আগস্ট 2016

নারী নষ্টা হলে পুরুষ কেনো নয়
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

রাত ১২ টা ,
নীরব শুনশান চারিদিকে
আলো-আঁধারীর খেলা চলছে ,
সোডিয়াম আর নিয়োন আলোর শহরে
নিশাচরদেরই শুধু বিচরণ সারা শহর জুড়ে ৷
ওলিতে গোলিতে ভীড় করে আছে কিছু নষ্টা নারীরা
খদ্দের ধরা আর দড় দামেই এখন ব্যস্ত সে নারীরা
ভুখা পরে আছে ঘরে পঙ্গু স্বামী আর সন্তানেরা
উঁনুনে হাড়ি চরেনি দুদিন ঘুরেছে এপাড়া ওপাড়া,
এদিকে সকাল হলেই গুনতে হবে বস্তির ভাড়া ৷
অসহায় নারী আজ হয়ে গেছে নিরুপায়,দিশেহারা ,
যেখানে যায় নষ্ট পুরুষের নষ্ট চোখ যে দিচ্ছে পাহারা
কাঁচামাংসের যৌবনদীপ্ত শরীর দেখতেই দিশেহারা ৷
নষ্ট সমাজের নষ্ট পুরুষ নারীকে ভোগ্যই মনে করে
আসলে এতে পুরুষই নিজের নিকৃষ্টতা প্রমাণ করে ৷
নারীকে যদি পুরুষের স্পর্শে নষ্টা নারী হতে হয়
পুরুষ কেনো তবে নারীর স্পর্শেও নষ্ট পুরুষ নয় ?

নারী নষ্টা হলে পুরুষ কেনো নয়
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

রাত ১২ টা ,
নীরব শুনশান চারিদিকে
আলো-আঁধারীর খেলা চলছে ,
সোডিয়াম আর নিয়োন আলোর শহরে
নিশাচরদেরই শুধু বিচরণ সারা শহর জুড়ে ৷
ওলিতে গোলিতে ভীড় করে আছে কিছু নষ্টা নারীরা
খদ্দের ধরা আর দড় দামেই এখন ব্যস্ত সে নারীরা
ভুখা পরে আছে ঘরে পঙ্গু স্বামী আর সন্তানেরা
উঁনুনে হাড়ি চরেনি দুদিন ঘুরেছে এপাড়া ওপাড়া,
এদিকে সকাল হলেই গুনতে হবে বস্তির ভাড়া ৷
অসহায় নারী আজ হয়ে গেছে নিরুপায়,দিশেহারা ,
যেখানে যায় নষ্ট পুরুষের নষ্ট চোখ যে দিচ্ছে পাহারা
কাঁচামাংসের যৌবনদীপ্ত শরীর দেখতেই দিশেহারা ৷
নষ্ট সমাজের নষ্ট পুরুষ নারীকে ভোগ্যই মনে করে
আসলে এতে পুরুষই নিজের নিকৃষ্টতা প্রমাণ করে ৷
নারীকে যদি পুরুষের স্পর্শে নষ্টা নারী হতে হয়
পুরুষ কেনো তবে নারীর স্পর্শেও নষ্ট পুরুষ নয় ?

সন্ধ্যা কখন ফুরাবে
- সোলায়মান শিপন

সন্ধ্যা যখন রাত ফুরানোর গল্প বলে,
তখন আমি হয়ে যাই পাগল, মাতোয়ারা আর কিছুটা আনমনে ।
সন্ধ্যা যখন দিবালকের স্বপ্ন দেখায়
আমি পিছে ফিরে চাই ; এক অন্তিম বাদলা দিনের আহবানে,
সন্ধ্যা যখন আড় চোখে তাঁকায় আমার দিকে
আমি তাকাই তার কপালে , দু’ভ্রুরুর মাঝখানে,
এক বুক আশা নিয়ে ,
যদি পেয়ে যাই একটি ছিটকে পড়া আলোকবর্ষী আমার দ্বারে ,
কিংবা চাঁদের এতটুকু সংহতির আহবান জীবন তলানীর বেজায় আঁধারে ।

““““ ক-জনের ভাগ্যে জোটে ””””
সালামিন ইসলাম সালমান

পরিচ্ছন্ন অটুট বস্ত্রের জীর্ন চাহিদা মানবের
রুচিশীল ভোগ অন্তহীন বিলাসিতার ছন্দ
জনকের অফুরান সম্পদে, বিপন্নতা পদে পদে
ভাইয়ের সাথে ভাই বোনেদের দন্দ।
অানন্দে বাধি বুক, খুঁজে ফিরি সব সুখ
নির্বাক চাহনি মোর বঙ্গের তটে,
মাথায় বিলি কাটি, কেন এত পরিপাটি
এহেন জীবন বলো ক-জনের ভাগ্যে জোটে?



মাতৃত্বের মমতায় আজ ওজনতা কমে গেছে
অখ্যাতি বাড়ে হিয়ায় পিতার শাসন
অশালীন পোশাকে, দাদা দেখে বোনকে
অসভ্য জাতি বলে সভ্যতার ভূষণ।
পথের বিভীষিকা, অতীতের মরিচীকা
হীরার প্রতিমারা পড়ে রাস্তায় লুটে,
মগজে নৃত্য করে, চিৎকারে প্রাণভরে
এহেন জীবন বলো ক-জনের ভাগ্যে জোটে?

গন্তব্য অভিমুখে ফ্যালফেলিয়ে দৃষ্টি পড়ে
মথিত শাপলা-গোলাপ শুভ্র পদ্ম
দেখেছি পাথর হয়ে, ফিরে আসা সব সহে
অর্জিত জাতি যেন কালের বিবর্তনে বদ্ধ।
রাস্তায় চলা বেশ, আতংকের নেই শেষ
মিথ্যারা সাঙ্গ-হয় অকপটে,
অাস্ত উল্লুক মোরা, ভন্ডামী মায়াভরা
এহেন জীবন বলো ক-জনের ভাগ্যে জোটে?

আদিম তরল আঠালো পথে বাংলার সভ্যতা
সজ্জিত সমাজে চির অচেনার রূপ
আঘাত করেছি বুকে, মরছে মা ধুকে ধুকে
প্রতিহিংসায় ভাসি-প্রতিবাদে চুপ।
ছিড়েফেঁড়ে গেছে দেশ, কাটেনা ক্ষমতার রেশ
অনিবার্য ধোয়াশা বুঝি লেপ্টে ললাটে,
কষ্টরা গুঁতো খায়, শান্তিরা জুতো পায়
অতুলনীয় দেশ বলো ক-জনের ভাগ্যে জোটে?
এহেন জীবন বলো ক-জনের ভাগ্যে জোটে?

নজরুল
- ওদুদ মণ্ডল

নদীর ধারে বনের পাশে
কলম নাচে পাখির গানে,
আকাশ, বাতাস, নদী হাসে
কালির আঁচড় কাব্য আনে ৷

পুকুর পাড়ে উদাস সুরে
ছন্দ তালে হৃদয় ভোলে,
বাজছে বাঁশি ভবঘুরে
মন উতলা ভুবন দোলে ৷

ভাবনাগুলো ঝরনা হয়ে
কালির স্রোতে ছুটছে ভেসে,
দুঃখ-ব্যথা বুকে নিয়ে
আত্মভোলা যাচ্ছে হেসে ৷

এইতো আমার প্রাণের কবি
গাছের মতোন ঝাকড়া চুলে,
জ্ঞানে ধ্যানে আঁকেন সবি
বিদ্রোহীজন সে নজরুলে ৷৷

সিঙ্গাপুর
২৫/০৮/২০১৬

ঝরে পড়ে নিদ্রাহীন ভ্রুণগুলো
............এ. এইচ. হৃদয়

আরো কিছুদিন ধরে মেঘ জমতে থাকুক আকাশে
পৃথিবী নিকশ কালো অন্ধকারে ছেয়ে যাক, আসপাশে
যত মানব জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে তুলোর মতো তুমুল উড়ুক হাওয়ায়
জীবনের করিডোর বেয়ে শ্যাঁতশ্যাঁতে পথে একদল মৃত-যাত্রী চলে যায়
দূর্নিবার ভয়াবহ শীর্ণ শরীর থেকে খোসে খোসে পড়ে
ঝরা পাতার মত রক্তের শণীত অগ্নুত পাপ, বহুবার ঝরে
পড়ে নিদ্রাহীন ভ্রুণগুলো ক্লিষ্ট মাটির বুকে অঝরে নিশ্চিত
জেগে জেগে ওঠে অতিকায় রোগীর মত বহু ক্ষুধা নিয়ে। শক্ত ভিত
গড়ে তোলে মাটির আরো নিচ থেকে, কতিপয় গভীর বিস্ময়ে
মুছে যায় সমস্ত ক্ষুধা, গ্লানি পাপীত আলোর বিহ্বলতা হয়ে।

“““ একি অনুভূতি হলো ”””
সালামিন ইসলাম সালমান

কি নির্বোধ ভাবনা আমার! নিদ্রার অতন্দ্র প্রহরীর শকুনী দায়িত্বের মাঝে জীর্নশীর্ণ ক্লান্তির ছাপ নিয়ে ঘুম সাগরের অতলেই অবস্থান করেছি। অজ্ঞানতা যখন আমাকে গ্রাস করেছে তখন ভাবনাই শুধু চারিপাশের কোলাহল।
স্বপ্ন দেখছি ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইলের সবুজ দাবাগ্নিদগ্ধ দেশটিকে কেউ ভালোবাসেনা, যদিও সম্ভোগ করতে সবাই ব্যতিব্যস্ত। স্বার্থান্বেষীদের চাবুকের আঘাতে নাচছে আমার মাতৃভূমি। আত্মার মত প্রিয় দেশটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে হিংস্রতার গ্রাসে পুড়ে।
হঠা্ৎ হতভম্ব হয়ে শিহরন খেলে যায় নির্বিকার শরীরে। তড়িৎ গতিতে যেন জাগরন দুচোখের মনিকোঠায় ভর করলো। অনুভব করলাম চোয়ালের দুপাশে লালায়িত তরল পদার্থ বেয়ে বেয়ে পড়ছে, ভিজে গেছে বালিশের কিছু অংশ। বাম হাত চোয়ালে বুলাতে বুলাতে ভাবলাম কর্কশ অশ্লীল সামরিক অন্ধকারে নষ্টভ্রষ্ট দেশটির অবশিষ্ট সম্মানটুকু বুঝি চোয়াল বেয়ে পড়ে গেলো। কাতর ভরা বিষন্ন মন নিয়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম ওই মাটির দেয়ালে টানিয়ে রাখা প্রিয় মানচিত্রটার দিকে।

ভালোবাসার ডায়েরী
- নাসরিন আক্তার

একটা ডায়েরী আমার বেগুনী রং এর
খুব পছন্দের ডায়েরী বলে
শূন্য রেখে ছিলাম পৃষ্ঠা
তোমায় ভালোবেসে
আমার প্রিয় ডায়েরীতে লিখা শুরু করেছি
আজ হঠাৎ সেই ডায়েরী পরে দেখি
প্রতিটি পৃষ্ঠায় শুধু বেদনা ভরা আকুতি
বারবার তোমার কাছে চাওয়া ভালোবাসার ভিক্ষা
আমিতো ভালোবাসার ভিক্ষারীনি
তাই তো তোমার শত শত অবহেলায় ও
ভালোবাসা খুঁজে বেরিয়েছি
কিন্তু তুমি পাষাণ হৃদয় এর মানুষ
ভিক্ষা পেলাম না তোমার দারে
এভাবেই বেদনায় নীল হল আমার
"ভালোবাসার ডায়েরী "

সাথী
- অনাদি চক্রবর্তী

তুমি বলেছিলে হারিয়েছি পথ
এখন আঁধার নিশা,
পতাকা ওড়াও, পতাকা ওড়াও
দেখাও পথের দিশা।
তখন আমিও উদভ্রান্ত তাই
দেখাতে পারি নি পথ,
তবুও লক্ষ্যে পৌঁছব মোরা
ভুলিনি সেই শপথ।
খানিক দ্বিধায়, কিছু হতাশায়
কিছুটা বা অভিমানে,
পাইনি তোমায় পাশে আমি
সেই রক্ত ঝড়ার দিনে।
তবু বলেছি তোমায় আকাশে রয়েছে
উজ্জ্বল ধ্রুবতারা,
স্থির বিশ্বাসে সামনে এগোও
হবে নাকো পথহারা।
নিশিথ আঁধারে পেরিয়েছি পথ
এখন শেষ প্রহর,
নিশ্চিত যেন সামনে এবার
সূর্যোদয়ের ভোর্।
বাকি পথটুকু চেনাতে তোমায়
প্রতিটি পথের বাঁকে,
পলাশে - শিমুলে - কৃষ্ণচূড়ায়
ঠিকানা গেলাম রেখে।

কোলকাতা , ২৬/০৮/১৬

মহা শক্তি
- আশিক ফয়সাল

মাংস ছিড়ে রক্ত চুষে
বেড়েছ তুমি বটে
তোমার ছোঁয়ায় এই দুনিয়ায়
সব কিছু আজ ঘটে ।
লৌহ কপাট ভেঙ্গে দাও তুমি
এক নিমেষের ঝড়ে
এক হাত ভরে অর্থ দিলে
ধর্মের কল নড়ে ।
চাকরিটা আজ গোলাম তোমার
বন্দি তোমার হাতে
বাক্স ভরে টাকা পেলে তুমি
দিয়ে দাও সাথে সাথে ।
শিক্ষাও নাকি বিক্রী করো
হাট বাজারের মোড়ে
সার্টিফিকেট কিনে নিলে নাকি
ফিউচার দাও গড়ে ।
হসপিটালের বেড টাও আজ
তোমার কথায় শোনে
সেবিকা , সেবক , ডাক্তার বাবু
তোমার নখের কোণে ।
ভগবান তুমি মহা শক্তি
মুগ্ধ তোমার গানে ।
দূর্নীতি তুমি আসন পেলে
সব মানুষের প্রাণে ।

26/08/2016

আলো-আঁধারের খেলা
- সালিম আল-দ্বীন

সন্ধ্যাটা কখনও মহাকালের যম-কালো চাদর গায়ে
অশরীরীর ছায়া হয়ে ভীম-ভাবনার অশ্রু ঝরায় হৃদয়ে
বেলীফুল তার সুবাস-স্বার্থ তখন বাতাসে উড়িয়ে
হৃদয়ের শূন্যতাকে আহা কত যতনে দেয় ভরিয়ে
শেষ সৌরভটুকু হাতে ধূলিমাখা পথে হাসি মুখে চেয়ে।
ক’জনকে দেখেছ স্বার্থ-রুমালে দুখীনীর অশ্রু মুছতে
লাভ ক্ষতির অংক কষা বিনে অন্যের পাশে দাড়াতে
ফাগুনে আগুন জ্বালিয়ে কালবৈশাখীতে বন্ধু হতে?
সফলতার সুখে কজন এসে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হাসে
ব্যর্থতায় না হাসে, বুক ফাঁটায় আফসোসে,থাকে পাশে
আভিজাত্য ক্ষমতা সৌন্দর্যের পিছে নয় কারা হারা দিশে?
সরলতা সেকেলে ,ব্যক্তিত্ব পারফেক্ট কপটতায় অনায়াসে!
অন্তিম ক্ষনেও ঢেউয়ের ছলাৎ আর ভাটিয়ালির কোরাসে
প্রেম গীতি প্রীতি মধুর ঘনিষ্ঠস্মৃতি মুখে হাত চেপে হাসে।
কি করে মুহুর্তের বর্বরতা ভুলে তবে ভাত ঘুম চোখে আসে
মনুষ্যত্ব পাড়িয়ে বিবেক পুড়িয়ে ভাইয়ের জীবন নাশে?
সময় কখনও বুকে টেনে নেয় কখনও পাষানী হয়
সময়-সম্ভোগ ছেঁটে দু:সময় জয়ের চর্চা জরুরী তাই।

© Copyright লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত ®

ইচ্ছে ছিল
- উমা শংকর দাস

ইচ্ছে ছিল কবিতা লিখবো,
কবিতা লিখবো প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে,
ইচ্ছে ছিল আমার শব্দগুলো ভাসাবো কাব্যরসে
বাঁধবো আমার ডাইরীর পাতায় ।
ইচ্ছে ছিল ঝোলাভর্তি রবীন্দ্রনাথ সাথে
মিলবো জীবনানন্দে, ভাসবো বনলতায়
আমার কবিতা জুড়ে।
ইচ্ছে ছিল নাটোরের সোনালি ধানের শীষের
পাশে প্রবহমান লুনির বুকে আমার
ভালোবাসার নৌকা ভাসাবো।
ইচ্ছে ছিল চাঁদের ভেলায় চড়ব
রাঙাবো রাতের আঁধারটাকে নীল রং দিয়ে,
ইচ্ছ ছিল শ্রাবণ ধারায় ভেজাবো মন
হৃদয়টা হয়ে উঠবে একটা সবুজ বৃক্ষ
উজ্জীবিত হবে প্রতিটি ভোরের মত নতুন সূর্যোদয়ে।
ইচ্ছে ছিল কবিতা ভালোবেসে
গড়বো নতুন প্রেমের ইতিহাস,
ইচ্ছে ছিল রং তুলি হাতে আঁকব
ভালোবাসার ছবি ,
ফাগুন বেলার লাল পলাশে ।
ইচ্ছে ছিল হেমন্তের সকালে ঝরা শিশিরের
গা ধুইয়ে দেবো, হাতে হাত রেখে
বসবো দুজনার মুখোমুখি ।
ইচ্ছে ছিল জোছনার নীল রং মাখিয়ে
তোমায় রাখবো বুকে, যেখানে
জ্বলছে ভালোবাসার আগুন ।

শরৎ ঋতুর ক্ষণ
- জুলফিকার আলী

আকাশ হলে নীলচে গাঢ়
ভাসলে মেঘের ভেলা,
নদীর পাড়ে মাঠের ধারে
কাশফুলের ওই মেলা|
শিউলী ফুলের মিষ্টি সুবাস
শাপলা-শালুক ফোটে,
সন্ধ্যা হলে পানকৌড়ি,বক
কোথায় যেন ছোটে?
শিশির ভেজা ঘাসে মাঠে
কখনো রোদ-বৃষ্টি,
ঋতুর রাণী শরৎ যে এক
কী অপরূপ সৃষ্টি!
গাছে গাছে পাকে তাল
ভরে ফুলের বন,
ভাদ্র-আশ্বিন মাস মানে
শরৎ ঋতুর ক্ষণ|!

জীবনের সীমাবদ্ধতা
- সুনীল সানি সরকার

শুরু থেকেই গন্ডী টপকানোর প্রতিযোগিতা
পাথরের শ্লেটের উপরে খড়ির আঁকিবুকি।
মা বাবার হাতে সেই অ আ কখ লেখা
কখনও বা শতকিয়া নামতা দেখাদেখি॥
স্কুলের চার দেওয়ালে কিশলয়ের পাতায়
উৎসুক মনে হাজার শত ভাবনা রাশি।
কবে হবে পাঠ শেষ, নতুন শ্রেণিতে নতুন বই
নতুন পোশাক নতুন বন্ধু চওড়া হাসি ॥
উৎসুক হয়ে বাবার কাছে জানতে চাওয়া
চাঁদ তারা ফুল ফল পাখি নানান কথা।
পাহাড় নদী কেমনে হলো বলো দেখি
জানতে চাওয়া সবার মনে কিসের ব্যথা॥
আজকে যখন বাবার মনেই জটিল সবই
সময়েরই কঠিন বাঁধনে বাস্তবে আঁকা।
দিনগুলো সব পাল্টে গেছে অন্যরকম
আলো আঁধারি দুঃখ আর সুখে মাখা ॥
টিকে থাকার লড়াই করি, সব সময়েই
নিজের সাথে প্রতিদিন আপস করা।
হিসেব কষে পা বাড়ানো এড়িয়ে যাওয়া
জীবন যেন আজ খুবই জটিল ভুলে ভরা॥

Shyamali Debroy

হরে মুরারি
- শ্যামলী দেবরায়

মুরলি মনোহর কলি কেষ্ট মদনমোহন
কৃষ্ণ কানাই নন্দদুলাল যশোদা নন্দন
কালো রূপি ঘনশ্যামের শ্যামলা বদন
হরিনাম জগত শ্রেষ্ঠ পূণ্যধাম বৃন্দাবন।
মুরারি মজাইলা রাই বিনোদিনীর মন
মধুর মুরলি বাজাইলা যবে বংশীবদন
মধুময় মৃদুমন্দে বহে যবে মলয়া পবন
সুমধুর সুরে নাচিলা তবে অষ্টসখী গন।
শ্রীকৃষ্ণ নামেই মীরা উৎসর্গীলা যৌবন
ভক্তিরসে ডুবেই পূজিলা কালার চরণ
একনিষ্ঠায় ভজিলা মীরা হরির ভজন
কৃষ্ণ নাম জপে মীরা কাটাইলা জীবন।
হরে কৃষ্ণ উচ্চারিলা মনেমনে ভক্তগন
নাম চিন্তে নাম সারে তব করিলা নমন
পাপতাপ ক্ষমায় প্রভুই উদ্ধারিলা ভুবন
কৃষ্ণ নামে মুক্তিলাভ এ সত্যই চিরন্তন।

শাসন
- সোলায়মান শিপন

সত্য সহজ , সত্য কঠিন ,
সত্য দ্বৈতময় ,
সত্য সিড়ি , সত্য যাচি ,
করি সত্যের জয় ।
মিথ্যে বিরুৎ কন্টকময়
জেষ্ঠ দিনের মত ,
অগ্নির ন্যায় জ্বালাময়ী বান
আনতে সদা রত ।
সত্য আনবে শীতল বাতাস ,
কখনো কখনো ঝড়;
কখনো আবার অর্ক হয়ে
বাড়াবে আবেগ চর।
মিথ্যা এক রঙিন পানি ,
মাতাল শক্তি চায়
যেকোন ধারার অর্থ সও,
দাও সত্যের ডাকে সায় ।
সত্য মানো , সত্য জানো -
ভয় নেই তোর , জড়
মাতাল শ্বাসে জীবন পাবি ,
সত্য সমান্তর ।
মিথ্যে ধরুক অন্ধ জনে ,
দুস্থ , তারাই দীন,
যক্ষ্মা রোগে ভুগছে তারা -
সত্য রত্তি ধন ।
মিথ্যে হলো লালচে বর্ণের ,
অস্ত যাওয়া রবি ।
সত্য হলো চাঁদের আলো ,
সবুজ বর্ণের নদী;
সত্য আসুক বৃষ্টির ন্যায়
নেমে এ ধরাতে ,
কঠিন পৃষ্ঠে সহজ অঙ্কুর ,
মিথ্যে ঝড়াতে ,
আসো সত্য , গড়ো কতৃত্ব তোমার -
সারা বিশ্ব আজি শাসন করো,
শাসন করো আমায় ,
আমাদের , নিজেকে ।
অসীমকে , জীবনের সকল বাঁধাকে ,
অন্ধগলীর স্রষ্টাকে ।

পথেঘাটে
- এম, এস বাশার

ওই দূরে কতো তরী চলিয়াছে হাল খুলি
ফেলিয়াছে কত জেলে জাল,
দিনযায় বয়ে মোর চাহিয়া প্রানদোর
কতো গেল উড়াইয়া পাল!
ঘন গাছ দুলেযায় দক্ষিণা বায়ু- বায়
আকাশটা হেসে রয় নীলাভ ভূমি
চাহিয়া পথে একা পথিকের নাই দেখা
আর কত দিবে ভার একা যে আমি!
সাদা বক উড়ে যায় আপনার পথ বায়
দুরন্ত জল চলে কাহার ঘাটে
দুপুরটা গেল বয়ে অকারণ পথ চেয়ে
সূর্যটা চলে যায় ধরার পাটে!
খেয়ার ওই তরীখানি তড়া করি দাড় টানি
ঘাঁটের পানে ছুটে, চাহেনা ফিরে
বলাকার শারি শারি দূরপথ হয়ে পাড়ি
ফিরে যায় আয়েশি আপন নীড়ে।
কাশফুল দুলে দুলে দক্ষিণা দার খুলে
হয়ে যায় উতলা সাঁঝের বায়ে
চাঁদের পরশ পেলে সবার আদর ফেলে
জোনাকির পাশে দোলে আলোর নায়ে!
নিশিকিট হাসিমুখে গাহে গান কতো সুখে
শিয়ালের দল সব শিকার খোঁজে
গাছের ওই পেঁচাগুলি আঁধারে চোখ খুলি
সারারাত যায় চলে ভূরিভোজে!
গভীর নিশি এলে ভুতেরা ঘর ফেলে
ছদ্মবেশে করে আনাগোনা
চলিওনা একা পথে পশ্চাতে লহ সাথে
মটকে দিবে ঘাড় যাদু সোনা!!

Roshni_Yasmin

আলো আঁধারের লুকোচুরি
- রোশনী ইয়াসমীন

অপেক্ষার প্রদীপ জ্বালিয়ে
বসে আছি আনমনা হয়ে
তোমার ফিরে আসার অপেক্ষায় ।
প্রদীপের ছায়াতলে বসে
মনোজগৎ স্হির করে,
তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে ......
আলো আঁধারের লুকোচুরি দেখছি,
আর ভাবছি .......
বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব আছে?
তারপরেও, অবচেতন মন.......
বার বার মোহাবিষ্ট হয়।
জানি,এ ছায়ার অস্তিত্ব নেই
তন্দ্রালু কাটতে না কাটতেই
এই মোমের প্রদীপ নিভে যাবে।

শুভ জন্মাষ্টমী
- মিঠু সিং

নারায়ন তুমি এসেছো ধরায়
কৃষ্ণ রুপ ধরে ,
যখন অন্যায় অত্যাচার চলছিল
সারা পৃথিবী জুড়ে ।

গোকুলে তুমি কানাই ,গোপাল
দাদা হলেন বলরাম ,
সখা সুদামের সাথে তোমার
ননী চুরি অবিরাম ।

গোঠেতে সখাদের সাথে গোচারনে
ধবলি শুনতো কথা ,
সহজেই ভুলিয়ে দাও সকলের
দুঃখ দুর্দশা ব্যাথা ।

বাঁশরীর টানে রাধাকে টানতে
গোপিনীদের সাথে লীলাখেলা ,
কদম ডালে দোল খেয়ে
গোপিনীদের বসন চুরি স্নানবেলা ।

কতনা অসুর বধলে অবলীলায়
করলে কালীয় দমন ,
তোমাকে ধ্বংস করতে কতবার
কংস পাঠালো শমন ।

সব খেলায় হল কুপোকাত
মথুরার রাজা কংস ,
নিজের পাপের ঘড়া পুর্ণ করে
তোমার হাতেই হল ধ্বংস ।

কুরুক্ষেত্রে তুমি পাণ্ডব দলে
হলে অর্জুনের সারথি ,
সেখানেও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য
হলে পিড়িতদের সমব্যথী ।

জন্মাষ্টমীতে তোমার আবির্ভাব
ধরাকে করতে কলুসমুক্ত ,
বারবার তুমি উদ্ধার করেছো
তোমার লীলা বোঝা শক্ত ।

জন্মাষ্টমীর পুন্য জন্মদিনে
সবে দয়া কর কালাচাঁদ ,
সকলের মঙ্গল করো ভগবান
সরুক মনের আঁধার রাত ।

তোমার নুখ নিঃসৃত বানী গীতা
হিন্দুদের পরম পাথেয় ,
তুমিতো সব জান অন্তর্যামী
ভগবান তুমি মোদের সহায় ।

অষ্টতরশত নামে পুজিত জগতে
তোমাতে ধন্য বৃন্দাবন ধাম ,
দীনহীনে ক্ষমা করো হৃদয়নাথ।
লহো অজ্ঞানের সহস্রকোটি প্রনাম ।

Rupa_Ghosh_Nabadibakar

ইভ টিজিং
- রূপা ঘোষ

আত্মঘাতী নয় প্রতিবাদ
ওরে অবচেতন নারী,,,,
পালিয়ে গেলি কেনরে তুই
নিজের জীবন ছাড়ি,,,,
নর পশুর ঐ হিংস্র থাবার
হোলি যে তুই শিকার,,
মাতৃসম আরেক নারীর
কুতসিৎ চেতনায় হানি ধিক্কার,,,,
যদি হয় আত্মঘাতী প্রতিবাদের হাতিয়ার
নরপশু গুলো কে বধিবে কে?
উত্তর খুঁজে চেতনা, দংশায় বারবার,,,,
জানি আমি, আমার দুই কলমের খোঁচা,নয় প্রতিবাদের একাংশ
হাজার কলম তরবারি হয়ে করো নর পশুদের ধ্বংস।

রূপা ঘোষ, ২৫/৮/২০১৫ ।

Nabadibakar_Writer_79

অপ্রাকৃত আবির্ভাব
- অনিতা পাণ্ডে

নিঝুম মধ্যরাত্রি,
গাঢ় নিদ্রাচ্ছন্ন সমগ্র মথুরা নগরী।
নিম্মুক্ত নক্ষত্রখচিত আকাশে ,
মেঘের মাদল বাজিছে।
মন্দ মন্দ মন্দ্র ধ্বনিতে কম্পমান।
দূর হতে ভেসে আসা সাগর গর্জন,
এ যেন প্রকৃতি দেবির একান্ত আয়োজন।
অধিবাস অনুষ্ঠান--মঙ্গলবাদন।
অতন্দ্র প্রহরী বেষ্টিত কংস-কারাগার,
অভ্যন্তরে পুঞ্জীভূত সূচীভেদ্য অন্ধকার !
অন্তরতম প্রকোষ্ঠ এক দিব্য আলোয় বিরাজমান।
পরম দেদীপ্যমান,জীবের গুহায় যার অবস্থান।
সকলের দৃষ্টির অগচরে থাকেন যিনি বিদ্যমান।
সেই ,স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভাব হন।
দেব-মুনিগন পরানন্দে পুস্পবৃষ্টি, করেন বর্ষণ ।
পরব্যোমেস্থিত যার ধাম,
ব্রহ্মাদি দেবগনের অগম্য
সেই শ্রীহরি দেবকির গর্ব হতে উদিত হন।
যেন পূর্বাকাশে পূর্ণচন্দ্রের উদয়।
সত্যি এ যেন বড় বিস্ময় !
পূর্ণচন্দ্র শ্রীহরি,
শঙ্খ-চক্র গদা পদ্মধারী।
চারি বাহু নেত্রযুগল,
যেন সাক্ষাৎ নীলকমল।
কৌস্ত্তুভমনি,মস্তকে মহামূল্য
বৈদুর্য্যমনি-খচিত মুকুট ও কুন্তল।
অঙ্গকান্তি যেন ঘনমেঘ বক্ষদেশে,
শ্রীবৎসচিহ্ন গলদেশে।
রুপের ছটায় জাজ্বল্যমান,
পরিধানে উজ্জ্বল পীত বসন।
ঝলমলে কঙ্কন কেয়ুর,
কাঞ্চী আদি কত অলংকার !
আনন্দে বিহবল অভিভূত ধরণী,
ইনি'ই সেই পরম পুরুষ শ্রীহরি।
দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন,
যুগে যুগে অবতীর্ণ হয়ে, করেন ধর্মসংস্থাপন ।।

২৫ শে আগষ্ট "ভগবান শ্রীকৃষ্ণের " শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে আমার এই বিনীত নিবেদন । রাত্রি-১২-০০, ২৫-০৮-১৬, বরিশাল ।

পরম্পরা
- দিব্যেন্দু সান্যাল

যতোটা সহজ ভাবছো, ততোটা
সহজ নয়
নিজের কক্ষপথে অনর্গল ঘোরা
নষ্ট প্রেম হাতড়িয়ে শূন্য বুকে ধরা
ততোটা সহজ নয় ।
আগেই চিনেছি তাকে
ভোরের কুয়াশা ঠেলে নেড়েছিল কড়া,
স্তনের দৈর্ঘ্য, প্রস্হ, উচ্চতা
মাপা সারা ?
ফোর্থ ডাইমেনশন মাপা
ততোটা সহজ নয়
একদিন বুঝেছিলে সাদা রসে ভরা
ততোটা সহজ নয় শূন্য বুকে ধরা ।
চলে তো যাওয়াই যায়
কিছুটা হাঁটার পর ছিন্ন পরম্পরা
পাখিদের শিস ওড়ে, ঘুড়ি ওড়ে
বন্ধুর বুক থেকে বই খসে পড়ে ।
অতটা সহজ নয়
একা একা পথ চিনে প্রেম নিয়ে ফেরা ।

Shyamashri_Ray_Karmaka

কম্পনের আগে এবং পরে
- শ্যামশ্রী রায় কর্মকার

বড় অমোঘ কম্পন,
তুমি জানো-
তবু কেন আঁকড়াতে চাও
বারে বারে হৃদয় স্পন্দন?
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাক খুচরো জীবনটুকু
পাহাড়ের খাঁজে ভাঁজে অথবা
গোধূলি রাঙা ঢেউএর ভগ্নপ্রায় চূড়ে,
বনভূমি ধরে থাক ছলকানো মুগ্ধতা রেশ,
দুহাত মেলেছ জানি সবটুকু সিঁচে নেবে বলে,
আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে যাবে দীর্ণ জীবন;
তার চেয়ে মেলে রাখো অকৃপণ বেহিসাবি হয়ে,
প্রলয় কম্পন ফিরে যাবে,
ক্লান্তি কুড়িয়ে নেবে অবনত শিরে,
স্থবির স্থাবর যত রয়ে যাবে খণ্ডীভূত
শকুন আর মৃতদেহ ভীড়ে,
ছড়ানো আবেগ আর অনুভব বিজয়ীর বেশে
শুধু মহীয়ান রয়ে যাবে।

২৫.৮.১৬

চুপ করে থাকি
- রাজু আহম্মদ খান

তুমি যখন চিৎকার করে ওঠো -
আমার তখন চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছে হয়,
কারন ঝগড়া-ঝাটি আমার ভালো লাগেনা ।

এই সংসারে ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি,
বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া,
ভায়ে - ভায়ে ঝগড়া,
গ্রামবাসীর মধ্যে ঝগড়া,
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঝগড়া ।

জীবনভর এই ঝগড়া আমার দুই কানকে
বিষিয়ে তুলেছে,
এই ঝগড়া-ঝাটি
আমার আর ভালো লাগেনা ।

খেলার মাঠে ঝগড়া,
গরুর হাটে ঝগড়া
অবশেষে
নিজের খাটে ঝগড়া !

তুমি যখন চিৎকার করে ওঠো,
অফিসে, আদালতে, চায়ের দোকানে
সেলুনে, রাস্তার ওখানে,
আমার তখন
চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছে হয় ।

তুমি যখন চিৎকার করে বলো,
তোমার যত সব অধিকারের কথা,
তোমার যত দুঃখের কথা,
তুমি কি তখন একবারও ভাবো
অন্যের দুঃখ নিয়ে ?
অন্যের কষ্টের ব্যথা ?
আমার তা জানা নেই ।

তুমি যখন চিৎকার করে ওঠো,
সংসদে, মসনদে
ফুটপাতে,
ভাঙ্গো প্রচলিত প্রথা -

আমার তখন
চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছে হয় -
কারণ, ঝগড়া-ঝাটি আমার
মোটেই ভালো লাগেনা ।
-----------------------
কালক্ষেপণ - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং- ২০, ২৫ আগষ্ট ২০১৬

জীবনবীণা
- গাজী নূরুন্ নাহার স্বপ্না

ছিঁড়েগেছে যে জীবনবীণার তার,
তাইতো কখোনো বাঁজবেনা ---
নতুনসুর অার ।
হবেনা যে গাওয়া নতুন জীবনেরগান,
কেবলই প্রতিক্ষণে বিচ্ছেদের অাহ্ববান।
চলছে জীবন নতুন সুখের খোঁজে,
ছিন্নবীণার তারেরভাষা ই বা কে বোঝে।
হেঁটেছি মরুরপথে অাবার---
নতুনঅাশার সন্ধানে,
বাঁধব জীবন নতুন করে অাবার
ভালোবাসার বন্ধনে ।।

বউয়ের বেতন
- মো. মাহমুদুল আলম

চাকরিজীবি বউ
মৌমাছির মৌ।
আছে সুখ অনেক
পায় কয়েক জনেক।
থাকলে অনেক ভূমি
চাইলে পাবে তুমি।
প্রেম দাও তারে
জীবন দিছ যারে।
ভালো বল মুখে
থাকবে তুমি সুখে।
দিবে হাতে বেতন
উড়াবে কেতন।
নচেৎ, হবে মরণ
করবে দুখ স্বরণ।

তাং-২৫-৮-২০১৬ইং।

মেঘলা আকাশ
- জামান মনির

অতঃপর মেঘলা'র সাথে দেখা খেয়াঘাটে
এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় অতীত মুখোমুখি,
মাঝ নদী অব্দি নিশ্চুপ সময়ের হিসাবটা
মিলছে কিনা জানিনা, কে দুঃখি কে সুখি।

নদীর ঢেউ ততক্ষনে বুক থেকে নিশ্বাসে
এমনতর নীরবতা ভাঙ্গে মেঘের গর্জনে,
সবার অলখ্যে সমতালে সিঁড়িতে যে কথা
"কেনো কষ্ট নিয়ে লিখছো, রেখেছো মনে"

গোধূলি লগ্নের আকাশটা এখন মনমরা
মেঘলাও বারেক ফিরে ওগুচ্ছে আনমনে,
দাঁড়িয়ে থেকে ঝাপসা দৃষ্টির অসহায়ত্ব
অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া আকাশই জানে ।

২৪/৮/১৬:নৌপথে
ঢাকা--টু--বরিশাল

আমার নাচ
- সুনীল সানি সরকার

কীরে ?
তোরা ভয় পেলি?
ঘর থেকে সবাই বেরিয়ে এলি।
আমার ভুমি দিতেই কম্প
দিলি তোরা লম্ফ জম্প।
হুড়মুড়িয়ে সুড়সুড়ুিয়ে
এলি নেমে গড়গড়িয়ে।
সব কিছুতেই নাচিস তোরা
আমি নাচলেই লাগাস তাড়া।
আমার গায়েই মনের মতো
অট্টালিকা বানাস কতো।
বলছি তোদের আমার কথা
গায়ে বুঝি নেইকো ব্যথা।
পাহাড় কেটে বসত বাড়ী
নদী বাঁধিস তড়িঘড়ি।
জঙ্গল কেটে সাফাই করিস
বেনিয়ম করিস যত্ত পারিস।
হাড়গুলো সব করিস ঠিলে
সুড়ঙ্গ খুঁড়িস চমকাস পিলে।
মেট্রো না ফেট্রো ট্রেনে
জুড়িস শহর সময় মেনে।
দেখি তোদের নাচন কোদন
যদিও তাতে আছে রোদন
আমার নাচেই দোষ ধরলি
একটু নাচতেই ভয় করলি।
আমার মনেও ইচ্ছে করে
নড়ে উঠি নিজের তরে।
সমতা আনতে আমার মাঝে
নাচি কখনও আমি নিজে।

24.08.2016

আজকের ভুমিকম্প
- সুচেতনা মিত্র

বৃষ্টি চললো সারা দুপুর
রিমঝিম তালে বাজলো নুপুর , পরক্ষণেই ধরা কাঁপালো ভুমিকম্প
চললো ছোটাছুটি লম্ফঝম্প ।
ক্ষয় ক্ষতি হয়নি তেমন ....
উৎসস্থল মায়ানমারের ভুতল ।
মানুষ ভয়ে শহর থেকে গ্রাম
উৎকণ্ঠায় আশঙ্কায় জপে রাম রাম,
এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম সবে
এভাবে চললে কী হবে ?
আর একটু স্থায়ী হলে কম্পন
ঘুঁচে যেত সমস্ত সাধ স্বপন ।
এত বাড়বাড়ন্ত এত অহংকার
এত ইমারত সব ছারকার...
নিমেষে করে দেবে কুপোকাত
তাই এসো সবে মেলাই হাত ।
তার কাছে মানুষ ভীষণ অসহায়
যতই থাকি বিঞ্জানের সহায়তায় !
যে কয়দিন টিকে আছি
এসো মিলে মিশে বাঁচি।।

জীবনের রামধনু
- মিন্টু উপাধ্যায়

তোমার ঐ সুরেলা কণ্ঠে
আমার নামটা
আবারও আমি শুনতে চাই ।
তোমার ঐ মায়াবী চোখের
দিকে তাকিয়ে আবারও
নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাই ।
বৃষ্টি ভেজা সকালে
প্রজাপতি হয়ে
তোমার সাথেই খেলতে চাই ।
জ্যোৎস্না ভরা রাতে
চন্দ্রকিরণ হয়ে
তোমাকে ঘুম পারাতে চাই ।
লতা পাতার মতই তোমায়
সারাজীবন......
আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই ।
ফুরফুরে হাওয়ায়
তোমার উড়ন্ত চুলের ঘ্রাণে
আবারও আমি মরতে চাই ।
তোমার কোমল
হাতের ছোঁয়ায়
নতুন করে বাঁচতে চাই ।
আমার জীবনের রামধনুর
সাতটা রঙই তুমি
তোমায় নিয়েই সারাজীবন বাঁচতে চাই ।

রচনাকাল - ০৭/০৭/২০১৫ ইং

Gargi_Bhattacharjee_Nabadibakar

বাংলা বনাম ইংলিশ
- গার্গী ভট্টাচার্য্য

বাংলিশ বয়--
" ইউ আর আনস্মার্ট।ইংলিশ জানো না?
হাই!হ্যালো!থ্যাঙ্ক ইউ!কিছ্ছুটি বলো না?
মম,ড্যাড এগুলো তো পারবে না বলতে!
কি বলো ওদের তবে?আমি চাই জানতে।
গ্র্যাণ্ড মম,গ্র্যাণ্ড ড্যাড তাও বুঝি বলো না?
সিস্,ব্রো এসবের মানেটাও জানো না!
মর্নিং,ইভিনিঙে ডিফারেন্স জানো তো?
ইংলিশ দরকারি সে কথাটা মানো তো?
আমি তো পড়িনি তাই তোমাদের বাংলা,
আপডেট হতে হয় দিতে গেলে পাল্লা!!"
বাঙালী ছেলে--
"বলেছো তো ঠিক তুমি ইংলিশ জানি না,
না জানাটা অন্যায়,সেইটাতো মানি না।
হাই!হ্যালো!তুমি বলো,আমি সেটা বলি না,
তা বলে কি হাত জুড়ে নমো আমি করি না?
মম,ড্যাড বলিনা তো আমি বলি বাবা,মা,
গ্র্যাণ্ড ড্যাড দাদু হয়,গ্র্যান্ড মম ঠাকুমা।
ব্রো মানেতো দাদা ভাই,সিস মানে ভগিনী,
সিস্,ব্রো-ই বলো তুমি ভাই বোন শেখোনি।
মর্নিং সক্কাল,ইভিনিং সন্ধ্যে,
তফাৎটা ভালো বুঝি দিন রাত মধ্যে।
বাঙালীর ছেলে হয়ে বাঙলাটা জানো না!!
এর থেকে লজ্জার কিছু হতে পারে না।"
- গার্গী

জীবনের ছবি কবিতায় আঁকি
- শ্যামল কুমার মাইতি

আকাশ থেকে এলো উড়ে-
রাতপরী যে খুকুর ঘরে,
বললো এসে একটু হেসে-
যাবে নাকি হাওয়ায় উড়ে !
খুকু ছিল ঘুমের ঘোরে-
রাশি রাশি স্বপ্ন বুনে,
খুকুর গেল ঘুম ভেঙ্গে-
শান্ত এক পরীর ডাকে।
শীতল হাতের ছোঁয়া পেয়ে-
খুকু উঠলো চমকে গিয়ে,
অবাক হয়ে দেখলো সে-
এসেছে পরী তাকে নিতে !
পরী বললো, অনেকে দূরে-
যাব আমরা পাহাড় পেরিয়ে,
নদী বন পড়বে পথে-
জিরিয়ে নেব গাছের ছায়ে।
খুকু বলে, উড়বো কেমনে,
ডানা নেই আমার যে !
পরী তখন হাত বাড়িয়ে-
আনলো ডানা জাদু করে,
যত্ন করে দিল পরিয়ে-
খুকুর গায়ে আলতো করে,
খুকু গেল এক পরী হয়ে-
উড়ে গেল পরীর সাথে।
উড়তে উড়তে কত কিছু-
দেখে খুকু দু'চোখ ভরে,
পাখিরা ওর পাশে পাশে-
উড়ছে বেশ মজা করে।
নামলো ওরা তেপান্তরে-
পরীর সাথে খুকুপরী,
গাছের ডালে আছে বসে-
ব্যাঙ্গমা আর ব্যাঙ্গমি !
অবাক হলো খুকু শুনে-
হচ্ছে কথা ওকে নিয়ে,
ব্যাঙ্গমি বলে ব্যাঙ্গমাকে-
খুকুপরী ওই এল যে !
এলো ওরা খুকুর কাছে-
বললো হেসে আদর করে-
যাচ্ছো কোথায় খুকু তুমি-
সঙ্গী তোমার দেখছি পরী !
পরী তখন হেসে ওঠে-
যাচ্ছি আমরা সেই দেশে-
যেখানেতে সকাল হলেই-
যেতে হয় না ব্যাগ কাঁধে !
গাছের তলায় ঘুরে ঘুরে-
পড়ে ছেলেরা মনের সুখে,
গুরুমশাই খেলার ছলে-
পড়া বোঝান হাসিমুখে।
--শ্যামল কুমার মাইতি।
28-30.06.2016

সাঞ্জিলী সরেন
- দিব্যেন্দু সান্যাল

শাল, মহুয়া আর পলাশের অন্তরাল জুড়ে
বনানীর অনাবিল সবুজ গন্ধ মেখে
সেজে আছে কয়েকটা টিলা ।
চিকন ফিতের মতো নদী তার পাশে
ঝিরিঝিরি জলে পেতে আছে নুড়িপাথরের মেলা ।
শান্ত গাছ গাছালি জুড়ে
পাখিরা টহল দেয় সারাদিন ধরে,
সারা দিনমান বিদায়-বিষন্ন পাতারা ঝরে পাতার উপর ।
এইখানে ভোর আসে সোনা ঢালা রোদ্দুর নিয়ে
টিয়া বসা গাছে গাছে সোনারং-টান ছুঁয়ে যায় ।
তিতিরের ডাকে বুঁদ বনানীর ছায়া
চুপ করে আলোর লহর দ্যাখে ।
অনেকটা পথ হেঁটে ক্লান্ত আলো
বিকেলের পাশে এসে একটু জিরায় ।
এই টিলা, বন, ঝিরঝিরে নদী
সারাদিন পথ চেয়ে বসে থাকে যার
সে এখন ঝিরঝিরে নদী জলে পা ভিজিয়ে দাঁড়িয়েছে
সাঞ্জিলী সরেন ।
সিক্ত সজীব এক কষ্টিপাথরে
যেন এই বনানীর রূপটানে নিখুঁত খোদাই এক নারী ।
এই টিলাময় বনানীর আদরের মেয়ে
সাঞ্জিলী সরেন হাঁটে ছলাৎ ছলাৎ ।
দূর টিলা ছুঁয়ে ভেসে আসে
বাঁশি আর মাদলের সুর,
মহুয়ার নেশা মেশা ঘ্রান জাগে সাঞ্জিলীর প্রাণে ।
হাঁটুদূর কোমর জড়ানো শাড়ি
দুলে ওঠে সাঞ্জিলীর তালে ।
টিলাময় বনানী প্রান্তর সাঞ্জিলীর তালে দেয় তাল ।
কিছুতেই ছাড়াতে পারিনা আমি
আমার এ নগর জোড়া কম্পিউটার জাল ।

রঙ্গ মশাল
- সুনীল সানি সরকার

আজ তোর সঙ্গ নয় ,
করবো শুধুই রঙ্গ
মতের সাথে মত মেলাবি,
বইবে প্রেম তরঙ্গ,
নামতার মতোন বিড়বিড়িয়ে
পড়বো তোকে আপন করে
ছুঁয়ে যাবে তোর অঙ্গ।
আজ তোর সঙ্গ নয়,
করবো শুধুই রঙ্গ॥
ভাবতেই পারিস কেমন সে যে,
এসব কি আর আমায় সাজে ।
বুঝবি যখন মরবি লাজে,
আসবে সুখ মনের মাঝে ।
বাজবে তোর হৃদ মৃদঙ্গ,
আজ তোর সঙ্গ নয়,
করবো শুধুই রঙ্গ ॥
হাসির ফোয়ারায় মাতাল হবি ,
দেখবি যখন আমার ছবি।
ট্যারা চোখের কাজল নিবি ,
ভাবতে ভাবতে খাবি খাবি ।
লুটিয়ে পড়বে সোনার অঙ্গ,
আজ তোর সঙ্গ নয়,
করবো শুধুই রঙ্গ॥

ভুলতে চাই
- সুচেতনা মিত্র

যে বিষয় টা ভুলে যেতে চাই
কেন মনে আসে বারেবারে ,
কেউ বলে ভুলে যাওয়া যায়
ব্যস্ত থাক কাজ কারবারে ।

যাকে ভুলে যাওয়া উচিত
যার জন্য এত যন্ত্রনা,
সেতো উপকারে আসবে না
শুধুই বাড়িয়ে দেয় মনবেদনা !

অনেকে জ্ঞান দেয় গুছিয়ে
ভুলে গিয়ে নতুন করে.......
অভিনয়ে দে বুঝিয়ে কত ভালো
জীবনকে নে আনন্দে ভরে ।

ভুলে গেছি বলা সোজা
মনের মধ্যে বাড়ে বোঝা ,
প্রতিপদে চলছে ক্ষণে ক্ষণে
মনের মাঝে সত্যি খোঁজা ।

সহজ সরল জীবন যাপন
নিজের মতো ছিলাম ,
কিভাবে মুখোশধারী এলো পথে
তারে চিনতে ভুল করলাম।

ভুলে যেতে চাইছি অবশ্যই
কাজর মধ্যে আছি ডুবে ,
অভিনয় পারি না কখনো
বিশ্রী স্মৃতি ছাড়বে কবে !

নারী
- রতন সেনগুপ্ত

শৃঙ্খলে জেগে ওঠো
মাঙ্গলিক ! দেবী !! হ্যাঁ তুমি !!!
তোমার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে সব সোনার বচন
শুধু দেখে নেবে পুরুষ - পুরুষত্ব যার ঔরসে
আড়ালে আবডালে শরীর রেখে
ভোগের সময় খুলে দিও
জল ভাতের সোহাগ দেবে সেই তো
ভরণ পোষণ দেবে, গোয়ালে নয় ভাগ্যলক্ষ্মী করে
ভাগ্য কত বল ?
শরীরের গান গেও না
বৈতরণী ডোবাবে তোমায়
আড়ালে থাকো যত পারো লুকিয়ে রাখো
সে প্রকাশ্যে খালি গায় রমণ মদন হয় হবে
বাঁকা সোনার আঙ্গুল খাঁটি সর্বক্ষণ
শুদ্ধাচার মনে রেখো
সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে
নরকের দ্বার খোলা সম্মুখে
একক ক্ষমতার অলিন্দে যদি আসো
পুরুষ হয়ে যাবে - যদি আসো
যেখানে সাতখুন বা হাজার
অন্যথা .........
পৃথিবীতে মানুষ জন্মেছে কখনো !

চাকরিজীবি বউ
- মো. মাহমুদুল আলম

চাকরিজীবি হলে বউ
বাঁধে ঝগড়া সংসারে।
মাস শেষে টানাটানি
স্বামীর চিন্তা বাড়ে।
ছেলে মেয়ে অবাক হয়ে
দেখে বাবা মার কাণ্ড।
টাকার কুমির হবে বলে
তৈরী করে বড় ভাণ্ড।
চিকন দেহ খুশকো মুখ
চিরুনি ছাড়া মাথার চুল।
লণ্ড্রি ছাড়া জামা কাপড়
নিত্যদিনে হয় ভুল।
সকালেতে তাড়াহুড়া
দুপুর বেলা ঠাণ্ডাভাত।
রাত্রিতে ঝন ঝনানি
পায় না ভাতেরপাত।
শুতে ধরলে চটচটানী
মুখটা করে বাঁকা।
একটু কথা বললে
মনটা হয় ফাঁকা।
স্বামীর চেয়ে জব বড়
রগচটা কথা বলে।
অফিসে তার সময় কাটে
জীবনটা বিফলে।
স্ত্রীর আয়ে শান্তি নাই
আছে শুধু ঝালাপালা।
ছেলে মেয়ের মেজাজে
বাড়ে ভিশন জালা।
এমন বউ চলে না
এ জগত সংসারে।
স্বামী স্ত্রীর শান্তি
মিলেমিশের সংসারে।

তাং-২৪-৮-২০১৬ইং।

প্রাক্তন
- বিপদতারণ দাস

আমার মনের ক্যানভাসে
তুলির টান বারবার ,
তবু তোমার ছবি --
ফুটে ওঠেনা আর রঙবেরঙে ;
ধূসর মনের ক্যানভাসে
আবছা অবয়ব ,
ভবিষ্যৎ -অতীতের মাঝে ----
----তুমি শুধুই প্রাক্তন l

কাটেনি এখনো আবছা ঘোর
সিঁথির মাঝে লাল সড়ক পথ ,
হাতের হাতে কারো হ্যাঁচকা টান
তবুও স্থির দুটি নিষ্পলক নয়ন ;
ব্যাথা ফুটে ওঠে তোমার ধূসর মুখে
আপসোস শুধু দুটি দৃষ্টিতে ঝড়েপরে ,
দুটি মন মানিয়ে বোলে চলে হৃদি --
"তুমি "এখন আমার "প্রাক্তন " !!
------ভুজুঙ মাঝি
©বিপদতারণ দাসের কবিতা

ভালবাসা কষ্টময়
- জয়

সেই কবে থেকে তাকে দেখে দেখে
কেটেছে সময়
সে কি বুঝে না সাড়া দেয় না
কি নিষ্ঠুর নির্দয়
ভালবাসলে জীবনে কষ্ট পাবে
এতো সবারই জানা
তবুও তাকে ছেড়ে এ জগতে যে
বেঁচে থাকা দায়
যে কষ্ট দেয় সে কি জানে না
কষ্ট কেমন হয়
থেকে আড়ালে বসে দেখে নিরব বেশে
দিয়ে যাতনা কষ্টময়
বালিশে মুখ চেপে সে কাঁদে চুপে চুপে
কষ্ট মেনে নেয়
ভেবে মনে মনে জ্বলে জীবনে সুখ যদি হয়
তাই প্রতিক্ষায়
সত্যি তবে করলে সাধনা ভিষন কষ্টময়
জয় তারই হয়।
---------------------জয়

নারীর বাড়ী কই
- এম, এস বাশার

নারী!
শিশুকালে বাবার বাড়ী, প্রনয়ান্তে বরের বাড়ী!
তোমার বাড়ী কই!
খুঁজবে যদি জগত ঘুরে
আকাশ-পাতাল অন্তঃপুরে
পরখ কর আছে যত বই!
জগতবাড়ীর কী দাম আছে
টিকেট কাটা তোমার পাছে
তোমায় নিয়ে ছুটবে বিমান দূরে,
ধর্ম-কর্ম স্বজন যত
যাদের সাথে রইলে রত
দেখ এবার সাথে নিবে কারে ?
জমিন তোমার অনেক আছে
ঘরখানা যে আরও কাছে
খরচ বিহীন পাবে একটা বাড়ী,
নতুন জামা পরবে তুমি
ছেলে-মেয়ের রেখে স্বামী
চড়বে একা চাকাবিহীন গাড়ী!
ওই বাড়িতে থাকবে একা
পাবেনা আর কারও দেখা
সবার সাথে তোমার হবে আড়ি!
ও বোকা মন, কর সাধন
ভাব এবার কোথায় বাঁধবে বাড়ী!!

নিয়ম-অনিয়ম
- দিব্যেন্দু সান্যাল

শুধুমাত্র একটাই নিয়ম ভেঙেছে অনিমেষ
জীবনের বাকী সবটুকু নিয়মেই বাঁধা ।
ঘুম ভেঙে প্রথমেই সূর্য প্রনাম । মন্ত্রপাঠ । তর্পণ ।
প্রতি শনি-মঙ্গল নিরামিষ । একাদশী । গায়ত্রী জপ ।
রাত্রি নটা পনেরোয় ঘুম । ভোর পাঁচটায় ঘুম ভাঙা ।
বাজারের থলে হাতে রোজ বাড়ি ফেরা ।
একমাত্র স্ত্রী ছাড়া………….
শুধুমাত্র একটাই নিয়ম মেনেছে অনিকেত
জীবনের বাকী সবটুকু অনিয়মে ভরা ।
ঘুম ভাঙার কোনো ঠিক নেই । সিগারেট অথবা বিড়ি ।
আমিষ অথবা নিরামিষ ।ক্যালেন্ডার লজ্জায় মুখ ঢেকে রাখে ।
সারাটা দূপুর ঘুম । সারারাত জাগা । কিম্বা উল্টোটা ।
বাড়ি ফিরলে ভালো, না ফিরলে
বাড়ির লোক যা বোঝার বুঝে নেয় ।
নিজস্ত্রী পরস্ত্রী তফাৎটা মাঝেমধ্যেই ভুলে যায় ।
শুধুমাত্র একটা নিয়ম মেনেছে অনিকেত
একদিন উল্কার মতো ঝরে গেছে ।
অনিমেষ একটাই নিয়ম ভেঙেছে
পৃথিবীর মতো শুধু ঘুরেছে ঘুরেছে আর ঘুরেছে
নির্দিষ্ট কক্ষপথে অবিরত ঘুরেই চলেছে ।

এক বর্ষার রাতে
- প্রবীর ভদ্র

সারাদিন ক্লান্তিহীন এক
বর্ষার রাত ----
ঝির ঝির ছন্দময় সুরেলা সঙ্গীত যেন |
গাছের পাতার থেকে
টুপ্ টাপ জল ঝরার
শব্দ আসে ,
নিভে গেছে রাস্তার আলো |
রাত বাড়ে
চারপাশ ঘিরে আছে নির্জনতার কালো |
মনের দরজায় কোন সে নারী এসে
কড়া নেড়েছিলো !
কাছে ডেকে বলেছিলাম তাকে
" তোমার কি নাম ? "
উত্তর দেয়নি সে , লাজুক হাসি
দেখেছিলাম ঠোঁটে তার ,
ঠিক যেন সকালের প্রস্ফুটিত
রক্তিম গোলাপ |
জোলো বাতাস বয়ে গেল ঘরে
ঝির ঝির জল ঝরে
সারা রাত মনের ভিতরে |

জারজ স্বপ্ন
- মাজহারুল ইসলাম (লালন)

তোমাকে পাওয়ার জন্য,
প্রিয়তম হে.......
পৃথিবীর পথে হাটিয়াছি একা কত?
শুধুই তোমার জন্য,,
এইখানে,এ-ই--খা-নে,,,,
মরুভূমির উত্তপ্ত বালুতে-
হামাগুড়ি দিয়েছি শত।
এসো হে প্রিয়তম,উষ্ণ আলিঙ্গনে মোর,
বস্ত্রের বাহুল্যতা ছাড়িয়ে এসো,
দুয়ে দুয়ে এক হই আবার,
অসভ্যতা ছড়িয়ে দেই বাতাসে।
আজন্ম অসভ্যই আমি।
অতপর,,কামনার মাঝেই জন্ম দেই-
কিছু জারজ স্বপ্ন।।
.......................................
টংগী: ০২/০৪/১৬ইং
শনিবার

খেয়াঘাট
- জামান মনির

মনের আনন্দে মেঠো পথ টুকু হেঁটে
ঘাটে পৌঁছে দেখি খেয়া মাঝ নদীতে
যাত্রি শূন্য টোল ঘরে একাকি একা,

সময়েই সব কিছু, শুরু থেকে শুরু হয়
পারাপারের অপেক্ষায় কোলাহলময়
তারই মাঝে পেলাম তোমার দেখা ।

খেয়াঘাটে আসেনা সবাই যাত্রি হতে
কেউ কেউ আসে কারও বিদায় দিতে
তাদেরই কেউ লুকায় চোখের জল,

আবার স্বার্থানেষীরাও ভীর জমায় ঘাটে
ইজারার পয়সাটা যখন পেয়ে যায় হাতে
ভুলে যায় সব, খোঁজে নতুন কোন ছল ।

২৩/৮/১৬: সন্ধ্যা
বক্সনগর খেয়াঘাট
নবাবগঞ্জ, ঢাকা

ফুলডোরে
- অনাদি চক্রবর্তী

বৃষ্টি ভেজা এই প্রভাতে
হঠাৎ যে তুই এলি!
সদ্য ফোঁটা রক্ত গোলাপ
কোন কাননে পেলি?
আঁচল ভরে কি এনেছিস
দেখি তো একবার,
আহা! রং বেরংয়ের বনফুলের
কি দারুণ বাহার্।
ভোরের ফোঁটা ফুলগুলি তুই
আনলি রে কার তরে,
মেয়ে বলে, তুমি নিলে
দেব উজাড় করে।
আমায় কেন ফুল দিবি তুই
ফুল তো প্রেমের ডালি,
সে বলে তাইতো তোমায়
দিলাম এ অঞ্জলি।
বলিস কি তুই, পাগলি মেয়ে,
করিস না এ ভুল,
মেয়ে বলে, চাই না কিছুই
তাই এনেছি ফুল।
ফুলগুলি সব নিয়ে হাতে
বৃষ্টি ভেজা প্রাতে,
অবাক চোখে দাঁড়িয়ে আছি
একলা বারান্দাতে।

কোলকাতা , ২৩/০৮/১৬

ভয়
- তনিমা হাজরা

এখন আমি আর অন্ধকারকে ভয় পাই না
কারণ,ঠোক্কর খেয়ে পড়ে গিয়ে
আবার ধূলো ঝেড়ে উঠে পড়বার
কৌশল খুব ভাল এখন রপ্ত আমার।
এখন আমি অপমানকেও ভয় পাই না
কারণ যারা অপমান করে তাদের
আমার হাস্যকর অর্বাচীন মনে হয়।
দু:খকেও ভয় পাই না আর আজকাল
কারণ অশ্রুকে ঢোক গিলে কিভাবে
শুকনো চোখে তাকাতে হয় জেনে গেছি।
এখন আমি শুধু ভালবাসাকে
ভয় পাই ভীষন
কারণ কেউ সত্যি সত্যি ভালবাসলে
তার হাত ছাড়িয়ে চলে যেতে
এখনো শিখিনি আমি ।

Nabadibakar_Writer_70

শিরে সংক্রান্তি
- লোকমান মল্লিক

বাজার যখন হাঁড়িকাঠে
আমরা মানাই মৃত্যুদিন ।
সেই বাঙালীর শুভ চেতনা
তবুও মোরা নইকো হীন ।
এমনি করেই চলে চলুক
যেমন খুশি যতদ্দিন ।
বাজার গবেষণা করে
যত খুশি মত দিন ।
বিপদ যখন মাথার উপর
তবুও মোরা হই না এক ।
বাংলা মায়ের সন্তান মোরা ।
দূর থেকে ঐ দাঁড়িয়ে দ্যাখ
মরন যখন ঘনিয়ে আসে,
তাও ফেরেনা সম্বিত ।
কালো মেঘের ঘনঘটায়
ছেয়ে গেছে চারিদিক ।
খাচ্ছি আছাড়, খাচ্ছি কাছাড়
পড়ছি মোরা চিৎপাত ।
জগৎ কোথায় গেল মোদের
নেইকো তাহে দৃকপাত ।

( মুম্বাইয়ের স্বর্ণকারদের উদ্দেশ্যে )

Nabadibakar_Writer_16

প্রেমার্ত হাতে তৈরী চোখ
- রিক্তা রিচি

এঞ্জোলোর মত বিশাল জলরাশি নিয়ে
পাপড়ি ম্যালে ঐ দুটি চোখ;
ঐ দুচোখে লুকিয়ে আছে পাহাড়সম মায়া
লুকিয়ে আছে মেঘপরীদের নীল যৌবন
ঐ চোখের চাহনিতে শীতল হয়ে যায় কাঁঠফাঁটা মধ্যদুপুর
শীতল হয়ে যায় যুবকের তৃষ্ণার্ত হৃদয়।
হে ঈশ্বর, কত না মায়া, রূপ, সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছো
ঐ দুটি দিকবিজয়ী চোখে!
যেন বহুবছর তুলির আঁচড়ে খুব প্রেমার্ত হাত দিয়ে
তৈরী করেছো আশ্চর্য দুটি চোখ।
ঐ দুচোখে তাকালে ঘুমিয়ে যায়
একটি শহর
হারিয়ে যায় পূর্বের শতাব্দী
বেজে ওঠে মন ভোলানো গান।

Roshni_Yasmin

স্বপ্ন ভ্রষ্ট ক্লান্ত মানবি
- রোশনী ইয়াসমীন

বসন্তের করিডোর পেরিয়ে,
হেটে গিয়েছি অনেক আগেই
গন্তব্যে পৌছানো হয়নি।
কেউ নেই অপেক্ষায়.....
শীতের ঝরা পাতায় অনুভব
করেছি
ক্ষণে ক্ষণে শূন্যতাকে।
স্বপ্ন ভ্রষ্ট ক্লান্ত মানবি....
ভালোবাসার বিষন্নতা ফেরী করি,
আজন্ম কষ্টের ফেরী।
অস্পষ্ট ধূসর ছায়া,
কানে কানে চুপি চুপি
আমায় বলে যায়...
আমি আছি-
চীরদিন তোমারই পাশে,
তোমার প্রতিছায়া রূপে।

পূর্ণতা
- সুনীল সানি সরকার

গদ্যময় জীবনের অধ্যায়গুলো
অধ্যয়নে শশব্যস্ত আমি ।
স্নিগ্ধ ঊষাকিরণ সতেজ তনুমন
খুঁজে ফিরি শেষে চুপিসারে থামি॥
নানান কাজের প্রতিটি ভাঁজে
চিন্তনের ঘেরাটোপে বাঁধা।
সুখের কিনারা পেতে হিমশিম
গদ্যময় এ জীবন সাধা॥
অপূর্ণ সুখ অনুরণন বাজে
হৃদয় বীণার তারে করুণ ।
শত ব্যথা সয়ে নীরবে নিভৃতে
বুঝি হাসির ঝিলিকে ওঠে নবারুণ॥
জীবন সাগরের পূণ্য সলিলে
ডুবিয়ে দেহ মন প্রাণ।
সহসা সহস্র নিনাদ ডাকি
হে কান্ডারী করো পরিত্রাণ॥

খুজে পেলাম ভাষা
- মোঃ আহসান হাবিব

চৈত্রের খরা রৌদ্রে ফাটা বুক, বৃষ্টির অপেক্ষায় ভাবুক নিস্তব্ধ এই মন।
খুজছি প্রেরণার বাণী, জানিনা কে দেবে কখনি হাতড়ে ফিরি সারাক্ষণ।
সারাজীবন ধরে খুঁজে চলেছি তারে জানিনা কোন্ শুভক্ষণ হবে দর্শন।
অপরিচিতাকে খুঁজে পেতে, জীবন এগিয়ে নিতে কাব্য জগতে বিচরণ।
খুজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত, খুঁজি কত মাঠ প্রান্ত, কানন-গিরি মরুভূমি।
অন্বেষেছি গাঁয়ের মেঠো পথে, শহরের অলিতে গলিতে বিশাল মাতৃভূমি।
দেখা মিলেনি তার তবু খুঁজে চলে অন্তর দর্শনে তার দিতাম অন্তর চুমি।
কল্পনার নদীতে ভেসে বেড়ায় দিনে রাতে মূল্যহীন জীবনে সে-ই দামি।
আজ কেন চঞ্চল হয়ে মন আনন্দে নাচে সারাক্ষণ অজানা অনুভূতির টানে।
ভরেছে নব জোয়ারের বানে, নিত্য নুতন আহবানে সাড়া দেয় মম প্রাণে।
প্রতিটি স্পন্দনে নব অনুভূতি, শিহরণে জাগে প্রীতি এ অবেলা নব ঘ্রাণে।
অভিনব সুরে কে যেন ডাকে দূরে ভাষা হারায় প্রাণে সেই কথা স্মরণে।
তুমি কবির ভাষা, ভবিষ্যতের আশা সুখে দু:খে প্রেরণায় হবে মহাপ্রাণ।
তোমায় ভেবে ভাবি কবি লিখবে কবিতা গান তুমি হবে কবিতার ধ্যান।
তব শখের ভেলায় চড়ে কবির জীবন যাবে গড়ে ধন্য হবে আরাধন।
তব চলার পথে, বিরহ বেদনার সাথে এ অধমেরে দিয়ো একটু স্থান।
এতদিন পরে দোলা দেয় মনের ঘরে পেয়েছি অপরিচিতার সন্ধান।
মোর চলার গতি দুর্বল অতি বেড়ে যাবে তা পাবে ফিরে চঞ্চল প্রাণ।
তোমার অনুভূতি জাগ্রত চিন্তাশক্তি আমার প্রেরণায় বিশেষ প্রয়োজন।
নাসরিন রুমা, ভুলে করো ক্ষমা তব পাশে পেতে এ হৃদয়ের আহবান।
ছন্দময় মন্তব্যের ভাষা এমনে জাগিয়েছে আশা প্রেরণার সিন্দু বিষাদ।
বিক্ষিপ্ত তারার মাঝে তুমি পূর্ণিমার চাঁদ জ্যোসনায় কেটে যায় অবসাদ।
তব নিঃশব্দ হাসি এ মনের মন্দিরে রাশি রাশি ভাসায়ছে মোরে নব নদ।
ব্যর্থ প্রকাশিত উপমা ভাষাতে তব গুণগান এমনে হিমালয় শীতল হ্রদ।

উৎসর্গ: নাসরিন রুমা কে, ০৯, আগষ্ট, ২০১৬ ইং, মঙ্গলবার, ঢাকা। (০২.৩১ এ.এম, কল্যাণপুর)

Arpita_Ghosh_Nabadibakar

খেয়ালি বারিপাতে
- অর্পিতা ঘোষ

নির্ঝর-ঝরে ঝড়ে বৃষ্টিদানা,
শুন্যাকাশ;পাখীরা মেলেনি ডানা।
গুনগুনিয়ে বাতাস ডাকছে হেন,
'বের হও' বিহগেরে বলছে যেন!
কুসুমিত বন,বাহারি কানন
ফুলে ফুলে মধুপ করে আরোহন,
দুলে দুলে নাড়ে মাথা শুভ্র কাঞ্চন
গুঞ্জনে অলি,করে মধু সিঞ্চন।
ডুবে ছিলুম,না জানি কোন আবেশে,
হেনকালে বসুমাতা মাতে রঙ্গরসে।
রসিকতা করে মোরে মেঘ দিল ফাঁকি,
বাতায়ন পাশে দেখি,সুর্য্যের উঁকি।

Shyamashri_Ray_Karmaka

হে পাথর, নতজানু হই
- শ্যামশ্রী রায় কর্মকার

পৃথিবীর সমস্ত পাথর দেখে নতজানু হই,
যেমন হই মাটি কিম্বা সমুদ্র দেখে,
এত দম্ভ ভরে মাথা উঁচু তাকিওনা গাছ,
একদিন সবাই পাথর হয়ে যাবে।
আমিও পাথর হব জানি,
তাই কানের ভিতর ভরে রাখি কোকিলের গান,
ঝিঁঝি ও জোনাকদের বন্ধু হয়ে থাকি,
কি জানি কখন কোন রাতে
চাঁদ ও তারার আলো ছুঁয়ে যাবে এসে
পাথরের মত এই শুয়ে থাকা দেহ,
আগুন পোড়ালে ছাই হব,
জমে জমে রয়ে যাব মন্দস্রোতা নদীর গভীরে,
স্রোতহীনা হলে নারী পাথর বুকেই পুষে রাখে,
তখন শুনব গান প্রতি রাতে ঝিঁঝিদের সাথে
আদি অন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকা পাথরের মাঝে।

২৩.৮.১৬

পথের জীবন
- আশিক ফয়সাল

রাস্তার আকাশে এক শরীর ছেঁড়া নোংরা কাগজ
গড়াগড়ি খাই বেনামী কুকুরের মতন ।
অদৃশ্য বাতাস এসে তাদের নাড়িয়ে দেয়
নাড়িয়ে চাড়িয়ে রেখে দেয় ঠিক আগের মত।
তাদের অসহায়ত্বের শক্তি হার মানায় গ্রীষ্ম বর্ষা শীতের প্রবেশ অধিকারকে ।
যেখানেই রাত সেখানেই কাত
কি অপূর্ব স্বাধীনতা বিজয়ী ।
ক্ষুধার্ত কুকুর তাদের বন্ধু তাই ক্ষুধাও ভয় পায়,
তাদের একটাই ভয়-
মাঝেমধ্যে পাশ কাটিয়ে যায় দু চাকার যন্তুর দল
বা হঠাৎই মাথা চাড়া দেয় চার চাকার দানবেরা।
ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগীতায় লেপ্টে দেয় তাদের মূল্যহীন দেহ।
স্বপ্নের আগুনে ঢেলে দেয় মেঘেদের জল
এক নিমেষেই নিভে যায় বেচে থাকার ইচ্ছে প্রদীপ ।
রাস্তার আকাশে পড়ে রই প্রান হীন নোংরা দেহ।
ঝাড়ুর সুনিপুণ আঁচড়ে বেড়ে দেয় ঝাড়ুদার।
খুশি হয় পরিবেশ, অবশেষে কিছু কমলো ।

আশ্রয়
- রাজু আহম্মদ খান

তা হয়তো বলতে পারো -
তুমিই আমার সবকিছু নও,
আমি শুধু চাই আশ্রয়,
তুমি আমার আশ্রয় হও ।

তবে মনে ফুরফুরে
একটা বিরাট অংশ জুড়ে
তোমার ইত্যোকার বসবাস -

আমি কিন্তু বলতেই পারি,
আমার অবস্থা ধরি
আমি'তো আর মা দূর্গা নই,
মাত্র এই দু'টি হাত,
দুটি চোখের কালো রাত,
তব যতটুকু দেখাই তত
আনন্দ প্রকাশ ।

কত যে সংঘাত,
পাও কি ধন্যবাদ -
আসেনা সেই প্রভাত
কতশত বিদ্বেষে,
এত বড় এই দেশে
একটাই কি ছাদ ?

আরো কতক যুক্তি আছে -
তাতে কি মুক্তি আছে ?
তোমার ভালোবাসা তবে
মোমের সলতের মত,
পুড়ায় অন্যায় আর
কত অপরাধ ।

যার চারিধার
মুখাগ্নি বারবার
হাজারটা তরুণ সে মোমে -

যেমন আগুনের বহ্নি শিখা
ছড়ায় কখনো রোমে,
ফ্রাংকফ্রুট, জুরিখে -

তবু বিদ্যের হাত বদল
জ্ঞানের সম্প্রসারণ
ঠেকায় কভু কি কারো
মন চুরিকে ?

এইতো
ঢাকার প্রত্যয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,
ছাত্রদের দাবি তো আর
বেশি কিছু নয়,
জানেনা এ অবস্থায়
খাবে কি ? যাবে কোথায় ?
এখন ফিরবার'তো নয় মায়ের কোলে !

সেই দুঃশ্চিন্তা
সেশন জটেই কাটে দিন তা
ডাকে মাস্তানি,দুর্নীতি
পচে যাওয়া রাজনীতি,
নিরিহের ভয়ভীতি
সেই কষ্টে ওদের শুধু পেট ফোলে -

ওরা যে জ্ঞানের আলো
ছড়াবে জগত ময়,
প্রতিভার চাষ হবে,
শান্তিতে বাস হবে
হলে, মেসে কি শেষে হোস্টেলে -

আজ শুধু কষ্টে নে
সুবিধা আড়াই বা পৌনে
মেটাবে পেটের ক্ষিধে
মোটাচালের ডাল-ভাতে,
পড়ার টেবিল সিধে,
লোড শেডিং - হাতপাখার -

আর নাকি সেই সাথে
শহরের এই রাতে
বিছানা - পত্তর রাখার
সত্ত্বর এইটুকু
ফাঁক ফোকর ওরা চায় ।

ঠিক আমার মতই তা,
আমিও খুঁজি যেমন
নিরাপদ আশ্রয়,
এতটুকু নির্ভয়,
বিশ্বাসে নিঃশ্বাসের
শুন্য দূরত্বের কাছে,
হোক না যতই তা সে,
পুরানো জেলখানায় ।
---------------------
কালক্ষেপণ - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং- ২০, ২৩ আগষ্ট ২০১৬ ।

ইতি
- নাসরিন আকতার

হয়ত আমার দেখা এই সুন্দর পৃথিবী
এই আলো এই বাতাস
চারপাশের সবুজের বাগ
এই পাহার এই নদী
সব মনকে শীতল করে দেয়
তার পর ও মনে এক কোণে
কি এক অজানা রহস্য
যা প্রতিনিয়ত আমি খুজে বেরায়
জানিনা আমার এই সন্ধান কখন শেষ হবে
কবে আমি খুজে পাব " ইতি "

অভিমানী
- সেলিনা আহামেদ শেলী

ফড়িং দুলে প্রজাপতি উড়ে বলে
আয় তবে মিলে পাতা নেড়ে জানায়
জিরিয়ে নাও সবে,
প্রকৃতি হেসে বুঝিয়ে দেয় উড়বে বলে
জন্মিয়েছে ওরা ।
ফুলের সুভাস ছড়িয়ে কেন হতাশা ?
কোকিল ডেকে বলে, এই তো জীবন
ভালোবাসার রংয়ে রংয়ে
ভৌমর গুন গুয়ে প্রেমের মাধুরী ছড়ায়,
ভালোবাসার সুজন দিবে কী ধরা?
পিয়াসী সেই আশায় বুক বাধেঁ নদীর মোহনায়।
ছুয়েঁ ছুঁয়ে যায়নি বলে হয়ও নাকো অভিমানি।
ভেসে যাওয়া স্মৃতি মেঘের বাড়ি
কোথায় তারা হয়ে মিশে ।
একাকী কী বলতে আমায় ?
ঐ গোলাপ ছিরে দাও আমার খোঁপায়।
রূপ নাগরের কন্যা হেলে দুলে চলেছো
পেলাম না তোমার মনের দেখা।
নতুন করে ডাকবো দিও সাড়া।

শীত লাগে
- সুনীল সানি সরকার

বড্ড শীত লাগে তোর হিমেল ছোঁয়ায়।
সারা গায়ের লোমগুলো দাড়িয়ে থাকে
নীরব দর্শকদের আসনে শূণ্য দৃষ্টি দুচোখে সাজিয়ে।
বৃষ্টি তুই আর ঝরিস না এমন করে।
বড়ো ভয় লাগে , বড় ভয় লাগে
তোর রণচন্ডী প্রলয়ঙ্করী
বিভিষীকাময় প্রতাপ কে।
মনের মাঝে হারানোর ভয়ে
সিঁধিয়ে থাকি শামুকের মতো।
মনে পড়ে আমাদের প্রাণের প্রদীপ
আমাদের আশা ভরসা মা-বাবা থেকে
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মুহুর্তের কথা।
সে বছর তুই এমন করেই এসেছিলি।
তোর বার্তা পেতেই ফুঁসছিল দামোদর
অজয় পদ্মা মেঘনারা।
হড়কা বানেই বে-ঘর হলাম।
ছোট্ট ছোট্ট ভাই বোনের সংসার পেতে নিলাম
ভ্যাটের পাশে নর্দমার ধারে।
জানিস,
আমাদের কাগজ কুড়ানি জীবনের সাথে
তুই জড়িয়ে আছিস ঝুমকো লতার মতো।
তোকে যারা মনে প্রাণে চায় ,ডাকে ,
তাদের অবসর বিনোদনের জন্যে।
তাদের অফুরন্ত সময়ের সঙ্গী হতে
তুই তাদের কাছেই আসতে পারিস,
থাকতেই পারিস খিচুড়ি
আর ইলিশ ভাজার সাথে ,
বা গেলাসে গেলাসে ঠোকাঠুকিতে।
কিংবা নির্জন দুপুরে নব বিবাহিতদের
সজ্জিত কামরার জানালার ধার বেয়ে
নামতেই পারিস অঝোরধারায়।
তবে আমাদের তাবুর গুমটি ঘরের উপরে নয়,
পাশেও নয়, কাছেও নয়।
তোকে আমরা চাই না,
তোকে দেখতেই বা তোর কথা
ভাবতেই যে খুব ভয় হয়, বড় কষ্ট হয়।
গায়ের রক্ত হিম হয়ে জমাট বাঁধে।
বড্ড শীত লাগে।

22.08.2016

মমতাময়ী মাতা
- মাযহারুল ইসলাম অনিক

আকাশ জাগিছে,বাতাস ডাকিছে আজ
নামিবে বরষা তুমুল বেগে,
সূর্য ডুবিছে, বিশালী আধার ঘনায়
সকল মানবেরা যা জেগে।

অম্বর ভেদে সজোরেই কর্নে আসিছে
চমকানি বজ্রের ডাক,
গোলপাতা গৃহে, জড়সড় শিশু দিচ্ছে
বারম্বার মা বলিয়া হাক।

হেরিকেন লয়ে, দেশলাই অন্বেষণে
ছুটিতেছে মমতায়ী মাতা,
এখান থেকে ওখানে দূর ভেদী প্রান্তে
সাথে সন্তানের মায়া গাঁথা।

বরষার বারিতে কদ্দম অজানায়
টানিছে মাতার ঐ চরণ,
তবুও ছোটে অগ্নি পিয়াসে একা মাতা
দেখিবে না সন্তান মরণ।

ভাবনা পোকায় অস্থির সর্ব মস্তক
বিশালী পথ হয় না পার,
আধার ঢাকিছে আকাঙ্ক্ষার সর্ব আশা
তবুও চলাতে দেয় না ছাড়।

হঠাৎ উপড়ানী শব্দেই শতবর্ষীর
অশ্বত্থ বৃক্ষ পড়ে লুটিয়ে,
আবারো ভাবনায় অস্থির হয় মাতা
সপ্ন যেন না যাই গুটিয়ে।

ক্লান্ত শরীর চলে না আর, অগ্নি খোঁজে
দিয়াছে চার গ্রাম পাড়ি,
শেষ মেশ শত কষ্টে মিলিলো আগুন
বিনতি পিসির ভাঙা বাড়ি।

আচলে ঢাকিয়া সপ্ন, ঘোড় বেগে ছোটে
ভীতি মাখা সন্তান কাছে,
ক্ষত তে নিমগ্ন মাতার শরীর বাহু
বক্ষে শুধু সন্তান মায়া আছে।

খুলিলো দুয়ার,ঘুচিয়ে ঘন আধার
দেখিলো সন্তান হাস্য মুখ,
লাঘোব হইলো অগ্নি আশী কষ্ট
আনন্দে ভরিলো মাতা বুক।

২২/০৮/১৬

Rahat_Rabbany_Nabadibakar

এক পশলা বৃষ্টি
- রাহাত রাব্বানী

একদিন বহুদিন আগে,
এক পশলা বৃষ্টি এসেছিলো আমার ঘরে।
জানালা ভেদ করে আসা এক পশলা বৃষ্টি
খুলে দিয়েছিলো স্মৃতির কপাট।
প্রেমের স্মৃতু,বিরহের স্মৃতি সব যেন
ঐ এক পশলা বৃষ্টির দান!
বৃষ্টি সঙ্গ করেছিলো সেদিন একটু শীতল বায়ু,
দূর করেছিলো আমার ঘরের গুমোট আন্ধার।
লেখার টেবিলে রাখা ডায়েরী,বুক সেল্ফের বই,
এর পাশে ছোট্ট টেবিলের চায়ের কাপ,দেয়ালে ঝুলানো ছবি,
সবাই মনে রেখেছে এক পশলা বৃষ্টির স্মৃতি।
আমিও ভুলিনি,-আমার এলোমেলো ভাবনা,
ব্যর্থ প্রেমিকের বুকফাঁটা আর্তনাদ,
স্মৃতির কপাট খুলে মনে করিয়ে দিলো-
সেই এক পশলা বৃষ্টি!
বহুদিন বৃষ্টি আসেনি,আমার ঘরে
ভিজায়নি জানালার নীল পর্দা
অস্ফুটে খুলে দেয়নি স্মৃতির দুয়ার।
আবার এক পশলা বৃষ্টি আসুক,
ভিজিয়ে যাক স্মৃতিগুলো।বৃষ্টি,তোমার নিমন্ত্রণ।

বিবেক চাবি
- আজাদ জয়

চাবিটা হারিয়ে ফেলেছে সেই যে কবে
তাও প্রায় তিন দশকের কাছাকাছি হবে।

তারপর ঘটা করে খোজা কত দেখা
দেশি বিদেশি খবরের কাগজে লেখা

দিনে দিনে কেটে গেছে অনেক গুলো বছর
ধিরে ধিরে হারিয়ে গেছে চাবিটার খবর।

এর মাঝে ঘটেছে বহু ঘটনা জানা অজানা
সৈরাচার পতন গনতন্ত্রের শুভ আগমন।

ইয়াসমিন ধর্ষন বাংলার বুকে প্রথম
নারী নির্যাতনে দেশ হয়েছিল গরম।

হঠাৎ একদিন রমনায় বোমা বিস্ফরন
দেশ বাসি সবাই কেঁপে উঠেছিল চরম

২১শে আগস্ট পথসভায় ভারি গ্রেনেডের শব্দ
ভয়ঙ্কর পর পর ১১ বার সেদিনে ২৪জন স্তব্দ।

পরে লঘি বৈঠা আন্দলন এবং সামরিক শাসন
পেট্রোল বোমায় নষ্ট বহু লোকের জীবন

গাড়ির চাকায় শিক্ষার্থিদের মুন্ডু বিস্ফরন
পত্রিকায় রেগুলার আছে গুম খুন আর ধর্ষন

সাগর রুনির হত্যার ফাইল খোলা যেন বারন
তবুও থেমে নেই দেশ চলছে ভাগ্যচাকর উন্নয়ন

দিন গুলো আর কারও জন্য থেমে না
ঘটনার পেছনের ঘটক ধরা পড়ে না

রানা প্লাজাসহ কত কিছু যা কলমে ফুটে না
তবে তনু হত্যার কথা ভুলে যাওয়া যায় না

চাবিটা কিন্তু এখন আর কেউ খুজে না
বিবেকের প্রয়োজন হয়তো আর পড়ে না।

যে জাতীর বিকেকের চাবি হারিয়ে যায়
নিঃচিন্তিত মনে কেমনে নাক ডেকে ঘুমায়।

হুংকার না ছাড়ালে এসব ঘটে যাবে বার বার
সময় কি হয়নি জাতি তোমার ঘুম ভাঙ্গার।

আমার সকল নিয়ে বসে আছি
সর্বনাশের আশায় ।
আমি তার লাগি পথ চেয়ে আছি
পথে যে জন ভাসায় ॥
যে জন দেয় না দেখা , যায় যে
দেখে –ভালোবাসে আড়াল থেকে

আমার মন মজেছে সেই গভীরের
গোপন ভালোবাসায়....।

ছন্নছাড়া জীবন
- কবির হান্নান

না মরে বেঁচে আছি
আধমরা হয়ে
লােভ লালসাহীন
ছন্নছাড়া জীবন লয়ে।
যার আছে আকাশছােঁয়া বাড়ী
নিত্যনতুন নিউ মডেলে গাড়ী
তার চােখে ছন্নছাড়া এই আমি
ধন্যবাদ'ই আমার সবচেয়ে দামী।
ছন্নছাড়া তার চােখেতে
এ বুকেতে ধন্যবাদই সুখ
লােভ লালসা নেই বলেই তাে
আকাশ ভরা সুখ।
শব্দ সাগর ডুবে থাকি
শব্দের মাঝে নিশিদিন পার
ঋণ খেলাপি তােরাই দেখি
জায়গা নাই ধন্যবাদ পাবার।
ছন্নছাড়া জীবন লয়ে
এইতাে আছি বেশ
ঋণ খেলাপি নইতাে আমি
ধন্যবাদই বেশ।
..................
(২২/০৮/১৬)

সেই নদীটা আসবে একদিন
- দিব্যেন্দু সান্যাল

জানি একদিন ঠিক আসবে সেই নদী
শান্ত পাথরের মতো নির্মল ঋদ্ধ সেই নদী ।
নৌকার ছই-এ বাতি ভরা একমুঠ আলো
রঙিন কস্তাপাড় শাড়িময় আলো ঢাকা অন্ধকার ঘিরে থাকে
তোমার তীক্ষ্ণ চিবুক, অনচ্ছ অধর আর নিপুণ নাকছাবি দ্যুতি ।
আঁধারের শান্তির আকাঙ্খায়
আর এক জন্মান্তরে
তোমাকে ছোঁয়ার অবকাশ না পেলেও
জীবনের সীমানা থেকে কুড়িয়ে নেব
নির্মল জলের মতো স্বপ্নের তোড়া কিছু কিছু ।
দেখো ঠিক আসবেই সেই নদী
অসহ্য যন্ত্রনাগুলো সব ধুয়ে ধুয়ে
তোমার আঁচলে আর আমার দুহাতে ভরে নেব
স্বাধীন শঙ্খধ্বনিও নেব
কয়েকটা বিরহী ঝিনুক তাও ।
সেই দুর্নিবার ঝড়ে হারিয়ে যাওয়া কিলিপটা
ঠিক ফিরে পাবে
আমি ফিরে পাবো
সুতোকাটা গাছেধরা ঘুড়ি ।
ভুলে যাওয়া উপেক্ষা অবহেলা খুঁজতে খুঁজতে
হঠাৎ বিশেষ কোনো চেনা মুখ
স্হিরগতি স্রোতে ভেসে যেতে যেতে
বলে যাবে ‘ভালোবাসি’ ।
ভালোবাসা থাকলেই সব থাকে
সময়ও উল্টো টানে ফিরে আসে নদীর মতন ।
সেই নদীটা আসবেই একদিন ।
আমি জানি ।
(21-08-2016 7.35pm)

বেহুলা
- ইয়াসির আরাফাত

দম্ভে ডুবে যায়
সওদাগরের সপ্তডিঙা
বিষে নীল হয়
চাঁদ বেনের লক্ষীন্দর।
স্বর্গ থেকে ফিরিয়ে আনে
কুমারের অমূল্য প্রাণ
প্রজ্ঞায়
সাহসে
বিশ্বাসে
কোমল মাটির মত
লক্ষীন্দরের বেহুলা।

(বেহুলা ||ইয়াসির আরাফাত)
২১।০৮।১৬
ঢাকা

গীতি কবিতা-১৫
- হাফিজুল ইসলাম মৃদুল

তুমি দূরে যেয়েও যেতে পারনি
রয়েছো আমার চোখের তারায়
তুমি ভুলে গিয়েও ভুলাতে পারনি
রয়েছো আমার এ অবুঝ হৃদয়।।
শুকালো ফুল হায় আজ অবেলায়
গেঁথেছি যে মালা পরাতে তোমায়।।
আগুনে পুড়ে খাঁটি হয় জোনাকিরা
তাই কি জ্বলে তারা অন্ধকারে
তোমার প্রেমে আমি পাগল হয়ে
দিবা নিশী ঘুরি পথ পারে
তোমার রাঙ্গা মুখ আমার জীবনে
হওয়ে আছে চির উদয়।।
তুমি অশ্রু হয়ে আছো আমার দুচোখে
দীর্ঘশ্বাস হয়ে আছো আমার এ বুকে
নিশার স্বপনে তুমি আজো স্বপ্নময়
রয়েছো আমার জীবন ধারায়।।

আবছায়া
- রতন সেনগুপ্ত

বর্ণভাঙ্গা আমার প্রেম
সঙ্গোপনে রেখেছিল আসঙ্গ অভিসার
চাঁপা ফুলের গন্ধ যারা জানেন
তারা বুঝবেন
মনস্থির করি নি বলে উড়ে গেল
সেই স্থির নিরীক্ষণ পাখিটা
মাছেদের অনটন ছিল - তবে কি মাছরাঙ্গা !
আপনি করেছেন প্রেম ?
না হলে কি করে বুঝবেন
হাজার সু-আচার রেখে রেখে ক্লান্ত জলের স্বভাব
বলেছিল - পাত্রে জল ধরা যায় যখন যেমন, গড়া যায় গঠন এমন
এও কি প্রেম ? আপনি মানেন ?
প্রেম কতটা যাযাবর কতটা সুগৃহিণী পান্তা ভাতের
নেশায় জল চুক চুক অভ্যাস, অথবা...অথবা...অথবা.....
কেউ কি জানে ? আমার তো আবাছায়া থেকে গেছে সব
আপনি জানেন ?
জানলে লিখুন
ঠিক করে লিখতে পারলে
চাঁপা ফুলটা আপনাকে দেব ।

Roshni_Yasmin

রাত্রি, তুমি এসো
- রোশনী ইয়াসমীন

হে রাত্রি, তুমি এসো -
বের হয়ে এসো,
কুয়াশা ঢাকা প্রহর হতে।
যেখানে একাকী দিনের আলোতে
স্বপ্নের জাল বুনেছো আনন্দ ভরা ভয়ে,
আকাশের ধূসর বসনে আবৃত হয়ে
তারকার চুমকি দিয়ে।
তারপর, ঘুরে ফেরো.....
নগর সমুদ্র আর সমতলে,
আফিমের তন্দ্রাচ্ছন্ন স্পর্শ দিয়ে।
এসো তুমি দীর্ঘ প্রতিক্ষীত রাত্রি --
ঘুম থেকে উঠি প্রভাত বেলায়
তোমার জন্য ছাড়ি দীর্ঘশ্বাস;
সূর্যের আলো যখন প্রখর হয়,
শিশির বিন্দু সব মিলিয়ে যায়
দুপুরে শ্রান্ত লতা পাতা,
যখন বিশ্রাম চায়....
তখন, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি,
হে রাত্রি, তুমি এসো।

একটি মেয়ের গল্প
- অনাদি চক্রবর্তী

একটা গল্প বলি শোন,
এক যে ছিল সোনার মেয়ে
অচিন গাঁয়ে কোন।
লাল মাটির ঐ পথটি বেয়ে
সবুজ বনের পরে,
রোজ প্রভাতে আসত সে এই
ইচ্ছে নদীর ধারে।
আঁচল তার থাকত ভরা
বনের বনফুলে,
মিষ্টি মুখে মধুর হাসি
ভাসত মনের ভুলে।
নদীর পাড়ে থাকত বসি
নয়ন দু'টি মুদি,
সমুখে তার নীল যমুনা
বইত নিরবধি।
ক্ষণে ক্ষণে চক্ষু মেলি
সুদূর পানে চেয়ে,
উদাস সুরে কাহার তরে
উঠত সে গান গেয়ে।
গানের সুরে স্তব্ধ পবন
উদাস নদীর ঢেউ,
কিসের তরে দু:খ যে তার
জানত না তো কেউ।
ক্রমে ক্রমে বাড়ত বেলা
রৌদ্র প্রখর হত,
কাজল কালো একফালি মেঘ
শীতল ছায়া দিত।
সুর্য যখন অস্তাচলে
গোধূলি রঙ গায়,
তখনও সে সোনার মেয়ে
অধীর প্রতীক্ষায়।
ধীরে ধীরে সন্ধ্যা হত
সূর্যি যেত পাটে,
ক্লান্ত পায়ে কাজলা মেয়ে
আসত খেয়াঘাটে।
ফুলগুলি তার উজাড় করে
নদীর বুকে ঢালি,
দিয়ে যেত দিবাশেষের
প্রেমের অঞ্জলী।
কোলকাতা , ২১/০৮/১৬

Nabadibakar_Writer_70_Bangla-Kobita

জেলখানা থেকে
- শীলা ঘটক

লোহার গরাদের এপারে
ভালো আছি আমি।
আমার স্বপ্ন, আমার ভাবনা_____
মহানন্দে, বেঁচে আছি সবটুকু নিয়ে।
গরাদের ওপারে তুমি____
মুক্ত পৃথিবীতে বিচরন করছো।
দ্বিচারিতা করতে ভয় পাওনি!
মিথ্যা নিয়ে বেঁচে থাকতে চেয়েছ নিশ্চিন্তে।
এটা যদি বেঁচে থাকা হয়!
মৃত্যু আমার কাছে শতগুনে শ্রেয়,
তোমার এই বেঁচে থাকার চেয়ে।

লোহার গরাদের এপারে
ভালো আছি আমি।
নির্ভয়ে আপসহীন হয়ে এগিয়ে চলেছি______
অপরিবর্তিত সত্তা ____ সদা জাগ্রত।
লাঠির ঘায়ে রক্তাক্ত আমার শরীর,
কিন্তু আমার চেতনা! আমার দৃঢ়তা!
সেখানে এতটুকু রক্ত ঝরেনি।
এখনো সেখানে সুন্দর সুন্দর
লাল, নীল, হলুদ, সবুজ_____
ফুল ফোটে প্রতিদিন।
যেমন ভাবে পূবে সূর্য ওঠে রোজ।
পাখী গেয়ে ওঠে গান__
আমার স্বপ্নগুলো রঙিন ফুলের মতো
ফুটে থাকে আমার মনের বাগানে।
হেরে গেছ তুমি____
ভয় পেয়েছ?
মৃত্যু তো অনিবার্য নিয়তি।
ভয় কিসের?
আমার স্বপ্ন গলিত লাভা হয়ে ___
কোন একদিন লোহার গরাদকে গলিয়ে
পৌঁছবে মেকি শান্ত জীবনে।
পারবে তো সেদিন
নিজেকে বাঁচাতে?

লোহার গরাদের এপারে
ভালো আছি আমি।
স্যাঁতস্যাঁতে ঠাণ্ডা মেঝের ওপর
শতরঞ্চি পেতে শুয়ে আছি
ছোট্ট কুঠরিতে স্বপ্নগলো ঘুরে বেড়ায়।
অতি আদরে লালন করে চলেছি____
অমানুষিক অত্যাচার ছুঁতে পারেনি ওদের।
মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ে বেড়ায়
আমার মস্তিষ্কে, স্নায়ুতে____
ভালো আছি আমি।

শীলা ঘটক, কোচবিহার, ০৮/০৮/২০১৫ দুপুর ২ টো ।

একটি বৃষ্টির কবিতা
- সুপ্রিয় দাস

কার্বলিক অ্যাসিডে
ভিজছি আমি, ভিজছে আমার
শহর |
চারিদিকে উসখুস করে
চলেছে বিষাক্ত কিছু সাপ |
আমিও টের পেয়েছি
ময়ালের শুকনো, খসখসে গন্ধ |
সমস্ত টাই কল্পনা নয়,
সামিয়ানার মতো ছাতায়
আটকে আছে, উল্টে দেখে
নিতে পার |
দুটো ময়ূর এনেছিলাম কিনে,
রঙিন ছবির বইতে দেখে |
ময়াল সাপে ঢাকা বিষর্গ
প্যাশন কে লুকাতে |
প্রেমিকার গম্ভীর চোখে
শেষরক্ষা টুকু হলো না |
শাকের ভিতরে লুকিয়ে
রাখা মাংস পিন্ড টাই
বেরিয়ে এলো শেষমেষ |
কবাডি কবাডি করতে করতে
অজগর এগিয়ে যাবে এবার |
যুদ্ধ জয়ের শ্রান্তি নিয়ে
আরামে ঘুমাবে অবৈধ
সন্তান- সন্তনির কোলে |
বৃষ্টিতে তবু পরিবর্তন হবে না |
ঘুরে ফিরে অ্যাসিড ই ঝরবে |
আসলে পরিবর্তন কোনো শব্দ
না |
অভিধানে ভুল থেকে গেছিল |
মানুষ আর রোমাঞ্চিত বৃষ্টি
শব্দ গুলোর মতো |....

Pandey Anita

ডাকি তোমায়
- অনিতা পাণ্ডে

অঝোড়ে ঝড়ছে বর্ষা,
নোংরা আবর্জনা ধুয়ে হচ্ছে ফর্সা।
দুর্গন্ধরা যাচ্ছে পালিয়ে,
জলরাসিতে ধুয়ে ধুয়ে--
মাছেরা খেলা করছে ,
নতুন জল পেয়ে।
মাছরাঙা পাখিটি ,
তাইতো আসছে ধেঁয়ে।
যতগুলি মাছ পাবে,
টুপটাপ তুলে নিবে ।
তাঁর বাড়ীতে আজ ,
বড় ভোজ হবে।
টোনা পাখির দাওয়াত আছে,
বিকাল বেলাতে।
আসবে খেতে টুনিকে নিয়ে,
তাই ,আনন্দেতে মাতে !
ভেজা কাক গাছে বসে,
কা-কা করছে ।
আজ একটা দানাও পেটে পরেনি,
ক্ষুধায় পেট-টা জ্বলছে।
বৃষ্টির সাথে সাথে ,
বাতাসেরা আসছে ধেঁয়ে।
জলগুলি ধেঁই ধেঁই করে বাড়ছে।
পথগুলি জলমগ্ন হচ্ছে।
বরিশাল জলে ভাসছে,
দুর্যোগ হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
ময়রা মিঠাইর দোকানিরা
গেলো কই ?
দোকানগুলো বন্ধ করে ঐ।
বিকালের নাস্তায়,
মিলবে আড্ডায়,
চা ,পুড়ি, চটপটি , মোগলাই।
খাব ,দাব, গল্প করবো,
ভেজা ভেজা বৃষ্টির নিশ্বাস নিবো।
শ্রাবনেরই সন্ধ্যায়, ডাকি তোমায়,
সাড়া দেও, প্রকৃতির বিরহ ব্যাথায়।
২১-০৮-১৬,
বরিশাল।

Rupa_Ghosh_Nabadibakar

বাঁচার লড়াই
– রুপা ঘোষ

আজও নিরুপমা বাঁচতে চায়,,,
সমাজ! মুখোশে তার আধুনিকতার বেড়াজ্বাল
যবনিকার অন্তরালে হাত বদলের অঙ্গীকার,,
পুঞ্জীভূত অজস্র নোটের দরবার
তার উপর চাপা পড়ে যায় নিরুপমার ক্রন্দনের হাহাকার,,,
সেদিনের নিরুপমা অচিরেই পিতৃ স্নেহশীলা ভারাক্রান্ত হৃদয়ের বলিদান
আজকের নিরুপমা সর্বজ্ঞাত নিজেই দেয় চাহিদার মান,,,
হাজার ডিগ্রী হাজার জ্ঞানের দরজার করাঘাতে ও সে ম্রিয়মাণ
চার দেওয়ালের আকাশ ছোঁয়া দাবী শেষ হবে না কোনো দিন,,,,
তারই মাঝে হাজার নিরুপমার বাঁচার লড়াই চলেছে প্রতিদিন।

দার্জিলিং
- কাকলী ভট্টাচার্য্য

ঝিরিঝিরি ইলশেগুড়ি
লছে সবাই শিলিগুড়ি
যাচ্ছি সবাই ট্রয়ট্রনেতে
মেঘ কাটিয়ে সেই দেশেতে।

দেখবো পাহাড় দু'চোখ মেলে
ঘুম স্টেশন যেই না এলে
ঝর্ণা যেন ডাকছে কাছে
অদ্ভুত এক ছন্দ আছে ।

চারিদিকে চায়ের বাগান
সবুজ পাতায় মন আনচান
দুটি পাতা একটি কুঁড়ি
যত্নে তুলে ভরছে ঝুড়ি।

চিড়িয়াখানা ও আছে সেথা
পাহার কেটে রাস্তা যেথা
বাঘ, হরিণ আর নানান পশু
দেখে খুশি ছোট্ট শিশু ।

নাম না জানা অচিন পাখি
নানা রঙের ছবি আঁকি
ডাকছে সবাই মিষ্টি স্বরে
উদাসী মন ব্যাকুল করে।

লাল,নীল,সব বাক্সো গুলি
রোপোয়ে নামে লোক যে তুলি
শূণ্যে চলে দুলে দুলে
তারের উপর ঝুলে ঝুলে।

তার পরেতে ভোর রাতে
আসবে গাড়ি দোরগোড়াতে
টাইগারহিল দেখতে যাবো
গরম গরম কফি খাবো।

ফেরার পথে মন খারাপে
মন রেখে যাই পাহাড় ধাপে
আবার আসার প্রতিশ্রুতি
অদ্ভুত এক অনুভূতি ।

Rupa_Ghosh_Nabadibakar

এ কি প্রেম
– রুপা ঘোষ

বসন্ত আজ দাবানল
আমার দুচোখে শুধু
বৈশাখের তপ্ত হাওয়া
এ যেন শুভ সময়ে অশুভ ক্ষন।

হারিয়ে ফেলেছি কক্ষপথের রেখা
ছিন্ন হয়েছে গ্রহের টান
এখন লাভ ক্ষতির হিসাব হারিয়ে
পায়ের তলায় মাটি চূর্ণমান।

পুড়েছে হৃদয়, জীবনের বনতল
ভয়াল আর্তনাদে ছুটছে জীবন
আলেয়ার আড়ালে তুমি
হৃদয় স্পন্দনে তোমার প্রতিকী
শুধু তুমি, আর তুমি।

চারিদিকে শুধু প্রতিচ্ছবি
তোমার আলেয়াকে ঘিরে
মিলন ছন্দে তাল কেটেছে
তপ্ত দহনে জীবন আমার
জানিনা সে কি প্রমাদ।

রূপান্তর ২
- শ্যামশ্রী রায় কর্মকার

পালক ওড়ানো হাওয়ার মত ঘিরে থাকতে আমায়,
দুচোখের নীড়ে দিতে অনন্ত আশ্রয়ের আভাস,
তোমার আদর কেমন পশলা পশলা বৃষ্টি হয়ে
ভিজিয়ে দিত আমার অস্তিত্বের আনাচ কানাচ,
বুকের ভিতর যখনতখন অকারণ মনকেমনের
চিনচিন ব্যাথার মানেও তুমিই ছিলে,
ছিলে আমার উধাও হওয়ার জাহাজখানা,
উদাসী ডুবোপাহাড় হয়েও তুমি
ডুবিয়েছ মাঝদরিয়ায় খামখেয়ালে,
অথচ এখন....
শিকারি বাবলাগাছের মত জড়িয়ে আছ,
কাঁটাগুলো লুকিয়ে আছ গুটিয়ে রাখা আস্তিনের ফাঁকে,
একরাতে মরা চাঁদের আড়াল থেকে
হয়তো বিঁধিয়ে দেবে আমার পাঁজরের নীচে
তিরতির কাঁপতে থাকা পায়রাটার বুকে,
ডানা দুটো সেই কবেই ছিঁড়ে গেছে বেপরোয়া টানে,
আজ তাই বুক পেতে আছি অপলক অন্ধকার জ্বেলে।

২১.৮.১৬

P.V.Sindhu_Sakshi_Malik_Dipa_Karmakar

সিন্ধু সাক্ষী দীপা
- দিব্যেন্দু সান্যাল

সিন্ধু সাক্ষী রেখে দীপার এই উপমহাদেশে
ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে তিন কন্যার দ্যুতি ভেসে আসে ।
আজ এই দেশ মানে সম্মানে গরবিনী
সারা দেশ জুড়ে কোটি কোটি মানুষের মুখে
শুধু একটিই কথা
সিন্ধু সাক্ষী রেখে দীপা ।
তোমরা যে কোথায় লুকিয়ে ছিলে এতদিন
কোনদিন নামই শুনিনি তোমাদের ।
খবরের কাগজে তো রোজ কত নাম দেখি
টিভি খুললেই কত নাম শুনি_____নামের ছড়াছড়ি
বড় হরফের নাম, মেজ হরফের নাম, ছোট হরফের নাম,
নামের জন্য নামজপ ।
সেইসব নাম
তোমাদের তিনটি নামকে যে কোথায় লুকিয়েছিল
আমরা জানতে পারিনি,
নাকি জানতে চাইনি কোনদিন !
আজ তো জেনে গেছি
কাগজওয়ালারা জেনে গেছে
টিভিওয়ালারাও জেনে গেছে
এবার দেখবে ভীড়, দেখবে জন-জঙ্গল
এবার সামাল দিও হুমড়ি খাওয়া অটোগ্রাফ
এবার শিখবে মিডিয়ার মোহময় মায়া ।
আমরা সবাই আজ তোমাদের জন্য বসে আছি
তোমাদের বরন করবো বলে বসে আছি
সাজিয়ে রেখেছি ফুলমালা, কত উপহার ।
আমরা সবাই আজ তোমাদেরই কাছে যাবো
সিন্ধু সাক্ষী রেখে দীপাকে ভরিয়ে দেব আলোয় আলোয় ।
দেখ আজ জনসমুদ্রের কত উল্লাস
শোনো আজ তোমাদের চারিদিকে
মানব সিন্ধুর কল্লোল ।
এই সিন্ধুর কল্লোলে কত সহস্র দীপা মুখ লুকিয়েছে
তার সাক্ষী কেউ কোথ্থাও নেই ।
থাক তারা মুখ লুকিয়েই থাক
আজ শুধু অটোগ্রাফে মুখ ঢেকে যাক ।

দেবী
- ইয়াসির আরাফাত

চোখ মেললেই ফোটে নীলপদ্ম
চোখের সীমায় একটা সোনালি সকাল
ঠোঁটে সহস্র কমলার রঙ
আমায় মাতালের মত করে দেয়।
আমার দু'চোখ নাচে ঢোলকের
মাতাল মধুর তালে
সুগন্ধি ধূপের ধোঁয়ায় ভেসে ওঠে
দেবীর শ্যামল মুখ।
মধুর লগ্নে ভক্তের মত হাঁটু গেড়ে বসি
দেবী,প্রার্থনা নাও,ভালোবাসা দাও
আশীর্বাদ করো-
তুমি কী হাত তুলে বলবে?
-তথাস্তু
(অপরাজিতা ||ইয়াসির আরাফাত)
২১।০৮।১৬ ঢাকা

কালের বিবর্তন
- কবির হান্নান

নৌকা চালাতাে মাঝি
সালিশ করতাে কাজী
রাত্রে ছিল চৌকিদার
এই সব এখন নেইযে আর
কালের বিবর্তনে হারিয়ে
নতুনত্ব দিয়েছে হাত বাড়িয়ে ।
রাত পােহালে লাগে গাড়ী
পৌঁছে যত তাড়াতাড়ি
আনকরা সব আগমনে
চলেছে সব সংগােপনে।
হুঁশিয়ার সাবধান শুনছেনা কেউ আর
বিচার যত কাের্ট কাছারি
ঝুলে থাকে অনন্তকাল
খবর রাখে উকিল তার।
বিবর্তনে আমরা সব ডিজিটাল
গরীব শুধু ছাড়ছে না হাল
দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি খেয়ে যাচ্ছে রুটি ভাত
মধ্যবিত্ত কষ্টক্লিষ্ট বসে দিয়ে মাথায়
হাত
উচ্চবিত্ত আকাশছােঁয়া বুঝেনা অভাব
টাকা ছাড়া কিছুই হয়না এটাই এখন স্বভাব।
কালেব বিবর্তনে সব সুখেই আছি
যাক সব রসাতলে নিজে আগে বাঁচি
এসবের আর কি দরকার
নৌকা চলে বর্ষাকাল
রাতে থাকে দরজা বন্ধ
প্রয়ােজন কি চৌকিদার
কাজী আছে বহাল তবিয়তে
বিয়ে রেজেস্ট্রি করে দিনেরাতে।
কালের বিবর্তনে আর যে কি হবে
নাতীর যুগে হয়তাে সব ঘরে ঘরে পাবে।
....................
(২১/০৮/১৬)

হাড়ি-নাড়ীর
- রাজু আহম্মদ খান

কারেন্ট আসবে কখন জানিনা ,
ইদানিং রাত্রি করে কারেন্ট যায় -
বেশ কিছুদিন হলো
একটানা বিদ্যুৎ পেতাম।

সেই আমলে'তো রোজ আমরা
মোমের আলোয় খেতাম ।
সেকথা থাক ।
তবে এখন আবার কেমন বিদ্যুতের অভাব ?
জানিনা, এটা কোনো কৃত্রিম সংকট, নাকি আবার বিদ্যুৎ বিভাগের অকৃত্রিম স্বভাব।

তা শুধু নয় আজই -
তাহলে এটা কি ধরনের লোডশেডিং?
রাত-দুপুরে তামাশা করেছিলো
এইতো সেদিন।

মানুষের সহ্যের সীমাও
অতিক্রম করেছে হিমালয় শিখরে -
জানিনা এত চিমটে গরমে
মানুষ বাঁচে কি করে ?

আমরা না হয় পাঁচতলায় থাকি,
কারেন্ট গেলে উপরতলার
রিলিফের বাতাসে
রোজ তবে হাফ ছাড়ি -

এখানে চারিধারে বড় বড় জানালা
মাথার উপরে আরেক তলা বাড়ি -

কিন্তু তারা কি করে বাঁচে ?
যারা নীচ তলায় থাকে
ভাপা পিঠার ছাচে !
টিকে থাকে ছোট ছোট জানালায়,
বদ্ধ বাতাসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি ?

আমাদের তো অনেকগুলো কক্ষ,
বৌ- ঝিয়েরা যে যার মত
গরম সামলায় নিরাপদে,

আর ওদের কি অবস্থা?
ওরা যে আছে কত রকম বিপদে?
যারা সর্বদা ঘরভাড়ার আতংকে,
থাকে নীচতলায় একখানা ঘরে,
উপরে নীচে ঘুমায় বিছানা করে -
এতকিছুর ব্যাখ্যা সহ
বলাও যায়না অনেক সময় -

দিনে দিনে মেয়ে দুটোর
বয়স কি আর কম হয় ?

শেয়ানা ছেলে, ভাসুর শশুর
নির্লজ্জ্ব ঘোরে ফেরে -
তাই নিজের ঘর ছেড়ে
রোজ পাক ঘরে ঘুমাতে হয়
ঐ বাড়ির নারীর।

কিন্তু আমিই বা এমিবার মত
কি করে কল্পনায় ও বাড়িতে সিদ কাটি -
খবর নিই, কার ক'টা বালিশ
আর ক'টা হোগলার পাটি -
খবর নিই ছেলে - ছুকড়ি,
বুড়ো বুড়ির, হাড়ি - নাড়ীর ?
--------------------------------------
কালক্ষেপণ - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং- ২০, ২১ আগষ্ট ২০১৭

সংগীত – ২৫
- মোঃ মোহসীনুল হক

পাবনা।
নিশীথ রাতের একাকিনী চাঁদ, গোপনে তারার কানে
কী কথা কোহিছে লুকিয়ে তা দেখে পাপিয়া ডাকিছে বনে।।
ওলো সই দেখ ওলো সহচরী
টিটকারি দিয়া চেঁচায় চকোরী,
রজনীগন্ধা চমকিয়া জাগি তাকায় আকাশ পানে।।
মেঘের বালিকা ভীড় করে এসে ক্ষণিক থামিয়া চায়!
হাঁসিতে হাঁসিতে চাঁদেরে মাজিয়া লাজে ঢলে পড়ে বায়।
কদম তলায় ঝিল্লিরা আসি
ভীড় জমায়েছে বাজাইতে বাঁশি,
কিশোরী জোনাকি জানায় সে কথা আঁধারের কানে কানে।।

তারিখঃ ০৪/০৫/১৯৮৫

প্রথম চুম্বন পরে ফের হবে
- দিব্যেন্দু সান্যাল


একটা ডোরাকাটা কালো-হলুদ ক্ষিপ্র গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো একটা নিরীহ হরিনের উপর । ‘আমার সোনার হরিন চাই’ ভুলে তুমি দুহাতে ঢাকলে তোমার ফেসিয়াল করা লাবণ্যময়ী কথক । ততক্ষনে জঙ্গলের সবুজ কচি ঘাস তাজা লাল রক্তে মাখামাখি । শাখা প্রশাখার মতো সুদৃশ্য দুটি শিং-এর নীচে দুটি চোখ স্হির হয়ে আছে______ যেন তোমাকেই দেখছে বহুদূর কুয়াশার দেশ থেকে । ইস ! কি নিষ্ঠুর, কি হিংস্র, হে ভগবান ! ঘরে ফিরে গালে হাত রেখে তুমি রানী এলিজাবেথ যেন । খুব কষ্ট পেয়েছো তুমি । কিচ্ছু খাওনি সারাদিন । ভীষন দুঃখ পেয়েছো । ‘আমার সোনার হরিন চাই’ ‘আমার রুপোর হরিন চাই’ কিছুই শোনোনি । জানলার ধারে বসে আছো । ঠিক তখনই, সারাদিনের কাজ সেরে ছোট্ট পিঁপড়ে তার ঘরে ফেরে । এত ছোট পিঁপড়ে, তুমি যে কি আর কেমন সেটা ও বুঝতেই পারেনা । তোমার সুদৃশ্য তর্জনী স্হির লক্ষ্যে ধীর গতিতে এগিয়ে আসে । অতঃপর আলতো একটি ঘর্ষন । রক্ত নেই । চিৎকার নেই । হিংস্রতা নেই । নিষ্ঠুরতাও নেই ।
পিঁপড়ের গল্প ফুরালো
নিষ্ঠুরতা মুড়ালো ।

নষ্ট সময়ের কচড়া
- রাসেল আমিন

মানুষের অন্তকোষে ঘুন ধরেছে-
মানবতা সততা বিকৃত করে !
সেখানেই অন্য এক কোষের জন্ম
হিংস্র প্রতারক নামে!
সমস্ত ভুল মিথ্যা তাবু গড়েছে ইচ্ছা স্থানে!
সেই সব মানুষের আড্ডা সেখানে-
ঘুন ধরা অন্তকোষীর সততা বিকৃতদের! আড্ডা জমেছে বেশ বিসৃঙ্খল কোলাহলে নগ্ন রমণী মদিরার নেশায় নাচে!
ভোরের বাতাসে কলংকের গন্ধ আসে অসভ্যের চিত্র ভাসে নমণীয় ধূলটে!
দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার লাগিয়ে; কি নির্লজ্জ!
পরিচয় দেয় মহান নেতা সে!
আমি কি চাই
তারা কি চায়
সবই দেয় ক্ষমতার লোভে|
ক্ষমতা পেয়েছে
আসন গেড়েছে
এখন কে কাকে চিনে||

Arpita_Ghosh_Nabadibakar

ছোবল
- অর্পিতা ঘোষ

উপকারের প্রতিদানে চাইনি কিছুই
বিনিময়ে ভালোবাসা চেয়েও হতাশ!
চারিপাশ থেকে আসছে ধেয়ে,
শুধুই এখন তোমার আঘাত ।
হাসিটুকুও নিয়েছ কেড়ে ,
মনে মোর দুখের নিবাস!
গিলবে আমাকে এখনি বুঝি
দম বন্ধ করা বিষাক্ত শ্বাস! !
(বুঝেছিলে,) সব শেষ হয়েছিল যবে,
(সেদিন ) না হয় যেতেই চলে নীরবে ..
ব্যর্থ ভালোবাসায় সাজাতাম আমার আকাশ!
নিঠুর তুমি! সেটুকুরও দিলে না অবকাশ!

অপবাদের বোঝা নিয়ে বেঁচে থাকা দায়!
উপহাস করে শূধু 'অতীত' আমায়!
বড়ো ভারী লাগে এ জীবনের ভার
এর চেয়ে ভালো ছিল মরণ আমার! !

19/1/2016 tuesday.

মায়াবী বাঁশি
- ওদুদ মণ্ডল

আগুন ঝরা ফাগুন মাসে
মায়াবী এই রাতে,
মন উদাসী বাঁশি বাজে
মোহ ধরে তাতে ৷
বাঁশির সুরে সুর মিলিয়ে
কোকিল ডাকে কুহু,
আকাশ পাতাল প্রতিধ্বনি
আসে মুহুর্মুহু ৷
কোথা থেকে ভেসে আসে
এমন সুরের মেলা,
জল তরঙ্গ সুরের মাঝে
হৃদয় করে খেলা ।
চাঁদের আলোয় এই নিশীথে
কে বাজালো বাঁশি ?
ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে
সুরের ভেলায় ভাসি ৷

সিঙ্গাপুর, ০৭/০৮/২০১৬

Shyamali Debroy

তুমি ও আমি
- শ্যামলী দেবরায়

আকাশের উজ্জ্বল কিরণময় রবি তুমি
বেলাশেষে উন্মুক্ত গগনেরই শশী আমি
একে অপরের পরিপূরক তুমি ও আমি।
ভোররাতে পাখির মধুময় কলরব তুমি
গোধূলি লগনের স্নিগ্ধ সাঁঝবাতি আমি
একে অপরের ছায়াসঙ্গী তুমি ও আমি।
মেঘলা দিনের যে মেঘমালা ওগো তুমি
ঝরঝর মুখোরিত বারিধারা ওই আমি
দুটি দেহে যে এক আত্মা তুমি ও আমি।
তপ্ত দুপুরে ওই তৃষ্ণার্ত হৃদয় শুধু তুমি
তোমারি তৃষ্ণায় যে শীতল পরশ আমি
ধরার বুকে সৃষ্টির ছোঁয়া তুমি ও আমি।
মনের বাগিচার কাজলভোমোরা তুমি
গুনগুন গুঞ্জরিত ভোমরার সুর আমি
হৃদয় বীণারই সুর তাল তুমি ও আমি।
প্রথম প্রেমের ভালোলাগা যে শুধু তুমি
সেই প্রেমের অন্তরঙ্গ মুহুর্ত ওগো আমি
যুগল মিলনের গল্পগাঁথা তুমি ও আমি।
রাতের আঁধারে আবদারের ভাষা তুমি
ওই আবদারের নিরব ভাবনা যে আমি
দুটি অন্তরের সুপ্ত বাসনা তুমি ও আমি।
জীবনের ছায়াপথে সঙ্গি যে শুধুই তুমি
হাতেকলমে পথচলার সীমারেখা আমি
দুর দিগন্তের মিলনমেলা তুমি ও আমি।
তুমি ও আমি

Rupa_Ghosh_Nabadibakar

মন কথা
- রুপা ঘোষ

মনের অন্তঃকোণে জীবন আলেখ্য
বোধহয় ছুটি পেতে চায়,,,
তাই প্রতিযোগিতার ছদ্মবেশগুলো
আজ মর্মে মর্মে ধায়,,,
কার বিচারে আমার শ্রেষ্ঠত্ব
সেই নিয়ে কেন আজ মর্মব্যথা
মনের গভীরতা জানানো
সেকি শুধুই অযথা??
থাক্ পড়ে তোমার বিচারের মানদন্ড
আমার অন্তঃ কোণেই আমার বিচার
মন্দির আমার মনের মহলে
পূজিব আমি, এটাই সদাচার,।
চাই না আমি প্রশংসা,,
উপহাসের মানদন্ডের লোলুপতা
প্রতিবাদ আমার রক্তে
যদি ও তা আমার স্বভাবের বর্বরতা!
পুরস্কার পাওয়ার আশায় সাজাইনি
কোন দিন পূজার থালি,,
মন্দিরের দেবতা মন মন্দিরে থাক
পৌরহিত্য একপেশে খালি!
ভালোলাগার একনায়ক তন্ত্রে
আজ সমাজ ছুটছে
বাহবা দিয়ে ভক্তেরা সব
নিজের পুরষ্কার লুটছে।

ঘন্টা বাধিঁবে কে ?
- কাঞ্চন চক্রবর্তী

একযে ছিল রহিম মিয়া
ধনি অতিশয় |
মনে তাহার সুখ ছিলনা
কষ্ট নিয়ে রয় ||
জমি জিরাত অনেক আছে
আরো আছে মান |
বছর শেষে বিক্রি করে
হাজার মন ধান ||
ধান খেয়ে ঈঁদুর গুলো
হয়ে গেছে মোটা |
ভাবছে এবার রহিম মিয়া
মারবে ঈঁদুর কটা ||
জাঁতা কলে ঈঁদুর মেরে
করতে পারেনা ধংশ |
মাসে মাসে বাচ্চা দেয়
বেড়ে যায় বংশ ||
এক বিকেলে ভাবছে বসে
বিড়াল আনবে ঘরে |
বিড়াল আনলে ঈঁদুর গুলো
যদি মারতে পারে ||
যে কথা সেই কাজ
আনলো বিড়াল হুলো |
একে একে শুরু করল
ধরতে ঈঁদুর গুলো ||
ঈঁদুর দলের সভাপতি
ডাকলো এবার মিটিং |
বিড়াল টাকে মারতে হবো
প্লান করলো সেটিং ||
বাচবো না হয় মরবো
এই আমাদের পন |
আমরা হলাম হাজার হাজার
লক্ষ কোটি জন ||
বিড়ালের গলায় ঘন্টা বেধেঁ
দিতে হবে ভাই |
এছাড়া আমাদের আর
কোন উপায় নাই ||
বিড়ালের গলায় ঘন্টার শব্দ
যাবে যখন শোনা |
শব্দ শুনে আমরা তখন
পালাবো ঘরের কোনা ||
আজ রাতেতে তোমরা সবাই
গোলার নিচে আসো |
জীবন টাকে যদি তোমরা
সত্তি ভাল বাসো ||
সবাই এলো গোলার নিচে
হাতে রেখে হাত |
ঘন্টা যদি বাঁধতে পারো
বিড়াল হবে কাঁত ||
এমন সময় হুলো বিড়াল
সামনে দিলো লাফ |
সবাই তখন ভয়ে কাঁপে
ওরে বাপ রে বাপ ||
সভাপতি বলেন ভয়ে
গায়ে নেই জোর |
তিন বার হাডএ্যাটাকে
পাওয়ার গেছে মোর ||
সবাই মিলে ধরো ওকে
উল্টা করে ঝোলা |
যখন তখন ঈঁদুর ধরা
বুঝবে তার ঠ্যালা ||
এমন সময় হঠাৎ করে
হুলো দিল লম্ফ |
সভাপতির ধরলো টুটি
শুরু হল কম্প ||
তাইনা দেখে বাকি গুলি
জলদি করে পালায় |
বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে
আছে কোন শালায় ||

কবিতাঃ নাং(২১)
রচনাঃ কাঞ্চন চক্রবর্তী
কবিতাঃ ঘন্টা বাধিঁবে কে?
সময়ঃ দুপুর ২ টা
রোজঃ শুক্রবার

অপেক্ষা
- রাজু আহম্মদ খান

কেউ ঘুমায়
দুচোখের পাতা এক করে,
আর কেউ জেগে থাকে
একটি সুন্দর সকালের অপেক্ষায় ।

আমি জেগে থাকি
সকালের অপেক্ষায়,
আর তুমি ঘুমাও
লোভনীয় স্বপ্নের খোঁজে,
আমাদের দুই পক্ষের অপেক্ষার মধ্যে
কতটুকু মিল আছে জানিনা,

শুধু জানি,
আমাদের দু'জনের অপেক্ষার
স্বাদ এক নয়,
তবু এ আমাদের শুধুই অপেক্ষা
এই যুক্তি আমরা কেউ মানি
কেউ মানিনা ।

তুমি যেমন প্রত্যেক রাতে
নাম জানা, না জানা
বিদেশি ফুলের গন্ধে
ঘুমাও সুখে,

আমি ও জেগে থাকি
ঘুম ভাঙ্গাই
কলম ঘোরাই
কাগজের ফুলের গন্ধ শুকে -

যে ফুল ফোটে ঘ্রানহীন,
অথচ সৌন্দর্যে অবিকল,
শতদল, রঙ্গীন -

নতুন একটি সূর্যকে আঁকি
অন্ধকার ঘোঁচাই
কলমের খোচায়
ফোটাই আলো সারাদিন ।

আমারটা বহুমূখী,
তবু সস্তা কাগজের ফুল
বহুজনে, জনপদে চারিদিক -

সেখানে লেখা হয় প্রেমপত্র,
ভুলেও ভাঁজ করা হয়না তাতে
এই প্রেম দেশপ্রেম,
পরিমানে সঠিক ।

এই যে আমি, তুমি বলছি,
আসলে তোমাকে নয় কিন্তু -
তুমি বলে বোঝাচ্ছি তাদের
যারা নাকে শর্ষের তেল দিয়ে ঘুমায় নিরাপদে নিঃশ্চিন্তে -

আর আমি ও আমার মত তুমি -
যারা রাত জেগে লিখি,
অন্ধকার আমাদের ছোঁয়না বলে
অনেক সময় অনেকেই
ভুল করে আমাদের চিনতে ।
------------------------------
কালক্ষেপণ - রাজু আহম্মদ খানের কাব্যগ্রন্থ নং- ২০, ২০ আগষ্ট ২০১৬

মনের টান
- সুনীল সানি সরকার

অদৃশ্য এক অদ্ভুত না জানা ব্যথা
চিন চিন করে বুকের মাঝে অনুভূত হয়
আমার অজ্ঞাতে।
সে কি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ!!!!
না, কাউকে ভালো লাগার
দুরন্ত আবেশ সংকেত।
কাউকে ভালোবাসতে কি
তাকে ভালো লাগতেই হয়?
প্রতিদিন তো কত সুন্দরীর লাস্যময়ী
আকর্ষণীয় মুখমন্ডল
আমার চোখের সামনে আসে।
লিপ স্টিক মাখানো গোলাপ
পাপড়ির হাসি ঝরানো ঠোঁট গুলো
বড়ই ক্ষণস্হায়ী,
চোখের আড়াল হয়ে যায় চিরতরে,
আর ফিরে আসে না ।
ফিরে আসে না সেই হালকা
হলুদ শাড়ির আঁচলের হাতছানি।
হেলে দুলে যাওয়া কোমরের খাঁজ।
তাদের বুকের পর্বত যুগলের মাঝে
প্রবাহিত নদীটিও কেন আমাকে
কাছে টানতে পারে না।
জানো, তোমার মাঝে তো
ওসব না খুঁজেই তোমাকে ভালোবেসেছি।
ভালোবেসেছি একান্তই আমার মনের টানে।

জীবনের কাছে প্রশ্ন
- সালিম আল-দ্বীন

জীবন-সৈকতের আঙিনায়-
সূর্যস্নানের সীমানায় জোয়ার-জলের বিছানায়
পুলক জড়িয়ে পলক হারিয়ে ছুটোছুটি খুঁনসুঁটি
কুন্তল উড়ানো উদ্দাম বাতাসে যৌবন পরিপাটি
কিন্তু তার সৈকতে শুধু রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ারের
ডানা ঝাঁপটানী ; ডাইনি সমুদ্র-গর্জন ডাকে অধির।
জীবন শ্যামলীমা প্রান্তরে-
খালি পায়ে উদাম গায়ে স্নিগ্ধ সমীর নেশায় মরে
নরম ঘাসের শান্ত পরশে চিৎ হয়ে মন স্বপ্নে ভরে
চোখের তারার ক্যানভাসে আকাশ তুলির নীল আঁচরে
কিন্তু তার শ্যামলীমা প্রান্তরে শুধু চোরাবালির ফাঁদ
ঘাসগুলো সাপের মত পা পেঁচিয়ে করে গতি রোধ।
জীবন বাসর সজ্জা-
ফুল শয্যায় পায় লজ্জা মধুরতায় ভরে ভয়ের মজ্জা
বাতাসের কানাকানি, জোছনার উড়াউড়ি; পড়িমড়ি
করে হেঁটে চলে কাল-ঘড়ি; প্রতীক্ষা পূর্নতায় যায় ভরি
কিন্তু তার বেলায় ফুলেরা শয্যার উপর কাঁটা বুনে
আঁধারের গর্ভে জোছনা হারিয়ে যায় বিষাদের গানে।
শুধু তার জীবনের বেলায় এমন কেন? জীবনের কাছে
প্রশ্ন করতেই সে উত্তর পায় আশ্বাসে; নির্নিমেষে-
বিষাদকে বরন করলে তার জীবনটাও নাকি হাসে!
২০/০৮/২২০১৬
© Copyright লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত ®

আলােকিত মানুষ
- কবির হান্নান

ইচ্ছে জাগে বর্ণমালা হয়ে যাই
সাদামাটা মানুষের অন্তরে নিতে ঠাঁই
আতশি কাচে দেখছে এখনাে রােজ
হাতে পেলে বই ভুলে যায় নৈশভোজ।
ইচ্ছে জাগে পাতা বন্দি হই
সাদামাটা মানুষের সঙ্গে রই
এই সমাজ এই সংস্কৃতি
এই দেশ এই জাতীর কথা হই।
ইচ্ছে জাগে দৃষ্টিতে রই
এখনাে রােজ পড়ে যারা বই
এই সমাজ এই সংস্কৃতি
এই দেশ এই জাতীর অন্তরে রই।
বই যারা পড়ে রােজ
এই সমাজ এই সংস্কৃতি
এই দেশ এই জাতীর বিবেকে সুশৃঙ্খল
ওরা সাদামাটা মানুষ ওরা দেশের বল।
ইচ্ছে জাগে তাদের সঙ্গী হই
আলােকিত মানুষ গুলাের সঙ্গে রই
ইচ্ছে যাচ্ছে নীচ থেকে নীচে
স্থান পাওয়া বড়ই কষ্ট ওদের পিছে।
..................
(২০/০৮/১৬)

পুটি মাছের ছা
- এম, এস বাশার

পুটি ছানা-পুটি ছানা তোমার বাড়ী কই
ঘরে হতে আকাশ চড় লাগেনা কো মই!
পালকবিহীন ঘুরেবেড়াও তোমার আকাশ পথে
অবাক খোকা চেয়ে থাকে গগন দৈব রথে!
মা বলেনা খেলতে মানা-নাইতে মানা নাই
আমি তোমার বন্ধু হতে বেজায় খুঁজি ভাই!
সকাল হলেই নেইকো তাড়া পাঠ্যজ্ঞানের ভার
এমন জীবন এ ভূবনে আছে বল কার!
পুটি ছানা পুটি ছানা আসবে আমার বাড়ী!
শানবাঁধানো পুকুরপাড়ে থাকব লয়ে গাড়ি!
বিকেলবেলা লাটাই হাতে আমরা যাব মাঠে
পান করতে পুকুরপাড়ে-মিঠাই খেতে হাটে।
তুমি যবে আসবে প্রিয় একা
আমার মা যে অনেক ভাল, আসলে পাবে দেখা!!

ও আমার দেশ
- হাফিজুল ইসলাম মৃদুল

ও আমার দেশ
তোমাকে চিনতে একটুও বিলম্ব হবে না
বৃষ্টিস্নাত তোমার ভেজা উর্বর শরীর
অংকুরিত বীজের প্রথম শেকড়ে মূলরমে
সহস্র জন্মেরা হাসে।
তুমি মিশে আছ
সবুজ শ্যমল প্রকৃতিতে
দোয়েল পাখির ধূসর সাদার মিশ্রণে
কৃষ্ণচুড়ার উজ্জ্বল টকটকে লালে
আর ঝিলের জলে অজস্র শাপলার শ্রুভ্রতায়।
তোমাকে চিনতে একটুও বিলম্ব হবে না
তোমাকে চিনি অগ্রহায়নের হলুদ ধানের শীষে
তোমাকে চিনি শীতের প্রভাতের কুয়াশায়
খেজুর রসের পিঠে পায়েসের স্বাদে
শিমুল তুলার গরম লেপের নিচের সুখ নিদ্রয়।
রবীন্দ্রনাথ,নজরুলের গান, জীবনানন্দ দাশের কবিতা
শামসুর রহমান,মাইকেল, আল মাহমুদ
তোমাকে চিচিয়েছে সৃষ্টির আনন্দে,
শিল্পী জয়নুল, এস,এম সুলতান, রেফাজউদ্দিন বাবলুর তুলির আঁচড়ে
শেখ মুজিবের সাত-ই মার্চের ভাষনে
রক্তাক্ত সংগ্রমের লাল সবুজ পতাকায়
জীবন্ত তুমি।
তোমাকে চিনতে একটুও বিলম্ব হবে না
তোমাকে চিনি ফসলের ক্ষেতে কৃষকের শত পরিশ্রমে
তিলে তিলে বেড়ে ওঠা শস্যের লকলকে ডগার হাসিতে
তোমাকে চিনি মাঠে ময়দানে, শহরে বন্দরে
হাটে-বাজারে অজস্র মানুষের ভিরে
জীবন সংগ্রামে সুখে-দুঃখে স্বপ্নে।
জীবন নদীর তীরে মরণের পরে
আবার যদি কভু আসি ফিরে
তোমাকে খুঁজে নেব অজস্র শাপলা ফোটা ভোরে
দূর্বা ঘাসের ডগায় শিশির কণা