অক্টোবর 2016

রোদ হাসে হাওয়া বয়
- দিব্যেন্দু সান্যাল

রোদ হাসে রোদ
হাওয়া বয় হাওয়া ।
এ কি সম্ভব, আজ এতদিন পর
ফের জমানো ভালবাসা !
ছেলের ইশকুলের পাশে আমারও একটা ইশকুল
ঘাস লতাপাতা ছুঁয়ে
ফড়িংটা যেই হাওয়ায় এসে বসে চোখে
চশমাটা ভেঙে কুচি কুচি,
আমার পায়ের তালুতে ঢুকে
কত যে রক্তপাত !
বেশ, আর কোনদিন ফিরবোনা এইভাবে ।
রোদ হাসে রোদ
হাওয়া বয় হাওয়া ।
এক নিগ্রো রমণীর কথা আজও মনে আছে
কোঁকড়ানো চুল
পাশে এক নিগ্রো পুরুষ
কালো চামড়া যাকে ডেকেছিল অরঙিন প্রেমে ।
আরো কত কিছু মনে আছে...
ইভা একদিন কেঁদেছিল ভালবাসিনি বলে
ইন্দু সেদিন নদী হয়েছিল ভালবাসবো বলে ।
তারপর নদীর ঢেউ ছলাৎ ছলাৎ
যতবার ছুঁতে যাই
ঢেউ ওঠে যে ঢেউ নদীর কেউ ছিলনা কোনদিন
নিগ্রো রমণী হাসে ছলাৎ
ইভার কান্নাজল টুপ টুপ নদীজল
ইন্দুমতীর জ্যোৎস্না কেমন নদীজলে ডুবে জল মাখে ।
রোদ হাসে রোদ
হাওয়া বয় হাওয়া ।
এইবার ধীরে ধীরে সেইদিকে যাওয়া
আর কিছু নয় শুধু ভালবাসা চাওয়া ।

পাখির বিহনে
- সেলিনা আহামেদ শেলী

সারা ক্ষন কেন ডাকিস তুই পাখি বলে
কিচির মিচির ডাক শুনতে মন্দ লাখছে না,
আমি যদি পাখি হতাম চুপটি করে বসে
থাকতাম , কিরে পাখি কুয়াশাই ঢেকে
আছিস শীতের শিশির মেখে,কী সুন্দন ভোর
কথা বলে,নিঝুম প্রকৃতির সাথে,শিশির ছুঁয়ে
সকালের মিষ্টি আমেজ,ফিড়িং দোলে গাছে
গাছে এই না হলে সবুজ সাজে কী দিয়ে?পাখি
বলে,আমি বুঝি পড়ে গেলাম বাদ?পাতা হেলে
দোলে বুঝিয়ে দেয়, পাখিরে তুই তো উঠিস
সবার আগে,পাখি মনের আনন্দে উড়ে যায়
দূরে কোথাও,তুই পাখি নয় স্পন্দনের সাড়া,
কত পাখি ডেকে যায় হৃদয়ে দেয় না দোলা,
যেখানে তুই সেখানে কমল হৃদয়ে দোলা দেয়,
হেমন্তের পাখি ডাকা ভোরে তোর নিকট প্রথম
দেখা মিলে,ভালোবাসা সূচনা ডানা মেলে বলে
যায় কোকিল,ঐ দুটি চোখ মনের কথায় বলে,
প্রবল ফাগুনে প্রেমের জুয়ারে পাল তুলে দে,
সইবে না অন্তরে চাইবে শুধু তোর মধু মাখা হাসি ৷

তাং : ৩১/১০/২০১৬

এক বিন্দু কষ্ট
- মার্জেনা চৌধুরী

আমার হৃদয় সমুদ্রের কষ্টের
এক বিন্দু কষ্ট তোমাকে দিতে চাই
শুধু একটু কষ্ট আর কিছুই নয় !
তোমার আসার পথে যে চোখ চেয়ে থাকে
জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে সময়কে অতিবাহিত করে !
প্রবাল দ্বীপের ঐশ্বর্য পাষাণে যে ফুল ফোটে
অস্তমিত সূর্য্যের বুকে —
পাথরের নিশানা হৃদয়ের চাঁপা ভূবনে
যে টুকু কষ্ট রাখি প্রদীপের নীচের অন্ধকারে !
আমি তোমাকে দিতে চাই —
তার থেকে এক বিন্দু কষ্ট ইচ্ছে করে ,
শুধু বুঝাতে বেঁচে আছি আমি কেমন করে !

উপদেশ
- মোহাম্মদ জহিরুল হুদা

মানুষকে মানুষ হিসেবে তুমি দেখবে।
পশু ও মানুষে মৌলিক পার্থক্য জানবে।
উভয়ের আহার,নিদ্রা,ভয় ও মৈথুন কার্য হয়।
তাহলে এ দু'য়ে মাঝে পার্থক্য কী রয়।
জ্ঞান মানুষকে পার্থক্য করেছে নিশ্চয়ই।
এই জ্ঞানকে সাথে নিয়ে তুমিই চলবে।
দুঃখী মানুষের কথা তুমি শুনবে,
জরাগ্রস্ত মানুষের সেবা করবে,
রাগে-অন্ধ মানুষের কাছে থাকিবে,
অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়াবে,
অধিকার বঞ্চিত মানুষের সাথে হাঁটবে।
বিরক্ত মানুষ হলো অতি ভয়ঙ্কর-
বিরক্ত মানুষের কাছে তুমি যাবে না,
কেননা সমাজপতি সর্বদা বিরক্ত,
তাদের বিরক্তির কারন তুমি হবে না।
মনে নিলে, বুজতে পারলে এ উপদেশগুলো,
দুঃখ,রাগ,রোগ,শোক,অভাব ও বঞ্চনা -
তোমার জীবনকে কোনদিন স্পর্শ করবে না।
© ওশ্যাঘর।

প্রশ্নহীন
- রতন সেনগুপ্ত

আমাকে বলাও পাপী
কি পাপ আমার?
ফিরে ফিরে এক কথা শতাব্দী অতীত
কর্মহীন নিবেদন জানুপাত
আমার ইচ্ছে নয় এতটুকু কোথাও, সবই তোমার - এই তো জন্মাবধি
তবুও পাপী ? পাপের ভাগীদার ?
এ এক মস্তিষ্ক স্রোত শিশুকাল থেকে
ডুব দিয়ে খায় ভিতর সংসার - তোমারই জয়
কোটি কোটি মুদ্রা মাথার ওপর নাচে
ভিক্ষাপাত্র হাতে তুলে বলি করুণা তোমার
এই শেষ সমাচার
প্রশ্ন করা যাবে না প্রশ্ন অবিশ্বাসী দুরাচার
তুমি এতই শক্তিমান
ঝটকা দাও দেখাও কেরামত
আনো সত্য সুন্দর - বলা যাবে না
এই অলীক অদৃশ্য প্রশ্নহীন মায়াজাল
চায় অজস্র গোলাম মাথা নত করে দাঁড়াক সম্মুখে
মানুষ হবার কিছু নেই - হটাও হটাও
সবই ভাগ্য নির্ধারিত কর্মফল
ছড়ি শুধু জানে কে নাচায় বিশ্ব সংসার
প্রশ্ন করো না
প্রশ্ন পুরনো ব্যাভিচার
মঙ্গল দীপ জ্বালো, জ্বালাও - বোলো না কার
প্রশ্ন হয়ে যাবে

শান্তনা
- সেলিনা আহামেদ শেলী

ও পাখি তুই কি আমার নিকট এসেছিলি,
দিতে পারি নেই সাড়া, তাই কি মগ ডালে
বসে আছিস? কেন তোর এতো অভিমান
আমি তো তরী,পাখি ডাল বদলিয়ে একটু
কাছা কাছি এসে সুর তুলে ডাকে মিষ্টি
করে বলে,আমি এসেছি! এমনি সময় শুরু
হয় এলো মেলো হাওয়া, শুনা হলো না সেই
কথাটি? কি জানি বলতে চেয়ে ছিল, কাল
আসবো বলে,উড়ে যাই নীড়ে,নাম না জানা
পাখিটির,দুচোখ জুড়ে ঘুম? কখন হবে সকাল
ভোরের শিশির মেখে, বসবে ঐ সেই ডালে,
এক নজর দেখার আকুতি, ভাগ্যের লিখন,
মিলেনি কাল অঝর ধারায় বৃষ্টি ঝরে,পাখিটির
মন জুড়ে না দেখার ছবি স্মতি বয়ে,ভাবে দেখা
হবে কী ? কোন এক দিন শান্তনায় কাটে প্রহর
ও পাখি আবার কেন ডাকিস তোর ডাক শুনতে
লাগছে না ভালো, পাখি বলে কি বলছো?তোমরা
আছো বলেই আমরা জন্মিয়েছি, প্রকৃতি বলে,
ঠিক বলেছিস,আমি যেমন সবুজে মিশে,মেঘ
জমে আকাশে,উড়ে যাওয়া চনচল পাখি ভাবছে,
আজ আকাশের বুঝি রং ধরেনি? তবে কী খুব
বেশি ক্লান্ত!শীতল করি কী দিয়ে ?

তাং :৩০/১০/২০১৬

দীপাবলী
- অনাদি চক্রবর্তী

রয় যদি আঁধার আমার
হৃদয় জুড়ে,
কি হবে দীপ জ্বেলে আর
বাহির ঘরে।
.
বাইরে যতই আমি
জ্বালাই আলো,
তাতে কি ঘুচবে রে মোর
মনের কালো?
.
কি করে লাগবে পরশ
উঠব মেতে,
আলোর ওই উৎস যদি
আড়াল থাকে।
.
বাধার এই পাহাড়গুলো
ভাঙ্গলে পরে,
আলোকের ঝর্ণাধারা
পড়বে ঝরে।
.
সে ধারায় ভিতর বাহির
সিক্ত হলে,
আপনি লক্ষ প্রদীপ
উঠবে জ্বলে।

কোলকাতা , ৩১/১০/১৬

আলো
- শ্যামল কুমার মাইতি

চাই না অন্ধকার তাই জ্বলে আলো
উজ্জ্বল হয়েও যেন হই না স্থির
তাড়া করে আসে আঁধার পিছুপিছু
জ্বালাই আলো আরও বেশি বেশি।
মায়াময় আঁধার যেন টানে অবিরাম
অভাবী করে দেয় স্থির আলো-কেও
ছায়া এনে ছিপছিপে ক'রে তাকে
অস্থায়ী করে দেয় তার অস্তিত্বকেই!
আলোর প্রকাশে শক্তির আরাধনা-
জাগ্রত প্রতি পলে দৃশ্যে বা অদৃশ্যে
প্রাণ ভরিয়ে যা কিছু আসে অজান্তে
তা যে আলোই মনের বিকাশে......

---শ্যামল কুমার মাইতি
30.10.2016

অনুভব
- রাজু আহম্মদ খান

আমি তোমার কাছে প্রেম-ট্রেম কিছু চাইনি তো -
পেয়েছি যা কিছু অনুভবে যেথায় যাইনি তো ।
মানুষের জন্য অনুভূতি কি নিঁখুত উদার ?
আগে সম্পদের ভারসাম্যে আনো সমবন্টন প্রথার ।
আমি তোমার কাছে প্রেম-ট্রেম কিছু চাইনি,
চেয়েছি মায়াবী হরিণী ছায়াভরা এক চাহনি ।
চেয়েছি স্বপ্ন দেখার উদাত্ত দুটো চোখ,
যে চোখে আমার গভীর নিদ্রা হোক
.
সততা ও সত্যই হোক প্রকৃত অলংকার
সভ্যতা ও শৃংখলা যেন প্রভাতের আলো ঝংকার,
যদি সবার কষ্ট হৃদয়ে করো লালিত
তোমার সেবায় যেন হই অনুপ্রানিত ।
.
আমি তোমার কাছে প্রেম - ট্রেম কিছু চাইনি
চেয়েছি কেবল প্রেমের যুদ্ধ বাহিনী,
যেখানে রয়েছে সৌহার্দ ও যত্ন
যাদের ছোঁয়ায় বৃক্ষ হয়েছে রত্ন
ঘর-দোর বাড়ি যার নিঃস্বার্থ পরশে
অতিমাত্রায় হয়ে উঠে তাই বড় সে ।
সেই সেবক তুমি হতে পারো যদি সহসা -
দরিদ্রকে যদি দিতে পারো শেষ ভরসা !
.
আমি তোমার কাছে প্রেম-ট্রেম কিছু চাইনি
চেয়েছি প্রেমের আরব্য রজনী কাহিনী
শুধু চেয়েছি এমন প্রেমিক তৈরীর জঠর
যেখানে বিশ্বাস তার নিয়ম মেনেছে কঠোর ।
এক নিঃশ্বাসের যুগযুগ গেছে ঘন্টায়,
আমি ভর করি সেই নিজল, বিশুদ্ধ মনটায় ।
.
আমিতো তোমার কাছে প্রেম-ত্রেম কিছু চাইনি
যদিও জীবনে যা কিছু চেয়েও পাইনি -
যদি দিতে পারো "দেশপ্রেম" নেবো অতিশয়,
দেশের স্বার্থে সবকিছু আমার ক্ষতি সয় -
আমি তাই নেবো যা কিছু স্বপ্নে আমায় দিয়েছো,
তুমি কি ঘাম ঝরা দুখী মানুষের কাছে গিয়েছো ?
আমি তোমার কাছে প্রেম-ট্রেম কিছু চাইনি তো -
তবে লুফে নিবো শুধু, যা কিছু দিবে আইনতঃ ।
-----------------------------------------------
৩১ অক্টোবর ২০১৬

। সুকুমার রায়।

আজকে আবার পড়তে বোসো আবোলতাবোল
পাগলা দাশু নতুন করে পড়ুক মনে,
জীবনগাড়ি হুড়মুড়িয়ে সামনে ভাগে
আজকে থামাও মনকেমনের ইস্টিশনে।

ভেবে দেখো বয়েস তোমার কমতি নাকি?
উদো বুধো এসব হিসেব চাপায় ঘাড়ে,
রুমাল এখন হামেশা হয় বদলে বেড়াল
এখন বুঝি হ য ব র ল'র আসল মানে।

মাসমাইনের বেশীটা যায় ধার মেটাতে
বাকিটুকু মাস চালানোর বাঁধা খাতে
কাকেশ্বরের কথাগুলোই সত্যি হলো
হিসেব শেষে পেন্সিলটাই থাকে হাতে।

'ভয় পেয়োনা' আজকে হলো উঠতি নেতা
হাসজারুদের রোজ দেখা যায় দলবদলে
জনতা আজ কুমড়োপটাশ, নাচছে শুধু
অগ্রগতি ওই যে বাঁধা খুড়োর কলে।

রামগরুড়ের ছানা এখন পাড়ায় পাড়ায়
হাসতে মানা কোনো নেতার বেফাঁস কথায়
দুটো ল্যাজের মালিক হয়েও হ্যাংলা হুঁকো
তিন নম্বর লাঙুল চেয়ে রোজ কেঁদে যায়।

যজ্ঞিদাসের মামারা আজ চ্যানেল জুড়ে
গুল মেরে যায় হরেক মালের বিজ্ঞাপনে
ছেলেবেলার দমফাটানো গল্প হাসির
আজকে যেন একটু কেমন অন্য মানে

আজকে একটু আবার পড়ো লেখাগুলো
পাগলা দাশু হতে থাকে ইচ্ছে সবার
আজও তারা হাসির ছলে ভাবিয়ে তোলে
জন্মদিনে প্রণাম জানাই রায় সুকুমার।

আর্যতীর্থ

। বাজি।

এমনি এমনি কোনো বাজি যায় কি জ্বলে
সব বাজিদের জ্বালতে হলে ফুলকি লাগে
আলোর নেশায় একলা জ্বলার গন্ডগোলে
বাজিরা সব ফুলকি ভোলে আগেভাগে।

ফুলকি জানে তার কাছে নেই বারুদ কোনো
আগুন আছে, যে আগুনে জ্বলবে বাজি
তোমরা শুধু বাজি জ্বলার কথা শোনো
ফুলকিরা সব তার আড়ালে থাকতে রাজী।

ফুলকির কাজ সঠিক সময় পলতে ছোঁয়া
বাজি যাতে জ্বলতে পারে আকাশ জুড়ে
একটু ভুলে আলো বুজে উঠবে ধোঁয়া
নষ্ট হবে মাঝআকাশে ফালতু পুড়ে।

তোমরা যারা বাজি হয়ে এখন জ্বলো
সাফল্যতে যাচ্ছে সবার চোখ ধাঁধিয়ে
মাঝে মাঝে স্মৃতির ঘরের দরজা খুলো
মনে কোরো শুরুটা কোন ফুলকি দিয়ে।

আর্যতীর্থ

অজ্ঞাত
- মো. এনামুল হক

জানিনা ডাকে কোন পাখি
কোন কালে, কোন বেলায় -
জানিনা কোন বৃক্ষ পাতার শব্দ শুনি
বাতাসের আন্দোলনে
কোন তারা কোন কোণে ওঠে আকাশের
জানিনা -
বুঝিনা জীবনের নানা স্রোত
নানা গিরিপথ, খাদ।
কে কি কখন হয় সঞ্চালিত, জানিনা
পারিনা ছিড়তে মায়ার বাঁধন
কিসের মায়া, তাও বুঝিনা!
জীবনের কি প্রভাত, মধ্যাহ্ন, অপরাহ্ন!
সবাই তো দাঁড়িয়ে গোধূলিতে
ওই অস্তনিমিত সূর্যের মত -
ডুবতে একটু বাকি -
তারপর রাত, অন্ধকার, গাঢ় অন্ধকার।
জানিনা, বুঝিনা সেই নিগূঢ় রহস্য
অজানা ভয়ঙ্কর।।

অক্টোবর ৩০, ২০১৬
দুপুর ২:৪৫, ঢাকা

শেয়াল মামা
- জুলফিকার আলী

করে না কেউ খেয়াল
পেরিয়ে সে দেয়াল
মুরগি চুরি করে
পাঁজি সে এক শেয়াল|
.
চালাক অতি পায়ের গতি
ছোটে জোরে ভীষণ,
যায় পালিয়ে মুরগি নিয়ে
সফল চুরির মিশন|
.
গেরস্থরা পায় না টের
দিনের বেলা হয় না বের,
রাতের বেলা ছক কষে সে
চুরি করার ফের!
.
ধূর্ত অতি শত্রু যে সে
ভীষণ রকম পাঁজি,
সুযোগ বুঝে করে চুরি
যেন কাজের কাজী|
.
তারই জ্বালায় মুরগি পালায়
পালায় আরো হাঁস,
সুযোগ পেলে যারে তারে
খায় সে বারোমাস|
.
চুরির বেলায় পড়ে ঠেলায়
বুকে ধুকুরপুকুর,
ভয় সে তো পায় যে বাড়িতে
পাহারাদার কুকুর|
.
কুকুর তাড়ায় নাহি দাঁড়ায়
মুরগি নিয়ে ছুট,
সন্ত্রাসীরই মতন শেয়াল
করে যে রোজ লুট|
.
চালাকিত বাঁচে সে যে
গায় সে সারেগামা
গল্পের এবং বাস্তবেই
সে তো শেয়ালমামা|

ঘৃণার নদী সেচে ভালোবাসা তুলে আনি
- মোশ্ রাফি মুকুল

কতোবার খেয়েছি কসম
আমি আর ভালোবাসবোনা;
তবু প্রথম সূর্যের দিন শেষে-
বুকের দখিন মাঠে নতুন প্রেমের শস্য বুনি,
ঘৃণার নদী সেচে ভালোবাসা তুলে আনি।
কতোবার খেয়েছি কসম
কবিতাকে আমি আর কাছে ডাকবোনা
তবু কীটস এর ফ্রানি
রবীন্দ্র-নজরুল বালিকারা সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকে,
কাটাতার ছিঁড়ে
স্বপ্নালু চোখের সীমান্তে পরকীয়া কালে ডাকে।
শপথ নিয়েছি কতশত-
যাবোনা আর আমি
হলুদ শুঁয়োপোকার বেশে,
দেবোনা পা যুগল ভ্রু'র দেশে।
তবু ফালগুনি দিন শেষে-
আবার বসন্তের দিন গুনি।
কতোবার কেটেছি কসম
লালটিপ সূর্যের জলে আর করবোনা সূর্যস্নান,
তবু রমনীয় প্রেমে নিষিদ্ধ শব্দের ভ্রমে-
ভালোবাসা ভালোবাসা প্রতিধ্বনি!
কতোবার ভেঙেছি কসম কতো আঘাতে,
তবু ক্ষতে বিক্ষতে ঝরেছে রক্তক্ষরণ।
পৃথিবীর কানে কানে ভালোবাসা ভালোবাসা চিৎকার শুনি,
আমি;
ঘৃণার নদী সেচে ভালোবাসা তুলে আনি।

২৯/১০/২০১৬

পান্থপথ
-আকাশ হাসান
.
পথিক,
তুমি পথের দিকে চাও
ওইযে দেখো সবুজে ঘেরা
ওটাই আমার গাও।
.
লাউয়ের ডগায় সোনালী আলো
ঝিলে পদ্ম ফুল,
দিঘির জল করছে খেলা
ভিজিয়ে দিচ্ছে কূল।
.
ওখানে আমার ছোট্ট কুটির
কলা পাতায় ছাওয়া,
সাঁঝের বেলা জোৎস্না পড়ে
স্বপ্নে মধুর যাওয়া।
.
সকাল হলে সূর্য ওঠে
শিশিরে ভিজায় গা,
ওটাই আমার আপন ভূবন
ওটাই আমার মা।
.
আমার কুটিরে একটু বসে
তৃষ্ণা মিটিয়ে নাও,
তাল পাতার বাতাস খেয়ে
আবার তুমি যাও।
.
ও পথিক,
আবার কোথায় যাও
ঝাউয়ের শাখার নৃত্য খানি
একটু দেখে যাও।
.
প্রান্তের ওপারে যাচ্ছো তুমি
নেই যে কোনো মানা,
ওপথ যে কন্টকময়
নাই কি তোমার জানা?

শিশু নির্যাতন
- জুলফিকার আলী

ঘরে-বাইরে কোথায় যাবো
মনটা বড় ভীতু,
নারী হয়ে জন্মানো পাপ
বলছে কেঁদে নীতু|
.
নরপশু কেউ,শিক্ষিত নাম
ধারণ করে যারা,
নারী শিশু হচ্ছে শিকার
আজকে তাদের দ্বারা|
.
মারছে শিশু ধর্ষণে,তাও
হয় না সঠিক বিচার,
শক্তি জোরে মুক্ত দোষী
হবো কত নিচ আর|
.
পথেঘাটে চলতে নারীর
নিরাপত্তা আজ চাইছি,
দোষীর কঠোর সাজা হবে
এই শ্লোগান গাইছি!

কাশের বনে জাগায় দোলা
- জুলফিকার আলী

বৃষ্টি পড়ে শিউলী ফুলে
ছোট খুকির এলো চুলে
মাঠ প্রান্তর যায় যে ভিজে
আনন্দ আজ লাগে কী যে
বৃষ্টি ধারায় মন পাড়ায়
ছন্দে কবির মন হারায়|
কাশের বনে জাগায় দোলা
মাঠের গরু আলা-ভোলা
রাখাল ছেলে তাকায় ফিরে
মেঘ উড়ে আসে ধীরে
বকের সারি ফিরে বাড়ি
সন্ধ্যাতে বাঁশ বনে,
গাঁয়ের ছেলে ফিরে তাকায়
উদাস উদাস মনে|

গাড়িয়াল ভাই
- ওদুদ মণ্ডল

গামছা মাথায় গাড়ি নিয়ে
চলছে দূরের গাঁয়ে,
গরুর লেজে মোচড় মারে
হা-হাঃ! ডাইনে বাঁয়ে ৷
.
জীবন জুড়ে অভাব নাচে
মুখে তবু হাসি,
কেউ বোঝে না বুকের মাঝে
দুঃখ বারো মাসই ৷
.
নাঙল চষে ফসল ফলায়
প্রিয় মাটির বুকে,
মনের ঘরে স্বপ্ন সকল
মরছে ধুকে ধুকে ৷
.
লোকগীতি পল্লীগীতি
কন্ঠ ভাটির গানে,
ইচ্ছে হলে বাজায় বাঁশি
ভাসে সুরের বানে ৷
.
কালের ঘায়ে মেশিন এলো
গরুগাড়ি আজ নাই,
প্রাণের প্রিয়া ভুলেছে তাই
ও কি গাড়িয়াল ভাই... !

নূপূরের ছন্দে নাচে প্রাণের প্রজাপতি
- ওদুদ মণ্ডল

চপল দুটি হরিণ চোখে
মায়াকাজল আঁকা,
ফুলের বাগে কালো গোলাপ
স্নিগ্ধ সুবাস মাখা ৷
.
দীঘল কালো চুলের বেনী
ঘাড়ের 'পরে দোলে,
নাচায় ভুরু কথার ফাঁকে
জাদু গালের টোলে ৷
.
কাব্য কথার সুর গলাতে
হাসির পদ্ম ফোটে,
মন ছুঁয়েছে তিলের ফোটা
সলাজ রাঙা ঠোঁটে ৷
.
দিক বিদিকে উড়ছে দেখি
প্রজাপতির মতো,
পায়ের তালে নূপূর বাজে
লহর তুলে কতো ৷
.
ঠোঁটের কোণে চাঁদের হাসি
জোছনা রাতে এলে,
সোহাগ মাখা হৃদয় মাঝে
প্রেমের বাতি জ্বেলে ৷
.
রূপে ঝলক লাগে আমার
মনের ছায়া ঘরে,
হরেক রঙে স্বপন ডালি
সাজাই থরে থরে ৷

হেমন্তকাল
- ওদুদ মণ্ডল

শস্য শ্যামল মায়ের দেহে
সবুজ শাড়ি আঁচল উড়ে,
মন ভুলানো মায়ার ছায়া
আদর-মাখা ভুবন জুড়ে ৷
.
শরৎ শেষে হেমন্তে তাই
স্বপন ভরা চোখের মাঝে,
ফুলের দেহ সুবাস ভরা
নিসর্গ আজ নতুন সাজে ৷
.
কার্তিকে ওই অভাব নাচে
মায়ের মুখে শুকনো হাসি,
মনের কোণে খুশির ছটা
উঠলে নয়া ধানের রাশি ৷
.
অগ্রাহণের ভেজা বাতাস
শীতের চিঠি পাঠায় ঠারে,
গোলায় ভরা স্বর্ণ ফসল
পুলক জাগে মনের দ্বারে ৷
.
পাখির গানে সুরের ভেলা
শিশির ভেজা সোনালী ভোর,
খেজুর রসে পুলিপিঠায়
নবান্ন উৎসবে মুখর ৷
.
শীতের পাখি নানান জাতি
ভুবন ঘুরে পাখায় ভেসে,
নদীর ধারে গাছের ডালে
তাঁবুর খুঁটি সোনার দেশে ৷
.
চমক আনে রূপ বদলে
বৈচিত্র্যময় ঋতুর ধারা,
ধন্য আমার জীবন মাগো
তোমার রূপে পাগলপারা ৷

রাতের কলি
- ওদুদ মণ্ডল

অযত্ন আর অপবাদের আঁচ
সাজানো ফুলের বাগান ঝলসে দ্যায়৷
বেঁচে থাকার অদম্য স্পৃহা জেগে ওঠে
দুর্দশার চার দেয়ালে বন্দী জীবনে-
ক্ষুধা জ্বলে ধিকিধিকি-তুষের আগুনের মতো-
অন্ধকার পৃথিবী হাতছানি দেয় বারবার- আলোক যেভাবে পতঙ্গকে ডেকে চলে অহর্নিশ—
নিয়ন বাতির আবছা আলোয় উড়ে উড়ে ঘুরে
নিশাচর ৷
দূর-দিগন্ত হতে ভেসে আসা অতিথি পাখিগণ, উত্তেজনার বীজ পুঁতে দ্যায় নিলামে কেনা নিষিদ্ধ পতিত জমিনে ৷
শোনা যায় ইতরের পদধ্বনি,
ঘৃণার বিস্ফোরণে আহত পথকলির বুকে- আশার আলোতে নামে দীর্ঘশ্বাস ৷
জেগে ওঠা রাতের আকাশ প্রাণবন্ত হয় জোনাকীর ভীড়ে ৷
অনাবাদী জমি হয়ে যাক সোনালী ধানের ক্ষেত আগামীর নামে৷

দুঃখীর সন্তান
- ওদুদ মণ্ডল

ঝম ঝমা ঝম বৃষ্টি পড়ে
নূপুর ঝুমুর তালে
রাজা রাণী নাচন করে
পুকুর, ডোবা,খালে ৷
.
বৃষ্টি ভেজা আবছা দুপুর
উঁচু দালান কোঠায়
রসুই ঘরে রসনা পূজা
তৃপ্ত ঢেকুর ওঠায় ৷
.
ভুখার পেটে লাভার মত
ক্ষুধার আগুন জ্বলে,
পলিথিনের ব্যাগটি নিয়ে
দাঁড়ায় বৃষ্টির জলে ৷
.
এঁটো খাবার ফেলছে ছুঁড়ে
উঁচু তলার লোকে,
কারো খাবার খায় কুকুরে
কেউবা মরে ভোকে ৷
.
কাক ও কুকুর কাড়াকাড়ি
ছুঁড়ে ফেলা খাবার,
ক্ষুধার দেশে বাধ্য হয়েই
যুদ্ধ করে আবার ৷
.
ওরা টোকাই পথেই থাকে
বাঁচে অন্ধকারে,
মানুষ হয়ে বাঁচার দাবী
পূর্ণ অধিকারে ৷



রাতের কলি
- ওদুদ মণ্ডল

অযত্ন আর অপবাদের আঁচ
সাজানো ফুলের বাগান ঝলসে দ্যায়৷
বেঁচে থাকার অদম্য স্পৃহা জেগে ওঠে
দুর্দশার চার দেয়ালে বন্দী জীবনে-
ক্ষুধা জ্বলে ধিকিধিকি-তুষের আগুনের মতো-
অন্ধকার পৃথিবী হাতছানি দেয় বারবার- আলোক যেভাবে পতঙ্গকে ডেকে চলে অহর্নিশ—
নিয়ন বাতির আবছা আলোয় উড়ে উড়ে ঘুরে
নিশাচর ৷
দূর-দিগন্ত হতে ভেসে আসা অতিথি পাখিগণ, উত্তেজনার বীজ পুঁতে দ্যায় নিলামে কেনা নিষিদ্ধ পতিত জমিনে ৷
শোনা যায় ইতরের পদধ্বনি,
ঘৃণার বিস্ফোরণে আহত পথকলির বুকে- আশার আলোতে নামে দীর্ঘশ্বাস ৷
জেগে ওঠা রাতের আকাশ প্রাণবন্ত হয় জোনাকীর ভীড়ে ৷
অনাবাদী জমি হয়ে যাক সোনালী ধানের ক্ষেত আগামীর নামে৷



হেমন্তকাল
- ওদুদ মণ্ডল

শস্য শ্যামল মায়ের দেহে
সবুজ শাড়ি আঁচল উড়ে,
মন ভুলানো মায়ার ছায়া
আদর-মাখা ভুবন জুড়ে ৷
.
শরৎ শেষে হেমন্তে তাই
স্বপন ভরা চোখের মাঝে,
ফুলের দেহ সুবাস ভরা
নিসর্গ আজ নতুন সাজে ৷
.
কার্তিকে ওই অভাব নাচে
মায়ের মুখে শুকনো হাসি,
মনের কোণে খুশির ছটা
উঠলে নয়া ধানের রাশি ৷
.
অগ্রাহণের ভেজা বাতাস
শীতের চিঠি পাঠায় ঠারে,
গোলায় ভরা স্বর্ণ ফসল
পুলক জাগে মনের দ্বারে ৷
.
পাখির গানে সুরের ভেলা
শিশির ভেজা সোনালী ভোর,
খেজুর রসে পুলিপিঠায়
নবান্ন উৎসবে মুখর ৷
.
শীতের পাখি নানান জাতি
ভুবন ঘুরে পাখায় ভেসে,
নদীর ধারে গাছের ডালে
তাঁবুর খুঁটি সোনার দেশে ৷
.
চমক আনে রূপ বদলে
বৈচিত্র্যময় ঋতুর ধারা,
ধন্য আমার জীবন মাগো
তোমার রূপে পাগলপারা ৷



নূপূরের ছন্দে নাচে প্রাণের প্রজাপতি
- ওদুদ মণ্ডল

চপল দুটি হরিণ চোখে
মায়াকাজল আঁকা,
ফুলের বাগে কালো গোলাপ
স্নিগ্ধ সুবাস মাখা ৷
.
দীঘল কালো চুলের বেনী
ঘাড়ের 'পরে দোলে,
নাচায় ভুরু কথার ফাঁকে
জাদু গালের টোলে ৷
.
কাব্য কথার সুর গলাতে
হাসির পদ্ম ফোটে,
মন ছুঁয়েছে তিলের ফোটা
সলাজ রাঙা ঠোঁটে ৷
.
দিক বিদিকে উড়ছে দেখি
প্রজাপতির মতো,
পায়ের তালে নূপূর বাজে
লহর তুলে কতো ৷
.
ঠোঁটের কোণে চাঁদের হাসি
জোছনা রাতে এলে,
সোহাগ মাখা হৃদয় মাঝে
প্রেমের বাতি জ্বেলে ৷
.
রূপে ঝলক লাগে আমার
মনের ছায়া ঘরে,
হরেক রঙে স্বপন ডালি
সাজাই থরে থরে ৷



গাড়িয়াল ভাই
- ওদুদ মণ্ডল

গামছা মাথায় গাড়ি নিয়ে
চলছে দূরের গাঁয়ে,
গরুর লেজে মোচড় মারে
হা-হাঃ! ডাইনে বাঁয়ে ৷
.
জীবন জুড়ে অভাব নাচে
মুখে তবু হাসি,
কেউ বোঝে না বুকের মাঝে
দুঃখ বারো মাসই ৷
.
নাঙল চষে ফসল ফলায়
প্রিয় মাটির বুকে,
মনের ঘরে স্বপ্ন সকল
মরছে ধুকে ধুকে ৷
.
লোকগীতি পল্লীগীতি
কন্ঠ ভাটির গানে,
ইচ্ছে হলে বাজায় বাঁশি
ভাসে সুরের বানে ৷
.
কালের ঘায়ে মেশিন এলো
গরুগাড়ি আজ নাই,
প্রাণের প্রিয়া ভুলেছে তাই
ও কি গাড়িয়াল ভাই... !

গোধূলির রুপ
- মনিরা ফেরদৌসী

গোধূলি বেলায় দেখে ছিলাম আকাশ ভরা রঙ
ভেবেছিলাম আঁকব ছবি গোধূলি বেলার মন,
স্বপ্ন ছিল নতুন ভাবনা হল না আর আঁকা
কাব্য নিয়ে হল না আর ফুলের মালা গাঁথা।
ফিরিয়ে নিলাম নয়ন যখন মেঠো পথের বাঁকে?
ডেকে নিল গোধূলি আমায় সাড়া দিলাম ডাকে।
প্রানোচ্ছল হাসি দিয়ে জড়িয়ে নিলাম বুকে,
হারিয়ে গেলাম তারই বুকে গোধূলি রঙের সাথে।
বিধাতার সৃষ্টি তুমি সৌন্দর্য ভরা রুপের বাহার
তোমার রঙে রাণী করে শিল্পী কর আমায়।।

২৭/১০/১৬

জীবন নগর
- স্বজন নাহিদ

জীবনের মহাসড়কে টিকে থাকতে;লড়াই করে সবাই
আমিও করি পেটের তাগিদে চিরকাল।
বাতাসে ভাসে সোঁদামাটির' গন্ধ-
পূর্বপুরুষের সিন্ধুক হতে আসে
মরিচার নোনতা ঘ্রাণ।
জীবন যেনো ট্রাফিক সিগন্যাল
স্বপ্নের মোড়ে মোড়ে যার বসবাস
আর হাজারও চিন্তায় ঘামে, বন্দী-মন।
শীতের অনুভূতিতে ঠোঁট ফেঁটে চৌচির।
আমার ক্ষ্যাপাটে আকাশে;
থোকা থোকা মেঘ জমে আছে
মনকম্পে অশ্রু হয়ে ঝরার অপেক্ষায়।

২৭-১০-২০১৬।।মালিবাগ ঢাকা

অজানা তরী
- সেলিনা আহামেদ শেলী

রাত যত গভীর ভালোবাসা ততো বেশি
তাই প্রকৃতির সাথে আকাশের নিরব
মিলন মেলায় অনুভবে মিশে,
কোথায় যেন অমিল দিন ও রাতের ।
ব্যবধানে,প্রশ্ন আমার পৃথিবীর কাছে কী গো
তোমার কেন এতো রং ?
কেন তুমি নিরবাক, বলতে যদি কথা
তবে হতো যথা,প্রকৃতি বলে,আমি তো
বলি কথা,শুনতে কী পাও না?
আমি মিশে আছি তোমাদের নিঃশ্বাসে।
তাই জীবন নামকের জন্ম,তখন মনের
নৌকোয় বসে সেই শূন্য তরী খুঁজি,
মন বলে, ভেসে যাই নাম না জানা
দেশে, ফিরে আর আসবো কী? চাই
যদি মন , অভিমান ভেঙ্গে আসবো,
তখন ফিরিয়ে দিও না, তোমাকে
দেখলে চোখে আসে শ্রাবনের ধারা।
ও মেয়ে তুমি কেন চুপ! তবে ভালো
বাসার রং ধরাবো কি দিয়ে? দিও একটু
সাড়া , যখন চাই মন আছি তোমার
বিনি সুতার পথ চেয়ে ।

তাং ;২৯/১০/২০১৬

কখনো কি তুমি
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

কখনো কি তুমি স্বপ্ন দেখেছো
দেখোনি তো
একবার মুখ উঁচিয়েই দেখো
স্বপ্ন দেখার সেকি মজা
সে স্বপ্ন দেখে চলেছি আমি
আকাশের বুকে হেলান দিয়ে ৷
কখনো কি ভালোবেসেছো
বাসোনি তো?
একবার ভালোবেসেই দেখো
ভালোবাসায় সেকি মায়া
সে মায়ায় আমি বুঁদ হয়ে আছি
তোমার নাম তাই দিবানিশি জপি ৷
কখনো কি একা থেকেছো ?
থাকনি তো ?
একবার একা হয়েই দেখো
একাকীত্বের কি জ্বালা ?
সে জ্বালা বয়ে চলেছি আমি
বিশ্বভূমিতে অনাদিকাল ধরে ৷

হৃদাকাশের তারা
- গাজী নূরুন্ নাহার স্বপ্না

হৃদয়ের দুয়ার রেখেছি খুলে,
ওগো প্রিয়তম, তোমারই তরে,
ফিরে এসো বারে বারে,
সমস্ত ব্যবধান ভুলে।
.
লইবো তোমায় দুহাত বাড়িয়ে,
রাখবো তোমায় ভালোবাসা দিয়ে,
হৃদয়ের ঐ ছোট্ট কুটিরে,
ফিরে এসো সুখ ছড়িয়ে।
.
তুমি যে আমার হৃদআকাশেরই,
জ্বলেথাকা সেই একমাত্র তারা,
তোমায় দেখে হৃদয়ে বহে,
আনন্দেরই ঝর্ণাধারা।
.
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন সাজিয়ে, আমার ;
কাটে দিবস ও রজনী বেলা,
তুমি আমার প্রাণের স্পন্দন,
রঙিন স্বপ্নের সুখের ভেলা। ।

২৯ অক্টোবর, ২০১৬

কখনো কি তুমি স্বপ্ন দেখেছো
দেখোনি তো
একবার মুখ উঁচিয়েই দেখো
স্বপ্ন দেখার সেকি মজা
সে স্বপ্ন দেখে চলেছি আমি
আকাশের বুকে হেলান দিয়ে ৷
কখনো কি ভালোবেসেছো
বাসোনি তো?
একবার ভালোবেসেই দেখো
ভালোবাসায় সেকি মায়া
সে মায়ায় আমি বুঁদ হয়ে আছি
তোমার নাম তাই দিবানিশি জপি ৷
কখনো কি একা থেকেছো ?
থাকনি তো ?
একবার একা হয়েই দেখো
একাকীত্বের কি জ্বালা ?
সে জ্বালা বয়ে চলেছি আমি
বিশ্বভূমিতে অনাদিকাল ধরে ৷

এটাইতো প্রেম
- রাজু আহম্মদ খান

প্রতিদিন ঘরে ফিরে আসি
ঘরকে কত ভালোবাসি,
তবু হই অফিসের
যে দরকারী শো-পিছ
কতদূরে আমার সেই
বেসরকারী অফিস -
পথে কত সারি সারি গাড়ি
কত শত অচেনা পুরুষ
কত নারী সুন্দরী মানুষ,
কত উচ্ছ্বল প্রাণ খোলা হাসি
সবকিছু ফেলে ঘরে ফিরে আসি
শুধু মুখে বলি, "নো প্রোবলেম"
আর এটাইতো প্রেম -
.
বারান্দার গাছপালা টব
ফুল-পাতা- সবজির সব
একখানা পাখির বাসা
উলটো দিকে মুখ করে বাঁধা
পাখি যেন যেতে পারে ফিরে,
নিজের আসল সে নীড়ে
আখিরে ফিরাই শুধু আকাশের নীলে
নামে সন্ধ্যার অন্ধকার
জানালার গ্রীলে -
অতঃপর চারদেয়ালের সেই
চেনা চেনা মুখ,
সেই চেনা সুখ, আর অসুখ-বিসুখ
খুনসুটি, লুটোপুটি, টিভি, ফেসবুক
সব মিলে ভালো আছি,
"নো প্রোবলেম"
আর এটাইতো প্রেম ।
.
পরদিন আবার ছোটা
এটা সেটায় ব্যাগ হয় মোটা
গোটা কতেক পাল্টাই বাহন
অফিসের শুনি সাতকাহন
তারপর যুদ্ধের দামামার মত
ফিরে আসি ঘরে অবিরত
ক্লান্তিতে শরীর না নড়ে
তবু নড়াই বীরত্বের ডরে
যতই অফিস হোক দূরে
পড়ি না কভূ মাথা ঘুরে
এই দেখো, নিজ ঘরে কত
হাসি আনন্দ ফুরফুরে -
তাই শুধু রোজ বলি
"নো প্রোবলেম"
আর এটাইতো প্রেম ।
-------------------
২৯ অক্টোবর ২০১৬

শ্যামা মা
- মিঠু সিং

কে বলে মা শ্যামা
তুমি নাকি কালো ,
তুমিই মা জগৎ মাঝে
জ্বাললে জ্ঞানের আলো ।

অশুভ নাশিনী মাগো তুমি
অ- লক্ষীরে দিতে বিদায় ,
মুণ্ডমালিনী মহালক্ষী রুপে এলে
দীপাবলীর আলোক মালায় ।

জগতে তুমি তো মাগো
বিপদে বিপদ তারিনী ,
চরম সংকটে দুঃখে
তুমি মা শান্তি দায়িনী ।

যতই দুঃখ আঘাত পাই
তোমাকেই একান্তে জানাই ,
অশান্ত মনটা কখন যেন...
পায় শান্তনার ঠাঁই ।

চরম বিপদে তুমি মা
পথ দেখাও আমায় ....
তাই তো টিকে আছি
চারিদিকের বিষাক্ত ধোঁয়ায় !

চারিদিকে স্বার্থ প্রলোভনের
হাতছানি যখন সর্বক্ষণ,
সোজা পথে সোজা কথায়
রাখো মা আমার মন ।

মনে একটু শান্তি দিও
চাইনা মা নাম যশ ,
কাজে দিও ধৈর্য্য শক্তি
মনটাকে তব চরনে করো বশ।।

হামার বুনোলতা
- বিপদতারণ দাস

তু হামার বুনোলতা
তু হামার কবির লায়িকা ছিলি ,
তু হামার চুপসে যাঞওয়া পরানটতে
পিঁরিতের বান ডাঞকায় দিলি l

লয়খো হামি জীবনানন্দ
লয়খো হামি কবিগুরু ,
তবুহ তুখে বড্ডা ভালোবাসি
তুর জন্যিই হামার লিকালিকির শুরু l

কবির মতন আঁখতে লারি তুখে
হামার ফুঁটো কলমট দিঁয়ে -,
তবে চুপসে যাঞওয়া পঁরানটতে
বুখেরমাঝে তুখেরাখি বাঞগায় ধ্যরে l

ভ্রুমরা কাল চোঁখ দুট্য তুর
হামার পরান জ্বাঞলায় দিলেখ ,
ডবকা মাগি -ক্যেলে ছুঁরি
হামাখে পিঁরিতের রসট ঢেলে দিলেখ l

তুর পিঁরিতে হাবুডুবু বুনোলতা
তুর পিঁরিতে জানট দিতে রাজি ,
ডেলি ঘরে খেচি বৌএঁর ঝাঁটা -
বুঝতে লারি বুনোলতা-
তবুহ তুখে ক্যেনে এ্যত ভালোবাসি l
------O------
(আঞ্চলিক উপভাষার কবিতা )
dated ---27.10.2016
------ভুজুঙ মাঝি
©বিপদতারণ দাসের কবিতা

সময়ের কথা
- আকাশ হাসান
.
ধর্ষন হলে ঘরের কোণে আন্দোলন হয়- ‘বিচার করো’,
রাস্তাঘাটে ব্যানার ঝোলে শালার ব্যাটার ঘাড়টা ধরো।
.
উপর মহল এসব দেখে
চুপটি করে বসে থাকে,
হেসে খেলে চেয়ার দোলায়
থাকতে আমরা রাখবে কাকে !
.
আইন বলে আমি হুজুর
বলো দেখি কোনজনার ?
হুজুর বলে চুপ করে থাক
যখন যেমন তখন তার।
.
কিন্তু দেখো মোড়ে মোড়ে
বলছে ওরা পুরুষ খারাপ
কিন্তু মিয়া সব পুরুষ কি পায়ে মাড়ায় তাদের গরাব।

আজি হেমন্তে
- অনাদি চক্রবর্তী

কাশফুলগুলো ঝরে পরে গেলো
শরতের প্রান্তে,
আয় সখী যাই গাঁয়ের পথে
নবীন হেমন্তে।
অরুণ আলোর প্রভাত বেলায়
শিশির ভেজা ঘাসে,
চল ভেসে যাই সোনালী ধানের
মিষ্টি মধুর বাসে।
কাজলা দিঘীর বুকে ফুঁটে আছে
পদ্মেরা দলে দলে,
শিউলি কামিনী হিমঝুরী ফুল
ফুঁটে আছে ডালে ডালে।
উড়ে এসে সব বালিহাঁসগুলো
বসে আছে আলে আলে,
খুঁটে খুঁটে খাবে ঝরে পরা ধান
ধান কাটা সারা হলে।
এই হেমন্তে আসবে সে রাত
দুলবে আলোর মালা,
সব আঁধারের অবসান মাগি
যে রাতে প্রদীপ জ্বালা।
স্বপ্ন রঙীন দিগন্ত আজ
কৃষকের বোনা ধানে,
শ্যামলা বরণী পল্লী বালা
স্বর্ণালী আভরণে।
হাতে হাতে আজ কাস্তে উঠেছে
কাটা হবে পাকা ধান,
নতুন অন্নে হবে নবান্ন
চেয়ে আছে অঘ্রান।

কোলকাতা , ২৮/১০/১৬

চাষাবাদ
- শাহিনা কাজল

মেঘহীন অাকাশে ঝিলমিল রোদের খেলা
অনাবাদী শুষ্ক জমিতে দাবদাহে চৌচির কঠিন মাটি।
শুশ্রূষাহীন অন্তরে
সংজ্ঞাহীন উঞ্চতা পেতে আলিঙ্গনের সেচ
দেবো মাটির বুকে।
সংকোচ দ্বিধায় দিশেহারা ছোট্ট এ জীবন
এতটা চুলচেরা হিসেব করে চলা যায় ?
মেঘের চুম্বন জলে সিক্ত হতে বড় সাধ জাগে
দশ ফলা লাঙল দিও অনাবাদী অন্তরে
কার্তিকের শেষ দশে সুফলা বীজ বুনে দিও
অাবাদ ই ভালো; কী হবে অনাবাদী থেকে ?
সময়ের পায়ে পায়ে কাল ফুরোনোর অাগে
নিঃস্ব, ভূমিহীন চাষীকে বর্গা দেবো
শ্রমের সফল অাবাদ হবে ।

নদী
- দিব্যেন্দু সান্যাল

হিমেল শরীর ঘুমে অবয়ব মেলে
মুগ্ধ বিলাস আমার ।
শরীরের লোভে আসে আলো
শীতল শরীর জুড়ে
উদ্বেল উত্তাপ চুম্বনে সুনিপুণ খেলা তার ।
এ খেলার অপরূপ শোভা দ্যাখে কারা !
একদল ট্রেকারের একজন ছিটকে পড়ে
ভয়াবহ খাদে ।
আমার শরীর থেকে গলে ভালবাসা
ভালবাসা গলে
ভালবাসা রূপ খোঁজে ছলাৎ ছলাৎ
আর কিছু রং
তোমার শরীর ছুঁলে তোমার শরীর
ভোরের আলোকে ছুঁলে কাঞ্চন মালা
পাখিদের স্নান শেষে
পালকে পালকে আমি রোদ মেখে হাসি ।
রূপ খুঁজি আমি রূপহীন
রং খুঁজি রংহীন আমি
ভালবাসা রূপ আর রং খোঁজে
যেমন হারায়
সেই দিকে অন্তিম একাকী এক অরূপে মিশে
আমিও হারাই ভালবেসে ।

। ঝড় ।
ঝড় উঠেছে চুপি চুপি মাঝসাগরে, দেখেনি কেউ।
শান্তজলে হঠাৎ করে পাহাড়প্রমাণ উঠেছে ঢেউ,
জল বলেছে আকাশ ছোঁবো। সে আবদারে সাড়া দিয়ে,
শনশনাশন বইছে বাতাস নিজের যত জোর লাগিয়ে,
প্রলয় বুঝি আসবে নেমে আচম্বিতে। সব নরকের দরজা খোলা,
ঢেউয়ের তোড়ে বিশাল জাহাজ ভাসছে যেন মোচার খোলা,
হাল নড়ে যায়, পাল পড়ে যায়, নাবিকরা সব ডাকছে ত্রাহি, সামাল সামাল,
শান্ত সাগর এক লহমায় পাল্টে গিয়ে দস্যু দামাল,
লুঠতরাজ চলতে পারে অবাধভাবে দুনিয়া জুড়ে,
কখন যে তার হামলা হবে সেই ভয়ে তীর ক্ষণে ক্ষণে কাঁপছে দূরে,
ছাগলছানা যেমন করে কাঁপতে থাকে বলির আগে,
ঢেউগুলোকে আকাশপানে ঝড়ের দানব দিচ্ছে ছুঁড়ে দারুণ রাগে।
মেঘ ছুঁই ছুঁই সাগর দেখে গুণছে প্রমাদ যতেক নাবিক, জেলে এবং পারের মানুষ,
হোক না যতই অগ্রগতি ঘুর্ণীঝড়ের ব্যাপক ক্ষতি আজও ভয়ের; ঝটতি নেভে গর্ব ফানুস।
আর্যতীর্থ

। ঈশ্বর নিরুত্তর ।
এখানে দিন হয় না, রাত্রিরও প্রবেশ নিষেধ। সময় থমকে আছে অনন্ত অপেক্ষায়।
সুখ,শান্তি,ভালবাসা নুড়িপাথরের মত চলতে চলতে বাজে পায়ে পায়ে।
জায়গাটা স্বর্গ। সেখানে ঈশ্বর থাকেন। সেখানে আজ, দাঁড়িয়ে কেউ,
ছায়া? নাকি খুব চেনা এক কায়া, স্মৃতির গহনে ডুবে জগতপিতার মনে তোলে চেনা ঢেউ?
কে ওখানে? ভগবান হন উচাটন, অবশেষে মুখ খোলে সেই একজন।
'পিতা, আমি ইভের সন্ততি, আদমের থেকে শুরু বিস্তার যার,
মানুষ আমার নাম, মুঠোতে বেঁধেছি আজ সারা সংসার।
বহু যুগ ধরে মনে প্রশ্ন জমে আছে, বহু ভেবে বহু খুঁজে অধরা উত্তর,
এসেছি তারই খোঁজে। 'ভগবান প্রমাদ গুণলেন।বুঝলেন, উঠবে সে ঝড়,
প্রথম সে পাপে প্রায় গলাধাক্কা দিয়ে যখন করে দিয়েছিলেন বিদায়
সেই কালমুহূর্ত থেকে ভগবান ভীত এই ঝড়ের আশঙ্কায়।
তবু, জলদমন্দ্র স্বরে বললেন, 'বলো'। মানুষ বলল, 'হে পরমপিতা
তোমার থেকে তো লুকানো থাকেনা কোনো কাজ, চিন্তা বা কথা
তাহলে তোমার অগোচরে কিভাবে ঢোকে শয়তান তোমারই উদ্যানে?
যেই গাছ ভরে আছে জ্ঞানবিষফলে, কেনই বা সেই গাছ শোভা পায় তোমার বাগানে?
স্বর্গ থেকে বিতাড়িত মানব যে হলো, সে কি তার পাপে নাকি তোমারই ইচ্ছায়?'
ঈশ্বর নিরুত্তর। এ অমোঘ প্রশ্নের হয়তো উত্তর নেই তাঁর কাছে,
নাকি আছে, ভীত তিনি সেটা বলে দিতে, ভক্তকে হারাবার ভয় তারও আছে!
স্বর্গের থেকে ফের ফেরত মানব, আবার প্রশ্ন নিয়ে, জবাব অধরা
কিছু কিছু উত্তর না জানাই ভালো, ভেবে নিতে হয় কিছু কথা মনগড়া।
আর্যতীর্থ

তর্জনীর নি:সঙ্গতা
- মুকুল রায়

আমি তো তোমার কাছেই ছিলাম
ওষ্ঠ থেকে মুছে ফেললে না ভুল
হাতের মুঠোয় চোখ না রেখে
অবিরাম খুঁজলে চারিদিকে...
অনামিকার পূর্ণতা বুঝলে না তুমি
হাত মুঠো করার সময় অনামিকা না ছুঁয়ে ..
তোমার অঙ্গুরিয় স্পর্শ করল বৃদ্ধাঙ্গুলি...
এবং তর্জনীর নি:সঙ্গতা..
আর-
আচঁলে দুচোখ মুছে
বিপরিত বাতাস থেকে মুখ ফেরালে অন্যদিকে...
আমি তো তোমায় ঘিরে রাখা বাতাসেই ছিলাম-
বাতাসে বাতাসে তুমি ফাগুন দেখলে না
আমার দেয়া কৃষ্ণচূড়ার সব রঙ ফেলে
আমার থেকে দুপা পিছু হটে গেলে...

পথ ভোলা
- সেলিনা আহামেদ শেলী

টক টকে ঐ সূর্য আমায় ডাকে
একটু ছুঁয়ে যাবে বলে,তাই ঘুম
ভাঙ্গে আমার, পাখি ডাকা ভোরে
এমন সকাল দেখি নি তো আগে
বৃষ্টি ঝরা আকাশ মন্দ লাগছে না ৷
আজকের সকাল দেখি হাসি দিয়ে
উঠেছে, এই হাসির পিছনে কী
লুকিয়ে আছে ?একটু টুকরো রৌদ,
হয় তোবা মেঘ, পাখি বলে ভিজে
গেলাম,বৃষ্টি ঝরে বুঝিয়ে দেয়, এই
পাখি কি বলিস? তোর ঠান্ডা লাগবে ।
পাখি পালক ঝেরে বলে তাতে কী ?
আমার অভেস আছে ভিজে,বাহ বেশ
বলেছিস ! ধূলো মাখা পথ ভুলে বৃষ্টি
ঝরে ধুয়ে মুছে আকাশ সাজবে এসো
তুমি আমি ঢেকে নিবো ভালোবাসার চাদরে ।

তাং :২৮/১০/২০১৬

"ম‌নোরম হেমন্ত ঋতু"
***রহমান মাসদ***

হেম‌ন্তের ম‌নোরম নজরকার‌া প্রকৃ‌তি
ভাবুক মন‌কে ক‌রে‌ ক্ষ‌ণেক্ষ‌ণে উদাসী,
আন‌ন্দ জ‌োয়ার বাউল ম‌নে দিবা‌নিশি
হে প্রিয় হেমন্ত তোমা‌কেই ভালবা‌সি।

ভো‌রের ঊষার আগম‌নে সবুজ পল্ল‌ব
শিশির স্না‌নে বিন্দু বিন্দু মুক্ত ঝড়ায়,
মন মাতা‌নো প্রাণ জুড়া‌নো হি‌মেল বায়ুর
শীতল ছোঁয়ায় হৃদ‌য়ের তৃ‌প্তি বাড়ায়।

মধ্য গগ‌নে প্রভাক‌রের তেজের বৃ‌দ্ধি
স্নিগ্ধ মধুমাখা কির‌নে দুপু‌রে‌রই প্রা‌প্তি,
মা‌ঠে মা‌ঠে সোনার ধা‌নের অপূর্ব ঘ্রাণ
শ‌োনায় নবান্ন উৎস‌বের আগমনী গান।

কাঁচা ‌সোনা মি‌ষ্টি রো‌দ্রের সৌম্য বি‌কাল
বাঁ‌শি সু‌রে গভীর ঘো‌রে মগ্ন রাখাল,
সু‌রের মূর্ছনায় দিবাক‌রের বিদায় ঘন্টা
ঈশাণ ক‌ো‌ণের র‌ক্তিমতায় আপ্লুত মনটা।

সন্ধ্যার গোধূ‌লি ল‌গ্নে প‌া‌খির কলরব
মে‌লে হালকা হালকা কুয়াশার অবয়ব,
সারা দি‌নের ক‌র্তিত ধা‌ন গাছ স্তুুপাকার
প্রস্তু‌তি ঘ‌রে ঘ‌রে মারাই‌য়ের ব্যবস্হার।

রা‌তে মেঘমুক্ত নির্মল নীল আকাশ
পূ‌র্নিমার আলো‌তে মারাই‌য়ের অবকাশ,
উঠা‌নে মহা ধুমধা‌মে ধা‌নের মলন
আত্নতৃ‌প্তি‌তে ফস‌ল গোলায় সংরক্ষন।

মাঠে পাকা ধান
- জুলফিকার আলী

চাষীর মুখে ফোটে হাসি
মাঠে পাকা ধান,
গাঁয়ের পথে বাউল কবি
গায় যে সুখে গান|
কলমিলতা বিলের জলে
তিড়তিড়িয়ে ওঠে,
ডাহুক মরাল বক সেখানে
মৎস্য ধরে ঠোঁটে|
অরুণ আলোয় সোনার সকাল
শিশির পড়ে গড়িয়ে,
খেজুর রসে পিঠা পায়েস
নবান্ন উৎসব জড়িয়ে|
সর্ষে বনে ভ্রমরা নাচে
ছাতিম ফুলের গন্ধ,
হেমন্ত রূপ দেখে খেলে
কবি মনে ছন্দ|

বাংলা মা
- মার্জেনা চৌধুরী

আমি কৃষানী মা তোমার
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালি শুনি ত্রিপিটক বাণী,
উলু দিতে দেখি তুলসি তলে
কোরআন পড়ি নামাজে যাই আজান শুনি !
আমি কালবৈশাখী ঝড়
সমুদ্রে সাইক্লোন,
ঘরে ফিরবো না আর
ভাসাবো বন্যা সাহসে চতুষ্কোণ !
আমি কাঙ্গালের প্রাণের প্রাণে
ফুটাবো ফুল নিলয় বাহারে,
মরুর প্রান্তরে আষাঢ় গাইবে গান
পূর্ণিমা ফুটবে অমানিশার অন্ধকারে !
আমি জাতের বিচারে ব্যস্ত নই
জাতির কলংক নাশ করি,
বাংলার নারী তব ভীতু নই
মায়ের সন্মান আদায়ে হাসিমুখে মরি !
বসন্ত বিহারে আমি কোকিলের গান শুনি
ফাগুনের আগুনে ফোটে ফুলের কলি,
চেয়ে চেয়ে দেখি আর ভাবি
এমন যদি হতো আমার বাংলা মায়ের দিনগুলি !!!

আমি জান্নাত বলছি
- মোহাম্মদ জহিরুল হুদা

এখানে ফাঁসির দাবী নিয়ে দাঁড়াইনি ,
দাঁড়াইনি কোন তদন্তের দাবী নিয়ে ,
এ প্রতিবাদে রাজপথ বন্ধ হবে না ,
প্রতিশোধের চিন্তা করতে সক্ষম নই ,
আজ এখানে আমি-
কেবলমাত্র সাক্ষ্য দিতে দাঁড়িয়েছি ,
দাঁড়িয়েছি অপেক্ষার কৈফিয়ত দিতে,
আজ আমার স্বামী ঘরে ফিরেনি ,
নিত্যদিনের মত ঘরে ফিরেনি আজ,
অথচ না ফেরার কোন ঘটনা ঘটেনি,
বেলা ডুবার আগেই ঘরে আসার কথা,
আজ তাকে বিশেষ খবর বলব,
বলব আরেকজন আসার সংবাদ,
প্রতীক্ষমাণ ছিলাম সারাবেলা,
তিনি আজ ঘরে ফিরলেন না,
জানানো গেল না আগতের কথা,
কেহ বলে- তুমি না-কি হারিয়ে গেছ ,
আরেকজন বলে- তুমি তো নিখোঁজ,
দুর্মুখ বলে তুমি না-কি লুকিয়ে রয়েছো,
অনেকে বলে তোমাকে গুম করা হয়েছে,
আর আমি বলি -
নিখোঁজ কিংবা হারিয়ে যাক বা লুকিয়ে থাক অথবা গুম হোক-
আমার মানুষটা ঘরে ফিরেনি ,
এটাই সত্যি ,এটা বাস্তবতা ,এটিই ঘটনা,
না ফিরা মানুষকে
ফিরে পাবার পদ্ধতি কী -
গুম হওয়া মানুষ খোঁজার
কোন পদ্ধতি জানা নেই আমার ,
কেউ বলে থানায় যাও, ডাইরি কর,
কেহ বাঁধা দেয়,
কেউ বলে তারাই তো -
তুলে নিয়ে যায়,
কেউ বলে বিজ্ঞাপন দাও ,
কেউ বলে হাসপাতাল যাও ,
দুর্মুখ বলে -
পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে খোঁজ নাও,
নতুন বৌ নিয়ে পালিয়েছে কোথাও,
জাতিসংঘের মিসিং পারসন ব্যুরোতে নাম লিখাও,
পীর ফকির, গণক ঠাকুর সবার কাছে যাও,
সবখানেতে নাম লিখাও, যদি খুজঁতে চাও,
হেথায় খুঁজি, হোথায় খুঁজি, তবু নাহি পাই,
দিন গেল, মাস গেল, বছর ঘুরে গেল,
প্রতিক্ষণ আমি কেবল-
ফোঁস ফোঁস করেছি , হেঁচকি তুলেছি , সর্বদাই কেঁদেছি ,
ছটফট করেছি ,
কচ্ছপ দশায় পরেছি,
কচ্ছপের মত -
আমি উল্টো হয়ে পরেছি ,
ঠিক হবার জন্য
আমি ছটফট করছি।
সাহায্য ছাড়াই আমি -
উঠে দাঁড়িয়েছি।
হেতেনে আমার না ফেরার পর -মাতৃত্বের রূপ পেয়েছি ।
গুমোত্তর জাতকের
মা আমি হয়েছি।
সিরাজ নামে তোমার সন্তান
বড় আমি করছি।
সিরাজের ভিতর আমি -
তোমাকেই দেখছি।
কষ্টেসৃষ্টে, রোগে, শোকে-
পাগলী হয়ে গিয়েছি,
মানুষটার জন্য আমি -
অপেক্ষাই করছি।
মানুষটার অফিস থেকে-
কিছুই আমি পাইনি,
মৃত্যু সনদ না দিলে ভাই,
কিছুই না-কি পাব না।
কীভাবে মৃত্যু সনদ-
দাখিল হবে জানি না,
অর্থ কষ্ট বড় কষ্ট,
না পরলে কেউ বুঝে না।
দরদীজন বলে আমায়-
বিয়ে কেন কর না ?
স্বামী আমার মরেনি -
তাই বিয়ের কথা চলে না।
অভাবের জীবনে আবার -
মাথা কাজ করে না,
তোমার সিরাজ স্কুলে যায়,
সাথে আমি হাঁটছি।
বাঁদর ছেলে সিরাজ আজ
পেন্সিল হারিয়ে ফেলেছে,
পেন্সিল হারিয়ে ছেলে -
আজ মায়ের জিদ্দি দেখেছে।
সিরাজের রক্তেমাখা দেহখানা দেখছি,
সারারাত গুমরে উঠে
ভীষণ ব্যাথায় কেঁদেছি।
তোমার সিরাজ তোমার বাড়ী-
আজ প্রথম এসেছে,
গ্রামের বাড়ী দেখে চোখ ছানাবড়া হয়েছে ।
বাড়ীর সবাই গন্ধ শুকে,
তোমার ছেলেকে চিনেছে ।
বাড়ীর ছেলে
বাড়ীতে আজ এসেছে।
এ বাড়ীর অংশীদার হয়েও-
তোমার ছেলে উত্তরাধিকার নয়,
উত্তরাধিকার হতে গেলে -
মৃত্যু সনদ দেখাতে হয়,দেখতে চায়।
এমন শাস্তি হে দয়াময় কাউকে দিও না ।
অপছন্দের কথা বলে নিজকে প্রবোধ দেই,
খোয়াবনামা নিয়ে আমি কেবল জেগে রই,
কষ্টে কষ্টে সিরাজ আজ নিবে গিয়েছে,
চলে গিয়ে সিরাজ আজ ভালই করেছে ,
সিরাজের অপেক্ষা আজ নিবে গিয়েছে।
তোমার গল্প আমি সিরাজকে বলতাম,
আজ আমার গল্প শোনার কেউ রইল না,
এখন আমি প্রতীক্ষা করি নিজ মৃত্যুর,
জীবন চক্রীয় , রহস্যঘন ঘুরপাক ,
চক্র ঘুরছে,
আমি পরাজিত মানুষ -
খোয়াবনামা নিয়ে কেবল প্রতীক্ষা, এটুকুই আমার সাক্ষ্য,
কোন ক্ষোভ নেই আমার ,
আমার কোন ক্ষোভ নেই।
কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই,
দোষারোপ করি না কাউকে।
কেবল কৈফিয়ত,
একজন না ফেরা মানুষের জন্য।
© ওশ্যাঘর।

নিঃশ্বাস
- দেবজিৎ মুখার্জি

উৎসব মুখরিত মাস,
কোলাহলে মুখরিত দিন,
উন্নয়নের আশ্বাস
দেয় ,মাথার উপর জমা ঋণ।

আশার বেলুনে থাক ফুটো,
আকাশে বাতাসে ভুয়ো আশ্বাস ,
শপথ বাক্য গুলো ঝুটো,
ঝুটো সাংবিধানিক সব বিশ্বাস ।

তাই তো জঙ্গী হয়ে শুয়ে ,
বারো জোড়া তরুণের লাশ,
দিন বদলের ডাক দিয়ে,
ছেড়ে গেল শেষ নিঃশ্বাস ।

কেমনে বহিব পৃথিবীর ভার(গান)
- শামীম রায়হান

আজব দুনিয়াতে বসে আছি শাই
রাতে স্বপ্ন দেখি দিনে আবার নাই,
দিনে সূর্যের খেলা দেখি রাতে চান্দের পসরায়
মানুষ করেছো ভবে আশার শেষ কোথায়।।
লাশ-কাটা ঘরে কাটে কতো স্বপ্নের বুক
দেহ আর আত্মা যোগবিয়োগ উজবুক,
রাস্তায় হবে মরন নাকি ঘরে
আগে জানিতে পারতাম যদি কোন রকম করে।।
প্রভাত আলো দেখিলাম এইতো সেদিন ওহে শাই
ঘুম ভেঙে দেখি মাঝবেলা নাই,
ভাবিতে ভাবিতে দেখি সন্ধ্যার রাগের রজনী
আশা-ভরসার সুখ-দুঃখ ভালবাসা পেলাম দিলাম কতোখানি।।
কূল ভাসে কূল ভাঙ্গে বয়ে যায় বেলা
জন্ম যৌবন মৃত্যুর তিন মেলা,
মাটির দেহের ভার বহে পৃথিবী দুই দিনের লাই
কেমনে বহন করিব এই পৃথিবীর ভার কবরেতে শুই একেলাই বলো শাই।।

লাল ঝুটি টিয়া
- মুকুল রায়

লাল ঝুটি টিয়া রে
তোর নাকি বিয়া রে
কালো কাক দিয়া রে
লাল ঝুটি টিয়া রে
সব ছেড়ে দিয়া রে
কাক হলো পিয়া রে..?
লাল ঝুটি টিয়া রে
তোর হবে বিয়া রে
কাঁদে মোর হিয়া রে..
লাল ঝুটি টিয়া রে
মজার এ বিয়া রে
দেখব তো গিয়া রে...

হেমন্তিকা
- শীলা ঘটক

ফিরে এসো হেমন্তিকা
দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষা শুধু তোমার জন্য।
দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ক্লান্ত মন
ছুঁতে চায় তোমায়,
উন্মুক্ত দ্বারে দাঁড়িয়ে রয়েছি, তোমার অপেক্ষায়।
সাদা মেঘের আবরণ সরিয়ে দাও
ফিরে এসো আমার কাছে,
দুহাতে ছুঁয়ে দেখবো তোমায়--
হিমেল ছোঁয়ায় যুবতীর প্রেমে উন্মত্ত দোলা!
###
কাছে এসো, দুচোখ ভ’রে দেখি তোমায়
ভরা যৌবনের শিরশিরে অনুভূতি
ছুঁয়ে যায় শরীর-মন আমার!
তোমার ভাবনায়—তোমার চিন্তনে
আবিষ্ট চিত্তে ডুবে যাই।
এসো এসো হেমন্তিকা
আকাশ প্রদীপ জ্বেলে রেখেছি
শুধু তোমার জন্য,
স্পর্শ করো আমায়
ছুঁয়ে দেখি তোমায়,
এই ক্ষণিক বেলা শুধু তোমার আর আমার।

শীলা ঘটক কোচবিহার ২৭/১০/২০১৬ সন্ধ্যে ৭।৩০

উদাস
- সেলিনা আহামেদ শেলী

কিচির মিচির শব্দ শুনি তোকে দেখতে
পায় না,কেন তুই লুকিয়ে আধাঁর নেমে
পাতার আড়ালে, তাই বুঝি ডাক শুনি
দেখা মেলে না,পাখি বলে আমি তোমায়
দেখি,ইচ্ছে করে নিজেকে রাখি লুকিয়ে,
ও দুষ্ট পাখি, এইতো এখন একটু লেজ
দেখতে পাই,কিছুটা সরে গিয়ে পাখি বলে,
এখন কী দেখতে পাও?এই বকা,এখন তো
পুরোই দেখতে পাই! কি ভাবে, তুই যখন
কথা বলিস আমি তখন লুকিয়ে সামনে যাই৷
তুই কি আমায় খুব বেশি ভালোবাসিস মরে
গেলে কি হবে? উওরে পাখি উড়ে বলে,আমি
যদি মরে যাই,তোমার আগে?জানি না কি করে
বাচঁবো তোমায় ফেলে ? ডালে ডালে পাতায়
জরিয়ে চোখে জল মুঁছে নিবে কে? ওরে পাখি
দরদিয়া ভালই তো বুঝিস কদর,কাছে আয়
তবে করে দেই আদর,মায়াবী প্রকৃতি সেজেছে
লতায় যেমন,ঝরিয়ে গাছে,ফুল তেমন সুভাসে আবেশ
ছড়ায় ভেবে ভেবে উদাস পাখি ভাবে শুধু অকারনে ।

তাং ; ২৭/১০/২০১৬

রক্তের ভাগ দে বণি আদম
- মোশ্ রাফি মুকুল

অতঃপর;
বৃত্তের বাইরে কান পাতলেই নাকে আসে নরকের ঘ্রাণ
বাতাসে গিজগিজ করছে জোঁকের দোসর
রক্ত।চোষক পরজীবী জীব গুলো অচিরেই করতে চায় পেশার পরিবর্তন।
প্রত্যেক-
শোষকেরা মৃত্যুর আগেই লিখে যায় দোজখের চিঠি
সব দূর্নীতিবাজ লুটেরারা নিজস্ব জাহান্নাম কিনে রাখে ইহকালে,
চেহলামের ভার নেয় যোগ্য উত্তরসূরী।
প্রত্যেক মানচিত্রেই আছে হাবিয়া দোজখের পাহারাদার...
তারপর;
জোঁক গুরু লোভের পালকিতে বসে করে তাত্ত্বিক ধ্যান
চাটুকার বোবা হলে তেড়ে আসে রাগ...
এবার তীর্থযাত্রার আগেই ঈশ্বর চেয়েছে সাতশো কোটি বণি আদমের হালাল রক্তের ভাগ।

ভীষণ ভয় করছে
- স্টেলা সীমা গমেজ

মা, তুমি শুধু দিন গুনছো
আমি কবে আসবো,
আমি জানি বুঝতেও পারি,
তুমি আমায় অনেক ভালবাস।
তুমি আমার দিদিকেও খুব ভালবাস তাইনা মা ?
কাল দিদি বাবাকে বার বার প্রশ্ন করছিলো,
ওরা কি দিদিকেও মেরে ফেলবে ঠিক তনুর মত?
আমি তখন ডুঁকরে কেঁদে উঠেছিলাম।
তোমারা সবাই তনুর কথা বল
মা, ওরা কেন তনুকে মারলো?
আমার দিদি, আরো কত দিদি !
বাবা কি সবাইকে রক্ষা করতে পারবে?
আমি আসার বছর কয়েক পর
ওরা আমাকেও তো খেয়ে নেবে।
মা, আমার ভীষণ ভয় করছে
ওরা তোমাকেও ছাড়বে না,
দিদিকে না, আমাকেও না।
আমি আসতে চাইনা মা,
আমি তোমার গর্ভেই থাকতে চাই।
সুন্দর পৃথিবী দেখাবে বলে
আমায় আনতে ব্যস্ত হলে,
কিন্তু ওরা তো আমার সব কেড়ে নেবে!
ফেলে রাখবে কোন ঝোপ ঝাড়ে।
আমি আসতে চাইনা মা,
আমার ভীষণ ভয় করছে !!

(৫ বছরের পূজা দাসও নরপিশাচ সাইফুলের চোখে তরতাজা মাংসপিন্ড)
© Copyright Stella Shima Gomes

আলোকমালা
- শ্যামল কুমার মাইতি

ঝলমলে আলোয় সাজছে মনও,
টলমলে ভাবনারা মিটমিট ক'রে-
থাকলে থাক না পড়ে এক কোণে,
উজ্জ্বল হোক সে-ও যে চায় হতে।
ঝরে ঝরে পড়ুক দমিত ইচ্ছেরা-
যারা লাজুক বেশ আঁধারে,
বসত গড়ুক আলোকমালা হয়ে অনুভূতি-
যারা হঠাৎ-ই আসে মনে।
মরশুম পাল্লা দেয় নিজেরই সাথে-
ফেলে আসা বছর নেয় যে পিছু,
ডেকে যেন বলে, আরও সাজো-
দেখাও তোমার নতুন যা কিছু।
সাজতে বসে নিজেকে ভালোবাসে-
অজান্তে পরকে দিয়ে দেয় আনন্দ,
নিজেও খুশি হয়ে উৎসাহ পায় আরও-
কমনীয় হয়ে উঠতে সাদামাটা চোখেও।

---শ্যামল কুমার মাইতি
25.10.2016

জীবন দর্শন
- সালিম আল-দ্বীন

নির্বাক নয়নে বিকেলের বাতায়নে দাড়িয়ে
ব্যথাভরা হৃদয়ে চেয়ে থাকি এভাবেই
ক্লান্ত রঙা সূর্যের দিকে অপলকে
শোনাই তাকে স্বার্থে মোড়া জীবনের গল্প-
সূর্য কেমন যেন বিমর্ষ হয়ে পড়ে,
বেদনায় মূহ্যমান হয়ে বলে,
‘মানব রিপুর বিষাক্ততায় আমি বড্ড মলিন,প্রায় বিলীন।
স্বার্থের হানাহানি আমি সইতে যে পারি না!
আমার ব্যথাতুর হৃদয় প্রত্যহ ছুটে সন্ধ্যায়-
গাছের জটলাবাধা আঁধারে প্রশান্তির আশায়
ঐ আঁধার যেন আমার পরম বন্ধু
শুষে নেয় মমতায় বুকে জমানো যত বেদনা
তবু কেন জানি সে শুষতে ব্যর্থ-
মনের গহীনে লুকানো স্বার্থের আঘাতের বিষাক্ততা!
ঐ বিষাক্ততায় গাছের জটলাতেও আঁধারের রিক্ততা !
সন্ধ্যার শুকতাঁরার দিকে চাইতেই-
দ্বিগুন আলোয় উদ্ভাসিত চেহারায় কেমন যেন হাসে
যেন গভীর অরন্য থেকে ধ্যান শেষে আসা এক সফল আত্না!
নীলিমাকে ছুঁয়ে নির্লিপ্তভাবে আমাকে সে বলে,
‘জান,এ প্রাপ্তির রহস্য কি?
মানব রিপুর নীল সয়ে সয়ে আজ আমি এত্ত উজ্জ্বল!’
হতাশার মাঝেও আমি যেন সান্ত্বনা পাই-
শুকতারার অনুপ্রেরনা-ই আজ আমার সম্বল।

Copyright লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত
২৮-১০-১৬

*** হতাশার রাজটিকা ***
সালামিন ইসলাম সালমান

একপেশে জীবনের সীমানা হয়নি শেষ
অপূরনীয় ক্ষতটা আশা নয় কারো,
মেয়াদ বেড়েছে যত, মাথা কেন অবনত
প্রভেদ প্রতিভাত করে তব তুমি মরো।



স্থিধতী হয়েও মোরা রাগ-হিংসা-দ্বেষ রাখি
করি অন্তহীন একাগ্রতার সাধনা,
তথাপি পাপি নয়, অন্তরে উদিত হয়
কল্যান শোধন করি এই তব কামনা।

সত্যের নিবিড় সাধনায় নীরবতা ভেঙেছে আজি
বাহানা চাইনি তবু মিছে কেন পাই,
ওহে মানব সুজন, জাগেনি মনের কুজন
হতাশার রাজত্ত্বে মন বড় অসহায়।

ক্লান্ত অবসন্ন দেহে লুটিয়েছি মৃত্তিকায়
জ্ঞান তাপসেই দেখি ধোয়াশার মাঠ,
অবশ দেহ চলে, নিরাশার তালে তালে
শত্রুর প্রস্তর আঘাতে রক্তিম অবারিত ললাট।

কষ্টের অবছায়া চৈতন্যকে সমাচ্ছন্ন করেছে
ছিটকে পড়েনি তবুও আশার আলো,
বুনেছি স্বপ্ন কত, হতাশা পেয়েছি তত
সোনার জীবন বুঝি অতীত হারালো।

ব্যঙ্গ বিদ্রুপে বারবার উৎসাহ পেয়েছে মন
হৃদপিন্ডের কাঁপুনিতে তব কেন মরিচিকা,
স্বপ্ন ফেলেছি খালে, নর্দমার পঁচা জলে
কপাল খোদাই করে অাঁকি হতাশার রাজটিকা।

বৃষ্টির খোঁজে
- চিন্ময় প্রামাণিক

খবর এল--হাওয়া অফিস থেকে,
বৃষ্টি, আর আসবে না ! তবুও,
এক অবর্ণনীয় চাপা কষ্ট !
সময়ের সঙ্গী ।
ঝড় উঠল তবুও--কালবৈশাখী,
ঘরের চালা উড়িয়ে, যখন সব চুপ-
বৃষ্টিপাত হল, চোখের আড়ালে ।
ভাষাহীন--কাগজের নৌকা,
ভাসিয়ে দিলাম বৃষ্টি খোঁজে ।
তবু, খবর এল--হওয়া অফিসে-
বৃষ্টি, আর আসবে না কখনো !

ভীষণ ভয় করছে
- স্টেলা সীমা গমেজ

মা, তুমি শুধু দিন গুনছো
আমি কবে আসবো,
আমি জানি বুঝতেও পারি,
তুমি আমায় অনেক ভালবাস।
তুমি আমার দিদিকেও খুব ভালবাস তাইনা মা ?
কাল দিদি বাবাকে বার বার প্রশ্ন করছিলো,
ওরা কি দিদিকেও মেরে ফেলবে ঠিক তনুর মত?
আমি তখন ডুঁকরে কেঁদে উঠেছিলাম।
তোমারা সবাই তনুর কথা বল
মা, ওরা কেন তনুকে মারলো?
আমার দিদি, আরো কত দিদি !
বাবা কি সবাইকে রক্ষা করতে পারবে?
আমি আসার বছর কয়েক পর
ওরা আমাকেও তো খেয়ে নেবে।
মা, আমার ভীষণ ভয় করছে
ওরা তোমাকেও ছাড়বে না,
দিদিকে না, আমাকেও না।
আমি আসতে চাইনা মা,
আমি তোমার গর্ভেই থাকতে চাই।
সুন্দর পৃথিবী দেখাবে বলে
আমায় আনতে ব্যস্ত হলে,
কিন্তু ওরা তো আমার সব কেড়ে নেবে!
ফেলে রাখবে কোন ঝোপ ঝাড়ে।
আমি আসতে চাইনা মা,
আমার ভীষণ ভয় করছে !!
© Copyright Stella Shima Gomes

মানুষ কিভাবে এগিয়ে যায়
- দিব্যেন্দু সান্যাল

দিগন্ত দৌড়ে আকাশ ছুঁয়েছে মাঠ ।
সারা মাঠময় ধানের সবুজ গাছ ।
এক এক করে অজস্র অসংখ্য ধানগাছ
কাদা আর মাটি সেঁচে
এত সবুজ মেখেছে কিভাবে কিজানি !
সবুজ একার নয়
মাঠ জুড়ে সবার সবুজ
একটাই সবুজ স্বপ্ন ওদের
হাত ধরাধরি করে
সবাই সবুজ চোখে তাকিয়েছে নীল আকাশের দিকে ।
মানুষেরা এইভাবে তাকায় না কেউ কারু দিকে ।
ভিজে স্যাঁতসেঁতে প্রাচীর পড়েছে খসে
ক্ষুদে ক্ষুদে পিঁপড়েরা বেরিয়ে পড়েছে সার বেঁধে
ভয়ানক যদিও পথ তবু
সবার একটা পথ
সবার একটা গতি
একটাই জীবন স্বপ্ন ওদের ।
সামনে বন্ধু আর পিছনে বন্ধু নিয়ে
সবাই এগিয়ে যায় একটাই স্হির দিকে,
সংগ্রাম সোহাগ মেশা শাশ্বত জীবনের দিকে ।
মানুষেরা এইভাবে এগোয় না কেউ কারু দিকে ।
আমি জানি
তুমি জান
আমরা সবাই জানি
মানুষেরা কিভাবে তাকায়
কিভাবে এগিয়ে যায় কোন দিকে ।

এ লগ্নে
- শাহিনা কাজল

শরতের শুভ্র অাকাশ কুচি কুচি হয়ে
শিশিরের মত গলে গলে স্বচ্ছ মাটির বুকে
অাত্মচিৎকারে জমাট বেঁধেছে গহীন অরণ্যে
তাই--
এখন অার তোমাকে নিয়ে ভাবি না
অনুভূতি তুমি কেড়ে নিয়েছো বলে।
এখন অার তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি না
শিশির গুলো রজনীগন্ধা ছুঁয়েছে বলে।
এখন অার কারো জন্য অপেক্ষায় থাকি না
গোলাপী ঝিনুকের মুক্ত ক্ষয়ে গেছে বলে।
এখন অার কারো জন্য অশ্রু ঝরাই না
ঝরাতে ঝরাতে সব অাবেগ ঝরে গেছে বলে।
এখন কারো জন্য সাজতে ভালো লাগে না
হেমন্ত বেলায় গোধুলী রঙ উবে গেছে বলে।
এখন অার তোমার উষ্ণতা দিয়ে কবিতা লিখি না
রসায়নের সব উষ্ণতা অভিধান শুষে নিয়েছে বলে।
এখন অামাকে নিয়ে কেউ ভাবে না দেখে ভাবি
অহংকারি যৌবন চলে গেছে বলে....।।

ঘনিষ্ঠ 'না'
- মোশ্ রাফি মুকুল

নেবে?
তবে আমাকেও নিয়ে চলো তোমার অতলে-
অন্ধকারে;
যেখানে অধর চুঁইয়ে চুঁইয়ে দীর্ঘতর হয়
আমাদের আস্থার দেবদারু গাছ।
আমাকে নিয়ে চলো তোমার দীর্ঘনিঃশ্বাসে-
যেখানে ভালোবাসার ফসিল হবে
এ বুকের সমুদ্র 'নোনা' ঘাস।
নারী বললো 'না'
'নেবোনা'।
আমাকেও নিয়ে চলো তোমার মনের গ্রণ্হাগারে-
ঘনশ্যাম আলোক দ্বারে;
যেখানে অন্ধকার আলোর সাথে খেলা করে।
যেখানে আলোয় আলোয় ভালোয় ভালোয় মাখামাখি দিনরাত...
আমাকে ডুবতে বলো তোমার গহীনে, প্রেমে-
'ঘনিষ্ঠশ্রমে';
যেখানে 'সুখের অসুখে'নেমে আসে সুদীর্ঘ 'ক্লান্তি নিদ্রা'-
ঘুমে..
ভোরের সূচনায় যেখানে শুরু হয়
'খুনসুটি' সংঘাত।
আমাদের ছোট ছোট ভুল
কেউ কারো ছাড় নেই 'একচুল'...
তবুও সারাটা দিনের হিসেব শেষে
আমার অধরের পরে 'ঠোঁট' ঘেসে...
নারী বললো 'না'
আমার 'অতলে'-
তোমাকে 'নেবোনা'।

২৭/১০/২০১৬

পরিবেদনা
- প্রবীর ভদ্র

দুটো পাখি বন্দি ছিল খাঁচায়
খাঁচার মধ্যে ঘটের মত ঘর
দরজা তো নেই ছোট্ট একটা ফুটো |
একটা পাখি আসত যেত ঘরে
অন্যটা তো থাকতো বসে দাঁড়ে
ঘরের মধ্যে ছিল না খড়-কুটো |
দুটোর মধ্যে ভাব ছিল না মোটে
একটা যখন ঘরে থাকতো বসে
অন্যটা তো দিব্যি তখন দানা-শস্য খোঁটে |
অবশেষে খাঁচার পাখি দুটো
পরস্পর কে বিদ্ধ কোরে তারা
জীবন দিয়ে মুক্তি পেল গভীর সংকটে |
.
নৈঃশব্দ্যের প্রহর গোনে সঙ্গীহীন খাঁচা ||

নেশা
- অনাদি চক্রবর্তী

ড্রেনগুলো সব মাঝ রাস্তায়
পথগুলো সব টলে,
কেন জানি লোকে তবু
আমায় মাতাল বলে।
.
প্রতিদিনই রাত্রিবেলা
যতই সরে যাই,
পথের ধারের দেওয়ালগুলোর
গায়ে পরা চাই?
.
মানুষজনও কেমন যেন
এঁকেবেঁকে চলে,
ধাক্কা মারে আমায় তারা
উল্টে মাতাল বলে।
.
বানু ময়রার মিষ্টিগুলো
সেদিন দেখি লাল,
কারণটা যেই জানতে গেলাম
অমনি তেড়ে গাল।
.
কতগুলো প্রশ্ন সদাই
মাথায় নড়েচড়ে,
উত্তর তার জানতে গেলাম
বিপিন বাবুর ঘরে।
.
বলুন দেখি বুঝিয়ে আমায়
এমন কেন মিল,
গাছের পাতা সবুজ সবই
সারা আকাশ নীল?
.
ঝর্ণার জল কেন এমন
মিষ্টি স্বাদে ভরা,
অতল জলে অথৈ সাগর
শুধুই নুনে পোড়া।
.
চাঁদের গড়ন কোমল এমন
সূর্য রাগে লাল,
আখের রস মিষ্টি আর
লঙ্কার স্বাদ ঝাল।
.
সাগর ফুঁড়ে কেমন করে
পাহাড় ওঠে জেগে,
চাতক কেন ঘুরে মরে
বৃষ্টির জল মেগে।
.
প্রশ্ন শুনে বিপিন বাবু
গেলেন ভীষণ চটে,
ভাবেন মনে সাত সকালে
মাতাল কেন জোটে।
.
জাতে আমরা মাতাল ঠিকই
তালে কিন্তু ঠিক,
নেশা মোদের বিবশ করে
হারাইনা তো দিক।
.
আসলেতো মাতাল সবাই
কেউ প্রেম কেউ জ্ঞানে,
কারও নেশা ভালবাসায়
কেউ অজানার সন্ধানে।

কোলকাতা , ২৬/১০/১৬

। ঝগড়ার প্রেম ।
ঝগড়া তোমার ভীষণ দামী
পা বাজিয়ে তাই তো আমি
আলটপকা গোল পাকিয়ে মাঝেসাঝে ঝগড়া বাঁধাই,
মারলে যদি কলসি কানা
তাই বলে কি প্রেম দেবো না
এই দেখো না ঝগড়ারূপী মুখিয়ে আছে জগাই মাধাই
মুখঝামটা তোমার মুখে
কথার শেল যে বেঁধাও বুকে
তোমার কটু কথা জানি প্রেমপিরিতির ধানাইপানাই
কথা দিয়ে মন পোড়ালে
আরও জড়াই প্রেমের জালে
আলটপকা ঝগড়াকথায় বাজতে থাকে প্রেমের সানাই
মনভোলানো মিঠে কথায়
ভালবাসার কি আসে যায়
নিজের কাজটি করতে হাসিল মিষ্টি কথার মধু মাখাই
তুমি ছাড়া জগৎ আঁধার
তোমা বিনা জানি নে আর
নিজের কোলে ঝোল টানতে অলীক সুখের জগৎ বানাই
ঝগড়াতে নেই সেই সুবিধা
কটু কথায় নেই তো বাধা
তোমার আমার উগড়িয়ে দোষ উচ্চগলায় নালিশ জানাই
তাই মাঝে মাঝে ঝগড়া দিয়ে
প্রেমের আগুন দিই উস্কিয়ে
তোমার জিভের আগুনশিখায় প্রেমের ফলা আবার শানাই।
আর্যতীর্থ

। শুভদৃষ্টি ।
তোমার চোখে চোখ রেখে রাই ভয় পেয়ে যাই,
ভয় পেয়ে যাই ডুবে না যাই গহীন তোমার চোখের তারায়,
থরহরি কম্প জাগে মনশহরের পাড়ায় পাড়ায়।
চোখের তারায় ডুবতে থাকি আর কোনোদিন ভাসবো নাকি, তা জানি না,
খামোখা আর ভাসবো কেন, তারার মাঝেই যায় লুকানো, সাঁতার বিনা।
ডুবে যাওয়ার এ মতলবে গোটা শহর সঙ্গী হবে
তোমার জন্য বানভাসি হোক বেবাক পাড়া,
জলের তলায় আসন পেতে, থাকবো বসে আলস্যতে,
কিচ্ছুটি আর ভাবতে নারাজ তুমি ছাড়া।
একটি নিমেষ অনিমেষে, আমার দিকে দেখলে হেসে
কটাক্ষপাত জ্বালায় হাজার রংমশাল,
চোখের তারার এক ঝিলিকে নিংড়ে নিয়ে মুহূর্তকে
আমি তাকেই বানিয়ে নিলাম অনন্তকাল।
আর্যতীর্থ

সোজা কথা
- রতন সেনগুপ্ত

ইচ্ছে হয়
সোজা কথা সোজা ভাবে বলি
হাতে হাত মেশাই বুকে ধরি
মাতান পাগলভাব ছোট ছোট অনুরাগ
আমাদের ইচ্ছেমত
এমন সাধের চেয়ে আর কি বড় হতে পারে
চুম্বনে ললাট ভরাই - জলকেলি
ফোটে কদম্ব, নাচে বাতাস - কৃষ্ণকলি
শুধু এইটুকু শান্তি দেবে কি তোকে?
এইটুকু দিতে গেলে বাড়বে না চূড়ামণি
সব প্যাঁচে প্যাঁচে বশ্যতা তুই আমি করবো কি সোজা কথা
যুদ্ধ যুদ্ধ খেল ধর্ম ধর্ম খেল তবে না পাটোয়ারি
ভাগে ভাগে পাটে পাটে যত্নে রাখে
যতো বাড়ে
ততো বাড়ে নিশাচরী
প্রয়োজনে ডালপালা ছাঁটে
শিকড় উপড়ানো হবে না কখনো
শিকড় শিকড় চেনে কে কার জন্মদাতা
শর্বরী একই দাসখতে
তোকে ভালবাসি তোকে ভালবাসি সোজা কথা
লাঠি ফেলে দিলে
উন্মাদ কুকুরটা অনায়াসে ছিঁড়ে খাবে
আমাদের নকশিকাঁথা

ভাত
- দিব্যেন্দু সান্যাল

তোমার নিজের বাড়ী । ছোট্ট উঠোন অগোছালো ।
আমি অতিথি এলাম ভিনদেশী ।
তুমি দুঃখ করে বললে
সংসারে কিচ্ছু নেই
সংসার এক দুঃখের পারাবার ।
আমি সেই দুঃখের পারাবারে এসে দেখি
একথালা গরম সাদা ভাত
ঘরময় ছড়িয়ে দিয়েছে ভাতশালী ঘ্রাণের মৃদু ধোঁয়া
পাশে আঙুলের নুন, আধবাটি মসুরের ডাল
আলুপোস্ত কিছুটা বোধয় ছিল ।
এই দুঃখের পারাবারে কেউ একজন
তৃষ্ণার্ত হাত ছোঁয়াবে তাই
একথালা সাদা ধবধবে ভাত
সফেদ স্বপ্ন মেখে চেয়ে আছে ।
এইবার একথালা যুঁইফুল ভাত
ছন্দের হাতে হাতে তৃপ্তির মালা গেঁথে নেবে ।
সাদা ভাত । কত সাধ তার ।
এই দুঃখের পারাবার
প্রাণের সোহাগ মেখে হয়ে যাবে পার ।

কৌশলী আমি
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমাকে এক কথায় প্রকাশ করতে বললে-
কিছু বিখ্যাত উক্তি আর অকাট্য
যুক্তির ভিত্তিতে তুমি লিখে ফেললে
ভীষন সুন্দর ভাবসম্প্রসারন
কৃষ্ণমেঘের দিন শেষে ভেঙে যায় কাশফুল বুরুজ
বেজে ওঠে শারদ পাখোয়াজ মৌনতার যোগাসন ছেঁড়ে ঘরে ফেরে দূরের বালিহাঁস,
এইসব হেমন্ত নিজের নিতম্বে লিখে রাখে ব্যাকরণ...
শ্বেতশুভ্র কুয়াশার নৈসর্গিক উল্লাস।
তবু অযথা অকারণ;
নিজেকে জানতে চাওয়া তোমার সজ্ঞায়,
নাকি তোমার মনের বনে আমাকে পাঠানো-
আমার নির্বাসন?
সুপ্ত বাসনার যোনি গলে গলে ঝরে পড়ে-
টুপ;
চুপ।অথচ কৌশলী আমি একদম চুপ!
তবু আমাকে ব্যাখ্যা করো তোমার ভাষায় নন্দিনী,
তোমার বুকের হার্টবুকে আমাকেও লিখে রাখো প্রিয়দর্শিনী।
মধুমক্ষিকারা আকাঙ্খার স্নায়ুকোষে তোলপাড় তোলে,
সাদা ধানফুলে নিচোল স্তন দোলে...
ক্ষণিকের ঘনঘোর কুয়াশা আমি-
এই আছি এই নেই ধুসর মায়াবী চিল,
উপসংহারে আমাকে লিখতে পারো তুমি সূর্যশত্রু-
সৌম্যদর্শন যুবক পুরুষ,
বর্ণীল হলুদ ভোরের ড্যাফোডিল।

২৬/১০/২০১৬

মনের দুনিয়া
- মামনি রায়

কে বকেছে, কে মেরেছে
কেন চোখের কোনে জল,
নাকি মনের দুনিয়ায়
মন দিয়েছো,
তাই গেছে খুলে চোখের কল।
চোখের জলে বালতি ভরে
রেখে কি হবে,
কেউ বুঝবেনা,তোমার ব্যথায়
বালতি কটা ভরলে।
মেঘের পরে ভর করে
থাকবে তুমি কত,
আকাশকেই ভালোবাসলে
তবে নেবেই তুমি দেখো।
আকাশ থেকে সোনালি রোদ
দীপ্তি সহ আসবে নিচে,
তখন তুমি হাসবে কত
ভালোবাসাকে পেয়ে কাছে।
রাগ করোনা, আড়ি করোনা
এবার চোখের জল মোছো।
বিশ্বাস রেখে জিজ্ঞাস করো
আমায় কি তুমি ভালোবাসো?
- মনিকা ২৬/১০/২০১৬

পরাণ নাগর
- সেলিনা আহামেদ শেলী

আমার পিরিতের দিসগো সাড়া
কেন গো ভবের ডাকে দিলাম
ধরা, ভালোবাসা বুঝি তারে কয়,
লালন কয় এক তারা বাজাইয়া
শুনিইয়া লো তোরা., সুখী জল
আনিতে? যাসনি ঘাটে,নৌকা ছারা
নদীর মাঝি আমি কি দিয়া তুলমু
তোরে ঘরে, ভাবের নাগর পড়ে যামু
তোর বাড়ি, কিনা দেয় এক মুঠো
রেশমি চুড়ি,বসন্ত ছুঁয়েছে মনে কোণে,
আইনা দে, আমায় ঢাকাইয়া শাড়ি?
অঙ্গে জরাইয়া লমু তোর লাগি ।
খোঁপায় পড়াইয়া দিবি বেলির মালা
রিনি জিনি নুপূর পায়ে দুঃখের স্মৃতি
ভাসাইয়া, যতন করে তুলিয়া লমু
শিউরে,ভবের নাগর,অন্তরের খবর
রাখস কী ?তুই বাজা বাঁশি তা শুনিয়া
তোর কাছে আসি ধরিয়া লো আমার
দুটি হাত,পিরিতের খেয়া ভাসাইয়া
ভেলায় কইরা লইয়া যা জন্ম জন্মের
লাগি তোর পরানে।

তাং: ২৫/১০/২০১৬

আমি শিখেছি
- চিন্ময় প্রামাণিক

আমি শিখেছি--এ প্রকৃতি মাঝে,
কি ভাবে --ভালোবাসতে হয় ।
কি ভাবে--নিজের সব দিয়েও,
অন্যের জন্যে বাঁচা যায় ।
আমি শিখেছি--হিংস্র পশুর কাছে,
কি ভাবে--এক জোট হতে হয় ।
পোষ মানা কুকুরের কাছে--পেয়েছি জ্ঞান,
কি ভাবে প্রভুভক্ত হতে হয়।
আমি শিখেছি--এই পাখিদের কাছে,
কি ভাবে --এক সাথে উড়তে হয় আকাশে।
কি ভাবে--জাগতে হয় ভোরের আলোয়,
কি ভাবে বাঁচা যায় প্রতি দিনে... ।
আমি শিখেছি --এই সূর্য কাছে,
কি ভাবে আলো দিতে হয় ।
এই পাহাড়ের শৃঙ্গ--শিখিয়েছে আমায়,
কি ভাবে-- বড় হওয়া'র গর্ব করতে হয় ।
এই ঝরনা-- শিখিয়েছে আমাকে,
কি ভাবে অশ্রু বর্ষণ করতে হয় !
এ যে নদী-- শিখিয়েছে বার বার,
কি ভাবে-- বাঁক নিয়ে চলতে হয় আবার ।
আমি শিখেছি-- মানুষের সাথে,
কি ভাবে-- নিজেকে বদলে নেওয়া যায় !
কি ভাবে-- ছলনার ছলে,
মানুষ হয়েও, অমানুষ হওয়া যায় ।
আমি শিখেছি--তোমার ভালোবাসায়
কি ভাবে দুটি মন এক সাথে জোড়া যায় ।
শিখেছি তোমার ঘৃণার কাছে--
সব ভুলে কি ভাবে,
কত সহজেই পর হওয়া যায় ।

রূপ সাগর
- চিন্ময় প্রামাণিক

সে এক অন্য রূপের ঘর,
বলবো কি তার, রূপের বাহার--আর ।
সেথায়--নই যে সূর্য, নাই যে চন্দ্র,
তবু সেথায়--অপার আলো ।
সেথায়--যে দিকেতে দেখি আমি,
অবাক্ বানি এ নয়নে--
ভালোবাসার তন্তরে মিশে,
আছে দেখি--ত্রিশ বছরের এক কন্যা কোলে-
ষাট বছরের দুই বেটা-বেটি ।
সেথায়--লোহা ভাসে জলের উপর,
আর, কাঠ ডুবে যায়--জলের অন্তর ।
সে ঘরেতে--আছে যে জন বসে,
কথা না কয় সে, দেখে শুধু চেয়ে চেয়ে !
আবার কে বা তারে দেয় যে আহার ?
না জানি কে বা জ্বালে সাঁঝ বাতি তাহার?
সে জন--করে খেলা সবার সাথে,
দেয় না ধরা আপন জনে ।
তারে--ধরবো বলে, আশায় আছি় বসে- সেই ঘরেতে সে জন আসে, না জানিয়ে ।
আবার দেয় সে জন পারি জানালা দিয়ে ।
ফকির লালন সাঁই ভেবে বলে---
এই কথা ধরালে মানে,
আর সে ঘর'তে জন্ম নিলে,
তুই মরাবি না আর--বৃথা মৃত্যুর ফাঁদে !
সেথায় রূপ সাগরে ভেসে,
তুই হবি অপার বিনা নাও-য়ে ।।

"ফকির লালন শাহ আশ্রম" থেকে...

। কবিতা আইন।

কারণ ছাড়া পদ্য লেখা বারন হবে,
নিয়মটিয়ম না মানলে বেশ ঝাড়ন হবে,
এমন নাকি হচ্ছে আইন রাজার দেশে
মোটেই তারা লিখছে না তো লেখা উচিৎ যেমন করে
কবিরা সব কেমন করে যাচ্ছে লিখে এমন করে
সর্বনেশে!
দুঃখে আছেন রাষ্ট্রনায়ক, ঘুম হয়েছে কষ্টদায়ক,
স্বপ্নে এসে কবি গায়ক গোল করে যায় খুব
কবিগুলো এমনি ওঁচা ছন্দে কথায় মারছে খোঁচা
কোন খাঁচাতে ভরলে তবে একটু হবে চুপ?
হচ্ছে কথা রাজার সভায় কবিরা সব বড্ড ভাবায়
বুঝিয়ে দিচ্ছে কাদের থাবায় শান দেওয়া সব নখে
তাই তো রাজার ঘুম কেড়েছে বড্ড ওদের বাড় বেড়েছে
সামলাতে কি কেউ পেরেছে কাব্যের বকবকে?
নাহয় তিনি রাজামশাই করতে পারেন যা ইচ্ছে তাই
অনেক সময় করেন সেটাই বলছে মন্দ লোকে
কবিগুলি এমন পাজী সেসব কথা লিখছে রোজই
রাজার যত জুলুমবাজী ছন্দেকথায় লেখে!
তাই তো হবে এমন আইন রাজার লোকে টানবে লাইন
একটুকু তার বাইরে গেলেই ফাইন নিয়ম করে
যত লোকে রাজার তাঁবে রাজার মতই যারা ভাবে
আজকে তারা সবাই যাবে রাজার সভাঘরে।
নানান লোকে খবর আনে কবিদেরও গেলো কানে
ব্যাপারটা তো সবাই জানে রাজা আছেন চটে
কবিরা সব মুচকি হাসে কি যায় আসে আইনপাশে
রাজা যায় আর রাজা আসে প্রতিবারের ভোটে।
কবিতারা কথার ছলে জীবন নিয়ে গল্প বলে
সত্যি কথার ইঁদুরকলে শাসক পেলে পাকনা ভয়
যতই রাজা হাতপা বাঁধুক কবির জন্য আইন ফাঁদুক
শাসকভয়ে মুখশুকানোর আইন কবির জন্য নয়।

আর্যতীর্থ

। খবরী।

চোখ নিয়েছে মুঠোফোনে, সেজেছি জন্ম অন্ধ
হে মিডিয়া, সঞ্জয় হয়ে শোনাও ভালো মন্দ।

খুঁজেপেতে দেখাও আমায় কোথায় এবং কবে
কোন খবরে একটু বাদেই ব্রেকিং নিউজ হবে।

মাঝরাত্তিরে সার্ফ করে যাই প্যাঁচার মতো জেগে
নিউজ আসে গরমাগরম বিভিন্ন হ্যাসট্যাগে।

কোনটা সাদা কোনটা কালো কে ভাবে আর নিজে
মিডিয়া দেয় তফাৎ করে মুচমুচে আর ভিজে।

আগেই জানি কার ঘোটালা, বাদী বা বিবাদী
কোন ঘটনায় কোন লোকটা আসল অপরাধী।

সমস্যা এই, মাঝে মাঝেই চাল বদলায় পাশা
কাল অবধি যে ভালোমানুষ আজকে সর্বনাশা

মন বদলায় আমারও রোজ চাপানউতোর শুনে
আজকে ভিলেন কালকে হিরো খবর বেচার গুণে।

অভিযোগের মশলা দেখো, বিচার আবার কি?
অভিযুক্তের নাম দিয়ে দাও,বাড়বে টি আর পি।

ডাক্তার অমুক চন্দ্র তমুক,শ্লীলতাহানির কেস,
নামটা যদি ফাঁস হয়ে যায়, খবর জমে বেশ।

হাওয়ার আগে ছড়িয়ে পড়ে এসব কথাগুলো
এক খবরে মান সম্মান নামডাক সব ধুলো

বেকসুর খালাস পরে, সেটা অন্য গল্প
টি আর পি তে কানাকড়ি, শোনার সুযোগ অল্প

খবরীরা খবর শোনায়, ভালো এবং মন্দ
হে মিডিয়া, খবরগুলোয় কেমন যেন গন্ধ।

আর্যতীর্থ

। সাথেই থাকেন।

মা বাবা তো সাথেই থাকেন, কখনো কোথাও যান না
সহজ সত্য অনেক মানুষ কেন যে দেখতে পান না!
আগলে রাখেন তোমায় তাঁরা সারাটা জীবন ধরে
শরীর ছেড়েও তোমায় ছেড়ে যাবেন কেমন করে।

প্রিয় চেয়ার আজও তোমার ড্রয়িংরুমের কোণায় রাখা
'মাধুকরী'র কোণের দিকে ওই যে হালকা হলুদ লাগা
মোটা ফ্রেমের চশমাটা তো আজও রাখা ওপর তাকে
ছবির মানুষ ঘরকে ঘিরে নানান ভাবে বেঁচে থাকে।

যে সব ছবিরা ফেসবুকে নেই ফোল্ডারদের খামে
নিরালা সময়ে ঠিক এসে জোটে স্মৃতিদের অ্যালবামে
আদর সোহাগ ধমক কান্না একসাথে মাখামাখি
মনের কোলাজে মা বাবার সাথে একবার যাবে নাকি?

নাতনীর মুখ ঠাকুমা বসানো সেটা তো সবাই বলে
পেছনের থেকে ছেলে অবিকল দাদু যেন যায় চলে
ছবিগুলো দেখে মনের ভেতরে যখনই ঘনাবে কান্না
মনে রেখো তাঁরা সাথেই আছেন, কখনো কোথাও যান না।

আর্যতীর্থ

"সাধু-দর‌বেশ"
***রহমান মাসুদ***
পৃ‌থিবীর বি‌ভিন্ন দুর্গম স্হ‌লে
নির্জ‌নে ধ্যানরত মানব মি‌লে,
জীবনের কামনায় তারা নির্লিপ্ত
বিধাতার দর্শ‌নে হৃদয় উন্মুক্ত।

বিধাতার আরাধনায় আত্নতৃ‌প্তি
অন্ত‌রে বিরাজমান স্বর্গীয় দী‌প্তি,
পঞ্চই‌ন্দ্রিয় হয় তাদের বশীভূত
আত্নার নিয়ন্ত্র‌নে দেহ কু‌ক্ষাগত।

ধরা‌কে ভা‌বে সি‌দ্ধিহস্তের স্হান
তা সাধ‌নে আত্না সদা অগ্রমান,
কাম-ক্রোধ-মোহ-‌লোভ হয় দমন
আত্নার হয় সর্বদা ত্রি‌লো‌কে ভ্রমন।

ক‌ঠিন সাধনায় সফলতা মি‌লে
অন্তর চক্ষু যায় তাদের খু‌লে,
জগৎ বিপর্যয় অগ্রিম জা‌নে তারা
তা‌দের প্রার্থনায়ই রক্ষা পায় ধরা।

নির্জনতা ছে‌ড়ে লোকাল‌য়ে এলে
সাধু-দর‌বে‌শ-লামার খেতাব মি‌লে,
একস্হা‌নে তারা হয়না কভু স্হি‌তি
আত্নগোপ‌নে থাকাই তা‌দের নী‌তি।

অলৈাকিক ক্ষমতার অধিকারী তারা
সাধারন মানু‌ষের কা‌ছে দেয়না ধরা,
সেই ক্ষমতার কথা প্রকা‌শিত হ‌লে
লোকচক্ষুর অন্তরা‌লে যায় চ‌লে।

ভন্ড সাধু-দর‌বে‌শে সারা‌দেশ ভরা
সাবধান তা‌দের খপ্প‌রে দিওনা ধরা,
ভন্ড‌ সাধু‌দের চিন‌তে কর য‌দি ভুল
সারা জীবন দি‌তে হ‌বে তার মাসুল।।

Shyamali Debroy

একমুঠো রোদ্দুর
- শ্যামলী দেবরায়

একমুঠো রোদ্দুর ও একগাল হাসি
তমাল তরুতলে শ্যাম বাঁজায় বাঁশি
মনেরটানে সময়ের সুর তালে ভাসি
নবরঙেরি ছটায় পুলক রাশি রাশি।।
সৃষ্টিতে স্রষ্টারি অসীমত্ব নিমজ্জিত
নিপুণ কারুকার্যে ভুবন সুসজ্জিত
রক্তিম আভাতে লালিমা উদ্ভাসিত
তপোবনে শিল্পীর হৃদয় উচ্ছ্বাসিত।।
স্বপ্নের আবেগ আঁখির দুই পলকে
কাঙ্খিত বাসনা দৃষ্টির সুপ্ত ঝলকে
রঙচঙে দৃষ্টান্ত সোনালি আলোকে
হারাবো নিশ্চিত বিশ্বেরই গোলকে।।
প্রকৃতিই মোর একান্ত ভালোবাসা
বাঁচার তাগিদে বনের মাঝে আসা
পাখির কলরবে অবুজ পরিভাষা
অজানা মনের নির্বোধ সেই আশা।।
ঘুরছি হরষিত চিত্তে গহীন কাননে
আমার মতো সুখী কে বিশ্ব ভুবনে
ইচ্ছের ঘুড়ি উড়াই স্বপ্নেরই গগনে
প্রেমের বার্তা আসে দখিনা পবনে।।
হবো যে বিলীন নিজেরি অজান্তে
স্মৃতিগুলোই সঙ্গি নিরবে একান্তে
রাঙাবো অস্তিত্ব সবুজেরি অনন্তে
ডানামেলে উড়বো উন্মুক্ত দিগন্তে।।

শ্যামলী দেবরায় (শিল্পী)
শিলিগুড়ি/উত্তরবঙ্গ
২৫শে অক্টোবর ২০১৬

দুরদ্বীপবাসিনী মরুবিলাসিনী
- মোশ্ রাফি মুকুল

কে জানতো রাতের নক্ষত্ররা মরুর বিশালতায় সুহাসিনী হয়?
কেবা জানতো দুর দ্বীপবাসিনীরা ধ্রুবনীল রঙ মাখতে মরুবিলাসিনী হয়?
তারায় তারায় খচিত এ আকাশ বাসর
রাত্রি নিশিথে মরুবালিকার কানে কানে কথা কয়...
বালুঝড়ে ভেঙে গেলে যাযাবর সংসার
বেদুঈন যুবকেরা বুকের নুড়িপাথরে জিইয়ে রাখে সুবর্ণদিন
উটের খুরের শব্দ গোনে...
তবু আবারও তাবু বোনে।
ভালোবাসার 'নিষিদ্ধ লোবান'এর ঘ্রাণে
আরব্য রজনীর রহস্যময়ী নায়িকা স্বয়ং ইশারায় কাছে টানে,
বালির বাগানে বুনো খেজুরের
অগনিত ফুল ঝরে পড়ে
দামাল বাতাসে...
কে গুনেছে তা কবে?
ধুলোর গন্ধ ঝেড়ে ফেলে কিছু ফুল নিয়ে ঘরে ফেরে যাযাবর প্রেমিক বালক...
উষ্ণ বালির পালকে গুজে রাখে তায়-
কিছু লজ্জা কিছু হতাশা কিছু সংশয়।
বড় ভয়;
এ অপেক্ষার কার্ণিশে ঝুলে থাকা সুখের দেয়াল যদি
বালির বাঁধের মতো ভেঙে যায়!
কে জানে;
কবে ফুরাবে সে হাজার রাতের আরব্য রজনী,
এ ত্রিমাত্রিক মরুতৃষ্ণা ভাঙাতে বুকের চামরে ভরে নিয়ে
পিসাসার জল
ফিরে আসবেতো সে দুরদ্বীপবাসিনী?
মরুবিলাসিনী?
নরম শ্যাওলার মখমল বিছানায়;
এ মরুকুঞ্জের পাথরের খাটিয়া'য়
সবুজ ঘাসের শয্যা পেতেছে অবুঝ মেষের রাখাল...

২৫/১০/২০১৬

টাকা ও ভালোবাসা
- রাজু আহম্মদ খান

অদ্দিন বাঁচবো কিনা জানিনে
তবে আজ বুঝি, তুমি ছাড়া
এই জীবন অচল,
একথা আমার
বোঝার উপর শাকের আটির মত
নিতান্তই দুঃখ ভার -
.
তুমি হয়তো আমায় ভাবো জঞ্জাল,
সারাক্ষণ অক্টোপাসের মত
আমার ছেলেমি আচরণ
তোমার ভালো লাগেনা -
তাই হয়তো ক্যালেন্ডার হতে
মুছে ফেলতে চাও শুক্রবার ।
.
আমি জানি,
পরিমাণে বেশি বলে
আমার আদিখ্যেতা ভালোবাসা
তোমার কাছে বড় বেমানান
টাকাই আপাততঃ তোমার বেশি দরকার ।
.
তাই আমি রোজ খুঁজি টাকা,
টাকার কুমির চাই -
অতঃপর টাকাই যদি
আটকাতে পারে
তোমাতে আমায়,
আমি তাই হতে চাই
এই দেশের সরকার ।
------------------------------
২৫ অক্টোবর ২০১৬

ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ
জুলফিকার আলী

জঙ্গিরা আজ থাকে বা কই
বসত কি জঙ্গলে?
জন্ম তাদের ভিনগ্রহে বা
শনি কি মঙ্গলে?

শিক্ষা ওদের নেই মগজে?
দুইপেয়ে মানুষ?
জঙ্গি নামের ইনজেকশন
করছে ওরা পুশ?

দেশ ও দশের অনেক ক্ষতি
হলে জঙ্গি হামলা,
শিক্ষিতদের সন্তানও আজ
জঙ্গি নামের কামলা?

ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ এই
বন্ধ করুন বিশ্বে,
নইলে ধ্বংশ অনিবার্য
হলেও সেলফিস সে|

রক্তাক্ত গোলাপ
- আকাশ হাসান
.
নয়ন বৃত্তে দেখেছিলাম স্বাধীনতা
হানাদারের সেই বেয়নেটের খোঁচা
রক্তে ভেজা হানাদারের বরবরতা
আকুতি প্রাণের একবিন্দু স্বপ্নে বাঁচা
এযেন এক চলমান মৃত্যুর বার্তা
পথে প্রান্তরের মাঝে লাশ গলা-পঁচা
শকুনের দল ছিড়ে খাচ্ছে লাশ কাচা
নারীরা হয়েছে ওদের হাতে ধর্ষিতা ।
.
চুপকরে থাকিনি তখন,অস্র নিয়ে
ঝাপিয়ে পড়েছি হানাদারের উপর
ছিনিয়ে আনবই বিজয় রক্ত দিয়ে
হারাতে দেইনি সন্মান দেশ মায়ের
লক্ষ শহীদের বুকের রক্ত ঝড়িয়ে
পড়িয়ে দিলাম স্বাধীনতার চাদর ।

(সনেট)

মিলন মেলায়
- সেলিনা আহামেদ শেলী

বুঝি হয়ে এলো চড়ই গুলো করে
খেলা,আপন খেয়ালে নেই কোন ভাবনা
এ ডাল থেকে ও ডালে কিচির মিচির
শব্দ তুলে উড়ে যায় আকাশের বুকে
কখনো বা আঙ্গিনায় জুড়ে চুপটি করে
বসে পালক ঝেরে জিরিয়ে নেয়,পিলপিল চোখে চেয়ে থাক আনমনে,হঠাৎ পাশ থেকে কেউ বা বলে কিচির মিচির শব্দ তুলে ময়নারে কি ভাবিস পাখি বলে না কই কিছু না
তো না ভাবো কেন কালো বলে নিজেকে
রাখি আড়ালে তা বলেছিস বেশ পাশ
ঘেষে কাক বলে আমি বুঝি বেশ সাদা
রংয়ের আহারে তোরা দুজনি প্রকৃতির
আলো তোরা না থাকলে প্রকৃতি সাজতো কি দিয়ে আকাশ রইছে থাকতো ফাঁকা পড়ে
পাতাগুলো দোলে বুঝিয়ে দেয় থাকবি তোরা
পাশ ঘেসে কালো সবুজের মিলন মেলায়
রবো আমরা হেসে খেলে তা শুনে বাতাস
বলে আমি আছি তোমাদের সনে শিনশিন
দক্ষিনা হাওয়া লাগে কি তোদের গাঁয়ে।

তাং ;২৪/১০/২০১৬

আমি আর একজন মাত্র
- দিব্যেন্দু সান্যাল

যে যেদিকে খুশি বন্ধ করুক চোখ
দিক তো অনন্ত । আজ সেই দশ দিক
একটি বিন্দুতে তীব্র অভিমানী বাঁক ।
ঈশান খুঁজিনা সেইখানে,
বিন্দুই তো ভাল
দৈর্ঘ্য প্রস্হ উচ্চতা নেই
কৃষ্ণঠাকুরের প্রেমের মতো
স্হান কালে গ্র্যাজুয়েট রাধা
বিন্দুতেই সব ভালবাসা বাঁধা ।
এই যে চেয়ারে বসেছি
শুধু এইটুকু জানা
আর আমিই তো বেশ ।
শত শত যুগ আগের
কোন্ মহীয়সী বৃক্ষ এবং তার জন্ম বৃত্তান্ত
সেদিন কোন্ সম্রাট তার সাম্রাজ্ঞীকে বাহুডোরে নিয়ে
সেই বৃক্ষতলে বসেছিল,
কোন্ কোন্ বিরহী পাখি
একা একা রাত জেগেছিল সেই গাছে….
থাক্ থাক্ থাক্
একটি কাঠের চেয়ারে আমি বসি আর
তোমার ঠোটের নীচেই এক আততায়ী তিল
একটি বিন্দু অবিকল
ব্যাস, আর কিছুই না ।
ওহ! আর একটি কথা
আর একজন মাত্র আছে
একদিন ভালবেসে ডেকে নেবে কাছে ।

। ধোঁয়া ।
ধোঁয়া যখন যাচ্ছে দেখা, আগুন কোথাও লুকিয়ে আছে
হিসেব ছিলো সরলসোজা অল্পবুদ্ধি লোকের কাছে
সে সব ছিলো সত্যযুগে, এখনো কি সেটাই ঘটে?
রোজ সকালে কাগজ পড়ে ধোঁয়া অনেক দেখি বটে।
কোনটাতে যে চাপানো ছাই কোনটা ওঠে ছিলিম থেকে,
ধোঁয়ার কথা যায় না বোঝা কাগজওয়ালার রিপোর্ট দেখে
এক কাগজে গনগনে আঁচ, খবর থেকে হল্কা ওঠে
খবর পড়ে ঘাবড়ে গিয়ে জিভ চেটে নিই শুকনো ঠোঁটে।
ওই খবরই অন্য কাগজ দিচ্ছে ঠেলে শেষের পাতায়
প্রথম পাতার প্রধান খবর অবহেলায় বাতিল খাতায়।
পাঠক ভাবে কি মুশকিল, কোন খবরের ধোঁয়া শুঁকি?
ছলচাতুরির মোড়ক খুলে কেমন করে মধ্যে ঢুকি?
এখন তো তাই ধোঁয়াই দামী, আগুনটা না থাকলে চলে
ধোঁয়ার ধুলোর ধোঁয়াশাতে সত্য পেষাই ইঁদুরকলে।
ঢিমে আঁচের খুব নিরীহ আগুন যদি কোথাও জ্বলে
ধোঁয়া খোঁজার ধুয়ো তুলে খবরী যায় দলে দলে।
ছোট্ট আগুন একটু ধোঁয়ায় কাগজগুলোর মন ভরে না
ছোটকে যে ছোটই বলে, সে সব খবর কেউ পড়ে না।
তাই তো ছোটো আগুন ঢাকে গাঁজাখুরির মস্ত ধোঁয়ায়
ধোঁয়ায় ধুঁকে নিপাট সত্যি ধোকা খেয়ে রাস্তা খোয়ায়
নিত্য রোজের কাগজে দেয় রঙবেরঙের ধোঁয়ার খবর
আগুন আগুন তাতেই চেঁচান নানান রঙের নেতা তাবড়।
আমরা যারা বোকাসোকা, খবর পড়ে আগুন ভাবি
মাইরি বলছি, নানান রকম ধোঁয়া টেনে খাচ্ছি খাবি।
আর্যতীর্থ

। প্রণাম করার পা ।
ক্রমে ক্রমে যাচ্ছে কমে প্রণাম করার পা
ছবির গলায় ঝুলছে মালা, দাদু বা ঠাম্মা।
কোঁচকানো হাত মাথায় দিয়ে ' ভাল থাকিস বাবা'
বলবে কে আর, যখন তখন মৃত্যু বসায় থাবা।
মনে পড়ে ছোটোবেলায় কথায় কথায় শাসন,
চড়চাপাটি রোজের ব্যাপার, সঙ্গে দীর্ঘ ভাষণ
পড়াশোনার চুন খসলেই অগ্নিশর্মা রেগে
জ্বরজ্বালাতে সেই হাতেরই রাত জাগা উদ্বেগে
সেই সব হাত বুড়ো হলো, প্রজন্ম পাল্টায়
শাসন এখন অতীত নাতি নাতনীর বায়নায়
পাল্টায় নি জন্মদিনে পায়েস করে রাখা
যে নামে আর কেউ ডাকেনা সে নাম ধরে ডাকা
পাল্টায়নি পুজোর দিনে ' ঠাকুর ভালো রেখো,
ওরা যখন যেখানে থাক তুমি ওদের দেখো'
প্রতি বছর যাচ্ছে কমে প্রণাম করার পা
আর কতদিন পাবো তাঁদের কেউ তা জানি না।
'ওই দাদুটা আকাশ গিয়ে স্টার হয়েছে, বলো?'
মেয়ের এমন সরল প্রশ্নে দুচোখ ছলোছলো।
ওপর দিকে তাকিয়ে আকাশ দেখার চেষ্টা করি
শিশুর কথাই নাহয় আজকে সত্যি বলে ধরি
হয়তো এই দুনিয়া থেকে হারিয়ে যান যাঁরা
অলৌকিকে আকাশ ছুঁয়ে হয়ে থাকেন তারা
রাতের বেলা ঝিকিমিকি সেসব তারার আলো
কোঁচকানো হাত বলছে যেন ' থাকিস বাবা ভালো'।
আর্যতীর্থ

। সংখ্যাগুরু ।
দেখো হে, এটা নামেই ভদ্রলোকের খেলা, ভেতরে আসলে যুদ্ধ
মাঠের ভেতরে পাত্তা পাবে না শান্তির দূত যিশু বা বুদ্ধ।
পিচটাকে ঠিক বানাবো এমন, বল পড়লেই ঘূর্ণি ঘুরবে
ঠিকঠাক শুধু বল করা চাই, উইকেট প্রতি ওভারে উড়বে।
এমনিতে বেশ খাতিরেই রেখো, সংখ্যায় ওরা এমন কি বেশী
খেলার মাঠটা আমাদের জমি, ওরা তো নেহাত অতিথি বিদেশী।
ওদের দেশেতে আমরা থাকলে, পিচটা ওদের মতই তো করে
আমাদের যারা পাকা খেলোয়াড়, ওদের চালে যে ধপাধপ পড়ে।
এবারে পেয়েছি ব্যাটাদের বাগে, মুখে মুখে সব সুবিধাই দেবো
খেলতে নামিয়ে আমাদের পিচে ভূমিপুত্রের সুবিধাটা নেবো।
এরকমই চলে এসব খেলায়, সবাই সমান কেন হতে যাবে
সংখ্যাগুরুরা যে কোনো ভাবেই একটু আধটু সুবিধা পাবে।
খেলতে দিচ্ছি এটাই তো ঢের, সেটাও কেমন দেই হাসিমুখে
সমর্থকেরা প্রবল চেঁচিয়ে হারার ভয়টা পুঁতে দিক বুকে।
আম্পায়াররা বিচার করবে লিখেছে যেমন খেলার আইনে
ধরা পরে যাবো বেকুবের মত কারচুপি হলে বলের শাইনে।
অন্য সবার চোখে ধুলো দিয়ে দিব্যি সাজবো আইনরক্ষক
ব্যবস্থাপনায় পাবেনাকো ত্রুটি , দেখুক না এসে পর্যবেক্ষক।
তার চেয়ে দেখো তৈরী রেখেছি নিজের মতন পিচ ঘাস ছেঁটে
এবার লঘুরা দেখাও তো বাছা টিঁকবে কজন এই উইকেটে।
পিচটাই হল আসল লড়াই, পিচ গড়ে দেয় খেলাটার ভিত
আমাদের মত পিচটা করেছি, ওদের এবার হার নিশ্চিত।
আর্যতীর্থ

*** তুমি মিথ্যা বলো ***
সালামিন ইসলাম সালমান

অমৃত ঢেলে দেবো সোনালী তোমার কোমল হিয়ায়
বসন্তের নিষ্ঠুর ভোরটাকে দীক্ষা দেবো যেন
উচ্ছ্রিত লালা তোমার বক্ষে ন-ছড়ায়।
অাকুল আকুতি রাখি তব-



পবিত্র গৃহ থেকে, মধুর সুরে ওই ডাকে
আতর গর্দানে মেখে, এক ফালি হাসি রেখে
নীরবে পালন করি, বিধাতার জারিজুরি
তোমায় দেখতে আসা এবার আঁখি খুলো-

বলেছো আমায় ডাকি, কেন এত হাকাহাকি
অামিতো তোমার তরে, আলো নাও প্রাণভরে
বায়ু দিয়েছি কত, কলরব শত শত
মনন তুষ্ট হয়নি বাহানায় তবু
তুমি মিথ্যা বলো।

চলেছি ভাতের খোঁজে, নিথর দেহ আঁখি বুঁজে
একটি জননী বসে, খিদের অঙ্ক কষে
হেঁটেছি তাহার কাছে, ক্লিষ্টতায় দেহ নাচে
হস্ত যুগল চাপি ওহে মোর সাথে চলো-

ধমক দিয়েই বলে, কেন মরো যাতাকলে
সুনীতি পেয়েছো নাকি, বে-হিসাবে ভালো থাকি
ধ্রুবসত্যে থাকো, মিছে কেন মায়া রাখো
ক্ষুধায় উদর চেপে ভালোর বাহানায় তবু
তুমি মিথ্যা বলো।

"টাকার জন্য"
***রহমান মাসুদ***
অভা‌বে স্বভাব নষ্ট
সৎ থাকা ভীষণ কষ্ট
সততার মূল্য নাই
বাঁচার জন্য টাকা চাই।

টাকা ছাড়া হয়না কিছু
কষ্ট ছা‌ড়েনা পিছু
শুধুই ব্যর্থতার গ্লা‌নি
এটাই বাস্তব তা মা‌নি।

স্কু‌লে পড়া‌শোনা নাই
কো‌চিং করা চাই,
কো‌চিংয়ের সামর্থ্য না হ‌লে
পরীক্ষায় পাশ না‌হি মি‌লে,
টাকায় যায় শিক্ষা কেনা
সেরা ছাত্র মেধা বিনা।

হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসা নাই
অর্থ দি‌লে সেবা পাই,
অকার‌নে টেষ্ট করা
যে‌নে শু‌নে প‌কেট মারা,
টাকাতেই চি‌কিৎসা সেবা
বিনা টাকায় মৃত্যু পাবা।

সর্ব‌ক্ষে‌ত্রে টাকা দরকার
সৎ প‌থে নাই রোজগার,
অসততা তাই ছা‌ড়েনা পিছু
জীব‌নের জন্যই নি‌চ্ছি কিছু,
সমাজ ব্যবস্হা করা‌চ্ছে তা
বাঁচার তা‌গি‌দে কর‌ছি যা।

Shyamali Debroy

নীল নীলিমা
- শ্যামলী দেবরায়

নীল নীলিমায় স্নিগ্ধ নীলাভ রঙের হাতছানি
শরতের শেষান্তে সোনালি রোদ্দুর মায়াবিনী
শীতের হিমেল হাওয়ায় মধুময় সে পরশমণি
আমেজেরি শিখায় ঋতু অন্যতম বিনোদিনী।।
সৃষ্টির অখণ্ডতায় চলছে জগতের দিনলিপি
কালচক্রের অধীনে স্রষ্টার সৃষ্টির বিধিলিপি
আকর্ষক দৃশ্যে মোহনীয় অনন্তের স্বরলিপি
মায়াবী ঋতুর নিবেদন সময়ের স্মারকলিপি।।
নীল গগনেরই সৌন্দর্য্য মাধুরী যে সীমাহীন
সুদূর দিগন্তে যে রূপকথার ছন্দও অন্তহীন
আসা যাওয়া এই মায়ার খেলা যে গতিহীন
চাওয়া না পাওয়ার মিলন মেলাও সঙ্গিহীন।।
অস্তিত্বেরই খোঁজে একাকীত্বের এ পথচলা
হৃদয়ের সঙ্গে নীরবতারই নিশ্চুপ কথাবলা
গগনচুম্বী স্বপ্নে বাধ্যবাধকতারি নীতিমালা
তবুও মন শিখতে চায় সফলতার বর্নমালা।।
প্রকৃতিরই বিস্ময়কর রূপ সর্বত্র প্রসারিত
ভালো ও মন্দের সূচী কালক্রমে বিস্তারিত
স্মৃতির প্রেক্ষাপটে যে সুবর্ণ মুহুর্ত ধূসরিত
নবরঙ্গেরই ছটায় তা নবরূপে আলোকিত।।

বৃষ্টি ...ভালথেকো
- বিপদতারণ দাস

যদি রক্ত চাও ...
অস্তি মজ্জা দিতেও রাজি ,
শুধু ভালবাসা টুকু চেও না ...
অভিনয়ের বিলাসিতা দিতে পারব না !
যদি স্বপ্ন চাও ....
স্বপ্নের সওদাগর উপহার দেব ,
কিন্তু স্বপ্নসুন্দরী
এই উপমাটি শোনাতে পারব না !
বৃষ্টি নামটি ...
কারো জীবনে বন্যা.. তো কারো খরা
এই প্রাচুর্য্য ও সল্পতা দুটির হেতু,
আধিক্যের প্রবলতা বিনষ্টের শুরু
আর অল্পতাতে সৃষ্টিতেই শেষের শুরু l
বৃষ্টি তোমার নামের মাহাত্ম্য ---
ভাললাগার প্রথমদিনে টিকাকরণ করিনি ,
তার ফলতো না পাকতেই ভক্ষণ করতে হল ;
যাইহোক আর ভালবাসা চেও না
ভিক্ষা -আমি অপাত্রে দান করি না l
ভালথেকো ..!!!
কার জীবন আবার প্রেমের বর্ষায় প্লাবিত করে ....
শুষ্ক গ্রীষ্মের জীবনের পাতা গুলি ঝরিয়ে দিও ,
তবে দাবানলে যেয়ো না বৃষ্টি ....
জীবনের অন্তিমক্ষণে পরাজিত বরণ করনা ...
ভালথেকো বৃষ্টি -ই -ই -ই !!!
----ভুজুঙ মাঝি
©বিপদতারণ দাসের কবিতা

স্পর্শ
- দিব্যেন্দু সান্যাল

স্পর্শও আজ দূরাগত
অদৃষ্ট মায়া আর শীতলতা যেমন
কান্নাও হতে পারে নির্মল ।
ঠিক ছুঁয়ে দিলে অবয়বহীন ।
চোখের পাতায় এঁকে দিলে তুমি আকাশের ঘন নীল
আমিও বিবশ, দেখেছি আকাশ ময়ূরের মতো নীল ।
হাসনুহানার পাঁপড়ি খুলে
সুরভি মাখানো তীর ছুঁড়ে দিলে
প্রাণ খুলে দেখি বাতাসে সে দোলে ।
ভূকম্পন, তাও তো শুনেছি ঘুমহীন এক রাতে ।
যদিবা ছুঁড়েছ বর্শা ফলা
তাও দেখি ধমনী চিরে রক্তে মিশে আছে
হয়তো বা নিজেরই প্রাপ্য কিছু ক্ষতে ।
কিছু নয় আর কেউ নয়
অনন্তে এক শূন্যতা শুধু
শূন্যনির্মিতি মিশে আছে প্রাণে
সে আমাকে নিত্যদিন স্পর্শ করে যায় ।

তোমাকে উচ্চারণ করি
- মোশ্ রাফি মুকুল

তোমাকে উচ্চারণ করি
অপ্রভ্রংশে ট্রাইবাল শব্দে কিংবা হিব্রুতে নয়
বিশুদ্ধ বাংলায় আমি তোমাকে উচ্চারণ করি।
তোমার তণিমায় সুক্ষ্ণ শব্দের তন্তু'রা খেলে যায়
তাইতো পাপে-পূণ্যে কথায়-কবিতায় শব্দের মণ্হনে
আমি অবিরাম তোমাকে উচ্চারণ করি।
তোমাকে উচ্চারণে আনে আশ্চর্য মাদকতা
তুমি তোমার নামের সমান মোহনীয় সুদীপ্ত সুন্দর- কলিন্দকন্যা;
তোমার রূপে টেনে আনে বর্ণীল রঙের ছটা অদ্ভুত ফোটন কণা-
বীরা'র বিচ্ছুরণ,
আমি পূর্বাপর পূনর্বার তোমাকেই করি উচ্চারণ।
আমি তোমাকে উচ্চারণ করি
প্রেরণায়-উত্তেজনায় শুদ্ধস্বরের ব্যঞ্জনায়
আদিতে-অন্তে অণু'য়-পরমাণু'য় কামে-ক্রোধে
আমি প্রতিবার তোমাকে উচ্চারণ করি।
তোমাকে উচচ্চারণ করি
তৃষ্ণায়-তৃপ্তিতে মোহে-মুক্তিতে সৃষ্টিতে-ধ্বংসে
আমি ক্রমাগত তোমাকে উচ্চারণ করি।
শ্রান্তিতে-ক্লান্তিতে ক্লেশে-আক্লেশে পিপাসিত ওষ্ঠে
আমি অবিরত তোমাকে উচ্চারণ করি।
দিনে-রাতে শ্রমে-প্রেমে হিমে-ওমে
বিনয়ে-প্রণয়ে প্রার্থনার প্রতিটা শব্দাংশে
আমি বারবার বারংবার তোমাকেই উচ্চারণ করি।

ফুলেরা যুদ্ধ শেখো
- মোশ্ রাফি মুকুল

ফুলকে উদ্ভিদের যৌন জনন অঙ্গ ভেবে এবং
থেতলে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত জরায়ুর শোকে কাঁদে একটি জীবন্ত কাদার পুতুল
অথচ ধর্ষক পুরুষ ফুলটা তার পুংকেশরের পরাক্রমশালী গৌরবে এবং
লঙ্কা জয়ের পরমানন্দে প্রজাপতিদের নিয়ে ইয়াবা উৎসবে মশগুল!
রুখো;
এইসব অভয়ারণ্যের শ্বাপদদের অরণ্য কিশোরীরা,
গর্ভাশয়ী-জননকোষী ফুলেরা তোমরাও যুদ্ধ শেখো;
শেখো নারী থেকে মানুষ হওয়ার রণক্রীড়া।
শক্ত করো কোমল পাপড়ি পেশী
নিজেকে নিজেই রক্ষা করো বিনম্র উর্বশীরা।
এ প্রজাপতির জঙ্গলে তোমাকেও টিকতে হবে,
এ চাপিয়ে দেয়া লালসার লড়াইয়ে তোমাকে জিততেই হবে।
শত ধর্ষণপতি হওয়ার আগেই-
ধর্ষক প্রজাপতি ভ্রুণগুলো অঙ্কুরেই হত্যা করো সাহসী ফুলেরা-
অরণ্যে ফুলদের বাঁচতে দাও।

২৩/১০/২০১৬

বিকেল সেজেছে
- সেলিনা আহামেদ শেলী

পাখিরে শুনতে পারছি তোর ডাক
আজ কেন অন্য সুরে ডাকিস., ভুল
করে কী এসেছিস? আমার আঙিনায়
এতো ঐ সুর নয়, কাল ভোরের এক
ফোঁটা শিশির ছুঁয়ে নিবে কী আমায় ?
বিকেলের প্রকৃতি সেজেছে বাহারি সাজে
গাছে গাছে পাখি দুলে সবুজ পাতায়,শত
শত ফুল ফুটে বাগানে হাসি দিয়ে উঠে
বিকল,পাখির নীড়ে যাওয়ার সময় এসেছে
আকাশে কালো রং ধরেছে মেঘ আসবে
বলে,কিরে পাখি আজ বুঝি ফিরে গেছিস
আমার দোয়ার থেকে না পেয়ে মন বুঝি
ভার,একটু যদি দেখা পেতাম মনে কথা খুলে
বলতাম শুনতি তুই কান পেতে সেই আশায়
এসে ছিলি আর হবে নাকো এমন ভুল, বসে
থাকবো সকাল কিংবা বিকেল হয় তো বা মিলেবে
গৌধূলির অস্ত ভাবনা নিশিরাত কখনো বা দেখা
মিলবে মনে কুটিরে ,তোর কথা ভাবতেই চোখে
ভেসে উঠে, তোর পালক জাপটানো ঐ ডানা দুটো ।

তাং ;২৩/১০/২০১৬

স্মৃতির পাতা
- উত্তম বিশ্বাস

যতই করি পারি না যে তোমার নামটি মুছে দিতে.
ততবারই রক্তিম হয়ে গেছে এ দুটি হাত,
দোষ কি আমার ....হৃদয় নীড়ে নিয়েছিলে ঠাঁই :
কেন করলে এমন তুমি, ,,,,কি দোষ আমার.???

স্বপ্নকে আজ ছিঁড়ে ঐ আকাশে দিয়েছি ঊড়িয়ে.
করেছো হৃদয় ভেঙে চুরমার, ,তবুও আছো তুমি.!!!

জানো কি তুমি আছো কোথায়.? পাশে নেই.
কোথাও নেই, ,,,রয়েছো শুধুই স্মৃতির পাতায় ....।।
ET
একান্ত আপন

ভুলে যেও
- আশরাফুল ইসলাম

তোমার শেষ চিঠিতে বলেছো,
ভুলে যেও্র প্রিয়!
কালও তোমার মনে কতোটা
শুভ্রপ্রেম ছিলো!
মনের অরণ্যে ছিলো সবুজের সমারোহ
হাসিতে কতো না মুক্তমানিক ঝরেছিলো!
আজ হঠাৎই কি এমন হলো?
ভুলে যেও,কি করে বল্লে কথাগুলো?
তার চেয়ে সেই ছিলো ভালো,
তোমার আপন হাতে ক’ফোটা
হিমলক তুলে দিলেনা কেন?

অপরাজিত
- মুকুল রায়

কেন অপরাজিতা রয়ে যেতে চাও !
আজীবন থাকে নাকি কেউ অটুট আবেদনময়ী..
একদিন প্রলয় হবে---বন্যা হবে..
বন্যা বন্য হবে-
বন্যায় ভেসে যেতে হবে সেইদিন..
সবাইকে একদিন...অন্তত: একদিন নতজানু হতেই হয় পরাজিত ভঙ্গিতে
জানো না, অপরাজিতার রঙ নীল পরাজয়
কেন অপরাজিতা রয়ে যেতে চাও গরবিনী
একদিন তোমাকেও নতজানু হতে হবে
অপরাজিতা থাকে না তো কেউই চিরদিনই..