ডিসেম্বর 2015

Nabadibakar_Writer_24

শুভ হোক 2016
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

এসো 2016
সফলতা নিয়ে,
পৃথিবী সাজুক
ভালোবাসা দিয়ে ।

মুছে যাক সব
কষ্টের স্মৃতি,
নতুন বছর হোক
আনন্দ অতিথি ।

2016 এর জন্য
অশেষ শুভকামনা ,
দূর হোক সবার
হাহাকার বেদনা ।

নতুন বছর হোক
আলোর শপথ,
জাত,ব্যক্তির ঊর্ধ্বে
মুক্তির পথ ।

2016 তুমি গড়ো
মানবতার মন,
এই পৃথিবী হোক
সবার আপনজন ।

শুভ হোক
নব 2016,
তুমি আলোর
পথে চলো।
সব মানুষের রক্ত লাল, কিন্তু সারা পৃথিবী জুড়ে জাত ব্যক্তি সমাজ নিয়ে ঘৃনার গোলমাল । এই গোলমালের বলি হচ্ছে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ । আফসোস !!!!
নতুন বছরে সারা পৃথিবী হোক শান্তির আবাস ভূমি।না পাওয়ার বেদনা ভুলে মানুষ মেতে উঠুক ভালো কাজের ভীড়ে ....সফলতার আনন্দে।
সবাই কে ইংরেজী নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।

ডাঃ ফারহানা মোবিন , চিকিৎসক ও লেখক , 30.12.15 ।

ভালবাসার টানে
– মিন্টু উপাধ্যায়

হাওড়া বাস স্টপে দাঁড়িয়ে দর দর করে ঘামছে মৌসুমি । গরমটা আজ যেন একটু বেশিই লাগছে তার । হাতের ব্যাগটাও কেমন ভারী ভারী লাগছে । রুমাল দিয়ে বার বার মুখ মোছায় মুখটা এবার জ্বালা জ্বালা করতে শুরু করেছে । ঠাণ্ডা জলে মুখ ধুতে হবে খুব শিগ্রই । দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে এসেছে । অনেকক্ষণ বন্ধুদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মৌসুমির পা দুটো এবার টন টন করে উঠলো, তবুও বাসের দেখা পেল না । ব্যস্ততার সাথে হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে নিজের মনে নিজেই কিছু বিড়বিড় করে উঠলো মৌসুমি । সেই সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে । হাওড়ায় এসেছিল বন্ধুদের সাথে পূজার কেনাকাটি করতে । কেনাকাটি করতে করতে অনেক দেরী হয়ে গেছে ।
প্রাইমারী স্কুলের টিচার সে, গতকালই সে তার প্রথম মাসের পারিশ্রমিক পেয়েছে । এই প্রথম সে তার পরিশ্রমের টাকায় বাবা, মায়ের জন্য কিছু কিনেছে । মনটা আজ তার বড়ই খুশি । আসার সময় মামনি দেরী করে ফিরতে বারণ করেছিল, কিন্তু কেনাকাটি করতে যে এত দেরী হয় যাবে মৌসুমি বুঝে উঠতে পারেনি । এইজন্যই হয়তো মামনির কাছে আজ বকুনিও খেতে হতে পারে । তবে এই সব নিয়ে বেশি ভাবল না মৌসুমি, তার মনটা এক অজানা খুশিতে ভরে উঠলো । ঠিক এমন সময়ই তার মোবাইলটা বেজে উঠলো ।
– হ্যালো ।
– হ্যালো । কে মৌসুমি ?
– হুম, বলো । কেমন আছো তুমি ?
– খুব ভাল, তুমি কেমন আছো ?
– ভাল, কি করছ তুমি ?
– এইতো অফিসে, তুমি কি করছ ?
– আমি বন্ধুদের নিয়ে হাওড়ায় এসেছি পূজার কেনাকাটি করতে ।
– খুব ভাল, লাঞ্চ করেছ তো ?
– হুম, অনেকক্ষণ । তুমি ?
– আমারও অনেকক্ষণ হয়েছে ।
– কি কেনাকাটি করলে ?
– অনেক কিছু করেছি, আর তোমার জন্যও আছে ।
– কি নিয়েছ আমার জন্য ?
– এখন বলবো না, তুমি পূজায় এলে তখনই দেখতে পাবে ।
– বলো না প্লিজ ।
– না, বলবো না ।
– ঠিক আছে বলতে হবে না থাক ।
– ও রে আমার দুষ্টু – সোনা রাগ হয়েছে । বলেই মৌসুমি খিলখিল করে হেঁসে উঠলো ।
– না, রাগ কেন করবো । আর তোমার ওপর রাগ করে কি আমি থাকতে পারি বলো ।
– হুম, ঠিক আছে রাখছি, বাস এসে গেছে, উফ বাবা বাসে কত ভিড় দেখেছ । আবার পরে কথা হবে কেমন ।
– এত ভিড় বাসে যেতে হবে না, আরেকটু বসো, খালি বাস এসে যাবে এক্ষুনি ।
– এমন করে না সোনা, এমনিতেই দেরী হয়ে গেছে, পরের বাসের অপেক্ষায় থাকলে আরও দেরী হয় যাবে ।
– দেরী হয় হোক, ভিড় বাসে গেলে আরও বেশি কষ্ট হবে । আর তোমার কষ্ট হোক আমি সেটা চাইবো না কোনদিন ।
– হুম, তাই । ঠিক আছে, একটু ধরো ।
মৌসুমি হাত দেখিয়ে বারণ করে দিল বন্ধুদের যে পরের বাসে যাবে, এই বাসে যাওয়ার দরকার নাই ।
– এবার বলো । দিল্লিতে তোমার কাজ কেমন হচ্ছে ?
– খুব ভাল, তোমার স্কুল কেমন চলছে ?
– খুব ভাল ।
– তাহলে একদিন স্টুডেন্ট হয়ে যাব তোমাদের স্কুলে, আমাকে পড়াবে তো দিদিমণি ?
– ধ্যাত, দিন দিন তুমি খুব দুষ্টু হয়ে যাচ্ছ ।
– এই শুনছো, তোমার জন্য একটা শাড়ী কিনেছি ।
– তাই, কি রঙের ?
– তোমার যে রঙটা খুব পছন্দ, লাল রঙের ।
– খুব ভাল করেছ । তবেই না তোমায় এত ভালবাসি । আচ্ছা বাস এসে গেছে, এটা খালি আছে । রাখছি, পরে কথা হবে কেমন ।
– ঠিক আছে, রাখছি । ভাল ভাবে যেও ।
– ওকে, রাখছি ।
মৌসুমি বন্ধুদের নিয়ে বাসে উঠে পরল । বাসটা অনেকটাই খালি আছে । পাশাপাশি বসে ওরা সবাই গল্প করতে লাগলো । কিছুদূর যেতে না যেতেই জ্যামের জন্য বাসটা ধীরে ধীরে যেতে লাগলো । আরও কিছুটা এগোতেই মৌসুমিরা অবাক হয়ে দেখলো যে আগের বাসটা উলটে পরে আছে । অ্যাকসিডেন্ট করেছে বাসটা । চারিদিকে চিৎকার চেঁচামেচি আর কান্নার আওয়াজ । অনেকেই আহত হয়েছে দেখা গেল ।
মৌসুমি ভাবতে লাগলো যে দীপকের কথা যদি না শুনত সে, তাহলে হয়তো ঐ বাসেরই এক কোনে পরে থাকতো ওরা সবাই । যদিও এই অ্যাকসিডেন্ট ওদের সাথেও হতে পারত । তবুও মনে মনে সে দীপককে ধন্যবাদ জানালো । ভালবাসার টানেই হয়তো এমনটা হয়ছে ।
মৌসুমি চটপট মোবাইল নিয়ে দীপককে ম্যাসেজ করল ”আই মিস ইউ”
কিছুক্ষণের মধ্যেই মৌসুমির মোবাইলে ম্যাসেজ এলো ”আই মিস ইউ টু”
মৌসুমির মনটা খুশিতে ভরে উঠলো । খুশিতে সে চোখ বুঝল, চোখের পাতায় বারবারই দীপকের মুখটাই ভেসে উঠতে লাগলো ।

© Mintu Upadhayay

 

নতুন বছরের শুভেচ্ছা ২০১৬ - Happy New Year 2016


দেখতে দেখতে একটি বছর চলে গেলো । শুরু হলো নতুন আরেকটি ইংরেজী বছরের যাত্রা । নবদিবাকর পত্রিকার প্রত্যেক পাঠক, পাঠিকা, লেখক, লেখিকা, কবি, ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি রইল নতুন বছরের শুভেচ্ছা । সবাইকে ইংরেজী নববর্ষ ২০১৬ এর শুভেচ্ছা । নতুন বছর আপনি কেমন করে কাটাতে চান ? নতুন বছরে আপনার লক্ষ কী ? আপনি আপনার জীবনে নতুন কী পেতে চান ? আপনার প্রিয়জনকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান । আসুন সবাই মিলে নতুন বছরকে বরণ করে নিই, আর মেতে উঠি আনন্দে । সবাইকে নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা, ও প্রানঢালা অভিনন্দন ।

Nabadibakar_Writer_12

মনখারাপ
- রীতা ঘোষ

বুকের ওপর কলমের আঁচড়
বাস কিছুটা রক্তক্ষরণ
আকাঙ্ক্ষারা সারি সারি হিমঘরে
হত্যা নাকি আত্মহনন !

মিথ্যার দাবানলে সত্যের দহন শেষে
পরে থাকে অপবাদের ছাই
কষ্টরা জমাট বেঁধে বেঁধে হৃদ গহ্বরে
আজ কঠিন পাথরের চাঁই ।

একাকীত্বের আঁধার রাতে যদি
আলোর উৎস তুমি
বিরহের মেঘে ঢাকা থাকে কেন
প্রেমের স্নিগ্ধ চাঁদনী !

স্মৃতিরা রঙিন পাখনা মেলে
নীলাকাশে পাড়ি দেয়
মন খারাপি বৃষ্টি হয়ে
টুপটাপ ঝরে যায় ।।

Nabadibakar_Writer_24

শুভ হোক 2016
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

এসো 2016
সফলতা নিয়ে,
পৃথিবী সাজুক
ভালোবাসা দিয়ে ।

মুছে যাক সব
কষ্টের স্মৃতি,
নতুন বছর হোক
আনন্দ অতিথি ।

2016 এর জন্য
অশেষ শুভকামনা ,
দূর হোক সবার
হাহাকার বেদনা ।

নতুন বছর হোক
আলোর শপথ,
জাত,ব্যক্তির ঊর্ধ্বে
মুক্তির পথ ।

2016 তুমি গড়ো
মানবতার মন,
এই পৃথিবী হোক
সবার আপনজন ।

শুভ হোক
নব 2016,
তুমি আলোর
পথে চলো।
সব মানুষের রক্ত লাল, কিন্তু সারা পৃথিবী জুড়ে জাত ব্যক্তি সমাজ নিয়ে ঘৃনার গোলমাল । এই গোলমালের বলি হচ্ছে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ । আফসোস !!!!
নতুন বছরে সারা পৃথিবী হোক শান্তির আবাস ভূমি।না পাওয়ার বেদনা ভুলে মানুষ মেতে উঠুক ভালো কাজের ভীড়ে ....সফলতার আনন্দে।
সবাই কে ইংরেজী নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।

ডাঃ ফারহানা মোবিন , চিকিৎসক ও লেখক , 30.12.15 ।

ছোটগল্প : স্বপ্ন কলম
- মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর


এক।
কুয়াশা ভেজা শীতের সকাল। শিশিরভেজা দূর্বাঘাসের মেঠোপথে খালি পায়ে হাঁটছিলেন মাহবুবুর রহমান। বয়সে খুব বেশি মুরুব্বী নন তিনি। তবে বেশ লম্বাটে দেহের অধিকারী এ মানুষটি অনেকের কাছেই খুব প্রিয় ব্যক্ত্বি। নাঈম তাদের একজন। মাদরাসা পড়ুয়া নাঈম সম্পর্কের দিক থেকে মাহবুবুর রহমানের নাতি হয়। দাদা মাহবুবুর রহমান বেশ আদর করেন নাঈমকে। নাঈম দুনিয়ার মুখ দেখার আগেই তার আপন দাদা ইন্তেকাল করেন। তাই দাদার আদর থেকে বরাবরই বঞ্চিত থেকেছে নাঈম। মাহবুবুর রহমানের বাড়ির পাশ দিয়েই মাদরাসায় যাচ্ছিল নাঈম। পথে দেখা হয় দাদা মাহবুবুর রহমানের। দাদা ডাকে নাঈমকে--


: কোথায় যাচ্ছ দাদাভাই?
: আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন দাদা? মারদাসায় যাচ্ছি। জবাব দেয় নাঈম।
: ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কেমন আছো দাদা ভাই? অনেক দিন হয় তোমার দেখা নাই। কোথায় থাক দাদাভাই। জানতে চাইলেন দাদা মাহবুবুর রহমান।
: বাড়িতেই আছি। বলল নাঈম।
: তো দেখা করছো না কেন দাদাভাই। জানতে চাইলেন দাদা মাহবুবুর রহমান।
: পড়াশোনায় খুব ব্যস্ত আছি। তাই আগের মতো আর দেখা করতে পারছিনা দাদা। সময় করে আপনার বাড়িতে এসে দেখা করব ইনশাআল্লাহ।
: ঠিক আছে। বললেন দাদা মাহবুবুর রহমান।
: এখন তবে আসি দাদা! বলল নাঈম।
: হ্যাঁ। আবার সময় করে এসো কিন্তু। বললেন দাদা মাহবুবুর রহমান।


: আসব ইনশাআল্লাহ, বলেই মাদরাসার দিকে এগিয়ে যায় নাঈম।


দুই।
দাখিল দশম শ্রেণীর ছাত্র নাঈম এখন মাদরাসায় পড়ার টেবিলে। শ্রেণীর এক রোলের ছাত্র নাঈম ছাত্র-শিক্ষক সকলেরই খুব প্রিয়। নিয়মিত ক্লাস করা ওর রুটিন ওয়ার্ক। মাদরাসায় বরাবরই প্রথম হয় নাঈম। এবারও প্রথম স্থান অধিকার করে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।


ক্লাসে শ্রেণী শিক্ষক আসবেন একটু পরেই। গতকালের পড়াগুলো একবার দেখে নিচ্ছে নাঈম। ক্লাস শুরুর বেল পড়তেই ক্লাসে এসে হাজির হন শ্রেণী শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক স্যার। সবাই দাঁড়িয়ে সালাম জানায় স্যারকে। নাঈমও তাদের একজন। তোমরা কেমন আছ সবাই, জানতে চান আবু বকর সিদ্দিক স্যার--
: আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন স্যার? জানতে চায় শ্রেণীর সবাই--
: আলহামদুলিল্লাহ। আমিও ভালো আছি। তোমাদের পড়াশোনার খবর কি? জানতে চাইলেন স্যার--
: ভালো। সমস্বরে বলল ছাত্র-ছাত্রী সবাই।
: ঠিক আছে। তোমরা বসে পড় সবাই। বললেন স্যার।


স্যারের নির্দেশে নিজনিজ আসনে বসে পড়লো সবাই। নিয়মিত পাঠদানের মতোই আজকেও ক্লাসের পড়াশোনা শেষ হলো। বাংলা বিভাগের শিক্ষক বকর স্যার। ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্য নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন কবি সাহিত্যিকের জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন বকর স্যার। আজকেও তার ব্যতিক্রম হলোনা। কবি জসিম উদ্দিনের "কবর" কবিতা নিয়ে আলোচনা করতেই ছাত্র-ছাত্রীরা তন্ময় হয়ে শুনছিলো স্যারের আলোচনা। নাঈমও বেশ আগ্রহের সাথে স্যারের আলোচনা শুনছিলো। এক সময় নাঈম স্যারকে প্রশ্ন করে--
: আমরা কি কবি জসিম উদ্দিনের মতো কবি হতে পারবো না স্যার?
: হ্যাঁ। পারবে। কেন পারবেনা। অবশ্যই পারবে। এজন্য অনেক পড়তে হবে। চেষ্টা করতে হবে কবির মতো করেই।
: জি। আমি চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। বলল নাঈম--
: তুমি চেষ্টা কর। আমি তোমাকে সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ। বললেন বকর স্যার।


তিন।
স্যারের আশ্বাসে উচ্ছ্বসিত নাঈম এখন নিয়মিত লিখতে চেষ্টা করছে। প্রতিনিয়ত লিখছে নাঈম। কোনদিন কবিতা। কোনদিন বা ছড়া। অন্যদিন ছোট গল্প। এভাবে লিখছে নাঈম। অনেক লেখা জমা হয়েছে নাঈমের। এক সময় স্যারের পরামর্শে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠায় নাঈম।


গ্রামের বাড়িতে এসেছে নাঈম। ওদের এলাকার পোষ্ট মাষ্টারের সাথে দেখা হয় নাঈমের। পোষ্ট মাষ্টার জিজ্ঞেস করে--
: তোমার নাম কি নাঈম?
: জি। আমি নাঈম।
: তুমি কি লেখালেখি কর?
: জি। একটু একটু লেখার চেষ্টা করছি।
: কোন পত্রিকায় লেখা পাঠিয়েছ কি?
: জি। অনেক পত্রিকাতেই লেখা দিয়েছি।
: মাসিক "আদর্শ নারীতে" কি কখনও লেখা দিয়েছিলে?
: জি। দিয়েছিলাম।
নাঈমের সাথে কথোপকথনের শেষে ব্যাগ থেকে মাসিক "আদর্শ নারী" নামের একটি পত্রিকা বের করে দেয় পোষ্ট মাষ্টার। নাঈম পত্রিকা হাতে নিয়ে দেখে মলাটের ওপর সিল দেয়া "লেখক সৌজন্য সংখ্যা"। নাঈম পত্রিকাটি নিয়ে যত্নসহকারে ব্যাগে রেখে দেয়।


চার।
সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আসে নাঈম। রাতে বাবা মায়ের পাশে বসে পড়ে সে। পত্রিকা বের করে বাবা-মায়ের সামনে। পত্রিকার পাতা উল্টোতেই দেখে ছোটদের পাতা "সবুজ কুঁড়ি" আসরের পাতায় ওর লেখা রাসুলুল্লাহ সাঃ এর শানে "ভালোবেসে" শিরোনামের ছড়াটি ছাপা হয়েছে। আনন্দে আত্নহারা নাঈম বাবা-মাকে তার লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত ছড়াটি পড়ে শোনায়। হঠাৎ নাঈমের চোখ পড়ে যায় বাবার দিকে। একি দেখছে নাঈম! যে সময় বাবার আনন্দ পাবার কথা, ঠিক সে সময় তার চোখে পানি! পাগলপ্রায় নাঈম বাবাকে জিজ্ঞেস করে--
: কাঁদছ কেন বাবা?
: কই।
: তোমার চোখে পানি দেখছি যে!
: নাতো।
: আমি কি ভুল দেখছি বাবা!
: তাও না।
: তাহলে!
: তাহলে কি নাঈম!
: তোমার চোখে পানি কেন তার সঠিক কারন জানতে চাই।
: খুব জানা দরকার তোমার।
: জি। আমার খুব জানা দরকার।
: বলছি শোন তাহলে----
: বাবা শুরু করলেন তার গল্প। বাবা বললেন--তুমি তখন তোমার মায়ের গর্ভে। ঘুমের মাঝে স্বপ্নে দেখি আমার পাঞ্জাবির পকেটে সুন্দর একটি কলম। খুব লিখতে ইচ্ছে করছিলো কলমটি দিয়ে। কিন্তু আমি লিখতে পারছিনা। খুব চেষ্টা করলাম। কিন্তু না। কিছুতেই লিখতে পারছিনা। মনে মনে খুব কষ্ট পেলাম। কাউকে কষ্টের কথা বলিনি কখনও। মনের কোনে জমা রেখেছিলাম স্বপ্নের কথা। না লিখতে পারা কষ্টের কথা। কাউকে বলার চেষ্টাও করিনি কখনও। তোমার আম্মুকেও বলিনি কোনদিন। না কোনদিনই না। বাবার চোখ আবারও ঝাপসা দেখাচ্ছে। আবার বলতে শুরু করলেন বাবা--


স্বপ্ন দেখার কিছুদিন পরেই তুমি জন্মগ্রহণ করলে। তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। অনেক স্বপ্নের মাঝে বড় হয়ে উঠলে তুমি। এখন অনেক কিছুই বুঝতে শিখেছো তুমি। জীবনের অনেক কিছুই তুমি বুঝতে পারছো এখন। তুমি এখন আবার লেখক। কবি। ছড়াকার। সাহিত্য অঙ্গনের কর্মী। তাই আজকে আমার খুব মনে হচ্ছে তুমি আমার স্বপ্নে পাওয়া সেই কলম কিনা! এমনটি বলেই আবার কেঁদে উঠলেন বাবা। চোখে তার অশ্রু। বেদনার নাকি আনন্দের তা বুঝতে পারেনি নাঈম। তাই নাঈমের আবারও জিজ্ঞাসা--
: তুমি কাঁদছো কেন বাবা?--
: না বাবা। আমি কাঁদছি না।
: তবে চোখে পানি কেন?
: আনন্দাশ্রু!
: মানে?
: তোমার ছড়া পড়া শুনে খুব আনন্দ পাচ্ছিলাম। তাই চোখ থেকে আনন্দের অশ্রু বেড়িয়ে এলো। এটা দুঃখের বা কষ্টের পানি নয় বাবা। এটি আনন্দের অশ্রু। আমি আজ খুবই আনন্দিত। তুমি আমার স্বপ্নের সেই সুন্দর কলম। যা দিয়ে আমি লিখতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। আমি এখন বুঝতে পেরেছি স্বপ্নে পাওয়া কলমটি আমার জন্য ছিলো না। এটি ছিলো তোমার জন্য বরাদ্দ। তুমি আমার স্বপ্নে পাওয়া সেই সোনালি কলম। আমি তোমার প্রতি অসিয়ত করে যাচ্ছি, যতদিন তুমি বেঁচে থাকবে ততদিন লিখে যাবে। সত্যের কথা। হকের কথা। দেশ ও জাতির কথা। মানবতার কল্যাণের কথা। তোমার লেখা চালিয়ে যাবে যতদিন সম্ভব ততদিন। এটিই আমার দাবি। এটি আমার অসিয়ত। এ কথা বলেই আবারও কেঁদে উঠলেন বাবা। নাঈম আর চুপ করে বসে থাকতে পারলোনা। নাঈমও এবার দরাজ কণ্ঠে বলে উঠলো, দোয়া কর বাবা। আমি তোমার অসিয়ত রক্ষা করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব ইনশাআল্লাহ। তোমার হক আদায় করতে চেষ্টা করবো সারাটি জীবন ধরে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। সেই শক্তি চাই আল্লাহ তায়ালার দরবারে। দোয়া করবে, আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে লেখার শক্তি দেন। জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে দেন লেখার জন্য। আমি যেন দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য লিখতে পারি। লিখতে পারি ছোট্টমণিদের জন্য। অনাগত প্রজন্মের জন্য। আমার মত হাজারো শিশু-কিশোরদের জন্য।
বাবা আমীন বললেন। অনেক করে দোয়া করলেন নাঈমের জন্য। প্রাণ ভরে। হৃদয়ের একান্ত অনুভূতি দিয়ে। দিল খোলা মনে। একান্ত আপনার করে।এমন সময় বাবার চোখের আনন্দ অশ্রুর ঝলকানিতে মন ভরে ওঠে নাঈমের। নাঈম আনন্দে আত্নহারা। নাঈমের প্রত্যয় আরো বেড়ে যায় কয়েকগুণে। লেখার জন্যে। লেখক হবার জন্যে।


পাঁচ।
বাবার অসিয়ত অনুযায়ী সে থেকেই লিখছে নাঈম। অনবরত। প্রতিনিয়ত। নাঈম লিখছে ছোটদের জন্য। দেশ ও জাতির জন্য। নাঈমের এ লিখনি শক্তি অব্যাহত থাকুক জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। সেই প্রত্যাশা আমাদের। আমাদের সকলের।

ছোটগল্প : নাঈমের ভাবনা
- মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর


কুয়াশায় ঢাকা শীতের সকাল। ক্রমেই বেড়ে চলছে শীতের তীব্রতা। মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহের আনন্দখেলা। সোনালি ধানের শীষে দোল খাচ্ছে ধানক্ষেত। গ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে ধান কাটার উৎসব। পাড়াজুড়ে ধান মাড়াইয়ের আমেজে মেতে উঠেছে কিষাণ-কিষানীরা। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে মুখোরিত সারাগ্রাম।এখন নবান্নের উৎসব চলছে। এমন দিনে কদর বাড়ছে জামাইদের। বিশেষ করে নতুন জামাইদের। গ্রামের অনেকের ঘরেই শুরু হয়েছে বিয়ের উৎসব। শীতের এমন সময়ে পাড়াগাঁয়ে সাধারণত বিয়ের আয়োজন চলে বেশি। বিয়ের ডামাডোলে আনন্দিত পাড়ার শিশুকিশোরেরা। নবান্নের এমন দিনে নানান রকমের বাহারি পিঠার সুগন্ধিতে মুখোরিত সারাটি পাড়া-গাঁ। আনন্দের বন্যায় মেতে উঠছে শিশু-কিশোরেরা। এমনই শীতের সকালে দাদার পাশে বসে নাতিদের মুড়ি-মুড়কি খাবার আসর জমেছে বেশ উৎসব করেই। দাদা-নাতির আড্ডায় আনন্দের বন্যা বইছে সারাটি বাড়ি জুড়ে। আনন্দঘন এমনই এক শীতের সকালে খালি পায়ে হেঁটে চলছে নাঈম। শীতের সকালে গাঁয়ের মেঠোপথে খালি পায়ে হাঁটার মজাই আলাদা। পথে হাঁটতেই নাঈমের সাথে দেখা হয় গ্রামের মোড়ল দাদা মোকছেদ আলীর। দাদা মোকছেদ আলী আর নাঈমদের বাড়ি একই গ্রামে। পাশাপাশি। এবাড়ি ওবাড়ি। নাঈম দাদাকে সালাম জানায়--


: আসসালামু আলাইকুম।
: ওয়া আলাইকুম সালাম। জবাব দেন দাদা মোকছেদ আলী।
: কেমন আছেন দাদা?
: আলহামদুলিল্লাহ। তুমি কেমন আছ দাদা ভাই?
: আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের দোয়ার বরকতে আমিও অনেক ভালো আছি। বাসার সবাই কেমন আছেন দাদা?
: আলহামদুলিল্লাহ। সবাই ভালো আছেন। তোমাদের বাসার সবাই কেমন আছেন?
: আলহামদুলিল্লাহ। সবাই ভালো আছেন।
: কোথায় যাচ্ছ নাঈম?
: একটু হাঁটছি দাদা।
: চল বাড়িতে যাই।
: চলুন।
দাদা নাতির কথোপকথন শেষে দুজনেই বাড়িতে ফিরলেন। বাসায় বেশ লোকজনের সমাগম দেখা যাচ্ছে। জামাইদের আগমনে বাড়িতে বেশ আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। ছোট-বড় সকলের মাঝেই এক প্রকার ফুর্তি ফুর্তি মনোভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন সময় দাদা-নাতি বাড়িতে প্রবেশ করেন। দাদাকে দেখে নাতিন জামাইদের একজন এগিয়ে এসে সালাম জানালেন। দাদাও বেশ আনন্দের সাথে সালাম গ্রহণ করে জানতে চাইলেন--
: কেমন আছো দাদা ভাই?
: আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?
: আলহামদুলিল্লাহ। তোমরা সবাই এসেছো নিশ্চয়ই।
: জি। আমরা সবাই এসেছি। চলুন ঘরে গিয়ে বসি।
: চল, যাই।
দাদা এবং নাতিন জামাই বাহির ঘরে গিয়ে বসে। অন্য নাতিন জামাইয়েরাও সেখানে আড্ডা দিচ্ছেন। দাদাকে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে সালাম জানালেন। দাদাও আনন্দের সাথে সকলের সালাম গ্রহণ করলেন। এবার সবাই একসাথে বসে পড়লেন মাদুর পাতা বিছানায়। শীতের পিঠাপুলিতে ভরপুর জামাইদের থালা-প্লেট। মুড়ি-মুড়কিও আছে সবার পাতেই। কেউ কেউ একটু আধটু করে মুখে পুড়ছে। কেউবা গল্প গুজবে মত্ত রয়েছেন। অনেকেই আবার দাদার আগমনের প্রত্যাশা করছেন। এমনই সময়ে দাদার আগমনে সবাই আনন্দিত বটেই। আবারো দাদার সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু করলেন গল্প। কেউবা হাসির গল্প বলছেন। কেউবা দ্বীনের আলোচনা শুরু করেছেন। এমনই এক পরিবেশে নাঈমের আগমন ঘটে। এই গ্রামেরই ছেলে নাঈম। বয়সে এখনও সে কিশোর। নবম শ্রেণীর ছাত্র নাঈম। একটি আদর্শ শিক্ষালয়ে পড়াশোনা করে সে। বরাবরই সে ভালো রেজাল্ট করে আসছে ছাত্রজীবনে। এ কারনে গ্রামের সবাই বেশ আদর করে ওকে। সকলেরই ভালোবাসার পাত্র নাঈম। দাদা মোকছেদ আলীও ওকে বেশ স্নেহ করেন। অন্যান্য আপন নাতিদের মতোই পাশে রাখার চেষ্টা করেন দাদা। ওর আগমনে দাদা যারপরনাই আনন্দিত। ওকে কাছে ডেকে পাশাপাশি বসান দাদা। ছাত্র হিসেবে অনেক ভালো হলেও আর্থিকভাবে ওরা স্বচ্ছল নয়। দিন আনে দিন খায় অবস্থায় চলে ওদের পারিবারিক সংসার জীবন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে নাঈম সবার বড়। দরিদ্র পিতা আইয়ুব আলী একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই ওদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে সারাটি সময়। তবুও ওর বাবা মানুষ করতে চায় নাঈমকে। সত্যিকারের আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান ওকে। নাঈম নিজেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রানান্তকরণে।
সালাম জানিয়ে দাদার নির্দেশে দাদার পাশেই বসে পড়ে নাঈম। আবারো শুরু হয় নতুন করে গল্পের আড্ডা। সবাই দাদার সাথে গল্পে শামিল হয় একান্ত আপনার করে। জীবনের নানান বিষয় নিয়ে চলতে থাকে ওদের গল্প বলা। গল্পের এক সময় বড় নাতি জামাই আব্দুল আজিজ নাঈমকে কাছে ডাকেন। নাঈম তার পাশে এলে আদরের সুরে প্রশ্ন করেন--
: তোমার নাম কি?
: নাঈম।
: কোথায় পড়াশোনা কর?
: গাইবান্ধার আদর্শ শিক্ষালয়ে।
: কোন শ্রেণীতে পড়?
: নবম শ্রেণীতে।
: তোমার রোল কত?
: এক।
: অষ্টম শ্রেণীতে রোল কত ছিলো?
: এক।
: পিএসসিতে রেজাল্ট কেমন ছিলো?
: গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ।
: কোন বিভাগের ছাত্র তুমি?
: বানিজ্য বিভাগের।
: বিজ্ঞান বিভাগ নাওনি যে!
: ভালো একজন হিসাব কর্মকর্তা হতে চাই।
: কেন?
অর্থনৈতিক লেনদেনে এখন চরম দুর্নীতি চলছে। হাজারো অসহায় পরিবার আজ দুর্নীতির কবলে নিমজ্জিত। বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারবারে চলছে হ-য-ব-র-ল পরিবেশ। এমতাবস্থায় সাধারণ জনগণ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ এবং জাতি। তাই অর্থনীতির লেনদেনের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের আদর্শ এবং চরিত্রবান হওয়া দরকার। আমি এক্ষেত্রে আদর্শ দিয়ে যতসামান্য হলেও ভুমিকা রাখতে চাই।


বেশ। তোমার প্রচেষ্টা সফল হোক। বললেন দাদা মোকছেদ আলী। দাদার দোয়ার সাথে আর বাকি চারজন একমত পোষন করলেন। তবে জাহিদ সাহেব একটু দ্বিমত পোষন করে বললেন--
ক্ষমতা না থাকলে শুধু নৈতিকতা দিয়েই সবকিছু করা যায় না। সততার সাথে সক্ষমতারও দরকার আছে।


তার এ কথা শুনে এবার বাকিরাও একটু নড়েচড়ে বসলেন। কামাল সাহেব জাহিদ সাহেবের মতোই আগ বাড়িয়ে বললেন--
নৈতিকতায় বলিয়ান অনেক শক্তিশালী ব্যক্তিরাও অর্থের কাছে ধরাসায়ী হয়েছে। তাই আমি মনে করি এ বিষয় না নিয়ে অন্য কোন বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করাই ভালো হবে। বিশেষ করে প্রশাসনিক ক্যাডারে সৎ, চরিত্রবান এবং যোগ্য লোকের দরকার খুব বেশি। তাই এ দিকটিতেও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। নাঈম এদিকে নজর দিতে পারে।


এবার কামাল সাহেবের সাথেও দ্বিমত পোষন করলেন ইদ্রিস সাহেব। তিনি নিজের মতামত ব্যক্ত করে বললেন--
আইন ও বিচার বিভাগে আরো বেশি আদর্শবান লোকের দরকার। মেধাবী ও দূরদর্শী আইনজ্ঞ দরকার। দরকার ন্যায় বিচারক। সৎ, যোগ্য এবং সাহসী আইনজীবী দরকার। কারন একজন আইনজীবীর যুক্তি তর্কের ওপর অনেক সময় বিচারকের রায় নির্ভর করে। যা ন্যায় বিচারের জন্য জরুরি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমার মতে আইন বিভাগে পড়াশোনা করা ভালো হবে। আশা করি নাঈম বিষয়টিকে নিয়ে ভাবতে পারে।


অনেকের ন্যায় এবার ইদ্রিস সাহেবের মতের সাথেও দ্বিমত পোষন করলেন জুবায়ের সাহেব। তার মতে আদর্শবান শিক্ষকের এখন মারাত্নক আকাল চলছে। আদর্শ শিক্ষাগুরু না থাকার কারনে শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক জ্ঞান অর্জন হচ্ছেনা। রক্ষক শিক্ষকেরা এখন ভক্ষকের ভুমিকা পালন করছেন। ধর্ষণের মতো দুর্ঘটনা ঘটছে শিক্ষকের দ্বারা। তাই আদর্শবান শিক্ষকের দরকার। দরকার সৎ 'যোগ্য এবং মেধাবী শিক্ষকের। জাতিগঠনে যা অত্যন্ত জরুরি হয়েছে পড়েছে। তাই আমাদের সন্তানদেরকে আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য শিক্ষা ক্যাডারে পড়াশোনা করা দরকার। এ সেক্টরে ভালো এবং সৎ ও চরিত্রবান লোক প্রয়োজন। পারলে নাঈম এ বিষয়ের প্রতি নজর দিতে পারে। মানুষ গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক সমাজ। এটাই আমার মত।


বরাবরের মতোই জুবায়ের সাহেবের সাথেও একমত হতে পারলেন না আমিন সাহেব। তার মতে আদর্শবান চিকিৎসক দরকার। দরকার সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী চিকিৎসকের। বেশি সংখ্যক চিকিৎসকেরা এখন সেবাদানের পরিবর্তে রক্তচোষার ভুমিকা পালন করছেন। সেবার নামে রোগীদের চুষে খাচ্ছেন তারা। কেউবা ভুল চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফলে ভালো চিকিৎসা পান না গরিবেরা। সময়মতো সঠিক চিকিৎসার অভাবে অনেক দরিদ্র অসহায় লোকজন অকালে মৃত্যুবরণ করছেন। তাই আদর্শবান মানব প্রেমিক চিকিৎসক দরকার। মেধাবী নাঈম এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে। আমরা নাঈমদের মতো এমন সৎ চিন্তাশীল ছেলেদের কাছ থেকে এমনটাই আশা করি। এভাবে সবাই যার যার মতো করে মতামত পেশ করলেন। সকলের কথাই খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো নাঈম। কারো কথার কোন প্রতিউত্তর করেনি সে। একান্ত আপনার করে শুনে যাচ্ছিল নাঈম। এবার নাঈম বিদায় চাইছে বাড়িতে যাবে বলে। ওকে তাড়াতাড়ি বাড়িতে যাওয়া দরকার। ওর হাতে সময় খুবই কম। ওর বাড়িতে যাবার কথা শুনে দাদা ভাই একটু ধমকের শুরে বললেন--


আমাদের এসব কথা তোমার ভালো লাগছেনা বুঝি নাঈম?
: না। তা নয় দাদা ভাই।
: তবে কি তাহলে? বললেন দাদা।
: বাড়িতে জরুরি কাজ আছে তাই। বলল নাঈম।
: কি কাজ। জানতে চাইলেন দাদা।
নাঈম বলতে শুরু করল--
এখন শীতকাল। তাই শীতের লেপ তোষক নেয়ার জন্য বাড়িতে এসেছি। আগামীকাল আবার আমাকে চলে যেতে হবে স্কুলে। তাই প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। এছাড়া আর তেমন কিছু নয় দাদা ভাই।
: ও, আচ্ছা। ঠিক আছে। তাহলে আমাদের সাথে নাস্তা খেয়ে তুমি চলে যেও। বললেন দাদা।
দাদার কথামতো নাস্তা খাবার পালা শেষ করা হলো। সবাই এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন। নাঈমও নিজের করে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল।


এখন চলে যাবার পালা নাঈমের। সবার সাথে কুশল বিনিময় করে বাড়ি ফিরছে নাঈম। ক্রমাগত বাড়ির পানে এগিয়ে চলছে সে। নাঈম ভাবছে একান্ত আপনার করে। ভাবছে বড়দের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। সময়ের দাবির আলোকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে। দেশ ও জাতির চাহিদা নিয়ে। নাঈম এখন আর বুঝতে পারছে না তাকে কি করতে হবে। নাঈম সিদ্ধান্ত নিতে হিমসিম খাচ্ছে। সে বুঝতে পারছে না তাকে কোন যোগ্যতা অর্জন করা জরুরি। নাঈম ভাবছে একান্ত আপন করে। ভাবনার নীল সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে নাঈম। নাঈম হৃদয়ের একান্ত অনুভূতি দিয়ে এসব ভাবছে। নাঈমের এ ভাবনা হোক দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য। ওর সিদ্ধান্ত হোক মানবতার মুক্তির জন্য। সুন্দর একটি সমাজ বিনির্মাণে নাঈম এগিয়ে যাক ক্রমাগত সামনে। বিজয়ের মঞ্জিল পানে। সফলতার দ্বারপ্রান্তে।

ছোটগল্প : ভালোবাসার বাহুডোরে
- মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর


সকাল থেকেই মানিকের মনটা ভালো নেই। কি যেন এক দুঃচিন্তায় ভারাক্রান্ত মানিক। হতাশার সাগরে সাঁতার কাটছে যেন ওর মনটা। স্কুলে যেতেও ওর কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। স্কুলের মেধাবী ছাত্র মানিক। নবম শ্রেণীর ছাত্র কিশোর মানিকের ব্যবহার অনেক ভালো। একজন আদর্শ সন্তান হিসেবে মানিকের জুড়ি মেলা ভার। স্কুলেও মানিকের তুলনা মানিক নিজেই। অথচ আজকে সেই মানিকের বাড়ির কারো সাথেই বোনাবোনি হচ্ছে না। কিছুতেই ওকে স্বাভাবিক ভাবতে পারছে না কেউই। কি যেন হারিয়েছে মানিক। শুধু আনমনা হয়ে বসে আছে পড়ার টেবিলে। কেউ ওর কোন ভেউ বুঝতে পারছে না। না দাদা ভাই। না বাবা। না মা। না বোন। মানিকেরা দুই ভাইবোন। বোন আতিকা জহির বড়। মানিক ছোট। সকাল থেকে কোন নাস্তাও খায়নি মানিক। একটি ডিমও না। না একটা বিস্কুট। কিছুই না। ওর এমন ভাব দেখে ভীত হয়ে পড়েছেন ওর বাবা মা। বুবুজান। দাদা ভাই নিজেও। বাড়ির অন্যান্যরাও চিন্তিত। এমনই এক সময় পথশিশু কামালের আগমন ঘটে।
--একমুঠো খাবার দিন।
--খাবার নাই। দূর হ। যখন তখন যত্তোসব উৎপাত। আর ভালো লাগেনা এসব ঘ্যানঘ্যানি।
--আমার কেউ নাই। না বাবা। না মা। না ভাইবোন।
--তো কি হইছে তাই। ভাগ এখান থেকে। আরেক বাড়ি যা। সেখানে গেলে খাবার পাবি।
--দেন না একমুঠো খাবার।
--বলছি না নাই। যাবি তুই।
--আমার পেটে খুব ক্ষিধে যে।
--তাতে আমার কি?
--বাবার আদর চাই।
--বাবার আদর? আমি কি তোর বাবা?
--না।
--তবে বাবার আদর দাবি করিস কেন?
--আমার হক।
--কিসের?
--অভিভাকের।
--মানে?
--হ্যাঁ। অভিভাবকের আদর চাই। টোকাই হিসেবে এটা পাওনা অধিকার। কেন দিবেন না আপনি ?
--কেন, তোকে কি কৈফিয়ত দিতে হবে আমাকে।
--না।
--তবে?
--আমার দাবি।
--কেন?
--চাই।
--কিভাবে?
--মানুষ হিসেবে।
--যেমন?
--বুঝি না।
--তবে তোর দাবি কিসের?
--নীতি-নৈতিকতার।
--কিসের নৈতিকতা?
--আপনি ভালো জানেন।
--মানে?
--এ বিষয়ে অনেক বক্তব্য শুনেছি আপনার।
--কোথায়?
--বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।
--তাতে কি?
--আপনার বক্তব্যের বাস্তব প্রয়োগ চাই।
--তার মানে?
--হ্যাঁ, সত্যি বলছি।
--ভাগবি তুই।
--না।
--গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব কিন্তু।
--পারলে দিন।
--এত্তোবড় সাহস তোর?
--অবশ্যই।
--কিসের বলে?
--জানতে চান?
--না। তোর কাছে কি জানতে হবে আমাকে?
--না, যদি শুনতে চান তাহলে----
--এখনও ভাগবি তুই।
--না।
--কেন যাবিনা তুই। তোর কিসের অধিকার এখানে?
--জানতে চাইলে বলতে পারি।
এবার একটু ভাবতে চেষ্টা করছেন বাড়ির কর্তা জহির উদ্দিন বাবর সাহেব। কিসের এতো জোর ছেলের। কার কাছে ওর এসব দাবি। কেন দাবি। কিসের দাবি। কিভাবে দাবি করছে ও। ভাবনার সাগরে ডুবে যাচ্ছে জহির সাহেব। সরকারি উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা মিস্টার জহির সাহেব বেজায় অহংকারী লোক। মানবতার থোরাই কেয়ার করেন না তিনি। কিন্তু হলে কি, পদাধিকারবলে বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রোগ্রামে বক্তব্য দিয়ে থাকেন তিনি। টোকাই কামাল এসব বক্তব্য শুনেছে অনেক সময়। টোকাইদের নিয়ে জহির সাহেবের অনেক সুন্দর সুন্দর আলোচনা শুনেছে কামাল। তাই ওর দাবি শিশু অধিকারের। দাবি খাদ্যের নিরাপত্তার। একমুঠো খাবার অধিকারের। একটি গায়ের জামার। শীতের কাপড়ের।
জহির সাহেব ভাবছেন আপন মনে। একান্ত আপনার করে। গভীর ভাবে। অত্যন্ত সন্তর্পনে। খুব ভাবুক হৃদয়ে। জহির সাহেবের ভাবনার এমন এক সময়ে টোকাই কামালের আবারও আবদার--
একমুঠো খাবার দিন। পেটে খুব ক্ষিধে আমার। আমার খাবার অধিকার চাই। আমার জীবন ধারনের অধিকার চাই। পড়াশোনার অধিকার চাই। চিকিৎসার অধিকার চাই। আপনার কিশোর সন্তানের মতন করে বাঁচতে চাই। একটানা এসব বকেই যাচ্ছে টোকাই কামাল। যেন কারো শিখানো বুলি। একান্ত আপনার করে বলছে টোকাই। অনাথ পথশিশু কামাল।
এবার আরেকটু ভাবছেন জহির সাহেব। একান্ত আপনার করে। গভীর অনুভূতির সাথে। পরম আদরের সাথে। একটু ভাব গাম্ভির্যতার সাথে। আপনার বিবেকবোধ জাগ্রত করে। জহির সাহেব যখন এমন করে ভাবছেন, ঠিক তখনই মানিকের গলার আওয়াজ শুনতে পান তিনি। মানিক জহির সাহেবের কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়। একেবারে পাশে। বাবার বাহুডোরে ঠায় দাঁড়িয়ে মানিক---
--খানা খেয়েছ বাবা?
--না।
--কেন?
--খাইতে ইচ্ছে করছে না।
--কেন বাবা?
--জানি না।
--কি বলছ এসব মানিক!
--সত্যি বলছি বাবা।
--কিসের সত্যি?
--তুমি এসব বুঝতে পারবে নাতো।
--তার মানে?
--তোমার কি আর এত্তোকিছু বুঝবার অনুভূতি আছে!
--কি বলছ মানিক?
--যা সত্যি তাই বলছি বাবা।
--যেমন।
--বুঝাতে পারব না।
--কেন পারবে না।
--তোমার বুঝবার সামর্থ্য নাই।
--তার মানে?
--কোন মানে নেই বাবা।
--তুমি বেয়াদবি করছ কিন্তু।
না বাবা। আমি এজন্যই বলেছি তুমি আমার কথা বুঝতে পারবে না। এর পরেও জানতে চাইছ, যার জবাব দিতে যেয়েই আমি বেয়াদব হয়ে যাচ্ছি। তাইতো বলেছিলাম এসব শুনতে চেও না বাবা। আমি এর কিছুই বলতে চাচ্ছি না আর।
জহির সাহেব এবার কিছুটা হোঁচট খেলেন। সন্তানের কাছে আর পেরে উঠতে পারছেন না তিনি। তাই ছেলেকে কাছে টেনে নিলেন। পরম আদরে পাশে বসালেন। এবার জানতে চাইলেন তার আকুতি। একান্ত আপনার করে। পরম আদরের সাথে। তিনি সন্তানকে অনুরোধ করছেন--
তুমি বুঝিয়ে বল বাবা, আমি তোমার সব কথা বুঝতে চেষ্টা করব। না বুঝতে পারলে তুমি আবারও বুঝিয়ে দেবে। আমি তোমার সব ন্যায়সংগত দাবি মেনে নিতে রাজি আছি মানিক!
--তাই।
--হ্যাঁ, তাই। তবে অন্যায় কোন দাবি মানতে পারব না কিন্তু।
--ঠিক আছে। কোন অন্যায় দাবি করব না বাবা। অনুমতি দিলে আমার বক্তব্য তুলে ধরতে পারি। বেয়াদবি হলে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে আমার দাবি ন্যায়সংগত হলে মেনে নিতে হবে কিন্তু!
--বলছিতো মেনে নেব।
--সত্যি বাবা!
--হ্যাঁ। সত্যি। তিন সত্যি।
এবার মানিক নিজের দাবি তুলে ধরে বলতে শুরু করল--
আমি একজন কিশোর। বয়সে অনেক ছোট। আপনাদের সকলের আদরের ধন আমি। সবদিক থেকেই আমি অনুজ। যেমন বয়সে, তেমনি শিক্ষা-দীক্ষায়। যেমন বাস্তবতায় ঠিক তেমনি অভিঙ্গতায়। যেমন শারিরীকভাবে ঠিক তেমনি কর্মক্ষেত্রে। যেমন পাঠশালায় ঠিক তেমনি বাস্তব জীবনে। জানিনা তারপরেও কেন যেন মনে হচ্ছে আজকের একটি বিষয়ের দিক থেকে আমি বুঝি আপনাদের চেয়ে একটু বেশি বুঝতে চেষ্টা করছি। একটু বেশি ভাবছি। একটু বেশি বুঝতে চাচ্ছি। আপনাদের চেয়ে একটু বেশিই বুঝি আমার বিবেকবোধ তাড়িত হচ্ছে। আমাকে দংশন করছে। পারিপার্শিক দিক থেকে আমি বুঝি বেশি বুঝতে পারছি। বাস্তবতা বুঝি আমাকে বেশি তাড়িত করছে। পারিপার্শিক জ্ঞান বুঝি আমার একটু আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছে। বাবার চেয়েও। আমার মায়ের চেয়েও। বুবুর চেয়েও। দাদা ভাইয়ার চেয়েও। এমন করে বলেই চলছে মানিক। মানিকের কথাবার্তার আগাগোড়া কিছুই বুঝতে পারছে না কেউ। কেউ কেউ বলছেন মানিক বুঝি পাগল হয়ে গেছে। ওর মাথায় কোন সমস্যা হয়েছে বুঝি। ওকে ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে। এসব অনেক কথাই বলছেন পরিবারের কেউ কেউ। তাদের কথাগুলো একান্ত হৃদয়ের কানে শুনছে মানিক। মানিক আর চুপ থাকতে পারলো না। আবারও বলতে শুরু করল মানিক--
আমি পাগল হইনি। আমাকে কোন ডাক্তার দেখানোর দরকার নেই। কোন জ্ঞান দিতে হবে না আমাকে। আমার ডাক্তার উপস্থিত আমাদের সকলের সামনে। জ্ঞানের বাতি আমাদের পাশে জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। আমার বিবেকবোধকে নাড়া দিচ্ছে। আমাকে তাড়িত করছে বারবার। আমাকে কাঁদাচ্ছে। আমাকে সাগরের জলে ভাসাচ্ছে। আমাকে ভাবাচ্ছে। ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে আমার বিবেক। আমি ভাবছি। আমি তাই বুঝতে চেষ্টা করছি। আমি অনুভব করছি আপন করে। আমি আমার মতন করে। আমার ভাবনার পাত্র আমার সামনে। আমাদের সকলের সামনে। মানবতাবোধের সামনে। জানি না আপনারা কি ভাবছেন। কি বুঝতে চেষ্টা করছেন। আমার ভাবনা যদি সঠিক হয়, আমার চিন্তা যদি আপনাদের বিবেকবোধকে নাড়া দেয়, আমার আকুলতা যদি আপনাদের বিবেকের দুয়ারটুকু খুলে দেয় তবেই আমি ধন্য। আমি স্বার্থক। আমি সফল। আমার চিন্তার বিজয় হবে। মানবতার বিজয় আসবে। এভাবে বলেই চলছে মানিক। ওর কোন থামবার লক্ষণ নেই। এবার কিছুটা জাগ্রত হলেন সবাই। বাবা। মামনি। দাদা ভাই। আপুজি। পাশের অনেকেই। টোকাই কামাল নিজেও। এবার কামাল চলে যেতে চাইছে। আর খাবার চাইছে না ও।কামাল যখন চলে যেতে উদ্যোত, ঠিক তখনই মানিকের আহবান--
--তুমি যাবে না।
--কেন?
--তোমার কাজ আছে।
--কি কাজ?
--বলছি। তার আগে তোমার পরিচয় দাও ভাই?
--কি লাভ আমার পরিচয় শুনে।
--এমনিতেই। শুনতে পারবো না বুঝি!
--অবশ্যই শুনতে পারবেন।
--তাহলে তোমার পরিচয়টা বলনা ভাই। --বলছি,শুনুন তাহলে--
কামাল আমার নাম
পাইনা কোন দাম
পথে-ঘাটে তাই--
কাগজ কুড়াই।


--বেশতো। তোমার বাবা-মা নাই?
--জানতে চান। বলছি শুনুন--
বাবা নাই,মাও নাই
নাই যে ভাইবোন,
টোকাই আমি তাই
খাবার খুঁজি এমন!


আচ্ছা! তুমি লেখাপড়া জানো?
--শুনতে চান?
--হ্যাঁ।
--বলছি। শুনুন তাহলে--
কুকুর আমার খেলার সাথী
বিড়াল শিখায় পড়া,
রাতের সময় ইঁদুর ছানা
শোনায় মজার ছড়া।
--আচ্ছা। বেশতো ছড়া কেটে কথা বলতে পার। কে শিখিয়েছেন ছড়া--
--কেউ না। আমি এমনিতেই বলতে পারি। আমার আবার শিক্ষক আছেন? আর কিছু বলবেন ভাই? আমি চলে যাব এখন। আমাকে কাগজ কুড়াতে হবে। নইলে রাতে খাব কি? এখনও পর্যন্ত না খেয়েই আছি। ভাগ্য আমার!
--বেশ যাবে।
--তাহলে যেতে দিন।
--একটু দরকার ছিলো ভাই।
--আমার আবার দরকার! ইয়ার্কি তাইনা! একমুঠো খাবার পাইনি যেখানে, যেখানে দাঁড়ানোর ঠাঁই নাই, গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিচ্ছেন যে বাড়ি থেকে, সেখানে আবার আমার দরকার? বেশতো। বাপকা বেটা। এবার বুঝি আমার খবর হবে, তাইনা? না ভাই। আমি আর থাকতে পারছিনা। এবার দ্রুতগতিতে কামাল বেরিয়ে যেতে চাইলে পাশে এসে দাঁড়ায় মানিক। ওকে বলে--
আমি তোমার সবকিছুই আড়াল থেকে দেখেছি। তোমার কথাবার্তাও শুনেছি। খাবার আকুতিও অনুভব করেছি। তোমার ক্ষুধার কষ্টও বুঝতে চেষ্টা করেছি। তোমার সাথে বাবার ব্যবহারও লক্ষ্য করেছি। আমি জানি তুমি অনেক কষ্ট পেয়েছ। আমিও পেতাম। তবুও তোমার প্রতিভার প্রশংসা না করে পারছিনা। তোমাকে একটি অনুরোধ করব ভাই। তুমি কি আমার অনুরোধ রাখবে?--
--অনুরোধ নাকি অনুযোগ?
--ছি ভাই। অমন করে বলতে নেই।
--কেন?
--ভালো শোনায় না।
--আপনার বাবার কথাবার্তা? আপনার মায়ের ব্যবহার? আপুর নির্বাক অবস্থান? দাদা ভাইয়ার ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা? অন্যান্যদের নীরবতা?
--দুঃখিত ভাই। আমি তার প্রতিদান দিতে চাই। তুমি চাইলে নিতে পার।
--বেশ। দিন তাহলে।
--সত্যি বলছ?
--হ্যাঁ,সত্যি বলছি।
--শোন তাহলে।
--বলুন।
মানিক বলতে শুরু করল--
আজ থেকে তুমি আমার সহোদর ভাইয়ের মতন। আমার আদরের কামাল। আমার পড়ার সাথী। আমার খেলার সাথী। আমার খাবার সাথী। আমার ঘুমের সাথী। আমার বাবার আদরের কামাল। আমার মামনির কলিজার টুকরা। বুবুজানের চোখের পুতুলী। আমার দাদা ভাইয়ের মাদুর পাতা বিছানার মুড়ি মুড়কি-খাবার নাতি কামাল। আমার সহযাত্রী। তুমি পারবে ভাই আমার এসব দাবি পুরন করতে? তুমি আমার এসব আবদার পুরন করলে আমি ধন্য হব। স্বার্থক হবে আমার শিশু আন্দোলন। স্বার্থক হবে আমাদের শিশুদিবসের প্রতিপাদ্য। আমার বাবার শিশুদের নিয়ে কথা বলার স্বার্থকতার পূর্ণতা আসবে। আমার দাদা ভাইয়ার ভালোবাসার বিকাশ ঘটবে। আপুজির স্নেহময়ী আদর বৃদ্ধি পাবে। মামনির সোহাগী কোল হবে জান্নাতী বাগান। প্লিজ, তুমি কি পারবে আমার ভাই হতে? আমার বন্ধু হতে? আমার খেলার সাথী হতে? আমার সহপাঠী হতে? সহযাত্রী হতে !--
নির্বাক টোকাই কামাল। কামাল যেন আঁধারে আলো দেখছে। স্বপ্নীল সুখের হাতছানি অনুভব করছে। আলোকের সন্ধান পাচ্ছে। মুক্তির মিছিল দেখছে। অনেক ভেবে জবাব দেয় কামাল--
--জি পারব।
--খুশি হলাম ভাই।
--আমিও খুশি ভাই।
অভিবাদন কামাল। জয় হোক কামালের। বিজয় হোক টোকাইদের। পথশিশুদের। পথকলিদের। এসো ভাই। এসো আমার বুকে। এসো আমার পাশে। আমার সাথে। আমার পড়ার ঘরে। আমার খাবার টেবিলে। আমার ফুলবিছানো ঘুমের বিছানায়। আমার দাদার ঘরে। আপুর ফুল কাননে।--
--জি। চলুন।
--চল ভাই।
--চলুন।
এবার দুজনে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যায় সামনে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোলাকুলি করতে করতে ওরা আগায় মানিকের পড়ার ঘরের দিকে। একান্ত আপনার করে। একান্ত আপন হয়ে। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে। পিছন থেকে অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছেন বাবা জহির উদ্দিন বাবর। মা সুমাইয়া সিদ্দীকা যেন নির্বাক। আপু আতিকা জহির আজ হেসে হেসে কুটিকুটি হচ্ছেন। দাদা আমিন উদ্দিন বিস্ময়ের চোখে দেখছেন মানিকের পথচলা। আমাদের পথশিশুদের বিজয়ের হাতছানি। টোকাইদের আগামীর স্বপ্নীল দৃশ্যপট। আলোকের ঝলকানি। ভালোবাসার বাহুডোর।


তারিখঃ ৩০,১২,২০১৫ ইং

Nabadibakar_Writer_24_

মানবতা একটু দেখবেন
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মানবতা একটু দেখবেন?
এই শীতের রাতে মুক্ত গগন তলে,
ল্যাম্প পোস্টের নিচে একটি রাত যাপন করে,
কতটুকু শীতলতার স্পর্শে আপনার বিবেক জাগৃিত হয়,
আপনার শরীলে কম্পন সৃষ্টি হয় কত শত শিশির কনায়।

মানবতা একটু দেখবেন?
ডাষ্টবিনের উচ্ছিষ্ট পচা খাবার গুলো খেয়ে,
ধূলোবালির সাথে মিশে রাস্তার পাশে শুয়ে থেকে,
কতটুকু তৃপ্তি নিয়ে খেলে আপনার বিবেক জাগৃিত হয়,
পথের অসহায় ছিন্নমূল শিশুদের কথা স্মরন করায়।

মানবতা একটু দেখবেন?
শিশুবাচ্চাটিকে পিষ্ঠে বেঁধে, মাথায় ইঁটের বোঝা নিয়ে চলে,
এত কষ্ট করার পরও আপনার নায্য পারিশ্রমিক না পেয়ে,
যদিও আপনার হৃদয়ে অসহায় মানুষদের প্রতি একটু
ভালবাসার জন্ম নেয়,
তাদের অবহেলিত কষ্টের জীবন আপনাকে একটু কাঁদায়।

মানবতা একটু দেখবেন?
আপনার আদরের ছোট্ট মেয়েটিকে উতপ্ত আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে,
আপনার মেয়ের জলন্ত যন্ত্রনার আত্মচিৎকার কানে শুনে,
যদি একটু হলেও আপনাকে সেই নির্যাতনের স্বীকার ছোট্ট কাজের মেয়েটির কথা স্বরন করায়,
আপনার কুলুষিত হৃদয় যদি একটু অনুতপ্ত হয়।

শরীর স্বাস্থ্য : উপকারী বন্ধু ধনেপাতা
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


ধনেপাতা আমাদের দেশে ভীষণ পরিচিত। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ধনেপাতা পাওয়া যায়। ধনেপাতা শুধু রান্নার উপকরণ নয়, এর রয়েছে নানাবিধ ঔষধি গুণ। তাই এই পাতাকে বলা হয় হার্বাল প্যান্ট বা ঔষধি পাতা। ধনেপাতার ইংরেজি নাম হরো মিলানট্রো।
ভিটামিন ‘সি’ আছে ধনেপাতায়, রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ফলিক এসিড (গুরুত্বপূর্ণ এক ধরনের ভিটামিন, যা ত্বকের উপকারের জন্য যথেষ্ট প্রয়োজনীয়)। এই ভিটামিনগুলো প্রতিদিনের পুষ্টি জোগায়, ত্বক, চুলের ক্ষয়রোধ করে, মুখের ভেতরের নরম অংশগুলোকে রক্ষা করে। মুখগহ্বরের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ধনেপাতার ভিটামিন ‘এ’ চোখের পুষ্টি জোগায়, রাতকানা রোগ দূর করতে ভূমিকা রাখে।
কোলেস্টেরলমুক্ত ধনেপাতা দেহের চর্বির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আমাদের শরীরে এলডিএল নামে এক ধরনের খারাপ কোলেস্টেরল রয়েছে, যা শরীরের শিরা-উপশিরার দেয়ালে জমে হূৎপিণ্ডে রক্ত চলতে বাধা দেয়।পরিণামে হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। ধনেপাতা এই খারাপ কোলেস্টেরলকে কমিয়ে দেয়। আর শরীরের জন্য উপকারী এক ধরনের কোলেস্টেরল, যার নাম এইচডিএল, মাত্রা বৃদ্ধি করে। ধনেপাতা শরীরের এইচডিএলকে বাড়িয়ে এলডিএলকে কমিয়ে দেয়। ধনেপাতায় উপস্থিত আয়রন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতেও অবদান রাখে।
এ ছাড়া ভিটামিন ‘কে’-তে ভরপুর ধনেপাতা হাড়ের ভঙ্গুরতা দূর করে শরীরকে করে শক্ত-সমর্থ। তারুণ্য ধরে রাখতেও এর অবদান অপরিসীম। তবে ধনেপাতা রান্নার চেয়ে কাঁচা খেলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।
অ্যালজিমারস নামে এক ধরনের মস্তিষ্কের রোগ রয়েছে, যা নিরাময়ে ধনেপাতা রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিছুদিন পরই শুরু হবে শীতকাল। ধনেপাতা শীতকালীন ঠোঁট ফাটা, ঠান্ডা লেগে যাওয়া, জ্বর জ্বর ভাব দূর করতে রাখে যথেষ্ট অবদান।
কারণ, ধনেপাতায় রয়েছে ভিটামিন ‘সি’তে ভরপুর ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ নামের এক উপাদান, যা দেহের কাটাছেঁড়া অংশগুলো শুকানোর জন্য ভীষণ জরুরি। ধনেগাছের বীজের তেলের রয়েছে নানাবিধ ঔষধি ভূমিকা। যেমন: ব্যথানাশক, খাবার হজমে সহায়ক, ছত্রাকনাশক, ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, খিদে বাড়িয়ে দেয়। ধনেপাতা চিবানোর পর সেই থেঁতলে যাওয়া পাতার রস দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের মাড়ি মজবুত হয়, রক্ত পড়া কমে, মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
উল্লেখ্য, গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। সারা পৃথিবীতে, বিশেষত এশিয়া মহাদেশে ধনের গুঁড়াকে তরকারিতে মসলা হিসেবে খাওয়া হয়। গোটা ধনেকেও চিবিয়ে খাওয়া যায়। রাসায়নিক পদার্থ ছাড়া কিছু সুগন্ধি তৈরির জন্য ধনেপাতা ব্যবহার করা হয়।
ধনেপাতার বহুবিধ ব্যবহারের জন্যই সবার উচিত প্রতিদিনের খাবারের মেন্যুতে ধনেপাতাকে স্থান দেওয়া। তবে অধিক পুষ্টির আশায় মাত্রাতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়া অনুচিত।

Nabadibakar_Writer_46

দুঃখ সাগর পেরিয়ে
- বিভূতি চক্রবর্তী

দুঃখ সাগর পেরিয়ে আমি
এসেছিলাম অনেক দূরে-
তোমরা আমায় ভুলে যাবে?
ডাকছি আমি ব্যাকুল সুরে।
প্রভু আমার, কোন আবেশে-
আমায় ডেকে নাও না কাছে?
তোমার লীলার শেষ নাহি যে
তোমার টানেই সবাই নাচে।
জীবন আমার ভাসিয়ে দিয়ে
যাচ্ছো কোথায়, কোন বিদেশে,
নীরব আশায় তাকিয়ে থাকি
কে যে আমায় ডাকবে হেসে।

আগরতলা, ২৯/১২/২০১৫ ইং ।

পটলকুমার গানওয়ালার টি আর পি আসলে তার অফবিট ভাবনা
- পিয়ালী বসু


ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের নতুন musical saga 'পটলকুমার গানওয়ালা' । musical বললাম এইজন্য , কারণ গানই এই সিরিয়ালের মূল standing force --
সপ্তাহের সাত দিন , প্রতিদিন সন্ধে সাড়ে ছটার স্লটে হাজির পটল , আর হাজির তার অসামান্য গানের ডালি । পটলের চরিত্রে ক্ষুদে শিল্পী হিয়ার অভিনয়ই বার বার টেনে আনে আমাদের টিভির সামনে , সঙ্গীত পরিচালনায় প্রতিবারের মতই উপালী এবারেও মুগ্ধ করেছেন ।
প্রতিদিন দেখা সিরিয়াল গুলির মূল উপজীব্য আমাদের প্রাত্যহিক দেখে নেওয়া , ছেঁকে নেওয়া জীবন , স্বামী , স্ত্রী , শাশুড়ি , বৌমা , মা ছেলের দৈনন্দিন যাপন চিত্র , আর তাই একটা সময়ের পর একঘেয়েমী , একটা সময়ের পর টি আর পি নিম্নমুখী এবং একটা সময়ের পর বোকা বাক্স থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা , প্রতিজ্ঞা করা , আর সিরিয়াল না দেখার শপথ ।
আর এখানেই ' পটলকুমার গানওয়ালা' র কৃতিত্ব । প্রতিদিন দেখা চিরচেনা মুখের বাইরে এই সিরিয়ালে দেখা মুখ্য ও পার্শ্ব চরিত্রগুলি অনেক বেশী ফ্রেশ , অনেকটা বৃষ্টি ভেজা জুঁই ফুলের মতো । সুজনকুমারের চরিত্রে সাহেবের অনায়াস সাবলীল অভিনয় আরও একবার মনে করিয়ে দেয় তিনি নিজেও সুযোগ্য গায়ক । পটলের দুখী মায়ের চরিত্রে অনিন্দিতার অভিনয় low key , এবং ভীষণ ভাবে মন ছোঁয়া । অন্যান্য চরিত্রে স্বাগতা মুখোপাধ্যায় , মানসী সিংহ , ভাস্কর বন্ধ্যোপাধ্যায় , রোহিত মুখোপাধ্যায় , ছন্দা করাঞ্জির অভিনয় চরিত্রপোযোগী এবং যথাযথ ।
বিশেষ ভাবে বলতে হয় পটলের চরিত্রে ক্ষুদে শিল্পী হিয়ার অসামান্য অভিনয়ের কথা , সেই এ সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্র এবং নিজ দায়িত্বে গল্প কথন এর একমাত্র যোগ্য চরিত্র ।
সেটের ব্যবহার , চরিত্রদের কস্টিউম বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে । চণ্ডীমাতা অপেরা যাত্রা দলের ষ্টেজ ডেকোরেশনের কথা এক্ষেত্রে উল্লেখ্য ।
সবশেষে এটুকুই -------
বিদেশে থাকি বলে বংলার সব কিছু মিস করার যে চির আপসোস , পটলকুমার গানওয়ালা' সেটা অনেকটাই ঘুছিয়ে দিয়েছে । দিন শেষে অফিস থেকে ফিরে হিয়ার অভিনয় এক ঝলক ঠাণ্ডা বাতাস ।

Nabadibakar_Writer_24অনুভূতি : ওদের জন্য
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


সালাম ।
বন্ধুরা আমরা সবাই আমাদের কষ্টে কাতর হয়ে যাই। দুঃখ ছাড়া কোনো জীবন হয় না । সবার জীবনেই কিছু না কিছু কষ্ট আছে ।কারো কম, কারো বা বেশী ।
আমরা যদি আমাদের থেকেও অনেক বেশী কষ্টে যারা আছে, তাদের দিকে তাকিয়ে দেখি, বা তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি, তাহলে আমরা এক মিনিটের জন্য হলেও নিজের কষ্ট ভুলে , অনেক মানুষ এর উপকার করতে পারবো।
বন্ধুরা ভয়ানক ঠান্ডায় , খোলা আকাশের নীচে অনেক মানুষেরা দিন কাটাচ্ছে। শীতের পোষাকের অভাবে তারা ভোগ করছে ভয়ানক কষ্ট । আপনার পুরনো বাতিল শীতের একটা কাপড় .....বাচাবে একটি জীবন । আমি দেশ বিদেশের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । সবাই কে বিনীত অনুরোধ জানাই ।
সত্য ভালোবাসার অনেক শক্তি । এই শক্তির কাছে নত হয়ে যায় অনেক বিপদ ।


ডাঃ ফারহানা মোবিন,
মানবাধিকার কর্মী ।
27.12.15

Nabadibakar_Writer_24

হাত বাড়াও বন্ধু
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

ঘুমাতে পারিনা বন্ধু
জমে গেছে হাত,
বড় কষ্টের শীতের
এই রাত !!!
খোলা আকাশের নীচে
আমাদের বাস,
তীব্র কামড় দেয়
শীতের বাতাস ।
শিশিরে ভিজে
আমাদের ছেড়া কাথা,
অভাবে নত হয়
আমাদের মাথা।
পেট জুড়ে বন্ধু
তীব্র অনাহার,
শীতের পৃথিবী
জীবন ছারখার ।
বাচতে চাই বন্ধু
হাত বাড়াও তোমরা,
বড় কষ্টে আছি
এই আমরা !!!
হাত বাড়াও বন্ধু
আমাদের জন্য,
হতে চাই, "মানুষ
হিসেবে গণ্য " ।

চিকিৎসক ও লেখক, 26.12.15

 

ফিচার - সিনেমাস্কোপ - পিয়ালী বসুফিচার : সিনেমাস্কোপ
- পিয়ালী বসু


প্রথমেই বলে রাখি , এটা কোন গদ্য নয় , এমনকি কবিতাও নয় , একটা ঝাপসা মাইনাস দুই চশমার মধ্যে দিয়ে একটু কষ্ট করে দেখুন , পৌষ মেলা ! বোলপুর ! সালটা আপনি কল্পনা করে নিন, তবে অবশ্যই সেটা ৯০ এর দশক , কালো দা র দোকানে দারুণ ভিড় ! ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসছে বাসন্তী আর কমলার কম্বিনেশন শাড়িতে একটি ২২, ২৩ এর মেয়ে ! কানে ম্যাচিং টেরাকোটার দুল ! কাউকে খুঁজছে বোধহয় , কপালে হাল্কা তিনটে ভাঁজ জমাট বাঁধছে, মোবাইল এর চল নেই তখন , কাজেই অপেক্ষা করা ছাড়া মেয়েটির কাছে অন্য কোন রাস্তা খোলা নেই , বাইরে বেশ ঠাণ্ডা ! চশমার কাচটা আরও ঝাপসা হচ্ছে , তবুও চোখ রাখুন , একটি মাঝ বয়েসী লোক কে হেঁটে আসতে দেখা যাচ্ছে , বুকের কাছে জাপটে ধরা রঙ চটা একটা মান্ধাতা আমলের ব্যাগ ! কাঁচা পাকা চুলে এখনো বেশ ঝরঝরে !
আমরা ফিরে যাচ্ছি ২৫টা বসন্ত আগে ! সেইবারের পৌষ মেলায় , বিশ্বভারতীর অরণির সাথে যেবার সঙ্গীত ভবনের এলা র প্রথম দেখা ! এর পরের দৃশ্য গুলো ভেবে নিন আপনি , আসলে সেগুলি বেশ ক্লিশে , বোলপুরের ব্যাক ড্রপে একটি প্রেম কাহিনীর বেড়ে ওঠায় যেসব দৃশ্য দেখা যায় আর কি ,
কালো দা র দোকানের কাছে এসেই চোখাচুখি মাঝ বয়েসী আর ২২ , ২৩ এর , দূর থেকে শোনা যাচ্ছে না তাদের কথা গুলি , শুধু তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ জানান দিচ্ছে তাদের মধ্যেকার কথা ফুরিয়ে এসেছে ,
বলে রাখি, এটা কোন গদ্য নয় , এমনকি কবিতাও নয়, একটা ঝাপসা মাইনাস দুই চশমার মধ্যে দিয়ে দেখা এই দৃশ্য টি আসলে অরণির ! মাইনাস দুই চশমার মধ্যে দিয়ে দেখা তার এলা র বয়েস এই ২৫ বছরেও যে বাড়ে নি !
আর এই দৃশ্য টা আপাতত আমার চোখে ফ্রিজ শটে !!

Nabadibakar_Writer_74_Bangla-Kobita

ভূগোল
- সুকান্ত চক্রবর্তী

ভূগোলে জেনেছি পৃথিবী নাকি গোল ;
কিন্তু আমার বাড়ির ছাদ থেকে পৃথিবী রোজ চৌকোণ দেখায় ।
তার ধারালো কিনারা আকাশকে কাটে রোজ ,আর সুতো
ছিড়ে যাওয়া ঘুড়ি মাটি ছোঁয়ার আশায় কঙ্কালসার হয় ।
তবু কেউ কেউ আজো বলে পৃথিবী নাকি গোল ।

রচনা - ৯ই জুন ২০১৫

 

Nabadibakar_Writer_73_Bangla-Kobita

বিজয় রথ
- চঞ্চল নায়েক

উদভ্রান্ত বিকেলের পড়ন্ত রোদ্দুরে
মিশিয়ে দিলাম এক আকাশ উচ্ছাস !
ক্লান্ত পথিক পথ হারাবে না কখনও...
বাঁচার মন্ত্রে প্রান ভরে নেবে প্রশ্বাস !

হেরে যাওয়া বিকেলের সাথে মিতালি
করেছি। যৌবন শক্তি দিয়েছি বাড়িয়ে...
সঞ্জীবনী সুধায় উজ্জীবিত তারুন্য
বাধাহীন ছন্দে যায় দিগন্ত ছাড়িয়ে !

একাকী নাবিকের অনন্ত পথচলা...
অলীক সুখের দিকে ক্রমাগত পথ !
কালের দুঃখ যত আমার প্রানে থাক...
সারথি সেজে ধরে আছি বিপন্ন রথ !

আগত স্বপ্নদের পরাবো ফুলমালা
হতাশার দ্বারে ঝুলিয়ে দিয়েছি তালা...

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ৩৩ ( বেগুন )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


কোলেস্টেরল হলো চর্বিজাতীয় উপাদান, যা রক্তে জমে। যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, তারা কোনো রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই খেতে পারে বেগুন। কারণ বেগুনে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই।


পাকস্থলী, কোলন, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদ্রান্ত্রের (এগুলো পেটের ভেতরের অঙ্গ) ক্যানসারকে প্রতিরোধ করে। যেকোনো ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে বেগুন।


বেগুনে আয়রণও রয়েছে, যা রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রক্তশূন্যতার রোগীরাও খেতে পারে এই সবজি। এতে চিনির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই ডায়বেটিসের রোগী, হূদেরাগী ও অধিক ওজন সম্পন্নব্যক্তিরা নিঃসংকোচে খেতে পরে বেগুন।


বেগুনে রয়েছে রিব্লোফ্ল্যাভিন নামক উপাদান। এই উপাদান জ্বর হওয়ার পরে মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা, জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ করে। দূর করে জ্বর জ্বর ভাব।


পাকস্থলী, কোলন, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদ্রান্ত্রের (এগুলো পেটের ভেতরের অঙ্গ) ক্যানসারকে প্রতিরোধ করে। যেকোনো ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে বেগুন।


বেগুন ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘ই’ এবং ‘কে’ (ক) সমৃদ্ধ সবজি। ভিটামিন ‘এ’ চোখের পুষ্টি জোগায়, চোখের যাবতীয় রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আর ভিটামিন ‘সি’ ত্বক, চুল, নখকে করে মজবুত। দেহে রক্ত জমাট বাঁধার বিরুদ্ধে কাজ করে ভিটামিন ‘ই’ ও ‘কে’। এই ভিটামিন চারটি শরীরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতাকে করে বহুগুণে কার্যকর।


প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই সবজিতে, যা খাবার হজমে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এর ভূমিকা অনেক।


ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম দাঁত, হাড় ও নখ শক্ত করে। বেগুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম, যা দাঁতকে করে মজবুত, দাঁতের মাড়িকে করে শক্তিশালী। ভঙ্গুরতা রোধ করে নখের।


অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে বেগুন পরিহার করা উচিত। বেগুন অধিকাংশ মানুষের অ্যালার্জি বাড়িয়ে দেয়।


জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ডায়রিয়া চলাকালীন বেগুনের তরকারি খাওয়া অনুচিত। ডায়রিয়া ভালো হয়ে যাওয়ার পরে বেগুনের তরকারি খাবেন।


ডায়েরিয়া হওয়ার পর দেহে জিঙ্কের ঘাটতি হয়। এই ঘাটতি পূরণ করে বেগুন। জিঙ্কের ঘাটতি বেশি হয় মূলত শিশুদের।

Nabadibakar_Writer_05

মোহ ধ্বংস করে স্বপ্নগুলো
- শিমুল শুভ্র (উদ্যমী কবি)

চন্দ্রের আলোয় ভরা সুমি'র আঁখি যুগল
কালোকেশী এলোমেলো চুলের বাহার,
সুমন চেয়ে আছে বেশ গভীর চাউনি'তে
আকাশের শুভ্র মেঘে'তে হাসির ঝংকার।

দু'জনেই বেকার পড়ালেখা শেষ করেছে
এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে খুঁজছে চাকুরি,
প্রতিজ্ঞা ছিলো দু'জনের মাঝে এক জন
চাকুরি পেলে সানাই সুরে হবে সংসারী।

একদিন সুমি'র কপাল খুলে গেলো ভাগ্য
হাতে পেলো স্বপ্নে আঁকা সোনার হরিণ,
সুমন বিয়ের জন্য তাড়া করে ফিরে সদা
বিয়ে,বাসর সাজিয়ে জীবন করবে রঙ্গিন।

কিন্তু সুমি বেড়ি বাঁধ বাঁধে এত শীঘ্রই
জড়াতে চায় না সংসারের কঠিন বাঁধনে,
বুঝতে চায় জীবনের কঠিন সীমানা গুলো
স্বপ্ন সুখের রঙ্গিন ঘর সাজানোর অঙ্গনে।

সুমির অফিসের বড়বাবুর টাকার পাহাড়ে
নতুন করে খুঁজে পেলো সুখের স্বপ্নসিঁড়ি,
সুমনের কথা আজ আর আসছেনা মনে
উত্ফুল্ল মুখে ব্যস্ত বাঁধতে জীবন বেড়ি।

বড় বাবুর ঘরে সুন্দরী বউ আছে জেনেও
সুমির এতটুকু সংকোচ আসেনি কভু মনে,
অন্ধ প্রেমে সিক্ত সুমি জীবনের আঙ্গিনায়
বিছানায় শয্যাশায়ী হয়েছে বড়বাবুর সনে।

টাকার মোহে পড়ে সুমি উজার করা প্রেমে
মাথা চক্কর দিয়ে ভমিটিং এ ভাসালো ঘর,
দুনিয়া আজ ঘুরছে যেন সুমির মস্তক ভেদে
ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে শুনালো সুখবর।

অনাকাঙ্খিত খবরে বিচলিত সুমি বড়বাবুকে
অধিকার স্থাপনের কথা বলে যায় নিরবধি,
সংসার সাজাতে চায় নববধূ সেজে পরিণয়ে
কিন্তু বড় বাবু সোজাসোজি জানায় অসম্মতি।

উত্তেজিত সুমি আজ পাগলিনী সিন্ধান্ত ভুলে
বেশ চড়াও হয়ে বড়বাবু'কে চাপ সৃষ্টি করে,
কিন্তু হায় নিয়তির বিধি বাম সুমির জীবনে
নিঃশ্বাস তুলে নিলো কলি থেকে ফুল তেড়ে।

বাঁচতে হলে চিনতে হবে জানতে হবে গতি,
বুঝতে হবে জীবন মানচিত্র সকল সুমির প্রতি।

রচনাকাল
০৬।০৯।২০১৪
ইউ এ ই ।

বিঃদ্রঃ-অনুরোধ থাকলো আমার সকল শ্রদ্ধাভাজন কবিবন্ধু এবং সম্মানীত পাঠক বন্ধুদের প্রতি আপনারা কবিতাটি পুরো পড়ে তারপর ঘঠন মূলক মন্তব্যে আসার জন্য । এটি একটি আমাদের সমাজের বাস্তব উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত।ভালো থাকুন সবায় ধন্যবাদ।

Nabadibakar_Writer_05

প্রেম কবিতার গল্প
- শিমুল শুভ্র (উদ্যমী কবি)

শিহরণ জাগে মন ভাবে অকারণ
আমি কি করে লিখবো  কবিতা,
মনের  মরু পান্তরে ধূ-ধূ বালুচর
কাব্যেহীন আমি প্রেমিকা সবিতা।

কাল বলেছিলে ক'লাইন  লিখতে
পাঠে শুনাতে হবে আজ সন্ধ্যাবেলা,
মোমদীপ জ্বেলে রাখবে সে নির্জনে
আঁখিতে চেয়ে খেলবে কবিতাখেলা।

উপস!কি যে করি কাব্যের পায়ে ধরি
আসো না মনে ক'লাইন লিখি নীরবে,
প্রিয়া আমার  বাইনার আয়না ধরেছে
ভেসে উঠো মনে কাব্যগুনের সৌরভে।

রাত কেটে গেলো নির্জন গভীর ঘেঁসে
হয়নি লেখা এক স্তবক কবিতা উপমা
ভোর রাতে বুদ্ধি খেলে গেলো আচমকা
চুরি করা কবিতায় সাজাবো নিরুপমা।

শিমুল শুভ্রকে ক'জনেই বা চিনে কাব্যে
তুলে নিই তাঁর এক কাব্য গাঁথা কবিতা
নিজের নামে  চালিয়ে দিবো নিঃচিন্তায়
খুশি হবে আমার প্রাণের প্রেয়সী সবিতা।

সন্ধ্যা বেলায় খুশির আলো জ্বেলে দিয়ে
ছুটে  গেলাম  মনের সাথে মন বিনিময়ে,
পাঠ  করছি উত্সাহে পাল তুলে লাইনে
আচমকায়  থামতে হলো তার সবিনয়ে।

বুকে টান দিয়ে উঠলো ভয়ের আঙ্গিনায়
চমকিত মনে তার মুখের জটিল ইশারায়,
গর্জন তুলে চিত্কার দিলো চুরির ঠিকানা
শিমুল শুভ্রের কবিতা পাঠ করছ উছলায়?

রাগত স্বরে চলে যাচ্ছে খোলা চুল চেড়ে,
মনে এসে গেলো কাব্যে গাঁথা ক'টি স্তবক
তার এলোকেশী চুলে যেন কাব্য বসবাস
লিখে ফেললাম দুস্তর কাব্যে মন সাদাবক।

রচনাকাল
০৩।০৮।২০১৪
ইউ এ ই ।

Nabadibakar_Writer_05

স্ত্রীর দায়িত্ব
- শিমুল শুভ্র (উদ্যমী কবি)

তুমি বড্ড আলসে ওগো,দুহাতে দিবো, শৃঙ্খলদড়ি,
দৃঢ় সম্মতি দিলাম নন্দ কাননে,ঘুরে আসো তাড়াতাড়ি।
পূর্বকোণে রোদ বেড়েছে, চিকচিকে রাঙা করে ভুবন,
বিদ্রোহ করছে ঘড়ির কাঁটা,অফিস যাওয়ার কথন ।
সাবান দিলাম,গামছা দিলাম,ভিজাও লোনা শরীর খানা,
জলের গন্ধ মেখে আসো,ঝড় তুলে,প্রাণের আহ্লাদ পনা।
নাস্তার টেবিলে দারুণ সুবাস,রুটি'তে ইলিশ মাছের ডিম,
প্রভাত রবিতে অধর কাঁপে, লিপে আলতা-পাটি শিম।
কাঁধে রাখো দু'হাত যতন করে,গলার টাই'টা বেঁধে দিই,
খবরদার করো না দুষ্টমী,তুষ্ট মুখে,প্রিয়তম আমার সারথী।
ইশ!! মোজা গুলো তে বেজায় গন্ধ,টুটে গেলো যে নাক,
মৃদু মুখে হাসছো কেন,ওরে দুষ্ট,নীরব হিমগিরির প্রভাত ।
গন্ধ ভূষণ সাজিয়ে দাও ললাট পানে, চুম্বন মহিমা বাসনা,
প্রাণের প্রীতি, প্রেমের গীতি ,জীবন সাথী,তুমি যে সাধনা ।
চাবির ছড়া তুলে দিলাম,গাড়ি'র কোলে,বস আরাম করে,
ক্রিং ক্রিং ফোন দিয়ো কাজে'র ফাঁকে,যদি আমায় মনে পরে।
পশ্চিমকোণে রোদ কমেছে, দক্ষিণ দ্বারে অপেক্ষায় সারনীয়া,
স্নিগ্ধ মন পটভূমি শীতল হবে,কখন আসবে তার মনবীণা।

রচনাকাল
১৪।০৫।২০১৪
ইউ এ ই ।

Nabadibakar_Writer_24_

শেষ লেখা চিঠি
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

যখন আজকে আমি তোমাকে চিঠিটি লিখছি
তখন আমি শুধুই অশ্রুসিক্ত,নয়নে তোমাকে ভাবছি
খোলা আকাশের নিচে, মাথার উপর কোন ছাঁদ খুঁজে চলেছি,
কিন্তু কেন জানি সেই ছাঁদ ও আজ হারিয়ে গেছে
তাই থমকে গেছি! কিছু হারানোর যন্ত্রনায় লিখছি তোমাকে,
আমি জানি না এ চিঠিখানটি তোমার হাতে পরবে কি না? কিংবা তুমি তা পেলেও চিঠির কথাগুলো পড়বে কি না?
তবুও আমার এই ক্ষতবিক্ষত হৃদয়কে একটু
সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যেই লেখা।

তোমাকে লিখছি আর ভাবছি,ভাবছি সেই উরনচন্ডী
ঘরে না ফেরা বিকেলের কথা,
ভাবছি সেই বৈশাখের উত্তাল ঝড়ে আমাকে
জড়িয়ে ধরে থাকা,
এটাই হয়তো তোমাকে আমার শেষ চিঠি লেখা
তাই ভাবনা গুলো বেড়েই চলেছে,
হ্যাঁ মনে পরেছে সেই গৌধূলি সন্ধ্যা,
তোমার সাথে আমার হয়েছিলো শেষ দেখা,
সেই দিন তুমি কি?বলে ছিলে তা হয়তো আজ
মুছে ফেলেছো!
তুমি বলেছিলে এটাই কি?প্রেম যন্ত্রনা গুলো
লুকিয়ে রেখে তিলে তিলে জ্বলে পুড়ে ছারখার
হওয়া।
আরো বলেছিলে,সময় মত খাবে, রাত জেগে
থাকবে না,,কিন্তু আজ রাত করেছে অভিমান
ঘুমি দিয়েছি অভিশাপ।

লেখা শেষ হবে না,কলমের কালি প্রায় শেষ
তাই এখানেই ভাবনা গুলো স্বৃতির চাঁদরে মুড়িয়ে
রেখে দিলাম,
ভালো থেকো,ভালো থেকো সব সময়
তোমার অবুঝ সারা জীবন মনে রাখবে তোমায়।

Nabadibakar_Writer_12

অণুগল্প : সাথ
– রীতা ঘোষ


সুমন পূজাকে খুবই ভালোবাসে , কখনো ওকে চোখের আড়াল হতে দেয় না । পূজার তাই স্বামীকে নিয়ে খুব গর্ব , মাঝে মাঝেই বলে , '' দেখো , মৃত্যু ছাড়া আর কেও আমাদের আলাদা করতে পারবে না ।'' দুই সন্তানকে নিয়ে ওদের খুব সুখের সংসার , কিন্তু বেশী সুখ বোধহয় মানুষের কপালে সয় না ।


পূজার সারভাইক্যাল ক্যানসার ধরা পরে , ডাক্তার ও চিকিৎসা বিজ্ঞান ওকে বড়োজোর দুবছর জীবনদান করতে পারে । পূজার নিজের রোগ নিয়ে যতো না চিন্তা , তার থেকেও বেশী চিন্তা ওর অনুপস্থিতিতে সুমন ও বাচ্চাদের দেখাশোনা নিয়ে । তাই অনেক ভেবে চিন্তে স্থির করে , তার বিধবা খুড়তুতো বোনের সাথে সুমনের আবার বিয়ে দেবে , তাতে ওই চারটা জীবন রক্ষা পাবে । কিন্তু সুমন কিছুতেই রাজী হয় না , সে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় , তার জীবনে পূজার জায়গা আর কাওকে দিতে পারবে না সে । কিন্তু পূজা নাছোড়বান্দা , অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে এবং ''শেষ ইচ্ছা'' রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে শেষমেশ সুমনকে রাজী করিয়ে নেয় বিয়েতে ।


সেদিন কোর্ট ম্যারেজ সেরে বাড়ী ফিরে ওরা বিছানার ওপর পূজার অবশ দেহটা পায় । পূজাকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পরে সুমন , '' মৃত্যু ছাড়া আর কেও আমাদের আলাদা করতে পারতো না , শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই পারতে ।''

Nabadibakar_Writer_30

বিজয় দিবস
- মনিরা ফেরদৌসী

ভাইয়ের বোনের রক্তে কেনা আমার বাংলাদেশ
এ দেশ থেকে রাজাকারদের করব আমরা শেষ।
লাল সবুজের পতাকাটায় ভাইয়ের রক্তমাখা
আমার দেশের ধুলিকণায় তারই স্মৃতি আঁকা।
মাথা তুলে বাঁচতে শেখা শেখ মুজিবের ডাকে
তাই তো আমার দেশের ছবি বুকের রক্তে আঁকে!
বীরাঙ্গনার চোখের জলে দেশটা ভিজে ছিল
দেশের জন্য ভাইরা আমার বুকের রক্ত দিল।
আঁধার শেষে পুব আকাশে সূর্য উঠেছিল
নয়টি মাসের যুদ্ধ শেষে স্বাধীনতা এলো।
বিজয় দিবস এলে সবার কণ্ঠে দেশের গান
মুক্তস্বাধীন স্বদেশ আমার লক্ষ সেনার দান।।

Nabadibakar_Writer_30

কিছু কিছু মনে পড়ে
- মনিরা ফেরদৌসী

ঘুম ভাঙে গান শুনে
জেগে দেখি মনে নেই
আবছায়া মনে পড়ে
পাই না কো কোনো খেই।
কিছু কিছু মনে পড়ে
কিছু কিছু ছায়া-ছায়া
বাকি দিন কাটে শুধু
ভেবে তার মায়া-কায়া!
মনে মনে বারবার
খায় শুধু ঘুরপাক
স্বপ্নের গান-সুর
এই বুঝি দিলো ডাক।
ভেবে ভেবে আনমনে
কপালে যে দেই টিপ
কেউ যেন নেচে যায়
বুক করে ঢিপঢিপ।

Nabadibakar_Writer_30

মুখোশ খুলবেই
- মনিরা ফেরদৌসী

অনেক তুমি চালাক-চতুর
সে কথা তো মানি—
যে পাতে খাও, সে পাত করো
ফুটো, তাও জানি।
ঠেকার সময় নরম হও আর
ঠেকা শেষে বাঁকা
তোমার এমন স্বরূপ জানি
থাকবে মনে আঁকা।
এখন যতই পাখা গজাক,
এখন ওড়ো যত
হাওয়া এলে মুখ থুবড়ে
পড়বে অবিরত।
যতই তুমি ভাল সেজে
পথে ছুড়ে ফেলো,
পাড়াপড়শী হয় না আপন
যতই ডানা মেলো।
রূপের অহং করছ তুমি?
রূপ কোনো গুণ নয়
মানুষ হওয়া-ই আসল কথা
মানুষ হতে হয়।
রূপের বড়াই করে তুমি
সবাইকে দাও ধোঁকা
সবাইকে তো ভাবো শুধু
বোকা এবং বোকা।
কুৎসা রটাও, যারতার নামে
সত্যবাদী সেজে
জলকে করো দুগ্ধ তুমি
আকাশ করো মেঝে।
কথার পিঠে চালাও তুমি
মিথ্যা অনর্গল
লোকে ভাবে সত্য বলো—
শুধু মেশাও জল।
অথচ নাও ভাবটা এমন
তুমি সত্যবাদী
দুনিয়াটা বোকায় ভরা?
গাধা এবং গাধী?
সবাই তো আর নয় কো বোকা
তুমি মনে রেখো —
সময় হলে মুখোশ তোমার
পড়বে খুলে দেখো।
মনে রেখো চেহারাটাই
সবকিছু নয় আজ,
মানুষ হওয়া আসল কথা
মানুষ হওয়া-ই কাজ।।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ৩২ ( কমলালেবু )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। যা শীতকালীন সর্দি, নাক বন্ধ হওয়া, টনসিল ফুলে যাওয়া, গলা ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব, হাঁচি, কাশি, মাথাব্যথা, ঠান্ডাজনিত দুর্বলতা এই সমস্যাগুলো দূর করে।


সূর্যের রোদে ভিটামিন ‘ডি’ থাকে। তবে শীতের রোদের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। কমলালেবু ত্বককে শক্তিশালী করে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের বাঁচায়।


দাঁত, চুল, ত্বক, নখের পুষ্টি জোগায় কমলালেবু। গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এই ফল খায় তাদের দাঁতের ডেন্টাল ক্যারিজ (দাঁতের একধরনের অসুখ) হওয়ার আশঙ্কা থাকে খুবই কম। তবে শুধু কমলালেবু খেলেই চলবে না, দাঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে নিয়মিত।


ঠোঁট ফাটা, পায়ের তলা ফেটে যাওয়া রোধ করে কমলালেবু। ত্বকের মসৃণ ভাব বজায় রাখতে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। তাই মোটা মানুষ, হাইব্লাড প্রেসার, হূদেরাগীরা খেতে পারবেন কোনো রকম ভয় ছাড়া। তবে এতে পটাশিয়াম রয়েছে। যা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।


রক্তে চর্বির পরিমাণ কমায় এই ফল। বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রতিদিন একটি কমলালেবু সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত একটি লেবু খান। কারণ ভিটামিন ‘সি’ প্রতিদিন আমাদের প্রয়োজন হয়। আর ভিটামিন ‘সি’ দেহে জমা থাকে না। তাই নিয়মিত এই ফল খাওয়া ভীষণ জরুরি। কমলালেবু কিনতে সমর্থ না হলে ভাতের সঙ্গে লেবুও আপনাকে দেবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি। ডায়াবেটিসের রোগীরা মিষ্টির পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে টক লেবু খাবেন বেশি করে।


জিহ্বায় ঘা, ঠোঁটের কোনায় ঘাজনিত (জ্বর হওয়ার পর অনেকের ঠোঁটের কোনায় ঘা হয়) সমস্যা দূর করবে এই লেবু। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ঘা, কাটা, সেলাইজনিত ত্বককে দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে ভিটামিন ‘সি’। তাই যেকোনো অপারেশনের পর খান কমলালেবু।


চোখের পাতায় ঘা, চোখ ওঠা ভীষণ ছোঁয়াচে রোগ। এই রোগগুলো দূর করার জন্য দরকার ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’। যা রয়েছে কমলালেবুতে। বৃদ্ধ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, মাতৃদুগ্ধদানকারী মহিলার জন্য এই ফল অপরিহার্য। তবে হজম করতে না পারলে প্রতিদিন খাবেন না। প্রতি তিন দিনে একটি কমলালেবু খাবেন। আর অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে খাওয়াই ভালো। ঘুমাতে যাওয়ার আগে খাবেন না।

“এসো বন্ধুরা, গাছ লাগাই; পরিবেশ বাচাই”
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস;
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।


ছোট্ট বন্ধুরা, প্রকৃতিতে এসে গেছে বর্ষার মৌসুম। এই সময় যখন তখন ঝরতে থাকে বৃষ্টি বিন্দু। মেঘ হয়ে যায় নীল আকাশের বন্ধু। এই সময়টা হলো গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। তোমরা সবাই জানো যে, গাছ আমাদের ভীষণ উপকারী বন্ধু। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরী হলো অক্সিজেন। নাক দিয়ে আমদের দেহের ভেতরে প্রবেশ করাই, আর নিঃশ্বাসে ছেড়ে দেবার সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইড নামক গ্যাস আমরা নাক দিয়ে দেহের বাহিরে বের করে দিই। এই জরুরী অক্সিজেন গ্যাস আমরা পাই গাছ থেকে। গাছ প্রতিনিয়ত আমাদের জন্য অক্সিজেন গ্যাস সরবরাহ করে। এই অক্সিজেন গ্যাসে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের ভীষণ দরকারী। আর গাছের জন্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড হলো ভীষণ জরুরী উপাদান। কিন্তু আমাদের জন্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড হলো ভীষণ ক্ষতিকর গ্যাস। তাই যতো বেশী গাছ লাগানো যাবে, ততো বেশী পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবেশে (আমাদের চারিপাশে) কমতে থাকবে।
বন্ধুরা, তোমরা জানো পরিবেশ দূষণ, কল-কারখানার আবর্জনা, আমাদের চারিপাশকে কলুষিত করে দিচ্ছে। রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধছে অকালেই আমাদের দেহে। পরিবেশকে দূষিত করার জন্য অনেকগুলো ক্ষতিকর গ্যাস দায়ী। তার মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড হলো অন্যতম। এই গ্যাস গাছের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট জরুরী।
তাই যতো বেশী গাছ লাগানো যাবে পরিবেশে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ততোই কমতে থাকবে। আর গাছ ততোবেশী পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করবে। যা বেঁচে থাকার জন্য আমদের ভীষণ দরকার।
এতে মানুষ সুস্থ-সবলভাবে বাঁচবে। আর পরিবেশ দূষণের হার কিছুটা হলেও কমবে। ছোট্ট বন্ধুরা পরিবেশ বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জেনেছেন যে, পরিবেশ দুষণ, ভূমিকম্প রোধ করার জন্য প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। শুধু বড়রা কেন তোমরাও এগিয়ে আসো।
খেলা করার জন্য তোমরা মাটিতে গর্ত করো। এরকম গর্তের মধ্যে বুনে দাও স্বপ্নের চার। আর সেই স্বপ্নের চারা বটবৃক্ষের মতো আলো, বাতাস দিয়ে মুগ্ধ করে দিক সবাইকে। গাছ লাগানোর জন্য ফুলের বাগান ছাড়া হবেনা, এমনটি নয়, যেখানে সুযোগ ও মাটি পাবা, সেখানেই গাছ লাগাও। সম্ভব হলে তোমার বাসার ফুলের টবেই লাগাও নানান রকমের গাছ। যে কোন গাছই পরিবেশে অক্সিজেন দেয়। এই অক্সিজেন ছাড়া মানব জীবন অচল।
আমাদের দেশে জনবসতি বেড়ে যাবার জন্য হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর, নদীনালা, গাছপালা। মানুষ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে প্রকৃতিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ। কারণ আমরা নাক দিয়ে বাতাস ছেড়ে দেওয়ার সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে বাইরে বের করে দিই। তাই জনসংখ্যা কমানোর সাথে সাথে গাছ লাগাতে হবে। তোমরা যদি ছোট থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত গাছ লাগাও তাহলে চিন্তা করে দেখো কতগুলো গাছ হবে। প্রকৃতিতে বেড়ে যাবে কতগুলো গাছ। তোমাদের খেলনা, স্টীকার, বেলুন, গেম প্লেয়ার তোমরা যেমন যত্নে রাখো, তেমনি শুধু বাসার ভেতরে না, পুরো প্রকৃতিকে সুন্দর করার চিন্তা তোমাদের করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে উপকৃত হবে পুরো দেশ, জাতি। তাই তোমরা প্রচুর পরিমানে গাছ লাগাও।
আর এই মৌসুমটা হলো গাছ লাগানোর শ্রেষ্ঠ সময়। বন্ধুরা, ছোট্ট বেলা থেকে তোমরা হও প্রকৃতি প্রেমী। তোমার আর আমাদের সবার উদ্যোগে প্রকৃতি হয়ে উঠুক সবুজময়।
সবুজের মাঝে হারিয়ে যাক ভূমিকম্প, খরা, মঙ্গা, সিডর নামের খারাপ শব্দগুলি। শুধু আমাদের দেশ নয়, পুরো পৃথিবী হোক সবুজময়, ভরে যাক গাছের মেলা প্রকৃতি ভরে উঠুক পরিপূর্ণ অক্সিজেনে।
এসো বন্ধুরা, “আমরা গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই। প্রকৃতিকে করে তুলি সুস্থ সবুজ। সেই সুস্থ সবুজে আমাদের জীবন হবে নির্মল সুন্দর।”

Nabadibakar_Writer_24_

প্রদিবাদি কান্না
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

আজ এই মহান বিজয় দিবসে কোথায় থেকে
যেন শোনা যাচ্ছে আত্বচিৎকার,
হা হা কার বোবা কান্না!
যতবার বার বার ফিরে আসে স্বধীনতার দিন
মহান মুক্তি যুদ্ধের বিজয়ের দিন,
ততবার যেন চিৎকার ভেসে
আসে সোহারাওয়ার্দি উদ্যানে।

আর এই সবুজ প্রকৃতি বার বার গর্জে উঠে
বিদ্রোহের সুরে বলে, রক্ত রক্ত রক্ত
রক্ত দিয়ে স্নান করেছি,
রক্ত দিয়ে রাঙ্গিয়েছি আমি সবুজ স্বজিব
অরুন তরুন প্রাণ।

হে জন্ম জন্মান্তর তোমারা আত্বচিৎকারের কান্না,
আত্বচিৎকারের প্রতিবাদি কান্না শুনতে পাও:
অসহায় বোনের সন্মান কেড়ে নিয়েছে ওরা
কেড়ে নিয়েছে ঐ ঐ পাষণ্ড পিশাচ, নরপশুরা!
আর...শত শত বার পালাক্রমে ধর্ষিন করছে,
ধর্ষিত হয়েছে আমার অসহায় হাজারো বোন
হাজারো মা, এ প্রাণের মাতৃভূমি বাংলা কিন্তু....
কলঙ্কিত হয় নাই। তবুও মা, বোন, এ বাংলা
চিৎকার করে ঙ্গান হারিয়েছে, স্বপ্ন দেখে জেগে
ওঠে ছিল লাল সবুজের পতাকার।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ৩১ ( ফুলকপি )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ‘কে’, যা ঠান্ডাজনিত সর্দি, হাঁচি, কাশি, জ্বর জ্বর ভাব, সারা শরীরে ব্যথা ভাব, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ঠান্ডায় কান বন্ধ হয়ে যাওয়া—এসব সমস্যা দূর করে।


অকালে দাঁত লালচে হয়ে যাওয়া ও দাঁতের মাড়ি দুর্বল হওয়া—এই অবস্থা দূর করে ক্যালসিয়াম ও ফ্লুরাইড, যেগুলোর বসতি ফুলকপিতে। দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি ও বাড়ন্ত শিশুদের দাঁতের পূর্ণ বিকাশের জন্য ক্যালসিয়াম যথেষ্ট উপকারী।


এই সবজিতে আয়রন রয়েছে উচ্চমাত্রায়। রক্ত তৈরিতে আয়রন রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশু ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষের জন্য ফুলকপি জরুরি।


ফুলকপিতে নেই কোনো চর্বি, রয়েছে পর্যাপ্ত আমিষ। দেহ গঠনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আমিষ। কোলেস্টেরলমুক্ত ফুলকপি তাই বৃদ্ধি ও বর্ধনের জন্য প্রয়োজন।


প্রচুর পরিমাণে আমিষ বা প্রোটিন থাকার জন্য কিডনির জটিলতায় ভোগা ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শে ফুলকপি খাবেন। কারণ, এতে আমিষ ও পটাশিয়াম রয়েছে অনেক বেশি, যা কিডনির জন্য উপযোগী নয়।


জিবে ঘা হয় ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’র অভাবে। তালুর (ওপর ও নিচের অংশের) চামড়া উঠে যাওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ার জন্যও এই দুটি ভিটামিনের ঘাটতিই দায়ী। এই ঘাটতিগুলো পূরণ করবে ফুলকপি।


ক্যানসারের জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ফুলকপি। স্তন ক্যানসার, কোলন ও মূত্রথলির ক্যানসারের জীবাণুকে ধ্বংস করে এই সবজি। ক্যানসারের জীবাণুকে দেহ থেকে বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য রয়েছে ফুলকপির যথেষ্ট অবদান।





নো অ্যানসার


- জোহরা উম্মে হাসান

 

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পদত্যাগের খবরটা বেশ মনে ধরেছে আমিন খান ব্যাপারির । সবাই তাঁকে বলে চলেছে , বিনা ভোটের মন্ত্রী । এসব কথা শুনে শুনে নাকি কান ঝালা পালা হয়ে গেছে তার । সকলকে কিছু একটা দেখিয়ে দেয়ার জন্য তিনি এক্ষণে একটা রেজিগনেশন লেটার হাতে নেতার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন !

নেতা তাঁকে যদিও খুব স্নেহ করেন , তবুও তাঁর এহেন হটকারিতায় বেশ ক্ষুব্ধ হলেন তিনি । জিজ্ঞাসু নয়নে বললেন , তোমার বউ জানে , তুমি যে ইস্তাফা দিতে এসেছো ? 

আমিন ব্যাপারি নাক মুখ চুলকিয়ে মাথা নাড়িয়ে দশ বছরের অনুগত পোলার মত মিন মিন করে যা বল্লেন তাঁর অর্থ গিয়ে দাড়াল , না , কিছুই জানে না সে ।

তাহলে ? নেতা অবাক হয়ে আবারও তাকে প্রশ্ন করলেন ।

আমিন ব্যাপারি এবার একটু বেশ খোলা মেলা ভাবেই বললেন , স্যার আপনি তো জানেন সবই । ইদানীং শরীরও ভাল যাচ্ছে না । প্রেশার , ডায়াবেটিক !

তো এখন কি করবে ? তোমার বউয়ের সাথে মিলে মিশে গরু ছাগল এর ব্যবসা করবে ? নেতা একটু মশকরার সুরেই কইলেন ।

আমিন ব্যাপারি একটা ক্লিষ্ট হাসি টেনে বলল , জি স্যার , বউ ছেলে মেয়েদেরও তো কিছু পাওনা আছে ! তবে কার জন্যই বা কার ঠেকে থাকে ! আমাকে ছাড়াও যে তারা বেশ চলতে পারবে , জানি বটে ।

তা বটে । নেতা মহাবিজ্ঞের মত মাথা নাড়ালেন । আর মনে মনে বললেন , অসম্ভব । কারো জন্য নাকি কারো কিছু ঠেকে থাকে না । থাকে , থাকে ! ও ব্যাটা ব্যাপারি বুদ্ধু তার কি বোঝে ! তারপর আপন মনে একটা গভীর আত্নতীপ্তির ভাব নিয়ে বললেন , এই আমি গদিতে আসীন না থাকলে এই দেশটা কি আর আগের মত চলবে হে ? 

নেতাকে তো শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবলে চলে না । অনেককে নিয়েই ভাবতে হয় । তিনি ব্যাপারির এই স্বেচ্ছায় সোনার গদি ছেঁড়ে ছুড়ে দিয়ে বনবাসি হওয়ার ব্যাপারটাকে অত সহজ চোখে দেখলেন না । বিষয়টা কি রকম ? ব্যাপারির কথায় আর কাজের মধ্যে মিল হচ্ছে আবার হচ্ছেও না । 

দীর্ঘক্ষণ বাদে আমিন ব্যাপারি মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে উঠলেন, হুজুর , আমি কেজরিওয়ালের মতো হতে চাই । দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল । চলে গেলে তার মত তামাম জনগন আমার যেন জন্য হায় হায় করে ! আমার সেই খায়েস ! আর এখনি সেই সময় !

নেতা তৎক্ষণাৎ অতি রুষ্ট মুখে বললেন , কোথায় সে আর কোথায় তুমি ? তার হাজারো এজেন্ডা । আম জনতার খেদমত । আর তোমার কি ? তোমার তো কোন এজেন্ডা ফেজেন্ডা নাই হে । নিজের খেদমত ছাড়া ।

ব্যাপারি যদিও নেতার চেয়ে কম করে হলেও বছর পনেরোর বড় , তবুও নেতা তাকে তুমি করেই ডাকেন । তাতে এত দিন মনে কিছু নেন নি ব্যাপারি । নেতার তুই তোকারি মানে শীতের রাতে মুগ ডাল খিচুরি আর মুরগি ভুনী ! কিন্তু আজ মনে হচ্ছে , নেতা তাঁকে এমন তুই তোকারি না করলেও পারেন । মন্ত্রী করেছেন বলে কি তিনি তাঁর মাথাটা কিনে নিয়েছেন ! নিজের খেদমত ? কি এমন ধন সম্পদের মালিক হয়েছে সে ? অন্যদেরটা দেখলে-----।

তবে হাঁ , এ মুহূর্তে কেজরিওয়ালের সাথে সরাসরি নিজের তুলনা করাটা ঠিক হয় নাই তার । তুলনা যে করতেই হবে তার কি মানে আছে । তুলনা ছাড়া মানুষ বাঁচে না , নাকি ? নেতা বোধহয় বেশ একটু বেজারই হলেন । যাগগে যাক , সে নিজেই যখন নিজের ইচ্ছায় চলে যাচ্ছে , তখন কে কি ভাবল তা নিয়ে মাথা না খাটালেই চলবে ।

তাইতো , তার এজেন্ডা কি । ব্যাপারি মনে মনে ভাবতে লাগলেন । জীবনের প্রথমে খুলনা জেলার এক প্রত্যন্ত গায়ে চিংরি মাছের চাষ করতেন । প্রথমে নিজের হালের জমিতে । তারপর একটু একটু করে জমি লিজ নেয়া। এরপর নিজের নগদ টাকা দিয়ে জমির পর জমি কেনা । 

এই যে তিন তিন বার মন্ত্রী তিনি নিজের এলাকার , তারপরও স্থানীয় লোকজন তাঁকে ‘মাছুয়া’ বলেই ডাকে । এই সব মূর্খ , বেইমান লোকের উন্নতির জন্য আর কি নতুন পরিকল্পনা থাকবে তার মাথায় । সরকারি টাকায় রাস্তা , ঘাট, স্কুল , কলেজ ও তো কম হোল না তাঁর অঞ্চলে । তারপরও নাকি তারা খুশী না। চাই আরও চাই । ব্যাটারা বোঝেনা যে , নিজের ট্যাঁকের টাকা খরচ করে কোন নেতাই দেশের উপকার করে না । সরকারি টাকা না মিললে , সে কি গাছ থেকে বড়াই ফল পারার মতো ঝাঁকি মেরে উঠোনে রাশি রাশি টাকার ছয়লাব ঘটায় দেবে ? 

যা হোক সেদিন নেতার কাছ থেকে এরকম রিক্ত হাতেই ফিরতে হোল আমিন ব্যাপারিকে । ইস্তাফা পত্রটা হাতেই ধরা । তবে নিজের আলিসান বাড়ীটার অন্দরমহলে ঢুকবার আগে কি মনে করে তিনি পত্রটা সযত্নে বুক পকেটে রেখে দিলেন ।

মন্ত্রী মহোদয়ের গাড়ির শব্দ পেয়ে বয় বেয়ারা দারোয়ান সব মোটামুটি সজাগ হোল । এখনো তো তাঁর হাতে অনেক ক্ষমতা । কানা ঘুষা শোনা যাচ্ছে বটে মন্ত্রিত্ব ইস্তাফা দিতে চলেছেন তিনি । কিন্তু এসব রাজনীতিবিদদের কথার কি সত্যতা আছে ? আজ এ কথা তো কাল সে কথা । সে যাই হক, ব্যাপারির আগমনে বিন্দু মাত্র সচেতন হোলনা তাঁর বউ মোসাম্মদ আলেয়া বেগম ওরফে মনি ।সে কি যেন একটা ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে ব্যস্ত ছিল , স্বামীকে দেখে সে ব্যস্ততা আরও বেড়ে গেল । 

বউ এর দিকে একবার আড় চোখে চেয়ে ব্যাপারি বেড রুমের দিকে এগোলেন । রুমে গিয়ে আগে তিন মিনিট বিছানায় আধ শোয়া অবস্থায় বিশ্রাম নিলেন। মন্ত্রীর গাড়ী ! তবুও চলতি পথে ট্রাফিক জ্যামের হ্যাফা কম সামলাতে হয় না । আজও হোয়েছে তেমনি । যা হোক আর কদিন পর থেকে তো সাধারণ পাবলিক হয়ে যাবেন তিনি । আগে পিছে পুলিস গাড়ির বহর ভেপু বাজিয়ে গোল্লা ছুট খেলবে না । সব খেলাই শেষ । তাও ভাল । নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো । একটা নির্ভেজাল প্রেমময় জীবন তিনি উপভোগ করতে চান । জীবনের এই প্রায় শেষ সময়গুলোতে ।

বিশ্রাম নেয়া শেষ হলে ব্যাপারি তাঁর ধরা চূড়া ছাড়লেন । ডিসেম্বরের শেষ । জানুয়ারীর শুরু । শীতের তবুও যেন চিলতে গরজ নেই যাবার । বাতাস আটা গাড়ীতেও কেমন যেন শীত শীত লাগে । এটা নাকি বয়সের ব্যারাম। 

তবে বয়স বাড়ার কথা মনে করলে মনের ভিতর থেকে কেমন যেন একটা তীব্র ব্যথার খোঁচা অনুভব করেন তিনি । বয়স যদি বেড়েই গেল , তবে সালমাকে আর নুতুন করে কি দেবেন তিনি । তাকে তো কিছু দিতেই হবে , নাকি সে খালি খালি হাতে ফিরে যাবে আগের মতোই ।

প্রায় পঁচিস বছর পরে দেখা পাওয়া ছেলেবেলার প্রেমিকাকে এবার কোনক্রমেই নিরাশ করতে চান না তিনি । এখন পর্যন্ত নতুন সম্পর্কটা কেবল ফোনে ফোনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বটে , কিন্তু তা জেঁকে বসার আর বোধ হয় বেশিদিন বাকি নেই ।

ফিরতি পথে অবশ্য ব্যাপারির তাঁর গার্ল ফ্রেন্ড সালমার সাথে বার তিনেক মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে । কিন্তু তা অত্যন্ত চুপিসারে। গাড়ীর ড্রাইভার বা সামনের কর্তব্যরত পুলিস যেন মনে করে , স্যার ম্যাডামের সাথে আলাপ করেছেন।দু দূ বার তাঁকে সালমাই কল করেছিল । একবার তিনি নিজে। মন মানে না তাই !

কয়েক মাস আগে এভাবে অতি সঙ্গোপনে ফোনে ফোনে সালমার সাথে কথা কইতে গিয়েই স্ত্রী আলেয়া বেগমের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন তিনি । এরপর আর কি ? গেরস্তের সামনে চোর ধরা পড়লে সব চোরের যা হয় , তারও তাই হয়েছে । এখন আলেয়ার সাথে তার যেটুকু ভাব ভালবাসা আছে তার সবটাই লোক দেখানো । মেকী !

তবে ভাব ভালবাসা নেই বলে অবশ্য আলেয়া তাকে এখনও একেবারে নিঃস্বত্ব মুক্তি দেয় নাই । একটা রফা দফা চলছে । এবং তা অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে । এ সময়টা ব্যাপারির মনে হচ্ছে আলেয়া যেন আগের সেই গেয়ো মূর্খ মেয়ে মানুষটি নেই । তাঁর জীবনশক্তি আর মনোবলও বেড়েছে ঢের । বিপদকালে মানুষের যেভাবে বাড়ে , সেভাবেই কি ? 

ব্যাপারি যদিও আলেয়াকে এখন তার পহেলা শত্রু মনে করছেন , তবুও তো এখনো সব শেষ হয়ে যায় নি । হারজিতের খেলা তো এখনো চলছেই । চলুক । দেখা যাক কে হারে , আর কে জেতে ।

এ বাড়ীর এখনকার পরিস্থিতি অন্য রকম । বাড়ীর ড্রাইভার থেকে শুরু করে দারোয়ান , মালি, গরু ছাগল হাস মুরগি দেখার তাগড়া জোয়ান লোকটা , কিচেনের বাবুর্চি , আয়া এরা এখন যেন সবাই বেগম সাহেবারই লোক। কিন্তু মাত্রর কদিন আগের অবস্থা ছিল ঠিক এর বিপরীত । বাড়ীর প্রত্যেকটা কিট পতঙ্গ থেকে শুরু করে প্রতিটা প্রানি ব্যাপারির ভয়ে থরথর করে কাঁপত । এমনকি আলেয়া বেগম ওরফে মনিও তাঁর সাথে হিসাব করেই কথা বলত । 

বউ এর এত জড়তা টরতা অবশ্য কোন দিনই ভাল লাগেনি ব্যাপারির । বিশেষত মন্ত্রী হবার পর থেকেই । আর তার সহকর্মীরা সবাই যখন ফিট ফাট বউ নিয়ে ঘুরতো , আর তখন ব্যাপারির বঊ কোন পাটি ফারটিতে তো যেতই না , আর গেলেও এমন করে নিকাব এর ফাঁসে নিজেকে জড়িয়ে রাখতো যে কারো পক্ষে তাঁর মুখের চিলতে আদল দেখারও জো ছিল না । দেখতে শুনতে এমনিতে আলেয়া মন্দ না । বাপ মার পছন্দ করা মেয়ে । প্রেমিকা সালমার ব্যাপারে তাঁর পরিবারের প্রথম থেকেই আপত্তি । বেশী সাজ গোঁজ করা মেয়েরা নাকি ভাল হয় না । সেকেলে সব দৃষ্টিভঙ্গি ! আর যত সব আজগুবি কথা । 

ব্যাপারির নিজেরও তো তিন তিনটে মেয়ে আছে । তাঁর মেয়েরা সব নাম করা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে । সাজগোঁজও তো তারা ভালোই করে । তাদের সাজাগোঁজা নিয়ে আজ তো আর কারো আপত্তি নেই । কিন্তু তাদের সময়ে ? ওরে বাবা , যত দোষ যেন মেয়ে মানুষের !

যা হোক মেয়েদের পর , ব্যাপারির পর পর তিনটা ছেলে । ছেলেগুলো সবার ছোট । ওরা ছোট বলে আগে আক্ষেপ হত তার । এখন হয় না । হলে যে কি হতো । মনে মনে শিউড়ে ওঠে সে এক চোট । পেটাতো , মায়ের হয়ে নির্ঘাত মার দিত তারা তাকে । বাপের এই বুড়ো বয়সে ভীমরতি । মেয়েদের বোধ করি , এ পযন্ত তেমন কিছুই বলেনি তার মা । তারা তো আগের মতোই ঘুরছে, ফিরছে । 

সালমার ভালবাসায় যে এক্ষণে দিওয়ানা ব্যাপারি , তা কেবল আলেয়া জানে । আর সালমা তো জানেই । অনেক কথা হয় পুরান দিনের ভালবাসার বান্ধবীর সাথে । কথা যেন ফুরায় না দু জনের । সেই প্রেমের সময়কার কথা । ব্যাপারি টেনে টেনে পুরানো কথা তোলে । আর অন্য পাশ থেকে সালমা যখন তাকে অহ , নো ডারটি বয় বলে সম্বোধন করে , তখন তাঁর এ কথাগুলো যেন মুগ্ধ ভালবাসায় ব্যাপারির দম বন্ধ করে দেয় । মনে মনে ভাবে , আহা, কি করেই যে সালমা এত স্মার্ট হল , বলনে , চলনে । তাঁর যে বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই , তা তাঁকে দেখে কে বললে ? আর হিসাব নিকেশেও তো দারুন পোক্ত হয়ে উঠেছে সে । ব্যাপারির সব আয় ব্যয়ের কথা তার জানা। ব্যাপারি অবশ্য এতে কোন দোষ দেখে না । মেয়েরা জন্মেই একটু হিসেবী হয় । আর তাছাড়া প্রায় বছর পাঁচেক হয় , স্বামী হারিয়েছে বেচারী । সে একটু হিসেবি হবে না তো আর কে হবে ।

ব্যাপারি মনে মনে অবশ্য ভেবেই রেখেছেন , বিয়ের পরে তাঁর প্রোপার্টির একটা বড় অংশ তিনি সালমার নামে লিখে দেবে । যেমন , বনানীর সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের এপার্টমেন্টটা । তবে হ্যাফাও আছে । মেয়ে, কেবলই মেয়ে হওয়াতে আগের সব প্রোপার্টির সিংহ ভাগের মালিক এখন আলেয়া । সালমাকে এত কথা বলা হয় নি বটে । আর প্রেম মধুরতার ক্ষণে এসব হিসাব টিসাবের কথা এতো মানায়ও না । 

ব্যাপারি ভাবে , নেতাকে সাহস করে বললেই হতো তার মিশনের কথা ! তাঁর নিজের ব্যক্তিগত এজেন্ডার কথা । তাহলে তো অনেকটাই চুকেবুকে যেত । সে যে সপ্তম এডওয়ার্ডের মত রাজ সিংহহাসন ছেড়ে লেডী সিমসনকে নিয়ে উধাও হচ্ছে , তা নেতাকে বলা উচিত ছিল তার । তবে এই রাজপুত্রের গল্পটা তার অন্যের কাছ থেকে শোনা । আগে সেই রাজকুমারকে ভীষণ গদ্ভব মনে হতো তাঁর । এখন মনে হয় , আহা , এই না হলে প্রেম ! এ রকম নিখাদ প্রেম আছে বলেই তো পৃথিবীটা চলছে ।

অবশ্য এখন এ সংসারে প্রেম ট্রেম বলে কিছু নেই । নেই কারো ইচ্ছে অনিচ্ছের কোন মূল্য । আসল কথা হোল তার কথায় কিছুই চলছে না আর । সব কলকাঠি এখন আলেয়া বেগমের হাতে । কোথা থেকে সে যে পেয়ে গেল এমন অসুর শক্তি ! 

ব্যাপারি ঝিমুচ্ছিল আর ভাবছিল । এরপর কি হবে । ভাবনার বেশীর ভাগ অংশই সালমাকে ঘিরে । যা বলতেও লজ্জা লাগে আর ভাবতেও । তারপরও আহা কি মধুর মধুর সে ভাবনাগুলো !

আলেয়ার হিসাব গোনা । ব্যাপারিকে গো টো বলা সেই সব মধুর সম্ভাষণ , সে তো আজ পাচ ছ মাস আগে থেকেই ছেড়ে দিয়েছে । লোকজন যাতে না বোঝে , তাই তো এক ঘরে এক বিছানায় কাল কাটানো । এক্ষণে সব বাদ ছাদ দিয়ে আলেয়া তাঁর রেজিগনেশন লেটারের কথাটাই জিজ্ঞেস করলো । কি বললেন নেতা ঐ ব্যাপারে ? 

ব্যাপারি ভাব করা হাসি মুখে ধরে বলল , হবে , আর একটু ভাববার সময় দিয়েছেন তিনি ।

আলেয়া বলল , জানোতো মন্ত্রিত্ব না ছাড়লে আমি কিন্তু কোন মতেই তোমাকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেব না ।

এই দ্বিতীয় বিয়ের সাথে ইস্তাফা পত্রের কি সম্পর্ক তা আজতক ব্যাপারির বোধগম্য হোল না । কি লাভ এতে আলেয়ার । হয়তো মেয়েলি ঈর্ষা । আরেকজনকে মন্ত্রীর বউ হতে দেবে না সে , কেবল বউ হতে দেবে । তাতে আপত্তি নেই । আহা এতদিনের ভালবাসার কি নমুনা ! আসলে আলেয়া হয়তো তাঁকে কোনদিনই ভাল বাসেনি । কেবল স্ত্রীর দায়িত্বই পালন করেছে হিসাব নিকেশ করে । যাক , এখন এসব অতীত । সালমার ভালবাসার কাছে সব মিথ্যে , সব ঠুনকো ।

আশ্চর্য ! একটু পরে ব্যাপারির লাল ফোনটা বেজে উঠলো । নেতা তার ইস্তাফা পত্র নিজে চেয়ে পাঠিয়েছেন । শুনে সামান্যতর মন খারাপ হোল না তার । যাক যা গেছে তা যাক । এবার নতুন প্রেমময় জীবন ।

ব্যাপারি সাহেব পরম নিশ্চিতে ঘুমোচ্ছিলেন । পরম আদরের সে ঘুম । চরম ভালোলাগার । বিছানার একদিকে রাখা টিভির নবটা ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে কে যেন অন করেই রেখেছিল আগে ভাগে !

এবারে একটা খবরে দারুন চমকিত আর আতংকিত হলেন তিনি । আর সে সাথে মহাঅবাকও হলেন , এমন অবাক তিনি জন্মেও হন নি । 

এই মাত্র আলেয়া বেগম ------ মন্ত্রিত্বের ভার গ্রহণ করলেন। উল্লেখ্য তাঁর স্বামী --- ব্যাপারী স্ব- ইচ্ছায় শারীরিক কারণে মন্ত্রির দায়িত্ব থেকে ইস্তাফা দিয়েছেন।

ব্যাপারি ঢূলু ঢূলু চোখে বার বার , অন্তত ২৫ বার তাঁর প্রেমিকা সালমার চেনা নাম্বারটার প্প্রানপণে টিপ দিলেন । ওপাশ থাকে কেবলই ভেসে এল নো অ্যানসার ।




Nabadibakar_Writer_31

ক্রমিক নং এক
- মোহাম্মদ উল্লাহ শহীদ

দেশ সাড়া এখন এক খবরে মুখরিত,
“নিবন্ধন হবে মানবতার"
কারণ দেহ আছে পশুরও।
তাই শুধু দেহ আর মন থাকলেই হবে না,
থাকতে হবে সততা,সৌনর্য্য মন,সঠিক বাক্য কথন,
ন্যায়-অন্যায় বিচার করার মতো জ্ঞান,সাহস,
ধর্ম,কর্ম করা, পরিবার,প্রতিবেশি,দেশের প্রতি ভালোবাসা,উপকার করা।
হুমরি খেয়ে পড়ল মানুষ।
সবাইকে খাতা দেওয়া হলো পরীক্ষার জন্য।
তবে কেউ যেনো মিথ্যা না লেখে সাবধান করে দেওয়া হলো।
সন্দেহ মনে,সি সি টিভি ক্যামেরা লাগানো হলো হল রুমে।
স্যারেরা পিঁছন পিঁছন ঘুরছে কারণ নকল হইতে সাবধান।
এমন কিছু ঘটনা লেখা,যেনো উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলি সুস্পষ্ট উঠে আসে।
তবে জীবনে কী কী ভুল হয়েছে,
কী কী অন্যায় কাজ করেছে সব উল্লেখ করতে হবে।
যারা পরীক্ষায় উতীর্ণ হবে ১০০ পেয়ে তাদের হবে ক্রমিক নং এক।
ক্রমিক নং এক যার তাকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করা হবে।
নগদ অর্থ সহ সার্টিফিকেট দেয়া হবে মানবতার শ্রেষ্ট মানুষ।
পরীক্ষা শেষ।
যদিও এক সপ্তাহে ফল দেবার কথা ছিল তা গড়িঁয়ে
দাঁড়ালো তিন মাসে,ফল প্রকাশ হলো।
আশ্চার্য্য!  সবার ক্রমিক নং এক! কারণ কী?
জানতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সাংবাদিক,পুলিশ,
বোর্ডর হেড মাস্টার আরো কতজনে।
ক্যামেরা চেক করা হলো,কোন মিথ্যা ধরা পড়ল না!
কেউ নকল করেনি সবাই আপন বুদ্ধিতে লিখেছে!
ক্রমিক নং এক,সবার গলায় ঝুলছে মানবতার সার্টিফিকেট!
দেশে এখন খুন,ধর্ষণ,ডাকাতি আগের তুলনায় অধিক।
প্রশ্ন জাগে,কে করছে এসব?
সবার ক্রমিক নং এক,গলায় মানবতার সার্টিফিকেট!
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।


 মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও কবিতা উৎসব'২০১৫

- শামসুজ্জোহা বিপ্লব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা আয়োজিত 'বিজয়ের উল্লাসে, অস্তিত্বের স্বরুপ সন্ধ্যানে' এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৭ ডিসেম্বর, সকাল ১১ টায়, চাকসুর তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল, বন্ধুসভার কবিতা উৎসব-২০১৫। অনুষ্ঠানের শুরু হয় বন্ধুসভার বন্ধু সেঁজুতির 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতার আবৃত্তির মধ্যে দিয়ে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু বকর। তার বাঙালির ইতিহাস বিষয়ক তথ্যবহুল জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যে কবিতা উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তিনি বাঙালির ইতিহাস সন্ধ্যানের জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের পরপরেই শুরু হয় অনুষ্ঠানের মুল কার্যক্রম।

বন্ধুসভার বন্ধু সোবহানের 'আমার পরিচয়' কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে, আমরা আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের পরিচয় খুঁজে পাই। এরপর একে একে কবিতা আবৃত্তি করেন বন্ধুসভার অর্পিতা( বাতাসে লাশের গন্ধ পাই) সুমনা(শহীদদের প্রতি)। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের রিয়াজ(আর কত রক্তের দরকার), শারমীন(শাড়ী)।  বন্ধুসভার নতুন বন্ধু নাহিদ নেওয়াজের 'স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো' এবং ইমতিয়াজের 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প'  আবৃত্তি দুটি কবিতা উৎসব কে আরও বেশি মনোমুগ্ধ করে তোলে।

অনুষ্ঠানের মাঝখানে আমাদের কবিতা উৎসবে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন বন্ধুসভার সভাপতি, সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মহিউদ্দিন। সবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি ড. সুমন গাঙ্গুলীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।  কবিতা উৎসবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বন্ধুসভার সহ-সভাপতি রাজীব কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন নাসির আহমেদ মিহির।


বিজয় দিবস উদযাপন আলো দেখাবোই ও ময়ুরাক্ষীর

- মুনীর হোসাইন , চট্টগ্রাম , বাংলাদেশ

মহান বিজয় দিবসে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্বরণ করেছে সামাজিক সংগঠন আলো দেখাবোই ও ময়ুরাক্ষীর সদস্যরা । ভোরে দেশের সর্ববৃহৎ পাহাড়তলী বধ্য ভুমি পরিস্কার ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বধ্য ভুমিতে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা । পরে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান চট্টগ্রাম মহানগর পি . পি . বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী । শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন , বিজয় ব্যালি ও স্মৃতিচারন শেষে মুক্তিসেনাদের স্বরন এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । জালালাবাদ ইসলামিক কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজয় দিবসের আলোচনায় অংশ নেন , আলো দেখাবোইর সমন্বয়ক এম . এইচ . স্বপন , মুনীর হোসাইন ও কবির আহমেদ । ময়ুরাক্ষীর সমন্বয়ক এহসান বিন দিদার , আরিফুল ইসলাম , ইনজামামুল হক ,  নওরিন বৃষ্টি , মাসুদ । শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান , জালালাবাদ ইসলামিক কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ । নিজের জীবনের সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা , ইচ্ছে শক্তির জোরে জীবন জয় করা তরুন আনোয়ার হোসেন স্বপনের মুখে গল্প শোনা পর্ব । এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন , এম . আর . আই সাইমুম , খোরশেদ আলম , রেদোয়ান উল্লাহ মুন্না ,সুমন , ফয়সাল , অলিউল্লাহ , রোমানা আক্তার , তানিয়া আক্তার , অশ্রু ও নাজমা প্রমুখ ।

ভালবাসা ও উষ্ণতা নিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে Youth’s Voice Foundation
চট্টগ্রামঃ গত ২৮/১১/২০১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় Youth’s Voice Foundation পরিচালিত ইভেন্ট ‘ফাইট এগেন্সট উইন্টার-৫’। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয় ইভেন্টটির প্রথম ধাপ-‘সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তহবিল সংগ্রহ’। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচশত স্বেচ্ছাসেবকের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি শেষ হয়। সকাল ৯ ঘটিকায় শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে নীল-টিশার্টে পরিহিত সেচ্ছাসেবকগণ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নগরীর নয়টি পয়েন্ট; আগ্রাবাদ, জিইসি, প্রবর্তক, কাজির দেওরি, দুই নং গেট, চকবাজার, ও আর নিজাম এবং খুলশী থেকে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন। এছাড়াও তারা বাড়িতে-বাড়িতে গিয়েও তহবিল সংগ্রহ করেন। তহবিল সংগ্রহের সময় নগরীর বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ ছিল উৎসাহ-উদ্দীপক। দুপুর দুইটা পর্যন্ত নগরী স্বেচ্ছাসেবকদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর ছিল।
“ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য অনুদান সংগ্রহ নয় বরং সচেতনতা সৃষ্টি করা”, বললেন ইয়ুথ’স ভয়েস এর সহসভাপতি রাকিবুল হাসান। সভাপতি তাহমিদ কামাল চৌধুরী বলেন, “এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য, আমরা মানুষ-ই পারি মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমাদের আশেপাশেই অনেকে আছেন যাদের শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ নেই। তাদেরকে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের। আমরাই পারি একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে এসে মনুষ্যত্ব রক্ষা করতে। তাই আমি সকলকে অনুরোধ করব, যে যেভাবে পারেন, পুরনো কাপড় দান করে বা অনুদান দিয়ে শীতকবলিত অসহায় মানুসষের সাহায্যে এগিয়ে আসুন। আপনার একটি পদক্ষেপ বাঁচাতে পারে কারো জীবন।’’
সুত্রানুযায়ী জানা গেছে, ২০১১ সালে শুরু করে পঞ্চম বারের মতো এই শীতবস্ত্র বিতরণের কাজ করতে যাচ্ছে ইয়ুথ ভয়েস ফাউন্ডেসন। প্রথমবার ২শত শিশুকে শীতের কাপড় দিয়েছিলেন, ২০১২ সালে ২৮০ জন, ২০১৩ সালে ৬৫০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে দিয়েছেন ইয়ূথ’স ভয়েজ পরিবারের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, গত বছর এই সংগঠনটি তহবিল সংগ্রহ করে ২৫০০ শীতবস্ত্র বিতরন করেন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের মাঝে যা বাঁচিয়েছে অনেকের জীবন। এই বছর তারা শীতবস্ত্র বিতরণ করতে যাচ্ছেন আবারো উত্তরাঞ্চলে, ঠাকুরগাঁও্‌, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলতে। এজন্য তারা সকলের শুভ কামঅনা করছে।
স্বেচ্ছাসেবকরা  অসাধারন  সাড়া  পেয়েছে চট্টগ্রামবাসীর কাছে।  মানুষজন নির্দ্বিধায় সাহায্য করেছে। তারই সাথে সেচ্ছাসেবকরাও অনেক খুশী এইরকম একটি সমাজসেবামুলক কাজ করতে পেরে। একজন সেচ্ছাসেবক থেকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে খুবই গর্বিত এই উদ্যোগে সামিল হতে পেরে। সে আরো বলে, “আজকাল যুবসমাজ পড়ালেখার চাপে খুবই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। ইয়ুথ’স ভয়েস তাদের মাঝে কর্মদ্দ্যীপনাকে জাগিয়ে তুলতে গুরুত্পূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এজন্য সে ইয়ুথ’স ভয়েস কে অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছে।’’ এছাড়াও নগরবাসী সংগঠনটিকে কে  ধন্যবাদ  জানিয়েছে  এমন  একটি অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসার এমন একটি সুযোগ  করে দেওয়ার জন্য। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্য করতে ২ মাস ধরে নিরলস ভাবে কাজ করে গেছে ইয়ুথস  ভয়েস এর সদস্যগন। তাহমিদ, রাকিব, শরীফ, জুনায়েদ, মোফাসসাল, আদনান, নাভীদ, রাদিত, ফারজিন, প্রান্ত, অপু, আবিদ, পুজা, ট্রুক, সুচিত্রা, মউলি, সামিহা, সাকিব, সামি, বার্তা, রাইহান, ফারিয়া, কারিমা, সুমাইয়া, সামিউর, নুজাত, মারযুক, সাওদা, নুসরাত, সাদমা্‌ন, আবরা্‌র এবং আরও অনেকে। এত বিপুল সংখ্যক সেচ্ছাসেবক কে কেন্দ্র করে পুরো শহর জুড়ে একটি ইভেন্ট সফল ভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করেছে এই সদস্যগণ।
Youth’s Voice Foundation এর পথচলা শুরু হয় ২০১১ সালে প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রাক্তণ কিছু শিক্ষার্থীর হাত ধরে। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল যুবসমাজের কর্মদ্দ্যীপনাকে দেশের উন্নয়ণে নিয়োজিত করা। ২০১১ সালে তাহমিদ, ফাহিম, শরিফ, মিথুন, সাদ, পিয়া, কিশওয়ার ও রাকিবের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় ইয়ূথস ভয়েজ-এর। পরে যুক্ত হই আদনান, নাভীদ, রাদিত, ফারজিন, মোফাসসাল  সহ আর অনেকে। বর্তমানে ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেছাসেবকগণ এ সংগঠনের সাথে কাজ করছে বলে জানান সংগঠনটির প্রধান সভাপতি তাহমিদ কামাল চোধুরী। এই সংগঠটির মূল অনুপ্রেরণা হচ্ছে যুব সমাজের শক্তি দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া বলেন ফারযিন যিনি ২০১৩ থেকে এই সংঘঠনের সাথে জড়িত।
এবছর অনুষ্ঠিত হয় ফাইট এগেন্সট উইন্টার এর পঞ্চম পর্ব। এই ইভেন্টটি মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে থেকে- তহবিল সংগ্রহ, এবং দ্বিতীয় ধাপে শীত বস্ত্র ক্রয়-পূর্বক শৈত্য কবলিত জনগোষ্ঠির মাঝে বিতরণ। এই বছর প্রায় আটশ অনলাইনে নিবন্ধনকারীর মাঝে পাঁচশজনকে বেছে নেয়া হয় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তহবিল সংগ্রহের জন্য। ইভেন্টটির স্বতস্ফুর্ত ভাবে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে - এশিয়ান ইউনিভার্সিটি উইমেন্স - ফটোগ্রাফি ক্লাব, NSU YEF, লীন ওয়াটার। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে- রেডিও ফুর্তি ও ফুড পার্টনার হিসেবে- বুম টাউন।
বর্তমানে সংগঠনটির দেশে-বিদেশে সদস্য সংখ্যা ৭০ জন। তাঁদের নিরিলস প্রচেষ্টায় সংগঠনটি গত চার বছর যাবৎ সমাজমেবামূলক কর্মকান্ডে উৎসর্গকৃত। দরিদ্র শিশুকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা,   সংযমের  মাসে ভাগ্যহত শিশুদের মাঝে ইফতার ও নতুন কাপড় বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান ছাড়াও পরিবেশ-সচেতনতা, অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা ও স্বীকৃতি অর্জন প্রভৃতি কাজে সংগঠনটি নিজেদের জড়িত রেখেছে। Let’s Create the Revolution (চলো পরিবর্তন গড়ি) আদর্শে উদ্দীপ্ত সংগঠনটি বন্ধুর পথ পেড়িয়ে যুবসমাজের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে আলোও উন্নয়নের পথে পরিবর্তন সূচিত করার লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।  তাদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় ও এই দেশের সকল যুবসমাজের জন্য অনুপ্রেরণাস্বরুপ। উল্লেখ্য, Youth’s Voice Foundation তাদের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ Young Bangla প্রদত্ত ‘জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড ২০১৫’ অর্জনে সক্ষম হয়।
প্রায় ২০ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে এই ইভেন্টে এবং সবাইকে শীতে দুর্গম এলাকায় মানুষদের সাহায্য করার ব্যাপারে সচেতন করায় ছিলো এর লক্ষ্য। আপনারা সবাই সাহায্য করতে পারবেন।  ইয়ুথ’স ভয়েসের এক সাধারণ সদস্য সুচিত্রা বলেন, “আমরা হয়ত সবাইকে সাহায্য করতে পারব না, কিন্তু আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে কিছু মানুষের জীবন বদলে দিতে পারি।’’ আপনার একটি ফোন বা এসএমএস-ই যথেষ্ট। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক পৌঁছে যাবে আপনার বাড়িতে। তাদের নিকট আপনার বাসার অব্যবহৃত কিংবা পুরনো কাপড়গুলো জমা দিতে পারেন। অথবা যেকোনো পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারেন। সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন।
যোগাযোগঃ  ০১৬৭৬৪৩১০৬৫, ০১৯৬০২৪৪২৫৫, ০১৯২০৪৬১১০১, ০১৭০৩৬২১৯৯২


যাত্রা শুরু আলো দেখাবোই'র

- এম আর আই সাইমুম, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

 

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজে বঞ্চিতদের পাশে আছি আমরা . . . স্লোগানে গত ২8 অক্টোবর যাত্রা শুরু করে সামাজিক সংগঠন আলো দেখাবোই ।  দৈনিক মুঠোফোন ও নাস্তা খরছের বাজেট থেকে কিছু টাকা বাচিয়ে স্বপ্নবাজ কয়েকজন তরুনের হাত ধরে যাত্রা করা এই সংগঠনটি কাজ করবে সমাজে শিক্ষাবঞ্চিত , শীতার্ত ও অবহেলিতদের চিকিৎসা ব্যায় এ । সংগঠনের সমন্বয়ক মুনির হোসাইন  বলেন  নিজের সামর্থ অনুযায়ী অবহেলিত বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সামাজিক দায়িত্ব । আরেক সমন্বয়ক কবির আহমেদ বলেন নিজের ভালো থাকার মধ্য দিয়ে অন্যের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে আমরা দৃঢ প্রতিজ্ঞ । আলো দেখাবোই পরিবারে আরো আছেন , এম . আর . আই সাইমুম , জেসমিন আক্তার , সাইমুন খাঁন , খোরশেদ আলম , সিলভিয়া জাহান , এম . এইচ . স্বপন , শামিমা নাসরিন প্রমুখ ।

12395228_10207578853084906_1540505975_nবুক রিভিউ : লাল্লু' র জীবনবোধ কি আমাদেরও প্রভাবিত করেনা ? ~ পিয়ালী বসু


লাল্লু মহারাজ
লেখক - প্রসূন বসু
প্রকাশকাল - ২০০৫
প্রকাশক - নবপত্র প্রকাশন
দাম - ৩০ টাকা
:
শহর কলকাতা ।
এবং আরও স্পষ্টতর করে বললে উত্তর কলকাতা । সুতানুটির এই উত্তরাংশেই বসবাস লাল্লু মহারাজের । কেন তার নাম লাল্লু মহারাজ এ নিয়ে আশ পাশের লোকজন ভেবেই থই পান না , মহারাজ হতে গেলে যা যা থাকার দরকার , তার কিছুই নেই ওর মধ্যে । সাত মহলা বাড়ী , ঘোড়াশালে ঘোড়া , হাতিশালে হাতি -- কিছুই নেই তার , অথচ নিজের আসল নামের পিছনে এই গালভরা নামটি কিন্তু দারুণ শোভা বর্ধন করে ।
ছেলে বুড়ো সকলের কাছেই সে মহারাজ -- লাল্লু মহারাজ ।
বইয়ের শুরুতেই লাল্লুর সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেন লেখক , তাঁর নিজস্ব দক্ষ বর্ণনায় , আর আমরা , পাঠকরা মুগ্ধ হয়ে জড়িয়ে পড়ি লাল্লুর সাথে -- লেখকের লেখনীর যাদুকরীতে ।
লাল্লু ভাবতে ভালবাসে ।
ভাবনায় বুঁদ হয়ে থেকে চারপাশের শত সমস্যার সমাধান করে ফেলে সে । খুব অবাক লাগছে ? অবাক না হয়ে উপায় নেই , কারণ শুধুমাত্র এই চমকই নয় , এমন হাজারো চমক এ বইয়ের প্রতিটি ছত্রে ।
লাল্লু নির্ভীক রেবেল ।
উত্তর কলকাতার গলিতে দাঁড়িয়ে সে দিব্যি গলা ছেড়ে গান করে । বংশী বাবু যখন স্বভাব সিদ্ধ বাজখাঁই গলায় ধমকে ওঠেন তাকে , লাল্লু স্পষ্টই জানায় , -- " বেশ করছি । একশো বার করবো । রাস্তা কি আপনার একার ? রাস্তা পাবলিকের । "
সত্যিই তো ! সাধারণ আম জনতা কে নিয়ে ছোটোদের উপযোগী এমন মনকাড়া বই খুব বেশী চোখে পড়ে কি ?
লাল্লুর এই বীর স্বভাবের জন্য স্থানীয় থানার ছোট বাবুকেও রেয়াত করে না সে । অথচ এই লাল্লুই দিনের পর দিন নিজের মামার হাতে মার খায় মুখ বুজে । স্বভাবের এই ভিন্নধর্মীতাই পাঠকের কাছে লাল্লুকে আরও গ্রহণীয় করে তোলে ।
লাল্লু আর তার প্রিয় বন্ধু , বা রাজা আর তার সেনাপতি , মুকুটবিহীন , ঢাল তলোয়ারহীন সেনাপতি । প্রতি মুহূর্তে জড়িয়ে পড়েছে হাড় হিম করা একের পর এক নানা অ্যাডভেঞ্চারে । ---- " আবার শব্দ । কিছুক্ষণ সব চুপচাপ । ফের শব্দ । খটাস । চোখ বড় বড় হয়ে গেল বিশুর , ঠিক পানতোয়ার মতো । চোখের পলক পড়াই বন্ধ হয়ে গেল তার । কি যে অঘটন আছে আজ কপালে ! কে জানে ! কার মুখ দেখে উঠেছিলো সে আজ ? ওঃ , সেই বুড়িটার ? দাঁত উঁচু , মুখ লম্বা , নাক খ্যাদা , চোখ ট্যারা , কালোপ্যাঁচা সেই বুড়িটাকে দেখলেই বুক হিম হয়ে যায় । "
' লাল্লু মহারাজ ' এর পরতে পরতে লেখকের ফেলে আসা বাল্যকালের ছবি ।
জীবনাবসানের কিছুদিন আগে লেখা এই বই তাই বারবার মনে করিয়ে দেয় , জীবনের অনন্ত রূপটির কথা , যে জীবন লাল্লু উপভোগ করেছিল। ২১ নং পৃষ্ঠায় লেখক বলছেন , --- " পুরনো দিনের ঘটনাগুলির কথা মনে পড়লেই তন্ময় হয়ে যেতো বিশু । অসীম স্নেহে , অকুণ্ঠ ভালবাসায় সে সময় এক হাত এসে পড়তো তার ওপর , সে হাত লাল্লুর । বয়সে সম হলেও জীবন আদর্শবোধে লাল্লু ছিল কএক ধাপ এগিয়ে ।
আসলে লাল্লু কে চেনা , তাকে বোঝা সহজ কাজ নয় । একের পর এক ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলে লাল্লু নিজেই জানিয়েছে , মানুষ চেনা সবচেয়ে কঠিন কাজ । এই জীবনবোধের উজ্জ্বল উচ্চারণই লাল্লু মহারাজ কে এক স্বতন্ত্র আসল দিয়েছে ।
' লাল্লু মহারাজ ' বইটিতে ছড়িয়ে থাকা অজস্র চরিত্রের কোলাজ আমাদের , পাঠকদের আরও একবার মনে করিয়ে দেয় , -- লেখক তাঁর লেখার উপকরণ একত্র করেন প্রতিদিনের বাস্তব চালচিত্র থেকেই , -- , মুন্না , মিঠু , কালী ডাক্তার , হীরালাল , বিশু , বংশীবাবু , এমনকি থানার ছোটবাবু , -- এরা সবাই আমাদের প্রাত্যহিক পটচিত্রে ভেসে ওঠা অতি চেনা কিছু মুখের প্রোফাইল ।
' লাল্লু মহারাজ ' আসলে লেখকের জীবন দর্শনের জীবন্ত দলিল -- যে দলিলের পরতে পরতে লেখকের আজন্ম পালিত মুল্যবোধের চিহ্ন , তাই ' লাল্লু মহারাজ ' শুধু মাত্রই ছোটদের এক বই নয় , ' লাল্লু মহারাজ ' চিরচেনা সমাজ কাঠামোর মুলে সজোরে Satire এর কুঠারাঘাত !!

সত্য প্রেমের জয়
- অপু কর্মকার

বেড়ে ওঠে ভালোবাসা নিস্তব্ধ চুপিসারে,
মানে না নিষেধ বাধা, কাউকে না ডরে;
তবু থাকা সংশয়ে! কারণে বা অকারণে,
ডাকে যদি কালের বাণী- বিচ্ছেদ জীবনে৷

নিছক মোরা খেলার পুতুল, সূতা ওনার হাতে,
যদিও খেটেই জীবন বাঁচে, থাকিনা হাভাতে;
সূতা ধরে মারেন টান- ঘোরান খেয়াল মতো,
সব ভুলে আমরাও থাকি, নিজের কাজেই রত৷

প্রেম বাণী ওনারই দান, আমরা অন্ধ অনুগামী,
প্রেমের নামে কেউ আবার শশব্যস্ত কামী;
ভুলেছে সব প্রেমের মানে, 'প্রেম যত্নেরই রূপ',
জেনেও অনেকে- মুখে, কুলু চেপে রয় চুপ৷

হে ঈশ্বর! তোমার বাণীর কেন এমন অবক্ষয়?
বল না, কবে হবে ওগো! সত্য প্রেমের জয়?

কুঁড়ি
- অপু কর্মকার


বলি- একটা কুঁড়ির গল্প,
শোনো তোমরা, অল্প-অল্প;
এর স্বপ্ন অনেক বড়, চায়ছে কেবল যত্ন৷
বলি- সেই কুঁড়িরই গাথা,
যার হৃদয় জুড়ে ব্যাথা;
স্বপ্ন অনেক বড়! সে, হবে সবার রত্ন৷
*
সেই ব্যাথার পাহাড় ভেঙে,
সাগর মিশছে যেন গাঙে;
তবু তার হৃদয়ের কান্না, যায় না থেমে৷
সে ছোট্ট একটা কুঁড়ি,
তাকে ডাকে ফুল পরী;
বুকে তার বড় আশা- আসবে তারা নেমে৷
*
সেই কুঁড়িই হবে মস্ত,
এক গোটা ফুল আস্ত;
তবু বর্তমানের ব্যাথা, বলে- সে কারে গো৷
ওই যে সূর্যি মামার দেখা,
হৃদয়ে ক্লোরোফিল রেখা;
জানি সেও একদিন- নতুন জীবন, দেবে গো৷
*
সব ব্যাথা শিকেই তুলে,
সে সব দুঃখ যাবে ভুলে;
স্বপ্নের নতুন পথ- সে দেখবে, আর দেখাবে৷
'সাবাস রে ছোট্ট কুঁড়ি'-
নেমে বলবে ফুল পরী;
বদলাবে তাঁর আচার, সেও বদলাবে স্বভাবে৷
*
সেই ব্যাথা জড়ানো বুকে-
কুঁড়ি স্বপ্ন নতুন আঁকে;
পাশের অন্য কুঁড়ি, তার ব্যাথার সামিয়ানা৷
কুঁড়ি ফুটবে কদিন পরে,
সুখে উঠবে হৃদয় ভরে;
খুঁজে পাবে সব চিঠি, তার একটাই ঠিকানা৷
*
সেই গাছের কুঁড়ি আজকে-
দেবে ফুলের শোভা সবকে;
ধন্য হবে ধরা, সেও সুখ পাবে হৃদ মাঝে৷
তাই ব্যাথার পাহাড় যত-
নামুক, সইবে কুঁড়ি শত;
ছড়াবে জগতে শোভা- সকাল থেকে সাঝে৷
*
আজ কুঁড়িরা তৈরী শাখে,
জীবন দিয়েছে বাজি রেখে;
তৈরী সবাই তারা, আগামী সূর্য দেখবে বলে৷
কুঁড়ি ফুলের পাপড়ি বেশে-
ছড়াবে দেশ থেকে বিদেশে;
'জীবনের উৎস'কে আবারও, ধরবে তারা তুলে৷


...অপু কর্মকার...

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget