জুলাই 2016

খোকার টিভির রিমোট
- আমিনুর রহমান নিরব

খোকা টিভিতে আজ
দেখবে মজার কার্টুন,
কোনটি যে সে দেখবে?
চাপছে রিমোট বার্টুন।

ভেবে চিন্তে খোকার
অনেক হল দেরি,
ওদিক টাতে হচ্ছে শুরু
টম এবং জেরি।

চাপতে চাপতে খোকা
রিমোট ধরেছে উল্টু,
এদিক টাতেও শুরু
হল নাট বল্টু।

এত্ত সব দেখতে চেয়ে
খোকার মুখটা ভার,
কারন শেষ হয়েছে যে
হাসির গোপাল ভাঁড়।

এক টিভিতে এত কিছু
দেখার সুযোগ কই?
খোকা রিমোট ফেলে
পড়ছে মজার বই।

বৃথা টাকার বড়াই
- কাঞ্চন চক্রবর্তী

এপার ভাঙ্গে ওপার গড়ে
এই তো নদীর খেলা |
সকাল বেলা রাজা উজির
ফকির সন্ধ্যা বেলা ||
আজকে তোমার টাকা আছে
বড়াই করো তার |
চোখ বুজলে থাকবে সবই
ভবের এ কারবার ||
টাকার নেশায় মত্ত হয়ে
খাচ্ছো তুমি ঘুষ |
এ জনমে না হয় তোমার
কবে হবে হুষ ||
আল্লার সাথে পাল্লা দিয়ে
যাচ্ছো তুমি গোল্লায় |
তোমার পাপের ভরা ডুবি
কি করবে আল্লায় ||
পাপে পাপে পূর্ণ হবে
তোমার পাপের পাল্লা |
সময় থাকতে ভাল হও
উপরে আছেন আল্লা ||
আজকে তোমার টাকা আছে
আমার হয়তো নাই |
অন্যায় কে ন্যায় বানিয়ে
বৃথা টাকার বড়াই ||
এতো টাকা সোনা গহনা
কেমনে নিবা ভাই |
যে কাপড়ে যাবে তুমি
তাহার তো পকেট নাই ||
টাকা হাসি টাকা কান্না
টাকাই তোমার সুখ |
অসৎ পথে করলে কামাই
হতে পারে দুখ ||
বাঁচায় জীবন মারে জীবন
সবই টাকার খেলা |
যেদিন তোমার সাঙ্গ হবে
ভবের মিলন মেলা ||
আমার টাকা আমার বাড়ি
করছো নিয়ে কাড়া কাড়ি |
কেউ করোনা বাড়াবাড়ি
যেতে হবে তাড়াতাড়ি ||
রেলের টিকেট আছে কাটা
শেষ বিচারের ঘন ঘটা |
করো কেন ঝটাপটা
ঈমান শক্ত কররে বেটা ||
ঈমান যায় না টাকায় কেনা
শেষ বিচারে থাকলে দেনা |
বিচার পতির একই দশা
আজরাইল তো ঘুষ খাবে না ||
নেকি হবে বড় উকিল
ঈমান হবে জাজ |
শরির তোমার নগ্ন হবে
রবে নাতো লাজ ||
টাকার বস্তা পড়ে রবে
সোনা দানা একই ভাবে |
আপন মানুষ ভাবো যারে
সঙ্গে তোমার নাহি যাবে ||
টাকার মহে বিবেক মরে
ধরবে তোমার কালাজ্বরে |
নিজের উকিল নিজেই হবে
উকিল মুক্তার কেউ না রবে ||
আমার টাকা আমার বাড়ি
করছো কেন বড়াই |
সবই ফেলে যেতে হবে
তবে কেন লড়াই ||

কবিতাঃ বৃথা টাকার বড়াই
রচনাঃ কাঞ্চন চক্রবর্তী
তারিখঃ ১৩/০৭/২০১৬ ইং
সময়ঃ রাত ১১/২৫ মিনিট
রোজঃ বুধবার

( সুধি পাঠক বৃন্দ আমার বৃথা টাকার বড়াই কবিতা টি ককসাস গ্রুপের অ্যাডমিন কবি আমার শ্রোদ্ধা ভাজন ব্যাক্তি জনাব আতিকুল হাসানের নামে উৎসর্গ করলাম কাঞ্চন চক্রবর্তী)

ঐ মদিনার পথে
- শেখ সুমাইয়া সুলতানা

তোমরা কে যাও ভাই শুনি ঐ মদিনায়?
আল্লাহু আকবার বলি,
আমার - লাগিয়া আনিও তোমরা
ঐ মদিনার পবিত্র পথের ধূলি!

আমি অধম বাংলাদেশী
থাকি দূর বহুদূর,
কেমনে যাবো ঐ মদিনায়
পারি দিয়ে সাত সমুদ্দুর!!

দিবস - রজনী মোর নয়নে
ভাসে ঐ মদিনার ছবি,
হতাম যদি পাখির মতো
দেখে আসতাম মদিনার রূপ যা আছে সবই।

যে মদিনার পথের ধূলি
মোর নবীজির স্মৃতি চারণ করে ,
ও ভাই ঐ মদিনার কথা যে
মোর শুধুই মনে পড়ে।

কত হাজী হজ্জ করিলো,
ঐ মদিনার দেশে,
আমি অধম কেঁদে মরি
আজও বসে বসে ।

মুখোশের আড়ালে
- মিঠু সিং

মুখে মুখোশ এঁটে
এসেছিলে ছুটে ,
বলেছিলে কেয়ারফুল
সবই ছিল ভুল !

ফোনে কত কথা
সবই অযথা ,
আসলে অর্থ লোভ
মনে জমলো ক্ষোভ ,

ঠকানোর লোভে অন্ধ
পেয়েছি নকল গন্ধ ,
শুধুই হৃদয় হীন
বাজেনা কোন বীন ।

ধরা পড়লো চালাকি
টিকলো না ভেলকি...
অনেক দিন পরে
এলে ফেসবুক ধরে !

আমি আছি বেস্ট
পাঠালে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট,
সবাই ল্যলপা নয়
দুর কর সংশয় ।

এখনো আছে অনেকে
বিক্রি করেনা নিজেকে,
মাথা উঁচু করে...
চলতে চলতে মরে ।।

আবেগের আবেশে
- বিপদতারণ দাস

আবেগের আবেশে
মিডিয়ার বাড়াবাড়ি
কতশত মোমবাতি
অবেগেতে --গলি l

পালিশের নালিশে
বোতলেতে অভিযোগ ,
প্রেমিকার ডক এতে
থামলো জীবন ভোগ l

শহীদের মর্যদা -
মোমবাতির কত শিখা ,
বিচারের বাণী --
মিডিয়া -জাস্টীস l

বোতল ভর্তি রক্তে
অন্য কোন শর্তে
জীবন খুঁজে পরাজিত -
মৃত্যু তাদের - ভক্ত l

কই তাদের খবর ?
যাদের জীবন আটকে ,
লাল মদিরারূপ -রক্তে
বোতলে মৃত্যু তাদেরও l

সকল মৃত্যু শহীদ নই
মোমবাতির গরমে -
ফ্যাশন বেশি, মানবতা কম -
জান কি মোমবাতির দম ?

সমাজের ডিজিটল মেরুদন্ডটি
আরো বাঁকা হোক - ζζζ
সব মায়েদের চোখের জল
মিডিয়ার বোতলে বন্দি হোক l l
------- ভুজুঙ মাঝি
©বিপদতারণ দাসের কবিতা

শ্রাবন শৈশব
- মোঃ আহসান হাবিব

রাত দিনের ভেলায় চড়ে, সময় গেছে গড়ে আজ পা ষাটের কোঠায়।
পঞ্চযুগ হেটে স্মৃতির আঁখি পটে শৈশব নড়ে উঠে শূন্য হিয়ার পতায়।
ফিরতে মন চায় আজ, হারিয়ে যাওয়া গাঁ’য় ছেলেবেলা কেটেছে যেথায়।
ব্যাথাতুর হৃদয় দিয়ে ভাবি হারিয়ে গেছে সবি বহুদূর অতীত অজানায়।

আজ বাদল বরিষনে শ্রাবণের দিনে মনে পড়ে হারানো বর্ষার শৈশব।
কতযে আনন্দ মাতামাতি, শৈশব খেলার সাথী হারিয়েছে কোথায় সব!
শ্যামল ঘেরা গাঁয়ে সুখ বেদনা স্মৃতির না'য়ে ভেসে আজ করি অনুভব।
পাবনা ফিরে কভু মন ফিরে পেতে যায় তবু হারানো শৈশব, অসম্ভব!

কাঁদার রাস্তা মাড়িয়ে শত কষ্টে বুকে বই জড়িয়ে যেতাম পাঠশালায়।
কাঁদা যেতে ধুতে পড়েছি পানিতে, কত যে হয়েছে! এখন হাসি পায়।
ছেলেটে ছবি আাঁকা, মনের মাধুরিতে আঁকা-বাঁকা নাম নাজানা খেরায়-
হটাৎ মারামারি, কখনও আড়ি চোখে জল কান্নায় নিমেশেই মিটে যায়।

বাড়ি ফিরে রাখতাম বইখাত ছুড়ে, ছুটতাম নাইতে খালে কিংবা পুকুরে।
কখনও বৃষ্টি মাথায় বাতাবি লেবু পায় খেলতাম সবে মিলে মাঠের পরে।
কখনও নৈল খেলা, কিংবা বরফ, গাছ থেকে লাফ অনন্দে পানির উপরে।
বাসায় ফিরতে দেরী হলে মা আসত চলে লাঠি হাতে দাড়াত হাকত দূরে।

নাখেয়ে টিফিনের টাকা জমায়, চারআনা হলে পরে হায় গঞ্জের হাটে যাই।
কিনে সুতা, বরসি, মূয়ের পাখনা, সীসা ফিরে আসা খেয়া পেরিয়ে গাঁ’য়।
বৃষ্টি হলে বিলে কখনও দোড় পেতে নালায় আনন্দময় ঝুম ঝুম বৃষ্টি মাথায়।
কখনও গামছা জাল বানিয়ে নতুবা ছিপ দিয়ে হরেক মাছ ধরে ফেরা বাসায়।

হারিকেন, কুপির আলোয় বসতে হতো পড়তে সন্ধ্যায় মশার কামড় গায়।
চারিদিকে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকে কখনও কিরকিরি হাকে ছন্দে কান মাতায়।
থেকে থেকে শিয়ালের হাক বেঙেও তুলতো ডাক অভিনব সুরের মূর্ছনায়।
চোখে ঢুলু ঢুলু তন্দ্রা, মায়ের হাকে ভাঙ্গত সব, রাতে খাওয়া শেষে নিদ্রায়।

আজ নির্ঘুম রাত একাকী, খেলা করে আধার রাতে জোঁনাকি চেয়ে দেখি।
সব নিঃশ্বেষ হয়ে শেষ সীমানায় যেয়ে মিশে আছে স্মৃতির পাতায় আঁকি।
অতীত দিনগুলো হাসি-খুশি বেদনা এলোমেলো সব দিয়েছে আজ ফাকি।
আজ যাবার বেলায় স্মৃতিগুলো মোরে কাঁদায়, এ মন শূন্য কেউ বোঝে কি????

৩১, জুলাই, ২০১৬ ইং, রবিবার, ঢাকা। (১১.১১ এ.এম, ফার্মগেট)

পুরাতন বৎসরের জীর্ণক্লান্ত রাত্রি
ওই কেটে গেল; ওরে যাত্রী।
তোমার পথের 'পরে তপ্ত রৌদ্র এনেছে আহ্বান
রুদ্রের ভৈরব গান।
দূর হতে দূরে
বাজে পথ শীর্ণ তীব্র দীর্ঘতান সুরে,
যেন পথহারা
কোন্‌ বৈরাগীর একতারা।

ওরে যাত্রী,
ধূসর পথের ধুলা সেই তোর ধাত্রী;
চলার অঞ্চলে তোরে ঘূর্ণাপাকে বক্ষেতে আবরি
ধরার বন্ধন হতে নিয়ে যাক হরি
দিগন্তের পারে দিগন্তরে।
ঘরের মঙ্গলশঙ্খ নহে তোর তরে,
নহে রে সন্ধ্যার দীপালোক,
নহে প্রেয়সীর অশ্রু-চোখ।
পথে পথে অপেক্ষিছে কালবৈশাখীর আশীর্বাদ,
শ্রাবণরাত্রির বজ্রনাদ।
পথে পথে কন্টকের অভ্যর্থনা,
পথে পথে গুপ্তসর্প গুপ্তসর্প গূঢ়ফণা।
নিন্দা দিবে জয়শঙ্খনাদ
এই তোর রুদ্রের প্রসাদ।

ক্ষতি এনে দিবে পদে অমূল্য অদৃশ্য উপহার।
চেয়েছিলি অমৃতের অধিকার--
সে তো নহে সুখ, ওরে, সে নহে বিশ্রাম,
নহে শান্তি, নহে সে আরাম।
মৃত্যু তোরে দিবে হানা,
দ্বারে দ্বারে পাবি মানা,
এই তোর নব বৎসরের আশীর্বাদ,
এই তোর রুদ্রের প্রসাদ
ভয় নাই, ভয় নাই, যাত্রী।
ঘরছাড়া দিকহারা অলক্ষ্মী তোমার বরদাত্রী।

পুরাতন বৎসরের জীর্ণক্লান্ত রাত্রি
ওই কেটে গেল, ওরে যাত্রী।
এসেছে নিষ্ঠুর,
হোক রে দ্বারের বন্ধ দূর,
হোক রে মদের পাত্র চুর।
নাই বুঝি, নাই চিনি, নাই তারে জানি,
ধরো তার পাণি;
ধ্বনিয়া উঠুক তব হৃৎকম্পনে তার দীপ্ত বাণী।
ওরে যাত্রী
গেছে কেটে, যাক কেটে পুরাতন রাত্রি।

কলিকাতা, ৯ বৈশাখ, ১৩২৩

হাজার চুরাশির মা
গোপেশ দে

জীবন প্রদীপ নিভে গেছে
নেভে নাই পৃথিবীর 'পরে তোমার এই কৃতকাজগুলো।
ওই তো বইয়ের পাতায় শোনা যায় মর্মর ধ্বনি
ট্রাইবাল মানুষের দুঃখের স্ফুলিঙ্গ,তাদের জীবনের টানাপোড়েন,সময় স্পিকটিনট।
মেরুদন্ডের মাঝে শক্তি পেয়েছে তারা,তারাও ভারত মাতা
হে স্তন্যদায়িনী মাতা তুমিও পেয়েছো ঠাই ইতিহাসে;সেও কোনো এক মায়ের জন্যে
হাজার চুরাশির মা প্রদীপ জ্বালিয়েছো এই ধরণীর ঘরে।জীবনের দুঃখ কষ্ট নিংড়ে দিয়েছিলে তুমি খেরোখাতার কোণে কোণে।
পৃথিবী তাকিয়ে আছে অম্লান বদনে কাজের সাক্ষী হয়ে আর আদিবাসী জনতা বড্ড বেশি শোকাবহ আর নস্টালজিক
কেননা তুমি যে ওদের পাশে গর্বিত হয়ে বসে আছো।

Nabadibakar_Writer_30

হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি
- মনিরা ফেরদৌসি

শয্যা পাশে আঁচল ছায়ে
জড়িয়ে রাখতে চাই,
কন্ঠে আমার বসন্ত ফাগুন
শরত যে যায় নাই।
লজ্জা রাঙা বৃন্তগুলো
লাল হয়েছে তাই,
মন টেকেনা ঘরে আমার
ধৈর্যের সীমা নাই।
নদীর পাড়ে কাশ ফুলেরা
দাঁড়িয়ে সদা পায়,
বদ্ধদ্বারে ঘরের ভেতর
আর কি থাকা যায়?
নুপুর পায়ে খুঁজে বেড়াই
শান্ত দুপুরবেলা,
হারিয়ে যেতে দেব না আর
সুখের দিনগুলা।।

অভিমানিনী
- মিন্টু উপাধ্যায়

শীতের সকাল, দূরন্ত গতীতে ট্রেনটা সামনের দিকে ছুটে চলেছে ।
জানালার ধারে বসে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে চোখের সামনে ক্রমশ কেমন যেন ধোঁয়াশা ছেয়ে যেতে লাগলো । দূরে... বহু দূরে... কুয়াসার চাদরে ঢাকা ছোট ছোট পাহাড়গুলোকে দেখে মনটা কেমন করে উঠলো । এক দৃষ্টে সেই দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই দুচোখ বুঝে এলো ।
চায়, চায় বোলো চায় ।
চকিতে ঝিমানো ভাবটা কেটে গেলো ।
চা ওয়ালাকে একটা চা দিতে বললাম ।
ভালো করে চাদরটাকে জড়িয়ে নিয়ে বসলাম । কিছুক্ষণেই এলো মেলো চিন্তায় মনটা ভরে উঠলো । মনের গভীর থেকে কিছু স্মৃতি উঁকি দিতে উঠলো ।
চায়ে চুমুক দিয়ে আবার ও পড়লাম চিঠিটা ।
প্রিয়তমা...বৈশাখী
জানি তুমি ভাল আছো । কয়েকদিন ধরে লক্ষ করছি নিজেকে বড্ড একলা একলা মনে হচ্ছে । শক্তিহীন হয়ে পরছি । শূন্যতা, নাকি নিঃসঙ্গতার জন্য, আমি বলতে পারবো না । পড়ন্ত বিকালে দমকা হাওয়ার মতই তোমায় ভালবেসে ছিলাম, তুমি সেটা জানতে । শরীরে রক্তের প্রতিটা কণায় কণায় তোমার উপলব্ধি বুঝতে পারতাম । তুমিই ছিলে আমার প্রানপাখি । তুমিই ছিলে আমার সুখের একমাত্র চাবি কাঠী ।
কিন্তু আজ শূন্যতা আমায় নিষ্ঠুর ভাবে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে ।
আমার জীবনে তুমি আসার আগে ভাবতাম, হয়তো এই জীবনে এই অভাগাটাকে কেউ ভালবাসবে না । কিন্তু আমি ভুল ভাবতাম, তুমিই সেটা প্রমান করে দিয়েছিলে ।
কিন্তু আজ তুমি আমার পাশে নেই ।
কেন ? কেন আমায় ছেড়ে গেলে তুমি ?
জীবনে তো বেশী কিছু চাইনি আমি, শুধু তোমাকে ছাড়া । আজ তুমিও পাশে নেই, থাকলে হয়তো তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতাম ।
কি ভুল করেছিলাম আমি বলতে পারবো না, আর তুমি একবারও জানানোর প্রয়োজন বোধও করনি ।
আমার ওপর বিশ্বাস কি তুমি হারিয়ে ফেলেছিলে ?
তুমি আমায় ছেরে চলে গেলে ।
আজও আমি তোমার ঐ চলে যাওয়া পথের দিকেই তাকিয়ে থাকি ।
যদি তুমি ফিরে আসো, ছুট্টে এসে জড়িয়ে ধর আমায় । কিন্তু তুমি এলে না ।
দেখবে একদিন এই শূন্যতার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতেই, শূন্যতেই ফিরে যাব, একদিন তোমার ঐ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথেই আমিও বিলীন হয়ে যাবো ।
তুমি চাইলেও আর আমায় দেখতে পাবে না ।
তোমার অনেক সময় নিলাম, তার জন্য ক্ষমা করে দিয়ো ।
"ভাল থেকো তুমি"
ইতি
তোমার...সুমিত
চিঠিটা পড়তে পড়তে চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো, বুকের ভেতরটা কেমন যেন কন কন করে উঠলো ।
নিজের অজান্তেই চিঠিটাকে বুকে আঁকড়ে ধরে অঝরে কেঁদে ফেললাম ।

পিতা তুমি যে অমর তোমার মৃত্যু নাই
ওরা নির্বোধ,ওরা বোকা তাইতো বুঝে নাই
মুজিবদের কখনো কভু হত্যা করা যায় না
ওরা বেঁচে থাকে যুগযুগ হয়ে আদর্শ,প্রেরণা ৷
ওরা বুঝেছিলো মুজিব মানেই বাংলাদেশ
তাই তোমায় হত্যা করে ভেবেছিলো সব শেষ
ওরা জানেইনা মুজিব কখনো হয়নাকো শেষ
মুজিব মানেই প্রিয় স্বাধীনতা,প্রিয় বাংলাদেশ ৷
তোমার অভাবে পিতৃহারা হয়েছে এই দেশ
তোমার ঋন শোধ হবেনা তুমিই যে এক দেশ
তুমি মুজিব,তুমিই স্বাধীনতা,তুমিই বাংলাদেশ
লক্ষ মুজিব দিচ্ছে পাহারা তোমার বাংলাদেশ ৷

মহান পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য ...
ঈশ্বর চন্দ্র
- বিপদতারণ দাস

বর্ণে তে যাঁর পরিচয়
কর্ম তে তাঁর মহানত্ব ,
ভুলি নি গো ভুলি নি
ঈশ্বর তুমি -সংস্কারে ,
বিদ্যাতে সাগর তুমি
নারী শিক্ষায় মহানত্ব ,
দানের হাতটি তোমার
দীনেতে -- সদা মুক্ত ,
বিদ্যার সাগর তুমিই
দান সাগর ঈশ্বর চন্দ্র l l

----------------ভুজুঙ মাঝি
©®বিপদতারণ দাসের কবিতা

ভালোবাসার ঘর – ৪
- মোঃ মোহসীনুল হক

নদীর ধারে বটের তলে বেঁধেছি তোর ঘর
এই ঘরেতে থাকব মোরা সারা জীবন ভর।
প্রজাপতির ডানা দিয়ে
করবো শাড়ীর আঁচল প্রিয়া
শীতল বাতাস বটের পাতায় করবে থরো থর-
উদাস হাওয়া ডাকবে তোমায় দুলিয়ে তরু-কর।
তোমার জন্য বেঁধেছি ঘর তালের পাতা দিয়ে
এই ঘরেতে বুকের কাছে থাকবে সুখে প্রিয়ে।
নদীর ধারার স্বচ্ছ পানি
ঘুম পাড়াবে ছলছলানি
থাকব মোরা সুখে দুখে চির নতুন হয়ে,
বাধব হেথা সুখের বাসর তোমায় বুকে নিয়ে।
নতুন করে চাইছে কাছে,তোমায় আমার বুক,
নদীর জলে ধুইয়ে দেব তোমার যত দুখ।
নদীর ধারে বটের তলে
আসবে হেথা নানান ছলে,
স্বচ্ছ জলের আয়নাতে ঐ দেখবে তুমি মুখ,
তোমায় পাবো নতুন করে সেই তো চরম সুখ।
আমার পাশে আমার কাছে সাথের সাথী হবে,
চিরকালের বন্ধু হয়ে চিরকালই রবে।
তোমার ঠোঁটের হাসি নিয়া
গড়বো তোমার জীবন প্রিয়া
তুমি আমার আমি তোমার বলবে লোকে তবে,-
“স্বর্গ এনে রাখছে ধরে-তোরা যা দেখে তা সবে”।
গাঁয়ের কোলে নদীর ধারে ছোট্ট কুটীরে
সুখের ছোঁয়ায় করবো সোনা ধূলা মুঠিরে।
মেঘে ধোয়া চাদর আনি
পাড়বো তোমার খাটে রাণী
হেথায় তোমার গড়বো বাসর দুঃখ নাশীরে,
বাহুর ডোরে রাখবো বেঁধে মুসকি হাঁসিরে।
এই কুটীরে এসো তুমি, এসো আমার মিতা
স্বচ্ছ জলের আয়না দেবো, রঙধনুকের ফিতা
উদয় তারার শাড়ি দেবো
লাল মোরগের ওড়না দেবো,
শাপলা তুলে মালা দেবো, জড়ির জামা জুতা;
আমি হবো মহেশ্বেতা, তুমি দ্বীপাম্বিতা।
তুমি আমায় ভালোবাসো তাই তো তোমায় চাই,
পরাণ খুলে বাসবো ভালো – দেবার কিছু নাই।
এই ঘরেতে তোমায় নিয়ে
রচব নতুন বাসর প্রিয়ে
মধুর করে বুকের মাঝে তোমায় যেন পাই,
ছিল যাহা দিলাম তাহা – আর তো কিছু নাই।
তারিখঃ ২৯/০৭/২০১৬

গাঁয়ের পথে
- অনাদি চক্রবর্তী

পথগুলো কি তেমনি আছে
তেমনি আঁকাবাঁকা,
দু'ধারেতে ধানের মাঝে
ধূসর রঙে আঁকা।
আল পেরিয়ে যখন আমি
গাঁয়ের পথে যাব,
গ্রাম ছাড়া সেই রাঙামাটির
পথ কি আবার পাব।
রাঙামাটির পথটি ধরে
গাঁয়ের পথে যেতে,
আম-কাঁঠালের গন্ধেতে কি
উঠবে পরাণ মেতে।
গাঁয়ের মাঝে শুনতে পাব
উঠছে কোলাহল,
ধূলোর পরে কোরছে খেলা
ন্যাংটো শিশুর দল।
দল বেধে কি পুকুর ঘাটে
গাঁয়ের বৌয়ে ঝিয়ে,
তেমনি করে বাসন মাজে
ঘোমটা মাথায় দিয়ে।
পদ্মফোঁটা পদ্ম দিঘী
তারই ফাঁকে ফাঁকে,
পানকৌড়ি ঘুরে বেরায়
সোনালি রোদ মেখে।
গাছের ডালে মাছরাঙাটি
চুপটি করে বসে,
পুকুর পানে চেয়ে থাকে
মাছ ধরবার আশে।
রঙ-বেরঙয়ের প্রজাপতি
ফড়িং ঘাষে ঘাষে,
সন্ধ্যাবেলা জোনাকীরা
প্রদীপ হাতে আসে।
গাঁয়ের শেষে আছে কি সেই
ভগ্ন কুটিরখানি,
যে ঘরেতে থাকত সুখে
রাজার দুয়োরাণী।
মেঘ বরন কন্যাটি তার
কুঁচ বরন চুল,
আঙিণাতে ডালে ডালে
চম্পা-চাঁপা ফুল।
এখনো কি পরাণ কাঁদে
কাজলা দিদির তরে,
বাঁশ বাগানের মাথার উপর
চাঁদ উঠলে পরে।
যদি বলো এসব কিছুই
দেখতে আজও পাবো,
তাহলে আবার আমি
তোমার গাঁয়ে যাবো।
পানের বরজ থেকে না হয়
এক জোড়া পান নিয়ে,
চেয়ে নেব পান-সুপাড়ী
তোমার বাড়ি গিয়ে।
কোলকাতা , ২৯/০৭/১৬

দুরত্বহীন দুরত্ব
- আশরাফুল ইসলাম

দেহের ভিতরে দেহ,
দুধজলের মতো মিশে আছে মৃওিকা ভান্ডে।
চোখের ভিতরে আরেক চোখ নির্ঘুম জেগে থাকে
চেতনার মাঝে চেতনা দিবারাএি কে,কাকে খুঁজে?
মনের গভীরে লুকিয়ে কাঁদে অন্য মন;
ঘাসের শরীরে শিশির কান্নার মতোন
অশ্রু শুকায় দিনের আলোয়।
বেদনার নীলচাদরে ঢাঁকে কষ্টের অষ্টোপ্রহর।
ছায়ার অবয়বে ছায়া অস্তিত্বের মধ্যে অস্তিত্ব
আমার আমিরে খুঁজে পাইনা;দুরত্বহীন দুরত্ব।

এক সময় যা ছিল

রঙিন রিকশার ব্যাক-সাইডে

প্রিজমার ছোঁয়ায় এখন

আসলো তা ফেইসবুকের ফ্রন্ট-সাইডে।

 

কেউবা নিচ্ছে ইনবক্সে

কেউবা দিচ্ছে রিকোয়েস্টে

প্রিজমার ছবি বাহারি সিকোয়েন্সে।

 

আমজনতা কিংবা সেলি্ব্রেটি

এখন ব্যস্ত সবাই পোজ দিতে

প্রিজমার পরশে বাহারি ঢং এর ছবি।

 

জীবন
- সুনীল সানি সরকার

জীবনটা পদ্ম পাতায় এক বিন্দু জলের মতো
ক্ষণস্হায়ী ও উজ্জ্বল, কখনও বা বিবর্ণ।
তরলের কেন্দ্রাতিক বলের টানে
আকারহীন তরলও যেমন একটি
গোলাকার বস্তুতে পরিণত, তেমনি জাগতিক নিয়মেই জীবনটাও মোহ লোভ লালসা প্রাপ্তির গোলকধাঁধায়
অনবরত পাক খেয়ে খেয়ে ক্লান্ত অবসন্ন।
মৃদুমন্দ বাতাসে দ্যোদুল্লমান জলকণাটি
ঠিক স্বচ্ছ কাচের গুলির মতোই স্থান পরিবর্তন করে। কখনও তার অবলুপ্তি ঘটে।
জীবনের সাথে এর অনেকটাই সাদৃশ্য মেলে।
আলোর প্রতিফলনে উজ্জ্বল মুক্তো হয়ে কিছুটা
বিচ্ছুরিত হয়ে সরলরেখা বেয়ে চলে যায়।
এক্ষেত্রে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মান
সর্বদা সমান হলেও জীবনের ক্ষেত্রে তা কখনোই
সমান হয় না।
জলের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা নেই, জীবনের আছে।
জলের কোনো রঙ নেই কিন্তু জীবনের হাজারো রঙ।
জীবন নদীর ঘূর্ণিপাকে জীবনের দুটোই রঙ।
কখনো বিষাদের, কখনও বা হরষের।
যদিও সেটি মৌলিক রঙ নয় যৌগিক।

Shyamali Debroy

সুষমা
- শ্যামলী দেবরয়

ধুসর ধুলোর ধমনীতে ধুমায়িত ধরিত্রীমা।
কষ্টের কলঙ্কময় কালের কাজল কালিমা।।
নির্ণয় নিয়মের নিন্দিত নির্দিষ্ট নির্দেশনামা।
মরমিয়া মরমির মর্মের মর্মাহত মর্ম মহিমা।।
তটিনীর তরঙ্গ তালের তৃষ্ণার্ত তিলোত্তমা।
লোকালয়ে লুকায়িত লাবণ্যেরই লালিমা।।
প্রলোভনে প্রলোভিত পাপি প্রাণের পরমা।
বিধাতার বিধানেই বশীভূত বাস্তব ব্যাঙ্গমা।।
শেষপর্বে শেষপ্রান্তে শেষকৃত্যে শিরোনামা।
উন্মাদনা উন্মত্ততায় উন্মুক্ত উড়িবে উপমা।।
সায়াহ্নে সন্ধিক্ষণে সে সাধ্য সাধনার সুষমা।

গীতি কবিতা-৯
- হাফিজুল ইসলাম মৃদুল

আমরা কৃষক এই দেশের
আমরা করি জমি চাষ
আমাদের রয়েছে সমতল ভূমি
ফসল ফলে বারমাস
এই দেশ আমার বাংলাদেশ।।
আমরা মাঝি নৌকার দাঁড টানি
আমরা জেলে ধরি মাছ
আমাদের রয়েছে সংগ্রামী মন
গড়বো সবাই সুখের আবাস
দেশের স্বাধীনতা রাখব অম্লান
হবো না কারো গোলাম দাস।।
আমর ডাক্তার রোগীর সেবা করি
খেলোয়াড় খেলে কাঁপাই মাঠ
ইঞ্জিনিয়ার,মুটে,মুজুর,করেছি পণ
গড়বো কলকারখানা রাস্তাঘাট
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান
সবাই মিলে করব বাস।
এই দেশ আমার বাংলাদেশ।।

মোরে যদি মনে পড়ে
- মোঃ মোহসীনুল হক

মোর কথা যদি মনে পড়ে সখি , মোরে যদি ভালো লাগে।
কাল দুটি চোখ সাজাইয়া নিও ঘন আবীরের রাগে।
গোলাপ ফুলের পাপড়ি ঘোষিয়া
রাঙ্গাইয়া নিও দু’কপোলে প্রিয়া
উদয় তারার শাড়ীখানি পরি অস্তাচলের ফাগে,
দাঁড়াইয়া থেকো দূর পথ পানে অনুক্ষণে অনুরাগে।
মোর কথা যদি ভালো লাগে সখি , ভালো লাগে মোর গান
দুপুর বেলায় খোলা বাতায়নে পাতিয়া রাখিও কান।
নীল আকাশের দূর পানে চেয়ে
মেঘেরা হয়ত নিয়ে যাবে বেয়ে
সপ্ত রাগিণী করিবে গো খেলা, ডাকিবে সুরের বান,
আকাশ গাঙ্গের সাদা মেঘগুলি বেয়ে হবে হয়রান ।
মোর কথা যদি মনে পড়ে সখি , মোর তরে লাগে মায়া,
ক্ষয় করিও না কেঁদে প্রিয়া তব অমন সোনার কায়া।
ঘুম নাহি এলে বিনিদ্র রাতে
বাতায়ন খুলি চাহিও না পথে
তোমার মনের আরশিতে সখি খুঁজে পাবে মোর ছায়া,
মায়া টুকু শুধু রবে বাতায়নে - রহিবেনা মোর কায়া।
কালো দুটি চোখে কাজল পড়িয়ো খোঁপায় পরিয়ো ফুল,
ভুরু দুটি ভেঙ্গে আলোতে ঘোষিয়া করিও কানের দুল।
ফুলের মালাটি নিয়ে দুটি হাতে
আসিও হেথায় একেলা প্রভাতে,
বনের অলিরা আসিতে কখনো করিবে না পথ ভুল।
ভোরের বাতাস করিবে গো খেলা নিয়ে তব এলো চুল।
নাই বা এলাম অভিসারে প্রিয়া থাকি আমি যত দূর,
স্বপ্নে তোমার পাশে রব জেনো –তব প্রেমে ভারা- তুর।
কদম তলায় কৃষ্ণ ত আসি
কখনো কখনো বাজায়নি বাঁশি
তবুও রাধিকা এসেছিল ঘাটে শুনেছিল বাঁশি সুর,
কলসি ভরিয়া এনেছিল জল- প্রেমে ছিল ভরপুর।
মোর কথা যদি মনে পড়ে সখি ,মনে পড়ে কোনদিন,
এই অমরায় আসিলে শুনিবে – বাজিতেছে কোন বীন!
হয়ত তোমার হৃদয়েতে আসি
বাজাইতে আর পারিব না বাঁশি
তবু ঘাটে এসো হৃদয়ের তলে, চিরকাল চিরদিন,
অতল গভীরে হারাবো আমরা – রয়ে যাব চির লীন।
তারিখঃ ২৫/০৭/২০১৬

সকাল
- অঞ্জন বসু

আমার চোখের নীড়ে
চলমান জীবনের ছবি
বাতায়ন গড়ে ,
কবে কোন যুগে
জেগেছিল মুক্তশ্বাস
জ্বলেছিল ঘরে ঘরে
স্নিগ্দ্ধ দীপাবলি
পরাধীন মন আজ
ভুলেগেছে সেই সব
প্রাণের উৎসব
বসন্তের মধুর কাকলী।
আজ দেখি বিপন্ন শহর
গ্রাম বন্দর
চারিদিকে অক্টপাস
ঘিরে আছে বারোমাস
নেকড়ের উদ্ধত থাবায়
ঘরে ঘরে মৃত্যু হানাদেয়।
অতীত জ্ঞানের দীপ
বন্ধ্যা বর্তমান
ভবিষ্যৎ
কালো অন্ধকারে ঢাকা
ভাষায় বর্বর ,
দেউড়িতে দাম্ভিক জমানা
স্বৈরিণী রাতের মিনারে
ক্ষমতায় উদ্ধত হুল্লোড়।
প্রশ্ন থেকে যায়
নগ্ন পৃথিবীর বুক থেকে
রক্ত নদীর ধারা
কবে মুছে যাবে
কোন কালে
মার্ স্তনে মুখ রেখে
শিশুদের সুধা হাসি
এনে দেবে
সুন্দর সকাল।

সত্য বন্দি ঘরে
- মোঃ আহসান হাবিব

এই মনের গহীনে দমকা বাতাসে উড়ে বেড়ায় শত কথা
বলতে পারিনা কাউকে সেটা বুঝতে পারিনা মনের ব্যাথ্যা
গুমরে কাঁদে মন সারাদিন অনুক্ষণ তবু থাকিযে নিরবতা
আঁধার প্রাচীরে সত্য বন্দিঘরে কেঁদেফিরে মুক্তির ব্যকুলতা।
কত সত্য আজ চাপা পড়ে আছে গভীর মিথ্যা ধোকার অন্তরালে।
রাত হলে দিন দেখায়, দিল হলে রাত মিডিয়া আর পত্রিকা তলে।
সঠিক সত্য ঘঁন হয়ে যায় লুণ্ঠন যা করেত বলে তাই করে চলে।
যা দেখি তা সত্য নয়, সত্য আজ চাপা পড়ে যায় ঘটনার আড়ালে।
যাদের আছে জাগ্রত জীবন তারা করে অনুধাবন আসলে সঠিক ঘটন
যারা ভাবনাহীন মুখ তাদের মলিন, না জানে সত্য মিথ্যার বিভাজন।
সত্য আজ গুমরে কাঁদে জাগ্রত মনে, খুজেফিরে বাচার মানে অনুক্ষন।
ভাবনাহীনরা চলে যা শুনে তাই বলে বুঝেনা ঘটনার ঘটন কি কারণ।
আজ সত্য অনেকই জানে তারা মিথ্যাকে নাহি মানে নব যৌবনে
বলতে পারেনা ভয়ে নিরবে নিবরে সহে তাকায় শুধু সময় পানে
কখন হইবে সে সময়! মেতে উঠবে সবাই সত্য মুক্তির জয় গানে।
বেজে উঠবে আনন্দ বেনু সত্য খুজে ফেরা প্রতিটি মানুষের প্রাণে।
উঠবে নব রবি নব আকাশে মুছে যাবে মিথ্যার কালিমা যত ভবে
সেই আশায় বেচে আছি ঢেলে দেব সেদিন জমা যত বেদনা সবে।
অনুসুচনা আরনা আরনা সত্যের পথ চলা নুতন ভাবে শুরু হবে।
সাম্য মৈত্রী ভ্রাতৃত্ব ভালবাসা যত আশা সব সত্য পথে পূর্ণ রবে।
২৮, জুলাই, ২০১৬ ইং, বৃহস্পতিবার, ঢাকা। (১১.১১ এ.এম, কল্যাণপুর)

Nabadibakar_Writer_40

ইটের শহর
- মেহেদী হাসান আকাশ

পাখি ডাকা ভোর
শিশির ভেজা মাঠ,
চারপাশে সবুজ ঘেরা
পুকুরের সেই ঘাট।

বাড়ি থেকে খানিক দূরে
নদী ছিলো বটে
অবেলাতে নাইতে গেলে
মা যেতো খুব চটে।

গাছপালাতে ভরা ছিলো
আমার গ্রাম খানি
কোথা কোন গাছ ছিলো
সব কিছু জানি।

পাশের বাড়ির মেয়ে ছিলো
আমার সহপাঠি
কোন মতে ঝগড়া হলে
ভাঙ্গতাম পিঠে লাঠি।

গ্রামের ওই স্কুলটিতে
আমার ছিলো বসবাস
কোন ক্লাসে ফেল করিনি
করেছি শুধু পাশ।

বাবার সাথে মাঠে যেয়ে
গরু চরাতাম,
গাছের ছায়ায় বসে বসে
আমি শুধু ঘুমাতাম।

সন্ধ্যা হলে মাদুর পেতে
পড়তে বসিতাম,
প্রদিপের আলোয় পড়তে পড়তে
কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম।

সেই দিন গুলো হায়
কোথায় চলে যায়
কি কারনে যেন
বাবা নিলো বিদায়।

নদীর গর্ভে বিলীন হলো
সকল বসতবাড়ি,
সব হাড়িয়ে চলে এলাম
শহরে তাড়াতাড়ি।

আশ্রয় নিলাম পথের পাশে
খেয়েছি শুকনো শুধু ভাত
কাজের জন্য ঘুরেছি কত
শয়েছি মানুষের আঘাত।

ইট পাথরের দেশে এসে
ঘুরে ঘুরে মরি,
এ বাড়ি ও বাড়ি যেয়ে যেয়ে
শুধু খাবার ভিক্ষে করি।

মা আর আমি এখন
থাকি ড্রেন পাশে
ময়লা আর গন্ধ এখন
আছে জীবনে মিশে।

রাতের বেলা একা একা
বসে শুধু ভাবি,
সোনালী সেই দিন গুলোকি
ফিরে পাবো আমি!

গ্রাম আমার ভালো ছিলো
ছিলাম আমি বেশ,
ইট পাথরের দেশে এসে
হয়ে গেছি শেষ।।

ND_999

গুন
- মরিয়ম আক্তার রিমা

গুন বলতে মোর
নাই কিছু নাই
সবাই বলে থাকে,
বেশি গুন থাকলে পড়ে-
যেতে পারি পেকে।
মাঝে মাঝে তবু আমি
আঁকি কিছু ছবি
কিছু মানুষ বলে থাকে
আমি নাকি কবি।
গান শুনলে তালে তালে
উঠি আমি নেচে,
ছন্দে ছন্দে মন ভরে যায়
গান গলায় ওঠে বেজে।
পারিনা যে কোন কাজ
ভালো মতো করে---
তবু আমি নাটকেতে
সংলাপ দেই জোরে।
আমার কভু ভাল লাগেনা
যেতে রান্না ঘরে,
যদি আমি রান্না করি
সবাই খায় মজা করে।
জানি আমার নেই কোন গুন
এই দুনিয়াতে;
তবু আমি ভাল করে
মিশি সবার সাথে।
সারাক্ষণ তাইতো আমি
থাকি হাসি খুশি---
গুন বলতে শুধু আছে
মানুষকে ভালোবাসি।।।

প্রেমাসক্তি
- প্রবীর ভদ্র

হাজার তারার আলো চোখের তারায়
ঘুমন্ত কামনা জাগে পল্-অনুপলে
বধূর কপোলে আভা উষসী- ঊষায়
প্রেমের আবেগে নিত্য দীপ্ত দীপ জ্বলে |
কাছাকাছি এসে তবু লুকায় অধর
বধূর মধুর স্পর্শ আনে শিহরণ
পাখি গায় ফুল ফোটে -- অনেক আদর
লজ্জাটুকু তুলে রাখে হয় বিস্মরণ |

আলিঙ্গন
- দিব্যেন্দু সান্যাল

ধুধু মরুভূমি পড়ে আছে আজ একা
মরীচিকাময় শীতল স্মৃতিতে আঁকা
বিস্মরনেই তার সাথে হোক দেখা
সেই যদি ডাকে
পাশে পাশে থাকে
ফেলে আসা দিনে খুঁজে পাই তাকে
পরান ভাসিয়ে
কাঁদিয়ে হাসিয়ে
কত চোরা স্রোত রাখে সে সাজিয়ে
মরুভূমি ডাকে আয় কাছে আয়
এই অবেলায় কিভাবে যে যাই
রোদ্দুর বলে চল জোরে চল
তোকে ছেড়ে আজ কোথা যাবো বল
এই তো সেদিন দিয়েছিলি টিপ
আজ কেন বুক করে ঢিপ ঢিপ
আয় কাছে আয় তোকেই জড়াই
শীতল মরুতে দুজনে গড়াই ।
__________দিব্য

রাজনীতি
- রাজীব হোসেন রাজু

তুমি নিজে কে বস ভাবো
নানান অফিসের কাজী
জনে জনে গুরু ভাবে
বুঝে না কারসাজি।
এই অফিস ঐ অফিস
তোমার আনাগোনা
কাজ তোমার টেন্ডারবাজি
বেশ আছে জানা শোনা।
রাজনীতি রাজার নীতি
তোমার তাহা ভাব
পড়াশোনা নেই তবে
মস্ত বড় সাব।
তোমার উপর বলবে কথা
এমন সাহস কার?
বাপ দাদার এই রাজনীতিতে
জীবন করবে পার।

প্রেরণা - ২০
- মোঃ মহশীনুল হক

কাব্যে আমার, আমার গানে, আমার কবিতায়,
চির কালের বন্ধু আমার, আয় রে ফিরে আয়।
কেমন করে আমায় ছেড়ে,
থাকলে তুমি দূরে সরে
আমার মনের শূন্য কোঠায়, একলা পরে হায়!
চির চেনা বন্ধু আমার, আয় রে ফিরে আয়।
আবার মোরা দু’জন মিলে নতুন আশাতে
ভাসব গাঙের অথৈ জলের জোয়ার ভাঁটাতে।
আগের মত তেমনি করে,
দুঃখ সুখের ভেলায় চড়ে
হারিয়ে যাব ভালবাসার গভীর জলেতে ।
দুলবে তরী ভাসব দু’জন উদাস হাওয়াতে।
কাব্যে আমার, আমার গানের, চির কালের সাথী,
নতুন ক’রে এসো আবার, করতে মাতামাতি।
হারিয়ে যাওয়া সাথী আমার
তোমায় বুকে বাঁধব আবার,
কাব্যে এসো, গানে এসো, জ্বালো জ্ঞানের বাতি,
মনের চাওয়া মিটবে আমার ঘুচবে আঁধার রাতি।
তোমার ঘাটে বেঁধেনিলাম আমার আশার না
এই নায়েতে হয়ত তোমার পড়বে রাঙ্গা পা।
নিবিড় করে পরম সুখে
জড়িয়ে ধরে তোমায় বুকে
ভালোবাসার পরশ নিয়ে, রাঙবো আমার গা
রঙে তোমার, কাব্যে আমার, রাঙ্গিয়ে দেবো গাঁ ।
মনের আঁধার সরিয়ে দিয়ে ধ’ররে লেখনী
প্রেমের বাঁশি বাজিয়ে এসো জ্বালাও অশনি,
ছন্দ- পাগল হৃদয়টিরে
আবার নিয়ে এসো ফিরে
তারে নিয়ে বাঁধ বুকে মোর; জ্বালা এখনি
মনের ভিতর জ্বালিয়ে দে তুই বহ্নি-বসনী।
তারিখঃ ১৯/০৯/২০১৫
==০==

আজকের লালকমল-নীলকমল
- প্রবীর ভদ্র

কখন ঘুমের মধ্যে
রূপকথার গল্পগুলো
জীবন্ত হয়ে উঠলো |
নীলকমল-লালকমলের সঙ্গে
রাক্ষস-খোক্ষসের লড়াই
সে যে কী ভীষণ লড়াই ****
আচমকা ঘুম ভেঙে গেলো |
বিকেলে সংবাদের পাতায় দেখি
রূপকথারই মতো আর এক লড়াই
শ্রমিকের-কৃষকের-মধ্যবিত্তের |
মনে হলো রাক্ষস-খোক্ষসরা
আজো আছে মুখোশের আড়ালে
বিড়াল-তপস্বী সেজে |
নামাবলীর পিছনে তাদের
শানানো ক্ষুরধার দাঁত-নখ
আর উদ্যত থাবা |
আজ ভয়ঙ্কর শত্রূর মুখোমুখি
লালকমল-নীলকমলেরা |
তবে সাথে আছি আমরা সবাই |

মর্মপীড়া
- শ্যামলী দেবরয়

নারীর মনের ভাষা নাকি বুঝা বড়ো দায়,
সত্যিই কি কেউ সেই মনকে বুঝতে চায়?
নারীর চরিত্র নাকি বেজায় জটিল বিষয়,
কেউ কি জানে সৃষ্টির আসল কি পরিচয়?
বিলাসিতায় নাকি নারীদেহ ভোগের পন্য,
কেনো যে হয়না নারী মানুষ হিসেবে গণ্য?
স্বাধীনচেতা নারী নাকি নষ্টের মূল কারন,
নারীর ক্ষেত্রে কেনো এতো বাধা ও বারন?
লাজ ও শরম নাকি নারীর অঙ্গের ভূষণ,
তবে কেনো নগ্নতায় শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ?
সতী সাধ্বী নারীরা নাকি লক্ষী ঠাকুরানি,
তবে কেনো কন্যাসন্তান অপয়া কলঙ্কিনী?
গর্ভবতী নারীর গর্ভে নাকি বংশ বিকশিত,
প্রজননে অক্ষম হলে তার গর্ভ কি দূষিত?
নিন্দা ও পরচর্চা নাকি নারীর স্বভাবদোষ,
ডাইনি অপবাদে নির্যাতিত কি তার দোষ?
নারী নাকি নিজেকে ভাবে রানী রাসমনি,
বার্ধক্যে কেনো সে পথেঘাটেই ভিখারিনি?
নারীর মান মর্যাদা নাকি শুধুই গৃহকোণে,
নারীর মর্মপীড়া কখনো কি কেউ শোনে?

বিপরীতে সুখ
- কবির হান্নান

আধাঁর কালাে
দেখায় ভালাে মােমের অালাে
লিখতে ভালাে
কাগজ সাদা,কলম হলে কালাে।
বিপরীতে রূপ ভালাে
কখনাে আবার মন্দ
সত্য বিপরীতে মিথ্যে
সুখ বিপরীতে দুখ।
আলাের বিপরীতে অন্ধকার বলে
অালাে বুঝি
মিথ্যের ছড়াছড়ি বলে সত্য খুঁজি
দুখটা বেশি বলে
সুখ শুধু সুখ চাই
সুখ এখন মরিচিকা
আশায় থাকি পাইনা দেখা।
সুখের আশায় দুখটাকে শান দিয়ে যাই
আলাের সুখ অন্ধকার
কাগজে সুখ কলম রােজ দেখি
সত্য আর মানবের সুখ
ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ
মিথ্যে আর দুখ জড়িয়ে রেখেছে বুক।
..................
(২৭/০৭/১৭)

সোডিয়াম বাতির এই যান্ত্রিক  শহরে

লাইনে বে-লাইনে প্রশাসনের নাকের উপরে।

 

এ, বি ব্লকে কিংবা চিপা-চাপা গলির ভিতরে

রঙিন রেস্ট হাউস এর নতুন গেস্ট হয়ে।

 

র্নিজনে, নিরালায় লাল-নীল আলোর খেলায়

সভ্যতার আড়ালে অসভ্য আদিম মাদকতায়।

 

আধুনিক তরুন-তরুনী কিংবা নেতা-কেতা

মেতে উঠে রেস্ট হাউসের সোনালী কামরায়।

হুঁসহাঁস করে গাড়িগুলো চলে যাচ্ছে।
রাস্তার নিয়ন আলোর নিচে
দাঁড়িয়ে সব্যসাচী হাতে সিগারেট
নিয়ে গাড়িগুলোর চলাচল দেখছে।
রাতের স্নিগ্ধতায় বেশ ফুরফুরে
লাগছে তার।সে ঘড়ি দেখল,রাত
সাড়ে ন'টা।বড় শহরের জন্য এমন কোনো
রাত না।সে এই মুহূর্তে তাকিয়ে আছে
রাস্তার দিকে বেশ মনোযোগ দিয়ে।
বড় বড় লড়িগুলো যেভাবে যাচ্ছে
তাতে মনে হচ্ছে যেন কোনো দৈত্য
বড় বড় পা ফেলে দৌড়াচ্ছে রাস্তার
ওপর।মানুষ জনও রাস্তায় খুব একটা নেই।
স্যার বাঁশি শুনবে?
সব্যসাচীর গাড়ি দেখার মনোযোগে
একটু ব্যাঘাত ঘটল।সে পেছন ঘুরল।একটি
ছেলে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
ছেলেটির চেহারা উস্কখুস্ক।খালি
গা।হাফ প্যান্ট পরে আছে একটা।
প্যান্টের জিপার খোলা।প্যান্টের
হুঁকও খোলা।একটা দড়ি দিয়ে বেঁধে
রেখেছে প্যান্ট।এই সব ছেলেদের
প্যান্টের নিচে সাধারণত ছেঁড়া
থাকে।বসলেই সব দেখা যাবে।আর এই
ব্যাপারে এই বয়েসী ছেলেদের
কোনো ভ্রুক্ষেপ থাকেনা।তারই বা
ছিল কি?ক্লাশ ফাইভে যখন সে পড়ত
তখনও তার হাফপ্যান্টের নিচে ছেঁড়া
থাকত।এই ছেলের ক্লাশ ফাইভে পড়ার
মতই বয়েস।ইদানিং সব্যসাচী এই সব
হাবিজাবি ভাবনাটাই ভাবে।এই সব
হাবিজাবি ভাবনাগুলোকে পাত্তা
না দিয়ে সে বলল,তোর হাতে কী?
ছেলেটি হাতের দিকে তাকিয়ে
বলল,পাতা।
পাতা দিয়ে কি বাঁশি বাজাবি?
হ্যাঁ।শুনবে স্যার?
সব্যসাচীর ছোটবেলার একটা স্মৃতি
মনে পড়ে গেল।তার বাবার এই গুণটা
ছিল।তার বাবাও খুব সুন্দর বাঁশি
বাজাতে পারত।সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত
শুনত।যেকোনো সুর তুলতে পারতেন
তিনি।রবীন্দ্র কি নজরুল সব সুরই
পারতেন তিনি।আরেকটা গুণও অবশ্য
ছিল।পশুপাখির কণ্ঠস্বরও দিতে
পারতেন তিনি।পাখির ডাক দিলে
মনে হত সত্যিকারের পাখিই ডাকছে।
অল্প বয়েসেই বাবাটা হারিয়ে গেল
আকাশে।তার যখন বাবা মারা যায়
তখন তার বয়েস চৌদ্দ কি পনেরো বছর
হবে।এখন বয়েস তার চল্লিশ।ঘরে বউ
আছে।বাচ্চা নেই।দশ বছরের দাম্পত্য
জীবনে বাচ্চার মুখ দেখেনি তারা।
ডাক্তার অবশ্য বলে দিয়েছে দোষটা
তার।তার মানে সব্যসাচীর।সব্যসাচীর
ইদানিং বাবার কথা বড্ড মনে পড়ে।
সে ছেলেটিকে বলল,হ্যাঁ শোনা।
ছেলেটি মাটির ওপর বসে পড়ে
বলল,স্যার বসে বাজাই?
সেও মাটিতে বসে পড়ে বলল,হ্যাঁ
বাজা শুনব।দেখি কেমন বাজাস তুই?
না ছেলেটির প্যান্টের তলায় ফুটো
নেই।শরীরের নিষিদ্ধ যায়গায় সবারই
চোখ আগে যায়।তারও গেল এবং
দেখে নিল।
স্যার তুমিও মাটিতে বসে পড়লে?
তাতে কি?আমার গায়ে দামি
জামাকাপড় দেখে ভাবছিস আমি
এখানটায় বসতে পারবনা।আরে মাটি
হল মা।এই মায়ের কাছে সন্তান যখন
তখন বসতে পারেরে।
ছেলেটি তার কথার ভাবার্থ বুঝল
বলে মনে হলনা।সে পাতাটি ঠোটে
রেখে বাঁশি বাজানো শুরু করল।
সব্যসাচী চোখ বুজে আছে।মন্ত্রমুগ্ধের
মত শুনছে বাঁশি বাজানো।এতো সুন্দর
বাজাচ্ছে ছেলেটা!কী সুন্দর!কী
সুন্দর!তার মনে হচ্ছে বাবা বাঁশিটা
বাজাচ্ছেন।তার চোখের কোণায় জল
চলে এল।ছেলেটা বেশ কিছুক্ষণ বাঁশি
বাজিয়ে এবার একটু থামল।
সে চোখ খুলল।বিস্মিত স্বরে বলল,কে
শেখালো তোকে?
একা একাই শিখেছি।
তোর পকেটে কি সবসময় পাতা
থাকে?
হ্যাঁ।ছেলেটি প্যান্টের পকেট
হাতরিয়ে কতগুলো পাতা বের করে
দেখালো।
বাহ্!চমৎকার।তোর প্রতিভা আছে।
আমি পশুপাখির ডাকও দিতে জানি।
শুনবে স্যার?
আজ তার বাবার কথা বড্ড মনে পড়ছে।
সেই পশুপাখির ডাক।এই ছেলেটির
জন্যই আজ স্মৃতি বেশি মাথায়
খেলছে।পাটপাট করে মাথার নিউরন
থেকে পুরোনো স্মৃতি ভেসে আসছে।
পশুপাখির ডাক শোনাবি?শোনা....
ছেলেটা মুখটা বিকৃতি করে বাঘের
ডাক দিল।তারপর একে একে
সিংহ,হাতি,মোরগ-মুরগী,দোয়েল
এদের ডাকও দিল।
এটাও কি নিজে থেকেই শিখেছিস?
হ্যাঁ।
তোর বাবা মা আছে তো?
মা নেই।বাবা আছে।বাবা আমাকে
দেখেনা।
দেখেনা মানে?
আরেকটা বিয়ে করেছে।ভাল মা
আমায় ভাত দেয়না।ছেলেটার
কথাগুলো বলতে যেয়ে গলাটা ধরে
এল।
তুই থাকিস কোথায়?
ওই তো এই রাস্তা ধরে নেমে যেতে
হয়।ওখানে একটা স্কুল আছে, ওখানটায়।
বাড়িতে থাকিস না?
তাড়িয়ে দিয়েছে বাড়ি থেকে।
কিছু খেয়েছিস কি?
হ্যাঁ।রুটি খেয়েছি।
টাকা পাস্ কোথায়?
কেন?বাঁশি বাজিয়ে।পশুপাখির ডাক
দিয়ে।
সব্যসাচী খেয়াল করল অনেকক্ষণ ধরে
এই ছেলেটির সাথে আছে সে কিন্তু
তার নামটাই সে এখন পর্যন্ত জানেনি।
কি নামরে তোর?
রাদু।
সব্যসাচী কিছুক্ষণ ভেবে ছন্দ করে
বলল,নাম তোর রাদু
জানিস তুই জাদু!
রাদু হিহি করে হেসে ফেলল।
সব্যসাচী বলল,আচ্ছা তুই রাস্তায় এতো
লোক থাকতে আমাকেই ধরলি কেন
বাঁশি শোনাতে?
আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখে আসছি
তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছ।তাই
ভাবলাম।
বাহ্!তুই তো খুব ভাবুক।
সব্যসাচী সিদ্ধান্ত নিল রাদুকে তার
সাথে নিয়ে যাবে।একটা স্কুলে
ভর্তি করিয়ে দেবে।পড়াশুনো
শিখবে।টাকা পয়সার তো কোনো
কমতি নেই তার।সুলেখাও খুশি হবে।
সুলেখা তার বউয়ের নাম।তাছারা
ছেলেটির অনেক গুণ আছে ঠিক তার
বাবার মতই।সকলের পছন্দ হবার মতই
ছেলে সে।আজ সারাটা দিন বউয়ের
সাথে বাক-বিতন্ডা হয়েছে তার।
তাই সে সন্ধের পর থেকেই এখানে।
সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল আজ আর
বাড়ি ফিরবেনা,ফোন করলেও না।এর
আগে অনেকবার এরকম হয়েছে কিন্তু
বউয়ের ফোনে সে বেশিক্ষণ বাইরে
থাকতে পারেনি।সে জানে বউ তার
ঠিকই ফোন করবে।একা একা রাত
কাটানোর মত সাহস নেই সুলেখার।
তার ইচ্ছে করছে আরো কিছুক্ষণ গল্প
করে ছেলেটিকে সাথে নিয়ে
যাবে।তারপর নতুন জীবন শুরু হবে রাদুর।
সে আরেকবার বিড়বিড় করে বলল,
নাম তোর রাদু
জানিস তুই জাদু!
দাও আমার বকশিস দাও।
কত?
কুঁড়ি টাকা দাও।
হ্যাঁ দেবো।সব্যসাচী এক গাল হেসে
বলল,আমার সাথে চল।এখন থেকে আমার
সাথেই থাকবি।
আগে টাকা দাও।তারপর দেখি।
ছেলেটি বোধহয় তার কথাটা
বিশ্বাস করছেনা।বিশ্বাস করবেই বা
কি করে?কেউ আগে এমন কথা বলেছে
বলে মনে হয়না।সে খেয়াল করল,রাদুর
চেহারার ভেতর একটা মায়া মায়া
ভাব আছে।
সে দাঁড়ালো।রাদুও সঙ্গে সঙ্গে
দাঁড়িয়ে পড়ল।
পেছনের পকেট থেকে যেই
মানিব্যাগটা বের করল অমনি রাদু
মানিব্যাগটা এক থাবা মেরে এক
ছুটে দৌড় লাগাল।ছেলেটি মুহূর্তের
মধ্যে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।
সে হাঁ করে তাকিয়ে রইল,এটা কী
হল?এরকম ঘটনার জন্যে সে প্রস্তুত
ছিলনা।কেইবা থাকে।
সে একটা সিগারেট ধরালো।ভাবতে
লাগল ব্যাপারটা।কি বিচ্ছু ছেলেরে
বাবা।কী সাহস!এ ছেলেতো বড় হলে
মস্তান হয়ে যাবে।সব্যসাচী
সিগারেটে লম্বা লম্বা টান মারল
আর ভুসভুস করে ধোঁয়া ছেড়ে রাস্তার
দিকে তাকাল। গাড়িগুলোর দাপট
রাস্তায় কিছুটা কমে এসেছে।হঠাৎ
মোবাইলে রিং বাজল।সে ফোনটা
বের করে দেখল সুলেখা ফোনটা
করেছে।রাগটা পড়েছে কিনা কে
জানে!
হ্যাঁ বলো।
তুমি কি রাতে আসবে না বাড়ি?
রাগটা কমেছে কি তোমার?
সে কখন।আসো বাড়ি আসো।ভাত
বেড়ে বসে আছি।
এখন আসতে পারবনা।
কেন?
আমার বাবাকে খুঁজে পেয়েছি।
বাবাকে সাথে নিয়ে আসছি।
ওপাশ থেকে সুলেখা বলল,তোমার
কথার মাথামুন্ডুতো কিছুই বুঝছিনা।
বুঝতে হবেনা।একটা সারপ্রাইজ নিয়ে
ঘরে ঢুকব।
ধুর!তুমি কি দিনদিন পাগল হয়ে যাচ্ছ?
হয়ত তাই।নো টেনশন।খেয়ে নাও।আমি
বাবাকে সাথে নিয়েই আসছি।
সব্যসাচী ফোনটা কেটে দিল।সে
সিদ্ধান্ত নিল রাদুকে না নিয়ে
বাড়ি ঢুকবেনা।একটা ছেলে রাস্তায়
রাস্তায় থেকে থেকে নষ্ট হয়ে
যাবে তা হতে দেয়া যায়না।সবকিছু
কেন নষ্টদের দখলে যাবে?একটা
প্রতিভা এভাবে নষ্ট হয়ে যেতে
পারেনা।এটা হতে দেয়া যায়না।
সব্যসাচী আরেকটা সিগারেট ধরাল।
সোজা রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগল
সে।স্কুলটার দিকে যেতে হবে
তাকে তাহলেই হয়ত পাওয়া যাবে
পাতার বংশীবাদককে।

Nabadibakar_Writer_79

নতুন আমি
- পাণ্ডে অনিতা

স্বনির্মিত সহস্র শৃংখলে বন্দি তুমি,
জ্ঞানের আলোক বর্তিকা হাতে নিয়ে,
সকল অন্ধকুপ থেকে এসো বেড়িয়ে।
দুর্দমনীয় বেগে ছুটছো তুমি ?
আকাশে,বাতাসে,পাহাড়ে,সাগরে ?
ফিরে এসো --
তোমার অন্তরে---
নিজেরই নিয়ন্ত্রনে।
দাড়াও প্রশান্ত প্রত্যয়ে।
কর্তব্যপালনে অবিচল হয়ে।
আত্মিক সুষমা,আলোকজ্জ্বল রূপ আর মধুর বচনে হও সচেষ্ট ।
জীবনে থাকবেনা আর কষ্ট।
পরিশ্রমলব্ধ সম্পদ ভোগেই পরিতৃপ্তি।
স্রষ্টায় সমর্পিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায়,
হৃদয় প্লাবিত হয়,বিশ্বজনীন মমতায়।
নিমগ্ন হও,একাগ্র প্রার্থনায় --
অনুভব কর অফুরন্ত মনোদহিক
পুনরুজ্জীবনী শক্তিকে,
উত্তরণ ঘটবে প্রশান্ত সফল নতুন আমি'তে।
রাত-১২,
২৫-০৭-১৬/
বরিশাল।

বাজনীতি
- আমিনুর রহমান নিরব

ইচ্ছে হলে কেলানো
সুযোগ বুঝে পালানো,
নাম ছড়াতে মেলানো
সময় গেলে ফেলানো।

বশ করার ট্যাবলেট
মিশিয়ে গোলানো,
সরল পেয়ে দূর্বলে জনার
মুখের ভেতর গেলানো।

ঝুপঁ বুঝে কুপ মেরে
যেথায় খুশি ঠেলানো,
চাপের মুখে ভয় দেখিয়ে
নাকি ইচ্ছে মত ঢেলানো?

সবাই কে দেখানো ভীতি
হারানো ন্যায় নীতি,
এটাই কি রাজনীতি?
না পুরুই বাজনীতি!

বিবর্তন
- আশিক ফয়সাল

আজ ক্ষুধা পেলেও খাদ্য কেনে না
প্রেমিক ,
প্রিয়ার জন্য ফুল কিনবে বলে।
এক পেট ক্ষুধা নিয়ে ঘোরে
ফালতু কার্ড বা টেডি বিয়ার কোলে ।
বছরের বিশেষ দিন গুলোতেও রাস্তায়
ক্ষুধা নাকি বিলুপ্ত প্রায়
সেথা জন্মেছে ভালোবাসার স্বর্গ উদ্যান ।
ডাস্টবিনে পুতে রেখে মান সম্মান ।
ঘুমের রাজ্যে হানা দেয় ফোনের ডিসপ্লে
কেড়ে নেয় ঘুম ।
গন্ধের রাজ্যে পৃথিবী গদ্য ময়
পূর্ণিমার চাঁদ সেথা প্রেমিকার পারফিউম ।

কদম ফুল
- সুচেতনা মিত্র

কদম গাছে কদম ফুল
বৃষ্টি হচ্ছে খুব ,
আম গাছে দোয়ল পাখি
ডালে বসে চুপ ।

কদম ফুলের পাঁপড়ি ঝরে
প্রবল বৃষ্টির ছাটে ,
নতুন বৌ নাইতে আসে
শান বাঁধানো ঘাটে ।

লাঠি দিয়ে পাড়তে যায়
কয়েকটা কদম ফুল -
পাঁপড়ি গুলি খুলে পড়ে
ভেবে পায় না কুল ।

এই বর্ষায় ছোট বেলায়
খেলতাম বলের মতো ,
খুনসুটি , কে নেবে আগে
মনে স্মৃতি ভাসে কত ।

কদম ফুলের রুপের কাছে
হার মানে না কে ?
সুন্দর গন্ধ ভরা দু-চারটে
দিতে চাই তোমাকে ।।

দস্যুদল
- কবির হান্নান

কখনো জলে কখনাে স্থলে
যারা দেয় হানা
ওরা দস্যু বলে সবার জানা।
মানবের অবয়ব নিয়ে
অন্ধকারে করে বাস
মনুষ্যত্বহীন কাটে দিনরাত।
রাতের আধাঁরে তারা হানে অাঘাত
যায় যদি যাক প্রাণ,যাক মান
লুটতরাজে নিতে স্বাদে থাকে অম্লান।
ভূমিদস্যু,জলদস্যু রঙ্গিন জলে নেশায়
বাহু জােরে করে তারা আছে যত কাজ
চেহারা আড়াল রাখে চােখে এমন লাজ।
..................
(২৫/০৭/১৬)

মমতাজ
- অনাদি চক্রবর্তী

আমিও ছিলাম , হে শাজাহান!
নও তুমি শুধু তুমি একা,
যদিও তোমার নামটিই শুধু
ইতিহাসে আছে লেখা।
দশটি বছর আমার কেটেছে
পাথরের পৃথিবীতে,
দশ বসন্ত হয়েছে হন্ত
ছেনি আর হাতুড়িতে।
দশটি বছর প্রিয়ার বিহনে
ব্যকুল প্রেমের কথা,
খোদাই করেছি পাথরে পাথরে
হৃদয়ের আকুলতা।
দশটি বছর বিনিদ্র রাত
জেগেছি তাহার তরে,
তাহারি স্বপন করেছি বপন
পাথরের অন্তরে।
তোমার প্রিয়ার স্মৃতিতে রচিত
এ স্মৃতির সৌধখানি,
ত্রিভুবন জুড়ে ছড়াবে তোমার
প্রেমের অমর বাণী।
সকলে কহিবে মহান সৃষ্টি
করে গেছে শাজাহান,
শুধু জানিবে না এ তাজ রচিতে
মোদের প্রেমের দান।
কেহ জানিবে না তাহাদের কথা
সৃজিল এ তাজ যারা,
যাহাদের শ্রমে, রক্তে ও ঘামে
হল এ সৌধ গড়া।
শুধু সেইদিন যেদিন হেথায়
আসিবে পরাণ প্রিয়া,
পাথরের বুকে হেরিয়া আমারে
কাঁদিবে তাহার হিয়া।
পাথর ভেদিয়া উদিয়া সেদিন
চুপি চুপি তারে কব,
ঝরিল তোমার আঁখি জলধারা,
আমিও অমর রব।
কোলকাতা , ২৫/০৭/১৬

প্যারোডি ছড়া
- মরিয়ম তন্বী

সারা দেশে ছড়িয়ে আছে সন্ত্রাসীরা ওই,
মাগো আমার শান্তি সুখের মাতৃভুমি কই?
বিদ্যালয়ে হাটে মাঠে সন্ত্রাসীদের ডংকা বাজে,
ওদের জ্বালায় সুখ আসে না অশান্তিতে রই,
মাগো আমার শুভ্র সোনার মাতৃভুমি কই?
সেদিন হতে শান্তিতে আর কেনইবা না থাকো?
শান্তি চেয়ে সকাল বিকাল সন্ত্রাসীকে ডাকো?
বাহির থেকে আমি যখন,মাগো বলে ডাকি,
ওঘর থেকে ছুটে এসে গালে চুমু আকোঁ,
আমার লাগি তুমি কেন ভাবনাতে মা থাকো?
বল মা শান্তি কোথায় গেছে আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার স্কুল ছেড়ে কলেজ যেতে হবে।
শান্তির মত ফাঁকি দিয়ে আমি যদি লুকাই গিয়ে,
তখন তোমার এজগতে হালটি কেমন হবে?
আমিও নাই, শান্তিও নাই, দুঃখ শুধুই রবে।

রাজনীতি
- রাজীব হোসেন রাজু

তুমি নিজে কে বস ভাবো
নানান অফিসের কাজী
জনে জনে গুরু ভাবে
বুঝে না কারসাজি।
এই অফিস ঐ অফিস
তোমার আনাগোনা
কাজ তোমার টেন্ডারবাজি
বেশ আছে জানা শোনা।
রাজনীতি রাজার নীতি
তোমার তাহা ভাব
পড়াশোনা নেই তবে
মস্ত বড় সাব।
তোমার উপর বলবে কথা
এমন সাহস কার?
বাপ দাদার এই রাজনীতিতে
জীবন করবে পার।

ধন্য আমি
- কবির হান্নান

এইতাে আমার দেশ
এইতাে আছি বেশ
রাতকাটে তার রুপালী চাঁদের আলাে
আর দিনকাটে তপ্ত রবির আলােয়।
এইতাে আমার দেশ
সবুজ শ্যামলে চেয়ে আছে বেশ
এমন দেশটি কােথায় পাবো আর
জান দিয়ে মান রেখেছি বাংলার।
এইতাে আমার দেশ
মাটির উর্বরতায় ফসল ফলে বেশ
বনজাে,খনিজসম্পদ,মেধায় পরিপূর্ণ
এইতাে আমার দেশ বলে ধন্য।
এইতাে আমার দেশ
জলে স্থলে ভূতলে সম্পদ রয়েছে বেশ
ধন্যদেশ ধন্যজাতী ধন্য প্রকৃতি
ধন্য আমি জন্মিয়েছি এই দেশের মাটি।
..................
(২৫/০৭/১৬)

এক যে পাখি ময়না
- লিয়াকত জোয়ার্দার

হৃৎকাননে বাধলো বাসা
এক যে পাখি ময়না
হৃদয়জুড়ে বসত তবু
আমার কাছে রয় না।
ঠোঁটে ঝরে মুচকি হাসি
স্বভাবে সে স্বল্পভাষী
আগবাড়িয়ে কোনো কথাই
আমার সাথে কয় না।
কাব্যকলায় আছে যে তার
হাজার ফুলের গন্ধ
নুড়ির ঘায়ে ঝর্ণাধারার
ছুটে চলার ছন্দ।
নিত্যদিনের কান্না-হাসি
তুলে ধরে পাশপাশি
ফুরফরে তার মেজাজখানা
দুঃখ কোনো বয় না।
অভিমানে গাল ফুলালে
লাগে ভারি মিষ্টি
চাঁদপনা তার মুখটি দেখে
ফেরে না তো দৃষ্টি।
সুখে থাকো ময়না আমার
কষ্ট তোমার সয় না আমার
খুলে দেবো হৃদয়দুয়ার
গড়ে দেবো গয়না।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
ঢাকা, বাংলাদেশ

অস্ত্র কলম
- বিপদতারণ দাস

কলমটাই আমাদের- ধারাল অস্ত্র
পেটো -গ্রেণেড -নলা,অন্নদাতা ও বস্ত্র ,
কলম চলছে -রঙ না লাগিয়ে চলবে
অস্ত্রটা শান দাও -মেরুদন্ডটা বলছে l

ভুরি ভুরি অস্ত্র -ভুরি ভুরি ডাকাত দল
লাল সবুজ গেরুয়া অনেক জনসমর্থন,
আমাদের আছে এক খানি অস্ত্র -কলম
প্রতিবাদের আগুনভরা ভুশকালি কম l

পরমাণু গ্রেনেড কতঅস্ত্র নামনা জানি
সব অস্ত্রই ভোঁতা সবই পুরো অকেজো
সকল অস্ত্রের সেরা অস্ত্র-মেরুদণ্ডীর
প্রতিবাদের আগুন ভরা কলম খানি l l
Copy right ©বিপদতারণ দাস

আমার বৈধব্য
- সুনীল সানি সরকার

আজও মনে পড়ে আশায় বুক বেঁধে,
তোমার সাথে কাটানো দিনগুলোকে।
রোদ ঝলমলে সকালে পাখির কূজনে
ঘুম ভাঙানোর সুমিষ্ট কন্ঠস্বর।
রোজকার একরাশ স্বপ্ন জড়ানো তাড়াহুড়ো,
অফিসের তাড়া, সময়মতো চা জলখাবার
টিফিনের কৌটা এগিয়ে দেওয়া।
তোমার স্নানের সময়ে সেই দুষ্টুমিগুলো
আজও চোখের সামনের দিনের আলোর মতোই
জ্বল জ্বল করে।
তুমি চলে যাওয়ার পর
তোমার স্মৃতির রুপোর কৌটোটা
স্বযত্নে তুলে রেখেছি।
আর লাল পাড় বেনারসীটা
সেদিন রোদ্দুর দিয়েছিলাম।
ভাঁজ খুলতেই স্মৃতিগুলো ডানা মেলে
আমাকে নিয়ে গেল সেই চেনা দিনগুলোতে।
জানো-
যেদিন আমাদের খোকা এলো
সেদিন তোমার ঐ মুখের হাসিটা
আমার মনের ক্যানভাসে এঁকে রেখেছি
তোমাকে না বলেই।
আজও খুলে খুলে দেখি,
আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই দিনটিতে,
মনে করিয়ে দেয় প্রথম মা হওয়ার মুহূর্তটাকে।
প্রসব বেদনাকে হারিয়ে মাতৃত্বের সুখ আস্বাদনকে।
আজ তুমি কাছে নেই,
তোমাকে হারানোর যন্ত্রণাটা
সেদিনের প্রসব যন্ত্রণার চেয়েও অনেক বেশি।
তবে, আমি ভালো আছি ।
ভালো আছি তোমার স্মৃতি আকড়ে ধরে।
তোমার দেওয়া উপহার,
আমাদের খোকনকে বুকে আগলে রেখে।
তুমি ভালো থেকো।
জন্ম জন্মান্তরে তোমাকে পাওয়ার আশায়
এবুকে স্বপ্নের দীপ জ্বেলে তোমার প্রতীক্ষায় আছি।

অসেতুসম্ভব
- সুমন দিন্ডা

সে ছিল শ্রাবণী পূর্নিমার ভরা স্রোতস্বিনী
স্বচ্ছ সলিলে যৌবনের দৃপ্ত অহংকার ,
পিচ্ছিল উপকূলে আছড়ে পড়েছি ঢেউ হয়ে
কিন্তু কিন্নরীর আলিঙ্গনে অমৃত অনাস্বাদিত।
নিভৃত রজনীগন্ধার সুবাস হতে চেয়ে
বিস্তীর্ণ অমনিষায় দূরারোগ্য হতাশাগ্রস্ত,
কালের কপোলতলে নির্বাক কাকলি
রোজনামচায় নিখোঁজ পাষাণ প্রতিমা।
নীরের অবগাহনে নিবারিতে চাই দহন
কঠিন বাস্তবে মগজ মৃতপ্রায় ,
নিভন্ত চুল্লীর মাঝে ঘুঁটের বৃথা অভিমান
বিষাদের অবসানে তৃষ্ণার্ত পাক বারিধারা।
ব্যজস্তুতি ছেড়ে হৃদয় আনুক বিপ্রলম্ভ
সমস্ত আগুনেই শুদ্ধ হোক পতঙ্গের মন,
নচেৎ কবিতারা প্রতিবাদী হয়ে যাক
আর স্বপ্নগুলোকে আছড়ে ফেলুক জঙ্গম নীরবতায়।

২৪/০৭/২০১৬/বারুইপুর/© সুমন দিন্ডা

আজ সকালে
- সুচেতনা মিত্র

সকাল বেলা উঠে দেখি
রোদের ঝিলিক মাখা ...
খিরিশ গাছের ডালে বসা
শালিক পাখির পাখা ।

ওই দেখা যায় রোদঝলমল
কদম ফুলের শাখা ,
দুর আকাশে মেঘমালা
বিচিত্র আকারে আঁকা ।

এই আষাঢ়ের সাজ যেন
শরৎ ঋতু রেখা ...
শত কাজের মাঝে হোক
একটু খানি দেখা ।।

রাতের ভেতর সকাল খুঁজি
- গোপেশ দে

একটা রাতের ভেতর আমি সকালকে দেখবো বলে রাত জেগে থাকি।রাত ঘন হয়ে তারা
সপ্তর্ষি কিংবা চন্দ্রের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে সকাল হয়।
সকালে আমি মহা বিরক্তি নিয়ে ঘুমিয়ে থাকি রাত দেখবো বলে।
রাতের ভেতর আমি খুঁজতে থাকি রাস্তার কিছু উশৃংখল,পঙ্গপাল, ভবঘুরে,ফকির
স্যাক্সোফোন বাঁশি।
জীবন এদের কিন্তু বৈচিত্র্য হলেও সাদামাটা নয়।অভাবের মাঝে আছে চাঁদের
সাথে বৈঠক পাতার নিমন্ত্রণ।
জীবনের কিছু মানে বুঝে নেওয়ার অভিপ্রায়।
ইট কাঠ কংক্রিটের ভেতরে প্রজননধারীরা রতিক্রিয়ায় মগ্ন।ওটাও জীবন।কোনো মানে নেই।
এদিকে রাতকে উলঙ্গ করে ওরা চাঁদের সাথে করে ভাব।সৃষ্টি করে বিবাগী সুখের
ভেতরে সকালের লম্বা সফর।রাত শুধু স্বার্থক হয় কোনো অন্ধ স্যাক্সোফোনের
কণ্ঠে,কিংবা উন্মাদের বকাবকিতে,কিংবা ফকিরের বাঁশি,ভবঘুরের সংসারহীন
বিড়ির টান নিয়ন আলোর নিচে বসে।
আমি শুধু খুঁজি রাতের ভেতরে কোনো এক সকাল।

Nabadibakar_Writer_70_Bangla-Kobita

ছুঁয়ে থেকো
- শীলা ঘটক

ভোরের আলো ছিটকে এসে পড়েছে বারান্দায়
প্রভাতের সূর্য উঁকি দিচ্ছে জানলার পর্দা সরিয়ে,
আমি তখন তোমার ঠোঁটে একটি চুমু দেবার জন্য
সাগ্রহে তাকিয়ে থাকি তোমার মুখের দিকে—
কখন ঘুম ভাঙবে তোমার----
সকালের প্রথম চুমু আমিই দেবো।
অল্প অল্প খোলা চোখে
বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছ
কটা বাজে?
তোমার ঠোঁটের আলতো ছোঁয়ায়
না বলা ভালোবাসা প্রান ফিরে পায়।
ক্ষণিক সময় তোমার কাছে আসা
জানি, সেতো তোমাকে চরম করে পাওয়া
আমার উষ্ণ প্রেমে তৃপ্ত হও
তৃপ্ত হোক স্নায়ু—মন,
আমার ভালবাসায় ভ’রে থাকুক তোমার সকাল।
আমাকে ছোঁয়ার নেশা ঘিরে থাকুক
তোমার মন,
যন্ত্রণা, অস্থিরতা তীব্র যখন
চেয়ে দেখো আছি আমি
যেমন ছিলাম আগের মতন।
শীলা ঘটক কোচবিহার ২১/০৭/২০১৬ সকাল ১০।৫২

ND_999

ডিজিটাল প্রেম
- মরিয়ম আক্তার রিমা

রং নম্বরে প্রথম যেদিন
হলো তোমার সাথে কথা-
সেদিন হতে ইচ্ছা মতো
পাঠাতে গিফট্ যা তা।
প্রশ্ন করি এতো কিছু
করলে কেন হায়?
বললে তুমি তোমায় অনেক
ভালোবাসি তাই।
ভেবে তুমি দেখেছ কি;
ভালোবাসি কিনা---
ভালোবাসা দিলে তুমি
হলাম আমি দেনা।
দেনা শুধবো কেমন করে,
ভাবছি যেদিন একা--
হঠাৎ সেদিন তোমার সাথে
হলো আমার দেখা।
দেখা হলো কথা হলো;
তারপরেতে প্রেম
তোমার সাথে হলো বাধা
ভালোবাসার ফ্রেম।
মাঝে মধ্যে বাসা হতে
হতাম যেদিন বের,
তোমার সাথে সেদিন আমার
দেখা হতো ফের।
হঠাৎ যেদিন তুমি আমায়
কিনে দিতে গিফট্
বাসার মধ্যে মিথ্যা বলে
হতাম আমি চিফ।
যখন আমি থাকতাম একা--
করতাম তোমায় মিস,
মাঝে মাঝে ম্যাসেজ দিতাম
ফোন করোনা প্লিজ।
কাজের কথা- বলে যেদিন
ঘুরতে যেতাম পার্কে,
তুমি হতে অনেক খুশি
আমি থাকতাম মর্গে।
একদিন তুমি ভালোবেসে--
বললে " আই লাভ ইউ"
মনে হলো পেছন দিকে
দাড়িয়ে আছে কেও,
পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি
দাড়িয়ে আছে বাবা
তাই দেখে আমরা দুজন
হয়ে গেলাম বোবা।
তারপর তোমায় রাবিশ বলে
কশিয়ে দিলো চড়,
এক মুহূর্তে ভেঙ্গে গেল
ভালোবাসার ঘর।
চড় খেয়ে পালালে যখন
আমায় ফেলে একা--
বুঝলাম তোমায় ভালোবেসে
হয়েছি আমি বোকা।
বুঝলাম সেদিন তুমি হলে
ভীরু লক্ষণ সেন-
এটাই কি বর্তমানের
ডিজিটাল প্রেম।।।

Nabadibakar_Writer_70_Bangla-Kobita

অপেক্ষা
- শীলা ঘটক

কোন একদিন পাবে ঠিকই,
আমায় আপন করে___
না বলা কথাগুলো, না হয়
বোলো সেদিন বক্ষে ধরে ।
সব অভিমান ভুলে যখন
দাঁড়াবে এসে সমুখ পানে____
নয়ন দুটি রাখবো সেদিন
তোমার ঐ--- দুই নয়নে।

******
কোন একদিন পাবে ঠিকই ___
আমায় আপন করে,
না দেখার কষ্টগুলো____
ভুলিয়ে দেব আদর করে।
লুকিয়ে সেদিন থাকবো না আর
লাজ-লজ্জার আবডালেতে ____
তাকিয়ে থাকার প্রহর গোনা
সাঙ্গ হ’বে সেই প্রহরে।

********
কোন একদিন পাবে ঠিকই___
আমায় আপন করে,
হৃদয়ের দুয়ার খানি
রইব খুলে তোমার তরে___
যদি হয়, হোক না- ক’দিন
কিংবা কয়েক বছর পরে,
জগৎ টা দেখব সেদিন
অন্য চোখে নতুন করে।

*******
কোন একদিন পাবে ঠিকই
আমায় আপন করে,
শিশির ভেজা ওষ্ঠ আমার___
শুকিয়ে যাবে তোমার তাপে,
ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব
না পাওয়ার সেই দুঃখটাকে।

শীলা ঘটক কোচবিহার ২১/০৭/২০১৫ সন্ধ্যে ৫।৪০

পারিনি স্থায়ী হতে
কোন কালে কোন খানে ৷
যেখানে গিয়েছি আমি
ভাংগনের সুর শুনেছি ,
ঘর বাধতে চেয়েছি
কিন্তু ঘর তো আমাকে চায়নি ৷
সব হারিয়ে আজ আমি
ক্লান্ত শ্রান্ত পথিক এক ,
আমি চাই শৃঙ্খলহীনতা
আজ এই বিচ্ছিন্ন জীবন থেকে ৷

ভালবাসা
- মরিয়ম তন্বী

ভালবাসা ছিল প্রজাপতিতে,
ভালবাসা ছিল ঘাস ফড়িং এ,
ভালবাসা ছিল লাল নীল ঘুড়িতে,
ভালবাসা ছিল হাত ভর্তি বাদামে,
ভালবাসা ছিল ঝুম বৃষ্টিতে।
ভালবাসা এমনিভাবে দিয়েছে আনন্দ,
চলে গেছে শৈশব কাটছি জীবনের বন্দিত্ব।

বিষবৃক্ষ
- রাজর্ষি মজুমদার

যে গাছটি সেদিন বেরিয়ে ছিল,
সেটি আজ,বিশাল মহিরূহ।
কিন্তু ওটাকে আর বাড়তে দিও না;
ওটা যে বিষবৃক্ষ ।
আস্তে আস্তে ওর শিকড়,
সঞ্চার করবে,তোমার অস্থি মজ্জার ভিতর।
বিষক্রিয়া আরম্ভ হবে,
ক্রমে ধমনী ও শিরায়।
সূর্যের শেষ আলোর মতন,
মৃত্যুর কোলে ধাবিত হবে তুমি।
হৃদয়ের উর্বর মাটি,
ও বৃক্ষকে,আকাশ ছোঁয়াতে পারে।
তাই প্রথমে ওটাকে,
মন থেকে উপড়ে ফেলো।
সার-গোবর আর ফেলোনা;
ওর তলায় ।
জল দিও না,করনা সেচন;
ও বৃক্ষের গোড়ায়।
ওকে এখুনি মাটি ছাড়া করো।।
( কপিরাইট -রাজর্ষি মজুমদার,পশ্চিমবঙ্গ / 23/7/2016 )

থেকো সাথে
- সুচেতনা মিত্র

আমি আজ খুব খুশী কেন না
আমায় ভালোবাসায় ভরিয়েছো ,
তোমাদের জন্য কাজ করতে এসে
ভাবিনি করবে এতটা সহযোগিতা ।

যখন ষড়যন্ত্রী করছিল চেষ্টা
অন্যায় ভাবে করবে কুপোকাত ,
পদাধিকারীরাও মিলিয়েছিল হাত
তোমরাই অপচেষ্টা রুখেদিয়েছিলে।

কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজে পঁচিশের
মধ্যে এগিয়ে থাকলেও কখনো.... পাইনি কাজের কৃতিত্ব, মুুুুল্যায়ন
কিংবা অতিক্ষুদ্র পুরস্কার !

কারো বৈমাত্রিক সুলভ আচরনকে
তোয়াক্কা না করে এগিয়ে চলা ,
কাজ করি নৈতিক মুল্যবোধের সাথে , নিন্দুকরা করে কুৎসা !

নিজের কথা ভাবিনি কখনো
ভেবেছি পরিবারের সকলের ভালো,
এখানেও বিনিময়ে পাইনি সুনাম
সহ্য করে চলেছি কর্তব্য ভেবে !

তবু কখনো ভাঙ্গি কিন্তু পড়িনা
আত্মসম্মানের সাথে বেঁচে আছি ,
শুধু তোমাদের মাঝে কাজ করতে
চাই,আর চাই তোমাদেরভালোবাসা।

মন
- সুচেতনা মিত্র

যতই ভাবি ভাববো না আর
ততই আসে প্রতিক্ষণে ,
মন যদি বশে থাকতো
পাঠিয়ে দিতাম বনে ।

বনেতে সে থাকতো ভালো
দেখতো নানান সৌন্দর্য ,
শুনতে হতো না মন্দ কথা
করতো নতুন কার্য্য ।

শাসন ধমক মানেনা সে যে
করেনা কারোর পরোয়া ,
আপন মর্জি ছাড়া কখনো
রাখে না কোনো মায়া !

চোখে তাকে যায় না দেখা
সে অন্তরেতে থাকে ,
কিন্তু করিয়ে ভাবিয় নেয়
আনন্দে ছবি আঁকে ।।

কিছুটা
- প্রণব বসুরায়
কিছুটা ক্লোরোফিল পেতে অরণ্যের কাছে যাই
কিছুটা গর্জন শিখতে প্রপাতের কাছে
নির্দয় হতে যেতে হবে ডোমের নিকট
আর বাদবাকি শেখা যাবে তোমার কাছেই
#
হাতে বাঁধা ফুল কাটা রেশমি রুমাল
আমার ঠিকানা জানি ভাড়াটে গোয়াল...
২৩/০৭/২০১৬

প্রেম
- অঞ্জন বসু

আমার যা কিছু ছিল দিয়েছি তোমায়
চেতনার বিন্দু বিন্দু প্রণয় ভাষায়
সমদ্রের পুঞ্জীভূত সফেদ ফেনায়
ভেঙ্গেছি আর গড়েছি নিত্য নব অবয়ব
তবুও সে প্রাণ মন্দিরে জাগেনিকো কলরব।
আজ কিছু নেই মোর পাশে
হৃদয় দুয়ার থেকে ফিরেছে সে
বালুকা বেলায় নিশি যাপনের কালে
দেখেছি নতুন দীপ আকাশের ডালে
মনের আকুতি ভরা অবিরাম অশ্রুধারা
লিপি হয়ে বালুচরে বাজায় অন্তরা।
কত যুগ পার হল ,ক্ষিন হল আশা
তবুও প্রার্থিত প্রেম পেল নাকো দিশা
বুকের নরম শয্যায় নম্র লজ্জা ভারে
নিশিদিন জেগে রয় দারুন পিপাসা।

সরল সমীকরন
- দিব্যেন্দু সান্যাল

সরল সমীকরনগুলি সরিয়ে রেখে
সবুজ পাতায় তুমি ক্লোরোফিল চিনেছিলে ।
স্নিগ্ধ ফুলকে নিখুঁত দৈর্ঘ্যে ব্যবচ্ছেদ করে
সেপাল, পোলেন, কারপেল ইত্যাদি ইত্যাদি…….
ডাগর ফলে খুঁজেছিলে ভিটামিন এ বি সি ডি আরো কতো কিছু ।
এইভাবে খুঁজতে খুঁজতে
আজ তুমি ঈশ্বরের খুব কাছাকাছি দৃশ্যমান এক ঈশ্বর ।
আর আমি এক নগণ্য কবি
আমার ক্লোরোফিল জ্ঞানে কোনো মোহ নেই ।
আমি সবুজের আহ্লাদে ফলে ফুলে ভরা গাছেদের ছুঁয়েই
বেশ তৃপ্তিতে আছি ।
তুমি ওই আকাশের চাঁদকে তোমার ঐশ্বরিক মুঠোয় এনেছো ।
আমি আজও
‘আয় চাঁদ আয় চাঁদ টিপ দিয়ে যা’ ।
তুমি আকাশের বুক চিরে ছুটে যাও অন্তরীক্ষে
অন্য এক ঈশ্বরের খোঁজে ।
খুঁজতে খুঁজতে ভাঙতে ভাঙতে
তুমি এখন এক চরম ক্ষুদ্রতম কনায় এসে দাঁড়িয়েছো ।
আর একবার ভাঙলেই তুমি ব্রহ্মজ্ঞানে উদ্ভাসিত
তখন তুমিই অদৃশ্য ঈশ্বর
তখন তোমার কোনো খন্ডন নেই ।
আমি এক নগণ্য কবি
আমার ঈশ্বরে বড় ভয় ।
আমি এই গাছেদের নিয়ে ফুলেদের নিয়ে ফলেদের নিয়ে
আরো সব অজস্র খন্ডিত মোহ নিয়ে
এখানেই থেকে যাবো ।
________________দিব্য

দুঃখ বিলাসী
- মার্জেনা চৌধুরী

ঝড় জলে ভেজা ঘরে
স্বপ্নরা গলা টিপে ধরে !

বিছানা পিপড়া শেয়ার করে
হাত দুটি শুধু কড়া পরে !

বাবা বলে পড়াশুনা দে ছেড়ে
ভিক্ষার ঝুলি হাতে হবে কদিন পরে !

মা বলে এমন করে বলো তুমি কারে ?
পেটে ধরে কি কেউ আছড়ে মারে !

ভাই বলে আমায় ফেলনা মেরে
জোয়ান পোলা থাকতে মায়ের চোখে অশ্রু ঝরে !

বোন বলে আয় না বোন আমার ঘরে
থাকবি না হয় কদিন আধপেটা কিংবা উপোস করে !

চাচা বলে ছেলে দেখছি বিয়ে দেবো তোরে
চাচী বলে ডং দেখে বাঁচিনা আছি তো উপোস করে !

মামা বলে বাণে খাইছে চলছি খোড়ে খোড়ে
এমন সময় টাকা পয়সা নাই আমার ঘরে !

খালা বলে ভাল থাকিস আমার লক্ষ্মী মারে
বাবার মুখ উজ্জ্বল রাখিস পড়াশুনা করে !

দুঃখ বিলাসী আমি এখন পরের ঘরে
বিভিষীকার আঁকি ছবি কলম কালি এক করে !

ঘুম
- সব্যসাচী সরকার

এ সময়ে জেগে কেন তুমি ? ঘুম নেই ?
দ্যাখো রাত বেড়ে গেছে কতো বয়সের ভারে
ঘুমিয়ে পড়েছে গোটা পাড়া, গ্রাম ও শহর, মস্তিষ্ক
কোমায় আচ্ছন্ন হয়ে কাচঘরের মাঝে ঘুমের আস্তানা
তুমি জেগে থাকো যদি নিছক কৌতুহলের বশে
সহসা রাত্রিকালীন শব্দ ওই ছাদ ফুঁড়ে বারান্দা পেরিয়ে
চলে যেতে পারে তোমার নিকটে
সে বড়ো সহজ কথা নয়, তাকে নিশিডাক বলে
তুমি তার পিছু পিছু চলে যেতে থাকো, ঘর ছাড়ো
ধীরে ধীরে বারান্দা পেরোও আর বয়ে যাও নদী হয়ে
ক্ষোভের সমুদ্রে
তার চেয়ে এই ঘুম ভালো, কাচঘরে থেকে ঈথার প্রদান ।
23 / 07 / 2016

রাতের সুখ পাখি
- সুনীল সানি সরকার

নীরব নীরস মুখখানি বড়ই বিবর্ণ,
ভূতলে লুটাইত অর্ধমৃত অতি শীর্ণ।
রাস্তার এককোণে ভীষণ ভিড়ে ,
জমেছে উৎসুক চোখ ধীরে ধীরে ।
শীর্ণ চেতনাহীন সে ছিন্ন বসনা,
তাহারে দেখিবারে মনে যত এষণা ।
চিবুকের ধার বেয়ে রক্তের ধারা,
শায়িত পথের প'ড়ে হয়ে জ্ঞান হারা।
শুধায় জনে জনে যা আসে মনে ,
হরেক রকম ভাবনার ক্ষণে ক্ষণে ।
নির্লিপ্ত আঁখিদ্বয়ে কেবলই হতাশা ,
আপনারে প্রকাশিতে নাই কোনো ভাষা।
জলের ঝাঁপটে কাঁপন আসে ঠোঁটে ,
হুহু করি কান্নার ঢেউ আছড়ে পড়ে তটে।
অতি ধীরে ধীরে অস্পষ্ট স্বরে ,
কাল নিশির বিভীষিকা ব্যক্ত সে করে ।
জনা চারি মদ্যপ পাশবিক আচরণে,
শরীরের জ্বালা খানি মেটায় মহারণে ।
সাঙ্গ হলে মহারণ শতচ্ছিন্ন বেশে ,
এলোকেশী মলিন আমি পরিত্যক্ত শেষে।
নরম মাংসপিণ্ড লোভে উন্মত্ত কামুক,
যৌবন সুখ মেটানোর আশ এবারে থামুক।
রাতের পথ হোক উন্মুক্ত সবার তরে,
একাকিনী পথিকেরাও ফিরুক ঘরে।

কদম বনে
- জুলফিকার আলী

বর্ষা মানে ফুলে ভরা
আশেপাশের জাংলা,
দেখতে হলে চলে আসুন
আমার সোনার বাংলা|
কদম বনে খুশির ঢেউ
টিপটিপটিপ বৃষ্টি,
কদম শোভা কাড়ে
দুই নয়নের দৃষ্টি|
কদম বনে ফুল বনের
সৌন্দর্য পেয়ে,
খোকা-খুকু নেচে বেড়ায়
বর্ষার গান গেয়ে|

কাজী জুবেরী মোস্তাক
♥♥♥♥♥♥♥♥
দ্বিপান্বীতা
জানিনা কখনো তোকে ভালোবেসেছি কিনা ,
তবে একটা কথা হয়তো আজো তোর অজানা
আজো নাকে লেগে আছে তোর শরীরের গন্ধটা ৷
দ্বিপান্বীতা
আজও আমি উন্মুখ হয়ে চেয়ে থাকি পথের পানে
এ বুঝি তুই ফিরে এলি মরিচিকার বুক চিঁরে
নষ্ট,ভ্রষ্ট আর ছন্নছাড়া এই বাউন্ডেলের হৃদয় গহীনে ৷
দ্বিপান্বীতা
আজও রুটিন করেই দু'বেলা যাই তোর পাড়ায়,
রুটিন করেই বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি তোর আশায়
যদি বলিস দেরী হয়ে গেছে প্লিজ নামিয়ে দিয়ে আয় ৷
দ্বিপান্বীতা
তোর তো ইচ্ছে ছিলো ঐ নীলাকাশকে ছুঁয়ে দেয়া ,
বলতে পারিস তবে কেনো ছুঁয়ে দিলে এই হৃদয়টা?
সে ছোঁয়াতে বেহায়া স্বপ্নরা উঁকি দেয় হৃদয় পাড়ায় ৷
দ্বিপান্বীতা
ভালোবাসার আগুনে আজ হৃদয় পুড়ে ছারখার ,
প্লিজ আয় সে আগুনে দু'জনে পুড়ে হই একাকার
দ্বীধা দ্বন্দকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলি আর একবার ৷

দোলনা
- মাইনুদ্দিন আল আতিক

দুলছে গাড়ি দুলছি আমি
আমার সহযাত্রীরা
তালগাছের ডগায় ঝুলে থাকা
বাবুইপাখির নীড়টি
দুলছে পুরো পৃথিবী,
দুলতে দুলতে চলছে জীবন
জীবনের যাত্রা।

রক্তাত মাতৃভূমি
- কাকলী ভট্টাচার্য্য

আজ কে তোর শ্বেত বসন
ফেলে যুদ্ধের জন্য ওঠ রে সেজে
আজ আবার হাতে তুলে নে
সেই রক্তাক্ত তরবারি, যুদ্ধের বর্মা পরে নে মা তুই,শান্ত হোক ধরনী আবার, গর্জে ওঠ মা তুই।
#
চারিদিকে আজ আবার অসুরের
দাপাদাপি সেই অট্ট হাসির রব
তারা আবার তাদের নখ, দাঁত
বার করে কাঁপাচ্ছে ধরণী ময়
অসহায় হয়ে কাঁপছে ভূধর।
#
মা, তুই তাদের টুটি টিপে ধর
হাতে তরবারি আর নয়নে জ্বলুক
আগুন, সেই আগুনে ধ্বংস কর মা,অসুরের যত আছে বংশ এ
ধরণী তলে।
#
শান্ত কর মা, ধরাতল আজ
ধ্বংসের বিদায় দিয়ে আন মা
তুই, শান্তি সুখের, নতুন ভোর
আবার নতুন সুর্য্য আলো দিয়ে যাক মাতৃ ভূমির পরে।

শহীদ দিবস
- বিপদতারণ দাস

হাজার রূপের বাহার তোমার
শত শত গুণগ্রাহী হলো ধন্য ,
কত বেশভূষন -আঁখিও দূষণ
বহুরূপী তুমি -ওগো কার জন্য ?

শহীদের সম্মান - স্মরণ সময়
বিজয়ের হুঙ্কারে বদল রক্তের রঙ ,
কতশত শহীদের খুনিরা আজ মঞ্চে
অসহায় শহীদের পিতারা শুধু কাঁদছে l

কত নারির ইজ্জত - সততায় লুটছো ?
সাজান- সৌজন্যে কত শহীদ গুণছো?
বিজ্ঞের বুদ্ধি- ? বড় বড় বিজ্ঞরা মঞ্চে
শহীদ পরিবার নিচে বসে বসে কাঁদছে l

বাঁধ-ভাঙ্গা উল্লাস -ভিড়ে ঠাসা ঐ মাঠ
আজ নাকি কত শহীদের তর্পণ ডাক,
কই কোথায় সে হাহাকার শহীদ বরণ ?
চারিদিকে বিজয় উল্লাস শক্তি প্রর্দশনll
©বিপদতারণ দাস

ক্লিওপেট্রা
- দিব্যেন্দু সান্যাল

আদিগন্ত ধুধু মরুর নির্জলা ক্রোধ
হায়নার মতন হাঁপায়
বালির তীব্র আঁচে দিকভ্রষ্ট হাওয়া
তীক্ষ্ণ বর্শা ফলার মতো তান্ডবে নাচে
বিবর্ণ দুটি ফুল সুরভির খোঁজে এসে
ঝলসে কুঁকড়ে আছে বালির উপর
ছোটো ছোটো রাতপরী পাখিরা কোনো গুঞ্জন করেনা এখানে
পশ্চিমে কঙ্গোর ভয়াল অরন্যে মুহুর্মুহু শিকারীর তীব্র উল্লাসে
চাপা পড়ে শিকারের একক অর্তনাদ
দুই পাড়ে রুক্ষ বালি মেখে
অবসাদে ডুবে আছে শ্লথগতি নীল
এখানে সবাই আজ হাসতে ভুলে গেছে
বিবর্ণ আকাশ থেকে বিন্দু বিন্দু লবনাক্ত ঘাম ঝ’রে পড়ে ।
সেই কালবেলা
রুয়ান্ডার এক অনক্ষ পর্বত চূড়ায় পুরুষাকার আমি
সেদিন আমিই জুলিয়াস অথবা অ্যান্টোনিয়
আমার অঞ্জলি ভরা নীলজলে আকাশের তর্পন শেষে
দুই হাতে আকাশকে ছুঁয়ে তোমাকে ডাকি____
ক্লিওপেট্রা… ক্লিওপেট্রা …..
সুরলোকের অপার লাবণ্য দ্যুতিতে ভাস্বতী
তুমি ধীর পায়ে নেমে আসো
স্বরচিত মাধুর্যে তুমি অনন্যা…….. ক্লিওপেট্রা ।
তোমার বার্তা পেয়ে
উৎফুল্ল নীলের বুকে ঢেউ আর ঢেউ
ভোরের শিশির মেখে রাতপরী পাখিরা
আবার সুরেলা আকাশে ডানা ম্যালে ।
আমি তোমার দিকেই চেয়ে থাকি
তোমার দুচোখে দুর্বোধ্য প্রেমের মায়াজাল
দোর্দন্ডপ্রতাপ আমাকে সম্মোহনে বিবশ করেছে বার বার
সেই তোমারই মায়াবী চোখে তীক্ষ্ণ বর্শা ফলার মতো ক্রূরতাও হাসে ।
তোমার রহস্য বলয়ে এসে
কালের অমোঘ গতি ক্ষনেকের তরে থেমে গেছে
ইতিহাস বাকরুদ্ধ হয়েছে বারংবার ।
তোমার মেসিডোনিয়া আজও তোমার প্রতীক্ষায় প্রহর গোনে ।
আজও মনে হয় আমিই জুলিয়াস অথবা অ্যান্টোনিয়
আজ যদি আকাশকে ছুঁয়ে তোমাকে একান্তে ডাকি
তুমি আসবে কি মোহময়ী ?
আজও যে চারিদিকে বিষাক্ত সাপের দল ফনা তুলে আছে ।
___________দিব্য

শখ
- কাকলী ভট্টাচার্য্য

কারো শখ বায়না করা
কারো বায়না রাখা,
শাহাজাহানের শখের তাজমহলে
ভালোবাসা মাখা।
ইংরেজ গড়েছিল নানা স্মৃতিসৌধ
কেউ শখে ছবি তুলে দেয় আবডেট
আবার কেউ ছবি এঁকে
করে গ্যালারীতে সেট।
#
কারো শখ গান গাওয়া
কারো আবার শোনা
কেউ নাচে তাথৈই থৈই
কেউ লিখে আনমনা।
কারো শখ নাটক করা
কেউ খেলে খেলা
কেউ শখে সাজায় বাড়ি
আসবাবের মেলা।
গয়না কেউ শখে কেনে,
ঘোরে দেশেবিদেশে
শখ করে কেউ কেউ
বাঁচে নেশায় ভেসে।
#
আমার আবার অন্য শখ
চুপিচুপি বলি
আমি শখে ঘুড়ে বেড়াই
কল্পনাতেই চলি।
যাহা আসে মনের মাঝে
তাকে করি খাতা বন্ধ
সবাই বলে বেশ, বেশ
লেখা নয় মন্দ।

মেঘ বিষাদের দিনে
- সব্যসাচী সরকার

এমন কিছু কান্না থাকে রাখা
এমন কিছু লবণ গোলা জল
দৃষ্টিপথে যায় না তাকে দেখা
ভিতর ঘরে বৃষ্টি অবিরল
এমন কিছু মুক্ত নদীর বেশ
এমন কিছু নূপুর ধ্বনি থাকে
কোজাগরী আলোয় ভাসে দেশ
সেই আলোতে মেঘবালিকা ডাকে
দৃষ্টি কেন ঝাপসা হয়ে আসে
নদীর বুকে তুলিস কেন ঢেউ ?
বেশ তো আছি বন্ধ দুয়ার হাসে
কেউ আসে নি, ডাকেও নি তো কেউ !
২০ / ০৭ / ২০১৬

বাল্যবিবাহ
- কবির হান্নান

সুকণ্যা দুধ ভাত রাঁধতে পারে ভালাে
বয়স সংখ্যার ঘরে বছর দুই হলাে
সুকণ্যা'র হাসিখুশি করে দিলাে চুপ চেহারায় ছিল তার অতুলনীয় রূপ।
সুকণ্যা হলাে সংসারী
পরতে পারেনা ঠিক মতাে শাড়ী
বেনেবৌ সাজিয়ে এনেছে ঘরে
কথায় কথায় দােষ ধরে।
সুকণ্যা'র আজ নরকে বাস
চারদিকে তার বৈরী বাতাস
পিতৃ ঘরে ঠাই নাহি মেলে
শ্বশুরপক্ষের কথার ছলে
শ্বশুরগৃহে দিবানিশী কাটে চােখের জলে।
এভাবে আরাে বছর দু'য়েক গেল
স্বামী তাহার নিরুদ্দেশে পরকিয়ায় ফেঁসে
আর,সুকণ্যা পােঁয়াতি
বালিকাবধূ! সংসার,স্বামী,দেহের ভেতর দেহ
অমানুষ গুলাে মানুষ হয়েছে রূপ দেখছে না কেহ।
এসেছে নবজাতক
সুকণ্যা না ফেরার দেশ
স্বামী এসেছে ঘরে
যে ছিলাে নিরুদ্দেশ
কেউ কেউ করে দুঃখ প্রকাশ
বাল্যবিবাহে সুকণ্যা অাজ পরবাস।
.................
(20/০৭/১৬)

ঝড় থেমে গেলে
- অঞ্জন বসু

ঝড় থেমে গেলে
আকাশ নক্ষত্র সব
আপন আপন কক্ষে
পৃথিবীরে দিয়ে যাবে আলো।
ঝড় থেমে গেলে
আমার ভবগুরে মন
খুঁজে নেবে পথের নিশানা
আমার আমি কে দিয়ে বিসর্জন
বিশ্বেরে করবে আপন ,
এর চেয়ে মহা শান্তি
কিবা হতে পারে
আমার মানসে যা উদ্ভাসিত
নতুন সূর্যের মতো নতুন ভুবন।
ঝড় থেমে গেলে
সূর্যমুখী শাখা
হয়ে যাবে গাম্ভীর্য্যে নিটোল
প্রসূতি কন্যার মত পারিজাত প্রেমে
এঁকে দেবে আকাশ ললাটে
সহস্র চুম্বন।

একুশ বছরের কবিতা
- দিব্য

শেফালীর স্নিগ্ধ সাজে তুমি আমার দিকেই চেয়েছিলে
তোমায় একলা ডেকে বললাম ‘ভালোবাসি’ ।
তুমি দুই চোখ বুজে প্রাণ ভ’রে হেসেছিলে
আর আমাকে ছুঁয়ে গভীর দিঘীর মতো বার বার কেঁপেছিলে ।
আজ একুশ বছর পর
দু একটা রূপোলী চুলের হাসি
আটপৌরে শাড়ির বিনীত অহং মেখে
তোমাকেই ডেকে বলি ‘ভালোবাসি’ ।
তুমি অপলক তাকিয়েই থাকো________
তোমার মনন খুঁড়ে খুঁড়ে
তোমার হৃদয় খুঁড়ে খুঁড়ে
তোমার চেতনা খুঁড়ে খুঁড়ে
অপলক দুচোখে তোমার
একুশ বছরের এক দীর্ঘ কবিতা ভেসে ওঠে ।
একবার সিমলায় আমাদের অজস্র চুম্বনের উষ্ণতায়
সমস্ত বরফ গ’লে একটা আস্ত স্রোতস্বিনী ।
সেই স্রোতস্বিনী শাখায় প্রশাখায় তোমার আমার কত দহন জুড়িয়ে
শেষে এক কুয়াশার দেশে গিয়ে
মিশে গেছে কুয়াশায় ।
আর একবার আমার বান্ধবী পারমিতা সেনের একটা ছবি
আমার মুখের উপর ছুঁড়ে দিয়ে
তুমি প্রায় একমাস লেডিস হোস্টেলে গিয়ে ছিলে ।
পারমিতা সেনের ছবি
আজ অবয়বহীন এক বিমূর্ত ছবি বেশে
একুশ বছরের কবিতায় এক কোনে মুখ গুঁজে প’ড়ে আছে ।
প্রথম ‘ভালোবাসি’ শুনে দিঘী জল হয়ে কেঁপেছিলে ।
‘ভালোবাসি’ শব্দ খুলে কি যে দেখেছিলে সেই দিন !
আজ ‘ভালোবাসি’ শুনে তোমার দিঘল চোখে
একুশ বছরের এক দীর্ঘ কবিতা ভেসে ওঠে ।
আজ তুমি কি দেখলে ‘ভালোবাসি’ খুলে ?
‘ভালোবাসি’ বুঝতেই দীর্ঘ একুশ বছর কেটে যায় ?
এখন আমার এই কবিতার একটি শব্দকেউ
একুশ বছরের আগে আর একবিন্দু বিশ্বাস নেই ।
ভাবছি এই কবিতাটি যদি পোস্ট করি
একুশ বছরের আগে কিছুতেই করবোনা ।
__________দিব্য

মৈত্রী – ১১
- মোঃ মোহসীনুল হক

আছিল সরল সাধু; কোন এক গ্রামে
পরিচিত সকলের চিনে এক নামে।
প্রতিদিন প্রাতে লয় ইষ্টনাম মুখে,
স্ত্রী, পুত্র,পরিজন নিয়ে থাকে সুখে।
কোথাকার ভণ্ড এক পাষণ্ড নাস্তিক
বন্ধুত্বে বাঁধিল তারে শট তান্ত্রিক।
সকালে বিকালে, কভু কোনদিন রাতে
ধর্ম নিয়ে আলোচনা করে তার সাথে।
প্রতিদিন এইভাবে নানান কথায়
প্রীতি ডোরে বাধিলেন ভণ্ড মহাশয়।
একদিন ভণ্ড এসে কহিল সাধুরে,
অন্য কোথা যাই মোরা হেথা হ’তে দূরে!
হেথা কোন শান্তি নেই শুধু জরা- জ্বালা,
ইষ্টনাম নেব সেথা একান্তে নিরালা।
মিষ্টভাষী সেই দুষ্ট, তার মধুর বচনে
সাধুরে ভুলাইয়া সাথে নিল তার সনে।
গ্রাম হ’তে দূরে গিয়া- ধনীর আলয়ে
অতিথি হইল দোহে তাহারে ভুলায়ে।
“অতিথি বাৎসল্য ধনী” স্বাদরে গ্রহণ,
করিল দুজনারে! করাইল ভোজন।
নানা পদ খাদ্য দিল অতি স্বচ্ছ পানি,
মূল্যবান পরিচ্ছদ দিল তারে আনি।
ফুলের বিছানা দিল ঘুমাইতে রাতে,
কিছু দিল জল-পান আনি নিজ হাতে।
পরিশ্রান্ত সাধু ও ভণ্ড, তৃপ্ত অতি মন,
গভীর ঘুমেতে ক্ষণে হল অচেতন।
গৃহস্বামী পরিবার কেহ জেগে নেই,
ভণ্ড তার মূল কায্য এই সুযোগেই;
সমাধা করিল একা অতি সঙ্গোপনে
টের নাহি পেলো কেউ ঘুমের কারনে।
ধন রত্ন মালামাল দামী যাহা ছিল,
ভণ্ড একা নিয়া রাতে পলাইয়া গেল।
পরদিন ধনী প্রাতে সাধুকে ধরিল,
চোর ভেবে তারে অতি প্রহার করিল।
হাত পা বেঁধে তারে বাহিরের দ্বারে
ফেলিয়া রাখিল অতি পরিহাস করে।
পথচারী যতজন তাহারে দেখিল
চোর ব’লে তারে সবে গালিগাল দিল।
কেহবা বলিল তারে পাকাচোর অতি,
সাধু বেসে হয়েছিল ধনীর অতিথি।
অনেক যাতনা দিল তাহারে ধরিয়া
পরদিন ছেড়ে দিল পুনঃ প্রহার করিয়া।
দুষ্টের মধুর বুলি মধুর বচনে
ভুলিওনা কোথা কেউ, সদারেখ মনে।
দুষ্টের কুটিল মনে দুষ্টামির বাস,
যে হবে তাহার সাথী- তারই সর্বনাশ।

লালমনিরহাট
তারিখঃ ২১/০৯/২০১৫
==০==

রাজাকার
- আমিনুর রহমান নিরব
-------------------
একাত্তরে শুনছে মায়ে
গলার আওয়াজ যা যা কার
রাজাকার,রাজাকার।

ফোঁকলা দাঁত
মাথায় টাক,
এত্ত বড় মাজাকার?
রাজাকার,রাজাকার।

মুখে হাসি
গলে ফাঁসি,
ঝুলিয়ে হবে সাজাকার?
রাজাকার,রাজাকার।

রাজাকার
- আমিনুর রহমান নিরব

পাকদের সাথে রাজাকারে
করতে গিয়ে চুক্তি,
বাংলার মানুষকে দেখায়
ভোলা ভ্যালা যুক্তি।

খর্ব করতে এ দেশের
সব রকম শক্তি,
হাত মিলিয়ে ছিস যে
করতে ওদের ভক্তি।

সহজ সরল মানুষরা সব
চায় অন্যায়ের মুক্তি,
ভুল কি ছিল ওদের?
হইতে হল রক্তি।

রাজাকার পাবে শাস্তি
শুনবে কঠোর পংক্তি,
ক্ষয় হতে দিবনা কবু
মাটির এক রত্তি।

কপালের লেখা
- ইসমাঈল হোসেন দিনাজী

মেঘে মেঘে বাড়লো বেলা
সন্ধ্যে ঘোনালো যে,
তাও এলোনা আপন কেহ
এ অভাগার খোঁজে।
চতুর্দিকে দেখছি আঁধার
সামনে পড়ে অথৈ পাথার;
আমার ভেতর কী হাহাকার
তা কেহ কি বোঝে ?
আমার ব্যথা আমি বুঝি
মনে মনে নিতুই যুঝি,
নিরজনে কতই খুঁজি
তাও বোঝেনা ও যে !
পারঘাটাতে বসে একা
পাইনা হেথা কারুর দেখা,
ছিল যা কপালের লেখা
তাই বুঝি হলো যে।
২০০৭১৬

এখনে শব্দগুলো বেশ উশৃংখল এবং শূণ্যগুলো
মাথাকে বিভক্ত করে দেয়।
এলোমেলো মাথায় প্রলাপ বকতে থাকে অযাচিত কথার স্ফুলিঙ্গ
আর ঘুম উধাও-চোখ নিতে চায়না বিশ্রাম।
এভাবে নিজের সাথে কথা বলে জাবরকাটার মত করে
অব্যক্ত গানগুলো শূণ্যে ভাসিয়ে দিয়ে চলতে চলতে সব থেমে যায়।
থেমে যায়না জাবরকাটা,শুধু থেমে যায় পথ মেপে হাটা।
হাতের পাঁচটি আঙুল শিল্পীর সূরের ঝংকারের মত
নেচে চলে,অনামিকা-তর্জনী হেসে কুটিকুটি
নিজের সাথে রোমন্থনে।
এও ভাল….
চিন্তার মাঝে থেকে নিজেকে শুধরে নেয়া যায়
সময় প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে
কেননা একাকী সময়টুকু কাটা বড় দায়
সেই আইনিস্টাইনের রিলেটিভিটির থিওরি।
তবুও খারাপ লাগে….
মনে হয় মস্তিষ্কের উদ্ভট কথাগুলি
কম্পিউটারের প্রোগ্রামের মত কাট করে
পেস্ট করে দিই কোনো অজানা জঙ্গলে
যা ব্যাটা দূর হ….
পরিশেষ….
আদিগন্ত সূর্যাস্ত এখন কিছুটা আমাকে চেনে
প্রকৃতির কান্না শুনতে পাই
কিছুটা আমার সকাশে
আমি আজ নই শংকিত
আমার ক্লাইম্যাক্স কী বলে?

এলোরে বর্ষা
জুলফিকার আলী

আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা
বৃষ্টি পড়ে সারাবেলা|
কদম বনে কে রে?
খোকা-খুকু নাচে রে!



আষাঢ়-শ্রাবণে বর্ষা,
কখনো গগন কালো কখনো বা ফর্সা|
পুকুর-ঘাট ভরে জলে,
চারদিক নাচে ফুল ও ফসলে|

উদ্ভিদ বৃক্ষ সাজে নব সাজে,
খুশির বীণা বাজে প্রকৃতি মাঝে|
অলস সময় কাটে গল্প-গানে,
মাঠ ভরে কচি সবুজ ধানে|

দৌড়
- দিব্য

এই জটিল রাতের অরন্যে
সম্রাট কনিষ্কের দুর্বোধ্য ছবির মতন
একটি প্রাচীন বৃক্ষ
সমস্ত শরীরে তোষামুদে লতাগুল্ম জড়িয়ে
আকাশ দরিয়ায় ডিঙি চাঁদের দিকে চেয়ে আছে ।
এই বৃক্ষরাজের অধীনে
চারিদিকে অসংখ্য ছোট বড় গাছ
অপুষ্ট জ্যোৎস্নায় নির্বাক অতন্দ্র প্রহরী যেন ।
পর পর গুটিকয় টিলা একদা উদ্ধত হতে চেয়েছিল ।
আজ অবনত, জঙ্গল সাম্রাজ্যের অধীনস্হ প্রজা ।
শুকনো ঘাসে ঢাকা খোলা প্রান্তর__
এখানে কোনো গাছের প্রবেশ নিষিদ্ধ
কারন এই জঙ্গল সাম্রাজ্যের সংবিধানে
তফসিলী ঘাসেদের পূর্ন নাগরিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে ।
এখন এই খোলা প্রান্তরে
আপাত ঐক্যবদ্ধ একপাল নিহীর হরিণ
নির্জীব জ্যোৎস্নাকে ভালোবেসে কাছে ডাকে ।
সহসা জ্যোৎস্নার গুপ্ত আচ্ছাদনে
এক জল্লাদ গতির ওঁত টের পেয়ে
একপাল হরিণের নিহীর ঐক্য ভেঙে চুরমার ।
অতঃপর দুটি ভিন্ন সংজ্ঞার অসম গতিবেগের দৌড় ।
জঙ্গলরাজ এবং তার চির অনুগত বোবা প্রজারা
এই দৌড়ের পরিনাম জানে । আকাশের ডিঙি চাঁদও জানে ।
একটি খসে পড়া বেয়াড়া পাতার বেয়াদবি ছাড়া সকলেই চুপ তাই ।
একমুঠ সবুজ ঘাসের ভিতর
পৃথিবীর একবিন্দু তৃপ্তির সব আশা
বিকট অন্ধকারে সমর্পন করার আগে
মৃদু চাপা এক আর্তনাদে
ক্লিষ্ট জ্যোৎস্না হাওয়ায় কেঁপে ওঠে ।
যখন নগরে ফিরি
ডিঙি চাঁদ আকাশেই ভাসে ।
নগরে শুকনো ঘাসের কোনো প্রান্তর নেই ।
প্রাচীন পুঁথির আকারে এক সম্ভ্রান্ত সংবিধান আছে
আর বোবা বৃক্ষের মতো সারিবদ্ধ বাড়িঘর দুপাশে নিয়ে
নির্জীব জ্যোৎস্নায় উন্মুক্ত রাজপথ
ভিন্ন সংজ্ঞার অসম গতিবেগ সম্পন্ন দুটি দৌড়ের প্রতিক্ষায় উন্মুখ ।
__________দিব্য

সময় বড় বালাই
- সুনীল সানি সরকার

সময়ের অনন্ত স্রোতে
সামাজিক বদ্ধ জীবনের অকস্মাৎ পদস্খলন।
মরচে ধরেছে সামাজিকতায়,
দৃঢ় বন্ধন হয়েছে ঝুরঝুরে।
চলছে পরিবেষ্টিত সময়ধারায়
নিজেকে খাপ খাওয়ানোর অক্লান্ত প্রতিযোগিতা।
তিল তিল করে বড় হচ্ছে
সম্পর্কের বাঁধের ফোঁকর গুলো ,
সেখান দিয়েই অনুপ্রবেশকারী হিংসার দল
পিল পিল করে পড়ছে ঢুকে।
সহমর্মীতা সে তো সরস্বতী নদীর মতই অন্তর্লীন।
পারস্পরিক বোঝাপড়ার বড়ই অভাব,
বৈষম্য বেড়েছে কর্কট রোগাক্রান্ত কোষের মতোই। চিনের প্রাচীর হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে হাজারো সমস্যা।
সবই সময়ের ফের, কালের চাকার ঘুর্ণনমাত্র।
অনু ছেড়ে পরমাণুতে ভালোবাসার আত্মপ্রকাশ।
নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে সুপ্ত শক্তির খোঁজে অহর্নিশ ঠান্ডা ঘরে বিদ্যান বিদূষীদের রাত্রি যাপন।
শক্তিশালী স্বার্থান্বেষি আবেশ ব্যস্ত পৃথিবীতে
ডেকে আনে মরুর শুণ্যতা ,
সশব্দে কখনো বা নিঃশব্দে বিস্ফোরণ ,
মৃত্যু মিছিল।
সময়ের স্রোত হোক বিপরীতমুখী।
বিলীন হোক, সদর্পে নিজেকে
জাহির করার মারণ কৌশল।
বন্ধ হোক, বিচ্ছিন্নতাকামি আস্ফালন।
প্রশমিত হোক বাতাসের বারুদের গন্ধ।
শ্বেতশুভ্র পায়রার দল মেলে ধরুক ডানা,
আকাশের মাঝে মাঝে লাট খেয়ে খেয়ে
ফিরে আসুক শস্য শ্যামলা পৃথিবীর বুকে।

অনেকেই তো হইলোরে তোর এইপারে চলাচল
ওরে মন এবার তোর আসল বাড়ি যাইতে হবে চল
ভবের খেলা সাঙ্গ কইরা আজ যাইতে হবে চল ৷
ওরে মন অনেকেইতো হইলো তোর এপারে চলাচল ,
দালান বাড়ি ছাইড়া রে তুই থাকবি একলা মাটির ঘরে
মুনকার নাকির বইসা আছে ঐনা শুন্য ঘরে
দুই খান প্রশ্নের উত্তর জানলে তোরে কে আর ধরে
ওরে মন অনেক তো হইলো তোর এইপারে চলাচল ,
সকল মায়া ছাইড়া রে আজ তোর আসল বাড়ি চল
ভবের মায়া ছাইড়া রে তুই কি নিলি ঐপারের সম্বল ?
নাকি আসল ছাইড়া বাঁধলিরে তোর শুন্য ঐ আঁচল ৷
ওরে মন অনেক তো হইলো তোর এইপারে চলাচল ,
ভবের মায়া ছাইড়া রে তুই তোর আসল বাড়ি চল
পইড়া আছে দেখ মাটির দেহ দম ফুরাইয়া নিশ্চল
তোরই লাইগা জাল হইতাছে আজ বরই পাতা জল ৷
ওরে মন অনেকইতো হইলো রে তোর এপারে চলাচল
জগৎ সংসার ছাইড়া এইবার তোর আসল বাড়ি চল ৷

আমার রক্তের মধ্যে কিছু ভাষা কানামাছি খেলে
তাদের দেগভাল করা হয়না কেননা তারা কংকাল দেখিয়ে
আত্মাকে কাছে আনেনা।
আত্মার কাছে যাওয়া হয়না।
ভাষাগুলো উড়ন্ত চুম্বন করে আমাকে জাগিয়ে তুলতে চায়
প্রতিটি দেহের শিরা-উপশিরা লোমকূপ জেগে ওঠে
ঠান্ডা মস্তিষ্কে রাত হারে।
হলুদ পিঁচুটি বাটা চোখের নগ্ন সৌন্দর্যে....
ইহা চোখের বিতৃষ্ণা ভালবাসা
ইহা প্রেমিকের প্রকাশিত যষ্ঠী মধু।
কত রাত এলো গেল
কত হরিণেরা আমার খাতায় নাম লিখে গেল
আমি এখনও হরিণ খুঁজি ভাষার সন্ধানে।
এ ভাষার মাঝে থাকবে নীল আকাশে বাঁচার আলিঙ্গন
প্রেমিকের বোতাম ছেঁড়া মাদার তেরেসার নির্মল হৃদয়
(ড্রাকুলার সম্পর্কের চ্যাপ্টার হবে ক্লোজ)
আর কংক্রিটের গায়ে থাকবে ঘামের পারফিউম নির্যাস
সুগন্ধ ছড়াবে প্রতিক্ষণ
আমাদের খোকাগুলো যেন ভয় না পায়
পেলে পাবে
এমনিই ঠিক হয়ে যাবে
রক্তের মধ্যে মস্তিষ্কের সাক্ষাৎকার
নাকি….
মস্তিষ্কের মধ্যে রক্তের সাক্ষাৎকার
বুঝি নাহ....নাহ....নাহ....
বুঝে কে?
ধ্যাত্তেরিকা!
কানামাছি খেলে যাক ভাষাগুলো আমার সাথে
আমি কানা হই
ভাষা তুমি হইওনা
তুমি হলে সব শেষ;সব চুরমার,সভ্যতা বিনাশ
সংস্কৃতি ন্যাংটো হয়ে যাবে
ইদানিং যা হয়
বুঝতে পারছ?

সময়টা বড় অদ্ভুত;মনে হচ্ছে হাতের তালুতে রাতকে ঘুম পাড়িয়ে জলপাইরঙের একটা শার্ট পরে কোনো এক অজানা দেশের পথে মেতে থেকে নির্লিপ্ত হয়ে হৈ হুল্লোর করি।গানকে কানের কাছে রেখে সুরকে একটু দূরে ফেলে দিয়ে লিরিকের সাথে মিশিয়ে কবিতার ফ্ল্যাপখানি খুলি।আরেব্বাস!এটাই তো চাচ্ছিলাম।আমার শরীরে যত পুঁজ জমা আছে তার কাছে প্রতিভা আত্মসমর্পন করে;যেন আমার পুঁজের কাছে প্রতিভা বন্দী,কবিতা বন্দী,লেখালেখি বন্দী।আজকাল সুর ভেসে আসে-কবিতার ক্লাশ শেষ এবারের মত।কবিতা নাকি পাথরের ভারে নুয়ে পড়েছে।নুয়ে পড়লেও এভাবেই অনেকটা পথ পাড়ি দিতে পারবে সে।কবিতার কখনই ক্লাশ শেষ হয়না।কবিতাকে শক্তিরূপে বন্দনা করলে এ পৃথিবী নন্দিত স্বর্গীয় হয়ে উঠবে।আর কবিতার কাছে হবে সময় স্ত্রৈন।কবিতার গেলাসে এখনো মদ জমা থাকে।

রাতের আকাশের দিকে তাকাই
গ্রীল ধরে ঠেস দিয়ে আছি।বাদামী
পাতার মত গোল ফুটবল
নিঝুম প্রকৃতি সেজে আলো দিয়ে
ছড়াচ্ছে অমোঘ নেশা।
গোল সেই ফুটবলটি কাউকে হাসাচ্ছে
কাউকে কাঁদাচ্ছে।
আমার বুকের ভেতরে ভিজে মাটির
সোঁদাগন্ধ
ভেসে আসছে সহস্রযুগের হয়ে।
টিকটিক করে হৃদপিন্ডে কিছু পুরোনো
ব্যাথা
পড়ন্ত বিকেলের লাল আকাশের মত
জেগে উঠে,
রংধনুর স্মৃতির মলাট সাদাকালো
ভেসে উঠে।
নিঝুম এই রাত্রিতে একটি দোকান
চোখে পড়ে।
মনজিতের চায়ের দোকেনের পেছনে
বসে
গাঁজাখোর দিচ্ছে শুকনো গাছের
গড়্গড় টান।
কুকুরগুলো লেজ বাঁকিয়ে লকলকে জিভ
দিয়ে
রুপোলি রাত্রিতে করছে স্নান
বিস্কুটের আশায়।
আর আমি দাঁড়িয়ে দেখছি একা একা।
একা থাকা বেশ ভাল লাগে এই সময়
পাঞ্জাবীর গুটানো আস্তিনে
হাতের আঙ্গুলগুলো
কিছু পাওয়ার আশায় থাকে
ধরতে মন চায় নরম শরীরের ভালবাসা।
এই ভালবাসা চলছে সমগ্র পৃথিবী জুড়ে
পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ছে
নরম হাতগুলো উষ্ণ হচ্ছে বেশ
উষ্ণ হোক আমি উষ্ণ করি আমার
মনখানা
হৃদপিন্ডের ভেতরে জমা কালো
তুষারের দিনলিপি
চাঁদের সাথে শেয়ার করি
চাঁদের সাথে হোক আড়ি।
সপ্তর্ষিরা সাজিয়ে রাখুক পৃথিবী
মহাকাল ধরে
মহাকাল ধরে এই রাত নেমে আসুক,
কেউ একজন গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে থাকুক
আমার মত পাঞ্জাবীর বুকপকেটে
জোনাকি পোকা নিয়ে।

পৃথিবীর বাতাসে আর পারিনা নিঃশ্বাস নিতে
বিষাক্ত বারুদের ধোয়া বুকে চলেছি পৃথিবীতে ,
বাতাসের ভোঁ ভোঁ শব্দ শুনতে পাইনা কানপেতে
অস্ত্রের ঝনঝনানিটাই কেবল কানে শুধু বাজে ৷
অস্ত্রের মুখে আজ জিম্মি আমার প্রিয় স্বাধীনতা
অস্ত্রের মুখেই স্তব্ধ হয়েছে আজ সারা পৃথিবীটা ,
অনুবিক্ষণেও আর পাইনা খুঁজে বিপন্ন মানবতা
মানুষের রুপে বাস করে যেনো অন্য আরেক সত্তা ৷
যদি বাঁচার জন্য অন্ন চাই হাতে তুলে দাও অস্ত্র
বুঝেছি আজ এটাই হলো দলে ভেড়ানোর মূলমন্ত্র ,
চিৎকার করে বলছো তোমরা-তোমরাই গণতন্ত্র
কাছে গিয়ে দেখি তোমরাই আজও হওনি একত্র ৷
ভুলে যাও আজ ভুলে যাও সব ধর্ম,বর্ণ,গোত্র
যুদ্ধ,দাংগা হানাহানি থেকে নিজেকে করো মুক্ত ,
মানুষে-মানুষে ভুলে যাও আজ সকল দ্বিধা দ্বন্দ
বিশ্ব জুড়ে গণতন্ত্র হয়ে যাবে স্বাধীন আর স্বতন্ত্র ৷

আক্ষেপ
- উমা শংকর দাস

সেদিন চৈত্র মাস, বসন্তের
কৃষ্ণচূড়ার লাল রং নিয়ে
লিখেছিলাম কবিতা,
তুমি আসবে বলে ।



শ্রাবণী রাতে বৃষ্টির বিষণ্ণতায়
জমা জলে ঢেউ তুলে আমি
ভাসিয়েছিলাম কাগজের নৌকো,
তুমি আসবে বলে ।

তুমি আসবে বলে শব্দমালায়
সাজিয়েছিলাম আমার কবিতার
ডালি , ভেবেছিলাম রামধনুর রং এ
তোমায় সাজিয়ে কপালে চন্দ্রটিপ দেব,
খোঁপায় দেব বর্ষার কদম ফুল।
তবু তুমি এলে না ,
দিলে না আমার ভালবাসার দাম।

আমি জানি তুমি আসবে,
আসবে কোনও এক চৈত্রের বসন্তে,
আসবে কোনও এক শ্রাবনের বিষন্ন সন্ধ্যায় ।
সেদিন আমায় হয়তো পাবে না,
আমি থাকবো তোমার থেকে আলোকবর্ষ দূরে,
পাশে পাবে আমার ফেলে যাওয়া কিছু স্মৃতি ।

মায়ের কাছে প্রশ্ন
- কাজী জুবেরী মোস্তাক

বলতে পারিস মা ?
কাকে আর জানাবো এ কষ্ট আর যন্ত্রণা
তোর বুকেতে থাকে কতো মানুষরুপী হায়না
তোরই দুধ পান করে আর তোকেই চিনেনা
বলতে পারিস মা ?
কাকে আর বলবো আজ এ দুঃখের কথা
যে মাটিতে ঘুমিয়ে আছে হাজার মহান আত্বা
সে মাটিতে বসত করে দেশ বিরোধী সত্বা ৷
বলতে পারিস মা ?
কাকে আর দেখাবো এ দু'চোখের কান্না
তোর মায়া মমতায় তো ছিলনা ছলনা
তবে কেনো তোর সাথে হয় এতো প্রতারণা ৷
বলতে পারিস মা ?
কাকে আর শোনাবো এই সুরের মূর্ছনা
যে বুকেতে ছিলো বাংলা গানের সাধনা
সে বুকেতে বাজে আজ ভীনদেশী সব বাজনা ৷
বলতে পারিস মা ?
স্বাধীন হবার পরেও কেনো আমরা স্বাধীন না ?

সকাল বেলা খুব সকাল বেলা ঘুম ভেঙে তাকিয়ে দেখি
কয়েকটি দাঁড়কাক জানালার পাশে শিমুল গাছে
আমাকে চা খেতে বলছে।
আমি চোখ দুটো কচলে ভাবুকের বেশে
কম্বল জড়িয়ে গায়ে ভাবি
পাচশ পঞ্চান্ন সপ্তাহ পর আমার খুব সকাল বেলা খিদে পেল।
এতদিন সকলকে বড্ড পর করে
মধ্যাহ্ন ভোজনের সময় ঘুম থেকে উঠে
একরাশ বমি করে ফ্লোর ভিজিয়ে দিয়ে
মুখে সিগারেট পুরে দিয়ে কাঁদতাম একেলা
নিজের ছায়াকে কংকাল ভেবে।
আজ আবার সেই সকালের ঘুরতে যাওয়া
প্রত্যহ কলেজের দিনগুলো মনে পড়ে যায়।
হাতে হাত রেখে ডালমুট,বাদামভাজা
রেললাইনের ফাঁকে বসে আলতো চুম্বন ঠোঁটে….
ওদিকে লেকচারারের এরিস্টেটল,প্লেটো গিলছে ওরা
আর তুমি আমি ডানার স্বপ্নে বিভোর
মৃত্তিকার কাছে থেকে তোমার বুকে পেতাম সোঁদামাটির ঘ্রাণ।
আজ রাফায়েল সানজিওর ম্যাডোনার ছবি আমাকে ভাবায়।
তোমার বেবিটাকে করছ কি লালন ম্যাডোনার মত
আমার এই শহরের কোনো এক সাহেবী বাড়িতে?

আমি এখনো আঁকতে পারিনা মনের
স্কেচ
বিশাল ক্যানভাসে পারিনা
ক্যাপশান লিখতে।
আমার হাসি পুরোটাই শেষ,এখন শুধুই
মলিনতা।
একটু হাসির জন্য চোখের জলকে শুধু
কিনি,
কাঁদার শব্দ থাকেনা।
একটু হাসলেই কান্না আসবে
ছোটকাল থেকে শোনা কথা।
অতএব….
হাসি কান্নার সমানুপাতী।
আমি আবাল টাইপের হাসি,দাঁত
ভিসকানো ভুলে গেছি
সরলতা ভুলতে বসেছি।
একধরণের অহংকার মানে সিন্থেটিক
কালচার উৎপাদন করতে হচ্ছে।
এটাও বা কম কি!
তবুও জলে ডুব মেরে খুঁজে বেড়াই
আবাল টাইপের কোনো হাসি
মাড়ির ত্রিশ খানা দাঁত(আক্কেল
ছাড়া) বের করে।
এখানে টাকার দাম বাড়লে মানুষের
দাম যায় বেড়ে আর
টাকার দাম কমলে মানুষের দাম যায়
কমে,অতএব….
টাকা মানুষের সমানুপাতী।
আমি চায়ের আড্ডায় যোগ দিতে
পারিনা
শুধু হয় হয় শব্দগুলি আওরাই
গন্ডারের চামড়া মুড়ে চলি সর্বদা
গালিগালাজ,শুয়োরের বাচ্চাটাইপ
গালি শরীরে মাখিনা।
এগুলো মাখলে যে রাতে ঘুম হয়না
কীটগুলো জ্বালিয়ে মারে
মস্তষ্ক ভোতা হয়ে যায়
সবার হয় কি?
হাসির কথা উঠলে হাসতে পারিনা
দাঁত ভিসকাতে ভুলে গেছি
শুধু টোল ফেলে দেই মুখের ছাঁচে
কান্নার কথা উঠলে ডুঁকরে ওঠে না মন
চোখের জল চায় নিরাপদ আশ্রয়।
অবশেষে পাদটীকা….
শহরের সুন্দর স্মার্ট তরুণীকে দেখাতে
পারিনা কোনোদিন
তাদের প্রশ্নাকুল চোখে
আমার আবাল টাইপের সরল হাসি।

চিঠি'র নমুনা
- কবির হান্নান
..........................................
কয়দিন হলাে আর
চিঠি লিখা হয়নি আমার
একটা চিঠি লিখবাে ভেবে
কাগজ কলম নিয়ে বসি আবার।
শিরােনাম হবে কি?
শুরুটা হবে কেমন?
ভাবতে ভাবতে কলম পড়ে খসে
নিজের কাছে নিজেই লজ্জিত
কয়দিনে এমন হলে
নব প্রজন্ম চিনবে কি?
কিছু ছিলাে চিঠি বলে।
একটি চিঠি লিখবাে ভেবে
লজ্জিত চিঠি অংশ ভুলে
কাকে লিখবাে তাও করিনি ঠিক
কে বা পড়বে সময় নষ্ট করে।
চর্চারীতি খরচ করে শিখেছি
একটু চর্চা করে দেখি
পুরানাে কাগজ ঘেটে
পেলাম বাবার হাতের চিঠি
চিঠির যে কয়টি অংশ
বাবার লিখায় ছিলাে পরিপূর্ণ
যােগাযােগের মধ্য চিঠি ছিলাে বলে।
আর আমি?
না লিখতে লিখতে যাচ্ছি ভুলে।
কয়দিন হলাে নাই চিঠি'র রীতি
ভুলতে বসে চলেছি সব
বাবার চিঠি দেখে করতে হলাে স্মরন
ঠিক অনুরূপ করে রেখে গেলাম
একটা চিঠির নমুনা
ছেলে যদি তা আমার মতাে পায়
জানবে আগামী প্রজন্মে
এক সময় যােগাযােগ হতাে
এভাবে চিঠি লিখে।
................
(১১/০৭/১৬)

যাবো তাই
- সব্যসাচী সরকার

যাবো বলে মনে মনে প্রস্তুত হয়েছি
তাই আজ সবিশেষ ঘুমোবার রাতে দরোজার
আগল রাখিনি
খোলা আছে চিরচেনা সেই দক্ষিণের পথ
বিদেশি সুগন্ধ মেখে যে সময়ে যাবো
আমি তো নিশ্চিত জানি সে সময়ে সিঁড়ির দুপাশে
গালে টোল ফেলে ফুটে নেবে দোলন চাঁপারা
যদি যাই শুভ্র বসনেই যাবো বুকের সুগন্ধ নিয়ে
রেখে যাবো আরো কিছু মধুর নির্যাস এই পথে।
১১ / ০৭ / ২০১৬

মনুষ্যত্ব
- শ্যামলী দেবরায়

মানুষ ! আহা্‍ বিধাতার এক অপরূপ সৃষ্টি------
শুনেছি মানুষ নাকি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রানী।
মানুষের নীতিজ্ঞান বোধবুদ্ধি নাকি প্রবল।
তবে কেনো মানুষ মানুষের বিনাশক?
ব্যাবহার আচার আচরণে মানুষের পরিচয়।
তবে কিসের হিংসা কিসের যে দ্বন্দ্ব?
মানুষের সৃষ্টি মনুষ্যত্বের স্বরূপ মানবসমাজ-----
অহমিকার শিকার সৃষ্টির কালচক্র।
লোভ লালসা দম্ভ, বিদ্রূপ কটাক্ষ প্রতারণা-----
কলিকালে মনুষ্যত্বহীনতার মূলমন্ত্র।
ছুটছে মানুষ বিনাশের পথে সুখের সন্ধানে------
অভিনয় করছে জীবনের রঙ্গমঞ্চে।
অহিংসা সততা ত্যাগ বিবেক ও বিবেচনা-------
পায়নি সামান্যতম সামাজিক মূল্য,
মনুষ্যত্ব, সততার হবে কি সঠিক মুল্যায়ন?
জাতিভেদ বিভাজনে সমাজ মত্ত।
ছলচাতুরীর কলা কৌশলে প্রতারণামূলক------
কার্যে কিছুসংখ্যক শ্রেণী যে লিপ্ত,
লোভ লালসা