মে 2016

13335303_248829555472903_2021671979_n

ভাঙা চশমা
- সুব্রত ব্যানার্জী

কবে থেকে বলছি খোকা
চশমা আমার ভেঙ্গে গেছে।
দেখতে পাইনা ঠিক করে আর
চোখের জোর খুব কমেছে।।
আশ্রমের এই হলদে আলোয়
সব দেখি যে ঝাপসা কালো।
ঝাপসা জগৎ বহির্বিশ্ব
সব কিছু আজ এলোমেলো ।।
বলেছিলি অনেক খরচ,
তাই, চশমা দিবি পরের মাসে।
বলিস নি তো সে মাসটা,
কোন সে মাসের পরের মাসে।।
কতদিন হল আসিস না তুই,
দেখিনা তোর মুখখানাকে।
বল না খোকা মন কাঁদেনা
না দেখলে তোর এ মাকে ?
মনে পড়ে সেদিনগুলো
যখন তুই এই ছোট্ট ছিলি?
গল্প করে ঘুম পাড়াতাম,
কি করে সব ভূলে গেলি?
বলনা খোকা কবে রে তুই
চশমা আমার বানিয়ে দিবি?
সেই চশমায় দেখব জগৎ
দেখব রঙীন এই পৃথিবী।
আমি আবার দেখতে চাই ,
দেখতে চাই এই জগৎটাকে
আর কিছু নয়, আমার জগৎ,
তোর, শুধু তোর ঐ মুখখানাকে ।

 

13282276_248829772139548_9717808_n

কুনাল তুমি কোথায়
- জয়া রয়

তুমি কোথায় আছো কুনাল?
না বলা কথা বয়ে নিয়ে ,তোমায় খুঁজে চলেছি এতোকাল.
শুধু একবার তুমি আমার সামনে এসে দাঁড়াও,
অপরাধের বোঁঝা কমিয়ে, আমায় মুক্তি দাও।
খুউব ছেলেমানুষি ছিল সেটা, বন্ধুদের সাথে বাজী রেখে,
তোমার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলাটা।
মাথা উঁচু করে হেটে যেতে তুমি ,গাম্ভীর্য ছেঁয়ে থাকতো তোমার মুখে.
কারুর দিকে ভুলেও তাকাতে না ফিরে।
সবাই মিলে মজার ছলে ধরলো বাজি ,
তোমার মনের কাছে যেতে কে হবে রাজি ?
জেতার খেলায় এগিয়ে গেলাম আমি,
পাপবোধে আজ তোমাকেই শুধু খুঁজি।
খেলার ছলে তোমার কাছে পৌঁছে গেলাম আমি,
হুঁশ ফিরে এলো ,যখন তোমার হাতে এলো আমার, বিয়ের তারিখ লেখা আমার বাবার চিঠিখানি।
মনে আছে কুনাল ,খুউব কেঁদেছিলে তুমি,
চলো পালিয়ে যাই ,বারবার বলেছিলে তুমি।
মন থেকে চেয়েছিলাম আমি ,সব ভুলে তোমার কাছেই ছুটে যাই আমি.
পারিনি কেনো জানো? মা বাবার মুখগুলো চোঁখের সামনে চলে আসছিলো বারবার .
সন্তানের কাছে , মা বাবার চেয়ে বড়ো কিছুই যে নেই আর।
বিয়ে হয়েছিল বিয়ের দিনেই ,খোঁজ রাখি নি তোমার আমি.
চলে গেছিলে অনেক দূরে ,অজানা এক শহরটিতে।
মিথ্যে আজ বলবো না তোমায় ,ইচ্ছে হতো তোমার খবর জানার,
ভয় হতো আর তোমায় নতূন করে দুঃখ দেবার।
কুনাল ,বছর দুয়েক পরে কোন ও এক বিকালে,
দরজায় করাঘাত শুনে, খুলতে এলাম মেয়েকে নিয়ে কোলে,
একটি অচেনা ছেলে, দিলো একটি প্যাকেট এগিয়ে.
কুনালদা পাঠিয়েছেন ,ঠিকানাটা জানাতে না করেছেন।
জানো কুনাল ,কিছু বোঝার আগেই ছেলেটি গিয়েছিলো চলে
হয়তো তুমি ওকে এইটুকুই বলে দিয়েছিলে বলে।
সম্বিত ফিরলে প্যাকেট খুলে দেখি,
ফেরত্ পাঠিয়েছো ,তোমার জন্য আমার হাতে বোনা সোয়েটারটি।
কুনাল তোমায় আমার জানানো হয়নি,
আমিও নই সুখী ,আজ ও আমি তোমায় ভালোবাসি।

 

13318600_248830078806184_717536252_n

বৃষ্টিপ্রিয়া
- মৌসুমী মন্ডল

ভেজা শার্সিতে মেঘবালিকা রামধনুর
বিকেল চায়
চিনার পাতার কমলা সুখ জানান দিলো
শুভ্র মেঘের ব্রাসো পর্দারা থাকুক না আজ জানালার কাঁচ ঢেকে
পাহাড় থেকে কুয়াশা এলো ভিজিয়ে
দিতে , কাঠবাংলোর ঘাসের লন।
দিনের শেষে রাতও এলো গোপন
কথার ব্যাগ নিয়ে।
মেঘের কাছে বার্তা পাঠায় প্রেমিক যক্ষরাজ
ঠোঁট ভিজিয়ে বৃষ্টি নামে সুদূর বিরহিণীর।
কেউ দেখলোনা, ভিজলো শুধু
হলুদ চিঠিখানি।
মেঘবিকেলে ছুটছে ট্রেন, ছুটছে ঝাপসা আকাশ।
মনখারাপের কাগজ ফুল আর হু হু করা
বাতাস
মনের খবর জানে বাতিঘর, পাহাড় চূড়োয় সেও তো ছিলো।
যক্ষপ্রিয়ার সাথে হলো মেঘের সাক্ষাত
মেঘবালিকার হাতে দিলো
হলুদবনের চিঠি।
কুয়াশা ঘনায় পাইনের বনে, গ্রীণ টি এর
বাহারি কাপে সন্ধ্যে নামে ভীষণ
একা হয়ে।
একলা হাঁটে অভিশপ্ত রেইনকোট আর
পোর্সেলিনের মনপাখি।
ভুলেই গেছি মেঘের কানে ফিসফিসিয়ে কি বলেছে যক্ষরাজ।
কাঠবাংলো একাই জানে কোন টেবিলে
সাজায় প্রিয়া ক্যামেলিয়ার প্রিয় গন্ধ।
বিমূর্ত বিলাপ ।

© মৌসুমী মন্ডল

Nabadibakar_Writer_77

শেষ চিঠি
- সাইফুল তালুকদার সবুজ

প্রিয়তি জানো তুমি,
শত যন্ত্রনায় এখন আর কান্না আসে না
চোখের পানি গুলো অভিমানি কষ্ট শুকিয়ে গেছে।
সেই দিন শেষ বারের মতই অনেক ঝরেছিল চোখের জল
তারপর আর কাঁদা হয়নি আমার।
প্রিয়তি মনে কি আছে,
আমার অস্তিহাড়ে কত শত আগাতের চিহ্ন,
তোমার চলনার চলে আমি কষ্টের তিব্র ব্যথায়
স্মৃতিভষ্ট হয়েছিলাম সেদিন।
জ্ঞান টা যখন ফিরলো দেখলাম চার পাশে
কান্নাভরা চোখ গুলো তাকিয়ে আছে,
সেই দিনই কান্না ভুলে গিয়েছিলাম আমি।
কিছু যন্ত্রনা চাইলেও ভুলা যায় না
তেমনি কিছু যন্ত্রনা পেয়েছি তোমার প্রেমে
তাই সুভ্রতায় নয় কষ্টের তিব্রতায় নষ্ট হয়েছে
আমার কিছুদিনের সম্পর্কের পবিত্রতা।
আমি অন্ধের মত বিস্বাস করছিলাম তোমায়
ভালোবাসার মর্যাদা রেখেছিলাম হৃদ আঙ্গিনায়।
সব অবিস্বাস করে কষ্টের অনলে জ্বালিয়ে
এই হৃদয় ভেঙ্গে হারিয়ে গেলে চলনায়।
প্রিয়তি জানো তুমি,
চলানার কষ্টের কারনে শুধু হারায় নি প্রেমে
আমি হারিয়েছি আমার বেঁচে থাকার শক্তি
তাই মন থেকে হারিয়ে গেছে ভালোবাসার ভক্তি।
হয়তো এই আমাকে আর দেখবে না তুমি
তাই অজানায় পোষ্ট করলাম জীবনের শেষ চিঠি।

এ পথ আমাকে ছাড়ে না
- রাহাত রাব্বানী

এখানে,এই গ্রামে আমার নাড়ী পোতা;
কি করে ভুলবো গ্রামের মায়া?
গ্রামের প্রতিটি ধূলিকণা জানে,
আমি এই গ্রামের এক ছেলে।

দ্যাখো,ওই কৃষ্ণচূড়া গাছ
লাগিয়েছি আমি,বয়স যখন চার-পাঁচ।

কৃষ্ণচূড়া গাছ আমাকে ভুলেনি,
এ গ্রাম আমাকে ভুলেনি,
আমিও ভুলিনি আমার জন্মভিটা।
এ পথ আমাকে ছাড়তে চায়না কখনো,
আমিও ছাড়তে চাইনা এই পথের মায়া।
তবুও একদিন ছেড়ে চলে যেতে হবে,
চাইলেই আসতে পারবোনা ফিরে।
এটাই বাস্তবতা,
আমি চাইনা এই বাস্তবতা।

Nabadibakar_Writer_40

কবির শিক্ষা
- মেহেদী হাসান আকাশ

হে কবি,
তোমারে স্বরণ করি
তুমিই দেখিয়েছো
নিখিলের সব ছবি।
শিখিয়েছো হতে দূর্বার
শির তুলে হতে দূর্গম,
অত্যাচার পতনের যত মন্ত্র
দিয়েছো ফেলে উত্তপ্ত লাভা
বানিয়েছো মেঠো পথ।
অধিকার আদায় করে নিতে
হতে শিখিয়েছো বিদ্রোহী
জ্বলন্ত আগুনে পুড়েও
হৃদয় করেছো শান্ত।
নজরুল তোমার ঐ দৃষ্টি
সকল মানুষের হৃদয়ে
অন্যায়ের প্রতিবাদ করার
সাহস করেছো সৃষ্টি।

Nabadibakar_Writer_46

আটলান্টিকের মায়ায়
- বিভূতি চক্রবর্তী

আকাশ তখনও হয় নি রক্তিম-
সাগরের ঢেউ উত্তাল হয়ে নাচে,
দিগন্তে দেখি অস্ত-সুর্য্যের হাসি
সমুদ্র তখনও ছুটে আসে কাছে।
সাগরের তটে ধাববান সব শিশু
ভেসে-আসা পাথর নিয়েই খেলা,
পশ্চিম আকাশে ধাবমান মেঘ-
সমুদ্র-তটে চলছে রঙের মেলা।
বিপুল বিস্ময় নিয়ে তাকাই দূরে-
আঁধার নামছে নীচে নীরবতায়;
বিস্মিত মন নিয়ে তাই যে তাকাই
অন্তহীন আটলান্টিকের মায়ায়।

নিউ ইয়র্ক। ২৭/০৫/২০১৬ ইং

Rumky Anwar

আঁধারে আমি
- রুমকি আনোয়ার

বসতি গেড়েছি কুৎসিত এক আঁধারের সাথে
আপন বলয়ে পূর্ণিমার স্নান কথা বলে অবিরত ,
কুড়িয়ে নিতে এক আধলা জল তাও পড়ে যায়
জলও বুঝে না নারীর শরীর ।
বহতা নদীর কঙ্কাল ,পুরনো মাস্তুল ,নৌকোর গুলুই পড়ে আছে মাঠে
লতাগুল্ম ঘাসে ঢেকে আছে আমার প্রাচীন শরীর ,
স্বপ্ন সুন্দরের ছায়া মাঝে মাঝে স্পষ্ট হয় বিবর্ণ চাঁদের উঠোনে
জ্যোস্না ধরতে দুহাত বাড়িয়ে দেই ,হাসে পিশাচিনী হাসি ।
প্রণয় ভাষণে অষ্ট প্রহর কথা বলতো যারা তারা কেও নেই
বসে বসে দেখি উল্কার পতন আর খসে পড়া তারা ,
নক্ষত্রেরা বলে যায় আকাশের বুকে অবাঞ্চিত ছিল তারা
প্রকৃতি বিছিয়ে দেয় ধুম্রজাল ,অশ্বত্থের ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় ।
মাড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছেটুকু হয় না ,শেষ বেলায় মায়া কুড়াতে নেই
চৌদ্দশ বছরের গলিত লাশ আর কত বার ব্যবচ্ছেদ হয় ?
মন্দিরের ঘণ্টা ধ্বনি কেন আমার জীবনে মৃত্যু ঘণ্টা বাজায় না
সময়ের কাঁটা উল্টো ঘুরে বুঝি কে জানে ।।

গ্রীষ্মের ছুটি
- জুলফিকার আলী

আম্রবনে মুক্ত বাতাস
খেলে লুটোপুটি
মনের মাঝে রয় না যে মন
আজ আমাদের ছুটি ।
আর কোনো নেই পড়ার তাড়া
সবাই বাঁধি জুটি
ইশকুলে আজ যাবার যে ভয়
ঠিক গিয়েছে টুটি ।
এখন শুধু খেলা খেলা
সুখের ছুটোছুটি
পাড়া জুড়ে ছেলেমেয়ের
হল্লা কুটোকুটি ।
গায় পাখিরা আমের বনে
জাম খেয়ে যায় দুটি,
মামার বাড়ি কেউ বা যাবো
আজ পেয়েছি ছুটি ।

Rumky Anwar

বিবস্ত্র দেশমাতৃকা
- রুমকি আনোয়ার

এখনে ভালবাসার বিষাদের ছায়া ফেলে তারার তিমির
বিশ্বাসের মোহনায় সারাক্ষণ ওৎপাতে হাঙর ,কুমীর ,
আস্থার দিগন্তে কেবল ঈষানের কালো মেঘ
সভ্যতার শরীর যেন খুবলে খায় বীভৎস আঁধার ।
এসো মৃত্যুর মিছিলে শরীক হই ,বেহুঁশ পথে চলেছি আমরা
আজ অপমানে ,হাহাকারে মনুষ্যত্ব কেবল ই অরন্যরোদন ,
নপুংসক বিদ্রোহী এসে নেচে যায় মাঝে মাখে
প্রতিবাদগুলো যেন বিবৃতি হয়ে হাঁটে ।
সংস্কৃতি লালনের ভার নেয় বেশ্যার দালাল
কেবল আকাশ দেখলেই আমার হাততালি দিতে ইচ্ছে করে ,
কার করতলে নিবো আশ্রয় সবাই যে নতশিরে কথা কয়
এসো মৃত্যুর মিছিলে শরীক হই ,তনুর মত ধর্ষিতা হয়ে
খবরের শিরোনাম তো হতে পারব
শ্মশানে পড়ানো ধুপকাষ্ঠ আমার সোনার বাংলা ।

Rumky Anwar

বেলা অবেলার গল্প
- রুমকি আনোয়ার

দুঃখ আমার সাজঘর ,কান্না আমার বাসর
একদিন ক ,খ ,গ , ঘ লিখতে শিখেছিলাম ,
আজ শব্দেরা দুর্বোধ্য ঘাতক , নষ্ট নীড়
হৃদয় মন্দিরে বেদনার আরতি কেবল ই আর্তনাদ ।
শৈশব ,কৈশোর ,যৌবন ,বার্ধক্যে এসেও স্বপ্নের বুনন
বিধাতার অভিশাপ , সল্প আয়ু নিয়ে জন্ম আমার ,
যাদের ফেলে এসেছি পোড়া ধূপকাষ্ঠে তারা আমায় ডাকে
সময় বলে যায় ফুরিয়ে এসেছে বেলা ।
মরে গেলে কবিতা গুলো তোমাদের স্মৃতি থেকে পালাবে অন্ধকারে
নক্ষত্রের মাঝে জ্বলে উঠা , নিভে যাওয়া মাঝে মাঝে দেখা মিললেও ,
হয়ত চিনতেও পারবে না ধূসর দ্বীপেরবাসিনীকে
যাবার সময় হয়ে এলো এখনও তোমাদের কাছে আমি অচেনা ।
অনাগত পৃথিবীকে বলে যাই একদিন পাথরেও ফুল ফুটিয়েছিলাম
কালের গর্ভে মুছে গেছে তা , ছিটেফোটা যা আছে ,
ন্যাপথলিনের গন্ধ মাখা ছেঁড়া পাতায় , অজান্তে রয়ে যাবো কারো স্মৃতিতে
কোন এক সকালে খুন হবে ভোরের নরম আলো ।

Rumky Anwar

প্রস্থান
- রুমকি আনোয়ার

যাবার সময় হয়ে এলো , যা কিছু বাকী আছে
তা বাকীই থেকে যাবে , শেষ হবে জন্মাদ্ধ অক্ষর ।
আমি চলে গেলে তখনও দোয়েলের শিশ
গুনগুণ সুরে কৃষাণীর ধান ভাঙা সবই আগের মত থাকবে ।
পুরুষেরা চোখ মেলে দেখবে নারী ,ঘর রাস্তায় বেরিয়ে
পুনর্বার ডুকে যাবে অন্য কোন ঘরে ।
কারো স্মৃতিতে জেগে থাকলে নিভৃতে হয়ত ফেলবে দু' ফোটা জল
গ্লানি আর গৌরব ভূলে এক পা তুলে যে সাধনা
অগ্নিকে খচিত করেছিলাম যে বুকে আজ তাদের প্রস্থান ,
গোপন সংসর্গ কিছু অনাচার দেহজ কূটপাপ
প্রনয়ের সেই অভিলাষ আজ শেষ বেলায় অভিশাপ ,
ভালবাসার চেয়ে নির্বাসন ভালো কিংবা বেরাজাল
তাই বন্দি হয়ে রইলাম পাথরের আগুনে কেননা ,
ভালবেসে কেবল পাথরেরই পরিত্রান আছে ।
ঈশর দু ' ফোটা জল কি দিবে বড় তৃষ্ণা এ বুকে ,
চলেই যদি যেতে হয় তবে পাথর ভাঙা রাস্তা দিয়ে ।

Nabadibakar_Writer_46

অবাক হাসির ঢেউগুলি
- বিভূতি চক্রবর্তী

হাসি আমার মনের সাথী-
হাসির ছোঁয়ায় জীবন চলে,
কত রকম যে হাসি আছে-
দেখলে, শুনলে, কথা বলে।
কথার কথায় হাসির ছায়া
ছড়ায় মনের অশেষ মায়া-
সবার মুখেই অট্টহাসি-
হাসির ঢেউরা চলে দলে।
এই যে অবাক হাসির মুখে
নীরব মনের সরব হাসি-
মনের সুখে দাঁড়িয়ে সবাই
শুনছে শুধুই হাসির বাঁশী।
আজকে শুধু গানের ভেলা-
মন-নিংড়ানো আজব খেলা,
আসর-ভরা বন্ধু সবাই
খুশীর ছোঁয়ায় বিরল হাসি।

নিউ ইয়র্ক। ২৫/০৫/২০১৬ ইং

Nabadibakar_Writer_40

সূর্যসিড়ি
- মেহেদী হাসান আকাশ

সোনালী রোদে সবুজ জ্বলছে নীল আকাশ ছুয়েছে ঐ সমতল ভূমি
হাত নেড়ে উকি দেয় দৃশ্যমান সূর্য
সবুজের কণায় কণায় লেগেছে তার আবির,
বাতাস শুনাচ্ছে চিরচেনা সেই সুর
ঘাসের ফাঁকে উকি দিচ্ছে ব্যাঙাচি।
চারদিকে মধুর সুরে গান গাইছে পাখি
বাতাসের তোড়ে গাছগুলো সব নাচছে
সবকিছু অনুভব করছি মনের জানালা দিয়ে।
নদীর তীরে ঢেউ নিজ মনে খেলা করে,
উত্তাল জোয়ারে মাঝি দাঁড় টেনে
পাড়ি দিচ্ছে তার নীড়ের টানে ঘাসে ঢাকা মাঠে শিশুরা করছে খেলা,
সব দেখে হাসছে পূর্ব দিগন্তের সোনা মাখা ওই সূর্য্যমামা মনে হচ্ছে নিজমনে এঁকেছে সে সবুজে মোড়ানো এই দেশটাকে ।

তোমার আমার চাওয়া পাওয়া
- রাহাত রাব্বানী

কত বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি,
উপেক্ষা করেছি দিনের প্রচন্ড রৌদ্রতাপ,
ঝুম বৃষ্টিতে ভিজেছি বর্ষার সারাবেলা,
তোমার জন্য একটি কবিতা লিখতে।
আমি হেরে যাইনি আমার চাওয়ার কাছে
আমি লিখেছি কবিতা শুধু তোমারি জন্য।

অথচ:
তুমি কবিতা চাওনি,
কবিতা পছন্দও করোনা নূন্যতম।
তুমি চেয়েছো শুধু,
ক্ষত হোক আমার হৃৎপিন্ড,
রক্তাক্ত হোক আমার কবিত্ব,
কবিতা থেকে আমার আমিকে বিদায় জানাই।
যা আমি তোমাকে দিতে পারবো না কখনোই,
আমি কবিতাপ্রেমী আর তুমি কবিতা বিমুখী।
এই সামান্যই পার্থক্য তোমার-আমার চাওয়া-পাওয়ায়।

উত্তরা,ঢাকা-১২৩০
২৯শে ফেব্রুয়ারি,২০১৬

Nabadibakar_Writer_40

ফেরা
- মেহেদী হাসান আকাশ

ফাগুনে তোমার আগুন জ্বলে
কী অপরূপ তোমার দৃষ্টি,
মুগ্ধকরা নয়ন তোমার
স্রোষ্টা করেছে সৃষ্টি।
ভালোবাসি বলে খুজে বেড়াই
চেয়ে থাকি অপলক দৃষ্টিতে,
মরতে পারি তোমার জন্য
তোমার মুখের কথাতে।
এই বন্ধন আগলে রেখো
যেয়েওনা কভু ভুলে
হাত বাড়িয়ে দাড়িয়ে আছি
তোমার হাতটি দাও তুলে।
জানি তুমি ফিরবেনা
বাসবেনা ভালো কোনদিন
যদি তুমি ফিরে আসো
ভালোবাসবো চিরদিন।

ভূতের বাড়ি
- মিন্টু উপাধ্যায়


হাওড়া জেলার বলুহাটি গ্রাম ।
যখনকার কথা বলছি , তখনও গ্রামেতে বিদ্যুতের আবির্ভাব ঘটেনি ।
গ্রামের উত্তরদিকে একটা বহুদিনের পুরাতন বাড়ি আছে । সবাইকে বলতে শুনেছি , যে ওটা নাকি ভূতুড়ে বাড়ি । গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা নাকি অনেকেই দেখেছেন , কিন্তু আমার সে সৌভাগ্য হয়ে ওঠেনি ।
তবে সত্যি কথা বলতে কি আমি ভূতে বিশ্বাস করিনা ।
বাড়িটার চারপাশে ঝোপ জঙ্গলে ভর্তি হয়ে থাকায় কেউ সচরাচর দিনের বেলাতেও ওদিকে পা বাড়াতো না , ভয়ে !
প্রতিদিনের মত আজও আমরা তিন বন্ধু অমিত , পাপাই , আর আমি ইস্কুল তলার মাঠেতে বসে গল্প করছিলাম । কথায় কথায় ভূতুড়ে বাড়ির প্রসঙ্গ উঠলো ।
অমিত বললে - তবে যাই বলিস পাপাই ওই ঘরেতে যে ভূত আছে তার প্রমান কই ?
পাপাই বললে - প্রমান ! আমি তোকে হাতে নাতে প্রমান দিতে পারি ।
অমিত বললে - কি করে ?
পাপাই মৃদু হেসে বললে - প্রমান পেতে গেলে কিন্তু একটা রাত কাটাতে হবে ওই ভূতুড়ে বাড়িতে । কি বলিস বিনয় ?
পাপাইয়ের কথায় আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম ।
অমিত আমাকে উদ্দেশ্য করে বললে - এটা কেমন কথা হল ।
আমি বললুম - সঠিক কথাই তো বলেছে ও । না হলে প্রমান পাবি কেমন করে ?
ঠিক , ঠিক , পাপাই বলে উঠল ।
অমিত আমার দিকে বড় বড় চোখে তাকিতে ছিল । আমার উত্তর যে ওর পছন্দ হয়নি , বেশ বুঝতে পারলাম ।
অমিত তবুও কিন্তু কিন্তু করতে লাগল ।
ঠিক হল আজকের রাতটা তিনজনই কাটাব ঐ ভূতুড়ে বাড়িতে । সত্য সত্যই ভূত আছে কিনা , আজ তা হাতে নাতে প্রমান হয়ে যাবে ।
*** *** ***
কৃষ্ণ পক্ষের একটুকরো চাঁদকে আকাশে উঁকি মেরে থাকতে দেখা গেলো । চারিদিক নিছিদ্র অন্ধকার । আকাশে মেঘের আনা গোনা শুরু হয়েছে ।
রাতের খাবার খেয়ে নিয়ে আমরা যথা সময় তিনজন মিলে এসে হাজির হলাম ঐ ভূতুড়ে বাড়িতে ।
ভাগ্য ভালো যে আসার সময়ে অমিত সাথে লন্ঠন নিয়ে এসেছিল , নাহলে দুর্ভোগের সীমা থাকতো না । আমরা গুটি গুটি পায়ে ভগ্নপ্রায় ভূতুড়ে বাড়িতে প্রবেশ করলাম ।
লন্ঠনের আলোয় বেশিদূর নজর চলে না । তবুও আমরা সাহসে ভরকরে এগিয়ে গেলাম একটা খোলা ঘরের দিকে । রাতটা যেমন করে হোক কাটাতে হবে । আড়চোখে লক্ষ করলাম অমিতের মুখ পাঁশুটে আকার ধারন করেছে । মুখে যতই বরাই করুক না কেন পাপাইয়ের মুখেও থমথমে ভাব ।
পাপাই সাথে মাদুর আর কম্বল নিয়ে এসেছিল । কিছুক্ষণের মধ্যেই সে কম্বলটা বিছিয়ে চমৎকার বিছানা বানিয়ে ফেলল । তিনজনে মিলে আয়েস করে বসলাম । লন্ঠনটা ঘরের এককোণে রেখে দিলাম । লন্ঠনের আবছা আলোয় ঘরের ভেতরটা কেমন যেন অদ্ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে । আমরা একে অপরের মুখ পর্যন্ত সঠিক দেখতে পাচ্ছিলাম না ।
গল্প করতে করতে বেশ ভালই সময় কেটে যাচ্ছিল । এদিকে ধীরে ধীরে রাত্রি ক্রমশ গভীর থেকে গভীর হচ্ছিল । হালকা ঝিমুনি ভাব এসে গেছিলো , ঠিক তখনই হটাৎ পাশের ঘরেতে কে যেন কেঁদে উঠল ।
চমকে উঠলাম আমি । ততক্ষনে পাপাই আর অমিত ও উঠে বসেছে । দুজনেই মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগল ।
অমিত মৃদু স্বরে বললে - পাপাই , এটা কিসের আওয়াজরে ?
পাপাই রেগে গিয়ে বললে - শুনতে পাচ্ছিস না , বাচ্ছার কান্নার আওয়াজ ।
অমিত অবাক হয়ে বললে - কিন্তু বাচ্ছা এখানে আসবে কি করে ?
পাপাই বললে - কি করে বলবো আমি । চল গিয়ে দেখি ।
না , না , এমন করাটা বোধহয় ঠিক হবে না - আমি বললাম ।
পাপাই বললে - তাহলে কি এখানে চুপকরে বসে থাকবি ?
পাপাইয়ের কথা শেষ হতে না হতেই আবারও সেই কান্নার আওয়াজ শোনা গেলো ।
উমম ... উমম... উমম...।
মনে হল যেন পাশের ঘরেই কোন বাচ্ছা কাঁদছে । অমিত ভয়ে আমার হাতটা চেপে ধরল । আমারও যে ভয় পাচ্ছিল না তা নয় , কিন্তু মুখে কিছু বুঝতে দিলাম না । পাপাই তৎপর হয়ে উঠে এক ঝটকায় লন্ঠনটা হাতে তুলে নিল ।
উমম ... উমম... উমম...।
আবার কান্নার আওয়াজ শোনা গেলো । এবার আওয়াজটা যেন আরও কাছে এগিয়ে এসেছে । লন্ঠন হাতে পাপাই এগিয়ে গেলো , পেছনে রইলাম আমারা দুজন । হটাৎ পাশের ঘরে হুটো-পাটি শুরু হয়ে গেলো , তার আওয়াজ কানে এল । কেউ যেন সারা ঘরময় ছুটে বেরুচ্ছে , সাথে কান্নার আওয়াজও দ্বিগুণ হয়ে গেলো ।
অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করতেই আচমকা পাপাইয়ের গায়ে কিছু একটা লাফিয়ে পরল । ও টাল সামলাতে না পেরে ছিটকে এসে পরল অমিতের গায়ে । দুজনেই চিৎপাত হয়ে পরল মেঝেতে । পাপাইয়ের হাত থেকে লন্ঠনটা ছিটকে পরে ভেঙে গিয়ে নিছিদ্র অন্ধকারে ঢেকে গেলো চারিদিক । চোখের নিমেষে ঘটে গেলো ঘটনাটা ।
আমি ঊর্ধ্বশ্বাসে দিক-বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ছুটতে লাগলাম । অন্ধকারে কিছু দেখতে না পাওয়ায় ধাক্কা খেয়ে আমিও চিৎপাত হয়ে পরলাম । তারপর আর কিছু মনে নেই ।
যখন জ্ঞান ফিরল , দেখি নিজের ঘরে শুয়ে আছি । গ্রামের কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম । পাপাই আর অমিতকেও দেখলাম ।
মাথাটা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছিল । হাত দিয়ে দেখলাম মাথায় ব্যান্ডেজ করা । দেওয়ালের সাথে ধাক্কা লেগে মনে হয় মাথাটা ফেটেছে ।
আমি মৃদু স্বরে বললাম - কিরে অমিত ! ভূতের দেখা পেলি ?
অমিত হাসতে হাসতে বললে - দেখা আর পেলাম কোথায় ? মোড়লদের হুলোটাকে দেখেই যে আমাদের আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হয়ে গিয়েছিল । তার ওপর যদি ভূতের দেখা পেতাম তাহলে না জানি কি করে বসতাম ।
আমি অবাক হয়ে বললাম - একি বলছিস তুই ?
পাপাই হেসে বললে - হ্যাঁ , মোড়লদের হুলোটার নতুন ঠিকানা হল ঐ ভূতুড়ে বাড়ি । ওখানে সে সপরিবারে বেশ ভালই দিন কাটাচ্ছিল , আমরা সেটা জানতাম না ।
আমি বললাম - তাহলে কান্নার আওয়াজটা কোথা থেকে আসছিল ?
পাপাই বললে - কার আবার , হুলোর বাচ্ছাদের ! কারুর হয়তো খিদে পেয়েছিল তাই কাঁদছিল । ওটাকে আমরা ভূতের কান্না ভেবে ভয় পেয়েছিলাম । জানিস বিনয় , হুলোর বাচ্ছাগুলোকে কি সুন্দর দেখতে হয়েছে । তোর লাগলে বলিস একটা এনে দেবো ।
অমিত বললে - আর কথা নয় । তুই একটু ঘুমানোর চেষ্টা কর , আবার বিকালে দেখা করতে আসবো ।
আর বেশি দেরী করলো না ওরা , ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো ।
বেড়ালের কান্নার আওয়াজ শুনে ভয়ে মাথা ফাটিয়েছি - একথা ভাবতেই নিজের মনে নিজেই হেসে উঠলাম ।
তবে পাপাইয়ের কথা আমার পুরো পুরি বিশ্বাস হলনা , মনে সন্দেহ ঠিকই রয়ে গেলো ।
মাথায় যন্ত্রণাটা বেশ ভালোই হচ্ছিল , কিন্তু কি আর করা যাবে ।
দুচোখ বুজে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলাম ।


©Mintu Upadhayay

শবে বরাত
- জুলফিকার আলী

শবে বরাত অর্থ যখন
সৌভাগ্যময় রাত,
প্রার্থনা এই রাতে করি
তুলে দুটি হাত ।
কর তেলওয়াত কোরআনখানি
মসজিদে হয় মিলাদ,
এই রজনীর ইবাদতে
খোদার কাছে-ই কাঁদ ।
দোয়া করি তাদের জন্য
যারা গেছে মরে,
রোজা রাখি শান্তি খোদার
পাবো জনমভরে ।

খুকুমণির পাখি
- জুলফিকার আলী

পটলচেরা দুটি আঁখি,
খুকুমণির একটি পাখি ।
সেই আখিতে দেখতো পাখি
খুকুমণিকে রোজ,
সাথে কিছু সেলফিতে দেয়
নিত্য নতুন পোজ ।
পাখির সাথে সেলফি দিতো
আপডেট ফেসবুকে,
সেই কথাটা জানায় খুকু
তার সে মেজ বু'কে ।
পাখির সাথে এভাবে তার
দিন যে কাটে বেশ,
থাক না খুকু পাখির কথা
বললে কি হয় শেষ?

Nabadibakar-Author-02

আবহ
- মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

আমার একটাই স্বপ্ন তোমায় ঘিরে
মুক্ত এই মন- তোমার বুকে পাখা মেলবে বলে
ঘনিষ্ঠ চাঁদের নিচে স্তিমিত আজকের রজনী- স্তিমিত আরো
ধীরে,
চলুক তবে কিছুক্ষণ মৌনব্রত- সমুজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো গিলে
সময়ের কাটা হয়তোবা ধীরে;
তবুও বিদীর্ণ বিস্ময় নীরবে প্রবেশ করে- আঁধভেজা চুলে,
দু-এক মুহূর্ত আরও চেয়েছিলাম জড়িয়ে তোমায় হিম মেঘের
অনন্ত তিমিরে
মনে হয়, এইখানে লোকশ্রুত অমৃত পেয়ে গেছি- তোমার
নিবিষ্ট মোলায়েম করতলে।

গ্রীষ্মকাল
- জুলফিকার আলী

আগুন ঝরে আগুন পড়ে
শুকায় পুকুর খাল
চৈত্রের শেষে রুদ্রবেশে
এলো গ্রীষ্মকাল ।
দেহ ঘামে ক্লান্তি নামে
তৃষ্ণা বাড়ে গ্রীষ্মে
সবই খাঁখাঁ ঘোরে পাখা
তার সে হাওয়া শীর্ষে ।
রোদের ঝাইল করে ঘাইল
পুড়ায় ক্ষেতের শস্য
বৃষ্টি ছাড়া যৌবন হারা
প্রকৃতিরূপ ভষ্ম ।
ভরে ফলে অভাব জলে
দাবদাহে সব শুকায়
মাথার ভিতর কালবোশেখি ঝড়
কে যে কোথায় লুকায় !

Nabadibakar_Writer_40

আকাশের রং কালো
- মেহেদী হাসান আকাশ
আকাশ কাঁদছে বুক জুড়ে ব্যাথা ছিলো দিনভর
তাই আজ সারাদিন একবারও হাসেনি-
মেঘ গুলো ছুটে আপন মনে জমিনটা করে কাঁদা-মাখা
সকাল হতে মুখ ভার করে, মাঝে মাঝে নিঃশ্বাসে হুঙ্কার তোলে
কিছুক্ষন পর পর তার ডেকে যাই কষ্টের ডাক
বৃষ্টি হয়ে ঝেড়ে ফেলে জমিনে, যত সব রাগ।
কে জানে আজ তার মনে কত ব্যাথা
জমে আছে
কেউ পারেনা তার ব্যাথা গুলো মুছে দিতে ।
আকাশের চোখ দিয়ে অঝরে অশ্রু ঝরে
আজ তাই বুকের নিলাভূমি হারিয়েছে আড়ালে
রূপ পেয়েছে কালো রঙে।

Nabadibakar_Writer_40

এটা বিশ দশক
- মেহেদী হাসান আকাশ

এটা ২০১৬ সাল
এখনো দেশটি রয়ে গেলো
মধ্যবিত্তের কাতারে
স্বাধীন করেছে দেশ
কিন্তু স্বাধীনতা পায়নি
এখনো রাস্তায় নামলে
পরিবারকে বলে যেতে হয়
মা দোয়া রেখো যেন
আবার তোমার কোলে ফিরতে পারি।
আবার স্বাধীনতার জন্য
যুদ্ধ করবো বললে
লোকে পাগল বলে
অত্যাচারিকে নির্মূল করছে
অত্যাচার নয়।
সকাল থেকে রাত অবদি
খেটে কাজ করেও
হাতে করে টাকা নিতে পারছেনা
এখনো মনে হয় যুদ্ধ চলছে
দেশের বুদ্ধিজীবি হত্যা করছে
পথে ঘাটে তাদের লাশেরর মিছিল
কাউকে বলতে পারছিনা
এটা ২০১৬ সাল
১৯৭১ সাল নয়।
দেশ ডিজিটাল হচ্ছে
চারিদিকে উন্নতির ছোঁয়া
ডিজিটাল হচ্ছেনা শুধু
সমাজ সংস্ককরন ব্যাবস্থা।
মানুষের মাঝে প্রাণ আছে
আছে সুন্দর একটি দেহ
অভাবটা শুধু থেকে গেলো মানবতাটা
এখনো রাস্তায় কাউকে
পড়ে থাকতে দেখলেও
হাতটি ধরে তুলে উঠানোর
জন্য নেই কেউ
কারন এটা ২০১৬ সাল
এখনো অনেক কিছু
দেখার বাকি আছে।

প্রতিশ্রুতি
- জুলফিকার আলী

নির্বাচিত হলেন যারা
শুভেচ্ছা দিই তাদের
আমজনতার পাশে থাকুন
হে নেতা আমাদের ।
নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি
কর্মে বাড়ান হাত,
সমাজ থেকে দূর করে দিন
অরাজকতার ঘাত ।
সকল প্রতিশ্রুতি পূরণ
সম্ভবও নয় জানি
হাত গুটিয়ে না থেকে আর
চালান চেষ্টাখানি ।
কথায় কাজে মিলটি রেখে
এগিয়ে চলুন আজকে,
মন্দ নাশে পূরণ করুন
প্রতিশ্রুতির কাজকে ।

মৌসুমি ফল
- জুলফিকার আলী

মধুমাসের গুণে দেখি
গাছেতে ফল পাকা,
হাটে বাজারে বেচাকেনায়
কত যে ফল রাখা ।
সুস্বাদু ফল রসে ভরা
আম,জাম বা লিচু,
আরো আছে স্বাদে ভরা
ফল সে অনেক কিছু ।
সে ফল খেলে ভাল থাকি
পেয়ারা,কাঁঠাল,বেল,
পাবে তুমি ফলের মাঝে
কত গুণের খেল ?
দেহ সবল রাখতে পরে
মৌসুমি ফল খাবে,
একেক ফলে একেক গুণ
সবই ঠিক পাবে !

মায়ের চোখে
- জুলফিকার আলী

মা দেখাল এই আমাকে
এই ধরণীর আলো,
মা শেখাল আমায়
কোনটা মন্দ ভালো ।
ছোট জীবন গড়ে আমায়
মা শেখাল বাঁচতে,
মা শেখাল গাইতে আমায়
মা শেখাল নাচতে ।
মায়ের চোখে স্বপ্ন আঁকি
মায়ের চোখে ঘুম,
মা যে আমার প্রথম সকাল
সূর্য্যিমামার চুম ।
সুখে দুঃখ সর্বদা
পাশে থাকেন যিনি,
সেই মার চোখে স্বপ্ন আঁকি
আমি প্রতিদিন ই ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget