মার্চ 2017

অনুকাব্য- ১১

জীবনঃ
-------- নির্ভীক আমোদে সুপক্ব রাত্রির শীতার্ত স্থবির জোসনায়
ফুটপাত থেকে ফুটপাতের বায়ুতে বিষাক্ত বিস্বাদ স্পর্শী অনুভব।
.
প্রাণঃ
---- অনাদিকাল শোষক্ত ধরিত্রীর জরায়ূতে ঝাপসা ভ্রুণের অঙ্গে
ইস্ক্রুপের মতো আটকানো আদিম রসায়নের হতবাক সহোদর।

“““ নির্ভিক আনন্দে হামাগুড়ি দিও ”””
---- সালামিন ইসলাম সালমান

হেমাঙ্গিনী শুভ্র বৈকালের বেলাভূমির বসতিতে
কাঁধের উপর ঝাপসা হাত রেখে ধীরালয়ে আমাকে
জাগিয়ে দিও।
আদুল কপাটের হিমঘরে শ্রাবণরাত স্পর্শ করে
পৃথিবীর অবিচলিত পঞ্জর থেকে আমাকে খসিয়ে নিও !!!
.
আধারি এই নীরবতার ভিতর:
চিতাবাঘী দুঃখ শবের বিপরীতে আমারি দেহে বুলাইয়া
দিও,-- নবাগত রূপালী পাতার গাঢ় ‍সুখানুভূতিগুলো !!!
.
স্বপ্নীল জগতে চেনা কমলারঙের ক্ষেতের ভিতরেই
প্রণয়ী চাষার মতো ভালোবাসার বীজ রোপন করো,
আনন্দের শেষ তরঙ্গকে কোলে করে নেহাত আশ্রয় খুঁজো
আবেগী রামধনু রঙা বিরামহীন বিস্তীর্ণ পাঁজরের পর !!!
.
সরব পিপাশা মেটাতে:
প্রান্তের পার হতে উন্মাদ নগ্ন বাতাস গাঁয়ে মেখে
কার্তিকের চাঁদটি বুলিয়ে দিও কাঁপুনিধরা ব্যস্ত ঠোঁটে,
উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খল এক তৃণ মহড়ার মায়াডোরে
কামাতুর শরীরেরে আহত করো পক্ক শিকারীর মতন !!!
.
খুনসুঁটি ক্যাম্পের বিছানায় শুকিয়ে নিও ভেজা রজনী,
আহলাদের অবসাদে সমস্ত কষ্টগুলো আমায় দিও !!!
.
আইবুড়ো প্রেমের উঠানেই দাঁড়িয়েছি উদ্যত পথিক-
সুহাসিনী ! আমারে রাত্রিদিবার জোয়ারস্রোতে ভাসিয়ে নিও,
মনেতে আসীন করো-
দুরন্তকাল সাহসী সার্থক পুজার অমলিন পুষ্প ঢেলে !!!

নীল আকাশে বোশেখ মাসে

আঁধার কালো মেঘ,
ধুলো বালি বৃষ্টি নামে
বাড়ে ঝড়ের বেগ ৷
ফল পাকে জ্যৈষ্ঠ মাসে
ভ্যাপসা গরমে,
পুরো মাসে ফলের রসে
আনন্দ চরমে ৷
আষাঢ় মাসে বৃষ্টি নামে
শ্রাবণ আনে ঢল,
ভাদ্র মাসে মাঠের ফসল
খায় যে বানের জল৷
পূব আকাশে মেঘের ফাঁকে
রূপার থালা ভাসে,
আশ্বিন মাসে কাশবন
নদীর চরে হাসে ৷
সবার মুখে লেগে থাকে
কার্তিকেরই টান,
অগ্রাহণে সোনার ফসল
গোলা ভরা ধান ৷
হাড় কাঁপানো শীতের কামড়
পৌষ ও মাঘ মাসে,
পুলি,পিঠা,চিতই খেতে
মজা খেজুর রসে ৷
হরেক ফুলে রঙ ধরে ঐ
ফাল্গুনের অধরে,
রোদ সিক্ত চৈতালী বায়
মাঠে ফসল পোড়ে ৷

ক্লোরোফিল নায়িকা

- মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

সবুজ ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে রঙিন মন
বেগুনি সৌন্দর্য, রঙধনু দেহে সবুজ ভালোবাসা
দূর থেকে মনে হয় ক্লোরোফিল নায়িকা
কচুর পাতার উপর তোমার ভালোবাসা
টুলুটুলু নড়ে গড়ে নায়কের গা বেয়ে,
দেখেছো কি ভালোবাসার রঙ ?
ধানের শিশ ধিতাং ধিতাং নাচে
তোমাকে স্বাগত জানায় ।
ধান জমির পানি তোমার চোখের অশ্রু
ধান জমির মাটি তোমার সুপ্ত মন
আকাশের দিকে তাকিয়ে আকাশলিনা হতে
থাক এত পপুলার হতে হবে না
তুমি হয়ে থাকো ক্লোরিফিল নায়িকা ।

পিঁপড়ার মস্তিষ্ক খুবলে খুবলে খায় উইপোকা
অথচ আমরা ভুলেই গেছি
এটা একটা নদীমাতৃক দেশ। নাব্যতার অভাবে
আমাদের পারাপারের নৌকা আটকে আছে চরে
আমাদের মানবিক মুল্যবোধের মত।
মানস সরোবর কি রেখেছে খবর ব্রহ্মপুত্রবাসীর
আমাকে অনুর্বর রেখেছে আমি কোন বুকে
এত জলের করি চাষ।আমাকে ভাঁঙ্গতেই হয়
চাষীর আবাদ এবং গৃহীর গৃহ,আমাকে
বাড়াতেই হয় দুঃখীর দুঃখ। তোমাদের সর্বনাশ-
আমার গভীরতার সংকোট।তোমাদের দুঃখ,
আমার নাব্যতার সংকোট।
আমি বলব না রাজনীতি এখন নর্দমার পঁচা
তবুও পিঁপড়ার মস্তিষ্ক খুবলে খুবলে খায় উইপোকা।
তিস্তা ধরলা ব্রহ্মপুত্রের তপ্ত বালুতে
সিদ্ধ হয় মানুষের শরীর। কতকাল আর রুদ্ধ থকবে
পশ্চিমের বাতাস।স্বার্থের হিসেব নেবার এটা কি
উপযুক্ত সময় নয়? বিপন্ন জীব-বৈচিত্র্য,প্রকৃতি হাসে
আড়ালে,বলে আমারও বয়স বাড়ে,কি করে ধরে রাখি
নিজেস্ব সৌন্দর্য।তোমাদের তৈরি ফাঁদে তোমরাই
আটকা পরবে থোকা থোকা,আর এমনই ভাবে
পিঁপড়ার মস্তিষ্ক খুবলে খুবলে খাবে উইপোকা।

ফেসবুক বাড়ি
মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

তোমার সাথে সংসার পেতে করেছি ভুল
ফুল হয়ে ঝরল ফেসবুক বাড়ি
গাড়ি ছিলো না তাই দিইনি পাড়ি
বাড়ি ছিলো সুখ-ঘর
পর করে জানলা দিয়ে উঁকি মারা বন্ধ কর দিলে
ছিলে রামি চোখ ন্যায় ।
ব্যয় করব ভালোবাসা, মনে বাঁধব বাসা
আশা ছিলো আমার কত শত
ক্ষত বিক্ষত আমি, সংসার করলে চুরমার
হার মেনেছো তুমি তবু হারায়নি আমি
জানি আমাকে হারালে, করলে অপছন্দ
ছন্দ কবিতা, কল্প গল্প করো সময় পড়ার
গড়ার সময় এখন ফেসবুক বাড়ি ভাঙা আমার
তোমার বই পড়ার টেবিল কন্ঠস্বর শুনতে চায়
হায় হায় ! ঘর করার মর্ম বুঝোনি কখনও
তখনও আমাকে পরপর ভাবলে
বললে পারতে বাড়ি ভাঙার কথা
ব্যথা ভরা মনে তোমাকে সাজিয়েছিলাম দিয়ে রঙ
ঢঙ করে ভাঙলে ফেসবুক বাড়ি । করছ সঙ !!

দেশের জন্য লড়বো
-গাজী নূরুন্ নাহার স্বপ্না

বিন্দুথেকে সিন্ধু অামি করতে পারি জয় ,
সকল কাজের মাঝে যদি সঙ্গী তোমায় পাই ,
থাকলে তুমি পাশে অামার করি নাতো ভয় ,
চক্ষু মুদলে জগৎটাকে হাতের মুঠে পাই ।

মুক্তকরতে দেশেরমাটি হবো অামি নির্বাসন,
দেশের জন্যই জীবনটাকে দেবো এবার বির্সজন,
প্রতিহিংসার অাগুনজ্বেলে করবো এবার গর্জন,
দেশপ্রেমেরই পরশমেখে ছিনিয়ে নেব অর্জন,

আরক্তনেত্রে শত্রুদের ঐ হৃদয়হরণ করবো,
শত্রুথেকে দেশ বাঁচাতে হাজারবারই লড়বো,
মরতে যদি হয় তবে অাজ দেশের জন্য মরবো,
নিপুনহাতে দেশটাকে অাজ নতুনকরে গড়বো ।।

লজ্জাবতী
মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

তুমি পরি রূপে এসেছিলে
ফুল ছড়িয়ে গোলাপ বাগানে
দেখা দিয়েছিলে বারবার
চিনে রাখলাম পরি রূপে
গোলাপী ঠোঁট আর লাল গালে
তুমি প্রেমের লজ্জাবতী গোলাপ ।
তোমার পিচকালো কেশ ঝিলমিল উড়ে
ডানা উড়ানো লজ্জা
মুখে ঢাকো পান
তুমি একেবারে লজ্জাবতী ।

অসংবৃত সংলাপ
ইরাবতী মণ্ডল

--হ্যালো।
---হ্যা বলো।
---কি হয়েছে তোমার?ফোন ধরছো না কেন?সেই সন্ধ্যে থেকে ফোন করে যাচ্ছি।এই এখন ধরলে।
----ফোন টা সাইলেণ্ট করা ছিলো। আর শরীর টাও ভালো নেই তেমন।
---কি হয়েছে তোমার?
---এই একটু মাথা যন্ত্রনা করছে।
---শুধু মাতা যণ্ত্রণা?না আরো কিছু হয়েছে? ফেসবুকে আবোল-তাবোল স্ট্যাটাস দিচ্ছো, কালো প্রফাইল পিকচার আপলোড করছো,---এসব কি হচ্ছে?

কথাটা শুনেই ফোনের ওপার থেকে হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠে শর্মিলা।
---আমি আর পাচ্ছি না দিদি।
----কেন কেন? কি হয়েছে?কিছু বলেছে অনিকেত?
-–সেই এক কথা।
---কি কথা।
----কেনো সুমনের সাথে আমি ছবি তুলেছি? তুমি তো জানো প্রজেক্টের কাজে কলেজের ছেলেমেয়েদের নিয়ে ডুয়ার্স যেতে হয়েছিলো।
---হ্যাঁ সেতো জানি।
--আমরা যখন যাই তখন সুমন দাই (একটা প্রতিষ্ঠিত খবরের কাগজের নাম করা সাংবাদিক) ওখান কার ফরেষ্ট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের বাংলোয় থাকার ব্যবস্থা করে দেয়,আমাদের যাতায়াতের জন্য গাড়ির ও ব্যবস্থা করে দেয়।
----হ্যাঁ, তাতে কি হয়েছে।?
---সব ছেলেমেয়েদের সাথে একটা গ্রুপ ফঠো তোলা হয়।তাতে সুমনদা আমার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো।তাতেই অনিকেত এর রাগ।
---তা এছবি অনিকেত দেখলো কি করে।অনিকেত তো মুম্বাই এ থাকে।
----কদিন আগে ও এসেছে আমাদের বাড়িতে।আমার ফোন টা নিয়ে ঘাটতে ঘাটতে ওই ছবি ও দেখে।
---হ্যাঁ তা ছবিতে কি খারাপ কিছু আছে?
---কিছুই না।ওর কথা,'কেনো ছবি তোলার সময় সুমন আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে?'আর এই ছবি নিয়ে ও আমার মা ,দাদা, বৌদি সবাই কে ডেকে ডেকে দেখাচ্ছে।
---কি বলছো তুমি।!তোমাদের তো আশীর্বাদ হয়ে গেছে ,বিয়ের দিন ও ঠিক।তুমিই তো বলো, অনিকেত খুব ভালো।বড়ো চাকরি করে, তোমার ভালো খেয়াল ও রাখে ।কদিন আগেই তো তোমরা সাউথে ঘুরতে গেলে।তার কত ছবি দেখালে। আর এখন এইসব!বিয়ের আগেই এমন হলে, বিয়ের পর সারাজীবন কাটাবে কি করে ওর সঙ্গে?
---আমি কিছু জানি না।আর আমি কিছু ভাবতেও পারছি না। শুধু এটা বলতে পারি সুমন কে নিয়ে ও আমায় সন্দেহ করে।

ফোন কেটে দেয় শর্মিলা।আর স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে শর্মিলার কলেজের সহকর্মিনী তথা দিদি সিঞ্জিনী।

কোলকাতা , পশ্চিম বঙ্গ 13.03.2017

নব দিবাকর
- অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়

উষসী ভোরের আলো পূব আকাশে ছড়িয়ে আছে ,
ভাবলাম , এক মুঠো সেই রাঙা আবির নিয়ে এসে ,
মনের চাতালে ছড়িয়ে দিই ,
কিন্তু কোন ঝিনুক খুঁজে পেলাম না ,
যার আধারে নিয়ে আসতে পারবো সেই বর্ণালী !

রাঙা মাটির পথে পথে ঘুরছি আজ অনেকদিন হল ,
জীবনের একতারায় সেই সুর আসছে না ।
শাল -সেগুনের পাতায় পাতায় ফিসফিসঃ
ও বাউল তোমার হল কি ?

কি যে হল , তাতো আমিও জানি না ।
পোড়া মন এখন পাল ছেঁড়া ,
হাল ভাঙা নৌকার মত দিক- ভ্রান্ত ।
উজান থেকে ভাটির দিকে তার কোন টান নেই ।
সে এখন বিপরীত স্রোতে টালমাটাল ।

পূব আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন দিনের আশ্বাস ।
নব দিবাকর ।
কিন্তু আমার নিস্তরঙ্গ জলাশয়ে
বিষণ্ণ সন্ধ্যার কালো মেঘ ।
কোথায় পাবো দখিনা বাতাস ?

Copy Right --- Anindya Mukhopadhyay

ভাল্লাগেনা
- যুথিকা চক্রবর্তী

ব্যর্থ হয়ে প্রেমে প্রাণ দিল এক যুবক
ইতিহাসের পাতা জুড়ে চলেছে স্বাধীনতার মিছিল
একের পর এক কু-সংস্কারের বাড়ছে পড়মায়ু
তাই তো শিব লিঙ্গ আজও স্নান করে দুধে,

সিঁথি জুড়ে লাল রং জ্বল জ্বল করছে
হাতের সোনার চুরি আজ ফ্যাশান
যাদের জোটে না দু বেলা ভাত---
তাদের দুহাত ভর্তি রঙিন কাঁচের চুড়িতে।

কল -কারখানায় লাগছে তালা বেঘোরে
বেকার শিক্ষিত আজ ফেরি করে বেড়ায় লজেন্স
আরো কিছু আছে,যারা মরে অপঘাতে,
প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে মনে মনে বলা"আর ভাল্লাগেনা"।

অজানা রোগের শিকার আজ কিশোর -কিশোরী
মর্নিং ওয়াক নিত্য সঙ্গী----
লাফিং ক্লাব জুড়ে চলে হাসির তোলপাড়
দিনের শেষে একলা বসে--"কিছু ভাল্লাগেনা"।

সাপ্পোরো ষ্টেশন
- নুরুন নাহার লিলিয়ান

হোক্কাইডো বিশ্ব বিদ্যালয়ের মেইন গেট থেকে বের হয়ে ডান দিকে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই সাপ্পোরো ষ্টেশন । বেশ বড় ষ্টেশন । এই সাপ্পোরো ষ্টেশন কে কেন্দ্র করে আছে অনেক গুলো শপিং সেন্টার দোকান আর রেস্টুরেন্ট । সাপ্পোরো শহরটা অনেকটা পর্যটক কেন্দ্রিক । প্রতি দিন থাকে অনেক লোক সমাগম এবং বিদেশি পর্যটকের ভিড় । এই শহরটা বেশ সুপরিকল্পিত এবং সুন্দর ।তুষারপাতের সময় গুলোতে সবাই আন্ডারপাস ব্যবহার
করে ।

সাপ্পোরো ষ্টেশনটার নিচের আন্ডারপাস গুলো ও খুব সুন্দর করে গুছানো ।সেখানে ও টয়লেট থেকে শুরু করে জামা কাপড় ,খাবারের রেস্টুরেন্ট ,লাইব্রেরী এবং জাদুঘর সব কিছুই আছে । যেন মাটির নিচের নিরিবিলি কোন বাসভুমি । শীত কাল শুরু হওয়ার সময় থেকে লোকজনের আন্ডারপাস ব্যবহার বেড়ে যায় । সাপ্পোরো ষ্টেশন এর বেশীর ভাগ ট্রেন লাইন গুলো মাটির নিচে। তাই অধিকাংশ সময় আন্ডারপাস গুলো ব্যস্ত থাকে । দুই বছর আগে পদার্থবিদ ডঃ আলমগির হোসেন টোকিও বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করেছেন । এই তো এক বছর হল নতুন এক গবেষণার কাজে পাঁচ বছরের জন্য হোক্কাইডো বিশ্ব বিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ।

একটি পাঁচ বছরের কন্যা সন্তান এবং স্ত্রী কে নিয়ে সুখের সংসার । তারপর মধ্যে স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা । এই খবরটা আলমগিরকে আরও বেশি সুখ এনে দিয়েছে । পাঁচ বছরের কন্যা মালিহার খুব আলমণ্ড চকোলেট পছন্দ । আজকের দুপুরে দুইবার মেয়ে ফোন করে বলেছে চকোলেট নিয়ে বাসায় ফেরার জন্য । ল্যাব এ আজ কে অনেক কাজ থাকায় দেরি হয়ে গিয়েছে । এপ্রিল মাসের তুষারপাত । তখন রাত প্রায় আটটা বাজে । এখানে রাত নয়টায় প্রায় সব দোকান বন্ধ হয়ে যায় । কিন্তু বাসায় ফিরলে মেয়ে মালিহা চকোলেট না দেখলে ভীষণ মন খারাপ করবে । আলমগির হোসেন হোক্কাইডো বিশ্ব বিদ্যালয়ের মেইন গেট থেকে বের হয়ে সোজা দুইটা ব্লক পার হয়ে মাটির নিচের রাস্তার দিকে গেলেন । সেখান দিয়ে সাপ্পোরো ষ্টেশনটা একটু সহজ পথ । বেশ কয়েক মিনিট এর ব্যাপার । এখানে মাটির নিচের এই পথ গুলো প্রায় অনেক বড় বড় শপিং সেন্টার ,অফিস, গুরুত্ব পূর্ণ ভবন গুলোর সাথে সংযুক্ত করা । তাই সব পথেই কিছু মানুষ দেখা যায় । অনেকটা পথ হাঁটার পর ও আলমগির আজ হঠাৎ ষ্টেশন এর পথ খুজে পাচ্ছে না । বেশ কিছুক্ষণ । এমন করে হাঁটার পর অনুভব করল এতক্ষণ তো সময় লাগার কথা নয় । প্রায় প্রতিদিন সে এই পথেই ষ্টেশন এর মার্কেট এ আসে ।

নিজেকে কেমন বোকা মনে হচ্ছে । এমনিতে শীতের রাত । তারপর তুষারপাত হচ্ছে । বেশি রাত করা যাবে না । বাসায় ছোট মেয়ে এবং অসুস্থ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী । ফিরে যে যাবে সে পথ ও খুঁজে পাচ্ছে না । আন্ডারপাস গুলোতে বিভিন্ন ভাষায় চিহ্ন দেওয়া থাকে কোন পথে বের হবে । এই ধরনের কিছুই সে পাচ্ছে না ।একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্ব নিজের ভিতর তৈরি হল । খুব ঠাণ্ডা অনুভব হল। হাড় হিম হয়ে যাওয়া একটা অনুভুতি মনের কোথাও আচমকা শুরু হল । আশে পাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না । খুব বেশি নিরবতা যেন পুরো আন্ডারপাস জুড়ে । তবে হঠাৎ হঠাৎ ট্রেন আসার শব্দ শোনা গেল । কিন্তু ট্রেন লাইন বা মানুষ জন দেখা যাচ্ছে না । এর মধ্যে ত্রিশ মিনিট চলে গিয়েছে । মার্কেট বন্ধ হয়ে যাবে । এমন ভুল হবার কথা নয় । নিজের উপর খুব বিরক্ত লাগছিল । সেই সাথে একটা অস্বীকৃত ভয় ও কাজ করছিল । একটা অদ্ভুত শিহরণ ! একটা ভয়ংকর আতংক ! মনে হচ্ছিল নিজের পুরো শরীর বরফ জমাট হয়ে গিয়েছে । নিজের কাছে নিজেকে অচেনা মনে হতে লাগল । আরও কয়েক মিনিট এমন করে গেল ।

তারপর হঠাৎ চোখ পড়ল বামদিকের একটি চলন্ত সিঁড়িতে কে যেন নিচে নামছে । আলমগির আন্ডারপাস থেকে ফিরে যাওয়ার জন্য দৌড়ে গেল সিঁড়ির দিকে । একটি তের চৌদ্দ বছরের মেয়ে । বাদামী রঙের চুল । পিছনে স্কুল ব্যাগ । কালো রঙের স্কুলের ইউনিফর্ম গায়ে । কালো রঙের জুতা ।ছোট চুল গুলো এমন করে সামনে রাখা যে চেহারা ঠিক মতো বুঝা যাচ্ছে না । আলমগির কে দৌড়ে সিঁড়ির দিকে যেতে দেখে মেয়েটি চুলের ভিতর থেকে বলে উঠল ,ঐদিকে কোন রাস্তা নেই । তুমি এখান থেকে বাইরে যেতে পারবে না ।
আলমগির একটু ভরকে গেল । বুকের কোথাও মোচর দিয়ে উঠলো । আলমগির বলল ,কেন যেতে পারব না ? কি সমস্যা হয়েছে ?
মেয়েটি স্কুল ব্যাগ পিঠে একটু ঠিক করে নিয়ে বলল , তুমি এখন টোকিওতে আছো । বর্তমান থেকে আরও কয়েক বছর পিছিয়ে ।কোন এক অতীত সময়ে ।
আলমগির ভ্রু কুচকালো , কি উল্টা পাল্টা বলছ ! আমার মেয়ে আর স্ত্রী আমার জন্য অপেক্ষা করছে ।
অদ্ভুত মেয়েটি হো হো করে হেসে উঠলো । মেয়েটির হাঁসি দেখে আলমগির এবার একটু ভয় পেল । শুধু তাই নয় । ছোট জাপানিজ মেয়েটি খুব সুন্দর বাংলা ভাষায় কথা বলছে । ব্যপারটা বুঝতে আর বাকি রইল না । আলমগির অনুভব করল অন্য কোন ঘটনা তার চারপাশে ঘটে যাচ্ছে । তবুও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল ।

আলমগির মেয়েটিকে বলল , তুমি কি অদ্ভুত কিছু আমাকে বিশ্বাস করাতে চেষ্টা করছো? তুমি জানো আমি পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম ! এখন ও আমি এই বিষয়ে গবেষণা করছি । পৃথিবীতে তোমাদের অস্তিত্ব অমুলক । ভ্রান্ত কল্পনা ছাড়া কিছু না ।
মেয়েটি একটু এগিয়ে এলো । কাঁধের স্কুল ব্যাগটা পাশে রেখে সিঁড়িতে বসল । আলমগির পথ খুঁজতে লাগল । আরও কয়েক মিনিট এভাবেই গেল ।তারপর মেয়েটি একটি তাচ্ছিলের হাসি দিয়ে বলল ,তোমাদের বিজ্ঞানীদের নিয়ে এই একটা সমস্যা ! সব কিছু নিজেদের দায়িত্বে নিতে চাও । পৃথিবীর সব রহস্য কি তোমরা আবিষ্কার করতে পেরেছ ?তাহলে পৃথিবীতে মানুষের জীবন কেন প্রতি মুহূর্তে নানা দ্বন্দ্ব নিয়ে ঘুরে ?
আলমগির একটু বিরক্ত কণ্ঠে বলল , মানব জীবনের দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক । বিজ্ঞান জীবনকে উপভোগ্য আর সহজ করে তোলে । সেখানে এমন কল্পনা শুধুই বিনোদন ।
তার মানে তুমি বলতে চাও এখন যা কিছু সব কল্পনা আর বিনোদন ?
আলমগির একটু থেমে গেল । তার পর আমতা আমতা করে বলল , হয়তো আমার মনের কোন বিভ্রান্তি !
মেয়েটি কে দেখতে এখন অনেকটা কুঁজো বুড়ির মতো মনে হচ্ছে। ঠিক যেন একশ বছর বয়সের কোন বুড়ি স্কুল ড্রেস পড়ে আছে ।ঠোটে আর মুখে নরম চকলেট লেগে আছে । তারপর বুড়ি ঘাড় বেঁকিয়ে বলল ,পৃথিবীর নিজস্ব নিয়ম আছে যা সব আবিষ্কারের উপর । তুমি যা করবে তাই তুমি পাবে । আজ অনেক বড় দুর্ঘটনা তোমার সামনে !
আলমগির বলল , কি দুর্ঘটনা ! আমাকে কেন উল্টা পাল্টা চিন্তা করতে বাধ্য করছ ?
কয়েক বছর আগে তোমার এক বন্ধু তার নব বিবাহিতা বউ নিয়ে তোমার কাছে বেড়াতে এসেছিল ।
আলমগির বলল , আমার বিশ্ব বিদ্যালয়ের বন্ধু । আমি তাকে অনেক আপ্যায়ন করেছিলাম ।
বুড়ি হো হো করে হেঁসে উঠলো । খুব শীতল কণ্ঠে আলমগির এর কানের সামনে এসে বলল , সেই আপ্যায়নের মাঝেই জমে রাখা তোমার মনের কুৎসিত হিংসুটে ইচ্ছাটা ও পূরণ করেছিলে ।
আলমগির বলে , আমি ছিলাম সব চেয়ে ভাল ছাত্র । এটা সত্যি ওর জীবনের পরবর্তী সাফল্য আর সুন্দর জীবন সঙ্গী পাওয়াটা আমাকে ওর সামনে তুচ্ছ করে দিচ্ছিল । তখন আমার মনের কোথাও একটা ধ্বংস অনুভব করেছিলাম । আমি কোন ভাবেই ওর উচ্ছল জীবন আর সুখ মেনে নিতে পারছিলাম না ।
বুড়ি বলল,তাই তুমি নিজের অনেক দিনের বন্ধুত্ব ভুলে হিংসাটাকে মূল্যবান করে তুললে । একটা সুন্দর সংসার ভেঙ্গে দিলে ! আর এখন নিজের সুখের সংসার নিয়ে ব্যস্ত । একবার কি নিজের বিবেকের মুখোমুখি হয়েছিলে ?
আলমগির বলল , পরিনতি এতো ভয়ংকর হবে আমি ভাবিনি । আমি শুধু ওর সুখটা সহ্য করতে পারছিলাম না । সেটাই শুধু ধ্বংস করতে চেয়ে ছিলাম ।
বুড়ি বলল , তোমার বন্ধুর বিশ্বাসটা তোমার উপর নির্ভর করতো ।
আলমগির একটু উত্তেজিত হয়ে বলল , আমি ভাল ছাত্র এবং বুদ্ধিমান । আমি আমার চিন্তা দিয়ে সবাইকে নিয়ন্ত্রন করি । আমি চাইনা কেউ আমার উপরে থাকুক ।
বুড়ি বলল , সে কি খারাপ ছাত্র ছিল ? আসলে তোমার ভিতরে এক ভয়ংকর হিংসুট আত্মার বসবাস ।
আলমগির বলল , সে খারাপ ছাত্র ছিলনা । সে ছিল সাধারন আর নিরব। পৃথিবীতে কম বেশি সবার মধ্যেই হিংসার উপস্থিতি আছে ।
বুড়ি একটু অন্য রকম হাঁসি দিয়ে বলল , কিন্তু সেই হিংসা তোমার মতো ধ্বংসাত্মক নয় । যে ধ্বংস তুমি ডেকে এনেছিলে সেই ধ্বংসে এখন তুমিই পড়তে যাচ্ছো । ভালবাসাহীন হৃদয় শুধু হিংসার আগুনে পুড়ে । যার পরিনাম শুধুই ধ্বংস ।
হঠাৎ আলমগির ছটফট করতে লাগল । তারপর বুড়ি কে বলল , আমি ক্ষমা চেয়ে নিব ।
বুড়ি বলল , ক্ষমা ! তুমি যখন নিজের ইচ্ছা চরিতার্থ করতে মেয়েটির নামে কাল্পনিক ব্যাখ্যা দিয়ে বন্ধুর কান ভারী করলে ।ঠিক সেই সময় থেকে একটি সংসারের সুন্দর মুহূর্ত গুলো পারস্পারিক ভুল বুঝা বুঝিতে ধ্বংস স্তূপে চাপা পরতে লাগল । আত্ম সম্মান রক্ষার্থে সেই মেয়েটি আত্মহনন বেছে নিল । দুঃখ জনক মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল । তোমার হিংসা বোধের আগুনে দুইটি জীবন ফুরিয়ে গেল । একজন মানুষ হিসেবে তোমার কি মূল্য আছে?
বুড়ির কথা গুলোতে আলমগির কেমন যেন একটা ধাক্কা খেল । অ্যান্ডারপাস এর এক সিঁড়িতে বসে পড়ল । মনে হচ্ছিল শরীরের সব শক্তি ফুরিয়ে গেছে । অনেকটা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল । এভাবে কতোটা সময় গেছে আলমগির জানে না । হঠাৎ কানের কাছে লোকজন চলাচলের শব্দ শুনতে পেল । সামনেই আট নাম্বার গেট উপরে উঠে আসার । বাইরে বের হওয়ার সময় যেন কেউ তার পাশ দিয়ে গেল । একটা অদ্ভুত সুন্দরী কোন তরুণী । দেখতে ঠিক কার মতো যেন । মনে করতে পারছে না । তার দিকে তাকিয়ে ম্লান হাঁসি দিল । অনেক পড়ে মনে হল তাঁর বন্ধুর সেই মৃত স্ত্রীর মতো । কথা গুলো ভাবতে ভাবতে আলমগির মোবাইল ফোনে তাকিয়ে দেখে একশো কল এসেছিল । বাসায় ফোন করে জানতে পারল তার স্ত্রীর অবস্থা খুব খারাপ । মেয়ের জন্য আর চকলেট নেওয়া হলনা । ঝরের বেগে তুষার উপেক্ষা করে বাসায় ফিরল ।

অবস্থা সঙ্কটাপন্ন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কে নিয়ে হাসপাতালে অনেকটা সময় পার হয়ে গেল । ডাক্তার কিছুই জানাল না । পাঁচ বছরের মেয়ে বাবার পাশে নির্বাক বসে রইল । মধ্য রাত পেরিয়ে যখন পৃথিবী নতুন সূর্য দেখবে ঠিক তখন ডাক্তার ভিতর থেকে ভয়ংকর খবরটা নিয়ে এলো । পরের দিন টা শুরু হল অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হারানোর দুঃখ নিয়ে । যে দুঃখ প্রকৃতির নিয়মে কোন একদিন সে নিজেই তৈরি করে ছিল ।

আলমগিরের ভিতরের আত্মগ্লানি আর হাহাকারের শব্দ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে গেল ভোরের আলোয় । পৃথিবীর কোন আবিষ্কার পারবে না তার পুরনো ভালবাসা আর জীবন ফিরিয়ে দিতে ।

সময় কোন এক অদ্ভুত রহস্যে মিটিয়ে নেয় তার সব দাবি ঠিক সময় মত ।

সমাজ কাকে বলে
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে -
রাতের আঁধারে রাস্তায় যে মেয়েটি ,
সস্তা দামের মেকাপ মুখে লাগিয়ে ,
ভদ্রলোকের (?) নজরে পড়তে দাঁড়িয়ে থাকে ,
সমাজ তাকে নষ্ট মেয়ে বলে !

স্বামীর অগাধ টাকা ,গাড়িবাড়ি যার আছে -
সে যদি পরপুরুষের সাথে মদ খেয়ে ,
হোটেলে রাত কাটায় -
তাকে কিন্তু ওই নষ্ট মেয়ের দলে ফেলা হয়না !
হয়তো দেখা যায় সেই মহিলাই  বড় বড় অনুষ্ঠানে ,
হীরের অলংকার আর দামি পোশাকে -
সজ্জিত হয়ে সামনের সারিতে বসে আছেন !

যে মেয়েটি পেটের দায়ে নিজেকে বিকালো ,
সমাজের কাছে সে অচ্ছুৎ !
আর শুধুমাত্র ফুর্তি করতে যে -
অন্যের সাথে রাত কাটালো ,
সে সকলের কাছে সম্মানীয়া !
কারণ তার আছে টাকা ,
সবকিছু জেনে বুঝেও সকলে চুপ !

এটাই কি আমাদের সমাজে -
ধনী আর গরীবের পার্থক্য !

নন্দা    15.3.17

জানো কি
- নন্দা মুখার্জী  রায় চৌধুরী

খেলেছো হোলি  সবাই মিলে ,
মেখেছো মুখে রং !
বলতে পারো কেউ কি তোমার ,
রাঙ্গিয়েছিলো মন ?

প্রকৃতির নিয়মে এ ধরাতলে ,
আসে যে ফাগুন ,
জীবন আমাদের জ্বালাতে পারে ,
একজনই আগুন ।

কাছে সে থাক বা না থাক ,
ভালোবাসা বা বিরহে -
পুড়ে হবে মন ছাই !
কাছে এলে মনে হবে ,
দূরে কোথাও পালাই !
ভালোবাসতে এলে কাছে ,
লজ্জায় হবো লাল ,
তার বিরহে বিরহিনী হয়ে ,
কাটাবো অনন্তকাল ।
শয়নে ,স্বপনে ,দিবস ও রজনীতে -
ভাববো তারই কথা ,
তারই নাম কোরবো জপ ,
দিকনা সে শত ব্যথা ।

নন্দা   12.3.17

শীতের শিশির চেয়েছিল ভেজাতে ঘাসের হৃদয়
উৎখননের উম্মোচন থেকে
আকীর্ণ করে অাছে তাই ঘাসের শরীর
বেলা বেড়েছে সময়ের সাথে সাথে।
আজন্মের ইচ্ছে কিছুটা বাষ্পীভূত
আর কিছুটা যেখানে ঝরে পড়বার
সেখানে সেই মাটির বুকেই ঝরে পড়ে।
এ জন্মের বাসনা আর হলোনা পুরন।
জন্মান্তরে সে ফুল হতে চেয়েছে,নৈবেদ্য গ্রহণ-
করুক আর না-ই করুক
ঘাসের পৃথিবীতে সে দিয়ে যাবে কিছুটা সুবাস।

আমি বলেছি সুন্দরের পুজারী তুমি
হাজার বার জন্মগ্রহণ করলেও
বার বার প্রেমেই পড়বে।

 

রাত বসন্তের বিশ্ৰম্ভালাপ
ললিত বিস্তৃত শত সংলাপ
প্রদীপের আলো লজ্জায় পাশ ফেরে
পলতেরতেলে প্রহর গোনে শিখা মুখ
রাতভর পিপাসায় ধড়ফড় বুক
ইতিহাস শুয়ে থাকে কফিনে অসাড়
ইচ্ছেরা মমি সেথা জড়ানো কাপড়
আদি অন্ত ইতিহাস নক্সা বন্দি
ক্ষণে ক্ষণে গন্ধ দোলায় বাতাস
জ্বলজ্বল সপ্ত ঋষি মেঘের ভেলায়
নির্বাক প্রশ্নপত্র জমছে রাত খাতায়
প্রাত্যহিক দিন যাপন জড়ায় শিকলে
নীল আকাশ নীল খামে নীল নক্সা
হাতুড়ি হাত ভেঙে গড়ে বাদ্যযন্ত্র
পিয়ানোর আলিঙ্গনে স্বরগম সপ্ত
ছড়ায় ভালোবাসা ভাইরাস
কতিপয় আমরা লোলুপ
ওৎ পেতে করে আছি চুপ...

©Sonali Mandal Aich

ঠোঁটের কাঁপা কাঁপা তুলিতে আঁকা
—ওদুদ মণ্ডল

শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি কানে বাজে আজ ৷
ফুলে ফুলে ভরে গেছে শাখা ৷
সময়ের ভেলা ভেসে ভেসে গেছে দূর- বহুদূরে ৷
বন্ধ দরোজার অন্ধকূপে চাঁদ উঁকি মারে,
যেমনটি হয় শরতের সাদা মেঘের আড়ে—
দুরন্ত ট্রেন উছোট খেয়ে ছুটে চলার মত
আমিও ছুটে চলি অহর্নিশ;
নক্ষত্ররাজি চোখের মলাটে রাঙিয়েছে কালি ৷
কাকনিদ্রায় ধূসর স্বপ্নেরা লুকোচুরি খেলে নিঃশব্দে ৷
চাঁদবিহীন সামিয়ানার তলে তারাদের পাড়ায় উন্মত্ত ভালোবাসার হোলি খেলা—
মনে পড়ে মেহেদী রাঙা আলতো হাতের
পরম আদরে ঘর্মাক্ত নাক ছোঁয়া;
যেমন ছুঁয়ে যায় দেহে ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস—
ধূলোর ঢাকনায় স্মৃতির পাপড়িগুলো ঢেকে যায়—
তবুও বোতাম খোলা আকাশে এঁকে রেখেছি
তোমার
গোলাপি ঠোঁটের কাঁপা তুলিতে আঁকা
প্রেমের প্রথম স্পর্শ,,,,,,,

কাজলের মুখ
-মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

কত জনের দেখি মুখ তারা সবাই সুখী
এক মাত্র কাজল ছিলো চির কষ্টে দুঃখি
সবার দুঃখে দুঃখি হয়ে সর্বদা কাঁদতো
কষ্টের মর্ম টাকার মর্ম সে সব জানতো ।

বাচ্চা মানুষ করতো, প্রেস করত কাপড়
বহু কষ্টে ছিলো বালিসে মারত চাপড়
বললাম তাকে সুখী হবে শুনল না কথা
কত দুঃখ, কষ্ট দিয়ে ভাঙলো মানবতা ।

এখন সে একা একা কেঁদে ভাসায় বুক
চিন্তা করছি কবে দেখবো কাজলের মুখ ।

ধোঁয়াশাচ্ছন্ন আকাশ ছিঁড়ে এক টুকরো সোনালি রোদ্দুর, লুকোচুরি খেলে গাছের পাতার ফাঁকে ৷
সিদ্দিক আলি বুঝে না ধোঁয়াশা তার চোখে না আকাশে?

কালো মেঘের ঘড়ঘড়ে কাশি কিংবা—
কাকের কন্ঠে পিয়ানোর সুর প্রতিনিয়ত বেজে যায় কলুর ঘানির মতোন ক্রমশ ঘূর্ণায়মান সংসারে ৷

পৃথিবীর সমস্ত জঞ্জাল, আবর্জনা রেখে আসে বহুতল ডাস্টবিনে-
একদা ওই সমস্ত জঞ্জাল আর আবর্জনা ছিলো রংধনু ঘেরা সাজানো বাগানের স্নেহময় জলধারা-
পুলক জাগানো চাঁদের সুরভিত আলো ৷

আর আজ, চঞ্চল বাতাসে প্রজাপতি ডানা মেলে এ ফুলে ও ফুলে বসে ৷
সাজানো বাগানের ফুল নারীর অনুচিত তরঙ্গে করে যায় উন্মাতাল স্পর্শ ৷
অমৃত লাল পানিতে তৃপ্ত হয় রঙিন জীবন ৷
সময় বড় নিষ্ঠুর-
নিয়তির ভেলা কোনদিকে যায় কেউ জানে না ৷
মেঘ মুক্ত স্মৃতির আকাশে কত কী ভাসে আজ।
বুকটা ফাঁপা বেলুনের মতো ফুঁফরে উঠে
বৃদ্ধাশ্রমের বিছানায় বসা সিদ্দিক আলির ৷
সাগরের লোনা জল চিবুক ছুঁয়ে পড়ে ফোটায় ফোটায়
চল্লিশ বছর আগে নিজের লেখা ডায়রির পাতায় ।

সবুজ শ্যামল শস্যের দেশে
জন্মেই খেয়েছি দোল,
অতুল স্নেহের পরশে মাগো
মুখে ফুটেছে বোল।
সবুজ শোভায় মুগ্ধ আমি
বৃষ্টি এলে পরে,
ছায়া ঢাকা মায়ার বাঁধন
মাখি যে অন্তরে।
ফুলের গন্ধে চোক্ষু বুঁজে
প্রাণ ভরে নিই শ্বাস,
ইচ্ছে করে নেব চুষে
সবটুকু নির্যাস।
হিল্লোলিত সোনার চাদর
বিছিয়ে মাটির গায়,
রূপের সুধা পান করতে
দিও মাগো ঠাঁই।
এমন সোনার বাংলা কোথাও
পাবো কি আর দুটি,
তোমার কোলে মাথা রেখে
নেব গো মা ছুটি।

মধ্যবিত্তের আসল রুপ

কাজী জুবেরী মোস্তাক

বোতাম হারানো ছেঁড়া শার্ট পড়নে
শুকতলা ক্ষয়ে যাওয়া জুতা পায়ে
এক আকাশ যন্ত্রণার পাহাড় বুকে
দম লাগানো মেশিনের মতো করে
বিরামহীন ছুঁটে চলেছি এ শহরে ।
কখনো চেনাজনের অচেনা রুপ
কখনোবা পাওনাদার দেখে চুপ
বেকার আমি হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত খুব
ক্ষুধার্ত পেটে পানি খেয়েই চুপ
এই হলো মধ্যবিত্তের আসল রুপ ।
বাবাতো মরেছে মাও অনাহারে
ক্লাসের ফাস্টবয় গিয়েছি ভুলে
ডিগ্রীর বোঝা বেকারত্বের পিঠে
চাকরির জন্যে ঘুরছি হন্যে হয়ে
চাকরি হয়না মামা,খালু নেই বলে।

১.আমায় তুমি করলে বাহির আমার ঘরের দখল নিয়ে
দারোয়ানের কাজ করালে বন্ধু তুমি আমায় দিয়ে ;
এখন আমার দিন কাটেরে চৌকাঠেতে মাথা ঠুকে
তবুও রোজ স্বপ্ন দেখি তোমার প্রেমের শরাব পিয়ে।

২.এই যে দেখ নগ্ন চোখে পার করেছি ক্রান্তিকাল
মনুষ্যত্ব নেই এখানে মানবতা টালমাটাল ;
মানব গর্ভে জন্ম নেয়া মানুষ কেমনে পশু হয়
জানোয়ারের নখরেতে শুভ্র সমাজ আজ বেহাল।

৩. এই তল্লাটের তুমিই রাজা তুমিই নবাব
পুকুর চুরি করা দেখি তোমার স্বভাব ;
দোষী কেবল করিমুদ্দীন রহিমুদ্দীন
ক্ষুধায় কাতর যাদের আছে অসীম অভাব।

৪.পূর্নিমার চাঁদ কেন তোমার এত দুখ
মেঘের চাদরে সদা ঢেকে রাখো মুখ;
স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারে ভিজে
তোমারো কি হয়েছে মনমরা অসুখ ?

কষ্টে মা কাঁদতো
-মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

আমার মা দেখালো জগতের আলো
ছোটো থেকে বড় করে মা কষ্ট পেলো
আমাকে মা আলু ভর্তা, ভাত খাওয়াতো
চোখের পানি ঝরিয়ে কষ্টে মা কাঁদতো
মা রোজ সকালে উঠে উঠুন ঝাড়ু দিতো
চোখের পানি ঝরিয়ে কষ্টে মা কাঁদতো
মা আমার এঁটো বাসুন বাটি মাজতো
চোখের পানি ঝরিয়ে কষ্টে মা কাঁদতো
মা যখন আমাকে ভালো শিক্ষা দিতো
মায়ের কথ না শুনলে
চোখের পানি ঝরিয়ে কষ্টে মা কাঁদতো
মা আমাকে সব সময় ভালোবাসতো
সত্যি বলছি, সব সময় আমার জন্য
চোখের পানি ঝরিয়ে কষ্টে মা কাঁদতো ।

নারী  তুমি জননী,জায়া,ভগ্নি
ভালবাসার স্বর্ণখনি,
জিতেছে যে জন তোমায়
সে দুনিয়ার সেরা ধনী।

নারী তোমার মাতৃ আদরে
শিশু হাসে খিলখিলিয়ে
নারী তুমি হাসি দিলেই
বাড়ি উঠে ঝিলমিলিয়ে।

নারী তুমি হোম মেকার
সামলাও সব দক্ষ হাতে,
আন্জাম দাও সব বাইরেও
সমভাবে পুরুষের সাথে।

নারী তোমার ভালবাসায়
জেগে উঠে পুরুষের মন,
মরু সাহারাও হয়ে উঠে
গোলাপ ভরা পুষ্প কানন।

নারী তুমি মা জননী
বিশাল তরু বটের ছায়া,
আঁচল ভরা ভালবাসা
আদর স্নেহ অথৈ মায়া।

 

সেতু অটুট রেখে পেরিয়ে যাবো স্রোত
হোলনা , পিঠ চাপড়ে দেয় অসহায় ক্ষণ
অস্থির আনন্দে হামলে পড়ে খিধেরা
এক্কা দোক্কায় ঠিকানা স্রোতে হারায়
পদবি অনিকেত ।

কথা ছিল জল পাবো কুয়ো খুঁড়ে ঠিক
কিছুটা চাল ফুটবে মাটির উনুনে
আজ রাতে গন্ধ নেবো ফ্যানাভাতের
তৃপ্তির ঢেঁকুর উঠবে গ্রাসে গ্রাসে
চোখে চোখ রেখে ।

ঝোলায় ঘুম রেখে জাগরণে
দীঘল নৌকায় পাল তুলে দুলে দুলে
চমকলাগা জলতরঙ্গে ঝুঁকে দেখি
ভাঙাচোরা আবছা ছায়া নড়েচড়ে
অদ্ভুতুড়ে অচেনা সে ।

ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামায় মেঘলা আকাশ
হিংসা ধুই,শোক ধুই, আগুন নিভাই
সহ্য সাজাই ,আঁতাতে বিবাদ মিটাই
শতটুকরো নিলাম হয়ে উপুড় প্রাণ
স্রোতস্বিনী অগাধ জলে...

©Sonali Mandal Aich

ফড়িং
....  মুহম্মদ কবীর সরকার

এই ফড়িঙ, দুষ্টু ফড়িঙ,
একটু তুমি দাড়াও,
কেন কর তিরিং বিড়িং
শুধুই ছুটে বেড়াও।
তোমার সনে করব ভাব
ধরব তোমার লেজ,
খাওয়াবো মোর গাছের ডাব
দেব সূতোর প্যাঁচ।
রোজ সকালে তোমায় সখী
গঙ্গায় করাবো স্লান
রঙধনুর রঙ মেখে গাইবো
ঘুম পারানির গান।
আমার টিয়ে মিঠুর সনে
দিবো তোমায় বিয়ে
কত্তো মজা হবে সেদিন
শুধুই তোমায় নিয়ে।
গলায় দিবো ফুলের মালা
মাথায় দিবো ফুল,
সারাদিন যে করবো খেলা
নিয়ে পুতুল পুতুল।
পায়ে দিবো সোনার নূপুর
কানে দিবো রিং
গান গাইবো সকাল দুপুর
নাচবো গো ঠিং ঠিং
এই ফড়িঙ, দুষ্টুফড়িঙ,
ধরছি তোমার পায়ে,
কেন করছ তা তা ডিং ডিং
বস না আমার গায়ে ।।
রচনাকাল :20/2/15
বাড়াই, কসবা, বি-বাড়ীয়া।

~কবিতা~
............ মুহম্মদ কবীর সরকার
অতঃপর, অতঃপর নিরবতা সাঙ্গ করে
ঘুটঘুটে তমসার রোধ, অবরোধ পশ্চাতে
ফেলে
যে আমার চিত্তপটে নৃত্য তুলে
সে আমার কবিতা,
সে আমার তিমির বিদারী কবিতা।
যে আমার বসন্তকুমারীর সঙ্গে সঙ্গ দেয়
যে আমার হৃদ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে
বসন্তকুমারীর রূপের বর্ননা রচে
বলে দেয় তাঁর সবুজ কেশের খোপাঁয়
গাথা লাল,নীল,হলুদ আরো কতো,
আরো কত রঙ্গ বেরঙ্গের ফুলে কথা
বলে দেয় তার চঞ্চল মনের চঞ্চলতা
সে আমার কবিতা।
সে আমার বসন্তকুমারীর কবিতা।
আবার কখনো আমার কবিতায় ডানা গজায়
হয়ে যায় সঙ্গচিল, লক্ষিপেঁচা হয়তো বা
গানের পাখি
ঢুকে যায় রবীন্দ্রসংগীতে বা
জীবনান্দের রূপসিবাংলায়
হয়তো বা মিশে যায় কোনো এক
চিত্রশিল্পির রংতুলিতে
হয়ে যায় মনোহারিণী তছবির ।
জয় করে এই বিশ্বকে।
তখন,তখন আমি একটু মুচকি হাসি
তখন আমি আমার কবিতাকে গভীরভাবে
জড়িয়ে ধরি
ললাটে চুমু আঁকি
আর একটু বেশি ভালবাসি।
অতঃপর,অতঃপর আমি বাংলার
ধূলাবালিতে হাটি
হাটি চিকচিকে চুরাবালিতে
আমার কবিতা নৃত্য তুলে কৃষক শমিকের
বাহুতে
পাল তুলে তিতাস প্রবাহিনীর
ময়ূরপক্ষীতে ।
আমার কবিতা থাকে সদা এই বাংলার
কৃষাণ কৃষাণীর বিষাদ হরষে।
হয়ে থাকে আপন সখা গ্রীষ্ম শীত বরষে।
অতঃপর, অতঃপর একদিন
দুঃখিত, একদিন নয়, বহুদিন
বহুদিন ধরে, বহু অব্দ ধরে,বহু যুগ ধরে
আমি এই বাংলার ধূলাবালি বক্ষ ঠেসে
পিষ্ঠ ঘেসে, কপোলে লেপেছি।
এই বাংলা তার শীতলবক্ষ জড়িয়ে ধরে
আমার ললাটে চুমু এঁকেছে।
আমার অশান্ত মন শান্ত করেছে
শুনিয়েছে ঘুমপারানির গান।
সেই গান তথা শব্দগুচ্ছ গুছিয়েছি
আমি আমার কবিতা রচিয়েছি
সে পূরব পচ্চিম তথা সমগ্র বাংলার
কবিতা।
সে আমার কবিতা।
অথচ আমি তো দেখিনি,
আমার কবিতা চলার পথে,
ছন্দের নৃত্যে কোনো ভুলতো খোঁজে
পাইনি।
তবে কেন আমার কবিতা বাজেয়াপ্ত হবে
নিষিদ্ধ হবে শিক্ষিত সমাজে ।
জানো এই কবিতা রচিতে কতো শব্দ,
কতো দাড়ি,কমা ব্যয় হয়েছে
কতো গুলো পৃষ্ঠা গচ্ছা গেছে।
আর কতকাল ধরে কলম হাতে লড়েছি
হ্যাঁ হ্যাঁ যোদ্ধ করেছি।।
এক শ্রাবণ রাতে যখন এক সুবাসিনী
তার খুলা কেশের সুবাস ছড়িয়ে,
সুস্মিতাময়ী হাসি হেসে,
পায়ের নূপুরের নৃত্যে আমার পাশে
এসেছিল।
জানি, সেথায় তুমি থাকলে ও একখানা
কবিতার চরণ লিখতে,,,
হয়তোবা প্রিয় কবিতা আবৃতি করতে।
যে তোমার নিভৃত ভাব প্রকাশ করে তাই
কবিতা।
হ্যাঁ হ্যাঁ তাই কবিতা।
অথচ আমার কবিতা বাজেয়াপ্ত করে,
এক দন'ত ভাজ্ঞা কবিতা আবৃতি করতে
আমায় বলে
যার প্রতিটি শব্দগুচ্ছ আমার অজানা,
যার প্রতিটি স্বর আমার অচেনা।
যার থেকে আমি কোনো কাব্যরস খুঁজে
পাইনা।
অথচ, অথচ আমি জানতাম
যে আমার মনের আবেগ প্রকাশ করে, তাই
কবিতা।
আমি জানতাম,,,
যার ছন্দে নৃত্য আছে,চলচিত্তের অমৃত আছে
আছে আকাশে মিলিবার ডানা
যার প্রতিটি শব্দগুচ্ছ আমার চিরচেনা
আমি জানতাম,
যাকে পারা যায় স্বাধীনভাবে আবৃতি
করতে
যার দ্বারা পারা যায় সখার মন ভরতে
যেথায় থাকে, কবির মনের সপ্তবরণের
প্রজাপতির পাখা,
যার প্রতিটি চরণ ইচ্ছেনদীর মতো
আঁকাবাঁকা।
সে-ই কবিতা
হ্যাঁ হ্যাঁ তাই কবিতা।
আমি জানতাম
যে অবিরাম ওষ্ঠে জিভে আন্দোলিত হয়
কোমলতালু কন্ঠনালিতে নৃত্যতুলে
বাতাসের চিত্তে দুলে
তাই কবিতা।
তাই দন'ত ভাজ্ঞা কবিতা, কবিতা হতে
পারে না
হয়তো অন্যকিছু হতে পারে
হতে পারে তমসার ভেরী
হতে পারে বেশি বাড়াবাড়ি।
যার অশরীরিণী প্রাণে থাকতে পারেনা
মেদুর চন্দ্রিমা
থাকতে পারে না প্রেমের অনুভূতি
যার অশরীরী প্রাণে থাকতে পারে না
মায়ের ভালবাসা
দিদির আদুর, ছোটখাট জগড়া।
তাইতো আমি,আমরা তথা সহস্র মাতৃপ্রিয়
বীরাত্মা
কলম হাতে লড়েছি
হ্যাঁ হ্যাঁ যুদ্ধ করেছি,
রচিয়েছি আমার প্রিয় কবিতা,
সে পূর্বপচ্চিম সমগ্র বাংলার কবিতা।
সে আমার কবিতা।
১৪/০২/২০১৬

মা জীবন্ত জ্যোত্স্না
-মুন্সি দরুদ মহম্মদ ওয়েছ

পূর্ণিমার চাঁদ গায়ে
মায়ের নাম লিখে দেবো
মায়ের নাম জ্যোৎস্না
হয়ে আলোকিত হবে
মা আমার পৃথিবী
শ্রেষ্ঠ জীবন্ত জ্যোত্স্না
তবুও মা'র কান্না-কষ্ট
কেন বুঝি না ?
আমিত্বকে প্রশ্ন করি
মা'র কষ্টে জীবন দেবো
খেলবো না মৃত্যুর লুকোচুরি ।

মেডিকেল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে
আমার হাতে একটা চটি বই
তোমার চিনতে অসুবিধা হলো না আমায়
কী অদ্ভুত দর্শন - চেনা নেই,জানা নেই
তবুও প্রযুক্তি দিল পরিচয় তোমার আমার।

সি এন জি চালিত গাড়ি
সাঁই সাঁই ছুটে যায় সাতমাথা রোডে
শ্যাম্পু করা তোমার চুলগুলো
বাতাসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত
ওগুলো আচড়ে পড়ছে আমার মুখের উপর
আমার বুকের উপর।

তোমার অস্তিত্বে আমার অস্তিত্ব
আমার অস্তিত্বে তোমার,
বিদ্যুত পুলক শিহরণ
কাঁপছে আমার সপ্তগিরি।

সারা দিনমান কেটে যায়,শেষে-
প্যালেস মিউজিয়ামের বেদিতে সন্ধ্যা নামে
আর আমাদের খুনসুটি ভেসে যায়

বগুড়ার বাতাস‌ে।

 

বিষাদের ছায়া পড়ে জোছনার গায়ে
—ওদুদ মণ্ডল

বিবেকের গ্যাঁড়াকলে হাসিমাখা ফুল,
নিয়তির জাঁতাকলে হারা জাত-কূল ৷

আঁকাবাঁকা আলপথ হতাশার নিশা,
ঘনমেঘে ঢেকে যায় আকাশের দিশা ৷

প্রলেপিত মশলায় সুখদার কায়া,
অবিরাম বিকিকিনি নিশীথের মায়া ৷

ঝাঁকে ঝাঁকে ফুলে বসে মৌমাছির দল,
মেতে ওঠে ক্ষণিকের ভালোবাসা ছল ৷

জেগে জেগে সুখ খুঁজে পাখি নিশাচর,
অবসাদে ভেঙ্গে যায় পথের বাসর ৷

ঢুলু ঢুলু চোখে বুনে স্বপনের জাল,
জোড়াতালি বেড়াটার কেটে যায় তাল ৷

বিষাদের ছায়া পড়ে জোছনার গায়ে,
দিন শেষে ভেসে যায় আঁধারের নায়ে ৷

বিজয় ফলক
- প্রত্যূষ কর্মকার

রাজ্যপাটের বাঁধুনি দিয়েছো ছিঁড়ে,
এবার বুঝেছি প্রতি অক্ষরে তুমি কোন দলে,
মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে পাঁজর ছাড়িয়ে গেলাম
হৃৎপিণ্ড লাঙল ফলায় লাগলো ঠক করে,
তোমার চিহ্নমাত্র নেই।
এখানে তোমার আলো হয়ে ফুটে থাকবারই কথা ছিল,
তার স্থলে ফোঁটা ফোঁটা গাঢ় রক্তের স্বাদ;
এখনও 'বেঁধে বেঁধে' আছি এই ভেবে হয়তো কোনও সুপ্রভ প্লাবন এসে
ধুয়ে দেবে যাবতীয় প্রতীক্ষার রূপ,
'সব ঠিক হয়ে যাবে' বলেছিলে মন্দ্র উচ্চারণে
মন্দিরের সন্ধ্যাধ্বনির মতো লেগেছিল ঘোর,
কিছুটা আকাশ মেঘ মেঘ সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসে
ভোর হয়ে ফুটেছিল ঘাসেদের মাথায় মাথায়,
মেলেনি কিছুই তারপর আর,
ডানা ভাঙ্গা আলো চুপ করে ডুবে আছে
চতুষ্কোণ অন্ধকারে,
তার চেয়ে ভাল,কথা কম বলো
দু একটা বিজয় ফলক মাপজোক করো,
পুঁতে দিই তারায় তারায়,
চোয়াল শিথিল হলে দেবতারা নেমে আসে
একে একে দিয়ে যায় লাবণ্য পাঠ,
যদি পারো পাশে এসো খুলে দিয়ে সীমান্ত বেড়,
বুক জুড়ে ভরে নিই ধান আর দূর্বার শ্বাস।

 

সাবধানে হাত রাখিস পাঁজরে
ক্ষণে ক্ষণে নুড়িদের ঘষা লাগে সজোরে
জোয়ারের স্রোতে ক্ষয়ে গেছে
এখন বড় দুর্বল ।

ব্যঙ্গ হাসলি ? ভাবতে বসলি ?
পুরোনো অভ্যেস,সময় নষ্ট করিস খালি
সময় নে অযুত-নিযুত লক্ষ বছর
শেওলায় শুয়েছি ।

হতাশা সব ধুয়ে ফেলবো
বৃষ্টি আসুক জমা জলে পা ভেজাবো
মেঘলা আকাশ সাজতে গেছে
মেঘ করুক ।

ভুলে গেছি কি শাশ্বত কি প্রেরণা
এখনো কি অমর্ত্য কিসেরই বা বেদনা
যেমন খুশি সাজতে পারিস
চিনে নেবো ।

খুলে দিলাম অবসরে ক্লান্ত ঝুলি
মেপে মেপেই এখন গুলি রং ডুবাই তুলি
রামধনুটা বৃষ্টি শেষে উঠবেই
ঋতুর গুণে ।

ভাবনারা একঘরে জীবন যাত্রায়
খেলাটা রপ্ত করে দক্ষ এখন সিঁড়ি ভাঙ্গায়
বাম মুঠিতে জিয়ন কাঠি ঘুম পায়
তেষ্টা ভুলে শুই ...

©Sonali Mandal Aich

 

চিনি ছাড়া এক কাপ
কফি হাতে নিয়ে,
লুকায়িত সন্ধ্যে
ধুমায়িত গন্ধে
চোখ বুঁজে নিই ভাপ
কাপে চুমু দিয়ে ৷

চোখ খুলে যেই দেখি
কেহ বসা পাশে,
চেনাচেনা লাগে
দেখিনিতো আগে
আড় চোখে চাই একি
মিটিমিটি হাসে !

তাই বলি কাছ থেকে
দুরুদুরু বুকে,
ভালোবাসি তব
কতদিন তপঃ
পুতুলটা চুমি বেঁকে
ছুঁয়ে মরি ধুকে ৷

“““ অনন্ত যৌবনা হিম প্রভাতী বঙ্গ ”””
---- সালামিন ইসলাম সালমান

ধোয়াশার সুঢৌল নিতম্বে ল্যাপ্টানো মাংশ স্তুপ
যৌবন ভরা বক্ষপৃষ্টে জড়াইয়া রহিয়াছে-
স্যাঁতসেতে দিগন্তের শিশির সিক্ত আস্তরনী বস্ত্র।
.
গতর বাহিয়া তার চকচকে আঁতর ঝরিতেছে
একঝাঁক মৃদু বায়ু হিম হিম হুংকার ঝাঁড়ে
ভ্রান্তির পালাটা বুঝি জীবন বিলাইবে আজি।
.
জীবন শক্তি সঞ্চারে, বাঁচিবার অন্ন আহরণে
ছুটিয়াছে যৌবন-বৃদ্ধা অদেখা মেঠো পথে,
যুবতী যুথিকারা যথাযথ নিয়ম মানিয়া তব
শক্তি ছাড়িছে হাতে, দু’মুঠো সাহস পেতে।
.
চঞ্চলা শীতার্ত বিলাপী পদতলে নিবন্ত সূর্যস্নান
কুয়াশার অটল সামর্থের কাছে বুঝি কিরণ ঢাকা
কাঁপুনিভরা কিছু সময়ের সীমান্তে --
রোদেলা সূর্যদয় নত হয়- ব্রত লয় শত সহস্রে।
.
চোখের পর্দা কাঁপিয়া কাঁপিয়া দেখে এহেন সঙ্গম
মনঃতৃপ্তি আমারি বুঝাইয়া দেয়-
এ যে সকলি অনন্ত যৌবনা হিম প্রভাতী বঙ্গ।

*** গোপন কষ্টের কুঠিরেই ওরা ***
সালামিন ইসলাম সালমান

দম্ভোক্ত বিবেকটা ধ্বংসের আনাচে আছড়ে পড়ে,
যখন দেখি অ-সভ্যতার অনলে নিষ্পাপেরা মরে।
চোখের লালায়িত নেশাতে থরথর দৃষ্টিভঙ্গিমা কেন,
তন্দ্রাচ্ছন্ন উপশিরাগুলো কি হুংকার ভূলে নিষ্প্রাণ হবে?
সাধূত্বের উদর তলানিতে চেঁটেপুটে খাওয়া শেওলা জমে
ওরা নিথর হয়ে পড়তে চাই অবেলায় !!!
দৃষ্টির গোচরে কত তরতাজা প্রাণেরা শুকিয়ে যায়
ভন্ডামির বিলাসীতার বিছানায় ছটফটায় লক্ষ জীবনের
--- একমুঠো আহার !!!
আমি কি তাহলে অপরাধী ভিন সমাজের মাঝে,
অভূক্তদের অযাচিত পরিনতি কু-সমাজেই সাজে।
সু-সমাজের ভীত নড়েছে, গীত কমেছে নষ্ট নামের চিড়ে,
কেমনে আসবে সঠিক বিবেক, ভ্রষ্ট জাতির ভিড়ে?
হে সভ্যতার সভ্য মানবকুল তোমরা কি এমন
বিবেক পাওনা খুঁজে?
যাহার ভিতরে আছে সীমাহিন ভালোবাসা-
ক্লান্ত সুখের মাঝে যে সুখ- দুঃখে নাহি ভিজে !!!

অামি নারী
- শাহিনা কাজল

কারো সাথে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ,
কেননা আমি নারী ।
যদিও আমি বলি।
কারন প্রয়োজনে অামি শ্লোগান দেই।

সন্ধ্যার পূর্বেই ঘরে ফিরতে হয়।
কেননা আমি অবলা নারী
তবে আমি থাকি।
কারন বন্দী জীবন অামার পছন্দ নয়। অামি বাংলার অাকাশ, বাতাস, চন্দ্র, তারা দু'চোখ ভরে দেখতে চাই।

রাতের বেলা কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া নিষেধ।
কেননা আমি নারী।
তবুও আমাকে যেতে হয়।
কারন আমি জ্ঞানের সাগরে ডুবতে চাই। জানতে ও শিখতে চাই যা কিছু অজানা।

চলার পথে সব অন্যায় অবিচার মুখ বুজে সহ্য করতে হবে।
কেনননা অামি মায়ের জাত।
বেশী বাড়াবাড়ি করলে অামি
ধর্ষিতা হতে পারি অথবা লাশ।
যদিও অামি কোন অন্যায় সহ্য করিনা।
কারন আমি সমাজ সচেতন, প্রতিঘাত করতে শিখেছি।
কোন বাঁধার কাছে অামি নত হতে শিখিনি-
যদিও অামি নারী।

#রক্ত_লোলুপ_নিশাচর
#মিন্টু_উপাধ্যায়

পশ্চিম আকাশে রক্তরাঙা সৌরলোক। সূর্যের মৃত্যু আসন্ন। গুটি গুটি পায়ে অন্ধকার তার করাল ছায়া বিছিয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর ওপর। ‌‌শনশন ক‌‌‍‌রে হিমেল বাতাস বইছে। ঝোড়ো বাতাসের ঝাপটায় পাতার মুমূর্ষু আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। কালো বাদুরের ডানায় ভর করে অন্ধকার ঢেকে ফেলল পৃথিবীটাকে।ক্রমে চারপাশ গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যেতে লাগল।
কাঁটা ঝোপের জঙ্গল ভেদ করে আমি বেরিয়ে এলাম। সামনেই লন্ডনগামী রাস্তা। রাস্তা ফাঁকা,কোন গাড়ীর দেখা নেই। আমি সোজা হাঁটতে লাগলাম। দ্রুত চলার ফলে আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই গন্তব্য স্থলে চলে এলাম। সামনেই দেখা যায় একটা দোতলা বাড়ি। বাড়িটা আমার চেনা। এখানেই থাকে আমার বান্ধবী শেইলা। লম্বা সুরিপথ পেরিয়ে আসতে আমার কোন অসুবিধা হলনা। অন্ধকার তখন ছেয়ে ফেলেছে পৃথিবীটাকে। চারপাশ নিঃশব্দ নিঝুম। দরজার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম তারপর ডোরবেল বাজালাম......
"ঝন...ন...ন...ন"...
বেলবাজার সঙ্গে সঙ্গেই দরজা খুলে গেল।দেখলাম দোরগোড়ায় শেইলা দাঁড়িয়ে।চোখেমুখে তার একরাশ বিস্ময়।
- "শুভ সন্ধ্যা শেইলা"
-"শুভ সন্ধ্যা হ্যারী। এস,ভেতরে এস।"
শেইলার পিছনে পিছনে আমি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলাম।
- বস হ্যারী,কি খাবে চা না কফি?
- আপাতত কফি,তারপর তোমার পুরু ঠোঁটের চুম্বন।
- এই কয়েক দিনে খুব দুষ্টু হয়েছ দেখছি।দাঁড়াও একমিনিট।
এই বলে শেইলা হাসি মুখে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
আমি একখানা সোফা দখল করে বসে পড়লাম। নীচু টেবিলের ওপর রাখা ছিল সেদিনকার সংবাদ পত্রটা। আমি কাগজ খানা তুলে কাগজের প্রথম পাতায় চোখ বুলালাম...কাগজে বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে...
"অজানা অ্যানিমিয়া,লন্ডনে আতঙ্ক..."
নিজস্ব সংবাদদাতা,লন্ডন...
বিগত একমাস ধরে লন্ডন ও তার আশেপাশের এলাকায় এক নতুন ধরণের অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা রোগ দেখা দিয়েছে। ডাক্তাররা এই নতুন রোগের জন্য একেবারে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। এই ধরণের রোগ এই অঞ্চলে প্রথম। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ পর্যন্ত দশজন রুগী মারা গেছেন ও বহু রুগী চিকিৎসাধীন।

খবরটা পড়ার পরই আমি শয়তানের হাসি হাসলাম। আমি জানতাম এই রোগের আসল কারণটা কি। কাগজ পড়া হয়ে গিয়েছিল তাই কাগজটা টেবিলের ওপর ছুঁড়ে দিলাম।
ততক্ষণে শেইলা কফির ট্রে নিয়ে চলে এসেছিল।কফি বানিয়ে শেইলা হাসি মুখে এক কাপ কফি আমাকে দিল। এক কাপ সে নিজেও নিলো।
- হ্যারী এই অসময় তুমি হঠাৎ এলে, কারণ কি?
-হ্যাঁ অসময়ই বলতে পার,কেন আমাকে আসতে নেই?
- আরে না না,তার জন্য নয়। আচ্ছা এখন তুমি কোথা থেকে আসছো?
- লন্ডন থেকে।
ঠিক এই সময় সাবেকী আমলের ঘড়িটা আর্তনাদ করে জানিয়ে দিল এখন রাত আটটা বাজে।
- ভালোই হল তুমি এলে। এই ক'দিনে একদম ভাল লাগছিল না।তোমাকে নিয়ে একটু ফুর্তি করা যাবে।
এই বলে শেইলা দুষ্টুমি ভরা হাসি হাসতে লাগল।
আমিও মৃদু হাসলাম।
- তুমি নিশ্চয় ক্ষুধার্ত তাই নয় কি?
- না শেইলা,আমি খেয়েই এসেছি। আজকের রাতটা এখানে কাটিয়ে কালই আমি ইংল্যান্ড রহনা হব,ব্যবসার কাজে।
-হু,এই বলে শেইলা মাথা দোলাল।

রাত দশটা পর্য্যন্ত আমি আর শেইলা নানান কথা বলে সময় কাটালাম।
তারপর হাত ধরাধরি করে দুজনে একই ঘরে ঘুমাতে গেলাম।
পাশাপাশি দুটো শয্যা আমি আর শেইলা দুজনে দুটো শয্যায় শুয়ে পড়লাম। নাইট বাল্বটা জ্বলতে থাকল।
ক্লান্ত অবসন্ন শরীরটা নিয়ে বিছানায় পড়ামাত্রই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙল।আমার সহজাত প্রবৃত্তিই বললো সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। আমি শেইলার দিকে তাকালাম দেখি,শেইলা বিছানার উপর শুয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার পাতলা নাইট ড্রেসটা ভেদ করে এক জোড়া সুপুষ্ট স্তন আমার নজরে পরলো। কিন্তু আমি চোখ ফিরিয়ে নিয়ে শেইলার নরম গলাটা দেখতে থাকলাম। এক সময় বাতাসে ভেসে শেইলার বিছানায় এসে হাজির হলাম।

বিছানাটা বোধহয় নড়ে উঠেছিল,তাই শেইলার ঘুম ভেঙে গেল। হঠাৎ আমাকে দেখে শেইলা ভূত দেখার মতই চমকে উঠল তারপরই সে নিজেকে সামলে নিয়ে আমায় কাছে টেনে নিলো। হেঁচকা টানে সে নিজের নাইটড্রেসটা খুলে ফেলল।
শেইলার গরম শ্বাসপ্রশ্বাস আমার কাঁধে এসে লাগলো। শেইলা যা চায় আমি তা চাইনা। আমার লক্ষ্য শেইলার নরম গলাটা। নীল শিরাটা খুঁজে নিতে আমার কোন অসুবিধা হল না।
আমার মুখটা শেইলার গলার আরও কাছে নেমে এল। আমার ঠোঁটে ঠেকলো শেইলার গলাটা। তারপরই বিষম দংশন।
শেইলা যন্ত্রনায় কঁকিয়ে উঠল।

************************
লন্ডন শহরের অন্ধকার পথ আর গলিপথ ধরে আমি এগোতে লাগলাম। মাঝ রাত পেরিয়ে গেছে। মাথার উপর চাঁদ আর নাই। একটু হেলে পড়েছে। চাঁদের রঙ ফ্যাকাসে হলুদ।
ফুর ফুর করে হাওয়া বইছে। ভোর হতে আর দেরি নাই। নির্জন রাস্তার উপর দিয়ে আমি এগিয়ে চললাম আমার বাসস্থানের দিকে।
দূর থেকেই নজরে পড়লো আমার বাসভূমি।
দমকা হাওয়ায় দরজার সামনের বোর্ড খানা অদ্ভুতুড়ে আওয়াজ করে উঠলো। সাইন বোর্ডে লেখা "কবরস্থান" সমাধি ভূমির উপর আবছা কুয়াশার আস্তরণ।
ঠোঁটের কাছ থেকে তরল কিছু গড়িয়ে নামছিল,হাতে নিয়ে হাতখানা চোখের সামনে তুলে ধরলাম।
"রক্ত"
শেইলার গরম টাটকা রক্ত।
হ্যাঁ,শেইলার রক্ত আমি পান করেছি। রক্তই আমার জীবন। আমার সমাধির আশেপাশে আরও খান কুড়ি সমাধি দেওয়া আছে।আমার কফিনটা দেখে নিশ্চিত হয়ে নিলাম,কারণ আশেপাশেরও কয়েকটা কফিনের ঢাকনা খোলা।
"তারাও গেছে,গেছে জীবিত মানব মানবীর টাটকা রক্তের খোঁজে...."
ভোর হয়ে আসছিল,তাই কফিনের ঢাকনাটা টেনে বন্ধ করে দিলাম।
রক্তলোলুপ ভ্যাম্পায়ারের ঘুমাবার সময় হল।
আমি আবার রাত্রির অপেক্ষায় রইলাম.....

-সমাপ্ত-

হৃদ-সিন্দুকে রাখবো তোমায়
যুগ-যুগান্তর ধরে,
ইচ্ছে মত খুলবো দুয়ার
দেখবো দু'চোখ ভরে ৷

রঙে রঙে আঁকবো তোমায়
লাগবে কত ভালো,
ধূলির ধরায় দূর সীমানায়
ঘর বাঁধিবো চলো ৷

শান্ত সবুজ ঐ নিরালায়
গাঁথবো কথার মালা,
খুনসুটি আর ভালোবাসায়
কাটবে সারাবেলা ৷

প্রেম সাগরে সিক্ত হবো
হৃদয় যাবে ছুঁয়ে,
মাটির মায়ায় গাছের ছায়ায়
বীজ বুনবো ভুঁয়ে ৷

ভালবাসার পাল উড়াবো
নৌকা যাবে বয়ে,
ভুলবো আমি দুঃখ-ব্যথা
তোমায় কাছে পেয়ে ৷

তুমি আমি দূর দিগন্তে
আকাশ মাটির মত,
আঁকড়ে ধরে থাকবো মিশে
চির চুন্বন রত ৷

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget