ফেব্রুয়ারী 2016

নির্বাক কলি
- প্রদীপ ঘড়া

আজ এ সুন্দর সুপ্রভাতের হাওয়াতে
মনের ভেতর কম্পন দিয়ে
জানিয়ে তোলে রক্ত শিরাকে
নিস্তব্ধ নীরবতার মাঝ থেকে
কোলাহল শুধু কানে বাজে
নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকা মেয়েটি
বাক্য খুঁজছিল
ও পুষ্প কলির মাঝে
চরন তাহার লপেট
রাঙা ও আলতাতে
লুকিয়ে থাকা আঁচল তাহার মাটিতে
স্বপ্ন বন্ধু ধরা দিয়েছিল একরাতে ।
জানা - অজানাকে সরিয়ে
মেলেছিলো নয়ন তাহার নয়নে
পুষ্প দুটি ছড়ায়ে
উড়ে এসে হাওয়ার টানে
পড়ল মেয়েটির রাঙা দুটো চরনে
হাতে তুলিয়া
বাক্য তাহার এসেছে ফিরিয়া ।

সম্পর্ক
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব


১।
রাতের নিঝুম অন্ধকার চারদিকে সুনসান আশেপাশে তেমন কোন শব্দ নেই। আকাশে আজ কিছুটা মেঘ জমেছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে চাঁদটাকে তেমন বোঝা যাচ্ছে না। রুমের লাইটটা নিভিয়ে দিয়ে পাঁয়চারি করছে ইমন। অন্ধকারে তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ইমন শেষবারের মত জানালাটা খুলে জোস্নার আলোটাকে হাতে নেওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু আজ কিছুই ভাল লাগছে না। আস্তে করে এসে বিছানায় বসে পড়লো। আজ সারাদিন কেউ তার খোঁজখবর পায় নি। কিছুক্ষন আগে রুমে এসেছে। বাড়ির অন্য কেউ তা বুঝতে পেরেছে বলে মনেহলো না। শার্টের পকেট থেকে বিষের শিশিটা হাতে নিয়ে একনজরে তাকিয়ে আছে। আর ভাবছে কি হবে একা জীবন রেখে যখন ভালবাসার মানুষটাকেই পেলাম না। পরিবারের আপন লোকগুলোই যখন আমাকে বুঝলো না। তার দু'চোখে অশ্রু ঝরছে। অভিমান আর কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই ইমন বিছানায় লুটিয়ে পড়ে। বিষের খালি বোতলটা মেঝেতে পড়ে যায়। এ শব্দ ইমন ছাড়া আর বাড়ির কেউ বুঝতে পারলো কি না। ঠিক বোঝা গেল না। রাত প্রায় নয়টা অ্যাম্বুলেন্সের গাড়িটা তীব্র বেগে ছুটে চলছে হাসপাতালের দিকে। মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত ইমনকে ইমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে যায়। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তার মা, বড় বোন আর এক দূর সম্পর্কের বড় ভাই।
২।
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ইমন। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট এবং অনেক আদরের। বাবা মারা গিয়েছে অনেক আগেই। তাই সংসারের ভারটা এখন ইমনের বড় ভাইয়ের উপর। তিনি বিদেশে থাকেন ওখানেই চাকুরী করেন। একমাত্র বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ইমনের বড় ভাই বিয়ের জন্য দেশে এসেছেন। আগে থেকেই বিয়ের সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। বিয়ে বাড়ি সবকিছুর প্রস্তুতি শেষ। ইমন বড় ভাইয়ের সাথে বিয়েবাড়ীতে এসেছে। বড় ভাইয়ের বিয়ে বলে কথা। বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পরেই হঠাৎ একটি মেয়েকে দেখেই কেমন জানি তার ভাল লেগে যায়। মেয়েটি কনের পাশে বসে আছে। কনেকে সাজিয়ে দিচ্ছে। কয়েকবার চেষ্টা করেছে নাম পরিচয় জানার। কিন্তু সুযোগ মেলেনি। তাই তার এক বন্ধুকে নাম পরিচয় জানার দায়িত্বটা দেয়। ভাইয়ের বিয়ে ভালভাবেই সম্পূর্ণ হয়। বাড়তি আসার পর বন্ধুর কাছে মেয়েটির পরিচয় জানতে পারে। মেয়েটি আর কেউ নয়। তার ভাবীর আপন ছোট বোন। অর্থাৎ সম্পর্কে তালতো বোন। মেয়েটির নাম কাজল। ইমন এটা জানার পর বেশ খুশিই হয়। ইমনের বড় ভাই বিয়ের কিছুদিন পর আবার বিদেশে চলে যায়। আত্মীয়তার কারনেই হোক বা ভাললাগার কারনেই হোক কিছুদিনের মধ্যেই ইমনের সাথে কাজলের ভাল সম্পর্ক হয়ে যায়। কাজলের নিজস্ব কোন নাম্বার ছিল না। বাড়ির মোবাইল দিয়েই মাঝেমাঝে কথা বলতো। কিন্তু সেটা ধীরেধীরে বাড়তে থাকে। কাজল আর ইমন প্রায় একই বয়সের। তারা এবার দশম শ্রেণীতে। দুজনের মধ্যে ভাল সম্পর্ক থেকে ভাল বন্ধুত্ব, ধীরেধীরে সেটা ভালবাসায় রুপ নিতে থাকে। ইমন মাঝেমাঝেই কাজলকে দেখার জন্য আত্মীয়র বাড়িতে চলে যেত। কাজলের মা ইমনকে অনেক বেশি ভালবাসতেন। জামাইয়ের ভাই বলে কথা। তাই খাতির যত্নের কোন কমতি থাকতো না। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও ইমনের যেটা ভাল লাগতো। সেটা কাজলের মাঁয়াবী মুখখানা। একমাত্র কাজলকে দেখার জন্যই ইমন মাঝেমাঝে আত্মীয়র বাড়তে যেতো। এটা হয়তো ইমন আর কাজল ছাড়া কেউ বুঝতে পারতো না। হয়তো দুজন দুজনকে মনেমনে অনেক ভালবেসেছে। কিন্তু কেউই এখনো মুখ ফুটে বলেনি। দুজনের মনেই ভয়। যদি আত্মীয় বলে কাজল ফিরিয়ে দেয়। ইমন ইনিয়ে বিনিয়ে মোবাইলে অনেক কথাই বলতো। কিন্তু ভালবাসার কথাটি ইমন কখনো মুখফুটে বলতে পারে নি। কাজল বুঝতে পারতো যে ইমন তাকে অনেক ভালবাসে। কাজলও এতদিনে হ্যাংলা, পাতলা বোকা ছেলেটাকে অনেক ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু ইমন এটা কখনো বুঝতে পারে নি। তারা মাঝেমাঝে বাইরে দেখা করতো, ঘুরতে যেতো। পরিবারের কেউ এটা বুঝতে পারতো বলে মনেহয় না। এভাবেই বেশকিছু দিন চলতে থাকে। হঠাৎ কাজল একদিন ইমনকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলে। ইমন বিষয়টা স্বাভাবিক ভাবেই নেয়। শহরের এই পার্কটিতে তারা এর আগেও এসেছে। আজ কাজলকে কিছুটা উৎকন্ঠিত মনে হচ্ছে। ইমন এসে নরমাল ভাবেই কথা বলতে থাকে।
একসময় কাজল, ইমনকে বলে
-তুমি আমাকে একটা কথা বলবে?
-বলো। কি কথা?
-তোমার সাথে কি কারো রিলেশন আছে?
-না তো। তোমার কি কোন রিলেশন আছে?
-না। তবে একজনকে ভাল লেগেছে।
কথাটা শুনে কিছুটা ইমন কিছুটা হতাশ হয়। কিন্তু কিছু বলার তো নেই। শুধু বলে ছেলেটা কে আমাকে বলা যাবে? ইমনের উৎকন্ঠা কাজল বুঝতে পারে। একসময় কাজল কাঁদোকাঁদো কন্ঠে বলেই দেয়। তোমাকে আমি অনেক ভালবাসি। কিন্তু এতদিন বলতে পারি নি। তুমি আমাকে ফিরিয়ে দেবে না। প্লিজ..! এ কথা বলে কাজল অঝরে কাঁদতে থাকে। ইমন মনেহয় এতক্ষনে দেহে প্রাণ ফিরে পেল। শুধু বলে। তুমি এত কাঁদছো কেন? আসলে তোমাকেও আমি অনেক ভালবেসে ফেলেছি। কিন্তু এতদিন বলতে পারি নি। যদি তুমি আত্মীয় বলে ফিরিয়ে দাও। ইমন কাজলের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে। তোমাকে আর কাঁদতে হবে না। অনেক ভালবাসবো তোমাকে। এভাবেই নিষ্পাপ দুটি অবুঝ হৃদয়ের ভালবাসার পথচলা শুরু হয়।
৩।
কাজলের কোন নিজস্ব ফোন ছিল না। তাই ইমন অনেক কষ্ট করে টাকা যোগার করে কাজলকে একটা ফোন গিফট করে। যেটা এই দুটি মানুষ ছাড়া আর কেউ জানে না, বুঝতে পারে না। নব্য ভালবাসায় পতিত দুটি হৃদয়, আবেগ আর অনুভূতিতে ভাসতে থাকে। ভালবাসার, আবেগ, অনুভূতি সবই যেন মোবাইলের ম্যাসেজ আর কথামালায় ব্যক্ত হতে থাকে। ইমন আত্মীয়র বাড়িতে আগে একটু কম গেলেও এখন অনেক বেশীই যায়। শুধু কাজলকে একনজর দেখার জন্য। এই বিষয়টা এই দুটি মানুষ ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারে না। কিন্তু হঠাৎ একদিন একটি ভালবাসার চিঠি কাজলের মা দেখতে পায়। কাজলকে সাবধান করে দেয়। ইমনের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে বলে। কিন্তু অবুঝ দুটি হৃদয় এ বাঁধা মানতে পারে না। কিছুদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও আবার তারা আগের মত যোগাযোগ করতে থাকে। ইতিমধ্যে তারা দুজনেই এসএসসি পরীক্ষা দেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ইমন এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করতে পারে না। কাজল নতুন কলেজে ভর্তি হয়ে যায়। তবুও তাদের রিলেশনটা চলতে থাকে। কাজল তাকে অনেক বুঝায় আরেকবার পরীক্ষা দেবার জন্য কিন্তু কে শোনে কার কথা। ইমনের আর পরীক্ষা দেওয়া হয়ে ওঠে না। একপ্রকার ইমনের পড়াশুনার এখানেই সমাপ্তি ঘটে। ইমন বেশকিছু দিন ঘরেই বসে ছিল। একসময় সে সিদ্ধান্ত নেয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। তার বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কাজল বিষয়টা সহজভাবে মেনে নিতে পারে না। ইমন তাকে বোঝায়। আমি ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে, তোমাকে পাবো না। কারন আমি তো কোন কাজ করি না। লেখাপড়াও করলাম না। এভাবে চলতে থাকলে আমার হাতে কেউ তোমাকে তুলে দিতে চাইবে না। তোমাকে ছাড়া থাকতে আমারও অনেক কষ্ট হবে। আমি তোমার সাথে যোগাযোগ করবো। কাজলের অনেক কষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত মেনে নয়। শুধু ভালবাসার পরিণতির কথা ভেবে। কারন ইমন ভাল কিছু না করতে পারলে। এতে তাদের দুজনেরই ক্ষতি হবে। ইমন দুবাই যাওয়ার পর কাজলের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর ইমনের আর বিদেশ ভাললাগে না। কারন এখানে তো কাজল নেই। ইচ্ছে করলেই কাজলকে সে দেখতে পাচ্ছে না। আগের চেয়ে যোগাযোগটাও অনেক কমে গেছে। অবুঝ হৃদয় কোন কিছুই মানতে চায় না। আবেগে ভাসতে থাকে ইমন একসময় সিদ্ধান্ত নেয় সে দেশে ফিরে যাবে। সেখানেই ভাইয়ের টাকায় ভাল কিছু করবে। প্রায় দু'মাস পর ইমন দেশে ফিরে আসে। ফিরে আসার পর ইমন নিজেকে অপরাধী ভাবতে থাকে। কারন কাজলকে সে কথা দিয়েছিল সে ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, কাজলকে বিয়ে করবে। কিন্তু এসবের কিছুই তো হলো না। কাজলের সাথে যোগাযোগ করার সাহস ইমন করে নি। এই ভয়ে যে কাজল তাকে কি ভাববে, কি বলবে? কেউতো আর বুঝতে পারবে না, বুঝতে চাইবে না যে কাজলের জন্যেই ইমন দেশে ফিরে এসেছে। ফিরে আসার পর কাজলও আর যোগাযোগ করে নি। এদিকে দুবাই থাকাকালীন ইমন আর কাজলের বেশকিছু ছবি তার বড় ভাই ইমনের মোবাইলে দেখতে পায়। তখন তার ভাই ইমনকে কিছুই বলে নি, বুঝতেও দেয় নি। ইমনের দেশে ফিরে আসার বিষয়টা তার বড় ভাই ভালভাবে নিতে পারে না। তাই ইমনের বড় ভাই একদিন কাজলকে ফোন দিয়ে বেশ বকাঝকা করে। যেটা ইমন কিছুই জানে না। বেশ কিছুদিন এভাবেই কেটে যায়। কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করে না। হঠাৎ করেই কি মনেকরে কাজল একদিন ইমনকে ফোন দেয়। দেখা করতে বলে। ইমন অপরাধীর মত কাজলের কলেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষন পর কাজল আসে। একে অনেকদিন পর তাদের দেখা, আবার রাগ, অভিমানও আছে। সবকিছুই মিলেই কেমন জানি একটা গম্ভীর পরিবেশ তৈরি হয়। কাজল শুধু এইটুকু বলে তুমি ভাল কিছু করার চেষ্টা করো। ইমনও তাতে রাজি হয়ে যায়। একসময় কথা বলতে বলতে পরিবেশটা স্বাভাবিক হয়। অবুঝ হৃদয়ের দুটি ভালবাসা আবার রেললাইনের মত সমান্তরালে চলতে থাকে।
৪।
দেখতে দেখতে প্রায় চার বছর কেটে যায়। এর মধ্যে কাজল কলেজ পাশ করে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়। তাদের সম্পর্কটা ঠিক আগের মতই চলতে থাকে। দুই পরিবারের মধ্যে কেউই এই সম্পর্কে জানতো না। একপ্রকার সবার চোখের আঁড়ালেই তারা সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখে। হঠাৎ করেই একদিন কাজলের বিয়ের প্রস্তাব আসে। ছেলে বিদেশে থাকে, ভাল চাকুরী করে। কাজলের পরিবার আর এই বিয়ের ব্যাপারে দ্বিমত করে নি। তারা মেয়ের সাথে কথা না বলেই বিয়েতে রাজী হয়ে যায়। প্রেমিকার বিয়ের প্রস্তাব আসলে প্রেমিকের হৃদয়ে ঝড় উঠে যায়। সে ঝড় কাজল আর ইমনের হৃদয়ের মধ্যেও বইতে শুরু করে । সেদিন কাজল ইমনকে ফোন দিয়ে অঝরে কাঁদতে থাকে। ইমনকে কিছু একটা করার জন্য বলে। ইমন সেদিন কাজলকে সান্ত্বনা দিয়ে ফোনটা রেখে দেয়। আর তার পরিবারকে বিষয়টা জানাতে বলে। কিন্তু কাজল তার পরিবারকে সম্পর্কের বিষয়টা জানাতে সাহস পায় নি। ইমন তার ভালবাসার বিষয়টা তার বোন এবং মা'কে জানায়। তার মা প্রথমে রাজি না হলেও পরে ছেলের ভালোর কথা চিন্তা করে রাজি হয়ে যায়। তার মা এবং বোন কাজলের মা এবং ভাইয়ের সাথে কথা বলে। কিন্তু তারা রাজি হয় না। এই বিষয়টা নিয়ে তারা একপ্রকার মন খারাপ করে। তারা ইমনের মা'কে বোঝানোর চেষ্টা করে যে এখন বিয়ের সবকিছু তো ঠিক হয়ে গেছে। এখন আর কোনক্রমেই বিয়ে ভেঙে দেওয়া সম্ভব নয়। আগে বললে তাও ভেবে দেখা যেতো। আর একটা বিষয় বলে যে একই পরিবারে তারা দুটো মেয়ে দিতে চায় না। একপ্রকার কাজল আর ইমনের বিয়ের প্রস্তাবটা তারা মেনে নিতে পারে না। এই বিষয়টা তারা ইমনের বড় ভাইকে জানায় অর্থাৎ প্রবাসী মেয়ের জামাইকে। ইমনের বড় ভাই ইমনকে ফোন দিয়ে বেশ গালিগালাজ করে এবং এক্ষুনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে। সেদিন ইমন, তার মা এবং বোন একপ্রকার অপমানিত হয়েই বাড়ি থেকে চলে আসে। ইমন অনেক বেশি কষ্ট পায়। এই ভেবে যে তার বড় ভাই এইভাবে অপমান করে কথা বললো আর তার নিজের ভাইকে বুঝতে পারলো না। ইমন সেদিন সারারাত ঘুমাতে পারে না। ভাবে কিছু একটা করতেই হবে। কিন্তু কি করবে? কোনকিছুই তার মাথায় কাজ করছে না। একসময় ভেবে সিদ্ধান্ত নেয় কাজলের হবু বরের সাথে কথা বলবে। ইমনের ধারনা ছিলো তাদের রিলেশনের ব্যাপারটা জানতে পারলে হয়তো তিনি বিয়ে ভেঙে দিবেন। ইমন কাজলের হবু বরের সাথে কথা বলে কিন্তু এতে আরো হিতে বিপরীত হয়। কাজলের হবু বর এই ঘটনাটা ইমনের বড় ভাইকে জানিয়ে দেয়। এতে ইমনের বড় ভাই আরো অনেক বেশি রেগে যায়। সেদিনও ইমন আবার অপমান আর গালিগালাজের স্বীকার হয়। কাজলের বিয়ের আর বেশিদিন দেরী নেই। এরই মধ্যে ইমনের বড় ভাই হঠাৎ করে বিদেশ থেকে চলে আসে। ইমন আর কাজল কিছুই করতে পারছে না। তারা পালিয়ে বিয়ে করার কথা চিন্তা করে কিন্তু পালিয়ে যাবে কোথায়। দুই পরিবারের কেউই তো বিষয়টা মেনে নিচ্ছে না। তাই পালোনার চিন্তাটা তারা বাদ দিয়ে দেয়। দুজনেই ভাবতে থাকে যা করবে দুই পরিবারকে বুঝিয়েই করবে। কাজলও চেষ্টার কমতি করে না। তার মা এবং ভাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু তাতে কাজ হয় না। উল্টো একথা বলাতে বড় ভাইয়ের হাতে দুবার বেদম মার খেতে হয়েছে। ইমন শেষ চেষ্টা হিসাবে কাজলের হবু বরের পরিবারের সাথে কথা বলে এবং তাদের ভালবাসার কিছু ছবি দেখায়। হবু বরের পরিবার বিষয়টা নিয়ে ভাবতে থাকে এবং বিয়ের তিনদিন আগে বিয়েটা ভেঙে দেয়। তাদের ছেলেকে ওখানে বিয়ে করাবে না। এমনটা জানিয়ে দেয়। কিন্তু মেয়ের পরিবার এবং ইমনের বড় ভাই হবু বরের পরিবারকে বোঝায় ইমন খারাপ ছেলে। কাজলের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এই ছবিগুলো কম্পিউটারে ইডিট করা। তাকে দিয়ে কেউ একাজ করাচ্ছে বিয়েটা ভেঙে দেওয়ার জন্য। একপ্রকার ইমনের বড় ভাই কাজলের হবু বরের পরিবারকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে কাজল ভাল মেয়ে। এই মেয়েকে বিয়ে করলে তাদের কোন সমস্যা হবে না। এর ঠিক দুইদিন পর কাজলের বিয়ে হয়ে যায়। ইমন সর্বোত্তর চেষ্টা করেও কাজলের বিয়েটা ঠেকাতে পারে না।
৫।
কাজলের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ইমন দুইদিন বাড়িতে আসে না। কোথায় ছিলো, কিভাবে ছিলো কেউ জানে না। এই দুইদিনে তার অবস্থা ঠিক পাগল এবং অসুস্থ রোগীর মত হয়ে গেছে। ভালবাসার মানুষটাকে হারিয়ে আজ সে নিঃস্ব। সে কিভাবে বেঁচে থাকবে কোনকিছুই ঠিক করতে পারে না। কাজলকে ছাড়া তার জীবন অর্থহীন মনেহয়। কোনকিছুই ভাল লাগে না। এই দুইদিনে কিছু খেয়েছে বলে মনেহয় না। তার মনে একটি প্রশ্নই বারবার জাগতে থাকে। তার পরিবার, তার ভাই তাকে বুঝতে পারে নি। তার মনের ক্ষোভ, রাগ আর এক বুক অভিমান। একসময় সে সিদ্ধান্ত নেয় এ জীবন সে রাখবে না। তার জীবন নিজের কাছে কাজল ছাড়া একেবারে মূল্যহীন মনেহয়। তাই আজ রাতে বাসায় ফেরার সময় বিষের শিশিটা বাজার থেকে কিনে এনেছে। রুমেই ঢুকেই দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। তার বাসায় ফেরার শব্দ কেউ বুঝতে পারে না। অন্ধকার রুমে কিছুক্ষন পাঁয়চারি করার পর শেষবারের মত জানালাটা খুলে জোস্নার আলোটাকে হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। ফিরে এসেই বিষের পুরো শিশিটা মুখে পুরে দেয়। কিছুক্ষন পর বিষের যন্ত্রণা শুরু হয়। তার মা রুমে ঢুকে বাতি জ্বালিয়ে দেখতে পায় ইমন বিষ খেয়েছে। রাত তিনটার দিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে ডাক্তার এসে জানালেন রোগীর অবস্থা ভাল নয় । আল্লাহকে ডাকতে থাকেন। এখনো কিছুই বলা যাচ্ছে না।

ছায়া
- এম. এইচ. স্বপন

চার দেয়ালে ঘেরা রুম খানায় ,
এলোমেলো সব বিছানা-চাদর ।
গোছানোর কথা যার ,
তার দেখা নাই আর ।
মধ্যরাত-একলা ঘর ,
অন্ধকারে আমি ।
ঠোঁটে ঠোঁটের স্পর্শ খুজি তার ,
কল্পনায় জড়া জড়ি যার ।
মন সতেজ অচেতন দেহে পার করা এ রাত ,
ভালোবাসা-অনুভুতি শুন্যে ভরা আজ ।

২৮.০২.২০১৬

আগন্তুক
- এম . এইচ . স্বপন


দুপুর দেড়টার দিকে টাইগারপাস থেকে রিক্সায় করে বাসায় যাচ্ছিলাম । পথে একটা তিন রাস্তার মোড় আছে । তিন মিনিট আগেও সেখানে একটা পুলিশের গাড়ি দাঁড়ানো ছিল । যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম তার বাম পাশে অনেক গুলো ছেলে ক্রিকেট খেলছে , একটু উঁচু রাস্তা , রিক্সা চালক নেমেই টানছেন । রাস্তার দু-পাশে অনেক গাছ পালা , কিছুটা সামনে গেলে ডান পাশে আরেকটা রাস্তা । সামনের পথে চেয়ে আছি , কিছু দুর যেতেই ডান পাশে চোখ পড়লো , দেখি একজন মানুষ মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে আসছেন । আমার রিক্সার খুব কাছা কাছি যখন মানুষটা . . .তার দিকে চোখ পড়ার সাথে সাথে গায়ের সমস্ত লোম খাঁড়া হয়ে গেলো , আস্তে আস্তে গলাটা শুকিয়ে আসছে । এ আমি কি দেখলাম , কাকে দেখলাম , অনেক চিৎকার করছি , ওই চিৎকারে কোন আওয়াজ ছিল না । ওই দৃশ্যটা মনে পড়লে এখনো গায়ের সমস্ত লোম খাঁড়া হয়ে যায় । বিবর্ণ চেহারা , দুইটা মুখ , প্রথম দেখার পর যে ভয় পেয়েছি , দ্বিতীয়বার আর তাকাতে পারিনি । পুরো শরির ঘামে ভিজে গেলো , আমি দোয়া-দরুদ পড়তে লাগলাম । চোখে চারপাশটা ঝাপসা দেখছি রিক্সাটা চলছিলো কিন্তু বেশিদুর আগায় না . . . . .

সভ্যতার অগ্রগতি
- শাহীন আলম

অজানা সভ্যতার স্পন্দন দূরে থাক।
আমি তবু পশ্চাতে ছুটি।
এ জার্নি বাই পাস্ট টাইম!

বুনো লাবণ্য ছুঁয়ে আসা বাতাসের ঘ্রাণে মুগ্ধ হরিণীর গুহাচিত্র আঁকতে আঁকতে ব্যস্ত সময়ের পাঁজর মোচড়ে ওঠে মধ্য রাত্রে।
সেখানে আমার পাশে প্রদীপ হাতে দণ্ডায়মান ,
আদিম রমণী।
আপেল রাঙা ঠোঁটে!
"অনেক হয়েছে, এবার শোঁবে চল"।
পাথুরে শয্যায় মঙ্গল সুখ।
চুম্বন স্বাদে কম্পিত ঠোঁট।
সঙ্গম সাধে বাধা বাহু বন্ধন।
দেহের ভাঁজে ছন্দ,মন্দ-মন্থর,মৃদু তীব্র বিচিত্র গতি।
এখান থেকেই শুরু সভ্যতার অগ্রগতি।

ঢাকা, বাংলাদেশ।

জাগরণ
- রীতা ঘোষ

প্রতীক্ষাও ক্লান্ত যখন
সময়ের প্রতীক্ষায়
পাগলা হাওয়া আচমকা
ধাপ্পা দিয়ে যায় ...
ল্যাম্প পোস্টের অভিমান
বোঝে কি রোশনাই ?
জানে কি খুশীর ফিউজ
আটকে তারই গায় ?
ভালো থেকো তুমি আজীবন
উচ্চতার অহংকারে
আমিই না হয় নীরবে ডুবি
একাকিত্বের আঁধারে !
স্বপ্নের বুকে গেঁথে রাখি
যত প্রেম ফুটেছিলো মনে
নতুন সূর্যের দীপ্ত ইশারায়
জেগে উঠি শুভ ক্ষণে !

তোমার পূজোর ডালা
- রাহাত রাব্বানী

যখন শিশির ভেঁজা শীতের সকালে
আমি কুড়াতাম মাটিতে পড়ে থাকা শিউলি ফুল,
ঠিক তখন তুমি প্রকৃতির সুন্দর সব ফুল নিয়ে
সাজাতে তোমার পূজোর ডালা,আমারি জন্যে।
বলতে মায়া জড়ানো কন্ঠে,
আমায় ছাড়া তোমার পৃথিবী মূল্যহীন।
তোমার হৃদস্পন্দন পাও আমার বুকে কান পেতে!
তাইতো তোমার পূজোর ডালাতে-সাজানো সব ফুল আমার জন্যে।

আমি বিশ্বাস করেছিলাম,তোমার মিথ্যাভাষণ;
আজ সেই বিশ্বাসে অবিশ্বাসের বিষ দাঁত বসিয়ে,
কার বুকে কান পেতে তোমার হৃদস্পন্দন শুনো?
কার জন্য এখন তোমার পূজোর ডালা সাজাও?

উৎসর্গ:প্রয়াত মোফাজ্জল স্যার
(গণিত বিভাগ,মাইলস্টোন কলেজ)
০৪.০৭.২০১৪
উত্তরা,ঢাকা।

সংকোচ
- মনিরা ফেরদৌসি

সেই তো এলে ত্রিশ বছর পরে
তোমার গল্পের তরী বেয়ে
আমার কবিতার স্রোতের উজানে।
মনে পড়ে কি সেই কামিনী গাছের
নীচে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম,
কখনো আবার যদি দেখা হয়!
ত্রিশ বছর পরেও কি চিনবে আমায়?
কত খুঁজেছি তোমায় ধান ক্ষেতের বয়ে চলা
আল ধরে খালের পাড়ে শান বাঁধানো
পুকুর ঘাটে কোথায় খুঁজিনি বল,
যদি হঠাৎ তোমার দেখা পাই
কোন নাট্ট মঞ্চে বা জন সমাবেশে!
সেই তুমি এলে ত্রিশ বছর পরে
কথা হলো জানা হলো দেখা হল।
ত্রিশটি বছর কেটে গেল
বদলে গেছে অনেক কিছু
বদলে গেছো তুমিও,
ত্রিশ বছর আগে দু’জনে
দু’জনার নিঃশ্বাসের কাছাকাছি ছিলাম
কোনদিন হাত ছাড়বো না বলে হাতে হাত ধরেছিলাম,
আজ তোমার হাতের একটি আঙ্গুল
স্পর্শ করতেও বিরাট সংকোচ লাগে।।

২৪/২/১৬

সেই মেয়ে
- মেহেদী হাসান আকাশ

এই গায়ে এক মেয়ে থাকে
চুল গুলো তার কালো
মুখে তার সোনার হাসি
আঁধার রাতের আলো।
সকলে তারে বাসতো ভালো
কেউ করতোনা হেলা
সারাক্ষণ ঘূরে ফিরে
খেলতো অনেক খেলা।
মা ছিল তার সৎ ও বটে
বাবা ছিল আপন
সৎ মায়ের শত আঘাত সহ্য করিতো
তবুও করিত মা শত নির্যাতন
তবুও চোখে আসতোনাও জল
বাবার আদরে সেই দুঃখ গুলো
হয়ে যেতো অতল।
কোন কারনে সেই মেয়েটি আজ
হয়ে গেছে একেবারে চুপ
কোন রাতে ওর কাছে
চলে এলো মৃত্যুর রূপ
চলে গলো সকলকে ছেড়ে
অজানা কোন দেশে।
আজো খোঁজে গাঁয়ের লোকেরা
মায়াভরা সেই মুখ
খাঁ খাঁ করে মাঠ ঘাট আর
খালি হয়ে গেলো গাঁয়ের বুক।

এগিয়ে চলার সাথী
- বিভূতি চক্রবর্তী

আয় রে আমার হৃদয়-কাড়া ছোট্ট শিশুর দল-
তোদের নিয়েই বেরিয়ে এলাম, চল এগিয়ে চল।
এগিয়ে চলার সাথী আমার, তোদের হাতেই জয়,
মুক্তমনে পথের টানে যা এগিয়ে,নেই রে কোন ভয়।
ভয়ে যারা নাস্তানাবুদ, তাদের কথা শুনবে কারা,
ভীরু যারা, তাদের নিয়েই সঙ্গে চলো, দাও সাড়া।
ভয়-ভাঙ্গা মন নিয়েও তারা সমুখপানে ছুটে চলে-
তাদের সাথেই এগিয়ে চল রে নীল আকাশের তলে।

শিশুদের নিয়ে লেখা, আগরতলা, ২৩/০২/২০১৬ ইং ।

বৃন্তহীন ফুল
- রাহাত রাব্বানী

বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ফুলের সৌরভ,
ভক্ষণ করি দিবা নিশি ক্লান্তহীন।
একই ফুল যখন,
খসে পড়ে বৃন্ত হতে?
আশ্রয় নেয় বালিকার আদুরী খোঁপাতে,
ধীরে ধীরে কালচে রঙ ধারণ করে বৃন্তহীন ফুল,
ফেলে দেই তখন তারে- তার করুণ দশা না দেখে।
এক রাতের বাসর শেষে,
বৃন্তহীন ফুল পায়না খুজে তার শেষ ঠিকানা।
পড়ে রয় এখানে ওখানে অচেনা বস্তু হয়ে।

আমার সরস্বতী
- চঞ্চল নায়েক

এই শীত শীত বসন্তে আমার সরস্বতী
কামদুনিতে ভয়ে ভয়ে ঘুম থেকে ওঠে !
কখনও খোলা আকাশের নীচে
অথবা বাবুদের বাড়িতে...
ভেজা কাপড়ে মুছে দেয় মেঝেতে কিংবা
টেবিলে লেগে থাকা পুরনো শোক...
অজান্তেই হাতে খড়ি হয়
আমার আধপেটা কলমধারিনীর---
দিনলিপি লিখে যায় ভাড়াটে মৃত্যুদূত
পাঠ্যসূচীতে মুখ গুঁজে কাঁদে কন্যাশ্রী !
পূজার নৈবেদ্য হয়ে ওঠার আগে
এঁটো হয়ে যায় শিয়ালের কামড়ে...
তবুও
আমার বাগদেবী টুম্পা মৌসুমি হয়ে
যেন পূজা পায় এ দেশের ঘরে ঘরে !

© চঞ্চল নায়েক।

অমর একুশ
- রাহাত রাব্বানী

একুশে ফেব্রুয়ারি,
তুমি আমাদের মাঝে চেতনার বাণী।
একুশে ফেব্রুয়ারি,
তুমি বর্বরতা দমনকারী।
একুশে ফেব্রুয়ারি,
তুমি আমার মাতৃভাষা দানকারী।
একুশে ফেব্রুয়ারি,
তুমি দেশের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টিকারী।
একুশে ফেব্রুয়ারি,
তুমি শহীদদের মহান আত্মত্যাগী।

একুশ তুমি,
তারিখ নও,খুঁজে পাওয়া জয়।
একুশ তুমি,
খোকার অপেক্ষায় থাকা কোনো মায়ের চোখের জল।
একুশ তুমি,
শহীদ মিনার পলাশ ফুলে ভরা।
একুশ তুমি,
আমার কাছে-রক্ত দিয়ে কেনা।
একুশ তুমি,
কবির কবিতা ভাষা আন্দোলনের কাহিনী।
একুশ তুমি,
লাল সবুজের পাতাকাতে জন্ম নেয়া আমার জন্মভূমি।

একটুকরো জীবন
- মিন্টু উপাধ্যায়

আছি আমি কোনমতে
অচেনা এই সমাজেতে ।
যেথায় টাকার কাছে
ভালবাসাকেও ফিকে
হয়ে যেতে দেখেছি ।
.
আছি আমি কোনমতে
অচেনা এই সমাজেতে ।
টাকার জন্যই যেথায়
ফিকে হয়ে গেছে
রক্তের সম্পর্কও ।
.
আছি আমি কোনমতে
অচেনা এই সমাজেতে ।
কয়েকটা কাগজের
টুকরোর জন্য
কম পরে যায় বন্ধুত্বও ।
.
আছি আমি কোনমতে
অচেনা এই সমাজেতে ।
যেথায় না রইলে টাকা
পাবেনা তুমি...
পাবেনা তুমি...কোনই সন্মান ।
.
আছি আমি কোনমতে
অচেনা এই সমাজেতে ।
যেথায় টাকার কাছে
দীন-দরিদ্রের রক্তের
থাকেনা কোনই মূল্য ।
.
আছি আমি কোনমতে
অচেনা এই সমাজেতে ।
যেথায় টাকার জন্যই
নিজের চাহিদাটা...
বুঝে নিতে হয় নিজেকেই... ।
.
আছি আমি কোনমতে
অচেনা এই সমাজেতে ।
যেথায় টাকার জন্যই
মৃত্যুকে ছাপিয়ে...
নিষ্ঠুরতারই হয় জয় ।
.
আছি আমি ভালমতই
চেনা এই পৃথিবীতে ।
তোমার সাথে কাটান
মিষ্টি অনুভূতি গুলোই,
আজ আমায় বাঁচিয়ে রাখে ।
.
আছি আমি ভালমতই
চেনা এই পৃথিবীতে ।
অসহ্য যন্ত্রণাতেও, আমি
তোমার ঐ মিষ্টি হাসির,
মুখটাই মনে করি ।

রচনা - ১০/০৭/২০১৫ ইং

তুমি আমার একুশ
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

তুমি আমার একুশ
আমার চেতনা,
তুমি আমার ইতিহাস
রক্তের রচনা ।

তুমি বাংলা ভাষা
প্রাণের আয়োজন,
তোমায় ভালোবেসে
মরলো হাজার জন।

তুমি আমার শোক
আমার পরিচয়,
তুমি আমার অহংকার,
ভাষার বিজয় ।

তুমি আমার ইতিহাস ,
তুমি চেতনার জয়,
সারা পৃথিবী জুড়ে
অনন্ত বিজয় ।

তুমি আমার প্রাণের
শহীদ মিনার,
তোমার জন্য চেতনা
হাজারো বার।

ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক ও লেখক,
উনিশে ফেব্রুয়ারী, 2016
( উপলক্ষ্য -- মহান একুশে ফেব্রুয়ারী )

সব সন্ধ্যের রং সোনালী হয় না
- মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

সব সন্ধ্যের রং সোনালী হয় না-
কিছু কিছু সন্ধ্যার দুয়ারে ক্ষিপ্ত অনুভূতিরা লিপ্ত হয় মৌনব্রতে।
গাছের ডালায়, পথের ধারে সহজ ভাবনা গুলোকেও করে দেয় জটিল,
যেমন করে জীবনকে গাণিতিক সূত্র ভেবে কখনোই জানা হয়ে উঠেনা জীবনের সরল বৃত্তান্ত।
মাঝে মাঝে মূর্ত সময়ের ধারাপাতগুলোও কেমন করে যেন স্থির হয়ে যায় - সন্ধ্যের ধূপশিখায়,
ধূসর বর্ণের আনকোরা সন্ধ্যাগুলো তখন তুমুল ক্ষত আর নৈঃশব্দতা নিয়ে ছড়ায় ঘন কালো কুয়াশা।
সোডিয়ামের জীর্ণ ল্যাম্পপোস্টে তবু
সন্ধ্যা নামে,
আঁধার নামে
শুধু যোগ-বিয়োগের বৃত্তান্তে ঝুলে থাকে গোধূলী জীবনের সন্ধ্যের সময়টুকু
সত্যিই সব সন্ধ্যের রং সোনালী হয় না।

তুমি আমার একুশ
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

তুমি আমার একুশ
আমার চেতনা,
তুমি আমার ইতিহাস
রক্তের রচনা ।

তুমি বাংলা ভাষা
প্রাণের আয়োজন,
তোমায় ভালোবেসে
মরলো হাজার জন।

তুমি আমার শোক
আমার পরিচয়,
তুমি আমার অহংকার,
ভাষার বিজয় ।

তুমি আমার ইতিহাস ,
তুমি চেতনার জয়,
সারা পৃথিবী জুড়ে
অনন্ত বিজয় ।

তুমি আমার প্রাণের
শহীদ মিনার,
তোমার জন্য চেতনা
হাজারো বার।

ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক ও লেখক,
উনিশে ফেব্রুয়ারী, 2016
( উপলক্ষ্য -- মহান একুশে ফেব্রুয়ারী )

আলোময় রাত্রিবাস
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মুক্ত গগনে আধার রাত ভেঁঙ্গে জেগে উঠে
আলোকময় চাঁদ আলো ছরায়,
ছঁন্দছারা মেঘেদের দল চাঁদের সংস্পর্শে
যেতে যেতে পথহারায়!
শত শত তারা জ্বলে উঠে প্রদীপ শিখা হয়ে,
মানব হৃদয়ে ভালো লাগা অনুভূতি তুলে জাগিয়ে।

সবুজের ছোয়াই এমনি এক রাত, রাত
জাগা পাখি হয়ে দিবো পাড় করে
মৃদু বাতায়ন অঙ্গে মুড়ায়ে শেষ রাতের
শেষ ভালবাসা বাঁধবো হৃদয়ে!
নিঃশব্দ মহাআকাশের নিচে, আলোবিহীন আধার
রাতে আলোর মিছিল নিয়ে জোঁনাকিরা আসে।

দারুন অনূভুতির জোয়ারে নিজেকে যদি
ভাসাতেই হয়,
তবে আমি মৃদু বাতায়নে শীতলায়ন কম্পন,
অথবা..........
শেষ রাতে বৃষ্টি ভেজা শিশির স্নান করবো জয়!
মেঘেরা ভেসে ভেসে উড়ে বেরায়, রুপ নেই শত শত,
কখনো আবার বিদুৎ চমকিয়ে ঝরে পড়ে,
হয়ে বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায়।

ভালোবাসার ভাষা
- বিভূতি চক্রবর্তী

ভালোবাসার ভাষা নিয়ে কে তুমি গো গাইছ যে গান?
গানের সুরে গানটি গেয়েই দাও ভরিয়ে সবারই প্রাণ।
এগিয়ে চলার পথে তোমার অনেক সুরের রঙ্গিন বাঁশী
মনের হাসি উজাড় করেই ছড়িয়ে দেবে প্রেমের হাসি।
হাসি এবং বাঁশীতে আজ যে সুর ছড়ায় আকাশ পানে-
সবারই মন উজাড় করে মাতায় যে মন গানে গানে।
সুরের পাখী! বেরিয়ে এসো, সবদিকে সুর ছড়িয়ে দাও,
প্রাণের গভীর আনন্দে তাই সবারই মন ভরিয়ে দাও।

আগরতলা, ১৭/০২/২০১৬ ইং।

কবিতা : তৃষ্ণা
- রেবেকা রহমান

দীর্ঘ তৃষ্ণা নিয়েই সুখি হতে হয়
ভালবেসে বেসেই জেনেছি আমি
ভালবাসা কি ?
উড়ন্ত পাতার মতো প্রেম !
হাতের পাতায় থাকেনা কিছু
কতবার পূর্ণিমার চাঁদ থেকে
জ্যোৎস্না ঢেলে দিলাম
কত কান্না , আদর
তরল হয়ে গলে যায় কেন ?
এ হাতে কিছুই নেই
অস্ফুট যন্ত্রনা অথবা গভীর আহবান
এমন কি প্রত্যাখানও ...... !

কবিতা : মন মহলে
- প্রদীপ ঘড়া

কি দিয়ে গড়া তোমার রুপছবি
তুমি নারী - কিনা পরী !
ফুল দিয়ে নয় বানানো
ছবি দিয়ে নয় সাজানো
কি দিয়ে দেবো
তোমার রুপছবির বর্ণনা
ভাষা খুঁজে পাই না
নির্বাক হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকি ।
ভাবতে ভাবতে হারিয়ে যায়
ওই রুপছবির মাঝে
হয় মনে শুধু
তোমাকে পেয়েছি কাছে !
কি করব ?
ছবি করে রাখবো দেওয়ালে
না দেবী করে রাখবো সাজিয়ে
রাখলাম মন - মহলে
এক অচিন দেশের দেবী করে ।

Nabadibakar_Writer_30

কষ্টেসৃষ্টে মানুষ
- মনিরা ফেরদৌসি

একলা আমি চলতে গিয়ে হটাত হোচট খাই,
বুঝতে পারি আমি বুঝি তাদের মাঝে নাই।
চোখের পাতা খুলে দেখি সবার ছবি আঁকা
কথা শুনে মনে হল তাদের সব যে ফাঁকা।
ইচ্ছা ছিল তাদের ধরে আকাশ দিব পাড়ি
হলো না আর ইছা পুরন এখন কি যে করি।
হঠাত করে শুন্য করে কোথায় দিল পাড়ি
ভয়ে ভয়ে হয়ত বা সে গলায় দেবে দড়ি।
থাকল আমার কষ্ট ভরা জর্জরিত বুকে,
দুচোখ ভরা স্বপ্ন আমার ধুলায় পড়ে আছে।।

ভালবাসি তোমাকে
- ডাঃ নাজনীন সুলতানা


প্রথম যেদিন মেয়েটিকে দেখলাম খুব ভালো লেগেছিল। বাবা মার সঙ্গে এসেছিল রেস্টুরেন্ট এ। আমার সাথে ছিল আমার মা আর বড় দুই বোন। আমরা মেয়েটিকে দেখতে গিয়েছিলাম। বাসায় ফিরে ও মাকে বললাম মেয়েটিকে আমার পছন্দ হয়েছে। কয়েক দিন মেয়েটির সাথে ফোনে কথাও হল। ভারী মিষ্টি গলা মেয়েটির। কিন্তু মেয়েটির বাবা আমার মা কে ফোন করে মানা করে দিল। আমরা ওদের মতো সম্পদশালী নই আর ওদের ডাক্তার মেয়ের জন্য ডাক্তার ছেলে দরকার। এরপর একবছর পার হয়ে গেল। এই এক বছর অনেক মেয়ে দেখছি। কিন্তু অনেক সুন্দর মেয়ের ভীড়ে শ্যামলা মেয়েটির নেই মিষ্টি হাসি আমার মন থেকে মুছতে পারিনি। একদিন বন্ধু মনির কে ফোন দিতে গিয়ে মনি নামের সেই মেয়েটিকে ফোন দিয়ে ফেললাম। সাথে সাথে ফোন কেটে দিলাম। মনের ভিতর পুষে রাখা এক বছর আগের কষ্টটা আর একবার নাড়া দিয়ে উঠল। কিন্তু সন্ধ্যে বেলা ফোনটা বেজে উঠতে দেখি সেই মেয়েটির ফোন। অনেক উত্তেজনা চেপে রেখে ফোন ধরলাম। ও জানতে চাইল আমার বিয়ে হয়েছে কিনা। মেয়েটি জানালো আমাকে ওর অনেক পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু ওর বাবা মা রাজী নয়। আমি ডাক্তার নই, এটাই ওদের আপত্তির কারন। সেদিন অনেকক্ষন কথা হল। ফোন রাখার পর মাকে বললাম আর একবার চেষ্টা করতে। মা মেয়েটির বাবাকে ফোন দিল। উনি বললেন ভেবে জানাবেন। দু-দিন পর মেয়েটি ফোন দিল বলল বাবা মা ভাববার জন্য একটু সময় চেয়েছে। আমার প্রতিদিনই কথা বলতাম। আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম আমি এই মেয়ে টিকে ভালোবেসে ফেলেছি। মেয়েটি একদিন ফোন দিল, কাঁদতে কাঁদতে বলল ওর বাব মা রাজী হয়নি। বলল “আচ্ছা আমি যদি কখনো আমার বাবা মা কে রাজী করতে পারি আর আপনি যদি কাউকে বিয়ে না করেন তাহলে কি আপনি আমাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহন করবেন”। আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। আমার পুরো পৃথিবী অন্ধকার মনে হচ্ছিল মনে হচ্ছিল বুকের ওপর কি যেন একটা পাথর চেপে বসে আছে। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। কোন মতে বললাম তুমি যেখানেই থাক ভালো থেকো, হয়ত আমার ভাগ্যে তুমি নেই। সেদিন সারারাত ঘুমাতে পারলাম না খুব কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মৃত্যুর কষ্ট ও কি এর চেয়ে তীব্র হয়। ভোর বেলায় একটা এস এম এস পাঠালাম “আমি বোধহয় তোমাকে ভালোবাসি”। তার দুই তিন ঘন্টা পর মেয়েটি ফোন করল। বলল আজ কি তোমার মাকে নিয়ে আমাদের বাসায় বিয়ের কথা বলতে আসতে পারবে। মেয়েটি নাকি সারারাত কান্নাকাটি করে ওর বাবা মাকে রাজী করিয়েছে। আমার এক মুহুর্তের জন্য মনে হল আমি বোধ হয় স্বপ্ন দেখেছি। বিকালে আমি আর মা ওদের বাসায় গেলাম বিয়ের কথা পাকা করতে। আর তার একমাস পর সেই মিষ্টি মেয়েটি আমার ঘর আলো করে আমার বউ হয়ে এল। বিয়ের দিন যখন ওর হাত ধরলাম মনে হল এইহাত আর কখনো ছাড়বনা। আর এখন প্রতিরাতে ও আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে যায়, আর আমি দু হাতে জড়িয়ে রাখি নিবিড় ভালোবাসায়। আজ বিয়ের একবছর পর বলতে চাই “তোমাকে খুব ভালবাসি বউ” আর বিয়ের অনেক বছর পর যখন আমরা বুড়ো বুড়ি হয়ে যাব এমনি করেই ভালবাসবো।

শীতের ছায়ায়
- বিভূতি চক্রবর্তী

হাড়-ভাঙ্গা শীত কেটে গেল
এবার গ্রীষ্মের পালা,
শীত-গ্রীষ্মের মাঝে এলেই
মনের ভিতর জ্বালা।
এই জ্বালাতে জ্বলছে শুধুই
কোকিল এবং ঘুঘু পাখী,
কান্নার সুর, উদাস হৃদয়,
কাঁদে শুধুই ডাকি ডাকি।
প্রকৃতি এখন বদলে গেছে
তাই তো সবার দৃষ্টি,
সুরের মায়ায় ছড়িয়ে পড়ে
মন-ঢালা এক সৃষ্টি।
একের পর এক বছর আসে
মনের ঘরের সামনে ভাসে,
মুখর মনের উল্লাসে আজ-
অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি।

আগরতলা, ১০/০২/২০১৫ ইং ।

Nabadibakar_Writer_46

শীতের ছায়ায়
- বিভূতি চক্রবর্তী

হাড়-ভাঙ্গা শীত কেটে গেল
এবার গ্রীষ্মের পালা,
শীত-গ্রীষ্মের মাঝে এলেই
মনের ভিতর জ্বালা।
এই জ্বালাতে জ্বলছে শুধুই
কোকিল এবং ঘুঘু পাখী,
কান্নার সুর, উদাস হৃদয়,
কাঁদে শুধুই ডাকি ডাকি।
প্রকৃতি এখন বদলে গেছে
তাই তো সবার দৃষ্টি,
সুরের মায়ায় ছড়িয়ে পড়ে
মন-ঢালা এক সৃষ্টি।
একের পর এক বছর আসে
মনের ঘরের সামনে ভাসে,
মুখর মনের উল্লাসে আজ-
অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি।

আগরতলা, ১০/০২/২০১৫ ইং ।

অভাগা
- মোঃ মাহমুদ আলম

রাজাদের সাথে, ধনীদের সাথে নেই মোর সখ্যতা
মোর ভালোবাসা তোর জন্য ওরে ও গরীব চাষা ।
ওরে ও কুলি ওরে ও মজুর ওরে ও ঝাড়ুদার
আয় বুকে আয়, মুছে ফেলি সব শূন্যতা হাহাকার ।
তোদের রক্ত পানি করা শ্রমে হয়েছে যারা ধনী
তাদের দুয়ারে থুথু ফেলি করে তোর আঙ্গিনায় জলকেলি ।
তোদেরই শস্য, তোদেরই মাটি, পানির দামে কিনে
তোদের দিয়ে বর্গা খাটায়, প্রাসাদ শয্যা নিয়ে ।
যত টাইটেল যত পদবি আগে পিছে লাগা তার
নামের শেষে হারামির খেতাব লিখে রাখ মহাকাল ।

পেটেতে তোর অন্ন যায়নি, যায়নি দুটা দানা
ক্ষেতের পানে ছুটছিস তুই চোখেতে দেখিস কানা ।
পানি দিয়ে, নিড়ানি দিয়ে সতেজ রাখিস চারা
সুদের ঋণে সার, বীজ কিনে মহাজনের হাতে ধরা ।
সোনালি ধানে মাঠ ভরে গেল, মুখে নাই তোর হাসি
ধানের বাজার বেজায় খারাপ, লাভের খাতায় ফাকি ।
একদিকে হায় ঋণের বোঝা, আর একদিকে পরিবার
বুকটা ফেটে মরুভূমি হলো, অশ্রু শূন্য ধর ।
থাক থাক থাক আর করিস না কাহিনি লম্বা তোর
দুজন মিলে গলাগলি করে কাঁদবো রাত ভোর ।
অট্টালিকার মানুষগুলো বুঝবেনা তোর ব্যথা
তোদের রক্ত দিয়ে তাদের বিছানা বালিশ ঠাসা ।

শরীর স্বাস্থ্য : পৃথিবীর সকল শিশু হোক সুস্থ ও সুন্দর
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


আপনার শিশু যদি চশমা use করে, তবে তার চোখেরও check up করান ছয় মাস বা এক বছর পর পর । যতোটা সম্ভব টিভি, মোবাইল ফোন, আই প্যাড , Laptop এ cartoon, সিনেমা....... বেশী দেখতে দিবেন না ।


ছোট্ট বেলা থেকেই শাক সব্জি, টাটকা ফল খাওয়ার অভ্যাস করাতে হবে । চশমার ফ্রেম যেন ভারী না হয় ।


চশমার জন্য আপনার শিশু যেন হীনমন্যতার শিকার না হয়, সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে ।


Pregnancy তে সব নারীর জন্য শাক সব্জি, ফল সহ পুষ্টিকর খাবার ভীষণ জরুরী ।


আপনার শিশুটিই হয়ে উঠতে পারে মহান এক মনীষী । কোন শিশুর মাঝে কি ভবিষ্যত লুকিয়ে আছে, আমরা কেউ জানি না । তাই আপনার সন্তান এর যত্ন নিবেন । ছেলে ও মেয়ে শিশুর জন্য একই রকম সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে ।


পৃথিবীর সকল শিশু হোক সুস্থ ও সুন্দর ।


ফারহানা মোবিন ।
চিকিৎসক ও লেখক ।
4.2.16

farhana doc newআপনার সন্তান কে বাঁচতে দিন...তার ইচ্ছে মতো
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


সবাই কে সালাম । মহান এই ফেব্রুয়ারী মাসে ভাষা দিবস এর অগ্রিম শুভেচ্ছা । পৃথিবীর প্রতিটি বাবা মা অনেক বড় আশা করেন তার সন্তানের জন্য । কোনো মা বাবা তার সন্তানের কোনো অমংগল চায় না ।কিন্তু সব পিতা মাতা ভালো বন্ধু হতে পারে না । অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের অমতে একটি ছেলে বা মেয়ে কে লেখাপড়া করতে হয়, অনেক পরিবার থেকে বাধ্য করে ....নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করার জন্য, ভালো লাগার কাউকে জোর করে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয় । জোর করে পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে বিদেশে পড়তে পাঠানো হয় ।এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে আমাদের সমাজের চারপাশে । যা মোটেও উচিত নয় । বাবা মা , ভাই বোন, আত্মীয় স্বজন অবশ্যই আপনজন । কিন্তু সবাই কে নিজের জীবন টা নিজেকেই বহন করতে হয় ।
তার জোর করে কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু চাপিয়ে দিতে নেয় । নিজের ইচ্ছা মতো মানুষ যে পেশা বা জীবন বেছে নেয়, সেই জীবনে বা সেই কাজে তার কয়েক গুণ পরিমাণ বেশী ভালোলাগা কাজ করে ।
না পারতে , পরিবারের সদস্যদের খুশী করার জন্য, মনের বিরুদ্ধে জোর করে কোন কাজ করাটা বোকামি । আপনার জীবন টা একান্তই আপনার নিজের । আপনার সাথে অবশ্যই আপনার পরিবারের সদস্যরা জড়িত ।কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে, অবশ্যই ভেবে দেখবেন, যে আপনি খুশী কিনা। আপনি কতোটা পথ চলতে পারবেন । আবার এই বিষয়টাও খেয়াল রাখতে হবে যে, মানুষের জীবন সব সময় তার আশা মোতাবেক হয় না ।
চাইতে হবে যা অবশ্যই আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী মেলে । মানুষের সব আশা পূরণ হবে না ।এই কঠিন সত্য টা মেনে নিতে পারলে , অনেক কষ্ট আর আঘাত কমে যাবে ।
আর সব বাবা মায়ের উচিত , তার সন্তানের মন মানসিকতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া ।তার ছেলে বা মেয়ের খুব ভালো বন্ধু হবার চেষ্টা করা।
অপরদিকে ছেলে মেয়েদের কেও খেয়াল রাখতে হবে, পিতা মাতা ভীষণ আপনজন ।
সন্তান জন্ম দিয়ে বাবা মা হওয়া যায় । কিন্তু সবাই ভালো বাবা মা হতে পারেন না । ভালো পিতা মাতা হবার জন্য , অবশ্যই সন্তানের মন মানসিকতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ।
পৃথিবীর সব পিতা মাতা হোক তার সন্তানের খুব ভালো বন্ধু ।
পিতা মাতা বা সন্তান এর চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তে, আর যেন না কাদে কোনো মন, হতাশায় ডুবে না যায় ........আর কোনো জীবন ।
সবার জীবন হোক সত্য ও সুন্দর।
অনেক অনেক শুভকামনা ।


Dr Farhana Mobin,
MBBS, Masters in Public Health (Epidemiology - Thesis Part ,
Resident Medical Officer of Gynaecology and Obstetric in Square Hospital,Dhaka, Bangladesh.
4.2.16.

Nabadibakar_Writer_24_

নরপিশাচ
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

যে একবার জ্বলে উঠে সকল অন্যায়ের প্রতিপক্ষ
হয়ে,সে বার বার ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিতে পারে সকল
অত্যাচারি মানবতা-ঘাতী পাপিষ্ঠ মেলার মঞ্চ।
সে কখনো হয়ে উঠে স্বর্ণজ্জ্বল অগ্নী,যে অগ্নী
পাপিষ্ঠর তালোয়ারী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মুছে
ফেলে তার সকল অসতিত্ত্ব।

কখনো কখনো যত্র-তত্র শত শত নরপিশাচের জন্ম
হয়,জন্ম হয় শত শত নতুন অন্যায়ের,নির্যাতনের স্বীকার হয় শত শত নীরিহ জীবন!
সমাজে শান্তীর চারা উপরে ছুরে ফেলে,হাজারো
অশান্তির বীজ ছিটায়ে দেয়।তবুও সেই ছুরে ফেলা
চারাটি হয়ে উঠে বৃক্ষ,তার শত শত ডালে শত শত
ঝড়ের জোয়ার তুলে;ধ্বংস করে দেয় সকল অশান্তি
সকল নরপিশাচের মেলা।

তবুও আজো নতুন রুপে জন্ম হয়েছে জঘন্যতম শত
অন্যায়,অন্যায় প্রতিদিনি ভর করে হাট,বাজারে, বন্দরে, প্রতিষ্ঠানে সভ্য মুখোশের আড়ালে ঘুরে বেড়ায়,কখনো সত্য ভাঙ্গিয়ে ক্ষনিকের মিথ্যের জয়
গড়ে তুলে....................কিন্তু!
সেই সত্য ফিরিয়ে আনতে, অন্যায়,অত্যাচার বহন- কারি সভ্য মুখোশ-ধারী দের রাজত্ব বিনষ্ট করার জন্য
প্রতিনিয়ত এক বীরের জন্ম হয়।

তারিখ:০৩-০২-২০১৬
শেখটোলা,শিবগঞ্জ,চাঁপাই-নবাবগঞ্জ!

Nabadibakar_Writer_46

ভালোবাসার ছবি
- বিভূতি চক্রবর্তী

ভালোবাসার অনেক ভাষা, অনেক আশা-
তা নইলে আর ভালোবাসার রইলো কি?
প্রেমিক যারা, তাদের নিয়েই বিশ্ব-ভুবন,
ভালোবাসায় প্রেমের হাওয়া বইলো কি?
ভালোবাসার সীমানা নেই, নেই কোন ঘর,
তবুও তাদের উচ্ছ্বাসে আজ বিস্মিত কবি-
কে বলে ভাই ভালোবাসায় কিছুই তো নেই,
আছে শুধু প্রেমের একটি অসামান্য ছবি।

আগরতলা, ৩১/০১/২০১৬ইং ।

কামদুনি তোমায় সেলাম
- অপু কর্মকার

কামদুনি দিয়েছে মোদের- এক বড় উদাহরণ,
প্রতিবাদ একমাত্র পথ, এগোতে জীবন চরণ;
এক মেয়ে, যে সহ্য করেছে পাশবিক যন্ত্রণা,
তার ত্যাগ ফেরালো সমাজে- প্রতিবাদী মন্ত্রণা৷

দিকে দিকে ঘটে চলে কত- পশুত্বের রাজ,
নির্লজ্জ, বেহায়া ওরা, পেলনা তবু লাজ;
আত্মা তাঁর শান্তি পেল, দেহ হয়ে গেছে ছায়,
'কামদুনি এক নতুন সূর্য'- আইনে দিয়েছে রায়৷

নির্বাক থেকে যেতো না পাওয়া, যা ছিল প্রাপ্য,
কয়েক পাতায় লেখা হতো- 'দুঃখি মেয়ের গপ্প';
সেই গপ্পে নীতির ছোয়া, আদালতেই পেলাম,
ধন্য তুমি প্রতিবাদী, 'কামদুনি' তোমায় সেলাম৷৷

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget