জানুয়ারী 2017

যখন ছোট ছিলাম
বাবা শব্দটা ছিল একটা আতংকের নাম
আর যখন বড় হলাম ,
বুঝলাম আস্থার প্রতীক হলো বাবা
মা দশমাস দশদিন গর্ভে রেখেছিলো
আর সুস্থভাবে আলো দেখা নিশ্চিত করেছিলেন যিনি
সেই মানুষটিই হলেন বাবা,
আমার কচি আঙ্গুল ছেড়ে দিয়ে ,
আমাকে অভয় দিয়ে যিনি হাঁটা শিখিয়েছিলেন ,
সেই মানুষটা কিন্তু আর কেউ নয়
সেই মানুষটা হলেন বাবা ৷
যদিওবা বয়স বাড়ার সাথে সাথে
সেই ছোট্ট আমি আজ হাঁটতে হাঁটতে
দৌড়াতে শিখেছি ,
কিন্তু !
যার অভয়বাণী আর সাহসে আজ চলতে শিখেছি
সেই মানুষটার প্রতি পিছু ফিরে যে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবো
তা কিন্তু কখনোই করা হয়নি ,
বরং আমার অতিরিক্ত দুরন্তপনার জন্য যখন তিনি রুষ্ট হতেন , তখন ভাবতাম !
পৃথিবীতে যদি একটাও খারাপ মানুষ থাকে
তাহলে তিনি আর কেউ নন তিনি আমার বাবা ৷
এই খারাপ মানুষটাই যে আমার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী তখন কিন্তু বুঝিনি ,
বুঝিনি সেই মানুষটা কেনো আমার কাছে খারাপ হয়েছিলেন ?
কারনটা আজ বুঝি ,
তা হলো , আমি যেন ভালোভাবে চলতে শিখি ।
পড়ালেখার জন্য তার হাতে মার খেয়েছি আর ভেবেছি ,
যে মানুষটা নিজের সন্তানের উপর এতটা নির্দয় হয় সেই মানুষটা বাবা হয় কেমনে করে?
হয়তোবা তখন বুঝিনি কিম্বা খেয়াল করিনি,
তবে আজ কিন্তু আমি নিশ্চিত যে
যখনমার খেয়ে যখন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমাতাম
তখন তিনি নিঃশব্দে নিশ্চয় আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন ।
মমতাময়ী মা হলেন আমার জন্মদাত্রী ৷
কিন্তু আমার অন্ন ,বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা সহ
ভালোভাবে বড় হয়ে উঠার সকল পরিবেশ যিনি তৈরি করে দিয়েছেন
তিনি কিন্তু আর কেউ নয় তিনিই হলেন বাবা।
বাসায় গিয়ে কি খাব? টিউশন ফি কে দেবে?
বাসা ভাড়া কিভাবে দিতে হয় ?
এই সব নিয়ে আমাকে কখনো চিন্তাই করতে হয়নি ৷
তখন আমার চিন্তা চেতনায় ছিল
হিউস কেন ইনজুরিতে ?
কে সেরা ?
মেসি নাকি রোনালদো ?
আচ্ছা বিশ্বকাপটা সন্ধ্যায় হলে কি হতো ?
শুধু এটুকুই না ?
যখন কলেজে পড়তাম বাবার সাথে সেই সময়ও মতের অমিল হতো ,
আর তখন ভাবতাম ,
আমার এই খারাপ বাবা অসুস্থ হয় না কেনো ?
আজ বুঝি , বাবারা অসুস্থ হওয়া মানে কি ?
বাবা না থাকালে কি হবে ?
বাবারা হলেন মাথার উপর ছাদের মতো
যার মাথার উপরে সেই ছাদটা নেই সেই জানে এর মর্মার্থ কি ?
বাবারা হলেন অদৃশ্য একটা দেয়াল
যার কাজ সকল প্রতিকুলতাতেই সন্তানকে আগলে রাখা
তিনি না থাকলে হয়তোবা অনেক আগেই
আমি ভেঙ্গেচুড়ে গুঁড়িয়ে রাস্তায় মিশে যেতাম ৷

"প্রাণ নাথ"
- নাসরিন আক্তার

নির্জন মল্লিকার বনে
নিশির কালিমার মাঝে আলোকিত
শশী
পুলোকিত মন ঝিউরের স্বর শ্রবণ করিছে
একা
খনীকের জন্য যদি এই মন
পায় প্রভুর দেখা।

পূজো করিয়া বরণ করিব
পদ্ম দিয়া আসন গড়িব
যাহা মারার আজি মরিব
করিলাম এই পণ।

প্রদীপ খানি ক্ষণিক জ্বালিবে
এই দাহ কে পুড়াইয়া মারিবে
অতীত কে ভুলাইয়া রাখিবে
এইত মিলন ক্ষণ।

কল্প হইতে জাগিয়া উঠিব
নিজেই নিজের ভর্ৎসনা করিন
কল্প কে ভাঙিব -গড়িব
এইত খেলার শণ।

খেলিতে খেলিতে রাত্রি কাটিবে
সূর্যি দিবে উঁকি
প্রাণ নাথ আমায় বিদায় জানিয়ে
করিবে আমায় দুঃখি।।

"জন্মভু‌মি"
***রহমান মাসুদ***

মাতৃগর্ভ থে‌কে জন্ম নি‌য়েই
কেঁ‌দে‌ ছিলাম তোমা‌কে দে‌খে,
সে অশ্রুধারা নয়‌তো বেদনার
তা ‌ছিল তোমা‌কে পাওয়ার সু‌খে।
মুক্ত বাতাস গ্রহন হ‌লো প্রাণ ভ‌রে
মাতৃদুগ্ধ পান ক‌রে‌ছিলাম অতঃপ‌রে,
জন্মমাতা ও তোমারই ‌প্রিয় কো‌লে
শিশুকাল কে‌টে‌ছে তৃ‌প্তির ঘো‌রে।

কৈশ‌োর-‌যৌব‌নে বিদ্যা শিক্ষা গ্রহন
তোমা‌কে নয়ন ভ‌রে অবলোকন,
জ্ঞান আহর‌নে তব বু‌কে বিচরন
মানব কল্যা‌ণ সাধ‌নের নি‌য়ে পণ।
শিক্ষা শে‌ষে কর্ম জীব‌নের হাতছা‌নি
জীবন সংগ্রা‌মের গুরু দ‌া‌য়িত্ব বহন
সফলতা-ব্যর্থতা-সুখ-দুঃ‌খের ক্ষ‌ণে
তু‌মিই দি‌য়ে‌ছো স‌ত্যের সন্ধান প্রা‌ণে।

ব‌য়সের ভা‌রে কর্ম জীব‌নে অবসর
চির বিদায় নি‌য়ে‌ছে কত আপন-পর,
স্মৃ‌তির সাগ‌রে প্র‌তি‌নিয়ত চ‌লে সাতার
তোমার প্রকৃ‌তিতে বৃদ্ধ ম‌নের আহার।
অচি‌রেই তোমা‌কে যে‌তে হ‌বে ছে‌ড়ে ‌
সে বি‌চ্ছে‌দ বেদনায় হৃদয় যা‌চ্ছে পু‌ড়ে,
তবুও খুঁজি সান্তনা,আত্না যা‌বে ছে‌ড়ে
দেহটা র‌বে "প্রিয় তোমা‌র" মা‌টির ঘ‌রে।

খুঁজে যাই
ইরাবতী মণ্ডল

প্রতিদিন সকালে, খবরের কাগজের; 'নিরুদ্দেশ
সংবাদ' পৃষ্ঠায় চোখটা আটকে যায়।নানান
সংবাদের ভিড়ে ,আমি ও খুঁজে ফিরি ;আমার
হারিয়ে যাওয়া কিছু মুহূর্ত।
মনে পড়ে অনেক ছোটোবেলা ,দাদাদের
সাথে ,স্কুলে যাবার বায়না করতাম। মেজদা,
আমায় সঙ্গে করে স্কুলে নিয়ে গিয়ে ;ছোটো
ওয়ান -এর ক্লাশে ,তালপাতার চাটাই পেতে
বসিয়ে দিতো। ক্লাশ ফোরে পড়া ছোট্ দা আর মেজদা ,হাই বেঞ্চিতে বসতো।আমি কিন্তু
প্রতিদিন আমার চাটাই ছেড়ে মেজদার পাশে
হাই বেঞ্চিতে বসে ঘুমিয়ে পড়তাম।
আবার যখনএকটু বড়ো হয়ে ,স্কুলে যেতে চাইতাম না , তখন বাবা আমায়,
একটা ছড়ি হাতে ;পেটাতে পেটাতে স্কুলে বসিয়ে
দিয়ে আসতো। কিন্তু বাবা তো জানতো না, যে
বাবা চলে যেতেই আমি; স্কুল থেকে বেরিয়ে ;
রাস্তার পাশে এক ,ঝোঁপের ধারে বসে থাকতাম।
আর স্কুল ছুটি হলে ,অন্যান্যদের সাথে বাড়ি ও
চলে আসতাম।
আরো আরো কত স্মৃতি জমা মনের মণি
কোঠায়। মনে পড়ে স্কুলের পথের ধারে, সেই
লাজুক ছেলেটির লাজুক দৃষ্টি।কোনো দিন ই
সে মনের কথা বলতে পারেনি। তবু তার সেই
লাজুক দৃষ্টি, আজো আমায় অনুসরণ করে
ফেরে।
অঘ্রাণ মাসের রোববারের সকাল ,গোবর
দিয়ে নিকোনো উঠোন; আর তার মাঝে কলমী
ফুল ,আর গেঁটে দুব্বো দিয়ে ইতুপুজোর ঘট
সাজিয়ে মেয়েদের ব্রত-;---আমায় আকুল করে
ডাকে।বার বার খুঁজি আমি সেই দিন গুলো।
হারিয়ে গেছে অনেক স্মৃতি। জমাট
ধুলোর নীচে, চাপা পড়ে আছে তারা। মাঝে মাঝে
সেই ধুলো ঝেড়ে ,স্মৃতির পৃষ্ঠাগুলোর পাতা
ওল্টাই। খুঁজে ফিরি হারানো মণি মানিক্য।
নিরুদ্দেশের পৃষ্ঠায় যদি তাদের ফিরে পাওয়া
যায়, তাই সেখানেও একবার চোখ বুলিয়ে নি।

কোলকাতা। পশ্চিম বঙ্গ

23.01.2017





      "যান‌যট"
***রহমান মাসুদ***


রাস্তায় যানজট
চলাচ‌লে সং‌কট,
ড্রাইভা‌র চটপট
ট্রা‌ফি‌কের কটমট।


সম‌য়ের অপচয়
বিলম্বের ভয়,
ধোঁয়া বিষাক্তময়
ফুসফু‌সের ক্ষয়।


যানবাহ‌নের দলবল
স্হ‌বির চলাচল,
গরমের ফলাফল
ঘামার্ত অনর্গল।


যান‌জটের ত্রাস
এ্যাম্বু‌লেন্সও নিরাশ,
মর‌নেরই ফাঁস
রো‌গী‌দের দীর্ঘশ্বাস।


বৃদ্ধরা অসন্তুষ্ট
বাচ্চা‌দের কষ্ট,
সাজগোজ নষ্ট
ম‌হিলারা রুষ্ট।


প্রে‌মি‌কের জু‌টি
ব্যস্ততার ছু‌টি,
সময় ফাটাফা‌টি
প্রেমালা‌প‌ে লুটোপু‌টি।


ভিখারীর বিচরণ
ক্ষ‌ণেক্ষ‌ণে আক্রমন,
টাকার আহরণ
আন‌ন্দিত মন।


ফে‌রিওয়ালা ব্যস্ত
ব্যবসায় ন্যস্ত,
বেচা‌কেনায় আশ্বস্ত
লাভবান মস্ত।


অনে‌কের সর্বনাশ
ক‌ষ্টের নিশ্বাস,
কাহা‌রো পৌষমাস
বাঁচারই অবকাশ।।







কেমন আছ অদ্রিজা ?
তোমাকে আজ বড্ডো অচেনা লাগছে
রোদ খেলে যাচ্ছে তোমার ঐ মুখশ্রীতে
মন ভোলানো হাসি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
তোমার গোলাপী ঠোঁটের বারান্দাতে ৷
দুঃখের ভীড় আজ চোখের আঙিনায়
তাইতো শূন্যতায় তোমার দৃষ্টি হারায়
স্বপ্নেরাও হয়তোবা সেথা পথ হারায়
আর আমি তোমায় চেনার অপেক্ষায় ৷
অদ্রিজা ,
হাতে হাত রেখে পাশাপাশি আছি বসে
তবুও যোযন দুরে মনে হচ্ছে তোমাকে
যেই আমার স্পর্শে তুমি পুলকিত হতে
সেই স্পর্শে আজ তুমি চমকে উঠলে ৷
কি এমন কোন ভিতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
তোমার মনের ঐ অলিগলিতে বলবে ?
ইদানীং যেনো গুটিয়ে নিচ্ছ নিজেকে
আমার স্পর্শ আর ভালোবাসা থেকে ৷
অদ্রিজা ,
তুমি কি পালাতে চাইছো আমার থেকে
যেতে চাইলে বাধা দেবোনা তোমাকে
জানি একদিন ঠিকই ফিরে আসবে
আমার মনের সেই চিরচেনা গোলিতে ৷

““ তোমা বিনে অমিল আমাতেই ””
-----/ সালামিন ইসলাম সালমান

তুমি ছাড়া এখানে আমাকে মানায় না,
কি জানি এক শূণ্যতা আসে গভীরতা থেকে গভীরে।
সেখানে হাত বুলিয়ে স্মৃতিদের শরীরকে উষ্ণ করে তুলি-
যেখানে ঝরা পাতারা গল্পের আঁচল পেতে উপহাসে
মাতে মুঠো মুঠো কষ্টের চেহারা মাড়িয়ে।
আমাকে বেমানান লাগে ওই সোনা লতায় মোড়ানো-
বেদনা গাছটার আশে পাশে !!



দু’ফোটা আনন্দাশ্রু দেখতে দেখতে তবু যেন অবাক হই,
শান্তির কামরায় কপোত-কপোতীর প্রেম বিতরনে মনে হয়
ভ্রষ্টের সৃষ্ট হাটখোলায় আমি এক বিষের খরিদ্দার।
মরুর বায়ুতে তোমার প্রশ্বাস ফেলেছো অবজ্ঞা করে
অনিচ্ছায় রেখেছো ভূবন ভরা ফালি ফালি হাসি,
ফলন্ত ব্যথার বাগানে ছলাময়ীর কীর্তিতে হিম হয়ে ঝরেছি
দেহের গহীনে ভুতুড়ে মনটা নিস্তব্ধ শান্ত নিমীলিত-
শূণ্য মনে হয়,
তেজে ওঠা সুখের ঢেউয়ে ছেঁড়া মেঘের মত- আমাকে মানায় না !!

দূরন্ত সকাল থেকে শুরু করে ক্লান্ত বিকেল বেলায়,
সূর্যসাগরতীরে থোঁকা থোঁকা মনোবীজ পুঁতেছি বৃথায়।

ময়লা রুমাল অার নষ্ট টি-শার্ট আমাকে দেখে ব্যথিত হয়
ওদের শরীরে সুক্ষ্ণ চোখে দৃষ্টি রাখি, কোথায়---
যেন তোমার কোমল হাতের স্পর্শ লেগে আছে !!
উচ্ছৃঙ্খল প্রবাহের মতো ফুরফুরে আগুনের থান
মনের আবেশে জড়িয়েছি ক্রান্ত ইতিহাসের মলাটে,
কাঁচিছাটা শিৎকারে অমিলতা মানিয়ে যায় তোমাকে জড়িয়ে
যতসব মিথ্যে স্মৃতির ডালায়।

নিজের এলোমেলো হাসি খুশিতে, আমোদ-আস্বাদে
ঝাপসায় একাকীত্ব বেদনার ধুলোরাশির ফুটপাতে-
নিজেকে মেলানোর জন্য জীবনের বীজগণিত নিয়ে বসেছি।

তবুও সব মূঢ়তার দিনগুলো নিজেকে মনে করিয়ে দেয়
এ জটিল অঙ্ক মেলানোর উদ্যানে তোমাকে মানায় না।


"যান‌যট"



***রহমান মাসুদ***


রাস্তায় যানজট
চলাচ‌লে সং‌কট,
ড্রাইভা‌র চটপট
ট্রা‌ফি‌কের কটমট।


সম‌য়ের অপচয়
বিলম্বের ভয়,
ধোঁয়া বিষাক্তময়
ফুসফু‌সের ক্ষয়।


যানবাহ‌নের দলবল
স্হ‌বির চলাচল,
গরমের ফলাফল
ঘামার্ত অনর্গল।


যান‌জটের ত্রাস
এ্যাম্বু‌লেন্সও নিরাশ,
মর‌নেরই ফাঁস
রো‌গী‌দের দীর্ঘশ্বাস।


বৃদ্ধরা অসন্তুষ্ট
বাচ্চা‌দের কষ্ট,
সাজগোজ নষ্ট
ম‌হিলারা রুষ্ট।


প্রে‌মি‌কের জু‌টি
ব্যস্ততার ছু‌টি,
সময় ফাটাফা‌টি
প্রেমালা‌প‌ে লুটোপু‌টি।


ভিখারীর বিচরণ
ক্ষ‌ণেক্ষ‌ণে আক্রমন,
টাকার আহরণ
আন‌ন্দিত মন।


ফে‌রিওয়ালা ব্যস্ত
ব্যবসায় ন্যস্ত,
বেচা‌কেনায় আশ্বস্ত
লাভবান মস্ত।


অনে‌কের সর্বনাশ
ক‌ষ্টের নিশ্বাস,
কাহা‌রো পৌষমাস
বাঁচারই অবকাশ।।





রোদ মামা

জুলফিকার আলী

শীত এলো যে গাঁয়ে গাঁয়ে
এবং দুঃখীর কুটিরে,
কুয়াশাতে ঢাকা সবই
রোদ মামা নেয় ছুটিরে|

হালকা রোদে নীল গগনে
হিম-কুয়াশা ফিকে,
কোথায় পাবো তেজী সে রোদ
খুঁজি চারিদিকে|

রোদমামা কি রাগ করেছে
তাই ওঠে দেরীতে,
ঘুম ভাঙ্গে না সকালবেলা
তারই আলসেমিতে|

রোদমামা দুর্নীতি করে
ডিউটি করে হাফ,
শীতকালে অর্ধদিবস
দেয় জমিনে তাপ|

নতুন বই
জুলফিকার আলী

নতুন ক্লাসে উঠল খোকা
পেল নতুন বই,
নতুন বইয়ের ঘ্রাণে ঘ্রাণে
লাগল দোলা খোকার প্রাণে
রাখবো খুশি কই?
চর্তুদিকে পড়ল যে হইচই|

নতুন বছর নতুন ক্লাস
নতুন বন্ধু পেলাম,
বইয়ের পাতা উল্টিয়ে যে
দেখল আঁকা ফুল-টিয়ে যে
জানিয়ে যে সেলাম-
পড়ায় মেতে গেলাম|

"‌ডি‌জিটাল বন‌ভোজন"
***রহমান মাসুদ***

নুরু পু‌সি আয়শা স‌ফি সবাই এসে‌ছে
ছে‌লেবেলার ক‌বিতা‌টির বন‌ভোজ‌নে,
আজ তারা লজ্জা পা‌বে থাক‌লে ভুব‌নে
ডি‌জিটাল বন‌ভোজ‌নের কার্যকলা‌পে।

নি‌জ হা‌তে নয়‌তো রান্না নেই কোন কাজ
বাবু সে‌জে ঘোরাঘু‌রি বন‌ভোজ‌নে আজ,
চেয়ার টে‌বিল ডে‌কো‌রেটারে সব আস্হা
বাবু‌র্চির হা‌তে রান্না করার সকল ব্যবস্হা।

আগের দি‌নের বা‌সি রান্না হয় স্হানান্তর
শীতকা‌লে তা নষ্ট হওয়ার নেই ভয় ডর,
ব্য‌ক্তিগত গা‌ড়ি হা‌কি‌য়ে গন্ত‌ব্যেতে যাওয়া
অনুদা‌নে সেরা হ‌লে প্রধান অতিথি হওয়া।

রেফেল ড্র-হাউ‌জি-তিন কা‌র্ডের চ‌লে খেলা
গন্য মান্য‌দের পুরস্কা‌রে ক‌মি‌টি দিল‌খোলা,
মর্ডান গান-বাজনা-না‌চের কতইনা উৎসব
টাকায় ভাড়া‌টিয়া শিল্পীতে হ‌চ্ছে তা সম্ভব। ‌

নি‌জের কাজ-প্র‌তিভার কর‌ছে না বিকাশ
শহু‌রেরা পা‌চ্ছে শুধু মুক্ত খোলা আকাশ,
চাদা দি‌য়ে অতিথী সে‌জে যাওয়া-আসা
সবার মা‌ঝে অভিনয়ের মে‌কি ভালবাসা।

রি‌সোট-‌কো‌টেজ মা‌লিকদের পোয়াবা‌রো
ভাড়া বৃ‌দ্ধির সু‌যোগ নি‌চ্ছে তারা আরো,
ফেরার প‌থে যান‌য‌টে খারাপ ক‌রে মন
ষোলকলায় পূর্ন "ডি‌জিটাল বন‌ভোজন"।

|| জীবন রেখা ||
_ মিন্টু উপাধ্যায়
এ জীবন ছিন্নপত্রের মতো
কভু যাব ঝরে ।
কোন দাম নাহি মোর
পৃথিবীর তরে।
মৃত্যুর পথদ্বারে দাঁরিয়ে আমি
দেখতে পাই মৃত্যুর করাল হাতছানি।
মায়ার বাঁধন বাঁধতে চাহিনা
এ জীবন বৃথা, নেই কোন ঠিকানা।
এ জ্বালা এ যন্ত্রণা জানবে না কেউ
ধীরে ধীরে চলে যাব মৃত্যুর ওপারে।
দুঃখ, বেদনা নিয়ে থাকতে চাই একা
নিঃসঙ্গতা দেবে তার করাল ছায়া বিছিয়ে।
হায় মৃত্যু, মৃত্যুই আমার কামনা
মৃত্যু ? হ্যা, মৃত্যুই আমার বাসনা।।

#আধুনিকা                নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী                     আজকের সমাজের সাথে তাল মেলাতে গেলে মা ,ঠাকুমার ধ্যান,ধারণাগুলিকে বিসর্জন দিয়ে চলতে হয় | আজকের যুগের ছেলেমেয়েদের কাছে ওগুলো কুসংস্কার নামকরণে ভূষিত   | কিন্তু তাদের কিছু  ধ্যান ,ধারণা সুজাতার কাছে কুসংস্কার  মনে হলেও পারতঃপক্ষে সুজাতা তাদের সামনে সেগুলিকে মেনে চলতো | বাবাহারা এম .এ . করা শিক্ষিত ,সুন্দরী ,আধুনিকা সুজাতার এই বিশাল পৃথিবীতে মা আর ঠাকুমা ছাড়া আর কেউ নেই |অতি আধুনিকা  হওয়া সত্বেও মা ,ঠাকুমার সামনে তাদের সংস্কারকে সে মেনেই চলতো | তারা মনে আঘাত পান এমন কোনো কাজই সে করতো না | কারণ তাদেরও যে সে ছাড়া আর কেউ নেই |                   কিন্তু বাইরে তার অন্যরূপ | আজীবন কো .এডে .পড়া সুজাতা অনেক ছেলের সংস্পর্শে এসেছে | সুতরাং অসভ্য ,অভব্য ছেলেদের কিভাবে শায়েস্তা করতে হয় এটা তার নখদর্পনে | প্রফেসর সুজাতাকে সহকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীরা রাগী বলেই জানে | ক্লাস ছাড়া অফিসরুমে অধিকাংশ সময়ে বই এ  মুখ গুজেই থাকে | মহিলা সহকর্মীদের মধ্যে অনেকে আবার অহংকারীও বলে থাকেন  | তাতে অবশ্য সুজাতার কিছু যায় আসেনা | এককান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয় | শুধু একটা ব্যাপারেই সে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে -আর সেটা হচ্ছে কুসংস্কার | সহকর্মীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা এতো লেখাপড়া শিখেও কুসংস্কার আচ্ছন্ন | তখন সে তার যুক্তিতর্ক দিয়ে বুঝিয়ে দেয় ,বহুদিন ধরে চলে আসা এটা একটা 'মিথ' | সে তাদের বোঝাতে সক্ষম হয় -প্রতিটা দেশেই সংস্কার আছে এটা ভালো ,কিন্তু কুসংস্কার দেশ ,জাতী ও ব্যক্তির পক্ষে ক্ষতিকর | তারমধ্যেও কিছু সংস্কার আছে যেগুলি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে নিয়ে গেলে জীবনযাত্রার পক্ষে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় | সেই সংস্কারও কুসংস্কারের নামান্তর | এসব যুক্তিতর্ক শুনেসুজাতার আড়ালে আবডালে অনেকেই বলাবলি করে  সব কিছুতেই সে স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কাটে  |   সুজাতার ঠাকুমার মৃত্যুর পর তার সহকর্মীরা ঠাকুমার শ্রাদ্ধবাসরে এসে পুরোহিতের সকল কথা নিষ্ঠাভরে পালন করতে দেখে তাদের বিস্ফোরিত নেত্র তার নেত্রঅগোচর থাকেনা | তাই পরবর্তীকালে সে কলেজে এসে তার কারণও ব্যাখ্যা করে তাদের কাছে | যতই সে লেখাপড়া শিখুকনা কেন ,যতই সে আধুনিক হোকনা কেন - কোনো অবস্থাতেই মায়ের ধ্যান ,ধারণাকে অগ্রাহ্য করে তাঁকে সে আঘাত দিতে পারেনা | চলনে ,বলনে সে যতই আধুনিক হোকনা কেন কিছু পুরানো লোকাচার আর বাঙালি সংস্কৃতিকে বিসর্জন দিয়ে নয় |   বেশ কয়েক বছর পর ---------------------------                   এহেন সুজাতার জীবনেও প্রেম আসে | তারই সহকর্মী সুবিনয়কে দেখে তার খুব ভালো লাগে কিংবা ভালোবেসেও ফেলে | সুবিনয় নারী স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে বলতে একদিন তাকে বলেছিলো ,"আজকের সমাজে মেয়েরা আধুনিকা হতে যেয়ে ভুলে যাচ্ছে লাজলজ্জা - আধুনিকা হতে চাইছে তারা পোশাকে ; মন ও মানষিকতায় নয় - ভুলে যাচ্ছে বাঙ্গালী ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি | আধুনিকা হতে যেয়ে হয়ে পড়ছে স্বেচ্ছাচারী | ধুমপান ,মদ আর পুরুষ বন্ধুর সাথে হৈহৈ করে বেড়ানোটাই আধুনিকতা নয় | "কথাগুলি সুজাতার মনকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো |                          বছর খানেকের মধ্যেই দুজনের মন দেওয়া নেওয়ার ঘটনাটা জানাজানি হয়ে যায় |আঁড়ালে  আবডালে এনিয়ে কানাঘুষোও চলে | মা গত হয়েছেন সুজাতার বছর দু'য়েক হবে | সুতরাং এখন বিয়েটা করে ফেললে এই কানাঘুষোটা বন্ধ হবে | কথাহয় এখান  থেকে অন্যত্র বদলী হয়ে তারা মন্দিরে বিয়েটা সারবে | দু'জনেই বদলীর চেষ্টা করতে থাকে | কিন্তু আগে সুজাতার অর্ডার লেটারটা আসে | কোয়াটারও পেয়ে যায় | সুজাতা জামশেদপুর চলে যায় | মাস দুয়েকের মধ্যে সুবিনয়ও বদলীর চিঠি পেয়ে যায় | তারা ঠিক করে কালীঘাট মন্দিরেই বিয়েটা সারবে | ছেলেবেলায় মা ,বাবাকে হারিয়ে ঠাকুমার কাছেই মানুষ সে | সেই ঠাকুমাও বেশ কয়েক বছর হলো তাকে ছেড়ে চলে গেছেন | বিয়ের আগেরদিন সুবিনয় সুজাতার কাছে চলে যায় ;পরদিন তাকে নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে আসার জন্য | কলকাতা আসার জন্য সুজাতা একটা গাড়ি ভাড়া করে | অনেক রাত অবধি তারা গল্পগুজব ও ভবিৎসৎ পরিকল্পনায় তারা হাওয়ায় ভাসতে থাকে | কেউই ঘুমায় না বললেই হয় | খুব ভোরেই তারা বেড়িয়ে পরে | কিন্তু অকস্যাৎ আসে সেই দুর্যোগ মুহুর্ত | ভোরের রাস্তায় লড়ির সাথে তাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্স | ঘটনাস্থলেই সুবিনয়ের মৃত্যু | সুজাতার সামান্য চোট | ভেঙ্গে যায় জীবনের সব স্বপ্ন | অসহায় ,পাগলিনী প্রায়  সুজাতা অব্যক্ত যন্ত্রনায় নিজেকে মাসখানেক ঘরবন্দি করে রাখে | পনেরদিন তার ছুটি নেওয়াই ছিলো - আরও পনেরদিন সে ছুটি বাড়ায় |  এরই মাঝে খাবারের প্রতি অনীহা ,দুর্বল লাগা ,মাঝেমাঝে মাথা ঘুরানো - সুজাতার বুঝতে বাকী থাকেনা তার জীবনে কি ঘটতে চলেছে | সে প্রেগন্যান্সি প্লেট এনে জানতে পারে তার আশঙ্খায় সত্যি ,সে মা হতে চলেছে | সুবিনয় চলে যাওয়ার আগের রাতে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী দু'টি নরনারী তাদের ভালোবাসায় এক ও অভিন্ন হয়ে গেছিলো |কিন্তু সুজাতা তার অনাগত সন্তানকে ভ্রূনেই হত্যা করতে পারেনি | ঈশ্বরের দূত হিসাবে তার বেঁচে থাকার রসদ মনেকরে তার গর্ভেই তিলতিল করে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয় | আধুনিকা  সুজাতার থেকে অনাগত সন্তানের মা সুজাতা হয়ে ওঠে সে | এখানে সেই সংস্কার ,কুসংস্কার ,শিক্ষাদীক্ষা ,আধুনিক মনস্কতা - সবকিছুই চাপা পরে যায় তার মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণের কাছে |

নন্দা   1.1.17

"হা‌সি কান্নার শীতকাল"
***রহমান মাসুদ***

কনক‌নে শীত তীব্র হি‌মেল হাওয়া
প্রকৃ‌তি‌র গায়ে ঘন কুয়াশার ধোঁয়া,
তাই যা‌চ্ছে না সূ‌র্যের সন্ধান পাওয়া
মন শুধু চায় উষ্ণতার একটু ছোঁয়া।

সারাদে‌শের বিত্তবান বি‌ত্তের জো‌রে
ভ্রম‌নের এই সুসম‌য়ে আন‌ন্দে ঘো‌রে,
বন ভোজ‌নের শত প্রস্তু‌তি শহর জু‌ড়ে
পিঠা তৈরীর উৎসব চল‌ছে ঘ‌রেঘ‌রে ।

দে‌শের নিম্ন‌বিত্ত ছিন্নমূল জন‌গো‌ষ্ঠি
প্রচন্ড শী‌তের তীব্রতায় অসহায় দৃ‌ষ্টি,
রু‌জি-রু‌টি বন্ধ হ‌লো একি অনাসৃ‌ষ্টি
স্হ‌বির জীবনযাত্রায় ম‌নে অসন্তু‌ষ্টি।

প্র‌য়োজনীয় শী‌তের পে‌াষাক সংকট
কাঁ‌পে হাড় অসহনীয় শী‌তের দাপট,
জী‌বিকার তা‌গি‌দেও যায় না যাওয়া
হ‌চ্ছেন‌া দি‌নের কামাই দি‌নে খাওয়া।

শিশু ও ব‌য়োজ্যেষ্ঠ অসু‌খে অসুস্হ
এই ঋতু‌কে ভা‌বে ঝা‌মেলার মহাকষ্ট,
উষ্ণ তা‌পের জন্য হৃদ‌য়ের হাহাকার
সূর্য দর্শ‌ণের ত‌রে আকুল আবদার।

ধনী-দ‌রিদ্রের হা‌সি-কান্নার শীতকাল
জানি না কত দিন আর র‌বে বহাল,
"গ্লোবাল এফে‌ক্টে"র মহা ফাঁ‌দে প‌রে
বি‌শ্বের উষ্ণতা দিন‌দিন যা‌চ্ছে বে‌ড়ে।

সময়ের ব্যবধানে
বিবেকহীন হয়েছে মানুষ
ভুলে গেছে আজ সবাই সত্য বলা
এখন সবাই দেয় শুধুই সমেবদনা,
কারো মনে নেই কোন আফসোস,
অবশিষ্ট আছে এখন শুধুই সান্তনা।
শহীদের কবরে পরে কাঁদে তার শিশু
মা কাঁদে,কাঁদে তার প্রিয়তম স্ত্রী।
শহীদ যারা তারা হয়ে গেছে
এখন শুধুই স্মৃতি।
হার মেনেছি আমরা আজ সময়ের হাতে
আজ আমরা শুধুই হতবাক,
আজ কারোরই নেই কিছু বলবার।
মনে মনে আজ শুধু এই বলি
আমরা তো এমনি।

মন মতো মন চাই,মন কারিগর
গড়বে সুন্দর করে, বাঁধবো যে ঘর।
হেসে কয় কারিগর, বসো বাছা ধন
গড়ে দিব তোমা হায়,সুন্দর মন।
আকাশ বাতাস চোখে,ঘুর পাক খায়
এতদিন পরে যেন,মন মিলে যায়।
খুশিতে মন আমার,নেচে নেচে ওঠে
শরীরের শিহরণ, জেগে জেগে ওঠে।

মন সব সুন্দর,গড়ে কারিগর
আচরণে যদি নিজে, হও হুশিয়ার।
বন্ধ করো পাপাচারি, হিংসা মিথ্যা খেলা
দূর করে ফেল সব,মনের ময়লা।
তাহলে সুন্দর হবে,মানুষের মন
উত্তর শুনে আমার,ভরে দু'নয়ন।

দেবী*.                                                                           - চোখ ভর্তি জল নিয়ে ঝুমার ছবিতে মালা পড়াতে পড়াতে অয়ন ফিরে গেলো সাতাশ বছর আগের দিনগুলিতে / আজ ঝুমা আর অয়নের ছেলের বিয়ে / বিসমিল্লা খানের সানাই এর সুর বেজে চলেছে / বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন ,পাড়া প্রতিবেশী / সাতাশ বছর আগে ঠিক এই রূপ একটি দিনে অয়ন ছিলো উদ্ভ্রান্ত ,বিয়েতে তার মোটেই মত ছিলো না / বিয়ে করার কোনো অধিকার তার ছিলো না / মাত্র সতের বছর বয়সে তার একটা বড় এক্সিডেন্ট হয় / কিডনির চার ইঞ্চি নীচু থেকে হাড় ভেঙ্গে চৌচুর  / বাঁচার কোনো সম্ভবনা ছিলো না /প্রায় ছয় মাস  ডাক্তারদের অক্লান্ত চেষ্টায় সে উঠে বসতে পাড়ে / ছোট একটা শিশু যে ভাবে হাটা শেখে ঠিক সেই ভাবে সে আস্তে আসতে একটু একটু করে নুতন ভাবে হাটা শিখতে লাগলো / যেনো নুতন জীবন সে ফিরে পেলো / কিন্তু যে যা হারিয়ে ফেললো তা একটা পুরুষ মানুষ হয়ে বেচে থাকার অর্থ তাই হারিয়ে গেলো / জীবনের সব আশা ,আকাংখা সব কিছু ধুলিসাৎ হয়ে গেলো / সুস্থ্য হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সে বুঝতে পারলো কোনো নারীকে শারীরিক ভাবে খুশি করার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলেছে / অনেক ডাক্তার সে দেখিয়েছে ; কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ঈশ্বর তার সাথে নিষ্ঠুর পরিহাস করেছেন / অগত্যা তাকে এটা মেনে নিতেই হয়েছে / কিন্তু মা ,বাবাকে সে তার এই দু:ভাগ্যের কথা জানাতে পারে নি ; কারণ তাদের একমাত্র সন্তান সে / দিন গড়িয়ে চলে / নিজের কষ্ট বুকে চেপে সে ও এগিয়ে চলে / অল্প বয়সেই সে ব্যাঙ্কে চাকরি ও জুঠিয়ে ফেলে / এবার মা ,বাবা চেষ্টা করতে থাকেন তার বিয়ে দেওয়ার / অয়নের মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ে / তারা নাছোরবান্দা / পাত্রী দেখে পছন্দ ও করে ফেলেন / .                           (                                                          অয়ন অনেকবার ঝুমার সাথে দেখা করার চেষ্টা করে বিফল হয়েছে / রক্ষনশীল পরিবারের মেয়ে ,ঝুমার বাপের বাড়ির লোকেরা কিছুতেই বিয়ের আগে ছেলেমেয়ের দেখা সাক্ষাত কোরতে দেবেন না / তা হলে কি ঝুমার মা ,বাবাকে যেয়ে বুঝিয়ে বলবে ? কিন্তু তাহলে তো বাড়ির সকলে জেনে যাবে ,সুইসাইড কোরলে তো বাবা ,মা মরে যাবেন / অন্য কোনো পথ সে খুঁজে না পেয়ে ভিতরে ভিতরে ক্ষয় হয়ে যেতে লাগলো / তারপর সে ঠিক করলো - ফুলশয্যার রাতে সে ঝুমাকে বুঝিয়ে বলবে - নিরুপায় হোয়ে সে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে / আজ থেকেই সে মুক্ত / ঝুমা ইচ্ছা করলে সেই মুহুত্তেই সে শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করতে পারে / কেউ বাধা দিলে অয়ন নিজেই প্রাচীর হয়ে দাড়াবে / এই ছাড়া তার আর কোনো পথ খোলা নেই /.                                                                                                                                                                                    .  ঝুমা ও অয়নের বিয়ে হয়ে গেলো /বিয়ের দিন থেকেই ঝুমা লক্ষ্য করেছে ,অয়নের মুখে কোনো হাসি নেই /ভেবেছে হয়ত গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ সে /ফুলশয্যার রাতে অয়ন ঝুমাকে যা বলল ,ঝুমা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি বিধাতা তার সাথে নিষ্ঠুর খেলা খেলবেন !! ঝুমা বাকরুদ্ধ ! চোখ নীচু কোরে অয়নের সব কথা শোনার পর চোখ ভর্তি হয়ে গেল জলে / কিন্তু অয়ন যাতে সে জল দেখতে না পায় তার যথা সাধ্য চেষ্টা করে গেলো /অয়ন ঝুমাকে জানালো - যে সে কোনদিন ঝুমাকে শারীরিকভাবে সুখ দিতে পারবে না ; কারণ সে শারীরিকভাবেই অক্ষম /যা বাড়ির কেউ জানে না /আর এই কথাটিই বলার জন্য সে বার বার ঝুমার সাথে দেখা করতে চেয়েছে /সে ঝুমাকে আরও বলে ,"আমি অনেকবার ভেবেছি সুইসাইড করি ; কারণ একটা মেয়ের জীবন আমি নষ্ট করতে পারি না /কিন্তু পরমুহুত্তেই আমি আমার মা ,বাবার কথা ভেবেছি / আমি ছাড়া তাদের তো আর কেউ নেই / আমি তাদের কষ্ট দিতে পারিনি /বিশ্বাস করুন ,আমি কাউকেই কষ্ট দিতে পারিনা / আপনি যখন খুশি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারেন /কেউ আপনাকে বাধা দেবে না /আপনি কেনো নিজের                                                        জীবনটাকে নষ্ট কোরবেন ?আপনি সুন্দরী ,শিক্ষিতা - যে কোনো পুরুষ আপনাকে পছন্দ করবে / আপনাকে কাউকে কিছুই বলতে হবে না / যা বলার সবাইকে আমি বোলবো / আমার এই অক্ষমতার জন্য আমি হাত জোড় কোরে আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি /" ঝুমা নিথর ,শুধুমাত্র শ্বাস-প্রশ্বাসটাই তার চলছে / তার মনে হচ্ছে যেনো সে শুন্যে ভাসছে ?তার জীবনে এত বড় অভিশাপের কথা সে কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি / কতক্ষণ সে এভাবে বসে রয়েছে সে নিজেও জানে না / হঠ্য়াত বাইরে থেকে কথার আওয়াজে তার সম্বিত ফেরে /দেখে ঘরে অয়ন নেই / লাইট জ্বলছে / বুঝতে পারে ভোর হয়ে গেছে / তাড়াতাড়ি উঠে বিছানার ফুলগুলি সরিয়ে ,সুন্দর ভাবে বিছানাটাকে গুছিয়ে ,নিজের ফুলের সাজ খুলে ,স্নান করে ,চওড়া করে সিদুর পড়ে বাইরে বেড়িয়ে আসে /আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বন্ধু স্থানীয়রা তাকে চেপে ধরে ফুলশয্যার রাতের ঘটনা শোনার জন্য /এক এক জনের এক এক রকম প্রশ্নের উত্তরে ঝুমা                                                              লজ্জাবনত চোখে শুধু হেসে যায় আর এদিকে ওদিকে তাকিয়ে শুধু দেখে অয়ন আছে কিনা / অয়নকে কোথাও সে দেখতে পাচ্ছে না কিন্তু কাউকে জিগ্গেস কোরতেও সাহস পাচ্ছে না / সকাল গড়িয়ে দুপুর ,তখনও অয়নকে দেখতে না পেয়ে সে সত্যিই উতলা হয়ে পড়লো /তাহলে কি মানুষটা ---না না ...তা কি করে হয় ?কিন্তু কোথায় গেলো সে ? কাউকেই কিছু জিগ্গেস করতে পারছে না / নুতন বৌ - কেউ যদি কিছু মনে করে ? সন্ধ্যায় অয়ন ঘরে ফিরলো ; ঝুমা তখন একাই ছিলো ঘরে /অয়ন ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই ঝুমা উঠে দরজাটা বন্ধ করে দিলো / অয়নকে বললো ," আপনার সাথে আমার একটু কথা আছে "/ অয়ন বুঝতে পারলো ঝুমা তাকে কি বোলবে /সে চুপ কোরে যেয়ে খাটের উপর পা ঝুলিয়ে বসলো / কিন্তু অয়নকে অবাক করে দিয়ে ঝুমা অয়নের গা ঘেষে যেয়ে বোসে তাকে যা বললো অয়ন তার জন্য মোটেই সে প্রস্তূত ছিলো না / সে মুখে হাত চাপা দিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে লাগলো আর বলতে লাগলো ," না এ কিছুতেই হোতে পারে না /আমি আপনার জীবনটাকে কিছুতেই নষ্ট কোরতে পারিনা" /ঝুমা আরও একটু অয়নের কাছে এগিয়ে যেয়ে তার একটি হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বললো ," যে কথাটা এতদিন শুধু আপনি একাই জানতেন ; সেই কথাটা গতকাল থেকে শুধু আমি জানলাম / আমায় ছুয়ে কথা দিন ,আপনি কোনদিন কোনো অবস্থাতেই এই কথাটা আর কাউকেই বলবেন না / আর হ্যা -আমরা স্বামী ,স্ত্রী - পৃথিবীর কাছে এটাই আমাদের পরিচয় / তাই আপনি নয় ; আজ থেকে আমরা পরস্পরকে তুমি বলে কথা বোলবোতুমি যেমন তোমার ভাগ্যটাকে মেনে নিয়েছো ; আমিও ঠিক সেইরূপ আমার ভাগ্যটাকে মেনে নিলাম /এটা আমার ভাগ্যেই লেখা ছিলো / ভাগ্যের লেখা কি খন্ডন করা যায় ? আজ থেকে তুমি আর মুখ গোমড়া করে থাকবে না / স্বামী ,স্ত্রীর সম্পর্ক নাইবা থাকলো আমাদের মধ্যে ; আমরা তো ভালো বন্ধু হয়ে সুখে দুঃখে এক সাথে থাকতে পারবো সারা জীবন .."   " এ হতে পারে না .." অয়নের কথা শেষ হওয়ার আগেই ঝুমা হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে বলে ," ব্যস এই নিয়ে আর কথা হবে না / আমি তোমায় ছেড়ে যাবো বলে তো তোমার কাছে আসিনি / সারা জীবন আমি তোমার কাছেই থাকবো / একমাত্র মৃত্য ছাড়া আমি তোমাকে ছেড়ে যাবো না /" অয়ন ভাবে ঝুমা কি মানুষ ? নাকি দেবী ?ঝুমা কিছু আচ করতে পেরে বলে ,"অগ্নি স্বাক্ষী কোরে,মন্ত্রচচারনের মাধ্যমে তোমায় স্বামী হিসাবে গ্রহণ করেছি ,সারাজীবন একসাথে থাকার অঙ্গীকার করেছি ; আজ শুধুমাত্র নিজের সুখের জন্য দুই পরিবারের এই বন্ধন ,আমাদের বন্ধন - আমি কিছুতেই ছিন্ন কোরতে পারবো না / আমার শিক্ষা ,আমার মনুস্যত্বে এটা বাধা দিচ্ছে / আজ থেকে আমরা সারা জীবন বন্ধু হয়ে সুখে ,দুখে পস্পরের পাশে থাকবো /                                                                                                    এ ভাবে দিন দিন গড়িয়ে যেতে থাকে / অয়ন কখনই দেখেনি ঝুমাকে মন খারাপ করে থাকতে / সব সময় হাসি খুশি / তার যত্নের ও কোনো ত্রূটি সে রাখে না / যদিও অয়ন সব সময়ই নিষেধ করে কিন্তু ঝুমা শোনে না / সংসারের যাবতীয় কাজ একা হাতে সামলানো ,বৃদ্ধ শ্বশুর ,বৃদ্ধা শ্বাশুড়ির সেবা - যত্নের ও কোনো ত্রূটি সে রাখে না /অয়ন নিজেকে নিজে ক্ষমা কোরতে পারে না / সব সময় একটা অপরাধবোধে ভোগে / কিন্তু ঝুমাকে যখনই কিছু বলতে গেছে - ঝুমা ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছে /ঝুমা কোনদিন নিজের কষ্টের কথা কাউকেই কোনদিন বলেনি - এটা তার ছেলেবেলার থেকেই স্বভাব / তাই জীবনের এই চরম কষ্টটাও অতি কষ্ট করে নিজের বুকেই চেপে রাখে / ভাগ্যের পরিহাসকে অবলীলায় মেনে নেয় / নিজের অজান্তেই চোখে জল এসে পড়লে - পাছে কেউ দেখে ফেলে তাই সঙ্গে সঙ্গেই শাড়ির আচল দিয়ে মুছে ফেলে /                                                         এই ভাবে দু' বছর কেটে যায় / এবার ঝুমা ঠিক করে একটা বাচ্চা দত্তক নেবে / সে অয়নকে ডেকে এ কথা বলে / অয়ন এতে মোটেই আপত্তি করে না ; বরং খুশি হয় / ঝুমা অয়নকে আরও বলে যে সে বাড়িতে সবাইকে বোলবে সে গর্ভবতী / এখন থেকেই অয়ন চেষ্টা কোরবে অন্য কোথাও বদলী হওয়ার / আর এদিকে তারা চেষ্টা কোরতে থাকবে কোনো অনাথ আশ্রম থেকে সদ্যজাত কোনো শিশুকে দত্তক নেওয়ার জন্য / সে রকম খোজ পাওয়া গেলে তারা শিশুটিকে দত্তক নিয়ে তিন ,চার মাস পর থেকে আবার ও চেষ্টা করে পূনরায় কলকাতাতে ফিরে আসবে / অয়ন বলে ," এ সব কি সম্ভব ?"  " তুমি এখন থেকেই চেষ্টা কর ,দেখো সব অসম্ভব ই সম্ভব হবে "/                            .যেমন  ভাবা ঠিক তেমন কাজ /এবার ঝুমা ঠিক করে একটা বাচ্চা দত্তক নেবে / সে অয়নকে ডেকে এ কথা বলে / অয়ন এতে মোটেই আপত্তি করে না ; বরং খুশি হয় / ঝুমা অয়নকে আরও বলে যে সে বাড়িতে সবাইকে বোলবে সে গর্ভবতী / এখন থেকেই অয়ন চেষ্টা কোরবে অন্য কোথাও বদলী হওয়ার / আর এদিকে তারা চেষ্টা কোরতে থাকবে কোনো অনাথ আশ্রম থেকে সদ্যজাত কোনো শিশুকে দত্তক নেওয়ার জন্য / সে রকম খোজ পাওয়া গেলে তারা শিশুটিকে দত্তক নিয়ে তিন ,চার মাস পর থেকে আবার ও চেষ্টা করে পূনরায় কলকাতাতে ফিরে আসবে / অয়ন বলে ," এ সব কি সম্ভব ?"  " তুমি এখন থেকেই চেষ্টা কর ,দেখো সব অসম্ভব ই সম্ভব হবে "/                            .যেমন  ভাবা ঠিক তেমন কাজ / ঝুমা দুদিনের মাথায় শ্বাশুড়ি কে জানিয়ে দেয় যে সে গর্ভবতী / খুব খুশি হন তারা / অয়ন অনেক চেষ্টা করে তিন মাসের মাথায় বদলির অফার পায় /  এর ই মাঝে ঝুমা নানান জায়গার এতীমখানায় খোজ খবর নিতে শুরু করে ,দরখস্ত জমা দিতে লাগে / নিজে ঘরে থেকে অয়নের মাধ্যমে সে এই কাজগুলি কোরতে থাকে / প্রথম অবস্থায় শ্বাশুড়ি বৌমাকে অয়নের সাথে যেতে দিতে রাজী হয়নি / পরে অয়ন ই মাকে বুঝিয়ে বলে / তখন আর তিনি কোনো আপত্তি করেন না / ব্যাঙ্ক এ চাকুরিরত অয়ন বদলি নেয় এক অজ পাড়াগায়ে /ঈশ্বরের অপর কৃপায় তারা একটি পুত্র সন্তানকে দত্তক ও নিয়ে নেয় /শিশুটিকে কোনো এক অরফান চাইল্ড হোমের গেটের কাছে ফেলে দিয়ে যায় তার ই গর্ভধারিণীর হয়তো কোনো আত্মীয় / ঝুমারা যেখানে থাকে তার থেকে বেশ কিছুটা দূর ওই চাইল্ড হোম / কিন্তু নাছোরবান্দা ঝুমা রাতেই সেখানে পৌছে যেয়ে পরম মমতায় শিশুটিকে কোলে তুলে নেয় / আইনই কাগজ পত্র সই সাবুদ করে শিশুটিকে নিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরে আসে / শ্বাশুড়ি কে জানিয়েও দেয় তাদের একটি ছেলে হয়েছে / পরদিন থেকে শুরু হয় অয়নের আবার বদলির চেষ্টা / বছর খানেক দৌড়াদৌড়ি ,ছুটাছুটির পর আবার সে কলকাতায় বদলী হতে পারে /ঝুমা ও অয়নের ছেলে যে বছর মাধ্যমিক দেয় ; সে বছরই ঝুমার নিউমোনিয়া হয় /মাত্র চার দিনের জ্বরে ঝুমা তার অয়নকে ছেড়ে চলে যায় /ভালো নার্সিংহোম ,নামজাদা ডাক্তার কেউ তাকে বাঁচাতে পারে না / অয়ন মানুষ রূপি দেবীকে হারিয়ে প্রায় উন্মাদ হয়ে যায় / মা ,বাবা মারা গেছেন আগেই / অয়ন ও রিটায়ার করেছে / ঝুমার চোখেরমনি মিলনকে ডাক্তারি পরিয়েছে /আজ মিলনের বিয়ে /অয়ন ভাবে ," আমার আর বেচে থাকার কোনো মানে হয়না /যাদের জন্য আমি শত লজ্জা সহ্য় করে বেচে ছিলাম তারাই আজ কেউ নেই /ছেলের বউ ভাতটা মিটে যাক ; এ জীবন আমি আর রাখবো না / জীবনে অনেক কিছু না পেয়েও - এমন অনেক কিছুই পেয়েছি যা অনেকেই পায় না /...........(নন্দা )   12.3.16

আমার এ চোখ কাঁদে
পূর্ন জয়দাস
আমার এ চোখ কাঁদে, বিরহ ও মনে দাগ পেলে
তার জল অমূল্য বির্সজন, অর্থহীন।
জল নালা হয়ে বের হয়ে বন্যার সৃস্টি করে
কিন্তু সে জল আর কষ্টের বিষ একসাথে মিশ্রিত হয় না কখনও।
আমার এ চোখ কাঁদে, তোমার স্মরনে
হঠাৎ স্বপ্ন ভাঙ্গা কোনো রাতে, একাকী।
সে জল ভেজায় বিছানার বালিশ
সে জল কখনো তোমার মন ভেজাতে পারবে না।
আমার এ যোখ কাঁদে, তোমার মিথ্যের দায়ে
চোখের জল নদীকে পরিনত করে বিশাল সাগরে।
তুমি সুখের সাগরে পার হও সে সাগর
আমি মৃত , মাঝ সাগরে দুলি উত্তাল ঢেউতে।
আমার এ চোখ কাঁদে , বিচ্ছেদ গানের সুর শুনে
মনের আবেগ গুলো ভেঙ্গে জল হয়।
সে জল স্থান পায় না কোনো কবিতার পাতায়
আমার ব্যাথার সাক্ষী হয়ে ধীরে ধীরে ঝরে মাটিতে।
আমার এ চোখ কাঁদে, কোনো এক বিকেলের কথা ভেবে
এই চোখের জল সেই বিকেলের কারনে ।
কারন সে বিকেলটা ছিলো মিথ্যে
আজ সে মিথ্যের প্রতিদান জলের প্রতিটা ফোঁটা।
আমার এ চোখ কাঁদে, আমার বিবাগী মনের কারনে
তোমার স্মৃতি এই জলের স্রোত বাড়াতে সহায়ক।
সে স্রোতের তোড়ে ভাঙ্গে আমার কূল
কিন্তু, সে খড় স্রোত তোমার স্মৃতির মূর্তি ভাঙ্গতে পারে না ।

মায়ের জন্য
- ইরাবতী মণ্ডল

মা,অনেক দিন হলো ;তুমি আমাদের ছেড়ে
চলে গেছো।তবু এখনো তোমার; আমার কাছে
থাকার স্মৃতি গুলো; খুব মনে পড়ে।
জানো মা, তুমি আর তোমার বন্ধুরা; মানে
পরিতোষের মা, পদ্মবুড়ি, ভজার মা, বিশুর মা,
এরা সবাই ,বাপিদের ফ্লাটের নীচে যেখানে বসে
গল্প করতে ;কলেজ থেকে ফেরার সময় প্রায় ই
আমার চোখ দুটো সেখানে চলে যায়।তুমি তো
আমাকে কলেজ থেকে ফিরতে দেখেই বন্ধুদের
বলতে,'যাই ,খুকি এসেছে, ওকে ভাত বেড়ে দিয়ে
আসি"--এই বলে বন্ধুদের কাছ থেকে উঠে চলে
আসতে।তারপর পরিপাটি করে গুছিয়ে আমার
ভাত বেড়ে দিতে। এখন কলেজ থেকে ফিরলে,
কেউ আর আমায় এমন যত্ন করে; ভাত বেড়ে
দেয় না মা।
তোমার বন্ধুদের ও এখন আর সবাইকে
দেখতে পাই না। ভজার মার তো ক‍্যানসার
হয়েছিল ,তুমি জানতে। এই কিছুদিন আগে, তার
মৃত্যু হয়েছে। আর পদ্ম বুড়ি?যার ছেলে বৌ দুবেলা দুমুঠো ভাত মা কে দিতো না; ছেলে বৌ
এর লাথি ঝাঁটা খেয়ে থাকতে হতো সব সময়।
তোমার কাছে এসে, নিজের দুঃখের কথা বলে,
একটু হালকা হতো;--সেই পদ্ম বুড়িকে তো আর
দেখতে পাই না আমি। মনে হয়, ছেলে-বৌ এর
লাথি -ঝাঁটা খাওয়া জীবন থেকে; ভগবান তাকে
মুক্তি দিয়েছেন।
পরিতোষের মা এর সঙ্গে তো তোমার বেশি
ভাব ছিলো। মাঝে মাঝে দুপুর বেলা, তার কাছে
গিয়ে শুয়ে ও থাকতে।আবার মাঝে মাঝে আমার
ফ্রিজ থেকে মিষ্টি বার করে নিয়ে; তাকে দিয়ে
আসতে। সে তো এখন আরো বুড়ো হয়ে গেছে।
মা কে দেখাশুনা করার জন্য, পরিতোষ এখন
সর্ব সময়ের একজন আয়া রেখে দিয়েছে।
সেই আয়া ,সকালের রোদে, মাঝে মাঝে
তাকে ;আমাদের ফ্লাটের নিচে বসিয়ে দেয়।
আমার সাথে দেখা হলেই ভালোমন্দ খবর নেয়।
আর তোমার সাথের সোনালী দিন গুলোর কথা
বলে।
জানো মা, পরিতোষের মা কে সেদিন
আমি ;গলদা চিংড়িড় তরকারি রান্না করে দিয়ে
এসেছিলাম। এর আগে একদিন রসগোল্লা
দিয়েছিলাম। কিছুতেই নিচ্ছিলো না। বার বার
বলছিলো তোমার মা আমায় ,অনেক বার খেতে
দিয়েছে। আমি আর খাবো না।বলতে বলতে
দু-ফোঁটা চোখের জল, ঝরে পড়েছিলো তার।
বিশুর মায়ের কথা, আর জানতে চেয়ো না
মা। তুমি তো জানতে,তার বৌমার সাথে একদম
চলতো না ।তার ছেলেও তো আধ-পাগোল।
এখন শুনছি তার বৌমা ,তাকে ঘরে বন্ধ করে
রেখে দিয়েছে। আর লোকের সাথে বলছে,
'শাশুড়ী পাগোল হয়ে গেছে।
বন্দনার কথা কি মনে আছে তোমার মা?
আধপাগলা মেয়েটি ,এখনো ঘুরে ঘুরে বেড়ায়।
আর মাঝে মাঝেই আমার কাছে জানতে চায়,
'দিদা আবার কবে আসবে'?ও হয়তো ভুলে
গেছে ,যে তুমি আর এখানে ;কোনো দিন আসবে
না।
মহাশূণ্যের মহাকাশে মিলে গেছো তুমি।
তবু তোমার ভালোবাসার ছোঁয়া চারিদিকে
ছড়িয়েআছে। মা, জানি এই চিঠি তোমার কাছে
কোনোদিন ই পৌঁছাবে না। তবু এর কথা গুলো,
জানি ভাসতে ভাসতে তোমার কাছে ঠিক
পৌঁছে যাবে। তোমাকে এদের খবর দেবে।

কোলকাতা।।।পশ্চিম বঙ্গ।।।।
তারিখ--12,01,2017

বেলোয়ারি ঝাড়
- তনিমা হাজরা

তুমিও জানো ঠিক ই
জীবনের পাহাড় চড়া,
তবুও জড়িয়ে নাও
প্রিয় সেই উষ্ণ বাহু।

তুমিও হয়ে ওঠো প্রদীপ দানির
নীরবে ধরে রাখা
আলোর ওই উৎসসুখে
ইন্ধনের জ্বলতে থাকা।

তুমিও পৌঁছতে চাও
যেখানে সেই যে মানুষ
বুকেতে পুষে রাখে
তোমারি স্বপ্ন পাখি,
তোমাতেই সেচন করে
আবহমান বৃষ্টি ধারা।

কান্নায় গেয়ে ওঠে
হাসিতে উথালপাতাল,
নিয়ত আগুনসুখে
সুরের ওই বিস্তৃত জাল।

সে যে কিভাবে বেজে ওঠে
কিভাবে রাখে যতি,
কিভাবে বাড়ায় জমি
দৃপ্ত উপস্থিতি
তুমি ঠিক তাও জানো না।

তানপুরাতে যত্নে বাঁধো
তার এই মূর্ছনাটি,
প্রতীক্ষার ওই জলসাঘরে
জ্বালিয়ে ঝাড়ের বাতি।।।।ত নি মা।

নিষিদ্ধ বাড়ী
- শাহিনা কাজল

লালসার শরীরে রংধনু অাঁকে রঙ
জীবনের দলবাঁধা স্বপ্ন চোখের অাঙিনায়
মেতে উঠি চাঁদের অালোয়
খুলে দেই সমস্ত বসন সৌন্দর্যের বেলাভূমি তে হাবুডুবু খেয়ে যাক কিছু ধূর্ত শিয়াল
স্লোগানে স্লোগানে ডেকে নিই ধর্ষক
উল্লাসে ধেয়ে অাসুক অজ্ঞতার অাঁধার
বালিকার নগ্ন দেহ অালো জ্বলে পূর্ণিমায়
খুবলে খু্বলে খেয়ে যাক
বালিহাঁসের মোলায়েম শরীর।
অজ্ঞাত প্রজন্ম হোক পালকহীন প্রজাপতি
মিছিলে মিছিলে শিহরন জাগাই যৌনতার
নিষিদ্ধ বাড়ী মুখরিত হোক অট্টহাসিরর পদভারে।

আমার প্রতিপক্ষ আমি
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমাকে চলতে বললে টলে ওঠে পা,
নাস্তার টেবিলে ঘুম কিনে খায় কানা বগির ছা।
সামুচার শব্দের মতো মচমচে কিছু-
অভিজাত কষ্টের দুঃখ শুনেছো শুধুই-
আমার নিজস্ব নদীদের কুল ভাঙার
বায়োস্কোপ দেখনি তুমি ও তোমরা কোনদিন...

কফির নদীতে চুমুক দিতে দিতে
মৃত খরগোস তোলে ঘাস গল্পের তুফান...
তবুও ভালোবাসার এইসব বধ্যভূমিতে চলে কতো
গুপ্তসুখের মান-অভিমান।

তারপরও প্রতিদিন মরতে মরতে বেঁচে যাই আমি।
এবং অতঃপর জটিল জিওগ্রাফিক
ইমেজ আঁকে তোমার লিলেন আকাশ,
নক্ষত্রফুলের রঙিন ঘুড়ি উড়ায় আমার নৈশব্দিক লাশ...

আর আমি যেন তোমার যাদুঘরের কৌটায় তুলে রাখা
এক আশ্চর্য মায়াবী মমি,
সপ্ত ইন্দ্রিয়রাও রাখেনা খবর আজকাল আমার-
এখন আমারই প্রতিপক্ষ আমি!

১২/০১/২০১৭

দ্বৈরথের সওয়ারি

~ মোশ্ রাফি মুকুল

কবিতার টেবিলে হায়েরোগ্লিফিক্স এর ছেঁড়াপাতাগুলো ডিজিটাল উঁইয়ের ডিনার হয়ে অপেক্ষারত,
নিশাচর বাদুরেরা ঝুলছে রাতের মাংসল স্তনে...
জৈবিক জীবিকার দ্বৈরথে ক্ষুধার সওয়ারিরা,
কোটিপতির রাত্রিযাপন বারবনিতার নিখুঁত শিকার...
তারপরও কবিতার মানুষেরা শব্দের ঠোঁটে আঁকে প্রগাঢ় চুম্বনদৃশ্য...

কিছু নির্বাচিত সুখ'ই এইসব সিনথেটিক ভালোবাসার একমাত্র উদ্দেশ্য...

১৩/০১/২০১৭

তারপর !
আরও একটি রাত গেলো চলে
নির্ঘুম রাতে দেয়ালে হেলান দিয়ে
স্মৃতির পাতা উল্টিয়ে ৷
জীবনের চাওয়া পাওয়া আজ
বাসা বেধেছে হতাশার মাঝে ৷
স্বপ্নগুলো দুঃস্বপনের মাঝে হারিয়েছে
আর আমি হারিয়েছি নিজেকে
তোমার মনের চোরাবালিতে ৷
সময়ের পাশ দিয়ে চলেছি হেঁটে
পিঠে ডিগ্রীর বোঝা চেপে
অচেনা এ শহরের ধুলোমাখা পথে ৷
শুনেছি তুমিও নাকি আছো এ শহরে
যদি কখনো নামো এ পথের ধুলোতে
আমার স্পর্শ তুমি পাবে সে ধুলোতে ৷
যদি গ্রিলের ফাঁক গলিয়ে বৃষ্টিকে চাও ছুঁতে
বুঝে নিও আমার চোখের জলই তুমি ছুঁলে ৷

ওরা আজ বিপথগামী ,
আমরা কখনো কোনো কাজে বাঁধ সাধিনি ,
পাশে বসে ভালো - মন্দের পার্থক্য বুঝাইনি ,
বিপথগামী না হওয়ার মতো পথ দেখাইনি ,
তাই বিবেকের কাছে আসামী তুমি-আমি ৷
ওরা আজ মাদকসেবী ,
যার দায়ভার আজ সমাজ বয়ে চলেছে
বয়ে চলেছে সারা দেশ আর গোটা জাতি ,
আমরাই প্রত্যক্ষ কিম্বা পরোক্ষভাবে দায়ী
আমাদের উদাসীনতাতেই ওরা মাদকসেবী ৷
ওরা আজ সন্ত্রাসী ,
আমরাই সন্ত্রাসী হওয়ার সুযোগ দিয়েছি
ছোট অন্যায়ে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলেছি ,
নীতিহীন নেতার অসাধুতাতেই ওরা সন্ত্রাসী
এর জন্য আমাদের অপরাজনীতিই দায়ী ৷

বিষনীল
- নাসরিন আক্তার

এই দীর্ঘ অচেনা পথ
আমি অবলিলায় পারি দিয়ে যাচিছ
কখন আলো, কখন আধার কালো পথ
যে পথের প্রতি প্রদক্ষেপে লুকিয়ে আছে রহস্য
লুকিয়ে আছে কত বেদনা
কত আকুতি ভরা আর্তনাদ
লুকিয়ে আছে কালের সর্বনাশ
তার পরও আমি
এই আধার কালো রাতকে ভালোবেছি
কারন রাত ছলনা করেনা
ছলনায় ভুলায়ও না
যা আছে সব নিষ্ঠুর সত্য
রাত আমাকে আশার ছলনাকে
ভুলতে দেয়
রাত আমায় সায় দেয়
মনের পটভূমিকে ব্যাখ্যা করার পেরণা দেয়
আমিতো আশায় আশায়
আমার জীবনের অনেক মূল্যবান সময়কে
হেলা করেছি
রাত আমাকে ভুলতে শিখিয়েছে
আমাকে শিখিয়েছে
কিভাবে বিষ পান করে
নিজেকে বিষ বৃক্ষে পরিণত করতে পেরেছি
আমার প্রতিটি শাখা প্রশায়, মূল কান্ড
সর্বএ প্রখর বিষ
আশা তুৃমি আমাকে বেদনা উপহার দিয়েছ
আর আমি তোমায় বেদনা নিয়ে
বিষনীল হয়ে গেলাম

*** দিগন্তের সফরসঙ্গী ***
সালামিন ইসলাম সালমান

স্বপ্ন তুমি দেখিতেছো নাকি! ব্যথিতের স্বপ্নের মতন,
ফ্যাকাশে মেঘের মত তারাদের আকাশ দূরে ঠেলে মানুষীর মতন!
নিবন্ত বাতির গলাতে তলাতে বিবাগী কষ্ট দেখার আশে-
একটি দিনমান সহযাত্রী করেছে সরলান্তের শুরু হতে শেষান্তে।
:
অবান্তর ঘামে সিক্ত প্রভাতীর রক্তাক্ত আভায় পদযুগলে শক্তি ভরাট
টালমাটাল বোধদ্বয় সফেদ নির্যাস পেয়েছে দিগন্তের শুরুতেই,
ক্ষণিক মুহুর্তগুলো ঘড়ির তিনটি শলার পিছে ছুটে ভস্ম হচ্ছে রীতির নিমিত্তে
দিন থমকে দাড়ায় ---------- হতচকিত মর্মতা বুঝি এখানে।
:
মাথার উপরে ঝুলন্ত বেলাটা স্পর্শ করে পরিচিতি পাই অর্ধ দিনের,
উত্তাপ ভোজন হয় উগ্রে যাওয়া শিশির কণার বিপরীতে-
যথাযথ বিবর্শ দুপুরের ছত্র ছায়ায় অবশ গা এলিয়ে তৃপ্ত হাওয়া খুঁজি।
:
এরই মাঝে দিনের তলপেট থেকে ঝরেছে পৃথিবীর যত ক্লান্তি,
কত সুখ, কত কষ্ট, কত বিচিত্রতা!
একটি দিনের সাথে মিশেছি তার স্বপ্নকে ছুঁতে ছুঁতে।
:
চলতে চলতে হেলানো বৈকালীকে রেখে অাসি বৈদ্যের বিলে--
দাড়িয়ে থাকা তাল গাছগুলোর ওপাশে,
এপাশে ঘনালো একটি দীপ্তমান সূর্যের মরণ আবির-
সান্ধ্যীয় কোলাহল বিদায় জানালো সমস্ত দিগন্তের আলো-প্রকৃতিকে।

অনুকাব্য-

-- ঘর বুঝেছে মানুষ আমি, পর দেখেছে তাই,
বাসন্তীরাও ভালো বলে, তোর মনে নেই ঠাঁই।
তাই বলে কি কষ্টের মালা পরবো আমি গলে,
তুইতো আমার হাসির শশী, এমন করলে চলে?



সালামিন ইসলাম সালমান

"শী‌তের পিঠা"
***রহমান মাসুদ***

ভোজ‌ন র‌সিক বাঙালী
পিঠা খাওয়ার কাঙ্গালী,
আমা‌দের পুরাতন ঐতিহ্য
আজ সে গুনাগুন অব্যাহত।

নানা প্রকা‌রের পিঠা
কোনটা ঝাল কোনটা মিঠা,
জেলায় জেলায় ভিন্নতা
উপকরন যেথা যা প্রাপ্যতা।

গুড়-না‌রি‌কেল-চা‌লের গুড়া
পা‌নির ভা‌পে তৈরী করা,
ভাপা পিঠা নজরকারা
আহা‌রের স্বাদ তৃ‌প্তি ভরা।

অতীত স্মৃ‌তি ম‌নে প‌রে
প্রিয় মা-দা‌দিরা ঘুম ছে‌ড়ে,
পিঠা বানা‌তো মন ভ‌রে
নাত‌ি-সন্তান‌দের স্মরণ ক‌রে।

সে সব দিন হা‌রি‌য়ে গেল
পিঠার দা‌য়িত্ব বুয়াই পেল,
তার হা‌তের বানা‌নো পিঠা
দু‌ধের স্বাদ ঘো‌লেই মিটা !!!

প্রেম-অপ্রেম
- নির্মল সাহা

প্রেমের গান রচি আমি করি নিবেদন,
ভালবাসো সবারে রাখি এই আবেদন।
আপনপর সবাই সমান ভালবাসা তরে,
প্রেম বিলিয়ে জেনো মনের খিদে মরে।
ছোট বড়োর মধ্যে নাই কোন ফারাক,
মানুষ সবে ভেবে মেটে মনের খোরাক।
মানুষ পশু নয় আলাদা এই জগৎ মাঝে,
ভালবাসার ছবি এঁকেই রাখে মনসাজে।
প্রেমের তরে কাঙাল সবাই একথাটা সত্য,
স্মৃতিপটে থাকবে তুমি প্রেমসুধায় নিত্য।
নারী পুরুষে প্রেমটা দেনা পাওনার জন্য,
ভালবাসার মানে তখন পাল্টে হয় অন্য।
পিতা মাতার ভালবাসার হয়না বিকল্প,
তার জন্য লাগে না গড়া কোন প্রকল্প।
সমাজকে ভালবাসো পাবে প্রকৃত সম্মান,
নইলে তুমি হতেই পার অযাচিত অপমান।
গরীব জনে ভালবাস রাখবে মাথায় করে,
ধনীরা বোঝেনা কদর ভালবাসার তরে।
পশুকে তুমি করো আদর দেবে প্রতিদান,
তাদেরও মন আছে জেনো রাখে অবদান।
কাছের মানুষও ভালবাসায় করে বেইমানী,
দুরের জনেরা প্রেম অভাবে হয় অভিমানি।
প্রতিদান চেয়োনা কভু বিলাও সত্য ভালবাসা।
তাতেই জেনো মিটবে মনের সকল অভিলাষা

০৬/০১/২০১৭

ভূতের বাচ্চার শখ
- জুলফিকার আলী

গ্রামের তেতুলগাছে বাস করত এক ভূত দম্পতি|তাদের ছিল একটি সন্তান|তার নাম
জিকো|জিকোর মনে অনেক শখ ছিল|বাবা-মা জীবিকার টানে বাইরে গেলে,জিকোকে
দিনের বেলায় একা থাকতে হতো তেতুলগাছে|তেতুলগাছের পাশ দিয়ে প্রতিদিন
মানুষের কচিকাচা বাচ্চারা রোজ যেন কোথায় যেত?জিকো তা দেখত,প্রতিদিন দেখতে
দেখতে তার মনে প্রশ্ন জাগল!এরা কোথায় যায়?তাই সে একদিন বাচ্চাদের পিছু
নিল,তারা কোথায় যায় তা দেখার জন্য|যেই ভাবনা সেই কাজ|পরদিন সে পরিকল্পনা
অনুযায়ী বাচ্চাদের পিছু নিল|তাদের পিছু পিছু গিয়ে দেখল,তার একটি ভবনে
গিয়ে উঠল|অনেক ছেলেমেয়ে সেখানে বেঞ্চে বসে বইপত্র ঘাটছিল এবং মনোযোগ দিয়ে
এক ব্যক্তির কথা শুনছিল|তারপর ঘন্টা পরলে তার আবার বাড়ির পানে চলে
আসল|পরে সন্ধ্যায় জিকোর বাবা-মা আসলে সে তাদের বিষয়টা খুলে বলে|বাবা-মা
তাকে হেসে বলে,ওরা স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করে আর শিক্ষকেরা তাদের পড়ান|এসব
শুনে জিকোর শখ জাগল,সেও স্কুলে ভর্তি হবে এবং পড়াশোনা করবে|মানুষের মত
মানুষ হবে|বাবা-মাকে তার শখের কথা জানালে তারা তাকে স্কুলে ভর্তি করে
দেয়|এভাবে ভূতের বাচ্চার পড়াশোনা করার শখ পূরণ হল এবং সে নিয়মিত মানুষের
রূপ ধরে স্কুলে যেতে লাগল!

সংখ্যালঘু
- নার্গিস পারভীন

সংখ্যালঘু!
কি নিদারুণ একটি শব্দ!
মানব সভ্যতা এখানে এসেই থমকে দাঁড়ায়।
শব্দটি একটা মূর্তিমান আতঙ্কের নাম।
সারাক্ষণ মৃত্যুভয় বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা।
করালদর্শন মানুষরূপী জন্তুর হিংস্রতার যূপকাষ্ঠে বলি চলে মানবতার।
মানুষের ভেতরের ঘুমন্ত দানব সুযোগ পেলেই জেগে ওঠে-
মানুষের ভাবা উচিত এই মহাবিশ্বে পৃথিবীও ক্ষুদ্র এক সংখ্যালঘু গ্রহ!
সব নক্ষত্ররা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে দিলে কার কাছে নালিশ জানাবে হিংসুটে মানবেরা?
দুর্ধর্ষ দানবীয় তোড়ে ভেসে যাচ্ছে সব-
মানবতা, নৈতিকতা, প্রেম, বিরহ।
মরছে পোকার মতো প্রিয় অনুভূতিগুলো।
কে কাকে নিয়ে ভাববে এই আধুনিক বিশ্বে!
সবাই দেখে বাণিজ্যস্বার্থ কতটা গতিময়!
অস্ত্রের প্রদর্শনী বাড়লে সংখ্যালঘু শব্দটি প্রগতিশীল চিন্তার শেকড়ে জল ঢালে।
সংখ্যালঘু আছে বলেই তো প্রগতিশীলতা টিকে আছে।
প্রগতির গলাবাজি দেখে নিপীড়িত সংখ্যালঘু শাান্তিবারির পরশ পায়।
রাতের অন্ধকারে প্রগতিশীল তার বীভৎস চেহারার হলকা ছোটায়।
মানব সভ্যতার আর সবুজ দ্বীপে নোঙর করা হয়ে ওঠে না।
দাসত্বের নতুন নতুন আবিস্কৃত শব্দে সভ্যতা চমক দেখায়।
বিবেকসম্পন্ন প্রাণী সংখ্যালঘু শব্দের যথার্থতা প্রমাণ করে পাশবিক নিকৃষ্টতায়।

শীতল ছোঁয়ায় পাখি মেলা
- ওদুদ মণ্ডল

শীতল শীতল শীতল ছোঁয়া
শিশির ভেজা ঘাসে,
সোনা সোনা সোনা রোদে
হেমন্ত আজ হাসে ৷

ঝাঁকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি
ছন্দে তুলে পাখা,
কূলে কূলে কূলে বিলে
ভরে গাছের শাখা ৷

সুরে সুরে সুরে জাদু
প্রিয় পাখি ডাকে,
রঙে রঙে রঙে ভরা
পাখির ঝাঁকে ঝাঁকে ৷

পায়ে পায়ে পায়ে বেড়ি
বাগুরিয়ার ফাঁদে,
পাখি পাখি পাখি মেলা
স্বজন খুঁজে কাঁদে ৷

কালো কালো কালো বিবেক
পুড়ে হোক আজ খাঁটি,
আলো আলো আলো জ্বলুক
সোনা দেশের মাটি ৷

মুখোশ

- কাজী জুবেরী মোস্তাক


অনেকটা পথ হেঁটে চলেছি পৃথিবীর বুকে

আদিম পেরিয়ে আজ এসেছি সভ্য নগরে ,

কালের বিবর্তনে নাকি ওরা সভ্য হয়েছে

অথচ সভ্যতার লেশ মাত্র পাইনি খুঁজে ৷

নগড় জুরে অট্টালিকায় সমাজ অাজ সভ্য

বড় বড় মিল কারখানায় বাতাস দূরভেদ্য ,

মনের ভেতরে ক্লেশে ক্লেশে আজও জরাজীর্ন

মুমুর্ষ মানবতা icu তে বন্দী বাঁচার আশা ক্ষীন ৷

সভ্যতার সাথে অন্যায়,নির্যাতন,হানাহানি দেখে

বিবেক আজ মুখ লুকোয় কপাটের আরালে ,

এই সভ্যতার মুখোশে আজ অসভ্যরাও ঘুরে

মুখোশে সবাই ওদের মানুষ ভেবেই ভুল করে ৷

শহরজুরে অট্টালিকা আর বিষাক্ত কালো ধোঁয়া

কান পাতলে শোনা যায় গুমরে কাঁদে হতাশা ,

দুঃখ কষ্ট গুমরে গুমরে কাঁদে দরজার ওপাশে

এপাশে মুখোশে সভ্যতাও সুখের সওদা করে ৷

কেউ এখানে বিশাদ লুকোয় মদের বোতলে

কেউবা আবার মজা লুটতে ভীড় করে এখানে ,

আসলে সবাই আমরা এক মুখোশের আরালে

এই মানুষের মুখেই বাস হাজারো মুখোশের ৷

শীতের কাপড়
- জুলফিকার আলী

পথের পাশে ধুলোর মাঝে
কে থাকেরে লুটিয়ে,
শীতকালে নেই গরমকাপড়
শরীর রাখে গুটিয়ে|

কিছু খেতে নর্দমাতে
খাবার তারা খোঁজে,
কষ্ট তাদের এই দুনিয়ায়
কে কতটুকু বোঝে?

শীতের দিনে বস্ত্র তো দান
তাদের করি সকলে,
তাতে খোদা হবেন খুশি
এমন নিয়ত হক হলে|

গরীব দুখীরা শীতকালে
কষ্টে কাঁদে রাতে,
দিই তুলে দিই শীতের কাপড়
আজকে তাদের হাতে|

মুক্তি পেলাম
- জুলফিকার আলী

সবুজের বুকে লাল
থাকবে চিরকাল|
উড়বে স্বাধীনভাবে
মুক্ত বাঙালি
বিজয়ের সুখে
বিজয়ের গান গাবে|

রক্ত নদী পেরিয়ে উড়াই
দেশের বিজয় নিশান,
বন্দি থেকে মুক্তি পেল
জেলে মজুর তাঁতী
বাঙালী জাতি-
মুক্তি পেল
মাটির সন্তান কিষাণ|

মুক্তি পেলো বঙ্গভূমি
মুক্তি পেলাম আমরা
বিজয়ের স্বাদ
পেলাম হাতে চাঁদ
সোনার ফসলে মাঠ
জীবন্ত ফুল বাঙালি
একাত্তরে না'মরা|

বিজয় এলো
- জুলফিকার আলী

বিজয় এলো পাখির গানে
ভাটিয়ালী সুরে,
বিজয় বাঁশী বাজছে এখন
সারা বাংলা জুড়ে|

বিজয় এলো মায়ের কথায়
বিজয় বোনের হাসি,
বিজয় পেলো মাঠের চাষা
এবং পাড়ার মাসি|

বিজয় পেলো খোকা-খুকু
সারা বাংলার মানুষ,
মুক্ত ঘুড়ির ওড়াওড়ি
বাঙালিদের জানুস|

বন্দি ছিলাম মুক্ত হলাম
বিজয় পেলাম হাতে,
বর্গীরা দেশে আসবে না আর
বলছে ছড়ায় মা'তে|

"ভূ‌মিকম্প আতঙ্ক"
***রহমান মাসুদ***

সারা বি‌শ্বে ঘনঘন ভূ‌-কম্পন
আমা‌দের তাই আত‌ঙ্কিত মন,
ঘনবসত‌ি পূর্ণ প্রিয় এই জন্মভূ‌মি
মৃদু ভূ‌মিকম্প‌নে পা‌চ্ছে সাবধানী।

মৃদু হ‌তে মাত্রা বেশী বৃ‌দ্ধি পে‌লে
ভয়ানক ক্ষয়ক্ষ‌তি ঘট‌বে জানমা‌লে,
অসেচতনতার ফ‌লে আরো ধরাশাই
সতর্কতার জ্ঞান সবারই থাকা চাই।

ভূকম্প‌নের সময়কাল অতিসং‌ক্ষিপ্ত
তাড়াহুরার অস্হিরতায় হ‌বেনা লিপ্ত,
যেথায় অবস্হান সেথায় কর সন্ধান
তুলনামুলক ফাঁকা নিরাপদ স্হান।

ছাদ বা ভূ‌মি সহজ নিকটবর্তী হ‌লে
দ্রুত সেথা একে একে যা‌বে চ‌লে,
ভু‌লেও কর‌বেনা লিফ‌টের ব্যবহার
সি‌ড়ি দি‌য়েই তাড়াতা‌ড়ি হ‌বে পার।

বহুত‌লের মাঝামা‌ঝি হ‌লে অবস্হান
ঠান্ডা মাথায় ‌ধৈর্য্য ধার‌নের আহবান,
মাত্রা কম হ‌লে ক্ষয়ক্ষ‌তির নেই ভয়
বেশী‌তে ভা‌গ্যের হা‌তেই জয় পরাজয়।

ভূ‌মিক‌ম্পের আওতায় প্রিয় বাংলা‌দেশ
তবুও অহেতুক ভ‌য়ে হ‌বে না নিঃ‌শেষ,
আমা‌দের রক্ষা করার মা‌লিক বিধাত‌া
সাহ‌সের সা‌থে স্মরণ রে‌খো সে কথা।

 

অপরিতৃপ্ত প্রথম প্রেমের বিসর্জন
স্বপ্নরা বিষন্ন তুফান চায়
মন অভিভাবকত্ত্ব হারায়
ব্যথারা ব্যস্ত যেন ভীষণ পরিজন ।

তিক্ত মধুর বিষ ধীরে ধীরে চলে পান ।
দুঃখ ক্রমশ বিলায়
কারা হিসেবে মিলায়...
নিরালায় নীল বিষন্ন লয়ে অতন্দ্র গান ।

মধুর কোমলতা তীব্র আবেগ ঢেলে
কিছু হতাশা পোড়ে
কারা কবর খোঁড়ে..
নিঃস্বঙ্গতার বিমর্ষ বোবা চোখ মেলে ।

সূর্য ডোবে,ব্যর্থতা আঁধারে জড়ায়
যতক্ষন চিতাভস্ম হয়
কাউন্টারে যায় সময়
ছাই রঙে ছবি এঁকে ফিরে আসি ধরায় ।

©Sonali Mandal Aich

গ্রামের দুর্গা
- ইরাবতী মণ্ডল

গ্রামের দুর্গা মাঠে ঘাটে কাজ করে
পান্তা নিযে যায স্বামীর জন্য
ঘরের কাজ সেরে ।

ধান ঝাডে সে বিচালি বাঁধে ,
প্রযোজনে মাঠে জোন খাঠে ।
হাঁস মুরগি ছাগল পুষে
সংসার চালায স্বামীর সাথে ।

শ্বশুর-শ্বাশুডী,দেওর-ননদ
সবাই কে নিয়ে চলে ,
নিজে আধপেটা খেযে স্বামী সন্তানের
মুখেতে অন্ন তোলে ।

অতি ছোটো বেলা বিযে হযে এসে
স্বামীর ঘরেতে ঢোকে ,
স্বামীই ধর্ম স্বামীই কর্ম
স্বর্গ যে তার চোখে ।

হাজার খারাপ হোক না স্বামী
তবু তার চরণেই গতি ,
পতি নিন্দায নরক বাস
মার খেলেও নেই খতি ।

গ্রামের ঘরে ঘরে হাজার দুর্গা
কাটায এমনি দিন,
হাসি দিয়ে তারা কান্না ঢাকে
পরনে বস্ত্র মলিন ।

নিজের চিন্তা করে না এরা
স্বামীর সুখে সুখী
দুর্গার মতন দশ হাত দিযে
সামাল দেয যে সবই ।

কোলকাতা ।।পশ্চিম বঙ্গ
সময ।।রাত 11,55 পি,এম, 03, 01,2017

কি আশ্চর্য পক্ষপাতিতা

- মোশ্ রাফি মুকুল

বেশ্যাকে পতিতা পতিতাকে বলে সমাজচ্যুত করা হলেও- বেশ্যালয়ের খদ্দেরগুলোকে কেন 'পতিত' পুরুষ বলা হবেনা?
নাকি এ পঁচনশীল ভেক সভ্যতার আরাম কেদারায় বসা ছদ্মবেশী 'ভদ্দরনোক'দের টিকিটিও ছোঁয়া যাবেনা কোনদিন?

কি সুক্ষ এ শাব্দিক বিভেদ!
কি নমনীয় এ অভিজাত উদারতা!

আসলে এখানে পক্ষপাত সবখানে,
স্বার্থপরতার নিপূন জাল পেতে সরপুঁটি খায় সতর্ক শয়তানে...

চারিদিকে অসহায় নারীকে নিয়ে কি অশ্লীলতা-কি নিদারুণ শ্লেষ!
'পতিতা' 'পতিতা' বলে গালি দিয়ে ঘৃণার খৈ ফোটায় লম্পটশ্রেষ্ঠ যৌনক্রেতা-
চরিত্র গলিত কুপুরুষাধম!
তবুও সে দ্বিচারী সন্ধ্যার অন্ধকার নামার সাথে সাথেই কুলটারমনীর মাংসাশী হয়,পেশীবলে লূটে নেয় কুমারীর যৌবন,
নগদ টাকায় দরকষে কেনে স্বস্তা আলিঙ্গন;
অথচ আমাদের লিঙ্গভেদের খোদ অভিধানেও 'পতিত' পুরুষ বলে কোন শব্দ নেই।

কি আশ্চর্য এ পক্ষপাতিতা!

০২/১২/২০১৬

তবু মনে রেখো
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

জীবনের দীপ নিবু নিবু প্রায় ,
পৌঁছে গেছি বুঝি  তীরে ,
হিসাবের খাতা ভুলে ভরা শুধু ,
মিলাতে পারিনি আমি যে তারে !

হয়তো জীবনে চেয়েছি যা -
পাইনি তারই কিছু ;
যা পেয়েছি- চাওয়া থেকে বেশি ,
ফিরে গেছি তবু বারে বার পিছু |

অভিনয় তাই সাঙ্গ হল প্রায় ,
চলে যেতে শুধু চাই -
আমি চলে গেলে হিসাবের খাতা ,
আমারই সাথে পুঁড়ে  হবে ছাঁই ।

আমার অপরাধ ভুলে যেও সব ,
কিছু মনে রেখো না ,
যদি কিছু করে থাকি তোমাদের জন্য ,
আমার নামটি কিন্তু ভুলো না |

নন্দা   2.12.17   6-30 PM.

হারানে কবিতার দুটো লাইন

- শাহিনা কাজল

 

এখনো অনেক পথ--- তবুও পেয়েছি অনেক

নিভে গেছে.... হারাবার যা ছিল।

বুকের গন্ধে লুকিয়ে মুখ যখন গেছি ঘুমাতে

রাতের শেষে জড়িয়ে থাকতো বুবু অামার।

চোখের রঙে ভেজানো ডায়রীতে--

মালিক তুমি নিয়েছো হৃদয় নিংড়ে, দেখো তাঁরে

দেখেছে অামায় যেমন।।

জোনাকির সাথে খেলা তাঁর, এখন বসবাস।

অার অামি দিব্যি ভালো। শংকিত সংসারে

কাঁদে দুটি চোখ প্রতি ওয়াক্তে।।

ফেরদৌস'র মেহমান তুমি। হবে দেখা বাকীতে....

অনেক কথা অনেক ব্যথা শোনাবো তোমাকে।।

প্রিয়, হারানো কবিতা তুমি

ভালো থেকো।।

নুতন বছর মানে
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

পুরানো বছরের সকল গ্লানি ,
ধুঁয়ে যাক ,মুছে যাক -
হৃদয়ে রাখবো সেই সময়কে ,
যার স্মৃতিচারণে মন ভরে থাক |

যা কিছু পেয়েছি  সঞ্চয় করে ,
সামনে এগিয়ে চলা ,
যতন করে রেখে সে সব ,
মনেমনে তাদেরই সাথে কথা বলা |

এমনি ভাবে  এক এক করে ,
জীবন থেকে যাবে একটি বছর চলে ,
আস্তে আস্তে এগিয়ে যাবো সবাই ,
জীবন নদীর তীরে !

নুতন বছর এসেছে বলে -
আনন্দে মাতি সবাই ,
কখনো ভাবিনা নুতন বছর এলে ,
জীবনের আয়ু একটি বছর কমায় |

নন্দা    2.1.17    12.30am.


  • "স্বাগতম ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ"
    ***রহমান মাসুদ***


২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ তোমায় সুস্বাগত
২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ হ‌য়ে যা‌চ্ছে বিগত,
পাওয়া না পাওয়ার অতীত ভু‌লে
তব আগম‌ন শু‌ভেচ্ছা ফু‌লেফু‌লে।

বিশ্ব প‌ঞ্জিকা তোমা‌তেই আব‌র্তিত
খ্রিষ্টা‌ব্দের সাল গননাতে প্রচ‌লিত,
তোমায় ঘি‌রে সময়ের হিসাব নিকাশ
আমা‌দেরও সে গননা‌তেই অভ্যাস।

বাঙা‌লির আছে, ‌প্রিয় বাংলা নববর্ষ
সে গননা‌তে আজ অজ্ঞ অধিকাংশ,
পুজা-পার্বণ নানা কৃ‌ষ্টি আর বর্ষবরণ
তা ছাড়া বাংলা ‌পঞ্জিকা রা‌খিনা স্মরণ।

মুসলিম তাই পে‌য়ে‌ছি হিজরীর সাল
চর্চাহীনতায় মা‌সের হিসাবে বেসামাল,
ক‌বে ঈদ-রোজা-শ‌বে বরাত-কোরবানী
সারা বছর তারই কেবল চ‌লে সন্ধা‌নী।

খ্রিষ্টাব্দ‌ের বর্ষপু‌ঞ্জি অবশ্যই পাল‌নীয়
তা‌কেই সর্বা‌ঙ্গে গ্রহন করা বাঞ্ছনীয়,
সেই সা‌থে বাংলা এবং আরবী বছর
অন্তত মা‌সের না‌মের রা‌খি যেন খবর।

খ্রিষ্টাব্দের দিন গননায় তু‌মিই সর্ব‌শ্রেষ্ঠ
তোমা‌তেই সবার নির্ভরতা সে কথা স্পষ্ট,
২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ‌ে তোমা‌কে চাই কল্যাণময়
হানাহা‌নি নয় বিশ্ব ভ্রাতৃ‌ত্বের দেখ‌বো জয়।

 

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget