ডিসেম্বর 2016

মুক্তিযোদ্ধা
- শাহিনা কাজল

রক্তচোষা পশ্চিমারা রক্ত চুষে খায়
বাংলাদেশের তাজা রক্ত ওরাই শুষে নেয়।
মুক্তিকামী মানুষ যারা মুক্তি পেতে চায়
থাকবে না অার পরাধীন তাই মুক্তিযুদ্ধে যায়।
স্বাধীনচেতা মানুষ গুলো মুক্ত করতে দেশ
এক হয়ে সব রুখতে হানাদার ঝাঁপিয়ে পড়ে বেশ।
কেউবা কাস্তে কেউবা শাবল, গাইতি নিয়ে হাতে
নারীরাও সুর মেলালো সামিল হলো তাতে।
মুক্তির শপথ বুকে সাহস এগিয়ে গেলো যারা
বলি তাদের মুক্তিযোদ্ধা শ্রেষ্ঠ সন্তান ওরা।
কবি ছিল, মহাকবি শেখ মুজিব তাঁর নাম
কণ্ঠ কথায় ছড়িয়ে দিল 'এবারের সংগ্রাম......'।
স্বাধীনতার নায়ক সে যে, বাংলা মায়ের ধন
কন্ঠে তাঁহার অাগুন ঝরায় ইতিহাস ই প্রমাণ।
তাঁর কথাতে অাম-জনতা ঝাপিয়ে পড়ে যখন
পাক হানাদার ভয় পেয়ে সব, দেশটা ছাড়ে তখন।
যুদ্ধ শেষে বিজয়ী বেশে এলো ফিরে অনেকে
ইচ্ছে ছিল পতাকা সাথে জড়াবো বুকে বাবাকে।

বাঁকে বাঁকে
-সেলিনা আহামেদ শেলী
কত রংয়ে বানিয়েছো পৃথিবীকে
কালে কালে বদলিয়ে ,
এই পৌষ,ঐ গ্রীষ্ম কখনো চৈএ
মাসের বকুল,
হয়তোবা বর্ষায় ভিজে
হেমন্ত আসলো বলে।
বসন্ত উঁকি কোকিল ডেকে
অগ্রাহারনে ধানের বনের
ফুলে ফুলে সাজিয়েছো প্রকৃতি
ও প্রকৃতি তুমি কী জানো কোন
রংয়ে সেজেছো ?
সবুজ বলে কেন...?
আমাকে ঘিরে
শীতের ছোঁয়া লেগেছে প্রকৃতির গাঁয়ে
পাখি ডানা মেলতে চাইছে না
কুয়াশায় ভিজে পাতা
সবুজ ঘিরে ঐ সে গ্রাম
সাদা বক দূবা ঘাসে
এক পায়ে দাড়িয়ে
মুচকি হেসে পাশ ঘেষে
তাল গাছ পাতায় পাতায় ছুঁয়ে
সুযি মামা জেগে উঠে
পুর্বের আকাশে,
পাতার ফাঁকে একটু ভেসে ছড়ায় রৌদ্দ ।

তাং : ৩০/১২/২০১৬

নিরক্ষর
- মার্জেনা চৌধুরী

জল ভরা চোখে নৌকা ভাসাই
পৌষের নবান্নে হুক্কার আগুনে,
একমুঠো স্বপ্ন নিরানীর শিশিরে
সপ্ত ডিঙ্গায় নবম প্রহর গোনে !

ধ্রুপতারার বুকে জ্বলে মায়েয় মুখ অনাদরে
বাবার সান্নিধ্য ——
দিনের আলোতে কলাপাতার রোদ্দুরে !

বলাকা উড়ে ঘূড়ির আনন্দে
বিমানের পিছনের হাওয়ায় ভর করে,
অন্ধ চোখে অনুভব করি বিভোর পৃথিবী
সামনের পাচিল ভেঙে পড়া বিচলিত অন্তরে !

দেয়াল ঘড়ির শব্দ কানে বিভৎস্য টানে
ঘুমটুকু আসেনি কোনদিন আমার ঘরে,
খয়রাতি পোষাক পেন্সিলে আঁকা বলিরেখা
স্থির সন্ধি রচনা করে চিতার অবসরে !!!

খালি পেটে জ্বলে ভরা পেটের তৃষ্ণা
দিঘীর জলে চাঁদের কাঁপনে রাখে স্বাক্ষর,
আমার আমি শূন্যের ঘরে বিন্দুর ফাঁসি
রচনা করতে জানিনা চিনিনা যে অক্ষর !

অনলাইন উন্মাদী
-মামনি রায়

উন্মাদী যে বড়ই উন্মত্ত,
সে হাড়িয়েছে প্রেমের বীজপত্র।

জীবনের সবটুকু লাগে ফাঁকা ফাঁকা,
শুধু দেখে প্রেমকেই একা।

বারবার বাড়িথেকে বেড়িয়ে সে পরছে,
প্রেমকে সে যায় শুধুই যে খুঁজতে।

দেখা না পেলে ফিরে আসে বাড়ি,
শুধুই তার মনে হয় প্রেমকেই ধরি।

বাড়ি ফিরে মনে হয় রাস্তার মোরে,
আর একবার যাই দেখতে পাবো এবার তারে।

একসময় দেখা হয়ে ছিল কথা হয়েছিল,
এবার তৈরি হতেচায় যা কিছু শুধরাবার ছিল।

ভাবে,
একবার দেখে আসি তারে,
প্রেমের যে দেখা পেয়েছিল ঐ মোরে।

প্রেম যে তাঁরে আরো কাছে চেয়েছিল,
উন্মাদী তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল।

হয়তো প্রেম তাতেই হারিয়েছে এখন,
আর ভুল হবেনা বলছে যখন তখন।

খুঁজছে পথেঘাটে আর গাড়ির আশে পাশে,
ভাবছে হয়তো প্রেম, তারই অপেক্ষায় বসে আছে।

অনলাইন প্রেম কতযে জ্বালা,
বুঝলনা উন্মাদী অনলাইনে চলে প্রেম প্রেম খেলা।

আজ প্রেম খুঁজতে যায় মেন্টাল হাসপাতাল,
সঙ্গী এখন বন্ধ ঘর আর পায়ে শিকল।(মনিকা)

২৯/১২/২০১৬

। অভিনয়।

’এই মুহূর্তে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না’
সুরেলা গলায় মেয়েটি বলেই চলেছে,
গলার স্বরে কোনো অনুভূতি নেই
যেন বলতে হবে বলে কথাগুলো বলেছে।
অবশ্য এটা রেকর্ড করা কারো গলা
অমনভাবেই বলতে বলা হয়েছে তাকে
একটু একটু আবেগ দিলে মন্দ হতো না
কাউকে ফোনে না পেলে হতাশা তো থাকে!
কেউ কি জানে এই কথাগুলো কারা বলে?
কোথাও তো কারো নাম দেখিনা কোনো
অথচ কেউ যোগাযোগের বাইরে চলে গেলে
সেই এদেরই কায়দা করে বলা কথা শোনো।
একটা মজার ব্যাপার মাথায় এলো এখন
ধরো, যে ওই মেয়েটাকে সত্যি সত্যি চেনে
তাকে যদি মেয়েটা হঠাৎ করে দেয় বলে
যোগাযোগ করা যাচ্ছে না আর ফোনে?
সেটা কি সে বলবে কোনো আবেগ দিয়ে
নাকি বলবে যেমনটি সে বলেছে অভ্যাসে
রাগ অভিমান কিংবা নেহাত এড়িয়ে যাওয়া
এসব কি আর সে মেয়ের গলায় আসে?
আমরা সবাই আসলে কি ওই মেয়েটার মত?
রোজ জীবনে পার্ট করে যাই নিতান্ত রুটিনে
সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বাঁধা গতে চলি
সত্যিকারের আমিটাকে কেউ নিই নি চিনে?
রোজ বলে যাই চেনা ডায়লগ যেমন শিখেছি
মানে যেমন বললে একটু সুবিধা পাওয়া যাবে
আবেগগুলোও হিসেব করে নিয়মমাফিক ছাড়ি
রোজনামচার দিনগুলো সব কাটছে এমনভাবে।
তাই যখন ফোনে শুনি সেই মেয়েটার গলা
মনের গভীর অতল থেকে উপচে আসে ভয়
সবাই যদি হঠাৎ করে আমায় ধরে ফেলে
হয়তো আমি মেয়েটার মতই করছি অভিনয়।

আর্যতীর্থ

“““ চিনি না এ বাংলাদেশ ”””
সালামিন ইসলাম সালমান

সমস্ত পৃথিবী ভ’রে শুনশান সান্ধ্য বাতাস বহিছে হেমন্তের পরশে
নীল নকশায় মোড়ানো রঙিন মানচিত্রের ভেতরে খুঁজি অতীতের মাতৃভূমি
ঐতিহ্যে লালিত এদেশের সমাজ-সংস্কৃতিও বড্ড মহিমায় উজ্জল ছিলো
জনবৈচিত্রের বহুমূখী সংমিশ্রনে বাঙালী জাতির বীজ রোপিত হত সযত্নে
হারানো বংলাদেশকে হাতড়িয়ে বেড়াই হন্তারক বারুদের মরু বালুকায়।
.
নানা জাতিধর্মের মিল বন্ধনে সহমর্মিতার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়নি তখন
তিলোত্তমা বাংলাদেশকে নস্যাৎ প্রচেষ্টায় ব্যর্থতার পুরষ্কার পায় মরু পশুরা,
ঐক্যবদ্ধতায় শোককে সেদিন শক্তিতে পরিনত করতো অদম্য স্বদেশীগুলো
আজতো উল্লুকের পালেরা বাংলাকে চিনেনা, আসেনা ধেয়ে হিংস্রতা দেখাতে!
তবে কেন--
নিখাদ নিরিখে গড়া নৈসর্গিক বাংলাদেশকে চিনতে কষ্ট হয় আমাদের?
.
সিন্ধুর ঢেউয়ের মত অস্তিমজ্জার সৌহার্দ্যকে খন্ড-বিখন্ড করতে ব্যস্ত সবাই
অচেনা বেদনা উল্লাসে আকাঙ্খার বাঁধ টুটে গেছে ক্ষীণ মনতাপের দূর্বল আহবানে
মসৃণ বাংলার সবুজ আঙিনা রক্তের কারুকার্য বিহীন ফ্যাকাশে পর্দার ন্যায়
.
শোষিত সোহাগে অবশ বাংলায় পরজীবীরাও চুমো খেতে ভয় পায়
লালসা, রক্ত নেশায়, ধর্মনাশের মোহে মানচিত্রটার বুকে কালো রক্ত
বমি করে, স্বচ্ছ চোখে বাঙালীরা ধূসর দেখে বাংলা মায়ের বদনখানা।
হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, পিপাসার জলে বনহংসির মত দেয় ডুব,
স্বজাতীয় নীতির পাড়ে ভাঙন ধরিছে, প্রতিবাদী সন্তানেরা আজ থাকে চুপ।
.
পাপাশ্রয়ী উমার প্রেমের গল্প যে বাংলায় ঠেলাঠেলিতে ঠাঁই পায়
জ্ঞানের পুস্তিকা থেকে মগজে------ সে বাংলাকে তো আমি চিনি না,
যেখানে শান্তির আদলে পাপাসক্ত মতভেদ, হারানো প্রীতিকে খুঁজতে
সমবেদনার বিপরীতে হিংসার অট্টোহাসি শোভা পায়--
এই বাংলাতো আমার বাংলা নয়, এ ভয়াল বাংলাদেশ চিনি না আমি।

অনুকাব্য-

-- নব প্রভাতের সমারোহিত পত্র-পল্লবে হিম বায়ুগুলোকে উষ্ণ চাদরে জড়িয়েছে
ঘরের পূর্ব কোণ হতে উঁকি মারা রক্তিম মুন্ডু পরানো লজ্জাটে কুমারী কিরণমালা,
নির্লজ্জ বেহায়াপনার অবগাহনেই মত্ত হয়েছে আড্ডাপ্রিয় সীমাহারা তেজীঘোড়ারা
মুখের ভঙ্গিটা মৃদু হাসিতে রূপ দিয়ে আকাশের বিস্তৃতি মাপে একজোড়া উদাস চোখ।



সালামিন ইসলাম সালমান

"জীব‌নের ফে‌রিওয়ালা"
***রহমান মাসুদ***

মায়াময় দু‌নিয়ার ফে‌রিওয়ালা
দিবা-রাত্রি র‌চি কতইনা খেলা,
সাঙ্গ হ‌লে এই ভ‌বের মেলা
মন্ঞ্চস্ত শেষ বিচা‌রের পালা।

ভোলা মন সর্বদা ভু‌লে সে কথ‌া
হৃদ‌য়ে নেই ন্যূনতম মানবতা,
লুন্ঠন-দখল-আগ্রা‌সি ম‌নোভাব
এটাই আজ নিষ্ঠুর মানবীয় স্বভাব।

অপ‌রের ব্যথায় নয়‌তো ব্যথিত
কাটা ঘা‌য়ে নু‌নের ছিটা ‌অব্যাহত,
সংখ্যালঘু-গোত্র-জাত-ধর্ম-বর্ণবাদ
স্লো‌গা‌নেই চলে রক্ত প্রবা‌হের বিবাদ।

অস্হির বি‌শ্বে সন্ত্রাসবা‌দের দামাম
বিসর্জন দি‌য়ে‌ছে শ্রেষ্ঠত্বের সুনাম,
মুসলমান হিন্দু-সনাতন-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান
য‌দিও সবার দে‌হে একই রক্ত বহমান।

ইতিহাস থে‌কে নি‌চ্ছিনা কোন শিক্ষা
শয়তা‌ন দি‌চ্ছে প্র‌রোচনা ও দিক্ষা,
বিধাতার আরাধনায় সদা নি‌র্লিপ্ততা
তাই চার‌দি‌কে হাহাকার আর ব্যর্থতা।

প্রাকৃ‌তিক দূর্যোগ ও মানবীয় দূ‌র্যোগ
য‌দি না কর‌তে চাও আর‌ো ভোগ,
অচি‌রেই গ্রহন কর তওবার সুযোগ
বিধাতা‌কে চে‌নো, থে‌কো না নির্বোধ।

*পড়ন্ত বেলায় *(নন্দা মুখার্জী ).                                                                                   অনেক বছর আগে- প্রায় তিন যুগ হবে --                                                       দেখেছিলাম তোমায়- এসেছিলে আমাদের বাড়ি -                                           মা,বাবার সাথে - তখন সদ্য কিশোরী আমি -                                              তুমিও কিশোর- লতায়-পাতায় সম্পর্ক রক্তের -                                                                                                    গল্প- গুজব, খাওয়া-বেড়ানো - সবই হত  একসাথে -                   .                                                    .   রক্তের সম্পর্কটা - সব সময় মনে রেখে -                                     কখন যেনো -নিজেরই অজান্তে ভালো লেগে গেলো তোমাকে  --                                                                                        হয়তোবা- ভালোইবেসে ফেলেছিলাম তোমায় -                                     বলিনি কোনদিন - আমার এই দুর্বলতার কথা তোমায় -                                      .                                   "পাছে লোকে কিছু বলে"- ভেবে -                                                মাঝে মধ্যে, তারপর তুমি- এসেছ অনেকবার -                                  হাসি,গল্প ,ঝগড়া ,আড়ি- চলেছে বরাবর -                                               কোনদিন মনের কথা- প্রকাশ করতে পারিনি তোমাকে                        .                                  জানতে পারিনি- কি ছিলো তোমার মনে নিয়ে আমাকে                              .                                   ভরা সংসার এখন আমার- তবুও একটা শূন্যতা -                       করনি তুমি বিয়ে কেনো- জানতে চাইনি কোনদিন -                                                                      আজ এই বিকালের - শেষ প্রান্তে এসে -                                                 ভাবি যখন - একা একা বসে -                                                    তবে কি তোমারও মনে ছিলো কিছু- নিয়ে আমাকে ---                     (নন্দা মুখার্জী ) 13.6.15

একটি চিঠি, তোমার জন্য
জয়দাস

কোনো এক রাতে আমি বরই একা, সঙ্গীহীন
কাটছে না প্রহর, নিরাশ আমি ভাবছি তোমার কথা।
বিছানার এপাশ থেকে ওপাশ একাকীত্ব মন
গুনছে সময়, দুচোখ ঘুমবিহীন।
ছাদের উপর মুক্ত আকাশটা আজ খুব বড়
তুমি হীন উজ্জল চাঁদটার ও আজ নেই ঝলক,
তাই আবার ফিরে এসেছি খালি বিছানায়।
হালকা ঘুমের যতি যখন চোখের কোনে
বালিশটাকে তুমি ভেবেছি এই অচেতন মনে।
ভৌক্তিক কোনো কারনেই হয়তো এই লোডশেডিং
জানালার ফাঁক দিয়ে ঝড়ো বাতাসে নিবু নিবু করছে জ্বলন্ত প্রদীপ।
আর, আমার সত্যিই খুব ভয় লাগছে, একাকী
বড় একটা পাথরে চাপা পড়ে আছে আমার বুকটা।
এই রাত্রি হয়তো আমার শেষ রাত্রি
চোখের সামনে ঝাপসা ভাসছে সজনী তোমার মুখটা,
একটি চিঠি লিখে রাখলাম তোমার জন্য
বিদায়, আমার শমন অপেক্ষায় দরজায় ।পূর্ন জয়দাসের বিরহ সমগ্র

দিলাম ছুটি


- জুলফিকার আলী

দুঃখগুলো দিলাম ছুটি
পুরনো দিন ভুলে,
নতুন দিনের আসলো বার্তা
দুয়ার দিলাম খুলে|

নববর্ষে সুখ স্পর্শে তাই
জীবন সাজাই ফুলে,
সুখ নৌকার জীবন জোয়ারে
উঠুক সবার দুলে|

জ্বরা গ্লানি দূরে যাবে
নতুন কাঠি ছুলে,
জাদুর কাঠি ছোঁয়া দিয়ে
সাম্য দিলাম তুলে|

হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাই
ভালোবাসার মূলে,
নতুন দিনের পঞ্জিকাটা
দিই দেয়ালে ঝুলে|

" দৌড় "

- শ্যামল কুমার মাইতি
দৌড়ে চলে সময়-
শুকনো পাতার মচমচ শব্দ
শুনতে লাগে বেশ কখনো....
আমারও ইচ্ছে হয়-
পেরিয়ে যাই নিজের মতো
এক ছুটে দলে কাঁটাগুলো.....
ফেলে রেখে ভাবাভাবি-
টানটান হয়ে ভুলি সীমারেখা
ভালো হয়েও হয়ে পড়ি মন্দ!.....
পেয়ে যাই যা কপালগুণে-
মজে গিয়ে তার সম্ভোগে
সন্তোষ তবু মেলে না যেন......
মন্দ হয়েও আসে যদি তাগিদ-
ভালো হওয়ার অদম্য উদ্দীপনায়
জন্ম নেওয়াই আবার যেন!.....
শ্লথ হয় যদিও গতি-
রঙ যদি নাই লাগে পদে পদে
জীবন যে তবু তারও.......
হিসেবে দিন আসে-
বয়স সাজে অভিজ্ঞতায়
লক্ষ্যে হাঁটে সাদাসিধে মুহূর্তও......
দৌড়ে চলে সময়-
শুকনো পাতার মচমচ শব্দ
শুনতে লাগে বেশ কখনো! .....
--শ্যামল কুমার মাইতি
19.12.2016

আয়নাবাজী
- ফাল্গূনী রুনু
আয়না বলে আমার পানে চেওনাকো আর !!
তোমার রূপে ভেঙেছি আমি হাজার কুড়িবার !!!
আয়না বলে ক্ষ্যান্ত দাও ছাড় আমাকে !!
তোমার স্থান
দিয়ে দিয়েছি অন্য কাউকে !!!
আয়না বলে ভুলে যাও একদিন ছিলে সেরা !!
মন খারাপের কিছু নেই সময় তোমার চেরা !!!
আয়না বলে আর কতো এবার আমায় ছাড়ো !!
আমি বলি চুপ একদম চুপ !
সফেদ চুল আর দাঁতহীন হাসিতে দেখব তোমার আরো !!!

চিরহরিৎ অরণ্য মায়ায়

- মোশ্ রাফি মুকুল

 

এখানে সুখগুলো বুনো পায়রার মতো উড়ে যায়- বিস্তীর্ন হৃদয়ের ধানক্ষেতে,
এখানে আনন্দগুলো নাচে মৌমাছিদের সাথে- হলুদ সরিষা বনে মৌ মৌ মৌতাতে।

এখানে বুকের গহীনে জলবনে জলপরী খুজে ফেরে- মায়াবী ইচ্ছে ডানার ঘড়িয়াল,
ধনেশ পাখির মতো আমিও কুয়াশার জলরঙ মাখি- ধ্যানমগ্ন সেইসব শীতের সকাল।

এখানে মন বনে বিশুদ্ধ গন্ধ ঠোঁটে নিয়ে রমনীর নাকফুলের মতো ফোটে- পরিযায়ী বুনোফুল,
এখানে বুকের চুম্বন দিয়ে মুছে দেয় প্রিয়জন গাল বেয়ে চুয়ে পড়া কান্নাশ্রু-ভূলে যায় শত ভূল।

তুমি যাবে যাও চোখ ধাঁধানো ধুসর নগরে- নিষিদ্ধ সুগন্ধির বারোয়ারী রঙ জলসায়,
আমি থাকি পড়ে এ মাটির গন্ধে মেখে চিরহরিৎ মনের বনে-সহজ সরল সবুজ মায়ায়।

২৬/১২/২০১৬

পারলে খুঁজে নিও
- গাজী নূরুন্ নাহার স্বপ্না

মৃদুকণ্ঠে আর কখনোই বলবোনা,
হৃদয়ে আশ্রয় দিও আর একটিবার।
আজ শুধু বলবো ---
যত্নকরে ভুলে যেও আমায়।

ঘোমটাপরা সভ্যতা যেমন করে চুরমার হয়,
ঠিকতেমনি, তুমিও----
বিনা নেশায় চুরমার করে দিও আমার স্বপ্নগুলো ।
ধূলিসাৎ করে দিও----
আমার ধ্রুপদী স্নিগ্ধতা আর মৌনতা কে।

বিশ্বাস করো এতটুকু কষ্ট ও হবেনা আমার !!
ঘনকালো চোখের পল্লব আর ভিজবেনা কখনোই।
কেননা, আজ আমি ---
নিজের রাজ্যে নিজেই যে নির্বাসিত।

শুনেছি নীলাকাশে তারারমেলা অন্ধকারে মিলিয়ে যায়,
ঠিকতেমনি, আমিও একদিন ---
মিলিয়ে যাব পৃথিবীর বুক থেকে।
জেনেরেখ, সেদিন থেকে আমার জীবনাকাশে,
আর কখনোই সূর্য উদিত হবেনা।

চলে যাবো অনেক দূরে ,দূর- বহুদূর !
তোমার চর্মদৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে।
যেখানে নীলাকাশ ছুঁয়ে আছে মাটি,
যেখানে আকাশ আর দরিয়া করছে কোলাকুলি।
সেই নীল নির্জনেই হবে আমার ঠিকানা।
পারলে খুঁজে নিও ।।

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

অনন্ত
- ঈশাণী ব্যানার্জী
আমি যদি তুমি হতাম
পাখি হয়ে উড়ে যেতাম,
চাঁদের দেশে পাড়ি দিতাম
লক্ষ তারার দেশে যেতাম,
কল্পনারই জাল বুনতাম
সারাজীবন ধরে।

উদাস হাওয়া টেনে নিয়ে
হাওয়া পোষাক গায়ে দিয়ে,
পরি হয়ে শূন্যে ভেসে
বিশ্ব বায়ে ফিরে এসে,
তোমারই হাত দুটি ধরে
শূন্যে পাড়ি দিতাম।

আমার নানা কল্পনাতে
স্বপ্ন নিয়ে জাল বোনাতে,
পাগল আমি তোমার দুঃখে
তোমার হাতে হাতটি রেখে,
সারাজীবন তোমার সাথে
কাটিয়ে আমি দিতাম ।।

প্রতিধ্বনি

- সোনালী মন্ডল আইচ

শব্দগুলো ভাসতে ভাসতে ক্রমাগত মাথার উপর
"ঘটে এবার বুদ্ধিশুদ্ধি আন " খনার বচন তোর
কোথায় ঘট ?খুঁজতে খুঁজতে বেলা গেলো
ভয়াবহ নানা দুর্বিপাক প্রিয় সঙ্গী হোল চেতনার
তটস্থ উঁকি মারি মনের ঘটে ভাঙ্গা আয়নার টুকরো
সত্যি মিথ্যের বেড়াজালে বন্দি প্রতিবিম্ব
যেদিকে তাকাই যেখানে যাই অচেনা মনের ভিড়
অন্য কেউ বা কারো সম্ভোগে ভাগ বসাই
একি নিজেকেও চিনিনা হাত পা গুটিয়ে নীলাভ
আলো আঁকড়ে ধাতস্থ হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা ,
খুঁজে ফিরি অদম্য উদ্দীপনায় হাত বাড়াই শূণ্যে
একটা ডুমুর , ফুল খুঁজি ," আঘাত করো "
কথাটা ধাক্কা দিতেই চমকে উঠি চেয়ে দেখি
নবজন্ম দুর্লভ শিক্ষা সাধাসিধে মুহূর্ত ও তোর
নামটা ,জখমের মিষ্টি যন্ত্রনা বেশ লাগছে
সমাধান ডুমুরের ফুল =তুই =আপন মন ।
জটিল অংকের সহজ সমাধানে দৌড়ে চলি
সীমা ভেঙে প্রতি পদে হিসেব না আর, করছি পণ,
যখের ধন তোর হাসি হোক না বাসী হার্ট-সেফেতে ,
হঠাৎ ক্ষিধে তোলপাড় শুরু সে কি পাকস্থলীতে ?

©Sonali Mandal Aich

হে মহাপ্রাণ
- অনাদি চক্রবর্তী

তুমিতো দেখেছো শত সভ্যতা
পতন আর উত্থান।
হে পিতামহ! বৃক্ষ আমার
সৃষ্টির আদি প্রাণ।

তুমিই প্রথম দিলে আশ্রয়
ফলে মূলে উপহার,
তোমারি বক্ষে বাহুর আড়ালে
মানব সভ্যতার্।

আধুনিক হল মানব সমাজ
সভ্যতা পেল গতি,
জ্ঞানে বিজ্ঞানে মনে ও মননে
অবিরাম উন্নতি।

বিদীর্ণ করি তোমারি বক্ষ
তোমারি দেহের 'পরে,
ইটের পাহাড়ে সাজিয়ে ধরণী
নগর তুললো গড়ে।

প্রতিবাদে তুমি হলেনা মূখর
নীরবে রইলে চেয়ে!
কুরুক্ষেত্র দেখনি কি তুমি
ভীষ্মের প্রশ্রয়ে?

দম্ভে মত্ত মানুষের হাতে
বিপন্ন আজ প্রাণ,
হে মহাপিতা গাহো একবার
জীবনের জয়গান।

আকাশ বাতাস আলোড়িত করে
উঠুক সে মহাঝড়,
প্রলয় মাতনে চূর্ণ করুক
যত শহর নগর্।

সভ্যতা পাক নব কিশলয়
ধরণী শ্যামলা ভূমি,
হে পিতামহ! জাগো আরবার
নিরব রয়োনা তুমি।

কোলকাতা , ২৭/১২/১৬

যেখানে অপেক্ষা নেই

- মোশ্ রাফি মুকুল

 

যেখানে ভালোবাসা আছে;

সেখানে কোন অবিশ্বাস নেই।
সেখানে মিথ্যার মিথ নেই।
সেখানে কোন প্রবঞ্চনা নেই।

যেখানে বিষময় জ্বালা নেই-
যেখানে উদ্বিগ্নতা নেই-
নেই অস্থিরতা তোমার জন্য;
সেখানে প্রথাগত অনুগ্রহ আছে-
অনন্ত প্রেমের পূর্নতা নেই।

যেখানে অপেক্ষা নেই-
যেখানে আবেগের অতিশার্য নেই-
যেখানে কোন দীর্ঘশ্বাস নেই-
সেখানে জটিল জ্যামিতি আছে,
কোন নিটোল প্রীতি নেই।

যেখানে মৃত্যুকে আলিঙ্গনের প্রতিশ্রুতি নেই,
যেখানে ত্যাগ নেই- উৎস্বর্গের প্রতিজ্ঞা নেই;
যেখানে তোমার জন্য দুর্ভাবনা নেই-
সেখানে ভোগের আকাঙ্খা আছে,
তোমাকে পাবার প্রার্থনা নেই।

যেখানে বিরহ নেই- বেদনার বিষাদ নেই,
যেখানে বিশ্বাস নেই- আনন্দের আশ্বাস নেই,
যেখানে খুঁশির খুসবু নেই-
নেই কোন না পাওয়ার কান্না,
সেখানে পরাজয় আছে,আছে প্রতারণা,
ভালোবাসা নেই,কোন ভালোবাসা নেই।

;

২৭/১২/২০১৬

মৃত্যুঞ্জয়ী
- ইরাবতী মণ্ডল

উজাগর নীল মৃত্যু ডানামেলে আকাশে ।
জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বাঁধে ঘুণ পোকা ।
কুরে কুরে খায় সব সত্ত্ব ।পৌষালি ধানের শিষে
মোটা পেট মেঠো ইঁদুর।জীবনের রং শুষে
ভরে নেয় আপন গহ্বর । প্রতি নিয়ত রিক্ত
করে,নিস্ব করে । চক্রব্যুহে বন্দী অভিমুণ্য মুক্তি
খোঁজে ।
তাই গাঙ শালিকের ডানায় প্রেম ভাসে ।

শিশিরভেজা ঘাসের ডগায় ,মুক্তোর মতন জীবন
হাসে; প্রভাতী আলোয় ।ভাটিয়ালির সুর ধরা
উদাসী মাঝি আর একতারা হাতে রাঙামাটির
বাউল জীবনের গান গায় ।
পুকুরের পারে , ডুমুরের গাছে বসে থাকা
মাছরাঙাটির মতন; আমি ও চেয়ে থাকি জীবনের দিকে ।
ভালোবাসার কাশফুলের ওড়না ওড়াই তোমার
পানে ।দুজনের একসাথে পথ চলার অঙ্গীকারে
লক্ষ্যভেদী অর্জুন ।নীলমৃত্যুর হাতছানি ভুলে
নিঃসীম আকাশে ডানামেলি ।
জানি একদিন হারাবো অন্ধকারের
নীল তারাটির মতন । ঝরে পড়ব আশ্বিনের
শিউলি ঝরা দিনে ।তবু তোমার ভালোবাসার
গন্ধ বুকে লেগে রবে ।খুদের ঘ্রাণ নেওয়া
ইঁদুরের মতন চেয়ে রব জীবনের পানে ।নীল
মৃত্যু জয়ী হবে মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেম ।

কোলকাতা ।।পশ্চিম বঙ্গ

27,12,2016

জীবন মানেই কি পরাজয়
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

বিচিত্র মোদের জীবনের রং ,
লাল ,সাদা ,নীল ,
অন্ধকারের পরেই যেমন -
আসে আলোয় ভরা দিন |

শীত ,গ্রীষ্ম ,বর্ষা যেমন -
ঘুরে ,ঘুরে আসে ,
জীবনের রং ও পাল্টে যায় ,
কোনো এক মাসে |

শিশুকাল কাটে একভাবে ,
কৈশোর আনন্দময় ,
যৌবনদ্বারে পৌঁছে বুঝি ,
জীবনটা খুব সহজ নয় |

সংসার জীবনের জটিলতায় ,
মাঝে ,মাঝে মন ভেঙ্গে যায় ,
সব কিছু থেকেও মনেহয় ,
জীবনের মানে কিছুই নাই |

তবুও বাঁচার অদম্য ইচ্ছা ,
সংসারেরই মায়া মমতায় ,
নিজ হাতে গড়া সংসারেই ,
মানতে হয় অন্তিমলগ্নে পরাজয় |

নন্দা 27.12.16 12-30am.

নদীর কূল

- সেলিনা আহামেদ শেলী

পাখিরে ঘুম ঘুম চোখে কী বলিস
ভোর হতে এখনো বেশটা বাকি?
পাখি সুরে সুরে বলে…,

কে,রে তুই? আমি কোকিল ডাকছি
সুরলা কন্ঠে,
হায়রে কোকিল হায়রে কোকিল
হাসতে ভুলে গেছি,তুই কী জানিস না?

তাতে কী হাসি ফুটাবো
ফুলের রেনু ছুঁয়ে আমি ডেকে ডেকে।

দুটি ঠোঁট নেড়ে বুঝিয়ে দিলাম
ভালোবাসার রং ধরেছে মনে মনে
সুরে সুরে..,
ফুলে ফুলে একূল ওকুলে
বেধেছে নদী কূল স্রোতে বয়ে।

আমি ভালোবাসি তারে যে দিয়েছে মন
চোখে রেখেছে চোখে হৃদয় ছুঁয়েছে
ঐ দুটি চোখে কী লুকিয়ে আছে ?

এক নজর দেখায় কী যে বলতে চাই?
বাঁকা চাঁদের মিষ্টি হাসিতে বলে আমি
দুষ্টমিতে সাজেছি আকাশ জুড়ে,

কাছে ডেকে নাও নিঝুম আধাঁরে
আলো মাখা আলিঙ্গনে,
রাতের জোছনায় স্বপ্নের অনুভবে
মিছে মায়ায়,
সাগরের বুকে ঢেউয়ের কোলে ।

---তাং..: ২৬/১২/২০১৬

উত্তর দাও
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

কেনো গো বিধাতা ,
তুমি এমন কেন ?
শ্রদ্ধা ,ভালোবাসার মাঝে ,
জটিলতা আনো ?

আজন্ম লালিত শ্রদ্ধার আসন ,
হয়ে যায় টলমলে !
বুকের মাঝে দগ্ধ করো -
ছাঁই করে দেওয়া অনলে !

তুমি তো দেখো ,
তুমিই গড়ে দাও -
কেন তবে তুমি ?
নিজেই ভেঙ্গে সব -
তছনছ করে দাও !

তোমার সৃষ্টি সকল কিছু ,
সম্পর্কগুলিও বাইরে নয় ,
তবুও কেন মেনে নিতে হয় ?
সম্পর্কের পরাজয় !

নন্দা 26.12.16 6-20পাম

জীবন সত্য

- ইরাবতী মণ্ডল

দূরে মেঘের সীমানায পাহাড়ের কোলে আমার
ভালোবাসার স্বপ্ন উডান ।ঝিরঝিরে ঝর্নার কলকল ধারায তার অবগাহন ।বনহরিণীর
চকিত চরণের চঞ্চলতা তার পায ।নদীর স্রোতের মতোন জন্মান্তরের প্রেম বযে যায তোমার
অভিমুখে । অনাদি অনন্ত কাল ধরে । ধরণীর
জন্মলগ্ন থেকে তার পথ চলা শুরু।
যতদিন রবে এ পৃথিবী,এমনি সে রবে চিরকাল ।
ধরণীর ঘাসে মাঠে,আকাশে বাতাসে প্রতিটি
ধূলিকণায সে লবে অমরত্ব । পাতার ফাঁকে ফাঁকে
ঝিলমিল সূর্যকিরণের তারুণ্যে তার প্রকাশ ।
মন্জরিত আম্রমুকুলের পুঞ্জে অলির গুঞ্জনে
তার মাখামাখি ।মন্দ-ভালোয,হাসি-কান্নায,
আলো-ছাযায--প্রতিদিনের জীবনের খেলাঘরে
নব নব রূপে জন্মনেওয়া আমার এ প্রেম চিরন্তন ,
শাশ্বত সত্য ।এটাই তোমার - আমার সত্য,আমাদের জীবন সত্য ।

কবিতা---জীবন সত্য///ইরাবতী মণ্ডল
26,12,2016 ।।।
পশ্চিম বঙ্গ//কোলকাতা

নিপা মোনালিসা
- মোশ্ রাফি মুকুল

রাত্রি দ্বিপ্রহরে ঘুমের ঘোরে আমাকে ব্যস্ত রাখে- ভুলায় ক্ষুধা তৃষ্ণা,
স্বপ্নের নিখুত জালে জড়ায় দু'হাত বাড়ায়- সে নিপা মোনালিসা।

সে স্বপ্ন সুন্দরী আমিতো চিনিনা তাকে-দেখেনি আগে কোথায় সে থাকে,
তবুও মনে হয় সে চিরচেনা জন কতোটা আপন-ইশারায় শুধু কাছে ডাকে।

সে সুন্দরীশ্রেষ্ঠা অপ্সরী চোখের পাতায় টেনে আনে অদ্ভুত নেশা,
ভীষণ মাদকতায় তার মাঝে হারাই আমি- চন্দ্রমুখি নিপা মোনালিসা।

ঘুমেরপুরে ছিলাম আমি তারপর ঘুম ভেঙে গেলে- নেই কেউ পাশে নেই,
আহা সে যে কি অপরূপ তার চমকিত রূপ দেখি প্রতি ঝলকেই।

সে সোনামুখি সমগ্র স্বত্ত্বাকে করেছে জয়-দেখেছি জীবনের দিশা,
ভালোবাসায় বেঁধেছে বাসা সে আমার অন্তঃপুরে- নিপা মোনালিসা।

। ফোন।

রুটিন গিলে ঘন্টা মিনিট আকণ্ঠ,
ক্ষান্ত দিলো শেষবিকেলের রোদ্দুরে।
ক্লান্তি, এমন ক্লান্তি তখন মন জুড়ে,
গতর তোলা বাধ্য হলেই একান্ত।

এমন সময় হঠাৎ করে ফোন তোমার
নদীর পাড়ে সূর্য ডুবছে, দেখতে যাবে?
গরমিল হয় এক মিনিটে সব হিসাবে
ঝিমিয়ে পড়া মনের ভেতর ধুন্দুমার!

এমন কথায় না বলা কি চলতে পারে?
সন্ধ্যাকালে নামিয়ে রেখে কাজের বোঝা
তোমার সাথে হাত মিলিয়ে সূর্য খোঁজা
সরিয়ে রেখে ফোকলা সময় অদরকারের।

যে যাই বলুক, সূর্য দেখা জরুরী নয়,
লোভ রয়েছে তোমার সাথে সময়ভাগে,
আলগোছে যেই চুল সরালে অস্তরাগে
হৃৎপিন্ডে ওলটপালট, কি হয় কি হয়!

রূপকথারা লুকিয়ে থাকে মনের কোণে
নদীর পাড়ের সূর্য দেখার অজুহাতে,
পক্ষীরাজে ঘুরে এলাম তোমার সাথে
অপেক্ষাতে থাকি এমন একটা ফোনের।

আর্যতীর্থ

"গ্রা‌মের সৌন্দর্য্য"
***রহমান মাসুদ***

গ্রা‌মের বাঁকা মেঠো প‌থে
সবুজ আলপনারই বাহার,
নীল‌ে প‌রিপূর্ণ দিগ‌ন্তের মা‌ঝে
শুভ্র মে‌ঘের নয়নকার‌া সমাহার।

ভো‌রের স্ন‌িগ্ধ শি‌শির স্না‌নে
স্বচ্ছ স‌তেজ প্রা‌ণে বৃক্ষরাজ,
আলো-আধা‌রের মিলন মেলায়
প্রকৃ‌তি‌ সে‌জে‌ছে নব বধুর সাজ।

সকা‌লে গ্রা‌মঞ্চল প্রাণচঞ্চল
জ‌মি‌ চা‌ষাবাদ‌ে লাঙ‌লের আচর,
সোনার ফস‌ল পে‌তে বদ্ধপ‌রিকর
সর্বদা জ‌মির বু‌কে তীক্ষ্ণ নজর।

উত্তপ্ত দুপু‌রে ঘ‌রে ফেরা
পরিশ্রান্ত ক্লান্ত অলস দে‌হে,
হা‌লের বলদ সহ নদী‌তেই স্না‌ন
শীতল প‌রশে মন জুড়া‌নোর মো‌হে।

সূ‌র্য্যের বিদা‌য়ের বেলা
গবাদ‌ি প্রা‌ণির ঘ‌রের সন্ধান,
সন্ধ্যার আগম‌নে প্রার্থনায় রত
নিশু‌তি রাত‌কে সমস্ব‌রে আহবান।

হে মা‌টি, হে জন্মভু‌মি
প্রাণ‌প্রিয় তু‌মি-তু‌মি-তু‌মি,
তোমার স্নে‌হের মধুমাখা কো‌লে
ধন্য জীবন,ধন্য আমি-আমি-আমি।

মাটির সবুজ গন্ধে গ্রোথিত শেকড়

- মোশ্ রাফি মুকুল

আমাদের ভেতরের অসমাপ্ত সম্ভাবনাগুলো আজো প্রকাশ করতে পারিনি,
যদিও আমাদের শেকড় গ্রোথিত তৃণমূলে;
তাকে কেউ উপড়ে ফেলতে পারেনি সমূলে...

আমাদের সীমাবদ্ধতা ক্ষমা করো প্রকৃতি,
এ অপ্রকাশিত সত্যতাগুলো কোন কার্পণ্য নয়;
আমরাতো পড়ে আছি গ্রামান্তরে মাটির নিবীড় কোলে...

থাক এ মাটির সবুজ গন্ধ আমাদের ভেতর-
আমরা প্রাকৃতজন- অচ্ছুৎ হলেও
জেনে রাখো অভিজাত বর্গ,
আলো আঁধারীর কাছে হার মানিনি...

যাদুঘর
- ইরাবতী মণ্ডল

শত সহস্র বছরের বিস্মৃত ইতিহাস বুকে নিয়ে
বিনিদ্র যাপন যাদুঘর । কত তথ্য,কত স্মৃতি তোর
বুকে জমা । মানুষের হাসি কান্নার ও না জানি
কত গাঁথা লুকানো তোর মাঝে ।
যে বিশালাকার ভয়ংকর জীব গুলো,
একদিন পদতলে দলিত মথিত করেছে এই
ধরণী ;আজ তারা নীরব ফসিল হযে ঘুমায় তোর
বুকে । কত দেশ,কত জাতির কোটি কোটি
বছরের ধূসর স্মৃতি নিযে তুই জীবন্ত ইতিহাস ।
তোর বুকে জমা রাখা প্রস্তরীভৃত শিলার
কোনো একটিতে হয়তো আমার প্রেমের ছাপ ও
রযে গেছে । কিম্বা কোনো শিলালিপি র গাত্রে
খোদিত তোমার-আমার প্রেম গাঁথা ।
ওই যে চিত্রকর,--চিত্রপটে এঁকেছে যে সুন্দর
রমণী;বুঝি নিজ প্রেমিকার ছায়ামুখ উঁকি
দিযেছিল তার তুলিকার টানে ।তাই তো এত
সুন্দর হয়েছে তার ছবি । তার ভালোবাসা যে
রূপ পেযেছে সেথা ।
সোনালী রেশমি সুতোয় বোনা, সোনার
বুটি দেওয়া ঝোলানো ওই যে বেনারসি শাড়িটি ;হয়তো বা রানী পদ্মিনীর ই হবে ।
ফুলশয্যার শুভক্খনে মোহিনী সাজে
সেজেছিলেন বুঝি এই শাড়িটি পরে । এখনো
তার আতর গন্ধ হয়তো মিশে আছে
শাড়িটির প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে ।

যাদুঘর,তোমার কোণায় কোণায় ইতিহাস
কথা বলে । রাতের অন্ধকারে বুঝি কত অতৃপ্ত
বিদেহী ঘুরেফিরে । নিজের অতীত কঙ্কাল মাঝে
আপন শরীরী অনুভূতি পেতে চায ।তাদের তপ্ত
নিশ্বাস ছড়ায তোমার বাতাসে বাতাসে ।তবু
পাষাণ হৃদয়ের কঠোরতা নিযে চির পাষাণী
তুমি যাদুঘর ।

কোলকাতা ।।।।পশ্চিম বঙ্গ ।।।

তারিখ--22,12,2016

এই ভূবন মায়ার বাঁধন অঙ্গে লেপন অধৃষ্টের কালো হাত,
তোমার আমার প্রেমরতন, ভালোবাসি সকাল সন্ধ্যা রাত।
কবিতার ছন্দে গেঁথেছি মালা পরাবো তোমায় যতনে,
কালোছায়া হোক না কায়া তবুও তোমায় বিলাবো প্রেম মতনে।
কুহু কুহু ডাকে কোকিলা ভরাবে মনের আকাঙ্খা,
সপ্ত সুরে গান শুনাবে, ওগো দেখ থাকবে প্রেম মাখা।
তোমার ভালোবাসা স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টিকর্ম,
প্রেমের জেলখানায় বন্দি কয়েদি এটাই প্রেমের ধর্ম।
নিভৃতে চলা জীবনে ছিল জোছনার আলো,
মিটিমিটি তারার প্রানে খুঁজেছি প্রেম, জড়িয়েছিলাম ভালো।
কুড়িয়ে বকুল ফুল গেঁথেছি মালা প্রেমের জাদুতে,
এক ডোরে বেঁধেছিলাম কথামালা অনেক মায়াতে।
সুরের টানে বাজা তানপুরারটা ভালোবাসি ভালোবাসি বলে,
আমার কন্ঠের ভাঙা কথন আজো বাজিছে মৃদঙ্গ আর ঢোলে।

খেলাঘর

- মোশ্ রাফি মুকুল

যদিও হতাশার কালো মেঘে কেটে যায়-
তারপর মাতাল বাতাস আনে সাদা কুয়াশার ঢেউ,
বৈরী ঝড়ের কাছে পরাভূত হয় কেউ কেউ...

সবাই জেতেনা একসাথে দুইজন জেতেনি কোনদিন,
তোমাকে জিততে হলে আমাকে হারতে হয়-
আমার এ উদারতাকে তুমি বলো পরাজয়...

তবুও হতাশার এ চতুর্ভুজ ছকে গাঁটছাড়া বাঁধে মোহময় জীবন,
ধুসর হলফে স্বেচ্ছাকৃত স্বীকারোক্তি লিখে ফেলে বেহিসেবি যৌবন...

জীবন তবে কি হতাশার পরিকল্পিত ছক?
নাকি তোমার নিজস্ব ভূমিতে দুর্বোধ্য খেলার মাঠ?
কেউ থাকতে চায়না নিয়তির খেলাঘরে,
তুমিও থাকবেনা নিশ্চয়!
তোমার সুখের নৌকাও ছোঁবেনা কখনো সে ঘাট-
জানি তুমিও করবেনা কোনদিন
হতাশার এ করুণ কাব্যপাঠ...

সৈনিক

- ইরাবতী মণ্ডল
কোলকাতা
ছেলেটি অল্প বয়সে আধা সামরিক বাহিনীতে চাকরী পেয়ে; পোস্টিং হয়ে
এসেছিল পুরুলিয়ার জঙ্গল মহলে; মাওবাদী দমনে।জঙ্গলের জীবন বড় কঠিন। মামাইলের পর মাইল জঙ্গলের ভিতর চলে যেতে হতো মাওবাদীদের
খোঁজে ।সঙ্গে থাকত শুকনো খাবার আর
জল। অনেক সময় সেইখাবার ও ফুরিয়ে
যেত। থাকত না তেষ্টায গলা ভেজানোর
জল টুকু ও।মাঝে মাঝে আদিবাসীদের
গায়ে গিয়ে জল চাইত, খাবার রান্না করে
দিতে বলত।তার জন্য টাকা দিতে চাইতো। কিন্তু দিত না তারা।বলত,
'তু দিগেরকে খাবার রান্ধি দিলি , জল দিলি উরা(মাওবাদীরা) মুদের ঘর জালাই দিবেক। হাত।, পা মুণ্ডু কাটি
মেরি ফেলবেক।" অগত্যা পুকুরের জল
খেয়ে তেষ্টা মেটানো আর সঙ্গে রাখা
পেঁয়াজ লঙ্কার সাথে পেয়ারা পাতা
বেটে খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে থাকা।
এইভাবে চলতে চলতে সত্যিই একদিন
মাওবাদীদের দেখা পেল তারা।কয়েক জন গামছায মুখ ঢাকা লোক অতর্কিতে
তাদের ঘিরে ফেললো। বন্দুক তোলার
ও সময় পেলো না তারা।একজন মাওবাদী ছেলেটির এক বন্ধুর মাথায়
মারলো লাঠির বাড়ি। বন্ধুটি মাটিতে
পড়ে যেতেই ছেলেটি তাকে কাধের উপর
তুলে ছুট লাগায় ।কিন্তু একজন মাওবাদী
লাঙ্ মেরে তাকে ফেলে দেয়। ছেলেটি
কোনরকমে উঠে দাঁড়িয়ে বন্ধুকে ফেলে
সেই লোকটির গলায় কামড় মেরে
ছুটে পালায়।আর আহত বন্ধুটি পড়ে
থাকে সেখানে। পরে যখন তারা আবার
সেখানে ফিরে এল--দেখে বন্ধুটির মুণ্ডু আর দেহ আলাদা আলাদা পড়ে আছে।
হায় কিছুক্ষণ আগে ও যে ছিল তাদের সাথী এখন সে আর নেই। দুচোখ ফেটে
জল আসে তার।

একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা।
06 04, 2016

*** স্মৃতির ভিড়ে ***
সালামিন ইসলাম সালমান

চৈতন্যে মিলননিশার সমাপ্তে রাজনন্দিনীর কম্পমান বাহুতে
যুবকেরা ওষ্ঠ বুলিয়ে ঢোক গিলেছিলো বালিকার যৌবনের মধূ-
মিলনের প্রান্ত লগ্নে কামনার অন্দরে অবেলার ঝড়ের মতন,
হৃদয় পান্ডুলিপিতে এঁকেছিলো সদ্যজাগা বর্বর চুম্বন।
:
মজবুত স্বপ্ন পাখার বালুতটে পরিপাটি প্রেমের আসন পাতানো
নশ্বর ভূ-ধরের মোচড়ানো কোমর আলিঙ্গনে আজও কি-
সরল তাজা স্মৃতিগুলো নয়নের নীর ঝরায়?
:
স্মৃতিকাব্যের প্রান্তরে উন্মুখ, চঞ্চল চিত্র গুলোর উলঙ্গ উল্লাসে
মগজ কাঠামোর একপাশ ছেদ হয়েছে মৌন নিবেদনে,
ক্লান্ত ঘুমন্ত স্মৃতির দলে ঘোমটায় মোড়ানো ঝলমলে-
পণ্যরত্ম স্বপ্নের বুদবুদ- আর উঠেনি গগন ভেদি।
:
প্রেতের কলঙ্কিত চুমোর অন্বেষনে নীল নহরের স্বপন দেখা
সুস্থ স্মৃতিরা তবে কি উধাও হবে বেঘোর-বেঁহুস স্মৃতির ভিড়ে?

*** তোমরা প্রেম বলো কাকে? ***
সালামিন ইসলাম সালমান

“ গৃহবাতায়নে কালিমাখা প্রদীপ নিভু নিভু করিতেছে হায়,
যৌবন কামনায় দেহে জড়াজড়ি ধরি প্রেম নাহি চেতনায়।”


ওহে সুবোধ ! তোমরা কি প্রেম করো নাকি প্রেমে পড়ো?
আমি নর হলাম একটি নারীর প্রেমে পড়বো বলে, নাকি তার সঙ্গ নিয়ে প্রেম করবো বলে? স্থির হলাম- হয়তোবা আমি ছেলে অথবা মেয়ে। আমি নিজেকে যেভাবে প্রেমে পড়ার সাথে মেলাতে ভালোবাসি, খেয়ালে আনতে পারবে কি, তোমার চিন্তা ধারার সাথে মিল হবে কিনা?
শিক্ষিত সমাজ মাথায় ঠুকিয়েছে যে পেরেক- মোহের আচ্ছাদনে রক্তিম একটি গোলাপ হাতে, একবুক সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলাম, সামনে দাড়িয়ে নির্লজ্জের বলীয়ান হয়ে ভালোবাসি কথাটার সম্মানী বস্ত্র খুলে স্মার্টনেস হাওয়ার আকাশে স্ফীত মাতাল বেলুনের মত ধপাস করে ফেঁটে গেলেই বোধ হয় প্রেমে পড়া যায়।
চিন্তায় মগ্ন হও, ভাবো একরাশ।
এভাবেই কি প্রেমে পড়ে মন?

আমি মগ্নতা আনি যেভাবে-- কোন নর অথবা নারীকে দেখলাম, তাকে নিয়ে নিজেকে ভাবতে শেখালাম। তার আচার-আচরন বোধ, চলন-বলন, তার কাজ-কর্ম, ধর্মভীরুতা সর্বদিক দেখতে দেখতে যখন অধিক ভালোলাগার ভিতরে ডুবে যাবো ঠিক তখনই তার সমস্ত কর্মকান্ডের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো আপনাতেই নিজের ভিতর আবিষ্কার হবে। চয়নিকার সমস্ত কর্মকান্ডকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো শিখতে পারলেই নিরালা নীড়ে আশা জাগবে কিছু একটা অঘটনের।
এমনিভাবে একে অন্যের ভিতরে এক ধরনের সমন্বয়-সখ্যতা গড়ে উঠলে অনুভূত হয়-
এটা প্রেম করা নয়-
মন সাঁয় দিয়েছে এটা প্রেমে পড়া।

মরা ময়ূরের কান্না

- মোশ্ রাফি মুকুল

নদী;
ওগো ময়ূরী তুমি পেখম খোলো আবার,
আমার এ প্রিয় শহরের শরীরে তুমিও আনতে জোয়ার যৌবন...
রূপসার রূপ ছুঁয়েছুঁয়ে তুমিও ছুটেছিলে একদিন আমার রক্তনালীর মতন- এ খুলনার।
তোমার স্বচ্ছজলে মায়াবীরা তখনও করতো জল মাখামাখি-
শীতল জল সিঞ্চন।

এখন-
মানুষেরা ময়ূরীর গায়ে প্রতিদিন ঢালে বিষাক্ত বর্জ্যের গরল,
পলিথিনে ঠাঁসা ময়ূরীর সারা দেহ;
সাদা পাখনার পালতুলে চলেনা আর ময়ূরকণ্ঠী নাও-
ভূমিখেকোরা আর কঁচুরী শেওলায় নিয়েছে তোমার বুকের দখল...

সকল;
প্রকৃতির শৃঙ্খল ভেঙে ভরাট হচ্ছে নদী আর জলাধার,
পাহার কেটে সমতল।
আকাশমুখি শহুরে আনন্দে মত্ত তুমি আমি-
চারিদিকে রঙবাহারী আলোর নাচন; মুখোশের আবডালে নাচছে মেকি সভ্যতা!
কেউ দেখেনা মরা ময়ূরের জলশূন্য কান্না;
এই সব নদীদের,
এ জলশ্রী কন্যারা হয়তোবা আর খুলবেনা পেখম কোনদিন...
প্রাণ ও প্রকৃতি যে একদিন ছিলো পরম আত্মীয়,
জল ও জীবনের সে ঘনিষ্ঠ নৈকট্যতা
নাগরিক সুখে চোখ বুজে
হয়তোবা আমরা ভুলেই গেছি সে গল্প- সে কথা।

২১/১২/২০১৬

আর নয়
- সোনালী মন্ডল আইচ

আমি যে অতল তলে
ডুবে গেছি বানের জলে,
এখন আমি মাস্ক ছাড়াই
অগাধ জলে সাঁতরে বেড়াই,
কেন তুই দাঁড়িয়ে পাড়ে ?
আমি আর ভাসবো নারে-
দূরবীনটা সঙ্গে আছে
দূরে যা দেখব কাছে,
বাতাসের টিউব রাখিস
নাহয় তুই ভেসেই থাকিস,
যেটুকু শ্বাস রইল বাকি
তুই ভাস, আমি ডুবতে থাকি ।

© Sonali Mandal Aich

পিলসুজ

- সোনালী মন্ডল আইচ

পাথরে বিছিয়ে দিলাম সবটুকু বিশ্বাস ,
এবার পূর্ণাবয়ব প্রতিবিম্বের দিকে তাকাও,
নাহয় আর একবার আলিঙ্গনের দীর্ঘশ্বাস পড়ুক
ঘাড়ের কাছে, তুষারাবৃত হিমবাহ গলছে,
সেই আগ্রাসী জলস্রোতের বিষণ্নতায় যাই ভেসে,
বারুদে ও আগুনে দূরত্ব বজায় থাক,
জ্বলে ওঠার দুরন্ত উচ্ছ্বাস ওদের-
কখনো হিরোশিমার ধ্বংসস্তূপ,
কখনো বা ফিনিক্সের নবজন্ম ,
আমার একটু সময় চাই ,তালগোল
পাকানো বোধ স্পন্দিত হোক, তারপর
মা পেঙ্গুইনের মতো সবচেয়ে ছোট দুর্বল
ডিমটিকে গড়িয়ে দেব পাহাড়ের উপর থেকে
নিচের খাদে, ভেঙে যাবে স্বপ্ন কিংবা মোহ...
বাস্তবেও বিপদসীমা অতিক্রম করলে
বন্যার দায় মাথায় নিয়েই কয়েকশো কিউসেক
জল ছাড়তে বাধ্য হয় বিশেষজ্ঞদল...
এখন জীবনের অবশেষটুকু নতুন পলিমাটিতে
ছড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে শুনি
নারীশক্তির আরাধনায় পৃথিবী কাঁপানো
মন্ত্রোচ্চারণে চাপা পড়ে যায় ক্ষীণ গোঙানি ,
বাঘ শিকার করে বীরত্ব জাহিরে অভ্যস্ত
মানুষই নরখাদককে 'নৃশংস' উপাধি দেয় ,
বাঘবন্দীর খেলাটা কি এভাবেই চলতে থাকে ?

© Sonali Mandal Aich

তোমার উপহার
নন্দা মুখাৰ্জী রায় চৌধুরী

স্বপ্ন যখন ভেঙ্গেই গেলো ,
তাকাবো  কেন পিছু ?
বাঁচার রাস্তা আছে অনেক -
খুঁজে নেবো কিছু |

অনেক আশা ছিলো মনে ,
সব অচেনা মনের সনে ,
নুতন করে রচবো আশা ,
খুঁজবো নতুন ভালোবাসা |

মাথা তুলেই বাঁচবো আমি ,
মানবো নাতো হার ,
তোর আঘাত মোর জীবনে ,
ভালোভাবে বাঁচার উপহার |

এখনও আমি দেখি স্বপন ,
তবে তোকে নিয়ে নয় !
খুঁজবো আমি এমন আপন ,
যাকে বিশ্বাস করা যায় |

নন্দা   17.12.16  9-30

শিশির ঝরে স্বপ্নবাজের
- শাহিনা কাজল

নির্জন রাতের অলিন্দ ছুঁয়ে ঝুলে পড়া রোদ্দুরের ক্যানভাসে
জলভরা আকাশ যে ছবি আঁকে,মনে মনে
অবাধ্য স্বপ্নরা শুধু পাখির পালকে ঘুমহীন রয়।

হিমেল কথাগুলো মুঠোফোনের বারান্দায়
উর্বর শরীরে ইচ্ছের বেলুন ফুলায়।

রোমান্টিক শব্দরা কবিতার ক্যান্টিনে স্বশব্দে হামাগুড়ি দেয়
নাবালক অনুভূতির খেয়াঘাটে।

শুধু বৈকালী বুনোহাঁসের সঙ্গমে,
স্বপ্নবাজের শিশির ঝরে
অনুভবের কোলবালিশে, ঘাম ঝরে-নির্ঘুম রাতে।

কুয়াশা ভেজা আকাঙ্ক্ষার পারদ জমে স্বপ্নবাজের
স্বপ্ন ভাসে স্বপ্ন অাসে অনায়াসে......।

কুয়াশার জালে পালতোলা নৌকোর মাঝি
দিশেহারা পানকৌড়ি ---
অঘোরে ডুব দেয় ডুবুরি। অপেক্ষার ঘোলাজলে।

শিশিরের সোঁদা-গন্ধ খোজে স্বপ্নবাজ
তুলতুলে প্রেম - বিশ্বাসে
বৃষ্টিরা কেবলই ঝরে যায় মেঘের সঙ্গমে।।

'সুখ কেবলি থাকে'
- অনিতা পাণ্ডে

জীবন চলার পথে
কত দুঃখ ভিড় করে,
নিমজ্জিত হয়ে পড়ি,দুঃখের সাগরে।
মাথার উপর দিয়ে
কত পাখি যায় উড়ে,
কখনও কি নিজ মাথার চুলে
বাসা বাঁধতে দেই তারে !
বিপদ এমন'ই আসে
জীবন দরিয়ায়,
খেয়া পারাপার হয়
আসে আর যায়।
সুখ সুখ বলে আমরা
কেবলি করি হায়- হায়- !
দুঃখ আসে ,দুঃখ চলে যায় -
সুখ কেবলি থাকে,সময়ের অপেক্ষায় !

১৯-১২-১৬,
বরিশাল।

"নারীর আর্তনাদ"
***রহমান মাসুদ***

প্র‌তি‌দি‌নের খবর "ধর্ষণ"
বিপরীত লি‌ঙ্গের নির্যাতন,
দৈ‌হিক চা‌হিদায় অপহরন
পশু‌দের হা‌তে মৃত্যুবরন।

শিশু "পুজা"রাও লাঞ্ছিত
পুরুষত্ব জ‌া‌হির অব্যাহত,
কখন অত্যাচার দলগত
সে ‌ঘটনা ঘট‌ছে কতশত।

গোপন ক্যা‌মেরার ব্যবহার
লু‌ন্ঠিত ইজ্জত অবলার,
সর্বদা নির‌বে কাঁ‌দে বিচার
এটাই কি সমান অধিকার?

আজ সভ্য যু‌গেই বসবাস
তবুও নারী‌দের দীর্ঘশ্বাস,
পুরুষের নেই কোন বিশ্বাস
শুধু চ‌রিত্রহন‌নের অভ্যাস।

পুরু‌ষের হা‌তেই মানদন্ড
ধর্ষণ জাত ভাই‌য়েরই কান্ড,
নানা বাহানায় বিচার পন্ড
আশ্বাসে সাধু ,কর্ত‌ব্যে ভন্ড।

জন্মগ্রহন ত‌বে কি পাপ!
না‌রীত্ব অর্জন মহা অভিশাপ?
সহ্য পুরু‌ষের অন্যায় প্রতাপ
এভা‌বেই কি শেষ জীব‌নের ধাপ?

তুমি আসবে বলে, রেসকোর্সের ভাষন আবার টেপরেকর্ডে দিচ্ছে বার্তা,

শুধু তুমি আসবে বলে, অগ্নিঝরানো শ্লোগানে শ্লোগানে মিছিলে নামবে জনতা।
তুমি আসবে বলে, রাইফেলের শব্দ হবে না, হবে না কোন বোমাবাজি,
শুধু তুমি আসবে বলে, লক্ষ ফুলের মালা গেঁথে, আমরা জনতা করছি গলাবাজি।
তুমি আসবে বলে, ফুটপাত করেছি ফাঁকা, মাইকে মাইকে করছি তোমার বন্দনা,
শুধু তুমি আসবে বলে, মঞ্চ জুড়ে আহবান চলছে, জনতা পাচ্ছে সান্ত্বনা।

তুমি আসবে, তুমি আসবে, দিপ্ত হচ্ছে শ্লোগান,,,

কম্পিত চারপাশ, নবরত্ন নামের সাথে যুক্ত হচ্ছে এক এক,
লাল,নীল,হলুদ,সবুজ নানান রংয়ের বাহার করছে চকচক।
শোভা বর্ধিত রাস্তার দু'দ্বার, নামফলক বড় বড় করে খচিত,
তোমার আগমনে, বুকের ভিতর থেকে, কিছু একটা হচ্ছে উন্মোচিত।
হাজার হাজার জনতার কলধ্বনি, প্রগাঢ় হচ্ছে, আত্মকথনের চিৎকার,
তুমি আসছো, তুমি আসছো,,
এই যেন আমার কত বড় অহংকার।।

যে ফুলে গন্ধ নেই, সৌরভ নেই,

সে ফুল বেড়ে উঠে অযত্নে,অবহেলার তীরে,
হয়ত পুকুর পাড়ে, ঝোঁপে ঝাড়ে, বাড়ির পাশে বন বাঁধাড়ে।
এই ফুলের রং যদিও হয় লাল,সাদা, হলুদ ,
তবুও এই ফুলে হয় না মনোরঞ্জন,
হয় না পরানো প্রেয়সীর চুলের খোঁপার ভাঁজে।
যতটা অবহেলা আমরা করি,
তার অধিক পাওয়া হয় তাদের,
বিধাতার সৃষ্টকর্মে নিয়তি পারেনি দিতে তাদের বলি,
তাই বুঝি ধন্য জীবন তাদের,
দেবতার চরনে হয়ে পুষ্পাঞ্জলি।
লাল রং অনেকের প্রিয় রং নয়,
অথচ, রক্তের রং লাল,
জাতীয় পতাকার রং সবুজের মাঝে লাল,
বাঙালীর বুকের তাজা রক্ত সবুজ ঘাসের উপর লাল চিহ্ন আঁকে,
প্রতিনিয়ত মাথা নত হয়, শহীদের জীবন বলিদানে।
প্রেরনা যোগায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে।
রাস্তার উপর সিগন্যাল বাতির রং লাল,
জীবনকে চলতে শিখিয়েছে যে স্বাধীনতার লাল সূর্য,
সে লাল রং থামিয়ে দিচ্ছে আমাদের সিগন্যালের রংয়ে,
অদ্ভুত তাদের এই সকল পাওয়া,
যতটা অবহেলা আমরা করি,
অধিক পাওনা তাদের বিধাতায় করেছে মঞ্জুরি।
জীবনে আমরা অবহেলা করেছি যাদের,
ভাগ্য তাদের বিধাতায় গড়ে দিয়েছেন,
যা কিছু প্রাপ্তি তাদের রিক্ত হস্তে করেছে গ্রহন,
দু'হাত ভরে নিয়েছে অতিশয় বিনয়ে।
বিশ্বাসের বলে দেখেনি মুটো খুলে,
কী দিয়েছে বিধাতা তাদের কপালে।
তারাও হয়ত বিধাতার নিয়মে চায়নি যতটা লোভে,
তার চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে পাওয়া আমাদের ক্ষোভে।

এইতো বলে বিধির বিধান,আরও কতশত আছে শক্তিমান।
কেউ ছোট নয় যে অবহেলা পাবে, পুনঃশ্চ বলি সব সৃষ্টি ঐ বিধাতার বলে।।

 

মড়াই ঘরে বাদামি পেঁচার বাসা
খুব দুর্গন্ধ অন্ধকারও ঠাসা
সচরাচর ওদিকে কেউ যায়না
মাঝে মাঝে মন করত বায়না
বারান্দাটা ছিল সাজানো ক্যানভাস
বাগানের ছুটোছুটি করা বাতাস
ডালপালা ছড়ানো সবুজ গাছগুলোকে
নাড়িয়ে, শোঁ শোঁ ঝড় তুলেই শান্ত পলকে
লাগোয়া বাগানের ফুলগুলোতে খুব সকালে
মৌমাছিরা গুটি গুটি ঘুমজড়ানো ডানা মেলে
মধু খোঁজে আলস্যে, বুঁদ হয়ে যাই
মাঝে মাঝে যখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি পাই
দেখতাম বাগান থেকে শুরু করে ক্রমে দূরে
ওই অনেক দূরে ছড়িয়ে পড়ত মিষ্টি সুরে
আমার খরগোশ দুটো হালকা লাফিয়ে চৌকাঠে
এন্টেনার মত কান খাড়া ,গোঁফে ও চেরা ঠোঁটে
বিপদের গন্ধ শুঁকতো ,প্যাঁচাটাকে ভয় পেত
পরক্ষণেই ছুটে অদৃশ্য হয়ে যেত ।
সে যতটা সম্ভব একটা অন্ধকার বেছে নিয়েছে
তার দৃষ্টিহীন হলদে চোখ ও ধূসর কান দেখা গেছে
সন্ধ্যার পর মদির নিস্তব্ধতা গুঁড়িয়ে দিয়ে
ডেকে উঠত কান্নার মত ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে
অজান্তে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসতো
তখনই কিছু লেখার কথা মনে পড়তো
ভয়ংকর দূরত্বে হারাতে হারাতে নিঃসঙ্গ জীবনে
নাম ধরে কতবার ডেকেছি তোকে মনে মনে
সেই মুহুর্তগুলো সেই তীব্র অনুভূতি কখনো হয়নি
কারো প্রতি, মুশকিল , আজও বলা হয়নি...
এখনও তো সময় আছে
বলব না হয় পেলে কাছে ।

©Sonali Mandal Aich

*** কিভাবে সেই একটি বিজয় ***
সালামিন ইসলাম সালমান

একপ্রহর অবকাশ ভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে থমকে দাড়িয়েছি
উত্তেজনায় উত্থাপিত চাহনিগুলো যেন অচেনায় ভরপুর
ফিরে পাই সেদিনের সেই ঘানিভাঙা আর্তনাদগুলি।
:
একটি লাল রঙা রাত,
শহর থেকে শুরু করে মফস্বল গাঁয়ের নির্মল আবহে-
ঘুমন্ত মানুষগুলো চোখের পাতায় পাতায় স্বপ্ন টানে
বাঙালি সত্ত্বার পশমিনা বুকে সযত্নে বুলেটগুলো সাঁজানো ছিল সেদিন
মর্টার, কামানের গোলা আর বেয়োনেট দিয়ে খুবলে দেখা হয়েছে-
লক্ষ লক্ষ মানুষের কলিজার পুরুত্ব,
সতীত্ত্ব রক্ষার তাগিদে প্রাণকে স্ব-হস্তে বিসর্জন দিয়েছে,
সম্ভ্রম হরণকারী নরপশুরা নষ্ট করেছে অগনিত মা-বোনের অস্তিত্ব।
:
একটি দিন থেকে শুরু করে গোটা কয়েক মাস পেরিয়েছে-
হাহাকার, কান্না আর রক্ত-মাংসের উর্বর গন্ধে,
সেদিন যক্ষা রোগীর মত ধুঁকে ধুঁকে মরেছে মানুষের মন।
বিলাসের বাঁশি ভেঙে বাঙালি জেগেছিল নব যৌবনের স্বাদ নিতে,
সহস্র জোড়া ত্যক্ত মন বিষের আস্বাদ পেয়ে ক্ষিপ্রতায় মজেছিল।
:
দীপ্তমান চোখের অশ্রুতে মিশে, উড়ে আসা ধূলোবালির মত কষ্ট,
জবাব তো তার দিতেই হবে, কেন করেছে ওরা সরল জীবনগুলো নষ্ট?
:
ওদের হৃদপিন্ডের কালো চামড়ার হিংস্র ঠাসবুনুনিটি ছিড়ে
সমুজ্জ্বল সম্ভাবনার খোরাক মেটানোর পায়চারিতে মেতেছিল-
আমার পিতা, আমার মাতা, আমার ভাই, আমার বোন।
:
সময়ের মুখে প্রতিশোধের ছেদ চিহ্ন পড়তেই ওদের ভীত নড়েছিল
কম্পিত পায়ে ওরা আত্মসমর্পণ করতে ছুটেছে বাংলার বুকে,
রক্তফেনামাখা মুখে মড়কের ইঁদুরের মত ঠাঁই খুঁজেছে --
বাংলা মায়ের উত্তপ্ত পদ তলানীতে।
:
বাংলার ভিটে মাটি রক্ষার ইন্দ্রজাল বুনতে রক্তে পৃথিবী ভেসেছে
সেই বুনো উল্লাস ফুরায়ে গেল বীরত্বের লক্ষ প্রাণের নব উৎসবে
আমাকে ওরা মুক্তি দিয়ে গেছে, বিজয় তো ভোগ করে নাই,
বাংলার শরীরভরা আনন্দ উল্লাস দেখে ওরা কি তুষ্ট হয়?
:
সেদিন পাক বাহিনীর ব্যভিচার থেকে দেশ মাতাকে রক্ষার
অফুরন্ত যোগ্যতায় শিহরিত হয়ে হামাগুড়ি দেই শীতল মৃত্তিকায়,
নির্বাক হয়ে চেয়ে থাকি মুক্ত হওয়া এই বিজয়ের দিনে।
এই দিনে বাতাসের কাপড়ে বুক ঢেকে আমার বাংলাকে দেখি বিস্ময়ে।
:
ভয়ানকতার সারাৎসারে তব অনন্ত মৃত্যুর রং মিশেছিল আড়ম্বর,
অগাধ আস্থার ঘোরে সত্ত্বার ঘুম ভেঙে দেখি বিজয়ী ১৬’ই ডিসেম্বর।
:
রচনার সময়কালঃ ১৫’ ডিসেম্বর ২০১৬ ইং- ( বিকেল বেলা )

বিজয়নিশান

- কবির হান্নান
...........................................
বিজয় এনেছে ছড়িয়ে রক্তে ঘ্রাণ
এই দেশ ত্রিশ লাখ শহীদের প্রাণ
জীবনের বিনিময়ে এনেছে দেশ
রাখবাে আমরা তার সম্মান।

রক্তে অর্জিত দেশ
বিশ্ব মানচিত্রে একটি নাম
বাংলাদেশ আমাদের
লাখাে শহীদের রক্তে দাম।

দেশ মাতৃত্বে ধরিয়ে জং
প্রাচ্যত্বের মোহে মিলাব না রং
লাখাে শহীদের রক্তের দাম
ইতিহাসে লিখা বীর বাঙ্গালীর নাম।

কাঁদছে ইতিহাস ভাসছে স্মৃতি
ভুলতে চলেছি দেশ মাতৃত্ব বােধ
ওরাও ছিলাে আমাদের মতাে
তেরঙ্গা নিশান করেছে প্রতিহত।

সবুজ ঘাসে রক্তে মাখা
সেদিন করেছে গাঢ়রূপ ধারন
রক্ত দিয়ে এনেছে স্বাধীনতা
দুই রঙ্গা নিশানে সন্মান গাঁথা।

সেই বিজয়ের ইতিহাস
আজ বাংলার ভূমি
ভুলার আগে বিধাতা
মৃত্যু দিয়ো গাে তুমি।
..................
(১৬/১২/১৬)

বিজয় ও মৃত্যুঞ্জয়ী যুবক

- মোশ্ রাফি মুকুল

যুবকটির হাতে একসময় থাকতো লাঙ্গলের ছড়া ধরা,
কাস্তে হাতে ধানক্ষেতে দিন কাটতো তার...
যখন বেজে উঠলো যুদ্ধের দামামা-
বর্বর পাক সেনারা যখন কেড়ে নিচ্ছে অজস্র সুন্দর প্রাণ,
কেড়ে নিচ্ছে বোনের ইজ্জত-
চারিদিকে সারি সারি নারী পুরুষ-
আর শিশুদের রক্তাক্ত লাশ।
ইতিহাসের জঘণ্যতম গনহত্যার শিকার বাঙালীরা,
ঘরে কি বসে থাকা যায় আর?
লাঙ্গলের ফলা কি জমি চষে আর?

ছেলেটির চোখেমুখে প্রতিশোধের লেলিহান আগুন।
মাথায় বেঁধে নিলো সে লালরঙা গামছা-
পরোনে তার তাঁতে বোনা সবুজ লুঙ্গি,
গায়ে জড়ানো ধবধবে সাদা গেঞ্জি;
হাতে ধরা উর্দ্ধমুখী রাইফেল-
মাকে বললো দোয়া করো মা,
আর না,এভাবে চলতে পারেনা
এবার উপড়াতে হবে এই জিঘাংসার শেকড়;
সে বলেছিলো মাগো-বিদায়,
আমি যাই,বিজয় নিয়েই তবে ফিরে আসবো,
স্বাধীন দেশের জমিন জুড়ে
আবার লাঙ্গল চষবো-
নব ফসলের হাসি হাসবো।

উনিশ শ' একাত্তর ১৬ ডিসেম্বর-
রক্তের সিঁড়ি বেয়ে 'বিজয়' বাড়ী আসলেও-
ছেলেটি আর ফিরে আসেনি।
সেই থেকে ছেলেটির মা আজো আছে অপেক্ষায়...
হয়তো ত্রিশ লক্ষ বাঙালীর রক্তমাখা দেহের সাথে সেও ছিলো মিশে,
হয়তোবা তার সে পবিত্র শরীর রক্ষিত আছে দেশমাতৃকার বুকে-
সেখানে জেগে আছে সে মুক্তিযোদ্ধা-মৃত্যুঞ্জয়,
হয়তো আজো সে বিজয় দিবসে-
মুক্ত আকাশে লাল সবুজের পতাকা উড়ায়...

সে প্রত্যয়ী যুবকের দু'চোখের স্বপ্নে বোনা,
বুকের তাজা রক্তের দামে কেনা-
আমাদের স্বাধীনতার সোনালী ফসল...
স্যালুট তোমাদের মৃত্যুহীন প্রাণ,
বাংলা মায়ের মুক্তিসেনানী সব সূর্যসন্তান।

"‌ মহান বিজয় দিবস"
***রহমান মাসুদ***
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনায়
দেশ প্রে‌মিকরা যু‌দ্ধে যায়।
নয় মাস মু‌ক্তিযু‌দ্ধের ফ‌লে
১৬ই ডি‌সেম্বর বিজ‌য় মি‌লে।

বিজয় পে‌য়ে‌ছি এই দি‌নে
লক্ষ শহী‌দের র‌ক্তের ঋণে।
বৃথা যায়‌নি শহী‌দের রক্ত
জা‌তি আজ কলংঙ্ক মুক্ত।

মু‌ক্তি‌যোদ্ধারা শ্রেষ্ঠ সন্তান
স্বাধীনতা তা‌দেরই অবদান।
তাই পে‌য়ে‌ছি নতুন মান‌চিত্র
তাঁরাই জা‌তির নক্ষত্র।

যা‌দের জন্য পে‌য়ে‌ছি স্বাধীনতা
ভোগ কর‌ছি সকল সফলতা।
ভা‌বি‌ কি আজ তা‌দের কথা ?
তা‌দের ক‌ষ্টে পাই কি ব্যথা ?

সম‌য়ের কাল‌স্রো‌তের পা‌কে প‌রে
মু‌‌ক্তি‌যোদ্ধারা যা‌বে জগৎ ছে‌ড়ে।
বিজয় দিবস আস‌বে ঘু‌রে
মুক্ত‌ি‌যোদ্ধা‌দের পা‌ব না ফি‌রে।

শত কাঁদ‌লেও ফির‌বেনা তাঁরা
স্বাধীনতার সূর্য এনে‌ছিল যারা।
জা‌তি সময় থাক‌তে হু‌শিয়ার
সবাই‌কে নি‌তে হ‌বে দা‌য়িত্বভার।

বিজয় দিব‌সের অঙ্গীকার আজ
মুক্ত‌ি‌যোদ্ধা‌দের জন্য কর‌বো কাজ।
তাঁ‌দের প্র‌য়োজ‌নে পা‌শে রব
অন্তর খু‌লে ভালবাসা দেব।।

"ভুতুড়ে কান্ড" ( নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী ) ^^^^^^^^^^^^^^^^^

বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলে কলেজে পড়াকালীন সময়ে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যহীন ভাবেই বেড়িয়ে পড়লাম | সবাই মিলে প্রথমে আসলাম হুগলি | সেখানে আমার এক কাকার বাড়ি আছে | বাড়িটা একটু ভিতরের দিকে | পাঁচজন যেয়ে সেখানে উপস্থিত হলাম | নানান ধরণের গল্প ,গুজব হতে হতে আমার খুড়তুতো ভাই বললো ওখানেই একটি রাজবাড়ী আছে ; যেখানে শুধুমাত্র  ভুতেরই বাস | অনেকেই নাকি নানান ভাবে তাদের অস্তিত্ব টের পেয়েছেন | সকলেরই বয়স কম , প্রত্যেকেই নিজেদের অসীম সাহসী ভাবি | ঠিক করলাম সকালেই ওই রাজবাড়িতে যাবো |    উঠতে উঠতে একটু বেলায় হয়ে গেলো | কাকিমা বললেন স্নান , খাওয়া ,দাওয়া করে যাতে আমরা বেড়োই | এ সব সারতে সারতে আমাদের প্রায় বারোটা বেজে গেলো | খুড়তুতো ভাইটি আমাদের সাথে গেলো না , পথনির্দেশটা দিয়ে দিলো | অনেকটা পথ পেড়িয়ে আমরা এসে রাজবাড়ীর সিংহদুয়ারে পৌঁছলাম | বিশাল লোহার গেট | খুব বড়ও তালের মতো এক তালা ঝুলছে | ঢোকার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না , এমনকি আশেপাশেও কাউকেই দেখতে তেমন পাওয়া যাচ্ছে না | খুব মন খারাপ নিয়ে ওখানে দাঁড়িয়েই সকলে নানান পোজে ছবি তুলতে লাগলাম | হঠ্যাৎ আমাদের সকলকে অবাক করে দিয়ে বেশ মোটা কালো মতো একজন লোক সেখানে এসে হাজির হলেন | ভিতরে ঢোকার চাবি কোথায় পাবো তার কাছে জানতে ছায়ায় তিনি অত্যন্ত মিহি শুরে আমাদের বললেন ,"ওটা আমার কাছেই থাকে |" খুশিতে ডগমগ সব গেটটা খুলে দিতে বললাম | গেট খুলতে খুলতেই উনি আমাদের সতর্ক করে দিলেন যাতে পুরো রাজবাড়ী আমরা বাইরে থেকেই দেখি এবং সন্ধ্যার আগেই যেনো ওই রাজবাড়ী ছেড়ে বেড়িয়ে আসি | পরে রাতে এসে উনি তালা দিয়ে যাবেন | আমরা সম্মত হয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম | রাজবাড়ীর ভিতরে কিছু কিছু জায়গা আগাছায় পূর্ণ | আবার অবাক করে দেওয়ার মতো কিছু জায়গা দেখলে মনেহয় সেখানে যেন নিত্য লোকের আনাগোনা | বিশেষত যে সব জায়গা গুলিতে বসবার মতো ব্যবস্থা রয়েছে |  মনের আনন্দে সকলে সবকিছু ঘুরে দেখছি | হঠ্যাৎ খেয়াল হলো আবার ছবি তোলার | মোবাইল ফোনের তখনও চল হয়নি | ছবি তোলার জন্য আমার দামী ক্যামেরা ইয়াসিকা | পোজ নিয়ে সকলে দাঁড়িয়ে পড়লো | আমি ক্যামেরার পিছনে | কিন্তু একি ? চোখের সামনে যে মানুষগুলিকে দেখতে পাচ্ছি ,ক্যামেরার লেন্সে তাদের দেখতে পাচ্ছি না কেন ? শুধুই কালো আর কালো | সাধের ক্যামেরা আমার নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে নিয়ে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো | নষ্ট ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে আবার ঘুরতে লাগলাম | এত বড় রাজবাড়ী যেন শেষই হয়নি ঘোরা | সন্ধ্যা হয় হয় ; এমন সময় ওই লোকের কথা মনে পড়লো | বেড়িয়ে আসতে হবে | পুরোটা ঘুরে দেখা হোলোনা বলে মনটা সকলের খুব খারাপ হয়ে গেলো | আমরা বাইরে বেড়োনোর জন্য পিছন ঘুরে হাটতে লাগলাম | কিন্তু কোথায় বাইরে বেড়োনোর পথ ? যে পথ দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম সে পথই তো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না | হঠ্যাৎ কানে এলো ঘুঙঘুর এর আওয়াজ | অতি বড় সাহসী আমি -আমার বুকের মধ্যেও ধুকধুকানি শুরু হোলো | হঠাৎ করেই আমাদের সামনে একজন মহিলা এসে উপস্থিত হলেন | তিনি বললেন ,"আপনারা এত দেরি করলেন কেন ? ঢোকার আগে আমার স্বামী তো আপনাদের বলেই দিলো সন্ধ্যার আগেই এখান থেকে বেড়িয়ে যেতে | আমার পিছন পিছন তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে আসুন |মহিলার সহায়তায় আমরা রাজ্ বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলাম | চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার |কিছুদূর এগিয়ে  তারই মাঝে দেখতে পেলাম একটি ছোট চায়ের দোকান | সেখানে কিছু লোক বসে চা খাচ্ছে ; ওই মানুষগুলির মধ্যে যে আমাদের গেটের তালা খুলে দিয়েছিলেন তিনিও আছেন |আমরা সকলে যেয়ে চায়ের দোকানে চায়ের অর্ডারটা দিয়ে বাইরে বেঞ্চে বসে দাড়োয়ান ভদ্রলোককে  বললাম ,"আপনার স্ত্রী যদি ওই সময় আমাদের কাছে না আসতেন আমরা তো বেড়োতেই পারতাম না | কিন্তু সন্ধ্যার সময় ওখান থেকে ঘুঙঘুরের আওয়াজ কোথা থেকে আসছিলো ?"হঠ্যাৎ চা বিক্রেতা আমাদের দিকে তাঁকিয়ে বললেন ,"আপনারা রাজবাড়িতে গেছিলেন ? আর একটাও কথা ওর কাছে জিজ্ঞেস করবেন না | আপনারা এদিকে উঠে আসুন |" যার সাথে এতক্ষন কথা বলছিলাম মুহূর্তে দেখি সে উধাও | দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম ,"এত তাড়াতাড়ি ভদ্রলোক উঠে কোথায় চলে গেলেন ?"  " উনাকে শুধু আপনারাই দেখতে পারছিলেন এখানে আমরা কেউই তাকে দেখতে পাইনি | উনি মানুষ না | তবে কখনোই কারও ক্ষতি করেন না | কেউ রাজবাড়ী দেখতে আসলে উনি গেট খুলে দেন ; রাত হয়ে গেলে উনার স্ত্রী বাইরে বেড়োনোর পথ দেখিয়েও দেন | দুজনেই ছিলেন রাজার বিশ্বস্ত কর্মচারী | বেঁচে থাকতে তারা যে কাজ করেছেন মরে যেয়ে ভুত হয়েও একই কাজ করে চলেছেন | আর ওই যে ঘুঙঘুরের আওয়াজের কথা বললেন না - সন্ধ্যা হলেই ওখানে মাহফিল বসে | রাজপ্রাসাদের ভিতরে  নানান প্রকারের আলোর রোশনাই, অনেক দূর থেকে সে আলো দেখা গেলেও কাছে গেলে তা ক্রমশ কমতে থাকে | অদ্ভুত একটা গা ছম্ছমে ভাব আসে | যারা দাঁড়োয়ানকে বা তার স্ত্রীকে  একবার দেখেছে পরে তারা আর কখনোই তাকে দেখতে পায় না | কেউ সেখানে গেলে সেদিন দাঁড়োয়ান এখানে আসবেই |" আমরা সকলে হা করে কথাগুলি শুনছিলাম | হঠ্যাৎ আমার বন্ধু বিজন বলে উঠলো , তার মানে আমরা পুরোদিনটা ভুতের সাথেই কাটালাম ?"  "হ্যা আপনারা  রাজপ্রাসাদের কোনো কামরায় ঢোকেননি বলে বেঁচে এসেছেন ; যদি কোনো কামরায় ঢোকার চেষ্টা করতেন তাহলে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারতেন না | ওরা কিন্তু আপনাদের সাথে  সাথেই ছিলেন | ওখানে কেউ ছবি তুলতে গেলে কোনো ছবি উঠে না ,কারণ ওরা সাথে থাকে |

অদ্ভুত ব্যাপার হলো সারাদিন আমরা ভুতের সাথে থেকেও কেউ কোনো ভয় পেলাম না | খুশি হলাম এই ভেবে যাক বাবা ! ক্যামেরাটা তাহলে নষ্ট হয়নি | ভুতের ছবি না উঠুক মানুষের ছবি তো উঠবে !!
""""""

নন্দা  24.9.16

"ছিলাম-থাকবো"
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে যদি দেখো -
পাশে আমি নেই ,
জ্বালাবে না আলো, চোখ বুজে তুমি ,
আমার পরশ নিও |

দুরগগনে ঘন আবীরে ,
সন্ধ্যা যখন নামবে ,
ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে তুমি ,
মন খারাপে একা একা বসে থাকবে ,
প্রদীপের দিকে চোখ রেখে দেখো -
হাসিমুখ আমার দেখতে তুমি পাবে |

সোহাগ তোমার ছেড়ে এসেছি ,
সময় আমার ফুরিয়েছে তাই ,
ভালোবাসা মোদের আজও রয়েছে ,
মনে রেখো তুমি সদাই |

আমার তরেতে কেঁদে তুমি ওগো ,
হোয়োনা যেন আকুল ,
আঁখিজল তোমার মুছাতে পারবোনা ,
আত্মা মোর হবে যে ব্যাকুল |

পড়পারে আবার হবে যে মিলন ,
থাকবো দু'জনে একসাথে -
সুখ ,দুঃখের উপরে গিয়ে ,
রাখবো হাত অপরের হাতে |

নন্দা   17.11.16   10-10PM.

বাঁশির সুর
~সুমন কোলে
কি করে বাজবে সে বাঁশি
অবেলায় যার ফুরিয়ে গেছে বেলা ,
খেলতে খেলতে খেলার ছলে
যত্নে নিজেকে লুকিয়ে রাখার খেলা।
প্রাণগুলো হাসলে
ভালোবাসা আড়ালে ,
গোপনে তাড়া করে বেড়ায় ভয় ;
আলো ফুঁটলেই এই বুঝি সন্ধ্যে হয়।
তবুও প্রত্যহ দেখতে পাওয়া রঙবেরঙের স্বপ্ন
যেমন কঠিনকে মেনে নেওয়া ছাড়া নেই উপায় ,
হলেও হোক , হবেই কিছু মুহূর্তে ভগ্ন ;
এক জন্মেই সাত জনম ,
অনুভূতিগুলো আসে ফিরে যায়।
মিশে গেছে তাই বাতাসে বাঁশির সুর
তৃষিত বক্ষে জুড়ায় প্রকৃতির শোভা ,
মানুষগুলোই বেজেছে হাসিকান্নায়
চেনেনি আলো অন্ধকারের প্রভা।
বিভেদ করে জীবন দেয় অমরত্ব দান
ঘিরে রেখে যে যার মতো করে স্নান -
শরীরের ক্লান্তি তাতে হয় দূর
ঠিকানা অসীমে চিঠি লেখে মন ,
বাজুক বাঁশি বাজুক তার সুর
বাঁশির কণ্ঠে প্রস্তুত আছে রণ।
কোনো সৈনিকের রণাঙ্গনে
দুকূলের সীমাবন্ধনে ,
যদি সেজে ওঠে তরবারি
সাথে তারি বেজেছে বাঁশি ;
এসো , এখানেই করি মৃত্যবরণ , কারণ
তোমারই মতো আমিও জীবনকে ভালোবাসি।

“““ এসো পণ রাখি ইসলামেই ”””
সালামিন ইসলাম সালমান

আল্লাহর কাছে হোক নতশির হোক,
ওরে মুসলিম, ওরে বৃদ্ধ-যুবক।
ওহে পালোয়ান, ওহে নও জোয়ান,
ভুলেছো কেন খোদার বাণী শ্রেষ্ঠ পাক কোরান-
তবে কি তোমার হৃদ মাঝারে আনো নাই কোন ইমান?
কত পাপী তাপী রয়েছো ধরায়-
ভুলে গ্যাছো দ্বীন রংতামাশায়-
জগৎ নেশায় মত্ত হয়ে করেছো ভীষণ ভুল,
তাওহীদে তোমরা রাখোনি বিশ্বাস,
বুঝবে যেদিন ফুরাবে নিঃশ্বাস-
মাটির কবরে শায়িত হলেই-
হবে সব ভন্ডুল।
করছো শত পাপ ভাবছো মিছে বুঝি-
মোচনের পথ নাই,
শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত করেছেন তোমাদের-
তারই হাত ধরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ দিয়েছেন বিধাতায়।
কালিমার দাওয়াতে শামিল হও মুসলিম-
ইসলামেই রাখো পণ,
আল্লাহর ওয়াদা পুরিতে হও মশগুল-
দুনিয়াতে গড় সবে আখেরি জীবন।

বিধাতার প্রতিরোধ
- পার্থ সারথী

দু'ফোঁটা অশ্রু দিলাম, লিখো রেখো কালি করে,
এক বিন্দু ভালোবাসা দিলাম, সুযোগ বুঝে রেখো বৃত্তের ঘরে।
সাহস করে বলেছিলাম, অপূর্ণতা কখনও জীবন নয়,
যদিও কলঙ্ক আছে চাঁদের বুকে, তাও কী সে অপূর্ণ রয়।
বুকের জমিনে শস্য ফলে না, তাও এই জমিন অপূর্ণ নয়।

তোমার শিহরিত কমল হৃদয়ে, বসন্তের আগমনি বার্তা দেখে,
বলেছিলাম শান্ত সাগরে সাঁতার কাটা তোমাকে মানায়।
তুমি উদ্বেগ কন্ঠে বলেছিলে, তুমি নিজেই অশান্ত প্রকৃতির।
তোমার ছোঁয়াই সবি অশান্ত, রুদ্র মুর্তি হয়।
অবাক নয়নে চেয়েছিলাম, বলেছিলাম তুমি শীতল জলে শান্ত হয়ে যাবে।
তোমার স্বীয় অগ্নিকণা ভষ্মিভুত হবে, ক্রোধ নিভে যাবে দেখো।

তোমার প্রস্থান হয়েছিল, আগমনি বার্তারও খবর ছিলো না,
এক বসন্ত শেষে আরেক বসন্তে এসেছিলে,
কৃষ্ণচূড়া গাছটার তলায়, হলুদ শাড়ি পরে বসন্তের রংয়ে রাঙিয়ে,
আমি অবাক হয়েছিলাম, তোমার চুল বাঁধা দেখে,
ঠিক আমার কথায় হলো, তোমার ক্রোধ চুলের সাথে বাঁধা পড়েছে।
শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করেছিলে, কেমন আছি?
আমি হতবাক! যে প্রশ্ন তুমি কখনও করোনি আজ কেন?

বেশি কথা হয়নি, সূর্য্য পশ্চিম আকাশে হেলে গেছে অনেক আগেই,
পাখিরাও কৃষ্ণচূড়া গাছ ছেড়ে চলে গেছে,
চারদিকে গোধূলির আলো শাড়ির সাথে মানিয়েছে বেশ ভালো,
বেশি কিছু আর হয়নি কথা, একলা হেঁটে গেলে শান্ত পায়ে,
পিছনে রেখে গেলে, তোমার যত রাগ, অভিমান, ক্রোধ,
বলেছিলাম শুধু,,,দেখে নিও, বিধিতায় করবে তোমার সকল দুর্ভাগ্যের প্রতিরোধ।

"গ্রা‌ম্য‌ উপাখ্যান"
***রহমান মাসুদ***

গ্রা‌মের নিস্তব্ধ রাত
ঘোর অমা‌নিশা অন্ধকার,
সে তো অতী‌তের গল্পকথা
ঘ‌রে ঘ‌রে আছে সোলার।

.

খবর পৌছা‌তে সপ্তাহ পার
ঘট‌ে যেত ক্ষ‌তি যা ঘটার,
সেই মহা হাস্যকর দিন নেই
হা‌তে হা‌তে মোবাইল সবার।

.

মা‌টির বা‌ড়ি বেড়ার ঘর
বুক দুরুদুরু বৈশা‌খী ঝড়,
তোমায় আর পাইনা ভয়
সবার আছে পাকা বা‌ড়িঘর।

.

ডাক্তা‌র মে‌লে তিনক্র‌োশ দূ‌রে
অসু‌খে মৃত্যু বিনা চি‌কিৎসা,
জন্ম-মৃত্যু বিধাতারই হা‌তে
ডাক্তারের সেবা দ্বোর গোড়ায়।

.

হাট তিন-চার দিন পরপর
প্র‌য়োজ‌নের সময় বুক ধড়ফড়,
আশেপা‌শেই দোকানপাট
কেনাকাটায় যায় করা নির্ভর।

.

কোট-কাচারী আর মামলা
গুড়-‌চিড়া সাথ‌ে নি‌য়ে রওনা,
দি‌নে গি‌য়ে দি‌নে চ‌লে আশা
বিকাশেই উকি‌লের পাওনা।

.

নাইয়োর যা‌বে গ্রা‌মের বধু
যানবাহ‌নে শাড়ী দি‌য়ে পর্দা,
গ্রাম্য "সমলা"রা একা চ‌লে
মু‌খে দি‌য়ে পান সুপ‌া‌রি জর্দা।

.

নতুন জামাই শ্বশুর বাড়ী
সখীরা সু‌খে ঢেক‌ি না‌রেচা‌রে,
তাতক্ষ‌নিক নুডলস আছে
নেই পিঠা তৈরীর ধা‌রেকা‌ছে।

.

শ্মশান-কবর নিঝুম বটতলায়
গা ছমছম, জিন-ভুতের ভয়,
সেই নি‌রি‌বি‌লি ভৌ‌তিক স্হা‌নে
দিনরাত নেশা‌র আড্ডা হয়।

.

অতীত-বর্তমান-খারাপ-ভাল
গ্রাম এখ‌নো স্বর্গেরই নিবাস,
কোলাহলহীন শা‌ন্তির আবাস
নির্মল, মুক্ত বাতাসেই বসবাস

বসন্ত উৎসব
- উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়

শীতের অভিপ্রায় মাখা
বিগত শতাব্দি গুলি
সার সার দাঁড়িয়ে রয়েছে
তাদের বুকে টোকা মারি
ঝরে পড়ে ধুলো,শুকনো পাতা
কচি পাতা সেজে ওঠার আগে
বেজে ওঠে বসন্ত-পঞ্চমী
পাখিদের ঠোঁট থেকে খসে পড়া
দু'কলি গান দিয়ে শুরু হয় বসন্ত উৎসব....

রক্তচোষা
- পার্থ সারথী

অনুভূতিহীন কাঁচের জানালায় ঠক্ ঠক্ শব্দ,
তাদের কানে বাজে না।
টিনের চালে অঝোর ধারায় বৃষ্টির টুপ টুপ শব্দও,
তাদের হৃদয়কে আন্দোলিত করে না।
বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে না,
শকুনরূপী মানুষের ছিঁড়ে ছিঁড়ে মাংস খাওয়া দেখে।

বুঝিনা এই অবহেলা কেন?
কি আছে এর উত্তর?
কেনইবা চলার পথে রক্তচোষারা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তাদেরকে?

তেজদীপ্তিমান শরীরগুলো অবিরত কঙ্কালসার হচ্ছে,
ক্রমেই কেবল কল্কি দেবতার রূপে পরিনত হচ্ছে।
জানিনা কেন এই নির্মমতা!

দু'পয়সা আয় রোজগার বন্দোবস্ত করবে,
একটু ভালো চলবে, ভালো খাবে,
সহ্য হয়না তাদের,
মানবতা কী ভূলন্ঠিত?

দেবতার মন্দিরে মাথা ঠুকে ঠুকে বার বার বলে,
"ঈশ্বর আমাকে মুক্তি দাও, মুক্তি দাও, মুক্তি দাও।"
শুনেনি ঈশ্বর! স্বার্থপর; ঈশ্বরও স্বার্থপর!
মুক্তির কল্যাণের সাধ্য কী তাঁর ছিল না?
ঐ বদের হাড্ডিদের তিনি চোখের নিমিষেই ধ্বংস করতে পারতেন,
কেন করবেন তিনি? এই নিচু জাতের জন্য!
ঈশ্বরতো আর গরীবের জন্য নয়,
ঐ জলজ্যান্ত বড়লোকের টাকার সাথে উনার বসবাস!
"পচন ধরুক তাদের টাকায়,
যে টাকায় ঈশ্বরও তাদের সাথে থাকে!"
জরাজীর্ণ বসতি, বাসন-কোসন, শোবার ঘর,
এতটুকু মায়াও কি হয়না প্রভু?
মরুভূমির বুকেও তুমি খাদ্যের যোগান দিলে,
তবে কেন এই গরীবদেরই কেবল দুঃখ কষ্ট দিলে?

অনুভূতি শূন্য হচ্ছে প্রভু, আঘাতে আঘাতে জড়জড়িত হতে হতে,
যে পারে সেই লাথি মারে!
চুষে খায় শরীরের রক্ত!
ভালোবাসা ছিন্ন তারা বহুকাল আগে।
এই মাটির বুকে ঝরে পড়ছে তাদের শরীরের রক্তঘাম,
বিবেকের নির্মম ছুরির খোঁচায় ক্ষতবিক্ষত শরীর,
ছেঁড়া কাপড়ে গতর ঢাকতে ঢাকতে,
লজ্জাহীনতাই প্রকৃত সম্বল তাদের।

বাঁচাও প্রভু বাঁচাও তাদের,
যে সৃষ্টি তোমার নিজের গড়া,
অন্ন মুখে শান্তির ছোঁয়া,
ভালো-মন্দে হোক না মোড়া।
তবে ধন্য প্রভু, ধন্য সৃষ্টি,
জগত জুড়ে হোক, শুধুই পুষ্পবৃষ্টি।
মনুষত্ব্যে থাকুক সবার দৃষ্টি,
ধরাধামে কর প্রভু, তোমার অনাসৃষ্টি।

কালের আহ্বান
- শৈবাল বিশ্বাস
আলো গুলো জ্বলেছিল একদিন
একদিন শপথের রক্ত মেখে মেখে,
গেয়েছিল গান মেঠো আলপথে
ভালোবেসে জীবনটা বাজী রেখে।

হানাদারী হায়নার বুলেটের প্রেম
নিয়েছিল বুক ভরে নির্বিশেষে,
সধবার নাক ফুল সিঁদুরের স্তূপে
ঢেকেছিল জারজের বংশ পরিচয়।

লিখেছিল ইতিহাস পদ্মার জলে
তরঙ্গ সে বার্তা দিল পৃথিবীর ঘরে,
সেদিন সে রক্ত স্রোতে ছিল শুধু
মুক্তির নেশা ছিল শুধু দেশপ্রেম।

ছিল শুধু অগ্নিমন্ত্রে আহুতির ভাষা
"রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব
এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব।
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম"।

কি অসীম উন্মাদনা ছিল সেই ডাকে
আবাল বৃদ্ধ বনিতা এল লাখে লাখে,
ঘাতক দালাল তখন ধর্মের আড়ে
রক্তের রং বাছে পদ্মা নদীর পারে।

জাগরে তরুন ছাত্র যুব
জাগরে কিষাণ জাগ।
জাগরে কন্যা জাগরে জায়া
জাগরে জননী জাগ জাগরে
আবার মুক্তি মন্ত্রে
আরও একবার জাগ।

তোদের ঐক্য কণ্ঠে আবার বজ্রকণ্ঠ আন
ফিরিয়ে নিয়ে আয়রে ভাই বাংলা মায়ের শান্,
নিকেষ করে ঘরের শত্রু যত সন্ত্রাসী শয়তান
আয়রে ভাই আবার গাই জয় বাংলার গান।
Copyright©Saibal Biswas

স্বপ্নচর

- দিব্যেন্দু সান্যাল

মধ্যরাতের নেশা ভেঙে
সহসা দুর্দম ঝড়ের একি তাণ্ডব !
বাইরের পৃথিবী বুঝি লণ্ডভণ্ড হ’লো আজ
অন্ধকার হাত এসে
কেড়ে নিল মাটি আর গাছেদের মৌন প্রেমগাথা ।
ঘুমভাঙা পাখিরা উড়ে শান্তির সীমানা ছোঁয়ার আগেই
স্বপ্নের খড়কুটো বিহ্বল দিশাহারা লুপ্ত আকাশে ।
বৃষ্টি তীর আর
বজ্র বর্শাফলা বুকে
পশ্চিমের খজু নির্জন পাহাড় কেঁপে উঠল যখন
মরমী লতার মতো
আমাকে জড়িয়ে ছিলে তুমি
দুরু দুরু বুকে ।
কম্পিত চুম্বনে
দুচোখের দিশাহারা ত্রাসে
আমাকেই বলেছিলে, ‘কি হবে এবার ?’
ঝড় ! সে তো অবিমৃশ্যকারী ।
ঝড় কি বোঝে তুমি কত প্রেম জানো ?

আজ ঐ যে আকাশে চতুর্দ্দশী চাঁদ
চরাচরে বিছিয়ে রেখেছে
জ্যোৎস্নার মখমল শাড়ি
হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসে সোনালী জড়ি পাড়
আলো মেখে শুয়ে আছে ধূ ধূ প্রান্তর
সোনালী আলোর শাড়ি ছুঁয়ে যায় জলা ভূমি
শালুক ফুলের নীচে ডুবে আছে নিশ্চুপ চাঁদ ।
ওরা যেন এমনিই মিছিমিছ সেজেছে মোহময়
কেমন উদাস মগ্ন হয়ে ডুবে আছে একা একা ।
মনে হয় ওরা আমাদের কেউ নয়
আমরাও কি এই রাত্রির কেউ ? ঐ চাঁদের কেউ ?
আমরাও কেউ নই তো ওদের !
কেমন নির্লিপ্ত চাঁদ আকাশে ভাসে
এই প্রান্তর আর ঐ চাঁদ
ওরা তো আমার কেউ ছিলনা কোনদিন ।
আমি শুধু তোমাকেই জানি
তুমি ভালবাসো
তাই তো এসেছি এখানে ।
শুধু তুমি চোখ রাখো আমার দুচোখে
আমরাই একমুঠ প্রেম নিয়ে
অনন্ত কাল জুড়ে
থেকে যাবো এই স্বপ্নের চরাচরে ।

প্রত্যাশা

সুনন্দা চক্রবর্ত্তী
************

একে একে সব শব্দ
ছেড়ে চলে গেছে
চেনা চেনা মুখগুলো ক্রমশ
দূরে যেতে যেতে
চোখের আড়ালে
চেনা ডাক ...
চেনা হাসির কলবর
আত্মাহুতির পথেই সাবলীল
সময়ের সাথে সাথে
একে একে পাল্টে গেছে
সব চাওয়া পাওয়া
তবু
আজও দু চোখ স্বপ্ন দেখে
আজও এ মন ভালবাসে
আজও ভোরের শুকতারার কাছে
ফিরে পেতে চায় সব শব্দ
চেনা ডাক খোঁজ
সেই হাসি কলরব
আজও সন্ধ্যে হলে
সারা গায়ে জ্যোৎস্না মেখে
অপেক্ষা করে তারা খসার
হারানোকে ফিরে পাওয়ার
আকুল প্রত্যাশা বুকে নিয়ে

১০/১২/২০১৬

বিদায় মাগো

- সেলিনা আহামেদ শেলী

দারিদ্রতার মুখোমুখি
দাড়িয়ে,
ক্ষুধার তাড়নায় বলে,
সেই বালক মাগো ভূক
লেগেছে ।
শূন্য হাড়ি পড়ে রয়,
খিদারে খিদা তোরে বুঝায় কী দিয়ে?
ভবের খেলায় শুধু বলিস খাই খাই
চাই চাই মিলেনা কিছু,
বাছাধন চোখ বুজে ঘুমিয়ে পড়।
মারে পেট পুরে না হোক,
এক মুঠো ভাত আমায় দেয়,
ও আমার মানিক রতন !
কোথায় পাবো ভাতের দেখা ?
বুক চিরে যদি দেখাতে পারতা,
ও জননী তুমি জন্ম দিয়ে আমায়
করেছো ধন্য।
তোমার কোলে না খেয়ে
মরার স্বাদ জেগেছে ।
ওরে আমার সাত রাজার ধন্য
যাসনে ছেরে,
আমার জন্য কাঁদে না কি তোর মন?
মাগো তোমার সনে দেখা হইবো
ঐ পাড়ে মা বলে,
যারে খোকা যা ঐ পাড়েতে
ক্ষুধার জ্বালা রইবে না।
মাগো ক্ষুধার তাড়নায়?
পৃথিবী থেকে নিলাম বিদায়।

তাং : ১০/১২/২০১৬

আমার বসতি
- পার্থ সারথী

আমার একটা ঘর হবে, ছোট্ট চিলেকোঠায়,
বছর জুড়ে ছায়া পাবো, বেড়ে ওঠা তালপাতায়।
শুধু চাঁদের আলো, আছড়ে পড়বে সেথায়,
জোনাকি পোকারা, মিটি মিটি আলোর রেখা, দিয়ে যাবে বৃথাই।
শেয়ালগুলো মুখরিত রাখবে, অমাবস্যার রাতে,
অন্ধকার হলেও, আমি ভীত হবো না; কোনদিন আর তাতে।
অশ্বথ গাছের ডালে বসে, লক্ষ্মীপেঁচারা, ডাকবে মূহু মূহু,
আমি মুগ্ধ হবো; বসন্তে এলে শুনবো, কোকিলের ডাক কুহু কুহু।
সেথায় হবে আমার বসতি; তাল পাতার সেঁপাই,
এক দন্ড শান্তি পাবো সে ঘরেতে, দিবোনা কাউকে দোহাই।
মাটির সাথে ছাই জমে হবে, শুকনো মাটির ধুলো,
কাঁদবো না কোনদিন, যদিও তোমরা আমায় ভুলো।
ছাই ধুয়ে লেপে দিয়ে, শস্য দানা, করবে তোমরা বপন,
সারা বছর জুড়ে, শস্যের ফসল, করব আমি ভক্ষণ।
আমার ঘরের পাশে, সরু পথটি দিয়ে, আনন্দতে করবে উল্লাস,
আমার কেউ প্রতিবেশী হলে, সেই তোমরাই কাঁদবে, শোয়াতে আসলে লাশ।
বছরে এক-আধবার, মোমবাতি,আগরবাতি, জ্বালাবে আমার ঘরে,
বিশেষ পুজা, মৃত্যুদিবস, বুঝে নিবো তাতে।
আমি আমার ঘরে থাকবো একা, প্রতিবেশীরাও একা তাদের ঘরে,
কারো সাথে কারো কথা হবে না, দেখা হবে মাঝ রাতের পরে।
আমার তখন অশ্রু থাকবে না; কাঁদতে পারবো না তোমরা যেমন কাঁদো,
সব অভিমান টাঙিয়ে রাখবো, ছোট্ট ঘরে, শান্তির নীড় বাঁধবো।

তুমি এসেছো
- পার্থ সারথী

তুমি এসেছো রাতের নিরবতায়, স্তব্দ করে কোলাহল,
বসন্তের ছোঁয়া ছিল, মধুময়তা ছিল,ফুলের সৌরভেও ছিল মুখরিত চারপাশ,
দিনের আলোয় স্নিগ্ধতা দিয়েছে, তোমার রূপের অভিনাশ।
চাঁদনী রাত, জোনাকির আলো জ্বলজ্বল, জানালার কাঁচে প্রতিচ্ছবি চাঁদের,
তুমি চাঁদের সাথে মিতালী ভালোবাসতে, চাঁদের সৌন্দর্য্য তাই তোমাতে রক্ষিত।
এই সৌন্দর্য্য তোমাতে স্বীয় আলোর রূপ, চোখে পড়ে শত ফুলের মাঝেও গোলাপ, লাল টুকটুক।
অঝোরে মায়া ঝরেছিল, নয়নে লেগেছিল লজ্জা লজ্জা ভোর,
ধোঁয়াশা চাদরে মুড়িয়ে ছিলে, ভেবেছিলে খারাপ সময়ে কাটছে তোমার ঘোর।
থেকে থেকে বুকের ভিতর ধুম্রছায়া নামায় অন্ধকার,
সুখের খোঁজে কিছু বন্ধন, কিছু সম্পর্ক, করতে হল পর,
অচেনা কিছু মুখের সাথে আপনগুনে সম্পর্ক করে, চিনলে নিজের ঘর।
দেখনি নয়ন মেলে বিশ্বাস ছিল ভরসা,
কিছু দেখা না দেখার মাঝেও ছিল ভালোবাসা, অদৃশ্য ভালোবাসার ঘর।
আপনজনের মমতার বন্ধন ছিন্ন হবার নয়, এই বন্ধন শুধুই আত্মার।
ক্ষণে ক্ষণে কেবল মনে হয়,
ভালোবাসার কাছে কী সব পরাজিত?
কেন এই বন্ধন ছিন্ন হয় ভালোবাসার কাছে?
তুমি পারোনি, ছায়ার মত আশেপাশে, তাদের বসতি দিয়েছ করে।
নবরত্ন ধনের প্রহলাদ নও,
বিলাসীতার তরে স্বপ্রনোদিত কোন আকাঙ্খাও জাগেনি মনে,
ডালপালাও বিচরন হয়নি, ঝোঁপঝাড়ে বেড়ে উঠা কোন গাছের মত।
ফুলের মালাই কেবল, তোমার হৃদয় সাজিয়েছে অবিরত, অবিচ্ছিন্ন, প্রতিনিয়ত।
ভালো হবে জীবন, মধুময়তায় ঘিরে, জীবনের সকল আরাধনা, ব্রত,হবে নবরূপে।
ভালোথাকা হয় যদি, তবে মনে রেখো, এক জীবনে তোমার পূণ্যের কোন ফল।
ভালো থাকুক পাশের মানুষগুলো, ভালো থাকার ইচ্ছে হোক সফল।
অবুঝের মত বেড়ে উঠো, তরু লতার মত সহজ সরল করে,
ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক, এই প্রার্থনা রইলো চিরতরে।

আমার বিশ্বাস
- পার্থ সারথী

আমি তো হারাই নি, তীব্র স্রোতের ধারায়,
সে স্রোত হারায় দিশা, মিলায় সর্বনাশা,
বেদম নৃত্যে, মাঝে মাঝে ঢেউর তালে হয় ভাসা।
কত শত পথ পাড়ি দিয়েছি, এসেছি উদ্যানে।
বুক ফুলিয়ে নিঃশ্বাস নিবো, ভিজবো প্লাবনে।
উদগীরিত আগ্নেয়গিরির তাপ শরীরে প্রবাহমান,
অনুভূতির কল্যানে এতটুকু অন্তত দিব্যচক্ষুতে দৃশ্যমান।
চোখের তারায় মিটিমিটি স্বপ্ন বরফ খন্ডে করবো বিগলন,
অনাহুত স্মৃতিরা যদিও করে আস্ফালন।
সামলাতে পারা নিজের ক্ষরনকে করেছে মৃদু,
চোখের দৃষ্টিতে তরু ক্ষীরের মাঝেও ঝরে একটু মধু।
কী হিসেব? আর কী পাওনা?
অবারিত পথে কতই আর হবে হাঁটা!
তবুও থামবে না, এই পথের হবে শেষ।
মগজে ঢুকিয়ে নিয়েছি,
অঙ্গে অঙ্গে প্রবাহমান প্রতিটি রক্তকণাও জানে,
শত কোটি কোষগুলোও জানে,
আমার স্রোতখরা নদীটিও জানে,
যেখানে শেষ ধরে সবাই; সেখানেই হবে শুরু।
সবাই কেবল নগদ বুঝে,
যা পাও তাইতো ভালো!
আমি চলতে শিখেছি পাহাড় ডিঙিয়ে,
স্রোতের বিপরীতে সাঁতরিয়ে,
প্রচন্ড রৌদ্রদহনে; প্রবল হিমবায়ে।
দারিদ্রের নির্মম কষাঘাতেও পিছু হটি না,
মরনেও ভয় নেই।
আর কিসের ভয়?
এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে আমি আমারটায় চাইবো!
স্বার্থপর নই; উদারও নই।
আসলেই আমি আমার মত,
এই পথ চলবো আমি আমার মত।
হারায় যদি 'কু' নামের কোন অন্ধকারে,
যদি আলেয়ার ছলে পথভ্রষ্ট হই,
ঝড়ের কবলে পড়ি; মেঘনার জোয়ারে ভাসি,
মনে মনে একটাই চাই,
সৃষ্টিকর্তার নাম যেন নাহি ভুলি।।
অন্তরীক্ষ আর ব্রহ্মান্ডে,
সাত সমুদ্র আর তের নদী পরে,
অথবা ঐ সাত আসমান উপরে,
আর দশদিকে'র সব দিকে,
শুধু বলি বিশ্বাস তাকে রেখেছে হৃদয়ে।
আর, বিশ্বাসের বলেই যাবো বৈতরনী পেরিয়ে।।

 

আবছায়া অন্ধকারে চলতে চলতে পৌঁছে যাই
নিঃসঙ্গ রাত পাড়ায় অনুচ্চারিত কিছু শব্দ ও অনুভূতির সহবাসে ঢেকুর তুলতে তুলতে স্মৃতির
সোহাগের মেদুরতা সর্বাঙ্গে জড়াই আর অবাক
হই তার দ্বিধাহীন স্পর্শে ।
হেমন্তের হিমধরা এলোমেলো হাওয়া বাঙময় হয়
রক্তবহা নালির দুরন্ত রক্তস্রোতের ধকধক শব্দ
আকাশের চাঁদ লুকায় তখনই ডাকতে ইচ্ছে করে কাকে কিন্তু হয়ে ওঠেনা মনে পড়ে আমি গন্তব্যহীন
প্রাণপণে দৌড়াই যেদিকে অন্ধকার নেই
দুঃখের দাবা খেলার সঙ্গীদের বিদায় জানাই
রবির আলোয় মনটা শান্ত সমুদ্র
কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভালো লাগায় বিবশ বামদিক ভাঙাচোরা পুরোনো আস্তনার খুব কাছাকাছি
স্থির বিশ্বাসে দুবার কড়া নাড়লাম দরজা খোলা
উষ্ণতা ভালোবাসা শ্রদ্ধা সে ঘরের অণুতে অণুতে
বিরল এক শান্তিবোধ ঘিরে ধরলো
সমস্ত প্রহেলিকা মুক্ত মন উদ্দাম এখন কর্মযজ্ঞে
ফেলে আসা সেই পথের বাঁকে যে অবহেলা পড়ে থাকে থাক ,বাঘ সিংহই সার্কাসে খেলা দেখাক
আজ থেকে আমি নেকড়ে...

জীবনকে চিঠি


- মধুশ্রী ভট্টাচার্য্য


লিখতে বসে ভাবছি শুধু
কিযে বলি তোমায়
দিনের পরে দিন কেটেছে
কান্নায় আর ট্রমায়।

সেসব দিন গেছেই যখন
যাক হারিয়ে যাক
নতুন খাতার প্রথম পাতায়
লিখেই ফেলি আজ।

লম্বা চিঠি তোমার নামে
ছোট্ট জীবন আমার
মিষ্টি হাগে বুকে পেষো
আমি যে শুধুই তোমার।

ঠিকানা ---(নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী ) ++++++++++===  হাসপাতালের বেডে শুয়ে পুলিসের উচ্চপদস্থ  অফিসারের কথার উত্তরদিতে বারবার হোঁচট  খাচ্ছিলেন প্রণববাৰুবাবু। কি করে এটা সম্ভব? অজয় ছিল ক্লাসের ফাষ্ট বয় ।প্ৰতি  ক্লাসে সে প্রথম  হয়ে উঠতো। তারমেধা শক্তি নিয়ে  স্কুল  অফিস কক্ষে  কতবার আলোচনা হয়ছে। মাধ্যমিকে ৯৭ শতাংশ নম্বর নিয়েপাশ করেছিল ।উচ্চ মাধ্যমিকের   রেজাল্ট ও  সে খুব ভাল করেছিল ।শিক্ষকদের সম্মানকরা ,তাদের মান্য করা ধীর স্থির  ভাবে কথা বলা -অজয়ের আজ এই পরিনতি কেন?   হাসপাতালে ভর্তি  হওয়ার কিছু দিন আগেআবাসনের কিছু মানুষের    সাথে তিনি ডায়মন্ডহারবার কোন একটি জায়গায় পিকনিকে যান | কিছু কিশোর  কিশোরীও   তার মধ্যে ছিল। সামনেই ছিল গঙ্গা  নদীর পাড় ।খাওয়া দাওয়ার পর ছেলে মেয়েরা ওখানেই হৈচৈ করছিল । সন্ধ্যা হয়ে আসছে সকলকে ফিরতে হবে তিনিও তা্ঁরই মত বয়স্করা মিলে নদীর পাড়ে ওদের খোঁজে যান। হঠাৎ দেখতে পান একটি বাঁশঝাড়ের ভিতর একটি লোককে হাত,পা,মুখ বে্ঁধে কিছু যুবক ছেলে মিলে ধরে রেখেছে। আর এক জনে তার মাথায় পিস্তল ধরে রেখেছে। নির্ভীক প্রণব বাবু সামনে এগিয়ে গিয়ে চিৎকার করে বলে উঠেন "এই কি করছ তোমরা ?ওকে মারছোকেন "?সঙ্গে সঙ্গে  পিস্তলের মুখটা ঘুরে যায় প্রণববাবুর দিকে| তিনি আবারও বলেন, `তোমরা ওনাকে ছেড়ে দাও'। হঠাৎ তাদের মধ্যে থেকে একটি ছেলে বলে উঠে, আমাদের ঝামেলার মধ্যে আপনি আসবেন না, "মাষ্টারমশাই" । "মাষ্টারমশাই" তারমানে ছেলেটি আমাকে চেনে! তুমি আমাকে চেন? কেতুমি ? কিনাম তোমার? তাদেরযে মধ্য থেকে আর একটি ছেলে হঠাৎ করে কোমর থেকে পিস্তল বের করেই প্রণববাবুর দিকে তাক করে ট্রিগার  চাপতে চাপতেই বলে ,"বুড়োর অনেক কিছু জানতে ইচ্ছাকরছে। তাই সব জানিয়ে দিলাম।গুলি এসে প্রণববাবুর ডান কাঁধে বিঁধলো।যে ছেলেটি এক জনকে পিস্তল তাক করে দাঁড়িয়ে ছিল সে চিৎকার করে উঠলো ,"এটা কি করলি? "উনি আমার মাষ্টার মশাই" দৌড়ে এসে প্রণববাবুকে নীচ থেকে তুলে মাথাটা কোলের উপর নিয়ে বললো, "মাষ্টার মশাই" খুব কষ্ট হচেছ? কিছুই হবে না আপনার ।"আমি আছি তো" ।কোন রকমে তিনি বললেন, "তুমি কে বাবা"? তুমিকি আমার ছাত্র ? "আমি অজয় মাষ্টারমশাই। অজয় স্যানাল।মনেপড়ছে  ?" প্রণববাবুর আবছা  আবছা  সব মনে পড়তে লাগলো। পরক্ষেনেই তিনি জ্ঞান  হারালেন। তারপর তার যখন জ্ঞান ফিরলো  হাসপাতালের বেডে, তখন তিনি পুলিশ অফিসারের সামনে বসে।সে দিন অজয়েরা  দলেমোট চার জন ছিল। তিনজনই পালিয়ে গেছিল ।কিন্তুঅজয় তাদের টানাটানিতেও তার মাষ্টারমশাইকে ঐ অবস্থায় ফেলে যায় না ।প্রণববাবুর অন্য বন্ধুদের কাছ থেকে সব জেনে পুলিশ অজয়কে গ্রেফতার   করে ।পুলিশ অফিসারএর কথার জবাবে প্রণববাবু বিড়বিড় করতে থাকেন । অফিসার তাঁর কাছে জানতে চান ঘটনার বিবরণ এবং অজয় নামে একটি ছেলেকে যে গ্রেফতার   করা হয়েছে তাও তিনি প্রণববাবুকে জানান ।সে দিন অজয়েরা  দলেমোট চার জন ছিল। তিনজনই পালিয়ে গেছিল ।কিন্তুঅজয় তাদের টানাটানিতেও তার মাষ্টারমশাইকে ঐ অবস্থায় ফেলে যায় না ।প্রণববাবুর অন্য বন্ধুদের কাছ থেকে সব জেনে পুলিশ অজয়কে গ্রেফতার   করে ।পুলিশ অফিসারএর কথার জবাবে প্রণববাবু বিড়বিড় করতে থাকেন । অফিসার তাঁর কাছে জানতে চান ঘটনার বিবরণ এবং অজয় নামে একটি ছেলেকে যে গ্রেফতার   করা হয়েছে তাও তিনি প্রণববাবুকে জানান ।কিছুক্ষণচুপ করে থেকে প্রণববাবু বলেন,"ঐ ছেলেটি তো কোন দোষকরেনি ।ওতো আমাদের সাথে পিকনিকে গেছিল ।প্রণববাবু এক জন আদর্শবাদী, স্পষ্টভাষী, সত্যবাদী শিক্ষক। জীবনে এই প্রথমবার তিনিমিথ্যা বললেন এবং অন্যায়ের সাথে আপোস করলেন ।চল্লিশ বছরের শিক্ষকতাজীবন দিয়ে মানুষ গড়ার কারিগর প্রণববাবু বুঝেছিলেন ,অজয়ের মধ্যে এখনও কিছুটা মনুষ্যত্ববোধ লুকিয়ে আছে ।সুযোগ পেলে হয়তো সে তার ভুল টাকে সংশোধন করে নিতে পারবে। তাই দাঁতে দাঁত টিপে  তিনি  অফিসারের  সামনে মিথ্যার আশ্রয়  নিলেন।   প্রমাণাভাবে  অজয় বেকসুর খালাস পেয়ে গেল। প্রণববাবুর ধারনা যে মিথ্যা নয় তার প্রমান  তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়িতেফেরার মাসখানেকের মধ্যে টের পেলেন । একদিনঝড় জল মাথায় করেদুপুরের দিকে অজয়ঠিক তার মাষ্টারমশাইয়ের বাড়িতে উপস্থিত হলো। অকৃতদ্বার প্রণববাবু তার সর্বক্ষনের সঙ্গী  কন্যাসমা ,মা-বাবা মরা কাজের মেয়ে চঞ্চলা  বেলের আওয়াজ পেয়ে দরজা খুলে অজয়কে দেখে জানতে চায় সেকিচায় ।জবাবে অজয় তাকে জানায় মাষ্টারমশাইকে গিয়ে বলুন - "অজয়দেখা করতে এসেছে।" ঘরের ভিতর থেকে প্রণববাবু বললেন , "হ্যাঁ ভিতরে এসো আমি তোমার  অপেক্ষাতেই  আছি।ভিতরে ঢুকে অজয় তার মাষ্টারমশাইএর পা ধরে কাঁদতে কাঁদতে তার  এপথে আসার সমস্ত ঘটনা জানায়। শুনতে শুনতে প্রণববাবুর চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে।            উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংএ যখন তার ফাইনাল ইয়ার তখন  সে এক দিন বাড়িতে আসে হোষ্টেল থেকে ।ঘটনা চক্রে সেদিনই বাড়িতে ডাকাত  পরে। বাঁধা দিতে গেলে তারা অজয়ের হাত পা বেঁধে দেয় ।মা বাবা এবংতার সামনে অজয়ের ছোট বোনের উপর অত্যাচার করে। চলন শক্তিহীন অসুস্থ বাবা সেই রাতেই হার্ট  এ্যাটাকে মারা যান ।মা , বোনের প্রতি  ঐরকম অত্যাচার দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে রাতের পরে বোন গুম মেরে  যায়। বাকশক্তি  হারিয়ে উন্মাদ বোন  এখন আছে                         এ্যাসাইলামে। কিছু দিনের মধ্যে মা ও মারা যান ।জীবনের প্রতি  বিতৃষ্ণায়, অন্ধ আইনের প্রতি  ঘৃণায় পড়া শুনা ছেড়েদিয়ে নিজের হাতেই আইন তুলে নেয় ।তিন বছর পর খুঁজতে খুঁজতে ঐ ঘটনার নাটের গুরুকে সেদিন নাগালের মধ্যে পেয়েছিল যে তার চোখের সামনে তার বোনের জীবনের চরম ক্ষতি  করেছিল।আস্তে আস্তে প্রণববাবু অজয়ের মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করেন , "এখন কোথাই আছো?"  "রাস্তায়।" "সেকি?"  "ওটা তো আমাদের ভাড়া বাড়িছিল । বোন কে এ্যাসাইলামে দেওয়ার পর আমার তো কোন ঠিকানার দরকার ছিল না মাষ্টারমশাই !"  "তুমি আমার কাছে থাকবে এখন থেকে । আমি তো একাই থাকি। গুটিকয়েক ছেলে -মেয়ে পড়তে আসে ।এখন থেকে তুমিই ওদের পড়াবে। জীবনটাকে নতুন করে শুরুকরো।বোনের ভালভাবে চিকিৎসা করে তাকে সুস্থকরে একটা সুন্দরজীবন দাও | আইন তার নিজের পথে চলুক | আমরা সুবিচারের আশায় থাকবো |  যা হয়ে গেছে পিছন ফিরে তাকে আর তাকিয়ে দেখ না। আমি তোমার সাথে আছি। আজ থেকে আমার বাড়িটাই তোমার বাড়ি। আর এটাই তোমার ঠিকানা | "
+++++++++=+=শেষ +++++++++==+
নন্দা

বাউন্ডুলে
- প্রত্যূষ কর্মকার

তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁওয়াতেই
বৃষ্টি নামে ঝিরঝিরিয়ে,
তোমায় ভালবাসবো বলে
শরীর কাঁপে তিরতিরিয়ে।
তোমার চোখে চাঁদের আলো
লজ্জাতে মুখ ঢাকে,
আমার অভিসারের দেশ
ভ্রু পল্লবে ডাকে।
তোমার বুকে অথই আকাশ
ওই বুকেতেই ঘর,
আমার নৌকো মাস্তুলে টান
সোনায় মোড়া চর।
রাতের অনেক তারার কাছে
দৃষ্টি মেলে রেখে
বলেইছি তো কেমন থাকি
তোমার সুবাস মেখে।
তোমার কাছে যাব বলে
দরজা নিলাম খুলে,
দিগন্তে পা রাখবে যে আজ
তোমার বাউন্ডুলে।

********প্রত্যূষ কর্মকার

দেবদাসী সুতনুকা
- ইরাবতী মণ্ডল

আমি বার বার তোমার টানে
পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছি।সেই কোন
সুদূর অতীতে বিদর্ভ নগরে ;বুঝি
ছিলেম আমি দেবদাসী সুতনুকা।
নৃত্য ভঙ্গিমায অঞ্জলি দিয়েছি
দেবতা মাধবে।
সেই নৃত্যের তালে তোমার
রক্তে দোলা দিযেছিল। তুমি মল্লার
রাগে সুর ধরেছিলে। ছুটে এসেছিলো
মেঘবালিকার দল।তৃষিত নগরী
ভিজেছিল বৃষ্টি ধারায়। আমি ও
ভিজেছিলাম তোমার চোখের
মায়া চাহুনির মমতায়।

রাজপুত্র তুমি দেবদত্ত মজেছিলে
মোর প্রেমে। গোপনে মিলিত হয়েছি
রাজপুরোদ্যানে।সখী সহ নিশিথ
অভিসারে।সেদিন উজাগরী রাতে
ভেসে যাওয়া ধরণী ধরেছিল
মোহিনী রূপ। দুটি তৃষিত হৃদয়
হয়েছিল এক।

কিন্তু দেবদাসী--সে যে শুধু
দেবভোগ্য।মানুষের প্রেমে তার
নাহি অধিকার। দেবতা আর
পুরোহিত শুধু তার দেহের
অধিকারী। মানতে পারি নি আমি।
তাই তো ধুতরো বীজে দিয়েছিলাম
প্রাণ।
কিন্তু ভুলিনি তোমায়। তাই
তো বার বার জন্ম নিয়েছি।তোমার
প্রেমের টানে এসেছি এই মাটির
ধরায়।শিশিরের শব্দে, আকাশের
তারার ছন্দে আমার পথ চাওয়া।
অনন্ত কাল অনন্ত জীবন ধরে আমার
প্রতীক্ষা।আমি সুতনুকা--দেবদাসী
সুতনুকা।

কোলকাতা পশ্চিম বঙ্গ

07, 12, 2016

কাগজের ফুল
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী
যদি তুমি ছিঁড়ে গেলে আমার ভালোবাসা ,
দম্কা হওয়ার মত কেন জাগিয়েছিলে আশা ?
ভালোবাসো যদি তুমি দেখতে দাবানল ,
কেন তবে ঝড়ালে আমার চোখে জল |

যে ভালোবাসা দিলো আমায় শুধুই ছলনা ,
কেন তারই লাগি বাজে বুকে শুধু বেদনা ,
ভুলতে চেয়েও কেন তারে ভুলতে পারিনা ,
চোখের জল আমার কেন বাঁধ মানেনা ।

গন্ধ যেটুকু ছিলো ফুলের  ,
নিয়ে  গেলে তুমি ,
কাগজের ফুল হয়ে ,
থাকবো বেঁচে আমি ।

নন্দা  ২৬.১১.১৬   ১-৩০AM

কথা দিয়েছ
- শীলা ঘটক

কবি, তুমি নীলাকে কথা দিয়েছ____
তোমার মেঘভরা বসন্তের কথা,
তোমার অশ্রুভেজা শরতের কথা,
গহন বনের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া
সেই রাতের কথা,
যা শুধু একান্তভাবে তোমার ছিল
সবটুকু নীলাকে দেবে ____ কথা দিয়েছ।
^^^^^^^

তোমার আকাশে জমে থাকা
সেই মেঘেদের কথা____
তোমার প্রেম, তোমার ব্যথা
তোমার সোহাগ ____ অনেক কথা!
যা হৃদয়ের সিন্দুকে রেখেছ গোপনে
তোমার দুচোখের জলোচ্ছ্বাস যা
ফেনিল সাগর হয়েছে___
সবটুকু নীলা কে দেবে____ কথা দিয়েছ।
^^^^^

বর্ষণমুখর রাতের ঝোড়ো হাওয়ায়
বজ্রের ঝলকে পথ হারানো মুহূর্তে
তোমার অবোধ ভাবনাগুলো
যন্ত্রণায় ছিন্নভিন্ন করে তোমার মন____
কাতর আকুতি নিত্য ঘিরে থাকে তোমায়
সবটুকু নীলাকে দেবে____ কথা দিয়েছ।
^^^^^

কবি তুমি কি জানো
তোমার নীলা নিশিথ বেলায়
স্বপনের ছবি আঁকে,
তোমার হৃদয় ভরাবে সে
প্রেমের আকূল স্রোতে।
কান্না-হাসির মুক্তমালা
নীলার গলায় পরাও____
সারাজীবন তোমার নীলার
হৃদয়খানি ভরাও।

শীলা ঘটক  ০৭/১২/২০১৫ রাত ৯।৩০

মন্থন
- শ্যামশ্রী রায় কর্মকার

 

কি মসৃণ দুপুর মেলে দিয়েছ সেদিন রাজপথে,
কি পেলব সূর্যশিখা ছুঁয়ে গেল গোধূলি শরীর!
কি অনন্য আয়াসহীন শুষে নিলে প্রবল আগুন
আর অতলান্ত প্রেম ঢেলে দিলে।

আজকে হঠাৎ করে তোমার বুকের লাল তিল,
সংবৃত গতিময় কনুইয়ের ভঙ্গিল ভাঁজ,
সামান্য ঝুঁকে থাকা পৌরুষগর্বিত পিঠ
দুচোখের সিঁড়ি বেয়ে ছুঁয়ে দিল মগ্ন দেউল।

ঈষৎ বাদামী ঠোঁট নানা রঙা শব্দে প্যালেট,
ভেজা মনে আঁকা হয়ে গেল এক অস্ফুট ছবি,
একটু ছোঁয়ালে হাতে এখনো তো রঙ উঠে আসে,
অজস্র কবিতায় ধরে রাখি তাই তার রূপ।

তোমার চওড়া হাতে নীরব হারিয়ে যেতে যেতে
ফুটপাথও গুলবাগ,ধোঁয়াও মেঘের মত লাগে,
যদিও চুম্বনহীন কেটেছিল সেদিন বিকেল,
তবুও তোমার ওম পেয়েছি আবেশে অনুভবে।

এখনও চায়ের কাপে লেগে আছে তোমার চুমুক,
এখনও তো বিছানায় ছড়ানো তোমার রাতঘুম,
আধপোড়া সিগারেটে লেপে আছে স্পর্শের ছাপ
এইসব আর ওই দুপুর জড়িয়ে বেঁচে আছি।

"এটাই জীবন"
(নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী )

প্রতিদিন জীবনে ঘটে কত ঘটনা ,
সব কিছু কি আর মনে রাখা যায় ?
বাঁচার তাগিদে নিয়ত লড়াই -
মাঝে মাঝে অকালেই কেউ হেরে যায় |

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ,
দাঁড়িয়ে আছি আমরা সবাই ,
একটুখানি পিঁছলে গেলেই ,
জীবন মোদের শেষ হয়ে যায় |

সরল জীবনের জটিল অঙ্ক ,
পারিনা মিলাতে কেউ -
করছি লড়াই বাঁচার তাগিদে ,
জীবনে যতই উঠুক সমুদ্রসম ঢেউ |

কেউ কারও নয় -
তবুও বাঁচি একে অন্যের তরে ,
বিপদে কেউ পড়লে পরে ,
বোঝা যায়- কে কত ভালোবাসে কাহারে !

জীবনের সংগ্ৰাম থামেনাতো কখনো ,
আমৃত্যু চলছে , চলবে -
কোনো ফল পাবেনা হিসাব করে ,
কি পেলে আর কি পাবে |

নন্দা   3.11.16  4PM.

মৃত্যুঞ্জয় ভালবাসা
- মার্জেনা চৌধুরী

যদি ভোর হতে না হতেই
আবার রাত আসে জীবনের পরিক্রমায় ?
বলো -তুমি কি পারবে মানিয়ে নিতে ?
নিজেকে নিয়তির স্রোতসিনী বর্ষায় !

যদি ঝড় এসে বলে আমি তোমায়
উড়িয়ে নিয়ে যাবো দিগন্তের সীমায়
বলো -তুমি পারবে দম বন্ধ করে
নিজেকে জিইয়ে রাখতে স্থির স্তব্ধতায় ?

যদি সূর্য্য ডোবার ব্যস্ততা
তোমাকে বলে মিনতি করে ,
হতাশায় মুড়িয়ে দেবে
অবিনাশী অমাবস্যার অন্ধকারে ?

বলো - তুমি কি পারবে দৃষ্টিহীন চোখে
নিজেকে ভাবতে জীবনের অভ্যন্তরে ?
আমি জানি তুমি সব পারবে
আমাকে ভালবেসে জীবনের প্রান্তরে !

আমারই জন্যে পৃথিবী হতে পরকালে
অপেক্ষার নিবিড় বসন্তে কঠিন তপস্যায় দ্বীপ জ্বেলে,
বলবে "দুঃখ নাই ইহকালে নাইবা পেলাম
তোমাকে আমিই পাবো ভালবাসার উপহার পরকালে !!!"

"তোমাদের জন্য"  ( নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী ) ^^^^^^^^^^^       ছেলেকে ঘুম পাড়াতে পাড়াতে বার বার ঘড়ির কাটার দিকে চাইছে সুমিতা | আজ রাহুল বলে গেছিলো সন্ধ্যাতেই ফিরে আসে ফ্ল্যাটের শেষ কিস্তির টাকাটা দিয়ে দলিলটা নিয়ে আসবে | কিন্তু রাত বারোটা হতে চললো এখনো রাহুল ফিরলো না দেখে সুমিতা খুব চিন্তায় পরে গেলো | হঠ্যাৎ কলিং বেলের আওয়াজ | সুমিতা দৌড়ে যেয়ে দরজা খুলে দেখে রাহুল দাঁড়িয়ে কিন্তু তার সর্বশরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে | সুমিতা দেখতে পেয়ে চিৎকার করে উঠলো ,

--কি হয়েছে তোমার ?
এ কথার উত্তর না দিয়ে রাহুল তাকে বললো ,

--তুমি টাকাটা দাও | আজ ফ্ল্যাটের শেষ কিস্তির টাকাটা দিয়ে দলিলটা নিয়ে আসি | এর পর আর সময় পাবো না |

--কিন্তু এত রাতে এই অবস্থায় - তোমার কি হয়েছে বোলো ?

-- সব শুনতে পাবে | আগে টাকাটা নিয়ে আসো |
কিংকর্তব্যবিমূড় সুমিতা আলমারি খুলে টাকাটা নিয়ে গেলো কিন্তু রাহুল হাতে হাতে নিলো না |

-- নীচুতে রাখো আর একটা প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়ে এসো | হাতে রক্ত লেগে আছে টাকার গায়ে লেগে যাবে |

সুমিতা টাকাটা নীচুতে রেখে ঘরে গেলো প্লাস্টিক আনতে | ফিরে যেয়ে দেখে টাকা নিয়ে রাহুল বেড়িয়ে গেছে | সুমিতা ভাবতে লাগলো তাহলে রাহুল প্লাস্টিক আনতে কেন বললো ? ভাবতে ভাবতে ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালো | তিনতলা ফ্ল্যাটের এতগুলি সিঁড়ি ভেঙ্গে নামতে নিশ্চয়ই তার অনেক সময় লাগবে | কিন্তু ব্যালকনিতে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও সে রাহুলকে দেখতে পেলো না |সারারাত উৎকণ্ঠা আর দুঃচিন্তা করতে করতে ভোরের দিকে সুমিতার চোখ দু'টি ঘুমে জড়িয়ে আসলো | বেলের আওয়াজ পেয়ে রাহুল এসছে ভেবে ছুটে যেয়ে দরজা খুললো | কিন্তু না , তার রাহুল আসেনি | তার ফ্ল্যাটের আশেপাশের কিছু লোকজনকে দেখে সে জানতে চাইলো ,

-- কি ব্যাপার ? এত ভোরে আপনারা সবাই ?

--আপনি কিছু জানেন না ?কিছু শোনেননি এখনো ?

--আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না , আপনারা কি বলছেন ?

এক প্রতিবেশিনী সুমিতার দরজার সামনে পড়ে থাকা পেপারটা হাতে ধরিয়ে বলে ,"প্রথম পাতাতেই আছে |"সুমিতা কাগজটা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে প্রথম পাতায় চোখ রাখে - "তরুণ ট্রাফিক সার্জন রাহুল মজুমদারের অকাল মৃত্যু"-- এক নিঃশ্বাসে পুরো খবরটা সুমিতা পড়ে | সেদিন রাহুলের ডবল ডিউটি ছিল | একটা শেষ করে অন্যকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজের জন্য দ্বিতীয় শিফটে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো | কাজের তাড়ার কারণে সে ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই শহরের ব্যস্ততম রাস্তা কার্জন পার্কের কাছ থেকে দৌড়ে পাড়  হতে গিয়ে বিকাল পাঁচটার সময় এক্সসিডেন্ট করে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান |

পড়তে পড়তে সুমিতা জ্ঞান হারায় | সকলের চেষ্টায় যখন তার জ্ঞান ফেরে তখন প্রতিবেশী এক ভদ্রলোক প্লাস্টিকের কাগজে মোড়া একটি ব্যাগ এগিয়ে দেন তার দিকে | সুমিতা ব্যাগটি দেখে চমকে ওঠে | এই ব্যাগটিই তো কাল রাতে ঘরে ঢুকে রাহুল বলাতে সে নিতে এসছিল | হঠ্যাৎ তার মনে পড়ে যখন ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সে রাহুলকে দেখার চেষ্টা করছিলো তখন হাতের থেকে প্লাস্টিক ব্যাগটা পড়ে গেছিলো | ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করে ,

--কোথায় পেলেন আপনি এটা ?
--আপনাদের লেটার বক্সে ছিলো |

সুমিতা খুলে দেখে ফ্ল্যাটের দলিল | বিড়বিড় করে বলতে থাকে ," রাহুল ঈশ্বর তোমাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিলেন কিন্তু তুমি আমাদের মাথার উপর ছাদ টুকু কাউকেই কাড়তে দিলে না | শেষ মুহূর্তেও তুমি সেটা রক্ষা করেই গেলে |"

"""""""""""""
নন্দা   28.9.16  9-30PM.

কেন
নন্দা মুখাৰ্জী রায় চৌধুরী

কত প্রতিজ্ঞা করেছি দু'জনে ,
ছেড়ে যাবোনা কেউ কাউকে ,
তবুও কেন এতগুলো বছর বাদে -
ছেড়ে গেলাম পরস্পরকে ?

ক্ষমা করো মোরে -
কেউ একবার, বলতাম যদি অপরকে ,
কোনো ক্ষতি হোতো না ,
দু'জনেই বাঁচতাম একে অপরকে আঁকড়ে |

অনেকটা পথ দু'জনে হেঁটেছি একসাথে ,
সরলপথে হাঁটতে হাঁটতেই পথ যেন গেলো বেঁকে ,
সামান্য ভুল বোঝাবুঝি এতদূর গড়ালো -
মিমাংসা করতে পৌঁছাতে হোলো আদালতকক্ষে |

পড়ন্ত বিকেল ,জীবনের শেষ অধ্যায় ,
কেমন আছো তুমি জানিনা ,
হয়তো কখনো নির্জনে একাকী ,
ভাবছো আমারই কথা,নিয়ে একরাশ বেদনা |

নন্দা    11.11.16   12-30AM.

রোহিঙ্গার রক্ত-------------

----------------শাহিনা কাজল

সুচি এখন হলো মুচি

মানুষ কাটে রোজ,

সেই মানুষের মাংস দিয়ে

করে রাতের ভোজ।।

মানুষ মারে ঝাঁকে ঝাঁকে

জবেহ কিংবা গুলি,

অন্তরে তার বিষের কাঁটা

মুখে মিষ্টি বুলি।।

গণতন্ত্রের বিষকন্যারে

নোবেল দিল যারা,

রোহিঙ্গাদের রক্ত দিয়ে

স্নান করে তারা।।

মৃত মানুষের রক্ত নিয়ে

উল্লাস যারা করে,

প্রভু তুমি শাস্তি দিও

এই দুনিয়ার পরে।।

 

নোনা জলে ভিজে ভিজে দৃষ্টি ঝাপসা
কিছুটা ক্লান্তি ছিল, কিছুটা হতাশা ,
মরুর লু-হাওয়ায় তো ছিলাম অপেক্ষায়
মরীচিকাও দেখি হাত নেড়ে চলে যায় ,
বর্তমান ও অতীতের আক্ষেপগুলো
উড়িয়ে দিলাম, উড়ছে কাপাস তুলো ,
বালিশ হলে ভালো, নয়তো যাক উড়ে
শীতের রুক্ষতা, টান ধরেছে রোমকূপ জুড়ে ,
আবেগ মদিরায় বুঝি বা বেহুঁশ হেমন্ত
ব্যক্তিসুখ নাহয় ক্ষণেক বাদ, কিন্তু জ্বলন্ত -
মনখারাপের টিমটিমে ঝাড়বাতিটা শুধু বন্ধ
এখন আগুনের ওমটুকু লাগছেনা মন্দ ,
নশ্বরতার, প্রতি বিষণ্নতার সুর যাবো ভুলে
খাদ্য অখাদ্য ইচ্ছেমত নেবো তুলে ,
মন ভাবুক, হাত দুটো থাক কর্মব্যস্ত
দিলদরিয়ায় গাংচিল শিকারে অভ্যস্ত ,
পোশাকের আড়ালে চলন্ত কামরা
দামি কসমেটিকে টানটান চামড়া...

©Sonali Mandal Aich

"শীত‌কে সু-স্বাগতম"
***রহমান মাসুদ***

প্রকৃ‌তি‌তে বইছে শীতল হাওয়া
রা‌তে মে‌লে শি‌শি‌রের ছোঁয়া,
হেমন্তকাল যা‌চ্ছে বিদায় প‌টে
শী‌তের বুড়ী আস‌ছে হেঁ‌টে হেঁ‌টে।

কত অতি‌থি পাখী‌দের আগম‌নে
মহা কলরব জলাশয় ব‌নেব‌নে,
তা‌দের দীর্ঘ পথপাড়ির সম্মা‌নে ‌
শিকার ক‌রো না ভক্ষ‌নের কার‌নে।

দরিদ্র‌দের মা‌ঝে এই ঋতু‌কে ভয়
বস্ত্রহীনতায় শীতকাল মহা কষ্টময়,
কষ্ট লাঘবে অগ্রসর হ‌লে বিত্তবান
বাঁচ‌বে অসহায় ও ছিন্নমূ‌লের প্রাণ।

ঘ‌রে‌ অপ্রয়োজনীয় পুরাতন কাপড়
অযথা স্তুপাকার আলমার‌ীর ভিতর,
তা দান করার সদ ইচ্ছার উপর
বহু শীতার্থ‌দের কষ্ট লাঘব নির্ভর।

এখন থে‌কেই সক‌লের সজাগতায়
সবার সাহা‌য্যের আশ্বা‌স প্রাপ্যতায়,
সেচ্ছা‌সেবক দ‌লের সহ‌যো‌গিতায়
বস্ত্র পৌছায় পাড়াগাঁ‌য়েরও দরজায়।

সবাই নি‌লে মান‌বিক দা‌য়িত্বটা‌কে
শী‌তেও হা‌সি অসহায় গরী‌বের মু‌খে,
শীতার্থ‌দের কাঁ‌ধে হা‌ত রে‌খে তাই
আগত শীত‌কে সু-স্বাগতম জানাই।।

দুষ্টু মেঘ
- মামনি রায়

মিষ্টি সকালে
সোনালী রোদের
দেখা পেলে,
মধুমাখা সুরে
শোনাই তারে।
তুমি থেকো
ঠিক এভাবে
মিঠে ঝলমলে,
আচমকা দুষ্টু
মেঘ আসলো দোরে।
ছায়া পড়ল
মনের ঘরে,
দুষ্টু মেঘের জল্পনাতে।
কাঁদতেও সে
পাচ্ছে নারে,
মনটা যে তার হল ভার
জল হয়ে ঝরল এবার
চল যাই 7D দেখতে,
আনন্দ পাবি
ঘোরা-দেখার মজাতে।
তাই বেড়িয়ে পড়ি
মা-মেয়ে মিলেতে।

 

৫/১২/২০১৬

অনুকাব্য- ৬

------------ পরিশ্রম যদি সৌভাগ্যের প্রসূতি হয়,
পশুর রাজা হয়ে সিংহ কেন আঠার ঘন্টা ঘুমায়?
খোদ মানুষেরা পরিশ্রম করে অঙ্গে মাখে কাঁদা,
আঠার ঘন্টা পরিশ্রম করে গাধায়-
----------------তবুও নাম গাধা।
শত পরিশ্রমের মাঝে তবুও যদি না থাকে মেধা,
অলসেরাই রাজা হবে তব পরিশ্রমীরাই গাধা
এটাই মেধার ধাঁ ধাঁ।



সালামিন ইসলাম সালমান

“““ কৃষ্ণকলি বলেনি আজও ”””
সালামিন ইসলাম সালমান

হঠাৎ করে একদিন কৃষ্ণবরণ সরলা লাজুক মেয়েটি
কবির গতিপথ অবরোধ করে দু’হাত দু’দিগন্তে
প্রসারিত করে বলেছিলো-
কবি- মনাশ্রমে সুখানুভূতিরা আশ্রয় নিয়েছে-
তোমাকে একটি ভাষা শেখাবো বলে লজ্জাকে নিহত করে
আজ তোমার সম্মুখপানে অবস্থান নিয়েছি ,
কথা দিলাম শেখাবো কোন এক পড়ন্ত বিকেল বেলায়।
:
সেই থেকে কবির ভাবনায় সুনয়না মেয়েটি আসে,
কবিতারা আসেনা।
কৃষ্ণকালো মেয়েটি কবির বিনীদ্র রজনীতে দু’হাত বাড়ায়
মেয়েটি কবির মনের ভিতরে বসে চুল আচড়ায়, সাবান মাখে
মনের রান্নাঘরে পিঁড়ি পেতে বসে গুন গুন করে গান গায়-
বোকা কবির দিকে আড় চোখে তাকিয়ে মুচকি হাসে সে।
কবি নিজ কবিতায় লিখছে-
এই বুঝি অব্যক্ত ভাষা বললো মেয়েটি
তবুও হতাশ কবি-
কৃষ্ণকলি আজও ভাষা শেখায়নি তাকে
যুগ পেরিয়ে গেলো কবি আজও বুঝলনা সুনয়নার ভাষা।

অনু গল্প ;- 'অপূর্ণ জীবনবোধ(নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী ) _______________ মোহিনী কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেনি তার নিজের বোন তার এই চরম সর্বনাশ করবে | বাবার মৃত্যুর পর চরম অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল তার অপর দুই বোন নন্দিনী ,বনানী আর তাদের মা | মোহিনীর স্বামী সঞ্জয় প্রথমে কিছুতেই রাজি হয়নি এত বড় দায়িত্ব নিতে | দিনের পর দিন মোহিনী সঞ্জয়কে বুঝিয়েছে ,কান্নাকাটি করেছে ,মাঝে মধ্যে না খেয়েও থেকেছে ;কারণ তার মা এবং ছোট বোনেরা হয়তো না খেয়েই আছে এই কথা ভেবে | শেষমেষ সঞ্জয় রাজি হতে বাধ্য হয় | কলকাতার ভাড়া করা বাড়ি থেকে শ্রাবনী দেবী তার দুই মেয়েকে নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে অভাবের তাড়নায় চলে আসতে বাধ্য হন |বকখালীর থেকে অনেকটা ভিতরে বেশ কয়েক বিঘা ধানিজমি , তিনটে পুকুর , দুটি বড় বড় ঝিল ;যেখানে সারা বছর মাছ চাষ হয় , কোটা বাড়ি | বড় মেয়ে মোহিনী বেশ সুখেই ছিলো | জামাইয়ের পারিবারিক ব্যবসা ইঁটভাটার | অর্থের কোনোই অভাব ছিলো না | বাড়ির সদস্য বলতে জামাই ,মেয়ে আর তাদের পাঁচ বছরের ছেলে | মেয়ের বাড়িতে আসার পর থেকে বেশ হাসি ,আনন্দের মধ্য দিয়েই দিনগুলি কেটে যাচ্ছিলো |পাঁচ বছরের নাতিটিকে শ্রাবণীদেবী চোখের আড়াল হতেই দিতেন না | এর-ই মাঝে সঞ্জয় দেখেশুনে মেজ শালী নন্দিনীর জন্য একজন স্কুল শিক্ষক পাত্র হিসাবে নির্বাচন করে | নিদৃষ্ট দিনে পাত্র পক্ষ নন্দিনীকে দেখতে আসে | দেখেশুনে বাড়িতে পৌঁছে তারা খবর পাঠায় যদি সঞ্জয়ের ছোটশালী বনানীকে তারা দেন ,তাহলে এই বিয়েতে তাদের কোনো অমত নেই এবং সম্পূর্ণ এক বস্ত্রে তারা বনানীকে পুত্রবধূ হিসাবে গ্রহণ করবেন | নন্দিনীর গায়ের রংটা ছিল চাপা |চোখ ,নাক ,মুখ - তিনবোনেরই খুব ভালো |সঞ্জয় এসে একথা যখন তার শ্বাশুড়ীকে জানায় তখন তার শ্বাশুড়ি সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান | মায়ের ইচ্ছাতে মোহিনীও সায় দেয় | কিন্তু নন্দিনীর এতে রাগ হয় মা ও দিদির উপর |সে মুখে কিছু বলে না | কিন্তু মনে মনে ফুঁসতে লাগে | বড়দিদি থাকতে মা ও দিদি কি করে বনানীর বিয়ে ঠিক করলেন ?নিদৃষ্ট দিনে বনানীর বিয়ে হয়ে যায় দেবরাজের সঙ্গে | দেবরাজ উচচ বংশের শিক্ষিত ছেলে | কন্যা বিদায়ের দিন সে নন্দিনীকে দিদি বলে সম্মোধন করে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে | নন্দিনী কিন্তু কোনো কথা বলে না ,যেটা মোহিনীর খুব খারাপ লাগে | কিছুদিনের মধ্যেই মোহিনী তার স্বামীকে নন্দিনীর জন্য ছেলে দেখতে বলে | সঞ্জয় তাকে জানায় , --ছটা মাস যেতে দাও | সবে তো বনানীর বিয়ে দিলাম ;আমায় একটু সময় দাও সব কিছু গুছিয়ে নিতে | ---কিন্তু ওর হাব- ভাব আমার মোটেই ভালো লাগে না | দিন দিন কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে | --কেন কি করেছে ও ? --সে অনেক কথা | এতো কথা আমি তোমায় এখন বলতে পারবো না | তবে আমার সব থেকে যেটা খারাপ লাগে - যখন তখন ও আমরা দুজনে ঘরে থাকতে ঘরে ঢুকে পড়ছে ,কিছু বললেই মুখ ঝামটা দিয়ে কথা বলছে - আমি বলছি তুমি ওর জন্য সম্মন্ধ দেখো | লাগাতার মোহিনী বলতে বলতে নন্দিনীর জন্য সঞ্জয় এক পাত্রের সন্ধান আনে | প্রচুর জমিজমা ,পুকুর ,বড়বাড়ি ,ছেলেও শিক্ষিত | কিন্তু রোজগার বলতে কিছু প্রাইভেট টিউশন | তাদের যা জমিজমা আছে তাতে ধান ,সব্জিপাতি তারা পাইকারি দরে বিক্রি করে ,রোজগার না করলেও চলে | দুই ভাই | শুধু বসে বসে সময় কাটানোর থেকে দুজনেরই ওই টিউশন করা | নন্দিনীকে তারা পছন্দও করে | সে এ বিয়েতে কোনো আপত্তি করে না | বনানীর বিয়ের মাস চারেকের মধ্যেই শুভ দিন দেখে নন্দিনীর বিয়ে হয়ে যায় |কিন্তু 'ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন -' ছমাসের মাথায় নন্দিনীর স্বামী বিষধর সর্পের কামড়ে মারা যায় | অলক্ষ্মী অপবাদ নিয়ে বিধবা হয়ে নন্দিনী পুনরায় দিদির সংসারেই আশ্রয় নেয় | কিছুটা হলেও প্রথম দিকে সে চুপচাপ হয়ে যায় | এ ভাবেই দিন এগিয়ে যেতে থাকে | বছর খানেক এভাবে চলার পর মোহিনী যা নিজ চোখে দেখলো তা সে কোনোদিন কল্পনাও করেনি | একদিন ছেলেকে ও মাকে নিয়ে গ্রামের এক বাড়িতে নারায়নপূজা উপলক্ষে সন্ধ্যার সময় বেড়িয়ে ঘন্টা দুয়েক পরে বাড়িতে ফিরে এসে মোহিনী দেখে তার ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ |কি মনে হলো সে তাঁর জানলার ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে দেখলো ,সঞ্জয় আর নন্দিনী ------------মুহূর্তে মাথাটা ঘুরে গেলো মোহিনীর | হাত ,পা অবশ হয়ে গেলো ; ধপ্ করে মাটিতে পড়ে যেয়ে জ্ঞান হারালো | হাতে ধরা সিন্নির কাঁসার বাটি পড়ে যেয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে গেলো | শব্দ পেয়ে নন্দিনী তাড়াতাড়ি দরজা খুলে বেড়িয়ে এসে দেখে তার দিদি বারান্দায় পড়ে আছে | সঞ্জয় ও তার শ্বাশুড়ি এসে মোহিনীর জ্ঞান ফেরালো | কিন্তু জ্ঞানই ফিরলো ; প্রচন্ড মানসিক আঘাতে মোহিনী তার বাক শক্তি হারিয়ে ফেললো |

মাস ছয়েক এ ভাবে কাটার পর তার ঠায় হোলো পাগলা গারদে |

নন্দা 18.10.16. 10PM.

ঝড়

মাটির 'পরে
পড়ছে ঝরে ।
শব্দ শুনি
প্রহর গুনি ।
শূন্য শাখা
ছবি আঁকা ।
দেখছি রাকা
মনটা ফাঁকা ।
ভিতর বাইরে
কেবল চাইরে ।
আলো জ্বলে
মোম গলে ।
ধূপ পোড়ে
ছাই ঝরে ।
কেন রোজ
সুখের খোঁজ ?
বিভোল মন
উদাস ক্ষণ ।

দেহাত্মবাদী
- ইরাবতী মণ্ডল
আমি নারীবাদী নই, পুরুষ বাদী ও
নই; আমি দেহাত্মবাদী।
বামাচারী কাপালিকের মতন
নরমুণ্ড খুলিতে পান করি জীবনের
সব সুধা।
দেহের শিরায় শিরায় সর্পিনীর
নাচন আমার।উলুপীর মতন
তোমাকে জড়িয়ে বাঁচতে চাই।হে
পুরুষ ,হে প্রেমিক ,সম্রাট নিরোর
মতন নির্লিপ্ত ভাযোলিন এ মগ্ন
থেকো না আর। ছুঁয়ে দেখো আমায়।
জ্বলন্ত রোমের অগ্নি লহরী আমার
শিরায় শিরায়।

উজাগরী রাতের চোখে মায়াবী
কাজল।নিরাকার কামদেব দেহ
ধারণ করে। ঘুম হীন ঈশ্বর ও মাতে
নতুন সৃষ্টির উল্লাসে। স্বর্গের নিষিদ্ধ
কানন থেকে আদম আর ঈভের
মতন ;এসো আমরাও নিষিদ্ধ ফল
ভক্ষণ করি।
জন্মান্তরের উজান স্রোতে বয়ে
আসা প্রেম ,অহল্যা ভূমির মতন
মুক্তি পেতে চায়;তোমার পরশে।
স্বর্গের নন্দন কানন নয়, এসো
মাটির ধরণীর প্রেমে রিদ্ধ হই দুজন।
বন্য প্রেমের আদিমতায সৃষ্টি করি
শিশু পৃথিবী।
স্থিতপ্রজ্ঞ মৈত্রেয় জাতক নয়,
তোমাকে চাই যে আমি, 'রক্ত, মাংসে
দেহে'--আদিম মানব রূপে।

কোলকাতা।।।সময়। রাত--23, 14

25, 11, 2016

#তুমি_আমি
- Moni Jewel
এ মন শুধু শুধুই তোমাকে চায়
এ মন শুধু তোমাকেই খুঁজে যায়
তুমি ছাড়া শূন্য সবই মনেহয়
....আমি জানি, তুমি বিস্ময়!
এই আমি বড় বিস্ময়!

কে তুমি আর আমি এ কি বলা যায়?
কোথায় তুমি আর আমি তা বলা যায়!
....আমি জানি তুমি বিস্ময়
এই 'আমি'ও বিস্ময়!

যে দিকে দুচোখ যায় আমি দেখি তোমায়।
কোথায় তুমি; আর আমি, এ'ই বড় বিস্ময়!
লোকে বলে এমন পাগলামী হয়
আমি বলি পাগলই হই না হয়!
.....আমি জানি তুমি বিস্ময়
এই আমিও বড় বিস্ময়।

ভালোবেসে পাগল হলাম তোমায় যদি পাই
দুরে দুরে যতই থাকো, প্রেমে পাবো নিশ্চয়
.....আমি জানি তুমি প্রেমময়
আর আমি বড় বিস্ময়!!
।। 02.12.16/04:30বিকেল/ধুলিয়ান ।।