কত ঘাত প্রতিঘাতে লড়াই বনাঞ্চল পরিণত অভয়ারণ্যে,
জীবনের বাঁকে বাঁকে হার্ডল পেড়িয়ে গিয়ে লড়ে জিতি শুধু তারই জন্যে |

বুড়িটা
-চিত্তরঞ্জন গিরি

হঠাৎই বুড়িটা পড়ে যায়
ছুটে যাই কাছে,হাঁসফাঁস করে ওঠার চেষ্টা,,
ধরে তুলে লাঠিটা হাতে দিলাম
তীরে বিদ্ধ হংস বলাকার কাতরানি
হাঁটুতে খুব লেগেছে না!
লাঠিটা হাতে পেয়ে ,পৃথিবীটা যেন কাছে চলে এল !
না না লাগেনি,,,বাবা,,বয়স হয়েছে তো চোখে
দেখতে পাই না-
কঠিন বার্ধক্য যমদূতের সাথে কি আর পারে!
চোখের দিকে তাকালে-ছানিটা যেন
নদীতে পললের স্তর !
ডাক্তারকে দেখান -না কেন?
-আর কত দেখাব বাবা!
পাঁচ হাজার টাকাখরচ পড়েছিল,তাতেই ছেলে বউয়ের
সংসারে আগুন !
না বাবা আর নয়,মরতে পারলে বাঁচে সবাই ।
কাপড়টায় অনেক জায়গাতেই ছেঁড়া
যেন এক একটা ভারতবর্ষ সকরুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে
পকেট থেকে কিছু টাকা বার করে হাতে গুঁজে
দিতে দিতে বললাম-ক্লাবকে বলে আপনার অপারেশন ও ঔষধের ব্যবস্থা করে দেব
হাত জোড় করে বলে-আমি ভিখারী নই
ছেলে বড় ইন্জিনিয়ার,
এই বড় ক্লাবের প্রেসিডেন্ট !

তুমি এবং সিদ্ধান্ত
- সাইফুল ইসলাম সেতু

বড়ই অদ্ভুত হাস্যকর দেখো আজকের চাঁদ
পূর্ণিমার চাঁদেও লেপ্টে গেছে তোমার নাম,
ভুলবো!চাই দেখবো না আর তোমায়
তাই নামধরা চাঁদকে দিতে চাইনা দাম।
মৃদুগামী বাতাস শুনিয়ে যায় তোমার গান
আজ খুলছিনা হাওয়ায় ভাসা চিঠির খাম,
প্রকৃতিজাত বড্ড নাছোড়বান্দা খুজে আনে তোমায়
আমি বলি আর জ্বালাসনে এবার থাম!



সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে নির্ঘুম কাঁটিয়েছি কতো রাঁত
তবুও ভেবে পাই নাই কোনো কূল,
দোটানায় পরা মন বেশ পরিবর্তিত ধারা
কখোনো দিয়েছে সায় কখোনো বলেছে ভুল।
ভেবেছি ছেড়েছুড়ে সব কাছে টানবো তোমায়
পারিনি!হাতে নিয়েও ছুড়ে ফেলেছি ফুল,
তাই আজ শুধুই ভুলতে চাই তোমায়
সিদ্ধান্ত নিয়েছি উপড়ে ফেলবো প্রেমের মূল!

বৃষ্টি ও মা
- রাজু আহম্মদ খান

মাঝে মাঝে বৃষ্টিরা আসে
বাড়ির প্রাচীর ভেঙ্গে
কাঁঠালের কাঁটা বেয়ে
আটপৌরে শাড়ি পড়ে
তুমি যেমন এসেছিলে মা -
.
কি দুর্দান্ত হাসনাহেনার ঘ্রাণ
মিশে ছিল অম্লান
অবিরাম কষ্ট নিয়ে তুমি
মাথা হতে পা পর্যন্ত
গড়িয়েছিলে ঘাম -
পানের থেকে চুন খসলেই
হতো কেবল
তোমার বদনাম ।
.
কি আছে এমন আর
জীবন পগারপার
সবকিছু তুমি ফেলে
সব স্মৃতিগুলো ভুলে
এক কাপড়ে চলে এসেছিলে
সেবার এই বাড়ি -
.
তারপর কত যুগ গেল
সব কিছু উজাড় করে দিলে
ঢেঁকিঘরের শব্দে আজো
ঘুম ভাঙ্গে আমার -
কেঁপে ওঠে আজন্ম পিলে ।
.
তোমার চুড়ির শব্দে
ভেঙ্গেছে বাবারও ঘুম
পুকুর হতে জল কাঁখে
কলসীর গায়ে যখন বাজতো
তোমার লাল-নীল কাঁচের চুড়ি ।
.
তখনতো হইনি আমি -
সেই কবে স্বাধীনতার আগে
তুমি ছেড়েছো মেগচামী
কোথাকার কোন ছেলে
গালভরা মোস
ভাব ভাদুরে কিম্ভুতকার
মনে হয়েছিলো
ট্যাকখালীর জমিদার -
নিয়ে এলো এ বাড়ি তোমায়
মনে করলে কি এটা এক
সাক্ষাত রাক্ষসপুরী ।
.
তারপর বাসর রাত না পেরোতেই
উঠোন লেপা
কাপড় চিপা,
পাতা সুরে
খড়ি জোগাড়
হাড়ি ঠেলা
আরো কত কাজ মেলা
পুরো যৌথ পরিবারে
কে ছিলো অমন আর মরিবারে -
কত যে গল্প আছে ভূড়ি ভূড়ি ।
.
আজ না হয় থাক
এ গল্প আরেক দিন হবে
এমন বৃষ্টির দিনে, কি যে অবহেলে
তোমাকে রেখে এসেছি সেই বাড়ি
সাতাশ বছর আগে
একখানা কবর খুড়ে
তারও অনেক দূরে
আমার তামাম স্মৃতিগুলো রেখে,
কাঁদি তাই থেকে থেকে -
কি লাভ আর মা দিবস এলে
বার বারই বছর ঘুরে,
দুত্তরি ।
-----------------------------
১৫ মে ২০১৭

বৃষ্টি পাঠাও
- ইরাবতী মণ্ডল

তুমি আমায় বৃষ্টি পাঠাও,
পাঠাবো আমি ভালোবাসা ,
তোমার কাছে পৌঁছে দেবে,
বাতাস আমার মনের আশা।
তুমি তো থাকো পাহাড়ের দেশে,
মেঘেরা ঘোরে সেথা,
লাল,হলুদ ,নীল মেঘের সাথে,
হয় যে তোমার কথা।
সেখানে ,সকাল বেলায় বৃষ্টি পড়ে
শিউলি ঝরার ছলে ,
গাছেরা সব সবুজ থাকে ,
পাখিরা গান করে।
তুমি তো থাকো এমন সুন্দর ,
একটি ভালো দেশে,
আর,আমরা মরছি হেথায় পড়ে,
গরমে,হাঁসফাঁসে।
বৃষ্টি বিহিন কাঠ পাথরের
জঙ্গল এই দেশ,
আকাশ ছোঁয়া উঠেছে বাড়ি,
শপিং মল ও বেশ।
গাড়ি ঘোড়া চলছে অঢেল,
লোকের নাই কো কম,
হকারিতে ফুটপাথ দখল,
জিনিস হরেক রকম।
গাছ কেটে সব তুলছে প্রাসাদ,
তাই ,বৃষ্টি দিয়েছে ফাঁকি,
জলের অভাবে গরমে মরছি,
তুমি,দেখেও দেখবে নাকি?
তাই ,একটু বৃষ্টি পাঠা ও,
এই ,শুষ্ক মরুর দেশে,
তুমি বললে মেঘেরা ঠিক
আসবে হেসে হেসে।
বৃষ্টি এলে ভিজবো আমি,
বিকাল বেলায় ছাতে,
ভালোবাসায় রাখবো ধরে,
আমার আঙিনাতে।

আমায় জড়িয়ে থাক
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

একটু একটু করে ,
আমার স্পর্ধা বেড়ে চলেছে ,
তুই আমার পাশে আছিস বলে ,
একমাত্র তুই-ই আমার একাকীত্বের সঙ্গী ,
আমার মন ভাল করার ওষুধ ।
আমার মনের সকল কথা -
তোর কাছেই উজাড় করে দিতে পারি,
তুই আমার প্রেম ,আমার বিরহ ,আমার বেদনা ,
তুই সব, সব কিছুই জানিস আমার মনের কথা ,
আমি যতদিন বেঁচে আছি -
আর আমার ডান হাতটা সচল আছে ,
আমি তোকে ছাড়বো না ।
জীবনের এই পড়ন্ত বিকালে -
তোকে পেয়ে আমি ধন্য ,
তুই আমাকে একা করে দিয়ে ,
ছেড়ে চলে যাস না !
আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাক আমার জীবনে ,
তোকে কাছে পেয়ে -
জীবনের অন্য মানে খুঁজে পেয়েছি ,
নূতন করে বাঁচার স্বাদ পেয়েছি ।
তুই যে আমার অতি আদরের,অতি কাছের -
আমার মনের কথা লেখার -
এক ডট পেন মাত্র !

নন্দা 11-5-17 10-10PM

ঈর্ষার আগুন নিজেকে পুড়াই
-আব্দুল মান্নান মল্লিক

এই শোভন ভুবন তোমার আমার,
ঘা দিও না মনে, করনা জীবেরে সংহার।
দুঃখীর জলে পথ ভিজে যায় চলতে বড় পিছল,
ঘরের ছেলে ফিরেনা ঘরে মায়ের চোখে জল।
যেথায় ভুবন হরিত রঙে, গগন ভরা আলো,
জীব ছাড়া কেউ দেখবে কি আর হোক না যতই ভালো।
জীবের মাঝে সৃজক তুমি বিশ্বের অহংকার,
অবুঝ মনকে বুঝাও সব তোমার উপহার।
কেমন করে ধরবো ছুরি জীবের মাঝে তুমি,
দূর করে দাও চিত্তবনের শয়তানি আর দুষ্টুমি।
হিংসার আগুন ধিকিধিকি জ্বলে যদি মনে,
নিজের আগুনে নিজেই পুড়ে দাবাগ্নি জ্বললে বনে।
সৃজক তুমি পালক তুমি সবার মাঝেও তুমি,
তবু কেন আমরা সবাই পাপের আসামি।

একজন ব্যর্থ প্রেমিক এবং
-নীলকণ্ঠ পদাতিক

একাগ্রচিত্তে বহমান সময়ের গল্প বুকে
দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি তালগাছ,
অসম-বসন্ত দেখা একজন ব্যর্থ প্রেমিক
এবং কোন এক মিষ্টি বালিকার
হাত ধরে একটি অনড় মাধবীলতা...
খাপছাড়া কথার মধ্যে কথা থাকে,
জলের মধ্যে জল, আগুনে আগুন আর
বুকের হাপড়ে ওঠা শব্দের তানে থাকে
সঙ্গীত।
হয়তো কেউ শুনতে পায়, দেখতে পায়, বুঝতে পারে।
হয়তো কেউ শোনেনা, দেখেওনা, বোঝেওনা।
জড় পৃথিবীতো দিনলিপি লিখতে পারেনা,
তাই সব মুছে যায়, ধুয়ে যায়, ক্ষয়ে যায়..
ভাবতেই পারো আমি কিছু বলছি,
ভাবতেই পারো আমি কিছুই বলছিনা।
ভাবতেই পারো এ কথা ও কবিতা আমি
একমাত্র তোমাকে বলছি শুধু,
ভাবতেও পারো আবার এ অন্য কারো জন্য!
সময়ের বুকের মধ্যে কয়েকটি তালগাছ,
বসন্তের ব্যর্থ প্রেমিক, অথবা একটি বালিকায়
'আমি' এবং 'তুমি' শুধু আমি-তুমি নই;
আমাদের মধ্যে আরো কত হাজার
'আমরা' রয়েছি পৃথিবীর!
আমি সেই আমাদের গল্প বলে চলেছি।

অধরা
-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন

বারান্দায় বসে দেখছো তুমি
মায়াবী নীল জোছনা,
হয়ত দেখছো তুমি
রুপালী বাকানো চাঁদ।
কলম হাতে হয়ত তুমি
লিখেছ গোটা কয়েক কবিতা!
হয়ত আজও তোমার কবিতা
তাকে নিয়েই লেখা!
হয়ত সে জানে
তবুও সে আজ অ-ধরা!
এই যে তাকিয়ে আছি, তোমাতেই
মৃদু হাসিটা, তোমার জন্যেই

আর একটু হাসির গভীরে এলে
হয়ত খুজে পেতে আমাকেই...

কিন্তু এখন আর পাবে না আমাকে
আমি নেই আমার মাঝে,

আজ আমি হয়েগেছি আনমনা
সেই হাসি পাবার চেষ্টা করিও না।।

ফিরিয়ে দাও
-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন

কিভাবে ভুলে যাব
সেই রাত, সেই জোসনা
যে রাতে আমার একাক্বীত্ব দূর করেছিলে তুমি
ফিরিয়ে দাও সে রাতের সেই মুহূর্ত
ইচ্ছে করলেই যেকোনো রমণীর সঙ্গ পেতাম।
ফিরিয়ে দাও তোমাকে ভেবে কাটানো
ঘুমহীন আজস্রো রাত।
ফিরিয়ে দাও আমার চোখের লজ্জা।
ফিরিয়ে দাও আমার ঠোঁটের স্বতীত্ব।
আমার সব কিছু ফিরিয়ে দাও,
আমি আবাব আমার একাক্বীত্ব কে ফিরে চাই
----

লিংকন

লম্বা ছুটি
- Md.Asaduzzaman Linkon
আকাশ থাকুক মেঘেয় ছেয়ে
হোকনা লম্বা ছুটি
বর্ষা জুড়ে থাকবো বসে
থাকব হয়ে জুটি।
শর্ত শুধু একটা বিকেল
থাকবে বৃষ্টি ছাড়া
তোমায় নিয়ে সবুজ ঘাসে
থাকবো পাগলপারা।
আকাশ যখন শরত ছায়ে
সাদা মেঘের বানে
কাশফুলেতে কাটবে বিকেল,
অলস সন্ধ্যা ক্ষণে
অস্ত যাওয়া সোনার কিরণ
জ্যোৎস্না মাখা সাঁঝ সমীরণ
হেমন্তরই হাওয়ায় ছুটে
কাজের অবকাশ
অকুল সময় পাথার 'পরে
বিনা কথার কাব্য পড়ে
সুরের মালা পরিয়ে দিয়ে
ভরাবো নিশ্বাস ।

কবিতা
-মোঃআসাদুজ্জামান লিংকন

আমার অবসরটুকু কাটে তোমায় নিয়ে,
আমার এলোমেলো ভাবনাকে গুছিয়ে আনো তুমি।
বই পড়া হয় না কিন্তু তোমাকে প্রতিদিন একবার পড়ি
কবিতা আমাকে প্রতিদিন সমৃদ্ধ করে।
জীবনকে বুঝতে শেখায়।
আমি নিজেকে আবিষ্কার করি কবিতা পড়েই।
কবিতা আমার ভালোবাসা,কবিতা আমার আবেগ,
কবিতা আমার বাস্তবতা ,কবিতা আমার অহংকার ,
কবিতা আমার প্রতিশ্রুতি ভালোবাসার ।
যে হৃদয়ে কবিতা প্রবাহ হয় না-
তার হৃদস্পন্দন মিথ্যে।
কবিতাই জীবনের মহাকাব্য।
কবিতাই সমাজের পথিকৃৎ।
কবিতা সেতো সত্য আর মিথ্যা
কবিতা হলো মনের ব্যাকুলতা
কবিতায় তুমি আছো সর্বদা
কবিতায় তবু নিঃসঙ্গতা!

অবকাশ

আকাশ থাকুক মেঘেয় ছেয়ে
হোকনা লম্বা ছুটি
বর্ষা জুড়ে থাকবো বসে
থাকব হয়ে জুটি।
শর্ত শুধু একটা বিকেল
থাকবে বৃষ্টি ছাড়া
তোমায় নিয়ে সবুজ ঘাসে
থাকবো পাগলপারা।
আকাশ যখন শরত ছায়ে
সাদা মেঘের বানে
কাশফুলেতে কাটবে বিকেল,
অলস সন্ধ্যা ক্ষণে
অস্ত যাওয়া সোনার কিরণ
জ্যোৎস্না মাখা সাঁঝ সমীরণ
হেমন্তরই হাওয়ায় ছুটে
কাজের অবকাশ
অকুল সময় পাথার 'পরে
বিনা কথার কাব্য পড়ে
সুরের মালা পরিয়ে দিয়ে
ভরাবো নিশ্বাস ।

জানালার পাশে কড়া নাড়ে যে কবিতা,
মনের জানালায়-
অদৃশ্য মনের অদৃশ্য জানালা-
আকাঙ্ক্ষিত কবিতা আজো অলিখিত পড়ে রয়।

হয়তো কারো বিদায়ে, কিংবা আগমনে,
হয়তো কারো পূর্ণতায়, কিংবা পরিণামে,
জলে পড়ে ভেসে যায়,
বাতাসে ডানা মেলে উড়ে যায়,
কারো একটু স্পর্শ কিংবা পীড়নের অপেক্ষায়-
যাযাবর রয়।

কারো পদতলে টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দেবো,
কিংবা কারো হাতে হাশিয়া এঁকে উপহার দেবো,
ছাপা অক্ষরে শরীরে জড়িয়ে দেবো,
স্পর্শে শিহরিত কম্পন যেন থাকে কায়াময়।

সে কবিতা, সে ক্ষণের প্রতীক্ষায়...

রক্ত গোলাপ
- Md.Asaduzzaman Linkon
তোমায় প্রথম দেখার সেই ক্ষনে
ভালোবেসে ছিলাম সমস্ত হৃদয় উজাড় করে;
কপোলের ছোট্ট কালো টিপ
আমার সমস্ত সত্ত্বায় মিশে আছে সে রুপ।
তোমার উপমা ঠিক যেন প্রকৃতির মতো
চির সবুজ-সতেজ আর আনন্দে আত্নহারা
তোমায় এ দেখার শেষ কোথায়?
বলতে পারবোনা আমি
অনন্তকাল দেখেও এ দেখার স্বাদ মেটেনা।
তাইতো দেখেছি তোমায়
আমার হৃদয়ের সমস্ত মুগ্ধতা নিয়ে
সে কি মুখ ফিরিয়ে নেবে?
আমার বিমুগ্ধ আত্নাকে দেবে কি পূর্নতা?
যদি তা দেয় তবে -
তার খোঁপায় গুঁজে দেব দুটি রক্ত গোলাপ!

অদৃশ্য দেয়াল
- Md.Asaduzzaman Linkon
গীষ্মের পড়ন্ত বিকালে তুমি ফ্রেমে বন্দি কোন ক্যামেরায়, মেঘের আলোয় লুকানো রোদ তুমি অথবা বর্ষার কালো আকাশের অজানায়। তোমার ওই মৃদু কালো চোখের ভাষা মাতাল করা হাসি, ভেজা চুলে হারাই দিশা কপলের মাঝে কলো অপূর্ব ঐ তিল গোলাপি ঠোট যেন মায়াবী স্বপ্নিল। সব তুলনার উর্দ্ধে তুমি তাই এ লেখাতে কোন তুলনা নেই। আজো তোমার স্পর্শে খুজে যাই সুখের সমস্ত গান এখনো আছি তোমার অপেক্ষাতে কিন্তু মাঝখানে অদৃশ্য দেয়াল! হয়তো কোন এক স্বপ্নে সুখের রানী হয়ে আমার অপূর্ণতাকে পূর্ণ করো মনেহয় এতটা কাছে তুমি তবু যেন স্পর্শের বাইরে! লিংকন

হঠাৎ করেই
- Md.Asaduzzaman Linkon - লিংকন
আজ হঠাৎ করেই তোমার কথা
সকালে সকালে মনে পড়ে গেলো
তাই এই চিঠি আমার....!!
মনে সব সময়ই পড়ে কিন্তু আজ
একটু বেশিই ভাবছি তোমার কথা জানিনা...!!
আজ তোমার স্মৃতিগুলো একটু বেশি নাড়া দিচ্ছে মনের মধ্যে মরে পড়বেনা কেনো বলো আমিতো তোমাকে কথা দিয়েছিলাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমায় ভালোবাসবো..!! কথা যে শুধু আমিই দিয়েছিলাম তা নয় তুমিও বলেছিলে সাড়া জনম পাশে থাকবে....!! কিন্তু সবাই কি কথা রাখতে পারে বলে"" আচ্ছা তোমার কি সেই জোছনা মাখা পূর্নিমা রাতের কথা মনে পড়ে....!! যে রাতে তুমি আর আমি দুজন হাত ধরে পাশাপাশি হেটে যাচ্ছিলাম কেউ দেখে ফেলবে এই ভয়ে আমি বার বার গায়ের চাদরটা দিয়ে আমার মাথা ঢাকছিলাম আর তুমি বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকাচ্ছিলে......!! আমি খুব ভিতু ছিলাম তাই নাা"" তোমার কি সেই মাঝ নদীতে দুজনের নৌকা চালানোর কথা মনে আছে তুমি ভয়ে আমার গাঁ ঘেসে বসেছিলে..!! আর আমি তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম ধুর পাগলি ভয় কিসের আমি আছি না...!! বিশ্বাস করো আমি চেয়েছিলাম সাড়া জনম এমনি করেই তোমাকে জড়িয়ে ধরে রাখতে....!! আচ্ছা তোমার কি সেইদিনের কথা মনে আছে, যেদিন তোমার সাথে দেখা করার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করাতে হয়েছিল আমাকে....!! তুমি বলেছিলে সমস্যার কারনে আসতে পারোনি.......!! বিশ্বাস করো আমি সেদিন কিছুই মনে করিনি কারন আমিতো তোমাকে ভালই বাসতাম...নীলপরী....!! জানি এইসবের কিছুই তোমার মনে নেই মনে থাকবেই বা কেনো এখন তো তোমার অন্য কারো কথা ভাবতে হয়....!! আচ্ছা আমি কি তোমার এতোটাই অযোগ্য ছিলাম....!! তুমি কি চাইলেও পারতে না আমাকে তোমার যোগ্য করে নিতে...!! থাক তোমাকে আর দোষ দিয়ে কি হবে সবই নিয়তির কাছে বাধা তবে আমি না হয় একক ভাবেই তোমাকে ভালোবাসবো ঠিক আগের মতই....!! তারপরও নীলপরী তুমি শুধু আমার হাজারো জনমের জন্য.....!!!

আজ এমন নিঃসঙ্গ দিনে

আকাশ ভরা ঝড়ো মেঘের খেলা

দিনের আলো হারালো গোধুলীর আভায়

হঠাৎ বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ;

জানালার পাশে দাড়িয়ে

সাদাকালো সূদুর অতীতে গেলাম হারিয়ে

স্মৃতিরা ভীড় জমালো আমার ভাবনার আকাশে।

কখন যে ভিজতে ভিজতে বৃষ্টির মাঝে

আম বাগানে ঢুকে গেলাম

একা নই বটে!

তোমার হাতে হাত রেখে ভাবনার আকাশে

কচুপাতায় বৃষ্টির ফোঁটা গড়ানোর দৃশ্য

আর তোমার আমার প্রথম  মিলন সুখ

হারিয়েছে সে বৃষ্টি ভেজা ঝড়ো বাতাসে।

দুজনা বৃষ্টি ভেজা একজোড়া পাখির মতো

কাটিয়ে দিলাম সারাটা দিন

কখন যে নামলো সন্ধ্যা

বুঝতেই পারি নি!

বাড়ি ফিরতেই মায়ের বকুনি

কিন্তুু সে আর মন্দ লাগেনি!

হঠাৎ বসন্তের মাতাল হাওয়ায়

বাস্তবে ফিরে আসা

কোথায় আজ সে দিন গুলো?

আর খুঁজে পেলাম না।।

 

-লিংকন

খণ্ড কবিতা || শুভ্রনীল

★তুই

'তুই' এক বিশাল বটবৃক্ষ।তোর থেকে-
পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করে,
বেঁচে আছে 'রাহাত'-পৃথিবী নামক গ্রহে।

★এলিজি

তনব,প্রিয় সুহৃদ।ভালো আছিস জানি,
যতটুকু যায় থাকা কিংবা তারও বেশি।
আমার অলিন্দ-নিলয় তোর করে নিয়ে ভালোই থাকিস।
হৃৎপিণ্ড আমার সুখে রাখিস,আদরে রাখিস।

★প্রত্যাখ্যান

হেলেন কেলারের মতোন বিদেশিনীও ব্যর্থ হয়েছেন,
প্রত্যাখ্যান করেছি তার প্রেম।
আমি যে তোমাকেই ভালোবাসি,শ্যাম!

★অশনি সংকেত

তোমার প্রেমিকদের বলে দিও-অনামিকা,
তুমি আমার প্রেমিকা!
★রাতের এপিটাফ

১১১১১০টি নির্ঘুম রাত
কাটিয়ে দিতে পারি নিঃসন্দেহে-
তোর চোখে চোখ রেখে!

★চুমো

মানুষগুলো ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বড্ড বেশি,
যানজটযুক্ত শহরে তুমিও তাই।ভিন্ন আমি,-
সময়-অসময় প্রস্তুত থাকি একটি চুমোর!

★সুখ

সুখ পদার্থবিদ্যার মতো,জটিলসব সূত্রের ভেতর আবদ্ধ!
★অনুসন্ধান

ব্যথাতুর হৃদয় যখন,
তোর প্রেম খুঁজে পাবে-
নিউট্রনের সূত্রাবলি তখন,
ভুল প্রমাণ হবে!
★টিপ

তোর কপালের টিপ ছাড়া,অপূর্ণ থাকে পূর্ণিমার চাঁদ!
★অতৃপ্তি

অষ্টাদশী বালিকার মতো,
পূর্ণিমার চাঁদও চুমো খায়না-বিশ্রী গন্ধের শরীর!
রাহাত রাব্বানী

একটি তারার মৃত্যু
- রণজিৎ মাইতি

শুনি মৃত্যুর পর আকাশের তারা হয়ে যায়।
মাঝে মাঝে ভালো লাগে জেনে--
একদিন আমিও আকাশের সভ্য হব ভেবে।
আজ দেখি ঠিক উল্টোরথ,
ঝরে পড়ছে টুপ টুপ করে--
আকশে যত তারা আছে।
আমি এক এক করে--
কুড়োতে কুড়োতে পাই,
পূর্ব পুরুষের গন্ধ।
কালপুরুষ হাতে আমি,
তারে যুগপুরুষ বলি।
হাঁ আমাদের আদরের নরেন।
ধ্রুব তারা ধ্রুব সত্যের প্রতীক।
এই পৃথিবীতে খুব কম লোক আছে
সত্য কথা বলে,
তাই ধ্রুব তারা কাছে রাখি
তাকে প্রশ্ন করি সোনালী কে চেন?
সে ছিল আমার প্রণয়ী ।
চেন তাকে চেন?
বয়স বেশী নয় বাইশ কি তেইশ,
আমি তখন ছিলাম বেকার।
চারপাশে কারখানা বন্ধ সব!
কাজ কোথা পাই?
তাই ওর বাবা মা রাজি নয়
মেলামেশা করি।
কলেজ ছাড়া করা হলো,
হলো ঘর বন্দি।
সেই প্রতিবাদে
কালকূট মুখে নিয়ে নীলদেহী হল।
আজও আমি খুঁজে মরি
অসংখ্য তারার মাঝে
কোথা আছো সোনালী আমার
আমার সোনালী,আমার সোনালী।

(23-04-2017)

খুঁজে যেন পাই
- প্রত্যূষ কর্মকার

যদি পারো পাশে এসে বসো আরো কিছুক্ষণ
তোমাকে দিতে চাই কবিতা কলম কিংবা ধানের কিশোরী শীষ,
যে মাঠে কৃষকেরা ফেলে গেছে মুঠো ধান
আর সূর্যকিরণ সোনালী সরের মত ছেয়ে আছে নিভৃত বিচ্ছুরণে,
কোমল শ্লোকের মত বাতাসের মন্ত্র বয়ে গেছে
জল আর সৌরছটার গভীরতা ছুঁয়ে;
এর চেয়ে প্রসারিত আর কোনও স্থিতি নেই,
এই বেলা উঠে এসো তীরের মহিমা ছেড়ে
আলপথে বয়ে যাক প্রণয় শরীর,
ক্রমশ গভীর হওয়া শেকলের ক্ষত দাগ
প্রাচীন বটের তলায় রেখে যাব,
সজল প্রার্থনা শেষে আঙুলের শীষ দিয়ে ছুঁয়ে দেব তোমার কপাল-
দুঃখ ধূসর হয়ে বটের ঝুরি বেয়ে নেমে মিশে যাবে একান্ত মাটির নিশ্বাসে,
পূবে আর পশ্চিমে নিজস্ব বাতিগুলো জ্বলে যাবে জ্যোৎস্না শিখায়,
সে আলো শুষে নিয়ে হেঁটে যাব পাশাপাশি
আলোকিত বুক আর অনাগত বিজয় ফলক চিনে নিয়ে,
শেষ লেখা নিঃশ্বাসে সুরম্য পূর্ণসত্য যেন অনায়াসে খুঁজে পাই।

একটি বিষন্ন সন্ধ্যার কথা
- নীলকণ্ঠ পদাতিক

একজন বিশুদ্ধ মায়াবতীর সন্ধানে
অসম বর্ষায় ভেজা প্রাণ, এবং আজকের
এই হঠাৎ চৈতালি বানের পরিণাম,
কিছু বেখেয়ালি অথচ চমৎকার পোট্রেট,
অবহেলায় পড়ে থাকা বনলতা সেন,
ঝুলবারান্দায় দুটো অসহায় পায়রার সংসার,
জীবনের আস্ত একটি অধ্যায়ের অবসান,
শরতের নারীপ্রেম, ইউলিসিস,
একিলিসের মৃত্যুকালীন উচ্ছ্বাস,
অচেনা পাহাড়ের বুকে একটি বিষন্ন
সন্ধ্যার কথা ভাবতে ভাবতে
কেন জানি আমিও ভিজে গেলাম!

পেছনের সমস্ত বিফলতার স্মৃতির
হঠাৎ আক্রমনে জীবনের খন্ড খন্ড সুখ,
ভুলতে চাওয়া বরফ শীতল মুহূর্ত,
হাসি-কান্নার উষ্ণ গল্পগুলো
মনে পড়ছে।
ভেজা আকাশ, ভেজা মাটির সাথে
এই অমৃত-গরলে ভেজা জীবনের গান
দূর থেকে ভেসে আসা কান্নার মতো আমাকে
তার উৎসের দিকে টেনে নিতে চায়।
সে ধ্বনিতে, সে সুরের অদম্য আহ্বানে
কি যেন আছে! চাইলেও অগ্রাহ্য করা যায়না!
চেনা মুখগুলো ঝাপসা হয়ে ওঠে।
মায়বতীর সন্ধান, সন্তের আর্তনাদ,
পায়রাদের সংসারে সে শক্তি কোথায়!
অচেনা কুহকে আমি যেন মিশে যাচ্ছি!
দূরের একটা পথ আমাকে ডাকছে।
অামি ভেসে যাচ্ছি।
আমি ভেসে যাচ্ছি।

মেঘলা আকাশের জ্যোৎস্না
- মিন্টু উপাধ্যায়
অভাবের সংসারের জন্য পৈত্রিক বাড়িটাও এবার আমাদের বিক্রিই করে দিতে হল । বাড়ি বিক্রির টাকায় ধারদেনা শোধ করতে করতেই বেশির ভাগ টাকা খরচা হয়ে গিয়েছিলো । যা টাকা বেঁচে ছিলো তাতে মাথা গোঁজার মতো একটা ঘর জোগার হয়ে গিয়েছিলো ।

অচেনা জায়গায় আসার পর আমার মনের অবস্থা একটুও ভালো ছিলো না । পাড়ার সবাই যেন আমাদের কেমন চোখে দেখতো । এমনকি টাকার অভাবে ঘরেতে কারেন্ট প্রযন্ত নেওয়া হয়ে ওঠে নি । বাবা,মা,দাদা আর আমাকে নিয়েই ছিলো আমাদের এই সুখের সংসার । দশ বছর বয়স থেকেই দাদা মামার বাড়িতেই মানুষ । এখনও সে মামার বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে । এই বছরই সে উচ্চ মাধ্যমিক দেবে ।

পড়াশোনায় খুব একটা ভালো ছিলাম না আমি । এই বছর আমিও মাধ্যমিক দোব । বাবা লেদ কারখানায় কাজ করে যা ইনকাম করতেন তাতে আমাদের সংসার কোন রকমে চলে যেতো । শহর থেকে প্রায় ঘন্টা দেড়েক দুরে এই ছোট্ট গ্রাম বালুরঘাট । গোনাগুনি কয়েকটি পরিবারের বাসস্থান মাত্র । গ্রামের চারপাশে যে দিকেই নজর যায় শুধু সবুজের ছড়াছড়ি । গ্রমের শেষে দিগন্ত ছড়ান সবুজ মাঠ । বছরের প্রায় বেশিরভাগ সময়ই এখানে কিছু না কিছু চাষ হয় ।

আমাদের ঘরটা ছিল গ্রামের একদম শেষ প্রান্তে । গ্রামের এদিকটায় লোক চলাচল খুবই কম ছিল । দরমার দু কামরা ঘর তাতে টালির চালের ছাউনি । ঘরের ঠিক সামনেই ছিলো জুই ফুলের গাছ । শীতের সকালে শিশির ভেজা ঘাসের উপর পরে থাকা জুই ফুলের মিষ্টি সুভাষ আমাকে যেন পুরান ঘরের কথাই মনে পরাতো ।

দেখতে দেখতে এক মাস কেটে গেলো বালুরঘাটে । এই কদিনের মধ্যে পাড়ার অনেকের সাথেই আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়ে ছিলো । আমার বন্ধুদের মধ্যে সব থেকে বেশি ভালো লাগতো অমিতকে । সেও আমার সাথে একই ক্লাসে পড়তো । প্রতিদিন আমরা দুজনে মিলে এক সাথেই ইস্কুলে যাওয়া আসা করতাম । ঘর থেকে ইস্কুলে যেতে আমাদের প্রায় পয়ত্রিশ মিনিট সময় লেগে যেতো ।

আমাদের বাড়ি থেকে কিছু দুরেই ছিল অমিতদের বাড়ি । অমিতের সাথে আমার বন্ধুত্ব খুবই গভীর হয়ে গিয়ে ছিলো । বাবা, মা, আর এক দিদিকে নিয়েই ছিলো অমিতের সুখি পরিবার । তার দিদি ডালিয়া বি.এ ফাস্ট ইয়ারে পড়তো । বয়সে সে অমিতের থেকে দুই বছরের বড় ছিল । অমিতের বাবা রাজিববাবু সরকারি কর্মচারি হওয়ায় পাড়াতে তাদের যতেষ্ট সন্মান ছিলো । ধনবান হয়েও তারা খুবই সাধারন মানের জীবন যাপন করতেন । অমিতের মা নিরুপমাদেবী আমাকে তার নিজের ছেলের মতোই স্নেহ করতেন । আমিও খুবই স্নেহ করতাম নিরুপমাদেবী কে ।

আস্তে আস্তে অমিতদের পরিবারের সাথেও আমার খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিলো । ডালিয়ার সাথে আমার বেশ ভালই বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল । ডালিয়া স্বভাবে খুবই মিশুকে ছিলো । ও খুবই ইয়ারকি করতে ভালোবাসতো আমার সাথে । ডালিয়ার ঘরে বসে আমরা তিনজনই মাঝে মধ্যে গল্প গুজব আর হাসি ঠাট্টা করে সময় কাটাতাম ।

আমার মনের গভীরে ডালিয়া যেন একটু একটু করে জায়গা করে নিচ্ছিলো । ডালিয়াকে আমার খুবই ভালোলেগে গিয়ে ছিলো । যখনই আমি সময় পেতাম তখনই অমিতদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হতাম । আমার নজর শুধু ডালিয়াকেই খুঁজে বেরাতো । ডালিয়াকে দেখলেই আমার বুকের ভিতরটা ধক ধক করে উঠতো । ডালিয়াকে দেখতেও খুবই সুন্দর ছিল । আমি ডালিয়ার দিকে তাকালে আর চোখে ফেরাতে পারতাম না ।

কিছুদিনের মধ্যেই আমি বুঝতে পারলাম যে আমি ডালিয়াকে ভালোবেসে ফেলেছি । ডালিয়ার সাথে গল্প করার সময় তার নিলাভ চোখের দিকে তাকালেই আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলতাম । আমার মনের কথা একদিন ডালিয়াকে বলতে হবে এই আসাতেই আমি দিন কাটাতে লাগলাম ।

আজ বড়দিন উপলক্ষে ইস্কুলের ছুটি ছিলো । প্রতিদিনের মত সেদিনও আমি অমিতের খোঁজে গিয়ে ডালিয়ার দরজার সামনে দাড়িয়ে রইলাম । আমার দুচোখ খুঁজে বেরাচ্ছিল ডালিয়াকে । কিন্তু তার দেখা পেলাম না আমি । হঠাৎ ডালিয়াকে দোতলার সিড়ি দিয়ে নেবে আসতে দেখলাম । কিছুক্ষন আগেই বোদহয় স্নান করেছিলো সে । খোলা চুলে ডালিয়াকে দেবীর মতই সুন্দর দেখতে লাগছিলো । ডালিয়া গামছা দিয়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল - অমিত বাজার গেছে আসতে বোদ হয় দেরি হবে । আচ্ছা সুমিত অনেকদিন আড্ডা মারা হয়নি আজ একটু জমিয়ে গল্প করলে কেমন হয় ।
আমি মৃদু হেসে বললাম - তোমার পড়াশোনা নেই ?
ডালিয়া আমার চোখে চোখ রেখে বলল - আজকের মতো পড়াশোনা হয়ে গেছে ।
আমি মৃদু হেসে মাথা নিচু করলাম । আমার বুকের ভেতরে কেউ যেন জোরে জোরে হাতুরি দিয়ে পিটতে লাগলো । ক্রমশ আমার হার্টবিট বেরেই চললো । ডালিয়া আয়নার সামনে দারিয়ে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বললো - আরে তুমি ভেতরে এসে বসো না, লজ্জা লাগছে নাকি ?
আমি - ধ্যাত,লজ্জা কিসের ।
ডালিয়া বাঁকা চোখে বললো - আচ্ছা তোমার সম্পর্কে একটা কথা শুনলাম সেটা কি সত্তি ?
আমি চমকে উঠে বললাম - কি কথা বলো ।
ডালিয়া - অমিত বলছিলো তুমি নাকি খুব ভালো গল্প লিখতে পার ।
আমি - ওই একটু আধটু চেষ্টা করি আরকি ।
ডালিয়া - তাহলে তোমারই লেখা কোন একটা গল্প বলে শোনাও না,আমার গল্প শুনতে খুব ভাললাগে । শ্রোতা হিসাবে আমি কিন্তু খুব একটা মন্দ নই ।
আমি - এখন নয় পরে একদিন শোনাবো কেমন ।
ডালিয়া - ধ্যাত পরে নয় আজকেই বলতে হবে ।
আমি আর কি করি ডালিয়াকে একটা গল্প বলে শোনালাম । ডালিয়া বিছানার ওপর চুপটি করে বসে একমনে গল্পটা শুনে গেলো । শ্রোতা হিসাবে ডালিয়া খুবই ভালো ।
আমি - কেমন লাগলো গল্পটা ?
ডালিয়া খুসিতে লাফিয়ে উঠে বললো - এক কথায় দারুন, তুমি এতো সুন্দর গল্প লিখতে পারো বলে জানতামই না আমি ।
আমি - থাক আর গুনগান করতে হবে না আমার ।
ডালিয়া কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু বলতে পারলো না ঠিক সেই সময়ই অমিতের গলার আওয়াজ পাওয়া গেল । অমিত বাজার থেকে এসে গিয়েছিলো । আমি আর দেরি না করে অমিতকে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম স্কুল মাঠের দিকে ।

প্রতিদিন সন্ধাবেলায় ডালিয়ার ঘরে বসে আমরা তিনজন একসাথেই পড়াশোনা করতাম । ডালিয়ার প্রতি আমার টান আগের থেকে অনেক বেশি বেরে গিয়েছিলো । পড়তে পড়তেই আমি আড় চোখ শুধু ডালিয়াকেই লক্ষ করে যেতাম ।

আমিও লক্ষ করেছি যে ডালিয়াও আড় চোখে আমাকে লক্ষ করে । মাঝে মধ্যেই আমাদের দুজনের চোখা চুখি হয়ে যেত আর সে মৃদু হেসে চোখ নাবিয়ে নিতো । আমার সাথে ডালিয়ার এই চোখাচুখির খেলা বেশ জমে উঠতে লাগলো ।

সেদিনটা ছিল রবিবার,প্রতিদিনকার মতো আজও আমি অমিতের খোঁজে ওদের ঘরের দিকে চললাম । বেশি দুর যেতে হলনা রাস্তাতেই ওর দেখা পেলাম । অমিত হাসি মুখে বলল - কিরে কোথায় যাচ্ছিস ?
আমি - কোথায় আর যাবো বল তোর কাছেই ।
অমিত - অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম সিনেমা দেখতে যাব কিন্তু হয়ে উঠছিল না,আজ যাবি ?
আমি - কোথায় সিনেমা দেখতে, না বাবা সিনেমা দেখে কাজ নেই । কাকিমা জানতে পারলে আর রক্ষে থাকবে না ।
অমিত - আরে মাকে বলেই তো যাচ্ছি ।
আমি অবাক হয়ে বললাম - একি কথা বলছিস তুই । তোর মা সিনেমা দেখার অনুমতি দিলো ?
অমিত - আরে মাকে তো আমি মেনেজ করিনি, দিদিই মেনেজ করেছে । সেও তো যাচ্ছে আমাদের সাথে । অমিতের কথা শুনে বুকের ভেতরটা গুরগুর করে উঠলো । মনেমনে খুসি হয়ে উঠলাম এই ভেবে যে ডালিয়াকে কিছু সময়ের জন্যও একলা পাওয়া যাবে ।

বালুরঘাট থেকে মিনিট কুড়ি গেলেই মায়াময়ি সিনেমা হল । বাসেও যাওয়া যায় আবার অটোও চলাচল করে । আমরা হাঁটতে হাঁটতে ওদের বাড়িতে পৌছে গেলাম । ডালিয়া তৈরি হয়েই ছিলো । অমিতকে দেখে সে মুখ ঝামটা দিয়ে বলে উঠলো - কিরে গাধা কোথায় ছিলিস এতক্ষন, দেরি হয়ে যাবে না । চল চল তারাতারি চল । ডালিয়া আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললো - তুমিও যাবে তো সুমিত ? আমি কিছু বলার আগেই অমিত আমার পিঠ চাপরে বললো - অবশ্যই যাবে । আমি মৃদু হেসে ডালিয়ার দিকে তাকালাম ।

ডালিয়া বলল - তারাতারি তোমরা ফ্রেস হয়ে নাও আর বেশি দেরি করলে হবে না কিন্তু । অন্তঃপর আমরা দুজন ফ্রেস হয়ে ডালিয়াকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম । বেরানোর সময় কাকিমা আমাদের বারবার সাবধান করে দিলেন যেনো বেশি দেরি না করি আর সাবধানে যাওয়া আশা করি । বালুরঘাট বাসস্ট্যন্ড থেকে বাস ধরে আমরা কিছুক্ষনের মধ্যেই পৌছে গেলাম মায়াময়ি সিনেমা হলে ।

শহরের ছোয়া আছে এদিকটায় তাই সিনেমা হলে বেশ ভালোই ভিড় হয়েছে দেখলাম । অমিত আমাদের দুজনকে এক ধারে দাঁড়াতে বলে টিকিট কাটতে চলে গেলো । হলের একপাশে ডালিয়া আর আমি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইলাম । ডালিয়ার দিকে তাকায়ে দেখি সে রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে ব্যাস্ত । আমি ডালিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললাম - আচ্ছা ডালিয়া কাকিমাকে মেনেজ করলে কেমন করে ? ডালিয়া হাসতে হাসতে বলল - এ আর এমন কি কাজ, মাকে বললাম যে পড়াশোনা করতে করতে বড্ড বোরিং লাগছে বিকালের দিকে কোথাও থেকে ঘুরে আসবো । মা বলল যে একা একা কোথাও যাওয়ার দরকার নেই, আর গেলে অমিতকে নাহলে সুমিতকে সাথে নিয়ে যেতে । বেশ তখনই কথাটা পারলাম আর মাও রাজি হয়ে গেলো । কেমন লাগলো আমার প্ল্যান...এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো ডালিয়া ।
আমি ডালিয়ার চোখে চোখ রেখে বললাম - খুবই সুন্দর প্ল্যান ।
ডালিয়া আমার চোখ থেকে চোখ না সরিয়েই বলল - এবার আমি একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি কি ?
আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ডালিয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম - হ্যা, বলো কি কথা ।
ডালিয়া মিটি মিটি হেসে বলল - আমি কিছুদিন ধরেই লক্ষ করছি যে তুমি প্রায় সব সময়ই আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে থাকো । আর তখন তোমার মুখের ভাব পুরো পরিবর্তন হয়ে যায় । অমনকরে আমার দিকে তাকিয়ে থাকার কারনটা কি জানতে পারি !
ডালিয়ার কথায় আমার মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়লো । বুকের ভেতরটা কেমন যেন গুলিয়ে উঠলো । কান দুটো কেমন গরম হয়ে উঠলো । মুখ দিয়ে কোন কথা বের হল না আমার । ডালিয়ার সামনে আমি চুপ করে অপরাধির মতোই দারিয়ে রইলাম । ডালিয়াকে কি উত্তর দেব কিছু ভেবেই পেলাম না আমি । ইতিমধ্যে অমিত টিকিট নিয়ে এসে হাজির হল ।
আমার দিকে তাকিয়ে সে বললো - কিরে সুমিত এমন পাংশু মুখে দারিয়ে আছিস কেন ?
অমিতের কথা শেষ হতে না হতেই ডালিয়া বলে উঠলো জানিসতো ভাই আমিও তো তখন থেকে ওই একই কথা বলছি, কিন্তু সুমিত কোন উত্তরই দিচ্ছে না । তুই কি কিছু বলেছিস নাকি সুমিতকে ?
ডালিয়ার কথায় আমি একে বারে অবাক হয়ে গেলাম । ডালিয়ার দিকে তাকাতেই দেখি সে মিচকে মিচকে হাসছে ।
অমিত বলল - ধ্যাত আমি আবার কি বলবো । চল চল তারাতারি চল বই চালু হয়ে গেলো বলে । আমরা তিনজন তারাতারি হলের ভেতরে চলে গেলাম । ততক্ষনে হলের ভেতরের লাইট অফ হয়ে গিয়েছিলো । একদম শেষ লাইনের কোনের দিকে আমাদের বসার জায়গা পরেছিলো । ডালিয়া প্রথমেই কোনের চিয়ারে গিয়ে বসে পরলো । অমিতকেও দেখলাম ডালিয়ার পাশের চিয়ারে না বসে একটা চিয়ার ছেড়ে বসতে । আমি অমিতকে বললাম যে ওর চিয়ারে আমাকে বসতে দিতে কিন্তু সে উঠলো না তাই অগত্যা আমাকে ওদের দুজনের মধ্যিখানেই বসতে হল । আমি লক্ষ করলাম ডালিয়া সমানে আমাকে আড়চোখে লক্ষ করে যাচ্ছে । আমি চিয়ারে বসে চুপচাপ বই দেখতে লাগলাম । কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম যে বই দেখায় আমার একটুও মন বসছে না । শুধু ডালিয়ার বলা কয়েকটা কথাই আমার কানের কাছে পিয়ানোর মত বাজতে লাগলো ।

বই দেখতে দেখতে হাঁসির সময় একদিক থেকে অমিত, আরেক দিক থেকে ডালিয়া হাঁসির চোটে আমার কাঁধে চাপড় মারতে লাগলো । আমি যেন দূর্গা পুজোর ঢাঁক দুদিক থেকেই বাজতে লাগলাম । অসহ্য হয়ে গিয়ে শেষে আমিও অমিতের কাঁধে সপাটে একটা কিল বসিয়ে দিলাম । অমিত বুঝতে পারলো যে আমি বিরক্ত হচ্ছি এরপর সে চাপড় মারা বন্ধ করে দিল । ডালিয়াও বোদহয় বুঝতে পেরেছিলো তাই সেও কাঁধ চাপড়ানো বন্ধ করে দিলো ।

আমার মনের ভেতর প্রবল ঝড় উঠেছিল তাই আমি শান্তিতে বই দেখতে পারছিলাম না, উসখুস করছিলাম । হঠাৎই আমি আমার হাতের ওপর ডালিয়ার হাতের ছোয়া অনুভব করলাম । আমার শিড়দারা বয়ে শীতল শ্রোত বয়ে গেলো । আমার শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল । সে আমার হাতকে নিজের হাতের মুঠোতে শক্ত করে চেপে ধরে আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল তুমি কি চিন্তায় পরে গেলে নাকি ? টেনশন করার কোন দরকার নেই, আমি জানি তুমি কেন ওমন করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকো । তোমার মনের কথা কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছি আমি । এবার শান্তিতে বসে বইটা দেখো পরে সব কথা হবে কেমন আমার দুষ্টু সোনা ।

ডালিয়ার কথায় আমার সমস্ত চিন্তার জাল ভেঙে খান খান হয়ে গেল । ডালিয়ার হৃদয়ে আমি জায়গা করে নিয়েছি' কথাটা ভাবতেই আমার মন খুশিতে উথলে উঠল । ডালিয়া আমার কাঁধের ওপর মাথা রেখে আমার হাতের আঙুল গুলো নিয়ে খেলা করতে শুরু করল । ডালিয়ার চিন্তায় আমি এতোই বিভোর হয়ে ছিলাম যে বই শেষ হয়ে গেছে সেটা খেয়ালই ছিলনা । অমিতের ডাকে আমার ঘোর কাটলো । আমরা তিনজনই সিনেমার বাইরে বেরিয়ে এসে বাস স্ট্যান্ডের দিকে এগিয়ে গেলাম । অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিলো চারিদিকে । ডালিয়া হাতের ঘড়ি দেখে অমিতকে উদ্দেশ্য করে বলল সবে তো সাতটা বাজে এতো তারাতারি ঘরে চলে যাবি ? চলনা কোথাও একটু বসা যাক ।
অমিত মাথা নেড়ে বলল - তার আগে একটু পেট পুজো করে নেওয়া যাক । আমার সেই কখন থেকে খিদেয় পেট জ্বলছে জানিস ।

ডালিয়া বলল - মন্দ বলিসনি কথাটা । সলমনের মার দেখতে দেখতে ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার পেটও খিদেয় চোঁ চোঁ করছে, চল চল আগে কিছু খাওয়া যাক । বাস স্ট্যান্ডের পাসেই একটা ছোট রেস্টুরেন্টের দিকে এগিয়ে গেলাম আমরা । ডালিয়া আমার পাসে বসে তিন প্লেট চাউমিনের অর্ডার দিলো । বই কেমন লাগলো তোমার বললেনা তো সুমিত ? সিনেমা থেকে বেরানোর পর থেকেই ডালিয়া আমার সাথে একটা কথাও বলেনি, এতক্ষন পর সে কথা বলল । আমি মৃদু হেসে জবাব দিলাম খুব ভালো লাগলো । আচ্ছা তোমরা দুজনে এতো ভালো ঢাঁক বাজাতে পারো বলে জানতাম নাতো আগে । ডালিয়া আর সুমিত অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল । ডালিয়া আশ্চর্য হয়ে বলে উঠলো - ঢাঁক ? ঢাঁক আবার আমরা কোথায় বাজালাম ।
আমি মৃদু হেসে বললাম - এতো তারাতারি ভুলে গেছো তোমরা । কেন সিনেমার ভেতরে তোমরা দুজনে মিলেই তো আমার কাঁধটাকে ঢাঁকের মতোই পিটছিলে । আমার কথা শুনে দুজনেই হো হো করে হেসে উঠলো । আমিও ওদের সাথে হাসিতে যোগ দিলাম ।

রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়েই আমরা আর সময় নষ্ট করলাম না, বাসে চেপে বসলাম । কিছুক্ষনের মধ্যেই আমরা চলে এলাম বালুর ঘাটে । বাস থেকে নেবে আমরা পায়ে হাটা পথ ধরলাম । অমিত লম্বা লম্বা পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল । আমি আর ডালিয়া পাসাপাসি হাট ছিলা