জানুয়ারী 2016

অভিমান
-মিন্টু উপাধ্যায়

অভিমান করেছি,
করেছি আমি তোমার ওপর... ।
বুঝলে না তুমি আমায়,
আমায়... কোনদিনও... ।
বলবো না তোমায়,
তোমার ভুলটা কি ছিল... ।
নিজেই নিজে খুঁজে নাও,
এই অভিমানের উৎস কোথায়... ।

ছোট ছোট আভিমানেই তো,
ভালবাসা সম্পূর্ণ হয় ।
তা কি তুমি জানো না,
না কি জেনেও বোঝো না... ।
অভিমান যখন ছোট থেকে
বড় হয়ে যায়, তখনই...
তখনই সেটা আর ভালবাসা থাকে না ।
সম্পর্কের মায়াজাল কাটিয়ে মুক্ত হতে চায়... ।

অপেক্ষায় আছি তোমার,
জানি তুমি আসবে,
অভিমান ভাঙাবে আমার... ।
নাহলে সেই,
শূন্যতা থেকে শুরু করে,
সেই শূন্যতাতেই ফিরে যাব... ।

রচনা – ২১/০৭/২০১৫ ইং

Nabadibakar_Writer_40

অসহায় শিশু
- মেহেদী হাসান আকাশ

সে দিন দেখেছিলাম
রাস্তার মাঝে অসহায় এক শিশু
পরনে নেই তার জামা কাপর আর
পরেনি পেটে কিছু।
দেখে আমার কষ্ট লাগলো
গেলাম ওর পিছু
আমাকে দেখে কেঁদে বলে ওঠে
স্যার আমাকে খেতে দেন কিছু।
নিয়ে গেলাম এক চায়ের দোকানে
বসিয়ে দিলাম কিছু খেতে
অর্ধেকটা খেয়ে নিয়েছে বটে
অর্ধেকটা রয়েছে ওর প্লেটে।
আমি বললাম সবটাই তোমার
খেয়ে মিটাও খিদের জ্বালা
শিশুটি বলে ওঠে
আমি যদি সবটা খেয়ে নেই তবে
কী খাবে আমার ছোট বোনটি
এই সমাজে বসবাস করেও
আমরা যদি কিছু না করি তবে
কী করবে অসহায় এই শিশুটি।

মালদার অনুশ্রীর ছবি দেখেই প্রেমে পরে যায় মুর্শিদাবাদের দীপু- যাকে বলে 'Love at first sight'. পরিচিত একজনের সাহায্যে তারা একে অপরের সাথে জুড়ে যায়, কিন্তু Facebook-এ ৷

দিন-রাত নানা কথা, ক্রমে বেড়ে ওঠে একে অপরকে জানার প্রচেষ্টা ৷ মেয়েটির কন্ঠস্বর ছিল কোয়েলের মতো মধুর৷

দীপু প্রতিদিন একবার হলেও ফোন করে অনুশ্রী এবং তার পরিবারের খবর নিত ৷ দীপু বাড়িতে থাকলে কোনো ফোন পেত না, তবে সে মালদা গেলে মেয়েটি তার খবর নিতো৷ এর মধ্যে দু-একবার তাদের দেখাও হয়, তবে কেউ নিজেদের মনের কথা বলতে পারেনি৷ দীপু এতেই খুশি ছিল, তবে সে জানতো না অনুশ্রী সত্যি তাকে ভালোবাসে কিনা !

একদিন দীপু তাদের সম্পর্কের নিশ্চয়তা নিতে বারবার মেয়েটিকে ফোন করে- কোনো উত্তর নেয়৷ শেষে ছেলেটি আবার পুরনো রাস্তা ধরে মেয়েটিকে প্রেম নিবেদন পাঠায় Facebook-এ; অনেক পরে উত্তর আসে- 'তুমি ঘুমাও'...

.....

আমার প্রথম প্রচেষ্টার অণুগল্প...

Nabadibakar_Writer_30

ধূসর বুকে
- মনিরা ফেরদৌসি

ভোরবেলাতে পায়ের চিহ্ন রেখে যায় চঞ্চলা
বেলা না যেতে ঘুচায়ে যায় তব খেলা,
চোখের জলের বেদনা ছুঁয়ে দূর দেশে যাও চলে
মালা গেথে বসে রই তবু পাইনা তোমার দেখা।
তৃষিত বুকে রাখব বেঁধে কেঁদে কেঁদে হই সারা
নিখিল ভুবনে সুখের ও লাগি হই যে দিশে হারা,
অন্তর জাগে বাঁশির সুরে শিহরণ লাগে স্বপনে
রিনিঝিনি কাঁকন বাজে ফুল ফোটে বনে।
পূর্ণ চাঁদের মায়াবী লগণে ঢেউ ঝিলমিল করে
আলোর ছোয়া লাগল যেন মরুর ধূষর বুকে।।

শরীর স্বাস্থ্য : চাই উজ্জ্বল মসৃন চুল
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


চুল সৌন্দর্য্যের অন্যতম প্রতীক। নারী-পুরুষ সবার সৌন্দর্য্যের জন্য চাই উজ্জ্বল মসৃন চুল। চুল সুস্থ, সুন্দর, জটমুক্ত হলে মানানসই চুলের স্টাইলে মুখটা লাগবে আরো বেশি আকর্ষণীয়। স্মার্টনেস বেড়ে যাবে আরো বেশি। নিজেকে তাই আকর্ষণীয় ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করে উপস্থাপন করে তোলার জন্য চাই পুষ্টি সমৃদ্ধ চুল। বর্তমান প্রতিযোগীতার ভীড়ে সামান্য কিছু সচেতনতা ও যত্ন আপনার চুলকে করবে আরো বেশি সুন্দর। আসুন নিজেকে সুন্দর করি। প্রতিযোগীতার বাজারে গুনের সাথে রূপেরও যথেষ্ট প্রয়োজন।


চুল পড়ে যাবার কারণ




  • মনোদৈহিক সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি, গভীর রাত জেগে পড়া বা ল্যাপটপে ও ট্যাবে কাজ করা, টিভি দেখা। এই কাজগুলোর জন্য চুল ঝড়তে পারে।

  • ভেজাল খাবার হলো চুল পড়ে যাবার অন্যতম প্রধান কারণ। দেহে প্রচুর পরিমানে আয়রন ক্যালসিয়ামের অভাবের জন্যও চুল পড়ে যায়। আয়রন শরীরে রক্ত তৈরী করে। আর ক্যালসিয়াম চুল, দাঁত, হাড় মজবুত করতে রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাই দেহে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের অভাবে চুল পড়ে।

  • সঠিক সময়ে খাওয়া, ঘুমানের অভাব, অতিরিক্ত রৌদ্র ও ধূলাবালিতে থাকা, অতিরিক্ত মানসিক কষ্টে চুল পড়ে।

  • রক্তে চিনি মাত্রা, হরমোনের অসাম্যাবস্থা, রক্তচাপের উঠানামার জন্যও চুল পড়ে যায়। বড় কোন অপারেশন, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের কেমোথেরাপী দেয়ার পরেও চুল পড়ে।

  • কেমোথেরাপি ছাড়াও কিছু ওষুধ আছে। যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল ঝড়তে পারে। দেহে উদ্ভিজ্জ আমিষের (ডাল, শিমের বিচি, শষ্য) তুলনায় প্রাণীজ আমিষ (মাছ, মাংষ, ডিম, দুধ) এর পরিমাণ বেড়ে গেলেও চুল ঝড়ে যায়। ওজন বেশি বা দেহে কোলস্টেরল বেশি, এমন ব্যক্তিদের প্রাণীজের তুলনায় উদ্ভিজ্জ আমিষ বেশি বেশি খাওয়া দরকার।

  • মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী, ভেজাল খাবার, দূষিত পানি, ভেজা চুল বেধে রাখার জন্যও চুল ঝড়ে যায়। বংশগত কারণও দায়ী। পারিবারিক কারণেও চুল পড়ে যায়। রক্তের সম্পর্কিত আত্মীয় স্বজনদের মাথার চুল কম থাকলে, কারো মাথার চুল ঝড়তে পারে।

  • চুলে অতিরিক্ত রং, অতিরিক্ত শ্যাম্পু, অধিক সংখ্যকবার হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলেও চুল পড়ে যায়। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্ম দেয়ার পরে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ দানকালীন সময়েও সুষম পুষ্টিকর খাবার এর অভাবে চুল পড়ে যায়।

  • দেহের ওজন অতিরিক্ত হারে বেড়ে গেলে দেহের অধিকাংশ অংশগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা। সেক্ষেত্রে দেহের শিরা-উপশিরা এবং চুলের গোড়ার স্নায়ুগুলো সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে না। তখনও চুল পড়ে যায়।


চুল পড়ে যাওয়া রোধে আমাদের করণীয়




  • নিয়মিত সবুজ, হলুদ শাক সবজি, মৌসুমী ফল, তিতা খাবার (চিরতার রস, করলা, নিম) খান। প্রতিদিন ২- ২.৫ লিটার পানি পান করুন। বেশি পানি খেতে খারাপ লাগলে কমপক্ষে প্রতিদিন দুই লিটার পানি পান করুন। পানি জাতীয় খাবার খান বেশি করে, এতে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচল করবে। পুরো দেহে সঠিক ভাবে রক্ত চলাচল করলে, চুল পড়বে কম।

  • দেহে রক্ত তৈরী হয়, এমন ধরনের খাবার বেশি খেতে হবে। সেই সাথে যোগ করুন ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার (যেমন- দুধ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার)।

  • নিয়মিত চুল এর পরিচর্যার করুন। অতিরিক্ত রৌদ্রের তাপ ও সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করুন আপনার চুলকে।

  • মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী কখনোই ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ওজন সর্বদা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

  • চুল পড়ে যাওয়া রোধ করা ও চুল ভালো করার জন্য বাজারে নানান রকম ওষুধ বিক্রি হয়। এসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাবেন না।

  • বড় কোন অপারেশান এর পরে, মাতৃদুগ্ধদানকালীন সময়ে অবশ্যই আয়রন, ক্যালমিয়াম জাতীয় খাবার এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খান।

  • যেকোন মাদকদ্রব্য, ধূমপান বর্জনীয়। সর্বদা হাসি খুশি থাকুন।

  • যে কোন নেতিবাচক চিন্তা ও হতাশা চুল ঝড়ার জন্য দায়ী।

  • চুলে কেমিক্যাল যতো কম ব্যবহার করা যায়, ততোই ভালো। চুলে অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলেও চুল ঝড়তে পারে।

  • চুল ঠিকমতো আচড়াবেন। এতে চুলের প্রতিটি প্রান্তে স্নায়ুর কার্যপ্রবাহ সচল হবে। পুরো মাথাতে স্নায়ু প্রবাহ সঠিক হলো চুলের বৃদ্ধি ও বর্ধন হতে হবে।

  • মেনোপোজ (মাসিক চিরতরে বন্ধ হওয়া) হবার পরে দেহে সঠিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও আয়রনের অভাবে প্রচুর পরিমাণে চুল ঝড়ে। তাই এই সময় ক্যালসিয়াম প্রতিদিন একটি করে খান এবং সেই সাথে প্রয়োজন প্রচুর পরিমানে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। তবে বেশি উপকারের আশায় অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন না। হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল ঝড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Nabadibakar_Writer_41

আঁধারের গল্প
- আশরাফুল ইসলাম শিমুল

"আঁধারের সাথে কথা বলি
পরাধীন ঘুম শুষে খায় জীবাশ্ম রাত
আজ যে বর্তমান কাল'তে ইতিহাস।
যে মানুষটা জীবতাত্ত্বিক সত্তাকে লালন করবো,
সেই মানুষটা আজ মৃত সত্তা।

আঁধারে আঁকা কল্পনার পাহাড়,
স্থির দাড়িয়ে আছে কিছু রাক্ষস,
ভয়ঙ্কর প্রহসন, কর্পূরের ঘ্রাণ, পায়ের পদচিহ্ন,
সমুদ্রের বালুচর , বুকে চাপারক্তজবা ,কড়া সেন্ট,
বই'য়ের তাকে কিছু ধ্যান,
আর একটু রাত গভীর হলেই নেশা খেয়ে ফেলবো
সমস্ত সত্তা,
ত্র্যাশে জমা হবে জলন্ত সিগারেটের ছাই,
উরন্ত ক্যানভাসে জমে উঠবে কুহেলিকা।

ধ্রুপদী পৃথিবী থেকে ছুটে আসবে সূর্য
খেয়ে ফেলবে চোখের জ্যোতি,
অজ্ঞান হবে আমার বেদনাবিদ্ধ নেশা,
মৃত গিটারের শরীরে গেঁথে যাবে তামাকের গন্ধ,
গন্ধে গন্ধে প্লাবিত সমুদ্র,
ব্রোথেলের উষ্ণ শরীর, দেবতাদের পবিত্র দেহ ।

আঁধারের পদচিহ্নে দাড়াবে মেঘ,
গঙ্গা স্নানে ফিরবে আকাশ,
আঁধারের তরী বয়ে কথা বলা হবে শেষ।"

Nabadibakar_Writer_46

অন্ধকারের রাণী
- বিভূতি চক্রবর্তী

নিকষ কালো অন্ধকারের সামনে এসে দাঁড়ায় রাণী-
আলোর মালায় সাজিয়ে দিলাম আমার ভুবন খানি।
আঁধার-আলোয় মিলন-মেলায় কে আসে মোর কাছে,
জীবন-মৃত্যু জড়িয়ে রাখে, তবুও রাণীর হৃদয় নাচে।
কারা যে এই জীবনটাকে এমনি করেই ভাসিয়ে দিয়ে-
পালিয়ে বেড়ায় বিশ্ব-ভুবন, হারানো সেই মনটি নিয়ে।
পুরানো-দিন, এমনি করেই জীবন নিয়ে যায় হারিয়ে-
স্তব্ধ আমার ব্যথায়-ভরা হৃদয় নিয়েই, রই দাঁড়িয়ে।

আগরতলা, ২৪/০১/২০১৬ ইং ।

পিয়ালী বসু র জন্ম ১১ই নভেম্বর কলকাতার এক সংস্কৃতি মনস্ক পরিবারে, ছোটবেলা থেকেই বাংলা সাহিত্যের প্রতি আত্যন্তিক আসক্তি র ফল স্বরুপ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাকত্তর ডিগ্রী লাভ ! প্রথম প্রকাশিত বই ফেলুদা কুইজ প্রকাশক আনন্দ পাবলিশার্স , ছোটদের জন্য বেস্ট সেলার বই মজার মজার গল্প ও চেনা গল্প অচেনা স্বাদ , প্রকাশক নবপত্র প্রকাশন , ছোটগল্প সংকলন তিন পৃথিবী প্রকাশিত হচ্ছে বইমেলায় , আদরের নৌকা , রিতবাক , সবুজপত্র ও নিরুক্ত পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন ।

Nabadibakar_Writer_76

যাপন চিত্র
- রিক্তা চক্রবর্তী

উল্টোডাঙার মোড়ে সেদিন দেখা
গোলাপি শাড়িতে আমি তখন
অফিসের তাড়াহুড়ায়
হাল্কা খয়েরী আভার ঝাঁকড়া এলোমেলো চুলে
তুমি সেদিনও সেই বিশের যুবক
অফিসের ঠাণ্ডা কেবিন , ধুলোমাখা ফাইল
তুমি তখন আমার মনে
সেই পাঁচ বছরের চিত্র পটে
সন্ধে ছটায় বাড়ি ফেরা ,
তোমার কথা মনে পড়া বহুবার
তবুও আমি সংযমী
তাই ফোনের ব্যালেন্স নষ্ট করিনা
আমি এখন চাকুরীরতা
লোকের চোখে কলঙ্ক পাখী
আমি এখন একলা মেয়ে
অযাচিত জীবনে অভ্যস্ত
যদি কখনও আবার দেখা হয়
ফিরিয়ে দেবে ?
সর্ষে ফুলের ক্ষেতের মিঠে কুয়াশাগুলি ?
ভুলিয়ে দেবে ?
আমার ক্লান্ত জীবনের যাপন চিত্রগুলি ?
# উত্তর ভাসে অনন্ত হাওয়ায় #

পরিযায়ীর ঠোঁট
- রেবেকা রহমান

ভালবাসার আয়ু রেখা শিষ দিতে দিতে
পৌঁছে সিমান্তে
জানালো, খেলা শেষ
বেলা শেষ ... !
কিন্তু প্রেম যে অশেষ ...
দুরন্ত পরিযায়ীর ঠোঁট চিবুকে
মন রেখে বলে গেছে
কাছে না থাকি পাশে পাবে ..

জীবনের জলছবি

জীবনের জলছবি
- তুলিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

কতবার ভাঙি... কতবার গড়ি...
আমার পৃথিবী
জঠর উগড়ে জন্ম-দি বার বার
কত জীবনের জলছবি

Nabadibakar_Writer_75_Bangla-Kobita

কবিতা : কিংবদন্তী
- হাসান ইমতি

প্রিয়তমা, না এটা আসলে কোন কবিতার এপিটাফ নয়,
এটা নয় কোন পাতানো শব্দ বীজের অলীক ছায়ানট,
নিয়তির বেলাভূমিতে আমি ক্রমাগত লিখে চলেছি তোমাকে,
তোমার তোমাকে, আমার তোমাকে, একাকার বানভাসি সুখে,
আমি দুহাতে বেঁধেছি ভালোবাসা, আমি বুনে চলেছি মহাকাল,
চোখের সৃষ্টিতে, মনের বৃষ্টিতে, ভালোবাসার দৃষ্টিতে,
তোমার ঝর্নাতলায় ধরে রেখেছি প্রথম কৈশোরর রেণু,
তোমার মুখ আমার স্বপ্নের আকাশ নীলে ওড়া রামধনু,
না না, এ নৈবেদ্যে তুমি এমন কালবোশেখি হেসো না,
এলোকেশে এমন বেপরোয়া মাতাল সমীরণ এনো না,
তুমি খুব ভালো জানো, জানো তোমার হাসির দমকে
আমার কবিতার পাতাগুলো কেমন পুরুষ হয়ে ওঠে,
তোমার দীঘল চুলের গোপন মৌ ডাকে কেমন করে
ঈর্ষাকাতর হয়ে ঝুল বারান্দার বাড়ে রাতের বয়স ।

প্রিয়তমা, তোমার বাঁকা অধরের শতদল মেঘমালায়
আজ আবার খেলা করুক সেই পুরনো বৃষ্টির ভ্রূকুটি,
তোমার চিবুক ছুঁয়ে বয়ে যাক রহস্যের উদ্ধত নদী,
তোমার প্রলম্বিত আঙ্গুলের অহম আজ স্পর্শ করুক
আমার পরাজিত মধ্যপ্রদেশের না বলা সেইসব অন্ধকার,
চিবুকের শয্যা থেকে দু কদম বেড়ে সুডৌল ধুকপুক,
সেখান থেকে আরও কিছুটা নেমে বিশ্বাসের ঘাসজমিন,
অন্নদাতা কৃষকের ঘর্মাক্ত সৃষ্টির ইতিহাস অধিকারে নিয়ে
আমি তোমার আলিঙ্গনে আদিগন্ত লুট হয়ে যেতে চাই,
আমি কুলভাঙা কান্নায় নিঃশেষে নদী হয়ে যেতে চাই ।

প্রিয়তমা, সারস চোখের আরশিতে আরেকটু আগুন জ্বালো,
এই তৃষিত বুকের যমুনায় ভাসাও তোমার সর্বনাশের ভেলা,
তোমার অপাপবিদ্ধ ঠোঁট ছুঁয়ে যাক আমার লবন সীমানা,
হাতে হাত রেখে চলো যুগলবন্ধী আমরা ক্রমশ ঢুকে যাই
ভালোবাসার অনন্ত কবিতার শরীরে, ভীর থেকে গভীরে,
চলো তুমি আমি মিলেমিশে হয়ে যাই আজ জীবন্ত কবিতা,
নষ্ট বিস্ময়ের বিপরীতে আমরা হয়ে রই আরেক কিংবদন্তী ।

Nabadibakar_Writer_75_Bangla-Kobita

কবিতা : দীর্ঘশ্বাস
- হাসান ইমতি

হাত নির্দ্বিধায় ছুঁয়েছিল হাত,
কথা নিয়েছিল কথক রাত,
না রাখার জন্য কথা নেয়া,
জানি আমি, জানো তুমি, জানে ঈশ্বরও,
স্মৃতিতেই শুধু বেঁচে থাকে যৌবনের রাঢ়িখাল ।

প্রচ্ছন্ন বিদায় শোক আর আগমনী ধুনো একই
প্রচ্ছদে মলাটবদ্ধ প্রকাশনা বাণিজ্যের বদান্যতায়,
ইলেকট্রনিক আর প্রিন্ট মিডিয়ার কাটতি খোঁজে
নির্ভয়াদের নিপীড়ন ধর্ষণের উপাদেয় উপাখ্যান,
তুমুল ক্ষয়ে যেতে যেতে তবুও রায়মঙ্গলের জলে
একটা অনাবশ্যক দীর্ঘশ্বাস ভাসিয়ে দিয়ে যায়
উনবিংশ শতকের শেষ অরন্যচারী মানুষটি,
বিদ্যাধরী অথবা কালিন্দীর কালে মনুষ্যবেশে
পুনর্জন্ম নেয় কি রাজা প্রতাপাদিত্যের উত্তরসূরি ?

ভেজা শিউলির পা জড়ানো সকালের আয়ু সংকটে
কিংশুক সন্ধ্যা নামে নব্য দ্রৌপদীদের বেসামাল আঁচলে,
রেসকোর্স থেকে কফিন পর্যন্ত শুধু দৌড় আর দৌড়,
দিগন্তের ওপাশে ডুবে যাবার আগে আগুনের সূর্য
যেমন কথা দিয়ে যায়, দেখা হবে, আবার দেখা হবে,
তেমন পাকা কথা আজকাল কেউ আর দিতে পারে না ।

Nabadibakar_Writer_75_Bangla-Kobita

কবিতা : ঈশ্বরের জন্মদাগ
- হাসান ইমতি

বিভাবরী,
তোমার অধিকারে আগলে রেখো ঈশ্বরের জন্মদাগ,
মানুষের নামেই বরাদ্দ পাক নশ্বরের সব মুদ্রাদোষ,
আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠুক আরেকটা মন্বন্তর,
ভুলের সংবর্ধনায় সম্ভালার চোখে নামুক লবন নদ,
ভাঙন যন্ত্রনা দিতে ফিরে ফিরে আসুক ধনুষ স্বপ্ন,
সাম্রাজ্যের পালাবদলে খুলে যাবে নিষেধের জঙ্ঘম,
সুযোগের সন্ধানে রয়ে গেছে সুসময়ের কুশীলব,
ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে নিষিদ্ধ হাতছানির বয়স,
মলাটের গর্তে ফণা লুকিয়ে বাঁচে হাসিমুখ সংকলন,
কঠোর অনুশাসনের মুঠোবন্দী সব খয়েরী স্তনবৃন্ত,
উন্নতির দামে ক্রমশ উন্মোচিত সভ্যতার যোনী,
পারদের ঘনঘন উঠা নামায় ক্লান্ত সম্পর্কের আয়ু ।

পরিযায়ী,
আকাশ বদলালে সাথে বদলে যায় জরাসন্ধের হাসি,
জন্মান্তরের রেলে একই কোরাসে ভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী,
কত পথ গেলে মুছে ফেলা যায় নিয়তির বলিরেখা ?
কোন সাধনমন্ত্রের বাণে বদলানো যায় রক্তের লাল ?
কোন পাতালঝড়ে ভালবাসার পাশা উলটে যায় ঘৃণায়,
একুশের সেই চিরল উষ্ণতা কোথায় হারালে জনান্তি ?
কোথায় জসদের সেই সোনালী ফিনিক্সের আগুন ডানা ?
বিপদজনক দূরত্বে চেনা হাসি কেঁপে ওঠে মিথ্যের ঠোঁটে,
কবিতার পরিত্যক্ত খাতাজুড়ে শুধু তুমি নেইর শবযাত্রা,
সমুদ্রের দূরত্ব মাড়িয়ে আগুনপোকা ফিরে গেছে আগুনেই,
গোলমেলে ঘনিষ্ঠতায় বাস্তহারা সব হারানো চোখের মোহ,
কাঁটাতার বুকে আর কতোটা কাছাকাছি আসা যায় মহাকাল ?

Nabadibakar_Writer_75_Bangla-Kobita

কবিতা : নিকুন্তিনা
- হাসান ইমতি

নিকুন্তিনা,
নিজেকে আড়ালে ঢেকে তোমার সাম্রাজ্যের পত্তনে
যদি অবজ্ঞার অমোচনীয় কালিতে লিখে দাও
“প্রবেশ নিষেধ”
আমি জানব ওটা আদতে তোমার আমন্ত্রণ,
আমাকে ডাকছো তুমি নিষেধের উস্কানিতে,
আমি জেনে যাবো তোমার এই লোকদেখানো
সংবিধিবদ্ধ সতর্কের ঝাণ্ডা শুধু আমার জন্য,
এ আমার তোমাকে জিতে নেবার দুঃসাহস,
ভাঙলেই জানা যায় সংবিধানের খুঁটিনাটি,
ভাঙনেই নদী বদলায় সভ্যতার গতি প্রকৃতি,
আমি তোমাকে ভেঙে ভেঙে জেনে নিতে চাই,
তোমার শর্বরী অধরের লবণাক্ত জলসীমা,
তোমার মৃগাঙ্ক চোখের বানভাসি অক্ষাংশ,
তোমার বিভাবরী কুন্তলের মারণ মোহনা,
তনু থেকে অতনুর ভাইট্যাল স্ট্যাটিসটিক্স,
বিরুদ্ধবাদী ষড়যন্ত্রীর মত আমিও তোমার
নিষেধের দেয়াল টপকে জেনে নিতে চাই
কখন বৃষ্টি ঝরে তোমার অনিকানো বন্দরে,
কখন জোয়ার ভাঁটার টানে বাণ ডাকে নদে,
কতোটা উদ্ধত হলে জয় করা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা,
কতোটা নৈকট্যে ছোঁয়া যায় গোপন মণিকাঞ্চন,
তুমি যদি কখনো দুঃসহ ক্রোধে জানতে চাও
এই সীমাহীন অনধিকার চর্চার অন্য নাম কি,
আমি শুধু বলব, ভালোবাসি, বড় ভালোবাসি  ।

Nabadibakar_Writer_75_Bangla-Kobita

কবিতা : সম্পর্কের যতিচ্ছেদ
- হাসান ইমতি

বিরহ হাইফেন,
মন খারাপের দিস্তায় একা পথ হাটে কবির ডটপেন,
সকালের বিপরীতে পরাজয় বাজী রাখে মরফেন ।

চোখে চোখ রেখে হেসে দিয়ে বলে যায় কমা,
কান্নাগুলো ঝড়ে গিয়ে বুকজুড়ে থাকুক সুখ জমা,
ভুলগুলো ভুলে গিয়ে কাছে ডেকে করে দিও ক্ষমা ।

বিশ্বাসের বনেদী রঙ চটে হয়ে গেলে ধোঁয়াশা,
বুকের নদীতে চর হয়ে জেগে ওঠে জিজ্ঞাসা,
শীতের চোখে বেঁচে থাকে মায়াকাজল কুয়াসা ।

মাংসের বাটখারায় করে যারা লাভক্ষতি নির্ণয়,
ভালোবাসা তাদের চোখে এক অলৌকিক বিস্ময়,
আঙুল উচিয়ে বলে অবিশ্বাসের উদ্ধত তর্জনী,
হৃদয় ভাগ করো দেখে শ্রেণী বিভেদের বন্ধনী ।

মন খুলে এইবার পড়ে ফেলো অনুরাগের শাড়ী,
সুখ মানে তুমি আছো বলে সব আছের কুঠিবাড়ী,
মনে মনে মিল না হলে সম্পর্ক শেষে আড়ি,
বিচ্ছেদ ভালোবাসার মানচিত্রে ভাঙনের দাড়ি ।

শরীর স্বাস্থ্য : চিকিৎসা পরামর্শ
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


সবাই কে সালাম ।
আমি চিকিৎসক ও লেখক ডাঃ ফারহানা মোবিন । আমি দেশে ও বিদেশে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । সবাই বছরে অন্তত একবার হলেও পুরো দেহের check up করান । এতে লুকিয়ে থাকা অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব । হসপিটালে কষ্ট করার আগেই সচেতন হোন ।
যে পরীক্ষা গুলো বছরে অন্তত একবার হলেও করানো উচিত । তা হলো
1. CBC
2. FBS & 2HABF
3. SGPT
4. Serum Creatinine
5. HBsAg
6. U / R / E
7. ECG
8. Chest X ray
9. USG of Whole Abdomen
10. Lipid profile
এছাড়া কোনো চিহ্নিত অসুখ থাকলে, সেই অসুখের ধরন, রোগীর বয়স বুঝে আরো কিছু পরীক্ষা করা দরকার ।
সুস্থ দেহ, সুস্থ মন....এই হোক আমাদের সবার কামনা । আর সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার । সবাই ভালো থাকবেন । অনেক অনেক শুভকামনা ।

পরমাণু গল্প - ক্যাথারসিস - পিয়ালী বসুপরমাণু গল্প : ক্যাথারসিস - পিয়ালী বসু


ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে জল থইথই , হঠাৎ বর্ষণে ভাসমান কল্লোলিনী !
"কি করে বাড়ি ফিরবো বল দেখি ? শুধু শুধু আটকে গেলাম তোর জন্য" । চূর্ণি র বকুনি কানেই তোলে না অর্ক , তার চোখে তখন অদ্ভুত নেশা ,.....".ছেড়ে যাস না রে ! তোকে পাগলের মত ভালোবাসি আমি" !
"পাগলের মতো আমাকে দিন রাত ফলো না করে কাজ কর , কাজের চেষ্টা কর , বুঝলি ? ভালোবাসা দিয়ে পেট ভরে না রে।"
:
সকাল হয়েছে ।
এ ঘরে আলো ঢোকেনা , পাথরের তীব্রতা শুষে নেয় দিনের আলো , এখানে শুধুই অন্ধকার !
"খেয়ে নিন , এরপর ওষুধ খেতে হবে কিন্তু"
নার্সের অভ্যস্ত কণ্ঠস্বরে সম্বিত ফেরে অর্কর , সত্যিই তো ! আজ তো সোমবার ! ডাক্তার এর আসার দিন
২০ বছর ! সময়টা তো নেহাত কম নয় !
আজও সে একই ভাবে পাগলের মতো ভালোবাসে চূর্ণি কে ।
চূর্ণি.. এই পাগলা গারদের ডাক্তার।

Polas


নপুংসক ও দু’ফোঁটা অশ্রু (পাণ্ডলিপি থেকে)
- আবু রাশেদ পলাশ


-নটীর ছাও ডুইব্যা মর, সুরত দেকি পিত্তি জ্বলে ।
-ইতা কেমুন কও বুবু, বেটিনি বিয়াইছ হাঁচা ?
-দিলের বেদনগো বু, হগলনি কওন যায় ?
আজকাল প্রায়ই মুখে শ্রাব্য-অশ্রাব্য কথার তুবড়ি ছুটে নঙ্কর । দিনমান যুগীকে উদ্দেশ্য করে অভিসম্পাত করে সে । মা গালিগালাজ করলে পলিথিনে ঘেরা ডেরার ভেতর বসে অশ্রু বিসর্জন দেয় যুগী । লোকচক্ষুর সামনে এসে প্রতিবাদ করেনা সহসা । পাশের ডেরার হনুফা যুগীর হয়ে দু’একটি কথার জবাব দেয় মাঝেমাঝে । পরক্ষণে নঙ্কর তীক্ষè বাক্যবানে আক্রান্ত হলে নিজের ঘরে বসে গজগজ করে সে-
-বিয়ানকালে চেতছে বুড়ি বিষ উঠছে মালুম অয় ।
বাংলাদেশে নদীগুলো আষাঢ় মাসের শেষ নাগাদ যুবতী নারীর রূপ নেয় । জলের ধারা থই থই করে সর্বত্র। বেদে নৌকার বহরগুলো উত্তাল ডেউয়ে দোল খায় । বেদে ছেলে-মেয়েদের মনে জোয়ার আসে তখন । নৌকা চলে গ্রাম-গ্রামান্তরে, দেশ-দেশান্তরে । সওদাগরী ঘাটে নৌকা থামে কখনও কখনও । মেয়েরা ফেরি করতে বের হয় । ছেলেরা ঘরকন্নার কাজ করে । হাটুরে দলের একজন হয়ে বাজারে গেলে দিনমান চোখে পড়ে বেদেদের । ওরা জলে ভাসা মানুষ । জীবিকার সন্ধান করে হাটে হাটে, ঘাটে ঘাটে ।
বড়াল নদীতে বেদে নৌকার বহর দেখা যায় অগ্রহায়ণের শেষ অবধি । ঋতু পরিবর্তন হলে নদীতে পানি শুকায় । নদীর গতিপথ ক্রমশ দুর্বোধ্য হতে থাকলে বেদে নৌকাগুলো একসময় চরে গিয়ে ঠেকে । পৌষ মাসের শুরুতেই নদী শুকিয়ে মরা গাঙের রূপ নেয় । শুদ্ধ জলের নিচে সাদা বালু চিকচিক করে তখন । নিরুপায় হয়ে নদীতীরে অস্থায়ী বসতি গড়ে বেদেরা ।
দড়িপাড়া গ্রামের উত্তরে বড়াল নদীর তীর ঘেঁষে একদল বেদের বাস । ওরা এ গাঁয়ের স্থায়ী বাসিন্দা নয় । নদী বাস অনুপযোগী হলে সম্প্রতি এখানে এসে বসতি গড়েছে ওরা । এ পাড়ার খড়িমন্ডল নদীপাড়ের অনাবাদী জমিটা ছেড়ে দিয়েছে ওদের । সুযোগ বোঝে দশ বারোটা ডেরা তুলে নিয়েছে বেদেরা । এগুলোর চারপাশে দৈন্যতার ছাপ । চালাগুলো পলিথিন আর অব্যবহৃত সিমেন্টের বস্তায় মোড়ানো । বিকেলে নদীতে ধাপাধাপি করতে এসে গাঁয়ের ছেলেরা ওদের ঘরগুলোর পাশে জটলা করে । সুযোগ বোঝে সভ্য পাড়ার ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করে কেউ কেউ ।
-হামাকনি একখান বিড়ি দিবাম মিয়া ভাই ?
-নিয্যস । লও বিড়ি খাই ।
নসু আর হর এদেরই দলে । একজন মুসলমান পাড়ার ছেলে অন্যজন জাতবেদে । তবু ওদের বন্ধুত্ব হয়েছে সম্প্রতি । নসু পাখি পোষে, গাঁয়ে দক্ষ হাডুডু খেলোয়াড় সে । নামাকলি বাজারে একটা পান বিড়ির টঙ দোকান আছে তার ।
বেদেপাড়ায় পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব মেয়েদের । সে অর্থে ছেলেরা অলস । পড়ন্ত বয়সী অস্তালী বেদে এ পাড়ার সরদার । বেদেরা সবাই সমীহ করে তাকে । বেদে নারীদের কর্মক্ষেত্র ঠিক করে দেয় সে । এক দলে তিন-চার জন । কর্মক্ষেত্র ঠিক হলে মেয়েরা ধলপ্রহরে মাথায় সাপের ঝাঁপি অথবা তন্ত্র-মন্ত্র করার সরঞ্জামাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে । বেদে নারীদের মধ্যে নানকি, হনুফা, নঙ্ক আর হবিরন একই দলে ফেরি করে । শুকনো মওসুমে দড়িপাড়ার দহলিজে ওদের কণ্ঠ শুনা যায় ।
“ আয়গো মা, বুঝি খেলা দেখবামনি কেউটে, দাঁড়াশ, কালনাগিনী ”।
বেদেপাড়ার নঙ্কর বারো বছর বয়সী মেয়ে যুগী সংসারের হাল ধরেনি এখনও । এ বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রচলন বেদে পাড়ায় । যুগী অবিবাহিত । ওর বাপ মনুবেদে মারা গেছে বছর ঘুরতে চলল । সংসারে মা মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই । নঙ্ক পাড়া ঘুরে সাপ খেলা দেখায়, তাবিজ কবজ বেচে যা উপার্জন করে তাই দিয়ে সংসার চলে ওদের । উপার্জন না হলে ঘরে উপোষ সময় কাটায় দুজন । এ দৃশ্য বেদেপাড়ার ঘরে ঘরে । নঙ্ক বাড়ি না থাকলে প্রায়ই যুগী নদীতে শামুক কুড়ায় । নদীপাড়ে পুরনো নৌকা মেরামতের অপেক্ষায় থাকে । নৌকার গলুইয়ে বসে নসু আর হর ছিপে বড়শি লাগানোর কাজ করে । সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে শামুকে মালা গাঁথে যুগী । গাঁথা মালা বাজারে বেচে দেয় হর ।
আজকাল প্রায়ই নসুকে বেদেপাড়ায় আসতে দেখা যায় । ও এলে মাটির কলকিতে তামাক সাজিয়ে দেয় হর । হুঁকা টানার ছল করে মনে মনে যুগীকে খুঁজে নসু । দৃষ্টিগোচর হলে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে সে । রাতে বাড়ি ফিরে যুগীকে নিয়ে এলোমেলো ভাবনায় মজে অনেকক্ষণ ।
নামাকলি বাজারে অষ্টমীর হাট বসেছে কদিন হল । বিকেলে জোয়ান বুড়ো সবার ঢল নামে সে উপলক্ষে । বেদেরা বাহারি পণ্যের পসরা নিয়ে বসে বাজারে । ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবজ আবার সাপ খেলা দেখায় কেউ কেউ । বেদে মেয়েরা মুখে মুখে ছড়া কাটে-
“খা খা খা বখ্যিলারে খা, কিপটারে খা, কঞ্জুসরে খা । গাঁইটে টেকা বান্ধে যে না দেয় বাইদেনিরে মা মনসার ছেরি তাদের খা খা করে খা”।
নঙ্কর শরীর খারাপ হলে অন্যদের সাথে পণ্য ফেরি করতে যেতে পারেনা সে । নিরুপায় হয়ে যুগী স্বয়ং নিজের তৈরি পণ্যগুলো ফেরি করতে যায় বাজারে । সেখানে নসুর সাথে দেখা হয় তার । ফেরার পথে নসু ওকে এগিয়ে দেয় । তারপর বাজারে কেনা সস্তা ধরের কিছু প্রসাধনী হাতে দিয়ে বলে-
-হগগল তোমার । পিন্দে দেহায়ও কলাম ।
সহসা কথা বলেনা যুগী । নসুর দেওয়া জিনিসগুলো নিয়ে কাপড়ের ভাজে লুকিয়ে ফেলে সে । তারপর বলে-
-আমরার গাঁও যাইস নচেৎ মুনে গোস্যা থুমু ।
ডাঙায় থাকলে রাতে আগুনের ডিবি জ্বালিয়ে একসঙ্গে জটলা করে বেদে পাড়ার সবাই । ভাতপচা মদ খেয়ে ছেলেরা নেশায় বিভোর হয় । ঘরের বউয়েরা অগোছালো নৃত্য করে মাতলামিতে উৎসাহ দেয় ওদের । তারপর পরিবারের কর্ত্রীরা দিনভর উপার্জনের একটা অংশ সরদারকে ভোগ দিলে সেদিনের মত উৎসবের ইতি টানে সবাই ।
অসুস্থতার ধরুন কর্মহীন থাকলে সরদারের মজুরী দিতে পারেনা নঙ্ক । এজন্য সরদারের সাথে কলহ হয় তার । একপর্যায়ে ওকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল বাক্য বিনিময় করে সরদার-
-বেশ্যা মাগীর তেলা গাঁও, বানের জলে ভাসান দিমু ডরাইস ।
বেদে সরদার কলহ করলে বহরে প্রতিবাদ করার সাহস করেনা কেউ । এ পাড়ায় সবাই যমের মত ভয় করে ওকে । ভালমন্দ সমস্ত সিদ্ধান্তের মালিক সে । তার কথায় আইন বেদে পাড়ায় । তাই আজকের এ অপরাধে সরদার যে সিদ্ধান্ত দিবে তাই মানতে হবে নঙ্ককে ।
রাত বাড়লে নীরবতা নামে বেদেপাড়ার ঘরে ঘরে । একটা একটা করে পিদিম নিভে যায় সর্বত্র । নদীপাড়ে হিম বাতাস এসে গায়ে লাগলে মুহুর্মুহু কম্পন হয় শরীরে । নিজের ঘরে পিদিমের শেষ আলোটা নিভিয়ে নির্ঘুম রজনী কাটায় নঙ্ক । যুগী ঘুমিয়ে গেলে শাড়ির আচলটাকে শক্ত করে গোঁজে নেয় কোমরে । তারপর লোকচক্ষুর অন্তরালে বেদে সরদারের ঘরে ডুকে সে । আজ রাতে নপুংসকের দেহ ক্ষুধা মেটানোর দায়িত্ব ওর । আর সবার মত সরদারকে যথেচ্ছ মজুরী দিতে পারেনি সে । এ কি আর যেসে অন্যায় ? দিনের পর দিন যেখানে শুধু বেঁচে থাকার সংগ্রাম সেখানে আত্মসম্ভ্রমের মূল্য কি ? নঙ্করা শুধু বেঁচে থাকতে চাই । তারপর সেদিন রাতভর সরদারের ঘরে মেয়ে মানুষের গোঙানোর আওয়াজ শুনা যায় ।
পরদিন বেলা করে বিছানা ছাড়ে নঙ্ক । শরীর ব্যথায় উঠতে পারেনা সে । রাতে ওকে ভক্ষণ করেছে কেউ । নরম কোমল নারীসত্ত্বা চিবিয়ে খেয়েছে সে । বেদেরা সাপের চর্বি দিয়ে বিশেষ প্রকারের তেল তৈরি করে । এটা ব্যথা নাশক । বেদে নারীরা তাদের ঘরে রক্ষিত পুরুষদের প্রতি ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ ওদের দেহে সকাল সন্ধ্যায় তেল মালিশ করে । সূর্যস্নানে গেলে পুরুষদের দেহ চিকচিক করে । ওরা আরও সামর্থ্যবান হয় তাতে । বেলা বাড়লে যুগী তেল গরম করে এনে দেয় নঙ্ককে । তারপর বলে-
-অহন উইঠ্যা সিনান দে নিমাই শইল ভালা পাবি মালুম অয় ।
ফাল্গুনের শেষ দিকে আগুনরূপী গরম পড়ে গাঁয়ের সর্বত্র । অনাবাদী জমিগুলো ফেটে চৌচির হয় । মধ্যাহ্নে ক্ষুধার্ত কাকের কর্কশ কণ্ঠ কানে এলে মনে হয় আসমান ভেঙে গুড়োগুড়ো হল । গাঁয়ের দরিদ্র মানুষগুলোর ঘরে ঘরে অস্ফুট আর্তনাদ চলে দিনভর । অভুক্ত ছেলে বুড়োর দিকে তাকালে বুকের হাড় গোনা যায় ওদের । এমনই একদিন দড়িপাড়ায় বিচলিত হয় খড়িমন্ডল । তার আটবছর বয়সী মেয়ে অজিফার নিথর দেহ পড়ে থাকে দহলিজে । ওকে ঘিরে গাঁয়ের নর-নারী জটলা করে বেলার শেষ অবধি । মন্ডলের বউ মরিয়ম কন্যাশোকে বড় ঘরের মেঝেতে গড়াগড়ি দেয় । তারপর গগনবিদারী আর্তনাদ করে সে
-আয়গো খোদা জাননি মোর ছদগা দিমু বেটিরে ফিরত দেও ।
অজিফাকে সাপে কেটেছে সকালে । বেদে পল্লীতে খবর গেলে সাপের বিষ ঝাড়তে যেতে হয় নঙ্ককে । ওর সাথে আরও জনপাঁচেক লোক যায় মন্ডল বাড়ি । ওদের ঘিরে কৌতূহলী দৃষ্টি সরেনা গেঁয়োদের । নঙ্ক বলে-
-কেউটেগো, অমুন বিষ ছাড়ান দায় । ও অপারগতা প্রকাশ করলে ধমক দেয় সরদার-
-বিষটান মাগীর ছাও, আপনা জান ছাড়ান দে ।
তারপর দিনভর অজিফাকে ঝাড়-ফুঁক করে বেদেরা । মাঝেমাঝে সুরেলা কণ্ঠে গীত করে কেউ কেউ-
“নাজানি রমণী কতনা ছলনা জান, সাপের মুখত খায়ে চুমো ব্যাঙকে কুলে টান ও তর সাধন কিয়ে প্রাণ ও তর ভারি দেখি মান হে যেন মান করা নয় মানুষ মারা বিষ মাখান বান” ।
তাতেও কাজ হয়না । অজিফার নিথর দেহ স্বস্থানে পড়ে থাকে । অবশেষে সরদার জানাই-
-এ বিষ ছাড়ুনের নয়গো আমরারে ক্ষেমা দেন ।
আজকাল ঘন ঘন বেদে পল্লীতে আসা যাওয়া করে নসু । দিনের শেষবেলা পর্যন্ত হরর সাথে বসে খোশগল্প করে সে । এখানে এলে যুগীকে খুঁজে মনে মনে । বেদেপাড়ার যুগীর সাথে মন দেওয়া নেওয়া করেছে সে কিছুদিন হল । বারোবছরী চপলা নসু এলে মনে মনে উতলা হয় । আশেপাশে আনাগোনা করে সে । তারপর ঘরের দাওয়ায় বসে সবজি কাটার বাহানা করে নসুর সাথে অব্যক্ত ভালবাসার আদান প্রদান করে যুগী । নামাকলি বাজারে গেলে ফেরার পথে মাঝেমাঝেই পথ এগিয়ে দেয় নসু । দুরন্ত যৌনাকাঙ্ক্ষী নসু সন্ধ্যার অন্ধকারে নরম হাত চেপে ধরলে যুগীর দেহে বিদ্যুৎ খেলে তখন । রাতে পিদিম নেভা ঘরে ঘুমঘুম ভাব করে নসুকে নিয়ে ভাবে যুগী । তারপর বেদেদের জীবন ছেড়ে সভ্য পাড়ায় এসে নিশ্চিত জীবনের স্বপ্ন দেখে সে ।
চৈত্রের গোড়ায় বিয়ের ধুম পড়ে বেদেপল্লীতে । এ পাড়ার নানকি স্বামী হিসেবে পেতে চায় হরকে । হর আপত্তি করেনা তাতে । নানকি মেয়ে ভাল, দেখতেও বেশ । সবচেয়ে বড়কথা কর্মঠ সে । ওর সংসারে এলে ভাল থাকবে হর । বন্ধুর বিয়ের খবর শুনে নসু এলে হর বলে-
-আমরার শাদির নেমন্তন নেও, হগগল কাম তোমরার কলাম ।
হর-নানকির বিয়েকে কেন্দ্র করে উৎসব করে বেদেরা । বেদে ছেলেরা ঢোল বাজালে রমণীরা সুশৃঙ্খল নৃত্য করে তালেতালে । নসু এলে মাথায় জপজপে তেল দেয় যুগী । তারপর ট্রাঙ্কে রাখা গোলাপি শাড়ি সভ্যপাড়ার মেয়েদের মত কোমরে কুঁচি দিয়ে পড়ে সে । নসু পানি চাইলে হুঁকাসমেত এক গেলাস পানি এনে দেয় যুগী । তারপর বলে-
-যাইওনা শিগগির । চেপা মাছের বেনুন রান্ধুম খাইয়্যা যাইও কলাম ।
অবিবাহিত ছেলে মেয়েরা বেদে পাড়ার বিয়েতে বরপক্ষ আর কনেপক্ষে বিভক্ত হয় । নানা তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে সময় সময় কলহ করে ওরা । সরদার ধমক দিলে কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা নামে স্বস্থানে । তারপর বর পক্ষের মেয়েরা গীত করে হরকে নিয়ে –
“মাটি করব মাঠা মে, পর ভরউয়া করব ঘাটা মে চল হে দেউরা, পাটা পূজা বেলা হলে রে হলে………”
বিয়ের শেষে মালা বদল করে বর কনে । তার আগে আরও আনুষ্ঠানিকতা করে বেদে ছেলেরা । পরমুহূর্তে নানকি মালা পড়াতে গেলে হঠাৎ কি ভেবে গাছে উঠে বসে হর । হরর এহেন কর্মে চমকে উঠে নসু । তারপর নিয়ম অনুসারে স্বামীর মান ভাঙাতে গীত করে নানকি-
“ভাত দিমু কাপড় দিমু হগল দিলাম কতা নাইম্যা আহই সোয়ামী কই জুরাই মুনের ব্যথা পুলা পালুম বেটি পালুম কামাই করুম মুই রান্ধুম বাড়ুম হগল করুম নাইম্যা আহই তুই”।
নানকির মুখে ভরণপোষণের ভরসা পেলে গাছ থেকে নেমে আসে হর । বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে বেদেপাড়ার সবাই ভাতপচা মদ খেয়ে নেশায় বিভোর হয় । তারপর স্বস্থানেই নিথর হয়ে পড়ে থাকে একেকজন । বেদে পাড়ার নস্কর কখন যেন মদ খাইয়ে দিয়েছে নসুকে বোঝেনি যুগী । নেশায় বিভোর হলে বেদে ছেলেদের সাথে আমোদে মাতে নসু । তারপর কি একটা কথা নিয়ে নস্করের সাথে কলহ করে সে । নিরুপায় হয়ে নসুকে নিজেদের ডেরায় রাতযাপনের ব্যবস্থা করে দেয় যুগী । সকালে যখন বেদে পাড়ার ছেলেদের ঘুম ভাঙে নসু তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন । যুগীকে পাশে দেখে কানাঘুষা করে সবাই । রাতে যুগীর চরিত্র হরণ করেছে নসু-এ অভিযোগে পাড়ার ছেলেরা ধরে মারে ওকে । তারপর বেদে বহর থেকে নসুকে বের করে দেয় সবাই । রাতে বেদে পাড়ায় যুগীকে বিষয় করে জটলা করে বেদেরা । চিৎকার করে সরদার-
-চরিত্তর আচেনি মাগীর, ভাতাররে ভোগ দিচে কাইল ।
-হ কতা হাঁচা, এহেন কম্ম ছাড়ুনের নয় ।
-জহুর ভিটায় আগুন দে, পুড়াই মারুম মাও বেটিক ।
নসুকে মারার খবর দড়িপাড়ায় পৌঁছলে প্রতিশোধমুখী হয় গেঁয়োরা । বেদে ছেলেদের এহেন অপকর্ম ছেড়ে দেওয়া যায়না । নসু কি আর যে-সে লোক । এ পাড়ায় অনেকে সমীহ করে তাকে । খবর খড়িমন্ডলের কানে পৌঁছলে হুঙ্কার করে সেও । চালচুলোহীন বেদেরা এমন সাহস পায় কিভাবে ? হ্যাঁ, ছাড়বেনা গাঁয়ের ছেলেরা, প্রতিশোধ নিবে শীঘ্রই । এরপর সুযোগ বোঝে একদিন বেদে ছেলেদের বাজারে আটকে প্রহার করে সবাই ।
বেদে পাড়ায় যুগীর এহেন অপকর্মে নাখোশ নঙ্ক । রাত-দিন সবার সাথে সেও অভিসম্পাত করে তাকে । হনুফার নিষেধ মানেনা সহসা । তারপর অজানা আশংকায় অশ্রু বিসর্জন দেয় সে । বেদে সরদার মন্দলোক, যুগীকে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র সে নয় । নিশ্চয় শাস্তি দেবে সে ।
এরপর একদিন হঠাৎ গভীর রাতে সরদারের ঘরে মেয়ে মানুষের আর্তনাদ শুনা যায় । যুগী রীতিমত চিৎকার করে সেখানে । শব্দ শুনে শিশুদের ঘুম ভেঙে গেলে কানে তুলা গোঁজে দেয় মায়েরা । তারপর ঘুমানোর বাহানায় যুগীর কুসুমসদৃশ দেহে কারো লৌহচালন অনুভব করে সবাই । প্রতিবাদ করেনা কেউ । আজ রাতে বেদে সরদারের ভোগ্যপণ্য হয়েছে যুগী ।
বড়াল নদী বর্ষায় আবার যৌবনমতি হয় । ওর দেহের উত্তাল ডেউয়ে সূর্যের খেলা চলে তখন । শ্রাবণ মাসের কোন একদিন বেদে সরদার অনুমতি দিলে আবার নাও ভাসে স্রোত জলে । আগামী কয়েকমাস আবার পানিতে ভেসে বেড়াবে বেদেরা । তারপর শুষ্ক মওসুমে কোন অচেনা গাঁয়ে বসতি গড়বে আবার ।
হর আর নানকির বিয়ের পর নসু কোনদিন বেদে পল্লীতে আসেনি । হর নিজেও যেচে কোনদিন মিশতে যায়নি ওর সাথে । একদিন রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে যুগী নামাকলি বাজারে গেছিল হরর সন্ধানে । হিন্দুপাড়ার মনোহর বলেছিল অনেকদিন বাজারে আসেনা নসু । নদীজলে নৌকা ভাসলে উত্তাল ডেউয়ে দোল খায় । নঙ্কর নৌকায় শুধু পিনপতন নীরবতা । গলুইয়ে বসে যুগী অশ্রু বিসর্জন দিলে দু’ফোঁটা অশ্রু নদীজলে মিশে একাকার হয় । জীবনে আসা যাওয়ার পথে সরদার, নসু দুজনকেই নপুংসক মনে হয় যুগীর । দুজনই সুযোগে ব্যবহার করেছে তাকে । একজন দেহে, একজন মনে ।
দিন যায় । এরপর অনেক বছর পর আবার কোন এক বর্ষায় নদীর ঘাটে দাঁড়ালে জেলে নৌকায় সুর শুনা যায়-“কই যাওরে ভাটিয়াল নাইয়া, ললিত সুরে গাইয়া গান…………”।
নদী নাব্যতা হারালে বেদে জীবনের অবসান হয় কোথাও কোথাও । কোন কোন জায়গায় স্থলে বেদেদের স্থায়ী বসতি হয় । যুগীদের জীবনে পরিবর্তন ঘটেনা তাতে । জলের নপুংসক আবার স্থলে এসে কেউটের ন্যায় বিষ ছড়ায় । পুরনো বড়াল নদী একালে এসে যুগীদের চোখে ঠায় নেয় । কোন একদিন গড়িয়ে পড়া দু’ফোঁটা অশ্রু নদীর জল গ্রাস করে সমুদ্রকেও গিলে খায় । জানো, যুগীদের দুঃখ সমুদ্র সমান ।

Nabadibakar_Writer_24_

শেষ গোলাপ
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

আজকে আমি শূন্যের উপর দাঁড়িয়ে
যন্ত্রনার অনুচ্ছেদের এক-একটি পৃষ্ঠা চোখ
বুলিয়ে যাই,অঝরে জলন্ত অশ্রু গড়ায়,
তবে জানি না শেষ অনুচ্ছেদটি পড়তে বড়ই ভয় পাই,
ভয় পাই তোমার দেওয়া শেষ গোলাপটি স্পর্শ করতে।

আজকে সেই গোলাপটি আর তাজা নেই, নেই তার কোন শুবাস,
হয়তো তোমার দেওয়া শেষ গোলাপটি আমার যন্ত্রনার সাথে সেও জর্জরিত,
সেও যন্ত্রনায় জ্বলে পুড়ে শুকিয়ে কালো
রূপ ধারন করছে,
তাই তো তাকে স্পর্শ করতেই ভয় পাই?
আমার স্পর্শে তার আর যন্ত্রনা বারাতে চাই না।

আমার স্বৃতি নিয়ে আমাকে বেঁচে থাকতে হয়,
বেঁচে থাকতে হয় ভালবাসাকে বাঁচিয়ে রাখেতে
যে ভালবাসা তুমি আমায় দিয়েছো,
শিখিয়েছো ভালবাসা নিঃস্বার্থ,আজো নিঃস্বার্থ
ভাবেই ভালবাসি তোমাকে, তোমার দেওয়া
শেষ গোলাপ।

তারিখ-১৬-০১-২০১৬

Nabadibakar_Writer_47ভৌতিক ছোটগল্প : ভূতুড়ে রাত
- এম . এইচ . স্বপন


মাস তিনেক আগের কথা । আমার মা-বাবা দুইজনে বাড়িতে । শহরে শুধু আমরা তিন ভাই , আমি , আনিস আর সোহাগ । আনিস মাদ্রাসায় হোষ্টেলে থাকে । প্রতিদিনের মতো ওইদিনও রাত বার'টায় বাসায় আসি । দুপুরের পর থেকে বাসা তালা মারা । এর মাঝে আর কেউ প্রবেশ করেনি , ওইদিন সন্ধ্যার লাইট ও জ্বালানো হয়নি । বাসায় এসে তালা খুলে সামনের রুমের লাইট জ্বালাই । দেখি পাশের রুমে খুব দ্রুত গতিতে কেউ একজন প্রবেশ করেছে । প্রতিটি রুমের পর্দ্দা , বিছানা , টেবিল , আলমিরা , খাঁট ও জিনিসপত্র ঠিক আছে । সারাদিনের পরিশ্রমে ওইদিন একটু বেশী ক্লান্ত লাগছিলো । ফ্রিজে মাংস , আলু ভর্তা আর ডাল রান্না করা ছিলো তবুও কেনো যেনি খুব ডিম ভাজা খেতে ইচ্ছে করেছিলো । ডিম ভাজতে গিয়ে দেখি গ্যাসের চুলায় একটু আগে কেউ আগুন জ্বেলেছে । এক ধরনের গন্ধ আমার নাকে এসে লাগছে , গন্ধটা ঠিক নতুন কাপড়ে সাজার পর কোন মহিলার । এতো বেশী ক্ষুধার্ত যে আমার এসব কিছু নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করছিলো না । ডিম ভাজা শেষে ভাত খেয়ে টিভিতে খবর শুনছি । আবারো দেখি কেউ একজন উকি দিয়ে আমাকে দেখছে । প্রথম তাকাতে আর কাউকে দেখিনা । এবার একটু উঠে দাঁড়ালাম , প্রতিটা রুমে লাইট জ্বালিয়ে ভালো করে খুজে দেখলাম কিন্তু কেউ নেই । রাত দেড়টার সময় ঘুমাতে আমার রুমে গেলাম । ডিম লাইট জ্বলছে আর রুমের ডান কর্ণারে মাল্টিপেলাকের আলোয় আলোকিত । চোখে একটু একটু ঘুম আসছে , মাঝে মাঝে একটু নড়াচড়া করছি । হঠাৎ চোখ মেলে গেলো , দেখি আমার মাথার পাশে কেউ একজন বসে আছে । একবার বসে আবার দাঁড়িয়ে হাটা চলা করে । শাড়ি পরা , বড় বড় চোখ , লম্বা লম্বা নখ , বিশাল দেহ , ইহা লম্বা সাইজ । মুহুর্ত্বে আমার গায়ের সমস্থ লোম খাঁড়া হয়ে গেলো , আমি চিৎকার করছি । কিন্তু আমার চিৎকারে কোন আওয়াজ নেই । অথচ বাহির থেকে কুকুরের চিৎকারের আওয়াজ কানে শুনতে পাচ্ছি । চোখ মেলে তার দিকে তাকিয়ে আছি , বড় বড় দাঁত । আমাকে ভয় দেখাচ্ছে , নখ দিয়ে সমস্ত শরীর আচড় দিয়ে যাচ্ছে । অনেক্ষন মুখ চেপে ধরে রাখছে , আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো ।
ওই রাতটা আজো মনে হলে আমি নির্ঘুম থাকি . . .

Nabadibakar_Writer_67

গুরুর ধ্যান গরুতে
- মোহাম্মদ উল্লাহ শহীদ

তরুপাতা গরু খায় গুরু দেয় লেলিয়ে
পিছন দিয়ে ছেলে নিয়ে মেয়ে যায় পালিয়ে
গুরুজনের গরুতে ধ্যান,ধ্যান নাই তার ধানে
অতি কষ্টের ফসল তাই ডুবে গেল বানে।
ধ্যান থাকেনা দানে কভু ধ্যান থাকেনা মান
তবু গুরু সর্বশুরু পেতে চায় সম্মান।

farhana doc new

হাত বাড়াও বন্ধু
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

ঘুমাতে পারিনা বন্ধু
জমে গেছে হাত,
বড় কষ্টের শীতের
এই রাত !!!

খোলা আকাশের নীচে
আমাদের বাস,
তীব্র কামড় দেয়
শীতের বাতাস ।

শিশিরে ভিজে
আমাদের ছেড়া কাথা,
অভাবে নত হয়
আমাদের মাথা।

পেট জুড়ে বন্ধু
তীব্র অনাহার,
শীতের পৃথিবী
জীবন ছারখার ।

বাচতে চাই বন্ধু
হাত বাড়াও তোমরা,
বড় কষ্টে আছি
এই আমরা !!!

হাত বাড়াও বন্ধু
আমাদের জন্য,
হতে চাই, "মানুষ
হিসেবে গণ্য " ।

- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক ও লেখক, 26.12.15

Nabadibakar_Writer_69

পাথুরীর জন্য
- মাছুম কামাল

শব্দ পাহাড় ভষ্ম হয়ে যাওয়ার পর আর বলতে পারি না,
একটা অসুখ পুষে রাখি শুধু।
এই এক নেশা হয়েছে ছিটকে পড়ার পর।
পাথুরী, তুমি আছো কেমন?
আমি জ্বেলে আছি হ্যাজাক বাতি, হাওয়া ফুরোলেই শেষ সব।
আমার ভিতর বিষফুল, বাধ্যগত বর্ডার।
এক সমষ্টি পুরোনো ড্রয়ার ঘাটা স্মৃতি, ব্যাথা ব্যাথা সুখ।
পাথুরী, আমার দুঃখ চাষা বুক।

Nabadibakar_Writer_12

কাগজের নোট
- রীতা ঘোষ

বড় সাধ হয়
কাগজের নোট হই ...
জামার খাঁজে , বুক পকেটে
হৃদয় ছুঁয়ে রই !
তোমার সাথেই চলাফেরা
সযতনে জড়িয়ে ধরা
স্পন্দনে মন মাতোয়ারা
সাদা কালোয় চাহিদারা !
বিনিময়ে সুখের ক্রয়
রোগ যন্ত্রণার নিরাময়
বিলাসিতায় অপচয় ...
নীরব সম্মতি সহজ তো নয় !
হাত বদল , স্থান বদল
ওয়ালেট , লকার , মায়ের আঁচল
আমাকে বিনা জীবন অচল
যার অধীনে , তারই দখল !
হঠাৎ সেদিন ঘুম ভাঙে
শুয়ে আমি তোষক তলে
ভাঙিয়ে আমায় বেশ্যা মাটা
সকাল , সন্ধ্যে চুলা জ্বালে ...
এমনভাবেই বিলিয়ে যাই হেসে খেলে !

Nabadibakar_Writer_49

একটি খুন এবং পতিত হৃদয়ের ইতিহাস
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

বালিকা, তোমার চোখের চাহনিতে খুন হয়ে যাচ্ছি
হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বারবার।
আমার মুখে একথা শোনবার পর, তুমি আর তুমি রইলে না,
ধারন করলে সাক্ষাৎ খুনির রুপ।
মাথার চুল থেকে পিন খুলে হাতে নিয়ে বললে,
আরেকবার ভালবাসার কথা বললে তোমার দু'চোখ উপড়ে নেব।
সদ্য প্রেমেপড়া মানবীর মুখে এ কথাশুনে
আমি লিকলিকে পোষমানা বিড়ালের মত চুপসে গেলাম।
মনেমনে বললাম এভাবে বললে, কিভাবে অহর্নিশি
তোমার চোখের মাঁয়ায় খুন হই?
তুমি ভাল না বাসলেও যে, তোমার চোখের মাঝে খুন হতে চাই জন্ম জন্মান্তর,
রক্তের গঙ্গায় ভাসাতে চাই ভালবাসাহীন আমার শূণ্য হৃদয়।
লোকে বলবে, চোখের তাঁরায় খুন হলো একটি পতিত হৃদয়।
যে খুনের কোন বিচার হবে না, গঠন করা হবে না
তিন সদস্য বিশিষ্ট আনকরা তদন্ত কমিটি,
আসবে না কোন সাংবাদিক, মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল,
হবে না স্বনামধন্য কোন পত্রিকার শিরোনাম।
লোকে বলবে খুন হয়েও হলো না খুনের ইতিহাস, পত্রিকার শিরোনাম।
আর তুমি জলজ্যান্ত একটি হৃদয় খুন করেও হবে না খুনি, সবাই তোমাকে জানবে ভার্জিন নারী।
মানসী, আমি কি এভাবে খুন হতে চেয়েছিলাম।
আমি তো তোমাকে শুধু ভালই বেসেছিলাম,
আর দু'চোখ ভরে তোমাকে দেখতে চেয়েছিলাম।

-শামসুজ্জোহা বিপ্লব,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

farhana doc newস্মৃতিচারণ : সৃষ্টিকর্তার দারবারে আমার মিনতি
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


রাজধানীর বিশাল শহীদ মিনার। জাতির বিরল ইতিহাস আর সম্মানের জায়গা। কালো গাউন পরে সাবাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের চারিপাশে ব্যস্ত ছিল ছবি তোলার জন্য। পুরো শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারিপাশটা হয়েগেছিল কালো গাউন পরিহিতদের মিলন মেলা। দিনটা ছিল ২০১২ সালের ৩১শে মার্চ। প্রায় ১৭ হাজার স্নাতক ডিগ্রীধারীদের মিলন মেলা ছিল সেদিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে বড় সমাবর্তন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১২ সালের পূর্বে হয়ে যাওয়া সবগুলো সমাবর্তনের মধ্যে সেই ৪৬তম সমাবর্তনটি ছিলো সবচেয়ে বেশী বড় সমাবর্তন। সেই সমাবর্তনের আমিও ছিলাম একজন অংশীদার। সমাবর্তন একজন স্নাতক ডিগ্রীধারীর জীবনে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আমার এই ভীষণ কাঙ্খিত দিনটির নিউজ করেছিলাম আমি সাথে ছিলেন আরেক সাংবাদিক (দৈনিক প্রথম আলোর পক্ষ থেকে)।
৪র্থ শ্রেণী থেকে আমার লেখালেখির শুরু। জন্মস্থান রাজশাহীর শিশু একাডেমী থেকে আমার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে। ৫ম শ্রেণীতে পড়াকালীন প্রথম প্রকাশিত হয় আমার লেখা একটি কবিতা। নাম ‘শেয়াল মামা’। কোন পত্রিকায় তা আর স্মরণে নেই। আর পত্রিকাটি সংরক্ষণেও রাখা হয়নি। ছোট খাটো অখ্যাত লিটিল ম্যাগাজিনগুলো দিয়ে আমার লেখার হাতে খড়ি।
আমার জন্ম এমন একটি পরিবেশে যেখানে গান শেখার হারমোনিয়াম বাসার বড়দের ভয়ে বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখতে হতো। এমন একটি পরিবারের মেয়ে হয়ে আমার আজকের এই পথচলার জন্য অন্যতম অবদান আমার মায়ের। যে মানুষটির অক্লান্ত শ্রম আর বিসর্জনের জন্য আমি আজ বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট মানের কর্পোরেট হাসপাতালের চিকিৎসক। চিকিৎসা জগতে আমি সবে মাত্র ‘হাটি হাটি পা পা,’ ডিগ্রীর জন্য করছি নিরলস পরিশ্রম। ৪র্থ শ্রেণী থেকে লিখতে লিখতে আজ আমার লেখা ছাপা হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়। আমি প্রায় অর্ধশতাধিক সংবাদপত্রের (প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন সংবাদপত্র, লিটন ম্যাগাজিন) সাথে জড়িত। আমি বিশ্বের ২৭টি দেশের সংবাদপত্রের সাথে সম্পৃক্ত। ছোট্টবেলা থেকেই আমি খুব কাজ পাগল মানুষ। স্কুল বয়স থেকেই ছোট্ট নোট বুকে নিয়মিত লিখতাম পুরো মাসের কাজ। অকারণ আড্ডাবাজি, ফাঁকিবাজি, অলসতা আমার ভালো লাগে না। আমার আব্বু ছিল ভীষণ পরিশ্রমী আর কাজ পাগল মানুষ। মানুষটি তার কাজ নিয়ে এতোই ব্যস্ত থাকতো যে, আমাদেরকে ঠিকভাবে সময় দিতে পারতোনা। মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম আর অনিয়মের জন্য ১৯৯৭ সাথে মাত্র ৪৩ বছরে না ফেরার দেশে চলে যায় আমার জন্মদাতা। ভালোবাসা আর মমতার আচলে আজ অবধি নিত্য বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে আমার মা। যে মানুষটির স্বপ্ন আমাদেরকে নিয়ে গগনচুম্বী। শিশু বয়স থেকেই আমি নাম লেখাতাম মেধা তালিকায়। সেই সাথে আমার আম্মার প্রচন্ড ইচ্ছা আর অক্লান্ত সহযোগিতায় আমি হয়েছিলাম রাজশাহী শিশু একাডেমী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, দৈনিক প্রথম আলো বন্ধু সভা সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আর সংগঠনের সক্রিয় কর্মী। কবিতা আবৃত্তি, ছবি আঁকা আর উপস্থপনাতে আমি ছিলাম ভীষণ তৎপর। খ্যাতি আর পুরষ্কারও আছে আমার ঝুলিতে। তবে বড় কোন পুরষ্কার এখনো পাইনি। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদপত্রে আসতো আমাদের সংগঠনের ছবি। আর সেই সাথে নিয়মিত ছাপা হতো আমার বিভিন্ন রকম লেখা। গল্প, ফিচার, কবিতা। আর আমার কলম আজ অবধি চলছে। আর চালিয়ে যেতে চাই কবরের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। রাজশাহীর সেরা স্কুল, কলেজের সেরা ব্যাচের ছাত্রী আমি। কিন্তু ভীষণ দুর্ভাগ্য। আব্বুর মৃত্যু আর ডেঙ্গু জ্বরের জন্য আমার স্থান হলোনা ঢাকা মেডিকেল কলেজে। আমার স্বপ্নের আসমান হতে মাটিতে পড়ে গেলাম আমি। প্রিয় রাজশাহীকে গুড বাই জানিয়ে ভর্তি হলাম নগরীর শিকদার মেডিকেল কলেজে। রাজশাহীর সংস্কৃতিক অঙ্গন ছেড়ে হোস্টেল জীবনে বন্দী। আমার সংস্কৃতি প্রাণ মনটা ছটফট করতো। জড়িয়ে পড়লাম দৈনিক প্রথম আলো বন্ধুসভায়। আর সেই সাথে প্রবেশ করলাম সাংবাদিকতায়। ২০০৫ থেকে নেশার মতো লিখতে শুরু করলাম দৈনিক প্রথম আলোতে। অর্জন করলাম দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিকতার (প্রদায়ক/কন্ট্রিবিউটর) কার্ড। দীর্ঘ বছর যাবৎ নিয়মিত লিখেছি। আর এখন লিখছি চিকিৎসক ও লেখক হিসাবে।
প্রিয় পাঠক, প্রাপ্তির হিসাবে আমি এখনো নগন্য। নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছি। আপনাদের সবার ভালোবাসাই আমার পথ চলার শক্তি। সূদুর ইটালী থেকে আল আমিন ভাই অনুরোধ করলেন আমার নিজের অর্জন নিয়ে লেখার জন্য। প্রথমে রাজি হইলি। কারণ নিজেকে নিয়ে লেখবার মতো অর্জন আমার নেই। ভাইয়াকে সম্মান জানানোর জন্য, লজ্জার মাথা খেয়ে এতোক্ষণ নিজের ঢোল নিজেই পিটালাম।
শ্রদ্ধেয় পাঠক, চিকিৎসা আর লেখার জগতে আমি “হাটি হাটি পা পা” জাতির পতাকা হাতে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের দোয়া আর শুভকামনা আমার সর্বোচ্চ শক্তি। সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, আমার জাতির সম্মান।
সৃষ্টিকর্তার দারবারে আমার মিনতি
“বিধাতা তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শক্তি...!!!”
“আমি মরে গেলে...!!!”

Nabadibakar_Writer_67

সুখের ধ্বংস
- মোহাম্মদ উল্লাহ শহীদ

ভালো কথা ভালোবাসি সংশয় করো কেন?
ঝগড়া করে বারে বারে দূরে ঠেল কেন?
নষ্ট করে আশা
হয়না ভালোবাসা
এক বুকের সিদ্ধান্তে কাঁদে আরেক বুক
এভাবেই ধ্বংস হয় ভালোবাসার সুখ।

যদি মধু নববধূ চুরি করে খায়
গুণীজনকে না বলে বাপের বাড়ি যায়
গুণীজনের রাগ
সংসার হয় ভাগ
তখন আর লাভ হয়না কান্না করে মুখ
এভাবেই ধ্বংস হয় পরিবারের সুখ।

চলার পথে বন্ধুর সাথে কথা আর কাজে
মিল যদি না থাকে খুব দ্বন্দ্ব বাজে
বিশ্বাস করলে ভঙ্গ
হলে মিথ্যার সঙ্গ
বন্ধু তখন শুত্রু হয় চায় বন্ধুর দুঃখ
এভাবেই ধ্বংস হয় বন্ধুত্বের সুখ।

আপন সন্তান হলে মাস্তান মানুষ করলে খুন
বদনাম যদি সবাই করে কেউ না গাইলে গুণ
বাপ-মায়ের মন
কাঁদে সারাক্ষণ
সবকিছু থেকেও যেন অভাবে থাকে বুক
এভাবেই ধ্বংস হয় বাপ-মায়ের সুখ।

হিংসা করে,লোভ করে,করে মারামারি
পৃথিবীতে দিনে দিনে বাড়ছে আহাজারি।
অন্যকে করো দান
মানুষ মহিয়ান
দেখবে মানুষ দুঃখ তোমার রবেনা এতটুক
আমার আর লিখতে হবে না ধ্বংস হলো সুখ।

Nabadibakar_Writer_54

অচেতন মন
- মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

নির্ঘুম রাতে - একা শহরের পথ ধরে অনেক হেঁটেছি আমি, দেখেছি সদরঘাট-আগ্রাবাদ- পাহাড়তলী- কর্ণফুলী ব্রীজ সব ঠিক আছে;
রাস্তার পাশে শ্যামকালো টংঘর, ফ্লোরোসেন্ট বাতি- ঢিবিঢিবি জ্বলে
তারপর সবাই ফিরে যায় ধীরপায়ে যার যার নীড়ে- ঘুমের জগতে।

কেউ ভুল করে নাকো- স্টেশন-চুন-সুরকি- ভবন- সকলেই খোলা আকাশের নিচে নিভৃতে ঘুমিয়ে পড়ে
নীড় ভেবে
ক্ষুধার্ত কুকুরটাও বাদ যায় না ঘুমিয়ে পড়ে
ক্লান্ত- পরিশ্রান্ত দেহ নিয়ে তমসাবৃত রাতে
দেয় নিজেকে সঁপে প্রকৃতির উদোম কোলে।
রেললাইন-স্টেশন নয়তো রাস্তার ফুটপাত
ধূলোঘ্রাণ নিয়ে ধূলোভারসুদ্ধ বুক নিয়ে ঘুমজগতের কালোমেঘে লেপ্টে থাকে জীবরা
শরীরে প্রচন্ডরত ঘুমের ঘ্রাণ আমাদের- অন্ধকারের সাথে সাথে তাইতো ঘুঁচে যায় জীবনের সব লেনদেন।

আমার বুঝি শুধু চক্ষে ঘুম নেই,
আমি কি সকাম সন্ন্যাসী?
আমি কি হলদে গোলাপের পাঁপড়ী?
আমি কি অসংলগ্ন গৃহস্থ মানুষ?
যখন সবাই ঘুমায় তখন আমি-
নিভৃতচারী পশুর ন্যায় ঘুরে ফিরি রাতে
খুঁজি সুখ - আনন্দ- ফিকির আর প্রাপ্তির খেরোখাতা।

হাঁটতে হাঁটতে আমি হাঁটু গেড়ে বসে পড়ি;
তমসাবৃত রাত্রিতে ফলক চকচক করে জ্বলে
কে যেন অস্ফুট স্বরে বলে - দেখতে কি পেলে দেশজুড়ে?
পকেট থেকে জীর্ণ দু'টাকার নোট দেখিয়ে ক্লান্ত হৃদয়ে বলি,
এই আমার দেশ
এই আমার সুখ
এই আমার জনগণের প্রাপ্তি -
এর বেশি কিছু আমি বলতে পেরেছিলাম কি না মনে নেই
আমার চক্ষে তখন রাজ্যের ঘুম এসে ভর করেছে;
আমি এখন ঘুমাবো,
আমি হাজার যুগ ধরে ঘুমাবো ।

কবিতা : প্রলেপ
- অপু কর্মকার

ঈশ্বর সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ 'মানুষ', শ্রেষ্ঠতর জানি নারিরা,
তবু কেন ছায় পাশে ঢেকে রাখে তার চেহারা?
চোখের পাতায় মেলানো রং, চোখের নীচে কাজল,
গালেও হালকা রঙের ছোঁয়া, ঠোঁট দুটি উজ্জ্বল৷
মাথায় খোপার হাজার বাহার, ঝুলছে কারোর চুল,
কানে নিয়ে বয়ছে ভার- দুলছে জোড়া দুল;
নাকে তাদের নাক চাবি, ভয় কী ধূলা থেকে?
তবু চলে উল্টো দিকে- ডান পথেই বেঁকে৷
উত্তর আজ অজানা নয়, জেনেছি সাধন চিত্তে-
সুন্দরের যত্ন চায় নইলে সবই হবে মিথ্যে৷৷

শরীর স্বাস্থ্য : তোমরা হও শক্তিশালী ও চিরসবুজ
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


ছোট্ট সোমামনিরা, প্রকৃতিতে এসে গেছে গরমকাল। বাড়তে শুরু করেছে রোদের তাপ। এই এই গরমের মাঝে তোমাদেরকে ক্লাসে খেতে হবে, পড়তে হবে।গরমের জন্য মানুষ ঘেমে যায় অনেক বেশি। পরিনামে সে হয়ে পড়ে দুর্বল। কারণ তার শরীর থেকে লবণ পানি অনেক বেশি পরিমানে বের হয়ে যায়। লবণ পানিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড যা দেহের জন্য ভীষণ উপকারী। এই উপাদানগুলো দেহ থেকে বের হয়ে গেলে মানুষ দুর্বল হয়ে যায়। একটু পরিশ্রমেই ক্লান্ত লাগে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। তখন যে কোনো অসুখ বেশি হয়।
তাই ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা এই গরমে প্রচুর পরিমানে পানি পান করবে, পানি দেহের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। মূত্র ও ঘামের সাহায্যে রোগ জীবাণু দেহের বাইরে বের করে দেয়। ফলে মানুষ হয়ে যায় আরো কর্মক্ষম। তাই তোমরা সবাই প্রচুর পানি পান করবে। প্রতিদিন অন্তত দুই লিটার পানি দেহের জন্য ভীষণ দরকারি।
আর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার পরও বাসাতে এসে তোমরা পানি খেয়ে যাবে। অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার পরে ঘাম শুকিয়ে গেলে তোমরা ওরস্যালাইন খাবে। বাসায় রওস্যালাইন না থাকলে বানিয়ে খেও। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ চিনি ও আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে খেও। এতে দেহ থেকে যে পরিমান লবণ পানি বের হয়ে যাবে, সেই পরিমান লবণ পানি দেহেই থাকবে। আর এই গরমে তোমরা প্রচুর পরিমানে ফল, শরবত খেও। যাদের ওজন বয়সের তুলনায় অনেক বেশি শরবতে চিনি কম খেও। দীর্ঘ বছর যাবত বা ছোট থেকেই যাদের ওজন বেশি থাকে, বড় হয়ে বা বৃদ্ধ বয়সে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুবই বেশি। তাই ওজনের দিকেও খেয়াল রেখো।
তোমাদের বাবা-মা যারা চাকরি করেন বা বাসার বাইরে কাজ করেন, তারা অন্য বাবা-মায়েদের তুলনায় ছেলে-মেয়েদের কম সময় দিতে পারেন। তাই বলে তোমাদের পছন্দ করেন না বা ভালোবাসেন না, এমনটি নয়। তারা (বাবা-মা) তোমাদের জন্যই পরিশ্রম করেন। আর বাবা-মা হলো সবচেয়ে ভালো বন্ধু। বাবা-মা তোমার ক্লাসে না পরলেও তোমাদের ভালো বন্ধু। তোমরা তাদের সঙ্গে আদান-প্রদান করতে পারো সব রকমের ভালো লাগা আর সবকিছু। তারা তোমাদের বকাঝকা করলেও তোমাদের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী। তাই তোমাদের জীবনকে সুন্দর করার জন্য তোমরা বাবা-মায়ের কথা শুনবা, সুস্থ সবলভাবে টিকে থাকার জন্য মৌসুম ও আবহাওযা বুঝে খাওয়া-দায়ো করবে। এখন গরমের সময়। তাই অতিরিক্ত ঝাল মশলা বাদ দিবে। ফার্স্টফুড যতোটা বাদ দেওয়া যায়, ততোই ভালো।
তোমরা অনেকেই ভালো ছবি আঁকো, গান গাইতে পারো, লিখতে পারো, অনেকের শখ থাকে ডাকটিকিট সংগ্রহ করা বা বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জমানো। তোমরা তোমাদের এই শখগুলোকে সব সময় উজ্জ্বল করে রাখবে, কাজের ভিড়ে কোনোদিন যেন হারিয়ে না যায়।
শখের কাজ মানুষের মন ভালো রাখে। প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার জন্য শখের কাজ করাটা ভীষণ জরুরি।
তোমরা হও শক্তিশালী, সুস্থ, সবল। সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্ধান্তে তোমাদের জীবন হোক আরো বেশি সুন্দর। তোমাদের সফলতা হোক সূর্যের মতো প্রখর।
গ্রীষ্মকালের জন্য লেখা ।

বদহজম একটি উপসর্গ। অনেকেই ভোগেন এই সমস্যাতে। পরিবেশ দূষণ, ভেজাল খাবার, বিভিন্ন রোগ-জীবাণু হলো খাবার সঠিকভাবে হজম না হবার কারণ। অনেক সময় লুকায়িত কোন অসুখ বা রোগ জীবাণু থাকলেও দীর্ঘদিন যাবৎ বদহজম হতে পারে। হঠাৎ করে দুই একদিন হওয়াটা ভয়ের বা দুশ্চিন্তার কিছু না। তবে বছরের পর বছর যদি এই সমস্যা হতে থাকে, তবে তা অবশ্যই দুশ্চিন্তার বিষয়। কারণ, দীর্ঘ বছর যাবৎ বদহজম কোন লুকায়িত অসুখের কারণ হতে পারে। তাই দেরী না করে, দ্রুত বদহজমের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। আর প্রয়োজন সেই মোতাবেক চিকিসা। তাই জেনে নিই বদহজম হবার কারণ ও প্রতিকার।


কারণগুলি হলো :
১।    খাবার সময় খুব দ্রুত খাওয়া। সঠিকভাবে চিবানোর অভাব, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক অবসাদ, নিয়মিত রাত জেগে ডিউটি করা, সঠিক সময়ে খাওয়ার অভাব, খাবারে অতিরিক্ত তেল মশলা খাওয়া, তৈলাক্ত চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই ধরনের সমস্যা হয়।


২।    পাকস্থলীর কোন অসুখ, খাদ্যনালীর কোন গঠনগত ত্রুটি, মাত্রাতিরিক্ত এ্যাসিডিটির সমস্যা, অতিরিক্ত কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, দীর্ঘ সময় যাবৎ না খেয়ে থাকার পরে এক সাথে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা, হঠাৎ করে খুব বেশি পরিমাণে খাবার নিয়ন্ত্রণ করা, অতিরিক্ত ঝাল খাওয়া, গভীর রাতে বা খুব ভোরে একসাথে অনেক বেশি খাওয়া হলো খাবার সঠিকভাবে হজম না হওয়ার অন্যতম কারণ।


৩।    প্যানক্রিয়াস (Pancreas) নামের এক ধরনে অঙ্গ রয়েছে, যাতে ইনফেকশন হলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না। রক্তে চিনির মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হজম শক্তি দূর্বল হয়ে যায়।


৪।    বিভিন্ন রকম ওষুধ খেলেও হজম শক্তি কমে। বিশেষত যারা বয়স্ক বা নানান রকম অসুখে আক্রান্ত, হাটাচলা ঠিকভাবে করতে পারেন না, মানসিক রোগ বা কেমোথেরাপীর ওষুধ খান, এই সমস্যাগুলোও হজম শক্তি দূর্বল হবার জন্য দায়ী।


৫।    মাদকদ্রব্য, ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি, পান, সুপারী, গুল, জর্দা প্রভৃতি হজম শক্তি দুর্বল করে।


৬।    দেহের কোথাও ক্যান্সার, খাদ্যনালী থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত কোন গঠনগত ত্রু টি, খাবার হজমের সাথে সম্পৃক্ত কোন অঙ্গ বা নালীতে ইনফেকশন বা কোন অসুখ, দীর্ঘ বছর ধরে খাবারে প্রচন্ড অনিয়ম, হঠাৎ করে ওজন বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ, কৃমির আক্রমণ, দীর্ঘ বছর যাবৎ বদহজমের সমস্যা, পানি খুব অল্প পরিমাণে খাবার অভ্যাস (২৪ ঘন্টাতে ৩-৪ গ্লাস), খাবারে প্রচন্ড পরিমাণে অনিয়ম।


৭।    গলব্লাডারে পাথর, কিডনীতে পাথর, খাদ্য নালীর অপারেশনের পরে হজমে সমস্যা হতে পারে।


হজমের সমস্যা প্রতিকারের জন্য আমাদের করণীয় :


১।    নিয়মিত দুই লিটার পানি পান করুন। তবে কিডনীর সমস্যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শে পানি পান করুন।


২।    অতিরিক্ত তেল, মশলা, চর্বি জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, পরিহার করুন। একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খান।


৩।    মনথেকে ঝেড়ে ফেলুন হতাশা, কষ্ট, খাবার সময় মনোযোগ দিয়ে খান। হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ ঠিক নয়। ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ কমান। আবার একবারে খুব বেশি খাওয়া ঠিক নয়।


৪।    অতিরিক্ত রাত জেগে কাজ করাটা পরিহার করুন। যতোটা সম্ভব সঠিক সময়ে খাবার কান। বছরে অন্তত একবার পুরো পেটে Ultrasonography of whole abdomen টেস্ট করান। এতে লুকায়িত সমস্যা থাকলে ধরা পড়বে।


৫।    সব ধরনের মাদকদ্রব্য পরিহার করুন। ধুমপান থেকে বিরত থাকুন এবং খাবার সাথে সাথে ঘুমাবেন না।


৬।    নিয়মিত হাটুন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।


৭।    কোন ওষুধ খাবার পরে হজমে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


বছরের পর বছর অবহেলা, অযত্নে বদহজম আরো তীব্র হতে পারে। যা হয়ে উঠতে পারে বড় কোন অসুখের কারণ। তাই সময় থাকতে নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হোন।


- ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার (গাইনী এন্ড অবস্)
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।
ই-মেইল : farhanamobin31@yahoo.com

farhana doc newজীবন যাপন : গাহি যুব সমাজের জয়গান
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


জীবনটা আকাশের মতো। কখনও মেঘ বৃষ্টি, কখনোবা রোদ। এই রোদ ঝড় বৃষ্টির জীবনে সফল হবার জন্য চাই তীব্র মানসিক শক্তি। আর মানসিক শক্তি প্রবল হবার জন্য দরকার সুস্থ্য দেহ। একটি সুস্থ্য দেহের মানুষ কাজ করতে পারবেন দ্বিগুণ পরিমাণে, একজন অসুস্থ্য মানুষের তুলনায়।


প্রতিযোগিতার তীব্র দৌড়ে সফল হবার জন্য প্রয়োজন সুস্থ্য দেহ। তাই ছোটবেলা থেকেই যত্ন নিতে হবে দেহের। যেকোন যুগান্ত সৃষ্টিকারী সাফল্যের পেঁছনে নবীনদের অগ্রণী ভূমিকা থাকে, অধিকাংশ সময়ে। দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীর ইতিহাসের পাতা সেই নবীনদেরই সাক্ষী দেয় বেশী। যেকোন সমাজ, রাষ্ট্র, জাতিকে সফল হবার জন্য চাই নবীনদের অগ্রণী ভূমিকা।


আর এই জন্য দেহের প্রতি যত্নশীল হওয়াটা ভীষণ জরুরী।দেখা যায়, শিশুদের যত্ন নেয় তাদের বাবা মায়েরা। আর বুদ্ধরাও পারিবারিকভাবে যত্ন পায়। কিন্তু বঞ্চিত হয় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নবীনেরা। পড়ালেখা, ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে দেহের যত্ন নিতে পারে না। অকালেই আক্রান্ত হয় নানান রকম অসুখে। তরুণেরা আজকাল অনেক হতাশাগ্রস্থ হলে ঝুঁকে পড়ছে মাদকের দিকে। যা কখনই কাম্য নয়। মাদক সেবনের ফলে একজন যুবকের সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তার পুরো পরিবার। অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে তার ভবিষ্যৎ। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য প্রয়োজন দেহের প্রতি যত্নশীল হওয়া।


সুস্থ্য দেহ থাকলে মানুষ কর্মঠ হতে পারবে। আর কর্মঠ মানুষেরা দূরে থাকে বিভিন্ন রকম অলসতা, অযৌক্তিক আন্ডাবাজি থেকে। প্রতিযোগিতার এই তীব্র দৌড়ে জয়ী হবার জন্য প্রয়োজন অটুট ধৈর্য্য আর মনোবল। আর এই জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে সুষম খাবার, বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।


শিশু বয়স থেকেই আমাদের সবাই প্রতিযোগিতার তীব্র যাতাকলে পিষ্ট। বয়স বেড়ে যাবার সাথে সাথে এই প্রতিযোগিতা আরো বেড়েই যাচ্ছে। পরিণামে নবীন বয়সে অধিকাংশ যুবকেরা অকালেই নানান রকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশে প্রচূর নবীণ এর ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ রোগ। যা কখনোই কাম্য নয়। লেখাপড়া, ক্যারিয়ারের জন্য সবাই এখন ঢাকামুখী। গগনচুম্বী অট্টালিকা, নিত্য নতুন অফিস আর বিল্ডিং এর জন্য হারিয়ে যাচ্ছে মাঠ, পুকুর, পার্ক। পরীক্ষাতে উচ্চ মার্কের সনদ পাবার জন্য আজকের নবীনেরা খোলা আকাশের চেহারা দেখার সময় পায়না। বুক ভরে নেয়ার সময় পায়না মুক্ত বাতাসের।


ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ার টেবিল আর কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে দৈহিক পরিশ্রম সঠিকভাবে হচ্ছে না। আর নির্দিষ্ট পরিমাণ গাছপালার অভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের জন্য মানুষ কম বয়সেই শিকার হচ্ছে বিভিন্ন রকম অসুখের।


আর দৈহিক পরিশ্রমের অভাবে সারাক্ষণ বই আর ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকা ছেলে মেয়েরা অকালেই রক্তে বাড়িয়ে ফেলছে চিনির মাত্রা। এতে নিজের অজান্তেই অনেকে বয়ে বেড়াচ্ছে ডায়াবেটিস। বিশেষত বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী যাদের ওজন অনেক বেশী। আর ভেজাল খাবারের প্রভাবতো রয়েছেই। তাই খেয়াল রাখতে হবে, যেন বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেড়ে না যায়।


শত ব্যবস্তার ফাঁকেও চেষ্টা করতে হবে এই সমস্যাগুলো দূর করার। তরুণ বয়সে যারা মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম ও অনিয়ম করে, তারা আক্রান্ত হচ্ছেন গলব্লাডারে স্টোন বা পিত্ত থলির পাথরে।


দীর্ঘ সময় যাবৎ না খেয়ে থাকলে আর বছরের পর বছর খাবার অনিয়ম করে খেলে, পিত্তথলির পিত্তরস ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। তখন তৈরী হয় গল গলব্লাডারে (Gall bladder) এ পাথর। এই পাথর তৈরী হয় শুধু খাবারে অনিয়মের জন্য নয়। ভেজাল খাবার, রক্তে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি (বিশেষত দৈহিক শ্রমের অভাবে), পারিবারিক কারণেও হতে পারে। কয়েক বছরের তুলনায় এখনকার তরুণদের ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার, গলগলব্লাডার আর কিডনীতে পাথর এর পরিমাণ বেশী।


প্রতিযোগিতার তীব্র যুদ্ধে নিজের দেহের প্রতি মনোযোগের অভাবে, মানুষ ঝুঁকে পড়ছে বেশী ল্যাপটপ আর বাসার বাহিরের খাবারের প্রতি। এতে রক্তে ভেজাল খাবার (বিশেষত যা ভেজাল তেলের জন্য প্রধানত দায়ী) এর পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। যা বাড়িয়ে দিচ্ছে ওজন, পরিণামে রক্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে ফ্যাট (Fat) ও কোলস্টেরলের (Cholesterol) এর মাত্রা। এই মাত্রাগুলো কমিয়ে দেয়ার জন্য প্রয়োজন দেহের বাড়তি চর্বি ও চিনির পরিমাণ হ্রাস করা। চাই প্রচুর পরিমাণে দৈহিক পরিশ্রম। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর হাঁটাহাঁটির জায়গার বড়ই অভাব।


পরিণামে বসত বাড়ী হয়ে উঠছে আরো বেশী ছোট। দৈহিক পরিশ্রমের অভাব আর ভেজল খাবারের জন্য মানুষের দেহে বেড়ে যাচ্ছে চিনির পরিণাম। আর বংশগত ইতিহাসও এই জন্য দায়ী। যাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার রয়েছে, তারা সচেতন হবেন আরো বেশী। কারণ বংশগত কারণ বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, ডায়াবেটিস হাই ব্লাড প্রেসার, এই অসুখগুলো বাসা বাধে আরো বেশী।


তাই এখন থেকেই মনোযোগী হয়ে যান নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি। আপনি তরুণ বয়সে যত বেশী কর্মঠ হবেন, তার প্রতিদান আপনি সারা জীবন পাবেন। এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত টাটকা খাবার। যতোটা কম মশলা মুক্ত, বাসার খাবার হয়, ততোই ভালো।


আমাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরা এক চেটিয়া বাসার বাহিরে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে। প্রচুর ছেলে মেয়ে টিউশনি আর খন্ডকালীন চাকরি করে। এইভাবে অনেক ছেলে মেয়েরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে ফাস্ট ফুডে। যা দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর। কারণ এই খাবারগুলো তৈরী হয় মাখন, পনির, নানান রকম মশলা দিয়ে। যা খুব দ্রুত দেহের ওজন বাড়ায় এবং রক্তে বাড়ায় চর্বির মাত্রা। এই অবস্থা বছরের পর বছর হতে থাকলে, বেড়ে যাবে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্ত চাপের পরিমাণ। যা ঘুণে ধরা পোঁকার মতো আক্রান্ত করবে পুরো দেহকে। মানুষের দেহ বিশাল একটি কারখানার মতো। এর একটি অংশ নষ্ট হয়ে গেলে অন্য অংশটি দূর্বল হয়ে যায়। তাই খেয়াল রাখতে হবে, যেন পুরো দেহ সুস্থ্য সবল থাকে।


বর্তমানে আমাদের তরুণ সমাজকে অনেকাংশে প্রভাবিত করছে মাদক। আকাঙ্খার জায়গাতে বঞ্চনা, অভাব, কর্মসংস্থানের অভাব, পারিবারিক কলহ, প্রেমে ব্যর্থতা এমন নানান কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজের বিশাল একটি অংশ। পরিণামে ঝুঁকে পড়ছে বিভিন্ন রকম মাদকের দিকে। মাদকের জন্য অর্থ যোগান দিতে যেয়ে যুব সমাজের বিশাল একটি অংশ জড়িয়ে যাচ্ছে অনৈতিক কাজে। যা পরিবার, দেশ, সমাজ, পুরো জাতির জন্যই ভয়ানক হুমকি স্বরূপ।


এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন ছোটবেলা থেকেই প্রার্থনা বা ধ্যানের অভ্যাস করা, ভাল ভাল বই পড়া, পরিবারের সবার উচিৎ শিশু বয়স থেকেই সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তোলা। এই ভালো লাগার কাজগুলো শিশু থেকে যুবক বয়সে চলতে থাকলে, যুব সমাজের মধ্যে সৃজনশীলতা আরো বাড়বে। পরিণামে হতাশার মধ্যে মানুষ সৃজনশীল কাজের প্রতি ঝুঁকবে বেশী, যুব সমাজে কমে আসবে মাদকের পরিণাম।


যুব সমাজ যে দেশের যতো তৎপর, সেই যুব সমাজের উচিৎ, নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া। বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। পাশাপাশি সৃজনশীল বা গঠনমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।


মানুষের জীবন সিঁড়ির ধাপের মতো। প্রথম দিকের ধাপগুলোতে সঠিক পদক্ষেপ ও দিক নির্দেশনা থাকলে, পরবর্তী জীবনে সফল হবার সম্ভাবনা থাকলে ততোই বেশী।


যুব সমাজ একটি জাতির হাতিয়ার। সফলতার এই হাতিয়ার হোক প্রাণচঞ্চল ও কর্মব্যস্ত।


- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।

Nabadibakar_Writer_30

ব্যাথিত রোদন
- মনিরা ফেরদৌসী

দখিণ হাওয়ায় গন্ধ পেয়ে
মন ছুটে যায় তৃষ্ণার টানে,
দেখা হোল মেঘের ভাজে
পুরানো সব কথা ভুলে ।
প্রশ্ন ছিল তোমার তরে
অভিমানের কান্না নিয়ে ,
দূরে থাকি সেই ভাল
ডেকো না আর সেই নামে।
চাইবো না আর কোন কিছু
ঢেউয়ের আঘাত যতই লাগুক ,
ভালবাসা দেয় না কিছু
ব্যাথিত রোদন ছাড়া আর কিছু।
দীর্ঘশ্বাস ছুটে চলে
শিকারি বিড়াল যেমন ছোটে,
বুক ভরে নাও স্বস্তির নিঃশ্বাস
বলে দাও নির্দ্বিধায় জীবনের অন্যতম ভুল।

Har-Har-Byomkesh-Movie-Downloadপ্রবাসীর চোখে 'হর হর ব্যোমকেশ'
– পিয়ালী বসু


শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের 'বহ্নি পতঙ্গ ' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ' হর হর ব্যোমকেশ ' । মূল গল্পের প্রেক্ষাপট পাটনা সিনেমায় বদল হয়ে হয়েছে বেনারস । পরিবর্তিত হয়েছে ব্যোমকেশ ও সত্যবতীর সম্পর্কের কেমিস্ট্রিও । মূল গল্পে সত্যবতী কে পরিণত মা হিসেবেই দেখি আমরা , সিনেমায় পরিবর্তিত হয়েছে সম্পর্কের রসায়ন । এখানে ব্যোমকেশ তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী সত্যবতী কে নিয়ে বেনারসে এসেছে মধুচন্দ্রিমায় । সঙ্গী প্রতিবারের মতোই প্রিয় বন্ধু অজিত ।
ব্যোমকেশের প্রিয় পুলিশ বন্ধু , পুরন্দর পাণ্ডের ( Harsh Chhaya ) বেনারসের বাড়িতেই ছুটি কাটাতে আসে ব্যোমকেশ , সত্যবতী ও অজিত । স্থানীয় জমিদার দীপনারায়ণ সিং ( Adil Hussain ) এর জন্মদিনের পার্টিতে পাণ্ডেজির সঙ্গে নিমন্ত্রিত হয় ব্যোমকেশ , সত্যবতী ও অজিত । পরিচয় হয় তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী শকুন্তলা দেবীর ( Nusrat Jahan ) , এবং প্রবীণ ডাক্তার পালিতের ( Dipankar Dey) র সঙ্গে ।
সদ্য পরিচিত দীপনারায়ণ সিং এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত করতেই একে একে নানা অযাচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ব্যোমকেশ। সারা সিনেমা জুড়ে ' Who done it' এর প্রবল প্রভাব । টানটান উত্তেজনার পারদ পুরোপুরি ধরে রাখেন পরিচালক । Narrative Style এ বলা ঘটমান ঘটনাগুলি চিত্রপটের মতো ভেসে ওঠে দর্শকদের । সিনেমা এগোনোর সাথে সাথে ভিড় বাড়তে থাকে একাধিক চরিত্রের । আসে দেবনারায়ন সিং , তাঁর স্ত্রী চাঁদনী ( Rachel White ) , শকুন্তলার প্রেম মুগ্ধ নর্মদা শঙ্কর ( Subrat Dutta ) এমনকি ডাক্তার জগন্নাথ প্রসাদ , লেডী ডাক্তার মিস মান্না ( June Malia ) , নার্স মিস ল্যাম্বারট , এবং ইন্সপেক্টর রতিকান্ত চৌধুরী ( Sadab Kamal ) । প্লট হয়ে উঠতে থাকে আরও কমপ্লেক্স , কিন্তু গল্প বলার অনায়াস দক্ষ ধরণ দর্শকদের বুঁদ করে রাখে ।
Padmanabha Dasgupta , Arindam Shil এর স্ক্রিন প্লে , Soumik Halder এর সিনেমাটোগ্রাফি বেনারসের সৌন্দর্য অসামান্য দক্ষতায় ক্যাপচার করতে সক্ষম হয়েছে । ব্যোমকেশের সাথে সাথে দর্শকরাও উদগ্রীব আগ্রহে খুলতে চেয়েছেন রহস্যের জট । Vikram Ghose এর মিউসিকে উত্তর ভারতের সেই ক্লাসিকাল টাচ ভীষণ ভাবে খাপ খেয়ে গেছে গল্পের ব্যাকড্রপ এর সাথে ।
ব্যোমকেশ হিসেবে আবিরের অভিনয় যথাযথ , ১০/ ১০ , তিনি নিজেকে এতটাই গ্রুম করেছেন ব্যোমকেশের চরিত্রে , যে মাঝে মাঝে সত্যিই অবাক হতে হয় , অজিতের চরিত্রে ঋত্বিক এর অভিনয় অসম্ভব ভালো এবং প্লটের কমিক রিলিফ । সত্যবতীর ভুমিকায় সোহিনী ঠিক ঠাক , তবুও সত্যবতী হিসেবে আমার ভোট এখনও Ushashi Chakraborty র দিকেই । নর্মদা শঙ্করের চরিত্রে সুব্রত দত্ত যথাযথ এবং চরিত্র উপযোগী , পুরন্দর পাণ্ডের ভুমিকায় হর্ষ ছায়ার অভিনয় দাগ কেটে যায় । নুসরত জাহান শকুন্তলার ভুমিকায় যথাযথ , তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ , অল্প কথা , হাল্কা চাউনি aristocrat শকুন্তলা কে দর্শকদের সামনে মূর্ত করতে সক্ষম হয়েছে ।
'হর হর ব্যোমকেশ' এর সত্যবতী শুধুমাত্র স্বামী অনুরাগিণী ' প্রপ ' নয় , বরং রহস্যের শেষ জট টা খুলেছে তার মুখ থেকে ব্যক্ত জয়দেবের 'গীত =গোবিন্দ ' এর চরণ ধরেই --
" রতি সুখ সারে
গতম অভিসারে
মদন মনোহর বেশম"
সত্যবতীর সহায়তা ছাড়া এখানে ব্যোমকেশও অথৈ জলে ।
'বহ্নি পতঙ্গ ' গল্পের আসল টুইস্ট গল্পের শেষে । এখানে সেটি উহ্য থাক , যারা এখনও দেখেন নি , তাঁরা দেখে ফেলুন 'হর হর ব্যোমকেশ ' কারণ এ ব্যোমকেশ শুধুমাত্র দেশের গণ্ডীতেই আবদ্ধ নেই , এ ব্যোমকেশ আন্তর্জাতিক ।

নষ্ট সময়ছোটগল্প : নষ্ট সময়
- রাজীব চৌধুরী


মেয়েটাকে একবার সামনে থেকে দেখার জন্য মনটা আকুলি বিকুলি কেটে চলেছে পাঁজরের খাঁচায়। একবারের জন্যেও আমি তার মুখখানি দেখতে পাইনি। একটা শাড়ি একজন মানুষকে মানুষ থেকে পরীত্বে তুলে ধরতে পারে সেটা আজকেই প্রথম উপলব্ধি করছি। এত সুন্দর করে কেউ হাঁটতে পারে? হাঁটার দমকে পায়ের পাতা থেকে দুলুনি শুরু হয়ে নিতম্ব ছেড়ে চুলে দোলা দিয়ে চলেছে। বাসের হর্ন, রিকশার টুং টাং ছাপিয়ে আমার ভেতর শুধুই সে। কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছিনা আমি। একটা ফেরিওয়ালা এদিক থেকে ওদিক যাবার সময় আমার সাথে প্রায় ধাক্কাই খেলো। অথচ আমার বিকার নেই। আমি উদ্ভট নয়ন মেলে তাকিয়ে আছি। আর উদ্ভ্রান্তের মত হাঁটছি।
সে কি অপ্সরা?
ইন্দ্রসখি?
ইন্দ্রসভা ছেড়ে ভুল করে চলে এলো আমার সামনে?
ওর শাড়িটা সাদা। সাদা আমার প্রিয় রঙ। কাশফুল আমার ভালোলাগে। ভালোলাগে কাশফুলের সাগরে ভেসে বেড়াতে।কিন্তু সে তো শরতে। আজ ও শরৎ নয়। আজ বরষা। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে আমার সামনে। আমি তুলোরঙা কন্যার তুলো মাখা শাড়ির দিকে তাকিয়ে আছি। মেয়েটার শাড়িতে সুক্ষ সাদা রঙের ফুল আছে। সুতোর ফুল। ফুলগুলোর মাঝে সাদাটে জরির কারুকাজ। আহা কি মাধুরীমা সেই জরির কারুকাজ। আমার চোখ ধাঁধিয়ে গেল।
এর মাঝে সে দুবার রাস্তায় থেমেছে। একবার থেমে হাতে পড়া সাদা হাতঘড়ি দেখেছে। আরেকবার থেমে রাস্তায় চলন্ত বিলবোর্ড দেখেছে। আমি দুবারই তার সামনে যাবার চেষ্টা করেছি। পারিনি।
ওর ব্যাগটা ও সাদা।
সে কি আজ সাদা দিবস পালন করছে? সাদা কি কারো মনের রঙ হতে পারে?
পারে কি প্রিয় রঙ?
একজন নারী কতটা শুদ্ধ হলে সাদা পড়তে পারে?
সে এখন আমার ঠিক হাত পাঁচেক সামনে দাঁড়িয়ে একটা ম্যাগাজিন স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ম্যাগাজিন দেখছে। হায় কপাল আমার- তার কালো কুন্তলা চুলগুলো আমায় ওর মুখখানা দেখতে দিলোনা। আমি ওর চুলের মাঝে হারিয়ে গেলাম। মুখ ঢাকলো চুলে। আমি ঢেকে গেলাম ঘনকালো কালিমেঘে। ওর ছাতাটা ও সাদা। দুধেআলতা গায়ের রঙে সাদাটে কন্যাকে আমি এর মাঝে একবারের জন্যেও
আমি দেখতে পারলাম না।এ কি কপাল আমার?
আমি দুবার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু আমি ওকে পেরিয়ে যেতে পারিনি। পেরোতে পারিনি রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ভিখিরির জন্য। পেরোতে পারিনি ওপাশ থেকে আসা মানুষের জন্য। ওকে দেখে সব মানুষ ঠাই দাঁড়িয়ে গেছে কোথাও কোথাও। কোথাও ওর দিক থেকে মুখ ফেরাতে পারছেনা তরুন যুবা। এক বৃদ্ধকে দেখলাম শরীরের গোপনাঙ্গে বিচ্ছিরিভাবে চুলকে চুলকে ওর রুপসুধা গিলে চলেছে।
হতচ্ছারা!
ওর পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে মানুষের স্রোত।
এত মানুষ কেন আজকে। এত মানুষ কেন রাস্তায়? মানুষগুলো এই বৃষ্টিসকালে বেরোলো কেন? ওদের কি এত কাজ? ওদের জন্যেই আমি মেয়েটাকে একবার ও দেখতে পেলাম না। আমার মরনের পরেও আমি অতৃপ্ত থেকে যাবো মেয়েটাকে একবার দেখিনি বলে।
ওর হাঁটার পথে বন্ধুর অংশগুলো আমার চোখ রাঙ্গানি শুনছেনা।
ও থামছে না।


হাঁটার গতি আরো বেড়েছে। ওর দমক দমক চলাচল আমার হৃদপিন্ডে সাইক্লোন বইয়ে চলেছে।
বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে।
ঠোঁটগুলো কেমন ওর?
মোটা নাকি পাতলা?
সে কি টিপ পড়েছে?
কেমন টিপ?
সাদা?
কেমন ওর নাকফুলটা? কানের দুলগুলো ও তো চুলে ঢাকা। কেমন ওগুলো?
খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।ওর হাতের ব্যাগটা সাদা। ও কি সাদা কানের দুল পড়ে আছে? ওর নাকফুলের পাথরটা ও কি সাদা? ওর হাতের আংটিটা ও কি সাদা পাথুরে? ওর ঠোঁট দুটো নিশ্চিত সাদা নয়। গাঢ় লাল? টকটকে আগুনরাঙ্গা ঠোঁট দুখানি? নাকি গোলাপী মাসরুম? কোমল লাল গোলাপ?
ও কি আইশ্যাডো মেখেছে? চোখ দুখানি কেমন দেখতে? ওর চোখের ভেতর কি চোরাবালি আছে?
এভাবে পুরুষগুলো গিলছে কেন ওকে? সবাই হা করে তাকিয়ে তাকিয়ে ওকে চক্ষুধর্ষন করছে। আমি পেছন পেছন হাঁটছি।
দেখতে পাচ্ছিনা।
পাচ্ছিনা।
পাচ্ছিনা।
প্রতিটি পদক্ষেপে মনে হচ্ছে ও আমার চাইতে দূরে চলে যাচ্ছে। দূরে যাচ্ছে অযাচিত ট্রেন। সাদা ক্যানভাস। রুপের ডালি খেলা কন্যার দল। বাতাসী লেবুর ঘ্রাণ। ওর পারফিউম টা অসাধারণ। আমাকে এর মাঝেই মাতাল করে দিলো।


আরে আরেহ!
একটা দুষ্টু লোক ওর প্রায় হাত ছুঁয়ে চলে গেল তারপর আমার ও! লোকটা কি দেখেনা? নাকি ওকে একবার ছোঁয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সবাই? ও কি আজকেই পৃথিবীতে এসেছে? ওর দিকে সবাই এভাবে তাকিয়ে আছে কেন? আরে হ...
ও হটাত করেই পেছন ফিরেছে।আর আমি দেখতে পেয়েছি ওকে।আমার চোখ দুটো আটকে আছে। আমি চোখ সরাতে পারছিনা। সময় থেমে গ্যাছে যেন। আমি স্টাচু হয়ে পড়েছি পথের বাঁকেই। একটা কাক উড়ে গেল। কা কা শব্দ কানে ঢুকছেনা। অনেক দূরে একটা বাস হর্ন চেপেছে তো চেপেছেই। আমি শুনছি তার ব্যর্থ ধীরলয়ের শব্দ। কয়েকটা লোক দৌড়ে যাচ্ছে বাসের দিকে। কিন্তু সেই দৌড় যেন ভয়াবহতম ভাবে ধীর। স্লো মোশনে কিছু পাখি উড়ে গেলো। একটা সুর্য আরো ধীরলয়ে ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পশ্চিমের দিকে। আমি তবুও তাকিয়েই আছি। তো তাকিয়েই আছি। আমি তাকিয়েছি আর মনে হল আমি যেন লাল কেল্লার পৃথক স্তম্ভ। বয়সী বটের মত অচঞ্চল ফলধারী বৃক্ষ। জটাজুটধারী ঋষি।


আমি ঠিক কতোক্ষন তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকে? জানিনা। ওর মুখের একপাশ দেখেছি আমি। ঝলসানো সেই মুখের সবকিছুই আছে। শুধু কোনকিছুই ঠিকমতো নেই। কুকড়ানো চামড়ার মাঝে আমি একটা নষ্ট হয়ে যাওয়া চোখ দেখে স্তবির হয়ে গিয়েছিলাম অনেকক্ষণ! এর পরেই আমি হাঁটা শুরু করেছি অফিসের পথে। আজ অফিসে অনেক কাজ। এভাবে মেয়েদের পেছনে ঘুরলে চলবে? শুধু শুধু সময়টাই নষ্ট হয়...#

আশা
- জয়দেব মান্না

আশায় বাড়ে চাষা
আবার রয় ধান
প্লাবণ আসে হৃদয়ের গাঙে
ও কূল ছাপিয়া এ কূল ভাঙে
বিষণ্ণতার পলি পড়ে রয়
অচীণ হাহাকার আচীণ সময়
ভস্মীভূত ছাই থেকে ফিনিক্স বেঁচে ওঠে
চাষা আবার রয় ধান ......।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget