সেপ্টেম্বর 2016

বৃষ্টির খোঁজে
- চিন্ময় প্রামাণীক

খবর এল--হাওয়া অফিস থেকে,
বৃষ্টি, আর আসবে না ! তবুও,
এক অবর্ণনীয় চাপা কষ্ট !
সময়ের সঙ্গী ।
ঝড় উঠল তবুও--কালবৈশাখী,
ঘরের চালা উড়িয়ে, যখন সব চুপ-
বৃষ্টিপাত হল, চোখের আড়ালে ।
ভাষাহীন--কাগজের নৌকা,
ভাসিয়ে দিলাম বৃষ্টি খোঁজে ।
তবু, খবর এল--হওয়া অফিসে-
বৃষ্টি, আর আসবে না কখনো !

30-09-2016

ছুটি কেন
- আর্যতীর্থ

মহালয়াতে কেন ছুটি থাকে বলো তো?
যা কিছু সব, শেষ হয়ে যায় ভোররাতে,
এই যুগে তো সেটাও নেহাত অদরকারী
ইচ্ছে হলেই মুঠোফোনে ' আশ্বিনের শারদপ্রাতে..'
পিতৃতর্পণ? সেটাও বলো কয়জন আর করে
ধর্মকর্মে বাঙালীর আর কবে ছিলো মতি?
ঠাকুরঘরটা কমতে কমতে ক্রমে কুলুঙ্গিতে
সে সব পাটও ফ্ল্যাটবাড়িতে বিলুপ্ত সম্প্রতি।
পুজোর সময় মন্ডপে আর কজন থাকে বলো
পুষ্পাঞ্জলি কখন শুধু খবর রাখা চাই
তারপরে তো যে যার মতো ঠাকুর দেখতে হাওয়া
পুজো আগলান পাড়ার জেঠু এবং পুরুতমশাই।
ভক্তিটক্তি মনে চেপে খাওয়া বেড়ানোয় মন,
পুজোয় নাহয় ঠাকুর দেখা, মহালয়ায় কি?
সরকারী সব কর্মচারী গালি দেবেন জানি
তবু বলি, ছুটি দেবার মানে আছে কি?

আর্যতীর্থ

। ছুটি কেন।
মহালয়াতে কেন ছুটি থাকে বলো তো?
যা কিছু সব, শেষ হয়ে যায় ভোররাতে,
এই যুগে তো সেটাও নেহাত অদরকারী
ইচ্ছে হলেই মুঠোফোনে ' আশ্বিনের শারদপ্রাতে..'
পিতৃতর্পণ? সেটাও বলো কয়জন আর করে
ধর্মকর্মে বাঙালীর আর কবে ছিলো মতি?
ঠাকুরঘরটা কমতে কমতে ক্রমে কুলুঙ্গিতে
সে সব পাটও ফ্ল্যাটবাড়িতে বিলুপ্ত সম্প্রতি।
পুজোর সময় মন্ডপে আর কজন থাকে বলো
পুষ্পাঞ্জলি কখন শুধু খবর রাখা চাই
তারপরে তো যে যার মতো ঠাকুর দেখতে হাওয়া
পুজো আগলান পাড়ার জেঠু এবং পুরুতমশাই।
ভক্তিটক্তি মনে চেপে খাওয়া বেড়ানোয় মন,
পুজোয় নাহয় ঠাকুর দেখা, মহালয়ায় কি?
সরকারী সব কর্মচারী গালি দেবেন জানি
তবু বলি, ছুটি দেবার মানে আছে কি?

আর্যতীর্থ

ছবি
- দিব্যেন্দু সান্যাল

সেকেন্ডের কয়েক অর্বুদ ফ্র্যাকশন
অপলক শব্দহীন তাকিয়ে তখনো…….এখনো…
হাসি……মৃদু হাসি…….মৃদু……মৃদু……মৃদু….
বোধহীন চেতনাহীন নিরঙ্কুশ মৃদু হাসি
অসম্ভব লজ্জাহীন মনে হলেও হতে পারে
এক রবীন্দ্র অনুরাগী নিরাসক্ত রমণীর ।
অ্যঁলি ব্র্যান্ডের নিখুঁত ভাঁজহীন পোষাকে
অনন্ত অব্যয় ছিটিয়ে
ঋতু বৈচিত্রের ঠিক বিপরীত মেরুতে তুমি
স্তব্ধ ঘড়ির কাঁটা টিক্ ।
তখন জিওক্যারাইল মেক-আপের দখলে ছিল
অসংখ্য রোমকূপ এবং
হৃৎপিন্ডের একটি স্পন্দনও সম্পূর্ন হয়নি ।
অসম্পূর্ন থেকে গেছে
একটি বিন্দুর ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু প্রেমের বিভাজন;
আর একটি মাত্র অমোঘ বিভাজন
তাকে অখন্ড ব্রহ্মজ্ঞানে উদ্ভাসিত করেও দিত
অথচ সেই বরেন্য সাধনা রুদ্ধ করে দিল
একটি মোলায়েম আঙুলের ক্লিক্ ।
সে এখন খন্ডনের শেষ সীমায় দাঁড়িয়ে..
মুখে মৃদু হাসি ।
এই হাসির হাত ধরেই পঞ্চম মহাকাব্যটি লেখা যেত
কিন্তু তার আগেই
তুমি হঠাৎ
ওয়ান পয়েন্ট সেভেন থ্রি টু ফোর
বিলিয়ন প্রেম ঢেলে দিলে ।
আজ তোমার ক্লান্ত চোখের দুকোনে
জমেছে অজস্র মুক্তোদানা,
মুক্তোদানার ব্যাসার্ধ মাপার
ঘামগন্ধ পরিহিত সাদামাঠা লোক
আজ প্রায় পশ্চিম দিগন্ত ছুঁই ছুঁই
ওকে আর খুঁজোনা কোথাও
ও ফিরবেনা ।

ধূর্ত রাত
- রতন সেনগুপ্ত

কয়েক লক্ষ ধূর্ত রাত মধ্যে বসে
তোমার আমার
বুকের মধ্যে আগুন জ্বেলে খাচ্ছে
মধ্যযুগ বৃষ্টি জল
শিকড় থেকে গজাচ্ছে ডালপালা
হাল দিচ্ছে সার দিচ্ছে দিচ্ছে অঢেল পানি
উপড়াবে কে
বুকের মধ্যে অন্ধ আশমানি
মগডালে আছেন যিনি জানেন তিনি
কাঁটা থাকলেও এটাই নিরাপদ
অন্ধকার কাটলে যদি হাঁটে সূর্যরথ
মাঝে মধ্যে জামাকাপড় শুকিয়ে নিলেই হল
সুখের মধ্যে অসুখ থাকে - থাক না
কয়েকটা বুলেট দিয়ে ঘুচিয়ে দেব বায়না
অন্ধকার কেটে গেলে মুখের সামনে আলো
এর চেয়ে বেঁচে থাক মৌল .... মৌল .... মৌল ...
কয়েক লক্ষ ধূর্ত রাত মধ্যে বসে
তোমার আমার ।

হয়তো তোমারি জন্য
- নাসরিন আক্তার

যানি দিন থমকে গেছে
পুরোন সব স্মৃতি আকরে ধরেছে
মনের নিস্তব্ধ ক্রন্দন
বেদনা ভরা ক্রান্ত এই মন
শূন্য
এই আমার জীবন
সাগরের স্রোত
বলে যায়
ফেলে আসা ক্ষন
হিমেল বাতাস এখন
অপেক্ষারত
"হইতো তোমারি জন্য"

Sunanda_Chakraborty_Nabadibakar

মুক্তির আস্বাদ
- সুনন্দা চক্রবর্ত্তী

খুন হোলো সেই সুক্ষ্ম অনুভূতিগুলির
যারা কখনো তোমার হাত ধরে
এসেছিল আমার কাছে....
খুন হোলো সেই ছোট্ট মনের
যে তোমার কাছে ভালবাসতে শিখেছিল...
খুন হোলো সেই স্বপ্নের
যা কখনো তোমার পথে
পা মেলাতে চেয়েছিল
খুন হোলো অপেক্ষার প্রহর
যা কেবল তোমার পায়ের
শব্দে শেষ হতো কখনো
সব খুন হয়ে গেল
দু হাতে শেষ কাজ করে এলাম
আজ মুক্তির শ্বাস নেবার পালা
তবু মুক্তি নেই
এখনো যে
খুন হয়নি স্মৃতিগুলির
এই স্মৃতিশক্তির মৃত্যু চাই
কেউ খুন করতে পারো একে
পারো আমায় সম্পূর্ণ
মুক্তির আস্বাদ দিতে

- সুনন্দা চক্রবর্ত্তী
২৯/০৯/২০১৬

ইচ্ছে হলে
- শাহিনা কাজল

ইচ্ছে হলে
অাসতে পারো জ্যোৎন্সা অালোয়
নদীর ঘাটে
ডাকতে পারো দোয়েল হয়ে গাছের ধারে
সবুজ মাঠে।
হাঁটতে পারো দূর্বাঘাসের শিশির ভেঙে
শূণ্য পথে
বসতে পারো অনেক টা পথ একলা হেঁটে
অামার সাথে।
গাইতে পারো বিজন রাতে বেলকনিতে
অাপন সুরে
নাচতে পারো পেখম তোলা ময়ুর বেশে
অামায় ঘিরে।
খেতে পারো বাঙ্গি ক্ষিরাই
মনটা ভরে
নাইতে পারো তারার মত
ডুব সাঁতারে।
ইচ্ছে হলে
খুলতে পারো তালা দেওয়া ঐ জানালা
তোমার তরে।
ভুলতে পারো পরাগ মাখা শিউলী মালা
গলায় পরে।।

সীমানা
- চিন্ময় প্রামাণীক

প্রায় শান্ত তখনো,
কাঁটা তারে ঘেরা-
এই দু-পাশের সীমানা ।
সশস্ত্র বাহিনী,
এক জোট হয়ে-
মত্ততা আনা গনা ।
সূর্যটা তখনো পশ্চিমে,
ম্লান আলোর রশ্মীয়
আকাশ টা লাল ।
আশঙ্কা বয়ে চলে ,
অজানা কোনো যুদ্ধের আশায়-
রক্তক্ষয়ী সংগ্রামী ‘ওদের’ মহা-কাল ।
হঠাৎ এক দমকা হাওয়া !
পাগল করা নেশা
ওরা অদৃষ্টের দাস ।
হইতো কিছু প্রত্যাশা !
ভাঙ্গা আর গড়ার আশায়
ওরা জীবন্ত লাশ ।

আমার তুলতুলে দুঃখতা
- মোশ্ রাফি মুকুল

আমি চেয়ে ছিলাম কাপাস তুলোপেজা মেঘের শুভ্রতা,
অথচ তুমি দিলে গুমোট আকাশ
আমি চেয়েছি বিরহীবুহ্য ভেঙে আমাদের প্রার্থনাকাল আজ হোক আনন্দপাখা
আমরাও উড়ি মেঘের দেশে।
তুমি রিক্ততার কপাট খুলবেনা তবে?
চেয়ে দ্যাখো অন্ধকার থেকে জম্মেছে
কতো হিরণ্ময় শাবক
ওরা তরতরে বেড়ে উঠছে আমার প্রছন্ন তন্দ্রাহীন চোখের তৃণভূমিতে,
আমিও ওদের দেখে রেখেছি তোমাকে কিছু সুপ্তসত্যের মুখোমুখি
করবো বলে।
তুমি ভয় পেয়ে গেলে
আসলেই না।
জানি আসবেনা কোনদিনও
আমার অধরের লজ্জা ভেঙেই সেই যে তুমি কাপুরুষ হলে তারপরতো পুরুষ হতে পারোনি আর।
কি এতো বেশি চাওয়া ছিলো আমার?
আমার সমস্তস্বত্ত্বা নিবেদন করে তোমার তুলে রাখা বিশ্বাসের ছায়াটুকুন চেয়েছিলাম শুধু
এতোই শূন্য তুমি, এতোই নিঃস্ব তুমি?
এই ছোট্ট ইপ্সাটা পুরাতে পারলেনা?
ভেবেছো এখন আমি অনিশ্চয়তার মেঘনার চরে কষ্টেরছাগল পুষি;
নাগো সোনা! না
আমি আজো রয়ে গেছি প্রেমের পূজক,
আজো আমি ভালোবাসি,ভালোবাসি-
আমার গহীনের তুলতুলে দুঃখতা।

ভালবাসার ইচ্ছেরা
- স্টেলা সীমা গমেজ

খুব ইচ্ছে করছে ভোরের পাখি হতে
জানালার পাশের গাছটিতে বসে
মধুর কলতানে ভালোবাসি ভালোবাসি
বলে---তোমার ঘুম ভাঙ্গাতে।
ভোরের স্নিগ্ধ কিরণ হতে মন চাইছে
জানালার ফাঁক গলে খুব কাছ
থেকে তোমায় দেখতে,
আলতো ছোঁয়ায়---
মুখখানি তোমার আদরে আদরে
ভরে দিতে---
তোমার বাগানের সুবাসিত ফুলটি
হওয়ার ইচ্ছে জাগছে খুব
বাতাসে ভর করে সুবাসে সুবাসে
তোমার সারা গায়ে লেপটে থাকতে।
চপলা মন শুধু ফন্দি আঁটে
খুব কাছে যেতে চায়---
বিমোহিত মন বন্দি হতে চায়
ভালোবাসার বাহুডোরে।
ঐ যে তুমি বললে,
"তোমায় খুব ভালোবাসি সখী"
মুক্তো হওয়ার সাধ জাগে খুব,
ঝিনুক হয়ে বুকে রাখবে তো আমায় ?

© Copyright Stella Shima Gomes

আল্লাহু আকবার
- জয়

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
এক ডাকে বিশ্ব অবাক
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
সব বিভীষিকা থেমে যাক।
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
নয় তো হিংসা ছড়াবার
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
শুধু শান্তির বার্তা পাঠাবার।
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
এ নাম শিক্ষিত মানুষ গড়ার
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
সমাপ্তি হোক ভুল বোঝার।
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
আছে সুখ আনন্দ বেদনায়
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
মানুষ মানুষে ভালবাসায়।
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
এ ডাকে দাসপ্রথা থামে যায়
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
এ ডাক সমৃদ্ধ উদারতায়।
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
নামে সাফল্য জ্ঞান সাধনার
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
এ ডাকে শান্তি তোমার আমার।
______________ জয়

শ্বেতপায়রা উড়িয়ে দিন
- মোশ্ রাফি মুকুল


শান্তির সব সুস্থধারনাকে অতীত করে দিয়ে উপমহাদেশের পরমাণু মগজ গুলোয় ডিগবাজী খাচ্ছে যুদ্ধের সুখ।হয়তো টর্নেডোর মতো ঘুর্ণিবাতাস নিয়ে জলপাইরঙের জঙ্গিবিমান গুলো হয়ে উঠবে খুনি বাজ পাখি।
ছোঁ দিয়ে বসিয়ে দেবে রক্তমাংসে ধারালো নখর।
রক্ত ঝরছে!রক্ত ঝরবে!পুড়ে যাবে বসতভিটা। তিলে তিলে গড়া এ তিলোত্তমা নগর,সবুজ ঘাস;
প্রজম্মের জন্য রেখে যাবে হিরোশিমা কিংবা নাগাসাকির নতুন চিহ্ন,
কিছু পোড়া মাটি আর বিকলাঙ্গ ভ্রুণবীজ।
শান্ত হোউন হে অশান্ত আত্মাগন।প্লিজ- সভ্যতার শর্তভেঙে যুদ্ধের দামামা বাজাবেন না।সুনীল আকাশে পারমানবিক শকুনের আততায়ী ড্রোন নয়
শ্বেতপায়রা উড়িয়ে দিন।


৩০/০৯/২০১৬

Shyamashri_Ray_Karmaka

আগমনী দিনে
- শ্যামশ্রী রায় কর্মকার

আগমনী দিনে
অন্য কবিতা লিখতে ইচ্ছা করে।
আদরিনী অন্ধকারে
যখন চোখে সুরেলা ঘুম
কুয়াশার মত ছেয়ে থাকে,
সাধ হয়,চলে যাই
গভীর গহীন কোন বনে,
সদ্য পাতার বুকে
কান রেখে শুনে নিই
বৃষ্টির অস্ফুট গান,
বীজের গর্ভে থেকে
যে গান সে বুকে ধরে আছে,
সবুজ অন্ধকারে।
পাতাদের ফিসফাসে শুনি
হিমেল বাতাস রোজ
পাতাদের বুকে এসে
মুখ রেখে কাঁদে,
অথবা ঘাসের শীষে
দু:খ জমিয়ে রাখে
সারারাত ধরে।
অজস্র পাখী আর প্রাণী
নিরব সাক্ষী হয়ে থাকে।
সাধ হয়,
মিশে থাকি একমুঠ অন্ধকার হয়ে
এমন রাতের সাথে,
শরীরে জড়িয়ে রাখি
শিশির আর পাতাদের ঘ্রাণ,
ঘাসের আদর মেখে
প্রান্তর হয়ে শুয়ে থাকি।
সমস্ত আগমনী রাতে
এমনভাবেই মিশে যেতে চাই
মাটি আর আকাশের সন্তানের সাথে,
অথবা ফিরতে চাই ছোট্টবেলার মত
মায়ের বুকের কাছে নরম আদরে।

৩০.৯.১৬

মধ্যবিত্ত যন্ত্রণা
গোপেশ দে

কিছু মধ্যবিত্ত যন্ত্রণার মাঝে ডুব দেয় আমার বকের মত সাদা ধবধবে কবিতা।
চষে যায় মাঠঘাট,জলাভূমি,
কিছু মধ্যবিত্ত সুখ খুঁজবে বলে।
আমার ব্যাকব্রাশ চুলের পরে অনেকদিন চিরুনি পড়েনি।
যষ্ঠিমধুর সন্ধানে উড়িয়ে দিচ্ছি ছেঁড়াপালক কাশফুলের কাছে।
অনেকদিন সৌন্দর্যকে লন্ড্রীতে পাঠাইনা অভাব আমার মাঝে মাধ্যাকর্ষণজনিত স্বভাব হয়ে আছে বলে।
রাতের বেলা সকাল আমায় ঘুম পাড়ায় আর সকালবেলা রাত আমায় আশ্বাস দেয় ঘুম আনবে বলে
বুকের কবিতার রক্ত ছিঁড়ে খেয়ে
ছায়ামারীচের বেশে ঘুরে বেড়ায় রাত।
আমি তবুও কবিতার রক্ত ছিঁড়তে দেইনা
অবিন্যস্ত উপাত্তের বিন্যস্ত ছক হবো বলে।

। স্বপ্নচোর।

সিঁদ কেটেছি তোমার ঘরে, স্বপ্নগুলো করতে চুরি
স্বপ্নগুলো ঝাঁকায় নিয়ে দিনের বেলা ফেরি করি ।
দিন ফুরিয়ে সন্ধ্যা হলো, বিক্রিবিহীন ভর্তি ঝুড়ি
টের পেয়েছি তোমার কাছে আছে নতুন স্বপ্নকুঁড়ি।

তোমার কাছেও অজানা আজ স্বপ্ন তোমার কত দামী
ঘাপটি মেরে নিশুত রাতে স্বপ্ন দখল করবো আমি।
কালকে যখন ভাববে তুমি নতুন কোনো স্বপ্ন গড়ি
তোমার স্বপ্ন বেঁচবো তোমায়, এমনি আমার বাহাদুরি।

লাখো টাকার স্বপ্ন দেখো আজকে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে
কথায় কথায় আলাপ জমাই দেখি তোমার স্বপ্ন ছুঁয়ে।
যেই আমাকে বোদ্ধা ভাবো অমনি আমি ঘোরাই ছড়ি
সুযোগ বুঝে দিই বুঝিয়ে মূল্য এদের কানা কড়ি।

তুমিও তাই বোকার মতন স্বপ্নগুলো বিছিয়ে রেখে
হেদিয়ে মরো, দুঃখ করো অন্য কারো স্বপ্ন দেখে।
নিজের স্বপ্ন ঘরে রেখে বাইরে করো ঘোরাঘুরি
ফাঁকা ঘরে আরাম করে স্বপ্ন তোমার করি চুরি।

আর্যতীর্থ

। প্রাক্তন।

কিচ্ছু আমি যাই নি ভুলে, জানো,
সিঁড়ির কাছে সেই ঘুরে তাকানো,
প্রথম দেখার দুরুদুরু কফি,
শুনেও তোমার না শুনবার ভানও

কবে তুমি পরেছিলে নীল শাড়ি
এতদিন পরে তারিখ বলতে পারি
লেক রোডে বাস যানজটে থমকালে
উঁকি মেরে খুঁজি ডাইনে হলুদ বাড়ি।

তবু কেন হলো কথারা ক্রমশ তেতো
তোমার আমার দুজনেরই দোষ সে তো
অপছন্দগুলো খোলাখুলি বলে দিলে
হয়তো ঘটনা অন্যরকম হতো।

যা হোক, সেসব ঘটেছে অনেক আগে
কাসুন্দি ঘাঁটা কার আর ভালো লাগে
মাঝে মাঝে শুধু বিনঘুমী মাঝরাতে
তোমার স্মৃতিরা কেউটের মতো জাগে

ফটো চালাচালি কবেই গিয়েছে চুকে
ব্লক হয়ে গেছো ফোনে আর ফেসবুকে
মাঝে মাঝে তবু ল্যাপটপ জুড়ে হাসো
অটোব্যাকআপের হিসেবের ভুলচুকে।

কেউ ছুঁয়ে গেলে কিছু জমা হয় ঋণ
সবার জীবন স্মৃতিদের পরাধীন
নাম্বারগুলো ব্লক করা আছে তবু
পাসওয়ার্ড আজও তোমার জন্মদিন।

আর্যতীর্থ

দু’টি চোখ
- নিয়াজ উদ্দিন সুমন

মমতাময়ী ঐ দু’টি চোখে
যখন চেয়ে থাকি অপলক
কিছু কথা বলে সে
না বলা ভাষায়।
অব্যক্ত কথামালা জমে থাকে
চোখের পাতায় পাতায়।
আমি তাই চেযে থাকি
বুঝিতে যে চাই-
মমতাময়ী ঐ দু’টি চোখে
বারে বারে নিজেকে হারায়।

খুশির মেজাজে বাধা বৃষ্টি
- সুচেতনা মিত্র

রোদ ঝলমল আকাশ দেখ
লাগছে ভারী মিষ্টি
বাদল মুখর গগণ থেকে
বুঝি বিদায় নিল বৃষ্টি ।
কাশ ঝরছে শিউলী ফুটছে
ভিড় দোকানে দোকানে ,
মা আসছেন কদিন বাকি
প্রজাপতিরা ফুলের বাগানে ।
সবার মনে খুশির দোলা
বাজছে আগমনীর সুর ,
খুকুর হয়েছে নতুন জামা
নাচছে- আনন্দে ভরপুর ।
বড়দের আছে নানা ব্যস্ততা
নানা সমস্যায় ভরা ,
তবুও সবাইকে দেখতে খুশী
আনন্দের বাজার করা ।
বছরে একটিবার মা আসেন
খুশিতে মনে দোলা ,
থাকবে দুঃখ থাকবে বেদনা
কটাদিন খুশির জাল বোনা ।
লেখা শেষ হতে না হতে
বৃষ্টি এলো ঝমঝমিয়ে....
আলো মাখা আকাশ আবার
অন্ধকারে গেল ঝিমিয়ে ।
এবারে বৃষ্টির হল কি
শরতে জাঁকিয়ে বসেছে ,
মা আসছেন বাপের বাড়ী
ওকি ভুলে গেছে ।
ওরে বৃষ্টি দুরে যা
আর জ্বালাস না ,
পুজো ভালো কাটুক সবার
এটাই একমাত্র কামনা ।

তুমি আমি
- জয়

তুমি আমার অনন্ত সুন্দরী
তাতে কি সন্দেহ আছে
আমিই বা কম যাই কিসে
জীবনের সব হিসেব কষে
আকাশ পাতাল স্বপ্ন ভুলে
তুমি আমি দোলনা দুলে
আছি দুজনে মিলে মিশে
জীবন কাটুক ভালবেসে।

_______জয়

বীর শহীদ ভগৎ সিং
- চিন্ময় প্রামাণীক

সারফরোশী কী তামন্না-- অব হামারে দিল মে্ হে,
দেখনা হে--জোর কিতনা, বাজু এ কাতিল মে্ হে ?
মা-গো, তুমি যে দিয়েছ ঠাঁই--
তোমার কোলে,
শত কষ্ট বুকে নিয়ে,
দিয়েছ অন্ন সকলের মুখে হাসি মুখে তুলে।
মুছিয়েছ দু-চোখের জল, তোমার আঁচল দিয়ে,
দিয়েছ শক্তি, এ তাজা প্রাণে মাটির সাথে
মিশে।
আমরা কী হার মানতে পারি--এত সহজেই ?
যখন দিয়েছ তুমি জয়ের তিলক--কপালে আঁকি,
আমরা মরতে পারি !
আমরা মারতে পারি হাসিখুসি
মা..... তোমার জন্য ।

"বীর শহীদ ভগৎ সিং এর--
জন্মদিন-উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।
তোমাকে শত শত কোটি প্রণাম ।"

মানসী
- অনাদি চক্রবর্তী

দেখিনি কখনো তারে
তবু দেখা হয় বারে বারে,
সুনীল আকাশে মধুর বাতাসে
শ্যামলা ধরণী 'পরে।
চৈত্রের ঝড়ে দেখি আমি তারে
ধূলায় ধূসর বেশে,
কালবৈশাখে কাজলা আকাশে
দাঁড়ায় সে এলোকেশে।
জৈষ্ঠ্যের দিনে দারুণ দহনে
বিরহে পুড়িলে হিয়া,
সে এসে তখন দেয় দরশন
রুদ্রাণী রূপ নিয়া।
আষাঢ়ে শ্রাবণে বাদলের দিনে
ঝর ঝর বরষণে,
হেরি আমি তারে, সজল নয়নে
চেয়ে আছে মোর পানে।
হেমন্তে তার রূপের বাহার
দু'নয়নে মোর ভাসে,
পল্লীর মাঠে সোনালী ধানের
মিষ্টি মধুর বাসে।
পৌষ ও মাঘে হিমেল সোহাগে
জড়ায় সে ক্ষণে ক্ষণে,
বিরহ দহন জুড়ায় তখন
শীতল আলিঙ্গনে।
আসে বসন্ত ফাগুনের বেলা
থাকি মোরা পাশাপাশি,
শিমুলে পলাশে কৃষ্ণচূড়ায়
হাসে মোর মানসী।

কোলকাতা , ২৮/০৯/১৬

ক্ষমা
- চিন্ময় প্রামাণীক

তবে, ভালোবাসো--সব ভুলে, এখন ।
যত ঘৃণা আছে মনে, হোক তার অবসান ।
যদি-- সব বিভেদ,না ভুলে,
তুমি-- না পারো ক্ষমা করে দিতে,
তবে; এটুকু যেন মনে--
যত সুখ আছে-- এ পৃথিবীতে,
হতে পারে তা সব ক্ষয়--
তোমার--জমে থাকা ঘৃণায় ।
তুমি কী-- পেয়েছো কোথাও-
ঘৃণা দিয়ে জয় ?
ভালোবাসো--- ক্ষমা দিয়ে,
দেখ-- তুমি নিশ্চয় পাবে জয়,অবশেষে ।

হয়তো তোমারি জন্য
- নাসরিন আক্তার

যানি দিন থমকে গেছে
পুরোন সব স্মৃতি আকরে ধরেছে
মনের নিস্তব্ধ ক্রন্দন
বেদনা ভরা ক্রান্ত এই মন
শূন্য
এই আমার জীবন
সাগরের স্রোত
বলে যায়
ফেলে আসা ক্ষন
হিমেল বাতাস এখন
অপেক্ষারত
"হইতো তোমারি জন্য"

শঙ্কা
- শ্যামল কুমার মাইতি

দু:খ-স্রোত বয়েই যায় সময়-তরঙ্গে
শহীদদের নিথর মুখ জ্বালা ধরায় বুকে
ভাবনা এসে প্রতিশোধের কুরে কুরে খায়
জাগছে রাত সেনার দল রাইফেলের ডগায়।

বুদ্ধি সাজে ওয়ার রুমে রণকৌশল পেয়ে
দেশে দেশে যুদ্ধ হবে আশঙ্কায় মন কাঁপে
লাভ হয় না কিছুই আসলে যুদ্ধ যদি হয়
উলুখাগড়া মানুষ যদি তারাই শেষ হয়।

কূটনৈতিক টানাপড়েন হাজির বিশ্বমঞ্চে
দাপিয়ে বেড়ায় যুদ্ধবাজ দুষ্ট ইশারাতে
জোট বাঁধে স্বার্থ মিলে সন্ধি যদি হয়
কেঁপে কেঁপে ওঠে ভূমি গভীর শঙ্কায়।

যুদ্ধ আসে যুদ্ধ যায় হিংসা টিকেই থাকে
অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা বাসনাতে
রাজা বানায় যুদ্ধনীতি নিজের যোজনায়
পালন করে জওয়ান তা মুখ বুঝে মানায়।

কথার ফানুস উড়েই চলে লড়াই শুরু হলে
জীবন ঝরে নীরব হয়ে দেশকে ভালোবেসে
হার মানতে চায় না থেকে বীরের ভূমিকায়
হার জিতের যুদ্ধ খেলায় শহীদ হয়ে যায়।
- শ্যামল কুমার মাইতি
26.09.2016

আমি শিখেছি
- চিন্ময় প্রামাণীক

আমি শিখেছি--এ প্রকৃতি মাঝে,
কি ভাবে --ভালোবাসতে হয় ।
কি ভাবে--নিজের সব দিয়েও,
অন্যের জন্যে বাঁচা যায় ।
আমি শিখেছি--হিংস্র পশুর কাছে,
কি ভাবে--এক জোট হতে হয় ।
পোষ মানা কুকুরের কাছে--পেয়েছি জ্ঞান,
কি ভাবে প্রভুভক্ত হতে হয়।
আমি শিখেছি--এই পাখিদের কাছে,
কি ভাবে --এক সাথে উড়তে হয় আকাশে।
কি ভাবে--জাগতে হয় ভোরের আলোয়,
কি ভাবে বাঁচা যায় প্রতি দিনে... ।
আমি শিখেছি --এই সূর্য কাছে,
কি ভাবে আলো দিতে হয় ।
এই পাহাড়ের শৃঙ্গ--শিখিয়েছে আমায়,
কি ভাবে-- বড় হওয়া'র গর্ব করতে হয় ।
এই ঝরনা-- শিখিয়েছে আমাকে,
কি ভাবে অশ্রু বর্ষণ করতে হয় !
এ যে নদী-- শিখিয়েছে বার বার,
কি ভাবে-- বাঁক নিয়ে চলতে হয় আবার ।
আমি শিখেছি-- মানুষের সাথে,
কি ভাবে-- নিজেকে বদলে নেওয়া যায় !
কি ভাবে-- ছলনার ছলে,
মানুষ হয়েও, অমানুষ হওয়া যায় ।
আমি শিখেছি--তোমার ভালোবাসায়
কি ভাবে দুটি মন এক সাথে জোড়া যায় ।
শিখেছি তোমার ঘৃণার কাছে--
সব ভুলে কি ভাবে,
কত সহজেই পর হওয়া যায় ।

27-09-2016

কষ্টকূট
- মোশ্ রাফি মুকুল

এতো প্রলয়,এতো পরাজয়
আশ্চর্য!তবু বেঁচে আছি,বেঁচে আছে কিছু শ্বাস,
আশ্চর্য এখোনো ঘুম আসে,জেগে থাকে কিছু স্বপ্ন প্রতিভাস।
যেমন বেঁচে থাকে প্রত্নতত্ত্ব দেয়ালে মস আর ফার্ন।
আপ্লুত হই তবু রাত্রি নিশিথে
তোমারই মুখ খানি যখন জাগায় লুব্ধপ্রেম-
কিছু নিরবতা-সুনশান।
জাগায় প্রগলভ ভালোবাসা,ক্রুদ্ধতা,শ্লেষ,
জাগায় দুঃখতা,কষ্টকূট,কিছু জমাকৃত আক্লেশ।
সবকিছু ঠেলেঠেলে এগিয়ে আসে
কিছু কবিতার উচ্চাভিলাস,শব্দের খানদান।
আশ্চর্য! এখোনো ঘিরে ধরে কিছু মায়ামোহ,
কিছু উষ্ণতা,কিছু ওম;
ছুঁয়েদেখি তবু নাকের ডগায় অবশিষ্ট আছে কিছু দম।
অভিভুত হই এ জীবনযুদ্ধে-
এতো আঘাত,কতো করাঘাত,
তবু হতাশার কপোলে ডুলখায় কিছু নেশাধরা টুল,
স্মৃতির কপালে গড়িয়ে পড়ে কিছু সোনালীঘাম।
বুকের নতুনচরে জেগে ওঠে হাইব্রীড ঘাস
কিছু রোমশ লোম।
আশ্চর্য! এতো দীর্ঘঃশ্বাস
এতো মনোখুন,এতো হৃদঘাতকতা-
এতো অবিশ্বাস,
তবু দিব্যি লু-বাতাসে ছড়িয়ে যাই ভালোবাসার কর্পূরঘ্রাণ!
তেপান্তরের সীমানায় দাড়িয়ে থাকা
বৃদ্ধ তমাল বৃক্ষের মতো আজো বেঁচে আছে,
দু'টি সরল চোখ,একটি সহজ মুখ
কিছু কঠিন অপমান,কিছু প্রতিশোধ,
কিছু জটিল অভিমান।
আশ্চর্য! তবু মানুষ বেঁচে থাকে,
আশ্চর্য তবু বেঁচে আছি।

২৭/০৯/২০১৬

বাজিমাত
- রতন সেনগুপ্ত

শত্রুতা করার আগে বন্ধুতা চাই
ডাস্টবিনের রসগোল্লা খেয়ে খেয়ে বুঝিনি কখনো
তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক
চেয়েছি অনুদান অনাথ আশ্রম দান
ভিক্ষাকে ভেবেছি মহান
পদ্মপাতার জলে কয়েকজনার অভিসার
কয়েকজনার
বাকি সব হাত পাতা করুণায়
চিরন্তন অভিশাপ নিয়ে ঘোরে
আতালি বিতালি অগন্তি
মানব সম্পদ ? গিলে খায় মহাপুরুষের বানী চিরকাল
এইতো সময়
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা সারাবেলা
শরীর চুইয়ে নামে
বিক্রি হবে লক্ষকোটির যুদ্ধ বিমান
তাওয়ায় বসিয়ে রুটি ছেঁকে ..
ধর্ম বড় দুর্বল খোঁচাও
নিশ্চিত লুট ভুট সহজ উপায়
চোয়ানো জলের ছেটায় হাঁটেন
যৌন আরশোলা
সঙ্গে শত্রু শত্রু গন্ধ লেপে দিলে
ধুরন্ধর বাজার চমকায়
ব্যবসায় বর্গী থাকে জানেন তন্ত্র মহাশয় ।

সন্দেহ
- আর্যতীর্থ

তোমার শরীরে প্রতি ইঞ্চিতে আমার স্পর্শ আছে,
অথচ আজও অচেনা রইলে আমার মনের কাছে।
অলিতে গলিতে সুখ খুঁজে ফিরি সুতীব্র আশ্লেষে,
এখনো বুঝিনা কতটুকু ছোঁয়া দাও তুমি ভালবেসে।

শার্সি ভেজানো বৃষ্টির ফোঁটা লিখছে প্রেমের পদ্য
গোপন বাসনা আড়মোড়া ভেঙে খোলস ছেড়েছে সদ্য
স্বেদের বিন্দু সুখের কাহিনী লিখে চলে চুপিসারে
তোমার গল্পে অসুখের কথা তবু কেন উঁকি মারে!

চাঁদের জোছনা ছাদে এসে হয় আরেকটু প্রগলভ
আলগা আদর মেখেছি আঙুলে এবার তোমাকে ছোঁবো
হাল্কা সুবাসে আভাসে জাগছে দূরের হাস্নুহানা
চাঁদ বলে গেলো এখনো অনেক বাকি রয়ে গেছে জানা

অধরের সাথে মিশলে অধর মনও কি মেশে মনে?
নাকি খুঁজে নেয় আদর শরীর জৈবিক প্রয়োজনে?
কতটুকু মন মিশে যায় মনে দেহতে মিললে দেহ?
আদম ইভের মতই পুরোনো চিরকেলে সন্দেহ।

- আর্যতীর্থ

পিংক দেখে
- আর্যতীর্থ

পিংক দেখেছো? এখন তো এই একটাই থিম,
' না মানে না, পুরুষ সেটা মানতে শিখুক,
পেরিয়ে গিয়ে পোশাক আশাক চলন বলন
সমান চোখে এবার পুরুষ নারী দেখুক।
এই কথাটার আলোচনা চলছিলো আড্ডায়
কতিপয় প্রগতিশীল শিক্ষিত নরনারীর মধ্যে
পিংকের তিন ললনার কথা উঠতেই
এক নারী ঝাঁঝিয়ে উঠে বললেন, ' বাদ দে!'
মানছি সিনেমাটা ভালো, অ্যাক্টিং ফাটাফাটি
টানটান গল্পে বক্তব্যটাও বেশ পরিষ্কার,
কিন্তু যদি অচেনা পুরুষের সাথে না যেতো,
তাহলে ব্যাপারটা এতদূর গড়াতো কি আর?
সব্বাই বিলক্ষণ তাতে ঘাড় নেড়ে সায় দেয়
সত্যিই তো, ওদের হয়েছিলো ভারী অন্যায়
অচেনা লোকেদের সাথে আলগা আলাপে
কেউ যায় নাকি ওইসব শেডি জায়গায়?
এক বন্ধু এতক্ষণ কোনো কথা বলেন নি,
চুপচাপ শুনছিলেন; তিনি বললেন এবার,
' কিছু ব্যাপার সবাই বেমালুম ভুলে গিয়ে
খামোখা চেষ্টা করছো ফালতু যুক্তি দেবার।'
রক কনসার্ট ছাড়ো, ধরো ওটা কলেজ ফেস্ট
আধাচেনা কিছু ছেলে আর মেয়ের পরিচয়
তারা হঠাৎ ঠিক করলো আড্ডা মারবে কোথাও
দলে গেলে একটু বোধহয় কমই লাগে ভয়।
ছেলেগুলো গাড়ি করে কোথায় নিয়ে যাবে,
যাওয়ার আগে মেয়ে তিনটে বুঝবে কেমন করে?
তাছাড়া সেই ছেলেগুলো অভদ্র তো নয়,
তখন অবধি তারা ছিলো ভদ্র মুখোশ পরে।
রিসর্ট ছাড়া অন্য কোনো জায়গা হতো যদি
কত লোকের হাতে থাকে ফাঁকা ফ্ল্যাটবাড়ি
তা হলেও কি বোঝা যেতো মুখোশ খোলার আগে
ভদ্রলোকের ছেলেগুলো নিখাদ বদের ধাড়ি?
পিংক যেটা শিখিয়ে গেলো নিটোল গল্প বলে
নারী পুরুষ নির্বিশেষে সেটাই শোনো না
চেনা হোক বা আধাচেনা, কিংবা বাণিজ্যিক
শরীর ছোঁয়ার ক্ষেত্রে নারীর না মানে না।'

আর্যতীর্থ

ঝড়বৃষ্টি
- আর্যতীর্থ

ঝড়ের পরে বর্ষা হবেই বলা কি যায় হলফ করে
বৃষ্টিপাতও আসতে পারে যখন তখন বিনা ঝড়ে।
ভাগ্য যদি খারাপ থাকে ঝড় উঠে যায় মেঘের ডাকে
বৃষ্টি ভেজা নাকাল মানুষ ঝড়ের ঠেলায় উল্টে পড়ে।
বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনায় সাবধানী লোক রাখে ছাতা
ঝমঝমাঝম বৃষ্টি এলে বাঁচতে পারে শরীর মাথা
ঝড় যদি যায় হঠাৎ এসে বেচারি যায় তখন ফেঁসে
দমকা হাওয়া দেয় উড়িয়ে সাবধানতার কুচো পাতা।
রাইয়ের চোখে মেঘ ঘনালো, বৃষ্টিরা প্রায় হবো হবো
আড়চোখে নিই জরিপ করে বর্ষা হলে কোথায় যাবো
অভিজ্ঞ এই শর্মা জানে বৃষ্টি কেমন ঝড়কে টানে
কেউ জানেনা সে ঝড় এলে কোথায় গিয়ে গোত্তা খাবো
মেঘ গুড়গুড় মেঘ গুড়গুড়, হাওয়ায় ভেজা গন্ধ ভাসে
বুক দুরদুর, বুক দুরদুর ওই বুঝি সেই ঝড়টা আসে
হঠাৎ আমার হলো মনে পালাই আমি কি কারণে
আমার আছে অংশীদারী মেঘলা হওয়া এই আকাশে।
আমার দিকে রাই তাকালো, টলটলে চোখ ছলোছলো
তুতলে বলি, বৃষ্টি নামাও, দুজন মিলে ভিজবো চলো
রাইকিশোরী বললো হেসে কি হবে আর বৃষ্টি এসে
তোমার এমন ফাজলামোতে শুকিয়ে গেলো চোখের জলও।

আর্যতীর্থ

অথ ভারতকথা
- আর্যতীর্থ

জনতা মানেই ধৃতরাষ্ট্র। নেতার কাজে অন্ধ।
পুলিশ মানেই গান্ধারী। জোর করে চোখ বন্ধ।
নেতা তবে দুর্যোধন। জবরদখল ভূমি।
কর্ণ নাকি যুধিষ্ঠির? কোন ভূমিকায় তুমি?
মহাভারত চলছে রোজ। সকাল থেকে সন্ধে।
সিন্ডিকেটের ঠান্ডা লড়াই। তাজা নোটের গন্ধে।
ভালোরা যায় বনবাসে। শকুনি পাশা চালে।
য পলায়তি স জীবতি। নিয়ম কলিকালে।
ধর্ম নিয়ে দাঙ্গা চলে। জ্বলছে জতুগৃহ।
নেতা ধোয়া তুলসীপাতা। আছেন শিখন্ডিও।
কর্ম করাই সার আমাদের। ফলের গুড়ে বালি।
জলে কুমীর ডাঙায় বাঘ। কুমীরডাঙা খেলি।
চক্রব্যুহে আমজনতা। বেরোনোর পথ নেই।
গাছটা কাটা গোড়ার দিকে। আগাতে জল দেই।
পাঞ্চালী আজ হয়েছে দেশ। বস্ত্রহরণ রোজ।
গাঙ্গুতেলি আমরা সবাই। নেতা রাজা ভোজ।
কীচকদেরই বাড় বেড়েছে। সৈরিন্ধ্রীরা কাঁপে।
অর্জুন তো বৃহন্নলা। কুরুকুলের চাপে।
ব্যাংকে কালো টাকা। ময়দানবের ভোজবাজি।
অশ্বত্থামা ইতি গজ। যুধিষ্ঠিরও নিমরাজি।
কৌরবদের মারবে কে? অক্ষয়তূণ বেবাক ফাঁকা।
মরণকালে সব ভুলেছি। বসে গেছে রথের চাকা।
কুরুসেনার বাড়ছে দাপট। ধর্ষিতারাই কলঙ্কিনী।
ভীষ্ম বিদুর চোখ বুজেছেন। রক্তবীজের অক্ষৌহিনী।
দ্বারকাধীশ কোথায় এখন? পাঞ্চজন্য বাজাও এবার।
অপেক্ষাতে দেশের মানুষ। সময় এলো পাল্টে দেবার।

আর্যতীর্থ

কেনো এমন করলে
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

বরাবরের মতো আজও এ প্রশ্নটা জাগে
কি নেওনি আমার মায়ের কাছে থেকে ?
আদর স্নেহ মায়া মমতা সবইতো নিয়েছো
আমার মায়ের দুধেই তোমার প্রাণ বেঁচেছে ,
আমার মায়ের কোলেই তোমার ঠাঁই হয়েছে
আমার মা'কেই তোমার আপন মা ভেবেছো ৷
সবই তো দিয়েছে মা তোমাকে উজাড় করে ,
এমনতো না যে কখনো ফিরেছো খালি হাতে
সামর্থে যখন যা জুটেছে সবইতো মা দিয়েছে ,
তবে বলো কেনো? কেনো? এমন করলে?
বোধকরি সেইসব দিনগুলো তুমি ভুলে গেছো
যখন অসহায় শিশু বলে মা বুকে তুলে নিয়েছে ,
বুকে আগলে রেখেছে সন্তানতুল্য মনে করে
সেই তুমিই কিনা ? বলো কি করে পারলে?
ভুলে গেলে মায়ের স্নেহ,ভুলে গেলে মাতৃভূমিকে ,
রুপান্তরিত হলে বিভৎস মানুষ রুপের অমানুষে
জঙ্গী আর দেশদ্রোহীর তকমাটা নিয়ে নিলে ,
আর মা-মাতৃভূমির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করলে
কেনো করলে বলো ? কেনো? কেনো? কেনো?

বৃষ্টি'শারা
- চিন্ময় প্রামাণীক

নীল আকাশে, নীল বসনে,
সেজেছ তুমি বৃষ্টি,
আজ তুমি নীলাম্বরি ।
কালো মেঘে--কাজলের কালি,
আঁকা হল যেন--এই দু- আঁখি ।
তোমার এই কোমল ঠোঁট--রঙ্গা হল লালে,
তোমর এ রূপের সারা--তুমি কী দিলে ?
এ মনের কি দোষ বল,
সে যে না জেনেই--
ভালবেসেছে তোমায় ।
এ চোখ, কি কারও কথা শোনে ?
সে যে এক পলকেই হারিয়েছে,
তোমার মায়ায়।
ভিজিয়ে দাও--মনের অজান্তে,
তোমার বারি ধারাই ।
যদি কেউ--নাই বা আসে কাছে,
তোমার এই কাজল কাল চোখে-
তুমি লুকালে কারে ?
তোমার এই কোমল ঠোঁটে--
আজ, লাল রঙ কি শুধু মিছে ?
তোমার এই--লাজুক হাসি,
তুমি বল, কারে দেবে ফাঁকি ?
যদি এ মন নাই বা দেবে--
তবে কেন, করলে এই কাজল দু- আঁখি ?
যদি নাই বা দেবে ধরা--
তবু মিছে জেগে হল সারা !

জীবনে তরী
- সেলিনা আহামেদ শেলী

দূর আকাশে এক টুকরো রৌদ উঠেছে ঘুম ভাঙ্গানো পাখি উড়ে
জানিয়ে দেয়….,হেসে উঠো প্রকৃতি সবুজ বলে..,আমি সেজেছি
বহু আগেই..! পালক ঝেরে উড়ে যায় দূরে নাম না জানা পাখি ।
প্রকৃতির নিয়মে বেলা বয়ে বিকেলকে করে নেয় বরন ।
থেমে গেছে পাখিদের মেলা খেলা বলে কিছু নেই
আশার মরন বর্ষা ভিজে হৃদয়,পৌষের চাদরে সব পাখি নীড়ে।
এক ঝলক দেখি ক্ষনেই নেই ,রৌদ উঠা দিনে দেখা মিলে সেই পাখিটির
নিরজন ঝরনা ধারায় ফুলের রেনুর আবেগে রাত বয়ে বকুলের গন্ধে
জোনাকি জলে মিট মিটিয়ে হেয়ালী মনে পিছু ফিরে দেখি নেই
ভালোবাসার পাখিটি…,যত কাছে আসি ততটা দূরে টানে
সময়ের ব্যবধানে দূর থেকে দূরে সয়ে সয়ে জীবন কাটে ।
ধৈর্য্যের বাধঁ মানে না, সময়ের কাছে দাবী কেন এই জীবন
ছোট্ট ছোট্ট ঢেঊ গুলোর নিয়ে যাও.., মিলিয়ে দাও জীবনে তরী ।

অসুখ
- আর্যতীর্থ

তোমার শরীর ছুঁয়ে তবেই রোগটা বুঝি,
বস্তুত, এই জ্ঞানটা আমার পেশার পুঁজি।
এমনভাবেই রোগ ধরতে শিখেছি তাই,
সুখ খুঁজিনা শরীরে তোমার, অসুখ খুঁজি।
তুৃমি ভাবছো গুগল দিয়ে সবই জানো
জিভের ডগায় প্রশ্নগুলো শানিয়ে আনো
একদিনের এই হঠাৎ পাওয়া তথ্য দিয়ে
তুচ্ছ করো অভিজ্ঞতা, আমার জ্ঞানও।
স্বীকার করি, অতটা নই জ্ঞানী গুণী
স্পর্শ করি, চোখে দেখি, কানে শুনি,
এমনভাবেই ধরার চেষ্টা তোমার রোগের
পদ্ধতিটা খুব সেকেলে, আমিও জানি।
কিন্তু কি করবো বলো, আমিও নাচার
এমন ভাবেই শিখেছি যে রোগের বিচার
চিকিৎসাটা আজও চলে ছু্ঁয়ে দেখে
এই অ্যাপেতে নেই যে কোনো নতুন ফিচার।
ডাক্তারিটা আজও হয় নি সহজ অত
হলে পরে ডাক্তারেরও ভালোই হতো
চটজলদি তোমার রোগের হদিশ করে
পরিবারের জন্য কিছু সময় দিতো।
আমরা আজও ছুঁয়ে দেখে তবেই বুঝি
জ্ঞানের সাথে বিশ্বাসও এই পেশার পুঁজি
তুমি যখন আমার সামনে অনাবৃত
তখন আমি সুখ খুঁজিনা, অসুখ খুঁজি।
আর্যতীর্থ

ট্রাফিক পুলিশ
- আর্যতীর্থ

আমার শরতে কাশফুল নেই, আকাশেরও ভাগ কম
পুজো এসে গেলে আমার বাড়ির মুখগুলো থমথম।
ঢাকের আওয়াজে আমার বুকে হাতুড়ি পেটাই চলে
আবার নামবে জনতার ঢল, প্যান্ডেলে দলে দলে।
আমাকে প্রশ্ন কোরো না পুজোয় কে দিলো কটা গিফ্ট
আমি শুধু জানি কোথায় পড়বে নবমী নাইট সিফ্ট
তোমরা যখন বেড়াচ্ছো ঘুরে আমি মোড়ে খাড়া ঠায়
আমার ওপর বর্তেছে পথে ভিড় ঠেকানোর দায়।
তোমরা যেটাকে উৎসব ভাবো, কাজ তা আমার কাছে
ঝুটঝামেলায় ঠাকুর দেখার উপায় কি আর আছে!
অঞ্জলি দিতে তোমায় যখন মন্ডপে ডাকে মাইক
কাছেই তখন আমার নজরে বিনা হেলমেট বাইক।
তোমাদের কাছে ছবি পৌঁছায় ট্রাকওলা দিচ্ছে ঘুষ
সবাই কি আর লোভ সামলায়, পুলিশও তো মানুষ!
পুজোর কদিন ছুটি কাটাও, ঘুরে বেড়াও মজা করে
তোমার খেয়াল রাখবো আমি পথের মোড়ে উর্দি পরে।
আর্যতীর্থ

নঙ্গর
- সেলিনা আহমেদ শেলী

সাদা মেঘে আকাশ ছেয়ে তা দেখে পাতা হেসে বলে
এই বুঝি বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম, রোদ বলে তাতে কি?
সুখিয়ে নিব ,বাতাস বলে আমি বুঝি বসে রই, দুষ্টু পাখি বলে,
পালক দুটু সুখাই কই ?প্রজাপতি উড়ে উড়ে খুঁজে মধু।
পাতার আলীংগনে একাকি নিরালায় বসন্ত এসে দেয় দোলা,
এক ঝাঁক পায়রা উড়ে বলে, বারবার ফিরে আসবে অতীৎতের প্রমে ।
এতো ভালোবাসা ধরে রাখি কোথায়? খিয়া ঘাটে পড়ে থাকে মন,
আমি তোমার প্রমে উদাস কোথায় ফেলি নঙ্গর ?
এলোমেলো মনে কেনো দিলে এই যন্ত্রনা ?
ভালোলাগা থেকে ভালোবাসার জন্ম দিয়ে।

ঠাকুমা
- অনাদি চক্রবর্তী

ও ঠাকুমা, সন্ধ্যাবেলা
একলা বসে তুই!
তোর মাদুরের একপাশেতে
একটুখানি শুই?
হাত বুলিয়ে দেনা মাথায়
যেমন দিতিস আগে,
তালপাতার ঐ শিতল বাতাস
কি যে মধুর লাগে।
তোর পাতের এঁটো ভাতের
সেই সুমধুর স্বাদে,
এত দিনের পরেও জানিস
পরাণ আমার কাঁদে।
ও ঠাকুমা, সে কথা যে
আজও মনে পরে,
বোতল থেকে আমের আঁচার
খেতেম চুরি করে।
মায়ের হাতের কিলটি খেয়ে
তোর আঁচলের ছায়,
নিশ্চিন্তে লুকিয়ে থাকা
তা কি ভোলা যায়?
টালির চালের পুরন সেই
খোলা বারান্দাতে,
রূপকথার গল্প শোনা
জোছনা ঢালা রাতে।
চুপ করে আছিস কেন?
একটা কিছু বল,
কাঁদিস নাকি, ও ঠাকুমা,
চোখের কোনায় জল!
কোলকাতা , ২৬/০৯/১৬

ইন্দ্রজাল
- সত্য রঞ্জন বনিক

সময়ই মুছে দেয় স্মৃতির পাতা হতে,
অতীত সোলালী স্মৃতি।
স্মৃতির সাদা পাতায় নীরবে থাকে,
শূন্য অনুভবে বিষন্ন অনুভূতি।
আমি ও আমার বলে,
কিছুই নেই এই ধরণীতে।
সবারে ছাড়ি দিতে হবে পাড়ি
একাকী শূন্য হাতে।
লাভ ক্ষতি গণিতের সমীকরণ,
সবই যেন মিছে।
শুধু মায়াবী ইন্দ্রজালে,
ছুটে যাওয়া মরীচিকার পিছে।
ধনী, দরিদ্র, জাতি, ধর্ম,
সবই রবে পড়ে।
যেতে হবে একই গন্তব্যে
শ্মশান কিম্বা কবরের পথ ধরে।
তবে কেন ধর্মীয় হানাহানি,
কেন এতো রক্তক্ষয় ?
যদি পার মানুষকে ভালোবেসে,
নিজেকে করো অমর অক্ষয়।
-----------------------------
রচনাকাল:-২৫শে সেপ্টেম্বর রবিবার/২০১৬

কৃষক
- সঞ্জয় সরকার

হাতে পায়ে মেখে কাঁদা মনরেখে সরল সদা ;
কর্মকে ভয় দেখিয়ে ।
সকাল হলেই পান্তা খেয়ে বেড়িয়ে পরে মাঠের পাণে;
বিলম্ব না করে ।
প্রত্যাকেরই বীজ করা বপণ, সবই তাহাদের দিন ও রাতের স্বপন;
এই তো মোদের কৃষক ।
অঙ্কুরিত বীজের পানে দেখিয়া সুর বাজে তাহাদের মনে;
এই ফসলই তাহাদের বল যে।
চারাগাছে যত্ন করে তৈরি করা তাহাদের সাজে;
ফসলই তাহাদের মূল সম্পদ যে ।
.........................................................
তাই কিএখন কৃষক দেখে কিছু'বাবু মুচকি হাসা - হাসে বলে সবে বোকা-বলদের দল?

নাম - সঞ্জয় সরকার
গাজোল; মালদহ
লেখার দিন - 26 / 9 /2016
কবিতার নাম - " কৃষক "

গাড়িয়াল ভাই
- ওদুদ মণ্ডল

গামছা মাথায় গাড়ি নিয়ে
চলছে দূরের গাঁয়ে,
গরুর লেজে মোচড় মারে
হা-হাঃ! ডাইনে বাঁয়ে ৷
.
জীবন জুড়ে অভাব নাচে
মুখে তবু হাসি,
কেউ বোঝে না বুকের মাঝে
দুঃখ বারো মাসই ৷
.
নাঙল চষে ফসল ফলায়
প্রিয় মাটির বুকে,
মনের ঘরে স্বপ্ন সকল
মরছে ধুকে ধুকে ৷
.
লোকগীতি পল্লীগীতি
কন্ঠ ভাটির গানে,
ইচ্ছে হলে বাজায় বাঁশি
ভাসে সুরের বানে ৷
.
কালের ঘায়ে মেশিন এলো
গরুগাড়ি আজ নাই,
প্রাণের প্রিয়া ভুলেছে তাই
ও কি গাড়িয়াল ভাই... !

সিঙ্গাপুর
০৮/০৯/২০১৬

একাকীত্ব
- জামান মনির

কিছু মেঘ জমে থাকা ভালো
একাকী আকাশটায় ভেসে বেড়ানো মেঘ
সঙ্গতার মানে জানায় একাকীত্বকে
আবার কিছু কিছু সময় নিঃসঙ্গ হতে হয়
নিজেকে জানতে অন্যকে বুঝতে
.
চোখ বেঁধে লুকোচুরি খেলায়
জয়পরাজয়ের চেয়ে আনন্দটাই মূখ্য,
মেঘের আড়ালের চাঁদটা
হঠাৎ যখন উকিঁ দেয়
জ্যোৎস্না ছুঁয়ে যায় সবাইকে
.
অভিমানের বরফ দ্রুত গলাই শুভকর
তা'নাহলে বরফ পাথর হয়ে যায়
বুকের ভীতর জ্বলে আগুন
জন্ম হয় একাকীত্বের
.
জন্ম হয় নির্জনতায়
হতে পারে দু'জন মুখোমুখিতে
হয়ে থাকে হাজারও মানুষের ভীরে
অভিমান করো'না একাকীত্বের জন্ম হবে
............................
১৩/০৯/১৬:(৬:০০)
নওয়াপাড়া, যশোর

আমি তো শুধুই আঁধার
- তমা ইয়াসমিন

আঁধারের বুক চিঁড়ে অাঁধারই বেড়িয়ে আসে...
আঁধার কে বুকে করে, আঁধার কে বুকে ভরে,
কাটে আমার সারাটা সময় জুড়ে ফুঁড়ে ফুঁড়ে..!
সমস্তটা কাল আঁচড়ে পড়া সেই,
উথাল- পাথাল আঁধারের ঢেউ...
তাতে কি ,
ভালো বাসুক আর না বাসুক অন্য কেউ..!
থমকে দাঁড়ায় না, পথ হারায় না -
অন্ধ উন্মুক্ত শুন্যের গভীরে আমি শুন্যের পথযাত্রী !
অাঁধারকে বুকে রেখে, আঁধারের আঁড়ালে ঢেকে,
আমার রক্তাক্ত মুখ বিক্ষত ক্লান্তি,
প্রতিটি নিশ্বাসের ভাজে ভাজে,
পাই এক বিস্ময়কর শান্তি..!
নিঃশেষে শুষে নেই আঁধারের উৎস :
চোখ দুটো হয়ে যায় পাথরে ভূষিত -
হে আঁধার তুমি কি শুধুই আমার..?
তুমি কি জীবনের, না মৃত্যুর,
না সুখের সিংহদ্বার...?
এযে কি অসহ্য আধুরা সুখ;
চুঁয়ে চুঁয়ে ভিজে যায় আঁধারের চিবুক !
জ্বলন্ত জন্মের চলে নতুন এক মোহড়া..
সচেতন প্রহরী দেয় সংগোপনে পাহারা..
স্বর্গ রচে অদেখা যৌবনের নাভীমূলে,
আশায় প্রহর গুনে,
যদি আসে সে কোনো এক ভোরের কোলে..!
তমা ইয়াসমিন 26/9/16

সকাল
- অর্পণ ভূঞ্যা

সকাল মানেই সূর্যের আভায়,
আকাশ রেঙে যাওয়া,
সকাল মানেই জেগে ওঠা
দিনের শুরু হওয়া ।
সকাল মানেই গাছে গাছে,
প্রভাত পাখির গান,
সকাল মানেই নতুন পাওয়া
পুরাতন অবসান ।
সকাল মানেই বয়ে যাওয়া
নির্মল শান্ত সলিল,
সকাল মানেই শিশির বিন্দু
হাসছে খিল খিল ।
সকাল মানেই ঝলমল ওই
সোনালি ধানের ক্ষেত,
সকাল মানেই শান্ত স্নিগ্ধ
পৃথিবীর পরিবেশ ।
সকাল মানেই কাননে কাননে
নতুন ফুলের গন্ধ,
সকাল মনেই চারিপাশে
নতুন নতুন ছন্দ ।
সকাল মানেই সবের-ই শেষ
ক্লান্তি আর হতাশা,
সকাল মানেই তোমার আমার
নতুন কিছুর আশা ।

ভালোবাসা শর্তহীন
- মোশ্ রাফি মুকুল

বিভৎস ধ্বংসস্তুপে একপায়ে দাড়িয়ে আছে রাবনরাজ্যের বিধ্বস্ত দেহাবশেষ,
লঙ্কার সিংহাসনে বীর বিভীষণ।
প্রশ্নবিদ্ধ অথচ নিষ্পাপ দেহপাত্র নিয়ে রাম-লক্ষনের সাথে
অযোধ্যার পথে চলেছে সীতা,
পথিমধ্যেই জ্বলে উঠলো নরক থেকে টেনেআনা আগুনের হাব,
গন্তব্য পৌছানোর আগেই দিতে হবে সতীত্বের অগ্নিপরীক্ষা।
হাসতে হাসতে সে হেটেগেলো বিভীষিকাময় প্রজ্বলিত আগুনকুন্ডে,
অগ্নিদেবতা আগুনের কুন্ডলীতে বসেই
মুখখুলে বলেই ফেললো সীতার সতীত্ব প্রশ্নহীন।
অথচ তুমি আজো জানলেনা ভালোবাসা শর্তহীন।
তুমি দিতে চেয়েছিলে নিখাদ প্রেম-
বাইশ ক্যারেটের স্বর্নের মতোই চকচকা খাদহীন,
শ্বেত মর্মরের নূপুর পছন্দ করলেও
তুমি বলেছিলে তোমার হৃদয়টা পাথরের নয় রক্তমাংসের।
আমিও নৈব্যক্তিক শপথে বলেছিলাম
তোমাকে প্রেম দেবো,ভালোবাসা দেবো,
দিগন্তের মতো সীমাহীন,
তবু হৃদয়ে হৃদয়ে মীমাংসিত ইস্যূতেই তুমি পরালে একঝাঁক প্রশ্নমালা।
তুমি অস্থির!
আমার ভালোবাসা তবু স্থির থাকে
ব্যার্থ অভ্যুত্থানে বন্দি চোখবাঁধা পিঠমোড়া
হাতবাঁধা প্রত্যয়ী সৈন্যের মতো,
শত জিজ্ঞাসায় সে থাকে নিরুত্তর।
সে জানে সম্মুখে তার মৃত্যুদন্ডের চলছে মহাআয়োজন;
তারচেয়ে সে করে শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদ
প্রশ্নকর্তার মুখে থুথু দিয়ে লিখে দ্যায়
শঙ্কাহীন সাহসের চিঠি।
আসলে বিশ,একুশ,বাইশ এরকম
অংশুক অংকের ধারাপাতে-
আর শর্তের ঘেরাটোপে ভালোবাসা যায়না,
ভালোবাসা সীমাহীন,
ভালোবাসা শর্তহীন।
------------------------
২৬/০৯/২০১৬


আসছি প্রিয়তমা
- দিব্যেন্দু সান্যাল

এক অবাক সমুদ্র কিনারে ফিরে যাই
তলহীন উদ্বেল জলরাশি তাই
ছুঁয়ে যায় কত জন্মের অভিমান,
দুই হাতে মেলে ধরে জীবনের যত অম্লান
কথাকলি । জানি একদিন সপ্তডিঙির ভাসান
আমাকে দুর্নিবার নেবেই টেনে ।
বেশ, তবে শর্তহীন আত্মসমর্পনে
একদিন পাড়ি দেব তার সন্ধানে ।
সরলরেখার আলো সাগরের টানে
বিচিত্র সাধনায় হবে খানখান ;
হোক ।
যেখানে আকাশ এসে সাগরের প্রাণ
ছুঁয়ে মেলে রাখে কুয়াশার চিরন্তন দেশ
সেখানেই বেঁধে নেব তরী
চলি তাই সেইদিকে
অনন্ত জীবনের কবিতার মন্দির গড়ি ।


মা আসছে
- শ্যামল কুমার মাইতি

দুলছে দেখি ঢেউয়ের তালে
মাঠ ছাড়িয়ে নদীর পাড়
শ্বেত শুভ্র ওদের রূপে
সেজে উঠছে এপার ওপার।
খুব সকালে মৃদু হাওয়ায়
পড়ছে ঝড়ে গাছের তলায়
জমছে ওরা মাটি ছুঁয়ে
ফুলের পাহাড় গড়ার আশায়।
ঘাসের মাথায় টাপুর টুপুর
শিশির বিন্দু ঝরেই যায়
এক চিলতে আলোকচ্ছটায়
উজ্জ্বলতায় স্নিগ্ধ হয়।
প্রকৃতির এই সাজ ঘরে
ওরাও এসে হাজির হয়
খালের জলে থরে থরে
ইচ্ছেমতন ফুটে রয়।
নীল আকাশে মেঘের বুকে
মেঘবালিকা ছবি আঁকে
তুলির আলতো ছোঁয়া পেয়ে
নেচে নেচে বৃষ্টি নামে।
ছোট ছোট সব অনুভূতি
চলে আসে আবেশ নিয়ে
হারিয়ে যাওয়া ফিকে স্মৃতি
সেও আসে রঙিন হয়ে।
এসব দেখেই মা আসে
সাজিয়ে নিয়ে জগৎটাকে
তার আশিসেই ঘরে ঘরে
খুশির আলো উঁকি মারে।



--শ্যামল কুমার মাইতি
25.09.2016

ভালোবাসা শর্তহীন
- মোশ্ রাফি মুকুল

বিভৎস ধ্বংসস্তুপে একপায়ে দাড়িয়ে আছে রাবনরাজ্যের বিধ্বস্ত দেহাবশেষ,
লঙ্কার সিংহাসনে বীর বিভীষণ।
প্রশ্নবিদ্ধ অথচ নিষ্পাপ দেহপাত্র নিয়ে রাম-লক্ষনের সাথে
অযোধ্যার পথে চলেছে সীতা,
পথিমধ্যেই জ্বলে উঠলো নরক থেকে টেনেআনা আগুনের হাব,
গন্তব্য পৌছানোর আগেই দিতে হবে সতীত্বের অগ্নিপরীক্ষা।
হাসতে হাসতে সে হেটেগেলো বিভীষিকাময় প্রজ্বলিত আগুনকুন্ডে,
অগ্নিদেবতা আগুনের কুন্ডলীতে বসেই
মুখখুলে বলেই ফেললো সীতার সতীত্ব প্রশ্নহীন।
অথচ তুমি আজো জানলেনা ভালোবাসা শর্তহীন।
তুমি দিতে চেয়েছিলে নিখাদ প্রেম-
বাইশ ক্যারেটের স্বর্নের মতোই চকচকা খাদহীন,
শ্বেত মর্মরের নূপুর পছন্দ করলেও
তুমি বলেছিলে তোমার হৃদয়টা পাথরের নয় রক্তমাংসের।
আমিও নৈব্যক্তিক শপথে বলেছিলাম
তোমাকে প্রেম দেবো,ভালোবাসা দেবো,
দিগন্তের মতো সীমাহীন,
তবু হৃদয়ে হৃদয়ে মীমাংসিত ইস্যূতেই তুমি পরালে একঝাঁক প্রশ্নমালা।
তুমি অস্থির!
আমার ভালোবাসা তবু স্থির থাকে
ব্যার্থ অভ্যুত্থানে বন্দি চোখবাঁধা পিঠমোড়া
হাতবাঁধা প্রত্যয়ী সৈন্যের মতো,
শত জিজ্ঞাসায় সে থাকে নিরুত্তর।
সে জানে সম্মুখে তার মৃত্যুদন্ডের চলছে মহাআয়োজন;
তারচেয়ে সে করে শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদ
প্রশ্নকর্তার মুখে থুথু দিয়ে লিখে দ্যায়
শঙ্কাহীন সাহসের চিঠি।
আসলে বিশ,একুশ,বাইশ এরকম
অংশুক অংকের ধারাপাতে-
আর শর্তের ঘেরাটোপে ভালোবাসা যায়না,
ভালোবাসা সীমাহীন,
ভালোবাসা শর্তহীন।
------------------------
২৬/০৯/২০১৬

আসছি প্রিয়তমা
- দিব্যেন্দু সান্যাল

এক অবাক সমুদ্র কিনারে ফিরে যাই
তলহীন উদ্বেল জলরাশি তাই
ছুঁয়ে যায় কত জন্মের অভিমান,
দুই হাতে মেলে ধরে জীবনের যত অম্লান
কথাকলি । জানি একদিন সপ্তডিঙির ভাসান
আমাকে দুর্নিবার নেবেই টেনে ।
বেশ, তবে শর্তহীন আত্মসমর্পনে
একদিন পাড়ি দেব তার সন্ধানে ।
সরলরেখার আলো সাগরের টানে
বিচিত্র সাধনায় হবে খানখান ;
হোক ।
যেখানে আকাশ এসে সাগরের প্রাণ
ছুঁয়ে মেলে রাখে কুয়াশার চিরন্তন দেশ
সেখানেই বেঁধে নেব তরী
চলি তাই সেইদিকে
অনন্ত জীবনের কবিতার মন্দির গড়ি ।

সুপ্রিয়া নিশু
- এ, ই, জে ইশু

সুপ্রিয়া!
সুদীর্ঘ সুসময়ের সুন্দর সূজনায়,
সুভাসিত বিহ্বলী প্রত্যাশাতে।
অক্স্মাৎ উচ্ছ্বাস উজ্জ্বলতায়,
বিনম্র,স্নেহ-ভালবাসা প্রাদুর্ভাবে
হারিয়েছি আমি তোমাতে।
ও পৃষ্ঠে তুমি ললনা,সুমনা আমাতে,
তোমার অদ্ভুত মায়াটান ও আপনপ্রীতিতে;
আজ নিজেকে সমার্পন অজান্তে।
আমার উফছে পড়া নদীর জনশূণ্য তীরে,
এসেছো তুমি আপনজন হয়ে নীড়ে।
আমার দুনয়নে আজ শত শত স্বপ্ন তোমায় ঘিরে,
তুমি কখনো তোমার ভালবাসার আশ্রম থেকে;
আমায় দিওনা'কো ফিরে।
আমার হৃদয়ের গহীনে,
জোনাক জ্বলা সন্ধ্যায়
শুধু তোমারি ছাঁয়া।
পরম আলোকশূণ্যতায় আশার আলো হয়ে,
জ্বালিয়েছো আলো তুমি হে সুপ্রিয়া!
তোমার মহানুভবতা, উদারতা,
সহনীয়তা আর অকৃত্রিম ভালবাসায়,
সুশ্রী ও সুশ্রাব্য মুগ্ধতায়
আমি তোমাতে দিলাম আমার এ কবিতা
তুমি হে সুপ্রিয়া!
#_উৎসর্গঃ আপু কে, এস, এন নিশু কে

মা আসছে
- শ্যামল কুমার মাইতি

দুলছে দেখি ঢেউয়ের তালে
মাঠ ছাড়িয়ে নদীর পাড়
শ্বেত শুভ্র ওদের রূপে
সেজে উঠছে এপার ওপার।
খুব সকালে মৃদু হাওয়ায়
পড়ছে ঝড়ে গাছের তলায়
জমছে ওরা মাটি ছুঁয়ে
ফুলের পাহাড় গড়ার আশায়।
ঘাসের মাথায় টাপুর টুপুর
শিশির বিন্দু ঝরেই যায়
এক চিলতে আলোকচ্ছটায়
উজ্জ্বলতায় স্নিগ্ধ হয়।
প্রকৃতির এই সাজ ঘরে
ওরাও এসে হাজির হয়
খালের জলে থরে থরে
ইচ্ছেমতন ফুটে রয়।
নীল আকাশে মেঘের বুকে
মেঘবালিকা ছবি আঁকে
তুলির আলতো ছোঁয়া পেয়ে
নেচে নেচে বৃষ্টি নামে।
ছোট ছোট সব অনুভূতি
চলে আসে আবেশ নিয়ে
হারিয়ে যাওয়া ফিকে স্মৃতি
সেও আসে রঙিন হয়ে।
এসব দেখেই মা আসে
সাজিয়ে নিয়ে জগৎটাকে
তার আশিসেই ঘরে ঘরে
খুশির আলো উঁকি মারে।

--শ্যামল কুমার মাইতি
25.09.2016

মায়াময় অশ্রুজল
- সালিম আল-দ্বীন

আনমোনায় আমার অনেকক্ষন কেটে গেল এভাবেই
পল্লী ভিটার সুবিস্তৃত বিজন বনাঞ্চির দিকে চেয়ে
মুক্তি ও আনন্দে মুছে গেল মুহূর্তে কর্মজীবনের সব ক্লান্তি
ঝুঁপসির মত গুল্ম বনের মায়ায় ছামিয়ানার ছায়ায়
জারুল গাছের অঙ্গময় অজস্র ফলসহ আলুলতার মিতালী
ছোট ছোট পোড়া আলুফল খাওয়ার বাল্যস্মৃতি ছোটনের সাথে
ডুকরে কাঁদার সুরে নিমেষে কেমন যেন মায়ার অশ্রু ঝরাল লোচনে।
ভাগাড়ের মাঠে ছুটে আসি প্রতিবার ছুটিতে গ্রামে এলে শেষ বিকেলে
সেগুনবনে হাঁটি কিছুক্ষন শান্ত সমীরনে পাখির কূজনে
এঁকে যায় শৈশবের স্মৃতির আঁচর নিশানাভেদী ধনুক-তীরের
বিলের সন্ধ্যামাখা জল,শোঁ শোঁ বাতাসের সাথে অজানা তত্ত্বসুরের মিশেল
কেমন যেন খাঁ খাঁ শূন্যতায় হুদয়ে ঢেউ তুলে গেল মায়ার অশ্রুজল।
নিরুপায় আমি ফিরে এলাম ছুটি শেষে আবার কংক্রিটের শহরে
ভাটবনের আঁকাবাঁকা চিরচেনা পথটিতে ফিরে ফিরে চেয়ে
কলমের খোঁচায় আনমোনার ঘোরে পদ্মদীঘির নীল পদ্ম যেন হাসে
পল্লীবালার স্মৃতির রেশ এখনো কাটেনি আমার
মায়ার অশ্রু ঝরিয়ে হৃদয়ে আঁকে ফিরে যাওয়ার হাতছানি আবার।

Copyright লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত
২৬-০৯-২০১৬

অনুগামী
- রতন সেনগুপ্ত

ভাঙতে ভাঙতে এক প্রান্তে এসে দুঃখ চলে যায়
উলঙ্গ ঘর বারান্দা নাচে মৃদঙ্গ সঙ্গত
চলে যাই তোমার জ্যোৎস্নায়
এবার সব তোমার চাল বোল তোমার
ঢেঁকির কসরত
আগুন পথ শীতল জল নোয়া বাঁধানো ঘর-সংসার
বিনা বাক্য ব্যয় চুকিয়েছি
এবার তোমার
বিনা নিমন্ত্রণে খাব
যা দেবে অনাহার উৎসব
যে কোন বেল্টে বাঁধো সত্তা হয়ে থেকে যাব
গড়াব তোমার তুলসী তলায়
কোন পিছুটান রাখি নি আর
জমে গেছি তুমি গরম জলে সেদ্ধ করে যাচাই করে নিও
তোমার জন্য দেব প্রাণ
বিশ্বাস না হয় একটা কাজ দিয়ে দেখো
বলির পাঁঠা বলে বলুক লোকে তবু হবো
হাঁ করে ইল্লি বলবো
ভয় কি আমার
শুধু গাঢ় অন্ধকার নিও না যদি কান্না পায় ।

অভিশপ্ত ভালোবাসা
- উমা শংকর দাস

যেদিন শেষ পাতা খসার শব্দে বসন্ত
উঁকি মেরেছিল বিভেদের দেওয়ালে,
ন্যাড়া বেলের ডালে বসা কোকিলটা
গেয়েছিল ভালোবাসার গান। সেদিনই
তুমি চেয়েছিলে একটা নির্মল আকাশ ।
তাই উপহার হিসাবে গোটা আকাশ
রেখেছিলাম তোমার বন্ধ দরজার পাশে,
দরজা খুলে একটিবারের জন্য ও উঁকি মারোনি
অপেক্ষমান আকাশ ফিরে গেছে আগের জায়গায় ।
ভোরের সূর্যের থেকে একমুঠো রোদ্দুর চুরি করেছিলাম
শুধু তোমার জন্যে, যখন সরু সুতোর মতো
একফালি রোদ্দুর খেলা করছিল তোমার
বদ্ধ ঘরের মেঝেয়, খেলা করছিল বিছানার চাদরে,
তখন তুমি বিছানায় কোল বালিশ আঁকড়ে ।
তোমাকে পলাশ রঙে রাঙাতে চেয়েছিলাম
তুমি অপরাজিতার নীল রং মেখে
নিজেকে প্রকাশ করেছিলে নীলাঞ্জনা রূপে ।
তুমি গা ভিজাবে বলে শ্রাবণী মেঘের কাছে
আঁচল ভরে বৃষ্টি চেয়েছিলে, সেদিন তোমায়
ভালোবেসে গোটা প্রশান্ত মহাসাগর তুলে
এনেছিলাম তোমার প্রশস্ত উঠোনের বুকে ,
ঢেউ তুলেছিলাম তোমার সমস্ত শিরায় উপশিরায় ,
সেদিন তুমি সাড়া দাওনি আমার ভালোবাসার ডাকে।
তোমায় দেব বলে একগুচ্ছ গোলাপ
রেখেছিলাম বালিশের পাশে, আমার
চোখ চোয়ানো জলে আজ তারা ভেসে
গেছে চোরাস্রোতের টানে । খুঁজে দেখ
হয়তো পাবে তোমার বারান্দায় জমা
পরিত্যক্ত ধুলোর স্তুপে আমার ভালোবাসার চিহ্ন ।
ব্যাথিত হৃদয়ের গোপন চিঠি ।

ভবের এই নাট্যশালা
- কাঞ্চন চক্রবর্তী

ভবের এই নাট্যশালায়
করছি আমরা অভিনয়
আসল রেখে নকল নিয়ে
যেটা করার কথা নয়।
কেউবা নট কেউবা নটি
কেউবা দেখ নটরাজ
কেউবা আবার ফকির বেশে
কেউবা দেখ বরের সাঁজ।
কেউ করে ভিক্ষাবৃত্তি
কেউবা করে চুরি
কেউবা আবার সার্থের জন্যে
বুকে মারে ছুরি।
কেউবা হাসে অট্টহাসি
কেউবা বাকায় ঠোট
কেউবা পরে ছেঁড়া কাপড়
কেউবা পরে কোট
ক্ষুধার জন্য টোকায় খায়
নর্দমার কুখাদ্য
অকারণে বাজায় দেখ
উচ্চ শব্দে বাদ্য।
মঞ্চে উঠে বিবেক বাবু
শোনায় নীতির বাক্য
নটোরাজের নষ্টামির মামলায়
যায় না পাওয়া সাক্ষ্য।
সার্থের টানে হানাহানি
করছে দেখ টানাটানি
জীবন জুয়ায় উল্টো প্যাচে
টানছে দেখ জেলের ঘাণি।
অর্থ বিত্ত বৈভবের দাস
হাসছে তারা অট্টহাসি
ওদের হাতে শ্যামের বাঁশি
সার্থ ফুরালে গলায় ফাঁসি
ভবের মাঝে আছে দেখ
নট নটি আর নটরাজ
তার মাঝে আশা জাগে
মনের মাঝে নায়ক রাজ।

রচনাঃ কাঞ্চন চক্রবর্তী
কবিতাঃ ভবের এই নাট্যশালা
রোজঃরবিবার ১১/৩০ রাত
তারিখঃ ২১/০৮/২০২৬ ইং

বান্ধবী
- বিনয় ব্যানার্জী

বড় অবেলায় এলে তুমি
তবুও তোমাকে ফেরাবো না,
গোধুলী লগনে দুয়ারে তুমি
বিমুখ করবো না।
কমলা বসন শ‍্যামলী তুমি
আমার হৃদয় হরনী,
এমন শরত বাদল দিনে
আসবে তুমি ,চিন্তা করিনি।
তোমার কবরীর লাল গোলাপ
আমার হাতে দাও প্রিয়ে,
আজ নতুন কবিতা রচিবো আমি
তোমার মুখপানে চেয়ে।

Nabadibakar_Writer_40

বিবেকের কাছে প্রশ্ন
- আকাশ হাসান

মানুষের আবেগ আছে বিবেক নেই
চোখ ভরা অস্রু নিয়ে কাঁদতে জানে
হাতে হাত রেখে প্রতিবাদ করতে জানেনা।
আঁধারের মাঝে আলোকে খুঁজে বেড়ায়
তবু প্রদীপ জ্বেলে আলোকিত করতে পারেনা
দু'চোখ ভরে রঙ্গিন স্বপ্ন বুনতে পারে
সেই স্বপ্ন সত্যি করতে পরিশ্রমী হতে পারেনা।
জীবন যুদ্ধে বারবার পরাজিত হয়েও
আসার প্রদীপ জ্বালাতে শিখেনা।
হাটে-বাজারে চড়া দামে নিজের বিবেক
অন্যের হাতে তুলে দিতেও লজ্জিত হয়না
কোথায় যাবে দেশ?কী হবে মানুষের?
কার কাছেই বা এই প্রশ্ন তুলবে!
কেইবা উত্তর দিতে পারবে এর।
এভাবে চলতে থাকলে দেখবে একদিন
অথই সমুদ্রে কচুরিপানা হয়ে ভাসছি।
যতদিন নয় মানুষের বিবেক জাগ্রত হবে
ততদিন পিছিয়ে থাকবে মানুষ আর দেশ।
হায়রে মানুষ হায়রে দেশ
কোথায় মিলবে এর শেষ?

Nabadibakar_Writer_30

শরত তুমি আনন্দময়ী
- মনিরা ফেরদৌসী

তুমি আমার শরত প্রেম
লাগছে যেন সুচিত্রা সেন,
প্রথম দেখায় হলাম ফিদা
নাম জানিনা তুমি কিডা?
পদ্ম দিঘির ঘাটে ফোটে
শত শত নীল কমল,
অলির দল আসে ধেয়ে
গুন গুনিয়ে গান গেয়ে।
কাশ ফুলেরা সাদা হয়ে
ফুটে আছে নদীর কূলে,
সাদা মেঘের চলছে খেলা
শরতের নীল আকাশ ভরে।
শিউলি ফুলে গাঁথছে মালা
কিশোর কিশোরীর আনন্দমেলা,
কাশফুল দোল খায় ঝিরিঝিরি বাতাসে
মন তাই মেতে ওঠে শরতের বিচরণে।।

২৫/০৯/১৬, সন্ধ্যা ০৭ টা





"‌বিশ্ব নদী দিবস"
***রহমান মাসুদ***


নদী তু‌মি বাংলার মাতা
তথা‌পি দখ‌লে হ্রাস নাব্যতা,
"বিশ্ব নদী দিব‌সে"র প্র‌তিজ্ঞা
কর‌তে হ‌বে তোমায় রক্ষা।


পর্বতমালায় জন্ম নি‌য়েই
ছুট‌ছো সাগ‌রের টা‌নে,
পা‌ড়ি দি‌য়ে অজানা পথ
শুধুই অগ্রসর একম‌নে।


ত‌টিনী কোথাও তু‌মি মন্থর
আবার প্রচন্ড খর‌স্রোতা।
বিশ্রা‌মের নেইতো সময়
সাগর সঙ্গ‌মের আকুলতা।


গন্ত‌ব্যের সন্ধা‌নে মুসা‌ফির
শী‌তে বিরহ বেদনায় শান্ত।
বর্ষায় হৃদ‌য়ে উত্তাল ঢেউ
কভু হওনা তু‌মি প‌রিশ্রান্ত।


ভ্রম‌নের সুদীর্ঘ পথচলায়
শাখা-উপ শাখার হয় সৃ‌ষ্টি।
তোমার তী‌রে প্র‌তি‌দিন গ‌ড়ে
জীবন উপকর‌নের কত কৃ‌ষ্টি।


এই সভ্যতা বিকা‌শের ক্ষে‌ত্রে
তোমার অর্জন অপ‌রিসীম।
মানব কল্যা‌নেই রত তু‌মি
তোমার অবদান সীমাহীন।


সাগ‌রের ম‌োহনায় তু‌মি চঞ্চল
জোয়ার ভাটার ছ‌ন্দের মা‌ঝে,
আকা‌ঙ্খিত সাগ‌র সঙ্গ‌মে
শান্ত হও প্রশা‌ন্তির লাজ‌ে।।







অপেক্ষায় থেকো
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

অপেক্ষায় থেকো প্রিয়া
বহুক্রোশ পথ পায়ে মারিয়ে
রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে
আসছি আমি তোমার শহরে ৷
তুমিও কি আমার মতো করে
আমার অপেক্ষায় আছো বসে
চুপটি করে আনমনে,নির্জনক্ষণে
ভালোবাসার পশরা সাজিয়ে ?
শুনেছি আমি তোমাদের শহরে
সুখ ছড়িয়ে আছে সবার ঘরে
তাই দুঃখকে ছাড়পত্র দিয়ে
আসছি আমি তোমার শহরে ৷
তুমিও কি অপেক্ষাতে আছো বসে
সুখগুলোকে মুঠোয় বন্দী করে
মেঘের ভেলায় ভালোবাসা ছড়িয়ে
আমার আসার অপেক্ষায় পথ চেয়ে?
অপেক্ষায় থেকো প্রিয়া
আমি আসবো তোমাদের শহরে
হোক না তা মেঘের পালঙ্কে চরে
কিম্বা
তেরো নদী সাত সমুদ্র পার হয়ে
প্রণয়ের চুম্বন এঁকে দিতে আমি আসবো ৷

আয়নায় মুখ দেখা
- প্রবীর ভদ্র

মনের আরশিতে প্রতিবিম্বিত মুখখানা
. ঢাকা থাকে |
কেউ বা সযত্নে রেখেছি তাকে ঢেকে
সে মুখের ছবি দেখে নিজেই
ভীষণ চমকে উঠেছি কখনো ,
তুমি তো দেখোনি সেই
চমকানো ছবি --- তাই
আমাকে অন্য ভাবে চেনো |
কাছে আসো কথা বলো
মনের মুকুরে আমার মুখচ্ছবি
তখন হয়েছে আপন |
দূরে যাও অন্য কারো সাথে
উড়িয়ে অলকরাশি বসন্ত-বাতাসে |
মনের আরশিখানা ভেঙে যায় ,
প্রতিবিম্বিত মুখ হয়
ভাঙা-চোরা --- বিকৃত |
অথচ দেয়ালের আয়নায় দেখি
আমার স্বাভাবিক মুখের ছবি
পেলব-বিগলিত-হাসিভরা-মায়াময় |
কী করে এমন হয় !
আমি জানি আয়নায় অনেকেই তাঁর
সাজানো মুখের ছবি সাজিয়েই রাখে ,
আসল মুখখানা থেকে যায় গোপনে
. মনের আড়ালে |
পারি না এসব খেলায় সামিল হতে
ইচ্ছে করে আমার দেয়ালের আয়নাখানা
ভেঙে করি চুরমার ,মনের আয়নাটাকে
. টানাই দেয়ালে |

এবং বন্যক্রিয়া
- অভিজিৎ পাল

কেন তুমি
প্রতি আলিঙ্গনে
এভাবে অবশ করো আমায়
আমি খড় বিছাই
তোমার সুডৌল মায়াময়
যৌবনগন্ধী নিকেতনে
তুমি নদী হয়ে বয়ে যাও
আমার সর্বাঙ্গে
আমি কূলকিনারা না পেয়ে মিশ্রিত হই
তোমার সাথে হিল্লোলিত রতি সংগ্রামে ....

24_09_2016 # 8:10 P.M. # Kolkata.
© All rights reserved .

এসকেলেটর
- আর্যতীর্থ

সিঁড়ি উঠে যায়, সিঁড়ি নেমে যায়, সিঁড়ি নিয়ে যায় লোক
দাঁড়ালেই হবে, সিঁড়ি নিয়ে যাবে, যত উঁচু নিচু হোক।
নড়বড়ে ভাব সামলিয়ে শুধু উঠে পড়ো টুক করে,
তারপরে আছে একটাই কাজ, দাঁড়ানো রেলিং ধরে।
পায়ের আরাম, শ্বাসের আরাম, চলে সোপানের সারি,
একতলা থেকে পাঁচতলা ঘোরো, বয়ে নিয়ে যাবে সিঁড়ি।
সিঁড়িটা কিন্তু ওঠানামা করে নিজস্ব গতিবেগে,
ওপরের সিঁড়ি কেউ যদি পায়, সে যাবে তোমার আগে।
যতই তোমার তাড়াহুড়ো থাক ঠেলেঠুলে ওঠবার,
সিঁড়ি তার মত নেমে উঠে যায়, সবেতে নির্বিকার।
কখনো হয়তো ওঠার বদলে নিচে যেতে চাও ছুটে
সময়ের ফেরে সিঁড়িরা তখন ওপরে আসছে উঠে।
সিঁড়িরা ওঠায়, সিঁড়িরা নামায়, কাজ করে যায় কত,
তুৃমি স্থানু হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছো কাঠপুতুলের মতো।
পাঁচতলা উঠে মনে মনে ভাবো ওপরে উঠেছি বেশ,
ক্রমে চলে যায় নিজের ঠেলাতে ওঠবার অভ্যেস।
একদিন কোনো গোলোযোগ হয়ে সিঁড়িরা স্তব্ধ হলে
বুঝবে সিঁড়িরা কতখানি ক্ষতি করে গেছে তলে তলে।
ওঠার কাজটা সিঁড়ি করে দিলে হয়তো সুবিধা হয়,
তাই বলে সিঁড়ি ওঠা ভুলে যাওয়া মোটে ভালো কথা নয়।
আরাম রয়েছে সবার জীবনে কারো কম কারো বেশী
প্রয়োজন হলে কাজে আসে যেন সিঁড়ি ওঠবার পেশী।
সুযোগ থাকলে উঠতে নামতে সিঁড়িরা আসুক কাজে
নিজের পায়ের কতটা ক্ষমতা দেখে নিও মাঝে মাঝে।
আর্যতীর্থ

একা
- আর্যতীর্থ

সেভাবে দেখলে মানুষ আর একা থাকে কি কখনো?
গুজগুজ ফুসফুস চলছে ও চলবে মুঠোফোন জুড়ে
একা মানে সেলফি, ঠোঁট নাক চোখ বেঁকে ভঙ্গিমা কোনো
নিমেষে পোস্ট হয়ে কোথায় পৌঁছে যাবে ফেসবুক ঘুরে।
অধুনা তো একা থাকা স্ট্যাটাসেও লেখা, ' ফিলিং লোনলি’
অমনি লাফিয়ে পড়ে সমব্যথী জুটে যায় কত ঝাঁকে ঝাঁকে,
'অমন করে বলো কেন, উই আর দেয়ার ফর ইউ ওনলি'
দুমাদুম জুড়ে যায় ইমোটিকনের সারি তোবড়ানো বাক্যের ফাঁকে।
সুতরাং একা থাকা কঠিন ব্যাপার বড় আজকের যুগে
মুঠোফোনে না পেলে হাজার প্রশ্ন আসে মানুষের মনে
তুমি আমি সব্বাই তালে তাল দিয়ে যাই যুগের হুজুগে
কোথায় রয়েছো তুমি সেকথা সর্বদা জেনো জি পি এস জানে।
তবু কেন মনে হয়, কোথাও যাচ্ছে রয়ে বড় এক ফাঁকি
নেটফ্রেন্ড শত হয়ে হারিয়ে ফেলছি নাতো কাছের মানুষ?
হুট করে মুঠোফোন বন্ধতে মনের কুঠুরিগুলো হঠাৎ আঁধার হবে নাকি?
একলা থাকার ভয়ে রোজ অনলাইন হয়ে জ্বেলে যাই
অলীক এক স্বপ্নফানুস।
আসলে আমরা দূরে, যে যার নিজের গ্রহে, ঘুরছি নিজের চারদিকে
খুব কাছে থাকে যারা তাদেরও হদিশ নেই কোন অক্ষে খাই ঘুরপাক
ছোটোখাটো কথা নিয়ে বড় ঢেউ তুলে দিয়ে বন্ধু করা ফেলি শিখে
যে আগুন জ্বালাচ্ছে মনটাকে নিশিদিন, পুড়ি তাতে একা, নির্বাক।
আর্যতীর্থ

আদিপুরুষ এবং অশরীরী
- অভিজিৎ পাল

স্বপ্নপালক তোমার চোখে ছড়াচ্ছে হরিণী মায়া
কালো রাত যেন তোমার শরীর
আমি বারবার জল আঁকি তোমার যৌন কূপে
আজন্মলালিত কস্তুরীঘ্রাণ বক্ষে
আমায় পরাজিত করেও সহজেই মুক্তি দাওনা
আমি আদর মাখাই বন্দর জুড়ে
তুমি ভেনাস সাজো এভাবেই আমার শিশ্ন চুমে .....

24_09_2016 # Kolkata. © Reserved .

সাহারা'র মান
- চিন্ময় প্রামাণীক

যখন অমার তপ্ত বালি--
দিশাহারা হয়ে, খোঁজে-- এক ফোঁটা বৃষ্টি,
তখনো বৃষ্টি, তুমি বলনি মনের ভুলে,
এক মুঠো মেঘ--দিলেম সাহারা, তোমাকে ভালোবেসে ।
আমি--তোমার জন্য, সূর্যের কাছে--
সহেছি কত-- তপ্ত অভিমান !
বাতাসের সাথে-- মিশেও আমি পাইনি-বৃষ্টি তোমার মান।
যখন আমার-- ক্লান্ত সময়,
তৃষ্ণার্ত এ মন--খুঁজেছে পাগল হয়ে, বৃষ্টি তোমায় ।
তখন তুমি-- অঝোর ধারায় ঝরে,
ভিজিয়ে দিলে-- আকাশ, বাতাস, পাহাড়ে।
কই--তখনো তুমি বলো'নি, একটু আশা দিয়ে-
সাহারা-- আমি আছি, তোমার পাশে ।
তুমি কি--আমায় ভোলোবাসো বৃষ্টি ?
আমি তো প্রকৃতির মাঝেই সৃষ্টি !
আমি তো দিয়েছি তবু-- ক্লান্ত পথিকর ত্বরে
মরুদ্যান,
আমি কি পারি না পেতে-- তোমাদের কাছে
ভালোবাসার মান ?
তবে কী আমাকে ঘৃণা কর তুমি ?
যদি কর, তবে থাক সব আজি ।
তোমার সে--পোশাকী ভালোবাসার বেশে,
আমি পারবো না পাল্টাতে --কখনো
নিজেকে ।
পথের বালিতে দেখো-- আমার শৈশব মিশে আছে,
মরুঝড় খোঁজে আমায়-- উষ্ণ বালু পথে ।
আমি মিশে আছি দেখো--সূর্যের সাত রঙে,
নিজেকে-- নিয়েছি রাঙিয়ে, ধূসর মরীচিকা হয়ে ।
যদি-- ভালোবাসো আমায়,
তবে ঝ'র তুমি বৃষ্টি-- অঝোর ধারায়,
তোমার সে পরশ--এখনো পেতে,- দিশেহারা যারা !
একটু ভালোবেসে-- দিয়ো তাদের ভরসা ।
আমি, না হয় মিশে আছি-- মরু পথে, বালি হয়ে,
ভিখারি হয়ে, তোমাকে আমি--রাজপথের সুখ, পারবো না কভু দিতে ।

শরৎ এলে
- শাহিনা কাজল

নীল অাকাশে ভাসে দ্যাখো সাদা মেঘের ভেলা
শিশির ভেজা ঘাসগুলোতে চলছে শরৎ খেলা।
নদীর পাড়ে পুকুর ধারে কাশফুলেরা, করছে ওড়াউড়ি
অাকাশ জুড়ে ওড়ায় কে গো সাদা মেঘের ঘুড়ি?
কাঠফাঁটা রোদ জলহারা হয় ওই অাকাশের নীলে
মেঘ বৃষ্টি রোদের খেলা দেখবো বকরবিলে।
সবুজ পাতার গাছগুলোতে উঁড়ুউড়ু হাওয়া
নেইকো বলা নেইকো কওয়া বৃষ্টি অনেক পাওয়া।
তিরতিরে হাওয়ায় দোলে বুড়ো নৌকোর পাল
হঠাৎ করেই নামলো বুঝি কুমারী মেঘের দল।
জলের মাঝে ঢেউয়ের বুকে শাপলা শালুক ফোটে
রক্তকমল সন্ধ্যামনির, জলপদ্মরা উঠে জেগে ওঠে।
কামিনী অার নয়নতারা, জয়ন্তিকার মধুমজ্ঞুরী খায়
কাঁঠালচাপার লাজুক হাসি স্বর্ণ শ্যামল গাঁয়।
চুপি অাসে চুপি যায় যৌবন খেলা ফেলে
অাসা যাওয়ার এ খেলাতে মন যে অামার দোলে।
জ্যোৎন্সা অালোর খেলা চলে শরৎ ঋতু জুড়ে
ইচ্ছে করে শিউলীমুখো অাকাশে যাই উড়ে।
গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘমালাতে শিউলী সুভাষ ভাসে
অাকাশ মাটির মিলন খেলায় দূর্বাকমল হাসে।
কচি সবুজ ধানের ক্ষেতে সোনা রোদের খেলা
শারদা দেবীর উঠোন জুড়ে শিউলী ফুলের মালা।।

নারী সম্মান
- চিন্ময় প্রামাণীক

আমি এক সাধারণ নারী,
কখনো-- তোমাদের জন্মদাতা জননী ।
কখনো আবার, সেজেছি--
তোমার--সুখ ও দুঃখের অর্ধাঙ্গিনী,
সৃষ্টির যা কিছু, এ পৃথিবীতে সবই--
তুমি কি জানো ?
তার অর্ধেকে মিশে আছে--'পুরুষ ও নারী'।
তুমি বল, ও হে পুরুষ জাতি--
আমার সে অধিকার, তোমার সমাজে-
তুমি কোথায় দিয়েছ আজি ?
আমি তো বেশ মেনে নিয়েছি,
তুমিই--আমার জগত, তুমি আমার জীবনে সবই ।
কিন্তু তুমি কী দিয়েছ ?
তুমি দিয়েছ আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা পায়ে- বেড়ি !
কেন ? অমি অবলা নারী তায় ?
তুমি কি ভুলে গেলে সবই--
পুরুষ, তোমাকে পৃথিবীর প্রথম আলো- দেখিয়ে ছিল-- এই অবলা নারী ।
তোমাদের গড়া সে সমাজ কখনো পাবে না বিশ্ব মান
হে পুরুষ, যদি না দাও তুমি, সে সমাজে- নারীর যথার্থ সম্মান ।

সুখ ফেরারি
- জিনিয়াস মাহমুদ

ব্যথার দহনে পুড়ে গেছে মন
অশ্রু ঝরে শুধু চোখে
যে দিকে তাকাই নেই কোনো আলো
অন্ধকার চারিদিকে।
সুখ গুলো আজ হয়েছে ফেরারি
দু:খ বেঁধেছে বুকে বাসা
স্বপ্ন চুরি হয়ে গেছে আমার
পর হয়ে গেছে ভালোবাসা।
আমার বসন্ত হারিয়ে গেছে
সুখের জীবন পাবো না জানি
আধাঁরের মাঝে খুঁজে নেবো ঠাঁই
নির্জনে কাঁদবো চিরোদিনই।
পাঁচ ওয়াক্ত মোনাজাতে
বলি তবু জোড়া হাতে
যে কাঁদিয়ে আজ আমাকে
দিওনা দু:খ দয়াল তুমি তাকে।
সে যদি সুখ পায় কাঁদিয়ে আমাকে
কি হবে বলো দয়াল দু:খ দিয়ে তাকে।

কষ্ট থাকুক
- দিব্যেন্দু সান্যাল

কষ্টের দিন ছিল
কষ্টেরই দিন আছে
কষ্ট লেগেই আছে সব গাছে গাছে
তবু শান্তি ইষ্টদেব, আঁচল বিছিয়ে দিয়ে
ভক্তজন কীর্তনে তুমিই আছো কাছে কাছে ।
দ্যাখো কত ভোর হ’লো
পারো যদি পাতো দিনগুলো
নারকেল ডালের মতো ডানা মেলে দোলো
ঝিরিঝিরি কেটে নাও মুক্তক আলো ।
কে যে কখন এলো আর কেবা গেল
হিসাব মিলিয়ে দিল
কষ্টের আরেকটি বিশিষ্ট মুখ
উঠানের দুইপাশে বাসি হাসিটুক
আসলে সেটাই ছিল আশ্রয়ী সুখ
আমার কাছেই সব কষ্ট থাকুক ।

" স্মৃ‌তিময় শর‌ৎকাল"
***রহমান মাসুদ***

শর‌ৎ এর স্মৃ‌তিময় শৈশব
আনন্দ উচ্ছা‌স কলোরব,
নিত্য-নতুন বন্ধু‌ত্ব স্হাপণ
রোমান্ঞ্চ‌েই সময় ক্ষেপণ।

ভো‌রের আগেই আগমন
তাল কুড়া‌নোর নি‌য়ে পণ,
ঝোপ-ঝাড়-কাদার মা‌ঝে
সন্ধান পাকা তা‌লের খোঁ‌জে।

ফাঁ‌কি দি‌য়ে স্কুল
খু‌জে‌ছি শুধু কাশফুল,
নদীর ত‌টে, চ‌রের বু‌কে
কাশফুল আহরণ মহা সু‌খে।

দুরন্ত বি‌কে‌লের পড়ন্ত বেলা
শুধু খেলা আর খেলা,
হাডুডু-‌গোল্লা‌ছুট-কানামা‌ছি
ধুলো-বা‌লি মে‌খে নাচানা‌চি।

রা‌তে পড়া‌-লেখায় ব‌সে
প্রচন্ড ঘু‌মে হা‌রি‌য়ে‌ছি দি‌শে,
মা‌কে জ্বালাতন ক্ষুধার বায়না
চোখ খোলা রাখা আর যায়না।

মধুময় শৈশ‌বের সেই স্মৃ‌তি
বয়‌সের কার‌নে হ‌লো ইতি,
তাই উদা‌সী শরৎকাল এলে
দীর্ঘশ্বা‌সের আহাজা‌রি মে‌লে।

জ্যান্ত ভগবান
- অনাদি চক্রবর্তী

ধৈর্য্য ধরে বসো সবাই
এইতো সবে ভোর,
এখন কাটেনি তার
সুখের নিদ্রাঘোর্।
এর পরে তো প্রাতঃক্রিয়া
তাতেও হবে দেরী,
মন্ত্রী-রাজার এ সব আবার
হয় না তাড়াতাড়ি।
রাণীমারা বসে আছেন
খাবারদাবার নিয়ে,
সেখানেও বসতে হবে
ঘন্টাখানিক গিয়ে।
"দুপুরও তো গড়িয়ে গেল
কোথায় মোদের রাজা।"
উত্তেজিত হয়ে ওঠে
দর্শনার্থী প্রজা।
দ্বিপ্রহরের ভোজন করে
বিগড়ে গেছে পেট,
দরবারেতে আসতে রাজার
আজকে হবে লেট।
আনন্দতে কাটাও সময়
গল্প-গুজব করে,
সময় হলেই রাজামশাই
আসবেন দরবারে।
সূর্য গেল অস্তাচলে
আঁধার নেমে আসে,
দর্শনার্থী প্রজারা সব
ফিরছে অবশেষে।
সারাদিনের সব কোলাহল
যখন গেল থেমে,
রাজা মশাই এলেন তখন
উপর থেকে নেমে।
মন্ত্রী বলে "রাজা মশাই!
কেন দিলেন না দর্শন?"
রাজা বলেন "তুমি একটা
আস্ত গোবর্ধন।
ডাকলে পরেই দেখা দিলে
থাকে রাজার মান?
বর্তমানের রাজা হলেন
জ্যান্ত ভগবান।"

কোলকাতা , ২৩/০৯/১৬

Shyamali Debroy

মহালয়া + বিজয়া দশমী = মহামিলন
- শ্যামলী দেবরায়

দূর্গোৎসব মানুষের মহামিলনের মেলবন্ধন
মহালয়া থেকে দশমী হৃদয়ে খুশির স্পন্দন
খবরের কাগজে বাহারি সাজের বিজ্ঞাপন
শহরের রেস্তোরাঁয় ভূরিভোজের আয়োজন।
.
মহালয়ার সুরে দেবী দূর্গার আবাহন
শরতে শিউলীর গন্ধে অকাল বোধন
ঢাকের কাঠির তালে দোলে কাশবন
বাঙালিরই বাঙালিয়ানার মহামিলন।
.
চন্ডীপাঠের সুরেই দিকদিগন্ত মুখোরিত
বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে তাহা প্রকাশিত
আগমনীর আহ্বান সঙ্গীত সুধায় বর্ণিত
মহালয়ায় মহামিলনের আনন্দ সমাহিত।
.
বাজছে ঢাক ও বাজছে কাশর
ধুনুচি নাচে যে সেজেছে আসর
বাঙালির মন খুশিতেই বিভোর
শারদীয় উত্‍সব আনন্দ মুখোর।
.
পূজোয় নিত্যনতুন বাহারি সাজ দেখোনা
দুস্থ পরিবারের অভাব অনটনই গেলোনা
ওদের ন্যায্য অধিকারই যে ওরা পেলোনা
উদারতার তুলি দিয়ে খুশির রঙ মেখোনা।
.
মহামায়ার দর্শনে রাস্তায় দর্শনার্থীর ঢল
আলোর রোশনীতে দশদিক যে ঝলমল
গরীবের দুচোখে অসহায়ত্বের অশ্রুজল
দুস্থের তরে সমাজসেবি সংগঠনের দল।

সুখপ্রদ
- রাজু আহম্মদ খান

তুমি হয়তো ভাবছো
তুমি একা -
সময় কাটছে কষ্টে তোমার
চাইছো সুখের দেখা !
.
অথচ দেখো
পৃথিবীতে সবাই কিন্তু একাকি -
মনের মানুষের সাথে
হয়েছে কারো দেখা কি ?
.
আগে বলি শোনো
কিসের দিন গোনো ?
তোমার যোগ্যতা আর সামর্থ
আনে যশঃ খ্যাতি ও
অর্থ যথেষ্ট -
.
ভালোবাসা কিন্তু নিছক মেকি
যতই ভাবো তুমি বুদ্ধির ঢেঁকি
অথচ তোমার রুপ ও গুনেই হয়
অপরে আকৃষ্ট ।
.
ভালোবাসা বাসা বাঁধে
তোমার স্বপ্ন ও কল্পনায়
আবার ভাঙ্গে
সামান্য কথার আঘাতে -
.
আনন্দের বৈকালিক অনুভূতি
রাত হলেই ফুরায় যখন
ক্ষুধা আর
দারিদ্রের কষাঘাতে -
.
তাই আমি ভালোবাসা চাইনি
চেয়েছি আমার গুনের কদর -
নিতান্তই হাতে গোনা
প্রাপ্তী ও সুখপ্রদ'র
পূর্ণ হবে যখন ষোলোকলা
নতুন এক প্রভাতে ।
---------------------------
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬

ভৈরবী
- প্রবীর ভদ্র

সকল দুঃখের অশ্রূ মিশেই কি
এত লবণাক্ত সাগরের জল ?
সংসারে ঋণের দায়মুক্ত যে জন
সেই কি সুখী সকলের চেয়ে ?
সুখ-দুঃখের অনুভূতি হীন বলেই
পাগলে কখনো হাসে কখনো কাঁদে !
আকাশে , সূর্য ঢেকেছে কাল মেঘে
বিষাদ ছুঁয়ে আছে মনের জানালা |
দুঃখ-বেদনা -বিষাদ বিদায় নাও ভাই
এবার আনন্দে ভৈরবীতে বাজাই শানাই |

নিষিদ্ধ অনুভুতি
- মিন্টু উপাধ্যায়


পকেট একদম গড়েরমাঠ । দশটাকা ছিল এখন সেটাও নাই । সেই কোন সকালে ঘুগনি মুড়ি খেয়েছি দশটাকাটা দিয়ে । এখন বেলা গড়িয়ে এলো বলে, অথচ পেটে কিছু পরল না ।
চিন্তা করছিলাম, গভীর চিন্তা । কি করা যায় ।
অসহ্য, এই চিন্তাটাও কিছুতেই পিছু ছারতে চায় না ।
শেষে ঠিক করলাম যে প্রতিদিন যা করি, আজও তাই করতে হবে ।
সারাটা দিনে আমারতো শুধু একটাই কাজ... "পকেট মারা" আর "পুড়িয়া" নেওয়া ।
"পুড়িয়া" ! হ্যাঁ, আমি এই নামেই ডেকে থাকি আমার একমাত্র ভালবাসাকে... সেটা হল "চরস" ।
"চরস" - এর তীব্র নেশায় আমি সারাটা দিন বুঁদ হয়ে থাকতে চাই । জীবনে ভেঙে যাওয়া রঙিল স্বপ্ন গুলোকে কিছুক্ষণের জন্য আবারও ফিরে পেতে চাই । কখনও কখনও "চরস" না পেলে "হাশিশ" দিয়েও কাজ চালাতে হয় ।


হটাৎ ডান হাতের শিরাটা কেমন টেনে ধরল । তার সাথে মাথাটাও ঝিনঝিন করে উঠলো । নিজেকে সামলাতে না পেরে টলমল পায়ে রাস্তার একধারে বসে পরলাম । পুরাতন পেটের বেথাটা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো । দুপুরের ডোজটা নেওয়া হয়নি বলেই এমনটা হচ্ছে । তাই আর সময় নষ্ট না করে রাস্তার ভিড়ের দিকে এগিয়ে গেলাম । টলমল পায়ে ভিড়ের মধ্যে এক জনকে ইচ্ছে করেই ধাক্কা মারলাম । তাকে সরি বলারও প্রয়োজন বোধও করলাম না । এরই মধ্যে তার মানিব্যাগটা যে হাতছাড়া হয়ে গেলো সে বুঝতেও পারলো না । মুখ দিয়ে লালা গড়িয়ে পরছিল । হাত দিয়ে পুঁছে টলতে টলতে আমি স্টেশন রোডের দিকে এগিয়ে গেলাম । ওখানেই রাস্তার ধারে "পুড়িয়া" পাওয়া যায় । মানিব্যাগে যা টাকা ছিল তাতে একবারের মতোই "পুড়িয়া" পাওয়া যাবে ।


"চরস এর পুড়িয়াটা" নিয়ে আমি একটা গলির দিকে এগিয়ে গেলাম, গলিটা বড্ড ঘিঞ্জি । দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছায় না । গলির দুদিকেই ছোট ছোট এক কামড়ার ঘর আছে । প্রতিটা ঘরেই শরীরী ব্যবসা হয় । কিছুটা এগিয়ে একটা নালার ধারেই বসে পরলাম । আশেপাশে দু-একজনকে চোখ বন্ধ করে সুখের টান মারতে দেখলাম । "চরসিরা" এখানে এসেই সুখের টান মারে । এখানে বলারও কেউ নাই, আর শোনারও কেউ নাই । মনে হয় যেন পৃথিবী থেকে ছিটকে যাওয়া সম্পূর্ণ অন্য একটি উপগ্রহ । নিয়মমতো "চরসটা" পাকিয়ে আমিও গভীর সুখেতে টান দিতে শুরু করলাম । কিছুক্ষণেই পৃথিবী যেন দুলে উঠলো, আমি তলিয়ে গেলাম অতল গভীরে ।


কতক্ষণ শুয়েছিলাম কে যানে । চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি চারিদিক অন্ধকারে ছেয়ে আছে । দূরে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলোয় পথ ঠিকমতো চোখেই দেখা যায় না । উঠে দাঁড়াতে গেলাম, পা দুটো টলে উঠলো । সঙ্গে সঙ্গে পাশের দেওয়ালটা ধরে নিলাম । চোখের সামনে থেকে এখনও ধোঁয়াশা ভাবটা কাটেনি । তবে মাথার ঝিনঝিন ভাবটা ইতিমধ্যেই কমে এসেছে । আধো আলো আধো অন্ধকারেই আমি দেওয়াল ধরে ধরেই এগিয়ে চললাম । শরীরের জড়তা ভাবটা কিছুক্ষণেই কেটে যাবে আমি জানি । প্রতিদিনই তো আমার সাথে এমনটাই হয় ।
গলির মুখে এসে দাঁড়ালাম, পকেট থেকে বিড়ির বাঁচিয়ে রাখা অংশটুকু বার করে ধরালাম । কুণ্ডলী পাকানো একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে চারপাশটা দেখলাম ।


গলি থেকে বেরিয়ে আসতেই ফুরফুরে হাওয়া গায়ে লাগলো । জনমানবশূন্য রাস্তা । এমনিতেও এদিকটা একটু রাত্রি হলেই ফাঁকা হয়ে যায় । সময়টা অনুমান করার চেষ্টা করলাম, বোধয় বেশি সময় হয়নি । আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা তারাকেও খুঁজে পেলাম না, পুরো আকাশটা মেঘে ছেয়ে গেছে । শরীরটাও আগের থেকে অনেকটা চনমনে হয়ে উঠেছিলো । ফুরফুরে হাওয়ায় পথ চলতে বেশ ভালই লাগছিলো । এখান থেকে মিনিট পাঁচেক স্টেশন রোড । আমি ওইদিকেই এগোলাম ।


পথ চলতে চলতে একটা মেয়েকে সামনের দিক থেকে আসতে দেখলাম, শাড়ি পরা, দোহরা চেহারা মেয়েটির । রাস্তার মৃদু আলোয় ওর মুখটা দেখার চেষ্টা করলাম । দূর থেকে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া গেলনা মুখটা । মেয়েটি কাছে এগিয়ে আসতে দেখলাম , বেশ ভালই দেখতে মেয়েটাকে । বয়স আন্দাজ কুড়ি থেকে পঁচিশ হবে । পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটির শরীর থেকে একটা মাদকতাপূর্ণ মিষ্টি গন্ধ নাকে এসে লাগলো । মেয়েলি গন্ধটা নাকে এসে লাগতেই আমার শরীরে কামনার আগুনটা দপ করে জ্বলে উঠলো ।


আমি মেয়েটার পিছু নিলাম, কিছুটা তফাৎ রেখেই হাঁটতে লাগলাম । ও কোন দিকে খেয়াল না করেই পথ চলছিলো । আমি যে ওকে ফলো করছি সে বুঝতেই পারলো না । মেয়েটি কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে হাঁটছিল । ওকে কিভাবে কাবু করা যায় সেটাই ভাবছিলাম । এমন সময় রাস্তার ধারে একটা আধলা ইট আমার নজরে পরল । আমি ডান হাতে ইট'টা হাতে তুলে নিয়ে মেয়েটার মাথাটাকে লক্ষ করে সজোরে ছুঁড়ে মারলাম । মেয়েটি টু শব্দটি করে ওঠার আগেই ধপ করে মাটিতে লুটিয়ে পরল ।


আমি একবার চারপাশটা ভাল করে দেখে নিলাম । না, আশেপাশে তেমন কাউকে দেখতে পেলাম না । রাস্তার ধারে দুই বিল্ডিং এর মাঝে অনেকটা পরিত্যক্ত ফাঁকা জায়গা পরে আছে । গভীর অন্ধকারে ছেয়ে আছে জায়গাটা । আমি মেয়েটাকে টেনে হিঁচড়ে ওই ফাঁকা জায়গাটায় নিয়ে গেলাম । মেয়েটা যন্ত্রণায় গোঙাচ্ছে, ছটফট করছে কিন্তু আমি সেদিকে ধ্যান না দিয়ে নিজের জামাটা খুলে পাশবিক শক্তিতে তাকে বুকে চেপে ধরলাম । তার শরীরে লেপটে থাকা সমস্ত পোশাক আমি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দিতে লাগলাম । অনেকদিন পর নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা বন্য পশুটা আবারও জেগে উঠেছে । নিশুতি রাতে মেয়েটির গোঙানোর শব্দ বিদীর্ণ করে দিতে লাগলো আকাশ বাতাসকে ।


= = = = সমাপ্ত = = =


[box type="error" align="" class="" width=""]সতর্ক বার্তা : মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকুন ।
গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক । কোন জীবিত বা মৃত বাক্তির সাথে এর সম্পর্ক নাই ।
STOP CRIME AGAINST WOMEN...
© Mintu Upadhayay [/box]

সাধের ইন্টারনেটে
- জুলফিকার আলী

এলো কোরবানী কিনব গরু
ভাল্লাগে না হাটে,
নানান সে ভয় লুকিয়ে আছে
যদি পকেট কাটে|

ঝুঁকি নিয়ে হাটের ভিতর
দেখে বেড়াই গরু,
কখন জানি লাথি গুতোয়
জীবন করে মরু!

চাইনা জীবন মরু আমার
চাইনা নিতে রিস্ক,
ঘরে বসে গরু কেনার
আছে অন্য টিক্স|

ঝামেলা ছাড়াই কিনুন গরু
সাইট ঘেটে ঘেটে,
ডিজিটাল যুগে হাট বসে
সাধের ইন্টারনেটে|

অন্ধ
- দিব্যেন্দু সান্যাল

কত অনায়াসে তুমি কত কিছু ধরে নিতে পারো,
তুমি নিতান্ত অবহেলায় এক্স ধ’রে নিতে পারো ।
জীবনের অনেক জটিল অঙ্ক
এক্স ধ’রে মোলায়েম মিলিয়ে নিতে পারো ।
তুমি কি কখনো ধ’রে নিতে পারো
তোমার পূর্ব নেই
তোমার পশ্চিম নেই
তোমার একফোঁটা আকাশও নেই ?
তুমি কি কখনো ধ’রে নিতে পারো
তোমার সূর্যোদয় নেই
তোমার সূর্যাস্ত নেই
তোমার প্রেয়সীর চাঁদপনা মুখ নেই ?
তুমি কি ধ’রে নিতে পারো
তোমার ভূবন জুড়ে কোনো ফুল নেই
গাছেদের সবুজ নেই
পাখিদের ওড়া নেই
ভালোবাসার নীরব দুফোঁটা অশ্রুপাত নেই ?
তুমি কি ধ’রে নিতে পারো
অনন্ত অন্ধকারে
একদলা অন্ধকার জঙ্গম ছাড়া
তুমি আর কিছুই নও ?
আরো কতকিছু তুমি ধরে নিতে পারো
তুমি কখনো জানোনি ।
আমি জানি,
তাই আমি এই সবকিছু
প্রাণের গভীরে নিয়ে বসে আছি
দূর থেকে ছুঁড়ে দেওয়া
তোমার ষোল আনা বিদ্রুপের প্রতীক্ষায় ।

অপেক্ষা
- স্টেলা সীমা গমেজ

এখন রাতের কোন প্রহর
অনুমান করতে পারছি না
হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গা , শুধু এপাশ ওপাশ
কত ঘটনা এসে ভীড় করছে ক্ষণে ক্ষণে
কত চিন্তা দুশ্চিন্তার রেখা এঁকে দিচ্ছে মনে
চোখের দু'পাতার ঘুম কে কেড়ে নিলো, শুধু মন জানে ।
ক্ষীণ আলোর ইশারায় এক পা দু পা করে
নিঃশব্দে দাঁড়াই গিয়ে জানালার ধারে ,
আকাশ ধূসর মেঘে আচ্ছন্ন, শুধু চিকন এক ফালি চাঁদ ।
যৌবনের উচ্ছলতা দেখেছিলাম ওর, ও ছিল পূর্ণিমা রাত ।
স্বচ্ছ নীল আকাশে ছিল সাদা মেঘেদের ভেলা
আরো দেখেছি সহস্র তাঁরাদের লুকোচুরি খেলা ,
এ রাতে 'ও' একেবারে স্থির নিশ্চুপ, হয়ত বিলীনের পালা ।
আকাশের নীচে যতদূর চোখ যায় শুধু জমাট অন্ধকার ,
তারিমাঝে পথটিকে খুঁজে যাচ্ছি বারবার ।
জোনাকি দলেরা সব না বলে গেছে পালিয়ে ,
না চাইতেও ওরা আমার পথে দিত আলো ছড়িয়ে ।
এখন মনে পড়ছে শুধু একটি শব্দ অপেক্ষা .....
নিকষ কালো অন্ধকারের পর ভোরের জন্য অপেক্ষা ,
যেটুকু আলো প্রয়োজন পথ চিনে নিতে
নয়ত লুকিয়ে ফেলতে হবে নিজেকে ,
ঠিক যেমন চাঁদটি ভোরের আলোতে
লুকিয়ে পড়ে সীমাহীন আকাশের বুকে ।

স্মৃতির জানালা
- এ. এইচ. সুমন

তোমায় নিয়ে ভাবতে অধৈর্য্য আর ভাল্লাগেনা,
স্মৃতির ভেলায় ভেসে বেড়াতে ইচ্ছে করেনা।
তাই বলি তুমি অার এসনা ফিরে,
দিনের আলোর শেষে যখন রাত্রি আসে-
স্মৃতিগুলো গ্রাস করে আমায় পিছু ডাকে।
শূণ্য আমি রিক্ত হাতে থাকি যে বসে,
এ বুকের আর্তনাদ অামি বুঝাব কাকে।

বীরধর্ম
- চিন্ময় প্রামাণীক

মা--আমি ক্লান্ত নয় এখনো,
শুধু তো দুটো বুলেট !
ওপার থেকে ধেয়ে এ বুকে এলো ।
তোমার জন্যে-- এ বুকে, শত শত বুলেটের ক্ষত-
আমি সহ্য করতে পারি--- অবিরত ।
তবুও অমি ক্লান্ত নয় মা এখনো !
আমি, এখনো লড়ে যা'ব--
তুমি যে দিয়েছ-- আমাকে শক্তি,
দিয়েছ-- সম্মুখ সমরে 'বীরব্রতী' ।
আমি তোমার জন্য-- মারতে পারি,
হাসিখুশি-- মরতেও পারি ।

এ দেহের রক্ত যখন--মিশেছে, তোমার সাদা আঁচলে,
তুমি তো দিয়েছো জন্ম তখন, সব ভুলে--
শত শত বীর-- মা তোমার কোলে ।
যদি--আমি না পারি, করত জয়- অবশেষে,
তোমার ভয় কী মা তাতে ?
তুমি শুধু একটি বার, চেয়ে দেখো--
একশত কুড়ি কোটি সন্তান, তোমার এখনো !
ওপারের বুলেটের জবাব-- ওরাই দেব বুক পেতে,
মা তুমি বল-- ওদের কত, কত বুলেট আছে ?
নেবে সব হাসি মুখে.... !
তবু-- যদি ওপারের ঘুম কখনো ভাঙে ।
মা-- আমি তোর কোলে, মাথা রেখে--
একটু ঘুমাইতে চাই । শান্তি তে...
তুই দে-না মা, একটু মাটি'তে আঁচল পেতে,
আমার এ আঁধার চোখে-- শুধু বুক ফাটে !
আমি যে--চাই না মা, এত সহজে মরতে ।
আমি চাই-- ওদের, বুলেটের জবাব দিতে ।
মা--আমি চলে গেলে, ---
তুমি রেখো না জল-- তোমার দু'চোখে !
আমি আবার আসব ফিরে, তোমার কোলে।
আমি যে-- রেখে গেলাম আমার চিহ্ন,- আগামী প্রজন্ম ।
তোমার পুত্রবধূর জঠরে ।
শুধু তুমি রেখো মা-- 'তারে' যতনে ।
ভালোবাসা দিয় তারে--
আমার আভাব--তুমি বুঝতে দিয় না 'ওকে'
তুমি দেখো মা--
আমি নিশ্চিত, আবার আসব ফিরে--
হাসি মুখে তোমার কোলে।

20-09-2016
চিন্ময় প্রামাণীক

বিশ্বাসের প্রতিদান
- সালিম আল-দ্বীন

কত বার চুক্তি করেছি আমি কল্পলোকের স্বপ্নীল জগতের সাথে
তার রামধনুর ঢেউয়ে বুনা মেঘের মাটিতে একটি রঙিন ঘর গড়ব
স্বপ্নবৃক্ষের ফুলের ফুলঝুঁরিতে ও ঘরের উঠোনটি আমি রাঙাব
বছরের পর বছর তাই সিঁড়ি সাজিয়েছি জোছনা দিয়ে
কিন্তু স্বপ্নীল জগত কথা রাখেনি, ধরা দেয়নি
আজও আমি পেলাম না তার ঠিকানা।
আমি গ্রীষ্মের প্রান্তরে অনেক হেঁটেছি দুহাত প্রসারিত করে
মরিচীকার আলিঙ্গনে মধুর আহ্বানে পিপাসা কাতর প্রাণে
বড় সাধ ছিল মরিচীকার জলে তৃষ্ণা মিটাব একটিবার
কিন্তু কথা সে রাখেনি, প্রতারিত হয়েছি শুধুই।
মাকড়সার মত হাত-পা ছড়িয়ে পড়েছি আমি বহুবার
নিজেকে এলিয়ে কিছু স্বজন প্রিয়জনের তনু মনে
বিরক্ত হয়নি তারা; কিন্তু মাংসের অন্তরালে মনকে বুঝা বড় ভার
তাদের হাতের উপর ছিঁড়ে দেয়া আমার হৃদয়ের বিনিময়ে কেঁদেছি অঝোর।
কখনও পৃথিবী এসেছে আমার দিকে ধেঁয়ে
নতুন রুপে প্রলোভনের ফাঁদে
আমি মজেছি শুধুই স্রোতে তার গা ভাসিয়ে
পরিনামে শূন্য হাতে ফিরেছি,পূরন হয়নি সাধ আমার।
আমি অনেক ঠেকেছি অনেক শিখেছি
আজ পড়তে পেরেছি গল্পে ভরা জীবনকে
ভালবাসি তাই সকলকে বিশ্বাস করি কেবল অল্পকে।
Copyright লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত

কাশ্মীর
- রতন সেনগুপ্ত

দু'হাত দু'পার মাথার উপর টানে দুই ভগবান
কে শোনে তোর গান ?
প্রহরী বলে নিমজ্জিত হও
চোখের পাতা না পড়ে মন না নড়ে চড়ে
রাখো অটুট বিশ্বাস --- মাথার উপর
ঊর্ধ্বশ্বাস চেনাবে তোকে
ছেড়ে দিতে হবে অচ্ছুত প্রেম, ভিন্ন স্লোগান
দু'হাত দু'পার মাথার উপর
পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটো না হবে অবিচার
বলছি তো
মাথার উপরে স্বর্গধাম নিরামিষ খেতে পারি স্তম্ভ নিতে পারি
আছে অষ্টশত নাম - সকাল বৈকাল
দস্তানা খুলেও দিতে পারি
'দ্যাখ রক্তচক্ষু বিশ্বভুবন রক্তস্নান'
কৈলাসে যেই বসুক
কুর্সি নির্দেশে চলে
কালো সুতো নাচায় অবিরাম
আচার্য জানেন আচার্য জানেন - আফিং চোবানো দেশপ্রেম
বেগরবাই করে কয়েকটা শয়তান
বিড়াল ইঁদুর ধরে বিনা ভ্রূক্ষেপে খায়
কে শোনে কার চিৎকার
হাতের মোয়া নয় তুলে দেব
প্রচার দ্বিতীয় ভগবান
লাঠি ভুতের হাতে
দু'হাত দু'পার মাথার উপর টানে দুই ভগবান
কে শোনে কার গান
কাশ্মীর !!!

আপন স্বার্থে দ্বন্দ
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

অঘোষিত এক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি আজকে
প্রতিনিয়তই এক স্বার্থ যুদ্ধ চলছে পৃথিবীতে
ইরাক,প্যালেষ্টাইন আজও জ্বলছে সেই দ্বন্দে
কাশ্মীর আজও স্বার্থের দ্বন্দে রক্ত হোলি খেলে ৷
তীব্বত আজও নিষিদ্ধ তাই অজানাই রয়ে গেছে
স্বার্থের দ্বন্দে আফগানীরা ঐ তালেবান হয়ে গেছে
সিরিয়া আজ আপন গৃহে তাই বন্দীই পরে আছে
আই,এস,আই সেথায় করা পাহারায় বসে আছে ৷
শান্তির পতাকা হাতে স্বার্থপর ছুটছে দেশ বিদেশে
ধর্মের কথা বলে স্বার্থপর ঐ অধর্মের গান গাইছে
ওদের স্বার্থেই মানুষ আজ দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে
আপন স্বার্থে দেশে দেশে সবাই যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে ৷
কখনোবা নিজের স্বার্থেই দ্বন্দে জড়িয়েছে আমাকে
কখনো আবার সেি স্বার্থে যুদ্ধে জড়িয়েছি তোমাকে
অস্ত্রের মুখে বিরোধীতা করে কারবা সাধ্য আছে
তবুওতো কেউ উঠবে গর্জে সেটাও আপন স্বার্থে ৷

"বাঁচাও সভ্যতা"
***রহমান মাসুদ***
জা‌তি‌তে জা‌তি‌তে সংঘাত
তুচ্ছ কার‌নেই রক্তপাত।
পরা-শ‌ক্তিরাও নেই থে‌মে
সবাই যু‌দ্ধে যা‌চ্ছে নে‌মে।

মরণাস্ত্র আজ সহজলভ্য
যোগানদাতারা সবাই সভ্য।
স্বার্থ আর অর্থের বি‌নিম‌য়ে
প্রাপ্যতা গে‌ছে সহজ হ‌য়ে।

অস্ত্রের জো‌রে সবাই ব‌লিয়ান
যা‌চ্ছে অগ‌নিত মানু‌ষের প্রান।
বিশ্ব হ‌চ্ছে স্বা‌র্থে বিভক্ত
একে অপ‌রের ঝড়া‌চ্ছে রক্ত।

দু'‌টি বিশ্বযু‌দ্ধের ধ্বংসলীলা
এখ‌নো যা যায়‌নি ভোলা।
চরম সভ্যতায় অবস্হান ক‌রে
মানু‌ষের বি‌বেক যা‌চ্ছে ম‌রে।

তৃতীয় বিশ্বযু‌দ্ধের আগাম ধ্ব‌নি।
পরা-শ‌ক্তির মা‌ঝে নেই বনাব‌নি।
এর সমাধান অচি‌রেই দরকার
না হ‌লে পৃ‌থিবী হ‌বে ছাড়খার।

তৃতীয় বিশ্বযু‌দ্ধের ভংয়কর রূপ
প্রিয় পৃ‌থিবী হ‌বে ধ্বংসস্তূপ।
সাগ‌রে ভাস‌বে রক্তের ফেনা
পৃ‌থিবী হ‌বে চি-র-অ-‌চে-না।

শিউলি ফোটা ভোরে
- অনাদি চক্রবর্তী

শরৎ রাতের শেষ প্রহরের
আবছা আলোর ভোরে,
বাড়ুজ্জেদের বাড়ির উঠোন
তোর কি মনে পরে?
.
উঠোন জোড়া মস্ত বড়
শিউলি গাছের তলে,
যেতাম ছুটে দু'জন মিলে
ফুল কুড়াব বলে।
.
শীতল বাতাস মন্দ মধুর
ফুলের বাসে বাসে।
পায়ের পাতা ভিজে যেত
শিশির ভেজা ঘাসে।
.
গাছটি ভরা থাকত তখন
সদ্য ফোটা ফুলে,
শারদ প্রাতের মৃদুল বায়ে
উঠত দুলে দুলে।
.
গায়ের জোরে দিতাম নাড়া
গাছের গুঁড়ি ধরে,
উঠোন জুড়ে ফুলগুলি সব
পরত ঝরে ঝরে।
.
তুই দাঁড়াতিস গাছের নিচে
আঁচলটি তোর মেলে,
মুঠো মুঠো ফুল কুড়িয়ে
দিতাম তাতে ফেলে।
.
ফুলে ফুলে ভরতো যখন
সারা আঁচল তোর,
পূব গগণে সূর্যিমামা
অরুণ আলোর ভোর্।
.
আজও যখন শিউলি ফোটে
শিশির পরে ঝরে,
কিশোর বেলার সে দিনগুলি
আবার মনে পরে।

কোলকাতা , ২১/০৯/১৬

Sunanda_Chakraborty_Nabadibakar

প্রশ্নোত্তর
- সুনন্দা চক্রবর্ত্তী

সময়ের কাছে
সময় গিয়েছে চুরি
না ভালোলাগার ভিড়ে
হারাতে হারাতে
ভালোলাগা আজ লুপ্তপ্রায়
একাকিত্বের নীরব জন্মলাভে
মনের ঠিকানা বদল
বাকিটুকু অভিনয়
অগ্নিসাক্ষী শব্দগুলো
আজ বড্ড ভারী
তবু বহন করে চলে
ঠিক যেন শরীরে
জামাকাপড় বহন করার মতো
এভাবেই এগিয়ে যায় দুটি চাকা
শেষ ঠিকানার উদ্দেশ্যে
নির্জীব যাত্রাপথে
অভিনয়ের দক্ষতায়
সজীব শুধু
একখানি প্রশ্নোত্তর ...
কেমন আছো?
ভালো আছি...

সুনন্দা চক্রবর্ত্তী
২১/০৯/২০১৬

শেষের আলাপন
- কাজী রবিন

কিছু বা হয়তো বলার ছিল।
প্রশ্নগুলো নাহয়,
আরেকটিবার মুখোমুখি হলো!
কিছু কিছু কথা হলো।
খুব চেনা,
পরিচিত দিনে কি আর ফেরা হলো?
হাসিটুকু নয়তো এবার মিথ্যেই হলো।
দুজনের এই পাশে থাকা,
যত বৃষ্টি বিকেল আর নক্ষত্রকাল কি আড়াল হলো?
গোপনে এবারে দুজন খুঁজলো যখন,
দু চোখ অচেনা পেল।
তবে সে কবিতাটি কার ছিল,
আর গল্পটি কার হলো!
বেলাশেষের এই আলাপনে,
বিদায়বেলায় কিছু কথোপকথন হলো।
যা হয়নি বলা আজও হলোনা আর,
আলাপনে এইবারও,
না বলাই রইলো।
শেষ হলো যখন কথোপকথন।
স্বযত্নে দু জন,
দুজনার অধিকার নিয়ে বিপরীত হলো।
তবে শেষের আলাপনের,
এই বিমূর্তকাল,
অসহায় পরাজিত,
দু জনের ফিরে যাবার সাক্ষী হলো।
নাহয় এই গল্পেরও,
শেষদৃশ্য নিয়তি হলো!
নয়তো বা,
বিদায়বেলার এই শেষের আলাপন,
আরেকটিবার অসমাপ্ত রইলো!

রাধাচূড়া
- আর্যতীর্থ

স্বপ্নগুলো এখন কেমন ঝাপসা মনে হয়
এইজন্মেই দেখেছিলাম কি? বছর ঘুরে গেছে
পেট চালানোর ঘষা কাঁচের চশমা নাকে আঁটা
জীবিকাকে এখন জীবন স্বপ্ন বলে বেচে।
স্বপ্ন ছিল, কবি হবো, হৃদয় ছোঁয়ার কথক
কলম থেকে কলকলাবে ভাষার বহতা নদী
এখন কলম হাতড়ে খোঁজে কোথায় রুটিরুজি
মগজ জুড়ে রাজ করে যায় কিন্তু এবং যদি।
এখন আমার স্বপ্ন জুড়ে ফ্ল্যাটবাড়ি আর গাড়ি
কবিতারা আছে কোথায়, খোঁজার সময় কই?
সেনসেক্সের ওঠাপড়ায় স্বপ্নগুলো ভাঙে গড়ে
মোটের ওপর, এই আমিটা আগের আমি নই।
সেদিন হন্তদন্ত পথে, যাচ্ছি কাজে বিষম তাড়ায়
গ্রীষ্মকালের মাঝদুপুরে বড্ড কঠিন বাইরে থাকা
চমকে দেখি পথের ধারে বেমক্কা এক রাধাচূড়া
ধুলোর মাঝে একফালি পথ হঠাৎ হলুদ ফুলে ঢাকা।
কোত্থেকে যে শুকনো গাছে হঠাৎ করে মুকুল এলো
হলুদমাখা গাছটা দেখে দাঁড়িয়ে গেলাম বাষ্পচোখে
রুটির জন্য রুজির খোঁজে হারিয়ে ছিল যেটা আমার
রাধাচূড়া একটু হলেও ফিরিয়ে দিলো সে স্বপ্নকে।
আর্যতীর্থ

ভাঙা স্বপ্ন
- আর্যতীর্থ

কখনো দেখেছো স্বপ্নকে তুমি টুকরো টুকরো হতে?
খড়কুটো হয় বানভাসি মন ঘোলা হতাশার স্রোতে।
ভাঙা স্বপ্নের ধারালো ফলায় মন কেটে ফালাফালা
ধুসর পৃথিবী আরো কালো হয় এমনি বিষের জ্বালা।
ভাঙা স্বপ্নের টুকরোর সাথে ভেঙে পড়ে যায় মন
ভাঙা মন নিয়ে চলাফেরা করা সেও বড় জ্বালাতন।
শরীরে আঁচড় পড়লে সে ক্ষত মলম লাগালে সারে
ভাঙা স্বপ্নের খোঁচা খাওয়া মনে হতাশারা শুধু বাড়ে।
কিছু মন করে ভাঙা স্বপ্নতে গোঙানোর অভ্যেস
নিঃস্ব মনের পোড়ো জমি জুড়ে ধ্বংসের অবশেষ।
কি হতে পারতো সেই ভাবনাতে নিষ্ফল হাহুতাশ
বিষাদপ্রাচীরে মাথা কুটে মরে আনন্দ উচ্ছাস।
কিছু মন সেই টুকরোর ধারে মন জমি নেয় খুঁড়ে
নতুন স্বপ্নচারা পুঁতে দিয়ে আবার দাঁড়ায় ঘুরে।
এক স্বপ্নের মৃতদেহ থেকে নতুন স্বপ্ন ওঠে
ভাঙবার ব্যথা বুকে নিয়ে ফের স্বপ্ন ধরতে ছোটে
সবার জীবনে মৃত স্বপ্নের শব কিছু যায় থেকে
কিছু জীবন বৃথা কেটে যায় সে লাশ আগলে রেখে।
কেউ কেউ শুধু মৃতদেহ ভুলে নতুন স্বপ্ন খোঁজে
শোকের জন্য ছোট এ জীবন, কিছু লোক সেটা বোঝে।
আর্যতীর্থ

স্বপ্ন ও ইচ্ছেরা
- শ্যামল কুমার মাইতি

প্রতিদিন জন্ম নিই নিজের ভিতর,
প্রতি ঘন্টায় বেড়ে উঠি নি:শব্দে,
প্রতি মিনিটে বাড়বাড়ন্ত স্বপ্নের-
সাথে সোহাগ করি উচ্ছ্বল হয়ে ।
প্রতি সেকেন্ডে সুপ্ত ইচ্ছেরা জাগে-
দোলা দেয় মনের অন্দরে এক হয়ে,
লালিত পালিত হয় পরম যত্নে-
শান্ত সমাহিত মনের সীমান্তে,
যদি বিষন্ন সময় আসে নেমে-
আমি অকপট হই বাস্তবে থেমে,
ওদের জায়গা হয় না তবে,
মনের ধূ-ধূ মরুপ্রান্তরে একদম একান্তে-
ধীরে ধীরে এই বিধ্বস্ত মন ছুঁয়ে-
পড়ে থাকে ব্যথা সয়ে শায়িত দিনান্তে,
কখনওবা হারিয়ে যায় হতাশ হয়ে,
অগোচরে অজান্তে নিছকই অবহেলে-
হয়ত থেকে যায় নির্জন কোন গাঁয়ে,
বাসা বাঁধে কোন শান্ত সরল মনে,
প্রতিনিয়ত সেই ভাবনার আবহে থেকেও-
প্রতি মুহূর্ত কেটে যায় উপভোগ করে-
ওদের সহৃদয় সাহচর্যে,
ওদের তাই কুড়িয়ে রাখি সময় করে,
বাঁচিয়ে রাখি শুদ্ধ সত্তায় এই ভেবে-
হতাশ মন বিষন্ন চিত্ত বিদ্ধ হৃদয়-
সময়ের প্রবাহে যাতেবিস্তৃত না হয়,
স্বপ্নের গন্ডীতেই আটকে থেকে-
ইচ্ছেরা যেন হয়ে ওঠে ফুরফুরে ।

---শ্যামল কুমার মাইতি---
03/02/2016

Sunanda_Chakraborty_Nabadibakar

মুক্তোর মুক্তি
- সুনন্দা চক্রবর্ত্তী

নীল গভীরতা আমাকে
বরাবর টানে তাই
নীল সাগরে ডুব দিয়েছিলুম
মুক্তোর খোঁজে
আমার স্বপ্নের খোঁজে
নীল যত গভীর
ততই সুন্দর ...ততই মোহনীয়
নীল হৃদয় থেকে
আঁচলা ভরে কুড়িয়ে নিলুমঘ
ঝিনুক বন্দি মুক্তো
দ্রুত হাতে ভাঙতে লাগলুম
ঝিনুক
মুক্তোর আশায়
না নেই কোথাও নেই
এবার শেষ ঝিনুকের আশা
হা ..হা ..আমি পেয়েছি
আমি মুক্তো পেয়েছি
খুশিতে চোখে জল
বুকে আঁকড়ে ধরেছি
আমার এতদিনের স্বপ্নকে
হঠাৎ মনে হল যেন
বুকটা ভিজে গেল
অবাক হলাম
মুক্তোর চোখে যেন
এক করুণ আকুতি
সে ফিরে যেতে চায় তার নীলবুকে
তার ভালবাসার আশ্রয়ে
স্তব্ধ আমি স্তব্ধ আমার স্বপ্ন
ফিরিয়ে দিলাম তাকে
নীলের গভীরে
মুক্তো ...আজ তুমি মুক্ত
ভাঙা ঝিনুকে আমি তখন
ক্ষতবিক্ষত
এ ক্ষত আমার একার
এ দাগ কেউ কখনো
মুছে ফেলতে পারবে না
সারাজীবন আমি
বুকে আগলে রাখবো আমার এই
ভালবাসার চিহ্ন কে...
.
সুনন্দা চক্রবর্ত্তী
২০/০৯/২০১৬

barnali_sen_bhattacharya

সময়ের বাঁকে
- বর্ণালী সেন ভট্টাচার্য‌্য

তোমার আমার পুনরায় দ‍্যাখা হ‌ওয়া
অনেকটা দূরে ------
সময় টা বয়ে গেল আর‌ও দূর।
আসলে কিছু ভুল বিবেচনা
বোধ হয় সে কথাই বলে।
এভাবে না ভেবে বরং বলা ভালো
আমাদের দ‍্যাখা হ‍ওয়ার
বিন্দু থেকে অনেকটা দূরেই ছিলাম
তুমি আর আমি।
সময়টাকে পৃথিবীর দোসর ভাবো যদি
দেখবে তুমি আর আমি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
সময় যায়নি বয়ে
পাহাড়ের চেয়েও সে বৌদ্ধিক ও স্থিতধী।
বয়ে গেছো তুমি বয়ে গেছি আমি
সময়ের এদিক ওদিক
নিজস্ব অস্থিরতায়,-
জীবন যেদিকে নিয়ে গেছে।
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -
©বর্ণালী সেন ভট্টাচার্য‌্য®2016

অভেদ্য রহস্য
- দিপংকর

তুমি সম্পূর্নই এক অখন্ডনীয় রহস্য,️
পাইনা খুঁজে কোনো প্রশ্নের উওর,নেই কোনো ভাষ্য।
তোমার ছায়া আমার মাঝে সৃষ্টি করে গভীর মাদকতা,️
দেখিয়ে দেই তোমার পাশে থাকা সবকিছুর সামান্যতা।
.
কোথা থেকে আশে এত সমুজ্জ্বল দীপ্তি ??️
তোমার ওই চোখে চোখ রাখায় আমার অসমাপ্ত তৃপ্তি।
তোমার হাসিতে কেন জড়িয়ে থাকে এত হৃদয় কাড়া সরলতা?️
পঞ্চম সরের প্রাবল্যে কেন মুছে যায় সকল অসারতা?
.
পরম মায়ার অফুরন্ত যোগান নেই কি অবসাদ?️
দিবা রাত্রি কোথা হতে আনো এত শুভ সংবাদ!️
সাফল্য থেকে অনুপ্রেরনা, অনুপ্রেরনা থেকে মহত্ত্ব,️
এত নিখুঁত ভাবে কীভাবে করো আনিন্দ সুন্দর সম্পর্ক??️
তুমি লাবন্যে ভরপুর, সৃজনে সিদ্ধহস্ত।
আমি শুধু তনময় হই, রহস্য অভেদ্য।