মার্চ 2016

ভোটের পরে
- জুলফিকার আলী

চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে
নড়ছে নেতার ঠোঁট,
হাজার ঢংয়ে বলেন নেতা
দাও না আমায় ভোট ।
পানি,বিদ্যুৎ,গ্যাস প্রবলেম
সকল যাবে দূরে,
আমি নির্বাচিত হলে
গাইবে কোকিল সুরে ।
এমন অনেক প্রতিশ্রুতি
শুনি ভোটের আগে,
ভোটের পরে নেতা হারায়
পাইনা তাকে বাগে ।

Nabadibakar_Writer_01

মেঘের কান্না
- রুনু সিদ্দিক

আমি কাঁদব,
তোমার কাধে মাথা রেখে,
তোমার কাধটা একটু ধার দেবে?
কথা দিচ্ছি নোনা জলে ভেজাবনা তোমার পিঙ্গল সার্ট!
শুধু ভেসে যাব এক সাগর চোখের জলে দুজনে!
কোন স্রোতসিনী নদীর ধার করা জল নয়,
বিন্দু বিন্দু করে জমে থাকা কষ্টের মেঘ থেকে,
বুকের গহীনে বর্ষার ঝর্না প্রবাহিত নোনা জলে।
আজ ভাসব দুজন একই বৃত্তে!
ভাসিয়ে দিব চোখের ভিতর জমিয়ে রাখা স্বপ্নের ঝুড়ি।
স্বপ্ন জমা রেখে লাভ কী?
চোখের ভিতর যার সীমাব্ধতা,
সে স্বপ্ন ধুয়ে যাওয়াই ভাল,
ধুয়ে যাক কাজলে,
নয়ন সরসী'র কাজলে কাজলে থাকবেনা আর সুখ"বারতা" ধুসর চোখের আ'নত নয়নে থাকবেনা আর কোন মাদকতা!
আসো শুন্য হয়ে যাই প্রতি পলে পলে,
কতটা চোখের জল হলে বলি "এসো করি স্নান নয়নের জলে!!

অসমাপ্ত
- দিগন্ত

হয়তো হেথায় রইবে সবাই
থাকবোনারে আমি ;
বইবে বাতাস, উদার আকাশ
রইবে এমনখানি।
হয়তো হেথায় গাইবে সবাই
নিজের মতো গান,
খুশির নেশায় মাতবে খেলায়
(শুধু) জীর্ণ আমার প্রাণ!
ওরে, জীর্ণ আমার প্রাণ!!
হয়তো তোদের জীবন-পথের
বাঁকটা যাবে সরে,
আজকে যেমন - চলবে তেমন
(শুধু) একলা যাবো ঝরে।
রইবে কোকিল, বিশাল নিখিল
তোদের ক্ষয়বেনারে কিছু;
ক্ষওয়ার মাঝে ক্ষয়বে এ-যে
ডাকবিনারে পিছু!
ওরে, ডাকবিনারে পিছু!!

আমার গ্রাম
- দিগন্ত

আমার গ্রাম শস্যে ভরা, সবুজ-রাঙা দেশ
সেথায় যদি যাসরে তোরা, দেখতে পাবি বেশ...।
মাঠে মাঠে সোনার ফসল, দুলছে হাওয়ায় ভর করে
আমের বনে মৌমাছিরা, কেমন করে গান ধরে ;
কেমন করে কিশোর ছেলে, দীঘির জলে সাঁতার কাটে
কেমন করে ধরছে তারা, বাঁশের ডগায় ফড়িং-টাকে।
আমার গ্রাম যাসরে তোরা, দেখতে পাবি সন্ধ্যাবেলায়
মানিক-প্রদীপ জ্বালিয়ে বউ, কেমন করে সন্ধ্যা দেখায় ।
কেমন করে নিঝুম রাতে, বাঁশ-বাগানে ঝিঝি ডাকে
মেয়েরা সব জলকে আসে, কেমন করে কলসি কাঁখে ;
কেমন করে ভোরের বেলা, মুক্ত জমে ঘাসের বনে
মধুর স্বরে কোকিল ডাকে, দেখবি সবি মুগ্ধ মনে ।
আমার গ্রাম যাসরে তোরা, দেখতে পাবি গগন তারা
কেমন করে বইছে সেথা, চতুর্দিকে আলোকধারা।
কেমন করে দুপুরবেলা, শুকনো পাতা পড়ছে ঝরে
কাঠবেড়ালি কেমন করে, গাছের ওপর নৃত্য করে ;
কেমন করে হাওয়ার সাথে, মাটির সোঁদা গন্ধ ভাসে
ফুলের সারি পাপড়ি মেলে, দেখবি তখন কেমন হাসে।
আমার গ্রাম যাসরে তোরা, দেখতে পাবি আপন মনে
সবাই এসে ভরিয়ে দেবে, কেমন করে আলিঙ্গনে।
কেমন করে নদীর জলে, গাছের ছায়া করবে খেলা
বিকালবেলা বন্য পাখির, কেমন করে বসছে মেলা ;
কেমন করে আলের পথে, চাষির ছেলে দৌড়ে চলে
ভালোবাসা ছড়িয়ে কেমন, দেখবি সবার হৃদয়তলে ।
আমার গ্রাম যাসরে তোরা, দেখতে পাবি বেশ...
সবুজ ঘাসে ঢেউ খেলানো, কেমন আমার দেশ ।।

একমুঠো আলো থাক
- দিগন্ত

বাতাসের বুকে আর পাখিদের গান নাই
ফুটপাতে কারা সব কাঁদছে,
নিয়তির কালি মেখে কতজন নিরুপায়
মৃত্যুকে ভালোবেসে ডাকছে!
পৃথিবীর চেহারাটা ভেঙে পড়ে প্রতিদিন
ফুল ফোটে নষ্টের আভাসে,
নির্বোধ ভাবনারা খুব বেশি অশালীন
জ্বলে ওঠে গোধূলির আকাশে।
জীবনের গভীরতা জানে শুধু আধুনিক
ছায়াগুলো ঘিরে ধরে গোপনে,
চশমার ফাঁক দিয়ে দুনিয়াটা সাময়িক
বোঝা যায় শিশিরের পতনে!
আঁধারের বুকে তবু একমুঠো আলো থাক
লেখা হোক প্রভাতের কাব্য,
রক্তের স্রোতে এই অনুভূতি মিশে যাক
মানুষের কথা শুধু ভাববো।।

Nabadibakar_Writer_40

হারানো ভালোবাসা
- মেহেদী হাসান আকাশ

তোমার দেয়া কথা তুমি
রাখতে পারো নি
চলে গেলে আমায় ছেড়ে
সাথে নাও নি।
ভাবতে আমার অবাক লাগে
এই কী ছিলে তুমি
ছেড়ে যাবেনা বলে ছিলে
মরে গেলেও আমি।
চেয়ে ছিলাম তোমার কাছে
একটু ভালোবাসা
তুমি শুধু দিয়ে গেলে
শত কষ্টের ব্যাথা।
এমন করে কেমনে তুমি
ছেড়ে গেলে আমায়
এতদিন তবে কেন তুমি
ভালোবাসলে আমায়।
চলে যাও তবে বহুদূরে
সুখে থেকো তুমি
মনে রেখো শুধু একটি কথা
তোমায় অনেক ভালোবাসি আমি।

 

Nabadibakar_Writer_12

প্রতীক্ষা
- রীতা ঘোষ

সহ্যের সীমারেখা অতিক্রমণে
বিদ্রোহী মন চায় বেপরোয়া হতে,
কটূক্তির কাঁটাতার বিঁধে বিঁধে
অবিরাম রক্তপাত হৃদয় পথে ।
প্রতীক্ষারা তবুও আনমনে
জীবন মৃত্যুর রূপোলী সন্ধিক্ষণে
ভালোবাসার অমৃত কুণ্ড হাতে
যদি আসো কোন গোধূলি লগনে ।
দড়িছেঁড়া পাগলিনী মন
দিশাহারা স্বপ্ন প্রাঙ্গনে ,
উদাসী রাতেরা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে
আমার নির্ঘুম দুনয়নে ।।

Nabadibakar_Writer_01

স্বাধীনতা আজো কেঁদে ফিরে !!
- রুনু সিদ্দিক

পঁচিশে মার্চ কালো রাত,
রাত'তো কালোই হয়!
সে রাতটা একটু বেশিই কালো ছিল!
কালোর অপরপাশে আলো থাকে সেটা সবার জানা।
শুধু জানতো না কেউ সে রাতের পরে দিনের বেলাও কেউ পাবেনা আলোর সন্ধান!
যতটুকু স্বত্বি ছিল রাতে,
তাও কেড়ে নিয়ে গেছে পাকিস্তানী হায়েনার দল!!
অতর্কিত হামলায় তছনছ করে দিয়েছে সবার জীবন।
জ্বালিয়ে দিয়েছে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে স্বপ্নসম্ভার!
হারিয়েছে সবাই লাখো ভাইবোন,
ঝরেছে বুকের তাজা রক্ত!
তার বিনিময়ে পেয়েছি আমরা স্বাধীনতার পতাকা।
বুকের রক্ত আর প্রকৃতির রঙে এঁকেছি জয়টিকা।
আজ এতোগুলো বছর পরেও লড়ছি আমরা নিজেদের সাথে!
ভিনদেশী নয় এখন দেশী লুটেরাদের সাথে!
কতদিন আর চলবে লড়াই নিজেদের মাটিতে!
কাধে কাধ মিলিয়ে, হাতে হাত রেখে পারিনা কি দেশটা সাঁজাতে ???

Nabadibakar_Writer_70_Bangla-Kobita

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ...
- শীলা ঘটক
***
২৫শে মার্চ, ১৯৭১
গভীর রাত----
পশ্চিম পাকিস্থানের অতর্কিতে হানা
পূর্ব পাকিস্থানের বাঙালি নিধন।
অজস্র ছাত্র- শিক্ষক, নাগরিক, বুদ্ধিজীবী, শিশুদের হত্যা।
ঢাকায় গোলাবর্ষণ-----
বাঙালির পিঠ ঠেকে গেল দেওয়ালে।
শুরু হোল নিজেদের বাঁচানোর লড়াই,
২৫শে মার্চ, ১৯৭১---মধ্যরাতে_________
চট্টগ্রামের ই . পি . আর ট্রান্সফরমার থেকে প্রচারের জন্য
পাঠানো হোল শেখ মুজিবর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
***
“ এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা,
আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন,
আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই
আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে
দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত
প্রতিরোধ চালিয়ে যান।
বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্থানি সৈন্যটিকে
উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত
আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক”।
***
২৫শে মার্চ, ১৯৭১ রাত বারোটার পর
পাকিস্থানি হানাদারদের হাতে মুজিবর রহমান গ্রেপ্তার।
২৬শে মার্চ, ১৯৭১-----
ঘোষণাপত্রটি মাইকিং করলেন এম . এ . হান্নান,
সঙ্গে বেলাল মহম্মদ, আবুল কাসেম সহ
চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্রের পদস্থ অফিসাররা।
পরে পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার
মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে
স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
শুরু হোল রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম—
বাংলাদেশে গড়ে উঠলো মুক্তিবাহিনী।
শুরু হোল গেরিলা পদ্ধতিতে আক্রমণ
সারাদেশে পাকিস্থানি হানাদারদের ওপর
মুক্তিবাহিনীর আক্রমণ।
জীবন বাঁচাতে প্রায় এক কোটি মানুষ
আশ্রয় নিলো ভারতে।
অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, সামরিক সাহায্য করতে
পাশে এসে দাঁড়ালো ভারত।
খুন, ধর্ষণ, রক্তক্ষয়---- লড়াই
নয়মাস ধরে অক্লান্ত লড়াই।
ডিসেম্বরে অনিবার্য হয় পড়লো
পাকিস্থানি সামরিকবাহিনীর পতন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লো ভারত।
মিলিত আক্রমনের মুখে পর্যুদস্ত ও হতোদ্যম হয়ে
পাকিস্থানি সামরিকবাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হোল।
১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে
৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মসমর্পণ।
নয়মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান----
প্রতিষ্ঠা পেলো স্বাধীন বাংলাদেশ।
***
ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব, ভারতের সহযোগিতা
পাকিস্থানের পক্ষ থেকে জবাব এলো----
ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা,
শুরু হোল লড়াই---- বোমা বর্ষণ...............

শীলা ঘটক কোচবিহার ২৫।০৩।২০১৬ রাট ৮ টা।

সকাল
- অর্পণ ভূঞ্যা

সকাল মানেই সূর্যের আভায়,
আকাশ রেঙে যাওয়া,
সকাল মানেই জেগে ওঠা
দিনের শুরু হওয়া ।
সকাল মানেই গাছে গাছে,
প্রভাত পাখির গান,
সকাল মানেই নতুন পাওয়া
পুরাতন অবসান ।
সকাল মানেই বয়ে যাওয়া
নির্মল শান্ত সলিল,
সকাল মানেই শিশির বিন্দু
হাসছে খিল খিল ।
সকাল মানেই ঝলমল ওই
সোনালি ধানের ক্ষেত,
সকাল মানেই শান্ত স্নিগ্ধ
পৃথিবীর পরিবেশ ।
সকাল মানেই কাননে কাননে
নতুন ফুলের গন্ধ,
সকাল মনেই চারিপাশে
নতুন নতুন ছন্দ ।
সকাল মানেই সবের-ই শেষ
ক্লান্তি আর হতাশা,
সকাল মানেই তোমার আমার
নতুন কিছুর আশা ।

ছড়া : স্বাধীনতা
- জুলফিকার আলী

কারো দানে নয়তো পাওয়া
রক্ত দিয়ে কিনেছি
হাজার শহীদের রক্ত ত্যাগে
সুখের বিজয় ছিনেছি ।

কত মা-বোন মান হারাল
তোমায় পাওয়ার জন্য
স্বাধীনতা মুক্ত হাওয়ায়
জীবন করল ধন্য ।

স্বাধীনতা রক্ষা করতে
দেশপ্রেমী চাই হওয়া
দেশ গড়ে তার মান রাখতে
এই কথা আজ কওয়া ।

বিরোধী অপশক্তিকে রোধ
করতে মোরা আজ
সম চেতনায় এ দেশ গড়ি
মিলেমিশে করি কাজ ।

farhana doc newআমাদের শহীদ রুমী
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


‘আমাদের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খালেদ মোশাররফ কী বলেন, জান? তিনি বলেন, “কোনো স্বাধীন দেশ জীবিত গেরিলা চায় না; চায় রক্তাস্নাত শহীদ।” অতএব মামনি, আমরা সবাই শহীদ হয়ে যাব, এই কথা ভেবে মনকে তৈরি করেই এসেছি।’
ইস্পাতসম এই কঠিন কথাগুলো যিনি তাঁর মাকে বলেছিলেন ১৯৭১ সালে, তিনি হলেন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহীদ শাফী ইমাম রুমী। যিনি মাত্র ২০ বছর বয়সে স্বেচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন। শহীদ রুমী ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কর্ণধার জননী জাহানারা ইমামের বড় সন্তান। তাঁর জন্ম হয় ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবারে। বাবা শরীফ ইমাম ছিলেন একজন প্রকৌশলী। রুমীর ছোট ভাইয়ের নাম জামী।
রুমী শৈশব থেকেই ছিলেন ভীষণ মেধাবী। বয়সের তুলনায় তাঁর মানসিক বিকাশ ছিল একটু বেশি। এই ধরনের মানসিক অবস্থাকে বলা হয় ‘মেন্টালি অ্যাডভান্সড চাইল্ড’। তিনি বেড়ে ওঠেন সেই সময়ের স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত একটি পরিবেশে। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তিনি। তাঁর মা ছিলেন তখনকার একজন খ্যাতিমান স্কুলশিক্ষিকা। একাত্তরের দিনগুলি বইয়ের লেখিকা তাঁর মা।
আজিমপুরের কিন্ডারগার্টেন স্কুল দিয়ে শুরু হয় রুমীর লেখাপড়া। ১৯৬৮ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসির পাঠ শেষ করেন। লেখাপড়ায় ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ভীষণ মেধাবী। পাকিস্তান শিক্ষা বোর্ড থেকে মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
রুমী শিশু বয়স থেকেই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। গান, কবিতা আবৃত্তি, বই পড়া ছিল তাঁর পছন্দের কাজ। শিশু থেকে কিশোর বয়সেই তিনি পড়ে ফেলেন চে গুয়েভারা, নেলসন ম্যান্ডেলা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বিভিন্ন বিখ্যাত বই। মা জাহানারা ইমাম তাঁকে একটি বুকসেলফ কিনে দিয়েছিলেন, বই জমানোর জন্য। রুমী ছিলেন বইয়ের পোকা। পুরো বুকসেলফকে তাঁর লাইব্রেরি বানিয়ে ফেলেন। নামীদামি বইয়ের স্পর্শে তাঁর মেধা হয়ে ওঠে আগুনের পরশমনি। তিনি জুডো-কারাত খেলাতেও ছিলেন ভীষণ পারদর্শী। ‘ব্রাউন বেল্ট’ হোল্ডার ছিলেন।
অসহায় মানুষের জন্য কেঁদে উঠত তাঁর মন। তিনি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছুটে যেতেন ত্রাণ হাতে। জোগাড় করে ফেলতেন তাঁর বন্ধু ও আরও অনেকজনকে। নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দিতেন বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য। বন্যা, খরা, ঝড়ে কবলিত মানুষের জন্য কেঁদে উঠত তাঁর মন। তাঁর হৃদয় মন্দিরের শীর্ষে ছিল মানবসেবা আর দেশপ্রেম।
রুমী ‘ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কার’-এ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন। এবং মেধার সঙ্গে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের এক বিরল প্রতিভা। ব্যবহার আর মনমানসিকতায় তিনি জয় করে ফেলেছিলেন সবার মন।
প্রকৌশলী বাবার মতো তিনিও চাইতেন বিখ্যাত প্রকৌশলী হতে। শৈশব থেকেই ছিলেন মেধাতে প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন এবং অর্জন করেন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (বতর্মানে বুয়েট) মেধার স্থান।
আমেরিকার বিখ্যাত ইলিনয়স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে চান্স পান। কিন্তু সেখানে আর পড়তে যাওয়া হয়নি। নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে যোগ দেন মুক্তিবাহিনীতে।
বিরল প্রতিভার এই মানুষটি ছোটবেলা থেকেই গান, আবৃত্তি, অভিনয়ের পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট, টেবিল টেনিসেও ছিলেন ভীষণ পারদর্শী। রাইফেল চালানো, শুটিং, ডিবেট অর্থাৎ তর্ক-বিতর্কেও তিনি ছিলেন উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত। জুডো-কারাতে ব্রাউন বেল্ট পেয়েছিলেন ১৯৬৮ সালে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও বিভিন্ন রকম আন্দোলনের ইতিহাস ছিল তাঁর প্রিয় বিষয়। চে গুয়েভারা, খালিল জিবরান, মাও সেতুং, ব্রার্ট্রান্ড রাসেল, জন এফ কেনেডি তাঁর প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
বই পড়ায় ছিল তাঁর বিস্ময়কর ধৈর্য। বাসার অ্যাকুরিয়ামে যে মাছগুলো ছিল, তাদের বংশপ্রজাতি সম্পর্কে বই কিনে মুখস্থ করে ফেলেছিলেন রুমী। বাসার অ্যালসেসিয়ান কুকুরটার সম্পর্কেও বই কিনে পড়েছিলেন। তিনি এক মিনিট সময়ও নষ্ট করতেন না। বুয়েটে (বতর্মান) চান্স পাওয়ার পর কিছুদিনের বিরতি ছিল। সেই সময়টাতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ক্লাস করেন। অথচ তিনি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র।
আমেরিকার শিকাগোতে চান্স পাওয়ার পরও তিনি পড়তে যাননি। নিজের ভবিষ্যতের কাছে বড় হয়ে ওঠে তাঁর কাছে দেশের ভবিষ্যৎ। যোগ দেন মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণে। প্রিয় সন্তানকে যেতে দিতে মন চাইছিল না মা জাহানারা ইমামের। কিন্তু সন্তানের প্রবল দেশপ্রেমের কাছে নতি স্বীকার করতে হলো তাঁকে। জননী জাহানারা ইমাম বাধ্য হয়ে সন্তানকে বললেন, ‘যাহ, তোকে দেশের জন্য কুরবানি করে দিলাম।’
জননী জাহানারা ইমাম বুঝে গিয়েছিলেন যে রুমী যুদ্ধে গেলে হয়তো আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। মায়ের মন যেন বুঝে গিয়েছিল সন্তানের বিপদের কথা।
আমেরিকার শিকাগোতে পড়তে যাওয়ার পরিবর্তে রুমী চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধে। ভীষণ আদর-যত্নে বড় হওয়া রুমী অর্ধাহারে-অনাহারে, বনেজঙ্গলে, ধুলাবালি কাদামাটি মেখে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিলেন।
প্রযুক্তিবিদ্যাকে গ্রহণের পরির্বতে আলিঙ্গন করেছেন মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্রকে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী রুমী, রুমীর বাবা ও তাঁর ভাই জামীকে ধরে নিয়ে যায়। ১৯৭১-এর ২৯ আগস্ট। কিন্তু রুমীকে আর ফেরত পাওয়া যায়নি।
রুমী যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন সেক্টর-২-এর অধীনে মেলাঘর ও আগরতলা থেকে। রুমী দক্ষতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন ১৯৭১ সালে। খুব কম সময়ে তিনি তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে হয়ে ওঠেন ‘আদর্শ মুক্তিযোদ্ধা’।
১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট তিনি তাঁর বাসায় ছিলেন। তাঁর বাবা, ভাই ও তাঁকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানিরা। ভয়ানক অত্যাচার করে ছেড়ে দেয় রুমীর বাবা ও ভাইকে। দেহ ও মনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রুমীর বাবা প্রকৌশলী শরীফ ইমামের হৃদ্ যন্ত্র চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। তিনি দেখে যেতে পারেননি স্বাধীন দেশের মুক্ত আকাশ। তাঁর সন্তানের মতো হাজারো সন্তানের ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশ। তিনি শহীদ হন ১৩ ডিসেম্বর।
রুমীকে হত্যা করা হয় দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই। তাঁর সঙ্গে হত্যা করা হয় তাঁর সহযোদ্ধা বদি, ///////চুলঊ,//// শিল্পী আলতাফ মাহমুদসহ আরও অনেককে।
রুমী বুকের রক্ত দিয়ে লিখে গেছেন বাংলাদেশের নাম। যার চিত্র ফুটে উঠেছে তাঁর মায়ের লেখা বিখ্যাত বই একাত্তরের দিনগুলিতে।

farhana doc newমহান এক চিকিৎসক
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


একজন সাধারণ মানুষ হয়ে ওঠেন মহৎ তাঁর কর্মগুণে। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাঁরা তাঁদের কর্ম, ধ্যান-জ্ঞান, অর্জন সবকিছু উৎসর্গ করে গেছেন মানুষের কল্যাণে। নিঃস্বার্থভাবে করে গেছেন মানুষের উপকার। তাঁদের অনেকেই রয়েছেন ইতিহাসের পৃষ্ঠায় চির অমর। আবার অনেকেই রয়েছেন নাম পরিচয়হীন হয়ে স্মৃতির আড়ালে। পৃথিবী ধন্য হয়েছে এই মহান হৃদয়ের মানুষদের জন্য। এমনই একজন হলেন বাংলাদেশের মহান চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম। যিনি বারডেম হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা।
হৃদয়বান এই চিকিৎসক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক। ভারতের মুর্শিদাবাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯১১ সালে। এমবিবিএস সম্পন্ন করেন ১৯৩৮ সালে। এমআরসিপি ডিগ্রি নেন ১৯৪৯ সালে। আর ১৯৫০ সালে উচ্চতর ডিগ্রি এফসিডিপিতে নাম লেখান। এমআরসিপি, এফসিসিপিএগুলো উচ্চতর ডিগ্রি চিকিৎসাবিজ্ঞানে। তিনি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক। লেখাপড়া, শৃঙ্খলা, মানবসেবা আর দেশপ্রেমে তিনি ছিলেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ছিলেন মেডিসিন ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসক। তিনি সব সময় বলতেন ডায়াবেটিস আছে এমন দরিদ্র ব্যক্তিরাও যেন না খেয়ে, চাকরি ও চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়। ধনী-দরিদ্র বিশেষত যারা অসহায়, তারা কেউ যেন ডায়াবেটিসে চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন। পরে ১৯৫৭ সালে সেগুনবাগিচায় প্রতিষ্ঠা করেন আউটডোরে রোগী দেখার ব্যবস্থা। শাহবাগে ১৯৮০ সালে তিনি স্থানান্তর করেন তাঁর ‘বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামের সেন্টারটি। এই সেন্টারটিই বর্তমানের বারডেম হাসপাতাল। ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ডায়াবেটিক সেন্টারটি ১৯৮২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ডায়াবেটিস হাসপাতালে পরিণত হয়, এবং আরও বড় ও ব্যাপক পরিসরে ডায়াবেটিস চিকিৎসা ও প্রতিরোধ শুরুর জন্য কাজ করতে থাকে, যা এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ছিল ডায়াবেটিসের জন্য প্রথম এমন একটি প্রতিষ্ঠান।
তিনি বিশ্বাস করতেন যে তাঁর ডায়াবেটিসের হাসপাতাল উচ্চমানের ইট, পাথর আর যন্ত্রপাতিতে উন্নতির খাতায় নাম লেখাবে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য চাই দক্ষ ও হৃদয়বান কর্মী, যাঁরা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করবেন। ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম ছিলেন এমনই একজন মানুষ। যিনি তাঁর সারাটি জীবন, ধ্যানজ্ঞান উৎসর্গ করে গেছেন মানুষের কল্যাণে, দরিদ্র রোগীদের সেবা করার জন্য। রোগীদের জন্য ছিল তাঁর অকল্পনীয় ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্ববোধ। বিশেষত দরিদ্র, অসহায় রোগীদের জন্য ছিল তাঁর অকল্পনীয় মায়া ও মমতাবোধ।
ঢাকার সেগুনবাগিচায় গড়ে তোলা তাঁর সেই ছোট্ট সেন্টারটিই আজ পৃথিবী বিখ্যাত এই হাসপাতালে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীসহ অন্য রোগীদেরও চিকিৎসা হয়। বর্তমানে এটি প্রায় ৭০০ বেডের হাসপাতাল। এই হাসপাতালে একই সঙ্গে চিকিৎসক, অপারেশন ও গবেষণা হয়। বারডেম-এর সম্পূর্ণ নাম হলো ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশান ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারস।’
অধ্যাপক ডা. ইব্রাহিম স্বপ্ন দেখতেন যে তাঁর হাসপাতাল হবে দরিদ্রদের সেবা করার জন্য সেরা প্রতিষ্ঠান।
তিনি তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন বিভিন্ন পদবীতে সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করে। তাঁর মূল্যবান অবদানের জন্য বাংলাদেশের সরকার তাঁকে ১৯৮৪ সালে দেশের সকল চিকিৎসকদের মধ্যে প্রথম জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত করেন। সেগুনবাগিচায় মাত্র ২৩ জন রোগী নিয়ে টিনের তৈরি ঘরে শুরু হয়েছিল দরিদ্র ডায়াবেটিক রোগীদের চিকিৎসা। তখন সেগুনবাগিচায় কোনো ইনডোর (Indoor) ছিল না। অর্থাৎ রোগীদের ভর্তি করে রাখা যেত না। ভর্তি করার জন্য রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হতো। অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের উদ্দেশ্য ছিল জাত-ধর্ম-বর্ণ শ্রেণিনির্বিশেষে সব ধরনের দরিদ্র ও অসহায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারী-পুরুষের সেবা দেওয়া। তিনি তাঁর সেগুনবাগিচার হাসপাতালে ডায়াবেটিসের রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসাগুলো সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করতেন। ধনী রোগীদের কাছ থেকেও টাকা নিতেন না। কেউ স্বেচ্ছায় বিশেষত কোনো ধনী ব্যক্তি আর্থিক সহযোগিতা দিলে তিনি তাঁর সেগুনবাগিচার হাসপাতালের জন্য তা গ্রহণ করতেন। সমাজকর্মী, জনহিতৈষী কাজ ভালোবাসেন এমন ব্যক্তি ও সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন বারডেমের মান উন্নয়নের জন্য, তাঁর কাজে সহযোগিতার জন্য এবং তিনি তাঁর হাসপাতালের জন্য তাঁর এই মহৎ কাজের জন্য সরকারি পর্যায় থেকেও সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছিলেন। মাত্র ২৩ জন রোগী নিয়ে শুরু হওয়া তাঁর ওই সেগুনবাগিচার হাসপাতালের বর্তমান পরিণতি আজ শাহবাগের বারডেম। যেখানে একই সঙ্গে হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা হয়। গবেষণা ও জরিপ করে দেখা গেছে, এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল যে একই সঙ্গে এবং এক ছাদের নিচে এত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হয়, যা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতেও হয়নি। একজন অধ্যাপক ইব্রাহিম শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো পৃথিবীতে চিকিৎসক ও এত বড় হাসপাতালের কর্ণধার হিসেবে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি ১৯৭০ সালে ‘স্বাস্থ্য সচিবালয় ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের’ প্রধান দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সফল চিকিৎসক, সফল শিক্ষক, সৎ ও আদর্শবান একজন মানুষ। মেধা, দূরদর্শিতা, ব্যবস্থাপনাতে তাঁর দৃষ্টান্ত বিরল।
তিনি সময়ের যথেষ্ট মূল্য দিতেন। তাঁর সারা জীবন তিনি উৎসর্গ করে গেছেন মানুষের কল্যাণে, দরিদ্র অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য। বারডেমের চিকিৎসকদের আরও দক্ষ করার জন্য চালু করেছিলেন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিভিন্ন কোর্স। যা এখন পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে চলছে। তাঁর নিয়মনীতি মেনে এখন পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছে বারডেম। তাঁর স্বপ্ন পূরণের প্রয়াসে, দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য ২০০২ সাল থেকে চালু হয়েছে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ। বর্তমানে নার্সিং কলেজও সফলভাবে চলছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক গবেষক বারডেমে আসেন গবেষণা করার জন্য। ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণা করেন।
একজন অধ্যাপক ডা. ইব্রাহিমের বারডেম হাসপাতাল মেলেই চলেছে তাঁর স্বপ্নের ডালপালা। স্বপ্নদ্রষ্টা অধ্যাপক ডা. ইব্রাহিম মারা যান ঢাকাতে ১৯৮৯ সালে। তাঁর বারডেম হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগ, শিশু বিভাগ এবং হরমোন ও ডায়াবেটিস বিভাগ বর্তমানে স্থানান্তরিত রয়েছে সেগুনবাগিচায়। শাহবাগে স্থান সংকুলানের অভাবে এবং বর্তমানে সেখানে চলছে সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসা। অধ্যাপক ইব্রাহীম অমর হয়ে রয়েছেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে। তিনি চিকিৎসক ও চিকিৎসা জগতের মহান আদর্শ।


ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা।

farhana doc newশ্রেষ্ঠ সংগঠক হওয়ার মূলমন্ত্র
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


সংগঠক মানে সংগঠনের নেতা। আর নেতা মানে অনেক মানুষের সমর্থন পাওয়া। স্থান, কাল, পাত্রভেদে যেকোনো মানুষের মন জয় করা ভীষণ কঠিন কাজ। নেতা মানে সাধারণ মানুষ নন, মানুষদের প্রিয়পাত্র। দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাত্র। একজন সাধারণ মানুষের ব্যক্তিত্ব যখন অগণিত মানুষকে মুগ্ধ করে, সেই মানুষটি অন্যদের কাছে অভিভাবক বা আদর্শ হয়ে ওঠেন, সেই মানুষটি তখনই স্থান পান সবার মনে। কর্মগুণে একজন সাধারণ মানুষই হয়ে ওঠেন একজন মহান নেতা বা একজন পথপ্রদর্শক।
একজন নেতা সাধারণ মানুষ থেকে অসাধারণ তখনই হয়ে ওঠেন, যখন তাঁর ব্যক্তিত্বে যুক্ত হয় অনেকগুলো গুণ। যেমন : একজন নেতার মধ্যে থাকতে হবে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। নেতৃত্ব দেওয়ার মতো মনোবল ও চিন্তাশক্তি থাকাটা ভীষণ জরুরি। একজন নেতাকে যেকোনো বৈরী পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দিতে জানতে হবে। পুরো সংগঠন বা গোষ্ঠী বা জাতি অভিভাবক মানে একজন নেতাকে, নেতৃত্বের বলিষ্ঠ গুণে একজন সাধারণ মানুষই হয়ে ওঠে অসাধারণ।


হতে হবে সত্যবাদী ও ধৈর্যশীল
সমাজ বা জাতি কী ভাববে, এই চিন্তা মুছে ফেলে সত্যবাদী হতে হবে। মিথ্যার জয় ক্ষণস্থায়ী। সত্যের জয় চিরস্থায়ী। এই তীব্র সত্যকে বুকে ধারণ করেন একজন মহান নেতা। সত্য বলার সঙ্গে থাকতে হবে বিপদে ধৈর্য ধারণের দৃঢ় মানসিক শক্তি। একজন বড়মাপের নেতা যেকোনো বিপদে মনোবল হারান না। তিনি পুরো জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে থাকেন। আনন্দ-বেদনা সবকিছুর মধ্যে তিনি থাকেন তাঁর দায়িত্বে অটল।


থাকতে হবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক সাহস
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোন সিদ্ধান্তটি জনগণ বা অনুসারীদের জন্য নিরাপদ, সেই চিন্তাটিও মাথায় রাখাটা যথেষ্ট জরুরি।


চাই বন্ধুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভঙ্গি
জীবনে কষ্ট থাকবেই। ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে সামনে চলতে হবে। জয়লাভের জন্য চাই জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নেতাকে হতে হবে সৃজনশীল ও সুশিক্ষিত। মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করার অতুলনীয় ক্ষমতা থাকে একজন নেতার মস্তিষ্কে।


দরকার অফুরন্ত সাহস
নেতা হওয়ার জন্য প্রয়োজন বৈরী পরিস্থিতিতে অফুরন্ত সাহস। মানসিক শক্তি থাকতে হবে খুব বেশি একজন শ্রেষ্ঠ সংগঠক বা নেতার। একজন মহৎ নেতার উদ্দেশ্য থাকে দলের একজনকে খুশি করা নয়, পুরো জাতির মঙ্গলসাধনই হলো একজন মহান নেতার উদ্দেশ্য। একজন দক্ষ নেতাকে হতে হবে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। তিনি হন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। জনগণের ভালো-মন্দ তিনি সবার আগে বোঝেন বা গুরুত্ব দেন।


হতে হবে স্বপ্নদ্রষ্টা
বিপদ যেকোনো মানুষের জীবন বা সংগঠনের জন্য অপরিহার্য। তাই বলে মন ভেঙে ফেললে চলবে না। একজন নেতা হচ্ছেন স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি দুঃখের মধ্যেও মনোবল হারান না। পুরো সংগঠনকে উৎসাহিত করেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।


প্রয়োজন চারিত্রিক গভীরতা
চারিত্রিক গভীরতা ও দৃঢ়তা থাকাটা ভীষণ জরুরি। একজন নেতার এমন কিছু করা উচিত নয়, যা অন্যের জন্য হবে হাস্যকর। কারণ, দলের প্রধান নেতাকে সবাই অনুকরণ করে। তাই দলনেতাকে হওয়া উচিত দলের আদর্শ। যাকে অনুসরণ করে একজন মানুষ হবে অনুপ্রাণিত। যেমন: নেলসন ম্যান্ডেলা, যিনি নেতা হিসেবে সারা পৃথিবীতে ব্যাপক সম্মানিত।


ভেদাভেদপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক
একজন বড়মাপের নেতার মনে অহমিকা থাকাটা উচিত নয়। তাঁকে স্মরণ রাখতে হবে যে ভেদাভেদপূর্ণজ্ঞান দলের মধ্যে ফাটল ধরায়। অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ভালো হওয়ার জন্য দলের বা সংগঠনের সবার মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক থাকাটা জরুরি। একজন নেতা তাঁর সংগঠনকে শ্রেষ্ঠ বানানোর জন্য সংগঠনের সবার মতামতের সমষ্টিকে প্রাধান্য দেন। শুধু নিজের মতামতকে শ্রেষ্ঠ বলে সবার ওপরে চাপিয়ে দেন না।
সংগঠন মানেই একেকজনের মতামত একেক রকম হবে। কারও সঙ্গে কারওটা নাও মিলতে পারে। যেটা সংগঠনের জন্য ভালো, সেটাই গ্রহণ করতে হবে।


পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকাটা আবশ্যক
নিজের দেহের প্রতি যত্নশীল হওয়া মানে নিজেকে শ্রদ্ধা করা। একজন মানুষ সুস্থ না হলে কোনো কাজই তার ভালো লাগবে না। প্রকৃত নেতারা অসৎ সঙ্গ, নেশা, মাদক থেকে থাকেন হাজার মাইল দূরে। কারণ, একটি সংগঠনকে চালানোর জন্য নিজেক হতে হবে সুস্থ-সবল। পৃথিবীর বিখ্যাত নেতাদের জীবনী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাঁরা ছিলেন শারীরিক ও মানসিকভাবে যথেষ্ট সবল।
সমাজের অসংগতিগুলো তাঁদের দুর্বল করতে পারেনি বলেই তাঁরা সাধারণ মানুষ থেকেও জয় করেছেন মানুষের হৃদয়। নিজের কর্মগুণে স্থায়ী হয়েছেন ইতিহাসের স্বর্ণালি পৃষ্ঠায়।


চাই আত্মবিশ্বাস
একজন নেতাকে হতে হবে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তাঁকে হতে হবে তাঁর কাজের প্রতি সৎ। সেই সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন তা যেন পুরো সংগঠনের জন্য হয় মঙ্গলজনক। সেটা তাঁকে খেয়াল রাখতে হবে। দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকলে মানুষ বিপদের দিনেও মনোবল হারান না। অন্য মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করতে সমর্থ হন।
একজন সফল নেতার কাজের ব্যাখ্যা তাঁর কাছে থাকে। তাই তাঁর অনুসারীরাও হয়ে ওঠে তাঁর মতো পরিশ্রমী। সবার মধ্যে ভালো সম্পর্ক আর আত্মবিশ্বাস থাকলে বিপদের দিনেও কর্মীরা হয়ে উঠবে কর্মতৎপর। সংগঠন এগিয়ে যাবে সামনের দিকে।


থাকতে হবে জবাবদিহির পর্ব
একজন নেতাকে সব সময় তার অনুসারীদের সামনে জবাবদিহি করতে হবে। মিটিংয়ের মাধ্যমে সংগঠনের ভালো-মন্দগুলোকে সবার সঙ্গে পর্যালোচনা করতে হবে। পাছে লোকে কিছু বলে, এই চিন্তা বাদ দিয়ে কীভাবে কর্মী বা অনুসারীদের আরও উন্নত করা যায়, এই চিন্তাই মুখ্য হওয়া উচিত একজন নেতার।
নেতা নিজেও তাঁর কৃতকর্মের জবাবদিহি করলে সবার মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যায় কাজের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। এতে মনোমালিন্যের অবসান হবে। বড়-ছোট ভুল- ত্রুটিগুলো সব দূর হয়ে থাকে। তাই নিয়মিত বসে কাজের বা পরস্পরের প্রতি দায়িত্বের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণটা ভীষণ জরুরি।


সঠিকভাবে কাজ বিতরণ
কাজের চাপে নেতাকে উদাসীন হলে চলবে না। খেয়াল রাখতে হবে, শুধু একজনকে দিয়েই যেন বারবার কঠিন কাজটা করানো না হয়। দায়িত্ব সবার মধ্যেই যেন সঠিকভাবে বণ্টন করা হয়।
আবার, এটাও খেয়াল রাখতে হবে, সংগঠনে সবার কাজের ক্ষমতা সমান নয়। পরিবেশ, স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কাজের সুষ্ঠু বণ্টন হওয়াটা ভীষণ জরুরি।


হাস্যরসবোধ
শুধু কাজের বোঝা নিলেই চলবে না। জীবনটাকে উপভোগ করার জন্য সংগঠনের মধ্যে আনন্দ আড্ডা বা অনুষ্ঠান, বিনোদনের আয়োজনটাও থাকা দরকার। তা না হলে জীবন হয়ে উঠবে শুধুই কাজের বোঝা। গুরুগম্ভীরতায় মানুষ হারিয়ে ফেলবে কাজের স্পৃহা। মনে রাখবেন, আনন্দ আয়োজনটা কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য নয়, কাজে উৎসাহ ফিরিয়ে আনার জন্য।


স্বার্থহীনতা
একজন নেতাকে শুধু নিজের স্বার্থচিন্তা করলে চলবে না। একজন মহান নেতা থাকেন স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁকে খেয়াল রাখতে হবে, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হয় একটি সংগঠন, যে সংগঠনে রয়েছে অনেক অনুসারী, অনেক কর্মী।
তাই শুধু নিজের স্বার্থ বা ব্যক্তিগত জীবনের কথা চিন্তা করলে চলবে না। একজন নেতার কাজকর্ম, উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন হতে হবে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে তা হতে হবে পুরো সংগঠন বা জাতির জন্য।


ভালো কাজের স্বীকৃতি
কর্মীদের সমালোচনা করতে হবে তাদের আঘাত না দিয়ে। যেন সংগঠনের কারও মনে ক্ষোভ না জন্মে। দীর্ঘদিনের দুঃখ-ক্ষোভ থেকেই তৈরি হয় বড় বড় অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তাই সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রাখাটা ভীষণ দরকারি।
কোনো কর্মীর ভালো কাজের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা উচিত। এতে ভালো কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়বে। একজন সফল নেতার বৈশিষ্ট্য হলো সফল কর্মী ও সফল সংগঠন তৈরি করা।
একজন সফল সংগঠক বা নেতা এক দিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘ বছরের শ্রম আর সাধনাতে সাধারণ একজন মানুষ বড় একজন নেতা হয়ে ওঠেন। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, দৃঢ় হবেন মস্তিষ্কের অধিকারী যে মানুষটির রয়েছে ব্যবস্থাপনায় তীক্ষ্ণ জ্ঞান, তিনিই হবেন সফল নেতা, শ্রেষ্ঠ সংগঠক।


সূত্র: ইন্টারনেট

farhana doc newএকজন রণদা প্রসাদ সাহাকে লক্ষ কোটি সালাম
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


একজন সাধারণ মানুষই হয়ে ওঠেন মনীষী বা মহিরুহ। সাধারণ একজন মানুষ হয়ে ওঠেন ইতিহাসের স্বর্ণালি অধ্যায়, যখন তাঁর কর্মজগৎ মানুষকে আলোড়িত করে, তাঁর পরিশ্রমী জীবন হয়ে ওঠে মহৎ উদাহরণ। এমনই একজন হলেন রণদা প্রসাদ সাহা। যাঁর জীবনসংগ্রাম বটবৃক্ষের মতো দৃঢ় আর সফলতা আকাশের মতো ব্যাপক ও বিস্তৃত।
রণদা প্রসাদ সাহা, যাঁর অপর নাম হলো আরপি সাহা। যিনি জন্মগ্রহণ করেন ঢাকার সাভারে ১৮৯৬ সালের ১৫ নভেম্বর। তাঁর বাবার নাম দেবেন্দ্রনাথ কুমার সাহা এবং মা হলেন কুমুদিনী সাহা। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি তাঁর মাকে হারান। তাঁর মা সন্তান জন্মদানের সময় টিটেনাস নামক একধরনের ইনফেকশনজনিত রোগে মারা যান। দরিদ্রতা ও চিকিৎসার অভাবে পরপারে চলে যান তাঁর মা। মাত্র সাত বছরের শিশুর মনে এই বিষয়টি গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি বড় হয়ে এমন কিছু করবেন, যেন কোনো মা এভাবে সন্তান জন্মদানের সময় চিকিৎসার অভাবে মারা না যান। তাঁর এই স্বপ্নই পরবর্তী কালে নেয় সত্যের রূপ।
তাঁর চারপাশ ঘিরে ছিল দারিদ্র্যের অক্টোপাস। অর্থাভাবে তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে নতুন জীবনের সন্ধানে কলকাতায় গমন করেন। তিনি তৃতীয় শ্রেণির বেশি পড়তে পারেননি। অর্থাভাবে তিনি ১৬ বছর বয়সে কলকাতায় গিয়ে কুলিগিরি থেকে শুরু করে সব রকম কাজ করেন। জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার জন্য তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করতে থাকেন।
সমাজের সব শ্রেণির মানুষ বিশেষত দরিদ্র, অসহায়, বঞ্চিত ও অবহেলিত নারী সমাজের উন্নতির জন্য তিনি নিজের জীবন, ধনসম্পদ সব অকাতরে বিলিয়ে দেন। অক্লান্ত, অমানবিক পরিশ্রম করে তিনি সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে যান। তাঁর জীবন বিচিত্রতায় ভরপুর। একসময় স্বদেশি আন্দোলনে অংশ নেন। প্রথম মহাযুদ্ধেও তিনি অংশ নেন। প্রথমে আর্মি অ্যাম্বুলেন্স এবং পরে যুক্ত হন ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে। শ্রম, মেধা আর বীরত্ব দিয়ে তিনি অর্জন করেন ‘সোর্ড অব অনার।’
সম্রাট ভম (পঞ্চম) জর্জ তাঁকে বিলেতে (বর্তমান লন্ডন) আমন্ত্রণ জানান। রেলস্টেশনে কিছুদিন চাকরি করেন। চাকরি করার পরে কয়লা এবং নৌপরিবহনের ব্যবসা শুরু করেন। এভাবে বাঙালিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত বেঙ্গল রিভার সার্ভিসের যাত্রা তাঁর মাধ্যমে। তিনি পড়ালেখা করার সুযোগ পাননি। কিন্তু পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে ব্যবসা করে তিনি উপার্জন করেন অনেক অর্থসম্পদ। তিনি লবণ, কয়লা, জাহাজ, চামড়া, খাদ্যদ্রব্য, পাওয়ার হাউসের ব্যবসা করেন। তাঁর ব্যবসা ক্ষেত্রের মাধ্যমে তিনি অনেক দরিদ্র পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন।
একই সঙ্গে নারী শিক্ষা, দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান, সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করার জন্য তিনি সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অসহায় অসংখ্য পরিবারকে তিনি অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন। সমাজ থেকে ধর্মীয় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কারগুলো দূর করার জন্য তিনি গড়ে তোলেন সামাজিক আন্দোলন। দরিদ্র মানুষকে দান করার জন্য তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন দানবীর নামে।
বিভিন্ন স্থানে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি সাহায্য করতে থাকেন। ত্রিশের দশকের দিকে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। হাজার হাজার মানুষ মরতে থাকে। তিনি নিজের অর্জিত অর্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলেন প্রায় ৩০০ লঙ্গরখানা। টানা আট মাস এই লঙ্গরখানার মাধ্যমে তিনি দেশের অসহায়, অনাহারী মানুষগুলোকে খাবার দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন দাতব্য চিকিৎসালয়।
তাঁর নিজের এলাকায় নিজ অর্থে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কুমুদিনী হাসপাতাল। এই হাসপাতালটিই বর্তমানে রূপ নিয়েছে বিশাল এক প্রতিষ্ঠানে। একই সঙ্গে এটি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ। এখানে দুস্থ মানুষের চিকিৎসা হয়।
তিনি ছিলেন নারী শিক্ষার একজন অগ্রগামী দূত। অবহেলিত নারী সমাজের জন্য তিনি গড়ে তুলেছিলেন ভারতেশ্বরী হোমস। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি টাঙ্গাইলে প্রতিষ্ঠা করেন কুমুদিনী মহিলা কলেজ। মানিকগঞ্জে গড়ে তোলেন দেবেন্দ্র কলেজ। রণদা প্রসাদ সাহা তাঁর বিভিন্ন ধরনের জনহিতৈষীমূলক কাজের জন্য গঠন করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট।
নারী জাগরণ, সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করার জন্য তিনি কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। তাঁর সময়ে নারীরা ছিল অনেক অবহেলিত ও বঞ্চিত। তিনি সেই বঞ্চিত নারী সমাজের জাগরণ, সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করা এবং সমাজের অসহায় মানুষগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। আমৃত্যু তিনি সমাজের উন্নতির জন্য কাজ করে গেছেন।
তিনি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী। শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আকর্ষণ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজকে পরিবর্তন করা সম্ভব। এই বোধ থেকে ১৯৫৫ সালে মির্জাপুর আনন্দ নিকেতন নাট্যমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁর হাতে। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় পাকিস্তানের আইয়ুব সরকার তাঁর এই ভালো কাজগুলোকে সম্মানে ভূষিত করেন। তিনি রণদা প্রসাদ সাহাকে ‘হেলালে পাকিস্তান’ নামে খেতাব দেন।
কিন্তু তিনি এই খেতাব গ্রহণ করেননি। পাকিস্তান সরকারের খেতাব প্রত্যাখ্যান করার জন্য পাকিস্তান সরকার তাঁর প্রতি ভীষণ বিরক্ত হন। পাকিস্তানিরা বাঙালিদের অনেক অত্যাচার করেছে। এই অন্যায়-অবিচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার নয়। তাই তিনি এত মূল্যবান খেতাব পেয়েও তা গ্রহণ করেননি।
খেতাব প্রত্যাখ্যান করার জন্য পাকিস্তান সরকার তাঁর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ধ্বংস করার অনেক অপচেষ্টা চালান। তাঁর বিত্ত বৈভব, ক্ষমতা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ভালোবাসার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেন। তিনি তাঁর সব অর্জিত অর্থ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করে গেছেন।
১৯৭১ সালে ৭ মে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ২৭ বছর বয়সী ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে পাকিস্তানি বাহিনীর লোকেরা ধরে নিয়ে যায়। দীর্ঘ বছর পর্যন্ত সবাই বিশ্বাস করত যে তিনি ও তাঁর ছেলে ফিরে আসবেন। কিন্তু তাঁদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি। পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, তাঁর ছেলে রাজীব প্রসাদ সাহার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।
সন্তানের মাত্র তিন বছর বয়সে রাজীব প্রসাদ সাহার মা বিধবা হয়ে যান। রণদা প্রসাদ সাহার এই নাতির তত্ত্বাবধানেই তাঁর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়েছে। কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে চলছে ভারতেশ্বরী হোমস। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত হয়েছে কুমুদিনী গার্মেন্টস অ্যান্ড ট্রেড ট্রেনিং স্কুল, কুমুদিনী হ্যান্ডিক্রাফট, কুমুদিনী ফার্মাসিউটিক্যালস, নার্সিং কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট। রণদা প্রসাদ সাহার ট্রাস্ট দিনে দিনে বিস্তৃত হয়েই চলেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন রকম মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইলের অসংখ্য পরিবারের অসহায় দুস্থ মানুষগুলোর জীবিকারও উৎস হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।
কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট দিনে দিনে বড় হয়েই চলেছে। একজন রণদা প্রসাদ সাহা ক্রমেই বড় হয়েই চলেছেন। তাঁর মহৎ কাজের বটবৃক্ষটি ক্রমেই ডালপালা, শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে বড় হয়েই চলেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার রণদা প্রসাদ সাহাকে ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে সম্মানিত করে। তাঁর প্রতিষ্ঠানকে (কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে) একই পুরস্কারে ভূষিত করে ১৯৮৪ সালে।
দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা বেঁচে আছেন তাঁর কর্মগুণে। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় তিনি চির অম্লান। মৃত্যু তাঁকে পরাজিত করতে পারেনি। তিনি মানুষের হৃদয়ে সোনালি অক্ষরে মুদ্রিত।
তাঁর জীবন এক মহান ও বিরল আদর্শ। শ্রম, মেধা ও সমাজ সংস্কারের তিনি এক বিমূর্ত প্রতীক। এক রণদা প্রসাদ সাহাকে লক্ষ কোটি সালাম। তিনি মরে যাননি। তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মের মাঝে, তাঁর কীর্তির মাঝে। বিরল এই দানবীরকে জাতির স্যালুট।

ভূতের দেশ
-মৌমিতা মান্না

সবাই বলে ভূতের দেশ
কোথাও একটা আছে,
কেউ জানে না কোথায় সেটা
দূরে কিংবা কাছে ।
কেউ বা বলে দিনের শেষে
সূর্য যখন পাটে,
হাজার ভূতের মেলা বসে
তেঁতুলতলার মাঠে ।
অমাবস্যার গভীর রাতে
একলা কাউকে পেয়ে,
শাকচুন্নি, ভূত - পেত্নি,
ডাইনি আসে ধেয়ে ।
কেউ বা বলে, আরে না-না-
থাকে না পথে - মাঠে,
ভূতরা ছোটে মড়ার খোঁজে
কবর, শ্নশান ঘাটে ।
ভূত দেখেনি স্বচক্ষে কেউ
তবু ভূতের নামে
আঁধার রাতে ছেলে - বুড়ো
সবাই ভয়ে ঘামে ।

Nabadibakar_Writer_46

নিয়মের হিসাব
- বিভূতি চক্রবর্তী

অনাগত দিনগুলি কাদের আশ্বাস নিয়ে কাটে?
আমি জানি না, আমি মানি না, তবুও যে চলি,
দিনের হিসাব বড়ই জটিল, হৃদয়ের এই হাটে-
তবুও তো ভাই, নিরুপায় তাই, দু'পায়ে দলি।
সামনে তোমার উজ্জ্বল দিন, আলোর হাতছানি,
হিসাবের খাতা নিয়ে জীবনের দিন কি দাঁড়ায়?
মনের ভাবনা কোন পথ ধরে চলবে তা জানি-
নিয়মের হিসাব মেনেও তাই, সবই যে হারায় !

আগরতলা, ২২/০৩/২০১৬ ইং ।

বিষাক্ত মন
- মিন্টু উপাধ্যায়

মনটা বিষিয়ে উঠলো কুন্তল রায়ের ।
এত দিন শুধুই সন্দেহ ছিল, আজ তা নিশ্চিত হল ।
ওনার স্ত্রী নিরুপমার সাথে ওনারই অফিসের জয়দেব বাবুর ঘনিষ্ট সম্মন্ধ আছে ।
অফিস ফিরতি পথে কাঁধে ঝোলানো বেগটা চেপে ধরে দেখে নিলেন তিনি ।
ছুরিটার অস্তিত্বটা ভাল মতই বুঝতে পারলেন ।
এখনও অনেক কাজ বাকি আছে, তাই তিনি দ্রুত হাঁটা লাগালেন বাসস্থানের দিকে ।

ডালিয়া
- মিন্টু উপাধ্যায়


অনেকদিন পর ডালিয়া সুমিতের দেখা পেল ।
কিন্তু এই অবস্থায় তাকে দেখবে সে ভাবতেও পারেনি, ডালিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ।
এক সময় তার কম পেছনে লাগেনি ছেলেটা ।
বন্ধুদের মুখেই শুনেছিল ছেলেটা নাকি তাকে খুবই ভালবাসে ।
যখনই তার দেখা পেত, ছেলেটা শুধু হা করে তার মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকতো ।
বড়ই অস্বস্তি লাগতো তার । সেই পাত্তা দিত না ছেলেটাকে ।
রাগের মাথায় একদিন চড় ও মেরেছিল তাকে, ছেলেটা মাথা নিচু করে চলে গিয়েছিল ।
তারপর আর তার দেখা পায়নি ডালিয়া ।
হটাৎ প্রেমে দাগা খাওয়ার পরই ডালিয়া বুঝেছিল সুমিতের মনের কথা, ওর হৃদয়ের যন্ত্রণার কথা । তখন নিজেকে বড়ই ছোট মনের মানুষ মনে হয়েছিল ।
সুমিতকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেরিয়েছিল ডালিয়া, কিন্তু পায়নি তাকে ।
একটু একটু করে সেও সুমিতকে ভালবেসে ফেলেছিল ।
সুমিতের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছিল সে, না জানি কবে তার সাথে দেখা হবে ।
মনে মনে ভেবেছিল সেই দিনের আচরণের জন্য সে ক্ষমা চেয়ে নেবে তার কাছে ।
কিন্তু এই অবস্থায় তাকে দেখবে, ডালিয়া ভেবে উঠতে পারেনি ।
বাঁশের খাটে, সাদা চাদরে ঢাকা সুমিতের নিথর শরীরটা দেখে ডালিয়া কেঁপে উঠলো ।
চারদিকে ভিড়, গুঞ্জন, কোলাহল । তার মধ্যেই কেউ একজন বলে উঠলো -
আরে দাদা এটা প্রেমের কেস... বুঝলেন না ।
ভালবাসার মানুষটাকে হারিয়েই, যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ছেলেটা সুইসাইড করেছে ।
কথাটা কানে যেতেই ডুকরে কেঁদে ফেলল ডালিয়া ।

farhana doc newগোলাপি রং পেন্সিল
– ডাঃ ফারহানা মোবিন


ঢং ঢং ঢং। ঘন্টা পড়ে গেল আনন্দ বিদ্যালয়ের। সবাই দৌড়ে বেরিয়ে গেল শ্রেণীকক্ষ থেকে। শুধু মাত্র শিশির ছিল চেয়ারে বসে। তার দৃষ্টি আটকে গিয়েছিল মেঝেতে পড়ে থাকা গোলাপি রং পেন্সিলটির দিকে। শিশির ভালোভাবেই জানত যে, পেন্সিলটি বাদলের। কিন্তু শিশির কাউকে কিছু না বলে চুপ করে মেঝেতে পড়ে থাকা রং পেন্সিলটি নিয়ে নিল। কেউ দেখতে পেলো না।
গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে সবাই চলে গেল বাড়ি। এই গোলাপি রং পেন্সিলটা দীর্ঘদিন থেকে শিশিরের খুব পছন্দ হয়েছিল। শিশিরের বাসার জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল কাঠঠোকরা পাখি। শিশির খুব সুন্দর করে এঁকে ফেলল সেই পাখির ছবি। বাবা পাখির ছবিটা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। রং পেন্সিল দেখে বাবা বলল, তুমি এতো সুন্দর পেন্সিল কোথায় পেয়েছো? শিশির সব ঘটনা খুলে বলল।
বাবা বললো, শিশির এভাবে আর কোন জিনিস কাউকে না বলে নিবে না। এটা উচিৎ না। তুমি ভালো করেই জানো যে, এই রং পেন্সিলটা বাদলের। হয়তো কোন কারণে তার কাছে থেকে মেঝেতে পড়ে গেছে, রং পেন্সিলটা নষ্ট হলে বুঝতাম যে, ওটা নষ্ট, তাই বাদল ফেলে দিয়েছে। কিন্তু রং পেন্সিলটা ভালো, তোমার উচিৎ ছিল বাদলের পেন্সিলটা তাকে দিয়ে দেয়া। অথচ তুমি তাকে না জানিয়ে এটা নিয়েছো। এভাবে নেয়াটা অপরাধ।
বাবার কথাটাই ঠিক। শিশির তার ভুল বুঝতে পারলো।
পরের দিন বাদলকে তার রং পেন্সিলটা ফিরিয়ে দিল। রং পেন্সিল ফিরে পেয়ে বাদল খুবই খুশি হলো। শিশিরকে বাদল একটি চকলেট উপহার দিল। কিন্তু রং পেন্সিলের জন্য শিশিরের মনটা খারাপ হয়ে গেল।
স্কুল ছুটি হয়ে গেল। সবুজ ঘাসের উপর দিয়ে বাড়ি চলে গেল শিশির। বাবা তার হাতে উপহার দিলেন পুরো এক বাক্স রং পেন্সিল। শিশির খুব খুশি হলো। এবার সে এঁকে ফেলল বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা। আর সে পতাকার নিচে আনন্দ বিদ্যালয়। ছবিটি দেখে বাবা মুগ্ধ হয়ে গেল। শিশিরকে জড়িয়ে ধরলেন বুকের সাথে শিশির বলল, বাবা আমি আর কোনদিন কাউকে না বলে লুকিয়ে কিছু নিবো না। অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকবো।
বাবা বলল, একদিন তুমি অনেক বড় চিত্রশিল্পী হবে। কথাটা শুনে আনন্দে ভরে উঠল শিশিরের মন।

ক্রিকেট জয়
- জুলফিকার আলী

সোনার দেশের সোনার ছেলে
ক্রিকেটে মাঠ কাঁপায়,
তাদের খেলায় এ দেশবাসী
আনন্দে সব লাফায় ।
টাইগারেরই মতই তারা
ক্রিকেট মাঠে লড়ে,
লাল সবুজের পতাকাটা
উর্ধ্বে তুলে ধরে ।
খেলার মাঠে ঝড় তুলে যায়
ছক্কা আর চারে,
তাদের খেলায় অবাক সবাই
বিপক্ষ দল হারে ।
টাইগারদের খেলায় প্রমাণ
আর সে দূরে নয়,
বিশ্বকাপ পাবে এ দেশ
ক্রিকেট হবে জয় ।

Nabadibakar_Writer_40

চাওয়া
- মেহেদী হাসান আকাশ

জীবন তো সেটা
যেখানে পায় জীবনের মাত্রা
যে দিন গুলোতে ছিলোনা কেউ
শুধু ছিলো জীবনের খর স্রোত আর ঢেউ জীবনটা ছিলো শুধু মায়ার বিছানা
খুজতে ছিলাম পথে পথে সুখের ঠিকানা তুমি এসে জীবনটাকে ভরিয়ে দিলে
আমার থেকে সব খারাপটা কেড়ে নিলে তোমাকে পেয়ে আমি হয়েছি ধন্য
জীবনের যত খারাপ হয়ে যাবে পুণ্য
অনেক খুজে ফিরে তোমায় পাওয়া
সারা জীবন এভাবে ভালোবেসো
এটাই আমার চাওয়া।

Nabadibakar_Writer_13বান্ধবী
- রাজীব চৌধুরী


যে মেয়েটা এখন বিছানায় শুয়ে আছে সে আমার বউ না। আমার বউ বাপের বাড়ি গেছে। উপরন্তু সে কখনোই চশমা পরেনা। কিন্তু এই মেয়েটা পরেআসছে চশমা না দিলে কিছু দেখেনা। আমার ঠোঁট দুইটাও দেখতে পায়না বলে সংগমকালেও সে চশমা পড়ে ছিল যা আমার বিরক্ত হবার মূল কারণ।
আমার বউ মানে মিনি নামের মেয়েটা বড় সহজ সরল।আমি কিন্তু না। আমি বউ বাপের বাড়িতে গেলে বান্ধবী দের সাথে ঘুমাই। ওরা ও আপত্তি করেনা।শুধু এই মেয়েটা বাদে।
খানিক আগে আমার বিয়ের ছবি দেখে মেয়েটা কেঁদে কেটে দুখানা হয়েছে। ইচ্ছামত গালিগালাজ করেছে। এরপর গোঁ ধরেছে সে আর আমার বাসা থেকে যাবেনা।
আর আমিও কেমন?
বাসায় কোন কনডম কেনা ছিলনা।
আমি এখন কি করব?
মেয়েটা শুয়ে আছে। আমিই শুইয়ে রেখেছি। খানিক আগে বউ ফোন করেছে।খাইসি কিনা -ঘুমাইসি কিনা জানার পর জানালো সে আমাকে ছাড়া থাকতে পারতেসেনা। তাই ফেরত আসছে।
এদিকে বান্ধবী র শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে। আমাদের চুমু খাওয়ার আমলেও তা গরম ছিল। এখন নাই। হটাত করেই কি যেন হল। আমি বুঝিনাই।
কে যেন আসছে।
দরজা খুলব?
নাকি......
একটা ফুটো আছে দরজাকবাট এ। ওটা দিয়ে দেখা যাক।
এ কিভাবে সম্ভব?
এই মেয়েটা কিভাবে বাইরে গেল?
আমি তো জানি সে মরে গেছে। কিন্তু যে বেল চাপছে সে অবিকল বিছানায় শোয়া মেয়েটার মতো।
কিভাবে সম্ভব?
আমি দৌড়ে যাই।
বেডরুমে।
গিয়ে দেখি ওখানে আমার বউ শুয়ে আছে। গার্লফ্রেন্ডের সাথে ছবি দেখে সে খানিক আগে আত্মহত্যা করেছে। বাইরে আমার গার্লফ্রেন্ড।সে চশমা পরে। ঘন লাল টুকটুকে লিপস্টিক দেয়।
আমি আবার দরজাকবাট এ তাকাই। ফুটোটা বড় হতে শুরু করেছে। ওখান দিয়ে একটা হাতের আঙুল বেরিয়ে আসছে। রাবারের মত ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে মেয়েটা।
ফুটো দিয়ে মেয়েটা ঢুকে পড়ল ঘরের ভেতর।
তারপর বলল- " বাপের বাড়ি থেকে চলে এসেছি-তোমাকে ছাড়া আমি কি থাকতে পারি?"
আমার তো মাথায় কিছুই ঢুকছেনা। কে ও? আমার চশমাবতী গার্লফ্রন্ডের মত চেহারা। ঠোঁট ও স্তন। অথচ আমার বউ এর মত কথা বলছে।
আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল- "তুমি বাবা হতে চলেছ".।
আমি ততক্ষণে নতুন প্ল্যান করে ফেলেছি। এই মেয়েটা যেই হোক আমি ওকে খুন করব। খুন যখন একটা করেছি আরেকটা করতে দোষ কই?
বেডরুম এ গেলাম।
এরপর আগন্তুক মেয়েটাকে কাছে নিয়ে এসে গলায় নায়লনের দড়ি পড়িয়ে হ্যাচকা টান দিতেই দেখি দড়ির অন্য প্রান্ত এখন লাশের হাতে। মেয়েটা মরে যেতেই ওটা দুজন মিলে আমাকে পড়িয়ে দিল।
এর পর অনন্ত যন্ত্রণা।
আমি আর ফ্যান।
ফ্যান আর আমি।
ঝুলছি
ঝুলছি
ঝুলছি।
.......

Nabadibakar_Writer_46

আশার আলো জ্বালিয়ে তুমি
- বিভূতি চক্রবর্তী

আশার আলো জ্বালিয়ে তুমি কোন দিগন্তে ছড়িয়ে দিলে-
সেই আলোকের ঝর্ণা-ধারায় হৃদয় আমার ভরিয়ে নিলে।
কোথায় গেল আলোর বন্যা? কোন দিগন্তে হারিয়ে গিয়ে-
মনের আলোর দীপ্তি তোমার দিকে দিকেই ছড়িয়ে দিয়ে।
এ কোন আশা, দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে আলোর খেলায়?
আশার পানে দৃষ্টি ফিরাই, জীবন যে ভাই ছুটছে হেলায়-
আলো-আঁধারের গন্ডীটা আজ ছড়িয়ে গেছে অনেক দূরে,
তবুও আমার বন্ধ ঘরের অন্ধ-হৃদয়, চলছে নতুন সুরে।

আগরতলা, ১৬ই মার্চ, ২০১৬ ইং ।

Nabadibakar_Writer_11

ফাগুনের শেষ
- প্রণব বসুরায়

যে তুলিতে একদিন এঁকেছি সূক্ষ্ম রেখা
তার লোম ঝরে যায়, পড়ে থাকে এদিক সেদিক
মাউন্ট করা ক্যানভাসে পাতলা ধুলো জমে...
সেতারের ছেঁড়া তার, মেঝেয় লুটোনো মেরজাই
কোন অববাহিকার ইঙ্গিত দেখাতে পারে নি...

দেহাতি যুবতীর চোখেও যে সারল্য মাখামাখি থাকে
তেজি ঘোড়ার সঙ্গে তার তুলনা করছি অনায়াসে
খেত থেকে উপড়ে নিচ্ছি আখ, পোকাহীন
টোকা মাথায় বৃষ্টিতে ভেজা অমলিন লাগে বলে
তোমার কাছে নিমন্ত্রণের চিঠি পাঠিয়ে দিলাম

ফাগুনের শেষ এলোমেলো করে দেয়
ফাগুনের শেষ মেরে ফেলে আবার বাঁচায়

১২/০৩/২০১৬

Nabadibakar_Writer_46

জীবনের বোঝা
- বিভূতি চক্রবর্তী

এ এক যন্ত্রণা ! তোমাকে হারিয়ে আমি নিজেই যে হারি-
জীবনের বোঝা গুলি তাই বুঝি আজ হয়ে গেছে ভারি।
বলো- " কে আমার সামনে দাঁড়াবে এসে এক পাশে?"
অকারণে বসে বসে সে যে মনের ছায়ায় নীরবে হাসে।
নীরব হাসির আড়ালে বসেই কে তুমি হাসছো এসে ভাই,
বুঝিলাম, এ জীবনে যার দাম বেশী, তারেই খুঁজতে চাই।
কান্না-হাসির মুখোমুখি হয়ে, কি তুমি আজ বলতে চাও?
জীবনের বোঝা বয়ে বয়ে নিঃশব্দে তুমি ও এগিয়ে যাও।

আগরতলা, ১২ই মা্র্চ, ২০১৬ইং ।

Nabadibakar_Writer_33

মানবতার বলী
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মা তোমার বুকে তোমার সন্তান আর একবার
জাগিয়ে তুলো;যে সন্তান মানবতা ফিরিয়ে
আনবে, যত সব নষ্ট কালো আধার অনলে
পুড়িয়ে ছারখার করে দিবে।
যে সন্তান তোমার সন্মান বাঁচিয়ে রাখার
লড়াই করে যাবে,রক্ত দিয়ে হলে ও তোমার
সন্মান রক্ষা করবে।

বিদেশী সংস্কৃতি জাল ছিন্ন করে স্বাধীন
বাংলায়, মা তোমার সংস্কৃতির বিপ্লব
ঘটাবে,
যে সন্তান তোমার বুকে আর কোন বোনকে
ধর্ষিত হতে দিবে না;কোন শিশুর জীবন
যেতে দিবে না পাপিষ্ঠ মানবতার কলঙ্কিত
হাতে!
যে রুখে দিবে সকল অন্যায়,যে টিকিয়ে
রাখবে মা তোমার সত্য ইতিহাস,দেশকে গড়ে
তুলবে নিঃস্বার্থ ভাবে, একটি জীবন ও ঝরে
দিতে দিবে না মা পাষন্ড হৃদয়ের
নরপিশাচের হাতে।

মা আর একবার, আর একবার মা তোমার
সন্তানকে জাগিয়ে তুলো তোমার সবুজ
শ্যামল রক্ত রঞ্জিত বুকে।
এখন ও সময় আছে স্বাধীনতার এ বাংলার
ইতিহাস, এ বাংলার গর্ব বাঁচিয়ে রাখার
মা..
মা তোমার বুকে আজ কত শত পাপি রাজত্ব
বিস্তার করছে,গড়ছে শত শত নতুন অপরাধ,
কামনার ভোগ বানিয়ে মা লুটে নিচ্ছে
তোমার
মেয়ের সন্মান।
মা আজো তোমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য
নির্যাতন করে রাত ঘনিয়ে এলে,অনলে
অনলে ঝলসে দেয় মা তোমার মেয়ের সর্ব
অঙ্গ;আজ ও মা তোমার বুকে আর্বজনার
মাঝে নিষ্পাপ শিশুটিকে ছুরে ফেলে দেয়।
আর কত মা মানবতার বলী হলে তোমার
সন্তানকে জাগিয়ে তুলবে,মা জন্মভূমি
সোনার বাংলায় আর একবার তোমার
সন্তান জাগিয়ে তুলো।

যেমন করে জাগিয়ে তুলে ছিলে সেই ৫২তে
যে ৫২ ই তোমার সন্তানরা ভাষার জন্য
দিয়েছিলো জীবন;বাঁচিয়ে ছিলো মা
শব্দটি।
যেমন করে জাগিয়ে তুলে ছিলে এক্ষাত্তরে,
তোমার কোন সন্তান সেইদিন থাকেনি ঘরে
নেমে ছিলো মরন যুদ্ধে মা তোমাকে মুক্ত
করতে,
তবে আজ কেন নয় মা?
আজও তো এই স্বাধীন দেশে মা স্বাধীনতার
ইতিহাস
বিকৃতি করছে,সত্যকে লুকিয়ে রাখছে
মিথ্যের আড়ালে,
মা তোমার সন্তান আর একবার তুলো
জাগিয়ে।

আরামবাগ,পটুয়াখালী
১০-০৩-২০১৬

সাদা কালো
- প্রদীপ ঘড়া

স্বপ্ন সাজানো অনেক
কেহই বা রঙীন
কেহই বা সাদা কালো
ফুল ফুটে আছে
এই মনের বাগানে
ধরা দিয়ে পাপড়ি খুলে
সরে গেল বাগান হতে
রঙীল স্বপ্ন মনে দিয়ে
সরে গেল সাদা কালো
শ্রাবণের বর্ষা হয়ে
ঝর্ণা হয়ে বয়ে গেল
কেহই তাকে দেখলো না
আয়নায় দেখে রঙীন স্বপ্নকে
ভেবে নিল
নদীর বুকে ঢেউ এসে
সরে গেল এক কনা বালি হয়ে ।

Nabadibakar_Writer_49স্পোকেন ইংলিশ
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব


ক্যাম্পাসে হাঁটতে হাঁটতে বালিকাকে বললাম
- তুমি তো ইংরেজি বিভাগে পড়ো। আমাকে স্পোকেন ইংলিশটা শেখাতে পারবে?
বালিকা একটু নিঃশ্বাস ছেড়ে ভাব নিয়ে বললো
- কেন? তুমি তো বাংলায় লেখালেখি করো। ইংলিশে শিখে কি করবে?
আমি একটু নিরীহ ছেলের মত ভাব নিয়ে বললাম
-আসলে চাকরির ভাইভাতে নাকি ইংরেজিতে প্রশ্ন করে। আর ইংরেজিতেই উত্তর দিতে হবে।
এ কথা বলার পর বালিকাকে একটু খুশি খুশি মনেহচ্ছে। খুশির কারণটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। বালিকা একটু মুচকি হাসি দিয়ে বললো।
-তাহলে চলো এখন থেকেই স্পোকেন ইংলিশ শুরু করি।
বালিকা এতএত তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে গেলো। ব্যাপারটা একটু খটকা লাগলো। তবুও হাসিখুশি হয়েই বললাম
-অক্কে। তাহলে শুরু করা যাক।
বালিকা বললো
- বলো আই মানে কি?
আমি হাসতে হাসতে বললাম
-আরে এটা তো সহজ। আই মানে আমি।
বালিকা টিচারের মত ভাব নিয়ে বললো।
-দ্যাখো ইংলিশ শেখানোর সময় একদম হাসবা না। তাহলে কিন্তু কিচ্ছু শেখাবো না।
আমি আস্তে করে শুধু বললাম
-ঠিক আছে। আর হাসবো না।
বালিকা একটু মিটিমিটি হাসি দিয়ে বললো
-বলো ইউ মানে কি?
এবার কোন ভণিতা না করে বলে দিলাম
-তুমি।
বালিকা এবার একটু লাজুক লাজুক ভাব নিয়ে বললো
-বলো লাভ মানে কি?
কথাশুনে কিছুক্ষন ঠান্ডা হয়ে রইলাম। হাসবো না রাগ করবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। ভাবলাম বালিকার উপর রাগ করে লাভ নাই। আস্তেকরে অন্যদিকে ফিরে শুধু বললাম
-আসলে এই ওয়ার্ডের মিনিংটা আমি জানি না।
বালিকা একটু রাগাণ্বিত ভাব নিয়ে বললো
-ওয়ার্ড মিনিং জানো না। তাহলে ইংলিশ শিখতে আসছো কি জন্য? এটা তোমার বাড়ির কাজ। কালকে ডিকশনারি মুখস্থ করে আসবা। বুঝছো!
আমার তখন হাঁসফাস অবস্থা। আস্তে করে মাথা নাড়িয়ে শুধু বললাম
-জি ম্যাডাম।
বালিকা এবার ক্ষেপে গিয়ে বললো
-আবার জি ম্যাডাম, ম্যাডাম বলতেছো কেন।
-না ম্যাডাম। আর বলবো না।
-আবার ম্যাডাম?
-অক্কে। কালকে ডিকশনারি মুখস্থ করে আসবো।
আপাতত বালিকার চোখের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছি না। কিছু বললে কপালে ডিসুম ডিসুম জুটতে পারে। কিছুক্ষন বিড়ালের মতো চুপ করে থাকার পর বললাম
-আজকে তাহলে আসি।
বালিকা নাক দিয়ে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে চোখগুলো বড় বড় করে বললো
-আজকে যাও, ভাগো । কালকে অবশ্যই ডিকশনারি মুখস্থ করে আসবা।
আসতে আসতে ভাবলাম। আর যাই হোক। বালিকার কাছে ইংলিশ শিখা যাবে না। তাহলে প্রতিদিন ডিকশনারি মুখস্থ করতে পাঠাবে।

অন্তর্বর্তী এক বোধের দরোজায় কড়া নাড়ি
- তৈমুর খান

প্রশ্নের বাইরেও অনেক প্রশ্ন থাকে
উত্তরের বাইরেও অনেক উত্তর
যে পথে হেঁটে যাই সে অনেক পথ
যে পথে হাঁটি না সেও অনেক পথ
নিজেকে মেপে মেপে দেখি সারারাত
কিছুতেই মেলে নাকো মাপ ।

সংকল্প কিছু নেই, মাটির পুতুল দাঁড়িয়ে আছি
একটি শুধু অস্থির মন রঙ মাখে
রঙ ধুয়ে দেয় কান্নার জল ।

সুখ ও অসুখের বৃত্তে নামে রঙধনু
সূর্য ছড়ায় রোদের সাতরঙ
অন্ধকারে নিজেকে হাতড়াই
অন্ধকারে নিজেকে ডাকতে থাকি

ডেকে ডেকে হেঁটে যাই পথ ।

 

আমি এক নারী
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

বিষাদ আমায়
দিও না পেছনে ফেলে,
যুদ্ধ করতে চাই
যতোদিন আয়ু মেলে ।

হতাশা আমায়
করোনা দূরবল,
হারাতে চাই না
এক বিন্দু মনোবল ।

মানবতার জন্য
করতে চাই কাজ,
হারি জিতি
নেই তো লাজ।

হতাশা আমায়
দিও না কষ্ট,
সাহস তুমি
হয়ো না নষ্ট ।

আমি এক নারী ,
সবাই বলে দূরবল,
ভাংতে চাই
পুরোনো শিকল।

হিমালয় জিতেছি
জিতবো পৃথিবী,
দূর করতে চাই,
বাধা বিপত্তি সবি।

- ডাঃ ফারহানা মোবিন, চিকিৎসক ও লেখক, 8.3.16

বসন্ত দিনে
- মনিরা ফেরদৌসী

বসন্তের এই ঝিরিঝিরি হাওয়ায় ফুলে-ফুলে
জেগেছে বন, জেগেছে মন নদীর কুলে-কুলে।
তেমনি বুঝি রঙ লেগেছে সবার মনে মনে
তাই বুঝি আজ গান ধরেছে সবাই ক্ষণে ক্ষণে!
গুনগুনিয়ে গান গেয়ে যায় ফাগুন এলো বলে
চারিদিকে রঙ লেগেছে নানা রঙের ছলে।
হাওয়া এবং রঙের ঘোরে ঘুরছে প্রজাপতি
ভালোবাসার এমন দিনে সাজে বনস্পতি।

ছড়া : পুতুল
- জুলফিকার আলী

খুলছে দুয়ার,খুশির জোয়ার
খুকির মনে কি যে,
ছোটপুতুল দেখে খুকি
হাসছে নিজে নিজে।
তার পুতুলের মৌমিতা নাম
নামটি ভীষণ মজার,
পুতুলের গায় লোম রয়েছে
কারুকাজে শ'যার।
চুল বিলুনি চোখে চশমা
কানে আছে দুল,
রঙ্গীন শাড়ি পরিয়ে খুকি
সাজিয়েছে পুতুল।

দিনের শেষের স্মৃতির বোঝা
- বিভূতি চক্রবর্তী

দিনের শেষে আঁধার রাতে একলা আমি ভাবছি বসে-
ভাবনা শুধু কোথায় আমি হারিয়ে যাবো কোন খানে?
পিছন পানে তাকাই যখন ফেলে-আসা স্মৃতির বোঝায়,
স্মৃতির হিসাব নিয়েই আমি ব্যস্ত থাকি মনটি খুঁজায়।
একের পর এক দিন আসে আর দিনগুলি যায় ফিরে,
বুঝতে নারি কারা আমায় এমন করেই রাখছে ঘিরে।
এই পৃথিবী সব জেনেও ব্যস্ত থাকে অজানাদের নিয়ে-
ভাবছো কেন, যাচ্ছো কোথায়, সবকে ফেলে দিয়ে ?

আগরতলা, ০৪/০৩/২০১৬ ইং ।

sample-99বইমেলা শেষ, রয়ে গেলো স্মৃতি
-আরিফ চৌধুরী শুভ (সাংবাদিক ও লেখক)


২৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টায় পর্দা নামলো ২০১৬ অমর একুশের বইমেলার। সেই সাথে স্মৃতির পাতায় যুক্ত হলো আরও একটি বইমেলার অভিজ্ঞতা। প্রতিবছরের চেয়ে এবারের মেলায় বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি ছিল অনেক ব্যতিক্রমতা। মেলার সাজ সজ্জাও ছিল অনেক আকর্ষণীয় ও বইমেলা প্রাসঙ্গিক। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দীর স্টলগুলোতেও ছিল নবীন প্রবীন লেখক ও পাঠকদের উচ্ছাসিত সমাগম।


শিশু কিশোর প্রবীণ সব বয়সী মানুষই এসেছে মেলায়। কেউ এসেছে প্রাণের টানে, কেউ আবার সখের বসে। কেউ এসেছেন হৃদয়ের শূণ্যতাকে অনুভব করতে। খালি হাতে কেউ যে ফিরে যাননি তার প্রমাণ বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্যে। ২০১৬ সালের বইমেলাতে প্রায় ৪১ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে । বইয়ের প্রতি বাঙ্গালীর এই অভিসার দেখে মুগ্ধ না হয়ে আর পারছি না। সেই সাথে ভাবছি সৈয়দ মুজতবা আলীর বাণীটি ‘‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না’’। ডিজিটাল বাঙ্গালীর জীবনে সময়ের বড়ই অভাব। আশা করি সেল্পের মাধ্যে বইগুলো ব্যক্তিত্ব প্রকাশে সারি হয়ে ঘুণে ধরার আগেই অন্তত অবসরে হলেও পাঠাকের মাথায় জ্ঞানের সারি হয়ে থাকবে। নিজের শুভ বুদ্ধির জন্য হলেও বইয়ের পাতায় একবার করে হাত বুলাবেন পাঠক।


২০১৬ এর ফেব্রুয়ারি মাস অধিবর্ষে হওয়ায় অন্য বছরের চেয়ে মেলার একদিন বেশি পেয়েছেন পাঠক, লেখক এবং প্রকাশকরা। এরকম আরেকটি ২৯ ফেব্রুয়ারি পেতে হলে সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে আরও ৪ বছর। তাই ৪ বছরের অপেক্ষায় না থেকে পাঠক লেখক আর প্রকাশকদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে বই মেলার প্রাঙ্গন। তবুও কোথায় যেন এক শূণ্যতা বিরাজ করছে নীরবে নিবৃত্তে। সেই শূণ্যতার সন্ধানে এই স্মৃতিচারণ।


প্রতিবছর বইমেলায় প্রথম দিন ও শেষ দিন যেতাম আমি। সুযোগ হলে মাঝে মধ্যে যাওয়া হতো বন্ধুদের ফুসলিয়ে। কিন্তু এবার প্রায় অর্ধমাসই কেটেছে মেলায়। কারও অপেক্ষায় নয়, বরং প্রাণের টানে দুইপা বাড়িয়ে ছুটে যেতাম বইমেলায়। প্রায় অর্ধশত বই কিনেছি পড়ার জন্য। ছোটবেলা থেকে বইয়ের প্রতি ক্ষুধার মত যে বদঅভ্যাস বা নেশা তৈরি হয়েছে, সেটি এ বছর বেড়ে সারাবছরের একবেলার খাবারের টাকা ফুরিয়ে দিয়েছে। এ নেশার শেষ গন্তব্য বছর খানিক আগে একটা স্থির করলাম নিজেই। পড়া বইগুলোর শেষ ঠিকানা নিশ্চিত লক্ষ্মীপুরের ফরাশগঞ্জ গ্রামের ‘আলোকিত পাঠাগার’। বইয়ের প্রতি এই গোপন অভিসারের কথা শুনে এতক্ষণে নিশ্চয় আলোকিত পাঠাগারের পাঠকরাও রোমাঞ্চিত হয়েছেন বইমেলার নতুন বই পড়ার জন্য। কেউ চাইলে আলোকিত পাঠাগারের পাঠকের জন্য বই দিয়ে তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন।


বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে প্রতিদিনই পরিচিত অপরিচিত অনেক লেখকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হতো। পড়ার বদঅভ্যাস থেকে লেখালেখির যে অভ্যাস নিজের অজান্তেই গড়ে উঠেছে, তাতে বই প্রকাশ করার মত দু:সাহস একবারও চিন্তা করতে পারছি না। তাই যেকোন লেখকের অটোগ্রাফসহ বই নিয়ে আমি যতটা খুশি হই, ঠিক ততটাই আমার যুক্তি, একজন লেখককে তার সৃষ্টির জন্য সন্মান দেখাতে এবং আরও উৎসাহ দিতে বই কেনার পাশাপাশি পারলে লেখকের একটি অটোগ্রাফ নিয়ে প্রত্যেকের কৃতজ্ঞতা দেখানো উচিত।


নজরুল মঞ্চের বটতলার ছায়ায় দাঁড়িয়ে থেকে উপলব্দি হতো এই মেলার প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহার কথা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ ই ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতি রক্ষার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বটতলায় একাই বইমেলা বসান। মাত্র ৩২ টি বই নিয়ে একটি চটের উপর বসে যে মেলার স্বপ্ন দেখেছেন চিত্তরঞ্জন সাহা, সেটি কি আজকের বইমেলা হতে পেরেছে? নাকি চিত্তরঞ্জন সাহার স্বপ্ন পূরণে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু কাল?
গতবছর বইমেলাকে ঘিরে সবার মনে যে অনাকাঙ্কিত আতঙ্কের জন্ম নিয়েছিল সেই আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেল এবারের বইমেলা। কিন্তু ভবিষ্যতে কি আমরা সেই আতঙ্ক মুক্ত থাকবো?


জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর আবুল কাশেম ফজলুল হকের পুত্র প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন গত বছর অভিজিতের বই প্রকাশ করায় তাকে খুন করলো একটি উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠি। পুত্র হত্যার কথা শুনে ছুটে এসে সবার উদ্দেশ্যে ‘‘শুভ বুদ্ধির উদয় হোক’’ যে বাণী তিঁনি ছুড়ে দিয়েছেন সেটি কি সবাই ভুলে যেতে বসেছি? যদি তাই না হয় তাহলে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু মঠের প্রধান যজ্ঞেসর রায়কে (৫০) কেন খুন হতে হবে? শহীদ মিনারে খালি পায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে আমরা জুতা পায়ে কেন অপবিত্র করছি শহীদ মিনার? নিজেদের দাম্ভিকতা আর বাহুবলের কাছে ইতিহাস বার বার লজ্জিত হলেও আমরা কি একবারও লজ্জিত হতে পারি না?


কারো লেখা যদি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, গোত্র কিংবা রাষ্ট্রের অস্তিত্বের উপর আঘাত বা অসম্মান আনে তাহলে তাকে লেখা দিয়েই আহত করতে হবে। এই বুদ্ধি চর্চা প্রাশ্চ্যের দেশগুলোতে প্রলিত থাকলেও আমারা কেন পারি না? লেখার জবাব লেখা না হয়ে লেখার জবাব হত্যা দিয়ে হতে পারে না। এই বুদ্ধি বিদ্যা যার মনসতত্ত্বে সে সত্যিকারের দেশ প্রেমিকতো নয়, সত্যিকারের মানুষও হতে পারে না। তাই সবার মঙ্গলার্থে আবুল কাশেম ফুজলুল হক শুভ যে বাণীর সূচনা করেছেন তার জাগরণই পারে সমাজে শান্তির সুবাতাস বইতে।


আতঙ্ক ছড়িয়ে বইমেলার প্রতি মানুষের যে ভালোবাস, সেটি কখনো যে রোধ করা সম্ভব নয় তার প্রমাণ এবারের বইমেলা। ৪ মাসের সন্তান কোলে এক মাকে দেখলাম বই কিনতে এসেছেন মেলায়। ৭০ উর্ধ্বে বৃদ্ধ দাদু তার ছেলের সন্তানকে নিয়ে এসেছেন মেলায়। একটা দীর্ঘশ্বাস দিয়ে আমাকে বললেন আর বেঁচে থাকলে আসবো, না হয় এটাই আমার শেষ দেখা বইমেলা। ঘুরতে ঘুরতে অনেকটা ক্লান্ত হয়ে মেলার এককোণে ফুটপাতে বসে পড়লেন তিনি। আর তাঁর ৪ বছরের নাতি টানা হেছড়া করছেন তাকে একটি বই কেনার জন্য। কিন্তু কোন বই ই তার পছন্দ হয় না। বেকায়দায় পড়ে বৃদ্ধ লোকটি নাতিকে যতই বলেন পকেটে আর বই কেনার মত টাকা নাই, ততই নাতির চেছামেছি আরও বেড়ে যায়। বইয়ের প্রতি শিশুটির আগ্রহ দেখে ১৫০ টাকার একটি বই কিনে দিয়ে তাকে শান্ত করলাম আমি।


আবুল কাশেম ফজলুল হক জাগৃতি প্রকাশনীতে বসে দাদু নাতির এই দৃশ্যটি দেখে অনেকটা বাকরুদ্ধ হলেন। না বলা অনেক প্রশ্ন তার চোখে দেখতে পেয়েছি তখন। এই স্মৃতি তারও থাকতে পারতো। অহিংস মনোভাব যে সমাজ থেকে উঠে যায় সেই সমাজে স্মৃতি হয় মরিচিকা। মানুষের হৃদয় হয় পাথরের মত শক্ত। আর কান্না হয় শান্তি। সম্পর্ক বলতে তখন আর কিছুই থাকে না। বইয়ের শত্রু জগতের সবচেয়ে বড় শত্রু। এই শত্রুরা কখনোই ক্ষমা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। তাই শুভ বুদ্ধির উদয় যাদের মধ্যে এরই মধ্যে ঘটেছে তারাই বিচার করবে দীপনদের হত্যাকীদের।
বই লেখার জন্যে, প্রকাশ করার জন্যে যারা জীবন দিয়েছে এই পর্যন্ত, তাদের স্মৃতি বেঁচে থাকুক সবার হৃদয়ে। সবার স্মৃতি হোক শিশির ঝরা সবুজ ঘাসের উপর নিরাপদে প্রিয়জনের সাথে বই বুকে হেঁটে যাওয়ার মতো।
০১.০৩.২০১৬

তোমার আমার চাওয়া পাওয়া
- রাহাত রাব্বানী

কত বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি,
উপেক্ষা করেছি দিনের প্রচন্ড রৌদ্রতাপ,
ঝুম বৃষ্টিতে ভিজেছি বর্ষার সারাবেলা,
তোমার জন্য একটি কবিতা লিখতে।
আমি হেরে যাইনি আমার চাওয়ার কাছে
আমি লিখেছি কবিতা শুধু তোমারি জন্য।

অথচ:
তুমি কবিতা চাওনি,
কবিতা পছন্দও করোনা নূন্যতম।
তুমি চেয়েছো শুধু,
ক্ষত হোক আমার হৃৎপিন্ড,
রক্তাক্ত হোক আমার কবিত্ব,
কবিতা থেকে আমার আমিকে বিদায় জানাই।
যা আমি তোমাকে দিতে পারবো না কখনোই,
আমি কবিতাপ্রেমী আর তুমি কবিতা বিমুখী।
এই সামান্যই পার্থক্য তোমার-আমার চাওয়া-পাওয়ায়।

উত্তরা,ঢাকা-১২৩০
২৯শে ফেব্রুয়ারি,২০১৬

Nabadibakar_Writer_41

তারুন্য
- আশরাফুল ইসলাম শিমুল

"আমাদের কোন বয়স নেই
আমরা মরিচিকার মতো ,
কিচিরমিচির পাখিছানার মতো ,
উম্মাদ মাতালের মতো ,
উড়ন্ত সিগারেটের ধোঁয়ার মতো ,
ব্রোথেলে পড়ে থাকা বেশ্যা কিংবা
লোভী পুরুষের মতো ,
চৈত্রের নৈশব্দিক ফাঁটলের মতো ,
ঝড়ের মতো ,
উত্তাল সমুদ্রের বুকে জলোচ্ছ্বাসের মতো ,
কখনো বা নবজাতকের নষ্ট ভ্রুণের মতো,
অথবা শিশিরের মতো।
আমাদের কোন বয়স নেই
আমাদের জন্ম আছে, মৃত্যু নেই,
আমরা প্রচন্ড খরার মতো
শকুনের মতো ,
হায়েনার মতো ,
বিভীষিকার মতো ,
রক্ত পিয়াসী জানোয়ারের মতো ,
ভয়ঙ্কর জলস্রোতের খুরধারার মতো ,
আমরা ক্ষতবিক্ষত পাহাড়ের চুড়ার মতো ,
আকাশের মতো ,
ধবংস কিংবা বিধ্বস্ত উৎপীড়কের মতো ,
অথবা কমল ঘাসের মতো।
আমাদের কোন বয়স নেই
আমরা বুলেটের মতো ,
আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভার মতো ,
সংকীর্ণতা ভাঙ্গার আওয়াজের মতো ,
মহা দানবের মতো ,
দৈত্যের মতো ,
বিশ্ব ভুখন্ডের মতো ,
রক্তার্ত ইতিহাসের মতো
কিংবা কাকতাড়ুয়ার মতো
আথবা বহমান নদীর মতো। "

বাসন্তী
- জুলফিকার আলী

বসন্ত ছুঁয়েছে প্রকৃতিকে
গাছে গাছে শিমুল!
পলাশের বন,কৃষ্ণচূড়ার ডালে,
ভরেছে অপরূপ লালে-
গাছে গাছে নয়া পাতা
কোকিলের মধুর গান,
চারিদিকে বাসন্তী উৎসবে
মেতেছে সকলের প্রাণ ।
গাঁয়ের চাষীরা কাজে ব্যস্ত
মসুরি,গমের জমিনে ।
মৌমাছিরা ঘুরে ফুলে ফুলে,
মধু নিতে আসে আজ,
প্রকৃতির বুকে তাই বাসন্তী সাজ ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget