এপ্রিল 2016

ধর্ষণ
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব


ধর্ষণ মানেই শুধুই শারীরিক এমন নয় মানসিকভাবেও একটি ছেলে বা মেয়ে ধর্ষিত হতে পারে। একটি মেয়েই শুধু জোরপূর্বক একটি ছেলের দ্বারা ধর্ষিত হয় না। একটি ছেলেও সবার অগোচরে নিরবে একটি মেয়ের দ্বারা ধর্ষিত হয়।


যখন একটি সহজসরল ছেলে আপনাকে ভালবাসার প্রস্তাব দেওয়ার সাথেসাথেই রাজি হয়ে যান। এই ভেবে যে, আর যাই কিছু থাকুক না কেনো, ছেলেটির অনেক টাকা আছে। ভালবাসার অভিনয় করে দামি হোটেলে খেলেন, ঘুরলেন, ফিরলেন। কিছুদিন পর আপনার ফোন শুধু ওয়েটিং। অন্য একটা ছেলের সাথে দিনের পর দিন রাতের পর রাত মোবাইলে কথা বলছেন। আর জিজ্ঞাসা করলেই বলছেন, এত রাতে আমার বন্ধু ফোন দিয়েছে। নয়তো ফোনের ওপাশের মানুষটাকে বাবা অথবা ভাই বানিয়ে দেন। জোর গলায় বলেন, তুমি কি আমাকে অবিশ্বাস করো? ছেলেটির মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। সত্যিই ছেলেটির বিশ্বাসকে তখন আপনি ধর্ষণ করেন।


ছেলেটির সাথে আপনি তিন বছর ধরে প্রেম করছেন। যখন যা চেয়েছেন ছেলেটি তাই পূরন করেছে। পরনের জামা থেকে শুরু করে, বিভিন্ন দিবসে, ফেস্টিভ্যালে আপনার মনগড়া আবদার নিরবে পূরন করে গেছে। আপনার চাহিদা পূরন করতে গিয়ে ছেলেটির সেমিস্টার ড্রপ হয়। সেদিকে আপনার খেয়াল নেই। হঠাৎ করেই একদিন ফেসবুকে স্বামীর সাথে হাসিমুখে বিয়ের ছবি আপলোড দেন। ততক্ষনে আপনার ফোন বন্ধ। কোনো যোগাযোগ নেই, খোঁজখবর নেই। মুহুর্তেই ছেলেটার পৃথিবী বদলে যায়। ছেলেটি তখন চোখের জলে নিরবে ধর্ষিত হয়। হ্যাঁ..! ধর্ষিত হয়।


ভার্সিটিতে উঠেই আপনি ক্লাশের ফার্স্টবয়ের সাথে প্রেম করা শুরু করলেন। আপনি আরো উচ্চতর ডিগ্রী নেওয়ার জন্য বিদেশ চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। ছেলেটি আপনার স্কলারশিপের ব্যাবস্থা করে দিলো। কয়েকবছর যাওয়ার পর বললেন, আমি এখানে ভাল চাকরি পেয়েছি। আমার আর দেশে ফেরা সম্ভব নয়। তুমি অন্য কাউকে খুঁজে নাও। আপনি ভুলে গেলেন স্কলারশিপের ব্যাবস্থাটাও ছেলেটি করে দিয়েছে। নিজে না নিয়ে আপনাকে দিয়েছে। অনেক ভালবাসে বলে। সে সব বেমালুম ভুলে গেলেন। ছেলেটির আশা আকাঙ্খা, ভালবাসাকে নিরবে ধর্ষণ করে দিলেন। কিন্তু আপনি বুঝতে পারলেন না। পারার কথা না।


ছেলেটির সাথে টানা চার বছর প্রেম করার পর যখন আপনি বলেন, তোমার তো বাড়ি নাই, গাড়ি নাই। তুমি এখনো ইস্টাবলিস্ট হও নি। তোমার হয়তো আরো সময় লাগবে। আমার পক্ষে এতদিন অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আর আমার ফ্যামিলি স্ট্যাটাসের সাথে তোমার ফ্যামিলির যায় না। আমার পরিবার আরো ভাল ছেলে চায়। তুমি আমাকে ভুলে যাও। ভাল থাকার চেষ্টা করো। আমাকে নিয়ে তোমাকে আর ভাবতে হবে না আমার পরিবারের মতামতের বাইরে গিয়ে তোমাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। তখন ছেলেটির আবেগ, অনুভূতি, স্বপ্নকে আপনি নিরবেই ধর্ষণ করেন। আসলেই ধর্ষণ করেন।


ছেলেটির সাথে শৈশব, কৈশোর আপনার একসাথে কেটেছে, একসাথে বড় হয়েছেন। আপনাকে মন প্রান উজাড় করে ভালবাসে। টাকার অভাবে যখন আপনার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার অবস্থা। ছেলেটি তখন নিজে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে মার্কেটিংএর জব শুরু করে দেয়। যাতে ভালভাবে লেখাপড়া করতে পারেন। আপনাকে লেখাপড়ার জন্য শহরে পাঠায়। কিন্তু লেখাপড়া করে শিক্ষিত হওয়ার পর তার কথা ভুলে যান। দিব্যি টাকাওয়ালা একটা ছেলের সাথে প্রেম করেন। তার কথা মনেপড়ে না। একদিন সেই টাকাওয়ালা ছেলেকে বিয়ে করে প্রাইভেট কার নিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। ছেলেটি তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে টলমল চোখে আপনাকে দ্যাখে। দু'চোখের অশ্রু ঝরায়। সত্যিই ছেলেটিকে আপনি তখন ধর্ষন করেন। অনেক নিরবেই ধর্ষন করেন।


ছেলেটি হয়তো শারীরিকভাবে ধর্ষিত হয় না। কিন্তু মানসিকভাবে আপনার কাছে ধর্ষিত হয়। তার আবেগ, অনুভূতি, স্বপ্ন, ভালবাসাকে প্রতিনিয়ত নিরবে আপনি ধর্ষণ করেন। কিন্তু বুঝতে পারেন না। নয়তো বুঝতে চান না। নারীবাদীদের কাছে এসব ধর্ষণের খবর পৌছায় না, পৌছানোর কথা নয়।

গরম
- জুলফিকার আলী

সূর্য্যি মামা সূর্য্যি মামা
আগুন কেন ঢালো,
খোকার গায় পোশাক নাই
লাগছে না ভালো ।

হায় পড়েছে গরম চরম
চলাফেরা দায়,
বন্ধ হয়ে আসে যে দম
স্বস্তি কোথাও নাই ।

সবার যেন প্রার্থনা এই
ঠান্ডা বাতাস আয়রে,
গাছের ছায়া পাখার তলও
তাই তো সবাই চায়রে ।

গরমকালে ছেলে বুড়ো
সবারই যায় ধকল,
পানি,হাওয়া আর প্রকৃতি
উপকারী সকল ।

রাতের আতঙ্ক
- মিন্টু উপাধ্যায়


সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে টেবিলে রাখা চিঠিটার দিকে নজর পড়তেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল । চিঠিটা খুলে পুরো চিঠিটাই পড়লাম ।
এবারও নবদিবাকর পত্রিকা থেকে অনুরোধ এসেছে পূজা-সংখ্যায় লেখা দেওয়ার জন্য । কিন্তু অফিসে কাজের চাপ, আর ঘরে বউয়ের জ্বালায় মাথায় কোন লেখাই আসছে না । দুর্গাপূজা শুরু হতে এখনও আর তিন-মাস বাকি । হাতে সময়ও খুবই কম । অনান্য পত্রিকার সম্পাদকদের কাছ থেকেও তাগাদার পর তাগাদা আসছে ।
লেখার কাজ কিছুটা শুরু করেও শেষ করে উঠতে পারিনি । মাথার ভেতর সব কিছু কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল । মহা সমস্যায় পড়েছি আমি । এ সমস্যার সমাধান আমি কেমন করে করবো তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না ।
সকাল থেকেই এই সব আবোল তাবোল ভেবে আর মাথাটা খারাপ করলাম না । আর বেশি দেরি না করে তাড়াতাড়ি বাথরুমের দিকে ছুটলাম । স্নান করতে করতে হঠাৎই একটা গল্পের প্লট মাথার ভেতর খেলে গেল । তাই চটপট স্নান করে বাথরুম থেকে বের হতেই দেখি স্ত্রী মৌসুমি গোমরা মুখে চা নিয়ে হাজির । আমি আর কথা না বারিয়ে চা খেয়ে তৈরি হয়ে নিলাম । অফিস থেকে ফিরতে দেরি হতে পারে একথা মৌসুমিকে জানিয়ে এলাম ।
অফিসে পৌছে কাজে মন বসাতে পারলাম না । মনের ভেতর শুধু ওই একই চিন্তা খেলা করতে লাগল । অফিসের এক কলিগ বিনয়ের সাথে পরামর্শ করতেই, সেই সমস্যার সমাধান বাতলিয়ে দিলো ।
কিছু দরকারি কাজ থাকায় বিনয়ও কিছুদিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে । বিনয়ের কথামত ঠিক করলাম অফিস থেকে দিন দশেকের ছুটি নিয়ে, তাদেরই গ্রামের বাড়িতে গিয়ে লেখাটা সম্পূর্ণ করতে হবে ।
মনের ভেতর একটা খুশির আমেজ খেলে গেল । কিছুক্ষনের মধ্যেই অফিসের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরলাম । অফিসের সমস্ত কাজ সেরে দিন দশেকের ছুটি নিয়ে নিলাম । রাতে অফিস থেকে ফিরেই মৌসুমিকে বলে দিলাম অফিসের কাজে দিন দশেকের জন্য বাইরে যেতে হবে ।
অফিসের কাজে আগেও কয়েকবার বাইরে গিয়েছি, তাই একা থাকতে মৌসুমির কোন অসুবিধাই হবে না ।
পরের দিনই আমি আর বিনয় দুজনে মিলেই বেরিয়ে পরলাম । টানা ঘন্টা চারেক ট্রেন জার্নি করে আমরা যখন ফরিদপুর পৌছালাম তখন সন্ধা উত্তীর্ণ হয়ে গেছে । গ্রামতো নয়, অজপাড়া গাঁও বলা যেতে পারে । শহরে থাকতে থাকতে গ্রামের আমেজটাই ভুলে গিয়ে ছিলাম আমি ।
অনেকদিন পর গ্রামের মাটিতে ফিরে এসে প্রান ভরে স্বাস নিতে লাগলাম । গ্রামের সোঁদা গন্ধ আমার নাকে এসে লাগল । গ্রামের ফুরফুরে হাওয়ায় নিজেকে বেশ তরতাজা লাগছিলো । টানা ট্রেন জার্নির ক্লান্তি যেন নিমেষে মুছে গিয়েছিলো ।
অন্ধকার এখনও গভীর হয় নি । স্টেশন থেকে বেরিয়েই আমরা আঁকাবাঁকা পথ ধরে সামনের দিকে এগিয়ে চললাম । রাস্তার দু পাসে শুধুই জলাশয় আর খোলা মাঠ নজরে পরলো । চারিদিক নিস্তব্দ নিঃঝুম । শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা আর্তনাদ নিস্তব্দতাকে ভেঙে খান খান করে দিচ্ছিল ।
আঁধো আলো আঁধো অন্ধকারে পথ চলতে আমাদের কোন অসুবিধাই হচ্ছিল না । অনেকটা পথ চলার পরেও কোন লোকজনের দেখা না পাওয়ায় মনের মধ্যে অদ্ভুতুড়ে সব খেয়াল উঁকি ঝুঁকি দিতে লাগল । দেখতে দেখতে আমরা কিছুক্ষনের মধ্যেই গ্রামে প্রবেশ করলাম ।
অজ পাড়াগাঁ হলেও এখানে বিদুৎতের ব্যবস্থা আছে দেখে আমি খুবই আশ্চর্য হয়ে গেলাম । খুব অল্প সময়েই আমরা দুজন গন্তব্যস্থলে মানে বিনয়ের ঘরে পৌছে গেলাম । আলাপ পরিচয় হওয়ার পর আমরা সবাই মিলে একসাথে খাওয়া দাওয়া করতে করতে অনেক রাত হয়ে গেল । ঘুমেতে আমার দুচোখ জরিয়ে আসছিলো, তাই আর বেশি দেরি না করে শুতে চললাম ।
একই ঘরে পাশাপাশি দুটো খাটে আমাদের শোয়ার ব্যবস্থা হয়েছিলো । বিছানায় শুতেই ক্লান্তিতে দুচোখ বুজে এলো । গভীর রাতে আচমকা কুকুরের ডাকে হঠাৎই আমার ঘুমটা ভেঙে গেল । বাইরে কোথাও কুকুর গুলো এক নাগারে ডেকেই চলেছে । কি দেখে যে এতো ডাকাডাকি করছে তা আমি বুঝে উঠতে পারলাম না । একবার ভাবলাম উঠে গিয়ে দেখি কিন্তু পারলাম না । শরীরের সমস্ত শক্তি যেন কোন এক অদৃশ্য দানব চুসে নিয়েছে । আর বেশি ভাবতে পারলাম না , অচিরেই ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলাম । রাতের গভীর অন্ধকার ধীরে ধীরে গ্রামখানাকে ছেয়ে ফেলতে লাগল ।
পরের দিন সকাল সকাল ঘুম ভাঙতেই তাড়াতাড়ি উঠে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম । গ্রামের চারপাসটা একটু ঘুরে দেখে নিতে হবে, বিশেষ করে রাজবাড়ীটা । শহরে থাকতে থাকতেই বিনয়ের মুখেই শুনেছিলাম রাজবাড়ীর কথা । মাথার মধ্যে যে গল্পের প্লটটা ঘোরা ফেরা করছিলো সেটাকে ভালো করে আরেক বার ঝালিয়ে নিলাম ।
খুব সুন্দর করেই গল্পের প্লটটা সাজাতে হবে । এই সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই গ্রামখানা পরিদর্শন করতে লাগলাম । আর পাঁচটা গ্রামের মতোই এই গ্রামেতেও এমন কিছুই দেখার ছিল না, শুধুমাত্র রাজবাড়ীটা ছাড়া । এই গ্রামের প্রধান বৈশিষ্টই হচ্ছে আড়াইশো বছরের পুরান এই রাজবাড়ী । ঘুরতে ঘুরতে আমি এক সময় রাজবাড়ীর সামনে এসে হাজির হলাম । রাজবাড়ীর চারিদিকেই ঘন বন জঙ্গলে ভরে থাকায় সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌছায় কিনা সন্দেহ ।
আসার সময় কয়েকজনকে এই রাজবাড়ীটার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম । রাজবাড়ীর কথা শুনে ওদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে । কেউ কেউ আমায় এদিকে না আসার পরামর্শই দিয়েছিলো । কিন্তু রাজবাড়ীটাকে সামনে থেকে দেখার লোভ সামলে উঠতে পারিনি ।
তাদের কথায় রাজবাড়ীটা নাকি ভূতুড়ে । কখনও কখনও নিঝুম রাতে রাজবাড়ীর ভেতর থেকে গান বাজনার আওয়াজ পাওয়া যায় । আবার কখনও কখনও গভীর রাতে রাজবাড়ী থেকে কান্নার আওয়াজও ভেসে আসে । গ্রামবাসিদের কথায় কয়েকদিন হল রাজবাড়ীর প্রেত আত্মারা নাকি রাজবাড়ী ছেড়ে রাতের বেলায় গ্রামেতে ঘুরে বেড়ায়, আর যাকেই সামনে পায় তাকেই মেরে ফেলে । পরের দিন গ্রামেরই কাউকে না কাউকে মরে পরে থাকতে দেখা যায় । এখনও পযন্ত চারজন গ্রামবাসি ভূতের কবলে পরে বেঘোরে প্রান দিয়েছে ।
কথাটা শুনে প্রথমে আমিও ভীষন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । কিন্তু আমি একথা মানতে নারাজ । এমনও আবার হয় নাকি, ভূতেও মানুষ খুন করে বলে আগে কখনও শুনিনি ।
রাজবাড়ীর চারপাসটা একবার ভালোকরে ঘুরে দেখে নিলাম । ভেতরে ঢুকতে আমার সাহসে কুলাল না । দূর থেকেই রাজবাড়ীটাকে ভালোকরে দেখে নিয়ে চটপট কেটে পরলাম ওখান থেকে । আমার মনে হল রাজবাড়ীটাকে ঘিরে যেন একটা রহস্য ঘনিয়ে আছে । সেই রহস্যটা যে আসলে কি সেটাই আমায় যেমন করেই হোক জানতে হবে ।
আমার গল্পের প্লটের সাথে, গ্রামের প্লট মিলিয়ে একটা চমৎকার গল্প মাথার মধ্যে খেলা করছিলো । আসার সময় দিস্তা খানেক কাগজ নিয়ে এসেছিলাম লেখার জন্য । এবার সেটা কাজে লাগাতে হবে । সারাদিন গ্রামের এদিক ওদিক ঘুরে রাজবাড়ীটার সম্পর্কে আরও অনেক কিছু তথ্য সংগ্রহ করে বিকালে পরিশ্রান্ত হয়ে ঘরে ফিরলাম ।
সারাদিন ঘোরাঘুরি করে বড়ই ক্লান্ত হয়ে পরেছিলাম, মাথার ভেতরটা অনেকক্ষন ধরেই টনটন করছিলো । হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেস হতে না হতেই কিছুক্ষনের মধ্যেই বিনয়ের মা এক কাপ গরম চা দিয়ে গেল । গরম চায়ে চুমুক দিতেই মাথার ভেতর টনটনানি ভাবটা অনেকটাই কমে এলো ।
বিছানায় বসে ব্যাগ থেকে কাগজ কলমটা বের করে নিয়ে আমি লেখার কাজে মন দিলাম । স্থান কাল ভুলে গিয়ে আমি ঝড়ের বেগেই লিখে চললাম । লিখতে লিখতে কখন যে সন্ধা গড়িয়ে রাত্রি হয়ে গেছে, খেয়ালই ছিলো না ।
কিছুক্ষনের মধ্যেই রাতের খাবারে ডাক পরলো । রাতের খাওয়া দাওয়া হওয়ার পর আর লিখতে মন বসলো না, তাই শুয়ে পরলাম । শুয়ে শুয়ে ভাবলাম যতই দিন যাচ্ছে ততই কুঁড়ে হয়ে যাচ্ছি । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লেখাটাকে শেষ করতে পারা যায় ততই ভালো ।
আচমকাই ঘুমটা ভেঙে গেল । কেন ভাঙলো বুঝতে পারলাম না । ঘুটঘুটে অন্ধকার হওয়ায় কিছুই নজরে পড়ছিলো না । ধীরে ধীরে অন্ধকারে চোখ সয়ে আসতেই দেখলাম বিনয় বিছানায় উঠে বসেছে । আমি ফিস ফিস করে তাকে আবার শুয়ে পরতে বললাম । তারপরই কানে এলো সেই রক্তজল করা আওয়াজ ।
আঁহা.....হাঁ...হাঁ...হাঁ.......।
নিঝুম রাতে কান্নার আওয়াজটা ক্রমে ক্ষীন থেকে ক্ষীনতর হতে লাগল । বিছানায় শুয়ে শুয়েই আমি চমকে উঠলাম । আমার শিড়দাঁড়া বয়ে শিতল স্রোত বয়ে গেল ।
নিঝুম রাতে এমন রক্তজল করা কান্নার আওয়াজ শুনে যে কোন লোকেরই ভয় পাওয়াটাই স্বভাবিক । মনের ভেতর একটা দ্বিধাবোধ খেলা করতে লাগল । একবার ভাবলাম বিছানা থেকে উঠে গিয়ে জানালাটা খুলে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখি, এই আওয়াজের আসল মালিক কে । পরক্ষনেই মনের এই তিব্র আকাঙ্খাটাকে মনের ভেতরই দমিয়ে দিয়ে পাস ফিরে শুয়ে পরলাম ।
এই আওয়াজের আসল মালিক যে রাজবাড়ীর অশরিরী আত্মারা সেটা গ্রামবসিদের মুখেই শুনেছিলাম । আরও শুনেছিলাম যে যখনই এই কান্নার আওয়াজ শোনা যায় তখনই কারোর না কারোর অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসে । আজ কোন অভাগার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলো কে জানে । নিস্তব্দ রাতের বুক চিরে আবারও আওয়াজটা শোনা গেল ।
আঁহা.....হাঁ...হাঁ...হাঁ.......।
আমার মনে হলো এবার আওয়াজটা যেন খুব কাছেই কোথাও শোনা গেল । আমি আর নিজেকে সংযত রাখতে পারলাম না । এক লাফে বিছানা থেকে নেমে জানালা খুলে বাইরের দিকে তাকালাম । আকাশে অনবরত টুকরো টুকরো মেঘের ছোটাছুটি চলছে । চাঁদের আলোয় সমস্ত গ্রামখানা যেন ঝলমল করছে । যতদূর নজর গেল আমার কাউকে কোথাও দেখতে পেলাম না । চাঁদের আলোয় বহুদূরে পোড়ো রাজবাড়ীটাকে ঠিক ভূতের মতোই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম ।
গ্রামের একটা কুকুরের ডাকও শুনতে না পেয়ে আমি আরও বেশি আশ্চর্য হয়ে গেলাম । পুরো গ্রামখানা নিঝুম, নিথর হয়ে একাকী দাঁড়িয়ে আছে । দূরে কোথাও একপাল শিয়াল সুর করে ডেকে উঠলো । এরপর সব আগের মতোই চুপচাপ । অনেক্ষন অপেক্ষা করার পরও আর কোনরকম আওয়াজ শুনতে না পেয়ে আমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলাম । তবুও কানটা খাড়া করে রাখলাম যদি কোথাও কিছু শোনা যায় । কিন্তু নাঃ, আর কিছুই শোনা গেল না । ঘুমেতে দুচোখ জরিয়ে আসছিল, তাই চোখ বুঝলাম । কিছুক্ষনের মধ্যেই গভীর ঘুমেতে তলিয়ে গেলাম ।
**** *** ***
পরের দিন অনেক বেলাতে ঘুম ভাঙলো । বিছানা থেকে উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সাড়ে আটটা বাজে ।
অনেক দেরি হয়ে গেছে । আর বেশি দেরি না করে চটপট তৈরি হয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের হতেই উঠানে বিনয়কে বসে থাকতে দেখলাম ।
ওকে আর এসবের মধ্যে জরালাম না, এমনিতেই ওকে দেখে মনে হচ্ছিল এখনও ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আছে । হওয়াটাই স্বাভাবিক ।
কাউকে কিছু না বোলে চললাম রাজবাড়ীর দিকে ।
কি মনে হওয়ায় পেছন ফিরলাম, দেখি বিনয় তখনও আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে ।
আমি না থেমে এগিয়ে চললাম রাজবাড়ীর দিকে । যেমন করেই হোক এই রাজবাড়ীর রহস্য ভেদ আমায় করতেই হবে ।
রাজবাড়ীর চারপাশটা ভাল করে ঘুরে ঘুরে দেখলাম, হটাৎ নজর গেল ঝোপের একপাশে কয়েকটা সিগারেটের টুকরোর ওপর ।
এই অজ পাড়াগাঁয় এতো দামি সিগারেট কেই বা খেতে পারে ?
মনের ভেতর সন্দেহ ক্রমশ দানা বাঁধতে শুরু করলো । আরও কিছুক্ষন ঘোরা ঘুরি করতেই ঝোপের মধ্যে একটা সরু পায়ে চলা পথ আবিস্কার করলাম । চোখ দুটো চকচক করে উঠলো আমার । সাহসে ভরকরে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলাম সেই পথ ধরে । পথটা ক্রমশ এগিয়ে গিয়ে শেষে একটা সুড়ঙ্গে গিয়ে মিলেছে । সুড়ঙ্গের ভেতর অন্ধকার হওয়ায় বেশিদূর নজরই চলছিলো না, তবুও এগিয়ে চললাম । আঁধো আলো আঁধো অন্ধকারে সুড়ঙ্গটা পেরোতেই একটা ঘরের সামনে এসে হাজির হলাম । ঘরের দরজাটা ভেঙে ঝুলতে দেখলাম একধারে ।
চুপিচুপি প্রবেশ করলাম ঘরটার মধ্যে, আড়াইশো বছরের পুরান এই রাজবাড়ী, তাই একটা ভ্যাপসা চাপা গন্ধ নাকে এসে লাগল । ঘরটাকে দেখে একটা হলঘর বোলেই মনে হল । বোধহয় রাজবাড়ীর ঠিক নিচেই এই হলঘরটা । ঘরের এককোণে একটা লন্ঠন জ্বলতে দেখলাম । চারদিকে বড় বড় কাঠের কয়েকটা বাক্সও নজরে পরলো । একটা বাক্সর ঢাকনা খোলা থাকায় হাত বাড়িয়ে দিলাম দেখার জন্য ।
শীতল কিছু একটা হাতে এসে ঠেকলো । জিনিষটাকে বেরকরে এনে চোখের সামনে তুলে ধরতেই চমকে উঠলাম । এ যে মারণাস্ত্র একে-৪৭ । জয়দেববাবুর সুবাদে পরিচয় হয়েছিল এই জিনিষটার সাথে । আর বেশি দেরি করা ঠিক হবে না, এক্ষুনি পালাতে হবে এখান থেকে । একথা ভাবতে ভাবতেই ভেতরে কোথাও কাশির শব্দ কানে এলো । আবছা অন্ধকারেই দেখলাম দুজনকে কথা বলতে বলতে আমার দিকেই এগিয়ে আসতে । আমি তৎপর হয়ে যথাসম্ভব নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলাম বাক্সগুলোর পেছনে । লোকগুলো দেখতে পেলনা আমায়, কথা বলতে বলতে চলে গেল অন্যদিকে । আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বের হলাম । তারপর সোজা ফরিদপুর বাজার ।
লেখালেখি আর কর্মসূত্রের জন্য আমার পরিচয় ছিল লালবাজারের জাঁদরেল পুলিস অফিসার জয়দেব পালের সাথে । তাকে একটা কল দিলাম । প্রথম থেকে সব কথাই তাকে খুলে বললাম । উনি আমার কথা শুনতে শুনতে উত্তেজিত হয়ে পরলেন । ঠিক হল বিকালের ভেতর উনি তার দলবল নিয়ে এসে পরবেন । মনে মনে আমিও কম উত্তেজিত হয়ে উঠিনি ।
হাতে আর কোন কাজ না থাকায়, ঘরের দিকে পা বাড়ালাম । বিনয়কেও ব্যাপারটা জানিয়ে রাখতে হবে ।
যথা সময়ে জয়দেববাবু তার দলবল নিয়ে এসে হাজির হলেন । বিনয়কে ওর পরিবারের কাছে এদের পরিচয় গোপন রাখতে বলা হয়েছিলো । জয়দেববাবুর সাথে অনেকক্ষণ পরামর্শ হল । ঠিক হল রাত বারটার সময়ে আমাদের অভিযান শুরু হবে ।
হাত ঘড়িতে ঠিক বারটা বাজে । নিস্তব্ধ গ্রামখানা যেন একাকী দাঁড়িয়ে আছে । আমরা তৈরি হয়েই ছিলাম, জয়দেববাবুর নির্দেশে আমরা টর্চ না জ্বেলে অন্ধকারেই একে একে এগোতে লাগলাম রাজবাড়ীর দিকে । ওনার কথামত সবার আগে রইলাম আমি, পথ দেখানোর জন্য । রাজবাড়ী পৌঁছতেই উনি আমাকে বাইরেটাতে দাঁড়াতে বোলে খোলা বন্দুক হাতে ভেতরে প্রবেশ করলেন । পেছন পেছন গেল ওনার দলবল ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজবাড়ীর ভেতর থেকে চিৎকার, চেঁচামেচি কানে এলো, আচমকা বন্দুকের আওয়াজে চারদিক কেঁপে উঠলো ।
গুরুম--- গুরুম--- ।
তারপরই সব নিস্তব্ধ নিঝুম ।
ঝোপের ভেতর থেকে পাঁচ ব্যাটারির টর্চ জ্বেলে জয়দেববাবু কাছে এগিয়ে এলেন । তার হাতে ভয়ঙ্কর একটা কঙ্কালের পোশাক আমার নজর এড়ালো না ।
বুঝলেন তাপসবাবু , সবকটাকে ধরেছি । দলপতি বেটা পালাতে যাচ্ছিলো,শেষপর্যন্ত তাকে গুলি করে ঘায়েল করতে বাধ্য হলাম । ও একজন কুখ্যাত অপরাধী । অনেক অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে । এই কঙ্কালের পোশাক পরেই ওরা গ্রামের সবাইকে ভয় দেখাতো । আর নিস্পাপ গ্রামবাসীরা ভাবতো অলৌকিক কিছু । হেড কোয়াটারে খবর পাঠিয়ে দিয়েছি । এমন একটা কুখ্যাত অপরাধীকে ধরতে সাহায্য করায় সরকার থেকে আপনাকে পুরস্কিত করা হবে ।
চলুন তাপসবাবু এবার ফেরা যাক । এখানে আর দেখার কিছু নেই । আপনি কলকাতায় এলেই আমার সাথে এসে দেখা করবেন, কেমন ।
তাহলে আজ চলি তাপসবাবু , নমস্কার-- ।
আমিও নমস্কার জানিয়ে ঘরে চলে এলাম । বিনয় তখনও ঘুমায়নি, চিন্তায় ছটফট করছিল । তাকে সমস্ত ঘটনা বললাম । বিনয় শুধুই শুনে গেল, মুখে কিছু বলল না ।
অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল, তাই বেশি কথা না বারিয়ে শুয়ে পরলাম । শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকলাম যে, লেখাটা তাড়াতাড়ি শেষ করে ফিরতে হবে ।
দূরে-- বহুদূরে-- কোথাও একপাল শেয়াল সুর করে ডেকে উঠলো ।
© Mintu Upadhayay

অন্যরকম ভালবাসা
- মিন্টু উপাধ্যায়


একই কলেজে পড়তো ওরা তিনজন ।
ডালিয়া, অরুপ, আর মিলন ।
ডালিয়াকে দেখলেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠত অরুপের ।
কিন্তু সে ডালিয়াকে মুখফুটে কিছুতেই বলতে পারতো না, যে সে তাকে ভালবাসে ।
হয়তো ডালিয়াও একথা বুঝতো, কিন্তু সে না বোঝার ভান করতো ।
এদিকে ডালিয়ার দুচোখে স্বপ্ন, সে মিলনকে নিয়ে কতই না স্বপ্ন দেখে ।
অরুপকে সে পাত্তাই দেয় না ।
মিলনের কিন্তু এইসব ভালবাসা একেবারেই পছন্দ নয় ।
সে বাঁধনছাড়া হয়ে থাকতে বেশি ভালবাসে ।
ওর কাছে ভালবাসা মানে নারীদের উষ্ণ সান্নিধ্য । নারী শরীরটাকে নিয়ে খেলা করতে ও বেশি পছন্দ করে ।
অনেকদিন থেকেই মিলনের লোভ ছিল ডালিয়ার লোভনীয় শরীরটার প্রতি ।
তাই সে ডালিয়াকে প্রেমের জালে জড়িয়েছে । নিজের কার্জ সিদ্ধি করার জন্য ।
ওকে বিয়ে করার আশ্বাস ও দিয়েছে সে ।
কিন্তু অবুঝ ডালিয়া বোঝেনি মিলনের চক্রান্ত । যখন বুঝল, তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে ।
এখন আর মিলন দেখা করতে চায় না ডালিয়ার সাথে । ডালিয়ার কলও রিসিভ করতে চায় না ।
নানা ধরনের কাজের বাহানায় সে ডালিয়াকে এড়িয়ে যেতে চায় ।
একটা অসহায় ভাব গ্রাস করতে থাকে ডালিয়াকে ।
নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে নিজের মনে নিজেই দগ্ধ হতে থাকে ।
কিন্তু এখন কিছু করার নেই ।
কয়েকমাস এমন করেই কেটে যায় ।
এখন ডালিয়া আগের থেকে অনেক বেশি শক্ত মনের মানুষ ।
নিজের অস্তিত্বকে অনেক কষ্টে ফিরে পেয়েছে সে ।
এতদিনে একটু একটু করে তার হৃদয়ে অরুপ যায়গা করে নিয়েছে ।
সেও ভালবাসতে শুরু করেছে অরুপকে ।
এক রঙিল স্বপ্নের আশায় অতীতের সব কথা ভুলে গিয়ে সে এগিয়ে চলে নতুন জীবনের পথে ।


©Mintu Upadhayay

কালবোশেখী ঝড়
- জুলফিকার আলী

আকাশে মেঘ গুড়ুম গুড়ুম
মনে লাগে ডর,
ঘরের চালা ওড়ায় নাকি
কালবোশেখী ঝড় ।
মাঠের ফসল ডুববে বুঝি
চাষীর মাথার হাত,
চালার মত উড়লে যে ধান
কেমনে পাবো ভাত ।
বোশেখ মাসে আনন্দ আর
বিষাদ নিয়েও আসে,
কালবোশেখী রাক্ষুসে ঝড়
খিলখিলিয়ে হাসে ।
বোশেখ মানেই কালবোশেখী
আগেই তা দেয় জানান,
বাঁচতে ঝড়ের ক্ষতি থেকে
প্রস্তুতি চাই নানান ।

Rumky Anwar

স্বাদ
- রুমকি আনোয়ার

যদি ঝড় উঠে -
যদি সুর ভেঙ্গে যায়
রাতের অহংকার কে চূর্ণ করে ,
থাকবে কি তোমার অমলিন হাসি ।
" আজ কি হয়েছে তোমার , মন খারাপ
চল ঘুরে আসি ।"
এক টুকরো জোৎস্না এনে দাও
স্বপ্নের বুনন আঁকবো সেখানে ,
সপ্তপদী সুর দিগন্তে মিলায়
কবিতার সাথে সাতপাকে বাঁধা ।
" জীবনের উপসর্গ কি শুধুই কবিতা
সৃজনশীলতার বহুমুখী রূপ কতটুকু দেখেছ তুমি ?"
তুমিই বুঝি বললে এই কথা
কবিতায় হয়ত অন্ন জুটে না ,
কিন্তু দিগন্তকে রাঙ্গিয়ে যায় ভিন্ন এক গোধূলি আলোয়
যা তুমি পারো না ।
" উপবৃত্তে উপসংহার টানলে
বুঝি আমায় বাদ দিয়ে ।"
তা কেন হবে !
বালি হাঁস জোড়া ছাড়া থাকে না কখনও ।

Nabadibakar_Writer_02

স্মৃতির মানিপ্ল্যান
- প্রিয়দর্শিনী

অতীতের হারিয়ে যাওয়া সোনালী..
দিন খুঁজতে অতীত হাতড়ানো..
পালাবদলের পালায় অতীত বদল...
অচেনা শৈশব, অচেনা কৈশোর,অতীত.
অচেনা সাথী,সখী অজানা অতীত..
তবে কি বর্তমান অতীতের রুপকার নয়?
যদি বর্তমান প্রিয় হয় সখী..অতীত..
ভুলে আমি বানাবো নতুন পৃথিবী,অতীত
রয়ে যাবে মনের জানালায় মানিপ্ল্যান হয়ে...
দোল খাক বৈশাখী,কিংবা আশ্বিনের ঝড়েঅতীত..
ভিজে যাক,বর্ষার একমুঠো ইলিশেগুঁড়ির দাপটে অতীত,
নতুন পৃথিবীতে আমার চড়াই- উৎড়াই অতীত মানিপ্ল্যানে।।

Rumky Anwar

শাপ মোচন
- রুমকি আনোয়ার

সারা রাত পথভ্রষ্ট চামচিকের মত
বদ্ধ জানালার শিকে মাথা খুঁড়ে মরি ,
সেই চির অন্ধকার আকাশের দিকে
চোখ মেলে রই
নিষিদ্ধ প্রণয়ের স্বাদ
বুঝি এ জীবনে মিটবে না শাপমোচন ।
মরণ যেখানে বাসা বাঁধে
জীবন সেখানে তৃপ্তির গান গায় ।
অপরাহ্ণ ফিরে গেছে একা অন্তিম আঁধার আসে ,
শীতার্ত আজ কিছু অগ্নি চাই , কাঠ রাখ উঠোনে সাজিয়ে ,
ফেলে আসা দিন গুলো হয়ে গেছে তাবৎ অন্ধকার
চন্দন চিতায় সাজাবো বড় সযত্নে ।
সময়ের গায়ে জোৎস্না লেগে গেলে
সময় কে আর ফিরে পাওয়া যায় না ,
অগ্নি যদি হয় পাপ সংহার
ছাই ভস্ম গুলো উড়ুক আকাশে ।

Rumky Anwar

বসন্ত বিলাপ
- রুমকি আনোয়ার

কে তুমি ? এভাবে এসে আমার লালিত স্বপ্ন গুলো ,
ওলোট পালট করে দিয়ে সপাটে চলে যাও
করিডোরে তোমার পায়ের আওয়াজ স্পষ্ট শুনতে পাই
যৌবনের রাজটীকা বসন্তের পালক বুঝি ।
বদ্ধ ঘরে যেন একমুঠো রৌদ্দুর অনায়াসে প্রবেশ
আমার একান্ত আপন আঁধার গুলো
কি অকপটে কথা বলে তোমার সাথে,
আর আমি জরাজীর্ণ বৃক্ষের মত ম্রিয়মান ।
তোমার বসন্ত সঙ্গীত আজ যে আমার জীবনের ঝরাপাতা ,
নীল রঙে চোখ বাঁধে জোনাকির মৃত আলো ,
আমার বসন্তের কষ্ট গচ্ছিত রেখে গেলাম তোমার কাছে
ফেরি করে বেরিয়ো না আবার আমার সযত্ন সম্পদ গুলো ।

Nabadibakar-Author-02

আরেকটি বৈশাখ
- মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

'যাবেন নাকি কাল টিএসসিতে, বৈশাখী ভ্রমণে?
লাল-সাদা শাড়ি কিনেছেন? হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি?' -
কিছুক্ষণ চায়ের সুমিষ্ট কাপে ডুবসাতারের
পর বছর কয়েকের
পুরোনো খবরের কাজে চোখ বুলিয়ে বললাম,
গত বছর দেখেছেন কি অঘটনটা না-ই ঘটলো!
মেয়েটা একদম মরেই গেল
বিমূর্ত ভাবীর চোখে-মুখে কোন চৈত্রের রোদ নেই
মনে কোন ভাবান্তর নেই,
এ-যেন হওয়ারই ছিল।
'সেই যে একটা কিশোরী- ডুবে গেল জনসাগরের অতলে
সে নেই এখন- পুরোনো পাঁচ পয়সার সিক্কার মত হারিয়ে গেছে
বছর কয়েক আগে পান্তা-ইলিশের দুপুরে। '

কি সহজ, আহা!
রাতের ধূপশিখার মত সে যেন সকালেই নিভে গেল-
আমার চোখেও আর জল নেই, গলায় কোন প্রতিবল নেই
নিতান্তপক্ষে সাধারণ সত্যিই সাধারণ একটা ঘটনা,
সময় বইছে আরেকটি বৈশাখীর রথও চলছে
দুপুরের রোদে হঠাৎ নিজেই চমকে উঠি, কি ভয়ঙ্কর, কি শীর্ণ হাহাকার
এতটুকু,
কারো কোন খেয়াল নেই অথচ
এরই মধ্যে কেটে গেল আরো কত ঘটনার করচিহ্ন
কত বাঁজখাই, কত দুর্গন্ধ-পতঙ্গভুকের চালাচালি
কারা যেন বিরাণ মরুনদীর মাঝি হয়ে বিদায় নিলো। ভাবী বিদায় নিলে আবার কাগজটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি
প্রশ্নাকুল সজল চোখে।
পত্রিকার খোপরে কারো বোন, কারো বা মেয়ে
চেয়ে আছে নিষ্পলক, নিদারুণ
হাসোচ্ছল মুখের
রাগ কিংবা ঘৃণার অনলে তাই পুড়ে যায় আরেকটি বৈশাখ
ক্ষীয়মান শোকে।

পহেলা বৈশাখ, বাংলা শুভ নববর্ষ ১৪২৩ - এর শুভেচ্ছা ও ভালবাসা ।


দেখতে দেখতে আরও একটি বছর চলে গেলো । শুরু হলো নতুন আরেকটি বছরের যাত্রা । নবদিবাকর পত্রিকার প্রত্যেক পাঠক, পাঠিকা, লেখক, লেখিকা, কবি, ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি রইল নতুন বছরের শুভেচ্ছা । সবাইকে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ এর শুভেচ্ছা । আসুন সবাই মিলে নতুন বছরকে বরণ করে নিই, আর মেতে উঠি খুশির আনন্দে । সবাইকে নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা, ও প্রানঢালা অভিনন্দন ।

Nabadibakar_Writer_41

অবন্তীকা
- আশরাফুল ইসলাম শিমুল

অবন্তীকা,
দিন গুলো দিগ্বিদিক ছুটে যাচ্ছে সময়ের নদী ধরে।
আমার ছোট কিছু স্বপ্ন ছিলো, ইচ্ছে ছিলো, মন ফড়িঙের গল্প ছিলো তোমাকে ঘিরে। তবুও কেন জানি ভয় হয় তোমার হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল ছুঁয়ে দিতে, কেন জানি ভয় হয় হঠাৎ তোমার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বলে ফেলি "আমার প্রতিটা নিঃশ্বাসের স্পন্দন তোমাকে ঘিরে, তোমার জন্য ছুটে চলা বিশ্ব ভুখণ্ডে,আমি তোমাকে ভালোবাসি অবন্তীকা"
অতঃপর বুকটা চৈত্রের চৌচির রুক্ষ মাঠের মতো ফেটে যায় তুমি যদি আমার তুলতুলে ভালোবাসেকে সেখানেই হত্যা করো তাই ভেবে। কি অদ্ভুত তাইনা অবন্তীকা ? তুমি আমার এতো কাছে, আমি তোমার এতো কাছে তবুও আমরা যোজন যোজন দূরে।
একদিন তোমার সামনে দাঁড়াবো বুকের হৃদপিণ্ডে অসংখ্য সাহস আর ধবংস নিয়ে। তোমাকে বলে ফেলবো "আমি সারাজীবনের জন্য তোমার হাত ধরে পথ চলতে চাই অবন্তীকা"
আর কয়েকটা বসন্ত শেষ হলেই হেমন্তের কাঁকণমালা ছুঁয়ে তোমরা চোখের কার্নিশে হেঁটে যাবো,
তোমার মেঘ পোড়া শহরে নীল লহরী পার হয়ে ,
সেদিন আমরা বহুকাছে -বহুদূরে চলে যাবো।
ইতি
তোমার শব্দচাষা

বৈশাখী দিন
- জুলফিকার আলী

বৈশাখ এলে মনে আসে
বাংলা কবিতা,গান,
নতুন বর্ষে মন ভরে যায়
নাচে বাঙালির প্রাণ ।
পড়ে গরম দিনটা চরম
লাগে বুঝি ভয়রে,
বৈশাখ ঝড়ে চালটা নড়ে
কি জানি হয়রে!

পুকুর শুকায় মাঠ চৌচির
কাঠফাটা রোদ সীন,
বড় কঠিন আর ভয়ানক
বৈশাখ মাসের দিন ।

বৈশাখী মেলা
- জুলফিকার আলী

বাজে ঢাক বাজে ঢোল,
মনে এসে দেয় দোল ।
বৈশাখী ঔই মেলা,
হইচই সারাবেলা ।
পুতুল নাচ,নাগরদোলায়
ছোট খুকির মন ভোলায় ।

বাংলা নববর্ষ
- জুলফিকার আলী

কাটিয়ে বিষাদ হর্ষ,
এলো নববর্ষ ।
গাছে গাছে আম,
কালো কালো জাম ।
হাওয়ায় বুঝি দোলে,
তালপাতাতে-হালখাতাতে
নতুন সে সুর তোলে ।
শোধ হবে সব দেনা,
বাঙালিরা নববর্ষের
শুভেচ্ছা দেই নে'না ।

Nabadibakar_Writer_33

মৃত্যু
-স্বজন ইসলাম নাহিদ

প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ছোট ছোট ভুলে
গড়ে তুলি অন্যায়,
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আমার আঘাতে
ব্যাথিত হয় কত শত হৃদয়,
আর প্রতিদিন নত হতে হতে শত হৃদয়ে
আমার মৃত্যু ঘটে,

১১-০৪-২০১৬
পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট

Nabadibakar_Writer_12

চুপকথা
- রীতা ঘোষ

ছুটে চলি অবিরত ...
রাত্রি অতিক্রান্ত হয়ে সকাল
আবার দিনাবসানে নামে আঁধার ।
কর্তব্য ও দায়িত্বর মশালগুলো সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে মিছিলে ,
উচ্চ কণ্ঠে জানান দেয় উপস্থিতি ... জারী রাখে আন্দোলন
উচ্ছল , উদ্ভ্রান্ত , আবেগি মনের লাগামটা দুহাতে কষে ধরি
মুঠি আলগা হবে না তো ?...... জানা নেই তবু ...
দমকা বাতাসে ভালোবাসার চিঙ্গারিটা হঠাৎ দপ করে ওঠে
কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়ার দাপটে আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ জ্বলে
কি ভুল , কি ঠিক ঠাওর করতে পারিনি আজও
প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ মনের মাঝেই
সামাজিকতার ব্যারিকেডগুলো বার বার পথ অবরোধ করে ।
খুব কি বেশী চেয়েছি আমি ?
তোমার শীতল ছাওয়াই শুধু একটু জিরোনো ...
তাতেও কার্পণ্য তোমার ?
আচ্ছা বলতো ... মনের মধ্যে শরীর , না শরীরে মন ?
দেহ তো খোলস মাত্র , হৃদয়ের আবাসন
মন যেখানে ঈশ্বর , তনু মন্দির
ভালোবেসে অন্তর ছুঁলে ...
নারীও সহজেই দেয় , পবিত্র দেহ মন্দিরে অবাধ প্রবেশাধিকার ।

চৈত্রের ছড়া
- জুলফিকার আলী

চৈত্র মাসের দুপুর বেলা
রোদ মামারই তাপে,
মাটি ফেটে চৌচিরও তাই
তপ্ত ভুবন কাঁপে ।
সূর্য্যি মামা আগুন ঢালে
তৃষ্ণা ফাটায় ছাতি,
জল দেখিনা একটু কোথাও
জলহীনা জীব জাতি ।
জমির লাগে সেচটা বেশি
অতিরিক্ত হারে,
এই মাসে ঠিক কৃষিখাতে
কৃষি খরচ বাড়ে ।
চৈত্র তবুও বাংলা বছর
আলবিদা জানিয়ে,
সুখের নববর্ষ আবার
দেয় ঠিকই আনিয়ে ।

Nabadibakar_Writer_69

দোদুল্যমান পেন্ডুলাম
- মাছুম কামাল

যতটুকু অবকাশ নিলে দুরত্ব বলা যায়, ততটুকু'ই নাও
যতবার ভেঙ্গে ফেললেও বলবো না বিশ্বাসঘাতক, ঠিক ততবার ভাঙ্গো।
যতটুকু নীল'কে বিষাদ বলে মানুষ, আপাতত তাই দাও
যতবার হারিয়ে গেলে মনে হবে, আমি'ই হারিয়েছি, ততবার'ই হারাও।
কেননা, এই অর্বাচীণ এবং বিমূঢ় সুখ খুব কম পাবে তুমি।
একবার দোল তোলার পর দেখবে,
একা একা-ই ঘুরে দোদুল্যমান পেন্ডুলাম
কেবলমাত্র এ জন্মেই আমাকে পোড়ানোর সুযোগ নাও,
পরের জন্মে হবো বেদুঈন কিংবা বোহেমিয়ান।

উৎসব এবং মেলা
- জুলফিকার আলী

বৈশাখ এলে হয় যে মেলা
উৎসব হয় গাঁয়ে ।
বৈশাখীতে সবাই সাজে
নতুন রঙ্গীন সাজে ।
মেলায় আসে নাগরদোলা
খেলনা,মাটির কলস,
হয় গান রমনা বটমূলে
ইলিশ পান্তা খেয়ে ।

বৈশাখী ইলিশ
- জুলফিকার আলী

ইলিশ মাছের বাজার গরম
বোশেখ ছোঁয়া পেয়ে,
দামের ঘোড়া নববর্ষে
চলছে যেন ধেয়ে ।

গরীব লোকের নববর্ষ
হয়না ইলিশ পান্তায়,
সকাল বেলায় উঠে ওরা
লবণ ভাতই খান্ তাই ।

ইলিশ মাছ না খেয়েও ওরা
খুশি তো এইদিনে,
নববর্ষের আনন্দ কি
যায় পাওয়া আর কিনে ?

থাক অথবা না থাক ইলিশ
হিংসা দূরে যাক,
নববর্ষে সবাই মিলে
আনন্দে কাটাক ।

কেবল তোমারই আকর্ষণে
- মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

সরষে ফুলের পাপড়ি নেড়ে নেড়ে যাব আমি উড়ে
কিংবা প্রজাপতির পাখনা মেলে, আমি
যাব উড়ে দূরে বহুদূরে-কাংখিত মঞ্জিলে
যেন দিগন্তের শেষ সীমানায়--
অথবা অনুভূতির এমন এক অজানা জগতে
যা কখনো কারও দেখা হয়নি চক্ষু মেলে!
গোলাপ, বেলি, জুঁই চামেলী কিংবা
হাস্নাহেনার রেনু থেকে
অথবা তিলের কোমল পরাগ রেনুতে বসে
আমি লুটে নেব যে মধু--
তা সঞ্চয় করে রাখব কেবল তোমারই জন্যে।
তোমাকে কাছে পাবার অপেক্ষায় এখনও প্রহর গুনি
ডায়েরীর পাতায় এখনও লিখে রাখি দু'টি উক্তি
কয়েকটি ছন্দ অথবা কবিতার একটি পংক্তি
কেবল তোমারই জন্যে এবং তোমারই ভালোবাসার টানে--
এখনও দেখি নদী তার আপন গতিতে বহমান
বসন্তে কোকিল এখনও করে গান--
বকের সারি আজও ডানা মেলে উড়ে যায় মঞ্জিল পানে
যমুনার বাঁধ ভাঙ্গা তীরে কাশফুল ফুটতে দেখি এখনও
কচুরিপানার মুচকি হাসিতে আজও মন ভরে যায় আনন্দে
এখনও নীলিম আকাশের উদার ভালোবাসার আহবানে
আমি হারিয়ে যাই তারাদের মেলায় অচেনা জগতে
কেবল তোমারই ভালোবাসার টানে এবং একান্ত তোমারই আকর্ষণে
আজও ঝিঁঝিঁ পোকার বিরক্তিকর কর্কশ সুরের ব্যঞ্জনায়
অথবা যমুনার নিরবধী বয়ে চলা কল-কলতানে
কিংবা চড়ুই পাখির কিচিরমিচির কলরবে
কেবল তোমারই সুললিত কন্ঠস্বর শুনতে পাই।
তোমাকে আজও জোনাকিদের দলে খেলতে দেখি
ময়ুরীর পেখম দোলানো নৃত্যে কেবল তোমারই সৌন্দর্য খুঁজি--
তুলির আঁচরে তোমার ছবি আঁকতে ভুলিনি আজও
তোমার মিষ্টি হাসির ঝিলিকে ভুলে যাই সকল যাতনা
অথচ এখনও জানা হয়নি একটি জিজ্ঞাসার জবাব
যা আমি ভাবছি তা আমার কল্পনা, নাকি--
তুমি এর উত্তর বলবে কিনা তা আমার জানা নাই--
আমার আশংকা-হয়তো বলবে-নতুবা--
কিন্তু আমি--
হ্যাঁ, আমি কবি, গড়ব কবিতার তাজমহল
পংক্তিতে পংক্তিতে রাঙগিয়ে নেব তোমার ছবি
আর--
সরষে ফুলের পাপড়ি নেড়ে নেড়ে
কিংবা প্রজাপতির পাখনায় ভর করে হলেও
আমি তোমার পাশে গিয়ে বসতে চাইব চুপটি করে
শুধু তোমারই ভালোবাসার টানে এবং তোমারই আকর্ষণে--
কিন্তু, তুমি কি পারবে আমাকে আপন করে নিতে?--
অথবা তোমার সহযাত্রী বানাতে পারবে কি আমায়?--
আমার বিশ্বাস তুমি আমাকে ঠেলে দিবে না দূরে
তুচ্ছ জ্ঞান করে, অথবা--
হৃদয়ের একান্ত এ অভিব্যক্তি কেবল আমার এবং আমারই--

ভেজাল
- জুলফিকার আলী

চালে ডালে ভেজাল মিশে
নেই ভেজালের শেষ
তরল-সেটা পানি বা তেল
ভেজালে নষ্ট কেশ ।

মাছ মাংস সবজি ভেজাল
ভেজাল যে তরকারি
রাজনীতিতে ভেজাল যেন
খুব বেশি দরকারি ।

কীটনাশক আর ওষুধ ভেজাল
বাড়ায় দেহের রোগ
আমজনতা করবে কত
ভেজাল উপভোগ ?

ফল সে ভেজাল ফরমালিনে
ভেজাল ভরা দেশটা
ভেজাল ভেজালময় করতে
চলছে অপচেষ্টা ।

Nabadibakar_Writer_30

ক্লান্তি বেলা
- মনিরা ফেরদৌসী

ফুরিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে
এই ক্লান্তি বেলায় --
একে একে সবাই দূরে চলে যাচ্ছে,
দুচোখে ঘুম নেই কে যেন
কুরে কুরে খাচ্ছে আমার ভিতরটাকে,
হয়ত সেই মরণ ব্যাধি।
কিসের দহনে জ্বলছে পাঁজর?
চোখ ভিজছে অভিমানের জলে।
রাতের নির্জনতাকে আপন করে
কি পেয়েছি?
সুখের জলসায় না ভাসিয়ে
যন্ত্রণার ঘরে বাসা বেধেছি।
তিমির রাতের বুক চিরে
উঁকি মারে সদ্যস্নাত হলদে সূর্য টা,
সহসা কালো মেঘ বাসা বাঁধে
হৃদয় জুড়ে, চোখ ঝাপসা হয়ে যায়,
ভয়ে নিজের অজান্তে শুরু হয়
হৃদয়ে কালবৈশাখী ঝড়।
ভেঙ্গে যায় বুক অজানা সংশয়ে
মনের গভীরে ভরে যায় জলোচ্ছ্বাসে।।

ছেলেধরা
- মিন্টু উপাধ্যায়


আজ সকাল থেকেই ডান চোখটা বড্ড লাফাচ্ছে ।
নৃপেন দাদুর মুখে শুনেছিলাম যে , ডান চোখ নাচা নাকি খুবই ভাল ।
মনে হয় আজ ভাল কিছু হাতে আসতে পারে ।
কিন্তু সকাল থেকে একটা শিকারও তো ভাগ্যে জোটেনি । তাই মন মরা হয়ে বসেছিলাম চাটুজ্যেদের বুড়ো শিবতলার মন্দিরে ।
হ্যা , আমি একজন শিকারি ।
শিকার করি ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েদের ।
আপনারা আমায় ছেলেধরা বলেও ডাকতে পারেন ।
তবে আমার একটা ডাক নাম আছে.... সাধু ।
ছেলেধরা হওয়া মুখের কথা নয় । এর জন্য চাই যতেষ্ট সাহস আর ধৈর্য । আর অবশ্যই হৃদয়হীন হতে হবে ।
এই কাজে সব সময় প্রানহানির আশঙ্কাও থাকে । কিন্তু আমি অতবেশি ভাবিনা ।
ছলনা ! এটাই হল আমার প্রধান অস্ত্র । নানা ধরনের ছলনা করতে হয় আমায় । এই কাজে আমি খুবই পটু ।
তবে বেশিরভাগ কাজটাই সহজ হয়ে যায় আপনাদের জন্য ।
ফেসবুক , টুইটারের যুগে সবাই ভার্চুয়াল জগতেই হারিয়ে গেছে , আর এই জন্যই আমার কাজটা অনেকটাই সহজ সরল হয়ে গেছে ।
আপনারা বেশিরভাগ সময় আপনাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে সেলফি তোলেন । এবং পোস্ট করেন ফেসবুক , টুইটারে ।
এরপরই আমার কাজ শুরু হয় । আমার মোবাইলে সেই সব ছেলে মেয়েদের ফটো ও বিস্তারিত তথ্য আসে ।
আমি নিখুঁত ভাবে খোঁজ খবর নিতে শুরু করি ।
প্রতিটা ছেলে মেয়েদের নিদিষ্ট দিনলিপি থাকে আমার কাছে ।
তারপর একদিন সময় বুঝে কেল্লাফতে ।
তারপর ?


তারপর আমার গুরু পেঁচোগুণ্ডা মানে পেঁচোদা ওই সব ছেলে মেয়েদের ব্লাক মার্কেটে বিক্রি করে দেয় চড়া দামে ।
এর পরের খবর আমরা আর রাখিনা ।


অনেকক্ষণ বসেছি , আর বসে থাকতে ভাল লাগছিল না , তাই উঠে পরলাম । এগিয়ে গেলাম সামনের দিকে ।
হটাৎ চোখ গেল মণ্ডলদের বাড়ির দিকে ।
দেখি ওদের মেয়েটা খেলতে খেলতে উঠোনে এসে পরেছে । আশে পাশে কাউকে দেখতেও পেলাম না । এই সময় ওরা সবাই ঘরে বসে সিরিয়াল দেখে ।
কেউ খেয়ালও রাখেনি মেয়েটার দিকে ।
নিজের মনে নিজেই হেঁসে উঠলাম । শেষে নৃপেন দাদুর কথাই ঠিক হল ।
ধীরে ধীরে প্যান্টের পকেট থেকে চকলেটটা বার করে নিয়ে এগিয়ে গেলাম মেয়েটার দিকে ।
প্রথমে মেয়েটা আসতেই চাইছিল না , চকলেটটা দেখাতেই এগিয়ে এলো ।
চকলেটটা হাতে গুঁজে দিয়েই চটপট ওকে কোলে তুলে নিলাম ।
তারপর হনহন করে এগিয়ে গেলাম বড় রাস্তার দিকে ।
অনেকটা পথ এগিয়ে আসার পর পেছনে হই হট্টগোল কানে এলো ।
হট্টগোলটা ক্রমশ যেন কাছে এগিয়ে আসছে ।
পেছনে ফিরলাম দেখার জন্য ।
দেখি , কয়েকজন লোক এগিয়ে আসছে আমার দিকেই । তাদের মধ্যে একজনের হাতে মোটা লাঠি দেখে চমকে উঠলাম আমি ।
পকেট থেকে ছুরিটা বার করতে গেলাম , কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে ।
লোকটা আমার মাথাটাকে উদ্দেশ্য করে সপাটে লাঠির ঘা বসিয়ে দিলো ।
আমি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলাম ।
যখন জ্ঞান ফিরল লক্ষ করলাম , সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা । হাত পা বাঁধা অবস্থায় রাস্তার এক কোণে পরেছিলাম ।
চারি দিকে চিৎকার চেঁচামেচি কানে এলো ।
ছেলেধরা... ছেলেধরা... ছেলেধরা... ।


©Mintu Upadhayay


বিঃদ্রঃ - গল্পটা আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন । ধন্যবাদ ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget