জুন 2016

শেষ আশা
- নূর সিরাজী

নতুন আমদানী,পূরাণ রপ্তানি
সারা দুনিয়ার নিয়ম,
আসাও একা - যায়াও একা,
সৃষ্টি কর্তার নিয়ম।।
নিয়ম মেনে চলে সবই
অ-নিয়মের ঠাঁই নাই
আমিও নিয়মের মধ্যে
অ-স্বিকারের উপাই নাই।।
অতিত ভুলে বেচেঁ থাকা
অতিত আবার সাম্নের আশা,
সুখ দিয়ে দুঃখ দিয়ে
জীবন টা মোর খাশা।।
সূর্য্য যেমন দিগন্তে হারায়,
ভূ-পৃষ্টে তার চিহ্ন রেখে যায়
এমন কিছু করব আমি
সূর্য্যের মত জ্বলবে জানি।।
পৃথিবী থেকে বিদায় নিবো
সবাই কে ছেরে চলে যাব,
নাম টি শুধু রেখে যাবো
এটাই শেষ আশা।।

বর্ষা বন্দনা
- বান্দা হাফিজ

পাঁচ ভাই এক বোন
নাম তার বর্ষা
এই দ্যাখো মুখ কালো
এই দ্যাখো ফর্সা ।

কখনো দেখবে
কী হাসি হাসছে
কখনো দুই চোখ
বন্যায় ভাসছে ।

চোখ বেয়ে জল নেমে
গড়ে যায় পুকুরে
সেই জলে নাচে দ্যাখো
খোকা আর খুকু রে !

কত শত ফুল ফোটে
কত রং বাহারে
বর্ষার রূপ দেখে
চোখ জুড়ায় আহা রে !

সেই ক্ষোভে ভর ভর
জল ঝরে ঝরঝর
খোকা খুকু শুনে বলে
তারপর, তারপর?

বর্ষা বন্দনা
- বান্দা হাফিজ

পথ ঘাট কাদা আর
ডুবে থাকে পানিতে
ঘ্যাঙ ঘ্যাঙ ডেকে যায়
রাজা আর রাণীতে।

আলপথে পিছলে
পড়লো কে হুড়মুড়
ওই দ্যাখ্ ডাকে মেঘ
গুড়গুড় গুড়মুড়।

ঠিক তাই পিছলে
পড়ে গেছে হাটুরে
তড়িঘড়ি উঠে দ্যাখে
গেলো বুঝি হাঁটু রে!

নিদ্ নেই বর্ষার
সে তো আর হাসে না
আর কতো দেরি সয়?
কদমফুল আসে না।

টুপটাপ বৃষ্টি
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

বৃষ্টি পড়ে টুপ টাপ
বুড়া-বুড়ির চালেরে
ছম ছমা ছম শব্দে
খোকা-খুকি নাচেরে।

দুষ্টু সব বালকেরা
কলাগাছের ভেলাতে,
বিল -ঝিল ঘুরে বেড়ায়
বেলা-অবেলাতে।

পুকুর নদী ভরে গেছে
বর্ষার জলেতে
জেলেরা মাছ ধরে
নিয়ে আসে ঘরেতে।

যত সব পথ ঘাট
কাঁদা জল মেখেছে
তাই বুড়া বগলে
জামা কাপড় চেপেছে।

টুপ টাপ
- সাইদুল ইসলাম

টুপ টাপ নূপুরে
নেমে এলো দুপুরে
বাদলা এ ধারাতে
মন চায় হারাতে
কদম আর বকুলে
নেচে যায় দু কূলে।
সূর্য্যির আড়ালে
মেঘ গুলো দাড়ালে ।

আষাঢ় দিনে
- আব্দুস সামাদ

আষাঢ় দিনে
আকাশ পরে
মেঘেরা সব
খেলা করে।

আঁকাবাঁকা
আগুন মাখা
দিড়িম- দুড়ুম
বাঁজতে থাকা।

বৃষ্টি পড়ে
গুড়িগুড়ি
বিষন্ন আজ
চাঁদের বুড়ি।

দমকা হাওয়ায়
উদাস মন
মনের মাঝে
আঠারো সন।

বৃষ্টির ধারা
- ওদুদ মণ্ডল

আঁধার কালো মেঘ উঠেছে
নীল আকাশের গায়,
সবুজ পাতায় রঙ লেগেছে
মেঘেদের ছোঁয়ায় ৷
অবিশ্রান্ত বৃষ্টি নেমে
খাল-বিল ভরা,
শুষ্ক মাটি সজীবতায়
সিক্ত বসুন্ধরা ৷
চোখ ধাঁধানো বজ্র-চিলিক
দুরন্ত মেঘ মেলা,
উই পোকারা পাখনা মেলে
মেঘলা সন্ধ্যা বেলা ৷
ঝির ঝির ঝির গাজল দিনটা
বর্ষাকালের বাহার,
মুড়ি,ছাতু,খিচুড়ি সব
সকাল বেলার আহার ৷
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ব্যাঙের ডাকে
পুকুর কিবা খালে,
ঝুমুর ঝুমুর ঘুঙুর বাজে
সারা বর্ষাকালে ৷
মেঘের ফাঁকে রোদ উঠেছে
একটুখানি হেসে,
ধূসর কালো মেঘ সরে যায়
নীল আকাশে ভেসে ৷

বৃষ্টির জল
- রোশনী ইয়াসমীন

চারিদিকে চেয়ে দেখো
উলঙ্গ বৃষ্টি,
কতোদিন ধরে করে
অনাচার সৃষ্টি।
ঘাসফুল কাশফুল
মাধবী লতায়,
রিম ঝিম বৃষ্টিতে
মনটা হারায়।
নদী নালা ভেসে যায়
পানি টলমল,
টিপ টিপ সুর তোলে
বৃষ্টির জল।
তটিনী হারালো তার
চিরচেনা তট,
সেই শোকে মূহ্যমান
তীর ঘেষা বট।

বর্ষার কবিতা
- রাজিব আহমেদ

রিমঝিম বৃষ্টির ধারায়
মন হারায় মহুয়ার নেশায়
অজানা হাওয়া ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
তোমার স্পর্শে ।
চল ভিজি দুজনে
শ্রাবণের বর্ষার আকাশে।
মেঘ ছুঁয়ে যায় মেঘের ভিরে
তুমি মেঘ হয়ে লুকোচুরি খেলবে।
কদমের ফুলে ছেয়ে গেছে বন
মনের আনন্দে নাচে বর্ষার জলে,
কাশফুল জলের স্পর্শে যৌবন ফিরে পায়।
.
কানায় কানায় পরিপূর্ণ বিল-ঝিল
ব্যাঙের ডাকে মুখরিত শ্রাবণের বর্ষা।
কলার ভেলায় ভাসব দুজন
ভিজব আকাশে অঝোর কান্নায়।

আষাঢ়ে চাওয়া
- শাহ্‌ নাজ পারভীণ

আষাঢ় মেঘে হাত পেতেছি
সিক্ত করো তুমি
তপ্ত রোদে বিরান হলো
ফসলী সব জমি।

কৃষক শুধু আকাশ পানে
চেয়ে ভাবে হায় !
এবারো কি পুড়বে কপাল
দিন যে বয়ে যায় ।

আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হলে
বাঁচবে সোনার ধান
খাল বিল আর নদ নদীতেও
ডাকবে আবার বান।

কদম কেয়া শাপলা শালুক
সব আষাঢ়েই হাসে
এমন মধুর বর্ষা আষাঢ়
কে না ভালোবাসে ।।

অবিনাশী ভোর
- প্রবীর ভদ্র

( গল্পকার প্রয়াতা মঞ্জু শর্মার স্মৃতিতে )
সময় চলে যায় নির্ঘুম রাতে
স্বপ্ন নয় স্মৃতি নয় গল্পের বাড়ি ----
দরজা জানলা সব খুলে যায় যেন
উঁকি দেয় মোহিনী আড়াল থেকে
কুঞ্চিত কুন্তলে ঢাকা তোমার দুচোখ |
যন্ত্রণা-নদীকে বেঁধেছিলে ধৈর্যের বাঁধে
দিগন্তে প্রত্যাসন্ন ঝড় তবু স্বপ্ন ভরা বুক
তিমির হননের গান উৎসুক কন্ঠে
প্রতিদিন খুঁজেছিলে মুক্তোর ঝিনুক |
মানুষের ভালোবাসা আদর-অনাদর
রেখে গেলে একান্তে ---- নিজের ভেতর
ঘুমন্ত দুচোখ খোঁজে অবিনাশী ভোর |

মন সুখ ঘুম

- কবির হান্নান

মন সুখ ঘুম
ত্রয়ী রহস্যর হাঁড়ি
দেখিনা নিজ নয়নে
লুকােচুরি খেলাখেল দেহেরই সনে।



ত্রয়ী রহস্যের হাঁড়ি
দেহ তাদের বাড়ী
কখন এসে কােনটা করে ভর
নিজের অজান্তেই।

সুখ বিলাসী বলে
দুখ চাই না মানতে
দুখ থাকে আকঁড়ে ধরে
ত্রয়ী থাকাে দূরে সরে।

কােন্ রঙ মাখলে গায়ে
রাখতে পারে নিজকে গােপন
হৃদ মাজারে একটু আশা
তােমাদের রঙটি কেমন।

অধরাতে থাকলে যদি
এতাে মজা পাও
হৃদ মাজারে শুধু শুধু
কেনবা স্বপ্ন দেখাও ?

সুখ স্বপ্নে মন উচাটন
হারায় দু'নয়নের ঘুম
ত্রয়ী থাকাে মহাসুখে
স্বপ্নজালে দেহ রাখাে কুঞ্জবন।

মন সুখ ঘুম
ত্রয়ী ধর্ম কর্ম এক
দেহাটাকে স্বপ্নে ছেড়ে
নষ্ট করাে বিবেক।
...................
(২৯/০৬/১৬)

আমার পথে কখনো নেমে আসেনা নীল আকাশ,
আমার ছায়ার সাথে লেগে থাকেনা নস্টালজিক উপাখ্যান।
এই পথে বিছানো থাকেনা দুটো টাকা।টাকার মোহ থাকেনা।
পথের দু'ধারে পশুপাখির কংকালগুলো ভেংচি কেটে যায়।
এই অমানিশায় বিশুষ্ক দেহগুলো ভ্যাম্পায়ার রূপি হয়ে রূপ বদলায়।
আর হৃদপিন্ডের টিকটিক ধ্বনি এরা খুবলে দিতে চায়
বের করে নিয়ে যেতে চায় আবেগের উৎসভূমি
রক্তময় কংকালসার চর্ম আচ্ছাদিত কদর্য পিপাসু কলেবর থেকে।
এই পথে নির্ভয়ে হাঁটতে হয়;
নির্ভয়ে হাঁটা মানে রকটাইপ
শরীর করে কৌপীন পোশাকধারী
নয়।নিঃশ্বার্থভাবে অশ্রুময় আবেগে
তাড়িত চ্যাপ্টার খুলে হাঁটতে হয়।
এই পথে হেঁটে গেলে ছোটবেলাগুলি নষ্টস্মৃতি হয়ে যায়।
এই পথে হেঁটে গেলে পেছনে ফেরা
বড় দায়।কেননা রসযুক্ত মাটি
অদৃশ্য ব্লেন্ডারে চেপে জুস হয়ে
কাদাকাদা মাখামাখি হয়ে যায়।
তাইতো পেছনে ফেরা হয়না
বাউন্ডেলে বলে।
শুধু মনে রেখো-
আমি তোমাদের প্রয়োজনের কেউ নই।

নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘ বুক
ফুলে নীলকে ডুবিয়ে রেখে
সূর্যের সাথে হয় আড়ি।
তারপরে জল হয়ে পৃথিবীর বুকে
স্নান,মেঘের বিষন্ন হয় মনে।
মন ডাকে কাতরতা বৃষ্টির জলে
আমি মশার গানটা শুনব।
সেই সকাল থেকে সিগারেটের মত
জ্বলছি।ফিল্টারের আশায় আছি।
আর এশট্রে ভর্তি করছি ঘন ফিল্টারে।
জানালার শার্সি লাগিয়ে
দিয়েছি বেশ।
বাইরের ভালোবাসা থাক থাক
খরগোশের পালকে গোপনে।
খুনসুটি হোক তার সাথে,
যন্ত্রণার সাথে রঙ মেখে।
সেই ফাঁকে সারাটা সকাল ভরে
মশার গানটাই শুনব।
মশার গানটা শুনলে
তবেই কি তুমি আসবে?
পেঁজাতুলোর মত মেঘ তুলে,বিমর্ষ
মুখের চাউনি,পিরামিডের স্তব্ধ
ছায়া নিয়ে বিমুগ্ধ হয়ে দাঁড়ানো
সেই তুমি
কোনো এক পৃথিবীর বুকে
অনেকদিন দ্যাখা হয়নি।
তাইতো মশার গানটা শুনছি
কোনো এক অন্ধকার গ্রহে
গ্রহের বাসিন্দা শুধু এই আমি....

একটা লাল স্টেশন আমার বুকের মাঝে উঁকিঝুঁকি মারে
কিন্তু ট্রেনের দ্যাখা পাইনা।
সেই স্টেশনে সময় দ্রুত গিলে খায়
সকাল বেলার মিঠে রোদ।
সেই মিঠে ছড়া ঝড়ো বেগে পড়ে যায় অপরাহ্নের গল্প।
সময় দ্রুত হাঁটে-
হাঁসফাস করে চলে তার গন্তব্যে
আমার গন্তব্য জানিনা।
সময় চাঁদের সাথে মাখামাখি করে
সকালের রোদকে হাসায়।
সেই রোদের আলো ঠেলা দিয়ে পাঠ করে গোধূলি সন্ধ্যার উপাখ্যান।
সেই উপাখ্যানে থাকে ঘরমুখী
পতঙ্গের গান।
মাথার উপর ডানা ঝাপটিয়ে
চিল,বাজপাখিদল উড়ে চলে,
স্কাইলাইট চেয়ে থাকে,
আমার আর উড়া হয়না।
সেই লাল স্টেশনের রাস্তাগুলো
দ্রুত হেঁটে যায় আমার চোখের সামনে দিয়ে।
আমার সামনে দিয়ে রাস্তাগুলো হেঁটে চলে
আমার আর হাঁটা হয়না।

বর্ষার ছড়া

- জুলফিকার আলী

বৃষ্টি পড়ে টুপটাপ
আষাঢ়ের বাদলে,
কদম বনে খুশির ধারা
মন নাচে মাদলে|

প্রকৃতি পায় রসের ধারা
উদ্ভিদ মুখে হাসি,
ফসল রূপে পাগল চাষী
বৃষ্টি ভালবাসি|

প্রকৃতি জুড়ে অপার শোভা
বর্ষাকালের দৃশ্য,
ব্যাঙেরা গায় পুকুর ডোবায়
ফুলে ভরা বিশ্ব|

বদ্ধ শহরে
- নিরা নিহারিকা

শহরে নগরে সুখের খোঁজে বসবাস
এক ধারে স্বপ্ন দালান ঠিক তার বিপরিতে বস্তি মাঠ,
আমাদের বাস দুইয়ের মাঝ সরকারী কলোনিতে
শহরে বাস করি ব্যঙের ছাতার মতোন সারি বেঁধে।
রাতের বেলায় আলো জলমল দেখি শহরটারে
সারাদিন কর্মচঞ্চলতা কার খবর কে রাখে,
রাস্তা আর গাড়ি দুই যেন ছোটে একে আপরের আগে
যানজট যেন কিছুই না এতো রাজনৈতিক সম্মেলন মিছিলের।
ধুলো আর বালি খুশিতে আমার হলি খেলি
রাজ-পথই ডাষ্টবিন করে,
আপন মনে ময়লা আর আবর্জনা ফেলি দিনে রাতে
স্কুল কলেজ হাসপাতাল সব খানে একি হাল তবে।
বদ্ধ ঘরে বসে তবু ভালবাসি শহরটার সুরতহাল
এসেছে সময় বদলাতে হবে পুরোনো জঞ্জাল,
পরিকল্পনার মাঝে সাজাতে হবে শহরতলী
সবুজ গাছপালা, বড় বড় রাস্তা, নিয়মের ভিতরে হবে বাড়ি।
পুরোনো নদীটারে করে ভালবাসার শাসন
উদ্ধার করে নিতে হবে সব খাল-বিল রতন,
বন্ধ করতে হবে পুকুর-ডোবা ভরাট
তাহলেই পাব ফিরে স্বপ্নের অপরুপ শহর আবার।

খেলা
- নূর সিরাজী

খেলায় ভরা পৃথিবী
খেলায় সর্বো সময়,
গাছের নেয় বার শাখা
প্রত্যেক শাখায় ত্রিশ পাতা,
এক দিকে আলোয় ভরা
অপর দিকে আঁধার ময়,
অপূর্ব তাহার নিলা-খেলা
তাহার সৃষ্টি দুনিয়ায়।।
সৃষ্টির জগতে সবাই খেলে
কে হারে কে জেতে
সে তো কারু জানা নাই।
যুগে যুগে অনেক কোচার
এসে ছিল দুনিয়ায়,
বিশ্ব নবী মোদের কোচার
আমরা সবাই মানি,
মুন-কার নকির লাইচ ম্যান
সে তো সবার জানা,
ভুল পাসেখেলে কে?
সঠিক পাসেখেলে কে?
তাহাই ধঁরেন তারা।
বিবেগ সবার জাজ ম্যান
বুঁঝতে পারে সবই।
যে যেরুপ খেলবে এপারে
সেই অনুশারে ফল পাবে ওপারে।
কেন যে বোঝেনা মানুষ?
সবার খেলা দেখছেন তিনি
গ্যালারিতে বসে,
নিঃস্তার নাই কারু
সেই দিনের পুরুশকার থেকে।।

সমুদ্র মন্থন
- শৈবাল বিশ্বাস

অশান্ত সমুদ্রে আজ
উঠেছে তুফান।
বিক্ষুব্ধ তরঙ্গ আজি
দুর্নিবারে ভাঙিতেছে
প্রাচীন আগল,
নিতে যত প্রতিশোধ
উৎশৃঙ্খলেরে শৃঙ্খলিত করি।
আসিতেছে রাশি রাশি
নব নব ভঙ্গিমায়
প্রতি ক্ষণে ক্ষণে
আপনারে করিতে নিঃশেষ।
যেতে হবে তীর ছাড়ি
দূর বহু দূরে,
সভ্যতার গ্লানিময়
নগরের কন্দরে কন্দরে।
ভাসাইতে বহুদূর,
ভাসাইতে অন্ধকার
ভাসাইতে জঞ্জাল যত।
তরঙ্গ ফুঁসিছে যেন
কোটি কোটি প্রানের
আবেগ পূন্জীভূত
বেদনার অদম্য উচ্ছ্বাসে।
বাতাসে ঘূর্ণি আরও তীব্র
করি করিছে মন্থন,
ঋণ শুধিবারে।
শান্তির, স্বপ্নের সফলরূপ
অমৃতের লাগি।
দিতে তাহা উপহার
গণদেবতারে।
ঔই শোন তরঙ্গের
গর্জ্জন উঠে বারে বারে,
ভাসাইতে জঞ্জাল যত
যত অন্ধকার।
Copyright©SaibalBiswas

নিষিদ্ধ বাঁধন
*************

রংচঙে নিয়ন আলোয় রঙ্গিন জীবন,
নির্মমতার মাদকাসক্ত নিষিদ্ধ বাঁধন।


ছিলো সুখস্মৃতি নারীর মনের গভীরে,
বিলুপ্ত সুখানুভূতি জনসমুদ্রের ভীড়ে।

সাংসারিক ব্যর্থতা নেই আয়ের সাশ্রয়,
অপারগতা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আশ্রয়।

কড়ির বিনিময়েই নারী ভোগের পন্য,
ভদ্র সমাজে যৌনকর্মী নিষিদ্ধ নগন্য।

রুপের হাটেই নিত্যদিন দরকষাকষি,
মুখোশধারী বাস্তব সম্ভোগ অভিলাষী।

বেলাশেষে শুধুমাত্র খদ্দরের অপেক্ষা,
লাজ শরম বেচার মূল্য কিঞ্চিৎ ভিক্ষা।

লালসা বিলাসীতা উন্মাদনা উত্তেজনা,
পাশবিক আচরণ সাথে নিষ্ঠুর যাতনা।

সৌন্দর্যের মায়াজালে যৌবনের লীলা,
আধাঁর রাতে জমে উঠে নিকৃষ্ট খেলা।

একাংশ বিত্তবানের পুরুষত্বের পরিচয়,
সঞ্চয় লুটায়ে বিলাসিতা দম্ভেরি বিষয়।

দিবালোকে বিরোধিতা কটাক্ষ বিদ্রুপ,
দিবাশেষে নিষিদ্ধ পল্লী লোভের স্বরুপ।

পুরুষের নেশা ও নারীর পেশা ক্ষনস্থায়ী,
ফলস্বরূপেই কলঙ্কিত জীবন চিরস্থায়ী।

নারী সম্মানে সমাজের উন্নতি অনিবার্য,
নির্যাতনের প্রতিবাদ উন্নয়নের মূল কার্য।

শিক্ষা ও কর্ম সংস্থান সচেতনতার সাধন,
আয়ের বিকল্পেই নিশ্চিহ্ন নিষিদ্ধ বাঁধন।

আসছে রোজা
- জুলফিকার আলী

রহমতের মাস মাহে রমজান
আসছে বুঝি রোজা,
কুপথ ছেড়ে মনটানা করো
সরল এবং সোজা|

নামাজ,রোজায় সবাই কর
খোদার গুণগাণ,
কুরআন তেলওয়াতে তোমার
শান্তি পাবে প্রাণ|

মিথ্যা ভুলে ন্যায়ের পথে
সংযমী চাই জীবন,
রোজা মানে সাধনে চাই
পেতে খোদার মন|

রোজার মাসে পণ্য ভেজাল
পণ্যে বেশি দাম,
চাইনা এসব শুদ্ধতাতে
নাও রে খোদার নাম|

শখ
- কাকলী ভট্টাচার্য্য

কারো শখ বায়না করা
কারো বায়না রাখা,
শাহাজাহানের শখের তাজমহলে
ভালোবাসা মাখা।
ইংরেজ গড়েছিল নানা স্মৃতিসৌধ
কেউ শখে ছবি তুলে দেয় আবডেট
আবার কেউ ছবি এঁকে
করে গ্যালারীতে সেট।
#
কারো শখ গান গাওয়া
কারো আবার শোনা
কেউ নাচে তাথৈই থৈই
কেউ লিখে আনমনা।
কারো শখ নাটক করা
কেউ খেলে খেলা
কেউ শখে সাজায় বাড়ি
আসবাবের মেলা।
গয়না কেউ শখে কেনে,
ঘোরে দেশেবিদেশে
শখ করে কেউ কেউ
বাঁচে নেশায় ভেসে।
#
আমার আবার অন্য শখ
চুপিচুপি বলি
আমি শখে ঘুড়ে বেড়াই
কল্পনাতেই চলি।
যাহা আসে মনের মাঝে
তাকে করি খাতা বন্ধ
সবাই বলে বেশ, বেশ
লেখা নয় মন্দ।

সময় পেলেই খাতায় আঁকিবুঁকি করি
ইট কাঠ কংক্রিটের এই সবুজবিহীন পান্ডুর শহরে।
দু'চারটে ঘাস লতাপাতার প্রকাশ রাখি-
বেমানান হয়ে যায় ছবিগুলো।
স্কেচগুলোতে প্রাণের সঞ্চার করতে পারিনা।
কেননা আমিতো শিল্পী নই যে-
স্কেচে ফুটিয়ে তুলবো জুতসই রঙের বাহার
তবে মনের স্কেচে থাকে কিছু ছবি
নিয়ন আলোর নিচে-
শুকনো থালায় ঝনঝন পয়সার করুণ বানী
কোনো এক উলঙ্গ শিশুর এঁটো হাত
পচা খাবারের গন্ধময় সে হাত।
কোনো এক পতিতার করুণ চাহনি
আড়ালে আবডালে পার্কে কিংবা
গাছের ছায়ায় ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা
খদ্দেরের আশায় বাঁচার তাগিদে।
মনের স্কেচগুলো মনের ভেতর থেকে উঁকি মারে মধ্যরাতে।
চোখের সামনে সাদাকালো তার রূপ
খাতায় দিতে পারিনা
কেননা আমি তো জুতসই শিল্পী নই
সভ্যতার ভেতর সভ্যতার পূঁজ খুঁজতে গিয়ে
নিজেকে অসহায় মনে হয়
পূঁজগুলোতো আমাদেরই সৃষ্টি।
আমাদেরই মত কিছু মানুষ কারিগর
হয় পূঁজ তৈরিতে।
সভ্যতার এই দৃষ্টিগুলো বড়ই অসভ্য।

গভীর অসুখ
- কাকলী ভট্টাচার্য্য

চলছে মজার খেলা
চারিদিকে হাজার রঙের মেলা ।
আলোর রোশনাই- তে ভরা
শুধু মুখের অন্তরালে মুখোশের ঘোরা ফেরা।

"সত্য সেলুকাশ কি বিচিত্র এই দেশ !"
আর এই দেশের মানুষ।
একে অপরকে ল্যাঙ মারামারি করা
কারো ভালো দেখলে
হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরা।

গভীর অসুখের কবলে সমাজ
কি ভাবে বাঁচাবে এ সমাজ?
কে ধরবে হাল...
কে দেখাবে নতুন সকাল?

পোড়া মন
-কবির হান্নান

প্রেমের কাঁটা বিঁধলে মনে
পুরো অন্তর দেহ ক্ষত
পড়শি'র রহস্যে'র হাসিতে
জ্বলে ইচ্ছে মতো।
ঘা সারেনা কোন কালে
মুখে থাকে গল্প
দোষের গল্প কাড়ি কাড়ি
খোঁশ থাকে যে অল্প।
প্রেমের মাঝে খোঁশ খোঁজে না
দোষে ভরপুর
ব্যর্থ প্রেমে জ্বলে পুড়ে মন
নিভানো যায়না আগুন।
কাঁচা বাঁশে ঘুন পোঁকার চাষ
অমানিশা অন্ধকারে ভবিষ্যৎ
পেয়েছিল যা, তাতেই বসবাস
মেঘ কাঁটেনা হৃদয় আকাশ।
সত্যি প্রেম ইতিহাসের পাতায়
নষ্টের এখন ছড়াছড়ি
ব্যর্থতার জ্বালায় অল্পতেই
জ্বলে পুড়ে মরে।
..................
(২৫/০৬/১৬)

আমি সাইকোর সাথে করি বসবাস
ভেঙেচুরে ফেলি সব যাতা
সব ভালো ভালো কিছু।
মস্তিষ্কের সাথে করি জুয়াখেলা
অকাম কুকাম গুলো মস্তিষ্ক থেকে
ডিলেট দিলেও কম্পিউটারের রিসাইকেল বিনের মত জমা রাখি
কখন লেগে বসে....
সবকিছু চুরমার একশেষ করেও আবার ঠিক হয়ে যাই
শুধু তোমার জন্য!
আমি ধ্বংস হয়ে গেলে ভাববেনা আমার চ্যাপ্টার ক্লোজ।
শুধু তোমার জন্য নতুন খাতা খুলব
কবিতার ছন্দে ভাসিয়ে দেবো খাতা
খাতাগুলোও কঁদবে অসহ্য যন্ত্রণায়
শুধু তোমাকে না পাওয়ার জন্য।
তুমি সুন্দরী সেটা কখনই বলবনা
তোমার বুকের ভেতর হাজার পুরুষের পারফিউম ঘুরে ফিরে!
শুধু আমার পারফিউম তোমার অজানা।
তোমাকে আমি পাইনি কখনও
পাবো বলেও মনে হয় না
আর তুমিও এসোনা এদিকে
হাত বাড়িয়ে দিওনা।
আমি খারাপ ছেলে খারাপ হয়েই থাকব
সব কিছু ভেঙেচুরে বাথরুমে গিয়ে একা একা কাঁদবো
শুধু তোমার জন্য!
অন্তত আমাকে একটু কাঁদতে দিও প্লিজ।

ছুটির আনন্দে
- জুলফিকার আলী

শালিকগুলো উড়ছে সেথায়
খোকা-খুকির সাথে,
প্রজাপতি বসে যেন
আজকে ওদের হাতে|

গ্রীষ্মে ছুটি স্কুলও নেই
কে পাবে আর ওদের
লিচু,কাঁঠাল,আম,জাম মোদের
মৌসুমী ফল গ্রীষ্মের|

তাই খেয়ে ছুটে বেড়ায়
পাড়ার ছেলেমেয়ে,
আনন্দে বেশ নেচে গেয়ে
ভাবনা ভুলে যেয়ে|

কেউবা যাবে মামাবাড়ি
এই ছুটির গরমে,
কচি মনে লাগবে দোলা
আনন্দে চরমে|

পথবন্ধু
- দিব্য

কতদিন রাত্রিবেলা খোলা আকাশের নীচে এসে দাঁড়িয়েছি
তারা আর নক্ষত্রদের গুনেছি একে একে
শিশিরে সিক্ত আলোয় ভেসে গেছে দু একটা রাতপাখি
আকাশের সব নীল চোখে নিয়ে
সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে দিই তাকে ।
ঝাপসা অন্ধকারে তালগাছসারি পাশে রেখে
তুই যে কখন এসে চুপিসাড়ে দাঁড়িয়েছিস কাছে
তোকে যে খেয়ালই করিনি বন্ধু কোনদিন !
কতদিন ভোরবেলা চৈতী মাঠের ধারে দাঁড়িয়েছি
তালগাছে বাবুই পাখির বাসাগুলো গুনেছি একমনে
ঊষার কিরন মেখে শিস দেয় দু একটা দোয়েল
নিরাভরণ উষসী প্রান্তর যেন ইশারায় কাছে ডাকে
সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে দিই তাকে ।
রাতের শিশিরে ভেজা সবুজ ঘাসেদের পাশে রেখে
তুই যে কখন এসে চুপিসাড়ে দাঁড়িয়েছিস কাছে
তোকে যে খেয়ালই করিনি বন্ধু কোনদিন !
কোন একদিন যদি তোর মতো চেতনায় ফিরি
বুক জুড়ে তোর ছড়িয়ে যাবো
জুঁই-রূপ ফুটফুটে খই
অনন্ত প্রতীক্ষা তোর
অনন্ত প্রেম তোর বুঝে নেব
অচেতন চেতনার গহীন আঁধারে ।

একখানা মেঘ
- বর্ণালী সেন

বলতে পারো একখানা মেঘ
ধার করেছি কোনখানে?

যখন তোমার বৃষ্টি ভেজা চোখের পাতা
উড়িয়ে দিলাম ফুৎকারে,
সোচ্চারে নয় ফিরিয়েছো চোখ
নিরুচ্চারে চুপ কোরে,
লুকিয়েছো মন হাসির অবগুন্ঠনে।

হঠাৎ আমার মন বলেছে ফেরাও ঢেউ
কেউ তো কখন ভিজতে পারে আনমনে!

সংগোপনে ফিরছি তখন এক মনে
মন সহসা চায় ভরসা নির্জনে,
খুঁজছি তোমায় ডুব সাঁতারে
খুঁজছি জন অরণ্যে,
তখন তুমি অন্য ভোরে
অন্য আলোর সন্ধানে।

হঠাৎ দেখি শিরদাঁড়াতে
নামছে যে শীত কনকনে,
নতুন আলোর নতুন ছটা লাগছে আত্ম সম্মানে।
সেইখানে, রোদন ভরা পলাশ কুঁড়ির অঙ্গনে
একখানা মেঘ কুড়িয়ে পেলাম
একখানা আঁচ গনগনে।

বর্ণালী সেন'©13/06/2016

Nabadibakar_Writer_79

মধুপূর্ণিমাক্ষণ
- পাণ্ডে অনিতা

কৈশরীর অপেক্ষা,শত জাগায় আশা,
মন পাপিয়া আকুল,মনের দু'কুল,
গায়ে লাল শাড়ি,মুখে মিষ্টি হাসি,
আলতো বরণ ঠোঁটে,পিউ- কা-হা-ডাকে,
প্রতীক্ষা ,--শুভক্ষণের।
তপস্যা করে বাজ,
করিবারে মাছের আশ,
তীক্ষ্ন দৃষ্টি জলের উপরে,
এক ঝাপেই কার্য সিদ্ধি করে।
একাগ্রতার চরম দৃষ্টান্ত,
লোকে তাই বলে।
মাছ রাঙা পাখিটি,
খুলে তার আখিঁটি,
যখন পায় হাতে,
শিকারের মেইলটি।
রঙের এ দুনিয়ায়,
মৎসপ্রিয়াও রঙ বদলায়,
প্রিয়ক্ষণের অপেক্ষায়।
স্রোতস্বিনী নদী,খুঁজে ভারী বর্ষণ,
পরিপূর্ণ জোয়ারে,মিলবে সাগরে,
পাবে ভরা যৌবন।
অন্ধকারকে ভেঙ্গে দিয়ে,
আলোর উদ্ভাবন,
আলোয় ভাসে জগৎ,
যদি পায় মধুপূর্নিমাক্ষণ ।
২০-০৬-২০১৬/
বরিশাল।
--Copyright --সংরক্ষীত।

জাতীয় কবি
- জুলফিকার আলী

চুরুলিয়া দুখু মিয়া
নামটি সবার চেনা,
রুটির দোকান লেটোতে গান
কিংবা সে দল সেনা|

এই বাংলা সাহিত্যে আজ
তার অবদান নানা,
কবিতা গানে সবার প্রাণে
বাজায় সে সুর টানা|

তার কাব্যে বিদ্রোহ আর
কাব্যে প্রেমের ফুল,
দ্রোহের কবি বিদ্রোহী সে
কবি কাজী নজরুল|

মানবতার গজল দিয়ে
ডাকেন আল্লা নবী,
হাজার বছর সবার মনে
বাঁচুক জাতীয় কবি|

বাবা
- বর্ণালী সেন

-----হঠাৎ একদিন
বাবা কোথায় হারিয়ে গেলেন।
একদল লোক নিয়ে গেল বাবাকে,
পাড়াটা ভেঙে পড়েছিল পেছনে,
আমি যখন বাড়ি পৌঁছলাম তখন দেখি
সিঁদুরের কৌটো উল্টানো পশ্চিমাকাশ,
প্রায় নিভন্ত চিতার মতো আধখানা সূর্য।
দিনান্তের নীরবতা ছড়িয়ে আছে
গাছের পাতায়, ঘাসের ডগায়
আর পুকুরের জলে।
তারপর বাবার বন্ধুরা সব একে একে
এসেছেন আমদের বাড়ি।কেউ একটু বড়,
কেউ একটু ছোটোই বাবার চেয়ে।
আমি দেখলাম ঘাটের সিঁড়ি ভেজা,
একটু আগেই বাবা পা ধুয়ে উঠে গেছেন
ভেজা পায়ে------ হয়তো!
আলনায় বাবার পাঞ্জাবী-----
খুলে রেখে কাছাকাছি গেছেন কোথাও
আমাদের কুকুরটা ভুলু
ল্যাজ গুটিয়ে শুয়ে আছে উঠোনের পাশে।
বাবার কাছাকাছি থাকতে
সে বড্ড ভালবাসে।একটা দুটো করে
বেল ফুল ফুটছে জানলার পাশে
তার সুবাসে ভারী হচ্ছে বাতাস-------।

বাবার শোবার ঘরে
ভাঙা জোছনা শুয়ে আছে
জানলার পাশে চুপি চুপি।
অবাধ্য হাওয়া ঢোকে ঘরে
ওড়ায় বই-এর পাতা,
দেওয়ালের বাংলা ক্যালেন্ডার
ধুলো ওড়ে, পাতা ওড়ে,
পুড়ে যাই ভেতরের আমি
শবদেহের মত,
তবু বাবা ফিরে এলো কই?

বর্ণালী সেন ©'20/09/2005

আমার বাবা
- শাহিনা কাজল

বাবা দিবস এলে খুজি
বাবা কোথায় গেলো
বাবা আমার সত্য পুরুষ
বাবা চোখের আলো।।
সংসার চালায় শক্ত হাতে
শান্তি সুখের আশা
বাবা আমার চোখের মনি
বাবা ই পথের দিশা।।
কষ্ট করে বাবা আমার
সংসারে দেয় সুখ
নিজে যত কষ্ট করুক
নেয় না কোনো দুখ।।
যত বাঁধা আসুক পথে
মন ভরানো আলো
স্বপ্ন ভরা শত কথায়
বাসে আমায় ভালো।
এমন বাবা কয়জনারে
ভাগ্যে বলো জোটে
বাবার জন্য তাইতো সদা
লাল গোলাপটি ফোটে।।

তৃতীয় লিঙ্গ
- কবির হান্নান

এসেছ কি তুমি দুঃখ নিতে
দাঁড়িয়ো না তুমি হাত পেতে
দুঃখটা আমার বিন্দু বিন্দু জমা
জানালে বিদায় সেও করবে না ক্ষমা।
দুঃখই নিত্য মোর সঙ্গী হয়ে
অভিশপ্ত এমন জীবন লয়ে।
ছায়ানীড়ে চলছি এক হয়ে
বুঝে নাও তোমার হৃদয় দিয়ে ।
এইতাে বেশ আছি দু:খ লয়ে
জীবন ভরে যে যাচ্ছিই সয়ে।
সুখ যে আমার আজ ফেরারি
দু:খ নিয়েই আজ আহাজারি ।
অবাক হলাম বাড়ালে যে হাত
ফিরিয়ে দিয়েও পেলাম আঘাত ।
কি করে আর তোমায় জড়াই
তৃতীয় লিঙ্গ যে হয়েছি আমরাই ।
জড়িয়ে নিতাম তােমার মতাে হলে
খুশী হতেম,আমায় ভালোবাসা দিলে ।
..................
(১৯/০৬/১৬)

দুজনের পথ চলা
- কাকলী ভট্টাচার্য

হাঁটছি মোরা একই সাথে
হাতের পরে হাত দৃঢ় প্রত্যয়
জীবন যুদ্ধে লড়বো মোরা
চড়াই উতরাইয়ের পথে
নির্ভীক সৈনিক আমরা।
#
দুঃস্বপ্নের রাত কেটেছে
আসবে নব ভোর
একই সাথে চলবো পথ
রইল এই শপথ।
#
সামনের পথ চলা রঙিন হবে
একে অপরের স্বপ্ন করবো পুরনো
ভাসবো মোরা জীবন তরীতে
করবো লক্ষ্য পুরণ।

সংসার
- সুনীল সরকার

সংসার যাতাকল
যেন ঠিক আতাফল।
উপরটা এবড়ো খেবড়ো
ভেতরটা সুমিষ্ট বড়ো।
নারী পুরুষ একসাথে
মিলে মিশে একমতে।
বেয়ে চলে একমনে
পার্থিব সুখ সন্ধানে ।
সন্তান সুখের তরে
নারী পুরুষ প্রেমভরে।
জন্ম দেয় অপত্যকে
আগলে রাখে বুকে।
মতে মতে হলে মিল
মেলে সুখ অনাবিল।
বিষয় বৈভব যেথা
নয়তো সুখের হোতা।
স্ত্রী পুত্র পরিজনে
থাক বন্ধু একমনে।
এতেই তো অপার সুখ
তাই নিয়ে ভরো বুক।

ও বাবা
- শ্যামলী দেবরায়

বাবা তুমি তো বলো আমিই তোমার রাজকন্যা।
তবে কেনো আমার জীবনে এতো দুঃখের বন্যা?
বাবা তোমার কাছে আজও আমি পুতুল সোনা।
তবে কেনো আমার জীবনেই কষ্টের আনাগোনা?
বাবা তুমিই তো বলতে আমি নাকি তোমার পরী।
তবে কেনো তুমি পাঠিয়েছিলে আমায় শ্বশুরবাড়ি?
বাবা আমিতো ছিলাম তোমার চোখের সোনামণি।
আজও তুমি লুকিয়ে কাদোঁ শুধুই আমি তা জানি।
বাবা তুমিই আমার হাত ধরে হাটতে শিখিয়েছিলে।
কেনো অচেনাদের মাঝে আমায় রেখে চলে গেলে?
বাবা জানো শ্বশুরবাড়িতে যে কটুক্তির শূল হানে।
চোখের জল দিনরাত ভাসে ভগবানেই তা জানে।
বাবা ওরা বলে তুমি নাকি পনের দাবি মেটাওনি।
মা ও নাকি যত্ন করেই সংসারের কাজ শেখায়নি।
বিয়ের বছর পরও নাকি নাতিপুতির সুখ মেলেনি।
শ্বাশুড়ীর মতে এমন অপয়া মেয়ে কখনো দেখেনি।
বাবা এতো কষ্ট অত্যাচার আর যে ভালোলাগেনা।
বাবা একবার এসে তোমার সোনামণিকে দেখোনা।
ও বাবা ওরা বলছে আমায় নাকি জ্বালিয়ে মারবে।
আমি জানি তোমার সোনাকে বাচাতে তুমি আসবে।
বাবা তোমায় ছাড়া তোমার পুতুল যে বড্ডো একা।
ও বাবা বলোনা আবার কবে পাবো তোমার দেখা?

ভালবেসে
- সুমাইয়া শারমিন

এত গান আমি করেছি রচনা
শুধু তোমাকে ভালবেসে,
স্বাগতম জানিয়েছে
চাঁদের জোসনা হেসে হেসে।
মেঘে ঢাকা আকাশের তারা গুলো
মিটি মিটি জোলতো,
ভোরের সূর্যটা ডেকে ডেকে
তোমার কথা বলতো।
দাড়াওনি শুধু একবার তুমি
আমার ঐ পাশে এসে,
ফুলে যাবার আগে ভোমর গুল
তোমার কথা বোলত।
ভোরের পাখিরা কাকলিতে
ঐনা দূরে ডানা মেলত,
তুমি কেমন আছ জানত
পাখিরা নীড়ে ফিরে এসে।

দাহ্য হয়ে থাকা
- সব্যসাচী সরকার

বাসবো তাকে আবশ্যিকে ভালো
পাগলামিতে ঝড়ের মতো হাতে
অরণ্যানি আচম্বিতে ডাকে
নাই বা গেলো মনকুটিরে আলো
হয়তো তাকে দেখতে পাওয়া দায়
হয়তো হবে পদব্রজে ফেরা
দিগবসনা অলক্ষ্যেতে ঘেরা
চরণ দুটি ধূলির বিছানায়
অলক্ষ্যেতে হঠাৎ ফিরে দেখা
বরষা দিনে মেঘের কালো চোখ
গভীর শ্বাসে আগুন জ্বলা বুক
অমোঘ দাহ দাহ্য হয়ে থাকা
আবশ্যিকে তাহার কাছে আসি
সেও কি আসে হরেক অছিলায় ?
নূপুর ধ্বনি বাজেই যদি পা'য়
ভালোই বাসি ভালোই তাকে বাসি ।
২৪ / ০৬ / ২০১৬

একটি ভুল
- সুমাইয়া শারমিন

একটি ভুল আমার
জীবনের পরাজয়,
মুখো মুখি আর কখনও
হয়নি দুজনায়।
ছুটেছি কত দুজনা
প্রেমের পরাগ মেখে,
ভোরের পাখিরা খুশি
আমাদের চলতে দেখে।
কেটেছে কত রাত কত গল্পে
চাঁদেও জোসনায়,
দুজনে ঘুড়েছি কত
হৃদয়ও আঙ্গিনায়।
ভুলতে পারিনা আমি
যার ছবি একেছি এই মনে,
হয়তো তুমি ভুলে গেছ
আমারও পরিচয়।

বর্ষা
- মেহেদী হাসান আকাশ

বর্ষার রিম ঝিম ছন্দে
মনের গভীরে জেগে ওঠা
অফুরন্ত আনন্দে পাখিরা
নেচে নেচে গান করে
বর্ষার ফোঁটা যেন
বয়ে নিয়ে এসেছে
ক্লান্তহীন স্বরের
চিরচেনা সেই সুর
বাতাসের তান্ডবে কিবা
মেঘের গম্ভীর গর্জনে
বয়েই চলেছে তারা
বালুকণা ভেজাতে ৷
মেঘালয় দিনগুলোতে মনে হয়
মৃদু বাতাসের কণা এসে
ছুঁয়ে যায় হৃদয়ের কিনার
তাই তো ভালোবাসি বর্ষা।

দূরে থেকেও কাছে
- প্রবীর ভদ্র

বুকের কাছে পাই না তোকে
মনের কাছে থাকিস
দুঃখ পেলে আঁধার রাতে
আমার কাছে আসিস |
তুই যে আমার শুক-পাখি ভাই ----
একলা বসে গভীর রাতে
প্রেমের গান গাই |
দুঃখ পুড়ে মনটা হয় সোনা ---
জানি আমি তুই যে আমায়
ভীষণ ভালোবাসিস |

দিন বারোটায়
- বর্ণালী সেন

সূর্যোদয় থেকে হাঁটতে হাঁটতে
সমুদ্রের কূল থেকে এসেছি মরুতে।
এ মাটিতে পায়ে পায়ে লেগেছে হোঁচট,
মাংসের স্তর ভেদ করে
হাড়ে গিয়ে বিঁধেছে কাঁটা,
তপ্ত বায়ুর সাথে বিষাক্ত কীট মিশে
ফুসফুসে বেঁধেছে বাসা।
এ জলে জীবন নেই, জীবনের ক্ষয় পলে পলে।
এখানে আকাশ নেই,
ধোঁয়াশায় ঢাকা চারিধার------
তাই এখন ক্লান্ত দেহ অবশ- অবশ,
আমার চোখের পাতা ভারি করে
তন্দ্রা আসুক দিন বারটায়------।
ঝিমুনির ফাঁকে ফাঁকে
ডানা মেলে উড়ে যাই স্বপ্নের দেশে,
যে দেশে ফুটেছে ফুল পাখিদের গানে গানে
যে দেশে উঠেছে চাঁদ কৃষ্ণচূড়ার ফাঁকে
যে দেশে কদম তলে হয়েছে সোনার বিয়ে-----
এ জীবন মিথ্যে নয়
শাশ্বত ভালবাসা গাঢ় সবুজ
চাওয়া আছে, পাওয়া আছে তারও বেশি,
তাই -- ক্ষণিক তন্দ্রা নেমে আসুক চোখে
দিন বারটায়।

বর্ণালী সেন ©'16/02/1991

অপ্সরী
- কবির হান্নান

তুমি অনন্য এক অপ্সরী
যখন তােমায় ভাবি পরী
এই দেখি নীল এই দেখি ঠােঁট লাল
রূপ সাগরে তাই ফেলছি প্রেমের জাল।
কােন যাদুর ছলে উদাস এ মন
শয়নে জাগরনে স্বপ্নময় সারাক্ষণ
স্পর্শের বাহিরে তবু জাগাও শিহরণ
অপ্সরী বলেই কি এমন?
তনুমন করেছি লালন
গড়বাে জীবন পরিপাটি রূপে
অপ্সরী এসে মাঝ পথে নিয়েছে লুফে
পথ হারিয়ে বসে ছিলাম দেবদাস রূপে।
রুপের আড়ালের চুপকথা গুলি
দিনদিন ফুটছে মুখের বুলি
দুই একটা কথা না দিলে ঠাঁই
সেদিন অপ্সরী আমার নাই।
মনের দিকে শূন্য রূপে মহাসাগর
রূপ সাগরে ডুব দিয়ে করছি আমি ঠাওর
অপ্সরী আজ অন্যের সাথে
ঝগড়া বাধেন প্রতিরাতে।
নেটওয়ার্কের গন্ডগােল
মােবাইল সেটের মতাে
এক ঘরেতে চারজন বউ
বাহিরে আছে আর জানি কতাে।
আমি এখন জীবন যুদ্ধে
এই আছি বেশ
অপ্সরীরা এমনি হয়
জানুক সারাদেশ।
................
(২৩/০৬/১৬)

তোমার জন্য বইব আমি বুকের ভেতর গান
সপ্তসুরে বাজবে গীটার এইত অভিমান।
আকাশ দেখে কাঁদবো একা ধুত্তোরিকা মন
ধূলোয় ভরা মাদুর মাঝে কাঁদবে দু'নয়ন।
রং তুলিতে হাসবে যত ক্যানভাস চারকোণ
মদের নেশায় বুদ হয়েছে মনেরি অঙ্গন।
ভালো যদি হতে পারি হব তোমার তরে
কষ্ট তুমি পেয়নাক রগচটা ব্যবহারে।
খারাপ যদি হয়েই যাই বকবেনা হায়
প্লিজ
বুকের ভেতর জমা আছে প্রেমের মাতাল বীজ!

মগ্নতার প্রতিচ্ছবি
- কবির হান্নান

কারো হই চক্ষু কাঁটা কেউ করে ঘৃণা
কবির কবিতা বুঝবেনা অন্তরবিনা
দেহমন ধ্যানে এনে কবি করে খেলা
ভাবনার ঘোরে কাটে , দিবানিশি বেলা।
তুলে আনে কবিতায় সমাজে রূপ
টেবিলে পড়ে থাকে কাগজের স্তুপ
পড়েনা কেউ তাই হয়ে থাকে মৃত
পড়তো যদি তবে হতো প্রাণবন্ত ।
কবি লিখে যায় সমাজের প্রতিচ্ছবি
কলমের প্রতিরোধ কেউ কি ভুলে যাবি
অনাহারে অনাদরে কাটে যে তার দিন
তবুও সে নিজেকে ভাবেনাকো হীন।
যদিও সে পারেনি করতে আশা পুরণ
করেনা তবুও সে সম্পদের অপহরণ।
কবি থাকুক কবির মতো
ফাল্টিয়ে নাও সমাজের রুপ
কল্পনায়,বাস্তবতায় কবিতা হয়ে যায়
সমাজের প্রতিচ্ছবি কাগজে রেখে যায়।
ভাবনায় মগ্ন হয়ে ছুঁয়ে যায় দুখ সুখ
আশার আলো পায়না বলে মনে দুখ
মগ্নতায় স্পর্শ করে মন ভরায় সুখ
স্বার্থক পরিবর্তন ঘটে যদি সমাজের
রুপ।
..................
(২১/০৬/১৬)

আকাশ
- কাকলী ভট্টাচার্য

আজ সকাল থেকেই
আকাশের মুখটা ভারি
হয়ে আছে, অনেক দুঃখ
চাপা মনের গভীরে তার ই
পরশ পেলে ভালোবাসার
ধরার বুকে নামবে এবার
বাসে যে ভালো পৃথিবী টারে
তারি লাগি কান্না যে তার।
পৃথিবী বড়ই কঠিন
চারপাশ তার বড়োই রঙিন
তার নানা রুপের ছলাকলায়
সবাই যে আজ চায় যে পেতে,
অভিমানি আকাশ আজ চুপ করে রয় একলা কাঁদে।

আমার জ্বালা
- সুনীল সরকার

নেটের জ্বালা আর নোটের জ্বালা
মোটের উপর এসব বিষের ডালা।
ব্যস্ততাময় আমার জীবনে
সবাই বলে পালা পালা॥
বন্ধু মহল হচ্ছে বিরক্ত
আমার লেখার যারা ভক্ত।
প্রত্যুত্তরটা পায়না বলে
নরম মন ও করে শক্ত ॥
রোজগারটা বড় কম ভাইরে
সংসারেতে ভাই সুখ নাইরে ।
বাজারেতে ধোঁয়া উড়ছে
এত পয়সা কোথায় পাইরে॥
নেট আর নোটে খুবই জ্বালাচ্ছে।
সবকিছুতেই বাঁধা দিচ্ছে ।
বন্ধু তোমরা ভুল বুঝোনা,
বুঝেছো কি আমার ইচ্ছে ॥
অগত্যা এসব মেনে নিয়ে
সইছি কষ্ট একটু রাগে।
আশায় আছি খুব শীঘ্রই
নেট, নোট কে পাব বাগে॥

ভরা বর্ষা
- কাকলী ভট্টাচার্য

চারিদিকে জল থৈ থৈ
মুসল ধারে বৃষ্টির আগে
মেঘ বললো যাবি?
-চলনা সই ঘুরে আসি,
তেপান্তরের মাঠে, বা
রুক্ষ গৃহস্থলিতে কিম্বা কোন
শূন্য নদীর কূলে।
#
কেমন করে যাব গো মেঘ
পা'য়ে আজ শেকল বাঁধা
কেমন করে তোর সঙ্গে যাব?
এই বরষায় মেঘের সঙ্গে ছোটবেলার
কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
মন আর বস মানে না নিজের কাছে।
#
বরষা ভালবাসার ঋতু বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় ভিজছে,বুকের ভতরের যত কথা জমে আছে ভেসে যেতে চায় তার'ই কাছে
যাকে এমন দিনেই শুধু মনের সব কথা বলা যায় ।
#
তবুও পারলাম কই ?
এই শেকড় ছিঁড়ে উড়ে যেতে।
পচে যাওয়া, গলে যাওয়া ধস্ত শরীর , মন নিয়ে সংসার সংসার খেলায় বেঁচে থাকা! নাকি বেঁচে থাকার অভিনয় করা???

আমার চারপাশ দিয়ে কয়েকটি রাজহাঁস ঘুরে ফিরে।
মায়াবী ভঙিতে,হাসিতে উৎফুল্লিত হয়ে কখনো একটু হেয়ালী হয়ে
তাকিয়ে থাকে।
দু'চারটে কথা বলার সাহস সঞ্চয় করে সামনে দাঁড়াই
কাব্যহীন ভাবে কথা বলতে চাই।
ওরা দেশলাইয়ের কাঠির মত জ্বলে ওঠে ফস্ করে
এতো ধান্দাবাজ,তারছেড়া ছেলে।
আমার কোমল মনে পাথর বসে যায়।ধাক্কার সাথে মিশে বাজখাঁই হয়ে যাই।বুকে জমে বারুদ।
বারুদগুলো একত্রিত করলে কয়েকটা বোমা হয়ত ফাটবে।
মানুষ মরবেনা
ভয় নেই
আমিই হয়ত জ্বলে পুড়তে থাকবো।
কয়েকটি বাক্য আজ পরিচিত আমার সাথে।ধান্দাবাজ,তারছেড়া সবচাইতে খাঁটি উক্তি এখন আমার জন্যে।আমার ভেতর সুন্দর মনখানা,সুন্দর স্বপ্নগুলি ফ্যাকাশে হয়ে যায়।বলতে গিয়েও বলতে পারিনা।হয়ত পারি রাজহাঁসগুলোকে
কিন্তু ভেতরটা দেখাতে পারিনা।
আমার ভেতরের প্রেমগুলো খুবলে খায় আমাকে।
চারপাশের প্রেমগুলোকে হিংসে করি।নিজেকে একাকী করে রাজপথে হাঁটি।
সিগারেট মুখে পুরে দিই
বড় বড় ম্যানশনগুলোর দিকে তাকাই।দালানগুলো চেয়ে রয়েছে আমার দিকে।
ড্রাকুলার মত আদিম নেশায় মত্ত দালানের পাখিরা।
পাখি থেকে জন্ম নেবে ছোট ছোট পাখি মাতৃগর্ভের অমরা ভেঙে।
যৌনাঙ্গে জন্ম নিচ্ছে সুখ....
এই সব নিষিদ্ধ কথাগুলো ভাবি আর হাঁটি
হাসি....
কাঁদি....
দাঁড়াই....
দু'চারটে কুকুর দেখি
ওরাও আমাকে দ্যাখে।
জরিপ করে ফেলি এই রাতে রোমিও জুলিয়েটদের ফোনালাপ কত হতে পারে?
চলছে হয়ত পুরোদমে
রাতভর চলবে....
ভোর হবে
তবুও প্রেমালাপ শেষ হবেনা হয়ত।
বাহ!কী সব ছাইপাঁশ ভাবছি
প্রেম কত সস্তা না?
প্রেমের ভেতর আজ আমি নিকোটিনের গন্ধ পাই
নেশা ধরা কপোত কপোতীর ভেতর রসায়ন শুরু হয়।
কিন্তু আমি একটি মনের আশায় হাঁটি।প্রেম কতো তীব্র জ্বালা আমার কাছে।
হিমালয়ে আরোহণের মতই কঠিন।
অনেক ভালো ভালো স্বপ্নকে কবর দেই ক্ষোভে।
নিজেকে লম্পট করি,নষ্ট করি সিগারেট শেষ করে।
পকেট হাতরাই....
আরেকটা আছে কি?
বুকখানা ঝাঁঝরা করে দেবো
রাজকুমারীদের জন্য।
ফস্ করে দেশলাই জ্বলে ওঠে।
মনে হয় ল্যাম্পপোস্টের আলো থেকে আমার দেশলাইয়ের আলো বেশী তীব্র।
মুখখানা বিরাম পায়না মধ্যরাতেও....
স্বপ্নগুলো ধেইধেই করে ঘুমিয়ে পড়তে চায় কোলবালিশ নিয়ে।
আমি নিকোটিনের গন্ধ দিয়ে জাগাই।জাগাতে চেয়েছিলাম ধূপকাঠি দিয়ে।
কিন্তু পারলাম কই?
ওরা আমাকে গালিগালাজ করে
গালিগালাজগুলো গায়ে মাখিনা
কিছু বলিনা....
আরে আমি তো এরকম ছিলাম না আগে।

অরণ্যের দিবা রাত্রি, কাজিরাঙায় এক দিন
- প্রলয় সেন


যোরহাট শহর পার হতেই উজনি আসমের এক অদ্ভুত সুন্দর রূপ আমার মনকে হিল্ললিত করে তুল্লো । চারীদিকে বড় বড় গাছে হলুদ আর বেগুনি ফুলের সামাহার আর দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগানের বুক চিরে এগিয়ে চলেছ কালো মসৃণ NH -37 । হটাত করেই প্লান করে ফেললাম ; পরশু দিন সকাল এ কাজিরাঙায় যাব, কর্ম সুত্রে গত ৩ বছর আসামের বাসিন্দা তাই কাজিরাঙাটা যাব যাব করেও যাওয়া আর হয়ে উঠছিল না কিছুতেই। যদিও আকাশ পথে আনেক বার কাজিরাঙার ব্যাপকতা চাক্কুস করেছি কিন্তু গভিরতা কোনদিন এ মাপিনি । যেমন ভাবা তেমন কাজ , এক ভোর বেলা ৩ বন্ধু মিলে বেরিয়ে পরলাম কাজিরাঙার উদ্দশে । বাহন আমার ফোর্ড । আসুন চলতে চলতে কিছুটা চিনে নেওয়া যাক কাজিরাঙাকে । ২৪০১ টা এক শৃঙ্গ গণ্ডার এর বাস্থানাই বিশাল অরন্য ১৯৮৫ সাল থেকে ইওনস্ক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট । মোট ৩৭৮ বর্গ কিমি জুরে ছরিয়ে রয়েছে এই জঙ্গল । কাথিত আছে ১৯০৪ সালে ভাইসরয় কার্জন এর বউ মেরি কারজনের এখানকার এক শৃঙ্গ গণ্ডারদের দেখে খুব ভাল লেগেগেছিল এবং তার অনুরধে ভাইসরয় ১৯০৫ সালে এই জঙলক সংরক্ষিত আরন্য হিসাবে ঘোষনা করেন ।এই জঙলে প্রায় ১৫০ র কাছাকাছি বাঘ আছে আর আছে অসংখ্য প্রজাতির পাখি ।কাজিরাঙা নামটির কার্বি ভাষায় মানে হল লাল ছাগল এর জঙ্গল ।
মসৃণ পথে একে বেকে এগিয়ে চলেছি আমরা । প্রায় ৩ ঘনটা চলার পর আমারা কাজিরাঙার থেকে ৩৫ কিমি. দূরে নুমালিগড় ধাবায় পোঁছালাম । সেখানে আল্প কিছু জলযোগ করে আবার রওনা দেওয়ার পর যে সৌন্দর্য নিয়ে প্রকৃতি আমার চোখে ধরা দিল তা বর্ণন করার ক্ষমতা আমার নেই , সে শুধু অনুভব করা যায় । চরাই উতরাই কালো মখমলে রাস্তা আর দু পাশে ঘন জঙ্গল আর মাঝে মাঝে সবুজ চা বাগানের খেত – ভগবান বোধ হয় নিজে ক্যানভাসে ছবি একেছেন । ভাগ্য ভাল ( খারাপ ?) থাকলে পাথে কোন বণ্যের সাথেও আপনার দেখা হয়ে যেতে পারে গুয়াহাটি থেকে মটামুটি ২৭০ কিমি. দুরের এই আরণ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভাল। সড়ক পথে মাত্র ২.৫ ঘন্টা সময় লাগে ।আর জঙ্গলের ভেতরে সাফারির করার জন্ন্যেও খুব সহজেই হাতি বা জীপের ব্যবস্থা করা যায়ীপ সাফারি সারদিনেরে যেকোন সময়ই করা গেলেও হাতি সাফারি এক মাত্র সকালেই হয়ে থাকে ।থাকার খাওয়ার ব্যবস্থাও এখানে খুব সহজেই করা যায় । মোটামুটি ভাবে ৩ স্টার হোটেল থেকে শুরু করে একদম সাধারন মানের হোটেল খুব কম খরচেই পাওয়া যায় । তাছাড়া আসাম সকারের তরফ থেকেও থাকার জন্যে অনেক গেষ্ট হাউস বানিয়ে দেওয়া হয়েছে , সে গুলি আগে থেকে যোগাযোগ করলে খুব সহজেই পাওয়া যায় । হাতি বা জীপের ব্যবস্থা হোটেল থেকেই করে দেয় । ২ ঘণ্টার জীপ সাফারিতে মোটামুটি ২৫০০ টাকা খরচ হয় আর হাতি সাফারিতে জন প্রতি ৮০০ টাকা লাগে , একটা হাতিতে ৪ জনের বেশি যাওয়া যায় না ।
কাজিরাঙা পুর জঙ্গলটা ৪ ভাগে ভাগ করা যায় ১ বাগরি ২ মধ্যাঞ্চল ৩ আগারতলি ৪ বুরাপাহার , এদের মধ্যে একমাত্র আগারতলি রেঞ্জেই ব্রহ্মপুত্র দেখা যায় তাই আমারা ঠিক করলাম আগারতালি রেঞ্জেই ঘুরব । ভাগ্য থাকলে শুনেছি এখানেই এক মাত্র বাঘ মামার দেখাও মেলে। সেই মত বকাখাট শহরকে বাঁ দিকে রেখে আমরা এগিয়ে চল্ললাম আগারতলি রেঞ্জের দিকে । জঙ্গল এর শুরুতেই আসাম সরকারের তৈরী খুব সুন্দর একটা রিসোর্ট আছে , সেখানেই আমরা আমাদের গাড়ি পার্ক করে ,দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে বেরিয়ে পরলাম জীপ সাফারিতে চারিদিকে পাখির কিচির মিচিরের মধ্যে দিয়ে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকতেই আমাদের স্বাগত জানাল এক দল সাম্বার হরিন। এক বিশাল ঝিলের পাশে (ছনালা ঝিল) কচি ঘাস খেতে খেতে আমাদের দিকে কিছুক্ষন ঢ্যাব ঢ্যাব করে তাকিয়ে থেকে এক ছুটে জঙ্গলের মধ্যে চলে গেল । মেঠো এবড়ো খেবড়ো পথে আরো কিছুটা এগিয়ে যেতেই চোখে পরল একশৃঙ্গ গণ্ডার গাছের গায়ে হেলান দিয়ে চুপটি করে রোদ পোয়াচ্ছে । পথ যত বন্ধুর হতে লাগল জঙ্গলের রূপ যেন ততই আদীম থেকে আদীমতর হতে লাগল আর সেই সাথে বন্য পশু দের জীবন এক নতুন রূপে আমার চোখে উদ্ভাসিত হতে লাগল ।এক বিশাল ঝিলের মধ্যে দেখি এক দল হাতি নিজেদের মধ্যে খুনসুটি তে ব্যস্ত , একে আন্যের গায়ে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে নিজেদের শুঁড় দিয়ে , আর একটু দূরে দলপতি এক গাছের সাথে এক মনে নিজের গা চুল্কে নিচ্ছে । দলে দলে বুন মোষ আর বাইসনরা আমাদের থরাই কেয়ার করে নিজেদের দিনলিপিতেই ব্যস্ত । সোজা ,বাঁকা্,উপবৃত্তাকার আকৃতির গাছের মধ্যে দিয়ে আমরা জঙলের আরও গভীর থেকে গভীরে ঢুকতে লাগলাম ।
নাম না জানা অসংখ্য পরিযায়ী পাখির কিচির মিচির আর গাছে গাছে ঈগলের শ্যেন পেরিয়ে আমরা এক সময় পৌঁছে গেলাম ব্রহ্মপুত্র নদীর চরায় , কি বিশাল চওড়া নদী ! না দেখলে বিশ্বাস করতাম না নদী এত চওড়া হতে পারে । নদীর বুকে চড়া পরেছে আর মৃদু ঠাণ্ডা বাতাস বইছে ।এই মনরম পরিবেশই হয়ত জঙ্গলের জন্যে কাল হতে চলেছে কারন চারিদিকে ছরিয়ে রয়েছে মানুসের আমদ প্রমদের উপকরণ যেমন খালি ঠাণ্ডা পানীয়র বোতল কমলালেবুর খোসা ,পালাস্টিকের খালি থালা আর প্যাকেট । নদীর মধ্যে সাফারি করার জন্ন্যে নৌকা রাখা আছে , ইচ্ছে থাকলেও সময়ের অভাবে সে আর করা হয়ে উঠল না । সবমিলে জঙ্গলের শান্তি বিঘ্ন করার সব ব্যবস্তাই মানুষ করতে শুরু করেছে ।ব্রহ্মপুত্রকে বাঁ দিকে ফেলে রেখে আর একটু এগিয়ে যেতেই আমাদের ড্রাইভার ঘেচ্যাৎ করে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পরল ; দেখি এক মা গন্ডার হেলতে দুলতে তার দুই শাবক নিয়ে আমাদের রাস্তা পার হচ্ছে । এদের মধ্যে সবচেয়ে শিশু যেটি সে আবার আমাদের দেখে চলতে চলতে থেমে গেল, আর আস্তে আস্তে আমাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আস্তে লাগল । আমাদের ক্যামেরা গুলো বধহয় এমন সুযোগের আপেক্ষাতেই ছিল, ৩ জনের ক্যামেরাই এক সাথে ক্লিক্ক্লিক্করে উঠল আর গণ্ডারটাও আমাদের সাথে হাসি মুখে সেলফি তুলেতে লাগল । এদিকে মা গণ্ডারটা তার বাচ্চার এই সব দুসটুমি দেখে যার পর নাই বিরক্ত হয়ে এমন এক হুঙ্কার ছারল যে আমাদের পিলে চমক গেল । আমাদের ড্রাইভার সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে দিল আপনারা ভয় পাবেন না আর চীৎকার চেঁচামেচি করবেন না । আর সেই শিশু শাবকটি মায়ের বকুনি খেয়ে পোঁ পোঁ করে দৌর লাগল আর এক ছুটে মায়ের লেজের তলায় গিয়ে আশ্রয় নিল । আমরা আবার চলতে লাগলাম , পথ এবার আনেক টাই সমতল । লম্বা বুন ঘাসের ( হাতি ঘাস) জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে দেখি ব্জ্রাহত গাছের ওপর এক অপূর্ব সুন্দর নীল রঙের পাখি বসে আছে । ড্রাইভার বলল ওর নাম নীলকণ্ঠ পাখি , মনে মনে ভাবলাম ছোট বেলার সেই “নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে “ এর নীলকণ্ঠ এত সুন্দর ! না আসলে কোন দিন জানতেই পারতাম না । “আব চলে সাহাব “ ড্রাইভার এর ডাকে হুশ ফিরল , আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি
সূর্যি মামাও রক্তাভ । তাই দেখে আমরাও আস্তে আস্তে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আস্তে শুরু করলাম । ক্লান্ত পশুরাও আঁধার নামতে দেখে নিজেদের আস্তানার দিকে ফিরে চলতে লাগল ।শুধু একটাই কষ্ট থাকল মনে বাঘের দেখা পেলাম না ।ভাবতে খুব আবাক লাগল যে শুধু মাত্র যৌন উত্তেজনা বর্ধক ওষুধ বানাতে মানুষ এই অবোধ জীব গুলোকে হত্যা করছে ।
জঙ্গলের বাইরে এসে একবার জঙ্গলকে প্রনাম করলাম আর ভগবানকে বললাম এই অবোধ জীব গুলো চোরা শিকারীদের ঘৃন্য লালসা থেকে রক্ষা কর ।

এই শালা না রোজ এসে আমাকে
ডিস্টার্ব করবে।
হে হে দাদাবাবু।দিননা একটুস খানি
টানি।
নে ধর।সিগারেট টাও ঠিকমত টানতে
দিবিনা।
এই বাক্যালাপ গুলো অমিতাভ মিত্র
আর যদু পাগলার সাথে হল।
অমিতাভ মিত্র রোজ সকালে
সিগারেট খেতে তারাপদর এই
চায়ের দোকানটায় আসলেই যদু
পাগলা এসে হাজির হয়।অমিতাভ বাবু
একটু আয়েশ করে সিগারেট মুখে
গুজলেই দাঁত কেলিয়ে দাঁড়ায় যদু
পাগলা।অমিতাভ বাবু আর কী করে
মুখের সিগারেট খানা ওকে দিয়ে
উঠে পড়ে সেখান থেকে।চায়ের
দোকান দার অবশ্য যদু পাগলাকে
মাঝেমাঝে দোকান থেকে
তাড়াতে যায় কিন্তু অমিতাভ মিত্র
বলে,না না থাক না।আরে সিগারেট
খাবে খাক না।কিন্তু সেদিনকার
ঘটনায় অমিটাভ বাবুর চক্ষু চড়কগাছ।
অবশ্য পাগলে অনেক কিছুই বলে সেটা
একটা পাঁচ বছরের বাচ্চাও বুঝে।
সেদিন সকালে যদু পাগলা খালি
পায়ে এই বৈশাখের গরমে সুয়েটার
গায় দিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে চায়ের
দোকানের সামনে।
অমিতাভ বাবু কেবল সিগারেটে
টান মেরেছে।যদু হাঁ করে তাকিয়ে
আছে।কখন সিগারেট ওকে দেবে।
অমিতাভ বাবুর এই ভাবে তাকিয়ে
থাকাটা ভালো লাগেনি তাই
তারাপদকে বলেছে,ওকে এক প্যাকেট
বিড়ি দেতো।যত ইচ্ছে খাক।
যদু সঙ্গে সঙ্গে বলেছে,খবরদার,বিড়ি
দিবিনা।আমি উচ্চ বংশের ছেলে।
আমি বিড়ি খাইনা।
আমিতাভ সহ দোকানে উপস্থিত আর
সবাই হো হো করে হাসে।এর মাঝে
একজন বলে,তা টাকা ঢাল,সিগারেট
খা।মাগনা পাচ্ছিস বিড়ি এটাই বা
কম কী।কে দেয় তোকে এসব।শালা
গান্ডু কোথাকার।
এই খিস্তি পারবিনা।আমি তোর
সিগারেট খাইনা।আমি অমিতাভ
বচ্চনের সিগারেট খাই।যদু পাগলা
অমিতাভ বাবু কে মাঝে সাঝে বচ্চন
বলে।যদু অমিতাভ বাবুর টানা
সিগারেটই খাবে।আর কারো কাছে
সিগারেট খাবেনা।দুপুরে ভাত
খাবে ষ্টেশনের পেছনের শংকরের
হোটেলে।শংকর ওকে ভাত খাওয়ায়।
তবে পেট পুরে নয়।যা খাওয়ায় তাতেই
যদু খুশি।
অমিতাভ বাবু যদুর মুখে বিড়ির বদলে
সিগারেট খাওয়ার কথা শুনে বেশ
অবাক হয়েছেন।ইনিও এই কথার পর
থেকে মাঝে সাঝে যদুকে গাল মন্দ
পারেন।পাগলের আবার বাছ বিচার!
যদু অবশ্য কিছু বলেনা তাকে।গাঁজা
খাওয়ার মত করে সিগারেট টেনে
যায় যদু।যেভাবে টানে তাতে মনে
হয় কলজে শুদ্ধ ধরে আসছে।
এখন প্রথম বাক্যালাপে ফিরে আসি।
যদু বেশ আয়েশ করে সিগারেট
টানছে।বেশ খানিক সিগারেট
দিয়েছে ওকে অমিতাভ বাবু।
হ্যাঁরে যদু।সিগারেট খেয়ে কোথায়
যাবিরে?
ক্যানো দাদাবাবু।আপনার কোনো
কাজ করে দিতে হবে?মাথায় বাড়ি
কিংবা গু খাওয়াতে হবে কাউকে?
অমিতাব জিভ কেটে বলে,আরে না
না এমনি বলছি।তুই রোজরোজ সকালে
আমার কাছে সিগারেট খেতে
আসিস।তারপর আর তোকে দেখিনা।
বিকেলেও তোর টিকি টাও দ্যাখা
যায়না তাই বললাম।
ও তাই বল।ওই যে ট্রেনে চেপে পুকুরে
ডুবোতে যাই।সারাদিন ডুব মারি।
কোথায়?
ওই তো ট্রেনে চেপে যাই।
সেটা কোথায়?
তাতো জানিনা।
অমিতাভ বাবু হাতে সময় পেলে ওর সাথে
এক আধটু কথাও বলেন।পৌরসভায় চাকরি
করেন অমিতাভ বাবু।রোজ ট্রেনে
চেপে যায়।ট্রেন আশার দশ বারো
মিনিট আগে আপ প্ল্যাটফরমের
তারাপদর চায়ের দোকানে একটু বসে
চা খায়।তারপর বিকেল সন্ধ্যায়ও
আসেন চা খেতে।কিন্তু যদু তখন
সেখানটায় থাকেনা।সে
অন্যকোথাও ঘুরে ফিরে বেড়ায়।
এখন বেশ সকাল।অমিতাভ বাবুর আজ
ছুটির দিন।অফিস নেই।তাই আজ আর
ট্রেন ধরার তাড়া নেই।একটু দেরি
করেই আজ তারাপদর দোকানে যাবে।
এখনো বিছানায় শুয়ে আছে সে।তার
একটাই ছেলে।ক্লাশ টুতে পড়ে ও।তার
স্ত্রী সোহিনী ছেলেকে এই মুহূর্তে
পড়াচ্ছেন।প্রত্যেকদিন সকালেই মা
ছেলেকে নিয়ে পড়াতে বসে।
অমিতাভ বাবু খুব সুখী মানুষ।তার স্ত্রী
কয়েকবার তাকে বাজারে যেতে
তাড়া দিয়েছে।সে শুয়েই আছে
এখনো।
কিগো বাজারে যাচ্ছো না
ক্যানো?
অমিতাভ বাবু এবার না উঠে আর
পারবেনা।এমনিতেই সিগারেটের
তৃষ্ণা পেয়েছে তার।তারাপদর
দোকান থেকে সিগারেট খেয়ে
তারপর বাজারে যাবে।ইচ্ছে আছে
আজ ছোট মাছ কেনার।তারপর পুরো
সপ্তাহের জন্য একটা লিস্ট গিন্নি
করে দিয়েছে।তিনি উঠে দাঁড়িয়ে
আলমারির সাথে সংযুক্ত আয়নার
সামনে গেলেন।ভাল করে নিজেকে
দেখলেন।চুলে হালকা পাঁক ধরেছে।
বুকের লোমগুলোও হালকা সাদা
সাদা হয়ে গেছে।বয়স তার খুব একটা
বেশি হয়নি।চল্লিশ ছুঁই ছুঁই।তিনি ফ্রেশ
হয়ে বাজারের ব্যাগ নিয়ে ঘর
থেকে বেড়িয়ে এলেন।হাঁটতে
হাঁটতে একটু ভাবলেন যদুর কথা।যদু কি
এখনো আছে দোকানটায়?
যদুর এই নামটা এই খানের মানুষগুলো
দিয়েছে।গত চারমাস ধরে ওকে
এখানটায় সবাই দেখছে।ওর আসল
বাড়ি কোথায় সেটা কেউ
জানেনা।আসলে কেউ ঘাটায়ও নি
ব্যাপারটা।অনেকের ধারণা ট্রেনে
চেপে হয়ত এখানটায় এসেছে ও।
হাঁটতে হাঁটতে চায়ের দোকানটায়
চলে এসেছে অমিতাভ মিত্র।যদু হাত
পা ছড়িয়ে বসে আছে।আজ অমিতাভ
বাবু ওকে আস্ত একটা সিগারেট
খাওয়াবে।
এই তারাপদ ওকে একটা সিগারেট
দাওতো।
তারাপদ চায়ের জলে চিনি দিতে
দিতে বলল,পুরো একটা খাইয়ে
দিবেন?
হ্যাঁ।দাও একটা আর আমাকেও একটা
দিও।
যদু হাত পা ছড়িয়ে সুয়েটার পড়ে
বিড়বিড় করে কথা বলছে।কি বলছে
ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা।
এই যদু চা খাবি?অমিতাভ বাবু যদুর
দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটি করল।
আজ্ঞে হ্যাঁ দাদাবাবু খাব।
যদু চা আর সিগারেট দুটোই খাচ্ছে।
অমিতাভ বাবু সিগারেট খেয়ে
বাজারের দিকে চলে গেছে।
এখন সন্ধ্যে।অমিতাভ বাবুর স্টেশন
থেকে বাড়ি যেতে বেশ খানিকটা
পথ হাঁটতে হয়।সামনে ছোটোখাটো
একটা জঙ্গল ধরা পড়ে।যায়গাটা বেশ
নির্জন থাকে সন্ধ্যের সময়।অমিতাভ
বাবু এই মুহূর্তে জঙ্গলের কাছে চলে
এসেছেন।হঠাৎ জঙ্গলের ভেতরে একটা
মানুষকে আবিষ্কার করলেন।শুধু মানুষ নয়
রীতিমতো কবিতা আবৃত্তি সহ একটা
মানুষকে আবিষ্কার করলেন অমিতাভ
বাবু।যদু নয় কী?যদুর কণ্ঠ মনে হচ্ছে।
অমিতাভ বাবু জঙ্গলের দিকে
খানিকটা এগিয়ে গেলেন।হ্যাঁ যদুই
তো।ময়লার ভেতরে শুয়ে চোখ বুজে
কবিতা আবৃত্তি করছে
" I wandered lonely as a cloud
That floats on high o'er vales and hills,
When all at once I saw a crowd,
A host, of golden daffodils;
Beside the lake, beneath the trees,
Fluttering and dancing in the breeze"
আরে এতো সুন্দর করে আবৃত্তি করছে যদু
পাগলা!কী সুন্দর!কী সুন্দর!অমিতাভ
বাবু বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে আছে
যদুর দিকে।তিনি নিজেও
ইংরাজিতে অনার্স করেছেন।কত
কবিতা পড়েছেন।শেলি,কীটসের কত
কবিতাই না পড়েছেন।তারপর এই
কবিতার কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ।তার
কবিতা কি কম পড়েছেন?কিন্তু একটি
কবিতারও দুটো লাইন বলতে পারবেন
না তিনি।
কিন্তু যদু এতো সুন্দর করে আবৃত্তি করল
কিভাবে?রহস্য টা কী!তিনি দ্রুত
হেঁটে বাড়ি চলে গেলেন।
অমিতাভ বাবুর মাথায় শুধুই যদুর আবৃত্তি
ভেসে আসছে।ব্যালকনিতে বসে চা
খাচ্ছেন আর ভাবছেন ছেলেটার
অতীত কাহিনি কী হতে পারে?
তিনি মোটামুটি একটা সিদ্ধান্ত
নিলেন যদুর ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড
খুঁজে বের করতে হবে।তারাপদর
দোকানে গেলে কিছু তথ্য হয়ত
পেতেও পারেন।এমন কি তারাপদ
নিজেও হয়ত জানে ছেলেটির
সম্পর্কে, কাওকে হয়ত বলেনি।
তারাপদর দোকান তো অনেক রাত
অবধি খোলা থাকে।এখন কত বাজে?
অমিতাভ বাবু ঘড়ি দেখলেন।মাত্র
ন'টা পঁচিশ বাজে।তিনি দ্রুত প্যান্ট
পড়ে চটিটা গলিয়ে নেমে এলেন
রাস্তায়।
দূর থেকে দেখলেন তারাপদর
দোকানে কেউ নেই।যাক ভাল হল
নিরিবিলি কথা বলা যাবে।
তারাপদ!
স্যার আপনি এই সময়।বসেন।তারাপদ
অমিতাভ বাবুকে স্যার বলেই ডাকে।
কিছু কথা বলব তোমার সাথে?
তারাপদ সিগারেটের প্যাকেট
থেকে একটা সিগারেট দিয়ে
বলল,কি কথা?
অমিতাভ বাবু সিগারেট টানতে
টানতে বললেন,আচ্ছা তুমি তো অনেক
পুরোনো লোক এ পাড়ায়।আমি তো
মাত্র চার বছর হল এসেছি।
তারাপদ উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,কোনো
সমস্যা কি স্যার।বলুন তো কি হয়েছে?
না ওই যদু পাগলার ব্যাপারে কিছু বলব।
ও কি উল্টোপাল্টা কিছু বলেছে
আপনাকে।ও নিয়ে ভাববেন না।
মাথায় ছিট থাকলে যা হয়।
আরে না না।তা নয়
তাহলে?
আচ্ছা ওর বাবা মাকে চেনো তুমি?
না স্যার।
ওর বাড়ি ঘর চেনো তুমি?
না তাও নয়।কি হয়েছে বলুন তো।যদু
পাগলার সম্পর্কে এতো কিছু জানতে
চাইছেন।তারাপদর চোখে বিস্ময়।
আচ্ছা তুমি ওর সম্পর্কে কি কি
জানো?
ও একটা পাগল।এটুকুই শুধু জানি।
তাহলে তুমি কিছুই জানোনা?
না স্যার কিছুই জানিনা।
অমিতাভ মিত্র সিগারেটের দিকে
তাকিয়ে দেখলেন সিগারেটের
আগুন ফিল্টার অবধি চলে এসেছে।
তিনি সিগারেটে কয়েকটা টান
মেরে তারাপদকে দাম দিয়ে
বেড়িয়ে আসলেন।রাস্তায় হাঁটতে
হাঁটতে তিনি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন
দেবেন বলে ঠিক করলেন।
কিছুদিন পরের ঘটনা।অমিতাভ
মিত্রের বাড়িতে দুজন অতিথি
এসেছে।অমিতাভ বাবু কৌতুহলী
চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে
আছেন।ওনারা গেস্ট রুমে বসে আসে।
বলুন কি ব্যাপার?
অতিথির একজন মহিলা একজন পুরুষ।
মহিলাটির বয়েস বেশ ভালই হবে।পুরুষ
লোকটির চুল দাড়ি সব পেকে গেছে।
বেশ বয়স্ক হবে।
মহিলাটি বললেন,আমরা পত্রিকায়
বিজ্ঞাপন দেখে এসেছি।
অমিতাভ বাবুর চোখ চকচক করে
উঠল,হ্যাঁ হ্যাঁ বলুন।খুব ভাল করেছেন।
আপনারা ওর বাবা মা বুঝি?
পুরুষ লোকটি বলল,আমি রিপনের
কাকা।মানে আপনারা যাকে যদু বলে
ডাকেন।পত্রিকায় ছবি দেখেই ওকে
চিনে ফেলেছি।ভদ্রলোকটি
একটানে কথাগুলো বলে গেল।
আপনি ওর কাকি?
হ্যাঁ।মহিলাটি বলল।
ওর বাবা মা আসলো না যে?
রিপনের কাকা একটা দীর্ঘনিশ্বাস
ছেড়ে বললেন,এই জন্যই তো ওর মাথায়
গন্ডগোল হয়ে গেলো।
অমিতাভ বাবু বললেন,কিভাবে?
ওর উচ্চমাধ্যমিক রেজাল্ট বেরুনোর দু
দিন পরে রোড এক্সিডেন্ট.....পুরোটা
বলতে পারলেন না ভদ্রলোকটি।
নিজের ভাই,ভাই বৌ বলে কথা।
মানে তারা এক্সিডেন্টে কি হল?
অমিতাভ বাবুর চোখে উৎকণ্ঠা।
ভদ্রলোকটি বললেন,রিপনের বাবা মা
মারা যায় আর ও এটা সহ্য করতে
পারেনি তাই হঠাৎ মাথায় চাপ
নিতে না পেরে গন্ডগোল হয়ে গেল
মাথায়।
এই ঘটনাটি কতদিন আগের?
তা প্রায় দু বছর হল।
অমিতাভ বাবু বললেন,ও বাড়ি থেকে
বের হয়েছে কতদিন?
ভদ্রলোকটি বললেন,দু'বছর ধরেই
বাড়িতে নেই।মাথায় গন্ডগোল
হওয়ার কদিন পর থেকেই ওকে আর
পাওয়া যাচ্ছিল না।
অমিতাভ বাবুর স্ত্রী একটা ট্রে তে
চা,বিস্কিট দিয়ে গেছে।
অমিতাভ বাবু নিজেও এককাপ
নিলেন।চা হাতে নিয়ে বললেন,ওকে
খোঁজার জন্য কোনো ব্যবস্থা করেন
নি?
এবার ভদ্র মহিলাটি
বললেন,আশেপাশে খোঁজ
নিয়েছিলাম।কিন্তু পাইনি।
হারানো বিজ্ঞপ্তি দ্যাননি?
এবার দুজনেই চুপ।
অমিতাভ বাবু বললেন,ও এই এলাকায়
আছে প্রায় চার পাঁচ মাস হল।আগে যে
কোথায় ছিল তা কেউ জানেনা।
ভদ্রলোকটি বললেন,রিপন কোথায়
আছে?
আছে।প্ল্যাটফর্মের ওদিকটাই খোঁজ
করলেই পাওয়া যাবে।
অমিতাভ বাবু নিজ থেকেই বললেন,যদু
মানে রিপন পড়ালেখায় খুব ভাল
তাইনা?
রিপনের কাকা বললেন,খুব ভাল।
মাধ্যমিকে সব সাবজেক্টে লেটার
আর উচ্চমাধ্যমিকেও তাই।ক্লাশের
মধ্যে ফার্স্ট বয় ছিল ও।
অমিতাভ বাবু যদুর কবিতা আবৃত্তি
শুনেই বুঝতে পেরেছিলেন সেদিন খুব
ব্রিলিয়্যান্ট ছেলে যদু।না হলে এতো
আগ্রহ করে বিজ্ঞাপন কেন?
অমিতাভ বাবু যদুর কাকা কাকিকে
নিয়ে বেড়িয়ে পড়লেন যদুর খোঁজে।
কিন্তু কেউ যদুর খোঁজ আর দিতে
পারলনা।যদুর কাকা কাকি দু দিন দু
রাত ছিল অমিতাভ বাবুর বাড়িতে।
কিন্তু ওর খোঁজ কেউ পেলনা।অমিতাভ
বাবু তাদের আশ্বস্থ করে পাঠিয়ে
দিলেন।বললেন,খোঁজ পেলে
জানিয়ে দেওয়া হবে।অমিতাভ বাবু
আশায় আশায় পথ চেয়ে রইলেন,যদু তুই
কোথায়?

বাজেটনামা
- জুলফিকার আলী

গড়তে সোনার বাংলা আবার
হাতে এলো বাজেটনামা,
আমজনতা কেউবা খুশি
কারও শুরু ঘামা|
তিন লক্ষ কোটির উপর
বাজেটনামা হচ্ছে পেশ,
এ বাজেটে নড়ে গেল
আমার সোনার বাংলাদেশ|
উন্নয়নের মোড়ক করে
বাজেট দিলেন মামা,
কমবে কিছু,করবে আবার
বাজার ওঠা-নামা|
যা হোক এবার এ বাজেটের
লক্ষ্য তো হোক পূরণ,
এ বাজেট হয় না যেন
কারো মাথার 'ঘুরণ'!

ভালো সবার জন্য নয় সবাই ভালোর জন্য নয়।
ভালোর অন্বেষণে পৃথিবীর পঙ্গপালগুলো মুখটি মলিন করে
কিঞ্চিৎ অপূর্ণতায় চোখের ধূয়াশায় অলৌকিক রেলগাড়ি চালিয়ে
দুমড়ে দুমড়ে আছার খায় নোনা জলের স্রোতে।
যে জলের ভেতর থাকে বিতৃষ্ণা,দুঃখ,ক্লান্তি,জড়তা
এই সম্পর্ক ভেঙে সবাই ভালো থাকতে চায়
ব্যাপারটা স্বাভাবিক।
কারও আকাশ বেশ বড়
সে আকাশে সুখের ঘুড়ি উড়িয়ে দীর্ঘদৃষ্টিময় চোখে আর
পেটে বিলাসী বার্গার,পিজ্জা
সকলের ভালোবাসা,প্রেম আদরের ছোঁয়া নিয়ে মেকি ক্ষীণদৃষ্টি নিয়ে ন্যাকামি ভঙ্গিতে উগলায়-
আমি ভালো নেই
আমি সাড়ে পাঁচ ফুটের এক মধ্যম শ্রেণির সাধারণ
ছোট খাট হাইট নিয়ে বুকটা ফুলিয়ে রাখতে চাই।
হাঁটতে চাই আকাশের পথে
বাতাসের সাথে,
উদার ভঙ্গিতে,
অন্য ব্যতিক্রম জীবন নিয়ে।
কিন্তু হৃদপিন্ডের শাখাপ্রশাখাগুলো চেপে ধরতে চায়।
বারবার ফিরে আসি একই যায়গায়
একই রাস্তায়,
একই ঠিকানায়,
একই কক্ষপথে,
আমি এভাবেই ভালো থাকতে চেয়েছিলাম
কিন্তু সেটা আমার জন্য নয়
সবকিছু পূরণ হবার নয়।
ব্যাপারটা স্বাভাবিক
তাই আমি ব্যর্থ মুখেতে হাল ছেড়ে বলি আমি মোটামুটি থাকতে চাই।

বিষাক্ত ফল
- জুলফিকার আলী

অনেক লোকই নেশাতে
চায় যে ভেজাল মেশাতে,
অসাধু ফল ব্যবসায়ীরা
নষ্ট এমন পেশাতে।
যে ফল খেলে আমজনতা
দেহে পায়না টনিক,
সে ফল পাকে ফরমালিনে
বিষ সে রাসায়নিক।
ফল বাজারে ঢুকলে তুমি
টাটকা ফলই পাবে,
পটকায় কিনে সে ফল খেলে
যমের বাড়ি যাবে।
বাজারে ফল কেনার আগে
বিষাক্ত ফল চিনুন,
তা ফরমালিনমুক্ত কিনা
যাচাই করে কিনুন!

বাবা আমার বাবা
- জুলফিকার আলী

বাবা আমার বাবা
তোমায় ছাড়া যায়
না কিছু ভাবা।
তুমি তো এই
পরিবারের চালক,
করেছ বড় ছিলাম
নিছক বালক।
শত ঝড়ের চোট লাগতে
দাওনি আমার উপর,
শ্রম দিয়েছ রাত্রি
সকাল,দুপুর।
গায়ে রক্ত করেছ পানি
ছেঁড়া পোশাক পরে তুমি
পরিয়েছ আমায় তুমি
দামী পোশাক খানি।
তাইতো ভাবি তোমায় আমি
মসজিদ মন্দির কাবা,
বাবা আমার বাবা।

আমি একগ্লাস নিয়নের আলো খেতে
চাই
এখানে প্রতিটি রাস্তার মলাট
নিয়নের ভালবাসায় মুগ্ধ।
ঝলসিত হয়ে যায় প্রতিটি
রাতবিরেতে হাঁটা-
অগুনতি পথিকগুলো আর স্থির
ঝাউগাছগুলো
বেশ ভাল অতি মনোরম এই দৃশ্যে সব
ঢাকা পড়ে।
নিজেকে বড়ই অচেনা লাগে এই নিয়ন
আলোয় স্নান করে।
সবার লাগে কি!
লাগে হয়তবা।
এখানে সুপ্ত মনগুলো
লুপ্ত হয়ে থাকে
এখানে সেখানে
কালিঝুলিমাখা কোনো
আস্তিন আদলে
ফুটপাতে
রাস্তাবাসী,পঙ্গপাল,বাউন্ডুলেদের।
রাত্রিবেলা নিয়নের ধোঁয়ার
নিকটে
হেঁটে গেলে
বেসুরো গলায় গীটারের গান আসে
জীবনমুখী মনোরম।
আর....
ঘরমুখো মানুষের পায়ের শব্দ নিতে
নিতে আমার ভেতরে
কত স্বপ্ন উঁকি দেয়!
স্বপ্ন দেখে যাই আমি একা একা
এই পথিক নীরবে
তিনশ বছরের ধূলি ধূসরিত এই
সিমেন্টের জঙ্গলে।

কাকু একটা গল্প শুনবেন?
আমি একটা চায়ের দোকানে বসে
ধ্যানে ছিলাম।আমার ধ্যানভঙ্গ হল।
একটা ছেলে আমার পাশে বসে বেশ
উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে।আমি
ছেলেটির দিকে সেলুলোয়েডের
মোটা কাচের চশমার ভেতর দিয়ে ভ্রু
কুঁচকে তাকালাম।অল্প বয়সী ছেলে।
বয়স আন্দাজ করলাম।পঁচিশ ছাব্বিশ হয়ত
হবে।আমাকে ছেলেটি এরকম একটা
প্রশ্ন করায় বেশ অবাক হলাম।এই প্রথম
মনে হয় অচেনা আমাকে কেউ এরকম
প্রশ্ন করল।
আমি তার কথাটা না বোঝার ভান
করে বললাম,কি বললে?
ছেলেটি বলল,গল্প শুনবেন?
কি গল্প?
এবার ছেলেটি বুকপকেট থেকে চশমা
বের করে বলল,প্রেমের গল্প।
ছেলের বয়সী একটা যুবক ছেলে আমার
মত পঞ্চাশ বছরের এক মানুষকে
প্রেমের গল্প শোনাবে।ব্যাপারটা
অদ্ভুত লাগলো আমার কাছে।
আমি বললাম,তুমি কি প্রত্যেককেই গল্প
বলে বেড়াও?
ছেলেটি হাসল,না কাকু।ইউ আর
ফার্স্ট।
আমি আগ্রহ হারিয়ে বললাম,দুঃখিত।
ছেলেটি চশমাটি চোখ থেকে খুলে
পকেটে পুরলো।
আমি একটা বিষয় লক্ষ্য
করলাম,ছেলেটি গল্প বলার জন্যই
বোধহয় চশমাটা পরেছিল।আমি না
বলায় সে চশমাটা রেখে দিল
পকেটে।
ছেলেটি চুপচাপ বসে আছে আমার
পাশে।ছেলেটিকে আমি বেশ
ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম।না
চেনা মনে হচ্ছেনা তো।আমি
ছেলেটিকে বললাম,আমি কি
তোমার পরিচিত কেউ?
ছেলেটি এইবার খুব উৎসুক চোখে
তাকাল কিন্তু প্রসঙ্গ পালটে
বলল,গল্পটা শুরু করব?
তুমি কি এখানেই বলতে চাও নাকি
অন্যকোথাও?
আপনার ইচ্ছা।
আমি চায়ের কাপটা রেখে
দোকানীকে টাকা দিয়ে ওকে
বললাম,চল কফিশপে বসে তোমার গল্প
শুনি।
চলুন চলুন।
ছেলেটির মাথায় কোনো গন্ডগোল
থাকতে পারে।না হলে এইভাবে
কেউ গল্প শোনাতে চায়না।আমি
ছেলেটাকে সাথে নিয়ে হাঁটছি
আর ভাবছি গল্পটা শুনলে মন্দ হয়না।
আমরা এখন কফিশপে বসে আছি।কফির
অর্ডার দেওয়া হয়েছে।তবে বিলটা
ওই ছেলেটিই দেবে এটা আমাকে
বলে দিয়েছে।
তোমার কোনো তাড়া নেই তো?
একটু আছে।আপনাকে গল্প শুনিয়েই
আমি শান্তিপুর লোকাল ধরবো।
শান্তিপুরে থাকো তুমি?
হ্যাঁ।আপনি কাকু?
আমি কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে
বললাম,আপাতত বিহারে আছি এখন।
আমাদের আদি বাড়ি বেহালা।
ছেলেটি আমার কথায় কোনো
মনোযোগ দিল বলে মনে হলনা।
বল গল্পটা বল....
ছেলেটি এবার বলল,আমি ফেসবুকে
একটা মেয়ের সাথে প্রেম করতাম।
আচ্ছা।তারপর....
মেয়েটিকে আমি কখনই দেখিনি।
কারণ তার কোনো ফোটো ছিলনা
ফেসবুকে।
আমি একটা সিগারেট বের করে
টানছি আর ভাবছি খুব কমন প্রেমের
গল্প।আরে ফেসবুকে তো হরহামেশাই
এরকম হচ্ছে।খুব সস্তা দরের গল্প কী
এটা?আরেকটু শুনলেই বুঝতে পারবো
সস্তা দরের কিনা।
মেয়েটি আমার সাথে প্রথমে খুব
ফ্রেন্ডলি গল্প করতে লাগল।সকালে
ঘুম থেকে উঠেই আমাকে গুড মর্নিং
তারপর রাতে গুড নাইট.....
আমি রেগে গিয়ে ওর কথা শেষ
করতে না দিয়ে সিগারেট টানতে
টানতে বললাম,আরে এইসব কেচ্ছা
অন্যকোথাও বল।মূল প্রসঙ্গ টানো।
ছেলেটি বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে
গেলো আমার কথায়,না মানে
পুরোটা সুন্দর করে বললে বেশ গুছিয়ে
বলতে পারবো।শুনুন প্লিজ।
প্রেম হল কিভাবে সেটা বল।আমি
মোটামুটি গল্পের ক্লাইম্যাক্স টা
জানার জন্যই শুনছি।
মেয়েটিকে আমি তখনো দেখিনি
যখন থেকে চ্যাট করি তার সাথে
কিন্তু একপ্রকারের ভাল বন্ধুত্ব হয়ে
যায়।
তারপর....
একদিন হঠাৎ করে একসকালে মেসেজ
বক্সে যেয়ে দেখি সে আমাকে
প্রপোজ করেছে।
কি বলেছে?
আই লভ ইউ....বলেছে
আমি সিগারেটের দিকে তাকিয়ে
দেখলাম,ফিল্টার ধরে এসেছে।তাই
সিগারেটটা এশট্রে তে ঠাসলাম।
আমি চোখ মুখ শক্ত করে বললাম,চশমাটা
পকেটে রাখো।
ছেলেটি খুব বিস্মিত হয়ে গেল।এমন
ভাবে আমার দিকে তাকাল যেন
এরকম বিস্ময় সে তার এই জীবনে
ফার্স্ট পেল।
আমার তোমার গল্প শুনতে
ভাল্লাগছেনা।
নানা শুনুন ভাল লাগবে।
আমি বললাম,যেটা ভাল লাগে
সেটা শুরু থেকেই লাগে যেটা
ভালো লাগেনা সেটা কখনই
লাগেনা।
আপনার তাড়া না থাকলে শুনুন।
এই গল্পটা বোধহয় তোমার কোনো
সমবয়সী কিংবা বন্ধুদের বললে ভাল
হয়।
ছেলেটি নিরুত্তর থাকল।
আমি নির্লিপ্ত হয়ে কাঁচের জানলার
দিকে তাকিয়ে বললাম,আচ্ছা বল
তারপর....
আমি ওর প্রোপজালটা পেয়ে পুরো
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম।আমি
ওর প্রপোজ টা ফার্স্ট মেনে নিতে
পারলাম না।আমি ভাবলাম ফেক
আইডি হবে।ছেলে সেজে হয়তো
আমার সাথে ফান করছে।আমার অনেক
ছেলেবন্ধুরই তখন ফেক আইডি আছে।
এখনকার বাজার তো ফেক আইডির
ছড়াছড়ি।হা হা হা....
আমি ছেলেটার হাসির উৎস খুঁজে
পেলাম না।এতে হাসির কীই বা
আছে!
আমি মেয়েটির মোবাইল নাম্বার
চাইলাম।
সে দিতে রাজি হলনা।
আমি ছেলেটিকে বললাম,তুমি তখন
কি করো মানে পড়াশুনো।
না।আমি তখন সবে কলেজ পাশ করেছি
জিওগ্রাফি নিয়ে।চাকরির পরীক্ষায়
বসবো।কম্পিটিশন সাকসেস বই পড়ি।
আর ওই মেয়েটা?
ও তখন কলেজে কেবল ঢুকেছে।ফার্স্ট
ইয়ার।
ও আচ্ছা।তারপর....
আমি চ্যাট করা বন্ধ করে দিলাম।কারণ
আমি ভেবেই নিলাম ওটা ফেক
আইডি।আমি ছবি চেয়েছি দেয়নি।
আমি নাম্বার চাইলাম তাও দিলনা।
ও আমাকে রোজ এসএমএস করে এফ বি
তে বাট আই ডন্ট রিপ্লাই।
এরপর এভাবে এক হপ্তা কেটে গেলো।
হঠাৎ এক রাত্রিবেলা এফবি খুলেই
দেখি মেয়েটা আমাকে নাম্বার
দিয়েছে।
তারপর দেখা করলে প্রেম হল এই তো
বলতে চাইছো?আমি বেশ নরম সুরেই
বললাম।আরে কি সব গল্প বলছে
একেবারে বস্তা পচা লভ স্টোরি!
আমাকে প্লিজ বলতে দিন।
হ্যাঁ হ্যাঁ বল বল শুনছি।আমার এবার মনে
হচ্ছে কিছুটা ইন্টারেস্টিং হলেও
হতে পারে।
এরপর আমাকে ও একদিন অমুক যায়গায়
দেখা করতে বলে।যায়গাটার নাম
বলব না।
ঠিক আছে তারপর....
তারপর আমি দেখা করতে যাই।তখনও
মেয়েটিকে আমি দেখিনি।মানে
ওর ফটো আমাকে দেয়নি।
আমি খুব উৎসাহ নিয়ে দেখা করতে
গেলাম।
কিন্তু দেখা হলনা এই তো।
ছেলেটা এবার খুব চুপ হয়ে গেলো।
ঢকঢক করে জল খেল।আমি ফ্লেক
সিগারেট ধরালাম।ভুস ভুস করে
ধোঁয়া ছাড়লাম।ছেলেটির চুপ করা
দেখে বুঝে নিলাম ট্রাজেডি কিছু
একটা হবে।না হলে কেউ এইভাবে চুপ
হয়ে যায়না।হয়তো তার বলতে খুব কস্ট
হচ্ছে।
আমিখুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে
বললাম,মেয়েটা দেখতে ভাল না
তাইতো?
মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর।সে
ব্যাপারে কোনো প্রবলেম নেই।
তারপর বল.....তুমি চুপ দেখেই অনুমান
করলাম বিষয়টা।
আমি দেখা করতে ওই যায়গাটায় যাই।
আমি একগুচ্ছ গোলাপ ফুল নিয়ে ওর জন্য
জায়গাটায় ওয়েট করি।
আমি ছেলেটির মুখের পানে
তাকিয়ে আছি।কিছুটা বিষন্ন ভাব
চেহারায়।চশমার ভেতর থেকেও
সেটা স্পষ্ট বোঝা যায়।
আমি সিগারেট টেনেই যাচ্ছি।আমি
ওকে বললাম,ওই মেয়েটি দেখা করতে
আসেনি?
না এসেছিল।তারপর ওর সাথে দেখা
হল।ও আমাকে সেখান থেকে টোটো
গাড়িতে একটা যায়গায় নিয়ে গেল।
আসলে ওই যায়গাটা আমি ঠিক
চিনিওনা।সেখানে বেশ কিছু সময়
কাটালাম।এরপর সন্ধ্যা হয় হয়।এরপর
একটা ভয়ানক কাণ্ড ঘটে গেলো।
আমি গল্পের মাঝে একটা সিরিয়াস
কিছু খুঁজে পেলাম,সেটা কী!
ও আমাকে একটা নির্জন গলির
ভেতরে নিয়ে গেলো।তারপর ও
এদিক ওদিক তাকিয়ে হাসল।চারজন
ছেলে আমার কাছে আসলো।আমি
বুঝতে পারলাম আমার সামনে একটা
বিপদ রয়েছে।
মানে ওরা ছিনতাই কারী কী?
হ্যাঁ।
মেয়েটাও?
হ্যাঁ।
কিভাবে বুঝলে মেয়েটাও জড়িত?
ছেলেটি চেয়ারে হেলান
দিল,মেয়েটি নিজেই স্বীকার গেল
আর ওদের সাথে হাসাহাসিও করছিল।
কি নিয়ে হাসাহাসি?আমার খুব
কৌতুহল জন্মে গেল গল্পের প্রতি।
আমার মানিব্যাগ,ঘড়ি,মোবাইল
ফোন,জামা প্যান্ট সব নিয়ে গেল।
সর্বনাশ।
হ্যাঁ।
তুমি চিৎকার করনি?
না।আমি তখন স্ট্যাচু হয়ে মেয়েটিকে
দেখছি।
এগুলো সচরাচর হচ্ছে।কিন্তু মেয়ে
মানুষ এতোটা ডেঞ্জারাস হবে আমি
তা ভাবিনি।খুব স্যাড।
হুম প্রথম দিকে স্যাড।এখন
ইন্টারেস্টিং খবর শুনবেন?
হ্যাঁ হ্যাঁ বল।
ওই মেয়েটিই এখন আমার বউ।
আমি চোখ বড় বড় করে বললাম,মানে?
আমি বলব বলে ভাবছি,শিওর ঢপ দিচ্ছ।
গল্প ফাঁদতে বেশ জানো।কিন্তু বললাম
না।মানেটা বলেই উত্তরের আশায়
থাকলাম।
ছেলেটি আবার গল্প শুরু করল,আমি
ওকে ফেসবুক থেকে ব্লক করি।ও
আমাকে কিছুদিন পর কল করতে থাকে।
আমি কল ধরিনা।ও আমাকে সারাক্ষণ
মোবাইলে এসএমএস করতে থাকে।
কি এসএমএস?
আমার সাথে দেখা করতে চায়।
তুমি কি বললে?
আমি ওকে গালিগালাজ শুরু করি।
তারপরও আমার সাথে কথা বলতে চায়।
আমাকে বলে আমি যেখানে আসতে
বলব ও নাকি সেখানেই আসবে।
আমি এই ফাঁকে আরও দু'কাপ কফির
অর্ডার করি।কফি খেতে খেতে
বলি,তারপর কী করলে?ন্যাড়া কিন্তু
একবারই বেলতলায় যায়।
হ্যাঁ আমি আর দেখা করলাম না।
ছেলেটি হেসে ফেললো।
বিয়েটা কিভাবে হল?
আমি সিম চেঞ্জ করে ফেলি।এভাবে
প্রায় দশ বারোদিন কেটে গেলো।
হঠাৎ মেয়েটা আমার বাড়িতে এসে
উপস্থিত।
আমি বুঝতে পারছি ছেলেটা
বানিয়ে বানিয়েই বোধহয় গল্প
ফাঁদছে।আমি কিছুই বললাম না।
ছেলেটি নিজ থেকেই বলল,আমি তো
পুরো থ।আমার বাড়ির লোকজন ওকে
আমার বন্ধু ভেবেছিল তাই খুব বিচলিত
হয়নি।
আমি তখন ঘেমে নেয়ে উঠেছি।আমি
কি বলব বুঝলাম না।আমি ব্যালকনিতে
গিয়ে দেখলাম ছেলেগুলো বাইরে
আছে কিনা।
ও আমার মায়ের সামনে বলল,বাইরে
কেউ নেই।
আমার মা বলল মেয়েটিকে,বাইরে
কে নেই মা?
না কাকীমা কেউ না।
এরপর আমার মা একটু মূল ঘরেযেতেই ও
আমার হাত ধরে বলল,প্লিজ কিছু কথা
আছে।বাইরে চল।
আমি প্রথমে না বলাতে ও কেঁদে
ফেলল।
আমি বললাম,তারপর মায়ার টানে
বাইরে গেলে।এইতো।
হ্যাঁ।ঠিক তাই।
তারপর....
বাইরে গিয়ে একটা পার্কে গেলাম।
আমার পরিচিত পার্ক।তখন সকাল
পেরিয়ে দুপুর হবে হবে।দিনের বেলা
তাই কিছুটা সাহস আছে।ও আমাকে
জরিয়ে ধরল।আমি কি করব তা বুঝে
উঠতে পারলাম না।আমি ওকে আলগা
করে বসতে বললাম।
তারপর....
তারপর ও ওইদিনকার ঘটনা যা বলল তা
হচ্ছে ওর মামী একজন নেশা গ্রস্থ।
নেশার টাকা জোগার করতে
ভাগ্নিকে প্রেসার ক্রিয়েট করে।আর
বুদ্ধি দেয় ফেসবুকে ছেলেদের ফাঁদে
ফেলে টাকা নেবে।
আর ওই ষন্ডামার্কা ছেলেগুলো?আমি
খুব কৌতুহলী এখন।
ওগুলো ওর মামীর ভাড়া করা
ছেলেপেলে।
ওর মামা কোথায় তখন।
উনি দেশে থাকেন না।অন্য স্টেটে
থাকে।
আর মেয়েটির মা বাবা?
বাবা নেই।মা আছে।আরেক যায়গায়
বিয়ে বসেছে।মেয়েটার খোঁজ
নেয়না।
খুব দুঃখী মেয়ে।আমার ভেতর বেশ
দুঃখ নাড়া দিয়ে উঠল।
আমি ছেলেটিকে বললাম,তারপর কি
করলে তুমি?
আমি ওকে তক্ষুনি বিয়ে করে বাড়ি
নিয়ে যাই।
তোমার মা বাবা মেনে নিয়েছিল?
হ্যাঁ।এক্কেবারে।তখনি মেনে
নিয়েছিল।
শুনে খুব ভালো লাগলো।তুমি তাহলে
এখন খুব হ্যাপি তাইনা?
হ্যাঁ খুব খুব।
আচ্ছা এই প্রেমের গল্পটা তুমি চাইলে
তোমার বয়েসি বন্ধুদের বলতে
পারতে।কিন্তু আমাকে কেন বুঝলাম
না।
কারণ আমি যে মেয়েটির গল্প বললাম
আপনি তার মামা।
আমি ঢোক গিলে বললাম,মানে তুমি
সুনীতার বর?
হ্যাঁ মামা।আমি জয়।জয় মল্লিক।প্রথমে
কাকু বলেছি।সরি!
না সরি কেন?ঠিক আছে।
আমি জয় নামের ছেলেটার দিকে হাঁ
করে তাকিয়ে আছি।কি সুদর্শন যুবক।
মেয়েটা খুব সুখেই আছে বোঝা
যাচ্ছে।মামা হয়ে এ লজ্জা রাখবো
কোথায়?
আমি ওর হাত ধরে বললাম,আমি খুব
লজ্জিত।ভেরি সরি!
না না।আপনি খুব ভাল।সুনীতা
বলেছে।আপনাকে ও দেখতে চায়।
হ্যাঁ হ্যাঁ যাবো।এখনি যাবো।
মামীকে কিচ্ছু বলবেন না মামা।
একটা বিষয় কি জানো তোমার
মামীকে আমি ডিভোর্স দিয়েছি।
কেন?
সে অনেক কথা।আমি একটা
দীর্ঘনিঃশ্বাস গোপন করলাম।আমি
জয়কে বললাম,চল এখনি আমার ভাগ্নি
টাকে দেখে আসি।আহারে!
জয় খুব বিনম্রভাবে আমাকে সাথে
নিয়ে ওর ঘরের উদ্দেশ্য রওয়ানা করল।
আমি খুব আগ্রহ নিয়ে ছেলেটার
সাথে হেঁটে চলছি।

লাল গোলাপ
- মন্দিরা মিশ্র



তৃণা দরজাটা খুলেই অবাক হয়ে......কিরে ‚ বিশ্বজিত তুই ? এতো--দিন পর........
আরে ‚ দরজা থেকে সরবিতো ? ঢুকবো কি করে ?
স্যরি ‚ আয় ভিতরে আয় ......
কই আমার মিনি-তৃণা ? কোথায় সে ?
সে এখন আর মিনি-তৃণা নয় | কত বছর পরে এলি খেয়াল আছে তোর ? ওরে পুরো কুড়িটা বছর পেরিয়ে গেছে | তোর সেই মিনি-তৃণা এখন রীতিমতো লেডি |
মামমা.......
আরে ‚ মনে আছে তোর ? চিনলি কি-করে ?
কেন মমের কাছে তোমার ছবি দেখে..........
মমতো বাবির ছবিতে মালা দিতে গিয়ে রোজ চোখের জল ফেলে ‚ আর তোমার ছবিটার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে |
মম না বললেও ‚ মুখের ভাব দেখেই ‚ আমি বুঝি | তোমার দিকে তাকিয়ে ভাবে ‚ আজ কোথায় তুই ‚ ঘুরে বেড়াচ্ছিস ? আজও কি বেঁচে আছিস ?নাকি ‚ দুইবন্ধুতেই একসঙ্গে চলে গেছিস ? ওপারে জমিয়ে আড্ডা দিতে ?
হয়েছে থাক ‚ পাকা বুড়ি আমার মনের কথাও এখন পড়তে শিখে গেছে .......|
আচ্ছা বিশ্বজিৎ ‚ তুই কি করে সুকান্তের খবরটা পেলি বলতো ?
পেয়েছি ‚ পাওয়ার চেষ্টা ছিল ‚ তাই......তোদের সব খবরই আমি জানি |
হুঁ ‚ তুইতো একজন সবজান্তা দুলিরাম |
ও ‚ আচ্ছা ‚ বিশ্বাস করছিস না যখন ‚ তবে আমি বলি ‚ তুই শোন ........
নেক্স্ট মান্থে সুপর্ণার বিয়ে |
দুজনে একসঙ্গে এইচ এস পর্যন্ত পড়েছে । তারপর ‚ সুপর্ণা যাদবপুর ‚ আর কিঞ্জল আই আই টি পড়তে খড়্গপুরে |
এখন ইউ এস এতে সেটেলড | বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান | কি এতোগুলো কথার মধ্যে কিছু ভুল বলেছি নাকি ?
সত্যি তুই আমাকে অবাক করলি বটে........
মামমাকে কিছু খেতে দাও মম ‚ মামমারতো পেটে ছুঁচোয় ডন দিচ্ছে |
আরে ‚ আমার এ-কথাটাও তোর মনে আছে ? এবার তুই আমাকে অবাক করলি মিনি-তৃণা.....
শোন মামমা ‚ আমার একটা কথা তোমাকে রাখতে হবে |
কি কথারে সুপর্ণা ?
ধীরে রজনী ধীরে , ক্রমশ প্রকাশ্য..............


পর্ব---২



রাতের খাওয়া মিটে যেতে ‚ সুপর্ণা ‚ বা...ই মামমা ‚ গুডনাইট মম ‚ বলে নিজের ঘরে ঢুকে গেল |
এবার বিশ্বজিৎ ঘরে ঢুকে ‚ নিজের সব প্যাকিং খুলে ফেলে ‚ সুপর্ণার জন্যে আনা ‚ কসমেটিক্সগুলো বের করে একজায়গায় জড় করলো |
এবার ওর বিয়ের আশীর্বাদ হিসেবে কেনা ‚ একটা বড় ডায়মন্ডের পেন্ডেন্ট-ওয়ালা চেনটা বের করে ‚ বক্সে ঠিক করে রেখে ‚ সব একটা ছোট ব্যাগে ভরে রাখলো |
তৃণার স্পেশাল গিফ্ট-টা বের করে পকেটে রেখে ‚ ফুলের প্যাক থেকে ‚ লাল-গোলাপের বোকেটা বের করে ‚ একটু লুকিয়ে ‚ রজনীগন্ধার মালাটা হাতে নিয়ে ‚ তৃণার দরজায় ‚ মৃদু করাঘাত করলো |
তৃণা বললো ‚ ততোধিক মৃদুস্বরে ‚ খোলাই আছে ‚ ভিতরে আয়.......
রজনীগন্ধার মালাটা নিয়ে ‚ যত্ন করে ‚ সুকান্তর বাঁধানো ছবিতে পরিয়ে দিয়ে ‚  চোখ বুজে কয়েক সেকেণ্ড দাঁড়িয়ে রইল |
পিছন থেকে ফুলের বোকেটা নিয়ে ‚ তৃণার সামনে ধরে বললো ‚ এতোদিন শুধু একটা লাল-গোলাপের জন্য ঝগড়া করতিস ‚ আজ তোকে পুরো পঞ্চাশটা লাল-গোলাপ দিলাম |
বাব্বা ‚ তোর এখনো মনে আছে ‚ আমার জন্মদিনটা ?
আমিতো ‚ দুবছর আগে যখন সুকান্ত ‚ এই দিনটাতেই চলে গেল ‚ তখন থেকে ‚ সুকান্তর মৃত্যুদিন হিসেবেই স্মরণ করি....
কিন্তু আমার তৃণার জন্মদিনটাতো আমি‚ ভুলতে পারিনা ........
তৃণা , ফুলগুলো ‚ অনেকক্ষণ ধরে চোখে-মুখে বোলাচ্ছিস ‚ এবার ওটা টেবলে রেখে  দে |
দেখ তৃণা ‚ সুপর্নার কোন কসমেটিক্স কিনবিনা | আমি সব নিয়ে এসেছি | এখন আমার মিনি-তৃণা যদি আবিস্কার করে ‚ কিছু কম পড়িয়াছে ‚ তাহা হইলে এই অধমকে ‚ অন্য ব্যবস্থা করিতে হইবে |
জানিস ‚ সুপর্নার আশীর্বাদ হিসেবে ‚ একটা বেশ বড় সলিটেয়ার ডায়ামন্ড পেন্ডেন্ট এনেছি |
বিশ্বজিৎ ‚ তুই এখনো একই রকম রয়ে গেলি | এবারে ‚ এ----তোদিন পরে এলি ‚ তাও আমার জন্যে কিছুই অনিসনি .....
না , অবশ্য আমার ফেভারিট লাল-গোলাপতো এনেছিস ......
আচ্ছা তৃণা ‚ এবার একটু একমিনিট চোখটা বন্ধ করতো |
কেন ?
আমি বলেছি তাই |
হ্যাঁ ‚ এবার তোর বাঁ হাতটা এগিয়ে দে .......
এবার পকেট থেকে ‚ ডায়ামণ্ডের রিংটা ওর অনামিকাতে পরিয়ে দিল বিশ্বজিৎ | নে ‚ এবার তাকা..........
একিরে বিশ্ব ‚ তুই সত্যিই আমার জন্য এতো দামী একটা গিফ্ট এনেছিস ? না না ‚ এটা মোটেই ঠিক করিসনি |
কেনরে ? কত দাম ? তোর চেয়েও কি এটা আমার কাছে দামী ?
তৃণা ‚ পাশে-বসা বিশ্বজিৎকে ‚ অবাক হয়ে দেখতে-দেখতে ‚ অবচেতনে কখন ‚ ওর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে.........
ভোরের আলো একটু ফুটতেই ‚ দু-একটা পাখির ডাকে ‚ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলে ‚ দেখছে তৃণা ‚ একি ? আমরা কখন এভাবে ‚ পরস্পরের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছি ‚ বুঝতেই পারিনি.......
বিশ্বর‚ কাঁধে অল্প নাড়া দিয়ে ‚ ওর ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে বললাম ‚ যা ‚ এবার ঘরে গিয়ে শো |
আচমকা ডাকে ‚ বিশ্বজিৎ চোখ খুলে ‚ ভালো করে তাকাতে ‚ সব মনে পড়ে গেল |
এবার উঠে আস্তে-আস্তে ‚ নিজের ঘরের দিকে পা বাড়িয়ে‚বললো ‚ তৃণা ‚ একটা কথা.....এবার কিন্তু আমি তোর কাছে থাকতেই এসেছি রে............



ব্রেভো ‚ মামমা ব্রেভো ‚ বলে হাততালি দিতে দিতে ‚ সুপর্ণা ঘরে ঢুকে বললো ‚ মামমা ‚ আমি ঠিক এই কথাটাই তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম | কিন্তু আমার মনে দ্বিধা ছিল ‚ তোমরা দুজনে কি ভাবে ব্যাপারটাকে এক্সেপ্ট করবে |
তাই কাল তোমাদের গুডনাইট বলে ঘরে ঢোকার পরে ‚ মামমা যখন এঘরে এলো ‚ আমিও পা টিপেটিপে ‚ দরজার আড়ালে কান পাতলাম | সারারাত ঐখানে দাঁড়িয়েই তোমাদের অবজার্ভ করে গেছি | মামমা যখন মমের আঙুলে আংটিটা পরিয়ে দিল ‚ তখনি ইচ্ছে হচ্ছিল ‚ ছুট্টে এসে তোমাদের দুজনকে জড়িয়ে ধরি | কিন্তু নাঃ নিজেকে সংযত করে ভোরের অপেক্ষায় রইলাম |
এখন যেই মম ‚ তোমাকে ঘরে যেতে বললো ‚ আর তুমিও যাওয়ার জন্য রেডি ‚ ভাবলাম এটাই উপযুক্ত সময় | তাই এবার ভিতরে ঢুকলাম তোমাদের কনগ্রাচুলেট করতে |
না না মম ‚ লজ্জা পাওয়ার কিচ্ছু নেই | তোমরা এতোদিন ধরে একে অপরকে আকাঙ্খা করে এসেছ ‚ কিন্তু সময় বা সুযোগ আসেনি | আজ তোমাদের সামনে সেই শুভক্ষণ উপস্থিত ‚ তোমরা আর সেটাকে হেলায় নষ্ট কোরোনা |
জানো মম ‚ যেদিন আমার বিয়ের ঠিক হয়েছে ‚ সেদিন থেকে এতোগুলো রাত আমি স্বস্তিতে ঘুমাতে পারিনি ‚ শুধু তোমার চিন্তায় | আমি জানতাম এই চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র মামমা | কিন্তু তাকে কোথায় পাবো ? তার এতোটুকু ক্লু আমার কাছে নেই ‚ যে সে মানুষটা কোথায় থাকতে পারে |
তাই কাল সকালে তোমাকে দেখে ‚ আনন্দে আমার চোখে জল এসে গেছিল |
যাক আমার আশা ফুলফিল হয়েছে ‚ এখন আমি নিশ্চিন্তে কিঞ্জলের সঙ্গে যেতে পারবো |
মামমা ‚ একটা রিকোয়েষ্ট ‚ প্লিজ তুমি একটু মমের পাশে গিয়ে দাঁড়াও | আমি একটা স্ন্যাপ নেবো ‚ তারপরেই মধুরেণ সমাপয়েৎ |
বিশ্বজিৎ একেবারে তৃণার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়ালো | থাম্বটা দেখিয়ে ‚ সুপর্ণা স্ন্যাপ নিতে রেডি| ক্লিক....ক্লিক........সমাপ্ত

গভীর রাত্রে ঘুম ভেঙে যায়
ট্রেনের হুইসেলে
স্টেশনটা বড্ড কাছে তাই
আকাশ হাসছে চাঁদের বুড়ির
মিষ্টি ভালবাসা
উঠোন জুড়ে প্রেমের উপাখ্যান।
একলা জাগরণে ঘরের বাইরে পায়ের ধ্বনি
সিগ্রেট টাই সঙ্গী হলো বেশ
নস্টালজিয়া ভালোবাসায়
পাতার ফাঁকে
চাঁদের বুড়ির ঝলমলে আলো।
মেঘের সাথে হাইড এন্ড সিক গেম
বুকের মধ্যে যেমনটা মোর সূর
হয়েছিলো চড়ুই পাখির সাথে
পারদচড়া দুপুরবেলায় বুঝি!
মেঘের সাথে গেমটা চলে
ফ্ল্যাশব্যাকটা আর খুলে
মগজ থেকে ধোলাই করি
হাসি কান্নার আসর।

এই শহরের বুকে
রাত নেমে আসে বেশ ভোরে
ভোর হয় সকালটা গড়িয়ে...অতঃপর
ঘুমের যাত্রী নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রকৃত
রাতের কোলে জমায় আড্ডা আর
প্রেমের বিচিত্র নেশা
নেশা চলে জোয়ার ভাটার গন্ধ
মেখে অবশেষে...
উদাসীন সংগমের কোলে থাকা
পেরেকবিদ্ধ মানুষগুলো নিয়ন আলোর
কাছে প্রেমের ঝাপটা ফেলে
প্রেমের দোকান বন্ধ করে ঘুমাবার
পাঠাভ্যাস নেয়। ঘুম দেয় মধ্যরাতের
কাছে
তখন ভোরটা হয় হয়...
আমারও দারুণ ইচ্ছে করে নিয়ন আলোর
কাছে ঠিক তোমাদের মত প্রেমের
ঝাপটা ফেলি উন্মত্ত হয়ে...
দোকানি যেভাবে দোকানের ঝাপ
ফেলে দেয়।
কিন্তু আমার ঝাপ আর
ফেলা হয় না।
নিয়ন আলোর নিচে
হাতে সিগারেট নিয়ে সকাল সকাল
দাঁড়িয়ে থাকাটা পেশা
হয়েগেছে
তাইত ঘুম আসে বেশ সকালসকাল।
বালিশের কোলে মুখ বুজে
অবোধ শিশুর মত ঘুম দিতে যাই... ঘুমের
মধ্যে নির্ঘুম থেকে যাই...

ফলের সমাহার
- জুলফিকার আলী

পুষ্টি ভরা ফল ফলাদি
করোনা কম আহার,
গ্রীষ্মকালে গাছে গাছে
ফলের সমাহার|
আম,জাম,লিচু
আরো নানান রকম ফল,
মন খেতে চায় সবার
জিভে আসে জল|
ফল এত সব দেখতে হলে
গ্রীষ্মতে গায়ে আসেন,
মধুমাসে ফল সাগরে
ফলের রসে ভাসেন|

এই গরমে
- জুলফিকার আলী

এই গরমে দেহের ভিতর
আগুন বুঝি জ্বলে,
পানিও গরম-চাপ যদি দিই
জলের টিউবওয়েলে|
চাই ঠান্ডা আরসি কোকা
চাই ঠান্ডা পানি,
এই গরমে মোটকু,রোগা
সবাই কাবু জানি|
এই গরমের মৌসুমী ফল
দেহ রাখে ভালো,
স্যালাইন এবং ডাবের পানি
ক্লান্তির হটায় কালো|
এই গরমে অসুখ-বালাই
বাড়ে বুঝি দ্বিগুণ,
তাও আম,জাম,কাঁঠাল পাকে
এই গরমের কি গুণ?

ফিরে দেখে
- নিরা নিহারিকা

অতীতের দিকে ফিরে দেখে অতীত হাসি দেয়
বর্বর অর্বাচীন পথিক বুকে স্বপ্ন ছুরি চালায় ,
চোখের নজর নাকি পৃথিবীর উপর
পদতলে রেখে পালন করবে সংসার স্বনির্ভর।
ঘা শুকিয়ে গেছে কান্না থেমেছে কবে
ভয়ের চিহ্ন কপালে ছাপ মারা হে নারী দেখনা সহজে,
এক ঘর ছেড়ে নতুন ঘরে আপন করতে দুনিয়া
সদাই তৎপর কসাই কর্মি মাংসের কিমা নতুন ফর্মা।
দুঃখে সুখে হাসে নারী ফিরে দেখে অতীত দিনেরে
জন্ম দিয়েছে যারে সেই কেমনে আঘাত হানে নারীরে ,
কাঁপে ভূমি নাচে আকাশ প্রকৃতি চরম বেলায়
স্মরণ করাতে ধ্বংস আসে নারী যে জগৎ জন্ম পূর্ণতায়।

দ্বিগুন
- লিয়াকত জোয়ার্দার

ঘটক হলো দোস্ত আমার
অতি আপনজন
পাত্রী পেতে এবার দেখি
লাগে কতক্ষণ?
যোগ্যতা যা আছে আমার
বলবি দ্বিগুন করে
খুশির চোটে মেয়ের বাবার
মনটা যাবে ভরে।
* ছেলে কী পাশ? : ডবল এমএ!
পড়ছে তবু আজো
অনেক টাকা কামাই করার
পাইছে এমন কাজও।
*ছেলের বাড়ি? : দালান আছে!
সেটাও আবার দ্বিতল
নিত্যদিনের ভূরিভোজে
খায় যে বোয়াল-চিতল।
*জায়গাজমি? : হিসেব ছাড়া!
গ্রাম পুরোটাজুড়ে
ফসল রাখার খামারবাড়ি
নয়কো সেটাও দূরে।
ছেলের হঠাৎ উঠলো কাঁশি
লে হালুয়া ছক্কা
*কাঁশি আছে? : কাঁশি কিসের
একেবারে যক্ষ্মা।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
ঢাকা, বাংলাদেশ।

সবুজের কুচকাওয়াজ
- সব্যসাচী সরকার

ভাবে নির্জনে একা সে
ক্লান্তির বিষ বাতাসে
দোলা দেয়



তবু দরিদ্র পোশাকে
মসনদ তার কাড়ে কে
কোথা যায় ?

ক্লান্তির পথে হাঁটাতে
ভ্রূক্ষেপ নেই চোখেতে
হেঁটে যায়

অগ্নির দৃঢ় ইশারা
চক্ষুর যতো দিশারা
মাটি পায়

একাকীত্বের কথা না
সেটা নিশ্চয় যাতনা
কেন চায় ?

বাস্তব এই মাটিতে
ফুটবেই ফুল শাখাতে
ফুটে যায় !

১৪ / ০৬ / ২০১৬

আষাঢ়
- মো. মাহমুদুল আলম

আষাঢ়ের বৃষ্টি
বানের সৃষ্টি।
জলের ধারা
নয়ন কারা।
কাদায় ভর্তি
রাস্তার কির্তি।
মাথায় ছাতা
হাতের ব্যাথা।
সুর্যের আলো
নেইতো ভালো।
ঠান্ডা বাতাস
মেঘভরা আকাশ।
বছরে একবার
আসে আষাঢ়।
নেই ক্লান্তি
নিব শান্তি।

,মন ভূব‌নের খবর
,অসীম দত্ত
,
হা‌রি‌য়ে গে‌ছো তুমি
তবু তোমার ছায়ার সা‌থে
প্রে‌ম ক‌রে যাই সকাল বিকাল সাঁ‌ঝে।
,
তোমার ছ‌বি নিত্য অাঁ‌কি
হৃদ নিল‌য়ে,
স্বপ্ন দিয়ে নিত্য সাজাই
কামরাঙ্গা ঐ অধর,
বু‌কের 'প‌ড়ে মুখ‌টি রেখে
ম‌নের গান শু‌নি,
,
এমনই কি হয়
এই যে পৃ‌থিবীতে
হা‌রি‌য়ে যারা যায় বন্ধু
ম‌নের ভূব‌নে
বেঁচে থাকে অনন্তকাল তারা।

আমরা শোকাহত
__ বেলাল মোহাম্মদ জীবন
কেউ জানেনা কার কপালে
কখন বুলেট জোটে ,
আর কতদিন কালোব্যাজটি
রাখবো বুকে সেঁটে !
অনিরাপদ রাস্তাঘাট ও
নয় নিরাপদ গৃহ ,
নিত্যদিনই মরছে মানুষ
কালোব্যাজ নয় প্রিয় !
কালো মনের কালো হাতে
রক্তঝরা ক্ষণ ,
জেগে উঠুক জাতির বিবেক
শোকাহত মন ।
বেঁচে আছি , কেউ জেগে নেই
সবাই এখন কোমা'য়!
সাধ্যটি কার ঘুম ভাঙ্গাবে
জেগে যখন ঘুমায় !
প্রতিদিনই মরছে মানব
ঝরছে যেমন পাতা ,
কোথায় তারা রুখবে যারা
পুড়ছে মানবতা !
আলোর মানব খুঁজেফিরি
আলোকিত ক্ষণ,
আঁধার প্রহর কাটবে ,পেলে
আলোর বাহক জন ,
আর কতকাল নিরপরাধ
হবে হতাহত ,
ভাল্লাগেনা ব্যাজ লাগাতে
'আমরা শোকাহত' !

উত্তরণ
©কা জ রী ব সু
আকাশের ঠিক আগের পর্বে ভাবি মাটিতেই ফিরি
পশ্চাতে কবে অগোচরে দেখি অপসৃয়মান সিঁড়ি--
অপারগতার বাধা বিপত্তি স্পষ্টত প্রতিভাসে
তদুপরি মেঘ জলবিভাজিকা হয়ে যায় উচ্ছ্বাসে --
তখনই মেঘের আড়ালে স্বপ্ন ,স্বচ্ছতা কিছু কমই
তখনই কুয়াশাজনিত কারণে সূর্য ব্যতিক্রমী
তবুও ছন্দোবন্ধনে ধরি যদি অধরা মাধুরী
রেখে যাই শুধু একা অবেলায় কিছু উত্তরসূরী --
রক্তবীজের সংক্রমণেই ইচ্ছে লাগামছাড়া
ফলবান হয়ে তখনই আকাশ ছুঁতে চেয়ে দিশেহারা
ভেবে যেতে হয় আকাশ গভীরে স্বপ্নেই মাখামাখি
অন্ধকারের শূন্যগর্ভে ফেরা থেকে গেল বাকি --
ভূমি ও আকাশ মাতৃগর্ভে অতীতে ,ভবিষ্যতে
আমি ভাসমান ,আমি বিপন্ন একাকী মধ্যপথে --

 

বৃষ্টি
######
মেঘের শরীর ভেঙ্গে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরে
ধরিত্রীর আকুল তৃষিত বক্ষের মাঝে।
প্রতিটি নাম গোত্র হীন বৃষ্টি কণা লিখে যায়
বর্ষার ফলকে তাদের আপন আদি, অকৃত্রিম
জন্মের তথ্যের ইতিকথা।



শুখা মরশুমের বিবর্ণ শুষ্ক তপ্ত প্রকৃতিতে
নেমে আসে বাঁধ ভাঙ্গা প্রবল জল উচ্ছ্বাস।

সবুজের প্রাচীরের উত্থানে শিহরণ জাগে
মৃত্তিকার রোম ওঠা নরম তুলতুলে শরীরে
তৃষ্ণার্ত তৃণের শুষ্ক উপত্যকা জুড়ে শ্বেত শুভ্র
বৃষ্টি এঁকে দেয় তার অহঙ্কারের চিত্র লিপি।

রুক্ষ ধুলোর শরীরে ফিরিয়ে দেয় আনন্দ ভরপুর
জলদ বিশ্বাস মাখা স্বপ্নের জলছবি।

চারিদিকে চেয়ে দেখি আজ শীতল বাতাবরণ
স্নিগ্ধ ছায়ার স্বপ্নমায়া ভরা শান্ত পরিমণ্ডল।
সমস্ত বৃষ্টি কণারা মেঘের কপোল ছুঁয়ে ছুঁয়ে
নেমে এসেছে মাটির টানে, মাটির খুব কাছে।

বাতাসের কানে কানে বলি / দীপক রায়
তোমার পায়ের চিহ্ন মুছে গেছে
মাঠে আর নেই সোনা ধান!
সাথে করে নিয়ে গেছ সোনালী আকাশ
গোধূলি প্রফুল্ল বেলা
প্রিয় রাত, ফাগুন বাতাস!
না হয় একলা যেতে
বুকের করিডোরে গেঁথে নিয়ে চাঁদ!
অবসরে লুকোচুরি হতো
বিষম ব্যথার সাথে মিশাতে জোছনা!
মাঝরাতে তেষ্টা পেলে খুব
বিছানায় জল ঢেলে পিপাসা মিটাতে!
আমার মনকে আমি আগল দিয়েছি
দরজায় খিল তুলে জানলা এঁটেছি
তবু মন উড়ে গেছে কবে!
শোনো মেয়ে, বাতাসের কানে কানে বলি,
আবার বাজাও তোমার পায়ের নূপুর!
আমিও ফিরে পাই দেহ মনে
বিপাশার সুর!!!

আটপৌরে খেলাঘর
তুলিকা দত্ত
----------------------
একজন স্বেচ্ছায় ভাত কাপড়ের ভার নিয়ে ছিল
আর একজন রোজ রোজ সুষম আহার রেঁধেছিল
একজনের ঠোঁটে ছিল সর্বদা আগুন কাঠি
আর একজনের আগুন ছিল দেহজ পরিপাটি
একজন শুধু সুখের আশায় পাড়ি পরদেশ
আর এক জন কবিতার খাতায় আঁকছে স্বদেশ
একজন দিনান্তে স্বাছন্দের পসরা নিয়ে ফিরত
আর একজনের বক্ষ মাঝে সঞ্চিত দারুচিনির সুগন্ধ
একজনের শুধু চোখ দুটো দেখে আকাশ কুসুম স্বপ্ন
আর একজন জলছবিতে রঙ ভরাতেই মগ্ন
একজন খালি বেলজিয়াম থেকে বার্লিন কিম্বা ইরাকে
আর একজন একতারা বাজনায় হারায় নিজেকে
একজন রোজ গুছিয়ে সাজায় সুখের চয়নিকা
আর একজন এলোমেলো বড় আকাশ কনীনিকা
দুই আত্মার তুমুল যুগলবন্দীতে
ভালো বাসাবাসি খেলাঘর মোর যৌথ জবানবন্দীতে
দুটি মৌনতা পাশাপাশি হাঁটে কথোপকথন অল্পসল্প
আঙুলে আঙুলে পরশ মেখে লেখা হল মোর গল্প।

অদেখা আয়না অন্ধকার~~

অনুপ দত্ত
__________________________
তুমি বলেছিলে…..
শ্রাবনের পূ্র্নিমা গহন রাতে
তোমার ঘরের জানালায় বসন্ত ফুল ফুটেছিল৷
দক্ষিণ হাওয়া আল্হাদে নেচেছিল
চাঁদ দূর থেকে দেখে হেসেছিল….
এক দর্শন চেয়ে জানালার দিকে তুমি ভেবেছিলে
চাঁদ কি রাগ করলো?
চাঁদের মন ….হিসেব পাওয়া বড় ভার
যেন ছোট এক নীল রূমাল ভবঘুরে দুপুরের মতো
এখানে সেখানে.. সেখানে এখানে.. নরম মনের পাশে ঘুরে বেড়ায়৷
ঘুরে বেড়ায় বেখূদি পাগলের মতো …
কিন্তু সত্যি যে তাকে ভালবাসে তার কাছে আসে না৷



এই দ্যাখো না …
যেমন তুমি মনের বাতাস খুলে বসে আছো৷
তার জন্য মেঘের চাদর পেতে সুগন্ধ শিউলি ফুল ছড়িয়ে
তার শুভ্র বসন আসনের উপরে মনের আদর খূঁড়ে
মনের বাসর সাজিয়ে…..বসে আছো৷

কই এলো না তো চাঁদ ?

বড় অসহ্য মনে হয়
বড় অসহ্য মনে হয়, মাঝে মাঝে৷
ও চাঁদ বলো না -
-এতো সাজা তবে কার
-তুই মরমে মরিস
-তুই শরমে জড়াস
-তুই অধমে খুনসুটি করাস
শেষে.. রাত ফুরালে..মরমে..শরমে অধমে ডুবে যাস৷
পূ্র্নিমা দূর থেকে হাসে …সে তো চাঁদের আরেক আয়না রূপ
সে তো জানে না ..

আয়নার পেছনে আয়না থাকে না
থাকে এক অদেখা অন্ধকার৷

বদনাম‬
- মিন্টু উপাধ্যায়


মুম্বাইয়ে তার দাদার সাথে থাকতো বিনয়।
তার দাদা একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতো। মাসিক বেতন খুবই কম।
ছোট থেকেই বিনয়ের যে কোন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহ ছিল খুব।
দেখতে দেখতে সে কম্পিউটারে একটা ভাল কাজ শিখে ফেলে। তারপর তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যায়।
কিন্তু টাকার লোভে বিনয়ের দাদা বিনয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে।
তার লোভী মন আরও বেশি টাকা চায়।
বিনয়ের রোজগার করা টাকা সে একাই নিয়ে নিতো, বিনয়কে কিছুই দিত না।
কিছু দিনেই বিনয়ের দাদা বিনয়কে চাকরের মতো দেখতে শুরু করে।
বিনয় কিন্তু সব বুঝতে পারতো,তবুও সে মুখবুঝে থাকতো।
কারন সে তার দাদাকে ছেরে যেতে চায় না, সে যে খুব ভালবাসতো তার দাদাকে।
এমন ভাবেই কেটে যায় দশটা বছর।
এই দশটা বছরে সে নিজের জন্য কিছুই করতে পারে নি।
এদিকে তার দাদা বিনয়ের রোজকার করা টাকায় নানান ধরনের মজা করে।
কিছুদিন হলো সে মদ খাওয়াও শুরু করেছে।
মদ খাওয়ার পর সে বিনয়কে মানসিক ভাবে আরও বেশি অত্যাচার করতো।
চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছুই বিনয় করতে পারতো না।
অবশেষে বিনয় স্থির করে যে সে তার দাদার কাছে আর থাকবে না।
একথা তার দাদাকে জানাতেই, তার দাদা তাকে চোর উপাধি দেয়।
বিনয় নাকি এতো দিন তার টাকা চুরি করে এসেছে।
বিনয় কিছু বলে না, মাথা নিচু করে শুনে যায় তার দাদার কথা।
বদনামের বোঝা নিয়ে তার পক্ষে এ জীবনের পথচলা অসম্ভব।
তাই সেদিনই রাতের অন্ধকারে সে বেরিয়ে পরে,
এ জীবনের সমাপ্তি করতে।

ঋতুবতী শরীর

ইমরান পরশ

চাঁদটি যখন জোছনা ঝরায় গভীর রাতে
আমরা তখন স্বপ্ন বুনি কামনাতে।
ঋতুবতী শরীর থেকে গন্ধ ছড়ায়
সুখের চাদর দিই বিছিয়ে পরম্পরায়।

দেয়া নেয়ার মধ্যখানে ভাব বিনিময়
রাত্রিযাপন তখন বুঝি বিনিদ্র হয়।
দুটি হৃদয় এক হৃদয়ে হয় তো রাখা
ভ্রণের মাঝে হয় আমাদের বেঁচে থাকা।

অন্যতর

কখনো কি ভেবে দেখেছো?
তোমার আঁখির মধ্যে থাকা
অনুভূতির চঞ্চলতা
অন্য কারো মনে
কি ভীষণ আঘাত হানতে পারে!

কখনো কি জেগে দেখেছো?
স্বপ্নের মায়াবী স্পর্শ থেকেও
জীবন্ত পরশ
কত আকর্ষণে
কত বেশি নিজের করতে পারে!

কখনো কি গেয়ে দেখেছ?
গানের কলির মধুর আবেশ
সুর লালিত্যের
কথাতে ঝঙ্কারে
সাগরে কতটা ডুবে যেতে পারে!

তুমি দেখনি
কিন্তু আমি তো দেখেছি।

তোমার নয়ান তারা
তোমার মৃদু পরশন
তোমার গীতি মাধুরী
আমাকে কিভাবে কাছে এনেছে,
আমি তা জেনেছি।

তুমি বোঝনি
কিন্তু আমি তা বুঝেছি।
যন্ত্রণা সয়ে
আমি তাই দূরত্ব গড়েছি!

অন্তরঙ্গ বোধ
---------------
মিথিলা
-------------------
আমি ঠিক কী কী কারণে তোমার
প্রতি কৃতজ্ঞ
তার বিশদ বর্ননায় বারবার অপারগ হই।
তুমি ইচ্ছে করলে ই আমায় সন্তান দিতে
পারতে
আমার চাওয়ার মতোই , সুসজ্জিত
বলাকা দল সমেত এক নীলাভ আকাশ।
ভালবাসা , প্রেম আর আদর গলিয়ে
অন্তর আত্মাকে ঢেকে দিতে __
ভরপুর সবুজ দূর্বা আর লাল গোলাপের
আবরণে ;
স্বজন দিতে - সুজন হতে। আমার ভূবন
বেষ্টিত হর্তাকর্তা , শূণ্য বুকের
প্রতিটি চিৎকার রপ্তে
হয়ে উঠতে দক্ষ বীণাবাদক।
তবে সৃষ্টি হতোনা , আবেগের সূক্ষতায়
এক - একটি শিকারী তীর।
ব্যর্থ প্রেমীকের উড়ে আসা প্রেমে ও
ভঙ্গ পড়ত আমার নিয়মিত প্রেমে পড়ার
রীতি
ঘাস , ফুল , দূরের মেঘ
আমায় সব্বাই ছেড়ে যেত !
মাঝে মাঝে রাতের ও মন খারাপ
থাকে __ রাত ও কাঁদে! কি মিহিকুচি
সে সুর , জানা ই হতোনা!
আমি কিছুই সাজাতে পারতাম না _
না জীবন না যৌবন! হুটহাট বাতাসের
ব্যর্থ দোলায় জন্মানো আমার কবি
সত্বার স্বরুপ তাও দেখা হতোনা।
কর্পুরের গন্ধে বুদ হয়ে যেতাম ,
আফিমের প্রেম চুমুর চেয়ে শতগুণ বেশী
ঘোর এনে দেয়
তা জানাই হতোনা।
তুমি যাকে চিৎকার বলো ; তাতে
ধৌত করা আর্তনাদের মিশেল , পাপের
অট্টহাসি , খাপছাড়া ইচ্ছের ক্ষোভ ,
অপ্রাপ্তির নৃত্য তাল বুকের হরিকাঠে _
তা বোঝাই হতোনা।
চেনা মানুষ গুলো এভাবেই শ্রদ্ধা
পেয়ে যেত
উদ্বৃত্ত কাঁচে দ্বিতীয় বার যাচাই করা
হতো না কোন কিছুর !
আমি ঠিক তেমন ই রয়ে যেতাম ; এক
জোড়া সাদাটে গোলাপ
বা রুমালের এক কোণঠাসা বাহারি
নকশা হয়ে।

মেঘের প্রণয়
~~~~~~~~


প্লাবন আনা বৃষ্টি ধারায়
শ্রাবণ যেন প্রান খুলে গায়
মেঘের গভীর গোপন প্রনয়
আলিঙ্গনে বিভোর হৃদয় ।

বাঁধবে সে ফুল এলো খোঁপায়
আঁচলে তার মুক্তো ছড়ায়
হাত দুটো তার কাঁকন বাজায়
তারার নুপুর সুর তুলে যায়।

মেঘ যে ঐ যায় ভেসে যায়
দিগন্তের ঐ নীল সীমানায়
ভিজছে মেঘ অঝোর ধারায়
বৃষ্টির ঐ আলতো ছোঁয়ায় ।

বিদ্যুৎ তার শিরায় শিরায়
ভরেছে মেঘ সে উষ্ণতায়
যৌবনের ঐ উন্মাদনায়
মিশল যে মেঘ বৃষ্টি ফোঁটায় ।

এমন দিনে কি লেখা যায়
মেঘের যেন বুক ফেটে যায়
ভিজবে যেন মেঘ বৃষ্টি ধারায়
শ্রাবন যেন না চলে যায়।

"প্রশ্ন ও প্রত্যাশা "
(মাসুম হাসান খান)
:(------------------------------------------------
কোথায় হারালো সে স্বর্ণালী দিন?
সত্য - সুন্দর, স্মৃতি ভাস্বর অমলিন।
কোথা গেলে পাবো সে প্রেম শশী?
একাত্ন প্রেমে রাঙাবে যে জন মনের আরশী।
কোথায় লুকালো যতো মনের মানসী ললনা?
কপটতা -প্রবঞ্চনা বোঝেনা যে ছলনা।
কোথা খুজি বলো ছায়া সাথী -সহধর্মিণী?
নকশীকাথায় স্বপ্ন বুনে কাটাবে যে দিবস যামিনী।
প্রেমিক বরে সমর্পিত দেহ মন কোথা সে সৃষ্টি শ্রেয়সী?
নারী অথবা নীরা আত্নার সান্নিধ্যে প্রেয়সী।
লাইলী -জুলেখা, কোথা গেল নব সতী সীতা?
শত সাধনায় পাওয়া কোথা সে মধুমিতা?
অনাবিল আশ্বাসে -অপরাজেয় বিশ্বাসের কোথা সে বাধন?
দুজনে-দুজনার, একই ডোরে বাধাঁ জীবন ও মরণ।।

“অচেনা শ্রাবণ”
জয়িতা দাস।
এক অচেনা শ্রাবনে মন ভেজালে
বৃষ্টি হয়ে ভাসিয়ে নিলে।
দমকা বাতাস অসাবধানতায়
বুকের আঁচল উড়িয়ে দেয়।
খোঁপার বাঁধন খুলে গেল
ভাবনা গুলো এলোমেলো।
চুপিচুপি কাছে ডেকে
বৃষ্টি ফোঁটার উল্কি এঁকে।
চোখের ভাষায় তেজ দামিনীর
শরীর জুড়ে সুখের ভীড়।
শ্রাবণ আসুক বারংবার
বুকের মাঝে হারাবার। ।

অভিশপ্ত উপহার
_______ // টি,কে,এম,আজীমি

পথের ধারে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটি
আধো ছেঁড়া কাপড় গায়ে ময়লা জর্জরিত
শরীরে দুর্গন্ধ অনেক
যেদিক দিয়ে যায় সবাই দূর দূর শব্দে তোলে কলরব।
এখনো পুরোপুরি যৌবনে পা দেয়নি মেয়েটি
শরীরে তার নব বসন্তের হাতছানি
চোখে আগামী দিনের অগোছালো স্বপ্ন মাখা
মিষ্টি ঠোঁটে হাসি মেখে কত আবল তাবল
কথোপকথন করে চলে একাকী।



কি জানি কে রাতের আঁধারে
মেটালো তার নরপিচাশী শরীরের ক্ষুধা
কার নষ্ট মানসিকতা ঢেলে দিল তার চরণে
কি জানি কার করুণায় ফুটলো মুকুল
তার দুর্গন্ধ যুক্ত শরীরের মৃত্যু ডালে।

হয়তো নিষ্ঠুর অনাচারে ব্যথায় চিৎকার
করতে ও পারেনি মেয়েটি
প্রতিবাদ ও করার ক্ষমতা ছিলনা তার
তারপর ধীরে ধীরে মমতার টানে ভরে উঠলো
শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রতঙ্গ.

অন্যের ঘৃণিত পাপের শিখা জ্বলে উঠল
তার নব উদয় দিগন্তে
ভরে দিয়ে গেল তার রিক্ত প্রান অম্লান
এক অভিশাপ্ত উপহারে।

চাতক

তুমি দাও আমাকে, একটা ঝকঝকে সকাল,
তোমার হাসির মত উজ্জ্বল,
তোমার চোখের মত ঝলমলে,
তোমার দেহ-বল্লরীর মত, সর্বাঙ্গসুন্দর।



আমি যেন, তোমার আদরের মত,
দিনটাকে, জড়িয়ে রাখি বুকেতে।
তোমার ভ্রূকুটি-খুশী, যেন আকাশের ধূপ-ছাঁও,
কখনো খানিক জোর-পশলা, পরক্ষণেই নীল-হাসি।

চাই আমিও, খরতাপে দগ্ধ প্রান্তরসম তৃষ্ণায়,
তোমার মন-বর্ষার, সুধা-ধারার নিবারণী।
এখন যে আমার, নিরুপায় তৃণ-দহন,
আর তাকিয়ে থাকা, আকাশকোণের সেই,
কৃষ্ণ-সজল জলদ ভাণ্ডারের অধীর আশায়।

———————জয়ন্ত ব্যানার্জী———————

"সেই ছেলেটা নষ্ট ছিলো"
............দিগন্ত..............

আজও কি তোর কালো রঙে
আকাশ আছে ছেয়ে,
এখনও কি কান্না চোখে
ফুঁপিয়ে উঠিস মেয়ে?
এখনো কি একলা ঘরে
ভাবতে থাকিস তাকে,
আজও কি তোর ঘুমের মাঝে
অতীত এসে ডাকে ?



শোন না মেয়ে, সেই ছেলেটা
ভীষণভাবে নষ্ট ছিলো,
তাইতো তোকে খণ্ড করে
শূন্যপথে আছড়ে দিলো।
এসব ছেলে প্রেম জানেনা
দেহের ভাঁজে খেলতে জানে,
ভাবনা মেয়ে, সেই ছেলেটাও
আসতো কেমন নেশার টানে!

তুই-তো মেয়ে, এক চাওয়াতে সবি দিলি
বুকের ভেতর মনটা দিলি, শরীর দিলি...
সে তোকে আজ কি দিলো বল? কষ্ট দিলো!
তুই-তো আবার, যত্ন করে কুড়িয়ে নিলি।
তোর-তো তখন, অষ্টাদশীর কাঁপন ছিলো
সেই ছেলেটা তোর বাড়ি কি এমনি যেত?
সেই ছেলেটা দানব ছিলো, পিশাচ ছিলো
তোর বুকেতে মুখ রেখে সে রক্ত খেত।

মুখোশ পরা অমন ছেলে ভুলনা মেয়ে,
নতুন করে এই পৃথিবী দ্যাখনা চেয়ে।

দ্যাখনা মেয়ে, গভীর রাতে
আঁধার কেমন চতুষ্কোণে,
সকাল হলেই দেখবি আবার
মাতবে আলো আলিঙ্গনে।

দ্যাখনা মেয়ে, নদীর বুকে
স্বচ্ছ-ফটিক জলের তলায়,
নুড়ি-পাথর জমছে বলে
নদী কি আর থমকে দাঁড়ায়!!

প্রতিক্ষিত বৃষ্টি
হাছনা হেনা
**************
***************
মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির
গ্রীষ্মের কাঠ ফাটা রোদ্দুরে,
তব সেথায় চাতক বারি যাচে
জল নেই তো পুকুরে।।



হঠাৎ গগনে তাকিয়ে দেখি
মেঘের ঘনঘটা,
মেঘের দলেরা করছে ছুটোছুটি
বেঁধেছে পুঞ্জীভূত বাসা।।

পথিক বিশ্রাম নিচ্ছে
কদম গাছের নিচে,
সেথায়ও তবু অবিরত
চাতক বারি যাচে।।

কলুর বলদ রাখাল ছেলে
গরু চড়ায় মাঠে,
উদাস দুপুরে বংশী বাজাতে
নেইকো বারন তাতে।

হঠাৎ করে গগন হতে
আসলো মেঘের ডাক,
সবাই তখন ভাবছে তবে
বাড়ি ফেরা যাক।।

মুহুর্তে যেন ঝমঝমিয়ে
পড়তে লাগলো বৃষ্টি,
এসব দেখে মূক বনিতারও
কেড়ে নেয় যে দৃষ্টি।।

জলের ছোঁয়া পেয়ে এবার
মাটিতে ফিরে এলো প্রান,
প্রতিক্ষিত মুহূর্ত কাটিয়ে বৃষ্টি
রোদের করল অবসান।।

একটা ছেঁড়া কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে
আছে শুভেন্দু।তার পায়ের ঠিক কাছেই
তার বারো বছরের মেয়ে অন্তরা
বসে বসে গান গাইছে।তার অসম্ভব
খিদে লেগেছে।খিদে লাগলেই সে
গান গেয়ে খিদে ভোলার চেষ্টা
করে।রাত প্রায় বারোটা।একটা
নির্মাণাধীন দশ তল ভবনের নিচে
ওরা অস্থায়ী আসন নিয়েছে।ওরা
যাযাবর প্রকৃতির অর্থাৎ যেখানেই
রাত সেখানেই কাত।অন্তরা ওর
বাবার জন্য দুটো রুটি এনেছিল।দুটো
রুটিই ওর বাবা খেয়ে ফেলেছে।তাই
ও না খেয়েই আছে।অবশ্য অন্তরা বেশ
না খেয়েই থাকতে পারে।না খেয়ে
খেয়ে তার চেহারায় একটা
জীর্ণভাব এসে গেছে।শুভেন্দু
মাঝেমাঝে তার শরীরটা একটু নাড়া
দিচ্ছে।অন্তরার গানে তার ঘুমের
কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে।শুভেন্দু কিছু
বলবে বলে ভাবছে।সে শুধু
ভাবছে,আহা কী সুন্দর গলা!
মাগো ঘুমোবিনা?
অন্তরা গান থামিয়ে বলল,না বাবা
ঘুমোতে ইচ্ছে করছেনা।তুমি ঘুমোও।
ঘুমোবো কি করে?কানের কাছে যদি
ভ্যানভ্যান করিছ,তাহলে.....
কথাটা শেষ করার আগেই অন্তরা
বলল,ঠিক আছে।আমি চুপ।ঘুমোও বাবা।
অন্তরা এবার তার পাশের ঝাঁকা
থেকে কতগুলো ফুল নিয়ে ফুলের
মালা তৈরিতে ব্যস্ত হল।এই
জগতসংসারে অন্তরার আপন বলতে ওর
বাবা আর বাবারও আপন বলতে এই
স্নেহের অভাগী মেয়েটি।অন্তরা ফুল
বিক্রি করে কলকাতার রাস্তায়।যা
আয় হয় তা দিয়ে দুপুরে বেশ ভালোই
খাওয়াদাওয়া হয় দুটো প্রাণির কিন্তু
রাতে তেমনটা নয়।অন্তরা প্রায়
রাতেই খায়না।সে প্রতিদিন কিছু না
কিছু পয়সা জমায়।অন্তরা গান ধরল,
"স্বপ্নে আমি দেখি যাকে
সেকি ডাকে বসে আমাকে?"
অন্তরার গানের গলা বেশ সুরেলা।
সুমিষ্ট গলায় বেশ ভালোই গান করে।
শুভেন্দুর মেয়ের গান শুনতে বেশ
ভালোই লাগছে।সে যদি বলে,মাগো
অতি চমৎকার তোমার গানের গলা।
তাহলে দেখা যাবে মেয়েটি গান
গেয়েই যাবে।রাতে নিজেও
ঘুমোবে না আর বাপকেও ঘুমোতে
দেবেনা।তাই বাপে একটা খেই
দিয়ে উঠল,গান বন্ধ,স্টপ,শুধু
ভ্যানভ্যান,প্যানপ্যান....
অন্তরা একগাল হেসে ফেলল,কিন্তু
গানের আসর ভাঙল না।গান গেয়েই
গেল তবে সেটা নিজের মধ্যে।
বাইরের পরিবেশকে বুঝতে দিলনা।
অন্তরা মালা গেঁথেই যাচ্ছে।
সকালসকাল বেড়িয়ে পড়তে হবে
কলকাতার রাজপথে,বড় বড় সাহেবদের
গাড়ি জ্যামে থামা মাত্রই সে
এগিয়ে যাবে ফুল বিক্রি করতে।
শুভেন্দু আর তার মেয়ে অন্তরা
দিনেরবেলা বস্তিতেও থাকে তবে
এখন আর বস্তিতে খুব একটা থাকা
হয়না।কয়েকদিন যাবত এই খানেই ওরা
আছে।এই খানেই ওদের আবাস।ভোর
হতে হতে ওদের এখানটা ছেড়ে চলে
যেতে হবে।নাহলে সকাল বেলা
বিল্ডিংয়ের দারোয়ান,মালিকের
গালিগালাজ খেতে হবে।
নির্মাণাধীন বিল্ডিংটির পাশেই
একটা ফুটপাত আছে,অন্তরার বাবা
দিনের বেলা ওই ফুটপাতেই শুয়ে বসে
দিন কাটিয়ে দেয়।শুভেন্দু খোঁড়া।
হেঁটে চলতে পারেনা।তারমতো
লোক অনায়াসে ভিক্ষা করে
কলকাতা শহরে পেট বাঁচিয়ে যাচ্ছে
কিন্তু সে ভিক্ষা করেনা।তার
মেয়েটি ফুল বিক্রি করে জীবন
চালায় তাতেই হয়ে যায় দুটো
পেটের অন্নসংস্থান।বাবার
আত্নসম্মানে বাধে ভিক্ষা করাটা।
ক্লাশ ফাইভ অবধি পড়ালেখা হয়েছে
তার।ক্লাশে একবার ফার্স্ট হয়েছিল
সে।শুভেন্দু এই কথাগুলো যখন ভাবে
তখন তার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে
পড়ে।দুঃখ দুর্দশায় জড়তাগ্রস্ত তার
পুরোটা জীবন।কী কষ্ট!কী কষ্ট!
বাবা ঘুমিয়ে গেলে নাকি?
শুভেন্দু তার শরীর দিয়ে হালকা
ইশারা করে বোঝাল,সে ঘুমোয় নি।
রাতে তার ভাল ঘুম হয়না।সারাটা
দিনই তো ঘুমোয়।ঘুমোনোর মধ্যে
দিয়ে দিন কেটে যায়।এতো
নিরিবিলি রাত অথচ ঘুম আসছেনা
কিন্তু দিনের বেলা কলকারখানা আর
গাড়ির আওয়াজে দিব্যি ঘুম হয় তার।
কেন এরকম হয় কে জানে?
বাবা খিদে লেগেছে তোমার?
বাবা জানে মেয়েটি না খাওয়া।
এই কথাটা বাবার বলা উচিত ছিল
তার মেয়েকে কিন্তু....
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে তার
চোখের কোণাটা ভিজে গেল।
শুভেন্দু না খেয়ে থাকতে পারেনা
কিন্তু তার এই মেয়েটি কি করে যে
পারে সেই জানে!
মাগো তোর খিদে লেগেছে কি!
অন্তরা ফুল সুতোর মধ্যে দিতে দিতে
বলল,না বাবা,খিদে লাগলে চিড়ে
খেয়ে নেব।সামান্য চিড়ে আছে
ব্যগটায়।
তাহলে খেয়ে নে না।
খিদে নেইতো।
ও আচ্ছা ঘুমিয়ে পড়।রাত তো অনেক
হলোরে।সকালেই তো বেড়িয়ে
পড়তে হবে।ঘুমো মা।যায়গাটা খুব
একটা সুবিধার নারে।কখন যে কী হয়!
কিছুই হবে না।তুমি ঘুমোও।আমাকে
নিয়ে চিন্তার কিচ্ছু নেই।
শুভেন্দুর তার মেয়েটিকে নিয়ে বড্ড
দুশ্চিন্তা হয়।মেয়েটির বয়স অল্প কিন্তু
বয়স তো বেড়েই যাচ্ছে।মেয়েটার
একটা বিয়ে দিতে পারলে সে বাঁচত।
কেইবা ওকে বিয়ে করবে?সেটাই
প্রশ্ন।
রাত ক্রমেই বাড়ছে।লোকজনের
আনাগোনা ক্রমেই হালকা হয়ে
আসছে।শুভেন্দু খুকখুক করে কাঁশল।অন্তরা
এবার ঘুমোনোর জন্য প্রস্তুত হল।তার ঘুম
ঘুম আসছে।বাবার পাশেই সে ঘুমিয়ে
যাবে।অন্তরার শোয়ার সাথে
সাথেই চোখ ভেঙে ঘুম পেয়ে যায়।ওর
ঘুমে তেমন একটা সমস্যা নেই।অবশ্য
সারাদিন রাস্তায় রাস্তায়
দৌড়াদৌড়ি করলে রাতে ঘুম
আসবেই।সেটাই স্বাভাবিক।শুভেন্দু
ভাবছে দারোয়ান লোকটা গেল
কোথায়?লোকটা প্রায় সারারাত
জেগে থাকে,জেগে জেগে বহুতল
ভবনটি পাহাড়া দেয়।দারোয়ান অবশ্য
শুভেন্দুকে দেখতে পারেনা।
প্রতিমুহূর্তে কথা বলার সময় ভ্রু কুঁচকে
থাকে আর বলে,কি জ্বালা তুমি
এখানেই আছো,যাও ঐদিকে যাও।আপদ
জুটেছে এখানে!
দারোয়ানের কথা বাপ বেটির
গায়ে লাগেনা।শুভেন্দু
দারোয়ানকে বেশ ভয়ও পায়।তাই
দারোয়ানের কথা মুখ বুজে শুনে যায়।
শুভেন্দু প্রায় ঘুমিয়েই পড়েছিল হঠাৎ
তার ঘুম ভাঙল একটা মোটরবাইকের
খটখট শব্দে।বড্ড জ্বালাধরা শব্দ।
শুভেন্দুর মাথার শিরা দপদপ করে উঠল।
হঠাৎ কাঁচা ঘুমটা ভেঙে যাওয়ার দরুন
এমন লাগছে তার।শুভেন্দু তাকিয়ে
আছে মোটরবাইকের দিকে।দুজন অল্প
বয়স্ক ছেলে মোটরবাইক থেকে নামল।
ছেলে দুটো থেকে ওদের দূরত্ব খুব
বেশী না।অন্তরা ফুলগুলো পাশে
রেখেই শুয়ে পড়েছে।ছেলেদুটো
হাঁটতে হাঁটতে ওদের কাছেই আসল।
একজনের হাতে জ্বলন্ত সিগারেট।
ভুসভুস করে সিগারেট টানছে আর
প্রতিমুহুর্তে একদলা করে থুথু ফেলছে।
অন্তরার ঘুম ভেঙে গেছে।ও শোয়া
থেকে উঠে বসল।
এই তুই কি ফুল বিক্রি করিস?
অন্তরা উৎকণ্ঠিত চোখে তাকিয়ে
আছে।কিছুই বললনা ও।
আবার একি প্রশ্ন একজনের কাছ
থেকে,কি হল বল,ফুল বিক্রি করিস
নাকি?
অন্তরা হ্যাঁ-সুচক মাথা নাড়ল।
যে ছেলেটি প্রতিমুহূর্তে থুথু ফেলে
যাচ্ছে সে বলে উঠল,দেখি ফুল দেখি।
তোর ফুল দেখা।
অন্তরা বলল,তোমরা ফুল কিনবে?
হ্যাঁ।কিনতে এসছি।
অন্তরা ঘুম ঘুম চোখে বলল,অন্যসময় এসো।
এখন বড্ড ঘুম পাচ্ছে গো।
হঠাৎ ছেলে দুটো অন্তরার হাত চেপে
ধরে বলল,দাঁড়া তোর ঘুম ছুটাই।
আমাদের সাথে চল।তোকে টাকা
পয়সা দেবো।
অন্তরা হাত দুটো ছাড়াবার চেষ্টা
করে বলল,ছাড়!শুয়োর কোথাকার!
আমার কাছে এসেছিস ক্যানো।অন্য
কোথাও যা।
শুভেন্দু কাঁথাটা সরিয়ে অনেক কষ্টে
দাঁড়িয়ে বলল,তোমরা কে?আমার
মেয়েকে ছেড়ে দাও বাবারা....
হু দেবো।আগে ওকে নিয়ে একটু....!
(মুদ্রণের অযোগ্য)
শুভেন্দু ছেলেদুটোর খুব কাছে গিয়ে
বলল,আমার মেয়েকে ছেড়ে দে।
নাহলে পুলিসে দেবো।পুলিস
ডাকবো।
ছেলেদুটো শুভেন্দুর কথার কর্ণপাত না
করে ওকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে
হিঁচড়ে নিয়ে গেলো ওপরের তলায়।
শুভেন্দুর পা কাঁপছে।সে কি করবে
বুঝে উঠতে পারছেনা।সে চিৎকার
করতেও পারছেনা মনে হচ্ছে তার
গলা কে যেন চেপে ধরে রেখেছে।
হঠাৎ তার সামনে দারোয়ান এসে
হাজির।শুভেন্দু কেমন যেন একটা শক্তি
খুঁজে পেল।সে চিৎকার দিয়ে
উঠল,দারোয়ান দা আমার
মেয়েটাকে বাঁচান।
বাঁচাবো মানে!ও কোথায়?
দুটো ছেলে ওকে ওপরে তুলে নিয়ে
গেছে।তারাতারি যান না হলে
মেরে ফেলবে ওকে।
ওপরে অন্তরার গলার আওয়াজ শোনা
যাচ্ছে।দারোয়ান কান খাড়া করল।
দারোয়ান বেশ তড়িৎ গতিতেই সিঁড়ি
বেয়ে ওপরে উঠে গেল।তার
ব্যাপারটা বুঝতে বাকী থাকল না।
সে তার টর্চলাইটের আলো ফেলে
লম্বা লম্বা পা ফেলে ওপরে উঠতে
লাগল।
শুভেন্দু বেশ ছটফট করছে।তার সারা
শরীর কাঁপছে আর ঘামে জবজবে
অবস্থা।তারও ইচ্ছে করছে সিঁড়ি
ভেঙে ওপরে যেতে কিন্তু পা
এগুচ্ছেনা।পা দুটো এমনিতেই অবশ
তারপর আজ যেন আরও বেশি অবশ
লাগছে।
মেয়েটির আর কোনো চিৎকারের
আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছেনা।শুভেন্দু
হঠাৎ কাঁদতে শুরু করল।দারোয়ান নিচে
নেমে আসছে।তার চোখ চকচক করছে।
দারোয়ান দা আমার মেয়ে কোথায়?
দারোয়ান রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে
বলল,কি যন্ত্রণা!ঘুমিয়ে থাকোতো।
ডিস্টার্ব কোরোনা।তোমার মেয়ের
কিছুই হয়নি।ও গল্প করছে।
কিন্তু আমার মেয়ে কোথায়?ওকে
নিয়ে আসেন।
ও আসবে।ঘুমোও তো।ভারী যন্ত্রণা!
এটা কেমন কথা বললেন।
তুমি পারলে তুমি যাও।আমি পারবনা।
বললাম তো কোনো সমস্যা নেই।
কথাগুলো বলেই দারোয়ান বেশ দ্রুত
গতিতে কোথায় যেন হেঁটে গেল।
শুভেন্দুর মাথা কেমন যেন ভনভন করে
উঠল।সে অন্ধকারের ভেতরেই খোঁড়া
পা নিয়ে দেয়াল ধরে ধরে সিঁড়ির
দিকে এগুতে লাগল।মেয়েটার
কোনো কণ্ঠস্বর পাওয়া যাচ্ছেনা।
অন্তরা কি মারা গেল তাহলে?
মাথাটা বেশ ঘুরছে।তার মনে হল সে
অজ্ঞান হয়ে যাবে কিন্তু তাকে
অজ্ঞান হলে চলবে না।পশুদের হাত
থেকে মেয়েটাকে উদ্ধার করতে
হবে।