নভেম্বর 2016

#তোমায়_দেখার_পর
-Moni Jewel
এ মন শুধু..শুধু তোমাকেই চায়
এমন কি প্রেমেই হয়?
মন চায়, শুধুই তোমায় পেতে চায়
তোমাতে পাগল এ মন আমার
বলো..বলো না কি বলি আর!?

যে দিকেই দু'চোখ যায়
দেখি শুধু শুধুই তোমায়
জেগে জেগেই স্বপন মনেহয়!
আমি যেন আমি নেই আর
এমন কি প্রেমে হয়? ও মন আমার
বলো...বলো না কি বলি আর?

ও বুকে আমায় ধরে নাও
তোমাতে ডুবে যেতে দাও
তোমার ও গায়ের সুগন্ধে
আমায় ভেসে যেতে দাও
প্রেমের পাগল আমি, এ মন আমার
বলো...বলো না কি বলি আর?
।। ২৯,১১,১৬; ১২:০৫রাত; ধুলিয়ান ।।

 

দারুন এলোমেলোর পর আবার পরিপাটি হতে বাধ্য
জীবন বলে কথা, চোখে বালি মুখে কষা স্বাদ
গলায় কাঁটা, তবু কে দমে ?
সব অম্ল-মধুর সব অমৃত ..
একেবারে সত্যি ভালো থাকা কি যায় ,আঁকাবাঁকা
আলো -আধারী কত পথই না পেরিয়ে গন্তব্য
অপারগ হলেই বিলুপ্ত ,অভিযোজনটাই গুরুত্বপূর্ণ
গ্রহাণু আছড়ে পড়ার পর ডাইনোসর যুগের ইতি
মানব জন্ম ও সভ্যতা প্রাগৈতিহাসিক আদি যুগের
সাথে ক্রমবিবর্তনের ফল একবিংশ শতক----
সাত পাঁচ ভাবছি চমকে দেখি আমার পাশে দাঁড়িয়ে কেউ বলে উঠল- বৃষ্টিমগ্ন
সোজা সুজি তার চোখে চোখ রাখলাম, বৃষ্টি ছুঁলাম পঞ্চম রাগে
ভিজে ভিজে ফিরে এলাম ,ভালো লাগাতে না শীতে জানিনা
হাটু কাঁপতে লাগলো থর থর করে
এখন ভেজা খোলস ছাড়ব ভাবছি কোন রঙটা মানাবে-------

© Sonali Mandal Aich

“““ মানুষ হব ”””
সালামিন ইসলাম সালমান

কখন মরন আসে কে বা জানে--
ঝিঁ ঝিঁ পোকার মত অনন্ত আকাশের সীমা খুঁজতে গিয়ে
অতি জ্ঞানের অগ্নিমান্দ্যে হয়তোবা কঙ্কালসার জীবনখানা
নব যাত্রীর ছন্দে ছন্দ মেলাতে মেলাতে---
কবে না জানি প্রাণ হারায় !!
চরিত্রের সীমিত পরিসরে অমানবিকতার শিল্প সৌকর্য
বিদীর্ণ আজ্ঞার নিয়তিতে টুকরো টুকরো অশান্তির জন্ম দেয়,
অভিন্ন আপন সত্তায় সুশীতল ধরনীও নিস্তার চায় ক্রন্দনে-
গোধূলীর অস্পষ্ট আকাশে ডানা মেলা হাহাকারগুলো
নিরুত্তর শান্তি খুঁজে-
ছিন্ন রুগ্ন ঘুমন্তের চোখে এক সুস্থ স্বপ্ন হতে চাই আমি-
আমি- মানুষ হব।
:
একমুঠো ভাতের আশায় বিমলের বাবা কষ্টকে সুখ ভেবেছিলো,
মাথাগুজে পড়েছিলো ছিন্ন আঙিনায় স্বপ্নের মাদুর পেতে-
ভালবাসার গেলাস ভরে কষ্টের ছাঁকুনিতে ছেঁকে মনের আশাগুলো
পান করিয়েছিলো বিমলকে-
বাবার বুকে আজও জ্বলছে ক্রন্দনের খড়কুটায় উসকানো লাল আগুন
রৌদ্রে ভেজা বেদনার গন্ধ যেন আজও লেগে আছে শরীরে-
চোখে তার লেপ্টে আছে শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার।
ছেলেটা সেই কবেই বাবাকে ভূলে গেছে তার দিনক্ষণ
শুধু ওই বর্ষপঞ্জিকারা জানে।
ওতো শিখেছে কিভাবে কষ্টের হাওয়া বিলীন করে দিতে হয়
রক্তের কর্কশ স্বাদ ভূলে গিয়ে মমতাকে চাপা দিয়েছে স্ব-হস্তে
তবুও সে মানুষ হয়েছে এই উদভ্রান্ত সমাজের বুকে।
আমিও মানুষ হব নষ্টদের ভিড়ের পসরায়-
মানুষ হব বিমলের বিপরীতে।
:
একই আস্তাকুড়ে আমৃত্যুকাল একসাথে সুখ ভোগ করার প্রত্যয়ে
দু’জন দু’জনাকে কথা দিয়েও বিপরীত পথের অভিযাত্রী হয়েছে,
ছেলেটির ঠাঁই হয়েছে একটি রশির বৃত্তে গাছের মগডালে-
আর মেয়েটির !
মেয়েটি প্রাণ রেখেছে একটি শিশিতে রাখা একচুমুক অমৃত সুধায়।
নষ্ট যৌবন কামনায় তাড়িত হয়ে নিজ সন্তানের গলায় তীক্ষ্ণ ছুরি চালিয়েছে
শুধু পরকীয়ার রেশ ধরে প্রিয়তমর সঙ্গে অন্তর্লী্ন হওয়ার জন্যে।
অভূক্ত বান্দীদের চেয়ে থাকা দেখে কোরমার থালাটা আড়াল করেছে-
সম্পদের রাজত্বে শাসন করা রাজরানীরা।
ক্ষূধার যন্ত্রনায় ভাত দাও ভাত দাও বলে চিৎকার করা পঙ্গু আহসানের
দিকে ফিরেও তাকায়নি কুশীল সমাজের ধনকুবের অধিপতিগুলো।
মোতিমহলের উঠানে দাড়িয়ে লালসার তান্ডবে লন্ডভন্ড কেন সবাই?
ওরাতো মানুষ ছিলো, বিবেক ভূবনে ওদের বিচরন ছিলো প্রস্ফুটিত-
আমিও মানুষ হব-
নিজেকে বিবেকের বিছানায় শয়ন করাবো ওদের বিপরীতে।
:
অসহায় দূর্বলের উপর সবল মহাজন চাপিয়েছে নিষ্ঠুর ঋণের বোঝা
চাঁদাবাজদের কবল থেকেও নিস্তার পায়নি ভূল করে দুহাত পাতা
গলির মোড়ের অনাহারী ভিখারীটাও।
বাবার রেখে যাওয়া এক কেয়ার জমি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত দু’ভাই আজ
হসপিটালের বারান্দায় শুয়ে অনুশোচনার ঔষধ গিলে।
এমনি করেই অামাতেই বিভ্রান্ত হয় দিকদিগন্তে ছুটে চলা ক্ষ্যাপা পথিকেরা-
কত নির্মমতা-হৃদয়গ্রাহী দৃশ্যের অবতারনা হয় চোখের আনাচে কানাচে
লোলুপ সমুদ্রে দিশেহারা হয়ে ভেসে যাওয়া মনুষ্যত্বকে তীর চেনাবো আমি
বাংলার সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার জন্য আমি মানুষ হব-
মানুষ হব ক্ষণিকের মোহে বিকৃত হওয়া মানুষদের বিপরীতে।

“““ শেখ মুজিবেই শেখ হাসিনা ”””
সালামিন ইসলাম সালমান

ভাবছি বসে অঙ্ক কষে নীলপরীরা শুকায় কেশ,
একাত্তরে যুদ্ধ করে অর্জিত এই বাংলাদেশ।
শেখ মুজিবে স্বপ্নে আঁকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা,
বীর বাঙালীর বীরত্বে তাই সোনার বাংলা রচনা।
শান্তি পেয়ে ধন্য হয়ে স্বাধীন জাতি খুশি তাই,
পিতা-নেতা অনেক দেখি শেখ মুজিবের মত নাই।
মুক্তি পেয়ে মুক্ত বায়ু আনন্দে হয় আত্মহারা,
কেমনে থাকি মায়ের বুকে বঙ্গবন্ধু তোমায় ছাড়া?
চলে গেলে নিজ ঠিকানায় বুকে নিয়ে অভিমান,
কষ্ট পেয়ে নষ্ট হলাম কেমনে দেবো প্রতিদান?
তুমি নেইতো কি হয়েছে? রেখে গেছো কন্যা,
শেখ হাসিনার মাঝেই জাতির আনন্দেরই বন্যা।
:
ওহে, মন্ত্রীদের প্রধান শেখ হাসিনা তুমি----
ব্যস্ত ও গতিশীল নিষ্ঠুর সময়ের ব্যবধানে ও বিবর্তনে
বিশ্ব সংসারে পরিবর্তনের সাথে সাথে পিতার শোকে আচ্ছন্ন নও আজ
বঙ্গের শ্রেষ্ট বন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাফল্য জোসনার
ঝলমলে দীপ্ত আলোয় তরতর করে অবারিত পথ চলা তোমার।
পিতৃহৃদয় থেকে নির্গত হওয়া অভিমানকে দৃঢ়চেতায়
গ্রহন করে বাংলার মানুষের হৃদয়বৃত্তিকে গভীরভাবে
অনুভব করেছো সময়ের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে।
:
প্রধানমন্ত্রী তুমিই পেরেছো, তুমিই পারবে----
তুমি পারবে জাতির পিতার সোনালী তটে মহাকালের আবর্তে
বিলীন হওয়া মানবজীবনের সকল দুঃখ-যন্ত্রনার অবসান ঘটাতে।
:
সেই কবে থেকে পথচলা তোমার----
নিথর, নিশ্চল হয়ে যাওয়া বাংলার রূপকারের স্মৃতিকে
নিজের শীতল নিরাবেগ কন্ঠের প্রতিধ্বনি করেছো অবলীলায়
নির্যাতিত মায়ের বুকে হায়েনার আঁচড় দেখে পিতা তোমার
বাংলা রক্ষায় জননীর জোয়ান জাতিকে পুনর্জাগরনের
যে উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলো-
সেই অবহেলিত, উপেক্ষিত, লাঞ্চিত, উৎপীড়িত গণমানুষের
মলিন মুখে হাসি ফুটিয়ে মানবতার প্রতি দৃঢ় আশাবাদ তোমার।
:
তোমার নেতৃত্বের ধারে রুক্ষ স্বাধীনতা শানিত হয়েছে প্রজন্মে-
যেদিন থেকে হস্তযুগলে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছো বাংলা তরীর হাল
বাংলাদেশ- আজও পথ হারায়নি
সাফল্যের ছড়াছড়িতে বিশ্ব চরাচরে তুমি নীল কস্তুরী আভার চাঁদ।
কত উপমায় উপমিত তুমি, ভূষিত অগনিত পুরষ্কারের ধারায়-
তোমার অর্জিত সম্মানে স্বাধীনচেতা বাংলার কোটি কোটি আত্মায়
জাগে গর্বিত শিহরণ।
:
তুমি শুধু নারী নও-
তুমি মা, তুমি নেতা, তুমি বীর, তুমি একটি জাতির হীরায় খচিত মাথার তাজ।
শেখ হাসিনা- তোমার হাতটি ধরে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব মানচিত্রে
জ্বলজ্বল করে জ্বলে ওঠা একটি প্রদীপ শিখা।
বাংলার প্রবাহিত বায়ুতে, ফুলের সুবাসিত ঘ্রাণে, মাঝির মাল্লায়
কৃষকের ফসলে, শ্রমিকের শ্রমে তোমারই নামের স্বার্থকতা রচিত হয়।
সহস্র দিনালোকে তুমি মিশে আছো বাংলার মানুষের অস্তিত্বের আখড়ায়
হাজারও মন্দতা চাঁপা পড়েছে শত কোটি ভালো কাজের ভিড়ে-
:
কোনটা উহ্য রেখে প্রকাশ করবো, অগনিত সাফল্য করি রটনা,
পেয়েছি বীরের কন্যা প্রধানমন্ত্রী তুমি শেখ হাসিনা।
জনতার দৃপ্ত আহবানে যে শপথের মালা গলায় পরেছো সেদিন
তোমার কর্মে হোক তার জয়গান---
তোমার দূর্ভেদ্য উদ্দীপনা অমরত্মতা পাক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

ফ্ল্যাট জীবন
- ইরাবতী মণ্ডল

দু-কামরার ঘরের ছোট্ট ফ্ল্যাটে
আমার বাস। টিভি ফ্রিজ স্বামী
সন্তানে ঠাসা ।
এই নিয়েই সুখী
আমি। বাইরের কারো জায়গা
এখানে নেই।বাইরের বলতে--মা,
বাবা, ঠাকুমা, পিসি, মাসি, জ্যাঠা, খুড়ো এইসব।
ওরা এখানে কোথায়
থাকবে। ওদের জন্য গ্রামের
খোলামেলা পৈতৃক ভিটে ঠিক
আছে। বলতে পারেন--যাদের
এসব নেই, তারা?আমি কি
করতে পারি বলুন।মা বাবা কে
বৃদ্ধাশ্রমে দিতে পারি।আর অন্য রা
বত্সরান্তে এক আধবার আসতে
পারে। না এলেও খতি নেই। বরং
ওরা এলে আমার ছেলে, মেয়ের
পড়ার খতি।
আরে আমি কি করবো
বলুন। শহরের এই ছোট্ট ফ্ল্যাটে;
আমাদের নিজেদের ই তো
থাকার অসুবিধা।এই জীবনেই
তো অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা।
নিজের ছোট্ট ঘরেই সীমাবদ্ধ
জীবন আমার। বাইরের পৃথিবীর
খবর রাখার সময় কোথায়?
বাইরের পৃথিবী বলি কেন; আমার
ঘরের সামনের বাসিন্দার ই খোঁজ
রাখি না।
এই তো সেদিন--সামনের
বাড়ির গৃহকর্তার হার্ট এট্যাক
করেছিল।পাশের ঘরে থাকা আমরা
জানতেই পারিনি কিছু।কি করে
জানবো? ফ্লাটের দরজা বন্ধ করলে;
শুধু নিজেদের কেই দেখা যায় যে।
হয়তো এমন কোন অবস্থা
আমার হলেও কেউ টের পাবে না।
সে চিন্তার অবকাশ এখন নেই।
এখন আমি আমার ছোট্ট ফ্ল্যাটেই
জীবন টাকে বন্দি করেছি।পৃথিবী
টাও যেমন ধীরে ধীরে বন্দি হচ্ছে
স্বার্থ পরতার কারাগারে।

25, 11, 2016 কোলকাতা।।।সময় রাত 2319

তোমার মানে
পার্থ সারথী

তুমি মানে অতুলনীয় কাটানো যত প্রহর,
তুমি মানে অসহনীয় সবটা আদর।
তুমি মানে তোমাকে ঘিরে থাকা যত অনুভূতি,
তুমি মানে তোমাকে ছাড়া আমার আত্মহূতি।
তুমি মানে তালমাতাল করা দমকা হাওয়া,
তুমি মানে হরহামেশে আমার যত পাওয়া।
তুমি মানে তোমার জন্য আবেশিত মন,
তুমি মানে শ্রাবনের বৃষ্টিতে তোমার আমন্ত্রন।
তুমি মানে তোমার আমার অসংখ্য কথোপকোথন,
তুমি মানে দিনের শেষে তোমার আমার স্মৃতিচারন।
তুমি মানে মগ্ন চিত্তে দুনিয়া ভুলে যাওয়া,
তুমি মানে ভাঙ্গা সম্পর্ক বার বার জুড়ে দেওয়া।
তুমি মানে সকাল বিকাল রাতের হিসেব করা,
তুমি মানে অচল জীবনে সচলের নোঙর তোলা।
তুমি মানে আসক্ত গল্প কবিতার আসর জমা,
তুমি মানে জীবনের আলো আঁধারের তিলোত্তমা।
তুমি মানে হারিয়ে খোঁজা তোমার যত অতীত,
তুমি মানে বেঁধে রাখা ফ্রেমে আমার ভূপাতীত।

বদলায়নি কিছু
- পার্থ সারথী

কাশবনে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছেরা আজও মরেনি,
বদলায়নি হাঁটতে হাঁটতে নিজের পদশব্দে ছন্দ খোঁজার তাল,
বয়স যদিও বেড়েছে অনেক,
ভুলে যায়নি স্মৃতির পাতার সবকটি সকাল।

পড়ার টেবিলে বসে লেখালেখির ইচ্ছেরা আজও মরেনি,
বদলায়নি নিজেকে শামুকের মত লুকানোর প্রভাব,
বয়স যদিও বেড়েছে অনেক,
ভুলে যায়নি আমার জীবনে রয়েছে মানুষ হওয়ার অভাব।

বসন্তের কোকিলের সাথে কুহু কুহু শিষ দেয়ার ইচ্ছেরা মরেনি,
বদলায়নি জাল ফেলে মাছ ধরার আনন্দ আর্তি,
বয়স যদিও বেড়েছে অনেক,
ভুলে যায়নি তোমাদের মাঝে খুঁজে পাওয়া সকল ফুর্তি।

ছেলেবেলায় বোষ্টমীর ঝুড়ি বাজিয়ে কীর্ত্তন শোনার ইচ্ছেরা মরেনি,
বদলায়নি কীর্ত্তনের আসরে বসে মৃদঙ্গের তালে হাঁটু বাজানো,
বয়স যদিও বেড়েছে অনেক,
ভুলে যায়নি বিপদে আপদে ঈশ্বরকে বলা আমাকে বাঁচানো।

পৌষ-পার্বণ, বৈশাখী মেলা, উৎসবে চিনি-বাতাসা-জিলাপী খাওয়ার ইচ্ছেরা মরেনি,
বদলায়নি রাতের আঁধারে জোনাকি পোকা মুঠে নিয়ে টর্চলাইট টর্চলাইট খেলা,
বয়স যদিও বেড়েছে অনেক,
ভুলে যায়নি দেখতে দেখতে জীবনে কেটে গেছে অনেক বেলা।

পিপীলিকার দলবেঁধে হেঁটে যাওয়া দেখার ইচ্ছেরা মরেনি,
বদলায়নি ইচ্ছে করে কালো পিঁপড়ার শূল খেয়ে শরীর ফুলিয়ে নেওয়া,
বয়স যদিও বেড়েছে অনেক,
ভুলে যায়নি জীবনে পেয়েছি অনেক ভবিষ্যতে হবে আরও পাওয়া।।

#আর_কত
-Moni Jewel
আর কত জীবন ঝরলে তবে
জীবনের জয় হবে?
আর কত মরণ মরলে তবে
এ মরণের লয় হবে?
ঐ দেখো মরছে পূর্বে, হয়তো কাল তোমারও হবে!
আর কত জীবন ঝরলে তবে জীবনের জয় হবে।।

শান্তি বিকে গেছে নোবেলের বদলে
মুখোশ খুলে গেছে মুখের বদলে
আর কত মুখ পুড়লে তবে
ও নয়ন খুলবে!
আর কত আগুন লাগলে তবে
দাবঅনল জ্বলবে?

সময় তো এসে গেছে জ্বালো আগুন জ্বালো
ওরা তো জ্বেলেই দিলো, চলো বদলে জ্বালো
আগুর বদল আগুন জ্বালো
তবেই নতুন গড়া হবে
জ্বালার বদল জ্বালিয়ে দিলে
ওরাও জীবন বুঝবে ।।

বলো
আর কত জীবন ঝরলে তবে
জীবনের জয় হবে?
আর কত মরণ মরলে তবে
এ মরণের লয় হবে?
কৈ দেখো জাগো হে বীর পৃথিবী আজ রাঙা রুধির
আজ নয়তো কাল তোমারও হবে হবে
আর কত জীবন ঝরলে তবে
ঘুম তোমার ভাঙবে?
আর কত মরণ মরলে তবে
জীবনের জয় হবে!(?)
।।ধুলিয়ান, রাত১০টা, ২৭_১১_১৬ ।।

বিরাম
- সোনালী মন্ডল আইচ

একদল বলাকা আকাশের বুকে
আলতো স্বপ্ন জড়ানো কি চোখে ?
স্পন্দিত চরাচর প্রসারিত শূন্যে
ডাক শুনি নাম ধরে কত যেন পুণ্যে
সম্মোহিত অন্ধকার মায়ামন্ত্রে মুগ্ধ
আধখানা চন্দ্রালোকে সবকিছু শুদ্ধ
চারিদিকে পথ, ঘুমন্ত বাগান
টুংটাং ঘড়ঘড় অনিবার আটখান
ছুটছে রাস্তা, কত কথা বলছে
সারমেয় কেবল অবহেলা শুঁকছে
চোখ চেপে দেখা, কান চেপে শোনা
বেবাক চাঁদতারা একমনে গোনা
ধুপ জ্বলে সন্ধ্যায় সুমধুর বাস
মন বলে,"মনেতে এলোনা সুবাস",
বামনের চাঁদ ধরা চিরকাল হাঁফ ধরা
হাজার গোঁজামিলে বমাল ধরা পড়া
না দেখে না শুনে না বলে যাক দিন
জমবে কি রক্ত? করবে কি চিনচিন ?
অসহায় কলমটার দম কি ফুলবে ?
একটু চুপ থাকি, বন্ধু কি ভুলবে ?
চশমায় কুয়াশা, কেন জানি আবছা
সুতোহীন সূচ, সবকিছু ঝাপসা...

© Sonali Mandal Aich

নীলবিষ ও বুদবুদ
- মোশ্ রাফি মুকুল

যখন সময়ের কার্ণিশে ঝুলে থাকে জীবনের বুদবুদ,
সমুদ্রের ছাদে পুড়তে থাকে জলের শরীর;
জল ও যৌবনের পার্থক্য করতে
রাতের তারারা আনন্দে খসে পড়ে
এইসব মধ্যবয়সী পৃথিবীর দেহে।
অথচ গাঙচিলেরও উড়ার ডানা আছে,
ধবধবে পাখনায় লেখা আছে পতনের দিন,
তাদেরও জানা নেই মৃত্যু থেকে পালাবার কৌশল...
এবং তিমিরা স্তনপায়ী হলেও কখোনো ওরা মানুষ হতে পারেনি-
তবে তার জন্য ওদের এতোটুকুও দুঃখবোধ নেই।
মানুষের নিষ্ঠুরতায় পশুরাও লজ্জিত আজকাল।
তবু শুধু মানুষ জানেনা বুদবুদের মতোই
তাদেরও প্রকৃতির কোলে লীন হতে হয়...
মৃত্যুর নীলবিষে সবাইকে শীতল হতে হয়।

২৭/১১/২০১৬

আকুতি
- নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

বাবা ছেড়ে গেছেন ,
বহু আগে তাদের ,
মা-ই ছিলেন শুধু ভরসা ,
মৃত্যুর কোলে শায়িত তিনি ,
ছেলের চোখে নামে বরষা |
মা কেঁদে বলে ,"খোকারে আমার -
থাকিস ভালোভাবে ,
ঘরের তাকে রেখেছি তুলে ,
নারকেলের নাড়ু আর মোয়া বেঁধে |
জামা , প্যান্ট তোর কেঁচে রেখেছি ,
মাটির বড় জালাতে ওই ,
আমি চলে গেলে পৃথিবীতে তোর
থাকবে নাতো কেউ |"
কথা নেই কিছু ছেলের মুখে ,
চুপটি করে আছে পড়ে মায়ের বুকে ,
একটু একটু করে নিঃশ্বাস মায়ের ,
বন্ধ হবার পথে ,
ছেলে ভাবে মনে মনে ,
"ভগবান তুমি এত নিষ্ঠুর কেন ?
জম্মের পরেই বাবাকে নিলে ,
এখন মাকে কেন টানো ?
মায়ের সাথে আমাকেও নাও ,
বাঁচতে আমি চাই না ,
মা ছাড়া আমার ভুবন আঁধার ,
আমি যে আঁধারে পথ চিনি না |"

নন্দা 26.10.16 2AM.

আগুনের_বদল_আগুনই_চায়
-Moni Jewel

আমি জানি আগুন নেভাতে আগুনই চায়
আমি জানি জল মোছাতে জীবনই চায়
না না শুধু জল মানেই জীবন নয়
আগুন মানেও জীবন,
তুমি তো জানো H2O
খুলে দেখেছো কখনও জীবনের ইতিহাস?

ওই যে দেখো পূর্বে আগুন লেগেছে আজ
না না ভুল ভেবো না, সুর্যোদয় বলছি না
এ উদয় না,সে আলো নিভে গেছে!
আগুন জ্বালার কেউ নেই
চলো, যাই, জ্বেলে দিই!
আগুনেই আগুন নেভে, জানো না ইতিহাস?

ওরা জ্বেলেছে
এবার আমরা জ্বালি, আর অপেক্ষা কত?
ওরা সব মরে গেলো যে!
চলো আগুন জ্বালি, মুছে দিই রক্ত_ক্ষত
ওরা সব জ্বলে গেলো যে,,,,
বীর,এবার জাগো, গড়তে হবে যে ইতিহাস?
সে 'চে' বলেছে ।
07:00pm/26,11,16/Dhulian

যাহা হবার নয়
- কাঞ্চন চক্রবর্তী

শান্তি শান্তি করোরে ভাই
শান্তি গেছে মরে,
ঔষধ বিনে মরতে হ'ল
ধরলো কালা জ্বরে।
.
শান্তির মা মারা গেছে
অনেক বছর আগে,
তবু কেন শান্তি পেতে
মনে আঁশা জাগে।
.
শান্তি নগর গিয়ে দেখি
শান্তির নেই লেশ,
অশান্তিতে শান্তি নগর
ভরেছে শেষ মেষ।
.
ধর্ম তলায় গিয়ে দেখি
ধর্মের নামে ঘুষ,
গোস্থানে যেতে হবে
নেইতো তবু হুষ।
.
বড় কর্তার হুকুমে চলে
ফিতায় বান্দা ফাইল,
ঘুষ নাদিলে ফাইলের অবস্থা
হয়ে যাবে কাহিল।
.
ঘুষ দিলে মরা ফাইল
হয়ে যাবে জ্যন্ত,
ঘুষ নাদিলে জ্যন্ত ফাইল
মরে হবে খ্যন্ত।
.
আরামবাগে নেইতো আরাম
জনসংখ্যায় ভরা,
ঐখানেতে বাস করে
ভুক্তভুগি যারা।
.
কচু ক্ষেতে নেইতো কচু
নিল ক্ষেতে নিল,
হাতির ঝিলে নেই হাতি
আলোয় ঝিলমিল।
*****************
কাঞ্চন চক্রবর্তী
রোজঃ শুক্রবার
তারিখঃ২৫/১১/২০১৬ইং
সময়ঃ রাত ৮/০০টা

সকাল
- শ্যামল কুমার মাইতি

সকাল হয় রোজই
তবু যে নূতনই,
ভাবে সে একই
ভিন্ন তার প্রকাশই।
.
আপন সে ভুবনের
ঘুমভাঙা স্বপনের,
রাত জাগা সময়ের
অপেক্ষায় ভোর।
.
জাগরণ মনে মনে
ভাব যত সব এনে,
অস্ফুট বদনে
ঠিকঠাক বয়ানে।
.
উদাসী চেয়ে চেয়ে
হারায় পল যে,
অপরূপ প্রকৃতিকে
দেখে নিয়ে পলকে।
.
মুগ্ধতা এসে যায়
কল্পনা জুড়ে যায়,
অক্ষর ভাষা পায়
কবিতার রূপ নেয়।

--শ্যামল কুমার মাইতি
26.11.2016

বোতল
- রাজু আহম্মদ খান

বোতলের কি দোষ ?
মিথ্যে হোক সত্য -
কারো মধ্যে মদ থাকে
কারো মধ্যে পথ্য ।
.
কারো পেটে তেলময়
কারো পেটে পানি -
বোতলের কি দোষ
আমরা কি জানি ?
.
বোতলে ফান্টা আছে
প্রাণটা আছে আরসি
আমরা কি কেউ তার
খবর নিতে পারছি ?
.
কেউ বলে বোতলে
যেই রঙের জল
সেই রঙ্গই করবে ধারণ
রঙ্গই সফল ।
.
বোতলের কি দোষ ?
সব দোষতো নন্দ ঘোষ
আসল কি সে জ্বালা ?
.
আমরা বোতল বলি তারে
যে কিনা নড়ে কি চড়েনা
সহজে পঁচেনা, গলেনা
ঢিমেতেতালা -
.
আসল বোতলই সে
করছে কোতল
নিরিহ মানুষের গায়ে
চাপাতির মতন ।
.
অন্যের বিপদে যে
মোটেই দেয়না কান
মানুষের অনুভূতিরে যারা
দেয়না সম্মান ।
---------------------
২৫ নভেম্বর ২০১৬
কাকতালীয় - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং-২৪

সেটুকুই শুধু আমি
- দিব্যেন্দু সান্যাল

আলো আর জল
মাটি আর গাছেদের সংবৃত শব্দমালা
কবে আর শেখার সাধ বুকে নিয়ে
দাঁড়িয়েছি মাটির উপর ?
প্রাচীন অবোধ গাছেদের মতো
কোনদিন খুশির হাওয়ায় দুলে দুলে
শুনিনি তো বৃষ্টি আর রৌদ্রের কথা ।
সেইসব অলৌকিক কথামালা সাগরের ঢেউয়ে ঢেউয়ে
আজও আছড়ে পড়ে বালুকাবেলায় ;
শব্দের শাশ্বত সীমানা খুঁজে হয়রান
তুমি আর আমি
মৃত শঙ্খের স্তূপ আর ঝিনুকের ডালি নিয়ে ঘরে ফিরি
তারপর শঙ্খের যুদ্ধনিনাদ
ঝিনুকের ধারাল রক্তপাতে
ইতিহাস লেখা হয় মানুষের কথামালা আর শাব্দিক ধারাপাতে ।
যত শব্দ যত কথা
তোমাদের কাছেই তো দিনে দিনে শিখলাম সব ।
আলো আর জল
মাটি আর গাছেদের কাছে তো শিখিনি কোন কথা ।
তুমি কথা বল
আমি কথা বলি
অবিশ্বাস ঝড় সেজে ছোঁ মেরে তুলে নেয় শব্দের চোখ
চৈত্রের শুকনো পাতার মতো
ধূসর আকাশ জুড়ে ছড়ায় অন্ধ অবিশ্বাসী তপ্ত বলয় ।
এই ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া ঠোটে
আলো আর জল
মাটি আর গাছেদের কথামালা আজ আর কিভাবে মেলাই ?
তোমাদের শেখানো কথা
যেটুকু বলেছি, সেটুকু ঝরাপাতা ঝরে ঝরে যাক
যেটুকু বলিনি এখনো, সেইটুকু আমার প্রাণের কাছে শেখা
যেকথা আজও বলিনি, বলবোনা কোনদিন
সেটুকুই শুধু আমি
সেটুকুই আমার জন্য থাক ।

বাঁচতে ইচ্ছে করে
- তনিমা হাজরা

দিন গড়ালে দিনের গায়ে রোদ্দুরে বা ঝড়ে
আমার জানো ভীষণ রকম বাঁচতে ইচ্ছে করে।

হাজার রকম মিথ্যে কথার প্রতিবাদের পরে,
জীবনটাতে শান দিয়ে খুব বাঁচতে ইচ্ছে করে।

ঘুণধরা দিন, শোকঝরা রোদ, আগুনজ্বলা ঘরে,
ছাইসরিয়ে, দায় মিটিয়ে বাঁচতে ইচ্ছে করে।

ফসিল দিনের স্বরলিপির গর্ভসঞ্চারে
মরুর চোখে মেঘ উড়িয়ে বাঁচতে ইচ্ছে করে।

আকাশ মাটির এই বিভাজন ক্লান্ত ডানায় ধরে
নদীর মতো সহজ বেগে বাঁচতে ইচ্ছে করে।

না খাওয়া দিন পেরিয়ে এসে ভিক্ষে পাওয়ার পরে
অনাহারীর প্রবল সুখে বাঁচতে ইচ্ছে করে।

কুড়িয়ে পাওয়া আধুলিটায় দিন সওদা করে,
বিশ্বাসী দুই বাহুর মাঝে বাঁচতে ইচ্ছে করে।

।ত নি মা।

অস্থায়িত্ব
- শ্যামল কুমার মাইতি

অস্তিত্ব হয়ে আসে হাস্যকর-
স্বস্তি সে তো উপহাস,
দিন তবু রঙ বদলায়-
হয়ে বহমান জীবনের দোসর।
যা দেখি তা দেখায় চোখ-
যা শুনি তা শোনায় বিবেক,
তাই-ই ভাবি যা ভাবায় হয়ে প্রকট-
করতে হয় সেটাই যা করায় সংকট!
বাস্তবিক হয়ে মনের স্রোত আসে থেমে-
জঞ্জালে আটকা পড়ে বিশ্বাস,
অস্তিত্ব হয়ে আসে হাস্যকর-
স্বস্তি যেন এক উপহাস!
ধরে রাখা হিসাব ছেলেমানুষি-
সুযোগ পেয়ে বুঝে নেওয়া বোকামি,
থাকে না কেউই আসলে সঙ্গী-
উড়ে যায় হয়ে দমকা হাওয়ার পন্থী।
স্থায়িত্ব সেও এক মায়া-
বিচলিত হয়ে আনমনা হয় যে,
যৌবনে আটকে থাকার কামনা-
তবু ধরা থাকে জীবনের পরতে।

--শ্যামল কুমার মাইতি।
24.07.2016

হারানো ছেলেবেলা
- সৌমেন্দু দাস

হারিয়ে গেছে ছোট্টবেলা
হারিয়েছি সেই পুতুল খেলা,
রূপকথারা আমায় নিয়ে
ব্যাঙ্গ করে হাসে,
আজও তাদের খুঁজে বেড়াই
স্মৃতির আশেপাশে ।।

লবন হ্রদের সাত তলাতে
বিশাল অফিস ঘর,
কাজের চাপে যন্ত্র মানব
হচ্ছি নিরন্তর,
তবুও আমি কাজের ফাঁকে
খুঁজি ছেলেবেলা,
বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরে
খেলি পুতুল খেলা ।।
সৌমেন্দু দাস//25.11.16

অন্য ধর্ম
- শীলা ঘটক

ছুট ছুট ছুট------
এক ছুটে মেঠো আলপথে—
হলুদ ধানের শীষের প্রীত চাউনি,
শিশিরভেজা নরম ঘাসের ওপর দিয়ে
ছুটতে ছুটতে প্রজাপতি ধরতে যাওয়া ---
মনে পড়ে তোর?
মনে পড়ে?
তোর আমার তখন সদ্য বড় হওয়া
রঙিন প্রজাপতি ধরার জন্য
কি ছুটছুটিই না করতাম!
ছুটতে ছুটতে কত মাঠ- ধানক্ষেত পেরিয়ে যেতাম--
তারপর---
তারপর নদীর চরে বাঁধা আলম চাচার নৌকোটায় ---
দুজনে চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে আকাশটা দেখতাম!
হাত দুটো ধরা থাকতো একে অপরের,
মেঘেদের নিয়ে কল্পনায় ছবি আঁকতিস তুই,
কি বিশাল আকাশটা!
নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের খেলা--
আর তোর চোখে ইচ্ছে মতো তাদের ছবি আঁকা!
বলতে পারিস--
বিশাল আকাশটার মতো
মানুষের মনটা কেন বিশাল নয়!
জীবনের দুটি পথ দুই দিকে গেল বেঁকে
অভিন্ন হৃদয়ের রক্তপাতে ভিজেছে,
মন্দির – মসজিদের দরজা।
তবুও এক হতে পারিনি আমরা!
শুধু তুই মুসলমানের ছেলে
আর আমি হিন্দুর মেয়ে।

শীলা ঘটক কোচবিহার ২২/১১/২০১৬ সন্ধ্যে ৮।০০

মন ও মনন
- মোশ্ রাফি মুকুল

অন্ধকারের কার্পেটে আঁকিবুকি চলছেতো চলছেই
এইচ বি পেন্সিলের শিল্পিত আঁচড়ে কতোজন কতো কথা বলছে।
কর্তার চোখেমুখে রগরগে যৌনবাদি লিপ্সা...
কে আঁকবে কার ছবি,
সকলের হাতে ধরা কালপ্রিট হিংসা।
কেউ আঁকে ছবি লোভাতুর- মোহের
কেউ প্রতিবাদে মুষ্টি উচায় দ্রোহের,
প্রকৃতির শৈল্পিক প্রবাহে প্রতিটা শৈশব-
এমনকি;
ইভ থেকে অ্যাডাম সবাই শিল্পী ছিলো।
সবাই ছবি এঁকেছিলো একবার,
যুগল রেটিনায় খেলা করেছিলে কামের পাপেট পুতুল...
মৃত্যুর মতোই মানব রিপুগুলো অনিবার্যভাবে
পরাজিত করতে চায় আমাদের-
জীবনের কোষাগারে জমা হয়-কতো ভূল।
যখন আমরা হেরে যাই
হেরে যায় আমাদের সভ্যতা।
আসলে শিল্পী কখোনো হারেনা,
শিল্পের আলোক রশ্মি তিমিরের তলোয়ার আঘাতেও কখোনা মরেনা;
শিল্পি বাঁচে চোখে মনে ও মননে।
নব সৃষ্টির শিল্পী হতে চেয়েছিলো যারা-
অথবা তুলির শঙ্খন;
আজো সমুদ্রে সমতলে পাহাড় কিংবা
আকাশের নীল প্যাপিরাসে-
তাদের রঙের সূর্যদাগে
বিরামহীন চলছে সময়কে অংকন..
মধুবালা হাত ধরো হেঁটে চলো
আমরাও হই শিল্পিত সুন্দর...
আজ হতে পূতঃ হোক মন ও মনন
আরো সুবর্ণখচিত হোক প্রতিটা স্বপন...

২৬/১১/২০১৬

ছোটবাবু বড়বাবু
- পার্থ সারথী

বছর শেষ হয় তবু মাস শেষ হয়না, এই যেন আকুতি নিয়ে অতৃপ্তিতে বর্ষবরন ছোটবাবুদের ।
এই বছরে হবে ভালো প্রমোশন, নতুন বছরের আমন্ত্রনে ঘুম নেই বড়বাবুদের।

অজান্তে পালিয়ে বেড়াতে হয়, খুন করতে হয় ছোট ছোট কত আবদার।
নাইট ক্লাবে থার্টিফাস্ট নাইট, রঙিন দুনিয়ায় জমে ওঠে শহরের যত বার।

চেয়ারে বসে হাতল ভাঙার আফসোস, কর্মে ক্লান্ত হলেও একটু শরীর হেলানোয় বাঁধা।
ইজি চেয়ারে শরীর হেলিয়ে কাজে ফাঁকি, এই যে এক গোলক ধাঁধা।

প্রচন্ড ঘরমে পুরাতন ফ্যানেই ভরসা, মাঝে মাঝে বিদ্যুতের হয় যাওয়া আসা।
এসির বাতাসে শরীর ঠান্ডা তাদের, আইপিএস এ জুড়িয়ে নিয়ে থাকে শরীর খাসা।

ধুলোবালি আর মাকড়সার জালে বন্ধি জীবন, বারে বারে বুক ফেটে আসে দীর্ঘশ্বাস।
চার পাঁচটা পিয়ন রেখে কার্য সম্পাদন, কিছু না করলেও সরকার তাদের করে বিশ্বাস।

নয়টা পাঁচটা ডিউটি তাদের, ওভারটাইমেরও হয়না গননা।
কাজের হিসেবেও থাকে গরমিল, মাঝে মাঝে অফিসে হয় আনাগোনা।

জীবন যদিও হয় তাদের পাথর চাপা কষ্টের, তবু ভালোবাসা থাকে নিত্য সাথী।
জাঁকজমক হলেও জীবন তাদের, কখনও ভালোবাসায় তাদের হয়না মাতামাতি।

সৃষ্টিকর্তা ভরসা তাদের, কাজের ফাঁকে ফাঁকেও চলে বন্দনা।
ভুলে যায় তারা সৃষ্টিকর্তারে, তাই রোগ বালাই থেকে মুক্তিই তাদের সাধনা।

মায়া_গহ্বর
-মণি জুয়েল

তখন ময়ুরপঙ্খী নাও ঝিলমিল ভাসতেছিলো-

আর আমি বেয়ে চলেছিলাম উথ্থাল
তরঙ্গে,
অনন্য সে মাদকতা, মুক্তির
মুক্ত কল্লোল!
নাব্যতায় ক্রমশই এগিয়ে চলেছি,
আমি ভেসে যাবো, ডুবে যাবো, মুক্তি
অতঃপর...

ঠিক ঠিক তখনই রঙ্গ বাঁকের সে মায়া
গহ্বর!?
সুখের গ্রাসে তলিয়ে নিলো
আমার নাও,
অষ্টইঞ্চি দাঁড়; আর আমিও সাথে!
অনন্ত সে এক কৃষ্ণগহ্বর!
কুল নেই, অনন্ত অপরিসীম, কিনারা
নেই যার....

জানিনা এ কালগহ্বর মায়ার সমাপ্তি কোথায়?!
।।২৫,১১,১৬/১১:৫০রাত/ধুলিয়ান।।

নিঃশ্বাসের ধ্বনি
- সেলিনা আহামেদ শেলী

রাতের পাতা গুলো নিঝুম
দেখছি বসে কারিকরের খেলা
ও বিধাতা কোন হাতে বানিয়েছো,
ভবের খেলায় মেতে সবে।
নিদরাহীন গভীর রাতে পৃথিবীকে
প্রশ্ন করে ছিলাম?
কেন তুই নিরব,উওর মিলে
আমি যে এই নিয়মেই জন্মিয়েছি।
প্রকৃতি বইতে শিখিছে,
রাতের পাতা গুলো নিঝুম,
জোনাকির আলোতে
আকাশ সেজেছে,সুখ তারায়
বিলিয়ে দেয় ভালোবাসার
মুরছনা।
তারায় তারায় হেসে উঠে
পুরোটা আকাশ।
রাতের আধাঁর বলে, নিভিয়ে
দিবো কি আলো?
শেষরাতে সময়ের স্রোতে
বিলিন হবে, পৃথিবীর
আরেকটি রাতের।
এক নিমিসে ঝরে যাবে
পাতা গুলো উড়বে ধূলো
মাখা ধূলো অগনীগিরী জ্বলে উঠবে
অচেনা এক স্টেশনে,থেমে
যাবে,কোন
এক দিন সব নিশ্বাসের ধ্বনি।

তাং:২৫/১১/২০১৬

নির্বাক
- সেলিনা আহামেদ শেলী

তোমার হাতের তাল পাখাটা মনের
কোনে,পরাগ মেখে কত
রাত কাল মিথ্যে জোছনায় স্মৃতির
পাতায় তোমায় ভুলে একাকী এই
গভীর মায়ায় উড়ে
যায় জোনাকি,বাঁকা চাঁদে মেঘ গুলো
জমা বাঁধে,আধাঁর কালো ও আমার
ময়না,তুমি আমার
কখনো চেনা চেনা আবার অচেনা।
থমকে সময় গল্প বলে, আলো ছায়ায়
আবেগ ছুয়ে রাঙ্গিয়ে দেয়,
মন জুড়ে হাজার প্রশ্ন জাগে নদীর
ধারায়,ঘুম ভেঙে কনায় কনায়,দিলে দেখা ।
মেঘলা বেলায়,সুখের কাব্য লিখে, কতটা
ভালোবেসেছি এই জীবনে,
অবুঝ মনে ভাবনা গুলো ছন্দ ছারা ভাষা
হারিয়ে নিবাক। হারিয়ে যাবো,ঐ আকাশে
খেয়ালি অনুভবে ভেসে
যাবো ঠিকানা বিহীন,কখনো ভুলে যেও না
হৃদয়ে তোমার ছবি।

তাং :২৪/১১/২০১৬

মাটির টানে
- অনাদি চক্রবর্তী

যদি হয়ে একতারা তোর
বাজতাম পথের উপর
একটি তারে,
গেয়ে তুই বাউলিয়া গান
জুড়াতিস সবার পরাণ
মাটির সুরে।
তুই কেন বাউল হলি না?
তুই যদি হতিস নেয়ে
ভাসতিস আমায় নিয়ে
গহন জলে,
দক্ষিণা বাতাস হয়ে
পাল তুলে তোর সে নায়ে
যেতাম চলে।
তুই কেন মাঝি হলি না?
কবি হলে তোর কবিতায়
ফুটতাম পাতায় পাতায়
স্বপ্নে সুরে,
বর্ণে ছন্দে তে তার
রাঙাতাম হৃদয় সবার
ভুবন জুড়ে।
তুই কেন কবি হলি না?
মাঝি বা বাউলা কবি
একই সুরে বাঁধা সবি
মাটির টানে,
কেউ খোঁজে তার কবিতায়
কেউ বা পারের খেয়ায়
বাউল, গানে।
আমি কেন মাটি হলাম না?

কোলকাতা , ২৪/১১/১৬

রক্তচিত্র
- শাহিনা কাজল

সময়ের অস্ত্রহাতে রক্তচিত্রের
বস্ত্রহরণ দেখছি
অপরাজেয় রাষ্ট্রশক্তির বন্দুক বেয়োনেট
মহাকালের ললাটে এঁকে যায় অাগুনের অাল্পনা
অবক্ষয়ের উত্তাল স্রোতে ভাসে সময়ের নোংরা ইতিহাস।
ট্রামভর্তি লাশের ছিন্নবস্ত্র অামার কবিতার হিরণ্ময় সেতু।
স্বপ্নময় জীবনের সীমানাহীন অঞ্চলে রোপিত গণগণে সূর্যের বীজ
সংগ্রামী মৃত্যুর স্থিরচিত্র।
ছন্দের রঙিন পেয়ালায় বুদ হয়ে অাছে শব্দ কারিগর।
অার মৃত্যুর খিড়কি খুলে ব্রাশফায়ারের অপেক্ষায় বিলিয়ন ট্রিলিয়ন দূর্বাদল
অবিরাম রক্তচিত্র অাঁকে সভ্যতার কালো হাত।।

মেঘ
- মুকুল রায়

ক্লান্তবেগ
ওগো মেঘ
কী আবেগে ভেসে
যাও নিরুদ্দেশে
উড়ে উড়ে
ঘুরে
দুরে
কোন অচিনপুরে.....।
স্বপ্নপুর
সে সুদুর
কতদুর....!
কি সজল
ছলছল
মায়াজল
টলমল
জন্ম জন্মান্তর
জলচোর
মেঘের ভেতর
সীমাহীন নীলে
উদাস মিছিলে
ওগো মেঘ
এ আবেগ
কেন নিয়েছিলে......!

প্রকৃতি
- রাজু আহম্মদ খান

তোমাকে না দাও
তোমার মুখের কথাটা দিও -
তোমার নিজেকে না দাও
মনটারে দিও ।
.
আমার আর কিছু লাগবেনা
জানো ?
শুধু তোমার স্বপ্নটাকে দিও,
.
তোমাকে না দাও
তোমার কৈশরকে দিও
তোমায় না দাও
তোমার তারুণ্যকে দিও -
.
বাকি রইলো রুপ
আর দেহ
ওগুলো না হয় নিক
অন্য কেহ -
.
তোমাকে না দাও
তোমার মুখের কথাটা
আমায় দিও -
তোমাকে না দাও তোমার
মনটারে দিও -
.
আর শুধু একবার বলো "প্রিয়"
আমিতো আর বেশি কিছু চাইনি,
না দাও না দিলে
আমি কাউকে বলবোনা তা "পাইনি"।
.
শুধু আমার দিকে এক পলক চেও
আর মিষ্টি করে দুষ্টু হাসি দিও !
.
আমার তো বেশি কিছু চাইনে,
আমার তেমন অধিক নয় মাইনে,
আমি কেবল সুখেই আছি জেনে
দূরে হলেও তোমার আদর্শ মেনে
বেঁচে আছি অনেক ফুরফুরে -
.
যদিও তুমি দূরে
এই মধ্য রাত দুপুরে
ইচ্ছে হলেই তোমায় পাই
বিশাল সমুদ্দুরে -
.
যে সমুদ্দুর তোমার বুকে আঁকা,
তার উপরে বৃক্ষ দিয়ে ঢাকা -
কেউ দেখেনা আমি কিন্তু দেখি
সম্ভাবনার ধূসর উপত্যকা ।
-------------------------
২৪ নভেম্বর ২০১৬
ঝিনুকের মত প্রেম - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং ২৩

এবং মানুষ
- মুকুল রায়

'সবাই তো কবি নয় -
কেউ কেউ কবি'
সব আঁকা ছবি নয়
কিছু কিছু ছবি।
সবাই তো মানুষ নয়
কিছু জানোয়ার -
জন্তুর মত যেন
তার ব্যাবহার।
মানুষের ভেতরে আছে
ভারবাহী গাঁধা
জীবিকার জন্য জীবন
শৃঙ্খলে বাঁধা

প্রতিবেশি
- বুরহান উদ্দিন

তুমি আমার প্রতিবেশি
তুমি আমার ভাই,
তবু নাকি তোমার প্রতি
কোনই দায় নাই|
তুমি আজ রক্তে ভেজা
ভিন্ন কোন নামে,
তবু আমার মন ভেজে না,
তোমারই বদনামে|
তোমার দেশে তুমিতো আজ
অপোয়য়া নচ্ছাড়,
রক্ত খেকো রক্ত খাবে
থাকবে পড়ে হাড়|
নোবেল জয়ী সূচি'রা আজ
শান্তি আনে দেশে,
মারছে মানুষ মরছে মানুষ
সূচিই দানব বেশে|
সাগর জলে নারী শিশু
নেই ঠিকানা জানা,
মানবতা অন্ধ চোখে
দিচ্ছে দেখ হানা|
মানবতায় চোখ ভেজানোর
লোকের অভাব নাই,
কাঁদছে সবাই চোখ ভিজিয়ে
দিচ্ছেনাতো ঠাই|
*** ***
২০|১১|২০১৬ইং
চারঘাট-রাজশাহী|

দেখা হবে সাগর সঙ্গমে
- ইরাবতী মণ্ডল

তোমার আমার জীবন টা ঠিক
যেন পাশাপাশি বয়ে যাওয়া দুটি
নদীর মতন। তোমার দেখা পাচ্ছি,
কিন্তু ছুঁতে পাচ্ছি না। বয়ে চলেছি
এক ই দিকে। দুটি নদীর বাঁকে বাঁকে
দেখা হয় দুজনার।
মাঝে মাঝে দুজনার কথা হয়।
হয় প্রেম বিনিময়। আকুল হৃদয়
ছুটে যেতে চায় তোমার কাছে। কিন্তু
পারি না।
দুকুল ছাপানো শ্রাবণে মাঝে
মাঝে এক হই। খনিকের তরে
পিয়াসী হৃদয় ছুঁয়ে যায় দুজনার।
বাড়ায় অতৃপ্তি আরো। অতৃপ্ত
বাসনার খনি দ্বিগুণ জ্বলে।
তাই বয়ে চলেছি সাগরের
দিকে। জানি সেখানে মিলবো
দুজনে। সাগর সঙ্গমে হবো
একাকার।
বন্ধু সে আশায় বয়ে যাই।
চিরন্তন মানস সরোবরে পদ্ম হয়ে
ফুটে রব।হবো না কো ভিন্ন আর।
জন্মান্তরের সুতোয গাঁথা হবে
দুটি প্রাণ। বন্ধু , তাই বয়ে যাই
নিরন্তর।সেই অগম মানস
সরোবরের পানে।

Kolkata. ..time. ..12.25
21. 11, 2016

বুদ্ধদেব তুমি জাগো
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

বুদ্ধদেব আজ কেনো স্তব্ধ তুমি
তোমার পদতলে বইছে রক্ত নদী
তবুও কেনো তোমার ধ্যান ভাঙেনি ?
বুদ্ধ তুমিইতো শুনিয়েছো শান্তির বাণী
অথচ আজ ভিক্ষুরাই দেখো নৃশংস খুনি
ভুলেছে আজ ওরা শান্তির সেই বাণী ৷
জীব হত্যা মহাপাপ,ছিলো তোমার বাণী
অথচ সেথা মানুষই সবচেয়ে কমদামী
বুঝিনা ওরা কেমনতর তোমার অনুসারী ?
মনুষত্বহীন হয়েছে আজ মায়ানমারের ভূমি
এতো হত্যা দেখেও আজ স্তব্ধ কেনো তুমি
ধ্যান ভেঙে আজ ভিক্ষুদের দীক্ষা দাও তুমি ৷
যে জন করে জীবে প্রেম,ঈশ্বর যদি সে হয়
ভিক্ষুদের মাঝে কেনো আজ এই অবক্ষয়
হত্যা করে গাইছে ওরা তোমারই জয় জয় ৷
রক্ত স্রোতে ভাঁসছে আজ মায়ানমারের ভূমি
সেই স্রোতে'তে কেমন করে ধ্যান করছো তুমি ৷

জীবন্ত ফসিল
- জামান মনির
.
শতবর্ষি বৃক্ষটির শেকড় মাটির গভীরে প্রোথিত হলেও
কিছুটা মাটির উপরে, যেন পথিককে বিশ্রাম দিতে;
অহর্নিশ এ পথে কত মানুষ নিত্য যাওয়া আসা
কেহ মনের টানে গড়ে সখ্যতা শেকড়ের সাথে
কেহ শেকড়ের টানে গড়ে সখ্যতা মনের সাথে ।
.
এ যেন কিংবদন্তির স্বাক্ষর
এক বিরহাতুর পথিক তার গোপন কথা
অনায়াসে ব্যক্ত করেছিলো.......
'শেকড়ের মত কেন সে গেঁথে থাকলো না হৃদয় মাঝে'
পত্রপল্লবহীন পথিক জীবন যেন জীবাশ্ম
এমন বৃক্ষই তার আপন নিবাস ।
.
শেকড় ছিঁড়ে মানুষ চলে যায় দূরে,
অথচ পথিকের অপেক্ষায়
একটি বৃক্ষ দাঁড়িয়ে শেকড়ের উপর;
হৃদয়ের টান ছিঁড়ে গেলে
জীবন বৃক্ষ হয় সময়ে জীবন্ত ফসিল ।
.
*****************
২০/১১/১৬ : যশোর

শীতকাহন
- শ্যামল কুমার মাইতি

ইচ্ছা যেন কাঁপুনি দেওয়ার গোটা রাত জুড়ে
সকাল হলেই জড়সড় সে আসে গুটিয়ে যে,
নাম হয়েছে শীত তার হয়ত আদর সয়ে
স্নিগ্ধ সে কুয়াশাঘেরা ভোরের আলোতে।
লেপের ভেতর আরাম নিয়ে সে যদি ডাকে
আকুল হয় শরীর তবে কাজ শিকেয় তুলে,
ঘুমের মধ্যে হাল্কা মন আমেজ খুঁজে নিয়ে
নিবিড় হয় কখনো বা একটু ছোঁয়া পেয়ে।
ভালোবাসা শীতের রাতে বাড়াবাড়ি হলে
তর সয় না সময়ের যে ফুরোয় নীরব হয়ে,
এপিঠ ওপিঠ গরম ছোঁয়া অনেক পল পরে
জোড়া লাগে সম্পর্কে শীতের পরশ পেয়ে।
কম হোক বেশী হলেও বড্ড আপন সে
আটপৌরে অনুভূতি তাকে ঘিরেই যে,
ঠাণ্ডা এসে শীত জমায় আপন ঢঙেতে
মেতে ওঠে মানুষ জেগে তার আলাপে।

-- শ্যামল কুমার মাইতি
20.11.2016

চুপি সাড়ে
- সেলিনা আহামেদ শেলী

পাখিরে চুপি সাড়ে,
কী বলছিস।
পাখি বলে কই না তো ও পেয়েছিস বুঝি লজ্জা
পাখি একটু সরে গিয়ে অন্য ডালে ভাবছে বসে
কী বলবো?
কি রে পাখি তোকে না বলেছি রাত করে ডাকিস না আমায়,
তুই কি জানিস না?
ভুলে কি গেছিস?
বেশ বলেছো,
তুমি যে আমার এক টুকরো চাঁদ,
নজর লেগেছে হৃদয়ে মায়ার বাঁধনে ভাঙ্গা গড়ার জীবনে,
পাখিরে শুন তবে,
ফুল কলির ভালোবাসা জন্মায় এক বুক কান্নার জলে।
পাখি বলে মুছে দিবো সেই জল,
সুরে সুরে সুখের পাল তুলে।
এই পাখি তোর ছোট ডানায় বয়ে নিবি কি করে?
পাখি বলে,
মনের জরে বাহ্ বাহ্ বলেছিস বেশ তাই না হলে তুই আমার,
পাখি তুই বাড়ি যা তবে।
কাল হবে দেখা,
পাখি বলে আসবো সময় করে,
তকে পারবো না ফিরাতে যে ছবি একেছিস
অথেই আধারে তুই ছারা আমি একাকী।

২০/১১/২০১৬

ঝিনুকের বাসা
- রাজু আহম্মদ খান

তুমিও কি তার মত হবে ?
আজন্ম যে ডুবে আছে
বিত্ত বৈভবে -
.
যতই বহুতল
বাড়ি হোক, গাড়ি হোক
যতই সহায় সম্পত্তি সে কিনুক -
.
বেলা শেষে পড়ে রবে
সমুদ্র সৈকতে,
ফিরে যাবে ঐ পথে
যেখানে আজ মুখ খুসে
পড়ে আছে ঝিনুক।
.
আমিও ঝিনুকে আছি
মুক্তোরে বুকে নিয়ে
বৈরী হাওয়া আর
কনকনে শীতে -
.
আকড়ে রেখেছি যারে
খোলসের মধ্যিখানে
অহংকারে বারে বারে
চুম্বন দিতে ।
.
আমার রাজ্য নেই
কোনোই বিভাজ্য নেই
চারিদিকে জল তবু নেই
কুমিরের ছানা -
.
অসংখ্য বালুকারাশি
মানিকের নিত্য হাসি
দুর্ভিক্ষ কারে কয়,
নেই কারো জানা -
.
এখানে স্রোত আসে,
জোয়ারের ক্রোধ আসে
নীলামার সীমানায় ভাসে
অসীম ভালোবাসা -
.
তুমি যদি নিঃস্ব হও
দুহাতে বিশ্ব চাও
একবার দেখে যাও
এই ঝিনুকের বাসা।
--------------------------
২০ নভেম্বর ২০১৬
ঝিনুকের মত প্রেম - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং ২৩

সান্থনা
- কাঞ্চন চক্রবর্তী

হাসান মিয়া ইভটিজিং করে
কেউ কিছু তার বলেনা,
বড়ভাই তাহার বড় নেতা
তার প্রতিবাদ কেউ করেনা।
.
ইভটিজিং করা হাসান মিয়ার
নিত্য দিনের কাজ,
চড় থাপ্পড় খেয়েও হাসানের
নেইতো শরম লাজ।
.
বোরখা পরা এক মেয়েকে
বল্লো "আই লাভ ইউ" হায়,
ভিতর থেকে দেখতে পেলো
নিজের আপন ভাই।
.
বোনটি তাহার বাবার কাছে
সব ঘটনা বলে,
সব ঘটনা শুনে বাবার
শরীর গেল জ্বলে।
.
হাসানের বাবা থানায় গিয়ে
করে দিল নালিশ,
পুলিশ তখন ধরে এনে
ঝুলিয়ে করলো পালিশ।
.
তিন মাস জেল হল
হাজার টাকা জরিমানা,
হাসানের মত কুলাংগারের
শাস্তিহ'ল এটাই তাহার শান্থনা।
***
কাঞ্চন চক্রবর্তী
রোজঃ রবিবার
তারিখঃ ২০/১১/২০১৬ইং
সময়ঃ৮/১০মিনিট

তালগাছ
- রাজু আহম্মদ খান

ইতিহাসের সাথে পাল্লা দিয়ে
বেড়ে উঠেছে তোমার অভিজ্ঞতা -
সেই তুমি যখন ছোট ছিলে,
তোমার গা-গতরে
তেমন ছিলনা ডালপালা,
রোজ পাখি এসে বসতোনা
তোমার আবক্ষে,
তুমিও হাফ ছেড়ে বাঁচতে,
ফিনফিনে বাতাস তোমাকে
মৃদু নাড়া দিতো -
.
আজ তুমি বড় হয়েছো,
দুনিয়ার সব ঝড় এসে লাগে তোমার গায়,
তুমি ভারি হতে ভারি হয়ে ওঠো
লতায় পাতায় ।
.
জানিনা, মাটির কত নীচে
তোমার শেকড় -
রোজ রাতে দেখা করে চন্দ্র শেখর -
.
আমি হতভম্ব হয়ে চেয়ে থাকি,
কত বড় হয়েছো তুমি,
বাবুই পাখিরা ঝুলে থাকে পরগাছার মত,
আমারও ঝুলতে ইচ্ছে করে
বাদুরের মত,
লোকে বলে তুমি নাকি তালগাছ,
শতবর্ষেও টিকে থাকো
প্লাবনে, তুফানে...।
-------------------------
২১ নভেম্বর ২০১৬
ঝিনুকের মত প্রেম - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং ২৩

আজ বিদায়
- সেলিনা আহামেদ শেলী

হায়রে পাখি দেরিতে হলেও বুঝেছিস,
তুই আমার কতটা আপন।
পাখি বলে,
তা শুরুতেই বুঝেছি,
তোমায় বুঝতে দেই নি,
আকুতি বেড়ে যাবে বলে।
ও এখন বুঝি কম!
পাখি বলে,
কাশফুলের মতো উড়ছে তোমার মন।
ঠিক ধরেছিস,
তোর কারণে উতলা।
পাখি বলে,
চোখের পাতা ভিজে তোমার কারণে।
বিরহের জ্বালা সই কি করে?
ঝরে যাওয়া পাতা যেমন শুকনো কুলি সুভাস ছারায়।
বৈঠা ছারা মাঝি তোমায় বাইবো কী দিয়ে?
আমাদের প্রেমের সাক্ষী ঐ সেই গৌধূলি।
লুকায়িত প্রেম ভালো লাগার কথার বলে।
একা একা উদাসি হয়ে খুঁজি সুখের মোহনা,
শিক্ত আকাশ কাঁদে বৃষ্টিতে ভিজে।
ফেলে আসা দিন গুলো স্মৃতিতে কাঁদায়,
বেদনার লুনা জলে,
মান অভিমান ভেঙ্গে প্রেমের গুনজনে,
তবু অবুঝ আমি।
পাখিরে তাতে কি আমি আছি তোর সাথী হয়ে।

২২/১১/২০১৬।

অঘ্রানের ঘ্রাণে
- অনাদি চক্রবর্তী

অগ্রহায়ণের শীতের সকাল
বাড়ীর ছোট্ট বারান্দায়,
সোনালী রোদ গায়ে মেখে
কাগজ আসার প্রতীক্ষায়।
.
সামনে হঠাৎ তাকিয়ে দেখি
বয়স্ক এক লোক,
চেয়ে আছেন আমার দিকে
অবাক দু'টি চোখ।
.
কাউকে কি খোঁজেন নাকি?
প্রশ্ন করি তাঁকে।
উত্তরে তার মৃদু হাসি
ফুটল ঠোঁটের ফাঁকে।
.
ধীরে ধীরে কাছে এলেন
নুতন নুতন লাগে!
বলি তাকে, ঠিক ধরেছেন
এই মাসকয়েক আগে।
.
এখানে তো সবাই নুতন
ছিল মস্ত জলাশয়,
ভরা ছিল খেজুর গাছ
আর জংলা আগাছায়।
.
খেজুর গাছ কয়েকটা তো
এই জমিতেও ছিলো,
মাটি ভরাট করার সময়
উপড়ে ফেলে দিলো।
.
বৃদ্ধ বলেন জানি জানি
তাইতো তোমার দ্বারে,
খুঁজতে এলাম সেসব স্মৃতি
আজকে শীতের ভোরে।
.
দিনের আলো ফোটার আগে
এসে লুকিয়ে চুপিসাড়ে,
পেট পুরে খেতাম সবাই
রসের হাঁড়ি পেড়ে।
.
বাগান দাদু দেখতেন সব
থাকতেন চোখ বুজে,
আমাদের এই চুরির মাঝে
তাকেই পেতেন খুঁজে।
.
আজকে তো সব অট্টালিকা
ইট পাথরের সারি,
হারিয়ে গেছে কখন যেন
খেজুর রসের হাঁড়ি।
.
তবু অঘ্রানের প্রভাত এলেই
আজও রসের টানে,
অজান্তেই একবার ভাই
আসি গো এইখানে।
.
মনে ভাবি এমনি করেই
কতো স্বপ্ন শতশত,
আজ নগরায়ন করছে হরণ
খেজুর রসের মতো।

কোলকাতা , ২২/১১/১৬

মায়া(ন)মার
- জামান মনির
.
যে নামের মধ্যে 'মা' আছে, আছে 'মায়া'
তোরা ভুলে গেছিস 'মা' ও 'মায়া'র ছায়া,
কেন ধরলি তোরা, নামের 'মার'কে হায় !
মা, মায়া, মার'কে নিয়ে দেশ 'মায়ানমার'
দেখছি সেখানে মানুষ রূপের জানোয়ার,
'মার' তোরাও খাবি, দিন কি সমান যায় ?
.
জাতি ভেদে হত্যাযজ্ঞে মেতেছিস তোরা
হায় অসহায় ! এখন বিশ্ব বিবেক খোঁড়া,
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবন আজ বিপন্ন ।
আমাদের দেশে সুশীল'রা সোচ্চার জানি
সংখ্যালঘু শব্দটা নিয়ে ঘোলা করে পানি,
মুসলিম নির্যাতন, এরা এখন ঘুমে নিমগ্ন !
.
সুচী আজ অচ্ছুৎ ! দেখছে যে রক্তের খেলা
শান্তির নোবেলজয়ী চুপচাপ কেন এ বেলা,
মানবতা পরাস্ত, দেখছেনা যে জাতিসংঘ ।
আবেগ নয় বিবেক নিয়ে জাগো হে মানুষ
জাতিসংঘ, নোবেল; সব যে রঙ্গীন ফানুস,
ধর্ম-বর্ণ ভেদ ভুলে, এসো গড়ি মানবসংঘ ।
.
*****************
২২/১১/১৬ : খুলনা

মৃত্যুর সুখ
- নাসরিন আক্তার

মানষ বহু কাল, বহু বছর বাচিতে চায়
আপনজনদের সাথে চিরটা জীবন
ভালোবাসার বন্ধোনে আবদ্ধ থাকতে চায়
কিন্তু ভুলে যায় জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে
এক সময় যখন আসবে
তার খুব কাছের আপন মানুষ গুলো
তার জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দারাবে
তাই বহু বছর বাচার চেয়ে মৃত্যুকে আপন করে নাও
কারণ মৃত্যুর মাঝে লুকানো চিরন্তন সুখ ,,মৃত্যুর সুখ।

সূর্য্য
- রাজু আহম্মদ খান

পরদিন তোমার ফিরে আসবার
কথা শুনে
প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি,
আমার আকাশ জুড়ে তখন
গভীর অন্ধকার,
আমি বললাম -
"এত গুড় আধ সের না"
তুমি বলেছিলে,
"কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন"।
.
আমি সেই অব্দি
তোমার ঠোটের নীচে
এক চিলতে হাসি দেখবার জন্যে অপেক্ষা করছি।
.
আমার পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাবার আগেই
এই চোখে স্বপ্ন দেখতে চাই -
সেই মতে আমি আজও দাঁড়িয়ে থাকি,
সকাল - সন্ধ্যে রোজ
পদ্মার পারে -
.
তুমি কিন্তু ডুবে যাবার আগে
বেশ উজ্জ্বল দেখাও,
উদয়ের সময় যেমন লাল,
একেবারে আগুনের মত -
অথচ তোমার আগুনকে
রোজ গিলে খায় পদ্মানদী।
.
যেমন আমার বাপ- দাদার ভিটে
দাদার আমলের খেজুর গাছ, বাইব্রেরী, উঠোন,
গোয়ালঘর, শোবার ঘর
সবই তো পদ্মার পেটে -
.
আমি সেই হতে রোজ দাঁড়িয়ে থাকি
তোমার অপেক্ষায়,
খুব ভোরে তুমি যখন আসো,
টোল ফেলে হাসো
আমার তখন মায়ের কথা মনে পড়ে ।
.
আমার মা মরে যাবার আগে,
তোমার আলোয় নাকি রোজ ধান শুকাতেন,
হাড়কাপা শীতে রোদ পোহাতেন।
.
আমার মায়ের মা,
তার মা, তার মা, সবাইকে হারিয়েছি,
পদ্মায় নিয়ে গেছে বাবার হুক্কা,
মেছওয়াক, ভাঙা চশমা,
মায়ের হারিকেন,
বড় বুবুর রুপোর টিকলি,
আমাদের হালের বলদ,
কালের স্মৃতি সব ।
.
তুমি রোজ আসো বলে,
যদিও আবার সন্ধ্যায় ডোবো
এই নিষ্ঠুর নদীর গর্ভে -
আমি তখনও দাঁড়িয়ে থাকি তোমার জন্যে
অপেক্ষা করি বীরদর্পে
শুধু তোমার মুখের এক ফালি হাসির জন্যে -
.
আমি জানি,
সর্বনাশা পদ্মায় আমার সবই ডুবেছে,
তুমিও রোজ ডোবো,
কেবল খুব ভোরে আবার
ফিরে আসো বলেই
আমার এইটুকু ভরসা ।
----------------
২২ নভেম্বর ২০১৬
ঝিনুকের মত প্রেম - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং ২৩

লাইন
- সুচেতনা মিত্র

রেশন তোলাতে লাইন....
কল তলাতে লাইন.....
টিকিট কাটতে লাইন....
ভোটে মিছিলে লাইন....
হোটেল রেস্তোঁরায় লাইন...
মন্দিরে ঢুকতে লাইন....
প্রার্থনায় যেতে লাইন...
প্রসাদ পেতে লাইন...
চিকিৎসা পেতে লাইন....
মর্গে গেলে লাইন....
ফাটলে ট্রেন বেলাইন....
মানুষের দুর্ভোগ অন্তহীন...
পরিজনের আশঙ্কা সীমাহীন....
মৃত দেহের লাইন.....
প্রিয়জনের সন্ধানেও লাইন...
ভর্তির জন্য লাইন ....
চাকরীর সুপারিশে লাইন....
ঘুষ খাওয়াতে লাইন....
অপরাধ ঢাকতে লাইন....
সুবিধা পেতে লাইন....
সিঙনেলে থমকাও লাইন....
লাইনে জঙ্গীদের মাইন!
লাইনে ফড়েরা ফাইন.....
এখন নতুন আইন.....
নোট বদলের আইন.....
ব্যঙ্কে এটিএম লাইন....
দেওয়া নেওয়ার লাইন.....
দীর্ঘ -দীর্ঘতর লাইন.....
কারো কাছে দুর্যোগ দিন....
কেউ ভাবছে এল সুদিন....
কালো টাকা পড়বে ধরা....
ভালো নাকি থাকবো মোরা !!

তোমার জন্য
- সৌমেন্দু দাস

তোমার জন্য লিখব আমি
অনেক অনেক পাতা,
তোমার জন্য লিখব আমি
প্রেমের কবিতা ,
তোমার জন্য লিখব যত
আবোল তাবোল ,
আমায় তুমি বলবে নাতো
বদ্ধ পাগল?
কষ্ট আমার হোক না যতই
সইব আমি,
ভালবাসার চেয়ে কিছুই
নয়তো দামি ।
তোমার মতোই বাসি ভালো
কবিতাকে,
সারা জীবন থাকবে এ হাত
তোমার হাতে ।
এমন লেখা লিখব না আর
হারাই পাছে ।
তোমার মনেই থাকব আমি
সারা জীবন,
তোমার সাথেই ঘর করেছি
তুমিই আপন।
তুমিই আমার সবচেয়ে আপন
তুমিই ঘর,
ভোগবিলাস আর অর্থ কুজন
সবই পর,

সকল পর।।

রচনা--সৌমেন্দু দাস//23:11:16

রাখাইন কাব্য
- শাহিনা কাজল

চল যাই রাখাইন রাজ্যে
ধর্ষিতা হই দলবেঁধে
মানবতা নেই ওখানে
একমুঠো মানবতা।
চল যাই রাখাইন রাজ্যে
দলবেঁধে জীবন্ত পুড়ে অাসি।
অাত্মার গলা কেটে খেয়ে যাক
একগ্লাস রক্ত।
চল যাই রাখাইন রাজ্যে দলবেঁধে
নগ্ন করা রমনীর মত বুলেট বিদ্ধ হই
চল যাই রাখাইন রাজ্যে
মৃত জননীর কোলে নিষ্পাপ শিশুর রক্তেমাখা মুখ
চলো যাই অথবা
অামার অাকুতি গুলো পৌঁছে দিও
মানবতার মাস্তুলে....

হাসপাতাল
- দিব্যেন্দু সান্যাল

আগমন
আকাশ পাতাল
উথাল পাথাল
কপালে কি টিকলি ছিল নাকি কানে দুল !
শাড়ির আঁচল লুটাচ্ছিল পথে
এভাবেই তো আসতে হয়রে নিজেদের খুব কাছে ।
ভর্তি
পড়াশোনা করতে হবে
অ আ ক খ গ
তারপর তুই যেথায় যাবি আমার সাথে চ
একটা আছে বন্ধ কপাট
একটা খোলা মাঠ ।
সাজ পোষাক
বিয়ে বাড়ির ছবি তো তুই তুললি জীবনভর
এবার একটু এখানে আই
দুহাত মেলে ধর
ঝিনুক ভেঙে মুক্তো পাবি
আপন আপন সবাই আপন
কেউ নেই আর পর ।
ডাক্তার
ভগবানের পূজো করতে করতে
কলম থেকে গলগল করে বেরিয়ে এল বিষ
জানলাম বিষের মধ্যে ভগবান থাকে
অথবা ভগবানের মধ্যে বিষ ।
নার্স
কমলা মাসি নার্স ছিল
শীতকালে রঙ-বেরঙের সোয়েটার বুনত ।
একদিন তার স্বামী ডেকে বলল,
‘ডঃ সেবাব্রতর ছবি রেখেছ চোখে ?’
সেদিন থেকে স্বামীকে করল ঔঁ
এখন শুধু সেবাব্রত আছে ।
জীবন-মৃত্যু
বেড নম্বর ছয়, অসুখ ছুঁয়ে আছে জনা কয়
সুখ ও অসুখ দুটোই ছোঁয়া যায় ?
সাত নম্বর বেডে
স্বামীর বুকে ছোঁয়ায় মাথা
সীমন্তিনীর না বলা সব কথা
পাশে যিনি দাঁড়িয়ে অশ্রুজলে
ধবধবে তাঁর শাড়ি, কপালে রসকলি
ও তাহলে কে ?
নারী তো কখনো হয়না একা একা ।
আট নম্বর বেডে
অষ্ট প্রহর কেটেছে অনেকক্ষণ
মৃত্যু ছুঁতে কেউ আসেনি তাই
জীবন মৃত্যু এক রেখাতেই হাঁটছে বিলক্ষণ ।
অষুধ
কালমেঘের পাতা বেঁটে রস খাওয়াতো মা,
সেই কবেকার তেতো
এখন দেখি টুপটুপিয়ে রসগোল্লার রস ।
বিধান স্যারের হাতে থাকতো ছড়ি
কি মিষ্টি ! কি মিষ্টি !
কাজরী বই চাপা দিয়ে রাখতো বুকে,
একদিন বুঝলো বইগুলোও বেয়াদব
বাড়ি ঢুকলেই টেবিল খোঁজে
আর ওষুধগুলো টেবিল ছেড়ে খুঁজছে তার বুক ।
বিদায়
একবার বিদায় দিলে দিবি
এখন বিদায় দে_____
বিয়েবাড়ি যাবার আগে একটু সেজে নে
তারপর তো আছেই ত্রিতাল
পায়ের নীচে সপ্ত পাতাল
মাঝখানে তুই আমি মিলে চিনছি হাসপাতাল ।

মহাজোট
- লিয়াকত জোয়ার্দার

জোটবেধে ঐ ফিঙেপাখি
করলো দখল চর
লড়তে একা ছিটকে পড়ে
পেঁচার আসে জ্বর।
.
মানতে ভীষণ কষ্ট যে তার
পরাজয়ের গ্লানি
প্রলাপ বকে দিবানিশি
চোখে আসে পানি।
.
তাই সে এবার দেয় ঘোষণা
গড়বে মহাজোট
দেখবে তাদের আগের চেয়ে
বাড়ে কিনা ভোট।
.
ডানে-বামে আগে-পিছে
আছে যত দল
ওরাই হবে শরীক আমার
ওরাই আমার বল।
.
হুতুম পেঁচার কথা শুনে
ফিঙেপাখি হাসে
ওরা কি সব পোষা তোমার
ধান ছিটালেই আসে?
.
টিপ্পনীতে গা জ্বলে তার
চোট লাগে যে মনে
হোক না অবাধ লড়াই দেখি
কে থাকে কার সনে?

ওরাও মানুষ
- মোশ্ রাফি মুকুল

হে কপিলা বাস্তুর সম্রাটের ঔরস!
মহামতি গৌতমবুদ্ধ আপনি বাড়ী আছেন?
নাকি লুম্বিনি কাননের সেই ফুলের সৌরভ আজ তিরোহিত?
হে মুনি!রাখাইনে আসবেন একবার?
পরাভূত মানবতার পক্ষ থেকে আহবাণ,
একটি বারের জন্য আসুন....
এখানে আসলেই আপনি দেখবেন-
মানবতার কাটামুন্ডু হাতে নিয়ে ঘুরছে আপনার দিকভ্রান্ত ভক্তরা!
গাছে গাছে ঝুলছে ফাঁস দেয়া লাশ।
আপনি আরো দেখবেন স্বদেশি উদ্বাস্তুদের অধিকার হরনের মগের মুল্লুকি আইন।
আহা কি লজ্জার! কি নিদারুণ!
ধর্মের উগ্রতায় রাখাইনদের বিভৎস রক্তোল্লাস!
নৃ-তাত্ত্বিক সমুহ বিনাশ।
মহামান্য আপনি আরো শুনবেন
ধর্ষিত কিশোরীর বোবা কান্না
অন্তঃসত্বা নারীর ভ্রূণটাকে বাঁচিয়ে বাখার আঁকুতি,
মোটর বাইকের পিছে রশি বাঁধা যুবকের চর্মখসা দেহ; কি রক্তাভ কি যন্ত্রনানীল কষ্টের চোখবাঁধা হাহাকার!
রক্ত পিচ্ছিল পিচপথে কালচেটে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ।
আহারে আহারে!
মহামতি আপনি দেখলে অবশ্যই কাঁদতেন
এই অদ্ভুত ধর্মহরন দৃশ্য দেখে।
গনহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের
বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছাটুকু পুরণের জন্য সমুদ্রপাড়ি- মৃত্যুরদেশে মহামৃত্যুর নৃত্য! তবে কি ওরা আপনাকে মানেনা?
ওদের দীক্ষাদান করুন।
হে মহামুনি আপনিইতো বলেছিলেন 'জীব হত্যা মহাপাপ'।
আপনার অনুসারিরা শান্তশিষ্ট বলেই জেনেছি এতোকাল-
আহারে! মানবতার কি চরম বিপর্যয়!
মায়ানমারের এই কৃত্রিম সংকটকালে
আপনি আরেকবার যোগাসনে বসুন-
বোধিবৃক্ষের তলে,আশির্বাদ করুন রক্তপায়ীদের,
বলুন;
শুদ্ধোধন পুত্র মহামান্যবর সিদ্ধার্থ!
ওরা ভীন্ন ধর্মের ভিন্ন জাতের হলেও
ওরাও মানুষ;
ওরাও জলজ্যান্ত জীব;
ওদের হত্যা করোনা- হে বৌদ্ধগন।

২৩/১১/২০১৬

“““ রোমন্থিত সাঁঝবেলা ”””
সালামিন ইসলাম সালমান

---- তীব্র অনুশোচনায় বিদগ্ধ মহাকাল অস্তিত্ব হারিয়েছে
খর্জুরের দেহ বেয়ে কচুপাতায় আছড়ে পড়া শিশিরের কণায়
মত্ততা জেগে ওঠে অকস্মাৎ।



বুকচিরে বেরোয়নি ব্যস্ত দীর্ঘশ্বাস--
ছলছল করে ওঠেনি নয়ন সমূদ্রে লোনা জলের উত্তাল তরঙ্গ।
বেদনা বিলীন হয়েছে--
কষ্টগুলো তপ্ততা হারিয়েছে ডাকিনীর রুক্ষ অট্টহাসিতে
রংমহলের নগ্নশির ভিক্ষুদল শৃঙ্খলতা খুঁজে ফিরে-
চন্দনা’দির উদাম মেঝেতে রাখা ঘাসফুলের ডগায় ফুটে ওঠা বৃন্তে।

নিথর, নিরাবেগ স্থির অস্তিত্বে সুখকীটগুলো অসহায়
বেলাশেষে সূর্যের অন্তিমকালে নগ্ন আকাশে উন্নিমিত আঁখি বুলায়
দূরের দিগন্তে বসে থাকা ভাবুকেরা।
জিজ্ঞাসু চোখে অবিরাম অশ্রুপাত ঘটায় -
পুরোপুরি লুপ্ত হয়ে যাওয়া রোমন্থিত স্মৃতিগুলো।

অনিবার্য পরিনতি দেখি জ্বলন্ত নিষ্ঠুর প্রভাতের আলোয়-
অম্লান আনন্দে ছলনার সূরাপাত্রে চুমুক দিতে দিতে
বেতাল গৃহের বাসিন্দা হয়েছে অগণন যাত্রিকের প্রাণ।
আকাঙ্খার অগ্নিতে জ্বলন্ত চিতায় ভস্ম হয়েছে ফাল্গুনে রূপকথা-
আশা-নিরাশার উত্তপ্ত বালুতে প্রাণানন্দে গাড়গড়ি বায়
সরল পিপাসু প্রাণের একটি আকিঞ্জন।

অতঃপর-
অতঃপর অশান্ত হাওয়ার বুকে সুবাসেরা খেলা করে
ধরনীর উদরে পাতা নীল দিগন্ত জুড়ে।

যখন_তুমি_এসেছিলে
- Moni Jewel
তখন লালপদ্ম ফুটেছিলো
শেষ হেমন্তের শীতে যেন ঘনউষ্ণতা!
সেজে উঠেছিলো ইমোশনাল নিরালা বিল ।

ওহ্হো সে কি সৌন্দর্য-

শ্যামল অঙ্গে লজ্জা কুমকুম
অনাবৃতা,স্মিতা, হেসে দাঁড়িয়েছিলো
কোথাও কোনো আড়াল নেই, গেলাপ নেই!!
// // //
আমার হাতে একগ্লাস মদ, নিঃসর্গেই স্বর্গ!
মাতাল এ মন, সে নগ্নশরীরের গন্ধে
আমায় যেন ভাসিয়ে নিলো!

মায়ার সে মাদকতা!

ভাসতেছিলো ময়ুরপঙ্খী নাও, আর আমি-
কমলঠোটের সোহাগ কোমল পরশে,
বেখেয়ালে বাউলের সুরে........

।। 23,11,16/07:00pm/ধুলিয়ান।।

"প্রে‌মেই স্বর্গ"
***রহমান মাসুদ***

প্রে‌মেই স্বর্গ‌ নিবাস
চির বন্ধ‌নের আশ্বাস,
একে অপর‌কে বিশ্বাস
প্রাপ্তির নির্মল নিশ্বাস।

প্রে‌মেই সম্ভব বিশ্ব জয়
হৃদয় সর্বদা থা‌কে নির্ভয়,
জগ‌তে বিচরন সুখময়
মৃত্যু‌র মা‌ঝেও নেই ভয়।

প্রেম বাঁচার অনু‌প্রেরনা
অসাধ্য সাধ‌নের সাধনা,
কা‌ঙ্খিত মিল‌নের বাসনা
কতশত ইতিহাস রচনা।

প্রে‌মের যৌবন চিরকাল
বৃদ্ধ বয়‌সেও থা‌কে বহাল,
এলেও জীব‌নের শেষকাল
প্রজ্জ‌্বলিত প্রে‌মেরই মশাল।

মিলেবে সাড়া
- সেলিনা আহামেদ শেলী

শিশির ভেজা সকালে ইচ্ছের ঘুড়ি
উড়ে মনের আকাশে, ঐ চোখ বলে
দেয়,এই ভাবেই প্রথম প্রেমের সাড়া
মিলে ।
অনুভতি ছুয়ে বলে যায় ফুলে ফুলে
সাজিয়ে ছিলাম বাসর,এক নিমিসে
অকারনে ভেঙ্গে যায় চাইনি তোমাকে
হারাতে।
আলো আধারে রাতের মিতালি লিলা
কেড়ে নেই ব্যৈচিএ জীবনে,কেন মন
পাখি উড়ে যাস ফুরুত ফারুত দিসনা
যন্ত্রনা ইচ্ছের রঙ্গের তুলিতে আমায়
এঁকে নেয়।
পাখি বলে অবেলায় মেঘে মেঘে ডানা
মেলে,কোথায় মিলবে তোমার দেখা
মধুর এই লগনে, একা একা থমকে
দাড়ায় ।
পাখি বলে এসো তবে হেমন্তে,হাইরে
পাখি কি যে বলিস কত বসন্ত হারিয়েছি
ও পাখি শুন তবে কেউ বলে নি তোমায়
ভালোবাসি,অবশেষে খুঁজে পেলাম তোকে।
পাখি বলে আমার বলিতে ভরবে কি মন?
কী বলিস?পাখিরে তোকে না দেখলে কাটে
না দিন ও রাত ।

২৩/১১/২০১৬

রহস্য মৃত্যু
- বিপদতারণ দাস

কারো মুখে ওয়াও ওয়াও
কারো মুখে শুধুই গালাগালি ,
কারো মুখে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক
কারো মুখে অর্থনীতির চুনকালি !

কারো চিন্তা ভাতের হাঁড়ি
কারো নেই চিন্তা কানাকড়ি ,
কারো নেই ঘুম কালো কে নিয়ে
কারো চিন্তা সাদা হাতে না পেয়ে !

টাকা থাকতে পেটে নেই খিদে -
ওয়ালেট টা ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে ওঠে
মৃত ছেলে কোলে বসে নিয়ে ;
হায় হায় কি করি এই দুর্দিনে -
এই মৃত শব গুলি ওয়ালেটে নিয়ে -!!

-ভুজঙ মাঝি
©বিপদতারণ দাসের কবিতা

তোমার জন্য
- মরিয়ম আক্তার রিমা

জানি আমি খারাপ
হয়তো তোমার কাছে
হয়তো বা এই দুনিয়ায়...
খারাপ বলেই হয়তো আমায়
সরিয়ে দিয়েছ দূরে,
হয়তো তোমার মনের মতো
হতে পারিনি বলে—
কাছে টানোনি আমায়।
ভালোবাসার অনুভূতি কেমন
তাও বুঝতে দাওনি হয়তো
আমি ভালোনা বলে।
প্রথম প্রেমের সুর কেমন
তাও আমার কানকে র্স্পশ করেনি
হয়তো আমি খারাপ তাই;
তাই নয় কি?
কিন্তুু বিস্বাশ কর....
যতোটা খারাপ ভাবছো আমায়
আমি তেমন নই,
তোমায় ভালোবাসি বলে
তোমার পথ পানে
অধির আশায় তাকিয়ে আছি
এই আমি একা।
ভালোবাসবেনা জেনেও
বারবার ছুটে এসেছি
তোমার বুকে....
জানি ছুড়ে ফেলে দেবে
তবুও পাইনি ভয়
শুধু এতটুকু জেনেছি
তোমায় তো দেখতে পাবো।
ভালোবাসার অনুভূতি, প্রেমের র্স্পশ
না হয় নাই পেলাম
তবু তোমাকে ভালোবাসতে পারবো।
আর এটাই যদি আমার ভুল হয়
আর এতেই যদি আমি খারাপই হই
তবে হোক না....
হতে দাও।
তোমাকে ভালোবেসে যদি আমায়
মরতে হয়;
তাতে আমি পিছপা হবো না।
আর সেখানে তোমায় ভালোবেসে
খারাপ হওয়াটা তো
তেমন কিছুই না।
লোকে বলবে, দুনিয়া বলবে
আমি খারাপ।
বলুক; বলুক না....
শুধু তুমি আমার পাশে থেক.....
খারাপ হয়ে তোমার কাছে
আমার এই মিনতি।।।

মুক্তি
- ইরাবতী মণ্ডল

বিষাক্ত কর্কটে আক্রান্ত পৃথিবী।
রেশমের গুটি কেটে সাদা মথ আকাশে মুক্তি খোঁজে।
উড়ন্ত চিলের রৌদ্রের ডানা,
শাপলা-শালুক তোলা বাগদী
বৌয়ের মুখের হাসি , মুক্তির মুক্ত
ছড়ায়।
চাষির লাঙলে উঠে আসা সোঁদা মাটির গন্ধ।
নতুন ধানের সুবাস নেওয়া কৃষানী;
নিকানো উঠোনে আঁকে লক্ষীর
পদচিহ্ন। পৃথিবীর ভালোবাসা
তার ঝুলিতে।
নদীর বুকে উদাসী মাঝির ভাটিয়ালী, অভিসারিকার বাসর
জাগায়।তোমার পথ চাওয়া আমার
ভালোবাসা আর পাশের বাড়ির
সদ্যোজাত কয়েক মাসের শিশুটির
দৃঢ় বদ্ধ মুষ্টি; ---মুক্তি দেয় পৃথিবীর
সব ব্যাধির বাঁধা কে।

14. 11, 2016

আজ আমি যারে খুঁজি
সে খুঁজেছিলো একদিন
আজ আমি যারে চাহি
সে চেয়েছিলো একদিন
সেদেনি আরেকদিন আর এলো না
এলো না এলো না.... সে আর এলো না।

পথে পথে কত চোখে
খুঁজে চলি যারে বাসে ও ট্যাক্সি ইউবারে
সে তো আর এলো না
এলো না এলো না...সে আর এলো না।

যা চলে যায় তা চলে যায়
জানি আর ফেরে না
তবু ফিরি বারেবারে
সে আর ফেরে না, ফেরে না
এলো না এলো না, ফিরে তো এলো না!
-Moni Jewel(Dhulian)

ঝড়
জুলফিকার আলী

মনরাজ্যে ঝড় উঠেছে ঝড়
ভাঙ্গছে প্রেমালয় আর
কত প্রেমিকের মন!
তুমি কি তা জানো,নন্দিনী
প্রেম বিরহে হৃদয় কাতর!

কাঁদি আমি কাঁদি তোমার
বিরহে রোজ রোজ রোজই,
তুমি কোথায় বলনা প্রিয়তমা
প্রেমাজ্বরে তুমি আমার মেডিসিন
নাপা এবং হিসটাসিন
প্রেম অসুখের ডোজই!

ঝড় উঠেছে ঝড়
কাঁদছি আমি কাঁদছি
বিরহে হয়েছি কাতর|

“““ আবদার ”””
সালামিন ইসলাম সালমান

--- সায়ন্তিকা!
ওরা সব হারিয়েছে--
আবার হয়তোবা কারও আছে কিছু,
অগত্যা ঠাঁই খুঁজে
সারল্যের ঘামে ভিজে
অভাবের উন্মাদনায় মাথা করে নীচু।



ললাটে আঁকে শান্তি -
অকথ্য ভাষা শুনে
তবুও স্বপ্ন বুনে
রঙিন স্বপ্নে খুঁজে জীবনের মানে,
সুগভীর আশা বুকে
চাহনি সামর্থের দিকে
সতেজ জীবনটা নিস্তেজ হবে
-- বাসন্তী কি জানে?

সবই ছেড়ে গেছে সে -
দূর্বিপাকী মহলে
গৃহকর্মী নামে তার পরিচিতি মিলে,
অনাচারে দিন কাটে
নষ্ট খাবার জোটে
নিজেকে দিয়েছে সঁপে তবুও পাষানদের
মমতা নাই দিলে।

দিকভ্রান্ত হয়নি আজও -
আঘাত সংঘাতের মাঝে
মনিবের অমর্যাদায় মন ঠাঁই নাহি পায়,
স্পর্ধিত অনুভূতি নয়
প্রহারেই যত ভয়
বেদনায় থরোথরো কন্ঠে ওরা
স্বীয় আত্মাকে সাধুবাদ জানায়।

হাতেখড়ি নাই তার -
অবিশ্রান্ত দিনরাতে
জীবনের সাঁঝবেলা কেটে যায় ওদের ঘরে,
কষ্টের বেলকুনিতে বসে
অনর্থক হাসি হাসে
ব্যর্থতার ফলা হাতে তবুও ছুটে
ওই অনিশ্চিত প্রান্তরে।

সামান্য ভালো পরতে চায় -
বাহানা ভালো খাবারের
সাহসের পাটাতন মজবুত হয়নি আজও তার,
উদরে আঘাত করে
ব্যথা পায় প্রহারে
রুদ্ধ মানবিকতায় শিরদাড়া গেছে ভেঙে
আমরন সংগ্রামে তবুও সে
মানে নাকো হার।

জীবনমুখী
-Moni Jewel
আমি কি জানি না তুমি কি জানো না
এই আমাদের দেশ
যেথায় সনাতনী আছে মুসলিম আছে,
আর আছে বিদ্বেষ
আমি কি জানি না তুমি কি জানো না
এই আমাদের দেশ ।

ধর্মের ঘাড়ে চেপে ক্ষমতায় চাপে
সবাই একে একে
মন্দির গড়ার স্বপ্ন দেখে তারা মসজিদ ভাঙে,
আম জনতার পাশে সাথে কেউ নেই ডানে বামে!
টাকার ঘাড়ে চেপে লুকায় চুপে
কালো ওরা কে কে
আমি কি জানি না তুমি কি জানো না?
এই আমাদের দেশ।

আমি কি জানি না তুমি কি জানো না
এই আমাদের দেশ
যেথায় খাদ্যবিধি আছে, খাদ্যভীতি আছে
আর জাতি বিদ্বেষ
আমি কি জানি না তুমি কি জানো না
এমনই চলছে দেশ ।

মালিকের ছাড় কত বলবো আর
ডলার আরব কোটি
আম জনতার বাঁশ দিয়ে ওরা কালোধন আনে!(?)
বিজয় মালিয়ার এ বিজয়ে কে নেই ডানে বামে?
নাজিব হারিয়েছে, বেকার ছেয়ে গেছে,
গিলছে শাসক লক্ষকোটি
আমি কি জানি না তুমি কি জানো না
এই আমাদের দেশ এমনই চলছে দেশ।।
।। 20,11,16/1241am/Dhulian ।।

অন্তমিলের দোলাচল
- রুপা ঘোষ

চলছে এমনি ভাবে,
গতি ছন্দ কেমন জানো
অন্তমিলের অভাব,
হোক না হয়, যোগ, ভাগ
গুণ, সাথে বিযোগ করে
অবশিষ্ট অংশ কে বুঝে নেওয়া
কিন্তু কোথায় মিলছেনা
মিলছে না, সেই অপেক্ষা,
সেই পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
পেয়েও যেন না পাওয়া
কিংবা হারিয়ে যাবার ভয়,
আজ আর কিচ্ছু আসে যায় না
শুধু ছুটছি সেই বিন্দুর পেছনে
শুধু জানি বাঁচার তাগিদ আজ
বড় বেশী,,,,,,,,,,,,,,
সেদিন ছিল ভালোবাসার তাগিদ,
আজ বাঁচার তাগিদ,,,,
তাই সেদিন ছিলোঅন্তমিলের দোলাচল!

যথেষ্ট
- মোহাম্মদ জহিরুল হুদা

ব্যাথ্যাই যদি না পেলে,
শক্তিশালী হবে কীভাবে ?
অশ্রুর বরষায় আচ্ছন্ন না হলে -
সাহস পাবে কোথা ?
মন ভাঙা মন না হলে,
প্রজ্ঞা পাবে কোথা ?
হাসতে যদি নাইবা পার,
বন্ধু পাবে কোথা ?
মায়াবী একটা দৃষ্টিপাত ,
সম্পর্ক বাঁচাতেই যথেষ্ট।
লক্ষ লোক, কোটি পথ নয়-
একজন মানুষ , একটা পথই ,
পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট ।
© ওশ্যাঘর।

নীল
- দিব্যেন্দু সান্যাল

সে যখন তাকিয়ে থাকে
বন্ধ জানালা সব খুলে যায়
পূবের জানালা গ’লে দিগন্ত জোড়া ভেজা মাঠ
সেই কবেকার মৌন সূর্য ওঠা
একসাথে হেঁটে ফিরে এসে আত্মার হাসি ।
একশো আটটা পদ্ম তুলে এনে
একে একে মিলিয়েছি
মেলেনা মেলেনা তার চোখ
পাখির নীড়েও তো দুটি পাখি
ভালবাসা অবয়ব ধরে রাখে ।
তার চোখ হেলায় হারিয়ে দেয়
শারিরীক সব অবয়ব
ক্রমশ শরীর ভেঙে
হাওয়ায় হাওয়ায় অশরিরী কবিতা লেখা
রৌদ্র আর ছায়া মাখা শব্দেরা
আকাশে দৃষ্টিচূর বিন্দু বলাকার রুদ্রাক্ষ মালা
কত সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত জড়ো হয়
শব্দরা ভিড় করে আসে
শব্দরা কথা বলে
কথা হতে হতে
একটি কবিতা মেলা নীল ।
তার দুই চোখে যে চুম্বন দিলে
ঠোটের সীমানা ছাড়িয়ে কি পৌঁছল নীলে ?
এখন সে আসলে
তার রূপরেখা ভেঙে চুরমার
এখন সে আসলে
সে নেই
সে সামনে এলে
কে যেন বিছিয়ে দিল
নীলের যত নীল ।

সান্ত্বনা
- রাজু আহম্মদ খান

বিনম্র পৃথিবী আমার
বিলক্ষণ চেয়ে দেখো
এই আছি সুখে দুখে
অজস্র পতংগের মত,
কখন উড়ি আবার
কখন পুড়ি যে আমি
ভাবনায় অবিরত ।
.
মাঝে মাঝে মনে হয়
সব কিছু ভেঙেচুরে
যমুনায় দিই ফেলে,
ফিরে যাই
না ফেরার ঐ দেশে -
তবু এত জগত ফেলে
এত প্রিয় মানুষ ফেলে
কোথা যাবো ভাবি শেষে ?
অথচ জানিনা বেচে
কিইবা দেবো তোমায় ?
আমি নই বীর অত ।
.
তবু বলি আজ শোনো
এত কিছু ব্যাখ্যা করা
প্রায়ই অসম্ভব -
এত কাছের দুঃখগুলো
দুহাতে উড়াই শুধু
হৃদয়ে আছে বলেই
তোমার অনুভব ।
এ টুকুই জাগায় মনে
প্রকৃত আশার আলো
টিকে থাকি মানবতায়
যেথায় ধর্মতঃ
.
আমার অশ্রু দেখে
উজাড় করে কাঁদো বলে
আমার আনন্দে রোজ
উদার হাসো বলেই
পাই আমি সান্ত্বনা -
আর ঐটুকু বুকে ধরেই
বেচে আছি
পরিবেশ সম্মত ।
-----------------
১৯ নভেম্বর ২০১৬

নতুন সকাল
- সুচেতনা মিত্র

হেমন্তের ভোরে শীতল হাওয়া
নতুন সোনা আলোর বিচরন ,
শীতের পরশমাখা চারিপাশ
ধানে লতায় শিশিরের আবরন ।
সোনালী রোদে কাঠবেড়ালী খেলা
জলাশয়ে পানকৌড়ির ডুব
পাখির কল-কাকলী মুখর
নতুন আলোর স্নানে বট চুপ ।
যার কেটেছে রাত কষ্টে
পায়নি কম্বল গায়ে দিতে...
সে আজ বেজায় খুশি
ভোরের রোদ গায়ে মাখতে ।
খুচরোর অভাবে ভুগছো যারা
ব্যাঙ্কে লাইন দিয়ে ক্লান্ত
নতুন সকালে নতুন আশায়
মনটা করো একটু শান্ত ।
মাঠ ভরেছে সোনার ধানে
আরও সবুজ লেগেছে পানে ,
আম হিজল ভরা পাখির গানে
এসো খুঁজি জীবনের মানে ।
দীর্ঘ আঁধার কাটার পরে
এসেছে আজ নতুন আলো ,
ব্যথা কষ্ট দুরে ঠেলে
নতুন সকাল হোক ভালো ।।

সোনার মেয়ে
- ইরাবতী মণ্ডল

যেদিন তুই জন্ম নিলি, অনেকেই মুখ
বাঁকিয়ে ছিলো মেয়ে হয়েছে বলে।
শাশুড়ি মা তো বলেই দিয়েছিলেন--এ বৌয়ের পেটে ছেলে জন্মাবে না।'
শুনে কষ্ট হয়েছিল খুব। কষ্ট
হয়েছিল ছেলে জন্ম দিতে পারিনি
বলে। আমার দুচোখ জলে ভরে
উঠেছিল।
আমার কান্না দেখে এক আয়া
আর এক কন্যাহীন পিতা তোকে
নিয়ে নিতে চেয়েছিল।দিতে পারিনি
তোকে। তুই যে আমার নাড়ী ছেড়া
ধন। কি করে দেব তোকে।
তবু তুই ছেলে হয়ে জন্মাস নি
বলে আমার চোখে জল এসেছিল।
কি করবো বল মা ।আমার রক্তে যে
মিশে আছে পিতৃতানত্রিক সমাজের
সংস্কার।পুত্র না হলে পিতৃ পুরুষের মুখে জল পড়ে না। বংশে
বাতি দেবার কেউ থাকে না।
চোদ্দো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে
আসা গ্রাম্য বধূটি যে এই সব কথা
শুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছিল। তাছাড়া
তোর আগেই যে আমার আরো
দুটো মেয়ে হয়েছে। তাই মনের
আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি ছেলের।
.
একটু বড় হলে তোকে ছেলের
পোশাক পরিয়ে আমার সেই
সুপ্ত আকাঙ্ক্ষার তৃপ্তি খুঁজেছি।বুঝি
মহাভারতে রাজা চিত্রাঙ্গদ ও একই
ভুল করে ছিলেন।কন্যা চিত্রাঙ্গদাকে
সাজিয়েছিলেন ছেলের পোশাকে।
.
ভুল করেছিলাম মা। আজ তুই
ডাক্তার হযেছিস, আরও বড় হওয়ার
জন্য এগিয়ে চলেছিস। তুই প্রমাণ
করেছিস --মেয়ে হয়ে ও তুই অনেক
কিছু করতে পারিস।একটা ছেলের
থেকে কোন অংশে তুই কম নোস।
আজ যে তোর জন্য আমার
বুক গর্বে ভরে ওঠে মা। খমা করে
দিস আমায়। আমার সোনার
মেয়ে তুই, তুই যে দেশের ও সোনা।
আজকের সোনার মেয়েরাই
তো এশিযাড এ ব্রোঞ্জ জিতে উজ্জল
করেছে দেশের মুখ। কল্পনা চাওলা
সুনিতার মত জানি একদিন তুইও
আমার গর্ব হবি।তবু চিরন্তনী
সংস্কার বশে ,যে ভুল করেছিলাম
একদিন ;আজ তাহা দগ্ধে খনে খনে।খমা চাওয়ার মুখ নাই মোর।
তবু খমা চাই।খমা চাই সমগ্র নারী
জাতির হয়ে।

19. 11, 2016

প্রেমিক বিভ্রাট
- রীতা ঘোষ

কেউ বলে বিউটিফুল , কেউ বলে সেক্সি
কেউ বলে শাড়ীতে সুন্দরী , কেউ বলে ম্যাক্সি ।
কেউ পাঠায় রেড রোজেস , কেউ আবার কিসেস
কেউ কেউ ফোন করে বলে , হাই - হ্যালো মিসেস...
কেউ লেখে ইনবক্সে , কেমন আছো ডার্লিং ?
কেউ আবার কমেন্ট করে , অলওয়েজ কীপ স্মাইলিং ।
একজনের ফটোতে লাইক দিলে , অন্যজনের মুখ ভার
অন্যের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করলে , আর একজনের মুখ লাল ।
কি করি তাই পাই না ভেবে , পরেছি মহা মুশকিলে
ভাবছি এবার ফেসবুক ছেড়ে , আশ্রমে যাই চলে ।
বন্ধুরা সব শুনে খুব করছে হাসাহাসি...
বলছে ,'তুই আশ্রমে গিয়েও করবি কিটি পার্টি ।''
কেউ জানে না , কেউ বোঝে না আমার মনের ব্যথা
তাইতো আমি রাগ করেছি , বলছি নাকো কথা ।

হারিয়ে
- সেলিনা আহামেদ শেলী

পাখি বলে,
বহু দিন দেখি না তোমায়,
এই পাখি কাল বিকেলে হয়েছে দেখা,
ভুলে কী গেছিস?
তুমি তা রেখেছো মনে,বেশ তো,
আমায় ক্ষনে ক্ষনে কর বুঝি স্মরন,
ভুলে যাই তোমায় কী করে?
মিথ্যে ছলে তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম!
ও তা বুঝে ছিলাম বলেনি লজ্জা পাবি বলে,
পাখি বলে,
আমিও বুঝে ছিলাম তোমার রাঙ্গা মুখ দেখে,
একা একা বসে আছি ডালে,
দুটো ডানা মেলে ভাবছি কি করি এখন?
কোথায় লুকাই নিজেকে,
কি রে পাখি কোথায় হারিয়ে গেলে?
দেখা হবে কবে?
পাখি বলে,
ভালোবাসলে বুঝি এমনি হয় তা,
প্রকৃতি হেসে উঠে,
পাখি বলে,
না গো না আমি যে মরেছি।
রাঁধার প্রেমে,
ও যে আমার সই,
ওর সাথে ভালোবাসার কথা কই।

১৮/১১/২০১৬

ছুঁয়ে-থাকা স্মৃতিরা
- সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা কিছু কিছু স্মৃতির ছোঁয়ায়
এখনো হলো না বন্ধ রক্তক্ষরণ !
রক্তচক্ষুরা মনে হয় আশপাশেই থাকে ঘাপটি মেরে-
যেন আগ্রাসী গেরিলার দল !
তখন ভয়ের বদলে সন্ধানে থাকি মেতে
বীর প্রতাপের সম্মোহন-
আফজল খাঁর ধূর্ত নজরে পড়তেও জানি আমি
আসন্ন বিপদের আস্ফালন |
সাবধানী শান্ত প্রাণী ঠিক ঠিক গভীর প্রদেশে
দিল ছড়িয়ে আগাম হুঁশিয়ারি !
বাঁচার পরম চরম শর্তে পারিও না তাকে ঠেলতে
পা্রথেনিয়ামের গহন জঙ্গলে,
আঁধারের পরে আলোক-ছবিটা আরো আরো উজ্জ্বল হলে
প্রশমনে ঠাণ্ডা হয় কতক জ্বলন |
ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা তিক্ততার ভেতর কিছু স্মৃতির মুখে
দিলাম ছড়িয়ে আলকাতরা—
থোঁতা বদন হলো রে এবার নিপাট ভোঁতা,
কাড়া-নাকাড়া বাজিয়ে এখন আমি পারি হাঁটতেও
উদ্বাহু হয়ে সামনের রাজপথে |
ছুঁই ছুঁই স্বচ্ছ স্মৃতির মধুরিমা এই অসময়ে
উঠছে জ্বলে এক পূতাগ্নি হয়ে-
শোধনে শোধনে এবার ছুঁয়ে-থাকা কলঙ্কের দীর্ঘ ছায়ায়
নামুক না অমানিশার ঘনঘটা |

তাং-১৮/১১/২০১৬ |

কালো টাকা
- কাঞ্চন চক্রবর্তী

টাকা জীবন টাকা মরন
টাকাই সুখের আশা,
কালো টাকা রাখলে ঘরে
হবে সর্বনাশা।
.
সৎপথে আয় করে
রাখ ব্যাংকে জমা,
রাখলে ঘরে কালো টাকা
পাবে নাতো ক্ষমা।
.
কালো টাকার মালিক এবার
পড়লো গ্যাড়া কলে,
কোটি কোটি টাকা দেখ
ভাসছে সাগর জলে।
.
কালো টাকার মালিকের এবার
মাথায় উঠলে হাত,
খাওয়া দাওয়া নেইকো ওদের
টাকার শোকে কুপোকাত।
.
মাফিয়া ডনের টাকা এখন
শুধু মাত্র কাগজ,
পাগল হয়ে ছুটোছুটি
গরম হচ্ছে মগজ।
.
কেউবা আবার টাকার শোকে
হচ্ছে দেখি কাতর,
কেইবা আবার জ্ঞ্যণ হারিয়ে
টাকার শোকে পাথর।
.
টাকার শোকে বসন ছেড়ে
ইচ্ছে কেহ নগ্ন,
কালো টাকার কালু শেঠ
মদের গ্লাসে মগ্ন।
.
কালো টাকা বাদ দিয়ে
সোজা পথে চলি,
সবাই মোরা সচেতন হবো
কালোকে না বলি।

কাঞ্চন চক্রবর্তী
সময়ঃ রাত ৮/২০মিনিট
রোজঃ বৃহঃবার
তারিখঃ১৭/১১/২০১৬ইং

শীতের হাওয়া
- আল আমিন বাপ্পি

শীতের হাওয়া,লাগলো গায়ে,
শাড়া শরীর কন-কনিয়ে।
চাদর নিয়ে,যাচ্ছে বুড়ি,
বুড়া যাচ্ছে ঠন-ঠনিয়ে।
.
গরু উঠছে,লাফ দিয়ে,
মাছি ছুটছে ভন-ভনিয়ে।
রাখাল যাচ্ছে,দুই পায়ে,
ছাগল নিয়ে শন-শনিয়ে।
.
পানিতে আজ,যাবেনা হাঁস,
শীতে করছে প্যাক-প্যাকিয়ে।
শীতল হাওয়া,বইলো আজ।
মুরগি উঠছে কট-কটিয়।
.
গাছের পানি,পড়ছে একা,
টুপটাপ ঝন-ঝনিয়ে,
সূর্য আর যায়না দেখা,
মেঘ ছুটছে ঘুর-ঘুড়িয়ে।
.
পিপীঁলিকা কি আর,থাকতে পারে, ঘরে ছুটছে ফুর-ফুরিয়ে।
শীত কি আর ইদুর কে মারে,
ধান চিবাচ্ছে কুড়-মুড়িয়ে।

রোদ
- দিব্যেন্দু সান্যাল

দিন আসে দিন যায়
মানুষেরা রোদ আর ছায়ার ভিতর দিয়ে হাঁটে ।
মখমল রোদ মেখে হাঁটি আমিও হাঁটি রোদ হাঁটে । হাঁটি ।
খাঁটি রোদ বাতাস ওড়ায়, ওড়ায় পথ ঘাট ।
কাল আর একজন
যে আমার অনাবৃত দুপায়ের স্হির সাদা চাহনি দেখে হেসেছিল
তুমুল গল্প জুড়ে দেবে
আর হেঁটে যাবে
সদ্য দোয়া দুধের উষ্ণতা মাখা খাঁটি রোদ মেখে ।
দিন আসে দিন যায়
দু একটা দিন কাউকে কিছু না জানিয়ে
কবিতা হয়ে ওঠে
আমি আর তুমি বসি ছায়া পেতে
কলমের ছিপ ফেলে শব্দকে ধরি
শব্দ তো নয়, নির্জলা মাছ
জলের বিরহে মাছ কাঁপতে কাঁপতে
মৃতের মতো স্হির নির্বিকার হয়ে ওঠে ।
কাগজের টুকরিতে পুরে রাখি । কবিতা ।
দু একটা দিন হঠাৎ কি সাজ ! কি সাজ !
শাঁখার পুরুষ ভার, রক্তপাত সিঁদুরে যেমন কেউ সাজে
বাড়ি, ঘর, চেনা বারান্দা কেমন অচেনা লাগে
মানুষের চেষ্টার আলো জ্বলে ।
বিয়েবাড়ি । এক ঝলমলে রমণী অকারনে খুব হাসে ।
রোদের আলোকে বুঝি টান মেরে
নিষ্ফল অভিযোগ রটায় ।
তারপর এ্যালবামে সারবাঁধা ছবি
শৈশব হাসছে, ‘একি চেহারা করেছ কদিনে !’
বাবা কেমন গাছের মতো সবুজ ছিল দ্যাখ
শ্রাবস্তীর জন্মদিন
তিন দুয়ে ছয়, ছয় সাতে বিয়াল্লিশ......
একটা ধূসর সাপ বুকে ভর দিয়ে হাঁটে
সাপটিয়ে টান ঝপাৎ
রাহু খাওয়া সময়ের ঝাঁপি ।
দিন আসে দিন যায়
রোদ এসে পাখা ঝাপটায়
সাপে কাটা কবিতারা নীল হাত নেড়ে নেড়ে ফুড়ুৎ
এ্যালবামের গায়ে হাত রাখলেই বসন্তের পাখি
‘একি চেহারা করেছ কদিনে !’
আসি এইবার আসি, আসার আগে
সোহাগের সাতটি চুম্বন হাওয়ায় মেলে ধরি
আর তুমি দ্যাখো হে পাঠক তোমার দু ঠোট
বলছে এখন, ‘আয় রোদ, আমার দুই ঠোটে ওঠ’ ।

যাওয়া
- মুকুল রায়

হিসেব চুকিয়ে দিলেই সবকিছু চুকে যায় নাকি..?
কিছু তো থেকেই যায়..
কিছু কিছু ঘষামাজা..
কিছু কাটাকাটি...
কিছু ঝরে যাওয়া পাতা... কিছু ধুলোমাটি...
পুরোনো দিনের মত তুমি চলে যেতে চাও.....
হিসেব চুকিয়ে দিলেই সবকিছু শেষ হয় নাকি....
তবুও তো কিছু থাকে .....
দেয়ালে লটকানো ছবি...
অস্ফুট না বলা কথা...
রাত্রির নির্ঘুম শোক....এ সবই...
কিছু অবয়বে জাগে....কিছু ঢেকে রাখি....
শৈশব কৈশোরের মত তুমি চলে যেতে চাও যৌবন নিয়ে...
গেলেই কি যাওয়া যায় সব মুছে দিয়ে....!

“““ জাগ্রত নারী ”””
সালামিন ইসলাম সালমান


অবরোধ প্রথার সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে সক্ষমতায় হস্তক্ষেপ
ধূলো লেগে মলিন হওয়া ইতিহাসের শেষ ছত্রে অঙ্কিত
সভ্যতার সমস্ত নারীকুলের অধিকার ও মালিকানার চিত্র।
নিজের সংযত-পরিশীলিত জীবনের উপযোগিতার বিরোধী নয় সে
আদৌ ছিলো না আত্মশুদ্ধির ওপাশে---




মুক্ত করেছে নিজেকে,
নিজেকে মুক্তি দিয়েছে ওই বন্দিদশার অন্তঃপুর থেকে
ঘৃন্য মানসিকতায় চাপা পড়া সমাজে স্বাধীনতা ভোগের
মহড়ায় সে আজ মাথা নুয়ে নেই।


একমুখো বুদন্যতা তাকে আজ দমিয়ে রাখতে পারেনা
বিপত্তী নেই ওখানে--
পরম মমতায় আগামীর প্রজন্মকে
দুগ্ধপান করানোতে তার অনীহা জাগে না


অশান্তির কুঁড়েঘরে অনন্ত আকাশের সীমা খুঁজে খুঁজে
জীর্ণ মনোভাবগুলোকে সলিল সমাধি করেছে সে-
থুঁ থুঁ ছিটিয়েছে দম্ভোক্ত দূষিত বাতাসের দিকে
সংসার- সমাজ- সভ্যতা থেকে শুরু করে সমস্ত ভূ-ধরের
কলঙ্কিত নষ্ট আসনে অলংকৃত আধিপত্য তার।


একচোখা জাতির হিংস্র আদর্শে তার স্বপ্ন লালিত নয়
শান্ত সংহত জীবনকে তছনছ হতে বাঁচানোর জন্য--
অবিরত নিজ আত্মাকে সীমাহীন স্বপ্ন দেখায় সে।


যে ছিলো কারও মেয়ে, কারও বোন অথবা কারও সহপাঠী
এখন সে প্রেমিকা হয়েছে, হয়েছে কারও অর্ধাঙ্গী
পুরো জাতিত্ব- জ্ঞাতিত্ব যাকে ঘিরে স্বপ্নে বিভোর-
উপযুক্ত উপমা ও চিত্র যার কাব্যে মূর্ত আগামীতে,
আজ সেই নবাগত প্রজন্মের জননী সে।


আজ সে মেতেছে অর্জিত নব সৃষ্টির উদ্দ্যমতায়
লোহার শিকল ভেঙে নির্মল বাতাসের ঘ্রাণ নেয়-
সে পেয়েছে সজ্জিত ভালোবাসার কাঙ্খিত স্বপ্ন-
পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে বিবেচিত হয় সে
তার কপোলে সোনালী সভ্যতার অঙ্কিত জয় চুম্বন।



“““ চাক্ষুস অভিজ্ঞতা ”””
সালামিন ইসলাম সালমান


বিশেষ বিশেষ বিশেষণে বিশেষায়িত নির্বাক কবি
উদর ভরে আছে কষ্টার্জিত নির্লজ্জ গ্যাসে--
শরমের দোচালা ঘর পুড়ে গেছে ওই
ঠাকুর বাড়ীর বস্ত্রহীন কনিকার মায়ের-
:
অদূরদর্শিতার যাতাকলে পিষ্ট হয়েছে
নিদ্রার তলানীতে থাকা এক প্রহর জাগরন,
বাতাসের বুক চিরে ভেসে আসা ঠুনকো খেতাবী
ওই অভাগা নির্মলের ঘর্মাক্ত দেহের গন্ধ
:
ব্যথিত রঙের কলমে কল্পনার কবিতা লিখেন কবি
ধবধবে কাগজের বুকে এক ফোটা অশ্রু
শেষ বিকেলে ডুবন্ত সূর্যের ব্যথাতুর ভঙ্গিমা
এক চাক্ষুস মহত্বতার চিহ্ন এঁকে যায়-
লতিকাদের বেষ্টনীহারা বাগানের কোণে।

সে_রাতে_কবিতার_সাথে
- Moni Jewel
তখন শহুরে মাঝরাতের স্ট্রিটলাইট জ্বলছিলো ।

শার্সি বেয়ে পড়ছে একমুঠো আলো
তোমার গায়ে
আমি দেখছিলাম
আমি তোমাকেই দেখছিলাম।

ভোরের সোনালী আলো পর্বতশৃঙ্গে
যেমন সাজে
তেমনই সেজেছিলো-
তোমার ওই বক্ষ পিনাগ্র বৃন্ত
যেন কোনো মোহন মায়ার সে আলো জ্বলছিলো

ওহ্হো সে কি যে মাদকতা!

চাদর খামচে ধরে, এলিয়ে দিচ্ছো
তোমার শরীর
আমি দেখেই যাচ্ছি!
অতঃপর তুমিই নেমে এলে
বুকে ধরে নিয়ে গেলে। আমি নামতেই থাকলাম!

ক্রমশই ডুবে যাচ্ছি
একে একে খসে যাচ্ছে আবরণ.............
প্রেমে কামে শৃঙ্গারঅনুক্রমে 'আমি' ডুবে গেলাম ।

জাগলাম তখন সদ্য ভেজাচুল উষসী হাসছিলো।
।। 181116/0200দুপুর/DHULIIAN ।।

চলো আলোর পথে
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

এক বিন্দু আলো চাই আলো
আঁধার দূর করবে যে আলো
আঁধার পৃথিবী লাগেনা ভালো
ঘুচবে কবে অমানিশা কালো ?
এক টুকরো এই ছোট্ট পৃথিবী
তবুও কেনো এতো হানাহানি
রাজনীতিতে এতো দলাদলি
স্বপ্নের পায়ে যে পরছে বেড়ি ৷
এক স্রষ্টার যে একটাই পৃথিবী
আঁধারে,আঁধারে গিয়েছে ভরি
অনিয়মে আজ চুল ছেঁড়াছেঁড়ি
নশ্বর পৃথিবীতে শুধুই মারামারি ৷
আপন স্বার্থে ভাইকে দেই বলি
মুখে মুখে ভাতৃত্বের কথা বলি
আর অন্তরে হিংসা লালন করি ,
সব ভুলে গিয়ে আজকে চলো
আঁধার ডিঙিয়ে আলোর পথে চলি ৷

ভেজা বকুল
- সেলিনা আহামেদ শেলী

কি বলতে চাইছিস ভরবে কি মন,
শেষ বেলায় কি আর বলবো পাখি বলে,
আমি তোমায় বাসি ভাল।
ছোট্ট একটি শব্দে বেশ কাছে এসেছি তুই,
একেই বুঝি বলে ভালোবাসার ধরন,
তবে হলো আমার মরন,
পাখি বলে ভালোবাসার এইতো নিয়ম
একটু একটু কাছে আসা হৃদয়ের কথা গুলো
মালায় মালায় গাঁথা তোর শব্দের তুলি মায়ার সুতোঁয় বাঁধা,
কী বলে পাঠাই তরে নীড়ে পাখি বলে,
সন্ধ্যে ঘনিয়ে চলে যাই নীড়ে।
কাল আসবো লাল গোলাপের সুভাসে ফেলে গেলাম আজ মনটা।
কেন এসেছিল সন্ধ্যে,
থাকতো যদি সারা বেলা,
সন্ধেকে আড়াল করে,
মনের বাগানে বলতাম,
কথা তোমার সনে।
বৃষ্টি দুচোখে স্মৃতি বার বার কাঁদায়,
তাই প্রেমকে ভুলা যায় না,
হৃদয়ে বাজে সুরের আলাপনে,
পাখির দেখা মিলে না।
মন জুড়ে জাগে,
কত শত প্রশ্ন?
তখন নিজেকে ধরে রাখি কী দিয়ে,?
এমনি সময় বৃষ্টিতে ধুয়ে নেয় ভালোবাসার বকুল।

তাং: ১৫/১১/২০১৬

রোমন্থন
- অনাদি চক্রবর্তী

ওরে কানাই! একবার ভাই
আয়তো দেখি কাছে,
হাতটি শুঁকে বল আমাকে
গন্ধ কেমন আছে।
.
কানাই বলে, সাত সকালে
কি এনেছো কাকা,
দেখি দেখি, ওমা একি!
হাততো তোমার ফাঁকা।
.
গন্ধতো আর নয়রে দেখার
শুঁকতে হবে নাকে,
ঝুঁকে পড়ে হাতের 'পরে
দ্যাখতো দেখি শুঁকে।
.
হাতটা টেনে তুলে এনে
নাকের কাছে ধরে,
অগত্যা তাই করল কানাই
গন্ধ পাবার তরে।
.
অনেক শুঁকে বিরস মুখে
হেসে বলল অবশেষে,
কিসের সেঘ্রাণ করো সন্ধান
শেষ বিকেলে এসে।
.
মেখে হাতে ঘিয়ে ভাতে
খেয়েছি যে কতো,
একটুও তার গন্ধকি আর
নেই আগেকার মতো?
.
কানাই বলে খুব হাসালে
ওসব যাও ভুলে,
স্বপ্ন রঙীণ সোনালী দিন
শিকেয় রাখো তুলে।
.
প্রেম প্রীতি অতীত স্মৃতি
কেন করছো রোমন্থন,
কাল গিয়েছে আজকে আছে
কিছু হয়না চিরন্তন।

কোলকাতা , ১৬/১১/১৬

শীতার্ত প্রেমিক
- শাহিনা কাজল

ছায়া-রোদের মায়ার খেলায় রৌদ্দুরের অাবেগী ছেলেবেলা ডিঙ্গিয়ে
শীতার্ত প্রেমিক আসে ঋতুমতী ইচ্ছের ডানা মেলে।।
ঠোঁটের শুষ্কতা ছুঁই ছুঁই করে নবযৌবনা হিমেল হাওয়া উত্তরের জানালায়কসকসসন
নিষ্ফল প্রেমের অগভীর কাতরতায়
শীতার্ত প্রেমিক সুর তোলে নাভীমূলে
শিশির স্নাত শিউলী বোঁটায় কান্না জমে বন্ধ্যা রাত্রির অাঁধারে।
নারী নামক যন্ত্রগুলো
রক্তমাসে ও লিখে যায় শীতার্ত প্রেমিকের নাম
দুর্দমনীয় পৌরুষের অাবডালে ----

আটষট্টি বছর পর
- রাজু আহম্মদ খান

আমাকে ক্ষমা করে দিও
তুমি এসেছিলে আজ প্রিয়
আটষট্টি বছর পর -
আমার আকাশের পর
অথচ তোমায় দেখা
মেলেনি আমার আর,
কৈফিয়ত চাও যদি -
নেই কোনো উত্তর ।
.
আটষট্টি বছর পর
তুমি এসেছিলে চাঁদ -
তোমাকে দেখার যত সাধ
হলো সে স্বপ্ন ধুলিসাৎ
এর জন্যে আমি কিন্তু
শুধুই দায়ি নই একা -
শত চেষ্টা ও ইচ্ছে এলোমেলো
কোথায় হারিয়ে যে গেলো
আমার স্মরণ বিভ্রাটে আজ
তোমায় পেলামনা দেখা -
.
এই শহরের মোড়ে মোড়ে
ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় ওড়ে
অসংখ্য পতঙ্গের দল
ওদের মৃত্যুর মিছিলে
আকাশে তুমিও কি ছিলে ?
ভুলে গেছি তাই আজ বটে
দেখবারে তূর্য্য নিনাদ ।
.
শত জঞ্জাল যানজটে
মানুষের জটলার চোটে
ঢাকা পড়েছিলাম শত সংকটে
হে আমার অবাধ্য চাঁদ ।
.
'অবাধ্য' কেন বলি জানো ?
কেন তুমি ভুল করে আনো
আমার সেই হারানো স্মৃতি,
কেন মগজের স্বাভাবিক ঝিল্লিরে
হিল্লি দিল্লি বুঝ দিয়ে
করেছো জীবনটাই বরবাদ ।
.
বলো হে নিষ্ঠুর চাঁদ
বলো,
কি ছিল আমার অপরাধ ?
আমি না হয় যন্ত্রের মত
সৈন্য-সামন্তের মত
রোজ যুদ্ধের ময়দানে থাকি
তোমায় দেখতে পারি নাকি ?
এত সুন্দর শাড়ি পড়ে
আটষট্টি বছর পরে
এসেছিলে মাথার উপর
অথচ সেই চিন্তা মাথা হতে
দুঃশ্চিন্তার অসংখ্য স্রোতে
মাঝ দরিয়ায় হলো কুপোকাত ।
.
হে আমার অভিমানি চাঁদ -
আমি হয়তো ছিলাম উম্মাদ
তুমি কি তাই প্রকান্ড রুপে
সবার জন্যে হয়েছিলে অবাধ ?
.
আমার মহল্লায় ঢুকে এসে
অনেক উচ্চৈঃস্বরে হেসে
পড়েছো যেন উল্কাপাত
কিংবা উদ্ভ্রান্ত জলপ্রপাত !
তব হে ফুটন্ত চাঁদ
আমার কথা না হয় বাদ
আমার প্রিয়তমার কথা ভেবে
জানালায় হতে একটু কাত ।
.
আমার হন্যে হয়ে ঘরে ফেরা
নিয়ন সাইনে সব ঘেরা,
বহুতল বাড়ির ঝলমলে আলো,
ব্যস্ত রাস্তার ধুলোময় পৃথিবীতে
শহরের এই নামকাওয়াস্ত শীতে
তোমাতে আমায় বিচ্ছিন্ন করে -
কি লাভ পেলে তুমি বলো ?
.
আমি মরি সেই বিদ্রোহে
আচ্ছন্ন করে কত মোহে,
মানুষের যত সমারোহে
হৈ হুল্লোর আর ঐ
পুরোনো গ্যাঞ্জামে
মিশে যাই বিদগ্ধ
পথচারীর সাথে -
.
থেমে থাকা পথে যানজটে
বাড়ি ফিরবার তাড়া উৎভটে
হিউম্যান হলারের বাঁয়
অথবা ডানপাশের সিটে
আমিও বসা ছিলাম ঠাঁই
ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষুদ্র জানালায় -
.
কখন যে উঁকি দিলে তুমি চাঁদ
আমিতো নই ইতিহাসের উমিচাঁদ ?
আমি এই রাজ্যের হতভাগ্য নবাব,
আমার কখন যে গেল রাত
এলো এক নতুন প্রভাত
তোমায় দেখা হয়নি এই বেলা
তবে কেন এই নিষ্ঠুর অবহেলা ?
জিজ্ঞাসিও, জানা নেই জবাব ।
.
আটষট্টি বছর পর
তুমি এসেছিলে আমারই ঘর
ঘর হতে শুধু একটু যেন দূরে
হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলে ছুঁড়ে
হাতির ঝিলের কাছে
শাপলা শালুকের পর ।
.
আমার যাওয়া হয়নি তাতে
রাখা হয়নি হাত বিরুলার হাতে
"বিরুলা" বলে আমি বোঝালাম যাকে
সে আমার অন্তরে থাকে
তোমার আলোয় আমি
রোজ খুঁজি বিরুলাকে
আটষট্টি বছর পর
আজও কিন্তু তোমার সাথে
দেখতে চেয়েছিলাম তাকে ।
------------------------------------
১৬ নভেম্বর ২০১৬

ঝিনুকের মত প্রেম - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং ২৩

নি:সঙ্গ
- তনিমা হাজরা

কি যেন নেই, কি যেন নেই
আজ সকালের চায়ের কাপে,
অথচ লিকার, চিনি সবকিছুই তো
দিয়েছিলাম মাপে মাপে।
বারান্দাতে শার্সি খুলে চেয়ার পেতে
কাগজ খুলি,
কি যেন নেই, কি যেন নেই
নিজের কাছেই প্রশ্ন তুলি।
হালকা শীতের আমেজ পেতে
জড়িয়ে নিই পাতলা চাদর,
যদি উষ্ণতার এই মেকী আবেশ
আনতে পারে একটু আদর।
তবু কি যেন চাই ভীষণ কাছে,
এক্কেবারে নিজের মতো,
একটু ছুঁয়ে থাকার আশায়
বুকের কাছে অবিরত।

ত নি মা

বাঙাল-নামা
- মুকুল রায়

আত্মত্যাগের গরিমায় ভুগি -
পৃথিবীতে ছড়িয়েছে আজ তোমাদের রক্তের সুবাস
তোমাদের স্মৃতি আজ সমগ্র পৃথিবীজুড়ে আন্তর্জাতিকতাময় ।
তবু তোমাদের এই উত্তরপুরুষ
আজ পুরুষ-সিংহ নয়।
তোমাদের রক্ত আজ অপরিশুদ্ধতায় ভোগে।
পদলেহি বাতাস আজ সীমাবদ্ধতা ফেলে
ছড়িয়ে দিয়েছে চতুর্দিকে বৈশ্বিকতা।
ভোগের পাত্র আজ বড়োবেশি বড়োবেশি বাণিজ্যঘন।
সরস্বতির সেতার আজ লক্ষ্মীর ভান্ডার।
মাতৃভূমি নয়, মাতৃভাষা নয়
লেবাস পাল্টে ফেলে সমস্ত সংস্কৃতি চরম বৈপরিত্যময়
খুব দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে পরিচিত দৃশ্যপট
ভিন্ন কালচারে মগ্ন মেধা ও মনন।
নিয়ত ধাবমান বৈদ্যুতিক সিঁড়ি ডাকে
ধাঁধানো শপিংমলের প্রাচুর্যময়তায়
কর্পোরেট যোজনা আজ বেঁধে ফেলে অদৃশ্য তারে
বিদ্রোহী যৌবন-
তোমাদের উত্তরপুরুষ আজ অন্য ভাষায় শেখে শৈশব কৈশোর
আর যৌবনের গান
বাংলা সিলেবাসে শ্রীহীনতার প্রলেপ দিয়ে
জৌলুসে ভরে ওঠে ভিন্ন কলতান।
বাংলা তো আজ আক্ষরিক অর্থেই দীনহীন 'বাঙাল'..
সাতকান্ড রামায়ন পড়ে - সীতা কার পিতা-র মত
বেঁচে থাকে তোমাদের এ প্রজন্ম চিরকাল

সহযোদ্ধা
- জামান মনির
.
আমরা যারা করতে পারিনি যুদ্ধ, হইনি মুক্তিযোদ্ধা
এ সময়ে অস্ত্র নয়, ধরেছি লিখনি তাই সহযোদ্ধা
.
ছড়া কাব্য গল্প উপন্যাস আরও লিখছি প্রবন্ধ
যে যার মতো করছি চেষ্টা হোক না ভালো মন্দ
.
আলোচনা সমালোচনা হবে লেখায় যা-কিছু
সহমতে চলবো সবাই, ফিরবো না যে পিছু
.
এক ভাষাতে এক আশাতে স্বপ্ন হোক একটাই
শপথ নিলাম লিখন দিয়ে, গড়বো এ দেশটাই ।
**************
১৭/১১/১৬ : ঢাকা

আরেকটি সকাল
- সেলিনা আহামেদ শেলী

ঘুম ভাঙ্গানো পাখি বলে,
চল ডাকি সুর তুলে,
ভাঙ্গবে সবের ঘুম,
সূর্যি মামা মুচিক হেসে বলে উকি দেই আগে,
তবেই দেখা মিলবে ভোরের,
পাতা বলে ঠিক বলেছো,
আমি আছি আধাঁরে ঢেকে,
আকাশ বলে,আমার বুকেই ছড়াবো আলো,
বাতাস বলে বইবো তবে,
নদী বলে স্রোতে বয়ে যাবো।
ঢেউয়ের পর ঢেউ তুলে গুনজনে পাখি বলে,
কখন হবে আরেকটি সকাল,
ও আমার পরান পাখিরে তুইতো আমার সব।

১৭/১১/২০১৬

কোল
- দিব্যেন্দু সান্যাল

তুমি আসবে বলে
কাজল এঁকেছি দুই চোখে
খোঁপায় গুঁজেছি লাল ফুল
নাকে নাকছাবি
কস্তাপাড় শাড়িটার
আঁচল জড়িয়ে রেখেছি কাঁখে
মেহেন্দি আঁকে ময়ূর পুচ্ছ মেলেছে দুই হাতে
আলতা সোহাগ ঢল পদনদী তীরে
তুমি আসবে বলে ।
একদিন এইসব প্রত্যাহার করে নেব
দুয়ারের পাড়ে এসে
নিজের আত্মা পেতে বসবো একাকী
শূন্য দুহাত বাড়িয়ে দেব___
আই বাবা
তুই আসবি তাই কোল পেতে আছি ।

ব্যস্ততার নিমিত্তে
- আশিক ফয়সাল

আমি হারিয়েছি পথ একলা হাটার
বা হাতটা ধরে তোমার
আমি হারিয়েছি সব বন্ধু গুলো
যারা সঙ্গে ছিলো আমার ।
.
আমি হারিয়েছি দিন বৃষ্টি ভেজা
বা মেঘলা দিনের বাসর
আমি হারিয়েছি সব মিষ্টি দিনে
শরষে মুড়ির আসর ।
.
আমি হারিয়েছি সুখ হাসির সময়
বা অসময়ে ঘুম
আমি হারিয়েছি সব কল্প প্রেমে
অপ্সরীদের চুম ।
.
আমি হারিয়েছি রাত তারার আকাশ
বা জ্যোৎস্না ভরা চাঁদ
আমি হারিয়েছি আজ অন্ধকারে
হাতটা রাখার কাঁধ ।
.
আমি হারিয়েছি মন স্বপ্ন দেখার
বা একলা মনে ভাবার
আমি হারিয়েছি সব নিজেকে বানিয়ে
ব্যস্ততার খাবার ।।

তাং - 18/11/2016

অলীক তাকালে
- দিব্যেন্দু সান্যাল

যে ফুল সুরভি ছড়ায়
যে ফুল প্রাণের টানে দোলে
তাকে আজ দেখবে বলে
কেন যে দুচোখ মেলে অলীক তাকালে !
এ চোখের সীমানা যে বাঁধা আছে
শরিরী দীর্ণতায় নশ্বর ছকে
দিগন্ত ছাড়িয়ে যে অনন্ত ছুঁয়েছে
এই দুই চোখ মেলে কিভাবে দেখবে বলো তাকে ?
তাই আজ চোখ বুঁজে চেয়ে থাকি
নির্জন প্রাণের গহীনে
সেখানেই দেখবো তাকে
সেখানেই তাকে নেব চিনে ।

প্রেতাত্মা
– মোহাম্মদ জহিরুল হুদা

মরার পরেই কি প্রেতাত্মার জন্ম নেয়,
তাহলে- মনুষ্যত্ব মরলে কি হয়?
মারা যাওয়া মনুষ্যত্ব হলো প্রেতাত্মা।
এখন মানুষ নয়, প্রেতাত্মা শাসক,
প্রেতাত্মা পরিচালক ও অধিপতি,
প্রেতাত্মার সাথে বসবাস।
প্রেতাত্মাই নরক, প্রেতাত্মাই স্বর্গ,
আত্মাহীনতাই প্রেতাত্মা,
বিচারহীনতাই প্রেতাত্মা।
প্রেতাত্মা এখন সমাজপতি,
ফেরাউনের পার্থিব রূপ,
প্রেতাত্মার সমরূপী আর কেউ না,
কেবল লেডী ফুয়েরর।
©ওশ্যাঘর।

রাতের_তুমি_হাস্নুহানা
- Moni Jewel
তোমায় আমি ভালোবাসি,জানো,কি জানো না
কাছে পেতে কাছে আসি,বোঝো,না বোঝো না ।।

তোমায় দেখে আমি আসি
ফুলের মৌমাছি যেমন
কুল হারিয়ে আমি ভাসি
নদীর ও চাঁদ যেমন ।
তোমায় আমি ভালোবাসি মোহনা ও মোহনা
কাছে পেতে কাছে আসি তুমি যে হাস্নুহানা ।।

যখন তুমি আলতো হাসো
আমি হেসেই গাই
নীল আঁচল ভাসতে থাকে
আমিও ভেসে যাই।
ভালোবেসে কাছে আসি, রাতের হাস্নুহানা
তোমায় আমি ভালোবাসি । তুমি যে মোহনা।।
।।ধুলিয়ান/১৭১১১৬/০৩৩০বিকেল।।


"হেম‌ন্তের সৌন্দর্য"
***রহমান মাসুদ***

হেম‌ন্তের সৌন্দর্য বর্ননায় হলাম অক্ষম
কি লিখ‌বো ভে‌বে চ‌লেনা আজ কলম,
প্রকৃ‌তি, সাজসজ্জায় তু‌মি অপূর্ব মন‌োরম
সকল উপমা ভান্ডার উজার‌েও হ‌বে কম।

নীল গগ‌নে সাদা সাদা মে‌ঘের বিচরণ
উন্মুক্ত দিগ‌ন্তে উদ্ভা‌সিত সৌম্য কিরন,
মৃদু সমীর‌নে পাকা ধা‌নের আল‌োড়ন
সোনা‌লি তর‌ঙ্গে হৃদ‌য়ে তৃ‌প্তির শিহরণ।

সর‌োব‌রে কচু‌রিপানায় পান‌কৌড়ির ঝাঁক
মা‌ছের দল দেয়না ধরা অতি চালাক,
দুষ্ট কি‌শোর বি‌লের ধা‌রে সন্ধা‌নে শালুক
বাবা-মা প্র‌তি‌দিন কটু কথা যতই বলুক।

চার‌দি‌কে পাকা ফস‌লের মৌ মৌ সুবাস
কৃষ‌কের ম‌নে জা‌গে বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাস,
সন্ধান মি‌লে‌ছে অভাব মু‌ক্তির আশ্বাস
কিছু দিন করা যা‌বে শা‌ন্তি‌তে বসবাস।

মহা ধুমধা‌মে নবা‌ন্নের প্রস্তু‌তি ঘ‌রেঘ‌রে
পিত্রাল‌য়ে মে‌য়েদের আগমন বছর ঘু‌রে,
শিশু‌দের কোলাহল সারা উঠান জু‌ড়ে
মধুর প্রা‌প্তি‌তে সকল বেদন‌া গি‌য়ে‌ছে দূ‌রে।

ঋতুচ‌ক্রের ফাঁ‌দে হেম‌ন্ত যা‌বে বিদায় ব‌লে
আন‌ন্দের সুখময় স্মৃ‌তি গু‌লো শুধু ফে‌লে,
তার প্রস্হা‌ন ঘন্টার বিরহ সুর কা‌নে এলে
কুয়াশার চাদর গা‌য়ে শী‌তের সাক্ষাত মে‌লে।

তৃতীয় নয়ন
- মোশ্ রাফি মুকুল

পিছনের দিকে ছুটছে একটি রাস্তা,
অথচ সামনের দিকে হাঁটছে দু'টি সবুজ চোখ...
একি;
বাহ আজবতো!
রাস্তা আবার পিছনে দৌড়াতে পারে নাকি?
বেশ অদ্ভুততো!
চোখেরা আবার হাঁটতে পারে নাকি?
আমাদের প্রত্যেকের সামনেই একটি রাস্তা থাকে,
আমাদের প্রত্যেকের পিছনেও একটি পালাবার পথ থাকে।
আমাদের নিজস্ব দু'টি চোখ থাকে,
অন্যের কপাল কোটরে জমাকৃত আমাদের দু'টি চোখ থাকে...
আমাদের সামনেও দু'টি চোখ থাকে,
আমাদের পেছনেও কয়েকটি চোখ থাকে।
অথচ মানুষের প্রত্যেকের বুকের খোলসে থাকে একটি মন,
মনের চশমায় জমা থাকে আমাদের তৃতীয় নয়ন...
তিন গুন তিনে হয় নয়,
তিনে তিনে যোগফল ছয়।
আসলে আমাদের নয়ন একটা'ই...