ফেব্রুয়ারী 2017

বাবার বিশালতা
সোহেল আহমেদ ইবনে ছাদ

বাবার বিশালতা এতই বড় যে
সেই কবে থেকে
ভাঙ্গতে শুরু করেছি
ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি
কিন্তু বাবা ক্ষিপ্ত হয়নি।

যখন হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই নর্দমায়
বাবা তখন আশার আলো নিয়ে কিনারায়
প্রেরণা যোগায়
বাঁচার নতুন সপ্ন দেখায়
তবুও পড়ে থাকতে দেয়নি
কিন্তু বাবা ক্ষিপ্ত হয়নি।

বাবার প্রিয় কপির মগটা আমি ভেঙ্গছি
তার জীবনটা কাঁচের মতো তছনছ করেছি
তার সপ্নসব সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছি
তার তন্দ্রা আমি কেড়ে নিয়েছি
এতো কিছুর পরও বাবা কয়লা হয়নি
বাবা ক্ষিপ্ত হয়নি।

 

কেন এমন হল
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

হয়তো আছিস একলা বসে ,
ভাবছিস আমার কথা ,
পুরানো কথা মনে করে ,
উল্টাছিস স্মৃতির পাতা |

স্মৃতিগুলি আজও স্পষ্ট -
অক্ষরগুলো হয়েছে মলিন ,
জীবন নদীর স্রোতের কাছে ,
ভালোবাসা রয়েছে অমলিন  |

থাকনা  দূরে ক্ষতি কি তাতে ,
মন দুটো তো কাছে -
ভাগ্য আমাদের হয়নি সহায় ,
ফিরি বারবার তাই পিছে |

নন্দা    23.2.17   11 PM. .

এ কোন ভবিষ্যৎ!
- শীলা ঘটক

ডাস্টবিনের আবর্জনার স্তূপ থেকে
মিহি গলায় কান্নার আওয়াজ শুনে
পথচারী থমকে দাঁড়ায়।
কোন এক অনাহূত ভূমিষ্ঠের ক্রন্দনধ্বনি----
রক্ত-জলে সিক্ত একটুকরো ছেঁড়া কাপড়ে জড়ানো
এক নবজাতক।
নিস্তেজ হয়ে আসছে শরীরটা
হৃদপিণ্ডের মৃদু স্পন্দন জানান দিচ্ছে
সে জীবিত।
কিছু মানুষের উত্তেজিত, নির্লজ্জ বাক্যালাপ
কার পাপের ফসল ফেলে গেছে ডাস্টবিনে!
পাপের ফসল?!
সমাজে নিজেদের লজ্জা ঢাকার দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রয়াস।
নবাগতের বাসযোগ্য_____
নবজাতকের বাসযোগ্য_____
শিশুর বাসযোগ্য____
কবি সুকান্তের, ‘নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার’ ____
বাস্তবতা পেলো না আজও।
কবি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন অনেকদিন।
নয়মাস দশদিন গর্ভে বেড়ে ওঠা প্রাণটাকে
পরাশ্রয়ী মনে হয় কেন?
যাকে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার
এতো তাগিদ?
সমাজের কাছে লজ্জায় মুখ ঢাকতেই কী
এই নির্লজ্জ সিদ্ধান্ত!
দুটি পুরুষ নারীর,
একান্ত করে শরীরী আনন্দে মেতে ওঠার_____
উদ্দাম সম্ভোগ চরিতার্থের
দায় কি এই নবজাতকের?
তার জন্মটা ঠিক ছিলো কি ছিলোনা
সমাজের কাছে এই কৈফিয়ত দেবার দায় কি
এই নবজাতকের?
এক নিষ্পাপ শিশুর এ কোন ভবিষ্যৎ!!

শীলা ঘটক কোচবিহার ২৩/০২/২০১৬ দুপুর ৩ টে

চানাওয়ালাটা ঠিক চারটে বাজলেই দত্তদের বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁকে যায় , “চানা লিবে গো গরম চানা” । দত্তদের বছর দশেকের মেয়ে রোশনি অপেক্ষা করে থাকে এই মুহূর্তটার জন্যই। সে ছুটে এসে অমনি বলবে, “ দেখি দু’টাকার চানা”।

রোশনি রোজ দ্যাখে ও যখন চানা কেনে তখন ওর বয়সীই সামনের বস্তির একটা ছেলে জুলজুল করে তাকিয়ে থাকে দূর থেকে তবে কোনদিন সামনে এসে চায়নি। রোশনির খুব কষ্ট হয় এদের জন্য। মনে মনে ভাবে --- আহারে! কত কষ্ট এদের। সামান্য দুটাকার চানাও কিনে খেতে পারেনা।অথচ তারা......।


আজ রোশনি চানা কেনার আগে আড়চোখে একবার দেখে নিয়েছে ছেলেটাকে, তারপর দুটো ঠোঙা চানা কিনেছে। কেনার পর এগিয়ে যায় ছেলেটার দিকে। একটা ঠোঙা বাড়িয়ে মিষ্টি হেসে বলে, “নাও”।ছেলেটা মুখে কিছু বলে না। শুধু ঘাড় নেড়ে জানায় সে নেবে না। এবার রোশনি খানিকটা জোর করে বলে, “ আমি বলছি নাও, নাহলে দুঃখ পাব”। এবার ছেলেটা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত-ভাবে হাত বাড়িয়ে চানার ঠোঙাটা নিয়ে উল্টোদিকে ফিরে দে দৌড়।

মাঝে কেটে গেছে কয়েকমাস। আজও রোশনি রোজ ওই চানাওয়ালার কাছ থেকেই চানা কিনে খায়।কিন্তু, আর কোনদিন দ্যাখা যায়নি ওই ছেলেটাকে।

তুমি ছিলে বলেই বসন্ত এত সুন্দর, অপরুপ
মুখের ভাষা নাই, প্রকৃতির আভা যেন তোমার
সৌন্দার্য ছাড়া কিছু নয়।।
কত সুপ্ত ভাষা, কত কথা শুনেছিলেম প্রকৃতির
অস্মদাদির অপলক আঁখি মনটা যেন অস্থির।
মেঘ কালো কেশ তোমার খোঁপায় গাঁথা ফুল
হলদে শাড়ির বাহারি শোভা, হাতে রেশমি চুড়ি
সোনালি কানের দুল।
মনটা আজ পেল যেন তৃপ্তি তাকিয়ে ছিলাম
তোমার মলিন মুখে হাসির মাঝে শ্রান্তিহীন
হরিনির মত প্রেমািসক্ত চোখ ।
কোকিল স্বরে শুনলাম তোমার মিষ্টি আলাপন
কাটল যেন ফুলের পাশে আমার সাড়া দেওয়া
শব্দ গুন গুন সারাক্ষণ।
আমি আর ধরবনা এখন আঁড়ি যা খুশি নিয়ে
যাও আমার কাছ থেকে কাড়ি।
তুমি ছিলে অপরূপ তুমি যেন দিশা চোর
মায়াভরা এই পৃথিবীতে তোমার প্রেমে আমি
অঘোর।

কালের নিষ্ঠুরতায় আজ আমরা দু’জন যেন দু’মেরুর বাসিন্দা
তোমার স্মৃতি আমার নিঃসঙ্গতার মাঝে বিম্বিত তুমি
নির্ঘুম রাতে ক্ষীণ তারাগুলোয় শুনি আমাদের নিস্ক্রিয়তার নিন্দা
তবুও দূরাকাশে রূপোর থালার স্পর্শহীন তুমি
কথা তো ছিল না যে,রাত্তির আঁধার নিয়ে এলে ডুবে রব আঁধারেই
সম্মোহিত স্থবিরতায় মেনে নেব যাবতীয় পরাজয়
শৌভিক শুদ্ধচারিণী হয়ে বসে থাকাটা মানায় কেবল তোমাকেই
আমি তো স্বর্গ-মর্ত্য–পাতালে খোঁজব ভেঙ্গে তাবৎ বলয়।

"২১‌শে‌ ফেব্রুয়ারি"
*** রহমান মাসুদ***
২১‌শে‌ ফেব্রুয়ারি
মাতৃভাষা হর‌নের প্র‌তিবাদকারী।
বু‌লে‌টে দি‌য়ে‌ছে বাঙা‌লিরা প্রাণ
রক্ষা ক‌রে‌ছে মাতৃভাষার মান।

২১‌শে‌ ফেব্রুয়ারি
৫২ সা‌লে রু‌খে‌ছে স্বৈরাচারী।
সালাম-বরকত-র‌ফিক-জব্বার
তা‌দের রক্তেই মাতৃভাষা উদ্ধার।

২১‌শে‌ ফেব্রুয়ারি
পরাধীনতার শৃঙ্খল মু‌ক্তকারী।
বাঙা‌লির হৃদ‌য়ের মু‌ক্তির আকুলতা
সে সংগ্রা‌মেই মি‌লে‌ছে স্বা‌ধীনতা।

২১‌শে‌ ফেব্রুয়ারি
বিশ্ব ভাষা দিব‌সের কান্ডারী।
সারা বি‌শ্বে মি‌লে‌ছে মর্যদা
ভাষা সৈ‌নিক‌দের ত্যা‌গের প‌রিপূর্নতা।

২১‌শে‌ ফেব্রুয়ারি
ভাষার সম্মান রক্ষাকারী।
শহীদ মিনা‌রেই তা সীমাবদ্ধ নয়
তব অন্ত‌রে যেন ভাষার প্রেম হয়।

২১‌শে‌ ফেব্রুয়ারি
বাঙা‌লির মা‌ঝে ভ্রাতৃত্ব সৃ‌ষ্টিকারী।
দে‌শের উন্নয়‌নে হাতে রা‌খো হাত
সকল অপশ‌ক্তি‌কে ক‌রে করাঘাত।

২১‌শে‌ ফেব্রুয়ারি
আজ আমরা প্র‌তিজ্ঞাকারী।
মাতৃভাষা‌কে ভাল‌বে‌সে যাব
বিশ্ব দরবা‌রে শী‌র্ষে স্হান নেব।।

খোকা ও পাখির সংলাপ
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

খোকা -- ছোট্ট পাখি খাঁচার ভিতর ,
কেনো ঝাঁপটাস তোর ডানা ,
কত সুখে রেখেছি তোকে ,
শুধু উড়াই  তোর মানা |

পাখি ---এ সুখ আমি চাই না খোকা ,
ছেড়ে আমায় দাও ;
উড়বো আমি মনের সুখে ,
আমায় স্বাধীন হতে দাও |

খোকা --কেন পাখি ?তোমায় আমি ,
রোজ খেতে দেই সকাল বিকাল ,
বাইরে আছে অনেক পাখি ,
খাবারের যে বড়োই আকাল |

পাখি ---আমরা হলাম ছোট্ট জীব ,
একটু পেলেই খুশি ,
ভাগ করে খাই সবাই মিলে ,
চাইনা কেউ একটুও যে বেশি |
তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ জীব ,
তোমাদের চাই অনেক -
আমরা থাকি মিলে মিশেই ,
গাছের একটি ডালেই |
দাওনা আমায় ছেড়ে খোকা ,
শুধু উড়তে আমি চাই -
যতই থাকুক খাবার কাছে ,
বদ্ধ খাঁচায় সুখ মোটে নাই |

নন্দা  25.10.16   4pm.

== জীবনের প্রথম পুরষ্কারপ্রাপ্ত লেখনি আমার। কলেজ জীবনের প্রতিযোগীতায় স্বাধীনতা নিয়ে লিখেছিলাম এবং প্রচেষ্টার ফল ব্যর্থতা হয়নি। প্রথম প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে প্রথম পুরষ্কারটি আমার হাতে উঠেছিলো সেদিন।

*** মহান স্বাধীনতা *** (২য় পর্ব)
সালামিন ইসলাম সালমান


অনভিজ্ঞ, অজ্ঞাত মানুষের জরাজীর্ণ আচ্ছাদনের বলিষ্ট প্রতিবাদী সাহসিকতার মুখে মাথা নুয়ে পড়েছিল নির্দয়, নিষ্ঠুর পাকিস্থানী বাহিনী। ইতিহাসে বাঙালি জাতি বিকট, ভয়ঙ্কর ও প্রলয়ঙ্কর ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে আজও স্মরণীয় ও বরণীয়। স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য উদিত হয়েছিল এদেশের আকাশে। স্বাধীনতার এই সূর্যালোক আলোকিত করেছে গর্বিত মানব হৃদয়ের অন্তঃস্থলকে। পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে আজ একটি নাম শুধু কন্ঠে উচ্চারিত হয়- স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় আলোকবর্তিকার উজ্জ্বল মহিমায় এদেশের বুকে উত্থলিত হয়েছিল বহু শহীদের রক্তস্নাত লাল সবুজের পতাকা। এই স্বাধীনতা বাঙালি জাতির মুক্তির ও কল্যাণের এক অবিসংবাদিত দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ। আত্মাহুতির বিশাল তান্ডবে দেশ ও জনগণের মুক্তি ও কল্যাণের সংগ্রামে এদেশের মানুষের বীরত্ব ও সাহসিকতা ইতিবাচক।

বাংলাদেশের এ স্বাধীনতার রয়েছে সুদীর্ঘ রক্তঝরা ইতিহাস। এ স্বাধীনতা কুড়িয়ে পাওয়া একমুঠো মুক্তো বা বদান্যতার উপহার নয়। এক সাগর রক্ত ও লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। মুক্তিসেনার রক্তে রঞ্জিত এক সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল আমাদের স্বাধীনতার সঙ্গে অনেক সংগ্রামী চেতনা বিজড়িত। স্বাধীনতার কথা স্মরণ করে নিজ কন্ঠে উচ্চারিত হয়-----------

“স্বাধীনতা তুমি লেখাপড়ার আলোকবাতি,
স্বাধীনতা তুমি বিকেল বেলার খেলার সাথী”।
স্বাধীনতা তুমি মায়ের হাতের নরম আদর,
স্বাধীনতা তুমি শীতের সকালের উষ্ণ চাদর।
স্বাধীনতা তুমি শ্রমিকের ঘামে মুক্তো দানা,
স্বাধীনতা তুমি মুক্ত পাখির শক্তডানা।
স্বাধীনতা তুমি স্বাধীন মানুষের স্বাধীন হাসি,
স্বাধীনতার বুকে দুঃখী মানুষকেই ভালবাসি।
স্বাধীনতা তুমি নতুন শিশুর গর্বিত পথ,
স্বাধীনতা নিয়েই আগামী গড়ব এটাই শপথ”।

-- গ্রন্থস্বত্ব সংরক্ষিত।

অনুকাব্য-

যেহেতু এক চিলতে সুখ এসে একফালি দুঃখ মুছে যায়,
সেখানে উড়ন্ত মেঘেরা খেলা করে ডুবন্ত সূর্যের ওপাশে
আমি স্পর্শকাতরতার সুরে বরণের গান নাহি গাইব ।
সাঁজিয়েছি মনের বিছানা একটুকরো সুখাচ্ছাদনে,
তবুও তো সংকোচ নেই, সান্ত্বনারা হাসে জবু-থবু ওষ্ঠে
অভিমানের হালখাতায় প্রতীক্ষার হাল ধরে সে আসবে।



সালামিন ইসলাম সালমান

== জীবনের প্রথম পুরষ্কারপ্রাপ্ত লেখনি আমার। কলেজ জীবনের প্রতিযোগীতায় স্বাধীনতা নিয়ে লিখেছিলাম এবং প্রচেষ্টার ফল ব্যর্থতা হয়নি। প্রথম প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে প্রথম পুরষ্কারটি আমার হাতে উঠেছিলো সেদিন।

*** মহান স্বাধীনতা *** (১ম পর্ব)
সালামিন ইসলাম সালমান


বহু ত্যাগ তিতিক্ষা, অক্লান্ত প্রচেষ্টা, লক্ষ প্রাণের বিসর্জন আর নির্মম, নিষ্ঠুর, নির্দয় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর লীলাক্ষেত্রকে পদাঘাত করে অন্ধকারের তমালতাকে ছিন্ন করে পেয়েছি হৃদয়ের মনিকোঠায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত একটি নাম স্বাধীনতা। বহুদিন যাবৎ অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-পীড়ন, নিপীড়ন-নির্যাতনের অজস্র বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হতে বাঙালি জাতির কন্ঠে সোচ্চার হয়ে উঠে প্রতিবাদী বারতা। দেহমনের স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে দুর্বার গতিতে অতিক্রম করে বুকের তাজা রক্ত আর সতেজ প্রাণ দিয়ে রুখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল এই অকুতোভয় বাঙালি জাতি এবং মরনপণ যুদ্ধ করার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের ন্যায় এদেশের নিরীহ-ঘুমন্ত মানুষের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল এক নৃশংস সংকীর্ণতা। সেই থেকে শুরু হয় পাপীষ্ট কলিমায় ঢাকা ভয়াবহ তান্ডবলীলা।

বাঙালী জাতির প্রথম জাগরণ প্রভাতে হানাদার বাহিনীর মেশিনগান, কামান, গ্রেনেড প্রভৃতি প্রাণঘাতী উপকরনের সাহায্যে দৃষ্টির অগোচরে বাঙালি জাতির দুর্বলতা, অচেতনতা ও জড়তার মুখে আকস্মিকভাবে ভয়াবহ তীক্ষ্ণ অাক্রমনে স্রোতের ধারার মত বয়ে দিয়েছিল রক্ত প্রবাহ। পাকিস্থানি বাহিনীর অতর্কিত আক্রমনের মুখে পরবর্তীতে জাতির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্যম, অপরিসীম ঔদার্য, অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল শক্তি নিয়ে এদেশের মানুষ ঝাপিয়ে পড়ে নির্মম পাকিস্থানী বাহিনীর ওপর। শুরু হয়ে যায় হুঁলি খেলার মত প্রাণ বিসর্জনের খেলা। প্রাণ হারায় লক্ষ লক্ষ মানুষ। এদেশের মানুষের অদম্য সাহসের সম্মুখে শেষ পর্যন্ত হানাদার বাহিনী মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি।

চলবে---- ২য় পর্ব।

"এখানে ফাল্গুনে"
-শাহিনা কাজল

এখানে ফাল্গুনে
মেঘের গলিতে সাদা বকের পালক বেয়ে
দখিনা হাওয়ার স্রোতে ভেসে
বায়ান্ন'র একুশ এসেছে।
নীলাম্বরী অাকাশ রূপালী সাজে
গোধুলী রক্ত বেশে একুশ অাসে--
দিগন্তের নিতম্ব জুড়ে খেলা করে শিমুল
বকুল, পলাশের হাসি।
কৃষ্ণচূড়ার ডাল বেয়ে এখানে এই বাংলায়
একুশ অাসে, অাসবে --।
বৃক্ষ নাভীতে প্রতিধ্বনিত হয়
বসন্তদূত কোকিলের কুহুকুহু।
উদাসীন পথিকের পথ দীর্ঘতর
হতে না হতেই বিলীন হয়
কুমারী বধূর অপলক চাহনীতে।
লাজুকলতার মত উচ্ছ্বল হাসি,
মাটির চিবুকে ধূসর বর্ণমালা
অালোর নাচনে প্রান ফিরে পায়।
নূপুরধ্বনি তোলে দলবেঁধে শুকনো পাতা।
বিরহী কোকিল অতি মমতায়
বুকের জমিন ভেজায়।
গোধুলীর কার্নিশে পাল তুলে ভেসে যায়
রঙিণ মেঘের নাও, সুদূরে--
জেগে থাকা তারাগুলো অাকাশের বুক চিরে
চাঁদের কথা ভেবে ভেবে প্রভাত অানে।
হিমালয় থেকে হিমাচল,
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
প্রভাত ফেরির পায়ে পায়ে মুখরিত হয় রাজপথ.....
অা ম রি বাংলা ভা ষা য় -------

স্রোতস্বিনী
-প্রত্যূষ কর্মকার

সেই আলুথালু নদীর বুকে রাতচরা নৌকায়
রঙীন ভেসেছিলাম
পূর্ণচাঁদের বর্ণচ্ছটায় ডুবে গিয়েছিল নৈঋত থেকে নৌকো গলুই,
অর্বুদ তারাদের সমাবেশে নদীবক্ষ হয়েছিল আলোক প্রান্তর;
চেনা ছাতিমের ফুলের গন্ধে প্লাবন এলো
তর্জনী আর মধ্যমাতে,
অনামিকা আর কনিষ্ঠা,তারাও প্রবল সঙ্গ দিতেই,
যূথবদ্ধ হাতের ভেতর আকাশগঙ্গা লুকিয়েছিলাম,
কিশোরী বাতাস নদীর বুকে তারাদের ছুঁয়েছিল,
সাঁকো হয়ে মিলিয়েছিল দুর্নিবার দুই বুকে
কানায় কানায় ভরাট হল শুন্য স্তম্ভ জলে,
পাহাড় ছাপিয়ে বন্যা এলো নেমে
নদীর বুকে তারায় ভরা টলটলে প্রান্তরে,
রাত্রি তখন স্রোতস্বিনী অনন্ত বৈভবে।

দীপ নেভেনি
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

আমার নীলাকাশ -
আজ অন্ধকারে ছেঁয়ে গেছে ,
স্বপ্নগুলো এলোমেলো হয়েছে ,
আমার ঘরের নিভিয়ে প্রদীপ ,
জ্বালিয়েছো অন্যের ঘরে আলো ,
জীবন নদীর শেষপাড়ে আমি দাঁড়িয়ে ,
তুমি পেয়েছো খুঁজে তোমার কূল ,
আছ প্রিয়ার জন্য দু'হাত বাড়িয়ে |

যেদিন আমি চলে যাবো -
এই পৃথিবী ছেড়ে ,
অজান্তে কখনো চোখ দু'টি গো -
যদি তোমার জলে ভরে ,
উঠবে সেদিন সূর্য্য দেখো ,
আরও উজ্জ্বল হয়ে -
আমার সকল কষ্ট ,গ্লানি ,
তাতেই যাবে মুছে ,ধুয়ে |

  • নন্দা   16.2.17   1.15 AM

রুমকি আনোয়ার

একদিন জানতে চেয়েছিলে আমার হৃদয়ে তোমার ব্যাপ্তি
চোরা জানালার ফাঁক ছুঁয়ে চিবুক ছুঁয়েছিলে আমি বিহ্বল
আজ তুমি নেই , বিরহ বাতাসে আলাপন শুনতে কি পাও ?
রাতের আঁধারে ক্রমাগত শূন্যতা গ্রাস করে আমায় ।।
নিষ্পাপ কিশোরী জল স্বচ্ছ সরোবর ,
আজ জরাগ্রস্থ বৃদ্ধের মত আঙ্গুল কাঁপে আমার
অতল গহীনে কখনও দিলে না ডুব
নির্বাক তৈলচিত্রে আমি চেয়ে রই ।।
জানতে সাধ হয় মানিব্যাগে আজও কি আমার ছবি শোভা পায়
বৃষ্টি হলে বাতিঘর নিভিয়ে দিয়ে ভায়োলিনের সুর কি তোল এখনও ,
বয়স কি বেড়েছে চুল কি পেকেছে কিছু
নাকি না ফেরার দেশে কিছুই থাকে না শুধুই অনল জ্বলনে একেলা উঠোন ।।

"ভুল  যখন ভাঙলো "                              নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

ঘরে ঢোকার আজ তার আর কোনো অধিকার নেই ; সে অধিকার  বছর আটেক আগেই হারিয়েছে |তাই সে পর্দার আঁড়ালেই দাঁড়িয়ে তার শ্বাশুড়ীকে দেখছিলো | আগে অবশ্য সে জেঠিমা বলেই ডাকতো | কিন্তু ঈশ্বরের অপার কৃপায় শান্তিদেবী আজ তার শ্বাশুড়ি | পর্দার আঁড়ালেই দাঁড়িয়ে তার মনে পড়তে লাগে অতীত দিনগুলির কথা | মা কাজ করতেন মিলনদের বাড়ীতে | মায়ের যেদিন শরীর খারাপ হতো সেই আসতো মায়ের বাসনমাজা ,ঘর মোছার কাজগুলি  করতে | জেঠিমা তাকে খুবই স্নেহ করতেন | মাধ্যমিক পাশ করে বিদিশা টাকার অভাবে পড়াশুনা বন্ধ করে দিয়েছিলো | জেঠিমা তাকে অনেকবার বলেছিলেন ,"তুই পড়াশুনাটা আবার শুরু কর ,আমি তোর সব বইপত্র কিনে দেবো ,তোর মায়ের মাইনেটাও বাড়িয়ে দেবো |" কিন্তু বিদিশা রাজী হয়নি | সে একটা সেলাই স্কুলে ভর্তি হয়ে সেলাই শিখতে শুরু করে | ছ'মাসের কোর্স দেখতে দেখতে ছ'মাস কেটে যায় | সেলাই শিখে প্রথম প্রথম দোকান থেকে ব্লাউজ এনে হেম দেওয়া ,হুক লাগানো ইত্যাদি করতে শুরু করে | অভাবের সংসারে কিছুটা হলেও তাতে উপকার হতে লাগে |                             বিধবা শান্তিদেবীর বড় ছেলে মিলন রাজ্য সরকারের উচচপদস্থ কর্মচারী |বলতে গেলে খুব কমই দেখা হত বিদিশার সাথে মিলনের |মিলন সকাল আটটা নাগাদ বেড়োতো আর ফিরতো রাত আটটা নাগাদ | যে সময়ে বিদিশার মা তাদের বাড়িতে কাজে যেতেন সেই সময় মিলন ঘরে থাকতো না | মায়ের শরীর খারাপ হলে বিদিশা যখন নিজে কাজ করতে যেত ;তখন সে মায়ের কাজের সময়টাকেই অনুসরণ করতো |  হয়তো মিলন কোনোদিন অফিস যায়নি বা তার ছুটির দিনে যদি বিদিশা কাজে যেত,   তখন হয়তো মিলনের সাথে তার দেখা হত | কিন্তু কথা হত খুব কমই | বিদিশা গরীবের মেয়ে হলে কি হবে , তার চেহারা দেখে কেউ সেটা বুঝতে পারবে না | বড়, বড় টানা টানা দুটি চোখ ,কোমর অবধি ঘন কালো চুল ,গায়ের রং ফর্সা - নাকটা ততটা সুন্দর না হলেও মুখের সাথে মানিয়ে গেছে | এক কথায় বিদিশাকে সুন্দরী বলা চলে | মিলন সেভাবে বিদিশাকে কোনোদিনও দেখেনি  ; সামান্য চোখাচোখি যা হয়েছে আর তার ধীর ,স্থির স্বভাবটি মিলনের খুব ভালো লাগে | মিলনও খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে | কিন্তু তার ছোট ভাই মলয় ঠিক তার বিপরীত | সে মাঝে মধ্যেই বিদিশাদির পিছনে খুব লাগতো | দুজনের ভিতর চিৎকার ,চেঁচামেচিও হত | শান্তিদেবী মাঝে মাঝে বলতেন ," তোরা দুটোতে যা কান্ড করিস ,আমার মনে হয় তোরা যেন পিঠাপিঠি ভাইবোন |" শান্তিদেবী বিদিশাকে বড্ডো ভালোবাসতেন | কিন্তু তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি ,মিলন তার মাকে এমন একটা প্রস্তাব দেবে |             মিলনের মা যখন তার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে শুরু করেন  মিলন সরাসরি তার মাকে যেয়ে বলে বিদিশার কথা | মা এ কথা শুনে ছি ! ছি ! করতে লাগেন | একটা কাজের মহিলার মেয়ের সাথে বিয়ে ? না - এটা কিছুতেই তিনি মানতে পারবেন না | মিলন তার মাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে | মিলন তার মাকে বলে যে অভাবের জন্য তারা লোকের বাড়িতে কাজ করে ; খারাপ কোনো কাজ তো করেনা |আমিও তো কাজ করি বিনিময়ে টাকা পাই ; ওরাও তো তাই | তাছাড়া বিদিশা লেখাপড়া জানে ,দেখতেও মন্দ নয় | চেনাজানা একটি মেয়ে - অসুবিধাটা কোথায় ? শুধু ও কাজের মাসির মেয়ে বলে ? শান্তিদেবী কোনো কিছুতেই মিলনের যুক্তি মানতে রাজী নন | কিন্তু এই যে ছেলের ইচ্ছা আর মায়ের অমত - এসব কিছুই বিদিশা বা তার মা জানতেন না | মিলন তার সিদ্ধান্ত থেকে সরবে না বুঝতে পেরে তার মা তাকে জানিয়ে দেন ; বিদিশাকে যদি বিয়ে করতেই হয় , এই বাড়িতে তাদের থাকা চলবে না | বিদিশাকে তিনি কোনোদিনই মেনে নেবেন না |    পরেরদিন যখন বিদিশা কাজে আসেন শান্তিদেবী তাকে শান্ত ভাবেই কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেন | অপরাধ কি জানতে চাওয়ায় তিনি নিশ্চুপ থাকেন | অনেক কাকুতি মিনতি করেও তিনি জানতে পারেন না তার অপরাধটা ঠিক কোথায় ? পয়সাকড়ি যা পাওনা ছিলো তাও মিটিয়ে দেন | সেদিনই সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পথে মিলন বিদিশাদের ছোট্ট ভাড়া করা বাড়িটায় যেয়ে উপস্থিত হয় | সকল ঘটনা খুলে বলায় তারা মা ,মেয়ে দুজনেই হা হয়ে যায় | বিদিশার মায়ের অনুমতি আছে কিনা মিলন জানতে চায় | তিনি মিলনের দু 'হাত ধরে অঝোড়ে কাঁদতে থাকেন ; তার মেয়ের সৌভাগ্যের কথা ভেবে |কিছুটা ধাতস্থ হয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যান | মিলন বুঝতে পারে বিদিশার সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেন তিনি |  মিলন বিদিশার মত জানতে চাইলে সে তাকে জানায় - " মা যা বলবেন তাই হবে | কিন্তু জেঠিমার আশীর্বাদ না পেলে কি সুখী হবো ?"  মিলন বলে , " সেটাও আমি ভেবেছি | তবে আমি জানি মা একদিন ঠিক মেনে নেবেন |"    বিদিশাকে রেজিষ্ট্রি করে বিয়ে করে মিলন ভাড়া বাড়িতে যেয়ে ওঠে | অভিমানী শান্তিদেবী কোনো কিছুতেই আর বাঁধা দেন না | ছ'মাসের মাথায় মিলন বদলী নিয়ে শিলিগুড়ি চলে যায় | ভায়ের সাথে ফোনে যোগাযোগটা থেকেই যায় | ভায়ের কাছ থেকেই মিলন মায়ের খবরাখবর নিত | দেড় বছরের মাথায় তাদের একটি পুত্র সন্তান হয় | ছোট ছেলের মারফত শান্তিদেবী তার নাতি হওয়ার খবরটাও পান | মিলনের বিয়ের বছর চারেক বাদে মলয়ের বিয়ে দেন তার মা | ভালো বংশ ,মেয়ে উচচ শিক্ষিত ,গান জানা মেয়ে নিজে পছন্দ করে বেশ ঘটা করে ছোট ছেলের বিয়ে দেন |   গোলটা বাঁধে তখন থেকেই | মলয়ের বৌ রীনা সংসারের কোনো কাজই জানে না | শান্তিদেবী অনেকবার নিজে হাতে করে তাকে রান্না বান্না শিখাতে গেছেন | কিন্তু সে রান্না ঘরে ঢুকতেই নারাজ | এদিকে তাঁরও বয়স হয়েছে | রান্নার লোক ,কাজের লোক - সবই মলয় রাখতে বাধ্য হয়েছে | কিন্তু তারা সপ্তাহে চারদিন আছে তো তিনদিন আসেনা | সেই সময় শান্তিদেবীকে একা হাতেই সব সামলাতে হয় | এই ভাবে বছর খানেক চলার পর শান্তিদেবী হঠ্যাৎ একদিন বাথরুমের ভিতর পরে যেয়ে কোমরে খুব চোট পান | একেবারেই শয্যাশায়ি তখন | কিন্তু রীনা সংসার আর তার শ্বাশুড়ির যাবতীয় কাজ করতে অস্বীকার করে | মলয়ের সাথে এই নিয়ে ঝামেলা করে সে বাপের বাড়ি চলে যায় | অনোন্যপায় মলয় তার দাদাকে সব জানায় | দু  'দিনের মধ্যেই ছেলে আর বৌকে নিয়ে মিলন কলকাতা চলে এসে এক বন্ধুর বাড়িতে ওঠে | মালপত্র সেখানে রেখেই সে বিদিশার কাকুতি মিনতিতে তাদের নিয়েই মায়ের কাছে আসে |এত বছর পরে মায়ের কাছে এসে সে মায়ের এই অবস্থা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারে না | হাউ ,হাউ করে কাঁদতে লাগে | শান্তিদেবী তাকে শান্তনা দিতে দিতে বলেন ," আরে কাঁদছিস কেনো ? আমি তো এখনো বেঁচে আছি রে ! তুই কেমন আছিস ?" কথা বলতে বলতে দেখেন একটি ছোট ছেলে এসে মিলনের গা ঘেসে এসে দাঁড়িয়েছে | পর্দার আড়ালে বিদিশা তার ছেলের হাত ধরেই দাঁড়িয়ে ছিলো | অন্যমনস্কভাবে পুরানো দিনের কথা ভাবতে ভাবতে খেয়ালই করেনি কখন ছেলে হাত ছেড়ে দিয়ে বাবার কাছে চলে গেছে | শান্তিদেবী মিলনের কাছে জানতে চাইলেন ," এটা তোর ছেলে না ?" "হু" বলেই মিলন মিলন ছেলের দিকে তাঁকিয়ে বললো ,"তুমি ভিতরে এসছো কেন ? যাও মায়ের কাছে যাও "| শান্তিদেবী কথাটা শুনলেন ;কিন্তু একটি হাত বাড়িয়ে দিলেন তার নাতির দিকে | ছোট্ট দীপ হাতটি ধরে বললো ," তোমার কি হয়েছে ঠাকুমা ?"দীপের মুখে ঠাকুমা ডাকটি শুনে শান্তিদেবী খুব খুশি হলেন | আনন্দে তার  দু'চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে লাগলো | তিনি তার নাতিকে বললেন ,"আমি যে তোমার ঠাকুমা ,এটা তোমায় কে বললো?" " কেন মা-ই তো তোমায় দেখিয়ে বললো ,ওই দেখ ওই যে তোর ঠাকুমা | মার কাছে তোমার কত গল্প শুনেছি | তুমি খুব ভালো রান্না করতে পারো , ভালো ভালো গল্প জানো | আচ্ছা ঠাকুমা তুমি কবে আমায় রান্না করে খাওয়াবে ?"  "আমি যে উঠতেই পারিনা ভাই !কি করে রান্না কোরবো ?"  " জানো ঠাকুমা আমার মা না খুব সুন্দর রান্না করে ,তুমি খেলেই সুস্থ্য হয়ে যাবে | কিন্তু মা বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে কেঁদেই চলেছে | ভিতরে আসছে না | আমাকেও শক্ত  করে ধরে রেখেছিলো | কিন্তু আমি তোমার কাছে পালিয়ে এসছি |" মিলন ছেলেকে এক তাড়া দিয়ে বলে ," চুপ করো ,কথা একবার শুরু করলে আর শেষ করো না | যাও এবার মায়ের কাছে যাও | " দীপ বাবার তাড়া খেয়ে মুখ নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে | শান্তিদেবী কিছুক্ষন চুপ করে থেকে দীপকে বলেন ," ভাই ,আমি তো উঠতে পারি না ; তুমি আমার হয়ে একটা কাজ করে দাওতো | বাইরে যেয়ে মায়ের হাতটা ধরে জোড় করে আমার সামনে এনে দাঁড় করাও |" ব্যাস বলার অপেক্ষা ; দীপ এক ছুটে মায়ের কাছে যেয়ে মায়ের হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দিলো | বিদিশা কথাটা  শুনতে পেয়েছিলো ; সে ছেলের হাত ধরে ভিতরে এসে দাঁড়ালো | শান্তিদেবী এবার  তাকে বললেন ,"তুই তো এত অবাধ্য ছিলিনা , এতো দূরে দাঁড়িয়ে কেন ? আমার সামনে আয় বলছি | কতদিন তোকে দেখিনা | এখন কেমন দেখতে হয়েছিস , দেখি কাছে আয় |" বিদিশা এসে  শান্তিদেবীর পায়ের কাছে মাথা রেখে কাঁদতে লাগে | তিনি তাকে বলেন  ," কাঁদছিস কেন রে বোকা ! তুই তো কোনো অন্যায় করিস নি | অন্যায় তো আমি করেছি | আমার ছেলে মোহরটা ঠিক চিনেছিল | আমিই বুঝতে পারিনি মা | আয় আমার সামনে আয় | তোদের তিনজনকে একটু একসাথে দেখি | আজ বুঝতে পারি রে - বংশমর্যাদা ,কৌলিন্য এসব বিচার না করে যদি সাধারণ একটা মেয়ে হিসাবে তোকে দেখতাম ; তাহলে মনেহয় আমার এই পরিণতি হত না |"   শান্তিদেবীর কথামতো সেদিন রাতেই মিলন যেয়ে তার বন্ধুর বাড়ি থেকে মালপত্র নিয়ে আসে |তারা তিনজনেই সেদিন থেকে ওই বাড়িতেই থেকে যায় |  বিদিশা একা হাতেই রান্না ,শ্বাশুড়ির সেবা যত্ন করতে  করতে শুরু করে | রান্নার লোকও ছাড়িয়ে দেয় | কিন্তু কাজের মাসিকে মলয় কিছুতেই ছাড়াতে দেয় না | বলে ," তুমি একা হাতে কিছুতেই পেরে উঠবেনা ; এরপর তুমি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে আমরা না খেতে পেয়ে মারা যাবো |" বলেই হাসতে শুরু করে | মলয়কে বলে বলে তাকে পাঠিয়ে  রীনাকে তার বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে বাধ্য করে |খাবার গুছিয়ে রীনাকে খেতে ডাকলে সে এসে খেয়ে যায় | বিদিশা কিছু বললে 'হু' অথবা 'না'- বলে উত্তর সারে | দেখতে দেখতে শান্তিদেবীও কিছুটা সুস্থ্য হয়ে ওঠেন | এখন তিনি বিদিশার সাহায্য নিয়েই খাটের উপর উঠে বসতে পারেন |    এদিকে মিলনেরও ছুটি শেষ | ছেলের স্কুল কামাই হচ্ছে | সে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চায় | শান্তিদেবী বেশ রাগত স্বরেই তাকে বলেন ," যেতে হলে তুমি চলে যাও ; দীপ আর তার মা আমার কাছেই থাকবে |" "কিন্তু মা ,দীপের পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে |" "এখানে কোনো ভালো স্কুলে ওকে ভর্তি করে দাও | আর শোনো মায়ের কথা না শুনে যেমন চাকরীতে বদলী নিয়ে চলে গেছিলে ; ঠিক সেই একই ভাবে এবার মায়ের কথা শুনে বদলী নিয়ে মায়ের কাছেই চলে এসো | একা যাও , অফিসের কাজ সেরে খুব তাড়াতাড়ি  বদলী নিয়ে চলে এসো | একবার যে ভুল আমি করেছি ,এবার তা সংশোধন করবার সুযোগ এসছে | এ সুযোগ আমি কিছুতেই হাতছাড়া কোরবোনা |" মা ও ছেলের কথপোকথনের মধ্যে বিদিশা এসে হাজির হয় | সে মিলনকে বলে ,"আমি মায়ের এই অবস্থায় কিছুতেই তোমার সাথে যেতে পারবো না | মা যতদিন না ভালোভাবে হাঁটা চলা করতে পারছেন ততদিন আমি এখানেই থাকবো | "  মিলন অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে ,"কিন্তু দীপের স্কুল,পড়াশুনা ?" শান্তিদেবী ওদের কথার মাঝখানেই বলে ওঠেন ,"বললাম তো ওদের আমি যেতে দেবোনা | আর ভুল করতে চাইনা | দীপকে এখানেই কোনো ভালো স্কুলে ভর্তি করে দে | লক্ষ্মী বাবা আমার ; আমার কথাটা শোন | একদিন যে কথাগুলি তুই আমাকে বলেছিলি সেদিন আমি গো ধরে বসে না থেকে যদি তোর কথাগুলি আমি বোঝার চেষ্টা করতাম , তাহলে আমার সংসারটা আজ সোনার সংসার হত |"তিনি হাত বাড়িয়ে বিদিশাকে ডেকে  বালিশের তলা থেকে চাবির গোছাটা বেড় করে বিদিশার হাতে দিয়ে বললেন ," আজ থেকে তুই এই সংসারের কর্ত্রী | পরিবারের ভালো মন্দ সব তোর হাতে |"  বিদিশা হাত পেতে চাবিটা নিয়ে কিছুক্ষন চুপ করে থেকে শ্বাশুড়ির বালিশের তলায় রাখতে রাখতেই বলতে লাগলো ,"এত বড় দায়িত্ব তুমি যতদিন আছো আমি নিতে পারবো না | এটা এখানেই থাক | সংসারের সব দায়িত্ব আমি মাথা পেতে নিলাম | কিন্তু এই সংসারের কর্ত্রী তুমি মা | তুমি যেটা বলবে আমি সেটাই পালন  করবো | কিন্তু মা ,ওই চাবির ভার আমায় দিওনা | আমার ভুল, ভ্রান্তিগুলি শুধরে তোমার মনের মত করে নিও |"
শান্তিদেবী আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন,"আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছিলাম রে মা ! তার ফল আমি পাচ্ছি |" বিদিশা এগিয়ে যেয়ে শ্বাশুড়ি মায়ের হাত দু'টি ধরে বলে ,"আর কখনো তুমি পুরানো কথা মুখে আনবে না | আমি তো ভুলেই গেছি এখানে আসার পর সে সব কথা |" শান্তিদেবী বিদিশার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন |
মাস চারেকের মধ্যে মিলন পুনরায় বদলী নিয়ে কলকাতায় চলে আসে | দীপকে একটা ভালো স্কুলে ভর্তিও করিয়ে দেয় | বিদিশার অশেষ সেবা যত্ন ,আর ঘড়ির কাটা ধরে ওষুধ খাওয়ানোর ফলস্বরূপ কয়েক মাসের মধ্যেই শান্তিদেবীও হাঁটাচলা শুরু করেন | এখন বিদিশাকে যেন তিনি চোখে হারান | আর তার মলয়ের বৌ ,যাকে তিনি ভালো বংশ দেখে নিজে পছন্দ করে ঘরে তুলেছিলেন ; তার সাথে দেখা দিনে দু থেকে তিনবার মাত্র হয় , সে যখন খেতে নীচুতে নামে | বিদিশার হাতে সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তুলে দিয়ে পরম নিশ্চিন্তে তিনি তার দাদুভায়ের সাথেই সময় কাটান | বিদিশাও তার শ্বাশুড়ি মায়ের দেওয়া সকল দায়িত্ব সতত মুখে হাসি রেখে পরম নিষ্ঠার সাথে পালন করে |
++++++++++++++শেষ++++++++++++++
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী   2.9.16

 

 

মোল ফুটেছে আমবাগানে
শিস দিয়েছে প্রাণে,
দোল খেয়ে যায় ভাবুক মনে
মোহনীয় ঘ্রাণে  ।

কবি মনে নাচে কেবল
উথাল পাথাল গায়,
কড়া রোদের শেষ পহরে
দখিনা হাওয়ায় ।

কচি পাতা গাছের ডগায়
মৌ বসেছে ফুলে,
গাছের ডালে কোকিল বসে
আনন্দে সুর তুলে ।

প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়
রঙিন পাখা মেলে,
ফুলের শাখায় রঙ লেগেছে
বসন্তেরই কোলে ।

মনে পড়ে
সোহেল আহমেদ ইবনে ছাদ

কুলাউড়া, মৌলভীবাজার

বর্তমানে- পেরিস, ফ্রান্স

মনে পড়ে পেছনে
ফেলে আসা জীবনে
কত যে আদর
ভালবাসার ঘর
আর না কতরে
মনে পড়ে।।

হেঁটে যাওয়া শিশিরে
কেঁপে উটা শরীরে
লুকানো মায়ের আঁচলে
বৈকালে খেলা মিলে
সন্ধ্যায় ফিরে যাওয়া ঘরে
মনে পড়ে।।

দুষ্টুমি, লুকোচুরি, আঁড়া আঁড়ি
অযথা সাথীদের সাথে মারামারি
জলে ডুব দিয়ে ধরাধরি
কাঁধা দিয়ে সাঁজা রং-বাহারি
লাফ দিয়ে পড়া পুকুরে
মনে পড়ে।।

মনে পড়ে বটমূল, গোলাগোল,
লাঠি, হাট্টিম-মাটিম, দোলনার দোল,
রাখালির সুর, শীতের ভোর,
লাফালাফি মাছ ধরা রৌদ্দুর
বসে থাকা জীম ধরে
মনে পড়ে ।।

চিৎকার কান্নার সুর
পড়ার টেবিলে ঘুমে বিভোর
স্কুলে না যেতে বাহানা
হাত-পা ব্যথা, মাথার বেদনা
রৌদ্রে খেলা দৌড়ে
মনে পড়ে।।

বাবার বকুনি, বন্ধুদের খলখলানি,
ধান কুঁড়া, বান ধরা, ডাক ডাকানি,
হৈ-চৈ, মৈ-মৈ, বৃষ্টির মিছিল,
খেলনা ঘরে, পিঞ্জরে লাগানো খিল
নৌকা তৈরি বই ছিঁড়ে
মনে পড়ে
আজ বড্ড মনে পড়ে ।।

পথের ওপর ঘুরছে চাকা
ঘুরছে মিঞা দ্বারে,
অফিস ঘরে ঘুরছে ফাইল
কালো টাকার ঘাড়ে ৷

ঘুরছে কেহ নারীর নামে
কেহ টাকার পিছে,
কেউ বা ঘুরে খাবার খোঁজে
আবর্জনার নিচে।

নাগরদোলায় ঘুরছে কেহ
কেউ বা গোলক ধাঁধাঁয়,
কালের ফেরে ঘুরছে মাথা
হরেক রকম বাধায় ৷

সিঙ্গাপুর

"ভ্য‌া‌লেন্টাইন ডে"
***মাসুদ***
ধর্ম যাজক সেন্ট ভ্যা‌লেন্টাইন
মা‌নে‌নি পূজা পাল‌নের আইন।
তাই যে‌তে হ‌লো তা‌কে জে‌লে
সেথা অন্ধ নারীর সাক্ষাত মি‌লে।

ভ্যা‌লেন্টাই‌নের সুচি‌কিৎসার ফ‌লে
সে নারীর চো‌খের দৃ‌ষ্টি যায় খু‌লে।
প্রেম‌ের বাতাস ব‌হে দুজনার ম‌নে
তার খবর গেল সম্রা‌টের কা‌নে।

রোম সম্রাট ক্ল‌ডিয়া‌সের রোষাণ‌লে
২৭০‌ খ্রিষ্টা‌ব্দে তার মৃত্যুদন্ড মি‌লে।
সেই দিন‌টি ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারী
বিশ্ব ভালবাসা দিবস স্বর‌ণে তাঁরি।

বি‌ভিন্ন দে‌শে দিন‌টি পালিত হ‌তো
বাঙা‌লিরা তার খবর না‌হি পেত।
সাংবা‌দিক শ‌ফিক রেহমা‌নের হাত ধ‌রে
এদে‌শে পালন শুরু ১৯৯২ এর প‌রে।

ভালবাসা দিবস আজ হ‌য়ে‌ছে পরিপূর্ণ
বর্তমান প্রজন্ম তা পাল‌নে অগ্রগন্য।
ঘটা করেই ‌দে‌শে পা‌লিত হ‌চ্ছে তা
প্রকাশ ক‌রে হৃদয়ের পবিত্র ভালবাসা।

১৪ই ফেব্রুয়ারী ভালবাসা দিবস এ‌লে
সবার মা‌ঝে ভালবাসার শিহরন খে‌লে।
প্রে‌মিক প্রে‌মিকারা আন‌ন্দে আত্নহারা
প‌বিত্র ভালবাসার নক্ষত্র যেন তারা।

দেশ ভ‌রে উঠে গুচ্ছ গুচ্ছ গোলা‌পে
নর নারী মা‌তোয়ারা হৃদ‌য়ের আলা‌পে।
প্রেম শাশ্বত-প্রেম অমর-‌প্রেম চিরসত্য
প্রেম মা‌নে‌নি কোন কা‌লেই দাসত্ব।

আজ ভালবাসা দিব‌সের স্লোগান তাই
নারীর প্রাপ্য মর্যাদায় নর‌কে পা‌শে চাই
ভালবাসার সঙ্গী‌কে ক‌রো না অপমান
যা‌কে দি‌য়েছ হৃদ‌য়ের গহী‌নে স্হান।।

সুগন্ধি

- সোনালী মন্ডল আইচ

প্রতি ঘন মিটারে
মশার ঘনত্ত্ব কত
কঠিন অংক তা
উত্তর মেলেনি আজও
পারবি মিলিয়ে দিতে ?

কালের কুটিল নর্দমা
থিকথিকে ঘোলাটে জল
ড্রাকুলার আঁতুর ঘর
কাদা ছোড়ে মানুষ
নির্বিচারে যাকে পায় ।

একটা জীবনমুখী গান
ছটফটে মন শান্ত
আমি শুয়ে শেষ ধাপে
অপেক্ষার সময় নেই ক্লান্ত
ঠোঁটে তোর তর্জনী কেন ?

বারোটা গোলাপ কুড়ি
স্ট্যাটিসটিক্যাল ডাটায়
জল মাটি সারহীন তাজা
বাস নেই তাও ভালোবাসা
তিতকুটে জিভ গায়ে জ্বর ।

কতবার তোর নাম ধরে ডাকি
মন তুই বকচ্ছপ সুকুমার
ক্ষুধার্থ চিল চায় একটা আকাশ
আতস কাঁচ চোখ খোঁজে
মাটিতে গলিত শব ।

জটিল জীবন হাড়হাভাতে
দাড়িপাল্লায় ওজন মাপে
তোর বাঁশি রূপ স্পর্শে কাতর
মিছে কেন মাখলি আতর
ভীষণ উগ্র গন্ধ...

©Sonali MandalAich

অাত্মদহন

-----------  শাহিনা কাজল

 

ফুলগুলো সব ক্লান্ত হয়ে

দমকা হাওয়ায় দোলে,

পাখ-পাখালি পাখনা মেলে

দূর দেশে যায় চলে।

 

সরল সোজা মনটা অামার

বললে যখন চলো,

সুখের অাশায় নীল সাগরে

ভাসবো কেন বলো?

 

মন জানালায় লিখলে কথা

মৌমাছিরা ওড়ে,

পরের কথায় দুললে তুমি

মনটা শুধু পোড়ে।

 

অক্টোপাসের নষ্ট কথায়

থাকে যদি কিছু,

বদ লোকেরা মদের মত

লেগে থাকে পিছু।

-----------------------------------

মেঘের অাঙিনায়

"""""""""""""""""""""""""

--------শাহিনা কাজল------------

 

ব্যস্ত স্বপ্নের হাত ধরে অামি পৌঁছে যাবো

উন্মাদ জ্যোৎস্নার অালোর মত।

লাজুক বসন্তের পাড়ে অাঁকা সবুজের মুখোশ

খুলে দেখাবো তোমায়-

কাশফুলের নরম বিছানায়।

রূপসী রোদের অাবির মেখে অামি যাবো -

দীঘি ভরা মুকুলের ঘ্রান,  মাতোয়ারা অাকাশের মস্তিষ্ক

রোদের টুপি পরে দেখো -

দূরের জানালায় উঁকি দেয়া বনফুলের মত

অযত্নে অবহেলায়

বাতাসের হীম চিঠিতে বিজলীর হাসি নিয়ে

অামি যাবো--

বেদনার নীল খোঁপা পরে সন্ধ্যের রঙে

ঠোঁট ছেড়া মেঘের অাঙিনায়।

"মানবতার কল্যা‌ণে"
***রহমান মাসুদ***

জন্ম-মৃত্যুর মা‌ঝে জীবন চক্র
এই সময়টা নেহা‌য়েত কম নয়,
শৈশব-যৌবন-পৌঢ়ত্ব পে‌রি‌য়ে
য‌দি কা‌ঙ্খিত মৃত্যুর আগমন হয়।

বিধাতার নির্দে‌শে আত্নার দেহে ধারন
জগৎ কল্যান সাধ‌নের নি‌য়ে পণ,
জন্ম সূ‌ত্রেই শ্রেষ্ঠত্বের চাদর গা‌য়ে
নয়ন‌াভিরাম বসুধায় ঘ‌টে আগমন।

মায়াবী জগতে নিত্য নতুন‌ত্বের সন্ধান
লোভ লালসা ভো‌গের কত আহবান,
কল্যা‌ণের প্র‌তিজ্ঞায় হ‌য়ে বে‌খেয়ালী
ম‌রিচ‌িকার পিছ‌নে ধাবিত সদা প্রাণ।

ধ‌রিত্রী‌কে ভা‌বি রঙ্গম‌ঞ্চের লীলাভু‌মি
স্বা‌র্থের লালসায় রক্তপাত হানাহা‌নি,
মানবতার ম‌ন্ত্রের সিন্দুকে আজ তালা
তাই বিশ্ব-দেশ-সংসা‌রে নেই বনাব‌নি।

আলো‌কিত জীব‌নের বাসনা ছে‌ড়ে
অর্থ-বৃত্ত-প্র‌তিপ‌ত্তি প্রা‌প্তির সাধনা,
ভো‌গেই তৃপ্ত ,ত্যা‌গের মা‌ঝে অনিহা
উদ্দেশ্য হা‌সি‌লে নানা ফ‌ন্দির ছলনা।

ক্ষিতীর বু‌কে মানবতার ফুল গন্ধহীন
কতশত অবলার অশ্রু ঝ‌রে প্র‌তি‌দিন,
অন্যায় অবিচার রু‌খে হ‌বে প্র‌তিবা‌দী
পরি‌শোধ কর‌তে হ‌লে শ্রেষ্ঠ‌ত্বের ঋণ।

ঘুমন্ত সুস্হ বি‌বেক ক‌রা গে‌লে জাগ্রত
জগত কল্যা‌ণে জীবন হ‌বে আলো‌কিত,
আত্নতৃ‌প্তির স্বর্গীয় স্বাদ হৃদ‌য়ে প্রবা‌হিত
ইন্দ্রের অপ-ব্যবহার সমূলে প্র‌তিহত।

নি‌জে‌কে অচি‌রেই কর‌ ত‌বে সং‌শোধন
বিধাতার সা‌থে পরকা‌লে হ‌বে স্বাক্ষাত,
ধরায় রে‌খে যাওয়া পা‌পের লজ্জায় নয়
পু‌ণ্যর ঝু‌লি নি‌য়েই হ‌বে সে মোলাকাত।।

অনুকাব্য-

বিস্ময়ের নাড়িগুলোতে কেন জানি দুর্গন্ধময় পঁচন ধরিছে
হিংস্রতার করাল গ্রাসে সবই নিষ্ঠুর বাজারে সস্তায় কেনা পটলের মত।
ওরাতো পাঁয়ের তালুতে ভালোবাসার মলম লাগায়
একমুঠো লালসার আশায়,
অথচ বাম বাহুর পেশিতে ছোট্ট ফুঁসকুড়ির টনটনা ক্ষতটি লাগাতার
------ যন্ত্রনা দেয় অহর্নিশ।



সালামিন ইসলাম সালমান

*** আয় গর্জে উঠি ***
সালামিন ইসলাম সালমান

বিশ্ব বিবেক দূত চুপ রহিয়াছো কেন
কিছুই করার নেই আজ?
রাখাইন, রোহিঙ্গা মুসলিম ক্ষত-বিক্ষত হয়
ওদের বস্ত্র খুলে ঢাকো নিজ লাজ।
পিশাচ কুসাঁজ সেজেঁ হত্যা করিছে শত
দেখেছি নির্মমতা কত হায়,
আমার পৃথিবী ভরা হুংকারী বিবেক আছে
নীরবতার বাঁধ ভাঙিছে তব, তোদের নিস্তার আর নাই।



তোরা ওদেরকে বল আমি ধৈর্য্যহারা হয়েছি
সহ্য করছিনা আর, নিশ্চিহ্ন করে দেবো সব পাগলামী,
ওরা কি পেয়েছে, ওরা কি ভেবেছে?
ওদের ভন্ডামী ভরা ধর্মন্ধতার ময়দানে আমি
ধিক্কার আর ঘৃণার পাহাড় নিয়ে হাজির হয়েছি,
আমার অস্তিত্বের একটি তীক্ষ্ণ গোলায় ওরা ভূপাতিত হবে।

ওরা নিজেদের পশুত্ব জানান দিতে চায়?
আমার ইসলামকে ওরা কষাঘাত করতে চায়?
নির্যাতিতদের ফিনকি দেওয়া রক্তের স্রোতে ওরা গহীনে ডুববে।
অভিসম্পাতের চৌকাঠে মাথা ঠুকবো না আর
দু’মুষ্টি ধ্বংস নিয়ে হাজির হয়েছি ওদের লীলাক্ষেত্রে।

তোরা এগিয়ে আয় সাহসীরা, দু’হাত এক করে ওদের
নিষ্ঠুরতার মুখে আঘাত করি, এগিয়ে আয় এ বেলায় !
এগিয়ে আয় ওদের পাশবিকতার স্তনে মানবতার বস্ত্র পরাতে।

এক অভাগিনী মায়ের কথা
- ইরাবতী মণ্ডল

তোমার আঁচল টা বিছিয়ে দাও,একটুবসি।
দুঃখ তপ্ত জীবনে মরুদ্যানের ছায়া ;তোমার
ওই আঁচলের টুকরোতে। নিজের দুঃখ বুকে চেপে
ভালোবাসা দিয়েছো সবাইকে। নিদারুণ
নিদাঘে মেঘের শীতলতা তুমি।
ব্যাধিতে পঙ্গুদেহ ঘষ্টাতে ঘষ্টাতে ও জীবনের
দায় পেলেছো নীরবে। অর্থের অনটনে পরের
বাড়িতেও কাজ করেছো । আমার সাথে দেখা
হলেই নিয়েছো কুশল সংবাদ। শত কষ্টেও মুখের
হাসি হয় নি মলিন।
তবু মৃত্যুর সময় ,তোমার চোখে এক ফোঁটা;জল গড়িয়ে পড়েছিল। বুঝেছি, ছোটো
ছেলেটার জন্য ;বুঝি বুকটা মোচড় দিয়ে
উঠেছিলো। হবে নাই বা কেন। আজ কত বছর
দেখো নি তাকে। সংসারের অভাব মেটাতে;
তাকে যে বিদেশ যেতে হয়েছে; টাকা রোজগারের
জন্য।কি অভাগা ছেলেটি। বাপের মৃত্যু ও দেখতে
পাই নি চোখে। এবার মা--তুমি ও চলে গেলে।
ছেলের হাতে আগুন টুকু ও পাও নি তুমি।
গ্রামের কজন মা ই বা তার ছেলেকে কাছে পায়।
অভাবের তাড়নায় বেশির ভাগ ই তো দেশ ছাড়া।
কেউ শহরে রিক্সা চালায়, ভ্যানে করে সব্জি বেঁচে।
আবার কেউ বা দেশ ছেড়ে পাড়ি দেয় আরব দুনিয়ায়।ভিটে, মাটি, বৌ, ছেলে, বাবা,মাকে ছেড়ে
পড়ে থাকে বিদেশের মাটিতে। আর মায়েরা ,
স্নেহের আঁচল বিছিয়ে ;ছেলের প্রতীক্ষায় দিন
গোণে--যেমন তুমি গুণেছিলে।
আসতে পারেনি সে। কি করে আসবে।
কোম্পানির কাজ।তার উপরে পাসপোর্ট,
ভিসা, দালাল ধরা ,কতো কি না ঝামেলা। তাই
মৃত্যুর সময় ,যখন দু-চোখ তোমার আকুল
হয়ে খুঁজছিল ;অনেক দিন না দেখা ছোটো
ছেলেটিকে;তখন বুঝি দূর প্রবাসে ,অঝোর ধারা
ঝরেছিলো ;তার ও দু-চোখ দিয়ে।তার ই একটি
ফোঁটা তোমার চোখেও মুক্ত হলো।
মুক্তি পেলে তুমি। হাজার যাতনা থেকে,
সন্তানকে দেখতে না পাওয়ার হতাশা থেকে।
এমনি করেই বুঝি বাংলার হাজার মা মুক্তি
খোঁজে।
তারিখ--02.02.2017‌
• কোলকাতা।।।পশ্চিম বঙ্গ ।‌‌‍

আমার পাড়াগাঁয়ের এক প্রিয় পড়শিনী কিছু দিন
আগেই মারা গেছেন।।। তাকে নিয়েই আমার এই কবিতা।।।

আল্লাহ তোমার এমন লীলা
আজব খেলা ঘর,
মানবতা ডুকরে কাঁদে
সারা উঠোন 'পর ৷

স্বার্থবাজে বিবেক বেচে
মুখে হাসি রেখে,
লোক ঠকানোয় ব্যস্ত সবাই
নিজ ভূবনে থেকে ৷

লাঞ্ছিত হয় নারী, শিশু
মরে শত শত,
কেউ বোঝে না কী বেদনা
নারীর পোড়া ক্ষত ৷

কবিমনে সোনা রোদের
সানাই বাজে সুরে,
বন্ধ হবে ছল চাতুরি
নয় তো সময় দূরে ৷

সিঙ্গাপুর

দায়িত্ব

নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী                                                                                     হঠাৎ কোরে এতদিনপরে লিপির সাথে দেখা হয়ে যাবে  বিপুল এটা কোনদিন ও ভাবে নি l  বিপুল হাওড়া স্টেশন এ দিল্লীগামী ট্রেন এর জন্য অপেক্ষা করছিল l  একটা ছোট মেয়ে ছুটাছুটি কোরতে কোরতে হঠ্য়াত পড়ে যায় l  বিপুল দেখতে পেয়ে দৌড়ে যেয়ে মেয়েটিকে তোলে l  তার কাছে প্রশ্ন কোরে জানতে পারে  সে তার মায়ের সাথে এসেছে  মেয়েটির সাথে বসে বিপুল গল্প কোরতে থাকে l  ট্রেন কিছুটা লেট ছিলো l  হঠ্য়াত মেয়েটির মা হন্তদন্ত হোয়ে এসেই ছোট মেয়েটিকে বলতে শুরু করেন -  "তোকে যে বললাম  চুপচাপ বসে থাকতে l  একটু অন্যমনস্ক হয়েছি  আর সঙ্গে সঙ্গে তুই চলে আসছিস-  সেই থেকে তোকে খুজছি-  চল-"  হঠ্য়াত করে বিপুলের দিকে চোখ যেতেই মেয়েটির মা বলে ওঠে-  "বিপুলদা  তুমি এখানে"-  বিপুল ও এতক্ষণ পরে তাকে চিনতে পারে l  কি চেহারা হয়েছে লিপিকার l  সেই সুন্দর মুখখানার সাথে এখনকার লিপিকার চেহারার কোনো মিল নেই l  এই কি সেই লিপিকা l  বিপুল ভাবে এটা কি করে সম্ভব ?  কোথায় যাচ্ছে লিপিকা  একা মেয়েকে নিয়ে ?  ওর স্বামী ই বা কোথায় ?  কালো মেঘের মতো একরাশ ঘন চুল;  সুন্দর টানা টানা দুটি চোখ ,  দুধে আলতা গায়ের রং-  কোথায় গেলো সে সব ?  একি সেই লিপিকা ?  যে কিনা একদিন বিপুল কে ভিসন ভালবেসেছিল l  বলেছিলো "বিপুলদা  আমি তোমায় ভালবাসি"-  শুনে  বিপুল চমকে  উঠেছিল l  বিপুল ও লিপিকাকে ভালোবাসত l  কিন্তু বুঝতে পারেনি লিপিও তাকে ভালোবাসে l  লিপি ছিল বড়লোকের একমাত্র মেয়ে l  বিপুল ভেবেছিল ভালোবাসাটা বুঝি তার একতরফা l  লিপির আচরনে কোনদিনও সেটা  প্রকাশ পায়নি l  বিপুল ছিলো গরীব ঘরের সন্তান l  চার ভাই বোন তারা l  বিপুল ই বড় l  বাবা বেসরকারী অফিস এর একজন সাধারণ কর্মচারী l  সংসারে অভাব নিত্য  সঙ্গী l  বিপুল পড়াশুনার ফাঁকে টিউসনি কোরে মাস শেষে যা পেতো মায়ের হাতে তুলে দিত l  এমন অনেক দিন ও তাদের গেছে পেট ভরে দুবেলা খেতে পারেনি l  এহেন পরিবারের সন্তান সে কিনা বলবে  এক্জিকেউতিভ ইন্জিনীয়র এর একমাত্র মেয়েকে ভালবাসে l  না  কিছুতেই না l  তার সামনে এখন অনেক দায়িত্ব l  মা বাবার অনেক আশা তাকে নিয়ে l  পাশ কোরে বেড়িয়েই যেভাবে হোক একটা চাকরির ব্যবস্থা তাকে করতেই হবে l  ছোটভাইবোন গুলিকে মানুষ কোরতে হবে l  তাই তার নীরব ভালবাসার কথাটা নীরবেই বুকের ভিতর রেখে দেয় l  কিন্তু কলেজ এ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে লিপিকার মুখে ওই কথাটি শুনে  কিছুক্ষণের জন্য বিপুল বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিল l  সম্বিত ফিরে পেয়ে সে লিপিকার কথার উত্তর না দিয়েই যখন চলে যাছিল;  লিপিকা তাকে বলেছিলো-  "বিপুলদা কিছু বললে না ?"  বিপুল সে কথার ও কিছু উত্তর দেয়নি l  লিপিকা তখন আবার ও বলল-  "কাল  টিফিন আওযার এর মধ্যে তোমার উত্তরটা আমার চাই"l  বিপুল পরদিন টিফিন পিরিয়ড এ সুযোগ বুঝে লিপিকার হাতে একটি খাম ধরিয়ে দিয়ে বলল-  "গতকাল তুমি আমাকে যে কথাগুলি বলেছিলে তার উত্তরটা দিলাম"l  লিপিকা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি বিপুল তাকে  প্রত্যখান করবে l  তার উত্তরটা যা ছিল  তার সার সংক্ষেপ কোরলে দাড়ায়-  বিপুল গরিবের সন্তান l  তার কাধে অনেক দায়িত্ব l লিপিকার মতো বড়লোকের মেয়েকে তার জীবনে এনে তাকে দারিদ্যের অভিশাপের ভিতর ফেলতে পারবে না l  লিপিকা সেদিন কষ্ট পেলেও বিপুলের পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছিল l  বিপুলের প্রতি তার সম্মান ও ভালবাসা দুই ই বেড়ে গেছিল l  দুবছরের সিনিয়র বিপুল যতদিন কলেজ এ ছিল তাকে কোনদিনও লিপিকা একথা নিয়ে কিছু আর বলেনি l   লিপিকাও  দেখেছে বিপুল ও তাকে পারতপক্ষে এড়িয়ে চলত l  উভয়য়ের ই ভিতরে একটা চাপা কষ্ট ছিল l   কিন্তু কেউ কোনদিনও পরস্পরকে  সেটা বুঝতে দেয়নি l  চিরদিনের মেধাবী ছাত্র বিপুল গ্রাজুয়েট হয়েই ব্যাঙ্ক এর উচ্চ পদে চাকরি পেয়ে যায়  l  দুটি বোনের পড়াশুনা শেষের পরে ভালো ঘরে বিয়েও দিয়ে দেয় l   ছোট ভাইটি এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে l  বাবা বছর দুই আগে গত হয়েছেন l  মায়ের বহু পিড়াপিড়ি সর্তেও সে বিয়ে কোরতে রাজী হয়নি l  কিন্তু চাকরী পাওয়ার পর সে লিপিকাদের অনেক খোজ করেছে l  পুরানো বান্ধবদের কাছ থেকে ঠিকানা জোগার করে সে লিপিকাদের বাড়িতে গেছে l  যেয়ে শুনেছে তারা বাড়ী বিক্রি কোরে অন্যত্র চলে গেছেন l  কিন্তু বিপুলের মন থেকে লিপিকার ভালবাসা, লিপিকার চেহারা, লিপিকার প্রথম তাকে ভালোবাসার কথা জানানো কোনটাই মুছে যায়নি l  লিপিকাকে সে ভালোবেসেছিল সমস্ত মন প্রাণ দিয়ে l  জীবনে প্রথম এবং শেষ ভালবাসা তার l  কিন্তু বিশাল কর্ত্যবের সামনে ভালোবাসার বলিদান দিতে হয়েছিল তাকে l   কিন্তু আজ সে কোন লিপিকাকে দেখছে ?  "বিপুলদা, তুমি আমায় চিনতে পারছ না ?"  লিপিকার কথায় বিপুলের সম্বিত ফিরলো l  "তোমার এ রকম চেহারা হয়েছে কেন ?  তুমি একা মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ ?  তোমার স্বামী কোথায় ?"   "আচ্ছা তুমি এতগুলি প্রশ্ন কোরলে আমায় ?  দাড়াও -একটা একটা করে উত্তর দি  এই যে বললেনা -একা একা,  দুকা কোথায় পাব ?  তুমিকি আমায়  দেখেও কিছু বুঝতে পারছ না ?"  এতক্ষনে বিপুল ভালোভাবে লিপিকার  মুখের দিকে তাকালো l না-         কোথাও কোনো সিদুরের রেখা দেখতে  পেলোনা l   হাত দুটিও তো ফাকা l  লিপিকার কাছে - যেটুকু জানতে পারল পাশ করে বেরোবার পরে বাবার হঠ্য়াত স্ট্রোক হয় l হাসপাতাল থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেন না l   বাবার মৃত্যুর বছর খানেক পর তার বিয়ে হয় একজন বড়ো ব্যবসায়ী র সাথে l দুবছর বাদে তার এই ফুটফুটে মেয়েটির জন্ম l  এর কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর ক্যান্সার ধরা পরে l  তিন বছর চিকিত্সার পর মাসখানেক আগে  মেয়েকে ও তাকে রেখে সঞ্জয় চিরদিনের মতো চলে গেছে l  তারপর থেকে সে কিছুদিন দেওর ও জায়ের সাথে শ্বসুর বাড়িতে ছিলো l  শ্বসুর শ্বাশুড়ি আগেই গত হয়েছেন l  এখন সে চিরকালের জন্য নিজের মায়ের কাছে ফিরে যাচ্ছে l  বিপুল অবাক হয়ে লিপিকার কথা শোনে l  বুকের ভিতরটা তার যন্ত্রনায় ফেটে যাচ্ছে l  এ কি শুনছে সে !!!!  এতদিন সে ভাবতো লিপিকা সুখে সংসার কোরছে l শুধু লিপিকাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা টা ছিল l  কিন্তু আজকের পর থেকে যে হাজার গুন যন্ত্রনাটা বেড়ে গেল l  "বিপুলদা, আমার ট্রেন এসে গেছে-  আমরা আসি, আজকে তোমায় দেখে খুব ভালো লাগলো, খুব শান্তি পেলাম l"  "এখন তোমরা কোথায় থাকো"?  বিপুল জিগ্ঘাসা করলো l "বাবার মৃত্যুর পর কটকে মামা বাড়ির কাছে ওই আগের বাড়িটা বিক্রি কোরে মা ছোট একটা বাড়ি কিনেছেন l  এখন থেকে বাকি জীবনটা মেয়েকে নিয়ে সেখানেই থাকব l  আসি-"  মেয়ের হাত ধরে লিপিকা ট্রেন এর দিকে এগিয়ে গেল l  কিছুক্ষণ পরে বিপুলের খেয়াল হোলো লিপিকার ঠিকানাটা তো রাখা হোলো না l  দৌড়ে সে এগিয়ে গেলো l  কিন্তু অত ভিড়ের মাঝে বিপুল লিপিকা বা তার মেয়ে কাউকেই সে দেখতে পেলো না l  বোবা একটা যন্ত্রণা তার ভেতরটা তখন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে l  তার মনে হোতে লাগলো -লিপিকার এই ভয়াবহ পরিণতির জন্য সেই দায়ীl.                                           ১৩ ৯ ১

ব্যবহারিত হতে চায় একটি কলম
- পূর্ন জয়দাস

আমি মানুষের মনের সকল সুখ দুঃখ প্রকাশ করি
ভাগ করে নেই কোনো এক প্রেমিকের মনের বেদনা;
আমি কোনো এক কবির সর্বক্ষনের সঙ্গী ছিলাম।
কিন্তু এখন আমি বরই একা, ব্যবহারিত হই না কারোও আবেগ উন্মোচনে।

আমি ব্যবহারিত হতে চাই
হে ব্যার্থ প্রেমিক, আপনারতো আমাকে প্রয়োজন,
আপনার মনের ব্যাথাগুলো কোনো এক পাতায় লিপিবদ্ধ করতে;
আপনার দুঃখগুলো আমার কালো রঙ্গ দিয়ে আমি রাঙ্গিয়ে দিবো।
হে প্রেমিকযুগল, আমাকে ব্যবহার করুন
আপনার সজনী একটি চিঠির অপেক্ষায়।
আমি সাজিয়ে দিবো সে চিঠি, সুন্দর শব্দে গোটা গোটা অক্ষরে;
স্মৃতি হয়ে থাকবো আমি কারো ব্যক্তিগত পেন্সিল বক্সে।

হে কবি, আমাকে ব্যবহার করুন
সেই কবে থেকে আমি অব্যবহারিত, পড়ে আছি কোনো এক কোনে।
আপনার মনের ছন্দবদ্ধ বাক্যগুলোকে আমি সাজিয়ে দিবো;
ফলে স্থান পাবো আমি, আপনার ব্যক্তিগত ডাইরিতে।

হে সত্যের সাংবাদিক, আপনি আমাকে ব্যবহার করুন
লিখুন, কোনো এক মহৎ লোকের জীবন কাহিনী।
আমার কালি কখনোও শেষ হবে না,
আমাকে জায়গা দিন আপনার ডাইরির পাতায়;
তাহলেই আমি ধন্য হবো।

প্রতিশোধ              নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী             তরুন সাব ইন্সপেক্টর অফিসার  রাজেশ চৌধুরী হাঁফাতে হাঁফাতে ওসির ঘরে ঢুকে বললেন ,"স্যার ,আজও সেই একই ভাবে খুন করা হয়েছে বাসের কন্ডাক্টরকে । আগেরদিন ওই বাসের বাসচালককে ঠিক যেভাবে খুন করা হয়েছিলো | তারমানে স্যার বোঝা যাচ্ছে - খুনি একই ব্যক্তি |" ওসির কপালে ভাঁজ পরে | তিনি মনোযোগ সহকারে অফিসারের  কথা শুনতে থাকেন | অফিসার আবারও শুরু করেন ,"মাস দুয়েক আগে সতের বছরের একটি মেয়েকে বাসের ভিতর গণধর্ষণ করেছিল ; সংখ্যায় ওরা পাঁচজন ছিলো | ওদের প্রত্যেকের নামেই কেস হয়েছিলো | কিন্তু কেসটি হঠাৎ করেই তুলে নেওয়া হয় | যে দুজন খুন হয়েছেন তাদের নামও ওই তালিকায় ছিলো | এটা থেকে পরিষ্কার যে - যে মেয়েটি ধর্ষিতা হয়েছিল এবং পরে মারা যায় ; তারই কোনো নিকট আত্মীয় এই খুনের সঙ্গে জড়িত | অদ্ভুতভাবে দুটি খুনই একইভাবে হয়েছে | মনে হচ্ছে কেউ যেন খুন হওয়া মানুষ দুটির পুরুষাঙ্গ টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে |" ওসি চিৎকার করে বলে উঠলেন ," কি যাতা বলছেন আপনি ?"  খুব দৃঢ়ভাবে অফিসার উত্তর দিলেন ," অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি স্যার |"   বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পুলিশ অফিসার দুমাস আগে ধর্ষিতা হওয়া বন্দনা ঘোষের বাড়িতে যায় | বাড়ি বলতে বস্তিতে ছোট্ট একখানি ঘর | ঘরে একটা তক্তপোষ ,আলো বাতাস বিহীন | সেই তক্তপোষের   উপর বসে এক ভদ্রলোক কেশেই চলেছেন | ঘরের মেঝেতে বসে চল্লিশউর্ধো এক ভদ্রমহিলা স্টোভে কিছু একটা রান্না করছেন | বাইরে থেকে অফিসার হাঁক দিলেন ,"কে আছেন ঘরে ?" ভদ্রমহিলা ছিন্ন শত মলিনবস্ত্রটাকে গায়ে জড়াতে জড়াতে বাইরে এসে পুলিশ দেখে ভয়ে দুপা পিঁছিয়ে গেলেন | তারপর কোনোরকমে উচ্চারণ করলেন ,"আমরা তো কেস তুলে নিয়েছি স্যার | মেয়েটা মরার আগে বলে গেছিলো করা ওর উপর অত্যাচার করেছিলো ; তাই বস্তির লোকদের সাথে যেয়ে ওদের নামে নালিশ করেছিলাম | কিন্তু ওরা বাড়িতে এসে শাসিয়ে গেছিলো কেস তুলে না নিলে ওরা সমস্ত বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেবে | তাই পরদিনই কেস তুলে নি | এখন আপনারা আবার কি জন্য এসেছেন ?"    অফিসার বুঝতে পারছেন কোনো সুপারিকিলারকে দিয়ে এ কাজ এরা করাতে পারেনা ; সে বুদ্ধি এবং সামর্থ কোনোটাই এদের নেই |তবুও তিনি কর্তব্যের খাতিরে জানতে চাইলেন ," আপনাদের কোনো আত্মীয়স্বজন আছেন ?"  " না স্যার,পৃথিবীতে আমরা তিনটি প্রাণীই ছিলাম ,মেয়েটা চলে গেলো ; এখন আমি আর ঐ মানুষটা ছাড়া আর  আমাদের কেউ নেই । কিন্তু কেন বলুন তো ?" অফিসার এ কথার কোনো উত্তর না দিয়ে বেড়িয়ে যান ।তারপরের তিন রাত্রি ঐ একইভাবে আরও তিনটি খুন । প্রশাসন কর্তাদের কালঘাম ছুঁটে যাচ্ছে । খুনের কিনারা বা কোনো সূত্র তারা কেউ পাচ্ছেন না ।    পরপর পাঁচ রাতে পাঁচটি খুন । খুনের কিনারায় পুলিশ প্রশাসন নাজেহাল । ৬ষ্ঠদিন রাত বারোটা ।তবুও তিনি কর্তব্যের খাতিরে জানতে চাইলেন ," আপনাদের কোনো আত্মীয়স্বজন আছেন ?"  " না স্যার,পৃথিবীতে আমরা তিনটি প্রাণীই ছিলাম ,মেয়েটা চলে গেলো ; এখন আমি আর ঐ মানুষটা ছাড়া আর  আমাদের কেউ নেই । কিন্তু কেন বলুন তো ?" অফিসার এ কথার কোনো উত্তর না দিয়ে বেড়িয়ে যান ।তারপরের তিন রাত্রি ঐ একইভাবে আরও তিনটি খুন । প্রশাসন কর্তাদের কালঘাম ছুঁটে যাচ্ছে । খুনের কিনারা বা কোনো সূত্র তারা কেউ পাচ্ছেন না ।    পরপর পাঁচ রাতে পাঁচটি খুন । খুনের কিনারায় পুলিশ প্রশাসন নাজেহাল ।

৬ষ্ঠদিন রাত বারোটা ।ওসির ঘরে দরজা ভেজিয়ে খুনের কিনারা করতে জরুরী মিটিং চলছে | হঠাৎ ঘ্যাচ করে বদ্ধ দরজাটা খুলে গেলো | সবাই দরজার দিকে তাঁকালেন কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলেন না | একটা ফাঁকা চেয়ার ছিলো ,সকলেই দেখলেন চেয়ারটা একটু নড়ে উঠলো | রুমের ভিতর একটা দম বন্ধ করা পরিস্থিতি | তারপর একটা অট্টহাসি ; মনেহচ্ছে হাসির দাপটে ঘরের দেওয়াল ভেঙ্গেচুড়ে চুরমার হয়ে যাবে | হাসি আর কিছুতেই থামেনা | দুঁদে সব পুলিশ অফিসারদের মুখ শুকিয়ে কাঠ | সকলেই ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছেন | সব থেকে সাহসী অফিসার সুপ্রিয় দত্ত অজ্ঞান হয়ে টেবিলেই মাথা দিয়ে পরে আছেন | এমনিতে তিনি নির্ভিক ,কিন্তু ভুত প্রেত প্রচন্ড ভয় পান | বাকিরা তার সাহায্যে এগিয়ে আসার মত অবস্থায় নেই | সকলের হাত ,পা অসাড় হয়ে গেছে যেন | সকলেই জড়সড় হয়ে ওই ফাঁকা (?) চেয়ারটার দিকে তাকিঁয়ে | বাতাসে ভেসে আসার মত কান্না ভেঁজা কণ্ঠে তারা শুনতে পেলেন ," তোমরা এত বড় বড় অফিসার ,আমার পরে যে অত্যাচার হলো - পাঁচ পাঁচটা নরপশু আমার এই ছোট শরীরটাকে খুবলে ,ছিঁড়ে খেলো ; মৃত্যুর আগে তাদের নাম আমি বলে যাওয়ার পরও তোমরা তাদের শাস্তি দিতে পারলে না ? তাই তাদের আমি নিজের হাতে শাস্তি দিয়েছি | আমি পাঁচটা খুন করেছি ; আমাকেউ তোমরা কোনো শাস্তি দিতে পারবেনা । ওদের মেরে ফেলবার সময় আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো ,কিন্তু ওরা আমায় যে কষ্ট দিয়েছে তার কাছে ওই কষ্টটা কিচ্ছুনা | তোমরা তো প্রমান পাওনি তাই ওদের ধরোনি ; তাইতো আমি নিজে এসে প্রমান দিয়ে গেলাম ওদের আমি মেরেছি ,সেই বন্দনা ঘোষ - যে লোকের বাড়ি বাড়ি কাজ করে মা,বাবার মুখে খাবার জুটাতো |আমি খুব কষ্ট পেয়েছি ,ওদের পা ধরে কেঁদেছি কিন্তু ওরা শোনেনি | ওদের মেরে ফেলে দিয়ে আমি কি কোনো অন্যায় করেছি কাকু ?"  হঠাৎ অফিসার রাজেশ চৌধুরী চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে শুন্য চেয়ারটার (?) দিকে তাকিঁয়ে একটা স্যালুট করেন | বাকি সবাই চুপ | চেয়ারটা পুনরায় নড়ে উঠলো |

নন্দা 1.2.17    ( সম্পূর্ণ একটি কাল্পনিক কাহিনী )

চলো যাই
- নূপুর সাহা
চলো যাই স্বপ্নের দেশে,
বীর দেশপ্রেমীকের বেশে৷
চলো যাই পতাকা হাতে,
জয়ের হাসি হেসে৷

চলো যাই নতুন সুরে,
গৌরবের গান গেয়ে৷
চলো যাই সাম্যের অধিকারে,
একসাথে পথ বেয়ে৷

চলো যাই সত্যের পথে
একই ঐক্যতানে৷
চলো যাই সবাই কে নিয়ে
একই গন্য মানে৷

চলো যাই নতুন কর্ম
আশার আলো নিয়ে৷
চলো যাই নিজ ভূমিতে
দেশপ্রেমের বার্তা জাগিয়ে৷৷
২৬/১/২০১৭...

দলে দলে লোকের ভীড়ে
রাত বারোটার পরে,
রঙ-বেরঙের ফুল সাজিয়ে
শহীদ মিনার ভরে ৷

সকাল হলেই প্রভাত ফেরি
খালি পায়ে হাঁটা,
যখন শুনি একুশের গান
শিউরে ওঠে গা টা ৷

কেড়ে নিতে চাইলো তারা
বাংলা মায়ের বুলি,
কালো পথে রক্ত মিছিল
হানাদারের গুলি ৷

রক্তে লেখা সেই ইতিহাস
বিশ্ববাসী জানে,
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
তাই তো সবাই মানে ৷

সিঙ্গাপুর

"আত্নবাণী"
নাসরিন আক্তার
(১)
আজি সুখ সর্বময়
অতীত প্রেম অবেলায় কড়া নাড়ায়
দিবি কি সারা?
যদি করিত ভুল আবার দেয় ধরা।
অতীতরে কেন ভালোবাসিস?
অতীতে করিস বাস
এই অতীত তোর কাল হয়েছে
করেছে তোর সর্বনাশ।
(২)
ভাবিয়া ভাবিয়া কেন তুই করিস
অতীত স্মরণ?
কাল বয়ছে নিজ আয়জনে
আয় আলোর পানে আয়।
অতীতরে তুই ভুলিয়া যা
আলোক পানে তাড়িয়া ধাঁ
পান করেনে সুখের সুধা
দুঃখ করি পরিত্রাণ।
(৩)
যানি মন তোর বেইমান
শুনেনা বারণ
বেইমানরে স্মরণ করায়
প্রতিটি ক্ষণ।
ভুলিয়া যা, ভুলিয়া যা
করি বারণ বারংবার
অতীত তোর সুখ হরণ করিবে
আলকে আনিবে আধার
তুই তোর সুখ, তুই তোর দুখ
যাহারে করিবি তুই আহার।

বাল্য-বিবাহের পরিণাম
- সোহেল আহমেদ ইবনে ছাদ

বকুলের বয়সখানি হহিল ষৌল
দশম শ্রেণীতে পড়িতেছে
মুটামুটি শিখিয়াছে
কি করে পড়িতে হয় নাকে কানে দুল।

সপ্নে বাঁধিয়া ছিল বকুলে
পাইলট, ডাক্তার,
শিক্ষক হইবার
আরও কত সপ্ন এঁকেছিল মর্মমূলে।

ফাইনাল পরিক্ষা ঘনাইয়া আসিল
বকুল ভাবিতেছে এবার
মন লাগাইয়া পড়িবার দরকার
এ প্লাস পাইতে হবে, এ ভাবিতে থাকিল।

তখন সকাল বেলা সূর্য হাসিতেছে
দূরান্ত পূর্বাকাশে
বসে, পড়ায় মগ্ন সে
তখন দেখিল বাবা আসিতেছে.........

আসিয়া বাবা কহে, মাকে ডাকিয়া
ও বকুলের মা
আইজ বকুলকে স্কুলে
যাইবার দিও না
এ কথা শুনিয়া.........

মা চিন্তিত হইয়া বলিল
কেন যাইবার দেব না
বাবা কহে, শুনো বকুলের মা
আইজ বকুলকে দেখতে আইব
মফিজের ছেলে জলিল।

ঠিকই পরে আসিয়া গেল জলিল
দেখিল বকুলের মুখ
মুখ নয় যেন চন্দ্রমুখ
দেখিয়া জলিল কহিতে লাগিল...........

আমি এই বিয়েতে রাজী
মফিজ কহে আলহামদুলিল্লাহ
বকুলের মা হাসিয়া উতলা
বকুল আসিয়া কহে বাবাজী

এই বিয়া ভাঙিয়া দাও
বাবা রাগিয়া আগ্নিশর্মা
মা কহে সুখি হবি মা
কনের কথা কেহ নাহি শুনিবার চায়।

দিনক্ষণ ঠিক হইয়া গেল
বিয়ের সানাই বাজিল
দামান সাঁজিয়া জলিল
বকুলকে ঘরে তুলিল।

বিবাহের পর থেকেই
বকুলের অসুখে বেহাল দশা
রোগের নিমন্ত্রণ যেন মিষ্টির কাছে পিঁপড়ে আসা
অসুখ-বিসুখে বকুলের দিন কাটছেই........

বিবাহ বার্ষিকী আসিবার আগেই
মা হইবার চলিতেছে বকুল
ডাক্তার নিয়োগ করা পরিমুল
কহে সন্তান প্রসব হহিবে দুমাস পরেই..........

দুমাস পরেই ধরিল প্রসব বেদনা
বকুল সহ্য করিতে পারিতেছে না
তখনি যেন শুরু হহিল মৃত্যু-যন্ত্রণা
বকুল কে আর বাঁচানো গেলো না।

বাল্য-বিবাহের জন্যেই
হেরে গিয়েছিল বকুলের প্রাণ
ছিন্ন -ভিন্ন হলো তার সপ্নখান
ঝরে গেল সে অকালেই ।

চলে গেল বকুলের প্রাণ
ফিরে আর আসবে না সে
চলে গেলো অনায়াসে
এ হলো বাল্য-বিবাহের পরিণাম ।

কাঙ্ক্ষিত আশা চাঁদিমার বাড়ি
সোহেল আহমেদ ইবনে ছাদ

বসুন্ধরায় কোন কিছুই সহসাই হলো না
বাগে ফুলটা ও সহজেই ফুটিল না
বাগানে যথার্থ মেহনত ছিল
সময়ে সময়ে রোদ বৃষ্টি ও দিল
তবে ফুলটা ফুষ্প মেলিল না
কোন কিছুই সহসাই হলো না।

বিছানা থেকে ভোরের সকাল দেখব বলে
সবকটি চৌকাট বাতায়ন দিলাম খুলে
রাত শেষে ভোর হতে না হতেই
তুফানের কড়াৎ কড়াৎ শব্দ শুনতেই
খিল পড়ে যায় সবকটি বাতায়ন কপাটখানা
কোন কিছুই সহসাই হলো না।

আশার ঘর এখন ছন্নছাড়া
আঘাতে আঘাতে এখন টুকরা টুকরা
সবকটি টুকরো একত্রে এখনো সাঁজাই
লৌহ দিয়ে এবার আশার ঘর বাঁধাই
এবার দেখি অগ্নিকোণে ভূমিকম্পের হানা
কোন কিছুই সহসাই হলো না।

কাঙ্ক্ষিত আশা এখন চাঁদিমার বাড়ি
ছুঁয়া তো নয়, শুধু দেখে দেখে চালানো
জীবন গাড়ি ।
04_01_2017

অসহায়া গর্ভধারিনী
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী
অনেক আশা ,বহু সাধনার পর ,
এসেছিলি কোলে তুই -
যত্নে করেছি বড় তোকে ,
মানুষ করতে পারিনি রে !
ছোট দু'টি হাত দিয়ে গলা জড়িয়ে ,
থাকতিস আমার বুকে ,
কত বিনিদ্র রাত কেটেছে ,
শুধু তোকে চুমে মুখে |
স্বপ্নের জাল বুনেছি মনেমনে ;
অনেক বড় মানুষ হবি ,
পথেঘাটে লোকে বলবে আমাকে ,
কত বড় মানুষের মা !
গর্বে আমার বুকটি উঠবে ফুলে ,
গুনকীর্তন করবে সকলে তোর ,
আমি সেখান থেকে চলে গেলে |

আমার স্বপ্ন সফল হয়েছে ,
বড় হয়েছিস তুই অনেক !
অনেক হয়েছে বড় গাড়ি বাড়ি ,
ঝি ,চাকরে রয়েছে ছড়াছড়ি |
কয়েক মাস অন্তর পুরনো  আসবাব ,
পাল্টে ফেলিস ঘরে ,
বাড়িতে বহু পার্টি দিস ,
আমায় তালা দিয়ে অন্য ঘরে !
হৈ ,হুল্লোড় ,চিৎকার ,চেঁচামেচি -
সব আসে আমার কানে ,
আমি ফিরে যাই তোর ছেলেবেলায় ,
চোখ দু'টি ভরে থাকে জলে |
হয়তো কোনোদিন ভুলে যাস তোরা -
খুলতে তালা ঘরের ,
না খেয়েই সারারাত কাটে -
ভাবি মনে আমি ,
স্বপ্ন পূরণে কি  এখনো রয়েছে   বাকি ?

সেদিন শুনলাম বৌমার গলা ,
পাঠিয়ে দেবে আমায় অন্যখানে ,
থাকতে দেবে না,আমাকে তার বাড়ি ,
আমায় সে জঞ্জাল মনে করে |

এ বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও থাকা ,
ইচ্ছা আমার নেই ,
এখন থেকেই চলে যাবো আমি ,
তোদের কোনো ভয় নেই !
কাগজে লিখেছি ,"স্বইচ্ছায় আমি চলে গেলাম"-
পুলিশ এলে দেখাস কাগজ ,
জঞ্জাল নিজেই সাফ করে দিলাম !
দাদুভাইকে বড় শুধু নয় ,
করিস মানুষ তাকে ,
সন্তানের অবহেলা বাবা,মায়ের যে -
বড়ই বুকে বাজে |
যে কষ্ট আমি পেলাম বুকে ,
তুই বড় হলে বাবা ,
বাবা,মায়ের কাছে এর চেয়ে বড় -
নেই কোনো আর সাজা !

নন্দা   27.1.17 9.15 PM

অসম্পূর্ণ চাওয়া

- শাহিনা কাজল

""""""""""""""""""""""""""""""""

 

কাঁদাখোচা বুদ্ধির জ্যামিতিক ব্যঞ্জনে

অসহায় চরিত্রে ধরাশায়ী পৃথিবী অামার

পত্রহীন বৃক্ষলতা সমপদস্থ অধিকার চায়

তৈলাক্ত সংবিধানের জমাটবাঁধা বুলি

ধারালো যুক্তি তর্কে ধরা খেতে খেতে

অত্যাচারিত নিঃশ্বাসের শেষ ধাপে

পৌঁছে যাবো নিশ্চিত, তবুও

অনাগত শিউলী ফুলের জন্য এ চাওয়া-

পরিপক্ব সমাজে ক্রুর হাসির অাঘাতে

মৃত্যু হবে অামার। শেষ অাবেদন টুকু

বিবেচনার জন্য অসম্পূর্ণ চাওয়ার চিত্র

অাঁকি বারবার- অামার স্বাধীনতায়।

চাঁদ জ্যোৎস্নার নিঃশব্দ সঙ্গমে

যদিও মায়াজালে অাবদ্ধ রাত

তবুও নিজেকে রক্তাক্ত দেখি

এ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

রাস্তা যেন মরণ ফাঁদ

- শাহিনা কাজল

রাস্তাঘাটের বেহাল দশা

চলছে ধীরে গাড়ী

ভালো কথা বলতে গেলে

দেখাবে পুলিশ ফাঁড়ি।

গাড়ী চলে হাজার হাজার

হিসাব কি অার থাকে?

রাস্তাঘাটে মরছে মানুষ

খানাখোন্দল বাঁকে।

মরণ ফাঁদের সড়ক গুলো

দেখবার কেহ নাই

উন্নয়নের হাওয়াই মিঠাই

অামরা ই চুষে খাই।

নরম কথার গরম সুরে

ফোলাও যত গাল

দেশের মানুষ শান্তি পেলে

রাখবে মনে চিরকাল।

 

রাজা বাদশা ভি অাই পি তে

জনগন সব রাত বিরাতে

ক্ষমতার দম্ভ দেখায় কেহ

লাল রঙের গালিচাতে।

 

  1. "ভাষার মাস ফেব্রুয়ারী"
    ***রহমান মাসুদ***


বই‌ছে ‌ উত্তরের বিদায়ী মৃদু শীতল স‌মীরণ
হে প্রিয় ফেব্রুয়ারী মাস তোমায় সুস্বাগতম,
তোমার মা‌ঝে লুকা‌য়িত জা‌তির অম্লান স্মৃ‌তি
৫২ সা‌লের রক্তক্ষয়ী মহান ভাষা আন্দ‌োলন।

মাতৃভাষা রক্ষায় প্র‌তিবাদীর ব‌ক্ষে
বু‌লে‌টের আঘা‌তে র‌ক্তে র‌ঞ্জিত রাজপথ,
মা‌য়ের কো‌লে চির নিদ্রায় শায়িত
ভাষাযোদ্ধা র‌ফিক,সালাম,জব্বার,বরকত।

ফেব্রুয়ারীর আগম‌নে ব্যথিত হৃদ‌য়ের
রং‌য়ের ক্যানভা‌সে শুষ্ক র‌ক্তের কা‌লো আঁচড়,
ভাষা শহীদ‌দের অকা‌লে ঝ‌রে যাওয়ায়
আজ'ও শোকাহত বাঙা‌লি জা‌তির অন্তর।

সম‌য়ের প‌রিক্রমায় লাল সবু‌জের স্বাধীনতা
উন্নয়‌নের চলমান ধারায় ভাষার জয়জয়কার,
কন্টকময় পথ পে‌রি‌য়ে উদিত সফলতার সূর্য্য
জাতি শো‌ধে‌ছে ঋন তোমা‌দের রক্তধারার।

বাংলা‌দেশ আজ নয় আর তলাবিহীন ঝু‌ড়ি
বাংলাভাষীদের অগ্রযাত্রার কদর সারা বি‌শ্বে,
দেশ‌ে দে‌শে মহা সড়াম্ব‌রে পা‌লিত ভাষা দিবস
নয়‌নে আন‌ন্দের অশ্রুধারা প্রবা‌হিত সে দৃ‌শ্যে।

জা‌তিকে সুউ‌চ্চে স্হাপ‌নের তরতাজা সৈ‌নিক
প্রজ‌নের মু‌খে মু‌খে বাংলা ভাষার গুনগান,
প্রজ‌ন্মের অর্জিত জ্ঞা‌নের সফল মেধা বিকাশ‌ে
মধ্য আ‌য়ের স্বর্ণালী দ্বা‌রের সি‌ড়ি‌তে অবস্হান।

ফেব্রুয়ারী এলেই ‌চেতনায় জাগ্রত উদ্দীপনা
অ,আ,ক,খ প্রাণপ্রিয় হৃদ‌য়ের বাংলা ভাষা ,
এই অর্জন যা‌দের ত্যা‌গে তা‌দের সম্মানা‌র্থে
দে‌শের সবার মা‌ঝে সুদৃঢ় ভ্রা‌তি‌ত্বের প্রত্যাশা।

 

 

অন্তরে আছো ( একুশে )
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

এখনো সাঁঝের আকাশ ,
আবীরে হয় লাল -
এখনো প্রভাতে পাখি গায় গান ;
এখনো আমি সন্ধ্যা হলে -
জানলা দিয়ে সুদীর্ঘ পথ দেখি অবিরাম |
পরদেশী তুমি ,ভুলে গেছো বুঝি ?
তাই ফিরলেনা আর !
কিশোরী মনে দোলা দিয়ে তুমি ,
হলে কেন দেশান্তর ?
জীবন কারও থেমে থাকেনা ,
থামবেনা আমারও জীবন ,
প্রথম ছোঁয়ার পরশ নিয়ে -
মনে রাখবো তোমায় আমরণ |

যখন আমি নিস্তব্ধ ঘরে -
থাকবো বসে একা ;
পড়বে মনে তোমার পরশ ,
নাইবা পেলাম এ জনমে আর দেখা |

সেদিনের সেই শিহরিত শরীর ,
পড়লে মনে আজও জাগে শিহরণ ;
ঠোঁট দু'টি তখন থরথর কাঁপে ,
বুকে ওঠে সেই একই আলোড়ন |

নন্দা  23.1.17

আসছে যে মাস ফেব্রুয়ারী
সেজেছে বাংলা একাডেমী
কবিরা ব্যাস্ত কাব্য লিখতে
ছাপাখানা ব্যস্ত বই ছাপাতে
অ'কবি ব্যাস্ত তৈল মাখাতে
আর তেলুকরা তেল মাখতে ৷
কথা বেঁচি আমি এক অ'কবি
বাঙ্গাল হই এলেই ফেব্রুয়ারী
অন্তরে আছে এক দুরভিসন্ধি
এই মাসেই হবো আমি কবি
বিজ্ঞ সাজি অজ্ঞ এ আমি
জ্বী গুরু বলে মুখে ফেনা তুলি ৷
আসছে যে মাস ফেব্রুয়ারী
আমি কিগো ভুলিতে পারি
যাদের বুকে লেগেছিলো গুলি
তাদের স্মরণে ফুল,মালা দিলি
একমাস পর সবই ভুলে গেলি
একি আমরা সেই বাঙ্গালী জাতি ?
সন্তানেরা আজ ইংরেজী ভাষী
পোশাকে আমি বাঙ্গালী সাজি
বুক সেল্ফে সঞ্চিতা - গীতাঞ্জলি
অার আমি শার্লোক হোমস্ পড়ি
একি আমরা সেই বাঙ্গালী জাতি
ভাষার জন্য যারা মরতে পারি ?

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget